Sunday, December 10, 2017

সেই আরবও নেই, সেই জেরুজালেমও নেই by মাহমুদ ফেরদৌস

দশকের পর দশক জেরুজালেমকে রাজধানী সমেত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাকে হিম্মত ছিল। পুরো আরব বিশ্বকে একত্রিত করতে পারে, এমন বিরল কিছু ইস্যুর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। আরব বিশ্বের একনায়ক থেকে বাদশাহ - সবাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক, তা মন থেকে চাইতেন। মসজিদে মসজিদে মোনাজাত ধরতেন ইমামরা। জিহাদী থেকে শুরু করে বিক্ষোভকারী, অনেকের প্রাণ গেছে ফিলিস্তিনের জন্য। টিভি স্টেশন, মহাসড়ক থেকে শুরু করে মানুষের নামও রাখা হয়েছে আল কুদস।
আল কুদস হলো জেরুজালেম শহরের আরবি নাম।
বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই আকাক্সক্ষায় যেন কুঠারাঘাত করেছেন। পবিত্র শহরটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইহুদী ও আরবদের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের বিরোধ, তাতে ইসরাইলকে বিরাট এক জয় পাইয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
আরব ও মুসলিম নেতারা ট্রাম্পের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন বটে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে ভেবে অবাক হয়েছেন, এই কয়েক বছরে কি এমন পাল্টে গেল? এত বড় পদক্ষেপের পরও আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া এত মৃদু কেন? অনেকটা খেদ নিয়েই যেন লেবাননের ব্লগার মুস্তাফা হামোয়ি টুইটারে লিখলেন, ‘একদিন নিজ দেশে ফিরবে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা’ স্লোগানের মতোই ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’- এই বাক্যটিও করুণ ভাগ্য বরণ করলো। এ যেন অনেকটা এমন যে, ‘আশা করি এটি হবে, কিন্তু বাস্তবে কখনই হবে না।’
এখনও ফিলিস্তিনি আন্দোলনের পক্ষে আরব নেতারা কথা বলেন বটে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় নিচে পড়ে গেছেন। আরব বসন্ত, ইরাক-সিরিয়া-ইয়েমেনের যুদ্ধ, ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকি এবং সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াইয়ের তলে চাপা পড়ে গেছেন ফিলিস্তিনিরা। সৌদি আরবের মতো পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশি চিন্তিত। ফলে, ইসরাইল ও এই আরব দেশগুলোর স্বার্থ যেন ক্রমেই অভিন্ন হয়ে উঠছে।
ফিলিস্তিনি আন্দোলনের পক্ষে সমর্থনের তেজস্বী ঘোষণাকে জনসমর্থন বৃদ্ধিতে সবসময়ই ব্যবহার করে এসেছেন আরব নেতারা। ঘরোয়া সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরাতেও ফিলিস্তিন নিয়ে বাগাড়ম্বর ছোটাতেন তারা। আরব জনগণের মধ্যে ফিলিস্তিনকে ঘিরে আবেদন সবসময়ই ছিল খাঁটি। কিন্তু তাদের নেতারা প্রায়ই এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করেছেন নিজেদের স্বার্থে।
ফিলিস্তিনি নেতারাও বোঝেন যে, তাদের আরব ভ্রাতারা যেই সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে থাকেন, সেসব খুব কম সময়ই বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরাইল, যা কখনই বিশ্ব সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি। যুদ্ধের পর থেকে ক্রমেই পূর্ব জেরুজালেমে (যেখানে পবিত্র স্থাপনা অবস্থিত) নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করেছে ইসরাইল। কিন্তু শুধু মৌখিক প্রতিবাদ জানানো ছাড়া তেমন কিছুই করেনি আরব বিশ্ব। কারণ, আরব দুনিয়ার অগ্রাধিকারের তালিকা পাল্টে গেছে।
উদাহরণস্বরূপ, একসময় মিশর ছিল ফিলিস্তিনের নির্ভরযোগ্য সমর্থক। নব্বইয়ের দশক, এমনকি এ শতাব্দীর শুরুর দিকেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিয়মিতই মিছিল হতো দেশটিতে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নিষ্ঠুর নির্যাতনমূলক শাসনের কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। আরব বসন্ত পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সেখানকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এ কারণেও প্রতিবাদে নামতে আগ্রহী নয় বেশিরভাগ জনগণ।
প্রখ্যাত সাংবাদিক হোসাম বাগাত ব্যাখ্যার সুরে বলেন, ‘মানুষ এখনও ফিলিস্তিনি ইস্যুর কথা ভাবে। কিন্তু এক সময়কার প্রবাদতুল্য উত্তাল আরব রাজপথ এখন শান্ত হয়ে গেছে।’  ২০১৩ সালে সিসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের সমালোচকরা অপহৃত হয়েছেন। সেদিকেই ইঙ্গিত করছিলেন বাগাত। আরব বিশ্বের ক্ষমতার ভারকেন্দ্র ঐতিহ্যগতভাবে ছিল দামেস্ক, কায়রো আর বাগদাদ। কিন্তু তিনটি রাজধানীই এখন দুর্বল। এই সুযোগে নিজেকে জাহির করার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি বাদশাহ ও রাজপরিবারের সদস্যরাও একসময় নিয়মিত ফিলিস্তিনের কথা বলতেন। কিন্তু দেশটির বর্তমান অলিখিত শাসক উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (৩২) এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খুব কমই। এ বছর সফররত অনেক বিদেশী নেতা ও কূটনীতিককে সালমান বলেছেন যে, ইরানকে মোকাবিলা ও দেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করার তুলনায়, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেন না।
আরব বিশ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দুই অনুরাগী হলেন মিশরের সিসি ও সৌদি বাদশাহ সালমান। মে মাসে রিয়াদে এক সম্মেলনে তারা তিনজন একত্র হন। একটি অক্ষিগোলকের ওপর তাদের হাত রাখার সেই বিখ্যাত ছবিটি ছিল তাদের মধ্যকার মৈত্রীর বহিঃপ্রকাশ, যদিও এ নিয়ে ইন্টারনেটে হাসাহাসি হয়েছিল প্রচুর।
সেপ্টেম্বরে, প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিসি। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন কারণে শক্তিশালী হচ্ছে। ওই সাক্ষাতের পর তা যেন আরও মজবুত হয়। অপরদিকে গোপনে ইসরাইলের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির পরিমাণ সৌদি আরব আরও বৃদ্ধি করছে বলে ভাবা হচ্ছে।
কিন্তু জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত তার এই দুই মিত্রকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। তাদেরকে অন্তত মৌখিকভাবে হলেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে। বাদশাহ সালমান বলেছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ খুবই বিপজ্জনক, যেটি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের আবেগকে নাড়া দিতে পারে। সিসির কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে যে, তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উভয়েই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে আরব ও মুসলিমদের মধ্যে জেরুজালেমের বিশেষ স্থান থাকাকে অগ্রাহ্য করা হলো। মিশরের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত আল আহরাম ওয়েবসাইটের শিরোনাম ছিল: ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও, জেরুজালেমই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।’
আমেরিকার আরেক মিত্র জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর বিপজ্জনক পরিণতি নেমে আসবে। আরব বিশ্বের বাইরে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান বলেছেন, জেরুজালেম ‘মুসলিমদের জন্য রেড লাইন।’ তিনি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের হুমকি দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে বৈশ্বিক দম্ভের নতুন দুঃসাহস দেখা গেলো এই সিদ্ধান্তে।’
এটি এখনও সম্ভব যে, ট্রাম্পের ওই ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিনি ইস্যু ফের নাড়া দেবে আরব বিশ্বকে। কিন্তু বুধবার নাগাদ যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তার মধ্যে ক্ষোভ ও হুমকি যতটা ছিল, তততাই ছিল হতাশা। ব্যপক সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা এখনও আছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকারই দেখা গেছে বেশি।
হ্যাঁ, ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপ অনেকটাই প্রতীকী। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ যে কতটা দূরবর্তী, সেটিই যেন দেখিয়ে দেওয়া হলো। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ভেবে আসছে। তারা জানেন যে, টেকসই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের আশা ক্রমেই মিইয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ায় ফিলিস্তিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশাটি বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশাটি পূরণ হবে, এমন সম্ভাবনাও ছিল। সেটি হলো পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে পাওয়া। কিন্তু জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যেন ওই আশাকেও স্তব্ধ করে দিলেন। এ যেন জেরুজালেমের ওপর আরব ও মুসলিম অধিকারকে অস্বীকার করার শামিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বার্নেট আর. রুবিন বলেন, ‘ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিমদের কাছে ঠিক তেমনই লাগছে, যেমনটা জেরুজালেমের ওপর ইহুদীদের দাবি অস্বীকার করলে ইহুদীদের লেগে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে অনেকের কাছেই মনে হবে, সত্যি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। মুসলিম ও আরব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি দেশটির কোনো সম্মানবোধ নেই। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
মিশরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ভাবমূর্তি ও স্বার্থ দারুণ ক্ষতিগ্রস্থ হলো।’ ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি যেন চরমপন্থীদের হিসাব অনুযায়ীই খেলছেন। চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের হাতে তিনি গোলা তুলে দিচ্ছেন।’
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে লাভবান হতে পারে ইরান। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষালম্বন করে প্রতিরোধের যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের আবেদন হারায় দেশটি। কিন্তু সেই আবেদন ফের ফিরে পেতে পারে ইরান। দেশটির বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সবচেয়ে অভিজাত বাহিনীর নেতৃত্বে আছেন বিখ্যাত (কিংবা কুখ্যাত) ইরানি জেনারেল কাশিম সোলেমানি। এই বাহিনীর নাম কুদস ফোর্স। জেরুজালেম তথা আল কুদস থেকে এই নামকরণ করা হয়।
বার্নেট আর রুবিন বলেন, ‘আমরা যেন ইরানিদের হাতে ফিলিস্তিনি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পদ তুলে দিলাম।’ জেরুজালেম নিয়ে এখন যে আলোচনা, তার ফলে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে চরমপন্থী জঙ্গিরা। মিশরে ইসলামিক স্টেটের শক্তিশালী শাখা গোষ্ঠী আনসার বেইত আল-মাকদিসের নাম অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘জেরুজালেমের সমর্থকদল।’
কিন্তু আরব বিশ্বের অনেকেই মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে তেমন কিছুই হবে না। তাদের কণ্ঠে হেরে যাওয়ার সুর। লিবিয়ার মিসরাতার বাসিন্দা নাদিয়া মোহাম্মেদ টুইটারে লিখেছেন, ‘আমরা কিছু লোক দেখানো প্রতিবাদ দেখবো। কিছু দেশ সমালোচনা করবে। গণমাধ্যমও কয়েকদিন চেঁচামেচি করবে। কিন্তু এরপর সব আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
(নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে)

ব্রেক্সিট: যেসব ইস্যুতে সমঝোতা হলো

টানা বৈঠক শেষে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ ক্লাউডি জাঙ্কার বেক্সিট সমঝোথার পর বেশ কিছু চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন। একে প্রথম পর্যায়ের বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও বৃটেনের সমঝোতাকারীদের তরফ থেকে একটি যৌথ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্রেক্সিট ইস্যুতে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত, ব্রেক্সিট ইস্যুতে ডিভোর্স বিল, নাগরিকদের অধিকার ও ইউরোপীয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের বিষয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসব করতে গিয়ে বৃটিশ সরকার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দিচ্ছে না বলে এক জরিপে মত পাওয়া গেছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্কাই নিউজ ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, ব্রেক্সিট আলোচনায় আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে ‘হার্ড বর্ডার’ বা সীমান্ত কড়াকড়ি অবস্থা থেকে সরে এসেছে বৃটেন। তবে সার্বিক বাণিজ্য চুক্তির অনুপস্থিতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে বৃটেন। এর সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি যুক্ক। বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও বৃটেনের বাকি অংশের মধ্যে কোনো নতুন নিয়মকানুনের বাধা থাকবে না। ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ড বিনা বাধায় বৃটেনের আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের সঙ্গে অব্যাহত ব্যবসা করতে পারবে। তবে এসব কাজ কিভাবে হবে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায় নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে,  যে ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে তাতে বৃটেনের বিচ্ছেদ বিষয়ক বিলের অঙ্ক কত তা পরিষ্কার নয়। তবে এর আগে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, এই বিল বৃটিশ করদাতাদের জন্য সুস্ঠু হবে এমন আর্থিক বোঝাপড়া চালানো হবে। ফলে এমন বিলের অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৩৫০০ কোটি থেকে ৩৯০০ কোটি পাউন্ড। সমঝোতা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ও ২০২০ সালে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বাজেটে বৃটেন অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবশ্য যদি তখন পর্যন্ত তারা ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে থাকে। এই অর্থ পরিশোধ করা হবে ইউরোতে। পরবর্তী ধাপে এ বিষয়ে আরো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বেরিয়ে গেলে বৃটেনে অবস্থানরত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রায় ৩০ লাখ নাগরিকের অধিকার কি হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে এসব নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তেরেসা মে। বলা হয়েছে, আগের মতোই তারা সেখানে অবস্থান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বৃটেন বেরিয়ে যাওয়ার আট বছর পরে পর্যন্ত বৃটেনে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নাগরিকদের অধিকার তদারক করতে পারবে ইউরোপীয়ান কোর্ট অব জাস্টিস। ওদিকে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের পক্ষে জরিপ পরিচালনা করেছে বিএমজি রিসার্চ। এতে দেখা গেছে, শতকরা ৬০ ভাগ বৃটিশ  মনে করেন, ব্রেক্সিট নিয়ে অতিমাত্রায় মনোযোগী হওয়ার কারণে অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইস্যুতে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য এবং গৃহায়ন খাতের অস্থিরতা দূর করতে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ব্রেক্সিটের পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক জনবল দরকার হবে। এজন্যে বেশ বড়সড় নিয়োগ প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের প্রভাব প্রকৃতপক্ষে কেমন হতে পারে এ স¤পর্কে কোন পূর্ণ মূল্যায়ন এখনো করা হয় নি। গত সপ্তাহে ব্রেক্সিট আলোচনায় জেরবার অবস্থার মধ্যে পরিচালিত ওই জরীপে দেখা গেছে কনজারভেটিভ দলের চেয়ে জনপ্রিয়তায় ৩ শতাংশ এগিয়ে আছে লেবার পার্টি। বিরোধীদলের নেতা জেরেমি করবিনের চেয়ে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। গত সপ্তাহ জুড়ে বৃটেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো ব্রেক্সিট আলোচনা। এতে প্রচ- চাপে ছিলেন মে।

জেরুজালেম: সাবেক প্রায় সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দ্বিমত

ইসরাইলে নিযুক্ত আমেরিকার সাবেক ১১ জন রাষ্ট্রদূতের ৯ জনই বলছেন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল, বিপজ্জনক।  কারও কারও মতে তা ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ। বুধবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রেখেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূতরা। কোনো কোনো রাষ্ট্রদূত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন এই যুক্তিতে যে, তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে আমেরিকার দূতাবাস সরিয়ে নেওয়াটা হবে বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু তাদের মধ্যেও বেশিরভাগ বলছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। তিনি ইসরাইলকে একটি বড় কূটনৈতিক ছাড় উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে দেশটির কাছ থেকে তেমন ছাড় আদায় করে নিতে পারেন নি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।
১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন ওগডেন আর. রেইড। তিনিই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বার্থ্যহীনভাবে একমত পোষণকারী দু’জনের একজন। আইসেনহাওয়ার প্রশাসন নিজেদের বিদায়বেলায় এই সাবেক কংগ্রেসম্যানকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছিল। তার মতে, ‘আমি মনে করি, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এর চেয়ে বেশি কিছু আমার বলার নেই।’ আরেকজন ব্যতিক্রম ছিলেন এডওয়ার্ড এস. ওয়াকার জুনিয়র। তিনি ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত ছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি আসলে সময়ের খেলা। বাস্তবতাকে আমরা এতদিন স্বীকৃতি দিতে পারি নি। আমরা সবাই জানি যে, ইসরাইলের একটি রাজধানী আছে, যার নাম জেরুজালেম। মধ্যপ্রাচ্যে আমার ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে, কেউই এ নিয়ে কখনও প্রশ্ন তোলে নি।’
কিন্তু, এটিও তো সত্য যে, ১৯৪৮ সাল থেকে অনুসৃত মার্কিন নীতি হলো, জেরুজালেম বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা নির্ধারিত হবে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে। এই নীতি তো পাল্টালেন ট্রাম্প। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিন্দাও থামছে না। এ ব্যাপারে ওয়াকার বলেন, ‘এখানে সত্যিকার প্রশ্ন হলো, ইসরাইল রাষ্ট্র ও হবু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমান্তরেখা কীভাবে টানা হবে, তা নিয়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছেন, তাতে কিন্তু এই ইস্যুতে আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায় নি।’
কিন্তু অবশিষ্ট রাষ্ট্রদূতদের কেউই এ কথা মানতে রাজি নন। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত ছিলেন ড্যানিয়েল সি. কার্টজার। তার ভাষ্য, ‘ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের অনেক নেতিবাচক দিক আছে। কূটনৈতিকভাবে তো বটে, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াতেও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কোনো ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) আন্তর্জাতিকভাবে ফের একঘরে হয়ে গেলাম, শুধু ইসরাইল সরকার ছাড়া। প্রেসিডেন্ট বলছেন, তিনি শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করতে চান। কিন্তু এই ভূমিকা পালনের সুযোগ আমরা নিজেরাই রুদ্ধ করছি।’ ড্যানিয়েল সি. কার্টজারের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেই বেশিরভাগ রাষ্ট্রদূত সহমত পোষণ করেছেন।
কিন্তু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অনেকের যুক্তি হলো, দ্বি-রাষ্ট্র কেন্দ্রীক শান্তি প্রক্রিয়া তো নিস্তেজ হয়ে গেছে। একে নাড়ানোর দরকার ছিল। প্রেসিডেন্ট ঠিক তা-ই করেছেন। এ ব্যাপারে কার্টজার বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া মৃতপ্রায়, তা সত্য। কিন্তু এটিকে নাড়া দিতে হলে দরকার ছিল আরও নাটকীয় ভূমিকা। শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনর্জ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একপেশে হওয়ার দরকার ছিল না। কেউ আপনাকে বলেনি, এক পক্ষের অবস্থান মেনে নিন, অন্য পক্ষকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিন।’
২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বুশের আমলে রাষ্ট্রদূত ছিলেন রিচার্ড এইচ. জোন্স। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তকে হামাস ও জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট সহিংসতা উস্কে দিতে ব্যবহার করবে। তিনি অনুমান করেন যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরাইলকে বয়কটের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করবে। তার মতে, ‘এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। এর ফলে ইসরাইল ও ওই অঞ্চলে অনেকের প্রাণ যাবে। বিশেষ করে, ইসরাইলি সেটেলাররা একে ব্যবহার করে নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধি করবে।’
কিছু রাষ্ট্রদূতের অবশ্য পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নিতে আপত্তি নেই। কিন্তু তারা বলেছেন, এটিও হওয়া উচিত বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে, যাতে করে ইসরাইলিরা তাদের বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া স্থগিত বা শ্লথ করে। পাশাপাশি, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকেও স্বীকৃতি দিতে হবে। বিল ক্লিনটনের আমলে দুই বার ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন মার্টিন এস. ইন্ডিক। এ বছর নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক উপ-সম্পাদকীয়তে তিনিও ঠিক এই প্রস্তাবই রেখেছিলেন। সেটি অবশ্য ট্রাম্পের শপথ গ্রহণেরও আগে। এখন তিনি বলছেন, ‘এ নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, প্রেসিডেন্ট আমার পরামর্শ আমলে নেন নি। আমি বলেছিলেন, জেরুজালেম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলুক। তবে তিনি একটা কাজ করেছেন যে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, তিনি কিন্তু শহরটির সীমানা নির্ধারণ করে দেন নি। কিন্তু উভয় পক্ষই নিজ নিজ স্বার্থে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি চেপে যাবে।’
১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত ছিলেন উইলিয়াম আন্দ্রেজ ব্রাউন। পরে ক্লিনটন জমানায় চীফ অব মিশন হিসেবে ফের যান ইসরাইলে। তিনি বলেন, একবার তিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরানো হোক। তিনি বলেন, ‘তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল মাদ্রিদ শান্তি আলোচনায় ইসরাইলকে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া।’ ১৯৯১ সালের মাদ্রিদ আলোচনা কিছুটা বেগ পাওয়ার পরই বিখ্যাত অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার জন্ম হয়। আন্দ্রেজ ব্রাউন বলেন, বুশ প্রশাসনে তার ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন অনেকেই। তাই তা আর আমলে নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বুশ যদি শেষমেশ তার পরামর্শ আমলে নিতেনও, তবে তা করা হতো খুবই সতর্কতার সঙ্গে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।’ ব্রাউন মনে করেন, ট্রাম্প যেভাবে কাজটা করেছেন, সেটি ছিল খুবই দৃষ্টিকটু।
উইলিয়াম কাল্ডওয়েল হ্যারপ রাষ্ট্রদূত ছিলেন ১৯৯২ থেকে পরের বছর পর্যন্ত। তার মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ছিল ‘কিছুটা কা-জ্ঞানহীন কাজ, অনেকটা যেন মর্ষকামী পদক্ষেপ।’ হ্যারপ আরও বলেন, ‘ট্রাম্প বারবার ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি আনার ‘গ্রেট ডিলে’র কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই নিজের সম্ভাবনাকে খর্ব করেছেন।’ তার মতে, ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলতে পারতেন তিনি দূতাবাস সরাবেন পশ্চিম জেরুজালেমে। হ্যারপ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষকে আশা দিতে হবে তো। বেশিদিন লাগবে না, আমরা দেখবো ফিলিস্তিনিরা তাদের রাষ্ট্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে আরও উঠেপড়ে লেগেছে। ইন্তিফাদার মতো কিছু একটা আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। রক্ত আরও ঝরবে।’
হ্যারপের পরের বছরজুড়ে ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন এডওয়ার্ড পি. জেরেজিয়ান। তিনি অবশ্য এখনও অসলো শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদী। তবে জেরেজিয়ানও মনে করেন ট্রাম্প ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জেরেজিয়ান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্রও ছিলেন। তার মতে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে, আবার জেরুজালেমের সীমানা নির্দিষ্ট না করে বলার মধ্যে স্ব-বিরোধীতা রয়েছে। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অবস্থান স্পষ্ট করার বদলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বেশি।
প্রেসিডেন্ট বুশ ও বারাক ওবামা - উভয়ের আমলে রাষ্ট্রদূত ছিলেন জেমস বি. কানিংহ্যাম। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বেশ গুরুতর একটি ভুল। তিনি বলেন, দূতাবাস সরানোর পদক্ষেপ যৌক্তিক মনে হতো যদি আপনি তা নিজেকে ব্যতিক্রম প্রমাণের জন্য না করে, কোনো কৌশলের অংশ হিসেবে করতেন। তার মতে, এটি ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র কাউকে অধিকতর নিরাপদ করছে না। মধ্যপ্রাচ্যও স্থিতিশীল হচ্ছে না।
ইসরাইলে নিযুক্ত সর্বশেষ সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল বি. শ্যাপিরো প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী। একে ওভাবে স্বীকৃতি দেওয়াটা যথাযথ। বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া পর্যন্ত ঠিক আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখানে যে সুযোগ হেলায় হারানো হয়েছে তা হলো এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর কৌশলগত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নেওয়া হয়নি। সেটি হলো দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান। সেক্ষেত্রে প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আরও শলাপরামর্শ করার দরকার পড়তো। এছাড়া ফিলিস্তিনিরা যে জেরুজালেমকে চান, তার কী হবে, সেটিও সুনির্দিষ্ট করে বলা হতো।’ তিনি বলেন, কোনো কৌশলকে মাথায় না রেখে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ট্রাম্পের মেয়ের জামাই ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত জ্যাসন গ্রিনব্লাট যেই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন, তা বাধাগ্রস্থ হবে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে কারণ কী থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে বেশিরভাগ সাবেক রাষ্ট্রদূতই অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে কেউ কেউ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের কট্টর সমর্থক ও ট্রাম্পের ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান সমর্থকদের তুষ্ট করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন।
তবে রিগ্যান প্রশাসনের আমলে ইসরাইলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা থমাস আর. পিকারিং বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুতর ভুল। প্রেসিডেন্ট সম্ভবত নিজের ‘ইগো’র কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথবা, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সম্পর্ক নিয়ে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার যে তদন্ত চালাচ্ছেন, তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র সরাতেই তিনি এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।
ওয়াগ দ্য ডগ ছবির সঙ্গে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে তুলনা করেন পিকারিং। ছবিটিতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের এক যৌন কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে রীতিমত যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলেন।

জেরুজালেম ইস্যুতে একঘরে যুক্তরাষ্ট্র!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা এবং তেলআভিভ থেকে দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক ডেকেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠক চলাকালীন ১৫ সদস্যের পরিষদে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি একাই দেশের প্রেসিডেন্টের হয়ে সরব হলেন। বাকি কোন দেশই সমর্থন জানাল না যুক্তরাষ্ট্রকে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফ্রান্স, ব্রিটেনও কড়া সমালোচনা করল ট্রাম্পের। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও সুইডেন একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে আমরা মানি না। এটি নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব-বিরোধী এবং বিশ্বের ওই অংশের শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই অস্বস্তিকর।
তাদের বক্তব্য, জেরুজালেমের পরিচয় ঠিক কী হবে, সেটা ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে স্থির করা উচিত। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশের অবস্থান বরাবরই এক— জেরুজালেমকে ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইন, দুই দেশেরই রাজধানী ঘোষণা করা হোক। সেটা না করলে আখেরে জেরুজালেমের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। দিন দুয়েক আগে ইইউ-এর বিদেশনীতি বিষয়ক দফতরের প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনিও এ কথা জানিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির বক্তব্য, ওই দু’দেশের সীমান্ত নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।
আর জেরুজালেমের সার্বভৌমত্ব যে ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনকে আলোচনার মাধ্যমে বজায় রাখতে হবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। হ্যালির কথায়, আমরা জানতাম, প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু আমাদের এই সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভয়ে পিছিয়ে গিয়ে তো কোন লাভ নেই। বাস্তবে যে পরিস্থিতি, আমাদের সিদ্ধান্তে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
কিন্তু হ্যালির কোন কথাতেই কোন কাজ হয়নি। এই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের বৈঠকে এভাবে একঘরে হয়ে যেতে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রকে। আনন্দবাজার।

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে প্রস্তাব জাতিসংঘের

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সব রকম যোগাযোগ চালুর প্রস্তাব জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া সফরকালে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জেফরি ফেল্টম্যান। জবাবে উত্তর কোরিয়াও জাতিসংঘের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনে সম্মত হয়েছে।
ফেল্টম্যান বলেন, যুদ্ধ এড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ চালু করার কোনো বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সবাই এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
গত ৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া চারদিনের এ সফরে ফেল্টম্যান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী রি ইয়ংসহ উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক করেন। জানা গেছে, সফর শেষে ফেল্টম্যান চীনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিরোধ চলছে।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার কৌণিক দূরত্বে উড়ানো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের আগুন

ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে মুসলিম বিশ্ব। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ভারত, ইরান, পাকিস্তান সর্বত্র যেন আগুন জ্বলছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা জানিয়েছে বৃটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও সুইডেন। জাতিসংঘের কাছে এসব দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন  শুক্রবার। তাতে তারা জানিয়েছেন, ‘ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত নই। যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তারও বিরোধী।
কারণ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে যে রেজুলেশন নিয়েছে এটা তা অনুসরণ করে করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক নয়। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন অনুযায়ী আমরা পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি ভূমি হিসেবে বিবেচনা করি। তা দখল করে নেয়া হয়েছে’। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ায় শুক্রবার সারা মুসলিম জাহান ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এদিন ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে কমপক্ষে দু’জনকে। আহত হয়েছে অনেক মানুষ। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। এর ফলে গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম যেন যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ফিলিস্তিনি মুসলিম ও ইসরাইলের সেনারা। এদিনটি ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস ক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান জানায় মুসলিমদের প্রতি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেছেন, প্রথমে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি। এরপরে নিহত হয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী মাহের আতাল্লাহ। প্রথম জন নিহত হন গাজায়। দ্বিতীয় জন গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে। শুক্রবার সারাবিশ্বের মুসলিমরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায়। অনেক স্থানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায়। কোথাও পোড়ানো হয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলের যুদ্ধবিমান থেকে গাজা উপত্যকায় হামলা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। ওদিকে জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদের বাইরে বিপুল সংখ্যক মুসলিম জড়ো হন। তাদের ওপর ইসরাইলি সেনারা কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ওদিকে পশ্চিম তীর ও গাজায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৬৭ জন। এর মধ্যে ৬১ জনের গায়ে গুলি লেগেছে। ২০০ জন আহত হয়েছেন রাবার বুলেটে। ৪৭৯ জন আহত হয়েছেন কাঁদানে গ্যাসে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৭ জন। এ তথ্য দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। আগে থেকেই হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে ইসরাইল। রামাল্লাহর পশ্চিম তীরে অসংখ্য কাঁদানে গ্যাস সহ একটি জিপ মোতায়েন করে তারা। সেখান থেকে সেনারা মুহুর্মূহু কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকে। এ সময় ওই এলাকা কাঁদানে গ্যাসে অন্ধকার হয়ে যায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে বলেছে, তারা সীমান্তের কাছে দু’জনকে গুলি করেছে। ওদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতেন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে, দেখা দেবে উদ্বেগ। কিন্তু তিনি তা করেছেন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য একটি অগ্রাধিকার হিসেবে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে সেখানে শান্তি স্থাপনে অধিকতর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্য সময়ের চেয়ে আমরা তার অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছি। অন্যদিকে জাতিসংঘে নিয়োজিত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শুক্রবারের জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, সবাই যেন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী মেনে নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। ওদিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমরা। তারা পুড়িয়েছেন ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। এখানে ক্রীড়ামন্ত্রী খায়ের জামালুদ্দিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারেরও বেশি মুসলিম। তারা বিক্ষোভ র‌্যালি নিয়ে এগিয়ে যান কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দিকে। এ সময় রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। স্লোগান দেয়া হয় ‘ইসলাম দীর্ঘজীবী হোক’, ‘খতম হোক ইহুদিবাদ’। অনেকের হাতে ছিল ব্যানার। তাতে লেখা ‘মুক্ত ফিলিস্তিন’। আবার কোনোটায় লেখা ‘জেরুজালেম হলো ফিলিস্তিনের রাজধানী’। বিক্ষোভ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবাদলিপি দেয়ার পর জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেন মন্ত্রী খায়ের। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রেসিডেন্ট আপনি একটি অবৈধ ঘোষণা দিয়েছেন। জেরুজালেমকে ইসরাইল দখল করে নিয়েছে। আপনার সেখানে পা পর্যন্তও রাখা উচিত নয়। দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে বিশ্ব। উলিয়া আকামাহ বিন হুসামুদ্দিন বলেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা উচিত নয়। এটা বুঝা উচিত ট্রাম্পের। এতে বক্তব্য রাখেন নুরুল হাদায়া মেসারি নামে একজন ছাত্র। তিনি বলেন, সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনা যেমন মুসলিমদের কাছে পবিত্র, তেমনি জেরুজালেমও তাদের কাছে পবিত্র। ইরানের রাজধানী তেহরান ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। ওদিকে তুরস্ক, আফগানিস্তান, জর্ডান, পাকিস্তান, সোমালিয়া, মিশর সহ দুনিয়ার প্রায় সব মুসলিম দেশের লাখ লাখ মুসলিম রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা ফিলিস্তিনি ভূমির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার স্লোগান দেন। শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। বড় বড় বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডন, বার্লিন ও ব্রাসেলসে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন অমুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধানরাও। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কমন সেন্সের বিরুদ্ধে গিয়েছে। ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বৈঠকে বলেন, আমি দায়িত্বশীল সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শত শত মুসলিম বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা স্লোগান দিয়েছেন ‘জেরুজালেম আমাদের এবং তা আমাদেরই থাকবে’। আরো স্লোগান দিয়েছেন ‘আমেরিকা নিপাত যাক’। ‘ইসরাইল নিপাত যাক’। ইস্তাম্বুলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত অটোম্যান ফেইথ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে তারা বিক্ষোভে শরিক হন। ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি আগামী ১৩ই ডিসেম্বর ইস্তাম্বুলে ইসলামিক দেশগুলোর সহযোগিতামূলক সংস্থা ওআইসি’র জরুরি বৈঠক আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভকারীরা রাজধানী জাকার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিন ও ইন্দোনেশিয়ার পতাকা। তারা দূতাবাসের সামনে গিয়ে টায়ারে, ট্রাম্পের ছবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করে। কাশ্মীরের শ্রীনগরে ও ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে শত শত মুসলিম বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন। অগ্নিসংযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকায়। তবে শ্রীনগরের পুরনো অংশে আগে থেকে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শহরের প্রধান মসজিদে শুক্রবারের নামাজ আদায় করতে দেয়া হয় নি। কাশ্মীরী নেতারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে মুসলিমবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযােগে কাজ করার আহ্বান রিজিয়া রেজার


নিজস্ব প্রতিবেদন:  মিয়ানমারের মুসলিমদের উপর অমানষিক নির্যাতন ও নারকীয় গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিশিষ্ট নারী নেত্রী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী| একইসাথে  মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার বেলা ১১টার দিকে  লোহাগাড়া উপজেলায় মিলনায়তনে ৬৯তম বিশ্ব মানবধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যতিনি এসব কথা বলেন ।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন লোহাগাড়া উপজেলা সভাপতি  অধ্যাপক হামিদুর রহমােনর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে  বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  লোহাগাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পিপিএম(বার) , আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের  অধ্যক্ষ এ.কে. ফজলুল হক  , বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ সদস্য মো আরমান বাবু (রুমেল) ,  বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরী,  লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো নরুল ইসলামসহ প্রমুখ।

সাতকানিয়া বাড়ছে বিলুপ্ত প্রায় কালোজিরা ধানের চাষ

দেশজুড়ে কালোজিরা ধান বিলুপ্তির পথে থাকলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ধানটির চাষ বাড়ছে। গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ধানের ফলন হয়েছে অনেক বেশি। অন্যান্য উচ্চফলনশীল ধানের সাথে বেড়েছে অনেকটা বিলুপ্ত প্রজাতির কালোজিরা ধানের চাষ। অন্যান্য ধান সোনালি বর্ণের হলেও এ ধানের রং হল কালো এবং ছোট মশলা জিরা আকৃতির। সে কারণে এ প্রজাতির ধানের নামকরণ করা হয়েছে কালোজিরা।

এক সময় কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল কালো জিরা ধান। সর্বত্র চাষ হতো কালো জিরা ধান। গ্রামীণ জীবনে এই ধানটি ছিল অপরিহার্য। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই ধানের জায়গা দখল করে নিয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান। এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে সংরক্ষণ করা হতো কালো জিরা ধান। সুগন্ধি এ চালের নাম শুনলে জিভে জল আসে।

এই সুগন্ধি চিকন চাল দিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানে তৈরি হয় পিঠাপুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার। বিভিন্ন পূজাপার্বণের ভোগ, মিষ্টান্ন রান্নার কাজে কালো জিরা চাল ব্যবহার করে।
.

এ ধানের অত্যন্ত মিষ্টি সুগন্ধের জন্য প্রসিদ্ধ। ক্ষেতে কালোজিরা পাকলে এর মিষ্টি গন্ধে পুরো এলাকার বাতাস মৌ মৌ করে। ধানের রং কালো হলেও এর স্বাদ ভিন্ন। যার কারণে এ ধানের বাজার মূল্য অন্য ধানের চেয়ে তিন গুণ বেশি। ৮০ দশকে সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে কালোজিরা ধানের ব্যাপক চাষ হলেও বেশ কয়েক যুগ ধরে প্রজাতিটি অনেকটা বিলুপ্ত প্রায়।

বর্তমান বাজারে কালোজিরা প্রজাতির ধানের দাম অন্য ধানের তুলনায় বেশি থাকায় এবং আবহাওয়াবান্ধব হওয়ায় কৃষকরা পুনরায় কালোজিরা চাষের দিকে ঝুঁকছে। সাতকানিয়া কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে কালোজিরা ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হেক্টর।

সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর জমিতে তারা পাইজাম, বিনা-৭, হাইব্রীড, ব্রি-৭২, ব্রি-৪১, ব্রি-৪৯, ব্রি-৫২, বিআর-১১, বিআর-১০, বিআর-২২, বিআর-২৩, পাইজাম, বিনি জাতের ধানের সাথে কালোজিরা ধানের চাষ করেছেন।

উপজেলার সোনাকানিয়া গারাংগিয়া গ্রামের কৃষকরা জানায়, তাদের ক্ষেতের কালোজিরা ধান পেকে গেছে, রোগ বালাই কম এবং ফলনও হয়েছে বেশি।তারা আরো বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির ধানের চাষের মধ্যে কালোজিরা ধানের ফলন সবার নজর কাড়ছে। এ ধানের বাজার মূল্য একটু বেশি চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

সাতকানিয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম জহির জানান, আমন ধান রোপনের সময় কালোজিরা ধান রোপন করা হয়। কালোজিরা ধানের এ বছরের ফলন যথেষ্ট হয়েছে। বাজার মূল্য বেশি হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, আগের চেয়ে বর্তমানে এ ধানের বাজার দর অনেক বেশি। কৃষকরা যদি অন্যান্য ধানের মত কালোজিরা ধানের ব্যাপক চাষ শুরু করেন তাহলে অনেক বেশি লাভবান হবে।

জেরুজালেম: ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

তুরস্ক বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠেয় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইস্তাম্বুল যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউএনসিএলওএস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এ কথা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির এ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরব দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপরই করণীয় নিয়ে ওআইসির বর্তমান চেয়ারম্যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান এই বিশেষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, বুধবারের ওই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রওনা হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিং করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। ছবি: পিআইডিতার সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমও রয়েছেন। মূল সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) জোটের সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৬ ডিসেম্বর আল-কুদস আস-শরীফ বা জেরুজালেমকে (১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলাধীন) ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। একই সঙ্গে তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথাও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এতে আল-কুদস আস-শরীফ তথা ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়া এক অপ্রত্যাশিত হুমকির মধ্যে পড়েছে এবং আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বে নতুনভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে ফিলিস্তিনিরা। নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশও।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ওআইসি আল-কুদস কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছে। ওআইসি জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন (সিএফএম) ২০১৮ সালে ঢাকায় আয়োজন করা হবে।

‘বাংলাদেশ বর্তমানে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। ঢাকায় ৪৫তম সিএফএম আয়োজনের মাধ্যমে শিগগির সিএফএম-এর সভাপতিত্ব লাভ করবে দেশটি।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের উদ্বোধন, কর্মসংস্থান ২০ হাজার তরুণের

তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হলো যশোরে সদ্য নির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই পার্কের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইটেক পার্কগুলো রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারবে। যশোরের মতো স্থানে এমন একটি আধুনিক সুযোগ সম্বলিত পার্ক মানুষকে আকৃষ্ট করবে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা আরো এগিয়ে যাবে। যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ এসব জেলার ছেলেরা এখানে কাজ পাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সিলিকন ভ্যালির আদলে তৈরি এই ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক’। এটি আমাদের দেশে একখণ্ড সিলিকন ভ্যালি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানা করেছিলেন তার নামে যশোরের হাইটেক পার্ক এর নাম করণ না করতে। কিন্তু সরকারের অর্থায়নে এটি প্রথম হাইটেক পার্ক। এই বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নামে এই হাইটেক পার্কের নামকরণ করা হয়।

প্রযুক্তি পার্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গির আলম বলেন, এই পার্কের মূল ভবনে প্রায় ৫৫টি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের দুটি কোম্পানিও রয়েছে। এর মাধ্যমে ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের  সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাকে টার্গেট করে যশোরে এই সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে দেশি ও বিদেশি আইটি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারবে। এই পার্কে সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, গবেষণা এবং উন্নয়ন কাজ করা যাবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান এখানে প্রযুক্তি পণ্য উদ্ভাবন করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ২০১০ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করার সময় যশোরে আন্তর্জাতিক মানের একটি আইটি পার্ক স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তাঁর ওই ঘোষণার আলোকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরের শংকরপুর এলাকায় বেপজায় আইটি পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

মাত্র চার বছরে এই পার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হলো।

এটি নির্মাণে ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পার্কে ১৫তলা এমটিবি ভবন, ১২তলা বিশিষ্ট ফাইভ স্টার মানের ডরমেটরি ভবন, রাষ্ট্র পরিচালিত আর্ট কনভেনশন সেন্টার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা সম্বলিত প্রায় ২ দশমিক ৩২ লাখ বর্গফুট স্পেস থাকবে। প্রতিটি ফ্লোরে ১৪ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে।

নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর: সিইসি

নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচনী কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্ট-২ এ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক সভায় সিইসি এসব কথা বলেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচনী কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। সেটা হলো একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে তিনি আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে তিনি কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন কেউ বাধা দেবে না।

সিইসি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা যেমন সাহায্য-সহযোগিতা করেন। আবার যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটান, যদি তার দায়িত্ব পালন না করেন, গাফলতি করেন, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে, কঠোরভাবে। আমাদের হাতে যে আইন আছে, সরকার যে আইন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় যদি কেউ করে তাহলে আমরা আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এই ব্যাপারে এতোটুকু আপোস করবে না।

তিনি বলেন,  আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে। তাতে আমরা খুব খুশি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। আর এটা প্রকাশ হবে আমাদের নির্বাচনী যে অঙ্গীকার, নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়নের ওপর। এটা আপনাদের কাছে আমরা প্রত্যাশা করি।  নির্বাচন অবাধ হবে, গ্রহণযোগ্য হবে, বিশ্বাস যোগ্য হবে এবং স্বচ্ছ হবে।

স্বচ্ছতা বলতে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো পরিষ্কার করা, দৃশ্যমান করা।  আমাদের কোনো কাজ গোপন নয়। গোপন শুধু গোপন ভোটকক্ষে গিয়ে ভোটারদের ভোট দেয়া। এটা ভোটারদের বিষয়, তারা কাকে ভোট দেবে। এ ছাড়া নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে আপনার আমার সব কাজ সবাই দেখতে পারবে, বুঝতে পারবে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে তারা নিরাপদে বাসায় যাবে এটা নিশ্চিৎ করতে হবে।  সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে- যোগ করেন সিইসি।

সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

সাতকানিয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের হাতে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে এক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে রুমে তালাবদ্ধ রেখে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। শনিবার সাতকানিয়া উপজেলার চরতি দুরদুরী ‍‌উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত ও সরকার নির্ধারিত ফি‘তে ফরম পূরণ করার আশ্বাস থানা পুলিশ গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর বসাককে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে।

চরতি এলাকার মো. লোকমান জানান, এসএসসির ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ৩ গুণ বেশি টাকা আদায় করছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এ অভিযোগে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কেন অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক যথাযথ উত্তর দিতে না পারায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির নানা অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হোসেন  জানান, স্কুলের এক প্রধান শিক্ষককে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ রাখার খবরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএসসির ফরমপূরণে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি নেয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শংকর বসাক বলেন, ‘স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্দেশনায় এসএসসির ফরম পূরণের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেয়া হচ্ছে। যারা এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করেছে, তাদের নিয়ে সমস্যা হয় নি। যারা কয়েক বিষয়ে ফেল করেছে তাদের ফরম পূরণ নিয়ে বিষয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবহিত রয়েছে।’

তবে, অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কোন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পেলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা।

তিনি বলেন, ‘এসএসসির ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোন প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে দেয়া হবে না। যেই প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নিবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সিডিএ’র তিন প্রকৌশলী গ্রেফতার

দুর্নীতির মামলায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তিন প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  এরা হলেন, সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরওয়ার ও হামিদুল হক এবং উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

রোববার  দুপুরে তাদের সিডিএ ভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) লুৎফুল কবির বলেন, তিন প্রকৌশলীকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) এমরান হোসেন বলেন, জরুরি অবস্থার সময় ৩০টি মামলা দায়ের হয়েছিল।  এর মধ্যে ১৫টি বিচারাধীন আছে।  ১৫টি তদন্তাধীন আছে।  তদন্তাধীন মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখিয়ে তিন প্রকৌশলীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফারিয়ার ‘মা ভার্সেস বউ’

উপস্থাপনার মাধ্যমেই মিডিয়াতে সুখ্যাতি অর্জন করেন নুসরাত ফারিয়া। পরবর্তীতে চিত্রনায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নেন তিনি। এখন অবশ্য উপস্থাপনায় দেখা যায় না ফারিয়াকে। তবে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারো উপস্থাপনায় আসছেন হালের এই আলোচিত নায়িকা।

অনুষ্ঠানের নাম ‘মা ভার্সেস বউ’। ১০ পর্বের নতুন এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন ফারিয়া। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটির ডিজাইনটা দারুণ। আর মজার হবে বলে মনে হয়েছে আমার। আয়োজনও থাকছে বড়।

জানা গেছে, ১০ পর্বের এই অনুষ্ঠানের বাজেট প্রায় তিন কোটি টাকা। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে একজন অতিথির সঙ্গে মা আর তার ছেলের বউ অংশ নেবেন। সেখানে তাদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ইউটিউবে মুক্তি দেয়া হবে এর ট্রেলার।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন তানিম রহমান অংশু। প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য হবে ১৫ মিনিট। মূলত চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করার প্রায় মাস তিনেক আগে থেকেই সব ধরনের অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন নুসরাত ফারিয়া।

‘মা ভার্সেস বউ’ অনুষ্ঠানটির শুটিং হবে ১৭ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে বঙ্গবিডি আর গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ চ্যানেলে অবমুক্ত করা হবে অনুষ্ঠানটি।

হালের আলোচিত এই নায়িকাকে আশিকী, বাদশা-দ্য ডন, প্রেমী ও প্রেমী, ধ্যাততেরিকি ছবিগুলোতে দেখা গেছে।

চুয়েটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দু’দিনব্যাপী আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স শুরু

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে এই বিপ্ল্ব এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবন হচ্ছে এর মূল চালিকাশক্তি। তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান সময়ের উন্নয়নের বড়শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।
 
রোববার চট্টগ্রাম নগরীর মোটেল সৈকতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মত “ফিজিক্স ফর সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট এন্ড টেকনোলজি (ICPSDT-2017)” শীর্ষক দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেজন্য টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। পৃথিবীর সব উন্নত দেশ তাদের শিল্পায়ন ও নগরায়নের জন্য টেকসই প্রযুক্তিকে বেছে নিচ্ছে। বাংলাদেশেও এখন টেকসই উন্নয়নকে খুব গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চুয়েটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্স থেকে টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং কনফারেন্স চেয়ার অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম মহোদয়। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন চুয়েটের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রনজিৎ কুমার সূত্রধর, কনফারেন্সের টেকনিক্যাল চেয়ার ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনফারেন্স সেক্রেটারি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।



এবারের কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও সুইডেন, জাপানসহ পৃথিবীর ৯ টি দেশ হতে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রফেশনাল এবং উদ্যোক্তাগণ অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সে পদার্থ বিজ্ঞানের বিষয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি সর্ম্পকিত তথা বর্তমান বিশ্বের আলোচিত ইস্যু ‘টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তি’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধসমূহ উপস্থাপিত হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্নের প্রস্তাব কাবুলের

আফগানিস্তান বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও পাস করা হয়। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রেক্ষিতে কাবুল এই আহ্বান জানালো। খবর তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদুলু অ্যাজেন্সির।

পার্লামেন্টের আলোচনায় কয়েকজন সদস্য কঠোর ভাষায় প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে উসকে দেয়ার মতো এ ধরনের ঘোষণায় সব মুসলিম দেশগুলোর উচিত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও হুমকির প্রতিরোধ করা। প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত না বদলানো পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কূটনীতিক ও বাণিজ্যক সম্পর্ক স্থগিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে আফগান পার্লামেন্টের ওই প্রস্তাবে।

শুক্রবার আফগান জনগণ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। কাবুলে আবদেল রহমান মসজিদের সামনে সবচেয়ে বড় মিছিল বের করে আফগানরা। সেখানে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়।

৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের ‘অবিভক্ত’ রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন বলছে, তারা তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেবে।

জেরুজালেম নিয়ে ওয়াশিংটনের এই নাটকীয় পদক্ষেপে অধিকৃত ফিলিস্তিন, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক ও অন্যান্য মুসলিম দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে তুরষ্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ আগামী বুধবার তুরষ্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল যাচ্ছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সরকার আল-কুদ্্স আস্-শরীফকে (যা অন্যায়ভাবে ১৯৬৭ সাল হতে ইসরাইলের দখলাধীন) ইসরাইলের কথিত রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে মত দেয় এবং তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। এতে আল-কুদ্স আস্-শরীফ তথা ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়া এক অপ্রত্যাশিত হুমকির মধ্যে পড়েছে এবং আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বে নতুনভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারনে ওআইসি’র বর্তমান সভাপতি তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইপ এরদোগান সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র/সরকার প্রধানদের এক জরুরি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। শীর্ষ সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার ওআইসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং পরদিন সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসি আল-কুদ্্স কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন (সিএফএম) আগামী বছর ঢাকায় আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। ঢাকায় ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিএফএমের সভাপতিত্ব লাভ করবে। ইস্তাম্বুল শীর্ষ সম্মেলনের এক সপ্তাহের মধ্যে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তাই আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক - উভয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনটিতে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

‘পুলিশ কাউকে নিয়ে গেলে আত্মীয়দের জানাতে হবে’

বাংলাদেশে গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও শিক্ষক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসানসহ বাকীরা এখনো নিখোঁজ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি ভীতির পরিবেশ। বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলছেন, "এতগুলো মানুষ এত অল্প সময়ের মধ্য নিখোঁজ হয়ে গেলো। তাদেরকে যেই নিক না কেনো, এতে মানুষের মধ্যে খুব ভীতির সঞ্চার হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার" কিন্তু সে বিষয়ে কি করছে মানবাধিকার কমিশন? হক বলছেন, "আমরা যখনই খবর পাই যে কেউ গুম হয়েছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে জানাই। যারা তাদের গুম করেছে, সে যেই হোক না কেন তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহবান জানাই" বাংলাদেশে বেশিরভাগ সময়ে নিখোঁজদের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় যে তাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে গেছে। হক বলছেন, "যে কয়জন ফিরে এসেছে তারা কেউ মুখ খুলছে না। তাদের কারা নিয়েছিলো সেটার ব্যাপারে আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না। যদি কাউকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন অপরাধে ডেকে নিয়ে থাকে তাহলে তার সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী তাদের আত্মীয় স্বজনদের জানাতে হবে" তিনি আরো বলেন যে, তাকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কমিশন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাত্র গতকালই বাংলাদেশে সরকারের কঠোর সমালোচক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেছেন, তাকে অপহরণ করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাবার চেষ্টা হয়েছিল এবং পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেবার চেষ্টা করেছে। তিনি জুলাই মাসে নিখোঁজ হয়েছিলেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড: মুবাশ্বার হাসান নিখোঁজ হয়েছেন এক মাস আগে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলছেন তারা ধারণা করতে পারছেন না, কেন মুবাশ্বার হাসান নিখোঁজ হতে পারেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।

যারাই ভিন্নমত প্রকাশ করছে সরকার তাদেরকে গুম করছে : ফখরুল

যারাই ভিন্নমত প্রকাশ করছে সরকার তাদেরকে গুম করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই সরকার এমন গুম খুনের রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, একটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছে আজ দেশের অসংখ্য পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। যারাই সে দলটির বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করছে বা করতে চাচ্ছে তাদেরকে সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং ক্ষমতায় যেতে হয় হত্যা করছে, না হয় গুম করছে। আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ঢাকা সহ সারাদেশেই এই মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় দুপুরে এই মানববন্ধনে ঢাকা মহানগর বিএনপি, মহিলা দল, ওলামা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তৃতা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়াম্যান শওকত মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। মামলা, হত্যা, গুম-খুনে জর্জরিত। কারণ একটাই জোর করে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে রাখা। শুধু তাই নয়, আজকে বিচারবিভাগকে কব্জা করে ফেলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য করা হয়েছে প্রথমে ছুটি পরবর্তীতে পদত্যাগে। প্রশাসনকে করা হয়েছে সম্পূর্ণ দলীয়করণ। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ, সেটি হলো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতাসীন সরকারকে পরাজিত করার মাধ্যমে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং দেশের মানুষ যাতে স্বস্তি নিতে পারে, মানুষকে যাতে সুশাসন দিতে পারি ঐক্যবদ্ধভাবে সেই আন্দোলন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পার্টির হিসাব, মতে শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩২৩টি, আসামির সংখ্যা ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ২৩৮ জন, সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মোট খুন ৫২০ জন, অপহরণের সংখ্যা ৭৪৭ জন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন ১৫৭ জন, নির্যাতনের শিকার ৩৭ লক্ষ। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে মানবাধিকার গুম করেছে বর্তমান সরকার। অথচ তারা কথায় কথায় বলে থাকেন বাংলাদেশ নাকি এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। এটাই কী তাহলে বাংলাদেশের রোল মডেলের চিত্র? যেখানে ভিন্নমত প্রকাশ করলে একমাত্র অপরাধ হচ্ছে গুম হয়ে যায়। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়ে এখন মিথ্যার ফ্যাক্টরি তৈরি করেছে। মিথ্যাচার করতে করতে তারা এখন মানবাধিকার নিয়েও মিথ্যাচার করেছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে দেশে মানবাধিকার নেই। কথা বলা ও সমাবেশের অধিকার নেই। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নন অসংখ্য মানুষ গুম ও হত্যার শিকার। এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্যই গুম খুনের রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে।

চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন এবং শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুটি সোলারসহ চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন এবং শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ব্যয় হয় তারচেয়ে অনেক কম দামে আমরা বিদ্যুৎ দিচ্ছি। তাই সবাইকে এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের যেন কোন অপচয় না হয়। চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে-শিকলবাহা ২২৫ মে.ও. কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্লান্ট, চাপাইনবাবগঞ্জ একশ’ মে. ও. পাওয়ার প্লান্ট,শাল্লা ৪০০ কি. ও. সোলার পাওয়ার প্লান্ট এবং সরিষাবাড়ি ৩ মে.ও. সোলার পাওয়ার প্লান্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলা হচ্ছে -ফরিদপুর সদর, রাজৌর, নওগাঁ সদর, কামারখন্দ, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর, শালিখা, মেহেরপুর সদর, মদন ও বেলাবো। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ,জ্বলানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ এম মুতাইরি, বাংলাদেশে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল মোহাম্মদ এএইচ হায়াৎ, সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জেনারেল আহমেদ আল ঘানী এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট এর অ্যাডভাইজার আব্দুল্লাহ আল সেদকী উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিসহ নানা স্তরের স্থানীয় জনগণ, আওয়ামী নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।

জেরুজালেম ইস্যু থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে আসতে হবে: সৌদি আরব

ইসরাইলের তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। কায়রোতে শনিবার আরব লীগের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল যুবায়ের। আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ ওই বৈঠকে অংশ নেয়। আদেল জানান, তার সরকার জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বলেছে। ফিলিস্তিনের জনগণ যাতে পুনরায় তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ফিরে পায় সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা। বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ওই ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা মুসলিম বিশ্ব। এ নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পর ইসরাইলি হামলায় শনিবার পর্যন্ত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বৈধতার ওপর ভিত্তি করে এর সমাধান করতে হবে। ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপনে সৌদি সহযোগিতা করবে। পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস করেন। তাদের সঙ্গেই থাকেন আরও দুই লাখ ইহুদি ইসরাইলি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত এই ভূমিতে ইহুদি বসতি বৈধ নয়। তবে ইসরাইল একে বৈধ বলে দাবি করে। ইসরাইল বরাবরই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী দাবি করে আসছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে তা দখল করে নেয় ইসরাইল।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসবেন না কপটিক পোপ

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাগত জানানো হবে না এবং তার সঙ্গে বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছিল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এবার অনুরূপ ঘোষণা এলো মিসরীয় কপটিক চার্চের পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রুসের পক্ষ থেকে। মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় আগামী ২০ ডিসেম্বর তার সঙ্গে মাইক পেন্সের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। শনিবার এক বিবৃতিতে কপটিক চার্চের পোপ বলেন, ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তের আগে আরব জনগণের অনুভূতিকে আমলে নেননি। এর আগে মিসরের বিখ্যাত আল আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমদ আল তাইয়েবও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। কপটিক পোপ হলেন মিসরীয় খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু। যিশুখ্রিস্টের মৃত্যুর ৪২ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে কোনো একসময়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মতবিরোধের জেরে খ্রিস্টধর্মের মূল ধারা থেকে মিসরীয় খ্রিস্টানদের একটি অংশ বের হয়ে যান, তাদেরই কপটিক খ্রিস্টান বলা হয়। এটি খ্রিস্টধর্মের প্রথম বড় কোনো বিভাজন। মিসরে কপটিক খ্রিস্টানদের সংখ্যা ৮৩ লাখের মতো। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। এর আগে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি জানিয়েছিলেন, ২০ ডিসেম্বর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের নেতারা অংশ নেবেন না। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, শিগগিরই তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে। ট্রাম্পের বিতর্কিত এ ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা বাতিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। ইসরাইলের তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস না সরানোর কথাও বলেছেন তারা।

সৌদি যুবরাজ ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে কিনলেন এক ছবি!

সৌদি আরবকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাওয়া যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন। বিশেষত তার বাবার পর নিজের ক্ষমতা লাভের পথ সুগমের জন্য সৌদি প্রিন্স ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আটকের ঘটনায় তিনি বেশ সমালোচিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তবে এবার খোদ সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তিনি নাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির একটি পেইন্টিং ক্রয় করেছেন। এই ক্রয়ে সৌদি প্রিন্স সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
তবে তার এক কাজিন নাকি পেইন্টিংটি কেনার দায়িত্বে ছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ডেইলি পাকিস্তান। সালভাদর মুন্ডি নামে পেইন্টিংটি প্রায় ৫০০  বছরের পুরনো। নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত এক নিলাম থেকে রেকর্ড দামে পেইন্টিংটি ক্রয় করা হয়। এদিকে শুধু পেইন্টিং নয়, সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ নাকি বিশাল আকারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট কিনেছেন। এই ইয়ট নাকি বিশ্বের বিলাসবহুল বড় তিনটি ইয়টের একটি। ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে নাকি তিনি ওই ইয়টটি কেনেন।

ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ সড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের ২৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি নামক এলাকায় ব্রিজের পাশে মাটিধসে যাওয়ায় শনিবার রাত আড়াইটা থেকে প্রধান ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ওই সড়কে ২৫ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরেও দেখা গেছে একই অবস্থা। ট্রাকচালক আমিনুল ইসলাম জানান, খালি গাড়ি নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে মাল নিতে মুক্তারপুরে যাওয়ার পথে রাত আড়াইটার সময় পঞ্চবটিতে যানজটে আটকা পড়ি। রোববার বেলা ১১টায় আটকাপড়া স্থানটি থেকে ট্রাক নিয়ে মাত্র ১০ গজ এগোতে পেরেছি। এ সড়কে কখনো এমন যানজট হয়নি। চালক সিরাজ মিয়া জানান, রাতে মুক্তারপুর কারখানা থেকে সিমেন্টের বস্তা নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে পঞ্চবটি রাত ৩টা থেকে আটকা পড়ে আছি। গাড়ি নিয়ে আগাতে পারছি না। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) জিয়াউল হক জানান, ঢাকা- মুন্সীগঞ্জ সড়কের কাশিপুরে ব্রিজের পাশে নির্মাণাধীন রাস্তা ধসে পড়েছে রাত আড়াইটায়। এর পর থেকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের ২৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর রাস্তার সংস্কারকাজ করছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে যান চালু করার ব্যবস্থা করছে।

অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠনের প্রতিবেদন ১১ ফেব্রুয়ারি

পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস ও টাইটাস হিল্লোল রেমা। এর আগে হাইকোর্টর নিদের্শে ৯ নভেম্বর তদন্ত কমিশনের সদস্য হিসেবে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নামের প্রস্তাব পেশ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে 'ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৫ (৩ ধারা)' অনুসারে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না- তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

পুরো দেশকে কারাগার বানিয়েছে সরকার: মির্জা ফখরুল

গুম-খুন করে সরকার পুরো দেশকে কারাগার বানিয়ে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কাছে দেশের অসংখ্য পরিবার এখন অসহায়। দলটির বিরুদ্ধে যারা ভিন্নমত প্রকাশ করছে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাদের হত্যা করছে, না হয় গুম করছে। তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগকে কব্জা করে ফেলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ হত্যা ও গুমের হিসাব তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, পার্টির হিসাবমতে, শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩২৩টি, আসামির সংখ্যা ৭ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ জন, সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে খুন ৫২০ জন, অপহরণের সংখ্যা ৭৪৭ জন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন ১৫৭ জন এবং নির্যাতনের শিকার ৩৭ লাখ। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব -উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রস্তাব

জেরুজালেম ইস্যুতে সংঘাত উসকে দেয়া এবং ইসরাইলিদের অবৈধ দখলকে বৈধতা দেয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে লেবানন। শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠিত আরব লীগের জরুরি বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয় দেশটি। জেরুজালেম ইস্যুতে জরুরি ওই বৈঠক আহ্বান করে আরব লীগ। এতে লীগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় পুরো মুসলিম বিশ্ব এবং জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লীগসহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে। শনিবার জরুরি বৈঠক শেষে দেয়া আরব লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তটির কোনো আইনি তাৎপর্য নেই। এটি আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এটি উত্তেজনা আরও তীব্র করে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং অঞ্চলটিকে আরও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। বিবৃতিতে আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির মানে হল- যুক্তরাষ্ট্র এখন আর নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির ‘দালাল’ হিসেবে আর প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে না। এদিকে জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণার ঘটনায় ‘ইন্তিফাদা’ বা প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের হামাস। তারা জেরুজালেমকে পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে ইসরাইলি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন।

‘জয়-বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণার শুনানি ১৮ জানুয়ারি

‘জয়-বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান ও মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার ওই রুলের শুনানির দিন ধার্য ছিল। পরে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৮ জানুয়ারি শুনানির নতুন তারিখ দেন। এর আগে জারি করা রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিবকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ আদালতে আবেদনটি করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পৃথিবীর সাত দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। ‘জয়-বাংলা’ হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রেরণার প্রতীক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে, আমরা আমাদের চেতনার সেই জয়-বাংলাকে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর্যন্ত জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাইনি। তিনি আরও বলেন, জয়-বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির স্লোগান নয়, এটি হচ্ছে- আমাদের ‘ন্যাশনাল ইউনিটি’। এই স্লোগান দিয়ে একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে জয়-বাংলা স্লোগান দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়েছিল। আমরা কোর্টকে বলেছি- এটিকে যাতে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার ফ্রান্স যাচ্ছেন

ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে অংশগ্রহণের উদ্দেশে সোমবার তিন দিনের সরকারি সফরে ফ্রান্স যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনের ২১তম অধিবেশনে প্যারিস জয়বায়ু চুক্তি গৃহীত হয়। ওই চুক্তির দুই বছরপূর্তিতে ওয়ান প্ল্যানেট সামিট হচ্ছে। সেখানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেবেন। সামিটে অংশগ্রহণকারীরা সাতটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। সামিটে প্রধানমন্ত্রী অভিযোজন ও জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা প্রদক্ষেপ ও সাফল্যের বিষয়টিও বর্ণনা করবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুরের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি: এরশাদ

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রোববার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রতিবাদে আরব বিশ্বসহ সারা পৃথিবীতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত গাজাসহ বিভিন্ন স্থানে। এসব সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

চীন-নেপাল রেলপথ : উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের জাতীয় রেলওয়ে প্রশাসনের উপপরিচালক জেং জিয়ানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের দলটি মাঠপর্যায়ে গিরং, পোখারা ও লুম্বিনি সফর করে ১০ নভেম্বর নেপালের ভৌত অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছে। কাঠমান্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী নেপালি রেলওয়ে মুখপাত্র প্রকাশ ভক্ত উপাধ্যায় বলেছেন, চীনা দলটি ভৌগোলিক বিষয়সহ অনেক কারিগরি সমস্যার সমাধান দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের মতো ভূমিকম্প যদি আবার হয়, কিংবা নেপাল ও তিব্বতের ভূমিগত বৈসাদৃশ্যের মতো অনেক বিষয়ে নেপালে সংশয় ছিল। চীনারা বলেছেন, এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সিংগুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সান লিৎঝু বলেন, এসব প্রকল্প সম্পন্ন করতে অবশ্য বেশ সময় লাগবে। ভূ-রাজনৈতিক কারণেও সময় লাগবে। কয়েক বছরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে চীন ও নেপালের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তারা বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় আন্তঃসীমান্ত রেলযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২০১৬ সালের মার্চে নেপালি প্রধানমন্ত্রী শর্মা অলি বোয়াও ফোরার সম্মেলনের ফাঁকে চীনের সাথে ১০টি চুক্তি সই করেন। চীনা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এই রেললাইন স্থাপন তাদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। চীন এখন তিব্বতের জিগেজ থেকে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত তাদের অংশের রেললাইন নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ তা শেষ হবে বলে আশা করা যায়। চীনের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো প্রতিবেশী সব দেশের সাথে নানা দিক দিয়ে রেল সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা। বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘রেলওয়ে কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গৃহকর্মী ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যুদণ্ড এএফপি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উপশহর নোইদায় ২৫ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এক ব্যবসায়ী ও তার অপর এক গৃহকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে একটি বিশেষ আদালত। ২০০৬ সালে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হয়। শুক্রবার ইন্ডিয়ান সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) আদালত এ রায় দেয়। ব্যবসায়ী মনিন্দ্র সিংহ পানধার ও তার পুরুষ গৃহকর্মী সুরিন্দ্র কোলির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার এক দিন পর এ রায় দেয়া হলো। নোইদার নিথারি গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর নিজ বাড়িতে এ অপরাধ সংঘটিত হয়। কোলির বিরুদ্ধে এ অপরাধ ছাড়াও আগে আরো আটটি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। পানধারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় অভিযোগ করা হয়। এর দু’টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সময় বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পি কে তিওয়ারি বলেন, কোলি ও পানধার দু’জনই ২০০৬ সালে গৃহকর্মী অঞ্জলীকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত। তারা কঠোর শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কোলি ওই গৃহকর্মীকে টেনে-হেঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে আসে ও তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করে এবং তার পর মেয়েটির মাংস খায়। তাই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ছাড়া আইনের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। মহিন্দ্র সিংহও একই অপরাধে জড়িত। তাদের দু’জনকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।’ অঞ্জলী নোইদায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে তিনি নিখোঁজ হন বলে জানানো হয়। ডিসেম্বরে কোলিকে গ্রেফতার করার পর তার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশ জানতে পারে। ওই বছরই পুলিশ পানধারের বাড়ির কাছ থেকে ১৬ জনের খুলি ও হাড় উদ্ধার করে। এদের বেশির ভাগই শিশু।

নিঃসন্তান দম্পতি হঠাৎ ৫১ সন্তানের মা–বাবা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কৃষক দম্পতি। নিঃসন্তান। ১৯৯০ সালে দত্তক নিয়েছিলেন এক প্রতিবন্ধী শিশুকে। কিন্তু ৫ বছর পর মারা যায় শিশুটি। ভেঙে পড়েননি ওই দম্পতি। বরং অনেক বেশি করে শিশুদের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে উজাড় করে দিতে চেয়েছেন। একটি, দু’‌টি নয়, এখন এই দম্পতি মোট ৫১ সন্তানের অভিভাবক। কীভাবে?‌ সেই গল্প অবাক করার মতো। ১৯৮১ সালে বীরেন্দর রানা বিয়ে করেছিলেন মীনাকে। বিয়ের প্রায় ১০ বছর কেটে গেলেও কোনো সন্তান হয়নি ওই দম্পতির। জানা যায়, মীনার জরায়ুতে একটি টিউমার রয়েছে। যার ফলে সন্তানধারণে অক্ষম মীনা। ১৯৯০ সালে তারা শুকতালে ছোট্ট জমি কেনেন। ১ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে দত্তকও নিয়েছিলেন। যার নাম রাখা হয়েছিল মাঙ্গেরাম। কিন্তু ৫ বছর পর সেও মারা যায়। কষ্ট পেলেও এই ঘটনাতেও হতাশ হননি ওই দম্পতি। নতুন করে শিশুদের দত্তক নিয়ে নিজের কাছে এনে রাখতে শুরু করেন তারা। মীনা বলছিলেন, ‘‌দত্তক নেওয়ার সময় একবারও ভেবে দেখিনি শিশুরা হিন্দু না মুসলিম।
ওরা আমার সন্তান। ওদের শিক্ষিত করে তোলাই আমাদের প্রধান কাজ।’‌ মহৎ কাজে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা শুকতাল। ৮ বিঘা জমির উপর বর্তমানে গড়ে উঠেছে বীরেন্দর–মীনার অনাথ আশ্রম। যেখানে বর্তমানে ৪৬ জন অনাথ রয়েছেন। যার মধ্যে ১৯ জন বালিকা। শারীরিক প্রতিবন্ধীও রয়েছেন। শিশুদের খেলার জন্য রয়েছে বড় মাঠ। অনাথ আশ্রমের গোটা খরচটাই চলে অনুদানের ওপর। একদম ছোট্ট বেলায় মা–বাবাকে হারিয়ে এই অনাথ আশ্রমে এসেছিলেন মমতা। আজ তিনি পোস্ট গ্রাজুয়েট করছেন। বলেন, ‘‌এখানে না এলে আমার ভবিষ্যৎ কী হতো তা জানতাম না। ওদের প্রতি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’‌ শুকতাল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুশীল শর্মা বলছিলেন, ‘‌আমরা তো সামান্য একটু জমি দিয়েছি মাত্র। কিন্তু বীরেন্দর ও মীনা যা করেছে তা অকল্পনীয়।’‌

ফিলিস্তিনিদের জেরুসালেম ছাড়তে বলল সৌদি আরব!

ফিলিস্তিনিদের জেরুসালেমের অধিকার ছাড়তে বলেছে ইসরাইলের মিত্র সৌদি আরব। সেই সাথে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য জেরুসালেমের পরিবর্তে অন্য একটি স্থানকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে বেছে নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছে আরব রাষ্ট্রটি। অধিকৃত জেরুসালেমের পাশেই ফিলিস্তিনের আবু দিস শহরকে এর রাজধানী হিসেবে বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি আরব। তবে সৌদি আরবের এ ধরনের প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের জনগণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেরুসালেমই আমাদের রাজধানী’ বলে হ্যাশটেগ দেয়া শুরু করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, গত মাসে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের রিয়াদ সফরকালে সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিমতীর ও গাজা অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা একটি আংশিক রাষ্ট্র পাবেন, যার ওপরে তাদের কেবল আংশিক সার্বভৌমত্ব থাকবে এবং পশ্চিমতীরে ইহুদিরা সংখ্যাগুরু হিসেবে থাকবে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, প্রস্তাবটিতে সাড়া দেয়ার জন্য সৌদি আরব আব্বাসকে দুই মাস সময় দিয়েছে। আবু দিস একটি দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমের কাছাকাছি ফিলিস্তিনি শহর। অসলো চুক্তি অনুসারে এটি বি ক্যাটাগরির একটি এলাকা যা ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ উভয় দ্বারা পরিচালিত হয়। এদিকে সৌদি আরবের সরকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়েরকে বরখাস্ত করে সেই পদে বাদশাহ সালমানের ছোট ছেলে প্রিন্স খালেদকে বসানো হচ্ছে। আরব বিশ্বের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে গতকাল প্রকাশিত হয়েছে খবরটি। একটি কূটনৈতিক সূত্র সৌদি রাজপরিবারের নতুন এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে মিডলইস্ট আইকে। এ ছাড়া লেবাননভিত্তিক আল-মাসদার নিউজ গত শুক্রবার এক রিপোর্টে বিষয়টি প্রকাশ করে। তারও আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএর বরাত দিয়ে এ খবরটি প্রকাশ করেছে আল ইত্তেহাদ নামে একটি আরবি সংবাদমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদশাহ সালমানের ছেলে ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স খালেদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের কলম্বাস বিমান ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এফ-১৫ বিমানের ফাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন সৌদি বিমান বাহিনীতে। বরখাস্ত হওয়া আদেল আল জুবায়ের সৌদি আরবের ইতিহাসে রাজপরিবারের সদস্য নয় এমন দ্বিতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৫ সালে তিনি প্রিন্স সৌদ আল ফয়সালের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। ইয়েমেন, কাতার ও লেবানন ইস্যুতে সৌদি আরবকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি সরকারকে। এর প্রতিক্রিয়ায়ই এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএসের সাথে যুদ্ধের সমপ্তি ঘোষণা ইরাকের

উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএসের সাথে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদী। টিভিতে দেয়া ভাষণে রোববার দেশটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে বিজয় মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে যে রক্তাক্ত লড়াইয়ের শুরু অবশেষে তার অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ চার বছর রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আইএসের কবল থেকে নিজেদের ভূমি পূর্নদখল করেছে ইরাকি সেনারা। সব এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে আসার পরই আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ইরাক। ইরাকের এই যুদ্ধজয়ের ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে রাশিয়ার সৈন্যরা সিরিয়ায় আইএসকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার কথা জানিয়ে বলেছে, সিরিয়ায় তাদের অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট অঞ্চল দখল করে সেই অঞ্চলে 'খিলাফত' প্রতিষ্ঠা করার দাবি করে আইএস। তবে গত দু'বছরে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো পরাজয় বরণ করেছে এই গোষ্ঠী। বিবিসি'র আরব অ্যাফেয়ার্স এডিটর সেবাশ্চিয়ান আশার মনে করছেন, ইসলামিক স্টেটের সাথে সরাসরি লড়াইয়ের সমাপ্তি হলেও মতাদর্শের লড়াই সহজে শেষ হবে না। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত হলেও, নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়ার জন্য, এখনো ছোটোখাটো মাত্রায় বিচ্ছিন্নভাবে আইএস যে বিভিন্ন সময়ে হামলা চালাতে পারে সেই আশঙ্কার কথাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ওদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদী বাগদাদে বলেছেন, "এই বিজয়কে সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। আর এ জন্য মুক্ত করা অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে এবং চাকরির সুযোগ তৈরি করতে হবে। এইসবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ও সত্যিকারের জাতীয় সমন্বয় সাধন করতে হবে।" ইসলামিক স্টেট যেনো নতুনভাবে আবারো মাথা চাড়া দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধের এই সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আইএসের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ চলবে।
আইএস-ইরাক যুদ্ধ নিয়ে কিছু তথ্য :
•জানুয়ারি ২০১৪: আইএস সৈন্যদের ফালুজা ও রামাদি দখল
•জুন ২০১৪: ছয়দিন যদ্ধের পর মসুল দখল করে আইএস
•২৯ জুন ২০১৪: আবু বকর আল-বাগদাদিকে খলিফা করে নিজেদের নাম ইসলামিক স্টেট ঘোষণা করে আইএস
•আগস্ট ২০১৪: সিঞ্জর দখল। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ সিঞ্জর পর্বতমালার দিকে আত্মগোপন করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আক্রমণ শুরু।
•মার্চ ২০১৫: ইরাকি সৈন্য ও তাদের শিয়া মিত্রবাহিনীর তিক্রিত পুনরুদ্ধার
•ডিসেম্বর ২০১৫: রামাদি পুনরুদ্ধার
•জুন ২০১৬: ফালুজা পুনরুদ্ধার
•অক্টোবর ২০১৬: ইরাকি সৈন্য, শিয়া মিলিশিয়া, কুর্দিশ সেনা ও আন্তর্জাতিক মিত্রবাহিনীর মসুল অবরোধ
•জুলাই ২০১৭: মসুল পুনরুদ্ধার
•ডিসেম্বর ২০১৭: আইএস'এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

‘ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না’

আরব লীগের এক জরুরি বৈঠকে আমেরিকার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবরান বাসিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জেরুসালেম আল-কুদসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে তিনি এ আহ্বান জানান। শনিবার কায়রোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাসিল বলেন, ‘ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে... কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা শুরু করতে হবে, এরপর রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তারপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।’ সারা বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জেরুসালেম আল-কুদসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তর করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার প্রতিবাদে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের এই বিপর্যয় কি আমাদেরকে (আরব সরকারগুলোকে) আমাদের ঘুম থেকে জাগাতে পারবে? জেনে রাখুন ইতিহাস কোনোদিনও আমাদের ক্ষমা করবে না এবং আমরা যা করছি তা নিয়ে আরব জাতিগুলো কোনোদিন গর্ব করতে পারবে না।’ আরব লীগের জরুরি বৈঠকে সংস্থার মহাসচিব আহমেদ আবুল-গেইত পূর্ব জেরুসালেম আল-কুদসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণা শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মার্কিন সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-জাফারি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধের উস্কানি’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রতিহত করার জন্য আরব দেশগুলোকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। বৈঠকে সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম গান্দুর ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানান এবং এই ঘোষণা বাস্তবায়ন রুখে দিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিউনিশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খামিস আল-জাহিনাভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুলকাহের মাসাহিল ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ প্রতিহত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আরব লীগের জরুরি বৈঠকে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদি বলেন, জেরুসালেম আল-কুদস মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে না। আরব লীগের জরুরি বৈঠকে সবচেয়ে নিস্ক্রিয় অবস্থান ঘোষণা করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন।
ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্পের সর্বোচ্চ সেবার নানা রহস্য
মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাস তথা জেরুসালেমকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বীকৃতি ঘোষণার পর ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ আবারও মুসলিম বিশ্বের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে গত বুধবার বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার ওই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর তেলআবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে আমেরিকার দূতাবাস স্থানান্তরের প্রস্তাব পাস করেছিল। কিন্তু সেই থেকে এ পর্যন্ত তথা ২২ বছর পর্যন্ত মার্কিন সরকারগুলো ওই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সাহস করেনি। বায়তুল মুকাদ্দাস তথা আলকুদসকে ইসরাইলের দখল করা ভূখণ্ড বলে মনে করে জাতিসংঘ। তাই এ দখলদারিত্ব পুরোপুরি অবৈধ। জাতিসংঘের প্রস্তাবে বায়তুল মুকাদ্দাসসহ ১৯৬৭ সালে ইসরাইলের দখল-করা সব ভূখণ্ড ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আর ইসরাইলের এমন একটি অবৈধ দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছেন বলে বিশ্বের বহু নেতা ও বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন। প্রশ্ন হল ট্রাম্প কেনো এমন একটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বর্তমান সময়কে বেছে নিলেন? ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন ছিল এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও পশ্চিম-এশিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি এবং মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতিও তার এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের গোপন যোগাযোগ ফাঁস হওয়ার কেলেঙ্কারিকে ম্লান করার চিন্তাও ট্রাম্পের এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। রাশিয়া বিষয়ক এই কেলেঙ্কারির কারণে ট্রাম্প ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যাপক চাপের শিকার হন এবং এর ফলে অনাস্থার শিকার হয়ে ট্রাম্প ক্ষমতা হারাতে পারেন বলেও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছিলেন। ট্রাম্প আগামী মার্কিন নির্বাচনেও রিপাবলিকান দলের বিজয় নিশ্চিত করতে এ দলের ভোট-ব্যাংক হিসেবে খ্যাত ইহুদিবাদী খ্রিস্টানদের ভোটও আকৃষ্ট করতে চান।
তাই জেরুজালেমকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইহুদিবাদী খ্রিস্টানদের খুশি করতে চেয়েছেন ট্রাম্প। কোনো কোনো আরব শাসকের বিশ্বাসঘাতকতাও ট্রাম্পকে মুসলিম-বিদ্বেষী ও ইসরাইল-বান্ধব এই পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ যুগিয়েছে। ট্রাম্প গত মে মাসে সৌদি আরব সফর করে সৌদি রাজাসহ এ অঞ্চলের কয়েকজন আরব শাসকের কাছ থেকে এ নিশ্চয়তা পান যে ওয়াশিংটন পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এবং এই পবিত্র শহরে আমেরিকার দূতাবাস স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলে এই আরব সরকারগুলো জোরালো কোনো প্রতিবাদ করবে না। কিন্তু বাস্তব বিষয় হল ইসরাইলি সম্প্রসারণকামীতার মোকাবেলায় ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুকে এখন পর্যন্ত জীবন্ত রেখেছে ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামী দলগুলো। সৌদি সরকারসহ বিশ্বাসঘাতক আরব শাসকদের কোনো ভূমিকা তাতে নেই। তাই আরব ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন তা নেভানোর ক্ষমতা তার নেই এবং এ আগুনেই পুড়ে মরবে নেতানিয়াহু ও তার দলবল। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক আত্মহননের সঙ্গেই তুলনা করেছেন ইসলামী ইরানের নেতৃবৃন্দ। তার এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি-অবস্থানকে অতীতের চেয়েও ব্যর্থ করে তুলবে এবং তা শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের পতন-প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলেও ইরানি নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেছেন।