Tuesday, August 26, 2014
প্রিজন সেলে আজিজুরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য!
এদিকে আজিজুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সহজেই মেনে নিতে পারছেন না। অপরদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম আসামি আজিজুরের মৃত্যু হওয়ায় অনেক রাঘব বোয়ালই এই মামলা থেকে নিজেদের আড়াল করার সুযোগ পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নিহতের বড় ছেলে শাহরিয়ার সাঈফ খান বলেন, ‘আমার বাবা একজন ব্যাংক ম্যানেজার। তার কতটুকুই বা ক্ষমতা রয়েছে? এটা সবাই জানে। রাঘব বোয়ালদের আড়াল করতেই আমার বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে। সাঈফ বলেন, ঘটনার পর থেকে আমাদের অনেক সম্পত্তি রয়েছে বলে নানা কথা হয়েছে। কিন্তু এই দুই বছরেও তো আমাদের কোন সম্পত্তি খুঁজে পেল না। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে কারা জড়িত এটা সবাই জানে, কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলে না। আমার বাবার মতো সাধারণ মানুষদের জেল খাটতে খাটতে মৃত্যুবরণ করতে হয়।’ বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি অন্যভাবে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে আমি বাবার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলাম। তিনি তখন একটু অসুস্থ বোধ করছিলেন। ডাক্তাররা তাকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে রেখেছিলেন। পরে একটু সুস্থ বোধ করলে তাকে আদালতে নেয়া হয়।’ সাঈফ বলেন, ‘আদালত থেকে ফেরার পর বাবার সঙ্গে আমার আপু আদৃতা ও ছোট ভাই আতিক ছিল। বিকালে বাবা সুস্থ ছিল। আসরের নামাজ পড়ে তসবিহ পড়তে পড়তে ঘুমিয়েছিলেন। তখন বোন ও ভাই বাসায় চলে আসে। পরে আমরা জানতে পারি ঘুমের মধ্যেই ওনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তার মৃত্যু স্বাভাবিক না অন্যভাবে হয়েছে এটা ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর জানতে পারব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আজিজুর রহমান। জবানবন্দিতে তিনি ব্যাংকের সে সময়কার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের এক উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক- রূপসী বাংলা শাখার সব খোঁজখবর জানত জিএম অফিস ও প্রধান কার্যালয়। এমনকি সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টা ঘনঘন ব্যাংকের শাখায় যাতায়াত করতেন। ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মেহেরুননেসা মেরির মাধ্যমে ওই উপদেষ্টার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই সুবাদে হলমার্কের তানভীর ও অন্যান্যদের সঙ্গে পরিচয় হয়। নিহত আজিজুরের বোন জামাই জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ওই উপদেষ্টাই সব। তিনি চাপ প্রয়োগ করে এসব করিয়েছেন। এখন অন্যরা ফেঁসে গেলেও তিনি বহাল-তবিয়তে রয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতে আজিজুর রহমানের অসুস্থ হয়ে পড়ার যে কথা কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে তা ভুল। তিনি আদালতে অসুস্থ হননি। বিকাল ৪টার দিকে তার একমাত্র মেয়ে আদৃতা হাসপাতালে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করে। এসময় বাবা মেয়ের সামনে খাবার খেয়েছেন। নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। আসরের নামাজও পড়েছেন। মোটামুটি সুস্থ-সবল একজন মানুষ হঠাৎ সন্ধ্যায় এমনি এমনি মারা যেতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। স্বজনরা জানান, আজিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির শুকতাগ্রামে নিয়ে রাতেই দাফন করা হয়। তার বাবার নাম মরহুম আবুল কালাম খান। রাজধানী ঢাকার রামপুরার বনশ্রীর সি ব্লকে নিজের ফ্ল্যাটে তিনি থাকতেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচারপতিদের তদন্ত করবেন কারা? by সাজেদুল হক
পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের আগে বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল সংসদীয় কমিটির কাছে নিজের মত দিয়েছিলেন। তখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন তিনি। যুক্তি দেখিয়েছিলেন কোন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই তা তদন্ত করে থাকেন। সে সময় আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং শ্রীলঙ্কার মতো কিছু দেশে বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে রাজনীতিবিদরা সম্পৃক্ত থাকেন। শ্রীলঙ্কায় রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণের কারণে বিচার বিভাগ ধবংসপ্রায়। বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করেছেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। শেখ হাসিনার বিগত সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা করা ঠিক হবে না। আমি এটা অবশ্যই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে পারি, তদন্তে রাজনীতিকেরা থাকলে বিচারকের স্বাধীনতা থাকবে না। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনে বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে দেয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের উদ্যেগ। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। এবারও তারা একই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, বিচারপতিদের ভয়ের মধ্যে রাখার জন্য এ সংশোধনী করা হচ্ছে।
সংবিধানের বর্তমান ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অসদাচারণের কোন অভিযোগ এলে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতির মধ্যে কর্মে প্রবীণ দুই বিচারপতির সমন্বয়ে এ কাউন্সিল গঠিত। এ কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। তবে ওই অনুচ্ছেদ কার্যকরে সে সময়ে কোন আইন তৈরি হয়নি। কোন পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় সংসদকে অভিশংসনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তা স্মরণ করেছেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, আমরা যখন সংবিধান প্রণয়ন করেছিলাম তখন বিচারকদের অপসারণের ভার সংসদের হাতে দিয়েছিলাম। তখন বিচারকদের অভিশংসন নিয়ে এত চিন্তা করা হয়নি। আমরা ভেবেছি এমনভাবে বিচারক নিয়োগ করা হবে যে অভিশংসনের প্রয়োজনই হবে না। যেমন ভারতে বিচারকদের কখনও অভিশংসন করা হয়নি। আমাদের এখানেও করা হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতা করেছেন প্রবীণ এ আইনজীবী। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের কাছে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের আমলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে দেয়া হয়। যদিও আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক একাধিকবার দাবি করেছেন, জিয়াউর রহমান সংসদের অভিশংসন ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চট্টগ্রামে পরকীয়ায় ভাঙলো ৪০ সংসার by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে এমনি তথ্য। বলেছে, পরকীয়ার পাশাপাশি সাগরপাড়ের এ শহরে অত্যধিক হারে বেড়েছে লিভ টুগেদারের মতো সম্পর্কও। পরকীয়ার কারণে পরনারী আর পরপুরুষের হাত ধরে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
বিশেষ করে তরুণ ছেলেমেয়েদের মাঝে বিয়ে নিয়ে কাজ করছে ভীষণ অস্থিরতা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাত্র-অবস্থায় বিয়ে করে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বাধ্য হয়েই তাই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন ছাড়াছাড়িতে। অন্যদিকে অফিসের কলিগের সঙ্গে সম্পর্ক চলে যাচ্ছে লিভ টুগেদারের মতো বিষয়ে। অনেকে ভাড়া বাসায় কিংবা কোন হোটেলে গিয়ে রাত কাটাচ্ছেন গোপনে। এ সব ঘটনা সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নমধ্যবিত্ত সব পেশার মানুষের মধ্যেই ঘটছে।
‘গভীর রাতে দেখতাম ফোনে কথা বলতো। অফিস থেকে বাসায় ফিরতো অনেক দেরিতে। কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে জানতে চাইলে সঠিক জবাব দিতো না। একসময় আমার প্রতি তার আকর্ষণ কমে গেল। রাতে ঘুমানোর কথা বললে রেগে যেতো। একদিন ধরা পড়লো সব কিছু। সামাজিক চক্ষুলজ্জার ভয়ে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। জানতে পারি সে সুন্দরী সহকর্মীর পরকীয়ায় মজেছে। আর তাতেই ভেঙেছে আমার সাজানো সংসার।’
কথাগুলো বলছিলেন সাবরিনা আহমেদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। বর্তমানে শহরের মেয়র গলিতে বসবাস করছেন তিনি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষক।
সাবরিনা বললেন, ‘নাম প্রকাশ করতে লজ্জা নেই। আমি নিজের গুণেই পরিচিত হতে চাই। স্বামীর পরকীয়ার ঘটনায় মোটেও লজ্জিত নই। একসময় লজ্জা পাওয়ার ভয় ছিল। এখন নেই। একা আছি। বেশ আছি। বিয়ে করার কথা ভাবছি না।’
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান ওয়াহিদা ইদরিস বলেন, ‘বিয়ে নারী পুরুষের চমৎকার একটি সম্পর্ক। তবে কেবল পরকীয়া নয়, নানা ধরনের সামাজিক অশান্তি, পারিবারিক নির্যাতনের কারণেও কিন্তু অনেক বিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এই ধরনের ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমি মনে করি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে অবশ্যই দু’জনকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’
চট্টগ্রাম পুলিশের দু’টি সূত্র জানায়, জেলা ও শহরের আশপাশের থানাগুলোতে সপ্তাহে গড়ে ৩টি করে এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হচ্ছে। এর একটি থাকছে বিয়ে ভাঙার ঘটনা। এর মধ্যে রয়েছে পরকীয়ার বিষয়টি। দেখা যাচ্ছে স্বামী থাকে বিদেশে। বউ বাড়িতে একা। আর এ সুযোগে তারা গোপন সম্পর্ক গড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে মহিলা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তার ছোট্ট শিশু রয়েছে বাড়িতে।
চলতি মাসে গত ১৩ই আগস্ট রাঙ্গুনিয়ায় ঘটেছে এমনি এক ঘটনা। সেখানে বাড়ির গৃহশিক্ষকের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন শাবলী আকতার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। অথচ গত ৭ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তার।
কক্সবাজারে গত ৪ঠা আগস্ট বাড়ি থেকে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় এক প্রেমিক জুটি। পরে জানা গেল মেয়েটি এক প্রবাসীর স্ত্রী। পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে স্বামীর অগোচরে প্রেম করছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। পরিচয়ে জানা গেল আটক যুবকের নাম তবারেক হোসেন। গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী থানার চম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চম্বল এলাকায়। আর মেয়েটির দু’টি সন্তান রয়েছে।
তবে কেবল ছাড়াছাড়ি নয়, পরকীয়ার জ্বালা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করার একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে সামাজিক সর্ম্পকে। হচ্ছে হত্যার ঘটনাও। ৪ মাস আগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে খেজুরতলা এলাকায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে খুন হন রানা (৩৮)। এ ঘটনায় আটক করা হয় ঘাতক বন্ধু খায়রুলের স্ত্রী সালমা বেগম (৩০)-কে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্বামীর অগোচরে তার বন্ধুর সঙ্গে প্রেম করছিল সে। বিষয়টি টের পাওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত রানা ও অভিযুক্ত খায়রুল উভয়ের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার একই গ্রামে। ঘটনার আগে রানাকে নিজের বাসায় স্ত্রীর পাশে দেখতে পায় রানা। এরপর উত্তেজিত হয়ে তার বুকে ছুরি মারে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশি আদালত থেকে জানা যায়, বন্দরনগরীতে প্রতিদিন গড়ে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ৭-৮ জন আবেদন করছেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে মোট ৩৪৫৪টি বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে। চলতি বছর এই সংখ্যা আরও বেশি বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফরাসি মন্ত্রিসভার পদত্যাগ
![]() |
| মানুয়েল ওয়াইয়ুস |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদি–হাওয়ার বেগ কমেছে
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক ছাড়া পেলেন
![]() |
| ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক পিটার থিও কার্টিস |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বার্সায় সেই মেসিই
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাহিনীচিত্রে আদনান তানজিন তিশা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইন না করে সংশোধনী ভয়ংকর by মিজানুর রহমান খান

বিচারকদের স্বাধীনতার প্রতি সংসদীয় অভিশংসনপ্রথা হুমকি—এ কথা কোনো পণ্ডিত কখনো কোথাও লিখেছেন বা বলেছেন বলে জানা নেই। আমরা বিতর্ক করব, কিন্তু তথ্যনিষ্ঠও থাকব। ১৯৯১ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ, যার মধ্যে ছিলেন বিচারপতি ভার্মা, যাঁর তৈরি বিচারক নিয়োগনীতি আমাদের সুপ্রিম কোর্ট ১০ বিচারকের রায়ে নিয়েছেন, ভারতের সেই বেঞ্চ বিচারকের জবাবদিহি প্রশ্নে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলো কী বলেছে, তা অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন। এবং অভিমত দিয়েছেন, বিচারকের আচরণগত তদারকি বিচারকেরাই করবেন। কিন্তু বিচারকেরা বিচারক অপসারণ করবেন না। তাঁরা বিচারকদের লঘু শাস্তি দেবেন। অপসারণের জন্য সুপারিশ করবেন। এই রায়ের ভিত্তিতে ভারত সরকার বিচারক অপসারণ আইনে সংশোধনী বিল আনছে। তখন তদন্ত কমিটিতে বাইরের কেউ থাকবে না। শুধু বিচারকদের দিয়েই সংবিধিবদ্ধ কমিটি থাকবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও নির্দিষ্টভাবে অপসারণসংক্রান্ত জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মৌলিক দলিলগুলো ভারতের আইন কমিশন তার ২০০৬ সালের প্রতিবেদনে (৩৮-৬৩ পৃষ্ঠা) বিস্তারিত আলোচনার পর তাদের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে একমত হয়েছে যে, বিচারকেরা বিচারক অপসারণ করবেন না। এই বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও একমত। তবে ভারতীয় আইন কমিশন জাতিসংঘের কনভেনশনগুলো হাজির করেছে ভারতীয় রাজনীতিকদের এটা বোঝাতে যে, তোমরাই বিচারকদের অপসারণ করবে, দণ্ডিত করবে। কিন্তু কারও আচরণ অপসারণযোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত তোমরা নেবে না। তদন্ত করে কাউকে দোষী কিংবা নির্দোষ প্রমাণ করার কাজটা বিচারকেরাই করবেন।
ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদননির্ভর বিদ্যমান কাউন্সিলকে শ্রেয়তর বললে জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা বাড়বে না। তার চেয়ে বরং অভিশংসনের শ্রেষ্ঠত্ব কবুল করে এই প্রক্রিয়ার কোন অংশ বাংলাদেশের জন্য অসুবিধাজনক, সেটা ব্যাখ্যা করাই ভালো। যাঁরা ওঁচা সংসদ বলে মুখ ফেরাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে এর আগে কাউন্সিলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হতে দেখিনি; বরং সংসদে গিয়ে সবাই এক বাক্যে কাউন্সিলের তারিফ করে এসেছেন। তাঁদের কারও ভান্ডারে এই ব্যবস্থার সংস্কারে কোনো প্রস্তাব ছিল না, এখনো নেই।
সংসদের বৈধতা ও কর্তৃত্বপরায়ণ একটি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর অভিশংসনের নীতিগত বিরোধিতা একসঙ্গে চলে না। বিদেশি বন্ধুরা খুব অবাক হবেন। কারণ, তাঁরা কেউ কখনো বিচারকের অভিশংসন-ভীতি শোনেননি। শ্রীলঙ্কা হয়তো শত বছরের ব্যতিক্রম, তবু দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে কটাক্ষ করা আমাদের সাজে না। ২০১৪ সালের আইনের শাসন সূচকে শ্রীলঙ্কা ৯৯টি দেশের মধ্যে ৪৮, বাংলাদেশ নিকৃষ্ট ৯২তম। রাজাপক্ষে অন্তত বাংলাদেশ মডেলে প্রধান বিচারপতি শিরানিকে অপসারণ করেননি; বরং শ্রীলঙ্কার উচ্চ আদালত অভিশংসনের আগেই সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, এমনকি এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে রায় দানের হিম্মত দেখিয়েছেন। আর কাউন্সিল নিয়ে আমাদের ‘গর্বিত’ জাতি অসহায়ভরে দেখেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন রিটকারীর মর্যাদা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনকে অপসারণ প্রসঙ্গে জেনারেল এরশাদ অকপটে আমাকে বলেন, তাঁকে অপসারণে ‘কারণটা ছিল মতের অমিল’। এরশাদের সামরিক শাসনের অনেক কিছুই সুপ্রিম কোর্ট পাল্টেছেন। প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ আদেশ তাঁরা উল্টে দেননি।
অভিশংসন আনতে সরকার রাজনৈতিক আবেগকে পুঁজি করলে যাঁরা এর কট্টর বিরুদ্ধ যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁরাও বহুলাংশে আবেগান্ধ। অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগ ও অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার প্রকৃত সমর্থক সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে আন্দোলনের হুমকি কৌতূহলোদ্দীপক বটে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বর্ণিত ‘দুই দলের এককাট্টা’ হওয়া একটি নিষ্ঠুর পরিহাস। দলীয়করণে জেরবার বার গত দুই দশকেও দুই নেত্রীর চক্ষুশূল হওয়ার মতো কোনো স্বাধীনতাবান্ধব কর্মসূচি দিতে অপারগ থেকেছে। ২০১০ সালে আমাদের আপিল বিভাগ, যেখানে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ছিলেন না, ছিলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, তাঁরা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বাতিল করেছিলেন। তখন বার টুঁ শব্দ করেনি।
সরকারের উদ্দেশ্য মহৎ মনে হয় না। কিন্তু যাঁরা এই কাউন্সিলকে একটি মীমাংসিত বিষয় মনে করেন, তাঁদের যুক্তিও যথেষ্ট সবল, তা মনে করার কারণ নেই। যদি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি সংসদের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, সেটা ভিন্ন বিষয়। এত বড় একটি সাংবিধানিক সংস্কার, আদালত ছাড়াও যার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতো আরও তিনটি সাংবিধানিক এবং আরও তিনটি আধা সাংবিধানিক সংস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন জড়িত, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যতখানি প্রস্তুতি ও সমঝোতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নেওয়া উচিত ছিল, সেটা তারা করেনি। ১৬তম সংশোধনী যে প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় ধুম করে পাস করিয়ে ফেলল, তাতে মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীনেরা সংবিধানকে ভূর্জপত্র মনে করেন। গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণা ও রীতিনীতি সমাহিত হচ্ছে। বিতর্কিত সম্প্রচার নীতিমালা করতেও সরকার এক বছর নিল, কিন্তু এত বড় একটি বৈপ্লবিক সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে তারা কথাই বলল না।
সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই এটা পাস করিয়ে ফেলার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। মূল সংবিধানের একটি বিধান আনা হচ্ছে। তাই এর বিরুদ্ধে কোনো রিট চলতে পারে না। আইনমন্ত্রী ও আইন কমিশন চেয়ারম্যান আমাদের আশ্বস্ত করছেন যে, আওয়ামী লীগ আমলে কাউকে অভিশংসন করা হয়নি। আসল সত্যটা হলো, এটা অকার্যর ছিল। কাউকে অভিশংসন করার সুযোগ ছিল না। কারণ, আইনটা করা হয়নি।
আইনমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আলাপ করে মনে হলো, আইন করার ব্যাপারে তেমন কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। অথচ আমরা কতটা উদ্বিগ্ন হব, সেটা আইন না দেখে বলা যাবে না। আইনমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা তিন মাসের মধ্যে আইন করবেন। তাহলে প্রশ্ন হলো, আইন করা না হলে তড়িঘড়ি সংবিধান সংশোধন করতে হবে কেন। কী লাভ? বরং বিরাট সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। বাহাত্তর সালে বাংলাদেশ নবজাতক ছিল। তাই তখনকার আইন না থাকা আর এখন না থাকা এক নয়। প্রস্তাবিত বিল পাস হলেই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল যে আচরণবিধি ২০০০ সালে শেখ হাসিনার প্রথম আমলে কার্যকর করেছিলেন, সেটি বাতিল হয়ে যাবে। আর সংসদের কাছে ক্ষমতা নেওয়ার কারণে সুপ্রিম কোর্ট অনতিবিলম্বে নিজেদের গরজে একটি আচরণবিধি করবেন বলেও মনে হয় না। সুতরাং, সরকার এমন একটি বিপদ ডেকে আনছে, যা থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত।
প্রয়াত প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন আমাকে বলেছিলেন, ‘জিয়া এটা ফিরিয়ে আনার পরে তাঁরা তিনজন মিলে আচরণবিধি করেছিলেন।’ পাকিস্তনের যেটা ছিল, সেটাই দু-চারটি বাক্য এদিকে-সেদিক করে তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন। সেই আচরণবিধি দীর্ঘকাল আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরীর আচরণ নিয়ে যখন আপিল বিভাগ রায় লিখতে বসলেন, তখন তাঁরা এই আচরণবিধির নাম নিলেন না। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত আমার একটি বইয়ে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল: পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সংবিধানের অনন্য বৈশিষ্ট্য’ নামে একটি চ্যাপ্টার আছে। এতে একজন বিচারপতি শওকতের উল্লেখ করেছিলাম। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ঢাকার হাইকোর্টে বিচারক থাকার সময় তিনি স্ত্রীর নামে অর্ধডজন মার্সিডিজ আমদানি করেছিলেন। ডন পত্রিকার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখি, উদাহরণ আজও ওই একটি। মিল আছে। বাংলাদেশও একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মনে রাখব, পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের টপ টেনে ওঠা এই কাউন্সিল ঠেকাতে পারেনি। অথচ পাকিস্তানে সামরিক শাসনে ডজন ডজন বিচারক অপসারিত হয়েছেন।
বিচারপতি শওকতের বিরুদ্ধে আচরণবিধির প্রায় ১০টি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। শুনানিকালে তিনি বলেছিলেন, আমি তো আচরণবিধিই পাইনি। কী অপরাধ করলাম জানব কী করে? এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করতে দিলেন। প্রমাণিত হলো, নিয়োগপত্রের সঙ্গে তিনি আচরণবিধি পেয়েছিলেন (বিস্তারিত দেখুন পিএলডি, ১৯৭১ এসসি৫৮৫)। বিচারপতি হামুদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কাউন্সিল একাত্তরের যুদ্ধকালে বিচারক শওকতকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। খুব বেশি দিন হয়নি, আমাদের বিচারপতিরা নিয়োগপত্রের সঙ্গে আচরণবিধি পাচ্ছেন।
আচরণবিধি মান্য করা নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে তেমন কোনো স্পন্দন নেই। প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান আমাকে সম্প্রতি বলেন, বিচারকের বিব্রত হওয়ার কারণ প্রধান বিচারপতিকে জানাতে তাঁর উদ্যোগেই নতুন বিধি হয়েছিল। কিন্তু তার কার্যকারিতা তিনি দেখেন না। সম্পদের বিবরণী দানের বিধিও সচল নয়। একটি আলোনিরোধক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে উচ্চ আদালত। দীর্ঘকাল বিচারক নিয়োগকালে আচরণবিধি দেওয়া হতো না। ১৯৯৪ সালে বিচারপতি মনোয়ার উদ্দিনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এর কপি বারকে দিয়েছিলেন। সেই প্রথম এটা উন্মুক্ত হয়। ধরে নিই, সংবিধান বিল পাসের ৯০ দিনের মধ্যে আইন হবে। সেটা করার অর্থ দাঁড়াবে, এই ৯০ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইনের ঊর্ধ্বে যাবেন। এই সময়ে কেউ গুরুতর অসদাচরণ করলেও তাঁর বিচার করা কঠিন হবে। কারণ, ভূতাপেক্ষ আইন দিয়ে ওই সময়ের অপরাধের বিচার করা যাবে না। জবাবদিহি আদায় করা যাবে না। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে যাঁরা বলেন, বাহাত্তরে যাই, তাঁরা আসলে বলেন চলেন মহাশূন্যে যাই।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি টাইমলাইন by ভোলকার পার্থেস
যেমন এটা সব সময় মনে রাখা দরকার যে বহিঃস্থ শক্তিগুলো যেমন ব্রিটেন ও ফ্রান্স এ অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। এশিয়া মাইনর ঐকমত্যের বিরোধিতার মধ্যে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মর্ম নিহিত রয়েছে। এই ঐকমত্য প্রায় এক শতাব্দী ধরে অক্ষুণ্ন ছিল। এর মাধ্যমে সিরিয়া, ইরাক, জর্দান, লেবানন ও ক্ষেত্রবিশেষে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্ম হয়েছে, যদিও এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মৌলিক কোনো তফাত নেই। এর মাধ্যমে আরব দুনিয়ার চার থেকে পাঁচ প্রজন্মের রাজনৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানের নায়কেরাও রয়েছেন, যাঁরা এর জন্য লড়েছেন, এর সঙ্গে খাপ খাইয়েছেন এবং এমনকি এটাকে প্রভাবিত করারও চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার জট হয়তো খুলতে যাচ্ছে। সিরিয়া ও ইরাকের সীমানা মুছে যাচ্ছে, সুন্নি জঙ্গিরা এ রাষ্ট্র দুটোর একটি বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। আর কুর্দি সেনাদের উত্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ কুর্দি রাষ্ট্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরাজমান অবস্থাও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সেখানে দুই রাষ্ট্রের সম্ভাবনা আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় সে অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমশ এক রাষ্ট্রের সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপসরফা চলছে।
এ অঞ্চলের কৌশলগত প্রভাব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে যে বিবাদ চলছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সর্বশেষ সংযোজন। আর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দুনিয়ার তেল আহরণের ক্ষুধা সহসা মিটবে না বিধায় সেখানকার রাজনীতির বিন্যাসে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বহিঃস্থ শক্তির প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে, ১৯৭০-এর দশকে তারা গ্রেট ব্রিটেনকে হটিয়ে দিয়ে প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। চীন ও ভারত ক্রমেই শক্তিমান হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রকে এখন তাদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।
কিন্তু এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান ও সৌদি আরবই মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে নিজেদের মধ্যে বিবাদ করে যাবে, নাকি এ অঞ্চলের নিরাপত্তাকাঠামোর খুঁটি হয়ে উঠবে? প্রধান শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে নিজেদের আর যুক্ত রাখতে না চাওয়ায় এরূপ একটি কাঠামো জরুরি হয়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হবে না, এটা বুঝে যাওয়ায় পশ্চিম আর সেখানে তাদের স্বার্থ রক্ষায় খুব একটা তৎপর হবে না। এর সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ভারতও একই কাতারে শামিল হয়েছে। সেখানকার কোনো শক্তি আঞ্চলিক হুমকি হয়ে উঠলেও তারা আর সেখানে খুব একটা নাক গলাবে না।
স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি টাইমলাইন থেকে কোনো শৃঙ্খলা ও সুস্থিরতা না এলে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক কাঠামো থেকে যে নৃতাত্ত্বিক বা আত্মসত্তার রাজনীতি গড়ে উঠেছে, সেটাই তখন প্রধান হয়ে দাঁড়াবে। আত্মসত্তার ঠিকুজি কত দূর পর্যন্ত সন্ধান করা হলো সেটা কোনো কাজের কথা নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলোর নাম নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করা যায় বা সেটাকে চলমান রাজনৈতিক লক্ষ্যের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।
এই টাইমলাইনের পর্বগুলো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মতোই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ১৪০০ বছর আগে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই শিয়া ও সুন্নি বিভাজনের সূত্রপাত হয়। আব্বাসীয় ও ফাতিমীয়দের মধ্যকার যুদ্ধ, এরপর ক্রুসেড, মোঙ্গলদের অভিযান ও অবশ্যই পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ—এসব কিছুই মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান দ্বন্দ্ব-বিবাদের উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিন্তু এসব ঘটনা থেকে শুধু ব্যাখাই দেওয়া হয় না, এসব থেকে কখনো কখনো জোরালো সাড়াও পাওয়া যায়। আইএস যে সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে, সে বিষয়টির প্রতি একটু নজর দিন। অধিকাংশ সুন্নিই ইসলামি রাষ্ট্রের স্বনিয়োজিত খলিফা আবুবকর আল-বাগদাদির নৃশংস আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এই ব্যক্তি দাবি করেন, কালে কালে তিনি রোম দখল করবেন—এ কথা শুনে সুন্নিরা হাসাহাসি করে।
তার পরও বাগদাদি দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক কাঠামোর যে ‘স্মৃতি’ ও প্রতীকের অবতারণা করেন, সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে: আব্বাসীয়দের কালো পতাকা, ইসলামের স্বর্ণযুগে খিলাফতের প্রবল প্রতাপ প্রভৃতি। অবশ্যই, আইএসের হাতে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র না থাকলে এই স্বর্ণযুগের অবতারণা করে তেমন কোনো কাজ হতো না বা ইরাক ও সিরিয়া রাষ্ট্র হিসেবে সংহত হলেও এসব ধোপে টিকত না। কিন্তু তারা ইসলামি রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে এত শক্তিশালী এক ঐতিহাসিক আখ্যান যুক্ত করেছে যে সেটাকে একদম ফেলে দেওয়া যায় না।
এই অ্যাখ্যানের ভেতরে ঢুকলে বিদেশিরা ধাঁধায় পড়ে যেতে পারে। তারা না পারবে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক কাঠামোর তাৎপর্য উপেক্ষা করতে, না পারবে এই দাবি বিশ্বাস করতে যে এই যুদ্ধ একটি তরিকার ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।
আরও সাধারণভাবে বললে, এই অঞ্চলে কোনো বহিঃস্থ শক্তির এটা বিশ্বাস করা চলবে না যে শিয়া, সুন্নি বা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তাদের সঙ্গে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের সব টাইমলাইনের একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সব স্থানীয় কুশীলবই নিজেদের পক্ষে। বিদেশিদের কাছে টানলে তাদের লাভ হবে, এমন সম্ভাবনা থাকলে তারা বিদেশিদের দলে ভেড়ানোর জন্য জান দিয়ে দেবে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
ভোলকার পার্থেস: জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনির্বাচিত প্রশাসন ও ঢাকা শহরের অব্যবস্থাপনা by এম সাখাওয়াত হোসেন
আমাদের দেশের রাজধানীর একমাত্র বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা আর তার অবস্থা যাঁরা দেখেছেন বা অহরহ দেখছেন, তাঁরা ওই অধ্যাপকের মন্তব্য যৎসামান্য বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন আমাদের দেশের ব্যবস্থাপনার হালহকিকত। দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষ করে বিমানবন্দরে নামার পর মালপত্র পেতে লেগে যায় সফরের সময়ের প্রায় অর্ধেক। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হয়ে কনভেয়ার বেল্টে আসতে যতটুকু সময় লাগে তার মধ্যেই ব্যাগেজ চলে আসে। ওসব দেশের বিমানবন্দর দেখে স্বভাবতই মনে হবে যে দেশের ব্যবস্থাপনায় তেমন বড় ধরনের বিচ্যুতি নেই। আপনি নির্বিঘ্নে বের হয়ে আসতে পারবেন। আর কোনো কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা হবে ওই দেশের আইনের আওতায়।
আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দরের অভ্যন্তরেই নয়, এর বাইরের কথা একবার চিন্তা করুন। সাধারণ যাত্রী হিসেবে আপনি কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করে বের হলেন তো পড়লেন বৃহত্তর সমস্যায়। কোনো শৃঙ্খলাই নেই। হইচই-হট্টগোল আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাধারণ যাত্রীরা যাঁরা আসেন, তাঁদের নিয়ে তো রীতিমতো টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে যায়। বেচারা যাত্রীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। এই ব্যবস্থাপনা শুধু বিমানবন্দরের? একবার ভেবে দেখুন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা কীভাবে চলে আসছে বছরের পর বছর, সব সরকারের সময়। দিনে দিনে যেখানে অগ্রসর হওয়ার কথা সেখানে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি বলে অন্তত আমার কাছে মনে হয়। একবার বিআরটিএর অব্যবস্থাপনা ভেবে দেখুন! এক বছর পেরিয়ে গেলেও গাড়ির ডিজিটাল ব্লু বুক এখনো পাইনি।
বিমানবন্দর কোনোভাবে পার হওয়ার পর রাস্তায় উঠলেই রাজধানী ঢাকার চরম অব্যবস্থা চোখে পড়বে। ডাস্টবিন নেই। রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপ, তার ওপরে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির জন্মস্থানে রূপান্তরিত হয়ে আছে। শহরের দু-একটি রাস্তা ছাড়া অক্ষত অবস্থায় কোনো রাস্তাঘাট নেই। এমনকি অভিজাত এলাকার রাস্তার অবস্থাও একই রকম। বারিধারার দূতাবাস এলাকার রাস্তাগুলোর করুণ অবস্থা। শহরের প্রশাসনে কোনো দায়িত্ববান নির্বাচিত ব্যক্তি নেই আজ প্রায় তিন বছর। অথচ সংসদের ভেতরে তথাকথিত বিরোধী দল এ ব্যাপারে কোনো কথা তো বলেই না। যাঁরা বক্তৃতা-বিবৃতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করছেন, তাঁদের তরফ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষের এই শহরের প্রশাসনে নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের দাবি তোলা হয় না। এখানে সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কথা নস্যি। এখানে রাজনৈতিক সুবিধাটাই মুখ্য।
বিশ্বের যে ১০টি শহর বসবাসের অযোগ্য শহর বলে চিহ্নিত হয়েছে, আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা রয়েছে সেই তালিকায় একদম নিচের দিকে—৯ নম্বরে। তার নিচে রয়েছে রবার্ট মুগাবের দেশ জিম্বাবুয়ের রাজধানী, হারারে। এর আর কী ব্যাখ্যা হতে পারে? চরম অব্যবস্থাপনায় চলছে রাজধানী শহর। বিশেষত, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এমন চরম হতাশাজনক চিত্র বিশ্বের অন্য কোনো শহরে আমার চোখে পড়েনি। আমাদের এই মহানগরের বেশির ভাগ সড়কই বেশ প্রশস্ত। তার পরও শুধু অব্যবস্থাপনার জন্য যানজট লেগেই আছে। কিছু কিছু রাস্তার দুই ধারে অফিস আর নিত্যনতুন বহুতলবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত পার্কিং-ব্যবস্থা নেই। রাস্তার দুই পাশ গাড়ির পার্কিং হিসেবে দখল। এমনকি বিভিন্ন বাণিজ্যিক অফিস, ব্যাংক ফুটপাতকেও নিজের সম্পত্তির ঘোষণা দিয়ে ‘প্রাইভেট’ সাইন লাগিয়ে রেখেছে। মতিঝিল এলাকা বাদই দিলাম। বনানী-গুলশান এলাকার রাস্তার অর্ধেক দখল, অবৈধ পার্কিং এবং বাদবাকি অর্ধেক দিয়ে শৃঙ্খলাহীন চরম অব্যবস্থায় গাড়ির চলাচল। ডান দিকে মোড় নিতে হলে পুরো রাস্তা ব্লক করে একাধিক লেনে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। বনানী ১১ নম্বরের রাস্তার দুই পাশে বহুতল বাণিজ্যিক দালানের অনুমতি দিয়েছে রাজউক। অথচ রাস্তার প্রশস্ততা তেমন নয়। এত গাড়ি কোথায় থাকবে, তার কোনো জায়গা নেই। অপর্যাপ্ত পার্কিং দেখিয়ে নকশার অনুমোদন নেওয়া।
ওপরে সংক্ষেপে বর্ণনা করলাম সামান্য একটি জায়গার কথা। এটাই সমগ্র রাজধানীর চিত্র। এর ওপরে অসহনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। বাসে যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও সেগুলো হকারদের দখলে। একাধিক বাস পাল্লা দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় রাস্তার মোড়ে অথবা সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তার সংযোগস্থলে বেপরোয়া চালক। ট্রাফিক পুলিশকে যেমন মানে না, তেমনি ট্রাফিক সার্জেন্ট অথবা পুলিশের মাথাব্যথা থাকে না। থাকবেই বা কেন? হয় তারা প্রভাবশালীদের কারণে আইন প্রয়োগ করতে পারে না অথবা ঘুষ-বাণিজ্যের রমরমার কারণে আইন প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। লেগে যায় যানজট। অথচ এই যানজট লাগার কথা নয়। ইদানীং বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সঙ্গে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অতিরিক্তভাবে লাগানো হয়েছে টাইমার, যেমনটা ইউরোপীয় শহরে দেখে এলাম। অযথা খরচে হয়তো কারও পকেট ভর্তি হয়েছে। এর ব্যবহার কী তা অনেকেই জানেও না। যেখানে সিগন্যাল বাতি চালু থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার হয় না, সেখানে টাইমার লাগানো ফালতু খরচ নয়তো কী বলা যায়। আধুনিকায়ন তখনই হবে যখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার প্রয়োগ ও চর্চা থাকবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য শত শত কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সিগন্যাল থাকলেও কোথাও কোথাও ডজন খানেক পুলিশ নিয়োজিত থাকে ট্রাফিক সামলাতে। সিগন্যাল বাতি দেখে চলার অভ্যাস করানো হয়নি চালকদের। আমার মনে হয় না সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনো মাথাব্যথা রয়েছে। চরম অব্যবস্থাপনায় রাজধানী, অবশিষ্ট দেশের চিত্র তো বোঝাই যায়।
কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফুটওভারব্রিজ বানানো হয়েছে। অথচ সেগুলো ব্যবহারে পথচারীদের অভ্যাস করানো হচ্ছে না। হালে ফুটওভারব্রিজ অত্যাধুনিক করা হয়েছে, যা আমার দেখা দেশগুলোর কোনো রাজধানী শহরে চোখে পড়েনি। এয়ারপোর্ট রোডের চেয়ারম্যানবাড়ি বলে কথিত জায়গায় চলন্ত সিঁড়ি বা ‘এসকেলেটর’ বসানো হয়েছে ওভারব্রিজে চড়ার জন্য। দু-চারজন মানুষ ছাড়া আমার চোখে পড়েনি এর ব্যাপক ব্যবহার। ঠিক তার দুই পাশ দিয়েই মানুষ হেঁটে বেপরোয়া রাস্তা পার হচ্ছে, যার কারণে লেগে যায় ট্রাফিক জ্যাম। জেব্রা ক্রসিংয়ে কখন পার হতে হবে তা নিয়েও সচেতনতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখিনি। প্রশ্ন থাকে যে এ ধরনের ফুটওভারব্রিজ, চলন্ত সিঁড়িসহ যা লন্ডনসহ অন্যান্য শহরে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন ছাড়া ওভারব্রিজের বেলায় চোখে পড়েনি, তা লাগিয়ে আমরা কী পেলাম যদি তা ব্যবহারের তাগিদই পথচারী বোধ না করে।
এক কথায়, ঢাকার রাস্তায় গাড়ির ঘনত্বের জন্য নয়, তার চেয়ে বেশি যানজট লাগে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে। বিশ্বের বহু শহরে গাড়ির ঘনত্ব বিশেষ সময়ে বৃদ্ধি পায় কিন্তু ঢাকায় সড়কের যেমন অভাব, তেমনি অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই যানজট লেগে থাকে। কত শ্রমঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হয় এবং কত তেল পোড়াতে হয়, তা গবেষকেরা মাঝেমধ্যে নিরূপণ করেন বটে, তবে ওই সব গবেষণা ফাইলবন্দীই হয়ে থাকে।
ঢাকার ট্রাফিকের ব্যবস্থাপনা যেমন, সার্বিকভাবে দেশের অন্যান্য শহরের চিত্র তার চেয়ে ভয়াবহ। এগুলো নিয়ে লিখতে বসলে মোটামুটি বৃহৎ আকারের বই রচনা করা যায়। ঢাকার ট্রাফিক আমাদের সমাজের চিত্র, যেখানে বিশৃঙ্খলাই শৃঙ্খলা। আর রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা আর ব্যবস্থাপনা? বিমানবন্দর আর শহর দেখলে সহজেই অনুমেয়। এ বিষয় নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বেশি বলার প্রয়োজন হয় না।
কেউ হয়তো বলতে পারেন, আমি যা নিয়ে আলোচনা করলাম তার তথ্য-উপাত্ত কোথায়? আমার কাছে নেই। তবে চাক্ষুষ প্রমাণ রয়েছে। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে অনুরোধ করব আমাদের রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আর বিমানবন্দরের হালহকিকত ওই আলোচিত অধ্যাপকের তত্ত্বের আলোকে নিরীক্ষণ করুন। তার মধ্য দিয়েই উপলব্ধি করবেন ওই তত্ত্বের বাস্তবতা। আরও পাবেন আমাদের রাষ্ট্রের ও সরকারের ব্যবস্থাপনার চিত্র। একটি দেশের রাজধানী যদি বসবাসের যোগ্যতার ক্ষেত্রে তলানিতে থাকে, তবে দেশের অন্যান্য শহরের কোথায় অবস্থান, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা এই অব্যবস্থাপনা থেকে কবে বের হতে পারব জানি না, তবে যত দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা না হবে, তত দিন পর্যন্ত তো নয়।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিক্রিয়ার জবাব- সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? by মহিউদ্দিন আহমদ
আমি ওপরের উদাহরণ দিলাম এ জন্য যে অধ্যাপক রাজ্জাক, অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম—তাঁদের কেউ মিথ্যা কথা বলেছেন বলে পাঠক মনে করেন না। প্রশ্ন হলো, যখন কেউ গবেষণা করবেন কিংবা ইতিহাস লিখবেন, তখন এ ধরনের উক্তি বা তথ্য ব্যবহার করা উচিত হবে কি না। এখানে প্রশ্ন উঠবে ভ্যালু জাজমেন্টের। এ নিয়ে প্রাণবন্ত অ্যাকাডেমিক আলোচনা হতে পারে।
গোপন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সব সময় সবকিছুর দালিলিক প্রমাণ থাকে না। সেটা সম্ভবও নয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের নির্ভর করতে হয় একটা বিশেষ ঘটনার বা সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুশীলবদের। তাঁদের কোন কথাটা গবেষণার কাজে উপাত্ত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তারও সর্বজনীন রীতিপদ্ধতি নেই। এখানে বিচার্য হতে পারে, যিনি একটি বিশেষ উক্তি করেছেন, তিনি কোন পরিপ্রেক্ষিতে করেছেন, কিংবা তিনি কেমন মেজাজের মানুষ, তাঁর চিন্তাধারা বা দর্শন কেমন। লেখক-গবেষককে এ ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি নিতে হয়। কেননা, ওই সময়ের কুশীলবদের সঙ্গে অনেকেরই আবেগের সম্পর্ক থাকতে পারে এবং তাঁরা আহত বোধ করতে পারেন। এ জন্য লেখার সময় অনেকেই অনেক তথ্য এড়িয়ে যান অথবা তথ্য গোপন করেন। ফলে নির্মোহ ইতিহাস লেখা হয়ে ওঠে না। এ ক্ষেত্রে আমি একটু ঝুঁকি নিয়েছি। এখন দেখতে পাচ্ছি, এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। মোদ্দা কথা হলো, কথ্য ইতিহাস (ওরাল হিস্ট্রি) কতটুকু গ্রহণযোগ্য এবং এই গ্রহণযোগ্যতা কে নির্ধারণ করবেন?
আমার লেখার বিষয় হচ্ছে ‘জাসদ’। এটা নিকট অতীতের বিষয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখনো জীবিত এবং রাজনীতিতে সক্রিয়। জাসদের রাজনীতি নিয়ে আমাদের অনেকেরই আছে প্রচণ্ড আবেগ। এই আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকের প্রতি ভালোবাসা, অনেকের প্রতি ঘৃণা। এসবের ঊর্ধ্বে উঠে সব রকমের চশমা ফেলে দিয়ে সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে পারলেই আমরা ইতিহাস লেখার উপাদান সৃষ্টি করতে পারব৷ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আমি শতভাগ একমত, আমি ছাত্রলীগ-জাসদ-গণবাহিনীর কোনো উঁচু পদে ছিলাম না। থাকার কথাও নয়। ওই সময় যাঁরা উঁচু পদে ছিলেন, সবকিছুর দায়দায়িত্ব তো তাঁদেরই নিতে হবে, সেটি ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক।
আমার পাণ্ডুলিপির অল্প একটি অংশ প্রথম আলো ছেপেছে এবং এটা আরও কয়েকটি পত্রিকায় উদ্ধৃত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমি বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন, তথ্যগত কিছু ত্রুটি আছে। আমি এতে উপকৃত হয়েছি এবং আমার পাণ্ডুলিপি পরিমার্জন করেছি কিছু কিছু জায়গায়। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনও তাঁর প্রতিক্রিয়ায় অনেক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ এ জন্য যে আমি আবারও তথ্য যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পেলাম।
অধ্যাপক হোসেন অনেকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। আমি দেখলাম, তথ্যসূত্র অনুযায়ী আমার উল্লেখ করা সব কথাই মোটামুটি অভ্রান্ত। শুধু একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি লিখেছিলাম, ‘সন্ধ্যায় খন্দকার মোশতাক আহমদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাহের উপস্থিত ছিলেন।’ সামরিক আদালতে বিচারের সময় আবু তাহের যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, সেখানে অবশ্য তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘When I reached Banga Bhavan at mid-day, the swearing in ceremony was over. In the evening I sat down with the officers who were involved in the killing. They were headed by Major Rashid. I once again put forward to them the suggestings. I had made to Mushtaque that morning. ...During the latter part of our discussion, I called General Zia to join in... (আমি বঙ্গভবনে যখন পৌঁছালাম, তখন দুপুর। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় আমি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অফিসারদের সঙ্গে বসলাম। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর রশিদ। সকালে আমি মোশতাককে যে পরামর্শগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো আবার উল্লেখ করলাম। আলোচনার শেষ পর্যায়ে আমি জেনারেল জিয়াকে আলোচনায় যোগ দিতে ডাকলাম)।
তাহের মোশতাককে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা আমার লেখায় উল্লেখ আছে।
আমি বলেছি, জাসদ কখনো সামরিক আইন জারি করার কথা বলেনি এবং এটা ছিল আবু তাহেরের নিজস্ব প্রস্তাব। এটা জাসদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা জাসদের নেতারাই বলতে পারেন। আশা করি, তাঁরা এ বিষয়ে মুখ খুলবেন। যদি আমার কথা ভুল হয়, আমি আমার পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে নেব।
লরেন্স লিফশুলজের গ্রন্থ বাংলাদেশ: দি আনফিনিশড রেভল্যুশন (জেড প্রেস, লন্ডন, ১৯৭৯) থেকে আমি অনেক তথ্যের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি। আবু তাহেরের জবানবন্দিটি এই গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। এই জবানবন্দির কোথাও বঙ্গবন্ধু কিংবা জাতির পিতা (ফাদার অব দ্য নেশন) শব্দাবলির উল্লেখ নেই।
আমি আবু তাহেরের জীবনী লিখতে বসিনি। আমার বিষয় ‘জাসদ’। তাহেরের প্রসঙ্গ এসেছে। কেননা, তিনি জাসদের সামরিক সংগঠন গণবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন।
তবে এটাও সত্য যে দিন–রাত বঙ্গবন্ধু কিংবা জাতির পিতা জপ করলেই শেখ মুজিবের প্রতি সম্মান দেখানো হয় না। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখেছি, গ্রামের সাধারণ মানুষ চার অক্ষরের ছোট্ট একটা শব্দে তাঁর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করত। হৃদয় থেকে উৎসারিত হয়ে আসা শব্দটি ছিল ‘মজিবর’। যাঁরা এখন ২৪ ঘণ্টা বঙ্গবন্ধু আর জাতির পিতা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, তাঁদের ভাবসাব দেখলে মনে হয় তাঁরাই আওয়ামী লীগ তৈরি করেছেন, আর শেখ হাসিনা পরে তাঁদের দলে যোগ দিয়েছেন।
তাহের সম্পর্কে যে উদ্ধৃতি নিয়ে এত হইচই হচ্ছে, তারও একটা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আমরা এটাকে ‘লুজ টক’ বা কথার কথা বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেও শেখ মুজিবের প্রতি তাহেরের প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল, তা তো অস্বীকার করা যাবে না। শেখ মুজিব যেখানে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগের পর তাঁকে একটি চাকরি দিয়েছিলেন, তিনি সেই চাকরির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গণবাহিনী বানিয়েছিলেন মুজিব সরকারকে উৎখাত করার জন্যই। এ ছাড়া গণবাহিনীর আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভূমিকা সবার জানা, কীভাবে একটার পর একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছিল, কীভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছিল। আমাদের সমস্ত লালিত আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও মূল্যবোধ একের পর এক ধ্বংস করা হয়েছিল। গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত নোংরাভাবে। জনগণকে পদদলিত করে জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট একনায়কতন্ত্র।’ এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছিল ১৫ আগস্ট সকালে। তাই তাহের খুনি মেজরদের ‘অনুরোধে’ সকালেই ছুটে গেছেন ঢাকা বেতারকেন্দ্রে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বৈধ রাষ্ট্রপতির রক্তাক্ত মৃতদেহ সাড়ে ৩৩ ঘণ্টা অনাদরে, অবহেলায় পড়ে ছিল। একজন পাকিস্তান-প্রত্যাগত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য দেখাতে গিয়ে নিজের প্রাণটি বিসর্জন দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরে বেসামরিক কর্মকর্তা কর্নেল তাহের বীর উত্তম একজন অবৈধ রাষ্ট্রপতিকে সামরিক আইন জারি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কী নিদারুণ বৈপরীত্য!
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট অনেকে স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে এবং আওয়ামী লীগ ও জাসদের মধ্যে একটা সমীকরণ তৈরি হবে। রাজনীতিতে এ ধরনের সমীকরণ নতুন কিছু নয়। কিন্তু তাই বলে জোর করে আবু তাহেরকে ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ বানানোর তো প্রয়োজন নেই। এই কাজটি করে যাঁরা নানা ধরনের ইহজাগতিক সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের লোভের আগুনে তাহেরের লাশ আবারও পুড়ছে।
অধ্যাপক হোসেন তাহের প্রসঙ্গে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আদালতের এই রায়ই শেষ কথা নয়। উচিত হবে একটি ‘কমিশন’ গঠন করা, যাতে করে ১৫ আগস্টের ঘটনার পূর্বাপর এবং এর নেপথ্যের কুশীলবদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়।
আমার লেখার ভগ্নাংশ ছাপা হয়েছে। পুরো বইতে তাহের কেন্দ্রীয় চরিত্র নন। পাঠক আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন, ভাবনাচিন্তার খোরাক পাবেন, যখন বইটি আলোর মুখ দেখবে। তখন সুযোগ তৈরি হবে ফিরে দেখার, অ্যাকাডেমিক আলোচনার। এর আগেই যদি আমরা সত্য লুকাতে চাই এবং নির্মম সত্যকথনের জন্য লেখককে ব্র্যান্ডিং করতে চাই, সেটা কোনো উদারতার পরিচায়ক হবে না। আমাদের উচিত হবে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বাদ দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া। একদা খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমকে যাঁরা ‘ভারতের দালাল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে ব্র্যান্ডিং করে জেনারেল জিয়াকে সামনে রেখে বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন, তার পরিণতিতে খালেদ নিহত হয়েছিলেন আরও দুজন বীর উত্তম হুদা, হায়দারসহ। ক্ষমতার লড়াইয়ের এই বিপজ্জনক খেলায় তাহের নিজেও শিকার হয়েছিলেন। আমরা কি এখান থেকেও কোনো শিক্ষা নেব না?
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 26
(12)
- প্রিজন সেলে আজিজুরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য!
- বিচারপতিদের তদন্ত করবেন কারা? by সাজেদুল হক
- চট্টগ্রামে পরকীয়ায় ভাঙলো ৪০ সংসার by মহিউদ্দীন জুয়েল
- ফরাসি মন্ত্রিসভার পদত্যাগ
- মোদি–হাওয়ার বেগ কমেছে
- সিরিয়ায় অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক ছাড়া পেলেন
- বার্সায় সেই মেসিই
- কাহিনীচিত্রে আদনান তানজিন তিশা
- আইন না করে সংশোধনী ভয়ংকর by মিজানুর রহমান খান
- মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি টাইমলাইন by ভোলকার পার্থেস
- অনির্বাচিত প্রশাসন ও ঢাকা শহরের অব্যবস্থাপনা by এম...
- প্রতিক্রিয়ার জবাব- সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? by...
-
▼
Aug 26
(12)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



