Tuesday, December 10, 2013
সংঘাতের শেষে কি অপেক্ষা করছে? by সাজেদুল হক
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুচোখ ভরে ম্যান্ডেলাকে দেখেছি by রফিকুল ইসলাম রতন

তৎকালীন দৈনিক বাংলার একজন রিপোর্টার হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠান কভার করার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। আর এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল আমার সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শিক্ষাগুরু, চিফ রিপোর্টার জহিরুল হকের বদান্যতায়। মূলত তিনি নিজেই এ রাষ্ট্রীয় অনন্যসাধারণ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানটি কভার করেছিলেন। সঙ্গে রেখেছিলেন আমাকে। আমি সেদিন অনুষ্ঠানের টুকিটাকি ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনাগুলো তুলে ধরেছিলাম। ১৯৭১ সালে যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং যে স্থানটিতে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনী মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল- ঠিক সেই স্থানটিতে নির্মিত ‘স্বাধীনতা মঞ্চে’ আয়োজন করা হয়েছিল তিন দিনব্যাপী সেদিনের অনুষ্ঠানমালার। এই বিশ্ব বরেণ্য নেতাদের লালগালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজও আমার কানে বাজে সেদিনের নেলসন ম্যান্ডেলার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পঙ্ক্তিগুলো। আমরা সেদিন তন্ময় হয়ে শুধু শুনছিলাম এবং হৃদয়-মন উজাড় করে দু’চোখ ভরে তাদের দেখছিলাম। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি মাথা নুয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা যখন বর্ণ বৈষম্যের অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করছি, তখন বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার শোষিত বঞ্চিত নিগৃহীত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন সংগ্রামকে সমর্থন জানিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছে। শুধু এ কারণেই আমি বাংলাদেশের একজন বন্ধু হতে চাই। তিনি বলেন, বর্ণ বৈষম্যের অন্ধকার থেকে স্বাধীনতার ভোরের পথে আমরা যখন হামাগুড়ি দিচ্ছি, তখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী পালন করছে। আমার পরম সৌভাগ্য এমন একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য।’
দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী প্রিন্টের ফুলহাতা শার্ট ও অফ হোয়াইট প্যান্ট পরিহিত সদা হাস্যমুখের এই নেতা মঞ্চে উঠে যখন উপস্থিত সুধী ও জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লেন, তখন সবাই দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে সেই সম্মানের জবাব দিয়েছিলেন, শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত করে তুলেছিলেন গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কোটরাগত গভীর চোখে অবাক বিস্ময়ে জনতার দিকে তাকিয়ে ঝকঝকে দাঁতের হাসি দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এই ব-দ্বীপের অধিবাসীদেরও অকৃত্রিম বন্ধু।
সেদিনের সেই ছোট্ট ভাষণটির কী অপরিসীম গুরুত্ব, তখন হয়তো তা বুঝতেই পারিনি। তিনি হেলিকপ্টারে করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শোক বইতে লিখেছিলেন, ‘বন্ধুরা, তোমাদের মৃত্যু নেই।’ তিনি স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি গাছের চারাও রোপণ করেছিলেন। সেদিন মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, নেলসন ম্যান্ডেলা কিছুটা অসুস্থ অবস্থাতেই এসেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার টানে। সাংবাদিকতার প্রায় তিন যুগ পার করতে চলেছি। কিন্তু জীবনে এমন মহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দেশের মাটিতে আর কভার করার সুযোগ হয়নি। বিশ্বের বহু দেশে পেশাগত কাজে গেলেও ম্যান্ডেলা ও ইয়াসির আরাফাতের এ অনুষ্ঠানটিই ছিল আমার সাংবাদিকতা জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ঘটনা।
বর্ণবাদের জাঁতাকলে যে দেশটি ছিল নিষ্পেষিত, যন্ত্রণাকাতর এবং মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল যে জনপদটি, সেই পশ্চাৎপদ অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদে লাশের গন্ধ আর ধংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন এই মানুষটি। শ্বেতাঙ্গদের অত্যাচার-নির্যাতন আর শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে কালোদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামের অবিসংবাদী এই নেতাকে কঠোর ও অমানুষিক পরিশ্রম করে নিজেকে জায়গা করে নিতে হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে দিয়ে গণমানুষের কাতারে এসে বিশ্ব নেতায় উদ্ভাসিত নেলসন ম্যান্ডেলা সমগ্র বিশ্বকে কাঁদিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর বিদায় নিলেন। তিনি তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন- সততা, সাহস, মহানুভবতা, উদারতা ও ক্ষমাই হতে পারে একটি জীবন্ত কিংবদন্তি হওয়ার পেছনের মূলমন্ত্র।
সেই ১৯৪৪ সালে মহাত্মা গান্ধীর গড়া রাজনৈতিক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি) যোগদানের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর মতো একটি দিনের জন্যও তিনি শান্তিতে থাকতে পারেননি। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তার বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ও সংগ্রামী ভূমিকার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সব কালো নির্যাতিত মানুষ। তার আহ্বানে দেশের উদারপন্থী সব শ্রেণী-গোত্রের মানুষই ঐকমত্যে এসেছিল ম্যান্ডেলার নেতৃত্ব মেনে নিতে। আফ্রিকার কালো মানুষদের ইতিহাসে এমন জাদুকরি নেতৃত্ব এর আগে আর কেউ দিতে পারেননি। তার নেতৃত্বেই ১৯৫৫ সালে ঘোষিত হয়েছিল স্বাধীনতার সনদ। তিনি আত্মগোপনে থেকে শেষ পর্যন্ত যে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাতেই ভিত কেঁপে উঠেছিল অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ শাসকদের। তারপরও তারা শেষ চেষ্টা হিসেবে ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ যাওয়ার অভিযোগ এনে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় এই নেতাকে। বর্ণবাদী স্বৈরশাসক ফেড্রিক ডি ক্লার্ক নেলসন ম্যান্ডেলার ওপর একের পর এক অত্যাচার-নির্যাতন করে প্রিটোরিয়াসহ বিভিন্ন জেলখানায় নিক্ষেপ এবং শেষে বিচ্ছিন্ন রোবেন দ্বীপে একটানা ১৮ বছরের কারাজীবনে নিক্ষেপ করে। ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রোবেন দ্বীপের ৮ ফুট বাই ৭ ফুটের ছোট্ট একটি প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপের পরও দমে যাননি তিনি। তার মনোবল এতটাই সুদৃঢ় ছিল যে, তিনি কারাগারে বসেই দূরশিক্ষণের মাধ্যমে লন্ডন থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের নিষ্ঠুর শিকার কালো মানুষদের প্রায় সবাই যখন সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, প্রতিশোধ আর জিঘাংসার আগুনে যখন জ্বলে-পুড়ে মরছে সবাই, যখন শ্বেতাঙ্গদের জীবন ও অস্তিত্ব চরম সংকটে, ঠিক তখনই ১৯৯০ সালে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় ক্লার্ক সরকার। কিন্তু মুক্তির পর নেলসন ম্যান্ডেলা আবির্ভূত হন এক নতুন মানুষরূপে। মহাত্মা গান্ধীর ‘অহিংসা’ই হয়ে ওঠে তার প্রধান রাজনৈতিক দর্শন। জীবন যুদ্ধে পরাস্ত এবং অত্যাচার-নিপীড়নে জর্জরিত দক্ষিণ আফ্রিকার কালো মানুষরা যখন প্রতিশোধ আগুনে পুড়ছে, ঠিক সেই রকম একটি উত্তেজনায় টানটান পরিস্থিতিতে তিনি তার মমত্ববোধ, প্রজ্ঞা, মানবতা ও মহানুভবতা দিয়ে গোটা জাতিকে প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে নিবৃত রেখে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। যা ছিল বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত।
সেই ১৯১৮ সালে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের পাহাড়ি ও ঘন গাছগাছালিতে ঘেরা নিভৃত পল্লী এমভোজা কুনু গ্রামের নিুবিত্ত পরিবারে জন্মের পর থেকেই যে মানুষটি জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ঠেকে ঠেকে শিখেছিলেন মানুষকে আপন করে নেয়ার মূলমন্ত্র, যিনি কোনোদিন নীতির কাছে আপস করেননি, যার গুণ ও মহত্ত্ব সবাইকে চুম্বকের মতো কাছে টেনে নিয়েছিল- সেই ম্যান্ডেলা তো আর সাধারণ কাজ করতে পারেন না। তাই তিনি শ্বেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গের মধ্যে ঘটালেন এক মহান মিলন। যার মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে পরিণত হলেন মহান এক আদর্শের প্রতিভূ হিসেবে, শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে একজন শিক্ষানবিস সেবিকা এলভিস নিতোকো মাসকে বিয়ে, বিয়ের পর ৯ মাস বয়সে কন্যা ম্যাকজিউয়ের মৃত্যু এবং ১৩ বছরের বিবাহ জীবনের অবসান (বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব পক্ষকেই জয়ী হতে হবে by ড. মাহবুব উল্লাহ্

বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে, কিন্তু সেই গণতন্ত্র অনুদার। এখানে প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচন এলেই সমস্যার উদ্ভব হয়। এবারকার সমস্যাটি সবচেয়ে ভয়াবহ। ১৯৯৫-৯৬ সাল এবং ২০০৬-০৭ সালে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সংকটকালেও আমরা ভয়াবহ সংঘাত-সংঘর্ষ দেখেছি, সহিংসতা দেখেছি। এবার সমস্যা আরও অনেক বেশি প্রকট। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে দেয়ার জন্যই এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালে চালু করা হয়েছিল আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে। সেই আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস দিন দিন মহীরুহে পরিণত হয়েছে। যতদিন এই আস্থাহীনতা কাটিয়ে না ওঠা যাবে ততদিন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে যতই অগণতান্ত্রিক বলা হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সেটিকে বহাল রাখতে হবে। একে এক ধরনের স্টপ গ্যাপ এরেইনমেন্ট বলা যায়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, তিনি সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করবেন। কিন্তু সম্ভবত এর একদিন পরই তিনি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে দিলেন। সেদিন থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। বিরোধীদলীয় জোট চাইল তফসিল পিছিয়ে দিতে। কিন্তু তা হল না। বিরোধীদলীয় জোট নির্বাচনে এলো না। এরশাদের জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যোগ দিলেও পরবর্তী সময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল। তারা বলল, তফসিল না পেছালে এবং সব দল অংশগ্রহণ না করলে তারাও নির্বাচনে যাবে না। কার্যত নির্বাচনটি একদলীয় নির্বাচনে পরিণত হতে চলেছে। এর ফলে যে সমস্যা হবে, এ কথা সরকারের অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেবও বলেছেন। সরকার নিজ অবস্থানে অনড়। বিরোধীদলীয় জোটও অনড়। কারও পক্ষ থেকে ছাড় দেয়ার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু কোনো ছাড়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে এরশাদের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এরশাদের মুখ থেকেই জানা গেছে। সুজাতা সিং এরশাদকে নির্বাচনে থাকতে অনুরোধ করেছেন, অন্যথায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে বলে সাবধান করেছেন। এই জঙ্গিবাদের ধারক-বাহক হবে জামায়াত-শিবির। বাংলাদেশের প্রশ্নে ভারতীয় অবস্থানটি এখন স্পষ্ট। ভারত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার দেখে স্বস্তিবোধ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলেও ভারতের ধারণা। সোজা কথায়, ভারত তার সব ডিম একটি ঝুড়িতেই রাখতে চায়। কিন্তু সেই ঝুড়ির তলা শূন্য কিনা সেটা ভেবে দেখছে না। অনেকেই মনে করেন, ভারতের এ অবস্থান আওয়ামী লীগ সরকারকে অনমনীয় করে ফেলেছে। হাজার হলেও ভারত বিশাল শক্তিশালী দেশ। বাংলাদেশের সীমান্ত-সংলগ্ন প্রতিবেশীও বটে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে ভারতের তুলনায় অন্য কোনো শক্তির সামর্থ্য মেলে না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমস্যার মূলে এটি মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও প্রতিবেদন থেকে একই ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এখন বাস্তব অর্থেই অভ্যন্তরীণ থাকছে না।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফার্নান্দেজ তারানকো ঢাকায় এসেছেন সবশেষে। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শক্তিশালী টিম। এই টিমে রয়েছেন নিগোসিয়েশন এক্সপার্ট রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। তারানকো ঢাকায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তিনি ঢাকায় অবস্থিত কিছুসংখ্যক বিদেশী রাষ্ট্রদূত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন। তার সঙ্গে থাকা বিশেষজ্ঞরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন সবার বক্তব্যে কোনো অভিন্ন অবস্থান আছে কিনা। সেটাকে সূত্র ধরেই তারা আরও আলোচনা করবেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ফল হবে কিনা তা কেবলমাত্র ভবিতব্যই জানে।
যদি শেষ পর্যন্ত সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হয়, তাহলে বাংলাদেশকে অধিকতর অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়তে হবে। জরুরি অবস্থা জারির কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও এ পদক্ষেপটি সংবিধানসম্মত, তবুও এই পদক্ষেপের ফলে সমস্যার সুরাহা কতটুকু হবে বলা মুশকিল। কোনো একটি দৈনিক পত্রিকায় ক’দিন আগে দেখলাম জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু সেরকম কিছু নিঃসন্দেহে ভালো দৃষ্টান্ত হবে না। ড. কামাল হোসেন মনে করেন, সংবিধানের মধ্যেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সেই ফর্মুলাটি কী সেটা তিনি স্পষ্ট করেননি। সে কথাটি খুলে বললে সমাধান যদি দূরে চলে যায় তাহলে খোলাসা না করাই ভালো। বিষয়টি মিস্টার তারানকো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার গোচরীভূত হলেই হল।
বাংলাদেশের বর্তমান সংকটটি রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এর ফয়সালা করতে হবে। দোষারোপের রাজনীতির চর্চা করে, দমন-পীড়নের পথ ধরে কোনো সমাধান হবে না। আমরা তো সবাই বাংলাদেশের মানুষ। সরকার পক্ষ ও বিরোধী পক্ষে যারা আছেন তারাও বাংলাদেশের মানুষ। জনগণ এই সংকটের আশু সমাধান চায়। তারা সংঘাত চায় না। তারা আশা করে, সব প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সবার জন্য সম্মানজনক একটি সমাধানে পৌঁছবে। যত বিরোধই থাকুক না কেন, মনে রাখতে হবে, সবার উপরে দেশ। কেউ কাউকে নির্মূল করে জয়ী হতে পারবে না। জয়ী হতে হলে সবাইকেই জয়ী হতে হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবাধিকার দিবসের প্রত্যাশা by কাজী ফারুক আহমেদ

দুই দশকের অর্জন : মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ এ বছর গত দুই দশকের অর্জনগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। ১৯৯৩ সালের ২৫ জুন ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সম্মেলনে ৭ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের পদ সৃষ্টি ও কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এর পেছনে বড় উদ্যোগ ছিল বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা/সংগঠনের। লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। যার মূল কাজ হবে যেখানেই মানবাধিকার লংঘিত হবে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। জাতিসংঘের শক্তি ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য অধিকার নিশ্চিত করা। দুই দশক ধরে এক্ষেত্রে অর্জিত ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই এবারের মানবাধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য স্থির করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব অর্জনের মধ্যে রয়েছে : ১. কোনো ভেদাভেদ না রেখে সব মানুষের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং উন্নয়নের অধিকারের স্বীকৃতি; ২. বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মানবাধিকারের স্বীকৃতি; ৩. শিশু, নারী, নির্যাতনের শিকার সব মানুষ, অক্ষম/বিশেষ চাহিদা প্রাপ্তির যোগ্য ব্যক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা লাভের অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি; ৪. নারীর অধিকার মানবাধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংস আচরণ মানবাধিকারের প্রত্যক্ষ লংঘন হিসেবে স্বীকৃতি। ৫. মানবাধিকার লংঘন করে কেউ পার পেতে পারবে না, নির্যাতিতের সুবিচার লাভের অধিকার, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের আইনের আওতায় বিচারের অধিকার; ৬. প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদার মানুষদের সমঅধিকারের স্বীকৃতি; ৭. অভিবাসী ও অপর্যাপ্ত কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে গমনকারী অভিবাসনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাধাগুলো দূরীকরণের উদ্যোগের স্বীকৃতি; ৮. আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ও বৈষম্যহীন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা/কার্যক্রমের স্বীকৃতি; ৯. বিশ্বব্যাপী মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার সপক্ষে সচেতনা বৃদ্ধিতে নাগরিক সমাজের অবস্থান ও সৃজনধর্মী উদ্যোগের স্বীকৃতি; ১০. জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর স্বাধীন কার্যক্রম গ্রহণ। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশে এ ধরনের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা; ১১. অতীতে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণ মানবাধিকার; ১২. ব্যবসা-উদ্যোগে মানবাধিকার প্রসঙ্গের যুক্তকরণের সপক্ষে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা; ১৩. স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের প্রতি সমর্থন ও একই সঙ্গে যা প্রত্যক্ষভাবে হিংসা বা সন্ত্রাসে উস্কানি দেয় তার বিরোধিতা জ্ঞাপক নীতিমালা নির্ধারণ; ১৪. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা/সংগঠনগুলোর প্রবীণদের অধিকার, সত্যের সপক্ষে অবস্থান গ্রহণের অধিকার, নির্মল পরিবেশ, বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানীয় এবং স্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশনের অধিকারের স্বীকৃতি।
বাংলাদেশে মানবাধিকার : এখানে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা দুজনই। প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে এখন মেয়েরাই সংখ্যায় বেশি। শিক্ষকতায় বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে মেয়েরা যখনই উঁচু ধাপে উঠতে যায়, তখনই তাদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। কোথায় নেই আমাদের নারীরা? শিক্ষকতায় তো আছেই। সাংবাদিকতা, শিল্প উদ্যোগ, ব্যবসা- প্রায় সর্বত্রই তাদের বিচরণ। বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পদেও রয়েছে তাদের অবস্থান। বৈদেশিক দূতাবাস, সামরিক ও আইন-শৃংখলা বাহিনীতেও তাদের অবস্থান একেবারে অনুল্লেখযোগ্য নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আগের সরকারের আমলে নিবন্ধন, সনদপত্র, ব্যাংক হিসাবসহ সব ক্ষেত্রে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নামও যুক্ত করেন। এবার মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এসবই এক একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। আমাদের মেয়েরা এখন হকি, ক্রিকেট, ফুটবল খেলছে। সাঁতার, বন্দুক চালনায় নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কারও এখন তাদের করায়ত্ত। তবে এরপরও বাংলাদেশে পরিবারে নারীর শ্রমের ও উদ্যোগের মূল্যায়ন নেই। নারী শ্রমিকের পারিশ্রমিক পুরুষের অর্ধেক অথবা তারও কম।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসুস্থ রাজনীতি ও জাতিসংঘের উদ্যোগ by তারেক শামসুর রেহমান

এই অসুস্থ রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? রাজনীতি তো সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু এ কোন রাজনীতি? যে রাজনীতি গীতা সরকারকে দগ্ধ করে, যে রাজনীতি আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ওহিদুর রহমান বাবুর জীবন কেড়ে নেয়, সে রাজনীতি আমাদের কী মঙ্গল বয়ে আনবে? মনে আছে, বছর দুয়েক আগে তুরস্কের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একজন অধ্যাপকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন মওলানা ভাসানী সম্পর্কে, আজীবন যিনি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। ক্ষমতার ‘দৌড়ে’ তিনি কোনোদিন হরতাল ডাকেননি। অবরোধ ডাকেননি। তার সাহসী উচ্চারণ তাকে অবিসংবাদিত পুরুষে পরিণত করেছিল। তিনি আজ যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কি এই হিংস্র রাজনীতিকে সমর্থন করতেন?
একজন গীতা সরকারের সাহসী কণ্ঠস্বর যেন বলছে হাজারও মানুষের কথা- আমরা এই নষ্ট রাজনীতি চাই না! এই রাজনীতি অসুস্থ। এই রাজনীতি মানুষের মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। আমি খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যেও উৎসাহিত হয়েছি। খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছাপা হয়েছে এভাবে- ‘আমি বিস্মিত, হতবাক, ক্ষুব্ধ, বেদনাহত।’ যারা পেট্রল বোমায় আহত হয়ে বার্ন ইউনিটে পড়ে আছেন, চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের দুরবস্থার কথা ভেবে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য গীতা সরকারদের কতটুকু আশ্বস্ত করতে পারবে আমি জানি না। তবে মনে করি, রাজনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে এসব বোমাবাজকে চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। আমরা এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই। আমরা ‘নষ্ট রাজনীতি’র কারণে আজ জিম্মি। হরতাল হচ্ছে। অবরোধ হচ্ছে। রেললাইন উপড়ে ফেলছে দুষ্কৃতকারীরা। আগুন লাগিয়ে হাজার কোটি টাকার তৈরি পোশাক কারখানা ধ্বংস করছে তারা। এটা তো কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। যে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের জন্য বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ উপার্জন করে, যে প্রতিষ্ঠান ১৫ হাজার কর্মীর চাকরির সংস্থান করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানটিতে আগুন দিয়ে ধ্বংস করার নাম আর যাই হোক রাজনীতি হতে পারে না। সংবিধানের ১৩নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, রাষ্ট্রের মালিকানা সাধারণ মানুষের ওপর অর্পিত। সেখানে গীতা সেনের মতো সাধারণ নাগরিকদেরই রাষ্ট্রে নিরাপত্তা নেই।
যারা পেট্রল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের ক’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে জানি না। কিন্তু সংবাদপত্রে দেখেছি ‘কমান্ডো স্টাইলে’ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহবাগের বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর মালিবাগে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন নেতার নামে মামলা হয়েছে। তারা সবাই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘হুকুমের আসামি’। এই নিবন্ধ যখন লিখছি, তখন একদিকে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে, অন্যদিকে ১৮ দলের ডাকা লাগাতার অবরোধ চলছে। কিন্তু এরপর কী? আবারও কি অবরোধ আসছে? একটা ভালো নির্বাচনের জন্য দরকার সব দলের অংশগ্রহণ, বিশেষ করে তাতে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ জরুরি। দরকার স্থিতিশীলতা। দরকার পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা। কিন্তু সংবাদপত্রে যখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ছবিগুলো দেখি, তখন দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। যেখানে বিরোধী দলের অংশগ্রহণটা জরুরি, সেখানে তাদের সবার নামেই মামলা! হয়তো আজ বা আগামীকাল আমরা দেখব আরেকটি ‘কমান্ডো স্টাইলে’ গ্রেফতারের কাহিনী! এতে করে কি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে? এটা সত্য বিরোধী দল এই অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। কিন্তু আমাকে কি বিশ্বাস করতে হবে, এসব নেতা বাসে পেট্রল বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন! পত্রিকায় দু-একজন দুষ্কৃতকারীর ছবিও ছাপা হয়েছে, যারা বাসে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি কেন? এসব দুষ্কৃতকারীর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এরা রাজনীতি করে না। এরা সন্ত্রাসী। যারা পেট্রল বোমা মেরে মানুষ মারে, সাধারণ মানুষদের পুড়িয়ে দেয়, অসহায় করে দেয় এক-একটি পরিবারকে, তারা তো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। এরা জনগণের শত্র“। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তবে এটাও সত্য, হুকুমের আসামি হিসেবে যদি বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়, তাহলে আস্থার জায়গাটা আর থাকে না।
অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে গেছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ আজ আর ঘর থেকে বেরোতে সাহস পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি কোনো ভালো কথা বলে না। এমন পরিস্থিতিতে গুজব যে কত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তার বড় প্রমাণ আমরা দেখলাম গাজীপুরে গত ২৯ নভেম্বর। পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের গুজব ছড়িয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আগুন দেয়া হয় গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্র“পের পোশাক কারখানাগুলোতে। আগুন লাগার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার সম্পদ। রোববার যুগান্তরের শেষের পাতায় ছাপা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড গ্র“পের মালিক প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেনের কান্নার ছবি। এ ঘটনায় আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল, আমাদের রাজনীতিকরা তা কতটুকু বুঝতে পেরেছেন জানি না। কিন্তু বিশ্ব সম্প্রদায় যখন বাংলাদেশকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তখন তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে একটা প্রশ্নের মাঝে ফেলে দেয় বৈকি!
এই ‘অসুস্থ রাজনীতি’ আমাদের একটি অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের নয়া পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। ৬ ডিসেম্বর এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো। এ নিয়ে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে এলেন। বোঝাই যায় বাংলাদেশের সহিংস ঘটনাবলীতে উদ্বিগ্ন বিশ্ব কমিউনিটি। এখন যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে, সরকার ও বিরোধী দল যখন ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন জাতিসংঘ কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেবে কিনা? কিংবা তা উভয় পক্ষের মাঝে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা? প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সংবিধান অনুমোদন করে কিনা? সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন গঠন ও এর দায়িত্ব সম্পর্কে (১১৮-১২৬নং ধারা) বলা হয়েছে। সংবিধানের আওতায় জাতিসংঘকে এ ধরনের সুযোগ দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দু’পক্ষ যদি রাজিও হয় তাহলে ‘সংবিধানের আওতায়’ কিভাবে জাতিসংঘকে অনুমতি দেয়া যায়, সে ব্যাপারে উচ্চ আদালতের মতামত নিতে হবে। তবে এটা সত্য, সংঘাত-গৃহযুদ্ধকবলিত দেশে জাতিসংঘ এ ধরনের ‘দায়িত্ব’ পালন করে থাকে। যেমন বলা যেতে পারে নেপাল, হাইতি, তিমুর, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, লাইবেরিয়া, কম্বোডিয়ার কথা। কম্বোডিয়ায় ১৯৯৩ সালে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, বাংলাদেশের সেনারা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের আওতায় সেই নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। নেপালের কথা বলা হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৪০নং রেজুলেশন অনুযায়ী সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি ‘সহায়তা গ্র“প’ গঠন করা হয়েছিল। এটা সত্য, জতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এসব দেশে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে ওই সব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে, রয়েছে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতাও। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা একটা রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করাতে পেরেছি। একটা সংবিধান আছে। সংবিধানের ধারা-উপধারা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, স্বাধীনতার পরপরই দেশ একটি সংবিধান পেয়েছে। কঙ্গো বা লাইবেরিয়ায় কোনো স্বীকৃত সংবিধান ছিল না। গৃহযুদ্ধ সেখানকার রাজনীতি নির্ধারণ করত। বাংলাদেশে এমনটি নেই। তবুও এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক যে, জাতিসংঘের বিশেষ দূত ‘সমঝোতা’র জন্য এ দেশে এসেছেন। আমরা বারবার বলে আসছি, সমঝোতা হতে হবে প্রধান দুই শক্তির মধ্যে- একদিকে সরকার, অন্যদিকে বিরোধী দল। এখানে উভয় পক্ষকে কিছুটা ‘ছাড়’ দিতে হবে। ‘ছাড়’ না দিলে সমঝোতা হবে না। সুস্থ রাজনীতির স্বার্থেই একটা সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। তবে ‘বিদেশীদের’ যত আমরা এড়াতে পারব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। এজন্য দরকার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার।
২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এখন পুনঃতফসিলের সুযোগ আর আছে বলেও মনে হয় না। যদিও সিইসি বলেছেন, সেই সুযোগ আছে। কিন্তু আরপিও নিয়ে যাদের কিছুটা ধারণা আছে, তারা জানেন নতুন করে তফসিল ঘোষণার আর সুযোগ নেই। ২০০৭ সালে নবম জাতীয় সংসদের জন্য প্রস্তাবিত তফসিল বাতিল করা হয়েছিল বটে। কিন্তু তা করা হয়েছিল ‘জেনারেল ক্লজ অ্যাক্টে’র ধারাবলে। এখন এই মুহূর্তে এটা করা সম্ভব কিনা, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে স্পষ্টতই একটা সমঝোতা দরকার। এক্ষেত্রে সংবিধান কোনো বাধা হবে না বলেও আমি মনে করি। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। সমঝোতার ক্ষেত্রে, ঐকমত্যের ক্ষেত্রে সংবিধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। সংবিধানের ১১তম সংশোধনী (বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্বপদে ফিরে যাওয়া) এর বড় প্রমাণ।
আজ সহিংসতা বন্ধে একটি সমঝোতা বড় প্রয়োজন। সরকার একটি নির্বাচন করে ফেলতে পারবে, এটা সত্য। কিন্তু ওই নির্বাচনই সব কথা নয়। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা না থাকায় জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এসব বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। সরকার এ জাতির অভিভাবক। আমরা চাই না আরেকজন গীতা সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করুক। এ ধরনের বিরূপ মন্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকেই উৎসাহ জোগাবে। সহিংসতা বন্ধ হোক। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। একজন গীতা সরকারের আর্তি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনই।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টই শেষ ভরসা
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্যালুট আপনাকে কিংবদন্তি
![]() |
| দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা |
বিদায় ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর খবরে আহসান হাবিব তাঁর অনুভূতি জানিয়েছেন: স্যালুট আপনাকে হে কিংবদন্তি। আপনার মতো নেতার কিছুটা ছিটেফোঁটা আমাদের নেতারা পেলে আমরা হয়তো খুন, ধ্বংস ও স্বৈরাচারী অবস্থা থেকে মুক্তি পেতাম। সালাম: এসব নেতা যুগে যুগে একবারই আসেন। এঁরা নিজের জন্য আসেন না, নিজেকে বিলিয়ে দিতে আসেন। আমাদের নেতাদের মতো ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ি করেন না। শুভ বিদায় নেলসন ম্যান্ডেলা। হূদয়: স্যালুট অবিসংবাদিত নেতা। আপনার মতো নেতা আমাদের খুব প্রয়োজন। বিশ্ব এমন এক নেতাকে হারাল, যাঁর অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়। সাজেদ সোহেল: সব সময় বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকবে এই মহান মানুষটির প্রতি। কালো মানুষদের কণ্ঠস্বর, নির্যাতিত মানুষের প্রতিচ্ছবি এই মাদিবা। বিশ্ব মুক্ত হোক বর্ণপ্রথা থেকে। শান্তা: কিছু মানুষ আমাদের জন্য পথ তৈরি করে দেন, আর আমরা সে পথে চলি। ম্যান্ডেলা মানবমুক্তির পথের অন্যতম স্রষ্টা। বিনম্র শ্রদ্ধা থাকল এই মহান প্রাণের জন্য। আবুল হাসনাত: এ পৃথিবী থেকে চলে গেলেন আরেক মহামানব। আমাদের এ দুর্ভাগা দেশে যদি তাঁর মতো একজন রাজনীতিবিদ থাকত, তবে দেশবাসীকে জ্বলেপুড়ে মরতে হতো না। কবে আমাদের দেশে এমন তর্কাতীত নেতারা আসবেন, যাঁকে নিয়ে আমরা গর্ব করব?
এবার তফসিল ১০ দিন পেছানোর শর্ত এরশাদের
কয়েক দিন ধরে নির্বাচন বর্জন ও ‘সর্বদলীয়’ সরকার থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অবশেষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নতুন শর্ত দিয়েছেন। এ খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাচ্চু লিখেছেন: সময়ের বিবর্তনে ও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টি এখন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতার লড়াইয়ে তুরুপের তাসে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই রাজনৈতিক দলই এরশাদকে নিয়ে ভোটের হিসাবনিকাশ কষে ব্যস্ত সময় পার করছে। দুই দলের আদর্শহীন রাজনীতির কারণে এরশাদ আজ এমন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসতে পেরেছেন। বিশ্বে আর কোনো স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। শফিক: এইচ এম এরশাদ যত কথা কম বলবেন, তত ভালো। জামিউল হাসান: এরশাদ হলো বাংলাদেশে নষ্ট রাজনীতির জনক। মোহসিন চৌধুরী: এরশাদের নাটক কখনো শেষ হবে না? তবে সে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চের নায়ক থেকে অচিরে খলনায়কে পরিণত হবে। রওনক: আওয়ামী লীগ এরশাদকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য যতখানি উদগ্রীব, ততটা যদি বিএনপির ক্ষেত্রে দেখাত, তবে সবাই স্বাগত জানাত এবং খুশি হতো।
এরশাদ ‘ছুটে গেলে’ জরুরি অবস্থা?
বিশেষ প্রতিবেদনে সাংবাদিক শরিফুজ্জামান দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। এতে মতামত জানিয়ে আকাশ ঘোষ লিখেছেন: নির্বিচারে মানুষ হত্যা বন্ধে জরুরি অবস্থা জারিই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। এফ রহমান: ক্ষমতা ধরে রাখতে আওয়ামী সরকারকে যদি সেনাবাহিনীর কাঁধে চাপতে হয়, তবে দলটি কীভাবে পাকিস্তানি সেনাশাসকদের ক্ষমতা দখলের নির্লজ্জ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করবে? মীর মোহাম্মদ মোফাজ্জাল হোসেন: সেনা মোতায়েন করতে যত দেরি হবে, ভাঙচুর ও হত্যা তত বাড়বে। একবার ঠিকমতো পিটুনি দিতে পারলে বিএনপি-জামায়াত কোথায় পালাবে, খুঁজে পাওয়া যাবে না। সরকার কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে না বলে সবাই দেশটিকে মগের মুল্লুক বলে মনে করছে। জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। যারা জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। মোহাম্মদ নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর: এরশাদ ছুটে না গেলেও লাভ হবে না। কারণ, সরকারের নির্বাচনী ফন্দি জনগণ বুঝে গেছে। ভারত থেকে লোক নিয়ে এসে তদবির করানোর কাজটিও জনগণ ভালোভাবে নেয়নি।
শনিবার থেকে আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের নতুন দফা অবরোধের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোহাম্মদ শামিম হোসেন লিখেছেন: নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করাটাই একমাত্র দাবি হতে পারে না। পাঁচ বছর পর পর তথাকথিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা একদল দুর্বৃত্তের হাত থেকে আরেক দল দুর্বৃত্তের কাছে হস্তান্তরের একটা প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু তা ছাড়াও নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের বা সমস্যার মীমাংসা হওয়া দরকার। যদি তা না হয়, তবে মানুষের ক্রোধ চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেবে। শাহেদ মাহবুব: দেশটা আপনাদের (খালেদা-হাসিনার) পৈতৃক সম্পত্তি নয় যে যা খুশি করবেন। আমাদের রুটিরুজি হরণের অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। মো. শিহাব উদ্দিন: যাদের প্রতি আপনাদের (১৮-দল) বিদ্বেষ, পারলে তাদের মারেন। আমাদের মারেন কেন? সালোক: এত কথা না বাড়িয়ে সরাসরি বলুন, আপনাদের (১৮-দল) দাবি না মানলে আরও মানুষকে আপনারা মারবেন। সারা জীবন তো বলে গেলেন জনগণ অমুক চায়, তমুক চায়। আসলে জনগণ কী চায়, তা আপনাদের জানা নেই। সরকারকে ভয় দেখাতে সাধারণ মানুষ হত্যা না করে মানুষকে ভালোবাসুন। মো. সাজির আলী: এভাবে অবরোধ-হরতাল দিতে থাকলে আমাদের জনগণের কী হবে, দেশটার কী হবে, কেউ ভেবেছেন একবার?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেনারেলের মন by জাহিদ হায়দার
জাহিদ হায়দার: কবি, উন্নয়নকর্মী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 10
(8)
- সংঘাতের শেষে কি অপেক্ষা করছে? by সাজেদুল হক
- দুচোখ ভরে ম্যান্ডেলাকে দেখেছি by রফিকুল ইসলাম রতন
- সব পক্ষকেই জয়ী হতে হবে by ড. মাহবুব উল্লাহ্
- মানবাধিকার দিবসের প্রত্যাশা by কাজী ফারুক আহমেদ
- অসুস্থ রাজনীতি ও জাতিসংঘের উদ্যোগ by তারেক শামসুর ...
- রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টই শেষ ভরসা
- স্যালুট আপনাকে কিংবদন্তি
- জেনারেলের মন by জাহিদ হায়দার
-
▼
Dec 10
(8)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

