Friday, October 1, 2010

পুঁথির জন্য জীবনপাত by আবদুর রাজ্জা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে এক বিরল ব্যক্তিত্ব। উচ্চশিক্ষা বলতে যা বোঝায়, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের তা ছিল না। ঐশ্বর্যের মধ্যে তিনি লালিত-পালিত হননি—জীবনকাল অতিবাহিত হয়েছে দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অনটনে। যত দিন যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বিনির্মাণে তাঁর কাজের গুরুত্ব ক্রমে স্বীকৃতি পাচ্ছে। আজ তাঁর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।
উপমহাদেশের বরেণ্য পুঁথিগবেষক ১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাতৃজঠরে থাকতেই আবদুল করিম পিতৃহীন হন। তাঁর চাচা আছিরুদ্দীনের স্নেহে লালিত-পালিত হন তিনি। স্থানীয় সুচক্রদণ্ডী বঙ্গ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় তাঁর। ১৮৯৩ সালে তিনি স্থানীয় পটিয়া ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। উচ্চশিক্ষার অর্জনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। এফএ (বর্তমান এইচএসসি) পরীক্ষা দেওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁকে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়। তবে এর মধ্যেই সংস্কৃত ভাষায় তিনি পাণ্ডিত্য অর্জনে সক্ষম হন।
সাহিত্যবিশারদের কর্মজীবনের সূচনা শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল এবং পরে সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরির মোহেই তিনি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে কেরানির পদে চাকরি করেন। তখন কমিশনারের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছিলেন কবি নবীনচন্দ্র সেন। নবীন সেন আবদুল করিমের লোকসাহিত্যপ্রীতি ও তাঁর সাহিত্য-প্রতিভার খবর জানতেন। সে কারণে তিনি আবদুল করিমকে স্নেহ করতেন। আবদুল করিম স্থানীয় জ্যোতি পত্রিকায় এক বিজ্ঞপ্তি ছাপালেন, ‘যাঁরা আমাদের হাতের লেখা পুঁথি সংগ্রহ করে দেবেন, তাঁদের বিনা মূল্যে এক বছর জ্যোতি পত্রিকা দেওয়া হবে।’
তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রাচীন পুঁথিগুলো সংগৃহীত ও উপযুক্তভাবে সংরক্ষিত না হলে প্রাচীন সাহিত্যের বিপুল ভান্ডার লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যাবে, হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যের মূল্যবান উপকরণ। তাই শারীরিক-সাংসারিক কষ্ট স্বীকার করে, বহু লাঞ্ছনা ও অপমান সহ্য করে পুঁথি সংগ্রহ করেছেন তিনি।
ছোটকালে তাঁর বাড়িতে অনেকবার পুঁথির আসর বসেছে। পুঁথির প্রতি তাঁর একটা আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথম যে পাণ্ডুলিপিটির সন্ধান পান তিনি, সৌভাগ্যক্রমে সেই পুঁথি ছিল আলাওলের পদ্মাবতী। তখন তিনি আনোয়ারা স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ওখানে এক চাষির ঘরে তিনি পুঁথিটি পান। এই পুঁথির আবিষ্কার তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, নতুন পুঁথি আবিষ্কারের নেশা তাঁকে পেয়ে বসে। সাহিত্যের গবেষণায় তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর কাজের ফলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নতুন করে লেখার প্রয়োজন পড়ে।
তাঁর সংগৃহীত পুঁথির সংখ্যা আড়াই হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়। এর মধ্যে মুসলিম কবি রচিত পুঁথির সংখ্যা এক হাজার দুই শয়ের ওপরে বলে অনুমান করা হয়। পুঁথি সংগ্রহ করেই তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। পুঁথি তিনি সম্পাদনা করেছেন, পুঁথির পরিচিতি লিখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিরন্তর লিখে গেছেন। তিনি প্রায় ৬০০ মৌলিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করেন, যার প্রধান বিষয় ছিল মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য। সে সময়কার প্রধান প্রধান পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। সাধনা, কোহিনুর, নবনূর, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা, এডুকেশন গেজেটের মতো উন্নত পত্রিকায় তাঁর রচনা ছাপা হতো। একাধিক পত্রিকার তিনি সম্পাদক ছিলেন। তিনি তাঁর বিপুল সংগ্রহ থেকে প্রায় ৬০০ পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেন। আরও ৪৫০টি পুঁথি তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে অধ্যাপক আহমদ শরীফ দান করেন বরেন্দ্র মিউজিয়ামে।
শুধু সংখ্যা দিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সংগ্রহের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যাবে না। এই সংগ্রহের ফলেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বহু অপরিজ্ঞাত কবি, অজ্ঞাতপূর্ব কাব্য ও অপরিচিত তথ্যের সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি। শাহ্ মুহাম্মদ সগীর, জয়নুদ্দীন, সৈয়দ সুলতান, দৌলত উজীর বাহারাম খান, মুহাম্মদ কবীর, শাবিরিদ খান, শেখ চাঁদ, মুহাম্মদ খান, আলী রাজা প্রভৃতি কবির কথা তাঁর মাধ্যমে জানা গেছে। শ্রীধরের বিদ্যাসুন্দর কিংবা ভবানী , গোপীচন্দের পাঁচালী তাঁরই সংগৃহীত।
আজীবন সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের সুধীসমাজ তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ এবং নদীয়ার পণ্ডিতসমাজ তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দেন। সাহিত্যবিশারদ প্রথম সংগ্রাহক, যিনি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কবিদের রচিত পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। তদানীন্তন ব্রিটিশ-শাসিত পূর্ববাংলায় সাহিত্যবিশারদ একমাত্র সাহিত্যব্যক্তিত্ব, যিনি মধ্যযুগের রচিত বাংলা সাহিত্যের পুঁথি সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে আহমদ শরীফ বলেন, তাঁর সংগৃহীত পুঁথিই আজ সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের মুখ রক্ষা করেছে। দীর্ঘদিন তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ কর্মীপুরুষ ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান।

নেপাল বদলাচ্ছে, রাজনীতিকেরা বদলাচ্ছেন না by সোহরাব হাসান

২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের পতন এবং গণতন্ত্রের জয়যাত্রা নেপালি জনগণকে যতটা আশাবাদী করে তুলেছিল, কিন্তু আজ রাজনৈতিক দলগুলোর বৈরী ও আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড তারচেয়ে বেশি হতাশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। অনেকেই রাজনীতিকদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন; কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন, এর চেয়ে রাজতন্ত্রই ভালো ছিল। গণতন্ত্রের চেয়ে কখনোই রাজতন্ত্র বা সামরিক শাসন ভালো হতে পারে না। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে রাজনীতিকেরা গণতন্ত্রের নামে যেভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাতে জনগণ আর তাঁদের ওপর ভরসা করতে পারছে না। বাংলাদেশ বা নেপালও তার ব্যতিক্রম নয়।
৯ সেপ্টেম্বর মধ্যাহ্নে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইট যখন ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করল, তখন নেপালের নবরূপ চোখে পড়ল। ১০ বছর আগে শেষবার নেপাল ভ্রমণে গিয়ে যে হতশ্রী কাঠমান্ডু দেখেছিলাম, এখন তা অনেকটাই বদলে গেছে। রাস্তার দুই পাশে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে, শহরে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল বেড়েছে, মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে নতুন মার্কেট, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গড়ে উঠছে নাইট ক্লাব, নতুন নতুন আবাসিক হোটেল। সালোয়ার-কামিজ ছেড়ে প্যান্ট-শার্টে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে নবপ্রজন্মের নেপালি নারী; অনেক বেশি মেয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁরা চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও মনোনিবেশ করছেন। দেশটির অর্থনীতিও ১০ বছরের গৃহযুদ্ধ এবং বিশ্বমন্দার ধকল কাটাতে সক্ষম হয়েছে। বাড়ছে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, জনপ্রতি আয়। সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে যখন ধর্মীয় উন্মাদনা বাড়ছে, বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্রটি বাইরের চাপ ছাড়াই তখন প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। এ সবই ছিল আশা ও উদ্দীপনার দিক।
কিন্তু বহিরাঙ্গে নেপাল যতটা অগ্রসর হয়েছে, অন্তরঙ্গে তার ছাপ নেই। রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিকেরা সেকেলে ধ্যান-ধারণা ঝেড়ে ফেলে একযোগে কাজ করার মানসিকতা অর্জন করতে পারেননি। নেপালের তিনটি প্রধান দল—মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফাইড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) ও নেপালি কংগ্রেস। বিগত নির্বাচনে ৬০১ সদস্যের গণপরিষদে তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা যথাক্রমে ২৩৮, ১০৯, ১১৫। কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রথমে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও অপর দুই দল তাঁকে সহযোগিতা করেনি। মাওবাদী ও সিপিএন-ইউএমএল একমত হতে না পারায় শেষ পর্যন্ত নেপালি কংগ্রেস প্রার্থী রামচরণ মাধবই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
নেপালে বর্তমানে প্রধান তিন দলের মধ্যে যে ক্ষমতার লড়াই চলছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগণ। প্রচণ্ড তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বকালে দলীয় কর্মী-সদস্যদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন বলে অভিযোগ আছে। আবার মাওবাদীদের নালিশ হলো, তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। প্রচণ্ড মাওবাদী গেরিলাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণের নির্দেশ দিলেও সেনাপ্রধান তাতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বরখাস্তের নির্দেশ দিলে রাষ্ট্রপতির অসম্মতির কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবাদে প্রচণ্ড পদত্যাগ করেন। সিপিএন-ইউএমএলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বে। পরে মাওবাদীরা গত মে মাসে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে সেই সরকারও পদত্যাগে বাধ্য হয়। অগ্রবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাধব কুমার নেপাল কাজ চালিয়ে যেতে রাজি হন এই শর্তে যে দুই মাসের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসে আটবার ভোটাভুটি হলেও সাংসদেরা একজন প্রধানমন্ত্রী বাছাই করতে পারেননি। তিন প্রধান দলের কেউই অন্যকে ছাড় দিতে রাজি নয়। কোনো দল প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী দিলে অন্য দুই দল ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হন। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে সিপিএন-ইউএমএল ও মাওবাদীরা বলেছিল, সব দলের প্রার্থী প্রত্যার করে মতৈক্যের ভিত্তিকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়াও উল্লিখিত তিন দলের মধ্যে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে; যার মীমাংসা ছাড়া নেপালে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা ছাড়া প্রস্তাবিত সংবিধানও বর্ধিত সময় অর্থাৎ ২০১১ সালের মে মাসের মধ্যে প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না। কে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন এবং তার বিনিময়ে কী পাওয়া যাবে সেই হিসাব-নিকাশ চলছে রাজনীতিকদের মধ্যে। তিন দলের মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য ক্রমেই ঘুচে এসেছে; বড় হয়ে উঠেছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ। আদর্শের দিক থেকে মাওবাদী ও সিপিএন-ইউএমএলের মিল থাকলেও এতে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকট।
গত সপ্তাহে সিপিএন-ইউএমএলের সমঝোতাও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে পারেনি। এর আগেও বহুবার রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতার কাছাকাছি এসেও তীরে এসে নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে। যে কারণে দুই বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদে সংবিধান রচনা করতে পারেনি। ফলে গণপরিষদের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সংবিধান অনুমোদন করতে হলে তিনটি প্রধান দলকেই মতৈক্যে আসতে হবে। সরকার-পদ্ধতি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল সংসদীয় গণতন্ত্রের সমর্থক হলেও মাওবাদীরা চায় রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার।

২.
তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডেই নেপালি জনগণ হতাশ ও বিভ্রান্ত। কাঠমান্ডুতে, পোখরায় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ, যাঁদের সঙ্গেই কথা হয়েছে, বলেছেন, রাজনীতিকেরা দেশটির সর্বনাশ করছেন। দুই বছরেও সংবিধান রচনা করতে না পারা কিংবা বারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ খোদ রাজনীতির ওপরই আস্থা হারাতে বসেছে। নেপালে আমাদের অবস্থানকালে পত্রপত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাও রাজনীতি বা রাজনীতিকদের জন্য সম্মানজনক নয়।
কাঠমান্ডু পোস্ট-এ চীনা দূতাবাসের জনৈক কর্মকর্তার সঙ্গে মাওবাদী এক নেতার কথোপকথনের বিবরণ ছাপা হয়েছে, যাতে মাওবাদী নেতা অন্য দল থেকে সাংসদ কেনার জন্য ৬০ লাখ রুপি চেয়েছেন। নেপালি গোয়েন্দা বিভাগ কথোপকথনের টেপ উদ্ধার করেছে। চীনাপন্থী বলে পরিচিত মাওবাদীরা চীনের কাছে এই অর্থ চেয়েছে, যাতে নেপালি কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে না পারে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দুই কমিউনিস্ট পার্টির তিন দফা সমঝোতা চুক্তি সইয়েও চীনের ভূমিকা আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও কাঠমান্ডু এসেছিলেন। নেপালের সাধারণ মানুষ এসব তৎপরতা সুনজরে দেখছে না। নাগরিক সমাজের কোনো কোনো প্রতিনিধি মনে করেন, নেপালের রাজনীতি এখন সীমান্তের বাইরে চলে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি ব্যাপারে দেশটি ভারতের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। বেশ কয়েক বছর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন অধিকারী এই নিবন্ধকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমরা শুধু ভূমি দ্বারা অবরুদ্ধ নই, ভারত দ্বারাও অবরুদ্ধ।’ মেক্সিকোর সাধারণ মানুষ যেমন ভাবে তারা আমেরিকা দ্বারা শোষিত, তেমনি নেপালের জনগণও মনে করে ভারত তাদের শোষণ করছে। নিজেকে ফ্রিডম পার্টির নেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী বিক সম্রাট সিং আলাপ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা ধর্ম ও বিপ্লব—দুটিই চাই। বাইরের সংস্কৃতি নেপালের সংস্কৃতির প্রাণভোমরাটিকে গলা টিপে হত্যা করছে, এর বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।’ একদা আবুধাবিতে বসবাসকারী এই তরুণ বলেন, ‘সব ধর্মে শান্তির কথা থাকলেও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি একে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর শেষ মন্তব্য ছিল, ধর্মানুরাগী তরুণ নেতৃত্বই নেপালকে বাঁচাতে পারে। তাঁদের হাতে দেশের নেতৃত্ব না দিলে একসময় হয়তো চীন ও ভারত দেশটি ভাগাভাগি করে নেবে। এত দিন তরুণ মুসলিম জঙ্গিদের কণ্ঠে যেসব কথা শুনেছি, তাঁর কণ্ঠে একই প্রতিধ্বনি লক্ষ করে বিপদের আশঙ্কা করি।
নেপাল কংগ্রেস বা সিপিএন-ইউএমএলের কাজকর্ম সম্পর্কে সে দেশের জনগণ মোটামুটি ওয়াকিবহাল। তারা একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেছে; তারা কতটা পারবে না-পারবে সে সম্পর্কেও তাদের মোটামুটি ধারণা আছে। তাদের কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। কিন্তু যে মাওবাদী পার্টি বিপ্লবকালে জনগণকে আকাশচুম্বী স্বপ্ন দেখিয়েছে, মুক্তাঞ্চলে তারা জোতদারদের জমি কৃষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে; ক্ষমতায় গিয়ে দেখেছে পরিবর্তন আনাটা কত কঠিন। তাদের স্লোগান ছিল রাজতন্ত্রের পতন। রাজতন্ত্রের পতন হওয়ায় প্রচণ্ড ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছেন; কিন্তু যে হাজার হাজার তরুণ তাঁদের কথায় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরা কিছুই পাননি। তাঁদের অবস্থান হয়েছে জাতিসংঘ মিশনের তত্ত্বাবধানাধীন ক্যাম্প।
এ কারণেই মাওবাদীদের প্রতি সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের সমর্থন কমে গেছে। কেবল নেপাল নয়, আরও যেসব দেশে সশস্ত্র উপায়ে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, সেসব দেশেও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। আজ ভারতে মাওবাদীরা আদিবাসীসহ প্রান্তিক মানুষগুলোকে যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেও তা পূরণ করতে পারবে, সে কথা কেউ বিশ্বাস করে না। ফলে বিপুল ও বিশাল জনগোষ্ঠী যাঁদের হুকুম তামিল করে, হাতিয়ার হাতে নিয়ে প্রতিশোধস্পৃহায় সবকিছু তছনছ করে দেয়, তাঁরা জানেন না বিপ্লবের পর কী হবে?
পোখরার ফেওয়া লেক-এ নৌকার হাল ধরেছিল কুল বাহাদুর নামে যে হাসিখুশি মুখের যুবক, তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাজনীতিক সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? সে চটপট জবাব দিল, ‘বহুত গরবর হ্যায়।’ উন্নয়নশীল দেশের গণতন্ত্র তথা রাজনীতিকদের সঙ্গে জনগণের এই দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
সাংবাদিক নিত্যনন্দ তিনসিনা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তথাকথিত নবনেপালের কারিগরেরা যদি জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এবং সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করতে না পারেন, সেটি হবে দেশ ও জাতির জন্য চরম বিপর্যয়।
কাঠমান্ডু পোস্ট ১৪ সেপ্টেম্বর সম্পাদকীয়তে সেই অবিস্মরণীয় উক্তিই করেছে, যা প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিকদের জন্য প্রযোজ্য: জনগণের কাছে এটি প্রতিভাত যে রাজনীতিকেরা তাদের (জনগণ) আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মোটেই ভাবেন না, তাঁরা রাষ্ট্রকে নিজেদের সংকীর্ণ, দলীয় স্বার্থে ব্যবহারে পারঙ্গম এবং সেটি করতে চান অনন্তকাল ধরে।
নেপালে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন টানক্যানট এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে। এখন এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি বলতে পারবেন, সমাধান বের করতে হবে।
নেপালের রাজনীতিকেরা কি নেপালবাসীকে আশার আলো দেখাবেন, না ক্ষমতার লড়াইয়ে অনাদিকাল ব্যাপৃত থেকে তাদের সামনে মুলো ঝুলিয়ে রাখবেন। এ ক্ষেত্রে সদ্য রণাঙ্গন ত্যাগ করা মাওবাদী, পরীক্ষিত বামপন্থী সিপিএন-ইউএমএল কিংবা ঐতিহ্যবাহী নেপালি কংগ্রেসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুবই কম বলে অধিকাংশ নেপালবাসী মনে করে।
নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির মিল-অমিল দুটিই আছে। নেপালে ও বাংলাদেশে প্রায় একই সময়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচিত হয় ১৯৯১ সালে। এর মধ্যে নেপালে অনেক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে, রাজতন্ত্রের পতন হয়েছে। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক রাজতন্ত্র নেই (তবে কারও মতে যা চলছে তা রাজতন্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়)। আরেকটি পার্থক্য হলো, নেপালে এত কিছুর পরও কোনো দল সংসদ (গণপরিষদ) বর্জন করেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিকেরা বিরোধী দলে থাকলে সংসদে যেতে পছন্দ করেন না। আবার সরকারি দলে থাকলে অন্যের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাও তাঁরা অর্জন করতে পারেননি।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

মানবাধিকার রক্ষায় সুশীল সমাজের ভূমিকা by আই এ রহমান

দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকারকর্মীরা যখনই মানবাধিকার পরিস্থিতির সমীক্ষা করতে একত্র হন, তাঁদের উল্লসিত হওয়ার তেমন কিছুই থাকে না। শুধু তাঁদের নিরন্তর সংগ্রামই আশাব্যঞ্জক। ভারতের রাজধানীতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী একটি সম্মেলনও এর ব্যতিক্রম নয়।
সার্কভুক্ত দেশগুলো (ভুটান বাদে) থেকে আগত প্রতিনিধিদের সবার মনের ওপর ভর করেছিল পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যা। দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকারকর্মীরা যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ত্যাগের মনোভাব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন, তার গভীরতা বোঝা যাচ্ছিল। যদিও এ বোঝাপড়া এবং পরস্পরের কাছাকাছি আসার পথ সহজ নয়—প্রায় পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই শম্বুকগতির আমলাতন্ত্র যতটা সম্ভব সুশীল সমাজের জায়গা সংকুচিত করতে সচেষ্ট থাকে। তবে বন্যা-আক্রান্ত জনগণের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের নজিরবিহীন বিপর্যয়কে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসহায়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো দিতে না পারায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষভাবে পীড়াদায়ক ছিল আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রটোকল সক্রিয় করা কিংবা অন্তত আহ্বান করার ক্ষেত্রেও সার্কের ব্যর্থতা। কোনো সদস্যদেশ আঞ্চলিক এই চুক্তিকে কেন উজ্জীবিত করল না, তা বোধগম্য হয়নি।
পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর সুশীল সমাজ, চিকিৎসক, ওষুধ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতো গোষ্ঠীর কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে পাকিস্তান কোনো স্পষ্ট নীতি গ্রহণ করেনি বলে বেশ জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র মানুষে মানুষে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব বা কল্পিত—যে ধরনের প্রতিবন্ধকতাই থাকুক না কেন, তা দূর করতে হবে। ভারত থেকে পাকিস্তানে ত্রাণসহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রেও কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না। কেননা কেউ চায় না যে এমন লোকদের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, যারা সব ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ মনোভাব জারি রাখতে চায়, এমনকি প্রতিবেশী দেশের ত্রাণসহায়তার প্রস্তাবকেও তারা অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানবিক কাজে সহযোগিতা আমাদের দক্ষিণ এশীয় পরিচয় এবং আমাদের নিয়তি যে একই—এ ধারণাকে জোরালো করবে। আবদুল সাত্তার ইধি ও বেশ কিছু পাকিস্তানি কয়েক বছর আগে ভারতের গুজরাট রাজ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার সময় সেটা বেশ ভালোভাবেই দেখা গেছে।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে সতর্ক মানবাধিকারকর্মীর পক্ষেও অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয় কাশ্মীর উপত্যকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড কিংবা শ্রীলঙ্কায় কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনব্যবস্থা কায়েমের দিকে যাত্রা, বিচারবহির্ভূত হত্যা আর গণমাধ্যমের ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগের মতো বিষয়গুলো। কিন্তু সম্মেলনটিতে একধরনের ইতস্তত ভাব কাজ করেছে যে, এসব ব্যাপার নিয়ে উচ্চবাচ্যের ফল ইতিবাচক না হয়ে নেতিবাচকও হতে পারে। কোনো অবস্থাতে, কোনো প্রকারে যেন মানবাধিকার খর্ব না হয়, এ ব্যাপারে অংশগ্রহণকারীরা আন্তরিক প্রচেষ্টা নেওয়ার আহ্বান জানান।
আফগানিস্তান বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বেশ খোলা মনে। আফগান জনগণের ভাগ্য নির্মাণে নিজস্ব মতকে আরও প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সম্মেলনে মতৈক্য দেখা গেছে। বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের মাটিতে সদর্প পদচারণ চালিয়ে যাওয়া বিদেশি শক্তিগুলোর উপস্থিতি সমস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যারই অংশ—এমন কথা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে। আফগানিস্তানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না থেকে ভারত ও পাকিস্তানের উচিত পারস্পরিক আঞ্চলিক স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের মাটিতে শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য যৌথভাবে একটি দক্ষিণ এশীয় উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া।
পাকিস্তানে আটক থাকা ৪৫০ জন ভারতীয় জেলের মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার ঘটনাটি ছিল প্রতিনিধিদের জন্য একমাত্র স্বস্তিদায়ক ব্যাপার। সুশীল সমাজের সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা প্রশংসিত হয়। পাকিস্তান ও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যত দ্রুত এবং যেমন দরদি ভূমিকা নিয়েছিল, তা সার্কভুক্ত কোনো দেশের নাগরিকের অন্য দেশে বন্দী থাকার বিষয় মীমাংসার ক্ষেত্রে শুভ লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। এ-সংক্রান্ত আলোচনা ছিল মূলত পাকিস্তান ও ভারতকেন্দ্রিক। এ দুটি দেশের মধ্যে বন্দীদের ব্যাপারে মীমাংসায় পৌঁছার বিষয়টি অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এ সম্মেলনে জোর দাবি তোলা হয়, বন্দীদের বিষয় দেখার জন্য দক্ষিণ এশীয় কনভেনশন/প্রটোকল গঠন করা হোক, যেখানে উঠে আসবে বিদেশের মাটিতে বিচার, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং সাজা খাটার পর তাৎক্ষণিকভাবে বন্দীদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার মতো বিষয়গুলো।
এ সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় ছিল সন্ত্রাসবাদ। সব অংশগ্রহণকারী পুরোপুরি একমত হন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর স্থিতিশীলতা, অখণ্ডতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি সন্ত্রাসবাদ। তা সে যে নামেই পরিচালিত হোক না কেন। রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থে যারাই নিরপরাধ মানুষ হত্যা করুক কিংবা যে গোষ্ঠীই এর ফায়দা লুটুক না কেন, তা এই হুমকি তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদের দ্বারা কোনো বিভক্তি সৃষ্টি হতে না দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর সন্ত্রাসবাদবিরোধী একটি সম্মিলিত পাটাতন তৈরি করা উচিত—এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেন।
পাশাপাশি এ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুযোগে যথাযথ প্রক্রিয়া না মানা এবং মৌলিক অধিকার খর্ব করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, বেআইনি আটকাদেশ, বিচার-প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, দায়মুক্তি দেওয়ার হার অনেক বেড়ে যাওয়া এবং হঠাৎ অন্তর্ধানের মতো বিষয়গুলো সমালোচিত হয়। দক্ষিণ এশীয় সব রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের কনভেনশন অন ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাসহকারে এবং যৌক্তিক পথে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কর্মকৌশল প্রণয়ন করার জন্য এ সম্মেলন থেকে আহ্বান জানানো হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার নানা প্রান্তে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয় বিষয়ে প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর ও স্বচ্ছ রাজনীতি তৈরির বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মতৈক্যে পৌঁছা সম্ভব হয়েছিল। জনগণের, বিশেষত তরুণদের, রাজনীতির প্রতি নিস্পৃহতা দূর করার জন্য এবং অদক্ষ, দুর্নীতিপরায়ণ ও স্বার্থান্বেষী দলবাজদের করায়ত্ত থেকে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করার জন্য এটা প্রয়োজনীয়।
যে মানবাধিকারকর্মীরা সমাজে দুর্দশার পেছনের কারণগুলো যাচাই করতে চেষ্টা করেছেন, তাঁরা এ কাজের গুরুত্ব বা শক্তি সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি থেকে তা করেননি। তাঁদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস আছে, ভেজাল রাজনীতির ভাঁড়ামি আর লম্বা-চওড়া কথার চেয়ে যাঁরা চাপে-থাকা-জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগের অংশীদার, তাঁদের কণ্ঠস্বর গণমাধ্যম ও অন্য গণপরিসরে উঠে আসা অনেক বেশি সংগত।
>>>ইংরেজি থেকে অনূদিত
>>আই এ রহমান: পাকিস্তানি প্রবীণ সাংবাদিক।

তালিপামের পরম্পরা কয়েকটি প্রস্তাব by মোকারম হোসেন

তালিপামের কথা প্রথম জানতে পারি বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম প্রকাশিত রেড ডেটা বুক অব ভাস্কুলার প্লান্টস অব বাংলাদেশ বইটি পড়ে। প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। গ্রন্থের পৃষ্ঠাজুড়ে তালিপামের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি ছাপা হয়। প্রাথমিকভাবে গাছটিকে তালগাছ না ভেবে উপায় নেই। কারণ, গাছের কাণ্ড ও পাতার গড়ন হুবহু তালগাছের মতোই। গাছটির পাশেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি উঁচু আবাসিক ভবন। তার নবম তলায় থাকেন চারুকলার বর্তমান ডিন শিল্পী মতলুব আলী। তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে সরাসরি গাছটি দেখা যায়। আর দশজনের মতো তিনিও গাছটিকে তালগাছই ভেবে আসছিলেন। গাছটি দেখতে দেখতে তিনি হয়তো আনমনা হয়ে গ্রামের কোনো দৃশ্য কল্পনা করেছিলেন। এভাবেই তাঁর ভাবনায় গেঁথে থাকে চিরচেনা একটি অপূর্ব দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎ করেই কেউ যেন তাঁর চিরচেনা সেই দৃশ্যটি বদলে দেয়। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে তালগাছের মাথা ফুঁড়ে দীর্ঘ এক মঞ্জরিদণ্ড গজায়। বিস্ময় মানেন তিনি। এমন তালগাছ কি জীবনে কখনো দেখেছেন! নিছক তালগাছ ভেবেই এত দিন যার ক্যানভাস সাজিয়েছেন, রং-তুলিতে এখন কীভাবে তা বদলে দেবেন। যখন শুনতে পান, এ গাছটি নিতান্তই দুর্লভ এবং বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক তালিপাম, তখন তাঁর বিস্ময়ের মাত্রা আরও বাড়ে। তত দিনে পত্রিকা পড়ে জেনেছেন গাছটির শেষ পরিণতি। সিদ্ধান্ত নিলেন, ফুল থেকে ফল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তাঁর চিত্রকর্মে ধরে রাখবেন। দীর্ঘদিন সময় নিয়ে কাজটি শেষ করেছেন তিনি। আমিও গত এক বছর গাছটির বিভিন্ন পরিবর্তন ক্যামেরায় ধারণ করার জন্য তাঁর বাসাটিই ব্যবহার করেছি। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তালিপাম ফুল ও ফল দেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করে। আমাদের তালিপামটি দুটো প্রক্রিয়াই শেষ করেছে। নিজের স্বেচ্ছামরণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছে তার কয়েক হাজার সবুজ সন্তান।
তালিপামের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে প্রথম আলো। ২০০৮ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট চারটি প্রতিবেদন ও একটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদন পড়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পাঠক জেনেছেন পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক তালিপাম সম্পর্কে। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে গাছটি দেখতে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান। এই তালিপামটি নিয়ে কেন এত হইচই? গাছটি কি খুব সুদর্শন, সুস্বাদু ও দুর্লভ ফল পাওয়া যায়, নাকি দারুমূল্যে অনন্য? না, এর কোনোটিই নয়। প্রধানত আমাদের জানামতে এটি পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক তালিপাম; দ্বিতীয়ত, বঙ্গের নিজস্ব গাছ। ফুল ফোটার পর সবাই যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তা হচ্ছে যথাযথভাবে বীজ হবে কি না, বীজ থেকে স্বাভাবিকভাবে চারা হবে তো! অবশেষে আমাদের সব দুশ্চিন্তার অবসান হলো। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান হাজার খানেক চারা করতে সক্ষম হয়েছে। তা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগও ছয় শর মতো চারা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের বাসায় তালিপামের প্রথম উত্তরসূরি তৈরির চমকপ্রদ খবরটি গত ৮ মে একটি জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে জানা যায়। একক প্রচেষ্টায় এ কাজটি করেন মালী জাহাঙ্গীর আলম। পরে পর্যায়ক্রমে উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর খবর পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত বিলুপ্তির হাত থেকে একটি প্রজাতি রক্ষা পেল।
তালিপামের এসব অমূল্য চারা আমরা কী করব? যত দূর জানি, এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তালিপামের চারা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু আমরা চাই, এই চারাগুলো বিলি-বণ্টনে জাতীয়ভাবে একটি সমন্বয় থাকুক। সুষ্ঠুভাবে তদারক করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি কমিটি করা হোক। চারা রোপণের ক্ষেত্রে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শুধু চারা লাগালেই হবে না, সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। বৃদ্ধি শ্লথ হওয়ায় রোপণের পর কয়েক বছর একটু ভালোভাবে তদারক করতে হবে। এ কাজটি কোনো অবস্থায়ই যেন আমাদের বৃক্ষরোপণের মতো করুণ পরিণতিতে গিয়ে না ঠেকে।
প্রসঙ্গত, আরও দু-একটি প্রস্তাব রাখছি। প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য কয়েকটি চারা লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনে পাঠানো যেতে পারে। ‘কিউ’ সারা বিশ্বের বিচিত্র উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা কোনো ধরনের দুর্যোগে যদি আমাদের সব কটি পাম হারিয়েও যায়, তাহলে একমাত্র দীপশিখা জ্বালিয়ে রাখবে সেই গাছগুলো। আরেকটি বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিবেচনা করতে পারে। বহির্বিশ্বে এসব চারা বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশে তালিপামের চারা দিয়ে বিনিময়ে সেসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতিগুলো আমাদের দেশে নিয়ে আসা। তবে সেসব গাছপালা অবশ্যই উষ্ণমণ্ডলীয় আবহাওয়ার হতে হবে। না-হয় বাঁচিয়ে রাখাটাই হবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাতে আমাদের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নতুন নতুন প্রজাতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিরল এই পামগাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Corypha taliera। ভারতবর্ষে Corypha গণের চারটি প্রজাতি দেখা যায়। এগুলো হলো Corypha taliera (বাংলার নিজস্ব গাছ এবং অতি বিরল), C. umbraculifera (দক্ষিণ কেরালার নিজস্ব গাছ বলে ধারণা করা হয়, ঢাকার সিঅ্যান্ডবি বাগানে একটি গাছ ছিল, যা ২০-২৫ বছর আগে কেটে ফেলা হয়), C. elata (এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় বিস্তৃত, দেশের চট্টগ্রামে কয়েকটি লাগানো গাছ আছে, বলধা গার্ডেনের একমাত্র গাছটিতে ২০০৮ সালে ফুল ফোটে, বীজ থেকে নতুন করে চারা তৈরি করা হয়), C. macropoda (আন্দামান অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। জানামতে বাংলাদেশে নেই)। পামের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে পার্থক্য অতি সূক্ষ্ম। এ কারণেই অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তালিপাম নিয়ে সর্বশেষ একটি শুভ সংবাদ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।
বীজগুলো পরিপক্ব হওয়ার পরপরই এ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। অতিসম্প্রতি এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়। গবেষণা থেকে যে চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে তা হচ্ছে, তালিপাম মানুষের বার্ধক্য ঠেকাতে পারবে। খবরটি উৎসাহব্যঞ্জক। এমন একটি সম্ভাবনার কথা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন আবদুর রশীদসহ আরও কয়েকজন গবেষক। তালিপামের ফল নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা প্রাথমিকভাবে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো মানুষের বার্ধক্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। তাঁরা তালিপামের ফলকে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এজেন্টের’ একটি প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার জন্য আরও বছর দুয়েক সময় ও কিছু অর্থকড়ির প্রয়োজন। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্মটি যৌথভাবে সম্পাদিত হয়। আরও যাঁরা অংশ নেন তাঁরা হচ্ছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আবুল হাসান, ফার্মেসি অনুষদের ডিন মো. আবদুর রশীদ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এবং পিএইচডি গবেষক ও শিক্ষক আখতারুজ্জামান চৌধুরী। গবেষকেরা মনে করেন, মানুষ যে কারণে বৃদ্ধ হয়ে যায়, সেই কারণটাকে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে ওই রাসায়নিক উপাদানে। ফলে প্রৌঢ় বয়সেও মানুষ যুবকের মতোই অনুভব করবে। যদি সুচারুরূপে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফল অর্জন করা সম্ভব হয়, তাহলে তা হবে আমাদের এক বিরাট সফলতা, বিরাট অর্জন। আমরা অধীর আগ্রহে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছি।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক, সাধারণ সম্পাদক, তরুপল্লব।
tarupallab@gmail.com

সংবাদমাধ্যমের ওপর দোষ চাপানো

প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম পাবনার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অতিরঞ্জনের যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সঠিক নয়। সেখানে প্রশাসনের আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুধী সমাবেশে নিজেদের অসহায় অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, এবং তাঁদের কেউ কেউ কান্নায় রুদ্ধকণ্ঠ হয়েছিলেন। সংবাদপত্রে ছবি ছাপা হয়েছে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে চলমান চিত্র প্রচারিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, কর্মকর্তাদের কান্নার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ছবিগুলো তো মিথ্যা নয়; অতিরঞ্জিতও নয়।
দুঃখজনকভাবে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন প্রবণতা লক্ষ করা যায়: তাঁদের জন্য বিব্রতকর কোনো ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে তাঁরা বিব্রত না হয়ে বরং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন; সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বা অতিরঞ্জনের অভিযোগ তোলেন। আমরা দেখেছি, বিগত চারদলীয় জোটের শাসনামলে জঙ্গি বাংলা ভাই ও তাঁর জেএমবি সম্পর্কে প্রথম আলো যখন ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করছিল, তখন তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীরা বলেছিলেন, বাংলা ভাই, জেএমবি এসবের অস্তিত্ব নেই, ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’। কিন্তু অচিরেই প্রমাণিত হয়েছিল, বাংলা ভাই, জেএমবি ও তাদের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা—কোনো কিছুই সংবাদমাধ্যমের বানোয়াট বিষয় ছিল না।
সংবাদমাধ্যম নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পাবনায় দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলার ঘটনা বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের কল্যাণেই জনসাধারণ জানতে পেরেছে। তার পর থেকে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাবনা থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত সব ঘটনাই জনসাধারণকে অবহিত করেছে সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় বেতার-টিভি এ বিষয়ে কী দায়িত্ব পালন করেছে, তা জনসাধারণ দেখেছে। এখন যদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এসব খবর প্রকাশ করার ফলে প্রশাসন ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাহলে সংবাদমাধ্যমের কী করার থাকতে পারে? সন্ত্রাস বা অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় না বরং এসব যারা ঘটায়, তাদের কারণেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুর, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধাওয়া ও লাঞ্ছিত করা থেকে শুরু করে সুধী সমাবেশ ডেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আবেগঘন দৃশ্যায়ন, এগুলোও সংবাদমাধ্যম তথা সাংবাদিকেরা ঘটাননি। তাই সংবাদমাধ্যমের ওপর দোষ না চাপিয়ে সরকারের উচিত হবে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

পাবনার ডিসি-এসপি প্রত্যাহার -এই পদক্ষেপ জনপ্রশাসনে কী বার্তা পৌঁছাবে

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের পরীক্ষার হলে হামলা ও ভাঙচুরের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের মুখোমুখি অবস্থান যে পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেখানে সন্ত্রাসী ঘটনার পরপরই সরকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যেত। বিলম্বে হলেও প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপনবিষয়ক উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করায় ধারণা করা গিয়েছিল, পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সেখানে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু তাঁদের সফরের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাবনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হলো। এর আগেই অবশ্য সদর উপজেলার ইউএনওকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। আরও অনেককে সরিয়ে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ জনপ্রশাসনের কাছে কী বার্তা পৌঁছে দেয়? সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও একসঙ্গে দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার স্বাভাবিক নয়। পুলিশ সুপার মাত্র আট মাস আগে সেখানে বদলি হয়েছিলেন। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ীই সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ থাকা উচিত।
গত কয়েক দিনে পাবনায় যে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য প্রশাসন কতটা দায়ী? ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন। সে সম্পর্কে সংস্থাপনবিষয়ক উপদেষ্টা কিছু বলেননি। তবে নাগরিক সমাজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা আহ্বান আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁদের করারই বা কী ছিল? আচরণবিধিটি আক্ষরিক অর্থে না দেখে একজন অভিজ্ঞ সাবেক আমলা হিসেবে উপদেষ্টা সেখানকার কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতিতে কাজটি করেছেন, তা আমলে নিতে পারতেন। সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই সরকারি আইনকানুন মেনে কাজ করতে হবে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্তের পরই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু তার আগেই সরকার তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় সারা দেশেই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তটস্থ থাকবেন। ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পাবেন। সে ধরনের পরিস্থিতি কি আইনের শাসনের সহায়ক হবে?
জনপ্রশাসন চলবে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। পাবনায় সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দলীয় সন্ত্রাস দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু আক্রমণকারী ও আক্রান্তের প্রতি সরকারের সম-দৃষ্টিভঙ্গি কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিরোধের কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি এভাবে বদলি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে বাধ্য।

রোমাদের বিতাড়িত করায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইইউ

ফ্রান্স রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া থেকে আসা রোমাদের (যাযাবর বিশেষ) তাড়িয়ে দেওয়ায় প্যারিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন (ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদ)। কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা ঠিক করতে গতকাল বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
বৈঠক করার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাস্টিস কমিশনার ভিভিয়ান রেডিং ফরাসি টেলিভিশন ফ্রেঞ্চ ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইইউর আইন লঙ্ঘন করার জন্য ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁরা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলাচলের স্বাধীনতা সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফ্রান্সকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি গত জুলাই মাসে সে দেশে পাশের দেশ থেকে আসা এক হাজার ৭০০ রোমাকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দেন।
এ নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে প্যারিসের কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাস্টিস কমিশনার ভিভিয়ান রেডিং ফ্রান্সের ওই পদক্ষেপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে তুলনা করেন। পরে অবশ্য তিনি এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ভারতে উচ্চাভিলাষী পরিচয়পত্র প্রকল্পের উদ্বোধন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল বুধবার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। বড় ধরনের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আদিবাসী পল্লিসহ সব এলাকার মানুষ নিজ পরিচয়ের জন্য স্বতন্ত্র একটি নম্বর পাবে। প্রতারণা রোধে ও রাষ্ট্রীয় মুনাফার জন্য প্রবেশাধিকারের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজ করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্প উদ্বোধনের সময়কে একটি ‘বিশেষ মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করে মনমোহন সিং বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষের ক্ষমতায়ন হবে। তিনি বলেন, এটি নারীসহ দেশের সবচেয়ে গরিব ও দলিত মানুষের অধিকার জোরদারে সহায়তা করবে।
ভারতের লোকসংখ্যা এখন ১১৬ কোটি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প শেষ হলে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ১২ সংখ্যার একটি নম্বর দেওয়া হবে, যে নম্বরটি তার পরিচয় শনাক্তকরণ নম্বর বলে বিবেচিত হবে। এ জন্য দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ আঙুলের ছাপ দিতে হবে। এ ছাড়া প্রত্যেকের চোখের স্ক্যান করা হবে, নেওয়া হবে মুখাবয়বের ছবি।

চিলিতে আটকে পড়া খনিশ্রমিকদের উদ্ধারে ভালো অগ্রগতি

চিলির সান হোসে খনিতে আটকে পড়া ৩৩ জন শ্রমিককে ধারণার চেয়ে আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। খননকাজ পরিচালনাকারী কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের একটি খননযন্ত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫০ মিটার খনন করেছে। এই হারে খননকাজ চালিয়ে যাওয়া গেলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রমিকদের বের করে আনা সম্ভব হবে।
এর আগে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের শুরুর দিকে শ্রমিকদের তুলে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারে এখনো আগের সময়সীমার কথাই বলা হয়েছে। শ্রমিকদের তুলে আনার জন্য একটি ক্যাপসুল বা ইস্পাতের খাঁচা তৈরি করা হয়েছে এবং বের করে আনার পর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী হাসপাতালও স্থাপন করা হয়েছে।
খনিগর্ভ থেকে শ্রমিকদের বের করে আনতে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে তিনটি বড় আকারের খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে টি-১৩০ খননযন্ত্রটি ৩০০ মিটার গর্ত খুঁড়তে পেরেছে। শ্রমিকেরা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৬৩০ মিটার নিচে অবস্থান করছেন।
উদ্ধার অভিযানের প্রধান অ্যান্ড্রু সোগ্যারেট বলেন, ‘আমরা ৩০০ মিটার গভীরে পৌঁছে গেছি। সেখানকার ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ সবচেয়ে খারাপ। যেহেতু সেখানে এই গতিতে খননকাজ চালানো সম্ভব হয়েছে, তাই আশা করছি আমরা এই গতি ধরে রাখতে পারব।’

নিরাপত্তা রক্ষায় বানর

ভারতের রাজধানীতে দুই দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস। গেমসের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যাপক আয়োজন করেছে দেশটির সরকার। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষিত বানর ব্যবহার করছে তারা।
গেমসে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড়দের থাকার স্থানে রয়েছে স্থানীয় বানরের ব্যাপক উৎপাত। খেলোয়াড়েরা অভিযোগ করেছেন, বানর তাঁদের বিভিন্ন উপকরণ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মহাবিরক্ত তাঁরা। উত্ত্যক্তকারী এসব রেসাস (ছোট লেজবিশিষ্ট ছোট বানর) বানরের তৎপরতা ঠেকাতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ৪০টি বড় আকারের ধূসর লেঙ্গুড় জাতের বানরকে দায়িত্ব দিয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই বড় বানরগুলো ছোট বানরগুলোকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতে পারবে। কারণ এগুলো খুবই মারমুখি।
এদিকে একজন খেলোয়াড়ের ঘরে একটি গোখরা সাপ পাওয়া যাওয়ার পর ৫০ জন সাপুড়েকেও ভাড়া করেছে কর্তৃপক্ষ।

ক্ষমতাসীন দলের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের ছোট ছেলে কিম জং উনকে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে এ কথা জানা যায়। এই পদক্ষেপকে অনেকে কিমের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন।
গত মঙ্গলবারের দলীয় সম্মেলন সফলভাবে শেষ হওয়ায় কিমকে এক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, উনকে একসঙ্গে কয়েকটি পদে পদোন্নতি দেওয়ার তাৎপর্য তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
ওয়ার্কার্স পার্টির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে উনকে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। কিম জং ইল তাঁকে চার তারকা জেনারেলের পদে উন্নীত করার এক দিন পর উন এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চোই জিন-উক বলেন, পরবর্তী নেতা হতে যা যা প্রয়োজন, উনের এখন তার সবই আছে।
সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কিম জং ইল। এর পরই এখন উনের স্থান। এতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা পেলেন উন। উত্তর কোরিয়ার রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সেনাবাহিনী, যার সদস্যসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
গত মঙ্গলবার ৩০ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় সম্মেলনে কিম জং ইল ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। কিন্তু উত্তরাধিকারীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত চলতে থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, জং ইলের শারীরিক অবস্থা যতটা খারাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে।
চীনের সিনহুয়া বার্তা সংস্থা জানায়, উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন সফলভাবে শেষ হওয়ায় এবং কিম জং ইল দলের সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, চীনা প্রেসিডেন্টের এই বার্তায় চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী নিবিড় সম্পর্ক ও অভিন্ন আগ্রহের বিষয় ফুটে উঠেছে।

চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেসে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গত মঙ্গলবার অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহান। ওই দিন সেখানে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ায় শীতাতপ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যায় রেকর্ড পরিমাণ। একপর্যায়ে একটি বিদ্যুৎযন্ত্রে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কর্মকর্তারা জানান, সোমবার থেকেই লস অ্যাঞ্জেলেসের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার একপর্যায়ে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ওই দিন নগরীর অনেক এলাকায় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে মঙ্গলবার একপর্যায়ে তাদের থার্মোমিটারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাপ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। এ সময় একটি বিদ্যুৎ কার্যালয়ের টাওয়ারে বিস্ফোরণ ঘটে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনের মুখপাত্র ভ্যানেসা ম্যাকগ্রেডি বলেন, কয়েক দিন ধরে রাতে খুব গরম পড়ায় শীতাতপ যন্ত্রগুলোর কোনো বিরাম নেই।

ওজন কমানোর জন্য ঘুষ

চাকরিবাকরি কিংবা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের জন্য ঘুষ দেওয়ার রেওয়াজ বেশ পুরোনো। কিন্তু ধূমপান বন্ধ বা ওজন কমানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা নিশ্চয়ই শোনা যায়নি। অথচ সে রকমটিই করার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল এক্সেলেন্স সে দেশের নাগরিকদের ওজন কমানো ও ধূমপান বন্ধে অভিনব এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এমনকি ভালো খাবার খেতে উৎসাহী করতেও ঘুষ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নাগরিকদের শারীরিক স্থূলতা, ধূমপান ও নিম্নমানের খাবার খাওয়ার অভ্যাসে যুক্তরাজ্য সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব বন্ধে তাই এখন ঘুষ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ধূমপান বন্ধ করলে পুরস্কারস্বরূপ সুপার মার্কেটের ভাউচার বা রসিদ দেওয়া হবে। বেশি করে ফলমূল ও শাকসবজি খেলে শিশুদের দেওয়া হবে খেলনা।
তবে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক জুলিয়ান লি গ্র্যান্ড বলেছেন, ঘুষ দিয়ে স্বল্প মেয়াদে মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটানো যায় ঠিকই, যেমন ওষুধ গ্রহণ কিংবা টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এ পদ্ধতি খুব একটা লাভজনক হবে বলে মনে হয় না। অবশ্য এ পদ্ধতিতে একদম যে কাজ হবে না, তা নয়।
ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে পাঠানোর আগে এখন এর ওপর জনমত গ্রহণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বিষয়টি কীভাবে দেখছে, এ জরিপের মাধ্যমে সেটাই বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ট্যাক্সপেয়ারস অ্যালায়েন্সের শীর্ষ কর্মকর্তা ফিয়োনা ম্যাকিভয় বলেন, ‘আমি মনে করি, পুরো অর্থটাই জলে যাবে। কেননা, করের বিপরীতে লোকজন ওষুধ চায়, উন্নতমানের সেবা চায়। তাদের অর্থ এভাবে নষ্ট করা ঠিক নয়।’

লন্ডনসহ ইউরোপজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার ‘পরিকল্পনা’ নস্যাৎ

ব্রিটেনের লন্ডনসহ ইউরোপের কয়েকটি শহরে একযোগে সন্ত্রাসী হামলার কথিত পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ইউরোপের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা মুম্বাই হামলার আদলে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার স্কাই নিউজ টেলিভিশন জানায়, লন্ডনসহ ফ্রান্স, জার্মান ও ব্রিটেনের বড় বড় শহরে একযোগে হামলার পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা। হামলার পরিকল্পনায় তারা বেশ অগ্রসরও হয়েছিল, তবে তা আসন্ন ছিল না।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজ জানায়, জঙ্গিরা যুক্তরাষ্ট্রেও হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে জানানো হয়।
স্কাই টেলিভিশন ও এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই হামলা-ষড়যন্ত্রের পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা।
ষড়যন্ত্রের মূল হোতারা আল-কায়েদা জঙ্গি এবং তালেবানের সঙ্গেও সম্ভবত তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে জানান স্কাই নিউজের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক টিম মার্শাল।
লন্ডন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এ হামলার পরিকল্পনা উদ্ঘাটিত হয়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতায় ষড়যন্ত্র ভালোভাবেই নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
২০০৮ সালের মুম্বাইয়ের কয়েকটি স্থানে একযোগে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে লোকজনকে জিম্মি করে ফেলে ১০ বন্দুকধারী জঙ্গি। তিন দিনের ওই জিম্মি নাটকের অবসান হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে। এতে নিহত হয়েছিল ১৬৬ জন।
ইউরোপীয় ও মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এক মার্কিন নাগরিককে ইউরোপে আসার পথে আটক করার পর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রথম জানা যায়। ওই জার্মান নাগরিক বর্তমানে আফগানিস্তানে আটক আছেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বোমাতঙ্কে আইফেল টাওয়ার থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই ইউরোপজুড়ে এই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে নতুন এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উদ্ঘাটিত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান এলাকায় চালকবিহীন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে সেখানে।
স্কাই নিউজের টিম মার্শাল বলেন, ‘হামলা-ষড়যন্ত্রকারীদের হত্যা করতেই মার্কিন বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’

মো. রেজাউল করিম পিএসসিবির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত

এসএন জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রেজাউল করিম ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপের (আইজেএসজি) প্রাইভেট সেক্টর কনসালটেটিভ বোর্ডের (পিএসসিবি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
কেনিয়ার নাইরোবিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পিএসসিবির দশম সভায় রেজাউল করিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০১০-১১ সাল মেয়াদে সংগঠনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এর আগে রেজাউল করিম পর পর দুবার পিএসসিবির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কার্যনির্বাহী পর্ষদের অন্যতম সদস্য। এ ছাড়া তিনি শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।

ওয়াইকেকে দেশে তৃতীয় দফায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জিপার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইকেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
জাপানভিত্তিক কোম্পানিটি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এদেশে ব্যবসা বাড়াতে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে এই কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৩৫ কোটি থেকে বেড়ে ৫০টি পিস-এ উন্নীত হবে।
ঢাকার একটি হোটেলে গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ওয়াকেকের পঞ্চম গ্লোবাল মার্কেটিং সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে ওয়াইকেকে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিরোয়াকা নাকামুরাসহ ওয়াইকেকে হংকংয়ের এশিয়া মার্কেটিং কমিটির সিনিয়র ম্যানেজার তাকাহিকো আচানো, ওয়াইকেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল মার্কেটিংয়ের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস এক্সিকিউটিভ থমাস উইলিয়াম নিউটন, ওয়াইকেকে জাপানের মার্কেটিং অফিসের মহাব্যবস্থাপক শিগেকি নোগামি ও ওয়াইকেকে সিঙ্গাপুরের নকল প্রতিরোধ কার্যক্রমের কর্মকর্তা অ্যাই ইতো বক্তব্য দেন। সেমিনারে চার শতাধিক পোশাকশিল্প মালিক যোগ দেন।
ওয়াইকেকে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিরোয়াকা নাকামুরা এ প্রসঙ্গে জানান, ‘তাঁদের কোম্পানির তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হলে তাঁরা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জিপারের পুরো চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।’
তৃতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর সুবাদে ২০১৫ সালের আগেই ওয়াইকেকের উৎপাদন ৪৫ শতাংশ বাড়বে। এর ফলে একই সময় কোম্পানির এই প্রকল্প থেকে মোট জিপার বিক্রি সাত কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। এবারে কোম্পানিটি চার বছরে আট কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
২০০০ সালে এই কোম্পানি ওয়াইকেকে বাংলাদেশ লিমিটেড নামে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ডিইপিজেড) যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০০৪ সালে কোম্পানিটি দ্বিতীয় দফায় এ দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।

আগস্টে ভারতে রেকর্ড সংখ্যক গাড়ি বিক্রি

ভারতে গত আগস্ট মাসে গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
আগস্ট মাসে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৬৮১টি। আর বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৫২ হাজার ৩০টি। এ ছাড়াও দুই চাকার গাড়ি ও মাল্টি ইউটিলিটি ভ্যানের বিক্রিও বেড়েছে গত আগস্ট মাসে।
সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিয়াম) পূর্বাভাস ছিল, এ বছর ভারতে গাড়ি বিক্রির হার বাড়বে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাড়ির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় সেই পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি গাড়ি বিক্রি হয়েছে।
সিয়ামের অধিকর্তা বিষ্ণু মাথুর এই তথ্য জানিয়ে বলেন, দেশীয় অর্থনীতি মজবুত হওয়ায় গাড়ি বিক্রির হার বেড়েছে।

কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য খুবই উপযুক্ত স্থান। কোরিয়া এ দেশে বিনিয়োগ করলে তা উভয় দেশের জন্যই ভালো হবে।
ফারুক খান বলেন, শিল্পোন্নয়নে কোরিয়ার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের কাজে লাগবে। অন্যদিকে এ দেশে খুব ভালো ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে কোরিয়া।
গতকাল বুধবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কোরিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্যবিষয়ক এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত তাইইয়ং চো। বক্তব্য দেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন, কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (কেবিসিসিআই) সভাপতি এস এম কামালউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনোজ কুমার রায় প্রমুখ।
সেমিনারে কোরিয়া আমদানিকারক সমিতির (কইমা) ১৩ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশের রসায়ন, ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, ইয়ার্ন, সিনথেটিক ফাইবার খাতের ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই ও কইমার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এতে সই করেন এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন ও কইমার চেয়ারম্যান জু তায়ে লি।
উল্লেখ্য, কোরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কোরিয়ার অনুকূলে রয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৪ কোটি ডলারের পণ্য কোরিয়ায় রপ্তানি করেছে। আর সে দেশ থেকে আমদানি করেছে ৮৩ কেটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য।

কম মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে এল ক্লিন টেকনোলজি

দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ক্লিন টেকনোলজি লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফী ইকবাল আহমেদ গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের হাইটেক প্রযুক্তিতে তাঁরা এখন দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।
সুফী ইকবাল বলেন, একটি ছয়তলা ভবনের ছাদের চার ভাগের এক ভাগে সৌর প্যানেল বসিয়ে পাঁচ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। রাজধানীর ঢাকার এক লাখ বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে এই সৌরপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
সুফী ইকবাল আহমেদ জানান, ক্লিন টেকনোলজি লালবাগ কেল্লা এলাকায় একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির একটি বেইজ ট্রান্সমিশন স্টেশন সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর ব্যবস্থা করেছে।

বর্তমান ধারায় বাড়লেও বিনিয়োগের ঘাটতি হবে তিন লাখ কোটি টাকা

আগামী পাঁচ বছরের মাথায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশে উন্নীত করতে হলে পাঁচ বছরে মোট ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বার্ষিক গড় বিনিয়োগের পরিমাণ হতে হবে তিন লাখ ছয় হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।
কিন্তু গত ১০ বছরের বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে প্রবণতা, তা যদি বজায় থাকে তাহলে আগামী পাঁচ বছরে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তার মানে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রায় তিন লাখ ৪৪ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘাটতি রয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো ২০১১-২০১৫’ অনুসারে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাদের যে অর্থনৈতিক হালনাগাদবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এ হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি গত ১০ বছরের জিডিপি ও বিনিয়োগ-প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ হিসাব দিয়েছে।
উন্নয়ন অন্বেষণের হিসাব অনুসারে, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আগামী পাঁচ বছর গড়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ হারে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ গত ১০ বছরের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির বার্ষিক গড়হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই ১০ বছরের মধ্যে শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
এই বাস্তবতায় সরকারের পক্ষে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয় বলে মনে করছে উন্নয়ন অন্বেষণ।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জিডিপিতে বিনিয়োগের হার এখন ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। সরকার এই হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে।
কিন্তু বিনিয়োগ এই হারে উন্নীত করতে হলে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা বর্তমানের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে, পাঁচ বছরে গড়ে প্রায় ২৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বিনিয়োগ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ২০১৫ সালের মধ্যে স্থির মূল্যে (১৯৯৬-৯৭) জিডিপির পরিমাণ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে আগামী পাঁচ বছরে গড়ে প্রায় তিন লাখ ছয় হাজার ৫৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ পুঞ্জীভূত করার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ হলো অন্যতম হাতিয়ার। কারণ গত পাঁচ বছরে মোট বিনিয়োগের গড়ে প্রায় ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল বেসরকারি বিনিয়োগ। আর বেসরকারি বিনিয়োগের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোট বিনিয়োগে সরকারি অংশও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। অথচ এমটিএমএফের প্রক্ষেপণ অনুসারে বেসরকারি বিনিয়োগের মোট পরিমাণ পাঁচ বছরে ১২ লাখ নয় হাজার ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে।
উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, যদি এই লক্ষ্য অর্জন করতে হয়, তাহলে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির বার্ষিক হার আগামী পাঁচ বছরে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশের কাছাকাছি রাখতে হবে। এ জন্য আবার প্রতি বছর গড়ে দুই লাখ ৪১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গত অর্থবছরে নেওয়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি বলে উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারের (পিপিপি) মাধ্যমেও গত বছর কোনো বিনিয়োগ হয়নি।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ‘সহজে ব্যবসা করার বিশ্বসূচক- ২০১০’ এ বাংলাদেশের অবস্থান নেমে গেছে ১১৯তম স্থানে, যা ২০০৯ সালে ছিল ১১৫তম।
উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, ‘বিনিয়োগ যদি যথাসময়ে আকৃষ্ট করে তা কাজে লাগানো না যায় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করা না যায়, তবে জিডিপির কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন কখনোই সম্ভব নয়।’

‘ইউনুসই সেরা পছন্দ’

‘অধিনায়কত্ব’ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এক চিরকালীন সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ যেন খুঁজে পাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! অনেক জল ঘোলার পর পিসিবি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে টেস্ট দলেরও অধিনায়ক করেছিল শহীদ আফ্রিদিকে। কিন্তু ইংল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টটি খেলেই নাটকীয়ভাবে অধিনায়কত্বের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটই ছেড়ে দেন আফ্রিদি। উপায়হীন পিসিবিকে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে টেস্ট অধিনায়কত্ব তুলে দিতে হয় তরুণ সালমান বাটের কাঁধে।
স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সেই সালমান বাট আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকায় পাকিস্তানের টেস্ট দল এখন অধিনায়কশূন্য! অথচ আগামী মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের ‘হোম সিরিজ’। তাই নানা অস্থিরতার মধ্যেও পিসিবিকে মাথা ঘামাতে হচ্ছে টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে। আফ্রিদি আবারও টেস্টে ফেরার বাসনা প্রকাশ করেছেন বটে; কিন্তু প্রশ্নটা রয়েই গেছে, কে হবেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক? পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটিং তারকা জহির আব্বাসের অবশ্য সমস্যাজর্জরিত এই প্রশ্নের উত্তর জানা, ইউনুস খান। কোনো রাখডাক না রেখেই বলছেন, পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসই সেরা পছন্দ, ‘স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে অধিনায়ক এবং খেলোয়াড় হিসেবে বাটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এখন পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসই সেরা পছন্দ।’

চুক্তি ফিরিয়ে দিলেন ক্রিস গেইলও

পথটা দেখিয়েছিলেন কিয়েরন পোলার্ড ও ডোয়াইন ব্রাভো। সেই পথে এবার ক্রিস গেইলও ‘না’ করে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিকে। ডব্লিউআইসিবি বা গেইল, কেউই এ খবর নিশ্চিত করেননি। খবরটি নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
ডব্লিউআইসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তিভুক্ত প্রতিটি খেলোয়াড়কে সারা বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সূত্র বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পোলার্ড, ব্রাভো বা গেইলের আপত্তি নেই। আপত্তি ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতে গেলে গেইলরা আইপিএল, কাউন্টি বা অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির মতো ডলার উড়তে থাকা টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না। আর এসব টুর্নামেন্ট খেলে তাঁরা ডব্লিউআইসিবির প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তির কয়েক গুণ বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন।
ডব্লিউআইসিবি সব মিলিয়ে ২৫ ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তিটি সই করার সুযোগ ছিল ক্রিকেটারদের সামনে। সূত্রের খবর ২২ জন ক্রিকেটার এই সময়ের মধ্যে চুক্তি সই করে ফেলেছেন।

সমর্থক নাম্বার ওয়ান

সাকিব আল হাসানকে একটা অনুরোধ করেছেন তিনি। সিরিজ চলার সময় হোটেলে বাংলাদেশ দলের আশপাশে একটা রুম ভাড়া নিয়ে রাখতে বলেছেন। বাংলাদেশ দলের কাছাকাছি থাকতে চান। এমন ‘আবদারের’ পক্ষে ভদ্রলোকের একটা যুক্তিও আছে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে আমি বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান সাপোর্টার। তাই আমার দলের কাছেই থাকা উচিত না?’
কে এই ‘নাম্বার ওয়ান সাপোর্টার’? নাম তাঁর তামিম ইকবাল খান! হ্যাঁ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলের সমর্থক হয়েই থাকতে হচ্ছে তামিমকে। বাঁ হাতে অস্ত্রোপচার অভিষেকের পর এই প্রথমবারের মতো দলের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে গত কিছুদিন দেশের সফলতম ব্যাটসম্যানকে।
সমর্থক হিসেবে দলের সঙ্গে থাকার জন্য প্রস্তুতির শেষ নেই তামিমের। মজা করে হোটেলে থাকার কথা তো বললেনই। সঙ্গে বলে দিলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখব। গায়ে থাকবে জাতীয় দলের জার্সি। ম্যাচের আগে-পরে দেখতে পাবেন, ব্যাট হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি দলে নেই, কেউ বুঝতেই পারবে না। হা হা হা।’
হেসে কি কষ্ট উড়িয়ে দিতে চাইছেন? হয়তো তাই। কিন্তু হাসিতেও কি আর কষ্ট চাপা পড়ে? পরের কথাটিই শোনাল হাহাকারের মতো, ‘জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর ৮৫টি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। হয়তো অভিষেকের পর থেকে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটাও করে ফেলতে পারতাম। ইনজুরির কারণে হলো না।’
নিজেই যেন নিজেকে সান্ত্বনা দিলেন এরপর, ‘আসলে একটা সিরিজের বিনিময়ে ক্যারিয়ারটা আরেকটা লম্বা করার চেষ্টায় আছি। এই চোটটা সঙ্গে থাকলে হয়তো একসময় সেটা আমার ব্যাটিংয়েই প্রভাব ফেলত। এর চেয়ে একটা সিরিজ মিস করা ভালো না?’
তা তো ভালোই। কিন্তু তামিমের সতীর্থরা যে তাঁর অভাবটা ভুলতে পারছে না। যা শুনে তামিম বলছেন, ‘শুধু আমার কেন, যেকোনো ইনফর্ম খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলের জন্য ক্ষতিকর। কিছু রান করতে পারলে তো দলেরই উপকার হয়।’
তবে তামিমের আশা, তাঁর অভাব ভুলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এই বাংলাদেশ দলের আছে। বিশেষ করে তাঁর জায়গায় দলে আসা শাহরিয়ার নাফীসের ওপর দারুণ ভরসা, ‘আমাদের এই দলটা এখন আর একজনের ওপর নির্ভর করে না। শাহরিয়ার নাফীস কী পারে, সেটা সবাই জানে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সে এই সিরিজে দুর্দান্ত কিছু করে দেখাবে।’
শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাটসম্যান সম্পর্কে উচ্চাশা জানিয়েই তামিম তাঁর ব্যতিক্রমী চিন্তা শেষ করলেন না। ব্যতিক্রমী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান করতে গিয়েও, ‘বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের এই সিরিজটা জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে। অন্তত ২টি ম্যাচ তো আমরা জিতবই, বেশিও জিততে পারি।’
কে বলে, তামিমের হাতে ব্যাট নেই!

প্রাইজমানি এক লাখ ডলার

মোট ১ লাখ ১ হাজার ডলারের প্রাইজমানি দেওয়া হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে। কাল সিরিজের টাইটেল স্পনসর ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুর আহমেদ।
উইনিং মানি, ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ, সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ উইকেট, দ্রুততম ফিফটি, সুপার সিক্স—সবকিছু মিলিয়েই এই পুরস্কার। সিরিজের স্পনসর স্বত্ব বাবদ মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার পাচ্ছে বিসিবি। ভারতীয় মোবাইল ফোন কোম্পানি মাইক্রোম্যাক্স ইনফরম্যাটিক্স লিমিটেড সিরিজের টাইটেল স্পনসর, সিরিজের নাম ‘মাইক্রোম্যাক্স ওডিআই কাপ’। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোম্যাক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার ওহাব খানও।

কাজানের বার্সা-প্রতিরোধ

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে নিজেদের মাঠে ইউরোপীয় ‘দৈত্য’ বার্সেলোনাকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দিল রুবিন কাজান।
আসলে জিতেও যেতে পারত রাশান ক্লাবটি। ৩০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা নওবোয়ার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কাজান। ৬০ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ডেভিড ভিয়া।
চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা মেসি মাঠে নেমেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারেননি।

উন্মুক্ত টেনিসের ফাইনাল আজ

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক উন্মুক্ত টেনিসের মহিলা এককের ফাইনালে উঠেছেন সারদা আলম ও সাথী সরকার। গতকালের সেমিফাইনালে সারদা মেধাকে এবং সাথী মৌমিতু জান্নাতকে হারিয়েছেন। বালিকা এককের (অনূর্ধ্ব-১৪) ফাইনালে উঠেছেন মৌরিন ও ঝিলিক চাকমা। সবগুলো ফাইনালই আজ।

সৈকতের ক্রিকেট টেলিভিশনে

অনেক আগেই ক্রিকেট থেকে দূরে চলে যাওয়া ভিভ রিচার্ডসদেরও টেলিভিশনে দেখা যায় শর্টস আর টি-শার্ট পরে ‘বিচ ক্রিকেট’ খেলছেন। বিনোদনের এই খেলার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। গত বছরই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতে হয়ে গেছে ‘ওয়েকা বিচ ক্রিকেট’।
সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারদের মেলা হয়ে ওঠা এই বিচ ক্রিকেট এবারও কক্সবাজারকে মাতাতে যাচ্ছে আগামী মাসেই। আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবর উইকেন্ড ক্রিকেট ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়েকা) উদ্যোগে কক্সবাজারে হবে ১৪ দলের এই টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলোর কনসার্টও হবে কক্সবাজারে।
যাঁরা সৈকতে গিয়ে খেলা দেখতে পারবেন, তাঁদের কথা আলাদা। যাঁরা তা পারবেন না, তাঁরাও খেলা দেখতে পারবেন। দেশ টিভি সবগুলো ম্যাচই কক্সবাজার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে। এই সম্প্রচারের বিষয়েই গত পরশু দেশ টিভির কার্যালয়ে দুই পক্ষের একটি চুক্তি হয়ে গেছে। দেশ টিভির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান নূর ও ওয়েকার পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চুক্তিতে সই করেছেন।

আজ যাচ্ছে বাংলাদেশ

দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে আজ ঢাকা ছাড়ছে ৬০ সদস্যের বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে খেলোয়াড় অবশ্য ৩৫ জন। ৪-১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় গেমসের ১৭টি খেলার মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে সাতটিতে—শ্যুটিং, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, আর্চারি, বক্সিং, ভারোত্তোলন ও স্কোয়াশে। ১২ জন খেলোয়াড় সমন্বিত শ্যুটিং দলটিই সবচেয়ে বড়। সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসে ৪ জন করে, আর্চারিতে ও ভারোত্তোলনে ৬ জন করে ও স্কোয়াশে ৩ জন খেলোয়াড়।
দল যেমন সবচেয়ে বড়, কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়েও থাকছেন শ্যুটাররা। এর আগে একমাত্র শ্যুটিংয়ের হাত ধরেই এই গেমসে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আসিফ হোসেন খান ও মেয়েদের বড় ভরসা শারমিন আক্তার (রত্না)। তীরন্দাজিতেও আশা আছে বাংলাদেশের। তীরন্দাজ ইমদাদুল হক (মিলন) শুনিয়েছেন পদক জয়ের আশা, ‘আমাদের প্রস্তুতি যেমন হয়েছে তাতে একটা পদকের আশা করতেই পারি।’ খেলোয়াড়েরা আজ ঢাকা ছাড়লেও বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন নুরুল ফজল দিল্লি যাচ্ছেন আগামীকাল।

শেখ জামালে তিন সার্বিয়ান ফুটবলার

স্থানীয় সব তারকা ফুটবলারকেই দলে টেনে ফেলেছে নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। জাতীয় দলের ১৫-১৬ জন খেলোয়াড় নেওয়ার পরও নতুন এই ‘পরাশক্তি’ বিদেশি নির্ভরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারল না। বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে শুধু স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়েই শিরোপা জেতা সম্ভব নয় ধরে নিয়ে শেখ জামালও তাই হাত বাড়িয়েছে বিদেশি খেলোয়াড়ের দিকে। দুই সার্বিয়ান কোচের পরামর্শে সার্বিয়া থেকে তিনজন বিদেশি আনা তারই অংশ।
কাল সকালে বিকেএসপিতে শেখ জামালের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ডিফেন্ডার ড্রাগন পেনিসিচ, মিডফিল্ডার জোভান ডিস্টেফানোভিচ ও স্ট্রাইকার আলেকসান্দ্রো সুদোভিচ। গোলরক্ষক আমিনুল বিকেএসপি থেকে রাতে ফোনে জানিয়েছেন, ‘শারীরিক গঠন দেখে ভালোই মনে হয়েছে ওদের। পুরোদমে অনুশীলন এবং ম্যাচ খেললে তবেই বোঝা যাবে আসলে কেমন। তবে যত দূর দেখেছি, তাতে অপছন্দ হওয়ার মতো মনে হয়নি।’

ভারতীয় ক্রিকেটে মোদি-পর্ব শেষ

কোনোভাবেই দুজনের তুলনা চলে না। তার পরও একই জায়গায় মিলে গেলেন সুনীল গাভাস্কার আর লোলিত মোদি। আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল থেকে দুজনেরই নাম কাটা গেল। মোদি বিতাড়িত হয়েছেন আর ‘লিটল মাস্টার’ নাকি সরে যেতে চেয়েছিলেন নিজে থেকেই। কাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ৮১তম সাধারণ বার্ষিক সভায় ছেঁটে ফেলা হলো মোদিকে। বোর্ডের আর কোনো পদেই থাকলেন না বছর দুয়েক দোর্দণ্ড প্রতাপে ভারতীয় ক্রিকেটের রাজ্য শাসন করা মোদি।
আইপিএলের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চিরায়ু আমিন। নবগঠিত গভর্নিং কাউন্সিলের আট সদস্যের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটার আছেন দুজন—রবি শাস্ত্রী ও মনসুর আলী খান পতৌদি। এই দুজন আগের গভর্নিং কাউন্সিলেও ছিলেন। বিসিসিআইয়ের হবু সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এন শ্রীনিবাসন। শশাঙ্ক মনোহরের মেয়াদ শেষ হলে আগামী বছর বোর্ডের ভার নেবেন বর্তমান বিসিসিআই সচিব। রাজীব শুক্লার নাম ঘোষণা করা হয়েছে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হিসেবে। আইপিএলের ওপর বিসিআইয়ের আরও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো এই সভায়।
আপাতত মোদি-পর্বের সমাপ্তি ঘটল ভারতীয় ক্রিকেটে। ৫ বছর আগেও ক্রিকেট মহলে অচেনা তরুণ ব্যবসায়ী ললিত মোদি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় উঠে আসেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রভাব-বলয়ে। তাঁর হাত ধরেই আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস লিগের আবির্ভাব। ক্রিকেটের মানচিত্রে বড় এক পরিবর্তনের নাম এই আইপিএল। প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের নিলাম হয়। যেখানে মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হন ধোনি, পিটারসেন, ফ্লিনটফরা। বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয় টিভি সম্প্রচার স্বত্ব।
ক্ষমতা আর অর্থের এই দেদার খেলায় শুরু হয়ে যায় রাজনীতিও। মোদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কারসাজি, অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ এনে তাঁকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়। উচ্চ আদালতে এ নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন। রায় মোদির পক্ষে আসুক আর না-ই আসুক; বিসিসিআই থেকে ‘বিতাড়িত’ হতে হলো তাঁকে। একই সময় সাবেক বোর্ড ও আইসিসি সভাপতি জগমোগন ডালমিয়ার ওপর আরোপিত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিল বিসিসিআই।

কেউ ২৭ বছর, কেউ ২৭ দিন

নির্বাহী কমিটির অন্য সব পদাধিকারীদের জন্য একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতি পদটা ব্যতিক্রম। এই পদে ‘সময়’ বলে কিছু নেই। ব্যতিক্রমীভাবে কাউকে ২৭ বছরও থাকতে দেখা গেছে। কেউ ২৭ দিনও থাকেন না।
তবে সভাপতির জন্যও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া উচিত। সেটি না থাকায় এই পদে চলতে থাকে আসা-যাওয়ার খেলা। সরকার বদলে গেলে সভাপতি পদেও আসে পরিবর্তন। অবশ্য এমন সভাপতিও আছেন, নিয়োগ পেয়ে এক কাপ চা খেতেও ফেডারেশনে কখনো আসেননি। কোনো সভা না করেই বিদায় নিয়েছেন, এমন সভাপতিও অনেক। এক-দুটি সভার পরই সভাপতি পদ ছেড়েছেন অনেকেই। কখনো নিজেরাই ছেড়ে দিয়েছেন, কখনো সরকার অন্য কাউকে এনেছে। নীতিমালা না থাকলে যা হয় আরকি!
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ ২৭ বছরেরও বেশি সময় সভাপতি ছিলেন সৈয়দ ইউসুফ হোসেন। ১৯৭৬ সালের জুলাই থেকে ২০০৩ সালের জুলাই পর্যন্ত টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বর্তমানে যিনি এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি জানালেন, তাঁর দীর্ঘ ফেডারেশন সভাপতি জীবনের অভিজ্ঞতা, ‘অনেক সময় সপ্তাহে দু-তিনবারও ফেডারেশনে যেতাম। কিন্তু আমাদের এই ক্রীড়াঙ্গনেই অনেক সভাপতি দু-তিন মাসে একবার ফেডারেশনে যান। অনেক সভাপতি নিজের অফিসে মিটিং করেন, আমি এটা করিনি। আমি মনে করি, সভাপতিকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।’
দীর্ঘকালীন সভাপতির তালিকায় ইউসুফ হোসেনের পরই আছেন প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ। ১৯৮৪ থেকে ২০০৬ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শুরুর সময় পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২২ বছর হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্নেল হামিদ সম্পর্কে হ্যান্ডবল অঙ্গনের লোকজন এখনো প্রশংসামুখর। প্রায় সবাই একমত, কাজ করেছেন বলেই এত দীর্ঘ সময় সভাপতি থেকে গেছেন তিনি।
উল্টো চিত্রটা দেখতে খুব বেশি পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। দাবার বর্তমান সভাপতি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদেরের আগে সভাপতি হয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে তথ্য কমিশনের প্রধান মোহাম্মদ জমির। একটি সভা করার পরই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। বিদেশে থাকায় মোহাম্মদ জমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁকে দাবা ফেডারেশনের সভাপতি করতে তদবির করেছিলেন, এমন এক ঘনিষ্ঠজন বললেন, ‘উনি রাগ করে দায়িত্ব ছেড়েছেন। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ওনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমাকে বলেছেন, “তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে এলে”!’
এতেই বোঝা যাচ্ছে, সভাপতি পদটা কত স্পর্শকাতর! ভালো লাগল না চলে এলাম, সরকার আরেকজনকে দেবে—এভাবেই চলছে। ১৯৯৭ সালে দাবা ফেডারেশনেরই সভাপতি হয়েছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এক সভাপতি। ফেডারেশনের একটি সভা করেছেন তিনি, তবে সেটি ছিল তাঁর ব্যবসায়িক অফিসে। দেড়-দুই মাস পর দায়িত্বই ছেড়ে দেন।
মনোনীত হয়েও অনেক সভাপতি যোগদানই করেননি, এমন উদাহরণও আছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একযোগে ১৫-১৬টি ফেডারেশনের সভাপতি পরিবর্তনের ঢেউয়ে খো খোর সভাপতি করা হয় এক সচিবকে। খো খো ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ জানাচ্ছেন পরের ঘটনা, ‘উনি আসেন না, আসেন না...আমরা বারবার ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করি। মাসখানেক পর শুনলাম উনি পদত্যাগ করেছেন।’
এই ‘পদত্যাগের’ ঘটনা বেশি ঘটে ছোট ফেডারেশনে। এক ক্যারম ফেডারেশনেই গত চার বছরে চারজন সভাপতি এসেছেন! প্রথম তিনজন সচিব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর সভাপতি করা হয় তখনকার সংস্কৃতি সচিবকে। পরের বছর ১৯ জুলাই তাঁর বিদায়। ওই দিনই নিয়োগ পান ভারপ্রাপ্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক সচিব। তিনি ছিলেন ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিন সভাপতির খাতায় ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের নাম। ২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর তাঁর জায়গায় নাটোর-৩-এর সাংসদ জুনায়েদ আহমেদের পদার্পণ। যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব ক্যারম চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের যাওয়া নিশ্চিত না করে নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খবরে এসেছেন।
সভাপতি পদে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা দেখে ক্যারম ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের বিশ্বাস হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘শুরুতে হয়তো ফেডারেশনের সভাপতি পদটাকে বড় কিছু ভাবেন অনেকে। তারপর যখন দেখেন ছোট ফেডারেশন, একসময় অপারগতা দেখিয়ে আর আসেন না। সংস্কৃতি সচিব এ বি এম আবদুল হক তো কোনো সভা না করেই বিদায় নিয়েছেন।’
ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার খবরে বিরক্তিও ঝরে অনেকের কণ্ঠে। দায়িত্বটা যে তাঁর কাছে কাঙ্ক্ষিত নয়। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুরের কাছে শোনা যাক তাঁর একটা অভিজ্ঞতা, ‘গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হ্যান্ডবলের সভাপতি করা হলো এক সচিবকে। নিয়োগের দুই মাস পর আমি ওনাকে প্রথম ফোন করলাম। বললেন, “আমি চিঠি পেয়েছি। কিন্তু সরকার আমাকে এই দায়িত্ব কেন দিল বুঝলাম না। আমি তো হ্যান্ডবল কখনো খেলিনি।” খুব বিরক্ত মনে হচ্ছিল তাঁকে। একদিন তাঁর অফিসে গেলে সচিব সাহেব অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখলেন আমাকে। পরে কথা বললেন রুমে দাঁড় করিয়ে রেখে।’
ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতিদের এমন অনেক গল্পই হাস্যরসিকতা হয়ে ফেরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে।

দুই বাঁহাতির দ্বৈরথ

লড়াইয়ের ভেতরও লড়াই থাকে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ মানেই লড়াইটা সাকিব আল হাসান বনাম ড্যানিয়েল ভেট্টোরির মধ্যেও। ঢাকায় এসে সাকিবকেই প্রধান প্রতিপক্ষ মেনে ভেট্টোরি এবারও সে রকমই এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন। কিন্তু সাকিব কি নিচ্ছেন চ্যালেঞ্জটা?
আইসিসির ওয়ানডে বোলিংয়ের র‌্যাঙ্কিংয়ে ভেট্টোরি-সাকিব আছেন পিঠাপিঠি—ভেট্টোরি এক নম্বরে, সাকিব দুইয়ে। লড়াইয়ের উত্তাপ এখানেও। তবে সাকিব কোনো সমীকরণেই নিতে রাজি নন ভেট্টোরির চ্যালেঞ্জ, ‘এটা ওর নিজস্ব মতামত। আমি মনে করি, একজন খেলোয়াড়ের একার পক্ষে কোনো ম্যাচ জেতানো বা হারানো সম্ভব নয়, এটা টিম গেম। জিততে হলে সবার সমান ভূমিকা থাকতে হবে, সবাইকেই ভালো খেলতে হবে।’
সাকিব কূটনৈতিক চালে হাঁটলেও দুজনের লড়াইটাকে কিন্তু উসকে দিচ্ছে পরিসংখ্যানও। ওয়ানডেতে ভেট্টোরির সেরা বোলিং (৫/৭) বাংলাদেশের বিপক্ষেই। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে করেছেন টেস্টের সেরা বোলিং। ২০০৮-এর অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ওই পারফরম্যান্সের পর থেকেই মূলত বাঁহাতি স্পিনার সাকিবের উত্থান। ভেট্টোরি বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে আরও দুর্দান্ত। ৯ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৫১ উইকেট, এর মধ্যে পাঁচবার পেয়েছেন ইনিংসে ৫ বা এর বেশি উইকেট।
দুজনই বাঁহাতি স্পিনার। বিশ্বসেরার লড়াইটাও তাঁদের মধ্যেই। ব্যাটিংটাও ভালোই পারেন দুজনই। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভেট্টোরি বনাম সাকিব তাই একটু আলাদা মনোযোগ পায় সব সময়ই। দলও প্রত্যাশাভরে তাকিয়ে থাকে তাঁদের দিকে। বাংলাদেশে এসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভেট্টোরিও সেটিই মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমাদের দুজনের মূল ব্যাপারটা হলো, আমরা দুজনই সম্ভবত যাঁর যাঁর দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি। ...সাকিবই সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।’

ভুভুজেলার প্রত্যাবর্তন

গত ফুটবল বিশ্বকাপে অহরহ ধিক্কার শুনতে হয়েছে। তার পরও সগৌরবে আওয়াজ তুলে গেছে ভুভুজেলা। কান ঝালাপালা করে দেওয়া এই বাদ্যযন্ত্রকে আপন করে নিচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস। ৩ থেকে ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় গেমসটি চাক্ষুষ করার মনোবাসনা থেকে থাকলে কানে দেওয়ার জন্য তুলো নিতে ভুলবেন না!
হু হু করে বিকোচ্ছে প্লাস্টিকের তৈরি এই বাদ্যযন্ত্র। এরই মধ্যে হাজার দশেক ভুভুজেলা বিক্রি হয়েছে দিল্লিতে। মওকা বুঝে দোকানিরা দামও হাঁকছে বেশ। ভালো মানের একেকটি ভুভুজেলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ রুপিতে।
শুধু ভারতীয়রাই নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও মন কেড়েছে এই লম্বা বাঁশি। এই তথ্য জানিয়ে জিতেন্দ্র ডাং নামের এক বিক্রেতা বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার ভুভুজেলার প্রেমে পড়েছে ভারতও।’
এমন সমাদর সব জায়গায় মেলেনি এই বাদ্যযন্ত্রের। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা তাদের সব ধরনের প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করেছে ভুভুজেলা। নিষিদ্ধ করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু ক্লাবও। তবে উৎসবের আমেজ বাড়াতে আপন করে নিয়েছে কমনওয়েলথ গেমসের ১৯তম আসর। গেমসের অফিসিয়াল বিপণন প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্র্যান্ডস-এর প্রধান সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, সব মিলে ৫০ হাজার ভুভুজেলা আমদানি করা হয়েছে চীন থেকে। ‘ভারতীয়রা শোরগোল করেই উৎসব করতে ভালোবাসে। দীপাবলির মতো উৎসব তো হয় ধুমধাম শব্দেই’—বলেছেন কুমার। এএফপি।
আয়োজকেরাও নিশ্চয়ই প্রার্থনা করছে, ভুভুজেলার শব্দে যেন আড়াল হয়ে যায় সব সমালোচনা আর নিন্দার কোরাস!

দেশমের বিষাদ দ্রগবার আনন্দ

আজ আবার সেই পথে দেখা হয়ে গেল! চ্যাম্পিয়নস লিগের পরশু রাতটি ছিল এ রকমই। ফেরা আর পুরোনো ক্লাবের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ার গল্পে সাজানো। সেই গল্প কারও কাছে বিষাদের, কারও জন্য আনন্দের উপলক্ষ।
স্টামফোর্ড ব্রিজে পুরোনো ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছেন মার্শেইয়ের কোচ দিদিয়ের দেশম। মার্শেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি আবেগের ছিল চেলসির আইভরিয়ান স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রগবার জন্যও। দ্রগবার ‘বড় খেলোয়াড়’ তকমা জুটেছে মার্শেইতে খেলা একমাত্র মৌসুমেই।
দুই দিদিয়েরের আবেগের ম্যাচটি শেষ হয়েছে দেশমের হতাশা আর দ্রগবার আনন্দে। জন টেরি ও নিকোলাস আনেলকার গোলে নিজেদের মাঠে মার্শেইকে ২-০ গোলে হারিয়েছে চেলসি। ফেরার গল্প ছিল এসি মিলান ও আয়াক্সের ম্যাচেও। এসি মিলানের জার্সি গায়ে আমস্টারডামে গেছেন আয়াক্সের দুই পুরোনো সৈনিক জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও ক্লারেন্স সিডর্ফ। এতে অবশ্য আনন্দ-বিষাদের গল্প নেই। ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।
পিছিয়ে পড়া মিলানকে ড্রও এনে দিয়েছেন সাবেক দুই আয়াক্স খেলোয়াড় সিডর্ফ ও ইব্রা। এল হামদাওয়ির গোলে ম্যাচের ২৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে এসি মিলান। ৩৭ মিনিটে সিডর্ফের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে সমতাসূচক গোলটি করেন ইব্রাহিমোভিচ। মিলানের জার্সি গায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
সমতা ফিরিয়ে এগিয়ে যাওয়ারই অনেক সুযোগ পেয়েছিল রোনালদিনহোবিহীন মিলান। চোটের কারণে খেলতে পারছেন না মিলানের ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদিনহো। এগিয়ে যাওয়ার সুযোগের সদ্ব্যবহার অবশ্য করতে পারেননি ইব্রা-ইনজাগিরা। তবে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরতে পেরেই খুশি মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি, ‘দল ভালো খেলেছে। আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। যদিও আমস্টারডাম থেকে ড্র নিয়ে ফিরতে পারাটা ইতিবাচকই।’
ভালো খেলার তৃপ্তি চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তির মনেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের তেতো স্বাদ নিয়েই এই ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল ‘ব্লু’রা। কিন্তু আনচেলত্তি যেমন বললেন তাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে জয় সেটা ভুলিয়ে দিয়েছে, ‘সর্বশেষ পরাজয়ের একটা ভালো বিশ্লেষণ ছিল আমাদের কাছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে খেলেছিও ভালো। এখন ওই পরাজয়টা ভুলে যেতে পেরেছি।’
আনচেলত্তি এটা বললেও চেলসি তাদের সেরা খেলাটা পরশুও খেলতে পারেনি। ফরাসি জুটি আনেলকা আর মালুদার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই মূলত জয় এনে দিয়েছে চেলসিকে। তবে মার্শেই কোচ দেশম চাঁছাছোলা ভাষায় নিজের দলের চাঁছাছোলা সমালোচনা করে বলেছেন, ‘শারীরিক ও কৌশলগতভাবে আমাদের ওপরে ওরা ছড়ি ঘুরিয়েছে। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল বিশাল।’
ম্যাচে নিয়ন্ত্রণের কথা বললে রিয়াল মাদ্রিদ ফ্রান্স থেকে অজেরির বিপক্ষে জয় নিয়ে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তারা করতে পারেনি। কষ্টেসৃষ্টে ১-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। শেষ বাঁশি বাজার ৯ মিনিট আগে ‘সুপারসাব’ অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া করেছেন গোলটি।
দুর্দান্ত এক ভলিতে ডি মারিয়া গোলটি করার আগ পর্যন্ত রিয়াল রোনালদো-হিগুয়েইনদের মাধ্যমে যেমন আক্রমণ হেনেছে, তেমনি পাল্টা আক্রমণ করেছে অজেরিও। দুই দলের গোলে শট নেওয়ার পরিসংখ্যানও তাই বলে। রিয়াল অজেরির গোলে ১০টি শট যেমন নিয়েছে, তেমনি অজেরিও ৬টি শট নিয়েছে রিয়ালের গোলে। অজেরির দুর্ভাগ্য যে তাদের দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরেছে।
তবে মরিনহো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ-টিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভাবছেন না। দল গোল পাওয়াতেই খুশি তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে একটু রসিকতাও করলেন পর্তুগিজ কোচ, ‘সবাই বলাবলি করছিল, আমরা যেহেতু গোলই করতে পারছি না তাই আমাদের জয় প্রাপ্য নয়। আজ রাতে (পরশু) সবাই বাস্তববাদী হবেন। নিশ্চয়ই বলবেন, জয়টা আমাদের প্রাপ্য।’
ওদিকে সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলের মাঠ থেকে বায়ার্ন মিউনিখ জয় নিয়ে ফিরেছে বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগারের দুই গোলের কল্যাণে। দ্বিতীয়ার্ধে বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে বায়ার্নকে সমতায় ফিরিয়ে শেষ বাঁশি বাজার ১ মিনিট আগে ফ্রি-কিক থেকে জয়সূচক গোল করেন ‘শোয়েইনি’।

এনবিআর আয়কর বিবরণী জমার সময় বাড়াবে না

আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবাইকে এই রিটার্ন জমা দিতে হবে।
রিটার্নের সময় আর বাড়ানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আয়করের আইনে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর মানে ৩০ সেপ্টেম্বর। তা ছাড়া অর্থমন্ত্রী নিজেও দিনটির ব্যাপারে বিশেষ জোর দিয়েছেন।’
কিন্তু এর আগে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার পরও সময় বাড়ানো হয়েছে। তাই এবারও সে রকম কিছু হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের সদস্য বশিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর আগে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময় বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্যোগের মধ্যে পড়তে হয়নি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, যেসব করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর দিতে পারবেন না, যথাযথ কারণ দেখিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের (ডিসিটি) কাছে ব্যক্তিগতভাবে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই আবেদন করতে হবে। নিয়মানুযায়ী ডিসিটি সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সময় দিতে পারেন। এরপর রিটার্ন দিতে গেলে জরিমানাসহ দিতে হবে।

এক সপ্তাহের মধ্যে সুতার মূল্য বৃদ্ধি রোধে পদক্ষেপ

সুতার অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) এক প্রতিনিধিদলকে তিনি এ আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান।
বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হচ্ছে—বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একটি আমদানি ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে আমদানিকৃত সম্পূর্ণ সুতা একসঙ্গে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিয়ে আংশিক শিপমেন্ট ব্যবস্থার প্রচলন; ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত ১০ শতাংশের একটি বিশেষ নগদ সহায়তা চালু এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজের অনুদান ছাড় করার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা দূর করে সরাসরি পাঁচ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া।
বিকেএমইএর সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রীকে আরও জানান, দেশের সুতার বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। উচ্চ মূল্যে সুতা কিনতে না পারায় ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিতে হয়েছে অনেক কারখানা। এতে একদিকে যেমন লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হচ্ছেন, অন্যদিকে থেমে যাচ্ছে এ শিল্পের অগ্রযাত্রা।
বাণিজ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুতার মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সন্তোষজনক সমাধানের আশ্বাস দেন।
ফারুক খান আরও জানান, জাপানে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। জাপানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং সেখানে পোশাক রপ্তানি বাড়বে। আগামী ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে বিকেএমইএর একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল জাপান সফরে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভারত ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ করতে কাজ চলছে

ভারত ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। তবে কবে নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, সে সম্পর্কে মন্ত্রী বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়, এমন কিছুই এফটিএতে থাকবে না। এ জন্যই চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কিছুটা সময় লাগছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুটি দেশের সঙ্গে এই এফটিএ করা বাংলাদেশের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, বর্তমানে তার খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এ চুক্তি থেকে কীভাবে এবং কতটুকু সুবিধা পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত হচ্ছি আমরা।’
যেকোনো দুই দেশের মধ্যে এফটিএ থাকলে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা ভোগ করা যায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আলোচনা চললেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে এফটিএ করতে পারেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নীতিনির্ধারক মহল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করার পরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়।
এফটিএ আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী এম এ তসলিমকে প্রধান করে গত বছর ১২ সদস্যের একটি কোর গ্রুপ গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।
কমিটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো দেশের সঙ্গে এফটিএ করতে হলে সে দেশের পণ্য ও সেবাভিত্তিক বাণিজ্যিক খাতের অগ্রাধিকার নির্ণয় করতে হবে। সুপারিশে ভারত, মালয়েশিয়া ও নেপালের সঙ্গে পৃথক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো পণ্য রপ্তানির প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে বাণিজ্য-ঘাটতি কমিয়ে আনা। উল্লিখিত দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সংকলিত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৩০৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে সে দেশে ৩২ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-ঘাটতি ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
একই অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকে ১২২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে মাত্র সাত কোটি ডলারের পণ্য রপ্তাানি করেছে। ফলে এ দেশটির সঙ্গেও পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি ১০০ কোটি ডলারের ওপর চলে গেছে

রুবচিচের প্রথম দল

মাত্র ১২ দিন অনুশীলনে দেখেছেন ফুটবলারদের। এই সময়ের মধ্যে সব ফুটবলারকে ভালোভাবে দেখা কঠিন। কিন্তু রবার্ট রুবচিচের উপায় ছিল না। আগামী নভেম্বরে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল চূড়ান্ত করে ফেলতে হলো এই ক্রোট কোচকে।
দলটা ২০ জনের, সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ জন। কোনো চমক নেই। মোটামুটি যাঁদের থাকার কথা, সবাই আছেন। গত এসএ গেমসের দলটাই রাখা হয়েছে। একটি মাত্র পরিবর্তন—ইউসুফের জায়গায় শাহেদ। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে ডাক পাওয়া চার সিনিয়র খেলোয়াড়ের মধ্যে ডিফেন্ডার সুজনকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়। ডাক পাওয়া বাকি তিন সিনিয়র—গোলরক্ষক আমিনুল, ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল ও স্ট্রাইকার এনামুল।
গত পরশু দল নির্বাচন নিয়ে রুবচিচের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা জানান, রুবচিচ বলেছেন, দলে মেধাবী খেলোয়াড় আছে। তবে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, ৯০ মিনিট খেলার সামর্থ্যের অভাব বাংলাদেশের ফুটবলারদের। তা ছাড়া তাঁর নজরে পড়ার জন্য খেলোয়াড়েরা এখন যতটা সক্রিয়, ভিডিওতে বাংলাদেশের কিছু ম্যাচ দেখে বুঝেছেন, এই খেলোয়াড়েরাই মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেন না!
ভবিষ্যতে তাঁর এই পর্যবেক্ষণ পাল্টাবে কি না কে জানে, তবে নিজের প্রথম দলটাও পুরো তৃপ্তি নিয়ে করতে পারেননি রুবচিচ। পর্যাপ্ত সময়ই যে পেলেন না। তাই সহকারী কোচদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন দল নির্বাচনের ব্যাপারে। কাল টেলিফোনে রুবচিচ বলেছেন, ‘দল নির্বাচনের সময়টা কম হয়ে গেছে। আরেকটু সময় পেলে ভালো হতো। এত তাড়াতাড়ি দল দিতে হবে, আমি বুঝতেই পারিনি।’
এশিয়াড ফুটবলের গ্রুপিং হবে আগামী ৭ অক্টোবর। গেমস ফুটবল পাঁচ দিন এগিয়ে শুরু হচ্ছে ৭ নভেম্বর। তাই রুবচিচের হাতে সময় আরও কমে গেল। একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ সম্ভবত আর পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে মৌসুম-সূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপ চলবে মাসের শেষ পর্যন্ত।
একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথাবার্তা চলছে। আগামী মাসেরই শেষ দিকে এশিয়াডগামী মালদ্বীপ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ঢাকায় আনার চেষ্টা চলছে। বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বললেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য চেষ্টা চলছে। তবে গেমসের ৪০ দিন আগে দল দিতে চাইনি আমরা। বিওএ আরও এক মাস আগেই দল দেওয়ার জন্য আমাদের ব্যতিব্যস্ত করে ফেলেছিল!’

বাংলাদেশ দল
গোলরক্ষক: আমিনুল, হিমেল। রক্ষণ: মিন্টু শেখ, রেজাউল, আরিফুল, মামুন, নাসির, ওয়ালি, আতিকুর। মাঝমাঠ: মামুনুল, শাহেদ, ইমতিয়াজ, শাকিল, বাতেন, জাহিদ, জাহেদ। স্ট্রাইকার: এমিলি, এনামুল, তৌহিদুল, মিঠুন। অপেক্ষমাণ: নেহাল, সুজন, আনিসুর, মেজবাবুল, মোনায়েম।

ডানোন নেশন্স কাপে যাচ্ছে টাঙ্গাইল ও খুলনা

টাঙ্গাইলের সুতি বিএম উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রবিউল হাসানকে কাল বিকেলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেল ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনের সামনে। শুধু রবিউলই নয়, টাঙ্গাইল জেলা দলের বিশ্বনাথ ঘোষ, সজীব খান, ডালিম বর্মণদের সবাই খুব উৎফুল্ল। সবার হাতে একটা করে ভুভুজেলা। কেউ বাজাচ্ছে, কেউ বাজানোর চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের ডানোন ফুডস কোম্পানি আয়োজিত ডানোন নেশন্স কাপ ফুটবলে অংশ নিতে আজই দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে কিশোরদের টাঙ্গাইল জেলা দলটি। সঙ্গী হচ্ছে খুলনা জেলা দলও।
গত বছর টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা ছিল ব্রাজিলে। কিন্তু সোয়াইন ফ্লুর কারণে টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় গতবার ব্রাজিলে যাওয়া হয়নি খুলনার। ২০০৯-এর এপ্রিলে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ-ডানোন নেশন্স কাপের চ্যাম্পিয়ন তারা। এবার তাই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইলের সঙ্গে যাচ্ছে তারা।
আগামী ১ অক্টোবর শুরু হবে টুর্নামেন্ট। খেলা হবে প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ ও জোহানেসবার্গের অরল্যান্ডো স্টেডিয়ামে। ৫ অক্টোবর দেশে ফিরবে দল দুটি। টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ৪৫টি দেশ। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানালেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন ডানোনের কর্মকর্তা ম্যারিয়ন মিনভিয়েলসহ আরও অনেকে।

মহিলা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট

আগামী ৭ অক্টোবর থেকে দাবা ফেডারেশন কার্যালয়ে শুরু হচ্ছে ফিলোসোফিয়া দ্বিতীয় বিভাগ দাবা। সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রতিযোগিতায় আগ্রহীদের ৪ অক্টোবরের মধ্যে এন্ট্রি ফি পাঠাতে হবে দাবা ফেডারেশনে।
৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে খেলা। বিজয়ী দলগুলোকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে।

দাবা অলিম্পিয়াড



বাংলাদেশের জন্য ভালো একটা দিনই গেল দাবা অলিম্পিয়াডে। রাশিয়ার খান্তি-মিনসিস্কে অনুষ্ঠানরত টুর্নামেন্টে পুরুষ দল ৩.৫-০.৫ পয়েন্টে হারিয়েছে ইথিওপিয়াকে। কাল সপ্তম রাউন্ডের খেলায় জিতেছেন আবু সুফিয়ান (শাকিল), দেবরাজ চ্যাটার্জি ও মোহাম্মদ জাবেদ। ড্র করেছেন মিনহাজউদ্দিন আহমেদ (সাগর)। ৭ খেলায় ৬ ম্যাচ পয়েন্ট তাদের। মেয়েদের দলটি ২-২ পয়েন্টে ড্র করেছে আলজেরিয়ার সঙ্গে। ৭ খেলায় তাদেরও সংগ্রহ ৬ ম্যাচ পয়েন্ট।

একাডেমির কোচ আগামী মাসেই

প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জিপি-বিসিবি একাডেমি ভবন উদ্বোধনের মাত্র আট-নয় মাসের মধ্যেই বিবর্ণ। আশার কথা, দেরিতে হলেও একাডেমি ভবন নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু হবে একাডেমি ভবনে। একাডেমির প্রধান কোচও নিয়োগ দেওয়া হবে অক্টোবরের মধ্যেই।
কাল বিসিবির সভাপতির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির দায়িত্ব পাওয়া বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘একাডেমি ভবনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া আগামী মাসের মধ্যে একাডেমির জন্য একজন হেড কোচ নিয়োগ দিতে পারব বলেও আমরা আশাবাদী।’

তারকার আকালে আসছেন মিলা

কী অসাধারণ একটা উৎসবই না হতে পারত! ট্র্যাকে হয়তো দৌড়াতেন উসাইন বোল্ট, আসাফা পাওয়েল, পলা র‌্যাডক্লিফ, রুডিশারা। সুইমিং পুলে ঝড় তুলতে পারতেন স্টেফানি রাইস, ইমন সুলিভান। এমনকি টেনিস কোর্টেও দেখা যেতে পারত অ্যান্ডি মারেকে।
কিন্তু তা হচ্ছে না। হচ্ছে কেবল নানা কারণে একেবারেই তারকাশূন্য হয়ে পড়া একটা কমনওয়েলথ গেমস। এই তারকাশূন্যতা কিছুটা ভুলিয়ে দিতে পারেন রজার মিলা! হ্যাঁ, ক্যামেরুনের ফুটবল কিংবদন্তি মিলা আসছেন দিল্লিতে।
কমনওয়েলথ গেমসে ফুটবল নেই। তার পরও মিলা আসছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে মহা তারকায় পরিণত হওয়া মিলা এখন ক্যামেরুনের তো বটেই, নানা দেশ ও সংস্থার ক্রীড়া দূতিয়ালি করে বেড়ান। আপাতত তিনি ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য কাতারের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।
মিলার দিল্লিতে আসার সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটি ভেতরের কথা। তবে ক্যামেরুনের কমনওয়েলথ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের উৎসাহ দিতেই আসছেন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডধারী। দলটির এক কর্মকর্তা বলছেন, জাতীয় দলের হয়ে ১০২ ম্যাচ খেলা মিলা এ সপ্তাহেই একদিন চলে আসবেন।
কিন্তু মিলা এসে আর দিল্লি গেমসের কতটুকু উজ্জ্বলতা ফেরাতে পারবেন! এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বড়জোর হাজার দশেক বিদেশি দর্শক আসবেন খেলা দেখতে। কিন্তু গেমসের সময় লাখখানেক ভ্রমণার্থী আসবেন বলে আশা করছিল ভারত সরকার।

‘আত্মরক্ষা’য় বাটের লন্ডন যাত্রা

ইংলিশ ক্রিকেটারদেরই ম্যাচ পাতানোর দায় দিয়েছিলেন ইজাজ বাট। আলটপকা মন্তব্য করে পার পেয়ে যাওয়ার তো উপায় নেই। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল নিঃশর্ত ক্ষমা। কিন্তু বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। এ কারণেই কাল ইংল্যান্ডে রওনা হয়ে গেছেন বাট।
বাট নিজে গিয়ে ইংলিশদের জবাব দিয়ে আসবেন না। তবে জবাবটা কীভাবে দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করবেন পিসিবির লন্ডনে নিযুক্ত আইনজীবী এলিজাবেথ রবার্টসনের সঙ্গে। লন্ডন সফরে বাটের সঙ্গী হয়েছেন পিসিবির আইন উপদেষ্টা তাফাজ্জুল রিজভীও।
পিসিবির একটি সূত্র অবশ্য বলছে, এই সফরে বাট তাদের লন্ডনের আইনজীবীর সঙ্গে ইসিবিকে জবাব দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া সাময়িক নিষিদ্ধ তিন ক্রিকেটারের মামলাটি নিয়েও আলোচনা হবে। সূত্রটি জানিয়েছে, ইসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটা সমাধান করার চেষ্টাও নাকি করবেন বাট। এ ছাড়া অবশ্য পিসিবি চেয়ারম্যানের আরও একটা ‘কর্তব্য’ আছে। সংবাদমাধ্যমের খবর, পিসিবি এখনো ইসিবির কাছ থেকে সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফরের টাকা-পয়সা বুঝে পায়নি। এই সফরে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য পিসিবির যে অর্থ পাওনা, তাও এখন মনে হয় আদায় করে নিতে হবে।
এসব ঝামেলা যখন চলছে, তখন পাকিস্তান থেকে খবর, সাময়িক নিষিদ্ধ তিন ক্রিকেটারকে যাঁর যাঁর ঘরোয়া ক্রিকেট দলে রাখা হয়েছে। অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য রাওয়ালপিন্ডি দলে মোহাম্মদ আমির, লাহোরে সালমান বাট ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শিয়ালকোট দলে মোহাম্মদ আসিফের নাম রাখা হয়েছে।
যদিও আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এই ক্রিকেটাররা কেউ ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলতে পারবেন না। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নাঈম আখতার বলছেন, আমির খেলতে পারবেন না ধরে নিয়েও দলে নাম রাখা হয়েছে তাঁর।

কাজান বলেই সতর্ক বার্সা

বার্সেলোনায় ইয়োহান ক্রুইফের কথা বেদবাক্যসম। সেই ক্রুইফও পাত্তা পেলেন না। ‘লিওনেল মেসিকে খেলানোর ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়’—ক্রুইফের এই সতর্কবার্তা বার্সাকে মোটেও নিরস্ত করতে পারেনি। সাবধানী বার্সা রাশিয়া সফরে ঠিকই ১৯ জনের দলে রেখেছে এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে। আজ রুবিন কাজানের বিপক্ষে মাঠেও দেখা যেতে পারে চোটের কারণে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকা মেসিকে।
বার্সা কেন সাবধানী? প্রশ্নটা যাঁরা করছেন, গতবারের স্মৃতিতে হয়তো মরচে পড়ে গেছে তাঁদের। আগের মৌসুমে ছয় শিরোপা জিতে উড়তে থাকা বার্সাকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিল এই রুবিন কাজানই। ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে হারিয়ে দিয়েছিল ২-১ গোলে। রুশ ক্লাবটি নিজেদের মাঠে তিন ম্যাচের একটিও হারেনি।
মেসিকে পুরো ফিট ঘোষণার আগেই কেন তাঁকে দলে নেওয়া হলো, এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকেই পাওয়া যাবে। বার্সার ক্রীড়া পরিচালক আন্দোনি জুবিজারেতা কোনো রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘গতবার ওরা আমাদের ভালো শিক্ষাই দিয়েছিল। মাঠে কিন্তু আমাদের তিনটা পয়েন্ট জেতার জন্যই নামতে হবে।’
মহা মূল্যবান এই তিন পয়েন্টের সন্ধানে স্মরণকালের সহজতম গ্রুপে পড়েও বার্সা তাই আজ মেসিকে খেলানোর ঝুঁকি নেওয়ার কথা ভাবছে। লা লিগার গত দুই ম্যাচে মেসি-শূন্যতা যে ভালোই ভুগিয়েছে তাদের। এই দুই ম্যাচে জয় পেলেও স্পোর্টিং গিজন ও অ্যাথলেটিক বিলবাও ঘাম ঝরিয়ে ছেড়েছে।
বার্সার মতোই সতর্ক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আজ প্রতিপক্ষ ভ্যালেন্সিয়া। ম্যানইউয়ের প্রতিপক্ষ আসলে ইতিহাস আর দুর্ভাগ্যও। স্পেনে গিয়ে ১৮ ম্যাচের মাত্র একটিই জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের। একমাত্র জয়টিও এসেছে সেই ২০০১-০২ মৌসুমে। লিগে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ভ্যালেন্সিয়া বার্সা-রিয়ালকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। অন্যদিকে ইংলিশ লিগে সর্বশেষ তিন ম্যাচে সাত গোল হজম করা ম্যানইউ চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেও ড্র করেছিল রেঞ্জার্সের বিপক্ষে।
এই কঠিন সময়ে দলের দুই নির্ভরতার প্রতীক ওয়েইন রুনি আর রায়ান গিগসকে ম্যানইউ পাচ্ছে না আজ। বোল্টনের বিপক্ষে গত ম্যাচে দুজনই পড়েছেন ইনজুরিতে। ‘আগের ম্যাচে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ড্র করায় আজকের ম্যাচটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আমাদের জন্য’—অ্যালেক্স ফার্গুসনের কণ্ঠে যেন একটু অসহায়ত্ব। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় টানা ১১ ম্যাচ নিজেদের মাঠে অপরাজিত ভ্যালেন্সিয়া আজ জিতলে ম্যানইউয়ের চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থাকবে।
ইনজুরি সমস্যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানও। আজ সানসিরোতে ভেরডার ব্রেমেনের বিপক্ষে নাও থাকতে পারেন গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ে বড় ভূমিকা রাখা ডিয়েগো মিলিতো। এমনিতে প্রথম ম্যাচে অখ্যাত এফসি টোয়েন্টির সঙ্গে ড্র করায় নতুন কোচ রাফা বেনিতেজের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখার অভাব নেই।
এই সব দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিড়ে আজ একটা ব্যক্তিগত লড়াইও থাকছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। এই মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদ থেকে শালকেতে নাম লেখানো রাউল চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ৬৬ গোল করেছেন। আজ এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের সামনে সুযোগ থাকছে নিজের রেকর্ডটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

ভারতের ভবিষ্যৎ কোচ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও এখনো পুরোপুরি ছাড়েননি ক্রিকেট। আইপিএল খেলছেন, মাঝেমধ্যে ধারাভাষ্য-কক্ষে বসছেন, পত্রিকায়-টিভিতে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মতামতও। ভবিষ্যতে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কটাকে আরও পাকাপোক্ত করতে চান সৌরভ গাঙ্গুলী। সাবেক অধিনায়ক হতে চান ভারতের কোচ! চমকে ওঠার কারণ নেই, সাবেক সতীর্থদের এখনই কোচিং করানোর ইচ্ছা নেই সৌরভের। কোচ হতে চান ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে।
ভারত যে এখন টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, এর প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিল সৌরভের সময় থেকেই। ভারতীয় দলটায় খুনে মানসিকতা জন্ম দেওয়ার কৃতিত্ব অনেকটাই তাঁর। ভারতকে সবচেয়ে বেশি ৪৯ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ২১ টেস্ট। জয়ের হারেও ভারতে তাঁর ধারেকাছে নেই কেউ। তাঁর আবেগের অনেকটুকু জুড়েই আছে এই দল। খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে আবেগের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন দলের জন্য। এবার দিতে চান অন্য ভূমিকায়ও, ‘কোচ তো হতেই চাই, তবে খুব শিগগির নয়। জীবনের কোনো একটা পর্যায়ে অবশ্যই চাই। কারণ, দলকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করাটা বাড়তি একটা সন্তুষ্টির ব্যাপার। খেলাটায় আরও অনেক সহজ কাজই আছে, যেমন লেখা, ধারাভাষ্য দেওয়া। কিন্তু কোচিং করানো অনেক কঠিন। পাদপ্রদীপের আলোটা এখানে ঠিক থাকে না, একটি-দুটি জয় বা হারই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তবু আমি কোচই হতে চাই। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে পারাটাই বিশাল সম্মানের।’
কোচিং প্রসঙ্গ যখন উঠেছে, এসেছে গ্রেগ চ্যাপেলের কথাও। ভারতের সাবেক অস্ট্রেলীয় কোচের সঙ্গে সৌরভের ‘শীতলযুদ্ধ’ তোলপাড় তুলেছিল ক্রিকেট বিশ্বে। সত্যি কোচিংয়ে এলে চ্যাপেল করেছিলেন এমন কোন পাঁচটি কাজ করবেন না সৌরভ? ‘দাদা’র দুষ্টুমিভরা তাৎক্ষণিক উত্তরেও যেন বেরিয়ে এল চ্যাপেল-জমানার ক্ষোভ, ‘সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বেশি মাখামাখি থাকবে না, খেলোয়াড়দের প্রতি সৎ থাকব, নিজের চিন্তাভাবনা সংবাদমাধ্যমের আশ্রয়ে প্রকাশ করব না; খেলোয়াড়দের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। কারণ, ফলাফল ওরাই এনে দেবে, যেটা গ্যারি কারস্টেনও খুব ভালো করছেন। খেলোয়াড়দের বিশ্বাস অর্জন করব, পর্দার আড়ালে থাকব, অধিনায়কই সব সময় দলের আসল নেতা, দলটা সে-ই চালায়।’
সৌরভ যখন কোচ হবেন, সেই দলে শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। টেন্ডুলকার কোথায় থামবেন, বলা মুশকিল। তবে একটা পর্যায়ে থামতে তো হবেই। শেষের ডাক শুনতে পাচ্ছেন বাকি দুজনও। তিন মহারথীর শূন্যতা পূরণের গভীরতা কি ভারতের আছে? সৌরভ কিন্তু দারুণ আশাবাদী, ‘হয়তো অনেক ‘‘গাঙ্গুলি’’ পাওয়া যাবে, “দ্রাবিড়’’ আরেকটু কম পাওয়া যাবে, ‘‘টেন্ডুলকার’’ খুব একটা পাওয়াই যাবে না। কিন্তু ভারতে প্রতিভার ঘাটতি নেই। সুনীল গাভাস্কারের অবসরের পর কেউ কি ভাবতে পেরেছিল টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়রা এসে তাঁর অভাব পূরণ করবেন? টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়ের মতো কেউ নেই, তবে আমি বলতে পারি, কারা দীর্ঘসময় খেলতে পারে। সুরেশ রায়না পারে, চেতেশ্বর পূজারাও পারে। দুজনেরই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’
সৌরভের ‘জহুরি’ চোখের কল্যাণেই ভারত আজ পেয়েছে একজন শেবাগ, যুবরাজ, হরভজন, জহির খানকে। সেই সৌরভ যখন বলেছেন, চোখ রাখুন রায়না ও পূজারার ওপর।

বাঁদর তাড়াতে হনুমান

সীতাকে উদ্ধার করতে হনুমানের সহায়তা নিতে হয়েছিল রামচন্দ্রকে। এবার কমনওয়েলথ গেমসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হনুমানের সহায়তা নিচ্ছে দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ। না, দক্ষিণ ভারতের রীতি অনুযায়ী হনুমান-পূজা নয়; সত্যি সত্যিই হনুমান বাহিনী নামছে মাঠে!
দিল্লি গেমসে ১০ সদস্যের হনুমান বাহিনীকে অবশ্য মানব-সন্ত্রাসী প্রতিরোধের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের কাজ হবে এই গেমসে বাঁদরের উৎপাত ঠেকানো।
বাঁদর আসলেই দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরের নিরাপত্তার জন্য নিদারুণ এক উৎপাত। অফিসে, ভিআইপি এলাকায়, বাসাবাড়িতে, পুলিশ স্টেশনে—সর্বত্র গিয়ে বাঁদরামো করে তারা। সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটা ঘটেছিল ২০০৭ সালে।
সেবার একদল বাঁদরের আক্রমণে নয়া দিল্লির ডেপুটি মেয়র মারা যান। তার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। শুরু হয় বাঁদর ঠেকানোর উদ্যোগ। মানুষ তো আর গাছে গাছে লাফিয়ে বাঁদরের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না, তাদের গুলি করে মারাও চলে না। তাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় হনুমান। কারণ, বাঁদরেরা যতই ‘বাঁদর’ হোক, হনুমানকে তারা ঠিকই ভয় পায়!
দিল্লিতে সারা বছরই ভিআইপি এলাকার সুরক্ষায় এ রকম প্রশিক্ষিত ২৮টি হনুমান নিয়োজিত থাকে। এর সঙ্গে কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে রাজস্থান থেকে প্রেষণে আনা হয়েছে নতুন ১০টি হনুমান।
এই হনুমানদের মধ্যে চারটি থাকবে বক্সিং কমপ্লেক্সের বাইরে, চারটি হকি কমপ্লেক্সের বাইরে—এই দুই জায়গাতেই বাঁদরের উৎপাত বেশি। বাকি দুটি হনুমান ‘রিজার্ভ ফোর্স’ হিসেবে থাকবে।
সব মিলিয়ে এবার কমনওয়েলথ গেমসে অনেক কিছু হতে পারে—সন্ত্রাস, স্বাস্থ্যচিন্তা, আবাসন-সমস্যা। কিন্তু বাঁদরামি একদম চলবে না!

বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভেট্টোরি

বাংলাদেশ সফরটাকে বিশ্বকাপের আদর্শ প্রস্তুতিই মানছেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। তবে দেশ ছাড়ার আগে সতীর্থদের জন্য দিলেন হুঁশিয়ারি—বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে কাল রাতেই ঢাকা এসে পৌঁছার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের।
গত ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশকে ৩-০-তে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছিল কিউইরা। সেটা মনে করিয়ে দিয়েও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকাকে ভেট্টোরি বলেছেন, ‘আমরা এখানে তাদের যে রকম সহজে হারিয়েছি, ওখানেও সেই একই আশা করলে বিরাট ভুল হবে। তবে আমরা যদি ওদের সমীহ করি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী খেলি, তাহলে ওদের হারানো উচিত।’
গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে দলে ছিলেন না ভেট্টোরি, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জেসি রাইডার। বাংলাদেশ সফরে এই তিনজনই ফিরলেও দলটা পুরোপুরি অভিজ্ঞ নয়। ১০টির কম ওয়ানডে খেলেছেন, এমন ক্রিকেটার আছেন ছয়জন। একদমই নতুন মুখ কেন্টারবুরির ২৩ বছর বয়সী পেসার হামিশ বেনেট। ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিমি বেগে বল করতে পারা এই তরুণকে নিয়ে ভেট্টোরি বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘জোরে বল করতে পারে এমন কয়েকজন বোলার খুঁজছি আমি। দেখা যাক, উপমহাদেশে তারা সাফল্য পায় কি না। কারণ, সামনেই তো বিশ্বকাপ।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে বরাবরই সফল ভেট্টোরি। দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখে, ছুটি কাটিয়ে এবার আরও সতেজ হয়েই আসছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। নিজেই বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারে এই প্রথম এতটা লম্বা সময় ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকলাম। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোটা ছিল দারুণ। এখন আবার ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় আছি।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশে কোনো ম্যাচ নেই নিউজিল্যান্ডের। সব ম্যাচই তারা খেলবে ভারত আর শ্রীলঙ্কায়। তবে বাংলাদেশে যেহেতু দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল হবে, বিশ্বকাপের আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাঁচটি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের কাজে লাগতেও পারে। ‘আমরা চাই ছেলেরা ওখানে অভ্যস্ত হয়ে উঠুক। বিশ্বকাপের সময় যদি ওখানে খুব অল্প সময়ও থাকতে হয় আমাদের, তারা যেন একটা ধারণা নিয়ে যেতে পারে।’
সিরিজ শুরুর আগে আগামী ১ ও ৩ অক্টোবর বিকেএসপিতে বিসিবি একাদশের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা নিউজিল্যান্ড দলের। তবে গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা এতটাই করুণ যে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটা আদৌ হয় কি না সন্দেহ।

বিসিবি সভাপতির ‘সালতামামি’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ধারণা প্রায় প্রতিষ্ঠিতই হয়ে যাচ্ছিল—আ হ ম মোস্তফা কামালের সংবাদ সম্মেলন মানেই সাংবাদিক বনাম বোর্ড সভাপতির কথার যুদ্ধ। সাংবাদিকদের কোনো না কোনো প্রশ্নের হয়তো একটা বক্র উত্তর দিয়ে বসবেন, সংবাদ সম্মেলনের পরিবেশ যাতে তিক্ত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
এই প্রথম সেটা হলো না। বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল সম্ভবত গত এক বছরের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা দেখালেন কাল। বিসিবি সভাপতির পদে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন যে হয়নি তা নয়, কিন্তু মোস্তফা কামাল যেন বদলে যাওয়া এক ব্যাটসম্যান! ছক্কা হাঁকাতে কোনো বেপরোয়া শট নয়, কোনো ক্যাচও তাই উঠল না শেরাটন হোটেলের বলরুমে।
মোস্তফা কামাল যখন বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেন, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছিল। কিন্তু এই এক বছরে সেসব প্রতিশ্রুতির কটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তিনি? সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা করারই দরকার হয়নি, কারণ, বোর্ড সভাপতি আগেই বলে দিয়েছেন, ‘আমি এখানে কোনো বিবৃতি দিতে আসিনি। আমার সাফল্য-ব্যর্থতা আপনারাই ভালো মূল্যায়ন করবেন। তবে ক্রিকেট দেশের সব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা। এক বছর আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমরা সেসব পূরণ করার দিকেই এগোচ্ছি।’
মোস্তফা কামাল যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ করতে পারেননি, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পরপর খুব জোর দিয়ে বলেছিলেন, এটা করবেনই। অথচ এক বছরেও পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতি! কাল এই ব্যর্থতা স্বীকার করেই আরও একবার আশার বাণী শোনালেন সভাপতি, ‘গঠনতন্ত্র তৈরি হয়ে গেছে। আশা করি আগামী ২৪ অক্টোবর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় এটা অনুমোদিত হবে। এরপর সরকারের অনুমোদনেরও দরকার আছে। সেটা হয়ে গেলেই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে। এটার জন্য আমরা আলাদা বাজেটও বরাদ্দ রেখেছি।’
ক্রিকেটের উন্নয়নে এখন যেসব কাজ চলছে, তার সবই চলবে। সঙ্গে নতুন কিছু পরিকল্পনার কথাও জানালেন মোস্তফা কামাল। স্কুলছাত্রদের খেলায় উৎসাহ দিতে এ বছরের মধ্যেই দেশের ১৫ থেকে ২০টি জেলা স্কুল মাঠে অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানো হবে। এটিতে ভালো ফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলেই বসানো হবে টার্ফ। বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকার ক্লাবগুলোর অনুশীলন-সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মোস্তফা কামাল মহিলা ক্রিকেটারদেরও দিলেন সুখবর, ‘একটা স্টেডিয়াম আমরা শুধু মেয়েদের খেলার জন্য দিয়ে দেব। এ বছরের মধ্যেই মেয়েদের জন্য বিদেশি কোচও আনা হবে।’ এ ছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের অর্থায়নে কক্সবাজারে বিসিবির নিজস্ব স্টেডিয়াম তৈরির কাজও আগামী এক বছরের মধ্যে শুরু হবে বলে আশাবাদী বোর্ড সভাপতি। নতুন পরিকল্পনার মধ্যে আরও আছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো ‘এ’ দল এবং একাডেমি দলের ক্রিকেটারদের মাসিক বেতনের আওতায় আনা ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অনুসরণে জাতীয় দল, ‘এ’ দল এবং একাডেমি দলের মধ্যে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা।
বিসিবির সভাপতি হিসেবে গত এক বছরে মোস্তফা কামাল সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন সম্ভবত দল গঠনে হস্তক্ষেপের কারণে। এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তিনি বলেছেন, ‘কোনো নির্বাচকই বলতে পারবেন না যে আমি এই খেলোয়াড়টাকে বাদ দিয়ে ওই খেলোয়াড়টাকে নিতে বলেছি। তবে হ্যাঁ, যে দলটা ঘোষিত হয়, সেটাতে যেহেতু আমার স্বাক্ষর থাকে, দলটা কী রকম হলো, কারা দলে এল সেটা দেখা আমার দায়িত্ব। কখনো কোনো ব্যাপারে আমার বক্তব্য থাকলে সেটা আমি নির্বাচকদের জানাই, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করি। সেদিক দিয়ে পরোক্ষভাবে হয়তো একটা ভূমিকা থাকে আমার। তবে দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কখনোই করি না।’
ওয়ার্কিং কমিটি অকর্মণ্য হয়ে পড়া এবং অলিখিতভাবে টেকনিক্যাল কমিটিরই সর্বময় ক্ষমতার আধার হয়ে ওঠা, বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির (এলওসি) বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম—সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে এসব নিয়েও। বোর্ড সভাপতি হিসেবে বিতর্কিত প্রশ্নের যে রকম উত্তর দেওয়া উচিত, তা-ই দিলেন মোস্তফা কামাল। সংবাদ সম্মেলন যেহেতু সমস্যা সমাধানের জায়গা নয়, উত্তপ্ত প্রশ্নের জবাবে পাল্টা উত্তাপ ছড়িয়ে খামাখা নতুন সমস্যার জন্ম দেওয়া কেন?
এটাও হয়তো মোস্তফা কামালের একটা সাফল্য যে, হঠাৎ আসা বাউন্সারে হুক-পুলের চেষ্টা না করে সংযমী থাকলেন। নইলে বর্ষপূর্তির সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্যাচ অবশ্যই উঠত। তবে শেরাটনের বলরুমে নয়, ক্যাচটা হয়তো উড়ে যেত বিসিবি অফিসের করিডরে।