Friday, June 28, 2013

আদিত্য পাঞ্চোলিকে এড়িয়ে চলছেন কঙ্গনা

অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির হাত ধরেই বলিউডে পা রাখেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। আদিত্যকে সব সময়ই নিজের পরামর্শদাতা হিসেবে ব্যক্ত আবেদনময়ী এই অভিনেত্রী।

গণহারে পাস সমস্যার সমাধান নয় by আবদুল মান্নান

‘বাহ্! ভালো তো, ভালো না?’ এটি একটি মুঠোফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনের ভাষা। ইদানীং নানা অছিলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি অনেকে ব্যবহার করেন। সম্প্রতি সম্মান প্রথম বর্ষের সব ফেল করা ছাত্রকে গণহারে পাস করিয়ে দিয়ে এই স্লোগানটির যথার্থ ব্যবহারের একটা বড় ধরনের সুযোগ করে দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তা নিচ্ছেও সবাই। ফেল করেও পাস করিয়ে দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে ওপরের ক্লাসে প্রমোশন পাওয়া যায়, এমন ব্যবস্থা আর কোনো দেশে আছে বলে জানা নেই। তাই তো কবি দ্বিজেন্দ্র লাল রায় তাঁর অমর গানে বলেছেন: ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি।’ নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার এমন মোক্ষম ব্যবস্থা আর কোথায় পাওয়া যাবে? এমনকি আফ্রিকা মহাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান বা ইথিওপিয়ায়ও নয়।

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এমন একটি কাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল সেই ১৯৭২ সালে। সে সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহম্মদ চৌধুরী আর অধ্যাপক ইন্নাস আলী। দুজনকেই বঙ্গবন্ধু অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব পরীক্ষার অধিকাংশ পত্রের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। কোনো কোনো বিভাগে দুই পেপার বাকি আবার কোনোটিতে এক। অন্যদিকে, বিজ্ঞান অনুষদের প্রায় সব বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। কিছু ছাত্র, বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্ররা দাবি তুললেন, আর কোনো পরীক্ষা তাঁরা দেবেন না। আগে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। তাঁরা সবাই অটোপ্রমোশন চান। তাঁদের সংখ্যা বেশি হলে ১০ ভাগ। বাকিরা জানান, তাঁরা যথারীতি পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল পেতে চান। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তুমুল উত্তেজনা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম, তবে তাঁদের দাবি কিছুটা আবার অদ্ভুতও। শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থীদের দাবি, যেহেতু তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন, সেহেতু তাঁদের বইপত্র লুট হয়ে গেছে; সুতরাং তাঁরা আর কোনো পরীক্ষা দেবেন না। আর নিচের ক্লাসের পরীক্ষার্থীরা বললেন, তাঁরা পরীক্ষা দেবেন, তবে তা হতে হবে বইপত্র খুলে এবং পরীক্ষা যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ দেবেন।
দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার নিয়মিত পরীক্ষা দিয়ে যাঁরা সনদ নিতে চান, তাঁদের সঙ্গে এঁদের কয়েক দফা সংঘাতও হলো। পরীক্ষাবিরোধীরা জানিয়ে দিলেন, স্বাধীন দেশে পরীক্ষা নামের কিছু থাকবে না। সবাইকে অটোপ্রমোশন দিতে হবে। দুই উপাচার্য জানান, তাঁরা এই অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবেন না। অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহম্মদ জানান, তাঁর মৃতদেহের ওপর দিয়ে এই অটোপ্রমোশন হবে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সবাইকে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল পেতে হয়েছিল আর কলা, সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদে যাঁরা অনার্স পরীক্ষায় এক বা দুই পেপার বাকি ছিল, তাঁদের সব পরীক্ষা ঠিক রেখে ওই অবস্থায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই তাঁদের মতো করে কোনো পরিদর্শক বা শিক্ষকের উপস্থিতি ব্যতিরেকে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেসব পরীক্ষা বাতিল করে আবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। একটি বিকল্প রাখে যে যাঁরা সম্পূর্ণ পরীক্ষাটা মৌখিক দিতে চান, তাঁরা তা দিতে পারেন। সেই সুযোগও কেউ কেউ গ্রহণ করেছিলেন। পরীক্ষা ছাড়া পাস তা ছিল অসম্ভব। কারণ, উপাচার্যরা ছিলেন তাঁদের সিদ্ধান্তে অটল। প্রায় চার দশক পর এসব কথা মনে পড়ল সম্প্রতি ফেল করা ছাত্রদের দাবির মুখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাঁদের প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দেওয়ার অভাবনীয় ঘোষণার পর। এই পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৬ শতাংশ, সংখ্যায় প্রায় এক লাখ। এই ‘মেধাবীদের’ অনেকেই একদিন বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণীর আধিকারিক হবেন। বাহ্! ভালো তো, ভালো না?
এই ফেল করা ‘মেধাবী’ শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন গ্রেড-পদ্ধতির কারণেই নাকি তাঁরা ফেল করেছেন। আগে ৩৩ নম্বর পেলে তাঁরা পাস করতেন, গ্রেড-পদ্ধতিতে পেতে হবে ন্যূনপক্ষে ৪০। এই তথ্যটি তাঁরা আগে থেকেই জানতেন না, এমন নয়। সুযোগ পেলেই আমরা সবাই সমস্বরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একহাত নিই এই বলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে এগুলো কতগুলো সনদ বিক্রির দোকান। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও কী এদের ক্লাবে ভর্তি হলো এই ফেল করা ছাত্রদের আন্দোলনের ভয়ে সবাইকে পাস ঘোষণা করে? জানি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে হালাল করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা নানা ধরনের অজুহাত দাঁড় করাবেন। একজন সহ-উপাচার্য জানান, ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী পরীক্ষকেরা, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কী অদ্ভুত যুক্তি! এই যে সনাতনপদ্ধতি থেকে গ্রেড-পদ্ধতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে, তা কি শিক্ষকেরা জানতেন না? না যদি জেনে থাকেন, তাহলে সে দায়দায়িত্ব কার? বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যেগুলো তথাকথিত সনদ বিক্রির দোকান, সেগুলো বাদে) কোনো বিষয়ে ৭০-এর কম নম্বর পেলে ফেল অবধারিত এবং কারও যদি জিপিএ-২-এর নিচে আসে, তাহলে সেই ছাত্র ওই সেমিস্টারে ফেল করবেন এবং দুবার ফেল করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হবেন। এক বছরে তাঁকে কমপক্ষে নয়টি বিষয় পড়তে হয় (তিন সেমিস্টার-পদ্ধতিতে)। ছাত্র ভালো হলে কখনো কখনো তাঁরা এই তিন সেমিস্টারে ১০ থেকে ১২টি কোর্সও শেষ করেন। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাসের সেমিস্টার, সেখানে বছরে পড়তে হয় ১০টি। সাধারণ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই নিয়ম।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দু-একজন কর্মকর্তা জানান, এই সিদ্ধান্তটি তাঁরা নিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ, এই রমজান মাসে তাঁরা চাননি এই ফেল করা ছাত্রদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের কষ্ট হোক। এমন বক্তব্য বালখিল্য ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁরা মনে করেছিলেন, ঘটনা এখানেই বুঝি থেমে যাবে। কথায় আছে, বাঙালিকে বসতে দিলে শুতে চায়। এখানেও ঠিক তেমনটি হয়েছে। যেই-না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণের শর্ত শিথিল করল, ঠিক পরদিন ন্যূনতম গ্রেড-পদ্ধতি বাতিলসহ চার দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, শুধু প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষ নয়, দ্বিতীয় বর্ষ থেকে অন্যান্য বর্ষে প্রমোশনের জন্য যে সর্বনিম্ন গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা-ও বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা আরও কিছু দাবি-দাওয়াও উপস্থাপন করেছেন। এরপর হয়তো দাবি উঠবে পরীক্ষাটরীক্ষা বাদ। বছর শেষে সবাইকে পাস ঘোষণা করতে হবে এবং সনদটা বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। এঁরাই একদিন দাবি করবেন, তাঁরা দেশের শ্রেষ্ঠ ‘মেধাবী’। সুতরাং সব সরকারি চাকরি তাঁদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা কম যান কিসে? প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, বিসিএসে কোটাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে যারা ভাঙচুর করেছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হবে। এটি তাঁর বলার প্রয়োজন ছিল না। প্রথম কথা হচ্ছে, যাঁরা কোটাপ্রথা বাতিলের দাবিতে ভাঙচুরসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের মধ্যে কজন প্রকৃত বিসিএস পরীক্ষার্থী ছিলেন, তা প্রশ্ন সাপেক্ষে। এরপর প্রকৃত মেধাবীরা এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারেন, তা বিশ্বাস হয় না। এই নৈরাজ্যের প্রেক্ষাপটে যখন পাবলিক সার্ভিস কমিশন ফলাফল পুনর্বিবেচনা করল, তখন দেখা গেল, প্রথম তালিকায় স্থান পাওয়া আদিবাসী গোষ্ঠীর অনেক উত্তীর্ণ হওয়া পরীক্ষার্থী বাদ পড়েছেন। এই পরীক্ষার্থীরা কোনো রকম নৈরাজ্য সৃষ্টি না করে বাদ পড়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন। এতে কি কোনো কাজ হবে? না হলে তাঁরাও যদি ভাঙচুর আর নৈরাজ্যের আশ্রয় নেন, তাহলে তাঁদের কি কোনো দোষ দেওয়া যাবে। কারণ, দেশে তো এখন এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত যে ভাঙচুর না করলে দাবি পূরণ হয় না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লুফে নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন; ক্ষমতায় গেলে তিনি যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁদের সবাইকে চাকরি দেবেন। এটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের একজন সাবেক চেয়ারম্যান সেদিন এক টিভি টক শোয় জানান, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মন্ত্রীরা অনেক সময় কিছু নামের একটা তালিকা ধরিয়ে দিয়ে তাঁদের চাকরি দিতে নির্দেশ দিতেন। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই সংস্কৃতি আবার চালু করলে দেশের আমলাতন্ত্রের কফিনে সর্বশেষ পেরেকটা ঠোকা শেষ হবে।
বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এ কারণে ফলাফল যে তেমন একটা ভালো হয়েছে, তা কিন্তু নয়। শিক্ষার প্রসার হয়েছে ঠিক, কিন্তু তার যে গুণগত মানের তেমন একটা উন্নতি হয়েছে, তা আমার ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে কখনো মনে হয়নি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে আমরা আগামী দিনে যেমন বাংলাদেশ চাই, তা কখনো পাওয়া যাবে না। আর প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের তরুণেরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়বেন। পদ্ধতি আর প্রক্রিয়ার ত্রুটি থাকলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত গণহারে পাসের ব্যবস্থা না করে সেসব ত্রুটি দূর করার ব্যবস্থা করা। আর আমার তরুণ বন্ধুদের বলি, কেন নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার এমন পথ বেছে নিল তারা?
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

পত্রমিতা

স্বজন যেহেতু তাকে পান্না বলেই শনাক্ত করতে চায়, আপনারাও তা-ই করুন, তাকে পান্না নামেই মনে রাখুন। এ যে এক পত্রমিতার কথা—সময় সময়কে ঝাঁঝরা করতে করতে এরই ভেতর সময় যে বয়ে যায়। ঘটনা ঘটনাকে টানলেও এখানে অনেক ঘটনা আছে। স্মৃতি দিয়ে স্মৃতি মেপে কি আর সময় বের করা যায় না? তাই তো স্মৃতির চিহ্ন দিয়েই তার নাম পান্না বলে সে কনফার্ম করে। তার দেশের বাড়ি গফরগাঁওই তো? তা-ই হতে পারে, অথবা নাও হতে পারে, কিংবা হতে পারে তা সেতাবগঞ্জ/ কুলাউড়া/ ভৈরব/ পাহাড়তলী। কিন্তু নামটি তার পান্নাই থাক। এ এক জীবন্ত স্মৃতি—এটা মনে করার কারণও আছে। কারণ, এ নাম স্মৃতি দিয়ে এভাবে গড়া যে তা আর সরানো যায় না, গহিন-গভীর নিঃশ্বাসের মতো নামটি স্বজনের কাছে জলজ্যান্ত এক সত্তা যেন। সময় যায়, কিন্তু নামের বয়স বাড়ে না! এ-ও একধরনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো এক বিষয় যেন। তা নাহয় হলো, আজ তবে আরেকটু হলেই তো চিঠিসমেত নোভার মার হাতে স্বজন ধরাই পড়ে যেত। ঘটনার বৃত্তান্তে প্রকাশ, তখন সে আসলে এসএসসির মূল সনদপত্র ব্যাগ থেকে বের করতে গিয়ে তিন-চারটা চিঠি পেয়ে যায়। হায়, কত যে পুরোনো সেই পত্রগুলো, যা মুমূর্ষু হতে হতে ঝরে পড়ার দশা। আসলে তখন সে পান্না-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই বউয়ের নজরে আনতে চায়নি। যাকে কোনো দিন সরেজমিনে দেখেইনি, সেই মানুষটাকে এভাবে কথনে আনার কী মানে হয়! কিন্তু তাকে আজ পুরোনো ঘায়ের মতো, রক্তচিহ্নের মতো, নতুন বাড়ি যাওয়ার রাস্তার মতো আবারও মনে পড়ে যায়। এটুকু তার মনে হচ্ছে, এই মানুষ তার স্মৃতি থেকে কোনো দিন মুছে যাবে না। ‘সেই তুমিই লিখো, যে আমার সোহনপুরকে চিহ্নিত করতে চায়।’ এই কথা কটি লিখেই পত্রমিতার সন্ধানে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় চিঠি পাঠায় স্বজন। এখনো তার মনে পড়ে, এটা শুধু চিঠি ছিল না, ছিল একটা হাহাকারের লেখচিত্র!
এভাবেই সে আসলে সোহনপুরকে চিহ্নিত করতে চাচ্ছিল। তার হূদয় তখন এত রোদনমুখর ছিল যে এ ছাড়া তার আর কোনো পথও ছিল না। খসখসে হলুদে মাখামাখি একটা অতি নিম্নবর্গীয় কাগজে এমনই এক আরজি জানিয়ে তখনই পত্রমিতালির জন্য সে পাঠায়। সপ্তাহ খানেকও অপেক্ষা করতে হয়নি, প্রতিদিন দু-তিনটি চিঠি তার বরাবর আসা শুরু হয়, যেন ছাত্রদের ছোট্ট হোস্টেলটিতে হাস্যকোলাহলের একটা হাট বসে যায়। এত দিন পর আজ এমন কোমল দীর্ঘশ্বাসে ভরা তিন-চারটা চিঠি তার সামনে দেখা দেবে তা সে ভাবেনি। বহুদিন পর স্বজন তাকে স্মরণ করে। যখন সে, তার একদম জন্মস্বপ্ন অর্থাৎ সোহনপুরহীন হয়ে যায়, তখনই এ নারী ম্লান-জ্যোৎস্নায় ভিজে ভিজে, রোদে নেয়ে-ঘেমে তার চাক্ষুষে আসে। হঠাৎই তাকে আজ এত দিন পর এত করে মনে পড়ার কী কারণ! তাহলে কি স্বজনের সঙ্গেই কার্যত পান্নার জীবন কোনো না কোনোভাবে বাঁধা আছে! এত দিন তাহলে পান্না নামের পত্রমিতা কোথায় হারিয়ে ছিল? আসলেই কি সে নিজেকে কোথাও রেখেছিল? না না, তা নয়, বরং খোয়াবের ধান্দায় পড়ে আবার যেন সে আসে। এই এক চরিত্র, যা তার অন্তরে ঘন-দীর্ঘশ্বাসের মতো জ্যান্ত আছে! প্রায় ৩০ বছর আগের কথা, সত্যিই ৩০ বছর হয়ে গেল? মা চিঠিতে তখন জানিয়েছে, ‘তুইও পুলিশের হাত থেকে দূরে দূরেই থাক, এই সময়ে সোহনপুর আসার কোনো দরকারই নাই।’ এমনই একটা সংবাদের ভেতর পতিত হয়ে তার বাস্তবতা আরও কঠিন চাপের মুখে পড়ে। বরং বলা যায়, তার জীবন একেবারে গোধূলির ধূসরতা দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে যেতে থাকে। তার বড় ভাইটার প্রতি তার মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যায়, ভাইজানের সেই এক কথা, ‘বন্দুকের নলই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’
তখন ক্ষমতার মসনদ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ধনী-গরিব যুদ্ধ হয়, দিবানিশি জোতদার-মহাজনের রক্তে হাত রাঙানোর নেশায় তারা মত্ত হয় তখন। আর মেডিকেলের কঠিন পড়াশোনার চাপের ভেতর সোহনপুরহীন থাকার এ বার্তায় স্বজনের অস্তিত্ব এক কঠিন সংকটে পড়ে। অ্যানাটমির কঠিন-জটিল আইটেম-পরীক্ষা আর ফিজিওলজির পড়াশোনার চাপে তার সময় একেবারে বোবা পাহাড়ের স্তব্ধতার মতো স্থির হয়ে যায়। ‘এ’ ব্যাচের মুজিব রাহমানের সদাচঞ্চল বুদ্ধির মায়ায় পড়ে সে একদা একদিন মেডিকেল কলেজস্থ অগ্রণী ব্যাংকের পাশের পোস্ট অফিস থেকে বিচিত্রায় একটা চিঠি পোস্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়—তার হবি হিসেবে সোহনপুরের স্বপ্নময়তার কথাই সে লেখে। তখন চিঠি যে কী হারে আসা শুরু করল, সেটাই এই ছোট্ট হোস্টেলের একটা ঘটনা! চিঠি আসা, তা পাঠ করা, হইহই-রইরই করা; আর তা নিয়ে চৌদ্দজাতের গবেষণা চলে। দুপুরের খাবারের পর প্রায় সবাই লম্বা ঘুম দেয় সেখানে। কেউ কেউ পরদিন অ্যানাটমির আইটেম বা ফিজিওলজির কোনো প্র্যাকটিক্যাল থাকলে তা নিয়েই সময় পার করে। কিন্তু স্বজন এখন অন্য জগতের মানুষ। চিঠি নিয়ে নানা ধরনের বেজায় টেনশনের ভেতর তার সময় পার হয়। সারাটা দুপুর, বিকেল, রাত সে থাকে এগুলো নিয়ে; বিকেলের দিকে কাশেম, ফারুক আর মুজিবকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে খানেক ঘুরতে চলে যায়। সন্ধ্যার এই সময়টা হাতে আছে বলেই সে কিছুটা রিলিফ পায়। কিন্তু সেখানেও পত্রমিতাদের নিয়ে নানান কথার ভিড় জমে। মুজিব কথা বলে সবচেয়ে বেশি। একটা বিষয় স্বজন বুঝতে পারে না, এক হিসেবে তার পরামর্শেই সে পত্রমিতালী শুরু করে, আর এখন সে-ই তা নিয়ে হাসাহাসি করে বেশি। স্বজন খেয়াল করেছে, দুনিয়াতে এক পদের মানুষ থাকে, যাদের কাজই হলো অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা। সে সেদিন বলা শুরু করে, ‘দোস্ত, তারা বেবাকেই যে মাইয়া মানুষ তা তুই কেমনে বুঝলি,
তোর হাতে কোনো প্রমাণ আছে হা হা হা।’ স্বজন যতই বলে দুনিয়ার সবাই তো এক রকম হয় না। ‘তোর মতো কিসিঞ্জারি কি সবাই করে?’ তা শুনেও মুজিব হাসে। কাশেম ভরসা দেয়, ‘আরে বাদ দে, দোস্ত তোর লিস্টে কোনো চেয়ারম্যানের মাইয়া নাই।’ বুদ্ধিজীবীর গাম্ভীর্যে নিজেকে লালন করা ফারুকও হাসে, সম্মিলিত হাসির তোড়ে মুজিবের কথার ফ্লো আরও বাড়ে, ‘বুঝলি না, এইডা একটা ভাবের বিষয় তো! তুই কী মনে করছিস, মেয়েরা তোর সোহনপুরের জন্য কান্নাকাটি করছে? পাগল কারে কয়; আগে দেখ কজন নুনুওয়ালা হি হি হি, কজন মেয়ের গার্জেন। কজন বউ বউ খেলার প্লেয়ার!’ রঞ্জিতদা চিঠি আসার প্রথম দিন থেকেই বলা শুরু করেছে, ‘আরে তোমরা পোলাপান মানুষ, এসব কী বুঝবে, মেডিকেল হোস্টেলের ঠিকানাই তোমার কপালে অত চিঠি আসার কারণ।‘ কী জানি কী, তা স্বজন বুঝতে পারে না। একটা ঘোরের ভেতর তার সময় পার হয়, কারও চিঠিতে খুব কাব্যিকতা থাকে, এর প্রায় সবই বাংলা নোটবই থেকেই মেরে দেয় মনে হয়। সোনালী কাবিন, সাঁঝের মায়া, আর আমার পূর্ববাংলা কবিতা থেকেও উদ্ধৃতি দেখা যায়। সোহেলির চিঠিতে তার ভাষার চেয়ে কারুকাজ ছিল অনেক। মনামির চিঠিতে যত না কথা থাকত, তার বাপ-মা, ভাইবোন আত্মীয়স্বজনের ছবি থাকত বেশি। আরেকজন ছিল জুঁই, তার ভাইয়ের জন্য কান্নাকাটির শেষ থাকত না; সেকেন্ড ইয়ারে উঠেই তুমুল জ্বরে ভুগে ভাইটা নাকি তার মারাই যায়! তা নিয়েও মুজিব মশকরা করে, কয়, ‘আরে কিসের ভাই মরছে, সব ভংচং।’ তার বাদে ছিল এক লিপস্টিক-কন্যা রক্তবর্ণের টসটসা চুম্বনের চিহ্ন দিয়ে চিঠির মাথা থেকে পদযুগল পর্যন্ত কম্পিত করে রাখত! তবে এখানে যে আলাদা সে হচ্ছে পান্না। একটা চিঠি স্বজন যখন পাঠাত,
একেবারে গুনে গুনে আটটা দিন পর তার উত্তর আসতই। সেখানকার জলের গন্ধ, নদীর শব্দ, মাটির মাখো মাখো পরশ তাকে উন্মনা করে রাখত। এর উত্তর পাঠাতে দু-চারটা দিন দেরি করলে এর উত্তরে কোত্থেকে যে এত কান্নার ধারা বইত! পান্না তাকে যেন নদীর কিনারে, গাছগাছালির ভিড়ে নিয়ে যেত; মেঘ-রোদের জীবনকে সবার ভেতর বিলিয়ে দিতে পারত। ভালোবাসাই জীবন, সেই ভালোবাসামুখর জীবনের পরশ নিয়ে মানবলীলায় না পৌঁছালে কি আর চলে! সে জানায়, ‘তুমি মনে করবা, তোমার সোহনপুর সব মানুষের হূদয়ে গেঁথে যাওয়ার বিষয়, এবং তা যাবেই। ভালোবাসার যৌথ বুনন বিনে যে জীবন চলে না গো।’ যেন এমন এক জগতের ইশারা সে দেয়, যা ছাড়া এ জীবন, জীবনের এই যৌথতা, পূর্ণ হওয়ার নয়। কথায় কথা চলে। পান্না তো এসব জানায় না, যেন নিজের জীবনকে একেবারে প্রকাশ্য রূপে হাজির করায়। পরস্পরের জীবন পরস্পরের মাধ্যমে ক্রমাগত যেন দ্রবীভূত হয়। তবে তারা জীবনের চরম বাস্তবতা জীবন থেকে বাদ দিতে পারে না। কারণ, এখানে আরও একটা চরিত্র তাদের সম্পর্কের একেবারে গোড়ায় শ্বাস ফেলে ফেলে তাদের রক্তাক্ত করে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা সেখানে যেন থাকে। পান্নার সৎ-মায়ের কর্মধারা চিঠির মাধ্যমেই বোঝা যেতে থাকে। একবার সে লিখল, ‘আচ্ছা, একবারও কি তোমার আসার সময় হবে না; মেডিকেলে কি আর কেউ পড়ে না! ঠিক আছে, আমাকে দাফন করতেই এসো। এভাবে মানুষ বাঁচে না, বুঝছ। একদিন খবর পাবে যে তোমার চিঠিগুলো শরীরে জড়িয়ে তাতে আগুন দিয়ে নিজেকেই শেষ করে দিয়েছি। আমার কপালে তা-ই আছে, দেখবা!’
বহুদিন পর এমন একটা চিরকুট দেখে স্বজন একেবারে কেঁপে ওঠে। এমনই অনেক চিঠি পান্না তাকে দিয়েছিল। সে এভাবে চিঠি লিখত, যেন তার পাশে বসে, তার নিঃশ্বাস দিয়ে তবে লিখছে। কিন্তু সেই চিঠি লেখালেখি হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। কেন, তা যে কেন, তা আর জানা হলো না! সে এমন একটা পাগলামি কেন করছিল, হায়, তা যদি জানা যেত! সে কি আসলেই দুনিয়ায় নেই, নাকি তার বিয়ে হয়ে গেল, নাকি কোনো ছেলেই তার সঙ্গে এমন ফাজলামি করল? তা কী করে সম্ভব? তা-ও সম্ভব! এখনো যেন পান্নার শরীরের ঘ্রাণ, নদীর মায়াবী পরশ তার কাছে আসছে। তাকে সর্বস্ব সহযোগে চেনা যে গেল না! কেন যে তা হলোও না। এই নামটি আপন খেয়ালেই তার জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। পান্নার লেখা শেষ চিঠিটির বাম কোনায় পুনশ্চ দিয়ে লেখা ছিল: ‘এ চিঠির ভেজা ভেজা অংশ দেখছ, এ আমার কান্নার পরশ। তুমি এসো, আল্লার দোহাই, আমায় এসে দেখে যাও। সৎ-মায়ের জ্বালায়, বাপ আমার পাত্র দেখছে, আইএ-ও পাস করতে দেবে না। প্লিজ, একবার এসো, তোমায় আমি একবার দেখি।’ তারও পর অন্তত পাঁচটা চিঠিতে তার বাড়িতে যাওয়ার পথ বাতলে দেয়। ওগো অক্ষরা, ওগো সহজ বর্ণের মেয়ে, হায় মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া রমণী, কোথায় যে তুমি! অফিশিয়াল কারুকাজের কমা, কোলন, সেমিকোলন, দাঁড়ি ভেঙে স্বজন একসময় স্টেশন ম্যানেজারের দরজার পৌঁছায়। নাসিরাবাদ নামের ট্রেনটি যথাসময়ে ছাড়বে কি না, খবর নেওয়ার মাঝখান থেকেই তিনি স্বজনের দিকে তাকান এবং দৃষ্টি তিনি আর ফেরান না। তিনিই বারবার জিজ্ঞেস করছেন, ‘ভাই সাহেব, কোন ট্রেনের খবর নিচ্ছেন, নাসিরাবাদের?’ স্বজন কথাটিকে ইশারায় সমর্থনের পর স্টেশন ম্যানেজার আবার জানতে চান, ‘ওই ট্রেনে আপনি যাবেন কোথায়?’
তখনই স্বজন তার পকেটে রাখা প্রায় ৩০ বছর আগের একটা কাগজ বের করে, কাগজটি এত নরম যে মনে হয় এখন তার গা থেকে কবরের মাটির মতো ঝুরঝুর মাটি ঝরে পড়বে। ও তার বর্ণনায় মন দেয়, সোহনপুর স্টেশনে যদি ট্রেন রাত ১২টার দিকে পৌঁছায়, তবে সেখান থেকে ট্রেন ছাড়ারও ঘণ্টা চারেক পর তার সেই বাউলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে। সেই স্টেশন থেকে গ্রাম্যপথে আধা ঘণ্টার মতো সোজা পূর্ব দিকে যাওয়ার পর পড়বে শমরাকান্দা, সেখানে চেয়ারম্যান বাড়ির ১০ বাড়ি পরের বিশাল বটগাছওয়ালা বাড়িটাই তাদের। সেখানেই তার যাওয়া লাগবে! আচ্ছা, সেই গাড়িতে খাবার গাড়িটা আছে তো? ফার্স্ট ক্লাস লাগবে না। আমি খাবার গাড়িতেই যাব। স্বজনের চোখে আবারও ভাসে সেই মনারচর স্টেশন, সকালের মেইল ট্রেন, ছাত্রদের জন্য দেওয়া কনসেশন রেটের টিকিট, খাবার গাড়ির চকচকা বসার টেবিল, সামনের একটা হাতাওয়ালা টেবিলে খাবার রেখে খাওয়ার সেই স্পেস কী যে আনন্দময় ছিল। হঠাৎই তার চোখের কোনায় ভেজা ভেজা লাগে। রুমাল বের করে সে নিজের ভেজা চোখ সামলায়! সামনের সবকিছু কেমন কুয়াশাময় লাগছে। হঠাৎই প্ল্যাটফর্ম-স্টেশনমাস্টারের কথার দিকে তার নজর দিতে হয়; সে বলছে, ‘না স্যার, কিসের খাবার গাড়ি, কিসের ফার্স্ট ক্লাস, এখন তো কিচ্ছু নাই। পুরো গাড়িটাই কবে উঠায়ে দেয় হা হা হা। ঠিক আছে স্যার, বুঝলাম, কিন্তু ইন্টারসিটি চালু হওয়ার পর ওই দিকে অত দূর থাইকা কেউ এই ট্রেনে যায় না। এই যে নেন রেলের ডিজিটাল ফোন, এইখান থাইকা অক্ষনই বাউলাপুর স্টেশনের মাস্টারের সাথে কথা কন, দেখেন, কয়টায় গাড়ি পৌঁছে, জাইনা নেন! বটতলার বাড়ির কথাও জিগান।’ একে একে স্বজনের জানা হয় যে সেই দিকের কোনো ট্রেনেরই কোনো মা-বাপ নেই। বটতলার সেই বাড়ি বলেও কিছু নেই।! পাথরের মতো দাঁড়িয়ে সে ভাবে, যেন তার চারপাশের সময়সহ সবই হারিয়ে যাচ্ছে, যেন পত্রগুলোর ভেতর থেকে অগ্নির তাপে সবই পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

অব্যাহত অস্থিরতা দেশ অচল করে দেবে: মুরসি

অব্যাহত অস্থিরতা দেশকে অচল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। ক্ষমতা গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত বুধবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। আগামী রোববার সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতির প্রাক্কালে মুরসি এ কথা বললেন। ভাষণে মুরসি রোববারের গণবিক্ষোভ আয়োজনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি এক বছরে কিছু ‘ভুল’ করার কথা স্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সংলাপে বসার জন্য বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান। তবে মুরসি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি সতর্কবাণীও উচ্চারণ করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার ওই ভাষণে মুরসি বলেন, ‘মিসর অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশে বিভেদ এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতাকে হুমকিতে ফেলতে পারে এবং দেশকে অচল করে দিতে পারে।’ ভাষণে মুরসি আরও জানান, দেশের বিতর্কিত সংবিধানে সংশোধনী আনতে তিনি একটি কমিটি গঠন করছেন। ওই সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকারীদের বেশির ভাগই ছিলেন ইসলামপন্থী। বিরোধীদের মতে, এই সংবিধান সব মিসরীয়র প্রতিনিধিত্ব করে না। মুরসি সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সব রাজনৈতিক আন্দোলন ও দলকে তাদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান। আগামী রোববার গণবিক্ষোভ ডেকেছে তামারোদ নামের একটি সংগঠন। এরই মধ্যে তারা আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পক্ষে দেড় কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। মুরসিবিরোধীরা বলছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে ক্ষমতাচ্যুত করে পরে মুরসিকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এএফপি, বিবিসি।

মোশাররফের বিচারে তদন্ত কমিশন গঠিত

পারভেজ মোশাররফ
পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার’ ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন করেছে দেশটির সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে সাবেক এই সেনাশাসককে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়ায় আরও একধাপ অগ্রগতি হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নাসির গতকাল পার্লামেন্টে জানান, সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চৌধুরী নাসির বলেন, ‘এটা চার সদস্যের কমিটি বা কমিশন। এই কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম প্রতি সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।’ কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারাই এই কমিটিতে থাকবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯৯ সালে এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সেই সময়কার সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। পরে ক্ষমতা ছেড়ে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। গত মার্চে আবার দেশে ফেরেন। গত ১৯ এপ্রিল থেকে তিনি ইসলামাবাদে গৃহবন্দী আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। মোশাররফের হাতে ক্ষমতাচ্যুত নওয়াজ শরিফ গত মে মাসে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গত সোমবার তিনি জানান, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মোশাররফের বিচার হবে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন বেনজির। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মোশাররফকে বিচারের অভিপ্রায় গতকাল সুপ্রিম কোর্টকেও জানিয়ে দিয়েছে সরকার। এএফপি।

একজন শ্বেতাঙ্গের স্মৃতিতে ম্যান্ডেলা

ম্যান্ডেলার সঙ্গে নাদিয়া বিলশিক
কয়েকবার নেলসন ম্যান্ডেলার মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত নাদিয়া বিলশিক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসন ও ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের একজন প্রত্যক্ষদর্শী এই শ্বেতাঙ্গ নারী আমার জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৯৬৪ সালে। ওই বছর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আইন পাস হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় নেলসন ম্যান্ডেলার। জোহানেসবার্গের এক শহরতলিতে তুলনামূলক নির্ঝঞ্ঝাট ও সমৃদ্ধ পরিবেশে শৈশব কাটিয়েছি আমি। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য অনেক শ্বেতাঙ্গ নাগরিকের মতো আমার চারপাশে ছড়ানো ছিল সুযোগ-সুবিধা। আমাদের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত ছিল দুজন পরিচারিকা, একজন মালি ও একজন গাড়িচালক। রোজিনা ও ফিনা নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ পরিচারিকারা সন্তান-সন্ততি নিয়ে আমাদের সঙ্গেই থাকত। তবে তাদের পুরো নাম জানারও গরজ বোধ করিনি আমরা। তবে মারাত্মক কোনো একটা ভুলের অস্তিত্ব আমি কৈশোরেই টের পাই। একদিন আমি ও পরিচারিকা ফিনা শ্বেতাঙ্গ-অধ্যুষিত একটি এলাকায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ পুলিশের একটি ভ্যান সেখানে থামল। গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ আশপাশের সব কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। তারা অনেককে টেনেহিঁচড়ে ভ্যানে তুলে নিল। আমি ভয় পেয়ে যাই এবং ফিনাকে জিজ্ঞেস করি, ‘এসব কী হচ্ছে।’ সে বলে, পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছে। জোহানেসবার্গে শ্বেতাঙ্গদের এলাকায় সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের চলাফেরার অধিকার নেই। সেদিনই উপলব্ধি করি, বর্ণবাদের কলুষ থেকে আমিও আর মুক্ত নই। ধীরে ধীরে আমি প্রথমবারের মতো নেলসন ম্যান্ডেলা ও আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস সম্পর্কে জানতে পারি। এক সময় ‘ফ্রি নেলসন ম্যান্ডেলা’-এর মতো গান আমাদের চেতনার অংশে পরিণত হয়। সোয়েটো দাঙ্গা সংঘটিত হয় ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন। সেদিন ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। স্থানীয় ভাষায় পড়ানো যাবে না—এ মর্মে সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল। সেদিন শত শত মানুষ নিহত হয়। সরকারি বাহিনীর নৃশংসতার প্রতিক্রিয়ায় আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। সেটাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের শুরু। বর্ণবাদের অপরাধ যে কতটা ক্ষমার অযোগ্য, সে সম্পর্কে সত্যিকার উপলব্ধি কিছুটা হয় ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে। আমার বয়স তখন ২০-এর কোঠার শেষ দিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সম্মিলিত সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার পাশে ছিলেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। জীবনে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছিলেন তিনি। তাঁকে দুবার বাসে চড়ে এবং ১০ মাইল হেঁটে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। আমার পাশে ছিলেন সালামিনাও। এ নারী আমাকে সন্তান লালনে সহায়তা করতেন এবং ক্রমে আমাদের পরিবারেরই অংশ হয়ে ওঠেন। কিন্তু ৫৫ বছর বয়সে এসে তিনি নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। ১৯৯০ সালে ম্যান্ডেলার কারামুক্তির ঘটনাটি ছিল একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রত্যাশিত এবং আতঙ্কজনক ব্যাপার। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের অনেকে উচ্ছেদ, শাস্তি বা সরকার পরিবর্তনের আশঙ্কা করছিলেন। যেকোনো বিপ্লবের পর এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু উল্টো ম্যান্ডেলা যখন সমঝোতা ও সব জাতি মিলিয়ে ‘রংধনু দেশ’ (রেইনবো নেশন) গঠনের কথা বললেন, তখন শ্বেতাঙ্গরা কতটুকু স্বস্তি পেয়েছিল, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তখন থেকেই শান্তিবাদী, রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ম্যান্ডেলার উত্থানের শুরু। জীবনে এত অর্জনের পরও ম্যান্ডেলার সমালোচনা যে একেবারেই হয়নি, তা নয়। অনেকে মনে করেন, তিনি খুব বেশি সমঝোতাকামী ছিলেন। তা ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার কাজ খুব কমই করেছেন। ৯৪ বছর পেরিয়ে ম্যান্ডেলা অন্য যেকোনো মরণশীল সত্ত্বার মতোই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে। ম্যান্ডেলা সব সময়ই শ্রদ্ধার প্রতিমূর্তি হিসেবে রয়ে যাবেন। কারণ, তিনি একটি দুঃস্বপ্নকে একটি দর্শনে, একটি দর্শনকে একটি স্বপ্নে এবং একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করেছিলেন।

কালোদের নেতায় পরিণত করে যে কনসার্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা অনেক দেশের সরকারের কাছেই একসময় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সরকারের পশ্চিমা মিত্রদের কাছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা যুক্তরাজ্যের প্রয়াত ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার ম্যান্ডেলার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসকে (এএনসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ২৫ বছর আগে এক জুন মাসে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্ট ম্যান্ডেলার ভাবমূর্তি অনেকটাই পাল্টে দেয়। অসুস্থ ম্যান্ডেলা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি ১৯৮৮ সালের ১১ জুনের সেই কনসার্টের স্মৃতিচারণা করেছেন আয়োজকদের একজন টনি হলিংসওয়ার্থ (৫৫)। জোহানেসবার্গ সফরকালে হলিংসওয়ার্থ বলেন, তিনি ম্যান্ডেলার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সংগীতকে কৌশল হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন ব্রিটিশ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ ট্রেভর হাডলস্টোনকে। আর্চবিশপ ট্রেভর হাডলস্টোন তখন লন্ডন আন্দোলনের প্রধান শিল্পী মাইক টেরি, এএনসিসহ অন্যদের সঙ্গে কনসার্টের ব্যাপারে কথা বলেন।  হলিংসওয়ার্থ বলেন, ‘প্রায় ৭০টি দেশে সম্প্রচারিত কনসার্টটি ম্যান্ডেলাকে সন্ত্রাসী থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের নেতায় পরিণত করে।’ কনসার্টে মার্কিন গায়ক হ্যারি বেলাফন্টে বলেন, ‘আমরা আজ এখানে এক মহান নেতাকে সম্মান জানাতে সমবেত হয়েছি। তিনি হলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।’ এএফপি।

ম্যান্ডেলার মেয়ে এখন দুটি দেশের রাষ্ট্রদূত

জেনানি লামিনি
নেলসন ম্যান্ডেলার মেয়ে জেনানি লামিনি গত বুধবার প্যারাগুয়েতে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কূটনৈতিক প্রশংসাপত্র জমা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা লামিনি ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনায় দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে তাঁর বাবা ম্যান্ডেলা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁর। এর পরও লামিনি নিজের কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ম্যান্ডেলার মেয়ে বুধবার প্যারাগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ফেলিক্স ফার্নান্দেজের কাছে তাঁর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেন। এ সময় বাবা  ম্যান্ডেলাকে ‘স্বাধীনতার মহান যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন লামিনি। এএফপি।

ম্যান্ডেলার ১৪ টি তথ্য

প্রথম স্ত্রী ইভলিন মেজের সঙ্গে, বিয়ের দিন
১. জন্মের পর ম্যান্ডেলার নাম রাখা হয় রোলিহ্লাহ্লা। আঞ্চলিক ভাষায় নামটির অর্থ ‘গাছের ডাল টানা’। আর কথ্য ভাষায় এই নামের মানে দাঁঁড়ায় ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’। তাঁর বর্তমান নাম ‘নেলসন’ রেখেছিলেন মিশনারি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।
২. ছাত্রবিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে ম্যান্ডেলাকে ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি পড়াশোনা শেষ করে আইনের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন উইটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
৩. টেম্বু গোষ্ঠীর নেতা জোংগিনতাবা দালিন্দেবো তরুণ ম্যান্ডেলার বিয়ের আয়োজনের চেষ্টা করেছিলেন। এতে ম্যান্ডেলা ইস্টার্ন কেপ ছেড়ে পালিয়ে জোহানেসবার্গে চলে যান। সেখানে তিনি একটি খনিতে নৈশপ্রহরীর চাকরি নেন।
৪. ম্যান্ডেলা একসময় আলেক্সান্দ্রা শহরতলিতে থাকতেন। তবে পরে সোয়েটোর অর্লান্ডোতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়াল্টার সিসুলু ও তাঁর মায়ের সঙ্গে বাসায় ওঠেন।
৫. ম্যান্ডেলার প্রথম স্ত্রী ইভলিন মেজ ছিলেন একজন নার্স ও সিসুলুর আত্মীয়। এই দম্পতির চারটি সন্তান হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ
৬. আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) সশস্ত্র শাখার প্রধান ছিলেন ম্যান্ডেলা। এ ছাড়া তিনি বন্ধু অলিভার ট্যাম্বোর সঙ্গে মিলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
৭. সশস্ত্র সংগ্রামে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ম্যান্ডেলা ১৯৬২ সালে দেশ ছাড়েন। মরক্কো ও ইথিওপিয়ায় গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
৮. ম্যান্ডেলাকে শত শত পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডার সম্মানজনক নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ লেবার পার্টি ও সে দেশের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবের সম্মানজনক সদস্য। এ ছাড়া একটি পারমাণবিক কণার নাম রাখা হয়েছে ম্যান্ডেলা পার্টিকল। একটি প্রাগৈতিহাসিক কাঠঠোকরা ও একটি অর্কিডের নামকরণও হয়েছে ম্যান্ডেলার নামে।
৯. বর্ণবাদী সরকার ম্যান্ডেলাকে ছয়বার মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি। একবার তিনি বিবৃতি দেন, ‘জনগণের সংগঠন (এএনসি) যদি নিষিদ্ধ থাকে, তাহলে আমাকে কোন ধরনের মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে?’
১০. ম্যান্ডেলা ১৯৭০-এর দশকে একটি স্মৃতিকথা লেখেন। সেটির পাণ্ডুলিপি পলিথিনে মুড়িয়ে কারাগারের বাগানে পুঁতে রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ বাগানে একটি দেয়াল তুলতে গেলে ব্যাপারটি ধরা পড়ে যায়। শাস্তি হিসেবে ম্যান্ডেলার পড়াশোনার সব সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১১. দ্বিতীয় স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি আমিনা কাশালিয়া নামের এক বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। ৮০তম জন্মদিনে ম্যান্ডেলা বিয়ে করেন গ্রাসা ম্যাশেলকে

১২. বর্ণবাদী সরকার এএনসিকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও এএনসিকে সন্ত্রাসীর তকমা দেয়। মাত্র ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ম্যান্ডেলা ও তাঁর সংগঠনকে সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে বাদ দেয়।
১৩. ম্যান্ডেলার জন্মদিন ১৮ জুলাইকে নেলসন ম্যান্ডেলা ইন্টারন্যাশনাল ডে হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থা এই প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির জন্য একটি দিন উৎসর্গ করে।
১৪. কারাগারে ম্যান্ডেলাকে মাত্র দুই মিটার চওড়া ও আড়াই মিটার লম্বা একটি প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। শোয়ার ব্যবস্থা ছিল মেঝেতে। আর শুধু ছিল মলমূত্র ত্যাগের জন্য একটি বালতি। প্রথম দিকে প্রতি ছয় মাসে একজনমাত্র দর্শনার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও একটি চিঠি লিখতে পারতেন ম্যান্ডেলা।

সন্দেহভাজন জোখার সারনায়েভঅভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন জোখার সারনায়েভকে (১৯) গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত করা হয়েছে। জোখারের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার এবং চার ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। গত ১৫ এপ্রিল বোস্টনে ম্যারাথন প্রতিযোগিতা চলাকালে ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে আসামি ধরতে পুলিশের চালানো অভিযানের সময় গোলাগুলিতে পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। একই ধরনের ঘটনায় জোখারের বড় ভাই তামেরলান সারনায়েভও পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গত ১৯ এপ্রিল জোখারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিবিসি।

বাংলাদেশ হবে ভারতের পরিবহন সড়ক, সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

আগামী এক মাস সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে পরিবহন সড়ক হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে ভারতের ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য পরিবহনে বাংলাদেশ অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)।শনিবার আইএএনএস- কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরার খাদ্যমন্ত্রী ভানুলাল সাহা। বার্তা সংস্থাটির কাছে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিজ ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় পরিবহনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।’ নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু বিষয় নিষ্পত্তির পর এক মাসের মধ্যে এই খাদ্যশস্য পরিবহন শুরু হবে বলে জানান ভানুলাল। পশ্চিমবঙ্গের হালদিয়া বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে আশুগঞ্জ হয়ে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে যাবে। প্রথমবারের এই চালানে চাল, গম ও চিনি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব বি কে রায় আইএএনএস- কে জানান, ‘এই খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্রও ডেকেছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া।’ সময় এবং খরচ বাঁচাতে বাংলাদেশের নদীপথ ও স্থলসড়ক ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদিকের দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলোয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদে চালু রাখতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতের এ প্রদেশগুলো খাদ্যের সরবরাহ সংকটে থাকে। খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি, মালবাহী রেল ইঞ্জিনের অভাবসহ নানা কারণে এই সংকট বিরাজ করে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া এসব রাজ্যের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রসহ অন্যান্য রাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঘাটতির মূলে রয়েছে স্থলপথের বৈরী অবস্থা। রাজ্যগুলোর চারপাশজুড়ে রয়েছে মিয়ানমার, ভূটান, চীন ও বাংলাদেশ। মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত দুরূহ। অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যকার বাংলাদেশ রুটটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে দেশটির সরকার। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতের মূলভাগের সঙ্গে এ রাজ্যসমূহের সড়কপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ভারী যন্ত্রাংশ কোনো কিছুই সরবরাহ সম্ভব হয় না। ফলে ভারত বহুদিন ধরে বাংলাদেশের কাছে রেলওয়ে, সড়কপথ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে অনুমতি চেয়ে আসছে। খরচ ও সময়ের দিক দিয়ে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।
উল্লেখ্য, নয়াদিল্লি থেকে গোয়াহাটি হয়ে আগরতলার দূরত্ব যেখানে ২৬৩৭ কিলোমিটার আর কলকাতা ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার সেখানে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে আগরতলা মাত্র ৩৫০ কিলোমিটারের দূরত্বে। ফলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারলে ভারতের কেন্দ্রের সঙ্গে এসব রাজ্যের প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে দেশটির অন্যান্য অংশের সঙ্গে রাজ্যগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব। সময় ও খরচ উভয়ই হিসেবেই লাভজনক। বাণিজ্যিক বিচ্ছিন্নতার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের দূরত্বও কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে নয়াদিল্লি। ২০১১ সালের মে মাসে ত্রিপুরায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাপাতি নেয়া হয় বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে পালটানায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ওই যন্ত্রাংশের চালান বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ত্রিপুরা নেয়া হয়। এদিকে, নেপাল ও ভূটান তাদের ব্যবসা বাড়াতে এই পরিবহন সুবিধা ব্যবহারে আগ্রহী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী এক মাস সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে পরিবহন সড়ক হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে ভারতের ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য পরিবহনে বাংলাদেশ অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)।শনিবার আইএএনএস- কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরার খাদ্যমন্ত্রী ভানুলাল সাহা। বার্তা সংস্থাটির কাছে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিজ ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় পরিবহনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।’ নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু বিষয় নিষ্পত্তির পর এক মাসের মধ্যে এই খাদ্যশস্য পরিবহন শুরু হবে বলে জানান ভানুলাল। পশ্চিমবঙ্গের হালদিয়া বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে আশুগঞ্জ হয়ে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে যাবে। প্রথমবারের এই চালানে চাল, গম ও চিনি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব বি কে রায় আইএএনএস- কে জানান, ‘এই খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্রও ডেকেছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া।’ সময় এবং খরচ বাঁচাতে বাংলাদেশের নদীপথ ও স্থলসড়ক ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদিকের দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলোয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদে চালু রাখতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতের এ প্রদেশগুলো খাদ্যের সরবরাহ সংকটে থাকে। খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি, মালবাহী রেল ইঞ্জিনের অভাবসহ নানা কারণে এই সংকট বিরাজ করে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া এসব রাজ্যের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রসহ অন্যান্য রাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঘাটতির মূলে রয়েছে স্থলপথের বৈরী অবস্থা। রাজ্যগুলোর চারপাশজুড়ে রয়েছে মিয়ানমার, ভূটান, চীন ও বাংলাদেশ।
মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত দুরূহ। অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যকার বাংলাদেশ রুটটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে দেশটির সরকার। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতের মূলভাগের সঙ্গে এ রাজ্যসমূহের সড়কপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ভারী যন্ত্রাংশ কোনো কিছুই সরবরাহ সম্ভব হয় না। ফলে ভারত বহুদিন ধরে বাংলাদেশের কাছে রেলওয়ে, সড়কপথ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে অনুমতি চেয়ে আসছে। খরচ ও সময়ের দিক দিয়ে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।

সাক্ষাত্কার বিজেপি এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক যুগে by নিতীশ

ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার ও তাঁর জনতা দল-সংযুক্ত (জেডি-ইউ) দীর্ঘদিন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) সঙ্গে ছিল। সম্প্রতি বিজেপি নরেন্দ্র মোদিকে আগামী নির্বাচনের প্রচারাভিযানের প্রধান করায় এনডিএ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিতীশ।

মার্কিন ইতিহাসে নয়বার

দেশের শত্রুদের কাছে তথ্য ফাঁস করা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১৭ সালে একটি আইন করা হয়। প্রচারমাধ্যমের কাছে সরকারি গোপন তথ্য প্রকাশ করার জন্য মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ওই আইনটির প্রয়োগ ক্রমেই বাড়ছে।

তালেবানের দ্বৈতনীতির পেছনে by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

আফগানিস্তানে ১২ বছরের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার অবসানে প্রস্তুত তিন পক্ষ। তারা হচ্ছে আফগান সরকারের ‘উচ্চ শান্তি পরিষদ’, যুক্তরাষ্ট্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা মূলত মধ্যস্থতাকারীর।

অদল-বদল

 একটি নকিয়া সি২ এবং একটি থ্রিজি সিম দেব। বদলে একটি নকিয়া এক্স২০১ মোবাইল ফোন চাই।
অমিত।
ফোন: ০১৭১২৮৯৬২৪৮

 একটি সিম্ফোনি এস৯০ মোবাইল বদলে সিম্ফোনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ১৫ স্মার্টফোন চাই।

স্কাউটের প্রথম আইসিটি ক্যাম্প by সাইফুল ইসলাম তালুকদার

পুরো আয়োজনে অংশ নিয়েছে দুটি সাব-ক্যাম্প আর আটটি পেট্রোল (উপদল)। নামগুলো বেশ চমকপ্রদ। সাব-ক্যাম্পের নাম হচ্ছে রাউটার এবং থ্রিজি! উপদলগুলোর নাম ওয়াইফাই, ফেসবুক, অ্যান্ড্রয়েড, ইউটিউব, অপেরা,

অ্যাপস কর্নার আইএলটিএস স্কিলস



আইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করতে পারেন আইএলটিএস স্কিলস-ফ্রি এই অ্যাপলিকেশনটি। রিডিং, লিসেনিং, রাইটিং এবং স্পিকিং—আইএলটিএসের এসব বিভাগেরই প্রস্তুতি নেওয়া যাবে এ থেকে।

কমিউনিক এশিয়া একটুকু ছোঁওয়া লাগে by নুরুন্নবী চৌধুরী

বিশাল আয়োজন, চারপাশে চলছে নানা ধরনের প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শনী। প্রযুক্তিপ্রেমীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। হঠাৎ বেজে উঠল রবীন্দ্রসংগীত ‘একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি—তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী’।

ময়ূর-আনন্দে মাতো by রফিক আজাদ

বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে—
নিরন্তর ঝ’রে যাও অঝোর ধারায়;
করুণায় আর্দ্র হয়ে মানবমণ্ডলে
মিশে যেতে বাঞ্ছা হলে পূত ধারাজলে
সিক্ত হতে হয়—হও অবিচল-মনে;
(দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে জানি নাগরিক জন!)
তোমার জল্লাদ-মন দ্রবীভূত হবে—
করুণায় হবে সিক্ত নবধারাজলে!
আর্দ্র হবে পোড়োজমি বর্ষণে-বর্ষণে,
খরার প্রকোপ আছে ভূ-বাঙ্গালা জুড়ে—
উর্বরতা নিঃশেষিত জরায়ু-প্রান্তরে।
চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত খরা, শুধু খরা!
বর্ষায় বর্ষণ চাই মননে মেধায়—
শস্যের প্রান্তরে আর প্রতি ঘরে-ঘরে,
জীবনে ‘জীবন’ চাই—যুগলে-যুগল
বর্ষণের ধারাপাত, অপার বর্ষণে।

এই ঋতু মাঙ্গলিক—ময়ূর-আনন্দে
মাতো কৃষিসভ্যতার সকল সন্তান।।

জল পড়ে পাতা নড়ে by আল মাহমুদ

আমার জন্ম হয়েছিল এক বর্ষণমুখর রাতে। সম্ভবত এ জন্যই বৃষ্টির শব্দ আমার অন্তরাত্মায় একটা ঝংকার তোলে। বৃষ্টির ধ্বনি-প্রতিধ্বনি আমাকে এখনো আকুল করে। আমি যদি কবি না হতাম, তাহলে সংগীতজ্ঞ হতাম—এটা আমার ধারণা; কল্পনাও বলা যায়।

চারুশিল্প সৃজন উদ্যান by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

শিল্প কখনো কখনো আম জনতার সঙ্গে যুক্ত হয় মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রদর্শিত শিল্পরূপসজ্জার সাহায্যে। একটি দেশের অগ্রগতি, রুচি ও মননসম্পন্ন মানুষ তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে গণমাধ্যম। হোক সে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যম।

চারুশিল্প মানুষের জন্য শিল্প by বসন্ত চৌধুরী

সমাজ নির্মাণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় শিল্পীরা যুক্ত হন সব সময়। সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক প্রাণহানি ও আহত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য হাত বাড়িয়েছেন শিল্পীরা। তাঁদের অনিন্দ্য-সুন্দর শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে গ্যালারি চিত্রক।

পত্রমিতা by কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

স্বজন যেহেতু তাকে পান্না বলেই শনাক্ত করতে চায়, আপনারাও তা-ই করুন, তাকে পান্না নামেই মনে রাখুন। এ যে এক পত্রমিতার কথা—সময় সময়কে ঝাঁঝরা করতে করতে এরই ভেতর সময় যে বয়ে যায়।

এ কী ভানুমতী, এ কী ইন্দ্রজাল! by রাজীব হাসান

শেরশাহ ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। শিক্ষকের মুখে এই কথা শুনে ছাত্রের সরল জিজ্ঞাসা, ‘স্যার, ঘোড়া কি তাহলে এর আগে ডাকত না?’ একইভাবে স্যার আইজ্যাক নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার পর তিনি আবিষ্কার করলেন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।

অন্য দিগন্ত

এফবিআইয়ের দৃষ্টিতে ছিলেন কার্লোস ফুয়েন্তেস
সদ্য প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নথি জানাচ্ছে, প্রয়াত মেক্সিকান লেখক কার্লোস ফুয়েন্তেস (১৯২৮-২০১২) প্রায় দুই দশকের বেশি সময় তাদের নজরদারিতে ছিলেন।

ভিলাবারট্রানের শতবর্ষ by আন্দালিব রাশদী

‘প্রতিদিন সকালে আমি যখন জেগে উঠি, আমি আমার সেই সর্বোচ্চ আনন্দ লাভ করি—সালভাদর দালি হওয়ার আনন্দ।’
‘ছয় বছর বয়সে আমি রাঁধুনি হতে চেয়েছি। সাত বছর বয়সে আমি চেয়েছি নেপোলিয়ন হতে।

সপ্তাহের নায়ক সপ্তাসিন্ধু by কফিল উদ্দিন

বগুড়ার সরকারি শাহসুলতান কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কফিল উদ্দিন। ২৩ জুন শেরপুরের এমআর ছাত্রাবাসে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় মাদক বিক্রেতাদের হামলার শিকার হন তিনি।

জাতিসংঘে রেজওয়ানা চৌধুরী by হাসান ফেরদৌস

তারিখ: ৩০ মে, ২০১৩। স্থান: নিউইয়র্ক, জাতিসংঘের সদর দপ্তর। উপলক্ষ: রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির নোবেল প্রাপ্তির শতবর্ষ উদ্যাপন। উদ্যোক্তা: জাতিসংঘের গণতথ্য দপ্তর।

গণতান্ত্রিক প্রাণীরা by আবুল বাসার

চারদিকে ইদানীং যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে, তা হচ্ছে ‘গণতন্ত্র’। এ বিশেষ তন্ত্র নিয়ে মাঠ গরম করছে রাজনৈতিক দলগুলো। কে কত বেশি গণতান্ত্রিক, তা প্রমাণে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছে দলগুলো।

আম পেকেছে by হাসনাত আমজাদ

আম পেকেছে গাছে
যেদিক তাকাও থোকা থোকা আম ঝুলে যে আছে।

আজকালকার শিশুরা by আশীফ এন্তাজ রবি

বেশ কয়েক মাস আগের কথা। একটা টিভি অনুষ্ঠানে আমাকে ‘অতিথি’ হিসেবে দাওয়াত দেওয়া হলো। আমি তো খুশিতে আত্মহারা। জীবনে এই প্রথম কেউ আমাকে টিভিতে ডাকল। আমি একটা টক শোর অতিথি।

যোগাযোগমন্ত্রীর মন্তব্য-বয়সের ভারে অর্থমন্ত্রী খেই হারিয়ে ফেলেন

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রী বরাবরই দুই সুরে কথা বলে আসছেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশীয় অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

হাসিনা-এরশাদ বৈঠক'এখনো তো মহাজোটেই আছি'

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা ও মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একান্তে বৈঠক করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ কার্যালয়ে বিকেল সোয়া ৫টায় বৈঠকটি শুরু হয়।

এপির খবর-জিএসপি স্থগিত হতে যাচ্ছে!

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি থাকা-না থাকার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ-সংক্রান্ত ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউনূস-ফখরুল বৈঠক'গ্রামীণ ব্যাংক ভাঙার প্রস্তাব ষড়যন্ত্রমূলক'

গ্রামীণ ব্যাংক বিভক্তির প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে অভিহিত করে তা থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছে দলটি।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি-বুয়েট শিক্ষক রানার সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমান রানাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। রানা পলাতক রয়েছেন।

সরকার বদল হতেই ১৪ মামলা 'নেই', অতঃপর পুলিশের বন্ধু! by এস এম রানা

রেলওয়েতে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় শিশুসহ দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবরকে চার দিন এবং তাঁর অন্য চার সহযোগীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত।

সাংবাদিক গৌতম হত্যা মামলার রায়-৯ জনের যাবজ্জীবন

সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলার রায়ে ৯ জন আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. শাহেদ নূরউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

এসো নীপবনে ‘রুট্স’ by আবুল হায়াত

দুই হাত তুলে মোনাজাত করছিলাম। একসময় অনুভব করলাম, সারা শরীর আমার রোমাঞ্চিত হচ্ছে, দৃষ্টি হয়ে এসেছে ঝাপসা, আমি কাঁদছি।
সম্মুখে আমার পারিবারিক গোরস্থান।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংসদ সদস্যের দায়মুক্তির পরিসর কতটা ব্যাপক? by আলী ইমাম মজুমদার

জানা গেল, হঠাৎ করে সংসদ টিভি চ্যানেলের দর্শক বেড়ে গেছে। অনেকটা অপাঙেক্তয় একটি টিভি চ্যানেলের এ জনপ্রিয়তাকে আমরা কীভাবে দেখব? হতে পারে বিরোধী দলের লাগাতার বর্জন সংসদকে নিষ্প্রাণ করে ফেলেছিল।

হাসিনা-এরশাদের বৈঠক, গাজীপুর নিয়ে আলোচনা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টা ১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী এ বৈঠকে দুই নেতার সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন না।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: আওয়ামী লীগ বলছে, হেফাজতের একটি অংশ তাদের সঙ্গেও আছে বিএনপির পাশে হেফাজত by শরিফুল হাসান ও মাসুদ রানা

চার সিটি করপোরেশনের চেয়ে গাজীপুরে অনেক বেশি সক্রিয় হেফাজতে ইসলামের নেতারা। তাঁরা বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। তবে আওয়ামী লীগ দাবি করছে, হেফাজতের একটি অংশ তাদের সঙ্গেও আছে।

জিএসপি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজারসুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেছে ওবামা প্রশাসন।

ম্যান্ডেলার জন্য উদ্বেগ, প্রার্থনা

বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের অবিসংবাদিত নায়ক ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাকে লাইফ সাপোর্টেই রাখা হয়েছে হাসপাতালে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর বড় মেয়ে মাকাজিওয়েকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ম্যান্ডেলার অবস্থা 'আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল'।

কুইক রেন্টালকে দীর্ঘ করার ফন্দি by আরিফুজ্জামান তুহিন

একসময় স্বল্পমেয়াদের জন্য অনুমোদন দেওয়া বিতর্কিত রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে এবার সুবিধাভোগী মালিকদের চাপের মুখে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন-দুই প্রার্থীরই টার্গেট টঙ্গী-নবনির্বাচিত চার মেয়রও প্রচারে নামছেন by শরীফ আহ্‌মেদ শামীম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জনসমর্থন আদায়ে চষে বেড়াচ্ছেন সিটির পাড়া-মহল্লা। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন সমীকরণ সামনে হাজির হচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের পারদ চড়ছে দেশে এসেশবেবরাতে বেড়েছে এক দফা, রমজানেও আশঙ্কা by রাজীব আহমেদ

গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড় দাম ছিল এক হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি। কয়েক মাস ধরে কমতে কমতে তা এখন এক হাজার ১০০ ডলারের নিচে।

'প্রার্থনায় সারা বিশ্ব'

সারা বিশ্ব নেলসন ম্যান্ডেলার জন্য প্রার্থনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। নিউ ইয়র্কে গত বুধবার তিনি এ কথা বলেন। ম্যান্ডেলাকে '২০ শতকের অন্যতম কিংবদন্তী' বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

'গণমাধ্যমের আচরণ শকুনের মতো'

নেলসন ম্যান্ডেলার সংকটপূর্ণ অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমগুলো 'নির্লজ্জ বাড়াবাড়ি' করছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বড় মেয়ে মাকাজিওয়ে ম্যান্ডেলা। গণমাধ্যমের আচরণকে তিনি 'শকুনের' সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, শকুন যেমন মৃতদেহের জন্য অপেক্ষা করে এরাও তেমনটিই করছে।

ম্যান্ডেলাকন্যার দায়িত্ব বাড়ল

নেলসন ম্যান্ডেলার মেয়ে জেনানি দ্লামিনি প্যারাগুয়েতে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আর্জেন্টিনায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে আছেন।

জুটেছে 'সন্ত্রাসী' তকমাও

একান্ন বছর আগে কোনো এক বৃহস্পতিবার। সম্রাট হাইলে সেলাসির ইথিওপিয়ায় এসে পৌঁছলেন টগবগে তরুণ নেলসন ম্যান্ডেলা। উদ্দেশ্য গেরিলা প্রশিক্ষণ নেবেন। শুধু একতরফা অহিংস আন্দোলন দিয়ে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের মন বদলানো যাবে না।

রোবেন দ্বীপের সেই ১৮ বছর-কয়েদি নম্বর ৪৬৬৬৪

৫০ বছর আগে কয়েদি হিসেবে প্রথমবারের মতো রোবেন দ্বীপে পা রাখেন ম্যান্ডেলা। দিন-তারিখের হিসাবে ১৯৬৩ সালের ২৭ মে। এ বছরের ২৭ মে ছিল তাঁর ৫০ বছর পূর্তি। ম্যান্ডেলার বিস্তর চড়াই-উতরাইয়ের জীবনে রোবেন দ্বীপের বন্দি দিনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যান্ডেলার অন্দরমহল- জন্ম ও পরিবার

১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন কেপ প্রদেশের ছোট গ্রাম মিজোতে থেম্বু গোত্রের রাজপরিবারে জন্ম হয় নেলসন ম্যান্ডেলার। তাঁর বাবার দাদা এনগুবেনকুকা সে সময় ছিলেন থেম্বুদের রাজা। জন্মের পর তাঁর (ম্যান্ডেলার) নাম রাখা হয় রোলিলালা।

অবতার হতে চাই না

১৯৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন নেলসন ম্যান্ডেলা। ২০০৪ সালে পুরোপুরি পারিবারিক জীবন শুরু করেন।

যদি অলৌকিক কিছু ঘটে!

টানা ২০ দিন হাসপাতালে আছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সে অর্থে মুখ খুলছে না দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। তবে তারা যতটুকু বলছে, তা থেকে বোঝা যায়- এ কিংবদন্তির অবস্থা সংকটাপন্ন।

সীমান্তে হত্যা-সত্যিকার আস্থার অভাব

পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানের দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সীমান্তে যে পরিবেশ বজায় থাকা উচিত, তা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বা মিয়ানমার কারোরই নেই। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির যোগাযোগ আগের তুলনায় অনেক নিবিড়

পদ্মা সেতুর টেন্ডার আহ্বান-স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই

অবশেষে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সংশয় কিংবা আশা-নিরাশার দোলাচল তাতে কিছুটা স্তিমিত না হলেও স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষীণ সম্ভাবনা এখন দেখা যেতেই পারে।

সিটি নির্বাচনে কিছু ভিন্ন পর্যবেক্ষণ by হাসান মামুন

দেশের চারটি বড় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্প্রতি যা ঘটে গেল, তার তাৎপর্য রয়েছে নিশ্চয়ই; তবে এর ঢালাও প্রশংসা করা যাবে না। প্রথমত, সংবিধান অনুযায়ী যেভাবে আমরা (সিটিসহ) স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করতে চাইছি (অর্থাৎ নির্দলীয়ভাবে),

অনলাইন থেকে-ম্যান্ডেলার পাশে বিশ্ব প্রচারমাধ্যম

ম্যাক মাহারাজ ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একসময়ের সহকর্মী। ম্যান্ডেলার ঘটনাবহুল জীবনচিত্র বিশ্বসভায় স্থান পাওয়ার পেছনে সর্বাধিক অবদান রয়েছে তাঁর।

বিশ্ব অর্থনীতি ও আগামী দিনের বাংলাদেশ by ইফতেখার আহমেদ টিপু

যেকোনো দেশের চালিকাশক্তি তার অর্থনীতি। এই অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে সেই দেশের বাণিজ্যচক্রের ওপর। এই বাণিজ্য আবার বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থপ্রবাহ বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংসদের পবিত্রতা রক্ষা করার দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের by আবদুল মান্নান

প্রাচীন ইউরোপীয় সভ্যতা বিশ্বকে যে কটি ভালো জিনিস উপহার দিয়েছে তার মধ্যে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অন্যতম। গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ democracy। এর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।