Thursday, November 29, 2018
বাংলাদেশের নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক প্রয়োজন কেন -ডয়েচে ভেলে’র রিপোর্ট

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষমতা নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে সংশয় আছে। এমন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করে দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন নামমাত্র স্বাধীন। ক্ষমতাসীনদের লাইন থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়ার ঘটনা বিরল। সব সময়ই তারা ক্ষমতাসীন দলের অনুগত হয়ে কাজ করে।
তাই কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরপেক্ষতার ধারণা বদ্ধমূল করতে বিরোধীরা বার বার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সহায়তা চেয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধীরা দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে। বিরোধী রাজনীতিকরা বলেন, একটি ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসন নিশ্চিত করবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, যাতে সব দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। কিন্তু তাদের এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন দল ও দলটির নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও একই দাবি করেছিল বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করে। এতে সহিংসতায় নির্বাচন বিঘ্নিত হয়। কিন্তু এবার তাদের দাবি না মানা হলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
১৫ই নভেম্বর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশ ইস্যুতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তাতে একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমুলক জাতীয় নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এতে দেশবাসীকে তাদের ‘প্রকৃত রাজনৈতিক পছন্দ’ বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে এর মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতি পরিবর্তনশীল। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে কোনো পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য জোসেফ উইডেনহোলজার। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। তিনি ডয়েচে ভেলে-কে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে যেসব মৌলিক অধিকার থাকার কথা, যেমন বিনা বাধায় সমাবেশ করা, মিডিয়ার স্বাধীনতা ইত্যাদি, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ সেই অধিকার প্রদর্শন করে না। বিরোধীদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। সুষ্ঠু বিচারে যা যা প্রয়োজন তা থেকে ঘাতটি আছে এমন এক বিচারে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের জেল। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়। এমন সব পরিস্থিতিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের মিশনের উপস্থিতি তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না এবং তাদেরকে বিকৃত উদ্দেশে অপব্যবহার করা হতে পারে।
এর আগে ডয়েচে ভেলে-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিঙ্ক। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে হাতে সময় কম থাকার কথা বলেন। এ ছাড়া বাজেট ও নিরাপত্তাকে তিনি এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশেই স্থানীয় পর্যায়ের অনেক ভালো পর্যবেক্ষক আছেন। তারাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে চমৎকার কাজ করবেন হয়তো।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এমন সিদ্ধান্ত উদ্বেগের। ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, ‘যেহেতু ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনেক সদস্য ১৫ই নভেম্বর দৃঢ়তার সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, এটাই হলো দেশটির গণতান্ত্রিক গতিধারা ও আইনের শাসন নির্ধারণের শেষ সুযোগ’। তাই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা উচিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এবং তা করা উচিত অবিলম্বে। আলী রীয়াজ বলেন, মানবাধিকার, সুশাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই বাজেটের টানাপড়েনের কথা বলে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উড্র উইলসন সেন্টার ফর স্কলারসের মাইকেল কুগেলম্যানের কণ্ঠেও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি বলেন, সুস্পষ্টভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কারণ, তারা ধরে নিয়েছে নির্বাচন এতটাই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে যে, সেখানে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি হবে অতিরিক্ত। এটাকে আমি এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখি যাতে মনে হয়, এই নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতটাই সন্দেহপ্রবণ যে, তারা এতে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত পাঠানোর কথাও ভাবছে না। উপরন্তু, এ বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে যাওয়া হতে পারে একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর বিষয়।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ‘গুরুত্বপূর্ণ’
অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে শক্তিশালী পর্যবেক্ষক টিম পাঠিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৯৩ জন আন্তর্জাতিক ও ১৫৯১১৩ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ওই নির্বাচনে যেসব বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন তার বেশির ভাগই পাঠিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ওই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ। তারপর থেকেই দেশ শাসন করে চলেছে এই দলটি। কিন্তু ২০১৪ সালের একপেশে নির্বাচন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আলী রীয়াজ বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরাট এক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে, মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর। এ ছাড়া তাদের উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের আচরণের ওপরও প্রভাব ফেলে। এর ফলে জবাবদিহিতার একটি মেকানিজম সৃষ্টি হয় এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে।
বাংলাদেশের বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীনতার ঘাতটির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে কুগেলম্যান বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটিতে নির্বাচনকালীন অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রয়োজন। যদি এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় তাহলে এটা বলা খুব কঠিন হবে যে, বাংলাদেশ একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি। এ নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। তার অন্যতম হলো বিদেশি পর্যবেক্ষক হাতে রাখা।
কঠিন দিকনির্দেশনা
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতির যে আশা বিরোধীরা করেছেন তা ততই ম্লান হয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের পরে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাতে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃটেন। বিরোধী দলের একই দাবি জাতিসংঘও রাখে নি বলে রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে।
ইতিমধ্যে অর্থের সঙ্কটের কথা বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষক গ্রুপগুলোও তাদের পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ার মতে, দেশে ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে। পর্যবেক্ষক কমিয়ে আনার ফলে এতগুলো ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
ওদিকে নির্বাচন কমিশন নতুন দিকনির্দেশনা ঘোষণা করেছে। তাতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যবেক্ষকদের চলাফেরা (মুভমেন্ট) সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে তাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তা নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে ভোটের দিন ফেসবুক বা টুইটারে কোনো লাইভ বক্তব্য না দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। তাই ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য জোসেফ উইডেনহোলজার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে যাওয়া। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, ভোটার নিবন্ধন ও শনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারে।
(ডয়েচে ভেলে’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বন্ধু ছাড়া মানুষের জীবন কি খুব কঠিন?

যাদের ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ বলেছেন তাদের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই।
আবার এক তৃতীয়াংশও বলছেন কথা বলার মতো কেউ নেই বলে প্রায়শই তারা একা বোধ করেন।
যদিও অনেকে মনে করেন একাকীত্বের মতো বিষয়টি আসলে বয়স্কদের ওপরই প্রভাব ফেলে কিন্তু এই গবেষণা বলছে তরুণ প্রাপ্তবয়স্করাও এখন এ ধরণের সমস্যা অনুভব করেন।হ্যাজেল নামে একজন বলেছেন তিনি নতুন একটি এলাকায় আসার পর অন্তত তিন বছর কোনো বন্ধু তৈরি করতে পারেননি।
মাত্র বিশ বছর বয়সে বার্মিংহামে বড় হওয়া এ তরুণী অন্য একটি এলাকায় যান যেখানে তার স্বামী বাস করেন।
"অনেকেই আমাকে বলেছেন বন্ধু তৈরি করা সহজ কিন্তু আমি আসলে অনেক লড়াই করেছি"।
তিনি বলেন, "সবসময়ই এটা কঠিন মনে হয়েছে আমার কাছে। শৈশবে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাকে। আমি আসলে আমার সহোদরদের মতো ছিলাম না এবং সামাজিকভাবে মেশার বিষয়গুলো আমি ততটা শিখে উঠতে পারিনি"।
হ্যাজেল বলেন তিনি মনে করেন কিছু মানুষের মধ্যে এ বিষয়গুলো আসলে প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে ওঠে আর কিছু মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়।আস্থা পাওয়াটাই কঠিন
হ্যাজেল বিষয়গুলো নিয়ে তার স্বামীর সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান আসেনি।
"মানুষকে বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে উঠেছিলো। ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো হারাতে শুরু করলে আপনি আসলে আত্মবিশ্বাসটাই হারাতে শুরু করবেন"।
সবসময় একধরনের উদ্বেগের মধ্যে থাকতেন তিনি কিন্তু কখনোই চিকিৎসকের কাছে যাননি।
পরে অবশ্য তিনি যখন গর্ভবতী হয়ে পড়েন তখন এ অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে।
হ্যাজেলের জন্য মাতৃত্ব তাকে একাকীত্বের চক্র ভাঙ্গতে সহায়তা করেছে।
আবার সিমোনা ভারানিউট যখন লিথুনিয়া থেকে বেলফাস্টে যান এবং প্রথম ছয় মাস তার ভালোই কেটেছে।
"এটাই ছিলো আমার প্রথম কোনো দেশে যাওয়া। আমি ভাবলাম এসেছি এবং কয়েক সপ্তাহ থেকে বাড়ি ফিরে যাবো। বিষয়টা আমি পছন্দ করেছিলাম"।
তবে একাকীত্ব বিষয়টা অনুভব করেছিলাম পরে।
"আমি যেখানে থাকতাম সেখানকার লোকজন বন্ধু বৎসল। কিন্তু ঠিক বিশ্বাস করার মতো নয়"।
এবং তার সন্তান সেবাস্টিনের ছেলে জন্ম নেয়ার পর এটা আরও কঠিন হয়ে যায়।
সিমোনা অবশ্য বলছেন ছেলের সাথে সময়টা তার দারুণ কেটে যায়।
কিন্তু দিনের লম্বা সময়টা কাটানো ততটা সহজ ছিলোনা।
"মনে হতো চার দেয়ালের মধ্যে আটকে আছি।
আমি বসে না থেকে বাইরে যেতে চেয়েছি"।
পরে চ্যারিটি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হলে একটি কমিউনিটির সাথে তার যোগসূত্র গড়ে উঠে।
এখন তার পরামর্শ হলো, কোন নতুন পরিবেশে ভয় পাওয়া বা সাহায্য চাইতে লজ্জিত হওয়া উচিত নয়।
সূত্রঃ বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমনি যায় না, আবার তেনা পেঁচাইয়া? by শামীমুল হক

মধুর স্মৃতি। ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি। চোখ বুঝলেই নানা স্মৃতি তাড়া করে। ফিরে যাই ছোট বেলায়। ভাবি কেন যে বড় হলাম। ছোট থাকাটাইতো ভালো ছিল। কিন্তু তাতো হবার নয়। প্রকৃতির নিয়ম। বড় হতে হবে। এভাবে দিন ফুরিয়ে যাবে। মিশে যাব মাটির সঙ্গে। তখন আমিই হয়ে যাব অনেকের স্মৃতি।
যাক ফিরে যাই আমার স্মৃতিতে। আমার এক স্বজনের পুত্র সন্তান হয়েছে। তিনি পুত্রের নাম রাখা অনুষ্ঠান করবেন। গ্রামের ভাষায় যাকে বলে ছইট্টা। ওই দিন প্রথম শিশুর মাথার চুল ফেলা হয়। রাতে শিশু সন্তানের নাম রাখা হয়। এ সময় তার হাতে টাকা তুলে দেয়া হয়। যেন বড় হয়ে ওই শিশু টাকাওয়ালা হয়। স্বর্ণ, রুপাও তুলে দেয়া হয়। নজর যেন না লাগে কপালে দেয়া হয় টিপ। সারা রাত এসব করে কাটানো হয়। তো সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে আমাদের। গ্রামের অন্য মহল্লায় যেতে হবে। আমি আর আমার বড় বোনকে মা পাঠালেন দুপুরে খাওয়ার জন্য। আমরা দুজনই এক ক্লাসে পড়তাম। বয়স তখন নয় দশ বছর হবে। যাওয়ার সময় মা একশ’ টাকা আপার হাতে দিয়ে বললেন, খাবার শেষে নবজাতকের হাতে এই একশ’ টাকা দিয়ে দিও। আমরা গেলাম। অনেকের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করলাম। পরে শিশুকে দেখে যখন টাকা দিতে যাবে তখন আপা দেখে তার কোমরে সালোয়ারের ভাঁজে গুঁজে রাখা টাকা নেই। মুখ কালো দেখে আপাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে? তিনি বললেন, টাকা পাচ্ছি না। দুই ভাই বোনে অনেক খুঁজলাম। পেলাম না। কি আর করা? সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এর আগে বাড়ি না গেলে মা বকবে। তাই বাড়ির দিকে ছুটলাম। বাড়ির কাছাকাছি এসে আপা লুকিয়ে গেলো। আমি বাড়িতে প্রবেশ করলেও তিনি আসলেন না। মা জিজ্ঞেস করলেন আপার কথা। বললাম এক সঙ্গেইতো আসলাম। উনি কোথায় গেলেন? মা জানতে চাইলেন ওই বাড়িতে কিছু হয়েছে কিনা? কিছু বলছি না। মা বুঝে গেলেন। বললেন, কি হয়েছে বল? তখন টাকা হারানোর কথা বললাম। মা বললেন, তাতে কি হয়েছে? তাই বলে ওকে লুকিয়ে থাকতে হবে। মা বেরিয়ে পড়লেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে আরেক বাড়ির দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকা আপাকে বের করে আনলেন। ঘরে এনে বললেন, আর কখনো এমন করবে না। টাকা হারিয়ে গেছে বলে বাড়ি আসবে না। এটা হতে পারেনা। কাল গিয়ে আমি টাকা দিয়ে আসব। একই সঙ্গে বললেন, তোমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারনি। তোমাদের উপর দেয়া দায়িত্বে অবহেলা করেছ। দায়িত্বের দিকে তোমাদের মনযোগ ছিলনা। তাই এমনটা হয়েছে। আমরা দুই ভাইবোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এখন বুঝি সত্যিই সেদিন আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।
ছোট সময়ে দেখতাম গ্রামের ঘরে ঘরে হুক্কা। কেউ বেড়াতে এলে আগে তাকে হুক্কা দিতে হতো। হুক্কা টানতো আর কথা বলতো মুরব্বিরা। হুক্কার জন্য বাজার থেকে তামাক আনা হতো। এ তামাকের সঙ্গে মেশানো হতো রাব। মেশানো হতো নানা সুগন্ধি। এক বাড়িতে তামাক খেলে দশ বাড়ি খবর হতো। গন্ধে মোহিত হতো এলাকা। তামাক খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি তখন টিক্কা দেয়া হতো। উঠানে পাটি বিছিয়ে টিক্কা দেয়া হতো। সে টিক্কা রোদে শুকানো হতো। তারপর ড্রাম ভরে রাখা হতো। নানা ধরনের হুক্কা ছিল। কেউ চেয়ারে বসে পাইপের মাধ্যমে টেনে হুক্কা খেতেন। এ হুক্কার পানির রাখার জায়গা ছিল পিতলের। আবার কেউ সরাসরি হুক্কা টানতেন। বিশেষ করে বেশিরভাগ হুক্কার নিচের দিকটা তৈরি হতো নারকেলের মালা দিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হতো একটি কাঠের লম্বা টুকরা (নইছা)। যার মাঝে ফাঁকা থাকত। উপরে থাকত তামাক রাখার জন্য মাটি দিয়ে তৈরি কলকি। ওই কলকিতে রাখা হতো তামাক। এর উপর দেয়া হতো টিক্কা। যে টিক্কা আগুনে গরম করে আনা হতো। হুক্কার টানের সঙ্গে সঙ্গে টিক্কাও আস্তে আস্তে জ¦লত। আর টিক্কার আগুনে পুড়ত তামাক। টানের সঙ্গে বের হতো ধোঁয়া। হুক্কার নিচের সেই নারকেলের মালায় দেয়া হতো পানি। ধোঁয়া পানিতে ফিল্টার হয়ে পাইপ দিয়ে মুখে যেত। কিংবা সরাসরি টানলেও পানিতে ফিল্টার হয়ে ধোঁয়া মুখে যেত। প্রতিদিন সকালে বাড়ির বউ-ঝিরা সেই হুক্কার পানি ফেলে নতুন পানি ভরত। পানি ফেলার সময় দেখা যেত তামাকের বিষে সেই পানির রং কালো হয়ে যেত। কখনো কখনো দেখা যেত হুক্কা পুরনো হয়ে গেলে কাঠের লম্বা টুকরা (নইছা) ঢিলা হয়ে যেত। তখন ওই কাঠের টুকরায় কাপড়ের ছেঁড়া অংশ যাকে স্থানীয় ভাষায় তেনা বলে তা পেঁচিয়ে বসানো হতো। একদিন এক বাড়িতে পানি পরিষ্কার করতে গিয়ে হুক্কার নিচের অংশ থেকে নইছা খুলে পড়ে। গৃহবধূ অনেক চেষ্টা করছেন নইছাটি ফাঁকা জায়গায় বসাতে। কিন্তু কোন ভাবেই ঢুকাতে পারছেন না। এক সময় গৃহবধূ এক টুকরা তেনা পেঁচিয়ে কাঠের টুকরা বসাতে যান। এখনতো একেবারেই যাচ্ছে না। এ সময় বাড়ির গৃহকর্তা বলেন, এমনি যায় না, আবার তেনা পেঁচাইয়া?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ক্ষমতাসীনদের কথা হলো তোমার ভোটও আমি দেবো’ -শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা এবং নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাতো চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হোক। তাহলে আমরা নির্বাচনী মাঠে খেলতে পারব।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে কি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এমন প্রশ্নে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব এটাই হলো নির্বাচনের মূল কথা। আমাদের কাম্য সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে দেয়, মানুষের অধিকার ফেরত দেয়, ভোট দেয়ার অধিকার দেয়, ভোট গনণার অধিকার দেয় এবং প্রিজাইডিং অফিসার লিখে কাগজ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে বেরিয়ে আসে তারপরে নির্বাচনে যদি তারা জিতে সেটা খুব ভালো কথা। তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই। এটাই হচ্ছে প্রকৃত নির্বাচন। এমন নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি কেমন হবে আমার জানা নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1361)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...