Showing posts with label ব্রাজিল. Show all posts
Showing posts with label ব্রাজিল. Show all posts

Thursday, August 20, 2026

রবার্তো কার্লোস কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, আসল ঘটনা কী

গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস নাকি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আসলে সত্যিটা কী? দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রবার্তো কার্লোস নিজেই। এ খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক।

কীভাবে গুঞ্জনের শুরু

বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে দেখা করেছেন কার্লোস। পাশাপাশি অনলাইনে এমন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেখানে রবার্তো কার্লোসও আছেন। এতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামিক রীতিতে একজনকে বিয়ে করেছেন।

আসলে কী ঘটেছিল


ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলো দেখে মনে হতেই পারে, স্ত্রীর ধর্ম অনুসরণ করে তিনিও বুঝি মুসলিম হয়েছেন। তবে গুঞ্জনের জট ছাড়াতে সম্প্রতি সৌদি আরবের দৈনিক পত্রিকা ওকাজের সঙ্গে কথা বলেছেন রবার্তো কার্লোস।

জেদ্দাভিত্তিক ওকাজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাটা সত্যিই চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে গুঞ্জন চারপাশে ঘুরছে, তা সত্য নয়।’

২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই লেফটব্যাক জানান, পারিবারিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই একাধিক রীতিতে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তাঁর মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’

মূলত স্ত্রীর ধর্মীয় অনুভূতি ও বন্ধুদের সম্মানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের কারণেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

মরোক্কান স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের গল্প

সাক্ষাৎকারে রবার্তো কার্লোস কীভাবে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল, সে গল্পও শুনিয়েছেন। ফুটবল–সম্পর্কিত এক ব্যবসায়িক বৈঠকে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। কার্লোস জানান, সোহাইলা একজন অত্যন্ত সফল নারী ব্যবসায়ী। দুই বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। এ দুই বছরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই তাঁদের বোঝাপড়া অনেক বেড়েছে।
মরক্কো ও ব্রাজিলে এ বিয়ে নিয়ে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একদিকে সোহাইলার মরোক্কান পরিচিতি, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ কার্লোসের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি—সব মিলিয়ে তাঁদের এ বিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

এটা কার্লোসের কত নম্বর বিয়ে

আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ৫৩ বছর বয়সী কার্লোসের তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাঁর তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় সংসার করার পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে।  
সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর মেয়ে জিওভানা এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিনি এরই মধ্যে নানাও হয়ে গেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রবার্তো কার্লোসের বিয়ের ছবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রবার্তো কার্লোসের বিয়ের ছবি। মরোক্কান ওয়ার্ল্ড নিউজ

Wednesday, August 19, 2026

‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমামের অভিনন্দন

ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবর সামনে আসার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দোসারি।

বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রবার্তো কার্লোসের অতীত এবং বর্তমান ছবি শেয়ার করে তাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম।’

সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য দোয়া করে শায়খ ইয়াসির আদ-দোসারি পোস্টে আরও লেখেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন, তার অন্তরে হেদায়েত দান করুন, তার ইসলাম গ্রহণে বরকত দিন এবং তাকে দৃঢ় ও হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’

রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি করেন।

আলি শাহিন জানান, সম্প্রতি ব্রাজিল সফরের সময় দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখানেই ব্রাজিলের ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ জিহাদ হাম্মাদের কাছ থেকে রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবর জানতে পারেন তিনি। পরে সাবেক এই ফুটবলারকে অভিনন্দনও জানান শাহিন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোসের সঙ্গে শায়খ জিহাদ হাম্মাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। প্রায় চার সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমামের অভিনন্দন
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দোসারি (বামে) তার ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করা রবার্তো কার্লোসের ছবি (ডানে)।

Friday, May 8, 2026

আহ্ ভালবাসা!

মায়ামির এক স্বামী-স্ত্রী সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত দম্পতির স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা জানালেন এই সাফল্যের রহস্য কেবল একটিই। তা হলো ভালোবাসা। এই দম্পতির একজন ১০৭ বছর বয়সী এলিনর গিটেন্স। তার স্বামী ১০৮ বছর বয়সী লাইল গিটেন্স। ৬৩ বছর তাদের বিবাহিত জীবন। এ সম্পর্কে এলিনর গিটেন্স বলেন, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। লংভিকোয়েস্ট নামের শতবর্ষীদের নিয়ে বিশেষায়িত এক ওয়েবসাইট তাদের ৮৩ বছরের বিবাহজীবনের রহস্য জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার স্বামী লাইল গিটেন্স হাসিমুখে উত্তর দিলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি।’ লংভিকোয়েস্টের গ্লোবাল ভ্যালিডেশন কমিশন তাদের ১৯৪২ সালের বিবাহ সনদ, মার্কিন আদমশুমারি এবং কয়েক দশকজুড়ে সংরক্ষিত নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করে যে তারা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে থাকা দম্পতি।

ওই ওয়েবসাইটের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের মানোয়েল অ্যানজেলিম ডিনো মারা যাওয়ার পর গিটেন্স দম্পতি এই খেতাব পান। ডিনো’র বয়স ছিল ১০৬ এবং তার স্ত্রী মারিয়া ডি সুজা ডিনো’র বয়স ১০২ বছর। ফেব্রুয়ারি থেকে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন তারা। গিটেন্স দম্পতি একই সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দম্পতিও। তাদের সম্মিলিত বয়স ২১৬ বছরের বেশি। প্রতিবেদনটি জানায়, তাদের প্রেমের গল্প অসাধারণ- যুদ্ধ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও টিকে আছে তাদের সম্পর্ক। লাইল ও এলিনরের প্রথম দেখা হয় ১৯৪১ সালে ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটির এক বাস্কেটবল খেলায়।

সেখানে লাইল খেলোয়াড় ছিলেন আর এলিনর দর্শক। এলিনর পরে বলেন, তিনি মনে করতে পারেন না কে খেলায় জিতেছিল। শুধু এটুকুই মনে আছে, সেদিনই প্রথম লাইলের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে লাইল ক্লার্ক আটলান্টার বাস্কেটবল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। দু’জনেই প্রেমে পড়েন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যদিও জানতেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে লাইলকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪২ সালের ৪ঠা জুন লাইল সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির থেকে তিন দিনের ছুটি পেয়ে বিয়ে করেন এলিনরকে। বিয়ের দিনই লাইল প্রথমবারের মতো এলিনরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত বিভাজনের কারণে তাকে কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ট্রেনের কামরায় যাত্রা করতে হয়েছিল- দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সেই ভ্রমণটিও তার কাছে সার্থক মনে হয়েছিল। কারণ শেষে পৌঁছে তিনি পেয়েছিলেন এলিনরকে। এরপর লাইল ইতালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৯২তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদস্য হিসেবে যুদ্ধে যান। সেই সময় এলিনর প্রথম সন্তানসম্ভবা ছিলেন এবং নিউ ইয়র্কে চলে যান।

সেখানে তিনি প্রথমবারের মতো স্বামীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এলিনর এক বিমানযন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বেতন ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তিনি ও লাইল একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন চিঠির মাধ্যমে। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর সেন্সরশিপে লাইলের চিঠির অনেক অংশই কালো দাগে ঢাকা থাকত। যুদ্ধশেষে তারা নিউ ইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

একসঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেন এবং সরকারি দপ্তরে কাজ শুরু করেন। তারা প্রায়ই ভ্রমণে যেতেন। এর মধ্যে এলিনরের সবচেয়ে প্রিয় স্থান ছিল ক্যারিবীয় দ্বীপ গুয়াডেলুপ। এলিনর ৬৯ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কের ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর শিক্ষাবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লার্ক আটলান্টার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তারা মিয়ামিতে চলে যান মেয়ে অ্যানজেলার কাছাকাছি থাকতে। লাইল বলেন, তিনি নিউ ইয়র্ককে মিস করেন।

তবে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে তাদের বিবাহজীবন এখন বিশ্বরেকর্ড। তবুও, তিনি খুশি। কারণ এখনো এলিনরের পাশে আছেন। লংঘিভিকোয়েস্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লাইল বনে, আমি এখানে থাকতে পেরে আনন্দিত। আমরা একসঙ্গে সময় কাটাই, একসঙ্গে অনেক কিছু করেছি এবং এখনো করছি।

mzamin

Thursday, April 30, 2026

কেন লাতিন আমেরিকান এত নেতা আইনি জটিলতায়?

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বোলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচন উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছেন। আইনি জটিলতায় পড়া লাতিন আমেরিকার প্রথম নেতা তিনি নন। পেরুতে বর্তমানে কমপক্ষে চারজন সাবেক প্রেসিডেন্ট লিমার বারবাদিলো কারাগারে বন্দি। কলোম্বিয়ায় সম্প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবে সাক্ষী প্রভাবিত করা ও বিচারিক প্রক্রিয়া ভাঙচুরের অভিযোগে ১২ বছরের গৃহবন্দির সাজা পেয়েছেন। তবে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তিনি।

এ খবর দিয়ে অনলাইন সিএনএন বলছে, আসলে লাতিন আমেরিকার প্রায় দেশেই কমপক্ষে একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারিক তদন্তের মুখোমুখি। ব্যতিক্রম মাত্র একটি দেশ। ইকুয়েডরে ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিজন প্রেসিডেন্ট (মোট আটজন) আইনি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। রাফায়েল কোরেয়া ঘুষকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে বেলজিয়ামে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। পেরুতে নতুন শতাব্দীর শুরু থেকে সাতজন প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার বা তদন্তের সম্মুখীন। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে অষ্টমজন আত্মহত্যা করেন। আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো ও এল সালভাদর- প্রতিটি দেশে পাঁচজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। আর্জেন্টিনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে কির্চনার ২০২২ সালে প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে গৃহবন্দি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ। ব্রাজিল, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও কোস্টারিকা- প্রতিটি দেশে চারজন সাবেক নেতা আইনি তদন্তের মুখে পড়েছেন। পানামা ও হন্ডুরাসে এ সংখ্যা তিনজন করে। নিকারাগুয়া, হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ভেনিজুয়েলা, চিলি ও কলোম্বিয়ার প্রতিটি দেশে কমপক্ষে একজন করে প্রেসিডেন্ট আইনি তদন্তের মুখে।

একমাত্র ব্যতিক্রম উরুগুয়ে: উরুগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, কারও বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তদন্তও হয়নি। বরং দেশটি গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে শীর্ষে। দ্য ইকোনমিস্ট ডেমোক্রেসি ইনডেক্স ২০২৪ এ উরুগুয়ে বিশ্বে ১৫তম এবং এ অঞ্চলের একমাত্র ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উরুগুয়ের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যানজেল আরেয়ানো বলেন, এর পেছনে রয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি’। মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, সাধারণ বাড়িতে বসবাস এবং বিলাসী সুবিধার অভাব এ সংস্কৃতির অংশ।
উরুগুয়ে ছাড়া বাকি লাতিন আমেরিকায় নেতাদের আইনি জটিলতার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন- দুর্নীতি ও ঘুষকাণ্ড, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রেসিডেন্ট-কেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার দেশগুলো গড়ে ১০০ এর মধ্যে মাত্র ৪২ পয়েন্ট পেয়েছে। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কম। আরেয়ানোর মতে, লাতিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ দুর্নীতির বড় কারণ।
গবেষকরা বলছেন, ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের পর থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টদের বিচারের প্রবণতা বেড়েছে। আর্জেন্টিনার অধ্যাপক ক্যাটালিনা স্মুলোভিত্জের মতে, দুর্নীতি নিয়ে জনসচেতনতা আগে কম থাকায় আগের তুলনায় এখন মামলার সংখ্যা বেড়েছে নাকি নজরদারি বেড়েছে-তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ল’ফেয়ার বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলার ফাঁদে ফেলার প্রবণতাও বাড়ছে। এতে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

লাতিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট পদে থেকে দুর্নীতির সুযোগ, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অধিকাংশ নেতা আইনি জটিলতায় জড়ান। তবে উরুগুয়ে প্রমাণ করেছে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান থাকলে ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব।

mzamin

Monday, September 22, 2025

বলসোনারো ও ট্রাম্প গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি by পেদ্রো আবরামোভাই

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিচার নিয়ে যখনই সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়, তখনই তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ময়কর মিলগুলোর প্রসঙ্গ উঠে আসে। দুজনই অতি ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধি, দুজনই হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেন, দুজনই করোনা মহামারির সময় ক্ষমতায় ছিলেন এবং দুজনই প্রকাশ্যে মহামারি মোকাবিলা ও জলবায়ুবিজ্ঞানের গুরুত্ব অস্বীকার করেছিলেন। তাঁরা দুজনেই আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন—কোনোভাবেই নির্বাচনে হার মানবেন না। আর যখন ভোটে হেরে গেলেন, তখন উভয়েই সমর্থকদের জাতীয় আইনসভা দখলে উসকে দেন, যাতে ফল উল্টে দেওয়া যায়।

কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। বলসোনারো এখন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। তিনি এখন সুপ্রিম কোর্টে দণ্ডিত হওয়ার মুখে। অন্যদিকে ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্র শাসন করছেন। প্রশ্ন হলো, কীভাবে এমন হলো? এ উত্তর খুঁজলেই বোঝা যাবে, আজকের গণতন্ত্রের মূল সংকট কোথায়?

বলসোনারো রাজনীতিতে আসেন ১৯৮৮ সালের সেই সংবিধান চূড়ান্ত হওয়ার পর, যা ব্রাজিলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এসে শুরু থেকেই তাঁর ভাবনা ছিল কর্তৃত্ববাদী। তিনি বলেছিলেন, সামরিক একনায়কতন্ত্র যথেষ্টসংখ্যক বামপন্থীকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো হেনরিক কার্দোসোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি পর্যন্ত করেছিলেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে পার্লামেন্ট বন্ধ করে দেবেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসনের সময় বলসোনারো তাঁর ভোটটি উৎসর্গ করেছিলেন সেই সেনা কর্মকর্তাকে, যিনি রুসেফকে নির্যাতন করেছিলেন। এমন অসংখ্য ঘটনায় প্রমাণ মেলে, বলসোনারো গণতন্ত্রের ভেতর দিয়েই উঠে এলেও সারা জীবন গণতন্ত্রকেই আক্রমণ করেছেন।

ট্রাম্পের উত্থান ভিন্নভাবে। ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্কে পাঁচজন কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো কিশোরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা হলে তিনি প্রকাশ্যে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আলোচনায় আসেন। পরে ব্যবসায়ী ও টেলিভিশন তারকার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করেন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দাঁড়িয়েছিল সেসব মানুষের ক্ষোভের ওপর, যাঁরা মনে করতেন, তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন কিংবা সাংস্কৃতিকভাবে অবহেলিত। তিনি কখনোই উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন না; বরং আদালতের প্রতি তাঁর প্রবল অবিশ্বাস ছিল। ব্যবসায় যেমন তিনি আইনকে অবজ্ঞা করেছেন, রাজনীতিতেও তা–ই করেছেন। এখন তিনি আবার প্রেসিডেন্ট হয়ে সংবিধান দুর্বল করা, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া, ভোটের নিয়ম নিজের মতো করে পাল্টানো এবং নাগরিকত্বের সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্প ও বলসোনারো—দুজনই প্রথমবার পুনর্নির্বাচনে ব্যর্থ হন। তবে এখানেই তাঁদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কেন্দ্রীয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের অধীন সারা দেশে একই দিনে ভোট হয়। আমাজনের আদিবাসী গ্রাম থেকে শুরু করে দক্ষিণের কৃষক পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা হয়। কিন্তু কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার বলসোনারো এ ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি জাতির আস্থার জায়গাটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খণ্ডিত নির্বাচনী ব্যবস্থা ট্রাম্প নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি সন্দেহ ঢুকিয়ে দেন, অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার পথ তৈরি করেন।

বলসোনারো কিন্তু আরও এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা একটি খসড়া আদেশ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যাতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার শপথ আটকে দেওয়া যায়। সেনাবাহিনীর ভেতর দ্বিধার কারণে সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এমনকি লুলা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরালদো আল্কমিন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসকে হত্যার পরিকল্পনাও হয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর অস্বস্তির কারণে সেটিও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়।

নির্বাচনের পর বলসোনারোর সমর্থকেরা সেনাশিবিরের বাইরে অবস্থান নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সরকারি কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। লুলার শপথ গ্রহণের এক সপ্তাহ পর তাঁরা সহিংসভাবে সরকারের তিন শাখার কার্যালয় আক্রমণ করেন।

২০২১ সালের ক্যাপিটল হিলে হামলার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টদের প্রায় পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে দেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর বিজয় সব ধরনের জবাবদিহির পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

ব্রাজিলে চিত্র আলাদা। বলসোনারো ক্ষমতায় থাকতেই সুপ্রিম কোর্টকে প্রধান শত্রু বানিয়েছিলেন। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল (যিনি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীন) যখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আনেন, সেটা ছিল ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের শাস্তিহীনতার ধারা ভাঙার ঘটনা।

বলসোনারো এখন গণতান্ত্রিক আইনের শাসন উচ্ছেদের চেষ্টা করার অভিযোগে আদালতে। ব্রাজিলের আইনে এটি স্পষ্ট অপরাধ। কারণ, অভ্যুত্থান সফল হলে জবাবদিহি ভেঙে পড়বে। বলসোনারো বলছেন, তিনি অভ্যুত্থানের কথা শুধু ভাবছিলেন, কাজ করেননি। আদালত এখন তাঁর কথার সত্যতা যাচাই করছেন।

ট্রাম্প ও বলসোনারো দুজনেই আজকের নতুন ধরনের কর্তৃত্ববাদের প্রতীক। তাঁরা ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছেন, বিজ্ঞানের বিরোধিতা করেছেন, মানবাধিকারকে অগ্রাহ্য করেছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করেছেন। তবে বলসোনারোকে আলাদা করে চেনা যায় তাঁর বিংশ শতাব্দীর সামরিক একনায়কতান্ত্রিক আদর্শের কারণে।

যদিও কোনো দেশই গণতন্ত্র ধ্বংসের হুমকি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয়, তবে ব্রাজিলের স্বৈরাচারী শাসনপরবর্তী সংবিধান গণতন্ত্রের শক্ত সুরক্ষা তৈরি করেছে। বলসোনারো আজ শাস্তির মুখে, কারণ তিনি ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ভাঙেননি, বরং সরাসরি অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন।

আমি একজন ব্রাজিলীয়। আমার পরিবারের অনেকে সামরিক শাসনামলে গ্রেপ্তার বা নির্বাসিত হয়েছিলেন। তাই বলসোনারোকে বিচারের মুখে দেখা আমার কাছে স্বস্তির বিষয়। কারণ, কোনো সামরিক শাসকই কখনো তাঁদের অপরাধের শাস্তি পাননি।

কিন্তু আজকের সবচেয়ে বড় হুমকি সরাসরি সামরিক অভ্যুত্থান নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক কর্তৃত্ববাদ—যেখানে ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ হয়ে যায়। ব্রাজিলে, যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যত্র—আমাদের এখনই প্রতিরোধ গড়তে হবে। কারণ, গণতন্ত্রের এই ক্ষয়ই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও বলসোনারোর মতো নেতাদের ক্ষমতায় বসার পথ তৈরি করে।

* পেদ্রো আবরামোভাই, ব্রাজিলের সাবেক বিচারমন্ত্রী
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জইর বলসোনারো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জইর বলসোনারো। ফাইল ছবি রয়টার্স

Friday, September 12, 2025

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছর কারাদণ্ড

অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে দোষীসাব্যস্ত ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির চারজন এ দণ্ড দেন। একজন তাঁকে খালাসের পক্ষে মত দেন।

২০২২ সালে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রসহ পাঁচটি অভিযোগের সবক’টিতে বলসোনারোকে দোষীসাব্যস্ত করেন চার বিচারপতি। ফলে ৭০ বছর বয়সী বলসোনারোকে বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বলসোনারোর পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানেরাসহ আরও সাতজন এ মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছেন।

তবে সেনবাহিনীর সাবেক এই ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার। বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর সিনেটর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো লিখেছেন, ‘তারা (সরকার) এমন একটি প্রক্রিয়াকে বিচার বলছে, যার ফলাফল ঘোষণার আগেই সবার জানা ছিল।’

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডানপন্থী সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সাজার ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারোর দোষীসাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্মিত এবং খুবই অসন্তুষ্ট।

এর আগে গত ৯ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ব্রাজিলের ওপর কড়া শুল্ক আরোপ করতে চান। কারণ, হিসেবে বলেন, ব্রাজিলে তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে। এরপর ব্রাজিলের কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-11%2Fm21gurtz%2F2.avif?rect=1%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, July 8, 2025

‘বিশ্ব আর কোনো সম্রাট চায় না’, ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট লুলার পাল্টা হুঁশিয়ারি

ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এমন অভিযোগ গতকাল সোমবার নাকচ করে দিয়েছেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর এ জোটের নেতারা। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা তাঁকে উদ্দেশ করে সাফ জানিয়ে দেন, ‘বিশ্বের আর কোনো সম্রাটের প্রয়োজন নেই’।

এর আগের দিন গত রোববার রাতে ট্রাম্প ব্রিকস দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। তিনি বলেন, যারা ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ নীতি গ্রহণ করবে বলে মনে হবে, তাদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক’ শুল্ক বসানো হবে। এরপর গতকাল ১৪টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হুমকি দিলেও আপাতত ব্রিকস দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা নেই। তবে কোনো দেশ যদি এমন কোনো নীতি নেয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের চোখে ‘বিরুদ্ধাচরণ’ বলে বিবেচিত হয়, তাহলে ওই বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

রিও ডি জেনিরোতে ব্রিকস সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে লুলা বলেন, ‘বিশ্ব বদলে গেছে। আমরা আর কোনো সম্রাট চাই না।’

প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, এই দেশগুলোর জোট একটি ভিন্ন অর্থনৈতিক কাঠামোর খোঁজ করছে। তাই হয়তো ব্রিকস এখন অনেকের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ব্রিকস যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ভূমিকা খর্ব করতে চায়, তবে এ জোটকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়তে হতে পারে। যদিও ব্রাজিলের সভাপতিত্বে হওয়া বর্তমান ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদের মধ্যে যে অভিন্ন মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা ছিল, তা থেকে সরে এসেছে এ জোট। গত বছর জোটের কিছু দেশ এমন অভিন্ন মুদ্রার প্রস্তাবি দিয়েছিল।

তবু লুলা তাঁর অবস্থানে অনড়। গতকাল তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বিকল্প খোঁজা এখন জরুরি।

‘বিশ্বকে এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে, যাতে বাণিজ্যিক লেনদেনের সব কিছু ডলারের মাধ্যমে না করতে হয়’, বলেন লুলা।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এটা অবশ্যই দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উচিত, অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া। এটা এক দিনে সম্ভব নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে অন্যান্য ব্রিকস দেশের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের হুমকির পর অন্যান্য ব্রিকস সদস্যরাষ্ট্রও নরমভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ব্রিকস কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, শুল্ককে চাপে রাখার বা বাধ্য করানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ব্রিকস ‘উভয় পক্ষের স্বার্থরক্ষামূলক’ সহযোগিতার পক্ষে এবং এ জোট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়।

ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেন, ব্রিকসের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা একটি ‘অভিন্ন বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’র ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি কখনোই কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।

ভারতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ব্রিকস সদস্য ও সহযোগী অনেক দেশ তাদের বাণিজ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

ব্রিকসের নতুন সদস্য ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হারতার্তো ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও শুল্ক আলোচনা তদারক করতে গতকালই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

অন্যদিকে সহযোগী দেশ হিসেবে ব্রিকসে অংশ নেওয়া মালয়েশিয়া—যাদের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল (যদিও পরে তা স্থগিত হয়), জানিয়েছে, তারা স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বাসী এবং কোনো আদর্শগত পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে নেই।

উল্লেখ্য, রোববার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা সদস্যদেশ ইরানে সাম্প্রতিক বোমা হামলার নিন্দা জানান এবং বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এতে পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের শুল্ক নীতিরও সমালোচনা করা হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প হুমকি দেন, যারা ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে, তাদের ‘শাস্তি’ পেতে হবে।

২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন প্রথমবারের মতো ব্রিকস সম্মেলনে বসে। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়। গত বছর থেকে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সৌদি আরব এখনো পুরোপুরি সদস্য না হলেও অংশীদার দেশ হিসেবে এতে অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০টির বেশি দেশ ব্রিকসে সদস্য বা অংশীদার হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। রিও ডি জেনিরো, ৭ ব্রাজিল ২০২৫
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। রিও ডি জেনিরো, ৭ ব্রাজিল ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Thursday, February 20, 2025

অভ্যুত্থানের চক্রান্তে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো

এবার অভ্যুত্থান চক্রান্তের অভিযোগে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোকে অভিযুক্ত করেছেন দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি অভ্যুত্থানের চক্রান্ত করেন বলে দাবি করা হয়েছে। বলসোনারোর বিরুদ্ধে তার উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দে সিলভাকে নির্বাচনে জয় লাভের পর কার্যালয়ে যোগদানে বাধা দেয়ার অভিযোগে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে লুলা’কে বিষ খাওয়ানো এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে ডি মরাইস’কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলসোনারো। তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট এবার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ বিবেচনা করবে। যদি অভিযোগ গৃহীত হয় তাহলে বলসোনারো ছাড়া আরো ৩৩জন বিচারের সম্মুখীন হবেন। ২০২২ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে ব্যালট পেপারের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে ৮ বছর দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, সামান্য ভোটের ব্যবধানে ওই নির্বাচনে জয়লাভ করেন লুলা। যদিও বলসোনারো কখনোই জনসম্মুখে তার পরাজয় স্বীকার করেননি। লুলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাড়ি জমান বলসোনারো। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ই জানুয়ারি তার সমর্থকরা রাজধানী ব্রাসিলাতে সরকারি ভবনে তাণ্ডব চালায়। ভবনের কিছু অংশে লুটপাট চালায়। ওই ঘটনায় পুলিশ ১৫০০ জন দাঙ্গাকারীকে আটক করে। তিন মাস আগে ফেডারেল পুলিশ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে বলসোনারোকে অভ্যুত্থানে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন তারা। তিনি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে ওই প্রস্তাব তুলে ধরেন বলে দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। তার বিরুদ্ধে আনা অন্যতম অভিযোগ হলো বলসোনারো ও তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ওয়াল্টার ব্রাগা নেটো ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন’ পরিচালনা করেন। ওই অভ্যুত্থান চক্রান্তে তিনি লুলা’কে বিষ প্রয়োগ ও অ্যাটর্নি-জেনারেল আলেকজান্দ্রে ডি মরাইস’কে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এছাড়া বেসামরিক ও সামরিক সদস্যদের সঙ্গে মিলে তিনি ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল যাতে পূর্ণাঙ্গতা না পায় সেই অপচেষ্টা চালান।

ব্রাজিলের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আদালত এ বছরের শেষে ওই বিচারের বিষয়ে অগ্রসর হবে। সরকার দলীয় সমর্থকেরা অবশ্য বলসানোরোর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি উদযাপন করছেন এবং বলছেন, সাবেক ওই প্রেসিডেন্টের জন্য কারাগারই উপযুক্ত জায়গা। তবে বিরোধী দলীয়রা বলছেন, তিনি নিরপেক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে সেটিই এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে কয়েক বছর দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও বলসোনারো এখনও ব্রাজিলে শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি অবশ্য ওই বিচারকে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

mzamin

Saturday, February 15, 2025

৮৪ বছর সংসার করে গিনেস বুকে রেকর্ড

শিল্পোন্নত নগরে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানবিক মূল্যবোধে চিড় ধরছে। বাড়ছে দাম্পত্য কলহ। এর জেরে বিশ্বব্যাপী বিবাহবিচ্ছেদের খবরের ভিড়ে দীর্ঘতম জীবিত দম্পতির আনুষ্ঠানিক খেতাব পেয়েছেন এক যুগল।

ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (ইউপিআই) শুক্রবারের (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ওই যুগলের পরিচয় তুলে ধরে। এ দিন ছিল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তরুণ-তরুণীর প্রেম ছাপিয়ে দীর্ঘতম জীবিত দম্পতির ভালোবাসা নজর কাড়ে পাঠকদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৪০ সালে বিবাহিত এক ব্রাজিলিয়ান দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছেন। এখন থেকে তারা দীর্ঘতম জীবিত দম্পতি।

শতবর্ষী এবং অতি-শতবর্ষী ব্যক্তিদের তথ্য ট্র্যাক করে এমন ওয়েবসাইট লংগেভিকোয়েস্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে অনুসারে ৮৪ বছর ৭৭ দিন ধরে সংসার করছেন ম্যানোয়েল অ্যাঞ্জেলিম ডিনো ও মারিয়া ডি সুসা ডিনো। ম্যানোয়েলের বয়স ১০৫ বছর এবং মারিয়া ১০১-এর ঘরে পা দিয়েছেন। ওয়েবসাইটটির তথ্য যাচাই-বাছাই করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তাদের খেতাবে ভূষিত করে।

এই জুটির দেখা হয় ১৯৩৬ সালে। এরপর মনের আদান-প্রদানের পর ১৯৪০ সালে ব্রাজিলের সিয়েরায় বোয়া ভেনচুরার চ্যাপেলে তাদের বিয়ে হয়। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে। এরপর প্রলয়ংকরী যুদ্ধ, কত কত মহামারি, মন্দা, খাদ্যাভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা পার করেছেন তারা। কিন্তু কোনো ভয়ংকর পরিস্থিতিই তাদের আলাদা করতে পারেনি। হাত ছাড়েননি একে অপরের।

এই দম্পতি ১৩ সন্তান লালন-পালন করেছেন। এখন তাদের ৫৫ জন নাতি-নাতনি, ৫৪ জন প্রপৌত্র-প্রপৌত্র এবং ১২ জন প্রপৌত্র-প্রপৌত্র-প্রপৌত্র রয়েছে।

এর আগে দীর্ঘতম বিবাহ ৮৮ বছর ৩৪৯ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ডেভিড জ্যাকব হিলার এবং সারাহ ডেভি হিলার ১৮০৯ সালে কানাডায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ম্যানোয়েল অ্যাঞ্জেলিম ডিনো ও মারিয়া ডি সুসা ডিনো। ছবি : সংগৃহীত

Thursday, January 9, 2025

সস্তায় গরুর মাংস রপ্তানি করতে চেয়েছিল ব্রাজিল, না আসার কারণ জানালেন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে অনেক সস্তায় গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছিল ব্রাজিল; কিন্তু সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রয়োজনীয় সনদ (সার্টিফিকেশন) না পাওয়ার কারণে ব্রাজিল আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানি করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস।

আজ বুধবার রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত। আগামী ১৫ থেকে ১৮ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৫’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল ব্রাজিল। সর্বশেষ গত এপ্রিলে লাতিন আমেরিকার দেশটি প্রতি কেজি গরুর মাংস সাড়ে চার মার্কিন ডলারে (তখনকার বিনিময় হারে ৪৯৫ টাকা) বাংলাদেশে রপ্তানি করতে প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই মাসে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা দুই দিনের সফরে ঢাকায় এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছিল কূটনীতিক সূত্রগুলো।

ব্রাজিল যখন বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়, তখন ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস কমবেশি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। রাজধানীর বাজারে এখন গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস জানান, ব্রাজিল বিশ্বের সব চেয়ে বড় গরু ও পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বের অনেক মুসলিমপ্রধান দেশেই ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই অনুমতি নেই। ওই অনুমতি পাওয়ার জন্যই ব্রাজিল চেষ্টা করছিল বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

সনদ বা সার্টিফিকেশন পাওয়ার জন্য তিনি কীভাবে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, এ সম্পর্কেও কথা বলেন পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। তিনি জানান, তিনি প্রথমে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। সেখান থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যেতে। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যান ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘(তৎকালীন) মন্ত্রীর কাছে যাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলায় লেখা কাগজপত্র দেখিয়ে নানা ধরনের নীতিমালার কথা জানান। তবে আমি এত নীতিমালা বুঝিনি। এককথায় যেটা বুঝেছি তা হলো, তাঁরা অনুমতি দেননি। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যাবে।’

শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নয়, ব্রাজিল বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বলেও জানান পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। কৃষি, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ নানা খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানান তিনি।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষি–বাণিজ্যে তাঁর দেশের অবস্থান অনেকটা পাওয়ার হাউস বা শক্তিকেন্দ্রের মতো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ব্রাজিল থেকে অভিজ্ঞতা নিতে পারে। তিনি জানান, ব্রাজিলের মানুষেরা বছরে মাথাপিছু ১০০ কেজি গরুর মাংস খায়। বাংলাদেশে এ হার অনেক কম। ব্রাজিলে একটি গরুর থেকে দিনে গড়ে ৪৫ কেজি দুধ পাওয়া যায়; বাংলাদেশে পাওয়া যায় সাত-আট কেজির মতো।

পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস বলেন, ‘সুতরাং শুধু মাংস রপ্তানি নয়, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমেও বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে পারে ব্রাজিল। তবে এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্রাজিলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কর্মসূচি রয়েছে। এ জন্য ব্রাজিল সরকার প্রচুর পরিমাণে ওষুধ কিনে থাকে। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো এ সুযোগ নিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও সনদ বা সার্টিফিকেশনের জটিলতা রয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের বড় প্রদর্শনী

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বারের সহসভাপতি মো. সাইফুল আলম জানান, চলতি বছরের ১৫ থেকে ১৮ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ প্রদর্শনী ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রদর্শনী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশি আমদানিকারকদের পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশ ও তাদের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সাইফুল আলম আরও বলেন, ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিযোগিতামূলক নয়; বরং সহায়তামূলক। ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানি বছরে মাত্র ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে ১০০-১৫০ জন ব্যবসায়ী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য ব্রাজিলে ব্যবসায়িক সংযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি সয়াবিন, চিনি এবং শিল্পের যন্ত্রপাতির মতো উচ্চমানের পণ্য খোঁজার সুযোগ সৃষ্টি হবে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিসিসিআই মহাসচিব মো. জয়নাল আবেদীন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ঢাকায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ঢাকায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। ছবি: সংগৃহীত

Saturday, December 14, 2024

ক্ষুধা দূরীকরণে বৈশ্বিক লড়াই ব্যর্থ কেন?

আজ থেকে নয় বছর আগে মোট ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণ করে জাতিসংঘ। যার মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ ছিল অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা। বৈশ্বিকভাবে দরিদ্রতা ও ক্ষুধা মোকাবিলায় জাতিসংঘের এমন দৃঢ় পদক্ষেপের পরেও গত বছর বিশ্বের প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ ক্ষুধার মধ্যে জীবন কাটিয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ১৫ কোটি ২০ লাখ বেশি মানুষ ক্ষুধায় ভুগেছেন বা পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অভুক্ত থেকেছেন। এ বছরের নভেম্বরে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জি-২০ ভুক্ত দেশগুলো। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলনে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র নির্মূল করার লক্ষ্যে এক হয়েছেন তারা। ‘২০৩০ স্প্রিন্টস’ নামে পরিচিত অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে আগামী ৬ বছরের মধ্যে ৫০ কোটি মানুষের কাছে নগদ অর্থ এবং ১৫ কোটি শিশুর কাছে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন উদ্যোগ সত্ত্বেও কেন ক্ষুধা ও দরিদ্রতা মোকাবিলায় আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না বিশ্ব- সে বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। তবে অনেকেই মনে করছেন, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং  উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে ক্ষুধা মুক্ত বিশ্ব গড়তে বার বার হোঁচট খাচ্ছে বিশ্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্রহীনতাকেও দায়ী করেছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্রাজিলের সামাজিক উন্নয়ন ও সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রী ওয়েলিংটন ডায়াস। সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবিলার গুরুত্ব এবং করণীয় তুলে ধরেছেন তিনি। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা কী- এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েলিংটন বলেছেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল বিশ্ব। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে দরিদ্রতা দূর করে ক্ষুধা মুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলবে দেশগুলো। তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ওয়েলিংটন। তিনি বলেন, দূর হওয়ার পরিবর্তে দরিদ্রতা, দুর্দশা এবং ক্ষুধা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি। এর জন্য মূল কারণ হিসেবে অভিবাসন সংকটকে দায়ী করেছেন ব্রাজিলের ওই মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, ক্ষুধা ও দরিদ্রতা একটি দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি স্বরূপ। এমন পরিস্থিতিতে ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে। বুদ্ধি পরামর্শের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে ধনী দেশগুলোকে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও অধিক ভূমিকা পালন করতে হবে তাদের।
mzamin

Friday, December 6, 2024

কুমারীত্ব ফিরে পেতে তরুণীর কাণ্ড, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

কুমারীত্ব ফিরে পেতে অদ্ভুত এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন এক তরুণী। এজন্য খরচ করেছেন লাখ লাখ টাকা। এমনকি তার এমন পদক্ষেপের জন্য সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরাও।

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, অদ্ভুত কাণ্ড করা এ তরুণীর নাম রাভেনা হানিয়েলি। তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাকে ফলো করেন ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ। সম্প্রতি আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার নাম করে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন এই ব্রাজালিয়ান।

তিনি জানান, নতুন করে কুমারীত্ব ফিরে পেতে চান তিনি। এ জন্য হাইমেনোপ্লাস্টিকের পেছনে খরচ করবেন ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এই তরুণীর মনে করেন, কুমারীত্ব ফিরে পেলে উদ্ধার হতে তার আত্মসম্মান!অথচ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা।

রাভেনা বলেন, এই প্রক্রিয়াটি আমার জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। আমি আমার কুমারীত্ব ফিরে পেতে চাই এবং আবার কুমারী হতে চাই। এটি আমার আত্মসম্মান এবং গভীর ব্যক্তিগত কারণগুলোর সঙ্গে জড়িত। যা আমার জন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হাইমেনোপ্লাস্টি কী?


হাইমেনোপ্লাস্টি মূলত একটি অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া, যেখানে নারী হাইমেনের ছিঁড়ে যাওয়া প্রান্তগুলো সেলাই করে পুনরুদ্ধার করা হয়। রাভেনার জন্য এটি একটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, যা তার জীবনে ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ নির্দেশ করে।

তবে রাভেনা স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের অস্ত্রোপচার প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ে। ২৩ বছরের এই তরুণী বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সবাই এ ধরনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বোঝে না বা সমর্থন করে না। আমাদের উচিত এগুলো বিচার করা ছেড়ে মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো’।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

এদিকে হাইমেনোপ্লাস্টির সম্ভাব্য শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। লন্ডনের মেডিসোনাল ক্লিনিকের সিইও ড. হানা সালুসোলিয়া বলেন, এই প্রক্রিয়াটি একটি প্রতীকী সার্জারি, যা প্রকৃতপক্ষে কুমারীত্ব পুনরুদ্ধার করে না। এতে সংক্রমণ, দাগ পড়া, অনিয়মিত নিরাময় এবং ফলাফলে অসন্তুষ্টির ঝুঁকি থাকে।

রাভেনার অবস্থান

এসব সমালোচনা এবং ঝুঁকির বিষয়ে অবগত থাকলেও রাভেনা তার সিদ্ধান্তে অটল। তিনি বলেন, এটি একজন নারীর অনুভূতি এবং আমি নিজের জন্য কী চাই সে বিষয়ে আমি সচেতন। আমি চাই, নারীরা তাদের নিজ নিজ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহনে সক্ষম হন।

যদিও রাভেনা এখনো অস্ত্রোপচারের তারিখ চূড়ান্ত করেননি। তবে তিনি তার কুমারীত্ব পুনরুদ্ধারের সময় প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক সম্পর্ক এড়ানো এবং সঠিক নিরাময়ের জন্য নিজের আরামের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

অদ্ভুত কাণ্ড করা তরুণী। ছবি : সংগৃহীত
অদ্ভুত কাণ্ড করা তরুণী। ছবি : সংগৃহীত



অ্যামাজনে অন্ধকার জীবনের গল্প: স্বর্ণের বিনিময়ে যৌনতা

অ্যামাজনের গভীরে বেআইনি খনি শ্রমিকদের মনোরঞ্জন করে বেঁচে আছেন কিছু নারী। তারা অর্থের বিনিময়ে শরীরকে বিক্রি করেন শ্রমিকদের কাছে। এমনই একজন নারী ডয়েনে লেইতে। কখনো তিনি নিজে যৌনকর্মী হতে চাননি। তার বয়স যখন ১৭ বছর তখন হার্টঅ্যাটাকে মারা যান তার স্বামী। কিন্তু স্বামীর লাশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো অর্থ ছিল না তার হাতে। শরীর বিকিয়ে সেই অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে তাকে। তার বাস ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে পারা রাজ্যের ইতাইতুবা শহরে। স্বর্ণ খনি থেকে বেআইনিভাবে স্বর্ণ আহরণের জন্য এই শহরটি সুপরিচিত। স্বামী মারা যাওয়ার পর ডয়েনে লেইতে’কে তার বন্ধুরা পরামর্শ দেন খনি শ্রমিকদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের অর্থ সংগ্রহ করতে। তিনি তা-ই করেন। সেই থেকে শুরু। গুরুতর অবমাননাজনক এক পরিস্থিতিতে, একদিকে স্বামীর লাশ, অন্যদিকে তার সৎকারের জন্য অর্থের প্রয়োজন- কি এক কঠিন অবস্থার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে তাকে, ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। বর্তমান সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন-  বেডরুমে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে লাফিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো এক যুবক। অস্ত্র তাক করলো আমার মাথায়। অর্থ দিয়ে শরীর ভোগ করলো।

ডয়েনে লেইতে বলেন, তার ১৭ বছর বয়সে স্বামী মারা যান। ১৮ বছর বয়সে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। তারপর থেকে ইতাইতুবার অন্য নারীদের মতো গত ১৬ বছর ধরে দিন কাটছে তার। তাকে বার বার খনি শ্রমিকদের কাছে একজন রন্ধনশিল্পী, একজন কাপড় কাচার কর্মী, একজন বারবনিতা আবার কখনো যৌনকর্মী হিসেবে ফিরে যেতে হয়। এখন তার পরিবারে আছে ৭ জন। তাদের দেখভালের দায়িত্ব লেইতের। ২৪ বছর বয়সে প্রত্যন্ত এক অঞ্চলের নাতালিয়া কাভালকান্তে যৌনকর্মী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি বলছি না যে, এই শহরের সব নারীই যৌনকর্মী। তবে তাদের বেশির ভাগই এই কাজ করেন। এটা এখানে একটি স্বাভাবিক বিষয়। এসব নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। এক বারের মালিককে বিয়ে করেন তিনি। এর চার বছর পর এক নিষিদ্ধপল্লীর মাসি হয়ে যান তিনি। তবে সম্প্রতি এই দায়িত্ব থেকে সরে এসেছেন। তার ভাতিজিদের দেখভালের জন্য এ পেশা ত্যাগ করেছেন।
অ্যামাজনের রেইনফরেস্ট অঞ্চলে খনি শ্রমিকদের জীবন বড়ই কঠিন। সেখানে দু’একটি সেলুন বার আছে। আর আছে দু’একটা চার্চ। তবে খনি শ্রমিকরা নিজেদেরকে তা থেকে দূরে রাখেন। তারা বসবাস করেন কাঠ ও মোটা ক্যানভাসে তৈরি ঘরসদৃশ ঠিকানায়। এর চারপাশে হানা দেয় সাপ, বাঘ। একবার জেনারেটরের সুইচ বন্ধ হয়ে গেলে পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যান সবাই। যেসব নারী তাদের জন্য খাবার রান্না করেন তাদেরকে এর মধ্যেই পুরুষদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হয়। নাতালিয়া বলেন, শ্রমিকরা যখন কিছু স্বর্ণ খুঁজে পান, তাদের হাতে কিছু অর্থ আসে- তখনই তারা গ্রামে ফেরেন। নারীরা বলেন, এসব শ্রমিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে গোসল করেন। ব্রাজিলের আইনে নিষিদ্ধপল্লী চালানো বেআইনি। কিন্তু নাতালিয়া বলেন, তিনি কোনো কমিশন নেননি। তিনি শুধু বার-এর স্টাফদের কাজ দিয়েছেন। খদ্দেরদের কাছে রুম ভাড়া দিয়েছেন। যুবতীরা তার কাছে ‘কাজ’ চেয়ে যোগাযোগ করেন। এসব যুবতীকে অনেক সময় সেখানে যাওয়ার জন্য অর্থ পর্যন্ত দেন তিনি। কারণ মূল ইতাইতুবা থেকে এই স্থান সাত ঘণ্টার গাড়ির পথ। অন্য নারীদের এই কাজে যুক্ত করার জন্য তিনি ভুল করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাতালিয়া বলেন, কখনো কখনো মনে হয় এ কাজ ছিল না। আবার ভাবি, এসব মেয়েরও তো পরিবার আছে। কারও কারও সন্তান আছে। তাদেরকে মানুষ করতে হয়। অনেক মেয়ের একটি বা দু’টি সন্তান আছে। এ জন্য এটাকে মেনে নিয়েছি।

বিয়ের আগেই নাতালিয়া বেশ অর্থের মালিক হয়ে যান। ইতাইতুবায় এখন তার নিজের একটি বাড়ি আছে। একটি মোটরসাইকেল আছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্বর্ণ আছে। এসব স্বর্ণ অনেক সময় তিনি শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে পেয়েছেন। এক একবার দুই বা তিন গ্রাম স্বর্ণ পেয়েছেন। তার লক্ষ্য পড়াশোনা করে একজন আইনজীবী বা আর্কিটেক্ট হওয়া। ইতাইতুবাকে গোল্ড নাগেট সিটি নামেও ডাকা হয়। সেখানে এভাবে শরীর বিলিয়ে অনেক মেয়ে নিজের ব্যবসা দাঁড় করেছেন। কিন্তু সেখানে ভয়ের কারণও আছে। জাতিসংঘ বলছে, সেখানে যৌন সহিংসতা আছে। বিপথগামী করানোর ঝুঁকি আছে। পাচারের রিপোর্ট আছে। এসব বিষয়ে তেমন রিপোর্ট প্রকাশ হয় না।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত (কালবেলা)

mzamin

Thursday, November 14, 2024

মায়ামিতে জমি কিনছেন নেইমার, মেসির সঙ্গে খেলার জোর গুঞ্জন

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রের মায়ামিতে জমি কেনার খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২৬ মিলিয়ন ডলারে মায়ামির একটি খালি জমি কিনেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিষয়ক এই পত্রিকা। এরপর গুঞ্জন বাড়ছে নেইমারের পরবর্তী ক্লাব হতে যাচ্ছে ইন্টার মায়ামি। অবশ্য নেইমার বা তার এজেন্ট কোনো পক্ষই এই ব্যাপারে মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, ফ্লোরিডার এই জমিতে ১৩,০০০ বর্গফুটের একটি ভবন নির্মানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেইমার। এর জন্য লন্ডনভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তিও হয়েছে। তবে নেইমারের হয়ে যিনি জায়গাটি কিনেছেন তিনি মূল খদ্দেরের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এর কারণও আছে। ওই জমি নিয়ে মামলা চলছে একটি দাতব্য সংস্থার সঙ্গে। নেইমারের হয়ে যিনি এই জমিটি কিনেছেন তার নাম বেন্টো কুইরোজ।

গত বছর আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ফোর্ট লডারডেলে ১০.৭৫ মিলিয়ন ডলারে একটি বিল্ডিং কেনার পরই মায়ামিতে যোগ দেন। নেইমারের এই জমি কেনা মায়ামিতে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত বলে ধারণা করছে ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডট কম।
২০২৩ সালে সৌদি ক্লাব আল হিলালে পাড়ি দেন নেইমার। ২০২৫ সালের জুনে তার সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে ক্লাবটির। সৌদি এই ক্লাবের জন্য এরমধ্যেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছেন নেইমার। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চুক্তিবদ্ধ থাকা এই ব্রাজিলিয়ান মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। গত অক্টোবরে ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পরে তাকে ৫৩ ম্যাচের জন্য সাইডলাইনে অপেক্ষা করতে হয়। গত মাসে আল আইনের বিপক্ষে আল হিলালের হয়ে মাঠে নামেন। ওই ম্যাচে ৫-৪ গোলে জেতে আল হিলাল। ৭৬.৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন থেকে আল-হিলালে যোগ দেন নেইমার। এরপর মেসিও ছাড়েন প্যারিসের ওই ক্লাব। মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩৭ ম্যাচে ৩৩ গোল করলেও মধ্যপ্রাচ্যে নেইমারের সময়টা ছিল বিষাদে ভরা।

আবারো ফিরছে ত্রিশূল!
নেইমার যদি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সাথে একটি দারুণ ত্রিশূল তৈরী হবে। নেইমার অবশ্য ইন্টার মায়ামির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডেভিড বেকহ্যাম মায়ামিতে এরমধ্যেই ‘লিটল বার্সেলোনা’ তৈরি করছেন। নেইমার আসলে এই ছোট বার্সা’র পরিকল্পনা পূর্ণতা পাবে। এরমধ্যেই মেসির সঙ্গে খেলছেন বার্সার সতীর্থ উরুগুইয়ান লুইস সুয়ারেজ, স্প্যানিশ সার্জিও বুস্কেটস এবং জর্ডি আলবা। ফ্লোরিডার স্থানীয় দৈনিক মায়ামি হেরাল্ড জানাচ্ছে, মায়ামিতে ঘন ঘন সফর করেছেন নেইমার। সেখানে তিনি বাস্কেটবল, টেনিস এবং বেসবলের মতো ক্রীড়া ইভেন্ট দেখার জন্যই বেশি এসেছেন। চলতি বছরের মার্চে ডেভিড বেকহ্যাম নেইমারের সাথে একটি ছবি পোস্ট করে কৌতুককর একটি ক্যাপশন দেন, ‘মায়ামিতে স্বাগতম বন্ধু (শুধু ডিনারের জন্য)।’ এরপর থেকেই গুঞ্জন বাড়ে নেইমারের মায়ামি যাওয়ার। এবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন এই গুঞ্জনকে আরো জোরালো করলো।

জেরার্ডো মার্টিনো কী বলছেন?
নেইমারের মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ইন্টার মায়ামি কোচ জেরার্ডো মার্টিনোও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন কারও মায়ামিতে বাড়ি কেনার মানেই কি এখানে খেলতে আসা? বাস্তবতা হচ্ছে মেজর লীগ সকারের নিয়ম বেশ কড়া এবং এগুলো ভাঙা যায় না। যদি না তারা নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নেইমারকে দলে টানা প্রায় অসম্ভব।’ কার হিসেবে লীগ কর্তৃপক্ষের বেতন বিষয়ক সীমারেখাকে ইঙ্গিত করে মার্টিনো বলেন, ‘লীগ যদি তার বেতনসীমার বিষয়ে আরও নমনীয় না হয়, তবে এটি কীভাবে সম্ভব হবে তা বুঝতে পারছি না।’

mzamin


Sunday, November 3, 2024

দাবানলের ছাই থেকে সৃষ্টি হলো বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমি

ব্রাজিলে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দাবানলে বিশাল এলাকা ছাই হয়ে গেছে। নানা পদক্ষেপ নিয়েও রোধ করা যায়নি দাবানলের ভয়াবহতা। এবার প্রকৃতিতে বিরল উপহার নিয়ে এসেছে দাবানলের ছাই। এলাকাটিতে সবুজ অঙ্কুরে বিশাল তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (০৩ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাভানার এ অঞ্চলটির আয়তন প্রায় দুই মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যা দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। গত সেপ্টেম্বরে এলাকাটিতে এক হাজার ৪৭০ হেক্টর এলাকাজুড়ে দাবানলের ধ্বংসলীলা দেখা যায়। এলাকাটিতে এখনও কালো মাটি ও পোড়া গাছের গুঁড়ি তার সাক্ষ্য দিয়ে আসছে।

ওই সময়ে রেকর্ড খরার কবলে পড়েছিল ব্রাসিলিয়া। তখন শহরটিতে ১৬৯ দিনই কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। এ বছর ছিল রেকর্ড খরার ও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দাবানলের মৌসুম। এ জন্য বিশেষজ্ঞরা জলাবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। তবে এমন অবস্থার মধ্যে সেরাডো, আমাজন ও প্যান্টানাল জলাভূমি লাখ লাখ বছর ধলে এলাকাটিতে সুপার পাওয়ার হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি অগ্নিকাণ্ড এবং উচ্চ তাপমাত্রার প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে।

দেশটির সরকারি সংস্থা মেন্ডেস ইনস্টিটিউট ফর বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশনের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ কেইকো পেলিজারো বলেনর, সেরাডো একটি উল্টানো বন। এ বনের আমরা মাত্র একটি ভগ্নাংশ দেখতে পাই। কেননা এটি আমাদের পায়ের নিচে রয়েছে। এটি হলো একটি গভীর পাম্পের মতো। যা চরম খরার সময়েও ভূগর্ভস্থ জল চুষে নেওয়ার কাজ করে।

ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুবিদ্যার অধ্যাপক ইসাবেল শ্মিট বলেন, এ বনের গাছের পুরু ছাল ও ফলের খোসা তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। এমনকি এটি ৮০০ সেন্টিগ্রেড হলেও গাছপালা বেঁচে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দাবানলের এক মাস পরে বৃষ্টিতে ঘাস ও ছোট ছোট গাছপালা বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া ব্রাসিলিয়া জাতীয় উদ্যানের পোড়া গাছেও নতুন পাতা গজাচ্ছে। বৃষ্টি না হলেও আমরা কিছুটা স্থিতিস্থাপকতা দেখতে পেতাম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের পুলিশ এখনও ব্যাসিলিয়া জাতীয় উদ্যানে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করছে।

সবুজে ছেয়ে যাওয়া দাবানলে পোড়া অঞ্চল। ছবি : সংগৃহীত

Tuesday, January 14, 2020

খোঁজ মিলল নতুন প্রজাতির হিংস্র ডাইনোসরের

দক্ষিণ ব্রাজিলের ছোট্ট শহর ক্রুজেরিও দো ওয়েস্ট। আজ থেকে প্রায় ৯ কোটি বছর আগে সেখানেই মরুভূমিতে দাপিয়ে বেড়াত হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসর। ব্রাজিলের এই ছোট্ট শহরে মাটির নিচে সম্পূর্ণ এক নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা।
জীবাশ্মের নমুনা থেকে প্যালেন্টোলজিস্টরা এই ডাইনোসরের কেমন ছিল তার একটা ধারণা করেছেন। নতুন প্রজাতির এই ডাইনোসর দুই পায়ে চলাফেরা করত।
বিজ্ঞানীদের মতে, থেরোপড নামে ডাইনোসরদের এক মাংসাশী গ্রুপের অন্তর্গত ছিল এই ডাইনোসর। 'জুরাসিক পার্ক' সিনেমার হিংস্র ছোট আকৃতির ডাইনোসর ভেলোসিরাপ্টর ও সেই একই গ্রুপের অন্তর্গত। নতুন প্রজাতির এই ডাইনোসরের নাম রাখা হয়েছে 'ভেসপারসরাস প্যারান্যায়েনসিস।'
ব্রাজিলের পারানা রাজ্যের এই অংশে ডাইনোসরের জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়া অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে ১৯৭০ সালে ক্রুজেও দো ওয়েস্ট শহরে কিছু ডাইনোসরের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়েই এটিকে কোনও অজানা প্রজাতির ডাইনোসর বলে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তার জন্য বেশ কিছু বছর ধরে শহরের আশেপাশের বিভিন্ন অংশে চলছিল খননকার্য।
শহরের ডাইনোসর মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞ পাওলো মানজিগ জানান, প্রায় ৫০ বছরের খোঁজের পর অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল এই নতুন প্রজাতির।
পারানা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব অংশে গাছপালা ঘেরা সবুজ শহর ক্রুজেরিও ডু ওয়েস্টে। তবে প্রায় ৯ কোটি বছর আগে এই অংশটিতে ছিল রূক্ষ শুষ্ক মরুভূমি। সেই মরুভূমিতেই বসবাস করত এই ডাইনোসর।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৫ ফুট লম্বা ছিল এই ডাইনোসর। আপাতত, ডাইনোসরটির সম্পর্কে আরও তথ্য জানাতে চাইছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিজ্ঞানীরা। ব্রাজিলের বিভিন্ন অংশে এই ধরনের আরও ফসিলের খোঁজ করছেন তারা। জিনিউজ

Tuesday, November 12, 2019

অবৈধ খননে আমাজন জঙ্গলের ক্ষতি মহাকাশ থেকেও দেখা যায়

খননকাজ জঙ্গলে ক্ষতচিহ্ন তৈরি করে
আমাজন জঙ্গলে অবৈধভাবে খনন কাজ করার জন্য এত ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে যে তা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়।
আমাজন জঙ্গলের ব্রাজিলের সীমানার ভেতরে থাকা অংশে কিছু এলাকায় স্থানীয় নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ কার্যক্রম বিপদজনক হারে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে বিবিসি নিউজ ব্রাজিলের প্রকাশ করা সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে।
ব্রাজিল বাদেও দক্ষিণ অ্যামেরিকার সাতটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে আমাজন জঙ্গল।
পরিবেশবিদ এবং নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর নেতারা মনে করেন, পারা ও রোরাইমা রাজ্যে ব্যাপক হারে বন উজাড় হওয়ার কারন সেসব জায়গায় অবৈধ খননের বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারোর সমর্থন।

পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় খনন কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ব্রাজিলে বিদ্যমান আইনের বিপরীত একটি আইন প্রণয়নে সমর্থন করেন মি. বোলসোনারো। পাশাপাশি, বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্টের যথাযথ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না - এমন সমালোচনার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পেস রিসার্চ, একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে আমাজনে বন উজাড় করার হার বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
ঐ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য উপাত্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।
"যদি আসলেই এত ব্যাপক হারে বন উজাড় করা হতো, তাহলে পুরো জঙ্গলটাই এতদিনে ধ্বংস হয়ে যেত", গতসপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে এমন বক্তব্য দিয়েছেন মি. বোলসোনারো।

মহাকাশ থেকে যা দেখা যায়

বিবিসি নিউজ ব্রাজিল মার্কিন সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবের কাছ থেকে পাওয়া কিছু ছবি যাচাই করে বন উজাড় করার বিষয়টি প্রকাশ করে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে পাওয়া স্যাটেলাইটের ছবিতে আমাজনের জায়গায় অবৈধ খননকাজ বৃদ্ধির চিহ্ন পাওয়া যায়
প্ল্যানেট ল্যাবের মহাকাশে একশোটিরও বেশি স্যাটেলাইট আছে যেগুলো থেকে প্রতিদিন ভূ-পৃষ্ঠের ছবি পাওয়া যায়।
নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জন্য সংরক্ষিত তিনটি এলাকায় - যেসব এলাকায় স্বর্ণ পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে ধারণা করা হয় - অবৈধ খনন কার্যক্রমের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঐ তিনটি সংরক্ষিত অঞ্চল প্রায় ২ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত; অর্থাৎ আয়তনে যুক্তরাজ্যের চেয়েও বড় একটি অঞ্চল।
ঐ এলাকাগুলো ব্রাজিলের সীমানার মধ্যে থাকা আমাজন জঙ্গলের সবচেয়ে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে পড়ে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে - খনির শ্রমিকরা রয়েছে, এমন জায়গার সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।
এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধ খননকাজ চলছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবির দুইজন বিশেষজ্ঞ - ভূতাত্বিক কার্লোস সউজা এবং ভূগোলবিদ মার্কোস রোসা - নিশ্চিত করেছেন যে খননকাজের হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ছবি পর্যালোচনা করে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় পুলিশের পাশাপাশি নৃতাত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত সংস্থা 'ফুনাই'এর সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে বিবিসি, তবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোরাইমা'র 'সোনালী বিস্ময়'

রোরাইমা রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য স্বর্ণ।
তবে রাজ্যটিতে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত একটি বৈধ খনিও নেই।
এই স্বর্ণ ইয়ানোমামিদের জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে আসছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে একটি তদন্ত চলছে।
নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর নেতাদের মতে, অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক সেখানে অবৈধভাবে খননকাজ চালাচ্ছে।
১৯৯২ সালে ইয়ানোমামি গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ অঞ্চলের কর্তৃত্ব দেয়া হয়।
বন উজাড় করা বিষয়ে একটি সরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যকে জনসম্মুখে চ্যালেঞ্জ করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মি. বোলসোনারো (ডানে)
ঐ অঞ্চলের জায়গার ওপরে তাদের অধিকারের বিষয়টি ব্রাজিলের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে।
জানুয়ারি মাসে মি. বোলসোনারো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমাজনের অনেক জায়গাতেই 'অনধিকার প্রবেশকারীদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে' বলে দাবি করেন নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের অধিকারের বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের মুখপাত্র সোনিয়া গুজারাজা।
মি. বোলসোনারো সাংসদ থাকাকালীন সময় থেকেই কিন্তু খননকাজ চালানোর পক্ষপাতী ছিলেন।
তার যুক্তি, এই ধরণের কার্যক্রম নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে।
এপ্রিলে রোরাইমার নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর যেসব নেতা খননকাজের পক্ষপাতী, তাদের সাথে দেখা করে মি. বোলসোনারো বলেন, "সমৃদ্ধ ভূমিতে দরিদ্র হয়ে জীবনযাপন করার সুযোগ নেই নৃতাত্বিক গোষ্ঠীগুলোর।"
১৯৮৮ সালে ব্রাজিলের সংবিধান নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন কার্যক্রম বৈধ করলেও নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধা জুড়ে দেয় তার সাথে।
এখন পর্যন্ত কোনো কংগ্রেসই ঐ আইনগুলো অনুমোদন করেনি বিধায় সেসব এলাকায় খননকাজ এখনও অবৈধই রয়ে গেছে।
রোরাইমা রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য স্বর্ণ হলেও রাজ্যটিতে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত একটি বৈধ খনিও নেই
সোনিয়া গুজারাজা'র মতে, নেতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব পড়ার চিন্তা থেকে অধিকাংশ নৃতাত্বিক গোষ্ঠীই খননকাজ করতে চায় না।
ল্যাটিন আমেরিকার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এনজিও'দের একটি সংস্থার ২০১৮ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রাজিলে নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার অন্তত ১৮টিতে অবৈধ খননকাজ হয়।
আমাজনে খনির কাজ মূলত দুই ভাবে হয়ে থাকে: ভেলায় করে নদীর পৃষ্ঠের মাটি চালুনির মাধ্যমে যাচাই করে দামী ধাতুর খোঁজ করে, অথবা মাটি খননের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি সাধারণত বড় পরিসরেই করা হয়ে থাকে।
খননকারীরা জঙ্গলে গর্ত খুঁড়ে 'ক্ষতচিহ্ন' তৈরি করে যা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়।
গাছ কাটার পাশাপাশি এই ধরণের খননকাজও নদীর স্রোত ও গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
খননকাজের ফলে তৈরি হওয়া কৃত্রিম জলাধার মশার বংশবৃদ্ধির জায়গায় পরিণত হয়।
কাজেই অ্যামাজনের ঐসব অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার ব্যাপকতার কারণ সহজেই অনুমান করা যায়।
এছাড়াও খননকাজে ব্যবহৃত পারদ নদীর মাছসহ পুরো খাদ্যচক্রকেই প্রভাবিত করে।
পারদের বিষক্রিয়ায় মানুষের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মারাত্মক বিকলঙ্গতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০১৬ সালে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় একটি জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ইয়ানোমামি গ্রামের ৯২% মানুষই পারদের বিষক্রিয়ার শিকার।
ব্রাজিলে নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় সব ধরণের খননকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
এছাড়া নৃতাত্বিক গোষ্ঠীদের এলাকায় খননকাজ বৃদ্ধি পাওয়াই সহিংসতা এবং অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয়।

অর্থায়ন হ্রাস

আমাজন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা ব্রাজিলভিত্তিক একটি সংস্থা ইমাজনের গবেষক পাওলো বারেতো মনে করেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর মন্তব্য আর আইনের দুর্বল প্রয়োগ থাকার কারণে অবৈধ খননের বিস্তৃতি বাড়ছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, "মানুষ মনে করে তারা বন উজাড় করার জন্য শাস্তির সম্মুখীন হবে না, তাই এধরণের কাজ করার মনাসিকতা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।"
এবছরের শুরুতে ব্রাজিলের পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী রিকার্ডো সালেস সেদেশের প্রধান পরিবেশবাদী সংস্থা ইবামা'র জন্য বরাদ্দ অর্থ ২৫% কমানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

বন উজাড় করার প্রবণতা

জুলাইয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ জানায় যে ২০১৮ সালের তুলনায় এবছরের জুন মাসে আমাজনে বন উজাড় করার হার বেড়েছে ৮৮%
সংস্থাটির একজন মুখপাত্র খননকাজকেই এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

Saturday, October 19, 2019

পরিবর্তন আনছেন ব্রাজিলের নারীরা

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে নারীরা এখনো উপেক্ষিত। এখানকার গানের কথায় বোঝানো হয়, নারীর জন্মই হয়েছে পুরুষের ‘সেবা’ করার জন্য। যে গান দিয়ে তাঁদের ছোট করা হয়, যে গানকে পুরুষের নিজস্ব সম্পদ বলে মনে করা হয়, সে গান দিয়েই এবার নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন ব্রাজিলের নারীরা।
ক্যারোলিনা ডি অলিভেরা ‘নারীবাদ’ শব্দটি প্রথমবার শুনেছিলেন ২০১৫ সালে। কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বন্ধুরা শব্দটির সঙ্গে তাঁকে পরিচিত করিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁর মনে জন্ম নেয় নানা প্রশ্ন। বয়স তাঁর তখন মাত্র ২২। রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত র‍্যাপসংগীত ক্যারিওকা ফাঙ্কজগতের উঠতি তারকা তিনি। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, হিপহপ সংগীতে র‍্যাপার ক্যারোল নামে পরিচিতি পান ক্যারোলিনা ডি অলিভেরা।
বছরখানেক পরে ‘১০০% ফেমিনিস্তা’ শিরোনামে একটি গান মুক্তি দেন ক্যারোল। সে গানের কথায় ফুটে উঠেছে তাঁর দুঃসহ শৈশবের কথা। র‍্যাপের তালে তালে বলেছিলেন, ‘মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই বুঝেছিলাম, খাবার না বানালে নারীদের মার খেতে হয়।’ দারুণ জনপ্রিয় হয় গানটি। কিন্তু সেই গানের কথাও তাঁর সাজসজ্জা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোংরা মন্তব্য থামাতে পারেনি। নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ এবং স্থূল দাবি করা ক্যারোল বলেন, ‘কেবল ফাঙ্ক গান গাওয়া নারী হওয়াই কষ্টসাধ্য নয়, বরং একজন নারী হওয়াই কঠিন।’
আমেরিকান হিপহপ থেকে তৈরি হওয়া ফাঙ্কসংগীতের গায়ক মূলত ছেলেরাই। সমালোচকদের দাবি, এসব গানের কথায় নারীবিদ্বেষ, বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধকে উসকানি দেওয়া হয়। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, কান ফাটানো আওয়াজে উদ্দাম নৃত্যের তালে তালে গাওয়া ফাঙ্কসংগীত জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এই মর্মে ২০১৭ সালে প্রায় ২০ হাজার ব্রাজিলিয়ান কংগ্রেসে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। তবে এ বিষয়ে আইনসভা কোনো পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
র‍্যাপার এমসি (অনুষ্ঠানের ওস্তাদ বা মাস্টার অব সিরিমনি) ক্যারোল এবং তাঁর মতো অন্যান্য নারীবাদী ফাঙ্কসংগীতশিল্পী গানের স্টাইলে পরিবর্তন আনার ওপর প্রাধান্য দিচ্ছেন না। বরং গানটিকে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। ক্যারোলরা নতুন করে ‘পুতারিয়া’ গাওয়া শুরু করেছেন। যৌনতা নিয়ে লেখা নিষিদ্ধ গানের একটি শাখা পুতারিয়া। এ ধারার কিছু গানে প্রকাশ্যে উঠে এসেছে নারীবাদ।
এই ধারার একটি গান ‘এন ও সৌ ওব্রিগাদা’ (আমি করতে চাই না) স্পটিফাইয়ের বৈশ্বিকভাবে ভাইরাল হওয়া শীর্ষ ৫০টি গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এই গানের ভিডিওতে এমসি পোকাহোন্তাস মাদকাসক্ত ছেলেবন্ধুকে তাঁর ওপর কর্তৃত্ব জাহির করতে চাওয়ায় ভর্ৎসনা করেন। ২০১৮ সালের আরেকটি জনপ্রিয় পুতারিয়া ‘চাই দে বোকা’ (মুখ বন্ধ রাখো) গানে এমসি রেবেকা নারীদের যৌনসুখে পুরুষের ভূমিকার কথা বলেছেন। যে পৃথিবীতে নারীকে এখনো যৌনদাসী বলে বিবেচনা করা হয়, সেখানে নারীর যৌন স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
সাও পাওলোতে নারী শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেয় ‘লিগা দা ফাঙ্ক’ নামে একটি দল। এই দলের সদস্য আন্দ্রেসা অলিভিয়েরা বলেন, নারী ফাঙ্কসংগীতশিল্পীদের হাত ধরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফাঙ্কের শাখা ‘বিবেকবান ফাঙ্ক’। সামাজিক ইস্যু নিয়ে ভীষণভাবে রক্ষণশীল ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর বিপরীতে শক্তি সঞ্চয় করছে গানগুলো। টুইটারে উভয় লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ দেখানো এমসি রেবেকা একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে রংধনু পতাকায় জড়িয়েছেন নিজেকে। এ সব গান দেদার শুনছেন নারীরা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউটিউবের ১৩০টি ফাঙ্ক চ্যানেলের ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ দর্শক নারী। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী তা ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ।
নারী তারকাদের হাত ধরে ব্রাজিলের ফাঙ্ক এখন বৈশ্বিক আবেদন সৃষ্টি করেছে। ফাঙ্ক গানের জগতে প্রবেশ করে ল্যারিসা মাকাদোর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ মিলিয়ন, বেশির ভাগ অনুসারীই বাইরের দেশের নাগরিক। ক্যামিলিয়া ফিয়ালহোর মার্কেটিং কোম্পানি কেটুএলের হাত ধরে ল্যারিসার সংগীতজীবন ক্রমেই উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। নিজের সাফল্যকে তিনি বিয়ন্স এবং রিয়ানার সঙ্গে তুলনা করেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই নারীরা যৌনক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ক্যামিলিয়ার কোম্পানি এখন এমসি রেবেকাকে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা শেখাচ্ছে। যৌনতার মতো বিষয় থেকে তরুণ ফাঙ্কেরাদের দূরে থাকতে নিষেধ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভদ্র গান শুনতে চাইলে ক্ল্যাসিক গান শোনো।’
ব্রাজিলের ফাঙ্কসংগীতজগতের অন্যতম পুরোধা আরেথা ফ্রাঙ্কলিন। ছবি: বিবিসি।

Sunday, September 15, 2019

দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার চালানো দুঃসাহসী তরুণী by ওয়াসিদ রাজা

লুয়ানা তোরেস
জীবনের বাঁক হুট করে বদলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে তা অনুমান করার সাধ্যি কার! লুয়ানা তোরেসও হয়তো জানতেন না, অর্থনীতির জটিল অধ্যায় সমাধান করতে করতে ১৮০ ডিগ্রি মোড় নেবে তার জীবনযাত্রা। চাহিদা-জোগানের সমষ্টি ছেড়ে অর্থনীতির এই ছাত্রী আকাশপথে উড়াল দিয়ে এভিয়েশন জগতে রাতারাতি খ্যাতি পেয়ে গেছেন।
ভাইকে দেখে হেলিকপ্টারের পাইলট হওয়ার স্বপ্নটা আরও বড় হয়ে লুয়ানা তোরেসের মনে বাসা বাঁধে। ভাইয়ের স্ত্রী আকাশপথের রোমাঞ্চ দারুণভাবে উপভোগ করছেন দেখে তা বড় হয় আরও। নিজের ভাবী মেয়ে হয়ে পাইলট হওয়ার মতো দুঃসাহসিক কাজ করতে পারেন— এটাই অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল লুয়ানার মধ্যে। ব্যস, অর্থনীতি ছেড়ে নেমে পড়লেন হেলিকপ্টার পাইলট হওয়ার মিশনে।
লুয়ানা তোরেস
বিমান কিংবা হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে মেয়েদের কাজ করা নতুন নয়। তবে তাদের চেয়ে লুয়ানা তোরেস আলাদা। একজন মেয়ে হিসেবে বিশ্বের এমন সব জায়গায় তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে গেছেন, যা খুব বেশি দেখা যায় না। সেইসব দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে তোলা ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তারকা বনে গেছেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তরুণী। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার এখন ১ লাখ ৭৪ হাজার।
অর্থনীতিতে ডিগ্রি থাকা লুয়ানা তোরেসের আকাশে ওড়ার ইচ্ছা ছিল আগে থেকেই। পড়ালেখার একটি প্রোগ্রামে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রথমবার হেলিকপ্টারে ওড়ার অভিজ্ঞতা হয় তার। সেই যে ইচ্ছের বীজটা মনে বুনে নিলেন, এরপর ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে কানাডায় গিয়ে পেয়েছেন বাণিজ্যিক লাইসেন্স। তার গলায় এখন ঝোলে হেলিকপ্টার আদলের নেকলেস।
লুয়ানা তোরেস
লুয়ানা তোরেস
কীভাবে এভিয়েশন দুনিয়ায় এলেন, সেই বর্ণনা দিয়েছেন লুয়ানা এভাবে— ‘আমি সবসময় ভাবতাম আমার ভাই দারুণ একজন মানুষ, কারণ সে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ করেছে। এরপর দেখলাম আমার ভাবীও পাইলট। ওই সময় ভাবতাম, আমার ভাবী কী দারুণ কাজই না করছেন। কারণ মেয়েদের জন্য এটা বিরল ব্যাপার, বিশ্বে খুব বেশি মেয়ে বিমান চালানোর সঙ্গে যুক্ত নয়।’
প্রশিক্ষণের দিনগুলোতে লুয়ানা তোরেস
প্রশিক্ষণের দিনগুলোতে লুয়ানা তোরেস
সেই ইচ্ছে পূরণ হলো কীভাবে? লুয়ানা বললেন, ‘২০১৪ সালে ব্রাজিলে কোর্স শুরু করে হেলিকপ্টার চালানোর লাইসেন্স পাই প্রথম। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে তালিম নিয়ে পাই দ্বিতীয় লাইসেন্স। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় গিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলাম। সেখানেই এ বছরের মার্চে পেয়েছি বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার চালানোর লাইসেন্স।’
২০১৫ সালে প্রথম ফ্লাইট চালানোর সময় লুয়ানা তোরেস
২০১৫ সালে প্রথম ফ্লাইট চালানোর সময় লুয়ানা তোরেস
প্রথম হেলিকপ্টার চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছান লুয়ানা। ভালোবাসার ককপিটে বসে দুর্গম সব জায়গায় উড়ে বেড়ান তিনি। বরফে ঢেকে থাকা পাহাড়-পর্বতের ওপর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য তার কাছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ওই জায়গার রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ভোলেন না। তার সেইসব ছবিতে ইনস্টাগ্রামে হাজার হাজার লাইক পড়ে।
তবে ইনস্টাগ্রাম দিয়ে নয়, অন্যভাবে তারকা হতে চান লুয়ানা। দুর্গম এলাকায় বন্দি কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে বিপদে পড়া অসহায় মানুষদের উদ্ধার করা তার জীবনের এখন অন্যতম লক্ষ্য। এভাবে যদি মানুষের মন জয় করা যায়, তাহলেই আসল সন্তুষ্টি আসবে আকাশজয়ী এই ব্রাজিল-কন্যার মনে।
লুয়ানা তোরেস
লুয়ানা তোরেস
হেলিকপ্টার চালানো ছাড়াও ব্লগিং উপভোগ করেন লুয়ানা। নিজের ওয়েবসাইটে ফ্যাশন, সৌন্দর্য, ফিটনেস ও এভিয়েশন নিয়ে লেখালেখি করেন তিনি।
>>>সূত্র: ডেইলি মেইল

Wednesday, September 4, 2019

অ্যামাজনের আগুনকে কেন ‘গণহত্যা’ বলছে আদিবাসীরা? by হুমায়ূন কবির

লক্ষ-কোটি প্রাণের আধার অ্যামাজনের বেসরকারিকরণের মধ্য দিয়ে একে কৃষি ও খনি সেক্টরের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলেন ক্ষমতাসীন উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। ক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি হাঁটছেন সেই পথেই। এরইমধ্যে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ ভয়াবহভাবে জ্বলছে মানুষ-সৃষ্ট কারণেই। পরিবেশবাদীদের মতে, এই আগুন নেভাতে সরকারের কোনও উৎসাহ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী দখলদার বনখেকো মানুষ আর খনি ব্যবসায়ীদের আধিপত্যই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে অ্যামাজনের ভবিষ্যৎকে। আর গবেষকরা সেখানকার সাম্প্রতিক আগুনের মধ্যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের হুমকির নিশানা খুঁজে পেয়েছেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া বনের বৃক্ষরাজি আর হুমকিতে পড়া লক্ষকোটি প্রাণ রক্ষার জন্য প্রাণপন লড়ছেন বন-সংলগ্ন ওইসব মানুষ। এক খোলা চিঠিতে তারা পরিস্থিতিকে মানবিক ও পরিবেশগত দুর্যোগ আখ্যা দিয়েছে। তাদের বোঝাপড়ায়,  বৃক্ষসহ সমস্ত প্রাণীই মানুষের মতোন। সে কারণেই অ্যামাজনের আগুনে লক্ষ-কোটি প্রাণ ঝরে পড়ার ঘটনায় গণহত্যার আলামত খুঁজে পেয়েছে তারা।
অ্যামাজনের আদিবাসী মানুষের বাড়ি-ঘর ধ্বংস নতুন কিছু নয়। ১৬ শতাব্দীতে পর্তুগীজরা তাদের জমি লুট করার পর থেকে এই দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতার সঙ্গে থাকতে হচ্ছে তাদের। বলসোনারোর অধীনে তাদের ভাগ্য আরও বিপন্নতায় পর্যবসিত হয়েছে। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর বলসোনারোর কর্মকাণ্ডে শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, তার কাছে আদিবাসীদের অস্তিত্বের প্রশ্ন প্রাধান্যের তলায় অবস্থান করছে। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পর থেকে বলসোনারো ব্রাজিলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য আদিবাসী বিষয়ক ব্যুরো-এফইউএনএআই বাতিলসহ আনুষ্ঠানিক ফেডারেল সুরক্ষা ভেঙ্গে ফেলতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্টের কথা ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এসে পৌঁছেছে।

অবৈধভাবে বন উজাড় করার ঘটনা তদন্ত করতে এপ্রিলে ব্রাজিলের অ্যামাজনের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর ভূখণ্ডে সফর করেছিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিবেশ ও সংকটের প্রধান রিচার্ড পিয়ারহাউস। সে সময় তিনি জানতে পারেন, ভূমিদখলকারীরা মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত ২২বছর বয়সী একজন মায়ের কথা বলেছেন তিনি, নিকটবর্তী এলাকায় গোলাগুলির শব্দ সত্ত্বেও যিনি সন্তানদের ঘুম পাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অ্যামাজন অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে পরিবেশগত ও মানবিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই ভয়ানক আগুনকে তাদের ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক মানবাধিকার দূত ও মানবাধিকার কমিশনারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে তারা।

গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর জানুয়ারি থেকে অ্যামাজনে আগুনের পরিমাণ ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই রেইনফরেস্টের পরিবেশগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালক অ্যানে অ্যালেরসার স্যাটেলাইটের চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক ওয়েবসাইট আর্থারকে বলেছেন, ‘এটা ভীতিকর বটে কারণ, আমরা কেবল মৌসুমের শুরুতে আছি।’ পিয়ারহাউস আর্থারকে বলেন, ‘আমরা আদিবাসী ভূমি হিসেবে স্বীকৃত যে ভূমি নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, সেখানে বন উজাড়করণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে, তারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে এবং আদিবাসী ভূমির বন কাটছে।’ তবে আর্থারকে কেউ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি যে, এই আগুন আদিবাসী ভূমি ও গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে আগুন জ্বলছে এতে কোনও সন্দেহ নেই। গবাদি পশুর রাখালরা চারণভূমির জন্য অবৈধভাবে ভূমি পরিষ্কার করছে, ঘটনাচক্রে সয়াবিন কৃষকদের কাছে জমিও বিক্রি করছে; এর প্রভাব পড়ছে গিয়ে আদিবাসী মানুষের ওপর, যারা রেইনফরেস্টের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

এই বছরের শুরুতে এক তদন্ত শেষে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, পারা রাজ্যের আরারা ও রোনদোনিয়া রাজ্যের উরু-ইউ-ওয়াও-ওয়াও ও কারিপুনা এই তিন ভূখণ্ডের ২৩ আদিবাসীর একটি গ্রুপ  তাদেরকে জানিয়েছে, তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছিল,  বিগত বছরের তুলনায় এবার গ্রামের খুব কাছে ভূমি দখলকারীরা গাছ কাটছে। এই অবৈধ কার্যক্রম রাতে সম্পাদন করে তারা। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, আদিবাসী জমিতে গত কয়েক বছরে আসা ২৪ জন মানুষ এখন শত শত মানুষে পরিণত হয়েছে। পিয়ারহাইস বলছেন, ‘জ্বলন্ত মৌসুমে আমরা যা দেখছি, তা এর তীব্রতা।’ ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কারিপুনা ভূখণ্ড সফর শেষে নাসার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এই বছর জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত চারগুণ বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই বছর ইতোমধ্যেই সেখানে আগুন লেগেছে ১০১টি।

১৬ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাস জিংজু পার্ক ও কায়াপো রাজ্যের আদিবাসী ভূখণ্ডের সাম্প্রতিক আগুনকে ‘রিং অব ফায়ার/ আগুনের কুণ্ডলী’ আখ্যা দিয়েছেন ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিদ্যার অধ্যাপক জ্যনেট চারনেলা। আর্থারকে তিনি বলেন, বাসিন রাজ্যে আদিবাসী কৃষকরা যেভাবে আগুন জ্বালায় তার সঙ্গে এই আগুনের মিল নেই। বরং আদিবাসীদের কারণে এই অগ্নিসংযোগকারীরা অঞ্চলগুলি এড়িয়ে চলে। আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা চারনেলা আর্থারকে বলেন, ‘আদিবাসীদের অনেক ভূমি হুমকির মুখে। বড় আগুন দ্বারা বাতাস দূষিত হচ্ছে। আদিবাসীদের ক্রিয়া তৎপরতার জন্য অবশ্যই রেইনফরেস্ট থাকতে হবে। মাছের জন্য নদী থাকতে হবে। এই ছোট ফ্লটগুলোতে খাদ্য জম্মাতে তাদের অবশই বনভূমি রাখতে হবে।’

আর্থারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বননির্ভর মানুষগুলোর জন্য অ্যামাজনের সাম্প্রতিক আগুন অস্তিত্বের হুমকি সদৃশ। এই সম্প্রদায়গুলোর যাওয়ার মতো সুপারমার্কেট ও ফার্মেসি নাই। তাদের আছে অ্যামাজন। এই বন তাদের সব ধরনের সেবা দেয়। এখানে তারা শিকার করে, মাছ ধরে ও ঘর নির্মাণের জন্য উপাদানগুলো সংগ্রহ করে। এইসব কারণেই আদিবাসী মানুষেরা বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংলগ্ন হয়ে বাস করে। তারা  বনের ওপর আগ্রাসন চালায় না, কেননা তারা জানে, এতে বন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বনে যখন আগুন লাগছে, সেই আগুন লাগছে আদিবাসীদের কপালেও। বনের যে অংশে কৃষকরা চাষ করতেন, শিকার করতেন- তা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বাস্তুপ্রক্রিয়ার মানে হলো পারস্পরিকতা। সে কারণে বনের যে অংশে আগুন লাগেনি সেখানেও আগুনের প্রভাব পড়েছে। অনেক ভূমি শুষ্ক হচ্ছে, এলাকাজুড়ে খরা পরিস্থিতি আরও শোচনীয় পর্যায়ে যাচ্ছে।

গবেষণার জন্য অ্যামাজনের আদিবাসীদের সঙ্গে কাজ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী লেসলি ডে সৌজা আর্থারকে বলেন, ‘বাস্তুতন্ত্রের কার্যক্রম পরিবর্তন করে, যে কোনও সময় আপনি একটি অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারেন, যেভাবে সমস্ত জীববৈচিত্র্য সেই বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। আপনি যখন ওই পরিবেশে বাস করছেন, আপনি সম্পূর্ণরূপে এই উপাদানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আপনিও এই নিয়মের অংশ।’

অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপকতার পর অ্যামাজনের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন ডে সৌজা। তিনি সাপ, গিরগিটি, কোরালসহ আরও ছোট প্রাণীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, যারা আগুন থেকে পালাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘মারত্মক ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলাম। যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র।’ এই ধ্বংসের প্রভাব আদিবাসীদের বেঁচে থাকার সক্ষমতাকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। লন্ডন ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানী রাফায়েলা ফ্রায়ের মোরেইলা আর্থারকে বলেন, ‘অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী গাছ ও অপরাপর প্রাণকে মানুষের থেকে আলাদা করে দেখে না। ওইটা তাদের সাংস্কৃতিক বোধ।’ তারা মানবাধিকার ও পরিবেশগত অধিকারের মধ্যে পার্থক্য করে না। তিনি এক ইমেইল বার্তায় আর্থারকে বলেন, ‘আজকে আমরা বনে যে ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি; অনেক সম্প্রদায় এটাকে কেবল বাস্তু হত্যা হিসেবে নয়, গণহত্যা হিসেবে অনুধাবন করছে।’