Thursday, April 28, 2016

প্রার্থিতার দোরগোড়ায় হিলারি-ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস প্রতিযোগিতার দরজায় পা রাখতে প্রাথমিক ধাপের ঠিক কাছাকাছি রয়েছেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান শিবিরের এ দুই তুখোড় রাজনীতিক। ডেমোক্রেট শিবিরে হিলারি এগিয়ে থাকলেও এখনও অনেক বাধা টপকাতে হবে রিপাবলিকানের ট্রাম্পকে। কারণ রিপাবলিকান দলের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী টেড ক্রুজ ও জন কাসিচ জোট বাঁধায় কিছুটা ধন্দের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প। খবর এএফপি, বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ভোটে দু’জনই বড় জয় পেয়েছেন। এ জয়ে চলতি বছরের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে এ দু’জনই মুখোমুখি হবেন বলে ধারণাটা আরও পাকাপোক্ত হল। বিবিসি জানিয়েছে, এ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মার্কিন ধনকুবের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডে ৫৪ শতাংশ, ডেলাওয়ারে ৬১ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ৫৭ শতাংশ, কানেকটিকাট ৫৮ শতাংশ ও রোড আইল্যান্ডে ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের সবকটিতে জয় পেয়েছেন। এ জয়ের পর ট্রাম্প বলেন, আমি নিজেকে মার্কিন নির্বাচনের মনোনয়নের যোগ্য মনে করছি। তাই সিনেটর টেড ক্রুজ ও গভর্নর জন কাসিচের এ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্যদিকে পাঁচ রাজ্যের মধ্যে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন মেরিল্যান্ডে ৬৪ শতাংশ, ডেলাওয়ারে ৬০ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ৫৬ শতাংশ, কানেকটিকাটে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। হিলারির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স শুধু রোড আইল্যান্ডে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। এখানে হিলারি পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ২,৩৮৩ ডেলিগেট প্রয়োজন। গত ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রাইমারি নির্বাচনে এ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, ২,১৫৬ ডেলিগেট পেয়েছেন হিলারি। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্যান্ডার্স পেয়েছেন মাত্র ১,৩৭৪ ডেলিগেট। রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন লাভের জন্য ১,২৩৭ ডেলিগেট পেতে হবে। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ৯৫১ ডেলিগেট পেয়েছেন।

শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয়

শেয়ারবাজারে নিষ্ক্রিয় রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। নতুন করে শেয়ার কিনছে না তারা। আবার শেয়ার বিক্রি করছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। ফলে কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। গত দুই দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি করছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। এগুলো ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগসীমা সমন্বয়, পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে তহবিল। সূত্র বলছে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নেতিবাচক ইক্যুইটির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকের ২ হাজার ২শ’ কোটি টাকা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ৩ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূলধনের চেয়ে নেতিবাচক ইক্যুইটি বেশি। ফলে শেয়ার বিক্রি করলেই এসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যাবে। এছাড়াও আগামী বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাওয়া হবে। এসব বিষয়ে দর কষাকষির কারণেই পরিকল্পিতভাবে বাজারে ধারাবাহিকভাবে পতন হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে,
ডিএসইতে বুধবার ৩১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১০ কোটি ৪৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৫৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ২২৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টি কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়া সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে বুধবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল যমুনা অয়েল, বিএসআরএম লিমিটেড, মবিল যুমনা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ইউনাইটেড পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, পাওয়ার গ্রিড এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস। বুধবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল আইসিবি প্রথম এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, সপ্তম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, কেডিএস এক্সেসরিজ, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, বার্জার পেইন্ট এবং হাক্কানি পাল্প। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল সাফকো স্পিনিং, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস, ন্যাশনাল টিউবস, বিচ হ্যাচারি, আইসিবি, জিএসপি ফাইন্যান্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, জাহিন টেক্সটাইল এবং নদার্ন জুটেক্স। জানতে চাইলে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ইয়াওয়্যার সায়ীদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারের কাঠামো ঠিক নেই। যে কারণে নতুন করে বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসছে না। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে বাজারে নতুন তহবিল আনতে হবে। ইয়াওয়্যার সায়ীদ বলেন, বাজার নিয়ে সবাই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগযোগ্য অনেক শেয়ার রয়েছে। কিন্তু কেউ কিনছে না।

‘ক্রিকেটের ভাষা আমি ভালোই বুঝি’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র এক বছরের পথচলায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলেও চলছে মুস্তাফিজ-শো। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ বাঁ-হাতি পেসার। তবে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে মুস্তাফিজকে বিচার করা যাবে না। অতুলনীয় বোলিং বৈচিত্র্যে গোটা আইপিএলের মুখ হয়ে উঠেছেন মুস্তাফিজ। তার কাটার, স্লোয়ার, ইয়র্কারের কোনো জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। আর ধারাভাষ্যকাররা খুঁজে পাচ্ছেন না জুতসই বিশেষণ! মুস্তাফিজকে নিয়ে মুগ্ধতা ঝরছে সবার কণ্ঠেই। তর্কসাপেক্ষে এই শতাব্দীর সেরা পেসার ডেল স্টেইন যেমন কাল সর্বকালের সেরাদের একজন ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে মুস্তাফিজের তুলনা করেছেন, ‘এক্স-ফ্যাক্টর ও দক্ষতায় মুস্তাফিজুর আমাকে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমি বলছি না যে, আকরামের মতো সুইং করাতে পারে মুস্তাফিজ,
কিন্তু তাকে বল করতে দেখাটা সত্যিই অসাধারণ। ডান-হাতি বোলারদের গতি ও অফ-কাটারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। এখন আমরা একজন বাঁ-হাতি পেসারকে পেয়েছি। তার কাটার ও স্লোয়ার এমন অতুলনীয়, যা আগে কখনও কেউ দেখেনি।’ মুস্তাফিজকে নিয়ে মাতামাতি চলছে ভারতীয় মিডিয়ায়ও। সমস্যা একটাই। সেভাবে ইংরেজি বলতে না পরায় মিডিয়ার সামনে কিছুটা মুখচোরা মুস্তাফিজ! তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। বল হাতে যে দারুণ সপ্রতিভ ২০ বছর বয়সী এই কাটার মাস্টার। তার বোলিংয়ের ভাষা বোঝার সাধ্য নেই কারও। মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ জানালেন, ক্রিকেটের ভাষা ভালোই জানা আছে তার। সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে আইপিএলেও নিজের সাফল্যের রহস্যটা জানালেন মুস্তাফিজ।
প্রশ্ন : খুব বেশি মানুষ আশা করেনি যে, এখানে এতটা সফল হবেন আপনি। আইপিএলের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্টে কীভাবে এটা সম্ভব করে তুললেন?
মুস্তাফিজ : এটা সম্ভব হয়েছে আমার আত্মবিশ্বাস ও শীর্ষপর্যায়ে ভালো করার আকাক্সক্ষার জন্য। আমি জানি, যেখানেই খেলি না কেন, সামনে আসা প্রতিটি সুযোগ আমাকে কাজে লাগাতে হবে। আইপিএলে খেলতে আসার সময় আমার লক্ষ্য ছিল এখানে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করি আমি। এখন মানুষ আমার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করায় ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : আপনার অফ-কাটারের রহস্য কী? কীভাবে এটা এমন নিখুঁত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন?
মুস্তাফিজ : রহস্যটা আমি নিজেও জানি না। সম্ভবত এটা আমার সহজাত প্রতিভা। বেড়ে ওঠার সময় আমার একজন কোচ আমাকে এটা রপ্ত করতে বলেছিলেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি। ডেলিভারিটা ক্রমেই খুব ভালো হতে থাকল। তখন থেকেই এটা নিয়ে আমি লেগে আছি। ফল তো দেখছেনই।
প্রশ্ন : সানরাইজার্সে আপনার অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার একবার বলেছিলেন, আপনার সঙ্গে ম্যাচের পরিকল্পনা ভাগাভাগি করাটা সহজ নয়। কারণ, ইংরেজিতে আপনি খুব একটা সড়গড় নন। অধিনায়কের সঙ্গে যথাযথ কথা না বলেও কীভাবে এমন দুর্দান্ত বোলিং করে যাচ্ছেন?
মুস্তাফিজ : এটা সত্যি যে আমি ইংরেজি বা হিন্দি খুব ভালো বুঝি না। কিন্তু দিনশেষে এটাও সত্যি যে, ক্রিকেটের একটি নিজস্ব ভাষা আছে। সেটা আমি বেশ ভালোই বুঝি। আমি জানি, আমার কাছে কী আশা করা হয়। আমি যাতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, সেটাই করার চেষ্টা করি। অধিনায়ক কী চান, সেটাও বোঝার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত সব ভালোই হচ্ছে।
প্রশ্ন : বেশ কয়েকজন বড় ব্যাটসম্যানের উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে কোনটা আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? এমন কোনো ব্যাটসম্যানই কি আছেন, যিনি আপনাকে নির্ঘুম রাত উপহার দিয়েছেন?
মুস্তাফিজ : না, আমার কোনো পছন্দের উইকেট নেই। প্রতিটি উইকেটই আমাকে সমান আনন্দ দেয়। আর বিশ্বে এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই যে আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। আমি জানি, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে সব ব্যাটসম্যানকেই আটকানোর পথ খুঁজে বের করতে পারব।
প্রশ্ন : আপনি বলতে চাইছেন, একজন বিরাট কোহলিও আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারেন না? কিংবা একজন এমএস ধোনি, যিনি টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে সেই বিখ্যাত স্প্রিন্টে আপনাকে হারিয়ে বাংলাদেশকে বিদায় করে দিয়েছিলেন?
মুস্তাফিজ : তারা সবাই অনেক বড় খেলোয়াড়, কিন্তু আমি নিজের শক্তির জায়গায় অবিচল থাকার চেষ্টা করি। পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাঙ্গালোরের ম্যাচটা পরের দিনই পেছনে ফেলে এসেছি আমি। ক্রিকেটে আপনি অতীত আঁকড়ে পড়ে থাকতে পারেন না। আমি এটাও জানি না যে, ধোনির দলের (পুনে) বিপক্ষে আমাদের খেলা কবে। তবে যখনই আমাদের দেখা হবে, আমি আমার সেরাটাই দেব। ওয়েবসাইট।

অস্ট্রেলিয়া দলে ডোনাল্ড?

অ্যালান ডোনাল্ড
আগামী সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কোচ হতে পারেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড। ক্রেইগ ডারমট দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কোচের পদটি শূন্য। জুনে অনুষ্ঠেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাডাম গ্রিফিথকে। আর ‘সাদা বিদ্যুৎ’কে দায়িত্ব দেওয়া হবে জুলাই-সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফর ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে। ডোনাল্ডের নিয়োগ এখনো নিশ্চিত নয়, শ্রীলঙ্কা সফরের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে স্থায়ী বোলিং কোচ হিসেবে জেসন গিলেস্পিই তাদের প্রথম পছন্দ।

সাড়ে ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরের লেস্টার সমর্থক

যখন লেস্টারকে এভাবে কেউ চেনেনি, তখনো লেস্টারের
স্কার্ফটা এভাবেই উঁচিয়ে ধরতেন রড ডি লেসলে
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে যদি কখনো লেস্টার সিটির জার্সি গায়ে কোনো পেঙ্গুইনকে দেখা যায়, তাহলে অন্য কথা। আর না হলে নিউজিল্যান্ডের রড ডি লিসলেই যে সবচেয়ে দূরে থাকা একনিষ্ঠ লেস্টার সমর্থক, সেটি বোধ হয় বলাই যায়! রাগবি-পাগল দেশের এক প্রত্যন্ত শহর টকোরোয়া, লেস্টার থেকে যে শহরের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কিলোমিটার। ফুটবল সমর্থকই সেখানে হাতে গোনা, যাঁরা আছেন তাঁরাও বেশির ভাগই ইউরোপের সব নামীদামি ক্লাবের সমর্থক। সেই টকোরোয়ার ডি লিসলে কিনা গত ৪২ বছর ধরে মজে আছে লেস্টারের প্রেমে! তো কীভাবে জন্মাল লেস্টারের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা? ৫৫ বছর বয়সী ডি লিসলে নিজেই শোনালেন গল্পটা, ‘১৯৭৪ সালে আমাদের সাদা-কালো টেলিভিশনে আমি লিভারপুল-লেস্টারের একটা ম্যাচ দেখছিলাম। খেলাটা উপভোগ করার জন্য আমাকে যেকোনো একটা দলকে সমর্থন দিতে হতো। আমি লেস্টারকে বেছে নিলাম, কারণ ওদের নামটা শুনতে বেশি ভালো লাগছিল।’ সে-ই শুরু। এখন যেমন চাইলেই ফেসবুক-টুইটারে অন্য লেস্টার সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, অনলাইন স্ট্রিমিং করে খেলা দেখতে পারছেন, ফ্যান-ফোরামে ভাব বিনিময় করতে পারছেন, ওই সময় তো এসব কিছুই ছিল না। আসলে প্রত্যন্ত ওই শহরে বাইরের দুনিয়ার ফুটবলের খবর পাওয়াই খুব কষ্টসাধ্য ছিল। জাহাজে করে ফুটবল সাময়িকী শুট আসত, সেটি হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তিন মাস পুরোনো হয়ে যেত। গত ৪২ বছরে অনেক দুঃসময় গেছে লেস্টারের। কখনো লড়তে হয়েছে অবনমন এড়াতে, কখনো নেমে গেছে দ্বিতীয় বিভাগে, এমনকি তৃতীয় বিভাগেও। কিন্তু সেই যে সাদা-কালো টেলিভিশনে খেলা দেখে লেস্টারের প্রেমে পড়েছিলেন, সেটিতে ভাটা পড়েনি একটুও। এমনকি গত মৌসুমেও তো প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন এড়াতে লড়ছিল ক্লাবটি। সেই লেস্টারই এ মৌসুমে রূপকথা লিখে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে। ডি লিসলের কাছে এটা তো স্বপ্নের মতো ব্যাপার। আর তাই সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে মৌসুমে দলের শেষ দুটি ম্যাচ দেখতে ডি লিসলে চলে আসছেন ইংল্যান্ডে। আসছেন তো ঠিকই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যদি কোনো নাটকীয়তায় শিরোপা জিততে না পারে লেস্টার! মন ভেঙে যাবে না তো? ডি লিসলে কিন্তু হাসিমুখে জানিয়ে দিলেন, তিনি সেটির জন্যও তৈরি আছেন, ‘এখনো যেকোনো সময় সব ভজকট লেগে যেতে পারে। দেখা গেল, সাধারণ একটা মৌসুমের মতোই হয়ে গেল শেষে। আপনি যখন লেস্টারের মতো একটা দলের সমর্থক হবেন, সব হাসিমুখে মেনে নেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। যদিও এখান থেকে যদি ওরা শিরোপা জিততে না পারে, সেটি হবে খুব হতাশার।’

বার্নাব্যুতে ঘুম ভাঙার অপেক্ষা

পায়ে নিজের ব্র্যান্ডের জুতা, কানে হেডফোন—ইতিহাদে পরশু রোনালদো ছিলেন
বেশ আমুদে মেজাজে। সময়টাও খারাপ কাটেনি—কখনো মুঠোফোনে নিজেরই
ভিডিও দেখেছেন, সতীর্থ বোর্হা মায়োরালের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন আবার
সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সাবেক সতীর্থ ওয়েইন হারগ্রিভসকে
চ্যাম্পিয়নস লিগের থিম সংয়ের বদলে পরশু ম্যাচের আগে ইতিহাদে কেউ কি ঘুমপাড়ানি গান চালিয়ে দিয়েছিলেন? না হলে ম্যাচটা অমন ম্যাড়মেড়ে হওয়ার কারণ কী? শেষ দিকে খানিক ব্যতিক্রম, এ ছাড়া প্রায় ঘুমপাড়ানি একটা ম্যাচই তো হলো। যার প্রতিফলন রইল ম্যাচের ফলেও—গোলশূন্য ড্র। আগামী বুধবার বার্নাব্যুর দ্বিতীয় লেগেই এখন দুই দলের জেগে ওঠার অপেক্ষা। চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড ১০ শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি প্রথম সেমিফাইনালে ওঠা ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ম্যাচে না কথা বলল রিয়ালের কৌলীন্য, না সিটির একটি প্রথমের উত্তেজনা। ম্যাচের আকর্ষণ অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগেই কিছুটা মিইয়ে গেছে। ঊরুর চোট শেষ পর্যন্ত নামতে দেয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে যিনি সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করেছেন, রিয়ালের ২৬ গোলের ৭৭ শতাংশতেই যাঁর অবদান (গোল করে ও করিয়ে), তাঁর অনুপস্থিতির প্রভাব তো পড়ারই কথা। কিন্তু তাই বলে এমন হবে! শুধু রিয়াল নয়, প্রথমার্ধে সিটিও ছিল ‘ঘুমন্ত’। পোস্টে কোনো দলেরই শট নেই! প্রথমার্ধে বলার মতো ঘটনা চোট পেয়ে রিয়াল স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা ও সিটি মিডফিল্ডার ডেভিড সিলভার মাঠ ছেড়ে যাওয়া। বেনজেমার খেলা নিয়ে একটু সংশয় আছে, কিন্তু সিলভার আর খেলা হচ্ছে না বার্নাব্যুতে। ঘুমপাড়ানি প্রথমার্ধ শেষে দ্বিতীয়ার্ধ কিছুটা ‘ক্যাফেইনে’র স্বাদ দিয়েছে। আক্রমণ কিছু বাড়ে, রিয়ালেরই বেশি। ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দলের ভাগ্য ভালো, গোলপোস্টে জো হার্ট ছিলেন। শেষ দিকে রিয়াল ডিফেন্ডার পেপের একটি শট ঠেকিয়েছেন। আগে-পরে আরও কয়েকটি সেভ করে সিটির হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রেখেছেন। ইংলিশ গোলরক্ষক এখন দ্বিতীয় লেগের অপেক্ষায়, ‘বার্নাব্যুতে ধুন্ধুমার, পুরোনো দিনের মতো একটা লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেছে।’ সেই মঞ্চে কার জয়ের সুযোগ বেশি? রিয়ালকে জিততেই হবে, গোলশূন্য ড্র হলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, আর অন্য যেকোনো স্কোরে ড্র হলেই ফাইনালে চলে যাবে সিটি। ইংলিশ দলটির অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানির চোখে এই সমীকরণটা রিয়ালেরই অস্বস্তির কারণ, ‘গোলশূন্য ড্র, এটা আমাদের অ্যাওয়ে ম্যাচ হলে আমি স্বস্তিতে থাকতে পারতাম না।’ জিনেদিন জিদানের অবশ্য অস্বস্তিতে থাকার কথা নয়। রিয়ালের কোচ দুই দলেরই সমান সম্ভাবনা দেখেন, ‘ম্যাচ নিয়ে আমি খুশি। দ্বিতীয়ার্ধে ভালোই খেলেছি, কিছু সুযোগও পেয়েছি। তবে এই ম্যাচের আগে যেমন ৫০-৫০ ছিল, আমার মনে হয় এখনো তেমনই, ৫০-৫০।’ তবে এটি নিশ্চিত, ভারসাম্যটা যেকোনো একদিকেই ঝুঁকে পড়তে যাচ্ছে বার্নাব্যুতে!

‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে’

উপুল থারাঙ্গা
মোহামেডানের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে এসেছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। প্রায় ছয় মাস শ্রীলঙ্কা দলের বাইরে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কাল মিরপুর একাডেমি মাঠে কথা বললেন ঢাকা লিগ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের সাফল্য ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে
* প্রথম ম্যাচে ভালো করেছেন। পরের ম্যাচ নিয়ে কী ভাবছেন?
উপুল থারাঙ্গা: হ্যাঁ, প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো করেছি। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো করেছে। বোলাররাও ভালো করেছে (থারাঙ্গা করেছেন ৭০ রান, মোহামেডান জিতেছে ৭৮ রানে)। আশা করি, আমরা এটা ধরে রাখব। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে পরের ম্যাচও জিততে পারব।
* এর আগে শ্রীলঙ্কার হয়ে যখন বাংলাদেশে এসেছেন, তখন অনেক দর্শকের সামনে খেলেছেন। কিন্তু ঢাকা লিগে সেটি নেই। দর্শকশূন্য মাঠে খেলতে কেমন লাগছে?
থারাঙ্গা: অন্য রকম তো লাগছেই। তবে শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের চেয়ে এখানে দর্শক বেশি (হাসি)। পাঁচ শর বেশি দর্শক তবু মাঠে দেখা যাচ্ছে। এটা ভালো। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে এত দর্শকও পাওয়া যায় না।
* লিগে আপনাদের দল কেমন হয়েছে?
থারাঙ্গা: ভালো হয়েছে। কিছু ছেলেকে প্রথম দেখলাম, ওরা দারুণ প্রতিভাবান। গত ম্যাচে মুশফিক এবং তরুণ ব্যাটসম্যান বিশেষ করে আরিফ (হক) ও মিলন (নাজমুল হোসেন) অসাধারণ ব্যাটিং করে পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিয়েছে।
* মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা নিশ্চয়ই দেখেছেন। বাংলাদেশের হয়ে তিনি অসাধারণ করেছেনই, আইপিলেও ধারাবাহিক ভালো করছেন। তাঁকে যদি শুরু থেকেই পেতেন, আপনাদের জন্য আরও ভালো হতো নিশ্চয়ই? থারাঙ্গা: ওকে শুধু টিভিতেই দেখেছি। এখনো তার সঙ্গে খেলা হয়নি। এ মুহূর্তে সে দুর্দান্ত বোলিং করছে। আইপিএলে তার কিছু ম্যাচ দেখেছি। সত্যি ও জাদু দেখাচ্ছে।
* মুস্তাফিজের সঙ্গে খেলতে কি আপনি উন্মুখ?
থারাঙ্গা: অবশ্যই। তাকে যদি আমরা পাই, আমাদের দল আরও শক্তিশালী হবে।
* আপনি খেলছেন অনেক দিন ধরেই। এই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে দেখছেন?
থারাঙ্গা: আমি খেলা (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট) শুরু করেছি ২০০৫ সাল থেকে। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখানে মাঠ, একাডেমি, জিম এসব সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা উঠে আসছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশ অনেক ভালো করেছে।
* তাহলে কি এখন শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলে মনে করেন?
থারাঙ্গা: গত এক বছরে বাংলাদেশ অসাধারণ করেছে। আর এই সময়ে আমরা হারিয়েছি কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো খেলোয়াড়দের। আমাদের দলে এখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়। পারফরম্যান্স চিন্তা করলে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
* শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা কাটিয়ে উঠতে কী করণীয় বলে মনে করেন?
থারাঙ্গা: শ্রীলঙ্কায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। এটা আসলে সময়ের অপেক্ষা। আশা করি তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কা আবার ছন্দে ফিরে আসবে।
* এবার ঢাকা লিগে আপনার লক্ষ্য কী?
থারাঙ্গা: রান করতে চাই। ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত ছয় মাস আমি জাতীয় দলের বাইরে। এখন চেষ্টা করছি শ্রীলঙ্কা দলে ফিরতে। এখানে ভালো করতে পারলে হয়তো আগামী ইংল্যান্ড সফরে সুযোগ পেতে পারি।

সালাউদ্দিনকে ভোট দিতে অনুরোধ হেলালের

অনেক দিন পর আবার একসঙ্গে। কাল সালাউদ্দিনের
বাসায় গিয়ে তাঁকে সমর্থন জানালেন হেলাল
১৯৭৪ সালে আবাহনী ক্লাবে যখন প্রথম আসেন, তাঁর ‘বড় ভাই’ ছিলেন হারুনুর রশিদ, কাজী সালাউদ্দিনরা। সেই দিনে ফিরে গেলেন গোলাম রাব্বানী হেলাল। কাজী সালাউদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে বললেন, ‘এটা আমার পিঠটান নয়। কিন্তু এখন নির্বাচনে এত টাকার ছড়াছড়ি, নির্বাচনের কোনো পরিবেশই নেই। দ্বিতীয়ত, বাঁচাও ফুটবলের যিনি সভাপতি প্রার্থী, তাঁকে আমি জোর করে কাউন্সিলর বানিয়েছি। উনি কোনোভাবেই ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন।’ হারুনুর রশিদকে পাশে বসিয়ে গতকাল বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন হেলাল। তার আগে সকালে সালাউদ্দিনের বসায় গিয়ে তাঁকে সমর্থন জানিয়ে হেলাল বলেন, ‘সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার মতের অমিল ছিল জেলার ফুটবল নিয়ে। উনার ইশতেহারে জেলার ফুটবল ভালোভাবে আছে। তাছাড়া দেশের এই অবস্থায় ফুটবলের জন্য সালাউদ্দিন ভাইকে খুবই দরকার। উনি ছাড়া উদ্ধার করার কেউ নেই। আমি ১৩৪ ভোটারের কাছেই আবেদন জানাই, “আপনারা সালাউদ্দিন ভাইকে ভোট দেবেন।”’ হেলালকে বুকে টেনে সালাউদ্দিন বললেন, ‘হেলাল আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে সেটা সাময়িক। আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ১৯৮২ সালে একসঙ্গে সালাউদ্দিনের সঙ্গে জেল খেটেছেন হেলাল। সেই সালাউদ্দিন আর অন্য প্রার্থীর মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখেন তিনি, ‘দেশের স্বাধীনতায় উনার অনেক অবদান আছে। ভারতে উনার খেলা দেখতে লোক আসত, ওই টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের তহবিলে দেওয়া হতো। উনার চেয়ে যোগ্য প্রার্থী দেখছি না। আমরা বঙ্গবন্ধু, শেখ কামালের অনুসারী।’ হেলাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও ব্যালটে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম থাকবে। যেমনটা থাকবে বাঁচাও ফুটবল পরিষদকে সমর্থন দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলামের নামও। সভাপতি পদে চারটি মনোয়নপত্র জমা পড়লেও কার্যত প্রার্থী এখন দুজন—কাজী সালাউদ্দিন ও কামরুল আশরাফ।

দুশ্চিন্তার নাম তাসকিন

তাসকিন আহমেদ
আবাহনী থেকে তাসকিন আহমেদের জন্য পরামর্শ, ‘মন খুলে বল কর। তোর চাকিং হয় না।’ খুবই স্বাভাবিক। ২০ লাখ টাকা দামের খেলোয়াড়। তাঁর কাছ থেকে ক্লাব তো সেরাটা নিতে চাইবেই! মিরপুরে মাঠের বাইরে থেকে যে একজন ক্লাব কর্মকর্তা পরশু ‘মার চাক, মার চাক’ বলে তাঁকে ‘উৎসাহ’ দিতে চাইলেন, তাসকিনও মনে হয় তাতে সাড়াই দিলেন, ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের চলমান সংস্কৃতিতে সেটা নিয়েও বলার কিছু নেই। এখানে নৈতিকতার চেয়ে ক্লাবের স্বার্থই বড়। কিন্তু তাসকিনের জন্য কোনটা বড়? ২০ লাখ টাকা, নাকি সামনে পড়ে থাকা অনন্ত ভবিষ্যৎ? হঠাৎ অ্যাকশন বদলে এক-দুইটা ‘ফাউ’ উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা, নাকি ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন শোধরানো? বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাসকিনের মতো পেসার খুব বেশি আসেনি। চাইলেই তিনি পারেন ভবিষ্যৎটাকে সোনার হরফে লিখতে। কিন্তু ২১ বছর বয়সী তাসকিনকে কে বোঝাবে সেটা! জাতীয় দলের বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের প্রেসক্রিপশনে তাসকিনের অ্যাকশন শোধরানোর কাজ করছেন বিসিবির বোলিং কোচ মাহবুব আলী। এ নিয়ে তিন সেশন কাজ হয়েছে। তাতে নাকি উন্নতির লক্ষণও সুস্পষ্ট। কিন্তু ২২ এপ্রিল প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার পর কাল পর্যন্ত আর কোনো কাজ হয়নি। শারীরিকভাবেই দুটি একসঙ্গে করা কঠিন হয়ে যায় তাসকিনের জন্য। লিগ চলাকালে সেটা কতটা ভালোভাবে হবে, তা নিয়েও তাই সংশয় আছে। তাসকিন অবশ্য কাল বললেন, ‘আমার তেমন সমস্যা হচ্ছে না। পুনর্বাসনের কাজ চলছে। পরশুই (কাল) আবার সেশন আছে।’ কিন্তু একই সঙ্গে বোলিং অ্যাকশন শোধরানো আর খেলা চালিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিসংগত? উদাহরণ চোখের সামনেই। তাসকিনের সঙ্গেই অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন আরাফাত সানি। অ্যাকশন শোধরানোর কাজও দুজনে শুরু করেছেন একসঙ্গে। স্পিন কোচ রুয়ান কালপাগের অনুপস্থিতিতেও সানি সেটা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত বোলিং ফুটেজ পাঠিয়ে কোচকে জানাচ্ছেন তাঁর সর্বশেষ অবস্থা। সবচেয়ে বড় কথা, ‘প্লেয়ার ড্রাফটে’ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব তাঁকে দলে নিলেও এবারের লিগে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ খেলেননি সানি। ক্লাবের চাপ থাকা সত্ত্বেও অ্যাকশন পুরোপুরি ঠিক হওয়া পর্যন্ত খেলতে চাচ্ছেনও না। আরেক বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের উদাহরণও টানা যায় এখানে। খেলা দূরের কথা, ২০০৯-এ বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর সময় এতটাই নিভৃতে চলে গিয়েছিলেন যে, তাঁকে কেউ খুঁজেই পায়নি। কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিকেএসপি আর খুলনায় হয়েছিল রাজ্জাকের পুনর্বাসন। তাসকিনের প্রতি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পরামর্শ, ‘ও যদি সত্যিই অ্যাকশন ঠিক করতে চায়, তাহলে তার আগে না খেলাই ভালো। কারণ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওকে পুরোনো অ্যাকশনেই বল করতে হবে। তা ছাড়া এ রকম সময়ে মনের ওপর চাপ থাকে। বোলিং খারাপ হয়ে আত্মবিশ্বাসও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’ অ্যাকশন শোধরানোর প্রক্রিয়াটা বোলারদের জন্য বড় একটা পরীক্ষাই। রানআপ থেকে শুরু করে বল ডেলিভারি দেওয়া পর্যন্ত অনেক ছোটখাটো জিনিসে আনতে হয় পরিবর্তন। পুরোপুরি রপ্ত করার আগে খেলায় সেগুলো প্রয়োগ করলে সবই এলোমেলো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। একই সঙ্গে খেলা ও অ্যাকশন পরিবর্তনের কাজ চললে কোনোটাই পরিপূর্ণভাবে তো হয়ই না, উল্টো ত্রুটি শোধরানোর প্রক্রিয়া হয়ে যেতে পারে দীর্ঘ। এমনকি নতুন সমস্যা যুক্ত হয়ে কাজটা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। হুমকির মধ্যে পড়তে পারে খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার। নামি ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন সরাসরিই বলছেন, ‘দুটো কাজ একসঙ্গে করা টেকনিক্যালিই সম্ভব নয়। দুটোর যেকোনো একটি করতে হবে। ও (তাসকিন) যদি পুনর্বাসনের কাজ করে, তাহলে ধারাবাহিকভাবে সেটাই করে একটা জায়গায় আসতে হবে। যখন বুঝবে সব ঠিক আছে, তারপর খেলায় যেতে পারে। আর সে যদি খেলা চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে খেলা শেষ হওয়ার পর পুনর্বাসনের কাজ করতে হবে। দুটি কাজ একসঙ্গে মোটেই করা উচিত নয়। খেলোয়াড়ের জন্য সেটা কনফিউজিং হতে পারে।’ বিসিবির পরিচালক ও আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদেরও একই মত, ‘দুটো একসঙ্গে করলে সেটা সাংঘর্ষিক হতে পারে।’ কিন্তু তিনি ক্লাবের চাকরি করেন। কোচ ক্লাবের দিকটাই আগে দেখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। মাহমুদের তাই মত, ‘প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেই পুনর্বাসনের কাজ করা উচিত তাসকিনের। সে জন্য তার হাতে তখন যথেষ্ট সময়ও থাকবে।’ বলটা এখন তাসকিনের কোর্টে—টাকা বড় নাকি ভবিষ্যৎ?

মুস্তাফিজকে দেখে আকরামকে মনে পড়ে স্টেইনের

স্টেইনকে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে করিয়ে দেন মুস্তাফিজ
মুস্তাফিজুর রহমানের ভক্তের তালিকাটা দিন দিন লম্বাই হচ্ছে। অভিষেকের পর থেকেই ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিতে থাকা এই পেসারের ভক্তের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ডেল স্টেইন। প্রোটিয়া ফাস্ট বোলারের মতে, মুস্তাফিজের সামর্থ্য আর প্রতিভা দেখে তাঁর ওয়াসিম আকরামের কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে। মুস্তাফিজের বোলিং দারুণ উপভোগ করেন স্টেইন, ‘মুস্তাফিজ হয়তো আকরামের মতো অত বেশি সুইং করাতে পারে না। কিন্তু তার বোলিং দেখাটাও দারুণ উপভোগ্য।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে বিরল এক প্রতিভা বলেই মানেন স্টেইন। মুস্তাফিজের বোলিং বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানের পরীক্ষা নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি বোলারকে দেখে স্টেইন এর কারণটাও ধরতে পেরেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডান হাতি ফাস্ট বোলারদের অফ কাটার দিতে দেখে ব্যাটসম্যানরা। তারা এটাতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাঁ হাতি মুস্তাফিজ কাটারের সঙ্গে বলের গতিও পরিবর্তন করছে—যা ব্যাটসম্যানরা আগে দেখেনি।’ গত বিশ্বকাপে ট্রেন্ট বোল্ট আর মিচেল স্টার্কের বোলিং মুগ্ধ করেছিল স্টেইনকে। এই দুই বোলারের পর মুস্তাফিজের আবির্ভাবকে আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন স্টেইন। একই সঙ্গে তাঁর জন্য শুভ কামনাও জানিয়েছেন, ‘গত বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট আর অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক নজর কেড়েছিলেন সবার। বোল্ট তো সাদা বলে দারুণভাবে সুইং করিয়েছিল। স্টার্ক তার গতি দিয়ে আনন্দ দিয়েছিল সবাইকে। এবার বাংলাদেশ থেকে এসেছে মুস্তাফিজ। আমি ওর সাফল্য কামনা করি। আমি মনে করি, সময়ের সঙ্গে সে আরও বেশি পরিণত হয়ে উঠবে।

‘আমি হিংস্র নই, আমার চেয়ে নেইমারই জঘন্য’

নেইমারের চেয়ে তাঁর ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড ভালো, দাবি পেপের
পেপের ভাবমূর্তি মোটেও সুবিধার নয়। পেপের নামটা শুনলেই মনে হয় দানবীয় কোনো ডিফেন্ডারের কথা। মাথা গরম করায় সুখ্যাতি আছে যাঁর। তবে রিয়াল মাদ্রিদের এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডার বলছেন, যতটা ভাবা হয়, তিনি মোটেও ও রকম হিংস্র স্বভাবের নন। বরং রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যাবে, তাঁর চেয়ে নেইমারের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড খারাপ। সত্যিটা হলো, ​তিনি যদি সে রকম ডিফেন্ডার হতেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে নয় বছর ধরে খেলতে পারতেন না। জঘন্য ফাউল করে লাল কার্ড দেখা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার অনেক কালো দাগ আছে পেপের ক্যারিয়ারে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তো গেটাফের এক খেলোয়াড়কে বুট দিয়ে মাড়িয়ে দিয়ে দশ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন। তবে পেপের দাবি, তাঁকে একটু রং মাখিয়েই উপস্থাপন নাকি করা হয়, ‘মানুষ যা খুশি বলতে পারে। সত্যিটা হলো, নেইমারই আমার চেয়ে বেশি বেশি হলুদ কার্ড দেখে। রিয়াল মাদ্রিদ একটা আদর্শ ক্লাব। আমি যদি সে রকম খ্যাপা স্বভাবেরই হতাম, হিংস্র খেলোয়াড়ই হতাম; এতগুলো বছর রিয়ালের হয়ে খেলার সুযোগ হতো না।’ এই মৌসুমে লা লিগায় ২০ ম্যাচে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখেছেন পেপে, ৩১ ম্যাচে ছয়টি হলুদ কার্ড দেখেছেন নেইমার।

শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে

ঢাকা লিগে মোহামেডানের হয়ে প্রথম ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন থারাঙ্গা
প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে পেলে শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গার ব্যাট হেসেছে নিয়মিতই। ৩ টেস্টে ৭৭.২৫ গড়ে ৩০৯ এবং ১৫ ওয়ানডেতে ৪৫.৭১ গড়ে ৬৪০ রান তা-ই বলে। এখন হয়তো শ্রীলঙ্কা দলে নিয়মিত নন এই ওপেনার। তবে তাঁর সেরা সময়ে প্রবল প্রতাপান্বিত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা চলত না বাংলাদেশের। নিতান্তই পুঁচকে দল ছিল বাংলাদেশ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চিত্র। সেই থারাঙ্গাই এখন নিজের দলের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশকে।  গত বিশ্বকাপের পর থেকে হিসাব করলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ টেস্টে চারটি ড্র করেছে, হেরেছে একটিতে। ১৮ ওয়ানডে খেলে জিতেছে ১৩টি, হার ৫টি। এই সময়ে ২১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ৯টিতে জিতেছে, হেরেছে ১১টিতে। বাংলাদেশের তুলনায় এই সময়ে শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান অনুজ্জ্বলই দেখায়। ১০ টেস্টে তাদের ৪ জয়, হার ৬। ২০ ওয়ানডে ম্যাচে ১০ জয়, হার ৯। আর ১৭ টি-টোয়েন্টিতে ৪টি জয়ের বিপরীতে হেরেছে ১৩টিতে।  এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশকে তাই এগিয়ে রাখছেন ২১ টেস্ট, ১৮০ ওয়ানডে ও ১০ টি-টোয়েন্টি খেলা শ্রীলঙ্কান ওপেনার। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে আসা লঙ্কান ব্যাটসম্যান আজ মিরপুর একাডেমি মাঠে বললেন শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতার কারণও, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশ অসাধারণ করেছে। এই সময়ে আমরা হারিয়েছে কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো খেলোয়াড়দের। আমাদের দলে এখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়। পারফরম্যান্স বিচারে আমাদের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে।’  বাংলাদেশের এই উন্নতির পেছনে লঙ্কান ব্যাটসম্যানের যুক্তি, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখানে মাঠ, একাডেমি, জিম প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা উঠে আসছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশ অনেক ভালো করেছে।’ সময়টা এখন ভালো না গেলেও শ্রীলঙ্কা দ্রুতই সাফল্যের ধারায় ফিরবে, এমনই আশা থারাঙ্গার, ‘শ্রীলঙ্কায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। তিন, ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে আশা করি শ্রীলঙ্কা আবার ছন্দে ফিরবে।’

তারকা নই

এলিজাবেথ ওলসেন
তাঁর বিখ্যাত হওয়ার কথাই ছিল না। খ্যাতির ঝলমলে আলোর মাঝখানে দাঁড়িয়েও তাই এলিজাবেথ ওলসেন বলতে পারছেন, ‘আমি তারকা হতে আসিনি। আমি তারকা হতে চাই না।’ তাঁর দুই যমজ বোন ছোট থেকেই বিখ্যাত। ম্যারি-কেট আর অ্যাশলি ওলসেন ছোট থেকেই বড় তারকা। এঁদেরই একটা টিভি সিরিজে শখের বসে অভিনয় করেছিলেন এলিজাবেথ, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১১ বছর। সেটাই যে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে ভাবতেই পারেননি। অভিনয়টাকে ভালোবেসেছিলেন। থিয়েটারে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ক্যাপটেন আমেরিকা: উইন্টার সোলজার-এর শেষ দৃশ্য, গডজিলা আর অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন টানা তিনটি ছবির অবিস্মরণীয় সাফল্য এখন ওলসেনকে বানিয়ে দিয়েছে হলিউডের শীর্ষ তারকাদের একজন। অথচ এই ‘তারকা’ শব্দটাতেই ভীষণ অরুচি তাঁর। ওলসেন বলেছেন, ‘আমি অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, থিয়েটারে কাজ করে এলে ব্যাপারটা অন্য রকম হবে। আসলে তারকা আর খ্যাতি ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন লাগে। এসব নিয়ে আমার কোনো আকাঙ্ক্ষাই নেই।’ এ কারণেই জিরো ফিগার তত্ত্ব, প্রসাধনী কিংবা সৌন্দর্যের জন্য অস্ত্রোপচার—এসবেও আগ্রহ তাঁর নেই, ‘এমন নয় আমি অতি-আত্মবিশ্বাসী, তবে সব সময়ই যেহেতু নাচতাম, খেলতাম, এমনিতেই যথেষ্ট এক্সারসাইজ হয়ে যায়। আমি যথেষ্ট রোগা একটা মানুষ, তবে অবশ্যই সেই শূন্য পাটকাঠির অভিনেত্রী নই, ওটা একেবারেই আলাদা জগৎ।

বিচারক জুয়েল আইচ

জুয়েল আইচ
তাঁকে সবাই জাদুশিল্পী হিসেবেই চেনেন। কিন্তু এবার বসছেন বিচারকের আসনে। তিনি জুয়েল আইচ। সবার প্রিয় এ জাদুশিল্পী বিচারক হচ্ছেন এনটিভির কৌতুকবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘হাশো’-এর। তিন বছর ধরে এনটিভি আয়োজন করে আসছে অনুষ্ঠানটির। এরই মধ্যে তৃতীয় মৌসুম শেষ হয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে চতুর্থ মৌসুমের। তাই নতুন মৌসুমে পরিবর্তন এসেছে বিচারক প্যানেলেও। চতুর্থ মৌসুমে বিচারকের তালিকায় যোগ হয়েছে জুয়েল আইচের নাম। তাঁর সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন অভিনেত্রী নিপুণ এবং মাজহারুল ইসলাম। এর মধ্যে নিপুণ দ্বিতীয় ও মাজহারুল ইসলাম তৃতীয় মৌসুমের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তিন বিচারককে নিয়ে আগামী জুলাই মাসে শুরু হবে ‘হাশো’। অনুষ্ঠানটির প্রযোজক হাসান ইউসুফ খান বললেন, ‘আমরা বরাবরই অনুষ্ঠানটি নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করি। এ কারণেই একটু পরিবর্তন করেছি। জুয়েল আইচ তৃতীয় মৌসুমে অতিথি বিচারক হিসেবে আমাদের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন।’ ‘হাশো’ নিয়ে জুয়েল আইচ বললেন, ‘হাসি মানুষের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। শরীর এবং মনের জন্য হাসির কোনো বিকল্প নেই। এমন একটি হাসির অনুষ্ঠানে বিচারক হওয়া আনন্দের ব্যাপার। ভালো লাগছে।’ নিবন্ধনের পর অডিশন দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে সবাইকে। আগামী ১ মে শুরু হবে নিবন্ধন। গতবারের মতো এবারের কিস্তির উপস্থাপনাও করবেন অভিনেতা সাজু খাদেম।

জায়েদ খান গ্রামছাড়া !

জায়েদ খান
ছবির মানুষটিকে দেখলে চেনা যায় কি! পাঠক নিশ্চয়ই চিনেছেন তাঁকে। আরে, এ যে দেখছি জায়েদ খান! কিন্তু চেহারার এ কী হাল তাঁর! ছবিটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়ক জায়েদ খানেরই বটে। তবে চুরির অভিযোগে সোজা একেবারে গ্রামছাড়া হওয়ার এই মুহূর্তটি বাস্তবের কোনো ঘটনা নয়। মালেক আফসারি পরিচালিত ‘অন্তর জ্বালা’ ছবির কাহিনির দৃশ্য এটি। সম্প্রতি পিরোজপুরের লোকেশনে ছবির এমনই একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। চরিত্রটি সম্পর্কে জায়েদ খান জানিয়েছেন, গ্রামের বেকার যুবক আলাল। বাংলা সিনেমা দেখার পোকা। মান্নার ভক্ত। নিজের নামটিও বদলে মান্না রেখেছে। একদিন সিনেমা দেখার টাকা জোগাড় করতে মায়ের গয়না চুরি করে সে। পরে বাবা তাকে মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। এমনই একটি দৃশ্য। জায়েদ খান বলেছেন, ছবিতে আলাল চরিত্রটির মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি ইতিবাচক দিক তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।  এদিকে ছবির পরিচালক জানিয়েছেন, পিরোজপুরের বিভিন্ন লোকেশনে এ ছবির ৯০ ভাগ শুটিং শেষ হয়েছে। বাকি ১০ ভাগ শুটিং হবে ঢাকার লোকেশনে। ছবিতে জায়েদ খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন পরীমনি। আরও অভিনয় করছেন অমিত হাসান, বড়দা মিঠু, রেবেকা জলি, জয়, মৌমিতা প্রমুখ।

হৃতিক-কঙ্গনার ছবি নিয়ে যা বললেন সুজানা

হৃতিকের পাশে সাবেক স্ত্রী সুজানা।
বলিউড তারকা হৃতিক রোশন আর কঙ্গনা রনৌতের প্রণয়, বিচ্ছেদ ও তাঁদের বিবাদ নিয়ে তোলপাড় চলছে বেশ কয়েক দিন ধরেই। এরই মধ্যে অনলাইনে প্রকাশিত দুজনের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি আগুনে ঘি ঢেলেছে। যদিও অনেকে বলছেন, ছবিগুলো ফটোশপ করা। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া হৃতিক, কঙ্গনা, অর্জুন রামপাল ও নন্দিতা মাহতানির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তবে সে ছবি বলছে অন্য কথা। এরই মধ্যে হৃতিকের পাশে দাঁড়িয়েছে সাবেক স্ত্রী সুজানা। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, হৃতিক-কঙ্গনার ওই ছবি ২০১০ সালের এক অনুষ্ঠানে তোলা। বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হৃতিকের সাবেক স্ত্রী সুজানাও। অনুষ্ঠানে অনেক ছবিই তোলা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি গ্রুপ ছবির মধ্যে যে ছবিতে হৃতিক, কঙ্গনা, অর্জুন রামপাল ও নন্দিতা আছেন—সেই ছবিতে কঙ্গনার পোশাকের রং ও নকশা হুবহু ফাঁস হওয়া ছবির সঙ্গে মিলে যায়। আর এই নতুন ছবিটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আগের ফাঁস হওয়া ছবিটি যে ফটোশপ করা বা বানানো, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। ফাঁস হওয়া ছবির ব্যাপারে হৃতিকের পাশেই আছেন সাবেক স্ত্রী সুজানা। আজ বুধবার এক টুইট বার্তায় সুজানা বলেন, ‘ফাঁস হওয়া ওই ছবিগুলো ফটোশপে এডিট করা। অসত্য গল্পগুলো নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে হৃতিকের পাশেই আছি।’ অনেকেই বলছেন, ফাঁস হওয়া এই ছবিটি আরেকটি গ্রুপ ছবি থেকে কেটে তৈরি করা। আর এরপর বড় করে ফটোশপ করা। ছবির গ্রেন বা রঙের বিন্দুগুলোও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড়। যাঁরা বলছেন আগের ছবিটি বানানো, তাঁরা এটিকে স্পষ্ট প্রমাণ মানছেন। এদিকে প্রকাশিত ছবিগুলো নিয়ে বলিউডের বাতাসে ভাসছে নানান প্রশ্ন। প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে, কঙ্গনা কেন সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন? তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন নিশ্চয়ই! হৃতিকের সঙ্গে কঙ্গনার যে গ্রুপ ছবি, তাতে দুজনের দাঁড়ানোর ভঙ্গি অনেকটা ঘনিষ্ঠ। নিশ্চয়ই এ দুজনের মধ্যে তখন সুসম্পর্ক ছিল। এমনকি হৃতিকের সাবেক স্ত্রী সুজানার সঙ্গেও! বেশ কটি ছবির মধ্যে হৃতিক-কঙ্গনার কোনো আলাদা ছবি কি তোলা হয়েছিল? নাকি এই ছবি ওই গ্রুপ ছবি থেকে নেওয়া! যা হোক, এসব প্রশ্নের উত্তর যাঁরা দিতে পারবেন, তাঁরা (হৃতিক-কঙ্গনা) এখন পর্যন্ত নিশ্চুপই আছেন। আর যে দুজন এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন, সেই হৃতিক আর কঙ্গনা এখন যুযুধান, পরস্পরের বৈরী!

প্রত্যয় ও প্রীতমের ‘থ্রিজি’

প্রীতম হাসান ও প্রত্যয় খান
নতুন প্রজন্মের দুই সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও প্রত্যয় খান। প্রথমজন প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী খালিদ হাসান মিলুর ছেলে। অন্যজন সংগীত পরিচালক রিপন খানের ছেলে। দুই সংগীতশিল্পীর দুই সন্তান এবার এক অ্যালবামে গান গাইলেন। অ্যালবামটির নাম থ্রিজি। অ্যালবামটি নিয়ে প্রত্যয় খান বলেন, ‘আমরা দুজন একসঙ্গে এবারই কোনো অ্যালবামে গান করেছি। অ্যালবামের পরিকল্পনাটি সুন্দর। এখানে আমরা দুজন দুই ধাঁচের গান করেছি।’ এ ব্যাপারে প্রীতম হাসানের বক্তব্য, ‘আমার গানগুলো কিছুটা কমার্শিয়াল ধাঁচের। তবে আমার নিজস্ব আঙ্গিক থেকে বের হয়ে গান করেছি এখানে।’ ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার কারণে প্রকাশের পর অ্যালবামটি ঘিরে শ্রোতাদের বাড়তি আকর্ষণ থাকবে বলে আশা করছেন এই সংগীতশিল্পী। অ্যালবামটির নাম থ্রিজি কেন? প্রত্যয় খান বলেন, ‘থ্রিজি মানে তো থার্ড জেনারেশন, অর্থাৎ তৃতীয় প্রজন্ম। খালিদ হাসান মিলু ও রিপন খানের পরের প্রজন্ম তাঁদের বড় ছেলে প্রতীক হাসান ও হৃদয় খান। তাঁদের পর গানের জগতে নাম লেখালাম আমরা (প্রত্যয় ও প্রীতম) দুজন। সেটা ভেবেই অ্যালবামটির নাম রেখেছি থ্রিজি।’ এই অ্যালবামে দুজনের তিনটি করে মোট ছয়টি গান থাকছে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের গানের সুর ও সংগীতায়োজন প্রত্যয় ও প্রীতম নিজেরাই করেছেন। গান লিখেছেন অনুরূপ আইচ, জনি হক ও জিয়াউদ্দিন আলম। ঈগলসের ব্যানারে থ্রিজি বাজারে আসবে শিগগিরই।

‘ব্যান’বিরোধী প্রিয়াঙ্কা!

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা এখন যুক্তরাষ্ট্রে চেনা মুখ। প্রভাবশালীও বটে। তা না হলে টাইম সাময়িকীর তালিকায় নাম ওঠা তো আর সহজ কথা নয়। সেই প্রভাবের জোরেই এখন কঠোর সব কথা বলতে পারেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। যেমন-এই মঙ্গলবার রাতে ‘টাইম ১০০ গালা’ অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কা সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বললেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো ব্যক্তির ওপর কেউ ব্যান বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। একজনকে দিয়ে পুরো গোষ্ঠীকে বিচার করা খুব সেকেলে ধারণা।’ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার জের ধরেই প্রিয়াঙ্কার এই কথা। টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’–তে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনয় করছেন সন্ত্রাসবাদ রুখতে কাজ করে যাওয়া এফবিআই এজেন্ট অ্যালেক্স প্যারিশের চরিত্রে। তাই ‘টাইম ১০০ গালা’ অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সত্যিকার অর্থেই সন্ত্রাসবাদ রুখতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মুসলিম ব্যান’-এর চিন্তাকে কেমন ভাবে দেখেন তিনি। এর জবাবেই পি সি বলেন এসব কথা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পও কিন্তু টাইম-এর ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এ বছর। তাই এক প্রভাবশালীকে নিয়ে অন্য প্রভাবশালীর এ মন্তব্য এখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলোয় দারুণ আলোড়ন তুলেছে।

ছবির গল্প পড়ে বেশ কিছুক্ষণ নির্বাক ছিলাম

ভালোবাসার শহর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে জয়া আহসান
কলকাতার পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর ভালোবাসার শহর-এ অভিনয়ের মাধ্যমে এই প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের আঙিনায় পা দিলেন জয়া আহসান। ছবিটি মুক্তি পাবে অচিরেই। এই ছবি ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বললেন জয়া। হঠাৎ স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করলেন কেন? আমার কাছে আসলে অভিনয়ই মুখ্য—তা সে পূর্ণদৈর্ঘ্য-স্বল্পদৈর্ঘ্য-মঞ্চনাটক, মাধ্যম যা-ই হোক না কেন। ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালক—এসব দেখার পর যদি মনে হয় কাজটি আমার করা উচিত, তবেই কাজটি করি। এ ছবির গল্প আমার ভালো লেগেছে। ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী ভীষণ মেধাবী একজন পরিচালক। তাঁর ফড়িং যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এ ছাড়া এ ছবিতে এমন কিছু বিষয় আছে, বর্তমান পৃথিবীর এমন কিছু প্রসঙ্গ আছে, যা মানুষকে ভাবাবে। বলতে পারেন, অভিনয়শিল্পী ও মানুষ হিসেবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এখানে অভিনয় করেছি। ছবি সম্পর্কে বিস্তারিত... ভালোবাসার শহর-এ আমি ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, তরুণ মুখোপাধ্যায় ও সোহিনী সরকার। এটি ৩০ মিনিটের চলচ্চিত্র বটে, কিন্তু এর গভীরতা অনেক। এ ছবির গল্প প্রথম পড়ে বেশ কিছুক্ষণ আমি নির্বাক ছিলাম। শুটিংয়ের পর বর্তমানে সম্পাদনার টেবিলে আছে ছবিটি। আগামী ২৭ মে এটি মুক্তি দেওয়া হবে। ছবির গল্পটি কি বলা যাবে? এখন পৃথিবীজুড়ে যে ধ্বংসযজ্ঞ—লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়ায় নির্বিচারে মানুষ মরছে। আমরা সবকিছু দেখছি। আবার ভুলেও যাচ্ছি। নানা কিছুর বিশ্বায়ন হয়েছে কিন্তু শোকের কোনো বিশ্বায়ন হয়নি। এই যে পরিস্থিতি, এটা কিন্তু দুনিয়ার দরজা-জানালা গলে আমাদের এখানেও হতে পারে। ভারত-বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ঘটতে পারে। সব দেখে আমরা এখন চোখ বুঁজে আছি বটে, কিন্তু আমাদের এখানে এমন ঘটনা ঘটলে কী করব? তাই এ ছবির গল্পটি আসলে ভারত-বাংলাদেশের যেকোনো শহরের গল্প। আপনার অন্যান্য কাজকর্ম... কলকাতার অরিন্দম শীলের ঈগলের চোখ ছবির কাজ শেষ করলাম মাত্র। আগস্টে এটি মুক্তি পাবে। সামনেই শুরু করব মনোজ মিসিগানের নতুন একটি ছবির কাজ। এরপরই বাংলাদেশে শুরু হবে নুরুল আলম আতিকের লাল মোরগের ঝুঁটির শুটিং।
সাক্ষাৎকার: আলতাফ শাহনেওয়াজ

নতুন ছবি

আইসক্রিম ছবির দৃশ্য
আইসক্রিম
কাল ২৯ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে আইসক্রিম ছবিটি। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজ, নাজিফা তুষি, উদয়, এ টি এম শামসুজ্জামান, দিতি, ওমর সানী প্রমুখ। আইসক্রিম সবার প্রিয় এবং ভালোবাসার প্রতীক। আইসক্রিম দেখতে সুন্দর, রঙিন, খেতে মজা, কিন্তু আইসক্রিমকে রাখতে হয় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়। মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক তেমনই। ভালোবাসা আনন্দের, কিন্তু তাকে যত্ন করে রাখতে হয়। নার্সিং ছাড়া ভালোবাসা বাঁচে না। আইসক্রিম চলচ্চিত্র ভালোবাসার সম্পর্ক আর যত্নের গল্প।
বাজে ছেলে
বাজে ছেলে ছবিতে দিপালী ও বাপ্পি
কাল ২৯ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে বাজে ছেলে ছবিটি। পরিচালনা করেছেন সোহেল বাবু। অভিনয় করেছেন বাপ্পি, আরশি, দিপালী, পত্রালী, বিপাশা, মিশা সওদাগর, কাজী হায়াৎ প্রমুখ। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। ছবির গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন ও আহাম্মেদ হুমায়ন।

লন্ডনে শেক্সপিয়ারকে অন্যভাবে স্মরণ

‘বার্ড উইদাউট বর্ডার’–এর উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের স্মরণ
মঞ্চে আলো জ্বলতেই দেখা যায়, মাটি খোঁড়ার বেলচা হাতে দাঁড়িয়ে একজন। মুখে বিদ্রূপের হাসি। বেলচাটা এহাত-ওহাত করছেন। মাঝে মাঝে ঠোকর দিচ্ছেন মেঝেতে। সঙ্গে কবিতার সুরে বাক্য আওড়িয়ে যাচ্ছেন, ‘জীবনে তো অনেক মানুষের জন্য কবর খুঁড়লাম। তবে আজ নাকি এক মস্ত বড় কবি মারা গেছেন! তাঁকে কবর দিতে হবে!’ মঞ্চে আসেন আরও একজন। আবৃত্তির ঢঙে চলে দুজনের কথোপকথন। এক কান দু কান করে খবর ছড়িয়ে পড়ে, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার মারা গেছেন। এমনিভাবে শুরু হয় ইংরেজ মহাকবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের স্মরণ আয়োজন। ২৩ এপ্রিল ছিল উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ৪০০তম প্রয়াণ দিবস। এ দিন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ১২টি ভিন্ন সংস্কৃতির ১২ জন কবির সংগঠন ‘বার্ড উইদাউট বর্ডার’ পূর্ব লন্ডনের রিচমিক্সে এই স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সংগঠনটির অন্যতম সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কবি শামীম আজাদ। উল্লেখ্য, শেক্সপিয়ারের সমসাময়িক কবিদের বলা হতো ‘বার্ড’ (বিএআরডি)। যখন শেক্সপিয়ারকে কবর দেওয়ার জন্য আনা হলো, তখন ঘটে বিপত্তি। কারণ, এ কোনো দেহাবশেষ নয়, এ যে আস্ত এক পাণ্ডুলিপি, যাতে আছে শেক্সপিয়ারের সারা জীবনের কর্ম। শেক্সপিয়ারের এই অবশিষ্টাংশ পুঁতে ফেলা উচিত কি না, তা নিয়ে চলে কবিদের বিতর্ক। কেউ বললেন, শেক্সপিয়ার যেখানে ৪০০ বছর ধরে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, তখন কবি, লেখক কিংবা অনুবাদকেরা সাহিত্যের ভান্ডারে যুক্ত করেছেন অজস্র হীরা-মুক্তা। তাই শেক্সপিয়ারের কর্ম পুঁতে ফেললে কিছু আসে-যায় না। অন্যজন বললেন, শেক্সপিয়ারের সৃষ্টি সৃজনশীল ভাবনার এক অতল উৎস। আমাদের সুখ, দুঃখ কিংবা স্থানচ্যুতির প্রতি মুহূর্ত প্রতিফলন হয়ে আছে তাঁর কর্মে। তাই একে কবর দেওয়া ঠিক হবে না। আসলে এ কোনো বিতর্ক ছিল না, ছিল শেক্সপিয়ারকে নিয়ে স্বরচনায় কবিদের মুনশিয়ানার প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা। পুরো আয়োজনকে মোহনীয় করে তোলে ঢোল আর বেহালার পরিবেশনা। কবিদের বিতর্ক শেষে হলভর্তি দর্শকের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা সমস্বরে বললেন, শেক্সপিয়ারকে কবর দেওয়া ঠিক হবে না। ফলে শেষবারের মতো কবিরা একে একে সেই পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে দেখলেন, তাতে সংরক্ষণের মতো ভালো কিছু আছে কি না। এরপর তাঁরা নিজ নিজ ভাষায় ভাষান্তর করা শেক্সপিয়ারের নাটক আর কবিতার অংশবিশেষ পাঠ করেন। কবি শামীম আজাদ বাংলায় পরিবেশন করেন ‘সনেট নম্বর ৭৩’। মঞ্চের উপস্থাপক আর্না পলমেয়ার বললেন, ‘বাহ্! শেক্সপিয়ার তো কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা জাতির নয়; তাঁর অস্তিত্ব দেখছি সব ভাষায়!’ মঞ্চের পেছনের পর্দায় ভেসে থাকা উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘তিনি কোন দেশের জাতীয় পোশাক পরে আছেন কে জানে!’ সমবেত কণ্ঠে ‘শেক্সপিয়ারকে বন্দী করতে পারেনি কবর’ গান দিয়ে শেষ হয় কবিদের অন্য রকম এই আয়োজন। তার আগে উপস্থাপকের এক প্রশ্নে যেন উদাস হয়ে যায় পুরো মিলনায়তন। তিনি জানতে চান, শেক্সপিয়ারের ৫০০তম প্রয়াণ দিবস পালনে কে কে উপস্থিত থাকবেন?

থিয়েটার এক্সিবিশন শেক্সপিয়ার সপ্তক by রুবাইয়াৎ আহমেদ

ওথেলো নাটকের দৃশ্য
ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের কারণে বিশ্বের সর্বত্র উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক ও সাহিত্যকর্মগুলোর বিস্তার ঘটেছে সত্য, তবে তাঁকে টিকে যেতে হয়েছে নিজের অসামান্য সৃষ্টির মহিমাতেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন তাঁর গানে মানুষের মনের প্রায় প্রতিটি আবেগ প্রকাশ করেছেন অপূর্ব সৃজন ক্ষমতায়, নাটকে শেক্সপিয়ার অনেকটা একই রকম কাণ্ড ঘটিয়েছেন। মানুষের ইন্দ্রিয়জাত নানা টানাপোড়েন আর আবেগ তার সংলাপের আর ঘটনার মধ্য দিয়ে তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই এতকাল পরও মহান এই নাট্যস্রষ্টার দৃশ্যকাব্যগুলো সমসাময়িক পাঠ উতরে যায়। তাঁর বিশিষ্টতা কিংবা গ্রহণযোগ্যতা ঠিক এ কারণেই প্রশ্নাতীত। স্বল্পায়ুর এই মানুষটির অন্তর্ধানের চার শ বছর পূর্ণ হলো ২৩ এপ্রিল। বিশ্বের অনেক দেশের মতোই বাংলাদেশেও তাঁর প্রয়াণের চার শতক পালিত হয়েছে। ঢাকা থিয়েটার ও যুক্তরাজ্যের গ্রেআই থিয়েটারের যৌথ নির্মাণ ডিফারেন্ট ‘রোমিও ও জুলিয়েট’ তাঁর স্মরণে মঞ্চায়িত হয় ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায়। প্রযোজনাটির বিশেষ দিক হচ্ছে, প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীরাই এতে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে ‘শেক্সপিয়ার কার্নিভাল’। তাতে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে শেক্সপিয়ারের বিভিন্ন নাটকের অংশবিশেষ মঞ্চায়নের পাশাপাশি সেমিনার এবং বাবুল বিশ্বাসের নির্মাণে বাংলাদেশে শেক্সপিয়ার চর্চার ওপর প্রদর্শিত হয় একটি তথ্যচিত্র। এসব আয়োজনের পাশে ব্যতিক্রমী একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তরুণ নির্দেশক ও শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রত্যক্ষÿ সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুদীপ শেক্সপিয়ারের নানা স্বাদের সাতটি নাটকের অংশবিশেষ নিয়ে নির্মাণ করেন ‘শেক্সপিয়ার সপ্তক’। এ ক্ষেত্রে তিনি বেছে নেন ম্যাকবেথ, ওথেলো, হ্যামলেট, অ্যা মিড সামার নাইটস ড্রিম, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট, টেমিং অব দ্য শ্রু, অ্যাজ ইউ লাইক ইট নাটকগুলোর অংশবিশেষ। নাট্যাংশগুলোতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন আহসানুল, সবুজ, মারিয়া, সজীব, সাদিয়া, মনিরুজ্জামান, তামান্না, আশরাফুল, রাগিব, নুসরাত, রাসেল, প্রণব, জাবির, লতিফুল, কীর্তি, মাসুমা, তারিকুল ও শামীম। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে তখন আমরা জড়ো হয়েছি অনেকেই। আকাশে থোকা থোকা মেঘ আর তার ফাঁকে গোলগাল চাঁদ। এই প্রদর্শনী সম্পর্কে আগেই বিভিন্ন তথ্য জেনে যাওয়ায় মনে জাগছে নানা প্রশ্ন। কেন এখন শেক্সপিয়ার? কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা না করে কেনইবা অংশবিশেষের মঞ্চায়ন, একই মঞ্চে না করে ভিন্ন ভিন্ন ঘেরাটোপে কেন? আর এই সময়ে শেক্সপিয়ার কতটুকু প্রাসঙ্গিক? এসব মাথায় নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে প্রবেশ করি মিলনায়তনে। এই নাট্য প্রদর্শনীর অভিযাত্রা শুরু হয় হ্যামলেট দিয়ে। একটি ছোট্ট ঘরে প্রবেশের পর সামান্য আয়তনে একজন মাত্র অভিনেতা শুরু করেন অভিনয়। পিতার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নিজের স্বগোতোক্তি ছিল এই অংশের মঞ্চায়নে। এরপর অপর একটি কক্ষে ঢুকি আমরা। সেখানে শুরু হয় টেমিং অব দ্য শ্রু। হাস্যরসাত্মক এই নাট্যের একটি অংশের মঞ্চায়ন করেন দুজন অভিনয়শিল্পী। দর্শকের মাঝে মৃদু হাসির রোল। আমরা আবার পরিভ্রমণশীল হয়ে উঠি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মূল মিলনায়তনে তখন শুরু হয় রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট। দুটি চরিত্র উপস্থাপন করেন চারজন অভিনয়শিল্পী। পশ্চিমা নৃত্যের আঙ্গিকে রোমিও এবং জুলিয়েটের পারস্পরিক আকর্ষণের একটি চিত্রায়ণ ছিল এই অংশে। একই মঞ্চে এরপর শুরু হয় ওথেলো। চমৎকার অথচ সীমিত আয়োজনে প্রতীকী ঢঙে ডেসডিমোনার হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি রূপায়িত হয়েছে। এরপর আমরা এসে দাঁড়াই লাইব্রেরির খোলা আয়তনে। সেখানে শুরু হয় অ্যা মিড সামার নাইটস ড্রিম নাটকের অংশ। প্রকৃতির সঙ্গে আধুনিকতা এবং এক ধরনের ইল্যুশনের যৌথ বিনির্মাণ এই অংশ। শেষদিকে সেলফির প্রসঙ্গ শেক্সপিয়ারের অভিযোজন ক্ষমতাকে স্পষ্ট করে দেয়। একই ভাবে এরপর উদ্ভাসিত হয় ম্যাকবেথ নাটকের অংশ। যদিও সীমিত পরিসরে সামান্য অংশ নিয়েই মঞ্চায়ন, তবু সুদীপের ইতিপূর্বের নির্মাণ ম্যাকবেথকে কি ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে এবারকার সৃজন? পরিভ্রমণশীল দর্শক অতঃপর ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাগানে খোলা জায়গায় গিয়ে জড়ো হলেন। শুরু হলো অ্যাজ ইউ লাইক ইট। ঘাটু গানের আদলে বরিশাল ও ঢাকাইয়া ভাষার মিশ্রণে নির্মিত এই নাট্যাংশটি দর্শকদের দিয়েছে প্রভূত আনন্দ। অধিকাংশ নাট্যাংশের ক্ষেত্রে চরিত্রে পশ্চিমারীতির পোশাক থাকলেও এই নাট্যে দেশজ; সেই সঙ্গে সমকালীন পোশাকের মিশ্রণ ছিল। সংগীতের ক্ষেত্রে এতে ব্যবহৃত হয়েছে দেশজ সুর। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে পশ্চিমা আদলেই। সেট বলতে কয়েকটি নাট্যাংশে শুধু টেবিল ও চেয়ার। অন্য সবগুলো খোলা মঞ্চে। শুধু রঙিন কাপড়ে সেটের প্রয়োজন ঘুচিয়ে দেওয়া। প্রায় সবেÿক্ষেত্রেই আলোর সীমিত ব্যবহার। সুন্দর আর গোছানো আয়োজন। কিন্তু মাথার মধ্যে যে প্রশ্নগুলো ঘুরছিল তার উত্তর খুঁজে পেলাম কি? কথা বলি সুদীপের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেসব প্রশ্নের উত্তর। শেক্সপিয়ার ধ্রুপদি নাট্যকার। রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি—ইত্যাকার বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটক সমকালকে ছাড়িয়ে সর্বকালের হয়ে উঠেছে বলেই আজও তাঁর সৃষ্টিকে নানাভাবে নিয়ে আসা হয় মঞ্চে। যেহেতু নাট্যকলার শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রযোজনার অংশ এটি, সে কারণেই নতুন জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছে নাট্যাংশগুলো। সুদীপ বলেন, এটি একটি থিয়েটার এক্সিবিশন। দর্শক যেন এক আবহ থেকে অন্য আবহে গিয়ে নতুনত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্যই একই মঞ্চে না করে ভিন্ন ভিন্ন আয়তনে নাট্যাংশগুলোর মঞ্চায়ন।

ত্রয়ী অভিনেত্রীর ‘মা দিবস’

মাদার’স ডে ছবিতে জেনিফার অ্যানিস্টন ও জুলিয়া রবার্টস
হলিউডে তাঁদের খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অনেক দিনের। সেই জেনিফার অ্যানিস্টন, জুলিয়া রবার্টস আর কেট হাডসন এবার একসঙ্গে হাজির মাদার’স ডে ছবিতে। মা দিবস সামনে রেখে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে কাল ২৯ এপ্রিল। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাসন সুডেকিস। অ্যানিস্টন এরই মধ্যে এ বছরের ‘সেরা সুন্দরী’ নির্বাচিত হয়েছেন। ৪৭ বছর বয়সে পিপল ম্যাগাজিনের এই স্বীকৃতি পেয়ে বিস্ময় আর কিশোরীসুলভ উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন, যদিও এই আনন্দময় অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য নতুন নয় মোটেও। ২০০৪ সালেও একই সম্মান পেয়েছেন হলিউডের এই স্বর্ণকেশী। অ্যানিস্টনের খ্যাতির শুরু হাস্যরসপূর্ণ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডস’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। গত বছর বিয়ে করেছেন অনেক দিনের প্রেমিক ৪৪ বছর বয়সী জাস্টিন থেরোকে। একসময় ব্র্যাড পিটের ঘরনি ছিলেন অ্যানিস্টন। সেই স্থানটা এখন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। তিনিও পিপল ম্যাগাজিনের বিবেচনায় সেরা সুন্দরী (২০০৬) হয়েছিলেন! আর গত বছর এই খেতাব পেয়েছিলেন ৫১ বছর বয়সী স্যান্ড্রা বুলক। অ্যানিস্টন মনে করেন, সৌন্দর্য কেবল বাইরের অবয়বটুকু নয়, এটা প্রকাশ পায় জীবনের বিভিন্ন বাধা পেরোনোর শক্তি ও সাহস, ব্যর্থতা আর লোকজনের সমালোচনা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা আর উদ্যমের মধ্যে।
কেট হাডসন
প্রিটি উওম্যান ও এরিন ব্রোকোভিচ-খ্যাত জুলিয়া রবার্টসের জন্যও নতুন ছবিটির বিশেষত্ব আছে। তিন সন্তানের জননী এই তারকা মাদার’স ডে ছবিতে হাজির হয়েছেন ১৯৯৯ সালের ছবি নটিং হিল-এর সেই ববকাট চুলের স্টাইলে। আর কেট হাডসন সম্প্রতি ৩৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন মায়ের সঙ্গে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হয়েছে বিস্তর আলোচনা। সেটা মাদার’স ডে ছবির প্রচারে নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘মাঝে মাঝে নিজেকে একজন খারাপ মা মনে হয়’ নামে নিবন্ধ লিখেও আলোচনায় এসেছেন দুই ছেলের মা হাডসন। ইনস্টাইল সাময়িকীর নতুন সংখ্যায় থাকছে নিবন্ধটি। দুই ছেলের বাবার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে কেট হাডসনের। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-সন্তান লালনের অভিজ্ঞতার নিয়ে অনেক কথা থাকছে তাঁর এই নিবন্ধে। মাদার’স ডে পরিচালনা করেছেন গ্যারি মার্শাল। কাহিনিটা এ রকম: তিন কন্যাকে লালন-পালন করেন ৪৯ বছর বয়সী বিপত্নীক সুডেকিস। সেই তিন মেয়েরই এবার মা হওয়ার পালা। আর তাতে আনন্দের অন্ত নেই সুডেকিসের। পরিপূর্ণ তিন নারীর বাবা হতে পেরে বেশ সুখী তিনি। কেন হবেন না? ওই তিনজন যখন এক বিমান দুর্ঘটনায় মাতৃহীন হয়, তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেটা সম্পূর্ণ করতে পেরে গর্বিত হওয়াই তো স্বাভাবিক। তিন মেয়ে এখন তাঁকে নিজেদের ‘মা’ বলে উল্লেখ করে! পারিবারিক সম্পর্ক আর মাতৃত্বের আনন্দই মাদার’স ডে ছবির মূল উপজীব্য। বিচেস ও প্রিটি উওম্যান ছবির পরিচালক মার্শাল বলেন, পৃথিবীর যেখানেই যান, মাকে সবাই চেনে। কারণ, সবাই মায়ের গর্ভে জন্মেছে। কারও মা বেঁচে আছেন, আর কারও মা চলে গেছেন। তাই সবারই মাকে জানতে, বুঝতে, ভালোবাসতে হয়। মায়ের প্রভাব সবার ওপর কমবেশি থাকে জীবনভর।

দ্য পারপেল প্রিন্স

প্রিন্স
একটি দুর্বোধ্য প্রতীক প্রিন্সকে করে রেখেছিল আরও রহস্যময়। ওই প্রতীকের আদলে তৈরি মঞ্চে রাজপুত্রের মতো এসে দাঁড়াতেন তিনি। অনেক দিন পর্যন্ত তাঁর জামার কলারে ও হাতায় আঁকা ওই চিহ্নের মানে খুঁজে পায়নি কেউ। মাইকেল জ্যাকসনের পরে প্রিন্সের মতো এমন ফ্যাশন আইকনও খুব বেশি পায়নি সংগীতবিশ্ব। রোলার কোস্টারের মতো ক্যারিয়ার যখন উত্থান-পতনে দোদুল্যমান, তখন ১৯৯৩ সালে প্রিন্স রজার নেলসন নাম ছোট করে হয়ে যান প্রিন্স। আর ধারণ করেন নারী ও পুরুষের জ্যোতিষশাস্ত্রীয় এই ০)+> চিহ্নটি। একসময় সমালোচকেরা আবিষ্কার করলেন—এটি প্রেমের প্রতীক। প্রিন্সের শুরুর দিকের অ্যালবামগুলো শ্রোতাদের মনোযোগ কাড়েনি। তাতে দমে যাননি তিনি। তাঁর প্রিন্স, ডার্টি মাইন্ড, কনট্রোভারসরি অ্যালবামগুলোর বেশির ভাগ গানই ছিল ফিউশন। প্রিন্স ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেন গত শতকের আশির দশক থেকে। ১৯৮৪ সালে ‘পারপেল রেইন’ গানটির মাধ্যমে নতুন করে আবিষ্কৃত হন এই শিল্পী। একে একে ১৯৯৯, পারপল রেইন ও দ্য টাইম অ্যালবামগুলোর পর সংগীতপিপাসুরা খুঁজে পান সংগীতের নতুন রাজকুমারকে। এরপর টানা সাড়ে তিন দশক সংগীতবিশ্বকে রক, ফাংক ও জ্যজে ডুবিয়ে রাখেন প্রিন্স। ১৯৭৯ সালে ব্যান্ড ‘দ্য রেেভাল্যুশন’ গঠন করেন। তবে শুরুর দিকে রেকর্ড কোম্পানি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ১৯৯২ সালে ইতিহাসের সব থেকে স্মরণীয় রেকর্ডিংয়ের চুক্তিটি করেন ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে। এক শ মিলিয়ন ডলারের এ চুক্তির বাইরে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বই ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার স্বাধীনতা ছিল তাঁর। যা মাইকেল জ্যাকসন ও ম্যাডোনার ছিল না। মাইকেল জ্যাকসন ও ম্যাডোনার রেকর্ডিংয়ের চুক্তিটি ছিল মাত্র ৬০ মিলিয়ন ডলার বা তার কিছু বেশি। ‘আই ওয়ানা বি ইয়োর লাভার’, ‘ডু মি বেবি’, ‘সেক্সুয়ালিটি’, ‘হোয়েন ডোভস ক্রাই’, ‘কিস’, ‘লেসট গো ক্রেজি’, ‘মোস্ট বিউটিফুল গার্ল ইন দ্য ওয়ার্ল্ডসহ বহু জনপ্রিয় গান গেয়েছেন এই শিল্পী। ৩৫ বছরে প্রকাশ করেছেন ৩৯টি অ্যালবাম। যার প্রায় সবগুলো গানই তাঁর নিজের লেখা। জিতেছেন সাতটি গ্র্যামি। ১৯৮৪ সালে পার্পল রেইন ছবির গানের জন্য অস্কার এবং ২০০৭ সালে হ্যাপি ফিট-এর ‘সং অব দ্য হার্ট’ গানটির জন্য গোল্ডেন গ্লোব পেয়েছেন প্রিন্স। আর তাঁর বিক্রীত রেকর্ডের পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি। কনসার্টে তাঁর পরিবেশনা মুগ্ধ করত বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের। গান গাওয়া, গান লেখা ছাড়া বেশ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রও বাজাতেন তিনি। সংগীত প্রযোজনা ছাড়াও অভিনয় ও চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন প্রিন্স। ২১ এপ্রিল মারা যান বিশ্বসংগীতের এই বরপুত্র।

শ্রদ্ধা ভিজলে লক্ষ্মী আসে!

বাগি ছবিতে টাইগার শ্রফ ও শ্রদ্ধা কাপুর
শ্রদ্ধা কাপুরকে ‘বৃষ্টির দেবী’ বললে ভুল হবে না। কেন? তা জানতে হলে একটু পেছন ফিরে তাকাতে হবে। কারণ, সামনেই আসছে তাঁর ছবি বাগি। এই ছবির ভাগ্য যে এই বৃষ্টির দেবীর ওপর নির্ভর করছে। ছবিতে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলিউডের নতুন ‘অ্যাকশন বরপুত্র’ টাইগার শ্রফও রয়েছেন। তবে শ্রদ্ধা ও বৃষ্টির কাকতালীয় সম্পর্কটি কিন্তু সত্যিই ভাবিয়ে তোলে অনেককে। বাগি নিয়ে এখন বলিউডে আগ্রহের কমতি নেই। ছবির অভিনেতা টাইগার শ্রফ, অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর ও পরিচালক সাব্বির খান ঘুরছেন ভারতের বিভিন্ন শহরে শহরে। ছবির প্রচারে কোনো কমতি রাখছেন না কেউ। কিন্তু এই কষ্টের কোনো মানে হয়? ছবিতে যখন শ্রদ্ধার বৃষ্টিভেজা একটা গান আছে, আছে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা আর টাইগারের চুমুর দৃশ্য, সেখানে কি আর কোনো পরিশ্রমের প্রশ্ন আসে? শ্রদ্ধার ছবিতে বৃষ্টি মানেই তো বক্স অফিসে লক্ষ্মীর কড়া নাড়া নিশ্চিত। শুরু করা যাক আশিকি টু ছবি দিয়ে। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির সাফল্য নিয়ে এখন আর কোনো প্রশ্ন ওঠানো যাবে না। ওই বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি ছিল এটি। ছবিতে বৃষ্টিতে ভেজা শ্রদ্ধার মাথার ওপর জ্যাকেট মেলে ধরেন তাঁর নায়ক আদিত্য রায় কাপুর। তারপর জ্যাকেটের নিচে ঢুকে পড়েন দুজন। তখনো হচ্ছে বৃষ্টি। ব্যস, এটাই পেয়ে গেল বলিউডের ওই বছরের সবচেয়ে ‘হিট’ দৃশ্যের তকমা। তারপর ২০১৪ সালে মুক্তি পায় শ্রদ্ধা অভিনীত আরেকটি রোমান্টিক ছবি, এক ভিলেন। সেখানে মৃত্যুপথযাত্রী শ্রদ্ধার অনেক ইচ্ছার একটি ছিল বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ময়ূরের পেখম তোলা নাচ দেখা। তার জন্য এক ভিলেন ছবিতে বৃষ্টিতে ভিজলেন তিনি, অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে। সেই ছবিও বক্স অফিসকে কাঁপিয়ে দিল। একই বছর মুক্তি পায় শ্রদ্ধা অভিনীত আরেকটি ছবি হায়দার। এই ছবিও সফল। কিন্তু কাশ্মীরে তৈরি হওয়া এ ছবিতে তো বৃষ্টি দেখানো হয়নি। তাহলে? একটু মনে করে দেখুন তো, ছবির সবচেয়ে রোমান্টিক গানটির কিন্তু দৃশ্যায়ন হয়েছে তুষারপাতের সময়। আকাশ থেকে তুষার ঝরছে আর শ্রদ্ধা ও শহীদ কাপুর তাতে দাঁড়িয়ে একে অপরের মধ্যে খুঁজছেন উষ্ণতা। কাশ্মীরে তো আর যখন-তখন বৃষ্টি আনা সম্ভব নয়, তাই তুষারপাতই সই। তা দিয়েই শ্রদ্ধা আবার বাজিমাত করলেন। সবশেষ ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রদ্ধার শেষ ছবি এবিসিডি টু-তেও এই মেয়ে নিয়ে এসেছেন বৃষ্টি। ‘বেজুবান ফির সে’ গানে বৃষ্টিতে ভিজে নেচেছেন শ্রদ্ধা, অন্যদিকে বক্স অফিসেও হয়েছে অর্থের বৃষ্টি। তাই এবার সবার চোখ গিয়ে আটকে আছে বৃষ্টিভেজা শ্রদ্ধার দিকে। কারণ, এ ছবিতে তিনি বৃষ্টিতে নেচেছেন। অভিনেতা টাইগারকে চুমু খেয়ে হয়েছেন আলোচিত, সেটাও বৃষ্টিতে। এত বৃষ্টির কথা শুনে শুনে পাঠক দ্বিধায় পড়তেই পারেন, সত্যিই তো, বাগি ছবিতে শ্রদ্ধার সঙ্গে রসায়নটা আসলে কার জমবে ভালো? টাইগারের? নাকি বৃষ্টির?

ভাই, বন্ধু এবং আড্ডা

হৃদয় খান ও হাবিব
২৩ এপ্রিল। এবিসি রেডিওর ‘প্রাণ লেয়ার দ্য এইচকে শো’ অনুষ্ঠানের অতিথি হাবিব। সঞ্চালক হৃদয় খান। দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত নয়টায়। শব্দ পরীক্ষা আর প্রস্তুতির জন্য ঘণ্টা খানেক আগেই চলে এলেন দুজন। যেহেতু হাতে একটু সময় আছে, তাই পাশে প্রথম আলোর স্টুডিওতে ফটোসেশনটা হলে মন্দ হবে না। রাজি হলেন তাঁরা। অন্য রকম এক আড্ডার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রস্তুত হচ্ছেন আলোকচিত্রী। হাবিব আর হৃদয়ের মাঝে আলাপ শুরু হয়ে গেছে। নানা প্রসঙ্গ। মন দিয়ে শুনছেন হৃদয় খান। মাঝে মাঝে নিজেও নতুন প্রসঙ্গ আনছেন। এর ফাঁকেই ছবি তোলা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই হৃদয় বললেন, ‘অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’ ‘প্রাণ লেয়ার দ্য এইচকে শো’ অনুষ্ঠানে নিজেদের অন্য রকম কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করবেন তাঁরা। হাবিব আর হৃদয় খান। দুজনই জনপ্রিয়। তাঁদের সম্পর্ক বেশ গভীর। দুজনের মধ্যে আছে নিয়মিত যোগাযোগ। গান নিয়ে আলোচনা করেন। শুধু নিজেদের গান নয়, তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে অনেক কিছু। কিন্তু প্রচারমাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে তেমন দেখা যায় না। হাবিব আর হৃদয়ের সম্পর্কটা কী ধরনের? ‘তিনি আমার বড় ভাই। শুরু থেকেই তাঁকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের।’ বললেন হৃদয় খান। শুনে হাসলেন হাবিব। এই হাসি সম্মতির। হৃদয় খানের শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালে। ওই বছর বাজারে আসে তাঁর প্রথম অ্যালবাম হৃদয় মিক্স। কিন্তু হাবিবের শুরুটা হয়েছিল ২০০৩ সালে। হাবিব ফিচারিং কায়া, অ্যালবামের নাম কৃষ্ণ। হৃদয়ের গানে হাবিবের কোনো প্রভাব ছিল? হাবিব বললেন, ‘আমি আমার মতো গান করি, হৃদয়ের গান তাঁর মতো।’ হৃদয় বললেন, ‘আমি কিন্তু হাবিব ভাইয়ের গান শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম।’ তাঁদের দুজনেরই শখ বেড়ানো। যখন ছোট ছিলেন, তখন বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যেতেন। এখন আর সেই দিন নেই। হাবিব এখন ইচ্ছে হলে ছেলেকে নিয়ে বের হয়ে যান। লং ড্রাইভ, ঘুরতে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া কিংবা মজা করা হাবিব আর হৃদয়ের কাছে যেন নেশা। মাঝে মাঝে নাকি হাবিব আর হৃদয় মিলে লং ড্রাইভে চলে যান। ওই সময় তাঁদের সঙ্গে থাকে সুন্দর কিছু গান। এবার প্রথম প্রেম। কে কবে প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন? হাবিবের মুখে মুচকি হাসি। বললেন, ‘প্রথম প্রেম কি না জানি না, তবে প্রথম ভালো লাগা কাজ করেছিল, তখন আমার বয়স ৮ কিংবা ৯। আব্বা (সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ) প্রতি সপ্তাহে সোনারগাঁও হোটেলে নিয়ে যেতেন সাঁতার শেখানোর জন্য। সেখানে এক বড় আপুও আসতেন সাঁতার কাটতে। ওই আপুকে খুব ভালো লাগত।’ হৃদয়ের ব্যাপারটা একদম অন্য রকম। ভালো লাগা নয়, বরং শুরুতেই তিনি প্রেমে পড়ে যান। বললেন, ‘১৩ বছর বয়সে প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।’ ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার কথা বললেন হাবিব। বছর কয়েক আগে তিনি চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। গভীর রাত। গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ দেখেন, বিপরীত দিক থেকে পাশাপাশি তিনটি ট্রাক দ্রুতগতিতে আসছে। নিজেদের গাড়ির গতিও বেশি থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের এক পুকুরে পড়ে যায়। আহত হলেও বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান তাঁরা। একই অভিজ্ঞতা হৃদয় খানেরও। রাস্তায় প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো তাঁর শখ। একবার তেমনিভাবে চালানোর সময় তাঁর গাড়ি উল্টে রাস্তার পাশের গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। মুহূর্তেই গাড়ির ভেতর পানি ঢুকে যায়। গাড়ির দরজা খোলা মুশকিল হয়ে পড়ে। হৃদয় বললেন, ‘ঘটনাটি এখনো আমার কাছে সিনেমার মতো মনে হয়। কারণ, সেদিন আমি যেভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম, তা শুধু সিনেমায়ই দেখা যায়।’ এখন যাঁরা গান করছেন, তাঁদের ব্যাপারে হাবিব আর হৃদয়ের মন্তব্য জানতে চাই। এ সময়ের গানকে হাবিব তুলনা করেন গোলাপের সঙ্গে। বললেন, ‘গোলাপে যেমন সুন্দর পাপড়ি আছে, তেমনি কাঁটাও আছে। এখন যাঁরা গান করছেন, অনেকেই শুধু সুন্দর পাপড়ি দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু কাঁটা নিয়ে কিছু বলছেন না। সবার উচিত সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে গান তৈরি করা। যেন অনুভূতিগুলো স্পষ্ট হয়।’ হৃদয় খান তাঁর ব্যস্ততা নিয়ে বললেন, ‘ব্যস্ততার শেষ নেই। টিভির অনুষ্ঠান, কনসার্ট, এবিসি রেডিওর এইচকে শো—সব মিলিয়ে এখন বেশি ব্যস্ত। আর হৃদয় মিক্স সিরিজের নতুন অ্যালবামের কাজ করছি।’ হাবিব হেসে বললেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি ডায়েট নিয়ে। নতুন কিছু মিউজিক ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা করছি। তাতে আমি অভিনয় করব। এ কারণে এখন থেকেই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন।’ রাত বাড়ছে, আড্ডা শেষ করতে হবে। শেষ প্রশ্ন, দুজনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? হাবিব বললেন, ‘কখনো ভাবিনি বড় হয়ে গান করব। আমার ভক্ত থাকবে, আমি তাদের এত ভালোবাসা পাব। যেহেতু এখন গানই আমার সব হয়ে গেছে, তাই গান নিয়ে থাকব।’ হৃদয় বললেন, ‘যত দিন বেঁচে থাকব, আমার সঙ্গে থাকবে গান।’তবে দুজনই সামনে নতুন কিছু করবেন, তেমনটাই জানালেন। তবে নতুন কাজের ব্যাপারে এখনই মুখ খুলতে চাননি তাঁরা।