Wednesday, January 12, 2011

জন্ম শতবর্ষে বিচারপতি মোর্শেদ by জিয়া হাবীব আহসান

আজ বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর বাবা সৈয়দ আবদুস সালেক ছাত্রজীবনে মেধার পরিচয় দিয়ে পরে বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বিচারপতি মোর্শেদের মামা। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে তিনি অনার্সসহ বিএ ও এমএ পাস করেন যথাক্রমে ১৯৩০ ও ১৯৩২ সালে। ১৯৩৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে আইন পাস করেন। ১৯৩৯ সালে বিলেতের লিনকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। তারপর দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে যোগ দেন এবং একই বছর ঢাকা হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন। ১৯৬২-৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং ১৯৬৪ সালে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত হন।
১৯৬৭ সালে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের কৌঁসুলি স্যার টম উইলিয়ামস ঢাকায় এলেন, বিচারপতি মোর্শেদ টম উইলিয়ামসকে বলেছিলেন, ‘এই মামলায় আমি আপনার সহকারী হিসেবে কাজ করে যাব।’ টম উইলিয়ামস উত্তরে বলেছিলেন, ‘একজন প্রধান বিচারপতি সব সময়ের জন্যই প্রধান বিচারপতি থাকেন। সুতরাং সে হিসেবে আপনি আমার উপদেষ্টা হিসেবেই কাজ করবেন।’ টম উইলিয়ামস ঢাকায় থাকাকালে তাঁর সঙ্গে বিচারপতি মোর্শেদের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে অনেক বৈঠক হয়। বিচারপতি মোর্শেদের জ্ঞান ও আইনের শাসনের প্রতি অনুরাগ দেখে টম উইলিয়ামস বহুবার প্রশংসা করেছেন।
জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এই কঠিন পর্যায়ে বিচারপতি মোর্শেদ এগিয়ে এসেছিলেন একজন নির্ভীক সৈনিকের মতো। আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯৬৯) সমগ্র পাকিস্তানের যে ৩৫ জন নেতা আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, বিচারপতি মোর্শেদ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। বিচারপতি মোর্শেদ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারাসনে বসে স্বৈরাচারী সরকার এবং সামরিক আমলে যে সিদ্ধান্ত ও রায় দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। শুধু যুক্তিতর্কই নয়, বলিষ্ঠ ভাষা ও তাঁর পণ্ডিত্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাদের আইনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিচারপতি মোর্শেদ বিশ্বাস করতেন গণতন্ত্রই সর্বোচ্চ অধিকার, তিনি আইনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ক্যাবিনেট মিশনের ব্যর্থতায় মর্মাহত হয়েছিলেন, উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যাঁরা উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৫০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। চুয়ান্নর যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচনে ও ২১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ণে তাঁর ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এ জাতি কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে নিম্ন আদালতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি রাজনীতিবিদদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে কিছুটা ভগ্ন স্বাস্থ্যজনিত কারণে, কিছুটা সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দরুন এই তেজস্বী পুরুষ নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তবুও গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে কখনো তিলমাত্র বিচ্যুত হননি। ১৯৬৯ সালের ৩ এপ্রিল তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিস্মৃতিপরায়ণ এই সমাজের জন্য, মূল্যবোধের প্রবল সংকটের সময় বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মতো ব্যক্তিত্বের আজ বড়ই প্রয়োজন। তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবান বক্তৃতা, প্রবন্ধ, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার রায় মেধায়, প্রজ্ঞায়, বিচক্ষণতায়, আইনের ব্যাখ্যায় আমাদের মূল্যবান সম্পদ বলে বিবেচিত। এসব গ্রন্থভুক্ত করে সমাজকে সমৃদ্ধিশালী করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি প্রিন্সিপাল শাহ মুহাম্মদ খোরশেদ প্রণীত Justice Syed Mahbub Mursed-A Profile নামের একটি মূল্যবান পুস্তক প্রকাশ করেছে। পুস্তকটিতে তাঁর সম্পর্কে বহু মূল্যবান তথ্য রয়েছে।
বিচারপতি মোর্শেদ আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি যে প্রত্যয়, মূল্যবোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংগ্রামী অবদান রেখে গেছেন, তা আমাদের সামনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেশের মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। শুধু বিচারক হিসেবেই নন, দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি যে ভূমিকা পালন করে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংশোধনী: গতকাল প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর বাল্যবন্ধু মানিক মিয়া’ ফিচারটিতে দুটো ভুল আছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর বন্ধু মানিক মিয়ার সঙ্গে বঙ্গভবনে নয়, গণভবনে দেখা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি নন।

একটুখানি আশার আলো by সাইফুদ্দীন চৌধুরী



আমার এক অধ্যাপক বলছিলেন, খবরের কাগজে লেখালেখি করে কোনো কাজ হয় কি? অযথা তোমরা সময় নষ্ট করো। বন্ধুকে বলেছিলেম, কথাটা নির্জলা মিথ্যা নয়। তবে, কাজ একটু-আধটু যে হয় না, তা নয়। প্রচারমাধ্যমে বিশিষ্টজনেরা যে অভিমত রাখেন কিংবা পরামর্শ দেন, কর্তৃপক্ষ তা নজরে এনে সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা তো করেই। তাঁকে গত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলার সময়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বললাম, ওই সময় তো শহর-গ্রাম ছেয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের ঢাউস আকারের পতাকায়। দেশের মাটিতে বিদেশি পতাকা নিয়ে হই-হুল্লোড় দেখে অনেকের কাছে বিষয়টি বিসদৃশ মনে হওয়ায় কেউ কেউ খবরের কাগজে বিরূপ মন্তব্য করেন। সরকার কিন্তু বাধ্য হয়েছিল আইন করে পতাকা ওড়ানো বন্ধ করতে। জাতীয় সংসদে আইন পাস করেই দেশবাসীকে এই পতাকার বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।
শিক্ষানীতির মতো দেশে একটি সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য সংস্কৃতি নীতি সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে। সুধীজনেরা নানা ফোরামেও কথা বলছেন। কদিন আগে খবরের কাগজে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে খানিকটা আশান্বিত হলাম। সরকারিভাবে না হলেও দলীয়ভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেশের খ্যাতিমান একজন শিক্ষাবিদকে সভাপতি ও একজন দর্শকপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে সদস্যসচিব করে একটি সংস্কৃতি উপকমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নানা কৌণিকে পর্যালোচনা করে একটি সংস্কৃতি নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করবে। নিউক্লিয়াস হিসেবে প্রণীত এই খসড়া সংস্কৃতি নীতিগুলোই বিভিন্ন পর্ব ও পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় সংস্কৃতি নীতি হিসেবে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপিত হবে। এই প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমান সরকার অবশ্যই ধন্যবাদার্হ।
প্রতিটি দেশেরই সাংস্কৃতিক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কারণ, সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর আত্মিক, বুদ্ধিগত, বস্তুগত, আবেগগত চিন্তা-চেতনা প্রকাশের স্বার্থেই এই সম্পর্কিত নিয়ম-নীতির প্রয়োজন। বলা হয়ে থাকে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমেই একটি জাতি তার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পারে।
এই লক্ষ্যেই মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ১৯৮২ সালের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সংস্কৃতিনীতি বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত সব সদস্যদেশকে স্বতন্ত্রভাবে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন করতে হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে, আত্মসচেতন হয়, নিজের অসম্পূর্ণতা সম্পর্কে বোধ জন্মে, নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শেখে, অনবরত নিজের সীমা অতিক্রম করে দক্ষতা অর্জন করে। কোনো একটি একক সংস্কৃতি তার সর্বজনীনতা বিস্তারের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায়। পৃথিবীর অন্যান্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাকে সম্পর্ক গড়তে হবে এবং সেই সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে সে তার অস্তিত্ব প্রমাণ করবে। আদান-প্রদানের মাধ্যমে কেবল সর্বজনগ্রাহ্য সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি হতে পারে।
আমাদের দেশে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন করতে গেলে ইউনেসকোর ঘোষিত এই তথ্যগুলো মাথায় রাখতে হবে তো বটেই। সংস্কৃতির বিষয়াবলি বহুমাত্রিক আমাদের দেশে। তেল, গ্যাস, জ্বালানি ও খাদ্যসংকটের মতো বড় বড় সমস্যা থাকলেও সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। দেশে দ্রুত নগরায়ণ, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বগ্রাস, পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন—জনগণের রুচি ও চাহিদার পরিবর্তনের কারণে এসব দিক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতি হিসেবে আমাদের আবহমানকালের ঠিকানা রক্ষা করার স্বার্থেই আমাদের দেশে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন করা জরুরি।
আমাদের লোকঐতিহ্যের জনপ্রিয় শাখা যাত্রাশিল্প। ষোড়শ শতক থেকে শুরু হয়েছে এই বিনোদনমাধ্যমের চর্চা। প্রায় দুই শ যাত্রাদল রয়েছে দেশে। কলাকুশলী, যন্ত্রী, রূপসজ্জাকর মিলে লাখ ছয়েক লোকের জীবন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৩৩ সালের লাইসেন্স এনডোরসমেন্ট অ্যাক্টের অব্যবস্থার কারণে গ্রামের মানুষের প্রিয় এই বিনোদনমাধ্যমটি এখন ধ্বংসোন্মুুখ। এই শিল্পকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের আরেক জনপ্রিয় বিনোদনমাধ্যম চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রশিল্পকে সর্বজনগ্রাহ্য করার নীতিও প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ অ্যাক্ট বাতিল করা প্রয়োজন দেশের চলচ্চিত্রের বিকাশের স্বার্থেই। বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এর সঙ্গে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সও সংযোজনের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আইনগুলো অত্যন্ত দুর্বল, এগুলোর আধুনিকায়ন দরকার। ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলোই এখন দেশে চালু রয়েছে। দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর পূর্ণাঙ্গ জরিপ এখনো হয়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন অপরিহার্য প্রত্নপীঠগুলো ক্রমান্বয়ে কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাকীর্তির বিপুল সম্ভার। দেশের অনেক ঐতিহাসিক ইমারত সংরক্ষণ না করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে যেগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর মান নিয়ে অভিজ্ঞজনেরা প্রশ্ন তুলছেন, প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এমন এক প্রতিবাদের মুখে সুলতানি বাংলার একসময়ের রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগরের সংরক্ষণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাংস্কৃতিক নীতিমালা তৈরির সময় এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি পাঠানোর সময়ও এই নীতিমালায় সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে, বিশেষ করে সংগীত, নৃত্য, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র, ভাষা-সাহিত্য, নাটক প্রভৃতি অঙ্গন থেকে কারা, কোন কোন বিবেচনায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তারও ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এসব বিষয়ে না থাকায় অতীতে দেখা গেছে বহির্বিশ্বে দেশের সঠিক সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব হয়নি। দেশের পুস্তক, প্রকাশনা ও বিপণনেও অনেক সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। আমদানিকৃত পুস্তকের সম্ভার দেশের প্রকাশনাশিল্পের ক্ষতি সাধন করছে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে দ্রুতই সব বিদেশি বই পাইরেসি হয়ে বাজার সয়লাব করছে, এটাও আমাদের প্রকাশনাশিল্পে সংকট নিয়ে আসছে, এর নিয়ন্ত্রণ দরকার। দেশের প্রকাশনাশিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট জাতীয় সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। আগে গঠিত এ ধরনের সংস্থা থাকলে তা যুগোপযোগী করতে হবে।
তবে সরকার ইতিমধ্যেই একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়েই ইনস্টিটিউটে একটি ভাষা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিতব্য বারোতলা ভবনে আরও থাকবে আরকাইভস, গ্রন্থাগার, ভাষা গবেষণাকেন্দ্র প্রভৃতি। এখানে সুযোগ থাকছে বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখার। ভাষা ইনস্টিটিউটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার সংযোজন। মনে রাখতে হবে, বিশ্বের ১৮ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে এই ইনস্টিটিউট। নিঃসন্দেহে এটি বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে অন্যতম। সরকারের পক্ষ থেকে সোনারগাঁয়ের জাতীয় ফোকলোর ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৃৎকৌশল এই সংস্কৃতিনীতিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে যে রূপকল্প ২০২১-এর বাস্তবায়নের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, সংস্কৃতিনীতি প্রণীত হলে তার অনেকখানিই যে পূরণ হবে, তা বলতে দ্বিধা নেই।
ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী: গবেষক, অধ্যাপক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
pr_saif@yahoo.com

নির্যাতনের দায়ে সৌদি নারীর কারাদণ্ড

ইন্দোনেশিয়ার এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে সৌদি গৃহকর্ত্রীকে তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদিনার একটি আদালত এই দণ্ডাদেশ দেন।
গতকাল সোমবার সৌদি পত্রিকাগুলোয় প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়। সুমিয়াতি বিন্তি সালান মুস্তাফা নামের ওই গৃহকর্মীর ওপর ইস্তিরি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। গত সপ্তাহে বিচার চলাকালে সুমিয়াতি আদালতে হাজির হয়ে বিচারককে তাঁর শরীরের ক্ষতস্থানগুলো দেখান।

ইটিএর স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা

স্পেনের বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইটিএ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য সংগঠনটি ১৯৬৮ সাল থেকে লড়াই করে আসছে। এ পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে ইটিএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বলা হয়, সময় এসেছে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নেওয়ার। তাই তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এই ঘোষণার যথার্থতা যাচাই করতে পারে। স্পেন সরকার বলেছে ইটিএর এই ঘোষণা যথেষ্ঠ নয়।

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

ইসরায়েল গত রোববার রাতে গাজা উপত্যকায় দুইবার বিমান হামলা চালিয়েছে। হামাসের রকেট ও মর্টার হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গত রোববার পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য একটি হোটেলের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র লক্ষ্য করে ওই বিমান হামলা চালানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস দুটি রকেট নিক্ষেপ করে।
এদিকে গত রোববার ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের একটি হোটেলের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব জানায়, ইসরায়েল শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হোটেল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘শান্তি আলোচনায় বাধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, ওই হোটেলটির মালিকানা একটি ইহুদি-মার্কিন আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের। তবে ফিলিস্তিনিরা বলছে, হোটেলটিকে ইসরায়েল অবৈধভাবে দখল করেছে।

‘ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ান’

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি তাঁর দেশের সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লেবাননের তেল, গ্যাসসহ খনিজ সম্পদ বহিঃশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতেও তিনি জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন। গত রোববার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে সাদ আল হারিরি এ আহ্বান জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হারিরির প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এসব তথ্য জানান।
প্রতিনিধিদলের ওই সদস্য জানান, বান কি মুনের সঙ্গে হারিরির প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকে হারিরি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ ধারার পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। ওই ধারা অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল। ওই ধারায় ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তের লিতানি নদী এবং জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণাধীন নীল রেখার মাঝখানে সব ধরনের অস্ত্রবাজিও নিষিদ্ধ করা হয়।
ওই সদস্য জানান, লেবাননের আকাশ, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন বন্ধ করতে ইসরায়েলকে চাপ দিতে হারিরি জাতিসংঘের মহাসচিবকে অনুরোধ জানান।

মাওবাদীদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে নেপালকে জাতিসংঘের আহ্বান

নেপালে হাজার হাজার মাওবাদী সাবেক গেরিলাকে তত্ত্বাবধানের জন্য উদ্যোগ নিতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। নেপালে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএন) বিদায়ী প্রধান কারিন ল্যান্ডগ্রেন গতকাল সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।
চলমান সংকট নিরসনে সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে কারিন ল্যান্ডগ্রেন বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে আসছি, ইউএনএমআইএন যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে।’
দেশের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে মাওবাদী গেরিলারা সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছিল। এরপর ২০০৬ সালে দুই পক্ষের চুক্তির মাধ্যমে মাওবাদীরা অস্ত্র ত্যাগ করে।
মাওবাদী সাবেক ওই গেরিলাদের তত্ত্বাবধানের জন্য এক বছরের অনুমোদন নিয়ে ২০০৭ সালে ইউএনএমআইএন গঠন করা হয়।
নেপালের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা অন্তত ১৯ হাজার মাওবাদী সাবেক গেরিলা জাতিসংঘের মিশনের নজরদারিতে ছিল। এখন ইউএনএমআইএন প্রত্যাহারের পর থেকে ওই গেরিলাদের কারা নজরদারি করবে, তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

মোসাদের গুপ্তচর গ্রেপ্তারের দাবি ইরানের

ইরান গতকাল সোমবার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসী ও গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা ইরানের শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী মাসুদ আলী মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি গত বছরের জানুয়ারিতে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দোষারোপ করে আসছিল।
গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইসরায়েলের কয়েকজন গুপ্তচরকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে মোসাদের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়া গেছে। মাসুদ আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুদানের উত্তর-দক্ষিণ সীমান্তে সংঘর্ষে ২৩ জন নিহত

দক্ষিণ সুদানের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে সুদানের উত্তর-দক্ষিণ সীমান্তে গত তিন দিনে সংর্ঘষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। দক্ষিণ সুদানে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট শুরু হওয়ার আগের দিন থেকে এ সংঘর্ষের সূচনা হয়।
দক্ষিণ সুদানের তেলসমৃদ্ধ আবেয়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ উত্তেজনার কারণে পূর্ব নির্ধারিত ৯ জানুয়ারি সেখানে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। আবেয়ি এলাকার নেতারা জানিয়েছেন, উত্তর সুদানসমর্থিত আরব মিলিশিয়াদের হামলায় গত তিন দিনে ২৩ জন নিহত হয়েছে। আবেয়ি প্রশাসনের মুখপাত্র চার্লস আবেয়ি জানিয়েছেন, সুদান সরকারের মদদে পরিচালিত মিসেরিয়া মিলিশিয়ারা গত রোববার ম্যাকার গ্রামে হামলা চালিয়েছে। তারা মূলত আরব এবং অখণ্ড সুদানের পক্ষপাতি। তারা সেখানে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চার্লস জানান, প্রথম দিনের হামলায় একজন, দ্বিতীয় দিনের হামলায় নয়জন এবং গত রোববারের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছে।
মিসেরিয়ার নেতা মুকতার বাবু নিমার জানিয়েছেন, রোববারের সংঘর্ষে তাঁর দলের ১৩ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষ শুরুর জন্য তিনি দক্ষিণ সুদানের যোদ্ধাদের দায়ী করেন।
দৃশ্যত তেলসমৃদ্ধ আবেয়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুদানের দুই অঞ্চলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দক্ষিণ সুদান চাইছে এ অঞ্চলকে উত্তর সুদানের বাসিন্দাদের কর্তৃত্বমুক্ত করতে।
এদিকে গতকাল সোমবার দক্ষিণ সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বিতীয় দিনের মতো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকালও বিপুলসংখ্যক লোক ভোট দেয়।
স্বাগত জানালেন ওবামা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দক্ষিণ সুদানের গণভোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিগত ৫০ বছরের গৃহযুদ্ধে ২০ লাখ লোক নিহত এবং আরও কয়েক লাখ লোক উদ্বাস্তু হওয়ার পর এ গণভোট দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের সামনে একটি বিরাট সুযোগ নিয়ে এসেছে।

ব্লাসফেমি আইন নিয়ে করাচিতে বিক্ষোভ

পাকিস্তানে বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনের যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দেশটির করাচি নগরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গত রোববারের ওই বিক্ষোভে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিয়েছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসির নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর এ ধরনের বিক্ষোভ করা হলো। ব্লাসফেমি আইনের বিরোধিতা করায় গত ৪ জানুয়ারি সালমান তাসিরের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর দেহরক্ষী মালিক মুমতাজ হুসেইন কাদরি তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন। এই আইনের আওতায় ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবিকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানানোর কারণে তাসিরের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন কট্টর ইসলামপন্থীরা। মুমতাজ কাদরি গতকাল রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসবাদবিরোধী আদালতে তাসিরকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
মুমতাজ কাদরিকে রিমান্ডে নেওয়ার ব্যাপারে শুনানির জন্য গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন জায়া বলেন, ‘মুমতাজ গভর্নর সালমান তাসিরকে হত্যার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মুমতাজ বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত। এর সঙ্গে কোনো ইসলামপন্থী বা জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নেই।’
হত্যাকাণ্ডে একাই জড়িত থাকার দাবি করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, ওই সময় অন্য নিরাপত্তাকর্মী কাদরিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেননি।
এর আগে কাদরি দাবি করেন, ব্লাসফেমি আইন সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় গভর্নর সালমান তাসিরকে তিনি হত্যা করেন।
মুমতাজ কাদরির ভাই দিলপাজির আয়ান বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তাঁদের পরিবার কোনো কিছুই জানে না। তিনি বলেন, ‘মুমতাজ তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে কখনো তাঁদের কিছু জানাননি। তিনি একক সিদ্ধান্তে এটা করেছেন।’
পোপের আহ্বান: পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট গতকাল ব্লাসফেমি আইন বাতিলের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনটি বাতিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমি আরও একবার দেশটির নেতাদের উৎসাহিত করছি।’

ইরানের আইনজীবী নাসরিনের কারাদণ্ড

ইরানের প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাসরিন সুতোদেকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনজীবী হিসেবে কাজ করা এবং তাঁর দেশত্যাগের ওপর ২০ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নাসরিনের স্বামী রেজা কান্দান জানান, কর্তৃপক্ষ গত রোববার নাসরিনের আইনজীবীর কাছে এ খবর দিয়েছে।
নাসরিন অভিযোগ করেছেন, বিচার চলাকালে তাঁকে আদালতে যেতে দেওয়া হয়নি। তিনি পরে জানতে পেরেছেন, তাঁকে ওই সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
নাসরিনের বিরুদ্ধে একটি মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি পরিচালিত মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সেন্টার’-এর সদস্য ছিলেন।
রেজা জানান, ২০০৯ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পর নাসরিন তাঁর এক মক্কেলের কারাদণ্ড নিয়ে বাইরের একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী যে মামলাগুলো নিয়ে কাজ করতেন, শুধু সেটা নিয়েই কথা বলতেন এবং মামলায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে সেটা তিনি জনগণকে জানাতেন।

অবরোধ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পথ কঠিন করেছে: হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দাবি করেছেন, জাতিসংঘ আরোপিত অবরোধ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে। তিন দিনের পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের শুরুতে গতকাল সোমবার সংযুক্ত আরব-আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এ কথা বলেন হিলারি।
আবুধাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিকতম বিশ্লেষণ থেকে আমরা জানতে পারছি, অবরোধ আরোপের পদক্ষেপ কাজ করছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের বিরোধিতা করে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে।
হিলারি বলেন, ‘অবরোধ আরোপের কারণে ইরান প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পাচ্ছে না। এতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সময়সীমা থেকে পিছিয়ে পড়েছে দেশটি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে ইরানকে বোঝাতে পারব পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে তারা আরও বেশি নিরাপদ ও শক্তিশালী হতে পারবে না, বরং এর উল্টোটা ঘটতে পারে।’
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অবরোধ আরোপের কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে দেশটির সরকার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ক্ষতির মুখে পড়েছে—এমন দাবি এই প্রথম করেছেন তিনি। আবুধাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর এই মতবিনিময় আরব টেলিভিশন চ্যানেল এমবিসিতে প্রচারিত হবে।

মিয়ানমারে পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন ৩১ জানুয়ারি

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়েছে। সামরিক জান্তাশাসিত দেশটিতে দুই মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
জান্তাপ্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল থান শয়ের এক আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকারনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রাজধানী নেপেডোয় একই সময় দুই কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের এবং নতুন আঞ্চলিক পরিষদেরও অধিবেশন বসবে।
২০ বছর পর গত বছর ৭ নভেম্বর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনাসমর্থিত প্রধান দল বার্মা সোশ্যালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টি ৮০ শতাংশ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় দাবি করে। তবে এখনো সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন ইতিমধ্যে সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। আইন প্রণয়ন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ সহজ করতেই এ ব্যবস্থা করা হয়। তবে, থান শয়ে তাঁর নিজের জন্য কী পরিকল্পনা করছেন তা পরিষ্কার নয়।
১৯৬২ সাল থেকেই মিয়ানমার শাসন করে আসছেন সামরিক জান্তারা। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করলেও তাঁকে স্বীকৃতি দেয়নি তৎকালীন জান্তা সরকার। সর্বশেষ গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে পশ্চিমা বিশ্বে। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া ও ভোট জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অস্তিত্ব হুমকির মুখে

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ভেসে আসা বিষাক্ত পদার্থ ও কীটনাশকে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক বিবৃতিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের বন্যাকবলিত খামার ও শহর এলাকা থেকে বিষাক্ত পদার্থযুক্ত কাদা-পানি বন্যার স্রোতে ভেসে কুইন্সল্যান্ড উপকূল থেকে সাগরে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের ওই উপকূলসংলগ্ন অংশে খুব খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সমুদ্রে থাকা কচ্ছপ, ডুগং ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত মাসে শুরু হওয়া কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের এই বন্যা ৫০ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ। এ বন্যায় ফ্রান্স ও জার্মানির মোট আয়তনের চেয়ে বড় এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ মেরিন পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পলি, ভিন্ন ধরনের পানি, পুষ্টিকর পদার্থ ও উচ্চ তাপমাত্রা প্রবালের ক্ষতি করতে পারে। সংস্থার মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু স্কেটস বলেন, পরিষ্কারভাবেই বলা যায়, বন্যা প্রবালপ্রাচীরের জন্য সুসংবাদ নয়।
সমুদ্রবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, শিগগির তাঁরা ওই এলাকার সাগরের পানিতে প্রবালের গা থেকে খসে পড়া সাদা চুন দেখতে পাবেন। প্রবালের মতো ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব মারা গেলে এ ধরনের সাদা চুন দেখতে পাওয়া যায়।
আরও দুজনের প্রাণহানি: অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল সোমবার আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে দুজন প্রাণ হারিয়েছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে অনেক গাড়ি। স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে এতে গাছপালাও ভেঙে পড়েছে।

সেই ৫০ মিনিট



বেলা ১১টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটি ব্রোকারেজ হাউসে একজন বিনিয়োগকারী দ্রুত কিছু শেয়ার বিক্রির আদেশ দেন। আরও কয়েকজনও তাঁকে অনুসরণ করেন।
কিন্তু তাঁদের কিছুটা অবাক করে দিয়ে ১৫ মিনিটের মাথায় একজন বিনিয়োগকারী বেশ কিছু শেয়ার কেনেন। ততক্ষণে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছয় হাজার ৭০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। অথচ বাজারে লেনদেন শুরু হয়েছিল সাত হাজার ১৫৩ পয়েন্ট মূল্যসূচক নিয়ে।
আর তাই অনেকেই মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। আগের দিনের ধসের ধারা যেন সোমবারও চলছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সবগুলো ব্রোকারেজ হাউসে একই দৃশ্য।
পরের ২০ মিনিটে অবশ্য সূচক কমেছে আরও ১০০ পয়েন্ট। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কী করবেন।
বিপরীতে কোনো কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। তাঁদের কারও কারও ভেতর একটা চাপা উল্লাসও কাজ করছিল। তবে তা ছিল নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী।
১০ মিনিট পর ঘড়ির কাঁটায় যখন দুপুর পৌনে ১২টা (১১.৪৫), তখন মূল্যসূচক সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের সামান্য ওপরে এসে ঠেকেছে। এর মধ্যে শেয়ার বেচা ও কেনা দুটোই বেড়ে গেছে অনেকখানি।
ঠিক পাঁচ মিনিট পর লেনদেনসম্পন্নকারী কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে উঠল একটি বার্তা। এতে বলা হয়: ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশ অনুসারে আজকের (১০ জানুয়ারি) বাজারের লেনদেন স্থগিত করা হলো। পরবর্তী সময়ে ঘোষণা দিয়ে লেনদেন আবার শুরু করা হবে।’ তখন ১১টা ৫০।
ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারী এসইসিকে গালমন্দ শুরু করেন। কারণ, লেনদেন চালু থাকলে শেয়ারের দর আরও পড়ত। এ সুযোগে তাঁরা শেয়ার কিনতেন। কিন্তু এসইসির কারণে তাঁদের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
কিন্তু বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর চোখেমুখে আতঙ্ক ও হতাশা চেপে বসেছে। হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা।
লেনদেন অবশ্য ততক্ষণে ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে সবমিলিয়ে আগের দিনের চেয়ে ৬৬০ পয়েন্টের বেশি মূল্যসূচক পড়ে যায়। ডিএসই কর্তৃপক্ষ অবশ্য দিবসের লেনদেন নিষ্পত্তি করতে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দরপতনের ধারাকে হিসাবে নিয়ে দিন শেষে মূল্যসূচক ছয় হাজার ৪৯৯ পয়েন্টে শেষ করেছে।

ডিএসইতে সূচক সর্বোচ্চ হাজার পয়েন্ট বৃদ্ধির রেকর্ড

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যেন নতুন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছে। একদিনে সাধারণ সূচক সর্বোচ্চ কমে যাওয়ার রেকর্ডের পর আজ মঙ্গলবার দেখা গেল একদিনে সূচক সর্বোচ্চ বাড়ার রেকর্ড।
আজ বেলা একটা ১৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে সাধারণ সূচক এক হাজার পয়েন্ট বেড়ে যায়। যা একদিনে সর্বোচ্চ সাধারণ সূচক বৃদ্ধির রেকর্ড। এর আগে ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর গ্রামীণফোনের লেনদেন শুরু হলে সূচক ৭০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল।
টানা ছয় দিন দরপতনের পর আজ যেন ঘোড়ার গতিতে দৌড়াতে শুরু করেছে ডিএসই। লেনদেন শুরুর প্রথম ৩৪ মিনিটে সাধারণ সূচক এক লাফে ৯৩২ পয়েন্ট বেড়ে যায়; যা আর নামেনি। তবে এরপর একটু ধীরগতিতে বেড়েছে সূচক।
বিগত ছয় দিনের দরপতনে ডিএসইতে সাধারণ সূচক কমে যায় মোট ১৮২৯ পয়েন্ট।
আজ এ পর্যন্ত মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪১টির এবং কমেছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। লেনদেন হয়েছে মোট ৭৩৯ কোটি টাকার।
প্রসঙ্গত, গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর ৫০ মিনিটের মধ্যে সাধারণ সূচক ৬৬০ পয়েন্ট কমে যাওয়ায় দেশের দুই শেয়ারবাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিএসইও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বেড়েছে সাধারণ সূচক, একই সঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ বেলা একটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সাধারণ সূচক সিএসইতে ১৫৩৯ পয়েন্ট বা ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে মোট ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৪টির এবং কমেছে তিনটির। মোট লেনদেন হয়েছে ১১৮ কোটি টাকার।
গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ সূচক এক হাজার ৩৯৬.২১ পয়েন্ট বা ৬.৭৭ শতাংশ কমে ১৯২১২.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিল। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বাড়ে মাত্র সাতটির, কমে ১৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল সিএসইতে মোট ৪৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

চলতি বছরে এক লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত

সরকার চলতি বছর স্টেট টু স্টেট চুক্তির মাধ্যমে এক লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি করবে। গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এ কথা বলেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) মাধ্যমে এ চিনি আমদানি করা হবে। আগামী রমজানকে সামনে রেখে চিনি আমদানির এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চাষিদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের জন্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিসিআইসির কাছে নয় লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে, যা গত বছরের একই দিনের তুলনায় দুই লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখ মেট্রিক টন বেশি আখ মাড়াই করে গত বছরের প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি চিনি উত্পাদন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, অচিরেই শিল্প মন্ত্রণালয়কে তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সব সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানাগুলোর নেটওয়ার্কিং স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
শিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর, অধিদপ্তর ও করপোরেশনের প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারেও দিনভর চাঙা ভাব

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ লেনদেন চাঙা ভাবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। দিন শেষে সাধারণ সূচকের সঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ লেনদেন শেষে সাধারণ সূচক ২২৮৩ পয়েন্ট বা ১৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ২১৮৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এ সময়ে মোট ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৬টির এবং কমেছে আটটির। মোট লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি টাকার।
গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ সূচক এক হাজার ৩৯৬.২১ পয়েন্ট বা ৬.৭৭ শতাংশ কমে ১৯২১২.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিল। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বাড়ে মাত্র সাতটির, কমে ১৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল সিএসইতে মোট ৪৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

ঘোষিত হারে মার্জিন ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের গতকালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১:২ হারে মার্জিন ঋণ না দেওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে বিনিয়োগকারীরা কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
আইডিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে তাঁরা কয়েকটি হাউসে লেনদেনও বন্ধ করে দেন।
বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন, আজ সকালে লেনদেনের শুরুতে তাঁরা বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে এসইসির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ১:২ মার্জিন ঋণ প্রদানের দাবি জানান। তবে ওই হাউসগুলো থেকে এসইসির নির্ধারিত হারে ঋণ না দেওয়ায় তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংকা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মর্তুজা আহমেদ এসইসির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ঋণ না দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বেশ তারল্যসংকট রয়েছে। এ কারণে ওই হারে ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা কিছুটা বাড়িয়েছি। বেশির ভাগ হাউসে ১:০.৭৫ হারে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে এই হার বাড়ানো হবে।’
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যাপস্থাপনা পরিচালক একরামুল হক বলেন, ‘আমরা এর আগে নিয়মানুযায়ী মার্জিন ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে তারল্যসংকটের কারণে নিয়মানুযায়ী ঋণ দিতে পারছি না।’ তবে ঋণের হার ১:০.৭৫ হারে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপ

২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক ভারত। ১৬ বছর পর এই ভারত হতে পারে ফুটবল বিশ্বকাপেরও আয়োজক। না, উড়ো খবর বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই। সম্ভাবনার কথাটি জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার নিজেই। ২০২২ বিশ্বকাপ হবে এশিয়ার দেশ কাতারে। ব্ল্যাটার বলছেন, এরপরের বিশ্বকাপের স্বাগতিক হতে পারে ভারত।
১২০ কোটি মানুষের দেশ ভারত। ব্ল্যাটার ভারতকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাব্য স্বাগতিক হিসেবে চিহ্নিত করছেন এই বিপুল জনসংখ্যার দিকে দৃষ্টি রেখেই। দ্য টেলিগ্রাফকে ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘যদি আমরা নতুন কোনো ভূখণ্ড বা এলাকা ঠিক করি, যেখানে ফুটবলটা হতে পারে জীবনের শ্রেয়তর অংশ, তাহলে উপমহাদেশ, ভারতের নামই আসে। কারণ ওখানে রয়েছে ১২০ কোটি মানুষ।’ যত বেশি মানুষ, তত বড় বাজার। ব্ল্যাটার তাই বলছেন, ‘এটা সত্যিই এক দ্বৈত বাজার। স্রেফ ফুটবলের বাজারই নয়, অর্থনীতিরও। আসলেই ভারত সত্যিকারের শক্তি।’
কিছুদিন আগে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হয় ভারত। ব্ল্যাটারের এই দৃষ্টিভঙ্গি তাই প্রশংসনীয়ই।

আট গোলের ম্যাচে মিলানের ড্র

এসি মিলান কি ড্রয়ের জন্য দুঃখ করবে না আনন্দ! নিজেদের মাঠে পয়েন্ট তালিকার আটে থাকা দল উদিনেসের সঙ্গে ড্র করাটা একটু হতাশারই। তবে ম্যাচের ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৪-৪ গোলে ড্র করতে পারা তো অনেক আনন্দেরও!
সিরি ‘আ’তে পরশুর রাতটি মিলানের জন্য এ রকম হতাশা আর স্বস্তির যুগল রাত ছিল। ডি নাতালের ৩৫ মিনিটের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা মিলান। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আলেক্সান্দ্রে পাতোর গোলে ১০ মিনিট পর ম্যাচে ফেরে তারা।
এর পরই ছড়ি ঘোরাতে থাকে উদিনেসে। সানচেজের ৫২ এবং ডি নাতালের ৬৫ মিনিটের গোল তাদের এগিয়ে দেয় ৩-১-এ। পরাজয়ের শঙ্কাই উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু পাতোর দ্বিতীয় গোলের সঙ্গে মিলানের আশা হয়ে আসে বেনাতিয়ার ৭৭ মিনিটের আত্মঘাতী গোল। ৮৯ মিনিটে উদিনেসে আবার এগিয়ে যায় ডেনিসের ৮৯ মিনিটের গোলে। ৯০ মিনিটে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের শেষ মুহূর্তের গোলে মিলান পায় নাটকীয় ড্র।

বয়স চুরি নিয়ে এমন কাণ্ড



সত্যিকারের শিশুসুলভ ম্যাচেরই দেখা মিলল! হেরে যাওয়ার ভয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এক দল। প্রতিপক্ষ দল তাদের মাঠে নামাতে অনুরোধ-উপরোধ করছে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবলে কাল সাতক্ষীরা কয়লা সরকারি স্কুলের খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষের বয়স চুরির বিরুদ্ধে ছিল কঠিন হূদয়।
বিষয়টা মানসম্মানের হয়ে দাঁড়ানোয় আয়োজকদের পর্যন্ত মাঠে নেমে অনেক চেষ্টা-চরিত্র করতে হয়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সিলেটের জৈন্তাপুর নিশ্চিন্তপুর স্কুলের বিপক্ষে প্রথমার্ধ খেলে ফেলেছে কয়লা স্কুল। খেলাটা সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলায়। খেলার উদ্বোধক পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার দর্শক হিসেবে গ্যালারিতে, তাঁর সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাঁদের সামনে খেলতে অস্বীকৃতি জানাল কয়লা স্কুল। কিন্তু কেন? পেছনে যৌক্তিক কারণ ছিল।
যদিও আগের দিন কয়লা স্কুল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে আপত্তি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু প্রতিকারের কোনো আশ্বাসই দেওয়া হয়নি তাদের। খেলা শুরুর আগে এ জন্যই গড়িমসি করছিল কয়লা স্কুল। কিন্তু খেলা মাঠে গড়ানোর পর এমদাদের গোলে এগিয়ে যায় নিশ্চিন্তপুর স্কুল। দ্বিতীয়ার্ধে আর খেলতে রাজি হয়নি কয়লার ছাত্ররা। খেলা বন্ধ থাকে মিনিট বিশেক। একপর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহ মোহাম্মদ কামাল ধমক দিতে শুরু করেন কয়লা স্কুলের শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিনকে, ‘আপনি জানেন, এর পরিণাম কী হবে? ওদের বলুন যেন খেলতে আসে।’ মাঠে উপস্থিত সাতক্ষীরা-১ আসনের সাংসদ শেখ মুজিবর রহমানের অনুরোধে খেলতে রাজি হয় কয়লা স্কুল। ওই এক গোলেই জিতে ফাইনালে ওঠে নিশ্চিন্তপুর স্কুল। ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফাইনালে তাদের অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জ ইসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ইংলিশ লিগেই যাচ্ছেন ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার কোচ-অধ্যায়ের সমাপ্তির পরই গুঞ্জনটা একবার উঠেছিল, ইংলিশ লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার কোচ হচ্ছেন ম্যারাডোনা। পরে আরও অনেক গুঞ্জনের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিল এটাও। কিন্তু একের পর এক গুঞ্জন উঠে সবই মিলিয়ে যাওয়ার পর ম্যারাডোনাই আবার উসকে দিলেন এক গুঞ্জন। গত রোববার ম্যারাডোনা বলেছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক ক্লাবের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখতে আগামী মাসে ইংল্যান্ডে উড়ে যাচ্ছেন তিনি।
কথাবার্তায় বনিবনা হলে নিতে পারেন দায়িত্বও। আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল-ঈশ্বর’ উরুগুয়ের আটলান্টিক-তীরবর্তী রিসোর্ট ‘পুন্তা দেল এস্তে’তে বসে খবরটি দিয়েছেন। ‘একটি ক্লাবের প্রস্তাব শোনার জন্য আমি ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডে যাচ্ছি। যদি তারা আমাকে বোঝাতে পারে, এটি গ্রহণ করতে পারি’—ম্যারাডোনাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে আর্জেন্টিনার বড় দুটি দৈনিক লা ন্যাসিওন ও ক্লারিন।
গত অক্টোবরে ৫০ পেরোনো ম্যারাডোনার এই কথায় ধরেই নেওয়া যায়, ইংলিশ ক্লাবটির প্রস্তাব তিনি পেয়েছেন। কিন্তু কোন সেই ক্লাব, সেটি পরিষ্কার করে জানাননি আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। তিনি না জানালেও বাতাসে আবারও ভেসে উঠেছে সেই অ্যাস্টন ভিলার নাম। মার্টিন ও’নিল অধ্যায় সমাপ্তির পর যারা কোচ করেছে ফরাসি জেরার্ড হুলিয়ারকে। গত সেপ্টেম্বরে হুলিয়ার কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগেই গুঞ্জন ছিল ম্যারাডোনাকে নিয়ে।
বিশ্বকাপের পর থেকেই বেকার। ৫০ পেরোনো ম্যারাডোনার কি এবার একটা গতি হবে? ইংল্যান্ডে চাকরি হোক না-হোক, শিগগিরই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে বলে আশাবাদী ম্যারাডোনা, ‘আমি বেপরোয়া নই কিন্তু আমি জানি, একদিন আমি আবার কোনো দলের কোচ হবই।’

জাতীয় ক্রিকেটারদের সুপার লিগেও চায় ক্লাবগুলো

সিসিডিএমের সঙ্গে বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সভার সিদ্ধান্ত—২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু সুপার লিগে খেলবেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় লিগ পর্বের খেলায়ই কেবল খেলতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের কোনো কোনো ক্লাব মানতে পারছে না এই সিদ্ধান্ত।
সাকিব-তামিমদের নিয়ে এবার বড় বাজেটের দল গড়েছে মোহামেডান। সুপার লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের না পেলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চারও বেশি তারাই। কাল ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির প্রধান লুৎফর রহমান (বাদল) বলেছেন, ‘লিগ শুরুর আগে সিসিডিএমের সভায় ক্লাব প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা টি-টোয়েন্টি লিগ চান, নাকি সুপার লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চান। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে টি-টোয়েন্টি বাদ দিয়ে সবাই তখন সুপার লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চেয়েছিল এবং সিদ্ধান্তও হয়েছিল সে রকম। সিদ্ধান্তটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর ক্লাবের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’
একই হতাশার কথা জানিয়েছে কলাবাগান ক্লাবও। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম জানিয়েছেন, সুপার লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চেয়ে সিসিডিএমকে চিঠি দেবেন তাঁরা। সুপার লিগ শুরু হবে ২৪ জানুয়ারি। এর আগে ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই ঘোষণা হয়ে যাবে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল।
তবে সিসিডিএমের প্রধান জি এস হাসান তামিম আগের সিদ্ধান্তে অনড়ই আছেন। মোহামেডান ক্রিকেট কমিটির প্রধানের দাবিটা মেনে নিয়েও তিনি বলেছেন, ‘কথা ছিল ২৫ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা লিগে খেলবে। কিন্তু আমরা সময়মতো মাঠ না পাওয়ায় সুপার লিগই শুরু হচ্ছে ২৪ তারিখ। সুপার লিগের খেলা যেহেতু বগুড়া আর রাজশাহীতে হবে, ওই সময় জার্নি করে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পক্ষে লিগে খেলা সম্ভব নয়, কোচ জেমি সিডন্সও এটা চান না। তা ছাড়া জাতীয় দলের স্বার্থে ক্রিকেটারদের লিগ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা তিন-চার বছর ধরেই হয়ে আসছে।’

মেসি জিতলেন ফিফা ব্যালন ডি’অর

ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতলেন লিওনেল মেসি। ভোটাভুটিতে দুই বার্সেলোনা সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি হার্নান্দেজকে পেছনে ফেলে আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেলেন ২০১০ সালের বর্ষসেরার স্বীকৃতি। ২০০৯ সালেও ফিফার বর্ষসেরা হয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন।
গত বছর বিশ্বকাপটা ভালো না কাটলেও ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত খেলেছেন মেসি। ২০০৯-১০ মৌসুমে ৫৩ ম্যাচে তাঁর গোল ৪৭টি। কেবল লিগেই ৩৪ গোল করেছেন মেসি। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যের এই স্বীকৃতিই এবারের ফিফা ব্যালন ডি’আর। ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর যুক্ত হয়ে এবারই প্রথম ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ নামে দেওয়া হলো পুরস্কার।
ফিফার বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে কেউ কেউ অবশ্য মেসির চেয়ে এগিয়ে রেখেছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি হার্নান্দেজকে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছেন তাঁরা। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে রেখেছেন ভূমিকা। কিন্তু ক্লাব ফুটবলের সাফল্য দিয়ে গতবারের মতো এবারও মেসি নির্বাচিত হলেন বর্ষসেরা। মেসি ছাড়াও দুবার ফিফার বর্ষসেরা হয়েছেন ব্রাজিলের রোনালদিনহো। ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান এবং ব্রাজিলের রোনালদো হয়েছেন তিনবার করে।
কাল জুরিখের আলোঝলমল মঞ্চে আর্জেন্টাইন মেসির সঙ্গে রাতটি ছিল ব্রাজিলের মার্তারও। বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলার হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো মার্তা জিতলেন এই পুরস্কার। জার্মানির ফাতমায়ার বাজরামাজ এবং বির্জিত প্রিঞ্জকে হারিয়েছেন মার্তা।
স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক এবং বার্সেলোনার পেপ গার্দিওলাকে হারিয়ে বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন হোসে মরিনহো। মরিনহোর এই স্বীকৃতির পেছনে আছে ইন্টার মিলানের হয়ে গত বছর ট্রেবল (চ্যাম্পিয়নস লিগ, সিরি ‘আ’ ও ইতালিয়ান কাপ) জয়ের সাফল্য। বছরের সেরা মহিলা ফুটবল কোচ হয়েছেন জার্মানির সিলভিয়া নেইদ।

কাঠগড়ায় আম্পায়ারিং

বিশ্বকাপ সামনে বলে চলতি প্রিমিয়ার লিগ এমনিতেই আলোচিত। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ভালো পারফরম্যান্সের কারণে সেই আলোচনায় যখন স্বাস্থ্যকর হাওয়া, তখন লিগ নিয়ে একটি অস্বাস্থ্যকর আলোচনাও ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। আলোচনাটা আম্পায়ারিং-সংক্রান্ত।
বিমান বনাম কলাবাগান কালকের ম্যাচের মতো এবার লিগের অনেক ম্যাচই আম্পায়ারিংয়ের কারণে উত্তপ্ত হয়েছে। অভিযোগ আছে মাঠের বাইরে থেকে আম্পায়ারদের প্রভাবিত করার, অভিযোগ অজস্র ভুল সিদ্ধান্তেরও। কখনো কখনো বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ করছেন খেলোয়াড়েরা। জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ অনেক ক্রিকেটারকেই তাই গুনতে হচ্ছে জরিমানার টাকা, হতে হচ্ছে বহিষ্কার। মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে শাস্তি প্রাপ্য। কিন্তু যাঁদের কারণে ম্যাচ পরিচালনায় এই অব্যবস্থাপনা, তাঁদের শাস্তি দেবে কে?
এ ব্যাপারে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান মাহমুদ জামালের সহজ-সরল জবাব, ‘আমাদের যোগ্য আম্পায়ারের সংকট আছে। তাই কোনো আম্পায়ারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট আসলেও কিছু করার থাকে না। তাকে আবার ম্যাচ দিতে হয়।’
আম্পায়ার্স কমিটির প্রধানের কথায় মনে হতে পারে তিনি পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে আছেন! বাস্তবতা ভিন্ন। উল্টো অভিযোগ আছে, আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান হয়েও ‘অযোগ্য’ আম্পায়ারদের লালন-পালন করছেন মাহমুদ জামাল! বিসিবিতে এখন বেতনভুক্ত আম্পায়ার ৬ জন—নাদির শাহ, এনামুল হক, মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান, তানভীর আহমেদ ও শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ। এর মধ্যে মাসে ৪০ হাজার টাকা করে বেতন পান নাদির, এনামুল ও শরফুদ্দৌলা। বাকিদের বেতন ৩০ হাজার টাকা করে। মাহমুদ জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগটা শেষের দলের মিজানুর রহমানকে ঘিরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের প্রিমিয়ার লিগে কাল পর্যন্ত যে ৪৫টি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে মাত্র একটা ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন মিজান। সাকিবের ১০ হাজার টাকা জরিমানা হওয়া সেই মোহামেডান-বিকেএসপি ম্যাচটিও ছিল বিতর্কিত। এ ছাড়া চলতি ২০১০-১১ মৌসুমের জাতীয় লিগের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন না তিনি। কেবল বগুড়ায় হওয়া ঢাকা-খুলনা ম্যাচে রিজার্ভ আম্পায়ার ছিলেন। শুধু এ বছরই নয়, ২০০৮-এর সেপ্টেম্বরে বেতনের আওতায় আসার পর গত প্রায় আড়াই বছরে মিজান আম্পায়ার ছিলেন হাতেগোনা কিছু ম্যাচে। বেতনভুক্ত আম্পায়ার হওয়ার পরও কেন তাঁকে ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য মাহমুদ জামাল নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন মিজানের যোগ্যতা নিয়ে, ‘ওনার আম্পায়ারিংয়ের মান খারাপ। অনেক ক্লাবই অভিযোগ করে, তার ম্যাচগুলো বিতর্কিতও হয়ে পড়ছে নানা কারণে। সে কারণেই তাকে ম্যাচ কম দেওয়া হয়।’ মাহমুদ জামালের বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে না চাইলেও কাল টেলিফোনে আম্পায়ার মিজান বলেছেন, ‘আমি কেন ম্যাচ কম পাই সেটা তো আমি জানি না। এটা আম্পায়ার্স অ্যালটমেন্ট কমিটি ভালো বলতে পারবে।’
যাঁর যোগ্যতা নিয়ে খোদ আম্পায়ার্স কমিটিতেই প্রশ্ন, তিনি কেন বসে বসে বেতন নিচ্ছেন বোর্ড থেকে? অভিযোগ আছে, আম্পায়ার্স কমিটির প্রধানকে ‘খুশি’ করেই নাকি সুবিধাটা নিচ্ছেন তিনি। মাহমুদ জামাল অবশ্য সেটি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বেতনের ব্যাপারটা প্রশাসন দেখে।’ কিন্তু আম্পায়ার হিসেবে মিজানের পারফরম্যান্স যে প্রশ্নবিদ্ধ, সেই তথ্য কি বিসিবির প্রশাসনকে জানিয়েছে আম্পায়ার্স কমিটি? বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহমেদ পরিষ্কার করেই দিয়েছেন প্রশ্নটার উত্তর, ‘না, এ রকম কিছু আমাদের কেউ বলেনি। উনি (মিজান) যে কমিটির অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত সে কমিটি থেকে তাঁকে বাদ না দেওয়া হলে তো আমরা বেতন বন্ধ করতে পারি না।’ প্রধান নির্বাহী অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, আম্পায়ারদের জন্য একটা নীতিমালা হচ্ছে। সেটা চূড়ান্ত হয়ে গেলে সমাধান হবে এসব সমস্যারও।
শুধু এই একজন আম্পায়ারই নন, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও অনেক আম্পায়ারের আম্পায়ারিংই প্রশ্নবিদ্ধ। আম্পায়ারদের নীতিমালা এই অভিশাপ থেকে দেশের ক্রিকেটকে বাঁচাতে পারলে ভালো। ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে কারা’ প্রশ্নটা যে নইলে থেকেই যাবে!

পন্টিং এখন ভাগ্যনির্ভর

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ‘রিভিউ’কে স্বাগত জানিয়েছেন রিকি পন্টিং। তবে অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের অভিমত, শুধু এই সিরিজের পারফরম্যান্স নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটসহ অস্ট্রেলিয়ার পুরো ক্রিকেট কাঠামোরই পর্যালোচনা করা উচিত। অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় পন্টিংয়ের কলামে সিএর আলোচিত ‘রিভিউ’ ছাড়াও উঠে এসেছে তাঁর ব্যাটে রান-খরা, টেস্ট ভবিষ্যৎ, উসমান খাজার উত্থানসহ নানা প্রসঙ্গ।
পারফরম্যান্স পর্যালোচনা প্রতিবছরই নিয়মিত করে আসছে সিএ। তবে ২৪ বছর পর দেশের মাটিতে অ্যাশেজ হারের পর এবারের রিভিউ নিয়ে আলোচনা-আগ্রহ অনেক বেশি। সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড গত শুক্রবার বলেছেন, অ্যাশেজে লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হবে।
তবে অস্ট্রেলিয়াকে ৭৭টি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যাটসম্যানের চাওয়া, আলোচনায় উঠে আসুক অস্ট্রেলিয়ার পুরো ক্রিকেট কাঠামোই, ‘প্রতি মৌসুম শেষেই পর্যালোচনা হয়, আমার নিজেরও তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এবার হয়তো আলোচনা অনেক গভীরে যাবে, যেমনটা হয়েছিল আশির দশকের মাঝামাঝি। এই উদ্যোগকে আমি পুরোপুরি সমর্থন করি। তবে আমার মনে হয়, শুধু গত কয়েক সপ্তাহের দিকে না তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আরও গভীরে যাওয়া উচিত। পুরো ক্রিকেট কাঠামোরই পর্যালোচনা হওয়া উচিত। আমার মনে হয় না, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট এখন ততটা শক্তিশালী, যতটা হওয়া উচিত।’
এবিসি রেডিওর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সাদারল্যান্ডও বলেছেন পন্টিংয়ের কথাগুলোই। পর্যালোচনায় পুরো ক্রিকেট কাঠামোই উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন সিএর প্রধান নির্বাহী। গত মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের পর থেকে কোনো ধরনের ক্রিকেটেই কোনো সিরিজ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এই সময়ে ব্যাটিংয়ে পন্টিংয়ের গড় ২৯, সর্বোচ্চ ৭৭। ফর্ম সুবিধার নয় সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কেরও। অ্যাশেজ হারের পর এই দুজনকে সামলাতে হচ্ছে সমালোচনার ঝড়। পন্টিং লিখেছেন, তাঁরা নাকি এটার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন, ‘আমি জানি, অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে। এমন হতাশাজনক সিরিজের পর এটা হওয়াই উচিত। মাইকেল (ক্লার্ক) ও আমি সিরিজের আগেই জানতাম ব্যাট হাতে বড় ধরনের অবদান রাখতে না পারলে হাজারো প্রশ্ন উঠবে। হচ্ছেও তাই।’
এপ্রিলে বাংলাদেশ সিরিজটা বাতিল হওয়ার কথা, অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টেস্ট তাই আগস্টে শ্রীলঙ্কায়। তবে নিজের ব্যাটে রান-খরা আর খাজার উত্থান মিলিয়ে পন্টিংকে সেখানে দেখা যাবে কিনা, এই নিয়ে গুঞ্জন চারদিকে। পন্টিং নিজের ভবিষ্যৎ অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন ভাগ্যের হাতে, ‘আমি খেলে যেতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এখনো আমি অস্ট্রেলিয়ার সেরা ছয় ব্যাটসম্যানের একজন। তবে সত্যি বলতে, অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার ভবিষ্যৎ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও নির্বাচকদের হাতে। সিডনির কঠিন পরিস্থিতিতে খাজার অভিষেক পারফরম্যান্সে আমি মুগ্ধ। অবশ্য দুই বছর আগে যখন আমি প্রথম দেখেছি, তখনই আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। জানি না ওর এমন শুরু আমার ভবিষ্যৎ বা আমি কোথায় ব্যাট করব তাতে কতটা প্রভাব ফেলবে। তবে আমাদের পরবর্তী টেস্ট আগস্টে, ভাবার জন্য আমার অনেক সময় আছে।’

শেখ জামালের ড্র, মুক্তিযোদ্ধার জয়

বাংলাদেশ লিগে কাল ছিল বড় দুই দলের মিশ্র অনুভূতির দিন। কক্সবাজারে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ১-১ ড্র করে তৃতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার শেখ জামাল ধানমন্ডি। ঢাকার কমলাপুরে আরামবাগের বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা জিতেছে ১-০ গোলে।
কক্সবাজার থেকে টেলিফোনে শেখ জামালের এক খেলোয়াড় জানান, মাঠে তাঁদের পারফরম্যান্স ছিল খুবই খারাপ। প্রথম ম্যাচের আগের দিন বরখাস্ত হয়েছেন সার্বিয়ান কোচ জোরান কার্লেভিচ, শ্রীলঙ্কা থেকে নতুন কোচ পাকির আলী ‘আসি, আসি’ করছেন। এ অবস্থায় দল নির্বাচন থেকে শুরু করে খেলোয়াড় বদলি সবই নাকি করেন কর্মকর্তারা। কাল বিরতির আগেই তিনজন খেলোয়াড় বদল করে ফেলা হয়! দলের সঙ্গে থাকা টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের নাকি জিজ্ঞেস করা হয় না এসব ব্যাপারে—বলেছে দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
প্রথম ম্যাচে আবাহনীর সঙ্গে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধাকে ২-০ গোলে হারায় শেখ জামাল। জয়ের পরই ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের নিজেকে দলের কোচ বলে দাবি করেন (পরে অবশ্য বলেছেন, ‘মজা করেছি!’)। যতই বড় খেলোয়াড় থাকুক, কোচবিহীন একটি দল মাঠে সংগঠিত হয়ে খেলতে পারে না—ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার যাওয়া শেখ জামালের খেলোয়াড়েরা বিষয়টি এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছেন।
তবে গোল পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি কাল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া শেখ জামালকে। ১৭ মিনিটে মিশুর ফ্রি-কিকে সার্বিয়ান ডিফেন্ডার ড্রাগনের হেডে ১-০। কিন্তু ৫০ মিনিটে তৌহিদের ক্রসে কক্সবাজারের স্থানীয় খেলোয়াড় ধীমান বড়ুয়ার হেডে ১-১ করে ফেলে চট্টগ্রাম আবাহনী। একটি গোল ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি শেখ জামাল। চট্টগ্রাম আবাহনীই বরং জিততে পারত সুযোগের অপচয় না করলে। তিন ম্যাচে শেখ জামালের পয়েন্ট ৫। সমান ম্যাচে মোহামেডান ও শেখ রাসেলের ৯। মুক্তিযোদ্ধার ৬, আবাহনীর ৪, ব্রাদার্সের ২।
সাদামাটা ফুটবল খেলেও মুক্তিযোদ্ধা দ্বিতীয় জয়টা পেয়েছে প্রতিপক্ষের উপহার দেওয়া গোলে। ৩২ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লুসিয়ানোর ফ্রি-কিক সরাসরি হাতে জমিয়েও রাখতে পারেনি আরামবাগের গোলরক্ষক মোস্তাফিজ মুন্না। দেশের সর্বোচ্চ ফুটবলের সঙ্গে এমন গোলকিপিং যায় না। ‘আসো গোল করো’—গোলরক্ষকের এমন আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান মুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক রজনী।
ব্যবধান বাড়ানোর গোটা তিনেক সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছে মুক্তিযোদ্ধা। আরামবাগও ১-১ করার অনেক সুযোগ পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ। তিন ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া আরামবাগ খেলছে ভালোই, কিন্তু গোল পাচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধার উদ্বেগের নামও গোল। দলের মূল স্ট্রাইকার বুকোলা ওলালেকানের কাছে গোল যেন সোনার হরিণ!

স্বরূপে চেলসি, সিটির হতাশা

ইপসউইচের কি দুর্ভাগ্য! তাদের সঙ্গে ম্যাচের দিনটাতেই কিনা চেলসির মনে পড়ল তারা চেলসি! চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ইপসউইচকে পরশু ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে উঠে গেছে ‘ব্লু’রা।
প্রিমিয়ার লিগের গত ৯ ম্যাচে মাত্র একটি জয় চেলসির। গোল করতে ভুলে গিয়েছিলেন নীল জার্সির খেলোয়াড়েরা। নীল জার্সিতে অচেনাই লাগছিল এত দিন। তবে ইপসউইচের বিপক্ষে কালু-আনেলকা-ল্যাম্পার্ড-স্টারিজরা দেখা দিলেন স্বরূপে। ল্যাম্পার্ড-স্টারিজ করেছেন জোড়া গোল। কালু, আনেলকা একটি করে। বাকি গোলটি আত্মঘাতী।
এদিকে গোলরক্ষক জো হার্ট ‘ফেল’ মারলেন। ম্যানচেস্টার সিটিতেও তাই ‘ইস্’ শব্দটা বাজাচ্ছে হতাশার বাঁশি। এই হতাশা ও ব্যথা পরশুই এফএ কাপের শেষ বত্রিশে উঠে যেতে না পারার। এত বড় জয়ের পরও খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ‘এই ফর্ম লিগে না দেখাতে পারলে কোনো লাভ নেই’—ল্যাম্পার্ড-আনেলকারা নিশ্চয়ই কোচের কথার মর্মোদ্ধার করতে পেরেছেন।
এদিকে বাম্বার ১ মিনিটের গোল ছাপিয়ে লিস্টারের বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। জেমস মিলনার ও কার্লোস তেভেজের গোলে পরশুই চতুর্থ রাউন্ডে পা রাখার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল তারা। তবে ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলরক্ষকের ভুলে সেটা আর হয়নি। ৬৪ মিনিটে গ্যালাঘারের একটি ক্রস ফিস্ট করতে গড়বড় করে ফেলেন সিটির গোলরক্ষক হার্ট। সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে বলটি জালে পাঠিয়ে লিস্টারকে সমতায় ফেরান অ্যান্ডি কিং। ম্যান সিটিকেও তাই চতুর্থ রাউন্ডে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফিরতি ম্যাচের জন্য।

রোনালদোময় রিয়াল ঠিক পথেই

কে হচ্ছেন বর্ষসেরা? লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ নাকি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা? গত কয়েক দিন থেকেই স্প্যানিশ মিডিয়া অবিরাম এই বিতর্ক তুলে গেছে। এএস, মার্কায় এর সঙ্গে ছিল আরও একটা বিষয়—কে হবেন স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা? পিচিচি ট্রফিটা পাবেন কে, রোনালদো নাকি মেসি? লিগ কেবল মাঝরেখা বরাবর। এর সমাধান পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেক দিন। তবে পরশু এই আলোচনার পালে জোর হাওয়া লেগেছে রোনালদোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে। মৌসুমে রোনালদোর তৃতীয় হ্যাটট্রিকে নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের চতুর্থ গোলটি করেছেন কাকা, কিন্তু গোলটি তাঁকে থালায় সাজিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদো।
এই মৌসুমে ২৭ ম্যাচ খেলে ৩০ গোল হয়ে গেল রোনালদোর। লিগে গোলসংখ্যা ২২। এটা মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের মোট লিগ গোলের (৪৬) প্রায় অর্ধেক। গত অক্টোবরে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিক, পরে কোপা ডেল রেতে হ্যাটট্রিক করে লেভান্তেকে ‘উপহার’ দিয়েছেন ৮-০ গোলের দুঃস্বপ্ন।
আর পরশু তো দুবার পিছিয়ে পড়া রিয়ালকে উদ্ধার করেছেন তৃতীয় হ্যাটট্রিকে। ১৮ ম্যাচ শেষে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে এখন ২ পয়েন্টই পিছিয়ে আছে রিয়াল।
স্প্যানিশ লিগের হিসাব-নিকাশ যাঁরা রাখছেন রোনালদো তাঁদের যেমন সমস্যায় ফেলছেন, তেমনই তিনি সমস্যায় ফেলেছেন কোচ হোসে মরিনহোকেও। প্রতিটি ম্যাচে তিনি উজ্জ্বলতর হচ্ছেন। আর প্রশংসা করতে করতে ভান্ডারটাই যেন ফুরিয়ে যাচ্ছে মরিনহোর। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচটি রোনালদোময় হয়ে যাওয়ার পর প্রশংসার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন রিয়াল কোচ, ‘রোনালদো আমাকে বাকহীন করে দিয়েছে। ম্যাচের পর ম্যাচ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ও একই রকম খেলে যাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না, কীভাবে ওর এই পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করা যায়।’
রোনালদো নিজে কিন্তু তাঁর এই অর্জন ভাগ করে দিচ্ছেন সতীর্থদের সবাইকে, ‘আমি শুধু আমার কাজটা করছি। সতীর্থদের সাহায্য ছাড়া এই তিনটি গোল আমি করতে পারতাম না।’ পরে বলেছেন রিয়ালকে নিয়ে অনেক কিছু জয়ের স্বপ্নের কথা, ‘মৌসুমের এখনো অনেকটাই বাকি। আমি এভাবেই খেলে যেতে চাই এবং রিয়ালের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব শিরোপা জিততে চাই।’
রোনালদোময় এই ম্যাচের পরতে কিন্তু ভিয়ারিয়াল-বীরত্বও ছিল। যেমন লিগে এই প্রথম বার্নাব্যুতে রিয়ালকে প্রথমে পেছনে ফেলেছিল তারা। ৬ মিনিটে ক্যানির দুর্দান্ত এক চিপে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। ২ মিনিট পরই গোলটি শোধ দেন রোনালদো। ১৭ মিনিটে আবার ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে দেন মার্কো রুবেন। জাভি আলোনসোর ফ্রি-কিক থেকে রোনালদোর হেডে ম্যাচে ফেরে রিয়াল। ৭৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রোনালদো। তবে এ গোলটি মানতে তীব্র আপত্তি ছিল ভিয়ারিয়াল কোচ হুয়ান কার্লোস গারিডোর। গোলটি অফসাইড থেকে হয়েছে দাবি করে বহিষ্কৃতও হয়েছেন তিনি।
নিজের তো বটেই, রোনালদো কাকার রাতটিকেও আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছেন এরপর। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা কাকার মৌসুমের প্রথম গোলটির উৎস যে তিনিই।

বিশ্বাসই হচ্ছে না সৌরভের

পুরোনো ক্রিকেটারদের রেখে দেওয়া আর দুই দিনের নিলাম মিলিয়ে ১৩৯ জন ক্রিকেটার এরই মধ্যে ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন আইপিএলে। এঁদের একজন তিনি নন, বিশ্বাসই করতে পারছেন না সৌরভ গাঙ্গুলী। তাঁর সাবেক দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ খান অবশ্য বলেছেন, সৌরভ চাইলে টিম ম্যানেজমেন্ট বা অন্য যেকোনোভাবে দলের অংশ করে নেওয়া হবে তাঁকে। তবে সৌরভ এখনো জানাননি অন্য কোনো দলের সঙ্গে থাকবেন কি না।
সৌরভ ছিলেন নাইট রাইডার্সের ‘আইকন’ ক্রিকেটারদের একজন। আইপিএলের তিন আসরের দুবার নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের এবার ন্যূনতম মূল্য ছিল প্রথমে ২ লাখ ডলার, পরে নিজেই বাড়িয়ে করেছেন ৪ লাখ। কিন্তু দুই দিনের নিলামে কোনো দল কেনেনি ৩৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে। হতভম্ব সৌরভের প্রতিক্রিয়া, ‘আমি বুঝতে পারছি না, এটা কী হলো। কোন কোন ক্রিকেটারদের কেনা হবে, এটা পুরোপুরিই দলগুলোর নিজস্ব ব্যাপার। তবে শ খানেক ক্রিকেটারের মধ্যে আমি নেই, বিশ্বাস করা কঠিন।’
সৌরভের অবিক্রীত থাকার খবরটা বিস্ময় হয়ে এসেছে অনেকের কাছেই। ক্ষুব্ধ সৌরভ ভক্তরা শাহরুখ খানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে কলকাতায়। কলকাতার ক্রিকেটের তো বটেই, কেকেআর দলটারও অনেকটা প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সৌরভ। কলকাতার একটি টিভিকে অবশ্য শাহরুখ বলেছেন, ‘সে (সৌরভ) দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কলকাতার একটি দল তাঁকে ছাড়া হবে, ভাবাও যায় না। ওর সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। আমরা ওকে অন্য কোনোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’
দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলে তাঁকে কেনা হলো না কেন, এটির উত্তর অবশ্য সরাসরি দেননি শাহরুখ, ‘আমার মনে হয় না এটা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য করা উচিত। ১০টা দল খেলছে আইপিএলে, ১০টা দলেরই থিংক ট্যাংক আলাদা। অনেক হিসাব-নিকাশ করে দল গড়া হয়েছে। আমার জন্য তাই বলা কঠিন।’
কেকেআরে থাকলে সৌরভের ভূমিকা কী হতে পারে, নিশ্চিত নয় এখনো। তবে দলের প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইসোর জানিয়েছেন, দল ব্যবস্থাপনার কোনো পদের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে তাঁকে।

চিরসবুজ মোহাম্মদ রফিক

এবারের প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেই ১১ উইকেট! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনো আগের মতোই উজ্জ্বল মোহাম্মদ রফিক। কাল ওরিয়েন্টের বিপক্ষেও তাই, ১৫ রানে নিলেন ৫ উইকেট। আর তাতে আবাহনীর ৯ উইকেটে ২৫৩ রানের জবাবে ওরিয়েন্ট মাত্র ৭৫ রানেই অলআউট হয়ে ম্যাচ হারে ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে।
কাল ৫ উইকেট পেয়েছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার বিমানের মোশাররফ হোসেনও। অবশ্য বিমানের ১২৪ রানে জেতা এই ম্যাচে কলাবাগানের বিপক্ষে পাঁচ-পাঁচটি এলবিডব্লু দিয়ে খেলোয়াড়দের চেয়ে ম্যাচের দুই আম্পায়ারই ছিলেন বেশি আলোচিত। দিনের অন্য ম্যাচে মোহামেডান ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।
বিকেএসপিতে আবাহনীর সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লিগে নবাগত ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং। ২৫.১ ওভারে সবাই মিলে করেছে মাত্র ৭৫ রান, এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেছেন দুজন—ওপেনার রবিউল আর তিন নম্বর ব্যাটসম্যান আসহানুল। ৭.১ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার রফিকই কোমর ভেঙে দিয়েছেন ওরিয়েন্টের। এর আগে আবাহনীর ইনিংসটা ২৫৩-তে টেনে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব ছিল মাহমুদউল্লাহর। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্বার ফর্মে থাকা এই অলরাউন্ডার কাল ৮৩ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। লিগে এটি তাঁর চতুর্থ ফিফটি, সাত ম্যাচে করলেন ৩৬৪ রান।
ওপেনার ফজলে রাব্বির ফিফটি আর ফাহাদুল-মমিনুলের দুটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসের সৌজন্যে ফতুল্লায় ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান করেছিল ভিক্টোরিয়া। ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৬.১ ওভারেই সেটা টপকে যায় মোহামেডান। তামিম ইকবাল (৫৪) ও মঈন আলীর (৪২) ৭৭ রানের ওপেনিং জুটির পর বাকি কাজটা করেছেন ৬২ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত সাকিব আল হাসান।
মিরপুরে বিমানের ৯ উইকেটে ২২৬ রানের জবাবে ২৮.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট কলাবাগানের কর্মকর্তা-সমর্থকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন আম্পায়ারদের দেওয়া একের পর এক এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে। খেলার মাঝখানে এবং খেলা শেষেও আম্পায়ারদের গালাগাল দিয়ে, বোতল ছুড়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে কলাবাগানের সমর্থকেরা। তাদের পাঁচজন ব্যাটসম্যানই এলবিডব্লু হয়েছেন। এর মধ্যে আম্পায়ার এনামুল হক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ওপেনার নাজমুস সাদাত আর আইজাল আহমেদের বিপক্ষে। ইজাজ আহমেদ, মাহমুদুল হাসান আর আরিফুল হকের বাকি তিনটিতেই আঙুল তুলেছেন আরেক আম্পায়ার মোর্শেদ আলী খান। এর মধ্যে মাহমুদুল ও আরিফুল তো এলবিডব্লু হলেন ৫ উইকেট নেওয়া মোশাররফ হোসেনের পরপর দুই বলে! কলাবাগানের কর্মকর্তাদের অভিযোগ মোর্শেদ আলী খানের দেওয়া এলবিডব্লুগুলো নিয়েই। এ ব্যাপারে সিসিডিএমের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
আম্পায়ার বনাম কলাবাগান ‘যুদ্ধের’ দিনে অবশ্য শাস্তি পেয়েছেন বিমানের পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইয়াসির হামিদ ও সাজ্জাদ কাদির। আউট হওয়ার পর আপত্তি জানানোয় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ইয়াসিরকে। আর ওই আউট নিয়ে মাঠের বাইরে থেকে আম্পায়ারকে কটূক্তি করায় বিমানের আরেক ক্রিকেটার সাজ্জাদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি বহিষ্কারও করা হয়েছে পরবর্তী দুই ম্যাচে।

ফিফার প্রথম বর্ষসেরা কোচ মরিনহো

নিজেকে অনেক দিন ধরেই দাবি করছিলেন, ‘স্পেশাল ওয়ান।’ এবার তাঁর সেই দাবির স্বীকৃতিও পেলেন এ সময়ের অন্যতম সেরা কোচ হোসে মরিনহো। গতকাল জিতে নিলেন এ বছরই প্রথম চালু হওয়া ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার।
গত মৌসুমে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুবর্ণ সময় কাটিয়েছিলেন মরিনহো। ইন্টার মিলানের হয়ে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইতালিয়ান লিগ ও ইতালিয়ান কাপ শিরোপা। কোচ হিসেবে এত সফল মৌসুম কাটিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। পুরস্কারটা যে তাঁর হাতেই উঠবে, সেটা আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, বিশ্বকাপের বছরে হিসাব-নিকাশ কিছুটা ভিন্ন রকমই হয়ে থাকে। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী দলের কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক ছিলেন মরিনহোর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২.৮৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে দেল বস্ককে পেছনে ফেলেছেন মরিনহো। তিনি পেয়েছেন ৩৫.৯২ শতাংশ ভোট। দেল বস্ক পেয়েছেন ৩৩.০৮ শতাংশ।
গতকাল এ পুরস্কার জেতার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার কাছে সম্মিলিত দলীয় অর্জনটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত অর্জন না। কিন্তু এটা একটা ঐতিহাসিক পুরস্কার। আমার জন্য তো বটেই, সেই সঙ্গে পর্তুগিজ ফুটবলের জন্যও এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি খুবই গর্ববোধ করছি। খুব বেশি গৌরবান্বিত মুহূর্ত পর্তুগিজদের নেই। আর এটা অবশ্যই পর্তুগিজদের আত্মমর্যাদা অনেকখানি বৃদ্ধি করবে। ইউসেবিও, ফিগো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর আমার এ পুরস্কারটা নিয়ে আমাদের এখন চারটা গোল্ডেন বল আছে।’
তবে নিজে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারটা জিতলেও তাঁর ইন্টার মিলান শিষ্যদের কেউ বর্ষসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় আবার কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মরিনহো। এটাকে কিছুটা অন্যায্য বলেও দাবি করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইন্টার মিলানে তাঁর অন্যতম সেরা শিষ্য ওয়েসলি স্নাইডার জায়গা পেয়েছেন সেরা বিশ্ব একাদশে। মঞ্চে গিয়ে স্নাইডার, মরিনহোকে ধন্যবাদ জানানোর পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই পর্তুগিজ কোচ। কান্নাভেজা গলায় বলেছেন, ‘স্নাইডারের কাছ থেকে এ রকম কথা শোনা এ পুরস্কার জেতার চাইতেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ‘দুর্বিনীত’, ‘অহংকারী’ মরিহোর একটা অন্য চেহারাও তাহলে আছে!

এবার মেসির আরাধনা, আর্জেন্টিনার সাফল্য

একে একে সবই হলো। ২০০৫ সালে সিনিয়র দলে ক্যারিয়ার শুরু করার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই নিজেকে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারে পরিণত করেছেন লিওনেল মেসি। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবারই ছিলেন ফিফার বর্ষসেরা তিন খেলোয়াড়ের তালিকায়। আর গতকাল টানা দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর মাথায় উঠল ফিফা বর্ষসেরার মুকুট। ক্লাব দল বার্সেলোনাকে লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাও নিয়ে গেছেন ন্যু-ক্যাম্পে। একটা খেলোয়াড়ের জীবনে যা যা পাওয়ার কথা তার মোটামুটি সবই এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তবে একটি না পাওয়ার বেদনা তাঁকে প্রতিনিয়তই কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তাঁর সেই না পাওয়ার বেদনা যে বিশ্বকাপকে ঘিরে, তা আর বোধ করি নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মেসি নিজেও এ নিয়ে আফসোস করেছেন। স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সাফল্যের মুখ দেখতে না পারাই তাঁর সবচেয়ে বড় ‘অপ্রাপ্তি’।
গত বছর বিশ্বকাপটা এসেছিল মেসির জন্য কি অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ারই উপলক্ষ হয়ে? সবাই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষায় ছিল মেসির দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের। কিন্তু তাঁদের হতাশই হতে হয়েছে। তাঁর পা থেকে আসেনি একটি গোলও। দলও কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে লজ্জাজনকভাবেই বিদায় নিয়েছে। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মেসির যে পারফরম্যান্স তার ছিটেফোঁটাও ছিল না বিশ্বকাপে মেসির খেলায়।
তবে, পুরো ব্যাপারটিকেই পদ্ধতিগত সমস্যা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় মেসিকে গোল তৈরি করার চেয়ে গোল করার দিকেই বেশি মনোনিবেশ করতে দেখা যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে পুরো দলেরই ভার চলে আসে মেসির কাঁধে। বিশ্বকাপে মেসির গোল না পাওয়ার প্রধানতম কারণ হিসেবে অনেকে এ ব্যাপারটিকেই চিহ্নিত করেছে। অনেকে দুষেছেন কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলা সব সময়ই মেসিকে স্বাধীনভাবে খেলতে দেন, কিন্তু বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ ম্যারাডোনা মেসির জন্য স্বাধীন বিচরণক্ষেত্র তৈরি করতে পারেননি। গত বছরের এপ্রিলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে আর্সেনালের বিপক্ষে তাঁর চার গোলের ম্যাচটি আর বিশ্বকাপের যেকোনো একটি ম্যাচ পাশাপাশি দেখলে যেকোনো মেসিভক্তই পেয়ে যাবেন এর সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ।
মেসি নিজেও তাঁর বার্সেলোনা সতীর্থদের অবদানের কথা স্বীকার করতে দ্বিধা করেন না। এবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটা তাঁর বার্সা সতীর্থ জাভি বা ইনিয়েস্তারই জেতা উচিত, এমন কথা তিনি অনেকবারই বলেছিলেন। গতকাল এই বার্সেলোনা ত্রয়ীর কোচ পেপ গার্দিওলা শেষ পর্যন্ত বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে মেসির নামটা উচ্চারণ করার পর বেশ অবাকই হয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই পুরস্কারটা আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চাই। তাদেরকে ছাড়া আমি এ পর্যন্ত আসতে পারতাম না।’
পুরস্কারটা নেওয়ার পর মেসি ধন্যবাদ দিয়েছেন সব আর্জেন্টাইন সমর্থককেও। এ বছর নিজেদের দেশে আয়োজিত কোপা আমেরিকাতেই নিশ্চয়ই মেসি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন শিরোপাটা জিতে সব দুর্নাম ঘুচিয়ে দেওয়ার। বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয়সূচক অসাধারণ এক গোল করে কিন্তু সেই ইঙ্গিতও দিয়ে দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

অর্থনীতি- আমেরিকান অর্থনীতি ডলারের চ্যালেঞ্জ by ড. আবু এন. এম. ওয়াহিদ

বেশিদিন আগের কথা নয়। উনিশ শ' আশির দশক। আমি তখনো পড়ছি। ক্যানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পি.এইচ.ডি.'র ছাত্র। আমাদের মাত্র কয়েক বছর সিনিয়র একজন বাংলাদেশী সদ্য ডিগ্রী শেষ করে আমেরিকায় চাকরি পেয়েছেন। কিছুদিন পর সীমান্তের ওপারে গিয়ে কাজে যোগ দেবেন। তার আগে আমাকে একদিন ওয়ালেট থেকে একখানা আমেরিকান ডলার বের করে দেখিয়ে বললেন, "স্বপ্নের দেশ আমেরিকা যাচ্ছি।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহার- আশানুরূপ সুফল নেই এক বছরেও

ত বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে ঘোষিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে ইশতেহারের আশানুরূপ সুফল দেখা যায়নি। ইশতেহার বাস্তবায়নেও দেখা যায় ধীরগতি। যৌথ ইশতেহারের আশ্বাস বা প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে ধীরগতির ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি কয়েক মাস আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কিছু বিষয় বাস্তবায়ন দ্রুত হচ্ছে।

রাজনৈতিক আলোচনা- ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাজনীতি by হাসিবুর রহমান

রাষ্ট্র ক্ষমতা চর্চা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার উৎপত্তি যুগপৎ আলোচনার বিষয়। কেননা যখনই রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি হয়েছে তখন থেকেই ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে ক্ষমতা চর্চার বিষয়টি রাষ্ট্র ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আলোচিত হয়ে এসেছে। এই অর্থে ক্ষমতা চর্চার ইতিহাস রাষ্ট্র ব্যবস্থার উৎপত্তির মতই পুরাতন। তবে ক্ষমতা চর্চা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় বিভিন্নভাবে হয়েছে।

স্বীকৃতি পেলো জাপান

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০১১ সালটি ছিল জাপানিদের ইতিহাসে মারাত্মক বিপর্যয়ের বছর। গত ১১ই মার্চ ভূমিকম্প ও সুনামির তোড়ে জাপানে জানমালের ক্ষতিটা ছিল লোমহর্ষক। কিন্তু দৃঢ়চেতা জাপানিরা তাদের ফুটবলেও সেরা সময়টা কাটিয়েছে গত বছরই। প্রথম দল হিসেবে এশিয়ান কাপ হাতে তোলে চতুর্থবার। নিজ দেশে ক্লাব বিশ্বকাপ আসর সাজায় সফলতার সঙ্গে। আর নিজেদের ৯০ বছরের  ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে জাপানি মেয়েরা। সহজ ছিল না এসব। দেশজুড়ে মানুষের লাশ আর ধ্বংসলীলার চিহ্ন মনে-মগজে গেঁথেই ছিল জাপানের মহিলা বিশ্বকাপ দলের। তা স্মরণে এনে জাপান তারকারা বিশ্বকাপ জয়ের আকাঙ্ক্ষা জানাচ্ছিল নিজেদের প্রতিটি ম্যাচের আগে। আর মাঠে দেখায় এমন আকাঙ্ক্ষার যোগ্য ফুটবল। সেমিফাইনালে প্রবল প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ও আগের দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে জাপান। দুইবার গোল খেয়ে পেছনে থেকে সমতায় ফেরে। ফাইনালে হারায় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের একনম্বর দল যুক্তরাষ্ট্রকে। আসরের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব গোল্ডেন বুট ও বল ওঠে অধিনায়ক হোমারে সাওয়ার হাতে। বছরের শেষটাও ফুটবলে বুঁদ হয়ে ছিল জাপান। এখানে ক্লাব বিশ্বকাপ আসরে নেইমারের ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসকে হারিয়ে এ কাপ জেতে বার্সেলোনা। মারাত্মক বিপর্যয় উতরে ফুটবলময় বছর কাটানো জাপানের  ফিফা ফেয়ার প্লে পুরস্কারটা পাওনাই ছিল বলা যায়।

ইতিহাস- মাস্টারদা সূর্যসেন ও যুব বিদ্রোহ সাতাত্তর বছর পর by আহমদ মমতাজ

৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের কারাগারে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন ও বিপস্নবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এর পূর্বে কয়েকজন ইংরেজ অফিসার সেলে ঢুকে মাস্টারদাকে নির্মমভাবে মারধর করে। সূর্যসেন শেস্নাগান দিতে শুরু করলে তার মুখে উপযর্ুপরি ঘুষি মেরে বেশ কয়েকটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলে বলে বিপস্নবী দলের সদস্যদের স্মৃতিকথায় জানা যায়।

পৌরসভা নির্বাচন ২০১১: একটি পর্যালোচনা by ড. তোফায়েল আহমেদ

দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে । নির্বাচন কমিশন দেশের সাত বিভাগের ২৬৯টি পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও নানা কারণে ১২টি পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ২৫৭টি পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এখানে উলেস্নখযোগ্য যে, সারা দেশে মোট ৩১০টি পৌরসভার মধ্যে ১৭টির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি এবং ২৪টিতে মামলার কারণে নির্বাচন হচ্ছে না।

অর্থনীতি- ড. ইউনূস অর্থ আত্মসাৎ করেননি by খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

ম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল নরওয়ে। সে দেশের টিভি চ্যানেলের পরিবেশিত একটি তথ্য প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকাগুলো মনোযোগসহকারে পড়লে বোঝা যাবে, আত্মসাতের অভিযোগ নেই। অভিযোগ কিছু অনিয়মের। কিন্তু সংবাদের শিরোনাম ও প্রতিবেদনের অতিউৎসাহী (আক্রমণাত্মক?) ভাষা বড় রকমের অভিযোগের ইঙ্গিত বহন করে।