Wednesday, April 21, 2021

নাইজেরিয়ার যেখানে টাকা দিয়ে বউ কেনা যায়

নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায়ে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের শিশুদের বিয়ের নামে কিনে নেয় প্রভাবশালীরা।
অল্প বয়সী মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার মতো ভয়াবহ ঘটনা নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায়ের জন্য নিত্যদিনের ব্যাপার।
নাইজেরিয়ার সর্বদক্ষিণের ক্রস রিভার রাজ্যের বেশেরে সম্প্রদায়ে মানি ম্যারেজ বা অর্থের বিনিময়ে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ের নামে বিক্রি করে দেয়া একটি প্রচলিত প্রথা।
মূলত দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের শিশুদের বিয়ের নামে মোটা অংকের বিনিময়ে কিনে নেয় প্রভাবশালীরা।
দেশটির আরও কয়েকটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও এ ধরণের বিতর্কিত প্রথার চল রয়েছে।
যেখানে বিক্রি হওয়া মেয়েটির না থাকে কোন স্বাধীনতা বা শিক্ষা/চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালালেও কোন লাভ হচ্ছেনা।
সেই সম্প্রদায়ের তরুণী ডরফি। তার বয়স এখন প্রায় বিশের কোটায় হলেও তাকে যখন বিয়ে দেয়া হয়েছিল তার বয়স ছিল মাত্র ১০ কি ১১ বছর।
ওই বয়সে তাকে এমন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল যার বয়স কিনা তার নানা দাদার চাইতেও বেশি।
ডরফির আপন মা ও চাচা টাকার জন্য তাকে ওই বৃদ্ধের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। বাধ্য করেছিল মানি ম্যারেজ করতে।
এখনও সেই দিনগুলোর কথা মনে করে ভয়ে শিউরে ওঠেন ডরফি। তিনি জানান,
"আমার লোকটি আমার সঙ্গে শুতে চাইলে আমি বলতাম, না, আমি এমনটা হতে দেব না, কারণ আপনি আমার বয়সের না। আপনার ছেলেমেয়েরাও আমার অনেক বড়। যখন আমি মানা করতাম, তখন সে আরও দুইজন লোক ডেকে আমার ওপর জবরদস্তি করতো।"
এভাবেই অমানুষিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েন ডরফি। অথচ সন্তান ধারণ করার মতো বয়সও তখন তার হয়নি।
মানি ম্যারেজে কম বয়সী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়ায় তারা তাদের স্বামীর পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।
মানি ওয়াইফ বা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়া বউ হওয়ায় ডরফির যেন সাহায্য চাওয়ারও কোন জায়গা ছিল না।
বেশেরে সম্প্রদায়ে মূলত দুই ধরণের বিয়ে রয়েছে। একটি হল লাভ ম্যারেজ বা ভালবাসার বিয়ে এবং অপরটি এই মানি ম্যারেজ।
লাভ ম্যারেজে স্ত্রীর জন্য কোন পণ দিতে হয়না। নববধূ স্বাধীনভাবে বাবার বাড়ি আসতে যেতে পারে এবং তার ঘরে যে সন্তান জন্ম নেবে সেটা মায়ের পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তু মানি ম্যারেজে কম বয়সী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়ায় তারা তাদের স্বামীর পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এমনটাই জানান স্থানীয় মিশনারি ও শিশু অধিকার আন্দোলনকারী পস্তোর রিচার্ড। তিনি বলেন,
"একজন মানি ওম্যানের কোন সম্মান থাকেনা। তাদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি নেই, তাদেরকে ঠিকঠাক খেতেও দেয়া হয়না। সে সবার উচ্ছিষ্ট খায়। তারা শিশুশ্রম থেকে শুরু করে অমানবিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। অনেকে অন্ত:সত্ত্বা হলেও মায়ের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়না।"
এই সম্প্রদায়েরই আরেকজন সদস্য মনিকা।
তিনি থাকেন গাছপালা বেষ্টিত একটি এলাকায় যার চারপাশ উঁচু পাহাড় আর সবুজের গালিচায় ছাওয়া।
তবে সেই সুন্দরের ছোঁয়া মনিকার পরিবারে নেই। তিনি তার দুই নাতনিকে খুব ছোট থাকতেই মানি ম্যারেজের জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পরিবারকে জুজু নামের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে মোটা অংকের অর্থ দরকার ছিল। আর এজন্যই তিনি নাতনিদের বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
তবে এক বছর পর সেই সিদ্ধান্তের জন্য ভীষণ অপরাধবোধে ভুগছেন মনিকা।
তার নাতনি হ্যাপিনেসের এখন বয়স ১৫ বছর। গত বছর সে তার মানি ম্যারেজ থেকে পালিয়ে এসেছে। হ্যাপিনেস জানান,
"ওই লোকটার এতোই বয়স যে তার নাতি নাতনির ঘরেও সন্তান রয়েছে। লোকটা প্রায়ই আমাকে মারত আর বলতো, আমাকে যদি সে পিটিয়ে মেরেও ফেলে তাকে কেউ কিছু বলতে পারবেনা। আমাকে মেরেও ফেললেও তার কিছু হবে না। কারণ আমি তার মানি ওয়াইফ।"
ওই ঘটনার কারণে মনিকার সঙ্গে তার দুই মেয়ে ও দুই নাতনির সম্পর্ক আজও স্বাভাবিক হয়নি। এখনো দাদীর প্রতি তীব্র ক্ষোভের কথা জানান হ্যাপিনেস।
দুর্ভাগ্যবশত বেশেরের বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানকেই মানি ওয়াইফ রাখতে দেখা যায়।
"আমি আমার দাদিকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছি। সেখানে আমি লিখেছি যদি আমি মারা যাই এবং সে যদি আমার শেষকৃত্যে আসে, বাইকে করে। তাহলে একটা দুর্ঘটনায় তার হাত পা ভেঙ্গে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "যেদিন আমি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে এলাম, সেদিন তাকে আমি বলেছি, কোনদিন আমি এতোটাই রেগে যাব যে আমি একটা ছুরি নিয়ে তাকে খুন করে ফেলতে পারি।"
তবে এই সম্প্রদায়ের প্রধান চিভসামদে চিলে জানান, এখন মানি ওয়াইফ প্রথার কোন অস্তিত্ব নেই।
যাদের বয়স ১৮ বছরের নীচে তাদের কাউকে মানি ওয়াইফ হিসেবে বিয়ে করা যায়না। তিনি বলেন,
"এখনও অনেক মানুষ মনে করে যে বেশেরে সম্প্রদায়ে এখনও মানি ম্যারিজ হয়ে থাকে। কিন্তু এখন আর এসব হয়না। এটা নব্বই দশকের শুরুর দিকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। "
তবে বাস্তব চিত্র পুরোই উল্টো। দুর্ভাগ্যবশত বেশেরের বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানকেই মানি ওয়াইফ রাখতে দেখা যায়।
পাস্তোর রিচার্ড বিদ্রূপের সুরে বলেন, "এই মানি ম্যারেজের ঘটনা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও গ্রাম প্রধানরা বলবে, এই বিয়ে সবশেষ হয়েছিলো সেই ১৯৯৯ সালে। অথচ কয়েকদিন আগেই আমরা ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়েকে উদ্ধার করেছি।"
২০০৯ সালেই নাইজেরিয়া থেকে মানি ম্যারেজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও দায়ীদের কাউকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।
এ ধরণের প্রথাকে নিশ্চিহ্ন করতে পাস্তর রিচার্ডের মতো আরও অনেক আন্দোলনকারী কাজ করে যাচ্ছে।
তবে এখনও মানি ওয়াইফ রাখা সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়ানোয় আর এই প্রথা বিলুপ্তির কোন আভাস দেখা যাচ্ছেনা।
হ্যাপিনেসকে যখন বিয়ে দেয়া হয় তখন সে ছিল নিতান্তই শিশু।
দিনে দিনে দাদির প্রতি তার ক্ষোভ অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে। এখন তার দাদিকে দেখলেই করুণা হয়।
তিনি বলেন, "যখন আমি তাকে দেখি, অনেক খারাপ লাগে। আমি দোয়া করেছি যেন তার দোষ সব মাফ করে দেয়া হয়। কারণ সে সময় তিনি জানতেন না যে কি করছেন।"
মানি ওয়াইফ রাখা সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়ানোয় আর এই প্রথা বিলুপ্তির কোন আভাস দেখা যাচ্ছেনা।

শিশুর রিকেটস by ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

ভিটামিন শব্দটির সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। এই ভিটামিন আবার কয়েক ধরনের। যেমন- ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি প্রভৃতি। প্রতিটি ভিটামিনেরই রয়েছে আলাদা ভূমিকা। এ কারণেই ‘এ’ ভিটামিনের কাজ ‘বি’ বা ‘সি’ ভিটামিন করতে পারে না। তেমনি অন্য কারো কাজ করতে পারে না ‘এ’ ভিটামিন। যা হোক, এক ধরনের ভিটামিন রয়েছে যার অভাবে হাড়ের রোগ হয়ে থাকে। বড়দের এই ভিটামিনের অভাবে যে রোগটি হয়, তার নাম হলো অস্টিওম্যালাসিয়া। অস্টিওম্যালাসিয়া রোগের প্রকোপ তেমন দেখা যায় না। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের অভাবে যে রোগটি হয়, তা কিন্তু বেশ পরিচিত, রিকেটস। যে ভিটামিনটির অভাবে এই রোগ হয়, তার নাম ভিটামিন-ডি।
ভিটামিন-ডি’র কাজ হলো দেহের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসকে তাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে সাহায্য করা। এ কারণে ভিটামিন-ডি’র অভাব হলে দাঁত ও হাড়ে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অবক্ষেপণ হতে পারে না। ফলে দাঁত ও হাড়ে এদের পরিমাণ বেশ কমে যায়। ভিটামিন-ডি’র সাহায্যে ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসকে শোষণ করে থাকে। এই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস লবণের আকারে হাড়ে জমা হয়। এদের কারণে হাড় হয় সুস্থ, সবল এবং মজবুত। এদের অভাব হলে দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। বলা বাহুল্য, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অবক্ষেপণ এবং দাঁত-হাড়ে অবস্থান নির্ভর করে ভিটামিন-ডি’র ওপর।
আগেই উল্লেখ করেছি, ভিটামিন-ডি’র অভাবে রিকেটস হয়ে থাকে। রিকেটস শিশুদের ছয় মাস বয়স থেকে দুই বছরের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। রিকেটসের মূল কারণগুলো হলো-
১. অপর্যাপ্ত সূর্যালোক।
২. অপর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার।
৩. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস- এ দুটো খনিজ লবণের অভাব।
৪. দেহে স্নেহ পদার্থের অভাব- কেননা স্নেহ পদার্থেই ভিটামিন-ডি দ্রবীভূত হয়। স্নেহ পদার্থের অভাবে ভিটামিন-ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে শোষিত হতে পারে না এবং দেহের কাজে লাগে না।
**এ ছাড়া যকৃত ও কিডনির রোগ এবং খিঁচুনি নিরোধক ওষুধের কারণেও দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব দেখা দিতে পারে।
আমাদের দেশে অনেক মা-ই জানেন না যে, সূর্যালোকই হচ্ছে ভিটামিন-ডি’র প্রধান উৎস। অনেক মা শিশুর গায়ে রোদ লাগাতে দেন না। এটি মোটেও ঠিক নয়। শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ঘণ্টাখানেকের জন্য রোদে রাখা দরকার। এতে শিশু তার দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি সূর্যের আলো থেকেই সংগ্রহ করতে পারবে। শীতপ্রধান দেশে বছরের বেশির ভাগ সময় সূর্যালোক প্রায় দেখাই যায় না। সে সব দেশে শিশুকে রোদে রাখার প্রশ্নই আসে না। এসব দেশে শিশুকে দেহের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো হয়। ভিটামিন ডি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় মাছের তেলে। এ কারণে শিশুর ভিটামিন-ডি’র অভাব পূরণের জন্য কডলিভার ওয়েল খাওয়ানো হয়। মাছের তেল ছাড়াও ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় দুধ, মাখন, ডিম এবং যকৃতে।
আক্রান্ত শিশুরা প্রচুর ঘামে, বিশেষ করে কপালে এদের ঘাম বেশি দেখা যায়। শিশু ফনটানেল সঠিক সময়ে বন্ধ হয় না। শিশুর করোটির হাড়ের গঠন এবং মিলন ঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না।
শিশুর দেহের সব ভর পায়ের ওপর পড়ে বলে পা এবং হাঁটুর মাঝখানের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘নক নী’ বা বো-লেগস।
রিকেটস আক্রান্ত শিশুদের পাঁজরের হাড়গুলো হয় দুর্বল, অপুষ্ট এবং চাকা। ফলে এদের বক্ষদেশ হয় সরু। এরকম অবস্থাকে বলা হয় পিজিয়ন চেস্ট। পেট স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বড় দেখা যায়।
রিকেটস আক্রান্ত শিশুদের কপাল ও বুকের হাড় উঁচু দেখা যায়। বুকের হাড় সরু, নরম ও উঁচু দেখা যায় বলে অনেকটা মোরগির বুকের মতো দেখায়। দাঁতের হাড়ে খনিজ লবণের (ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস) অবক্ষেপণ হয় না বলে দাঁত বিলম্বে ওঠে কিংবা কখনোই ওঠে না। শিশুর কব্জি, হাঁটু এবং অন্য জয়েন্টগুলো মোটা থাকে এবং ফোলা দেখা যায়।
রিকেটস আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা না হলে এক সময় মেরুদণ্ডের হাড়গুলো এঁকেবেঁকে যায়। এ অবস্থাকে বলা হয় কাইফোসিস। শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় বলে দেহের বৃদ্ধিও কমে যায়। ফলে শিশু বামন বা ক্ষুদ্রাকৃতির হয়। রিকেটস থেকে আপনার শিশুকে রক্ষা করার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে গায়ে ভালো করে তেল মেখে শিশুকে অন্তত ঘণ্টাখানেকের জন্য রোদে রাখা। শিশুদের বয়স পাঁচ মাস পূর্ণ হওয়ার পর তাকে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুকে দিতে হবে পরিমিত স্নেহ এবং খনিজ পদার্থ (বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস) সমৃদ্ধ খাবার।
শিশুর শরীরে রিকেটস রোগের লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে শিশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক আপনার শিশুকে পরীক্ষা করে দেবেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
>>>লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা।
ফোন: ০১৭২২৯১৬৪৭৯ (সঞ্জয়)