Wednesday, April 2, 2025

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার খাল পরিষ্কারকাজে গতি by সুজন ঘোষ

হালকা বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারী বর্ষণে দুর্ভোগের শঙ্কা।

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট। নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার একটি। সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের এক পাশে নালা সম্প্রসারণের জন্য ভাঙা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। এর মধ্যে যেসব জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে পুরোনো সরু নালা সম্প্রসারণ করে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। আরেক জায়গায় চলছে নালা থেকে থেকে মাটি উত্তোলন। এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে রাখা হয়েছে ছয়টি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর)।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায় বহদ্দারহাট মোড়সহ আশপাশের এলাকা। পানিনিষ্কাশনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বৃষ্টির পানি আটকে যায় মোড়টিতে। এতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় প্রতিবছর। এ সমস্যা নিরসনে নালার প্রশস্ততা বাড়ানো এবং এই নালার মাধ্যমে দুটি খালের (চশমা ও মীর্জা খাল) সঙ্গে সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নালার ওপর নির্মিত সিটি করপোরেশনের বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৮০ শতাংশ।

শুধু বহদ্দারহাট নয়, নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোর নালা–নর্দমা ও খালগুলোর সম্প্রসারণ, খনন ও ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ শুরু করেছে। এতে হালকা বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহজে দূর হবে না বলে জানান তাঁরা। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে আগ্রাবাদের শেখ মুজিব সড়কের বক্স কালভার্ট দ্রুত পরিষ্কার এবং নতুন খনন করা বাড়ইপাড়া খালের সঙ্গে চাক্তাই ও কর্ণফুলী নদীর সংযোগ দেওয়া জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচটি সভা হয়েছে। এসব সভায় নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলোর করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মে মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এই তালিকা অনুযায়ী এখন কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তিন সংস্থা। এর মধ্যে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে ৫ থেকে ১১ বছর ধরে। ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলোর কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস প্রথম আলোকে বলেন, এবার জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার সমস্যা দূর করার বিষয়ে প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁরা। এর ভিত্তিতে বহদ্দারহাট, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খালের প্রশস্ততা বাড়ানো এবং নতুন সংযোগ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। আর আগামী এপ্রিলের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত খালগুলোয় জলকপাটের নির্মাণকাজ শেষ হবে। পাম্পও স্থাপন হয়ে যাবে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরের বেশির ভাগ এলাকায় জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা সমস্যা থাকবে না।

বর্ষার আগেই প্রায় পরিষ্কার খাল

সম্প্রতি সরেজমিনে নগরের শুলকবহর এলাকায় মীর্জা খাল পরিষ্কার দেখা গেছে। তেমন ময়লা–আবর্জনা নেই। আর সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় মীর্জা খালের এক অংশে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। খাল প্রশস্ত করতে ভাঙা হচ্ছে পাশের ভবনের বর্ধিত অংশ। আরেক পাশে প্রতিরোধ দেয়ালের নির্মাণকাজ করছেন শ্রমিকেরা। কাজ করার জন্য খালের ভেতরে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। আরেকটি অংশে ইতিমধ্যে প্রতিরোধ দেয়ালের কাজ শেষ হয়েছে। এখন খালের ভেতরে থাকা মাটি সরানোর কাজ চলছে।

এ কাজে যুক্ত খননযন্ত্রের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, খালের এ অংশ যে পরিমাণ মাটি রয়েছে, তা পরিষ্কার করতে আর ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে।

নগরের পানিনিষ্কাশনে অন্যতম প্রধান চশমা খালের ২ নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত অংশে কোনো ধরনের ময়লা–আবর্জনা নেই। তবে মোহাম্মদপুর অংশে ঘাস জন্মেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীণ রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জলাবদ্ধতায় কয়েক বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছেন। তবে এবার কাজের গতি দেখে আশাবাদী। প্রচুর কাজ চলছে। কাজের গতিও অনেক বেশি। তাই জলাবদ্ধতা কম হবে বলে ধারণা।

নগরের পানিপ্রবাহের মূল মাধ্যম বলা হয় চাক্তাই খাল। বহদ্দারহাট থেকে শুরু হওয়া এই খাল বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে যুক্ত হয়েছে। বহদ্দারহাট থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত খালে ময়লা–আবর্জনা নেই। একই অবস্থা ডিসি সড়কের পাশেও। আর চকবাজারের ধুনির পুল এলাকায় চলছে প্রতিরোধ দেয়ালের কাজ। এ জন্য খাল ভরাট করা হয়েছে।

প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার খাল পরিষ্কার দেখা গেলেও চকবাজারে হিজড়া খালে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক, কর্কশিটেভর্তি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ময়লা–আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা আবার ভরাট হয়ে যায়। আর বর্ষার সময় এখানে কোমরসমান পানি হয়। এবার কী হবে, তা এখনো বুঝতে পারছেন না।

সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় থাকা খালগুলো আবার আবার পরিষ্কার করা হচ্ছে। নালা ও খাল সম্প্রসারণের কাজও চলছে সমানতালে। নগরবাসী যাতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই পান, সে জন্য তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

কাজ করছে সিটি করপোরেশনও

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকে সিডিএর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের দ্বন্দ্ব ছিল। এ জন্য এত দিন ধরে প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা ২১টি খাল খনন ও পরিষ্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশন। তবে এবার সে অবস্থান থেকে সরে এসে বির্জা খাল, নাছির খাল, কৃষি খাল ও সুন্নিয়া খাল পরিষ্কার ও খননে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

এ ছাড়া সরকারের কাছ থেকে থোক বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ কোটি টাকায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ নালা–নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে ১৩৯টি নালার তালিকা করে তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার ‘হটস্পট’গুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। বর্ষার আগেই ছয় লাখ ঘনফুট মাটি উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এবার সংস্থাগুলোর মধ্যে তোড়জোড় চলছে। কাজও হচ্ছে। তবে কাজের যে অবস্থা তাতে হালকা বৃষ্টির সময় হয়তো জলাবদ্ধতা হবে না। ভারী বর্ষণ হলে জলাবদ্ধতা হওয়ার শঙ্কা রয়ে গেছে। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে আগ্রাবাদের শেখ মুজিব সড়কের বক্স কালভার্ট খনন ও পরিষ্কার; নতুন খনন করা বাড়ইপাড়া খালের সঙ্গে চাক্তাই খাল ও কর্ণফুলী নদীতে সংযোগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যেসব জলকপাটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো দক্ষ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। আর খালগুলোর ভেতরে থাকা মাটি বর্ষার আগেই অপসারণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম নগরের চাক্তাই খালের বহদ্দারহাট হাট এলাকা। গতকাল দুপুরে
চট্টগ্রাম নগরের চাক্তাই খালের বহদ্দারহাট হাট এলাকা। গতকাল দুপুরে। ছবি: সৌরভ দাশ

ইরান নিয়ে উত্তেজনা: মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার পর সৌদি আরবসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানে আক্রমণ করার জন্য মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে তাদের বিমান ঘাঁটি বা আকাশপথ ব্যবহার করতে দেবে না উপসাগরীয় দেশগুলো। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত সবাই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা অঞ্চলগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। যার মধ্যে জ্বালানি ভরার এবং উদ্ধার অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য দেওয়ার আগে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্ত দেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের অংশ হতে চায় না।

পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার টেবিলে তেহরানকে চাপে রাখতে ইয়েমেনে শক্তি প্রদর্শনের জন্য হুথিদের উপর ব্যাপক বিমান হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোরতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা।

যদি ইরান বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সমৃদ্ধ আরব মিত্ররা হামলার সঙ্গে একমত নয়, তাহলে তাদের আলোচনার অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।

অথচ হুথিদের হামলার ব্যাপারে উপসাগরীয় দেশগুলো বেশ সহনশীল। এই বিষয়ে তথ্য দেওয়া একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক হামলার জন্য আমেরিকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে কোন ঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এই ব্যক্তিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পর্যাপ্ত উপসাগরীয় সমর্থন রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী। এমনকি যদি কোনো আমেরিকান বিমান এই অভিযানের সময় ভূপাতিত হয় তবে তাৎক্ষণিক যে কোনো ঘাঁটি থেকে অন্য বিমান উড়াতেও বাধা আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চালাতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে পাশে থাকার অনুরোধ করে আসছে তারা। কিন্তু ইরানে হামলার ক্ষেত্রে আরব দেশগুলো ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হাসিল কঠিন হয়ে পড়বে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মার্চ মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে আমিরাত এবং সৌদি উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই হুথিদের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই ইয়েমেনে হামলার অনুমতি আদায় করে মার্কিনিরা।

৩০ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তাহলে দেশটির ওপর বোমা হামলা ও শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাতিল করার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়, ফলে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আরও বাড়ায়।

তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় রাজি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাঠানো এক চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে, যা ওমানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে ট্রাম্প নতুন একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর থেকে জর্ডান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে সর্বোচ্চ স্তরে যুদ্ধবিমান এবং পণ্য মজুত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওপেন সোর্স বিশ্লেষকদের দ্বারা এক্স-এ শেয়ার করা ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, অতীতের যে কোনো সময়ে সর্বোচ্চের তুলনায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির হ্যাঙ্গারে বি-২ বোমারু বিমান রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

কাতারের একটি বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমান। ছবি : সংগৃহীত
কাতারের একটি বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমান। ছবি : সংগৃহীত

যোগী আদিত্য সরকারের বুলডোজার–কাণ্ড, ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের যোগী আদিত্য সরকারের বুলডোজার–কাণ্ড ‘অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে’ দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিলেন। উত্তর প্রদেশে যে ছয়জনের বাড়ি রাতারাতি বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেককে ঘর তৈরির জন্য ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতিরা বলেছেন, এই কাজ তাঁদের বিবেকে প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলেছেন, আশ্রয় ও বাসস্থানের অধিকার সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অভিন্ন অঙ্গ। উন্নয়নের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষকে সেটা জানতে হবে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ দুষ্কৃতকারী দমনে বুলডোজার–নীতি প্রথম চালু করেন। পরে বিজেপি–শাসিত অন্য রাজ্যেও এই নীতির যথেচ্ছ ব্যবহার হতে থাকে। দাঙ্গা বা অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃত অথবা পলাতকদের ঘরবাড়ি দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হতে থাকে। এ নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হতে থাকে রাজ্যে রাজ্যে। সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যও করেন। বলেন, কেউ অবৈধভাবে কিছু নির্মাণ করলেও নিয়ম মেনে নোটিশ না দিয়ে রাতারাতি তা ভেঙে দেওয়া যায় না। যা কিছু করতে হবে নিয়মমাফিক। কিন্তু বহু রাজ্য সেই নির্দেশ না মেনে বুলডোজারের ব্যবহার করে চলেছে।

গত মঙ্গলবার যে ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া ও এ এস ওক উত্তর প্রদেশ সরকারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন, সেটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে। সরকারের চোখে গ্যাংস্টার বলে পরিচিত ধৃত আতিক আহমেদ সেই বছর খুন হন। আতিকের সম্পত্তি ভেবে রাজ্য প্রশাসন প্রয়াগরাজ জেলায় ওই ছয় বাড়ি ভেঙে দেওয়ার নোটিশ আগের রাতে পাঠিয়ে পরদিন বুলডোজার চালিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, অবৈধভাবে ওই বাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা বিচারের জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্টে গেলে সেখানে তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

রায় দেওয়ার সময় বিচারপতি ভুঁইয়া একটি দৃশ্যের অবতারণা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া বাড়ির মধ্য থেকে একটি ছোট্ট মেয়ে বুকে কয়েকটি বই আঁকড়ে বেরিয়ে আসছে। সেই ঘটনার বর্ণনা করে বিচারপতি ভুঁইয়া বলেন, ‘এই দৃশ্যগুলো আমাদের বিবেকে ঘা দেয়। এই ছবি দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। এ জিনিস বন্ধ হওয়া দরকার।’

বিচারপতিরা বলেন, যাঁদের ঘর ভাঙা হয়েছে, তাঁদের কাউকে নিয়ম মেনে আগে থেকে নোটিশ দেওয়া হয়নি। আগের রাতে বাড়িতে নোটিশ লটকানো হয়েছিল। আবেদনকারীদের কারও নতুন করে ঘর তৈরির টাকা নেই। সে জন্য প্রত্যেককেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধাচরণ করলেও দুই বিচারপতি তা আমলে নেননি। তাঁরা বলেন, ক্ষতিপূরণ দিলে প্রশাসন আইন মেনে কাজ করতে বাধ্য হবে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে জাভেদ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি। ২০২২ সালে তোলা
ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে জাভেদ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি। ২০২২ সালে তোলা। ফাইল ছবি: এএফপি

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ১৭০ স্বজন–প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ ইমাম সোয়ে

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, জুমাতুল বিদার নামাজ আদায় করতে আজানের পরপর বহু মুসলিম মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল সাগাইংয়ের পাঁচটি মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন।

জুমাতুল বিদা মানে শেষ হতে চলেছে রমজান মাস, সামনেই খুশির ঈদ। অন্যান্য শুক্রবারের তুলনায় তাই এ দিন জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় একটু বেশিই ছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিট। মসজিদগুলো তখন লোকে লোকারণ্য। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। ৭ দশমিক ৭ তীব্রতার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো মিয়ানমার ও আশপাশের কয়েকটি দেশ।

ভূমিকম্পে সাগাইংয়ে তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে, যার মধ্যে সেখানকার সবচেয়ে বড় মসজিদ মায়োমাও রয়েছে। ধসে পড়া তিনটি মসজিদের ভেতরে থাকা অনেক মুসল্লি নিহত হয়েছেন।

কয়েক শ কিলোমিটার দূরে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী শহর মায়ে সোতে বসে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠেন মায়োমা মসজিদের সাবেক ইমাম সোয়ে নাই ওও।

পরের কয়েক দিনে সোয়ে নাই একের পর এক স্বজন, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীর মৃত্যুর খবর পেতে থাকেন। তাঁদের বেশির ভাগই মারা গেছেন মসজিদে। নিহত ব্যক্তিদের কেউ কেউ নগরের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

ইমাম সোয়ে বলেন, ‘যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাঁদের কথা ভাবি, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছোট ছোট শিশুরাও রয়েছে। তাদের কেউ কেউ খুবই ছোট ছিল। এটা নিয়ে কথা বলার সময় আমি আমার চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি।’

মিয়ানমারে শুক্রবারের ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে সাগাইং ও মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে। ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল সাগাইং অঞ্চলে। ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। তাই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জান্তা সরকার থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৌদ্ধ–অধ্যুষিত মিয়ানমারে মুসলিমরা সংখ্যালঘু। সাগাইং ও মান্দালয়ে প্রাচীনকালে তৈরি বহু বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। তবে শহর দুটিতে মুসলিমদের সংখ্যাও উল্লেখ করার মতো।

গত সোমবার মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, নামাজ আদায় করার সময় ভূমিকম্পে মসজিদ ধসে পড়ে প্রায় ৫০০ মুসল্লি মারা গেছেন।

সাগাইংয়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ধসে পড়া মসজিদগুলো যে সড়কে ছিল, সেটির নাম মায়োমা স্ট্রিট। ভূমিকম্পে শহরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এটি। মায়োমা সড়কের দুই পাশের অনেক ভবনও ধসে পড়েছে।

সাগাইংয়ের মায়োমা সড়কে এখনো শত শত মানুষ অবস্থান করছেন। হয় তাঁরা ভূমিকম্পে বাড়িঘর হারিয়েছেন অথবা বাড়িঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, এখনো পরাঘাতে (আফটার শক) ওই সব অঞ্চল কেঁপে কেঁপে উঠছে। সেখানে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

মায়োমা মসজিদ ধসেই ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। মোয়েকিয়া ও মায়োদাও মসজিদ ধসেও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার আরও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইমাম সোয়ে বলেন, যাঁরা বেঁচে গেছেন, তাঁদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, ভূমিকম্পের সময় মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ইমাম সোয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যান।

সোয়ে বলেন, মসজিদ প্রাঙ্গণে যেখানে অজু করা হয়, সেখানেও মৃতদেহ পাওয়া গেছে। উদ্ধারের সময় মৃতদেহগুলোর মধ্যে কেউ কেউ একে অন্যের হাত ধরেছিলেন। খুব সম্ভবত ভূমিকম্পে তীব্র ঝাঁকুনির সময় তাঁরা একজন আরেকজনের হাত ধরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।

সেখানে ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সোয়ের স্ত্রীর পরিবারের বেশ কয়েকজন রয়েছেন। রয়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক একজন সহকারী ইমামও। স্থানীয় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান এবং মায়োমা মসজিদের একমাত্র নারী ট্রাস্টিও মারা গেছেন। সোয়ে বলেন, ওই নারী ট্রাস্টি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি প্রায় সময়ই মসজিদে নানা অনুষ্ঠানের জন্য নিজের পকেট থেকে অর্থ দিতেন।

সোয়ে বলেন, যখনই তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের কারও মৃত্যুর খবর পাচ্ছেন, নতুন করে শোকের ঢেউ তাঁর ওপর আছড়ে পড়ছে।

ইমাম সোয়ে আরও বলেন, ‘আমার বিধ্বস্ত লাগছে...আমার বারবার এসব মনে হচ্ছে। আমি তাঁদের স্মৃতি মনে রাখব। যদিও তাঁদের কেউ আমার খুব ঘনিষ্ঠ স্বজন ছিলেন না, কিন্তু তাঁরা সব সময় আমাকে তাঁদের একজন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। আমার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন, আমার সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন।’

মিয়ানমারের অন্যান্য ভূমিকম্প দুর্গত এলাকার মতো মুসলিমরাও একসঙ্গে এত মৃতদেহ দাফন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে যে লড়াই চলছে, তার কারণেও মৃতদেহ কবর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সাগাইংয়ে মুসলিমদের যে কবরস্থান সেটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকার খুব কাছে। বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সাগাইং অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলাও চালিয়েছে।

সাগাইং শহরের মুসলিমদের মৃতদেহ দাফন করার জন্য মান্দালয়ে যেতে হয়। ইরাবতী নদীর ওপর একটি মাত্র সেতু শহর দুটিকে সংযুক্ত করেছে। ভূমিকম্পে নিহতদের মৃতদেহ মান্দালয়ের সবচেয়ে বড় মসজিদে নেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কবর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইমাম সোয়ে বলেন, ‘মুসলিমদের জন্য এটা খুবই দুঃখের, আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের তাদের শেষ যাত্রায় নিজের হাতে দাফন করতে পারছি না।’

এখানেই শেষ নয়। এই ইমাম বলেন, তিনি কয়েক দিন ধরে ঘুমাতে পারছেন না। তাঁর উদ্বেগের কারণ, এখনো কয়েকজন স্বজনের কোনো খোঁজ তিনি পাননি। তাঁদের মধ্যে তাঁর আপন ভাই-বোনও রয়েছেন। তাঁরা মান্দালয়ে বসবাস করতেন।

ইমাম সোয়ে সাগাইংয়ে উদ্ধারকাজে সহায়তা করার চেষ্টা করছেন। সেখানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন অন্তত এক হাজার মুসলিমের সাহায্য প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

সোয়ে বলেন, ‘সেখানে কেউ যখন সাহায্য চান তখনই কেবল আমার খানিকটা স্বস্তি লাগে এবং আমি তাঁদের সাহায্য করতে পারি।’

সাগাইংয়ে ভূমিকম্পে একটি ফায়ার স্টেশন ভবন ধসে পড়েছে
সাগাইংয়ে ভূমিকম্পে একটি ফায়ার স্টেশন ভবন ধসে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স

দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু: সন্তানের জন্মের এক ঘণ্টা পর তাঁকে দাফন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার (২৬)। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় ছেলের জন্মের মাত্র এক ঘণ্টা পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

নিহত রনি সিকদারের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শাহানশাহগঞ্জ ছোনাট এলাকায়। তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে গতকাল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী রনি সিকদারের মৃত্যু হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রনি সিকদারের স্ত্রী সুমি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর অস্ত্রোপচার করার জন্য ছুটি নিয়ে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গতকাল সকালে মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার পথে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় পৌঁছালে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উল্টো পথে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই পুলিশ সদস্য। খবর পেয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাইওয়ে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রনির লাশ যখন বাড়িতে পৌঁছায় তখন তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তারকে অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরিভাবে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া আটটায় ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন সুমি। আর রাত ৯টার দিকে রনির জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী উপকমিশনার (সদর জোন) দ্বীন এ আলম বলেন, ‘রনি আমার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি স্ত্রীর সন্তান জন্মের খবরে ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন, কিন্তু পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রনির স্ত্রী একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।’

পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার
পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার। ছবি: সংগৃহীত

ড্রাগন-হাতির এক ছন্দে নাচা দরকার দুই দেশের মানুষের স্বার্থেই: জিনপিং

ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘ড্রাগন-হাতি’র যৌথ নাচের মতোই হওয়া উচিত। মঙ্গলবার দুই দেশের ৭৫ বছর কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করার সময় এই মন্তব্য করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে সামরিক অচলাবস্থার কারণে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পরে ভারত ও চীনের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টার মধ্যে শি’র মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির খবর মোতাবেক, ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশে জিনপিং একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতেই তিনি লিখেন, ‘ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতি থেকে এটাই পরিষ্কার যে, পারস্পরিক সহযোগিতার রাস্তায় হাঁটাই ভারত ও চীনের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত। হাতি ও ড্রাগনের ট্যাঙ্গো নাচই উভয় দেশ ও তার মানুষদের জন্য প্রয়োজন।’

শি বলেন, ‘উভয় দেশের উচিত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করা এবং একে অপরের সঙ্গে চলার জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক সুবিধা এবং সাধারণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

শি চিঠিতে লিখেন, ‘উভয় দেশেরই যৌথভাবে বহুমুখী বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৃহত্তর গণতন্ত্রের প্রচার করা উচিত’। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকীতে শি বলেছেন, ‘তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করার, প্রধান আন্তর্জাতিক বিষয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয়কে আরও গভীর করার এবং চীন-ভারত সীমান্ত এলাকায় শান্তি রক্ষায় প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়েছেন যে, উভয় দেশেরই বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখা উচিত।

ভারত ও চীনের সভ্যতাকে প্রাচীন হিসেবে বর্ণনা করে শি বলেন, ‘উভয় দেশই প্রধান উন্নয়নশীল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দু’টি জাতিই তাদের নিজ নিজ আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আছে।’

সিনহুয়া অনুসারে, চিঠির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মুর্মু একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন যা উভয় দেশ এবং বিশ্বকে উপকৃত করবে। তিনি কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকীকে ভারত-চীন সম্পর্কের সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল উন্নয়নকে যৌথভাবে প্রচার করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব করেছেন।

বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘শি ও প্রেসিডেন্ট মুর্মু ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করেছেন।’

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

কংগ্রেসের স্পেশাল ইলেকশন: রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও সুসংহত by কাউসার মুমিন

মার্কিন কংগ্রেসের দু’টি কংগ্রেশনাল আসনের একটি বহুল পর্যবেক্ষিত ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীরা দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জিমি পেট্রোনিস এবং রেন্ডি ফাইন যথাক্রমে ফ্লোরিডার কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-১ এবং কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৬ আসনের দু’টিতেই জয় লাভ করেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে উজ্জীবিত হয়ে উভয় প্রার্থীই এই ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান এই ঘাঁটি দু’টি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও আগের নির্বাচনের তুলনায় তাদের জয়ের ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিজয় এই অঞ্চলে রিপাবলিকানদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করলেও ভোটের ব্যবধান ২০২৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে কম হওয়ায় রিপাবলিকান পার্টি সম্পর্কে ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তনের এসেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গতকালের বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ফ্লোরিডার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা পেট্রোনিস ডেমোক্র্যাট প্রার্থী গে ভ্যালিমন্টকে পরাজিত করে ১ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট আসনটি দখল করেন, যা প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজের পদত্যাগের ফলে শূন্য হয়েছিল। ট্রাম্পের মনোনয়নে ম্যাট গেটজ অ্যাটর্নি জেনারেল পদের জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন কিন্তু যৌন অসদাচরণের অভিযোগের কারণে সরে দাঁড়ান। তিনি ২০২৪ এর নির্বাচনে এই আসনটি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে বিপুলভাবে পিছিয়ে থাকলেও রিপাবলিকান প্রার্থী পেট্রোনিস শেষ পর্যন্ত এই কংগ্রেশনাল আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে রাখতে সক্ষম হন।

একইভাবে, ফ্লোরিডার ৬ষ্ঠ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট রিপাবলিকান প্রার্থী রেন্ডি ফাইন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোশ ওয়েইলকে পরাজিত করেন। এই আসনটি মাইক ওয়াল্টজের পদত্যাগের পর শূন্য হয়, যিনি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তবে ফাইনের জয় ওয়াল্টজের আগের ফলাফলের তুলনায় কম ব্যবধানে এসেছে, যা রিপাবলিকানদের ভোট কমার ইঙ্গিত দেয়।

এই নির্বাচনের ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২২০-২১৩ এ পৌঁছেছে, যা রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছে। তবে নির্বাচনী রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রত্যাশিত রিপাবলিকান বিজয়ের পরও কম ভোটের ব্যবধান ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ডেমোক্র্যাটরা আশানুরূপ বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তারা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাদের ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা মূলত শক্তিশালী জাতীয় তহবিল সংগ্রহ এবং ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দুইজন প্রার্থীকেই সরাসরি এন্ডোর্স করেছিলেন এবং তাদের বিজয়ে প্রমাণ হয় যে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো অনেক শক্তিশালী। তবে এই নির্বাচনে রিপাবলিকান আধিপত্যের কিছুটা কমতি স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফ্লোরিডার ৬ষ্ঠ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে  ট্রাম্প ৬৫% ভোট পেয়েছিলেন এবং ওয়াল্টজ ৬৭% ভোট পেয়ে পুনঃনির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে রেন্ডি ফাইন প্রায় ১০ শতাংশ কম ভোট পেয়ে মাইকেল ওয়াল্টজের তুলনায় খারাপ ফল করেছেন, যা এই রিপাবলিকান দুর্গের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। এই আসনের ভলুসিয়া কাউন্টিতেও ফাইন প্রায় ৫০% ভোট পেয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প ও ওয়াল্টজ পূর্ববর্তী নির্বাচনে যথাক্রমে ৫৮% এবং ৬০% ভোট পেয়েছিলেন।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের তহবিল সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ৬ষ্ঠ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে  ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোশ ওয়েইলের প্রচারাভিযান ৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী রেন্ডি ফাইনের মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন এই ফলাফলকে ‘ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত পারফরম্যান্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান কৌশলবিদরা এই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেল্লা বলেন, ‘এই বিজয়গুলো ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থন এবং ডেমোক্র্যাটিক নীতির প্রত্যাখ্যানকে প্রতিফলিত করে।’

ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের জন্য এটি ছিল প্রথম নির্বাচন পরীক্ষা, যেখানে রিপাবলিকানদের ভিত্তি শক্তিশালী থাকলেও উৎসাহী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষত যদি ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের নীতিগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়।

এদিকে, রিপাবলিকানরা ফ্লোরিডার ফলাফল উদযাপনের পরপরই উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে। যেখানে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত বিচারপতি সুসান ক্রফোর্ড রিপাবলিকান-সমর্থিত বিচারপতি ব্র্যাড শিমেলকে পরাজিত করেন। এটি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিচার বিভাগীয় নির্বাচন ছিল।

mzamin

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধপ্রস্তুতি: মধ্যপ্রাচ্যে বি-২ যুদ্ধবিমান, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সময় এই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে ভয়াবহ যুদ্ধ। এজন্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার পেন্টাগন থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটি হেগসেথ এসব যুদ্ধজাহাজকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বোমা হামলার কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময়ের মধ্যে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে এটা খুবই খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে কোন ধরনের যুদ্ধবিমান এতে মোতায়েন করা হচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত সপ্তাহে মোতায়েন করা হয়েছে ৬টি বি-২ বোমারু বিমান অথবা দিয়েগো গারসিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র-বৃটেন সামরিক ঘাঁটিতে তা স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কারের জবাবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বি-২ যুদ্ধবিমানের আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এটা এমনভাবে তৈরি যে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক হামলা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে এটি। মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালানোর মতো উত্তম অবস্থানে আছে এই বিমান। পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারনেল বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা বা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থের প্রতি ইরান বা তার প্রক্সিগুলো হুমকি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সুরক্ষার জন্য সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দিয়েগো গারসিয়া’তে কতগুলো বি-২ যুদ্ধবিমান পৌঁছেছে সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড। একইসঙ্গে এগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হবে সে বিষয়েও কিছু বলেনি তারা।

এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্য একটি উত্তপ্ত কড়াইয়ের ওপর বসে আছে। গাজায় অব্যাহতভাবে চলছে গণহত্যা। লেবাননে চলছে ইসরাইলের বর্বর হামলা। তার ওপর ইরান ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সহসাই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ দেখা যাবে। রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে চুক্তি করতে রাজি না হয় তাহলে তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। তেহরানের বিরুদ্ধে করা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপ। এরই মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের টার্গেটকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে বি-২ বোমারু বিমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি শক্তিসম্পন্ন এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ফলে ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। উল্লেখ্য, বি-২ বোমারু বিমান সবচেয়ে তীব্র বোমা বহনে সক্ষম। এর পরিমাণ ৩০ হাজার পাউন্ডের জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  এই অস্ত্রটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আঘাত করতে ব্যবহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিমান বাহিনীর হাতে আছে মাত্র ২০টি বি-২ বোমারু। ফলে এর ব্যবহার যথেচ্ছ হবে না।  
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সোমবার বলেছেন, ট্রাম্প যদি তার এই হুমকি অনুযায়ী অগ্রসর হয় তাহলে শক্তিশালী আঘাতের শিকার হবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস এরোস্পেস কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ। যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তারা অবস্থান করছেন কাচের তৈরি ঘরের ভিতর। সেখান থেকে ইটপাটকেল ছোড়া উচিত হবে না তাদের। ওদিকে একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এশিয়া থেকে বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

mzamin

মার্কিন হামলা হলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ‘বাধ্য হবে’ ইরান : খামেনির উপদেষ্টা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের আক্রমণের শিকার হলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি।

সোমবার (৩১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

তিনি আরও বলেন, আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছি না। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে আমাদের নিজেদের রক্ষার স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যেতে হবে।

এর আগে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। একইসঙ্গে ইরানসহ যেসব দেশ তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এই হুমকির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে তারা শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের মুখোমুখি হবে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেলে আলি লারিজানি আরও বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যাচ্ছি না। তবে যদি আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিজেরা বা ইসরায়েলের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা করেন, তাহলে আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। আমাদের আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তির পথে হাঁটতে হবে।’

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানির মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পৌঁছে দিয়েছে। জাতিসংঘকে দেওয়া চিঠিতে ইরান জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ‘যুদ্ধবাজদের উসকানি’ দেওয়ার শামিল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সিনিয়র কমান্ডার জেনারেল আমির আলি হাজিজাদেহ বলেন, ‘আমাদের চারপাশে অন্তত ১০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন আছে। আমরা আগেও বলেছি, যারা কাচের ঘরে বাস করে, তাদের উচিত অন্যের দিকে পাথর না ছোড়া।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুনর্বহাল করেছেন। তার প্রথম মেয়াদে এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান সবসময় দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় অতীতে ওমান বহুবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবারও ওমান এই সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখছে। ইরানের কূটনীতিক আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের ওমানি বন্ধুদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পাঠানো বার্তা পেয়েছে এবং তা পড়েছে।’

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে, তারা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি শক্তি ব্যবহার করছে। তেহরান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

এই প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ আরি খামেনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রকৃত প্রক্সি শক্তি একটিই—তা হলো দখলদার, দুর্নীতিগ্রস্ত জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা। আমাদের লক্ষ্য এই অবৈধ রাষ্ট্রের অবসান ঘটানো।’

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হুঁশিয়ারি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত



ইরানে হামলার হুমকি, ট্রাম্পকে সতর্ক করল রাশিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না করলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে, ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া সতর্ক করেছে। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াভকভ বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বোমা হামলা হলে তা বৈশ্বিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

মঙ্গলবার (১ মার্চ) রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াভকভ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, হুমকিও শোনা যাচ্ছে আবার আল্টিমেটামের কথাও শোনা যাচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ আমরা উপযুক্ত মনে করি না এবং এর নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া একটি পদক্ষেপ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রাশিয়া ট্রাম্পের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর সমালোচনা করেনি। বরং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও এটি ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গত জানুয়ারিতে ক্রেমলিন ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে গত সপ্তাহে বলেন, যদি ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না করে, তাহলে তাদের ওপর বোমা হামলা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপের শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি তারা চুক্তি না করে, তবে এমনভাবে বোমা বর্ষণ করা হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এমন হুমকি নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তিবিষয়ক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানকে হুমকি দেওয়া ট্রাম্পকে নিন্দা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া। ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে হুমকি দেওয়া ট্রাম্পকে নিন্দা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া। ছবি : সংগৃহীত



রতন টাটার বেশির ভাগ সম্পদ ব্যয় হবে দাতব্য ও জনহিতকর কাজে

ভারতের প্রয়াত শিল্পপতি টাটা সন্সে রতন টাটার যে হিস্যা বা অংশ, তার অধিকাংশটাই চলে যাবে দুটি দাতব্য ফাউন্ডেশনে। রতন টাটা এনডাউমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরটিইএফ) ও রতন টাটা এনডাউমেন্ট ট্রাস্ট (আরটিইটি) নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠানে যাবে রতন টাটার ৩ হাজার ৮০০ কোটি রুপির সম্পদ। এই অর্থ বাংলাদেশের ৫ হাজার ৩২০ কোটা টাকার মতো (প্রতি রুপি ১ টাকা ৪০ পয়সা ধরে)। আরটিইএফ ও আরটিইটি বিভিন্ন দাতব্য ও জনহিতকর কাজে রতন টাটার সম্পদ ব্যয় করবে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, রতন টাটার এই সম্পদের মধ্যে টাটা সন্সের সাধারণ ও অগ্রাধিকার শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদও থাকবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটা মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর অন্যান্য আর্থিক সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ তাঁর দুই সৎবোন শিরিন জেজিভয় ও ডিয়ানা জেজিভয়ের নামে রেখে গেছেন, যার মূল্য আনুমানিক ৮০০ কোটি রুপি। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকে থাকা স্থায়ী আমানত (এফডি), আর্থিক উপকরণ, ঘড়ি এবং চিত্রকর্মের মতো ভৌত সম্পদ।

ভারতের প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটা তাঁর আস্থাভাজন ব্যক্তি মোহিনী এম দত্তের মাধ্যমে তৈরি করা উইলে ভাই জিমি টাটা, দুই সৎবোন শিরিন জেজিভয় ও ডিয়ানা জেজিভয়, নির্বাহী সহকারী (রতন টাটা) শান্তনু নাইডু এবং নিজের পোষা প্রাণীসহ কমপক্ষে দুই ডজন সুবিধাভোগী তথা উপকারভোগীর নাম উল্লেখ করে গেছেন।

রতন টাটার অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পাবেন মোহিনী দত্ত। তবে মোহিনী দত্ত টাটা ও টাটা-বহির্ভূত কোম্পানি এবং বাড়িগুলোর কোনো শেয়ার পাবেন না।

রতন টাটার সম্পদের কে কী পাবেন

রতন টাটার উইল অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের মধ্যে ভাই জিমি টাটা রুপার জিনিসপত্র ও গয়নাপত্র পাবেন। প্রয়াত শিল্পপতির জুহু সম্পত্তির মালিকানার অর্ধেকও তাঁর (জিমি) থাকবে, যা রতন টাটা তাঁর বাবা নাভাল টাটার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। এর বাকি অংশ নোয়েল টাটা ও সিমোন টাটা ভাগ করে নেবেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, টাটা সন্সে রতন টাটার অংশ সেটি তাঁর দুটি ফাউন্ডেশনে চলে যাবে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ যাবে রতন টাটা এনডাউমেন্ট ফাউন্ডেশনে (আরটিইএফ)। বাকি অংশ পাবে রতন টাটা এনডাউমেন্ট ট্রাস্ট (আরটিইটি)।

রতন টাটার পোষা প্রাণীদের জন্য ১২ লাখ রুপির একটি তহবিল তৈরি করা হবে। তাতে প্রতিটি প্রাণী প্রতি ত্রৈমাসিকে ৩০ হাজার রুপি করে পাবে। তাঁর উইলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শান্তনু নাইডু ও প্রতিবেশী জ্যাক মালাইটের ঋণ মওকুফ করা হবে।

টাটা গ্রুপের প্রয়াত প্রধান রতন টাটা তাঁর ‘শেষ’ উইলটি তৈরি করেন ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এর আগে তিনি দুটি উইল করেছিলেন—প্রথমটি ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে ও পরেরটি ২০০৯ সালের নভেম্বরে। শেষ উইলে রতন টাটা উল্লেখ করেন যে টাটা সন্সে তাঁর শেয়ার কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার ছাড়া অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।

রতন টাটার আলিবাগের বাংলোটি মেহলি মিস্ত্রির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মেহলি মিস্ত্রিই মূলত এই সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মিস্ত্রি টাটার তিনটি বন্দুকও পাবেন।

রতন টাটা
রতন টাটা। ফাইল ছবি: রয়টার্স