Friday, December 25, 2009

আইপিএলে ফিকে ‘ব্যাগি গ্রিন’

‘এটাই আমার কাছে সবকিছু, এটা আমার ভেতরটাকে স্পর্শ করে। ছেলেবেলায় আমি সব সময় এটাই ভাবতাম। আশা করি, ভাবনাটা সব সময়ই এমন থাকবে। আমার হূদয়টা ওখানেই।’ বক্সিং ডে টেস্টের দলে যোগ দেওয়ার সময় বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ফিলিপ হিউজ। প্রসঙ্গ, ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ—অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের গর্ব আর অহংকারের জায়গা। একসময় হয়তো সবার ভাবনাটাই এমন ছিল, তবে এখন আর নিজের পক্ষে খুব বেশি কাউকে পাবেন না হিউজ।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে বড়সড় একটা ধাক্কা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) একটি জরিপ। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ও রাজ্য দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে পরিচালিত জরিপে ৬৭ শতাংশের মত, কেন্দ্রীয় চুক্তি বাদ দিয়ে তাঁরা আইপিএল বা এ ধরনের কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে চান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মধ্যে ২২ শতাংশ এবং রাজ্য দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এগিয়ে আরেক ধাপ। কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে তাঁরা পুরোপুরি ‘ফ্রিল্যান্সার ক্রিকেটার’ হতেই পছন্দ করবেন।
ফ্রিল্যান্সারদের পথপ্রদর্শক অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের ৩০ হাজার পাউন্ডের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে আয় আরও বাড়ানোর জন্য ফ্রিল্যান্স ক্রিকেটার হয়ে গেছেন এই অলরাউন্ডার। ফ্রিল্যান্স ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসও। তবে নিজের ইচ্ছায় নয়, কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ে ফ্রিল্যান্স হতে বাধ্য হয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার।
এসিএর প্রধান নির্বাহী পল মার্শের প্রতিক্রিয়াতেও তাই ফ্লিনটফ-দর্শনের প্রতিফলন, ‘আমার মনে হয়, ফ্লিনটফের সিদ্ধান্তটাই এ সময়ের ক্রিকেটারদের চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন। কঠিন বাস্তব হলো, ক্রিকেটারদের ওপর জাতীয় বোর্ডগুলোর আর একচ্ছত্র আধিপত্য থাকছে না। এখন অনেক আকর্ষণীয় বিকল্প আছে ক্রিকেটারদের। আমাদের বোর্ড ক্রিকেটারদের অনেক টাকা দেয় সত্যি, কিন্তু আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টগুলো অনেক কম সময় ও পরিশ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ এনে দিয়েছে।’
তবে দেশের প্রতি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের নিবেদন নিয়ে সন্দেহ নেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের, ‘কোনো সন্দেহ নেই, অনেক বিকল্প থাকায় শ্রমবাজার এখন বদলে গেছে। তবে দেশের প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের সম্মান ও নিবেদন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি মনে করি, দেশের প্রতি সম্মান, দায়িত্ব আর গর্বের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের, এটা নিয়ে আমরা গর্বিত।’
সাদারল্যান্ড যা-ই বলুন না কেন, সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়ার পরও টি-টোয়েন্টি আর বেসরকারি লিগগুলোর হাতছানি থেকে ক্রিকেটারদের ফেরানো নিশ্চিতভাবেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতে যাচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ।

রাহুলকে মন্ত্রিসভায় পেলে খুশি হবেন মনমোহন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধীকে মন্ত্রিসভায় পেলে তিনি খুবই খুশি হবেন। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সিএনএন-আইবিএন আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মনমোহন সিং সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। রাহুলকে মন্ত্রিসভায় পেলে আমি খুবই খুশি হব।’
অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে ‘পলিটিশিয়ান অব দ্য ইয়ার’-এর সম্মানে ভূষিত করা হয়। তবে পুরস্কার গ্রহণের জন্য তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়েও বেশি পূরণ করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর সেরাটা এখনো আসেনি।’ বিগত লোকসভা নির্বাচনে স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ছিলেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে মনমোহন সিং বলেন, তাঁর মনে সংশয় ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সুরস্রষ্টা পণ্ডিত রবিশঙ্করকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। অস্কার জয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রেহমান ‘ইন্ডিয়ান অব দ্য ইয়ার’-এর পুরস্কার পান।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে মাদক নিয়ে সহিংসতা নিহত ২৩

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় চিহুয়াহুয়া রাজ্যে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। গত সোমবার সরকারি কর্তৃপক্ষ এ কথা জানায়।
ওই ২৩ জনের ১৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আলপাসো নগরের কাছে সিউদাদ হুয়ারেজ নগরে নিহত হয়। সিউদাদ হুয়ারেজ হলো মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস নগর। এ বছরই ওই নগরে দুই হাজার ৫০০ জনেরও বেশি লোক মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় নিহত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একটি ঘটনায় এক দম্পতিকে তাদের তিন, পাঁচ ও নয় বছর বয়সের শিশুদের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় শিশুরা রক্ষা পায়।

ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্তে চীন ‘দুঃখিত’ -সাংস্কৃতিক বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ

চীনা বাজারে মার্কিন চলচ্চিত্র, সংগীত ও বই বাজারজাতকরণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। গতকাল মঙ্গলবার চীনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডব্লিউটিওর আপিল বিভাগের ওই সিদ্ধান্তে তারা ‘দুঃখিত’।
গত আগস্টে ডব্লিউটিওর আদেশে বলা হয়েছিল, বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে চীন। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। গত সোমবার ডব্লিউটিওর আপিল বিভাগ ওই আদেশ বহাল রাখে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব-সাইটে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের ধারণা, সাংস্কৃতিক পণ্যের বাণিজ্যিক মূল্য ছাড়া সাংস্কৃতিক মূল্যও রয়েছে। এই ধরনের পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা সাধারণ পণ্যের ব্যবস্থাপনা থেকে ভিন্ন হওয়া উচিত।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই আদেশে দুঃখিত। তবে আপিল বিভাগের ওই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে।
আমদানি উন্মুক্ত করে না দিলে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে বেইজিং। ডব্লিউটিওর আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে চীনা সিনেমা হলে বিদেশি চলচ্চিত্র মুক্তি এবং চীনা বাজারে বিদেশি ডিভিডি, গান, বই ও সাময়িকী বাজারজাতকরণের ওপর প্রভাব পড়বে। ডব্লিউটিওর এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কলম্বিয়ায় মার্কসবাদী বিদ্রোহীদের হাতে গভর্নর অপহূত

কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি প্রদেশের গভর্নরকে অপহরণ করেছে সে দেশের বামপন্থী ফার্ক বিদ্রোহীরা।
দেশটির বেসরকারি রেডিও চ্যানেল কারাকোল সোমবার জানায়, বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির (এফএআরসি—ফার্ক) সশস্ত্র সদস্যরা কাকুয়েতা প্রদেশের গভর্নর লুইস ফ্রান্সিসকো কুয়েলারের বাড়িতে প্রথমে গ্রেনেড হামলা চালায়। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় গভর্নরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাগরিককে ক্ষমা করতে চীনের ওপর ব্রিটেনের চাপ

চীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্রিটিশ নাগরিককে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য বেইজিংকে চাপ দিয়েছে ব্রিটেন। চোরাচালানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ওই ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর।
লন্ডনের অধিবাসী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আকমল শেখের (৫৩) আত্মীয়স্বজন বলছেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে চীনা সুপ্রিম কোর্টে করা আপিলে তিনি হেরে যান।

ধর্মীয় বৈষম্যের বিচারে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত -গবেষণা প্রতিবেদনের ফল

সামাজিক বৈরিতা ও ধর্মীয় বৈষম্যের বিবেচনায় বিশ্বে শীর্ষ বৈষম্যপূর্ণ দেশ ইরাক। আর দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে ভারত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘গ্লোবাল রেস্ট্রিকশনস অন রিলিজিওন’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৯৮টি দেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখানে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে বিশ্বের দেশগুলোয় বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, সরকার ও ব্যক্তি পর্যায়ের আরোপিত বাধা-নিষেধকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারতে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে সামাজিক বাধা অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে শুধু ইরাকে ভারতের চেয়ে বেশি সামাজিক বাধা রয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরব বা আফগানিস্তানের সমাজের চেয়েও ভারতীয় সমাজে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে বাধা অনেক বেশি বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এতে আরও বলা হয়, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানে ধর্মীয় বাধা-নিষেধ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সামাজিক বাধা-নিষেধের বিচারে ভারতের অবস্থান এসব দেশের চেয়ে অনেক ওপরে।
ভারতের অবস্থান নেতিবাচক হলেও সামাজিক সূচকে প্রতিবেশী চীন বেশ ভালো করেছে। চীনে ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের ক্ষেত্রে সরকারি বাধা-নিষেধ অনেক বেশি এবং এই সূচকে দেশটির অবস্থান বেশ ওপরের দিকে। কিন্তু সামাজিক সূচকে তাদের অবস্থান জানাচ্ছে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে সেখানকার সমাজ তুলনামূলকভাবে উদার। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ও চীনে সরকারের আরোপিত বাধা অনেক বেশি এবং এই সূচকে তাদের অবস্থানও অনেক ওপরে। আর এর বিপরীত চিত্র রয়েছে নাইজেরিয়ায়। ওই দেশে সরকার ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে উদার দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলেও সেখানকার সমাজ অনেক বেশি রক্ষণশীল।
সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোয় সমাজের একটি বড় অংশের মানুষ একটি ধর্মকে বিশেষ অবস্থানে রাখতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ কমেছে: এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯ সালের প্রথম ছয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সহিংস অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। এফবিআই তাদের প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করে এ কথা বলেছে। সার্বিক তথ্য প্রকাশ করা হবে আগামী বছর।
এফবিআই জানায়, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে খুন ১০ শতাংশ, ডাকাতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ধর্ষণ ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং মারাত্মক হামলার ঘটনা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
প্রত্যন্ত এলাকার চেয়ে তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন নগরে সহিংস অপরাধ বেশি কমেছে। ১০ লাখ অথবা এর চেয়ে বেশি জন-অধ্যুষিত শহরগুলোতে সাত শতাংশ অপরাধ কমেছে এবং মফস্বল অঞ্চলগুলোতে অপরাধ কমার এ মাত্রা হলো ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ১০ হাজার থেকে ২৪ হাজার ৯৯৯ জন-অধ্যুষিত ছোট শহরগুলোতে অপরাধ কমার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এ শহরগুলোতে সহিংস অপরাধের পরিমাণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
কিন্তু সম্পদসংক্রান্ত অপরাধ যার মধ্যে সিঁধ কেটে চুরি, অন্যান্য চুরি এবং মোটরসাইকেল চুরির মতো ঘটনা সারা দেশে কমে গেছে। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০০৮ সালের একই সময়ের তুলনায় অপরাধ কমেছে। আবার তুলনামূলক বড় শহরগুলোতে সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি কমেছে।

হামাসের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুমোদন করেনি ইসরায়েল

হামাসের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি নিয়ে দুই দিনের মধ্যে পাঁচবার বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবার পঞ্চম দফা বৈঠকে বন্দিবিনিময় চুক্তির ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাঁরা। আটক এক ইসরায়েলি সেনাসদস্যের মুক্তির বিনিময়ে কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি দাবি করেছে হামাস।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট গিলাদ শালিতের মুক্তির জন্য বন্দিবিনিময় চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে বৈঠকে মিলিত হন ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সাত জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় আটক রয়েছেন ওই ইসরায়েলি সেনা।
বন্দিবিনিময় চুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এক জার্মান মধ্যস্থতাকারী।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গিলাদ শালিতকে নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি মাথায় রেখে মুক্তির চেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েলি আলোচকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা।’ বিবৃতিতে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
ইসরায়েলের সরকারি বেতারে বলা হয়, ‘এই বিবৃতির অর্থ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে চুক্তি অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।’
এর আগে গিলাদ শালিতের মা-বাবা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সাক্ষাতের পর শালিতের বাবা নোয়াম শালিত বলেন, ‘আমি নৈরাশ্যবাদী নই, আবার আশাবাদীও নই।’ এর আগে শালিতের মা আভিভা বলেন, ‘আমি আশা করছি, তাঁরা আজ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রত্যেক মন্ত্রীই এটা জানেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দেবেন যে গিলাদ বেঁচে থাকবেন, না মারা যাবেন।’
গত রোববার দেওয়া এক চিঠিতে তাঁদের ছেলের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন শালিতের মা-বাবা। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জুন মাসে গিলাদ শালিতকে অপরহণ করা হয়।

ধর্মঘটের শেষ দিনেও অচল নেপাল

গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় আবারও অস্থিরতায় পড়েছে নেপাল। দেশটিতে মাওবাদীদের ডাকা তিন দিনের ধর্মঘটের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রধান প্রধান সড়ক ছিল মাওবাদী সমর্থকদের দখলে। এসব রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গোটা নেপাল কার্যত গতকাল ছিল স্থবির। দেশটির সড়ক যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলেনি।
সাপ্তাহিক নেপালি টাইমস-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট প্রশান্ত ঝা মন্তব্য করেন, ‘আজকের এই পরিস্থিতির গোড়ায় রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য এবং পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান প্রধান দল মনে করে, মাওবাদীরা এখনো সহিংস পথ ত্যাগ করেনি। তারা নেপালকে একটি একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।’ অপরদিকে মাওবাদীরা বলছে, দেশটির অন্য সব দল খুবই রক্ষণশীল। রাষ্ট্রকাঠামোয় কোনো পরিবর্তন তারা বরদাশত করতে পারে না।
নেপালে গত বছর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মাওবাদীদের নেতৃত্বে একটি জোট সরকার গঠন করে। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা হয় মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ডকে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই জোট সরকারে ভাঙন ধরে। দেশটির সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদবের সঙ্গে বিরোধ বাধে প্রচণ্ডর। একপর্যায়ে প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এর পর থেকেই মাওবাদীরা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে।

পেশোয়ারে প্রেসক্লাবে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৪, আহত ১৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে প্রেসক্লাবের ফটকে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১৭ জন। গণমাধ্যম-কর্মীদের কার্যালয় লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো এ ধরনের কোনো হামলা চালানো হলো।
পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবারের ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রেসক্লাব ভবনের অধিকাংশ জানালার কাচ উড়ে যায়। ভবনের ফটকের গার্ডরুম ও আশপাশে দাঁড় করিয়ে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা করিম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এটা ছিল আত্মঘাতী হামলা। হামলাকারী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ভবনের প্রবেশপথে থামালে সে নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দেয়।
শহরের প্রধান হাসপাতাল লেডি রিডিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিস্ফোরণে চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের সদস্য এবং প্রেসক্লাব-কর্মীও রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিত্সক জাফর ইকবাল বলেন, হাসপাতালে চারটি মৃতদেহ এবং ১৭ জন আহতকে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাংবাদিক। পুলিশ কর্মকর্তা করিম খান বলেন, ফটকের বাইরে অবস্থিত গার্ডরুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসক্লাব কম্পাউন্ডের ভেতরে পার্ক করা তিনটি মোটরসাইকেল এবং রাস্তার অপর পাশে থাকা একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের প্রায় সবগুলো জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বাস এই ২৫ লাখ মানুষের পেশোয়ার শহরে বোমা ও আত্মঘাতী হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাকে আল-কায়েদার প্রধান আশ্রয়স্থল ও বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে অভিহিত করেছে ওয়াশিংটন।

এসকেএফের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেডের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক সাইফুর রহমান, আতিকুর রহমান, সিমিন হোসেইন ও আরশাদ ওয়ালিউর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম ফারুক ও হেড অব বিজনেস (অপারেশন) মো. কামরুল হাসান
এ এম ফারুক কোম্পানির ২০১০ সালের কর্মকৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। সাইফুর রহমান কোম্পানির ভবিষ্যত্ লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিজ্ঞপ্তি।
কামরুল হাসান কোম্পানির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ২০১০ সালের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নিষিদ্ধ পণ্যের আমদানি বেড়েছে

দেশে আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ পণ্যের আমদানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এ ধরনের পণ্যের আমদানি ও শুল্কায়ন ঠেকাতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জেটিতে কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন, নজরদারি ও তল্লাশি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা সম্প্রতি দুটি পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি-নিষিদ্ধ পুরোনো ফটোস্ট্যাট মেশিন এবং এর উপকরণের দুটি বিশাল চালান আটক করেছে।
কাস্টমস কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজস্ব ফাঁকির যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিয়ে এই ফটোস্ট্যাট মেশিনগুলো নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলাসহ শুল্ক আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সীতাকুণ্ডের একটি বেসরকারি আইসিডির দুটি কনটেইনার থেকেও প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ আটক করেছিল। এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্রোকারেজ বিভাগকে পৃথক কোম্পানি করার নির্দেশ

ব্যাংক, বিমা ও অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্রোকারেজ বিভাগকে পৃথক সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানিতে রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সভায় সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম অনেক বড় হয়েছে। ফলে একই ব্যবস্থাপনার অধীনে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণেই ব্রোকারেজ বিভাগকে পৃথক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ছাড়া ব্যাংকগুলো মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না। আর মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য বর্তমানে যেসব ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে, তাদের ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে এ বিভাগকে পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০০টির মতো সক্রিয় ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের সংখ্যা ৩২টি। এই ৩২টির মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে ১৬টি। বাকি ১৬টি অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির মালিকানাধীন।
যেসব ব্যাংকের ব্রোকারেজ বিভাগ আছে, সেগুলো হলো ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।
এর মধ্যে এবি ব্যাংক ব্রোকারেজ বিভাগকে সাবসিডিয়ারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্রোকারেজ লাইসেন্স এখনো প্রক্রিয়াধীন।
তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফিনিক্স সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইক্যুইটি পার্টনারস সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, গ্রিন ডেল্টা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, এসইএস কোম্পানি এবং বিএলআই সিকিউরিটিজ ইতিমধ্যে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
এর বাইরে যাদের ব্রোকারেজ বিভাগ আছে, সেগুলো হলো বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা, সাধারণ বিমা করপোরেশন, আইআইডিএফসি ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এর মধ্যে অবশ্য পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে।

আগামী বছর ৪০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য কিনবে প্রাণ

প্রাণ আগামী বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের কৃষিজাত পণ্য কিনবে। প্রাণের বিভিন্ন রকম জুস, দুগ্ধজাত পণ্য, মসলা ও অন্যান্য পণ্য প্রস্তুত করতে এসব পণ্য কেনা হবে। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আম, তরল দুধ, চাল, ধান, টমেটো, বাদাম, মুগডাল, মসলা ইত্যাদি। এ ছাড়া অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যও কিনবে প্রাণ।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে প্রাণের নিজস্ব চুক্তিবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকেও কাঁচামাল হিসেবে এসব পণ্য কেনা হবে।
দেশ-বিদেশে প্রাণের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ উত্পাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর এই অতিরিক্ত পণ্য উত্পাদন করতেই কাঁচামাল হিসেবে বিপুল পরিমাণ কৃষিজাত পণ্য কিনবে প্রাণ।
চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের প্রতিনিধি ও প্রাণের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি স্থানীয় বাজারমূল্য যাচাই করে ফসলের মূল্য নির্ধারণ ও পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। এই মূল্যেই চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের কাছে থেকে তাদের উত্পাদিত পণ্য কেনা হয়।
বর্তমানে নাটোর, নরসিংদী ও রংপুরে অবস্থিত প্রাণের কারখানাগুলোয় শতাধিক রকমের খাদ্য উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে কোম্পানি আশা করছে। এসব কারখানাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাণ গ্রুপে প্রায় ২০ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে আরও প্রায় ৪০ হাজার পরিবার।
প্রান্তিক পর্যায়ে দুগ্ধখামারিদের পশুপালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ, পশুচিকিত্সা ও ওষুধ সরবরাহ, রোগের প্রতিষেধক টিকা দান, কৃত্রিম প্রজনন, গবাদিপশুর জন্য উপযুক্ত খাবার সরবরাহ করাসহ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে প্রাণ। উত্পাদনকারীদের কাছে থেকে দুগ্ধ সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৮টি স্থানে দুগ্ধসংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২৩টি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আমেরিকায় রাজনৈতিক তদবিরকারী ব্যাংকগুলোই বেশি সহায়তা পায় by এ টি এম ইসহাক

আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা যত বেশি অর্থ খরচ করে রাজনৈতিক তদবির করতে পেরেছে, তারা সরকারের আর্থিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় তত বেশি সহায়তা পেয়েছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রস স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক র্যান ডাচিন ও ডেনিস সসিউয়ারার এক সমীক্ষায় এ কথা বলা হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত এ সমীক্ষায় বলা হয়, যেসব ব্যাংকের নির্বাহীরা আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরিচালনা পর্ষদের সেবা করেছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানই ট্রাবলড অ্যাসেট রিলিফ প্রোগ্রামের (টিএআরপি) আওতায় বেশি পরিমাণে আর্থিক সহায়তা লাভ করেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের যেসব সদস্য টিএআরপি কমিটি বা কোনো উপকমিটিতে রয়েছেন তাঁরাও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন।
ডেনিস সসিউয়ারা বলেন, আর্থিক বিপর্যয়ে অবস্থা সঙ্গিন হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর জন্যই রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর তদবিরটা বেশি কাজে দিয়েছে। কারণ, সহায়তা লাভের সুযোগ তৈরি করতে রাজনৈতিক যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমীক্ষাটিতে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পেরেছেন তাঁদের প্রতিষ্ঠান অন্যদের চেয়ে অন্তত ৩১ শতাংশ বেশি আর্থিক সহায়তা লাভ করেছে। এমনকি যাঁরা কংগ্রেসের অর্থবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে ২৬ শতাংশ বেশি অর্থ।
গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ২০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা নিয়েছে। এই অর্থ নেওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক তদবির করায় ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।
লবিং গ্রুপ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস রাউন্ডটেবিলের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি স্কট ট্যালবট অবশ্য বলেন, সমীক্ষায় বৃহত্ নয়টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়নি, যাদের আর্থিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ থেকে অর্থ নেওয়ার জন্য সরকারই আহ্বান করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোল্ডম্যান স্যাচ গ্রুপ, জেপি মর্গ্যান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি, মর্গ্যান স্ট্যানলি তাদের নেওয়া অর্থ পরিশোধ করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকা এবং সিটি গ্রুপও তাদের নেওয়া অর্থ পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছে।

এডিবির আশঙ্কা জিডিপিতে কৃষির অবদান কমবে, সরকার মানছে না by ফখরুল ইসলাম

সারের দাম কমানো, কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়াসহ সরকারের অনেক নীতি-সহায়তা সত্ত্বেও এ বছর মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান কমবে। কৃষি খাতে গতবারের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এবার তা নেমে আসবে ৪ দশমিক ১ শতাংশে। এ আশঙ্কা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।
তবে এডিবির এ আশঙ্কাকে সম্পূর্ণভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রথম আলোকে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ের খবর না রেখে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে হিসাব করলে এমন আশঙ্কাই হবে। আউশ ও আমনের উত্পাদন গতবারের তুলনায় কম তো হবেই না, বরং বাড়বে। আর বোরোর উত্পাদন এবার অতীতের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এডিবি হিসাব করে দেখেছে, এবার খরার কারণে আউশ ও আমন ধানের ফলন কম হবে। আবার ফলন কম হওয়ার হিসাবটাও অত কঠিন নয় তাদের কাছে। সেটা হলো গতবারের তুলনায় এবার কম জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছে। এদিকে গমের সন্তোষজনক উত্পাদনও প্রাকৃতিক শর্তসাপেক্ষ ব্যাপার বলে মনে করছে এডিবি। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গমের উত্পাদন নির্ভর করবে, এবার শীত কতটা জেঁকে বসছে তার ওপর। তবে বোরোর উত্পাদন ভালো হলে আউশ ও আমনের কম ফলনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করে এডিবি।
সম্প্রতি প্রকাশিত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা দিক আলোকপাত করে এডিবি। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান দশমিক ৫ শতাংশ কমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ধান ও গম মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা তিন কোটি ৫৩ লাখ টন। এর মধ্যে ধান তিন কোটি ৪৩ লাখ টন আর গম ১০ লাখ টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রকৃত উত্পাদনের তুলনায় এ লক্ষ্যমাত্রা ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
এডিবির মতে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ বছর ১২ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হওয়ার কথা থাকলেও ধানের চাষ হয়েছে মাত্র নয় লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। অর্থাত্ দুই লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতেই এবার আউশ ধান চাষ করা হয়নি, যা করা হয়েছে তাতে উত্পাদন হবে ১৭ লাখ টন।
এডিবি বলেছে, আগেরবারের প্রকৃত উত্পাদনের তুলনায় এ বছরের আউশ উত্পাদন কমবে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আউশ উত্পাদনের পরিমাণ কমার অন্যতম কারণ হলো খরা। অর্থাত্ যথাসময়ে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়া।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এ বছর ৫৮ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হবে। কিন্তু চাষ হয়েছে ৫২ লাখ হেক্টর জমিতে। চার লাখ হেক্টর জমিতেই আমন চাষ হয়নি।
তাই আমনেরও আশানুরূপ ফলন হবে না বলে মনে করছে এডিবি। এডিবি বলছে, হেক্টর অনুযায়ী উত্পাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও আগেরবারের প্রকৃত উত্পাদনের তুলনায় উত্পাদন কমবে পাঁচ শতাংশ। আমন চাষও বৃষ্টিপাতের অভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এডিবির মতে, বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা উচ্চফলনশীল ধান উত্পাদনে যেতে পারেননি। সেচের মাধ্যমে কম ফলনের স্থানীয় প্রজাতির ধান চাষে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন।
তবে বোরো উত্পাদন নিয়ে আশাবাদী সরকার ও এডিবি উভয় পক্ষই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, চলতি অর্থবছরে এক কোটি ৯০ লাখ টন বোরো উত্পাদন হওয়ার কথা। গতবারের প্রকৃত উত্পাদনের তুলনায় এ লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করবে যথাসময়ে পর্যাপ্ত কৃষিঋণ দেওয়া, ধানের যৌক্তিক মূল্য ও আবহাওয়ার ওপর।
সূত্রমতে, গত বছর আট লাখ টনের কাছাকাছি গম উত্পাদিত হয়েছিল। ২০ শতাংশ বাড়িয়ে এ বছর গম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে ১০ লাখ টন। তবে গমের প্রার্থিত উত্পাদন নির্ভর করবে এ বছর শীত কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় তার ওপর।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা বিভাগের প্রধান উত্তম কুমার দেব প্রথম আলোকে জানান, খরার কারণে এ বছর আউশ ও আমনের ফলন কম হবে ঠিক, তবে বোরোর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। কয়েক মাস আগে ধানের দাম কম থাকলেও এখন বাড়তি। সুতরাং বোরো চাষে কৃষকেরা বেশ আগ্রহী।
দেশের মোট ধানের অর্ধেকেরও বেশি বোরো থেকে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বোরোর ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু। উত্তম দেব বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বোরো অঞ্চল বাড়াতে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। সুতরাং বোরোতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আশা করা যায়।
জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমা নিয়ে এডিবির আশঙ্কা প্রসঙ্গে উত্তম দেব জানান, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পোলট্রি, মত্স্য ইত্যাদি খাতের কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। বার্ড ফ্লু বা এজাতীয় অন্য কোনো সমস্যা গতবার থাকলেও এবার কিন্তু তা দেখা যায়নি। সুতরাং অর্থবছর শেষে কৃষি খাতে অবদান কমবেই—এমনটা হলফ করে বলা যায় না বলে মনে করেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জানান, জিডিপিতে কৃষির অবদান কমার এডিবির আশঙ্কা, অনুমান বা প্রাক্কলন কোনোভাবেই গ্রহণ করার যোগ্য নয়। চোর-প্রকৃতির সরকার হলে তাদের এ আশঙ্কাকে আমলে নিত। আওয়ামী লীগ নেবে না। প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান বাড়াতে আরও অনেক প্যাকেজ অঘোষিত রয়ে গেছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

বিজয় দিবস টেনিস

রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে কাল থেকে শুরু হয়েছে বিজয় দিবস টেনিস টুর্নামেন্ট। পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা একক ও মহিলা দ্বৈতে ৮০ জন পুরুষ ও ১৬ জন মহিলা খেলোয়াড় এতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। টুর্নামেন্ট শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর।

বিজয় দিবস হকির ফাইনালে ফেডারেশন একাদশ

অটো মিউজিয়াম বিজয় দিবস হকির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন একাদশ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে কাল তারা ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে। ৩ খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরেই ফেডারেশন একাদশ, যেটি আসলে জাতীয় দল।
প্রথম মিনিটে মানিকের গোলে ফেডারেশন একাদশ এগিয়ে গেলেও ৭ মিনিটে গোল শোধ করেন বিমান বাহিনীর জাহিদ। এরপর ১৬ ও ৪১ মিনিটে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে নেন ফেডারেশন একাদশের চয়ন ও জিমি। ৪৩ মিনিটে বিমানের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন মোবারক। এরপর ৫৯ মিনিটে নান্নু করেন ফেডারেশন একাদশের শেষ গোল।
খেলোয়াড়দের জন্য ‘কোড অব কন্ডাক্ট’: দুদিন পর পরই বিদ্রোহ, পদত্যাগের হুমকি। হকি খেলোয়াড়দের আন্দোলন বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে ফেডারেশনকে। আর এটা সামাল দিতে এবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘কোড অব কন্ডাক্টে’র আওতায় আনা হয়েছে। সিদ্ধান্তটা হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। তবে এই আচরণবিধি শুধু আসন্ন এসএ গেমসের জন্যই।

ব্যাটিংয়ের শীর্ষ দশে ফিরলেন ক্যালিস

সেঞ্চুরিয়নের সেঞ্চুরি আবার আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে ফিরিয়েছে জ্যাক ক্যালিসকে। তিন ধাপ এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার এখন আটে। শীর্ষ দশে নতুন করে ঢুকেছেন এই একজনই। ক্যালিসকে জায়গা দিতে সাত থেকে এগারোতে নেমে গেছেন ক্যালিসের অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে স্মিথ করেছেন ০ ও ১২।
একসময় শীর্ষ দশের নিয়মিত মুখই ছিলেন ক্যালিস, দীর্ঘদিন ছিলেন এক নম্বরেও। তবে ২০০৮ সালের আগস্টের পর থেকেই তিনি শীর্ষ দশের বাইরে। প্রথম তিনে আগের মতোই আছেন গৌতম গম্ভীর, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। মুম্বাই টেস্টে ২৯৩ রান করে পাঁচে উঠে আসা শেবাগ এগিয়েছেন আরও এক ধাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পার্থে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৬ রান করে চার নম্বর থেকে দুই ধাপ পিছিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক।
বোলিংয়ে শীর্ষ দশে কোনো নতুন মুখ নেই, তবে জায়গা বদল হয়েছে কয়েকজনের। নয় থেকে সাতে উঠেছেন পল হ্যারিস, যা এই বাঁহাতি স্পিনারের ক্যারিয়ার-সেরা অবস্থান। ক্যারিয়ার-সেরা র্যাঙ্কিংয়ে উঠেছেন দুই ইংলিশ গ্রায়েম সোয়ান (১১) এবং স্টুয়ার্ট ব্রডও (১৩)। তবে সবচেয়ে বড় ‘লাফ’টা দিয়েছেন ডগ বলিঞ্জার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ টেস্টে ১৩ উইকেট নিয়ে ৩১ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৯ নম্বরে এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম পাঁচে আছেন ডেল স্টেইন, মিচেল জনসন, মুত্তিয়া মুরালিধরন, মাখায়া এনটিনি ও মোহাম্মদ আসিফ।
অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আগের মতোই জ্যাক ক্যালিস, চারে সাকিব আল হাসান।

মাশরাফিই অধিনায়ক, তবে...

ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি পুরোপুরি, খেলার মধ্যেও নেই। সব মিলিয়ে তাই বলা হচ্ছিল ভারত, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামী মাসের তিন জাতি সিরিজে খেলা হবে না মাশরাফি বিন মুর্তজার। ফিজিও আর বিসিবির চিকিত্সকও সে পরামর্শই দিচ্ছিলেন—মাশরাফির এই সিরিজে খেলার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। কিন্তু কাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের ত্রয়োদশ সভায় হলো উল্টো সিদ্ধান্ত—তিন জাতি সিরিজের অধিনায়ক থাকছেন মাশরাফিই। সাকিব থাকবেন তাঁর ডেপুটি হয়ে।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত বদলের কারণ মাশরাফির ফিটনেস সম্পর্কে ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির দেওয়া ইতিবাচক তথ্য, ‘ফিজিওর রিপোর্টের ভিত্তিতে ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে জানানো হয়েছে, মাশরাফি তিন জাতি সিরিজ খেলার জন্য ফিট। সে কারণেই তাঁকে অধিনায়ক রাখা হয়েছে। তবে পুরো ব্যাপারটাই মাশরাফির ফিটনেস সাপেক্ষে।’
তিন জাতি সিরিজে মাশরাফির খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাই এখনো অপেক্ষমাণ। ২৬ ডিসেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জাতীয় দল। খেলার মতো ফিট থাকলে মাশরাফি খেলবেন সে ম্যাচে এবং এই প্রস্তুতি ম্যাচ তাঁর জন্য হতে পারে জাতীয় দলে ফেরার সিঁড়ি। ওই দিনই চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল ঘোষণা করার কথা।
আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশে আসবে আগেই শোনা গিয়েছিল। কাল বোর্ড সভার পর জানানো হলো নির্দিষ্ট দিন-তারিখও। শাহরুখ খান আর সৌরভ গাঙ্গুলীর দল ঢাকায় আসবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিসিবি একাদশের বিপক্ষে মোট তিনটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলবে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
জিপি-বিসিবি ক্রিকেট একাডেমির ব্যবস্থাপনা কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে গতকালের সভায়। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সাবেক প্রধান শাকিল কাসেমকে প্রধান করে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন, সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস, সাবেক ক্রিকেটার সেলিম শাহেদ, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা ও গোলাম মোর্তজা। বোর্ডের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের মধ্যে যে ১৩ জনের চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ নভেম্বর শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের চুক্তি আগামী বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। এই ১৩ ক্রিকেটার হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, আবদুর রাজ্জাক, শাহাদাত হোসেন, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সৈয়দ রাসেল, জুনায়েদ সিদ্দিক, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, রকিবুল হাসান, মাহমুদউল্লাহ ও এনামুল হক জুনিয়র। পুরোনো গ্রেডিং অনুযায়ীই চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর ধরা হবে নবায়ন করা চুক্তি।
বোর্ড সভায় আলোচনা না হলেও জানা গেছে, নির্বাচক কমিটিতে নাঈমুর রহমানের পরিবর্তক খোঁজার জন্য ক্রিকেট পরিচালনা কমিটিকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। রফিকুল আলম ও আকরামের নতুন সম্ভাব্য সঙ্গী হিসেবে শোনা যাচ্ছে সাবেক ক্রিকেটার জাহিদ রাজ্জাক এবং দুই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও খালেদ মাসুদের নাম।

ম্যারাডোনার ছবিতেও আপত্তি

কাল রাতে কোচ হিসেবে আবার অভিষেক হলো ইয়োহান ক্রুইফের। স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য কাতালোনিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন বার্সেলোনার এই সাবেক তারকা। গতকাল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করলেন আয়াক্স-বার্সেলোনা দুই দলেরই কোচ-খেলোয়াড় দুই ভূমিকাতেই সফল ক্রুইফ।
কিন্তু ৬২ বছর বয়সী এই ডাচ কিংবদন্তির ফুটবলে আবারও সক্রিয়ভাবে ফিরে আসার খবরটি আড়াল হয়ে গেল অন্য কারণে। কারণটা ডিয়েগো ম্যারাডোনা। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে এই ম্যাচে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা মেনে নেবে না ফিফা। এর আগে ড্রয়ের অনুষ্ঠানে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে ঢোকার উদ্যোগ নিয়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া ম্যারাডোনাকে এই বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, এই দুই মাসের মধ্যে ফিফার আদেশ অমান্য করলে আরও বড় শাস্তি পেতে হবে তাঁকে। সেটা এমনকি হতে পারে বিশ্বকাপ-নিষেধাজ্ঞাও।
দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তো দূরের কথা, ম্যারাডোনার কোনো ছবিও তোলা যাবে না—ফিফার আইনজীবীরা এমন সতর্কবার্তাই পাঠিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ)। সতর্ক করা হয়েছে কাতালান ফুটবল ফেডারেশনকেও (এফসিএফ)। ফুটবলের দুই কিংবদন্তি পাশাপাশি—আলোকচিত্রীদের জন্য দুর্লভ এই ছবি তাই আপাতত পাওয়া হচ্ছে না। তবে ফিফার এমন আদেশকে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবেই দেখছে এফসিএফ। বিশেষ করে, কালকের ম্যাচটাকে তারা নিয়েছিল কাতালান দলটাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার দারুণ এক উপলক্ষ হিসেবে। ম্যারাডোনা মানেই যেখানে সাংবাদিকদের হুমড়ি খেয়ে পড়া, সেখানে এর চেয়ে ভালো উপলক্ষ আর কোথায় মিলত!
বিষয়টিকে খোঁচা দিয়েছেন ক্রুইফও। ম্যারাডোনার সঙ্গে তাঁর কী নিয়ে কথা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রুইফ বলেছেন, ‘আমরা শুধু একে অন্যের পরিবার নিয়ে কথা বলেছি। কারণ ফিফা তো ফুটবল নিয়ে কথা বলাও নিষিদ্ধ করে রেখেছে!’

তিন মাসের মধ্যেই জনসমর্থন কমেছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর

৫০ বছরের মধ্যে জাপানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভোটারদের সঙ্গে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামার সম্পর্ক ম্লান হতে চলেছে। অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (ডিপিজে)।
চলতি সপ্তাহে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন উদ্যাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামা। কিন্তু তিনি দ্বিধান্বিত ও তাঁর নেতৃত্বে দুর্বলতা রয়েছে বলে যে ধারণা রয়েছে, সেটা দূর করতে এখনো লড়াই করতে হচ্ছে তাঁকে। খবর এএফপির।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, স্টানফোর্ডে শিক্ষিত এই প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার প্রতি জনসমর্থন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে গেছে। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহে তাঁর মন্ত্রিসভার প্রতি সমর্থন ছিল শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি মানুষের।
কোটিপতি প্রধানমন্ত্রী হাতোইয়ামাকে জাপানের কেনেডি হিসেবেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্থানান্তর সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়ায় জাপানি গণমাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে।
ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামা নির্বাচনী ইশতেহারে পেট্রল ট্যাক্স তুলে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা থেকেও তিনি সরে গেছেন। কিয়োটোর দোসিসা বিজনেস স্কুলের অর্থনীতির অধ্যাপক নোরিকো হামা বলেন, সত্যিই খুবই তালগোল পাকানো শুরু করেছেন হাতোইয়ামা।
গত মধ্য সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন হাতোইয়ামা। গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি ডলারের রাজনৈতিক দান সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, হিসাবে গরমিলের অভিযোগে হাতোইয়ামার সাবেক সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছেন কৌঁসুলিরা। তবে হাতোইয়ামা সম্ভবত অভিযোগ থেকে রক্ষা পাবেন। কারণ, হিসেবে অনিয়মের সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার যোগ্য হাতে পড়েনি -সাবেক দুই সহকর্মীর দাবি

এবার পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ী দুই মার্কিন বিজ্ঞানীর সাবেক দুই সহকর্মী দাবি করেছেন, পুরস্কার ভুল মানুষের হাতে পড়েছে। বিজয়ী ব্যক্তিরা প্রকৃত উদ্ভাবক নন। পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল গবেষণা দলের প্রধানের। কানাডার গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকা গত মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছে।
সুইডেনের নোবেল কমিটি ২০০৯ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ী হিসেবে গত অক্টোবর মাসে উইলার্ড বোয়েল ও জর্জ স্মিথের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়, এই দুই মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী যৌথভাবে ‘চার্জ-কাপলড ডিভাইস’ (সিডিডি) নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। তাঁদের উদ্ভাবিত এই সিডিডি আলোকচিত্র ও ডিজিটাল ক্যামেরার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নোবেলজয়ী এই দুই বিজ্ঞানীর সাবেক দুই সহকর্মী হলেন পদার্থবিজ্ঞানী ইউগেন গর্ডন ও মাইক টম্পসেট। নিউজার্সির গবেষণাগারে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতেন। তাঁদের দাবি, সিডিডি প্রযুক্তি উন্নয়নে বোয়েল ও স্মিথ কোনো ভূমিকা রাখেননি।
গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে গর্ডন (৭৮) বলেন, তাঁরা ইমেজিং ডিভাইস সম্পর্কে জানতেন না। তিনি বলেন, নোবেল কমিটি ভুল করেছে। পুরস্কার তুলে দিয়েছে ভুল মানুষের হাতে। তিনি আরও বলেন, পদার্থবিদ্যায় এবারের পুরস্কারটি দেওয়া উচিত ছিল মাইক টম্পসেটকে। সিডিডির সত্যিকারের উদ্ভাবক তিনিই। টম্পসেট ছিলেন সিডিডির গবেষণা দলের প্রধান। তিনিই ডিভাইসটির প্রথম দুটি নমুনা উদ্ভাবন করেন। পত্রিকাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে খোদ টম্পসেট বলেন, মূল চিন্তার জন্য বোয়েল ও স্মিথকে স্বীকৃতি দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু তাঁরা তাঁদের ধারণাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিলেন। তাঁরা স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন। ইমেজের ব্যাপারে তাঁরা আগে-ভাগে কোনো চিন্তাই করতে পারেননি। টম্পসেট দাবি করেন, ‘আক্ষরিকভাবে দেখতে গেলে নোবেল পুরস্কারটি আমারই পাওয়া উচিত ছিল।’
কানাডার হ্যালিফ্যাক্স ক্রোনিকল পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে স্মিথ তাঁর সাবেক এই দুই সহকর্মীর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্মিথ বলেন, তাঁদের দাবি অযৌক্তিক।

পাকিস্তানে সাংবাদিকেরা তিন দিনের শোক পালন করছেন -প্রেসক্লাবে বোমা হামলা

পাকিস্তানের পেশোয়ার প্রেসক্লাবে গত মঙ্গলবারের আত্মঘাতী বোমা হামলার পর শোকস্তব্ধ সেখানকার সাংবাদিকসমাজ। নিহতদের স্মরণে গতকাল থেকে তিন দিনের শোক পালন করছেন তাঁরা। এ ছাড়া সাংবাদিকেরা হাতে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গতকাল বুধবার বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ার প্রেসক্লাবের ফটকে একটি আত্মঘাতী কিশোর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে এক পুলিশ সদস্য ও প্রেসক্লাবের হিসাবরক্ষকসহ চারজন নিহত হন। আহত হন সাংবাদিকসহ আরও কমপক্ষে ২৬ জন।
গতকাল প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রীসহ ২০০ জনেরও বেশি গণমাধ্যমকর্মী প্রেসক্লাবের হিসাবরক্ষক মিয়া ইকবাল শাহর (৫০) জানাজায় অংশ নেন। প্রাদেশিক মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও জানাজায় যোগ দেন। পরে তাঁরা প্রেসক্লাবে সমবেত হন। সমবেতরা নিহতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।
হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যের কথা স্মরণ করে অনেকেই কেঁদে ফেলেন। ওই পুলিশ সদস্য আত্মঘাতী হামলাকারীকে ফটকে আটকানোর পরই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি শামীম শহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ রিয়াজুদ্দিন (৪৫) সাংবাদিকসমাজের সদস্যে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি আমাদের সবাইকে চিনতেন এবং সব সময় হাসিমুখে আমাদের স্বাগত জানাতেন।’

রুশ-মার্কিন পরমাণু অস্ত্র হ্রাস চুক্তি হবে ‘নজিরবিহীন’: সের্গেই ল্যাভরোভ

নতুন একটি অস্ত্র হ্রাস চুক্তির মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র কমানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরোভের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা রিয়া গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
১৯৯১ সালের ‘স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির (স্ট্রার্ট-১) স্থলে পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের নতুন একটি চুক্তির পরিকল্পনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি।
সংবাদ সংস্থা রিয়া ল্যাভরোভের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। এ চুক্তির লক্ষ্য হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা, যা হবে নজিরবিহীন।’
স্নায়ুযুদ্ধকালে যে পরমাণু অস্ত্রভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে, তা হ্রাসের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নব সূচনা করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
স্ট্রার্ট-১-এর স্থলে গত ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন একটি চুক্তির কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এ পর্যন্ত তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই তারিখে স্ট্রার্ট-১-এর সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক পার্শ্ব বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও তাঁরা কোনো চুক্তির ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। এ ব্যাপারে কারণ না দর্শিয়ে দুই প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁরা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।
গত জুলাই মাসে চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট প্রাথমিকভাবে যখন মতৈক্য প্রকাশ করেন, তখন জানানো হয়, চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অস্ত্রভান্ডার থেকে কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬৭৫টি পরমাণু অস্ত্র কমানো হবে। এটা হবে দুই দেশের বর্তমানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের এক-তৃতীয়াংশ কমানো।
ল্যাভরোভ জানান, ক্রিসমাস ও নববর্ষের ছুটির পর বাকি বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।