Sunday, October 2, 2011

ওবামাকে ‘নির্বোধ’ বললেন কাস্ত্রো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘নির্বোধ’ বললেন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। সেই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে ওবামার দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তাঁকে তুলাধোনা করেন।
বুধবার ওবামা হিসপানিক সাংবাদিকদের বলেন, কিউবার সরকার নাগরিকদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিচ্ছে। এটা দেখার পর থেকে দেশটির সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক পরিবর্তনে তিনি ইচ্ছুক।
কাস্ত্রো গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এক লেখায় ওবামার এ কথার জবাব দেন। তিনি তাঁর লেখায় বলেন, ‘কী সুন্দর! কী বুদ্ধি! তাঁরা আমাদের দেশের প্রতি অবরোধ আরোপ ও অন্যায় করেছে। আমাদের জনগণকে সম্মান করেনি। ৫০ বছর পর এখন এমন কী মহত্ত্বের ঘটনা ঘটল!’
ফিদেল কাস্ত্রো বলেন, কিউবায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিউবানদের ধন্যবাদ। কারণ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের উপেক্ষা সত্ত্বেও নিজেদের চেষ্টায় তাঁরা এটা অর্জন করেছে।
মার্কিন সাম্রাজ্য ধ্বংস হবে বলে মন্তব্য করেন কাস্ত্রো। কিউবার একজন গুপ্তচরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মার্কিন আদালতের দেওয়া রায়েরও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

সিরিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা, তীব্র নিন্দা

সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ডের ওপর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সমর্থকদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ডের ওপর আসাদ সমর্থক জনতা এ হামলা চালায়। তারা রাষ্ট্রদূতের ওপর পাথর ও টমেটো নিক্ষেপ করে।
সিরিয়ার রাস্তান শহরে গতকাল শুক্রবার বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে সাতজন সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড যখন বিদ্রোহীদের আরব সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের প্রধান হাসান আবদুল আজিমের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাঁর ওপর আসাদের সমর্থকেরা হামলা চালায়।
হিলারি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ায় মার্কিন কূটনীতিকদের রক্ষায় ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, জনতা খুবই উত্তেজিত ছিল। তারা দূতাবাসের গাড়িগুলো ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় ফোর্ড অক্ষত রয়েছেন। ওয়াশিংটন বলেছে, এ ঘটনায় সিরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
একজন সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সানা জানায়, বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সাতজন সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩২ জন।

উ.কোরিয়া সফরে দক্ষিণের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের প্রধান হং জুন-পিয়ো গতকাল শুক্রবার উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন। দেশে ফেরার সময় তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তিনি কাজ করবেন।
হং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল গ্রান্ড ন্যাশনাল পার্টির (জিএনপি) চেয়ারম্যান। তাঁর এই সফর দুই দেশের মধ্যে একটি দুর্লভ রাজনৈতিক সফর।
কায়েসং এলাকায় দুই দেশের একটি যৌথ বাণিজ্যিক এলাকা পরিদর্শন শেষে উত্তর কোরিয়ায় ঢোকার আগে হং বলেন, ‘এটা একটা কাজের সফর। কিন্তু দুই কোরিয়ার সম্পর্কের অচলাবস্থা ভাঙাটাও একজন রাজনীতিকের দায়িত্ব।’
পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরে হং জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানামালিকদের সঙ্গে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়নি।
হং বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দক্ষিণ কোরিয়ার নীতিকে নতুন দিকে মোড় নেওয়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে।
২০১০ সালের মার্চে দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করে, উত্তর কোরিয়া তাঁদের একটি ডুবোজাহাজে হামলা চালিয়ে এটি ডুবিয়ে দেয়। এতে ৪৬ জন নিহত হয়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করে আসছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে তাদের ওই ঘটনার দায় মেনে নিতে হবে। কিন্তু সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে।
কায়েসং বাণিজ্যিক এলাকাটি এখন দুই দেশের সহযোগিতার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই পক্ষই এলাকাটি কখনো বন্ধ করতে চায়নি। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন ১২৩টি কারখানায় কাজ করে প্রায় ৪৬ হাজার ৩০০ উত্তর কোরীয় নাগরিক। একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি এখান থেকে অনেক অর্থ পেয়ে থাকে।

মিয়ানমারে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল

মিয়ানমারের ইরাবতী নদীতে ৩৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রস্তাবিত বৃহৎ জলবিদ্যুৎ ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। জনতার তীব্র আপত্তির মুখে গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট থিন শিন পার্লামেন্টে এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট থিন শিনের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের ঘোষণায় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সমর্থকদের জয় হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের কাচিন রাজ্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরাবতী নদীতে প্রস্তাবিত মাইটসন বাঁধ তৈরির কাজ পেয়েছিল চীনের বৃহৎ বিদ্যুৎ কোম্পানি চায়না পাওয়ার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন।
চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চীনের ইউনান প্রদেশে সরবরাহ করার কথা। চীনের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এমন ব্যক্তিরা চুক্তির পক্ষে থাকলেও চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সু চি বলেছিলেন, বাঁধের কারণে ইরাবতী নদীর পানির প্রবাহ হুমকির মুখে পড়বে। এতে ৬৩টি গ্রামের ১২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন অংশ বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করে। পরিবেশবাদীদের মতে, জলবিদ্যুতের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হলে সিঙ্গাপুরের সমান জায়গা প্লাবিত হবে এবং অন্তত ১০ হাজার লোক গৃহহীন হবে।

বিরোধীরা নির্বাচনে দাঁড়ালে পদত্যাগ করব না: সালেহ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেছেন, যদি বিরোধীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি অঙ্গীকার অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন না।
টাইম ও ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে দেশে গৃহযুদ্ধের ব্যাপারেও সতর্ক করে দেন প্রেসিডেন্ট সালেহ। সৌদি আরবে চিকিৎসার পর গত সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন তিনি।
দেশে সালেহর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ চলছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কয়েকটি স্বপক্ষত্যাগী ইউনিট ও উপজাতীয় যোদ্ধাদের বিক্ষোভ মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট সালেহকে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতায় একটি ক্ষমতা হস্তান্তর চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সালেহ। চুক্তি অনুযায়ী, বিচার থেকে দায়মুক্তির বিনিময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদরাবুহ মনসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন প্রেসিডেন্ট সালেহ।
গত মার্চে প্রথম এই সমঝোতা চুক্তির বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। প্রেসিডেন্ট সালেহ প্রথমে এ চুক্তি মেনে নেবেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তিনি এখনো ওই চুক্তিতে সই করেননি।
ইয়েমেনে ফেরার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করি আর তাঁরা যদি নিজ অবস্থানে থেকে যান এবং তাঁরা যদি তখনো নীতিনির্ধারক থাকেন, তাহলে তা হবে খুবই বিপজ্জনক, যা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’
প্রেসিডেন্ট সালেহর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন জেনারেল আলী মোহসিন আল-আহমার। যিনি গত মার্চে বিক্ষোভ-আন্দোলনের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া রয়েছে প্রভাবশালী আহমার পরিবার।
গত জুনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলায় গুরুতর আহত হন প্রেসিডেন্ট সালেহ। এরপর চিকিৎসার জন্য তিনি তিন মাস সৌদি আরবে ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, ‘তাঁরা বিক্ষোভকারীদের পেছন থেকে হত্যা করেছেন, যাতে তাঁরা রাষ্ট্রের ওপর দায়ভার চাপাতে পারেন।’
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত চুক্তির প্রতি তিনি এখনো অঙ্গীকারবদ্ধ। চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের জন্য তিনি বিরোধীদের দায়ী করেন।

হবে না, হবে না, হবে না

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে-প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাব দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, নিউ ইয়র্কে এক ধরনের বক্তব্য আর দেশে ফেরার পর আরেক ধরনের বক্তব্য, এটা কিসের আলামত? প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিছক চমক সৃষ্টি ও জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেন, 'আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না, আমরাও একই দাবিতে এখনো বহাল আছি। সেটা হলো-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না, হবে না, হবে না।'
গত মঙ্গলবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার খালেদা জিয়ার হুমকির জবাবে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই নির্বাচন হবে, হবে, হবে। জনগণ নির্বাচন করবেই, করবেই, করবেই। উনি (খালেদা) এত কথা বলছেন, উনিও নির্বাচনে আসবেন। ওনাকে নির্বাচনে আসতেই হবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে আসতেই হবে।'
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্যরা। এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকায় চারদলীয় ঐক্যজোটের মহাসমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার দলের একটি যোগদান অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেছেন, রোডমার্চ কর্মসূচির পরই শুরু হবে সরকার পতনের ফাইনাল খেলা। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর অপেক্ষা করা যাবে না। এর আগেই স্বৈরাচারী এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, 'সরকারি দলের যে নেতা যা-ই বলুক, আমি বলছি, আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনেই হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হবে না, হবে না। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, আগামীতেও তাই হবে।'
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেবেন খালেদা জিয়া : প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব দেবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পর্যালোচনা করেই দুই-তিন দিনের মধ্যে এর জবাব দেবেন তিনি। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সিলেট বিভাগে রোডমার্চ কর্মসূচি উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলন করবেন। তখনই তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে দলের একটি সূত্রে জানা যায়।
বিএনপির নেতাদের প্রতিক্রিয়া : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে জাতি বিভ্রান্তিতে পড়েছে। নিউ ইয়র্কে এক ধরনের বক্তব্য, আবার দেশে ফেরার পর আরেক ধরনের বক্তব্য, এটা নিছক চমক সৃষ্টির জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ কথা কেন বললেন, তিনিই হয়তো ভালো জানেন। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেছেন তাতে সমঝোতা ও আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে ফিরে নতুন করে বিরোধী দলকে সংসদে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে নিউ ইয়র্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত কেন করলেন, এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে বিএনপি সাড়া দেবে কি না জানতে চাইলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা নেই। এটা লোক দেখানো, স্ববিরোধী কথা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী কোন ভিত্তিতে বললেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে-এটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী আসলে কী বলতে চান, তা স্পষ্ট করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকেই সব কিছু খোলাসা করে বলতে হবে, সব কিছু চূড়ান্ত করতে হবে। কারণ নিউ ইয়র্কে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা নাকচ করে দিয়েছেন।' ড. মোশাররফ বলেন, যে যত কথাই বলুক না কেন, দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হোক, তা চায় না। বিএনপিও জনগণের দাবির সঙ্গে একমত বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন। তবে সেখানে খোলা মন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে জাতি বিভ্রান্ত। দেশে ফিরে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, এটা ঠিক আছে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে সঠিক রাজনীতি হবে না। তিনি বলেন, 'আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আমারও একই কথা বলি-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না, হবে না। এ জন্যই আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রীকেই এগিয়ে আসতে হবে।'
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, 'আওয়ামী লীগ দাবি করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে হয়েছে। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ কেন আবার মত পরিবর্তন করল, আমাদের জানা নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে, এটা তারা বুঝতে পেরেছে।' তিনি বলেন, '২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমরা সরকারে ছিলাম। ইচ্ছে করলে আমরাও সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। কারণ আমরা বাকশালে বিশ্বাসী নই। বিএনপিই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান জাতীয় সংসদকে একদলীয়ভাবে সাজিয়েছে সরকার। এতেই প্রতীয়মান হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। তাই রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে তারা। কিন্তু আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া মহাসমাবেশে স্পষ্টভাবে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না, হবে না, হবে না। আমারও বলি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া অন্য কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে না, নেবে না।'
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের এক দফা এক দাবি-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।' খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিকে দুর্বল ভাবাটা ঠিক নয়। বিএনপি কারোটা খেয়েপরে বেঁচে নেই যে নির্বাচনে ডাকলেই অংশ নেবে।
দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্য দিলেন কেন-প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে চাইছেন। ছিয়াশি সালে এরশাদ সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন করেছে। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে ক্ষতি কী? অর্থবহ নির্বাচন না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, এটাই সাফ কথা।'

হবে, হবে, হবে

ত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার হুমকির জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই দেশে নির্বাচন হবে, হবে, হবে। জনগণ নির্বাচন করবে, করবে, করবে। খালেদা জিয়াকে সেই নির্বাচনে আসতেই হবে। রাজনীতি করলে নির্বাচনে আসতে হবে।
যুদ্ধাপরাধী, মানি লন্ডারিং মামলার আসামি ও দুর্নীতিবাজদের বাঁচানোর জন্য বিএনপির আন্দোলন_এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, 'নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। সময় হলেই নির্বাচন হবে। দেশের জনগণ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। কারণ এটা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার সুরক্ষিত চায় সবাই। সে জন্য তারা নির্বাচন চায়।' জনগণ নির্বাচন না চাইলে তখন সে রকম ক্ষমতা তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে গতকাল শনিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না_খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী উলি্লখিত কথাগুলো বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বৃহস্পতিবার দলে এক যোগদান অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটিতে দেওয়া ভাষণে 'চোর-বাটপারদের সঙ্গে আলোচনায় বসব না'_শেখ হাসিনার এই উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তৃতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বক্তব্যটি যেভাবে এসেছে, আমি সেভাবে বলিনি। আমি বলতে চেয়েছি ওনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে আলোচনায় বসলে উনি তো দুর্নীতিবাজ ছেলেদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলবেন। উনি তো রাজনৈতিক কথা বলবেন না।'
চলমান রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে কি না প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তিনি (খালেদা) তো সময় বেঁধে দিয়েছেন সরকার উৎখাতের, তাহলে আর আলোচনা কিসের? সংসদে আসুক, সংসদে কথা বলুক, সংসদেই আলোচনা হবে।'
একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে বিরোধী দলের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অবশ্যই উত্তম প্রস্তাব। আলোচনার মাধ্যমে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে, সেটা আমরাও চাই।' তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আজকের বিরোধীদলীয় নেতাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন। সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার পর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, 'উচ্চ আদালতের রায় মানবেন না কেন?' ওয়ান-ইলেভেনে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, 'বিরোধীদলীয় নেতা তো কম্প্রোমাইজ করে রেখেছিলেন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার। আমি আসব শুনে শক্ত হলেন। আমি তখন ঝুঁকি নিয়েছিলাম বলেই দেশে নির্বাচন হয়েছে, গণতন্ত্র এসেছে। খালেদা জিয়া কী আশায়, কোন কল্পনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন, জানি না।'
গত ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের রাজধানীতে কমান্ডো স্টাইলে হামলা এবং জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এখনো কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনা করছি না। তবে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিচার অবশ্যই হবে।' জামায়াত-শিবিরের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার তাঁর সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মন্ত্রিসভার পরিবর্তন আমাদের এখতিয়ার। যখন সময় হবে, তখন দেখা যাবে।' মন্ত্রিসভার সমালোচনাকারীদের জবাবে তিনি বলেন, 'মন্ত্রীরা স্মার্ট নন, কাজ পারেন না। আমিও বলি, তাঁরা একটা ব্যাপারে স্মার্ট নন, সেটা হলো_দুর্নীতি। তাঁরা দুর্নীতি পারেন না; তবে দেশের মানুষের জন্য খাটাখাটুনি করেন, শ্রম দেন।'
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই শেখ হাসিনা তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং গত ২৭ সেপ্টেম্বর চার দলের মহাসমাবেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দেন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, 'নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অবদানের জন্য সাউথ সাউথ পুরস্কার আমাকে নয়, বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে।'
'রোডমার্চের পরে ফাইনাল খেলা, আগামী সেপ্টেম্বরের পরেই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে'_খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, এর পরই না ফাইনাল। তিনি (খালেদা জিয়া) কোন স্টেজে আছেন?' প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যত খেলুক, খেলনেওয়ালারা খেলে যাবে। যারা কাজ করার, তারা কাজ করেই যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, 'এর আগে তিনি (খালেদা জিয়া) গত জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। এখন আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বাড়িয়েছেন। ১৫ মাস সময় বাড়িয়েছেন_এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।'
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া তৎকালীন পরিস্থিতিকে 'নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি দাবি করে উনি কি সেই নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চান? উনি কী ওনার আর ওনার দুই ছেলের ওপর অত্যাচারের কথা ভুলে গেছেন?'
আলোচনার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়োগের জন্য খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে 'উত্তম প্রস্তাব' আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হোক। সবার মতামতের ভিত্তিতে স্বাধীন, শাক্তশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।'
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জিনিসের দাম বেড়েছে সত্যি, তবে এর সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। আগে যে এক শ টাকা আয় করত, এখন সে তিন শ টাকা আয় করছে।'
জরিমানা দিয়ে খালেদা জিয়ার অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটা দেশের সরকারপ্রধান যদি দুর্নীতি করে টাকা কামান, আর জরিমানা দিয়ে সেই টাকা সাদা করেন তাহলে বুঝুন, দেশটা কোথায় তলিয়ে যাচ্ছিল?'
দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা দুই বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন দুই হাজার মেগাওয়াট বাড়িয়েছি। ওনারা পাঁচ বছরে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছিল।' ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো করা নিয়ে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'ওনার মিথ্যা আশ্বাস জনগণ বিশ্বাস করবে না।' গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে তৃমাত্রিক রিগ কেনার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। ৯টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদনের কাজ চলছে।'
জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও কৃষিতে বার্ষিক ২২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছুতে ভর্তুকি দিলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে হবে?
র‌্যাব ও পুলিশকে প্রশিক্ষণ না দেওয়ার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি খালেদা জিয়া যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'র‌্যাব তাঁদের সৃষ্টি।' ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'ক্রসফায়ার মিডিয়ার ভুল ব্যাখ্যা। র‌্যাব ও সন্ত্রীদের বন্দুকযুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজেদের রক্ষা করার অধিকার রয়েছে।' শেখ হাসিনা বলেন, 'সে সময় আমিই প্রথম ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ করেছিলাম।'
বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টকশোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মধ্য রাত পর্যন্ত জেগে থেকে টকশো দেখা হয় না। মাঝেমধ্যে দেখি। টকশো টকই হয়ে যায়। একটু মিষ্টি না থাকলে তা ভালো হয় না।' তিনি বলেন, 'যে সাংবাদিকরা বা গণমাধ্যমগুলো রাজনীতিবিদ ও সরকারের ঢালাও সমালোচনা করে, তাদেরও সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা গেলে সাংবাদিকদের কেন সমালোচনা করা যাবে না?'
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে গণভবনের হলরুমের মূল মঞ্চে শেখ হাসিনার সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম, পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস প্রমুখ।

দানা বাঁধছে অনিশ্চয়তা

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি হবে না, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী জোটের মুখোমুখি অবস্থানে উদ্বিগ্ন দেশের বিশিষ্টজনরা। তাঁরা মনে করছেন, দুই জোটের এই অবস্থান দেশকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অচলাবস্থা দূর করতে হলে খোলা মন নিয়ে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে। অতীত থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। এরপর গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই আগামী নির্বাচন হবে এবং খালেদা জিয়াকে ওই নির্বাচনে আসতে হবে।
এ বিষয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ন্যাপের সভাপতি
অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা রাজনীতিতে সমঝোতা বা কথা বলার কোনো সুযোগ রাখিনি। অতীত থেকে শিক্ষাও নিচ্ছি না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। রাজনীতিতে রেষারেষি ও পরস্পরবিদ্বেষী মনোভাবের ফলে দেশে আবারও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে।' সংকট নিরসনের জন্য দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, 'নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। তার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় উপনীত হতে হবে।'
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'তাদের (দুই জোটের নেতা) এ মন্তব্যের ফলে কী হবে আমরা সবাই তা জানি।' বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, 'নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন তারাই অংশ নেবে। অতএব তারাই ঠিক করবে, কী ভূমিকা নেওয়া উচিত।'
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সংকট তো আগে থেকেই লেগে আছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, এ ধরনের সংকট দেশের মানুষের জন্য ভালো নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও তা কল্যাণ বয়ে আনবে না। আমরা আশা করব, তারা আরো আলোচনা করবে এবং কঠোর অবস্থানে না থেকে সমাধানের পথ খুঁজবে। আর এটাও ঠিক, নির্বাচনে কোনো বড় দল অংশ না নিলে সে নির্বাচন অর্থবহ হয় না।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বললেন, "এই সংকটময় মুহূর্তে এসব বিষয়ে কথা বলাটাই বিপজ্জনক। আর আমি কোনো কথা বললেই তা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই বয়সে আর এসব ভালো লাগে না। আমি একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে 'বাজিকর' বলেছিলাম। এখন অবশ্য অনেকেই তা বলছে।"
ওই উপদেষ্টা বলেন, 'আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পরেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকি। তবে নিরপেক্ষ কাউকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হলে সেটা ভালো হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো_কে কাকে দায়িত্ব দেবেন।'

নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হচ্ছে কাল

গামীকাল থেকে ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০১১ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম। ১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে নোবেল পুরস্কার। প্রবর্তক সুইডেনের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল। ১১০ বছরের প্রথা মেনে এবারও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে পুরস্কার ঘোষণা। পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, শান্তি এবং সাহিত্যে বিশেষ অবদান ও সাফল্যের জন্য নোবেল ফাউন্ডেশন স্টকহোম, সুইডেন কর্তৃক দেওয়া হয় নোবেল পুরস্কার। আলফ্রেড নোবেলের উইলে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার কথা ছিল না।
১৯৬৮ সাল থেকে নোবেলের স্মৃতির উদ্দেশে দ্য ব্যাংক অব সুইডেন অর্থনীতিতে একটি পুরস্কার দেয়। এটি অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত এবং এর প্রাইজমানিও অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের সমান। এ কারণে এটি অর্থনীতির 'নোবেল পুরস্কার' হিসেবে বিবেচিত। আগামীকাল ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসাবিদ্যায়, ৪ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়াল সায়েন্স ইনস্টিটিউট থেকে পদার্থবিদ্যায়, ৫ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়াল সায়েন্স ইনস্টিটিউট থেকে রসায়নবিদ্যায়, ৭ অক্টোবর বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিটিউট থেকে শান্তিতে এবং ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অর্থনীতিতে ২০১১ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হবে। প্রসঙ্গত, উপরে উলি্লখিত সময় বাংলাদেশের সময়ের হিসাব অনুযায়ী।
ঐতিহ্যগতভাবে সাহিত্যের পুরস্কার ঘোষণার দিনক্ষণ আগে থেকে জানানো হয় না। অলিখিত এই ধারা বজায় রেখে সুইডিশ একাডেমী প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অথবা তার পরের বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। সে হিসাবে ৬ অক্টোবর অথবা ১৩ অক্টোবর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে সুইডিশ একাডেমী। নিয়মানুযায়ী বিজয়ীরা প্রত্যেকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার, একটি সম্মাননাপত্র ও স্বর্ণপদক পাবেন। কোনো বিষয়ে একাধিক বিজয়ী হলে ১৫ লাখ ডলার ভাগাভাগি করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাড়ম্বরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনা বাতিল করলেন কারজাই

তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে দিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তালেবান হামলায় শান্তি পরিষদের প্রধান বোরহান উদ্দিন রাব্বানি নিহত হওয়ায় কারজাই এ ঘোষণা দিলেন। তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে নয়, আলোচনা করতে হবে পাকিস্তানের সঙ্গে। আফগান গোয়েন্দা বিভাগ গতকাল শনিবার জানিয়েছে, রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা পাকিস্তানে করা হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ তারা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানী কাবুলে নিজ বাড়িতে তালেবান নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে বোমা হামলায় নিহত হন রাব্বানি।
সম্প্রতি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে কারজাই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দেন। কারজাই বলেন, 'রাব্বানি হত্যার পর বুঝতে পেরেছি, তালেবানের সঙ্গে নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তালেবানের পক্ষে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর কেউ নেই।' তাদের নেতা মোল্লা ওমরকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন 'কোথায় তিনি? তালেবান পরিষদ কোথায়? এ পরিষদ খুঁজে পাইনি। তালেবান পরিষদের সদস্যের ছদ্মবেশে বার্তা নিয়ে একজন এসে রাব্বানিকে হত্যা করল। তারা এ ঘটনার দায় স্বীকারও করেনি আবার নাকচও করেনি। কাজেই এখন শান্তি নিয়ে পাকিস্তান ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।' বৈঠকে কারজাই আরো বলেন, 'শান্তি আলোচনার অপর পক্ষে আসলে কে? আমাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অন্য পক্ষ হচ্ছে পাকিস্তান_এ কথা বলা ছাড়া অন্য কোনো উত্তর আমার জানা নেই।'
আফগান গোয়েন্দা সার্ভিসের মুখপাত্র লতিফুল্লাহ মাশাল গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কাবুলে অবস্থিত পাকিস্তানের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে ওই জায়গার ঠিকানা, ছবি ও মানচিত্র দিয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে জাতিসংঘকে জানান, কোয়েটা শুরা কাউন্সিলে বসে আফগান তালেবানরা চার মাস ধরে রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা করে। পাকিস্তানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সালমান তাসিরের খুনির মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালত গতকাল শনিবার এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মালিক মুমতাজ হুসাইন কাদরি তাসিরের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। বিতর্কিত ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা নিরোধ আইন) আইনের বিরোধিতা করায় সালমানকে হত্যা করেন কাদরি। তাঁকে দুই লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সদস্য তাসিরকে গত ৪ জানুয়ারি ইসলামাবাদে গুলি করে হত্যা করেন কাদরি। অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাসিরকে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি। স্বীকারোক্তিতে কাদরি বলেন, ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের পক্ষে কাজ করায় তাসিরকে হত্যা করেছেন তিনি। পাকিস্তানের কট্টরপন্থী ইসলামী নেতারা তাসিরের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানান এবং কাদরির মুক্তির দাবি করেন।
ব্লাসফেমি আইনের আওতায় গত বছরের নভেম্বরে পাঞ্জাবে আসিয়া বিবি নামে খ্রিস্টান এক নারীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ও উদারপন্থী রাজনীতিবিদরা ওই রায়ের সমালোচনা করেন। মৃত্যুদণ্ডের বিধান খারিজসহ আরো কিছু পরিবর্তনের দাবিতে ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের দাবি জানান তাঁরা। পার্লামেন্টে উত্থাপন করা এ-সংক্রান্ত বিলে সমর্থন দেন তাসির। রাওয়ালপিন্ডির আধিয়ালা কারাগারে স্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী আদালত গতকাল কাদরির সাজা ঘোষণা করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী শুজা-উর-রহমান বলেন, 'আদালত আমার মক্কেলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। তাঁকে দুই লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।' রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি। আপিলের জন্য আদালত সাত দিন সময় দিয়েছেন। গতকাল রায় ঘোষণার সময় কারাগারের বাইরে প্রায় ৫০০ লোক কাদরির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেয়। কাদরিকে ক্ষমা করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানায় তারা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিপিপি নেতা বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড সালমান তাসিরের ঘটনা। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে রাজনৈতিক সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন বেনজির। তাসিরের হত্যার দুই মাস পর সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। খ্রিস্টান ওই মন্ত্রীও ব্লাসফেমি আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। গত ২৬ আগস্ট তাসিরের ছেলে শাহবাজকে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর থেকে অপহরণ করা হয়। পুলিশ এ ঘটনার জন্য এখন পর্যন্ত কাউকে দায়ী করতে পারেনি। তবে শাহবাজের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, কাদরির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। 

ফিলিস্তিনের অনুদান আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের জন্য বরাদ্দ অনুদানের ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের খাতে এ অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রশ্নে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে 'অগোচরে' এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে 'অন্যায্য' আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, এ নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের ওপর 'সমস্টিগতভাবে সাজা' দেওয়া।
এদিকে ফিলিস্তিনের আবেদনের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত শুক্রবার। এ ব্যাপারে একটি কার্যকর সিদ্ধান্তে পেঁৗছাতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী চার পক্ষ 'কোয়াট্র্রেট'-এর প্রস্তাবিত সরাসরি আলোচনার অগ্রগতির ব্যাপারটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ফিলিস্তিনের আবেদনের ওপরে বিশ্লেষণমূলক একটি প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। চলতি সপ্তাহে আরেক দফা বৈঠকে বসবে এ কমিটি।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ফিলিস্তিনের জন্য বরাদ্দ অনুদানের বাকি অর্থ ছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের চলতি অর্থবছরের মধ্যে এ অর্থ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা ছিল। গতকাল ছিল অর্থবছরের শেষ দিন। পত্রিকাটির মতে, গত ১৮ আগস্ট থেকে তিনটি কংগ্রেশনাল কমিটি এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, কংগ্রেশনাল কমিটিগুলো নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সরকার পরবর্তী সময়ে আর কোনো সহযোগিতার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার কর্তৃপক্ষের প্রধান মুখপাত্র ঘাসান খাতিব বলেন, এটা মোটেও গঠনমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ অন্যায্য। তিনি বলেন, অনুদানের এ অর্থ মূলত মানবিক ও উন্নয়নবিষয়ক কাজের জন্য দেওয়া হতো। এটি বন্ধ করে দেওয়া মানে সমস্টিগতভাবে সাজা দেওয়া।
এদিকে জাতিসংঘে নিয়োজিত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ফিলিস্তিনের আবেদনের ব্যাপারে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সালাম সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের ব্যাপারটি দ্রুততার সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে দেখার ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন বলে একাধিক কূটনীতিক জানিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমা এক কূটনীতিক বলেন, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে এবং অবশ্যই এর সঙ্গে কোয়াট্র্রেটের অগ্রগতির সম্পর্ক রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে জমা দেওয়া আবেদনের ব্যাপারে আলোচনার জন্য লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাঁর সফরসূচির মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্র কলম্বিয়া ও পর্তুগালও রয়েছে। সফরকালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জঁ ম্যানুয়েল সান্তোসের সঙ্গে আব্বাসের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপর হন্ডুরাস ও ডমিনিকান রিপাবলিক যাবেন আব্বাস। পাশাপাশি পর্তুগালও সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। 

তালেবানের সঙ্গে আলোচনা আর নয়: কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে তাঁর সরকার আর শান্তি আলোচনায় বসবে না। আলোচনা হবে পাকিস্তানের সঙ্গে। গতকাল শনিবার একদল ধর্মীয় নেতার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
আফগান গোয়েন্দাদের দাবি, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরহানুদ্দিন রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা পাকিস্তানের মাটিতে হয়েছে। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা নথিপত্র ইসলামাবাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বোরহানুদ্দিন। গত মাসে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বোরহানুদ্দিন হত্যাকাণ্ডই তাঁর মধ্যে এই উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া তালেবানের সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘তালেবান কাউন্সিলের এক বার্তাবাহক এল। তাঁকে (রাব্বানি) হত্যা করল। তালেবান এ হত্যার দায় স্বীকার করেনি। নাকচও করেনি। তাই তালেবানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা নয়।’
আফগানিস্তানের দ্য ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস) গতকাল বলেছে, তালেবানের শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে রাব্বানি হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেখানে তাঁদের পরিষদ কোয়েটা শুরা বলে পরিচিত।
এনডিএসের মুখপাত্র লুৎফুল্লাহ মাশাল বলেন, রাব্বানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এতে কোয়েটা শুরার সদস্যরা সরাসরি জড়িত ছিলেন।

রেকর্ডের সামনে মেসি

রের মাঠে রঙ ছড়াচ্ছে বার্সেলোনা, কিন্তু বাইরে? চলতি মৌসুমে এখনও পর্যন্ত বার্সেলোনা ফুটবলে সে মাধুরী নেই। আজ তাই অন্যরকম মাধুরীর খোঁজে মেসি-জাভির দল। স্প্যানিশ লীগে বার্সেলোনা আজ অ্যাওয়ে ম্যাচে মৌসুমের প্রথম জয়ের লড়াইয়ে নামছে। যে লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হবে স্পোর্টিং গিজন। অ্যাওয়েতে বার্সেলোনার আজ তৃতীয় ম্যাচ।
আগের দুই ম্যাচের একটিতেও তারা জয়ের মুখ দেখেনি। দুটোতেই ড্র করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। আগের দুই অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভ্যালেন্সিয়া ও রিয়াল সোসিয়েদাদ। দুটো ম্যাচই ২-২ গোলে ড্র হয়। এ ম্যাচে অবশ্য পেপ গার্দিওলার দল জয়ের আশা করতেই পারে। প্রতিপক্ষের শক্তিই তাদের এ মৌসুমে প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্পোর্টিং গিজন বর্তমানে লীগের পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে নিচের স্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত একটি ম্যাচেও তারা জয়ের মুখ দেখেনি। নিজেদের মাঠে একটিমাত্র ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিই করাই এ পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য।
বার্সেলোনা ও স্পোর্টিং গিজনের এটি হবে ১৫তম লড়াই। আগের ১৪ লড়াইয়ে ১২ বার বার্সেলোনা জয় পেয়েছে। অতীত সাফল্য এবং প্রতিপক্ষের বর্তমান অবস্থায়ও বার্সেলোনার কোচ মোটেও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না। খেলোয়াড়দের ইনজুরি তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইনজুরির কারণে তার রক্ষণভাগের অবস্থা যাচ্ছেতাই। পিকে এখনও ইনজুরিমুক্ত হননি। একই কারণে অধিনায়ক কার্লোস পুওলকে আজ বিশ্রামে দেখা যেতে পারে, যে কারণে সেন্টার ডিফেন্সের দায়িত্বটা হ্যাভিয়ের মাশচেরানোকে নিতে হচ্ছে। মাঝমাঠে আজ নাও দেখা যেতে পারে জাভিকে। এর পাশাপাশি আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, আলেক্সি সানচেজ এবং ইব্রাহিম আফেলেকে ছাড়াই গিজন সফরে আসতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে।
গিজনের বিপক্ষে দুর্দান্ত সাফল্য সত্ত্বেও গিজনের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ নিয়ে গার্দিওলার দুশ্চিন্তার আরও একটি কারণ রয়েছে। শেষবার যখন বার্সেলোনা এল মোলিনন সফরে এসেছিল, তখন পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ফিরতে হয়েছিল। ডেভিড বারালের করা গোল ডেভিড ভিয়া পরিশোধ করেছিলেন।
ইনজুরি নিয়ে বার্সেলোনা কোচের দুশ্চিন্তার শেষ না থাকলেও স্পোর্টিং গিজন কোচ ম্যানুয়েল প্রেসিয়াডোর মনে এমন কোনো দুশ্চিন্তা নেই। সেরা একাদশই তিনি পাচ্ছেন এ মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের সেরা ক্লাবকে মোকাবেলার জন্য। প্রেসিয়াডো বলেন, 'আমাদের সব বিভাগেই ভালো করতে হবে। আশা করছি মেসি এবং তাদের দলের জন্য এ দিনটি মোটেও সুখকর হবে না। সপ্তাহজুড়ে আমি খেলোয়াড়দের বুঝিয়েছি, এটি এমন এক ম্যাচ যেটি উপভোগের জন্য দারুণ হবে।'
গিজনের বিপক্ষে এ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি বার্সা সমর্থকদের চোখ থাকবে মেসির দিকে। মেসির অন্তত একটি গোলের প্রত্যাশা থাকবে তাদের। একটি গোল তাকে বার্সেলোনার হয়ে সর্বাধিক গোলের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আসবে।

তোপের মুখে শেখ জামাল

পাতানো ম্যাচ খেলার কলঙ্কের ঘা একদিন আগে দগদগে করেছেন রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক ইরান শেখ। চতুর্থ বাংলাদেশ লীগে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচটি পাতানো খেলেছেন বলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে স্বীকার করেছেন ইরান শেখ। ঘা-মুখেই গতকাল নতুন মৌসুমের দলবদল করতে এসেছিল শেখ জামাল। পাতানো ইস্যু নিয়ে রীতিমতো মিডিয়ার তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ লীগ চ্যাম্পিয়নরা।
ফুটবল দলের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল, ক্লাবের দুই পরিচালক এনায়েত কবীর চঞ্চল ও মোখলেসুর রহমান টয় এবং অধিনায়ক আমিনুল হককে নতুন দল নিয়ে ব্রিফ করার আগেই নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয় পাতানো খেলা নিয়ে। তখন তাদের ঘিরে দাঁড়ানো রেজিস্ট্র্রেশন করতে আসা নতুন-পুরনো ফুটবলাররা হন বিব্রত। যদিও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কর্মকর্তারা জোরালোভাবেই পাতানো খেলার কথা অস্বীকার করেছেন। এমনকি বাফুফে পাতানো খেলা তদন্ত করে তাদের যে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে, তাও দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। জরিমানা পরিশোধ করতে হবেই_ বাফুফে এ সিদ্ধান্তে অটল থাকলে বাংলাদেশ লীগ থেকে দল প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তারা। তাদের বক্তব্য, পাতানো খেলার অভিযোগ উঠলেও প্রমাণিত হয়নি। রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক যেখানে স্বীকার করেছেন ওই ম্যাচটি তাকে দিয়ে পাতানো খেলা হয়েছে, তারপর আর প্রমাণের কী আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এনায়েত কবীর চঞ্চল বলেন, 'অভিযোগ উঠেছে কিন্তু তা প্রমাণিত হয়নি। ইরান শেখ কোরআন ছুঁয়ে বলেছিলেন পাতানো খেলেননি, এখন কী করে বলেন?' এ সময় তার পাশে বসা দলের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল বলেন, 'আমরা ওই বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমাদের সভাপতি আগেই বলেছেন, জরিমানা দিয়ে খেলতে হলে দল প্রত্যাহার করে নেব।' অধিনায়ক আমিনুল হক বলেন, 'ইরান শেখ টিভিতে কী বলেছেন শুনিনি।'
পাতানো প্রসঙ্গ শেষে এবারের দল কেমন হলো_ মিডিয়া থেকে এমন প্রশ্ন শুরুর পর যেন স্বস্তি ফিরে পেলেন শেখ জামালের কর্মকর্তারা। এবার শেখ জামালের ঘর ভেঙে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও আবাহনী। তবে চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যানেজারের আশা, 'শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই আমরা দল গড়েছি। আমাদের এবারের দল অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেলে তৈরি করা হয়েছে।' দলটি গতবারের মতো কেন তারকাসমৃদ্ধ হলো না, তার ব্যাখ্যা অধিনায়ক আমিনুল দিয়েছেন এভাবে_ 'গত বছর জাতীয় দলের অনেকেই সাইড বেঞ্চে বসেছিলেন। এবার যাদের নিয়েছি তাদের অনেকে হয়তো স্বনামধন্য নন, তবে তারাও পারফরম্যান্সেও কম নন।' যারা শেখ জামাল ছেড়েছেন তাদের অনেকের অভিযোগ, দলে কোন্দল ছিল। আমিনুল মনে করেন, 'কোন্দল বলে কিছু ছিল না দলে। কোচ যাকে ভালো মনে করেছেন তাকেই খেলিয়েছেন।'
দলবদলের প্রথম দিনে চ্যাম্পিয়নরা নতুন-পুরনো মিলিয়ে ২০ জনকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। পুরনোদের মধ্যে আছেন আমিনুল, অসীম, মিন্টু শেখ, মিশু, এনি, কোমল ও সবুজ। নতুন এসেছেন আবাহনীর অরূপ, মোহামেডানের শরীফ, শেখ রাসেলের রাজু, ফেনী সকারের পিরু, সোহেল রানা, ফরাশগঞ্জের ভাষানী, রহমতগঞ্জের রিমন, আরামবাগের খালিদ সাইফুল্লাহ এবং ব্রাদার্সের ইউছুপ ও ইমরোজ। বিদেশিদের মধ্যে গতবার খেলা ইয়োকা ও ফেমি এবং ব্রাদার্সের এভারটন।

ছিটমহলে মশাল মিছিল

৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬২টি ছিটমহলে একই সঙ্গে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে আজ রোববার বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ছিটমহলবাসীর ১০ দিনব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জনমত ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, নিষ্প্রদীপ সন্ধ্যা, রান্নার চুলা জ্বালানো বন্ধ রাখা, মোমবাতি জ্বালানো, মৌন মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ছিটমহলগুলোর বাসিন্দারা। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, দাবি
আদায়ের জন্য তারা শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
গতকাল শনিবার আন্দোলনের নবম দিনে ভারতের দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলের কালীরহাট বাজারে মশাল মিছিল-সমাবেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাশিয়ার ছড়া শাখার সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোজাফফর হোসেন, হাবিবুর রহমান, নুর আলম, নুর ইসলাম, শাহানুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল গণি মিয়া প্রমুখ।
এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের বড়গাঁও চুলকা ছিটমহলে মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে, ছেউটি কুর্শা ছিটমহলে হাশেম আলীর নেতৃত্বে, সাহেবগঞ্জ ছিটমহলে তারা মিয়ার নেতৃত্বে, গাড়োলঝারা ছিটমহলে মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং দীঘলটারী ছিটমহলে খোকনের নেতৃত্বে ছিটমহলবাসী মশাল মিছিল করেছেন।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মইনুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, ছিটমহল বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে তাদের ১০ দিনের কর্মসূচি আজ শেষ হবে। তবে চলতি মাসেই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সমন্বয় কমিটির দুই দেশের ইউনিটের মধ্যে আলোচনার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতেই থাকবে।
এদিকে পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের ১২টি ছিটমহলে শনিবার মশাল মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলার বোদা উপজেলার অভ্যন্তরে ভারতের পুটিমারী ছিটমহল ইউনিটের সভাপতি আবু জেকের ও ছিটমহলের চেয়ারম্যান তছলিমউদ্দিন মশালে আগুন দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এছাড়া গাড়াতী, শালবাড়ী, পুটিমারী, নাজিরগঞ্জসহ সব ছিটমহলে একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পুটিমারী ছিটমহলের শত শত নাগরিক মশাল নিয়ে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের মনিরামজোত এলাকার মহাসড়কের ওপর বিক্ষোভ করে।

নিঃশব্দ ও বিরতিহীন যাত্রা

কোনো বিরতি ছাড়াই হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতে পারে বার টেইলড গডউইট নামে একটি পাখি। হাজার মাইল পাড়ি দেওয়ার সময়, এমনকি খাদ্য গ্রহণের জন্যও বিরতি নেয় না তারা। কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া থেকে আলাস্কায় উড়ে যাওয়ার বিশ্বরেকর্ডও আছে এ গোত্রের অস্ট্রেলিয়ান পাখির। পাখির ডানার শক্তি দেখেই এ রকম একটি যাত্রীবাহী জেট বিমান তৈরির চিন্তা করলেন ডিজাইনার উইলিয়াম ব্লাক।
মোটামুটি একটি মডেলও ঠিক করেছেন তিনি। এর সবকিছুই হবে পাখিটির মতো। লকহেড স্ট্রেটোলাইনার জেট বিমান নামে পরিকল্পিত এ বিমানটিকে দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জ্বালানিও সংগ্রহ করতে হবে না। এটি জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে তৈরি করা হবে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি কোনো শব্দ ও বিরতি ছাড়াই অতি উচ্চতায় বিশ্বের যে কোনো জায়গায় ভ্রমণ করতে পারবে। যদি কখনও বাতাস প্রতিকূলে থাকে তবে গডউইট পাখি ঠিক যেভাবে পরিস্থিতি বুঝে আত্মরক্ষা করে, এ জেট বিমানটিও একই ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। জেট বিমান হলেও এটি বিকট ধরনের শব্দ করবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ইয়ঙ্কো ডিজাইনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শব্দ উৎপাদন না করার জন্য এ বিমানটিতে চারটি ক্রায়োজেনিক হাইড্রোজেন টারবোফ্যান থাকবে। সেগুলো কম জ্বালানি দিয়ে কাজ করতে পারবে এবং বিশাল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করবে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যদিও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনেক পথ এখনও বাকি তবুও ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ান পাখিটির মতো আকাশ ভ্রমণের অবারিত এ সুযোগ আসতেই পারে।

আটকে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের ২৭ প্রকল্প

নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনায় আটকে গেছে তিন হাজার কোটি টাকার ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে গৃহীত এসব প্রকল্পের মধ্যে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ৩৫টি যন্ত্রপাতি ক্রয়, ভাসমান ক্রেন ক্রয়, টার্মিনাল নির্মাণ ও সাড়ে ৩শ' সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রমও সম্পন্ন করে ফেলেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু নতুন নির্দেশনার কারণে আগের সব কার্যক্রম বাতিল হয়ে গেছে। এখন বন্দর কর্তৃপক্ষকে সব প্রকল্প আবার নতুন করে সাজিয়ে অনুমোদনের জন্য 'প্রজেক্ট প্রোফাইল' পাঠাতে হবে সাতটি মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরোতে হবে আরও ১০টি ধাপ! চট্টগ্রাম বন্দর চলে ১৯৭৬ সালের পোর্ট অর্ডিন্যান্স দিয়ে। এ অর্ডিন্যান্সের ৩৫(১)অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, 'বন্দরের আয়ের টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পোর্টের উন্নয়ন কাজে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতে পারবে।' তাই ২৩ বছর আগে একটি পরিপত্র জারি হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ছোট প্রকল্পগুলো রাজস্ব বাজেটে রেখে নিজেরা সম্পন্ন করত। আর ৫০ কোটি টাকা বা তারও বড় অঙ্কের প্রকল্প হলে অনুমোদন নিত মন্ত্রণালয় থেকে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বন্দরকে এখন সব প্রকল্পই ২৩ বছর আগের একটি পরিপত্র অনুযায়ী পাস
করাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়।
কী আছে নতুন নির্দেশনায়
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯টি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুমোদনের জন্য এপ্রিল মাসে একটি প্রস্তাবনা পাঠায় নৌ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এসব প্রকল্পের অনুমোদন না দিয়ে উল্টো সব কার্যক্রম বাতিল করতে বলে নৌ মন্ত্রণালয়। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল নৌ মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান রুমি তংচঙ্গ্যা স্বাক্ষরিত একটি পত্রে মন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, 'তালিকাভুক্ত প্রকল্পগুলো ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) কিংবা টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিপিপি) অনুসারে নতুন করে পাঠানো হোক।'
চট্টগ্রাম বন্দরে একই বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয় গত ১১ জানুয়ারি। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর নৌমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক এডিপি পর্যালোচনা সভার উদ্বৃতি দিয়ে সহকারী প্রধান উম্মে হাসিনা স্বাক্ষরিত সেই পত্রে উল্লেখ করা হয়, 'সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে যে কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও সেবা সংগ্রহ/ক্রয় প্রকল্প আকারে গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যমান পরিপত্র অনুসরণে এসব প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণ পূর্বক যথানিয়মে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।'
আটকে যাওয়া ২৭ প্রকল্প
৮০০ কোটি টাকার কেসিটি টার্মিনাল নির্মাণ, ৪১ কোটি টাকার ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, ৩৫ কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ৩১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ফ্লোটিং ক্রেন, ৫৪ কোটি টাকার টাগ কাণ্ডারি-৯ প্রতিস্থাপন, ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার সিসিটিভি স্থাপন, ২৭৭ কোটি টাকার কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ, ২১ কোটি টাকার সিগোয়িং ওয়াটার সাপ্লাই ভেসেল সংগ্রহ, ১২ কোটি টাকার রিপ্লেসমেন্ট সার্ভে বোট (জরিপ-১১) বাই ওয়ান মডার্ন সার্ভে বোট, সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার ড্রেজার সংগ্রহ, ৫০ কোটি টাকার রিপ্লেসমেন্ট অব টাগ বোট (কাণ্ডারি-৬), সাড়ে ১৯ কোটি টাকার প্রকিউরমেন্ট অব ওয়ান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ-কাম-অ্যাম্বুলেন্স শিপ, ২০৩ কোটি টাকার বহুতল বিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং সুবিধাদি নির্মাণ, ৬৩ কোটি টাকার সার্ভে জেটি নির্মাণ, ১৮২ কোটি টাকার নিউমুরিং আবাসিক এলাকায় ওভারফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণ, ১০০ কোটি টাকার সিপিএ টাওয়ার নির্মাণ, ৫০ কোটি টাকার কাস্টম অকশন শেড নির্মাণ, ৩০ কোটি টাকার হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণ, চবক কর্মচারীদের জন্য ৯৫ কোটি টাকায় তিনটি ভবন নির্মাণ, ৪০ কোটি টাকায় শামসুজ্জামান স্টেডিয়াম সংস্কার, ২০ কোটি টাকায় রেস্ট হাউস নির্মাণ, ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলট ভেসেল দিশারি-৫ পরিবর্তন, ৯০ কোটি টাকায় শোর ক্রেন ক্রয় ও ২০ কোটি টাকায় পাইলট ভেসেল প্রহরী ও রক্ষী পরিবর্তনের প্রকল্প রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের এক্সপোজিশন কাম কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ, ব্রেক বাল্ক মালামাল খালাসের জেটি নির্মাণ ও বহুতল বিশিষ্ট অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রথম ৯টি প্রকল্পের মধ্যে চারটির টেন্ডার প্রক্রিয়া পর্যন্ত সম্পন্ন করে ফেলেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সব প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।
প্রকল্প পাসের পরও আছে ১০ ধাপ
৫০ কোটি টাকার অধিক কোনো টেন্ডারের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে এখন অতিক্রম করতে হবে নূ্যনতম ১০টি ধাপ। টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে শুরুতে গঠন করতে হবে টেন্ডার প্রস্তুতকরণ কমিটি। এরপর গঠন করতে হবে টেন্ডার উন্মুক্তকরণ কমিটি। টেন্ডারে অংশ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন করেছে কি-না তা যাচাই বাছাই করতে গঠন করতে হবে মূল্যায়ন কমিটি। এখানে কোনো অনিয়ম পেলে পুনঃদরপত্র আহ্বান করবেন তারা। অন্যথায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে চিহ্নিত করে মূল্যায়ন কমিটি তা উপস্থাপন করবে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে। চেয়ারম্যান তা পুনঃনিরীক্ষা করে উপস্থাপন করবেন বন্দরের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৪ সদস্যের বোর্ডে। সেখানে পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করবেন বোর্ড সদস্যরা। ২৪ কোটি টাকার অধিক কাজ হলে বোর্ড সদস্যরা পাঠাবেন নৌ মন্ত্রণালয়ে। এখানে সচিব মনোনীত কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করবেন। ৫০ কোটি টাকার নিচের দরপত্র হলে মন্ত্রণালয়ের এ কমিটি তা অনুমোদন দেবে। অন্যথায় তারা সুপারিশ পাঠাবে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে। এ কমিটির বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে বিলম্বিত হয় সিদ্ধান্ত।
সংশ্লিষ্টরা যা বলেন
নতুন নির্দেশনা প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, 'স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৮৮ সালে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নানা কারণে এটি পুরোপুরি মেনে এতদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে তাই বন্দরের প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন সেই পরিপত্র অনুসরণ করতে বলেছি আমরা।' বন্দর অর্ডিন্যান্স প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান কমোডর আনওয়ারুল ইসলাম বলেন, 'অর্ডিন্যান্সে ভিন্ন কথা থাকলেও নৌ মন্ত্রণালয় পরিপত্র অনুসরণ করতে বলেছে আমাদের। জটিলতা বাড়লেও আমরা সেই নির্দেশনা অনুসারেই কাজ করব এখন।' বন্দর ব্যবহারকারী চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনা মানতে গেলে জরুরি ইকুইপমেন্ট আসতেই লাগবে কয়েক বছর। পরিপত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয়কে ১৫ দিনের মধ্যে মতামত প্রদান করতে বলা হলেও ইকুইপমেন্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরার মতো জরুরি প্রকল্পে চার মাসেও চূড়ান্ত মতামত পাওয়া যায়নি। এটি পাওয়ার পর আরও অন্তত ১৪-১৫ ধাপ পেরুনোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে প্রতিটি প্রকল্পকে। তাই গৃহীত প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই মনে হয় আমাদের কাছে।'

হুমায়ূন বললেন আমি ফিরে আসবোই

ন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ এখন অমিত আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান। নিউইয়র্কে তার ক্যান্সার চিকিৎসা সঠিকভাবে এগিয়ে চলেছে। লাখ লাখ পাঠক ও শুভার্থী হুমায়ূন আহমেদের দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছেন। গতকাল শনিবার সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় তিনি তার আত্মবিশ্বাসের কথাই বলেছেন।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাত্রার রাতে হুমায়ূন আহমেদের ধানমণ্ডির বাসায় গিয়ে সমকাল সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদকে তার ক্যান্সার বিজয়ের কাহিনী শোনান।
১৬ সেপ্টেম্বর সমকালে তার 'হুমায়ূনের জন্য প্রার্থনা' শীর্ষক আবেগঘন লেখাটি প্রকাশিত হয়।
ই-মেইল বার্তায় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, 'সারওয়ার ভাই, বাংলা গদ্য ভাষায় আপনার এই অসামান্য দখলের কথা আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকরা সাধারণত এ ধরনের গদ্য লেখেন না বলেই আমার ধারণা। আপনার সংক্ষিপ্ত লেখাটি পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমার কাছে এ যেন প্রচণ্ড শীতার্ত দিনের প্রথম ভোরে এক টুকরো স্বচ্ছ সূর্যের তাপের মতন। আপনাকে ধন্যবাদ। আমি ফিরে আসবোই। ফিরে এসে বরিশালে আপনার সঙ্গে কিছু মধুর মুহূর্ত কাটাবো। আমরা ক্যান্সার বিজয়ী, আমরা যা চাই, তা শেষ পর্যন্ত করে ছাড়ি।
হুমায়ূন আহমেদ'
হুমায়ূন আহমেদ বর্তমানে নিউইয়র্কের সোলেন কেটারিং ক্যান্সার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টিফেন আরভিসের চিকিৎসাধীন আছেন। তার শরীরে ইতিমধ্যে প্রথম দফা কেমো দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর তাকে দ্বিতীয় কেমো দেওয়া হবে। এভাবে চার দফা কেমো গ্রহণ শেষে হুমায়ূন আহমেদের শরীরের সার্বিক অবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করবেন চিকিৎসকরা।

ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি তিক্ততাপূর্ণ

বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি তিক্ততাপূর্ণ। জামায়াতে ইসলামীর আশঙ্কা অন্যান্য ইসলামিক দল তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। ২০০৫ সালের ১৯ জুলাই ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দৈনিক 'ইনকিলাব' পত্রিকার সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামের প্রধান শত্রু বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
 সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। সেই বৈঠকে ইসলামী চিন্তাবিদরা জামায়াতে ইসলামী সম্বন্ধে তার কাছে অনুরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন বাহাউদ্দিন। উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাটি ২০০৫ সালের ১৯ জুলাই ঢাকা দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছিল। জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল মূলধারার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে দেশের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ করছিলেন বাহাউদ্দিন। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই ইসলামী ঐক্যজোটের উপদলগুলোকে এ লক্ষ্যে সংগঠিত করছিলেন ইনকিলাব সম্পাদক। তারবার্তায় বলা হয়, মার্কিন রাজনৈতিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতে বাহাউদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের ইসলামী অনুশীলনকারী মূলধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আঘাত করার চেষ্টা
করছে। দেশের শীর্ষ ইসলামী আলেম ব্যক্তিরা জামায়াতকে এ কারণে ইসলামের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে।
এ প্রসঙ্গে এএমএম বাহাউদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের মাজার এবং পীরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাই জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামী দলের মধ্যে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের ১০ শতাংশ আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অধিকাংশ কওমি মাদ্রাসা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে।
ওই বছর ১১ জুলাই মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আবদুর রাজ্জাক বলেন, চারদলীয় জোটের মধ্যে ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। যারা সমালোচনা করছেন তারা ক্ষমতায় নেই, আমরা আছি। এ প্রসঙ্গে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইসলামী দলগুলোর বাইরের শক্তি জোটকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে এবং এ ব্যাপারে গণমাধ্যম পরিবেশিত অতিরঞ্জিত খবরকে দায়ী করেন তিনি। তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে বিরোধীরা জামায়াতে ইসলামীকে সমালোচনা করলেও বিএনপি-জামায়াত জোট এসব বাক্যবাণের বিরুদ্ধেও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ

মাত্র দু'বছর আগের মন্দা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই বিশ্ব অর্থনীতি এখন আরেকটি সুনামির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বে আবারও যদি অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হবে_ তা নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা ইতিমধ্যেই হিসাব কষতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, বিগত মন্দায় তেমন প্রভাব না পড়লেও এবার বেশ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্য ও জনশক্তি রফতানি কমবে। রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বৈদেশিক ঋণ কমে যাবে আশঙ্কাজনক হারে। অর্থনীতিবিদরা আগেভাগেই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি : বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির চলমান অস্থিরতা বড় ধরনের মন্দার দিকে মোড় নিলে কিছুটা প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়বে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে জানান, ইউরো জোন যেদিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে তাতে আরেকটি মন্দার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো মন্দা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে। এর ফলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে বৈদেশিক ঋণ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গেলে রফতানি ও রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জনশক্তি রফতানির ওপরও আঘাত আসবে। তবে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন। পলিসি রিসার্চ
ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হলে আমাদের কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তবে কিছু প্রভাব বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে এবং সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো। এছাড়া আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আমরা যেসব পণ্য রফতানি করি মন্দায় সেগুলোর চাহিদা খুব বেশি কমে না। অন্যদিকে চীন থেকে পণ্য আমদানির চাহিদা কমছে, যা বাংলাদেশকে উপকৃত করবে। বৈদেশিক সাহায্য, জনশক্তি রফতানি ও রেমিট্যান্স নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে কিছু ঝুঁকি রয়েছে যেগুলো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে_ রেমিট্যান্স ও রফতানি কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়া। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি খাতের ঋণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় সরকারের সামনে বিকল্প হলো সহজ শর্তে এবং কম সুদে বৈদেশিক ঋণ। এ জন্য বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার জোর চেষ্টা চলছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হলে বিদেশি সহায়তা কমে যাবে। কম সুদে বৈদেশিক ঋণ না পাওয়া গেলে সরকারকে উন্নয়ন ব্যয় কমাতে হবে অথবা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অনেক বেশি ঋণ নিতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতি : বিশ্বে আগের অর্থনৈতিক সংকটের উৎপত্তি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট মূল্যের বুদ্বুুদ থেকে। অতি মূল্যায়িত আবাসন খাত ঋণবাজারকে তছনছ করে দিয়েছিল, যা এক পর্যায়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার কবলে ফেলে দেয়। সেই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টার মাঝেই নতুন করে সংকট শুরু হয়েছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে। গ্রিসসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের সরকারি ঋণ (সভরেন ডেট) সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে আরেকবার বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। এসব দেশের সরকারি বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যে সারাবিশ্বের বিনিয়োগ রয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ উন্নত অর্থনীতিতে কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কায় সারাবিশ্বেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা জেঁকে বসেছে। রাজনীতিবিদরা অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হবেন_ এমন ধারণায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা বলছেন, আমাদের আর্থিক খাত বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত নয়। তবে মন্দা বিরাজ করলে চাহিদা কমে যাওয়ার পরিণতিতে অর্থনীতির প্রকৃত খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রফতানি ও রেমিট্যান্সের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক জরিপে বিশ্বের বড় বিনিয়োগকারীরা আগামী বছর নাগাদ আরেকটি অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ব্লুমবার্গের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করা হয়েছে। ব্লুমবার্গ সারাবিশ্বের ১০৩১ জন বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক এবং ব্যবসায়ীর ওপর জরিপ করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭২ শতাংশ বলেছেন, ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়বে। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ বলেছেন, এ অস্থিরতা ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮০ শতাংশই বলেছেন, ইউরোজোনের অর্থনীতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার জার্মানির পার্লামেন্ট গ্রিসসহ ইউরো অঞ্চলের 'বেল আউট' ফান্ড সম্প্রসারণে রাজি হওয়ায় কিছুটা আশাও জাগ্রত হয়েছে।
বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত তিন মাসে (২২ জুলাই-২২ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের শেয়ারবাজারের সূচক এফটিএসই-১০০ কমেছে ১৪ শতাংশ। নিউইয়র্কের ডাউ জোন্স কমেছে ১৫ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্সের পতন হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। গত আগস্ট মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়ে বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর এ ঘটনা ঘটল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এক বিবৃতিতে বলেছে, আর্থিক বাজারে প্রচণ্ড চাপসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোজোনের সরকারগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে।
আইএমএফের সার্ভেইল্যান্স রিপোর্ট : সম্প্রতি ওয়াশিংটনে শেষ হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় আইএমএফ উপস্থাপিত সমন্বিত বহুপক্ষীয় সার্ভেইল্যান্স রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রকৃত অর্থনীতি এবং আর্থিক খাতের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বেড়েছে। সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বেড়েছে অনিশ্চয়তা। ২০১১-১২ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০১০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত আস্থার পতন হচ্ছে। সরকারের ঋণ ঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তা ইউরোপের ব্যাংকিং খাতকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। ব্যাংকের শেয়ার মূল্য কমছে দ্রুতগতিতে। ইউরোপে ঋণখেলাপি প্রবণতা বাড়ছে এবং বেশ কিছু ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমেছে। সরকারের উচ্চমাত্রার ঋণ দায় এবং অর্থনীতিতে কম প্রবৃদ্ধি_ এ দুটি অবস্থা অর্থনীতি টেকসই হওয়ার পথে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সরকার ঠিকমতো ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে ব্যাংকগুলো প্রচণ্ড সংকটে পড়বে। ইউরোপের পাইকারি ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি থাকায় এ বাজারের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। আইএমএফ আশঙ্কা করেছে, ঋণবাজার আরও অস্থিতিশীল হতে পারে। কমতে পারে চাহিদা। বাড়তে পারে বেকারত্ব। এমনকি খুব খারাপ অবস্থা না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্বল্পমাত্রার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক : সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে ২০১১-১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরো অঞ্চল ও জাপানের অর্থনীতিতে মাত্র দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফ বলেছে, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে, যা ২০১০ সালে ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। আউটলুকে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলো সংকটে থাকায় উন্নয়নশীল দেশের রফতানিপণ্যের চাহিদা কমছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা প্রকারান্তরে প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে: হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, দেশে নির্বাচন হবে, হবে, হবেই। বিরোধী দলও সে নির্বাচনে আসবে। খালেদা জিয়াকেও নির্বাচনে আসতেই হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সংসদে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। শেখ হাসিনা শনিবার গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ১১ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের অভিজ্ঞতা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার চার দলের এক জনসভায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।' এ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হবেই, হবেই, হবেই। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন করবেই, করবেই, করবেই। রাজনীতি করতে চাইলে খালেদা জিয়াকেও নির্বাচনে আসতেই হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা হস্তান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার গঠন করতে চায়। ভোট প্রদান তাদের সাংবিধানিক অধিকার। জনগণের ভোট ছাড়া আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই না। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে তাও নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির দাবিকে সাধুবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি উত্তম প্রস্তাব। আমরাও চাই সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গড়ে উঠুক। জনগণের আকাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করা হোক_ সেটাই আমরা চাই। এ জন্য বিরোধী দলকে সংসদে আসতে হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ ও অর্থ পাচারকারীদের
রক্ষার জন্য বিরোধী দলের দেওয়া কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, তারা একের পর এক নাটক করেছে। আজ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নবিদ্ধ, সেটা তো তিনিই (খালেদা জিয়া) করেছেন। ২০০৭ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো নিজেদের টেক কেয়ারেই ব্যস্ত ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা নাকি নির্বাচন করবেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কীভাবে নষ্ট করে ফেলা যায়, সেটা বিএনপি-জামায়াতই দেখিয়েছে। বিএনপিই ১৯৯১ সালে লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিল।
বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে রূপ আমরা দেখেছি, এরপরও কী আশায় তিনি আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন_ সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এত অত্যাচার-নির্যাতন ও জেল খাটার অভিজ্ঞতা তিনি কীভাবে ভুলে গেলেন?
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ বিলুপ্তি চায় বলেই সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুসরণ করে সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা কী তাহলে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ও মানবেন না?
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়'_ ২০০৮ সালে দেওয়া খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কী তাহলে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চান বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান? তিনি কী আবারও জেল-জুলুম ভোগ করতে চান?
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও পুলিশের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর এ হামলার উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা। গণতন্ত্রের কথা বলে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের এ ন্যক্কারজনক তা বকে সমর্থন জানিয়েছেন। দেশবাসীকে এদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, প্রতিহত করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের জনসভায় বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন দেশের মানুষ নাকি অশান্তিতে আছে। আসলে তিনি নিজে সারাক্ষণ অশান্তিতে ভোগেন। ক্ষমতা থেকে বিদায় হওয়ার কষ্ট তার আছে। দুই দুর্নীতিবাজ সন্তানের লুটপাটের সুযোগ বন্ধ হওয়া ও তাদের বিচার হচ্ছে, এ কারণেও তার কষ্ট থাকবে_ এটাও স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন দেশে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ। গণতন্ত্র অবরুদ্ধ হলে তিনি সমাবেশ করলেন কীভাবে? তার রাজনীতির লক্ষ্য দুই দুর্নীতিবাজ ছেলেকে বিচারের হাত থেকে বাঁচানো, একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেই তিনি যখন জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেন, তখন তার মুখে ভালো কথা মানায় না। কথায় আছে, 'চোরের মার বড় গলা'।
তিনি বলেন, জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার নাকি সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস না থাকলে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংবিধানে বহাল থাকে কীভাবে? তাছাড়া খালেদা জিয়া তার বক্তব্য চলাকালে মাগরিবের আজান পড়লেও আজানের প্রতি সম্মান জানাতে বক্তব্য বন্ধ রাখেননি। এ অবস্থায় তিনি কীভাবে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার কথা বলেন?
তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে যিনি ১০ টাকার চাল ৪৫ টাকা করেছেন, আবারও ক্ষমতায় এলে তিনি কীভাবে দাম কমাবেন? সবকিছু ঠিক করে ফেলবেন? এসব মিথ্যাচার জনগণ কোনোদিনই বিশ্বাস করবে না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার সরকারের সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি বলেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ওই সময় নয়বার জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়া ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়াতেই বর্তমান সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিনিসের দাম বেড়েছে সত্যি। তবে এর সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে।
র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ না দিতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, র‌্যাব তাদের সৃষ্টি। আজ তারাই কীভাবে এর বিরোধিতা করেন? ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ক্রসফায়ার মিডিয়ার ভুল ব্যাখ্যা। র‌্যাব ও সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজেদের রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। সে সময় আমিই প্রথম ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ করেছিলাম।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ইচ্ছা কী? জনগণকে নিরাপত্তাহীন করা? দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা? জঙ্গিদের কাছে বাংলাদেশকে জিম্মি করা?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, সরকার বিদেশে শ্রমবাজার ধরে রাখতে পারেনি। এ বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও সরকার সেসব দেশে নতুন করে প্রায় ৯ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান করেছে। শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারি পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কথায় কথায় হরতাল কি শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসানোর জন্য?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিভিন্ন সময় যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তারা ভারতবিরোধিতার সস্তা রাজনীতি করেছেন। একটি সমস্যারও সমাধান করতে পারেননি। বরং দেশকে ভারতীয় পণ্যের বাজার বানিয়েছেন। অন্যদিকে যখনই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে তখনই বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিস্তার পানি নিয়েও আলোচনা চলমান। আমরা আশাবাদী, আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত 'টক শো'র বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, টক শোগুলোতে অনেক সময় যা বলা হয় সেগুলো নির্জলা মিথ্যা। এগুলো মাঝে মাঝে একটু টকই হয়ে যায়। টকের সঙ্গে একটু মিষ্টি না থাকলে তো হয় না। টক শোগুলোতে কখনও কোনো মিষ্টি থাকে না। তিনি বলেন, সব কাজ শেষে রাত জেগে এসব টক শো দেখতেও কষ্ট হয়। এত কাজ করার পরও টক শোগুলো এমনভাবে বলে যেন সরকার কিছুই করেনি। ভাবখানা এমন যে, আমরা ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে যেন অন্যায়ই করেছি। অথচ আমরা যে কাজগুলো করেছি, তা জনগণের কল্যাণেই করেছি।
প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মিডিয়াগুলো মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখেই যাচ্ছে। আমরা সহ্য করেই যাচ্ছি। রাজনীতিবিদদের ঢালাও সমালোচনা করা হলে কেন সাংবাদিকদের সমালোচনা করা যাবে না।
১১ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ৬৬তম অধিবেশনমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সারা বিশ্বের জন্য একটি শান্তির মডেল উপস্থাপন করেছেন, যার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন। একই সঙ্গে বিশ্ব সন্ত্রাস দমনে ৭ দফা সুপারিশ ও সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে সাম্যতা ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে এর আশু সমাধানে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে আহ্বান জানিয়েছেন।
এ সময় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অবদানের জন্য নিজের 'সাউথ সাউথ' পুরস্কার অর্জনের উল্লেখ করে এ পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পুরস্কার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের কঠোর পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, বিচারের ভার জনগণের কাছেই তুলে দিলাম। বিএনপি-জামায়াত জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা করলেই বোঝা যাবে, আমরা জনগণের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি। দেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে পেরেছি কি-না?
সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এবং পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশ্ন : বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সরকার পতন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছেন, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান সরকারকে বিদায় করা হবে। এর আগে এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ চলতি বছরের জুনের মধ্যে সরকার পতনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?
উত্তর : এর আগে তো সরকার পতনের জন্য এ বছরের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এখন বিরোধীদলীয় নেতা আগামী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি আরও ১৫ মাস সময় বাড়িয়েছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। আশা করি পরবর্তী সময়ে আরও সময় বাড়াবেন তিনি।
প্রশ্ন :বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, রোডমার্চ কর্মসূচির পর তিনি সরকার পতন আন্দোলনের ফাইনাল রাউন্ড শুরু করবেন। এই ফাইনাল খেলা মোকাবেলায় আপনারা প্রস্তুতি কী?
উত্তর : প্রথমে তো কোয়ার্টার ফাইনাল, পরে সেমিফাইনাল এবং তারপরই তো ফাইনাল খেলা হবে। তিনি (খালেদা জিয়া) খেলার কোনো স্টেজে আছেন, সেটাই আমার প্রশ্ন। যে যত কথাই বলুন, খেলোয়াড়রা খেলে যাবেন। কাজ করনেওয়ালারাও কাজ করে যাবেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা আমাদের কাজ করে যাব।
প্রশ্ন : আপনি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'চোর-বাটপাড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না।' আবার আপনিই জাতিসংঘে শান্তির মডেল উপস্থাপন করেছেন। এ অবস্থায় শান্তির মডেল বাস্তবায়নেও কি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না?
উত্তর : সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। 'চোর-বাটপাড়দের সঙ্গে বসব না'_ এমন কথা আমি বলিনি। আমি বলেছি, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসলেই তো তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাদ দিয়ে তার চোর ও দুর্নীতিবাজ দুই ছেলেকে রক্ষার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। এ অবস্থায় তার সঙ্গে আলোচনায় বসে কী লাভ?
প্রশ্ন :তাহলে কি ছেলেদের রক্ষার প্রসঙ্গ বাদ রেখে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইলে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন?
উত্তর :এটি একটি হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন। তিনি তো (খালেদা জিয়া) সরকার পতনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, সরকার উৎখাতের কথা বলছেন_ সেখানে আর কীসের আলোচনা হবে? এখন তিনি তো বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি সংসদে চলে আসুন। সংসদে কথা বলুন। সরকারের যত সমালোচনা সংসদেই করুন। সেখানেই আলাপ-আলোচনা হবে।
প্রশ্ন : সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ভূমিকার কারণে আপনার দলের কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন মহল থেকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি?
উত্তর : কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনা এখনও আমরা করছি না। তবে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করুক, সেটাও আমরা চাই না। সন্ত্রাস ও অপকর্ম করলে তাদের অবশ্যই বিচার হবে, শাস্তিও হবে।
প্রশ্ন : বিভিন্ন মহল থেকে মন্ত্রিসভায় রদবদলের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি-না?
উত্তর :এটা তো সম্পূর্ণ এখতিয়ার আমাদের (সরকারের)। কাজেই এ প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। যখন পরিবর্তন আসবে, তখন তা সবাই দেখবে।
প্রশ্ন :আপনি জাতিসংঘে বিশ্বশান্তির কথা বলেছেন। উপমহাদেশেও বিরোধপূর্ণ অবস্থা নিরসনে আপনার সরকারের পক্ষে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি-না?
উত্তর : আমরা সব সময়ই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। এখন উপমহাদেশেও শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তার সবটুকুই আমরা করব।

ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ by জাকির হোসেন

মাত্র দু'বছর আগের মন্দা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই বিশ্ব অর্থনীতি এখন আরেকটি সুনামির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বে আবারও যদি অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হবে_ তা নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা ইতিমধ্যেই হিসাব কষতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, বিগত মন্দায় তেমন প্রভাব না পড়লেও এবার বেশ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্য ও জনশক্তি রফতানি কমবে। রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বৈদেশিক ঋণ কমে যাবে আশঙ্কাজনক হারে। অর্থনীতিবিদরা আগেভাগেই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বললেনঃ হবে, হবে, হবে

ত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার হুমকির জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই দেশে নির্বাচন হবে, হবে, হবে। জনগণ নির্বাচন করবে, করবে, করবে। খালেদা জিয়াকে সেই নির্বাচনে আসতেই হবে। রাজনীতি করলে নির্বাচনে আসতে হবে। যুদ্ধাপরাধী, মানি লন্ডারিং মামলার আসামি ও দুর্নীতিবাজদের বাঁচানোর জন্য বিএনপির আন্দোলন_এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, 'নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। সময় হলেই নির্বাচন হবে। দেশের জনগণ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। কারণ এটা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার সুরক্ষিত চায় সবাই। সে জন্য তারা নির্বাচন চায়।' জনগণ নির্বাচন না চাইলে তখন সে রকম ক্ষমতা তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির এক কথাঃ হবে না, হবে না, হবে না by মোশাররফ বাবলু

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতেই হবে-প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাব দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, নিউ ইয়র্কে এক ধরনের বক্তব্য আর দেশে ফেরার পর আরেক ধরনের বক্তব্য, এটা কিসের আলামত? প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিছক চমক সৃষ্টি ও জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেন, 'আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না, আমরাও একই দাবিতে এখনো বহাল আছি। সেটা হলো-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না, হবে না, হবে না।'

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনঃ দানা বাঁধছে অনিশ্চয়তা

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি হবে না, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী জোটের মুখোমুখি অবস্থানে উদ্বিগ্ন দেশের বিশিষ্টজনরা। তাঁরা মনে করছেন, দুই জোটের এই অবস্থান দেশকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অচলাবস্থা দূর করতে হলে খোলা মন নিয়ে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে। অতীত থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আজ বোধন

নাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। আনন্দ-উৎসাহ-উদ্দীপনা আর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে ভক্তিভরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কোটি ভক্ত। আজ রবিবার ষষ্ঠী তিথিতে দুর্গতিনাশিনীর বোধনের মাধ্যমে সূচিত হবে দেবীর আরাধনা। আগামী ৬ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের।

পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রধান রপ্তানি খাত হবে জাহাজ নির্মাণ শিল্প

রকারের পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প এগিয়ে চলছে। বরং সরকারের আরোপিত শুল্কের বোঝা ও নানা ধরনের বিধি-নিষেধ এ শিল্পের অগ্রগতির পথে একটি বড় বাধা। এসব বাধা দূর করতে প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু নীতিমালা, যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ। গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্টনে স্থানীয় একটি সম্মেলনকক্ষে 'দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ' শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টিকে শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও অনলাইন সংবাদপত্র পিটিবি নিউজ ডটকম যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ওষুধ নিয়ে লুকোচুরিঃ জেনেরিক নাম ও ওটিসির পক্ষে বিশেষজ্ঞরা by তৌফিক মারুফ

বাংলাদেশে ১৯৮২ ও ১৯৯৭ সালের (সংশোধিত) ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে ওষুধের বাণিজ্যিক প্রচারণা নিষিদ্ধ_তবে ওষুধ কম্পানিগুলো নিজ নিজ ওষুধ সম্পর্কে চিকিৎসকদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে পারবে। তবে কম্পানিগুলো বিভিন্ন স্মারক, প্রকাশনাসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রতিনিয়ত ওষুধের প্রচারণা চালাচ্ছে। টেলিভিশনেও বিভিন্ন অজুহাতে ওষুধ কম্পানির বিজ্ঞাপন চলছে। এ ছাড়া দেশের বাইরের অনেক ওষুধের প্রচারণা চলছে টেলিভিশনের মাধ্যমে। বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের আর্থিক সুবিধাসহ নানা উপঢৌকন দেওয়ার জোরালো অভিযোগ তো আছেই।

মাদ্রাসা নিয়ে গবেষণা, গ্রন্থ প্রকাশঃ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ৯২ শতাংশ রাজনীতিতে যুক্ত

দেশের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাত্র ২ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। তাদের একটি অংশ জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত হয়। আর এ কাজে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকে। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ৯২ শতাংশই বিভিন্ন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ জড়িত বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী শাসনতন্ত্র কিংবা খেলাফত মজলিসের সঙ্গে।

হায় জাতীয় লিগ! by তারেক মাহমুদ

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট হিসেবে জাতীয় লিগ দিনে দিনে তাঁর মর্যাদা হারাচ্ছে। ক্রিকেট কর্মকর্তাদের কাছে যখন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের চেয়ে ক্লাবের স্বার্থটাই বড় হয়ে দেখা দেয়, এই পরিণতিই তো হওয়ার কথা! এমন একটা দিন আসবে যখন জাতীয় লিগ টিকে থাকবে শুধু টেলিভিশনের টক শোতে, পত্রিকায় ছাপা হওয়া বিক্ষুব্ধ কলামে। সাবেক ক্রিকেটাররা, ক্রিকেট-ভাবুকেরা হায়-হায় করে কপাল চাপড়াবেন। আমরা ‘ক্রিকেট জাতি’ অথচ ক্রিকেটের মেরুদণ্ডটাকে কীভাবেই না ভেঙে ফেললাম! আফসোস। আফসোস। আপাতত ‘আফসোস’টা আশঙ্কার পর্যায়ে। আশা করা যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেট কখনো এমন দুর্দিন দেখবে না। তবে দেশের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর জাতীয় লিগের প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের উদাসীনতা দেখে, এই লিগ নিয়ে যারপরনাই খামখেয়ালিপনায় ভয় জাগেই।

অহেতুক বিতর্ক by উৎপল শুভ্র

মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, মিথ্যা তিন প্রকার—মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা ও পরিসংখ্যান। আমি বলি—মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা ও আত্মজীবনী। নিয়মকে প্রমাণ করতে ব্যতিক্রম তো থাকেই। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আত্মজীবনী মানে ‘যা যা করা উচিত ছিল, সে সব করেছি দাবি করে খারাপ যা করেছি তা লিখতে ভুলে যাওয়া।’ মনে হচ্ছে, শোয়েব আখতার ব্যতিক্রম হতে গিয়েই সমস্যাটা বাধালেন। শোয়েবের আত্মজীবনী কন্ট্রোভার্সিয়ালি ইয়োরস এখনো পড়া হয়নি। পড়লেই বা কীভাবে বলা সম্ভব, সব সত্যি না মিথ্যা লিখেছেন! কিছু ব্যাপার তো শুধু শোয়েবই জানবেন। অথবা যাঁর সঙ্গে ঘটনা, তিনি। তাহলে শোয়েবের আত্মজীবনীকে ‘ব্যতিক্রম’ বলছি কেন?

পেশাদার বনাম পিতা তেভেজ

কটা জিনিসই শুধু পাল্টায়নি। তাঁর জার্সি নম্বর। ওয়েস্টহামে ছিল ৩২, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও তিন-দুই, সিটিতেও। কিন্তু ইংলিশ ফুটবলে পা রাখার প্রথম দিন থেকেই কার্লোস তেভেজের জীবনে উথাল-পাতাল পরিবর্তনের ঢেউ। পাল্টেছে সবকিছুই। ওয়েস্টহামের বেতনের ছোট অঙ্কটা সিটিতে এসে ছুঁয়েছে আকাশ। এসেছে বিপুল তারকাখ্যাতি। পেয়েছিলেন সিটির অধিনায়কত্বও। কত পরিবর্তন...নাহ্, জার্সি নম্বরের মতো আরেকটা জায়গায় তেভেজ হয়তো পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয়—বিতর্ক!

সবাই রানি... by শাহরিয়ার ফিরোজ

বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন দেখেছে নতুন তিন মহিলা চ্যাম্পিয়নকে। টেনিসে যে প্রভাবশালী মহিলা তারকার বড় সংকট, এটা তারই প্রমাণ আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মহিলা এককের শিরোপা জিতবেন কে? ফ্রেঞ্চ ওপেন কিংবা উইম্বলডনে? এটা কোনো প্রশ্ন হলো! ঠিকই ধরেছেন—প্রশ্নটা আসলে প্রতীকী। উত্তর নেই জেনেও এখানে এই প্রশ্নের অবতারণা এ জন্য যে, বিশ্ব মহিলা টেনিসটা এখন বড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। একক কোনো তারকার আধিপত্য নেই। আলোচনায় নেই এমন তারকারাই চমক দেখিয়ে জিতে নিচ্ছেন গ্র্যান্ড স্লাম। তাই কে জিতবেন আগামী বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন কিংবা উইম্বলডন, বলা মুশকিল।

ঢাকায় এলেই দাম দ্বিগুণ by আবুল হাসনাত

ঢাকায় এলেই সবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। বগুড়ার কৃষক যে বেগুন ২৫ টাকায় বিক্রি করছেন, সেই বেগুন ঢাকায় বসে কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না গাজীপুর থেকে বেগুন আনলেও। কেবল বেগুনই নয়, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই ঢাকায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, কুমিল্লা, নরসিংদী, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পরিমাণে সবজি আসছে ঢাকায়। পথে চাঁদাবাজির কারণে দাম বাড়ে এক দফা। বাকিটা বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। শুধু লাভ পান না কৃষক।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীঃ বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতেই হবে

ত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বললেন, রাজনীতি করলে বিরোধীদলীয় নেতাকে নির্বাচনে আসতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে গতকাল শনিবার দুপুরে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দুর্গোৎসব আজ শুরুঃ চট্টগ্রামে দুই হাজার ৭১৩ মণ্ডপ

ঢাকের শব্দ, উলুধ্বনি ভেসে আসছে চারদিক থেকে। শুরু হয়ে গেছে চণ্ডী পাঠ। আলোর ঝলকানিতে শিশু-কিশোরদের চিত্ত দোলা দিচ্ছে। ভীতি উদ্রেক না করা আতশ বাজি নিয়ে কাড়াকাড়ি তো লেগেই গেছে। সবকিছুই ঘোষণা করছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। শুরু হয়ে গেছে সনাতন সম্প্রদায়ের শারদ উৎসব। বোধনের মধ্য দিয়ে আজ রোববার থেকেই দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। চট্টগ্রামে এবার মোট দুই হাজার ৭১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে মহানগরের পূজামণ্ডপ হচ্ছে ২৩৫টি। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বক্ষব্যাধি হাসপাতাল নামেই বিশেষায়িত by প্রণব বল

ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। ১০০ শয্যার এই প্রতিষ্ঠানটি ফুসফুসজনিত দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী রোগের (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ—সিওপিডি) জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে সরকারিভাবে পরিচিত। কিন্তু তা কেবল নামেই। এত বড় একটি হাসপাতালে একটি এক্স-রে মেশিন নেই, নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট তো রয়েছেই। আর বক্ষব্যাধির মধ্যে এখানে মূলত চিকিৎসা হয় যক্ষ্মা রোগের। এ ছাড়া অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদির কিছু কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

‘২৩ বছর ধরে লোকটি পাগল’—প্রসঙ্গে কিছু কথা by ইপিসতা আক্তার

১ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরপর দুটি ‘আইন অধিকার’ সংখ্যায় আনোয়ারুল মোমীন নামের এক চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিজীবীকে নিয়ে তানজিম আল ইসলামের প্রতিবেদনগুলো পড়ে ২৫ তারিখেও এ সংক্রান্ত লেখা আশা করেছিলাম। না পেয়ে কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। কেননা পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এর একটা ইতিবাচক সমাধানের জন্য কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে দেখছে, এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল না হলেও একেবারে সাধারণ নয়।

চেক ডিজঅনার কী করবেন? by জাহিদ আহমেদ

বদুল কাদির রাজধানীর ব্যস্ততম গাউছিয়া মার্কেটের একজন পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার কাপড় কিনে নিয়ে যান কামরাঙ্গীরচরের আরেকজন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী মো. রফিক (ছদ্মনাম)। যে কাপড়ের মূল্য বাবদ তাঁকে ঢাকা ব্যাংকের তিন লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু আবদুল কাদির সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত ফান্ড’ দেখিয়ে ডিজঅনার হয়। এখানে মূল ঘটনাটি হচ্ছে, মো. রফিকের ঢাকা ব্যাংকে যে হিসাব রয়েছে, সেই নম্বর থেকে মো. আবদুল কাদিরকে তিন লাখ টাকা প্রদানের জন্য একটি চেক ইস্যু করেন এবং তাঁর ওই হিসাবে রক্ষিত টাকার পরিমাণ চেকটি পরিশোধ করার ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে ডিজঅনার হয়। আবদুল কাদিরের মতো এ রকম আরও অনেক ব্যবসয়ী, ব্যাংক, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত চেকদাতাদের দ্বারা চেক ডিজঅনারের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে।

শিশু মাইসা থাকবে কার কাছে? by প্রশান্ত কর্মকার

মাইসা জাবিয়া একটি শিশুর নাম। তার বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর। বছর দেড়েক আগে মাইসার বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। মাইসার মা নুসরাত জাহান ওরফে ঈশিতা তাকে নানির কাছে রেখে নতুন সংসার শুরু করেছেন। মুসলিম পারিবারিক আইনে নাবালক শিশু মায়ের কাছে থাকবে। মা যদি কোনো কারণে নিতে অস্বীকার করেন, তবে বাবা সন্তানের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু মা-বাবা দুজনই যদি সন্তান লালন-পালনে অস্বীকার করেন, তবে প্রথমে মায়ের, এরপর বাবার পরিবার সেই সন্তানকে নেওয়ার অধিকার রাখেন। তবে মা যদি অন্যত্র বিয়ে করেন তাহলে সেই অধিকার হারাতে হবে মাকে। শিশু মাইসা আজ আইন আদালতের বেড়াজালে বন্দী। এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তার ভবিষ্যৎ। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে, কার কাছে থাকবে মাইসা—বাবার কাছে, নাকি নানির কাছে।

ফেনী সদর হাসপাতালঃ ২৫০ শয্যার উন্নয়নকাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি

ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তিনবার সময় বাড়ানো হলেও উপকরণের দাম বাড়ার অজুহাতে কাজে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্থান সংকুলানের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ভর্তি হওয়া রোগীদেরও উপযুক্ত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-কর্মচারীরা। বর্তমানে ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং প্রায় এক হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।

প্রস্তুত হচ্ছে সাগরিকা, দুশ্চিন্তা বৃষ্টি নিয়ে by আরিফুল হক

বাংলাদেশের সাগরপারের একমাত্র ক্রিকেট ভেন্যুর নাম জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এই ভেন্যুটির অনেক দিকে মিল রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কয়েকটি স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে একেবারে সাগর তীর ঘেঁষেই। এত মিল থাকলেও চট্টগ্রামের এই স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখানে একটি টেস্ট ও একটি এক দিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২১ অক্টোবর থেকে। এখন চলছে তারই প্রস্তুতি—মাঠ ও উইকেট তৈরি, ধোয়া-মোছা ইত্যাদি কাজ। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর এটি হবে এই মাঠের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর। সেদিক থেকে আয়োজকদের স্বস্তির বিষয় কাজ করতেই পারে। কারণ বিশ্বকাপ উপলক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো, উন্নতমানের আধুনিক প্রেসবক্স নির্মাণ— সবকিছুই হয়ে গেছে। আর মাঠের অবস্থাও আগের চেয়ে উন্নত। কারণ, বিশ্বকাপ উপলক্ষে গলফ ক্লাবের বিশেষজ্ঞ মাঠকর্মীদের দিয়ে মাঠের পরিচর্যা করা হয়।

দুর্গোৎসব শুরু

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আজ রোববার শুরু হচ্ছে। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের এ উৎসব। শেষ হবে ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারাদেশে এখন উৎসবের আমেজ বইছে। পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। পুরাণের মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাত্রার আগে শ্রীরামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে। এজন্যই দেবীর শরৎকালের এ পূজাকে হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।

পতৌদির নবাবের সঙ্গে কয়েক দিন by ফারুক মঈনউদ্দীন

ট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্লেনের সিঁড়ি দিয়ে যখন নেমে আসছিলেন পতৌদির নবাব, বহু দূর থেকেই আলাদা করা যাচ্ছিল তাঁর নবাবি চেহারা। সাধে কি তাঁর নাম হয়েছে ‘টাইগার পতৌদি’! টারমাকে রিসিভ করে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি নবাবি কেতায় করমর্দন করে ধীর পায়ে সম্ভ্রান্ত পদক্ষেপে এগিয়ে গেলে একটা গাড়ির আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে পাকড়াও করে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক লোক। আমার কোষ্ঠি ঠিকুজি টুকে নেওয়ার পর প্রায় ফিসফিস করে অতিথির পরিচয় জানতে চেয়ে ছোট নোটবুকটা বাগিয়ে ধরেন তিনি। এসব জায়গায় নাকি বেশি কথা বলতে নেই, তাই কেবল অতিথির নাম বললে তিনি তাঁর কাছে হিব্রু ভাষার মতো অপরিচিত নামটা যেভাবে উচ্চারণ করলেন, সেটা এখানে উল্লেখ করলে নবাবের বিদেহী আত্মা কষ্ট পেতে পারে।

নবাবের মুখোমুখি by মতিউর রহমান

তৌদির নবাব তিনি। এই ২০০৪ সাল পর্যন্তও বিশ্ব ক্রিকেটের কনিষ্ঠতম ক্যাপ্টেন হওয়ার রেকর্ড ছিল তাঁর দখলে। ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ৪৬টি। নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪০ টির। অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে বিয়ে করার সুবাদে বাঙালিদের ‘জামাই বাবু’ও বটে। সদ্য প্রয়াত মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারের মূল রচনা। ক্রিকেটপাগল ছিলাম সেই শৈশব থেকেই। ১৯৫৫ সালে আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র, ভারত-পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচের শেষ দিনের খেলা দেখতে বড় ভাই ‘দাদা’র সঙ্গে ঠেলেঠুলে ঢুকে পড়েছিলাম ঢাকা স্টেডিয়ামে।