Wednesday, February 14, 2018

এ এক অন্যরকম বন্ধন by হাফিজ মুহাম্মদ

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” জগদ্বিখ্যাত শিল্পী ভুপেন হাজারিকার এ গানের মর্মকথায় অনেকে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছেন। ভালোবাসা শব্দটির নানা অর্থ। নানা ব্যবহার। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে ভালোবাসা বলতে সামনে চলে আসে তরুণ-তরুণীর ভালোবাসার কথা। সন্তান আর পিতা-মাতার ভালোবাসার কথাও কেউ কেউ সামনে নিয়ে আসেন। তবে এর বাইরেও মানুষের মাঝে এক অপার্থিব ভালোবাসা রয়েছে।
যেখানে নেই কোনো চাওয়া পাওয়া, টাকার মোহ কিংবা কোনো ধরনের স্বার্থ। এমন একটি ভালোবাসার নাম ‘রক্ত দান’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লুএইচও)-এর হিসেব মতে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ১১ কোটি ব্যাগ রক্ত স্বেচ্ছায় সংগৃহীত হয়। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ ভাগ রক্ত স্বেচ্ছায় দান থেকে সংগৃহীত হবে বলেও তারা জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে; বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। তবে ছয় লাখ ব্যাগ রক্তের যোগান হয়। যা আসে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন থেকে। আগামী বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চাহিদাও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে সংগৃহীত হবে বলে তারা আশা করেন। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন। ইন্টারনেটে যোগাযোগ বৃদ্ধি আর সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপাত্যের যুগে এসব সংগঠননের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারা নিজেরা রক্ত দান করে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মিলে রক্তদানের কয়েকশত গ্রুপ, পেইজ। এসব গ্রুপ-পেইজও বিভিন্নভাবে রক্ত প্রদানে সহায়তা করে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন। গ্রুপের সদস্যরা কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াই নিজদের রক্ত দিয়ে ভালোবাসা পরিশোধ করছেন একে অন্যের মধ্যে। পাচ্ছেন অপার্থিব সব অনুভূতি।
‘বাঁধন’। বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের একটি সংগঠন। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রিক সংগঠন পরিচালনা করে এসেছে। বাঁধনের রয়েছে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক। সরকারের রেজিস্ট্রেশনকৃত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন ১৯৯৭ সালের ২৪শে অক্টোবর যাত্রা শুরু করে। ‘একের রক্তে অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাধন’ স্ল্লোগানে তারা ভূমিকাও রাখছে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে মানুষ রক্ত শূন্যতায় ভুগে। সঠিক সময়ে রক্ত না পেয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেও অনেকে রক্তের সাহায্যের আবেদন জানান। সেসব রোগীদের রক্তপ্রদান করে থাকে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে রক্তের যোগান দেয়ার জন্য বাঁধনের প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত থাকে। ফরিজুল আরও বলেন, সারা দেশে ১৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৫টি সরকারি কলেজে বাঁধনের কার্যক্রম চলছে। বাঁধন ২০১৬ সালে ৫৭ হাজার ৮৩৯ ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে প্রদান করেছে। তবে ২০১৭ সালের হিসেব না করলেও সে সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও ২০১৬ সালে বাঁধন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৭ জনের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করেছে। ফারিজুলের তথ্যমতে, স্বেচ্ছায় রক্তের প্রদানের বাইরেও তারা বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আর এগুলো করেন সদস্যদের সহযোগিতার মাধ্যমেই। বাঁধন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিটের সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান রাজু বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে বাঁধনের কাজ ভালো চলে। আমি এবছর সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েছি। ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীরনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁধন শাখা ৩ হাজার ৬০০ ব্যাগ রক্ত দান করেছে। তাছাড়া প্রায় ১১ হাজার সদস্যের রক্তের গ্রুপ বিনামূল্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
বাঁধনের বাইরে দেশের আরেকটি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠনের নাম হচ্ছে ‘সন্ধানী’। মেডিকেল কলেজভিত্তিক এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭৭ সালে। বর্তমানে ১৭টি সরকারি এবং ৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে সন্ধানীর কার্যক্রম চলছে। সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে পালন করছেন শাহ পরান ইসলাম প্রবাল। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন রক্তদানে কয়েকভাবে কাজ করে থাকে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। এটা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে করি। এসময় রক্তদাতাদের ডোনার কার্ডও দেয়া হয়ে থাকে। যা দিয়ে পরে ওই ব্যক্তি নিজে অথবা পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশের যেকোনো সন্ধানী কেন্দ্র থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারেন। আমাদের সংগঠন রক্তদানে চারটি কার্যক্রম হচ্ছে। বিনিময় প্রথা। যার মাধ্যমে এক গ্রুপের রক্ত দিয়ে অন্য গ্রুপের রক্ত নেয়া যায়। রক্তদানে উৎসাহ প্রদান করাই এর মূল উদ্দ্যেশ্য। তাছাড়া ডোনার কার্ড, শর্ত ব্যতীত ইমার্জেন্সি রক্তদান এবং থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত দান করা হয়ে থাকে। এ সংগঠন দুটির বাইরেও দেশে রক্তদাতাদের আরও অসংখ্য সেবামূলক সংগঠন রয়েছে। এগুলো প্রতিষ্ঠান, নগরী, স্কুল-কলেজ ও বিভাগ ও জেলা শহরে সেবা পরিচালনা করে যাচ্ছে। আর এ সবে তারা ব্যবহার করেছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া। অনেকে আবার ওয়েব সাইট তৈরি করেও রক্ত সংগ্রহ এবং প্রদান করে যাচ্ছেন। যারা সম্পূর্ণ অনলাইনে এ সেবা প্রদান করছে সে গুলো হচ্ছে- ব্লাড ডোনেশন বাংলাদেশ, প্রভাত ব্লাড ডোনেশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংক, কল ফর ব্লাড, কণিকা, রক্ত দাও জীবন বাঁচাও, হাদী ব্লাড ব্যাংক, আশার আলো ব্লাড ডোনেশন ইত্যাদি। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরে রয়েছে বিনামূল্যে রক্তদাতাদের সংগঠন। বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামেও রয়েছে বেশ কিছু রক্তদানের সংগঠন। সিটিজি ব্লাড ব্যাংক, বাংলাদেশ হিউম্যান অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএ), বাংলাদেশ ব্লাড ডোনার্স ফোরাম, রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ও শার্দুলসহ একাধিক সংগঠন। এ বিভাগে উপজেলা পর্যায়েও রক্তদানের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি অনলাইন রক্তদান সংগঠন বগুড়া, ফটিকছড়ি ব্লাড ব্যাংক, বোয়ালখালীর কল্যাণে ইত্যাদি। অন্যদিকে দেশের মেডিকেল আর বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধানী আর বাঁধনের বাইরেও রয়েছে আরো অনেক সংগঠন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বলাকা, চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাড ব্যাংক। এসবের বাইরেও কোয়ান্টাম মেথড, রেটিনা, রেড ক্রিসেন্টসহ বেশ কিছু সংগঠন রয়েছে। এদের কার্যক্রম ভিন্নভাবে পরিচালনা হলেও রক্ত দিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।
রক্তদাতাদের এমন ভালবাসা সমাজে অতুলনীয়। মাত্র একটি কল কিংবা টেক্সটের মাধ্যমে সংগ্রহ হয়ে যাচ্ছে দরকারি গ্রুপের রক্ত। দেশের রক্তের চাহিদা মেটাতে তরুণরা দ্রুত এগিয়ে আসছে। একসময় রোগীদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় রক্তের চিন্তায় মাথা ভাজ ফেলতো। এসব সংগঠনের উদ্যোগে বর্তমানে তার অনেকটাই অবসান হয়েছে। ভালোবাসা আদান-প্রদান হচ্ছে রক্তের বিনিময়ে। অপরিচিত ব্যক্তির একটা ডাকেও তারা চলে যাচ্ছেন রক্ত দিয়ে ভালোবাসা তৈরি করতে। এসব বন্ধন টাকা-পয়সার নয়। শুধুই ভালবাসার।
সন্ধানীর নিয়মিত রক্তদাতা মাইনুল হাসান বলেন, আমি সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত রক্ত দিয়ে আসছি। আমার সংগঠন ছাড়াও প্রয়োজন পড়লে বাইরের কোনো ব্যক্তিকেও রক্ত দিই। রক্তদানের অনুভূতির কথা বলে শেষ করা যাবে না। যখন কাউকে রক্ত দিই তার ভালোবাসা এক অন্যরকম পাওয়া। রক্তদাতা আর গ্রহীতার মাঝেও তৈরি হয় অপার্থিব বন্ধন।

অসহায় রোগীদের প্রতি ভালোবাসা by শুভ্র দেব

সরকারি হাসপাতালে সেবিকার চাকরি করেন। নির্ধারিত কাজ প্রতিদিনই করতে হয়। কিন্তু এর বাইরেও গরিব অসহায় রোগীদের প্রতি তাদের অন্য রকম ভালোবাসা কাজ করে। বাড়িতে ভালো রান্না হলে তা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গরিব অসহায় কোনো রোগীর মুখে তুলে দেন। টাকার অভাবে কোনো রোগী ওষুধ কিনতে পারছে না, তাদেরকে ওষুধ কিনে দেন।
হাসপাতালে থাকার জন্য দরকার হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুর। টাকার অভাবে সবাই কিনতে পারে না। তখন নিজেদের মধ্যে থেকে চাঁদা তুলে কিনে দেন। গরিব রোগীরা যখন তাদের শিশুদের কাপড় কিনে দিতে পারে না, কাপড়ও কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আবার কোনো বিশেষ দিনে সবার প্রচেষ্টায় খাওয়ানো হয় গরিব অসহায় কিছু রোগীদের। রোগীদের প্রতি এরকমই এক ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কিছু সেবিকা।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের কেবিন ব্লক ও তার পাশে গ্রিন ইউনিট ও নন ইকুইটি ফিমেল ওয়ার্ড। ৬৬ বেডের এই ওয়ার্ডগুলোর সেবিকাদের ইনচার্জ হলেন সুলেখা বাসিয়া। তারই নেতৃত্বে কাজ করেন সেবিকা তাসলিমা খাতুন, রেখা বালা, সুমনা দেউড়ি, সুমা আক্তার, হোসনে আরা আক্তার, সুফিয়া আক্তার, শিউলি আক্তার, সুলতানা রাজিয়া, দীপু বারই, শিল্পি আক্তার, পারবন সম্মানিত, শামিমা আক্তার। হাসপাতালের রোস্টার অনুযায়ী সকালে ৬ জন, বিকালে ৩ জন ও রাতে ২ জন সেবিকা দায়িত্ব পালন করেন। মূলত সেবিকাদের ইনচার্জ সুলেখা বাসিয়ার উদ্যোগেই এখানকার সেবিকারা রোগীদের প্রতি ভালোবাসার অন্যরকম এক বন্ধন তৈরি করেছেন। সুলেখা মানবজমিনকে বলেন, আমি সেই ১৯৯৮ সালে নার্সিং ডিপ্লোমা শেষ করেছি। তারপর ধানমন্ডি ক্লিনিক, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) চাকরি করি। ২০১০ সালে আমার সরকারি চাকরি হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের একটি সরকারি হাসপাতালে যোগদান করি। ২০১১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আসি। আর ২০১৪ সাল থেকে কেবিন ব্লকের ইনচার্জ হিসাবে কাজ শুরু করি। সুলেখা বলেন, ছোট বেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল সেবিকা হয়ে রোগীদের সেবা করব। তাই আমি নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা করি। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই গরিব রোগীদের প্রতি আমার অন্যরকম একটা ভালোবাসা কাজ করত। কারণ, যারা দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পারে না। তারা অসুস্থ হলে কিভাবে চিকিৎসার খরচ যোগাবে। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের জন্য আমার অনেক কষ্ট হতো। কারণ, বার্ন ইউনিটে যারা চিকিৎসা নেন তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হয়। আমরা দীর্ঘদিনই তাদেরকে সেবা করি। তাই তাদের সঙ্গে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। অনেক সময় চোখের সামনে যখন দেখি তারা ভালো খাবার খেতে পারছে না। কাপড় কিনতে পারছে না। ছোট বাচ্চাদের কিছু কিনে দিতে পারছে না, তখন সত্যিই অনেক খারাপ লাগত। বাসায় যখন ভালো কিছু রান্না করতাম তখন তাদের কথা মনে হতো। তাই ভালো কোনো রান্না হলেই গরিব অসহায় কিছু রোগীর জন্য নিয়ে আসতাম। তাদের খাবার খেতে দেখলে অনেক ভালো লাগত। ভালো খাবার খেয়ে তারাও অনেক খুশি হতো। এমনকি অনেক সময় যারা হাসপাতালের পক্ষ থেকে খাবার দিতে আসে তাদেরকে বলি গরিব অসহায় রোগীদের একটু বেশি খাবার দিতে। সুলেখা বাসিয়া আরো বলেন, শুধু আমি না। রোগীদের প্রতি আমার এরকম ভালোবাসা দেখে এগিয়ে আসেন আমার সহকর্মীরা। তারাও যখন দায়িত্ব পালন করে তখন এসব দেখে তাদেরও খারাপ লাগত। সহকর্মী অনেকেই এসে বলত দিদি এই ওষুধটা কম আছে। সবাইকে দেয়া যাবে না। তখন আমি বলতাম যারা কিনতে পারবে তাদেরকে দেয়ার কোনো দরকার নাই। গরিব অসহায় যারা ওষুধ কিনতে পারবে না তাদেরকেই দাও। এতে করে কেউ রাগ করলে কিছু করার নাই। তারাও তাই করত। কেনার মতো সামর্থ্য যাদের নাই তাদেরকেই ওষুধ দিত।
একই ওয়ার্ডের সেবিকা রেখা বালা মানবজমিনকে বলেন, যখন নার্সিংয়ে পড়েছি তখন জেনেছিলাম একটি ওয়ার্ড হেড টু টো। এর মানে হচ্ছে সেবিকাদের রোগীর ক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সর্বত্রই সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। সেটা শারীরিক, মানসিক যাই হোক না কেন। আমরা সেবার জন্য চাকরি নিয়েছি। তাই শুধু শারীরিক সেবা করব কেন? রোগীদের মানসিক অনেক বিষয় আছে সেগুলো যদি আমরা জানতে পারি, বুঝতে পারি তবে বসে থাকব কেন। আমরা চাই একটা রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। সেটা যেভাবেই হোক না কেন। তাই চেষ্টা করি যখন কোনো রোগীর শারীরিক সমস্যা ছাড়া খাবার, কাপড়, ওষুধসহ অন্য কোনো  সমস্যায় পড়ে তখন তাকে সাহায্য করার। এতে তারাও যেমন খুশি হয়, আমরাও খুশি হই। একটি উদাহরণ দিয়ে রেখা বালা বলেন, আমাদের চেইঞ্জিং কক্ষে রোগী ও বহিরাহতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু কোনো  রোগী হয়ত মাথায় পানি দিবে বা ওয়াসরুম ব্যবহার করবে। আমরা তাদেরকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিই। শিল্পি আক্তার নামের আরেক সেবিকা মানবজমিনকে বলেন, বার্নের রোগীদের সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হয়। তাই তাদের সঙ্গে আমাদের একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনেক সময় দেখী কিছু রোগী বাচ্চাদের কাপড় পরাতে পারছে না। এক কাপড় দিয়েই দিনের পর দিন পার করছে। আবার খাবারও কিনে দিতে পারছে না। তখন অনেক খারাপ লাগে। তাই আমরা বাসা থেকে আবার অনেক সময় টাকা দিয়ে কিনে কাপড় ও খাবার দিই।
সেবিকা শামিমা আক্তার মানবজমিনকে বলেন, একটা সময় ছিল, প্রচুর রোগীর গোটা কয়েক সেবিকা সেবা দিত। তাই সব রোগীর বেশি সময় দেয়া যেত না। সেই তুলনায় এখন জনবল কিছুটা বেড়েছে। তাই আমরা রোগীদের কাছাকাছি থাকতে পারি। কাজ করার সময় তাদের অনেক সমস্যার কথা দেখি এবং জানতে পারি। তখন আমাদের সাধ্যমতো সমস্যাগুলো সমাধান করি। বার্নের অন্য ওয়ার্ডের তুলনায় আমাদের কেবিন ব্লক ও আরো দুই ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ একটু কম থাকে। তাই আমরা রোগীদের একটু বেশিই সেবা দিতে পারি।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের ছয় তলার গ্রিন ইউনিটের ৬১৯ নম্বর বেডের ৯ বছর বয়সী রোগী রিপন। তাকে সবাই ছোট বৃক্ষ মানব হিসাবে চিনে। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে রিপন বলে, দিদিরা আমার অনেক যত্ন  করেন। সব সময় আমার খোঁজ খবর নেন। এ ছাড়া আমাকে খাবার এনে দেন। রিপনের মা গোলাপি বলেন, গরিব মানুষ আমরা। ছোটবেলা থেকে আমার ছেলেটা অসুস্থ। অনেকদিন ধরে তাকে এখানে ভর্তি করেছি। টাকার জন্য যখন ওষুধ কিনতে পারি না তখন দিদিরা ওষুধ দেন।

মিয়ানমার সেনাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি রোহিঙ্গাদের ওপর বিভৎস হত্যাযজ্ঞের কথা স্বীকার করতে অং সান সু চির ওপর চাপ প্রয়োগ ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।-খবর রয়টার্স। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশেরও প্রশংসা করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন চালানোর কথা নাকচ করে দিয়েছে। তারা যে মিথ্যা বলছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের নৃশংসতার সাক্ষ্য বহনকারী রাখাইনে তারা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও সেখানে যেতে পারছে না। রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে আটক মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকেরও মুক্তি দাবি করেন নিক্কি হ্যালি। তিনি বলেন, আমরা তাদের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। দুই সাংবাদিককে আটকে মিয়ানমারের যুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকে দোষারোপ করার প্রবণতা আছে। গত সপ্তাহে রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ইনদিন গ্রামের ১০ রোহিঙ্গাকে উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনী কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে কবর দেয়া হয়েছিল, সেই বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘে ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঙ্কোইস ডেলাটরে বলেন, রয়টার্সের খবরে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার যে খবর দেখেছি, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। মিয়ানমার জাতিগত নির্মূল অভিযানের কথা অস্বীকার করেছে। চীন ও রাশিয়ার ভেটোতে মিয়ানমারকে চাপে রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার ওই দুই বিশ্ব শক্তি জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত ডিমিত্রি পলিয়ান্সকি বলেন, বিভিন্ন তকমা ব্যবহার করে,
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ও গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন ছেপে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত কিংবা নিন্দা জানিয়ে কেবল সমাধানের রাস্তার দূরত্ব বাড়ানো যাবে। এতে কোনো সুরাহা আসবে না। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হুয়া দো বলেন, কিছু কূটনৈতিক রাখাইন রাজ্যে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কিন্তু কুয়েতি রাষ্ট্রদূত মানসুর আইয়াদ আল ওতাইবি বলেন, চলতি মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সেখানে যেতে পারেনি। কারণ এটি সঠিক সময় ছিল না। হুয়া দো বলেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এক তদন্তে ইনদিন গ্রামে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির ১০ সদস্যকে আটক করে তাদের হত্যা ও কবর দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আর এ জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ কর্মকর্তা ও গ্রামবাসীসহ ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জবাবদিহিতার জন্য এ তদ্ন্ত খুবই ইতিবাচক। তিনি বলেন, মিয়ানমারের প্রতিটি নাগরিক দেশের আইন মেনে চলতে বাধ্য। রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও কাজাখস্তান রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে। সাড়ে ৩ ঘণ্টার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও বলিভিয়াসহ ১২ দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন কুয়েতের রাষ্ট্রদূত শেখ সাবাহ খালিদ আল হামাদ।

অনৈক্যের কারণে মুসলমানরা পৃথিবী জুড়ে মার খাচ্ছে

মুসলমানদের অনৈক্যের কথা উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, মুসলমানদের অনৈক্যের কারণে পৃথিবী জুড়ে মুসলমানরা মার খাচ্ছে। সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের ধনুহাজী ঈদগাহ মাঠে ধনুহাজী বাড়ি ও কালুহাজী বাড়ি যুব সমাজ আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্বিক) আব্দুস সাত্তার, নাসিক ৪নং কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান, কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজু, দৈনিক যুগান্তরের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসেন চিশতী সিপলু। নারায়ণগঞ্জবাসীকে আল্লাহর গজব থেকে বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জের ৪০ বছরের পুরো টানবাজারের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করেছিলাম। কেননা যে এলাকায় জেনা বা ব্যভিচারবৃত্তি হয়, টাকার বিনিময়ে মা-বোনের ইজ্জত বিক্রি হয়,
সে এলাকায় আল্লাহর গজব নাজিল হয়। শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আমাদের সবার জন্য আপনারা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করবেন। কালুহাজী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা যোবায়ের হোসেন সাদী, হাফেজ মাওলানা হুজাইফা সিদ্দিক, হাজী আবুল কাশেম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুয়েল হোসেন (জুয়েল), মারফত আলী, আয়নাল হোসেন, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, রুহুল আমিন, হাজী জালাল উদ্দিন ও মতিউর রহমান (মতু) প্রমুখ। নিজেকে কাজপাগল মানুষ উল্লেখ করে শামীম ওসমান আরও বলেন, আমি বেশি বেশি কাজ করে মানুষকে খুশি করতে চাই। মানুষকে খুশি করতে পারলেই আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। যুব সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, বাবা-মায়ের দোয়া থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই তোমাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে।

ফারমার্সকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি

অর্থসংকটে পড়া নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া বিষয়ে সভা ডেকেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তারল্য জোগানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) এক সভায় যোগ দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এ সভার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে প্রধান ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে সভায় উপস্থিত লোকজনকেও নিষেধ করা হয়। সভা থেকে বেরিয়ে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে বিবৃতি দেবে। তবে গতকাল রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, ফারমার্স ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। চেয়ারম্যান, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তনের পর নতুন করে তাঁদের টাকা জমা ও মূলধন দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইঙ্গিতে পর্ষদে পরিবর্তন আসে। নতুন পর্ষদ তারল্যসংকট কাটাতে উদ্যোগ নেয়। নিজেরা কোনো টাকা না দিয়ে আবারও সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দেয় ফারমার্স ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়া এ ব্যাংকে নতুন করে টাকা দেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। এরপর গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সভা আহ্বান করে চেয়ারম্যান ও এমডিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সভা সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মূলধন জোগানের প্রস্তাব দেওয়া হলে ব্যাংকগুলো আরও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কী পদ্ধতিতে ব্যাংকটিকে সহায়তা করা হবে, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনার কথা জানায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলধন জোগানের চিন্তার পাশাপাশি কল মানি বা ধার দেওয়ার কথাও বলা হয়। এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাংকগুলো বলছে, আইসিবির নেতৃত্বে জোট গঠন করে অর্থায়ন করা হলে ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনায় অর্থ জোগানদাতা ব্যাংকগুলোর কোনো ভূমিকা থাকবে না। তাই ব্যাংকগুলো মূলধন হিসেবে টাকা দিতে চায়, পাশাপাশি ফারমার্স ব্যাংকের পর্ষদেও বসতে চায়। কারণ নতুন করে ব্যাংকটি খারাপ করলে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আর অর্থায়নের দায় আসবে বর্তমান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির ওপর।
তবে ফারমার্স ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ তাতে রাজি না। সভার বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোন প্রক্রিয়ায় অর্থায়ন করা হবে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা চাই মূলধন দিয়ে পর্ষদে বসতে।’ আইসিবির চেয়ারম্যান মুজিব উদ্দিন আহমেদ সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকটিকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। দেখা হচ্ছে কী প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা যায়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ ফারমার্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরুতেও আইসিবি অর্থায়ন করেছে, এরপরও কেন এ অবস্থা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে পর্ষদে আইসিবির প্রতিনিধি ছিল। পরে আর ছিল না।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি ফারমার্স ব্যাংককে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়ে সহায়তার পক্ষে সম্মতি দেন। তবে কী প্রক্রিয়ায় এ টাকা দেওয়া হবে, সেটি নিয়েই আলোচনার জন্য গতকাল সভা ডেকেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটে পড়ে ব্যাংকটি বর্তমানে গ্রাহকের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গত নভেম্বরে পদ ছাড়তে বাধ্য হন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। ব্যাংকটির এমডি এ কে এম শামীমকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদকে চেয়ারম্যান ও মারুফ আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের সরিয়ে গত জানুয়ারিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সারাফাত।

এই সব লৌহমানব-মানবী by হাসান ফেরদৌস

বলা হতো, তাঁর দলে খালেদা জিয়া একাই পুরুষ, বাকি সবাই মিনমিনে বিড়াল। সেই খালেদা জিয়ার চোখে দেখলাম জল। এর আগে আরেকবার তাঁর চোখে জল দেখেছিলাম। সেবার সরকার খালেদার একটি বাড়ি নিজের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছিল। বাড়ি হারিয়ে তিনি হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন। এবার অবশ্য তাঁর প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি লৌহমানবী-সুলভ, মাত্র কয়েক ফোঁটা জল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে জেলে যেতে হবে, এমন কথা হয়তো ভাবেননি। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে আকাশ ভেঙে পড়বে, এমন আশঙ্কা কেউ কেউ ব্যক্ত করেছিলেন। হয়তো তিনি নিজেও সে কথা বিশ্বাস করতেন। অথচ কিছুই হয়নি। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এই লৌহমানবীর রাজনৈতিক জীবনের এটাই শেষ অধ্যায় কি না, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিক। এমন অনেকে আছেন যাঁরা মনে করেন, ফুটবল বা ক্রিকেট খেলায় যেমন পিছিয়ে থেকেও কোনো কোনো দল ‘কামব্যাক’ করে থাকে, তিনিও করবেন। রাজনীতিতে নাকি শেষ কথা বলে কিছু নেই। অতএব এ কথা সত্যি হলে হতেও পারে। তবে তাঁর বয়স তো বাড়ছে বৈ কমছে না। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মতো দেশে ক্ষমতাবানেরা কখনোই অপরাধ করে শাস্তি পান না, এবার এর একটি ব্যতিক্রম ঘটল।
এমন ঘটনা ঘটল, এর কারণ অবশ্য এই নয় যে বাংলাদেশে অবশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খালেদার দল ক্ষমতায় থাকলে এমন ঘটনা কিছুতেই ঘটত না, এ কথা মহামূর্খও জানে। এই কথা বলে অবশ্য ঘটনাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। একটি বিচার-প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে এই মামলার রায় হয়েছে, প্রায় ১০ বছর লেগে গেছে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে। কোনো বিশেষ আদালতে নয়, গোপন কোনো প্রক্রিয়ায় নয়, নিম্ন আদালতে সবার উপস্থিতিতে সাক্ষী-সাবুদ নিয়েই পুরো কাজটি শেষ হয়েছে। ফলে অনেকের আশা, ক্ষমতাবানদের আইনের শাসনের ভেতরে টেনে আনার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এটি যে কোনো ব্যতিক্রম নয়, এখন দরকার এই কথা প্রমাণ করা। অনেকে বলেছেন, মাত্র দুই কোটি টাকার মামলা, চোখের ওপর দিয়ে যে হাজার হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে, তার বেলায় কী? খুব ন্যায্য কথা। আমরা আশা করি-আশা নয়, দাবি করি, সেসব মামলাও এক এক করে মীমাংসা হবে। কিন্তু এই বাহানা দিয়ে দুই কোটি টাকা তছরুপের এই মামলার ব্যাপারে চোখ বুজে থাকব, সে-ও কোনো কাজের কথা নয়। অনেকে বলেছেন, আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। তাঁদের অভিযোগ, এই রায় ওপর মহল থেকে কলকবজা নেড়ে আগেভাগেই ঠিক করে রাখা ছিল। ওপর মহল যদি কলকবজা নাড়ার কথাই ভেবে থাকে, তাহলে এত লম্বা সময় ধরে এই প্রক্রিয়া চালু রাখল কেন? বাদীপক্ষ এই মামলা যতটা সম্ভব লম্বা করার চেষ্টা করেছে, নানা যুক্তিতে কালক্ষেপণ করেছে। সরকারপক্ষ তাতে আপত্তি তোলেনি, বরং মনে হয়েছে দক্ষ শিকারিরা মাছ ধরার সময় যেমন হুইল থেকে সুতো ছেড়ে মাছকে খেলিয়ে ক্লান্ত করে তারপর ঘপাৎ করে তাকে ধরে বসেন, এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার কথা যদি ওঠে তাহলে বলতে হয়, পৃথিবীর কোনো আদালত নেই, যেখানে রায় নিয়ে এই একই অভিযোগ ওঠে না। আমি যে দেশে থাকি, সেই আমেরিকায় প্রতিটি মামলার ফলাফল ঘোষণার সময় সব প্রতিবেদনে অবধারিতভাবে উল্লেখ থাকে, বিচারকদের কজন রিপাবলিকান, কজন ডেমোক্রেটিক। কিছুদিন আগে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছেন, রিপাবলিকান দল এই রাজ্যের আইন পরিষদ নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে বেআইনিভাবে নির্বাচনী এলাকা ভাগাভাগি করেছে। রায় ঘোষণার পর জানা গেল, নয়জন বিচারকের সাতজন ডেমোক্রেটিক, দুজন রিপাবলিকান। ডেমোক্রেটিক সাতজনই রায়ের পক্ষে, বাকি দুই রিপাবলিকান বিচারক রায়ের বিপক্ষে। এই রায় নিয়ে তর্ক হয়েছে, মৃদু প্রতিবাদ হয়েছে, এমনকি আইনি চ্যালেঞ্জও করা হয়েছে, কিন্তু তাতে রায়ের কার্যকারিতা বাতিল হয়নি। এ দেশের আইনব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, কাউকে এমন কথা বলতেও শুনিনি। বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতির দুই বৈশিষ্ট্য-পরিবারতন্ত্র ও গণতন্ত্রহীনতা। এই রায়ের ফলে তা আরও নোংরাভাবে প্রকাশিত হলো। অনেকে আশা করেছিলেন, খালেদার হাজতবাসের ভেতর দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, আসেনি। কার নেতৃত্বে এখন দল চলবে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো মেলেনি। দলের এক নেতা অবশ্য খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আমাদের রাজনৈতিক স্মৃতি এমনিতে বড় ক্ষণস্থায়ী। খালেদা জিয়ার এই সুপুত্র ক্ষমতায় থাকার সময় কী কাণ্ড করেছিলেন,
সে কথা হয়তো অনেকেই ভুলে গেছেন। এই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সূত্রে আমাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো মাত্র দুই কোটি টাকা, যা এঁদের জন্য হাতের ময়লা বৈ অন্য কিছু নয়, এই পরিবারের সদস্যরা সেটার ভাগ ছাড়তেও রাজি নন। এই মামলার ফলে তারেকেরও শাস্তি হয়েছে। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ায় জেলের ঘানি হয়তো তাঁকে টানতে হবে না, কিন্তু তাঁর ছবির ওপর যে ‘ধরিয়ে দিন’ ছাপখানা বসে গেল, তা মেটাবেন কী করে, সে বুদ্ধি তো আমার মাথায় আসে না। তারপরও তিনি দলের অস্থায়ী প্রধান। এই মামলার সূত্র ধরে বিএনপির জন্য একটা সুযোগ ছিল পরিবারতন্ত্র কাটিয়ে দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। বিএনপি যদি দলের নেতৃত্বে কিছুমাত্র গণতন্ত্রচর্চার অভ্যাস চালু রাখত, তাহলে হয়তো দেশের এই প্রধান দলটি নতুন পথ ধরে চলার সুযোগ পেত। এই দলে পরিবারতন্ত্রের অবসান হলে হয়তো অপর প্রধান দলেও সে চর্চা বন্ধ হতো। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। এই স্থবিরতা সত্ত্বেও এ রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত মিলছে। না, দলগুলো নিজ থেকে কোনো কিছুই বদলাবে না। যাঁরা ক্ষমতাসীন, শত অপরাধের পর আইনের হাত তাঁদের টিকিটিও ছুঁতে পারবে না। কিন্তু এই রায়ের সূত্র ধরে আমরা ওপর মহল কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভারী করে, তার একটা স্পষ্ট চিত্র পেয়েছি। এই মামলার সূত্র ধরেই আমরা তাদের অপব্যবহারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া শুরু করেছি। দাবি উঠেছে হল-মার্ক বা বেসিক ব্যাংকের হাজার কোটি টাকার হাতবদল তদন্তের। সামনে নির্বাচন আসছে। জনগণের হাতে তুরুপের তাস এখনো একটি আছে। এর সঠিক ব্যবহার হলে পরিবর্তনের পথে প্রথম পাথরটি ছোড়া আমাদের পক্ষেও সম্ভব হবে।
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি

সন্তান মা-বাবাকে কাছে নিতে পারবে না! by রাফিয়া জাকারিয়া

গত মাসে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কারের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা আইনের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। এর চুম্বক দিক মোটামুটি সবারই আগে থেকে জানা। সেগুলো হলো সমর্থকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আড়াই হাজার কোটি ডলার খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া এবং ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস অ্যাক্টের (ডাকা) আওতায় থাকা শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ খুঁজে বের করা। যাদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু মা-বাবা অবৈধ নাগরিক; সেই সব শিশু ডাকা আইনের সুবিধা পেয়ে থাকে। এখন নতুন আইনের খসড়া পাসের ওপর নির্ভর করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে, নাকি মা-বাবার সঙ্গে তাদেরও বিতাড়িত হতে হবে। হোয়াইট হাউসের ওই খসড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে ‘পারিবারিক পুনর্মিলন’ ভিসা এবং ডিভি লটারি ভিসা ব্যবস্থাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলার চেষ্টা রয়েছে। বিদ্যমান আইনে ‘পারিবারিক পুনর্মিলন’ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা স্বদেশ থেকে স্ত্রী, মা-বাবা ও ভাইবোনকে আমেরিকায় নিয়ে আসতে পারেন। এই খসড়া আইনসভায় অনুমোদনের জন্য শিগগিরই পাঠানো হবে। এটি পরিবর্তন ছাড়াই যদি পাস হয়ে যায়, তাহলে অভিবাসন পদ্ধতির খোলনলচে বদলে যাবে। অভিবাসীরা বড় ধরনের হয়রানির মুখে পড়বেন। যাঁরা এই হয়রানি এড়াতে চান, তাঁদের উচিত হবে দেরি না করে এখনই আবেদন করাসহ অভিবাসনসংক্রান্ত যাবতীয় প্রাথমিক কাজ শেষ করা। পারিবারিক অভিবাসন ক্যাটাগরি বিষয়ে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন থাকছে এই খসড়ায়। ‘ফ্যামিলি রি-ইউনিফিকেশন’ ভিসা কোটায় শুধু স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের আনা যাবে-খসড়ার এই দিকটি নিয়ে এমনকি ডেমোক্র্যাটরাও আপত্তি তুলেছেন। কিন্তু এই ক্যাটাগরির ভিসায় অন্য কতকগুলো সীমাবদ্ধতাকে তাঁরাও যে সমর্থন দেবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। এর কারণ হলো, ২০১৮ সালে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ডেমোক্র্যাটরা শ্বেতাঙ্গ কর্মজীবী শ্রেণিকে খুশি করতে চাইবেন। এই শ্বেতাঙ্গরা সব সময়ই ‘চেইন মাইগ্রেশন’-এর মাধ্যমে সব ধরনের অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়ার বিরোধিতা করে থাকেন। এতে তাঁদের কর্মসংস্থানে টান পড়ে। খসড়ায় এই ‘চেইন মাইগ্রেশন’ সীমিত করে আনা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা এই বিষয়ে আপত্তি তুলবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় যেসব অভিবাসী নিজ দেশে থাকা মা-বাবা ও ভাইবোনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের কাছে আনতে চান, তাঁরা বড় ধরনের বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। খসড়াটি আইন হিসেবে স্বীকৃত হলে তাঁরা আর স্বামী-স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান ছাড়া কাউকে আনতে পারবেন না। তবে তাঁরা যদি অনতিবিলম্বে তাঁদের মা-বাবা ও ভাইবোনদের আনার জন্য আবেদন করেন, তাহলে একটা আশার দিক আছে। খসড়া বিল পাসের এক দিন আগেও যদি তাঁরা আবেদন করেন, তাহলে তাঁদের বিষয়টি আগের আইনে বিবেচনা করা হবে। খসড়াটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অংশটি এইচ-১বি ক্যাটাগরির ভিসায় রয়েছে। এই ক্যাটাগরির ভিসায় সীমাবদ্ধতা এনে কেবল সুদক্ষ কর্মীদের অভিবাসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে এই ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের নিয়োগ করতে পারলেও তাঁদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত এই খসড়ায় ডিভি লটারি ভিসা বিলুপ্ত করে এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় যাঁরা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের বিষয়টি শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে ভিসা নিয়ে আসা ব্যক্তিকে যাতে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে খসড়ায়। পরিমার্জিত এইচ-১বি ভিসার খবরে বিশ্বের বেশির ভাগ দক্ষ ও মেধাবী অভিবাসী খুশি হলেও সুন্নি মুসলমানরা খুশি হতে পারছেন না। ৫ ফেব্রুয়ারি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একটি নথি প্রকাশ করেছে ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন। ওই নথিতে বলা হয়েছে, যাঁদের ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ (নিরাপত্তাকর্মীদের চোখে যাঁরা সন্দিগ্ধ) হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা মার্কিন সরকারের জন্য খুবই জরুরি। এই ‘সন্দিগ্ধ’ ব্যক্তি বলতে মার্কিন সরকার প্রধানত যাঁদের মনে করে, তাঁরা হলেন সুন্নি মুসলিম। নথিতে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার নাগরিক এবং আমেরিকায় বসবাসরত তরুণ ও পুরুষ মুসলিম ব্যক্তিদের ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ মনে করা হয়। এই খসড়া যদি আইনে রূপ নেয়, তাহলে অতি দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বেশির ভাগ সুন্নি মুসলিম এইচ-১বি ভিসা পাবেন না। এমনকি যে সুন্নি মুসলিমরা আমেরিকায় নাগরিকত্ব পেয়ে গেছেন, তাঁদের ওপরও নজরদারি বাড়বে। নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত করে কার্যত ‘মুসলিম নিষিদ্ধ’ করার যে আদেশ দিয়েছিলেন, এই আইন মুসলমানদের জন্য তার চেয়েও বেশি দুর্গতি বয়ে আনবে।
আল-জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
রাফিয়া জাকারিয়া: পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী ও কলাম লেখক

কৌশলগত ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান!

স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্রসহ নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান। এর ফলে ওই অঞ্চলে আরো বেশি বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। এমনই সতর্কবার্তা দিলেন আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধান। একইসাথে তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের উগ্রবাদী সংগঠনগুলো ভারতের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে যেতে পারে। এরফলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার পারদ আরো চড়বে। জম্মুর সঞ্জুয়ান সেনা ছাউনিতে জইশ-ই-মহম্মদদের হামলার কয়েকদিন পরেই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর ড্যান কোটস। সিনেট সিলেক্ট কমিটি অন ইন্টেলিজেন্স আয়োজিত বিশ্বজুড়ে বিপদ সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে ওই মন্তব্য করেছেন কোটস। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। এরমধ্যে রয়েছে স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র। কোটসের হুঁশিয়ারি, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র ছাড়াও সমুদ্র ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইল, এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল এবং দূর পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপদের আশঙ্কা বাড়বে। কোটস বলেছেন, নতুন পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ-দমনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, উগ্রবাদীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা ও চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান মার্কিন স্বার্থের পক্ষে বিপদ তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আরো বলেছেন, ইসলামাবাদের মদতপুষ্ট উগ্রবাদীরা পাকিস্তানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে যাবে। উগ্রবাদীরা ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধেও হামলা চালিয়ে যাবে। পাকিস্তান ভিত্তিক উগ্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার ফলে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের উত্তেজনা আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোটস। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আরো বলেছেন, উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানের মদত আফগানিস্তানের পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক সংকট চরমে

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতারাই প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এদিকে বিরোধী দল জুমাকে পরিবর্তনের জন্য আগাম নির্বাচন আহ্বান করলেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষ হবে বলে জানিয়েছে। এতে করে নজিরবিহীন এক সংকটে উপনীত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতি। জুমা ‘নীতিগতভাবে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন’ বলে জানান সাধারণ সম্পাদক এসি মাগাসুল। জুমার পদত্যাগ প্রশ্নে গত সোমবার রাতে রাজধানী প্রিটোরিয়ার কাছে এএনসির ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হয়। মাগাসুল বলেন, ‘জুমা যদি প্রেসিডেন্ট পদ আটকে রাখে তবে তাকে সংসদের মাধ্যমে অপসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’ বুধবারের নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকটি জুমা বাতিল করেছেন। কবে সভাটি কবে হবে তা অনিশ্চিত। জুমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে এএনসির নতুন পার্টি প্রধান ও ডেপুটি প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপসের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন।
সিরিলকে উত্তরসূরি হিসেবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ভাবা হচ্ছে। পদত্যাগের আগে তিন থেকে ছয় মাসের সময় দিতে হবে বলে জানিয়েছেন জ্যাকব জুমা। এএনসি তা রাজি নন বলে এএনসি সাধারণ সম্পাদক জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জুমার পদত্যাগের পক্ষে বেশি জনসমর্থন রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এএনসির প্রধান দফতরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা দুটায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন জুমা। দুর্নীতিসহ বেশ কয়েকটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

আইএস 'নিয়ন্ত্রিত এলাকা' থেকে আবারো ইসরাইলি অস্ত্র উদ্ধার

সিরিয়ার দেইর আজ-জোরের আশপাশের এলাকা থেকে আবারো ইসরাইলি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসের নিয়ন্ত্রণ থেকে ওই সব এলাকা মুক্ত করার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। পালানোর সময় এসব অস্ত্র ফেলে গেছে আইএস। দেইর আজ-জোরের বুকামাল শহরের অদূরে আস-সিয়াল ও হাসারাত গ্রাম থেকে মর্টার,
ট্যাঙ্ক ও মাইনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সিরিয়ায় আইএসের আস্তানা থেকে এর আগেও ইসরাইলি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, এসব অস্ত্রই প্রমাণ করে এ অঞ্চল ও বাইরের বিভিন্ন দেশ আইএসকে সরাসরি অস্ত্র দিচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ার সেনাবাহিনী আইএসের একটি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে। এর মধ্যে ট্যাঙ্ক, সামরিক যান, স্থল মাইন, গাড়ি বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও যোগাযোগ সরঞ্জামও ছিল। তার আগে গত ১৯ অক্টোবরও দেইর আজ-জোরের মায়াদিন শহর থেকে বিপুল পরিমাণ ইসরাইলি অস্ত্র উদ্ধার করে সিরিয়ার সেনাবাহিনী।

মালদ্বীপে ভারত হস্তক্ষেপ করলে বসে থাকবে না চীন

মালদ্বীপ সঙ্কটে সামরিক হস্তক্ষেপে দিকে অগ্রসর হলে ভারতকে থামানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।  গতকাল মঙ্গলবার চীনের মতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস বলেছে, মালদ্বীপ পরিস্থিতিতে কিছু ভারতীয় নাগরিক সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের কথা চিন্তা করছে। গ্লোবাল টাইমস বলছে, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মনীতির মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; যা স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বসহ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তপে না করার নীতির প্রতিও শ্রদ্ধাশীল নয়। ‘মালদ্বীপ পরিস্থিতির অবনতি হলে তার সমাধান আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় করা উচিত। একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ ইতোমধ্যে বিদ্যমান বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলেছে।’ চীনের রাষ্ট্রীয় এ দৈনিক বলেছে, ‘১৯৮৮ সালে শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনী মালদ্বীপের সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীকে সহায়তা করেছিল। ওই সময় সামরিক দাঙ্গায় হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয় ভারত। তখন থেকেই মালদ্বীপে প্রভাব বিস্তার করছে নয়াদিল্লি।’ ‘কিন্তু ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সাথে ইতিবাচকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে; ধীরে ধীরে আরো স্বাধীন ও সুষম কূটনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এ বিষয়টি নিয়ে ভারত খুশি নয়।’ ‘জাতিসঙ্ঘের অনুমতি ছাড়া মালদ্বীপে কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর হস্তেেপর উপযুক্ত কারণ নেই। মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে চীন হস্তপে করবে না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, নয়াদিল্লি নীতি-নৈতিকতার লঙ্ঘন করলে বেইজিং অলসভাবে বসে থাকবে।’ গ্লোবাল টাইমস বলেছে, ‘যদি ভারত একতরফাভাবে মালদ্বীপে সেনা পাঠায়, তাহলে নয়াদিল্লিকে থামানোর জন্য ব্যবস্থা নেবে চীন।
একপাকি সেনা হস্তেেপ চীন যে বিরোধিতা করে তা উপো করা ঠিক হবে না ভারতের।’ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত নৈসর্গিক দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে সঙ্কটের শুরু হয় জানুয়ারির শেষের দিকে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ ৯ রাজবন্দীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয় মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট। একই সাথে ইয়ামিনের দলত্যাগী ১২ এমপিকে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয় শীর্ষ এ আদালত। আদালতের ওই রায়ের ফলে, ৮৫ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইমপিচমেন্টের আশঙ্কায় পড়েন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট-প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ব্যাপক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। একই সাথে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ সাইদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম ও অন্য এক বিচারককে গ্রেফতার করা হয়। পরে চাপের মুখে আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেন সুপ্রিম কোর্টের বাকি তিন বিচারক।

বাইক্কাবিলে ৩৮ প্রজাতির পাখি মিলছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাইল হাওরের সংরক্ষিত মাছের অভয়ারণ্য বাইক্কা বিলে এবারের শীত মৌসুমে আসা ৩৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। ৫ হাজার ৪ শত ১৮টি পাখির মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে পাতি তিলিহাঁস। এদের সংখ্যা এক হাজার পাঁচ শত ৮০টি। গত ২৪ থেকে ২৮শে জানুয়ারি এ তিন দিনব্যাপী বাইক্কা বিলে অনুষ্ঠিত জলচর পাখি শুমারিতে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তবে আগের বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এসব অথিতি পাখির আগমন। প্রতি বছরই শীত প্রদান অঞ্চল থেকে উষ্ণতার খোঁজে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে পরিযায়ি পাখির দল। শীতের তীব্র কুয়াশার চাদর গায়ে জড়ানো এসব পাখি মেতে ওঠে জলকেলিতে আর ছন্দময় ডানা ঝাঁপটানোয়। হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে বিচিত্র রং আর নানা প্রজাতির এসব পাখি আসতে শুরু করে নভেম্বরের শুরুতে। আপন নীড়ে ফেরে গ্রীষ্মের শুরুতে। তবে প্রতি বছরই কিছু পাখি দেশিয় পাখিদের সাথে সখ্যতা গড়ে থেকে যায় এ বিলেই। আবার গাছে গাছেও মেলা বসে এসব পাখির। তখন কলতানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাস জুড়ে উপজেলার হাইল হাওরের বাইক্কবিলের মাছের এই অভয়াশ্রমে কেবলই পাখির আনাগোনা-কলতান আর পানিতে ডানা ঝাঁপটানোর পাখির শব্দে থাকে মূখর। এসময় এঅঞ্চলে বেড়াতে আসা পাখিপ্রেমী দর্শকরা মুগ্ধ হয় পাখি দেখে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শীতের শুরুতে প্রতিবছর ঝাঁকে ঝাঁকে আসে নানা প্রজাতির পাখি। তাদের নিজেদের অস্থিত্বের প্রয়োজনে এ দেশের আতিথ্য নিতে ছুটে আসে এসব পরিযায়ী পাখিরা। এবার আসা অতিথি পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাজসরালি, লেঞ্জা হাঁস, সাদা বক,
কাস্তে চড়া, বালি হাঁস, পাতি তিলি সরালি হাঁস, পানকৌড়িসহ আরো অনেক প্রজাতির পাখি। হাইল হাওরে স্থানীয় ক্রেল প্রজেক্টের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ক্রেলের প্রজেক্টের সহযোগিতায় গত ২৪-২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনদিনব্যাপী বাইক্কা বিলে একটি বার্ড সার্ভে করা হয়। এতে প্রায় ৫ হাজারের উপরে পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে পাখি শুমারিতে বাইক্কা বিলে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭শ’ ১৩টি পাখি পাওয়া গিয়েছিলো। এর আগে ২০১৬ সালে পাওয়া গিয়েছিলো ৩১ প্রজাতির ৮ হাজার ৮শ’ ৩১টি পাখি। তবে এবার পাখি শুমারিতে গত বছরের তুলনায় কম পাখির দেখা পাওয়া গেছে। পাখির সংখ্যা হ্রাসের কারণ বিষয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, গত বছর সব বিলেই তার আগের বছরের চেয়ে বেশি পাখি পাওয়া গিয়েছিলো। এ বছর হাওরগুলোতে গত বছরের চেয়ে কমসংখ্যক পাখি আসে। প্রতিবছরই পাখির সংখ্যা উঠা-নামা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর জানুয়ারির শেষে বাইক্কা বিলে গিয়ে ‘পাতি তিলিহাঁস’ বেশি পেয়েছি। ফেব্রুয়ারিতে পাখি শুমারি করলে হয়তো অন্য একটি প্রজাতির হাঁস বেশি পাওয়া যেতো। পাতি-তিলিহাঁসগুলোকে জানুয়ারিতে যেভাবে বেশি সংখ্যায় দেখা যায়, তেমন ফেব্রুয়ারিতে দেখা যায় না। পানি কমলে-বাড়লে একেক হাঁসের সুবিধে হয়, আবার একেক হাঁসের অসুবিধেও হয়। সে অনুযায়ী ওরা অবস্থান করে কিংবা অন্যত্র সরে যায়। শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ ও শিকার বন্ধে প্রশাসন বরাবরই তৎপর রয়েছে। এছাড়া অতিথি পাখিদের যাতে শিকারীরা শিকার করতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা স্থানীয় প্রশাসনকে দেয়া আছে বলে জানালেন এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

পোড়াদহ মেলায় লাখ টাকার শত কেজির বাঘাইড়

শত কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে কেউ এককভাবে না কিনলে করলে কেটে বিক্রি করা হবে। সকাল ১০ টার দিকে ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ কেটে বিক্রি শুরু হয়। প্রতিকেজি ১২ শ' টাকা দরে বিক্রি চলছে। গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা বসেছে আজ বুধবার। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা এই মেলা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। হাজারো মানুষের মেলায় এক মাছের দাম হাঁকা হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। স্থানীয় মাছের ৬ ব্যবসায়ী গাবতলীর চকমড়িয়ায় ভোলা, কাশেম, লাল মিয়া, নান্নু, জলিল, মোস্তা বিশাল আকৃতির মাছ মেলায় নিয়ে এসেছেন। যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় কেটে বিক্রি করছেন ১২ শ' টাকা কেজি দরে। আর ১ শ' কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির মাছটি বিক্রি হবে ১২ শ' ৫০ টাকা কেজিতে। এছাড়া এই মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাঁকা হয়েছে প্রতি কেজি ১৬ শ' টাকা, ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ২২ শ' টাকা কেজি, ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ১২ শ’ টাকা, ১০ কেজির উপরে আইড় মাছ ১২ শ' থেকে ১৫ শ' টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, পাঙ্গাস, ব্রিগেড অন্যান্য জাতের মাছ উঠেছে মেলায়। গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয় এ মেলা প্রাঙ্গন। তবে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা এবার ভিন্নস্থানে স্বল্প জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধে মন্ডল পরিবারের জমির মালিকেরা এবার পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন। প্রায় ২ শ' বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলীর গোলাবাড়ী বন্দরের পূর্বধারে গাড়ীদহ নদীর পশ্চিম পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে এক দিনের জন্য মেলাটি হয়ে আসছে। আদালতের আদেশক্রমে মন্ডল পরিবারের ২২ জন জমির মালিকের যেকোনো একজন মেলাটি পরিচালনার জন্য ইজারাদার হিসেবে স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাইসেন্স নবায়নের অনুমতি পেয়ে থাকেন। এ লক্ষ্যে মেলাটি সুসম্পন্ন হওয়ার জন্য জোতদাররা প্রতিবছরই বোরো মৌসুমের আগে প্রায় শত বিঘা জমি ফাঁকা রেখে দেন। কিন্তু বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান গত বছর মন্ডল পরিবারের জোতদারদেরকে বাদ দিয়ে তার পছন্দের ব্যক্তির নামে লাইসেন্স প্রদান করে তিনি নিজেই মেলাটি পরিচালনা করেছিলেন। মূলত এ কারণেই এবছর মন্ডল পরিবারের লোকজন পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে তাদের জমিতে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন। ২ শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা এবার একেবারেই স্বল্প জায়গায় ভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে স্বল্প পরিসরে হলেও উৎসাহের কমতি নেই। জানা যায়, প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে বগুড়াবাসীর মিলনমেলা।
পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকেন। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে মেলা বলে থাকেন। মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি তৈরী করেছেন ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ। মহিষাবান এলাকার ব্যবসায়ী লতিফের দোকানে এ মিষ্টির দাম হাঁকা হয়েছে ৪ হাজার টাকায়। এছাড়া এক কেজি, দুই কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। ২ শ' মণ মিষ্টি রয়েছে এ দোকানে। এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফর্নিচার, বড়ই, পান সুপারী, তৈজসপত্র, খেলনা থাকলেও কালক্রমে মাছের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলছে। মেলায় মাছ ক্রয় করতে আসা বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুন রাজনীতিবীদ রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১২ শ' টাকা দরে ক্রয় করেছেন। স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণা হয়ে থাকে এ মেলায়। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির কারনে এবার স্বল্প পরিসরে মেলা বসেছে। তারপরও উৎসব থেমে নেই। জামাই মেয়েসহ আত্মীয় স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। গাবতলী মডেল থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জুয়া কিংবা অশ্লীল নাচ-গান করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অব্যাহত আলোচনার তাগিদ বাংলাদেশের

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যতালিকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদ অব্যাহত ভূমিকা পালন করবে। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় এ মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদে কুয়েতের সভাপতিত্বে মিয়ানমারের ওপর এ বছরের প্রথম উন্মুক্ত সভা গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত হয়। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকা বক্তব্য রাখেন। সভায় রাষ্ট্রদূত মাসুদ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্বৃত করে তিনি বলেন, এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত। তিনি দুস্থ রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়টি স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত শিগগিরই নিয়োগ করা হবে এবং তার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে। আজকের সভায় নিরাপত্তা পরিষদের পনেরো সদস্য রাষ্ট্রের সবাই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তারা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারকে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান। পরিষদের কিছু সদস্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়াসহ অন্যান্য অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। উত্তর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামসমূহে গণকবর উদ্ধার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরির খবরে নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও দুর্গত রোহিঙ্গাদের কাছে নির্বিঘ্নে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ মিয়ানমারে দুজন রয়টার্স সাংবাদিকের আটকাদেশ ও হয়রানি বন্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানান। কয়েকটি সদস্য দেশ আগামী মাসগুলোতে তাদের নিজ নিজ সভাপতিত্বকালে মিয়ানমার পরিস্থিতিবিষয়ক আলোচনা পরিষদের কার্যতালিকায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পদ্মা সেতুর বরাদ্দ কমছে ৮২১ কোটি টাকা

কাঙ্ক্ষিত ব্যয় করতে না পারায় ৮২১ কোটি টাকা বরাদ্দ কমছে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পে। অন্যদিকে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে। এছাড়া অপর দুই আলোচিত প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের বরাদ্দ অপরিবর্তিতই থাকছে। চলতি বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অর্থ বরাদ্দের এ প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের তালিকাভুক্ত এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে বরাদ্দ কম বা বেশি করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পভিত্তিক যেসব বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে তা আমরা সংযোজন-বিয়োজনের কাজ করছি। আগামী ৬ মার্চের মধ্যেই আশা করছি এডিপি সংশোধন করা সম্ভব হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সময় পাওয়ার পরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’ সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁটের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বৈদেশিক সহায়তা অংশে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চূড়ান্ত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় থেকেও পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থ বরাদ্দ কমবে না। এখন পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের কাজটি চূড়ান্ত করছে। সূত্র জানায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য চলতি অর্থবছরের এডিপিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ বরাদ্দের বিপরীতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের ছয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৬২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এ প্রেক্ষাপটে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমছে ৮২১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ৭০৩ কোটি ১৭ লাখ টাকায়। এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সামান্য কিছু বরাদ্দ কমাতে হচ্ছে। এটা বাস্তবতা। কেননা পাইলিংয়ের জন্য নতুন ডিজাইন করাসহ বিভিন্ন কারণেই এ টাকাটা ব্যয় করা যাবে না। তবে এজন্য প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা বা কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল পদ্মা সেতু কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ শতাংশ। এছাড়া পদ্মা নদী শাসন কাজ হয়েছে ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের শত ভাগ, সার্ভিস এরিয়া-২ এর কাজ শত ভাগ। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫০ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিপরীত চিত্র বিরাজ করছে সরকারের অপর মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। প্রকল্পটির অনুকূলে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। সেখান থেকে ২৮০ কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা এবং জাইকার ঋণ ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এ বরাদ্দ এখনও চূড়ান্ত বলা যায় না। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এটি চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৯১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। রাজধানীবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল। এ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে দ্রুত। তাই সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমছে না। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৭২৫ কোটি ৮৩ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পে বরাদ্দ অপরিবর্তিতই থাকছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮৮১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-১ (মাটির নিচের বিভিন্ন কাজ) এর অগ্রগতি হয়েছে ৫৫ শতাংশ। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-২ (অবকাঠামো নির্মাণের) এর কাজ চলছে। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পে বরাদ্দ কমবে না। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, রাশিয়ার অর্থবছর শুরু হয় জানুয়ারিতে আর শেষ হয় ডিসেম্বরে। তাই এ প্রকল্পের জন্য অর্থছাড়ও করে সে অনুযায়ীই। আর বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু হয় জুলাইতে, শেষ হয় জুনে। এই জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে বলা না গেলেও কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় বলতে পারি বরাদ্দ অপরিবর্তিতই থাকবে।

সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় ২ রুশ যোদ্ধা নিহত

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় দুই রুশ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তাদের সহায়তার জন্য রাশিয়ার একটি ব্যক্তিগত সামরিক ফার্ম থেকে যোদ্ধা ভাড়া করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মার্কিন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর ছাপা হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, গত এক সপ্তাহে তারা শতাধিক সিরীয় যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, এই হতাহতের মধ্যে কোনো রুশ নাগরিক আছেন কিনা, তার কাছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারছি না। কেন্দ্রীয় কমান্ড বা পেন্টাগন থেকে এ নিয়ে কোনো তথ্য আমার কাছে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেইর আল জোর প্রদেশের খুরশাম শহরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) ঘাঁটিতে বাসার আল আসাদের বাহিনীর কয়েকশ যোদ্ধা হামলা চালিয়েছিল। তারা ইউফ্রেটিস নদী পার হয়ে এসডিএফের ঘাঁটিতে গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছিল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তখন যুদ্ধবিমান ও কামান দিয়ে পাল্টা হামলা চালালে আসাদপন্থী যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছেন। মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তখন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছিল সিরিয়া। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে রুশ বাহিনী এতে অংশ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি মধ্য ইউফ্রেটিস উপত্যকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যেটি সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের শেষ সীমা বলে চিহ্নিত। আসাদ বাহিনী সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, আর বিরোধীরা পূর্বাঞ্চল।

যুক্তরাজ্যে ভ্যালেন্টাইনস ডেতে গর্ভধারণ বাড়ছে

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাজ্যে নারীদের গর্ভধারণের হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর (এনএইচএস)। স্বাস্থ্য দফতরের ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,
এদিনটি উপলক্ষে সেখানে গর্ভধারণের সংখ্যা ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে গর্ভধারণের হার ক্রিসমাসকে ছাড়াতে পারেনি।-খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইন। সাধারণত প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫ হাজার ৪২৭টি গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে। ভালোবাসা দিবসের সপ্তাহে গর্ভধারণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৬ হাজার ২৬৩টি। এনএইচএসের উপাত্ত বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডের চেয়ে ক্রিস্টমাসে গর্ভধারণের হার এখনও বেশি। এ ছাড়া ঈদুল ফিতরের সময়ও গর্ভধারণ অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ঘটে।

ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে গেছে টোঙ্গার পার্লামেন্ট ভবন

ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় গীতার আঘাতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা তছনছ হয়ে গেছে। ঝড়ের আঘাতে টোঙ্গার পার্লামেন্ট ভবনসহ গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও বাড়িঘর ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এদিকে শক্তি বাড়িয়ে মঙ্গলবার আরেক ফিজি দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় গীতা।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিজির উপকূলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রশান্ত মহাসাগর৷ জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা৷ ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯০ কিলোমিটার৷ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে পর পর আছড়ে পড়ছে গীতা৷ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টোঙ্গা৷ ফিজির প্রায় ৬৫০ কিমি দক্ষিণ-পূর্ব এবং নিউজিল্যান্ডের প্রায় এক হাজার ৮৫০ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দ্বীপ। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত আন্তর্জাতিক মহল৷ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে পাঠানো হয়েছে ত্রাণ৷ জানা গেছে, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে টোঙ্গায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় গীতা। গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি, বাড়িঘরসহ ধূলিসাৎ হয়ে যায় টোঙ্গার পার্লামেন্টও। রাজধানী নুকুআলোফাতেই প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার ৭০০ মানুষকে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করেন কার্যকরী প্রধানমন্ত্রী সেমিসি সিকা। চলছে দুর্গতদের উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণের কাজ।

তরুণীর চোখের মণিতে কৃমি

অ্যাবি বেকলি। ২৪ বছরের হাসিখুশি ছটফটে তরুণী। ভালোবাসেন ঘুরে বেড়াতে। এবার ছুটি কাটিয়ে আসার পর থেকেই চোখে অস্বস্তি হচ্ছিল তার। পানিতে ধুয়ে ও হাত দিয়ে কচলেও লাভ হচ্ছিল না। এর পর একদিন নিজেই চোখের মণি থেকে টেনে বার করলেন আধ ইঞ্চি লম্বা কৃমি! স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান অ্যাবি। তিনিও চোখ থেকে বের করে আনলেন আরও দুটি কৃমি। সুতার মতো দেখতে ছিল কৃমিগুলো। কিন্তু আগে কখনও চোখের মণিতে কৃমি দেখেননি। এর পর অন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে ওরেগনের ব্রুকিংস শহরের অ্যাবি বেকলি ছুটে যান চোখের ডাক্তারের কাছে। তিনিও অ্যাবির চোখ থেকে তিনটি কৃমি বের করে আনেন। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে অ্যাবি সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-সিডিসির একটি কেন্দ্রে হাজির হন। সেখানকার গবেষকরা জানালেন, অ্যাবির চোখের কৃমিগুলো থেলাজিয়া পরিবারের। সেখানে আরও আটটি কৃমি বের করা হয়। এভাবে ২০ দিনে ১৪টি কৃমি বের করা হয়। ২০১৬ সালে এ ঘটনার পর অবশ্য এতদিনেও চোখ নিয়ে আর কোনো সমস্যা হয়নি। ভালো আছেন অ্যাবি। কয়েক দিন আগেই ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মজাদার স্নোম্যানের ছবি। সিডিসির বিজ্ঞানীরা অ্যাবির চোখে বাসা বাধা কৃমির কাহিনী তুলে ধরেছেন ‘ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ ও ‘হাইজিন’ পত্রিকায়। ওই গবেষকদের অন্যতম রিচার্ড ব্র্যাডবেরি বলেন, চোখের মধ্যে কিলবিল করছে কিছু কৃমি।
এটি ছিল খুবই বিচ্ছিরি, শিউরে ওঠার মতো ব্যাপার। তরুণী অ্যাবিকে ওই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারলেও অনেক প্রশ্নের মুখে পড়েন সিডিসির গবেষকরা। কয়েক মাস পর তারা ঠিক করে চিনতে পারেন ওই জঘন্য পরজীবীগুলো আসলে ‘থেলাজিয়া গুলোসা’, যা থাকে গরুর চোখে। কখনও কখনও বেড়াল বা কুকুরেরও। মূলত চোখে বসা মাছিদের মাধ্যমে ছড়ায় এই কৃমির লার্ভা। ওই মাছিরা চোখের পানি খেয়ে বাঁচে। খাওয়ার সময়ে চোখে চলে যায় কৃমির লার্ভা। সেখানেই বড় হতে থাকে কৃমিগুলো। তাই বলে মানুষের চোখে ‘থেলাজিয়া গুলোসা’! মানুষের চোখ এতই তৎপর যে, কাছাকাছি কিছু এলেই চোখের পলক পড়ে যায়। তাই প্রশ্ন দেখা দেয় চোখে মাছি বসল কীভাবে-শুরু হয় খোঁজ। অ্যাবির কাছ থেকে গবেষকরা জানতে পারেন, তার চোখের মণিতে কৃমি ধরা পড়ার কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ওরেগনে এক জায়গায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন তিনি। এলাকাটি গবাদিপশু পালনের জন্য বিখ্যাত। সেখানেই ঘোড়ায় চড়ার সময়ে কোনো মাছি এত দ্রুত এসে চোখে পড়েছিল যে, চোখের পাতাও তা আটকাতে পারেনি। গবেষক ব্র্যাডবেরি বলেন, এটি খুবই বিরল ঘটনা। আর মানুষের চোখে ‘থেলাজিয়া গুলোসা’ হয়েছে বিশ্বে এই প্রথম ঘটেছে। অবশ্য এর আগে থেলাজিয়া পরিবারেরই অন্য দুই প্রজাতির কৃমি দেখা গেছে মানুষের চোখে। ইউরোপ ও এশিয়ায় ১৬০টি এবং আমেরিকায় ১১টি ঘটনার তথ্য মিলেছে। চিকিৎসা না করালে এগুলো কর্নিয়ার ক্ষতি, এমনকি অন্ধও করে দিতে পারে। তবে সব কৃমি বের করে ফেললে স্থায়ী সমস্যা বা উপসর্গ থাকে না।

দেউলিয়া ‘হানজিনের’ ভারমুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

দেউলিয়া হয়ে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ কোম্পানি হানজিন শিপিংয়ের খালি কনটেইনারের স্তূপ থেকে ভারমুক্ত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরে এই কোম্পানির আটকে থাকা সিংহভাগ কনটেইনার নিলামে বিক্রি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিলামে কনটেইনার বিক্রির সর্বশেষ চালানেও ভালো দর পেয়েছে বন্দর। কয়েক দিনের মধ্যে নিলামপ্রক্রিয়া শেষ হলে বন্দরের মূল্যবান জায়গা থেকে অপসারণ হবে এসব কনটেইনার। হানজিন শিপিংয়ের কার্যক্রম থেমে যাওয়ার পর দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এসব খালি কনটেইনার পড়ে ছিল বন্দর চত্বরে। বন্দরে খালি কনটেইনার রাখার যে জায়গা রয়েছে তার ৩৩ শতাংশই ছিল এই কোম্পানির মালিকানাধীন কনটেইনারের দখলে। এতে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে ব্যাঘাত তৈরি হয়েছিল। তবে দেরিতে হলেও এসব কনটেইনারের স্থানে নতুন কনটেইনার রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বন্দরে। জানতে চাইলে বন্দরের সচিব ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশে এসব কনটেইনার ধারাবাহিকভাবে নিলামে তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। নিলামে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ কনটেইনার খালাস করে নিয়েছেন সর্বোচ্চ দরদাতারা। বাকিগুলোর খালাসও নেওয়ার পথে। এর ফলে বন্দরের খালি কনটেইনার পরিচালন কার্যক্রমে গতি বাড়বে। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ঋণের ভারে জর্জরিত এই কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছিল। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা জজ আদালত হানজিন শিপিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেন। পাশাপাশি হানজিনের সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারের ঋণ পরিশোধের পদক্ষেপ নিতে আদেশ দেন সে দেশের আদালত। বাংলাদেশে কর্ণফুলী গ্রুপের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ‘হানজিন শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করত হানজিন শিপিং। দেউলিয়াত্ব সুরক্ষার আবেদনের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই কোম্পানির জাহাজ ও কনটেইনার আটকা পড়ে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তখন বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে হানজিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডমিরালটি (নৌ-সংক্রান্ত বিষয়) আদালতে মামলা করে। মামলা চলাকালীন বন্দর কর্তৃপক্ষ হানজিনের খালি কনটেইনার নিলামে বিক্রি করে জায়গা খালি করার জন্য আদালতে আবেদন করে। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালত হানজিনের খালি কনটেইনার নিলামে তুলে বিক্রির জন্য আদেশ দেন। নিলামে বিক্রির পর যে টাকা পাওয়া যাবে, তা আদালতের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্যও আদেশ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত রায়ের পর এই টাকা কে পাবে, তা ঠিক করবেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর গত বছরের এপ্রিলে হানজিনের ১ হাজার ৫৭ কনটেইনার নিলামে তোলে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভালো দর না পাওয়ায় একই কনটেইনার সরাতে ৫ বার পর্যন্ত নিলাম ডাকা হয়। এর মধ্যে নিলামে ৯৬৯ কনটেইনার ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি নিলামে তোলা হয় ৮৮ কনটেইনার। তাতে দুটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ দর পাওয়া গেছে সোয়া দুই কোটি টাকা। সর্বশেষ চালান নিষ্পত্তি হলে বন্দর এসব খালি কনটেইনারের চাপ থেকে মুক্ত হবে। নিলামে বিক্রি হওয়া কনটেইনারের মধ্যে ৫১৬টি সর্বোচ্চ দরদাতারা খালাস করে নিয়েছেন। বাকি কনটেইনারগুলো খালাসের অপেক্ষায় আছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হানজিন শিপিং দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আগের বকেয়া পাওনাও উদ্ধার করতে পেরেছে বন্দর। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট দেউলিয়া হওয়ার আবেদনের আগে হানজিনের কাছে বন্দরের বকেয়া পাওনা ছিল ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। দুই পক্ষের সমঝোতার পর গত বছরের ২৮ আগস্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ হানজিন শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছ থেকে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায় করেছে। এরপর কনটেইনার রাখা বাবদ বন্দরের পাওনা কত হবে বা বন্দর পাবে কি না, আদালতের রায়ের পর তা চূড়ান্ত হবে।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম উচ্চ প্রযুক্তির জাহাজ রপ্তানি

কেনিয়ায় রপ্তানির জন্য চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা রপ্তানিমূল্যের একটি উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। রপ্তানির আগে গতকাল রোববার দুপুরে জাহাজটির ‘ইয়ার্ড ডেলিভারি’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শাহ আমানত সেতুর উজানে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা জাহাজটির সামনে একটি বার্জের ওপর দাঁড়িয়ে ফিতা কেটে এটি উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। ‘অফশোর পেট্রোল ভেসেল’ হিসেবে পরিচিত বিশেষায়িত এই জাহাজটির নাম ‘দরিয়া’। ছোট আকারের হলেও জাহাজটির রপ্তানি মূল্য ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এর আগে সাধারণত পণ্যবাহী জাহাজগুলোর সর্বোচ্চ রপ্তানিমূল্য ছিল প্রায় ৮০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের আগস্টে নির্মাণ শুরু হওয়া জাহাজটি এ মাসেই কেনিয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়বে। এটি রপ্তানির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাহাজটি উদ্বোধন করতে অর্থমন্ত্রী গতকাল সকালে পতেঙ্গায় বোটক্লাব থেকে প্রমোদতরি ওয়েস্টার্ন ক্রুজে চড়ে শাহ আমানত সেতুর উজানে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সামনে যান। এ সময় তিনি প্রমোদতরি থেকে নেমে জাহাজ নির্মাণ কারখানাটি ঘুরে দেখেন। পরে আবার প্রমোদতরিতে ফিরে এসে জাহাজ রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণের ঐতিহ্য ছিল আমাদের। সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য আবার ফিরে এসেছে। ওয়েস্টার্ন মেরিন এখন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৫টি জাহাজ নির্মাণ করছে, যা গৌরবের। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত জাহাজনির্মাণ শিল্প। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ‘বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ (শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি সুবিধা) সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নগদ সহায়তাও কিছুটা দেওয়া হচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখা হবে। সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে কি না—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ সাধারণ ব্যাপার নয়। আপনি দেশে মারামারি কাটাকাটি করবেন। হরতাল করবেন। দোকান ভাঙবেন। পুড়বেন মানুষকে। সেখানে বিনিয়োগ কী করে হয়।
২০১৫ সাল থেকে আমরা অবশ্য এটা করছি না। লোকের বিশ্বাস করতে সময় লাগে। এ মুহূর্তে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের হার যথেষ্ট ঊর্ধ্বগতি।’ অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সায়ফুল ইসলাম বলেন, মন্দার কারণে বিশ্বের জাহাজনির্মাণ শিল্পে অস্থিরতা চলছে। সারা বিশ্বের ৩০ শতাংশ জাহাজনির্মাণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেখানে ওয়েস্টার্ন মেরিন এখন অনেক জাহাজ তৈরি করছে। শ্রমঘন, পুঁজিঘন, উচ্চপ্রযুক্তির ও ভারী এই শিল্পকে দীর্ঘ মেয়াদে নীতি সহায়তা দেওয়া দরকার। অনুষ্ঠানে জাহাজটি সম্পর্কে নানা তথ্য দেওয়া হয়। যেমন জাহাজটি ঘণ্টায় চলবে ৩৬ নটিক্যাল মাইল গতিতে। সড়কের গতির সঙ্গে তুলনা করলে এই গতিবেগ দাঁড়ায় ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের ঘণ্টায় গতিবেগ থাকে ১২ নটিক্যাল মাইল। এই জাহাজে রয়েছে দ্রুতগতির ‘ওয়াটারজেট’ ইঞ্জিন। মূল ইঞ্জিনসহ ইঞ্জিনের ক্ষমতা ১০ হাজার ৭২০ কিলোওয়াট। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৪ মিটার। প্রস্থ সাড়ে ৮ মিটার। এতে ৩৬ জন নাবিকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই জাহাজটি নির্মাণে বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। জাহাজে যেসব তার ব্যবহার করা হয়েছে তা লম্বালম্বিভাবে রাখা হলে দৈর্ঘ্য হবে ৪০ কিলোমিটার। জাহাজটিতে রয়েছে হেলিপ্যাড। জাহাজটি নির্মাণের সময় মান তদারকি করেছে ফ্রান্সভিত্তিক ব্যুরো ভেরিতাস। ডেনর্মাকের জেজিএইচ মেরিন এ/এস কোম্পানির মাধ্যমে এটি কেনিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জাহাজটি মূলত কেনিয়ার সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে নিরাপত্তা তদারকিতে ব্যবহৃত হবে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অলটেক্সের

লোকসানে জর্জরিত দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম কোনো কারণ ছাড়াই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম গত দুই দিনে প্রায় সোয়া দুই টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার এক দিনেই বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ। অস্বাভাবিক এ মূল্যবৃদ্ধিতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ টাকায়। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘জেড’ শ্রেণির লোকসানে জর্জরিত এই কোম্পানি টিকে আছে নামমাত্র। অথচ বাজারে এটির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। তাই এর পেছনে কারসাজি রয়েছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে আগের বছরের চেয়ে কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৮ পয়সা ঋণাত্মক। ২০১৬ সালের একই সময়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩৮ পয়সা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান দেড় টাকা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও দুই দিন ধরে এটির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক চট্টগ্রামের চন্দনাইশের আওয়ামী লীগের নেতা আফসার উদ্দিন আহমেদ।
কোম্পানির পক্ষ থেকে গত নভেম্বরে জানানো হয়েছে, গ্যাস-সংকটে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে কোম্পানির আয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি কোম্পানির বাস্তব অবস্থার পুরোপুরি বিপরীত। এদিকে চতুর্থ প্রজন্ম বা ফোর-জি টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর জন্য তরঙ্গ নিলামের খবরে গতকালও ঢাকার বাজারে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌লসের শেয়ারের দাম বেড়েছে। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ টাকা ৭০ পয়সা বা প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ফোর-জি সেবা চালু হলে তাতে ব্যান্ডউইটথের ব্যবহার বাড়বে। তাতে সাবমেরিনের ব্যবসা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮ পয়েন্টে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫০৪ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি গতকাল ২৯ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে লেনদেন হয় ৩৫ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি।

সুপ্রিম কোর্টকেই নেতৃত্ব দিতে হবে by মিজানুর রহমান খান

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগে আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হকের দীর্ঘদিনের আশ্বাস শিগগির বাস্তবায়িত হতে চলেছে। কিন্তু ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ১০ বিচারকের মামলায় দেওয়া আপিল বিভাগের দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে আসন্ন নিয়োগপর্ব সম্পন্ন হবে, তেমন কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত আমরা লক্ষ করছি না। এখানে ভারতের বিচার বিভাগের দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিটি শুনানি ও রায় মূলত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর দাঁড়ানো। বিচারক নিয়োগে সেখানে বিচারকদের তৈরি করা আইনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কলিজিয়াম ব্যবস্থা কার্যকর হলেও তা ‘গোপনীয়তার বৃত্তে বন্দী’ বলে নাগরিক সমাজ দ্বারা সমালোচিত হচ্ছিল। সমালোচনার মুখে তারা সেই বৃত্ত সম্প্রতি ভেঙেছে। আমাদেরও সেই পথে যেতে হবে। এক হাজার বছরের বৃত্ত ভেঙে ব্রিটেন জুডিশিয়াল কমিশন করার পরেই এই কলামে আমরা বলেছিলাম, বিচারক নিয়োগে ভারতীয় গোপনীয়তার দিন ফুরিয়ে আসছে, গত বছরের অক্টোবরে সেটাই ঘটেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের কলিজিয়ামের যে চারজন সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জাতিকে সরাসরি (আইনমন্ত্রী ব্রিফিং করেননি) জানিয়েছেন, হাইকোর্টের বিচারপতি বা প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সুপারিশ তাঁরা কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন, তা এখন থেকে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কলিজিয়াম তার ৩০টি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। এটা কিন্তু ভারতের মতো দেশে এই সেদিনও অকল্পনীয় ছিল। নতুন বিচারপতি নিয়োগ লগ্নে আমরা তাই আমাদের একটি অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। সেটা হলো নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাঁর অভিষেকের অনুষ্ঠানে বলেছেন, সংবিধানের ৯৫ (২ গ) অনুচ্ছেদের আওতায় বিচারক নিয়োগে একটি আইন করা দরকার। আমরা তাঁর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলব, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদ যেন আর বিলম্ব না করে। যদি আমরা ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের ফরমান বলে সংবিধানে তা যুক্ত হওয়ার ইতিহাস মনে না রাখার সংকল্প করি, তাহলেও মনে পড়বে, আওয়ামী লীগ ২০১১ সালে সেটি নতুন করে যুক্ত করার পরেও সাতটি বছর চলে গেছে। এবারেও, প্রধান বিচারপতির আইন করার অনুরোধের উত্তরে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সরকার বা সংসদের পক্ষে জাতিকে এখন পর্যন্ত কেউ আশ্বস্ত করেনি। যে কথার ওপর আমরা জোর দিতে চাই সেটা হলো, সুপ্রিম কোর্টের রায় বা তাঁর তৈরি করা আইন যেখানে কার্যকর হয় না, সেখানে একই বিষয়ে শুধু সংসদ আইন করে দিলেই সমস্যা মিটে যাবে, তা ভাবতে আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রবল। বিচারকের তৈরি করা ‘আইন’ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তৈরি করা ‘আইন’-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সংবিধানের চোখে দুটোই অবশ্যপালনীয় আইন। বরং আমরা যদি আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনায় নিই, তাহলে বিচারক নিয়োগে নিজের তৈরি করা আইন নিজেরা মেনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার পথে না হাঁটার বিকল্প দেখি না। ওই রায়ের মূল লেখক বিচারপতি এম এ মতিন আমাদের বলেছেন, তিনি বেশ পীড়া অনুভব করেন এটা দেখে যে আপিল বিভাগের একটি সর্বসম্মত রায়, যেখানে বিচারক বাছাইয়ের প্রতিটি ধাপের লিখিত নথি সংরক্ষণ অপরিহার্য করা হয়েছে, সেখানে সেই ‘আইন’ অকার্যকর রয়েছে। অথচ নতুন করে আইন করার কথা উঠছে। ওই রায়ের পরে বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আমরা পাঁচজন প্রধান বিচারপতি পেয়েছি, চারজনের আমলে (২০১০-১৫) নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৫০ জন বিচারক হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে কর্মরত। কিন্তু দুঃখজনক হলো নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় ১০ বিচারকের মামলার দিকনির্দেশনার ছাপ আদৌ পড়েছে কি না, তা বাইরে থেকে অস্পষ্টভাবেও বোঝা যায় না। অথচ ওই দিকনির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি কাকে কী কারণে বাছাই করছেন, কে বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। জানতে চাইলে বিচারপতি এম এ মতিন পরিষ্কারভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, কী কারণে কে যাচ্ছেন আর কে বাদ পড়ছেন, তাঁর রেকর্ড নাগরিক বা সাংবাদিকেরা চাইলে সুপ্রিম কোর্টের তা প্রকাশে আমি কোনো বাধা দেখি না। যখনই স্বচ্ছতা বা গোপনতা ভঙ্গের প্রসঙ্গ তোলা হয়, তখন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের ২ দফার গ উপদফা অনুযায়ী আইনটি হয় না বলেই স্বচ্ছতায় ঘাটতি চলছে।
প্রধান বিচারপতির অভিষেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচ্ছিন্নভাবে একজন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে নির্দিষ্ট করে বলেছেন, তাঁর ইংরেজি জ্ঞান এতটা দুর্বল যে লোকে তা নিয়ে ‘হাসাহাসি’ করতেন। ওই বিচারক বিএনপির আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলেই হয়তো তিনি এতটা অকপট হতে পেরেছেন। বিএনপির গত আমলের শেষ দিকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অযোগ্য বা আধা দক্ষ লোককে বিচারক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে প্রস্তাব পাস করিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। কিন্তু তার প্রতিকার হয়নি। আবার এই আমলে কেরানি হতেও অযোগ্য এমন লোক যে বিচারক হয়েছেন, তা খোদ আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেছিলেন। এখন আবারও আমরা বিস্ময়কর ধারণা পাচ্ছি যে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ-প্রক্রিয়া কী হবে এবং কখন কী কারণে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তার সবটাই ‘রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার’-এর বিষয়। যেন সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার’ আপনাআপনি একটি স্বচ্ছ বিষয়! ১৯৯৪ সালে বিএনপি প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতিকে একেবারে উপেক্ষা করে বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নিলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আইনমন্ত্রী হিসেবে মওদুদ আহমদ যুক্তি দিয়েছিলেন, চতুর্থ সংশোধনীতে বিচারপতি নিয়োগে ‘প্রধান বিচারপতির পরামর্শ’ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিতর্কের মুখে ১৯৯৪ সালে বিএনপি পিছু হটলেও তারা যেন এর শোধ তুলেছিল ২০০৩ সালে। অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে একত্রে নিয়োগ পাওয়া নয়জন অতিরিক্ত বিচারকের মধ্যে মাত্র দুজনকে (বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলী) স্থায়ী করেছিল বিএনপি। অ্যাটর্নি জেনারেল ১০ বিচারকের মামলায় বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ দেবেন, কারণ প্রধান বিচারপতির পরামর্শ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলেও প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অগ্রাহ্য করার অভিযোগে স্থায়ী হতে না পারা অন্তত দুজন সংক্ষুব্ধ বিচারপতি রিট করেছেন। কিন্তু এবারে আর অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির ‘পরামর্শে’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেখেননি। আবার প্রধান বিচারপতি কোন বিবেচনায় কী ‘পরামর্শ’ দিয়েছিলেন, আদৌ দিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে জাতি অন্ধকারে। এসবই নির্দেশ করে যে নেতৃত্বটা প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টকেই দিতে হবে। ভারতের কলিজিয়াম বহু বছর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা তাদের সুপারিশ প্রকাশ করবে। কিন্তু তারা বাস্তবে তা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু বিচারক নিয়োগে সংবিধানের ৯৯ তম সংশোধনী (ন্যাশনাল জুডিশিয়াল কমিশন গঠন) বাতিল করে তারা সরকারকেই বদলাতে বলেনি, নিজেদেরও বদলে নিয়েছে। আমরা একই অনুশীলন ও উপলব্ধি আশা করি। নতুন বিচারক নিয়োগে সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্ট এখন কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন, সে বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (supremecourtofindia.nic.in/collegium-resolutions) ও আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (doj. gov. in/appointment-of-judges) রাখা নথিগুলো আমাদের পথ দেখাতে পারে। দশ বিচারকের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, প্রার্থীর আইনি তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধি দেখবেন প্রধান বিচারপতি, পূর্ব বৃত্তান্তের খোঁজ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তার কার্যপ্রণালি গত আট বছরেও লেখা হয়নি। ওই দুটি ওয়েবসাইটে রাখা নথিগুলো সেই শূন্যতা পূরণে সহায়ক হতে পারে।
মিজানুর রহমান খান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক
mrkhanbd@gmail.com

নজরদারি ও নজরহীনতার রাজনীতি by জোবাইদা নাসরীন

গত কয়েক দিন আমাদের চোখ যখন আটকে ছিল টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর এবং একটি আলোচিত রায়ের দিকে। অনেকে যখন ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে গেছেন নির্বাচনের বাকি দিন গুনতে এবং রাজনীতির অঙ্ক মেলাতে, ঠিক সেই সময়ে নিজের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র এহসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রায় নিভে যাওয়া ফোলা চোখের আহত এহসানের ছবি ঘুরেছে ফেসবুকে, কিন্তু ঘটনাটি আমাদের সংগঠিত করেনি। কারণ, আমরা তখন ব্যস্ত ফেসবুকে অন্য কিছু পড়তে কিংবা রাজনীতির নগদ ভাজা খবর গিলতে। আমরা অনেকেই জেনে গেছি যে ঘটনার সূত্রপাত একটি ক্যালকুলেটরকে ঘিরে। এহসানের কাছ থেকে একটি ক্যালকুলেটর ধার নিয়েছিলেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের নেতা ওমর ফারুক। ঘটনার দিন গভীর রাতে ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ, তারপর বেদম পেটানো। এটা কোনো মারামারি ছিল না, কারণ যখন অনেকজন মিলে একজনকে মারে, তখন সেটি আর মারামারি হয় না, সেটি হয়ে যায় মার দেওয়া কিংবা মার খাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নতুনদের ওস্তাদীয় ‘আদবকায়দা’ শেখানোর দায়িত্ব নেওয়া সিনিয়র ছাত্রদের হাতে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মার এবং নানা রকম শাস্তি পাওয়া এখন আর তেমন নতুন কোনো ঘটনা নয়। সেই সঙ্গে বাম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের জন্য দুই-চারটা চড়থাপ্পড়ও বরাদ্দ আছে। আর কোনো নৈতিক আন্দোলনে হলে বসবাসকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তাঁদের জন্য নিশ্চিতভাবেই ভয়ভীতি ডেকে আনে। এই ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ কিন্তু চিন্তা-চেতনায় অসাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবিদাওয়ার মিছিলে আনতে এখন ভীত থাকে। এভাবেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে, জীবনের স্বপ্নগুলোকে প্রতিনিয়তই গলা টিপে হত্যা করার দিকে নিয়ে যাচ্ছি।
তবে এবারের ঘটনাটি অন্য সব ছেলে শিক্ষার্থীদের হলে হরহামেশাই ঘটে যাওয়া ‘ছোটখাটো’ মার খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এহসানকে ওমর ফারুক এবং তাঁর বন্ধুরা রড দিয়ে বেদম পিটিয়েছেন। এ সময় এহসান চোখে মারাত্মক আঘাত পান এবং অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁকে একজন নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেলে। আবারও নিয়ে আসা হয় নির্যাতকদের রুমে। সেখান থেকে এহসান কোনোভাবে বের হয়ে আসেন। বর্তমান খবর অনুযায়ী, এহসান রফিকের চোখের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিকিৎসকেরা চিন্তিত। তবে আমরা এ নিয়ে খুব চিন্তিত বলে মনে হয় না। কারণ, সিদ্দিকুর বা এহসানরা নন; আসলে আমরাই সম্ভবত আমাদের চোখ হারাচ্ছি। আমাদের চোখ কোনটা দেখবে আর কোনটা দেখবে না, সেটি আমরা স্থির করে রাখি। দেখা-অদেখার এক জটিল রাজনীতিতেই আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়ছি। এহসানকে মারধরের ঘটনায় এসএম হল ছাত্রলীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এঁদের মধ্যে রুহুল আমিন ও ওমর ফারুক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর মেহেদী হাসান হিমেল পালন করছিলেন উপপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব। তবে এহসানের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে ‘বৈধতা’ দিতে বলা হচ্ছে যে সে শিবির করত, যদিও কোনোভাবেই তার প্রমাণ মেলেনি। আর কেউ শিবির করলেই তাঁকে পিটিয়ে প্রায় অন্ধ বানানোর দায়িত্ব কে কাকে দিল? কবে থেকে ছাত্রলীগ এই দায়িত্ব নিল? তবে এই বিষয়ে প্রতিবাদও এসেছে এ সংগঠনের সেই হলের সভাপতির কাছ থেকে। আর এর মধ্য দিয়েই প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে এসএম হলের ছাত্রলীগের দুই নেতার মধ্যকার বিরোধ।
দুই. সেই বিরোধ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই, ক্ষমতাবানদের মধ্যে বিরোধ থাকবেই। ঢাকার মধ্যকার তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রয়েছে এই র‍্যাগিংচর্চা। শিক্ষার্থীদের হল না থাকার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এখনো এই চর্চা তেমন করে রপ্ত করতে পারেনি বলা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের এক ছাত্রকে মানসিক নির্যাতন করেছেন ওই বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রাহমান কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে সদ্য ভর্তি হয়েছেন। মিজানুরের বন্ধুরা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বিভাগের ৪৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা তাঁদের (৪৭ তম আবর্তন) সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন (সমকাল, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮)। মানসিকভাবে ছেলেটি এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যে তিনি তাঁর পিতাকে দেখে চিনতে পারছেন না। যাঁরা ছেলেটিকে নির্যাতন করেছেন, তাঁরা বলছেন, ‘গণরুমে অসুস্থ হয়ে যাওয়া ছেলেটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, তাঁর সঙ্গে এমন কিছুই করা হয়নি।’ কবে থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিকিৎসক, বিভিন্ন দলীয় সনদ বিতরণকারী কিংবা ‘আদবকায়দা’ শেখানো কিংবা ‘বাপের নাম ভুলিয়ে’ দেওয়ার সামাজিক ‘মুরব্বি’র দায়িত্ব হাতে পেলেন? কারাই-বা তাঁদের এই ধরনের নির্যাতন করার বৈধতার স্বীকৃতি দিল?
তিন. বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন এহসান দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে, এখন সেই চোখই ক্ষতবিক্ষত বন্ধ। ঠিক একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে আসা ছেলেটির জীবনও হয়তো হারিয়ে যাবে র‍্যাগিং নামের এক যন্ত্রণার অংশ হয়ে। শুধু মিজানুরই নন, এই রকম হয়তো আরও অনেকেই এর মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, ভয়ে মুখ খোলেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করছি, আপনারা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দেখভাল করার দায়িত্বে আছেন, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনারা যদি এই ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতনের ব্যাপারে অন্যমনস্ক থাকেন, তাহলে আমাদের আসলেই বুঝে নিতে হবে প্রশাসনের আশকারাতেই র‍্যাগিং হচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বীয় মর্যাদার ওপর ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব জায়গায় পা ফেলার অধিকার আছে, আছে নিরাপদে শিক্ষাজীবন পার করার দৃঢ় স্বপ্ন। সে স্বপ্নই ফিকে হয়, বর্ণহীন হয় নানা ঘূর্ণিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তবে কী দুঃস্বপ্নই হয়ে যাচ্ছে...জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়টি তবে কী ভয়ের প্রাচীরেই ঢাকা থাকবে?
জোবাইদা নাসরীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক
zobaidanasreen@gmail.com

শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রশ্নপত্র ফাঁস আগেও হয়েছে। এখন এটা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু যারা ফাঁস করছে, তাদের ধরা হচ্ছে না। কেন ধরা হচ্ছে না? কেন শাস্তি হচ্ছে না? অপরাধের যদি শাস্তি না হয়, তাহলে তো অপরাধ বাড়বেই। আমাদের গোয়েন্দারা দক্ষ, দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের ধরে ফেলেন। তাঁরা ফেসবুকে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করলে তাকে ত্বরিত গতিতে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। তাহলে এ ক্ষেত্রে কেন হচ্ছে না? আসলে এখন দুর্নীতি সমাজের সর্বত্র প্রবেশ করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস তার থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আর এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আমি মনে করি না, এটা কোনো অসম্ভব কাজ। ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষাগুলো তো প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়াই হচ্ছে। আমার মনে হয়, বাংলা মাধ্যমের প্রতি আমাদের কর্তাব্যক্তিরা অতটা গুরুত্ব দেন না। এভাবে গোটা শিক্ষাব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। পরীক্ষার ফল নিয়ে এত উল্লাস করা হয়, পরীক্ষার ফল ভালো হলে শিক্ষার অগ্রগতি হচ্ছে, সরকারের বিরাট সাফল্য-এভাবে দেখানোটাও ভুল। এখন পরীক্ষা ও ফলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, এটা শিক্ষার দুর্বলতা। এটা আগেও ছিল। এখন বেড়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না, পরীক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যাচ্ছে, গাইড বই পড়ছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের দুর্নীতিটাও এখান থেকে তৈরি হচ্ছে। এখান বের হয়ে আসতে হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের অবশ্যই ধরতে হবে, শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু বেরোনোর আসল উপায় হচ্ছে আমরা গুরুত্ব দেব পাঠকে, গুরুত্ব দেব না পরীক্ষাকে। সব পরীক্ষাই স্কুলে হবে। একটা মাত্র পাবলিক পরীক্ষা হবে। আরও দুটি পাবলিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে, সেটা অন্যায়। এগুলোই প্রশ্ন ফাঁসকে উৎসাহিত করছে। এমসিকিউ তুলে দেওয়ার চিন্তা ভালো। সৃজনশীলও অনেকে বোঝে না। ফলে এটা ক্ষতি করছে। ভালো শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তাদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা দিতে হবে। পরীক্ষায় প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হবে না, গুরুত্বপূর্ণ হবে উত্তর। প্রশ্ন সরল হবে, সেখানে ছাত্র বুঝল কি না, প্রকাশ থাকতে হবে লেখার মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নিতে হবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: ইমেরিটাস অধ্যাপক

মাটি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক, বাঁচবে লাখো প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা মাটির নমুনার ভেতরে অ্যান্টিবায়োটিকের নতুন একটি পরিবারের খোঁজ পেয়েছেন। যেসব সংক্রমণের চিকিৎসা খুবই কঠিন, সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রাকৃতিক উপদানের মিশ্রণে নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গত ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন।-খবর বিবিসি অনলাইন। বিজ্ঞানীরা বলেন, মাটির মিশ্রণ পরীক্ষা করে দেখা গেছে- এর ভেতরে থাকা ম্যালাসিডিনস নামে অ্যান্টিবায়োটিক পরিবার বিভিন্ন সুপারবাগ ধ্বংস করতে পারে। এমনকি এতে এমআরএসএর মতো সুপারবাগও শেষ হয়ে যাবে। ন্যাচার মাইক্রোবাইয়োলজি নামে একটি জার্নালে এ নিয়ে নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে ওষুধ-প্রতিরোধী রোগকে। মানুষ ক্রমাগত রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এবং রোগ নিরাময়ে ওষুধ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সেক্ষেত্রে নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিক আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্বের কোটি মানুষকে। ওষুধে কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর সাত লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে। নতুন এ্যান্টিবায়োটিক এই সংখ্যা হয়তো অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারবে। সুপারবাগ এমআরএসএ ইঁদুরের ত্বক আক্রান্ত হলে নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিক তাতে প্রয়োগ করা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটেনি। এর আগে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধে কাজ হয় না, এমন রোগ সন্ত্রাসবাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে, যা আধুনিক বিশ্বকে উনিশ শতকের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যখন সামান্য সংক্রমণ কিংবা অস্ত্রোপচার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিত।

ঘুষ নিয়েছেন নেতানিয়াহু, প্রমাণ পেল পুলিশ

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে ইসরাইলের পুলিশ। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, প্রতারণা ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করতে সুপারিশ করা হয়েছে। কয়েক মাসের তদন্ত শেষে মঙ্গলবার ইসরাইলি পুলিশ এ সুপারিশ করেছে। তবে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অ্যাটর্নি জেনারেলের ওপর। তিনিই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কর্তৃত্ব রাখেন।-খবর আলজাজিরা। তবে পুলিশের সুপারিশের পর নেতানিয়াহু অনেকটা অবজ্ঞার সুরে বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকছেন। পুলিশের ওই সুপারিশে কিছুই আসবে যাবে না। নেতানিয়াহু বলেন, আমি এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি, তা ইসরাইল রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যই করেছি। ভবিষ্যতেও আমি একই কাজ করে যাব। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলছে। প্রথম মামলাটিতে এক ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে তিনি উপহার গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইসরাইলের পুলিশ বলেছে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, প্রতারণা ও শপথ ভঙ্গের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি ঘুষ হিসেবে দুই লাখ ৮০ হাজার ডলার মূল্যের শ্যামপেন, সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার ও পোশাক নিয়েছেন। দ্বিতীয় মামলাটির অভিযোগে বলা হয়েছে, তার পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রচারে তিনি ইডিয়ট আক্সারোনট নামে একটি দৈনিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি দৈনিকটিতে এমন ধরনের সংবাদ চেয়েছেন, যাতে তার বিরোধীরা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ভালোবাসা ভালো চোখে দেখে না যে দেশগুলো

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। মন খুলে মনের কথা বলার দিন আজ। প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে ঘুরবে, উঠতি তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে প্রেম নিবেদন করবে, কারও কারও অব্যক্ত কথা জমে থাকবে রূপকথা হয়ে। বিশেষ এই দিবসটি উদযাপনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উš§ুখ হয়ে আছেন। তবে সব দেশ কিন্তু এই ভালোবাসা দিবসকে ভালো চোখে দেখে না। কিছু দেশ আছে যেখানে এটি একেবারেই প্রশ্রয় দেয়া হয় না। উল্টো ভালোবাসা দিবস উদযাপনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেখানে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতারে ইসলাম ধর্মীয় নেতারা ভালোবাসা দিবস পালন ও নারীদের চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা এবং রাশিয়ার বেলগ্রাড প্রদেশের স্থানীয় সরকারও এ দলে যোগ দেয়। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র ইতিহাসকে ঘিরে রয়েছে নানারকম কাহিনী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপী এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেবদেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেবদেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সেই থেকেই দিনটির শুরু। পাকিস্তানের অনেক শহরে এক সময় ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ উদযাপন বেশ জনপ্রিয় ছিল। যদিও দেশটির ধর্মীয় দলগুলো একে অপসংস্কৃতি মনে করে। ২০১৩ সালে পাকিস্তানে প্রথম সাবিন মাহমুদ নামে এক মানবাধিকার কর্মী ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপনের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। এ জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় এবং একপর্যায়ে তিনি আÍগোপনে চলে যান। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০১৫ সালে রাস্তার পাশে সাবিন মাহমুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালে পাকিস্তানে আবদুল ওয়াহিদ নামে এক ব্যক্তি ভালোবাসা দিবস পালন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আদালতে মামলা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসা দিবস ইসলামবিরোধী’। সেই দাবিতে সম্মতি জানিয়ে আদালত ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দেশের সব সংবাদ মাধ্যমকেও ভালোবাসা দিবস নিয়ে কোনো রকম প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। খবর বিবিসির। মধ্যপ্রাচ্যের কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ ইরান ২০০৮ সালে ভালোবাসা দিবসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের যুব সমাজকে পশ্চিমা সংস্কৃতির ‘কু-প্রভাব’ থেকে মুক্ত রাখতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশটি। সে সময় সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, হৃদয়, অর্ধ-হৃদয়ের প্রতীক, লাল গোলাপ এবং এদিন সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে জরিমানা, কারাদণ্ড ও এর চেয়েও ভয়াবহ সাজা হতে পারে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের কার্ড, পোস্টার ছাপানো, উপহারসামগ্রী বিপণন, বিতরণ ও প্রদর্শনকে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৮ সালের পর থেকে ইরানে প্রকাশ্যে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করতে দেখা যায়নি। রয়টার্স। পৃথিবীজুড়ে অনেক তরুণ-তরুণী যখন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করছে তখন ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীরা হাঁটছে উল্টো পথে। ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির সোরাবায়া শহরে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র বিরুদ্ধে র‌্যালি করেছিল তারা। র‌্যালিতে অন্তত স্কুলের ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল বলে জানায় বিবিসি। তাদের দাবি, এটি অবৈধ শারীরিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা ‘ইসলাম অশ্লীলতা সমর্থন করে না’, ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে ইসলামে হারাম’ শীর্ষক প্ল্যাকার্ড বহন করে। ২০০৯ সালে সৌদি আরবে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সৌদি পুলিশের পক্ষে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতারক পুরুষদের কবল থেকে সৌদি নারীদের হেফাজত করতে তারা বদ্ধপরিকর। এই দিনে পুরুষেরা মিথ্যা অনুভূতির আশ্রয় নিয়ে নারীদের সঙ্গে ভালোবাসার ভান করে। এটা নারীদের প্রকৃত সম্মানের জন্য ক্ষতিকর।’

ইতালিতে শতবর্ষীদের গ্রাম

গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দার বয়স শতবর্ষের বেশি। ইতালির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ সারদিনিয়ার একটি গ্রামের পরিস্থিতি এমন। সারদিনিয়ার মতো গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোইয়া, জাপানের ওকিনওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো জায়গাতেও মানুষের গড় আয়ু একশ’র কাছাকাছি। এসব জায়গায় প্রতি চারজনে একজন শতায়ুর অধিকারী হন। কিন্তু সারদিনিয়ায় প্রতি দু’জনের একজন শতায়ুর অধিকারী। শুধু তাই নয়, সারদিনিয়ায় শতায়ু অর্জনকারী নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় একই রকম। এখানে সবচেয়ে বেশি বয়স লাভ করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তিয়ানা গ্রামটি।
গ্রামটির বেশির ভাগ মানুষের বয়সই প্রায় একশ’ বছর। একশ’ বছরের বেশিদিন বেঁচে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে তিনগুণ রয়েছে তিয়ানা গ্রামে। এ কারণেই এই গ্রামটি অন্য সব অঞ্চল থেকে ব্যতিক্রম। তিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা অ্যান্থেনিয়ো টডেই হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র স্বীকৃত মানুষ, যিনি একই সঙ্গে তিনটি শতক পেয়েছেন। উনিশ শতকের শেষদিকে জন্মগ্রহণ করে অ্যান্থেনিয়ো বেঁচেছিলেন একুশ শতকের শুরু পর্যন্ত। ১১০ বছর বয়সে ২০০২ সালে মারা যান তিনি। তার ছেলে ৮৪ বছর বয়সী টোনিয়োর আশা করেন একশ’ বছর বেঁচে থাকবেন। মূলত উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য, সুষম খাবার এবং শারীরিক কসরতের কারণে এখানকার মানুষ দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হয়। গবেষকদের মতে, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এখানে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। পরিবারের সদস্যদের সুসম্পর্ক, সেবা ও নিজস্ব সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে পারস্পরিক কর্মকাণ্ড বেশি দিন বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। তিয়নার বাসিন্দারা মনে করেন, বেশিদিন বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যের চেয়ে সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ই বেশি ভূমিকা রাখে। সিএনএন।