Sunday, February 7, 2010

মিজানুরদের পথ দেখালেন শারমিন

বাংলাদেশের একের পর এক ব্যর্থতায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সন্ধ্যাটা তখন মৌনতায় ঢাকা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের একটু দূরেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে পাওয়া গেল আলো ঝলমলে কোলাহলময় এক সন্ধ্যা।
এই কোলাহল, এই আনন্দ-উল্লাস, সবই একজনকে ঘিরে। তিনি শারমিন ফারজানা ওরফে রুমি। তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন অপ্রত্যাশিত এক সোনা। এই অপ্রত্যাশিত সোনার ঝলকে সোনার আলোয় নেচে উঠেছে পুরো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আক্ষরিক অর্থেই নাচছিলেন তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের কর্মকর্তা আর শারমিনের সতীর্থরা।
ফাইনালে তিনি ১২-১ পয়েন্টে হারিয়েছেন আফগানিস্তানের মেয়ে লায়লা হুসেইংকে। এর আগে গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপের বিপক্ষে ওয়াকওভার পেয়েছেন শারমিন। সেমিফাইনালে নেপালের জানকুমারীকে হারিয়েছেন। এতগুলো বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশকে সোনা এনে দিয়েছেন যে শারমিন, তাঁর কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় খেলাই ছিল অনিশ্চিত। ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়েছে কদিন আগে। এই ইনজুরি নিয়ে খেলে জিতেছেন বলেই মনে হয় সবার আনন্দটা এত বেশি। সেটা এত বেশি মাত্রায় হলো যে, হঠাত্ করে আসা কারও মনে হতে পারত—বুঝি এই মাত্র ৪৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হলেন!
শারমিনের স্বপ্নটা অবশ্য অত দূর পর্যন্তই বিস্তৃত, ‘আমার লক্ষ্য এবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ এই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে কী করতে হবে? ফেডারেশনে যে সুযোগ-সুবিধা আছে তা কি যথেষ্ট? শারমিনের উত্তর, ‘হ্যাঁ, আমরা এখন যা পাচ্ছি সেটা ঠিক আছে। আমি শুধু সবার কাছে দোয়া চাই।’
তায়কোয়ান্দোতে এশিয়া জয় করার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের এই মেয়েটি একসময় খেলতেন হ্যান্ডবল। হ্যান্ডবলের কারণেই চাকরি পেয়েছেন বাংলাদেশ আনসারে। অথচ এখন তিনি তায়কোয়ান্দোর স্বপ্ন। তাঁরও স্বপ্ন তায়কোয়ান্দো। হ্যান্ডবল ছেড়ে তায়কোয়ান্দোতে এসেছিলেন মাহমুদুল হাসানের কথায়। তিনি বলেছিলেন, দেখো তুমি এটাতেই ভালো করবে। মাহমুদুল হাসানের কথাই সত্যি হয়েছে। এখন কি মনে হয় হ্যান্ডবল ছেড়ে এই খেলায় এসে ভালো হয়েছে? প্রশ্নটার উত্তর মুখে দিলেন না শারমিন। গলায় ঝোলানো সোনার পদকটা দেখিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন—এটা কী বলে?
আসলেই ওই সোনার পদকটা অনেক কথাই বলছে। বলছে, তায়কোয়ান্দোকে ঘিরে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা একেবারে মিথ্যে নয়। তায়কোয়ান্দোকে ঘিরে এখনো স্বপ্ন আছে বাংলাদেশের। আজ মহিলা তায়কোয়ান্দোতে আরেকটি সোনা জয়ের আশা স্বাগতিকদের। আশা আছে আগামীকাল মিজানুর ও রাসিউলকে নিয়েও।
তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পারবে তো স্বাগতিক যোদ্ধারা? কাল ছেলেদের ৬৩ কেজি ও ৬৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে আফগানিস্তানকে দুটি সোনা জিতিয়েছেন মোহাম্মদ হায়দারি ও হাসান রেজাই। কালও সোনার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে তারা। সোনার লড়াইয়ে নামবে নেপাল, ভারত, পাকিস্তানও।

এবার বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

এই প্রথমবারের মতো সারা দেশে স্কুলের ছাত্রদের জন্য বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করল বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি। পৃথিবীর এক সহস্রাংশ ভূখণ্ড বাংলাদেশ ঠাঁই দিচ্ছে বিশ্বের দুই দশমিক চার শতাংশ অধিবাসীকে। একমাত্র অতিরিক্ত সম্পদ বলতে জনসংখ্যা, যা উন্নয়নের অভাবে জনসম্পদে রূপান্তরিত হয়ে দেশের অগ্রগতির চাকায় ত্বরণ জোগাড় করতে পারছে না। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অনুন্নয়নের দুষ্টচক্র থেকে দেশকে বের করার জন্য নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের ভূখণ্ড যখন পরাধীন ছিল, বিজ্ঞানের ভান্ডারকে তখন আমরাই শ্রেষ্ঠ অর্জন দিয়ে সমৃদ্ধ করেছিলাম। এরপর সময়ের সঙ্গে আমাদের অর্জন আর অবদান ক্রমশই মলিন হয়ে আসছে। উন্নয়নের মাপকাঠিতে আমাদের সমপর্যায়ে থাকা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কোরিয়া যখন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনো এগুলো দেখে আমাদের বোধোদয় হচ্ছে না। একমাত্র উদ্বৃত্ত জনসংখ্যার দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নই হলো অগ্রগতির চাবিকাঠি।
বিজ্ঞান একাডেমির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শমশের আলী এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক নাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে সম্প্রতি অনেকগুলো উদ্যোগের সূচনা করা হয়েছে। আমাদের বিজ্ঞানের তরুণ ছাত্র বা স্নাতকেরা যাতে বিজ্ঞানের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে পারে, তার জন্য নোবেল বিজয়ীদের লিন্ডাও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করছে। এ ছাড়া জাপান আয়োজিত অনুরূপ কনফারেন্সে অংশগ্রহণও নিশ্চিত করছে। দেশে বিজ্ঞানশিক্ষার মানোন্নয়নে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কর্মশালা আয়োজন করেছে, নবীন গবেষকদের উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি নবীন বিজ্ঞানীদের কনফারেন্সেরও আয়োজন করেছে। এরই হাত ধরে আয়োজিত হলো বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সিদ্ধান্ত হলো, সারা দেশে জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিভাগীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজিত হবে। এবার দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জানুয়ারি আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বিভাগ থেকে গড়ে শতকরা ১০ জনকে জাতীয় অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হলো, তা হলো অধ্যাপক ফারুকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে চুয়েটে, অধ্যাপক খসরু মিয়ার নেতৃত্বে ডুয়েটে, অধ্যাপক মাহবুব মজুমদারের নেতৃত্বে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অধ্যাপক মাহবুব আলমের নেতৃত্বে কুয়েটে, অধ্যাপক আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে রুয়েটে, অধ্যাপক মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, অধ্যাপক আর আই শরীফের নেতৃত্বে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক নুরুল আবছারের নেতৃত্বে ইউএসটিসিতে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক কাজী আবদুল ফাত্তাহ, অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমাদ, অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, অধ্যাপক আলী আসগর, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ এবং অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক বিজ্ঞানের প্রতি ছাত্রদের উত্সাহদানের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন।
এই ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়ী প্রায় ৪০০ ছাত্রকে নিয়ে ২২ জানুয়ারি (মাসের চতুর্থ শুক্রবার) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শীতের সাতসকালে বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অভিভাবকেরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। ইজতেমার জন্য বাস, ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তিতে সন্দেহ থাকায় অনেকেই এক-দুই দিন আগেই এসেছেন। তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা ও বিজ্ঞানে উত্সাহিত করতে অভিভাবকদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই। যে অভিভাবকেরা সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য এ কষ্ট হাসিমুখে শিকার করছেন, এক দিন তাঁদের ছেলেমেয়েরা যে এই দুঃখী দেশমাতৃকার মুখে হাসি ফোটাতে পারবে, তাতে সন্দেহ নেই।
সকাল সাতটা থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যে আনন্দমুখর পরিবেশ, তাতে শীতও হার মেনেছে। অডিটোরিয়ামের সামনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ স ম শফিউল্লাহ এবং বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক এম শমশের আলী বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। লাল টি-শার্ট পরা অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়ানো ৪০০ ছাত্রের দৃশ্য ছিল অভূতপূর্ব। সকাল ১০টার দিকে পতাকাসজ্জিত রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ইএমই ভবনের ১০টি কক্ষে তারা পরীক্ষা দিতে চায়। এবার অলিম্পিয়াডে যথেষ্ট সৃজনশীল প্রশ্ন করে ছাত্রদের বিজ্ঞানের ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতাকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিভিন্ন বিষয়ে যশস্বী অধ্যাপকদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জুনিয়র গ্রুপে (অনূর্ধ্ব অষ্টম শ্রেণী) ৬০ নম্বরে ৪৭ পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রাকিব আহমেদ। পক্ষান্তরে সেকেন্ডারি গ্রুপে ৬০ নম্বরের মধ্যে ৩৮ পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনা পাবলিক কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র আবু শাকিল আহমেদ, চিটাগাং গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীর বৃষ্টি শিকদার, একে উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মো. শরীফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শোভন বিশ্বাস। দুই ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ছাত্রদের ৬০টি করে প্রশ্নের উত্তর করতে হয়।
পরীক্ষা শেষে মধ্যাহ্নভোজের পর শুরু হয় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। সিলেট থেকে শীতের কুয়াশা ভেদ করে জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও কলাম লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অংশ নেন। তরুণ-কিশোর ছাত্রছাত্রীদের নানা অনুসন্ধিত্সার চাহিদা মেটান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক কাজী আবদুল ফাত্তাহ, ফেলো মেসবাহ উদ্দিন আহমাদ, ফেলো অধ্যাপক আলী আসগর। ছাত্রদের প্রশ্ন করার সাহস দেখে মনে হয়, শুধু অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলেই তারা নিজেরাই অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে এবং বিজ্ঞানকে আয়ত্ত করে সঙ্গে সঙ্গে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বুয়েটের সিএসই বিভাগের ড. মো. হুমায়ুন কবীর। প্রায় ৫০ জন ছাত্রকে বিজয়সূচক মেডেল দেওয়া হয় তুমুল করতালির মাধ্যমে। দেশের প্রায় ১০০টি স্কুল থেকে আসা ৪০০ প্রতিযোগী নিঃসন্দেহে অনেক উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শফিউল্লাহ ছাত্রদের বিজ্ঞানচর্চায় উত্সাহিত করেন। বিজ্ঞান একাডেমির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শমশের আলী অভিভাবকদের কাছে আবেদন রাখেন, যাতে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের অন্তত উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়তে উত্সাহিত করেন। বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক আলী আসগর বলেন, রসায়নবিদ হামেফ্র ডেভিডকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার কী। তিনি উত্তরে সেফটি ল্যাম্পের কথা বলেননি, বলেছিলেন ফ্যারাডের নাম। তিনি মনে করেন, আমাদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ এই মেধাবী ছাত্রদের বের করে নিয়ে আসা। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এবং অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমাদও ছাত্রদের বিজ্ঞানের প্রতি উত্সাহিত করতে বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য অধ্যাপক আমিনুল হক, অধ্যাপক ফিরোজ আলম খান, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ওয়াহাব খান, ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ড. মো. সোহেল রহমান, অধ্যাপক মো. আবদুল হাকিমকে নিয়ে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়।
আশা করি, আগামী দিনেও এ রকম উত্সাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী অলিম্পিয়াড কর্মসূচি নিয়মত অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের তরুণ-কিশোরেরা বিজ্ঞান নিয়ে স্বপ্ন দেখবে, তার বাস্তবায়ন ঘটাবে এবং এর মাধ্যমে আমাদের দেশ বিজ্ঞানপ্রযুক্তির পরশে অগ্রগতির পথে ধাবিত হবে। তখন আর আমাদের দেশের সেতু নির্মাণে বিদেশি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে না, সার কারখানাও আমাদেরই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা তৈরি করতে পারবেন। আমাদের মাটির নিচের গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও ডাকতে হবে না এবং এই মূল্যবান সম্পদের অপচয়ও হবে না। আমাদের উপকূলে সাগরের নিচে কী কী সম্পদ আছে, তা নিরূপণের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হবে না, পকেটে রাখা মোবাইল ফোনগুলো আর বিদেশি কোম্পানির হবে না, ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনায় যাবতীয় বড় বড় কাজ যখন বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে করার প্রয়োজন থাকবে না, তখনই আমরা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হব। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান—সবই আমরা অন্য উন্নত দেশের মতো নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এমন দেশের অপেক্ষায় আমরা আছি, যা আমাদের অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী তরুণ-কিশোরেরা অদূরভবিষ্যতে রচনা করবে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বুয়েট। ফেলো, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী

আর্মেনীয় গণহত্যা -ইসরায়েল কত অস্বীকার করবে -রবার্ট ফিস্ক

সম্প্রতি ইসরায়েলিরা বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় হলোকস্টের স্মরণ অনুষ্ঠান করেছে। সেই সময় আমি বিংশ শতাব্দীর প্রথম হলোকস্টের শিকার ব্যক্তিদের ছাপা ও হাতে লেখা বিবরণী নাড়াচাড়া করছিলাম, জেরুজালেমের গুনবেনকিয়ান গ্রন্থাগারে। এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল তখন।
১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সময়ে জার্মানদের হাতে নিহত ৬০ লাখ ইহুদির স্মরণে আয়োজিত ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে আর্মেনীয়রা অংশগ্রহণ করেনি। কারণ ১৯১৫ থেকে ১৯২৩ সালের মধ্যে তুর্কি হলোকস্টে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় বলি হয়েছে, এটা ইসরায়েল সরকারিভাবে স্বীকার করে না। গণহত্যার চেয়ে ইসরায়েলি-তুর্কি কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক তাদের কাছে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন এভাবেই চলছিল।
ইতিহাসবিদ জর্জ হিন্টলিয়ান আমার উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলিরা ‘তাদের গণহত্যার বাইরে আরেকটি গণহত্যা ঘটেছিল, তারা হয়তো এটা ভাবতে চায় না। কিছু বিষয় আছে যা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না।’ ১৯১৫ সালের হত্যাযজ্ঞে নিহত হন জর্জের পরিবারের ৭০ জন সদস্য।
কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। বছরখানেক আগে যখন তুর্কিরা ইসরায়েলের গাজা আক্রমণে ফিলিস্তিনি হত্যা প্রসঙ্গে শোরগোল শুরু করল, তখনই ইসরায়েলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হঠাত্ করে আর্মেনীয় গণহত্যা পুনরাবিষ্কার করলেন। গণহত্যা নিয়ে তুর্কিরা কথা বলার কে? ১৯১৫ সালের কথা কি লোকে ভুলে গেছে? ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সব মিলিয়ে ১০ হাজার আর্মেনীয় আছেন। এদের মধ্যে চার হাজার ইসরায়েলের পাসপোর্টধারী। জর্জের মতে, গাজা যুদ্ধের আগ পর্যন্ত তাদের কথা ইসরায়েলিরা ভুলে থেকেছে। তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালে জেরুজালেমের হলোকস্ট সম্মেলনে আর্মেনীয়দের বাইরে রাখা হয়। তিন দশক ইসরায়েলি টেলিভিশনগুলোতে আর্মেনীয় গণহত্যার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা যেত না। কারণ তা তুর্কিদের মনোক্ষুণ্ন করবে। হঠাত্ গত বছর কয়েকজন ইসরায়েলি বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রামাণ্যচিত্রগুলো দেখানোর দাবি তোলেন। ইসরায়েলের পার্লামেন্টের ৩০ জন সদস্য আমাদের সমর্থন করেন। পিস নাউ সংগঠনের য়োসি সারিদ (Yossi Sarid) সবসময় আমাদের সমর্থন করতেন। কিন্তু এখন আমরা ডানপন্থীদের সমর্থনও পেলাম।’
মারিভ ও ইয়েদিওট আহরোনাত পত্রিকা দুটো আর্মেনীয় গণহত্যার কথা বলতে শুরু করে। ইসরায়েলি টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনি আয়ালন ও নেসেটের স্পিকার রুভেন রিভলিন সঙ্গে হাজির হন জর্জ হিন্টলিয়ন। তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে ডেনি তাঁর থেকে নিচুতে সোফায় বসতে বাধ্য করেছিলেন। রুভেন বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলকে আর্মেনীয় গণহত্যা প্রতিবছর স্মরণ করা উচিত।’ ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এখন আর্মেনীয় গণহত্যাকে বলা হয় ‘সোয়াহ’।এই শব্দটিই তারা ইহুদি হলোকস্টের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করে। জর্জ নিখুঁতভাবে এ পরিস্থিতির বর্ণনা করেছেন, ‘আমাদের ওপরে তোলা হচ্ছে।’
এই দুর্বিনীত ভণ্ডামি সারিদের দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি জানিয়েছেন, রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান গাজা যুদ্ধের নিন্দা জানানোর কয়েক মাস পর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘এখন আপনাকে তুর্কিদের পাল্টা জবাব দিতে হবে। আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে তারা যে অপরাধ করেছে, তার নিন্দা জানাতে হবে। য়োসি, আপনার সে অধিকার আছে...’ যে ব্যক্তি ফোন করেছিলেন, তিনি একসময় আর্মেনীয় হলোকস্ট অস্বীকারকারীদের সামনের সারিতে ছিলেন। এখন জেরুজালেমে নতুন সুর ধ্বনিত হচ্ছে: ‘আমাদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার অধিকার তুির্কদের নেই।’
ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষ হলোকস্ট বিশেষজ্ঞ একসময় সাহসিকতার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে চালিত হত্যাযজ্ঞ সন্দেহাতীতভাবে গণহত্যা।’ তাঁর এ বক্তব্য তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) শিমন পেরেজকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। অবশ্য হাজার হাজার ইসরায়েলি সবসময় আর্মেনীয়দের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা মনে করে। ২৪ এপ্রিল আর্মেনীয়দের স্মরণ অনুষ্ঠানে কয়েক শ ইসরায়েলির জমায়েত হওয়ার কথা। অধিকাংশ ইসরায়েলি আর্মেনীয় গণহত্যাকে ‘সোয়াহ’ হিসেবে উল্লেখ করে।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রহসনটি ঘটেছে গত বছর। আর্মেনীয় ও তুর্কি সরকার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনস্থাপন এবং কোনো গণহত্যা ঘটেছিল কি না, তা যাচাই করতে যৌথ অ্যাকাডেমিক অনুসন্ধান চালানোর বিষয়ে একমত হয়। ইসরায়েলি অধ্যাপক ইয়ার ওরিন আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে এখন বহু দেশ আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে দ্বিধায় পড়বে। সেসব দেশ বলবে, ‘আর্মেনীয়রা তাদের অবস্থান থেকে সরে গেলে আমরা কেন তাদের স্বীকৃতি দেব?’ ওরিন মনে করেন, ‘আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি প্রধানতম নৈতিক ও শিক্ষামূলক সক্রিয়তা। ইসরায়েলিরা এই স্বীকৃতি প্রদানে বাধ্য।’ আর আমেরিকান-আর্মেনীয় অধ্যাপক রিচার্ড হভানিমিয়ানের জিজ্ঞাসা, জার্মানির সঙ্গে ভালো সম্পর্কের জন্য তারা যদি দাবি করে হলোকস্টের স্মৃতি ভুলে যেতে, ইহুদি জনগণ কি তাতে রাজি হবে?
১৯৪৮ সালের আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে প্রায় ১৫ হাজার আর্মেনীয় বাস করত, তাদের অনেকে প্রথম হলোকস্ট থেকে বেঁচে যান। কিন্তু তাদের মধ্যে ১০ হাজার আর্মেনীয়কেও ফিলিস্তিনি আরবদের মতো পালিয়ে যেতে হয় বা তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অধিকাংশই হাইফা ও জাফফাতে তাদের ব্যবসা হারায়। তাদের অনেকে এখন জেরুজালেমে দ্বিতীয়বারের মতো আশ্রয়প্রত্যাশী। কিছু অংশ সাইপ্রাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। সেখানে তারা ১৯৭০ সালে তুর্কি আক্রমণের শিকার হয়ে তৃতীয়বারের মতো জায়গা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। বিষণ্ন সুরে জর্জ বলেন, এখন ছয় হাজার আর্মেনীয়কে জেরুজালেম আর পশ্চিম তীরের আর্মেনীয়-ফিলিস্তিনি হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসরায়েলি আমলাদের কাছে তাদের পরিচয় ফিলিস্তিনি।
আবার যদি ছক উল্টে যায়! তুরস্ক ও ইসরায়েল আবার ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। সারিদ তেমন সম্ভাবনাই দেখছেন, ‘তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলে কী ঘটবে? আমরা কি আর্মেনীয় হলোকস্ট অস্বীকার করার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন করব?’
দি ইনডিপেন্ডেন্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশ সাংবাদিক।

‘শিক্ষিকা’ বনাম ‘শিক্ষক’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা দুলালী বৈশ্যকে স্কুলে পাঠদান করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তিনি ‘শিক্ষক’ নন, ‘শিক্ষিকা’। রাজশাহীতে এক নারীকে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাঁর স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে বসে খেলা দেখতে দেওয়া হয়নি, কারণ, তিনি ‘নর’ নন, ‘নারী’। প্রশ্ন করতে হয়, নারী হওয়ায় শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কী সমস্যা সৃষ্টি হয়? সমস্যা যা, তা নারী নিজে নন, যে মানসিকতা নারীকে হেয় করে বা তাঁদের অধিকার খর্ব করে, সমস্যা সেই মানসিকতাতেই। সুতরাং শিক্ষিকা দুলালী বা খেলা দেখতে আসা মনিরা নয়, বদলাতে হবে ওই দুটি ক্ষেত্রের পুরুষ কর্তাব্যক্তিদের মানসিকতা। কেননা, এই মানসিকতা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখেনি।
এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে নারীর অবদান নেই। নারীর শ্রম ও অংশগ্রহণ ছাড়া কৃষি চলত না, নারীর শ্রম ছাড়া লাভজনক পোশাকশিল্প টিকত না, নারীর অবদান ছাড়া সরকার-প্রশাসন-রাজনীতি-শিক্ষা প্রভৃতি কেবল লোকবলের ঘাটতিতেই ভুগত না, গণতান্ত্রিকও হতে পারত না। তা সত্ত্বেও নারীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ক্ষেত্র থেকে ‘বহিষ্কার’ করার এই প্রবণতা কেবল বিশ্বাসঘাতকতাই নয়, অযৌক্তিক ও অবাস্তব। দুই পা সমান না হলে কেউ সাবলীলভাবে হাঁটতে পারে না। নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকলে তেমনি দেশও এগোয় না। দুঃখের বিষয় এর পরও নারীবিদ্বেষী মানসিকতা এখনো কিছু পুরুষের মধ্যে রয়ে গেছে। আর এটা চলতে পারছে প্রশাসন ও সরকারের উদাসীনতায়।
দুলালী বৈশ্য যে ছয় মাস যাবত্ ক্লাস নিতে পারছেন না, তা ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানেন। কিন্তু প্রথম আলোর কাছে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাত-পা বাঁধা...।’ কে তাঁর হাত-পা বেঁধেছে? হাত-পা বাঁধা থাকাই কি তাঁর পেশা? এ জন্যই কি তিনি রাষ্ট্রের বেতন পান? কিংবা স্কুল কমিটির যে সভাপতি বলেন, ‘শিক্ষিকা নয়, চাই পুরুষ শিক্ষক’; এই নারীবিদ্বেষী ব্যক্তি কীভাবে একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ দখল করে রাখেন, যেখানে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান অঙ্গীকারবদ্ধ? এই মন্তব্য করে তিনি সমগ্র নারীসমাজ তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী দুজনকেই অপমান করেছেন।
বিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের ও সমাজের উচ্চাসনে যিনিই থাকুন, তাঁকে সমানাধিকারের নীতিতে বিশ্বাসী হতে হবে, নারী-পুরুষ সবার প্রতিই সমান শ্রদ্ধা রাখতে হবে। যে ব্যক্তি নারীকে অবমাননা করেন, তিনি নিজের মা-বোন-স্ত্রী কিংবা নারী সহকর্মীর প্রতিও শ্রদ্ধা পোষণ করেন বলে মনে হয় না। এ ধরনের ব্যক্তির উপদ্রব থেকে দেশ যত মুক্ত হয়, ততই মঙ্গল।

পিলখানা হত্যার বিচার

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পার হতে চললেও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এর আগে সরকার ও সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তারা নির্দিষ্টভাবে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত করেনি। এই প্রেক্ষাপটে হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন করে বাগ্যুদ্ধ শুরু হওয়া দুঃখজনক। এ ধরনের বাগ্যুদ্ধ যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি অনৈতিকও।
গত বছরের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৫৭ জনই সেনা কর্মকর্তা। অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি হলে বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিত। আবার বিরোধী দলও পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ দুইয়েরই প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সরকার যে ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, মোটামুটি সব মহলে তা প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু তারা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেনি। হত্যার বিচার দূরের কথা, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই নতুন করে সরকার ও বিরোধী দল বাহাসে লিপ্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনার দিন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সেনা নিবাসের বাড়িতে না থাকা এবং লন্ডন থেকে তাঁর ছেলে তারেক রহমানের টেলিফোন করা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। জবাবে বিএনপির নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অপরাধ আড়াল করতে আটক অনেক বিডিআর সদস্যকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ এনেছেন। তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য সমীচীন নয়।
এ ধরনের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সত্য, আত্মরক্ষার সুযোগ পায় অপরাধী এবং বাধাগ্রস্ত হয় ন্যায়বিচার। সরকার বা বিরোধী দল জেনেশুনেই কি এ কাজ করছে? তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, সে সবের পক্ষে কি যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে আছে। থাকলে সেগুলো তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়াই হবে উত্তম কাজ। আগে পারস্পরিক দোষারোপে অনেক গুরুতর অপরাধের মামলা ধামাচাপা পড়ে গেছে। প্রকৃত অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে নিয়ে টানাটানিও কম হয়নি। ফলে জজ মিয়া কাহিনির সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারা আর চলতে দেওয়া যায় না।
কোন আইনে পিলখানা ঘটনার বিচার হবে, সে নিয়ে বিতর্কও ছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতই ঠিক করে দেন, বিডিআর আইনে বিদ্রোহের এবং ফৌজদারি আইনে হত্যা ও লুটপাটের বিচার হবে। সে অনুযায়ী ছয়টি বিশেষ আদালতে বিদ্রোহের বিচারকাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু যে ঢিমেতালে বিচার চলছে তাতে অনেক বছর লেগে যাবে। বিচার দ্রুত শেষ করতে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্যদিকে তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় হত্যার বিচারকাজ শুরুই হতে পারছে না।
অতএব রাজনৈতিক বাহাস বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব পিলখানা হত্যার বিচারকাজ শুরু করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকেও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশিত। তাদের এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

সুইডেনের সবচেয়ে বড় পত্রিকার কর্মী ছাঁটাই

সুইডেনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পত্রিকা ডাজেনস নাইহেটার গত বৃহস্পতিবার তাদের ছয় ভাগের এক ভাগ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। প্রায় এক কোটি ইউরো লোকসান দেওয়ার পর খরচের লাগাম টেনে ধরতে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পত্রিকাটির সাংবাদিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ কথা বলা হয়। উল্লেখ্য, পত্রিকাটির কর্মী সংখ্যা ৫৮০ জন।

পরমাণু জ্বালানি বিষয়ে ভারত ও ব্রিটেনের চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

ভারত ও ব্রিটেন পরমাণু জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ব্যাপারেও দেশ দুটি সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে। ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানান।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর পিটার ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার বিষয়ে আমরা চুক্তির একটি খসড়া পেয়েছি। এটা ভালো একটা অগ্রগতি। শিগগিরই এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’
আনন্দ শর্মাও শিগগিরই এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ব্রিটেনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, ব্রিটেনের কোম্পানিগুলো বেসামরিক পরমাণু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
এর আগে ভারত ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি করে। এ ছাড়া রাশিয়া, জার্মানির সঙ্গেও বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হওয়ার কথা। ১৯৭৪ সালে ভারত পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর বিশ্ব তোপের মুখে পড়ে।

কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ভিড় হয় প্রতিদিন

কলকাতা বইমেলা উদ্বোধনের দিন থেকেই প্রতিদিনই ভিড় জমছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে। কলকাতার বইপ্রেমীরা বাংলাদেশের বই কিনতে লাইন দিয়ে ওই প্যাভিলিয়নে ঢুকছে। সবারই আগ্রহ বাংলাদেশের কোনো নতুন বই এসেছে কি না। জনপ্রিয় লেখকদের লেখা বইও কিনছে তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বেশি চলছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই।
এবারের বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দেখেও মুগ্ধ কলকাতার বইপ্রেমীরা। তবে অনেকের অভিযোগ, তারা পছন্দের অনেক বই খুঁজে পাচ্ছে না। এক বইপ্রেমী প্রথম আলোকে বলেন, নতুন প্রকাশিত বইয়ের চেয়ে এবার পুরোনো বইয়ের সমাহার বেশি।
এবারের বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন গড়া হয়েছে ঢাকার বাংলা একাডেমী ভবন বর্ধমান হাউসের আদলে। সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ওই প্যাভিলিয়ন। এখানেই বাংলাদেশের নানা বই নিয়ে বসেছে বাংলাদেশের বইয়ের হাট।
২৯ জানুয়ারি বইমেলায় উদ্যাপিত হয় বাংলাদেশ দিবস। এ বছর জাতিসংঘের উদ্যোগে গোটা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০ বছর পূর্তি উত্সব। আর এ উদ্দেশ্যেই এবার কলকাতা বইমেলাও উত্সর্গ করা হয়েছে কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি।
২৫ জানুয়ারি কলকাতার সায়েন্স সিটির সামনে মিলনমেলা ময়দানে ৩৪তম কলকাতা মেলার উদ্বোধন করেন মেক্সিকোর নোবেলজয়ী সাহিত্যিক জর্জ ভলপি। মেলা শেষ হবে কাল রোববার।

ইরানের দূত বললেন -আহমাদিনেজাদের পদক্ষেপ সদিচ্ছারই ইঙ্গিত

ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে প্রস্তুত—এমন ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ পরমাণু সংকট নিরসনে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে আরও পরিষ্কার হয়েছে তিনি বিশ্বশক্তির সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তির ব্যাপারে সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী আসগার সোলতানিয়াহ এ কথা বলেন।
ইরানি রাষ্ট্রদূত আলী আসগার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, চুক্তি সম্পর্কে ইরান তার নতুন অবস্থান সম্পর্কে এখনো আইএইএকে অবহিত করেনি। আইএইএ প্রস্তাবিত ওই চুক্তিটি কোথায় এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, এ নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি মাসের পর মাস ধরে ঝুলে ছিল।
রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র চায় প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের আন্তরিকতা প্রমাণ করার জন্য তাঁর সর্বশেষ ওই প্রস্তাব আইএইএকে অবহিত করা হোক।
গত মঙ্গলবার ইরানি প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বলেন, পরমাণু চুল্লির জন্য জ্বালানি পাওয়ার আগেই তেহরান তার অল্প পরিশোধিত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে প্রস্তুত। কিন্তু এর আগে তেহরানের দাবি ছিল, ইরানকে আগে পরমাণু জ্বালানি দিতে হবে এরপর তারা অল্প পরিশোধিত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে।
রাষ্ট্রদূত আলী আসগার বলেন, প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ যা বলেছেন তাতে প্রতীয়মান হয়, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে তাঁর। এখন ওই সুযোগের সদ্ব্যবহারের দায়িত্ব অন্যদের। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বাস্তবিকপক্ষে খুবই ইতিবাচক এবং গঠনমূলক। এখন সংঘাত থেকে সহযোগিতার দিকে যাওয়ার ব্যাপারে অন্যদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরীক্ষা হবে।
আলী আসগর বলেন, তিনি এখনো আহমাদিনেজাদের নতুন ওই অবস্থান আইএইএর প্রধান ইউকিইয়া আমানোকে অবহিত করেননি।
বিষয়টি এখনো আইএইএকে অবহিত না করায় ইরানের অবস্থান বদল সম্পর্কে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, দয়া করে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যাবেন না

জ্যাকসনের চিকিৎসক কনরাড আত্মসমর্পণকরেননি

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের চিকিৎসক কনরাড মারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব করছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। এদিকে গতকাল শুক্রবার কনরাড মারের আদালতে আত্মসমর্পণ করার গুঞ্জন ছিল। তবে কনরাড শেষ পর্যন্ত গতকাল আত্মসমর্পণ করেননি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র গতকাল এ কথা জানায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার কনরাড মারের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
কনরাডের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কীভাবে সুরাহা করা হবে, এ নিয়ে সরকারি কৌঁসুলি এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনার এক দিন পর তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্য দেওয়া হলো।
মাইকেলের চিকিত্সায় অবহেলা ও অপরিণামদর্শিতার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ‘অনিচ্ছুকভাবে মানব হত্যাকাণ্ড’ ঘটানোর অভিযোগ আনা হতে পারে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, গতকাল কনরাড মারের আত্মসমর্পণ ও আদালতে হাজির হওয়ার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

ব্রিটিশ এমপিদের অর্থ কেলেঙ্কারির খবর যেভাবে বেরিয়েএল

সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থব্যয় করা নিয়ে বেশ বিপদেই পড়েছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমপি)। গত বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, এমপিদের এ অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ ১১ লাখ পাউন্ডের বেশি, যা এখন তাঁদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আর ব্রিটিশ জনপ্রতিনিধিদের এ আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর বের করে আনার কৃতিত্ব সংবাদকর্মীদের। এ কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাংবাদিকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি।
পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে প্রথমবার এমপিদের সরকারি অর্থব্যয়ের বিষয়ে তথ্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে গত বছর ধীরে ধীরে আর্থিক কেলেঙ্কারির চিত্রটি তুলে আনেন তাঁরা। মূলত প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফ ছিল এর অগ্রভাগে।
২০০৫ সালের জানুয়ারি: ব্রিটেনে ‘ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট’ কার্যকর হওয়ার পরপরই সাংবাদিকেরা এমপিদের সরকারি তহবিল থেকে ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি: ছয়জন এমপির সরকারি অর্থব্যয়ের তথ্য জানানোর জন্য পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন ব্রিটেনের তথ্য কমিশনার।
১৬ মে: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স এমপিদের অর্থব্যয়ের তথ্য প্রকাশের বিরোধিতা করে। কিন্তু এই দিন তাঁরা হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ে হেরে যান।
২৩ মে: ১৪ জন ব্রিটিশ এমপির সরকারি অর্থব্যয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
২০০৯ সালের ২৩ মার্চ: নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান-বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান স্যার ক্রিস্টোফার কেলি এমপিদের অর্থব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত করার ঘোষণা দেন।
২১ এপ্রিল: এমপিদের অর্থব্যয়ের ব্যাপারে নতুন আইনের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য ইউটিউবে একটি ভিডিওর মাধ্যমে সমর্থন আদায়ের অপচেষ্টা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। তবে এমপিরা দ্বিতীয় বাড়ির জন্য ভাতা বরাদ্দ রাখার পক্ষে ভোট দেন।
৮ মে: সব এমপির দাখিল করা ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে শুরু করে ডেইলি টেলিগ্রাফ। সরকারি একটি গোপন সূত্র থেকে এ ব্যয়ের তথ্য পায় পত্রিকাটি।
১১ মে: তত্কালীন হাউস অব কমন্সের স্পিকার মাইকেল মার্টিন এমপিদের জানান, এমপিদের সরকারি অর্থব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে পত্রিকার কাছে পাচার হলো, তা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯ মে: স্পিকার মার্টিন ঘোষণা করেন, সব পক্ষ থেকে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করবেন। গত চার বছরে এমপিদের সরকারি অর্থব্যয়ের একটি নিরপেক্ষ হিসাব জানার জন্য স্যার টমাস লেগকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। একই দিন গোয়েন্দা দপ্তর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ঘোষণা দেয়, এমপিদের ব্যয়ের তথ্য পাচারের ঘটনার তদন্ত করবে না তারা।
২ জুন: আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার প্রথম মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যাকি স্মিথ।
১৮ জুন: এমপিদের ব্যয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন পার্লামেন্টে প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদনের অনেকখানি অংশ কালো কালিতে ঢাকা ছিল। অতিরিক্ত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়।
১৯ জুন: স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানায়, কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হতে পারে।
২৫ জুন: কনজারভেটিভ দলের নিজস্ব তদন্তে দেখা যায়, সোয়া এক লাখ পাউন্ড সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে দলীয় এমপিদের।
২১ জুলাই: সরকারি অর্থব্যয়-সম্পর্কিত নতুন আইন তৈরি করতে ‘ইনডিপেনডেন্ট পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি’ (আইপিএসএ) স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একজন কমিশনারের নেতৃত্বে সংসদীয় তদন্ত কমিটি করা হয়।
১২ অক্টোবর: কী পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে, তার বিস্তারিত হিসাব জানিয়ে স্যার টমাস লেগ এমপিদের চিঠি দেওয়া শুরু করেন।
৩ নভেম্বর: স্যার ইয়ান কেনেডিকে আইপিএসএর চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।
২৩ নভেম্বর: ব্রিটেনের তদন্ত সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কাছে এমপিদের প্রতারণার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রথম চারটি মামলা পাঠায় পুলিশ। পরের মাসে আরও দুটি মামলা পাঠানো হয়।
২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি: স্যার টমাস লেগ তাঁর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, সাবেক ও বর্তমান মোট ৩৯২ জন ব্রিটিশ এমপি ১১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড অপব্যয় করেছেন। তাঁদের ওই পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।

চার ব্রিটিশ এমপি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন

সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের চারজন সদস্য ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। সাংসদদের ব্যয় বাবদ রাষ্ট্রের কাছ থেকে খরচ দাবি করার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের পর লেবার পার্টির তিনজন এমপি এবং লর্ড-সভার একজন কনজারভেটিভ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব দাখিলের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। চৌর্যবৃত্তি আইনের আওতায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন লেবার পার্টির ইলিয়ট মোরলে, জিম ডিভাইন, ডেভিড চায়টোর এবং কনজারভেটিভ পার্টির পল হোয়াইট। পল হোয়াইট ‘লর্ড হানিংফিল্ড’ নামেই বেশি পরিচিত। লেবার পার্টির তিনজনই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের সদস্য। আর হানিংফিল্ড হলেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লর্ড সভার সদস্য।
লেবার পার্টির তিন এমপি এক বিবৃতিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, পার্লামেন্ট সদস্যদের ব্যয়ের বিষয়টি পার্লামেন্ট কমিশনারের এখতিয়ার।
ব্রিটেনে সরকারি কৌঁসুলিদের দপ্তরের পরিচালক কেইর স্টার্মার গতকাল শুক্রবার এক নাটকীয় বিবৃতিতে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। প্রতিটি অভিযোগ আনা হয়েছে ১৯৬৮ সালের চৌর্যবৃত্তি আইনের মিথ্যা হিসাব দাখিল করার ধারার আওতায়। ডেভিড চায়টোর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজে একটি বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও অসাধু উপায়ে ওই বাড়ির জন্য ১৩ হাজার পাউন্ড ভাড়া আদায় করেছেন। ইলিয়টের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের একটি হচ্ছে, তিনি তাঁর সম্পত্তির জন্য মর্টগেজ বাবদ ১৬ হাজার পাউন্ড উঠিয়েছেন। অথচ ওই সম্পত্তির কোনো মর্টগেজ বা ঋণ পরিশোধ করা বাকি ছিল না। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা দুজনই এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জিম ডিভাইনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চালান ব্যবহার করে দুটি মিথ্যা হিসাব দাখিল করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় কাজ করেননি। লর্ড হানিংফিল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও তিনি রাতের বেলায় থাকার জন্য খরচ দাবি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ছয়টি অভিযোগ। হানিংফিল্ড এক বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্টার্মারের ঘোষণার পর লর্ড-সভায় কনজারভেটিভ পার্টির ব্যবসাবিষয়ক মুখপাত্রের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হানিংফিল্ড।
অভিযুক্ত পার্লামেন্ট সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হবে না। তবে আগামী ১১ মার্চ তাঁদের ওয়েস্ট মিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হবে। চৌর্যবৃত্তি আইনের আওতায় মিথ্যা হিসাব দেওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড।
লেবার দলের একজন মুখপাত্র বলেন, লেবার দল ইতিমধ্যে ইলিয়ট মোরলে, ডেভিড চায়টোর ও জিম ডিভাইনের আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তিনি আরও বলেন, যেখানে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে তাঁরা আর কোনো মন্তব্য করবেন না।
লেবার দলের লর্ড ক্লার্ক বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না আনায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তবে ষষ্ঠ একজন সাংসদের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করেননি স্টার্মার।

টোগোর মামলা

ফুটবল দলের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আফ্রিকা ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিল টোগো। অ্যাঙ্গোলায় গত মাসে আফ্রিকান নেশনস কাপ শুরুর আগে টোগো ফুটবল দল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেয় তারা। এতে সিএএফ আগামী দুটি নেশনস কাপে টোগোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর জের ধরেই টোগোর এই মামলা দায়ের।

শূন্য হাতে দেশে ফিরছে পাকিস্তান

৩৬ বলে প্রয়োজন ৩০, হাতে ৬ উইকেট, বোলারদের কচুকাটা করে ৬৪ রানে অপরাজিত এক ব্যাটসম্যান। এমন ম্যাচও কি হারা সম্ভব? দলের নাম পাকিস্তান হলে উত্তর হবে, অবশ্যই সম্ভব। অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ ম্যাচে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে কাল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২ রানে হেরেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৫০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার পর একটি প্রস্তুতি ম্যাচ, তিনটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলে পাকিস্তানের জয়ের খাতা শূন্য। হার এড়াতে পেরেছে কেবল ওই প্রস্তুতি ম্যাচেই।
মাত্র ৬ ওভারেই ৫০ রান তোলার পরও বোলারদের নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে ১২৮ রানে বেঁধে ফেলে পাকিস্তান। শুরুতে ২ উইকেট হারালেও কামরানের ৩৩ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে পাকিস্তান সহজ জয় পাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু টেইট-স্মিথদের দুর্দান্ত বোলিং ও মাইকেল ক্লার্কের দারুণ অধিনায়কত্বে ২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। আগুন ঝরানো বোলিং করে ম্যাচসেরা এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা শন টেইট (৪-০-১৩-৩)। টেইটের করা ইনিংসের তৃতীয় বলটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রততম (১৬০.৭ কিমি)। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৮. ৪ ওভারে ১২৭/১০ (ডেভিড হাসি ৪০*, ক্লার্ক ৩২; গুল ৩/২০, মালিক ২/৩১)।
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১২৫/৯ (কামরান ৬৪; টেইট ৩/১৩, ওয়াটসন ২/২৪, স্মিথ ২/৩৪)।

ভারতের মিডল-অর্ডারকে তাক করছে দক্ষিণ আফ্রিকা

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেট!’ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের বিজ্ঞাপনে ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে এমনটাই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বলাটা হয়তো একটু বাড়াবাড়িই, তবে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বললে ভুল হবে না একটুও। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ‘গদা’টা ভারতেই থাকবে নাকি চলে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়, নির্ধারিত হবে এই সিরিজেই।
শুধু এক নম্বরের সম্মান বা গদাই নয়, সিরিজে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে অর্থপুরস্কারও। নিয়ম অনুযায়ী ১ এপ্রিল যে দলটি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকবে, আইসিসির কাছ থেকে তারা বোনাস পাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল পাবে ৭৫ হাজার। র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান পিঠোপিঠি, কিন্তু অর্থপুরস্কারে ব্যবধান ১ লাখ ডলার। লড়াইটা তাই ওই বাড়তি এক লাখ ডলারেরও।
স্বাগতিকের সুবিধা যদি এগিয়ে রাখে ভারতকে, পিছিয়ে রাখছে অবশ্যই ইনজুরি। রাহুল দ্রাবিড় এবং যুবরাজ সিং তো প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই নেই। কাল পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না ভিভিএস লক্ষ্মণের খেলাও। বাংলাদেশ থেকে বয়ে নিয়ে যাওয়া ইনজুরি এখনো পুরোপুরি পিছু ছাড়েনি তাঁর। কাল অবশ্য নেটে ব্যাটিং করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ মুহূর্তে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে তিন নম্বরে খেলা মুরালি বিজয় তাই থাকছেন একাদশে। যুবরাজের বদলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে যাওয়া সুব্রামনিয়াম বদ্রিনাথের টেস্ট অভিষেকও নিশ্চিত। লক্ষ্মণ না খেললে অভিষেক হয়ে যাবে রোহিত শর্মারও।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ইনজুরি সমস্য নেই। বরং ইনজুরিতে দুর্বল হয়ে যাওয়া ভারতের মিডল-অর্ডারকে টার্গেট করছেন ডেল স্টেইন-মরনে মরকেলরা। এই পেস আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার মূল ভরসা। গ্রায়েম স্মিথ রাখঢাক না রেখেই বলেছেন শীর্ষস্থানটা পুনরুদ্ধার করতে চান তাঁরা। সব মিলিয়ে দেখা যেতে পারে জমজমাট একটা সিরিজ।

আফগানিস্তান জিতল প্রথম সোনা

এবারের এসএ গেমসে কাল প্রথম সোনা জিতল আফগানিস্তান। তাদের সেই সোনা এল বাস্কেটবলে। আফগানদের প্রথম সোনা জয়ের উত্সবের দিনে বাস্কেটবলে ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ।
বাস্কেটবলে বড় প্রত্যাশা ছিল না বাংলাদেশের। তাই ব্রোঞ্জ জিতে হতাশ নয় স্বাগতিক দল। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নেপালকে ৭৫-৬২ পয়েন্টে হারিয়েছে তারা। আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সোনার লড়াইয়ের ম্যাচটি বেশ জমেই উঠেছিল ধানমন্ডি ইনডোর স্টেডিয়ামে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচে আফগানিস্তান ভারতকে হারিয়েছে ৬৫-৬৪ পয়েন্টে। ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্তও বলা যাচ্ছিল না কে জিতবে ম্যাচ। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর কেবলই আগে ভারত ছুঁয়ে ফেলেছিল আফগানদের। কিন্তু অন্তিম মুহূর্তে আফগানিস্তান আবার ছাড়িয়ে যায় ভারতকে। প্রথমার্ধে অবশ্য ৪৪-৩৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল আফগানিস্তানই।
বক্সিংয়ে বেঁচে থাকল আশা
বক্সিংয়ে একেবারেই হতাশ করেননি স্বাগতিক বক্সাররা। ৪৮ কেজি লাইট ফ্লাই ওজন শ্রেণীতে মশিউর রহমান ভুটানের লোবজানকে ১৫-৪ পয়েন্টে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন। তবে ৫১ কেজি ফ্লাই ওজন শ্রেণীতে ভারতের আমানদীপের কাছে হেরে গেছেন বাংলাদেশের ওয়াহিদুজ্জামান। এদিন বক্সিং রিংয়ে এ ছাড়া যে খেলাগুলো হয়েছে তাতে ৪৮ কেজি লাইট ফ্লাই ওজন শ্রেণীতে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ আরেফ হারিয়েছেন নেপালের শচীনকে, ৫১ কেজি ফ্লাইয়ে পাকিস্তানের মোহাম্মেদ ওয়াসিম জয় পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার দিলাঙ্কা সুরেশের বিপক্ষে।
টিটিতে ব্যর্থ দিন
উডেন ফ্লোর জিমনেসিয়ামে মনোরম উদ্বোধনী হলো টেবিল টেনিসের। কিন্তু এই ইভেন্টে দিনটি আর মনোরম থাকেনি বাংলাদেশের। দলগত মহিলা ইভেন্টে স্বাগতিকেরা ৩-০-তে হেরে গেছে ভারতের কাছে। আরেক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মেয়েরা হারিয়েছে মালদ্বীপকে

ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট বাংলাদেশ

হ্যান্ডবল থেকে খুব বড় আশা ছিল না বাংলাদেশের। প্রাপ্তিটা বড়ও হলো না। কাল নেপালকে ৪১-১১ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
এই নেপালকে হারিয়েই এসএ গেমসের হ্যান্ডবলের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। আশা জাগিয়েছিল আরও বড় কিছুরও। কিন্তু ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে সে আশার সমাধি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ উলফগং লোয়েক দলের এই অর্জনে খুশিই, ‘আমি খুশি। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ২০ মিনিটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশেরও সোনা জয়ের সুযোগ থাকত।’
ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যর্থতা ভুলতেই কি না, কাল শুরু থেকেই নেপালের রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। করে যায় একের পর এক আক্রমণ। গোলও পেতে থাকে নিয়মিত বিরতিতেই। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই ১০-১ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষ করে তারা ২৩-৫ গোলে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও সাইদুজ্জামান, আসাদুল ও কামরুলদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে নেপালের রক্ষণ। এই অর্ধে ১৯ গোল পায় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৯ গোল করেছেন সাইদুজ্জামান, ৫টি করে গোল করেছেন আসাদুল ও কামরুল, ৪টি করে মাহবুবুল ও ওয়ালিউর এবং ৩টি করে গোল করেন খায়রুজ্জামান, ইমদাদুল ও কামেল।
এর আগে আফগানিস্তান ৪৭-৩৭ গোলে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। আফগানিস্তান প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ২০-১১ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে আফগানদের ২৭ গোলের বিপরীতে শ্রীলঙ্কা করতে পারে ১৬টি।
আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় সোনার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তান কিন্তু হারিয়েছে ভারতকে

সন্দীপের ছুটে চলা-বদিউজ্জামান

সাঁতারপুলের নীল জলের দাপাদাপি তখন থেমে গেছে। ধীরে ধীরে বাড়ির পথ ধরছে দর্শক। বিকেলের একচিলতে সোনারোদের আভা পানির ওপর দিয়ে ঠিকরে পড়ছে তাঁর মুখে। সবাই উঠে গেলেও তখনো সাঁতরে চলেছেন তিনি। একটু আগে ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে দক্ষিণ এশীয় গেমসের রেকর্ড গড়ে সোনা জেতা ভারতীয় তরুণ সন্দীপ সেজওয়াল কি একটু ক্লান্ত?
গত ২৩ জানুয়ারি বাইশে পা দিয়েছেন। জলের সঙ্গে সখ্য ১৪ বছর আগে থেকেই। আলোকচিত্রী বাবা রামপ্রকাশ মারা গেছেন দুই বছর আগে। মা গৃহিণী। ছোট বোন রিতু তাঁর চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট। তিনিও সাঁতারে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, শুধু জলকে ভালোবেসেই তাঁদের দুই ভাইবোনের সাঁতারে আসা।
ভারতের এক নম্বর সাঁতারু সন্দীপ টানা চার বছর ধরে এই আসনটা ধরে রেখেছেন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আছেন ৫৩ নম্বরে। পানিতে নামলেই পদক। পদক জেতা যেন অভ্যাস হয়ে গেছে ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার এই তরুণের। তাঁর শোকেসে জাতীয় আর আন্তর্জাতিক মিলিয়ে কতগুলো পদক সাজানো আছে সেটা মনে করতেই পারলেন না, ‘আমি গুনে বলতে পারব না কতগুলো জিতেছি।’ প্রধানত ৫০ মিটার, ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সাঁতরে থাকেন নয়াদিল্লির এই সাঁতারু। এই বছর অক্টোবরে নিজের শহরেই শুরু হবে কমনওয়েলথ গেমস। সেখানেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান।
মাত্র কদিন আগেই দিল্লির সেন্ট যোশেফ কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। আরও আগেই এটি শেষ করতে পারতেন। শুধু সাঁতারের প্রস্তুতির জন্যই লেখাপড়া বন্ধ রেখেছিলেন কয়েক মাস।
ভারতে ক্রিকেট হলো ধর্মের মতো একটা আবেগ। ক্রিকেটার না হয়ে কেন সাঁতারু হওয়ার শখ হলো? সাঁতারু হয়েছেন, কারণ এই খেলাটি ‘ব্যক্তিগত সাফল্য’ দেয়।
দক্ষিণ এশিয়ার এত বড় সাঁতারু কিন্তু তাঁর আদর্শ কেউ নেই। না, মার্ক স্পিত্জ, না মাইকেল ফেল্প্স, না ইয়ান থর্প। তিনি নিজেই নিজের আদর্শ, ‘আমি কাউকে অনুসরণ করি না। সব সময় চেষ্টা করি নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।’ গত অলিম্পিকে গিয়েছিলেন বেইজিংয়ে। খুব কাছ থেকে দেখেছেন মাইকেল ফেল্প্সকে। একই সঙ্গে সাঁতরেছেনও। কিন্তু ভালো কিছু করতে পারেননি। হয়েছিলেন ৩৫তম। তবে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক তাঁকে একটা সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অভিনব বিন্দ্রার মতো তারকাখ্যাতি পেতে লোভ জেগেছে তাঁর, ‘আমি এখন থেকেই টার্গেট করেছি এবার অলিম্পিকে কিছু একটা করব। সেটা অবশ্যই সোনার লড়াই।’ বলতে বলতে তাঁর ফরসা মুখে ছড়িয়ে পড়ল সোনালি হাসির আভা। বড় সাফল্য তাঁকে পেতেই হবে। বাবা মারা যাওয়ার আগে তাঁকে এই একটি কথাই বলে গিয়েছিলেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই এগিয়ে চলেছেন সন্দীপ।