Saturday, April 16, 2016

মসজিদে নববীর কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান

মসজিদে নববী
রওজায়ে জান্নাত বা রিয়াজুল জান্নাহ: হুজরায়ে মোবারক ও মিম্বার শরিফের পাশের জায়গাটি ‘রওজায়ে জান্নাত’ বা ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ বা ‘বেহেশতের বাগান’ নামে পরিচিত। এ স্থানটির বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এখানে নামাজ পড়ারও বিশেষ ফজিলত আছে। পুরো মসজিদের কার্পেটের রং লাল। তবে রিয়াজুল জান্নাহর অংশের কার্পেটের রং সাদা। মসজিদে নববীর ভেতরে কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে, সেগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বা খুঁটি বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তৈরি মসজিদে খেজুর গাছের খুঁটিগুলোর স্থলে উসমানী সুলতান আবদুল মাজিদ পাকা স্তম্ভ নির্মাণ করেন। এগুলোর গায়ে মর্মর পাথর বসানো এবং স্বর্ণের কারুকাজ করা । প্রথম কাতারে ৪টি স্তম্ভের লাল পাথরের এবং পার্থক্য করার সুবিধার জন্য সেগুলোর গায়ে নাম লেখা রয়েছে। উস্ত্তওয়ানা হান্নানা (সুবাস স্তম্ভ): মিম্বারে নববীর ডান পাশে খেজুরগাছের গুঁড়ির স্থানে নির্মিত স্তম্ভের নাম উস্ত্তওয়ানা হান্নানা বা সুবাস স্তম্ভ। নবী করিম (সা.) মিম্বার স্থানান্তরের সময় এ গুঁড়িটি উঁচু স্বরে কেঁদে উঠেছিল। উস্ত্তওয়ানা সারির: এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফ করতেন এবং রাতে আরামের জন্য তাঁর বিছানা এখানে স্থাপন করা হতো। স্তম্ভটি হুজরা শরিফের পশ্চিম পাশে জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে। উস্ত্তওয়ানা উফুদ: বাইরে থেকে আগত প্রতিনিধিদল এখানে বসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং এখানে বসেই কথা বলতেন। এ স্তম্ভটিও জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে। উস্ত্তওয়ানা আয়েশা (আয়েশা স্তম্ভ): নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার মসজিদে এমন একটি জায়গা রয়েছে, লোকজন যদি সেখানে নামাজ পড়ার ফজিলত জানত, তাহলে সেখানে স্থান পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করত।’ স্থানটি চিহ্নিত করার জন্য সাহাবায়ে কিরাম চেষ্টা করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হজরত আয়েশা (রা.) তাঁর ভাগ্নে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-কে সে জায়গাটি চিনিয়ে দেন। এটিই সেই স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি উস্ত্তওয়ানা উফুদের পশ্চিম পাশে রওজায়ে জান্নাতের ভেতর। উস্ত্তওয়ানা আবু লুবাবা (তওবা স্তম্ভ): একটি ভুল করার পর হজরত আবু লুবাবা (রা.) নিজেকে এই স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হুজুরে পাক (সা.) নিজে না খুলে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এর সঙ্গে বাঁধা থাকব।’ নবী করিম (সা.) বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে আল্লাহ আদেশ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত খুলব না।’ এভাবে দীর্ঘ ৫০ দিন পর হজরত আবু লুবাবা (রা.)-এর তওবা কবুল হয়। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন। এটি উস্ত্তওয়ানা উফুদের পশ্চিম পাশে রওজায়ে জান্নাতের ভেতর অবস্থিত। উস্ত্তওয়ানা জিবরাইল: ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.) যখনই হজরত দেহইয়া কাল্বী (রা.)-এর আকৃতি ধারণ করে ওহি নিয়ে আসতেন, তখন অধিকাংশ সময় তাঁকে এখানেই উপবিষ্ট দেখা যেত। মিহরাবে নববী: মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে এখানে নফল নামাজ পড়ুন। মিহরাবের ডানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাঁড়ানোর জায়গা। জান্নাতুল বাকি: মসজিদে নববীর পাশেই ‘জান্নাতুল বাকি’ গোরস্থান। এখানে হজরত ফাতেমা (রা.), হজরত ওসমান (রা.)সহ অগণিত সাহাবায়ে কিরামের কবর রয়েছে। এর একপাশে নতুন নতুন কবর হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানে শুধু একটি পাথরের খণ্ড দিয়ে চিহ্নিত করা আছে একেকটি কবর।

মদিনার কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদ

কিবলাতাঈন মসজিদ
কিবলাতাঈন মসজিদ: এ মসজিদে একই নামাজ দুই কিবলামুখী হয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ওহি পাওয়ার পর নবী (সা.) ‘মসজিদ আল-আকসা’ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নামাজের মাঝখানে মক্কামুখী হয়ে পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করেছিলেন। এ জন্য এ মসজিদের নামকরণ করা হয় কিবলাতাঈন (দুই কিবলা মসজিদ)। মসজিদের ভেতরে মূল পুরোনো মসজিদের অংশ অক্ষত রেখে চারদিকে দালান করে মসজিদ বর্ধিত করা হয়েছে।
মসজিদে কুবা: হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমন করে প্রথম শহরের প্রবেশদ্বারে কুবা নামক স্থানে নামাজ পড়েন। পরে এখানে মসজিদ গড়ে ওঠে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ঘর থেকে অজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ পড়লে একটি ওমরাহর সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
ওহুদ: ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় যুদ্ধ এটি। দুই মাথাওয়ালা একটি পাহাড়, দুই মাথার মাঝখানে একটু নিচু-এটাই ওহুদের পাহাড়। তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
মসজিদে মিকাত: মদিনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে মসজিদে নববী থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এ মসজিদটি অবস্থিত। মদিনাবাসীর মিকাত বলে এ মসজিদটি মসজিদে মিকাত নামে পরিচিত।
মসজিদে জুমু’আ: রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের সময় কুবার অদূরে রানুনা উপত্যকায় ১০০ জন সাহাবাকে নিয়ে মসজিদে জুমু’আর স্থানে প্রথম জুমু’আর সালাত আদায় করেন।
মসজিদে গামামাহ: এ মসজিদকে মোসাল্লাহও বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম ঈদের সালাত ও শেষ জীবনের ঈদের সালাতগুলো মসজিদে গামামাহয় আদায় করেন। এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়েছেন বলে একে মসজিদে গামামাহ বলা হয়। এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।
মসজিদে আবু বকর (রা.): এটি মসজিদে গামামাহর উত্তরে অবস্থিত। হজরত আবু বকর (রা.) খলিফা থাকাকালে এ মসজিদে ঈদের সালাত পড়াতেন। তাই এটি মসজিদে আবু বকর (রা.) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
মসজিদে কুবা, মসজিদে কিবলাতাঈন, ওহুদ পাহাড়, খন্দকের পাহাড় প্রভৃতি দেখার জন্য মসজিদে নববীর বাইরে প্রবেশপথের কাছে ট্যাক্সিচালকেরা প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকেন। খরচ মাত্র ১০ রিয়াল।
সময় পেলে দেখতে পারেন মসজিদে নববীর উত্তর দিকের গেট দিয়ে বেরিয়েই সাহাবাদের মসজিদ, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ ফাহাদ কোরআন শরিফ ছাপাখানা প্রকল্প।

কয়েকটি বিশিষ্ট স্থানের পরিচয়

হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর
মাতাফ: কাবাঘরের চারদিকে অবস্থিত তওয়াফের স্থানকে ‘মাতাফ’ বা চত্বর বলা হয়।
হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর: হাজরে আসওয়াদ কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্বকোণে মাতাফ (তাওয়াফের জায়গা) থেকে দেড় মিটার ওপরে লাগানো। হাজরে আসওয়াদ তাওয়াফ (কাবা শরিফ সাতবার চক্কর দেওয়া) শুরুর স্থান। প্রতিবার চক্কর দেওয়ার সময় এই হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে হয়। ভিড়ের কারণে না পারলে চুমুর ইশারা করলেও চলে। এটিও নিয়ম। ফ্রেমের মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে পাথরে চুমু দিতে হয়। মুখ না ঢোকালে চুমু দেওয়া সম্ভব নয়। আর মুখ ঢোকাতে গিয়ে সৃষ্টি হয় প্রচণ্ড ভিড়। ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। হাজরে আসওয়াদের পাশে সৌদি পুলিশ দাঁড়ানো থাকে ২৪ ঘণ্টা। মাথা ঢোকাতে বা চুমু দিতে গিয়ে কেউ যেন কষ্ট না পান, তা তাঁরা খেয়াল রাখেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও চুমু দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করেন। মাকামে ইব্রাহিম: কাবা শরিফের পাশেই আছে ক্রিস্টালের একটা বাক্স, চারদিকে লোহার বেষ্টনী। ভেতরে বর্গাকৃতির একটি পাথর। পাথরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান-প্রায় এক হাত। এই পাথরটিই মাকামে ইব্রাহিম। মাকাম শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে দাঁড়ানোর স্থান। অর্থাৎ হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর স্থান। এই পাথরে দাঁড়িয়ে তিনি ঠিক কী কাজ করতেন, তা নিয়ে মতভেদ আছে। তবে তিনি এর ওপর দাঁড়িয়ে কাবা শরিফ নির্মাণ করেছেন-এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মু’জিজার কারণে শক্ত পাথরটি ভিজে তাতে তাঁর পায়ের দাগ বসে যায়। আজও আছে সেই ছাপ। তামা ও আয়নার তৈরি বাক্সে রাখার আগ পর্যন্ত মানুষ পাথরটি হাতে ধরে দেখার সুযোগ পেয়েছে। এখন শুধু দেখা যায়, ধরা যায় না। মানুষের হাতের স্পর্শে ও জমজমের পানি দিয়ে ধোয়ায় পাথরটির ভেতরে কিছুটা ডিম্বাকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চার হাজার বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মাকামে ইব্রাহিমে এখনো পায়ের চিহ্ন অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিশ্বাস করে, কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। ওপরে প্রতিটি ছাপের দৈর্ঘ্য ২৭ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১৪ সেন্টিমিটার। পাথরের নিচের অংশে রুপাসহ প্রতিটি পায়ের দৈর্ঘ্য ২২ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১১ সেন্টিমিটার। দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান প্রায় এক সেন্টিমিটার। পাথরটিতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পায়ের দাগের গভীরতা পাথরটির উচ্চতার অর্ধেক, ৯ সেন্টিমিটার।
মাকামে ইব্রাহিম
দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ মানুষের হাতের স্পর্শে আঙুলের চিহ্নগুলো মুছে গেছে। তবে ভালো করে খেয়াল করলে এখনো আঙুলের ছাপ বোঝা যায়। বোঝা যায় পায়ের গোড়ালির চিহ্ন। মাকামে ইব্রাহিমের কাছে বাঁ ঘেঁষে অনেক মুসল্লি নামাজ পড়েন, অনবরত চলে তাওয়াফ। কাবার গিলাফ : আরবরা কাবাকে আবৃত করে রাখা কাপড়টিকে বলে কিসওয়া। আর আমরা বলি গিলাফ। হজের কয়েক দিন আগে থেকেই কাবা শরিফের গিলাফের নিচু অংশ ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। এতে কাবা শরিফের দেয়ালের বাইরের অংশ দেখা ও ধরা যায়। কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ দুটোই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরো বানানো হয়। চারটি টুকরো চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরোগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত। প্রতিবছর ৯ জিলহজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হয় এই নতুন গিলাফ। সেই দিন হজের দিন। হাজিরা আরাফাত থেকে ফিরে এসে কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ দেখতে পান। নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফটি সরিয়ে ফেলা হয়। প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন রেশম দিয়ে তৈরি করা হয় কাবার গিলাফ। রেশমকে রং দিয়ে কালো করা হয়। পরে গিলাফে বিভিন্ন দোয়ার নকশা আঁকা হয়। গিলাফের উচ্চতা ১৪ মিটার। ওপরের তৃতীয়াংশে ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া বন্ধনীতে কোরআনের আয়াত লেখা। বন্ধনীতে ইসলামি কারুকাজ করা একটি ফ্রেম থাকে। বন্ধনীটি সোনার প্রলেপ দেওয়া রুপালি তারের মাধ্যমে এমব্রয়ডারি করা। এই বন্ধনীটা কাবা শরিফের চারদিকে পরিবেষ্টিত। ৪৭ মিটার লম্বা বন্ধনীটি ১৬টি টুকরায় বিভক্ত। বন্ধনীটির নিচে প্রতি কোনায় সূরা আল-ইখলাস লেখা। নিচে পৃথক পৃথক ফ্রেমে লেখা হয় পবিত্র কোরআনের ৬টি আয়াত। এতে এমব্রয়ডারি করে ওপরে সোনা ও রুপার চিকন তার লাগানো হয়। কাবাঘর: কাবাঘর প্রায় বর্গাকৃতির। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে আনুমানিক ৪৫ ও ৪০ ফুট। কাবা শরিফের দরজা একটি এবং দরজাটি কাবাঘরের পূর্ব দিকে অবস্থিত। মিযাবে রহমত: বায়তুল্লাহর উত্তর দিকের ছাদে (হাতিমের মাঝ বরাবর) যে নালা বসানো আছে, তাকে ‘মিযাবে রহমত’ বলা হয়। এই নালা দিয়ে ছাদের বৃষ্টির পানি পড়ে। হাতিম: কাবাঘরের উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার উঁচু প্রাচীরে ঘেরা একটি স্থান। জমজম কূপ: দুনিয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যত অনুপম নিদর্শন আছে, এর মধ্যে মক্কা শরিফে অবস্থিত ‘জমজম কূপ’ অন্যতম। জমজম কূপের ইতিহাস কমবেশি সবারই জানা। এ কূপের পানি সর্বাধিক স্বচ্ছ, উৎকৃষ্ট, পবিত্র ও বরকতময়। এ পানি শুধু পিপাসাই মেটায় না; এতে ক্ষুধাও নিবৃত্ত হয়। এ সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘এ পানি শুধু পানীয় নয়; বরং খাদ্যের অংশ এবং এতে পুষ্টি রয়েছে।’ জান্নাতুল মুআল্লা: মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে মক্কা শরিফের বিখ্যাত কবরস্থান। জাবাল-ই-নূর বা গারে হেরা: মক্কার সর্বাধিক উঁচু পাহাড়। এখানে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ধ্যানমগ্ন থাকতেন। এখানে ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় সর্ব প্রথম ওহি নাজিল হয়। জাবাল-ই-সাওর বা গারে সাওর: মসজিদুল হারামের পশ্চিমে হিজরতের সময় এই প্রকাণ্ড সুউচ্চ পাহাড়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। জাবাল-ই-রহমত: আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত। এ পাহাড়ে সর্ব প্রথম নবী হজরত আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল হয়। এখানে তিনি বিবি হাওয়া (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের খুতবাও এখান থেকে দিয়েছিলেন মক্কায় যা দেখবেন
মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ)।
সাফা ও মারওয়া।
মক্কা লাইব্রেরি।
মক্কা জাদুঘর (মক্কা-মদিনার দুই হারাম শরিফে ব্যবহৃত জাদুঘর)
কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা
আল-খায়েফ মসজিদ (মিনা)
হজ পালন করতে মক্কায় কাবা শরিফ ছাড়াও, মিনা, মুজদালিফা, আরাফাতের ময়দান, নামিরাহ মসজিদ প্রভৃতি ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে আসা যায়।

কাল আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আগামীকাল রোববার আদালতে হাজির হবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে জানান, কাল সকালে খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন। ৭ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। ওই দিন এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ এজলাসে এ মামলার বিচারকাজ চলছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

হজযাত্রীদের আইডিবির মাধ্যমে কোরবানি দিতে হবে

আইডিবি বুথের সামনে হাজিরা
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের কোরবানির টাকা সৌদি আরবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) মাধ্যমে জমা দিতে হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে হাজিরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও আইডিবি মাধ্যমে কোরবানি দুই পদ্ধতিতেই দিতে পারতেন। এবার থেকে আইডিবির কুপন কিনে কোরবানি দেওয়াকে বৈধ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কারণ, এটিই সৌদি সরকারের স্বীকৃত ব্যবস্থা। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে জানানো হয়েছে, আরাফাত ময়দানে প্রচণ্ড গরম থেকে রেহাই পেতে তাঁবুতে ওয়াটার কুলারের ব্যবস্থা করবে সৌদি সরকার। এ ছাড়া এ বছর হজযাত্রীদের সব টাকা অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা ঠেকাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতবার হজের সময় আইডিবির মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি হাজি পশু কোরবানি দিয়েছেন। পশুর দাম, কসাইখানার খরচ, হিমাগারে মাংস সংরক্ষণ ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের গরিব লোকজনের মধ্যে এই মাংস বিতরণের খরচ বাবদ এ টাকা নেওয়া হয়। হজের পর মুসলিম দেশে এসব মাংস বিতরণের জন্য পাঠানো হয়। কয়েক বছর ধরে হজ পালন করেছেন এমন একজন বলেন, আইডিবির মাধ্যমে কোরবানি দিলে দুশ্চিন্তা ছাড়াই মিনাসহ বিভিন্ন স্থানে হজসংশ্লিষ্ট কাজ সারতে সুবিধা হয়। কোরবানি বাবদ প্রায় ৫০০ রিয়াল খরচ হতে পারে।

শফিক রেহমানের মুক্তির দাবি খালেদা জিয়ার

সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ’ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধ শুরু করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরও গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। আজ শনিবার শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান খালেদা জিয়া। শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ জন্য যে তিনি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অনাচার, ব্যর্থতা ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে অবিচল নির্ভয়ে লিখে যান। ঘৃণ্য এ​ই অপকর্ম করার আরেকটি কারণ হলো—বর্তমান সরকারপ্রধানের গণবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী নীতি শফিক রেহমান তাঁর শাণিত লেখনীর দ্বারা ফুটিয়ে তোলেন। শফিক রেহমান সত্য উচ্চারণে অবিচল ও সাহসী এক কলমযোদ্ধা। সে কারণে তাঁকে কবজা করতে না পেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটি সরকারের চরম স্বেচ্ছাচারিতারই বহিঃপ্রকাশ।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, বাক্‌, ব্যক্তি, লেখনী, ভাষণ, মুদ্রণের স্বাধীনতাসহ জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবেন না। আপনি কখনোই শফিক রেহমানের মতো ঋজু ও আত্মশক্তিতে বলীয়ান কলমযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে পর্যুদস্ত করতে পারবেন না। কারণ, আপনার সরকার আজ গণবিচ্ছিন্ন ও জনগণের শত্রুপক্ষ।’ আরেক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

পিরোজপুরে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব জলাবাড়ি এলাকায় আজ শনিবার সকালে জসিম উদ্দিন হাওলাদার (৩৫) নামের এক সুপারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত জসিম উপজেলার দুর্গাকাঠি গ্রামের আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ব্যবসায়ীর পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ সকাল নয়টার দিকে পূর্ব জলাবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে জসিম ও তাঁর চাচাতো ভাই আলী হোসেন চা পান করছিলেন। এ সময় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক সেখানে গিয়ে জসিমকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে রড ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জসিম মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলী হোসেন ও নিহত ব্যবসায়ীর ছোট ভাই শিমুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, জলাবাড়ি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আশিস বড়ালের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন জসিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। জসিম একসময় আশিস বড়ালের কর্মী ছিলেন। পরে পক্ষ ত্যাগ করায় আশিস বড়ালের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়।  যোগাযোগ করা হলে আশিস বড়ালের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে জসিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইসির পদত্যাগ চাইলেন মাহবুব উদ্দিন

মাহবুব উদ্দিন
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পদত্যাগ চাইলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইসি এবং সে ক্ষেত্রে সরকারেরও পদত্যাগ করা উচিত। আজ শনিবার নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির গ্রন্থাগার মিলনায়তনে চাটখিল উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন এ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ থেকেই চাটখিল উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারেরা নানা হুমকি দেওয়া শুরু করেন। তাঁদের হুমকি-ধমকিতে শুধু বিএনপির প্রার্থীরাই নন, সাধারণ ভোটারেরাও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন চাটখিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান, জেলা বারের সাবেক সভাপতি বি উ এস কামরুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শফিক রেহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড

শফিক রেহমান
রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক শফিক রেহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ তাঁকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। বিচারক মাজহারুল ইসলাম তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে রাজধানীর পল্টন থানায় করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলার তদন্ত করছে ডিবি। এতে শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে মারুফ হোসেন জানান, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মামলায় শফিক রেহমান গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা মামলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে এ ঘটনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শফিক রেহমানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার উপকমিশনার মারুফ জানান, শফিক রেহমান ২০১৩ সালে একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তখনই জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পেরেছেন। আজ সকালে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলে কয়েকজন বাসায় ঢোকেন। শফিক রেহমান সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ভেবে তিনি (তালেয়া রেহমান) বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে বাসার বাবুর্চি জানান, শফিক রেহমানকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে নেওয়ার সময় তিনি (বাবুর্চি) বাধা দেন। এ সময় তাঁকে মারধর করে চুপ থাকতে বলা হয়। তালেয়া রেহমান বলেন, দারোয়ানের কাছে তিনি শোনেন, গাড়িতে করে শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যারা নিয়ে গেছে, তাদের মধ্যে একজনের পোশাকের পেছনে ‘ডিবি’ লেখা ছিল। ডিএমপির ব্রিফিংয়ে মারুফ হোসেন সরদার দাবি করেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা উচিত: জয়

সজীব ওয়াজেদ জয়
২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সজীব ওয়াজেদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমরা বাঙালিরা ১৯৭১ সাল থেকে জানি যে জামায়াতে ইসলামী একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এখন আবারও এটি ইসলামিক স্টেটের তরফ থেকে সরাসরি প্রমাণ হলো। জামায়াতের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আইএসে যোগ দিচ্ছে। আজ পর্যন্ত যত জঙ্গি বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা সব জামায়াতের অথবা এর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিল। এদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিত।’ এর আগে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘এটা তাঁদের জন্য, যাঁরা মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমালোচনা অনেক বড় কিছু মনে করছেন। বাস্তবতা হলো যে ২০১৫ সালে মার্কিন পুলিশ তাদের দেশে ৯৮৬ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায়।  জয় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে নারী, শিশুসহ অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখাও সমর্থন করে। অবৈধ অভিবাসন হচ্ছে একটি দেওয়ানি লঙ্ঘন, এটি কোনো অপরাধমূলক কাজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্যাতন অনুমোদন করেছে এবং অপহরণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন গোপন কারাগারে লোকজনকে আটক রেখেছে, যাকে তারা বলে ‘অসাধারণ পথ দর্শন’। এদের অধিকাংশ হলো সন্দেহভাজন জঙ্গি। কিন্তু এদের মাঝে অনেকেই রয়েছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরপরাধ নাগরিক, যাদের বছর খানেকের মধ্যে বা তারও বেশি সময় পর ছাড়া হয়। এই সময়ের মাঝে তাদের পরিবার জানতে পারে না যে তাদের অপহরণ করা হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যসহ বেশির ভাগ ইউরোপিয়ান দেশগুলো এই “অসাধারণ পথ দর্শন” কার্যক্রমের সাহায্যকারী। এসব ঘটেছে পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সম্প্রতি তদন্ত শেষে ঘোষণা করেছে যে এই কাজগুলো ছিল অবৈধ। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লোকদের অপরাধমূলক কাজের তদন্তের বিষয়টি নাকচ করে এসেছে। কেউই কখনো এই বিষয়ে অভিযুক্ত হবেন না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের পুলিশ কম হত্যা করেছে এবং আমরা অপহরণ বা নির্যাতনকে কোনোভাবেই অনুমোদন করি না।’

ম্যাচ না দেখলেই মিস্‌!

সেই গোল—সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত যেন রূপকথা!
লিভারপুল তখন ২-০ গোলে পিছিয়ে, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুহুর্মুহু আক্রমণে যেকোনো সময় তা ৩-০ হয়ে যাবেই বলে মনে হচ্ছিল। হঠাৎ টিভি পর্দায় একটি ব্যানার দেখাল। এক লিভারপুল সমর্থকের হাতের ওই ব্যানারে লেখা, ‘মহান কিছু করতে চাইলে একটু পাগলামি থাকতে হয়।’ কী অবিশ্বাস্য, ম্যাচের বাকি সময়টুকু যা হলো তার পুরোটা তো পাগলামিই। পাড় ‘অল রেড’ সমর্থক ছাড়া কাল লিভারপুলের জয়, কে ভাবতে পেরেছিল?
চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ফাইনালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লিভারপুলের নাম। ২০০৫ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৩-০ পিছিয়ে ছিল লিভারপুল। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখে সেদিন সমতা ফিরিয়ে পরে ম্যাচটিই জিতে নিয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কাল প্রত্যাবর্তনের নতুন এক গল্প লিখল লিভারপুল, আরও দুর্দান্তভাবে।  একই রাতে অন্য ম্যাচেও ছড়াল রোমাঞ্চ। ইউরোপা লিগ বলে যদি কাল টিভি খুলে বসে না থাকেন, দু্ই দুটি রোমাঞ্চকর ম্যাচের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেখানে পেনাল্টি শ্যুট আউটের রোমাঞ্চে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়ে সেভিয়া চলে গেছে সেমিফাইনালে। অন্য ম্যাচে ৪–৩ গোলের নাটকীয় জয় দিয়ে সেমিফাইনালে গেছে অল রেডরা। টিকে থাকার জন্য শেষ ২৫ মিনিটে তিনটি গোল করতেই হতো। লিভারপুল তিনটা গো​লই করেছে। ম্যাচটি যারা দেখেছেন, গল্প করতে পারবেন অনেক দিন।  ইয়ুর্গেন ক্লপও এটাই বলেছিলেন শিষ্যদের। বলেছিলেন, এমন কিছু করো, যেন নাতিপুতিদের গল্প করতে পারো, ওই ম্যাচটায় আমিও ছিলাম। আর তাতেই ম্যাচটি যেন রূপকথার বইয়ের পাতা থেকে ছিঁড়ে আনা চিত্রনাট্য হয়ে গেল। যে চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেছিলেন একজন কিন্তু শেষ দিকে এসে তাঁর হাত থেকে কলম কেড়ে নিল অন্য কেউ।  কাল বারবার ফিরে আসছিল ২০০৫ সালের স্মৃতি। ম্যাচের পর লিভারপুল কোচ ক্লপও ‘গোপন কথা’ ফাঁস করে দিলেন, ‘ছেলেদের বললাম, আমি তখন ছিলাম না। কিন্তু লিভারপুলের বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে শিরোপা জিতে এসেছে। হয়তো সেটি আবার করা অসম্ভব কিন্তু চেষ্টা তো করতেই পারি। যখন প্রথম গোলটি হলো সবাই বুঝতে পারল কিছু একটা ঘটেছে। সেটি শোনা যাচ্ছিল, অনুভব করা যাচ্ছিল, তার গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল।’  সত্যিই তো, অরিগির ওই গোলের সঙ্গে সঙ্গে যেন জেগে উঠল অ্যানফিল্ড। আবারও সুর বেজে উঠল, ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক এলোন’। সে জন্যই তো একটু পরে মার্কো রয়েসের গোলে ৩-১ ব্যবধান হয়ে যাওয়ার পরও এক মুহূর্তের জন্য হতোদ্যম হয়নি লিভারপুল। কুতিনহোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই শট, কিংবা ইউরোপা লিগে দুই ডিফেন্ডার সাখো ও লভরেনের গোলও তাই কেন যেন অবিশ্বাস্য মনে হয় না! যোগ করা সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও স্টারিজের বল বাড়িয়ে দেওয়া, মিলনারে সেই ক্রস কিংবা লভরেনের হেড-এ যেন হতোই! কাল যে ছিল এক জাদুকরী রাত, মাঠে ফিরে এসেছিল ২০০৫! কুতিনহো-মিলনারে ভর করেছিলেন স্টিভেন জেরার্ড-জাবি আলোনসোরা।  ইউরোপার জাদুর রাত শুধু অ্যানফিল্ডে আটকে ছিল না। সেটি যে কাল ছিল সেভিয়ার মাঠেও। বিলবাওয়ের মাঠে ২-১ গোলের জয় নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থাতেই খেলতে নেমেছিল বর্তমান ইউরোপার শিরোপাধারী দলটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটে আরিজ আদুরিজের গোলে এগিয়ে যায় বিলবাও। কিন্তু ৩ মিনিট পরেই গামেইরোর গোলে সমতায় ফেরে সেভিয়া। সেমির দৌড়ে এবার এগিয়ে গেল সেভিয়া। কাল যে ছিল রোমাঞ্চের রাত, ৮০ মিনিটে রাউল গার্সিয়ার গোল, স্কোর লাইন ২-১ (দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩)!  অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে পেনাল্টি শুট আউট। সেখানেও নাটক, দুই দলের ১০ শটের মাঝে মাত্র একটি বলই জালে পৌঁছাল না। সেটিও কার? ম্যাচ সেরা বেনাতেরটাই! পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ভিলেন বনে গেলেন এই মিডফিল্ডার। রোমাঞ্চকর রাতের স্বাদই পেল বিলবাও, জাদুর ছোঁয়াটা পেল সেভিয়া।

চোট নিয়ে খেলছেন মেসি?

অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে এই মেসি যেন হতাশ বার্সারই প্রতিচ্ছবি l
এটাই কি তাহলে তাঁর ফর্মহীনতার কারণ? এত দিন ধরে কি তবে চোট নিয়েই খেলে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি? ব্যাপারটা এখনো ঠিক পরিষ্কার নয়। তবে সম্প্রতি স্প্যানিশ বেশ কিছু পত্রিকা দাবি করেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাংসপেশির ব্যথা ভোগাচ্ছে তাঁকে। এ থেকে সেরে ওঠার জন্য নাকি ইতালিয়ান এক চিকিৎসকের সাহায্যও নিচ্ছেন মেসি। এ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭ গোল, ১৫টি অ্যাসিস্ট। অথচ সেই মেসি ক্লাবের হয়ে সর্বশেষ ৫ ম্যাচে একটি গোলও করতে পারেননি। ২০১০ সালের পর আর কখনো এত দীর্ঘ সময় গোলহীন কাটেনি বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের। ইদানীং মাঠেও তাঁর ধার যেন একটু কম মনে হচ্ছে। টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তিই কি পেয়ে বসেছে মেসিকে? এমন প্রশ্ন কিছুদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলেটিকোর হাতে বার্সেলোনার বিদায়ের পর স্প্যানিশ ফুটবল লেখক ও সাংবাদিক গুইলেম বালাগ স্কাই স্পোর্টসে এই প্রশ্নের জবাবটা দিয়েছেন নিজের মতো করে। তাঁর ধারণা, পেশির ব্যথাই ভোগাচ্ছে মেসি। বালাগ বলেছেন, ‘এটিকে ঠিক চোট বলা যাবে না হয়তো। তবে সপ্তাহ তিনেক আগে সে ভেনিসে (ইতালি) তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দেখাতে গিয়েছিল। আমি যতটা জানি, সেখানে এই পেশির ব্যথাটা নিয়েও কথা হয়েছে। সম্ভবত অনুশীলনের কারণে ব্যথাটা বেড়ে গেছে এবং সে আগের মতো মাঠে পারফর্ম করতে পারছে না।’ বালাগ দাবি করেছেন, মেসির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেও তিনি এই পেশির ব্যথা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাও বলছে, তারা বার্সার একটি সূত্র থেকে মেসির এই সমস্যাটার ব্যাপারে জানতে পেরেছে। গত মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই খেলে আসার পর থেকেই নাকি এই সমস্যায় ভুগছেন মেসি। ফর্মহীনতার কারণ যেটাই হোক, লা লিগা আর কোপা ডেল রের শিরোপা জিততে হলে কিন্তু আবার পুরো ফর্মে ফেরা মেসিকেই লাগবে বার্সেলোনার। মার্কা, স্কাই স্পোর্টস।

বার্নাব্যুতে ফিরছেন পেলেগ্রিনি

বার্নাব্যুতে ফিরছেন পেলেগ্রিনি
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ছিলেন মাত্র একটি বছর। ২০০৯-১০ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে সে সময়ের ক্লাব রেকর্ড ৯৬ পয়েন্ট এনে দিয়েও লিগ জেতাতে পারেননি ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও বাদ পড়ে যান শেষ ষোলোতে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে রিয়াল থেকে সরে যেতে হয়েছিল চিলিয়ান কোচকে। ছয় বছর পর আবারও বার্নাব্যুতে যাচ্ছেন পেলেগ্রিনি। ম্যানচেস্টার সিটি কোচের এবারের বার্নাব্যু মিশন রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দেওয়া। কাল নিয়নে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ড্র মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পেলেগ্রিনির অতীত ও বর্তমানকে। অন্য সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। রিয়াল থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর পেলেগ্রিনি বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ওপর। স্বাভাবিকভাবেই কাল ড্রয়ের পর থেকে পেলেগ্রিনির ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ বিষয়টি বাতাসে ভাসছিল। তবে সিটি কোচ ওসব ‘প্রতিশোধ-তত্ত্ব’ থেকে প্রেরণা খুঁজতে রাজি নন, ‘এটা কোনো বাড়তি প্রেরণা নয়। একমাত্র প্রেরণা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলা।’ প্রেরণা তো অবশ্যই। এবারই যে প্রথমবারের মতো ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতার সেরা চারে উঠে এসেছে সিটি। ইংলিশ ক্লাবটিতে আবার এই মৌসুমই ৬২ বছর বয়সী চিলিয়ানের শেষ। ২৬ এপ্রিল ঘরের মাঠে প্রথম লেগের পর ৪ মে পুরোনো ক্লাবকে হতাশায় ডোবানোর মিশন নিয়েই স্পেনে ফিরবেন পেলেগ্রিনি। স্পেনে ফিরবেন পেপ গার্দিওলাও। স্প্যানিশ কোচের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাকে বিদায় করে দেওয়া অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে স্বদেশি ক্লাবের প্রশংসাই করেছেন গার্দিওলা, ‘অ্যাটলেটিকো কতটা ভালো, সেটি খুব ভালো করেই জানি। মানুষ শুধু বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদের কথা বলে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অ্যাটলেটিকোও ওদের মানে উঠে এসেছে।’ শুধু স্পেন কেন, ডিয়েগো সিমিওনের অধীনে ইউরোপেও বড় শক্তি হয়ে ওঠা অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে বায়ার্নের ম্যাচটাকে এরই মধ্যে ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ উপাধি দেওয়া হচ্ছে। ২৭ এপ্রিল ও ৩ মের দুই লেগে কাজটা খুব সহজ হবে না গার্দিওলার জন্য। এদিকে ইউরোপা লিগে পরশু দুর্দান্ত উপাখ্যান লেখা ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের। অন্য সেমিতে ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎস্কের প্রতিপক্ষ টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া। এএফপি।
ম্যানচেস্টার সিটি
রিয়াল মাদ্রিদ
১ম লেগ: ২৬ এপ্রিল, ২য় লেগ: ৪ মে
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
বায়ার্ন মিউনিখ
১ম লেগ: ২৭ এপ্রিল, ২য় লেগ: ৩ মে

সহজ গ্রুপেই নেইমারের ব্রাজিল

পরশু রিও ডি জেনিরোয় অলিম্পিক ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে রোনালদিনহো
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, অথচ অলিম্পিকে এখনো একবারও সোনা জেতা হয়নি ব্রাজিলের। এবার নেইমারদের সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ নিজেদের মাটিতে। পরশু মারাকানা স্টেডিয়ামে হয়ে যাওয়া অলিম্পিক ফুটবলের ড্রয়ে ‘এ’ গ্রুপে বেশ সহজ গ্রুপেই পড়েছে স্বাগতিক ব্রাজিল। তাদের সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরাক ও ডেনমার্ক। ২০০৪ ও ২০০৮ সালে টানা দুবার অলিম্পিক ফুটবলে সোনা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এবার ‘ডি’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে আছে হন্ডুরাস, আলজেরিয়া ও পর্তুগাল। ‘বি’ গ্রুপে সুইডেন, কলম্বিয়া, নাইজেরিয়া ও জাপান। বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিজির সঙ্গে। আগামী ৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে স্বাগতিকদের অলিম্পিক মিশন। একই দিন ‘এ’ গ্রুপে ইরাক-ডেনমার্ক ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। সুতরাং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিটি গ্রুপ থেকে ২টি করে দল যাবে শেষ আটে।

যেন ইস্তাম্বুলই ফিরল অ্যানফিল্ডে

পুরো ম্যাচে দলের দ্বাদশ ব্যক্তির মতো সমর্থন দিয়ে
গেছেন দর্শকেরা। ডর্টমুন্ডের সঙ্গে অমন অসাধারণ
জয়ের পর সমর্থকদের এভাবে ধন্যবাদ জানাল লিভারপুল
কী বলবেন একে? নাটক, রূপকথা? দুই দলের কোচের কাছে কোনো ব্যাখ্যা নেই, খেলোয়াড়েরাও আনন্দ-বিস্ময়ের বিপরীতমুখী অনুভূতিতে আচ্ছন্ন। গত পরশু আসলে কী হলো অ্যানফিল্ডে? এক মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া, তো পরের মুহূর্তে হতাশায় ডুবে যাওয়া। এক মুহূর্তে মনে হতে পারে ‘সব শেষ’, পরের মুহূর্তেই বিজয়ীর অনুভূতি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসেছে লিভারপুল, দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে উঠে গেছে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে। কিন্তু ফলটাকে একপাশে সরিয়ে রাখুন, পরশু অ্যানফিল্ড যে ধ্রুপদি ফুটবল উপহার দিল, সেটি নিশ্চিতভাবেই রূপকথার অংশ হয়ে থাকবে। লিভারপুলের ইতিহাসের পাতায় খুঁজলে অবশ্য এমন আরও কিছু গল্প পাওয়া যাবে। ২০০৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও এসি মিলানের কাছে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফিরে এসেছিল অলরেডরা, ইস্তাম্বুলে সেদিন বিজয়োৎসব করেছিলেন স্টিভেন জেরার্ডরা। ধারে-ভারে সেই ম্যাচ আর এই ম্যাচের তুলনা করা উচিত হবে না, তবে ম্যাচের আবহে পরশু যেন ‘ইস্তাম্বুল’ই ফিরে এল অ্যানফিল্ডে। ডর্টমুন্ডের মেখিতারিয়ান ও অবামেয়াংয়ের গোলে ৯ মিনিটের মধ্যেই ২-০-তে পিছিয়ে পড়েছিল লিভারপুল। প্রথম লেগে ১-১ গোলের ড্রয়ে পাওয়া ‘অ্যাওয়ে গোলের’ সুবিধা তখন শেষ। লিভারপুলের সামনে চ্যালেঞ্জ, ন্যূনতম ৩ গোল করার। ইস্তাম্বুলের মতো আবারও পিছিয়ে পড়ে ৩ গোল করার চ্যালেঞ্জ। বিরতিতে ইয়ুর্গেন ক্লপ লিভারপুল খেলোয়াড়দের সামনে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন ইস্তাম্বুলের স্মৃতি, ‘আমি ছেলেদের বলছিলাম, আমি সেখানে (ইস্তাম্বুল) ছিলাম না। কিন্তু লিভারপুলের অনেক খেলোয়াড়, যাদের এখন বয়স হয়ে গেছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল। যদিও কঠিন, আমাদের জন্যও এটা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব।’ ক্লপের অতীত-বর্তমানের লড়াইয়ে আপাত-অসম্ভবকে কী অসাধারণভাবেই না সম্ভব করল লিভারপুল! ম্যাচটাও ফুটবলের সব রূপ-রস নিয়ে উপস্থিত হলো দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৮ মিনিটে অরিগির গোলে উচ্ছ্বাসে ভেসে গেল অ্যানফিল্ড। মিনিট দশেক পর ডর্টমুন্ডের তৃতীয় গোলটি করে তাতে বাদ সাধলেন মার্কো রয়েস। কিন্তু ক্লপের বর্তমান দলকে বেঁধে রাখা গেলে তো! ৩ গোল দরকার ছিল, ৬৬ থেকে ৯২—এই ২৬ মিনিটের মধ্যে কুতিনহো, সাখো ও লভরেনের গোলে নতুন প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল লিভারপুল। ফুটবলীয় দক্ষতা বা কৌশল নয়, ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিল দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাওয়া আর প্রতিপক্ষের চেয়ে একটু বেশি ঢেলে দেওয়ার প্রতিজ্ঞায়। দুর্দান্ত উপাখ্যানটিকে শুধুই অনুভূতির আলোকে ব্যাখ্যা করলেন ক্লপ, ‘যখন আমরা গোল করলাম, স্টেডিয়ামে কিছু একটা হচ্ছিল। আপনি সেটা শুধু শুনতে পারছিলেন, অনুভব করতে পারছিলেন, গন্ধও পাচ্ছিলেন।’ কোনো ব্যাখ্যা নেই ডর্টমুন্ড কোচ টমাস টুখেলের কাছেও, ‘যৌক্তিক কিছু হলে আমি ব্যাখ্যা করতে পারতাম। কিন্তু এটা যৌক্তিক কিছু ছিল না। ম্যাচে সমতা আসার পর সম্ভবত আমাদের সমর্থক ছাড়া সবাই বুঝতে পারছিলেন, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল।’ এমন ম্যাচের পর যুক্তি খুঁজতে চাওয়া হয়তো অনুচিত। ম্যাচের পর ক্লপের মন্তব্যটাই এই ম্যাচের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘শুধু লিভারপুল বা ডর্টমুন্ড নয়, সব সমর্থকই এই ম্যাচের পর বলবে—ফুটবল আসলেই এমন সুন্দর।’ এএফপি।
 এক নজরে
লিভারপুল ৪: ৩ ডর্টমুন্ড
(দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলে
জয়ী লিভারপুল)
সেভিয়া ১ (৫): ২ (৪) বিলবাও
(দুই লেগে ৩-৩ গোলে সমতার
পর টাইব্রেকারে জয়ী সেভিয়া)
ভিয়ারিয়াল ৪: ২ স্পার্তা প্রাগ
(দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ গোলে
জয়ী ভিয়ারিয়াল)
শাখতার ৪: ০ ব্রাগা
(দুই লেগ মিলিয়ে ৬-১ গোলে
জয়ী শাখতার)

মুক্তিযোদ্ধার একজন মুসা

ঢাকার মাঠে এমন আনন্দনৃত্য যেন নিয়মিত।
অদ্ভুত নাচের ভঙ্গিমায় হ্যাটট্রিক উদ্‌যাপন
মুক্তিযোদ্ধার নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবু মুসার।
বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে ভালো চাকরি করবে। কিন্তু নাইজেরিয়ার আবিজা ইয়োলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর আহমেদ কোলো মুসা ভিনদেশে ফুটবল খেলে বেড়াচ্ছেন। ফুটবলটা রক্তে বলেই করপোরেট প্রতিষ্ঠানে স্যুট-বুট-টাই পরা ‘এক্সিকিউটিভ’ হননি। এর আগে মিসরে খেলেছেন। এরপর ইরাক হয়ে এবার বাংলাদেশের ক্লাব মুক্তিযোদ্ধায়। বাংলাদেশে আসা অন্য ৮-১০ জন নাইজেরিয়ানের ভিড়ে আলাদাভাবেই নজর কেড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। এরই মধ্যে চার ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। যদিও তাঁর দাবি, ৬ গোল। তবে একটি গোল রেফারি আত্মঘাতী হিসেবেই দেখিয়েছেন। কাল উত্তর বারিধারাকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন মুসা। প্রথম ম্যাচে মুসা গোল পাননি, ওই ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হারে মুক্তিযোদ্ধা। পরের ম্যাচে তাঁর একমাত্র গোলে ব্রাদার্সকে হারায় তাঁর দল। তৃতীয় ম্যাচে তাঁর ২ গোলেই মোহামেডানের বিপক্ষে জয়। কিন্তু রেফারি একটিকে দেখান আত্মঘাতী। কাল তো হ্যাটট্রিকই করে বসলেন। স্বাধীনতা কাপে এর আগে হ্যাটট্রিক করেছেন শেখ জামালের ওয়েডসন আনসেলমে ও শেখ রাসেলের ফিকরু তেফেরা। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকায় মুসার কাছে বলের জোগান তেমন যায় না। তবে বল পেলে আসল কাজটা করতে বেশি সময় নেন না। কাল ১৭ মিনিটে তৌহিদুল আলমের চমৎকার ক্রসে হেড করে ১-০ করেন মুসা। ৩২ মিনিটে গোলরক্ষক রাজীবের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে করেন ২-০। ৫৫ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ। তৌহিদুলের শট রাজীবের হাত ফসকে বেরিয়ে এলে ফিরতি বলে মুসার গোল। গত মৌসুমে বাংলাদেশে খেলা এক নাইজেরিয়ান ফুটবলার মুসার খোঁজ দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাকে। এরপর মুসার কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখে ট্রায়ালে নেওয়া হয়। শেখ রাসেলের সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পরই তাঁকে চূড়ান্ত করে মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকায় প্রথম খেলতে এসে রোমাঞ্চিত মুসা, ‘আমি ঢাকার এই ক্লাবে খেলতে পেরে খুবই খুশি।’ মৌসুমে কত গোল করার লক্ষ্য? মুসা শুধু হাসলেন, ‘আল্লাহই জানেন আমি কত গোল করব! তবে আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ ইরাকে নাজাফ ও কারবালায় দুই মৌসুম খেলেছেন, কিন্তু টাকাপয়সা নিয়মিত পেতেন না বলেই বাংলাদেশে এসেছেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফুটবলারদের ঠিকমতো টাকা দিতে চাইত না ওরা।’দেশে স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে রেখে এসেছেন মুসা। কীভাবে তাদের এখানে আনা যায়, সেটাই এখন ভাবছেন। ঢাকায় এসে টুকটাক বাংলা শেখার চেষ্টা করছেন। ‘কেমন আছেন?’ ‘ভালো আছি’—জাতীয় বাক্য বলতে পারেন। পরশু বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করেছেন সতীর্থদের সঙ্গে পান্তা-ইলিশ খেয়ে। মুক্তিযোদ্ধাকে বড় একটা সাফল্য উপহার দিয়ে ‘বাঙালি মুসা’ হতে চান এই নাইজেরিয়ান। আরামবাগ-রহমতগঞ্জ গোলশূন্য ড্র: টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শেখ রাসেলের কাছে হেরেছিল আরামবাগ। এরপর টানা তিন ম্যাচ ড্র। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আরামবাগ গোলশূন্য ড্র করেছে রহমতগঞ্জের সঙ্গে। এই ড্রয়ে ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট হলো তাদের। সমান ম্যাচে রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ৪। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলের মুখ দেখতে পারেনি কোনো ক্লাবই। অবশ্য ৫৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত আরামবাগ। মিডফিল্ডার আবদুল্লাহর হেড সেভ করেছেন রহমতগঞ্জের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এলিটা বেঞ্জামিন।
আজ স্বাধীনতা কাপের কোনো ম্যাচ নেই।

দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে মানিককে

চট্টগ্রাম আবাহনী ছেড়ে হঠাৎ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সুখের মুখ দেখতে পারলেন না। দুঃসময়ের পাকেচক্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম মানিক। বেচারা ভাগ্যটাও পাচ্ছেন না পাশে। এএফসি কাপে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলে সব কটিই হেরেছে তাঁর দল। কিন্তু দুটি হার নিয়ে শেখ জামাল কোচের বিস্তর আফসোস, ‘এভাবে আমরা হারব ভাবাই যায়নি। অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়।’ মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর এফএর সঙ্গে ঢাকায় দুবার এগিয়েও হার ৪-৩ গোলে। গোলরক্ষক সোহেল শেষ সময়ে দুটি বাজে গোল খেয়ে দলকে হতাশায় ডোবান। ১২ এপ্রিল কুয়ালালামপুরে সেই সেলাঙ্গরের সঙ্গেই টুর্নামেন্টে প্রথম পয়েন্ট পেতে পেতেও ৮৯ মিনিটে গোল খেয়ে হতাশার হার (২-১)। মানিকের সঙ্গী এখন সেই হতাশা, ‘কিছুই ভালো লাগছে না। বারবার তাড়া করছে দুঃস্বপ্ন।’ ঢাকায় ফিরে শেখ জামালের কোচ কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপের খেলা দেখতে এসে মলিন মুখে বলছিলেন, ‘প্রতিপক্ষ ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়। ম্যাচ তখন ১-১। আমাদের জেতার ভালো সম্ভাবনা ছিল, দলও ভালো খেলছিল। কিন্তু ৭০ মিনিটে পোস্ট থেকে অনেকটা দূরে ইয়াসিন পেছন থেকে অহেতুক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় আমরাও হয়ে গেলাম ১০ জনের দল।’ ঢাকায় ফিলিপাইনের সেরেস লা সাল্লের বিপক্ষেও ইয়াসিন লাল কার্ড দেখেছেন। বারবার খেলোয়াড়দের কিছু ভুলের মূল্যই আসলে দিতে হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের। তবে সবাইকে ছাপিয়ে কোচের মুখে ইয়াসিনের কথাই বেশি, ‘ও সর্বশেষ ম্যাচে আরও সতর্ক থাকলে হয়তো স্কোর অন্য রকম হতে পারত।’ আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন, কোচ হিসেবেও উত্তাপটা অনেকে আগেই পেয়েছেন মানিক। তবে এবার শেখ জামালে এসে এএফসি কাপে টানা ৪ ম্যাচ এভাবে হারবেন ভাবেননি। সামনেও আশার আলো নেই। ২৬ এপ্রিল ঢাকায় টেম্পাইনস রোভার্স ও ১০ মে সেরেস লা সাল্লের সঙ্গে শেষ ম্যাচ খেলবে শেখ জামাল। ওই দুটি ম্যাচে একাদশ মাঠে নামাবেন কীভাবে সেটিই বড় চিন্তা। নানা কারণে তাঁর হাতে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় নেই। কুড়িয়ে-কাঁচিয়ে মালয়েশিয়ায় নিতে পেরেছিলেন ১৫ জন খেলোয়াড়, বিমান ওঠার আগে ধারে পান শেখ রাসেলের জামাল ভূঁইয়াকে। শেষ দুটি ম্যাচে সম্ভবত জামালকে আর পাওয়া যাবে না। লাল কার্ডের কারণে মাঠের বাইরে ইয়াসিনও। তাই বাস্তবতা মেনে মানিক বলছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল অনেক কঠিন। এখানে জোড়াতালি দিয়ে দল গড়লে হবে না। তাই শেষ দুটি ম্যাচ নিয়েও চিন্তায় আছি।’ আদালতের রায়ে ৮ ফুটবলারকে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় শূন্যের কোঠায়। ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তাই খুবই ক্ষীণ। অথচ এই শেখ জামাল কলকাতার আইএফএ শিল্ড মাতিয়েছে, ভুটানের কিংস কাপ জিতে সমীহ কুড়িয়েছে। এই এএফসি কাপের বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিরগিজস্তানে গিয়ে। সেই দলটিই এখন পথহারা। মানসম্মত খেলোয়াড়ের অভাবে ধুঁকছে। হায় শেখ জামাল!
হারের বৃত্তে শেখ জামাল
০-৪ টেম্পাইনস রোভার্স (সিঙ্গাপুর)
০-২ সেরেস লা সাল্লে­ (ফিলিপাইন)
৩-৪ ও ১–২ সেলাঙ্গর (মালয়েশিয়া)

বঙ্গবন্ধুর প্রেসবক্সে ব্রিটিশ সাংবাদিকের এক বেলা

ফুটবল নিয়ে তাঁর নতুন বইয়ের রসদ খুঁজতে বাংলাদেশে এসেছেন জেমস মন্টেগো
বুকপকেটে এক টুকরো ময়লা কাগজ নিয়ে ঘুরতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’। সেই কাগজের ওপর ছিল ভুসা-কালিমাখা একটি ছোট হাতের কোমল ছাপ। মেয়ের ওই স্মৃতিচিহ্নটুকু নিয়ে কলকাতার রাস্তায় ফল বেচতেন রহমত। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে বসে যখন জেমস মন্টেগোর সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছিল, হঠাৎই মানিব্যাগ খুলে বসলেন ভদ্রলোক। মানিব্যাগের এক কোণে রাখা পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে লিমার ছবিটি দেখালেন ব্রিটিশ সাংবাদিক। মেয়েকে দেশে রেখে বিদেশ-বিভুঁইয়ে ঘুরছেন নিজের বইয়ের রসদ জোগাড় করতে। মন্টেগো একজন ফ্রি ল্যান্স সাংবাদিক। এ ছাড়া তাঁর আরও কিছু পরিচয় আছে। ফুটবল লেখক, এমনকি ফটোগ্রাফার হিসেবেও আলাদা খ্যাতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির ওপর পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু লেখালেখিকে ভালোবেসে জড়িয়ে পড়েছেন সাংবাদিকতায়। বই লিখছেন মনের আনন্দে। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন ও ওয়ার্ল্ড সকারে নিয়মিতই লেখেন তিনি। বিবিসিতেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফিলিস্তিনে গিয়ে ফুটবল ম্যাচ কভার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও ফুটবল ম্যাচ দেখে তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। কাল সেসব কথাই বলছিলেন, ‘আমি আসলে ফুটবল ও রাজনীতির মধ্যে একটা যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করি।’ আর সেই চেষ্টা থেকেই লিখে ফেলেন নিজের প্রথম বই ‘হোয়েন ফ্রাইডে কামস: ফুটবল ইন দ্য ওয়ার জোন’। এই বই লিখেই সাড়া ফেলে দেন যুক্তরাজ্যে। ২০০৯ সালে জিতেছিলেন যুক্তরাজ্যের সেরা উদীয়মান ক্রীড়া লেখকের পুরস্কার। এবার বাংলাদেশেও ঘুরতে আসা নতুন একটি বইয়ের কাজেই।  মন্টেগোর আরেকটি বইয়ের নাম ‘থার্টি ওয়ান নিল: অন দ্য রোড উইথ ফুটবল আউটসাইডারস, আ ওয়ার্ল্ড কাপ ওডেসি’। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আমেরিকান সামোয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩১-০ গোলের ওই জয় এসেছে নামকরণে। সেটির সূত্র ধরেই ফুটবলে তেমন বলার মতো শক্তি নয় এমন দেশগুলোর বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এই বইয়ের উপজীব্য। গত ফুটবল বিশ্বকাপ কাভার করেছেন ব্রাজিলে। কাভার করেছেন এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক গেমসসহ আরও অনেক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কেন ফ্রি ল্যান্স সাংবাদিকতা বেছে নিলেন, প্রশ্নটা করতেই একগাল হেসে বললেন, ‘আমি কাজটা অনেক উপভোগ করি। এখানে স্বাধীনভাবে অনেক কাজ করা যায়।’ তা বাংলাদেশ কেমন লাগছে? ‘প্রথমে শুনেছিলাম এখানে নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা আছে। আমার বাবাও প্রথমে বাংলাদেশের কথা শুনে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু আমি এখানে এসে কোনো সমস্যা দেখলাম না। সবাই খুব বন্ধুবৎসল। অতিথিপরায়ণ। আমার খুবই ভালো লেগেছে সবকিছু।’ ওয়েস্ট হামের বাসিন্দা মন্টেগো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বাবা-ছেলে মিলে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটে যান। বাংলাদেশের ফুটবলের কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এসে দেখছিলেন সবকিছু অন্য দৃষ্টিতেই। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় স্টেডিয়ামের নকশা, স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করলেন। এই মাঠে খেলে গেছেন লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছিল এই স্টেডিয়ামেই—তথ্যটা জানাতেই অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন, ‘তাই নাকি!’ মাঠের মধ্যে ঘুরে ঘুরে স্বাধীনতা কাপের ম্যাচের অনেক ছবি তুললেন। যে কজন দর্শকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তাদের নিয়েই মুগ্ধতা ছড়াল। এত কম দর্শক দেখে একটু আফসোস করে বললেন, ‘আজ শুক্রবার, হয়তো ছুটির দিন বলেই লোক আসেনি।’ ছুটির দিনে তো উল্টো ভিড় হওয়ার কথা। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে যে অনেক দিনই দর্শকখরা, সেটি বলা হলো তাঁকে। মন্টেগো বললেন, ‘নিশ্চয়ই সুদিন ফিরবে বাংলাদেশের ফুটবলে।’ নিজের টুইটারে স্বাধীনতা কাপের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এখনো ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ড দেখতে বেশ ভালোই লাগে।’ বাংলাদেশের সবকিছুই ভালো লেগেছে মন্টেগোর। আগামী জুনে প্রকাশিতব্য তাঁর পরবর্তী বইয়ে ‘বাংলাদেশ’ অধ্যায়টা তাই পড়ার মতোই হবে বলে আশা করা যায়!

ইতালিতে এত গোল করতে পারতেন না মেসি-রোনালদো?

ইতালিতে এত গোল হতো না মেসি-রোনালদোর
এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই যে তাঁরা দুজন নিজেদের সময়ের বাকি সবার চেয়ে আলাদা ​এবং অনেক এগিয়ে। এটাও বোধ হয় প্রশ্নাতীত যে সমকালীন শ্রেষ্ঠত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবস্থান এখন সর্বকালের সেরাদের দলে। গোল করাকে যাঁরা ছেলেখেলা বানিয়ে রেখেছেন, আট বছর ধরে ব্যালন ডি’অরটাকে বানিয়ে রেখেছেন শুধুই নিজেদের সম্পত্তি, তাঁদের নিয়ে এর চেয়ে কম কিছু বলা যায় নাকি! কিন্তু এই যে মেসি-রোনালদো এত এত গোল করছেন, এটা কি শুধুই তাঁরা লা লিগায় খেলেন বলে? অন্য সব লিগেও কি তাঁরা একইভাবে গোল করতে পারতেন? সমান সফল হতেন বিশ্বের যেকোনো লিগে?
খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। যে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইন্টার মিলানের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিরান্ডা। তাঁর মতে, অন্য অনেক লিগেই রোনালদো-মেসি একই রকম সফল হতেন। তবে সিরি ‘আ’-তে খেললে তাঁরা দুজন এত গোল পেতেন বলে মনে হয় না। ইন্টার মিলানে যোগ দেওয়ার আগে টানা চার মৌসুম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলেছেন মিরান্ডা। লা লিগা ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে অনেক বারই মেসি-রোনালদোর মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সামলাতে হয়েছে দুজনকেই। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্রাজিলিয়ান এই সেন্টার ব্যাকের উপলব্ধি, ‘ওরা দুজনেই অসাধারণ খেলোয়াড়। যেকোনো লিগেই ওরা দুজন অনেক গোল করত।’ তবে এরপরই মিরান্ডা যোগ করেছেন, ‘তবে স্পেনে ওরা যে হারে গোল করে, ইতালিতে সেটা পারত না। কারণ, এখানে দলগুলো কৌশলগতভাবে অনেক সুসংগঠিত।’ ইতালিয়ান রক্ষণ বরাবরই স্ট্রাইকারদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার নাম। মিরান্ডার কথাটা তাই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তবে পরিসংখ্যান বলছে, মেসি-রোনালদোর এমন গোলবন্যা বইয়ে দেওয়ার কারণ শুধু স্পেনে খেলা নয়; তাঁদের দুজনের নিরন্তর একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়নাও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে রোনালদো ছয় মৌসুম খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এর মধ্যে শুধু এক মৌসুমেই (২০০৭-০৮) ৩০টির বেশি গোল। অথচ রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমটি বাদ দিলে পরের টানা পাঁচ মৌসুমেই ৫০টির বেশি গোল করেছেন। এবারও সেই পথেই আছেন। ৪২ ম্যাচে ৪৬ গোল হয়ে গেছে। ৫০ পেরোনো নিয়ে তাই কোনো প্রশ্নই নেই। মেসি অবশ্য লা লিগা ছাড়া অন্য কোনো লিগে খেলেননি। কিন্তু ২০০৯-১০ মৌসুমে রোনালদো রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত মেসিও মৌসুমে ৩০ গোলের বেশি করেছেন মাত্র একবার। অথচ রোনালদো আসার পর তাঁরও চারবার মৌসুমে ৫০-এর বেশি গোল! এবার অবশ্য তাঁর নিজের বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডে একটু ম্লানই বলতে হবে। ৪২ ম্যাচে ৩৭ গোল করেছেন মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বার্সেলোনা বিদায় নেওয়ায় ‘৫০’ ছোঁয়া একটু কঠিনই। তবে সুয়ারেজ-নেইমারের উপস্থিতির পরও ম্যাচপ্রতি প্রায় একটি করে গোল যথেষ্টই বিস্ময়কর। দুজনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়তো নিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় রোনালদো-মেসিকে। ফোরফোরটু।

রেফারি বদল

‘আজকে রেফারিই আমাদের হারিয়ে দিল’, ‘নিশ্চিত পেনাল্টি দিল না’, ‘ওটা পরিষ্কার লাল কার্ড, চোখ নেই নাকি রেফারির!’—ফুটবল ম্যাচ মানেই বেচারা রেফারির চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার। যে দলই জিতুক না কেন রেফারিং নিয়ে সমালোচনা হবেই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কমিটিও এটা ভালো করেই জানে। তাই পরশু স্টোক সিটি-টটেনহাম ম্যাচের রেফারি পাল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিশিয়াল লিমিটেড। কারণ, ম্যাচটি পরিচালনা করার কথা যাঁর সেই কেভিন ফ্রেন্ড লেস্টার নিবাসী। সুযোগ পেলেই লেস্টার সিটির ম্যাচ দেখতে যান। প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে আছে লেস্টার সিটি। ৭২ পয়েন্ট নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহামের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। লিগের বাকি আর মাত্র ৫ ম্যাচ। এ অবস্থায় টটেনহামের ম্যাচ পরিচালনা করবেন একজন লেস্টার সমর্থক! অযথা বিতর্ক এড়াতে তাই ফ্রেন্ডকে এ ম্যাচ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ পরিচালনার, যারা আছে লিগের চতুর্থ স্থানে।

অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম লড়াকু যোদ্ধাদের

রোমাঞ্চকর!
এই লোকটা চাকরি করেন না। ফুটবলটা তাঁর কাছে বেঁচে থাকার আশ্রয় অবশ্যই, তবে সেটা মনের ক্ষুধা মেটানোর জন্যই বেশি। ফুটবল তাঁর প্রশ্বাসে। ফুটবল তাঁর রক্তে। ইয়ুর্গেন ক্লপের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বোধ হয় এটাই, শিষ্যদের মধ্যেও তিনি সেই নেশাটা ছড়িয়ে দেন। যে অখ্যাত ডর্টমুন্ডকে একেবারে বদলে দিয়েছিলেন আশ্চর্য জাদুমন্ত্রে, সেই পুরোনো দলকেই কাল হারিয়ে নিয়ে জন্ম নিল নতুন রূপকথা। ফুটবলের সেরা রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটির জন্ম দিয়ে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে লিভারপুল চলে গেল ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে। প্রথম লেগটা ছিল ১-১ গোলে অমীমাংসিত। তবে লিভারপুল অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে। কোথায় কী, কাল ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে নিজেদের মাঠে ২ গোল খেয়ে ওই অ্যাওয়ে গোলের এগিয়ে থাকার সব হিসাব ভেঙেচুরে পড়তে দেখল অল রেডরা। লিভারপুলের সামনে তখন ৮০ মিনিট, এবং কমপক্ষে তিনটা গোল করতেই হবে—এমন পাহাড় ডিঙানোর প্রায় অসম্ভব একটা সমীকরণ। কিন্তু ওই যে, লোকটার নাম ইয়ুর্গেন ক্লপ। অন্য কোনো দল হলে সেখানেই হাল ছেড়ে ​দিত। কিন্তু লিভারপুল দেয়নি। এমনকি পরে সমীকরণ আরও জটিলতর হয়ে ওঠার পরেও। ৪৮ মিনিটে ওরিগি ১-১ সমতা ফেরালেন। ৫৭ মিনিটেই ডর্টমুন্ড করে ফেলল ৩-১। ম্যাচের ৬৫ মিনিটের কাঁটা ঠিক যখন পেরোল, লিভারপুল তখন এভারেস্ট ডিঙানোর আরও কঠিন এক সমীকরণের সামনে। ২৫ মিনিটে চাই তিন গোল। এবং কী আশ্চর্য, সেখান থেকেই শুরু লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনের আশ্চর্য এক রূপকথার। ৬৬ মিনিটে ২-৩ করলেন কুতিনহো। ৭৮ মিনিটে সাখো করলেন ৩-৩। তখনো এক গোল চাই। এক গোল। অ্যানফিল্ড তখন গোলের নেশায় উন্মত্ত। তাদের গর্জন টিভির স্পিকার থেকে আসছে, নাকি সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে সরাসরি? নাহ হচ্ছে না কিছুতেই। ডর্টমুন্ড যে হাল ছেড়ে বসে আছে তা নয়। দুই ​লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা। কিন্তু প্রতিপক্ষে মাঠে তিনটা গোল করার সু​বাদে সময়ের মোম একটু করে করে গলে ক্ষয়ে যাচ্ছে, আর সেমিফাইনালে দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে তারাই। ৯০ মিনিটও পেরিয়ে গেল। যোগ করা সময়ের খেলা চলছে। বক্সের জটলায় কোত্থেকে যেন উদয় হলেন লভরেন। মিলনারের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেড। এই মৌসুমে একটাই গোল করলেন এই ফুলব্যাক, আর সেই গোলটাই যেন এক মৌসুমে এক শ গোলের চেয়ে মহামূল্য হয়ে গেল! সেমিফাইনালে লিভারপুল! ২০০৫ সালে শুধু ফুটবল নয়, ক্রীড়া ইতিহাসেই অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের রূপকথার জন্ম দিয়েছিল ​ইংলিশ ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এসি মিলানের কাছে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ইস্তাম্বুলে সেবার ট্রফি নিয়ে উৎ​সব করেছিল লিভারপুল। তার সঙ্গে তুলনা করা অন্যায়ই। তবে কালকের রাত পৃথিবীর সব জীবনযুদ্ধে লড়াই করে করে ক্লান্ত মানুষদেরও প্রেরণার উৎ​স হয়ে থাকবে। এভাবেও ফিরে আসা যায়, এভাবেও ফিরে আসা যায়!

ইতিহাসও ছিল মেসিদের প্রতিপক্ষ

অ্যাটলেটিকোর পাশাপাশি ইতিহাসও কী চ্যাম্পিয়নস
লিগ থেকে খালি হাতে ফেরাল মেসিদের?
মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগের কথা। বার্সেলোনা কেন আরও একবার মৌসুমের তিনটি শিরোপাই জিতবে না, সেটিই ছিল আলোচনায়। কিন্তু তিন সপ্তাহের মধ্যেই কেমন যেন সব কিছু বদলে গেল। বার্সেলোনার ট্রেবলের আশা এখন হাওয়া। টানা দুটি ম্যাচ হেরে ‘পর্বত-প্রমাণ’ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবিধা এখন নেমে এসেছে ‘টিলা’ সমান দূরত্বে। কে জানে, আর একটি ম্যাচে হোঁচট খেলেই লিগ জয়ের আশাতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।  লিগে ধাক্কা লাগতে পারে, চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা কাল লেগেই গেল বার্সার গায়ে। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা।  কেন এমন হলো, কী হলে কী হতে পারত—কাঁটাছেড়া চলছে এসব নিয়েই। বার্সেলোনা সমর্থকদের হতাশা, ক্রোধ সবকিছুর মধ্যে হয়তো সান্ত্বনার বাণী হয়ে আসতে পারে এই তথ্যটি—এমনটা হয়তো হওয়ার কথাই ছিল। ইতিহাসই বলছে, এবারও বার্সার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যই ছিল। ১৯৯২ সালে নতুন নামে, নতুন রূপে পথচলা শুরুর পর থেকে যে কখনো কোনো একটি ক্লাবকে টানা দুবার আপন করে নেয়নি চ্যাম্পিয়নস লিগ। সব ইতিহাসেরই শুরু থাকে, শেষও থাকে। কোনো না কোনো সময় হয়তো এই ইতিহাসও ভাঙা হয়ে যাবে। তবে মৌসুমের শুরু থেকে সব সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা বার্সার পক্ষে সেটি সম্ভব হলো না, এই যা। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিও কাল ম্যাচের পর এটিকেই কারণ হিসেবে তুলে এনেছিলেন। আগের মৌসুমের শিরোপাজয়ীদের প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘অভিশাপ’কেই বার্সার হারের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ। অভিশাপই তো! ১৯৯২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ থেকে নাম বদলে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামকরণ করা হলো, ফরম্যাটটা বদলে দেওয়া হলো। ব্যাস, নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল ক্লাবগুলোর ভাগ্যও। সেখানেই সমাধি হয়ে গেল কোনো ক্লাবের ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন।  অথচ পরিবর্তনের আগের ইতিহাসটা দেখুন। ১৯৫৫ সাল থেকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস ক্লাব কাপ (সংক্ষেপে ইউরোপিয়ান কাপ) নামে শুরু হয়েছিল ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতা। সে বছর শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তখন থেকেই শুরু ষাটের দশকের রিয়ালের ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো। টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপ গেছে ‘লস ব্লাঙ্কো’দের ঘরে।  রিয়ালের হাত থেকে ব্যাটনটা সরাসরি চলে যায় ইউসেবিওর বেনফিকার কাছে। ১৯৬০ ও ১৯৬১—টানা দুবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতে পর্তুগালের ক্লাবটি। এরপর টানা দুবার বা এর বেশি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে আরও ৬টি ক্লাব। ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে এই কীর্তি ইন্টার মিলানের, ১৯৭১ থেকে টানা তিনবার ইয়োহান ক্রুইফের আয়াক্সের।  ক্রুইফের পর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। জার্মান কিংবদন্তি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬—টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতালেন বায়ার্ন মিউনিখকে। সত্তরের দশকের ইউরোপ মাতানো লিভারপুলও স্বর্ণযুগটাকে আলোকিত করে রেখেছে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে টানা দুবার শিরোপাটি জিতে। লিভারপুলের পর টানা দুবার জেতে ইংল্যান্ডের আরও একটি ক্লাব—নটিংহ্যাম ফরেস্ট। কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ ও তাঁর সহকারী পিটার টেলরের অধীনে অবিশ্বাস্য সাফল্য পাওয়া নটিংহ্যাম ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল। এরপর শুধু আর একটি ক্লাবই এমন অর্জনের ভাগ নিতে পেরেছে—এসি মিলান। আরিগো সাচ্চির অধীনে ইতালিয়ান পরাশক্তিরা ইউরোপ সেরা হয় ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে। ইতিহাসের পাঠ ওখানেই শেষ। এরপর আর কখনো কোনো ক্লাবের সৌভাগ্য হয়নি ইউরোপে টানা দুবার রাজত্ব করার। এই মৌসুমে বার্সেলোনার তেমন কিছু করার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। কিন্তু দিয়েগো সিমিওনে এবং তাঁর শিষ্যদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছেই বার্সেলোনার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।  ইতিহাস আরও একবার অলক্ষ্যে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল কোনো ক্লাবের টানা দুবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে। কেউ কী আদৌ খুলতে পারবে এই গেরো? তা জানতে অন্তত দুই মৌসুম অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

গ্যাবিও বলছেন ওটা পেনাল্টিই ছিল

সেই মুহূর্ত। ভিডিও থেকে নেওয়া
বার্সেলোনা সমর্থকদের শোক এখনো কাটেনি। না কাটারই কথা। পরাজয়ের যন্ত্রণা তো আছেই, পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা পক্ষে না যাওয়ায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে আরও বেশি। আর এই না-হওয়া পেনাল্টির কেন্দ্রে ছিলেন যিনি, সেই গ্যাবি স্বীকার করেছেন, বলটা হাতেই লেগেছে। তবে তিনি নিশ্চিত নন সে সময় বক্সের ভেতরে ছিলেন কি না। গ্যাবি অবশ্য এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চাইলেন না। বরং সোজাসুজি বললেন, তিনি বক্সের ভেতরে থেকে থাকলে ওটা পেনাল্টিই ছিল । বার্সেলোনা-অ্যাটলেটিকো কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ মুহূর্তে বক্সে বল হাতে লাগিয়েছিলেন গ্যাবি। রেফারি বাঁশি বাজালেও পেনাল্টি নয়, বার্সা বক্সের প্রান্তে পেয়েছে ফ্রি কিক। যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে, গ্যাবি তখন বক্সের ভেতরেই ছিলেন। ফ্রি কিক থেকে লিওনেল মেসি গোল করতে পারেননি। পেনাল্টি পেলে বার্সা গোল পেত কি না, তাও তো বলার উপায় নেই। তবে যদি গোল পেত, বেঁচে যেত বার্সার আশা। আর এই ‘যদি’টাতেই ক্ষুব্ধ বার্সা সমর্থকেরা। কোয়ার্টার ফাইনালে রেফারির এমন মহা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দলের বিপক্ষে গেলে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে ওই ম্যাচের অধিনায়ক নিজে কী বলেন? গ্যাবি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, ওটা হ্যান্ডবল ছিল। আমি অবশ্য নিশ্চিত নই সে সময় ভেতরে ছিলাম নাকি বাইরে। ফুটবলে অবশ্য এসব হয়ই। কখনো পেনাল্টি পাবেন, কখনো পাবেন না। তবে যদি আমি ভেতরে থেকে থাকি সে সময়, আমি বলব ওটা পেনাল্টিই ছিল।’

ঘরে ফেরার সময়ও কেঁদেছেন ইনিয়েস্তা

বাসে একা একা কাঁদছেন ইনিয়েস্তা।
চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে গেছে বার্সেলোনা। সেদিন যে মুহূর্তে বার্সেলোনার সর্বনাশ নিশ্চিত হলো, ওই ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। আবার একটু পরেই নতুন করে বার্সেলোনার স্বপ্ন বাঁচিয়ে তোলার আশা জাগানোর মুহূর্তেও ছিলেন তিনি। তিনিই পেনাল্টি দিয়েছেন, তাঁর কারণেই পেনাল্টি না হোক, খুবই বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়েছিল বার্সা। কিন্তু হতাশা আর আশার দোলাচলে হতাশাটাই থাকল বাকি। শেষ পর্যন্ত ইনিয়েস্তা হয়ে গেলেন ট্রাজিক-নায়ক! ম্যাচের শেষে তাই নিজের আবেগকে আর আটকে রাখতে পারলেন না। ম্যাচ শেষে সবার আগে টিম বাসে উঠে পড়লেন। তাঁকে অনুসরণ করে স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল কুয়াত্রোর ক্যামেরাও চলে গেল সেখানে। তখনই ক্যামেরার চোখে পড়ল সেই দৃশ্য—অবাধ্য চোখের জলকে বাঁধ মানাতে পারছেন না মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো। হাত দিয়ে বারবার চোখ মুছে নিচ্ছেন। হয়তো একটু আগের হতাশামাখা সেই মুহূর্ত ভোলার চেষ্টা করছিলেন প্রাণপণে।  কোয়ার্টার ফাইনালে নিষ্প্রাণ বার্সেলোনা দলে ব্যতিক্রম হয়েছিলেন এই ইনিয়েস্তাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দ্বিতীয় গোলে নাম জড়িয়ে গেল তাঁর। ফেলিপে লুইসের খ্যাপাটে দৌড় আটকাতেই পারছিলেন না কোনো বার্সা ডিফেন্ডার। লুইসের ক্রস আটকাতে বাধ্য হয়েই বক্সে হাত বাড়িয়ে বল থামালেন ইনিয়েস্তা। দলকে বাঁচাতে নিজের সুনামও জলাঞ্জলি দিতে এতটুকু কার্পণ্য করলেন না। যদিও ওই যাত্রা প্রায় নিশ্চিত গোলটা হ্যান্ডবল করে ঠেকিয়ে দিলেও পেনাল্টি থেকে গোল করে ২-০ গোলে এগিয়ে গেল অ্যাটলেটিকো।  একটু পরেই প্রায়শ্চিত্ত প্রায় করেই ফেলেছিলেন। অ্যাটলেটিকোর ডি-বক্সে তাঁর ক্রসে হাত লাগান গ্যাবি। রেফারি ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন, অথচ ঘটনাটি ঘটেছিল বক্সের মধ্যে। সে অনুযায়ী পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল বার্সার। সে ক্ষেত্রে গোল করে অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে পারত ম্যাচ। দিনটি তো বার্সার দিন ছিল না, ছিল না ইনিয়েস্তার দিনও।
এ দিনটি যে এসেছিল ইনিয়েস্তাকে কাঁদাতেই!

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে কে কার প্রতিপক্ষ?

রোনালদো আরও একবার মুখোমুখি হচ্ছেন সিটির
কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারানোর পর ফিলিপে লুইস বলেছিলেন, ‘সেমিফাইনালে আর যে-ই হোক, রিয়াল মাদ্রিদকে চাই না।’ দুই লেগে ১৮০ মিনিট-জুড়ে হয়তো মাদ্রিদ ডার্বির চাপ হয়তো নিতে চাইছিলেন না অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ডিফেন্ডার। সে হিসেবে বলতেই হচ্ছে, ‘বেঁচে গেলেন’ লুইস। আসলেই কি বেঁচে গেলেন? রিয়ালের মুখোমুখি হতে হয়নি, তবে অ্যাটলেটিকোর কাজটা তাতে কি একটুও সহজ হয়েছে? সেমিফাইনালে যে ডিয়েগো সিমিওনের দলকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের! জার্মান চ্যাম্পিয়ন দলটির হয়ে শেষ মৌসুমে এখনো অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে যে সম্ভাব্য সবকিছুই করবেন পেপ গার্দিওলা। অবশ্য সেমিফাইনালে এসে সহজ-কঠিন প্রতিপক্ষ খুঁজতে যাওয়াই বোকামি। রিয়ালও কি স্বস্তিতে থাকতে পারছে? জিনেদিন জিদানের দল সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে এবারই নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিতে উঠে আসা ম্যানচেস্টার সিটিকে। কিন্তু ওখানেও তো কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির একটু বাড়তি তাড়না থাকবে। তিনিও তো যাওয়ার আগে নিজের ও ক্লাবের হয়ে একটা ইতিহাস গড়তে চান। অবশ্য রিয়াল কোচ জিদানও নিজের প্রথম মৌসুমে বড় কিছু উপহার দিতে নিশ্চয়ই উদ্‌গ্রীব হয়ে আছেন।দেখা যাক, এত ইতিহাস, সমাপ্তি রাঙানোর হাতছানিতে কার প্রেরণা সবচেয়ে বেশি কাজ করে! ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দুটি ম্যাচই ১৮০ মিনিটের রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে। এপ্রিলের ২৬ ও ২৭ তারিখ হবে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। দ্বিতীয় লেগ ৩ ও ৪ মে। প্রথম সেমিফাইনালে জয়ী দল হবে ২৮ মে মিলানে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের ‘হোম’ টিম। গুরুত্ব চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো না হলেও, ফুটবলীয় রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে ইউরোপা লিগেও। ২৮ এপ্রিল ও ৫ মে, এই দুই লেগের সেমিফাইনালে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল, আর টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া খেলবে ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎস্কের সঙ্গে।
কে কার মুখোমুখি:
চ্যাম্পিয়নস লিগ:
ম্যানচেস্টার সিটি - রিয়াল মাদ্রিদ
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ - বায়ার্ন মিউনিখ
ইউরোপা লিগ:
ভিয়ারিয়াল - লিভারপুল
শাখতার দোনেৎস্ক - সেভিয়া