Saturday, May 25, 2019

শেষমেশ রাস্তায় বসে ইফতার করলেন ভিপি নুর

রাস্তায় ইফতার করছেন ভিপি নুর
রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মসজিদ রোডে একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ইফতার করার কথা থাকলেও শেষমেশ ওই রেস্টুরেন্টের সামনে রাস্তার পাশে দলবল নিয়ে বসে ইফতার করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।
ভিপি নুরের অভিযোগ, ছাত্রলীগের বাধার মুখে তাদের পূর্ব নির্ধারিত ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের মসজিদ রোডে একটি হোটেলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে ওই ইফতার মাহফিল হওয়ার কথা ছিল।
তার দাবি, ‘গ্র্যান্ড মালেক রেস্টুরেন্টে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় শেষমেশ রাস্তায় বসেই আমাদের ইফতার করতে হয়েছে। ছাত্রলীগ এমন উগ্র আচরণ কেন করছে, বোধগম্য নয়।’
পুরো ঘটনা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীকে অবহিত করেছেন জানিয়ে ভিপি নুর বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ডাকসুর ভিপিকে প্রতিহত করার ঘোষণা একভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অপমান বা অবমূল্যায়নের নামান্তর। তাদের (ছাত্রলীগের) সেই অধিকার নেই।’
এর আগে এদিন বিকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছান নুর। পরে তাকে পুলিশি পাহারায় শহরের মসজিদ রোডের গ্র্যান্ড মালেক রেস্টুরেন্টে আনা হয়।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অর্ধশত নেতাকর্মী। পরে পুলিশি প্রহরায় নুর আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্যাগ করেন।
এদিকে, নুরের অভিযোগের ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘চিহ্নিত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সভায় বাঁধা দিয়েছি। ডাকসুর ভিপি নুরকে বাধা দেওয়া হয়নি। বাধা দিলে তিনি পথসভাসহ সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারতেন না।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘নুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা নিয়ে পুলিশ অবগত ছিল না। পুলিশকে কেউ জানায়নি। প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সন্ধ্যার ট্রেনে নুর ঢাকায় চলে যান।’
পথসভায় বক্তব্য রাখছেন ভিপি নুর (ছবি–বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি)

৬ মাস ধরে ক্ষমতাহীন, আর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে চাই না: মমতা

ভারতের ১৭ তম লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির নাটকীয় উত্থান হয়েছে। বিজেপির কাছে বেশ কয়েকটি আসন হারিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার পর থেকেই দলের নেতাদের কাছে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার পদত্যাগ মেনে নেয়নি দল। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসব কথা বলেছেন তিনি।
গেরুয়া ঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত তছনছ তৃণমূল ব্রিগেড। লোকসভা নির্বাচনে দলের হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে শনিবার নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা। কালীঘাটে নিজের বাসভবনে বিকেল ৪টায় বৈঠক শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী।  এতে যোগ দেন দলের সব জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা। বৈঠকে ছিলেন দলের সব জেলা সভাপতিরাও। মমতার জরুরি বৈঠকে অংশ নেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
দলের বৈঠক শেষে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা জানান, দলকে বলেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করব। কিন্তু দল রাজি হল না। তিনি বলেন, ‘৬ মাস ধরে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম। এটা মানতে পারছি না। অমি আর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে থাকতে চাই না। আমার কাছে চেয়ার বড় নয়। যারা ভোট দেননি, তারা নিশ্চয়ই অপছন্দ করেছেন আমায়, বিবেকে লেগেছে।’
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, ‘চেয়ার ইজ নাথিং ফর মি। এক মিনিটে রেলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে এসেছিলাম। আমার চেয়ারের কোনও দরকার নেই। চেয়ারের আমাকে দরকার।’
এত কাজ করার পরও ভোটে হারায় আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, অনেক উন্নয়ন করেছি। পুরোটাই হয়ে গিয়েছে। আর উন্নয়ন করব না। এ বার দলে বেশি করে সময় দেব।
নিজের মায়ের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আমি যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলাম, তখন একটি সংবাদপত্র আমার মায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। সেখানে আমার মা বলেছিলেন, মমতা যেন মমতাই থাকে। মমতা মমতাই আছে। বদলায়নি। একা হয়ে গেলেও সত্যিটা বলব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানালেও বিজেপির সমালোচনা করতে ছাড়েননি মমতা। বলেন, আসন সংখ্যা হয়তো কমেছে, তবে ভোট শতাংশ বেড়েছে তৃণমূল। ওরা সাম্প্রদায়িকতায় বিষ ছড়িয়ে সফল হয়েছে। মোদিজিকে অভিনন্দন। জানি না কেন এরা ২৩টি আসনই কেন পেল না। কেন তিন-চারটে এদিক ওদিক হলো?।
ধর্মীয় মেরুকরণের জেরেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়েছে তা স্বীকার করে মমতা বলেন, সামনে ঈদ আসছে। তিনি অবশ্যই ইফতারে যাবেন। তার কথায়, আমি তো মুসলিম তোষণ করি। যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও খাব। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ওয়াল।

কে হচ্ছেন বৃটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!

বৃটিশ রাজনীতিতে আবার ঝড়। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ৭ই জুন তিনি পদত্যাগ করবেন কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে। ফলে একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও তার ইস্তফা ঘটে যাবে। তেরেসা মের পরে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা। একদিন না যেতেই কনজার্ভেটিভ দলের প্রধান, তথা প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চারজন। তারা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী রোরি স্টিওয়ার্ট, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী এস্থার ম্যাকভি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
তেরেসা মে শুক্রবার আবেগঘন ঘোষণায় জানান, আগামী ৭ই জুন তিনি কনজার্ভেটিভ দলের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। এ অবস্থায় দলের নেতাদেরকে জুলাই মাসের শেষ নাগাদ একজন নতুন নেতা বাছাই করতে হবে। তিনিই হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তবে সে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তেরেসা মে।
ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ দলের ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে পরিচিত ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্রাডির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ওই কমিটি তেরেসা মে’র বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অনাস্থা ভোট আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ অবস্থায় গ্রাহাম ব্রাডির সঙ্গে বৈঠকে তেরেসা মে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি পদত্যাগের পরই শুরু হবে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
এ অবস্থায় যে চারজন এরই মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তার বাইরে আছেন আরো এক ডজনের বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্যার গ্রাহাম ব্রাডিও। এতদিন আলোচনায় ছিলেন কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী আম্বার রাড। কিন্তু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন। লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফকে তিনি বলেছেন, আমি মনে করি না এটা আমার জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি বরিস জনসনের সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, আগে আমরা যেমন একসঙ্গে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও তাই করবো।
শুক্রবার তেরেসা মের ওই ঘোষণার পর বৃটেনে সর্বত্র এক আলোচনা। কে হচ্ছেন কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা! কে হচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী! তিনি কি স্বপ্নের ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর আগে জানা গিয়েছিল তার মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গভ অন্যতম। তেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে জানাতে অস্বীকৃতি জানান। বলেছেন, শুক্রবার দিনটি প্রধানমন্ত্রীর।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে পারেন বরিস জনসন। তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন ব্রেক্সিট বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ডমিনিক রাব এবং মাইকেল গভ।
কে কে প্রার্থী হতে চান তা নিশ্চিত করার কাজ শুরু হবে ১০ই জুন। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তাদেরকে পার্লামেন্টের কমপক্ষে দু’জন সহকর্মীর সমর্থন পেতে হবে। জুলাইয়ে দলের সব সদস্য ভোট দিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।
গত বছর মার্চের হিসাব মতে, কনজার্ভেটিভ দলে রয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার সদস্য। সর্বশেষ যে নেতাকে এমন ভোটে নির্বাচিত করা হয়েছিল ২০০৫ সালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এরপর ২০১৬ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তেরেসা মে।
শুক্রবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেয়ার সময় বার বার আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তার ভবিষ্যত উত্তরসূরির প্রতি আহ্বান জানান ব্রেক্সিটের ফলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা সামনে এগিয়ে নিতে। তিনি বলেন, যিনিই ক্ষমতায় আসবেন তাকে পার্লামেন্টে ঐক্যমত গড়ে তুলতে হবে, যা আমি পারি নি। এমন একটি ঐক্যমতে পৌঁছা তখনই সম্ভব হবে, যদি সব পক্ষ সমঝোতায় সম্মত হয়।
এদিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ছিলেন সুইজারল্যান্ডে একটি অর্থনৈতিক কনফারেন্সে। সেখানে তিনি বলেছেন, নতুন একজন নেতা ক্ষমতায় এলে তাকে বিষয়টি (ব্রেক্সিট) ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নিতে হবে। তিনি ব্রেক্সিটের বিষয়ে সেখানে বলেন, আমরা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করবো, তাতে কোনো চুক্তি করে হোক বা চুক্তি ছাড়া হোক।

কিসের ঐক্যফ্রন্ট? -আসিফ নজরুলের প্রশ্ন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লজ্জা থাকা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এতো বড় একটা জঘন্য নির্বাচন গেল, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ যার সাক্ষী। অথচ আমরা নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শুনলাম নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। উনার লজ্জা হওয়া উচিৎ। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ নির্বাচনের দুই তিন দিন আগে থেকে জানি কি হচ্ছে।
আর উনি জানেন না নির্বাচনে কি হচ্ছে? শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি আগেরকার দিনে দেশে কোনো হত্যাকা- হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া হতো। যখন একটা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হতো, যেমন মাগুরা মার্কা নির্বাচন। তখন পুরো সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হতো। আমরা দেখতাম পত্রিকায় এরশাদের দুর্নীতি সম্পর্কে যা ইচ্ছা তাই লেখা যেতো।
তারেক রহমান ও কোকো সম্পর্কে যা ইচ্ছা তাই লেখা যেতো। প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহে রাজপথে বিরোধী দলের আন্দোলন হতো। এখন কি কেউ খেয়াল করে দেখেছেন এতো হত্যাকা- হয়, এতো গুম হয়। তারপরও কেউ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিকারী এই কথাটি বলার ক্ষমতা কারো নেই। এই কথাটা বলার পরিবেশ এখন নেই। শুধু একটা আসনে নয়, পুরো দেশের নির্বাচন আগের রাতে গুম হয়ে যায়। মানুষের কথা বলার সাহস থাকেনা। আমি ৫/৬ বছর আগে একটা লেখা লিখেছিলাম ‘গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র’। তখন কেউ কেউ হেসেছিলেন। এখন আমার মনে হয় গুম হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গুম হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের সত্ত্বা যেটা, বৈশিষ্ট যেটা এই রাষ্ট্রের চেতনা যেটা এর সমস্ত কিছু যদি লুন্ঠিত হয়ে যায়। তাহলে তো আর রাষ্ট্র থাকে না। আমরা সেই রকম একটা জায়গায় চলে গেছি। এই রকম একটা জায়গা থেকে ঐক্যফ্রন্টকে আরো অনেক শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। অনেক বিস্তৃত ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আপনাদের সমালোচনা করিনা, কিন্তু কিছু কিছু বিষয় আমাদের খুবই কষ্ট দেয়। এই রকম একটা জঘন্যতম নির্বাচন হল। আপনারা পরেরদিন একটা হরতালও ডাকতে পারলেন না। আজ পর্যন্ত একটা কর্মসূচি দিতে পারলেন না। আশ্চর্য লাগে এটা একটা পলিটিক্স?
আমি সারাজীবন রাজনীতির উপর কাভার স্টোরি করেছি। এতো বড় একটা জঘন্য নির্বাচন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ যার সাক্ষী। এটার প্রতিবাদ যদি না করতে পারে তাহলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট। সরি, আমি আজ এভাবে কথা বলছি। আমরা নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শুনলাম নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। উনার লজ্জা হওয়া উচিৎ। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ নির্বাচনের দুই তিন দিন আগে থেকে জানি কি হচ্ছে। আর উনি জানেন না নির্বাচনে কি হচ্ছে? উনি এখানে থাকলে ভালো হতো। উনি আসলে বলবেন আমি বলেছি লজ্জা হওয়া উচিৎ। এই রকম যদি বিরোধী দল হয় তাহলে বাংলাদেশে ভোটাধিকার আমরা কখনো ফিরে পাব না। সরকারের অনেক দোষ আছে। তাদের যতো দোষ থাকবে বিরোধী ঐক্যকে ততো স্মার্ট, ততো শক্ত এবং ততো ব্যাপক হতে হবে। বিরোধী দল যদি তাদের দায়িত্ব পালন করতে না পারে তাহলে আপনাদের কাছে আশা করার কিছু নেই।

ভারতের রাজনীতিতে সেই মুসলিম নেতারা কই?

নির্বাচনে নিজেদের প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষুব্ধ মুসলিম নেতারা/ কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শাকিল আহমেদ। ছবি: বিবিসি
মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। তবে সংখ্যায় বেশি হলেও আইনপ্রণেতা হিসেবে এই সম্প্রদায়ের লোকজন হাতে গোনা। এবার দেশটির লোকসভা নির্বাচনে সেই ছাপ বড় বেশি স্পষ্ট। লোকসভা নির্বাচনের দৌড়ে সেভাবে নেই মুসলিমরা। দলের টিকিটে আগে নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছিলেন, নির্বাচিতও হয়েছিলেন, এমন কেউ কেউ এবার বাদ পড়েছেন মনোনয়ন থেকে। ভারতের রাজনীতিতে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে মুসলিম নেতাদের অংশগ্রহণ।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই মুসলিম নেতাদের গল্প।
বিহার রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের সংসদীয় আসন মধুবানি। এ আসনে এবার লড়ছেন রাজনীতিতে অভিজ্ঞ শাকিল আহমেদ (৬৩)। গায়ে ফোসকা পড়া গরমের মধ্যে মোটরসাইকেলে চড়ে ধুলো উড়িয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। প্রবীণ এই রাজনীতিকের জন্য নির্বাচন নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। এর আগে এই আসনে টানা দুবার তিনি কংগ্রেসর হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবার তফাত হলো দলের মনোনয়ন পাননি তিনি। লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
শাকিল আহমেদ বিরোধী দল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। তবে এপ্রিল মাসে কংগ্রেস যখন জানিয়ে দিল মধুবানি আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেবে না, তখন সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে সুদীর্ঘ পথচলার ইতি টানেন। এরপর ওই আসন থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। শাকিলের এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগান সর্বস্তরের মুসলিম সমর্থকেরা।
তবে ঘটনাটি মুসলিমদের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি করেছে। রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন তাঁরা।
দলের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র শাকিল আহমেদকে মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টিও বিস্ময়কর। শাকিল কোনো সাধারণ প্রার্থী নন। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং কনিষ্ঠ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বাবা ও দাদা দুজনই কংগ্রেসের নেতা এবং বিহার রাজ্য সভার আইনপ্রণেতা ছিলেন।
বিহারের সামাজিক-ধর্মীয় ইসলামি সংগঠন ইমারাত শরিয়াহের সেক্রেটারি মাওলানা আনিসুর রহমান কোয়াজমি বলেন, ‘শাকিল আহমেদের মতো কংগ্রেসের বড় মাপের নেতাকে নিজ আসনের জন্য ভিক্ষা চাইতে হয়েছে। তিনি এখন যা করছেন, তা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচায়ক, তবে এই কাজ তাঁর আরও অনেক আগেই করা উচিত ছিল। কেবল মুসলিমরাই কংগ্রেসকে জেতাতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে ঘোর ষড়যন্ত্র চলছে। তোমরা (কংগ্রেস) মুসলিমদের বলো তোমাদের ভোট দিতে, অথচ মুসলিম প্রার্থীদেরই নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার টিকিট দাও না।’
দিল্লিতে কংগ্রেসের মুসলিম প্রার্থী নেই
ধর্মনিরপেক্ষ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কংগ্রেসের সুনাম রয়েছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির সঙ্গে এখানে তাদের ভিন্নতা রয়েছে। তবে নির্বাচনে তারা মুসলিমদের সুযোগ কম দেওয়ায় মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিহারের ১২০ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা মাত্র আট।
গত মাসে দিল্লির জ্যেষ্ঠ মুসলিম কংগ্রেস নেতা শোয়াইব ইকবাল, মার্টিন আহমেদ, হাসান আহমেদ ও আসিফ মোহাম্মদ খান পার্টির প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে সতর্ক করে এক চিঠি লিখেছেন। তাঁরা জানান, দিল্লিতে কোনো মুসলিম প্রার্থী না থাকার বিষয়টি জনগণকে রুষ্ট করছে। তাঁদের মতে, চাঁদনি চক বা উত্তর-পূর্ব দিল্লির অন্তত একটি সংসদীয় আসন মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা উচিত। তবে তাঁদের সেই অনুরোধে সাড়া দেননি রাহুল। দিল্লিতে নেই কংগ্রেসের কোনো মুসলিম প্রার্থী।
দলের সিদ্ধান্তর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় গণমাধ্যম সমন্বয়কারী সঞ্জীব সিং। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব, আমরা করেছি। নির্বাচনে যাঁদের টিকিট দেওয়া সম্ভব, দিয়েছি। ২০১৪ সালের তুলনায় এবার আরও একজন মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। তবে জোট রাজনীতির কাছে আমাদেরও হাত-পা বাঁধা।’
কমেছে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব
১৯৮০ সালে ভারতের পার্লামেন্টে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ছিল ৯ শতাংশ, ২০১৪ সালে এসে যা ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি যে কেবল ২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঘটেছে, তা কিন্তু নয়। ধীরে ধীরে কয়েক দশক জুড়েই সংসদে মুসলমানদের প্রতিনিধি কমেছে। এ কারণে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছে মুসলিম প্রার্থী ও ভোটারদের। কারণ, মুসলিম অংশগ্রহণের বিষয়ে এত দিন কংগ্রেসের ওপরই শুধু তাঁরা ভরসা করতে পারতেন।
ক্ষমতাসীন বিজেপি চলমান লোকসভা নির্বাচনে কেবল সাতজন মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অথচ ৫৪৫ সদস্যবিশিষ্ট সংসদের নিম্নকক্ষে আসনসংখ্যা ৪৩৭। ২০১৪ সালেও তারা মাত্র সাতজনকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল, যাঁদের কেউ জয়ের মুখ দেখেননি। সেবার ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদে কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছিল না।
২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৪৬৪ আসনের বিপরীতে ৩১ জন মুসলিম প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে কেবল সাতজন বিজয়ী হন। এ বছরেরও সেই চিত্রের খুব একটা হেরফের হয়নি। দলটির ৪২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা ৩২।
অধ্যাপক হিলাল আহমেদ জানান, ইসলাম ধর্মে বর্ণপ্রথার কোনো স্থান নেই এবং মুসলিমরা সবাই একই রাজনৈতিক পরিচয় বহন করেন। তাই বলে তাঁরা কেবল নিজেদের ইস্যু চিন্তা করেই ভোট দেন না। ভালো রাস্তা, স্কুল, চাকরি—এগুলো তো সবারই প্রত্যাশা।
তারপরও ধর্মের দোহাই দিয়ে নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের পিছিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানান মধুবানি এলাকার বাসিন্দারা। শাকিল আহমেদের এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। বিজেপির কাছ থেকে তাঁদের আগে থেকেই কোনো প্রত্যাশা ছিল না, এবার কংগ্রেসের সিদ্ধান্তেও হতাশা জানিয়েছেন মুসলিম ভোটাররা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার জেফরিলট ভারতের পার্লামেন্টে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০১৬ সালে এক সভায় তিনি জানান, নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ জরুরি। কারণ, তাঁদের হাত ধরেই সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে পার্লামেন্টে মুসলিম সদস্যরাই মুসলমানদের সমস্যার ২৩ শতাংশ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজেই মুসলিম প্রতিনিধির সংখ্যা যত কমবে, মুসলিমদের অধিকার আদায়ের পথও ততটাই বন্ধ হবে বলে মনে করেন ক্রিস্টোফার।
মুসলিম সম্প্রদায় এখন এই কথাই অন্তর থেকে উপলব্ধি করছে। তাদের হয়ে কথা বলার জন্য যোগ্য প্রতিনিধি প্রয়োজন।

অ্যান্টিবায়োটিকের রঙ লাল করার পরামর্শ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বাড়ছে। আর অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এটি মানবদেহের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই অ্যান্টিবায়োটিকের রঙ লাল করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি মানবজমিরনকে বলেন, এটা করে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে যে, এই লাল রঙ আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই খাবেন না। অ্যান্টিবায়োটিককে এক প্যাকেটে রাখতে হবে।
এর গায়ে নিয়ম লিখা থাকবে যে ৮ ঘণ্টা পর পর এটি খাবেন। অ্যান্টিবায়োটিকের গুরুত্ব, ভয়াবহতা ও করণীয় সম্পর্কে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যপুস্তুকে এক পাতায় শিক্ষার্থীদের জন্য লিখতে হবে। এসব শ্রেণীতে প্রতিটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেন দোকানদার।
যার মধ্যে ৯০ ভাগ অপ্রয়োজনীয়। প্রয়োজন হলেও তারা চিকিৎসক না হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ডোজটা দিতে পারছেন না বা সম্পূর্ণ ডোজ দিচ্ছেন না। চিকিৎসক নন কিন্তু চিকিৎসা করেন এমন প্যারামেডিকস, পল্লী চিকিৎসকরাও ভুল ডোজে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন।
চিকিৎসক নন কিন্তু নিজেদের চিকিৎসক দাবি করেন এমন লোকের সংখ্যা দেশে লক্ষাধিক। যারা নামের আগে ডাক্তার লিখেন। লোকেও মনে করে তারা ডাক্তার। তাদের আমরা বলি কোয়াক। এরা পল্লী চিকিৎসক। এদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সারা দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ অ্যান্টিবায়োটিক আড়াই লাখ দোকান থেকে দেয়া হয়। দিনে যদি তারা চার থেকে পাঁচজনকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয় তাহলে আনুমানিক উল্লিখিত অ্যান্টিবায়োটিক একদিনে দেয়া হচ্ছে। যাদের এ সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই। এটা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া মুরগি ও মাছকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। তাও বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে মুরগি, গরু এবং ছাগলের মাংস থেকেও মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছে। এ অবস্থা অবশ্যই আতঙ্কজনক। এ চিকিৎসক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের বিষয়ে প্রথম কথা হচ্ছে ‘সাধারণত রেজিস্ট্যান্সের ড্রাইভিং ফোর্স কত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় তার উপর দেখা হয়। কারণ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে দেখা হলে ব্যাকটেরিয়ার একটা স্থিতি তৈরি হয় এবং সেই স্থিতিটাই আসলে রেজিস্ট্যান্স। ব্যাকটেরিয়া বাঁচার পদ্ধতিটা শিখে ফেলে। যেহেতু প্রতিদিন এই রকম লাখ লাখ অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে তাই ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর দেখা হচ্ছে এবং ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিককে চিনে ফেলছে। তাদের মধ্যে কোনও কোনও ব্যাকটেরিয়া বাঁচার একটা নিয়ম শিখে ফেলছে এবং তারা যখন লাখ লাখ কোটি কোটি হয়ে যায় তখন আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। তখন আর ব্যাকটেরিয়াগুলো সেই অ্যান্টিবায়োটিকে মারা যায় না। যতবেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হবে তত বেশি সমস্যা বাড়ে। বাংলাদেশে যেহেতু কোনও প্রয়োজন ছাড়াই বেশি ব্যবহার হচ্ছে তাই আমাদের এই ড্রাইভিং ফোর্সটাকে প্রথমে কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে মুরগি পালনে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় ২৪টার মতো অ্যান্টিবায়োটিক আছে যা মুরগি পালনে ব্যবহার হচ্ছে।
এর মধ্যে তিন ধরনের কোলিস্টিন, সিপ্রোফক্সাসিন, এজিথ্রোমাইসিন মুরগিকে প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে। বড় প্রাণীর ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝেই দেয়া হচ্ছে। মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক সকাল বেলায় পানির সঙ্গে দেয়া হয় যেন মুরগির ইনফেকশন না হয়। মানে মুরগির যেন মহামারি না লাগে। সুস্থ মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে যেন অসুস্থ না হয়। এর ফলে সেই মুরগি অসুস্থ হয় না, মুরগির মলমূত্রের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক পানিতে যায় এবং পানির সঙ্গে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে দেখা হয় এবং তারাও রেজিস্ট্যান্স হয়ে যায়। ওরা এরপরে জিন পাঠিয়ে দেয় মানুষকে যে ব্যাকটেরিয়াগুলো আক্রমণ করবে সেই ব্যাকটেরিয়াকে। ফলে সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো মানুষকে পরবর্তীতে আক্রমণ করে। কিন্তু মুরগিতে ব্যবহার করার কারণে সেই মানুষটি যখন আক্রান্ত হলো তখন সেই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে আর সিপ্রোফক্সাসিন, কোলিস্টিন কাজ করবে না। দেশের কোটি কোটি মুরগিকে সকাল বেলা পানির সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। এটাকে আমরা বলি সিলেক্টিভ প্রেসার। দুর্বল ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায় এবং সবল ব্যাকটেরিয়াগুলো বেঁচে যায়। তাই অন্তত এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক মুরগিকে দেয়া বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনও ব্যাকটেরিয়ার সেনসিটিভিটি কেমন তার টেস্ট হয় দেশের মাত্র ১০ থেকে ১২টা জায়গায়। এর ফলে যেটা হচ্ছে প্রায় ৫০টা জেলায় কোনও ব্যাকটেরিয়ার সেনসিটিভিটি কেমন সেটা না জেনে ডাক্তারদের বই থেকে পড়া জ্ঞান দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রোগীকে দিতে হয়। এতে ব্যাকটেরিয়ার রেজিস্ট্যান্স প্রতিদিন বদল হয়। কিন্তু ডাক্তাররা এটার ব্যাপারে সচেতন নয়। তারা ধরে নেন মানুষ তো আগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে এসেছে। তারা অকারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নতুন বা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। তারা যে কারণটা বলেন যে, আগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে। এটা আসলে খুবই ভুল যুক্তি। এই যুক্তিতে কখনও অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া যায় না। দেখা উচিত ছিল সেনসিটিভিটি। তাই দেশের ন্যূনতম সব জেলা সদর হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অন্তত অঞ্চলভিত্তিক মেডিকেল কলেজগুলোতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। কিংবা যেসব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হচ্ছে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তাহলে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোনটা এখন রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে, কোনটা এখন ব্যবহার করতে হবে।
ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের পড়ার ক্ষেত্রে মাত্র দুই ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে পড়ানো হয়। এটা বাড়িয়ে ২৫ ভাগ করলে চিকিৎসকরা সচেতন হবেন। মেডিক্যাল কারিকুলামে আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েটে এটার গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা সবখানে করতে হবে।
আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউতে যেসব রোগী আসেন তাদের লিভার ও হার্ট ফেইলিয়র থাকে। রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা আগে থেকেই তৈরি হয়। তার কমেপ্রামাইজ ফাংশনের কারণে রোগী যখন ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকটেড হয় তখন সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো তিনি অন্য হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসেন। আইসিইউতে ৩ থেকে ৭ দিন থেকে টাকার অভাবে এখানে আসেন রোগী। জটিলতম কেস। আইসিইউ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ তবে বলা যাবে না যে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে রোগী মারা গেছেন। কিন্তু তাদের ব্যাকটেরিয়ার কালচার যদি আমরা দেখি, দেখা যাবে যে ওই সময় ড্রাগের বিরুদ্ধে ৮০ ভাগ রেজিন্ট্যান্স ছিল। যতজন মারা যায়, তার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রেজিস্ট্যান্ট পাওয়া যাবে সেটা হয়তো বেশিরভাগই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। তবে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে এটা বলা যাবে না। কারণ আগে থেকেই রোগী ঝুঁকিতে ছিল। তিনি বলেন, আইসিইউতে মারা যাওয়া প্রতি ১০ জনের আটজনের ক্ষেত্রে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া রেজিস্ট্যান্স ছিল।

তেরেসা মে’র চোখে তখন পানি

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। দলীয় প্রচণ্ড  চাপের মুখে গতকাল পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় বারবার কান্নায় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল তার। ঘোষণার শেষ পর্যায়ে কার্যত হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তেরেসা মে। তিনি বলেন, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন আমার জীবনের জন্য সবথেকে সম্মানের। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পরপর তিনবার পার্লামেন্টে  ভয়াবহভাবে পরাজিত হন তিনি। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নিজের দল কনজারভেটিভের বিপুল সংখ্যক পার্লামেন্ট সদস্য। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে আরো একবার অনাস্থা ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ১৯২২ কমিটি। তবে তার আগেই ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে পরিচিত ১৯২২ কমিটির চেয়ার গ্রাহাম ব্রাডির সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল তিনি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। বলেন, ৭ই জুন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রধানের পদ থেকে সরে যাবেন তিনি। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে নেবেন তেরেসা মে। তার এ ঘোষণার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
গতকালের বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের গণভোটকে সম্মান জানাতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তার সময় সরকারের নানা অর্জনের কথা তুলে ধরেন তেরেসা মে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ঘাটতি মোকাবিলা, বেকারত্ব কমানো ও মানসিক স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি। তবে ব্রেক্সিটের ক্ষেত্রে সফল না হওয়া তার জন্য ভীষণ অনুতাপের বলেও জানান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। মে’র পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কার্যত কঠিন হয়ে উঠলো ব্রেক্সিট।
তেরেসা মে বলেন, আমি বৃটেনের রাণীকে আমার সকল কথা বলেছি। যতদিন না পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আসছেন ততদিন আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবো। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে সফল হতে হলে অবশ্যই ঐক্য গড়তে হবে যেটি আমি পারিনি। আর এই ঐক্য শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যদি উভয় পক্ষই যথেষ্ট উদারতা দেখাতে প্রস্তুত থাকে।
এসময় তিনি স্যার নিকোলাস উইনটনের কথা তুলে ধরেন। নিকোলাস উইনটন একবার তেরেসা মে’কে বলেছিলেন, কখনো ভুলে যেও না যে আপস কোনো খারাপ শব্দ নয়। জীবন বেঁচে থাকে এই আপসের উপরেই। সেই ঘটনা বক্তব্যে তুলে আনেন তেরেসা মে। তিনি বলেন, স্যার নিকোলাস উইনটন সঠিক ছিলেন। 
তিনি বলেন, তিনি দলের প্রধান থেকে পদত্যাগ করবেন ৭ই জুন। এর ৭ দিনের মধ্যেই কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্ব নির্ধারণী প্রক্রিয়া শুরু হবে। বক্তব্য দেয়ার এক পর্যায়ে তেরেসা মে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি অতি শিগগিরই পদত্যাগ করবো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের সবথেকে বড় সম্মান। তিনি যুক্ত করেন, এমপিদের বোঝাতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। দুঃখজনক হলো যে আমি ব্যর্থ হয়েছি। তাই বৃটেনের এই বিষয়টিকে (ব্রেক্সিটকে) এগিয়ে নিয়ে যেতে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী দরকার। বক্তব্য শেষ করার আগে তেরেসা মে বলেন, আমি বৃটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী কিন্তু আমিই শেষ নই। আমি যা করেছি তার পিছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। দেশের সেবা করার সুযোগ দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।
উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচন হতে পারে বৃটেনে। এমনটা মনে করেন হারমিস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সিলভিয়া ডাল’অ্যানজেলো। তার মতে, পরবর্তী নেতৃত্বের অধীনে একটি ঝুঁকি থাকবে। তাহলো নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে পার্লামেন্টের প্রাতিষ্ঠানিক উত্তেজনা তীব্র হবে। তা রূপ নিতে পারে অকার্যকর রাজনৈতিক পটভূমিতে। তিনি বলেন, এতে পরবর্তী ধাপে যা হতে পারে তা হলো আগাম নির্বাচন। অন্য ঘটনাও ঘটতে পারে। আসতে পারে একটি দ্বিতীয় গণভোট এবং চুক্তিহীন ব্রেক্সিট সম্পাদনের মতো বিষয়।
বৃটিশ ও আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
মে’র পদত্যাগের ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, স্কটিশ কনজার্ভেটিভ নেতা রুথ ডেভিডসন, সাবেক বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনসহ অনেকে।
মে’র পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে দেখছেন মারকেল। মারকেলের মুখপাত্র বলেছেন, জার্মান চ্যান্সেলর মিসেস মে’র সঙ্গে সব সময়ই আস্থার সঙ্গে, চমৎকারভাবে কাজ করেছেন। তিনি যতদিন পদে থাকেন তার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবেন মারকেল।
বৃটেনে নতুন করে উদ্ভূত এ পরিস্থিতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ইউরোপীয় কাউন্সিল। তারা এ নিয়ে আগামী মঙ্গলবার বৈঠক করবে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র।
মে’র পদত্যাগের ঘোষণায় সমর্থন জানিয়ে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন ম্যাক্রন। তবে জানিয়েছেন, ফ্রান্স দ্রুততার সঙ্গে ব্রেক্সিট সম্পাদনা চায়। 
ডেভিডসন বলেন, তেরেসা মে নারী ও মেয়েদের জন্য মডেল হয়ে থাকবেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। প্রাণোচ্ছলতায় কাজ করেছেন। তিনি পুরোপুরি মর্যাদা ধরে রেখে কাজ করেছেন। ওদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বরিস জনসনকে একজন ভণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন।
এদিকে, মে’র পদত্যাগের পর বৃটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে ইইউ। আজ শনিবার এ বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাদের।
মে’র পদত্যাগের পরপরই তার প্রশংসায় মুখিয়ে ওঠেন বৃটিশ নেতারা। এমনকি তার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন এমন অনেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন। এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।
দেশের সেবা করায় মে’কে ধন্যবাদ জানিয়ে বৃটিশ রাজনীতিবিদদের মে’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে একজোট হয়ে ব্রেক্সিট সমপন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জনসন।
জনসন ছাড়া আরো এক সাবেক মন্ত্রীও মে’র প্রশংসা করেছেন। সাবেক ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক রা’ব বলেন, মে সবসময়ই উচ্চ মর্যাদাবোধসমপন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমী ও কর্তব্যনিষ্ঠ কনজারভেটিভ।
এছাড়া, সমপ্রতি পদত্যাগ করা হাউজ অব কমন্সের নেত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ভাষণে দেশের প্রতি মে’র পূর্ণ অঙ্গীকার ও দায়িত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তার সবটুকু দিয়ে।
বৃটিশ পরিবেশমন্ত্রী মাইক্যাল গোভ এক টুইটে লিখেছেন, আমাদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতার দাবিদার হওয়া একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিহরণ জাগানো একটি বক্তৃতা। তেরেসা মে, আপনাকে ধন্যবাদ।

বালিশে ওলটপালট চাকরির বাজার! by সাজেদুল হক

শুরুটা বাহুবলির নায়ক প্রভাসকে দিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তার অসংখ্য ছবি। কাঁধে বালিশ। আসছেন বাংলাদেশের দিকে। এরপর একে একে যোগ দেন আরও অনেক সেলিব্রেটি। সবারই টার্গেট বাংলাদেশে বালিশ ওঠানোর কাজ নেয়া। কিন্তু  বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা কেন ছাড় দেবেন? তারাও বিসিএসের পড়া, বড় বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়তে চান বালিশ ওঠানোর কাজে।
স্যাটায়ার। কিন্তু কে না জানে এটা আসলে বাস্তবের চেয়েও বেশি কিছু। পরাবাস্তব। সিনেমাতেওতো বালিশ উঠিয়ে এতো টাকা আয় করা সম্ভব নয়। ঘটনাটি এরই মধ্যে সবারই জানা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জিনিসপত্র কেনা আর ওঠানোর খরচে হয়েছে অবিশ্বাস্য এ লুট। দেশ রূপান্তর পত্রিকা প্রথম বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। প্রায় প্রতিটি জিনিস কেনা আর ওঠানোর খরচে হয়েছে রীতিমতো রেকর্ড। একটি বালিশ কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৯৫৭ টাকা। এটি বিশ্ব রেকর্ড কি-না কে জানে? তবে পরেরটি নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব রেকর্ড। কারণ একটি বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এ ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করেছে।
ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। জনস্বার্থের নানা ইস্যু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে এনে এরই মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। জনস্বার্থে একাধিক রিটও করেছেন এখন পর্যন্ত। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইস্যুটিও তিনি নিয়ে গেছেন হাইকোর্টে। বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল এ নিয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্নীতির ফিরিস্তি আদালতে তুলে ধরেন ব্যারিস্টার সুমন। অন্যদিকে, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, এ নিয়ে মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ অবস্থায় রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। পরে আদালত শুনানি মুলতবি করে। একইসঙ্গে প্রতিবেদন দুটি দাখিলের নির্দেশ দেয়।
সে যাই হোক, দুর্নীতির বালিশ আখ্যান বাংলাদেশে বিপুল চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এমনিতে সবকিছু এখন আমাদের গা সওয়া। কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না। নালিশ করতে করতে হয়তোবা আমরা ক্লান্তও। সেলফ সেন্সরশিপের যুগে সংবাদ মাধ্যমও নীরব। আমরা এখন খবর দেখিনা, খবর লিখিনা, খবর তৈরি করি না। আমরা এখন কেবল খবর হত্যা করি। জবাবদিহি শব্দটি উধাও হয়ে গেছে অভিধান থেকে। কখনো ছিল কি না এ নিয়েও অবশ্য কেউ প্রশ্ন তুললে তাকে দোষ দেয়া যাবে না। এমন অবস্থায় দুর্নীতির বালিশ আখ্যান আমাদের হতচকিত করেছে। কেউ কেউ রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন। সংশয় আর শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। বলছেন, এক লাখ কোটি টাকার মূল প্রকল্পে জানি কী হচ্ছে! অনেকে আবার বলছেন, এটাই নাকি স্বাভাবিক। অন্য কিছু আশা করাটাই ভুল!
দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড ছিল আমাদের। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে আসে সে কলঙ্ক। পরেও আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এখন চ্যাম্পিয়ন না হলেও দুর্নীতি কমেছে সে কথা কেউ দাবি করেন না। আগেই বলেছি, জবাবদিহি এখন রীতিমতো নির্বাসিত। সংসদ অকার্যকর। সেখানে নানান কিসিমের বিরোধী দল। কাগজে-কলমে যারা বিরোধী দল তার সরকারি দলের সঙ্গে জোট বেঁধেই ভোটের লড়াই করেছে। যদিও সে লড়াই কেমন ছিল তা সবারই জানা। আরেকটি বিরোধী দল অনেক নাটকের পর সংসদে যোগ দিয়েছে। কতটা ইচ্ছায় কে জানে! একসময় সংসদীয় কমিটি গুলোতে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতো। সেদিনও এখন আর নেই। কোনও দিন আসবে কি-না কে জানে?
বাংলাদেশ এখন রীতিমতো কূহেলিকায় আচ্ছন্ন। একদিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি। বিশ্ব ব্যাংককে থোড়াই কেয়ার করে উঠছে পদ্মা সেতু। উর্ধ্বমুখী শহর। বড় বড় ইমরাত। জিডিপি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনকরা দেশগুলোর তালিকায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিও এখন এটা স্বীকার করছে। এটি মুদ্রার একদিক। অন্যদিকের চিত্র ম্লান। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যাচ্ছে আমাদের তরুণেরা। দুধ চোর এক বাবার কাহিনী কয়দিন আগেই ভাইরাল হয়েছে। এমন আরও কত কাহিনী যে পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ধনী-গরীবের বৈষম্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এটি সরকারি রিপোর্টই। কোন কোন অর্থনীতিবিদ বলছেন, জাতীয় আয়ের ৯৫ ভাগ চলে যাচ্ছে ৫ ভাগ মানুষের হাতে। প্রতিবছরই তারা আরও ধনী হচ্ছেন।
এই যখন অবস্থা তখন বালিশ ওঠানোর কাজে যোগ দিতে তরুণদের আর্জিকে শুধু হাস্যরস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তরুণদের চাকরি নেই এটাতো এক নির্মম বাস্তবতা। বালিশ আখ্যানে ওই বাস্তবতা আমরা যেন ভুলে না যাই। একইসঙ্গে যেন না ভুলি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার ইস্যুটিও।
এক বছরেরও কিছু বেশি সময় আগে একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকৌশলী মওদুদ রহমান লিখেছিলেন, ১৯৭৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থ্রি মাইল আইল্যান্ড পারমাণবিক দুর্ঘটনার মাধ্যমে বেজেছিল সাবধান হয়ে যাওয়ার ঘণ্টা। কিন্তু সে সময়ে নীতিনির্ধারকেরা তা কানে তোলেননি। যার মূল্য গুনতে হয়েছে ১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল ইউক্রেনে চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনার মাধ্যমে। ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও  চেরনোবিল শহর এখনো বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত। বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম আর ক্যানসারে মৃত্যু এখনো সেখানে নিয়মিত ঘটনা। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়া রাশিয়া, বেলারুশ আর ইউক্রেনের কয়েক লাখ হেক্টর জমি আজও ফলনের জন্য অনুপযুক্ত।
শেষ কথা: বাংলাদেশের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক এটাই বাস্তবতা। কিন্তু একটি বালিশ ভবনে তোলার খরচ প্রায় হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে-দুর্নীতির এমন বিস্তার হয়তো কল্পনাতেও ছিল না। যে কারণে বালিশ কাহিনী সমাজকে এতোটা হতচকিত করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু তদন্ত আর বিচার নয়, ছয় হাজার টাকা দামের সেই বালিশগুলোকে সংরক্ষণ করা হোক। এগুলোতো নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের বড় উপকরণ।

২৮শে মে শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি by পরিতোষ পাল

জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর যিনি নিজেকে ফকির বলে অভিহিত করেছেন। দিল্লিতে এখন নতুন সরকার গঠনের ব্যস্ততা। তার আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন  বৈঠকের পরেই মন্ত্রিসভার নেতা হিসেবে সব মন্ত্রী এবং তার নিজের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেয়ার সুপারিশ  করেছেন।
আজ শনিবার বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে মোদিকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এর পরেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ জানতে চাইবেন। জানা গেছে, প্রোটেম স্পিকার নির্বাচিত হতে চলেছেন বেরিলি থেকে নির্বাচিত প্রবীণ সাংসদ সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার। তিনিই নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অন্যদিকে, স্পিকার নির্বাচন নিয়েও জল্পনা চলছে। কারণ এবার সুমিত্রা মহাজনকে বিজেপি টিকিট দেয়নি। ফলে সপ্তদশ লোকসভার স্পিকার নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮শে মে মঙ্গলবার সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। দ্বিতীয় বার শপথ নিতে চলেছেন তিনি। ২০১৪ সালে বিজয়ী হয়ে অবশ্য মোদি ২৬শে মে শপথ নিয়েছিলেন। তবে সরকারিভাবে ২৮শে মে শপথ গ্রহণের কথা জানানো হয়নি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ দিল্লির কুরসিতে ফেরার পরেই সরকারের শপথ গ্রহণের দিন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত ছিলেন। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, শ্রীলঙ্কার সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র, অনুপম খের, সালমান খান, বিবেক ওবেরয়ের মতো বলিউডের সেলিব্রেটিরাও ছিলেন। তবে এবার তেমন কোনো পরিকল্পনা এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গেছে। বিপুল সাফল্যের পর মন্ত্রিসভা কি ঢেলে সাজবে, নাকি পুরনোদের উপরেই মোদি আস্থা রাখবেন, তা নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলো কাদের দেয়া হবে তা নিয়েও প্রবল গুঞ্জন চলছে দিল্লির অলিন্দে। ভারতের সুরক্ষা সংক্রান্ত কোর কমিটির সদস্য হন এই চার মন্ত্রকের মন্ত্রীরা। এবারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের থাকার সম্ভাবনা কম বলেই জানা গেছে। তবে সুষমা যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রক চালিয়েছেন তাতে তাকে রেখে দেয়াও হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এবার অবশ্য তিনি নির্বাচনে দাঁড়াননি। কিডনি পরিবর্তন হয়েছে তার কিছুদিন আগেই। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও অসুস্থ। কিডনি সংক্রান্ত অসুখে ভুগছেন। বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। জেটলির অবর্তমানে অর্থ মন্ত্রক সামলেছেন পীযূষ গোয়েল। বাজেটও পেশ করেছেন তিনি। তাছাড়া পেশায় তিনি একজন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। তাই পীযূষ গোয়েলকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং প্রথমবার নির্বাচনে নেমে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাই তিনি এবার মন্ত্রী হচ্ছেন। তবে জানা গেছে, রাজনাথ সিংকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে সরিয়ে অমিত শাহকে করা হতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে নির্মলা সীতারমনই থাকবেন নাকি রাজনাথ সিংকে ফের এই মন্ত্রকে নিয়ে আসা হবে তা নিয়েও চর্চা চলছে। আমেথিতে রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করার পুরস্কার হিসেবে স্মৃতি ইরানিকে বস্ত্র মন্ত্রক থেকে সরিয়ে ভালো কোনো মন্ত্রকে দেয়া হতে পারে।
তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার কতজনকে মন্ত্রী করা হবে তা নিয়ে জোর কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সাফল্যের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ রাজ্যের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল। গতবার ২টি আসনে জয়ী বাবুল সুপ্রিয় এবং এসএস আলুওয়ালিয়া মন্ত্রী ছিলেন। এবার রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মত বিজয়ী মন্ত্রিত্বের দাবিদার হতে পারেন। মন্ত্রী বাড়তে পারে আসাম থেকেও। তবে কোন রাজ্য থেকে কতজনকে মন্ত্রী করা হবে তা নিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

সাড়া মিলেছে সিমলার by ইব্রাহিম খলিল

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় তিনমাস চেষ্টার পর চিত্রনায়িকা সিমলার সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া। তিনি বলেন, তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। বাড়ির ঠিকানায়ও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উনার (সিমলা) মা, ভাই ও বড় বোনের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এতদিন তিনি (সিমলা) সাড়া দেননি। তবে বুধবার দিনগত রাতে তার বড় বোনের মাধ্যমে সিমলার যোগাযোগের আগ্রহের কথা জেনে টেলিফোন করা হলে ফোন রিসিভ করে আমার সঙ্গে কথা বলেন সিমলা। সিমলা জানিয়েছেন, তিনি এখন শুটিংয়ের কাজে ভারতের মুম্বইয়ে আছেন। ঈদ পর্যন্ত তিনি খুবই ব্যস্ত সময় পার করবেন। এরপর দেশে ফিরবেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে আসবেন। তদন্তের স্বার্থে যেকোনো তথ্য দিতে তার কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।
রাজেশ বড়ুয়া জানান, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি বিকালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ময়ূরপঙ্খী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর সন্ধ্যার দিকে মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পলাশ।
এই ঘটনার পরের দিন ২৫শে ফেব্রুয়ারি নগরীর পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০১২-এর ৬ ধারা এবং বিমান নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন আইন, ১৯৯৭-এর ১১ (২) ও ১৩ (২) ধারায় পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলায় নিহত পলাশ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অভিযানে নিহত পলাশ আহমেদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। রাজেশ বড়ুয়া বলেন, তদন্তে নেমে শুরুতেই স্ত্রী সিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদের জেরে পলাশ ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার মতো ঘটনার অবতারণা করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পলাশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাও ব্যক্ত
করেছিলেন। এই সূত্রে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৩রা মার্চ সিমলার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয় এবং একই বছরের ৬ই নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর কয়েক দফা সিমলার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। তবে বাংলাদেশে তার অবস্থানের কোনো তথ্য না পেয়ে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায় বাবার বাড়ির ঠিকানায় তাকে হাজিরের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করা হয়। কিন্তু তিন মাসেও সাড়া না পেয়ে সিমলার বড় বোনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার বার্তা দেয়া হয়। একইসঙ্গে দ্বিতীয় দফা নোটিশও পাঠানো হয়। এরপর সিমলার আগ্রহেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাজেশ বড়ুয়া জানান, মামলায় বিমানের পাইলট, ফার্স্ট অফিসার, কেবিন ক্রু, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একজন সাবেক কর্মকর্তার সন্ধান পাবার চেষ্টা চলছে। সিমলার পাশাপাশি পলাশ আহমেদের আগের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পলাশের বাবা আগামী সপ্তাহে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে আসবেন। এর আগে ২৬শে ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ওই ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করা পিস্তল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুসহ বেশকিছু আলামত জমা দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম। গত ১৩ই মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি পিস্তলের ব্যালাস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয় কাউন্টার টেরোরিজমের হাতে। এতে বলা হয়, পিস্তলটি ছিল খেলনা।
সিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সব সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে মামলার তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আসবে। বর্তমানে ভারতের মুম্বইয়ে অবস্থান করা সিমলা দেশে ফেরার পর সিটিটিসির মুখোমুখি হবেন বলেও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেছেন। সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরো বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বা তাদের আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। আর কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না গেলে এবং জড়িত একমাত্র ব্যক্তি মারা যাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে মামলা নিষপত্তি করা হবে।

নেহরু ও ইন্দিরার পর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদি

ভারতে জওয়াহের লাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর পর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছেন তিনি। এ নিয়ে টানা দুইবার একক দল হিসেবে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার নেতৃত্বাধীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোট গণনার প্রাথমিক ফল অনুসারে, ৫৪২ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনে একক দল হিসেবে এগিয়ে ছিল বিজেপি। আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে ছিল কমপক্ষে সাড়ে তিন শত আসনে। যেখানে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করতে প্রয়োজন মাত্র ২৭২ আসন। এদিকে, নেহরু-গান্ধী বংশের তরুণ উত্তরাধিকার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস এগিয়ে ছিল মাত্র ৫৩ আসনে। যদিও তার প্রো-প্রো-পিতামহ নেহরু  ১৯৫১-৫২ সালে তার প্রথম লোকসভা নির্বাচনে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। এমনকি পরবর্তীতে ১৯৫৭ সাল ও ১৯৬২ সালেও পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হন নেহরু। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে কারণে ওই বছরের অক্টোবর থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশজুড়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল।
নেহরুর আমলে কংগ্রেস ছিল অপ্রতিরোধ্য এক শক্তি। তবে তখনই ভারতীয় জনসংঘ, কিষান মজদুর প্রজা পার্টি, স্কেডিউল্ড ক্যাস্ট ফেডারেশন ও সোশ্যালিস্ট পার্টির মতো দলগুলো ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে উঠছিল। তারপরও তৎকালীন ৪৮৯ আসনের মধ্যে ৩৬৪ আসন জিতেছিল কংগ্রেস। মোট ভোটের ৪৫ শতাংশ একাই দখলে নিয়েছিল দলটি। এরপর ১৯৫৭ সালে পুনঃনির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন নেহরু। ভারত তখন কঠিন অবস্থা পার করছিল। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ পাস হওয়ার পর দলের ভেতর ও বাইরে ডানপন্থিদের মোকাবিলা করছিলেন নেহরু। ভাষা নিয়েও তখন নানা বিতর্ক চলছিল দেশজুড়ে। ১৯৫৩ সালে স্টেটস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর, বেশিরভাগ রাষ্ট্রই ভাষাগত মিল বিবেচনা করে গঠন করা হয়। এর মধ্যে খাবার সংকটেও ভুগছিল ভারত। সবমিলিয়ে বেশ সংকটময় অবস্থায় ছিলেন নেহরু। তবে এসবের মধ্যেও ১৯৫৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে দর্শনীয় জয়লাভ করেন তিনি। এমনকি আগের চেয়ে আরো ভালোভাবে জয় পান তিনি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস জিতেছিল ৩৭১ আসনে। পেয়েছিল মোট ভোটের ৪৭.৭৮ শতাংশ। নেহরু শেষবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ১৯৬২ সালে। ৪৯৪ আসনের মধ্যে তার দল জেতে ৩৬১ আসন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত শাসন করা কংগ্রেসের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে। ওই সালে প্রথমবারের মতো দলটি বিধানসভা নির্বাচনে ছয়টি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এর মধ্যে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে সেটাই ছিল কংগ্রেসের প্রথম হার। কিন্তু সেটা ছিল নেহরুর মেয়ে ও রাহুলের দাদী ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম লোকসভা নির্বাচন। সে নির্বাচনে ৫২০ আসনের মধ্যে ২৮৩ আসনে জয়লাভ করে তার দল।
১৯৬৯ সালে ইন্দিরা কংগ্রেসের পুরনো শাখা বাতিল করে দেন। শাখাটির নাম ছিল কংগ্রেস (ও)। ওই শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোরারজি দেসাই। সে সময়েই ইন্দিরা গান্ধী ‘গারিবি হটাও’ স্লোগান চালু করেন। দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় তার এই স্লোগান। ফলস্বরূপ ১৯৭১ সালে ৩৫২ আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। অন্যদিকে, ২০১০ সালের দিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেসময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিজেপি। ভারতজুড়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি। জয়ীও হন বিপুল ভোটে। ২৮২ আসনে জয় পায় বিজেপি। আর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নরেন্দ্র মোদি। দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনে তিনি আরো বড় চমক সৃষ্টি করছেন। তার ধারে কাছেও নেই কোনো দল। ভোট গণনার দু’চার দিন আগে বিরোধী দলগুলোর প্রধানরা ও দলের মুখরা নেতারা নানা অভিযোগ উত্থাপন করতে থাকেন। তারা নেতাকর্মীদের ‘গুজবে’ কান না দেয়ার আহ্বান জানান। স্ট্রংরুম পাহারা বসান। কিন্তু কোনো কিছুতেই মোদিকে আটকানো যায় নি। এক অসাধারণ বিস্ময় সৃষ্টি করে রেকর্ড গড়লেন তিনি।

কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী জারিন দিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরলেও মুখে মুখে আলোচনা কেন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চাইছিলেন। তার সহপাঠিরা বলছেন, মধুর ক্যোন্টিনে হামলায় দিয়াও আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় করা তদন্ত কমিটি উল্টো তাকে অভিযুক্ত করে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে দিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এছাড়া সংগঠনে শ্রম দিয়েও মূল্যায়ণ না পাওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন।
দিয়ার সহপাঠিরা জানান, সোমবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় জারিন দিয়াকে সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি ভর্তি ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাবির রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, বহিষ্কারের ক্ষোভ থেকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে দিয়া। হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর এখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো। তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জারিন দিয়াকে বহিষ্কারের বিষয়ে লিপি আক্তার বলেন, ওই দিন মধুর ক্যান্টিনে হামলায় দিয়াও আহত হয়েছে। ছাত্রলীগে পদ না পেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে সেদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উপর তার ক্ষোভ থাকতেই পারে। তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা তার বহিষ্কার মানি না।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় জারিন দিয়াকে। এর তিন ঘণ্টা পর সোমবার রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি রেওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর প্রতি কিছু প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়ার এবং তারপরের কিছু ঘটনা উল্লেখ করে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জারিন দিয়া লিখেছেন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করবো। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে প্রশ্নগুলির উত্তর নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে।
তিনি লিখেন, গত ১৩ তারিখ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার পর যখন দেখলাম আমার নামটি নেই, তখন ভাবলাম- হয়তো যোগ্য না। তাই হয়তো আমার নামটি দেয়নি। এক পর্যায়ে শোভন ভাইকে ফোন দিলাম। ভাইকে বললাম, ভাই আমাকে কেনো কমিটিতে রাখা হলো না? আমি শুনতে চেয়েছিলাম তিনি হয়তো বলবেন, আমি যোগ্য না। রাজনীতি করতে থাকো, পাবে একসময়। কিন্তু না। ভাই আমাকে বললেন; তোকে অনেক রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাব্বানীর জন্যে তোকে রাখতে পারিনি। রাব্বানীর তোর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। আমাকে ভুল বুঝিস না। কথাটা শুনে কাঁদবো না হাসবো বুঝতে পারলাম না। তখন আমি শোভন ভাইকে বললাম ব্যক্তিগত ক্ষোভের সেই ঘটনাটা। আরও বললাম, কোনোদিন যদি আপার সামনে যেতে পারি ভাই, আমি আপাকে একটা বার বলতে চাই- আপা সম্মেলনের আগে রাব্বানী ভাই এর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তখন ভাই আপনি কী উত্তর দেবেন? কোনো উত্তর দিতে পারেননি শোভন ভাই। রাব্বানী ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছি। উনি ফোন ধরেননি। তাই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে আমার সঙ্গে রাব্বানী ভাইয়ের ক্ষোভের ঘটনাটি উল্লেখ করি।
যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সেই স্ট্যাটাসটার জন্যে আমাকে ছাত্রলীগ থেকে তারা বহিষ্কার করে দিলেন? আমার দেশরত্নের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই; আমরা মেয়েরা আর কতটা অসম্মানিত হলে তাদের যোগ্য বলে মনে হবে? শোভন-রাব্বানী ভাই আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে যারা সংগঠনের জন্যে কাজ করে তাদের মূল্যায়ন দিয়েন। আমি সেদিনের মারামারিতে যখন কোমরে আঘাত পেলাম, কই আপনারা তো আমার একটা খোঁজ নিলেন না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করবো। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে উত্তরগুলি নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে। রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদেরই দ্বারা এতটা অসম্মানিত হবো কোনোদিন ভাবতেও পারিনি। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। ওইদিন (১৩ই মে) মধুর ক্যান্টিনে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তারও ভূমিকা ছিলো বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে পদ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রাব্বানী বলেন, তাকে (জারিন দিয়া) তো আমি চিনতামই না।
সে কীভাবে গত কমিটিতে সদস্য ছিলো, তাও জানতাম না। একবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে একটি কমেন্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম সে ছাত্রলীগের সদস্য। তারপর আর কিছুই হয়নি। এখন পদ পাওয়া নিয়ে সেই বিষয়কে ইস্যু বানালে তো আর হবে না। যেখানে ভালো করে তাকে চিনিই না, সেখানে ব্যক্তিগত ক্ষোভের তো কোনো প্রশ্নই আসে না। এর জন্য পদ না পাওয়ার যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্লেখ্য, গত ১৩ই মে সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সোমবার দিয়াসহ পাঁচজনকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। ‘ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধুর ক্যান্টিন ভর্তি মেয়ে লাগে’ উল্লেখ করে ফেসবুকে দিয়ার দেয়া একটি স্ট্যাটাস সমপ্রতি ভাইরাল হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি ওই  স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি জোরালো হচ্ছে

কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ এখন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে, তাঁরা চাইলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার ক্ষমতাও তাঁদের রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি অভিশংসনের ঘোর বিরোধী। তাঁর যুক্তি, এর ফলে ট্রাম্পের অনুগত সমর্থকদের উজ্জীবিত করা হবে। তাতে ২০২০ সালের নির্বাচনে হিতে বিপরীত হতে পারে।
পেলোসির আপত্তি সত্ত্বেও ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসে অভিশংসনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ম্যুলার প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর সে প্রশ্নে তদন্তের জন্য কংগ্রেস অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার সহ ট্রাম্পের বিভিন্ন সহকর্মী ও আইনজীবীদের শুনানিতে ডেকে পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের আয়করের হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের নথিপত্রও তাঁরা চেয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো নথিপত্র দেওয়া হবে না, কেউ কংগ্রেসের সামনে শুনানিতেও অংশ নেবে না। হোয়াইট হাউসের চোখে, ম্যুলার রিপোর্ট প্রকাশের পর এই প্রশ্নে অতিরিক্ত কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস এখন যা করছে তা প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিব্রত করা ছাড়া আর কিছু নয়।
হোয়াইট হাউসের এই ঢালাও অসহযোগিতার কারণেই কংগ্রেসের ভেতর ডেমোক্রেটিক সদস্যরা বিকল্প হিসেবে অভিশংসন, নিদেন পক্ষে অভিশংসনের লক্ষ্যে অনুসন্ধান শুরু করার দাবি জানানো শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদেরও অনেকে বলছেন, এ ছাড়া অন্য কোনো পথ আর খোলা নেই। যাঁরা এত দিন অভিশংসনের বিরোধী ছিলেন, তাঁরাও বলছেন, কংগ্রেসের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করা। সে কাজে বাধা দিয়ে ট্রাম্প কংগ্রেসের অধিকার খর্ব করেছেন। প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস সদস্য আলেজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেস বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করার চেয়ে অনেক জরুরি দেশে আইনের শাসন রক্ষা করা। আর সে জন্য অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।
একজন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্প অভিশংসন-যোগ্য অপরাধ করেছেন এমন মন্তব্য করায় অভিশংসনের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের দাবি আরও জোরদার হয়েছে। মিশিগান থেকে নির্বাচিত জাস্টিন আমাস হলেন প্রথম ও একমাত্র রিপাবলিকান সদস্য যিনি পুরো ম্যুলার প্রতিবেদন পাঠের পর অভিশংসনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর এই কথা ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্বকে ভীষণ ক্ষিপ্ত করেছে। তাঁরা বলছেন, আমাস কেবল নামেই রিপাবলিকান, কাজে নন। কোনো কোনো ভাষ্যকারের ধারণা, নিজ দল থেকে বেরিয়ে লিবার্টারিয়ান পার্টির প্রার্থী হিসেবে আমাস হয়তো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
আমাসের কথায় উৎসাহী হয়ে একাধিক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য খোলামেলা ভাবেই বলা শুরু করেছেন, আর বিলম্ব নয়। একজন আফ্রিকান-আমেরিকান সদস্য বলেছেন, ‘আমরা যেভাবে হাত গুটিয়ে বসে আছি, তা দেখে আমাদের সমর্থকেরা বিস্মিত। তারা অভিযোগ করছে আমাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করছি না।’
টেক্সাস থেকে নির্বাচিত সদস্য হোয়াকিম জেফ্রি বলেছেন, অভিশংসন শুরুর সময় এসেছে।
কংগ্রেসের প্রগতিশীল গ্রুপের যুগ্ম সভাপতি ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচিত সদস্য প্রমীলা জয়পাল বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে তার দায়িত্ব পালনে শুধু বাধা দিচ্ছে তাই নয়, শাসনতন্ত্রে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্সে’র যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিচার বিভাগীয় কমিটির সামনে প্রশ্নোত্তরে অংশ নেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন আইনজীবী ডন ম্যাগেনের নামে সমন জারি করা হয়েছিল। ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি সে সমন উপেক্ষা করেন। এই ঘটনার পর যেসব ডেমোক্র্যাট অভিশংসনের বিপক্ষে তাঁরাও বলা শুরু করেছেন, একটা কিছু করা দরকার। যেমন, মিসৌরি থেকে নির্বাচিত ইমানুয়েল ক্লিভার বলেছেন, ‘এ রকম ঘটনা যদি আরও ঘটে তাহলে আমাকেও বলতে হবে অভিশংসন ছাড়া বিকল্প নেই।’
পেলোসি অবশ্য এখনো অভিশংসনের দাবি উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। গত সোমবার কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান জেরি ন্যাডলারের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি বলেছেন, অভিশংসন শুরু করার সময় এখনো আসেনি।

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারের মধ্যেই কি মেরে ফেলতে চায় বলে প্রশ্ন রেখেছেন  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার কি বিনা চিকিৎসায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারের ভিতরেই মেরে ফেলতে চায়? তাকে হত্যা করতে চায়? এতো দূর্বলতা কেনো তাদের? এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়ার সঙ্গে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো বিষয় নেই। আমরা কি কখনো বলেছি তার মুক্তির সঙ্গে শপথের সম্পর্ক আছে। বরং আমরা বলেছি, রাজনৈতিক ও বর্তমান পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং আমাদের দলের স্বার্থে আমরা সংসদে গিয়েছি। আমরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়ের সঙ্গে এটাকে কখনো জড়াইনি। সুতরাং সংসদে যাওয়ার সঙ্গে দেশনেত্রীর মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।
প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, তার যে জামিনটা প্রাপ্য সেটাই আমরা চাই। যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেই মামলায় তো তিনি জামিনযোগ্য। তিনি জামিন পেতে পারেন। সবাই পেয়েছে। কিন্তু আজকে খালেদা জিয়ার ব্যাপারে কেনো এমন সিদ্ধান্ত! তিনি বলেন, আমরা বারবার সরকারকে বলেছি- দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে আমরা বলেছিলাম তিনি এখানে আসতে চাচ্ছেন না। তিনি বাইরে থেকে চিকিৎসা করাতে চান। কিন্তু বাইরে তাকে চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি। কেনো দেয়া হচ্ছে না? মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে সরকার আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এটা আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী। আর বেগম জিয়ার সঙ্গে যে আচারণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অমানবিক, মানবাধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে এতে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তো মুক্তিযোদ্ধা বটেই। কারণ তার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষণা করার অপরাধে যদি তাকে জেলে থাকতে হয়, তাহলে কি তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন? খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মির্জা আলমগীর বলেন, তিনি ডায়াবেটিসে ভুগচ্ছেন। যেটাকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বলা হয়। আর ইনস্যুলিন নেয়ার পরও তার ডায়াবেটিস কমছে না। এই অবস্থায় একজন বয়স্ক মহিলার কারাগারে কি পরিণতি হতে পারে, তা আমরা সবাই জানি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আগে হাতের বাম কাঁধের ব্যথায় ভুগছিলেন। এখন সেটা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। যার ফলে তার হাতগুলো তিনি নাড়াতে পারছেন না। পা সোজা থাকলে তিনি বাঁকা করতে পারছেন না। তিনি কোন সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। এছাড়া তার পেশীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে বা অকেজো হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা জন্য তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য খালেদা জিয়াকে বেআইনীভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তার সুচিকিৎসায় সরকার অসহযোগিতা করছে। তারা জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। তাই জনগণের নেত্রীকে কারাগারে রেখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খালেদা জিয়া যেন জামিন না পান সেজন্য সরকার নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেই মামলায় তিনি জামিনযোগ্য। জামিন পেতে তার আইনগত প্রাপ্যতা রয়েছে। কিন্তু সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামিন আদালতের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও এম এ কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজয় অর্জন করায় নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ভালো হয়েছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সক্ষম হরেছেন। যেটা বাংলাদেশে পারেনি। আমরা আশা করি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে দেশ ও জনগণের মধ্যে। এছাড়া দুই দেশের স্বার্থ ও মানুষের সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক হবে।