Saturday, June 29, 2019

সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম by মঈনুল ইসলাম

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকা হাঁড়িভাঙা আমের জন্য বিখ্যাত। এখান থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এ আমের চাষ। এ আম সুস্বাদু। এর মধ্যে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে হাঁড়িভাঙা আমের সুখ্যাতি।
গাছে ঝুলে আছে আমগাছে ঝুলে আছে আম
বাগানজুড়ে আমবাগানজুড়ে আম
মাটিতে ঝুলে পড়েছে আমমাটিতে ঝুলে পড়েছে আম
আম পাড়ছেন আমচাষিআম পাড়ছেন আমচাষি
বাগান থেকেই বিক্রি হয় আমবাগান থেকেই বিক্রি হয় আম
সাইকেলে করে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে আমসাইকেলে করে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে আম
হাটে নেওয়া হচ্ছে আমহাটে নেওয়া হচ্ছে আম
আমের পসরা, চলছে বিকিকিনিআমের পসরা, চলছে বিকিকিনি
রিকশা–ভ্যানে হাট থেকে আম যাচ্ছে শহরের কুরিয়ার সার্ভিসেরিকশা–ভ্যানে হাট থেকে আম যাচ্ছে শহরের কুরিয়ার সার্ভিসে

মার্কিন নাগরিককে নেপালে প্রবেশে বাধা; ব্যাখ্যা চেয়েছে দূতাবাস by অনিল গিরি

নেপালের ইমিগ্রেশান কর্মকর্তারা আমেরিকান একজন নাগরিককে নেপালে প্রবেশে বাধা দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে নেপাল সরকারের ব্যাখ্যা চেয়েছে কাঠমাণ্ডুর মার্কিন দূতাবাস।
দূতাবাসের কর্মকর্তারা দ্য পোস্টকে বলেছেন যে, বৃহস্পতিবার তারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র আনডি ডি আর্মেন্ট দ্য পোস্টকে বলেন, “একটি বিদেশী সরকারের অনুরোধে নেপাল সরকার এক মার্কিন নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোয় মার্কিন দূতাবাস অবাক হয়েছে। এই বিশেষ ঘটনাটির ব্যাখ্যা চেয়েছি আমরা নেপাল সরকারের কাছে। সেই সাথে আমরা এটাও জানতে চেয়েছি যে, নেপালে কোন মার্কিন নাগরিককে প্রবেশের জন্য কি অন্য বিদেশী সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেতে হবে”।
কাঠমাণ্ডুর চীনা দূতাবাসের দেয়া কালো তালিকার ভিত্তিতে ত্রিভূবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশান কর্মকর্তারা শনিবার পেনপা শেরিংকে ফেরত পাঠায়, যিনি দালাই লামার পক্ষে কাজ করছেন বলে তারা মনে করেন।
তবে পেনপা শেরিং নামে যাকে নেপালে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে, তিনি আসল ব্যক্তি নন বলে পরে দেখা গেছে। এই পেনপা শেরিং একজন আমেরিকান নাগরিক, যার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তিব্বত প্রশাসনের সাবেক ওই প্রতিনিধির নামের মিল রয়েছে।
শনিবারের পর থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। ইমিগ্রেশান কর্মকর্তাদের মতে, অবতরণের পরপরই কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে দেখানো হয় শেরিংকে। কর্মকর্তারা এর পর গুগলে সার্চ করেন এবং সেখানে তারা পেনপা শেরিংয়ের ভিডিও দেখতে পান, যিনি এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে তিব্বত প্রশাসনের প্রতিনিধি ছিলেন। জুনিয়র কর্মকর্তারা সাথে সাথেই ইমিগ্রেশান ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল এশোর রাজ পুদিয়ালকে ফোন দেন এবং তিনি তৎক্ষণাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপা এবং স্বরাষ্ট্র সচিব প্রেম কুমার রায়-এর সাথে বৈঠক করেন। সে সময় ইমিগ্রেশান ডেস্কে থাকা দুজন জুনিয়র কর্মকর্তা পরে দ্য পোস্টকে এ সব তথ্য জানান।
কর্মকর্তারা জানান, পুরো সময়টাতে ইমিগ্রেশান অফিস এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে চীনা দূতাবাস থেকে বার বার কল আসতে থাকে, যাতে শেরিংকে আটক করা হয়। এটা স্পষ্ট নয় যে চীনা দূতাবাস কিভাবে শেরিংয়ের আগমনের খবর পেয়েছে। দুজন কর্মকর্তার কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, কারণ এটা নিয়ে মিডিয়ায় কথা বলতে চাননি তারা।
এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য ইমিগ্রেশান বিভাগের প্রধান পুদিয়ালের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কাঠমাণ্ডুর চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারাও দ্য পোস্টের ফোন কলের কোন জবাব দেননি।

লিভার প্রতিস্থাপন: মা কেবিনে ছেলে আইসিইউতে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী সিরাজুল ইসলাম (২০) ও তার মা দুজনেই ভালো আছেন। সিরাজুল ইসলাম এখনও নিউরো সার্জারি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকলেও তার মাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া শনিবার দুপুরে সিরাজুল ইসলাম ও তার মায়ের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ছেলে ও মা দুজনই ভালো আছেন। তাদের কারও কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি। সিরাজুল ইসলামের মাকে চারদিন আগেই কেবিনে দেয়া হয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলামকে যে কোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুন বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো সিরাজুল ইসলামের দেহে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিভার প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট) করা হয়।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত সিরাজুল ইসলামকে ৪৭ বছর বয়সী গর্ভধারিণী মা তার লিভারের একাংশ দান করেন।
বিএসএমএমইউর সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দল প্রায় ১৮ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়। তাদের সহায়তা করে ভারতের খ্যাতনামা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ একটি দল।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতীয় সংসদের বিশেষ আয়োজন by কাজী সোহাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম-শতবার্ষিকী পালনের কর্মসূচিতে চমক থাকবে সংসদ সচিবালয়ের। সেখানে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে তৈরি করা হবে বঙ্গবন্ধু মঞ্চ। বছরব্যাপী ওই মঞ্চে থাকবে নানা আয়োজন। ডাকা হবে সংসদের বিশেষ অধিবেশন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন  চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিশ্বের সব দেশের পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে বিশেষ উপহার প্যাকেট। প্যাকেটে থাকবে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ইংরেজী ভার্সন, প্রকাশনা, ব্রুসিয়ার, মেমোরিয়াল কয়েন। এছাড়া দেশী-বিদেশী অতিথিদের অংশগ্রহণে থাকবে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরব্যপী অনুষ্ঠান ঘিরে আরও চমকপ্রদ কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। এ নিয়ে শতাধিক খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে। সম্প্রতি মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য সব মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে তিনটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রকাশনা বিষয়ক দুটি উপ-কমিটি কাজ শুরু করেছে। আরেকটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি বিদেশী অতিথিদের নির্বাচন ও তাদের আমন্ত্রণ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে। প্রায় সব এমপিকে সম্পৃক্ত করা হবে মুজিব বর্ষ পালনের কর্মসূচিতে। তাদের সঙ্গে থাকবেন সংসদ সচিবালয়ের ১২শ কর্মকর্তা ও কর্মচারি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ২০২০ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, যেহেতু মুজিব বর্ষ পালনে প্রধানমন্ত্রী জাতীয়ভাবে কমিটি গঠন করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যপকভাবে আয়োজন করা হবে তাই আমরাও পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে আয়োজন করবো। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষ্যে প্রায় শতাধিক প্রস্তাব এসেছে। এখনও চূড়ান্ত করিনি। বিবেচনা ও যাচাই বাছাই করে শিগগির কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
স্পিকার বলেন, পুরো বছরব্যপী অনুষ্টানসূচি সাজানো হবে। বেশকিছু সেমিনার, ওয়ার্কশপ থাকবে বঙ্গবন্ধুর ওপরে। সেখানে হয়তো বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টারিয়ান, স্পিকারসহ কাদের আনা যায় সেটা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, অনেক প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মঞ্চ করার প্রস্তাব। বছরব্যপী ওই মঞ্চ রাখা হবে। সেখানে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান চলবে। সেখানে ফটোগ্রাফ এক্সিবিউশন হতে পারে, সংসদ কেন্দ্রিক উনার যেসব বক্তব্য তা অডিও করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অনেক ইন্টারেস্টিং প্রস্তাবও এসেছে। তবে বঙ্গবন্ধু মঞ্চটা এক বছরের জন্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ওপরে কোন বিশেষ অধিবেশন ডাকা যায় কিনা সেটাও ভাবা হচ্ছে। সেটা হলে কিভাবে তা সাজানো হবে, কারা বক্তব্য রাখবেন, বাইরের কোন অতিথি আসবেন কিনা তা ভাবা হচ্ছে। সংসদের এসব প্রোগ্রামের সঙ্গে জাতীয় কমিটির অনুষ্ঠানের সঙ্গে যেন কোন বিরোধ তৈরি না করে সে বিষয়টিও আমাদের দেখতে হবে। সমন্বয় করতে হবে। একা একা অনুষ্ঠানমালা সাজানো ঠিক হবে না। ব্যপক আয়োজনের মাধ্যমে মুজিব বর্ষ পালনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতির পিতার জন্ম-শতবার্ষিকী অনেক বড় বিষয়। তার চাইতে আমি যেটা মনে করি আমরা যে সুযোগটা পাচ্ছি এই সময়টা যে আমরা সেলিব্রেট করতে পারছি সেটাও কিন্তু একটি ঐতিহাসিক ব্যপার। আমরা প্রত্যেকে একটি ইতিহাসের অংশ হবো। তিনি বলেন,আমরা তো আর কেউ চিরকাল থাকবো না। আগামীতে আরও অনেক প্রজন্ম আসবে।
কিন্তু এটা আমাদের জন্য একটি মাইলস্টোন হিসেবে থাকবে। এ সুযোগ পাওয়াটা অনেক বিরল বিষয় বলে মনে করি। স্পিকার বলেন, সংসদের পক্ষ থেকে আমরা জাতির কাছে বা ভবিষ্যত প্রজন্মর কাছে একটি বার্তা দিতে চাই যে, যার জন্য আমাদের এই দেশ, যার জন্য আমাদের এই সংসদ, যার জন্য আমরা আজকে সারাবিশ্বে মাথাউঁচু করে স্বাধীন জাতি হিসেবে দাঁড়াতে পারি, যাকে ঘিরে সরাবিশ্বে আমাদের আত্মপরিচয়, বাঙালি হিসেবে আত্মপরিচয় এজন্য তার জীবনকে, জন্মকে আমরা সেলিব্রেট করবো। একজন মহান নেতা কিন্তু সচরাচর একটি জাতির জীবনে আসে না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন খুবই ক্ষণজন্মা একজন মানুষ। নেতা। তিনি বলেন, আরও অনেক ধরণের প্রস্তাব আছে। এক্ষেত্রে সমন্বয়টা খুব জরুরি। কারণ জাতীয় কমিটি যে কাজ করবে আমরা তার ডুব্লিকেট করতে চাই না। আমরা আমাদের স্বাতন্ত্রিকতা রেখে সংসদ কেন্দ্রিক কিভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করা যায় সেটা দেখবো। বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ও কিন্তু কাজ করবে। যেমন-যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় তারা তাদের মতো করে অনুষ্ঠান করবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সারাদেশে কিভাবে পালন করবে তারা ঠিক করবে। তবে প্রত্যেকের একটি বিষয়বস্তু আছে। পার্লামেন্টেরও একটা বড় বিষয়বস্তু আছে। যেমন-গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, দেশকে এগিয়ে নেয়া, উন্নয়ন সবকিছু। স্পিকার বলেন, গণপরিষদ, সংবিধান প্রণয়ন থেকে শুরু করে জাতির পিতার কাজগুলো সেগুলো আমরা ফোকাস করবো।
একটি দেশসৃষ্টি ও সংবিধান প্রণনের জন্য যা কিছু তিনি করেছেন তা তুলে ধরা হবে। সংবিধান প্রণয়নের মধ্য দিয়ে কিন্তু পুরো রাষ্ট্রের কাঠামো, কিভাবে দেশ চলবে সবকিছু সেখানে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সেটাও কিন্তু জাতির পিতা ১০ই জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই ১১ জানুয়ারি সংবিধানের প্রণয়নের কাজটি হাতে নিয়েছিলেন। তারপর কিভাবে গণপরিষদে সংবিধান পাস হলো এসব দিক থেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখবো। পাশাপাশি সংসদে উনি কি কি বক্তব্য রেখেছেন তা দেখা হবে। বঙ্গবন্ধুর তো অনেক বক্তব্য রয়েছে। তবে পার্লামে›কে›িন্দ্রক যে বক্তব্যগুলো আছে সেসব বিষয় হাইলাইট করা হবে। স্পিকার বলেন,আরেকটি পরিকল্পনা রয়েছে আমার। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন সংসদকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিষয়টি জানাতে চাই। সেটার বিষয়ে আমার নিজস্ব একটি চিন্তা রয়েছে। তাহলো-বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ইংরেজির কপি, তার সঙ্গে আরও কিছু প্রকাশনা বা মেমোরিয়াল কয়েন, ব্রুসিয়ার একসঙ্গে একটি প্যাকেজ করে সারাবিশ্বের সব স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারি। এমপিদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সব এমপিরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে এসব অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেবে।
আরও অনেক সাব-কমিটি গঠন করা হবে। দায়িত্বগুলো বন্টন করে দেয়া হবে বাস্তবায়নের জন্য। কারও একার পক্ষে তো এত অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। এমপিদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদেরও আমরা সংযুক্ত করবো। উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ফেব্রুয়ারিতে দুটি কমিটি গঠন করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ ও জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে,আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অনুমোদন করবে এই কমিটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

নয়ন ‘বন্ড ০০৭’

বরগুনায় প্রকাশ্যে রাস্তায় শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তদন্তের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে নয়ন ‘বন্ড ০০৭’ নামে একটি গ্রুপের কিছু কথোপকথন। নয়নের পারিবারিক নাম সাব্বির আহম্মেদ, ডাক নাম নয়ন। নয়নের সঙ্গে নিজেই জুড়ে দিয়েছেন বন্ড।
নিজেকে জেমস বন্ড ভাবতে ভালোবাসেন বলে ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক। তাই নামের সঙ্গে যুক্ত করেন বন্ড। ওই নামেই তিনি বরগুনা শহরে পরিচিতও পেয়ে যান। তার মোটর সাইকেলে, বাড়ির দেয়ালে- নানা জায়গায় লেখা রয়েছে বন্ডের ০০৭ কোড নামটি।
বলা হচ্ছে, ওই ফেইসবুক গ্রুপেই রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয়। আর এই গ্রুপের নেতা হলেন রিফাত হত্যার হোতা নয়ন বন্ড, যাকে পুলিশ দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, পৌর শহরের বিকেবি রোডের ধানসিঁড়ি এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে নয়নের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচা, চুরি, ছিনতাই, হামলা, সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। নয়নের গড়ে তোলা গ্যাং ০০৭ শহরের কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তারা বলছেন, ওই গ্রুপে নয়নের প্রধান সহযোগী হলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী।
রিফাত ফরাজীর পাশাপাশি তার ভাই রিশান ফরাজীকেও পুলিশ খুঁজছে বলে ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান।

ব্যাংককে সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন শুরু: টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না

সুখ আর অসুখের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আর সেটা যদি হয় টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের। নবম সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে নোবেল জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রশ্নটিকেই সামনে আনলেন। বললেন, সুখের সংজ্ঞা কী? টাকা থাকলেই কি সুখ হয়? অনেকেই হয়তো জানেন না, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না।
শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দুই দিন ব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন শুরু হয়েছে। ৫৯টি দেশের ১৫০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়া জাপানের সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন এ সম্মেলনে। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের ভিডিও বার্তা প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই সম্মেলন।
মহাসচিব তার বার্তায় সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনের সফলতা কামনা করে বলেন, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে যে পার্থক্য এই সম্মেলন তা নিরসনে একটা উপায় খুঁজে বের করবে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও ভ্যাটিকানের প্রতিনিধি সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন। পোপের তরফ থেকে দেয়া বার্তায় সামাজিক ব্যবসা কিভাবে বৈষম্য দূর করতে পারে তার ওপর তাগিদ দেয়া হয়। ২৮শে জুন প্রফেসর ইউনূসের জন্মদিন। সম্মেলনের শুরুতেই যখন তার জন্মদিনের ঘোষণা দেয়া হয় তখন মুহুর্মুহু করতালিতে সবাই দাঁড়িয়ে সামাজিক ব্যবসার এই জনককে অভিনন্দন জানান। পরিবেশ তখন অনেকটাই বদলে যায়। যদিও প্রফেসর ইউনূস এ নিয়ে কোনো কথাই বলেননি।
সম্মেলনে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক ব্যবসার রূপকার প্রফেসর ইউনূস তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা প্রতিটি মানুষই জাদুকর। অফুরান শক্তির অধিকারী আমরা। মানুষ চাইলে পারে সবকিছু বদলে দিতে। পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণ আছে। জলবায়ু পরিবর্তন সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। নিয়ে এসেছে অনেক চ্যালেঞ্জ। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্য বেড়েই চলেছে। মানুষের মনে সুখ আনতে হলে এই দূরত্ব কমাতে হবে। সামাজিক ব্যবসা-এর একটা দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পৃথিবীর নানা দেশে সামাজিক ব্যবসার প্রসার ঘটছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে একটি আলোড়ন তৈরি করেছে। সমাজ সচেতন মানুষের জানার কৌতূহল অনেক। আর এই কৌতূহল থেকেই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে সামাজিক ব্যবসা।
খেলার জগতেও সামাজিক ব্যবসা শিকড় গেড়েছে। কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসিও এগিয়ে এসেছেন। হেরার্দ পিকেও যুক্ত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ২০২০ অলিম্পিকে সামাজিক ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পৃথিবীর নানা অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও খোলা হয়েছে আলাদা অনুষদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই চমকপ্রদ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত প্রতিনিধিদের মুগ্ধ করে। আজ দিনের শেষভাগে এই সম্মেলনের সমাপ্তি টানা হবে নতুন কোনো ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

পাট গবেষণা: ৩ বছরের প্রকল্প চলছে ৯ বছর ধরে by হামিদ সরকার

নতুন নতুন পাটবীজ উদ্ভাবনের জন্য নেয়া তিন বছরের গবেষণা প্রকল্প গত ৯ বছরেও শেষ হয়নি। এটি এখন ১০ বছরে পা দিতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পে গবেষণার চেয়ে পরামর্শক খাতে ব্যয়ই বেশি। ৫১ জন পরামর্শক এ প্রকল্পে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৯ জনকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ৬৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণা থেকে নতুন যে উদ্ভাবন পাওয়া যায় তা অবমুক্ত করতে সাড়ে ৬ বছর লাগে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের পাটবীজের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। আমদানিকৃত বীজ দিয়ে পাট চাষ করা হচ্ছে। নতুন নতুন পাটবীজ উদ্ভাবনের জন্যই নেয়া হয়েছিল এ প্রকল্প। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো পাটের জেনোম গবেষণা, বিভিন্ন সম্পদ সংগ্রহ, উচ্চশিক্ষা প্রদান ও প্রশিক্ষণ, দেশী-বিদেশী পরামর্শক ও গবেষক সংগ্রহ এবং ৯ হাজার বর্গফুটের গবেষণাগার সম্প্রসারণ, মেশিনারি এবং ইকুইপমেন্ট মেরামত ও পুনর্বাসন।
প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেক সভায় ৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালের আগস্টে সমাপ্ত করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু অনুমোদনের পর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৫ বার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যয়ও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ প্রকল্পটি সমাপ্ত করার জন্য বাড়তি ব্যয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এখন আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। দু’জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগবৃদ্ধিতে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা।
আবারো প্রকল্পটির সময় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্পের মূল বাস্তবায়ন এলাকা প্রথম-ক শ্রেণীর কেপিআই ঘোষিত হওয়ার কারণে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যূনতম ২০ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন। এ জন্য তাদের সংখ্যা ১৮ জন থেকে বাড়িয়ে ২০ জন করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় সোয়া কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মেয়াদে গবেষণার জন্য এ খাতে ব্যয় প্রায় ২৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যয় প্রায় ১৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বলছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৯ বছরে প্রকল্পের আওতায় ২টি তোষা এবং ২টি দেশী পাটের উচ্চফলনশীল লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাটের একটি লাইন জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হয়েছে, যা দেশে বর্তমানে চাষকৃত তোষা পাটের চেয়ে ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি। উন্নত আঁশ ও আগাম কর্তনযোগ্য। বর্তমানে দেশে চাষকৃত পাটবীজের ৮০ শতাংশই ভারত থেকে আমদানিকৃত জেআরও-২৫৪ জাতের। এ প্রকল্প হতে উদ্ভাবিত রবি-১ জাতটি বাজারে এলে বিজেআরআই উদ্ভাবিত জাতের কাজারেজ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পরামর্শকদের ব্যাপারে সংস্থাটি বলছে, প্রকল্পে বিজ্ঞানী ও পেশাদারগণ সবাই পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট উইং বলছে, তিন বছরের প্রকল্প প্রথম সংশোধনীতে ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। তাতেও কাজ সমাপ্ত হয়নি। পরে এক বছর বাড়ানোর পরও কাজ সমাপ্ত হয়নি। এতবার মেয়াদ বাড়ানো কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। একটি প্রকল্পে ৫১ জন দেশী-বিদেশী পরামর্শক। যাদের জন্য বরাদ্দ ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। গত ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ২৯ জন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যাদের জন্য এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এখন এই ব্যয় আরো বাড়ানো হয়েছে।

মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করলো না সন্তানরা

আলোকিত বাংলাদেশ-১৭ জুন, সোমবার ২০১৯: মৃত্যুশয্যায় মা। শেষ সময়ে প্রিয় সন্তানদের এক নজর দেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন স্বামীর কাছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণে তৎপর হলেন স্বামী। তিনি আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডার মতো উন্নত দেশে বসবাসকারী ছেলেমেয়েদের কাছে ফোন করলেন। কিন্তু তাদের কেউই মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে আগ্রহ দেখালেন না। বিভিন্ন অজুহাতে তারা পাশ কাটিয়ে গেলেন। এমনকি মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা পর্যন্ত বলতে চাইলেন না। আধুনিক জীবনের এই মর্মান্তিক পরিণতি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ খবরের সিনিয়র রিপোর্টার হাসান শান্তুনু, তার নিজের ফেসবুকে। আলোকিত বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক ষ্টাটাসটি ধরা হলো।
অবসরে থাকা অধ্যাপক সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী মারা যাবেন মাত্র তিন ঘণ্টা পর। স্ত্রী শায়লা হোসেনও এক সময় অধ্যাপনা করতেন। তাদের তিন ছেলে, এক মেয়ে। চারজনই থাকেন বিদেশে। বড্ড আধুনিক জীবনের ঢেউয়ে দোলায়িত তাদের জীবন। মারা যাওয়ার আগে শায়লা হোসেনের মন ভীষণ কেঁদেছে ছেলেমেয়েকে দেখতে। নিজের জরায়ু ছেঁড়া সন্তানকে শেষবারের মতো আদর করতে।
তিনি স্বামীসহ থাকতেন ঢাকায়। ক্যান্সারে ভুগছিলেন ছয় মাস ধরে। মৃত্যুর তিন ঘণ্টা আগে থেকে তার স্বামী শুরু করেন ছেলেমেয়ের মুখ মাকে শেষবারের মতো দেখানোর ‘সংগ্রাম’। যুক্তরাষ্ট্রে বাসরত বড় ছেলেকে ফোন করলে জানান, তার স্ত্রীর পেটে অনেক বছর পর বাচ্চা ধরায় এখন ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। কানাডায় থাকা মেজো ছেলের সদ্য একটা নতুন চাকরি হওয়ায়, যুক্তরাজ্যে থাকা ছোট ছেলে পিএইচডি শেষ হওয়ার আগে, যুক্তরাজ্যে থাকা একমাত্র মেয়ের জামাতা নতুন ব্যবসা শুরু করায় এ মুহূর্তে দেশে আসা অসম্ভব- এমনটাই তারা ফোনে জানিয়ে দেন বাবাকে।
ফোন করতে করতে তিন ঘণ্টা কেটে যায়। প্রত্যেকটা ফোন শেষে ছেলেমেয়ের বক্তব্য পাশে শুয়ে থাকা মৃত্যুপথের যাত্রী স্ত্রীকে জানাচ্ছিলেন ‘পরাজিত স্বামী’ অধ্যাপক সানোয়ার। সবশেষে মেয়ের কথা ফোনে জানার পর স্ত্রীর শরীরে হাত দিতেই অনুভব করেন, ‘বেশ ঠাণ্ডা। নেয়া হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, ‘শায়লা হোসেন আর নেই’। স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে গ্রামে চলে যান অধ্যাপক। ওই গ্রামেই কাটে প্রায় ছয় বছর।
উপরের ঘটনা সত্য, নামগুলো বানানো। তাদের প্রকৃত নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। কোনো সন্তানই তার বাবা, মায়ের কাছ থেকে যতোটা আদর, ভালোবাসা পায়, ততোটা তার বাবা, মাকে ফেরত দিতে পারে না। এটা অনাদিকালের নিয়ম। কারণ, স্নেহ সবসময় নিচের দিকে বয়ে চলে। তাই বলে কি এতোটা নিচের দিকে?

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়ানোর সুযোগ নেই by রাশেদা কে চৌধূরী

রাশেদা কে চৌধূরী
যুক্তরাষ্ট্রে বসে অনলাইনে ও পত্রিকায় বরগুনার খবরটি দেখে শিউরে উঠলাম। এতে শুধু ক্ষুব্ধ ও হতাশই নই, সব মিলিয়ে মনের মধ্যে আতঙ্ক অনুভূত হচ্ছে। কারণ, দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আদালতও বলেছেন, সমাজ কোথায় যাচ্ছে? এ রকম পরিস্থিতিতে একজন উন্নয়ন ও সমাজকর্মী হিসেবে প্রশ্ন জাগে, পরিবার ও সমাজে কী ঘটছে? রাষ্ট্র এখানে কী করছে? সমাজে দেখছি একধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রকাশ্যে অপরাধ সংঘটিত হলেও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বরগুনায় দিনদুপুরে কলেজের সামনে এমন একটি বর্বর ঘটনা ঘটল। অথচ কেউ এগিয়ে এল না।
একজন নারী আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাঁর স্বামীকে রক্ষা করতে পারলেন না। কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা তাহলে কোথায় ছিল? এই বয়সে তাদের তো এগিয়ে আসার কথা ছিল। কেউ জরুরি নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করতে পারত। আশপাশের লোকজনেরও কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এ রকম পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করব? এই ঘটনাটি তো আর ঘরের মধ্যে রাতের আঁধারে হয়নি, যা নারীদের সঙ্গে প্রায়ই করা হয়। এখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে প্রকাশ্যে ঘটনাটি ঘটল। তাহলে বলতে হয়, আমাদের শিক্ষা কোথায় যাচ্ছে। কোন মূল্যবোধ শেখাচ্ছে। কেউ যদি এসে ধাওয়াও দিত, তাহলেও হয়তো রিফাত শরীফকে বাঁচানো যেত। এর আগে বিশ্বজিৎ (পুরান ঢাকায় নৃশংসভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল) ও অভিজিৎকে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জঙ্গিদের হাতে নিহত) বাঁচানো যায়নি। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আমরা কী করছি, তা ভেবে দেখা দরকার। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ভয় পাইনি, তাহলে আজ কাকে ভয় পাচ্ছি? কেন প্রতিরোধ করতে পারছি না? বিচার চাইতে গিয়েও কিন্তু ফেঁসে যাওয়ার ভয় কাজ করে। এই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে। আর পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনা থেকে বের হয়ে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরির দিকে জোর দিতে হবে।
বরগুনার এই ঘটনা এখন খুব আলোচনা হচ্ছে। হয়তো আবার কোনো ঘটনা ঘটবে, তখন আবার এটি ভুলে যাব। দেখে মনে হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। গণমাধ্যমকেও অনুরোধ করব, বিচার না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকার জন্য। সর্বোপরি পার পাওয়ার সংস্কৃতির দানবটাকে সরাতে হবে।
লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

বাংলাদেশের উন্নতির প্রশংসায় ওয়াসিম আকরাম by ইশতিয়াক পারভেজ

আইসিসির নিয়মের শেষ নেই। নিজেদের ব্যবসা সফল করতে এখানে আসা সংবাদকর্মীদের জন্য নিয়ম আর নিয়ম। খেলার দিন মাঠের আঙ্গিনাতে ভিডিও নেই। কেউ সেলফিও তুলতে পারবে না। তুললে কড়া শাস্তি। তাই চোখের সামনে ক্রিকেটের সাবেক হিরোদের ঘুরতে দেখলেও হাত পা অনেকটাই বাঁধা। কথা যে বলা যাবে না! তবে এজবাস্টন স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স থেকে লিফট দিয়ে নামলেই রাস্তা। সেখানেই পাওয়া গেলো পাকিস্তানের গ্রেট ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামকে।
নামটা শুনলেই টাইগারভক্তদের চোখে ভেসে উঠতে পারে ১৯৯৯’র বিশ্বকাপ।
সেবার তুখোড় ফর্মের পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দেখেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটনেই ওই ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন, ‘ভাইদের কাছে হেরেছি।’ হ্যাঁ, টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসে ওই জয়ের গুরুত্ব অনেক। সেবারের ফাইনালিস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে টেস্ট মর্যাদার দাবিটা জোরদার হয়েছিল বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশের সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে কথা বলবেন কি বলবেন না, আকরাম একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন মনে হলো। এরপর জানিয়ে দিলেন আইসিসির নিয়ম অফিসিয়ালি কথা বলতে পারবেন না। তবে দুই একটি কথা বলতে পারেন ভিডিও না করার শর্তে। তার সেই শর্ত মেনেই জানতে চাওয়া টাইগারদের সম্ভাবনা কতটা? কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভয় সবার। তারা ভালো খেলছে, তারা অনেক উন্নতি করেছে।’ তার মুখভঙ্গি দেখে মনে হলো মাশরাফিদের নিয়ে সবার ভয়টা তাকে হয়তো মনে করিয়ে দিচ্ছে ৯৯’র সেই ম্যাচের কথাই।
ইংল্যান্ডে ৯৯’র বিশ্বকাপে পাকিস্তান ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া কাছে হেরে যায়। তার আগে তাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে হার। সেবার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে দল টসে হেরে পাক অধিনায়কের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমেছিল। ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২৩ রানই করতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬১ রানে। অধিনায়ক আকরাম বল হাতে ১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ২৯ রান করে তার দলকে বাঁচাতে পারেননি। সেই ম্যাচে টাইগারদের জয়ের নায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। বর্তমানে তিনি আছেন টাইগারদের ম্যানেজার হয়েই। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। বলার অপেক্ষা রাখে না এই ম্যাচে জয় দুই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ এই ম্যাচটি দুই দলের জন্য হতে পারে বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইও। এমন গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচ নিয়ে ওয়াসিম আকরাম অবশ্য থাকলেন নীরব। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘টাকা ছাড়াতো আমি এত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না! হা হা হা হা (হাসি)। দেখা যাক কী হয়।’ তার সেই অট্টহাসিটাও যেন বেশ মেকিই মনে হলো। যেন দ্রুত পালিয়ে বাঁচতে চাইছেন বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের হাত থেকে।
ওয়াসিম আকরামের সুইং বোলিংয়ের কীর্তি সবার জানা। ‘সুলতান অব সুইং’ নামও পেয়ে গিয়েছেন এই কিংবদন্তির পেসার। তাই তাকে প্রশ্নটা করতেই হলো- আপনাকেতো সুলতান অব সুইং বলা হতো। এখন কি তেমন পেসার দেখেন আপনি? নিজের প্রশংসা শুনে এবার একটু হাসলেন তিনি। অনেকটা লজ্জা পেয়েই যেন বলেন, ‘না না, এখনো অনেক দারুণ সব পেসার আছে। পেসারদের দিন শেষ হয়নি এটা ভুলে গেলে হবে না। পেসাররাই ক্রিকেটের প্রাণ।’
এরপরই বলেন, ‘আর না, আমি চুক্তিবদ্ধ। এত কথা বললে আমাকে তো তারা কথাই বলতে দিবে না। হা হা হা হা (হাসি)। বলেই হনহন করে উঠে গেলেন উপরে কমেন্ট্রি বক্সের দিকে। এর আগে বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন তাকে বেশ ফুরফুরেই লাগছিল। কারণ ব্ল্যাকক্যাপদের ২৩৭ রানে আটকে ফেলেছিল পাকিস্তান। আর ইনিংস বিরতিতে খেতে এসে গল্পই জুড়েছিলেন নিজ দেশের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে। সেই আলোচনাতেও বেশ কয়েকবার তিনি উচ্চারণ করেন বাংলাদেশ-পাকিস্তান শেষ ম্যাচের কথা। নানাভাবে ব্যাখ্যা দিতে থাকেন তাদের শেষ সবকটি ম্যাচই জিততে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে সেখান থেকে নিচে নেমে টাইগারদের প্রসঙ্গে কথা তেমন বলতে চাইলেন না। এমন হতে পারে তার মনে এখনো দাগ কেটে আছে সেই ৯৯’এর লজ্জার হার! তবে দ্রুত চলে গেলেও সেলফি নিতে ভোলেননি। বলেন- ইন্টার ভিউ দিতে না পারলেও এটা তোমার জন্য উপহার।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে গুরুত্ব পাবে অর্থনীতি ও রোহিঙ্গা ইস্যু by কামরান রেজা চৌধুরী

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের একটি প্রকল্পে বড় ধরনের সঙ্ঘাতের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে চীনা নেতাদের সাথে আলোচনার জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন।
চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ডালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) বার্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে ১ জুলাই ঢাকা ছাড়বেন হাসিনা। এরপর ৪ ও ৫ জুলাই তার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ডিরেক্টর জেনারেল ফয়সাল আহমেদ বেনারনিউজকে বলেন, “ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ইস্যু ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চীনা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলবেন”।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে যে ৭৪০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে চীন যাতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে চীনের কাছে উল্লেখ করবেন হাসিনা।
বুধবার তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গৃহচ্যুত রোহিঙ্গা যারা মিয়ানমারে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদেরকে যদি শিগগিরই আমরা ফেরত পাঠাতে না পারি, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে”।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ একটা প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করে কিন্তু কোন রোহিঙ্গাই নিরাপত্তা সঙ্কটের কারণে সেখানে ফিরে যেতে রাজি হচ্ছে না।
অর্থনৈতিক আলোচনা
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন নিয়েও কথা বলবেন শেখ হাসিনা।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বেনারনিউজকে বলেন, “চীনা পৃষ্ঠপোষকতায় যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর জন্য দ্রুত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করবেন হাসিনা”।
২০১৬ সাল থেকে চীন বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চীনের সার্বিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১.০৩ বিলিয়ন ডলার, যেটা দুই বছর আগের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি, যে সময় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬১ মিলিয়ন ডলার।
এটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি যে, হাসিনা ও চীনা নেতারা সম্প্রতি চীন ও বাংলাদেশী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন কি না। আংশিক চীনা অর্থায়নে নির্মিয়মান একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্প্রতি ওই সঙ্ঘাত বাধে।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের অধিকাংশই হলো বিদ্যুৎ খাতে। এর মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টটি নির্মিত হচ্ছে যৌথ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে যেখান সপ্তাহখানিক আগে সংঘর্ষ হয়েছে।
এই প্ল্যান্টে আমদানি করা কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং ২০২২ সালের শেষ নাগাদ এটা পুরোপুরি সচল হবে। কনসোর্টিয়ামের অংশীদার নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশান কোম্পানি লিমিটেড এ তথ্য জানিয়েছে।
পায়রা প্ল্যান্টের নির্মাণ স্থলে ৭০০০ বাংলাদেশী ও ২৭০০ চীনা কর্মী কাজ করছে। সেখানে একজন বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। গুজব রটে যে, এক চীনা নাগরিক বাংলাদেশীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল।
সঙ্ঘাত থামাতে কয়েকশ পুলিশকে তলব করা হয়। ওই সংঘর্ষে এক চীনা কর্মী মারা যায় এবং অন্তত সাতজন আহত হয়।
উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কর্তৃপক্ষ সকল বাংলাদেশী শ্রমিককে দুই সপ্তাহের ছুটিতে পাঠিয়েছে এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। চীনা কর্মীরা সপ্তাহ শেষে কাজ শুরু করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে, একজন চীনা কর্মীর মৃত্যু বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্কের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
মোহাম্মদ রুহুল আমিন বেনারনিউজকে বলেন, “তবে চীন হয়তো তাদের নাগরিকের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করতে পারে এবং নিশ্চয়ই তারা সেখানে ন্যায়বিচার চাইবে। বাংলাদেশী আইন অনুযায়ী যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়, তাহলে আমি মনে করি না যে, চীনের সেখানে অন্য কোন উদ্বেগ থাকবে”।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, “আমরা আশা করি পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে”।
সহিংসতার ঘটনায় ১৪ জন বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও সন্দেহভাজনকে শিগগিরই গ্রেফতার করার ব্যাপারে আশা করছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী বলেছেন যে, প্ল্যান্টে তাকে এবং অন্যান্য বাংলাদেশীর সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, যেহেতু হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন, তাই সরকারী কর্মকর্তারা বিষয়টিকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করছেন।
ওই কর্মী বলেন বাংলাদেশীদের সহায়তা করার মতো কোন ইউনিয়ন নেই এবং তাদের শ্রম অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ব্যবস্থাপকদের কাছে যখন বিষয়টি জানাই আমরা, তারা আমাদের কথার গুরুত্ব দেন না। আমাদের জন্য এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, চীনারা আমাদের মাটিতে আমাদের সাথে দাসের মতো আচরণ করছে”।

অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ ছিল দুই খুনি

প্রকাশ্যে এভাবে কুপিয়ে হত্যা! স্ত্রী শত চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলেন না স্বামীকে। বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে গতকাল এমন নৃশংস দৃশ্য দেখা যায়, যা কারও কাম্য নয়। কিন্তু যে দুই যুবক এই হত্যালীলা চালালেন, তারা কারা? এ প্রশ্ন এখন দেশবাসীর। সবাই জানতে চাচ্ছেন, এদের শক্তির উৎস কী?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারী দুই জনের একজন রিফাত ফরাজী। আরেকজনের নাম নয়ন (২৫) বন্ড।
দুইজনই অনেক আগে থেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। তাদের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
রিফাত ফরাজী
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন রিফাত ফরাজী। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কারণে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও অজ্ঞাত এক কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পান তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করেন রিফাত ফরাজী।
তরিকুল জানান, একদিন সামান্য কথা কাটাকাটি হয় রিফাত ফরাজীর সঙ্গে তার। তখন রিফাত ফরাজী তাকে কুপিয়ে যখম করার হুমকি দেন। রিফাত ফরাজীর ভয়ে তিনি দেড় মাস রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে তার বাসায় যাওয়া আসা করতেন। হুমকি দেয়ার দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন সন্ধ্যায় রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে তরিকুল তার বাসায় যাওয়ার পথে রিফাত ফরাজী দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মাথায় গুরুতর যখম করেন। এ ঘটনায় তরিকুলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
একই বছর রিফাত বরগুনার ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিকেপি রোডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ডিকেপি রোডের আমাদের ভাড়া দেয়া বরগুনা পলিট্যাকনিক ইনিস্টিটিউটের মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করেন রিফাত ফরাজী। এ ঘটনা জানার পর আমি বরগুনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করায় রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তিনি রিফাতের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৪টি মোবাইলের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেন। আর বাকি তিনটি মোবাইল উদ্ধার করতে না পেরে নতুন মোবাইল কিনে দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান।’
২০১৭ সালে বরগুনায় ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন ও দেশীয় অস্ত্রসহ নয়নসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ
বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন, ‘২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ায়। তখন রিফাত ফরাজী একদিন মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি রিফাত ফরাজীর মা-বাবাসহ স্থানীয় অনেককে জানানোর পরও আমার ভাইয়ের মোবাইলটি কেউ উদ্ধার করে দিতে পারেনি। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার পর সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি দেন রিফাত ফরাজী। পরে রিফাত ফরাজীর হুমকিতে ওই এলাকা ছেড়ে একপ্রকার পালিয়ে আসে আমার ভাই।’
নয়ন বন্ড
বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ার কারণে মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছেন নয়ন।
২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুটি দেশীয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসব মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন।
এ ঘটনায় জাগো নিউজসহ দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের বিরুদ্ধে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন নয়ন বন্ড। জেল থেকেই বেরিয়ে মূলত এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার কথাও আমরা জেনেছি। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগী জেল খেটেছে। জামিনে তারা বেরিয়ে যায়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়নসহ সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

হাঙর কেড়ে নিল তরুণীর প্রাণ

আটলান্টিক মহাসাগরের বাহামা দ্বীপপুঞ্জে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক মার্কিন তরুণী। সাগরে সাঁতার কাটতে নামলে তার ওপর হামলা করে তিনটি হাঙর। হাঙরের আক্রমণেই মৃত্যু হয় তার। ২৬ জুন এই ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম জর্ডান লিন্ডসে। পরিবারের সাথে বেড়াতে গিয়েছিলেন বাহামা দ্বীপপুঞ্জে। পানিতে নামার পরই তিনটি হাঙ্গর তাকে আক্রমণ করে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা তীর থেকে হাঙ্গরগুলোকে দেখে লিন্ডসেকে সাবধান করতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে তাদের সাবধান বার্তা খেয়াল করেনি।
সিএনএন অনলাইন জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যান ওই তরুণী। তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।
রয়্যাল বাহামা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পল রোলে তরুণীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, বুধবার বেলা দুইটায় এই ঘটনাটি ঘটে। তিনটি হাঙ্গরের মুখে পড়ে জর্ডানের মৃত্যু হয়েছে। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের রোজ দ্বীপে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে নেমেছিলেন তিনি।
স্থানীয় টেলিভিশন কেএবিসি জানিয়েছে, লিন্ডসের বাবা-মা বলছে, তারা হাঙ্গরগুলোকে দেখে মেয়েকে সতর্ক করেছিল কিন্তু মেয়ে তাদের কথা শোনেনি। কর্মকর্তারা বলছে, মৃত তরুণীর হাত-পা আর নিতম্ব ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে ঘাতক হাঙ্গরগুলো।
হাঙ্গরের আক্রমণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। বাহামার বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মার্কিন তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তারা এ জন্য তরুণীর পরিবারে প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ ক্যালিফোর্নিয়ায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তারা।

এ যেন আরেক আয়লান

সিরিয়ার শিশু আয়লান কুর্দির মৃত্যু সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তুরস্কের বোরদুম শহরে ভেসে ওঠা তার মৃতদেহের ছবি কাঁদিয়েছিল বিশ্ব বিবেককে। আবারো দেশ বদলানোর চক্করে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আরেক  আয়লান কুর্দিকে দেখলো বিশ্ব।
স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সুন্দর জীবনের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ রামিরেজ। এল সালভাদর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ায় তার সফর সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী তানিয়া ভ্যানেসা ও কন্যা ভ্যালেরিয়া। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পৌঁছাতেও পেরেছিলেন। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তাই বাধ্য হয়েই মেক্সিকো থেকে রিও গ্রান্দে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন আলবার্তো মার্টিনেজ।
কিন্তু তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
সোমবার রিও গ্রান্দে নদীর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় আলবার্তো মার্টিনেজ ও ভ্যালেরিয়ার মৃতদেহ। মৃত্যুর পূর্বে বাবার নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেছিল ভ্যালেরিয়া। তার মাথা বাবার টি-শার্টের মধ্যে গোঁজা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন মার্টিনেজ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের এই মৃতদেহের ছবি তুলেছেন সাংবাদিক জুলিয়া লি ডাক। মেক্সিকোর সংবাদপত্র লা জরনাডাতে মঙ্গলবার ছাপানো হয় এই ছবি। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আয়লান কুর্দির মরদেহের ছবির মতো ভ্যালেরিয়ার মরদেহটিও নাড়া দিয়েছে বিশ্ববাসীর হৃদয়কে।
জানা যায়, ঘটনার দিন রিও গ্রান্দে নদী পার হওয়ার সময় ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা। প্রথমে মেয়ে ভ্যালেরিয়াকে নদী পাড় করে মার্টিনেজ ফিরে যান তার স্ত্রীকে নিয়ে আসতে। এমন সময় মেয়ে বাবার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নেমে গেলে তাকে বাঁচাতে আবারো সাঁতরে আসেন মার্টিনেজ। কিন্তু তীব্র স্রোতে ভেসে যায় দুজনই।
প্রথম থেকেই শরণার্থীবিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ। শরণার্থী আগমন থামাতে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে। মেক্সিকোর ওপর করেছেন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ। তারপরও একটু উন্নত জীবনের আশায় সবকিছু মায়া ত্যাগ করে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমাতে চায় মানুষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিষ্ঠুর আচরণে মৃত্যুর মুখে পড়ছে ভ্যালেরিয়ার মতো নিষপাপ শিশুরা। আয়লান কুর্দি কিংবা ভ্যালেরিয়ারা মধ্যপ্রাচ্য বা লাতিন আমেরিকার রাজনীতি বোঝে না। কিন্তু এই রাজনীতির সব থেকে বড় বলি হচ্ছে তারা।

তৃণমূল নেতা কি আসলেই ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত দিলেন?

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন এক তৃণমূল নেতার কথিত 'ঘুষের টাকা ফেরত' দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। বীরভূম জেলার ওই গ্রাম স্তরের নেতা গত মঙ্গলবার দু'লাখ টাকারও বেশী 'ঘুষ নেওয়া অর্থ' ফিরিয়ে দিয়েছেন গ্রামের মানুষকে, এই খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস ওই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলি একটি ভিডিও সহ খবর দেখাচ্ছে যে বীরভূম জেলার সিউড়ি অঞ্চলের এক গ্রাম স্তরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ত্রিলোচন মুখার্জী গ্রামের মানুষদের খাতায় সই করিয়ে নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছেন।
গ্রামের মানুষদের একাংশকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম বলছে, ওই নেতা জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য আসা অর্থের একটা বড় অংশ ঘুষ হিসাবে নিয়ে নিতেন। এদিন চাপে পড়ে সেই অর্থই তিনি ফিরিয়ে দেন ১৪১ জন গ্রামবাসীকে।
ফিরিয়ে দেয়ার ফলে একেকজন গ্রামবাসী ১৬০০ টাকা করে পেয়েছেন, যেটা মাস দুয়েক আগে কর্মসংস্থান প্রকল্পে তাদের কাজ করার মজুরী।
মোট প্রায় সওয়া দুলাখ টাকা এদিন বিলি করা হয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, ওটা সম্পূর্ণ বানোয়াট খবর।
বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মন্ডল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "এটা পুরো সাজানো ঘটনা। অনেক গ্রামবাসীর কাছে আধার নম্বর নেই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। কিন্তু তাদেরও ১০০ দিনের কাজ দিতে হয়। এইসব গ্রামবাসীদের টাকাই তিনি বিলি করছিলেন। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ এটাকেই 'কাটমানি' ফেরত বলে প্রচার করছে।"
ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ত্রিলোচন মুখার্জীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় নি। কিন্তু তিনি যেখানে থাকেন, সেই সিউড়ি দুনম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি নুরুল ইসলামও ঘটনাটিকে পুরোই সাজানো বলে মন্তব্য করলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গতসপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন যে তার দলের কোনও নেতার ঘুষ নেওয়া তিনি বরদাস্ত করবেন না। যারা টাকা নিয়েছেন, তারাও যেন ফেরত দিয়ে দেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমে যাওয়া আর বিজেপির দ্রুত উত্থানের পিছনে অন্যতম কারণ স্থানীয় স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি।
মমতা ব্যানার্জীর ওই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের বাড়ির সামনে। কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বাড়ি ভাঙচুরও হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবস্থা সামাল দিতে নেমে দাবি করেন যে দলের ৯৯.৯৯ শতাংশ নেতা কর্মীই সৎ। যে সামান্য অংশ অসৎ, তারাও বিজেপিতে চলে গিয়ে পিঠ বাঁচাতে চাইছেন।
পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে যাতে না চলে যায়, সেজন্য সরকারও ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা ঘোষণা করেছে ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানোর জন্য স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি অভিযোগ সেল খোলা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।