Saturday, April 30, 2011

বাজেট প্রণয়নে জনগণের সম্পৃক্ততা অনেক সীমিত

দেশের জাতীয় বাজেট মূলত প্রণয়ন করে থাকে নির্বাহী বিভাগ। এখানে সাংসদসহ জনগণের সম্পৃক্ততা অনেক সীমিত। অথচ সংবিধান অনুসারে জনপ্রতিনিধিদের অধিকতর সম্পৃক্ত থাকার কথা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস আয়োজিত বাজেট প্রণয়নবিষয়ক এক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক প্রতিমা পাল মজুমদার, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের (বিইউপি) চেয়ারম্যান এম এ লতিফ, পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোরশেদ হোসেন প্রমুখ।
আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে সাংসদেরা শুধু বাজেট অনুমোদন করেন। বাজেট তদারক ও নিরীক্ষাও করতে পারেন তাঁরা। বিভিন্ন প্রকল্প তথা বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও সাংসদদের প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সাংসদেরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কম। কর কাঠামোও দরিদ্রবান্ধব নয়। মূল্য সংযোজন করের (মূসক) মতো পরোক্ষ কর থেকে বেশির ভাগ কর আদায় হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অধিকতর হারে বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে মনে করেন গভর্নর।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বাজেট প্রণয়নের সাংবিধানিক দায়িত্ব সংসদের হলেও তা করে নির্বাহী বিভাগ। নির্বাহী বিভাগের তৈরি করা বাজেট সংসদে অনুমোদিত হয়। হওয়া উচিত ছিল, আগে সংসদে অনুমোদিত হবে, তারপর নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে।
অর্থমন্ত্রীর জেলা ও একীভূত বাজেটের প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে এ রকম বাজেট প্রণয়নের প্রত্যয় থেকে দূরে সরে আসতে হবে।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর আরও বলেন, ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও আয়ের ওপর করা যায় না। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জোর করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করেছে তা বেআইনি। তারা ডাকাতের কাজ করেছে, সরকারের কাজ নয়। বাজেট ঘোষণার পর এসআরও জারি করে করহার পরিবর্তনকেও অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক এলাকার উন্নয়নে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৩০ কোটি টাকা চাঁদা কোন আইনে ওঠানো হয়েছে—প্রশ্ন রাখেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
খাদ্য বাজেটে অস্পষ্টতা এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের নিরীক্ষা-সীমাবদ্ধতা দূর করার পরামর্শ দিয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাধারণ বীমা করপোরেশন, রাজউক, বিটিসিএল, বিসিআইসি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিপুল পরিমাণ অর্থের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া মূল বাজেটের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রতিবছর বরাদ্দ কম রাখা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সাংসদ।
বিইউপির চেয়ারম্যান এম এ লতিফ বলেন, পাকিস্তানে ২২ পরিবার থাকলেও বর্তমানে কত পরিবার রয়েছে, মানুষ জানতে চায়। তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, একটি জেলা ছাড়া অন্য কোনো জেলা থেকে কেন অর্থমন্ত্রী করা হয় না এবং কোনো অর্থমন্ত্রীই কেন দেশের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনে যান না।
প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান হয় না, দরকার লাভজনক কর্মসংস্থানের। যা বাজেট প্রণয়নের সময় বিবেচনায় রাখা উচিত।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসের (এসঅ্যান্ডপি) বিবেচনায়ও বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান (সভরেন ক্রেডিট রেটিং) গতবারের মতো স্থিতিশীল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনায় বাংলাদেশের এই মানকে বিবি(-)/বি নির্ধারণ করেছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস তাদের বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনায় বাংলাদেশের এই মানকে ‘বিএ৩’ নির্ধারণ করে।
এসঅ্যান্ডপি ২০১০ সালেও বাংলাদেশের ঋণমানকে একই রকম নির্ধারণ করেছিল। দেশে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাবনাময় ধারাবাহিকতা এবং এই প্রবৃদ্ধির জন্য দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়নে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে সংস্থাটি তাদের বার্ষিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে।
সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রসারসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলতে থাকলে ও ক্রমশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হলে ঋণমান আরও উন্নততর হবে বলে এসঅ্যান্ডপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসের সার্বভৌম ঋণমান প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক একটি তাৎক্ষণিক সংবাদ ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ এ সময় বলেন, ‘বিবি(-) বজায় থাকার অর্থ হলো বাংলাদেশে দৃঢ় ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।’
সংস্থাটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা সক্রিয় অবস্থায় আছে। ফলে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতার চলমান উন্নতি লক্ষণীয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই উল্লেখযোগ্য মজুদও উন্নয়ন-সহযোগীদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে স্থিতিশীল রাজস্ব ও মুদ্রানীতি প্রণয়নের কারণে পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ রয়েছে।্রপ্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ক্রমবর্ধমান আমদানি, রপ্তানি ও বিনিয়োগ (বিশেষ করে জাহাজনির্মাণ শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে) বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করে এসঅ্যান্ডপি।
সংস্থাটি মনে করে, স্বল্প খরচে ও দীর্ঘ মেয়াদের এককালীন বৈদেশিক ঋণ অর্থনীতির পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি হ্রাস করেছে। সহনীয় মাত্রা ও সাশ্রয়ী শর্তে বৈদেশিক ঋণ করার সুযোগ, আর বৈদেশিক মুদ্রার সন্তোষজনক মজুদ লেনদেন ভারসাম্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
প্রসঙ্গত, ঋণমান বলতে মোটা দাগে এটাই বোঝায় যে বিশ্ববাজার থেকে কোনো দেশ বন্ড ছেড়ে ঋণ নিলে সেই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা কোন পর্যায়ে রয়েছে।
ঋণমান সাধারণভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একধরনের নির্দেশক। এর ভিত্তিতে তাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে তাঁদের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ফান্ড বাজারকে আবার অতিমূল্যায়িত করে তুলতে পারে

পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াই নতুনভাবে অর্থ সঞ্চালন করা হলে তা বাজারকে আবারও অতিমূল্যায়িত করতে পারে।
শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ‘ওপেন এন্ড’ বা মেয়াদহীন মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের পদক্ষেপকে সমালোচনা করে এ মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড় তহবিল বাজারে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে।
প্রথম আলো আয়োজিত ‘শেয়ারবাজার: প্রতিবেদনের পর কী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচকেরা এসব মতামত দেন।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রসঙ্গটি তুলে আনেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড নৈতিক ঝুঁকি বা মোরাল হ্যাজার্ড তৈরি করবে। বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর পুঁজিবাজারের ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়াই নতুনভাবে অর্থ সঞ্চালন বাজারকে আবার অতিমূল্যায়িত করতে পারে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সমর্থন দিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ওপেন এন্ড ফান্ড হওয়ায় এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। কিন্তু ফান্ডটি বাজার থেকে শেয়ার কিনবে। সাম্প্রতিক বাজার বিপর্যয় বা ধসের যে কারণ বলা হয়, তা হলো শেয়ারের অতিমূল্যায়ন, যা হয়েছে সরবরাহ না বাড়িয়ে চাহিদা বাড়ার কারণে। এখন এই তহবিলের কারণে নতুনভাবে চাহিদা বাড়বে। এতে বাজার অতিমূল্যায়িত হবে।
দেশের প্রথম বেসরকারি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এইমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এটি একটি কারসাজিমূলক (ম্যানিপ্যুলেটিভ) পদক্ষেপ হবে, যা বাজারে কৃত্রিম অর্থপ্রবাহ দিয়ে (পাম্পআপ) বাড়িয়ে দেবে।
ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এই ফান্ডের উদ্যোক্তা, ট্রাস্টি, ইস্যু ম্যানেজার একটিই প্রতিষ্ঠান। আর শেয়ারবাজারের তদন্ত কমিটির কাছে এই প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মকর্তা এসে সাক্ষী দিয়ে গেছেন যে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধাভোগী লেনদেন (ইনসাইডার ট্রেডিং) করেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে এসইসি কীভাবে এই ফান্ড পরিচালনার অনুমোদন দিল সেটাই প্রশ্ন।
আলোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, মূলত রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলোর টাকা দিয়ে এই ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। আর ব্যাংকের এই অর্থ আসছে আমানতকারীর সঞ্চয় থেকে। তিনি বলেন, এই আমানত তথা জনগণের অর্থ যাতে ব্যক্তির মুনাফা অর্জনে ব্যবহূত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দেবপ্রিয় বলেন, একদিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের আইনি বিনিয়োগসীমা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আবার একই সময়ে এই ফান্ড গঠনই করা হচ্ছে ব্যাংকের টাকায়।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, স্বল্প মেয়াদের জন্যও এ ধরনের ফান্ড ভালো নয়।
প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর সরকার পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ‘ওপেন এন্ড’ বা মেয়াদহীন মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে এককভাবে সবচেয়ে বড় মিউচুয়াল ফান্ড।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) যৌথ উদ্যোগে এই তহবিল গঠিত।
গতকাল এই তহবিলের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সকালে আইসিবির সম্মেলনকক্ষে ফান্ডটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের উপস্থিতিতে এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান জানান, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে কমিশন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
এর আগে আইসিবির পর্ষদ সভার মাধ্যমে তহবিলটির ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ফি কমানো এবং এসইসির কয়েকটি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিবির মিউচুয়াল ফান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। সুতরাং বাংলাদেশ ফান্ড বিনিয়োগকারীদের আশাব্যঞ্জক মুনাফা দিতে পারবে।’
এসইসির বিধি অনুযায়ী মোট তহবিলের ১০ শতাংশ জমা থাকতে হয়। এ জন্য গতকালই ৫০০ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা কর্তৃক তহবিলে জমা পড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি রোড শো করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই তহবিলটির ইউনিট ওটিসিতে কেনাবেচা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বাফুফেকে চিন্তামুক্ত করল বেক্সিমকো

লিওনেল মেসিদের ঢাকায় আনতে ৩০-৩৫ কোটি টাকা যা-ই খরচ হোক, টাকার জন্য চিন্তা করতে হবে না বাফুফেকে। এই টাকার দায়িত্ব নিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করে। তখন বিপণন এজেন্টের সঙ্গেও চুক্তি হবে। কাল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এই সফর আয়োজনে বাফুফের তহবিল থেকে একটি কানাকড়িও খরচ হবে না। লোকসান হলে তা বহন করবে বেক্সিমকো। লাভ হলে তারা নেবে না। সেই টাকা বাফুফের যুব উন্নয়ন তহবিলে দেবে। কাজেই সফর আয়োজন করে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে আমাদের সামনে।’
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। টাকার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাফুফে এখন অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাফুফে ভবন এ নিয়ে বেশ সরগরম।

করাচিতে বোমা হামলায় নৌবাহিনীর ৪ সদস্যসহ নিহত ৫

পাকিস্তানের করাচিতে গতকাল একটি বাসে বোমা বিস্ফোরণে নৌবাহিনীর চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো নৌবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার সালমান আলী জানান, রাস্তার পাশে পেতে রাখা ওই বোমা বিস্ফোরণে নৌবাহিনীর চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হন। বাসের কাছে মোটরসাইকেলের এক আরোহী বিস্ফোরণে নিহত হন। দুই দিন আগে নৌসদস্য বহনকারী বাসে দুটি বোমা হামলায় চারজন নিহত হয়

একাডেমিকে জেতালেন সৌম্য-আসিফ

মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর শঙ্কা, বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ৫৮ আর ৭৮-এর বিভীষিকাই ফিরিয়ে আনছে না তো জিপি-বিসিবি একাডেমি দল! জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি শঙ্কাটা। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের ২১৪ রান তাড়া করে জিপি-বিসিবি একাডেমি ম্যাচ জিতে নিয়েছে ৪ উইকেটে।
বিপর্যয় থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনার কৃতিত্ব দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার (৮১) ও আসিফ আহমেদের (৭৬*)। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে জয় নিশ্চিত করা আসিফ হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সৌম্য-আসিফ যোগ করেন ১৩৯ রান। আসিফের ১২৪ বলে খেলা ইনিংসটি সাজানো ছয়টি বাউন্ডারিতে। ফিফটিও করেছেন বাউন্ডারি দিয়েই। ফিফটির পর একবার জীবন ফিরে পেলেও সৌম্যের ৯১ বলের ইনিংসে ছিল তিন ছক্কা ও সাত চার। অফ স্পিনার পিয়েটের বলে যখন ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন জয় থেকে মাত্র ৫০ রান দূরে জিপি-বিসিবি একাডেমি। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়া আলাউদ্দিন বাবুকে নিয়ে ৩ ওভার ২ বল বাকি থাকতে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন আসিফ।
তবে ইনিংসের শুরুতেই হারডাস ভিলিওনের সামনে মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। ৯ ওভারের মধ্যে ২৫ রানে পড়ে যায় ৫ উইকেট! প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কের রান করেছেন কেবল মাইশুকুর (১৪)। বাকিটা ওই সৌম্য-আসিফেরই কীর্তি।
এর আগে টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান করে। ওপেনার ডমিনিক করেন সর্বোচ্চ ৮৫। আলাউদ্দিন ৩৩ রান চার ও সানজামুল ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি: ৫০ ওভারে ২১৩/৮ (ডমিনিক ৮৫, লিফা মসিনা ৩৩, ভিলিওন ৩১; আলাউদ্দিন ৪/৩৩, সানজামুল ৩/৪২, শাকের আহমেদ ১/৩৩)। জিপি-বিসিবি একাডেমি: ৪৬.৪ ওভারে ২১৬/৬ (সৌম্য ৮১, আসিফ ৭৬*, আলাউদ্দিন ২১*; ভিলিওন ৩/৩০, পিটারসন ২/৩৪, পেডিট ১/৪২)।

ফিলিস্তিনে ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি হামাস ও ফাতাহ

ফিলিস্তিনের বিবদমান দুই গোষ্ঠী ফাতাহ ও হামাস অবশেষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, মিসরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে এবং এ সরকারই এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে গত বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। কায়রোর বৈঠকে ফাতাহ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আজম আল-আহমদ আর হামাসের নেতৃত্ব দেন মাহমুদ জহর।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে গোষ্ঠী দুটির মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। হামাস ২০০৭ সাল থেকে দেশটির একাংশ গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। অপর অংশ পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ।
হামাস ও ফাতাহর মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির খবরে ইসরায়েল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশটি বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে হামাস ও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হয় হামাস অথবা ইসরায়েলকে বেছে নিতে হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমি আশা করি। এবং সেটা হবে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে বোমা ও রকেট হামলা চালিয়ে আসছে হামাস। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতেও নারাজ সশস্ত্র এই সংগঠনটি।
হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে, ফিলিস্তিনে যে ঐকমত্যের সরকারই প্রতিষ্ঠা হোক না কেন, তাকে সহিংসতার পথ ছেড়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র টমি ভায়েটর বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা হিসেবে যেকোনো ফিলিস্তিনি সরকারকেই সহিংসতার পথ পরিত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকারকেও স্বীকৃতি দিতে হবে।’
কায়রো বৈঠকের পর ফাতাহ প্রতিনিধিদলের প্রধান আজম আল-আহমদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘বিবদমান দুটি পক্ষই একটি স্বাধীন সরকার গঠনে রাজি হয়েছে। এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টারি নির্বাচন সম্পন্ন করাই হবে এই সরকারের প্রধান কাজ।’
হামাসের প্রতিনিধিদলের প্রধান মাহমুদ জহর আল-জাজিরা টেলিভিশনকে বলেছেন, উভয় পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষের নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়েই এই সরকার গঠন করা হবে।
আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে হামাস ও ফাতাহ প্রতিনিধিদলকে আবারও কায়রো যেতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উভয় পক্ষ পরস্পরের রাজনৈতিক বন্দীদেরও মুক্তি দেবে।
মাহমুদ জহর বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিরোধ নিরসনে ১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে হামাস পশ্চিম তীরেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে। তবে মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদিনা ইসরায়েলি নেতার এই মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, সমঝোতা চুক্তি ফিলিস্তিনের একান্ত নিজস্ব বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুকে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিতে হলে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। আর বসতি স্থাপনের বিষয়ে অনড় থাকতে হলে শান্তি বিসর্জন দিতে হবে।

কেটের বিয়ের আংটি

কেট মিডলটনের বিয়ের আংটি তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের স্বর্ণকারেরা। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর আদরের নাতি প্রিন্স উইলিয়ামকে উপহার হিসেবে এক টুকরো সোনা দিয়েছিলেন। তা থেকে আংটিটি তৈরি করা হয়। এটি আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে কেটের আঙুলে পরাবেন উইলিয়াম। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ থেকে এ কথা জানানো হয়।
রাজপ্রাসাদ সূত্রে জানা যায়, ওয়েলসের উত্তরে ক্লগাউ সেন্ট ডেভিডস খনি থেকে আহরিত সোনা দিয়ে কেটের বিয়ের আংটি তৈরি করা হয়েছে। গত শতকের বিশের দশক থেকে ওই খনির সোনা ব্রিটেনের রাজপরিবারে বিয়ের আংটিতে ব্যবহূত হয়ে আসছে।
গত নভেম্বরে উইলিয়াম ও কেট যখন তাঁদের বিয়ের কথা ঘোষণা করেন, ওই সময় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ওই সোনা উইলিয়ামকে দেন। আজ বিয়ের প্রধান সহচর প্রিন্স হ্যারি ওই আংটি ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নিয়ে বড় ভাই উইলিয়ামের হাতে দেবেন। উইলিয়াম ওই আংটি কনে কেটের আঙুলে পরাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ১৯০ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। শুধু আলাবামা অঙ্গরাজ্যেই ১২৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়দুর্গত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আলাবামা, আরকানস, কেন্টাকি, মিসিসিপি, মিসৌরি, টেনেসি ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর জন্য দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে দেশটিতে প্রায় ৩০০টি ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। এর মধ্যে গত বুধবার এক দিনে ১৩০টিরও বেশি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
আলাবামার জরুরি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সংস্থার (ইএমএ) কর্মকর্তা ইয়াসামি অগাস্ট জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আলাবামায় বহু লোক হতাহত হয়েছে। তুসকালোসা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ইএমএ ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বার্মিংহাম শহরেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। কর্মকর্তারা সেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছেন।
তুসকালোসার মেয়র ওয়ালটার ম্যাডক্স জানান, ঝড়ে শহরের অনেক স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রবার্ট ব্রান্টলি জানান, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপির বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ বজ্রপাত আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকি’র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গ্রেট লেকের নিম্নাঞ্চল থেকে গালফ কোস্ট ও আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় ২১টি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কাছে ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাড়ি, ট্রাক্টর ও গাড়ির ওপর গাছ পড়ায় অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। বন্যায় প্লাবিত এবং গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের ওপর পড়ে থাকার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘর, স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু কিছু জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
কেন্টাকির গভর্নর স্টিভ বেসেয়ার জানান, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্গত জনগণকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত আছি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে নিমন্ত্রণ, পরে প্রত্যাহার

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়েতে লন্ডনে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত সামি খিয়ামিকে নিমন্ত্রণ করার পর তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর সিরিয়ার সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা রাজকীয় বিয়েতে খিয়ামির উপস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ রাষ্ট্রদূত খিয়ামিকে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কাম্য নয় বলে রাজপরিবারও স্বীকার করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে সিরিয়ায় সেনাবাহিনী প্রায় ৪৫০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও এ ঘটনার নিন্দা জানায়। তবে অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকেও বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে ব্রিটিশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা খিয়ামিকে দেওয়া নিমন্ত্রণ প্রত্যাহার করার দাবি তোলে।

ডায়ানার বিয়ের ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সংগীত বাজবে

মা প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যে সংগীত বাজানো হয়েছিল, সেই একই সংগীত বাজবে ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ের অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি বাবা প্রিন্স চার্লসের দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের সংগীতও এ সময় বাজানো হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজপরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত উইলিয়াম-কেটের বিয়ের অনুষ্ঠানসূচিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্স উইলিয়ামের সেন্ট জেমস প্যালেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ১৯৮১ সালে প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ে এবং ১৯৯৭ সালে ডায়ানার শেষকৃত্যে যেসব সংগীত বাজানো হয়, সেগুলো থেকে বাছাই করা কয়েকটি গান ও যন্ত্রসংগীত আজ বাজানো হবে। এ ছাড়া ২০০৫ সালে চার্লসের সঙ্গে ক্যামিলার বিয়েতে যে সংগীত বাজানো হয়েছে, সেগুলোরও অংশবিশেষ এ অনুষ্ঠানসূচিতে স্থান পেয়েছে।

উইলিয়ামের ‘আজ্ঞানুবর্তী’ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করবেন না কেট

বিয়ের শপথ অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়ামের আজ্ঞানুবর্তী হওয়ার প্রতিজ্ঞা করবেন না কেট মিডলটন। উইলিয়ামের মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানাও ৩০ বছর আগে তাঁর বিয়েতে এ ধরনের কোনো প্রতিজ্ঞা করেননি। উইলিয়াম-কেটের বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে প্রকাশিত এক সুভ্যেনিয়রে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রায় আট বছর উইলিয়ামের সঙ্গে প্রেম করেছেন কেট। প্রণয় থেকে এবার পরিণয়। আজ শুক্রবার মহা ধুমধাম করে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন এই প্রেমিক জুটি। রাজপরিবারের পুরোনো প্রথা অনুযায়ী স্বামীর আজ্ঞানুবর্তী হওয়ার পরিবর্তে ‘প্রেম, স্বস্তি, সম্মান ও তা বজায় রাখার’ প্রতিজ্ঞা করবেন কেট। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ১৯৮১ সালে বিয়ের সময়ও প্রিন্সেস ডায়ানা প্রায় একই ধরনের শপথবাক্য পাঠ করেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও তা-ই।
বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনটিকে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিনের একটি বলে মনে করেন উইলিয়াম ও কেট। সুভ্যেনিয়রে এক বার্তায় মনের এ গোপন খবর প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে গণমানুষের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তাঁদের পুলকিত করছে।
কেট ও উইলিয়াম ওই বার্তায় বলেন, ‘এমন একটা দিন উদ্যাপন করতে গিয়ে আমরা এত বেশি উল্লসিত যে মনে হচ্ছে এই দিন আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিনের একটি হবে।

রাজকীয় বিয়ে নিয়ে মার্কিন মুলুকেও উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা

মাঝে হাজারো মাইলের দূরত্ব। কৃষ্টি, সংস্কৃতিতেও যোজন যোজন ব্যবধান। তবু আজ যেন ইউরোপ-আমেরিকা অভিন্ন, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য মিলে একাকার। সবার চোখ লন্ডনে, চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের দিকে।
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে নিয়ে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লিভারপুলে যেমন উন্মাদনা, তেমনি উন্মাদনা নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়ায়ও। লন্ডনের আনন্দ যেন সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে মার্কিনদের দেশে। ব্রিটেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও এই বিয়ে নিয়ে সমান উচ্ছ্বাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিয়েতে দাওয়াত না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিয়ে নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহ। কেট-উইলিয়ামের যখন বিয়ে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে তখন ভোর। তাই ঘুমের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে না পাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিনরা একটি বুদ্ধি বাতলেছে। সবাই ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছে। অ্যালার্ম শুনে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তারা যেন ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারে।
উইলিয়াম-কেটের বিয়ে নিয়ে মার্কিন পত্রপত্রিকাগুলো নিয়মিত খবর পরিবেশন করছে। রাজকীয় এ বিয়ে উপলক্ষে নতুন নতুন রেসিপির খবরও দিচ্ছে তারা। উইলিয়াম ও কেটের ছবিসংবলিত নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ভিড় লেগে গেছে দোকানপাটগুলোয়। হকাররাও বসে নেই। তাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে বিক্রি করছেন হবু দম্পতির ছবিসংবলিত চায়ের কাপ ও অন্যান্য সামগ্রী। বিক্রি হচ্ছে কেটের বাগদান অনুষ্ঠানের নীল রঙের আংটির রেপ্লিকাও।
নীরব নেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও। নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে তারা। একটি জনপ্রিয় কেব্ল স্টেশন উইলিয়াম ও কেট নামের একটি রোমান্টিক অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের লাখো নাগরিক উপভোগ করেছে।

লন্ডনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বহুল আলোচিত বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে লন্ডনে। ৩০ বছর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের আরেকটি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বিদেশ থেকে অনেক মানুষ লন্ডনে পা রাখেন। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের বাইরে বিশাল স্থানজুড়ে শুধু তাঁবু আর তাঁবু। উইলিয়াম ও কেটের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে কয়েক দিন ধরে তাঁবু ফেলে সেখানে অবস্থান করছেন।
এদিকে গতকালই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে বিয়ের অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য অংশ নেন। উইলিয়াম ও কেট অনুষ্ঠানের মহড়ায় অংশ নিলেও নিরাপত্তার কারণে মাত্র একঝলক দেখা গেছে তাঁদের। আজ তাঁদের এই বিয়ের অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষদর্শী অগণিত মানুষ ছাড়াও টেলিভিশনে সরাসরি দেখতে পাবে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি দর্শক।
প্রিন্স উইলিয়ামের সেন্ট জেমস প্যালেস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শেষ বিকেলের মহড়ায় প্রধান সহচর প্রিন্স হ্যারিকে বড় ভাই উইলিয়ামের পাশে দেখা গেছে। কেটের পরনে ছিল সাধারণ জ্যাকেট ও স্কার্ট। কেটের মা-বাবা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী যাজকও ছিলেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে। মহড়া শেষে উইলিয়াম ও কেট গাড়িতে করে ক্লেয়ারেন্স হাউসে চলে যান। এটি হচ্ছে উইলিয়ামের দাদার বাসভবন। বিয়ের আগের রাতে উইলিয়ামের এই বাড়িতে থাকার কথা।
মহড়ায় চোখে পড়ার মতো শূন্যতা যা ছিল তা হচ্ছে, আমন্ত্রিত এক হাজার ৯০০ অতিথির অনুপস্থিতি। আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেশ-বিদেশের এসব খ্যাতিমান ব্যক্তির আগমন ঘটবে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে। এতে বিভিন্ন অঙ্গনের উজ্জ্বল ব্যক্তি ও তারকারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান আলোকিত করবেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান থর্প, ইংল্যান্ড ফুটবলের কিংবদন্তি ট্রেভর ব্রুকিং ও গ্যারেথ টমাসের মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্ব যেমন থাকবেন, তেমনি থাকবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। থাকবেন এলটন জন ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের মতো সংগীত তারকারাও।
দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি সামি খিয়ামির বিষয়ে গতকাল প্রশ্ন উঠেছে সংবাদ মাধ্যমে। গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীদের হত্যার পেছনে ভূমিকা থাকার অভিযোগে তাঁকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিয়ের দিন পূর্ব ইউরোপ থেকে ধেয়ে আসা ঝোড়ো হাওয়া লন্ডনে ঝাপটা মেরে যেতে পারে। এতে বৃষ্টিতে সয়লাব হতে পারে রাস্তাঘাট। রাজপরিবারসহ তাদের ভক্তকুলকে উদ্বেগে ফেলেছে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস।

Friday, April 29, 2011

উইলিয়ামই ছিলেন কেটের স্বপ্নপুরুষ

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তিনি ছিলেন কেট মিডলটনের স্বপ্নপুরুষ। উইলিয়ামকে নিয়ে ঘর বাঁধবেন—এমন স্বপ্নের কথা ঘনিষ্ঠজনদেরও বলেছেন কেট। একসময় কেটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, এমন একজন জানিয়েছেন এ কথা। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ক্যাল টমলিনসন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
২০০১ সালে স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে কিছুদিন ছুটি ছিল কেটের। সে সময় প্রমোদতরী (ইয়ট) ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জ বিজনেস-এ কাজ করেন কেট। ওই প্রতিষ্ঠানে সহকর্মী হিসেবে কেটকে পেয়েছিলেন টমলিনসন। সে অভিজ্ঞতার কথা এক সাক্ষাৎকারে দ্য নিউ এজ পত্রিকাকে জানান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যান্ড্রুজে যাওয়ার পর উইলিয়ামের সঙ্গে কেটের সাক্ষাৎ ও প্রেম হয়।
টমলিনসন বলেন, তাঁদের কাছে কোনো কথা লুকাননি কেট। শিগগিরই সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। আরও বলেন, সেখানে যাওয়ার পেছনে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে উইলিয়ামের মন কাড়া।
কেটের পুরোনো সহকর্মী বলেন, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিতে আরও যেসব তরুণ-তরুণী কাজ করতেন, তাঁদের চেয়ে আলাদা ছিলেন কেট। একটু ভারিক্কি ভাব নিয়ে থাকতেন তিনি। এক সহকর্মী তো তাঁর প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খেতে লাগলেন। টমলিনসন বলেন, ‘শেষে আড়ালে নিয়ে তাঁকে আমি বোঝাই, কেট তাঁর জন্য নন। কেটের চাওয়া আরও বড়।’
টমলিনসন বলেন, কেট খুব মন দিয়ে কাজ করতেন। খুব ভোরে উঠতে হতো তাঁদের। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ইয়টগুলো সাফসুতরো করতে হতো। এতে প্রচুর ঘষামাজার দরকার হতো, যা খুব পরিশ্রমের কাজ ছিল। তবে এই কঠোর পরিশ্রমে মোটেও পিছপা হতেন না কেট।

প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের হার কমিয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি

দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা আসন্ন ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের (যা করপোরেট কর নামে পরিচিত) হার কমিয়ে আনাসহ বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই), ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন সরকারের কাছে এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা তাদের কাম্য হারও সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর দিতে হয়।
এফবিসিসিআইয়ের তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান আয়করের হার কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে করের হার প্রস্তাব করা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ হলো, উৎপাদনকারী বা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর সাড়ে ২৭ শতাংশ আর এর বাইরের তথা কাববারি বা ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়করের হার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।
আবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমানে সাড়ে ২৭ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর দিতে হয়। এফবিসিসিআই এই হার কমিয়ে ২৫ শতাংশে নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
আর ঢাকা চেম্বার তাদের প্রস্তাবে বলেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মুনাফার ওপর করের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে হবে।
আবার ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের হার আলাদা। বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর গুনতে হয়। ঢাকা চেম্বার এই হার ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।
এ ছাড়া মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ঢাকা চেম্বার এই হার কমিয়ে সাড়ে ৪২ শতাংশ নির্ধারণের পক্ষে।
ঢাকা চেম্বার আরও মনে করে, যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আয়করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩২ শতাংশ করা যেতে পারে। তবে শর্ত হিসেবে শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বদলে ২০ শতাংশ পুনর্নির্ধারণেরও প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর কমানোর যুক্তি হিসেবে ঢাকা চেম্বার বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে (যেমন: চীন, মালয়েশিয়া) করপোরেট করের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা এবং দেশের বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করতে এখানেও করপোরেট করের হার যৌক্তিকীকরণ প্রয়োজন।
এফবিসিসিআই বলছে, দেশে বিদ্যমান করপোরেট করের হার অনেক বেশি, যা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক আয় প্রদর্শনে করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। এই হার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এলে করদাতা কোম্পানি অধিক কর প্রদানে এগিয়ে আসবে।
আবার ম্যানুফ্যাকচারিং ও ট্রেডিং উভয় কোম্পানির ক্ষেত্রে একই হারে কর আরোপ যুক্তিযুক্ত নয়। ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি বিধায় তাদের প্রণোদনা প্রদানের জন্য ট্রেডিং কোম্পানির চেয়ে নিম্নহারে কর আরোপণ যুক্তিযুক্ত।
এফবিসিসিআই তফসিলভুক্ত সিএসআর (সামাজিক দায়বদ্ধতা) কার্যক্রম, পণ্যমান পরীক্ষণব্যবস্থা, ফ্যাসিলিটি টুল সেন্টার স্থাপন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রভৃতি খাতের ব্যয় আয়করমুক্ত রাখার সুপারিশ করেছে।
পাশাপাশি এনজিওগুলো কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যবসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত পুঁজি এবং এর দ্বারা পরিচালিত ব্যবসা-বাণিজ্য উভয়ই মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সমহারে আয়করের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এফবিসিসিআই আরও মনে করে, পদ-পদবিনির্বিশেষে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সবাইকে করের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে তাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-আয় যদিও করযোগ্য, বাস্তবে তা করমুক্ত। কারণ তাঁরা বেতন আয়ের ওপর যে পরিমাণ কর প্রদান করেন, তা পরবর্তী সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিলের মাধ্যমে উঠিয়ে নেন। অথচ বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিশোধিত কর আয়ের সঙ্গে যোগ করে করের হার নির্ধারণ ও তদনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়।
করমুক্তির এই বৈষম্যমূলক সুযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

ডিএসইতে এক দিন পর আবার সূচক কমেছে

পুঁজিবাজারে আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেনে শুরুটা ভালো হলেও শেষটা আর শুরুর মতো থাকেনি। গতকাল পুঁজিবাজারে শুরুতে সূচক কমলেও শেষ দিকে হঠাত্ উল্লম্ফন ঘটে। সূচক বেড়ে যায় ২৭৬ পয়েন্ট। আজ হয়েছে তাঁর উল্টো। দিনভর ভালো কাটলেও শেষ দিকে সূচক নিম্নমুখী হয়ে যায়।
আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিন শেষে সূচকের সঙ্গে কমেছে দেড় শতাধিক শেয়ারের দাম। তবে লেনদেন গত দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ৫৪.৫৭ পয়েন্ট কমে ৬০২৮.৩১ পয়েন্ট দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ১৮১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। লেনদেন হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকার, যা গত দিনের চেয়ে ১৫৯ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, ডেসকো, তিতাস গ্যাস, বেক্সটেক্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটোমোবাইল, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, এনবিএল ও মালেক স্পিনিং।
আজ সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধ ঘণ্টা শেষে সূচক ৯৯ পয়েন্ট বাড়ে। এভাবে ধীরে ধীরে সূচক বাড়তে থাকে, তবে বেলা আড়াইটার পর থেকে সূচক কমতে থাকে। সূচক কমার এ ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

বাংলাদেশ ফান্ডের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন

পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডের রেজিস্ট্রেশন (ট্রাস্ট ডিড) সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সম্মেলন কক্ষে ফান্ডটির স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের উপস্থিতিতে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে কমিশন করে আজ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এর আগে আইসিবির বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে ফান্ডটির ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ফি কমানো এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কয়েকটি সিদ্ধান্ত রিভিউ করার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিবির মিউচুয়াল ফান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। সুতরাং বাংলাদেশ ফান্ড বিনিয়োগকারীদের আশাব্যঞ্জক মুনাফা দিতে পারবে।’
এদিকে এসইসির বিধি অনুযায়ী মোট ফান্ডের ১০ শতাংশ জমা থাকতে হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫০০ কোটি টাকা আজই সংশ্লিষ্ট স্পন্সর কর্তৃক ফান্ডে জমা পড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি রোড শো করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ফান্ডটির ইউনিট ওটিসিতে কেনাবেচা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড নামে ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ফান্ডটির স্পন্সর হিসেবে কাজ করছেন রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি, চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও জনতা, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।

অরাজক খুনের হিড়িক by মোহীত উল আলম

রাজশাহীতে ডাক্তারি পাঠরত তথাকথিত ছাত্র জ্যোতির্ময় আর সাব্বির তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাহাবুবকে নৃশংসভাবে খুন করার পর একটা বিষয় উদ্বেগের কারণ হয়েছে যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। এর মাত্র ১০ দিন আগে একই শহরে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল হককে নির্মমভাবে খুন করে তাঁর ব্যবসার সহযোগী এবং খানিকটা বন্ধু সারোয়ার হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনা এ দুটি। সামনের দিনগুলোতে এ রকম খুন আরও ঘটতে পারে, সে শঙ্কা থেকে কেন এ রকম খুন বেড়ে গেল, কীভাবে তা নিবৃত্ত করা যায়, তার ওপর আলোকপাত করার জন্য বর্তমান লেখাটি।
পেশাদার খুনের সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ের খুনের তফাত হলো, যে ব্যক্তি আগে খুন করেনি, সে নির্মমভাবে খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পেশাদার খুনের বেলায় একটি স্পষ্ট ষড়যন্ত্রের ছক কাজ করে। তৃতীয় পক্ষের সংযোগ থাকে। পেশাদার খুনির তালিকা কখনো কখনো থানার পুলিশের কাছেও থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ের খুন দুভাবে হয়। বচসা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে একজন আরেকজনকে মেরে ফেলল, যা আচমকা এবং কিছুটা দুর্ঘটনার মতোও, এ খুনের সঙ্গে সমাজ পরিচিত। জ্যোতির্ময় ও সাব্বির বা সারোয়ার এদের খুনের পদ্ধতি ব্যক্তি পর্যায়ের হলেও আচমকা ছিল না, ছিল পরিকল্পনার ছাপ, যাকে সাধারণ ভাষায় ঠান্ডা মাথায় খুন বলা হয়।
যুুদ্ধ, দাঙ্গা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ঘটিত খুনগুলো ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ের খুনকে নিবৃত্ত করার জন্য কোনো সমাজ তৈরি থাকে না। অর্থাৎ খুব সুশাসিত পুলিশ-নিয়ন্ত্রিত সমাজেও বন্ধু বন্ধুকে মেরে ফেলতে পারে, স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে। এ খুনগুলো না হওয়ার আগে পর্যন্ত পুলিশ জানতে পারবে না যে এগুলো হবে। যেমন—আজকের পত্রিকার (২৫ এপ্রিল) খবর অনুযায়ী, রায়েরবাজারে স্বামী শফিক স্ত্রী নাদিয়াকে মেরে ফেলল। এটা যে হবে পুলিশ আগে জানতে পারার কোনো উপায় ছিল না। তার পরও কিন্তু অপরাধ যে করবে, তার মনে আইন-পুলিশের ভয় থাকে। সে জন্য পুলিশ শক্তিশালী হলে, শক্ত আইনি ব্যবস্থা বজায় থাকলে খুন করতে মানুষ ভয় পাবে। শেকসপিয়ার তাঁর বিখ্যাত খুনি-নায়ক ম্যাকবেথের মুখ দিয়ে জানাচ্ছেন যে খুনের বিচার শুধু যে পারলৌকিক জগতে হয় তা নয়, এ জগতেও বিচার-ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তা হয়। ফলে আইনি ব্যবস্থার শাস্তির মাধ্যমে অনেক সময় খুনিকে তার নিজের ঠোঁটে খুনের বিষ-পেয়ালা তুলে নিতে হয়। ম্যাকবেথ বলছেন, ইহলৌকিক জগতের বিচারব্যবস্থার প্রতি ভয় না থাকলে খুনের সংখ্যা এ পৃথিবীর বুকে অনেক বেড়ে যেত। রেনেসাঁ যুগের শেকসপিয়ারের অন্যতম সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব ইংরেজ চিন্তাবিদ ফ্রান্সিস বেকন ফরাসি মনীষী মন্তেন বা মঁতের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর ‘অব ট্রুথ’ রচনায় বলেছেন, অপরাধী ঈশ্বরকে ভয় না পেলেও মর্ত্যের পুলিশকে ভয় পায়। সে জন্য শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী থাকলে অপরাধের হার কমত নিশ্চয়। তবে বাংলাদেশের পুলিশ দুর্বল—এ কথা বলে পার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ সংসদে একজন মন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন যে অন্যতম শক্তিশালী পুলিশের দেশ আমেরিকায় খুনের হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। এটা যদি সত্যও হয়, আত্মসন্তুষ্টির কোনো কারণ হতে পারে না, যেমন—প্রতিদিন ঠকে, এ রকম একজন জুয়াড়ি যদি একদিন জুয়া না খেলে এবং মনে করে, যে টাকাটা সে সেদিন হারায়নি, সেটা তার লাভ হলো; সেটা যেমন আত্মপ্রবঞ্চনা হবে, তেমনি বাংলাদেশ যদি মনে করে, তারা আমেরিকার চেয়ে খুনের সংখ্যায় পিছিয়ে আছে, তাই তারা উন্নততর দেশ, সেটাও তেমন আত্মপ্রবঞ্চনা হবে। কারণ, যেসব কারণে খুন হয় যেমন অর্থ, যশ, পদ, প্রেম-পরকীয়া ও নিছক হিংসা—তার কোনোটার অবস্থা বাংলাদেশে আমেরিকার চেয়ে আশাব্যঞ্জক সূচকে নেই।
ধর্মে খুনের কারণে ইহলোকে ও পরকালে শাস্তির বিধান আছে। ধর্ম মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে ও সৃষ্টিকর্তার শাস্তির কথা বলে মানুষের মনে খুন বা পাপ করার বিরুদ্ধে ভীতির সঞ্চার করে। কিন্তু খুনির মন মঁতে কথিত ওপরের উক্তি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে যত-না ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় পুলিশকে। আবার ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে মানুষ খুন করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় যুক্তি ব্যবহার করে। এ ধরনের খুনিরা নিজেদের আজরাইলের ভূমিকায় অবতীর্ণ করায়। অনেক সময় স্বপ্নে দেখা পীরের আজ্ঞায় মাতা তার শিশুসন্তানকে হত্যা করছে, এমনও ঘটতে দেখি সমাজে। এটিও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা এবং কুসংস্কারজাত হত্যাকাণ্ড।
একেকটা খুন একেকটা ঐকিক ঘটনা বা তুলনারহিত ঘটনা। যেমন—যে টাকার দেনার চাপে জ্যোতি ও সাব্বির খুন করল মাহাবুবকে, তার চেয়ে বহু বড় অঙ্কের টাকার বিসংবাদেও একজন আরেকজনকে খুন করে না। তাই একটা খুন হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে আরেকটা খুন না হওয়া পরিস্থিতির তুলনা চলে না। বড় কারণে যেমন, তেমনি সামান্য কারণেও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
মনে হয়, মানুষের অন্য সব প্রবৃত্তির মতো খুন করার প্রবৃত্তিও জিনগত। অর্থাৎ কোষ গঠনের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ খুনি প্রবৃত্তিসম্পন্ন হতে পারে। যেমন—আমিনুলের হত্যাকারী সারোয়ার খুন করতে পারে, সে রকম লোক নাকি ছিল না। কিন্তু সে তো খুন করল। খুনের প্রবৃত্তি তার হয়তো জিনগত বৈশিষ্ট্য ছিল। ছিল লুকোনো অবস্থায়। পাশ্চাত্যে হত্যাকাণ্ড নির্ণয় এবং অপরাধী শনাক্তকরণে জিনভিত্তিক অনুসন্ধান ব্যাপক কার্যকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এটাও বলা যায়, বাংলাদেশের পুলিশ (র্যাবসহ) বর্তমানে অপরাধী ধরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বহুগুণ পারদর্শী হয়েছে। খুন করার পর খুনি ধরা পড়ছে না, এ রকম ঘটনা এখন অনেক কমে গেছে। জ্যোতি ধরা পড়লেও সাব্বির এখনো ধরা পড়েনি, কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে কিছুদিনের মধ্যে সেও ধরা পড়বে।
যা হোক, মাহাবুবকে খুন করা হয়েছে অর্থের লেনদেনের স্বার্থ থেকে। এ জন্য খুনের পেছনে অন্যতম কারণ বৈষয়িক, যেটা সমাজে আইনশৃঙ্খলার ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, প্রেম-পরকীয়াজনিত হত্যাকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হলেও বৈষয়িক জটিলতা থেকে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা একেবারে অসম্ভব নয়। কারণ, অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া থেকে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড প্রায়ই বেআইনি বা অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মপদ্ধতির কার্যকারণ থেকে সৃষ্ট হয়ে থাকে, যার ওপর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা, কিন্তু যা আসলে থাকে না। জিনিসটা এ রকম: পুরো দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর কার্যকলাপ, অর্থ বিনিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিচালনা, কর প্রদান ও গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও গ্রহণ ইত্যাদি কাজে এত বেশি অনিয়ন্ত্রিত বেআইনি সূত্র কাজ করছে যে তারই একটি উদাহরণ হিসেবে জ্যোতির কঙ্কাল ব্যবসাকে দেখা যায় এবং সেখানে মাহাবুবের খুনটা এসেছে কার্যকারণের সূত্রে অনিবার্য পরিণতি হিসেবে মাত্র। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সবগুলো সম্পর্কের পরিণতি হয়তো খুন হিসেবে আসছে না, কিন্তু খুন হওয়ার মতো আলামত তৈরি হচ্ছে। তারই একটা পরিণতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হত্যাকাণ্ডটি।
খুন সম্পর্কে শেষ কথাটি হলো, খুন একটি অপরাধ হলেও এর মধ্যে অপরাধীর সক্রিয় সৃজনশীলতা থাকে, যদিও ইতর অর্থে। খুনিকে নৃশংস বলা যাবে, কিন্তু বোকা বলা যাবে না। সে জন্য পুলিশকে খুনির ক্রিয়াশীলতার চেয়ে আরও তৎপর হতে হবে তার (খুনির) ক্রিয়াশীলতা (বা সৃজনশীলতাকে) বিনষ্ট করার জন্য। আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এদিকে অর্থাৎ পুলিশের মেধাশক্তি, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ইত্যাদি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে।
খুনের চরিত্র নির্ধারিত হয় খুনির পেশা ও অভিজ্ঞতা দ্বারা। যেমন—জ্যোতি আর সাব্বির ডাক্তারি পড়ত বলে এবং কঙ্কাল নিয়ে ব্যবসা করত বলে তারা জানত যে লাশকে নয় টুকরা না করেও শুধু সিমেন্ট দিয়ে আবৃত করলে সে লাশের পচা গন্ধ বের হবে না। খুন তাই একটি সর্বজনীন মনোবৈকল্য হলেও এটির রূপ ও ঘটনপদ্ধতি খুনির পেশা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতানির্ভর।
পরিশেষে কামনা করি, আর যেন আমার এ দেশে কোনো খুন না হয়।
ড. মোহীত উল আলম: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব, ঢাকা।
mohit_13_1952@yahoo.com

মূল্যস্ফীতির চাপ-আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিন

গত মঙ্গলবার ‘জাতীয় বাজেট ২০১১-১২’ শীর্ষক প্রস্তাব উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে যেসব তথ্য, বিশ্লেষণ ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে, তা মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ করা প্রয়োজন। জাতীয় অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থার চিত্র ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতির কিছু আভাস এ থেকে পাওয়া যাবে।
প্রথমত, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্টদায়কভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে বেশি; মধ্যবিত্তের জীবনমানের অধোগতিও বেগবান হয়েছে। প্রধান খাদ্য চালের দাম গত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দামও নানা হারে বেড়ে চলেছে। সরকার খাদ্য আমদানি করছে ও মজুদ বাড়াচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য কম মূল্যে চাল বিক্রির কর্মসূচি নিয়েছে; ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের খাদ্যসাহায্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব বিকল্প অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সে জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর উদ্যোগ। কিন্তু বিনিয়োগ-পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। শিল্প খাতে বিনিয়োগ আশানুরূপভাবে বাড়েনি, বাড়ছেও না। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও উন্নতি ঘটেনি। বর্তমান অর্থবছরের নয় মাসে এডিপিতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানিসংকট দূর করা, দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্পদপ্রবাহ বাড়ানো, কর সংগ্রহ জোরদার করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং রপ্তানি ও অনাবাসী আয় বৃদ্ধি—এগুলো বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঘোষিত প্রাধিকার। সন্দেহ নেই, প্রাধিকারগুলো ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। কিন্তু এসব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব, সরকারের ভেতর সমন্বয়ের ঘাটতি, মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতার ঘাটতি ও উন্নয়ন প্রশাসনের দুর্বলতা বেশ বড় বাধা।
বিশেষত, জ্বালানিসংকট দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। ২০১০ সালের আগস্টে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল চার হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট, আর এ বছরের ১১ এপ্রিল বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল চার হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, প্রকৃত বিদ্যুৎপ্রবাহ যা বেড়েছে তা নগণ্য—মাত্র ৬৫ মেগাওয়াট। যদিও প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বছরে গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে, অন্যদিকে পিডিবির পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে যেতে পারেনি। বিদ্যুৎ খাতে এই সংকট শিল্পে বিনিয়োগ না বাড়ার একটি বড় কারণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর। সিপিডির বাজেট প্রস্তাবে তাই কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আগামী বাজেটে এটাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু সাঁই বাবা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু সত্য সাঁই বাবাকে গতকাল বুধবার পুত্তাপারথিতে তাঁর নিজ আশ্রমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। এ সময় লাখ লাখ ভক্ত- অনুসারী তাঁদের গুরুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মৃত্যুর পর দাহ করার নিয়ম থাকলেও সাঁই বাবাকে হিন্দু ধার্মিক পুরুষদের নিয়মে সমাহিত করা হয়।
ভক্তদের শেষ দর্শনের জন্য সাঁই বাবার মরদেহ একটি স্বচ্ছ কাচের বাক্সে রাখা হয়। তাঁর পরনে ছিল চিরচেনা গেরুয়া পোশাক। এ সময় ভক্তরা প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে তাঁদের গুরুকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভক্তদের সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। আশ্রমের বাইরে অপেক্ষারত অগণিত ভক্তর জন্য চারটি বড় পর্দায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সাঁই বাবাকে তাঁর মূল আশ্রমের ঘোষণা মঞ্চের নিচে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা এল কে আদভানি, ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকারসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসআই সম্পর্কে মার্কিনিদের মনোভাবে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান

পাকিস্তানের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) সম্পর্কে মার্কিন তদন্তকারীদের মনোভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া গোপন মার্কিন নথিপত্র থেকে জানা যায়, মার্কিন তদন্তকারীরা আইএসআইকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে মনে করেন। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৭ সালের গোপন তালিকা ‘টেরোরিস্ট অ্যান্ড টেরোরিস্ট সাপোর্ট এনটিটিস’-এ আইএসআইকে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা ও তালেবানসহ প্রায় ৭০টি গোষ্ঠীর সঙ্গে একই কাতারে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে আইএসআইর সুনামহানি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইএসআই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং কখনোই জড়িত ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন প্যানেট্টা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন সিআইএর পরিচালক লিওন প্যানেট্টা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর প্রধান জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস। গতকাল বুধবার এবিসি ও এনবিসি টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
টেলিভিশন দুটির খবরে বলা হয়েছে, এ মাসের শেষের দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস পদত্যাগ করবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে। প্যানেট্টা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর পেট্রাউসের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল জন অ্যালেন। তিনি বর্তমানে আফগানিস্তানে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের উপপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে কূটনীতিক রায়ান ক্রোকারকে নিয়োগ দেবেন। বর্তমান রাষ্ট্রদূত কার্ল এইকেনবেরির স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

মাউন্ট এভারেস্টে যেতে চান প্রিন্স হ্যারি

সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদবি পেয়েছেন। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের পাইলট বনেও গেছেন। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি এবার শখ করেছেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্টে যাবেন। তাঁর ইচ্ছা আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের মে মাসেই এই দুঃসাহসিক অভিযানে দেখা যেতে পারে প্রিন্স হ্যারিকে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধাহত সদস্যদের একটি সংগঠন আছে, যার নাম ওয়াকিং উইথ দ্য উন্ডেড। এই দলটি সম্প্রতি সফলতার সঙ্গে উত্তর মেরু অভিযান সম্পন্ন করেছে। দলটির সদস্যদের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে নিজের মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের ইচ্ছার কথা জানান হ্যারি।
যুদ্ধাহত সেনাদের চারজনের একটি দল চলতি মাসের গোড়ার দিকে উত্তর মেরু অভিযানে যায়। কারও কোনো সাহায্য ছাড়াই ১৩ দিনে ১৭০ মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দেয় তারা। তাদের সবাই আফগানিস্তান যুদ্ধে আহত হয়েছে। আহত সেনাদের পক্ষে এটাই ছিল প্রথম উত্তর মেরু অভিযান।

চীনে মেলামিনযুক্ত ২৬ টন গুঁড়ো দুধ উদ্ধার

চীনের পুলিশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং শহরের একটি আইসক্রিম প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে মেলামিনযুক্ত ২৬ টন গুঁড়ো দুধ উদ্ধার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়। তিন বছর আগে মেলামিন মেশানো গুঁড়ো দুধ খেয়ে দেশটিতে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, আইসক্রিম কোম্পানিটি গত মার্চে দক্ষিণের গুয়াংসি এলাকার একটি কোম্পানির কাছ থেকে বাজারদরের চেয়ে কম দামে ওই দুধ কেনে।
ইনার মঙ্গোলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় এই গুঁড়ো দুধ প্রস্তুত করা হয়। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো গুয়াংসি এলাকার ওই কোম্পানির কাছে এসব গুঁড়ো দুধ বিক্রি করা হয়। জব্দ করা গুঁড়ো দুধের বেশির ভাগই ছিল জমাট বাঁধা। মেলামিন মিশ্রণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনটি কোম্পানির ব্যবস্থাপকদের আটক করা হয়েছে।
২০০৮ সালে মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ খেয়ে চীনে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রায় তিন লাখ শিশু। চলতি মাসেও নাইট্রেট মেশানো দুধ পান করে দেশটিতে তিনটি শিশু মারা যায়।

আফগান পাইলটের গুলিতে আট বিদেশি সেনাসহ নিহত ৯

আফগান বিমানবাহিনীর এক পাইলটের গুলিতে আটজন বিদেশি সেনাসদস্য ও একজন ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। পাল্টা গুলিতে ওই পাইলট নিহত হন গতকাল বুধবার রাজধানী কাবুলে আফগান বিমান বাহিনীর ব্যবহূত একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি বিদেশী সৈন্যদের ওপর যত হামলা চালিয়েছেতার মধ্যে গতকালেল হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুলিতে আইএসএএফের আটজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে নিহত সেনাসদস্যদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জহির আজিমি এএফপিকে জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আফগান ওই পাইলটের সঙ্গে সহকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে তিনি গুলি করেন। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
আফগান বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা কর্নেল বাহাদের বলেন, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই পাইলট পকেট থেকে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতারি গুলি করতে শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা দৌড়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। অনেকে জানালা টপকে পালিয়ে যান।
এদিকে এএফপিকে মোবাইল ফোন থেকে টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিদুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, তাঁদের এক আত্মঘাতী যোদ্ধা বিমানবন্দরে চাকরি নেন। পরে তিনিই ওই হামলা পরিচালনা করেন।
কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আফগান কর্মকর্তা বলেন, বিমানবাহিনীর আফগান কম্পাউন্ডে গুলির এই ঘটনা কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়। ৫০ বছর বয়সী এক পাইলট ওই গুলি ছোড়েন। তাঁর নাম গুল আহমেদ পাইলট কোনো সন্ত্রাসী দলের সদস্য নন, কাবুলের তারাখেল এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল ফারিয়াব প্রদেশে এক আফগান পুলিশ দুই ন্যাটো সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন। গত নভেম্বর মাসে এক আফগান পুলিশের গুলিতে ছয় মার্কিণ সেনা নিহত হন। এর আগেও ও আফগান বাহিনীর হাতে বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দেশটিতে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার বিদেশি সেনাসদস্য রয়েছেন। ২০১৪ সালের মধ্যে বিদেশি বাহিনীর হাত থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বভার আফগান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কথা।

তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন লবস্যাং

হার্ভার্ডের শিক্ষাবিদ লবস্যাং সাঙ্গে তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে দালাই লামা যে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে আসছেন, এখন থেকে লবস্যাং ওই দায়িত্ব পালন করবেন।
গত মার্চে দালাই লামা ঘোষণা করেন, নির্বাচিত কারও হাতে তিনি এ দায়িত্ব তুলে দেবেন। তাঁর এ ঘোষণার পর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তিব্বতিদের অংশগ্রহণে গত মার্চে নির্বাচন হয়। সারা বিশ্বে প্রায় ৮৩ হাজার ৪০০ তিব্বতি ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ হাজার ভোটার ভোট দেন।
ভারতের ধরমশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের নির্বাচন কমিশনার জামফেল গতকাল বুধবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, লবস্যাং ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তেনজিন তেথং পেয়েছেন ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। শতকরা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তাশি ওয়াংদি।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী (৪৩) লবস্যাং ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের তদন্তকারী দল লিবিয়ায়

লিবিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দল দেশটির রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এই দলটি নিয়োগ দেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার ওপর আরোপিত তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গত মঙ্গলবার লিবিয়ায় পাশ্চাত্য জোটের অভিযান চালানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করার কোনো অধিকার পাশ্চাত্য জোটের নেই।
লিবিয়ার উপজাতি নেতারা গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্তকারী দল গতকাল বুধবার ত্রিপোলি পৌঁছায়। দেশটির সরকার দলটিকে তদন্তের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। দলটির সদস্যরা জানান, তাঁরা সব পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন। গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্রোহী সেনা এবং ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। তবে দলটিকে মূলত গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার নভি পিল্লাই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বলেন, লিবিয়ায় সম্ভবত ব্যাপকভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা খনির তেল বিক্রি করতে পারবে বিদ্রোহীরা। এতে বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করবে বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিন লিবিয়া অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, পাশ্চাত্য জোটের অবশ্যই উচিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব মেনে চলা। ওই প্রস্তাবে লিবিয়ার সাধারণ জনগণকে রক্ষার জন্যই শুধু অভিযানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, গাদ্দাফিকে হত্যা করার জন্য নয়। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বলেছেন, গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চান না। আবার এখন তাঁদের কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, হ্যাঁ, আমরা গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চাই।’ পুতিন প্রশ্ন করেন, ‘গাদ্দাফিকে হত্যার অনুমতি কে তাঁদের দিয়েছে? কোনো বিচার হয়েছে? তিনি (গাদ্দাফি) কে, সেটা কোনো বিষয় নয়, তাঁকে হত্যা করার অধিকার কে কাকে দিয়েছে সেটা প্রশ্ন।’ ডেনমার্ক সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লিবিয়া প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিন। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাশিয়া।
লিবিয়ার ৬১ আদিবাসী নেতা এক যুক্তবিবৃতিতে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লিবিয়ার অখণ্ডতার ওপর হুমকি আসছে। গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবারের নানা প্রচারণার কথাও আমরা শুনছি। আমরা বলতে চাই, কোনো কিছুই আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে পারবে না। আমরাও অবাধ গণতন্ত্র এবং ঐক্যবদ্ধ লিবিয়া চাই।’ তাঁরা লিবিয়ার স্বার্থে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানান।

মেসিদের সফর আয়োজনে বাফুফের প্রস্তুতি শুরু

লিওনেল মেসিদের ঢাকা সফর নির্বিঘ্ন এবং সফল করে তুলতে কাজে নেমে পড়েছে বাফুফে। কাল বাফুফের জরুরি সভায় প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এই সফর। আজ নির্বাহী কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হবে। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হবে চূড়ান্ত ঘোষণা এবং সংবাদ সম্মেলনেই ভারতীয় বিপণন এজেন্ট সেলিব্রিটি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা।
এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত রূপ পেয়ে গেছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দুটি অনুশীলন সেশন থাকবে আর্জেন্টিনার। একটি দেখা যাবে টিকিট কেটে। অন্যটিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। দেশের একদল কিশোর ফুটবলারের সঙ্গে মেসি-তেভেজদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পাবে। এর বাইরে নৈশভোজ এবং সংবাদ সম্মেলন থাকছে।
তিন দিনের এই ঐতিহাসিক সফর নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৌতূহলী মানুষ খোঁজ নিচ্ছে টিকিট কবে পাওয়া যাবে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লিগের খেলা দেখতে আসা অনেক দর্শকের মুখে শোনা গেল কৌতূহলোদ্দীপক নানা প্রশ্ন। টিকিটের ব্যাপারে বাফুফে এখনো ভাবেনি। তবে টিকিটের দাম অন্তত ১০ হাজার রাখার ব্যাপারে প্রাথমিক চিন্তাভাবনা আছে।
বাংলাদেশ লিগের খেলা দেখতে এসে কাজী সালাউদ্দিন এদিন জানালেন, ‘সফরটা নিয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। আমরা সবকিছু গুছিয়ে এনেছি।’ এও যোগ করলেন, ‘অবশ্যই মেসিকে নিয়ে আসার ব্যাপারে আমাদের শর্ত থাকবে। আশা করছি, মেসিসহ পুরো শক্তির আজেন্টিনা দলকেই আমরা ঢাকায় পাব। সঙ্গে অবশ্যই কোচ বাতিস্তা।’

মরিনহোর ইট, গার্দিওলার পাটকেল

ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে হাত-পা ছুড়ছেন, তারস্বরে চিৎকার করে খেলোয়াড়দের নির্দেশ দিচ্ছেন—পেপ গার্দিওলার এই ছবিটা খুব চেনা। এত দিনের চেনা ছবিটা তো এমনও ছিল যে স্যুট-টাইয়ে পরিপাটি বার্সেলোনার কোচ মাঠের বাইরে এই পোশাকের মতোই মার্জিত। বিতর্কিত মন্তব্য করেন না, আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। প্রতিপক্ষ দলের কোচ এবং রেফারির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই গার্দিওলাই চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের আগে নিজের আরেকটা রূপও দেখালেন। সরাসরি আক্রমণ করলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহোকে। এএফপি, রয়টার্স।
ইট মারলে পাটকেল খাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। রিয়াল কোচ মরিনহোই ইটটা প্রথমে মেরেছিলেন। প্রতিপক্ষকে খোঁচা মারায় ওস্তাদ পর্তুগিজ কোচ বলেছিলেন পেপ গার্দিওলা সেই নতুন গোত্রের কোচ, যাঁরা রেফারির সঠিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। এত দিন মরিনহোর চোখে কোচ ছিলেন দুই প্রজাতির, ‘একটা হলো খুবই ক্ষুদ্র একটা দল যারা রেফারিকে নিয়ে কোনো কথাই বলে না। আরেকটি বড় দল, যে দলে আমিও আছি, যারা রেফারিদের মারাত্মক ভুলের সমালোচনা করেন।’ কিন্তু গার্দিওলা তাঁর কাছে বিস্ময়করভাবে তৃতীয় এবং নতুন গোত্রের কোচ, ‘সেদিন পেপ যা ঘোষণা করল, তাতে আমরা তৃতীয় একটি দলকে নিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করলাম। এই মুহূর্তে এই দলের একমাত্র সদস্য সে, যারা রেফারির সঠিক সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করে। বিশ্ব ফুটবলে এমনটি আমি আর কখনো দেখিনি।’
গার্দিওলার কথিত রেফারির সমালোচনার ঘটনা কিংস কাপ ফাইনালের পর। রেফারি বার্সেলোনা উইঙ্গার পেদ্রোর একটা গোল বাতিল করেছিলেন অফসাইড দেখিয়ে। সেই সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলে পরাজয়ের বেদনা থেকে বার্সেলোনা কোচ রেফারির সমালোচনা করেছিলেন। যদিও গার্দিওলা দাবি করছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মরিনহো আরেকটি এল ক্লাসিকোর আগে গত মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে এটি নিয়েই গার্দিওলাকে ব্যঙ্গভরে খোঁচা দিয়েছিলেন। আরেকটা কারণও ছিল। গত রাতের ম্যাচের জন্য জার্মান উলফগ্যাং স্টার্ককে রেফারি ঘোষণা করার আগে পর্তুগালের পেদ্রো প্রয়েঙ্কার নাম শোনা গিয়েছিল। গার্দিওলা তখন বলেছিলেন, প্রয়েঙ্কাকে রেফারি করা হলে পর্তুগিজ মরিনহো ‘খুব খুশি’ হবেন। মরিনহো কি এটা শুনে চুপ করে থাকার লোক!
তবে গার্দিওলার কাছ থেকে এমন জবাব হয়তো তিনি প্রত্যাশা করেননি। নব্বইয়ের দশকে মরিনহো যখন বার্সেলোনার সহকারী কোচ, গার্দিওলা তখন সেই দলের খেলোয়াড়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের কোচের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটা আবরণ তাই ছিলই। মরিনহোর আক্রমণে সেই আবরণ ছিঁড়ে বেরিয়ে এলেন এক ক্ষুব্ধ গার্দিওলা, ‘মিস্টার মরিনহো যেহেতু সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করেছেন, আমিও একই কাজ করব। আমরা একসঙ্গে চার বছর কাজ করেছি। তিনি আমাকে চেনেন, আমিও তাঁকে চিনি, আমি এটাই মনে রাখতে চাই। আপনি একসঙ্গে কাজ করেছেন এমন কেউ যদি আপনার চেয়ে পত্রিকার খবরকেই বেশি বিশ্বাস করেন, সেটি খুব বাজে লাগে।’
সাংবাদিকদের হতভম্ব করে দিয়ে এরপর তীব্র শ্লেষভরে গার্দিওলা বলেছেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে তিনিই বস, সবার ওস্তাদ, এই বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক। আমি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই না। আগামীকাল (বুধবার) রাত ৮.৪৫ মিনিটে মাঠেই আমাদের দেখা হবে। তবে মাঠের বাইরে তিনি (মরিনহো) এরই মধ্যে জয়ী। এ জন্য আমি তাঁর হাতে আগেই ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নস লিগ তুলে দিচ্ছি। তিনি তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে একজন জাদুকর এবং আমি অবিরত খোঁচাখুঁচির এই খেলায় নামতে চাই না।’
দুই কোচের কথার লড়াইয়ের পর মাঠের লড়াইয়ে কে জিতলেন, সেটি হয়তো এরই মধ্যে জেনে গেছেন আপনি।

Thursday, April 28, 2011

পুঁজিবাজারে ভারসাম্যহীনতা উসকে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

দেশের পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক স্ফীতি পরবর্তী সময়ে এর ধসকে অনিবার্য করে তুলেছিল। কিন্তু এই স্ফীতি ঘটেছিল বাজারে ভারসাম্যহীনতার কারণে। মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ই উসকে দিয়েছিল এই ভারসাম্যহীনতা।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের শেয়ারবাজারবিষয়ক কার্য-অধিবেশনে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এই ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে নীতিনির্ধারকেরা, বিশেষত, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার ও সম্পদের বাজারের ক্ষেত্রে চাহিদা-জোগানের প্রভাবটি সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা দুই বাজারকে একইভাবে দেখতে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মুজিবউদ্দিন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে মোহাম্মদ হেলাল বলেন, সম্পদের বাজারে চাহিদা বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোগান বাড়ানো যায় না। এটা চাল-চিনির বাজার না যে, ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে প্রচুর আমদানি করে বাজারে ছেড়ে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
মোহাম্মদ হেলাল প্রশ্ন রাখেন, শেয়ারের জোগান বাড়ানোর জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২৫০টি থেকে রাতারাতি বাড়িয়ে ৫০০ করা কি সম্ভব? বাস্তবে এটি সম্ভব নয়। মোহাম্মদ হেলাল ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জমি কেনায় ঋণ বিতরণে কঠোরতা আরোপ করায় ঋণযোগ্য অর্থ পুঁজিবাজারে ধাবিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে ও মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে করে অর্থ শেয়ারবাজারের দিকেই গেছে।
মোহাম্মদ হেলাল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থপ্রবাহের বাঁধ খুলে দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় তা সঠিক দিকে ধাবিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে করে ‘ফসলের ভালো ফলন হওয়ার বদলে বন্যা’ দেখা দিয়েছে।
হেলালের মতে, সবাই যখন শেয়ারবাজারের দিকে ছুটে যায়, তখন এই বাজারের ধস অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর সবাইকে ছুটে যেতে এভাবেই তাড়না তৈরি করা হয়, যা আর্থিকবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
এম এ বাকী খলিলী বলেন, দেশে প্রকৃত আমানতের সুদের হার অনেক নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, বেড়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। এতে অনিবার্যভাবে ব্যাংকে আমানত রাখার আগ্রহ কমেছে। ফলে মানুষ ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে ছুটে গেছে।
খলিলী আরও বলেন, শেয়ারবাজার আসলে কোনো নিয়মকানুনেই চলেনি। বরং বাজার হয়ে পড়েছে কিছু বড় সুবিধাভোগীর ক্লাব। কিন্তু ২০ লাখের বেশি ছোট-বড় বিনিয়োগকারী যখন এই বাজারে যুক্ত হয়ে পড়ে, তখন স্টক এক্সচেঞ্জ কোনোভাবেই মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী কিছু লোকের হাতে কুক্ষিগত থাকতে পারে না। সে জন্যই দরকার অর্থবহ ডিমিউচুয়ালাইজেশন। অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জের কারবার কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আলাদা করা।
বাকী খলিলী নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ব্যাপকভিত্তিক সংস্কারের প্রস্তাব করেন। উপদেষ্টা কমিটির বদলে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে কমিশন বিশেষত, চেয়ারম্যানকে পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করার বিধান চালুর সুপারিশ করেন।
খলিলী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে এই বলে সতর্কতা দেন, ঋণের অর্থের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য তিনি ঋণসীমা আরোপেরও প্রস্তাব দেন।
নির্ধারিত আলোচক মুজিবুদ্দিন বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেদের অবস্থান নিজেরাই ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে এসইসির এত দহরম-মহরম কেন?
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, প্রতিটি কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক হিসাব বিবরণী ও উদ্বৃত্তপত্র যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের অধিদপ্তরে (আরজেএসসি) দাখিল করার কথা। প্রতিষ্ঠানগুলো তা যথাযথভাবে পরিপালন করছে কি না, এসইসি যদি তা দেখে না থাকে, তাহলে তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে বিনিয়োগকারীদেরও প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য-উপাত্ত দেখে সাবধানে বিনিয়োগ করা উচিত।
আইনমন্ত্রী আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন সুপারিশ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনকানুন সংশোধন করা হবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে কাজে লাগাতে হলে সুন্দর ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, শিল্পঋণ ও এসএমই ঋণের নামে নেওয়া টাকা শেয়ারবাজার গেছে। গেছে মূলত সেকেন্ডারি মার্কেটে, যেখানে চাহিদার স্ফীতি ঘটেছে কিন্তু সেভাবে পুঁজি তৈরি হয়নি।
ফরাসউদ্দিন বলেন, ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাতসীমা অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষিত হয়নি। শেয়ারবাজারে টাকা খাটিয়ে ব্যাংকগুলো উচ্চ মুনাফা করেছে। এই সুযোগে অনেক ঋণখেলাপি তাদের হিসাব পরিষ্কার করে নিয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করার জন্য সরকারের সমালোচনা করেন। এটি করাকে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে কি না, এমন প্রশ্নও তোলেন।

বিজিআইসির লভ্যাংশ ঘোষণা

বিজিআইসির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৮ জুন বেলা ১১টায় ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ঢাকা লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৮ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ২.৪৬ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২১.৬০ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১.০৮ টাকা।

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। আগের দিনের বড় দরপতনের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবারও তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে বাজারে যে ধস নেমেছিল, সরকারের নানা পদক্ষেপে তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। মূলত সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণেই বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করে। কিন্তু ধসের কারণ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনটি ঘিরে আবার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
তাঁদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্দেশনাহীন অবস্থায় নিষ্ক্রিয় থাকাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন। আর যাঁদের নাম ছাপা হয়েছে তাঁরা তো প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগে থেকেই নিষ্ক্রিয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ বিভিন্ন সময় বলেছেন যে প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে তাঁরা সবাই দোষী নন। তাই বাজারের স্বার্থে সরকারের উচিত এ বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করা যে, কারা দোষী, কারা দোষ করেনি। হয়তো দোষ না করেও কেবল প্রতিবেদনে নাম থাকার কারণে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগে অংশ নিচ্ছেন না। যদি বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনেকে আবার লেনদেনে অংশ নেবে। এতে বাজারে একধরনের গতি সঞ্চার হবে। কাজটি যত শিগগির করা যাবে ততই বাজারের জন্য মঙ্গল। তবে যারা দোষী, তাদের শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ বিনিয়োগকারীর অর্থ ও ভাগ্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু এর পর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারা দিনই ছিল অব্যাহত। দিন শেষে তা ৫৮ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১২৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৩০৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইতে গতকাল ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৩০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম।

পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ বুধবার সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন। তবে লেনদেন শুরু হয় নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়ে ২০ মিনিটের মাথায়ই সূচক ৫৫ পয়েন্ট নেমে যায়। তবে আধা ঘণ্টা পর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৭.৫০ পয়েন্ট কমে ৫৭৮৮.৮০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর বেশ কয়েকবার ওঠানামা করে সূচক। তবে বেলা একটার পর থেকে সূচক বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
বিকেল তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ২৭৬.৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৮৩.২৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৩৯টির, কমেছে চারটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম।
এ ছাড়া ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণ ৫০৭ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ৬১ কোটি টাকার বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ফু-ওয়াং সিরামিকস, আফতাব অটো, মালেক স্পিনিং, বিএসআরএম স্টিল, তিতাস গ্যাস, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স ও এনবিএল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ফু-ওয়াং ফুডস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, কাশেম ড্রাই সেল, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স, দেশবন্ধু পলিমার, এশিয়া ইনস্যুরেন্স, বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রডস, প্রাইম ইনস্যুরেন্স ও বিচ হ্যাচারিজ দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক চার দশমিক ১০ শতাংশ বা ৬৬৯.৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৬৯৭৩.৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে সাতটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা বেশি।

মার্কিন নাগরিকদের সিরিয়া ত্যাগের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সিরিয়া ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ার মার্কিন দূতাবাস থেকে কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেনাদের গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এসব সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এদিকে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে গণতন্ত্রকামীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অন্তত ৫০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠন সয়াসিহা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানায়। এদিকে সিরিয়ার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহ দমন করে ‘স্বাভাবিক পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দারায় সেনা পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার দারায় সেনাদের গুলিতে ২০ জন নিহত হয়।

উপহার দিয়ে মানবকল্যাণ!

ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম। কাজেই তাঁর বিয়ে যেমন জাঁকালো হবে, অতিথিদের উপহারগুলোও থাকবে নজরকাড়া। কিন্তু উইলিয়াম ও তাঁর ভাবী বধূ কেট মিডলটন চান না বিয়ের উপহার হিসেবে কেউ কোনো জিনিস দিক। কারণ, কোনো জিনিসের অভাব তো নেই তাঁদের। তাঁরা চান নগদ অর্থ। তবে এ অর্থ নিজেদের জন্য নয়। সবই তাঁরা দান করবেন দাতব্য খাতে, যা মানবকল্যাণে ব্যয় হবে।
উইলিয়াম ও কেট উভয়েই তাঁদের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি এবং শুভানুধ্যায়ীদের উপহার হিসেবে কোনো জিনিস না দিয়ে নগদ অর্থ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এসব অর্থ ২৬টি দাতব্য সংস্থার সহায়তা তহবিলে দেওয়া হবে। এসব দাতব্য খাত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, কানাডার কোস্ট গার্ড অক্সিলারি ও অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল ফ্লাইং ডক্টর সার্ভিস এসব অর্থ থেকে সহায়তা পাবে বলে জানা গেছে।
এসব দাতব্য সংস্থার বেশির ভাগই রয়েছে যুক্তরাজ্যে। কিছু দাতব্য সংস্থার সঙ্গে উইলিয়ামের সামরিক পটভূমি জড়িত।

পাকিস্তানে ড্রোন হামলা বন্ধে জারদারির আহ্বান

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশটির উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় ড্রোন (মনুষ্যবিহীন বিমান) হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার কেন্দ্রশাসিত উপজাতি এলাকার আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি এই আহ্বান জানান। এদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে গতকাল নৌবাহিনীর দুটি বাসে বোমা হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফারহাতুল্লাহ বাবর জানান, এফএটিএর প্রতিনিধিরা ড্রোন হামলার ঘটনায় মানুষের অসন্তোষের বিষয়ে জারদারিকে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ড্রোন হামলায় হতাহতের বিষয়টিও জারদারির কাছে তুলে ধরেন।
নৌবাহিনীর বাসে বোমায় নিহত ৪: পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় করাচি শহরের দুটি স্থানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বহনকারী দুটি বাসে একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর গত সাত বছরে এটাই প্রথম বড় হামলা। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পুলিশ জানায়, গতকাল দূরনিয়ন্ত্রিত ডিভাইসের মাধ্যমে শহরের দুটি ভিন্ন স্থান থেকে একই সময়ে এই বোমা হামলা চালানো হয়। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘বোমাগুলো রাস্তার ওপর লুকিয়ে রাখা ছিল। কর্মকর্তাদের বহনকারী বাসটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। দুটি বাসেই নৌ-কর্মকর্তারা ছিলেন।’

চেরনোবিল বিপর্যয়ের ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ

ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি গতকাল মঙ্গলবার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনেরা। গতকাল ছিল সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী। ওই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বের কাছে আরও সাহায্য চেয়েছে ইউক্রেন।
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেই বিস্ফোরণ ও পরে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ায় বহু লোকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাত একটা ২৩ মিনিটে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে নিহত হয় ৩১ জন। সে সময় ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চেরনোবিল দুর্ঘটনাকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় বলে বিবেচনা করা হয়। ২৫ বছর আগের এই দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইউক্রেন।
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় গতকাল রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মাইকোলা আজারভ বলেন, চেরনোবিল বিপর্যয়ে ইউক্রেনের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন ডলার এবং বিগত বছরগুলোতে দেশটির মোট বাজেটের ১০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে পরমাণু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে।

জনগণের কাছে মহাকাশ স্টেশনের নাম চেয়েছে চীন

ভবিষ্যৎ মহাকাশ স্টেশনের জন্য নাম ও লোগো দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। গতকাল মঙ্গলবার এই আহ্বান জানানো হয়।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে মানুষ পাঠিয়েছে চীন। এরপর চীনের দুটি মনুষ্যবাহী যান কক্ষপথে যায়। ২০০৮ সালে প্রথম মহাশূন্যে হাঁটেন চীনা নভোচারীরা।
চলতি বছরের আরও পরের দিকে মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল চালু করার আশা করছে তারা। এরপর একটি মনুষ্যবাহী যান মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে ভিড়বে।
জনগণের কাছে মহাকাশ স্টেশন, স্টেশনের কমান্ড মডিউল, দুটি ল্যাবরেটরি মডিউল এবং সরবরাহ যানের নাম চাওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর হামলায় আল-কায়েদার শীর্ষনেতা নিহত

আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা আল-কায়েদার এক শীর্ষনেতাকে হত্যা করেছে। সৌদি বংশোদ্ভূত এ নেতা আফগানিস্তানের পলাতক দুই শীর্ষনেতার অন্যতম।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স ফোর্স (আইএসএএফ) জানিয়েছে, নিহত আল-কায়েদা নেতার নাম আবু হাফস আল-নাজদি। তিনি আবদুল ঘানি নামেও পরিচিত ছিলেন। আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে গত ১৩ এপ্রিল এক বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
আইএসএএফ জানায়, বেশ কয়েকটি বড় জঙ্গি হামলায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন আবু হাফস। এ জন্য চার বছর ধরে তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। তবে সংস্থাটির মুখপাত্র মেজর মাইকেল জনসন জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ওই হামলাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছেন না।
আইএসএএফ জানায়, আবু হাফস পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কুনারেই মূলত তাঁর কার্যক্রম চালনা করতেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কুনারে আল-কায়েদার সদস্য নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধা মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্র চালনা, সংগঠনের অর্থ জোগাড়সহ আফগান ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।

মুম্বাই হামলার আরও চার ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার আরও চার ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ করেছেন। মুম্বাইয়ে হামলা ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে ভারত ও ডেনমার্কে আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন আইনজীবীরা গত সোমবার শিকাগোর একটি আদালতে পাকিস্তানের নাগরিক ওই চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে। তাঁরা হলেন সাজিদ মীর, মাজহার ইকবাল, আবু কাহাফার ও মেজর ইকবাল। এরা সবাই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
২০০৯ সালে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে আসছে। হেডলি হামলার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের কথা স্বীকার করেছেন। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়।
দোষ স্বীকার করায় হেডলিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তাঁর কাছ থেকে এই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দুই দেশের তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবেন।

তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণ আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আজ তৃতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। কলকাতাসহ উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ৭৫টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে কলকাতা মহানগরে ১১টি, পার্শ্ববর্তী উত্তর চব্বিশ পরগনায় ৩৩টি ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৩১টি আসন রয়েছে। নির্বাচনে ৪৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৪৬ জন। সব কটি আসনেই বামফ্রন্ট, কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ও বিজেপির মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ দফায় ১৭ হাজার ৭৯২টি বুথে এক কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৬ জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ৬১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ ১২ জন মন্ত্রীর ভাগ্য আজকের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। পক্ষান্তরে রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, সাবেক মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ফিকি) মহাসচিব অমিত মিত্র, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য সচিব মনীষ গুপ্তের সাফল্যের ওপর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাগ্য নির্ভর করছে। মনীষ গুপ্ত লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে। আর অমিত মিত্র লড়ছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য মন্ত্রীরা হলেন: গৌতম দেব, অসীম দাসগুপ্ত, আ. রেজ্জাক মোল্লা, রণজিৎ কুন্ডু, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, রেখা গোস্বামী, দেবেশ দাস, সুভাষ নস্কর, অনাদি সাহু, আবদুস সাত্তার, মোর্তজা হোসেন প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ছয় দফার নির্বাচনে গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট নেওয়া হয়। ওই দিন ছয়টি জেলার ৫৪টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে রাজ্যের ৫০টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। পরবর্তী দফায় আগামী ৩, ৭ ও ১০ মে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ১৩ মে।
নিরাপত্তা জোরদার: আজকের নির্বাচনকে ঘিরে কলকাতা মহানগরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কলকাতায় ৮০১টি নির্বাচনী কেন্দ্রে দু্ই হাজার ৭৭৯টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কেন্দ্রকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো: এন্টালি, বেলেঘাটা, মানিকতলা, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো ও কলকাতা বন্দর। এই ছয়টি কেন্দ্রের ৩৪৫টি বুথকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার ৪৮টি থানাকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতায় পুলিশের ১৬ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে ৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানেরা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকেও। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে কলকাতার পুলিশ সদর দপ্তর লালবাজারে বসানো হয়েছে তিনটি স্যাটেলাইট কন্ট্রোল রুম।
প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা: ’ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে আজকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯ জন, বিজেপির ১৩ জন, সিপিএমের ১০ জন, কংগ্রেসের একজন ও আরএসপির একজন প্রার্থী রয়েছেন।

আল-কায়েদা নেতা ব্রিটিশ গোয়েন্দাসংস্থার হয়ে কাজ করতেন!

পাকিস্তানে ২০০২ সালে দুটি গির্জা ও একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক আল-কায়েদার নেতা আদিল হাদী আল জাজাইরি বিন হামলিলি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর হয়ে কাজ করতেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ধারণা। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন নথির উদ্ধৃতি দিয়ে গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
নথিতে বলা হয়, আলজেরিয়ার নাগরিক হামলিলি দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে মুজাহিদদের হয়ে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০২ সালে পাকিস্তানের দুটি গির্জা ও একটি হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
নথিতে দাবি করা হয়েছে, আল-কায়েদার হয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনি এমআইসিক্স ও কানাডার একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতেন। ২০০৩ সালের জুনে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইএর হাতে তুলে দেয়। আফগানিস্তানে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁকে কিউবার গুয়ানতানামো বে বন্দী শিবিরে নেওয়া হয়।
নথিতে বলা হয়, সিআইএ জানতে পারে হামলিলি পাকিস্তানে কার্পেটের ব্যবসা করতেন। তিনি পেশোয়ার থেকে দুবাইয়ে কার্পেট সরবরাহ করতেন। তবে এটা তাঁর মূল কাজ ছিল না। মূলত তিনি এমআইসিক্স ও কানাডার একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করছিলেন। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে হামলিলির ভালো সম্পর্ক ছিল জেনে তাঁকে তারা ২০০০ সালে তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি ওই দুই গোয়েন্দা সংস্থাকে কী ধরনের তথ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নথিতে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রকাশিত আরেকটি নথিতে বলা হয়েছে, টুইন টাওয়ার হামলার পর আল-কায়েদার একটি ছোট উপদল আবার যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলা চালাতে চেয়েছিল। ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মাদ গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোরও ‘স্বপ্ন’ দেখেছিলেন। এ ছাড়া গুয়ানতানামো বে শিবিরে আটক আল-কায়েদার নেতা সাইফুল্লাহ পারাচা যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি জাহাজে পোশাকবোঝাই কনটেইনারে বিস্ফোরক ভরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
উইকিলিকসে ফাঁস করা কিছু নথির অংশবিশেষ কয়েক দিন ধরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট উইকিলিকসের বরাত দিয়ে জানায়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর সুস্থির ছিলেন না ওসামা বিন লাদেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার এই শীর্ষ নেতা এবং তাঁর সহকারী আয়মান আল-জাওয়াহিরি হামলার পর অন্তত তিন মাস আফগানিস্তানের নানা প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।
পত্রিকাটি বলেছে, গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক বন্দীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উইকিলিকস এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হামলার চার দিন পর লাদেন আফগানিস্তানে তাঁর অনুসারীদের ‘নাস্তিক হামলাকারী’দের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলার নির্দেশ দেন।
গোপন নথিতে দেখা গেছে, ২০০১ সালের মধ্য ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তোরাবোরা পর্বতের গুহা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে যান লাদেন। এই সময়ে তিনি নগদ অর্থের জন্য এতটাই মরিয়া ছিলেন যে একজন আশ্রয়দাতার কাছ থেকে সাত হাজার মার্কিন ডলার ধার নেন।।
নথিতে আরও দেখা গেছে, তোরাবোরা গুহা থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে লাদেন ও জাওয়াহিরি কাবুলের ভেতরে অথবা এর পাশেই সংগঠনের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপন করে সেখান থেকে অনুসারীদের পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। পরে লাদেন তাঁর যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ত্যাগ করেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

টাকার জন্য টেস্ট ছাড়িনি: মালিঙ্গা

দিন দুয়েক আগে ভারতের একটি পত্রিকায় যা লিখেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, কলম্বোয় কাল সেটাই উঠে এল লাসিথ মালিঙ্গার কণ্ঠে। ইনজুরির সময় বোর্ডের সহায়তা না পাওয়া, চুক্তি থেকে বাদ পড়া—দুঃসহ সেই দিনগুলোর কথা মনে করে ধন্যবাদ জানালেন আইপিএলকে, তাঁর ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য! জানিয়ে দিলেন, হাঁটুটা না ভোগালে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তেন না মোটেও।
মালিঙ্গার অবসরের পর এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতেই গত পরশু হঠাৎ কলম্বোয় উড়ে গিয়েছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মালিঙ্গা। দেশের মানুষের কাছে নিজের যুক্তিগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারটাও হয়তো মাথায় ছিল। এমনিতে শ্রীলঙ্কায় তুমুল জনপ্রিয় মালিঙ্গা, কিন্তু এখন যে ‘অর্থের কাছে দেশপ্রেম বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ!’
কাল সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করলেন টেস্ট ছাড়ার কারণ, ‘অর্থলোভে টেস্ট ছেড়েছি, বলাটা খুব অন্যায়। আমি কখনোই ধারাভাষ্যকার, কোচ বা আম্পায়ার হতে পারব না। আমি যা পারি, তা হলো বোলিং করা ও উইকেট নেওয়া। আমার হাঁটু প্রতিদিনই আরও দুর্বল হচ্ছে। এখন টেস্ট খেললে সেটির ধকল সামলানো খুব কঠিন হবে।’
২০০৮ সালের শুরুর দিকে হাঁটুর সমস্যায় পড়ার পর ২০০৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটেই শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে পারেননি। ২০০৯ আইপিএলে ১৮ উইকেট নেওয়ার পরই আবার জাতীয় দলে ফেরেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম টেস্ট খেলেছেন গত জুলাইতে। ১০০ টেস্ট উইকেট নেওয়া তৃতীয় শ্রীলঙ্কান কাল ফিরে গেলেন ওই দিনগুলোতেও, ‘ইনজুরির পর কেউ আমার কোনো খোঁজ রাখেনি, বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আইপিএলের জন্যই আমাকে কিছু হারাতে হয়নি, বরং আমার খেলায় উন্নতি হয়েছে। আইপিএলের কারণেই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পেরেছি।’
কাল সন্ধ্যায়ই আবার ভারতে ফেরার কথা ছিল মালিঙ্গার।

উইন্ডিজে ভারতীয় তারকাদের দেখতে চায় আইসিসি

আইসিসির সূচি নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত সবাই। খেলোয়াড়েরা চায় টানা ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম। আইসিসি চায় প্রতিটি সিরিজেই তারকা খেলোয়াড়েরা নিজেদের উজাড় করে দিক, খেলার আকর্ষণ বাড়াক। কিন্তু এই খেলোয়াড়েরা তো আর যন্ত্র নন, মানুষ। তাঁদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। রয়েছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর অধিকার। ইংলিশ ক্রিকেটাররা তো তাঁদের বোর্ডকে হুমকি দিয়েই রেখেছে—যদি কঠিন সূচি থেকে তাঁরা বেরিয়ে না আসে, তাহলে নাকি ধর্মঘটে যেতেও বাধ্য হবেন তাঁরা। এমন একটি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে, শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো তারকারা। টানা ক্রিকেট থেকে একটু ছুটির প্রত্যাশায় এই বিশ্রাম যে তাঁদের প্রার্থিত—সেটা আর বলে দিতে হয় না। বিশ্বকাপের পর পরই শুরু হওয়া আইপিএলের কারণে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দটাও ঠিকমতো উপভোগ করতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আইপিএলের পর কয়েকদিন একান্তে কাটানোর প্রত্যাশাটা তাই তাঁদের তরফ থেকে বাড়াবাড়ি কিছু নয়।
তবে পুরো ব্যাপারটিতে সায় নেই খোদ আইসিসিরই। সংস্থার প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত মনে করছেন, তারকা ক্রিকেটারদের রেখে ভারতীয় দল যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায়, তাহলে নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
২৮ মে আইপিএল শেষ হওয়ার পর মাত্র ছয় দিনের বিরতি দিয়ে ৪ জুন থেকে শুরু হবে ভারতের উইন্ডিজ সফর। সেখানে একটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টেস্ট খেলবে বিশ্বকাপজয়ীরা। একটানা আড়াই মাস বিরতিহীনভাবে খেলার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড শচীন টেন্ডুলকার, অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, বীরেন্দর শেবাগ, হরভজন সিং, জহির খান ও গৌতম গম্ভীরকে বিশ্রামে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে ইতিমধ্যেই জানা গেছে। তবে আইসিসি প্রধান হারুন লরগাত বলেছেন, ‘একজন বা দুইজন তারকা ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়াটা ঠিক আছে। কিন্তু উইন্ডিজ সফরের জন্য একসঙ্গে পাঁচ-ছয়জন তারকাকে বিশ্রাম দেওয়াটা আমার কাছে ভালো লাগছে না। এটার মধ্য দিয়ে আইসিসি নির্ধারিত সফরসূচির প্রতি সুবিচার করা হয় না। সবাই কিন্তু পূর্ণ শক্তিসম্পন্ন দুই দলকেই মাঠে দেখতে চায়।’

ফাইনালে এক পা ম্যানইউয়ের

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গতকাল সেমিফাইনালের প্রথম লেগে শালকে ০৪ কে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার কাজটা অনেকখানিই এগিয়ে রেখেছে ফার্গুসন শিষ্যরা।
প্রতিপক্ষের মাঠে গতকাল আরও বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ম্যান ইউ। কিন্তু প্রথমার্ধে শালকে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের অসাধারণ প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকবার গোল বঞ্চিত হতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ওয়েইন রুনির অসাধারণ এক পাস থেকে ম্যান ইউকে প্রথম গোলটি এনে দেন ইংলিশ স্ট্রাইকার রায়ান গিগস। দুই মিনিট পরে নিজেই আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন রুনি।
পরবর্তী সপ্তাহে দ্বিতীয় লেগের খেলায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আবার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলতে আসা শালকের জন্য এখন ফাইনালের টিকিট পাওয়াটা বেশ কঠিনই হয়ে দাঁড়াল। তবে গতকালের খেলায় ম্যানইউই যে সব ক্ষেত্রে ভালো খেলেছে, এটা একবাক্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই। শালকে ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার মেটজেলডার বলেছেন, ‘ম্যান ইউ সব দিক দিয়েই আমাদের থেকে অনেক ভালো খেলেছে। এটা স্বীকার করতেই হবে। প্রথম ১৫ মিনিট ছাড়া, আমরা বাকি সময়টা খেলায় ভালোমতো ঢুকতেই পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয় লেগের খেলায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলার চেষ্টা করব।’

পুনেকে হারিয়ে চেন্নাই দ্বিতীয় স্থানে

হার না-মানা হাফ সেঞ্চুরি করলেন যুবরাজ সিং। অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি করলেন বাদ্রিনাথও। তবে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়েছে যুবরাজকে। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে যে ৮ উইকেটে হেরে গেছে তাঁর দল পুনে ওয়ারিয়র্স!
যুবরাজের অপরাজিত ৬২ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান তুলে পুনে। জবাবে বাদ্রিনাথ আর রায়নার ব্যাটে ৩ বল বাকি থাকতে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই। দলের হয়ে বাদ্রিনাথ ৬৩ ও রায়না ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
পুনের বিপক্ষে জয়ের সুবাদে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে চেন্নাই। ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের অর্জন ৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে যুবরাজের দল পুনের অর্জন ৪ পয়েন্ট।

ভারতের কোচ হলেন ডানকান ফ্লেচার

সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার গ্যারি কারস্টেনের অধীনে পুরোপুরি সফল একটা সময় কাটানোর পর এবার ডানকান ফ্লেচারকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাঁর সঙ্গে দুই বছরমেয়াদি একটা চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি এন শ্রীনিবাসন।
কারস্টেনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল ভারত। কারস্টেনের উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক কিউই অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নাম শোনা গিয়েছিল বেশ জোরেশোরেই। তবে শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার ডানকান ফ্লেচারের হাতেই দেওয়া হয়েছে ধোনি-শেবাগ-যুবরাজদের কোচিংয়ের দায়িত্ব। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, কারস্টেনের পরামর্শ মতোই এই কোচ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে অনুমান করছেন অনেকে।
এর আগে ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য এরিক সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা চিন্তা করেছিল ভারত। এখন হয়তো উইন্ডিজ সফরের আগেই কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ফ্লেচার।
আগামী ৪ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সফরে তিনটি টেস্ট ও পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে ভারত।

Wednesday, April 27, 2011

আগামী অর্থবছর সহজ নয়: অর্থমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে গেলে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো দ্রব্যমূল্য, ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার। আগামী অর্থবছরটা তাই সহজ নয়, বরং বিপৎসংকুল হবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যে অর্থনীতির গতিটা যাতে সুপথে থাকে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির যৌথ আয়োজনে ‘কেমন বাজেট চাই ২০১১-১২’ শীর্ষক আলোচনায় গত রোববার রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেছেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এ বছরও আছে, আগামী দিনেও থাকবে। কারণ এখনো জানি না জ্বালানি তেলের দাম কত দূর যাবে। আর সুদের হার ও বিনিময় হার বাড়ার কারণে সংগত কারণেই বাড়বে আমদানি খরচ।’
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বাজেট আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুক, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও ওপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সিনহা অংশ নেন।
সরাসরি সম্প্রচার করা এ আলোচনায় চট্টগ্রাম থেকে অংশ নেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহীম ও বিশিষ্ট খাদ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী। আর নাটোর থেকে কয়েকজন ধান, পাট ও আলুচাষি অংশ নেন। গোটা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছেন, ‘ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট চলছে। ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট থাকতে পারে। তবে গোটা ব্যাংক খাতে কোনো সংকট নেই।’
আমদানি ব্যয় জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ হতে পারে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ, প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয় মিলে এর চেয়েও বেশি হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘বিশ্বের ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। আমরা আলাদা কোনো গ্রহে বসবাস করছি না। সব দেশেই পণ্যমূল্য বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বরং বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পণ্যমূল্য কম বেড়েছে।’
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ-ও বলেন, ‘আমি বলছি না যে, যে দাম আছে তা ঠিক আছে। বাংলাদেশে অনেক গরিব মানুষ। তাদের জন্য কম দামে খাদ্যপণ্য কেনার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, টাকার মান কমেছে। শঙ্কা হলো, আগামী দিনে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ঘটবে। সরকারের দিক থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো আশ্বাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে কম ঋণ গ্রহণ, টাকার অতি দরপতন ঠেকানো এবং বিনিয়োগকে আঘাত না করার পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে যে বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতিতে নতুন ধরনের উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেয়ারবাজারের কারণে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মুদ্রাবাজারেও মারাত্মক সংকট চলছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অন্য একটি খেলাপি সংস্কৃতি শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, কেতাবি অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের মাটিতে পা নেই। ভর্তুকি যেসব খাতে দেওয়া হয়, সেগুলো অনুৎপাদনশীল খাত নয়।
তপন চৌধুরী বলেন, নতুন করদাতার সন্ধান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, যাঁরা কর দেন, তাঁদেরই আরও বেশি চাপ দেওয়া হয়।
আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, কয়লানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবার বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এর ফলে কমেছে সাধারণ সূচক। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে কম হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে বাজারে বেশ অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যার ফলে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ লেনদেনের ২৫ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারাদিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে সূচক ৫৭.৬৬ পয়েন্ট কমে ৫৮০৬.৩১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের দাম।
এ ছাড়া ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণ ৪৪৬ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ১৮৫ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সটেক্স, মালেক স্পিনিং, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো, তিতাস গ্যাস, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ডেসকো ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ষষ্ঠ আইসিবি, যমুনা অয়েল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, গ্রামীণ স্কীম-১, অরিয়ন ইনফিউশন, রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রাইম ব্যাংক ও এনবিএল দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
আজ ডিএসইতে দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে নিটল ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইপিডিসি, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আজিজ পাইপ, ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, আরামিট সিমেন্ট, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স ও সাভার রিফ্রাক্টরিজ ।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১২৯.৬৫ পয়েন্ট কমে ১৬৩০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে , যা গতকালের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম।

ব্যাংকের উচ্চ সুদের জন্য পুনর্বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেছেন, বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীই ঋণখেলাপি নন, যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করেন। কিন্তু ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণেই অনেকে পুনর্বিনিয়োগ করতে পারছেন না।
আসিফ ইব্রাহীম বাংলাদেশের ৬০-৭০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদের ৬-৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতি আহ্বান জানান। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এ মুহূর্তে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো যৌক্তিক হবে না বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং কিস্টোন বিজনেস সাপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে ‘বেসরকারি খাতের মূল্যায়ন সমীক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি এসব কথা বলেন।
ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক এম ফওজুল কবির খান। মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের পরিচালক এম আবু হোরায়রা, সাবেক পরিচালক আর আই খান, এফসিএ, এম এস সিদ্দিকী, শোয়েব চৌধুরী, উইমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিনা কাদের, মোস্তাফিজুর রহমান ও শহীদুল হাসান অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে এম ফওজুল কবির খান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে না। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে পিপিপিকে সক্রিয় করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এডিবির সিনিয়র ফিনানশিয়াল সেক্টর অফিসার এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাত এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এডিবি।
ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি টি আই এম নূরুল কবীর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা উন্নয়নে পিপিপির আওতায় এডিবিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তারা ঋণের সুদের হার ও কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এডিবিকে এগিয়ে আসার এবং বিনিয়োগ-সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সিপিআইএম পশ্চিমবঙ্গকে ‘হত্যাপুরী’ বানিয়ে রেখেছে

ক্ষমতাসীন সিপিআইএমের ক্যাডার বাহিনী গোটা পশ্চিমবঙ্গকে ‘হত্যাপুরী’ বানিয়ে রেখেছে। বামপন্থী সরকারের ব্যর্থতায় এ রাজ্যের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। গতকাল সোমবার কলকাতায় কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকারশাসিত রাজ্য।
সাংবাদিকদের চিদাম্বরম বলেন, ‘এই রাজ্যে অনেক দিন ধরে এমন একটি সরকার আমাদের সঙ্গে রয়েছে, যারা পুরো প্রশাসন-প্রক্রিয়াকে অবহেলা করেছে। এ দেশের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকার দ্বারা প্রশাসিত রাজ্য হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এ মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুই থেকে চার মাস ধরে আমি মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহকর্মীদের বলে আসছি যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই সে কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র আমদানি করে এবং সহিংসতা ছড়িয়ে গোটা রাজ্যকে হত্যাপুরীতে পরিণত করার জন্য আমি ন্যায়সম্মতভাবেই সিপিআইএম ও তার ক্যাডারদের দায়ী করছি।’
চিদাম্বরম বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধে একজোট হয়ে কাজ করবে।’
তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার রাজ্যের ৭৫টি আসনে ভোট হবে। কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোটের জয়ের ক্ষেত্রে এ আসনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চিদাম্বরম বলেন, ২০০৪ সাল থেকে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের অন্য সব রাজ্যের রাজস্ব আয় বেড়েছে। গত চার-পাঁচ বছরে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো রাজ্য কেন্দ্রের তহবিল থেকে ওভারড্রাফট (গচ্ছিত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া) নেয়নি। এ রাজ্যের অর্থনীতিকে ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গ সাতবার কেন্দ্র থেকে ওভারড্রাফট নিয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছর শুরু হতে না হতেই একবার ওভারড্রাফট নিয়ে ফেলেছে তারা।
মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে দেনায় ডুবে থাকা রাজ্যগুলোর একটি। অন্য রাজগুলোর তুলনায় এ রাজ্যের করের গড় প্রবৃদ্ধির অনুপাত সবচেয়ে কম।
চিদাম্বরম বলেন, এই এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ তিন হাজার ১৭৩ কোটি রুপি ধার করার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এই অর্থের বিপরীতে চড়া সুদ পরিশোধ করতে হবে। এতে রাজস্ব ঘাটতি ‘ভয়ানক’ অবস্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই সরকারের মাধ্যমে রাজ্যের অবনতি ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়। একমাত্র নতুন সরকারের সৃজনশীল নতুন চিন্তা রাজ্যকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্পষ্টতই পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, এ জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আগাম শুভেচ্ছা জানাতে তাদের রাজ্যে এসেছেন বলে জানান।

কংগ্রেস নেতা সুরেশ কালমাদি গ্রেপ্তার

ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সাংসদ ও কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সুরেশ কালমাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশ গতকাল সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালমাদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) নয়াদিল্লির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের মুখপাত্র আর কে গৌর জানান, ‘কালমাদির জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’ এর আগে চলতি বছর কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে কালমাদিকে অপসারণ করা হয়।
একই অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে কালমাদির দুই প্রধান সহযোগী কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির মহাসচিব ললিত ভানোত ও মহাপরিচালক ভি কে ভার্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কুইন্স ব্যাটন রিলের উদ্বোধন হয়। ওই অনুষ্ঠানে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এএম ফিল্মস ট্যাক্সি ও বড় পর্দার টেলিভিশন মনিটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে। অভিযোগ রয়েছে, কালমাদি কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই এএম ফিল্মস ও এর মালিক আশিস প্যাটেলের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুমোদন করেন।
তখন কারণ হিসেবে কালমাদি এনডিটিভিকে বলেন, লন্ডনের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে ওই সরঞ্জাম জোগাড় করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। আর হাতে সময় না থাকায় কোনো চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থ লেনদেনের হিসাব পরীক্ষার পর প্যাটেলের ব্যাপারে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। এর পরই কালমাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের আদান-প্রদান করা ই-মেইল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সরঞ্জামের চড়া মূল্য আদায়ের ব্যাপারে তাঁরা প্যাটেলকে প্রভাবিত করেছেন।
জানুয়ারিতে সিবিআই আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে কালমাদিকে প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কান্দাহারের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গপথে ৫০০ বন্দীর পলায়ন

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের প্রধান কারাগার থেকে একটি গুপ্ত সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রায় ৫০০ বন্দী পালিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তালেবান নেতাও রয়েছেন। গতকাল দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এভাবে বন্দীদের পলায়নে সহায়তা করার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তালেবান।
প্রদেশের গভর্নর তরিয়ালাই ওয়েসা জানান, মোট ৪৭৮ জন বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীদের দায়িত্বে অবহেলাই এ জন্য দায়ী। বন্দীরা যে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়, এর উৎসমুখ কর্তৃপক্ষ খুঁজে পেয়েছে। গভর্নর জানান, কারাগারের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে সুড়ঙ্গটি খোঁড়া হয়।
তালেবানদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কয়েক মাস ধরে খুব সতর্কতার সঙ্গে খোঁড়া ওই সুড়ঙ্গপথে ৫৪১ জন বন্দী পালাতে সক্ষম হয়। সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে এসে বন্দীরা নিরাপদ স্থানে সরে যায়। গত রোববার রাতে খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছিল।

সিরিয়ায় সেনা অভিযানে আরও ২৫ জন নিহত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর অভিযানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দারায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে ট্যাংক নিয়ে তারা এ অভিযান চালায়। ভোরে দামেস্কের শহরতলী দুমাত ও আল-মুয়াদ্দেমায়ও অভিযান চালায় তারা। এতেও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদিকে দারায় আসাদের অনুগত বাহিনীর তাণ্ডবের পর জর্ডানের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দারার একজন মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আবাজিদ জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন প্রাণ হারায়।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, বন্দুক নিয়ে ট্যাংকে করে নিরাপত্তা বাহিনীর সেনারা শহর চষে বেড়ায়। তারা বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে বেসামরিক লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের হাত থেকে বাঁচতে যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছিল, কারফিউ ভঙ্গের দায়ে তাদের গুলি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহসেন টেলিফোনে আল-জাজিরা টেলিভিশনকে জানান, অভিযানে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়। এ সময় মসজিদগুলো থেকে মাইকে সাহায্যের আবেদন জানানো হচ্ছিল।
মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল ভোররাতের দিকে তিন হাজার সেনা শহরে ঢুকে পড়ে। অভিযানের পর শহরের রাস্তায় রাস্তায় হতাহত লোকজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সেনারা স্নাইপার রাইফেল নিয়ে বাড়িঘরের ছাদে অবস্থান নেওয়ায় তাঁদের পক্ষে হতাহত লোকজনের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে দামেস্ক থেকে একজন মানবাধিকারকর্মী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ভোরে দুমা শহরে ঢুকে পড়ে। তারা শহরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। এ সময় বেসামরিক বহু মানুষ আহত হয়। অভিযানের আগে শহরের সব টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এর আগে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাবলায় নিরাপত্তা বাহিনী গত রোববার কমপক্ষে ১৩ এবং শুক্রবার ৯০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে।

হোসনি মোবারককে সামরিক হাসপাতালে সরানোর নির্দেশ

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। মোবারককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করার পর গত রোববার দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ নির্দেশ দিয়েছেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিনার বরাত দিয়ে একটি সূত্র জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোবারককে স্থানান্তর করা হতে পারে।
মোবারককে কায়রোর কারা হাসপাতালে রাখার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। এর আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে তাঁকে সামরিক হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে শারম আল শেখের রেড সি রিসর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিদ্রোহীদের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মোবারককে কোন সামরিক হাসপাতালে রাখা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে সেটি কায়রো শহরের প্রান্তে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সেখানে মোবারককে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদেল মাগিদ মাহমুদের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শারম আল শেখের হাসপাতালে মোবারকের স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছিল। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতায় এলে বন্ধ করা হবে বন্ধ্: মমতা

ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে আইন করে বন্ধ্ ও অবরোধ বন্ধ করা হবে। যেখানে-সেখানে মিছিল-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার রাতে কলকাতার বেসরকারি টিভি চ্যানেল স্টার আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, কলকাতার জনসভা করার ব্যবস্থা করা হবে শহীদ মিনার ময়দানে। সভা-সমাবেশ ছুটির দিনে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও মমতা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম আন্দোলন করেছিলেন এই সড়ক অবরোধ, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ-মিছিল আর বন্ধ্ করে।
সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেত্রী বলেন, নির্বাচনে সিপিএম ৫০টি আসন পাবে কি না সন্দেহ। তিনি মন্তব্য করেন, যাদবপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হেরে যেতে পারেন।
মমতা বলেন, ‘১০ বছর ঘরে বসে থাকুক সিপিএম। আমরা ক্ষমতায় আসব, কাজ করব। কাজের জন্য আমাদের ১০ বছর সময় দিতে হবে।’
কবির সুমনের সহযোগিতা চান ছত্রধর: পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাত এবার সংগীতশিল্পী ও সাংসদ কবির সুমন ও প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। কারাবন্দী ছত্রধর মাহাত এবার জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ মে এই আসনের নির্বাচন। ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনবিরোধী মঞ্চ’ নামের একটি গণসংগঠনের পক্ষ থেকে ছত্রধর ঝাড়গ্রাম আসনে লড়ছেন।