Monday, March 8, 2010

ব্যাংকগুলোর শেয়ার ব্যবসা এবং অপেক্ষাধীন বিপদ by আবু আহমেদ

আমাদের ব্যাংকগুলো এখন বর্ধিত হারে শেয়ার ব্যবসায় নেমে পড়েছে। তারা দুইভাবে ব্যবসা করছে, এক. হাজার হাজার অন্য শেয়ার ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে ব্যক্তি শেয়ার ব্যবসায়ীদের কাছে ঋণ বিক্রয় করে। এই ঋণ বেচার অন্য নাম হলো মার্জিন সুবিধা। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করে বলি। এ ক্ষেত্রে শেয়ার ব্যবসায়ী পকেট থেকে এক লাখ টাকা দিলে ব্যাংকগুলো দিচ্ছে আরও দেড় লাখ টাকা। ব্যাংকগুলো কোন অনুপাতে শেয়ার কিনতে ঋণ বেচতে পারে, সেটা নির্ভর করছে রেগুলেটর এসইসির রেগুলেশন তথা নির্দেশনার ওপর। একটা সময় ছিল যখন ঋণ প্রদানের অনুপাত আরও বেশি ছিল। এরই পাশাপাশি অন্য ব্রোকার হাউসগুলোও ঋণ বেচার সুবিধা চাইল এবং রেগুলেটর সেটা মঞ্জুর করল। এত দিন জানতাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান না হলে ঋণ বেচা যায় না, এখন শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। শুনেছি ব্রোকার হাউসগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের ক্ষমতা আরও বেশি। সবকিছু মিলিয়ে এখন ঋণের মাধ্যমে যে তারল্য প্রবাহ আমাদের শেয়ারবাজারে ঘটছে, তা এক অর্থে শেয়ারের সরবরাহের তুলনায় বিশাল। ফল হয়েছে, এখন অনেক ‘জেড’ গ্রুপের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ৫০-এর ওপরে। ঋণের প্রবাহের ওপর একটু কড়াকড়ি আরোপ করলে বাজারে অতি তেজিভাব থেকে উদ্ভূত শঙ্কাটা কিছুটা হলেও স্তিমিত হতো।
তবে এখন শেয়ারবাজারে ঋণ বেচা ব্যাংকগুলোর জন্য একটা বড় ব্যবসা। যেসব ব্যাংক শেয়ারবাজার ব্যবসায় সফল, ওই সব ব্যাংকের আয় বা ‘ইপিএস’ও ভালো। বিগত দুই বছর বিনিয়োগ ও ব্যবসায় অন্যত্র খরা যাওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকই শেয়ার ব্যবসা এবং শেয়ার কেনার ঋণ প্রদানের ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ঝুঁকে পড়ে অবশ্যই তারা লাভও করেছে। যদিও অনেকেই মনে করছেন, সেই লাভ আপাতত। তাদের লাভের প্রমাণ হলো, যেসব ব্যাংক শেয়ারবাজারে ঋণ বেচায় সফল হয়েছে, ওই সব ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক ওপরে।
ঋণ বেচার সুবিধা হয় যখন ব্যাংকের নিজস্ব ব্রোকারশিপ বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ থাকে। স্বাভাবিকভাবে তাদের সঙ্গে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দিক দিয়ে অন্য ধাঁচের ব্রোকারেরা কুলিয়ে উঠতে পারবে না। একদিকে সামান্য কাগজপত্র সইয়ের বিপরীতে ঋণ সুবিধা, অন্য দিকে ভালো আদর-আপ্যায়ন, সবকিছু মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর মার্চেন্ট ব্যাংক শাখার ব্যবসা রমরমা। তবে এসব ব্যাংক বা তাদেরই সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কী হারে ঋণের মূল্য তথা সুদ আদায় করছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্য রেগুলেটর এসইসি একেবারেই অমনোযোগী। আমাকে কিছু গ্রাহক বলল, ব্যাংকগুলো শেয়ার কেনার বিপরীতে দেয় ঋণে ১৬ শতাংশ হারে সুদ চার্জ করছে। এর ওপর আছে নানাবিধ সার্ভিস চার্জ। সবকিছু মিলিয়ে এর সুদ এসে পড়ে ১৮ শতাংশ। ব্যাপারটি ঠিক কি না সেটা রেগুলেটর দেখতে পারে। তবে আমাদের অর্থনীতিতে রেগুলেটর সময় থাকতে যেমন অমনোযোগী থাকে, আবার ভাবটা দেখায় এটা দেখা তাদের কাজ নয়। তাহলে কি ঋণের চাহিদাই ঋণের মূল্য, তথা সুদ নির্ধারণ করবে? যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক কেনই বা চেঁচামেচি করছে, সুদ কমাও।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটা হুকুম জারি করেছে যে ব্যাংকগুলোকে ব্রোকিং সেবা দিতে হলে, শেয়ার কেনার ঋণের জোগানদার হতে গেলে আলাদা সাবসিডিয়ারি এবং মার্চেন্ট ব্যাংক করে নিতে হবে। হুকুম দেওয়ায় প্রায় সব ব্যাংকই ইতিমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। এটা করতে তাদের এতটুকুও অসুবিধা হয়নি। কারণ, পুঁজি তো আগে থেকেই এসব কাজ-কারবারে খাটছিল। সেই পুঁজিকে আরও বৃদ্ধি করে পুরনো পুঁজির সঙ্গে একত্র করে তারা মার্চেন্ট ব্যাংকের পেইড আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত মূলধন জোগান দিয়েছে। হুকুমমতো কিছুটা আলাদা একটা পরিচালনা পর্ষদও দাঁড় করানো তেমন কঠিন কোনো বিষয় হয়নি। তবে যে উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে লেন-দেনের ক্ষেত্রে আলাদা সাবসিডিয়ারি করতে বলেছে, সেই উদ্দেশ্যটা অর্জিত হচ্ছে কি না সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকই ভালো বলতে পারে।
আলাদাকরণের তাগিদটা এসেছে এ ক্ষেত্রে ইতিহাস থেকে। ১৯২৯ সালে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস নামে। এর তিন-চার বছরের মধ্যে ওদের পুরো অর্থনীতিই মন্দাক্রান্ত হয়। সেই মন্দার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মহামন্দা’। আজও সেই মহামন্দাকে অন্য মন্দাগুলো ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। সেই মন্দা কেন হলো এ নিয়ে গবেষক এবং বিশেষজ্ঞরা হাজার হাজার পৃষ্ঠার রচনা-প্রতিবেদন লিখেছেন। মন্দা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে ব্যাপারে নীতি-নির্ধারকদেরকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। সেই মহামন্দার আগের অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেল, মন্দার আগের দশকে ব্যাংকগুলো অতি উদারভাবে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করছিল। ঋণের অর্থে শেয়ার কিনতে গিয়ে অনেকে ঝুঁকির ব্যাপারটা একেবারেই ভুলে গিয়েছিল। শেয়ারবাজারে ধস নামার কারণে ব্যাংক ঋণের অর্থ আর পুরোটা ফেরত পায়নি। আর শেয়ারবাজারে ধসের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও ধস শুরু হয়ে গেল। তবে সে ধস প্রকৃত তথা উত্পাদনের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ল। আর সেই সঙ্গে শুরু হলো মহামন্দার শুরু। মন্দার মাঝামাঝি সময় গিয়ে আমেরিকানদের মনে হলো, তারা দুই ক্ষেত্রে ভুল করে ফেলেছে। এক. তারা শেয়ারবাজারের জন্য কোনো রেগুলেটর স্থাপন করেনি। তাই তারা ১৯৩৩ সালে শেয়ারবাজার রেগুলেটর এসইসিকে স্থাপন করল। দুই. তারা ব্যাংকগুলোকে অবাধে শেয়ারবাজারে ঋণ বেচার অনুমতি দিয়েছে। সেই ঋণপ্রবাহ শেয়ারের মূল্যকে আয়ের তুলনায় ৩৫ গুণ ওপরে নিয়ে গিয়েছিল। তাই তারাও হুকুম জারি করল, এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আর শেয়ারবাজারে ঋণ বেচতে পারবে না। ঋণ বেচতে হলে আলাদা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা তাদের অর্থনীতিতে, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা বিনিয়োগ ব্যাংক নামে পরিচিত, প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিনিয়োগ ব্যাংকের কাজগুলো আলাদা হয়ে গেল, যদিও অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একই কাজ দুই ব্যাংকই করে আসছিল।
আমাদের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট ব্যাংক স্থাপনের হুকুম জারি হয়েছে সত্যি, তবে তাদের অর্থের উত্স কী, এই ব্যাপারটা স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের প্রধান মালিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ এনে আবার কিছু মার্জিন রেখে সেই ঋণ বিক্রয় করছে ওই হাজার হাজার শেয়ার ব্যবসায়ীর কাছে। আইএমএফ ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত শেয়ারবাজারমুখিতা তাদেরকে বিপদে ফেলতে পারে। তবে ব্যাংকাররা এই ঋণ বেচার মধ্যে বিপদ দেখেন না। কারণ, তাঁরা ঋণ দিচ্ছেন এক লাখ টাকা, জামানত রাখছেন এক লাখ টাকার বা আরও বেশী মূল্যের শেয়ার। বাজার পড়তে শুরু করলে ব্যাংকার ঋণ ক্রেতার শেয়ার বেচে পাওনাকে অতি দ্রুত সমন্বয় করে নেবেন। আসলে বিপদটা ব্যাংকের জন্য নয়। বিপদটা বেশি হলো ঋণ ক্রেতার জন্য, যিনি উঠতি বাজারে অনেক লাভ করছেন ভাবেন। বিপদটা তো আসবে পড়তি বাজারে, যেমন করে ১৯২৯ সালে লাখ লাখ আমেরিকান তাদের পকেট থেকে দেয় অর্থের পুরোটাই হারিয়েছিল।
শেয়ারবাজারে ধস নামলে বা বড় রকমের সংশোধন হতে গেলে তখন সবাই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। তখন কিন্তু শেয়ার সরবরাহের অভাব হবে না। ব্যাংকগুলো অন্য যে কাজটি করছে, সেটা হলো নিজেদের বিনিয়োগ হিসেবে শেয়ার বেচাকেনা। এটাও তারা রেগুলেশন মেনে করতে পারে। তবে ব্যাংকগুলোর জন্য এ ক্ষেত্রে বিপদ আছে। ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনতে গিয়ে যদি বাজার উত্থান-পতনে ২০০ কোটি টাকা হারিয়ে যায়, তাহলে লাভ-লোকসান হিসেবে ওই হারানোকে প্রভিশনিং করে শেয়ার মালিকদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যে ব্যাংকের পুঁজি ৪০০ কোটি টাকা, সেই ব্যাংক যদি নিজের পোর্টফলিওতে শেয়ার বেচাকেনা করতে গিয়ে ২০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে দেয়, তাহলে শেয়ারপ্রতি আয় কতটা কমবে, সেটা ব্যাংকের মালিকেরাও সহজে হিসাব করে ফেলতে পারেন। আর এ ক্ষেত্রেই আইএমএফের বেশি উদ্বেগ।
বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাংকিং কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে শেয়ারবাজারে বেচাকেনা করতে গিয়ে। ঋণ বেচতে গিয়েও নিঃস্ব হয়েছে, তার নজিরও অনেক আছে। শেষ পর্যন্ত জামানত সম্পত্তির মূল্য কমে গিয়ে ব্যাংক আর তার ঋণকে তুলতে পারেনি। আমাদের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের রমরমা অবস্থাকে সাময়িক মনে হয়। অতি দ্রুত অতি উঁচুতে এই বাজার পৌঁছে গেছে। কোনো বড় রকমের সংশোধন হলে তার মাসুল দিতে হবে কিন্তু লাখ লাখ ঋণ ক্রেতাকে, যে ঋণ তাঁদেরকে বিনিয়োগকারী না বানিয়ে শেয়ার ব্যবসায়ী বানিয়েছে। তাঁরা চলে গেলে ঋণ বেচা যেমন বন্ধ হবে, তেমনি অন্যত্রও শীতলতা নেমে আসবে।
আবু আহমেদ: অর্থনীতিবিদ; অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাবি।

নারীবান্ধব উন্নয়ন: সমতাভিত্তিক সমাজের জন্য by ফাহমিদা খাতুন

প্রতিবছর নারী দিবসের স্লোগানের ভাষা ভিন্ন হলেও সবগুলোর অন্তর্নিহিত বক্তব্য একটিই—নারীর প্রতি বৈষম্য বিদ্যমান, তারা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ এবং তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ১০০ বছর ধরে সারা বিশ্বে একেকটি থিম নিয়ে নারী দিবস পালিত হলেও বিশ্বের কোথাও নারী-পুরুষ সমতা এখনো অর্জিত হয়নি। জাতিসংঘের জেন্ডার উন্নয়ন সূচক এবং জেন্ডার ক্ষমতায়ন সূচক দুটির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে নারী-পুরুষের অবস্থান দেখানো হয় এবং সূচক অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের অবস্থানও দেখানো হয়। জেন্ডার উন্নয়ন সূচকে নারী-পুরুষের মধ্যকার অসমতা প্রতিফলিত হয়। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন রিপোর্ট-২০০৯ অনুযায়ী বাংলাদেশে জেন্ডার উন্নয়ন সূচক ০.৫৩৬। আর ১৫৫টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১২৩তম। এই সূচকের অর্থ হচ্ছে, নারীরা পুরুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে জেন্ডার ক্ষমতায়ন সূচকের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করা হয় নারীরা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয়ভাবে কতটুকু অংশগ্রহণ করতে পারছে। জাতীয় সংসদে পুরুষের তুলনায় শতকরা কতজন নারীর আসন রয়েছে, কতজন নারী মন্ত্রী রয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কতভাগ নারী, বিভিন্ন পেশাগত এবং কারিগরি কাজে নারীর অংশগ্রহণের হার কত এবং তাদের আয়বৈষম্য ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মতো তথ্যগুলোর মাধ্যমে জেন্ডার ক্ষমতায়ন সূচক তৈরি করা হয়। অর্থাত্ এখানে কিছু নির্ধারিত ক্ষেত্রে সুযোগের বৈষম্য তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১০৯টি দেশের মধ্যে জেন্ডার ক্ষমতায়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮। আর বাংলাদেশের জন্য এই সূচকটি হচ্ছে ০.২৬৪ অর্থাত্ নারী-পুরুষ বৈষম্য এ ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক। সেদিক থেকে এবারের নারী দিবসের স্লোগান সম-অধিকারের মাধ্যমে সবার অগ্রগতি অনেক তাত্পর্যপূর্ণ।
সিমোঁ দ্য বোভায়া তাঁর বিখ্যাত বই দ্বিতীয় লিঙ্গতে বলেছেন, ‘নারী হয়ে কেউ জন্ম নেয় না, নারী হয়ে ওঠে’। এই হয়ে ওঠার পর যে মানবসত্তা তৈরি হয় তাকে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। ঘর আর বাহির দুই জায়গাই তার প্রতি সমভাবে তৈরি। এর প্রতিফলন ঘটে নানাভাবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্পদ, চাকরি—সব ক্ষেত্রেই নারীর পাওয়া অসম। ঘরের ভেতর একটি অসম প্রেক্ষাপটে বেড়ে উঠে যখন বাইরে আরেকটি অসম জগতে প্রবেশ করে, তখন সে আগে থেকেই প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে থাকে। তার জন্য ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ বা একই সমতলে সুযোগ না থাকার কারণে সে বরাবরই অসম অবস্থায় রয়ে যায়। সেটি কী অর্থনীতিতে, কী রাজনীতিতে—সবর্ত্রই প্রযোজ্য।
অথচ সামাজিক উন্নয়নের প্রধান অনুষঙ্গ যে মানব উন্নয়ন এবং সেই উন্নয়নের জন্য মানবজাতির অর্ধেক অংশ নারীর উন্নয়নও যে অপরিহার্য তা সবারই জানা। কেননা যে উন্নয়ন সমাজের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হয় না অর্থাত্ যা ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় তা টেকসই উন্নয়ন নয়, তার প্রবৃদ্ধির হার যত বেশিই হোক না কেন। আবার যে উন্নয়ন শুধু বস্তুগত এবং প্রাকৃতিক মূলধনের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত হয়, সেটিও আকাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নয়, কেননা মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া সেই অগ্রগতির ধারা বেশি দূর অব্যাহত রাখা যায় না।
আমাদের দেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বর্তমানে যে উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং ধারা চলছে তা অসম এবং অ-অন্তর্ভুক্তিমূলক। এখানে অসমতা দরিদ্র ও ধনীদের মধ্যে, নারী ও পুরুষের মধ্যে। আর তার পেছনে কারণ হলো, এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। নারীরা মূলত দুইভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। প্রথমত: সুযোগের অভাব অর্থাত্ বিদ্যমান অর্থনীতি নারীর জন্য কাজের এবং আয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিতে পারে না। তবে সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়াটাই যথেষ্ট নয়। সুযোগ কোনো কাজেই লাগবে না যদি না তার ব্যবহার করা যায়। তাই দ্বিতীয় প্রয়োজনটি হলো সক্ষমতার, যেটির অভাব রয়েছে নারীর। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এই দুটি বিষয়কে তাঁর ‘কমোডিটিজ অ্যান্ড কেপেবিলিটিজ’ প্রবন্ধে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, কাউকে কোনো পণ্য দিলেই তার জীবনযাত্রার মান বদলে যায় না। বদলানোটা নির্ভর করে ওই পণ্যটি ব্যবহার করার সক্ষমতা ওই ব্যক্তির রয়েছে কি না তার ওপর। আমাদের সমাজে যে সুযোগগুলো অর্থনীতিতে রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করার জন্য নারীর উপায় বা ক্ষমতা থাকে না। যেমন, শিক্ষা এবং দক্ষতার অভাবে নারীরা অনেক কাজ করতে পারে না কিংবা শুধু স্বল্প আয়ের এবং নিচু পর্যায়ের কাজগুলোতে অংশ নিতে পারে। এটি এমনকি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নিয়োগের ক্ষেত্রেও সত্য, যেখানে শতকরা ৭৫ ভাগ শ্রমিকই নারী। প্রশাসনিক, ব্যবস্থাপনা, করপোরেট খাত ইত্যাদির বেলায়ও এটি বিদ্যমান। আর এ কারণেই দেখা দেয় আয়বৈষম্য। অর্থনীতিবিদ এবং তাত্ত্বিকগণ, যেমন জন স্টুয়ার্ট মিল, অ্যাডাম স্মিথ এবং কার্ল মার্কস যুক্তি দিয়েছিলেন, মানুষের সহজাত ক্ষমতা নয়, বরং শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই উত্পাদনশীলতা বাড়ানো যায়। সমাজের আয়বৈষম্য এই তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। গ্যারি বেকার, থিওডোর শুলজ এবং অ্যাডাম স্মিথের মতো অর্থনীতিবিদেরা তাই তাঁদের বিখ্যাত ‘মানব মূলধন’ তত্ত্বের মাধ্যমে মানব মূলধনের ওপর বিনিয়োগ করতে বলেছেন। তার সুফল যদিও ব্যয়সাপেক্ষ, কিন্তু তা সুদূরপ্রসারী।
আমাদের দেশে মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ সাধারণভাবে অনেক কম। যেমন স্বাস্থ্য খাতে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে যে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে তা আমাদের মোট সরকারি ব্যয়ের শতকরা ৬.৩ ভাগ এবং শিক্ষা ও কারিগরি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট সরকারি ব্যয়ের শতকরা ১৩ ভাগ। সামগ্রিকভাবে মানব উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের অংশ মোট বাজেটের শতকরা ২৩.৫ ভাগ। এই বরাদ্দ আগের তুলনায় বেশি হলেও বলার অপেক্ষা রাখে না যে মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগামী দেশগুলোতে এই বরাদ্দের পরিমাণ আরও বেশি। তা ছাড়া এই বরাদ্দের বেশ কিছু অংশ প্রতিবছরই অব্যবহূত রয়ে যায় আমাদের ব্যয় করার ক্ষমতা এবং দক্ষতার অভাবে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের তৃতীয় আরেকটি অনুষঙ্গ হলো অর্থনৈতিক সুযোগের এবং আয়ের নিরাপত্তা। যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা মহামারি, সামাজিক ব্যাধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র জনগণই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেহেতু তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কম। তাদের মধ্যে দরিদ্র নারীদের অবস্থা আরও বেশি সঙ্গিন। এ ধরনের বিপর্যয়ের সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সহায়তা না করলে তারা হতদরিদ্রই রয়ে যাবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ মোট বাজেটের ১৫.২ শতাংশ, যা দিয়ে নারীসহ চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন কার্যক্রমের আওতায় সাহায্য করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যে কার্যক্রমগুলো নেওয়া হয়ে আসছে সেগুলো প্রশংসার দাবি রাখে। তবে সেখানে নারীদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর অবকাশ রয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোর গুণগত ও পরিমাণগত মান বাড়িয়ে অধিকসংখ্যক নারীকে এই বেষ্টনীর মধ্যে আনা এবং প্রকৃত সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদ পল স্যামুয়েলসন বলেছিলেন, ‘নারী আসলে পুরুষই, পার্থক্য হলো, তার কম অর্থ আছে’। বিছিন্নভাবে এই বক্তব্যটি অনেক নারীই উচ্চপর্যায়ের কাজের এবং উচ্চ আয়ের মাধ্যমে খণ্ডন করলেও সাধারণভাবে নারী এখনো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে। বর্তমানে নারী ও পুরুষের আয়ের অনুপাত প্রায় ০.৫১ অর্থাত্ একজন নারী একজন পুরুষের আয়ের অর্ধেক উপার্জন করতে পারছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর পদচারণা বেড়ে চলা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো এখনো নারীর কাজের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তবে বৈষম্যের মাত্রা কমানোর জন্য শুধু আয় বাড়ানোই একমাত্র নিয়ামক নয়। নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য ঘুচিয়ে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের জন্য সঠিক নীতিমালা এবং যথোপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে মানব উন্নয়নে ব্যয় বাড়ানো যেমন অপরিহার্য, তেমনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাও অত্যাবশ্যক। আর সেটি সম্ভব দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে।
ড. ফাহমিদা খাতুন: অর্থনীতিবিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এবং পরিচালক, জনতা ব্যাংক।

এসিড-সন্ত্রাস

এক দশকের বেশি সময় ধরে এ দেশে এসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন চলছে। এ বিষয়ে কঠোর আইন করা হয়েছে, দেশি-বিদেশি সহযোগিতায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসিড-সহিংসতা রোধ, এসিড নিক্ষেপের শিকার নারীদের চিকিত্সা-পুনর্বাসন ও এসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। এই সামাজিক আন্দোলনে প্রথম আলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসবের ফলে এসিড-সন্ত্রাস কিছুটা কমেছে, তবে এখনো যে মাত্রায় এ অপরাধ ঘটে চলেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন মোট দুই হাজার ৭৯৫ জন। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৩৯২ জনই নারী, আর ৬৯৬ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এসিড নিক্ষেপের যেসব কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যৌতুক না দেওয়া, পারিবারিক বিরোধ, জমি নিয়ে বিরোধ ইত্যাদি। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেও এসিড নিক্ষেপের অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। শুধু নারী নয়, পুরুষেরাও এসিড নিক্ষেপের শিকার হচ্ছে। এসিড নিক্ষেপকারীদের ৯৯ শতাংশই পুরুষ। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্র, বেকার, বখাটে ও মাদকসেবী।
২০০৮ সালের চেয়ে ২০০৯ সালে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ২৫ শতাংশ কমেছে, এর পরও ২০০৯ সালে এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ১৪৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৮৪ জন নারী, ১৯ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। দেখা যাচ্ছে, যৌতুক, প্রেম-বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে যেখানে এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন মোট ৩৩ জন, সেখানে ৬২ জন এ অপরাধের শিকার হয়েছেন জমি ও টাকাপয়সা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে। এসিড-সন্ত্রাসের এটি আরেক লক্ষণীয় দিক। যেসব বিরোধে লাঠালাঠি-মারামারি সাধারণভাবে প্রচলিত, সেখানে এসিডের ব্যবহার অবশ্যই বাড়তি উদ্বেগের কারণ। প্রতিহিংসা-শত্রুতা চরিতার্থ করার অস্ত্র হিসেবে এসিড ব্যবহারের এই প্রবণতা এখনই অত্যন্ত কঠোর হাতে দমনের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়েও বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে।
নারী-শিশু নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড—এই কঠোর আইনের ফলে তাদের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা যদি কিছু কমে থাকে, তবে তা নিশ্চয়ই ভালো কথা। কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। এই ভয়াবহ অপরাধের শিকার যাঁরা হন, তাঁদের জীবনে এমন স্থায়ী বিভীষিকা নেমে আসে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। সরকারের তরফ থেকে এসিডের বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর নিয়মিত কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা বিশেষভাবে জরুরি। সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত চেষ্টায় এসিড-সন্ত্রাস বন্ধ করা সম্ভব।

পাকিস্তানে গুলিতে রাজনীতিবিদ নিহত

পাকিস্তানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা বিরোধী দলের একজন রাজনীতিবিদকে গুলি করে হত্যা করেছে। গুলিতে ওই রাজনীতিবিদের একজন দেহরক্ষীও নিহত হন।
পাকিস্তান মুসলিম লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতা সরদার আজিজ উমরানি খুযদার শহরে তাঁর নিজ গাড়িতে করে যাওয়ার সময় দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে তাঁকে গুলিবর্ষণ করে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলিতে চারজন দেহরক্ষীর মধ্যে তিনজন আহত এবং একজন হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যান। পুলিশ কর্মকর্তা রেহমাত উল্লাহ এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, এ হত্যার পেছনে উপজাতীয় কলহের কারণ থাকতে পারে।

ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত চিলিতে জাতিসংঘের মহাসচিব

লাতিন আমেরিকার দেশ চিলিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪৫২ জনে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার দেশটিতে আবারও তিন দফায় ভূমিকম্প হয়েছে। একই দিনে চিলি সফর করেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
এদিকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির ব্যর্থতার কারণে মহাসমুদ্রবিদ্যা সার্ভিসের প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এএফপি।
দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিকো রোসেন্দে বলেন, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪৫২ জন। এর আগে এ সংখ্যা ৮০৩ বলে জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা লাশের সংখ্যাই তুলে ধরা হয়েছে। বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য নিহত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার আবারও তিন দফা ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চিলির জনগণ। স্থানীয় সময় সকাল ছয়টা ২০ মিনিটে প্রথম ভূকম্পন অনভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৬ দশমিক ২। এর কিছুক্ষণ পর ৬ দশমিক ৮ ও ৬ দশমিক ৬ মাত্রার পৃথক ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এসব ভূমিকম্পে চিলির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কনসিপসিওনের কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় জরুরি বিভাগ জানায়, দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত শুক্রবার চিলি সফর করেন। তিনি জাতিসংঘের জরুরি তহবিল থেকে দেশটির পুনর্গঠনে এক কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা দেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ত্রাণ-সহায়তা হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বান কি মুন চিলির জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানান, এত বড় দুর্যোগের মধ্যেও চিলির জনগণের সাহস ও ধৈর্য দেখে তিনি অভিভূত।
চিলির প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরার সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। পরে তিনি দেশটির অন্যান্য মন্ত্রী ও দেশটিতে ত্রাণকাজে নিয়োজিত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতায় ‘অস্পষ্ট বার্তার’ কারণে মহাসমুদ্রবিদ্যা সার্ভিসের প্রধান মারিয়ানো রোজাসকে গত শুক্রবার বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা সুনামি সতর্কতা জারিতে ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ব্যর্থতা কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নৌবাহিনী।

ফিজির প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনার দায়ে আটজনের কারাদণ্ড

ফিজির প্রধানমন্ত্রী কমোডর ফ্রাংক বাইনিমারামাকে হত্যার পরিকল্পনার দায়ে আট ব্যক্তিকে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ফিজির একটি আদালত এ রায় দেন। খবর বিবিসি ও এপির।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে ফিজির সাবেক সিনেটর ও আদিবাসী নেতা রাতু ইনোক তাকিভেইকাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক প্যাসিফিক কানেক্সটের সাবেক ব্যবস্থাপক সিভানিওলো নাওলাগোকে। দেশটির গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক মেতুইসেলা মুয়াকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড। এ ছাড়া ভেঙে দেওয়া কাউন্টার রেভল্যুশনারি ওয়ারফেয়ার ইউনিটের পাঁচ সদস্যকে তিন থেকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, আদালতে নিরপেক্ষভাবে শুনানি হয়নি।
ফিজির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমোডর বাইনিমারামা ২০০৬ সালে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। এরপর ২০০৭ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা জানান। এরপর তিনি সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন—এ কথা বলে ২০১৪ সালের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া হবে বলে জানান। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কমোডর বাইনিমারামা, জ্যেষ্ঠ চার সেনা কর্মকর্তা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করেছেন—এ অভিযোগে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্ল্যাকওয়াটারের অসদাচরণের অভিযোগ পর্যালোচনার অঙ্গীকার করলেন গেটস

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস আফগানিস্তানে মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অসদাচরণের অভিযোগ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। গত শুক্রবার পেন্টাগন এ কথা জানিয়েছে।
সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা কার্ল লেভিনের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার পর রবার্ট গেটস এই অঙ্গীকার করেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রবার্ট গেটসকে লেভিন একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি ওই মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অসদাচরণ সম্পর্কে অভিযোগ করে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের একটি সম্ভাব্য চুক্তি করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বেসরকারি মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটি আগে পরিচিত ছিল ‘ব্ল্যাকওয়াটার’ নামে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম এক্সই।
২৫ ফেব্রুয়ারি লেখা ওই চিঠিটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে কার্ল লেভিন লেখেন, ‘মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আফগানিস্তানের পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি কাজের জন্য এক্সইর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অথচ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইরাকে ব্যাপক অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।’
লেভিনের কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য ব্ল্যাকওয়াটার অন্য কোনো বিখ্যাত কোম্পানির নাম ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া তারা অন্য প্রতারণার আশ্রয়ও নিতে পারে। লেভিন তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘ব্ল্যাকওয়াটারের আচরণ গোলাগুলির মতো ঘটনার জন্ম দিতে পারে, যা আফগানিস্তানে আমাদের মিশনকে দুর্বল করে দিতে পারে।’
কোম্পানিটি বিচার বিভাগকে ভুল তথ্য দিয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডারের কাছেও একটি চিঠি লিখেছেন লেভিন।

ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে আজ রোববার সাধারণ নির্বাচন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটা হলো ইরাকের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। আগামী আগস্টে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ার মাত্র কয়েক মাস আগে এ নির্বাচন নিয়ে ইরাকের ভেতরে ও বাইরে চরম উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। ইরাকের শিয়া ও সুন্নি নেতারা তাঁদের নিজ নিজ অনুসারীদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ইরাকিদের ভোটদান থেকে বিরত থাকার জন্য হুমকি দিয়েছে। সংগঠনটি আজকের নির্বাচনে যে ভোট দেবে, তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে আজ ইরাকজুড়ে কারফিউ জারি করেছে আল-কায়েদা।
দেশের বাইরে অবস্থান নেওয়া ইরাকিরা গত শুক্রবার থেকেই ভোট দেওয়া শুরু করেছেন। ১৬টি দেশের ৮০টি শহরের অবস্থানকারী ১৪ লাখ ইরাকি ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ছয় হাজার ২০০ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলের মাধ্যমে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। জঙ্গি হামলার ভয়ে তাঁরা কোনো জনসমাবেশ বা পথসভায় অংশ নেননি।
প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান এ নেতা বলেছেন, ‘তিনি নির্বাচনের জয়ের ব্যাপারে ‘‘নিশ্চিত’’।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির সঙ্গে নুরি মালিকির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম বিভাজনের কারণে কোনো দলের পক্ষে আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব নয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৩টি আসন পেতে কোনো দল সমর্থ না হলে সে ক্ষেত্রে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তাঁদের অনুসারীদের ভোট দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। বাকুবার আল-হাই মসজিদের সুন্নি ইমাম শেখ আবদুল রহমান আল-জোরানি বলেন, ‘আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এটা আমাদের দায়িত্ব।’ গত বুধবার বাকুবায় তিনটি আত্মঘাতী হামলায় ৩৩ ব্যক্তি মারা যায়। আল-জোরানি বলেন, ‘যদি আপনারা ভোট দিতে নাই চান, তাহলে অন্তত ভোটকেন্দ্রে যান। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারটি নষ্ট করে দিন, যাতে করে অন্য কেউ ভোট কারচুপির সুযোগ না পায়।’
ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি হুসেইনি আল-সিস্তানির প্রতিনিধি আহমেদ আল-সাফি বলেন, ‘ইরাকিরা নিজেরাই যে তাদের ভাগ্য গড়তে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আজকের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ পবিত্র নগরী কারবালায় একটি মসজিদে বসে আল-সাফি বলেন, ‘আপনারা যদি ভোট না দেন অথবা কোনো কারণে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হয়, তাহলে এ সুযোগে একটি গোষ্ঠী তাদের অবৈধ স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পাবে।’
আল-কায়েদার ইরাকি সংগঠন দি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই) বলেছে, আজ যারা কারফিউ লঙ্ঘন করবে, তারা ‘আল্লাহর রোষের শিকার হবে এবং মুজাহিদদের সব ধরনের অস্ত্রের মুখে পড়বে।’ শুক্রবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনের দিন ইরাকজুড়ে বিশেষ করে সুন্নি-অধ্যুষিত এলাকায় সকাল ছয়টা থেকে বিকেল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ বলবত্ থাকবে। আমাদের জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আপনারা যাঁরা এ খবর জানবেন, তাঁরা এটা সবাইকে জানিয়ে দিন।’
আইএসআই নেতা আবু ওমর আল-বাগদাদি গত মাসে ‘সহিংসতার মাধ্যমে’ নির্বাচন বানচালের হুমকি দিয়েছিলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের পরিকল্পনা বেআইনি

রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেছেন, তাঁর দেশে গৃহযুদ্ধের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের যে পরিকল্পনা করেছেন, তা বেআইনি। প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনে জাতিসংঘ মহাসচিব যে পরিকল্পনা করেছেন, তা বেআইনি। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশে বড় ধরনের সশস্ত্র লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এসব সশস্ত্র লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক লোকের প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয় ঘটা সত্ত্বেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজাপক্ষে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ৮ এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের শামিল বলে বিবেচিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন রেনে প্রেভাল

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতির প্রেসিডেন্ট রেনে প্রেভাল আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। আগামী বুধবার তাঁদের বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানায়।
মূলত জাতিসংঘের উদ্যোগে হাইতির পুনর্বাসনের জন্য দাতা সংস্থাগুলোর ৩১ মার্চের বৈঠকের বিষয়ে কথা বলার জন্যই প্রেভালের এ সফর। চলতি বছরে ১২ জানুয়ারি এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হাইতিতে আঘাত হানে। এতে প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বাড়িছাড়া হয় প্রায় ১৩ লাখ মানুষ।

ইরান আরও একটি রকেট উেক্ষপণ মঞ্চ নির্মাণ করছে

ইরান আরও একটি রকেট উেক্ষপণ মঞ্চ নির্মাণ করছে। সে দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমান রকেট উেক্ষপণ এলাকার অদূরে গড়ে তোলা হচ্ছে ওই মঞ্চ। আর এ মঞ্চ নির্মাণে উত্তর কোরিয়া সহযোগিতা দিচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা গোষ্ঠী গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
উপগ্রহে ধারণ করা চিত্র বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা গোষ্ঠী ‘আইএইচএস জ্যান’ জানিয়েছে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় সেমন্যান শহরের কাছে ওই রকেট উেক্ষপণ মঞ্চটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপগ্রহে গত ছয় ফেব্রুয়ারি ধারণ করা চিত্রের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নতুন ওই মঞ্চের অবস্থান সেমন্যানে শহরের বর্তমান রকেট উেক্ষপণ মঞ্চ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। নতুন মঞ্চটি ১৩ মিটার চওড়া ও ১৮ থেকে ২০ মিটার দীর্ঘ। গোয়েন্দা গোষ্ঠীটি আরও জানিয়েছে, মঞ্চটির নির্মাণকাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। আর মাত্র ১০ মিটার বর্ধিত করা হলে সেখান থেকে ২৭ মিটার দীর্ঘ সিমরঘ রকেট উেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

ভারতে পার্লামেন্টে নারীর অংশগ্রহণ জোরদার করার অঙ্গীকার

পার্লামেন্টে নারীদের অংশগ্রহণ জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে নারীদের জন্য পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণসংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদনের অঙ্গীকার করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে এ প্রতিশ্রুতি দেন।
নারীদের নেতৃত্ববিষয়ক একটি সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ব্যাপারে আমাদের সরকার অঙ্গীকারাবব্ধ। লোকসভা ও বিধানসভায় নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আমরা অগ্রগতি অর্জন করছি।’
কাল সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এদিন ভারতীয় পার্লামেন্টে বহুল আলোচিত সে দেশের নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংক্রান্ত উইমেন’স রিজার্ভেশন বিল উত্থাপন করা হবে।
পার্লামেন্টে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যাপারে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে এটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
বিলটি পাস হলে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ৫৪৫ আসনের মধ্যে মাত্র ৫৯ জন নারী সদস্য রয়েছেন। আর ২৫০ আসনের উচ্চকক্ষে রয়েছেন মাত্র ২১ জন।
এই বিলের বিরোধিতাকারীদের দাবি হচ্ছে, পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু ও তথাকথিত দলিত শ্রেণীর (সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত) নারীদের জন্য আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকার এবার বিরোধীদের সব বাধা টপকে বিলটি পার্লামেন্টে পাস করাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

২০৫০ সালের মধ্যে সরকারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় মাওবাদীরা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই বলেছেন, সশস্ত্র মাওবাদীরা ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্খাত করে সরকার পরিচালনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছে। মাওবাদীদের অভিযানে সহায়তা করছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও। গড়ে তুলছে সেনাবাহিনীর ধাঁচে আলাদা বাহিনী। গত শুক্রবার দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ ও অ্যানালিসিস আয়োজিত ‘ভারতে বাম চরমপন্থীদের অবস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পিল্লাই এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই মাওবাদীদের সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে বলেন, মাওবাদীরা সামরিক বাহিনীর ধাঁচে একটি আলাদা বাহিনী গড়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে তারা গরিব এবং উন্নয়নহীন ও প্রশাসনিক দুর্বলতাযুক্ত এলাকাকে বেছে নিয়েছে। কাছে টানছে সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের। লক্ষ্য এসব সামরিক ও আধাসামরিক সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ব্যবহার, দুর্বল পুলিশ চৌকি ও পুলিশ শিবিরে সমান্তরাল গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে নিখুঁতভাবে সফল আক্রমণ চালানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝড়ের গতিতে আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নির্বিঘ্নে চম্পট দেওয়ার বিদ্যা শিখে নেওয়া।
পিল্লাই বলেন, হামলা চালানোর আগে ব্যাপক পরিকল্পনা করে মাওবাদীরা। তাদের কাজ অনেকটাই দক্ষ প্রশিক্ষণ নেওয়া সেনা কর্মকর্তার মতো। যেমন: হামলার স্থান নিয়ে জরিপ, নোট তৈরি করা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়াশোনা করা। প্রতিটি হামলার পর ময়নাতদন্ত ও বিশ্লেষণ করে তারা। এ বিশ্লেষণ যেকোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মতোই ভালো।
স্বরাষ্ট্রসচিব মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের আলোকে বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই-মাওবাদী) পলিটব্যুরো স্থির করেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সশস্ত্র অভ্যুত্থান বা প্রত্যক্ষ যুদ্ধের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে। তিনি বলেন, ভারতে ১৯৭১ সালে নকশাল আন্দোলনের পর মাওবাদীদের হামলায় গত বছর সবচেয়ে বেশি ৯০৮ জন নিহত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০১০ বা ২০১১ সালেও একই রকম সহিংসতা হতে পারে।
জি কে পিল্লাই বলেন, ভারতজুড়ে নকশালবিরোধী অভিযান চালানো হলেও বিদ্রোহীদের তাত্পর্যপূর্ণ ক্ষতি হয়নি। মাওবাদীদের কাছে হারানো এলাকাগুলোর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকারের সাত থেকে আট বছর সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যত মাওবাদী মারা গেছে বা গ্রেপ্তার হয়েছে, তা মাওবাদীদের আসল শক্তির ৫ শতাংশও নয়। কারণ, মাওবাদীদের গড়া আসল বাহিনী এখনো তারা মাঠে নামায়নি। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে গোপনে বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য।
স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, মাওবাদীদের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব কৌশলগত। এর আড়ালে মাওবাদীরা নিজেদের সংগঠনের শক্তি বাড়িয়ে নতুন করে সংঘবদ্ধ হতে চাইছে। ঠিক যেমনটা একসময় করেছিল উলফা। তারা যদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, প্রথমেই তাদের সহিংসতা ত্যাগ করতে হবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মাওবাদী ও সরকারের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার নয় দিনের মধ্যে মাওবাদীরা ২২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে বিহারে সাতটি, ঝাড়খন্ডে ছয়টি, ছত্তিশগড়ে চারটি, পশ্চিমবঙ্গে তিনটি এবং কর্ণাটক ও উড়িষ্যায় একটি করে সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন বেসামরিক নাগরিক ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে।
ইতিমধ্যে মাওবাদীরা বলেছে, আলোচনার আগে উভয় পক্ষের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ রাখা দরকার। সিপিআইর (মাওবাদী) মুখপাত্র আজাদ এক বিবৃতিতে বলেন, শাসকগোষ্ঠী যদি মনে করে দুর্বল হওয়ায় মাওবাদীরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করছে, তবে তারা বড় ভুল করবে। এর কারণ, সিপিআই (মাওবাদী) ব্যক্তিরা শোষিত মানুষদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। যুদ্ধবিরতি হলে তা দশকব্যাপী রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র আদিবাসীদের কিছুটা সাহায্য করবে।
গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের কর্মীরা শুক্রবার বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ও নকশালপন্থীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি এগোচ্ছে না। তাঁদের দাবি, সরকারকে সামরিক ও অপারেশন গ্রিনহার্ট অভিযান বন্ধ করতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে সিপিআইর (মাওবাদী) সঙ্গে আলোচনার।
এদিকে দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লেখক ও মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায় বলেছেন, সেনাবাহিনী দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা নতুন নয়। সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের আন্দোলন চিরতরে নির্মূল করার নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু প্রতিবারই আন্দোলন আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত হয়েছে। কারণ এটা জনগণের ওপর হামলা চালানোর ব্যাপার নয়, মতাদর্শগত ব্যাপার। মাওবাদীদের পরাস্ত করার নামে আদিবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে এই মতাদর্শ উপড়ে ফেলা যাবে না।
মূলধারার সাময়িক পত্রিকার সম্পাদক সুমিত চক্রবর্তী বলেন, মাওবাদীদের যখন সহিংসতা ত্যাগ করার কথা বলা হচ্ছে, কেন্দ্রেরও তখন একই কাজ করা উচিত এবং আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

আরএকে সিরামিকসের আইপিও আগামী মাসে

সিরামিকস খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি আরএকে সিরামিকস আগামী মাসের মাঝামাঝি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতির প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে এই কোম্পানিটি।
শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের জন্য বুকবিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী নিলামের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা দরে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ৬৯ লাখ ২০ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হবে।
কিন্তু গত বুধবার শেষ হওয়া নিলামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এর ১৫ গুণ বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব জমা পড়ে, যার আর্থিক মূল্য ৫০৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
রাজধানীর একটি হোটেলে গত বুধবার আরএকে সিরামিকস আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি রকিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ।
এতে বক্তব্য দেন আরএকে সিরামিকসের প্রধান ইস্যু ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, সহ-ইস্যু ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক-ইপিএলের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ইস্যু নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন সান্নামাত ও আরএকে সিরামিকসের ফিন্যান্স কন্ট্রোলার সঙ্গম লাল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এপ্রিলের ১১ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর আবেদন ও টাকা জমা নেওয়া শুরু হবে। আর মে মাসের শেষ ভাগে এটির লেনদেন শুরু হবে।

বারোমাসি ফলনের আকালে বাজারে লেবু এখন তেতো

ছোট এক হালি এলাচি লেবুর খুচরা দাম কমপক্ষে ১২ টাকা। সিলেটি কাগজি লেবুরও এমনই দাম। সাভার থেকে আসা গোল গোল আর কম দামি কলম্বো জাতের লেবুর হালিও ১২ টাকার কম নয়। ঢাকার যেকোনো বাজারেই লেবুর দামের চিত্রটা মোটামুটি এ রকমই ছিল গতকাল।
বিকেলে কারওয়ান বাজারের এক আড়তের কাছে দুই ঝুড়ি বড় এলাচি লেবু দেখা গেল। পাইকারি দামই প্রতি পোণ (৮০টি) ৬০০ টাকা। হালি পড়ে ৩০ টাকা। বিয়েবাড়ি বা কোনো মেহমানদারির দায় না পড়লে কোনো ক্রেতাই সম্ভবত কিনতে যাবেন না এমন দামের লেবু।
এটি লেবুর ভরা মৌসুম নয়। তবে এমন আকাল পড়ার কথাও নয় এ সময়। তার পরও লেবুর আকাল পড়েছে। কারণ সব জাতের লেবুগাছে যথারীতি বারোমাসি যে ফলনটি হওয়ার কথা শীত আর গ্রীষ্মের শুরুতে তা মার খেয়েছে এবার।
শ্রীমঙ্গলের বড় লেবুচাষি আবদুল মালেক জানান, গতবার এ সময় যত লেবু বিক্রি করেছেন তিনি, এবার তার পাঁচ ভাগের এক ভাগও হবে না। প্রায় ৭০০ বিঘা টিলা ও জমি আছে আবদুল মালেকের। টিলার উঁচুতে কাঁঠাল ও আনারসের বাগান আর ঢালু ও সমতলে লেবুর বাগান।
সেচ দিয়েছেন, তার পরও তেমন লেবু হয়নি এবার। লেবুচাষি আর ব্যাপারীরা জানান, কার্তিক মাস বা তার পর হঠাত্ হওয়া শীতের বৃষ্টি লেবুগাছকে তাজা করে ফুলবতী করে। এবার সে বৃষ্টি হয়নি। ফুল যাও এসেছিল, তার অনেকটাই ঝরে গেছে শীতে ঘন কুয়াশার কারণে।
ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছ ঝেড়ে নামানো লেবুকে সিলেটের চাষিরা বলেন ঝাড়া লেবু। সেই ঝাড়া জাতের লেবুও এবার নেই বললেই চলে।
আবদুল মালেক আরও জানালেন, লেবুর এতই আকাল যে, প্রতি হাজার বড় কাগজি ও এলাচি জাতের লেবু এবার তিনি পাঁচ হাজার টাকায়ও বিক্রি করছেন পাইকারদের কাছে। গতবার এ দরটি ছিল দুই হাজার টাকার নিচে।
জানা গেছে, সারা দেশে যত লেবু বিক্রি হয় তার অর্ধেকই আসে সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবুর জোগান আসে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম, সাভার ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে।
শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার দেশের সবচেয়ে বড় লেবুর আড়ত হিসেবে পরিচিত। সেখানকার ব্যাপারী মনসুর মিয়া জানালেন, ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক লেবু যায় সারা দেশে। আর গরমের শুরুর দিকে কম করে হলেও প্রতিদিন ১০ ট্রাক লেবু যায় নতুন বাজার থেকে। এবার দুই-তিন ট্রাকের বেশি লেবু পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৈশাখের মাঝামাঝি পার হলে আর বৃষ্টি শুরু হলে নতুন ফুল আসবে লেবুগাছে। আষাঢ়ের শেষে সে ফলন তোলা শুরু হবে আর তখনই লেবুর ভর মৌসুম। চাষি আর ব্যাপারীরা বলছেন আষাঢ়ের আগ পর্যন্ত লেবুর বাজারটি এমনই চড়া থাকবে এবার।
কারওয়ান বাজারের একজন আড়তদার জানালেন, ভারত থেকে আসা লেবু দিয়ে বাজারের চাহিদার খানিকটা মিটছে এখন। লেবু উত্পাদনের জন্য বিশ্বের এক নম্বর দেশ ভারত। ব্রাজিল, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও লেবু হয় প্রচুর। তবে সেগুলো বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাওয়ার কথাও নয়।
প্রতিবেশী হওয়ার কল্যাণে অনেক কাঁচা পণ্যের মতো চোরাপথে আসা ভারতীয় লেবুও বাংলাদেশে বাজার খুঁজে নেয়। এটি এক অর্থনৈতিক বা বাজার-বাস্তবতা। ভারত থেকে কাগজি ও গোল এলাচি জাতের লেবু আসে বাংলাদেশের বাজারে। ভারতেও যে লেবু এবার খুব ভালো হয়েছে তাও নয়। তবে ভারতের লেবু উত্পাদন এতই বিশাল যে, সেখানকার গাছঝাড়া লেবুর একটি অংশও বাংলাদেশের বাজারের জন্য অনেক। বাংলাদেশের বাজার থেকে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে এখন তা তো আরও বেশি লোভনীয়।

ডলারের বিপরীতে ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের দরপতন

দেশে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় জুড়েই পর্যাপ্ত জোগান থাকায় ডলারের দর অপরিবর্তিত থাকলেও শেষ দিকে চাহিদা বাড়ায় ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ফলে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে ৬৯ টাকা ২৭ পয়সায় উন্নীত হয়; যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৬৯ টাকা ২৩ পয়সা।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় গত সপ্তাহে (২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ) দেশটির মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের বিনিময় হার গত ১০ মাসের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন এবং জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে গত রোববার প্রকাশিত জনমত জরিপে কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে—এমন খবরে তাদের মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর পড়ে পায়। এ সময় প্রতি পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর ১ দশমিক ৪৭৮০ ডলারে ও ১৩৪ দশমিক ৫০ ইয়েনে নেমে যায়।
অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উত্পাদন খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সপ্তাহের শুরুতেই তাদের মুদ্রা ডলার ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে তেজি হয়ে ওঠে। এ সময় প্রতি ইউরোর বিনিময় হার ১ দশমিক ৩৫২২ ডলারে নামে এবং প্রতি ডলার ৮৯ দশমিক ১২ ইয়েনে উঠে যায়।
গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনরায় উদ্বেগ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ডলারের বিপরীতে ইউরো শক্তি হারিয়ে প্রায় সাড়ে নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এ সময় প্রতি ইউরো বিনিময় হয় ১ দশমিক ৩৪৩২ ডলারে। তবে বুধবার গ্রিস সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হলে ইউরো বেশ খানিকটা শক্তি ফিরে পায় এবং ১ দশমিক ৩৭৩৬ ডলারে উঠে আসে।
এদিকে এশিয়ার বড় পুঁজিবাজারগুলোতে শেয়ারের দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের ব্যাপারে সতর্ক হয়ে ওঠেন। এতে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর পড়ে যায়। এ সময় ডলার শক্তি হারিয়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮৮ দশমিক ৩০ ইয়েনে নেমে আসে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক তথ্যে ডলার ফের ঘুরে দাঁড়ায়। এ সময় প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৫৩৮ ডলারে নেমে আসে এবং প্রতি ডলার ৯০ দশমিক ৫৮ ইয়েনে উঠে যায়।

আর লাইসেন্স নয়, কলসেন্টার পল্লি গড়বে সরকার

নতুন করে কলসেন্টারের লাইসেন্স না দিয়ে কলসেন্টার ভিলেজ বা পল্লি গড়ার কথা ভাবছে সরকার।
মাত্র পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে কলসেন্টারের লাইসেন্স দেওয়া হলেও শুধু দক্ষ জনবলের অভাবে এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ। এ কারণেই সরকার ও কমিশন বিকল্প হিসেবে কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন শ কলসেন্টারের লাইসেন্স দিলেও বর্তমানে মাত্র ৫৮টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে কলসেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে বিটিআরসি। এ কারণে বাতিল বা ফেরত এসেছে শ দুয়েক লাইসেন্স।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং ভবিষ্যতের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে কলসেন্টারকে বিকশিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেবে সরকার।
প্রসঙ্গত, কলসেন্টার মূলত ‘আউটসোর্সিং’ ব্যবসার একটি অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের সহযোগিতা, টেলিমার্কেটিং এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা, অফার ও তথ্য জানানোই কলসেন্টারের কাজ। একে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) বলা হয়। ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ছিল ৩৮ হাজার ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালেই তা বেড়ে ৬৪ হাজার ১২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। বিপিওর মধ্যে নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (কেপিও), লিগাল প্রসেস আউটসোর্সিং (এলপিও), রিসার্স প্রসেস আউটসোর্সিং (আরপিও) ও এডুকেশন প্রসেস আউটসোর্সিং (ইপিও) শীর্ষে রয়েছে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাময় এ খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বাড়ানো সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তথ্যপ্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান বনানী ও মহাখালীতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন। কারণ, কলসেন্টার ভিলেজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ এবং অন্যান্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই থাকতে হবে।
বিটিআরসি আগামী ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০১০-১৫) মোট পাঁচটি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি তাদের নিজস্ব ভবনকেন্দ্রিক। তৃতীয় প্রস্তাবে রয়েছে বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চতুর্থ প্রস্তাবে রয়েছে মনিটরিং। আর পঞ্চম প্রস্তাব হিসেবে রাখা হয়েছে কলসেন্টার ভিলেজ।
কলসেন্টারের মূল পুঁজি ইংরেজিতে দক্ষতা। ইংরেজিতে দক্ষতা তৈরি করলে আমেরিকা-ইউরোপের চেয়ে ১০ শতাংশ সস্তায় দেশে জনবল পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। তিনি বলেন, কলসেন্টার-শিল্প বিকাশে সরকার ও কমিশন সব ধরনের সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে কলসেন্টার প্রশিক্ষণের বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় কলসেন্টার প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান ‘হিরো মাইন্ড মাইন’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে বলে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সমিতির মহাসচিব হামাদুন আই তুরে বলেছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ কলসেন্টারের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার, ব্যবসা কৌশলের উন্নয়ন এবং হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারের ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপুর্ণ। তিনি জানান, বিশ্বের কলসেন্টার ব্যবসায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সব কলসেন্টারকে এক জায়গায়, এক ছাতার নিচে আনতে পারলে তাদের বিশেষ সুযোগ- সুবিধা দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৫/৪

প্রথম ওয়ানডেতে ২৫৪ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। গায়ানার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ব্যাট হাতে খুব একটা ভালো করতে পারেনি তারা। টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে ২০৬ রানে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান করেছে। ক্রিস গেইল ব্যাট করছিলেন ৫৮ রানে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে এলটন চিগুম্বুরা ৫০, ব্রেন্ডন টেলর ৪৭ ও টাইবু ৩১ রান করে আউট হয়েছেন। কেমার রোচ ৩৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট, ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিকিতা মিলারের।

জাতীয় স্কুল হকি

এক্সট্যাসি জাতীয় স্কুল হকির চূড়ান্ত পর্বের প্রথম দিনে কাল দুটি ম্যাচ হয়েছে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে। ২০০৩ সালের সর্বশেষ স্কুল হকিতে চ্যাম্পিয়ন ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল ৯-০ গোলে সিলেটের দি এইডেড স্কুলকে এবং যশোর পৌরসভা হাইস্কুল ৫-১ গোলে হারিয়েছে হবিগঞ্জ হাইস্কুলকে। আরমানিটোলার রাকিব তিন গোল, যশোর পৌরসভা স্কুলের বাপ্পি দুই গোল করেছে।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা ১২টি দলকে চার গ্রুপে ভাগ করে চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আবাসন সমস্যা থাকায় সবগুলো গ্রুপের খেলা একসঙ্গে হচ্ছে না। প্রথমে হচ্ছে দুটি গ্রুপের খেলা। তারপর বাকি দুই গ্রুপ।

ফোরামের স্লোগান ‘পরিবর্তন’ ‘ধারাবাহিকতা’ পরিষদের

তাজরীন ও স্মার্ট ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চাপ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সেই সঙ্গে রয়েছে আমেরিকার জিএসপি-সুবিধা স্থগিত হওয়া নিয়ে টানাপোড়েন, ইউরোপের আর্থিক মন্দা আর নতুন বাজার খোঁজাসহ নানা চ্যালেঞ্জ।
এত সব চ্যালেঞ্জের মাঝে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। ২০১৩-১৪ মেয়াদে বিজিএমইএর নির্বাচন হবে আগামী রোববার। বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সমিতিকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর দুটি প্যানেল—ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ।
বিজিএমইএতে বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা সম্মিলিত পরিষদের এবারের দলনেতা হচ্ছেন আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে ফোরামের দলনেতা হচ্ছেন মাহমুদ হাসান খান। দুজনই বিজিএমইএতে এর আগে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচনে যে প্যানেলই জয়ী হোক না কেন, দেশের পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে নানা চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে হবে নতুন নেতৃত্বকে।
এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতা’ আর ফোরাম প্যানেল ‘পরিবর্তন’—স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছে। উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাই ভোট প্রত্যাশায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকায় এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা।
রোববার ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন।
নির্বাচনে ২৭ পরিচালক পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের ২০ পদের বিপরীতে ৪০ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৭ পদের বিপরীতে ১৪ জন। এবার ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ১৯৬ জন। এর মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৫৯২ ও চট্টগ্রামে ৬০৪ জন। নির্বাচনের পর ২১ মার্চ একজন সভাপতি ও চারজন সহসভাপতি নির্বাচন করবেন পরিচালকেরা।
আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে সম্মিলিত পরিষদ। একই সঙ্গে সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ব্যবসাকে মসৃণ ও সাপ্লাই চেইনকে ধরে রাখতে আমরা কাজ করব।’
আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা মধ্যম সারির কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্ট (মানসম্মত কর্মপরিবেশ) হিসেবে গড়ে তুলব।’ এ ছাড়া সম্মিলিত পরিষদ নির্বাচিত হলে কারখানায় উচ্চ প্রযুক্তি আনা, শ্রমিকদের ডিজিটাল ডেটাবেইস, অল্প সুদে অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র, অগ্নিনিরাপত্তায় জোরদার ব্যবস্থা, পোশাকপল্লির দ্রুত বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কাজ করবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে ঢাকার ভেতর যেসব কারখানা হয়েছিল, এখন তা কোটি টাকা দিয়েও কমপ্লায়েন্ট করা যাবে না।
মাহমুদ হাসান আরও বলেন, ‘এ জন্য আমরা ঢাকাকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাইরে অন্তত চারটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক এলাকা (ইকোনমিক জোন) করব। প্রতিটিতে ১০০ থেকে ১৫০টি কারখানা থাকবে। সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। চট্টগ্রামেও একই ধরনের বিশেষায়িত এলাকা করা হবে।’ এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হলে ফোরাম শ্রমিকদের ডোটাবেইস তৈরি, ব্যাংকঋণের সুদ কমানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করবে বলে জানান তিনি।

আইসিএমএবির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) নতুন সভাপতি ও সচিব নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে এ কে এম দেলোয়ার হোসেন ও আরিফ খান।
সম্প্রতি আইসিএমএবির কাউন্সিল সভায় তাঁরা ২০১৩ সালের জন্য নির্বাচিত হন। এতে মোহাম্মদ সেলিম ও মো. জসিম উদ্দিন আকন্দ সহসভাপতি এবং নাজমুল হায়দার কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।
দেলোয়ার হোসেন ২০০৪ সালেও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার অর্থ পরিচালক।
মোহাম্মদ সেলিম ২০১১-১২ সালেও প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির অর্থ মহাব্যবস্থাপক। মো. জসিম উদ্দিন আকন্দ ২০০৯-১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার।
আরিফ খান ২০১১-১২ সালে প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন ও এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার।
নাজমুল হায়দার ইতিপূর্বে আইসিএমবির ঢাকা শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে পারফেটি ভেন মেল বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের প্রধান।

কোনো আফসোস নেই লির

ব্রেট লিকে আর সাদা পোশাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে না। এ খবরে একটু হতাশা অবশ্যই আছে, চমক বা বিস্ময় নেই। এ ঘোষণাটা তাঁকেই দিতে হতো।
নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই অস্ট্রেলিয়ান গতি-তারকাকে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট বা সংক্ষিপ্ত ক্রিকেটের একটা বেছে নিতে হতো। শরীরে কুলোচ্ছিল না। নতুনরা যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে দলে জায়গা পাওয়া নিয়েই সংশয় জেগেছিল। অনেকটা নিরুপায় হয়েই হয়তো তাঁকে তাই টেস্ট ছেড়ে দিতে হলো। এই হতাশা কি পোড়ায় না তাঁকে?
১২ মার্চ থেকে শুরু আইপিএলের তৃতীয় আসরে খেলতে এরই মধ্যে ভারতে চলে আসা ব্রেট লির কথা বিশ্বাস করলে মানতে হবে তাঁর কোনো আফসোস নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে সম্মানজনক অধ্যায়টিকে বিদায় জানিয়ে কোনো দুঃখ করছেন না লি।
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, শেন বন্ডদের পথ ধরে টেস্ট ছেড়ে দেওয়া লি বলছেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে যা পেয়েছেন, তাতে তিনি খুশি—‘টেস্টে যা করেছি, তাতে আমি পুরোপুরি তৃপ্ত। আমার অর্জন নিয়ে আমি তৃপ্ত।’
৭৬ টেস্টে ৩০.৮১ গড়ে ৩১০ উইকেট নেওয়া বোলারের এমন তৃপ্তি থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ৩০০ থেকে ৫০০ উইকেটের দিকে যাত্রা করার ক্ষুধাটা কি ছিল না! ক্ষুধা ছিল কি ছিল না, সেই প্রশ্ন তোলাই এখন বাতুলতা। টেস্টের ভুবন তাঁর কাছে অতীত হয়ে গেছে। এখন তাই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেই আশ্রয় খুঁজছেন। তাও জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ কতটা পাবেন, কে জানে!
সবকিছু ভুলে আপাতত নিজের ক্ষমতা দেখানোর জায়গা আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ব্রেট লি নিজেই বলছেন, আর কিছু না হোক, আইপিএল দিয়ে ক্রিকেটে ফিরতে পারার সম্ভাবনাতেই তিনি খুশি, ‘এটা আমার জন্য বিরাট একটা সুযোগ। আবার ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনাতেই আমি খুশি।

চট্টগ্রামে জিতল ফেনী সকার

ঘরের মাঠে আবারও হারল চট্টগ্রাম মোহামেডান। এবার তাদের হারিয়ে গেল ফেনী সকার (০-২)। ৯ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট—বাংলাদেশ লিগে এবার টিকে থাকাই কঠিন চট্টগ্রাম মোহামেডান। সকারের অবস্থান বেশ ভালো, সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে এখন তাদের অবস্থান চতুর্থ।
এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই দলই এলোমেলো ফুটবল খেলেছে প্রথমার্ধে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পাল্টে যায়। ফেনী সকার গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং গোলও পেয়ে যায়। ৫৮ মিনিটে আসে প্রথম গোল, যেটির উত্স ছিল কর্নার। মিন্টুর জোরালো শটে পরাস্ত মোহামেডানের গোলরক্ষক উত্তম।
৭৬ মিনিটে হলো ২-০, বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে গোল করেন আসিফ। ব্যবধান করানোর সুযোগ এসেছিল চট্টগ্রাম মোহামেডানের লিংকনের সামনে, কিন্তু গোল তিনি করতে পারেননি। বাধা হয়ে দাঁড়ান সকারের গোলরক্ষক তুয়ান।
আজকের খেলা: ফরাশগঞ্জ-শুকতারা (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, পাঁচটা)।

সংসদে ৪১টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন

জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আর্থিক অনিয়মের ওপর ৪১টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ৬০১টি নিরীক্ষা আপত্তি রয়েছে। আর এসব আপত্তিতে জড়িত রয়েছে চার হাজার কোটি টাকার বেশি।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বিভিন্ন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনগুলো তৈরি করেছেন। এর আগে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদনগুলো পেশ করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। অবশ্য এর আগে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসব প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনেই সবচেয়ে বেশি ৭৩৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৭ টাকার আর্থিক ক্ষতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করতে গিয়ে ১৫টি আপত্তির বিপরীতে সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সন্ধান পাওয়া গেছে। অবশ্য সেই সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে একটি বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রাজউক, ঢাকা সিটি করপোরেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে অতীতের সরকারি হিসাবসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করায় অনীহা রয়েছে। তবে নবম জাতীয় সংসদের এই স্থায়ী কমিটিতে নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখা গেছে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে ২১২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে

উত্তরাঞ্চলের ১৪টি জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা সম্প্রসারণের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এ জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় গতকাল প্রকল্পটি অনুমোদন করে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
নর্দার্ন বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট নামের প্রকল্পটির আওতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, উপজেলা পর্যায়ে ৩০০ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৭০টি গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন, ৭৪টি হাটবাজার উন্নয়ন এবং প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানি সংস্থা জাইকা দুই হাজার ১২৮ কোটি টাকা দেবে।
সভায় দেশের ১২টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে বিদ্যমান ১১৮টি ছোট ও মাঝারি আকারের ব্রিজ-কালভার্ট পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আতওায় প্রায় চার হাজার ৮০০ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। সংশোধিত আকারে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূইয়া শফিকুল ইসলাম অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, সভায় মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এতে চার হাজার ৫০৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৪৩১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট তিন হাজার ৭৬ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে।

বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং খাতের অধিকাংশ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গতকাল মঙ্গলবার বড় পতন ঘটেনি। তবে দিন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ১৯ পয়েন্ট। আগের দিন সোমবার ডিএসইর সাধারণ সূচক সাড়ে ৩ শতাংশ বা ১৩৪ পয়েন্ট বেড়েছিল।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। আগের দিন সেই বাজারের সার্বিক সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বা ৩৪৭ পয়েন্ট বেড়েছিল।
দুই বাজারে মূল্যসূচকের তথা সার্বিকভাবে তেমন দরপতন না ঘটলেও লেনদেন কমে গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গতকালের দরপতনের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীর খবরটিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলছেন, আইনের এই সংশোধনী নিয়ে বাজারে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন রকম খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী নিয়ে বাজারে ব্যাপক বিভ্রান্তি রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের ধারণা, এতে বাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়বে। অপর একটি অংশের ধারণা, ব্যাংকের বিনিয়োগ কমে যাবে। এর একটি প্রভাব বাজারে পড়েছে।’
বাজারের লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাজারের সূচক যখনই চার হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যায়, তখন প্রান্তিক ঋণধারী (মার্জিন লোন) অনেক হিসাব ইক্যুইটি ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। এর ফলে ওই সব হিসাব লেনদেনে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর প্রভাবই পড়ে লেনদেনে।’
মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে গতকাল ঢাকার বাজারে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজারের ওপরে উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি স্থায়ী হয়নি। দিন শেষে সূচক কমে চার হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচেই থেকে যায়। এদিন ডিএসইর সাধারণ সূচকের অবস্থান নেমে আসে তিন হাজার ৯৬৩ পয়েন্টে।
নতুন চালু হওয়া সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে।
কসমোপলিটন ফিন্যান্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাত। এ খাতের ৩০টি কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশ। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৮টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে আটটির আর অপরিবর্তিত ছিল চারটির দাম।
ব্যাংকিং খাতের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল প্রাইম ব্যাংক। দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের জন্য নগদ ও বোনাস মিলিয়ে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারের দামে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে লেনদেন শুরু হওয়া দুটি কোম্পানিরই শেয়ারের দাম গতকাল কমে গেছে। এর মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি গোল্ডেন হারভেস্টের প্রতিটি শেয়ারের দাম এক দিনে প্রায় ১৫ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৭০ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রামের বাজারে এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা কম।

ঢাকাতেই বেশির ভাগ ভেন্যু

যতই এগিয়ে আসছে বাংলাদেশ গেমস, ততই বাড়ছে কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা। আগামী ২০-২৮ এপ্রিল হতে যাওয়া এই গেমস উপলক্ষে পরশু হয়ে গেল টেকনিক্যাল কমিটির সভা। কীভাবে প্রতিযোগিতা হবে, ভেন্যুগুলো কোথায় হবে, ইভেন্টগুলোর সময়সূচি, মোট পুরস্কার, প্রতিযোগিতার আয়োজনের সমস্যা এবং সমাধানের পদক্ষেপ কী হবে—এসব নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে এ সভায়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিছু হয়নি। পুরো বিষয় সম্পর্কে মতামত ও পরামর্শ চেয়ে গেমসে অংশ নেওয়া ফেডারেশনগুলো চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বিকেএসপির বিভিন্ন ফেডারেশনের স্টেডিয়াম মিলিয়ে ২০টি ভেন্যুতে খেলা হতে পারে। ঢাকার পাশাপাশি খুলনা বা চট্টগ্রামে হতে পারে ক্রিকেট খেলা। ১০ মার্চের মধ্যে এসব বিষয়ে মতামত জানাতে হবে ক্রিকেট বোর্ডসহ অন্যান্য ফেডারেশনকে। এবারের বাংলাদেশ গেমসে ৩১টি খেলার তিন শতাধিক ইভেন্টে অংশ নেবেন সাড়ে সাত হাজার অ্যাথলেট।

ক্রুইফে আচ্ছন্ন সবাই

মাত্রই এসেছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলে এনেছেন বড় পরিবর্তন। মাঠে শতভাগের চেয়েও বেশি আদায় করছেন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। লোডভিক ডি ক্রুইফের মনোজগতে বাংলাদেশ দলের উন্নয়নই শেষ কথা।
ভিন্ন মানসিকতার এই ডাচ অনায়াসে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। কী চান, সেটি ভালোভাবে বোঝাতে পেরেছেন খেলোয়াড়দের। তাঁর ট্যাকটিকসও আলাদা। ম্যাচের কৌশল ভালো বোঝেন। অনুশীলনটা আর দশজন কোচের চেয়ে ব্যতিক্রম। কাঠমান্ডুর এই এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে এসে খেলোয়াড়দের প্রতিদিন ম্যাচ ভিডিও নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। কাগজে এঁকে ট্যাকটিকস বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
ফল এল হাতেনাতে। ফিলিস্তিনের মতো শারীরিকভাবে অনেক এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছে মাত্র ১-০ গোলে। ম্যাচটা বাংলাদেশ না-ও হারতে পারত। নেপালের বিপক্ষে তো বাজিমাতই করেছেন ক্রুইফ।
স্থানীয় ২২-২৩ হাজার দর্শকের চাপ সামলে কোচের নির্দেশনা মেনে খেলোয়াড়েরা ২-০ জয় নিয়ে পরশু মাঠ ছেড়েছেন। এদিন দশরথের ক্ষুব্ধ এক দর্শক বাংলাদেশ ডাগআউটে তালা ছুড়ে মারেন। বাংলাদেশ দলের অতিরিক্ত খেলোয়াড় মামুন খানের মাথার পাশ দিয়ে যায় এটা। ভাগ্য ভালো, মাথায় লাগেনি, নইলে গুরুতর আহত হতে পারতেন মামুন।
এসব নিয়েই কাল দিনভর বাংলাদেশ দলে আলোচনা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দল তাই এখন ভুগছে তীব্র ক্রুইফ-ম্যানিয়ায়। কোচের প্রশংসা বাংলাদেশ দলের সবার মুখে। ডিফেন্ডার ওয়ালি যেমন বলছেন, ‘বাংলাদেশ দলটাকে তিনি বদলে দিয়েছেন। মাঠে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বেশ ফুরফুরে। কাল সন্ধ্যায় কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরার আগে দুপুরে দলের অনুশীলনে এসে বলে গেলেন, ‘ভালো একজন কোচ পেয়েছি আমরা। পেশাদারি কাকে বলে ক্রুইফ এর বড় উদাহরণ।’
পরশু নেপালকে হারানোর পর শেখ জামাল সভাপতি মনজুর কাদের খেলোয়াড়দের ডিনারে আমন্ত্রণ জানান। কোচ বলেছেন, ‘আমার কাজ তো শেষ হয়নি।’ কাজেই বাইরে কোথাও ডিনারে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশ দলের।
নেপালকে হারাতে পারলে, পরদিন, মানে গতকাল কাঠমান্ডুর আশপাশে খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করে রেখেছিলেন ম্যানেজার ইকবাল হোসেন। বাদ সেধে ‘না’ বলে দিয়েছেন কোচ।
ক্রুইফের মাথায় এখন বাংলাদেশ দল নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একজন বিদেশি পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, ট্রেনারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একটা আধুনিক প্রজেক্টর চেয়েছেন। ঘরোয়া ম্যাচে ওটা প্রতিস্থাপন করলে খেলোয়াড়েরা কে কতক্ষণ দৌড়ালেন, কার পারফরম্যান্স কী, সবই প্রযুক্তির মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। খেলোয়াড়দের একটা খাদ্য তালিকা দিয়ে যাবেন। কোনো খেলোয়াড় সেটি না মানলে বাদ পড়ে যাবেন।
বাফুফে একটা প্রজেক্টর পাঠিয়েছে দলের সঙ্গে। কাঠমান্ডুতে এসে হোটেল থেকে একটি এবং ভাড়া নেওয়া হয়েছে আরও একটি। বাংলাদেশ দলে টেকনিক্যাল সরঞ্জাম আগের চেয়ে এই মুহূর্তে অনেক বেশি।
জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ, সদস্য তাবিথ আউয়ালরা কাঠমান্ডুতে একটা কথাই বলেছেন, কোচের চাহিদা পূরণে আরও বেশি চেষ্টা থাকবে তাঁদের।
কাল অনুশীলনে এসে মনজুর কাদের ১০ হাজার ডলার বোনাস দিয়ে যান খেলোয়াড়দের হাতে। এটা খেলোয়াড়দের ভালো খেলার পুরস্কার। সহকারী রেনে কোস্টারকে সঙ্গে নিয়ে নেপথ্যে ‘খেলছেন’ তো আসলে ক্রুইফ!

আজ ফিরছেন সাকিব

বাংলাদেশ দল যখন গলের নিসর্গে ডুবে আছে টেস্টের প্রস্তুতি উপলক্ষে, সাকিব আল হাসান তখন আকাশপথে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আজই দেশে ফিরবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সিডনির নর্থ শোর প্রাইভেট হসপিটালে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাকিবের ডান পায়ের কাফ মাসলে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচার পরিচালনাকারী ড. মার্টিন সুলিভানের সঙ্গে পরশু শেষবার দেখা করেছেন সাকিব। ওই দিনই সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীর। ডা. দেবাশিস জানালেন, সাকিবের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট তাঁর শল্যবিদ, ‘কয়েক দিন হলো সাকিব হাঁটা শুরু করেছে, কোনো ব্যথা অনুভব করছে না। সোমবার ডাক্তাররা ওকে পুনর্বাসন পরিকল্পনা করে দিয়েছে। সে অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দেবাশিস জানালেন, অস্ত্রোপচারের দিন থেকে মাঠে ফিরতে সপ্তাহ ছয়েক সময় লাগতে পারে সাকিবের। অগ্রগতি ভালো হলে মাঠে নেমে যেতে পারেন আগেও। সে ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে সফরে সাকিবকে পাওয়ার আশা করতেই পারে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েতে প্রথম ম্যাচ ১৩ এপ্রিল, প্রথম টি-টোয়েন্টি বুলাওয়েতে।
এর আগেই অবশ্য শুরু হয়ে যাবে আইপিএলের ষষ্ঠ আসর। তবে আইপিএলে খেলার জন্য সাকিব ও তামিম ইকবালকে এখনো অনাপত্তিপত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ৩ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলবে আইপিএল, বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে। জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে দল বাংলাদেশ ছাড়বে ১৩ এপ্রিলের কদিন আগেই। খেলার মতো ফিট থাকলেও তাই শুরু ও শেষের ছোট্ট দুটি জানালাতেই কেবল আইপিএল খেলতে পারবেন সাকিব ও তামিম। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর তাই সাকিব ও তামিমের অনাপত্তিপত্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।

জেলা ফুটবল লিগ

নাটোরে রুম্মন (৪) ও নয়নের (৩) হ্যাটট্রিকে কান্দি ভিতুয়া ক্রীড়া চক্র ৯-১ গোলে হারিয়েছে মর্নিং স্টারকে। সুমন করেছেন বাকি ২ গোল। মর্নিং স্টারের খেলোয়াড় সুমন ১টি গোল শোধ করেন। গোপালগঞ্জে লতিফুর ফুটবল একাডেমি ৫-০ গোলে হারিয়েছে জুপিটার ক্লাবকে। হ্যাটট্রিক করেছেন বিন্দু (৪)।

রুনির ওপর চটেছেন ফার্গুসন

উত্সাহ ভালো, কিন্তু অতি উত্সাহ ভালো নয়—ওয়েইন রুনিকে উদ্দেশ করে কথাগুলো বলেছেন অ্যালেক্স ফার্গুসন। দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ রুনির ওপর চটে গিয়েই এমন কথা বলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ। চোট নিয়েও মিসরের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রীতি ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় খেলেছেন বলেই রুনির ওপর এই রাগ।
কার্লিং কাপ ফাইনালে খেলার সময়ই চোট পেয়েছিলেন রুনি। এরপর নিজেকে সেরে ওঠার সময় না দিয়েই নেমে পড়েন মিসরের বিপক্ষে। খেলেছেন ৮৬ মিনিট পর্যন্ত। পুরোনো চোটের ব্যথা জেগে উঠেছে আবার। গতকাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে তাঁর খেলাও ছিল অনিশ্চিত।
উলভারহাম্পটনের বিপক্ষে ওই ম্যাচের আগেই ফার্গুসন বলেছেন, ‘আমরা রুনির ব্যাপারটা বিবেচনা করে দেখছি, কারণ ও মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটির প্রায় পুরোটাই খেলেছে। এটা আসলে হতাশাজনকই। আমি আসলে ঢালাওভাবে ফ্যাবিওর (ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো) দোষ দেব না। রুনি যে এতক্ষণ খেলল, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।

সংগীতের তালে প্রীতি ম্যাচ

বাফুফে ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একাদশ কাল একটা প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ খেলল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ম্যাচের আগে ঝুমুর নাচ, সাঁওতাল নাচ ও লোকসংগীত গেয়ে ‘অতিথি’দের বাফুফের পক্ষে স্বাগত জানায় স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী।
ঢাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারা নিছকই বিনোদন পেতে এই ম্যাচ খেলেছেন। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে এই ম্যাচ। ভবিষ্যতেও এমন ম্যাচ খেলবে দুই পক্ষ। তবে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের। সেটা তাদের কাজও নয়।
প্রদর্শনী ম্যাচে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাফুফে একাদশ জিতেছে ৩-১ গোলে। বাফুফের পক্ষে দুই গোল করেছেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

কোচিং মিশে আছে তাঁর জিনে

জার্মানির কোচ হব কি না এটাই তো প্রশ্ন? যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়!’—কিছুদিন আগে জার্মানির পত্রিকা বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান। জার্মানির কোচ হওয়ার ইচ্ছে ফুরিয়ে গেলেও কোচের চাকরি করার ইচ্ছেটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকারের। সুযোগ পেলে আবার কোচিংয়ে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বিশ্বকাপের পরপরই জার্মানির কোচের পদ ছেড়ে দেন ক্লিন্সমান, ২০০৮-এর জুলাই মাসে দায়িত্ব নেন জার্মানির সফলতম ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের। মাত্র আট মাস পরই ব্যর্থতার দায়ে ছাঁটাই হতে হয় তাঁকে, যদিও শেষ সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতিয়েছিলেন দলকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির আরটিএল নেটওয়ার্ক টিভি চ্যানেলের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করবেন ক্লিন্সমান। আপাতত সেই প্রস্তুতি চলছে। তবে বিশ্বকাপের পর কোনো জায়গা থেকে যোগ্য প্রস্তাব পেলে আবার কোচিংয়ে ঢুকে যাবেন। ‘আমি অধৈর্য নই। আমি অবশ্যই কোচিংয়ে ফিরব। এটা খুবই সম্ভব যে বিশ্বকাপের পর হয়তো কোনো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে আছে’—বলেছেন ক্লিন্সমান।
কোচিং পেশায় এমন আকর্ষণের কারণ বলতে গিয়ে ক্লিন্সমান বলেছেন, ‘এটা যদি আপনার জিনে মিশে থাকে, তাহলে এটা নিয়ে আপনি তো ভাববেনই। ভাববেন কীভাবে এর উন্নতি করা যায়।’ কোচিং নিয়ে আসলেই খুব ভাবেন ক্লিন্সমান। তাই শিখেছেন স্প্যানিশ; স্পোর্টস মেডিসিনসহ কোচিংয়ের আরও খুঁটিনাটি ব্যাপারে পাঠ নিয়েছেন। আর তিনি যে একজন চিন্তাশীল কোচ, জার্মানির কোচ থাকাকালে সেই প্রমাণ তো রেখেছেনই। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে জার্মানি দলের জন্য একজন ফিটনেস ট্রেনার নিয়োগ দিয়েছিলেন, দলে তরুণ খেলোয়াড়দের জায়গা দেওয়াসহ মাইকেল বালাকদের দিয়ে খেলিয়েছিলেন আক্রমণাত্মক ফুটবল—এগুলো তো তারই প্রমাণ।
গত বিশ্বকাপে ভালো ফলও পেয়েছিল ক্লিন্সমানের জার্মানি। নিজে ছিলেন উদীয়মান কোচ! দলও সাজিয়েছিলেন উদীয়মান সব খেলোয়াড়দের দিয়ে। সবাই তো ভেবেছিল জার্মানিকে দিয়ে কোনো আশাই নেই। তবে সবাইকে অবাক করে জার্মানিকে তৃতীয় করেছিলেন ক্লিন্সমান।
এবারের বিশ্বকাপে কেমন করবে জার্মানি? জার্মানির ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়কের বিশ্বাস, ভালোই করবেন বালাক-পোডলস্কিরা। জার্মানির এ দলটায় মধ্য-কুড়ির খেলোয়াড় বেশি এবং তাঁদের সবারই ৫০টির মতো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে—এ ব্যাপারটিই জার্মানিকে ভালো করতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন ক্লিন্সমান। তবে আর্জেন্টিনার কাছে ০-১ গোলে হেরে যাওয়া নিয়ে এত কিছু ভাবার দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি, ‘এই তিন মাসে যা ঘটবে তার প্রভাব বিশ্বকাপে খুব একটা পড়বে না। বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হওয়ার যথেষ্ট সময় আছে। এখন তো অনেকেই বুন্দেসলিগা বা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ সময়ের ব্যস্ততার কারণে ক্লান্ত।

দল ছাড়ার হুমকি আফ্রিদির

করাচির হয়ে পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি না খেলার হুমকি দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি! কারণ তাঁকে দলের অধিনায়ক করা হয়নি।
আফ্রিদির পরিবর্তে করাচি সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেসিসিএ) অধিনায়ক করেছে মোহাম্মদ সামিকে। এতে তাঁকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলেই মনে করছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের বিষয়টি কেসিসিএর সিনিয়র কর্মকর্তাদের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত।’ না জানিয়েই তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আফ্রিদির ক্ষোভের কারণ এটাই, ‘ন্যূনতম সৌজন্যবোধ থেকে কেসিসিএ কর্মকর্তাদের উচিত ছিল কেন তাঁরা আমাকে অধিনায়ক রাখতে চান না, সেটি জানানো। একজন সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবেও দলে সব সময় খেলার জন্য প্রস্তুত আমি। কিন্তু সিনিয়র ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের একটা ধরন তো আছে, সেটির কিছুই করেনি কেসিসিএ।’ এরপরই আফ্রিদি বললেন আসল কথাটা, ‘কেসিসিএ যদি সিনিয়র খেলোয়াড়দের যথাযথ মূল্যায়ন না করে তাহলে আমি অন্য অঞ্চলের হয়েও খেলতে বাধ্য হতে পারি।

ইংলিশদের বিশ্রামের একদিন

বাংলাদেশের বোলারদের যথেষ্ট যন্ত্রণা দিয়ে অবশেষে ফিরে গেছেন এউইন মরগান। ওয়ানডের সিরিজ-সেরার জায়গা হয়নি টেস্ট দলে, গতকালই দেশের উদ্দেশে উড়াল দিয়েছেন তিনি। মরগানের সঙ্গে দেশের বিমান ধরেছেন তৃতীয় ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ কিসওয়েটার, ইনজুরি আক্রান্ত রায়ান সাইডবটম ও ওয়ানডে সিরিজটা পানি-তোয়ালে টেনেই কাটিয়ে দেওয়া জো ডেনলি।
সাইডবটম নয়, ফিরে যাওয়ার কথা ছিল টিম ব্রেসনানের। কিন্তু পিঠের ইনজুরিতে পড়া সাইডবটমকে পাঠিয়ে রেখে দেওয়া হচ্ছে ওয়ানডেতে ভালো করা ব্রেসনানকে। ফাস্ট বোলারদের ইনজুরিটাই এ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কড় দুশ্চিন্তা। ইনজুরিতে পড়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড ও গ্রাহাম অনিয়নসও। আজ শুরু তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না কেউই, সম্ভাবনা কম প্রথম টেস্টে খেলারও। এ জন্যই সদ্য টিনএজ পেরোনো পেসার স্টিভেন ফিনকে উড়িয়ে এনেছে তারা। কাল পুরো দিনটা বিশ্রামেই কাটিয়েছে ইংল্যান্ড দল। শুধুই টেস্টের জন্য আসা মাইকেল কারবেরি, ইয়ান বেল, স্টিভ ডেভিস, স্টিভেন ফিনরা অবশ্য দুপুরে স্থানীয় এক জিমে শরীর ঘামিয়েছেন। অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরু করতে পারেন হ্যাম্পশায়ারের কৃষ্ণাঙ্গ বাঁহাতি কারবেরি। তবে জোনাথন ট্রটকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে অলরাউন্ডার লুক রাইটকে খেলানোরও একটা চিন্তা আছে ইংল্যান্ড দলের। প্রস্তুতি ম্যাচের পরই জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট ১২ মার্চ থেকে। ২০ মার্চ দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

শোয়েব আখতার ‘নট আউট’

বাস্তবতা যা, তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শোয়েব আখতারের ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের বিতর্কিত এই ফাস্ট বোলারের বিশ্বাস, ক্রিকেটকে তাঁর দেওয়ার এখনো অনেক বাকি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তান দল থেকেও বাদ পড়ার পর তাই অবাকই হয়েছেন শোয়েব, ‘প্রাথমিক দলেও নামটা নেই দেখে বিস্মিত হয়েছি আমি। ব্রেট লির দিকে তাকিয়ে দেখুন, কয়েক মাস ধরেই ফিটনেসজনিত সমস্যায় ছিল সে, খেলেওনি। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দলে আছে ও। শন টেইটের ব্যাপারটাও একই, ইনজুরির দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও সে দলে আছে।’
উদাহরণ হিসেবে ব্রেট লি ও শন টেইটকে তিনি টেনে এনেছেন মূলত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) যুক্তি খণ্ডনের উদ্দেশ্যেই। কিন্তু পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাটের কাছে যুক্তির ঢাল ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শোয়েবের দীর্ঘ অনুপস্থিতি, ‘আমরা কীভাবে নির্বাচিত করব তাকে। ঘরোয়া কিছু ম্যাচ খেলেছে বলে তো তাকে দলে রাখতে পারি না। ও কতটুকু ফিট সেটাই জানি না আমরা।’
তবে এসব বক্তব্যকে পাত্তা দিচ্ছেন না ৩৪ বছর বয়সী শোয়েব। প্রথম ১০০ মাইল গতি তোলা ফাস্ট বোলার আস্থা রাখছেন নিজের সামর্থ্যে, ‘আমি জানি, কতটা সামর্থ্য আমার। নিজের প্রতি আস্থা হারাচ্ছি না। আমি দলে ফেরার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। কারণ এখনো আরও কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমার আছে।’
একদিকে যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে দলে ফেরার লড়াই, তখন মাঠের বাইরেও লড়তে হচ্ছে ৪৬টি টেস্ট ও ১৪৪টি ওয়ানডে খেলা শোয়েবকে। আর এখানেও তাঁর ‘প্রতিপক্ষ’ পিসিবি। আগের বোর্ডের সময় বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের সাজা হিসেবে ৭০ লাখ রুপি জরিমানার অর্থ বকেয়া ছিল তাঁর, এটি তাঁর বার্ষিক আয় থেকে কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। দারুণ চটেছেন এতে শোয়েব। বেফাঁস কিছু বলেননি, তবে পিসিবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রেকর্ডটা নিয়তির বেঁধে দেওয়া

সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪ রানের ইনিংসটার কথা মনে আছে? সেদিন কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার আউট হয়েছিলেন ৪৭তম ওভারে। মানে ডাবল সেঞ্চুরিটি করার জন্য যথেষ্ট বল হাতে ছিল তাঁর। কিন্তু পারেননি। সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন সৌরভ গাঙ্গুলীর হাতে। ওয়ানডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা বোলারটির নাম? শচীন টেন্ডুলকার!
১৯৯৭ সালের ম্যাচটার স্মৃতি ঠিকই মনে আছে ওয়াসিম আকরামের। এরপর জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রিও যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৪ রানে অপরাজিত একটা ইনিংস খেলেছিলেন—সেটিও জানেন আকরাম। কভেন্ট্রি কিংবা আনোয়ার দুজনের কেউই ডাবল সেঞ্চুরি কেন পাননি জানেন? কারণ, আকরাম বলছেন, নিয়তিই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল, রেকর্ডটা গড়া হবে যোগ্যতম ব্যক্তির ব্যাটে। আর সেটাই করছেন টেন্ডুলকার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোয়ালিয়রে।
আকরাম এখন ভারতেই। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন এবারের আইপিএলে। ভারতে এসেই টেন্ডুলকারকে অভিনন্দন জানানোর কাজটা সেরে রাখছেন ওয়ানডেতে ৫০০ উইকেট পাওয়া প্রথম বোলার। এই ফাঁকে জানিয়ে রেখেছেন, ‘এই রেকর্ডটা যোগ্য ব্যক্তির হাতেই হয়েছে। এটা ওর প্রাপ্য ছিল। নিয়তি এই রেকর্ডটা রেখেছিল তাঁর জন্যই। বাকিদের তাই করার কিছুই নেই।’
তার মানে কিন্তু এই না, ভাগ্যের সৌজন্যেই ডাবল সেঞ্চুরিটা হয়েছে। বরং পুরো কৃতিত্বই টেন্ডুলকারকে দিলেন তিনি, ‘৩৬ বছর বয়সী একজনের এমন অর্জন সত্যিই অবিশ্বাস্য। খেলাটার প্রতি তাঁর যে আবেগ, দায়বদ্ধতা এটি সবার জন্যই উদাহরণ। এ ধরনের ইনিংস যেকোনো পর্যায়ে, কোনো দলের বিপক্ষেই স্পেশাল কিছু। টেন্ডুলকার ডাবল সেঞ্চুরিটা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, এতে ইনিংসটার মাহাত্ম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে।’
ওয়ানডেতে ৫০২টি উইকেট তাঁর। কিন্তু এর মধ্যে টেন্ডুলকারের উইকেট আকরাম পেয়েছেন মাত্র তিনবার (টেস্টে মাত্র একবার!)। টেন্ডুলকার বোলারদের জন্য কত বড় পরীক্ষার নাম, সেটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি, ‘শচীনের মতো ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা করাই মুশকিল। ও এতটাই নিখুঁত, কোনো ফাঁদ পেতে লাভ হয় না। অসাধারণ প্রতিভাবান, দুর্দান্ত টেকনিক। এবং এটাও মনে রাখবেন, ও কিন্তু গায়ের জোরে বল মারে না। রেকর্ডই ওর হয়ে কথা বলে।