Showing posts with label তানভীর সোহেল. Show all posts
Showing posts with label তানভীর সোহেল. Show all posts

Sunday, March 24, 2019

ভাই কাদেরকে যে কারণে সরালেন এরশাদ by তানভীর সোহেল

গত ২০ মার্চ ছিল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের ৯০-তম জন্মদিন। ওই দিন এবং এর পরদিন ২১ মার্চ এরশাদের সঙ্গে দলের অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদেরের সঙ্গে, যিনি এরশাদের ছোট ভাইও। সেদিন ভাই কাদেরকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে ২১ মার্চ এরশাদের বারিধারার বাসায় ছোট ভাই জি এম কাদের সঙ্গে অনেক কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত জাতীয় পার্টির একজন নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘ওই দিন স্যার (এরশাদ) জিএম কাদেরের প্রশংসা করেন এবং দোয়া করেন। স্যার বলেন, তুমি (কাদের) খুব ভালো করছ। ভালো ভাবে দল চালাচ্ছ। দোয়া করি।’
এর ঠিক একদিনের মাথায় অর্থাৎ ২২ মার্চ জি এম কাদেরকে দল পরিচালনায় ব্যর্থ উল্লেখ করে কো চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করেন এইচ এম এরশাদ। শুধু তাই না আজ ২৩ মার্চ শনিবার জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও জিএম কাদেরকে সরিয়ে দিয়ে সেই পদে সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে নিয়োগ করেছেন এরশাদ।
এইচ এম এরশাদ নিজেই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা।
ভাই ও দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদের এমন সিদ্ধান্তে অবাধ হয়েছেন জিএম কাদের। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, পুরো বিষয়টা অদ্ভুত লেগেছে।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাই এরশাদের নির্দেশে অংশ নেননি জি এম কাদের। অথচ ওই নির্বাচনে দলের অনেক নেতাই এরশাদের নির্দেশ মানেননি। ভাইয়ের প্রতি জিএম কাদেরের আনুগত্য নিয়ে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই। তাহলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ কেন হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
জাতীয় পার্টিতে জিএম কাদেরের পক্ষে যেমন নেতারা আছেন তেমনি বিরোধী পক্ষও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জিএম কাদেরকে যারা পছন্দ করেন তারা এইচ এম এরশাদের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি কারণ দেখছেন। এক. জিএম কাদেরের কারণে দলের দলের প্রভাবশালী নেতারা দলের ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারছেন না। দুই. ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি অংশও জাতীয় পার্টিকে তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারছেন না। জিএম কাদের পুরোপুরি সরকারের ‘মুঠোর’ লোক নন বলেই তাদের মত। মূলত এই দুটি কারণে এইচ এম এরশাদকে ‘ভুল’ বুঝিয়ে বা ‘চাপে’ ফেলে জিএম কাদেরকে দলের দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
এই পক্ষটি এর পেছনে জাতীয় পার্টির ৫ জন নেতার হাত আছে বলে মনে করছেন। এদের মধ্যে চারজনই আওয়ামী লীগের বা ক্ষমতাসীনদের পছন্দের লোক বলে দলে পরিচিত। একজন এরশাদের ঘনিষ্ঠ, যাকে সরকারপন্থীদের অনেকেই পছন্দ করেন না।
এরশাদের বনানী কার্যালয়ে বসেন এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জিএম কাদেরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি অংশের সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করা এবং পরবর্তীতে ওই সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাপারে সমালোচনা করাটা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ভালো ভাবে নেননি। ওই সময় থেকে দূরত্ব শুরু। এটা আর কখনো ঠিক হয়নি।
অপর পক্ষটি অবশ্য বলছেন, এরশাদের সঙ্গে জিএম কাদেরের মনোমালিন্যই এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিএম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, দলের সবাই তো বলছে আমি দল ভালো পরিচালনা করছিলাম। তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত তা বলতে পারব না। তিনি বলেন, দলের মধ্যে ৪/৫ জন আছেন যারা আমি থাকি তা চাননি। এঁরা জ্যেষ্ঠ সদস্য। তারাই এইচ এম এরশাদকে ভুল বুঝিয়ে এমনটা করেছেন।
আপনার ব্যাপারে এইচ এম এরশাদের কোনো আপত্তি বা অসন্তোষ ছিল না জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, না, তিনি আমাকে পছন্দ করেন। আমি যেভাবে দল চালাচ্ছি সেটাকে সমর্থন করেন। কাদের বলেন, যেদিন আমাকে অপসারণ করা হলো (২২ মার্চ) তার আগের দিন (২১ মার্চ) তিনি আমাকে দোয়া করেছেন। বলেছেন, তুমি খুব ভালো দল চালাচ্ছ। যেভাবে এগোচ্ছে সেভাবে এগিয়ে যাও।
অবশ্য এরশাদের ঘনিষ্ট এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান দলের ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, জিএম কাদের হয়তো আবেগের বশে দলের কোনো কোনো নেতাকে দায়ি করছেন। কিন্তু এটা একেবারেই ঠিক না। দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ যে সিদ্ধান্ত দেন সেটাই সবাই মেনে নেন।

Saturday, January 16, 2016

অচল বিশ্ববিদ্যালয়, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা by মোশতাক আহমেদ ও তানভীর সোহেল

শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থী শূন্য ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ছবি: ফাইল ছবি
অষ্টম বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড বহাল, গ্রেড সমস্যা নিরসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেলের দাবিতে গত ছয় দিন ধরে কর্মবিরতি করছেন দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এখনো দাবি পূরণে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষকেরা কোনো সাড়া পাননি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অচল হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষক ও প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকেরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে শিক্ষকেদের আন্দোলন শেষ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় এই আশঙ্কা প্রতিদিনই বাড়ছে।
আজ শনিবার সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, কলা ভবন, কার্জন হল ও সায়েন্স এনেক্স ভবনের বেশির ভাগ শ্রেণি কক্ষ বন্ধ। কয়েকটি বিভাগ খোলা থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরি, অফিস কক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনগুলো খোলা আছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খোলা রয়েছে। এ ছাড়া পূর্বঘোষিত পরীক্ষাগুলোও চলছে। নতুন করে কোনো পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করছেন না শিক্ষকেরা।
এদিকে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস না হওয়ায় বাড়ি চলে গেছেন। আবার যাঁরা বাড়িতে গেছেন, তাঁরাও আপাতত ফিরছেন না।
অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের দাবি-দাওয়া পূরণে কোনো অগ্রগতি নেই। এ কারণে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন। তবে কিছু বিষয় আছে, সরকারের নীতি নির্ধারণের সিদ্ধান্তে বিষয়। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের মূল দাবি ২৫ শতাংশ অধ্যাপককে গ্রেড-১ করা এবং তাঁদের একটি গ্রহণযোগ্য অংশকে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান বেতন স্কেল দেওয়া। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো কোনো ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এতে তাঁদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট একেবারেই কমে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। অবশ্য কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সেশনজট আছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতে বিভাগভেদে কমবেশি এক বছরের সেশনজট আছে। এখন শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে এক বছরের সঙ্গে আরও কয়েক মাসের সেশনজট হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

Sunday, November 1, 2015

পাঁচ ব্লগারের পর এবার প্রকাশক, শেষ কোথায়? by তানভীর সোহেল

রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান,
অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়, ফয়সল আরেফিন
একের পর এক ব্লগার খুন হচ্ছেন, হচ্ছেন হামলার শিকারও। হামলায় চলতি বছর মারা গেছেন চারজন। সব মিলিয়ে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ৫ জন ব্লগারের নাম। এবার হামলার শিকার হলেন নিহত এক ব্লগারের বইয়ের প্রকাশকেরা।
৫ জন ব্লগার নিহত হয়েছেন। আজকের হামলায় একজন প্রকাশক নিহত হয়েছে। কিন্তু একের পর এক হামলা, বিচারহীনতার কারণে এই যোগফল ৬ হয়েই শেষ হবে বলে মনে করার কারণ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে ৫‍ যোগ ১ এর সঙ্গে আর কত যোগ করতে হবে?
আজ শুক্রবার দুটি প্রকাশনা কার্যালয়ে পৃথক হামলা হয়। ব্লগারদের বই প্রকাশের জন্য হামলা হয়েছে প্রকাশকদের ওপর। উগ্রবাদীদের হামলায় নিহত ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের লেখা বই প্রকাশ করায় হামলা হয়েছে দুটি প্রকাশনা সংস্থার দুই স্বত্বাধিকারীর ওপর। এই হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। হামলায় আহত প্রকাশনা সংস্থা ‘শুদ্ধস্বর’ মালিক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও অপর দুজন তারেক রহিম, রনদীপম বসু নিজেরাও ব্লগে লেখালেখি করেন। আর নিহত ফয়সাল আরেফিন দীপন প্রকাশনা সংস্থা ‘জাগৃতি’র মালিক। টুটুল ও দীপন তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছেন।
উগ্রবাদীরা একর পর এক ব্লগারকে হত্যা করেও ব্লগারদের দমাতে পারেনি। ব্লগারদের লেখা ছাপানো বন্ধ করতে এখন তাই হামলার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন প্রকাশকেরা। পর পর দুটি হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশকদের মধ্যে ভয় টুকিয়ে ব্লগারদের লেখা না ছাপানোর বার্তা বলেই মনে করছেন পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাজিব হায়দার মিরপুরে নিজ বাড়িতে খুন হন। কিন্তু সেই খুন নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এ কোনো বিচার হয়নি। এই ঘটনার দুই বছর পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খুন হন ব্লগার অভিজিৎ রায়। এর পরের মাসে খুন হন আরেকজন। ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, ১২ মে অনন্ত বিজয় দাস এবং ৭ আগস্ট নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় খুন হন। হামলার শিকার হন ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর ও হামলার বিচার কবে পাওয়া যাবে তা কেউই বলতে পারছে না।

Tuesday, July 7, 2015

ময়মনসিংহের আ.লীগ রাজনীতি: মতিউরের আধিপত্য থেকে মুক্তি চান তরুণেরা by তানভীর সোহেল ও কামরান পারভেজ

দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। তিনি ১৮ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। দলে নতুন কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারেনি। এখন এই একক আধিপত্য থেকে মুক্তি চান তরুণ নেতারা। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হককে সামনে রেখে এখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে বলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মতিউর রহমান বয়সের ভারে ও অসুস্থতার কারণে দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন না। ২০০৯ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ছেলে মোহীত উর রহমান বাবার হয়ে সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি উন্নয়নকাজের দরপত্র, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কিত এই ছেলেকেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করছেন মতিউর রহমান। এ অবস্থায় নেতৃত্বে পরিবর্তনপ্রত্যাশী অংশ, বিশেষ করে তরুণেরা পৌর মেয়র ইকরামুলের নেতৃত্বে সংগঠিত হচ্ছেন। এই অংশে আছেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. জহিরুল হক, জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার, যুগ্ম সম্পাদক এহতেশামুল আলমসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের অনেকে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের সাবেক ভিপি মোয়াজ্জেম হোসেনের মতে, পুরোনো ও অকার্যকর নেতৃত্বের কারণে এখানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়েছে। এ কারণে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা নতুন ও কার্যকর নেতৃত্বের জন্য আলাদা বলয়ে যুক্ত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ১১ বছর আগে ২০০৪ সালে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর সম্মেলন হওয়ার কথা। এ হিসাবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। চলতি বছর নতুন সম্মেলন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বয়সের কারণে মতিউর রহমান জেলার সভাপতি পদে থাকবেন না—এমন আলোচনা চলছে। তবে ধর্মমন্ত্রী জেলার নেতৃত্বে তাঁর ছেলে মোহীত উর রহমানকে আনার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন। মোহীত বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক।
মোহীত উর রহমান দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য ছাত্রলীগের একটা অংশ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনে যুক্ত থাকছেন। অন্যদিকে ইকরামুল হকও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নিয়ে ছাত্রলীগের একাংশের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে দুজনই এখন ছাত্রলীগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট।
মোহীত উর রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করার পর যোগ্যতা দিয়ে এবং ভোটের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগে পদ পেয়েছি। রাজনৈতিকভাবে ইকরামুল হকের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তবে জেলা আওয়ামী লীগের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—ছাত্রলীগের এমন কয়েকজন সাবেক নেতা ইকরামুল হককে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মেরুকরণের চেষ্টা করছেন।’
জানতে চাইলে মেয়র ইকরামুল হক বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে। সেই প্রতিযোগিতার জন্য নিজস্ব বলয়ও তৈরি করতে হয়। জ্যেষ্ঠ নেতারা স্বীকার না করলেও সবাই জানেন, ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ এখন স্পষ্টতই দুটি বলয়ে বিভক্ত। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কার্যকর করার ও নতুন নেতৃত্ব বিকাশের স্বার্থে তাঁরা কাজ করছেন।

আনারকলি, সারারায় আভিজাত্যের ঠমক by তানভীর সোহেল

গুলশান-বনানীবাসী ​​ঈদের কেনাকাটায় ভিড় জমাচ্ছেন আড়ং,
আলমাস, খাজানাসহ নামীদামি সব ব্র্যান্ডের দোকানে৷ গতকাল
গুলশান-বনানী ​এলাকা থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো
গুলশান, বনানী ও বারিধারা—রাজধানীর অভিজাত এলাকা। এখানে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের বেশির ভাগই উচ্চবিত্ত শ্রেণির। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় তাই এখানে ঈদের কেনাকাটার ধরনটাও আলাদা। দামি পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে দামি অলংকার, জুতা, ব্যাগ কেনেন এখানকার বাসিন্দারা।
গতকাল রোববার এই এলাকাগুলোর কয়েকটি শপিং মল ও শোরুম ঘুরে দেখা গেল, ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন পোশাক আনা হয়েছে। তবে এখনো ক্রেতাদের ভিড় সেভাবে শুরু হয়নি। কয়েকটি শোরুমের বিক্রয়কর্মীরা বললেন, এই এলাকায় সাধারণত রাতে মানুষ বেশি কেনাকাটা করতে আসে। তবে ঈদের বাজার বলতে যা বোঝায়, তা আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে।
কয়েকজন ফ্যাশন ডিজাইনার বললেন, বিত্তবানদের কথা মাথায় রেখে এখানে পোশাকের ডিজাইন করা হয়। কিছু পোশাক তৈরিই করা হয় উচ্চবিত্তদের জন্য। এগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে। তাঁরা জানালেন, এ ধরনের একটি পোশাকের দাম দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা বা তারও বেশি।
ফ্যাশন ডিজাইনার ঋতু বারীও এবারের নতুন ধরনের পোশাক সম্পর্কে জানালেন। তিনি বললেন, বিয়েতে কনেরা যে ধরনের পোশাক পরেন, সেই ধরনের পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে এবার মেয়েদের ঈদ পোশাকের কথা ভাবা হয়েছে। এগুলো বিয়ে বা যেকোনো উৎসবেই তাঁরা পরতে পারবেন। তিনি বললেন, শিফন কাপড় ও নেটের ওপর সুতা ও পাথরের কাজ করে এই পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে। দাম পাঁচ লাখ টাকার ওপরে।
কয়েকটি অভিজাত ফ্যাশন হাউসের বিক্রয় কর্মকর্তারা জানালেন, অভিজাত বা উচ্চবিত্ত মেয়েদের কাছে এবার ফ্লোর টাচ গাউন, লং গাউন, আনারকলি, সারারা নামের পোশাকগুলোর চাহিদা বেশি। এর পাশাপাশি এবার লং কোটি ফ্লোর টাচ গাউনের চাহিদাও অনেক। এগুলোর দাম ১০ হাজার টাকা থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে। লেহেঙ্গা ১৫ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে। তাঁরা জানালেন, দামি পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে লং কামিজও কিনছেন অনেকে। এগুলোর দাম ৪৮ হাজার টাকার মধ্যে।
নাবিলা ফ্যাশন হাউসে কেনাকাটা করতে আসা স্কলাস্টিকা স্কুলের ‘এ’ লেবেলের শিক্ষার্থী অনিন্দিতা অরিন বললেন, তাঁর পছন্দ লং কামিজ। তবে ঈদের দিন রাতে পার্টির জন্য একটি গাউনও কিনবেন। দিনের বেলা কামিজ পরবেন। তবে যদি বন্ধুরা মিলে ঈদের দিনে লংড্রাইভে যান, তাহলে জিনস ও শার্ট পরার ইচ্ছা তাঁর।
নারীদের কাছে শাড়ির চাহিদাই বেশি। মায়াসির, খাজানা, আলমাসের সঙ্গে ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে শাড়ি এসেছে প্রচুর। ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে এক্সক্লুসিভ শাড়িগুলো পাওয়া যাচ্ছে। এর চেয়ে কম দামেও শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।
আর পুরুষদের কাছে এবার পাঞ্জাবি ও মোদি কোট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মোদি কোট ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শার্ট ও পাঞ্জাবির ওপর পরার জন্য পৃথক কোট রয়েছে।

Wednesday, July 1, 2015

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কঃ চার লেনের সুফল পেতে বাধা ১৪ কিমি রাস্তা by তানভীর সোহেল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এটি। তবে অবস্থা দেখে মনে হবে,
যেন সদ্য হালচাষ দেওয়া জমি। চার লেনে উন্নীত করার কাজ
চলার মধ্যে বৃষ্টি হওয়াতে কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে
মহাসড়কটি। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা
নামক স্থান থেকে তোলা ছবি l আশরাফুল আলম
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হই সকাল ১০টায়। বেলা সাড়ে ১১টায় বহনকারী মাইক্রোবাসটির চাকা গাজীপুর চৌরাস্তা-সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের মহাসড়ক স্পর্শ করে। চার লেনের মাঝামাঝি একটি লেনের প্রায় সমান আয়তনের সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার)। বিপরীত পাশ থেকে গাড়ি এসে সামনে পড়ার ভয়ও নেই। গত রোববারের এই সরেজমিন যাত্রায় মহাসড়কে খুব বেশি যানবাহন দেখা যায়নি। চালক গাড়ির গতি বাড়ালেন। কিছু দূর গিয়ে মাস্টারবাড়ি এলাকায় গ্যাস নেওয়ার জন্য একটি পাম্পে গাড়ি দাঁড় করালেন।
সেখানেই কথা হয় সৌখিন পরিবহনের চালক আলী হোসেনের সঙ্গে। প্রায় ১৪ বছর এই রুটে বাস চালাচ্ছেন তিনি। সড়কের এখনকার অবস্থা সম্পর্কে বললেন, ‘গত বছরও বাস চলত হেলে-দুলে। এখন এই সড়কে বাস প্রায় উড়ে উড়ে চলে। পুরো কাজ শেষ হলে উড়েই চলবে।’
আগের সঙ্গে এখনকার সময়ের ব্যবধান তুলে ধরে আলী হোসেন বললেন, ঢাকা থেকে এখন ময়মনসিংহ যেতে কমবেশি চার ঘণ্টা লাগে, আগে লাগত সাত থেকে আট ঘণ্টা।
চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় এক যাত্রী জানালা দিয়ে গলা বের করে বললেন, গত পাঁচটি বছর এই অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তি সহ্য করেছে। মনে হচ্ছে, আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে যাতায়াতের কষ্ট আর থাকবে না।
চালক আর যাত্রীদের কাছ থেকে ধারণা পেলাম, চার লেনের শুরুটা যেমন, পুরো পথ হয়তোবা তেমন নয়। প্রকল্পটি সরেজমিন ঘুরে এর সত্যতা পেলাম। দেখা গেল, প্রায় ২০ শতাংশ সড়ক এখনো দুই লেন। তাই সড়ক ব্যবহারকারীদের চার লেনের সুফল পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। ৮৮ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ১৪ কিলোমিটারের কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও রোজার ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমবেশি থাকবে।
এই সড়কে নিয়মিত গাড়ি চালান এমন কয়েকজন বাস, ট্রাকচালক ও যাত্রীরা বলেছেন, মহাসড়কের মাঝের অংশটি এখনো দুই লেন থাকা, কয়েকটি স্থানে ভাঙা এবং নির্মাণকাজ চলতে থাকায় যাতায়াত নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে তারা বলেছেন, আগের চেয়ে ভোগান্তি এখন অনেক কমেছে এবং কম সময়ে তাঁরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন।
অবশ্য গত ২৮ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এক অনুষ্ঠানে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোর কাছে আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের কাজ শেষ হবে। এবার ঈদে এই সড়ক ধরে যাঁরা যাতায়াত করবেন, তাঁরা চার লেনের সুফল ভোগ করবেন।
২০১০ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুনে। কিন্তু বারবার সময় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কয়েক দফা বেড়ে এখন প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯২১ কোটি টাকা। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলায় যাওয়ার পথ এটি।
গ্যাস নেওয়ার পর মাস্টারবাড়ি থেকে মাইক্রোবাসটি চলতে শুরু করে। কাছেই বাজার-সংলগ্ন স্থানে চার লেন সড়কটি দুই লেনে পরিণত হয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার বিপরীত পাশে সড়কের কাজ চলছে। তাই এক পাশ বন্ধ। দ্রুতগতিতে আসা গাড়িগুলো হঠাৎ ধীরগতিতে চলতে শুরু করল। ধীরগতির কারণে দুই পাশেই গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেল। অবশ্য এই পথটি ছিল এক কিলোমিটারের কিছুটা বেশি। একই অবস্থা মধ্যবাজার নামক স্থানেও।
দুটি উড়ালসড়ক পাড়ি দিয়ে এবার গাড়ি থামল গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনা বাজারে। সেখানে কথা হচ্ছিল একজন সেনাসদস্যের সঙ্গে। যিনি চার লেন প্রকল্পের যে অংশটি সেনাবাহিনী করছে, সেই অংশের কাজের সঙ্গে যুক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বললেন, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে সোয়া ৩০ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার কাজ সেনাবাহিনী করেছে। সামান্য একটু কাজ বাকি আছে। এখন ড্রেনের কাজ চলছে। সেনাবাহিনীর কাজ যেখানে শেষ হয়েছে, তারপর থেকে অনেকটা পথে আর চার লেনের দেখা মিলল না।
জানা গেল, চৌরাস্তা থেকে শ্রীপুরের নয়নপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজ করেছে সেনাবাহিনী। এখানের ৩০ কিলোমিটারের কাজ ঈদের আগে পুরোপুরি শেষ হবে। তবে ড্রেন ও ডিভাইডার নির্মাণ নাও হতে পারে। কিন্তু এতে চার লেনে চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে না। অবশ্য এই সড়কের মধ্যে জৈনা বাজার, আশপাশের শিল্প কলকারখানার গাড়ি সড়কের পাশে দাঁড় করানোর কারণে কোথাও কোথাও সড়কের একটি লেনই দখল হয়ে গেছে।
দারুণ যাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হলো ময়মনসিংহের কাঁঠালী নামক স্থানের হাজির বাজার এলাকায়। এখন থেকে চার লেন সড়ক পরিণত হলো দুই লেনে। অবশ্য বাকি দুই লেনের কাজও চলছিল। তবে দেখা গেল, তা প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে শিগগিরই এই সড়কটুকু চার লেন হচ্ছে না। এখানে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলছিল। দুই লেন সড়ক ছিল পিচঢালা। ফলে গাড়ি ধীরে চললেও ভোগান্তি ছিল না।
কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর ভরাডোবা নামক স্থানের ১০০ মিটারের মতো পথের দুই পাশের সড়কই দেখা গেল ভাঙাচোরা। এক পাশে কাজ চলছে, আরেক পাশে ইট ফেলে যে পথ তৈরি করেছে, তাকে কাদা মাটির পথ বলাই ভালো। গাড়িগুলোকে প্রথমে মূল সড়ক থেকে নিচে নেমে তারপর আবার ওপরে উঠতে হচ্ছে। সামান্য এই পথ পাড়ি দিতে গাড়ির গতি এত কমিয়ে আনতে হয়েছে যে সেখানে দুই পাশে গাড়ির সারি পড়ে যায়।
এই সড়কের কাজ করছে এমবিইসি ও পিবিএল নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার কাজ করছে। এই ৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার সড়ক এখনো দুই লেন। এর মধ্যে টানা ১১ কিলোমিটারের পুরোটাই দুই লেন। এখানে তিনটি স্থানে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।
সেখানে কাজ করছেন এমন কয়েকজন শ্রমিক বললেন, ঈদের আগে চার লেনের কাজ শেষ হবে না। তবে যেসব স্থানে ভাঙাচোরা আছে, সেগুলো ঠিক করার কাজ চলছে। তাদের সেই রকমই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় রায়মণি এসে আবার চার লেন সড়ক শুরু হয়েছে। এই সড়ক চলে গেছে ময়মনসিংহ শহর পর্যন্ত। তবে শহরে ঢোকার মুখে মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কের কিছু অংশ এখনো দুই লেন। ফলে বাসস্ট্যান্ডে ঢুকতে ও বের হতে যানবাহনগুলোকে যানজটে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া এই পথে ডিভাইডার নির্মাণসহ কিছু কাজ চলছে। এই অংশের কাজ করেছে সেল ও তমা নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বেলা আড়াইটায় ময়মনসিংহ শহরে পৌঁছে কথা হলো স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জগলুল আহমেদ বললেন, গত কয়েক বছর যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা বর্ণনা করার মতো নয়। এখন সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া যায়।
ওই চিকিৎসকের স্ত্রী লামিয়া আহমেদ ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স করছেন। তিনি বললেন, চার বছর আগে যখন ময়মনসিংহে আসতাম, মনে হতো হাড়গোড় ভেঙে গেছে। চার লেনের কাজ পুরো শেষ হতে এই যাত্রা আনন্দের হবে।

Saturday, June 27, 2015

দেশে পাঁচ বছরে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে ৭ গুণ- আটকের পরিমাণ বেড়েছে ৫০ গুণ by তানভীর সোহেল

দেশে গত পাঁচ বছরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা বড়ির পাচার ও ব্যবহার বেড়েছে ৭০১ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ গুণ। একই সময়ে দেশে ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে ৫ হাজার শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ গুণ। মাদক সেবনকারী তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এই অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে বছরজুড়ে দেশে ইয়াবা বড়ি কেনাবেচা হতো চার কোটির মতো। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে তা ২৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবহার বেড়েছে ৭০১ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ২০০৯ সালে ইয়াবা আটকের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজারটি। আর ২০১৪ সালে ইয়াবা আটকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখ ১২ হাজারটি। পাঁচ বছর আগের চেয়ে যা প্রায় ৪ হাজার ৯২৪ শতাংশ বেশি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিবছর যে পরিমাণ ইয়াবা আটক হচ্ছে, তার চেয়ে ৪২ গুণেরও বেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক ইয়াবার পরিমাণ ৬৫ লাখের কিছু বেশি। অথচ এই সময়ে কমপক্ষে ২৬ কোটি ইয়াবা দেশে কেনাবেচা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করেন—এমন কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, এই ব্যবসার সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে দ্রুত বাংলাদেশে ইয়াবা আসা এবং এর ফলে ব্যবহার বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী পাঁচ বছরে ইয়াবার ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাবে। কয়েক দিন আগে ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়িতে প্রায় সাত লাখ ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সহকারী উপপরিদর্শক।
সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ ইয়াবা বড়িই আসে মিয়ানমার থেকে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীসংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা সাতটি কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। এসব কারখানায় প্রতিদিন দুই লাখ ইয়াবা বড়ি বাংলাদেশে পাচারের জন্য তৈরি করা হয়। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা ইয়াবা তৈরির আরও শতাধিক কারখানা রয়েছে। এগুলো থেকে সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকছে। বড় চালানগুলো মূলত এসব কারখানা থেকে সমুদ্রপথে আসে। এর বাইরে ভারতের কয়েকটি সীমান্ত দিয়েও ইয়াবা আসে। থাইল্যান্ড থেকেও কেউ কেউ ইয়াবা কিনে এনে থাকেন। তবে এর পরিমাণ অনেক কম।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে গড়ে ওঠা ইয়াবা তৈরির ৩৭টি কারখানা ও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের ৪৭ জন নাগরিকের ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয় মিয়ানমার সরকারের কাছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে বাংলাদেশকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। চলতি বছরের মে মাসেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকেও আবার এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবা এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর মাদক। ধরা যা পড়ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আসক্তদের কাছে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন ১০ লাখের কাছাকাছি ইয়াবা হাতবদল হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ইয়াবার সবচেয়ে বড় বাজার।
বাংলাদেশে ইয়াবার বাজার: মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিটি ইয়াবা টেকনাফে বাংলাদেশের চোরাকারবারির কাছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অবশ্য এটা নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। এই ইয়াবা কয়েক দফায় হাতবদল হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঢাকায়। এরপর চট্টগ্রাম। এ ছাড়া দেশের বড় শহরগুলোতেও এর চাহিদা রয়েছে। ঢাকায় প্রতিটি ইয়াবা বড়ি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেলে বা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হলে প্রতিটি ইয়াবার দাম হয় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশে ইয়াবার বাজার ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, চীন ও থাইল্যান্ড একসময় ইয়াবার বড় বাজার ছিল। কিন্তু ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ওই দেশ দুটি ইয়াবার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে হত্যাও করা হয়। সেখানে এখন ইয়াবার বাজার পড়ে গেছে। এখন বাংলাদেশই এর বড় বাজার। এ দেশে তরুণদের কাছে মাদক হিসেবে ইয়াবার চাহিদাও ব্যাপক।

Saturday, June 13, 2015

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন অর্থসংকটে by তানভীর সোহেল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তহবিলে নেই কোনো টাকা। উল্টো এর কাছে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তি ও ঠিকাদারের পাওনা প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা। অর্থের অভাবে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তাব্যক্তিরা।
দক্ষিণের চেয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের অবস্থা ভালো। এর দেনা নেই। তবে প্রতিবছরই উদ্বৃত্ত তহবিলে টাকার পরিমাণ কমছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরের চেয়ে দক্ষিণের রাজস্ব আদায় কম। নতুন ঢাকা ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো উত্তরে হওয়ায় সরকারি ও বিদেশি অনুদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সংখ্যা উত্তর সিটি করপোরেশনে বেশি। আবার রাজস্ব আদায় কম হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণের অলিগলি, ড্রেনেজ-ব্যবস্থা, বর্জ্য অপসারণ, বেতন-ভাতা বাবদ খরচ বেশি। তহবিলে অর্থ না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারদের দিয়ে বাকিতে কাজ করানোর কারণে দক্ষিণ করপোরেশন বেশি দেনায় পড়েছে।
২০১১ সালে যখন ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়, তখন দুই সিটি করপোরেশনের আর্থিক অবস্থা ভালোই ছিল। কাউকেই দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়নি। উল্টো অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের টাকা সমান ভাগ করে নেয় দুই করপোরেশন। কিন্তু গত চার বছরের মধ্যে উদ্বৃত্ত টাকার পরিমাণ ক্রমাগত কমেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখন দেনাদারে পরিণত হয়েছে। আর উত্তর দেনাদার না হলেও আর্থিক সংকটে আছে।
দক্ষিণের এক কর্মকর্তা বলেন, কম প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রকল্প গ্রহণ ও সড়ক নির্মাণ-উন্নয়নের কারণে দক্ষিণের আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশনের দেনা প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা। করপোরেশন চলছে ধুঁকে ধুঁকে। কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য বড় কোনো কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তিনি হেসে বলেন, ‘টানাপোড়েনের মধ্যেই চলছে দক্ষিণের সংসার।’ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী, জানতে চাইলে নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, অর্থমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ১ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। অথচ ওই অর্থবছরে তাদের আয় ছিল মাত্র ৪১৯ কোটি টাকা। সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র বলছে, আয়ের চেয়ে ব্যয় করে ফেলা হয়েছে বেশি। গত চার বছর এভাবেই চলছে। ফলে করপোরেশনের তহবিলে উদ্বৃত্ত ছিলই না, বরং প্রতিবছর দায় বাড়ছে। তবে করপোরেশন প্রতিবছরের হিসাবে এই দেনার কথা উল্লেখ করছে না। আয়কেই ব্যয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে। উল্টো চলতি অর্থবছরে করপোরেশন তহবিলে প্রারম্ভিক স্থিতি ১০ কোটি টাকা দেখিয়েছে। তা ছাড়া এবার তারা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এবারের আয়ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে না।
ব্যয়ের দিক থেকে উত্তর সিটি করপোরেশন অনেক হিসেবি। আয় ও তহবিলে থাকা অর্থের পরিমাণ বুঝেই খরচ করছে তারা। ফলে এখন পর্যন্ত তাদের দেনায় পড়তে হয়নি। চলতি অর্থবছরেও তারা তহবিলে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত রাখতে পারবে। যদিও তহবিলে উদ্বৃত্ত টাকার পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে।
উত্তরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন অর্থের ব্যবস্থা বুঝে তারপর খরচ করেছে। ফলে গত চার বছরে তাদের উদ্বৃত্তের পরিমাণ বছর শেষে কমলেও দেনায় পড়তে হয়নি। চলতি বছরের বাকি দিনগুলো সব ধরনের খরচ মিটিয়ে তহবিলে কিছু টাকা থাকবে। এর পরিমাণ ১০ কোটি টাকার মতো হতে পারে। তবে দৈনন্দিন কাজ চললেও পর্যাপ্ত টাকা উত্তরের তহবিলে নেই। প্রতিবছর জোগাড়ও হচ্ছে না। ফলে উন্নয়নকাজ ও নাগরিকদের সেবা বাড়ানো যাচ্ছে না।
করপোরেশনের হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা জানান। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত বা প্রারম্ভিক স্থিতি ধারা হয় ৫৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৫২ কোটি হয়। অথচ ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে উদ্বৃত্ত বা স্থিতি হলো ৪০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এটা আরও কমবে। ফলে আয় না বাড়লে উত্তর সিটি করপোরেশনকে দেনায় ডুবতে হবে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, উত্তরের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই টাকাটা কাজে দেবে। তিনি বলেন, বড় প্রকল্প নেওয়ার মতো অর্থ করপোরেশনের নেই, এটা সত্য। তবে করপোরেশনের আয় বাড়াতে তিনি চেষ্টা করবেন। দেনা নয়, বরং করপোরেশনকে আর্থিক দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতেই তিনি বেশি মনোযোগ দেবেন।
উত্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে করপোরেশনের বাজেট ২ হাজার ৪১ কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। ওই বছর আয় হয় মাত্র এক হাজার নয় কোটি টাকা। এই কর্মকর্তা জানান, এভাবে চললে উত্তরকেও দেনায় পড়তে হবে।

Monday, April 27, 2015

বিএনপি নির্বাচনী এজেন্ট পাচ্ছে না by তানভীর সোহেল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত আজিমপুরের একটি মেসে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র আরিফ হোসেন ও সারোয়ার উল আলম। দুজনই ওই এলাকার ভোটার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তাঁরা ওই এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু গত বুধবার তাঁরা অপারগতা জানিয়েছেন।
আরিফ বলেন, সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। এক দিনের জন্য টাকা পাবেন বলে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু আজিমপুর এলাকার আওয়ামী লীগের দুই নেতা তাঁদের এজেন্ট না হতে বলেছেন। ওই দুই নেতা বলেন, ‘পড়াশোনা করতেছো করো। অযথা বিপদ ডেকে আনার দরকার নাই। এখন এজেন্ট হলে পরে এই এলাকায় কোনো অঘটন ঘটলে মামলায় তোমার নাম চলে আসবে।’
আরিফ বলেন, ‘অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁকে ধমক দেননি। বলা যায়, ভালো পরামর্শ দিয়েছেন। সমস্যা বুঝে আমরা দুজনই এজেন্ট হতে পারব না বলে ছাত্রদলের ভাইদের জানিয়েছি।’
দক্ষিণের চেয়ে উত্তর সিটিতে বিএনপি-সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের জন্য এজেন্ট নিয়োগ আরও কঠিন। গতকাল পর্যন্ত এজেন্টের যেসব তালিকা তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে এসেছে, তাদের একটি অংশ নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। তা ছাড়া নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অনীহার কারণে এখন পর্যন্ত উত্তরের জন্য এজেন্টের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি তারা। এমনকি টাকার বিনিময়েও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বেকারদের রাজি করানো যাচ্ছে না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থী কফিলউদ্দিন এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ভয়ভীতি দেখানোর কথা উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এজেন্ট না হতে দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
ওই এলাকায় বিএনপির নির্বাচন পরিচালনাকারী শফিউল আলম বলেন, ‘পুলিশ এজেন্টদের নাম চায়। তাদের এলাকার ছেলেরা এজেন্ট হতে চাচ্ছেন না। তবে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেছেন, কেউ অভিযোগ করলেই তা সঠিক নয়। নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো কাজে পুলিশ যুক্ত নয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করছে।
সরকারদলীয় লোকদের হুমকি, সেনাবাহিনী না নামানো, বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপর হামলা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগসহ নানা কারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন ভোটকক্ষে দলীয় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি-সমর্থিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী। মূলত এজেন্ট হয়ে নির্বাচনের পর সরকারদলীয় লোকদের রোষানলে পড়ার ভয়ে ও পুলিশি হয়রানির আশঙ্কায় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা এজেন্ট হতে চাচ্ছেন না।
আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। এতে উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হলেন তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে মির্জা আব্বাস। দুই সিটিতে তাঁদের প্রত্যেককে ভোট কক্ষের জন্য সাড়ে চার হাজার নির্বাচনী এজেন্ট প্রয়োজন হবে। দুই সিটিতে লাগবে প্রায় নয় হাজার। এ ছাড়া ওই দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে নির্বাচনী অফিস পরিচালনার জন্য আরও প্রায় ১০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে।
অবশ্য উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম ও দক্ষিণের মিহির সারোয়ার মোর্শেদ বলেছেন, ভোটকেন্দ্র সব প্রার্থীর এজেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তা ছাড়া প্রার্থীরা যাকে এজেন্ট করতে চান, তাদের পরিচয়পত্র দিতে কমিশন কোনো বাধা হবে না। তবে এজেন্ট নিয়োগ করাটা প্রার্থীদের কাজ। এটা করতে না পারার পেছনে কোনো কারণ থাকলে তাঁরা কমিশনে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনরত বিএনপির নেতারা বলেছেন, এজেন্ট, অফিস পরিচালনা ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে লোক রাখাসহ বিভিন্ন কাজে দুই সিটিতে অন্তত ৬০ হাজার লোক দরকার। অথচ শুধু এজেন্ট ও কেন্দ্রভিত্তিক অফিস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২৫ হাজার লোক নিয়োগ করার মতো নেতা-কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, তাঁরা তো আসবেই না। মামলা নেই এমন নেতা-কর্মীরাও তাঁদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অর্থের বিনিময়েও সাধারণ ভোটারদের বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের আগ্রহী করা যাচ্ছে না। দুটি সিটি করপোরেশনের জন্য করা তালিকার অনেকেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। ফলে এখন এজেন্ট নিয়োগ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশি হয়রানির ভয়ে এজেন্টের তালিকায় থাকা অনেকেই এলাকা ছাড়া হয়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৮৯। আর ভোট কক্ষ চার হাজার ৭৪৬টি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একজন করে এজেন্ট দেওয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থী একটি করে অফিস করতে পারেন। যেখান থেকে ভোটারদের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র চিহ্নিত করার ব্যাপারে সহায়তা করা হয়। তা ছাড়া দক্ষিণে এবার প্রায় ৩০০টি স্কুল বা কলেজে ভোটকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে অন্তত ২০০ নেতা-কর্মীকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দক্ষিণে দলটির নির্বাচন সমন্বয়কারী স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগের ধারে কাছেও নেই নির্বাচন পরিচালনাকারীরা।
ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের গণসংযোগ সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রদল নেতা বজলুল করিম আবেদ প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের দিন এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ভয়ভীতি, মামলা, হামলার আশঙ্কা এর কারণ। তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে চাপে রাখতে নানা কৌশল করছে। তবে যেভাবেই হোক তাঁরা ভোটকেন্দ্র পাহারায় শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত লোক নিয়োগ করতে পারবেন।
মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা এজেন্টের একটি তালিকা তৈরি করেছেন।
ঢাকা উত্তরের কড়াইল বস্তির আমির হোসেনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁকে এজেন্ট হতে এক হাজার টাকা ও তিন বেলা খাবার দেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। কিন্তু খালেদা জিয়ার ওপর হামলার পর তিনি এখন আর এজেন্ট হতে চাচ্ছেন না। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামরে মারল তাতেই কিছু হয় না, আর আমরা তো কিছুই না।’ এক হাজার টাকার জন্য ভোটের পরে ঝামেলায় পড়তে চান না তিনি।
দক্ষিণ সিটির চেয়ে উত্তরে লোক নিয়োগ করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির জন্য। কেননা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের নিজস্ব একটি কর্মী বাহিনী আছে। কিন্তু তাবিথ আউয়ালের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় তাঁর নিজস্ব কর্মী বাহিনী নেই।
উত্তরে ভোটকেন্দ্র এক হাজার ৯৩ ও ভোট কক্ষের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৯২। উত্তর সিটি নির্বাচন পরিচালনাকারী বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী বললেন, সেনাবাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার সরে আসায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন। গ্রেপ্তার ভীতি, হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।
উত্তরে বিএনপি-সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, এজেন্ট নিয়োগসহ অন্যান্য কাজ দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে।

Monday, March 16, 2015

চার মাস ধরে পলাতক সাংসদ আমানুর by তানভীর সোহেল ও কামনাশীষ শেখর

প্রায় চার মাস ধরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মানুষের কাছে ‘নিখোঁজ’ স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা)। আর পুলিশের কাছে তিনি পলাতক। তিনি এলাকায় না থাকায় সমস্যায় পড়েছে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের সাংসদ আমানুর রহমান সংসদের চলতি অধিবেশনে অনুপস্থিত। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর তাঁকে সংসদে দেখা গিয়েছিল। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে ঘনিষ্ঠজনেরাও বলতে পারছেন না। অবশ্য তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে চান না বলে জানিয়েছেন। এদিকে সংসদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাংসদ আমানুর টানা ৩৭ দিন ধরে সংসদে অনুপস্থিত আছেন। তাঁর জন্য বরাদ্দ ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তিনি থাকছেন না। এ ছাড়া ঘাটাইলের স মিল রোডের ৫৭৭ নম্বর বাড়ির ঠিকানায় সংসদ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানেও তিনি নেই। সাংসদ কোথায় অবস্থান করছেন, তা-ও সংসদকে অবহিত করেননি। জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ আমানুর রহমান খান সংসদে অনুপস্থিত আছেন। ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে তিনি সংসদে আসছেন না। তবে তাঁর অনুপস্থিতি ৯০ দিনের অনেক কম। তাই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বা তাঁকে উপস্থিত হওয়ার জন্য সংসদের পক্ষ থেকে বলার কোনো সময় আসেনি। সমস্যাটি তাঁর একান্তই নিজের। এ জন্য তাঁরা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এলাকায় সাংসদ আমানুরের অনুপস্থিতিতে বেশি সমস্যায় পড়েছে তিনি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেগুলো। এমন সমস্যায় পড়ার পর ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন গণমহাবিদ্যালয়ের (জিবিজি কলেজ) পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সরিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে আফসারী জহুরাকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন সাংসদ কমিটিতে না থাকলেও প্রশাসনিক কাজে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। সাংসদ আমানুর এখনো লোকের পাড়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা, হামিদপুর ফাজিল মাদ্রাসা ও প্যাচার আটা দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি। মাদ্রাসাগুলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মাদ্রাসার শিক্ষক বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাংসদকে বাদ দিতে পেরেছে। কিন্তু তাঁদের পক্ষে তা করা কঠিন। সাংসদের অনুমতি ছাড়া কমিটি বদলালে ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, সাংসদ অনুপস্থিত থাকায় প্রতিষ্ঠানের অনেক কাজই আটকে আছে। এই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জানা গেছে, মামলাসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কমিটি থেকে সাংসদকে বাদ দিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হামিদপুর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, সাংসদ এলাকায় না থাকায় সভা করা যাচ্ছে না, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলতে কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর লাগে বলে বেতন তুলতেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
সাংসদ আমানুরের অনুপস্থিতির কারণে তাঁর এলাকার দরিদ্র লোকজন আবেদন করেও ‘ঐচ্ছিক তহবিল’-এর টাকা পাচ্ছেন না। ঘাটাইলে কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এলাকার উন্নয়নকাজের জন্য সাংসদের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজের প্রস্তাব করা হয়ে থাকে। উন্নয়ন তহবিল থেকে এ কাজগুলো সাধারণত আগে করা হয়। সাংসদ আরও কিছুদিন আড়ালে থাকলে এলাকাবাসী এ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবেন।
ঘাটাইলের আওয়ামী লীগের নেতারা ও সাধারণ মানুষ আলাপকালে বলেন, অনেক কাজের সুপারিশের জন্য সাংসদকে লাগে। কিন্তু তাঁকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংসদের অনুপস্থিতিতে দলীয় কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে তিনি পলাতক থাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাঁর উচিত আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ফারুক আহমেদ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি খুন হন। এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাংসদ ও তাঁর তিন ভাইয়ের নাম বলেন। সাংসদের ওই তিন ভাই হলেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)। তাঁরাও পলাতক। বিভিন্ন সময়ে সাংসদ আমানুরের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানায় চারটি হত্যা মামলাসহ ৪৬টি মামলা হয়েছিল। এর কোনো কোনোটিতে তাঁদের চার ভাইকেও আসামি করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে সাংসদ আমানুরকে আটকের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তিনি পলাতক। তাঁকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Sunday, January 4, 2015

মনোবল ও আস্থা রক্ষার লড়াইয়ে আ. লীগ-বিএনপি by তানভীর সোহেল

নিজ দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানো আর প্রতিপক্ষের মনোবলে চিড় ধরানোর লড়াইয়ে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। পাশাপাশি দুই বড় দলেরই এখন লক্ষ্য সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন ও ধরে রাখা। ৫ জানুয়ারি নিয়ে দুই দলের অনড় অবস্থানের এটাই কারণ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। এ জন্য দুই পক্ষই ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দলের দায়িত্বশীল নেতারা প্রথম আলোকে বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নিয়ে সৃষ্ট অবস্থা থেকে যে পক্ষ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে আগামী দিনের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে তারাই এগিয়ে থাকবে। দু দলের নেতারা মনে করেন, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের ফলে তাত্ক্ষণিকভাবে সরকার পতন হবে না। কিন্তু সরকারের অবস্থান কতটা শক্ত বা নরম হবে, বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলন জোরালো হবে কি না তা নির্ধারণে এই সময়ের আন্দোলন ভূমিকা রাখবে।
২০১৪ সালে কয়েকবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে বিএনপি। তবে এবারের আন্দোলনে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার পেছনে আরও একটি কারণকে প্রাধান্য দিতে হচ্ছে বিএনপির। রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে রাজনীতিতে দলটির প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামের কর্মকাণ্ড। জামায়াতের মধ্যম পর্যায়ের দুই জন নেতা বলেছেন, এককভাবে জামায়াতের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলে জামায়াতও সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে। এজন্য ৫ জানুয়ারি তারা আলাদা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়েছে। সড়ক ও নৌ পথে পর্যাপ্ত গাড়ি ও লঞ্চ চলছে না। কোনো কোনো জেলা থেকে ঢাকায় আসার সব ধরনের পরিবহনই চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও যান চলাচল অনেক কমে গেছে।
গত বছর ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংসদের বাইরে চলে যায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় উত্সব’ হিসেবে আর বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকায় দু দলই নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা মানার কথা বললেও বিএনপি এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মীদের চাঙা ও মানুষের আস্থা অর্জনই বিএনপির লক্ষ্য: গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অবর’দ্ধ’ করার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ফোনেও দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মসূচি থেকে সরে আসলে মাঠের নেতাকর্মীরা একেবারেই মানসিকভাবে ভেঙে (ডিমরালাইজড) পড়বে বলে মনে করেন দলীয় চেয়ারপারসন। এবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নেতাকর্মীদের আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যা পারার তাই করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া যাবে না। ওই নেতা বলেন, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষও বিএনপির ক্ষমতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। তা ছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে কিছু করতে না পারায় দলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাই এবার আর কোনো ঝুঁকি নেবে না বিএনপি। কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসবে না। ওই নেতা বলেন, চেয়ারপারসন মনে করেন, বিএনপি কর্মসূচিতে অটল থাকলে দলের শক্তির ওপর সাধারন মানুষের আস্থা বাড়বে আর নেতাকর্মীরা চাঙা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু’ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার পুলিশ দিয়ে শাসন ক্ষমতা রেখেছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে পুলিশ দিয়ে তা করার চেষ্টা করছে। এভাবে চলতে পারে না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিএনপিকে পিছু হটানোর এই কর্মকাণ্ড সফল হতে দেওয়া যায় না। এ জন্য আজকের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সরকারকে ছাড় দেওয়া যাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে নামতে মুখিয়ে আছেন। সাধারণ মানুষও চায় বিএনপি তাদের পক্ষে মাঠে থাকুক। তাদের চাওয়াকে হতাশায় ভাসানোর কোনো সুযোগ বিএনপির নেই।
কর্মসূচি আলাদা তবে বিএনপির পাশে থাকবে জামায়াত: আজ বিকেলে টেলিফোনে আলাপকালে জামায়াতের দুই জন মধ্যম সারির নেতা প্রথম আলোকে বলেন, কর্মসূচি পালনে বিএনপি অনঢ় অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য ওই আন্দোলনে জামায়াতও তার শক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে। একজন নেতা বলেন, পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা তাঁরা করছেন। ঢাকায় তাঁরা নামবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নেতা বলেন, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এর উত্তর কেবল কালকেই পাওয়া যাবে। আগে বলা সম্ভব নয়।
আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনালের শফিকুল ইসলাম ৫ জানুয়ারি সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করার ঘোষণা দেন।
বিএনপির আন্দোলন দমাতে চায় আওয়ামী লীগ: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় আজ। ওই নেতাদের মতে, তুলনামূলক কম জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ও বড় দলের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে। এটা তাঁদের জন্য কিছুটা বিব্রতকর। তবে তাঁরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে। দলটির পূর্ণ মেয়াদে থাকাটাও অনেকটা নিশ্চিত। এই অবস্থায় প্রতিপক্ষ বিএনপিকে মাঠের রাজনীতিতে দুর্বল করতে পারলে তাদের সামনে তেমন কোনো সমস্যা থাকবে না। এ জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এবারের আন্দোলন দমানোকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুর’ত্ব দিচ্ছেন।
ওই নেতারা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সাধারণ মানুষেরও ধারণা তৈরি হয় বিএনপি আর আন্দোলন করতে পারবে না। নেতাকর্মীদের মনোবল গত এক বছরে খুব একটা বাড়ানি। পাশাপাশি বিএনপিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাবে তেমন একটা পরিবর্তন আসেনি। আওয়ামী লীগ এটা ধরে রাখতে চায়। এ কারণে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ন্যূনতম রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই ওই নির্বাচনের সময় বিএনপিকে যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে এবারও সেভাবে মোকাবেলা করা হবে। বিএনপিকে আন্দোলনে ব্যর্থ প্রমাণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ সরকার দেবে না। তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। নির্বাচিত সরকারকে উত্খাতের আন্দোলনের চেষ্টা সফল করতে দেওয়া হবে না।
আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার কারণে সভা-সমাবেশ করবে না। তবে তাদের দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকবেন। প্রয়োজন হলে পুলিশকেও সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত থাকবেন।

Monday, October 27, 2014

‘খান’ ও ‘সিদ্দিকী পরিবার’মুক্ত হচ্ছে টাঙ্গাইল? by তানভীর সোহেল ও কামনাশীষ শেখর

‘খান’ ও ‘সিদ্দিকী’ পরিবারের বাইরে রাজনীতিতে অন্যদের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা
টাঙ্গাইলের ‘খান’ ও ‘সিদ্দিকী’ পরিবারের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। এই দুই পরিবারের বাইরে থাকা নেতারা এত দিন চুপ থাকলেও এখন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দুই পরিবার নতুন করে চাপে পড়ায় জেলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির উত্থান হওয়ার সম্ভাবনা তাঁরা কম দেখেন।

>>লতিফ সিদ্দিকী,আমানুর রহমান খান।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার সঙ্গে জেলার প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা), পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খানের (বাপ্পা) নাম জড়িয়ে পড়েছে। এর পর থেকেই সহিদুর রহমান ছাড়া অপর তিন ভাই আগের মতো আর এলাকায় থাকছেন না। তবে সাংসদ আদালত থেকে গ্রেপ্তারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাঝেমধ্যে এলাকায় যান। আর লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারের পর ‘সিদ্দিকী’ পরিবারের আর কেউই এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেই। ফলে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সিদ্দিকী পরিবারের নিয়ন্ত্রণ শেষ হয়ে গেছে। এত দিন এই পরিবারের সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারাও তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
তবে খান পরিবারের মেজো ভাই সহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁদের কাছে পরাজিত একটি মহল মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এতে তাঁদের পাশাপাশি টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নীরব নেতারা সক্রিয় হচ্ছেন: টাঙ্গাইলে খান পরিবারের বিপক্ষে কোনো নেতাকেই সেভাবে কথা বলতে দেখা যায় না। তবে সম্প্রতি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রীর বড় ভাই খন্দকার আশরাফুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের অনুসারীরা জেলার রাজনীতিতে খান পরিবারের বাইরে একটি রাজনৈতিকবলয় গড়ে তুলছেন বলে দলের নেতারা বলছেন। রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এই নেতারা এখন নিজেদের মধ্যে সভা ও অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। খান পরিবারের চার ভাই শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলায় আসামি হলে এঁরাই জেলার রাজনীতির নতুন নিয়ন্ত্রক হতে পারেন।
তা ছাড়া খান পরিবার মামলায় জড়ালে তাঁদের পক্ষের কিছু প্রভাবশালী ও জেলার রাজনীতিতে দায়িত্বশীল নেতাও এই পরিবার থেকে পিছু হটতে পারেন। ২০১২ সালে সাংসদ আমানুর রহমান উপনির্বাচন করার সময় তাঁর পক্ষে অবস্থান না নেওয়ায় আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদকে এলাকা ছাড়া হতে হয়। এরপর তিনি দেশের বাইরে চলে যান। তবে সম্প্রতি দেশে আবারও সক্রিয় হওয়ার চিন্তা করছেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর নিহত ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদকে গণভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সাক্ষাতের পর তাঁকে নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য নাহার এখনই রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে নাহার আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংগত কারণেই কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকীর মতো নেতাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো নেতাই দলের চেয়ে বড় নয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান বলেন, পরিবারতন্ত্রের হাত থেকে মুক্ত হয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে নেতা-কর্মীরা রাজনীতি করতে চান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, খান পরিবারের ওপর মানুষের কোনো আস্থা নেই। তবে খান পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি বিব্রত হওয়ার ঘটনা হলো, টাঙ্গাইলের সাংসদ ও নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় সাংসদ আমানুর রহমানকে না রাখা।
জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক সময়ে নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে খান ও সিদ্দিকী পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি নেতাদের ব্যর্থ ও ভীতু বলেছেন। ফারুক হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত সে ব্যাপারে জেলার নেতারা তথ্য দিতে না পারা এবং ফারুকের পরিবারের পাশে না দাঁড়ানোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-১ আসনের সাংসদ আবদুর রাজ্জাকের কাছেও একই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর সঙ্গে গত ১৪ অক্টোবর কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত একজন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাককে বলেছেন, আপনারা কি ভয়ে গুটিয়ে থাকেন। এত ভয় কিসের? রাজ্জাকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় সেখানে আওয়ামী লীগের দুজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে আলোচনার বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’
সিদ্দিকী পরিবারের কেউই নেই: সিদ্দিকী পরিবারের সদস্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অনেক আগেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল করেছেন। লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের পর টাঙ্গাইল শহরে তাঁর দুই ভাই মুরাদ সিদ্দিকী ও আজাদ সিদ্দিকীর যেটুকু আধিপত্য ছিল, তা-ও শেষ হয়ে গেছে। এই দুই ভাইয়ের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু ভাইয়ের দাপটে এলাকায় দাপট দেখাতেন। ফলে রাজনীতিতে সিদ্দিকী পরিবারের অবস্থান শেষ হয়ে যাওয়ায় কালিহাতী উপজেলার এখনকার প্রভাবশালী নেতারা সেই জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ইমাম খান (সোহেল হাজারী) এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, লতিফ সিদ্দিকী সব সময় একক সিদ্ধান্তে দল চালাতেন। এখন তাঁর বহিষ্কারে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। নতুন নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে।

Saturday, October 25, 2014

টাঙ্গাইলে খান পরিবার চাপে by তানভীর সোহেল ও কামনাশীষ শেখর

টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অর্ধশত মামলা হলেও কাউকেই বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার ঘটনায় এই চার ভাইয়ের নাম আসায় নতুন করে চাপে পড়েছে পরিবারটি। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাদী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে বেশির ভাগ মামলা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। কিছু মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এভাবে সব মামলা থেকেই অব্যাহতি পেয়েছেন তাঁরা।

>>সাংসদ আমানুর রহমান খান,মেয়র সহিদুর রহমান খান,জাহিদুর রহমান খান,সানিয়াত খান
খান পরিবারের চার ভাই হলেন: আওয়ামী লীগের সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা), টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)। তাঁদের আরেক ভাই আমিনুর রহমান খানের (বাপ্পি) বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি মামলা ছিল। ২০০৩ সালের নভেম্বরে শহরে নিজ বাড়ির কাছে খুন হন তিনি।
জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফারুক হত্যা মামলার একাধিক আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই চার ভাইয়ের সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন। এখন তদন্ত চলছে, দ্রুতই তা শেষ হবে। তথ্যপ্রমাণ পেলে তাঁদের আসামি করা হবে। সরকারের সকল পর্যায় থেকে পুলিশকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, সম্প্রতি ফারুকের স্ত্রীকে গণভবনে ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই বিষয়ে খান পরিবারের বাইরের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এর পর থেকেই খান পরিবার রাজনৈতিকভাবে কিছুটা চাপে পড়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলাটির ব্যাপারে তাঁরা আরও কিছু তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় আছেন। ফারুককে যিনি সরাসরি গুলি করেছেন, সেই কবিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া, চার ভাইকে গ্রেপ্তারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। উচ্চ আদালতের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে পুলিশ আশা করছে।
খান পরিবারের দুই ঘনিষ্ঠ আনিসুল ইসলাম (রাজা) এবং মোহাম্মদ আলী যথাক্রমে গত ১৭ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডে চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। এর পর থেকে আমানুর রহমান, জাহিদুর রহমান ও সানিয়াত এলাকায় আসা বন্ধ করে দেন। তবে সহিদুর রহমান এলাকাতেই আছেন।
সাংসদ আমানুর রহমান গ্রেপ্তার এড়াতে ১৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া তাঁদের গ্রেপ্তার না করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কেন তাঁদের গ্রেপ্তার করা অবৈধ হবে না, তা জানতে চান। আদালতের এই নির্দেশনার পর সাংসদ মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতে শুরু করেন।
চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলায় আসামি হয়েছেন বড় ভাই সাংসদ আমানুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় ৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সরকার। একটি হত্যাসহ দুটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। ৪২টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, কোনোটি আদালত থেকে আবার কোনোটি পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। আরেক ভাই সহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৬টি। অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান ও সানিয়াত খানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো মামলায় তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি।
সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলেছেন, এখন তিনি কোনো কথা বলতে চান না। তা ছাড়া এলাকায় আগের মতো না থাকায় তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ঢাকায় ন্যাম ভবনে তাঁর বাসায় গিয়ে কথা বলার জন্য সময় চাইলেও ঘনিষ্ঠজনেরা সাড়া দেননি। তবে সাংসদের ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক।
ফারুক হত্যা মামলায় তাঁদের নাম আসা প্রসঙ্গে সহিদুর রহমান বলেন, এটা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এতে তাঁরা ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর আশা, এই মিথ্যা অভিযোগ থেকেও তাঁরা অব্যাহতি পাবেন।
যোগাযোগ করা হলে ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বলেন, ‘কারও নাম উল্লেখ করে কাউকে স্বামীর হত্যাকারী বলিনি। পুলিশের তদন্তে এঁদের নাম এসেছে। তাই এঁরা খুনি হলে অবশ্যই বিচার চাই।’ তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বাড়িতে ইট মারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বলেন, মামলা ঠিক পথেই এগোচ্ছে। আরও সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। এই মামলায় প্রকৃত খুনিদের আসামি করা হবে।
ভয়ে লড়তে চান না বাদীরা: ২০০৪ সালের অক্টোবরে শহরে খুন হন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম এ রউফ। এর কয়েক দিন আগে খুন হন সাবেক পৌর কমিশনার রুমি চৌধুরী। এই দুটি হত্যায় চার ভাইকে আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই মামলা দুটির বিচারকাজ চলছিল জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলা দুটি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। কিন্তু মামলা বিচারাধীন থাকা, হত্যা মামলা ও রাজনৈতিক কারণে এই মামলা করা হয়নি উল্লেখ করে কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০১২ সালের নভেম্বরে উপনির্বাচনে বড় ভাই আমানুর রহমান খান সাংসদ নির্বাচিত হলে পরের বছর আবার আবেদন করেন তাঁরা। ২০১৩ সালের শেষ দিকে মামলা দুটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে সরকারের মামলা প্রত্যাহার কমিটি।
রউফ হত্যা মামলার বাদী তাঁর বাবা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মামলাটি প্রত্যাহার হচ্ছে শুনেছি। এঁরা ক্ষমতাবান। এঁদের বিরুদ্ধে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কীই-বা করার আছে। কিছু করতে চাই না। কোনো রকমে বেঁচে আছি, সেভাবেই থাকতে চাই।’
আরও তিন মামলার তিন বাদীর অনুরোধ, তাঁদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়েছে, সেটা যেন প্রকাশ না পায়। তাঁদের বক্তব্য, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এঁদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না। এ জন্য মামলা নিয়ে তাঁরা কিছুই ভাবছেন না। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ আসার পর তা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই সুপারিশের বিরুদ্ধে কেউ কোনো আপত্তি দেয়নি। ফলে এর কার্যক্রম চলছে না।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আকবর আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, কারও কোনো আপত্তি না থাকায় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। তবে আদালতের অপর একজন আইনজীবী বলেছেন, মামলা দুটি বাতিল হয়ে গেছে, তা এখনো বলা যাবে না। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এটি আবারও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
আরও কয়েকটি মামলার বাদীর সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা প্রথম আলোকে বলেছেন, খান ভাইদের বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে কথা বলে তাঁরা আর নতুন করে বিপদে পড়তে চান না। কোনো রকমে এলাকায় আছেন, সেভাবেই থাকতে চান।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাদীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেন খান পরিবারের সদস্যরা। মামলা নিয়ে পুলিশ ও আদালতে দৌড়ঝাঁপ করা তো দূরের কথা, অন্তত চারটি বাদী পরিবার এখন এলাকাছাড়া হয়েছে। তারা এখন আর শহরে থাকে না। একটি পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য শুধু নিয়মিত বাসায় থাকেন। ছেলে সদস্যরা ঢাকা বা অন্য কোথাও থাকছেন।
মামলা চলছে না কেন, জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, বাদীদের অসহযোগিতার কারণে অনেক মামলাই আর চলেনি। তবে এ জন্য বাদীদের দোষ দেওয়া যায় না। নানা কারণে তাঁরা মামলা চালাতে চাননি। পুলিশেরও কিছু দায় ছিল।
এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ’৯৭ সালের এপ্রিলে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম তালুকদার খুন হন। ঘটনার পর তাঁর চাচা মতিয়ার রহমান তালুকদার বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্তে দুই ভাই মেয়র সহিদুর রহমান ও আমিনুর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। তাঁদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তদন্ত আর এগোয়নি।
১৯৯৯ সালের মে মাসে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম খুন হন। তিনি খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু দরপত্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খান পরিবারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। খোরশেদের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ খান পরিবারের তিন ভাইয়ের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এর বিরুদ্ধে মাজেদা বেগম নারাজি জানালেও ফলাফল শূন্য।
এদিকে ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় গণভবনে ফারুকের স্ত্রী নাহারকে ডেকে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাহার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বিচারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। খুনিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, খুনি যে-ই হোক, তাদের ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাহার জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, কাদের সিদ্দিকীর মতো নেতাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো নেতাই দলের চেয়ে বড় নয়।
খান পরিবারের নেতাদের বাইরে আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। তিনি পৃথক সময়ে টাঙ্গাইলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খান ও সিদ্দিকী দুই পরিবারেরই সমালোচনা করেন বলে স্থানীয় নেতারা জানান।

Thursday, October 23, 2014

নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার খালেদা জিয়ার by তানভীর সোহেল ও মীর মাহমুদুল হাসান

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার জন্য নিজের ও ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি দোষ দেব আমাদের। আমরা পারিনি। আমি ধন্যবাদ দেব আপনাদের। আপনারা সারা দেশে কঠোর আন্দোলন করেছেন।’
আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। দশম সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থতার কথা বললেও আগামী দিনে সরকার পতন আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সেবার ঢাকা আন্দোলন করতে পারেনি। কিন্তু এবার ইনশাল্লাহ পারবে। ঢাকাও আন্দোলন করবে। সারা দেশ আন্দোলন করবে।’
প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার বিভাগের সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনীতি খারাপ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে বলেন, ‘লাঙ্গল আর লাঙ্গল নেই। লাঙ্গল নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে।’

>>আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছেন খালেদা জিয়া। নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ছবি: প্রথম আলো
ভবিষ্যতে ২০-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নির্দলীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগ গড়া, গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ করা যেন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, দুর্নীতি দমন কমিশনে সৎ, শক্ত লোককে বসানোর কথা বলেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া যখন জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান, তখন বিশাল মাঠ প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। সমাবেশ মঞ্চের কাছে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের প্রাধান্য ছিল বেশি। তবে এবার ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও কিছু অংশ দখলে রাখেন।
হাসিনাকে বিদায় করে তবেই ঘরে ফেরা
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘প্রতিহত’ করার ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে তাঁর সেই আহ্বান শেষ পর্যন্ত সফল করতে পারেনি বিএনপি ও জোটের শরিকেরা। কবে নাগাদ সরকার পতনের সেই আন্দোলন শুরু হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে জনগণকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যখনই সময় আসবে, তখনই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এবার আন্দোলন শুরু হলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে বিদায় করে তবেই ঘরে ফেরা হবে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ভালো কথায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে কঠোর আন্দোলন করতে হবে। যাকে বলে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হবে।
সরকারকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, সরকারকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। শুধু বিদেশে গিয়ে ছবি তুললেই, ফটোসেশন করলেই স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে কেউ স্বীকৃতি দেবে না।
সরকারের মামলায় ফতুর হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা
খালেদা জিয়া বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল। সেগুলো কীভাবে শেষ হলো। আর বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো কেন শেষ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা মামলার হাজিরা দিতে দিতে ফতুর হয়ে যাচ্ছে।
র‌্যাব টাকার বিনিময়ে খুন করছে
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার মিথ্যার ওপর ভর দিয়ে টিকে আছে। কিন্তু এভাবে টিকে থাকা যাবে না। চুরি করে ক্ষমতায় থাকা যায় না। ভোট দেন, ভোটে জিতলে ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি বলেন, সরকার ব্যার ও পুলিশকে রক্ষী বাহিনী বানাচ্ছে। র‌্যাব টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করছে। র‌্যাবকে বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, রক্ষীবাহিনী ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে আর এরা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছে।
জামায়াতের ধমকে চুপ বিএনপি
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন টেলিভিশনগুলো সরাসরি দেখানো হবে বলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারপারসনের জনসভার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়। তাঁর সাড়ে তিনটায় জনসভাস্থলে আসার কথা থাকলেও তিনি সোয়া তিনটায় পৌঁছান। ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে শেষ করেন ৫টায়। সমাবেশ নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর তোপের মুখে পড়েন বিএনপির নেতারা। মঞ্চে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি যখন তাঁর বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর দলের নেতাদের মুক্তি চাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শামসুজ্জামান ও কয়েকজন নেতা তাঁকে বক্তব্য এক মিনিটে শেষ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত একটা দল। তাদের এক মিনিটে হবে না।’ এতে চুপসে যান বিএনপির নেতারা। এরপর জামায়াতের নেতা আট মিনিটের মতো বক্তব্য দেন।
সমাবেশ স্থলে জামায়াত ও তাঁদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যকরা গেছে। তারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশস্থলের সামনের বেশির ভাগ জায়গা দখল করে রাখেন।
ছাত্রদলের নতুন কমিটির পরিচিতি
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্রদলের পদবঞ্চিত পক্ষের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

>>নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের জনসভায় আগত নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট এই জনসভার আয়োজন করে। এরপর ৩০ অক্টোবর নাটোর, ৬ অথবা ৭ নভেম্বর কুমিল্লা এবং ১২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে একই দাবিতে আরও ছয়টি জেলায় জনসভা করেন খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারির পর কয়েকবার আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত ২০-দল জনসভার মধ্যেই তাদের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রেখেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিসুল আরেফিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, জমিরউদ্দিন সরকার, ঢাকা মহানগরের বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জহুরুল আলম, বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ রিনা পারভীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বগুড়ায় আসেন। আজ রাতেই খালেদা জিয়া ঢাকার উদ্দেশে নীলফামারী ছাড়েন। জনসভা শেষে খালেদা জিয়া নীলফামারী সার্কিট হাউসে যান। সেখানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে নিহত চারজনের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন তিনি।

Monday, July 8, 2013

সাক্ষাৎকার সব অভিযোগের জবাব দেব কাজের মাধ্যমে: মান্নান by তানভীর সোহেল

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম এ মান্নান বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এ নিয়ে আমার আর কিছুই বলার নেই।’্ল

Wednesday, July 3, 2013

জাতীয় পার্টিকে পাশে পেতে দুই দলই তৎপর by তানভীর সোহেল

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুটি দলই জাতীয় পার্টিকে পাশে রাখতে চাইছে। আবার জাতীয় পার্টিও বড় দুটি দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলার কৌশল নিয়েছে। মহাজোট ত্যাগ করা কিংবা ১৮-দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক

Saturday, June 15, 2013

আজকের ফল আগামীর সংকেত জয়-পরাজয় দুটোতেই লাভ বিএনপির by তানভীর সোহেল

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল দেখে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ওপর দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির অনেকটা নির্ভর করছে।

Monday, June 3, 2013

সংসদ অধিবেশন আজ শুরু নির্বাচনকালীন সরকার সংসদে আলোচনার প্রস্তাব বিএনপির by তানভীর সোহেল

নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে এখন সংসদেই আলোচনা করতে চায় বিএনপি। এ জন্য আজ সোমবার শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে এক বা একাধিক কার্যদিবসের নির্ধারিত কার্যক্রম মুলতবি রেখে এ নিয়ে আলোচনার জন্য লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

Wednesday, January 23, 2013

মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতা- সংকটে পড়তে পারে জামায়াত by তানভীর সোহেল

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সঙ্গে গঠনতন্ত্রে অসামঞ্জস্যতার কারণে এমনিতেই সংকটে আছে জামায়াতে ইসলামী। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কারণে দলটি নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

Wednesday, January 2, 2013

আগামী নির্বাচনেও রিটার্নিং কর্মকর্তা হচ্ছেন ডিসিরা by তানভীর সোহেল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল, নিজস্ব জনবল থেকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।