Tuesday, February 10, 2015

গণভবনের গেট থেকে ফিরে গেলেন কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পাননি কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী। মঙ্গলবার সকালে সাক্ষাতের জন্য ছেলে-মেয়েসহ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে যান নাসরিন সিদ্দিকী। তবে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে না থাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী। তিনি আসার আগেই একনেকের এক বৈঠকে যোগ দিতে গণভবন থেকে বেরিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাদের সিদ্দিকীর রাজপথে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হয়রানির প্রতিকার চাইতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গণভবনে গিয়েছিলেন নাসরিন সিদ্দিকী। এ সময় কাদের সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব ফরিদ আহমেদ, যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক হাবিবুন নবী সোহেল ও ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম দ্বীপও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট গণভবনের গেটে অবস্থান করে আবার মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে যান নাসরিন সিদ্দিকী। ফিরে যাওয়ার সময় নাসরিন সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন,  'আমি এখন কিছু বলব না। আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সবকিছু জানানো হবে।' প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকীর মাধ্যমে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। দেশের বর্তমান সংকট থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে এবং অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১৪ দিন ধরে রাজপথে অবস্থান করছেন কাদের সিদ্দিকী। গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে মতিঝিল থানা পুলিশ তার বসার চকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যায়। সেদিন থেকে ফুটপাতের ওপর পাটি বিছিয়েই কাদের সিদ্দিকী তার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবারও এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কাদের সিদ্দিকী।

১৭ দিন ধরে মর্গে পড়ে আছে দগ্ধ শিশুর লাশ by শহিদুল ইসলাম রাজী

মৃত্যুর আগে বার্ন ইউনিটে জাকির হোসেন
বার বছরের শিশু জাকির হোসেন। তার পরিচয় শুধু নামটিই। আগুনে ঝলসে গিয়েছিল তার শরীর। টানা দশ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরে যায় শিশুটি। সতেরো দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে হিমাগারে পড়ে আছে শিশুটির লাশ। জ্ঞান থাকা অবস্থায় চিকিৎসকদের কাছে শুধু নিজের নামটি ছাড়া আর কিছুই জানাতে পারেনি হতভাগ্য শিশুটি। তবে কিসের আগুনে পুড়ল শিশুটি তা আজও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শিশুটির খোঁজে গতকাল পর্যন্ত কেউ আসেনি মর্গে। খুঁজে পাওয়া যায়নি তার কোনো স্বজনকে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আগুনে পোড়ার পাশাপাশি শিশুটির মাথায় আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কোনো বাসে দেয়া আগুনে, নাকি পারিবারিক সহিংসতায় শিশুটির এই অবস্থা হয়েছে? শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে শিশুটি কার সন্তান, কোথায় দগ্ধ হয়েছে শিশুটি?
পুলিশ ও মর্গ সূত্রে জানা গেছে, নাশকতার আগুনে জাকির পুড়েছেÑ এমন ধারণা থেকেই আশুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তবে কবে, কখন, কোন নাশকতায় সে পুড়েছে, তা বের করতে পারেনি পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হলে দু-তিন দিনের মধ্যেই আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে শিশুটির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে।
জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে নবীনগরে রাস্তায় দগ্ধ হয়ে পড়েছিল জাকির। সেখান থেকে দগ্ধ ও মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই হতভাগ্য শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। ওই হাসপাতালের বিছানায় ৯ দিন ধরে চিকিৎসা দেয়া হয় শিশুটিকে। গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জাকিরের শরীরের ৭৫ শতাংশই পুড়ে গেছে। শিশুটি তার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারেনি। পরের দিন শুক্রবার শিশুটির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রভাষক ডা: প্রদীপ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তা ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটির ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে। পরে কেউ লাশের দাবিদার হলে তখন দাবিদারের ডিএনএ নমুনা পরীা করে শনাক্ত হলে সেই দাবিদারকে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
ওই দিন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু তাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে কয়েকজন যুবক আশুলিয়ার নবীনগর থেকে আগুনে দগ্ধ ১২ বছর বয়সী ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেই রাত থেকে তারা শিশুটিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। জীবিত অবস্থায় শিশুটি নিজের নাম ছাড়া মা-বাবার নাম কিংবা বাড়ির ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনি।
শিশুটিকে উদ্ধারকারী অজ্ঞাত পরিচয় সেই যুবকদের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি শিশু ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ওই যুবকেরা উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নয়ন নামে এক যুবক মাঝে মধ্যে হাসপাতালে এসে ওই শিশুর খোঁজখবর নিতেন, যিনি উদ্ধারকারীদের সাথে ছিলেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, কোনো বাসে অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে, নাকি পারিবারিক সহিংসতায় শিশুটির এই অবস্থা হয়েছেÑ তা আজো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, শিশুটি দগ্ধ হয়ে সারা শরীরে দগদগে ত অবস্থায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটির শরীরের প্রায় ৭৫ শতাংশ আগুনে দগ্ধ ছিল। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল।
ঢাকা মেডিক্যালের মর্গ সহকারী সেকান্দার আলী জানান, শিশুটির লাশ ১৭ দিন ধরে মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ শিশুটিকে শনাক্ত করতে আসেনি। আরো দু-এক দিন অপেক্ষা করে লাশ আঞ্জুমানকে দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের জানান, এখনো শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। কোন ঘটনায় সে কিভাবে পুড়েছে তা-ও জানা যায়নি। বাহক নয়নসহ ও নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন বাসের আগুনে জাকির পুড়েছে তা বের করতে পারেনি পুলিশ। তবে নাশকতার আগুনে দগ্ধ হয়েছেÑ এমন ধারণা থেকে একটি মামলা করেছে পুলিশ। তার তদন্ত চলছে বলে জানান পরিদর্শক (তদন্ত)।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হরতাল : চুড়ান্ত পরিণতির দিকে আন্দোলন : বিএনপি

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আ্হমেদ বলেন, আওয়ামী সরকার অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। তিনি বলেন, সরকারকে যত সন্ত্রাস, কুটকৌশল ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হোক না কেন, তবুও ক্ষমতার মসনদ ত্যাগ করা যাবে না-এ যেন আওয়ামী সরকারের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই তারা জনপ্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিকে বেআইনীভাবে বিরোধী দল দমনে সকল নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে। আজ গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে বলা হয়, দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের মাধ্যমে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে, গুলি করে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে পঙ্গু ও আহত করার প্রতিবাদে, দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের দাবিতে, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণের প্রতিবাদে, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে এবং এখনও পর্যন্ত অবৈধ সরকার গণদাবি মেনে না নেয়ায় আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী চলমান অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি পূনরায় বুধবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত দেশব্যাপী চলমান সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি বর্ধিত করা হলো। উক্ত হরতাল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে উদ্বাত্ত আহবান জানাচ্ছি। গণদাবির বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে পিছপা হবেনা ২০ দলীয় জোট। জনগণকে সাথে নিয়ে দূর্বার আন্দোলন চালিয়ে যেতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দলীয়করণ, কুক্ষিগত বিচার ব্যবস্থা ও দলীয় মনোভাবাপন্ন বিচারকদের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে বিচারিক নির্যাতনের মহড়া চালানো হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদেরকে পুলিশী রিমান্ডে অমানবিকভাবে দিনের পর দিন নির্যাতিত হতে হচ্ছে।
রাত ৯ টার পর মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষনার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে সরকারের অস্তিত্বহীনতাকেই স্বীকার করে নেয়া হলো। অচিরেই সরকার দিনের বেলাতেও সকল সরকারী অফিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী চলমান রাজনৈতিক সংকটকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নামে অভিহিত করেছেন। মূলত: পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে তার উগ্র বাসনাই কথিত মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উৎপত্তির কারন এবং সেজন্য তিনি ও তার দল দায়ী।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ জানুয়ারীর যে অবৈধ ও ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন-সেই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি, স্পীকার, তার দলের সাধারণ সম্পাদক, ৩৫ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, ১৫৪ জন তথাকথিত বিকাশ মার্কা এমপি’দের কাউকেই ভোট দিতে হয়নি বা দিতে সক্ষম হননি। যেখানে গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরেও নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়েছে এবং বাদ বাকি ১৪৬ আসনে ভাগাভাগি করে ৫ শতাংশ ভোটপ্রাপ্তি দেখিয়েছেন, এমনকি মেরুদন্ডহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারও নিজের ভোট প্রদানে সক্ষম হননি, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলার জনগণকে প্রতারিত করে গদি পাকাপোক্ত করতে পারবেন বলে এদেশের সংগ্রামী জনগণ মনে করেনা। প্রকৃত অর্থে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে আওয়ামী উগ্র বাসনাই চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারন।
পেশীশক্তি তথা সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নাশকতার এক বিভৎস পরিবেশ তৈরী করে অবৈধ ও ভোটারবিহীন সরকার বিরোধী দলের ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছে। কিন্তু জনগণের প্রবল শক্তির কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া আওয়ামী অবৈধ সরকারের কোন গত্যন্তর নেই।
বিবৃতিতে দাবী করা হয়, গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনের গতি দেখে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা এখন তাদের পতনের প্রহর গুণছে। অজস্র নির্যাতনের শৃঙ্খল ভেঙ্গেই এই আন্দোলন এখন চুড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসরমান। এই আন্দোলন গণতন্ত্র মুক্তি ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। মানুষের নিশ্চিন্তে ভোট দেয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। একটি অমানবিক, নিষ্ঠুর, হিংসাশ্রয়ী, গণতন্ত্র বিনাশী এবং অন্ধ ও অহংকারী সরকারকে ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য করার আন্দোলন।
এতে বলা হয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের গণদাবিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী সরকার নিজেরাই সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর অপকৌশল অবলম্বন করছে।
জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মাননীয় চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সকল নেতা-কর্মীর উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই-সংযম, দায়িত্ব এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জনগণের আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারে পৌঁছে দিতে আপনাদের বজ্রকঠিন শপথের মাধ্যমে কন্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। গড়তে হবে গণতন্ত্রের নতুন ইতিহাস। যেখানে থাকবে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মৌলিক ও মানবাধিকার, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার গ্যারান্টি, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জাতীয় আকাঙ্খা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।
সরকারের শত জুলুম নির্যাতনের পরও ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দিনে ঘোষিত হরতাল অত্যন্ত স্বতঃস্ফুর্তভাবে সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহন করে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে অবরোধ সহ হরতাল কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরকে দেশনেত্রীর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে : কেজরিওয়াল

ভারতের রাজধানী দিল্লি বিধান সভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পথে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ)। দিল্লির মসনদে বসতে যাচ্ছেন কেজরিওয়াল।
এদিকে দলের বিপুল জয়ের আভাস পেয়ে উচ্ছ্বাসিত কেজরিওয়াল বলেছেন, সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় টাইমস অব ইন্ডিয়ার দেয়া সর্বশেষ তথ্যে, ৭০টির মধ্যে ৬৭টি আসনে এগিয়ে আপ। তিনটিতে বিজেপি।
এদিকে বিজেপির ভরাডুবির পর কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাথে চায়ের আমন্ত্রণও দিয়েছেন।
গত শনিবার দিল্লির বিধান সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে গণনা শেষ হবে।
এদিকে ইন্ডিয়া ডট কম জানায়, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেলেন, আম আদমি পার্টি ৭০টার মধ্যে ৫০টারও বেশি আসন পাবে। প্রাপ্ত ফলাফলে এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
দলের জয়ের আভাস পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেছে আম আদমি পার্টি। পার্টি অফিসের সামনে পুরোদমে বিজয় উৎসবের আয়োজন চলছে।
পরাজয় স্বীকার করলেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দেখা গেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল ব্যাপক বিজয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে মোদি এ পরাজয় স্বীকার করে নিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাকে দিল্লীর উন্নয়নে কেন্দ্রের সম্পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ কেজরিওয়াল
এ মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে চর্চিত মানুষ তিনি। সবার নজর এখন তার দিকে। দলের ফানডিং থেকে শুরু করে অস্থিরমনস্ক বলে নানা কটাক্ষ শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু দিনের শেষে তিনিই নায়ক, তিনিই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
লোকসভা ভোটে কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিরোধিরা শত চেষ্টা করেও যে মোদি সুনামি রুখতে পারেনি, সেটা কার্যত একাই করে দেখালেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লিতে সুনামি ডেকে এনে বিজেপিকে উড়িয়ে দিলেন কেজরিওয়াল। এক সময়ের সতীর্থ কিরণ বেদীকে জবাবও দিয়ে দিলেন। রাহুল-সোনিয়া যা করতে পারেননি, ছোট রাজ্য দিল্লিতে সেটাই করে দেখালেন ‘কমনম্যান’ কেজরিওয়াল।
দিল্লি নির্বাচনের ফলাফলে উচ্ছসিত আপ নেতারা। তাদের দাবি, দিল্লিতে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জিতবে আপ।
অপরদিকে বিজেপির বিজেপি নেতা শাহনাওয়াজ হুসেনের দাবি, বিজেপির ভোটে ভাঙন ধরাতে পারেনি আপ। কংগ্রেসের ভোট কেটেছে আপ।
ভাঁড়ার শূন্য। দিল্লি নির্বাচনের পুরো ফল প্রকাশ হওয়ার আগেই হার স্বীকার করে নিল কংগ্রেস শিবির।
কিছুদিন আগেই আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শাজিয়া ইলমি। দিল্লি নির্বাচনে আপের অভূতপূর্ব ফলাফলের পর তার প্রতিক্রিয়া, এবার দেখার পালা মুখ্যমন্ত্রী হলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার প্রতিশ্রুতি রাখেন কিনা।
সূত্র : জি নিউজ
আন্নার শুভেচ্ছা
দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপির হারকে নরেন্দ্র মোদির বলে উল্লেখ্য করলেন আন্না হাজারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কিরণ বেদিকে আড়াল করলেন আন্না। সেইসাথে ঐতিহাসিক জয়ের পর শিষ্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অভিনন্দনও জানালেন আন্না।
একইসঙ্গে মহারাষ্ট্রে নিজের গ্রামে বসে আন্না সতর্ক করে দিয়ে কেজরিওয়ালকে বললেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আন্দোলন, সংগ্রামকে ভুলে যেও না। সাথে যোগ করেছেন, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েই কেজরিওয়াল মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
আন্না বলেছেন, এ হার নরেন্দ্র মোদির। কোন প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারেননি মোদি। দিল্লির রায়েই তা স্পষ্ট।
মানুষের জয় হয়েছে : মমতা
দিল্লি ভোটের ঠিক আগে সবাইকে চমকে দিয়ে আম আদমি পার্টিকে ভোট দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আর ভোটের ফলাফল বের হওয়ার পর একের পর এক টুইট করলেন ।
প্রথমে টুইটে লিখলেন দিল্লি ভোটে আপ- এর বড় জয়ের জন্য অভিনন্দন। সেই সাথে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছাও জানালেন।
দ্বিতীয় টুইটে লিখলেন, দিল্লির ভোট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টার্নিং পয়েন্ট। সারদায় একের পর এক দলের নেতাকে জড়ানোর কথা মনে করিয়ে লিখলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো জায়গা গণতন্ত্রে নেই। দেশের জন্য এই পরিবর্তন দরকার ছিল।
তৃতীয় টুইটে লিখলেন, এটা মানুষের জয় এবং বড় হার উদ্ধত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন, মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়ানো লোকেদের।

'আসুন সাগর-রুনিকে ভুলে যাই' by সাহাদাত হোসেন পরশ

'আসুন আমরা সাগর-রুনিকে ভুলে যাই। আর কত অপেক্ষা। আর কত দিন বুকের ওপর পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে বসবাস করব। আমি হতভাগ্য মা। কত মানবেতর জীবনযাপন করছি; কেউ জানে না। এবার অপেক্ষার অধ্যায় শেষ হোক। ৪৮ ঘণ্টা কেন, ৪৮ বছরেও কিছু হবে না। প্রহসনের বিচার চাই না। নতুন কোনো নাটকও দেখতে চাই না। বিচার আল্লাহর কাছেই রাখলাম।' সাংবাদিক সাগর সরোয়ারের মা সালেহা মুনির এভাবেই সমকালের কাছে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন।
দীর্ঘ তিন বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যার মোটিভ আর খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ আর হতাশার পাল্লা ভারী হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে আলোচিত এই মামলা তদন্তের ফল নিয়ে আপাতত কোনো আশার বাণী নেই। মামলাটির বর্তমান তদন্ত সংস্থা র‌্যাব এখনও হত্যারহস্য ভেদ করতে পারেনি। যদিও বিদেশ থেকে ইতিমধ্যে এসেছে ডিএনএ পরীক্ষার সব প্রতিবেদন।
আদালতের নির্দেশে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল হক ওরফে হুমায়ুনকে। ৩২ বার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন দেওয়া হয় ২ ফেব্রুয়ারি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার সাতজন বর্তমানে কারাবন্দি। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া তানভীর রহমান নামে একজন সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলার তদন্তের ফল কার্যত শূন্য।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ সমকালকে বলেন, আমরা নিরাশ হতে চাই না। হত্যা রহস্য উন্মোচনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। বিদেশে যেসব ডিএনএ আলামত পাঠানো হয়েছিল, তার সব প্রতিবেদন দেশে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষার আলামত ও অন্যান্য তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা হচ্ছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই বাসা থেকে পুলিশ তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের ঘোষণা দেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদর দফতরের নিয়মিত ক্রাইম কনফারেন্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, 'তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই এর রহস্য উন্মোচন করা হবে।'
দিন, সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে তিন বছর পার হলেও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রয়েছে সেই তিমিরেই। পাল্টেছে মামলার তদন্ত সংস্থা। তবু খুনিরা এখনও অধরা। হত্যার মোটিভ কিংবা খুনিদের আদৌ গ্রেফতার করা সম্ভব হবে কি-না সেই আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের বছরের ২৬ এপ্রিল হত্যার ৭৫ দিন পর কবর থেকে লাশ তুলে ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়। ভিসেরা রিপোর্টের মাধ্যমে র‌্যাব শনাক্ত করতে চেয়েছিল সাগর-রুনিকে হত্যার আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি-না। তবে লাশ পচন ধরায় ওই প্রতিবেদনে এমন আলামত পাওয়া যায়নি।
থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) তদন্তে ব্যর্থতার পর আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শুরু থেকেই 'সন্দেহ' 'এনামুল ইস্যু' আর 'চোরতত্ত্বে' ঘুরপাক খাচ্ছে এই মামলা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে।
মামলার তদন্ত সূত্র বলছে, সাগর-রুনি হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে ২১ জনের ডিএনএ আলামত ছাড়াও আরও কিছু জিনিসপত্র যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ওই সব আলামতের ডিএনএ প্রতিবেদন তদন্ত সংস্থার কাছে পেঁৗছেছে। সর্বশেষ হাতে পাওয়া কিছু আলামত এখন পর্যবেক্ষণ করছে র‌্যাব। এ ছাড়া সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় সাতজন বর্তমানে কারাবন্দি। তারা হলেন_ রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাঈদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল। তাদের প্রথম পাঁচজনই রাজধানীর মহাখালীতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নিতাই হত্যা মামলার আসামি। তাদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি।
নিরাপত্তাকর্মী এনামুলকে গ্রেফতারের জন্য ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতারও করে র‌্যাব। তবে সাগর-রুনির হত্যার ব্যাপারে তার কাছ থেকে তেমন কোনো ক্লু মেলেনি।
মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান সমকালকে বলেন, দীর্ঘশ্বাস ও হতাশা বাড়ছে। এখন আশা ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কেউ তেমন একটা যোগাযোগ রাখেন না। মেঘ বড় হচ্ছে আর মা-বাবাকে হারানোর কষ্ট আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে।
মানববন্ধন: সাংবাদিক দম্পতির নিষ্ঠুর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। ডিআরইউর আয়োজনে এতে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

নবজাতকসহ ১০ শিশুর মৃত্যু, অভিযোগ ‘অবহেলা রোগের’, তদন্ত কমিটি গঠন

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সোমবার
রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে
নবজাতকসহ ১০ শিশু মারা যায়। এতে হাসপাতালের রোগীর
অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিটি আজ সকালে তোলা। ছবি: আনিস মাহমুদ, সিলেট
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সোমবার
রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে
নবজাতকসহ ১০ শিশু মারা যায়। এতে হাসপাতালের শিশু বিভাগের
সামনে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিটি আজ সকালে তোলা। ছবি: আনিস মাহমুদ, সিলেট
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকসহ ১০ শিশু মারা গেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে এসব শিশু মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, ‘অবহেলা রোগে’ তাঁদের শিশুরা মারা গেছে। শিশু রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা। আজ সকালে প্রথম আলোকে দেওয়া হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালামের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ৩২ জন মারা গেছে। প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালে ১৪ জন মারা যায়। কিন্তু শিশুসহ ৩২ জন মারা যাওয়ায় বিষয়টি অস্বাভাবিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যা আছে, কিন্তু ভর্তি আছে ১৬২ শিশু। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় শিশুদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ নবজাতক রয়েছে। গতকাল জন্ম হয়েছিল তাদের। বাকি পাঁচ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এই পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই শিশু গত রোববার থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য তিন শিশুকে গতকাল হাসপাতালে আনা হয়। সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক আবুল কালাম ও নিলুফা আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তানও মারা গেছে। গত রোববার নিলুফা এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। গতকাল সোমবার শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে আনা হয়। আজ সকালে শিশুটি মারা গেছে। প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন এই দম্পতি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘কোনো রোগে না, অবহেলা রোগে আমাদের বাচ্চা মারা গেছে।’
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ঠান্ডাজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিরার কারণে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছে।
সিলেটে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকসহ ১০ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) দীন মোহাম্মদ নুরুল হক মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলেন, পাঁচ নবজাতক মারা গেছে জন্মকালীন শ্বাসরোধে। বাকি পাঁচ শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অন্য সমস্যায় মারা গেছে। আর পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যু সম্পর্কে ডিজি বলেন, চোখের সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক ও মারামারির ঘটনায় আহত পাঁচজন মারা গেছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে এসব শিশু মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, ‘অবহেলা রোগে’ তাঁদের শিশুরা মারা গেছে। শিশু রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।
আজ সকালে প্রথম আলোকে দেওয়া হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালামের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ৩২ জন মারা গেছে। প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালে ১৪ জন মারা যায়। কিন্তু শিশুসহ ৩২ জন মারা যাওয়ায় বিষয়টি অস্বাভাবিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৫৬ টি শয্যা আছে, কিন্তু ভর্তি আছে ১৬২ শিশু। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় শিশুদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ নবজাতক রয়েছে। গতকাল জন্ম হয়েছিল তাদের। বাকি পাঁচ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এই পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই শিশু গত রোববার থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য তিন শিশুকে গতকাল হাসপাতালে আনা হয়।
সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক আবুল কালাম ও নিলুফা আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তানও মারা গেছে। গত রোববার নিলুফা এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। গতকাল সোমবার শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে আনা হয়। আজ সকালে শিশুটি মারা গেছে। প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন এই দম্পতি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘কোনো রোগে না, অবহেলা রোগে আমাদের বাচ্চা মারা গেছে। ’
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ঠান্ডাজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার কারণে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছে।

ভারতের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে আত্মবিশ্বাসী আফ্রিদি

চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এখনো কোনো ম্যাচে জয় পায়নি পাকিস্তান। আর যেকোনো বিশ্বকাপেই এই পরিসংখ্যান বেশ ভালোভাবেই মাথায় রেখে দুই দল খেলতে নামে। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এই দুই দল বিশ্ব মাতাতে মাঠে নামছে। আর ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণীয় এই ম্যাচকে ঘিড়ে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও সমর্থকদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা লক্ষ করা গেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এডিলেডে দুই দল মাঠে নামবে, এটা হবে বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের ষষ্ঠ ম্যাচ।
ম্যাচটিকে সামনে রেখে পাকিস্তানি তারকা অল রাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি বলেছেন ভারতের বিপে অতীত ইতিহাস নিয়ে তার দল মোটেই আশাহত নয়। এডিলেড ওভালে বাংলাদেশের বিপে প্রথম অনুশীলন ম্যাচের আগে আফ্রিদী বলেছেন, ‘সবকিছুরই শুরু থাকে। আমি জানি এটা এমন একটা ম্যাচ যা নিয়ে সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করে। বিশ্বের অনেক সমর্থকই এই ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসবে। হোটেলগুলো প্রায় মাসখানেক আগে থেকে বুকিং হয়ে গেছে। সমর্থকদের এই প্রত্যাশা সত্যিই দারুন একটি বিষয়। আমাদের মধ্যেও সেই আত্মবিশ্বাস আছে। নিজেদের দিনে আমরা বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখি। কিন্তু দু’দলই জানে কিভাবে চাপকে সামলে উঠতে হয়। আমাদের দিক থেকে বলতে গেলে একটি কথাই বলবো ম্যাচটাকে আমরা অন্য আরেকটি ম্যাচের মতই দেখছি। এখানে বাড়তি কিছু দেখার নেই। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হিসেবে দুটি দলই জয়ের মাধ্যমে শুরু করার আশা করছে। যাতে করে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়।’
আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলো ছাড়াও এই দুই দল যাতে আরো বেশি করে একে অপরের মোকাবেলা করতে পারে সে সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে আফ্রিদি বলেছেন শুধু বিশ্বকাপের মত বড় আসরেই যেন এই লড়াই সীমাবদ্ধ না থাকে। ৩৫ বছর বয়সী এই অল রাউন্ডার ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের পরে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থেকেই তিনি অবসরে যেতে চান। বর্তমান দলটিকে নিয়ে আশাবাদী আফ্রিদি অবশ্য ইনজুরি সমস্যাকে বাড়তি দুশ্চিন্তা হিসেবেই মনে করছেন। তার মতে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী দলটিতে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ছিল। কিন্তু বর্তমান তারুণ্য নির্ভর দলটির উপর প্রত্যাশার চাপ কিছুটা বেশি।

ভাইকে খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ ভাই, বাড়ি থেকে আটক বাবা

মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হোসাইনের বাবা ও ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। রাতে থানায় ছোট ভাইয়ের খবর নিতে গিয়ে আটক হন আব্দুল্লাহ হাসান। পরবর্তীতে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের বাবা এবং মাকে থানায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। মাকে থানা থেকে ছেড়ে দিলেও পুলিশ আটকে রেখেছে বাবা এনায়েত উল্লাহকে।
রাজধানীর কল্যাণপুরস্থ ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন গত সোমবার বিকেলে পরীক্ষা শেষে কলেজের সামনে থেকে নিখোঁজ হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার পরিবারকে জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ হোসাইনকে স্থানীয় পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এই খবর পেয়ে তার বড় ভাই আব্দুল্লাহ হাসান বিভিন্ন থানা ও হাসপাতালে হোসাইনের সন্ধান করেন। রাতে মিরপুর থানায় গেলে পুলিশ তাকেও আটক করে। সে থেকেই তিনি থানায় আটক আছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এদিকে, রাতে পুলিশ তার শ্যামলীর বাসায় তল্লাশী করে সেখান থেকে তার বাবা ও মাকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে তার মাকে ছেড়ে দিলেও ব্যবসায়ী বাবা এনায়েত উল্লাহকে থানায় আটকে রেখেছে পুলিশ।
হাসানের মা নার্গিস জাহান জানিয়েছেন, এক ছেলের নিখোঁজ সংবাদ ও আরেক ছেলেকে থানায় আটকে রাখার খবর শুনে আমরা যখন মর্মাহত হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থণা করছি, তখন ভোর রাতে পুলিশ আমাদের বাসায় এসে মুচলেকার কথা বলে আমার স্বামী এনায়েত উল্লাহকেও আটক করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমার নিরপরাধ দুই সন্তান এবং স্বামী যেন নিরাপদে বাসায় ফিরে আসে সেজন্য সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিক বন্ধুদের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, ‘এখন আমি কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
এদিকে, ঘটনার ব্যাপারে মিরপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা পুলিশ তাদেরকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
তবে বেলা সোয়া দুইটায় মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই আনোয়ার বলেছেন, এনায়েত উল্লাহ তাদের থানায় আছেন। কিন্তু হাসানের ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আদালত অবমাননার সামিল : খন্দকার মাহবুব

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, উচ্চ আদালতের বিভক্ত রায় ও দীর্ঘদিন রায় না লেখার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তা চরম আদালত অবমাননার সামিল এবং উচ্চ আদালতের প্রতি কটাক্ষ করার সামিল।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইনমন্ত্রী একজন বিজ্ঞ আইনজীবী হয়ে এ বক্তব্য দিতে পারে না । যদি দিয়ে থাকে তবে তিনি তা প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলে আমি আশা করি।
উল্লেখ্য সোমবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের রিখিত রায় প্রকাশের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য “বিভক্ত রায় ও রায় না লেখা ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে” একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আইনজীবীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আজ সকালে অনেক আইনজীবী আমাকে জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় উচ্চ আদালতে বিভক্ত রায় হয় এবং রায় লেখার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নেয়ার নজির আছে। বিভক্ত রায় এবং রায় না লেখা ষড়যন্ত্র এই বক্তব্য চরম আদালত অবমাননামুলক । হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বহু মামলা রয়েছে যা দীর্ঘদিন পর রায় প্রকাশিত হয়েছে। ১৬ মাস পরে তত্তাবধায়ক সরকার মামলার রায়, আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ মামলার রায় ১১ মাস পর, ফতোয়া মামলার রায় ৪৪ মাস পর প্রকাশিত হয়।

ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও  বারাক ওবামা বৈঠক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যেন আত্মরক্ষা করতে পারে সে লক্ষ্যেই প্রাণঘাতী এসব অস্ত্র দেয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউজে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সাথে বৈঠকের পর ওবামা এসব কথা বলেন। বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ওবামা বলেন, জার্মান এবং ফরাসী নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক চেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে বন্দুকের মুখে ইউরোপের মানচিত্রের পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে দেখতে পারে না।
এদিকে অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার মূলনীতি যদি বর্জন করা হয় তাহলে ইউরোপের শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
ইউক্রেনে শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার হিসেবে গত কিছুদিন আগে মিনস্কে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রাশিয়া অমান্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা।
এদিকে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারাও ওবামার ওপরে চাপ দিচ্ছে।
কিন্তু অস্ত্র পাঠানোর বিরোধিতা করছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যে বিদ্রোহ চলছে রাশিয়া সেটিতে মদদ দিচ্ছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো।
কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে রাশিয়া।

শিশুদের আতঙ্কের ভবিষ্যৎ- সহিংসতায় নিহত মোট ১০ শিশু, আহত কমপক্ষে ২০ শিশু by শেখ সাবিহা আলম

৪ ফেব্রুয়ারি। অন্য দিনের মতো রাকিব মিয়া (১২) বাসে করে আড়তে যাচ্ছিল সবজি কুড়াতে। পেট্রলবোমা হামলায় ওর গোটা গায়ে আগুন ধরে গেল। কেউ একজন বলল মাটিতে গড়াগড়ি করতে। রাকিব গড়াতে লাগল। আগুন তবু নেভে না। গুরুতর দগ্ধ রাকিব হিউম্যান হলারে করে বাড়ি পৌঁছাল। ঢুকে চিৎকার, ‘আম্মা, আমারে বাঁচাও’। সেই রাকিব এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, চলমান সহিংসতা শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। পরিবার ও চেনা পরিবেশ থেকে তাদের থাকতে হচ্ছে দূরে। কেবল দগ্ধ শিশুরা নয়, দগ্ধ স্বজনদের শিশুদেরও কাটছে আতঙ্কের অস্থির সময়। যার প্রভাব পড়ছে অন্য শিশুদের ওপরও। এতে তারা একটা অস্বাভাবিক, আতঙ্কের ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে পেট্রলবোমায় দগ্ধ আড়াই বছরের সাফির, গাজীপুরে সাত বছরের মরিয়ম ও ১২ বছরের রাকিব এখন তাই বার্ন ইউনিটে মানুষের ভিড় দেখলেই ভয়ে কুঁকড়ে যায়। চার বছরের ইফাত দূর থেকে দগ্ধ বাবা জামদানি কারিগর হারিসকে দেখে, কাছে ঘেঁষতে চায় না। বাবা নিহত হয়েছেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’। তাঁর লাশ নিতে রাতের বাসে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি মর্গের ফটকে হাজির হওয়া শিশুটিও ছিল বিষণ্ন, চোখেমুখে আতঙ্ক।
৩৬ দিন ধরে টানা অবরোধ-হরতালে চলমান সহিংসতায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত দগ্ধ হয়ে নিহত ৫১ জনের মধ্যে ১০ জন শিশু। মৃত্যুর মুখোমুখি আরও দুই শিশু। এ ছাড়া আহত অন্তত ২০ শিশু।
চিকিৎসক, সমাজবিজ্ঞানী ও মনোরোগ চিকিৎসকেরা বলছেন, সহিংসতার সরাসরি শিকার হয়েছে এমন শিশুদের দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে। যে শিশুরা সহিংসতার খবর রাখছে, হরতাল-অবরোধে আহত বা নিহত হওয়ার ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না বা বাড়ি থেকে বেরোতে পারছে না, তাদের বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। যেসব শিশুর স্বজন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি তাদের তৈরি হচ্ছে বিতৃষ্ণা।
খেলাঘরের চেয়ারপারসন মাহফুজা খানম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও বিবেকবান করে গড়ে তুলতে একটা সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার। শিশুরা মানুষের কাছ থেকে দয়া-মায়া-মমতা-সহায়তা চায়। এখন তারা মানুষের একটা দানবীয় রূপ দেখছে। বড়দের প্রতি, রাজনীতিকদের প্রতি তাদের একটা বিরূপ ধারণা হচ্ছে। বাঙালি প্রয়োজনের সময় এক হতে জানে। আশা করি, এ সমস্যা উত্তরণে সাধারণ মানুষ একতাবদ্ধ হবে।’
কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু
চিকিৎসকেরা বলছেন, পেট্রলবোমায় শিশুদের শরীর গভীরভাবে পুড়ে গেছে। তাদের ক্ষতস্থানে চামড়া লাগাতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই এই শিশুদের দুই হাড়ের সংযোগস্থলগুলো বেঁকে যেতে পারে। পূর্ণ বয়সে মেয়েদের দেহের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফুলে উঠতে পারে পুড়ে যাওয়া জায়গাগুলো।
শারীরিক এই সমস্যাগুলোর পাশাপাশি এই শিশুরা মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। অনেক শিশুই ঠিকমতো ঘুমাতে পারবে না, দুঃস্বপ্ন দেখবে, খাওয়ার রুচি থাকবে না, কোনো কিছুতে অনেক সময় আগ্রহ পাবে না। ভুগতে পারে শেখার সমস্যায়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মাতৃগর্ভের স্মৃতিও শিশুদের মনে থাকতে পারে। আড়াই বছরের সাফির কখনো হামলার কথা ভুলে যাবে না। দগ্ধশিশুদের প্রত্যেকে মানুষের প্রতি তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলবে। অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে বেড়ে ওঠায় তারা সহজে কারও সঙ্গে মিশতে পারবে না। বিষণ্নতায় ভুগবে।
যাদের মা-বাবা বা কাছের মানুষ দগ্ধ হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশ এখন আর নিজের পরিবারে চেনা পরিবেশে থাকার সুযোগ পাচ্ছে না। গত ৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের সামনে মো. সিদ্দিকের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। স্ত্রী শিরীন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, এক মাস ধরে তাঁর তিন সন্তান তিন আত্মীয়ের বাসায়। সবচেয়ে ছোটটির বয়স আড়াই বছর। একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত সাইদা ফাতিমার সন্তান রীমের বয়স এক বছর চার মাস। ২৩ জানুয়ারি গুলিস্তান থেকে ভুলতাগামী বাসে পেট্রলবামা হামলায় দগ্ধ হন সাইদা ও তাঁর স্বামী ইয়াসির আরাফাত। সেই থেকে রীম মা-বাবা ছাড়া।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন দগ্ধ ব্যক্তির স্বজন বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা দগ্ধ বাবার কাছে আসতে ভয় পাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাহবুবা নাসরীন বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিকে যেকোনো বিবেচনায় দুর্যোগ বলা যায়। আর এই দুর্যোগের শিকার শিশুগুলো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
এই সহিংসতার প্রভাব কিশোরদের ওপর পড়ে আরও গভীরভাবে। জাতিসংঘের ‘ইমপ্যাক্ট অব আর্মড কনফ্লিক্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশান্ত পরিস্থিতিতে কিশোরদের প্রতিক্রিয়া হয় অন্যভাবে। অনেক কিশোরের ওপর ছোট ভাইবোনের দেখাশোনার দায়িত্ব বর্তায়। এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীদের কাছে তাদের মা-বাবা কিংবা পরিবার প্রধান হন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। এঁরা যখন আঘাতে বিপর্যস্ত হন, তখন বাড়ির কিশোর সদস্যরা ভেঙে পড়ে।
যারা সহিংসতার সরাসরি শিকার নয়, তারাও এর প্রভাবমুক্ত নয়। তাদের সহপাঠীরা আক্রান্ত হচ্ছে। যশোরের মাইশা তাসনীমের সহপাঠীরা, ফেনীতে অনীক আর হৃদয়ের সহপাঠীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। রাজধানীর বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া কমপক্ষে আটজন শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের প্রত্যেকেই জানে, দেশে একটা বিরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রায় প্রত্যেকে বলেছে, বাড়ি থেকে বেরোলেই বোমা হামলার শিকার হতে পারে—এই আশঙ্কায় তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। তিনটি কন্যাসন্তানের জনক পেশায় চিকিৎসক একজন বাবা প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ি থেকে বেরোবার পর আলাদাভাবে তাঁর তিন মেয়ে প্রতিদিন অসংখ্যবার ফোন করে। দিনভর তারা উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটায়।

বার্ন ইউনিটে এ কেমন ফটোসেশন?

দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ, পোড়া গন্ধ ও স্বজনদের হাহাকারে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। আর সেখানেই কিনা চলছে আগুনে পোড়া রোগীদের ফটোসেশন! ভাবতে অবাক লাগলেও এমনই কয়েকটি ঘটনায় হতবাক হয়েছেন অনেকে। যেই ইউনিটিতে সারাক্ষণ পোড়া শরীরে জীবানুনাশক ওষুধের উৎকট গন্ধ। আর একই সাথে চলছে পোড়া রোগীদের আর্তনাদ ও স্বজনদের আহাজারি, সেখানে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বোমার আগুনে পোড়া রোগীদের নিয়ে চলছে ফটো সেশন। এমনই একটি ফটো সেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে বিতর্ক, চলছে আলোচনা। বিতর্কিত এমন ফটোসেশন করে বেশ সমালোচনায় পড়েছেন সাইফুল হক অমি নামে এক ফটোগ্রাফার।
বাংলা ট্রিবিউন এর ফটো সাংবাদিক নাসিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গতকাল শনিবার ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার সাইফুল হক অমি নামে এক ফটোগ্রাফার পেট্রল বোমা হামলায় দগ্ধ রোগীদের ছবি তুলছিলেন। ছবি তোলার আগে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি’।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য আরেকজন ফটোগ্রাফার জানান, ‘অমি যখন ওই ওয়ার্ডে যান তখন রোগীদের স্বজনেরা রোগীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করছিলেন। এসময় ওই ওয়ার্ডে কোনও ডাক্তার ছিলেন না। এরপর সেই ফটোগ্রাফার কারও কাছে কিছু জিজ্ঞেস না করেই তার সহযোগীকে ছবি তোলার জন্য পর্দা এবং লাইট রেডি করতে বলেন’। এরপর তিনি গুরুতর আহত রোগীদের পর্দার সামনে গিয়ে হাত উপরে তুলে ছবি তোলার জন্য দাঁড়াতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘অমি নামের ওই ফটোগ্রাফার ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) প্রবেশ করেন। এবং তার এমন অমানবিক আচরণ সেখানে উপস্থিত অন্য ফটোগ্রাফারদেরও হতবাক করে দেয়। এরপর তারা অমিকে বাধা দেয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে অমিকে বের করে দিতে বলেন’।
সাইফুল হক অমি New York Times এর ফটোগ্রাফার বলে সব জায়গায় পরিচয় দেন বলেও ফটোগ্রাফাররা জানান।
ফটো সাংবাদিক রোহাত আলী রাজীব তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন: ঢামেক বার্ন ইউনিটে নোংরা, পচা রাজনীতির শিকার হয়ে যখন বেডে শুয়ে মরণ যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে খেটে খাওয়া  সাধারন মানুষ, তখন ডিএসএলআর ক্যামেরাধারী একদল …., সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বার্ন ইউনিটে ঢুকে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পোড়া রোগীদের দিয়ে শুটিং করছে। বেডে শুয়ে থাকা রোগীদের এভাবে টেনে তুলে এনে ঠিক এভাবেই ছবি তুলছে এসব —– দল। সবাই ভাবছে এরা সাংবাদিক। হলফ করে বলা যায় রোগীদের এভাবে ছবি তোলা কোন সাংবাদিকের কাজ নয়। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এসব …. বাচ্চা ফটোগ্রাফারদের বোধদয় কবে হবে মহান আল্লাহপাক জানেন।
অন্যদিকে এইচডিইউতে পেট্রলবোমা হামলায় ভর্তি হওয়া আহতরা বলছেন, ‘আমাদের কি করার আছে আপনারাই (সাংবাদিক) আমাদেরকে ছবি তোলার জন্য ডাকছেন। এতে আমরা কী করতে পারি বলেন? আমাদের অবস্থাটা বুঝতে পারা আপনাদের মানবিকতার বিষয়’।
এ প্রসঙ্গে ফটোগ্রাফার সাইফুল হক অমি নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে জানান, ‘আমি একজন মানবাধিকার কর্মী। নাশকতায় দগ্ধ মানুষের ওপরে একটা ডকুমেন্টারি নিয়ে কাজ করছি। তাছাড়া আমি রোগীদের কোনও সমস্যা করিনি। আমি কেবল আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি’।

আখেরে দু’জনই হারতে পারেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট দ্রুতই ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনে পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহভাবে অস্থিতিশীল হতে পারে দেশ। এ প্রেক্ষিতে সঙ্কট সমাধানে তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ। তাতে বলা হয়েছে-  এক. রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারকে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের লাগাম টেনে ধরতে হবে এবং অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সুশীল সমাজের স্বাধীনতা খর্ব করে এমন পদক্ষেপ পাল্টাতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তাদের সহায় সম্পত্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। দুই. গণতান্ত্রিক শাসনে প্রত্যাবর্তন করতে সমঝোতার জন্য আওয়ামী লীগের উচিত প্রয়োজনে বিএনপি’র জুনিয়র নেতাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো। এর সঙ্গে অঙ্গীভূত থাকবে নির্বাচনী সংস্কার। সরকারের উচিত হবে ঢাকায় মেয়র নির্বাচন করা। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এ নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এ প্রক্রিয়ায় সংলাপের একটি সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তিন. বিএনপির উচিত সহিংসতা পরিহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। তাদের উচিত জামায়াতে ইসলামী থেকে দূরে থাকা। এ দলটি রাজপথের আন্দোলনকে প্রখর করছে। এতে বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। সঙ্কট সমাধানে তাদের উচিত আন্দোলনের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সমঝোতায় যুক্ত হওয়া। এই সঙ্কটে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঝুঁকিতে পড়েছে। রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের যে আস্থা তা-ও পড়ছে হুমকিতে। ব্রাসেলসভিত্তিক এই সংগঠনটি অলাভজনক, বেসরকারি সংগঠন। তারা বিশ্বের সংঘাত প্রতিরোধে কাজ করে। গবেষণা করে সহিংস সংঘাত নিয়ে। একই সঙ্গে তা প্রতিরোধে, সঙ্কট সমাধানের পদ্ধতি বাতলে দেয়। তাদের এ পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি তারা সরকার, বহুজাতিক সংগঠন ও অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের পরামর্শ দেয়। গতকাল তারা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৪০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ম্যাপিং বাংলাদেশ’জ পলিটিক্যাল ক্রাইসিস’। এতে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ছিল ৫ই জানুয়ারি। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সহিংসতা হয়েছে। এতে বেশ কিছু মানুষ নিহত হয়েছে।  আহত হয়েছে অনেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যে এই যে মুখোমুখি অবস্থা তা নতুন এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। স্বাধীনতার পর এ দুটি দল বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকারে এসেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি দৃশ্যত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজপথ বেছে নেয়। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিদিনই সহিংসতা হয়েছে। তারপর থেকে রাজনৈতিক সঙ্কট এখন যেদিকে মোড় নিয়েছে দ্রুতই  পরিস্থিতি ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়াও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য যে আদালত গঠন করা হয়েছে তা জাতিকে পুনরেকত্রীকরণের চেয়ে বিশে বিভক্ত করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দু’পক্ষ যেপথে ধাবিত হচ্ছে তা পরিবর্তন করা হচ্ছে উভয়ের জন্যই উত্তম পন্থা। এজন্য ভিন্ন মতাবলম্বীদের গণতান্ত্রিক  অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারকে। বিএনপির উচিত হবে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে টিকে থাকা। বিরোধীদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো ও বিজেতাকে আইনের   ভেতরে থেকে দেশ শাসন করতে দেয়ার জন্য নতুন রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় না মূলধারার প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল। এর ফলে রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে কট্টরপন্থি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটতে পারে। এরই মধ্যে ইসলামপন্থি বিভিন্ন অংশ সক্রিয় হচ্ছে। এটা ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলার প্রতি হুমকি। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় এ দু’দলকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে জিহাদি শক্তিগুলো। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অন্যকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে থাকে। আওয়ামী লীগ ও এ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেছেন, পার্লামেন্টে অনুপস্থিতির মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি নিজেদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের ফিরে আসার বিষয়ে সরকার বিরোধী দল ও তীব্র মতপার্থক্য সম্পন্নদের জোর করে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা করা হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলা দিয়ে। এসব নেতাকর্মীর  মধ্যে রয়েছেন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে, রাজনৈতিক উত্তরসূরি তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর হস্তে দমন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। ব্যবহার করা হচ্ছে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয় এমন আইন ও নীতি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতায়। কিন্তু এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিএনপি। ওই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সেই বিএনপি ও তার রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী আবারও জোর করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছরের নির্বাচনে সহিংসতার জন্য এই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করা হয়। তারা তাদের নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছে। তাদেরকে ফের রাজপথে নামাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মূল দাবি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। কিন্তু তারা পার্লামেন্টে নেই। এই অসুবিধা কাটিয়ে তাদের দাবির পক্ষে জনসমর্থন পাওয়া খুবই সংকীর্ণ। তারা আবার সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ায় দ্রুত রাজনৈতিক হতাশা বাড়ছে।
রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলোর মধ্যে যে গভীর বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস তা অপরিহার্য নয়। উত্তাল রাজনৈতিক ইতিহাস সত্ত্বেও প্রথম দিকে তারা দেশ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসনের ইতি ঘটাতে ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করেছেন। ২০০৭ ও ২০০৮ সময়কালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। সহযোগিতার এমন উদাহরণ থাকলেও দু’নেত্রী একে অন্যকে দুর্বল করতে আশ্রয় নিয়েছেন অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি। ক্ষমতায় থাকাকালে দু’জনেই বৈধ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব, রাজনীতিকরণ করা বিচার বিভাগ, শিকার সন্ধানকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে। কার্যকর বহুদলীয় গণতান্ত্রিক মৌলিক মানদণ্ডে সম্মত হওয়ার ব্যর্থতা থেকে বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি। বিএনপি যখন নিজেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীর রক্ষক হিসেবে দাবি করে, তখন আওয়ামী লীগ নিজেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র কৃতিত্ব ও রক্ষক হিসেবে দেখাতে চায়। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠন করে আওয়ামী লীগ। এর ভিত্তিতেই এ আদালতের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। অপরাধীদের বিচার করার দাবি যৌক্তিক, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সাধারণভাবে অথবা প্রাথমিকভাবে একটি আইনি অস্ত্র নয়। এর পরিবর্তে ব্যাপকভাবে একে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলামপন্থি বিরোধীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে দেশের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের ট্র্যাজেডিকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের অনুধাবন করা উচিত যে, মূলধারার রাজনীতি থেকে বিএনপিকে কোণঠাসা করে দেয়া হলে তাতে সরকার-বিরোধী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং এই সুযোগে মৌলবাদীদের উত্থানের পথ সৃষ্টি করে দেবে। দলের কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাবের কারণে তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সমানভাবে, বিএনপির যদি ইসলামপন্থি কট্টর গ্রুপগুলোর সঙ্গে মিত্রতা ত্যাগ করে তা তাদের জন্য শুভ হবে। তাদের উচিত হবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়তে একটি সমঝোতা খোঁজা। প্রলম্বিত ও সহিংস রাজনৈতিক সঙ্কট, বিশেষ করে যদি তাতে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে তাহলে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করা হবে সেনাবাহিনীকে। এতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া- উভয়েই পরাজিত হতে পারেন; যদিও এখনও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করার মতো কোন ইঙ্গিত মেলেনি। তবে দেশের ইতিহাস বলে, এমন সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না। রাজনৈতিক লড়াই যেহেতু উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে, রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই দু’পক্ষেরই উচিত সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে প্রাকটিক্যাল পদক্ষেপ নেয়া।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে জোর করে অবরুদ্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিতে উস্কানি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক শাসন প্রত্যাখ্যান করায় তার সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে রাজপথের শক্তি ও বিক্ষোভ দিয়ে ২০১৪-এর নির্বাচনের আগে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা যে একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হতে পারে এরই মধ্যে সে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শেখ হাসিনা হয়তো কঠোর হাতে স্বল্প মেয়াদে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শান্ত করতে সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু তাতে শোচনীয় পর্যায়ে চলে যাবে অসন্তোষ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা সত্ত্বেও ১৯৯৬ সালে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছিল। ২০০৬ সালে নির্ধারিত নির্বাচনে যা বাতিল হয়, তারা জোট গড়েছিল খিলাফত মজলিশ নামে আরেকটি ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে। উদ্দেশ্য ছিল তাদের ভোট কব্জা করা। বিনিময়ে আহমদি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। ওদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যে দুর্নীতি ও অপশাসন করেছিল তাতে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু গণতান্ত্রিক ও সামরিক শাসনের আবর্তেই ঘুরছে না, একই সঙ্গে তা প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে। অনির্বাচিত উপদেষ্টা ও কিছু নির্বাচিত কর্মকর্তার উপর বেশি নির্ভর করেন শেখ হাসিনা। অনির্বাচিত উপদেষ্টারা তার মন্ত্রীদের থেকে অনেক বেশি কর্তৃত্ব উপভোগ করেন। নিজ মন্ত্রণালয়ের ওপর তার মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ সামান্যই অথবা নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি সিদ্ধান্ত যাচাই করতে হয় তাদের। সরকারি পর্যায়ের সিনিয়র নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ফোন নম্বর আছে। তারা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যম না হয়ে ফোন করতে পারেন তাকে সরাসরি। গত বছর সেপ্টেম্বরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া হয় জাতীয় সংসদকে। সরকার যখন বিরোধীদের অকার্যকর করার চেষ্টা করছে তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এর অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রহস্যঘেরা এক স্তম্ভ

স্টোনহেঞ্জ এক রহস্যেঘেরা কীর্তি। অন্ততপক্ষে চার হাজার বছর আগে বানানো হয়েছে এটি। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সেলিসব্যারি নামে একটি জায়গা আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে স্টোনহেঞ্জ। এটিকে একটি স্মৃতিস্তম্ভ বলেই ধারণা করা হয়। আসলে স্টোনহেঞ্জ যে কী, কেন এই জিনিসটিকে বানানো হয়েছিল আজও তা জানা যায়নি। এ জন্যই বলা হয় রহস্যেঘেরা স্টোনহেঞ্জ। এই কয়েক খণ্ড পাথরই তার বিশেষ সজ্জাবিন্যাস_ পৃথিবীবিখ্যাত এক আশ্চর্যে পরিণত হয়েছে। ওয়িটসিয়ারের প্রায় ৮ মাইল উত্তরে স্যালিসব্যারিতে এর অবস্থান। প্রতি বছর এটি প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। প্রায় ৪০০০ বছর আগের প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। যদিও এর নির্মাণের উদ্দেশ্য আজও রহস্যময়। বছরের পর বছর সংষ্কার কাজ চালানোর ফলে আজও এর ঐতিহ্য সমুন্নত। প্রত্নতাত্তি্বকরা যুগের পর যুগ এর নির্মাণ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। তাদের অনেকের ধারণা মারলিন নামের একজন এর নির্মাতা। মধ্যযুগে স্বদেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করাকে বাধা দিয়ে যারা শহীদ হন, তাদের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে এটি নির্মিত। আবার অনেকের ধারণা এটি বুদ্ধিজীবীদের। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৮ মাইল উত্তরে অবস্থিত স্টোনহেঞ্জ। কত গুলো বড় দণ্ডায়মান পাথর বৃত্তাকারে দাঁড় করানো। ১৩ ফুট লম্বা ধূসর বেলেপাথর ব্যবহার করা হয়েছে স্টোনহেঞ্জে। এটিকে মানুষের নিজের হাতে তৈরি প্রাগৈতিহাসিক যুগের একমাত্র নিদর্শন মানা হয়। ১৩ ফুট লম্বা বেলে পাথরগুলোকে প্রায় বৃত্তাকারে মাটিতে পুঁতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সব পাথরের উচ্চতা মোটামুটি সমান। সেগুলোর মাথায় লিনটেল বা আংটা ব্যবহার করে একটির সঙ্গে অন্য পাথরটিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। লিনটেল হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলোও বিশাল আকৃতির।

নৃশংসতার রাজনীতি শেষ করে দেবে বাংলাদেশকে -ডয়চে ভেলে

টানা অবরোধ-হরতালে অর্থনীতি, শিক্ষাসহ সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশে৷ বোমা আর আগুনে প্রতিদিনই মরছে মানুষ৷ ঝলসে যাচ্ছে কারুর মুখ, হাত-পা বা পুরো শরীর৷ গোটা দেশই যেন পরিণত হয়েছে বার্ন ইউনিটে৷ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি এলাকার টমেটো ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী এবার টমেটো চাষে ভালো লাভের আশা করেছিলেন৷ কিন্তু তাঁর সে আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে৷ তিনি জানান, উঠানে পড়ে আছে কমপক্ষে ৫০ মণ পাকা টমেটো৷ ক্রেতা নেই৷ অপেক্ষা পচনের, প্রতিদিনই পচছে৷ ফেলে দেওয়াও হচ্ছে৷ কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না৷ কে কিনবে? কিনে তো বাজারে পঠাতে হবে? তার তো উপায় নেই৷ তাঁর কথায়, আর কিছুদিন এ রকম চলছে পরিবার-পরিজন নিয়ে উপোষ থাকতে হবে৷
যশোরের ফুল চাষী সাহেব আলী জানান, বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারিকে টার্গেট করে এক একর জমিতে গোলাপের চাষ করেছিলাম৷ কিন্তু এখন আমি হতাশ৷ কেউ ফুল কিনতে আসছে না, তাই গাছের ফুল গাছেই শোভা পাচ্ছে৷
তিনি বলেন, আশা করেছিলাম ১২ এবং ১৩ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফুলগুলো পাঠাতে পারবো৷ তাতে কমপক্ষে তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হত৷ কিন্তু লাগাতার অবরোধ-হরতালে সেই ইচ্ছা ভেস্তে গেছে৷ এই অবস্থা দেশের প্রায় সব চাষী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বড় ব্যবসায়ীদের৷ যাঁদের জমানো টাকা আছে, তাঁরা এখনো সচল আছেন৷ কিন্তু যাঁদের নেই, তাঁরা পথে বসছেন৷
বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিকের হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ই জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবরোধ-হরতালে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা৷ এর মধ্যে সর্বোচ্চ ক্ষতির খাত তৈরি পোশাক শিল্প৷ এখানে ক্ষতির পরিমাণ মোট ক্ষতির শতকরা ৩৬ ভাগ৷ এরপর যথাক্রমে পাইকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় শতকরা ১৮, কৃষি ও পোল্ট্রিতে ১২, পরিবহনে ১২, আবাসন ৯ এবং পর্যটন শিল্পে শতকরা ৮ ভাগ ক্ষতি হয়েছে৷ এছাড়া মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে শতকরা ৭০ ভাগ বিক্রি কমে গেছে৷
হরতাল-অবরোধে এসএসসি পরীক্ষার রুটিন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ এখন শুধু শুক্র ও শনিবারে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে৷ তার ওপর নতুন বছরে কোনো ক্লাসই শুরু করা যায়নি৷ শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে আছে৷ বাইরেও বের হতে পরছে না৷
সর্বশেষ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় সোমবার প্রাথমিকের বই বোঝাই ট্রাকে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ এ হামলায় ট্রাকচালক আহত হন৷ ঢাকা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের বইগুলো নিয়ে ট্রাকটির লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগতি, কমলনগরে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল৷এবারের অবরোধ-হরতালে অবরোধের ৩৫ দিনে বোমা, পেট্রোল বোমা, আগুন আর সহিংসতায় নিহত হয়েছেন মোট ৮৫ জন৷ এর মধ্যে পেট্রোল বোমা আর আগুনে নিহত হয়েছেন ৫১ জন৷ যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে ৯৯০টি৷ পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন৷ তাঁদের মধ্যে ৬২ জন এখনো চিকিত্‍সাধীন৷ রেলে নাশাকতা হয়েছে ১১ বার৷ আর ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ১৮ জন৷
সবচয়ে ভয়াবহ খবর হলো, এবার আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থাও রেহাই পাচ্ছে না৷ রবিবার পাবনায় ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী টেনে হামলা হয়েছে৷ ছোঁড়া হয়েছে পেট্রোল বোমা৷ আগুন আর পেট্রোল বোমার কারণে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ রাতে এখন আর দূর পাল্লার বাস তেমন চলছে না৷
দেশের এই বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান৷ তিনি বলেন, দেশে এখন রাজনীতির নামে নির্মমতা, ধ্বংস এবং সহিসতার রাজনীতি চলছে৷ এর দায়-দায়িত্ব কার, তার চেয়ে বড় কথা হলো সাধারণ মানুষ কেন এই ক্ষতি মেনে নেবে৷ মানুষ পুড়ছে, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে, অর্থনীতি পড়ছে হুমকির মুখে৷ এই অবস্থা কোনোভাবেই চলতে দেয়া যায় না৷ এই রাজনীতি একটি জাতিকে পঙ্গু করে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ৷
তিনি বলেন, রাজনীতির নামে, আন্দোলনের নামে এখন দেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তৃত হচ্ছে৷ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আসছে৷ এর দায়-দায়িত্ব কিন্তু দুই নেত্রীকেই নিতে হবে৷ তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ ও দেশের মানুষকে ধ্বংস করার এই রাজনীতি বন্ধের৷
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা সংলাপের কথা বলছি৷ কিন্তু সংলাপের পরিবেশ এখন নেই৷ আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে৷ খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসী তত্‍পরতার নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাতে হবে৷ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে সহিংসতা-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে৷ মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি চলতে পারে না৷
ডয়চে ভেলে দেশের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলামের সঙ্গেও৷ তিনি বলেন, বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী এবং বোমা ও আগুনের শিকার যাঁরা তাঁরা৷
তিনি বলেন, পরীক্ষা পেছানোর কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপে রয়েছে৷ তাদের ভিতর কাজ করছে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা হীনতা বোধ৷ এটা তাদের পরবর্তী শিক্ষা জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ তারা চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পাবে৷ পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে৷ গড়ে উঠবে দুর্বল এবং অদক্ষ নাগরিক হিসেবে৷ আর যারা ক্লাসে যেতে পারছে না, তারা হতাশ হয়ে লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে৷ এমনকি মাদকাসক্ত হয়েও পড়তে পারে৷ শিশুর মনে চরম আঘাত তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করবে৷
ডা. তাজুর ইসলাম বলেন, যাঁরা বোমা বা পেট্রোল বোমায় আহত হচ্ছেন, তাঁরা পরবর্তী জীবনও বিভীষিকাময় হতে পারে৷ তাঁরা শারীরীকভাবে সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেও, মানসিকভাবে সুস্থ নাও হতে পারেন৷ তাঁদের স্মৃতিতে বার বার ফিরে আসতে পারে দুঃসহ স্মৃতি৷ তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন না৷ তাঁদের সারা জীবন মানসিক অসঙ্গতি বয়ে বেড়াতে হবে৷
ডা. তাজুল ইসলাম আরো জানান, দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বোধ বাড়ছে৷ এটা স্থায়ী হলে তা মানসিক ট্রমায় রূপান্তরিত হতে পারে৷ তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে সহিংসতার খবর যেভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে, তাও ক্ষতিকর৷

ঋণের কিস্তি রেখেই পরপারে

গতকাল বিকেলে মারা যান শহীদুল ইসলাম
সপ্তাহে ঋণের কিস্তি ছিল ৭০০ টাকা। বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠেছিলেন। পেট্রলবোমায় পুড়ে আট দিন পড়ে ছিলেন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান। তাঁর নাম শহীদুল ইসলাম (৩৮)। বাড়ি পবা উপজেলার মুন্না ডায়িং এলাকায়। তিনি ট্রাকচালক সাইদুল ইসলামের সহকারী ছিলেন। সাইদুল ইসলাম এখনো বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। ২ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে রাজশাহী নগরের মোল্লাপাড়া এলাকার লিলি সিনেমা হলের পাশে তাঁদের ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলা হয়। তাঁরা পদ্মা নদী থেকে বালু তুলে এক ক্রেতার বাড়িতে ঢেলে দিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পেট্রলবোমায় শহীদুলের মুখসহ শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাঁকে দেখে চেনার উপায় ছিল না। ঘটনার পরের দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি এমনভাবে পড়ে আছেন, বোঝার উপায় নেই জীবিত না মৃত। তাঁর স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম পাশে নির্বাক বসেছিলেন। এই অবরোধের মধ্যে ভাড়া নিয়ে গিয়েছিলেন কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, নিজের ঘর নেই। তাই কয়েকখানা টিন কিনে একটা ঘর তুলেছেন। এ কাজ করতে গিয়ে একটি সংস্থা থেকে ১ হাজার ৫০০, আরেকটি থেকে নয় হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সপ্তাহে ৭০০ টাকা করে কিস্তি টানতে হয়। অবরোধ শুরুর পর থেকে আর ঋণের কিস্তি দিতে পারেননি। এদিকে বাড়িতেও নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কোনো উপায় না দেখে সাইদুল ইসলামের সঙ্গে ট্রাকে উঠেছিলেন। তখন মঞ্জুরা বলেন, সুস্থ মানুষটা পঙ্গু হয়ে গেলে ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁদের মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। গতকাল বিকেলে শহীদুল মারা গেলে তাঁর শোকাতুর স্ত্রীকে সামলানো যাচ্ছিল না। শহীদুলের লাশ মর্গে রেখে মঞ্জুরাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শহীদুলের ছেলে মোহাম্মদ হৃদয় (১৬) বলে, তার বাবাকে পেট্রলবোমা মেরে যারা হত্যা করেছে, সে তাদের ফাঁসি চায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, শহীদুলের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার চেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে তাঁর ফুসফুস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হলেও কোনো কাজে আসছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো গেল না।

প্রকাশ্যে কোন পক্ষের সমর্থন বা বিরোধিতা করতে চাইছে না ভারত

সারা দুনিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতরা এখন দিল্লিতে। নিয়মিত বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন তারা। তবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের বিষয়টি একটু আলাদা। রুটিন বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশের উত্তাল পরিস্থিতি নিয়েও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ব্রিফ করেছেন তিনি।
যে আলোচনায় উঠে এসেছে মূলত তিনটি বিষয়-
১. বাংলাদেশের পরিস্থিতি সামলাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রতিবেশী ভারতকে তারা আশ্বস্ত করেছে।
২. ভারত একটা ব্যাপারে খুব সতর্ক। তারা প্রকাশ্যে অন্তত কোন পক্ষের সমর্থন বা বিরোধিতা করতে চাইছে না। তারা চাইছেন বাংলাদেশের সঙ্কটটা দ্রুত মিটুক। কিন্তু সে সমাধানে যেন ভারতের কোন ছায়া না দেখা যায়।
৩. বাংলাদেশের প্রধান দলগুলো হাত মিলিয়ে একটা জাতীয় ঐক্যের সরকার গড়লে এবং সেই সরকার ভারতের স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখলে তাতে সাউথ ব্লকের অসুবিধা নেই।
এ বৈঠক সম্পর্কে গতরাতে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ গতকাল দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেছেন বলে বিবিসি জানতে পেরেছে। ভারত এ বৈঠক নিয়ে সরকারিভাবে একেবারেই মুখ খোলেনি। বরং তারা এ বৈঠকের গুরুত্ব একটু খাটো করে দেখাচ্ছে। বলছে, এটা একটা নিয়মিত রুটিন বার্ষিক বৈঠক। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশে এ মুহূর্তে রাজনীতি বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে পর্যায়ে তাতে এ বৈঠকটাকে রুটিন বৈঠক ঠিক বলা যাচ্ছে না সঙ্গত কারণেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিবিসি যেটা জানতে পেরেছে তা হলো- মি. শরণ তার মন্ত্রীকে এটাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এখনও মনে করছে যে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। দরকারে তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতেও প্রস্তুত। কিন্তু ইমার্জেন্সি বা সামরিক বাহিনী নামার মতো অবস্থা এখনও হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বিবিসিকে আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে বা তিনি আপসের জন্য প্রস্তুত- এমন কোন ইঙ্গিত তারা কিন্তু পাননি। বরং তিনি আরও কড়া হাতে সহিংসতার মোকাবিলা করবেন বলে কথা দিয়েছেন। উল্টো দিকে ঢাকাতে ভারতীয় হাইকমিশনের মূল্যায়ন বলা চলে যে, বিরোধী বিএনপির পেছনে যথেষ্ট পপুলার সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও গত একমাসের টানা অবরোধ বা পেট্রলবোমা হামলার জেরে সেই জনপ্রিয়তাতেও কিন্তু আস্তে আস্তে ভাটার টান পড়ছে। সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, বিরক্ত হয়ে পড়ছেন বলেই তাদের ধারণা। কিন্তু ভারত একটা ব্যাপারে খুব সতর্ক। তারা প্রকাশ্যে অন্তত কোন পক্ষের সমর্থন বা বিরোধিতা করতে চাইছেন না। তারা চাইছেন বাংলাদেশের সঙ্কটটা দ্রুত মিটুক। কিন্তু সে সমাধানে যেন ভারতের কোন ছায়া না দেখা যায়।
ভারত বাংলাদেশের সঙ্কটের ঠিক কি ধরনের সমাধান দেখতে চাইছে এর উত্তরে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যে সমাধানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে- সেটাই তাদের কাম্য। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিদ্যুৎ, রেল পরিবহন ইত্যাদি নানা খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকা লগ্নি করেছে। এই টানা অবরোধ অস্থিরতায় সেই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। অর্থনীতির দিক থেকে বাংলাদেশের এই যে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বটা ভারতের  কাছে সেটার জন্যই তারা একটা সুস্থির গণতান্ত্রিক কাঠামো চান যেটা ব্যবসা- বাণিজ্যকে সাহায্য করবে। মুশকিল হলো, বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলটা ঐতিহাসিকভাবে জটিল এবং রক্তাক্ত। এখনও সেরকম চেষ্টা হলে তারই পুনরাবৃত্তি হবে বলে ভারতের আশঙ্কা। কিন্তু ধরা যাক বাংলাদেশের প্রধান দলগুলো হাত মিলিয়ে একটা জাতীয় ঐক্যের সরকার গড়লো। এবং সেই সরকার ভারতের স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখলো, তাতে আমাদের অসুবিধা কোথায়। ভারতের সাউথ ব্লকের কর্তারা এমন কথাও বলছেন। যদিও তারা খুব ভালো করেই জানেন সেই সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

নাইজেরীয় ছাত্রীদের মুক্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন: মালালা

মালালা ইউসুফজাই
নাইজেরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের হাতে আটক ২০০-র বেশি স্কুলছাত্রীকে মুক্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মালালা ইউসুফজাই। খবর ডনের। স্কুলছাত্রীদের অপহৃত হওয়ার ৩০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এ অকুতোভয় নারীশিক্ষা আন্দোলনকর্মী বলে, ‘ওই স্কুলছাত্রীদের বন্দিত্বের হৃদয়বিদারক ৩০০ দিন অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে।
আমি সাহসী ওই মেয়েদের মুক্তির ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাতে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষকে আমার সঙ্গে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ গত বছরের ১৪ এপ্রিল নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত শহর চিবকের একটি স্কুল থেকে ২৭৬ জন কিশোরী শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে বোকো হারাম। ৫৭ জন ছাত্রী পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন- নগর ভবনে যান না মেয়র, বাসাতেই দাপ্তরিক কাজ by সুজন ঘোষ

উত্তর কাট্টলির নিজ বাসভবনে দাপ্তরিক কাজ করছেন চট্টগ্রামের
মেয়র মনজুর আলম। গতকাল দুপুরে তোলা ছবি l প্রথম আলো
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিটি মেয়রের কার্যালয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সেখানে গিয়ে দেখা যায় কার্যালয়টি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে। কার্যালয়ের পাশের কক্ষটি মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারীর। তাঁর আসনটিও ফাঁকা।  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ শুরু হওয়ার পর নগর ভবনে আসছেন না মেয়র মনজুর আলম। নগরের উত্তর কাট্টলীর নিজ বাসাতেই দাপ্তরিক কাজ করছেন তিনি। এ কারণে নগর ভবন থেকে আট কিলোমিটার দূরে মেয়রের বাসায় প্রতিদিনই প্রয়োজনীয় ফাইল ও নথি নিয়ে ছুটতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি করপোরেশনের ৫৫তম সাধারণ সভায় যোগ দিতে নগর ভবনে আসেন মেয়র।
তবে নগর ভবনে না গেলেও সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে প্রায় নিয়মিতই অতিথি হিসেবে হাজির থাকছেন মেয়র। এর মধ্যে গত ১০ জানুয়ারি শহীদ মিনার এলাকায় একটি দৈনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ১৫ জানুয়ারি উত্তর কাট্টলীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। ১৯ জানুয়ারি উত্তর কাট্টলী এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সর্বশেষ ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর কাট্টলীতে একটি কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মেয়র।
করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি জোটের ডাকা হরতালেও নগর ভবনে আসতেন না মেয়র মনজুর আলম। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা সকালে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে চলে যান মেয়রের উত্তর কাট্টলীর বাসা ‘মোস্তফা-হাকিম’ ভবনে। ছয়তলা এই ভবনের নিচতলাটি তিনি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখানেই করপোরেশনের সমন্বয় সভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বৈঠক বসছে।
করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগের হরতাল কর্মসূচিতে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও বাসায় অফিস করতেন।
কার্যালয়ে না এসে বাসায় বসে মেয়রের দাপ্তরিক কাজ করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মেয়রের বাসাও অফিস হিসেবে বিবেচিত হয়। মেয়র চাইলে তাঁর বাসায়ও অফিস করতে পারেন। দাপ্তরিক কাজকর্মও সারতে পারেন। এতে বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে তিনি (মেয়র মনজুর আলম) একটানা নগর ভবনে আসেন না, এটি কতটুকু যুক্তিসংগত ভেবে দেখা উচিত।
নগর ভবনে মেয়রের টানা অনুপস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলররা বলছেন, মেয়র না আসাতে করপোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত কাউন্সিলররা বলছেন, মেয়র কার্যালয়ে না এলেও কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেহেনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, হরতাল-অবরোধে মেয়র নগর ভবনে না আসায় কিছু সমস্যা তো হচ্ছে। সব কাজ তো আর বাসায় বসে করা যায় না। আর চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরবাসীর স্বার্থেই নগর ভবনের কার্যালয়ে এসে তাঁর অফিস করা উচিত।
তবে জামায়াত-সমর্থিত কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, শুধু কাজের জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। মেয়র তাঁর বাসভবনে বসে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনই সারছেন। করপোরেশনের কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
গতকাল নগর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ও করপোরেশনের কর্মচারীরা ছাড়া আর কেউ নেই। এই তলাতেই মেয়রসহ করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, একান্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কাউকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রশিক্ষণের জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেড় মাসের ছুটিতে আছেন। মেয়রের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব মেয়রের বাসভবনে অবস্থান করছেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমদুল হক দাপ্তরিক কাজে বাইরে রয়েছেন।
নগর ভবনের তৃতীয় তলায় করপোরেশনের সচিবের কক্ষে গিয়ে জানা যায়, সচিব রশিদ আহমদ মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকে যোগ দিতে সকালে ঢাকায় গেছেন। এই তলায় অবস্থিত তিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মধ্যে আনোয়ার হোছাইন ও রফিকুল ইসলামকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়। পাঁচতলায় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ও ছয়তলায় প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকেও নিজ কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁরা দাপ্তরিক কাজে মেয়রের বাসভবনে গিয়েছেন বলে জানান কর্মচারীরা।
করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন ও রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র যখন যেখানে থাকেন সেখানে অফিস করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় ফাইল নিয়ে সকালে মেয়রের বাসভবনে চলে যাই। সেখানে তিনি আমাদের কাজের নির্দেশনা দেন। এতে কাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’
গতকাল দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মেয়রের বাসভবনে প্রবেশের সময় দেখা যায়, বাসা থেকে বেরিয়ে আসছেন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, করপোরেশনের উপসচিব সাইফুদ্দিন মাহমুদ কাতেবী, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ছৈয়দ ও নেজারত শাখার নাজির মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। মেয়রের বাসভবনে ছিলেন একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।
বেলা পৌনে একটার দিকে মেয়রের বাসায় ফাইল নিয়ে হাজির হন করপোরেশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আশেক রসুল চৌধুরী। এরপর মেয়র তাঁর একান্ত সচিব ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাকে নিয়ে সিটি করপোরেশনের বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন।
গতকাল সকালে বৃহত্তর আগ্রাবাদ-হালিশহর জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সদস্যরা মেয়রের সঙ্গে তাঁর বাসায় দেখা করেছেন। তাঁরা মহেশ খাল খনন ও খালের মুখে জলকপাট স্থাপনে মেয়রের সহযোগিতা চান।
অবরোধে নগর ভবনে না যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মনজুর আলম সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, নগর ভবনে না গেলেও করপোরেশনের কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রত্যেকটি বিভাগ সচল রয়েছে। এখানেই (মেয়র বাসভবন কার্যালয়) নিয়মিত বিভাগগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আাগে নগরবাসী নগর ভবনে আসতেন। এখন সরাসরি বাসায় চলে আসেন। তাঁদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছি।

এক যুগে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর by তারিক রহমান সৌরভ

২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে বাঙালিসমগ্র জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা হয়। এক যুগে পদার্পণ করছে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর। বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমুখী ধারাকে সমৃদ্ধ ও বেগবান করতে যেসব কীর্তিমান বাঙালি বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের সৃষ্টি ও কর্ম সংগ্রহ, স্থায়ী সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে মাত্র ২০টি মূল স্মারক নিয়ে এই জাদুঘরের যাত্রা হলেও বর্তমানে জাদুঘরে প্রদর্শিত স্মারক ৭০টি আর সংগৃহীত স্মারক শতাধিক। উল্লেখযোগ্য স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা ও ইংরেজি কবিতার মূল কপি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকার মূল কপি, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পাণ্ডুলিপি, বেগম রোকেয়ার হাতের লেখা চিঠি, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর গানের স্বরলিপি, শিল্পী আবদুল লতিফের ব্যবহৃত দোতারা, চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের মুভি ক্যামেরা, প্রথম বাঙালি মুসলমান চিত্রকর কাজী আবুল কাশেমের আঁকা তৈলচিত্র, পটুয়া কামরুল হাসানের আঁকা স্কেচ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য দুর্লভ স্মারক এবং বিশিষ্ট বাঙালির অর্ধশতাধিক হাতের লেখা চিঠি ও পাণ্ডুলিপি। ৫০টি পোট্র্রেট নিয়ে জাদুঘরের যাত্রা শুরু হলেও ১১ বছরে এই পোট্র্রেট সংখ্যা ৬৫। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়াত বিশিষ্ট বাঙালির পোট্র্রেটগুলো চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রায় ১৫শ' বই নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি গ্রন্থাগার, যা এই জাদুঘরে আসা দর্শকদের বিভিন্ন কীর্তিমান বাঙালির জীবন ও কর্ম সম্পর্কে অবহিত করে। ২০টি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর। ২০০৬ সালে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর নিজস্ব ওয়েবসাইট উদ্বোধন করে। বিগত ১১ বছরে চারটি প্রকাশনা ও একটি গবেষণাকর্ম পরিচালনা করেছে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর। আরও তিনটি প্রকাশনা প্রক্রিয়াধীন। গবেষণাকর্মের শিরোনাম_ 'পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে প্রদত্ত জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ-১৯৫৪-১৯৫৮।' আগামী মাসে গবেষণা কর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হবে। ২০১১ সালে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর বিশ্বকবির সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মারক বক্তৃতার প্রচলন করে। এ পর্যন্ত চারটি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক আনিসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ব্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বিগত চার বছরের স্মারক বক্তা ছিলেন। বিগত ১১ বছরে বাঙালিসমগ্র জাদুঘরের পথচলার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির স্বচ্ছন্দ গতিময়তা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশে কাজ করতে উৎসাহিত করে সবসময়। কয়েকশ' বছরের সেরা বাঙালিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অসামান্য কর্মকুশলতা ও অর্জন বর্তমানে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য আগামী প্রজন্মের কাছে একটু ধূসর প্রেক্ষিতে উপস্থাপিত হচ্ছে না? বাঙালির হাজার বছরের গৌরব ও অর্জন যা বাঙালিসমগ্র জাদুঘর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে বাঙালি জাতিকে গৌরব ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করতে চায়_ সেই প্রয়াস হীন ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের চক্রান্তে লিপ্ত বিরোধী রাজনীতির অশুভ উদ্দেশ্যের কাছে যদি পরাভূত হয়, তাহলে কী হবে? বাঙালি সবসময় সব ষড়যন্ত্র ও অন্যায় প্রতিরোধকে সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিহত করে বিজয়ী হয়েছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। বিগত সময়ে যেসব দর্শক, শুভানুধ্যায়ী এই জাদুঘরে এসেছেন, তাদের শুভেচ্ছা জানাই। আপনিও আসুন বাঙালিসমগ্র জাদুঘরে।