Saturday, January 15, 2011

আবিদজানে সংঘর্ষে একজন নিহত

আইভরি কোস্টের আবিদজান শহরে গতকাল বুধবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোর অনুগত বাহিনী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলাসেন ওয়েতাহার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ কথা জানান।
গত ২৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট বাগবো ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াতারা দুজনই নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছেন।
আবোবো এলাকার বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী আদামা টোউরে বলেন, ‘রাত প্রায় দুইটা থেকে ভারী গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত। আমরা ঘুমাতে পারিনি।’
অপর প্রত্যক্ষদর্শী আবদুলায়ে সিসে বলেন, ‘আমি গুলির এত বিকট শব্দ আগে কখনো শুনিনি।’ তিনি একজন পুলিশের মৃতদেহ দেখেছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বেড়ে গেছে। এটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে বর্তমান ভয়াবহ বন্যার সম্ভাব্য কারণ। গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এ দাবি করেন।
বিজ্ঞানীরা আভাস দিয়েছেন, আরও কয়েক মাস ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড় হতে পারে। তাঁরা বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে খরা ও বন্যার প্রকোপ আরও বাড়বে। তবে এর ফলে বড় ধরনের ‘লা নিনা’ ও ‘এল নিনো’র (উপকূলীয় এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি) মাত্রা বাড়বে কি না তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ইংল্যান্ড বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষ এটা সহজেই বুঝতে পারবে যে কুইন্সল্যান্ডের এই ভয়াবহ বন্যার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে।’
ইংল্যান্ড আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া উপকূলের সাগরের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কুইন্সল্যান্ড এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের জলবায়ুতে আর্দ্রতা বেড়ে গেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বন্যার জন্য শক্তিশালী একটি লা নিনাকেই দায়ী করা হচ্ছে। লা নিনার প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। আর অতি বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়।

ভিয়েতনামে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক সংস্কার

ভিয়েতনামের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পঞ্চবার্ষিক কংগ্রেস গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। আট দিনব্যাপী এই কংগ্রেস থেকে দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিশেষ করে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলের পলিটব্যুরোর সদস্য ত্রুং তান সাং বলেন, ‘আজ (বুধবার) আমরা আমাদের দলের কংগ্রেস শুরু করছি।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী এনগুয়েন তান দুংসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সম্মেলন কক্ষের প্রথম সারিতে আসন গ্রহণ করেন।
সাং বলেন, ‘আট দিনের এই সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, কংগ্রেসে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংয়ের নাম ঘোষণা করার জোরালো সম্ভাবনা আছে।
ভিয়েতনামে কমিউনিস্ট পার্টির একদলীয় শাসন চলছে। তারা চেষ্টা করছে ২০২০ সাল নাগাদ দেশকে একটি আধুনিক শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। মুদ্রাস্ফীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত করায় তাদের সে চেষ্টা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
এশিয়ার একটি দেশের এক কূটনীতিক বলেন, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে যে-ই আসুন না কেন, বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া তাঁর সামনে খুব বেশি বিকল্প থাকবে না।

স্টিলথ বিমানের পরীক্ষাকে হুমকি মনে করা ঠিক হবে না: চীন

চীন গতকাল বুধবার বলেছে, তাদের জে-২০ স্টিলথ জঙ্গি বিমানের পরীক্ষাকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো চিন্তাভাবনা তাদের নেই।
চীন মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম জে-২০ জঙ্গি বিমানের সফল পরীক্ষার কথা স্বীকার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের চীন সফর সামনে রেখে তাদের জে-২০ জঙ্গি বিমানের পরীক্ষাকে দেশটির শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রবার্ট গেটস গত শনিবার তিন দিনের সফরে চীন আসেন। তাঁর এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করা।
চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস-এ বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবহরের জন্য এই জঙ্গি বিমানের পরীক্ষাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলি পরিচালিত জনপ্রিয় এই ট্যাবলয়েড পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই চীনের। চীনের এই মুহূর্তে দরকার আরও কর্মসংস্থান ও কম খরচে আবাসন।
পরমাণু সদর দপ্তর পরিদর্শন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল বুধবার চীনের পরমাণু যুদ্ধবিষয়ক সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন।
রবার্ট গেটস বলেন, আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার চীনের নীতিসহ পরমাণু কৌশল নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।

আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনকে আরও সহযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। একই দিন এক ঝটিকা সফরে হিলারি সে দেশে যান। ২০ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ইয়েমেন সফর।
হিলারি বলেন, তাঁর এই সফরের লক্ষ্য সামরিক সহযোগিতা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করা। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহিংস হয়ে ওঠার পেছনে যে দারিদ্র্য ও সামাজিক অসাম্যের কারণ রয়েছে, এসবের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি ইয়েমেনে একাধিক মার্কিনবিরোধী হামলা চালানো হয়েছে। ২০০০ সালে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ জন নিহত হয়। গত মাসে সানার শহরতলিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক কর্মী অল্পের জন্য একটি হামলা থেকে রক্ষা পান। এ ছাড়া ২০০৮ সালে আল-কায়েদাপন্থী সংগঠন আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) সানায় মার্কিন দূতাবাসে দুইবার হামলা করে। ২০০৯ সালে বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী মার্কিন ফ্লাইটে বোমা হামলার চেষ্টার জন্যও এই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়।
সানায় পৌঁছে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ সালেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হিলারি ক্লিনটন। বৈঠক শেষে একটি সমাবেশে হিলারি বলেন, ‘ইয়েমেনের ভূমি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। যাদের অনেকেই ইয়েমেনি নয়, বরং আমার বলতে খারাপ লাগছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই বিষয়টি আমাদের জন্য খুব উদ্বেগের বিষয়।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একিউএপির তৎপরতা ঠেকাতে ইয়েমেন ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করছি আমরা। একিউএপি এই অঞ্চলে কী ধরনের হুমকির কারণ তা বিবেচনায় রয়েছে ইয়েমেনের। তাদের ঠেকাতে আমরা সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না, আলোচনার পরিসর বাড়াতে হবে। সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় বসতে হবে।’ তিনি বলেন, ইয়েমেনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়তার পরিমাণও পুনর্বিবেচনা করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।
গত দুই বছরে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে এর পরিমাণ ৩০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইয়েমেনের সমস্যাগুলো সামাল দেওয়ার জন্য এই সহায়তার পরিমাণ যথেষ্ট নয়।
ভিন্নধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসে ফাঁস করা গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় অভিযোগ তোলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজে হামলা চালানোর ব্যাপারে একিউএপিকে সহায়তা দিয়েছে খোদ ইয়েমেন সরকার। হিলারির সঙ্গে বৈঠকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

শ্রীলঙ্কায় বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু

শ্রীলঙ্কায় কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে দেখা দেওয়া বন্যায় কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে বন্যাদুর্গত এলাকায় তাঁর সফর বাতিল করেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ কথা জানান।
শ্রীলঙ্কার মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এ বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। বন্যায় কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের একজন মুখপাত্র বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা খাদ্য, পোশাক, বিছানাপত্র ও পানি বিতরণে সহায়তা করছে।
বন্যার কারণে খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটছে। পাইকারি বাজারেও সবজির দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী দুলিপ ওয়াজেসেকারা বলেন, কিছু বন্যাদুর্গত এলাকায় পৌঁছতে তাঁদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ সংস্থাগুলো স্বাস্থ্যসম্মত জিনিসপত্র সরবরাহসহ জনগণকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণ

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে হাইতিবাসী স্মরণ করল গত বছর প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার লোক নিহত হয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ অনেক অবকাঠামো ধ্বংস হয়। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে যে শ্লথগতি চলছে, তাতে তিনি হতাশ।
ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সসহ সারা দেশে দুই দিনব্যাপী শোক ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর বাইরে একটি কবরস্থানে বহু লোক জড়ো হয়। তারা ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করে। এ সময় হাইতির প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভেল তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে পোর্ট অ প্রিন্সের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় নেতারা একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করেন। এখানে একজন ধর্মযাজক বলেন, ওই ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো সবার হূদয়ে রয়ে গেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গত মঙ্গলবার হাইতি পৌঁছান। জাতিসংঘের দূত হিসেবে তিনি সেখানে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।
রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে তিনি বলেন, ‘হাইতির সংস্কার কাজ চলছে ধীরগতিতে। দেশটির জন্য আমাদের যা করা উচিত ছিল, আমরা তা করতে পারিনি। এ জন্য হাইতির পুনর্গঠনের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নন।’ তবে পুনর্গঠনকাজ শিগগিরই গতি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খুলে যাক সম্ভাবনার দুয়ার by অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। এ দেশটির পরিশ্রমী ও মেধাবী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, সততা আর কর্মনিষ্ঠা পৃথিবীব্যাপী প্রশংসিত ও প্রমাণিত। তারপরও তার ভাবমূর্তির সমস্যা যায়নি। কেন যায়নি? দেশ ভেদে, জাতি ভেদে আমাদের প্রবাসী পরিচয় বা জাতিগত অস্তিত্ব একেক ধরনের। মালয়েশিয়া গিয়ে দেখি শ্রমবাজার, শ্রম রপ্তানী, জনশক্তির দ্বন্দ্বে সমস্যার আকার ভয়াবহ।

রাজনৈতিক বিবেচনায়, না রাজনৈতিক প্রভাবে? by এ এম এম শওকত আলী

গত দুই বছর ধরে একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দায়ের করা বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। এর মধ্যে দুর্নীতির মামলাও রয়েছে। এ কথা সত্য যে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা রুজু করা হয় তখনই, যখন রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। এ অশুভ ধারার উৎপত্তি ১৯৫৮ সালের শাসনামলে প্রথম শুরু হয়। পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক শাসকেরাও একই অশুভ রীতি অনুসরণ করেছেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার যে দুটি প্রধান দল করেছিল, তারাও একই রীতি কমবেশি অনুসরণ করে।
প্রচলিত আইনে প্রতিষ্ঠিত সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে ক্ষমতাবান। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সংশ্লিষ্ট আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে। মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ কাঠামো অনুযায়ী ইতিপূর্বে জেলা কমিটিই দায়িত্ব পালন করত। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তিন ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিসি, এসপি ও পিপি। এর মধ্যে এসপি ও পিপির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। এ দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো দ্বিমত না থাকলেই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তবে কোনো কোনো সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে উপযুক্ত ক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সাধারণত গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব যেসব মামলায় রয়েছে, সেগুলোই প্রতিটি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হতো। ২০০৯ সালে দেখা দিল রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের রেওয়াজ, যা আগে এ মাত্রায় ছিল না; যেমন ছিল না কোনো মন্ত্রীর নেতৃত্বে কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি।
কেন্দ্রীয় কমিটি একাধিক দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুদককে অবহিত করে। কারণ, আইন অনুযায়ী এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারের এখতিয়ার দুদকের। দুদক আজ পর্যন্ত সরকারের গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। জানা যায়, গত দুই বছরে ৩১৪টি দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের জন্য কমিটি দুদককে অনুরোধ জানিয়েছে। দুদকের প্রধান প্রকাশ্য উক্তি করেছেন, সব কটি মামলা পাওয়ার পরই তাঁরা এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত দেবেন। কয়েক দিন আগে কমিটি অতিরিক্ত ২৬টি দুর্নীতির মামলা দুদকে পাঠিয়েছে। এর ফলে মামলার মোট সংখ্যা হলো ৩৪০। সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য উত্তর দেন। তাঁর মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুদকেরই আইনি ক্ষমতা রয়েছে। এখন বিষয়টি দুদকের।
দ্বিস্তরবিশিষ্ট কমিটি এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার-সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা নিয়ে মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। মিডিয়ার ভাষায়, অনেক ক্ষেত্রেই কমিটির সিদ্ধান্ত প্রশ্নাতীত নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ। প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলো হলো—এক, কিছু ক্ষেত্রে জেলা কমিটির কোনো সুপারিশই ছিল না। তাদের অজান্তেই কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দুই, অনেক সাংঘাতিক ধরনের অপরাধের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো সংবাদপত্র বলেছে, পরবর্তী পর্যায়ে এসব সিদ্ধান্ত রহিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কারণ, নববর্ষের প্রথম দিনে এ-সম্পর্কিত আরও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন—মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আয়ুব আলী হত্যা মামলা। তিন, জানুয়ারির দুই তারিখে আরও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, খুনসহ ৫২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিটি। এসব মামলা দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সরকারের উচিত হবে, উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া। অন্যথায় ক্ষমতাসীন দলসহ সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এর সঙ্গে যোগ করা যায় আরেকটি বিষয়। কেন্দ্রীয় কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, মোট এক হাজার ৪৪০টি মামলা পরীক্ষা করে ৬৫২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যা মোট মামলার ৪৫ শতাংশ। তার মানে, কমিটি দাবি করতে পারে, শতভাগ মামলা বিবেচনায় আনা হয়নি অথবা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ কথা অনেকে বলে থাকেন যে পরিসংখ্যান অনেকটা প্রসাধনী দ্রব্যের মতো, যা ব্যবহার করে মুখের আসল রূপ চাপা দেওয়া সম্ভব। খুনসহ ডাকাতির যে ৫২টি মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ অধিদপ্তর লিখিত আপত্তি জানিয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ছাড়াও গুরুতর অপরাধীদের জন্য যে শঙ্কাহীন পরিবেশ ইতিপূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা আরও অধিকতর মাত্রায় সুসংহত করছে বলে সুশাসনে বিশ্বাসী নাগরিকদের ধারণা। মিডিয়া মত প্রকাশ করেছে, রাজনৈতিক শাসনের মাধ্যমে দিনবদলের কোনো লক্ষণ এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে না।
এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দুই বছরের শাসনকালের সমাপ্তি ঘটেছে। সরকার এখন এই দুই বছরের অর্জন ও ব্যর্থতার হিসাব প্রণয়নে কাজ করবে—এমনটাই শোনা গেছে। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট মামলা প্রত্যাহার যে অর্জনের পাল্লা হালকা করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে যখন সরকারের মতামত পাওয়া যাবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) ২০১০ সালের মানবিক উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের এক অংশে মন্তব্য করা হয়েছে, সব ভালো অর্জনই একসঙ্গে সম্ভব নয়। কথাটা সত্যি। তবে এ কথাও সত্যি যে আলোচ্য ঘটনাপ্রবাহ সুশাসনের জন্য একটা বিরাট বাধা। এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র মানবিক উন্নয়নে অধিকতর সাফল্য অর্জন করলেও এ ধরনের উন্নয়নের সাফল্য শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় না এবং রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে অগণতান্ত্রিক হয়, যদিও সে রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের কাঠামো রয়েছে।
প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের বিশ্লেষণ থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব—বিশেষ করে, রাজনৈতিক দল অবশ্যই শিক্ষা নিতে পারে। রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকার-বহির্ভূত সংস্থা ও ব্যক্তিদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করলে তাতে অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি হয়। ১৯৯১ সাল পরবর্তী সময় থেকে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে মনোযোগী হলে তা হতো জনকল্যাণমুখী। মনোযোগী না হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ঠিক বিপরীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। ২০০১-২০০৬ শাসনামলে এটা যেমন দৃশ্যমান ছিল, বর্তমান সময়েও তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি। টিআইবির দুর্নীতি-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ঘটনাপ্রবাহ এ বিষয়টিই প্রমাণ করে। এ ছাড়া গত এক দশক ধরে বিভিন্ন সংবাদপত্র ছাড়াও টিভি মিডিয়া রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত বিষয়ে যথাক্রমে গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠান সময় সময় করে থাকে। গোলটেবিল বৈঠকের ধারাবিবরণী পরবর্তী সময় প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি।
রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার ভালোমতো চিন্তা করেনি বলে অনেকের ধারণা। কারণ, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য কোনো দিকনির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এ ধরনের দিকনির্দেশনা প্রণয়নে আইন কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ করার বিপক্ষে কী যুক্তি তা সরকারই বলতে পারবে। তা ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়কে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি; করা হয়েছে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। এখনো সময় আছে। যেসব মামলা মিডিয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো সরকার পুনর্বিবেচনা করে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে জনগণকে অবহিত করতে পারে।
এ এম এম শওকত আলী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; সাবেক সচিব।

গুরু কি কখনো মারা যায় রে! by জাহিদ রিপন

১৯৯৫-এর কোনো একদিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আমি সালাম বরকত হল থেকে তখন বিভাগের দিকে যাচ্ছি। হঠাৎ পাশে এসে ব্রেক কষল একটি সাদা মাইক্রোবাস। দরজা খুলে তিনি নির্দেশ দিলেন, ‘উঠে এসো।’ ‘না’ বলার কোনো সুযোগ নেই, কখনোই ছিল না। গাড়ি চলতে শুরু করার অনেক পরে জানতে পারলাম, আমরা চলেছি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে। মনে মনে ভাবছি, ক্যাম্পাসে অথবা ঢাকায় আমার যে আজ কোনো জরুরি প্রয়োজন থাকতে পারে, বিষয়টি তাঁর ভাবনাতেই নেই। এ জন্যই ছাত্রাবস্থায় মাঝেমধ্যেই মজা করে বলতাম, ‘পড়েছি মোগলের হাতে, খানা...’। সে যাক, একটু পরে কোনোক্রমে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘স্যার, ওখানে কি কোনো অনুষ্ঠান আছে?’ তিনি জানালেন, ‘একটি নাট্য সংগঠনের কর্মশালার সমাপনী দিনে আজ আমাকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এরপর সন্ধ্যায় কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান এবং ওরা আমাকে সম্মাননা জানাবে।’ বললাম, ‘ক্লাসের বিষয়টি কী?’ তিনি বললেন, ‘জানি না। ওদের কাছ থেকে জেনে তারপর প্রশিক্ষণ শুরু করব।’ আমি বিস্ময়মিশ্রিত কণ্ঠে মিনমিন করে বললাম, ‘কিন্তু স্যার, প্রস্তুতি?’ জবাবে তিনি একটু হেসে বললেন, ‘সর্বক্ষণ যে থিয়েটারের প্রস্তুতিতে থাকে, তার তো আলাদা প্রস্তুতি না নিলেও চলে!’ এই হলো নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন—আমার নাট্যগুরু!
তাঁর সান্নিধ্য মানে হলো এক অনির্বচনীয় আনন্দের সুযোগ, অন্তত শিল্পতৃষ্ণার্তর কাছে। আর ক্লাসে তিনি তো শুধু নির্ধারিত পাঠ্যবিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং আলোচনা চলে যেত নতুন কোনো দর্শন অভিমুখী। তিনি জানতেন কীভাবে কাকে সৃজনে উদ্বুদ্ধ করতে হয়। একটি ঘটনার কথা বলি, ‘অভিনয়’ শিরোনামে জীবনের প্রথম একটি প্রবন্ধ লিখেছি। অল্প বয়সের মোহমুগ্ধতায় তখন নিজের সৃষ্টি সবকিছুই গুরুকে দেখাতে ইচ্ছা জাগে। তো তাঁকে বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি বলে খাতাটি এগিয়ে দিলাম। তিনি পড়লেন, ক্রোধ নিয়ে নানা স্থানে গোল চিহ্ন আর কোথাও আগাগোড়া ক্রসচিহ্ন দিয়ে পাশে এক জনপ্রিয় সাহিত্যিকের দ্বারা প্রভাবিত বলে মন্তব্য লিখলেন এবং খাতাটি দূরে ছুড়ে ফেলে দিলেন! সে রাতে ঘুমাতে পারলাম না। শুধু মনে হলো, কী এমন ক্ষতি হতো যদি তিনি একটু অনুপ্রাণিত করতেন? প্রাথমিক অভিমান এবং কষ্ট কিছুটা লাঘব হলে লেখাটি নিয়ে আবার বসলাম। তিনি যেমন বলেন, ‘শিল্পের একটা পর্যায়ে পৌঁছালে নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক’—এ কথাটি মাথায় রেখে আবেগমুক্তভাবে ত্রুটিগুলো যথাসম্ভব খুঁজে বের করে লেখাটি পুনর্বার লিখলাম। লেখাটি আগাগোড়া পরিবর্তিত হলো এবং সেই গভীর রাতে একাকী আমি উপলব্ধি করলাম যে সেলিম আল দীনের আশীর্বাদ আর অনুপ্রেরণা প্রদানের পদ্ধতি কতটা ভিন্ন, কতটা স্থায়ী আর কতটাই কার্যকর! আরেকবার ফরিদপুরের একটি দল ফরিদপুরের নাট্যচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন প্রজন্মের তিনজনকে সংবর্ধনা দেয়; যেখানে নবীন প্রজন্ম থেকে আমাকে নির্বাচন করা হয়েছিল। আবেগাপ্লুত আমি বিষয়টি গুরুকে বলতেই তিনি চুপ হয়ে গেলেন। ক্ষণিক পরে তিনি ক্রোধমিশ্রিত কণ্ঠে বললেন, ‘আমি এই বয়সে শকুন্তলা লিখতে গিয়ে উনিশবার খসড়া করেছি এবং তার পৃষ্ঠাসংখ্যা চার হাজারের কম হবে না, আর তুমি সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র সংবর্ধনা পেয়ে বসে থাকো, আবার আমাকে বলতে আসো! এত অল্পে সন্তুষ্ট হয়ো না।’ আমি সারা জীবনের জন্য শিক্ষা পেয়ে গেলাম। প্রকৃতপক্ষে তাঁর ক্লাসে যা জেনেছি এর চেয়ে কোনো অংশে কম শিখিনি ক্যাম্পাসের পথে পথে প্রত্যুষে আর প্রদোষে তাঁর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে। সে আলোচনা যে সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, শেক্সপিয়ার, মার্লো হয়ে কখন লালন, রবীন্দ্রনাথ, হাকিম আলী গায়েন অথবা বাংলার সহজিয়া দর্শনে পরিক্রমণ করতেন টেরই পেতাম না। যুগন্ধর সব মনীষীর দর্শন যে এতটাই সহজে বোঝা যায়, অনুভব করে শিহরিত হতাম! ফেরার পথে পথে এ উপলব্ধি শুধু আচ্ছন্ন করে রাখত—এই লোকটার সান্নিধ্য না পেলে জন্মগ্রহণের কি কোনো সার্থকতা ছিল?
নিজের সৃষ্ট চরিত্র সম্পর্কে তাঁর ছিল কী যে অসীম মমতা! তখন যৈবতী কন্যার মন নাটকটি মাত্র লেখা সম্পন্ন হয়েছে। এক দিন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় তলার ল্যাবে মহড়ার ফাঁকে তিনি পাণ্ডুলিপিটি আমাদের পাঠ করে শোনালেন। পাঠ শেষে যথারীতি বিরতি। তিনি সংলগ্ন ছাদে চলে গেলেন। আমরা যার যার মতো মজা করছি। হঠাৎ দেখলাম তিনি হাউমাউ করে কাঁদছেন, নাটকের চরিত্রদের কষ্টের অনুভবে! সেদিন সত্যিই তাঁর চরিত্রগুলোর প্রতি তীব্র ঈর্ষা বোধ করেছিলাম। মনে হয়েছিল, আমরা যারা সামনে থাকি জীবিত রক্তমাংসের, তাদের তিনি কি এতটা অনুভব করেন? পারেন তাদের দুঃখ-কষ্ট এতখানি হূদয়ঙ্গম করতে? আমার কখনো কখনো সত্যিই মনে হয়েছে, এখানেই হয়তো তিনি দ্বান্দ্বিক। হূদয়ের যে উষ্ণতা নিয়ে হয়তো গত রাতে ফিরে গেছি, আজ সকালে সেই অনুরাগ নিয়ে হাজির হয়ে দেখি তিনি যেন অন্য মানুষ! তবে কি সাধারণ আমরা পূর্বাবস্থানে রয়ে গেলেও এক রাতেই তিনি যাত্রা শুরু করেছেন নবতর কোনো সৃজনমার্গে। কে জানে! তাঁর কাছ থেকে কষ্টও পেয়েছি অনেক, মনে হয়েছে তিনি আমাকে, আমাদের কখনোই বুঝতে চাননি। তখন সান্ত্বনা পেতাম এই ভেবে যে যিনি সুদূরের পিয়াসী হয়ে সমগ্র জাতির আপন নাট্যসংস্কৃতির ভিত্তিভূমি নির্মাণের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছেন স্বেচ্ছায়, তিনি হয়তো সমকালে সবার প্রত্যাশা সমরূপে মেটাতে পারবেন না—এটাই স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটকের মতো তখন তাঁর সম্পর্কে ভাবতাম, ‘চিনে নিয়েছি যে সুখে দুঃখে চিনে নিয়েছি। এখন আর কাঁদাতে পারে না।’ তবে এও সত্য, তাঁর মতো একজন বড় মানুষের প্রয়াণের আগে আমার প্রতি তাঁর যে সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল বলে উপলব্ধি হয়েছে, তার প্রতিটির কথা আমাকে অনুতাপের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। ভাবা যায়!
গুরুর সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয় জানুয়ারির ৫ তারিখে। তিনি তখন তাঁর অসমাপ্ত শেষ নাটক হাড়হাড্ডি রচনার কাজ করছেন। তিনি আমাকে গত ভোররাতে লেখা অংশটুকু শোনালেন, ‘মা অনেক আগেই মারা গেছে। কনকনে শীতের রাতে ছেলে হঠাৎ ঘুমের মধ্যে অনুভব করে কে যেন গায়ে কাঁথা তুলে দিচ্ছে। ছেলের ঘুম ভেঙে যায়। সে জিজ্ঞাসা করে, কে? অন্ধকারে মা জবাব দেন, আমি। বিস্মিত ছেলে বলে, তুমি না মারা গেছ! স্নেহের হাসি হেসে মা বলেন, দূর বোকা, মা কি কখনো মারা যায় রে?’
আজ বাংলা নাট্যরীতিসহ শিল্পের নানা বাঁক পরিভ্রমণে নানা সংকট মোচনে যখন সেলিম আল দীনকে সর্বক্ষণ পথনির্দেশকরূপে পাশে পাই, তখন সত্যিই মনে হয় বিস্মিত আমাকে তিনি যেন বলছেন, ‘দূর বোকা, গুরু কি কখনো মারা যায় রে?’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারি রোধে by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

খাদ্য ও পণ্যের উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি করতে পারেন না। যদি কেউ এমন অপরাধ করেন, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মসাৎকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। ইসলামি বিধানে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মজুদদারি, কালোবাজারি ও যাবতীয় অসাধু উপায় রোধ, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ প্রভৃতি দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের দায়িত্বে যাঁরা আছেন বা থাকবেন, তাঁদের সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিমভাবে খাদ্যসংকট সৃষ্টি করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া ইসলামে হারাম। প্রকৃতপক্ষে পণ্যের ন্যায্যমূল্য বিক্রেতার অধিকার। স্বেচ্ছাচারী উৎপাদনকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি সীমা লঙ্ঘন করে যেনতেনভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে এবং মূল্য নির্ধারণ ছাড়া ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ করা সম্ভবপর না হয়, তাহলে সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। মূল্য নির্ধারণের পর কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন করে অধিক মূল্যে বিক্রি করে, তাহলে এটা ইসলামের বিধানে ন্যায়সংগত হবে না, বরং আইন লঙ্ঘনের দায়ে সে ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হবে।
অথচ দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের আয়-রোজগার না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। সঠিক পণ্যমূল্য জানে না এমন ক্রেতার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বেশি দাম আদায় করা ইসলামে নিষিদ্ধ। শরিয়তের দৃষ্টিতে তা ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার শামিল। যে মুসলমান অপর মুসলমানের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা নিল, সে তাকে ঠকাল ও প্রতারিত করল, এ জন্য সে জঘন্য অপরাধী। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ী যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করে এ সুযোগে যে, ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত মূল্য জানে না, তাহলে এই অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ পর্যায়ে গণ্য হবে।’
মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি করা, প্রতারণাপূর্ণ দালালির মাধ্যমে উচ্চ দাম হাঁকা, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য লোভনীয় বিজ্ঞাপন ও কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা, মিথ্যা শপথ করা, বিক্রীত পণ্যের দোষ-ত্রুটি গোপন করা, চোরাকারবারি করা, খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য বস্তুতে ভেজাল মিশ্রণ, ওজনে কারচুপি করা—এসব আজকাল নিত্য ব্যাপার। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পণ্য আমদানি করে বাজার দামে বিক্রয় করে, তার উপার্জনে আল্লাহর রহমত রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমদানি করে চড়া দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করে রাখে, তার প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত সম্মানজনক কাজ। কিন্তু এমন কিছু বিষয় আছে, যা হালাল ব্যবসায় প্রয়োগ করা হলে পুরো ব্যবসা হারামে পরিণত হয়। তন্মধ্যে অন্যতম হলো অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে অস্বাভাবিক ও অধিক মূল্যে বিক্রি করার জন্য গুদামজাত করে রাখাকে ইসলামের পরিভাষায় ‘ইহতিকার’ বা মজুদদারি বলা হয়। যেসব জিনিস আটকিয়ে রাখলে বা মজুদ করলে সর্বসাধারণের সীমাহীন কষ্ট ও ক্ষতি হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মজুদদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি; যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায় তাহলে চিন্তিত হয়ে পড়ে, আর যদি মূল্য বেড়ে যায় তাহলে আনন্দিত হয়।’ (মিশকাত)
মজুদদার সেই ব্যক্তি, যে মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করে এর মূল্যবৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গোপনীয় স্থানে আটকে রাখে। ব্যবসায় এটা অত্যন্ত জঘন্য পাপ ও এক প্রকার শোষণ হিসেবে চিহ্নিত। ইসলাম একে একটি অনৈতিক, ঘৃণ্য ও নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে অভিহিত করে। পণ্যসামগ্রী মজুদ করার কারণে জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা ও কষ্ট-দুর্ভোগ বেড়ে যায়, অস্বাভাবিক হারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি পায় এবং মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা লাভের সুযোগ ঘটে। এ জন্য মজুদদার ও অধিক মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে হাদিসে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, ‘পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী।’ (মিশকাত) বিনা কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি করে দেওয়া অনেকটা লোভী ব্যবসায়ীদের খেয়াল-খুশি ও মর্জির ব্যাপার। অত্যধিক মুনাফা লাভের আশায় পণ্যদ্রব্য মজুদ করা, সরিয়ে রাখা, অতিরিক্ত পণ্য ধ্বংস করা শরিয়তগর্হিত কাজ। এই মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) ভীতি প্রদর্শন করে বলেছেন, ‘কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে, তবে আল্লাহ তাআলা তার ওপর মহামারি ও দারিদ্র্য চাপিয়ে দেন।’ (ইবনে মাজা, বায়হাকি)
আবার কখনো কখনো বাজারে পণ্যদ্রব্যের সরবরাহ হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য অত্যধিক মুনাফার আশায় অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী আটকে রাখা হয় অথবা বিনষ্ট করা হয়। একশ্রেণীর অতি মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী এসব কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে থাকেন। মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি বাজারে পণ্যের অভাবের সময় পণ্য মজুদ করে রাখে, সে বড় পাপী।’ (মুসলিম) হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘বিভ্রান্ত লোকই শুধু মজুদদারি করে।’ (ইবনে মাজা) নবী করিম (সা.) মজুদদারকে কঠোর শাস্তি প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন, ‘যে মুসলিম সম্প্রদায়ের খাদ্যদ্রব্য ৪০ দিন যাবৎ মজুদ করে রাখবে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দেবেন।’ (ইবনে মাজা) মুনাফালোভী অসৎ ব্যবসায়ী মজুদদারদের সঙ্গে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ রাত পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ করবে, তার সঙ্গে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’ নবীজি আরও বলেছেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখে, সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট।’ (মিশকাত)
যেকোনো প্রকৃতির গুদামজাত করাই নাজায়েজ নয়। চাহিদার তুলনায় কম পণ্য বাজারে ছেড়ে সাময়িক সংকট সৃষ্টি করে এর মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করার ন্যায় অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গুদামজাত করা হারাম। বাজারে পণ্যদ্রব্য আসার স্বাভাবিক গতিকে প্রতিহত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা নাজায়েজ।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

বিচারের জন্য ৩৯ বছর অপেক্ষা by মোকাররাম হোসেন

এ কথা সত্য যে, আপস আর সমঝোতার মধ্য দিয়েই সমাজকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, সব বিষয়ে কি আপস করা সম্ভব? না আপস করা উচিত? মানবসভ্যতা আজ যে স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তা কখনোই সম্ভব হতো না, যদি না বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব সত্যকে প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে পর্বতপ্রমাণ বাধাকে অগ্রাহ্য করে মিথ্যার সঙ্গে আপস না করতেন এবং জীবনের ঝুঁকি না নিতেন। ইতিহাস বারবার তার সাক্ষ্য দিয়েছে। আর তাই ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার উদ্যোগ যখন নেওয়া হয়েছে, তখন তাকে সেই বিবেচনাতেই দেখতে হবে।
অখণ্ড পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাস হচ্ছে অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে আপসের ইতিহাস এবং সত্যকে অস্বীকার করার ইতিহাস। এই আপসের সঙ্গে খুব কম বাঙালিই হাত মিলিয়েছে। যারা হাত মিলিয়েছিল, তারা সমাজে দালাল বলে পরিচিত। পাকিস্তানিদের মিথ্যার আশ্রয়ের জন্য দেশটির বর্তমান অবস্থা করুণ। পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে পরিচিত।
বাংলাদেশের অবস্থাও খুব সন্তোষজনক নয়। তবে এর সম্ভাবনা অনেক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা বেড়েছে। দু-একটি দেশ গোপনে বিরোধিতা করতে পারে, তাতে কিছু আসে-যায় না। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা। এখানে হিংসা বা প্রতিহিংসার কিছু নেই। যারা এখনো মানবতাকে গ্রহণ না করে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দেওয়ার জন্য এ বিচার। সর্বোপরি, যাঁরা ১৯৭১ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য দরকার এ বিচার। আর এর প্রধান আসামি হলো পাকিস্তান এবং তার এ দেশীয় সহচরেরা।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো স্টেটুুয়ারি লিমিট বা সংবিধিবদ্ধ সীমা নেই। তাই ৩৯ বছর পরও অপরাধীদের বিচার সম্ভব এবং হওয়া বাঞ্ছনীয়। স্বাধীনতার পরপরই কেন বিচার হয়নি, কে বা কারা তার জন্য দায়ী, সেসব প্রশ্ন ন্যায়সংগত হলেও বর্তমানের উদ্যোগকে বিতর্কিত করা উচিত নয়; বরং ৩৯ বছর পরও যে অতীতের ভুল সংশোধনের চেষ্টা হচ্ছে, তাকে সমর্থন করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী ও তার সমর্থকেরা যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তার বিচার হওয়া উচিত। এর সমর্থনে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত, বিশেষ করে যাঁরা ১৯৭১ সালের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন, তাঁদের আপনজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত সবার জন্য এই বিচারকে সমর্থন করা নৈতিক কর্তব্য।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর অনেক নিরীহ নারী-পুরুষ নিহত হয়েছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে। রাতের অন্ধকারে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা কোনো বীরত্বের কাজ নয় এবং কোনো যুক্তি দিয়েই এ রকম ঘৃণ্য কাজকে জায়েজ করা যায় না। রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করা অবৈধ এবং সভ্যতার বিরোধী।
পাকিস্তান সরকার এবং তার কিছু তাঁবেদার ১৯৭১ সালের হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সফল হয়নি। যাঁরা জীবন হারিয়েছেন, যাঁরা লাঞ্ছিত হয়েছেন, যাঁরা অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁদের আপনজনের স্মৃতিতে অপকর্মের প্রমাণ জাগ্রত হয়ে আছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শিকার হয়নি এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার পরও এ দেশে এমন কিছু লোক আছে, যারা একাত্তরের ঘটনাকে একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত করতে চায়। হত্যাযজ্ঞকে পরিণত করতে চায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।
দেশের প্রতিটি শহর-গ্রামগঞ্জে ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। তার অল্পই হয়তো লিপিবদ্ধ হয়েছে। আবার লিপিবদ্ধ হয়নি বলে সে ঘটনা ঘটেনি, তা নয়। যেমন, চট্টগ্রাম শহরের দুটি ঘটনা। আফতাব হোসেন, মোহাম্মদ শফী ও খন্দকার এহসানুল হক আনসারী এই দুই ঘটনার শিকার। বাংলাদেশের সবাই তাঁদের হত্যার সংবাদ জানে না। জানে কেবল তাঁদের আত্মীয়পরিজন-বন্ধুবান্ধব। আর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আশা করে আছেন, এই হত্যার বিচার একদিন হবেই।
মোহাম্মদ শফী ছিলেন একজন ডেন্টিস্ট। রাজনীতি বুঝতেন কি না, সে বিষয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। হ্যাঁ, তাঁর স্ত্রী অন্য সব বাঙালির মতো উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছিলেন, ইয়াহিয়া-মুজিবের বৈঠকের ফল দেখার জন্য। আর সব বাঙালির মতো সাতই মার্চের ভাষণের কারণে রেডিও পাকিস্তান-চট্টগ্রামের একজন কর্মী হিসেবে তাঁর স্ত্রী মুশতারি শফী পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে অসহযোগ করছিলেন। তাঁর স্বামী শফী রাজনীতির কিছু বোঝেন না, ‘আমার কিছু হবে না, আমি পালাব কেন’ বলে রয়ে গেলেন। মোহাম্মদ শফীর শ্যালক এহসান বিএ পাস করে চাকরির সন্ধানে আছেন। কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি, তিনিও রয়ে গেলেন। তাঁদের বোঝার বাইরে ছিল যে পাকিস্তানি সেনা বাঙালিদের নির্মূল করার জন্য ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করেছিল। দুজনকে সেই যে জলপাই জিপ নিয়ে গেল, আর তাঁরা ফিরে আসেননি।
এমনিভাবে নিখোঁজ হন চট্টেশ্বরী রোডের কালীমন্দিরের উল্টো দিকের বাড়ির আফতাব হোসেন। নিরীহ অদ্ভুত ধরনের অতিভদ্র স্বভাবের মানুষ। চাকরি, সংসার আর ধর্মকর্ম—এই ছিল তাঁর জীবন। অথচ তাঁকেও হারাতে হয় জীবন। আফতাব সাহেবের স্ত্রী রেডিও পাকিস্তানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চাকরি করতেন। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর প্রাণভয়ে তাঁরা সবাই বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেন আফতাব সাহেবের এক আগাখানী বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকে আফতাব সাহেব অফিসে যেতেন কাজে। তাঁর বাসার দক্ষিণ পাশে এক তিনতলা দালানে থাকত পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা কয়েকজন কাবুলিওয়ালা। তারা ছিল সুদের কারবারি। তাদের অনেকের চোখ ছিল পাশের এ দালানটির ওপর। তাই অনেকের ধারণা, আফতাব হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ওই কাবুলিওয়ালাদের হাত ছিল।
বন্ধুর বাড়িতে থাকাকালে এপ্রিলের শেষে খবর আসে যে, কে বা কারা বাড়িটির বেশ ক্ষতি করেছে। খবর পেয়ে আফতাব হোসেন বন্ধুকে নিয়ে অফিসের পর একদিন বাড়িটি দেখতে গেলেন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। বাড়ির সামনে গাড়ি থেকে নেমে আফতাব সাহেব দৌড়ে গেলেন বাড়ির ভেতর। এরই মধ্যে চলে এল জলপাই রঙের জিপ। নামল পাঁচ-সাতজন পাকিস্তানি সেনা। তারা দৌড়ে গিয়ে ধরে নিয়ে এল আফতাব সাহেবকে। জিপে তুলে নিয়ে গেল। সেই যে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। ৩৯ বছর অপেক্ষায় থেকে তাঁর স্ত্রীও গত হলেন। তিন কন্যা আর তিন পুত্র এখনো অপেক্ষা করে আছে—একদিন এই হত্যার বিচার হবে। যেমন অপেক্ষায় আছে মোহাম্মদ শফীর সন্তানেরা। তাদের এখন মনে হতেই পারে, বুঝি সেই দিন এল...।
মোকাররাম হোসেন: যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রিমিনাল জাস্টিস মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী।
mhossain@vsu.edu

সাংসদের ‘গাড়িবহর’ ও অস্ত্র উদ্ধার -নির্বাচনের ‘কাজে’ এই শক্তির ব্যবহার আর কত দিন!

কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য অস্ত্র ও অর্থের কী প্রয়োজন হয়, তা কারও অজানা নয়। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সরকারি দলের সাংসদ যে ‘গাড়িবহর’ নিয়ে বেনাপোল যাচ্ছিলেন, সেই বহরের একটি গাড়িতে নির্বাচনী পোস্টারের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিদেশি পিস্তল, শাটারগান, গুলি ও ম্যাগাজিন এবং এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। যে গাড়িতে এসবের সন্ধান মিলেছে, সেটি শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেনের। সরকারদলীয় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দীন কাদের নিয়ে দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ‘কাজ’ করতে যাচ্ছেন, তা অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই কাজটি করার জন্য অস্ত্র, অর্থ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের তিনি ত্রাতা মেনেছেন কি না?
সরকারি দলের সাংসদ তাঁর গাড়িবহর থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের বিষয়টি মানেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের (যুবলীগের আটক নেত-কর্মী) দেখিনি। তারা আমার সঙ্গে ছিল না। আমার কোনো বহর-টহরও ছিল না।’ তবে অস্ত্র, গুলি ও অর্থ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-৬-এর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সাংসদ শেখ আফিল উদ্দীনের গাড়িবহরে সাত-আটটি গাড়ি ছিল, আর শেষের গাড়িটি ছিল সোহরাব হোসেনের।’
তদন্ত ছাড়া এই ‘গাড়িবহর’ বিতর্কের সুরাহা করা কঠিন। তবে সাধারণভাবে আমরা দেখে আসছি যে সাংসদেরা যখন কোথাও যান, তখন তাঁদের সঙ্গী হন স্থানীয় দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, সাংসদও বেনাপোল গেছেন, আর তাঁর পেছনে যুবলীগের নেতার গাড়িও ছিল। এই গাড়িটি তাঁর গাড়িবহরে ছিল না—এই বক্তব্য দিয়ে সাংসদ দায় এড়াতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁর গাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে, তিনি যুবলীগের নেতা এবং সাংসদ যে কাজে বেনাপোল গিয়েছিলেন, যুবলীগের এই নেতাও একই কাজে বেনাপোল যাচ্ছিলেন। নিজ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা অস্ত্রসহ আটক হয়েছেন—এই দায়টি তিনি এড়াবেন কীভাবে?
অস্ত্র ও অর্থের জোরে নির্বাচন করা এবং নির্বাচনে জিতে আসার ঘটনা এ দেশে কম ঘটেনি। তবে সে অবস্থান থেকে দেশ যে অনেকটা সরে এসেছে, তা হয়তো অনেকে এখনো মেনে নেননি। মনে করেন, নির্বাচনে ‘কাজ’ করা মানেই অস্ত্র ও অর্থের ব্যবহার। যুবলীগের নেতার গাড়ি থেকে অস্ত্র ও অর্থ উদ্ধারের ঘটনা এই মনোভাবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আশার কথা, এবারের নির্বাচনে অস্ত্রের ব্যবহারের ঘটনা এখনো আমাদের চোখে পড়েনি। বেনাপোলের পৌর নির্বাচনে অস্ত্র ও অর্থের শক্তি ব্যবহারের যে আশঙ্কা ছিল, যুবলীগের পাঁচ নেতা-কর্মী আটক হওয়ায় তা দূর করবে, সে আশা আমরা করতে পারি।

নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত বেড়েছে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসি বাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের ঘটনার তদন্ত গত বছর বেড়েছে। ইহুদি মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন সিমোন ভিসেনথাল সেন্টার (এসডব্লিউসি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০১০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৮৫২টি যুদ্ধাপরাধের ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭০৬টি।
সাবেক নাৎসিদের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদারের স্বীকৃতি হিসেবে জার্মানিকে ‘এ’-গ্রেড দিয়েছে এসডব্লিউসি। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই সর্বোচ্চ গ্রেড দিয়েছিল সংগঠনটি।
এসডব্লিউসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭-০৮ সালে ৬০৮টি ঘটনার তদন্ত করা হয়। সে হিসাবে এবার টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তদন্তের সংখ্যা বেড়েছে। সংগঠনের জেরুজালেম শাখার প্রধান এফরাইম জুরোফ বলেন, জার্মানিতে এ ধরনের ঘটনার তদন্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

দল বিলুপ্তির বিরুদ্ধে সু চির আপিল

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি তাঁর রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিলুপ্তির বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। গত বছরের নির্বাচনের আগে দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
সু চির আইনজীবী ও এনএলডির মুখপাত্র নিয়ান উইন বলেন, ‘আজ বিকেলে আমরা নেপিডোতে (রাজধানী) সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আপিল দায়ের করেছি। আমরা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।’
সাত বছরেরও বেশি সময় গৃহবন্দী থাকার পর সম্প্রতি মুক্তি পান সু চি।
মুক্তির পরপরই এনএলডি বিলুপ্ত করায় জান্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন সু চি। কিন্তু তাঁর ওই মামলার শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানান আদালত। এর আগে দলের বিলুপ্তি ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করে ব্যর্থ হন সু চি।

অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা সরকারের মধ্যে গত বুধবার থেকে অভিবাসন-প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকায় এবারের আলোচনাও ফলপ্রসূ না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চার দফা আলোচনা হচ্ছে। সর্বশেষ গত জুনে অনুষ্ঠিত আলোচনাটি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে হাভানায় এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তারের ইস্যুতে ভেস্তে যায়। ওই আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তারা এ ঘটনার কড়া সমালোচনা করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির মুক্তি দাবি করেন।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন নাগরিক অ্যালান গ্রসকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি হাভানায় কারাভোগ করছেন।

ভাড়ায় স্বামী

ঘণ্টা হিসেবে ‘ভাড়ায় স্বামী’ সরবরাহ করার এক অভিনব ব্যবসা শুরু করেছে জর্জিয়ার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে প্রায় দুই মাস ধরে। এ সময়ের মধ্যে বহু নারী ফোন করে ‘ভাড়ায় স্বামী’ সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন।
এখানেই ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ধরা পড়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এই বিভ্রান্তি দূর করতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিশদ ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক বেসো ম্যাকহেদিশভিলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কোম্পানির নাম দেখে বহুসংখ্যক নারী বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের কোম্পানি মূলত গৃহকর্মে নারীদের সেবা দিতে চায়। এই যেমন কোনো বাসার পানির কল ছিদ্র হয়ে গেছে, এ ক্ষেত্রে কোম্পানির লোকজন গিয়ে তা সারিয়ে দিয়ে আসবেন। এ কাজে প্রতি ঘণ্টায় পরিশোধ করতে হবে ১৭ ডলার।
কোম্পানির মালিক আরও জানান, তাঁদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালুর পর থেকে বহু নারী ফোন করে ঘণ্টা হিসেবে পুরুষ সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন। ওই নারীরা ঘরের টুকিটাকি সংস্কারের কাজে নয়, বরং সঙ্গদানের উদ্দেশ্যে ওই পুরুষ পেতে চান। একপর্যায়ে ওই নারীদের ব্যাখ্যা করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হচ্ছে, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ভাড়ায় স্বামী’ পাওয়া যায় বটে; কিন্তু এই ‘স্বামীরা’ ‘পুরুষ পতিতা’ নন। তাঁরা মূলত ঘরের টুকিটাকি কাজ সারার জন্য।

উত্তর কোরিয়ার উসকানি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ধরনের উসকানি এলে তা ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক ম্যুলেন উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মাইক ম্যুলেন বলেন, উত্তর কোরিয়ার উসকানিতে কোরীয় উপদ্বীপ এলাকায় উত্তরোত্তর বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চীন ও প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর ভূমিকা পালন করতে হবে। উত্তর কোরিয়ার উসকানিমূলক তৎপরতা রোধে চীনের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উত্তর কোরিয়া পরমাণু কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে ম্যুলেন বলেন, ওই অঞ্চল এখন ‘ভয়ংকর সময়’ পার করছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম সাং হাওয়ান দাবি করেছেন, বোমা বানানোর জন্যই উত্তর কোরিয়া পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিউনিসে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস ও আশপাশের এলাকায় গত বুধবার থেকে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। তিউনিসের কয়েকটি এলাকায় সহিংস বিক্ষোভ ও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, বুধবার বিকেলে দক্ষিণাঞ্চলে দাউজ শহরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের প্রতি ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়। এ ছাড়া থালা শহরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। যোগাযোগমন্ত্রী সামির লাবিদি এর আগে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গুলিতে কোনো বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বুধবার থেকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও লুটতরাজের পরিপ্রেক্ষিতে জানমালের নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, তিউনিসের যেসব সড়ক সাধারণত পথচারী ও পর্যটকদের আনাগোনায় সরব থাকে, বুধবার সন্ধ্যায় এসব সড়ক জনশূন্য ছিল।
খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতির প্রতিবাদ ও চাকরির দাবিতে গত বছরের শেষ দিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। কর্মকর্তারা জানান, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কর্মীদের মতে, সহিংসতায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে।

ব্রিসবেন যেন ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা’

ভয়াবহ বন্যায় অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের প্রধান শহর ব্রিসবেন ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায়’ পরিণত হয়েছে। কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আন্ন ব্লিঘ নিজেই এ কথা বলেছেন। সেখানে বন্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় বন্যার ভয়াবহতা বেড়েছে। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪২ জন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ। শ্রীলঙ্কার মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়েছে।
ব্রিসবেন থেকে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শহরের অধিকাংশ এলাকা আছে পানির নিচে। রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট সব অচল হয়ে পড়েছে। ২০ লাখ মানুষের এই শহরে ১২ হাজার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে এক লাখ ১৮ হাজার ভবন। লোকজন ভেনিস শহরের মতো নৌকায় করে চলাচল করছে। সব মিলিয়ে এই অবস্থাকে ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা’ বলেই মনে করছেন রাজ্যপ্রধান আন্না বালিঘ। বন্যা-পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনর্গঠনের কাজই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আন্না বালিঘ বলেন, পুরো শিল্প এলাকা, রেলওয়ে স্টেশন তলিয়ে আছে, সেতু-রাস্তা সব অচল হয়ে গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার চিত্র যেমন দেখায়, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তেমনই।’
ব্রিসবেনে গত তিন দিনে মারা গেছে ১৫ জন। ১৯৭৪ সালের পর এমন ভয়াবহ বন্যা আর সেখানে হয়নি।
এদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে এ পর্যন্ত ৪২ জনের প্রাণহানী হয়েছে। এতে ফসল ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার দেশেটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সংস্থার প্রধান বেনিতো রামোস জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আর শ্রীলঙ্কায় বন্যায় গৃহহারা হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছে কমপক্ষে ২১ জন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপদেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল।
কলম্বোয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের এই মুখপাত্র জানান, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় বাত্তিকালোয়া জেলা।
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘শুধু বাত্তিকালোয়াতেই গৃহহারা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। সেখানে আমরা ২৩৩টি শিবির স্থাপন করেছি। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এসব শিবিরে। অন্যরা বিভিন্ন উঁচু এলাকায় সরে গেছে।’
বাত্তিকালোয়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণের আইলাদিভেম্বু গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক কে রত্নাভেল জানান, তাঁর গ্রামের অর্ধেক তলিয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িটি ডুবে আছে ছয় ফুট পানিতে। পরিবার নিয়ে আমি আশ্রয় নিয়েছি একটি সরকারি ভবনে। পরনের কাপড়টুকু নিয়ে আমরা বাড়িঘর ছেড়ে এসেছি। বাকি সব শেষ হয়ে গেছে।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন আসছে

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বা সংস্কার হতে যাচ্ছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এ সংস্কার-প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনার মধ্যে আছে একটি স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড প্রতিষ্ঠা, সেনাবাহিনীর আক্রমণের সক্ষমতা বাড়ানো, অনেক প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বিলুপ্ত এবং সদর দপ্তরের অবয়ব হ্রাস করা। বলা হচ্ছে, সব মিলিয়ে এটিই হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় সংস্কার।
বর্তমান সেনাপ্রধান ভি কে সিংয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি দল এ সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। তবে এটি যখন তৈরি হয়, সেনাপ্রধান ভি কে সিং তখন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান ছিলেন। সেনাবাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এখন ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ও এই সংস্কার পরিকল্পনার পক্ষে আছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সর্বশেষ এ ধরনের পরিবর্তন হয়েছিল ৩০ বছর আগে। এর ফলে সেনাবাহিনীতে পদ্ধতিগত বড় পরিবর্তন এসেছিল। নতুন পরিকল্পনায়ও তেমন কাজ হবে বলে জানিয়েছে সেনাসূত্র।
নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড গঠন। আক্রমণকারী তিনটি কমান্ডের কার্যক্রম সমন্বয় করে গঠিত হবে এই কমান্ড। কমান্ডের সদর দপ্তর হতে পারে জয়পুরে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমান্ডের সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে কাজ করছে একটি কমিটি।
স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে বর্তমানে দুটি সম্ভাবনা সবচেয়ে আলেচিত হচ্ছে। তা হলো জয়পুরভিত্তিক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড অথবা পুনেভিত্তিক দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডকে স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে রূপান্তর করা। এ ক্ষেত্রে জয়পুরেরই সম্ভাবনা বেশি বলে সূত্র জানিয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড থেকে কেটেছেঁটে জয়পুরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড গঠন করা হয় ২০০৫ সালে। নতুন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড গঠিত হলে ভারতীয় বাহিনী তখন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড ও আর্মি ট্রেনিং কমান্ড বাদেও পাঁচটি কমান্ডের আওতায় তাদের কার্যক্রম চালাবে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত নতুন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের আওতায় বিশেষ করে, চীন সীমান্তের জন্য একটি মাউন্টেইন স্ট্রাইক কোর গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। মাউন্টেইন স্ট্রাইক কোর গঠনের বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সম্মতির অপেক্ষায় আছে।

কাপাসিয়ার টোকনয়ন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন

কাপাসিয়ার টোকনয়ন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আকবর হোসেন ভুঁইয়া সভাপতি ও আবদুল হান্নান বাবুল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া কাসরুজ্জামান সবুর, দেলোয়ার হোসেন বারেক ও জামাল উদ্দিন সহসভাপতি, আলমগীর হোসেন জামান যুগ্ম সম্পাদক, রফিক মিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আতিকুল ইসলাম সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর হিসাব নিরীক্ষা করা হবে

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) শিগগির দেশের ছয় মুঠোফোন কোম্পানির হিসাব বিবরণী নিরীক্ষা করবে। এ জন্য বিটিআরসিই অডিট ফার্ম নিয়োগ দেবে।
অন্যদিকে ব্যান্ডউইডথের দাম মেগাবাইট প্রতি ১২ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। বর্তমানে এর দাম ১৮ হাজার টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। গত দুই বছরে কমিশনের কার্যক্রম ও অগ্রগতি জানানোর জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বিটিআরসির দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তিনি।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান, বিটিআরসি এ পর্যন্ত ২৬ ধরনের মোট ৮৩২টি লাইসেন্স দিয়েছে। আর গত দুই বছরে ৪৪৭টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স), সাবমেরিন কেব্ল, ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিরিয়াল কেব্ল (আইটিসি) এবং বৈদেশিক কল আদান-প্রদানে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) লাইসেন্সের নীতিমালা তৈরি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে কমিশন।
বন্ধ পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের (পিএসটিএন) অব্যবহূত যন্ত্রপাতিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জিয়া আহমেদ বলেন, ‘নতুন করে পিএসটিএন লাইসেন্সের নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হয়ে গেলে নতুন পিএসটিএন লাইসেন্স দেওয়া হবে।’ তখন ওই সব অব্যবহূত যন্ত্রপাতির পুনর্বিন্যাস সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
কল সেন্টারগুলো থেকে লভ্যাংশ নেওয়ার সময় হয়ে এসেছে জানিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের কল সেন্টারগুলো এখন লাভের মুখ দেখছে। এ ছাড়া লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী কল সেন্টার চালুর তিন বছর পর থেকে সরকারকে লভ্যাংশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সে হিসেবে কল সেন্টারগুলোকে অবশ্যই লভ্যাংশ দিতে হবে।
লাইসেন্স পাওয়ার পরও সরকারি ল্যান্ডফোন বিটিসিএল কেন এখনো ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার-অপারেবিলিটি ফর মাইক্রোওয়েভ এক্সেস (ওয়াইম্যাক্স) কাজ শুরু করেনি জানতে চাইলে জিয়া আহমেদ বলেন, ‘ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের দাম ২১৫ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী বাংলালায়ন ও অগেরি লাইসেন্সের দাম পরিশোধ করে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু ম্যাঙ্গো ও বিটিসিএল এ দাম পরিশোধ করতে পারেনি।’ তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে ম্যাঙ্গো ও বিটিসিএল প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে কাজ শুরু করার অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু লাইসেন্সে শর্ত ভঙ্গ করে বিটিআরসি এ সুযোগ দিতে পারে না।
মুঠোফোন লাইসেন্সে শেয়ার ট্রান্সফার ফি বলে কিছু নেই উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এয়ারটেল থেকে যেমন এ খাতে কোনো টাকা বিটিআরসি নেয়নি, তেমনি অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও নেবে না।’ তাহলে একটেল বা আগের অন্য কোম্পানি যারা বিটিআরসিকে এ খাতে ফি দিয়েছে, তাদের ফি কি ফেরত দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘অতীতের ভুলের বোঝা বর্তমান কমিশন কেন বইবে?’
সম্মেলনে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ দেলোয়ার, সচিব মো. মাহবুব আহমেদ, কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান ও এটিএম মনিরুল আলম, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক আহসান হাবীব খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারে লেনদেন-সূচক নিম্নমুখী

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। সিএসইতে দিনভর সূচকের ওঠানামার পর সার্বিক মূল্যসূচক ২৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫০৯-এ।
বৃহস্পতিবার ১৮৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ১৫২টির। এ ছাড়া চার কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। দিনশেষে সিএসইতে ৯৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের দিনের চেয়ে তা ৫৭ কোটি টাকা কম। বুধবার সিএসইতে প্রায় ১৫১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।
চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে গতকাল দাম বাড়ায় শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, তাল্লু স্পিনিং, প্রগতি লাইফ ইনসু্যুরেন্স, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, সাফকো স্পিনিং মিলস, আইবিবিএল মুদারাবা পারপিচুয়াল বন্ড, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফিন্যান্স ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।

শেষ কার্যদিবসে কমল ডিএসইর লেনদেন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। সেই সঙ্গে লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে।
সপ্তাহের শেষদিনের এই দরপতনকে বাজারের স্বাভাবিক আচরণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে যেসব বিনিয়োগকারী তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কিনেছিলেন, তাঁদের অনেকেই গতকাল তা বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা তুলেছেন। ওই দুই দিন বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটেছিল।
টানা কয়েক দিনের দরপতনের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়। পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনেক বিধিনিষেধ শিথিল করে। এতে পতনের ধাক্কা সামলে ওঠে বাজার। গতকাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। তাতে শেয়ারের দামও কমে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৬টি কোম্পানির মধ্যে গতকাল ১৯৮টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৪৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল চারটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের কারণে গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকও কমেছে। দিনশেষে এটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১১৫ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৫৭৬-এ নেমে আসে।
ডিএসইতে লেনদেন শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪২ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেলা সাড়ে ১১টার পর শেয়ারের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সূচকও কমতে থাকে।
শেয়ারের দাম ও সূচকের পাশাপাশি ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গতকাল ডিএসইতে এক হাজার ৬৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের দিনের চেয়ে তা ৫৮৭ কোটি টাকা কম। আগের দিনের মতো গতকালও ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল কম মূলধনি কোম্পানি।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক হিসাব বন্ধে বিপাকে বিদেশি কূটনীতিকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ব্যাংক বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকেরা সে দেশের সরকারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, এর ফলে তাঁরা নতুন কোনো ব্যাংকে হিসাব খোলার চেষ্টা করছেন, তবে খুব কম ব্যাংকেই সে সুযোগ পাচ্ছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রায় ১৫০ জন রাষ্ট্রদূত মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কয়েকজন কূটনীতিক বলেছেন, এসব ব্যাংক হিসাব বন্ধের ফলে জাতিসংঘের বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবিসি জানায়, গতকালের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্যাট্রিক কেনেডি বলেছেন, বিদেশি এই মিশনগুলোকে বিকল্প পদ্ধতিতে ব্যাংক সেবা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মিশনগুলোর অবৈধ কোনো কাজের জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিক ও ব্যাংক সেবা উভয়ের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
জেপি মর্গান চেস সম্প্রতি বেশ কিছু কূটনৈতিক মিশনের ব্যাংক সেবা বন্ধ করেছে। তবে ব্যাংকটি এসব হিসাব বন্ধের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। তবে মনে করা হচ্ছে, বিদেশি এসব ব্যাংক হিসাব তদারকি করা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিয়েছে।

পরাজয়ে মিল রেডস-গানারদের

আত্মবিশ্বাস আর বিশ্বাস। ইংলিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্সেনাল ও লিভারপুলে পরশু ঘুরে ফিরল এই দুটি শব্দ।
ইংলিশ লিগ কাপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ইপসউইচের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে আর্সেনাল। তবে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের আত্মবিশ্বাস দ্বিতীয় লেগে ভালো করে ঠিকই ফাইনালে উঠে যাবে তাঁর দল। আর প্রিমিয়ার লিগে ব্ল্যাকপুলের কাছে ২-১ গোলে হারার পর লিভারপুলের নতুন কোচ কেনি ডালগ্লিস বলেছেন, তাঁর দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের ওপর বিশ্বাসটাই হারিয়ে ফেলেছে।
এ মৌসুমের চনমনে আর্সেনালকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি পরশু। ৭৮ মিনিটে টমাস প্রিস্কিনের গোলে পিছিয়ে পড়ার আগে বা পরে পরিষ্কার কোনো গোলের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। ওয়েঙ্গারকেও তাই স্বীকার করতে হয়েছে, ‘আজ রাতে (পরশু) আমাদের খেলায় কোনো ঝলকই ছিল না।’ এমিরেটসে দ্বিতীয় লেগে আর্সেনালের খেলায় সেটি ফিরে আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী ওয়েঙ্গার, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়াব। দ্বিতীয় লেগটা নিজেদের মাঠে, এটাই পার্থক্য গড়ে দেবে। আজ রাতে যেমন হলো, সব সময় তো আর আমাদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার এমন আকাল দেখা দেবে না।’
লিভারপুলের সমস্যা এক-দুই ম্যাচের নয়। দু-একবার জ্বলে ওঠার উদাহরণ বাদ দিলে নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই বাজে অবস্থা ‘অল রেড’দের। এ কারণেই চাকরি হারাতে হয়েছে কোচ রয় হজসনকে। নতুন কোচ ডালগ্লিস এসেও কি উদ্ধার করতে পারছেন লিভারপুলকে! তিনিও তো ১৯৪৭ সালের পর প্রথম ব্ল্যাকপুলের কাছে লিগের দুটি ম্যাচেই পরাজয় ঠেকাতে পারলেন না।
অক্টোবরে নিজেদের মাঠে একই ব্যবধানে (২-১) হেরেছিল লিভারপুল। পার্থক্য কেবল সেই ম্যাচে ব্ল্যাকপুল এগিয়ে যাওয়ার পর সমতায় ফিরেও হেরেছিল তারা। আর এবার ব্ল্যাকপুলের মাঠে ফার্নান্দো তোরেসের ৩ মিনিটের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও হারতে হলো। ২১ ম্যাচে দশম পরাজয়, পয়েন্ট তালিকায় লিভারপুল এখন ১৩ নম্বরে!
কোচ ডালগ্লিস সমস্যা দেখছেন একটাই, ‘চেষ্টা, নিবেদন কিংবা ইচ্ছা—সবই ছিল। তবে কখনো কখনো একজন খেলোয়াড় কত ভালো, তাতে কিছু আসে-যায় না, বিশ্বাসটা লাগে। ওদের এটা ফিরিয়ে দিতে যা করতে হয় করব আমরা।’

পরশনাথ গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা

নয়া দিল্লিতে পরশনাথ আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার দাবায় সাত খেলায় সাড়ে ৫ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। ৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে ফিদে মাস্টার দেবরাজ চ্যাটার্জি।

পিছিয়ে পড়েও জিতল আবাহনী

কক্সবাজার ভেন্যুটা কী তাহলে ‘অপয়া’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বড় দলগুলোর জন্য?
অবস্থাদৃষ্টে এ রকম মনে করাই স্বাভাবিক। তিন দিন আগে কক্সবাজার স্টেডিয়ামে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তারকাখচিত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ১-১ ড্র। ঢাকা আবাহনী তো কাল সমুদ্র-শহরে পুরো পয়েন্ট হারানোর শঙ্কাতেই পড়ে গিয়েছিল! ৬৯ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য আবাহনী ঠিকই জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
ঢাকায় ফরাশগঞ্জের কাছে তৃতীয় ম্যাচে হারের পর এটি ছিল আবাহনীর চতুর্থ লিগ ম্যাচ। টানা দুই ম্যাচ হারলে চতুর্থ পেশাদার লিগ শিরোপা থেকে অনেকটা ছিটকে যেত আকাশি-নীলেরা। এ অবস্থায় একক প্রাধান্য নিয়ে খেলতে খেলতেই ৬৯ মিনিটে হঠাৎ গোল খেয়ে বসে চ্যাম্পিয়নরা।
ইনজুরির কারণে দলের দুই গোলরক্ষকই মাঠের বাইরে। বাংলাদেশ লিগ কমিটির বিশেষ বিবেচনায় গোলরক্ষক মোহাম্মদ আলীকে দলভুক্ত করলেও এই ম্যাচে খেলেছেন তরুণ গোলরক্ষক সোহেল। বক্সে উড়ে আসা নিরীহ একটা ক্রস ধরতে গিয়ে সোহেলের হাত ফসকে বেরিয়ে যায় বল। চট্টগ্রাম মোহামেডানের অধিনায়ক জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার ফরহাদের টোকায় স্কোর হয়ে যায় ১-০।
এরপর আবাহনীর ত্রাতার ভূমিকায় ঘানাইয়ান প্লে-মেকার ইব্রাহিম। তাঁর ক্রসেই এল আবাহনীর সমতা ও জয়সূচক গোল দুটি। ৭৫ মিনিটে ফ্রাঙ্ক গোল করে সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৪ মিনিট আগে গোল করেন শাখাওয়াত রনি। ৪ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট হলো ৭।
আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) কক্সবাজার থেকে ফোনে বলছিলেন, ‘প্রতিপক্ষকে আমরা গোল উপহার দিয়েছি। অঘটন ঘটলে নিজেদের দোষ দেওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকত না। ম্যাচটায় আমাদের একচ্ছত্র প্রাধান্য ছিল।

প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

গত ১১ জানুয়ারি প্রথম আলোর খেলার পাতায় প্রকাশিত ‘কাঠগড়ায় আম্পায়ারিং’ শিরোনামের সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ করেছেন বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান মাহমুদ জামাল। তিনি দাবি করেছেন, ‘আমাদের যোগ্য আম্পায়ারের সংকট আছে। তাই কোনো আম্পায়ারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট আসলেও কিছু করার থাকে না। তাঁকে আবার ম্যাচ দিতে হয়’, এমন কোনো কথা তিনি বলেননি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: মাহমুদ জামালের মন্তব্য যথাযথভাবেই প্রথম আলোতে উদ্ধৃত হয়েছে।

এবার ‘টেস্ট’ খেলবে নিউজিল্যান্ড

তিনি ছিলেন আদর্শ টেস্ট ওপেনার। উত্তরসূরিদের সাদা পোশাকে ‘টি-টোয়েন্টি’ খেলতে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি মার্ক রিচার্ডসন। ৩৮ টেস্ট খেলা সাবেক কিউই ব্যাটসম্যান সরাসরিই বলে দিলেন, টি-টোয়েন্টিতে মনোযোগ বেশি বলেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা এমন সব বুনো শট খেলছে। জন রাইট সরাসরি এভাবে বলেননি তবে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংকে কিউই কোচ বলছেন, ‘অগ্রহণযোগ্য।’ এক সেশনে ১০ উইকেট হারানোটা মূল আপত্তি নয়, রিচার্ডসনের মতো রাইটও মেনে নিতে পারছেন না শিষ্যদের আউট হওয়ার ধরন।
‘গ্রহণযোগ্য’ ব্যাটিং কোনটা, সেটা বোঝানোর জন্য রাইটের চেয়ে আদর্শ লোক অবশ্য নিউজিল্যান্ডে খুব একটা পাওয়া যাবে না। উইকেটে পড়ে থাকার কাজটা যে তিনিও খারাপ করতেন না! ওয়েলিংটনে কাল শুরু দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ড রাইট-রিচার্ডসনদের কথা মেনে সত্যিই ‘টেস্ট’ খেলতে পারবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে কাজটা সহজ হবে না মোটেও। চার বছর পর একটা টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য যে মরিয়া পাকিস্তান! বিতর্কজর্জরিত দলটি প্রায় অর্ধডজন শীর্ষ ক্রিকেটারকে ছাড়াই হ্যামিল্টনে কিউইদের উড়িয়ে দিয়ে আরও একবার চমকে দিয়েছে ক্রিকেট-বিশ্বকে।
হ্যামিল্টন টেস্ট যখন চলছে, কাতারের দোহায় তখন চলছে আসিফ-আমির-বাটদের ভাগ্যপরীক্ষা। শুধু কি ওই তিনজনের? ভাগ্যপরীক্ষা ছিল তো আসলে পাকিস্তান ক্রিকেটেরই। ক্রিকেটারদের মাথায় তাই শুধু হ্যামিল্টন নয়, ছিল দোহাও। এ জন্যই হ্যামিল্টনের জয়টা নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত কোচ ওয়াকার ইউনুস, ‘এমন নয় যে আমরা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলছিলাম, কিন্তু বিতর্ক আমাদের পিছু ছাড়ছিল না। একই সঙ্গে এসব সামলানো ও ক্রিকেটে মন দেওয়া খুব কঠিন। আমি সত্যিই ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। প্রতিদিন সকালে ওরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ঘুম থেকে উঠেছে এবং নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছে।’
জন রাইটের সমালোচনা কিন্তু মাথা পেতে নিয়েছেন রস টেলর। কিউই সহ-অধিনায়ক মানছেন শুধু কোচের পরামর্শ নয়, ক্যারিয়ার থেকেও অনেক কিছুই শেখার আছে, ‘সব ব্যাটসম্যানের উচিত খুব ভালোভাবে নিজের দিকে তাকানো, আমিও অবশ্যই এর মধ্যে পড়ি। জনের কোচিংয়ের ধরন ও দর্শনে টেস্ট ক্রিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দারুণ সফল টেস্ট ক্যারিয়ার ছিল তাঁর, মানসিকভাবে ছিলেন শক্তিশালী। আশা করি, সেটার প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে।’
প্রভাবটা খুব দ্রুত পড়াটা জরুরি। না হলে যে দেশের মাটিতে টানা দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশের (গত মার্চে করেছিল অস্ট্রেলিয়া) লজ্জায় পড়তে হবে নিউজিল্যান্ডকে!

সবাই যখন এক মঞ্চে

বন্যার প্রবল স্রোতের তোড়ে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসার শক্তি আরও বেশি। সেটি কখনোই ভাঙে না। তারই প্রমাণ মিলছে। অস্ট্রেলিয়ার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন ক্রিকেটের কেভিন পিটারসেন থেকে টেনিসের রজার ফেদেরার। রুলস ফুটবলের ক্লাবগুলো থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলও।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরুর আগের দিন আয়োজন করা হয়েছে ‘র‌্যালি ফর রিলিফ’ শিরোনামের বিশেষ প্রদর্শনী ম্যাচের। সেখানে অংশ নেবেন ফেদেরার, নাদাল, অ্যান্ডি রডিক, কিম ক্লাইস্টার্সরা। টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। পাশাপাশি তহবিলে যে কেউ দান করতে পারবেন। রডিক যেমন এরই মধ্যে ১০ হাজার ডলার দান করেছেন।
পরশু টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাৎক্ষণিকভাবে দর্শকদের কাছ থেকে ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ করা হয়। লি-জনসনের মতো তারকারা দানবাক্স নিয়ে ঘুরেছেন গ্যালারিতে। দুই দলের ক্রিকেটাররাও তাঁদের ম্যাচ ফি দিয়ে দেন। ৩০ জানুয়ারি ব্রিসবেনের ওয়ানডে থেকে পাওয়া অর্থের পুরোটাই বন্যার্তদের সাহায্যার্থে খরচ করা হবে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শেন ওয়ার্ন একাদশ বনাম মাইকেল ভন একাদশ একটি প্রীতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও হওয়ার কথা। পিটারসেন এরই মধ্যে অ্যাশেজ জয়ের কিছু স্মারক নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দলের তারকা টিম কাহিলও নিলামে তুলছেন বেশ কিছু স্মারক। এশিয়ান কাপ ফুটবলে বিশেষ জার্সি পরবে অস্ট্রেলিয়া দল। তাতে লেখা থাকবে বন্যার্তদের জন্য দান করার আহ্বান। অস্ট্রেলিয়ার রুলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এরই মধ্যে বন্যার্তদের জন্য সরকারি সাহায্য তহবিলে ৫ লাখ ডলার দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেওয়া স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই বন্যায় প্রায় ১৫ জন মারা গেছে। প্লাবিত হয়েছে কুইন্সল্যান্ডের ৭০টি শহর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। আর্থিক দিক দিয়ে এই বন্যার কারণে ১০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহরিয়ারের পর শামসুর

জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা নিয়মিতই রান পাচ্ছেন প্রিমিয়ার লিগে কিন্তু সেঞ্চুরির হিসাব করলে জাতীয় দলের বাইরের ব্যাটসম্যানদেরই আধিপত্য বেশি। কাল পর্যন্ত লিগের ৫১টি ম্যাচে ১৩টি সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের ২৩ জনের দলের মাত্র দুজন আছেন সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায়—শাহরিয়ার নাফীস ও তামিম ইকবাল।
এই দুজনের মধ্যে আবার দুটি সেঞ্চুরি করে এগিয়ে গাজী ট্যাংকের শাহরিয়ার। কাল লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে তাঁর সঙ্গী ২৩ জনের দল থেকে বাদ পড়া মোহামেডানের শামসুর রহমান।
সকালে ঘন কুয়াশার কারণে তিনটি ম্যাচের দৈর্ঘ্যই কমে নেমে এসেছে ৩৫, ৩৩ ও ২৫ ওভারে। সেঞ্চুরি হওয়া তাই কঠিনই ছিল কাল। সেই কঠিন কাজটাই করেছেন শামসুর। সঙ্গে ফয়সালের ঝোড়ো হাফ সেঞ্চুরি ও সাকিবের ‘ক্যামিও’ যোগ হয়ে মিরপুরে ৩৫ ওভারেই ৬ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে ফেলে মোহামেডান। হারলেও ২২৬ রান করে ভালোই জবাব দিয়েছে কলাবাগান। অন্য দুই ম্যাচে আবাহনী ৬ রানে বিমানকে এবং ভিক্টোরিয়া ৭১ রানে প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়েছে।
৬০ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মোহামেডানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে সাকিব ও ফয়সালের সঙ্গে শামসুরের দুটি জুটি। সাকিবের (২৯ বলে ৩২) সঙ্গে ৬৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিটি শুরুর ধাক্কা সামলানোর কাজ করেছে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পঞ্চম উইকেটে ফয়সালের (৪৪ বলে ৫২) সঙ্গে ১১৯ রানের জুটিটি ছড়িয়েছে রানের ফোয়ারা। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে অফ স্পিনার মাহমুদুলের বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন শামসুর, ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ৮৬ বলে ১০০ (৯টি চার ও ৪টি ছয়)।
কলাবাগানের ইনিংসে সাতজন ২০ বা এর বেশি রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। সর্বোচ্চ ৩৭ করেছেন আরিফুল ও শরীফ। সাকিবের ৪ উইকেটে নিশ্চিত হয়েছে ৯ ম্যাচে মোহামেডানের সপ্তম জয়।
ফতুল্লায় আবাহনী-বিমান ম্যাচটা ভালোই জমেছিল। শেষ ওভারে হাতে ২ উইকেট নিয়ে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল বিমানের। তারা তুলতে পেরেছে ৬ রান। ৯ ম্যাচে অষ্টম জয় তুলে আবাহনী তাই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে এখনো।
বিকেএসপির ম্যাচটা ২৫ ওভারের হয়ে গেলেও প্রাইম দোলেশ্বরের দুর্দশার চিত্র বদলায়নি। মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ৯ ম্যাচে অষ্টম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে প্রিমিয়ারে নবাগত দলটি। মোহামেডানের সঙ্গে ‘টাই’ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া দোলেশ্বরের অবনমন প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়।

সব রোনালদিনহোর জন্য.

একজন, দুজন করে ভিড়টা বাড়তেই থাকে। বাড়তে বাড়তে পৌঁছায় হাজার কুড়িতে। রিও ডি জেনিরোয় ফ্ল্যামেঙ্গোর সদর দপ্তরটা হয়ে ওঠে জনারণ্য। হয়ে ওঠে মুখরিত। থেমে থেমে বাজতে থাকে সাম্বার তাল, চলতে থাকে সাম্বা নাচ।
ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোয় পরশুর এই আয়োজন ছিল শুধু একজনের জন্য। সেই একজন রোনালদিনহো। চুক্তির কাজ আগেই শেষ হয়েছে, এদিন ফ্ল্যামেঙ্গোয় পা রেখেছেন এসি মিলানে সদ্যই সাবেক হয়ে যাওয়া প্লে-মেকার। পরশুই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থকদের সামনে হাজির হলেন ‘ফ্ল্যামেঙ্গোর রোনালদিনহো’।
ভক্ত-সমর্থকেরা রোনালদিনহোকে বরণ করে নিতে সাম্বার তালে গাইল, নাচল। অনেকেই গিয়েছিল রোনালদিনহোর মুখোশ পরে। অনেকের গায়ে ফ্ল্যামেঙ্গোর লাল-কালো ডোরাকাটা জার্সি।
সমর্থকদের এভাবে আবেগে উছলে পড়তে দেখে, তাঁর নামে স্লোগান দিতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রোনালদিনহো, ‘ফ্ল্যামেঙ্গোকে যতটা ওপরে তোলা সম্ভব, আমি তা-ই করতে চাই। যত সম্ভব ট্রফি জিততে চাই। সমর্থকদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। চাই আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে।’
২০০৩ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেই থেকে বার্সেলোনায় নাম লেখানোর পরও ঠিক একই কথা বলেছিলেন। কথাও রেখেছিলেন। পাঁচ বছর ছিলেন বার্সেলোনায়। স্প্যানিশ ক্লাবটিকে জিতিয়েছেন দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
সেই সময় আর নেই রোনালদিনহোর। নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন অনেক দিন থেকেই। রোনালদিনহো কি পারবেন? পারতেই হবে! এই পারার ওপর যে নির্ভর করছে তাঁর আরেকটি স্বপ্ন, ‘ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিতে চাই। অন্য অনেকের মতো ক্যারিয়ারে যতি টানতে ব্রাজিলে ফিরিনি আমি।’

নিশ্চিন্তপুর স্কুলের ‘বঙ্গবন্ধু’ জয়

সিলেটের হরিপুর থেকে এসেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কুতুবউদ্দিন। রাজনৈতিক কর্মী শাহেদ, বেলালরা জৈন্তাপুর থেকে। ট্রেন এবং ৩০টি গাড়ি বোঝাই করে সিলেট থেকে আসা হাজার পাঁচেক দর্শক বসল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এক পাশের গ্যালারিতে। ভিআইপিতে সিলেটের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তাদের সবার চোখ দেশব্যাপী সাড়া ফেলা ৫৬ হাজার প্রাথমিক স্কুল নিয়ে আয়োজিত প্রথম বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের আবহজুড়ে ছিল যেন এক টুকরো সিলেট!
এত দূর থেকে আসা এসব দর্শককে নিরাশ করেনি জৈন্তাপুরের নিশ্চিন্তপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা। ফাইনালে তাদের কাছে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারল নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন ভারত সীমান্তের কাছে সিলেটের অজপাড়াগাঁয়ের অখ্যাত স্কুল নিশ্চিন্তপুর।
গত অক্টোবরে শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টটি। সারা দেশে বাছাই শেষে সেরা দুটি দল খেলেছে ফাইনালে। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়া বইছিল মাঠে, কিন্তু খুদে ফুটবলারদের উৎসাহ কমাতে পারেনি। ৫০ মিনিটের ম্যাচ, প্রথমার্ধ গোলহীন। ৩৫ মিনিটে এমদাদুলের গোলে এগিয়ে যায় নিশ্চিন্তপুর। শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ১-১ করে ফেলে এই টুর্নামেন্টে ৩৪ গোল করে চোখ কাড়া পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ সেলিম। অতিরিক্ত ১০ মিনিটে গোল হয়নি। টাইব্রেকারে শেষ হাসি নিশ্চিন্তপুরেরই।
খেলা শেষে এক পক্ষ আনন্দ করল, আরেক পক্ষ হতাশায় ডুবল। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েও ‘খুদে গোলমেশিন’ সেলিম ভেঙে পড়ল কান্নায়। পেনাল্টি মিসের দুঃখ কিছুতেই সে ভুলতে পারছিল না, ‘খুব খারাপ লাগছে। এভাবে পেনাল্টি মিস করব ভাবিনি।’ নারায়ণগঞ্জের কাঠমিস্ত্রির ছেলে সেলিমের মধ্যে ভবিষ্যতে বড় ফুটবলার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। তবে এসব কিছু নয়, হেরে যাওয়ার পর রানার্সআপ দলের কোচ খলিলুর রহমান (দোলন) অভিযোগ করলেন, ‘ওরা বেশি বয়সী খেলোয়াড় খেলিয়েছে!’
টুর্নামেন্টের ‘গোল্ডেন বুট’ পেয়েছে নিশ্চিন্তপুরের রুবেল। চূড়ান্ত পর্বে রুবেল ও সেলিমের গোল সমান হওয়ায় লটারিতে পুরস্কারটা পেয়েছে রুবেল। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছে জয়ী দলের অধিনায়ক এমদাদ।
ছাত্রদের এমন আনন্দের দিনে চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিন্তপুরের প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিনের আনন্দও যেন কম ছিল না, ‘ছেলেরা জাম্বুরা দিয়ে বল বানিয়ে খেলত। এই টুর্নামেন্টের কথা শুনে আমরা ওদের বল কিনে দিই। এখন মনে হচ্ছে পরিশ্রম সার্থক।’
প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান খেলা দেখেছেন। তাঁর হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক এমদাদ সোনালি ট্রফিটা নিয়েছে। শীতার্ত সন্ধ্যায় তখন হাজারো সিলেটবাসীর উল্লাসধ্বনি।

টেন্ডুলকারকে আউট করার পর...

হেনরি ওলোঙ্গার ঘটনাটা কি তাহলে জানা আছে লোনওয়াবো সতসোবের! প্রায় এক যুগ আগে শারজায় শচীন টেন্ডুলকারকে দারুণ এক শর্ট বলে আউট করার পর কিছু একটা বলেছিলেন ওলোঙ্গা। টেন্ডুলকার তা মনে রেখেছিলেন। পরের ম্যাচটাই ছিল ফাইনাল। টেন্ডুলকার যেভাবে ওলোঙ্গার ওপর চড়াও হয়েছিলেন, সেটাকে সোজা বাংলায় বলা যায়, ‘আজ তোর একদিন কি আমার একদিন!’ ফলাফল—টেন্ডুলকার ৯২ বলে অপরাজিত ১২৪, ওলোঙ্গা ৬ ওভারে ৫০।
সতসোবে ওলোঙ্গার পথে হাঁটার ভুল করেননি। গত পরশু ডারবানে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। চার উইকেটের কোনটি সবচেয়ে উপভোগ করেছেন—এই প্রশ্নের জবাবে ‘অবশ্যই টেন্ডুলকারের উইকেট’ বলেই সতসোবে যোগ করেছেন, ‘আমি খুশি, তবে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। এই লোককে আমি রাগাতে চাই না।’
পরশু ডারবানের ম্যাচে অবশ্য সতসোবেই জয়ী। ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়ার ১১ মাস পর আবার ওয়ানডে খেলতে নামা টেন্ডুলকারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মাত্র ৭ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকাও জিতেছে ১৩৫ রানের বড় ব্যবধানে। ক্যারিয়ারের ‘তৃতীয় জন্মের’ পর থেকেই অবশ্য সময়টা ভালো কাটছে সতসোবের। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে অভিষেক ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট নেওয়ার পরও আরেকটি ওয়ানডে খেলতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল ১০ মাস। সে দফায় দুই ওয়ানডেতে ২ উইকেট নেওয়ার পর আবার বাদ। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে অবশ্য নিয়মিত। গত পরশু খেললেন টানা ১২তম ওয়ানডে, এর মধ্যে মাত্র একটিতেই উইকেটশূন্য ছিলেন। গত পরশু ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হলেন দ্বিতীয়বারের মতো। এমন পারফরম্যান্স দেখেই বিদায়বেলায় মাখায় এনটিনি বলেছেন, ‘সতসোবের মাঝে উত্তরসূরি রেখে গেলাম।’
গোহারা হারার পর ভারত জবাব খুঁজছে অনেক প্রশ্নের। আবারও শর্ট বল ভুগিয়েছে তাদের, এমনিতে মিতব্যয়ী আশিস নেহরাও হয়েছেন তুলোধুনো। ‘আমরা স্রেফ উড়ে গেছি’ মেনে নিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি আশা করছেন পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসার গত কয়েক বছরের ধারা অনুসরণ করবে তাঁর দল। দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল, জোহানেসবার্গে।

হ্যাটট্রিকে মেসির জবাব

ফিফা-ব্যালন ডি’অর যোগ্যতম খেলোয়াড়টির হাতেই উঠেছে কি না, এ নিয়ে হালকা একটা বিতর্ক জমে উঠছিল। কিন্তু সেটি মেসির ভালো লাগবে কেন? বিতর্ক থামিয়ে দিতেই যেন স্পেনে ফিরে এক দিন পর মাঠে নেমেই হ্যাটট্রিক!
গত পরশু রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে কিংস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনা জিতল ৫-০ গোলে। সব মিলে টানা ২৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত বার্সা। রোববার লিগে মালাগার বিপক্ষে না হারলে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন ক্লাব রেকর্ড হয়ে যাবে। ৩৭ বছর আগে রাইনাস মিশেলসের বার্সেলোনা অপরাজিত ছিল টানা ২৭ ম্যাচ।
গত নভেম্বর থেকে এ নিয়ে সাত ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে কমপক্ষে চারটি গোলও দিল বার্সেলোনা। পরশু নিজেদের মাঠে অবশ্য প্রথম গোলটি পেতে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথমটির মতো ৬২ ও ৭৩ মিনিটে দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোলটিও মেসির। শেষ দুটি গোল পেদ্রো ও কেইতার।
মুখে যতই না না করুন, লিগের গত ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানোর রোনালদোর হ্যাটট্রিকের পাল্টা জবাবই হয়তো দিয়ে রাখলেন মেসি। মোট গোলসংখ্যায় টপকে গেলেন রোনালদোকেও। ২৭ ম্যাচে রোনালদোর গোল ৩০টি। সমান ম্যাচে মেসির একটি বেশি। হ্যাটট্রিকের সংখ্যায় রোনালদো অবশ্য এগিয়ে। এই মৌসুমে রোনালদোর হ্যাটট্রিক চারটি, মেসির তিনটি।
বার্সা-সতীর্থদের কাছে অবশ্য মেসি-রোনালদো আলোচনার কোনো দামই নেই। তাঁদের কাছে মেসির শ্রেষ্ঠত্ব যেন তর্কের ঊর্ধ্বে। মেসির বর্ষসেরা হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সেটি পরশুই শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেজ, “এই ম্যাচ ব্যালন ডি’অর নিয়ে ওঠা বিতর্ক শেষ করে দেবে। পুরস্কারটা ঠিক হাতেই উঠেছে। মেসিই সেরা। প্রতিনিয়তই সে এটা প্রমাণ করে যাচ্ছে। তবে অন্য দুজনও এই পুরস্কারের যোগ্য। তবে এটা পরিষ্কার, মেসি অন্যদের চেয়ে আলাদা।” মেসি বড় সমর্থক হিসেবে পেয়েছেন পেপ গার্দিওলা আর লুইস ফিগোকেও।

সেমিফাইনালের পথে রিয়াল মাদ্রিদ

কিংস কাপে দীর্ঘদিন ধরেই সাফল্যের দেখা পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ শিরোপাটা জিতেছিল ১৯৯৩ সালে। তারপর বেশ কয়েকবার স্প্যানিশ লিগ শিরোপা জিতলেও কিংস কাপে সাফল্যের দেখা পায়নি এই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি। কিন্তু এবারের মৌসুমে দৃশ্যপট পরিবর্তিত হলেও হতে পারে। কারণ, এর আগের কয়েকটি আসরে রিয়াল মাদ্রিদ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেনি; আর এবার তারা সেমিফাইনালে যাওয়ার পথেও এগিয়ে গেছে অনেক খানি। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও বেগবান হয়েছে মরিনহো শিষ্যদের।
গতকাল বার্নাবুতে খেলার শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় রিয়ালের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের সোনার বলজয়ী ডিয়েগো ফোরলান। তবে অ্যাটলেটিকোকে খুব বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে দেননি সার্জিও রামোস। ছয় মিনিট পরেই চমত্কার এক হেড থেকে খেলায় সমতা ফেরান এই রিয়াল ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১-এ সমতা নিয়েই।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন রোনালদো, মেসুত ওজিল ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ারা। বারবার হানা দিতে লাগলেন অ্যাটলেটিকোর রক্ষণভাগে। ৬০ মিনিটের মাথায় কাঙ্ক্ষিত ঠিকানাটাও পেয়ে গেলেন রোনালদো। ২-১ গোলে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে অ্যাটলেটিকো রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগে ব্যবধানটা আরেকটু বাড়িয়ে দেন মেসুত ওজিল। ৩-১ গোলের জয় নিয়ে দ্বিতীয় লেগের আগে অনেকখানিই এগিয়ে থাকল তারা।

কক্সবাজার সাফারি পার্কঃ প্রাণীর প্রাচুর্য আছে, নেই অর্থ, দক্ষতা by খসরু চৌধুরী

প্রাণবৈচিত্র্য, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও আয়তন মিলিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, কক্সবাজার’ হয়ে উঠতে পারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রকৃতি দর্শনকেন্দ্র। কিন্তু উদ্দেশ্যহীন সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, অদক্ষ জনবল এবং সর্বশেষ অর্থাভাব আর অবহেলায় পার্কটির সেই সম্ভাবনা তিরোহিত হচ্ছে। যদিও এখানে আছে বিশ্বের অন্যতম বেশ কটি বিপন্ন প্রাণী।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের গুপ্ত জীবন by মশিউল আলম

ত্তর আটলান্টিকের তীরে রেকইয়াভিক শহরের গ্রেটিসগাটা স্ট্রিটের ছোট্ট সাদা বাড়িটি শতবর্ষের পুরোনো। আইসল্যান্ডের আবহাওয়া এমন, উত্তরে বাতাস যেকোনো সময় বয়ে আনতে পারে তুষার ও বরফ, এমনকি বসন্তকালেও। যখন সে রকম ঘটে, রেকইয়াভিক শহরজুড়ে নেমে আসে প্রগাঢ় নৈঃশব্দ। এ বছরের মার্চের ৩০ তারিখ সকালে ঠিক এ রকম আবহাওয়ার মধ্যে এলেন এক দীর্ঘদেহী যুবক। তাঁর চোখের মণি দুটো ধূসর, চুলগুলো রুপালি-সাদা,