Monday, July 27, 2026

ট্রাম্পের সামনে একের পর এক সংকট

সিএনএনের বিশ্লেষণঃ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নতুন এক মোড়ে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তিন মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এ মাসে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কৌশলগতভাবে স্পষ্ট সুবিধা অর্জন করতে পারেনি।

যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় আটকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ নিয়ে সমর্থন কমতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাতভর হামলা চালানোর পর বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে।

রিপাবলিকানদের চাপ কি বাড়বে?
যুদ্ধের শুরুতে যারা সমালোচনা করেননি, তাদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন- এই যুদ্ধ আর কতদিন চলবে? ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম বলেন, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক রিপাবলিকান উদ্বিগ্ন। নভেম্বরে জিততে চাইলে এই যুদ্ধকে অনন্তকাল চলতে দেয়া যাবে না।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন যুদ্ধের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করলেও পরে বলেন, এখন আমাদের এটি শেষ করতে হবে।

অন্যদিকে লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সিএনএনকে বলেন, আমার মতে, প্রেসিডেন্ট প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। আমি তখনও সমর্থন করেছিলাম যে, যুদ্ধ শেষ করা উচিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি।

তবে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ শেষ করাও সহজ নয়। ইরান এখন পর্যন্ত কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। এমনকি আগে আলোচিত সমঝোতা স্মারকও কার্যকর হয়নি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন হামলা ও হুমকিও তেহরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারেনি। বিশেষ করে যদি ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হতে পারে।

মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় জনসমর্থন আরও কমবে?
মার্চের পর যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই উদ্বিগ্ন যে, এসব মৃত্যু জনসমর্থন আরও কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বারবার বর্তমান হতাহতের সংখ্যা অতীতের বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় কম বলে উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রমাণ ছাড়াই দাবি করছেন, নিহত সেনা ও তাদের পরিবার এই যুদ্ধকে সমর্থন করতেন। যদিও অন্তত একটি পরিবারের সদস্য প্রকাশ্যে ভিন্ন মত জানিয়েছেন।

গত মার্চে রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৫৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হলে তারা যুদ্ধের বিরোধিতা করার দিকে আরও ঝুঁকবেন।

এদিকে পেন্টাগন সর্বশেষ তাদের তথ্য হালনাগাদ করে জানিয়েছে, নতুন করে আরও ১৪০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন। ফলে মোট আহতের সংখ্যা ৬০০-এর বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের সংখ্যা আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় কম হলেও এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মার্কিন জনগণের সংশয় থাকায় সেনা মৃত্যুর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে।

ট্রাম্প কি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন?
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক সম্প্রসারণ থেকে বিরত থেকেছেন। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে তিনি ও তার উপদেষ্টারা সংঘাত আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরেকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা। কিন্তু এর জন্য স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, যা নতুন করে বহু মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করবে এবং যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করবে।

ট্রাম্প সম্প্রতি অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে অতীতেও তিনি এমন হুমকি দিয়ে পরে পিছু হটেছেন।
সপ্তাহান্তে ট্রাম্প হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, প্রেসিডেন্ট আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ দিতে চান।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। ড্যান কেইন বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তেলের দাম কতটা বাড়তে পারে?
গত সপ্তাহে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এই জলপথ হরমুজ প্রণালির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট। ফলে সেখানে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর প্রথম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারেরও বেশি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখা ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প কি লক্ষ্য আরও কমিয়ে আনবেন?
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” ছাড়া কিছুই মেনে নেবেন না। তিনি ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার কথাও বলেছিলেন। এমনকি ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো থেকে বোঝা যায়, তিনি ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্য অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি কি আরও কম শর্ত মেনে নেবেন? যেমন, পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই যদি শুধু হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া হয়, সেটাকেই কি তিনি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরবেন?
ট্রাম্প এর আগেও দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মহাকাশ থেকে সেটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

কংগ্রেস কি এবার পদক্ষেপ নেবে?
রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এখন পর্যন্ত ট্রাম্পকে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের অর্থায়ন কমিয়ে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে অর্থায়নের একটি বিল পাস হলেও সিনেটে সেটি পাস হবে কি না, তা অনিশ্চিত।
এছাড়া ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবও কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মধ্যবর্তী সময়কে আলাদা সংঘাত হিসেবে দেখিয়ে ৬০ থেকে ৯০ দিনের সাংবিধানিক সীমা এড়ানোর চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্য্যান্সি মেস বলেন, কয়েক দিনের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে আবার শুরু করলেই সেটি সংবিধানের দৃষ্টিতে নতুন যুদ্ধ হয়ে যায় না।

আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরকাওস্কিও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেছেন, খুব শিগগিরই কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

ট্রাম্পের সামনে একের পর এক সংকট

আরেক ফ্রন্টে যুদ্ধের শঙ্কা

সৌদি আরবের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর সিএনএনের।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গুরুতর হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা অভিযোগ করে, ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা থেকে ফিরে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের হুতি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

তবে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানায়, ওই হামলা তাদের নিজস্ব বাহিনী চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ওই ফ্লাইটের উদ্দেশ্য ছিল ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর পর প্রথমবারের মতো তেহরান ও সানার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা, যা বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নাদওয়া আল-দাওসারি ও আরমান মাহমুদিয়ান এক বিশ্লেষণে বলেন, এই পদক্ষেপ ইরানের পরিবর্তিত আঞ্চলিক কৌশলের প্রতিফলন।

তাদের মতে, তেহরান এখন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটকে আরও সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে সংঘাতের সময়কে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, মাটির বাস্তবতা বদলে দেয়া এবং আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। কিন্তু বিমানবন্দর হামলার পর তারা সেই সমঝোতার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
এরপর হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ার পর সৌদির তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে হুতিরা দাবি করেছে, তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। সৌদি অন্তত একটি জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে এবং এর জবাবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রধান বন্দরনগরী হোদেইদাহ-এ বিমান হামলা চালায়।
এদিকে সোমবার নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদির লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত জাজান তেল শোধনাগারের আশপাশ থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। এর একদিন আগেই হুতিরা ওই স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। 

আরেক ফ্রন্টে যুদ্ধের শঙ্কা

মামদানির বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা’ ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে এবং গাজা যুদ্ধের জন্য নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসলে ‘ঘৃণা’ ছড়াচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত এই আসামি নিউইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

মেয়র সংবর্ধনা জানাবেন না বলে ইঙ্গিত দেওয়া সত্ত্বেও গতকাল রোববার নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে তিনি নিউইয়র্কে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

গত বুধবার নিউইয়র্কে মামদানি বলেছিলেন, নিউইয়র্ক নগরের হাতে বিশ্বের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা না থাকলেও তিনি বিষয়টি কার্যকর করতে ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস উইথ মারিয়া বার্টিরোমো’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, তাঁর (মামদানি) তো নিউইয়র্কের সব নাগরিক—ইহুদি, খ্রিষ্টান, মুসলিম সবার মেয়র হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এক গোষ্ঠীকে অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

গাজায় ইসরায়েলের নৃশংসতাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ক্রমেই বিতর্কিত এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস যোদ্ধাদের হামলার পর গাজায় নির্বিচার ও নৃশংস হামলা শুরু করে। ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে।

নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলো ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। তিনি আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন আচরণের অনিয়মের অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরানোর একটি চেষ্টামাত্র।

তবে গাজায় যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর নির্দেশে পরিচালিত নৃশংস হামলায় ২০ হাজারের বেশি শিশুসহ প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক।

সর্বশেষ ফক্সে নেতানিয়াহুর মন্তব্যের বিষয়ে জোহরান মামদানির কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গতকাল উগ্র ইহুদিবাদী নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি অতীতে যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন ছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মামদানির রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত প্রগতিশীল এবং উগ্র-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের বিভাজনের কারণে।

নির্বিচার গাজাবাসীকে হত্যার অভিযোগ আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইহুদি জনসংখ্যার শহর নিউইয়র্কের মানুষের সঙ্গে যখন তিনি কথা বলেন, তখন ‘ইহুদিরা সেখানে চরম অস্বস্তি বোধ করে’।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এটি ভুল। পুরো ব্যাপারটাই ভুল।’

২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনী প্রচারজুড়ে মামদানি বলেছিলেন, গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার জন্য আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি শহরের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

গত বুধবার এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক নগরে স্বাগত জানানো হবে না এবং অন্য কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধীকেও নয়।’

মামদানি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, তিনি তাঁদের ক্ষোভ বুঝতে পেরেছেন এবং প্রতিবাদ প্রকাশ এমন একটি বিষয়, যা এই শহর ‘সব সময় সম্মান করবে’।

হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহু, তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাসের প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় আপনাকে কোনোভাবেই, কোনো রূপেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’

নেতানিয়াহু আজ সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রয়াত সিনেটর ইসরায়েলপন্থী লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলের সব ধরনের অন্যায় ও নৃশংসতার ঘোর সমর্থক লিন্ডসে গ্রাহাম ১১ জুলাই আর্টারি বা ধমনি ফেটে গিয়ে হঠাৎ মারা যান। নেতানিয়াহু তাঁকে একজন ‘মহান দেশপ্রেমিক’এবং ইসরায়েলের ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনিদের ‘রক্তপ্রবাহ’ দেখতে চায় ইসরাইলি নেতারা

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা। তারা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘আমরা রক্তপ্রবাহ দেখতে চাই’, ‘তাল গ্রামকে নিশ্চিহ্ন করো।’

শুক্রবার ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেৎজালেল স্মোটরিচ পশ্চিম তীরের তাল, ইরাক বুরিন ও বাইত ফুরিক গ্রাম নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ গ্রামের অধিবাসীদের নাবলুস ও তুলকারামের শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দাদের মতো হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘এ লোকদের জায়গা খালি করে দেওয়া উচিত।’ তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে যেন এ অঞ্চলের দায়িত্ব ইসরাইল নেয়।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেন, ‘যত ইহুদি নিহত হয়েছে, তার বদলায় শত্রুদের ভূমি ও ঘরছাড়া করতে হবে।’ গাজায় যেভাবে পুরো বসতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম তীরেও একই কৌশল বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে ইসরাইলি সেনা সহায়তায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যেই এ আহ্বান এলো। শুক্রবার হামলায় ইসরাইলিদের গুলিতে গ্রামের চার বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এক বাসিন্দা ইসরাইলিদের থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে হামলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর এ পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হন।

বেৎজালেল স্মোটরিচের দল রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টির সদস্য জভি সুককত শুক্রবার চ্যানেল ফোরটিনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, তাল গ্রামকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা প্রয়োজন। একইদিন ফেসবুক পোস্টে একটি কালো পর্দায় ‘প্রতিশোধ’ লিখে পোস্ট করেন তিনি।

সশস্ত্র ইসরাইল বসতি স্থাপনকারী দল হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে একই আহ্বান জানানো হয়। মিডল ইস্ট আই গ্রুপটির হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে ‘তাল গ্রাম নিশ্চিহ্ন করো’ লেখা বার্তা দেখতে পায়।

এক বার্তায় লেখা হয়, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই। কোনো ধরনের বসতি স্থাপন বা আরো বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি নয়।’ আরেকটি বার্তায় লেখা হয়, ‘আমরা রক্তপ্রবাহ দেখতে চাই। প্রতিশোধ ছাড়া কিছুতেই শান্তি আসবে না।’

ফিলিস্তিনিদের ‘রক্তপ্রবাহ’ দেখতে চায় ইসরাইলি নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

‘শোলে’ থেকে ‘চুপকে চুপকে’, ধর্মেন্দ্রর আলোচিত ১০ সিনেমা কোনগুলো

ছয় দশকের অভিনয় জীবনে তিন শর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। অ্যাকশন, রোমান্টিক থেকে শুরু করে পর্দায় দেখা গেছে নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। এমনকি চলতি শতকে এসেও নানা নিরীক্ষাধর্মী ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার থেকে আলোচিত দশ সিনেমা বেছে নেওয়া সহজ নয়। তবে হিট, সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত অভিনেতার আলোচিত ১০ সিনেমার তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতের অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস। সেই প্রতিবেদন অবলম্বনে জেনে নেওয়া যাক প্রয়াত অভিনেতার ১০ সিনেমার কথা।

‘হকিকত’ (১৯৬৪)
ধর্মেন্দ্র এই সিনেমায় একজন সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে আবেগপূর্ণ অভিনয় করেন। ভারত-চীন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটিতে ধর্মেন্দ্র অভিনীত চরিত্রটি সাহস, ত্যাগ এবং মানবিক দিক ফুটিয়ে তোলে। চেতন আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও ছিলেন বলরাজ সাহনি, সঞ্জয় খান, বিজয় আনন্দ।

‘অনুপমা’ (১৯৬৬)
হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র, শর্মিলা ঠাকুর। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এটি হিন্দিতে সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার জেতে। ছবিটির ব্যাপক প্রশংসা করেন সমালোচকেরা। ছবিতে ধর্মেন্দ্রকে দেখা যায় শান্ত, সংবেদনশীল চরিত্রে, যা তাঁর ‘হি-ম্যান’ ইমেজের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

‘ফুল অউর পাত্থর’ (১৯৬৬)
এই ছবিই ধর্মেন্দ্রকে প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা থেকে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ছবির শাকা চরিত্রটি ছিল কঠোরতা ও কোমলতার এক আশ্চর্য সমন্বয়। এই সিনেমার জন্য প্রথমবার ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন পান ধর্মেন্দ্র।

‘সত্যকাম’ (১৯৬৯)
ধর্মেন্দ্রর চরিত্রটি ছিল নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের মিশেলে তৈরি। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে তিনি কেবল তারকা নন বরং অভিনেতা হিসেবেও আলোচনার দাবি রাখেন। নারায়ণ সান্যালের একই নামের বাংলা উপন্যাস অবলম্বনে হৃষিকেশ মুখার্জির ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন শর্মিলা ঠাকুর, সঞ্জীব কুমার ও অশোক কুমার।

‘সীতা অউর গীতা’ (১৯৭২)
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর কেমিস্ট্রি দর্শকদের মন জয় করেছিল। রমেশ সিপ্পির সিনেমাটির কাহিনি লিখেছিলেন সেলিম-জাভেদ জুটি। রাহুল দেব বর্মণ গানগুলোর সুরকার ছিলেন। চলচ্চিত্রটি দুই যমজ বোনের কাহিনি নিয়ে, যারা জন্মের পর আলাদা হয়ে আলাদাভাবে বড় হয়, এই চরিত্রে হেমা মালিনী অভিনয় করেছিলেন।

‘জঙ্গু’ (১৯৭৩)
ধর্মেন্দ্রকে ছবিতে দেখা যায় অশোক রায় জঙ্গু চরিত্রে। প্রমোদ চক্রবর্তী পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও ছিলেন হেমা মালিনী। ছবিতে ধর্মেন্দ্র অ্যাকশন দিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হন, এ ছাড়া হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়ন নিয়েও বিস্তর চর্চা হয়।

‘শোলে’ (১৯৭৫)
ধর্মেন্দ্রের করা সিনেমায় বীরু চরিত্রটি এখনো মনে রেখেছেন দর্শকেরা। কিছুদিন আগেই সিনেমাটি মুক্তির সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হলো। বীরু চরিত্রটি ছিল বহুমাত্রিক; যেখানে হাস্যরস ও রোমাঞ্চ একত্র হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ বচ্চনের পর্দার রসায়ন এখনো চর্চায়। ‘শোলে’ শুধু একটি সিনেমা নয়; এটি এক অনুভূতি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একত্র করে।

‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫)
এই সিনেমায় প্রফেসর পরিমল ত্রিপাঠি চরিত্রে কমেডি করতে দেখা যায় ধর্মেন্দ্রকে। হৃষিকেশ মুখার্জি সিনেমাটিতে তিনি বুদ্ধিমত্তা ও হাস্যরসের নিখুঁত সমন্বয় দেখান। এই সিনেমায় শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর জুটি আজও মনে আছে অনেক দর্শকের। উপেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর গল্প ‘ছদ্মবেশী’ অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমাটি।

‘প্রতিজ্ঞা’ (১৯৭৫)
ধর্মেন্দ্রকে এখানে দেখা গেছে প্রতিশোধপরায়ণ এক ন্যায়পরায়ণ তরুণ হিসেবে। ছবিতে অ্যাকশন, আবেগ ও কমেডি সবই রয়েছে। দুলাল গুহ পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন হেমা মালিনী, অজিত, জনি ওয়াকার।

‘আপনে’ (২০০৭)
অনিল শর্মার সিনেমাটিকে ধর্মেন্দ্রর পরের দিকের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা বলা হয়। এখানে তিনি অভিনয় করেন এক প্রবীণ বক্সারের চরিত্রে। সিনেমাটিতে ছিলেন তাঁর দুই সন্তান সানি ও ববি দেওলও।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-11%2Fzadktx8z%2F83c6efc9-1ac7-4d24-8fc5-147e64e54303.jpg?rect=0%2C0%2C1599%2C1066&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ধর্মেন্দ্রর আলোচিত ১০ সিনেমা কোনগুলো। কোলাজ

ট্রাম্পের কঠিন শর্ত, সৌদি আরব এখন কী করবে by উমুদ শোকরি

২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান একটি বহুল প্রতীক্ষিত ‘সেকশন ১২৩’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও উপাদান বেচাকেনার একটি আইনগত ভিত্তি তৈরি হলো। ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শতকোটি ডলারের বাণিজ্য এবং কয়েক দশকের এক দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

তবে এর ঠিক এক দিন পরই দৃশ্যপট বদলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষরের মূল ঘোষণার বাইরে গিয়ে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক শর্ত জুড়ে দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সৌদি আরবকে আব্রাহাম আকোর্ডের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। তা না হলে এই চুক্তি কার্যকর হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরমপত্র একটি সম্পন্নপ্রায় জ্বালানি চুক্তিকে রাজনৈতিক শর্তের বেড়াজালে আটকে দিয়েছে। এতে করে রিয়াদ, মার্কিন কংগ্রেস এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইনি কাঠামো, সুযোগ ও ভবিষ্যৎ সময়সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৬ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ‘সেকশন ১২৩’ অনুযায়ী, যেকোনো দেশের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করতে হলে ৯টি শর্ত মেনে চলতে হয়। এ ছাড়া জ্বালানি পুনর্নবীকরণ বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি বাধ্যতামূলক। এই চুক্তি নিজে থেকেই কোনো পারমাণবিক চুল্লি তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সরঞ্জাম, অবকাঠামোগত লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দুয়ার খুলে দেয়।

সৌদি আরবের জন্য এই চুক্তির অর্থ হলো, আমেরিকান রিঅ্যাক্টর, প্রযুক্তি ও রেগুলেটরি সুবিধার নিয়ন্ত্রণ পাওয়া। আর ওয়াশিংটনের জন্য এটি বিপুল অঙ্কের প্রযুক্তি রপ্তানি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্মসংস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য ধরে রাখার বড় সুযোগ।

তবে আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয়টি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে চুক্তি হয়েছিল, তাকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বলা হয়। কারণ, সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বেচ্ছায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের পথ বন্ধ রেখেছিল।

কিন্তু সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। ওয়াশিংটন ও রিয়াদ হয়তো সৌদি ভূমিতেই মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি সর্বাধুনিক ও নিবিড় নিয়ন্ত্রণে থাকা গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ খোলা রাখতে চাইছে। এটি সাময়িক ঝুঁকি কমালেও সৌদি ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ব্যবস্থা অনুপ্রসারণ ঝুঁকির সৃষ্টি করে।

এই কাঠামোগত চুক্তির মেয়াদ ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ বছর। বড় ধরনের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি। এতে সৌদি আরবকে প্রযুক্তি চয়ন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হবে। এর বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে ওয়েস্টিংহাউজের মতো খ্যাতনামা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

সৌদি আরবের লাভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ

সৌদি আরবে জনসংখ্যা, শিল্পকারখানা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (কুলিং), পানি শোধন (ডি স্যালাইনেশন) এবং ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি হিসেবে খনিজ তেল ও গ্যাস পোড়ানো কমিয়ে আনতেই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হতে পারে একটি পরিবেশবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প।

বিশ্বে সুপেয় পানির সবচেয়ে বড় উৎপাদক হওয়ায় দেশটি পানি শোধন প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক শক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যেমন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তেমনি এর উৎপাদিত তাপ পানি শোধনে সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব। এটা ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ বহুলাংশে কমিয়ে আনবে।

তবে দ্রুত বিস্তার পাওয়া সৌরশক্তি ও প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে পারমাণবিক শক্তিকে ঠিক কতটুকু প্রাধান্য দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো সৌদিকে নিতে হবে।

অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রকল্পের সুফল প্রচুর—জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতেই কেবল মার্কিন ব্যবসার বড় পথ খুলবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত ও নজরদারি জোরদারে সাহায্য করবে। তা ছাড়া সৌদির বিনিয়োগ মার্কিন পারমাণবিক সরবরাহ খাতের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।

প্রধান চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ‘পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার’। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সৌদি আরবের সুরক্ষামূলক চুক্তি থাকলেও দেশটি এখনো ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ গ্রহণ করেনি। অথচ পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে কোনো গোপন তৎপরতা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ব্যাপক এখতিয়ার দেয় এই প্রটোকল।

উদ্বেগের কারণটা পরিষ্কার, রিঅ্যাক্টরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা সম্ভব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা বানায়, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি, আইএইএর পর্যবেক্ষণ এবং রপ্তানি লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন অবাধ প্রবেশাধিকার, স্বচ্ছ ও কঠোর প্রয়োগ।

খরচ আরেক বড় বাধা। বিশেষ করে যেসব দেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক খাতে নামছে, তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং বাজেট উপচে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য সৌদি আরবের একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দরকার, যেখানে পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল থাকবে।

আমেরিকান কংগ্রেস দীর্ঘ ৯০ কার্যদিবস ধরে এই চুক্তি পর্যালোচনার সুযোগ পাবে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের নজর থাকবে মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার দিকে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলের উদ্বেগও এখানে বেশ জোরালো। সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নতুন কোনো আঞ্চলিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে কি না, সেই ভয়ে ইসরায়েল শক্ত শর্ত, কঠোর পরিদর্শন এবং আলোচনার টেবিলে ‘সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ’-এর শর্ত বেঁধে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা

আমেরিকার প্রস্তাব যদি সৌদির কাছে আকর্ষণীয় মনে না হয়, তবে তারা খুব সহজেই রাশিয়ার রোসাটম, চীনের সিএনএনসি, দক্ষিণ কোরিয়ার কেপকো কিংবা ফ্রান্সের মতো সরবরাহকারীদের বেছে নিতে পারে। রাশিয়া ও চীন কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই প্রকল্প অর্থায়ন ও সম্পূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। এটা রিয়াদে তাদের অবস্থান শক্ত করবে এবং ওয়াশিংটনের তদারকি কমিয়ে দেবে।

তাই চরম এক দর–কষাকষির মুখে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন। অতিরিক্ত কড়া শর্ত আরোপ করলে রিয়াদ হয়তো শিথিল শর্তের অন্য কোনো দেশের দিকে ঝুঁকবে, আবার খুব বেশি নমনীয়তা দেখালে পারমাণবিক অপ্রসারণের বৈশ্বিক নীতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাত ও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তির প্রসঙ্গটি এসেছে। রিয়াদের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা একদিকে আমেরিকান সামরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, অন্যদিকে চীন বা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমায়।

তবে ২৩ জুলাই ট্রাম্পের আলটিমেটাম এই বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে কেবল এক সাধারণ বাণিজ্যিক সম্পর্কে সীমাবদ্ধ রাখেনি, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ‘সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ’ না হলে এই ডিল বাতিল। এর মাধ্যমে ‘আব্রাহাম একর্ডস’-কে চুক্তির মূল শর্ত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এতে ওয়াশিংটনের হাতে হয়তো বড় রাজনৈতিক দর–কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু এতে রিয়াদের নমনীয় হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হতে সৌদি নেতৃত্ব নারাজ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে। তাই এমন প্রকাশ্য আলটিমেটাম আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বদলে অচলাবস্থা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিয়মনীতি শিথিল হলে ইরান একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে সাফাই গাইবে; এমনকি মিসর ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও একই সুবিধা দাবি করে বসতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে, নাকি এক বিপজ্জনক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করবে, তাই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

সুযোগ বনাম ঝুঁকি

চুক্তিটির সুফল স্পষ্ট: সৌদি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, পানি শোধন ও শিল্পায়ন দ্রুততর হওয়া আমেরিকার জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ উন্মোচন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার। প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতাহীন অন্য কোনো দেশের হাতে সৌদির বাজার ছেড়ে দিয়ে আমেরিকার সরে আসা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম হয়তো এক মহা কূটনৈতিক চুক্তির পথ খুলতে পারে, আবার বহু পরিশ্রমে দাঁড় করানো এই পারমাণবিক শক্তি চুক্তিকে এক লহমায় ভেস্তেও দিতে পারে। দিন শেষে এই চুক্তির ভাগ্য নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তার পারমাণবিক বাণিজ্য, নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং বাস্তবসম্মত কূটনীতিকে একই সুতোয় বাঁধতে পারছে।

* উমুদ শোকরি, জ্বালানিবিশেষজ্ঞ

মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়, ইংরেজি থেকে অনূদিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নাবলুস ও তুলকারেম এলাকার দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, আগুনে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মাণকাজও। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি মসজিদে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেনারা কুসরার উপকণ্ঠে যান। তবে তাঁদের পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আগুন দেওয়ার আলামত এবং দেয়ালে লেখা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে যায়।

গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। সেনাবাহিনীর দাবি, এটি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর অংশ।

গতকাল নাবলুস শহরে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বলে জানিয়েছে এএফপির একজন সংবাদদাতা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তখন থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সশস্ত্র যোদ্ধারাও রয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি তথ্য বলছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৮ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে।

পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ বসতিতে কয়েকজন সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী
পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ বসতিতে কয়েকজন সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী। ছবি: এএফপি

ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি ড্রোন বিধ্বস্ত

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, দেশটির আল-জাওফ প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি আরবের ব্যবহৃত একটি তুরস্কে নির্মিত বায়রাক্তার আকিঞ্জি সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

রোববার (স্থানীয় সময়) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ড্রোনটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার সময় উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে ভূপাতিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত এবং এ ধরনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এর আগে শনিবার ইয়াহইয়া সারি আরো দাবি করেন, সৌদি আরবের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে ইয়েমেনের বাহিনী দুটি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথম অভিযানে জিজানে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে ইয়ানবু অঞ্চলে আরামকো-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করা হয়।

ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, উভয় অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে ‘নির্ভুল ও সরাসরি’ আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা-এর প্রধান নাসের আল-আমের বলেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইয়েমেন ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ জানাবে। তিনি বলেন, ইয়েমেনের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় এবং সৌদি আরবকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

এর আগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ঘোষণা দেয়, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। তাদের দাবি, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি বেসামরিক উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিট আগে সৌদি বিমান হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানে রোগী, আহত ব্যক্তি, প্রবাসী ইয়েমেনি এবং একটি শোকানুষ্ঠান শেষে ফেরা প্রতিনিধিদল ছিলেন, ফলে বিমানটিকে হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হতে হয়।

পরে ইয়েমেন ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে সৌদি কোম্পানির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অন্যদিকে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরো অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব হোদেইদাহ প্রদেশ ও কামারান দ্বীপের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ, বন্দরের জবাবে বন্দর এবং উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা’—এই নীতিতেই তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

তবে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে ড্রোন ভূপাতিত করা, আরামকোর স্থাপনায় হামলা কিংবা অন্যান্য সামরিক অভিযানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: আল মায়াদীন

ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি ড্রোন বিধ্বস্ত

ফিলিস্তিনের দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় উসকানিমূলক স্লোগানও লিখে রাখা হয়। রোববার (২৬ জুলাই) ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

এর আগে শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরায়েলি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। নিহত ইসরায়েলিদের একজন পাশের একটি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী ছিলেন। ওই ঘটনার পরপরই নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবারের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামের কাউন্সিলপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, নতুন নির্মিত একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মসজিদটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছিল এবং নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। ভেতরে আসবাবপত্রও রাখা হয়েছিল। হামলাকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়।

দেয়ালে লেখা স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল ‘ইহুদিদের প্রতিশোধ’ এবং তাল গ্রামের ঘটনায় নিহত এক ইসরায়েলির নাম।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ হামলা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর সহিংসতার অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস এখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে পরিকল্পিত গণহামলার রূপ নিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুসরা গ্রামে গিয়ে তারা অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ পেয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশও কাজ করছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলাসহ এ ধরনের সব ঘটনা আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই। এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, তুলকারম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে রামাল্লার কাছে কাফর মালিক শহরের একটি পাথর কাটার কারখানায় কর্মরত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

কুর গ্রামের কাউন্সিল সদস্য ফরিদ জিয়ুসি বলেন, ভোরে তিনজন বসতি স্থাপনকারী মসজিদে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় মূল নামাজঘর রক্ষা পায়।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে এ ধরনের হামলা এই প্রথম। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে গেছে।

ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, সশস্ত্র কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তাল গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দিতে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি একজন বসতি স্থাপনকারীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, উভয় পক্ষ থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কথিত সন্ত্রাসী হামলামোকাবিলায় পশ্চিম তীরে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর সরকারের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচসহ কয়েকজন মন্ত্রী ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় দখল করা পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরজুড়ে নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত থেকে প্রায় ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী বলে জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব, যারা ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের তথ্য সংরক্ষণ করে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের অধিকাংশ সংস্থা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করে। যদিও ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড হিসেবে পশ্চিম তীরকে দাবি করে। অন্যদিকে ইসরায়েল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ওই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি তুলে ধরে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী নেতানিয়াহু সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুতগতিতে নতুন বসতি সম্প্রসারণ করছে।

এদিকে রোববার পোপ লিও পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আলোচনার আহ্বান জানান এবং সব ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ও প্রচলিত অবস্থান লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। 

ফিলিস্তিনের মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ। ছবি : সংগৃহীত

একসময় দর্শক আবিষ্কার করেন, দেলুপি আসলে বাংলাদেশ by আহমেদ মুনির

প্রকাশ ২৪ নভেম্বর ২০২৫ঃ ঘটনার শুরু খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি ইউনিয়নে।নাম দেলুপি। যাত্রাপালার মহড়া চলছিল গ্রামের একটি বাড়িতে। মথুরার মহারাজা উগ্রসেনের রাজ্যে মহা দুর্বিপাক। তার ছেলে যুবরাজ কংসের অত্যাচারে দেশবাসী বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে যাত্রাপালার এক অভিনেতার মুঠোফোন বেজে ওঠে। খবর আসে প্রধানমন্ত্রী ‘সাবিনা’ পালিয়ে গেছেন।

মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ সিনেমার গল্প ঠিক এখান থেকে শুরু। একটা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। আর তার প্রায় কাছাকাছি সময়ে দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যায় দেলুপির মানুষ হতভম্ব। শুরু হয় নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। আর প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক, এই দুই দুর্যোগ যেভাবে দেলুপির মানুষজন মোকাবিলা করে, সে গল্প নিয়েই এই চলচ্চিত্র।

সিনেমা দেখতে দেখতে একসময় দর্শক আবিষ্কার করেন, দেলুপি আসলে বাংলাদেশ। যে ঘটনাপ্রবাহ দেলুপির কৃষক, জেলে, যাত্রাপালা দলের সদস্য, রাজনীতিবিদ, তরুণদের ছুঁয়ে এগিয়ে চলে, তা পুরো দেশেরই কাহিনি।

দেবেশ রায় তাঁর ‘উপন্যাসের নতুন ধরনের খোঁজে’ বইয়ে অভিযোগ করেছিলেন, এ দেশের লেখকেরা পাশ্চাত্য গদ্যরীতিতে ভর করে, তাঁদের মননে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ করেছেন। বাংলার পুঁথি, পালা বা গীতিকার ধারা থেকে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদি সে ধারায় বাংলা উপন্যাস এগিয়ে যেত তবে নিশ্চয় ভিন্ন কিছু পেতাম আমরা।

চলচ্চিত্র মাধ্যমের ক্ষেত্রেও সেই একই কথা খাটে। এ দেশের শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রে আমরা তেমন স্বতন্ত্র দেশীয় ভাষা খুঁজে পাই না। সেটা যে থাকতে হবে, তা–ও নয়। কিন্তু ‘দেলুপি’ যেন সেই চেষ্টা করেছে। সেদিক দিয়ে ‘দেলুপি’ বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটা ঘটনাও হয়ে থাকল।

যাত্রাপালার নাটকীয়তাকে ধরে নতুন নির্মাণের পথে এগিয়েছে এই চলচ্চিত্র। একই সঙ্গে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখেনি। লম্বা বেড়িবাঁধ ধরে যাত্রাপালার অভিনেতাদের হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় ইংমার বার্গম্যানের ‘সেভেন্থ সিল’–এর দৃশ্যকে। অথবা ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ও যেন উঠে আসে মিহিরকে বলা পলাশের সংলাপে।

পলাশ যেন বিজন ভট্টাচার্যের কণ্ঠেই মিহিরকে বলতে থাকে, ‘তুই চলে যা।’ দুঃখকে মেনে নেওয়া বাঙালির নিয়তি, ট্র্যাজেডিকে বরণ করে নেওয়াই তার পরমার্থ—এই সংলাপে সেই মনোভাবকে যেন ঠাট্টা করা হলো। কিন্তু তরুণ মিহির এই অমোঘ সত্যকে বদলে দিল।

‘দেলুপি’তে কোনো ভিলেন নেই। কোনো বিদ্বেষ নেই। আছে বিশ্বাস, আছে প্রেম। নতুন কিছু হবে, সেই স্বপ্নের বীজ। যারা বাংলাদেশের বড় পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আবার আশাহত হয়েছেন, ‘দেলুপি’ তাদের শুশ্রূষা দেবে। এই চলচ্চিত্র আশাবাদের চলচ্চিত্র। সেই আশাবাদ কোনো রাজনৈতিক প্রত্যয় থেকে আসেনি। এসেছে এ দেশের মানুষের প্রতি বিশ্বাস থেকে।

চট্টগ্রামে আমি যখন প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমাটি দেখছিলাম, তখন দর্শকদের ক্ষণে ক্ষণে হেসে উঠতে, হাততালি দিতে শুনেছি। বিশেষ করে যখন একদিকে কংসের বধ হচ্ছে আর অন্যদিকে একটি যুগলের প্রেম পরিণতি পাচ্ছে। অশুভের পতন আর প্রেমের জয়, এর বাইরে মানুষ আর কী চাইতে পারে। এক দর্শক তো বলে ফেললেন, ‘দেলুপি’ না দেখাটা রীতিমতো অন্যায়।

‘দেলুপি’র দৃশ্য। নির্মাতার সৌজন্যে
‘দেলুপি’র দৃশ্য। নির্মাতার সৌজন্যে

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ভাঙা কিংবা মসজিদের মধ্যে মন্দিরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিয়তই বিদ্বেষ বাড়ছে। দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবিকে আরো তীব্র করেছে। তাদের দাবি আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথের প্রাচীন শিবমন্দির—আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে মসজিদটির কাছাকাছি এলাকায় শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।

স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।

ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।