Saturday, April 30, 2016

গুডলাককে জয়ী ঘোষণা উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক দাঙ্গা

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনকে জয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার খবরে দেশটির মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অনেক লোক এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রার্থী গুডলাক জোনাথন ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। গত সোমবার রাতে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জোনাথন পেয়েছেন দুই কোটি ২৫ লাখ ভোট। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক শামরিক শাসক মুহাম্মাদু বুহারি পেয়েছেন এক কোটি ২২ লাখ ভোট।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, যুক্তিযুক্তভাবেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু বুহারির সমর্থকেরা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
গুডলাক জোনাথন নাইজেরিয়ার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও এড়ানোযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় স্বার্থে বিরোধীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থেই সহিংসতা বন্ধ করা উচিত। তাই আমি সব রাজনৈতিক নেতা, বিশেষত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি তাঁদের সমর্থকদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানোর অনুরোধ করছি।’
এদিকে রেডক্রস জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়েছে। নাইজেরিয়ায় রেডক্রসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ক উমর আবদুল জানান, তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে সহিংসতায় অনেক লোক বিশেষত কাদুনা, কাতসিনা ও জাম্ফারায় নিহত হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, কানো শহরে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর হারিয়েছে। অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।
কানো শহরে যেসব বাড়িতে জোনাথনের ছবিসংবলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেসব বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সড়কগুলোতে যুবকেরা দল বেঁধে বুহারির সমর্থনে স্লোগানও দেয়।
কাদুনা শহরে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া কাদুনার উত্তর ও দক্ষিণের এলাকাগুলোতে জোনাথনবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাজা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

বিরল সফরে কাশ্মীর গেলেন মনমোহন

মনমোহন সিং
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল মঙ্গলবার বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর সফরে গেছেন। জঙ্গি হামলায় আট সেনা নিহত হওয়ার পরদিন এ সফরে গেলেন তিনি। কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সফর তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা। সর্বশেষ ২০১০ সালের জুনে তিনি এ রাজ্য সফর করেন।  দুই দিনের এ সফরে মনমোহনের সঙ্গে আছেন ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সফরকালে তাঁরা সেখানকার বড় কিছু নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন এবং উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের মধ্যে স্থাপিত রেল সড়কের একাংশের উদ্বোধন করবেন। মনমোহনের সফরের প্রতিবাদে প্রধান তিনটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গতকাল ধর্মঘট পালন করে। ২০০১ সালে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আফজালগুরুকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফাঁসি দেওয়ার পর থেকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এএফপি।

এক ঘণ্টায় উত্তর কোরিয়ার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ

উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার দুটি মাঝারিপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং দুটিই ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার রয়টার্সকে জানায়, উত্তরের পূর্বাঞ্চলে উপকূলীয় শহর ওনসান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যম পাল্লার (৩০০০ কিমি.) একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। এর পৌনে এক ঘণ্টা সময় পর দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু সেটিও ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট এ ঘটনা ধারন করেছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহ্যাপ। চলতি মাসের শুরুতে একটি ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর তাড়াহুড়ো করেই বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলে বিবিসিকে নিশ্চিত করেন সিউলের একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ। এর আগে ১৫ এপ্রিল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি।
তবে এবারের পরীক্ষা সফল হলে এ ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হবে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বা উৎক্ষেপণ করতে গিয়ে ব্যর্থতার বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে গত মাস থেকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবিষয়ক কর্মকাণ্ড স্যাটেলাইট ইমেজে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য দেশটির একমাত্র রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন উপলক্ষে শক্তি প্রদর্শন করতে তারা এ মহড়া চালাচ্ছে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, দীর্ঘ ৪০ বছর পর এ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের আগে তারা পঞ্চম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে চতুর্থ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়ে উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জাতিসংঘ
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর দেশটির বিরুদ্ধে করণীয় নিয়ে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৃহস্পতিবার পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। চীনে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত লিউ জিয়ে শুক্রবার সিনহুয়াকে এ তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লংঘন। এটা গভীরভাবে সমস্যা তৈরি করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত জাপানের দূত মোতোহিদ ইয়োশিকাওয়া বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির।
পিয়ংইয়ংবিরোধী লিফলেট ছেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মীরা শুক্রবার বেলুনে করে পিয়ংইয়ংবিরোধী লিফলেট ছাড়া শুরু করেছে। কড়া সামরিক প্রহরাবেষ্টিত দক্ষিণ কোরিয়ার পাজু সীমান্ত থেকে গ্যাস বেলুনে করে তিন লাখের মতো লিফলেট ছাড়ে তারা। শুক্রবার ছাড়া কিছু বেলুনে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রতিকৃতি ও জংবিরোধী স্লোগান রয়েছে। এসব স্লোগানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা উৎখাতের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর থেকে পাজু সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা চলছে। এদিকে এর আগেও এ ধরনের লিফলেট ছাড়ার পর পিয়ংইয়ং সবসময়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে। এমনকি দেশটি যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিশোধ নেয়ারও হুমকিও দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এমনকি কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিরোধীদের দাতভাঙা জবাব দিতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উত্তর কোরিয়া পঞ্চম পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে।

ক্লাব কাপ হকির সেমিতে মোহামেডান

মার্সেল ক্লাব কাপ হকিতে টানা তিন জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। ওয়ারী ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের পর এবার সোনালী ব্যাংককে হারিয়েছে তারা। শুক্রবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সোনালী ব্যাংককে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় মোহামেডান।
জয়ী দলের রুবেল হোসেন, রাসেল মাহমুদ জিমি ও দ্বীন ইসলাম দুটি করে এবং কামরুজ্জামান রানা একটি গোল করেন। সোনালী ব্যাংকের অজিত এক গোল শোধ দেন। একই দিনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবও। তারা ৫-০ গোলে হারায় ওয়ারী ক্লাবকে। জয়ী দলের বেলাল ও সোহেল দুটি করে এবং হোসেন মোবারক সুমন একটি গোল করেন।

ফের শাকিব-অপু বিরোধ!

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নাম্বার ওয়ান খ্যাত চিত্রনায়ক শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের মধ্যে ফের মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। গেল সপ্তাহে শাকিবের সঙ্গে ‘বসগিরি’ নামে একটি ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার কারণে এ গুঞ্জনের সৃষ্টি। জানা গেছে, শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত বসগিরি ছবিটির শুটিং শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। শাকিব কলকাতা থেকে ফিরে এলেই শুটিং শুরু হবে। এর মধ্যেই অপু ছবি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর কারণ হিসেবে নির্মাতা জানিয়েছেন, অপু নাকি নিজের ফিটনেস ঠিক করছেন। তার হাতে সময় নেই। যদিও নির্মাতার এমন বক্তব্যের সঙ্গে অপুর সাম্প্রতিক ব্যস্ততার কোনো মিল নেই। হাতে সময় না থাকার কথা বললেও নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন তিনি। এমন খবরও রটেছে চিত্রপাড়ায়।
তাও আবার শাকিবের বিপরীতে। আসছে ঈদের পরপরই ছবিটির শুটিং শুরু হবে বলে নির্মাতা রাজু চৌধুরী জানান। যদিও ছবিটিতে তিনি এখনও চুক্তিবদ্ধ হননি। একই জুটি এ পরিচালকের ‘শুটার’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করছেন। শাকিব দেশে ফিরলে এ ছবিটির শুটিং শুরু হবে। পাশাপাশি নতুন ছবিতেও শাকিবের বিপরীতে অপু অভিনয় করবেন বলে কথা দিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন জাগে, শাকিবের সঙ্গে যদি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় তাহলে নতুন ছবিতেও তার বিপরীতে কেন অভিনয় করা? বিষয়টি প্রসঙ্গে অপুর কাছে জানতে চাওয়া হলে শোনা যায় ভিন্ন কথা। মূলত শাকিবের সঙ্গে তার কোনো দূরত্ব নেই। ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই তিনি বসগিরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাছাড়া ছবির নির্মাতার ব্যাপারে কিছুটা সন্দিহান রয়েছেন তিনি। মুখে স্বীকার না করলেও কথার সুরে এমন ইঙ্গিতই মিলেছে। অন্যদিকে দেশে ফিরে এ ব্যপারে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে কলকাতা থেকে শাকিব জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল

বাংলাদেশ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছে এমনটা দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন মুখপাত্র মার্ক সি টোনার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৃহস্পতিবারের ফোনের প্রেক্ষিত্রে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন টোনারের কাছে। তার জবাব দিতে গিয়ে উপরের ওই মন্তব্য করেন মার্ক সি টোনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড-গুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব মানুষ ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করা হয় তাদেরকে সুরক্ষা দিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টা দিগুন করার আহ্বান জানান তিনি। এখানে ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশ অংশ তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে?
উত্তর: বাংলাদেশ নিয়ে।
প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছেন। আমি মনে করি সাম্প্রতিক হামলাগুলোর জন্য কে দায়ী এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কিছুটা ভিন্ন মত আছে। ওই ফোনকলের সময় কি এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
উত্তর: ভাল কথা। আমি জানি, এ সপ্তাহে আমাদের একজন কর্মচারী ও মানবাধিকার কর্মীকে তার বন্ধু ও সহকর্মীসহ হত্যা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে এটি সহ সাম্প্রতিক হত্যাকা-গুলোতে চলমান তদন্তের বিষয়ে ওই ফোনকলে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রস্তাব করেছেন জন কেরি। এই হত্যাকা- সহ সাম্প্রতিক অন্য হত্যাকা-গুলোর পূর্ণ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসব মানুষ, যারা ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করা হয়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ দ্বিগুন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: এসব হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইসিস ও তালেবান। বাংলাদেশের ভিতরকার পরিস্থিতি কতটা সিরিয়াস? কারণ, বাংলাদেশী সরকার বলছে, এসব হামলার নেপথ্যে দায়ী হলো বিরোধী দলগুলো।
উত্তর: এসব দায় স্বীকারের বিষয়ে আমি অবগত। পরিস্থিতি খুবই জটিল। দেখুন, আমি বলতে চাইছি, সরকার এসব হামলা, নৃশংস হামলা ও নৃশংস হত্যাকা-ের তদন্ত করুক এবং জড়িতদের চিহ্নিত করুক। যেহেতু দায় স্বীকারের বিভিন্ন দাবি আছে সে ক্ষেত্রে আমি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না। এসব দায় স্বীকারকে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। তবে সুস্পষ্ট বিষয় হলো, বাস্তবক্ষেত্রে হুমকি রয়েছে। আমরা গত কয়েক সপ্তাহে দেখেছি বেশ কতগুলো নৃশংস হত্যাকা-। তাই আমরা এখন দেখতে চাই, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।

গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট খালি

এক বছরের বেশি সময় ধরে নতুন অ্যাপার্টমেন্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার সম্পূর্ণ প্রস্তুত অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে আছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎসংযোগের অভাবে ৭০০-র বেশি নতুন প্রকল্পের আরও প্রায় ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্টের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান শেলেটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ এ তথ্য দিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট কিছুটা কাটানোর জন্য বাসাবাড়িতে প্রি-পেইড মিটার বসানোরও সুপারিশ করেন তৌফিক এম সেরাজ। এতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় বন্ধ হবে এবং নতুন নতুন অ্যাপার্টমেন্ট ও বাসায় গ্যাসের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর পশ্চিম পান্থপথে শেলেটকের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৌফিক এম সেরাজ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের নির্মাণশিল্পের ধ্বংসের আশঙ্কা ও সমাধানের সুপারিশমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় শেলেটকের পরিচালক (উন্নয়ন) তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তৌফিক এম সেরাজ আরও বলেন, ১২ হাজারের বেশি ক্রেতা বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেছেন। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় তাঁরা এসব অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতে পারছেন না। ফলে এসব ক্রেতাকে একদিকে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ প্রতি মাসে ৪৫ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে।
আবার প্রবাসীদের কাছে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি কমে যাওয়ায় ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কমে গেছে। বিগত মাসগুলোয় অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি ৩৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তৌফিক এম সেরাজ বলেন, শেয়ারবাজারের মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণে ৩২ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের অনেকেই মুনাফার টাকা বাসস্থানের জন্য ব্যয় করেন। কিন্তু বর্তমানে মুনাফা তো দূরের কথা, মূলধনই অনেক কমে গেছে। এ ধরনের ক্রেতাসাধারণ নিকট-ভবিষ্যতে আর বাসস্থানের জন্য অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রবাসী ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
তৌফিক এম সেরাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আবাসন খাতে বিপর্যয় হলে এ খাতের সঙ্গে জড়িত টাইলস, সিমেন্ট, এমএস রড, ইট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাব ইত্যাদিসহ আরও অনেক সংযোগশিল্পের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সিডন্সের সঙ্গী সাফল্য আর ভালোবাসা

দেশে কবে ফিরবেন এখনো ঠিক হয়নি। বিসিবির সঙ্গে লেনদেন বাকি। সাংসারিক গোছগাছও করতে হবে। সব সেরে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে ফিরতে এ মাসের ২০-২২ তারিখ। তবে যখনই বাংলাদেশ ছাড়বেন, জেমি সিডন্সের সঙ্গী হবে সাফল্য। সঙ্গী হবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের স্বাক্ষর করা একটা ব্যাট। কাল ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই ভালোবাসার উপহার। একই উপহার পেয়েছেন বিদায়ী ফিল্ডিং কোচ জুলিয়েন ফাউন্টেনও।
বিদায় সব সময়ই বেদনার। প্রায় চার বছরের সঙ্গী সিডন্সকে বিদায় দিতে গিয়েও বাষ্পরুদ্ধ হলো সাকিব-তামিমদের কণ্ঠ। ভিজে উঠল চোখ। ড্রেসিংরুমে বিদায়ী কোচকে দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানালেন সাকিব-তামিম-মাশরাফি-শাহরিয়ার। কোচ বললেন, না পাওয়ার চেয়ে এই দলটার কাছ থেকে পেয়েছেনই বেশি। বিশ্বকাপে ৫৮ আর ৭৮-এর জ্বালা তিনি ভুলে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচের ২৯৫-এ। বিদায়ী উপহার হিসেবে এই ইনিংসটারও প্রশংসা করলেন ২০০৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়া সিডন্স।
কোচ হিসেবে জেমি সিডন্স সব সময়ই ছিলেন ক্রিকেটারদের পাশে। বিশ্বকাপে ৫৮-৭৮-এর লজ্জার পরও ক্রিকেটারদের সবার আগে সাহস দেওয়া লোকটির নাম জেমি সিডন্স। বিদায়ের দিনেও বলে গেলেন, ‘আমার হাতে কোনো সাঙ্গাকারা-পন্টিং ছিল না। এই দলের খেলোয়াড়েরা সবাই এখনো বয়সে ছোট। ২২-২৩ বছর বয়স হবে। তাদের আরও সময় দিতে হবে। নির্দয়ভাবে নেতিবাচক সমালোচনা না করে এই দলটার পাশে থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি সিডন্স এতটাই ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন যে, মন থেকেই চেয়েছিলেন এই দেশে আরও কয়টা দিন থেকে যেতে। বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে শেষ দিকে এসে একদিন এই প্রতিবেদকের কাছে বলেছিলেন সেই আবেগের কথা, ‘আমি বাংলাদেশে থাকতে চাই। আমার স্ত্রী-সন্তানেরা এখানে মানিয়ে নিয়েছে। আমিও এখানে তাদের প্রচুর সময় দিতে পারছি। যেখানেই যাই না কেন, সংসার থেকে বাইরে বাইরেই বেশি থাকতে হবে। আমি ওই জীবনটা উপভোগ করি না।’
সেই জেমি সিডন্সও চলে যাচ্ছেন। চলে যাচ্ছেন কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, এটাই পরিবর্তনের সময়। হয়তো তাই। এরপর হয়তো আবার কোনো সিডন্স আসবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গী হয়ে একসময় তিনিও চলে যাবেন সময়ের দাবি মেটাতে। যাওয়ার বেলায় অস্ট্রেলিয়ান কোচ সিডন্সের সুখস্মৃতি হচ্ছে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০তে সিরিজ হারানো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়। বাংলাদেশ দলে রেখে যাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিব-তামিমের কথাও বললেন আলাদা করে, ‘আমি খুব খুশি যে বাংলাদেশ দলে সাকিব-তামিমের মতো দুজন বড় ক্রিকেটার রেখে যেতে পারছি। তবে বাংলাদেশের এর চেয়ে ভালো ক্রিকেটার প্রয়োজন।’
এখন পর্যন্ত তেমন কোথাও থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব আসেনি। দেশে ফিরে আপাতত তাই অবসরই কাটাবেন সিডন্স। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছেন বিদায়ী কোচের, ‘সব সময়ই তাঁর চিন্তা ছিল আমাদের নিয়ে। তার পরও তিনি হয়তো চলে যাবেন...ক্রিকেটে এটাই নিয়ম। তাঁর কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ভবিষ্যতের পথে এসব আমাদের কাজে লাগবে। আমরা তাঁর সাফল্য কামনা করি।’ সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে না নামলেও শেষ ম্যাচে কোচকে একটা ভালো কিছু উপহার দেওয়ার ইচ্ছা মনে মনে সবারই ছিল বলে জানিয়েছেন সাকিব, ‘সবার ভেতরই ইচ্ছাটা ছিল। এই ম্যাচটা ভালোভাবে শেষ করতে পারলে ভালো হয়। শুরুটা খারাপ করলেও আমার মনে হয়, শেষটা আমরা ভালোভাবে করতে পেরেছি।’
সিডন্সের মতো কাল বিদায় ঘটেছে আরও একজনের। ১৯৯৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে থাকা স্টিভ বার্নার্ডেরও কাল শেষ ম্যাচ ছিল ম্যানেজার হিসেবে। এত লম্বা সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলটির সঙ্গে থেকে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বার্নার্ড। বিদায়বেলায় নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে ধন্যবাদ পেয়েছেন ম্যানেজার।
ক্লার্কের কথায় প্রশংসা ছিল বাংলাদেশ দলের জন্যও। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়তে পারবে না। বিশেষ করে এই কন্ডিশনে তারা খুবই ভালো দল।’
বিদায়ী ম্যাচে এটাও বোধ হয় জেমি সিডন্সের একটা অর্জন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান, সেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক তাঁর রেখে যাওয়া দলটাকে দিলেন তাদের প্রাপ্য সম্মান।

এল ক্লাসিকো—ইউরোপের ফুটবলে এই দুটি শব্দ এখন বহুল উচ্চারিত। হবে না-ই বা কেন! সামনে যে রিয়াল-বার্সার চার-চারটি ধ্রুপদি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
স্প্যানিশ লিগের ফিরতি ম্যাচ আর কোপা ডেল রে ফাইনাল তো আছেই। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে দুই দলই বড় জয় পেয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়াটা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। রিয়াল-বার্সেলোনা সেমিফাইনালের পথে বাধা হতে টটেনহাম ও শাখতার দোনেৎস্ককে শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে অলৌকিক কিছু করতে হবে। সেই আশা প্রায় শূন্যের কোঠায় বলে এসে যাচ্ছে আরও দুটি এল ক্লাসিকো। পাঁচ-পাঁচবার মুখোমুখি রিয়াল-বার্সা। এ যেন এল ক্লাসিকোরই মৌসুম!
ধ্রুপদি ম্যাচের জ্বরে ফুটবল রোমান্টিকেরা কাঁপছে ঠিকই, তবে দুই যুযুধান শিবিরে আপাতত এটা নিয়ে ভাবনা নেই। তাদের ভাবতে হচ্ছে এ সপ্তাহের লিগ ম্যাচ নিয়ে। দুটি দলই মাঠে নামছে আজ। রিয়াল মাদ্রিদ খেলতে যাবে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের মাঠে, আর বার্সেলোনা ন্যু ক্যাম্পে খেলবে আলমেরিয়ার বিপক্ষে।
রিয়াল-বার্সা এবার যেন অঘোষিত একটা লড়াইয়ে অবতীর্ণ—দলীয় শক্তিকে প্রবলভাবে তুলে ধরা! প্রায় প্রতি ম্যাচ দিবসেই দুই দলের মধ্যে চলছে এই প্রতিযোগিতা। রিয়াল প্রতিপক্ষকে ৪ গোলে উড়িয়ে দিল তো বার্সা তাদের প্রতিপক্ষের জালে দিল ৫ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগেই যেমন ঘটল। আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদ টটেনহামকে ৪-০ গোলে হারাল নিজের মাঠে। পরদিন বার্সেলোনা ন্যু ক্যাম্পে ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎস্ককে উড়িয়ে দিল ৫-১ গোলে।
আজও কি এই লড়াইটা দেখা যাবে? রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামছে বার্সার ২ ঘণ্টা আগে। আবারও তাহলে রিয়ালকে বার্সেলোনা দেখিয়ে দেবে তাদের শক্তি?
এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরে নিজেদের সেরাটা দেখানোর প্রত্যয় চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ম্যানইউর কাছে পরাজয় (১-০) ভুলে প্রিমিয়ার লিগে নতুন করে শুরু করতে চায় চেলসি। তাদের এই আকাঙ্ক্ষার সামনে পড়ছে উইগান। ম্যানইউ চেলসির বিপক্ষে জিতলেও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি। আজ ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফুলহামের বিপক্ষে সেটা পারবে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল?
ম্যানইউ-চেলসির এই পারা না-পারা থাকল ইংলিশ লিগে। ইতালির সিরি ‘আ’তে সবাই তাকিয়ে আছে শুধুই ইন্টার মিলানের দিকে। সবারই এক প্রশ্ন—ইন্টার মিলান কি পারবে শালকের কাছে ৫-২ গোলে পরাজয়ের হতাশা ভুলে নিজেদের ফিরে পেতে? সান সিরোতে প্রতিপক্ষ পয়েন্ট তালিকার ১৩তম দল শিয়েভো হলেও আজ তাই বড় পরীক্ষাই ইন্টারের।

আবৃত্তি সন্ধ্যা ‘মঙ্গলালোক’ অনুষ্ঠিত

আবৃত্তি করছেন এ কে এম সামছুদ্দোহা
মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে উদার আলোক মাঝে, উন্মুক্ত বাতাসে’-এ স্লোগানকে সামনে রেখে বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী এ কে এম সামছুদ্দোহার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘মঙ্গলালোক’ অনুষ্ঠিত হলো শুক্রবার সন্ধ্যায়। কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আবৃত্তি পরিবেশনায় ৪৭-এর দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও দেশপ্রেমের ওপর বিভিন্ন কবির লেখা ২০টি কবিতা দৃশ্য কল্পের পরম্পরায় সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ‘অন্তর মম বিকশিত কর’ কবিতার দলীয় আবৃত্তির মাধ্যমে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সৃজন সেনের ‘মাতৃভূমির জন্য’, মাহাবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলার গান গাই’, নির্মলেন্দু গুণের ‘হুলিয়া’, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহের ‘লাশ গুলো আবার দাঁড়াক’ সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এ কে এম সামছুদ্দোহা এবং সবশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘ত্রাণ’ পরিবেশন করে আবৃত্তি প্রযোজনার ইতি টানেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সংবৃতার সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আহ্কাম উল্লাহ্ ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। আবৃত্তিপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ছিল এ কবিতা পাঠের আসর।

হেমার মালিনীর টুইটে দীপিকার বাগদানের খবর!

ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীর একটি টুইট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। ওই টুইটে বেশ খুশিই হয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোনের ভক্তরা। কারণ টুইটটি ছিল দীপিকার বাগদানের জন্য শুভেচ্ছা জানানোর খবরসংক্রান্ত। এ খবরে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ও ‘বাজিরাও মাস্তানি’ তারকার ভক্তরা বেশ খুশিই হয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরে বোঝা গেল এই দীপিকা নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন নন, তিনি হেমার মালিনীর টুইটারের একজন অনুসারী। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, হেমা মালিনি একটি টুইট করেন। সেখানে বাগদানের জন্য দীপিকাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। টুইটে হেমা মালিনী লেখেন, ‘দীপিকা, তোমার বাগদানের জন্য শুভকামনা। তোমাদের দুজনের জীবন সুখের হোক; ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক আর আনন্দে ভরে উঠুক তোমাদের জীবন।’ এ টুইট করার সঙ্গে সঙ্গে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দীপিকার বাগদানের খবর প্রচারের দুই ঘণ্টার পর হেমা মালিনী পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তবে ততক্ষণে টুইট-রিটুইট চলতেই থাকে। এই দীপিকা সেই নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন নন, হেমার এ টুইটে সামাজিক যোগাযোগে ঝড় থামে। ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরোচ্ছে যে ‘রাম লীলা’ জুটি রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন এখন নাকি ডেটিং করছেন। তবে এই মুহূর্তে দীপিকা দেশের বাইরে থাকায় বাগদান সম্পর্কে তার মত পাওয়া যায়নি।

কাল বিপাশার বিয়ে

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিপাশা বসুর বিয়ের তত্ত্বের ছবি
বলিউডের অভিনেত্রী বিপাশা বসু আগামীকাল ৩০ এপ্রিল বসছেন বিয়ের পিঁড়িতে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তাঁর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালি রীতিতে বিয়ের সব তত্ত্ব সাজিয়ে দিনের শুরুতেই হয়েছে পূজা। এরপর সন্ধ্যায় সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিপাশার মুম্বাইয়ের বাড়িতে। দীর্ঘদিন প্রেমের পর বিপাশা বসু বিয়ে করছেন তাঁর অ্যালোন ছবির সহ-অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারকে। বিপাশার বন্ধু ফিটনেস ট্রেইনার ডিয়ানা পান্ডে গতকাল ইনস্টাগ্রামের একটি ছবি দিয়ে জানান দেন বিপাশার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর। আজ হবে বিপাশা-করণের মেহেদি অনুষ্ঠান। আগামীকাল বাঙালি রীতিতে উলুধ্বনি ও শাঁখ বাজিয়ে হবে বিয়ে।

সবার আগে নাচ

অপি,চাঁদনী,বিজরী,নাদিয়া
আজ ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। নৃত্যশিল্পীদের জন্য আজকের দিনটি এক বিশেষ পাওয়া। নাচ একজন শিল্পীর জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা জানতেই কথা হলো খুব পরিচিত কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে—যাঁরা অভিনেত্রী, কিন্তু তারও আগে তাঁরা নৃত্যশিল্পী
নাচ তো জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে
অপি করিম
নাচ সব সময়ই আমার কাছে অভিনয়ের আগে। নাচ শিখেছি সেই ছোটবেলায়। নাচ তো জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে এখন নিয়মিত নাচ করা হয় না। খুব মিস করি। যে জিনিসটা বেশি মিস করা হয়, সেটাই কিন্তু একজন মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে। আমার ক্ষেত্রে তাই নাচটা থাকে হৃদয়ের কাছাকাছি। নাচের শিক্ষা আমার অভিনয়জীবনকে সহজ করেছে অনেক। আগে বুঝতাম না। যখন মঞ্চে অভিনয় শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম অভিনয়কে এগিয়ে দিতে নাচটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নাটকের দৃশ্যে যখন সংলাপ থাকে না, শুধু অভিব্যক্তি থাকে, তখন নাচের অভিজ্ঞতাটা কিন্তু অনেক সাহায্য করে।
অভিব্যক্তি প্রকাশ সহজ হয় নাচের কারণে
বিজরী বরকতউল্লাহ
একটা কথা আছে, ‘ড্যান্স ইজ দ্য মাদার অব অল আর্টস’। বুঝতেই পারছেন, নাচ শিল্পের অনেক শাখার জননী। আমার সৌভাগ্য যে আমি নাচটা ছোটবেলা থেকেই শিখেছি ও করেছি। কিন্তু অনেক দিন ধরে নাচ থেকে দূরে আছি। তবে একটা ব্যাপার হলো, আমি নাচ থেকে অভিনয়ে এসেছি, এমন নয়। অভিনয়ে হুট করেই আসা। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নাচ আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। নাচ তো মঞ্চে পরিবেশন করতে হয়। অভিনয়ের বেলায় মঞ্চে পরিবেশন করার ওই সাহসটুকু কাজে লাগে। একই সঙ্গে অভিনয়ের বেলায় অভিব্যক্তি প্রকাশ সহজ হয় নাচ জানার কারণেই।
আমি একজন নৃত্যশিল্পী
চাঁদনী
আমার প্রথম পরিচয়—আমি একজন নৃত্যশিল্পী। আর নাচ করতে গিয়ে যেটা বুঝেছি তা হলো, এই শিল্পে ভাবটা আসল। ভাব বা এক্সপ্রেশন দিয়েই বোঝাতে হয় আপনি কী ধরনের নাচ করছেন। যাঁরা অভিনয় করেন, তাঁদের জন্যও এটা খুব দরকারি। ভাব প্রকাশের কৌশলটা রপ্ত করা গেলে অভিনয়টাও সহজ হয়ে যায়। নাচের ভেতরেই অনেক কথা বলা হয়ে যায়। তাই নাচ থেকে অনেকেই অভিনয়ে এসেছেন। আর একজন অভিনয়শিল্পীকে অভিনয়ের বেলায় সবই করতে হয়। নাচের অভিনয়ও তো করতে হয়। তাই আমি বলব, নাচ জেনে অভিনয়ে এলে চলার পথটা অনেক বেশি সহজ হয়, যা আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে।
অভিনয়জীবনে নাচের বড় ভূমিকা রয়েছে
নাদিয়া
নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এরপর আমি অভিনয়শিল্পী। কারণ, আমার বেড়ে ওঠার পুরোটা সময়ই নাচ আমার সঙ্গী ছিল। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই নাচ শিখতে শুরু করি। জীবনের অনেক সেরা অর্জনই আমি নাচ থেকে পেয়েছি। আবার আমার অভিনয়জীবনেও নাচের বড় ভূমিকা রয়েছে। একজন নৃত্যশিল্পীর জন্য অভিনয়টা অনেকখানি সহজ হয়। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের জড়তা কাটাতে সাহায্য করে। নাচের শরীরী ভাষা অভিনয়ের সময় অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলাকে সহজ করে।
গ্রন্থনা: শফিক আল মামুন ও হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক

‘রইস’ নিয়ে ঝামেলায় শাহরুখ!

রইস ছবিতে শাহরুখ খান
বলিউড সুপার স্টার শাহরুখ খানের পরবর্তী ছবি ‘রইস’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ঈদুল আজহায়। ছবির মুক্তির আগেই কিং খানের প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে। ‘রইস’ ছবির জন্য এক শ এক কোটি রুপির মানহানির মামলা করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, জীবনীভিত্তিক ছবি ‘রইস’ গুজরাটের গ্যাংস্টার আবদুল লতিফের জীবনের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। চিত্রনাট্য নিয়ে গবেষণার সময়ই তাঁর পরিবারকে সেটি জানানো হয়। ছবির প্রচার প্রচারণার সময় আবদুল লতিফের ছেলে, মুস্তাক আহমেদের মনে হয়েছে ছবিতে তাঁর বাবাকে সঠিকভাবে চিত্রায়িত করা হয়নি। ছবিতে যে দৃশ্য ও সংলাপ যা আছে, দাতে তাঁর (আবদুল লতিফ) সম্মানহানি হয়েছে। তাই শাহরুখের প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট-এর বিরুদ্ধে ১০১ কোটি রুপির মানহানির মামলা করা হয়েছে। এরপর আদালত থেকে ‘বলিউড বাদশা’র প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট-এর বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  এ মামলা নিয়ে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতি নেওয়া হবে ১১ মে। ফলে আহমেদাবাদের ওই আদালতের রায় জানতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। মামলার অভিযোগে মুস্তাক বলেন, ‘রইস’ ছবির দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর বাবার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। এতে তাঁর পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে যার মূল্য ১০১ কোটি রুপি। ‘রইস’ ছবিটিতে শাহরুখ খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি, মাহিরা খান। ছবিতে আশির দশকে গুজরাটে রইস নামে এক চোরাকারবারীর গল্প বলা হয়েছে। বড় ধরনের ঝামেলা না হলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি দেওয়া কথা রয়েছে। আবদুল লতিফ প্রায় এক ডজন হত্যা মামলা, অপহরণ ও চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ধারণা করা হয় দাউদ ইবরাহিমের দলের একাংশের সদস্য তিনি। ১৯৯৫ সালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেল থেকে পালাতে গিয়ে ১৯৯৭ সালে পুলিশের গুলিতেই মারা যান তিনি। সালমান খানের ‘সুলতান’ ও শাহরুখের ‘রইস’ও ঈদে মুক্তি পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। একই দিনে ছবি মুক্তি নিয়ে অনেকে আবার চিন্তায়, এর ফলে আবার দুই খানের পুরোনো বিবাদ না শুরু হয়ে যায়। ‘সুলতান’ ছবির ব্যাপক প্রচার ও সালমানকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা শাহরুখকে কিছুটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এ কারণেই ‘রইস’-এর মুক্তির দিন পিছিয়ে দিতে চান ‘বলিউড বাদশা’-এমন খবরও বেরিয়েছিল। এরই মধ্যে নতুন এ ঝামেলায় পড়লেন শাহরুখ।

আনন্দ–গানে ভরা তারকাসন্ধ্যা

‘মেরিল-প্রথম আলো’ মঞ্চ মাতালেন পূর্ণিমা ও নোবেল। পেছনে
সহশিল্পীরা। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে
গান, নাচ তো ছিলই, আর ছিল দুটি অবুঝ মনের সবুজ ভালোবাসার ছবি। আর হ্যাঁ, পুরস্কার বিতরণী, সে তো থাকবেই। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-২০১৫ অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন হয়ে উঠেছিল সব মিলিয়ে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতিক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। শুরুতেই সঞ্চালক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক শ্রোতাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দর্শক-শ্রোতাদের ভোট ও সমালোচকদের রায়ে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এটি ছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ১৮তম আয়োজন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘আপনাদের উষ্ণ সম্ভাষণ জানাই। যদিও প্রকৃতির এখন যে উষ্ণতা, তা দুঃসহ হয়ে উঠছে। চারপাশে হত্যা, গুম, সন্ত্রাসের ঘটনা আমাদের ভাবিত করে তুলেছে কীভাবে এর পরিবর্তন করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘এই বৈরী পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে সবাইকে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। যে অন্ধকার চারপাশে ঘনিয়ে আসছে, শিল্প-সংস্কৃতির আলো জ্বালিয়ে সেই অন্ধকারকে দূর করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। প্রথম আলোর ওপরে নানা রকম চাপ আছে। কিন্তু চাপে নত না হয়ে আমরা সৎ, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’ স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, মিডিয়ার প্রসার ঘটায় দেশের শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। তাঁরা কে কেমন করছেন, সারা বিশ্বের কাছে তা পৌঁছে যাচ্ছে। শিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা দিতে এই পুরস্কারের আয়োজন করা হয়েছে। এই পুরস্কার অব্যাহত থাকবে। গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। তাই মূল অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ছিল দেশের তিন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ ও তামান্না রহমানের দল নৃত্য নন্দন, রেওয়াজ পারফর্মিং স্কুল, নৃত্যম নৃত্যশীলনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মণিপুরি, ওডিশি ও কত্থক নৃত্য। তাদের সমবেত আয়োজনটি শেষ হয় ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ গানের সঙ্গে অপরূপ সমবেত নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর আজীবন সম্মাননা। এবার এই সম্মাননা পান অভিনেত্রী কবরী। তাঁর হাতে সম্মাননা পদক, চেক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। মঞ্চের বিশাল এলইডি পর্দায় শুরু হলো একটি চলচ্চিত্র—অবুঝ মনের সবুজ ভালোবাসা। চৌধুরী সাহেব (শহীদুল আলম সাচ্চু) হুংকার দিচ্ছেন তাঁর আভিজাত্যের গৌরব নিয়ে। আর ওদিকে মঞ্চে তাঁর মেয়ে রেশমীর (নূসরাত ফারিয়া) গায়েহলুদের আয়োজন চলছে। ‘লীলাবালি লীলাবালি’ গানের সঙ্গে চিরায়ত বিয়ে উৎসবের নাচ। নাচ যখন প্রায় শেষ, তখন পেছনের এলইডি পর্দায় দেখা যায় লাল মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে আসছেন রেশমীর প্রেমিক রাজ (আরিফিন শুভ)। মুঠোফোনের বোতাম চেপে কানে নিলেন তিনি। রিং বেজে উঠল মঞ্চে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে বসা রেশমীর মুঠোফোনে। কথোপকথনে প্রেমিকের কাছে পালিয়ে যাওয়ার আহ্বান পেয়ে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে গেলেন রেশমী। তারপর তাঁর বাবার মঞ্চে আগমন। সঙ্গে পিএস (আফজাল শরীফ)। তাঁরা কন্যা অপহরণের অভিযোগ করলেন থানায়। দ্রুত নির্দেশ দিলেন মেয়েকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেপ্তারের। এসপি (মৌসুমী হামিদ) সহকর্মীদের (মাজনুন মিজান ও সাঈদ বাবু) নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেন। যে করেই হোক চৌধুরীর মেয়েকে উদ্ধার করতেই হবে তাঁদের। গোপন সংবাদে জানা গেল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আসতে পারেন রাজ। সিদ্ধান্ত হলো অপহরণকারীকে ধরার জন্য জেমস বন্ডকে নিয়ে আসার। ওদিকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নেই। জেমস বন্ডরূপী তাহসানকে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার অনুরোধ করা হলো। একদিকে চৌধুরীর মেয়ে আর তাঁর প্রেমিককে খুঁজে বের করা, অন্যদিকে বিভিন্ন বিভাগের পুরস্কার বিতরণের ফাঁকে ফাঁকে এগিয়ে চলে রাজ-রেশমীর বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে বেড়ানো। এই জুটি উপস্থিত হয় চট্টগ্রামে। সেখানে পূর্ণিমা-নোবেল ও ইগল ডান্স গ্রুপের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ‘কইলজার ভিতর গাঁথি রাইগগুম তোয়ারে/ মধু খই খই বিষ খাওয়াইলা’। এরপর তাঁরা পালিয়ে যান সিলেট। সেখানে ফেরদৌস ও মিম এবং নৃত্যভূমের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনায় হাসন রাজার গান ‘সোনা বন্দে আমারে দিওয়ানা বানাইলো’। সিলেট থেকে কুষ্টিয়া। সেখানে ‘মিলন হবে কত দিনে’ গানটি সহশিল্পীদের নিয়ে পরিবেশন করেন সালমা ও পুলক। শেষে রংপুর। ‘আজি ভাল করিয়া বাজানরে দোতারা’ গানের সঙ্গে সজল, মেহ্জাবীন, তানজিন তিশা ও সাবিলা নূরের নৃত্য। এর ফাঁকে মঞ্চে অনুসন্ধান কাজে জেমস বন্ড মঞ্চ ছেড়ে গেলে সাজু খাদেম আসেন মঞ্চে সঞ্চালকের দায়িত্ব নিয়ে। তিনি ডেকে নেন জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম ও মীর সাব্বিরকে। তাঁদের সরস কথোপকথনে হাসিতে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন। শেষে মঞ্চে সেই লাল মোটরসাইকেলযোগে দুই প্রেমিকের উপস্থিতি। নানা ঘটনার ভেতর দিয়ে মধুরেণ সমাপয়েৎ।

‘রঙে ভরা গ্রীষ্ম’

‘রঙে ভরা গ্রীষ্ম’ প্রদর্শনী উদ্বোধন করছেন অতিথিরা
নব কুমার ভদ্র ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রিকশাচিত্রের প্রাচীন ঐতিহ্যকে লালন করছেন, ধারণ করছেন তার তুলিতে, টিনের ক্যানভাসে। তিনি আশির দশকে পেশাদার চিত্রকর হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের রঙিন পোস্টার আর ব্যানার আঁকতে শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রবেশ করেছেন বহুবর্ষী প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রিকশাচিত্রের ভুবনে। শুক্রবার আলিয়ঁস ফ্রঁসেস দো ঢাকার গ্যালারি জুমে শুরু হলো শিল্পী নব কুমার ভদ্র এর ‘রঙে ভরা গ্রীষ্ম’ শীর্ষক তৃতীয় একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। লেখক ও গবেষক পিয়্যের-অ্যাঁলা বো এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প-সমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ, আলোকচিত্র শিল্পী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস দো ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। প্রদর্শনীতে মোট ২৪টি চিত্রকর্ম এবং ১৭টি পেনসিল স্কেচ এবং টিনের ওপর আঁকা ২৪টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। শিল্পীর কাজে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ‘অ্যাকশনে থাকা’ মুখভঙ্গি ও নাটকীয় মুহূর্তগুলো; বাংলার গ্রামীণ জনপদের নৈসর্গিক শোভা এবং প্রাচীন লোককথা। রিকশাচিত্রের পাশাপাশি শিল্পী তাঁর আঁকা খুদে মডেল রিকশা, বিলুপ্ত হলুদ বেবি-ট্যাক্সি, মাটির সরা প্রভৃতিও। চিত্র প্রদর্শনীটি চলবে ১৪ই মে পর্যন্ত। গ্যালারি খোলা থাকে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

আজ বিপাশার বিয়ে

বিপাশা বসু
অপেক্ষার পালা সাঙ্গ হলো। কন্যার আইবুড়ো ভাত সম্পন্ন হয়েছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আজ শনিবার সকাল থেকেই বাজবে বিয়ের সানাই। এরপর এক হবে বিপাশা বসু এবং করণ সিং গ্রোভারের চার হাত। এ নিয়ে মুম্বাইয়ের বসু পরিবারে এখন তুমুল ব্যস্ততা। এর মধ্যেই হবু বর-কনে বিপাশা বসু ও করণ সিং গ্রোভারের নানা পোজের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন বিপাশার বন্ধু ও ফিটনেস এক্সপার্ট ড্যানি পাণ্ডে। গতকাল সকালে বাঙালি মতে পুজো হওয়ার পর বিকেলে জুহুর ক্লাবে বসেছিল মেহেদি ও সংগীতের আসর। এর আগে সকালে বিপাশার বাড়িতে হয়েছে হলুদ কোটার অনুষ্ঠান। আত্মীয়, বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিপাশা সেজেছিলেন বেবি পিংক লেহেঙ্গায়। আজ একেবারে বাঙালি মতে হতে চলেছে বিপাশা-করণের বিয়ে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে এক্কেবারে খাঁটি বাঙালি আচার মেনে সব হয়েছে। দধিমঙ্গল থেকে নান্দীমুখ-সব বাঙালি নিয়মই পালন করা হচ্ছে বিয়েতে। কিন্তু আজ কোন পোশাকে সাজবেন কনে তা এখনও অজানা। কেউ কেউ বলছেন, লাল টুকটুকে বেনারসী পড়বেন। আবার কোনও কোনও মহলের মতে, ভারি জরির এমব্রয়ডারি করা লেহেঙ্গায় বিয়ের আসরে হাজির হবেন কন্যা।

তাঁরা ফিরলেন

আমিশা পাটেল, প্রীতি জিনতা
দুজনের মধ্যে আপাতত সবচেয়ে বড় মিলটা হলো, দুজনকেই সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালে। ৪০ পেরিয়ে নিজেদের ভোকাট্টা ক্যারিয়ারটাকে আবারও উড়াল দেওয়ার চেষ্টায় ফিরে আসছেন প্রীতি জিনতা ও আমিশা প্যাটেল। দুজনই কাজ করছেন কমেডি ধাঁচের অ্যাকশন ছবি ভাইয়াজি সুপারটিহ-এ। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ভুলভুলাইয়ার পর আর তেমন কোনো সাফল্য পাননি আমিশা। পরে তো আমিশার ক্যারিয়ারটাই চলে গেল অমানিশায়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ঝুম বারাবার ঝুম ছিল প্রীতির সর্বশেষ বড় সাফল্য। দুই মাস আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন প্রীতি। বর জিন গুডএনাফ তাঁর জীবনে শুভ কিছু নিয়ে আসবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমিশা অবশ্য এখনো শুভকাজ সারেননি। দুজনের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, হতাশা—সব মিলিয়েই আমিশা ও প্রীতির মধ্যে এখন দারুণ সম্পর্ক। দুজনই দুজনকে দারুণ সাহায্য করছেন। পরিচালক নীরাজ পাঠক জানিয়েছেন, ‘ছবিতে আমিশা অভিনয় করেছেন নায়িকার চরিত্রে, প্রীতিকে দেখা যাবে ছোট্ট একটা শহরের তরুণী হিসেবে। ছবিতে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও পর্দার বাইরে কিন্তু দুজন দুজনকে অনেক সাহায্য করছেন। দুজনই একে অন্যের ভ্যানিটি ভ্যানে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি কোন দৃশ্যে কার কোন পোশাক পরা উচিত, তা নিয়েও পরামর্শ আদান-প্রদান করছেন।’ নিজেদের ক্যারিয়ারের তুঙ্গে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিলেন। কঠিন সময়ের ভালো দিক বোধ হয় এটাই—‘শত্রু’কেও তা আপন করতে শেখায়!

কবরী পেলেন আজীবন সম্মাননা

এ বছর ‘মেরিল-প্রথম আলো’ আজীবন সম্মাননা পেলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
কবরী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল তাঁর হাতে সম্মাননা
পদক তুলে দেন অভিনয়শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম। পাশে স্কয়ার
টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী
‘পুরস্কারের আরেকটি নাম হচ্ছে ভালোবাসা। পুরস্কার যখন যাঁকেই দেওয়া হোক না কেন, সেটা নিশ্চয়ই ভালোবেসেই দেওয়া হয়। তাঁর কর্মকে, তাঁকে ভালোবাসার মোড়কে মেরিল-প্রথম আলো বন্দী করেছে। আমি সবাইকে নিয়েই এটি উপভোগ করতে চাই।’ কর্মের সেই স্বীকৃতি, বাঙালির আজীবনের ভালোবাসার সেই সম্মাননা স্মারক হাতে নিয়ে গত সন্ধ্যায় কথাগুলো বললেন বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে কবরী। দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় আয়োজন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-২০১৫-এ ‘আজীবন সম্মাননা ২০১৬’ গ্রহণ করেছেন অভিনেত্রী কবরী। সম্মাননার জন্য নাম ঘোষণার পর তিনি মঞ্চে উঠে আসেন। এ সময় মিলনায়তনভর্তি দর্শক স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসন থেকে দাঁড়িয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আয়োজিত জমকালো এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিকেই তাঁর হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মঞ্চে ছিলেন নাট্যজন সৈয়দ হাসান ইমাম, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। কবরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে তাঁর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও সম্মাননার চেক তুলে দেন অঞ্জন চৌধুরী। কবরী বলেন, ‘আলোয় আলোয় আমরা আবার নতুন করে মুক্তি পেতে চাই। আজ একদিকে আমার পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ, আরেক দিকে মুক্তির প্রত্যাশা। একদিকে কান্না, একদিকে ভালোবাসা। কাকে রেখে কাকে গ্রহণ করব, এ রকম একটা সময় আমরা কাটাচ্ছি। পুরস্কার পাওয়ার যে আনন্দ, সেটা সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। প্রতিবছর এই দিনে অনেক মানুষের সমাগমে আমরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হই, আমাদের নতুন করে বাঁচার সাধ হয়। আবার নতুন করে একটা উদ্দীপনা নিয়ে এখান থেকে ফিরে যাই। যখনই রাস্তায় যাই, তখনই আবার সেই পিছুটান, আসলে কি আমরা ভালো থাকতে পারব? আমরা অবশ্যই ভালো থাকতে পারব, যদি সবার সম্মিলিত চেষ্টা থাকে। জীবন কিন্তু একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধক্ষেত্রে কিন্তু আমরা পরাজয় বরণ করতে রাজি নই। আমি যেমন সেই ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি, আমি আশা করি, আমার মতো অনেকেই এ পর্যন্ত এসেছেন, আমার চেয়ে অনেক ভালো কাজ করেছেন এবং আগামীতেও আসবেন। এই প্রত্যাশা রেখেই আমি আমার ভালোবাসা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিলাম।’আ

Friday, April 29, 2016

ওবামার পররাষ্ট্রনীতি উদ্ভট উদ্দেশ্যহীন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতিকে ‘উদ্ভট, উদ্দেশ্যহীন ও বিপর্যয়কর’ বলে সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ফ্রন্টরানার ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচিত হলে আমেরিকার স্বার্থকেই সবার আগে গুরুত্ব দেবেন বলে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটনের এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পিত পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করবেন। ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকে সেসব দেশকে অবশ্যই মূল্য পরিশোধ করতে হবে। যদি তারা মূল্য পরিশোধ না করে তবে যুক্তরাষ্ট্রের তাদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়ার দরকার নেই। প্রাথমিকভাবে জয় পাওয়ার পর ট্রাম্প নিজেকে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মঙ্গলবার ভাষণ দেন। বক্তব্য শুরুর আগে ট্রাম্প বলেন, এটা শুধু তার নিজের মতবাদ নয়।
নির্বাচিত হলে এই নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনবেন বলেও জানান তিনি। পুরো ভাষণজুড়েই ছিল ওবামা প্রশাসনের দুর্বলতা, বিভ্রান্তি এবং ভুলগুলো উপস্থাপন করা। ট্রাম্প আশা করেন, তিনি এগুলো উতরে যাবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে একটা ঝাঁকি দেয়ার কথা বলে বক্তব্য শুরু করেন ট্রাম্প। এর আগে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কে ওবামা বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে তাদের তেল ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন। এছাড়া তাদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মঙ্গলবার বক্তব্যেও এ কথা পুনরাবৃত্তি দেখা গেল। ট্রাম্প বলেন, ক্রমবিস্তারমান ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো শুধু মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নয়, পুরো বিশ্বেরই নীতি হওয়া উচিত। ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করবেন বলেও জানান ট্রাম্প। ক্ষমতায় গেলে ন্যাটোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এছাড়া ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সাধারণ আলোচনাও চান তিনি। ট্রাম্প বলেন, কেউ কেউ বলেন যে রাশিয়া যুক্তসঙ্গত কথা বোঝে না। এর কারণটাও আমি খুঁজে দেখতে চাই। আমি চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও ঠিক করতে চাই। তবে চীনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবেন তা জানাননি তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য নিজের দলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে, সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে নিজের প্রথম এই বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগের চেয়ে কৌশলী ও সংযত মনে হয়েছে। লিখিত ভাষ্যের বাইরে কোনো কথা বলেননি তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে নতুন করে সমীহ আদায় করার সময় এসে গেছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ভাষণে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষার খরচ যুক্তরাষ্ট্র আর মিটিয়ে দেবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। সেই সঙ্গে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীকে পরাজিত করার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অবশ্য ‘অভিবাসীরা ধর্ষক’ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনা জন্ম দেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন পদ্ধতি কারচুপিপূর্ণ : যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি নাগরিক মনে করে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মনোনয়নের পদ্ধতি কারচুপিপূর্ণ এবং সেখানে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়। দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন, এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা উচিত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার বার্তা সংস্থাটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স অনেক সময় এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল অনলাইনে এ জরিপ চালানো হয়। এতে সমানসংখ্যক ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের নেয়া হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রতারণামূলক। ৭১ শতাংশ ভোটারের মতে, তারা চান প্রত্যক্ষ ভোটে দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়ন করা উচিত। ২৭ শতাংশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই প্রাইমারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝেন না। আর ৪৪ শতাংশ মনে করেন, এই নির্বাচনে কেন ডেলিগেটদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রায় অর্ধেক মনে করেন, প্রাইমারি নির্বাচন একদিনে হওয়া উচিত।

প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল হলে আন্দোলনের হুমকি

নতুন ভ্যাট আইনে ১ জুলাই থেকে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, এর ফলে সেবা ছাড়াও পণ্যমূল্য অনেক বেড়ে যাবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন আইন সংশোধন করে ট্রেড ভ্যাট, সংকুচিত ভিত্তি মূল্য এবং প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, অন্যথায় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন দেশের ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৭তম সভায় ব্যবসায়ী নেতারা এসব দাবি জানান। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। যৌথভাবে সভার আয়োজন করে এফবিসিসিআই ও এনবিআর। মুক্ত আলোচনায় ৩০ জন ব্যবসায়ী অংশ নিয়ে আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা জানায়। যার বেশির ভাগ ছিল নতুন ভ্যাট আইন সংক্রান্ত। মুক্ত আলোচনায় এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব বলেন, ১ জুলাই থেকে সর্বত্র কার্যকর হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নতুন ভ্যাট আইনকে স্বাগত জানাবে না। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল করা হলে প্রয়োজনে মাঠে নেমে আন্দোলন করা হবে। এ সময় টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান। তিনি আরও বলেন, মুখে এনবিআর পার্টনারশিপের কথা বললেও বাস্তবে তা ভিন্ন। এনবিআরের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের খাতাপত্র জব্দ করছে। মাঠে-ময়দানে বিভিন্ন জায়গায় অহেতুক হয়রানি করছে। বারবার অভিযোগে জানিয়েও ফল পাওয়া যায়নি। অটো রি-রোলিং মিল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা শংকিত। ২০০৩ সাল থেকে স্টিল শিল্প ট্যারিফের আওতায় ছিল। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। এতে রডের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
জুয়েলারি সমিতির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণালংকার বিক্রির ওপর ভ্যাট আরোপ করায় বিক্রি কমেছে। ১০ লাখ টাকা স্বর্ণের ওপর ৫০ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। ভারতে লাগে ১০ হাজার টাকা। তাই ভারত থেকে স্বর্ণালংকার আসছে। এতে টাকা পাচার বাড়ছে। ভ্যাটহার ২ শতাংশ করলে ভ্যাট আদায় বাড়বে ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে। সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বলেন, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর পর দুই অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এমএস কিবরিয়া বলেছিলেন পরে ভ্যাট কমিয়ে দেয়া হবে। সেটি এখনও হয়নি। ট্রেড ভ্যাট বহাল রাখার দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব সুব্রত সরকার বলেন, ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মুনাফা ধরে কম্পিউটার পণ্য আমদানির সময় ৪ শতাংশ অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট (এটিভি) দিয়ে হয়। অথচ বর্তমানে কম্পিউটার পণ্য বিক্রি করে এ পরিমাণ লাভ হয় না। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্তরায়। এসব ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য স্থাপনা ভাড়ার ওপর ৯ শতাংশ ভ্যাট বাতিলের দাবি জানান। ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পাভেল বলেন, অথচ জীবন বীমা পলিসির বোনাসের ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কাটা হয়। বিশ্বের কোথাও এ বিধান নেই। গার্মেন্টস শিল্পের পর সবচেয়ে শ্রমঘন খাত বীমা শিল্প। এছাড়া এজেন্ট কমিশনের ওপর এআইটিসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর আগে এক উপস্থাপনায় ভ্যাট আইন নিয়ে এফবিসিসিআই ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত যৌথ কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্যাটের একাধিক হার রয়েছে। সব সরবরাহের ক্ষেত্রে টার্নওভার ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করে উৎপাদন পর্যায়ে ৩ শতাংশ, ব্যবসা পর্যায়ে ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, একদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা ব্যবসায়িক খরচ কমাতে সহায়ক হবে না। গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত ও বিদ্যুৎ ইউনিট প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ার ফলে পণ্যের মূল্য কমে এসেছে। কিন্তু চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কাস্টমস হাউস লোড দিয়ে শুল্কায়ন করার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন। তাই এসআরও ৫৭ অনুযায়ী শুল্কমূল্য নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি উৎপাদনশীল খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের (কস্ট অব ফান্ড) সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে সীমাবদ্ধ রাখা, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ ও প্রত্যেক ব্যাংককে এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়ার দাবি জানান।

জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহাদাত

গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের মামলায় জামিনে মুক্ত পেসার শাহাদাত হোসেন এবার জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন। এই ঘটনাকে ‘অনাকাক্সিক্ষত’ উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তিনি দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ভুল স্বীকার করে ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় জেলে যেতে হয়েছে শাহাদাত ও তার স্ত্রী জেসমিন নাহার নিত্যকে। দুই মাস আট দিন জেল খেটে ১২ ডিসেম্বর থেকে দু’জন জামিনে আছেন। এদিন মিরপুর স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির ম্যাচ চলাকালীন গ্র্যান্ডস্টান্ডে লিখিত বক্তব্যে শাহাদাত বলেন, ‘আমি আমার একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। পুরো দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্টসহ বোর্ডের সব কর্মকর্তা ও আমার সহখেলোয়াড়দের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। মানুষমাত্রই ভুল করে, আমিও ভুল করেছি।’
জামিনে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন ধরে নিয়মিত অনুশীলন করছেন শাহাদাত। তার দাবি, জীবিকার প্রয়োজনে নিজের পেশায় আবার যুক্ত হওয়ার অনুমতি তাকে দিয়েছেন আদালত। বিসিবি অবশ্য বহাল রেখেছে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ বোর্ড। তাই চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলতে পারছেন না এই পেসার। নিলামের আগে খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশের সময় ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস বলেছিল, বিসিবি তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েই শুধু তাকে ঢাকা লীগে খেলার অনুমতি দেয়া হবে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্রিকেটে তাকে ফিরতে দেয়ার আর্জি জানিয়ে শাহাদাত বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশকে ও দেশের ক্রিকেটকে আরও অনেক কিছু দেয়ার আছে আমার। ক্রিকেটের স্বার্থে, জীবিকানির্বাহের স্বার্থে দ্রুত ক্রিকেটে ফিরতে চাই। চলতি ঢাকা লীগ দিয়েই ফিরতে চাই মাঠে। দেশবাসী, ক্রিকেট বোর্ডসহ সবার কাছে মিনতি করছি, অতীতের ভুল শুধরে আগের শাহাদাত হয়ে ফেরার সুযোগ দেয়া হোক আমাকে।’

আবারও বিচারকের আসনে নিপুণ

চলচ্চিত্রে একেবারেই যেন ব্যস্ততা নেই অভিনেত্রী নিপুণের। তাই ছোট পর্দায় আজকাল নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজেকে পরিচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এ অভিনেত্রী একটি কমিডি শো’র বিচারকের আসনে বসার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চ্যানেল এনটিভির নিয়মিত কমেডি বেইজড রিয়েলিটি শো ‘হা-শো’ আবারও শুরু হচ্ছে। এবারের সেশনে বিচারক হিসেবে থাকছেন এই জনপ্রিয় নায়িকা।
এ প্রসঙ্গে নিপুণ বলেন, ‘এটি দারুণ একটি হাসির অনুষ্ঠান। দর্শকদের কাছেও অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয়। শোটির বিচারের দায়িত্বে সম্পৃক্ত হতে পেরে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। আশা করছি বিচারকার্য পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিযোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারব।’ নিপুণ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানের আরও দুই বিচারক হিসেবে থাকছেন নন্দিত জাদুকর জুয়েল আইচ এবং মাজহারুল ইসলাম। আসছে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের ৫টি প্রধান বিভাগীয় শহরে অডিশন শুরু হবে হা-শোর নতুন সিজনের। এখানে অংশ নিতে প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বরাবরের মতো এবারও এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে থাকছেন ছোট পর্দার কমিডি অভিনেতা সাজু খাদেম।

ওদের কান্নার শেষ নেই by সাখাওয়াত কাওসার

‘ভাই গত ১৭ এপ্রিল দয়াগঞ্জ মোড়ে ইবনেসিনায় ডা. ফেরদৌস কামাল ভূইয়াকে দেখাইছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ কিনতে পারি নাই। দেহেন শরীর ফুইল্যা গেছে। উঠলে বসতে পারি না। বসলে উঠতে পারি না। খুব যন্ত্রণা হয়। মাঝে মাঝেই এক-দুই বেলা না খাইয়া থাকি। কী করুম কন? চার বছর বয়সী মেয়েটার মুখের দিকে তাকাইলে নিজেরে ঠিক রাখতে পারি না।’ শনিবার ফারহানা আক্তারের (২৮) সঙ্গে তার যাত্রাবাড়ীর ভাড়া বাসায় গিয়ে এ প্রতিবেদক কথা বলার সময় একপর্যায়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। এত গেল শুধু এক ফারহানার খবর। এরকম অসংখ্য ফারহানা কিছুটা সুখের আশায় বিদেশ গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফিরেছেন। ভয়ঙ্কর রোগ বাসা বেঁধেছে তাদের শরীরে। আবার কেউ কেউ যৌন নির্যাতনের পর গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সহায় সম্বল হারানো এসব ভুক্তভোগীর কান্নাই এখন নিত্যসঙ্গী। তাদেরই একজন কুড়িগ্রামের কল্পনা বেগম (ছদ্মনাম)। তিন মাসের গর্ভবতী হয়ে তিনি চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে দেশে ফিরেছেন। এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ প্রতিবেদককে বলেন, ওদের জন্য আমরা ভাবছি। কারও অবস্থা খুবই গুরুতর হলে তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্যাতিত হয়ে ফেরত আসা অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল তৈরির ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দেশে ফিরে আসেন। সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান বিভাগে। তবে একেকটি অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয় দিনের পর দিন। দুর্দশাগ্রস্ত, হতদরিদ্র মানুষজন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসেন শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য। কর্মসংস্থান থেকে শুনানি হয়। রায় আসে। তবে মন্ত্রণালয় নেয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে সেখানে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো পুনরায় শুনানির আবেদন জানালে হতদরিদ্র মানুষদের পুনরায় শুনানির জন্য ডাকা হয়। তবে আর্থিক কারণে অনেকেই শুনানিতে অংশ নিতে পারে না। অভিযোগ রয়েছে, এক্ষেত্রে রায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষেই যায়। কান্না এবং হতাশাই সম্বল হয় ভুক্তভোগীদের। অনেক ক্ষেত্রে শুনানির রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে রিট করে তা স্থগিতের রায় নিয়ে আসে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। দীর্ঘদিনের মতো ঝুলে যায় হতভাগাদের ভাগ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, নারী কর্মী পাঠানোর পর থেকেই এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। বেশির ভাগ নারী কর্মীই বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয় সরকারের নীতিনির্ধারক মহল অবগত রয়েছে। তবে সময় এসেছে, আমাদের সরকারের উচিত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ওইসব দেশকে জানানো। নইলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়বে বৈ কমবে না।
এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন ‘আইন ও সালিস কেন্দ্র’-আসক পরিচালক নূর খান লিটন। তিনি বলেন, যেখানে আমাদের শ্রমিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত হবে না সেখানে শ্রমিক পাঠাতে হবে কেন? সরকারের উচিত হবে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অফিসিয়ালি অবহিত করা। যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারকেই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। এ জন্য তাদের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয়েছে। এখন যদি ওই মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসীরা নিগ্রহ এবং অবহেলার শিকার হন, আর তা দুর্বৃত্তদের পক্ষে যায় সেটা খুবই লজ্জাজনক। মন্ত্রণালয়ের প্রবাসীকল্যাণ বোর্ডের পরিচালক নূরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নীতিমালায় আছে দুর্ঘটনা এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরে এলে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার।
যাত্রাবাড়ীর ভুক্তভোগী ফারহানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকাসক্ত স্বামীর দিনের পর দিন নির্যাতন ও আর্থিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এবং সিকদার ট্রাভেলসের মালিক সিরাজ সিকদারের কথায় বিশ্বাস করে ৪০ হাজার টাকায় লেবাননে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মাসে ২০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন। আশা করেছিলেন হয়তো এর থেকেই অন্তত দুই বেলা সন্তানদের মুখে খাবার জুটবে। তবে সুখ তার কপালে সয়নি। ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাসপোর্টে লেবাননের ভিসা থাকলেও প্রতারক চক্র কৌশলে তাকে পাঠিয়ে দেয় সিরিয়ায়। ঠাঁই হয় একটি ক্যাম্পে। দালালদের কথামতো কাজ করতে রাজি না হওয়ায় সেখানে টানা ছয় মাস চলে তার ওপর স্টিমরোলার। দুই দফা লুকিয়ে নির্যাতন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। তবে প্রতিবারই সিরিয়ার পুলিশ তাকে তুলে দেয় দালালদের হাতে। ওই ক্যাম্পে ছিল প্রায় ২৮ জন বাংলাদেশি নারী। দালালদের প্রস্তাবে রাজি না হলেই দেওয়া হতো ইলেকট্রিক শক। নির্যাতনের একপর্যায়ে একদিন তার হাতও ভেঙে দেওয়া হয়। চিত্কার করলেই মুখে গুঁজে দেওয়া হতো কাপড়। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ফেলে রাখা হতো তাকে। যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক নির্যাতনে একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ ফারহানাকে দিয়ে কোনো কাজ করানো সম্ভব না হওয়ায় গত বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরত পাঠায় দালাল চক্র। এরপর থেকে দফায় দফায় হতদরিদ্র মা ফারহানাকে চিকিৎসা করান। তবে এখন চিকিৎসা করতেও পারছেন না তিনি। পরবর্তীতে ফারহানার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-৩ এর একটি দল পল্টন এলাকা থেকে দালাল চক্রের দুই হোতা আল হাসিব রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জসীম আহমেদ, শিকদার ট্রাভেলসের মালিক সিরাজ শিকদারসহ ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তারা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা কুড়িগ্রামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হামরা কোনঠে যামু ভাই? হামার কথা কাহো শুনে না। হামরা তো গরিব!...।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার শান ট্রাভেলসে গেছিনু। হামাক খেদাই দিছে। মন্ত্রণালয়ে গেছিলাম। তারাও কিছু করল না।’
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনার মানবিকতা উপলব্ধি করে এ বিষয়ে বিশেষ তত্পরতা চালানো হয়। তবে রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। হতাশার কথা হলো, অনেক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তারা জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় বিদেশে শ্রমিক পাঠাচ্ছে। এখন বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অনেক নারী শ্রমিকের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

উপকূল সমৃদ্ধ হলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে by অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ছোট-বড় অসংখ্য নদী রয়েছে এদেশে আর এদেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। তাই এদেশে রয়েছে অনেক উপকূলীয় অঞ্চল বা এলাকা যেগুলোর মাছ, চিংড়ি ও লবণ দেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। এছাড়াও, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর কৃষি ও বনায়ন কার্যক্রমের উপর এদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। এক কথায়, উপকূলীয় অঞ্চল মানেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমুহ। এই এলাকাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সরকার ও জনগণ উভয়েরই উপকূলের সকল সমস্যা সমাধানপূর্বক কাক্সিক্ষত মান অর্জনের মাধ্যমে সার্বিক বিকাশ সাধন করতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হওয়া উচিত। এতে করে খুব অল্প সময়েই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জাতি উত্তরোত্তর বৃহত্তর সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এতোই ব্যাপক ও বি¯তৃত যে, উপকূল ও উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য যথাযথ ও সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমৃদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় তিন কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেননা, জলবায়ুতে উষ্ণতার কারণে যদি সমুদ্রের উচ্চতা ৪৫ সে. মি. বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে। এমন কি, যদি ২১০০ সাল নাগাদ এক মিটার সমুদ্র সমতলের পরিবর্তন ঘটে, তবে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে। এই প্লাবনযোগ্য অঞ্চলগুলোর সবগুলোই এদেশের উপকূলীয় অঞ্চল। এছাড়া, উপকূলীয় অঞ্চলের উপযুক্ত সুরক্ষা না হলে এদেশের সাত কোটি লোক বিভিন্নভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আক্রান্ত হবে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পরিধি এবং গুরুত্ব নিঃসন্দেহে আরো সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
দুঃখের বিষয়, আমরা উপকূলও বুঝি না, উপকূলের গুরুত্বও বুঝি না। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বিরাজ করছে। এছাড়াও, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বসতবাড়ি নির্মাণের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে কৃষিজমির উপর। শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ততার কারণে সঠিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের লোকেরা বিরাজমান সমস্যাবলির কাক্সিক্ষত সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপর্যাপ্ত ব্যবহার ও প্রয়োগের কারণে উন্নত চাষাবাদ কিংবা সুপরিকল্পিত বিজ্ঞানসম্মত বনায়ন-কিছুতেই কাক্সিক্ষত সাফল্য ও অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর কাক্সিক্ষত মান অর্জন করতে হলে প্রয়োজন যুগ ও বিশ্বের সাথে তাল মেলানো উন্নয়নমুখী গতিশীলতা এবং এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ গতিশীলতার জন্য সরকারের আন্তরিক ও গতিশীল পদক্ষেপ অপরিহার্য।
বাংলাদেশের উপকূলভাগ অনেক ব্যাপক এবং বি¯তৃত। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এই উপকূলভাগেই অবস্থিত। মাছ, চিংড়ি, লবণ, কৃষি ও বনায়ন, পর্যটন ও বিনোদন এলাকা - সব দিক দিয়ে দেশের জাতীয় আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে এগুলো সর্বোচ্চ সহায়ক। অথচ দেশের সবচেয়ে উপেক্ষিত অঞ্চলও এই উপকূলীয় অঞ্চলসমুহ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো - প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া এ অঞ্চলগুলোর নৈমিত্তিক বৈশিষ্ট্য। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই এলাকাসমুহের উন্নয়ন সাধন ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, সর্বোপরি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকূলবাসীকে সুপ্রতিষ্ঠিতকরণ সময়ের দাবি।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল এদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমুহের উপর বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা এদেশের মানুষ ভোলেনি, ভুলে যাওয়ার কথাও নয়। এ প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের ১৬টি জেলার ৪৭টি উপজেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৪ লক্ষাধিক মানুষ ও অসংখ্য গবাদি পশু প্রাণ হারায়। এই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এবং অগুন্ত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি জনম জনম ধরে এদেশের উপকূলবাসীর জন্য এক মর্মন্তুদ ও করুণ ইতিহাস হয়ে থাকবে। অথচ ২৯ এপ্রিল যে শিক্ষা উপকূলবাসীসহ এদেশের মানুষকে দিয়েছে সে শিক্ষা অনুসারে এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের পর বয়ে গেল ১৯৯৭ এর ঘূর্ণিঝড়সহ সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী মর্মান্তিক সিডর যার ভিকটিমেরা এখনো বঞ্চিত ও উপেক্ষিত অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। উপকূলীয় মানুষদের জন্য ঘূর্ণিঝড়, সিডর ইত্যাদি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলবাসী সর্বশান্ত হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদির আক্রমণে উপকূলীয় অঞ্চলের জান-মাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৫৪, ১৯৬৮, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮  ও  ১৯৯৮ সালের  বন্যা ছিল  নিকট  অতীতের ভয়াবহতম। ১৯৭৪ সালের বন্যার কারণে ফসলহানিতে সংঘটিত ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ লক্ষ লক্ষ প্রাণ সংহার করেছে। ১৯৮৮ সালের বন্যা  ছিল সবচেয়ে  ভয়াবহতম। দেশের  ৬৪টি  জেলার  মধ্যে  ৫৩টি এ বন্যায় ডুবে যায়, ৩০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং ৪৫ লাখ হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম। ৩ মাস স্থায়ী এ বন্যায়  দেশের ৫৪টি জেলা জলমগ্ন হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় দেশের ৫৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি প্রাথমিক হিসাব মোতাবেক এ বন্যায় মোট ৪২  হাজার  কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহত্তর সিলেট  অঞ্চল এ বন্যায় সবচেয়ে  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের  উপকূলীয় এলাকার  মানুষের নিকট এক মূর্তিমান আতঙ্ক। গত ১৮৫ বছরে  অন্তত ৫১ বার ভয়ংকর  জলোচ্ছ্বাসের হামলায়  পড়েছে বাংলাদেশ। তবে ১৯৬০, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১  এবং ১৯৯৭ সালের জলোচ্ছ্বাস ছিল বিভীষিকাময়। ১৯৭০ সালের সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় বিশাল এলাকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল এবং এতে ৫ লাখের বেশি মানুষের  প্রাণহানি  ঘটেছিল। ১৯৮৫  সালের ঘূর্ণিঝড়ে  উড়িরচর  নামক জনপদ  সম্পূর্ণ জনশূন্য  হয়ে  পড়ে।
এটা সকলেরই নিকট সুবিদিত যে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মাছ, চিংড়ি এবং লবণ এদেশের অর্থনীতির জন্য অতীব অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এদেশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সাথে এগুলোর সম্পর্ক নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য। অথচ বেশ অবাক লাগে যখন দেখি এই উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, পার্বত্য অঞ্চলগুলোর পক্ষ থেকে অনুরূপ কোন অবদান না থাকলেও সরকারি সহযোগিতায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় দিন দিন এগুলো সমৃদ্ধ হতে সমৃদ্ধতর হয়ে যাচ্ছে। আসলে আমরা যে আমাদের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি বুঝি না, এটা আমাদের জাতীয় দোষ। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবক্ষেত্রেই এটি সন্দেহাতীতভাবে সত্য। এখন সময় এসেছে, অতীতের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর যথার্থ মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করা। এ অগ্রগতি অর্জনের বিস্তারিত উপায় সম্পর্কে আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সরকারি রেস্ট হাউজ নির্মাণপূর্বক যদি সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সেগুলো টেন্ডার দেওয়া হতো, তাহলে একদিকে যেমন উপকূলীয় এলাকার বিকাশের পথ সুগম হতো, অপরদিকে উত্তরোত্তর বিকাশ ও সমৃদ্ধির ফলে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পেতো। এছাড়াও, উপকূলীয় এলাকাগুলো সরকারের øেহচ্ছায়ায় নিয়ন্ত্রিত হতো বিধায় উপকূলের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা লাভের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল অভিযাত্রায় পরিকল্পিত উপায়ে এলাকার কাক্সিক্ষত বিকাশ ও মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করতো , ফলশ্র“তিতে অতি দ্রুত বদলে যেতো উপকূলীয় মানুষের জীবন। উদাহরণস্বরূপ, মগনামা, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, আনোয়ারা, বাঁশখালী, মহেশখালী ও হাতিয়ায় সরকারি রেস্ট হাউজ স্থাপিত হলে উক্ত এলাকার অনেক অগ্রগতি অর্জিত হতো, সরকারেরও আয় বাড়তো। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে যে সমস্ত খাস জমি পড়ে আছে, সেগুলোকে ভূমিহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদেরকে বরাদ্দ দিলে ভালো হয়; এক্ষেত্রে কোন এনজিওর মাধ্যমে এটি কার্যকর না করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে করলেই ভালো হয়। এছাড়াও, খাসজমিগুলোর বরাদ্দসহ যে কোন সরকারি দান-অনুদান বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব ঠেকাতে হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজনীয় মনে করছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুমারি এখনো পর্যন্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই অদ্যাবধি চরম দুর্দশায় জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে উক্ত শুমারি সম্পন্ন করে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা প্রয়োজন।
উপকূলীয় এলাকাগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সরকার কর্তৃক একটি উপকূলীয় মন্ত্রণালয় এবং একটি উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হওয়া। এদেশে রয়েছে অনেকগুলো উপকূলীয় জেলা এবং দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হলো এই উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। মাছ, চিংড়ি, লবণ, পর্যটন ও বিনোদন এলাকা - সর্বদিক দিয়ে দেশের জাতীয় আয় ও উৎপাদন অনেকাংশেই এগুলোর উপর নির্ভরশীল। অবাক হই যখন দেখি পার্বত্য এলাকাগুলো থেকে অনুরূপ কোন আয় ও উৎপাদন না পাওয়া সত্ত্বেও সব সময় পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে কোন সরকার কর্তৃক গঠিত হয় অথচ উপকুলের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন সরকারের আমলেই কোন মন্ত্রণালয় গঠিত হয় না, এমনকি, কোন উপকূলের উন্নয়ন বোর্ডও গঠন করা হয় না। কিন্তু এটা সুস্পষ্ট যে, এ ধরনের মন্ত্রণালয় ও বোর্ড গঠিত হলে জাতীয় আয়, উৎপাদন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতো।
উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে হবে, বাড়াতে হবে শিক্ষার হার। আরো অনেক স্কুল ও কলেজ স্থাপন করতে হবে। কক্সবাজারে শিক্ষার প্রসারের জন্য এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়। সুন্দরবন, কুয়াকাটা, নিঝুম দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিনসহ দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারকে ত্বরান্বিত করতে হবে। কক্সবাজার ইনানী বীচকে করতে হবে আরো সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয়। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, এতে বৈদেশিক আয় অনেক বেশি বাড়বে। ভারত ও মায়ানমার সংশ্লিষ্ট সমুদ্র সীমার বিজয়টিকে কাজে লাগাতে হবে এবং এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন ও আয় বাড়াতে হবে। উপকূলবাসীকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উৎসাহিত ও পুরস্কৃতকরণমূলক বনায়ন কার্যক্রমটিকে আরো জোরদার করতে হবে যাতে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ সব ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
পরিশেষে বলবো, উপকূলীয় অঞ্চল মানেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমুহ। বাংলাদেশের প্রকৃত ও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর উপর নির্ভরশীল। তাই এই এলাকাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সরকার ও জনগণ উভয়কেই আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হতে হবে উপকূলের সকল সমস্যা সমাধানপূর্বক কাক্সিক্ষত মান অর্জনের মাধ্যমে সার্বিক বিকাশ সাধন করতে। এতে করে খুব অল্প সময়েই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জাতি উত্তরোত্তর বৃহত্তর সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
অধ্যক্ষ, মেরন সান কলেজ; চেয়ারম্যান, মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন;
সভাপতি, সার্ক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ;
সহসভাপতি, উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

Thursday, April 28, 2016

প্রার্থিতার দোরগোড়ায় হিলারি-ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস প্রতিযোগিতার দরজায় পা রাখতে প্রাথমিক ধাপের ঠিক কাছাকাছি রয়েছেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান শিবিরের এ দুই তুখোড় রাজনীতিক। ডেমোক্রেট শিবিরে হিলারি এগিয়ে থাকলেও এখনও অনেক বাধা টপকাতে হবে রিপাবলিকানের ট্রাম্পকে। কারণ রিপাবলিকান দলের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী টেড ক্রুজ ও জন কাসিচ জোট বাঁধায় কিছুটা ধন্দের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প। খবর এএফপি, বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ভোটে দু’জনই বড় জয় পেয়েছেন। এ জয়ে চলতি বছরের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে এ দু’জনই মুখোমুখি হবেন বলে ধারণাটা আরও পাকাপোক্ত হল। বিবিসি জানিয়েছে, এ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মার্কিন ধনকুবের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডে ৫৪ শতাংশ, ডেলাওয়ারে ৬১ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ৫৭ শতাংশ, কানেকটিকাট ৫৮ শতাংশ ও রোড আইল্যান্ডে ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের সবকটিতে জয় পেয়েছেন। এ জয়ের পর ট্রাম্প বলেন, আমি নিজেকে মার্কিন নির্বাচনের মনোনয়নের যোগ্য মনে করছি। তাই সিনেটর টেড ক্রুজ ও গভর্নর জন কাসিচের এ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্যদিকে পাঁচ রাজ্যের মধ্যে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন মেরিল্যান্ডে ৬৪ শতাংশ, ডেলাওয়ারে ৬০ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ৫৬ শতাংশ, কানেকটিকাটে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। হিলারির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স শুধু রোড আইল্যান্ডে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। এখানে হিলারি পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ২,৩৮৩ ডেলিগেট প্রয়োজন। গত ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রাইমারি নির্বাচনে এ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, ২,১৫৬ ডেলিগেট পেয়েছেন হিলারি। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্যান্ডার্স পেয়েছেন মাত্র ১,৩৭৪ ডেলিগেট। রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন লাভের জন্য ১,২৩৭ ডেলিগেট পেতে হবে। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ৯৫১ ডেলিগেট পেয়েছেন।

শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয়

শেয়ারবাজারে নিষ্ক্রিয় রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। নতুন করে শেয়ার কিনছে না তারা। আবার শেয়ার বিক্রি করছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। ফলে কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। গত দুই দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি করছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। এগুলো ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগসীমা সমন্বয়, পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে তহবিল। সূত্র বলছে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নেতিবাচক ইক্যুইটির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকের ২ হাজার ২শ’ কোটি টাকা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ৩ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূলধনের চেয়ে নেতিবাচক ইক্যুইটি বেশি। ফলে শেয়ার বিক্রি করলেই এসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যাবে। এছাড়াও আগামী বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাওয়া হবে। এসব বিষয়ে দর কষাকষির কারণেই পরিকল্পিতভাবে বাজারে ধারাবাহিকভাবে পতন হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে,
ডিএসইতে বুধবার ৩১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১০ কোটি ৪৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৫৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ২২৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টি কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়া সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে বুধবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল যমুনা অয়েল, বিএসআরএম লিমিটেড, মবিল যুমনা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ইউনাইটেড পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, পাওয়ার গ্রিড এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস। বুধবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল আইসিবি প্রথম এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, সপ্তম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, কেডিএস এক্সেসরিজ, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, বার্জার পেইন্ট এবং হাক্কানি পাল্প। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল সাফকো স্পিনিং, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস, ন্যাশনাল টিউবস, বিচ হ্যাচারি, আইসিবি, জিএসপি ফাইন্যান্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, জাহিন টেক্সটাইল এবং নদার্ন জুটেক্স। জানতে চাইলে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ইয়াওয়্যার সায়ীদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারের কাঠামো ঠিক নেই। যে কারণে নতুন করে বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসছে না। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে বাজারে নতুন তহবিল আনতে হবে। ইয়াওয়্যার সায়ীদ বলেন, বাজার নিয়ে সবাই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগযোগ্য অনেক শেয়ার রয়েছে। কিন্তু কেউ কিনছে না।

‘ক্রিকেটের ভাষা আমি ভালোই বুঝি’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র এক বছরের পথচলায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলেও চলছে মুস্তাফিজ-শো। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ বাঁ-হাতি পেসার। তবে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে মুস্তাফিজকে বিচার করা যাবে না। অতুলনীয় বোলিং বৈচিত্র্যে গোটা আইপিএলের মুখ হয়ে উঠেছেন মুস্তাফিজ। তার কাটার, স্লোয়ার, ইয়র্কারের কোনো জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। আর ধারাভাষ্যকাররা খুঁজে পাচ্ছেন না জুতসই বিশেষণ! মুস্তাফিজকে নিয়ে মুগ্ধতা ঝরছে সবার কণ্ঠেই। তর্কসাপেক্ষে এই শতাব্দীর সেরা পেসার ডেল স্টেইন যেমন কাল সর্বকালের সেরাদের একজন ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে মুস্তাফিজের তুলনা করেছেন, ‘এক্স-ফ্যাক্টর ও দক্ষতায় মুস্তাফিজুর আমাকে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমি বলছি না যে, আকরামের মতো সুইং করাতে পারে মুস্তাফিজ,
কিন্তু তাকে বল করতে দেখাটা সত্যিই অসাধারণ। ডান-হাতি বোলারদের গতি ও অফ-কাটারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। এখন আমরা একজন বাঁ-হাতি পেসারকে পেয়েছি। তার কাটার ও স্লোয়ার এমন অতুলনীয়, যা আগে কখনও কেউ দেখেনি।’ মুস্তাফিজকে নিয়ে মাতামাতি চলছে ভারতীয় মিডিয়ায়ও। সমস্যা একটাই। সেভাবে ইংরেজি বলতে না পরায় মিডিয়ার সামনে কিছুটা মুখচোরা মুস্তাফিজ! তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। বল হাতে যে দারুণ সপ্রতিভ ২০ বছর বয়সী এই কাটার মাস্টার। তার বোলিংয়ের ভাষা বোঝার সাধ্য নেই কারও। মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ জানালেন, ক্রিকেটের ভাষা ভালোই জানা আছে তার। সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে আইপিএলেও নিজের সাফল্যের রহস্যটা জানালেন মুস্তাফিজ।
প্রশ্ন : খুব বেশি মানুষ আশা করেনি যে, এখানে এতটা সফল হবেন আপনি। আইপিএলের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্টে কীভাবে এটা সম্ভব করে তুললেন?
মুস্তাফিজ : এটা সম্ভব হয়েছে আমার আত্মবিশ্বাস ও শীর্ষপর্যায়ে ভালো করার আকাক্সক্ষার জন্য। আমি জানি, যেখানেই খেলি না কেন, সামনে আসা প্রতিটি সুযোগ আমাকে কাজে লাগাতে হবে। আইপিএলে খেলতে আসার সময় আমার লক্ষ্য ছিল এখানে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করি আমি। এখন মানুষ আমার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করায় ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : আপনার অফ-কাটারের রহস্য কী? কীভাবে এটা এমন নিখুঁত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন?
মুস্তাফিজ : রহস্যটা আমি নিজেও জানি না। সম্ভবত এটা আমার সহজাত প্রতিভা। বেড়ে ওঠার সময় আমার একজন কোচ আমাকে এটা রপ্ত করতে বলেছিলেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি। ডেলিভারিটা ক্রমেই খুব ভালো হতে থাকল। তখন থেকেই এটা নিয়ে আমি লেগে আছি। ফল তো দেখছেনই।
প্রশ্ন : সানরাইজার্সে আপনার অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার একবার বলেছিলেন, আপনার সঙ্গে ম্যাচের পরিকল্পনা ভাগাভাগি করাটা সহজ নয়। কারণ, ইংরেজিতে আপনি খুব একটা সড়গড় নন। অধিনায়কের সঙ্গে যথাযথ কথা না বলেও কীভাবে এমন দুর্দান্ত বোলিং করে যাচ্ছেন?
মুস্তাফিজ : এটা সত্যি যে আমি ইংরেজি বা হিন্দি খুব ভালো বুঝি না। কিন্তু দিনশেষে এটাও সত্যি যে, ক্রিকেটের একটি নিজস্ব ভাষা আছে। সেটা আমি বেশ ভালোই বুঝি। আমি জানি, আমার কাছে কী আশা করা হয়। আমি যাতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, সেটাই করার চেষ্টা করি। অধিনায়ক কী চান, সেটাও বোঝার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত সব ভালোই হচ্ছে।
প্রশ্ন : বেশ কয়েকজন বড় ব্যাটসম্যানের উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে কোনটা আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? এমন কোনো ব্যাটসম্যানই কি আছেন, যিনি আপনাকে নির্ঘুম রাত উপহার দিয়েছেন?
মুস্তাফিজ : না, আমার কোনো পছন্দের উইকেট নেই। প্রতিটি উইকেটই আমাকে সমান আনন্দ দেয়। আর বিশ্বে এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই যে আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। আমি জানি, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে সব ব্যাটসম্যানকেই আটকানোর পথ খুঁজে বের করতে পারব।
প্রশ্ন : আপনি বলতে চাইছেন, একজন বিরাট কোহলিও আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারেন না? কিংবা একজন এমএস ধোনি, যিনি টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে সেই বিখ্যাত স্প্রিন্টে আপনাকে হারিয়ে বাংলাদেশকে বিদায় করে দিয়েছিলেন?
মুস্তাফিজ : তারা সবাই অনেক বড় খেলোয়াড়, কিন্তু আমি নিজের শক্তির জায়গায় অবিচল থাকার চেষ্টা করি। পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাঙ্গালোরের ম্যাচটা পরের দিনই পেছনে ফেলে এসেছি আমি। ক্রিকেটে আপনি অতীত আঁকড়ে পড়ে থাকতে পারেন না। আমি এটাও জানি না যে, ধোনির দলের (পুনে) বিপক্ষে আমাদের খেলা কবে। তবে যখনই আমাদের দেখা হবে, আমি আমার সেরাটাই দেব। ওয়েবসাইট।