Friday, March 7, 2014

মিডিয়া যখন মোদির চিয়ারলিডার by কাজী আলিম-উজ-জামান

যেকোনো দেশের জাতীয় নির্বাচনে গণমাধ্যমের একটি বিশেষ ভূমিকা থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী সব দল, ব্যক্তি গণমাধ্যমকে নিজেদের মতো করে কাজে লাগাতে চায়। গণমাধ্যমকে তারা ব্যবহার করতে চায়, তাদের প্রচারযন্ত্র হিসেবে। কিন্তু গণমাধ্যমের পক্ষে তো কারও প্রচারযন্ত্র হওয়া সম্ভব না। প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমের কাজও সেটি নয়। চূড়ান্তভাবে গণমাধ্যমের কাজ নির্মোহভাবে ঘটনাকে তুলে ধরা।

খোলা চোখে- নেতা কেন চোর? by হাসান ফেরদৌস

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাক্সভর্তি সোনা-দানা যা পারেন নিয়ে গেছেন, কিন্তু ফেলে গেছেন তাঁর সাধের সাতমহলা বাড়ি। সাড়ে তিন শ একর জমির ওপর সে বাড়ি, বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো।

গদ্যকার্টুন- কৌতুকের বিষয় নয় by আনিসুল হক

প্রেসিডেন্ট বুশ গেছেন একটা স্কুলে। বাচ্চাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন। বক্তৃতার পরে প্রশ্নোত্তর। একটা ছেলে দাঁড়াল। সে বলল, আমার দুইটা প্রশ্ন আছে। এক. আপনি কম ভোট পেয়েও কীভাবে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, ইরাকে কোনো ডব্লুএমডি বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র না থাকা সত্ত্বেও কেন ইরাকের ওপরে আক্রমণ করা হলো। এই সময় ঘণ্টা বাজল।

দেয়াল-বিতর্ক- সংসদ ভবন ও ইতিহাসকে মুক্তি দিন by আদনান মোর্শেদ

জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর ৫০ বছর পূর্তির বছরে আমরা জানলাম একটি দুঃসংবাদ। ১৯৬৪ সালের ৬ অক্টোবর তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে স্থপতি লুই কানের হাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। যখন এই বিশ্বনন্দিত স্থাপত্যের অর্ধশতাব্দী পূর্তি উদ্যাপন করার কথা, তখন নিরাপত্তার নামে একে ঘিরে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্ত খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

প্রধানমন্ত্রী হলাম কি না গুরুত্বপূর্ণ নয়: রাহুল

রাহুল গান্ধী
ভারতের কংগ্রেস দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হলাম কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারী, তরুণসহ সব নাগরিক দেশকে নিজেদের দেশ মনে করে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’ গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের শিরপুর শহরে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাহুল এসব কথা বলেন। একপর্যায়ে এক তরুণ ছাত্র তাঁকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুভকামনা জানান। জবাবে রাহুল বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হই বা না হই, এতে কিছু যায়-আসে না। বড় কথা হলো, এখানে সবাই, বিশেষ করে নারী ও যুবকেরা যেন ভাবতে পারে, এ দেশ তাদের।’ কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘আমি চাই, এ দেশে এমন একজন যুবকও যেন বলতে না পারে, সে নিজ দেশে ভীতসন্ত্রস্ত।
আমি দেখতে চাই, মাত্র এক দশক পর তোমাদের মধ্য থেকে অনেকে এমএলএ, এমএলসি ও এমপি হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও হতে পারে।’ মহাত্মা গান্ধী ও হিটলারের তুলনা করে রাহুল বলেন, জার্মানির স্বৈরশাসক আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতেন। এ জন্য হিটলার চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন। কিন্তু মহাত্মা গান্ধী কি কখনো এমনটি করতেন? না, কারণ তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। পিটিআই।

নির্বাচন ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’: মোদি

নরেন্দ্র মোদি
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারতের উন্নয়নের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বয়ে আনবে। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এক টুইটার বার্তায় এ কথা বলেন মোদি। বার্তায় মোদি লিখেন, ‘ভোটের রণভেরি বাজল! নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে জনগণকে স্বাগতম। উন্নত ভারতের জন্য ২০১৪ সালের এ লোকসভা নির্বাচন ঐতিহাসিক এক সুযোগ। ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান, ভারতের জন্য সবাই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।’
বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং আশাবাদী, তাঁদের জোট এবারের নির্বাচনে ২৭২টির বেশি আসন পাবে। গতকাল ছত্তিশগড়ে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এল কে আদভানি মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় মোদি এমন আচরণ করছেন, যেন মনে হয় এখানে একদলীয় নেতৃত্ব চলছে। মাত্র একজন নেতা বিজেপিতে ‘কর্তৃত্ব’ ফলাচ্ছে বলে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য সঠিক বলেও মন্তব্য করেন আদভানি। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১১৭-এ পা দিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারী

মিসাও ওকাওয়া
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারী মিসাও ওকাওয়া গতকাল বুধবার ১১৬তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। জাপানের একটি নার্সিং হোমে কেক কেটে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন তিনি। জাপানের ওসাকা শহরের বাসিন্দা ওকাওয়ার জন্মদিন সামনে রেখে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন শহরের মেয়র টাকিহিরো ওগুরাও। মেয়র তাঁর কক্ষে গিয়ে ফুলের তোড়া উপহার দেন বলে জানিয়েছেন নার্সিং হোমের একজন কর্মকর্তা।
প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক ঘটা করেই ১১৬তম জন্মদিন পালন করেন ওকাওয়া। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, তিনি শারীরিকভাবে এখনো যথেষ্ট ভালো আছেন। এখনো তাঁর ওজন বাড়ছে! নার্সিয় হোমের ওই কর্মকর্তা জানান, ওকাওয়ার প্রিয় খাবার হচ্ছে সুশি (জনপ্রিয় জাপানি খাবার)। ওকাওয়া সব সময় বলেন, দীর্ঘায়ু হওয়ার গোপন রহস্য হচ্ছে, ভালো খাবার খাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়া। ওকাওয়াকে গত বছর বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারীর সনদ দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ। ১৮৯৮ সালের ৫ মার্চ জন্ম হয় তাঁর। এএফপি।

বিক্ষোভের মধ্যে চাভেজকে স্মরণ

ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা হুগো চাভেজের
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে
ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা হুগো চাভেজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে গতকাল বুধবার। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে তাঁর উত্তরসূরি নিকোলা মাদুরো গতকাল প্রয়াত এই নেতার স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যেখানে কাচের সমাধিতে চাভেজকে সমাহিত করা হয়েছে, সেই সামরিক ব্যারাকে গতকাল তাঁর স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেনারা কুচকাওয়াজের মাধ্যমে চাভেজের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ছাড়াও নিকারাগুয়া ও বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন চলচ্চিত্রকার অলিভার স্টোন নির্মিত মাই ফ্রেন্ড হুগো নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী শো দেখানো হয়। ভেনেজুয়েলা সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে এ প্রামাণ্যচিত্র। গত বছরের ৫ মার্চ ক্যানসারে চাভেজের মৃত্যু হয়। ভেনেজুয়েলার প্রয়াত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক টুইট বার্তায় মাদুরো লিখেন, ‘কমান্ডার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন আজ এক বছর হলো। এই দিনে তাঁর আত্মার প্রতি শান্তি কামনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তবে সরকারবিরোধীরা এ আহ্বানে সাড়া দেননি। বরং এই দিন আরও বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেন তাঁরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্তোবাল শহরে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে তা বিস্তৃতি লাভ করে। মাদুরোর অভিযোগ, তাঁকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র ওই বিক্ষোভকারীদের মদদ দিচ্ছে। এএফপি।

সবচেয়ে কমবয়সী শত কোটিপতি নারী শেরিল

শেরিল স্যান্ডবার্গ
চলতি বছর শত কোটিপতির ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন সর্বোচ্চ-সংখ্যক ১৭২ জন নারী। এদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শত কোটিপতি নারী হলেন শেরিল স্যান্ডবার্গ গত সোমবার ফোর্বস সাময়িকীতে প্রকাশিত ২০১৪ সালের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত মোট এক হাজার ৬৪৫ জন শত কোটিপতির মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই নারী। ফোর্বস-এর তালিকায় তিন হাজার ৬৭০ কোটি ডলার সম্পদের মালিক ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী ক্রিস্টি ওয়ালটনের অবস্থান শীর্ষে। তিনি ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের ছেলে জন ওয়ালটনের স্ত্রী।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ল’অরিয়েলের উত্তরাধিকারী লিলিয়ানি বেতেনকোর্ট। তাঁর সম্পদের পরিমাণ তিন হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। ফোর্বস জানায়, বেতেনকোর্ট ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তৃতীয় শীর্ষ ধনী নারী হলেন অন্য একটি ওয়ালমার্টের মালিক এলিস ওয়ালটন। তাঁর সম্পদ আছে তিন হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের। এছাড়া তালিকায় শীর্ষ ১০ নারীর মধ্যে যথাক্রমে রয়েছেন, জ্যাকুলিন মারস (দুই হাজার কোটি ডলার), গিনা রাইনহার্ট (এক হাজার ৭৭০ কোটি ডলার), সুসানে ক্লাটেন (এক হাজার ৭৪০ কোটি ডলার), আবিগেইল জনসন (এক হাজার ৭৩০ কোটি ডলার), আনা কক্স চেম্বারস ( এক হাজার ৫৫০ ডলার), ইরিস ফন্টবোনা ( এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার) ও লরিন পাওয়েল জবস (এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার)। মোট কথা, ফোর্বস-এর তালিকায় নাম আসা ২৬৮ জন নতুন শত কোটিপতির তালিকায় ৪২ জনই নারী। তালিকায় সবচেয়ে কম বয়সী শত কোটিপতি হলেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ। তাঁর রয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ। এনডিটিভি।

সেনাশাসন ফিরলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে

হালা শুকরাল্লাহ
মিসরের আল-দোস্তুর পার্টির প্রথম নারীপ্রধান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সামরিক শাসন ফিরে এলে তিন বছর ধরে উত্তাল দেশের গণতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। হালা শুকরাল্লাহ নামের ওই নারী কপটিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্য। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা এই নারী গত ফেব্রুয়ারিতে দোস্তুর পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, একটি বেসামরিক নেতৃত্ব গঠনে গণতান্ত্রিক দলগুলোর ব্যর্থতাই মিসরের সামরিক বাহিনীকে সুবিধা করে দিচ্ছে। পাশাপাশি এই ব্যর্থতা বেআইনি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে ফিরে আসতেও সাহায্য করেছে।
৫৯ বছর বয়সী শুকরাল্লাহ বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রবেশের বিষয়ে আমরা প্রশ্ন করছি।’ মিসরের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নির্বাচনের সম্ভাবনার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে এ মন্তব্য করেন তিনি। রাজধানী কায়রোর কেন্দ্রস্থলে দলের সদর দপ্তরে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের খুবই সুনির্দিষ্টি একটি মতামত রয়েছে। সেটা হচ্ছে, আমাদের সামনে বিরাট বিপদ রয়েছে। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর চেপে বসতে পারে।’ মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ফিল্ড মার্শাল সিসি গত মঙ্গলবার ঘোষণা দেন, তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার জন্য যে দাবি উঠেছে, তা থেকে তিনি ফেলতে পারেন না। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতার ঘোষণা দেননি সিসি। তবে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, তিনি নির্বাচনে জিতবেন, এটা নিশ্চিত। এএফপি।

১৬১ বছর পর সংবাদ সংশোধন

সদ্য অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘টুয়েলভ ইয়ারস আ স্লেভ’ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সংবাদের একটি ভুল ১৬১ বছর পর সংশোধন করে মঙ্গলবারের সংখ্যায় ছাপিয়েছে পত্রিকাটি।
‘দ্য কিডন্যাপিং কেস’ শিরোনামে সংবাদটি আমেরিকার এ পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল ১৮৫৩ সালের ১২ জানুয়ারি। অপহৃত হওয়ার পর ১২ বছর ধরে দাসত্ব জীবনের কাহিনী নিয়ে একটি বই লেখেন সলোমন নরথাপ নামে তৎকালীন স্বাধীন এক কৃষ্ণাঙ্গ। নরথাপের ওই বইয়ের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পর আবার আলোচনায় আসে এ ঘটনা। সম্প্রতি পত্রিকায় ছাপানো সংবাদটির একটি ডিজিটাল কপিতে ধরা পড়ে সলোমন নরথাপের নামের বানানের দুই জায়গায় ভুল দেয়া আছে। ভুলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জনিয়েছে জনপ্রিয় পত্রিকাটি। ১৮৫১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এর প্রথম সংখ্যা বের হয়। দুই বছর পরে ছাপানো হয়েছিল আলোচিত ওই সংবাদটি। বিবিসি।

ঘুমালেন মেঝেতে খেলেন রুটি

ভারতের আর আটদশটা সাধারণ কয়েদির মতোই দিল্লির তিহার কারাগারে মঙ্গলবার প্রথম রাত কাটিয়েছেন সাহারা সম্রাট সুব্রত রায়। কারা কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, তিনি নির্ধারিত কারাকক্ষের মেঝেতে সাধারণ কয়েদির মতো ঘুমিয়েছেন এবং কারাগারের সাধারণ খাবার খেয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে কারাগারের ৩নং কক্ষে রাখা হবে। অন্য কারাগারের মতো এ কারাগারে আসামি বা কয়েদিদের জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় সাহারাপ্রধানকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই থাকতে হবে।

সৈয়দ আশরাফের সাফাই!

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের কাজকর্ম নিয়মিত দেখভাল করেন, এ দাবি তাঁর অতি সুহূদও করবেন না। বরং দল ও সরকার সম্পর্কে তাঁর একধরনের উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ আছে। আবার তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন, তেমন সক্রিয় নন বলেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি বহাল আছেন। সক্রিয় থাকলে এই পদে থাকতে পারতেন না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের নজরদারি না করলেও হঠাৎ হঠাৎ চমকে দেওয়া কথা বলেন। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। আবার সেসব কথা ফিরিয়ে নিতেও দেরি লাগে না। এসব কি তিনি মন থেকে বলেন, না কাউকে খুশি করতে? গত সোমবার দলের মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি থানা শাখার সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে নির্দলীয় বৃত্ত থেকে দলীয় বৃত্তে নিয়ে আসার কথা বললেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ব্যাপারে আইন পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিলেন। কিন্তু পরদিনই সংসদে প্রশ্নোত্তরে তিনি জানালেন, স্থানীয় সরকার আইন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। জনগণ তাঁর কোন কথাটি বিশ্বাস করবে?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তুলেছেন যে দেশে সংসদীয় আইন ও স্থানীয় সরকার আইন নামে আলাদা দুটি আইন থাকতে পারে না। একই আইনের কাঠামোয় আনতে হবে। খুবই ন্যায্য কথা। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় শাসনটি কোন আইনে চলছে, সেটা পরিষ্কার নয়। অন্যান্য দেশে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সমমর্যাদাধারীদের মধ্যে প্রথম (ফার্স্ট অ্যামং ইকোয়াল) হলেও বাংলাদেশে ব্যতিক্রম। তিনি সবার ওপরে এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। স্থানীয় সরকারেও সেই রীতি চলে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারকাঠামোটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক রেখে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় গণতন্ত্রায়ণ সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যদি আইনের সংস্কারই করতে চান, তাহলে সেটি শুরু করতে হবে ওপর থেকেই। দ্বিতীয়ত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় ভিত্তিতে প্রকাশ করার সংবাদপত্রগুলোকে একহাত নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তারা কীভাবে জানল যে উনি আওয়ামী লীগের, না বিএনপির? মনোনয়নপত্রে কারও কি কোনো দলীয় মার্কা লেখা আছে?’ স্বীকার করি, লেখা নেই।
কিন্তু ২০০৯ সালে একই পদ্ধতিতে পত্রিকাগুলো উপজেলা নির্বাচনের ফল প্রকাশ করার পর কিন্তু আওয়ামী লীগের সব নেতা আহ্লাদিত হয়েছিলেন। কেননা তখন ফলাফলটি তাঁদের পক্ষে ছিল। পত্রিকার খবর নিজের পক্ষে গেলে জয়ধ্বনি এবং বিপক্ষে গেলে নিন্দামন্দ। এটা অসহিষ্ণু রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে সন্দেহজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, বিএনপি স্থানীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে বিশ্বাস করলে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে উপজেলা আইনটি কেন বাতিল করেছিল? এ কথা ঠিক যে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার অন্যায়ভাবে আইনটি বাতিল করেছিল। আর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইন পাস করেও পাঁচ বছর উপজেলা নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখেছিল। দুইয়ের ফলাফল একই। এমনকি নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ আমলে উপজেলা পরিষদগুলো ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রাস্তায় উপজেলা চেয়ারম্যানরা আন্দোলন-সংগ্রামও কম করেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দামি গাড়ি ও অফিস দিয়েই সন্তুষ্ট রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন না হলেও ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশেষ লাভবান হয়েছে।
একসময় বিএনপি উপজেলা পরিষদের বিরোধিতা করেছিল বলে এখন নির্বাচনে আসতে পারবে না, এটি যুক্তির কথা নয়। বরং তারা যদি অতীতের ভুল বুঝতে পেরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে, আওয়ামী লীগের উচিত ছিল তাকে স্বাগত জানানো। কিন্তু আওয়ামী লীগের উদার সাধারণ সম্পাদক কেন এ ক্ষেত্রে অনুদারতার পরিচয় দিলেন, তা বোধগম্য নয়। তবে থানা সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে কথা বলেছেন তা হলো, নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তিনি বলেছেন, ‘এই হলফনামা এখন রাজনীতিকদের চরিত্রহনননামায় পরিণত হয়েছে। ইনকাম ট্যাক্সে তো আমাদের সবকিছু আছে, রাজনীতিকেরা যদি দুর্নীতি করেন, তারাই ধরতে পারেন। নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দিতে হবে আবার ইনকাম ট্যাক্সে হিসাব দিতে হবে, এক দেশে দুই নীতি থাকতে পারে না।’ (প্রথম আলো, ৪ মার্চ ২০১৪) যেহেতু সংসদে কার্যত বিরোধী দল নেই এবং আওয়ামী লীগের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, সেহেতু যেকোনো আইন বাতিল, সংশোধন, পরিমার্জনের এখতিয়ার তাদের আছে। প্রশ্ন হলো, সেই সংশোধন-পরিমার্জন কি জনগণের কল্যাণে হবে, না কতিপয় দুর্নীতিবাজের স্বার্থে? সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ দলের অনেকে হলফনামায় সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেননি; পত্রপত্রিকায় সমালোচনাও হয়নি। বরং তাঁর আয় না বাড়া এবং ধার-কর্জ করে চলার বিষয়টি মানুষ প্রশংসার দৃষ্টিতেই দেখেছেন। প্রশ্ন উঠেছে তাঁদের সম্পর্কে যাঁরা গত পাঁচ বছরে মন্ত্রী ও সাংসদ পদটি ব্যবহার করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন; ব্যাংক-বিমা-বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি জমি হাতিয়ে নিয়েছেন।
এই জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ কীভাবে বাড়ল, কীভাবে তাঁরা লাখপতি থেকে কোটিপতি হলেন, সেই প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চয়ই জনগণের আছে। ধার-কর্জে চলা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কেন দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নিলেন, আমরা বুঝতে অপারগ। তিনি যদি এ ব্যাপারে গণমাধ্যম এবং এই উত্তম আইনের প্রতি উষ্মা প্রকাশ না করে দলের যেসব নেতা অন্যায় ও অবৈধভাবে সহায়-সম্পত্তি অর্জন করেছেন, তাঁদের কাছে কৈফিয়ত চাইতেন, তাহলে দেশবাসী আশ্বস্ত হতে পারতেন। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিকদের চরিত্রহননের প্রতিষেধক হলফনামা বন্ধ করা নয়, বরং হলফনামা ধরে ধরে যাঁরা অবৈধ উপায়ে সম্পদ আহরণ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার এখতিয়ার নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন, সেখানে মন্ত্রী-সাংসদেরা স্বেচ্ছায় সম্পদের হিসাব দেন। কারও কাছ থেকে কোনো উপহার, চাঁদা বা বিশেষ সুবিধা নিয়েথাকলে সেটাও প্রকাশ করতে হয়। প্রতিবেশী ভারতেও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। তাঁর মনে থাকার কথা, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আইনি লড়াইয়ের পরই বাংলাদেশের জনগণ যাঁদের তাঁর নির্বাচিত করবেন, তাঁদের সম্পদের হিসাবসহ আটটি তথ্য জানার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। ঘটনাটি বিএনপি আমলে ঘটেছিল বলে আওয়ামী লীগ সমর্থন জানিয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই অধিকার কেড়ে নিতে চায়। বড় বিস্ময়কর ক্ষমতার রাজনীতি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৫ সালের ২৪ মে আবদুল মোমেন চৌধুরী ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ (২০০৫ সালে পিটিশন নম্বর ৫৭) মামলার রায়ে নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় সংসদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী থেকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আট ধরনের তথ্য হলফনামা আকারে সংগ্রহ এবং এগুলো গণমাধ্যমের সহায়তায় জনগণের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দেন। এ তথ্যগুলো হলো: ১. সার্টিফিকেটসহ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ২. বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তালিকা, ৩. অতীতের ফৌজদারি মামলার তালিকা ও ফলাফল, ৪. প্রার্থীর পেশা, ৫. প্রার্থীর আয়ের উৎস ও উৎসসমূহ, ৬. অতীতে সাংসদ থাকলে জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর ভূমিকা, ৭. প্রার্থী ও প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ এবং দায়দেনার বর্ণনা এবং ৮. ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগতভাবে বা যৌথভাবে এবং কোম্পানি কর্তৃক—যে কোম্পানিতে প্রার্থী চেয়ারম্যান, নির্বাহী পরিচালক কিংবা পরিচালক গৃহীত ঋণের পরিমাণ ও বর্ণনা। এই রায় ঘোষণার পর আবু সাফা নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আপিল আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তার দুই দিন আগে তৎকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিনের শরণাপন্ন হলে তিনি স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় যে আবু সাফার সেই রিট আবেদনটি ছিল ভুয়া। ফলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমও এর পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
হাইকোর্টের রায়ের পর ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী আইন সংস্কারের যে রূপরেখা পেশ করেছিলেন, তাতে নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা, পেশিশক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করার পাশাপাশি প্রার্থীদের সম্পদ ও পরিচয় প্রকাশের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, তাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেই অঙ্গীকার থেকে কেন সরে আসতে চাইছেন? কেনই বা আন্দোলন সংগ্রাম ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে পাওয়া জনগণের অধিকারকে কেড়ে নিতে চাইছেন। তবে এ প্রসঙ্গে তাঁকে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক করতে যে রায় দিয়েছেন, জাতীয় সংসদে তার বিপরীত কোনো আইন পাস করলে সেটি না-ও টিকতে পারে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী, ত্রয়োদশ সংশোধনী এবং ২০১৩ সালে দুদক আইনে সরকারি কর্মকর্তাদের রেয়াত দেওয়ার বিধানটিও জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে কোনোটিই টেকেনি। আদালতই ক্ষমতাহীন মানুষের শেষ ভরসা।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
 sohrab03@dhaka.net

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুতের দাম মোট সাড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন দল পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বলেছে, বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যুক্তিসংগত হতে পারে। কিন্তু এই মতও সর্বজনগ্রাহ্য না-ও হতে পারে। প্রথমত, গ্রাহকদের শ্রেণীভেদে দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, গরিব আবাসিক গ্রাহকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ পড়বে সবচেয়ে বেশি, আর সবচেয়ে ধনী আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়বে সবচেয়ে কম। পার্থক্যটা ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৩৭ পয়সার বিপরীতে মাত্র দুই পয়সা। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বিবেচনার একটা যুক্তি হতে পারে এই যে গরিব আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাঁরা এখন বিদ্যুৎ কিনতে পারেন সবচেয়ে কম দামে। আর ধনী আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে কম, কিন্তু তাঁরা বিদ্যুৎ কেনেন সবচেয়ে বেশি দামে। অর্থাৎ ধনীরা ইতিমধ্যেই বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আর বেশি দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই অর্থনৈতিক বিবেচনার বিপরীতে সামাজিক দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। গরিব গ্রাহকের ওপর আর একটি পয়সারও চাপ বাড়ানো উচিত নয় বলে আমরা মনে করি।
বিদ্যুতের দাম এভাবে বাড়ানোর পক্ষে পিডিবির যুক্তি হলো, বিদ্যুতের অপচয় ও চাহিদা কমানো এবং অতি প্রয়োজনীয় কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু গরিব গ্রাহক বিদ্যুতের অপচয় করেন না। অপচয় করেন ধনী গ্রাহকেরা; তাঁদের অপচয় ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার রাশ টেনে ধরার কার্যকর উপায় এটা হতে পারে না। তা ছাড়া বিদ্যুতের দাম এভাবে বাড়ানো হলে কৃষি খাতের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়বে, তাতে কৃষকদের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে। কৃষকেরা এমনিতেই উৎপাদন খরচের তুলনায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম সব মৌসুমে ভালো পান না বলে তাঁদের দুর্দশা ঘোচে না; তার ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তাঁদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। পিডিবির প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। প্রশ্ন হলো, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে কেন? তেলচালিত ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ হচ্ছে বেশি। মূল সমস্যা যখন এটাই, তখন এই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে না কেন? কয়লা ও কিছু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুতের দামে সামঞ্জস্য আনার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হলো না কেন? দেশি কয়লা উত্তোলনে বিরোধিতার মীমাংসা না হলে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হবে। যেভাবেই হোক, আমাদের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিদ্যুতের প্রাথমিক জ্বালানির সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর এটাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা।