Showing posts with label আরব আমিরাত বা দুবাই. Show all posts
Showing posts with label আরব আমিরাত বা দুবাই. Show all posts

Friday, October 16, 2026

মাদক সেবনের পর রাস্তায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য মাহরা আল নাহিয়ান কোকেন সেবনের পর লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। এ সময় তার তত্ত্বাবধানে থাকা এক শিশু খালি পায়ে রাস্তার পাশে খেলছিল। এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলার দায় স্বীকার করেছেন ৩২ বছর বয়সি মাহরা।

ঘটনাটি নিয়ে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলা হয়। মঙ্গলবার সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। আবুধাবির রাজবধূ মাহরা মাসে ৮ হাজার পাউন্ড ভাতা পান।

আদালতে শুনানিতে বলা হয়, গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন এক ব্যক্তির পাশে মাহরাকে পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কাছেই খালি পায়ে একটি শিশু খেলছিল। পরে পুলিশ না আসা পর্যন্ত পথচারীরাই শিশুটির দেখাশোনা করেন বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর মাহরা বলেন, ‘এটা কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা এত মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? এত উদ্বিগ্নই বা কেন?’

মামলার আইনজীবী রিও পাহলাভানপুর আদালতকে বলেন, পথচারীরা দেখতে পান, শিশুটি জুতা ছাড়াই রাস্তার ওপর স্কুটার নিয়ে একা রয়েছে। শিশুটি চলন্ত যানবাহনের খুব কাছাকাছি থাকায় তারা হস্তক্ষেপ করেন।

তল্লাশির সময় মাহরার কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য ইংল্যান্ডের সারেতে ওকিংয়ের প্রিওরি ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন।

মাহরার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কিংস কাউন্সেল আদালতকে বলেন, যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে এর আগের কয়েক দিন কোকেন সেবন করায় তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন।

আইনজীবী আরো বলেন, নিজের আসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে মাহরার মধ্যে অনুশোচনা ও দৃঢ় সংকল্প—দুটিই দেখা গেছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক মিস্টার জাস্টিস জনসন কিংস কাউন্সেল বলেন, অপরিচিত ব্যক্তিরা এগিয়ে না এলে শিশুটির গুরুতর আহত হওয়া বা আরো ভয়াবহ পরিণতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

আদালত মাহরাকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার দিয়েছেন। এর আওতায় তাকে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি তাকে মোট ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।

মাদক সেবনের পর রাস্তায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ
ছবি: সংগৃহীত

Saturday, October 10, 2026

ইসরায়েলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি কো-পাইলটের: আমিরাত

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে সেটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের এক সহকারী পাইলট। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন তাকে থামিয়ে দেন। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চালানো সন্ত্রাসী হামলা থেকে ওই পরিকল্পনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন অভিযুক্ত পাইলট। ১ অক্টোবর এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের উদ্দেশে এর আগে দুটি ফ্লাইটে সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তদন্তে দেখা গেছে, বিমানপথ ও বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিতে তিনি ওই দুটি ফ্লাইট ব্যবহার করেছিলেন।

ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। এ সময় সহকারী পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান।

এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। পরে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উড়োজাহাজে থাকা অন্য দুই পাইলট নিরাপদে সেটি সৌদি আরবে অবতরণ করান। পরে অভিযুক্তকে ফ্লাইদুবাইয়ের সদর দপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্তে পাইলট নিয়োগের প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখেছে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ। এতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাইলটের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ভালো আচরণের সনদও ছিল।

আল শামসি বলেন, নিয়োগের কোনো পর্যায়েই তার উগ্রবাদী চিন্তাভাবনা বা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ওমান এয়ারসহ বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থায় কাজ করেছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৭ সাল থেকেই তার মধ্যে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার লক্ষণ ছিল। সে সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছিলেন।

রয়্যাল এয়ার মারোক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে পরে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

আমিরাতের কর্মকর্তারা অভিযুক্তের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার নাম হাম্মাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক।

আল শামসি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ জোগায়—এমন প্রচারসামগ্রী দেখে এবং বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

এদিকে রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ফ্লাইদুবাই। ছবি: রয়টার্স
ফ্লাইদুবাই। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, October 6, 2026

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট থেকে যেসব তথ্য পেল তদন্তকারীরা

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি গাজার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক থাকা আল হাম্মামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, তার পরিকল্পনা ছিল প্রথমে উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা। এরপর ক্যাপ্টেনকে অচেতন করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, প্রয়োজনীয় সব অবতরণ অনুমতি নিশ্চিত করা এবং পরে কোনো বিমানবন্দর স্থাপনা বা সেখানে থাকা উড়োজাহাজে বিমানটি বিধ্বস্ত করা।

হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমের বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এ কারণেই আল-হাম্মামি জর্ডানের আকাশসীমা পার হওয়ার আগ পর্যন্ত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেননি বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বিমানটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি।

তবে তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আল-হাম্মামির হামলা ও ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর উড়োজাহাজের কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। তাদের একজন বিমানটির নিয়ন্ত্রণ স্থির রাখেন। পরে দায়িত্বে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট ককপিটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইসলামপন্থি চরমপন্থী মতাদর্শে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার জানায়, ওমানি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ ছিল আল হাম্মামি উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়েছেন। এ কারণে তাকে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেছেন, কীভাবে আল হাম্মামি ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন, তা খতিয়ে দেখবে ইসরায়েল। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই; এমন দেশের পাইলটদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় না।’

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েল মনে করে না যে ফ্লাইদুবাইয়ের অন্যকোনো ক্রু সদস্য আল-হাম্মামির বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টায় জড়িত ছিলেন। চ্যানেলটির আরও দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল হাম্মামি বলেছেন, তিনি ‘গাজার প্রতিশোধ নিতে’ এই কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি শহীদ হয়ে মরতে চেয়েছিলাম।’

চ্যানেল ১২-এর দুই সূত্র আরও দাবি করেছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মোসাদের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল হাম্মামি ইসরায়েলবিরোধী কয়েকটি দেশে স্বল্প সময়ের জন্য সফর করেছিলেন।

এদিকে সিএনএন দুই তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত বছর ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থার একটি চাকরি থেকে আল হাম্মামিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আল আরাবিয়াও এক তথ্যভিত্তিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওমানি কর্তৃপক্ষ আল হাম্মামির মধ্যে উগ্রপন্থি মতাদর্শের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আল হাম্মামি সিরিয়ায়ও সময় কাটিয়েছিলেন। এ কারণে সেখানে থাকা উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এবিসি নিউজ তদন্তসংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, প্রশিক্ষণার্থী থাকার সময় আল-হাম্মামির কাছে উগ্রপন্থি প্রচারসামগ্রী পাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।

গাজা যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর। এ হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন বলে সরকারি ইসরায়েলি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাবে জানা যায়।

এর জবাবে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ এর পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ছবি: কালবেলা
ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ছবি: কালবেলা

Monday, October 5, 2026

ইসরাইলি বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাইলট আল-হাম্মামির

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী বিমানের কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির ইসরাইলের বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করাহয়েছে। তবে তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। না হলে, অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারত বিশ্ব।

ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষই ঘটনাটির তদন্ত করছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে হামাম তার পরিকল্পনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে হত্যা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

হাম্মামির দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে পৌঁছে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারলে তার পরিকল্পনা সফল হতো। সেটি সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো উঁচু ভবনে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি জর্ডনের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হামাম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত তিনি কাউকে কিছু বুঝতে দেননি। ধীরে অত্যন্ত চৌকসভাবে একান্তভাবেই পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, জর্ডান হয়ে বিমানটি যখন ইসরাইলে প্রবেশ করে, তখনেই হামিম পরিকল্পনা অনুযায়ী ককপিটের ক্যাপ্টেন স্মিতকে আঘাত করেন।

স্মিতকে হত্যার পর বিমানটিকে স্বাভাবিকভাবে উড়িয়ে তেল আবিব পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এর মাধ্যমে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি সহজ হবে বলে তিনি ভেবেছিলেন। বিমানবন্দরে অন্য কোনো বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটানো সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো উঁচু ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এমনকি জর্ডনে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় রেখেছিলেন তিনি।

তবে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত হামিমের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। স্মিথ যখন যে-কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হাম্মামিকে আটক করেন। আর এ-সময় বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট তখন নিয়ন্ত্রণ নেন । তবে তারপরেও হামাম্মি শেষবারের মতো বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছে। সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে হাম্মামি বিমানটি ক্রাশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি অটোপাইলট বন্ধ করার পাশাপাশি দুই ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন। এতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তবে বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কারণে বিমানটি আর ক্রাশ হয়নি।

তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি যদি হাম্মামির পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর কিংবা অন্য কোনো ইসরাইলি ভবনে ক্রাশ করত, তবে ইতিহাস এমনকিছুর সাক্ষী হতো যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

সূত্র: আনন্দবাজার

ইসরাইলি বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাইলট আল-হাম্মামির
কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি

Saturday, October 3, 2026

ফ্লাইদুবাইয়ে হামলাকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ

দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত সহ-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারী সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক।

গত বছর ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, পরে তাকে ওমান এয়ারে অন্য একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়। আল-হাম্মামি এর আগে রয়্যাল এয়ার মারোকেও কাজ করেছেন এবং প্রায় আট মাস আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামাম আল-হামামির লিংডইন অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওমান এয়ার ছাড়ার পর ওই বছরের জুনে মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকে যোগ দেন তিনি। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের জুনে চাকরি ছেড়ে দেন।

তবে তার লিংডইনে ফ্লাইদুবাইয়ের কথা উল্লেখ নেই। এ অ্যাকাউন্টটি হামামির বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। যদিও অ্যাকাউন্টটি এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। কেন এটি ডিলিট করা হলো এ ব্যাপারে জানতে লিংকডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন।

আল-হাম্মামি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার তদন্ত চলায় ফ্লাইদুবাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ওমান এয়ার, রয়্যাল এয়ার মারোক ও দুবাই সরকারের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

সূত্র: সিএনএন

ফ্লাইদুবাইয়ে হামলাকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ
‘নিকাব পরার শর্তে রাজি হয়নি কেউ, পাইলট শুনে সব পাত্রীই রাজি’ >> দুবাই থেকে ইসরাইলের তেলআবিবগামী ফ্লাইটের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করা সহকারী পাইলটেরে পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ওমানের নাগরিক ওই পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আল-হাম্মামি খুব ধার্মিক ছিলেন। সামাজিকমাধ্যমের পোস্টে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। হামাম আল-হামানির লিংডইন অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছেন। তবে তার লিংডইনের অ্যাকাউন্টটি এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। কেন এটি ডিলিট করা হলো এ ব্যাপারে জানতে লিংকডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন। পোস্টগুলোতে আল-হাম্মামি উল্লেখ করেন, তার জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তার মা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার শর্ত ছিল—পাত্রীকে নিকাব পরতে হবে এবং বিয়ের পর চাকরি করা যাবে না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘তারা সবাই প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর আমার মা তাদের বললেন, আমার ছেলে একজন পাইলট। তখন হঠাৎ করেই সবাই রাজি হয়ে গেল।’ ২০২২ সালের জানুয়ারির আরেকটি পোস্টে তিনি নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সমালোচনা করেন। তার দাবি ছিল, এ ধরনের কর্মপরিবেশ নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি লিখেছিলেন, ‘মিশ্র কর্মপরিবেশে কত সম্মানিত ও ধর্মপ্রাণ মেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে এবং প্রভাবিত হয়েছে?’ ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রকাশিত প্রায় ৩ হাজার মুছে ফেলা টুইট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি সেমান্টিক সার্চ মডেল ব্যবহার করে পোস্টগুলো বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। সূত্র: সিএনএন

‘রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানকে যুক্ত করছেন নেতানিয়াহু’

ইসরাইলি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করছে এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টি বিলম্বিত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।

শনিবার দুবাইয়ে আটকে পড়া ইসরাইলি যাত্রীদের একটি ‘আর্কিয়া’ উড়োজাহাজে করে ইসরাইলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে আরও একটি ‘ইসরায়ার’ উড়োজাহাজ পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রীদের সঙ্গে তাদের লাগেজ পরিবহনের জন্যও একটি কার্গো বিমান পাঠানোর দাবি ছিল আমিরাতের অন্যতম শর্ত।

আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র বলেন, ইসরাইল ‘উদ্ধারকারী ফ্লাইট’ নিয়ে এমনভাবে কথা বলছে, যেন দেশেতে যুদ্ধ চলছে। অথচ কোনো যুদ্ধ নেই।

ওই সূত্র আরও দাবি করেন, আমিরাতের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে বুধবারের ঘটনাটিকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমিরাতে এমন অনুভূতি রয়েছে যে, পুরো বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, কারণ এতে ইসরাইলের রাজনৈতিকভাবে লাভ হচ্ছে।’

ইসরাইলের আচরণের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একজন অগ্নিসংযোগকারীর মতো, যে আগুন লাগিয়ে আবার আগুন নেভাতে ছুটে আসে।’

নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বরের মতো মাত্রার একটি বিপর্যয়’ ঠেকানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদে প্রভাবিত হয়েছিল এবং যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে সেটিকে ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিল।’

আমিরাতের ওই সূত্র বলেন, ‘ফ্লাইট বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইলই। যাত্রীরা যদি আর্কিয়ার ফ্লাইটে উঠতে পারেন, তাহলে ফ্লাইদুবাইতে কেন পারবেন না?’

ইসরাইলের পক্ষ থেকে ‘উদ্ধারকারী ফ্লাইট’ শব্দটি ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিসের কাছ থেকে উদ্ধার? কার কাছ থেকে? কোথা থেকে?’

সূত্রটির দাবি, রোববার থেকে ইতিহাদ আবুধাবিতে আটটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং এসব ফ্লাইটে আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

তিনি জানান, সন্দেহভাজন ওমানি সহপাইলট বুধবারের ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তদন্ত চালাচ্ছে। বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

ওই সূত্র স্বীকার করেন, স্পষ্টতই একটি ব্যর্থতা ঘটেছে। তবে একই সঙ্গে তার অভিযোগ, আমিরাতের সহযোগিতা সত্ত্বেও ইসরাইল সরকার সংকটকে অযথা দীর্ঘায়িত করছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের আচরণে আমরা দিশাহারা হয়ে যাচ্ছি। ইসরাইলি সরকার কী করছে, তা তারা বুঝতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

‘রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানকে যুক্ত করছেন নেতানিয়াহু’
ছবি: সংগৃহীত

Thursday, October 1, 2026

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে যে প্রভাব সৃষ্টি করবে

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ককপিটে ছুরিকাঘাতের ঘটনা এবং সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটির তদন্তের ফলাফল নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাজা, যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

আরব বিশ্বের নেতারা নীরবে আশা করছেন, তদন্তে শেষ পর্যন্ত এমনটাই প্রমাণিত হবে যে হামলাকারী একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠন বা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নেই।

ইসরায়েলের দাবি ফ্লাইটটির সহকারী পাইলট, কিছু প্রতিবেদনে যাকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। পরে যাত্রী ও ক্রুরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হামলাকারীর পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অবশ্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ না দিয়েই ঘটনাটিকে ‘জিহাদপন্থি সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই ও তেল আবিবের তদন্তকারীরা মূলত তিনটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। এর প্রতিটির ফলাফলই এমন একটি অঞ্চলের জন্য ভিন্ন পরিণতি বয়ে আনতে পারে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।

একক হামলাকারী হলে ঝুঁকি কম

উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে কম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হবে যদি প্রমাণিত হয় যে হামলাকারী কোনো সংগঠন বা দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং ব্যক্তিগতভাবে উগ্রপন্থায় জড়িয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচলে একক হামলাকারীর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যক্তিদের কয়েকটি ষড়যন্ত্র দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিশ্বাসে উগ্র হয়ে ওঠা একজন মানুষও কীভাবে একটি উড়োজাহাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

২০০১ সালের ২২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ নাগরিক রিচার্ড রিড প্যারিস থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জুতার মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে ওঠেন। ওসামা বিন লাদেনের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া রিড বিমানটি বিধ্বস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টার দায় স্বীকার করেন। ২০০৩ সালে তাকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া পরপর তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ১১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়।

রিডের ঘটনার পর বিশ্বের অনেক দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় যাত্রীদের জুতা খুলতে হয়।

তবে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছাড়াও পাইলটের মাধ্যমে বিমান বিধ্বস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালে জার্মানউইংসের এক সহকারী পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ফরাসি আল্পসে বিধ্বস্ত করেছিলেন।

আরব সরকারগুলোর জন্য ইসরায়েলগামী ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টার পেছনে যদি একক হামলাকারী থাকার প্রমাণ মেলে, তা হবে গুরুতর হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি ঘটনা। এতে আঞ্চলিক শান্তির ওপর বড় ধরনের হুমকির পরিবর্তে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসবে।

সংগঠিত গোষ্ঠী জড়িত থাকলে বাড়বে উদ্বেগ

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, কোনো সংগঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার পরিকল্পনা করেছে। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে। ইরানের যুদ্ধ এবং দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কিছু মিত্রগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিশোধের আহ্বান জোরালো হয়েছে।

কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যদি বাণিজ্যিক বিমানের ককপিট পর্যন্ত নিজেদের লোক পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়, তাহলে তা শুধু আরব দেশগুলোর সরকার নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিমান সংস্থাগুলোর জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করবে।

রাষ্ট্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

তৃতীয় এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক সম্ভাবনা হলো, কোনো রাষ্ট্র এই হামলার পেছনে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই।

তবু ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্ত না হওয়ার বিষয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন।

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞায় ওয়াশিংটন ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, জর্জিয়া এবং ইরাকের কয়েকটি বিমানবন্দর ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের ২৫ সেপ্টেম্বর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কৌশল স্পষ্ট। এই অঞ্চলে সবার জন্য বিমান চলাচল স্বাধীন হতে হবে, অথবা কারও জন্যই নয়।’

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইও বিশেষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করেছেন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নতুন মাত্রা?

হামলার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই মূলত পাল্টাপাল্টি সংঘাত চলছে। ইসরায়েলগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক স্টিভেন ওয়াগনার দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো হামলাটি কোনো একক ব্যক্তি ঘটিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি যদি ইরান করে থাকে, তাহলে আমি তাদের এমন বোকামিতে খুবই অবাক হব। কারণ এর কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা নেতানিয়াহুর জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে।’

ওয়াগনার আরও বলেন, ঘটনাটি বড় বিপর্যয়ে রূপ নেয়নি; এর পেছনে ইসরায়েলি জনগণের নিরাপত্তাসচেতনতা এবং কিছুটা ভাগ্যের ভূমিকা থাকতে পারে।

চাপে পড়তে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত

হামলার উদ্দেশ্য যা-ই হোক, ঘটনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ ইসরায়েলে ফ্লাইদুবাইয়ের সব ফ্লাইট স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে করা বিমান চলাচল চুক্তি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে বলেছেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশের পাসপোর্টধারী পাইলটরা ইসরায়েলে বিমান অবতরণ করতে পারেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, ফ্লাইটটির সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

তেহরানের কাছাকাছি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় যে প্রটোকল ভেঙে আমিরাত ওমানি পাইলটকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, তাহলে এটি নিরাপত্তা ও আস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের লঙ্ঘন হবে।’

তার মতে, এমন ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ এতে অংশীদার দেশগুলোর ওপর আস্থা কমবে এবং আমিরাত নিজেকে সম্ভাব্যভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পারে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায় এরই মধ্যে ইরানের হুমকির মুখে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই অধ্যাপক বলেন, এই ঘটনা আরব মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে অঞ্চলের ছাইয়ের নিচে আগুন জ্বলছে। সবচেয়ে ছোট একটি স্ফুলিঙ্গও আবার আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।’

সৌদি আরবের সঙ্গেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে আবুধাবি আশপাশে নির্ভরযোগ্য অংশীদারের ঘাটতিতে পড়তে পারে।

এখন তদন্তকারীদের সামনে রাজনৈতিক প্রশ্নের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব প্রশ্নও। হামলাকারী কীভাবে বিমানে ছুরি নিয়ে উঠলেন, দুবাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং ক্রুদের দায়িত্ব বণ্টনের অনুমোদন কে দিয়েছিল; এসবের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে পারে, বুধবারের ঘটনাটি কেবল একটি ভয়াবহ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি এটি এমন এক স্ফুলিঙ্গে পরিণত হবে, যার আশঙ্কা পুরো অঞ্চলই করছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে যাত্রীরা উঠছেন। ছবি: রয়টার্স
বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে যাত্রীরা উঠছেন। ছবি: রয়টার্স

Friday, September 11, 2026

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির বিরুদ্ধে একের পর এক ‘উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আলজিয়ার্স-এর দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য নয়।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব ধরনের পথ তারা এরই মধ্যে ব্যবহার করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের হাতে আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে তারা কার্যত বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে আলজেরিয়া। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার

Wednesday, August 26, 2026

মুসলিম বিশ্বের এক প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র আরব আমিরাত by মাহমুদুর রহমান

২০০১ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার পর বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী যেসব দেশকে আকৃষ্ট করার প্রাথমিক তালিকা করেছিলাম, তার মধ্যে আরব আমিরাতের নাম বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী দেশ হিসেবে আমিরাতের কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল যে, ৯০ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের কাছ থেকে বিনিয়োগের ডাক পেলে তারাও আশানুরূপ সাড়া দেবেন। তখনও মার্কিনঘেঁষা হিসেবেই উপসাগরীয় দেশটির পরিচিতি থাকলেও জায়নিস্ট অনুপ্রবেশ আজকের মতো এতখানি দৃশ্যমান এবং প্রমাণিত ছিল না। বিপরীতে ভূরাজনীতি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা এবং পড়াশোনাও তখন অনেক কম ছিল। সে সময় দেশটির প্রভাবশালী রাজপুত্রদের একজন এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স মুবারক আল নাহিয়ান বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি আমার আমন্ত্রণে ব্যক্তিগত বিমানে উড়ে বাংলাদেশে এলে আরেক বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। তার মতো মান্যবর অতিথির ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কোনো গাড়ি তখনকার দরিদ্র বিনিয়োগ বোর্ডের ছিল না।

সেই সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছিলাম, সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিধায় সে প্রসঙ্গ আর বাড়াচ্ছি না। প্রিন্স মুবারক বাংলাদেশ সফরে এসে বেশ সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, যার ফলে ওয়ারিদ টেলিকমের বাংলাদেশে আগমন ঘটেছিল। আমার সঙ্গে আলোচনায় টেলিকম ছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য লাভজনক সেক্টরেও মুবারক আল নাহিয়ানের ধাবি গ্রুপের বিনিয়োগের কথা থাকলেও ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে সেসব আর বাস্তবায়ন হয়নি। বরং পরবর্তীকালে ওয়ারিদ টেলিকম তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ভারতের এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। আমিও সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে মিডিয়ায় প্রবেশ করলাম এবং সেই থেকে আমার বাঙালি মুসলমান আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আওয়ামী সুশীল ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় হেজেমনির বিরুদ্ধে যথাসম্ভব লড়াই করাটাই বাকি জীবনের কর্তব্য ধরে নিয়েছি।

গত পঁচিশ বছরে মুসলিম বিশ্বে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মাত্রাটা কিছুটা বোঝানোর জন্য উপরের ঘটনা বর্ণনা করলাম। প্রসঙ্গক্রমে আমার আরো একটি পর্যবেক্ষণের কথা বলে রাখি। বিনিয়োগ বোর্ডে পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালনকালে আমি তিনবার আরব আমিরাতে সরকারি সফরে গিয়েছিলাম। প্রথমবার আমার সঙ্গে একটি বিনিয়োগ প্রতিনিধি দল ছিল। দ্বিতীয়বার গিয়েছিলাম প্রিন্স মুবারক আল নাহিয়ানের বাংলাদেশ সফরের আগে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হতে। আর ২০০৬ সালের এপ্রিলে তৃতীয় ও শেষবার তারই আমন্ত্রণে নবনির্মিত আবুধাবি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার উদ্বোধনী একদিনের ক্রিকেট খেলা দেখতে।

আমিরাতের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই আয়োজনের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। আমার তিন সফরের অভিজ্ঞতায় একজন বাংলাদেশি এবং মুসলমান হিসেবে একটি বিষয় লক্ষ করে বেশ উদ্বিগ্ন বোধ করেছিলাম। আমার কাছে তখনই মনে হয়েছিল যে, আমিরাতের প্রধান দুই শহরের মধ্যে দুবাই ভারতীয়দের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং আবুধাবিতে পাকিস্তানের কিছুটা প্রভাব থাকলেও ভারতীয়করণ ক্রমেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ভারতের পাশাপাশি অন্তরালে যে ইসরাইল আমিরাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে, সেটা অবশ্য একেবারেই টের পাইনি। তবে ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে কথোপকথনে তাদের চিন্তাধারায় মুসলিম পরিচয়কে ছাপিয়ে পশ্চিমাদের প্রতি অন্ধ প্রীতি লক্ষ করেছিলাম। উম্মাহ নিয়ে আলোচনা উঠলে তাদের মধ্যে একধরনের দ্বিধাও যেন অনুভব করেছিলাম।

এবার বর্তমানে আসি। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই যে, সারা বিশ্বে সবচেয়ে উগ্র মুসলমানবিদ্বেষী দুই দেশের নাম ইসরাইল ও ভারত। উভয় দেশে ইসলামোফোবিয়া রাজনৈতিক ময়দান ছাড়িয়ে জনগণের বৃহৎ অংশের মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে। কেউ যদি মনে করে থাকেন যে, নির্বাচনে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কট্টরপন্থি নেতানিয়াহু এবং নরেন্দ্র মোদি অপসারিত হলেই ইসরাইল ও ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলমান জুলুমের অবসান ঘটবে এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে দেশ দুটির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরে আসবে, তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি গণতন্ত্র প্রসঙ্গে বিভিন্ন লেখায় এবং বক্তব্যে একটি বিষয়ে সর্বদা জোর দিয়ে থাকি।

সেটা হলো, যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে অবশ্যই সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর চিন্তাচেতনার প্রতিফলন ঘটবে। অনেকেই হয়তো এই তর্ক তুলবেন যে, জনমতকে তো নেতাই প্রভাবিত করে থাকেন। আমি মনে করি এ কথাটি আংশিক সত্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতাকে নির্বাচনে জিততে হলে জনমত বুঝে চলতে হয়। সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় অভিমতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো নেতার পক্ষে রাজনীতিতে সফল হওয়া কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। মানুষের মন অল্প সময়ে পরিবর্তিত হয় না। এই যে ভারতে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সব নির্বাচনের আগে মুসলমানদের ওপর নিগ্রহের মাত্রা বেড়ে যায়, এর পেছনে জনতুষ্টি এবং নির্বাচনি হিসাবনিকাশ কাজ করে। ইসরাইলে এই অক্টোবরে সংসদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে নেতানিয়াহুসহ সব সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের মূল বয়ান হলো, প্যালেস্টাইনের মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশুকে কে কত সফল ও বর্বরভাবে নির্যাতন ও হত্যা করতে সক্ষম হবে। গণহত্যা চালিয়ে প্যালেস্টাইনকে নিশ্চিহ্ন করে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করতে যার পরিকল্পনা ইসরাইলি ভোটারদের কাছে সবচেয়ে কার্যকর মনে হবে, সেই আসন্ন নির্বাচনে জিতবে। সুতরাং, নেতানিয়াহু কিংবা মোদি অসুখ নয়, উপসর্গ মাত্র।

ভারত ও ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উন্মত্ত ধর্মান্ধতাই সেখানকার আসল রোগ। চরম বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এমন ভয়ংকর ইসলামবিদ্বেষী ভারত এবং ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান কিন্তু ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় নয়। সেটা খোদ আরব ভূমিতেই। দেশটির নাম সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমি জেনেবুঝেই বলছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল ও ভারতের অধিক বিশ্বস্ত বন্ধু। গণতন্ত্রহীন ইউএই জনমতের তোয়াক্কা না করে যতটা অন্ধভাবে ভারত ও ইসরাইলের সব অন্যায় সমর্থন করতে পারবে, গণতান্ত্রিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেটা সম্ভব নয়। গাজায় এই শতাব্দীর ভয়াবহতম গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে জায়নিস্ট ইসরাইলের প্রতি ‘ওয়াশিংটন এস্টাবলিশমেন্টের’ সমর্থন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দেশটির তরুণ প্রজন্ম বর্ণবাদী জায়নিজমের বিপক্ষে সোচ্চার হয়েছে। এমনকি ইসরাইলের কট্টর সমর্থক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত এই পরিবর্তনকে উপেক্ষা করতে পারছেন না। অথচ ইউএইতে ভিন্ন চিত্র।

ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে তেমন কোনো রাখঢাক না রেখেই আমিরাত ইসরাইলের পক্ষাবলম্বন করেছে। যুদ্ধের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলের সামরিক কর্তারা আমিরাত সফর করে গেছেন। ইসরাইলি ‘আয়রন ডোম’ আমিরাতের আকাশ পাহারা দিচ্ছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান আমিরাতের সব বিমান ঘাঁটি থেকে উড়ে গিয়ে ইরানের ওপর বোমা ফেলেছে, দেশটির সামরিক ঘাঁটি থেকে ইসরাইলি ও মার্কিন সৈন্যরা ইরান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে। বছরের শুরুতে ইরানের ওপর মার্কিন এবং ইসরাইলি অন্যায় আক্রমণ শুরু করতেও আরব আমিরাত ক্রমাগত উসকানি দিয়েছে। তারা মুসলিম রাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংসের জন্য ওয়াশিংটনে ওকালতি করেছে।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আসালুয়ে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরাইল ও আমিরাত যৌথভাবে হামলা চালালে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরক্তি প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠকারী কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকার নির্দেশ দেয়। হাজার বছরের শিয়া-সুন্নি বিভেদকে পুঁজি করে আরব দেশটির শাসক পরিবার মুসলিম উম্মাহ ধ্বংসের মরণ খেলায় মেতেছে। পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করায় চরম অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দেশটিকে এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বাধ্য করেছে তথাকথিত মুসলিম উম্মাহভুক্ত ইউএই সরকার। পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছ থেকে ধার করে আমিরাতের সেই আকস্মিক দাবি মিটিয়েছে। মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরেই এ-জাতীয় আত্মবিধ্বংসী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকলে বাইরে থেকে উম্মাহর আর কোনো শত্রুর প্রয়োজন দেখি না। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ইসরাইল ইরানে আক্রমণ চালানোর মাত্র দুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তেল আবিব সফর করে ইসরাইলকে পিতৃভূমি এবং ভারতকে মাতৃভূমি ঘোষণা করে এসেছিলেন। ইসরাইল-ভারত-ইউএই ট্রয়কা সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা এখন আফ্রিকার দরিদ্র ও সংঘাতময় দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত আমাদের এখান থেকে জনশক্তি পাঠানো নিয়ে। বছরে গড়ে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স ইউএই থেকে বাংলাদেশ আয় করে যা মোট রেমিট্যান্সের ১০ শতাংশেরও কিছু বেশি। সে দেশে চাকরি এবং ব্যবসায় নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যেটা বিদেশিদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। দেশটিতে কর্মরত ভারতীয়দের সংখ্যা ৪০ লাখ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী পাকিস্তানিদের সংখ্যা ১৫ লাখ। আমার ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউএই সরকার পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি কর্মীদের সে দেশ থেকে সরিয়ে ভারতীয়দের অধিক হারে নিয়োগ দেবে। সুতরাং জনশক্তি রপ্তানির জন্য আমাদের অন্য দেশের সন্ধান এখন থেকেই করা উচিত।

পাঠকদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, কিছুদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইউএই বাংলাদেশের পরিবর্তে ইসরাইলের মিত্র সাইপ্রাসের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ট্রয়কার অন্য সদস্য ভারত কেবল আমাদের বিপক্ষে ভোট দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, সাইপ্রাসকে জেতানোর জন্য সরাসরি প্রচারও চালিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা এবং তার লুটেরা ও খুনি দোসররাও প্রধানত ভারত ও আমিরাতে আশ্রয় নিয়েছে। গণহত্যাকারী সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধকে আরব আমিরাত সরকার উপেক্ষা করেছে। আমার ধারণা, এ বিষয়ে ভারত এবং ইউএই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এই দুই দেশ সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান রেখে আজকের লেখা শেষ করছি। 

মুসলিম বিশ্বের এক প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র আরব আমিরাত
মাহমুদুর রহমান

Monday, August 24, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে কম খরচে ইন্টারসেপ্টর তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি ছোট গুদামে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করছেন শ্রমিকেরা। তাদের কাজ—থ্রিডি প্রিন্টেড বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে 'ইন্টারসেপ্টর' তৈরি করা, যা ঘণ্টায় ২০০ মাইল গতিতে উড়ে এসে আকাশে ধ্বংস করতে পারে ইরানি ড্রোন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘পাওয়ারআস’ কম খরচে ড্রোন ধ্বংসকারী এই অস্ত্র তৈরির জন্য গত মাসে আরব আমিরাতে এই কারখানা চালু করেছে। বিশ্বজুড়ে অস্ত্র সরবরাহের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে এটি তাদের প্রথম প্রবেশ। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী কারখানাগুলো বর্তমানে মাসে প্রায় ৩ হাজার ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বজুড়ে উৎপাদন বাড়িয়ে মাসে ১৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তবে আমিরাতে তাদের গ্রাহক ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ্যে আনেনি কোম্পানিটি।

প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর

প্রতিরক্ষা শিল্প সাধারণত ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উচ্চ খরচের জন্য পরিচিত। কিন্তু মিত্রদেশগুলোর জরুরি চাহিদা মেটাতে সেই ধারা বদলাচ্ছে পাওয়ারআস। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা তৈরি করে অস্ত্র রপ্তানি করার পরিবর্তে তারা যে অঞ্চলে প্রয়োজন, সেখানকার স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের সঙ্গেই অংশীদারত্ব তৈরি করছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যে ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন, বন্ধ হয়েছে একটি তেল শোধনাগার এবং ধ্বংস হয়েছে অ্যামাজনের দুটি ডাটা সেন্টার। মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে আসায় এখন বিকল্প ও দ্রুত সরবরাহের ইন্টারসেপ্টরের চাহিদা সেখানে তীব্র।

লোগো খেলনার মতো সহজে জোড়া দেওয়া প্রযুক্তি

ইন্টারসেপ্টর হলো ছোট আকারের এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশে ড্রোন বা হুমকিকে ধ্বংস করে। পাওয়ারআস ‘গার্ডিয়ান’ নামের যে ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছে, তার প্রতিটির খরচ মাত্র ৫ হাজার ডলার (প্রায় ৬ লাখ টাকা)। ইউক্রেনে রাশিয়ার 'শাহেদ' ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়া এক নকশার ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি।

এই গার্ডিয়ান ইন্টারসেপ্টরগুলো তৈরি করা বেশ সহজ, সাধারণ 'লোগো' খেলনার মতো যন্ত্রাংশগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি আটকে দেওয়া যায়। এতে সহজে বাজারে পাওয়া যায় এমন মাইক্রোচিপ ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি লকহিদ মার্টিনের প্যাক-৩-এর মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে না পারলেও, ইরানের বহুল ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোন ধ্বংসে দারুণ কার্যকর।

যৌথ উৎপাদন ও বিশ্ববাজার

পাওয়ারআসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিনেনস্কি জানান, আমিরাতের কারখানায় মূলত ফিলিপাইন ও চীনের শ্রমিকেরা দিনে প্রায় ৩০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করছেন, যা শিগগিরই ১০০-তে উন্নীত করা হবে।

কোম্পানিটি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সুরক্ষায় ২২ মিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সই করেছে। এছাড়া ভারতের মুম্বাইয়ের কাছে একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েও তারা ইন্টারসেপ্টর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

এমনকি বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘লকহিদ মার্টিন’ ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কম খরচে ইন্টারসেপ্টর তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে তাদের ২০ লাখ ডলার মূল্যের সেই মডেলটির পরীক্ষা ২০২৮ সালের আগে সম্ভব নয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি ‘রেথিয়ন’ আমিরাতে তাদের ‘কয়োটি’ ইন্টারসেপ্টর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, যার প্রতিটির আনুমানিক খরচ ১ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ ‘নেরোস’ ৫ হাজার ডলারে ‘ব্যান্ডিট’ নামে আরেকটি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন বানাচ্ছে।

ব্যবসার পেছনের ট্রাম্প সংযোগ

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই 'পাওয়ারআস' শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গলফ কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংস’-এর সঙ্গে একীভূত হয়। এই চুক্তির মধ্যস্থতা করে 'ডোমিনারি সিকিউরিটিজ' নামে একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যার অংশীদার ও উপদেষ্টা বোর্ডে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে—ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প।

এছাড়া কোম্পানিটির উপদেষ্টা বোর্ডে যোগ দিয়েছেন সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ। গত জুনে ট্রাম্প জুনিয়রের উপদেষ্টা থাকা ‘আনইউজুয়াল মেশিনস’ নামে একটি ড্রোন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআসে ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। চলতি মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর কাছে ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের জন্য ৯০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূল্যের একটি চুক্তিও সই করেছে তারা।

যেভাবে শুরু হয়েছিল পাওয়ারআস

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে পাওয়ারআসের বীজ বপন করা হয়। চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠান 'উইশিল্ড'-এর মালিক মাইকেল সিনেনস্কি ও তার বন্ধু রোমান ভিনফেল্ড ইউক্রেনে গিয়ে ড্রোন যুদ্ধের তীব্রতা চাক্ষুস করেন এবং তাদের নিজেদের মানবিক সহায়তার গুদামটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

পরবর্তীতে সেখানে মার্কিন সেনা স্পেশাল অপারেশনের সাবেক সদস্য ব্রেট ভেলিকভিচ, অ্যান্ড্রু ফক্স এবং জিব মারমের সঙ্গে পরিচয় হয়। পাঁচজন মিলে গঠন করেন পাওয়ারআস। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি লাইসেন্স করে এবং 'ট্যান্ডেম ডিফেন্স' ও 'কাইজেন অ্যারোস্পেস'-এর মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য নর্থ ক্যারোলিনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার কারখানায় কাজ শুরু করেন।

সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম খরচের গার্ডিয়ান ইন্টারসেপ্টর মূল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সম্পূরক হতে পারে, তবে বিকল্প নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো স্টেসি পেটিজন বলেন, ইরান হয়তো দ্রুতগতির জেটচালিত 'গেরান-৩' ড্রোনসহ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বড় করছে। রাশিয়া ইউক্রেনে যেভাবে একযোগে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, ইরানও সেদিকে যেতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইআইএসএস) গবেষণা সহযোগী অ্যালবার্ট ভিডাল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো লাখ লাখ ডলারের প্যাক-৩ ব্যবহার করে মাত্র ৪০ হাজার ডলারের শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করার অর্থনৈতিক ঝুঁকি আর নেবে না। তাদের লক্ষ্য এখন যেকোনো উপায়ে নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তোলা ও স্থানীয়ভাবে কম খরচে উৎপাদন করা। 

মধ্যপ্রাচ্যে কম খরচে ইন্টারসেপ্টর তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

Thursday, August 13, 2026

মক্কা চুক্তি ঘিরে সৌদি-আরব আমিরাত উত্তেজনা, তীব্র বাকযুদ্ধ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সম্পর্কে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বাইরে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে রিয়াদ এগোচ্ছে কিনা- এ নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কে জড়িয়েছেন সৌদি ও আমিরাতি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটি নিয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী আমিরাতি ভাষ্যকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, সৌদি আরব কি জিসিসির বাইরে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে?
জিসিসি হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি জ্বালানি-সমৃদ্ধ রাজতন্ত্র- বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।
সমালোচনার সামনে রয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা আবদুলখালেক আবদুল্লাহ। তিনি একাধিক পোস্টে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

একটি পোস্টে আবদুল্লাহ লিখেন, নতুন জোট গঠনের জন্য অভিনন্দন। তবে তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং ‘উপসাগরীয় ঐক্য’ সুসংহত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান-ইসরাইল হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে- এমন দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিক সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতায় বিনিয়োগের চেয়ে এটিই বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যেকোনো জোট সফল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অভিন্ন শত্রু নির্ধারণ করা। তাহলে এই জোটের দেশগুলোর শত্রু কে?

তার মন্তব্যের দ্রুত জবাব দিয়েছেন সৌদি প্রিন্স আবদুর রহমান বিন মুসাইদ। তিনি বলেন, চুক্তিটি জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয় এবং রিয়াদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন ইউএইর শিক্ষাবিদ মহল এতটা উদ্বিগ্ন- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে প্রিন্স আবদুর রহমান লিখেন, এটি জোট, চুক্তি কিংবা অন্য যে নামেই হোক- সমস্যা কোথায়? তার প্রশ্ন, এটি কীভাবে ‘উপসাগরীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে? কোনো দেশ তার জাতীয় স্বার্থে অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি করার অধিকার রাখে না কি?
আসবার সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান ফাহাদ আল-আরাবি আল-হারথিও চুক্তিটির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি কারও বিরুদ্ধে গঠিত কোনো ‘জোট’ নয়। কারণ, এর ভিত্তি কোনো অভিন্ন শত্রু নির্ধারণ করা নয়; বরং যেকোনো পক্ষের সম্ভাব্য হুমকির মুখে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন সৌদি ব্যবহারকারী আরও কড়া ভাষায় আমিরাতের সমালোচনা করেন। এক মন্তব্যে প্রশ্ন করা হয়, ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আগে ইউএই কি উপসাগরীয় দেশগুলোকে জানিয়েছিল?
ওই মন্তব্যে বলা হয়, ইসরাইলের সঙ্গে ইউএইর সম্পর্ক স্থাপনের আগে তারা কি উপসাগরীয় দেশগুলোকে অবহিত করেছিল?

বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর আবদুল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে এমন একটি বক্তব্য দেন, যা অনেকেই প্যান-ইসলামিক বা ত্রিপক্ষীয় জোটের পরিবর্তে কেবল জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার সরাসরি বার্তা হিসেবে দেখেছেন।
তিনি লিখেন, যার কাছে তার সম্প্রদায় তার মাতৃভূমির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার নিরাপত্তা নেই। আর যার কাছে আরব বা ইসলামি পরিচয় তার মাতৃভূমির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তারও নিরাপত্তা নেই। তার ভাষায়, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা ও আন্তরিকতা কেবল মাতৃভূমির জন্যই হওয়া উচিত- এর কোনো অংশীদার থাকা উচিত নয়।
আবদুল্লাহর এই পোস্টের জবাবে ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (ইসেস্কো) সাবেক প্রধান আবদুলআজিজ আল-তুওয়াইজরি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

তিনি লিখেন, ‘যে ব্যক্তি জায়নবাদীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সহযোগিতা করে, সে কখনো নিরাপত্তা পাবে না।’
অন্য এক পোস্টে আল-তুওয়াইজরি ইউএইর নিজেদের নিরাপত্তা অংশীদারত্বের বিষয়ও তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের সঙ্গে আমিরাতের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ইসরাইলের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সহযোগিতা যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন?
পোস্টের শেষে তিনি একটি আরবি প্রবাদ ব্যবহার করেন- ‘যাদের লজ্জা আছে, তারা মৃত’- যার মাধ্যমে তিনি চুক্তিটির সমালোচকদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন।
চুক্তিকে ঘিরে এই প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার আঞ্চলিক কৌশল ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।

মক্কা চুক্তি ঘিরে সৌদি-আরব আমিরাত উত্তেজনা, তীব্র বাকযুদ্ধ

Tuesday, July 14, 2026

দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল

গালফ নিউজ, প্রকাশ ২২ নভেম্বর ২০২৫ঃ আকাশছোঁয়া ওপরে সুইমিংপুলের এক পাশ থেকে পানি গড়িয়ে অন্য পাশে পড়ছে তো পড়ছেই, শেষ হচ্ছে না। পানি গড়িয়ে পড়া পুলের অংশটি চট করে প্রথম দেখাতে দূরের নীলাকাশের সঙ্গে মিশে গেছে বলে মনে হয়। দুবাইয়ে সম্প্রতি চালু হওয়া একটি হোটেলে এমন নয়নাভিরাম সুইমিংপুল দেখা গেছে। নকশার কারণে এটিকে ‘ইনফিনিটি পুল’ বলা হয়।

দুবাইয়ের সবচেয়ে পরিকল্পিত নগরী ‘দুবাই মেরিনা’য় সম্প্রতি বিলাসবহুল হোটেলটির উদ্বোধন করা হয়েছে। হোটেলটির নাম ‘সিয়েল দুবাই মেরিনা’। দ্য ফার্স্ট গ্রুপ হসপিটালিটি পরিচালিত হোটেলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) ভিনিয়েত কালেকশনের অংশ। আইএইচজির যেসব হোটেল বৈশিষ্ট্য ও নকশায় গ্রুপের অন্যান্য হোটেলের চেয়ে আলাদা, সেগুলোকে ভিনিয়েত কালেকশন বলা হয়।

৮২ তলা হোটেলটির ইনফিনিটি পুল থেকে দুবাই মেরিনার দৃষ্টিনন্দন উপকূল ও নানান আধুনিক স্থাপত্যের দৃশ্য পর্যটকদের সহজে মুগ্ধ করে। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল।

দুবাই মেরিনার প্রাণকেন্দ্রের এই হোটেলের হাতের নাগালে রয়েছে বিশ্বমানের অনেক রেস্তোরাঁ, শপিংমল, সমুদ্রসৈকত ও আকর্ষণীয় সব স্থান। সৈকতের পাশে বা জলপ্রান্তে রয়েছে কাঠের রাস্তা বা হেঁটে চলার পথ (বোর্ডওয়াক), যেখান থেকে চাইলে উঠে পড়া যায় ওয়াটার ট্যাক্সিতে।

১ হাজার ৪টি রুম ও স্যুইট–সংবলিত সিয়েল দুবাই মেরিনার নকশায় শহর ও সাগরের সমন্বয় দেখা যায়। শান্ত রঙের আবহ, প্রাকৃতিক টেক্সচার আর আধুনিক নকশা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আরামদায়ক এক পরিবেশ। এই হোটেল যে কাউকে সহজে শহরের ব্যস্ততা থেকে স্বস্তির জগতে নিয়ে যাবে।

আকাশছোঁয়া ইনফিনিটি পুলের বাইরে নানা স্বাদের কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও আলোক-আবছায়া মিলিয়ে তৈরি অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা অতিথিদের অনায়াসে মুগ্ধ করে।

হোটেলটির উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ উদ্বোধনী অফার চলছে। এর মধ্যে দুজনের জন্য সকালের নাশতা, বেলা ১১টায় আগাম চেক-ইন, বেলা ২টায় লেট চেক-আউট, রেস্তোরাঁর খাবারে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। ১ হাজার ৫০ দিরহাম (প্রায় ৩৪ হাজার ৯১৭ টাকা) থেকে হোটেলের কক্ষের দাম শুরু। আইএইচজি সদস্যের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা তো আছেই।

সিয়েল দুবাই মেরিনা হোটেলের ৬১ তলায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে স্পা সেবা শুরু হবে। ব্যায়ামের সুযোগ-সুবিধা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এখান থেকে দেখা যাবে মনোরম স্কাইলাইন। শিশুদের জন্য রয়েছে অল্প পানির জলখেলার স্থান (স্প্ল্যাশ প্যাড), কিডস ক্লাবসহ নানা সুবিধা। ব্যবসায়ীদের জন্য ১৬ তলায় রয়েছে বৈঠক করার জায়গা।

সিয়েল দুবাই মেরিনা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল
সিয়েল দুবাই মেরিনা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

Monday, June 22, 2026

ভারতের সঙ্গে ‘বড় অস্ত্র চুক্তির পথে’ আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে ভারত তাদের কিছু প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করছে। চারটি ভারতীয় সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত আমিরাতের কাছে যেসব অস্ত্র বিক্রি করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে, দেশটির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস। এ ছাড়া ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশতীর বিক্রির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি সম্পৃক্ত দুইটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো বলছে, দেশ দুইটির মধ্যে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অস্ত্র কেনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। তবে ভারত সরকার বা আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ব্রহ্মস হলো, ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে নির্মিত বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ- তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়।

অন্যদিকে আকাশতীর হলো- ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে তৈরি একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে আমিরাত। তাই পরবর্তী হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমিরাত ভারত ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কথা বিবেচনা করছে। এ ছাড়া দেশটিকে জ্বালানি প্রবাহের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকেও সুরক্ষা দিতে হবে।
চলতি বছরের শুরুতে আমিরাত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া বলেন, আমিরাত যদি বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কেনে, তাহলে তাদের জন্য একটি বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে তারা কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কৌশলগতভাবে বেশি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের বিদ্যমান জোট সম্পর্কের কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হবে না।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ। ওই সময়ে মোট আমদানির প্রায় ৫৪% এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর পরের অবস্থানে ইতালি (১২%) এবং তৃতীয় অবস্থানে ফ্রান্স (১১%)।
আমিরাতের কাছে কোনো ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির আগে ভারতের রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে, কারণ ২৯০ কিলোমিটার (১৮০ মাইল) পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, আবুধাবির সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এটি কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

সিপ্রির অস্ত্র স্থানান্তর কর্মসূচির সিনিয়র গবেষক সাইমন ওয়েজম্যান বলেন, ভারতের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশতীর- দুটিই আমিরাতের চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি আমিরাতের ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ও ক্রয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, ফলে তাদের জন্য বিকল্প সরবরাহকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

জোরদার হচ্ছে ভারত-আমিরাত সম্পর্ক
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) তথ্য অনুযায়ী, আমিরাতের বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেশ কিছু উন্নত অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন তৈরি এমজিএম-১৬৮ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র। যার সর্বোচ্চ কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার।
এ ছাড়া দেশটির কাছে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক থাড মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের তৈরি আকাশতীর দেশটির এই বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও আমিরাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে একাধিক চুক্তি এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ভারত সরকারের দুইটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধান অস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়ে আমিরাতের সঙ্গে চলমান আলোচনা শুধু একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি আঞ্চলিক জোট ও শক্তির ভারসাম্যের পরিবর্তনের প্রমাণ।
সূত্রগুলোর মতে, এই পদক্ষেপকে ভারত দেখছে একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে- বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পাল্টা ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে।
পার্ল পান্ডিয়া বলেন, এই ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বোঝা উচিত, বিশেষ করে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষিতে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ভারত ও আমিরাতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো মূলত একটি কৌশলগত বার্তা প্রদানের মাধ্যম। অর্থাৎ, এটি শুধু অস্ত্র বা বাণিজ্যের বিষয় নয়, বরং দুই দেশই এই সম্পর্কের মাধ্যমে নিজেদের জোট ও অংশীদারিত্বের শক্তি এবং গভীরতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রদর্শন করছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের চার দিনের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ভারতের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস। এই ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্ত্রের প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, এরপর থেকে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস বিক্রির চুক্তি হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও চিলি এই অস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ভারপ ২০২২ সালে ফিলিপাইনের কাছে প্রথম ব্রহ্মস বিক্রি করেছিল
ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩–১৪ সালে দেশটি প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৭.২৬ মিলিয়ন ডলার, সেটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ‘বড় অস্ত্র চুক্তির পথে’ আরব আমিরাত

Tuesday, March 24, 2026

গ্যাঁড়াকলে মধ্যপ্রাচ্য: কী করবে সৌদি ও আরব আমিরাত? by ডন অ্যাভিভ ও স্যাম ওরবি

প্রকাশ ১৬ মার্চ ২০২৬ঃ যে যুদ্ধ ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিপুল বিনিয়োগ করেছিল, শেষ পর্যন্ত সে যুদ্ধই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্যোগে শুরু হওয়া সংঘাতের অভিঘাত এখন সরাসরি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। প্রতিদিনই তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চলছে।

গত কয়েক মাসে সুদান ও দক্ষিণ ইয়েমেনের সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব কার্যত বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইরানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উপসাগরের দেশগুলো একধরনের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও ক্ষুব্ধ। কারণ, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই এই সংঘাত শুরু হয়েছে। সামনে কী ঘটবে, তা নিয়েও রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

উপসাগরজুড়ে অবকাঠামো ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা কোনো আকস্মিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি একটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৯১ সালের আগে কুয়েত ছিল দ্রুত উত্থানশীল একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র। কিন্তু উপসাগরীয় যুদ্ধের পর সেই অবস্থান আর পুরোপুরি ফিরে পায়নি দেশটি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে ইরান শুধু জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় না, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশের সামনে এখন সহজ কোনো পথ নেই। দ্রুত কূটনীতির পথে হাঁটলে এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকি রয়েছে, যিনি যুদ্ধে পূর্ণ বিজয় চান। আবার এতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকেও বৈধতা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা নজিরবিহীন মাত্রায় জিসিসি দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে নিজেদের অঞ্চলেই বড় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা হারানোর হতাশা বাড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে।

এই হতাশা থেকেই জল্পনা উঠেছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব বা কাতারও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রায় প্রতিদিনই, বিশেষ করে ইসরায়েলি সূত্রে এমন দাবি শোনা যাচ্ছে, যদিও তা দ্রুত অস্বীকার করা হচ্ছে। এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানি হামলা প্রতিহত করে তারা শক্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই কেউ কেউ মনে করেন, আমিরাত চাইলে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনে নতুন করে প্রতিরোধের বার্তা দিতে পারে। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় দেশটির নেতৃত্ব এখনো সতর্ক।

সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে কম হামলার শিকার হয়েছে এবং তথ্য প্রকাশেও সংযত থেকেছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের জিসিসির নেতৃত্বস্থানীয় শক্তি মনে করায় তারা সেই ভূমিকা প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজতে পারে। আদর্শ পরিস্থিতিতে তাদের উদ্যোগ কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলতে পারে। কিন্তু সৌদি সামরিক শক্তির ব্যাপ্তি বিবেচনায় বোঝা যায়, কেন ইসরায়েল তাদের এই যুদ্ধে দেখতে আগ্রহী।

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অংশীদার হতে চায়। ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় উপসাগরীয় অংশগ্রহণ চান, তাহলে কোনো কোনো নেতা এটিকে প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ হিসেবেও দেখতে পারেন। একটি দেশ হামলা শুরু করলে অন্যদের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এ মুহূর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকার হলো ইরানের হামলা থামানো, বাণিজ্যিক পথ খুলে দেওয়া এবং জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক করা। একই সঙ্গে তাদের আশঙ্কা—যদি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এই সংঘাত থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসে, তবে তা আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারে।

এ কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এমন কোনো সমাধানই সমর্থন করবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের হামলার ঝুঁকি বাস্তবভাবে কমাবে। কূটনীতি ব্যর্থ হলে তারা এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে অন্য বিকল্পও বিবেচনা করতে পারে। নিকট ভবিষ্যতে সবচেয়ে সম্ভাব্য কৌশল হলো ‘কৌশলগত ধৈর্য’। পরিহাসের বিষয়, এই পথ বহুদিন ধরে ইরানই অনুসরণ করেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব যুদ্ধের গতিপথ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং দেখবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো সুসংগঠিত কৌশল আছে কি না।

যদি মনে হয় নির্ণায়ক বিজয় কাছাকাছি, তবে তারা আকাশশক্তি বা অন্য সামরিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে যোগ দিতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় গড়ায়, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পথে এগোবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মুখ রক্ষা করে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে উপসাগরীয় অঞ্চল একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছিল, তা ক্ষয়ে যাবে। আবার জিসিসি দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনীতির দিকে ঠেলে দেয়, সেটিও বিপজ্জনক নজির হতে পারে। কারণ, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইরান তখন জিসিসি দেশগুলোতে হামলাকেই হাতিয়ার করতে পারে।

অন্য একটি বিকল্পও রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আংশিকভাবে শিথিল করা। অতীতে উপসাগরীয় দেশগুলো চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এমন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করেছে। বেইজিংও বর্তমান সংকট সমাধানে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে চীনের মূল লক্ষ্য জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। বড় নিরাপত্তা বিনিয়োগ বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ভূরাজনৈতিক সংঘাতে না গিয়েও সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ফলে আঞ্চলিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে না পড়া পর্যন্ত চীন তার অবস্থান বদলাবে—এমন সম্ভাবনা কম।

এ মুহূর্তে তাই উপসাগরীয় দেশগুলোর সরাসরি সামরিক আক্রমণ বা দ্রুত শান্তি চুক্তি—দুটোরই সম্ভাবনা সীমিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কৌশল না থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে নিজেরাই পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে।

* ডন অ্যাভিভ, ইন্টারফর ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং * স্যাম ওরবি, একই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি
আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ফাইল ছবি: রয়টার্স

Thursday, March 19, 2026

ইরান যুদ্ধে আমাদের জড়াতে কে অনুমতি দিল: বন্ধু ট্রাম্পকে আমিরাতের ধনকুবেরের প্রশ্ন by হাসান ফেরদৌস

প্রকাশ ১৪ মার্চ ২০২৬ঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুর। হোটেল, বিলাসবহুল ভবন, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতে তাঁর বিনিয়োগ ও ব্যবসা বলতে গেলে একচেটিয়া। মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বা তার চেয়েও বেশি। তাঁর অন্য পরিচয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু।

একসময় এই দুজন দুবাইয়ের পাম জুমেইরাতে ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। নানা পাকচক্রে ফল ফলেনি। তবে দুজনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেনি। ২০১৬ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করেন, তখন আল-হাবতুর পত্রিকায় কলাম লিখে মন্তব্য করেছিলেন, ট্রাম্প একজন কর্মবীর।

এই আল-হাবতুর হঠাৎ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ট্রাম্পের উদ্দেশে এক খোলাচিঠি লিখেছেন। হুট করে ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে ট্রাম্প ইরানে হামলা করে বসেছেন। সাত দিন যেতে না যেতে সেই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ত্রাহি অবস্থা।

আল-হাবতুর মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে আমাদের অঞ্চলকে জড়াতে আপনাকে কে অনুমতি দিয়েছে? কিসের ভিত্তিতে এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত আপনি নিলেন?’

যুদ্ধের আঁচ শুধু আল-হাবতুরের আরব আমিরাতে নয়, আশপাশের দেশগুলোয়ও ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের সবার রাজত্ব ধসে যেতে পারে। সেই ভয় থেকেই এই চিঠি।

আল-হাবতুর আরও লিখছেন, ‘যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি কি এর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মাথায় রেখেছিলেন? একথা কি আপনি বিবেচনা করেছিলেন, এই যুদ্ধ বিস্তৃত হলে সবার আগে পুড়ে মরবে উপসাগরীয় দেশগুলো? এই অঞ্চলের জনগণের এ কথা জিজ্ঞাসা করার অধিকার রয়েছে, যুদ্ধটা কি আপনার একার সিদ্ধান্ত, নাকি নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত?’

ট্রাম্প নিজেকে শান্তির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত করতে ভালোবাসেন, সে লক্ষ্যে সম্প্রতি তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন। কিছুটা উষ্মা, কিছুটা বিদ্রূপের সুরে আল-হাবতুর লিখেছেন, শান্তির নামে যে ‘বোর্ড অব পিস’ তিনি ঘোষণা করলেন, তার কালি শুকানোর আগেই ট্রাম্প কেন এমন এক যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসলেন, যে কারণে বিপদে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। তাহলে সেসব শান্তি উদ্যোগের কী হলো? শান্তির নামে যে অঙ্গীকার তিনি করলেন, তার পরিণতিই–বা কী?

আল- হাবতুর লিখেছেন, যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে প্রকৃত নেতৃত্ব ধরা পড়ে না। তা ধরা পড়ে প্রজ্ঞা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও শান্তি অন্বেষায়।

কেন এই চিঠি গুরুত্বপূর্ণ

উপসাগরের শাসক বলুন বা ব্যবসায়ী, তাঁরা কেউ-ই ঘুণাক্ষরেও ট্রাম্পের ব্যাপারে মুখ খোলেন না। ব্যবসায়িক স্বার্থ দিয়েই তাঁদের সম্পর্ক নির্ধারিত। এবার সেই স্বার্থে টান পড়েছে বলেই আল-হাবতুর মুখ খুলেছেন। তিনি আরব আমিরাতের কর্তাব্যক্তিদের অতি ঘনিষ্ঠ, তাঁদের সঙ্গে সলাপরামর্শ না করে এমন খোলাচিঠি তিনি লিখবেন, তা ভাবা যায় না।

এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো কী বিপদে পড়বে, তার একটা সরল হিসাব দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তারা জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধের ফলে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে।

সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুসারে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ চুক্তির যে দায়দায়িত্ব রয়েছে, তা থেকে সরে আসার কথা ভাবছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুদ্ধ বা অন্য বড় কোনো অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চুক্তিপত্র পরিবর্তনের আইনসম্মত বিধিব্যবস্থা রয়েছে।

চতুর্মুখী সংকট

শুধু উপসাগর নয়, এই যুদ্ধ বিশ্বের সব দেশের জন্য চার ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

প্রথমত, ইরানের সমুদ্রসীমায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এই করিডর বর্তমানে কার্যত বন্ধ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বিপদে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো, যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে গ্যাস-তেল রপ্তানি করে থাকে।

কাতার ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের যে অঙ্গীকার তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করেছে, তা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। একই কারণে সৌদি আরব তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে এনেছে। এসব কারণে তেলের দাম আগামীতে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, তেল রপ্তানি বন্ধ বা সীমিত হয়ে এলে চীন, ভারত, জাপানসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মন্দাবস্থার মুখে পড়বে। এসব দেশ তাদের জ্বালানি প্রয়োজন মেটায় আমদানি করে। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়বে উৎপাদন খাত ও কৃষি। দেখা দেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, এমনকি বিপ্লব।

তৃতীয়ত, তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভর করে উপসাগরের দেশগুলো তাদের বিশাল জাতীয় সম্পদ তহবিল গড়ে তুলেছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় চার লাখ কোটি ডলার। তেল-গ্যাসই যদি রপ্তানি না করা যায়, তাহলে আংশিক হলেও এই জাতীয় তহবিল লিকুইডেট বা গুটিয়ে ফেলতে হতে পারে।

চতুর্থত, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল হিসাব করে বলছে, উপসাগরের চার দেশের জাতীয় সম্পদ তহবিল বিনিয়োগের প্রায় দুই লাখ কোটি ডলার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই তহবিল গুটিয়ে নিলে সেটাও ধাক্কা খাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধস নামতে পারে পুঁজি বাজারে।

বাণিজ্য শুল্কের কারণে এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, মানুষের দৈনন্দিন ক্রয়ক্ষমতাও কমে আসছে। এসবের প্রভাব যে এ বছর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়বে, তা একরকম নিশ্চিত।

সত্তর দশকের পুনরাবৃত্তি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যে অর্থনৈতিক সংকট, তা আমাদের সত্তরের দশকের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকালীন সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ‘তৈল অবরোধ’ঘোষণা করায় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি সারা বিশ্বকে গ্রাস করে।

এ রকম অবস্থাকেই অর্থনীতিবিদেরা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মন্দাস্ফীতি নামে অভিহত করে থাকেন। অনেকেই বলছেন, বিশ্ব আবার সেই পথেই হাঁটছে। সত্তর দশকের সেই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বৃহৎ অর্থনীতি তাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বহিঃসম্পর্ক পুনর্গঠন করলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীলতা মোটেই কমাতে পারেনি।

এই সংকট শুধু জ্বালানি তেলের উৎপাদন ও রপ্তানির কারণে নয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক পেশিশক্তি এখন বিশ্বের অর্থনীতির প্রধান ধমনি। বিশ্বের প্রতিটি প্রধান বাজারে রয়েছে তাদের বিনিয়োগ। তাতেই যদি আঘাত পড়ে, ছোট–বড় কেউ-ই রেহাই পাবে না।

এ কথা অজানা নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলোর শান-শওকতের একটা বড় কারণ বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যাপারে আস্থা। এই যুদ্ধের ফলে সেই আস্থায় বড় ধাক্কা লাগল। এখন থেকে এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেকেই দুইবার ভাববেন।

যুদ্ধ শুরু সহজ, শেষ করা নয়

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর তার গতিপ্রকৃতি কী হবে, আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে কথা বিবেচনায় এনেছিলেন—সে রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিল, যুদ্ধে যাওয়া সহজ হবে, কিন্তু বেরোনো মোটেই সহজ হবে না। মার্কিন গোয়েন্দাদের সে সতর্কতায় কান দেননি ট্রাম্প।

আল-হাবতুর তাঁর খোলাচিঠিতে এই কান না-দেওয়া কতটা ভুল, সে কথাই ধরিয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই যুদ্ধ কার স্বার্থে’। ট্রাম্পের গোঁড়া সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভাষ্যকার টাকার কার্লসন মন্তব্য করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেছে, তারা মরবে না। মরবে সাধারণ মানুষ। তারা এই যুদ্ধ চায় না। আগামী নির্বাচনে তাদের সে মনোভাবের প্রতিফলন থাকবে।

ট্রাম্প সে কথা জানেন না, তা নয়। তবে ময়দানে নেমে তিনি ফেঁসে গেছেন। সম্প্রতি ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হল বলে। আবার এমন কথাও বলেছেন, ‘আমি ইরানের ওপর এমন আঘাত করব যে তাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

দেখা যাক, যুদ্ধ কোন দিকে গড়ায়।

আরব আমিরাতে শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুর
আরব আমিরাতে শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুর। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, March 3, 2026

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ধাক্কা খেল দুবাইয়ের বিলাসী জীবন

কর্মদিবসগুলোর শেষে যে আনন্দ–উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুবাইয়ে সপ্তাহান্ত শুরু হয়, তেমনটাই হয়েছিল শনিবার সকালে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাম জুমেইরাহর সৈকতে অবস্থিত ক্লাবগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সমুদ্রতীরের প্রমোদভ্রমণের পথে দৌড়বিদদের দলগুলোকে সুউচ্চ অট্টালিকাগুলোর নিচে ওয়ার্ম আপ করতে দেখা যায়। সুশৃঙ্খলভাবে দৌড় শুরু করার আগে তাঁরা নিজেদের শরীরচর্চার ভিডিও ধারণ করছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে শহরটিকে আগের মতোই ছিমছাম দেখাচ্ছিল। নীল আকাশ, শান্ত সমুদ্র আর দুবাইয়ের বিপণিবিতানের ভেতরে ক্রেতাদের চিরচেনা ভিড় ছিল। তবে এসবের আড়ালে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তখনো দুবাই সতর্কতার সঙ্গে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

অনেক বছর ধরে দুবাই নিজেকে পুঁজি আর স্থিতিশীলতার এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরেছে। অস্থির একটি অঞ্চলে এটি ছিল শৃঙ্খলা আর স্বাভাবিকভাবে চলার প্রতীক। প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক ঝড় থেকে এ শহর ছিল সুরক্ষিত, কিন্তু সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই সেই চিত্র বদলে যায়।

সন্ধ্যা নামার কিছুক্ষণ পরই পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে তখন উড়তে দেখা যায় ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ‘ইন্টারসেপ্টর’।

অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, তাঁরা এ পরিস্থিতির জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। সেখানে কোনো সতর্কসংকেত বা এয়ার রেইড সাইরেন বাজানো হয়নি। স্থানীয় ফোন নম্বর ব্যবহারকারী বাসিন্দারা সরকারি সতর্কতাবার্তা পেলেও অন্যরা শুরুতে বুঝতে পারেননি আসলে কী ঘটছে।

নাতালিয়া ভেরেমেনকো নামের এক পর্যটক বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, আতশবাজি ফুটছে।’ তিনি পাম জুমেইরাহর পাঁচ তারকা রিসোর্ট ‘ফেয়ারমন্ট দ্য পাম’-এর কাছে অবস্থান করছিলেন। ড্রোন হামলায় রিসোর্টটির প্রবেশদ্বারে আগুন ধরে গিয়েছিল।

নাতালিয়া প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাস্তাগুলো আবার লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘তারা খুব দ্রুত সবকিছু পরিষ্কার করে ফেলছিল।’

দুবাই মলের বাইরে অবস্থিত বিখ্যাত ঝরনাগুলোর আলোকসজ্জা দেখার জন্য পর্যটকদের চিরচেনা ভিড় জমেছিল। কিন্তু সেই ছুটির মেজাজ বেশি সময় টেকেনি।

রাত বাড়লে দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দরে আগুনের খবর পাওয়া যায়। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানে ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। রোববার আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর এলাকা থেকেও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জেবেল আলী বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর মধ্যে নবম স্থানে রয়েছে, আর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত বন্দর এটি। সেখানকার একটি বার্থে আগুন ধরে যায়। এমনকি দুবাইয়ের সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা ও পালতোলা নৌকার আদলে তৈরি বুর্জ আল আরবেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগে।

ইরান সরাসরি দুবাইয়ের পর্যটনকেন্দ্র ও হোটেলগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, নাকি শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা বাস্তবায়ন করছিল, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এসব স্থাপনাই আমিরাতের আয়ের প্রধান উৎস।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরের পর বছর ধরে ব্যবসাবান্ধব ও নিরাপদ দেশ হিসেবে যে সুনাম গড়ে তুলেছিল, এ হামলায় তাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। দুবাইয়ের বাসিন্দাদের বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। মূলত নিরাপত্তা আর করছাড়ের সুবিধার আশায় তাঁরা এ শহরে বসবাস করেন। হামলার পর সেই নিরাপত্তাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ের পরিস্থিতি বদলে যায়। অনেক বিলাসবহুল হোটেল তাদের অতিথিদের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ ও বারান্দা থেকে সরিয়ে নেয়। হোটেলের ভূগর্ভে গাড়ি রাখার জায়গা ও সার্ভিস করিডরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দৃশ্যগুলো ইউক্রেনের শহরগুলোর দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়।

একজন রুশ লাইফস্টাইল ব্লগার হোটেলের ভূগর্ভ থেকে সিল্কের পাজামা পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘জরুরি অবস্থা, তবে তাতেও থাকুক ফ্যাশনের ছোঁয়া।’

দুবাইয়ে বসবাসরত রুশ নাগরিক ইয়েকাতেরিনা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, মধ্যরাতে ফোনে যখন নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বার্তা পান, তখন তিনি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কার পার্কিংয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘বুর্জ খলিফা’য় হামলা হয়েছে। পরে দেখা গেছে, এটি স্রেফ গুজব ছিল। তবে ওই রাতের অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক এই গুজবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সকাল হতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তারা বাসিন্দা ও পর্যটকদের আশ্বস্ত করে জানায়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বিমানে যাতায়াতে যাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এগুলোর বেশির ভাগই মাঝআকাশে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

আমিরাতের একজন বিশ্লেষক আমজাদ তাহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘আপনারা এখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত শতভাগ নিরাপদ। জীবন ও ব্যবসা আগের মতোই স্বাভাবিক চলবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি হোটেল থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি হোটেল থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, February 4, 2026

‘খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে পারেন আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ’

এপস্টেইনের নথিঃ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কয়েক দিনের ভেতর এ ঘটনা নিয়ে প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন একাধিক বার্তা আদান–প্রদান করেছিলেন।

গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন ও আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির মধ্যে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথোপকথন হয়েছে।

জামাল খাসোগিকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশ খাসোগিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তদন্তের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপসংহারে পৌঁছায় যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

খাসোগি খুন হওয়ার কয়েক দিনের ভেতর এ ঘটনা একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়। ১২ অক্টোবরের মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগি খুনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর তারিখের একটি বার্তায় আল রশিদ সাংবাদিক খাসোগি খুনের ঘটনাকে ‘বীভৎস...খুবই বীভৎস’ বলে বর্ণনা করেন।

এর জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এর পেছনে বড় কিছু আছে। যদি বের হয়, এমবিজেড তাঁকে (মোহাম্মদ বিন সালমানের) ফাঁসিয়ে দিয়েছেন; তবে আমি একেবারেই অবাক হব না।’

এখানে এমবিজেড বলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এপস্টেইনের এ বার্তার জবাবে আল রশিদের উত্তর, ‘হুমমমম’।

এপস্টেইন এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আল রশিদ লেখেন, ‘এ তথ্যগুলো (খাসোগি হত্যায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত) খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ফাঁস করা হয়েছে এমনটা বলা কঠিন এবং…দ্রুত…খুব দ্রুত...।’

আল রশিদ সতর্ক করে আরও লিখেছিলেন, এ সংকট এখন একটি কূটনৈতিক লড়াইতে পরিণত হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘এটি এখন একটি গণমাধ্যম যুদ্ধ। সৌদিরা যদি নিজেদের রক্ষায় কাজ শুরু না করেন, তাঁরা ট্রাম্পকে (সমর্থন) হারাতে যাচ্ছেন। আর আমার মতে, নিজেদের পক্ষে সাফাই দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, সত্য বলা, তা যত খারাপ হোক।’

প্রকাশিত নথিতে থাকা আরেকটি ফলোআপ ই–মেইলে দেখা গেছে, এপস্টেইন লিখেছেন, একটি ‘পরোক্ষ সূত্র’ তাঁকে বলেছেন, খাসোগি হত্যা অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পরে ফোনটি হ্যাক করে তৃতীয় পক্ষ ওই ভিডিও ফুটেজটি হাতে পায়।

কে বা কারা ফোনটি হ্যাক করেছে বা করতে পারে, সে বিষয়ে ই–মেইলে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর এপস্টেইন আরেকটি কথোপকথনে এ প্রসঙ্গে আরও প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, খাসোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি না। তিনি খাসোগি খুনের ঘটনাকে একটি ‘ব্যর্থ গোপন অভিযান’ বা কারও জন্য ‘ফাঁদ পাতার’ ঘটনা হিসেবে উত্থাপনের সম্ভাবনা আছে কি না, সেটিও জানতে চান। এসব কথোপকথনে তিনি আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম বারবার উল্লেখ করেন।

নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ওই দিন রাতেই এপস্টেইন আরও একজন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পান; যাঁর নাম নথিতে ঢেকে দেওয়া রয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছিল, মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন। পরদিন সকালেই ওই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার এপস্টেইন–সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। দেশটির নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইন অনুসারে এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে; যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম আবার উঠে এসেছে।

এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতেও এই ব্যক্তিদের নাম দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া সর্বশেষ নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে।

(বাঁ থেকে) সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও প্রয়াত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি
(বাঁ থেকে) সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও প্রয়াত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। ছবি: কোলাজ/রয়টার্স

Tuesday, February 3, 2026

খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে চেয়েছেন আরব আমিরাতের শাসক

এপস্টেইন নথির তথ্যঃ সৌদি আরবের বংশদ্ভূত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন একাধিক বার্তায় দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছেন।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথির মধ্যে থাকা এসব বার্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আনাস আল রশিদ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর পাঠানো এক বার্তায় আনাস আল রশিদ হত্যাকাণ্ডকে ‘কুৎসিত, খুবই কুৎসিত’ বলে উল্লেখ করেন। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, এর পেছনে আরও বড় কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে। এমবিজেড হয়তো এমবিএসকে ফাঁসিয়েছেন- এতে আমি অবাক হব না। এর উত্তরে আল রশিদ শুধু লেখেন, ‘হুম্ম’।

পরবর্তী বার্তায় আল রশিদ জানান, তথ্য ফাঁসের ধরন অত্যন্ত কৌশলী ও দ্রুতগতির, এবং পুরো বিষয়টি এখন একটি ‘মিডিয়া যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারাতে পারে। তার মতে, সত্যটা যতই কুৎসিত হোক, সেটাই সেরা প্রতিরক্ষা।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এপস্টেইন দাবি করেন তার এক সূত্র তাকে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা পরে হ্যাক করে সংগ্রহ করা হয়। তবে কে বা কারা ওই ফোন হ্যাক করেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

১৩ অক্টোবর আরেকটি বার্তায় এপস্টেইন খাশোগিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা, একটি গোপন ব্যর্থ অভিযান অথবা ফাঁদ পাতা ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন এবং বারবার এমবিজেডের নাম টানেন।

ওই রাতেই, নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন এক পরিচিত ব্যক্তির (নাম গোপন) কাছ থেকে বার্তা পান, যেখানে বলা হয়- মোহাম্মদ বিন জায়েদ তার সঙ্গে ‘জরুরি’ বৈঠক করতে চান এবং পরদিন সকালে যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে পৃথকভাবে প্রকাশিত একটি এফবিআই নধিদে দাবি করা হয়েছে, জেফ্রি এপস্টেইন মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। মেমোতে আরও বলা হয়, তিনি ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

এই নতুন তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

mzamin

Monday, February 2, 2026

দুবাইতে হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘সোনায় মোড়ানো’ সড়ক

বিশ্বে প্রথমবারের মতো সোনায় মোড়ানো সড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট–এ ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নামের এই সড়ক নির্মিত হবে। দুবাই মিডিয়া অফিস মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।

‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এর উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় দুবাইয়ের অন্যতম আবাসন কোম্পানি ইথরা। সড়কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে জানানো হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক দেশটির বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার।

‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’

সোনার বাজারে আধিপত্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে এবার দুবাইতে ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’ হচ্ছে। এটিকে আরব আমিরাতের নতুন ‘হোম অব গোল্ড’ বলা হচ্ছে। এখানে সোনা ও গয়নার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের ব্যবসা ও কার্যক্রম এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি, বুলিয়ন মার্কেট (স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর বাজার) ও বিনিয়োগ—সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের কেনাকাটার স্বার্থে সেখানে এক হাজারের বেশি খুচরা দোকান থাকবে। এসব দোকানে সুগন্ধি, প্রসাধনী, সোনা এবং জীবযাপনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ পাওয়া যাবে।

ইতিমধ্যে সেখানে জাওহারা জুয়েলারি, মালবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল–রোমাইজান এবং তানিশক জুয়েলারির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর শোরুম রয়েছে।
সুপরিচিত গয়নার ব্র্যান্ড জয়–আলুক্কাস ২৪ হাজার বর্গফুটের বৃহৎ একটি শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গয়নার শোরুম।

দুবাই ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এ হবে সোনায় মোড়ানো সড়ক
দুবাই ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এ হবে সোনায় মোড়ানো সড়ক। ছবি: দুবাই মিডিয়া অফিসের সৌজন্যে

Thursday, January 29, 2026

বিশ্বে প্রথম স্বর্ণের সড়ক নির্মাণ করবে দুবাই

বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্বর্ণ দিয়ে সড়ক নির্মাণের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নামে পরিচিত এই ব্যতিক্রমধর্মী সড়কটি নির্মিত হবে দুবাইয়ের নতুন গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে। প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন সংস্থা ইথরা দুবাই। এ খবর দিয়েছে খালিজ টাইমস।

এতে বলা হয়, প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’-কে অভিহিত করা হচ্ছে আমিরাতের নতুন ‘হোম অব গোল্ড’ হিসেবে। এখানে স্বর্ণ ও গয়না-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা হবে। এর মধ্যে খুচরা বিক্রি, পাইকারি ব্যবসা এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই জেলায় ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা ব্যবসা পরিচালনা করছে, যেখানে স্বর্ণ ও গয়নার পাশাপাশি পারফিউম, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্যও রয়েছে।
জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইযান ও তানিষ্ক জুয়েলারির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই সেখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ শোরুম স্থাপন করেছে। এ ছাড়া জয়ালুক্কাস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড়-২৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক। এই সময়ে আমিরাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভৌত স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

mzamin