Monday, December 21, 2009

মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান ব্যাংককে আটক উ. কোরীয় বিমানটি মধ্যপ্রাচ্য যাচ্ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান ডেনিশ ব্লেয়ার বলেছেন, থাইল্যান্ডে আটক অস্ত্রবোঝাই উত্তর কোরীয় বিমানটি মধ্যপ্রাচ্য যাচ্ছিল। তিনি গত শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এ কথা বলেন। খবর এএফপির।
জ্বালানি নেওয়ার জন্য গত ১১ ডিসেম্বর ওই বিমানটি ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ টন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিমানের পাঁচ চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। থাই কর্তৃপক্ষ বিমানটিতে বহন করা অবৈধ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, উত্তর কোরিয়ার ওই বিমানটি ঠিক কোথায় যাচ্ছিল।
ওয়াশিংটন পোস্টের মন্তব্য প্রতিবেদনে ডেনিশ ব্লেয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও মিত্রদের তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উত্তর কোরিয়ার ওই বিমানটির গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্য। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র, গ্রেনেডসহ অন্যান্য অস্ত্র ছিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা বলেছেন, ‘বিমানটি পিয়ংইয়ং থেকে আসছিল। এর মধ্য থেকে জব্দ করা অস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার কোম্পানির তৈরি।’

ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরির উদিগরণ, ৪০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া

ফিলিপাইনের আলবেই প্রদেশের মেয়ন আগ্নেয়গিরি থেকে নতুন করে উদিগরণ শুরু হলে ৪০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো রকমের প্রাণহানি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সেখানে কারফিউ জারি করেছে। গত সোমবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে লাভা, ধোঁয়া ও ছাই উদিগরণ শুরু হয়।
এর আগে ২০০৬ সালেও এ আগ্নেয়গিরিটি থেকে উদিগরণ হয়েছিল। খবর এএফপির।
কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার জানান, ইতিমধ্যেই স্থানীয় ৫০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের তীব্রতা দেখে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের তিন থেকে চার মাস আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হতে পারে।
আলবেই প্রদেশের জননিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা সেডরিক দায়েপ বলেন, দুই হাজার ৪৬০ মিটার আয়তনের আগ্নেয়গিরিটি ব্যাপকভাবে বিস্ফোরিত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তিন থেকে চার মাস আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগ্নেয়গিরিটি ঘিরে আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ও খেতের ফসল দেখতে আসছে এমন খবরের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির খসড়া ‘ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য’: জি-৭৭

কোপেনহেগেনের খসড়া জলবায়ু চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট জি-৭৭। এর আগে জোটটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, তারা প্রস্তাবিত খসড়াটি আটকে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও সম্মেলনের আয়োজক দেশ ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গরিব দেশগুলোর অধিকার পদদলিত করার অভিযোগ তুলেছেন জি-৭৭-এর চেয়ারম্যান সুদানের লুলুম্বা স্টানিসলাইস ডিয়া-পিং। তিনি বলেন, আজকের ঘটনাবলি সত্যিকার অর্থেই জলবায়ুর পরিবর্তন-সংক্রান্ত আলোচনায় ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে। ডিয়া-পিং আরও বলেন, এই চুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে রুদ্ধ করে দেবে এবং উন্নয়নশীল দেশের দরিদ্র মানুষ চিরদিন দারিদ্র্যের চক্রে আটকে থাকবে।
ডিয়া-পিং বলেন, সুদান ওই চুক্তিতে সম্মতি দেবে না। তবে তাঁর প্রতিনিধিদল ওই খসড়া চুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি পরিষ্কারভাবে কিছু উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
পুরো সম্মেলনেই ডিয়া-পিং অভিযোগ করে আসছিলেন যে, পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নয়, সবকিছুর নিষ্পত্তি হয়েছে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। সবাইকে পাশকাটিয়েনিজেদের স্বার্থে এ খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা যেভাবে কাজ করেছেন, তাতে তিনি নিশ্চিতভাবেই তাঁর ও বুশের প্রেসিডেন্টের কার্যকালের যেকোনো পার্থক্য মুছে দিয়েছেন।

জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে হতাশা

জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম হতাশা প্রকাশ করেছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য স্থির করতে বিশ্বনেতাদের ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই হতাশা ব্যক্ত করা হয়। গতকাল শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় ও প্রতিবেদনে বলা হয়, কোপেনহেগেন সম্মেলন অসম্পূর্ণ ও ব্যর্থ হয়েছে। কোনো কোনো পত্রিকায় জলবায়ুবিষয়ক সমঝোতাকে হতাশাব্যঞ্জক, মুখরক্ষার সমঝোতা বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। ব্রিটেনের দৈনিক পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান-এর অনলাইন সংস্করণের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘সামান্য লক্ষ্য, তাও পূরণ হয়নি: ব্যর্থ হলো কোপেনহেগেন’।
গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের কোপেনহেগেন সম্মেলন একটি দুর্বল রূপরেখা দিয়েছে। এতে ব্রিটেন ও অন্যান্য গরিব দেশ মাসের পর মাস ধরে যেসব বিষয়ে দাবি ও আপত্তি জানিয়ে আসছিল, সেগুলো উপেক্ষিতই থেকে গেছে। এই সম্মেলন সর্বসম্মতিক্রমে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া প্রস্তাবের সঙ্গে অনেক উন্নয়নশীল দেশই সম্মতি প্রকাশ করেনি।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘পূরণ হয়নি বহু লক্ষ্য’। বিশ্বের বহু পত্রিকায় প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। ইতালির প্রভাবশালী একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘মুখ রক্ষা করতে সর্বসম্মতিক্রমে মুখোশ পরার ব্যবস্থা করা হয়েছে’। বাম ঘরানার একটি ডাচ্ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘দুর্বল সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জলবায়ু সম্মেলন’।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির পরও ২০ জন উইঘুর মুসলিমকে বহিষ্কার করছে কম্বোডিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও দেশ থেকে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের ২০ জনকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে কম্বোডিয়া সরকার। গতকাল শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গত জুলাই মাসে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বিক্ষোভের পর ওই উইঘুররা কম্বোডিয়ায় আশ্রয় নেয়। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের কম্বোডিয়া সফরের প্রাক্কালে এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটির সরকার।
কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেখান থেকে তারা এসেছে, সেখানেই তাদের ফেরত পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খিও সোফেক বলেন, তারা এখন কম্বোডিয়ায় রয়েছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। সম্ভবত চীনে।

নেপালে মন্ত্রীর গাড়িবহরে মাওবাদীদের হামলা

নেপালে মাওবাদী বিদ্রোহীরা গত শুক্রবার এক মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তবে মন্ত্রী অক্ষত আছেন। এ ঘটনায় সে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নেপাল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানিমন্ত্রী প্রকাশ শরণ মহত্ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বাগলুং জেলায় সফরকালে এ ঘটনা ঘটে। মাওবাদীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন মাওবাদী কর্মী আহত হয়। মন্ত্রী প্রকাশ শরণ এ ঘটনাকে ‘মাওবাদীদের বর্বর আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাওবাদীরা ইতিমধ্যে নেপালের নয়টি জেলা দখল করে সেগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত ঘোষণা করেছে। এ ঘটনায় নেপাল সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেল।
এরই মধ্যে শুক্রবার কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট জিপি কৈরালা ও মাওবাদীর প্রধান প্রচণ্ড এক বৈঠকে বসে চলমান সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

জরুরি বৈঠক করলেন প্রেসিডেন্ট জারদারি

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় নিয়ে টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল। এ অবস্থায় এখন ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সরকার পতনের মুখে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে গতকাল শনিবার দলের নির্বাহী কমিটির এক জরুরি বৈঠক ডাকেন জারদারি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানা যায়নি।
সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের জারি করা ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অধ্যাদেশকে (এনআরও) সুপ্রিম কোর্ট ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের ওই ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে আগের সেই দুর্নীতির মামলাগুলো পুনর্জীবিত হওয়ার পথ খুলে যায়। একই ধরনের মামলা রয়েছে পিপিপির আরও অনেক নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
জরুরি বৈঠক শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট জারদারির মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেন, বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। পিপিপির মুখপাত্র ফওজিয়া ওয়াহাব বলেন, দলের সদস্যদের মতামত বিবেচনা করবে দল। তাঁদের সুপারিশ ও কৌশল সরকারও গ্রহণ করতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন জারদারি। কিন্তু তাঁর ক্ষমতায় থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের মতো মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কোনো রক্ষাকবচ নেই।
এরই মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মুখতারকে কেন বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, সেটা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। স্বরাষ্ট্রসচিব এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক ও দুজন পরিদর্শককে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এনআরও ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশের পর ৫২ জনের মামলা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০৭ সালে ওই অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর মামলাগুলো স্থগিত করা হয়। জাতীয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) সিন্ধু প্রদেশের ডেপুটি প্রসিকিউটর জেনারেল সালমান বাট বলেন, ‘আদালত রেহমান মালিককে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমরা আরও ৫২ জনের মামলা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছি।’
কর্মকর্তারা জানান, ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৈরি করা তালিকায় (এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট) রাজনীতিক, আমলা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের নাম রয়েছে। এনএবির গণমাধ্যম কর্মকর্তা নাভেদ সাত্তার বলেন, ‘বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। আবারও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি জব্দ করা হবে।’
রাজনৈতিক ভাষ্যকার তালাত মাসুদ বলেছেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত অভিযুক্ত মন্ত্রীদের বাদ দিতে হবে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে একটি মামলা পুনরায় চালুর যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে গতকাল একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবী জাফরুল্লাহ লাহোর সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনটি দাখিল করেন। পিটিশনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া সর্বোচ্চ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।

দেশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের কৌশল উন্নয়নের বিষয়ে ক্যাটালিস্ট-বিসিপিএ চুক্তি

দেশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের কৌশল উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে ক্যাটালিস্ট ও বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।
ক্যাটালিস্টের মহাব্যবস্থাপক জেমস ব্লিউয়েট এবং বিসিপিএয়ের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে এ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিসিপিএয়ের মহাসচিব মুশফিকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ এ এম আসফাকুল আবেদিন ও আহ্বায়ক পার্থ শারথি রায়সহ ক্যাটালিস্টের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি কৃষকদের মধ্যে তথ্যের অপ্রতুলতা মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলবে এবং এর ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের কৌশল উন্নয়নে কাজ করবে। এর ফলে কৃষকেরা খাদ্যশস্য সংরক্ষণ বিষয়ে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন এবং কৃষিকাজে তা কাজে লাগাতে পারবেন বলে প্রতিষ্ঠান দুটি আশা করছে।

কারওয়ান বাজারের ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম এক বছর বাড়ল

ঢাকার কারওয়ান বাজারের ফরমালিন পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী এ কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। চলতি ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চার মাসের জন্য কেন্দ্রটি চালু করা হয়।
স্কয়ার কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেডের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কর্মসূচির আওতায় সেবাকেন্দ্রটির কার্যক্রম বাড়ানো হয়। এ কেন্দ্রে এখন দুজন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কারওয়ান বাজারের খুচরা মাছের বাজারে কেনাবেচা হওয়া যেকোনো মাছে ফরমালিন আছে কি না, তা বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হবে। কেন্দ্রটির সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন উপসচিব মনোয়ার হোসেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৩ অধিশাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জনগণের ব্যাপক উত্সাহ ও সমর্থনের ফলে কারওয়ান বাজারের ফরমালিন পরীক্ষাকেন্দ্রটি ইতিমধ্যে সফলতা অর্জন করেছে। কেন্দ্রটি কারওয়ান বাজারে শতভাগ ফরমালিনমুক্ত মাছ বিক্রি নিশ্চিতকরণ ও ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে জনসাধারণের মধ্যে সন্তুষ্টি ফিরে আসায় কারওয়ান বাজারে এখন দৈনিক মাছ বিক্রির পরিমাণ প্রায় দুই মেট্রিক টন বেড়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রটি চালু করা হয় হোপ-৮৭, ঢাকা সিটি করপোরেশন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মত্স্য অধিদপ্তর, কারওয়ান বাজার খুচরা ও পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সহায়তায়। ঢাকাসহ দেশব্যাপী এ ধরনের ফরমালিন পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করার ব্যাপারে মত্স্য অধিদপ্তর ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিটিএসি) সংস্থাপন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ম্যানেজিং অ্যাট দ্য টপ’ (ম্যাট) শীর্ষক প্রশিক্ষণের ১৭তম ব্যাচে অংশ নেওয়া পাঁচ কর্মকর্তা কারওয়ান বাজারে ফরমালিন পরীক্ষাকেন্দ্রটি স্থাপন করেন। এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মত্স্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস।
উল্লিখিত পাঁচ কর্মকর্তা হলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক মো. আমীর হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ার হোসেন আখন্দ, মত্স্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ইমরান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহিদা আক্তার ও নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মোমেনা খাতুন।
ফরমালিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ফরমালিনযুক্ত মাছ খেলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ফরমালিনের গন্ধ থেকে মাথাব্যথা ও শ্বাসজনিত রোগ এবং শিশুর শারীরিক ও মেধাবিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা বার্সেলোনার

বার্সেলোনাকে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা পাইয়ে দিল লিওনেল মেসির বুক! হ্যাঁ, ভুল পড়েননি, বুক। মেসির বুক কাল আবুধাবিতে ভেঙে দিয়েছে তাঁর স্বদেশিদের বুক। পা, মাথা দিয়ে অনেক গোল করেছেন, কাল করলেন বুক দিয়ে। মেসির অতিরিক্ত সময়ের গোলে এস্তুদিয়ান্তেসকে ২-১ গোলে হারিয়ে অধরা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা পেয়েছে গত মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জয়ী বার্সেলোনা।
অথচ মূল ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগেও মনে হচ্ছিল, শিরোপা যাচ্ছে মেসির দেশেই। মাউরো বসেল্লির ৩৭ মিনিটের গোলে এগিয়ে ছিল এস্তুদিয়ান্তেস। কিন্তু ৮৯ মিনিটে বার্সাকে সমতায় ফেরান পেদ্রো। অতিরিক্ত সময়ের ২০ মিনিটে বক্সের মধ্যে পাওয়া একটি ক্রসে গোলকিপারের সামনে থেকে বুক দিয়ে বল গোলে ঠেলে দেন মেসি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। মেক্সিকোর ক্লাব আটলান্টেকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পোহাং স্টিলার্স। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র ছিল ১-১ গোলে।

আইপিএল খেলতে ব্যাকুল আফ্রিদি

কোটি কোটি টাকার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কে না খেলতে চায়! খেলার ইচ্ছা আছে শহীদ আফ্রিদিরও। তবে নিজেকে আইপিএলের নিলামে তুলতে কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করতে চান না পাকিস্তানি অলরাউন্ডার, ‘আমি বলছি না যে, আমি আইপিএলে খেলব না। কিন্তু আমার বয়স সিনিয়রিটি বিচারে আইপিএলের নিলামে নিজেকে দেখার জন্য অনুরোধ করার মতো অবস্থায় নেই আমি।’
আগামী ১২ মার্চ শুরু হবে আইপিএলের তৃতীয় আসর। নিজেদের সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্ট খেলাটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরে অবশ্য আইপিএল চেয়ারম্যান লোলিত মোদি নিশ্চিত করেছেন, জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেটার-নিলামে অংশ নিয়ে আইপিএলে খেলতে পারবেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। কিন্তু নিলামের জন্য আইপিএল কর্তৃপক্ষের কাছে যে চার পাকিস্তানির তালিকা আছে, তাতে নাম নেই আফ্রিদির। এ জন্যই হয়তো নিলামে তাঁর নামটা দেখতে চান। ‘কোনো দল যদি আমাকে সরাসরি নিতে চায় এবং সরাসরি নিলামে আমার নামটা আসে, তাহলে খুশিই হব আমি’—বলেছেন আফ্রিদি।
এমন আশা করতেই পারেন আফ্রিদি। ডেকান চার্জার্সের হয়ে আইপিএলের প্রথম মৌসুমটা ভালো না কাটলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনি এখন পরম প্রার্থিত ক্রিকেটার। প্রথম আইপিএলে ১০ ম্যাচে ৮১ রান (গড় ১০.১২) ও ৯ উইকেট (গড় ২৪.৮৯) পাওয়া আফ্রিদি এ বছর ১১টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ৩৪.০০ গড়ে করেছেন ২৭২ রান। আর বল হাতে ১২.৫৫ গড়ে নিয়েছেন ১৮ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েই তো অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার জন্য তাঁকে চুক্তিবদ্ধ করেছে সাউথ অস্ট্রেলিয়া।
তৃতীয় আইপিএল যখন শুরু হবে, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাই অনেক ক্রিকেটারেরই খেলা হবে না আগামী আইপিএলে। তবে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটাররা আইপিএলে না খেলতে পারলে আলাদা কথা, কিন্তু কোনো ঘরোয়া দলের আপত্তির কারণে সেই দলের কোনো ক্রিকেটার যদি টুর্নামেন্ট মিস করেন, তবে যোগ্যতা থাকলেও সেই দল টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে পারবে না। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া দলগুলোর জন্য এমনই কঠোর অবস্থানে গেছে আইপিএল।

বার্সেলোনায় খুশির হাওয়া

ন্যু ক্যাম্পে ফুরফুরে মেজাজ সবার। চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্রটা সত্যিই এক ঝলক বসন্ত বাতাস বয়ে এনেছে বার্সেলোনায়। সেই বাতাসে কান পেতে আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার আগমনী বার্তাই যেন শুনছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ ভিএফভি স্টুটগার্টকে পেয়েছে কাতালানরা। অথচ এই রাউন্ডেই দুই ইতালিয়ান পরাশক্তি মুখোমুখি হচ্ছে বড় দুই ইংলিশ ক্লাবের। বড় দুই শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী তো ঝরে পড়বে নকআউট পর্বেই। এসব কিছু দেখে তো খুশিতে ভরে গেছে বার্সেলোনার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টিক্সি বেগিরিস্তাইনের মন।
বেগিরিস্তাইনের যেখানে আনন্দ, সেখানেই লুকিয়ে আছে ইতালীয়দের দুঃখ। এই ড্র দেখে খুব হতাশ তারা। ইতালিয়ান সংবাদ সংস্থা এএনএসের মন্তব্য, ‘ইতালিয়ানদের জন্য তেতো এক ড্র’। আর গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত বলেছে, ‘এটা এমন একটি ড্র, যেটা আপনাকে থরথর করে কাঁপাবে’।
প্রতিপক্ষ ইংলিশ ক্লাব বলেই ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের এত ভয়। গত দুটি মৌসুমে তিনটি ইতালিয়ান ক্লাব নকআউট পর্বে উঠেছে এবং প্রত্যেকেই ইংলিশ প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ২০০৭ সালের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে এসি মিলানের শিরোপা জয়ের পর আর কোনো ইতালিয়ান ক্লাবই ইংলিশ ক্লাবকে নকআউট পর্বে হারাতে পারেনি।
এবার ইন্টার মিলান মুখোমুখি হচ্ছে চেলসির। গত দুই মৌসুমেই এই দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে। ২০০৭-০৮ মৌসুমে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল লিভারপুল, আর গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এবার ম্যানইউকে সামনে পাচ্ছে এসি মিলান। ২০০৭-০৮ মৌসুমে এসি মিলান খেলেছে আর্সেনালের বিপক্ষে। ‘গানার’দের কাছে হেরে বিদায়ও নিতে হয়েছিল ‘রোজোনেরি’দের। গত দুই বছরে এএস রোমা আর জুভেন্টাসও নকআউট পর্বে খেলেছে এবং দুই মিলানের মতো ইংলিশ প্রতিপক্ষের কাছে হেরে শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে আসতে হয়েছে।
এই সব তেতো স্মৃতির পাশে কিছু আনন্দের স্মৃতিও আছে ইতালির ক্লাবগুলোর। যেগুলোর বেশির ভাগই অবশ্য এসি মিলানের। গত দুই মৌসুম ভুলে প্রেরণা খুঁজতে রোজোনেরি শিবির ডুব দিচ্ছে সেই দূর অতীতেই।
২০০৫ সালে নকআউট পর্বে এবং ২০০৭ সালে সেমিফাইনালে ম্যানইউকে হারিয়েছে মিলান। ২০০৭-এর সেমিফাইনালটা তো ফুটবল রূপকথারই অংশ হয়ে গেছে। ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে ২-৩ গোলে হেরে ফিরেছিল মিলান। সানসিরোতে দ্বিতীয় লেগ ৩-০ গোলে জিতে ফাইনালে ওঠে কার্লো আনচেলত্তির দল। পরিচালক আমবার্তো গানদিনি সেই স্মৃতির কথাই বললেন, ‘আমরা ২০০৭-এর সেমিফাইনালের কথা মনে করছি। যেটি আমাদের এথেন্সের সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিল।’
ইংলিশ-ইতালি লড়াইয়ের পাশে চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্র একটি আবেগও আলোচনায় এনেছে। এটি তিনটি ফেরা নিয়ে—এসি মিলানের হয়ে ডেভিড বেকহাম ফিরবেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে, হোসে মরিনহো তাঁর নতুন ক্লাব ইন্টার মিলানকে নিয়ে ফিরছেন স্টামফোর্ড ব্রিজে আর এ মৌসুমেই রিয়ালে নাম লেখানো ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমার দেখা হবে তাঁর পুরোনো ক্লাব অলিম্পিক লিওঁ-সতীর্থদের সঙ্গে।

প্রিমিয়ারে টিকে রইল সূর্যতরুণ

পারটেক্সের বিপক্ষে জয় ছিল দুই দলেরই। শেষ ম্যাচটা তাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যারাই হারবে, প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়ায় সঙ্গী হবে পারটেক্সের। রেলিগেশন লিগের সে লড়াইয়ে কাল খেলাঘরকে ৬৪ রানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে রইল গতবারের রানার্সআপ সূর্যতরুণ।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচে সূর্যতরুণের ৮ উইকেটে করা ২১১ রানের জবাবে ৪৫.৫ ওভারে ১৪৭ রান করে অলআউট হয়ে গেছে খেলাঘর। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছেন আশরাফ আলী। সূর্যতরুণের মঞ্জুরুল ইসলাম ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। এর আগে ইমতিয়াজ হোসেন ও জুনায়েদ সিদ্দিকের ৭১ রানের ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু করেছিল সূর্যতরুণ। সেই ভালোটা পুরো ইনিংসে ধরে রাখা না গেলেও জেতার জন্য ২১১ই যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। দলের ১১৮ রানের মাথায়ই পড়েছে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট। জুনায়েদ ৯১ বলে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেছেন।

দিলশান আর বাজে ফিল্ডিংয়ে হার ভারতের

পরাজয়ের পর অধিনায়কের শাস্তি, ভারতের জন্য একসঙ্গে দুটি দুঃসংবাদ দিল নাগপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডে। ৩০১ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেটে জেতা ম্যাচ সিরিজে নিয়ে এসেছে সমতা। আর এই ম্যাচ বাঁচাতে খেলার মধ্যেই একের পর এক ‘টিম মিটিং’য়ে সময় নষ্ট করে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বহিষ্কার হতে হয়েছে দুই ম্যাচের জন্য। কটক আর কলকাতায় পরের দুটি ওয়ানডে খেলতে পারবেন না তিনি। ধোনি ফিরবেন দিল্লির শেষ ওয়ানডেতে। ধোনির বদলে ভারতের অধিনায়ক বীরেন্দর শেবাগ।
‘স্লো ওভার-রেটের’ দায়ে অমন শাস্তি ধোনি পেতেই পারেন। বারবার নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪৫ মিনিট পর শেষ হয়েছে ভারতের বোলিং। তাতেও ঠেকানো যায়নি শ্রীলঙ্কার জয়। ধোনি নিজে সেঞ্চুরি করে দলকে ৩০১ রানে তুলে দিলেও তিলকরত্নে দিলশানের আরেক সেঞ্চুরি সেটিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ইনিংসের পাঁচ বল বাকি থাকতে। রাজকোটে যেটা হয়নি, নাগপুরে শ্রীলঙ্কাকে সেটাই এনে দিয়ে ভারত অধিনায়কের অনেক প্রশংসা পেলেন দিলশান। তবে ধোনির কাছে দিলশানের সেঞ্চুরির চেয়েও ব্যর্থতার বড় কারণ ভারতের বাজে ফিল্ডিং, দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা।
হারের ময়নাতদন্তে ধোনি বলেছেন, ‘ভালো শুরু করতে পারিনি আমরা। কয়েকটি জুটি আমাদের দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু উইকেটও হারিয়েছি নিয়মিত।’ এর পরও ভারতের রান ৩০১ এবং সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি দুষছেন দলের বাজে ফিল্ডিংকে, ‘ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে আমাদের এই দলটা সেরা, দলে ভালো ভালো বোলারও আছে। কিন্তু বিশ্বের সেরা ফিল্ডিং দল নই আমরা। আরও ২০ রান করতে পারলে ফিল্ডিংয়ের এই ব্যর্থতা ঢাকা যেত।’ এ ম্যাচে ভারতের বাজে ফিল্ডিংয়ের নমুনা দেখা গেছে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ৯ বলে যখন শ্রীলঙ্কার জিততে লাগে আর ৮ রান, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের একটা ড্রাইভ মিডঅনে দাঁড়ানো জহির খানের পায়ের ফাঁক গলে বাউন্ডারি হয়ে গেল। ৮ বলে চার রান তো পরে কোনো ব্যাপারই ছিল না।
দলের ফিল্ডিং খারাপ হলে ফিল্ডিং কোচের ওপর দোষ চাপানো পুরোনো রেওয়াজ। বাংলাদেশে তো সম্প্রতি চাকরিই গেল ফিল্ডিং কোচের। এবার সমালোচনার মুখে ভারতীয় দলের উপদেষ্টা মাইক ইয়াংও। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ফিল্ডিং কোচ আপাতত দেখছেন ভারতের ফিল্ডিং। তবে ধোনি আছেন ইয়াংয়ের পাশেই, ‘যে মিস ফিল্ডিং করছে, তার কথাটাও মাথায় রাখতে হবে আপনাকে। ব্যাপারটা এমন নয় যে, আপনি-আমি মিলে ফিল্ডিং করছি, হঠাত্ একজন কোচ এল আর আমরা সবাই জন্টি রোডস হয়ে গেলাম। এটা অনেকটা বোলিংয়ের মতো। একজন স্পিনার চাইলেই ফাস্ট বোলিং করতে পারবে না। একইভাবে ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারটাও প্রকৃতি দত্ত।’
ধোনির মুখে এদিন দলের দুজনের প্রশংসাই শোনা গেল বেশি—সুরেশ রায়না ও বিরাট কোহলি। শ্রীলঙ্কার স্পিন ও ফাস্ট বোলিংয়ের সামনে তাঁদের ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে অধিনায়ককে। তবে এদিক দিয়ে ধোনি সবচেয়ে মুগ্ধ সম্ভবত দিলশানেই, ‘খুবই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান সে, ধারাবাহিকও। নিজের দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে দিলশান। কাট, পুল, বোলারের মাথার ওপর দিয়ে মারা—সব শটই আছে তার হাতে।’
শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ জিতিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ দিলশান, ওপেনিংয়ে উঠে আসাই তাঁর এই সাফল্যের রহস্য, ‘ওপেনিংয়ে আসাটাই সাহায্য করেছে আমাকে। চিন্তাটাই বদলে ফেলেছি, ৩০-৪০ রানের স্কোরগুলোকে বড় করতে শুরু করেছি।’ পরিসংখ্যানও বলে সেটাই। ওয়ানডেতে যে পাঁচটা সেঞ্চুরি আছে দিলশানের, তার চারটিই পেয়েছেন ওপেনার হয়ে এবং এ বছর।

শেখ রাসেলকে জেতাল সামির-হাফুন জুটি

চট্টগ্রামে প্রথম মিশনে একটি বাধা টপকাল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। চট্টগ্রাম আবাহনীকে গতকাল ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। গতবার একই ভেন্যুতে এই আবাহনীর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল তাদের। কালকের জয়ের পর তাই খুব উচ্ছ্বসিত দেখাল শেখ রাসেলকে।
গতবারের সেই শঙ্কাটাকে যেন ঝেড়ে বিদায় করেই মাঠে নেমেছিল শেখ রাসেল। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া ছিল ঢাকার বড় দলটি। তবে পুরো ম্যাচে তাদের আক্রমণ ছিল পাঁচ-ছয়টি। তা থেকেই আদায় করে নিয়েছে দুটি গোল। দুটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। যদিও পেনাল্টি থেকে দেওয়া দ্বিতীয় গোলটি কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৩৩ মিনিটে বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন শেখ রাসেলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন আবাহনীর ডিফেন্ডার জমির। একপর্যায়ে পড়ে যান আমিনুল। রেফারি জসিম উদ্দিন পেনাল্টির বাঁশি বাজালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আবাহনী শিবির। কিন্তু সিদ্ধান্ত না মেনে উপায় কী? আবাহনীর সহকারী কোচ আবুল কাশেম বললেন, ‘দুর্বল রেফারিং। আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’
সামির ওমারির নেওয়া পেনাল্টি কিকটি প্রথম দফা আটকেও দেন গোলরক্ষক বিপ্লব। কিন্তু ফিরতি বলে সামির বল জড়িয়ে দেন জালে।
এর মিনিট ১৬ আগে দুজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে যে বল দেন সামির, তা থেকে প্রথম গোল করেন হাফুন আলবারকা।
শেখ রাসেলের সব কটি আক্রমণের মূলে ছিলেন এই সামির-হাফুন জুটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সামিরের উঠিয়ে দেওয়া বলে হেড করে হাফুন। কিন্তু ওটা চলে যায় বাইরে। এরপর এই জুটিকে আরও দুবার নিরাশ করেন গোলরক্ষক বিপ্লব। ৭১ মিনিটে সামির গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। শুধু তা-ই নয়, বিপ্লবের কাছে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করে হলুদ কার্ডও দেখেছেন এই বিদেশি।
অন্যদিকে সারা ম্যাচে বার দুয়েক গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছিল আবাহনী। কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পিটারের নেওয়া একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এই ম্যাচ শেষে ৪ খেলায় শেখ রাসেলের পয়েন্ট হলো ১০, সমান ম্যাচে আবাহনীর অর্জন ৫ পয়েন্ট।

রিকি পন্টিং বনাম কেমার রোচ?

প্রায় ৩৫ বছর বয়সী একজনের নামের পাশে ১৩৮টি টেস্ট এবং এই ১৩৮ টেস্টে রান করেছেন ১১৪৫৬। আরেকজন ২১ বছরের তরুণ, টেস্ট খেলেছেন মাত্র চারটি, উইকেট ১৭টি। শুনলে অবাক হবেন, কাল থেকে পার্থে শুরু অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় টেস্টের নামকরণ হতে পারে লড়াইয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা এই দুই ‘অসমের’ লড়াই দিয়ে—রিকি পন্টিং বনাম কেমার রোচ!
পার্থ টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই অধিনায়কের মুখেই এই একটা নাম—কেমার রোচ। এমন নয় যে, সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তরুণ ফাস্ট বোলার অস্ট্রেলিয়াকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন, আর সে কারণেই তৃতীয় টেস্টের আগে পাদপ্রদীপের আলোয় তিনি। প্রথম দুই টেস্টে রোচ পেয়েছেনই মাত্র ৪ উইকেট—একটা টেস্টের আগে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যাওয়ার জন্য যা মোটেও যথেষ্ট নয়।
তাহলে কেন রোচকে নিয়ে এত আলোচনা? কেন পন্টিংয়ের আশঙ্কা, ‘পার্থে তাঁকে সামলানো কঠিন হবে’, গেইলই বা কেন আশা করছেন, ‘রিকির (পন্টিং) সামনে পিছু হটবে না কেমার (রোচ)। বরং পার্থের বাউন্সি উইকেটে ওকে আরও বিপদে ফেলবে’? কারণ, রোচের সামনে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের গত দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা। উইকেট খুব বেশি না পেলেও রোচের বলের তুমুল গতির সামনে প্রতিটা মুহূর্তেই বিপদের গন্ধ পেয়েছেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানরা। পন্টিং তো দুবার আউটও হয়েছেন তাঁর বলে। একই দলে খেললেও গেইলেরও আছে এই বার্বাডিয়ানকে সামলানোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, ‘বিশ্বাস করুন, নেটে আমি নিজেও তাঁর বল খেলতে চাই না। খেললেও আগেই বলে দিই আস্তে বল করতে, যেন আমি সেটা দেখি।’
পক্ষ-প্রতিপক্ষ দুই অধিনায়কেরই এমন সার্টিফিকেট যাঁর জন্য বরাদ্দ, সেই কেমার রোচ গতির তানপুরায় নতুন গান তুলতে গুনগুনিয়ে যাচ্ছেন। রোচের বিশ্বাস, পার্থের উইকেটে আগুন ঝরবে তাঁর বলে, ‘আমি আসলেই মনে করি, আমার পক্ষে আরও জোরে বল করা সম্ভব। আমার মনে হয়, পার্থে আমি খুব সহজেই ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারের (প্রায় ৯৭ মাইল) বেশি গতি তুলতে পারব। আমি এমন জোরে বল করতে চাই, যেটা ব্যাটসম্যানরা কল্পনাও করতে পারেন না।’ পার্থে গতিদানব হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষার পেছনে রোচের মধ্যে কাজ করছে পেস বোলারদের চিরন্তন সেই হতাশা, ‘বিশ্বের বেশির ভাগ উইকেটই ফ্ল্যাট। কাজেই এ রকম একটা বাউন্সি উইকেট আমাকে সত্যি সত্যি রোমাঞ্চিত করছে।’
সিরিজে পন্টিংকে দুবার আউট করার পরও ক্ষুধা মেটেনি রোচের। কথা-বার্তার যা ধরন, মনে হচ্ছে, যতবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া খেলতে নামবে, ততবারই তিনি পেতে চান পন্টিংয়ের উইকেট, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং। তাঁর প্রতি অনেক শ্রদ্ধা আমার। তাঁর উইকেট পাওয়া সবসময়ই অনেক বড় পুরস্কার।’
গেইলের কল্পনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে রোচের চাওয়া। পার্থে কি তাহলে আরও একবার রোচের রোষানলে পড়তে যাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক! পন্টিং যতই বলুন, রোচ তাঁর রাতের ঘুম হারাম করছেন না, কৃষ্ণাঙ্গ এই তরুণের সামনে পড়লে বুক তার কেঁপে উঠতে বাধ্য প্রথম দুই টেস্টের অভিজ্ঞতার কারণেই, ‘যতগুলো স্পেল, যতগুলো বল সে করেছে, তার প্রায় সবই ঘণ্টায় ১৫০ কিমি গতির আশেপাশে। বল ফেলার জায়গাটাও খুব ভালো।’
অথচ ক্যারিবীয় পেসার শুনলেই যে রকম লম্বা একটা শরীর ভেসে ওঠে চোখের সামনে, রোচ একদমই সে রকম নন। দেখতে গড়পরতা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলারদের তুলনায় অনেক ছোটখাটো, গাটাগোট্টাও নন। পন্টিং অবশ্য বলছেন, এ রকম শারীরিক কাঠামোই রোচের বলগুলোকে অমন দুর্বোধ্য করে তুলছে, ‘এ রকম খাটো একজন বোলারের বলে ও রকম গতি থাকলে বলকে সে খুব দ্রুত স্কিড করাতে পারবেই। যেকোনো ব্যাটসম্যানকে বিপদে ফেলার ক্ষমতা আছে তার। বিশেষ করে, ম্যাচের শেষ দিকে যখন বাউন্সে তারতম্য হতে থাকে।’
ব্রিসবেনে প্রথম টেস্টে তিন দিনে হারার পর অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় টেস্টে আধিপত্য বিস্তার করে ড্র—ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির রীতিমতো উজ্জীবিত। তবে সিরিজে তো এখনো অস্ট্রেলিয়া ১-০-তে এগিয়ে। পার্থ টেস্টের আগে দুই অধিনায়কের কথাবার্তা শুনে উল্টোটাই মনে হতে বাধ্য। কারণটা তো বুঝতে পারছেন—মাঝখানে যে দাঁড়িয়ে কেমার রোচ।

যুবরাজকে নিয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা

আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে ভারত, সাতে শ্রীলঙ্কা। মহেন্দ্র সিং ধোনির দল এগিয়ে আছে পরিসংখ্যানেও। ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ২৫-১০। এ ছাড়াও সফরকারীদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় এবং প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়েও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ড্র করে মানসিকভাবেও চাঙা ভারত। তবু আজ শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে মাঠে নামার আগে একটা অস্বস্তিতেই আছে ভারত।
সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত বলে আজ রাজকোটে প্রথম ম্যাচ খেলা হচ্ছে না পেসার শান্তাকুমারন শ্রীশান্তের। শঙ্কা আছে যুবরাজকে নিয়েও। ২৮তম জন্মদিনটি দারুণভাবে উদ্যাপন করেছেন দলকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা জিতিয়ে। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ২৫ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৬০ রান। তবে এই উদ্যাপনের পাশে একটা হতাশাও ছিল। কড়ে আঙুলে চোট পেয়েছেন। তবে তাঁকে আজ খেলাতে চায় ভারত। ম্যাচের আগেই সিদ্ধান্ত হবে তিনি খেলবেন কি না। যুবরাজ না খেললে তাঁর জায়গা নেবেন বিরাট কোহলি। তবে যুবরাজ-অনিশ্চয়তা বাদ দিয়ে ধোনি তাকাতে পারেন দারুণ ফর্মে থাকা বীরেন্দর শেবাগের দিকে। এই রাজকোট শেবাগের জন্য আরও পয়মন্ত, এখানে খেলা পাঁচ ইনিংসে তাঁর রান ২৫৯। গড় ৬৪.৭৫!
ইনজুরি-সমস্যা শ্রীলঙ্কা শিবিরেও। আঙুলে চোটের কারণে টি-টোয়েন্টি সিরিজে না খেলা মুরালিধরন কাল এক্স-রের জন্য হাসপাতাল ঘুরে এসেছেন। অবশ্য তাঁকে মাঠে পাওয়ার আশা শ্রীলঙ্কার।
সিরিজের পরের চারটি ম্যাচ ১৮, ২১, ২৪ ও ২৭ ডিসেম্বর নাগপুর, কটক, কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে।

ইংল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত সাকিবই অধিনায়ক!

অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ ডেভিড ইয়াং বা জাতীয় দলের ফিজিও মাইকেল হেনরি কেউই কোনো সুখবর দিতে পারছেন না। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে অনেক দিন ধরেই তাই সর্বশেষ খবর হয়ে থাকছে ‘অনিশ্চিত’ শব্দটি। এ অবস্থায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলের অধিনায়ক করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় বোর্ড সভাতেই ইংল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত সাকিবকে অধিনায়ক ও মুশফিকুর রহিমকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও বলেছেন একই কথা, ‘মাশরাফির ইনজুরির ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই। এবারের ফেরাটা যেহেতু ওর জন্য শেষ সুযোগ হবে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরাই ভালো। আর সুস্থ হলেও সে তো অনেক দিন ম্যাচ প্র্যাকটিসে নেই। এ অবস্থায় সাকিবকে একটু বেশি সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।’
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তিন জাতি হোম সিরিজের পর বাংলাদেশ যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। এর পর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড দল। সাকিব-মুশফিককে এই তিন সিরিজের জন্যই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন সাকিব। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও জিতেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে সিরিজ।