Monday, November 17, 2014

ছোট খবর

তেহরান
স্বর্ণে সেরা ইরান
ইরানের আজারবাইজান প্রদেশে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা চালু হয়েছে। এ কেন্দ্র চালুর ফলে ইরানে এখন বার্ষিক সোনার উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে অবস্থিত জারেহ শুরান স্বর্ণ প্রক্রিয়াকরণ এ স্থাপনার উদ্বোধন করেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গীরী। স্থাপনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ইরান আশা করছে এখান থেকে ৩ টন বিশুদ্ধ সোনা উৎপাদন করা যাবে। এছাড়া, ১.২৫ টন রুপা ও ৫০০ কেজি মারকারি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিবিসি
ওয়াশিংটন
গির্জায় জুমার নামাজ
সবাইকে অবাক করে দিয়ে খ্রিস্টানদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান গির্জায় শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছে আমেরিকান মুসলমানদের একটি গ্র“প। শুক্রবার ওয়াশিংটনের জাতীয় গির্জায় এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, গির্জায় জুমার নামাজ আদায়ের বিষয়টি মুসলিম জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। এ উপলক্ষে গির্জার চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কেবল যারাই আমন্ত্রণ পেয়েছেন তাদের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়। অন্য কেউ যাতে না আসতে পারে তা জন্য পুলিশ গির্জা প্রবেশের আগে সবাইকে চেক করে। আয়োজকরা জানান, জুমার নামাজ গির্জায় আদায়ের বিষয়টি প্রচার করা হলে আমাদের বিভিন্ন হুমকি পেতে হয়। এর জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছি। এক খ্রিস্টান মহিলা নামাজের বিরোধিতা করে বলেন, গির্জায় নামাজ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে এর আগে কোনো ধরনের কথাবার্তা হয়নি, কাউকে জানানো হয়নি। ডন
ইসলামাবাদ
সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রে
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। দুদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটাতে রোববার প্রথম ওয়াশিংটন সফরে যান তিনি। খবর ডনের। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রাহেল শরিফ মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্টস চিফ অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর করণীয় এবং সহযোগিতার বিষয়টি স্থান পাবে। এদিকে, সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়টি জোর দিতে পাকিস্তান সফর করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বেঁচে গেলেন মহিলা এমপি নিহত ৩

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রোববার আইনপ্রণেতাদের একটি গাড়িবহর লক্ষ্য করে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিন বেসামরিক লোক নিহত ও অপর ১৭ জন আহত হয়েছে। গাড়িবহরে আফগান পার্লামেন্টের এক প্রখ্যাত মহিলা এমপি শুকরিয়া বারেকজাই ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সড়কে আফগান পার্লামেন্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ির বিস্ফোরণ ঘটালে এমপিদের গাড়িগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদিক সেদিকি টুইট বার্তা বলেন, এ ঘটনায় বারেকজাই সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি ভালো আছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের এই হামলার ঘটনায় তিন বেসামরিক লোক শহীদ এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানে নারী অধিকার সংক্রান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রচারণার জন্য বারেকজাই সুপরিচিত। এই অবস্থানের জন্য তিনি আফগানিস্তানের অনেক ইসলামী উগ্রবাদী সংগঠন ও রক্ষণশীলদের রোষানলে পড়েন।

আমেরিকা আবিষ্কার করেন মুসলমানরা : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, কলম্বাস নয়, মুসলমানরাই আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন। কলম্বাসের তিনশ’ বছর আগেই মুসলমানরা আমেরিকা আবিষ্কার করেন বলে জানান তিনি। শনিবার ইস্তাম্বুলে ল্যাটিন আমেরিকার মুসলমান নেতাদের এক সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। কলম্বাসের একটি ডায়েরির উদ্ধৃতি দিয়ে এরদোগান বলেন, ‘ইসলাম ও লাতিন আমেরিকার পরিচয় হয়েছে বারো শতাব্দী থেকে। ১১৭৮ সালে মুসলমানরা আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন; ক্রিস্টোফার কলম্বাস নন।’ এরদোগানের এ বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ১১৭৮ সাল থেকে মুসলিম নাবিকরা আমেরিকা পৌঁছাতে থাকেন এবং কলম্বাস নিজেই কিউবা উপকূলে একটি পাহাড়ের ওপর একটি মসজিদের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তুরস্ক সেই জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান এরদোগান। তিনি বলেন, ‘মসজিদ তৈরি প্রসঙ্গে আমি কিউবার ভাইদের সঙ্গে কথা বলব এবং ওই পাহাড়ের ওপর সুন্দরভাবে একটি মসজিদ নির্মিত হতে পারে।’ আমেরিকার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কর্ণধান ইতিহাসবেত্তা ড. ইউসেফ মরুই ১৯৯৬ সালে এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘কলম্বাস তার নিবন্ধে স্বীকার করেছেন যে ১৯৪২ সালের ২১ অক্টোবর সোমবার তার জাহাজ যখন কিউবার উত্তর-পূর্ব উপকূলের জিবারা অতিক্রম করছিল তখন একটি সুন্দর পাহাড়ের চূড়ায় তিনি একটি মসজিদ দেখতে পান।’ তবে বেশিরভাগ ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয়ে থাকে- ১৪৯২ সালে ভারত যাওয়ার নতুন সমুদ্রপথ আবিষ্কার করতে গিয়ে কলম্বাস ভুল করে আমেরিকায় চলে যান। এরদোগান বলেন, ‘জবরদস্তি করে, ‘তলোয়ারের জোরে লোকজনকে ইসলাম গ্রহণ করানও কখনও ইসলামের অংশ ছিল না। আমাদের ধর্ম কখনও শোষণের হাতিয়ার ছিল না। যারা স্বর্ণের জন্য আমেরিকা আর হীরার জন্য আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল, তারাই এখন তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে একই নোংরা ষড়যন্ত্র করছে।’ এরদোগান প্রশ্ন করেন, ‘মুসলিম বিশ্বের ধনাঢ্য মুসলমানরা কী তাদের তেলের রাজস্বের জন্য জাকাত দেন?’ ‘কেউই এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারছে না।’ এরদোগান বলেন, ‘মুসলমানদের সবার আগে আত্মসমালোচনা ও নিজেদের সংশোধন করতে হবে। এরপর আমাদের আল্লাহ ছাড়া কারো দাসত্ব করা উচিত নয়।’ বিবিসি।

জাপানে মার্কিন ঘাঁটির ভাগ্য নির্ধারণী ভোট

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের অধিবাসীরা রোববার গভর্নর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এখান থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তর করা হবে কিনা ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ঘাঁটিবিরোধী প্রার্থী তাকেশি ওনাগা বর্তমান গভর্নর হিরোকাজু নাকাইমার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। নাকাইমা ভোটে জিতলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ঘাঁটি স্থানান্তরের কাজটি এগিয়ে নিতে পারবেন। গত বছর ফুতেনমা বিমান ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করার পর থেকে গভর্নর নাকাইমা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এছাড়া, ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থানের বিরুদ্ধে ১৭ বছর ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়ে আসছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ওকিনাওয়ার এ ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিলে ওই এলাকাকে অর্থনৈতিকভাবে বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে বলে জাপান সরকার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীপ্রার্থী ওনাগা বিজয়ী হলে এসবের বিরুদ্ধে ভেটো দিতে পারবেন যা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এক ধরনের বিপর্যয়।

গাজা পুনর্গঠনে ৭৭০ কোটি ডলার!

ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্নির্মাণে কমপক্ষে ২০ বছর লাগবে। গাজা পুনর্নির্মাণ তৎপরতায় জড়িত একটি সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড বুলেটিনের। গাজা পুনর্নির্মাণ তৎপরতায় জড়িত সংস্থা পপুলার কমিটি ফর মনিটরিং দ্য রিকন্সট্রাকশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপের প্রধান আলা রাদওয়ান বলেন, নির্মাণসামগ্রী যে গতিতে গাজায় ঢুকছে তার ভিত্তিতে বলা যায় এ উপত্যকা পুনর্নির্মাণে অন্তত ২০ বছর লাগবে। জাতিসংঘ অনুমোদিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে ৪০ ট্রাক সিমেন্ট, লোহা ও নুড়িপাথর গাজায় ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
অবশ্য, আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী গাজায় প্রতিদিন ৬ হাজার টন সিমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে।
গত জুলাইয়ে ইসরাইলের সঙ্গে ৫০ দিনের যুদ্ধে গাজার বেসামরিক জনগোষ্ঠী ও অবকাঠামো ব্যাপক ধ্বংসের শিকার হয়েছে। অসম এ যুদ্ধে সামরিক দিক থেকে ইসরাইলকেও চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।
এদিকে গাজা পুনর্নির্মাণে আন্তর্জাতিক দাতারা ৫৪০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিন বিশেষজ্ঞদের পাঠানো সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাজা পুনর্নির্মাণে প্রায় ৭৭০ কোটি ডলার প্রয়োজন। শীতকাল এগিয়ে এলেও গাজায় এখনও গৃহহীন রয়েছে এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনি।
২০০৮ সাল থেকে ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া তিনটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের শিকার হয়েছে গাজা উপত্যকা।
এসব যুদ্ধের কোনোটাতেই সামরিক দিক থেকে ইসরাইল সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু ইসরাইলি সাময়িক শক্তির নির্বিচার হামলায় গাজার জনজীবন ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
এছাড়া দীর্ঘকাল ধরে গাজার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কংক্রিটসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রী গাজায় ঢোকার ওপর বাধা নিষেধ রয়েছে।
সর্বশেষ এ যুদ্ধে নারী-শিশুসহ অন্তত ২১০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১ হাজার লোক আহত হয়েছিল।
গাজায় চিকিৎসক প্রবেশে
ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞা
নরওয়ের চিকিৎসক ম্যাডস গিলবার্টের গাজায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরাইল। গাজার আলশিফা হাসপাতালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
কিছুদিন আগে গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সাত সপ্তাহ ধরে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন তিনি। সম্প্রতি ৬৭ বছর বয়সী গিলবার্ট গাজায় প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেয় ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাকে গাজায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
চিকিৎসকের পাশাপাশি গিলবার্ট একজন মানবাধিকার কর্মী। গাজায় বিভিন্ন সময় ইসরাইলের চালানো সহিংসতার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
নরওয়ের ওই চিকিৎসক জানান, ইসরাইলি সেনারা তাকে নিরাপত্তার অজুহাতে গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন জানিয়ে গিলবার্ট বলেন, গাজায় তার প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হল মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরাইল সরকার চায়, গাজার সাধারণ মানুষের ওপর তাদের অব্যাহত হামলার খবর যেন বিশ্ববাসী না জানতে পারে।
তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা তার ওপর নয়, বরং গাজার মানুষের আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারের ওপর আরোপ করা হয়েছে। আলজাজিরা।

এক মার্কিনিসহ ১২ পণবন্দির শিরশ্ছেদ

ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট মার্কিন পণবন্দি পিটার কাসিগের শিরশ্ছেদ করেছে। রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে তারা এ দাবি করেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। এদিকে আলজাজিরা বলছে, কমপক্ষে ১২ পণবন্দির শিরশ্ছেদ করেছে ইসলামিক স্টেট সংক্ষেপে আইএস। নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন ত্রাণকর্মীও রয়েছেন। বাকিরা সিরীয় সেনা। রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেছে কমপক্ষে ১২ জনকে হত্যার দাবি করেছে আইএস। এদের মধ্যে সিরীয় বিমানচালক এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনীর কয়েকজন সেনাও রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে দেখা যায় এক মুখোশধারী ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে রোমের কুকুর বলে সম্বোধন করে বলছেন, আমরা আজ বাশারের সেনাদের হত্যা করেছি। আগামীকাল আমরা তোমার (ওবামা) সেনাদের হত্যা করব। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা অবশ্যই শেষ এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয়লাভ করব। ভিডিওতে বেশ কয়েকটি রক্তমাখা মাথা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই মাথাটি মার্কিন ত্রাণকর্মী পিটার কাসিগের বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে।

আইএস ধ্বংসে কয়েক বছর লাগবে

মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসে বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে চলমান লড়াই নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। তবে জঙ্গিদের পরাজিত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। শনিবার ইরাক সফরের সময় এ মন্তব্য করেছেন ডেম্পসে। আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা শুরু করার পর ইরাকে এটিই তার প্রথম সফর।
রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্টিন ডেম্পসে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাক কুর্দি বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এই যুদ্ধ একটি নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। ইরাকি ও কুর্দি সেনারা দক্ষতার সঙ্গে আইএসের মোকাবেলা করছে। তবে এ লড়াই শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। তিনি আরও বলেন, ইরাকি সরকার বিবদমান সুন্নি ও শিয়া সম্পদায়ের মধ্যে কতটা বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে তার ওপরই নির্ভর করছে এ লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ।
ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য তিনি শনিবার বাগদাদ সফরে যান। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকি সেনাবাহিনীর এক কর্নেল জানিয়েছিলেন, দেশের বৃহৎ তেল শোধনাগার বাজি তারা পুনর্দখল করে নিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এটি দখল করে রেখেছিল আইএসের যোদ্ধারা। এদিকে শনিবার আইএস আরও ৩৬ জনকে পণবন্দি করেছে বলে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে। সম্প্রতি এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি একটি ইরাকি গোত্রের লোকজনের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।

গ্রাম দত্তক নিলেন সোনিয়া-রাহুল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকল্পে শামিল হলেন বিরোধী দল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও দলটির সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। গত মাসে মোদির উদ্বোধন করা সংসদ আদর্শ গ্রাম যোজনা-এর আওতায় নিজ নিজ সংসদীয় কেন্দ্রের একটি করে গ্রাম দত্তক নিয়েছেন তারা। লক্ষ্য হল- গ্রাম দুটিকে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার।
কংগ্রেসের সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়া বেছে নিয়েছেন তার কেন্দ্র রায়বেরেলির জগৎপুর ব্লকের উদয়া গ্রাম আর রাহুল নিয়েছেন আমেথির জগদীশপুর ব্লকের দিহ গ্রাম। দিহ গ্রাম সংলগ্ন এলাকাটিতে শিল্পায়নের ছোঁয়া লেগেছিল রাহুলের বাবা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে। অন্যদিকে উদয়া গ্রামটি রানা বেণীমাধবের জন্মস্থান হওয়ার সুবাদে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। বেণীমাধবকে ১৮৫৭ সালে প্রথম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বলা হয়।
কংগ্রেস অবশ্য এটাও বলেছে, সোনিয়া-রাহুল দুটি গ্রাম দত্তক নিয়েছেন মানেই এটা নয় যে মোদির প্রকল্প অনুমোদন করছেন তারা।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের প্রতিশ্র“তি মতো গত মাসে প্রয়াত জয়প্রকাশ নারায়ণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাম যোজনা প্রকল্পের সূচনা করেন মোদি। তিনি ঘোষণা দেন, ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক এমপি তিনটি করে গ্রাম মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার গ্রাম ব্যাপক উন্নতির মুখ দেখবে।

কারাগারে দেহ ব্যবসা!

ভারতের একটি কারাগারে নারী বন্দিদের দিয়ে জোর করে দেহ ব্যবসা করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ জেল কর্তৃপক্ষ এ যৌন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। খবর হিন্দুস্থান টাইমসের। কারাগারে বন্দি দুজন নারীর একটি চিঠিতে এ ঘটনা জনসম্মুখে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়, ব্যাঙ্গালুরুতে পারাপানা অগ্রহরা সেন্ট্রাল প্রিজনে নারী বন্দিদের ব্যবহার করা হতো বাধ্যতামূলক যৌনকর্মে। এজন্য পুরুষ বন্দিদের থেকে জেল ওয়ার্ডেনরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিতেন।
ওই জেলের অভিযোগ বাক্সে ওই চিঠিগুলো পোস্ট করেছিলেন নারী বন্দিরা, যা পৌঁছায় এক বিচারকের হাতে। তিনিই এরপর কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তা পাঠিয়ে দেন। চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জেল কর্তৃপক্ষের কথা না মানলে বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হতো না নারী বন্দিদের। প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করা হবে, এমন হুমকি দেয়া হতো। প্রবল সমালোচনার মুখে রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণ দফতরকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক সরকার। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলা হয়েছে। কারাগারের সহকারী ইন্সপেক্টর জেনারেল ভিএস রাজা এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সমগ্র জেল সিসিটিভির আওতাভুক্ত।জেলের সুনাম নষ্ট করার জন্য কেউ ষড়যন্ত্রমূলক এ ঘটনা রটিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ভারতে প্রথম শ্রেণীর বন্দিরা কারাগারে নানা ধরনের বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিশেষ সেলে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে তারা ২০ হাজার রুপি অ্যাডভান্স এবং ১০ হাজার রুপিভাড়া দিয়ে থাকেন। ব্যাঙ্গালুরুর এ কারাগারটিতে অনেক হাই-প্রোফাইল বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা এবং কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদ্দুরাপ্পা।

রাশিয়াকে সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর অঙ্গীকারের মাধ্যমে শেষ হল বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট জি২০ শীর্ষ সম্মেলন। ২০১৮ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমপক্ষে ২.১ শতাংশ বাড়াবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্তত ২ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবনে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে রোববার এই ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক ইস্যুকে প্রধান এজেন্ডায় রাখলেও বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার অবস্থান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন বিশ্বনেতারা। সম্মেলন সমাপ্তির আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন পুতিন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, দুদিনের এ সম্মেলনে রাশিয়াকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা না হলে আরও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কথা দেশটিকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জি২০ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা আগামী কয়েক মাস বা বছরগুলোতে কি করতে যাচ্ছে তা রাশিয়াকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে সম্মেলনে ইউক্রেনের সংকট নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন পশ্চিমা নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি ঢেলে সাজানো নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাধারণত এমন সম্মেলনে আয়োজক দেশের নেতাই আগে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। তবে ব্রিসবেন সম্মেলনে পুতিন প্রচলিত নিয়ম ভেঙে আয়োজক দেশের নেতার বক্তব্যের আগেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
পুতিন বলেন, কিছু বিষয়ে আমাদের মতের মিল হয়নি। তবে আলোচনা ছিল সম্পূর্ণ, গঠনমূলক ও খুবই সহায়ক। তিনি এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোটকে ধন্যবাদও জানান। এদিকে সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে যান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, শনিবার শুরু হওয়া দুদিনের এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ইশতেহার ঘোষণার আগেই রোববার অস্ট্রেলিয়া ছাড়েন পুতিন। ইউক্রেন-সংকট নিয়ে শনিবার সম্মেলনের প্রথম দিনেই পশ্চিমাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাকে গেট আউট অব ইউক্রেন বলে মন্তব্য করার পর এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে হার্পারের মুখপাত্র জ্যাসন ম্যাকডোনাল্ড দাবি করেন যে- কানাডীয় নেতা পুতিনকে বলেন, আমার মনে হয় আপনার সঙ্গে আমার করমর্দন করা দরকার তবে আপনাকে আমার একটি কথা বলার আছে- ইউক্রেন থেকে আপনার বেরিয়ে যাওয়া দরকার। এদিকে এশিয়ার বৃহত্তম শক্তি চীন ২০১৬ সালে জি-২০ সম্মেলন আয়োজন করবে। ব্রিসবেনে দুদিনের জি-২০ সম্মেলনের পর রোববার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট এ কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তুরস্ক জি-২০ গ্র“পের সভাপতির দায়িত্ব পেল। আগামী বছর আনতোলিয়ায় জি-২০ গ্র“পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২০১৬ সালের সম্মেলন হবে চীনে। এএফপি।
২০১৬ সালে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন হবে চীনে
অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তুরস্ক জি-২০ গ্র“পের সভাপতির দায়িত্ব পেল। আগামী বছর আনতোলিয়ায় জি-২০ গ্র“পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২০১৬ সালের সম্মেলন হবে চীনে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ছে

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। নতুন বছরের শুরুতে গ্রাহকদের জন্য মূল্য বৃদ্ধির এ ঘোষণা আসছে। আবাসিক বাণিজ্যিকসহ সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়বে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে পাইকারি পর্যায়ে বাড়লে গ্রাহক পর্যায়েও মূল্যবৃদ্ধি করতে হবে। কারণ বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে সরবরাহ করলে কোম্পানিগুলোর লোকসান বাড়বে। ক্ষতি কমাতে হয় দাম বাড়াতে হবে না হয় সরকারকে বাড়তি অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এ উদ্যোগ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। কৃষি, শিল্পের পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। নিত্যপণ্যের দাম আরও এক ধাপ বাড়বে। এতে জনগণের বিশেষ করে নিু ও মধ্যবিত্তের জীবন নির্বাহের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে।
পেট্রোবাংলার অধীনস্থ ৬টি কোম্পানি রোববার সব ধরনের গ্যাসের দাম ১১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। আর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গত মাসে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১৮.১২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। উভয় ক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকে দাম বৃদ্ধি কার্যকরে আবেদন করা হয়েছে।প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে ডিসেম্বরে গণশুনানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য সেলিম মাহমুদ। এরপর মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হবে, যা আগামী জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ছে : বিইআরসি সূত্র জানায়, সব কোম্পানি একই হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বলে যুক্তি দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্র্রিবিউশন কোম্পানি লি., বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে। কোম্পানিগুলো ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাসের নতুন দাম কার্যকর করার আবেদন করেছে।আবাসিক খাতে এক চুলার গ্যাসের দাম ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা এবং দুই চুলা ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবাসিকে মিটার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ঘনফুট ১৪৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকা বা ৬০ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট (এক হাজার ঘনফুট) ১১৮ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ২৬৮ টাকা ০৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা, শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা, চা শিল্পে ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৭৯ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা এবং সার কারখানায় ৭২ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।এছাড়াও প্রস্তাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাসের পাইকারি দাম প্রতি হাজার ঘনফুটে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণের প্রতি হাজার ঘনফুট ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর আগে ৩০ অক্টোবর সব বিতরণ কোম্পানির পক্ষে পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব আইন অনুসারে যথাযথ হয়নি উল্লেখ করে কমিশন তা গ্রহণ করেনি। ফেব্র“য়ারি মাসে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন চাওয়া হয়। ওই সময় তারা একটি প্রাথমিক প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়। সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেন। এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালে নির্বাহী আদেশে করা হয়। এরপর সিএনজির মূল্য কয়েক ধাপে সমন্বয় করা হলেও শিল্প, আবাসিক ও অন্যান্য খাতের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি।বাড়ছে বিদ্যুতের দাম : অক্টোবরে পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। প্রতি ইউনিটের দাম (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) ০.৮১ টাকা করার জন্য কমিশনের কাছে সুপারিশ করে পিডিবি। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ইউনিটপ্রতি ৪.৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৫.৫১ টাকা হবে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বর্ধিত হার কার্যকর করার সুপারিশ করেছে পিডিবি।পিডিবির হিসাবনুযায়ী এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৬.৫৪ টাকা। এতে প্রতি ইউনিটে পিডিবির লোকসান হচ্ছে ১.৮৪ টাকা। তাই দাম বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভারতের আদালতে আজ সাক্ষ্য দেবেন ফেলানীর বাবা

কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের ডাক পেয়ে ভারত গেছেন ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম। তার সঙ্গে রয়েছেন মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন। রোববার বেলা ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবির সদর দফতর থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। বিকালে বুড়িমারি স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। আজ সকাল ১০টায় ওই কোর্টে সাক্ষ্য দেবেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।
ভারতে রওনা দেয়ার সময় কাঁদতে কাঁদতে ফেলানীর বাবা বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টদায়ক দৃশ্যটি আমি নিজের চোখে দেখেছি। আগেরবার বিচার পাইনি। এবার ন্যায়বিচারের আশা নিয়ে যাচ্ছি। আমার একটাই চাওয়া, ফেলানীর খুনি অমিয় ঘোষের ফাঁসি। নুরুল ইসলাম জানান, তিনি আদালতে খুলে বলবেন সেদিন কিভাবে তার মেয়ে ফেলানীকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, পুনর্বিচারের ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে আগেরবার ন্যায়বিচার হয়নি। বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষ আত্মস্বীকৃত খুনি। আশা করছি, তার সাজা নিশ্চিতের মাধমে ফেলানীর বাবা ও বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পাবে।
মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, ন্যায়বিচার হলে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ হবে। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ৪৬ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন এবং সর্বনিু ৭ বছরের কারাদণ্ড।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য অমিয় ঘোষ ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বিচারে বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। রায় প্রত্যাখ্যান করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে মানবাধিকার সংগঠন আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) মাধ্যমে আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ।

দুদকে আইনমন্ত্রীর অস্বাভাবিক বিল

পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার অবসান ঘটলেও আটকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাকালের দেনা। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের সাড়ে ২১ লাখ টাকার ভ্রমণ বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অডিট বিভাগের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিলটি আটকে দেয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী ওই সময় দুদকের প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন। একই রুটে প্রথমবার ভ্রমণে তিনি যে বিল জমা দিয়েছেন, দ্বিতীয়বার তার চেয়েও কম দিন থেকে তিনগুণেরও বেশি টাকার বিল জমা দিয়েছেন।
দুদকের প্রশাসন সূত্র জানায়, আনিসুল হকের দাবিকৃত ভ্রমণ-ভাতা অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় গত অর্থবছরেই বিলটি নিয়ে আপত্তি তোলে অডিট বিভাগ। আনিসুল হকও এ আপত্তির ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। দুদক তাই বিলও পরিশোধ করেনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দেড় বছরেরও বেশি সময় তদন্তের পর চলতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর দুদক মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত মামলার সব আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। এর মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার। সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকালে রমেশের ডায়েরিসহ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে দুবার কানাডা সফর করেন দুদকের তৎকালীন প্রধান আইনজীবী আনিসুল হক। প্রথম দফা সফর করেন ২০১৩ সালের ১৯ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফা সফর করেন একই বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর। দুই ভ্রমণ মিলিয়ে তিনি ২১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৬ টাকার বিল করেন।
অডিট বিভাগ কেন আপত্তি দিয়েছে- কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, আনিসুল হক দুবারই কানাডা সফর করেছেন একই রুটে। প্রথমবার বিজনেস ক্লাসের বিমান ভাড়া ধরা হয়েছে (যাওয়া-আসা) ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ট্রানজিট ভাতা (২৪ ঘণ্টা করে ২টি) ৮ হাজার ৩১২ টাকা। টার্মিনাল চার্জ (৩টি) ৪ হাজার ৯৮৭ টাকা। অন্যান্য ভাতা ৬৬ হাজার ৪৯৮ টাকা। পরবর্তী সফরে বিমান ভাড়া দাবি করা হয় ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৭২৬ টাকা। ট্রানজিট ভাতা ১৬ হাজার ১৮০ টাকা। টার্মিনাল চার্জ (৪টি) ৬ হাজার ৪৭২ এবং অন্যান্য ভাতা ১৬ হাজার ১৮০ টাকা। প্রথমবার ৬ দিন কানাডা অবস্থান করে ভ্রমণ-ভাতা দাবি করেন ৫ লাখ ১১ হাজার ৭৯৮ টাকা। দ্বিতীয়বার ৪ দিন অবস্থান করলেও বিল করেন ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।
বর্তমান আইনমন্ত্রীর অস্বাভাবিক ভ্রমণ-ভাতা দাবিকে অনিয়ম আখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু অডিট আপিত্ত উঠেছে তাই আনিসুল হকের উচিত হবে দাবিকৃত ভ্রমণ বিলের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি দাখিল করা। এটি যদি এয়ারলাইন্স কিংবা টিকিট-মূল্যের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি খোলাসা করে ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। না হলে এটি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে। দুদকের একজন আইনজীবী হিসেবে যা তার কাছে প্রত্যাশিত নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. সহিদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, অডিট আপত্তি থাকায় বিলটি পরিশোধ করা হয়নি। ফাইল না দেখে বিলের সঠিক অঙ্কটি বলতে পারছি না। আমাদের বাজেটও প্রায় শেষ। এ কারণেই হয়তো পরিশোধ সম্ভব হয়নি।
ভ্রমণ-ভাতার বিলের বিষয়ে জানতে শনিবার বিকালে ফোন করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাওসার জীবন বলেন, স্যার একাধিকবার মৌখিকভাবে দুদককে বিলটির জন্য তাগিদ দিয়েছেন বলে জানি। তবে স্যারই ভালো বলতে পারবেন। তিনি এখন বিমানে, লন্ডন যাচ্ছেন।

আনসার আল ইসলাম আল কায়দার সংগঠন

ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনের পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম উগ্রপন্থীদের হাতে খুনের শিকার হলেন। সাধারণত উগ্রপন্থীরা তথাকথিত নাস্তিক উপমা দিয়ে হত্যা চালিয়ে থাকে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই হয়। রাবির শিক্ষককে হত্যার পর আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ (এএইবি) নামে একটি ফেসবুক পেজে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। রাজীবকে হত্যার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) তাদের ওয়েব পেজে দায় স্বীকার করে। পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা বাবউল ইসলাম নামে ওয়েবপেজেও হত্যাকারীদের উম্মার সিংহ বলে আখ্যা দেয়া হয়। নতুন এই আনসার আল ইসলাম ইরাক যুদ্ধের সময় সক্রিয় একটি বিদ্রোহী গ্র“পের নাম ছিল। এবিটি ও এএইবি একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, উগ্রপন্থী এবিটির টার্গেটে আরও অনেকেই আছেন। বিশেষ করে এবিটির অপারেশন টিমের প্রধান রেজওয়ানুল হক রানা এ হত্যার ছক তৈরি করেছেন। এই রানা ব্লগার রাজীবের খুনের প্রধান হোতা। তাদের তালিকায় মিরপুরের মনিপুরী স্কুলের দুই শিক্ষকও রয়েছেন। পাশাপাশি কিছুসংখ্যক ব্লগারও রয়েছেন। জানা গেছে, কিলিং মিশন শুধু দেশে নয়, বিদেশে গিয়েও চালাতে পারেন তারা। তাদের তালিকায় রয়েছে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ধর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা ব্যক্তিরা। রাজীবকে হত্যার পর এবিটির সদস্যরা ফেসবুকে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ পেজ খুলেছিল। কিন্তু গত মাসের শেষের দিকে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পেজটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই নতুন নাম আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ দিয়ে রাবির শিক্ষককে হত্যা করে। তাদের দায় স্বীকার থেকে বোঝা যায় যে তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এবিটির উগ্রপন্থীদের টার্গেটে রয়েছেন মিরপুরের মনিপুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ফরহাদ হোসেন ও ভাইস প্রিন্সিপাল আবদুর রহিম। উগ্রপন্থীরা ইসলামবিরোধী নাস্তিক আখ্যায়িত করে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এই দুই শিক্ষককে।জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এবিটির অপারেশন টিমের প্রধান রানাকে গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এই রানাকে পাওয়া গেলে এবিটির কর্মকাণ্ডে জড়িত আরও নতুন সদস্যের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে।

সিমকার্ড বিক্রির আগে যাচাই হবে পরিচয়পত্র

এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিমকার্ড বিক্রি করবে না মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ডিপার্টমেন্টের (এনআইডি) মাধ্যমে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পরই সিমকার্ড বিক্রি করা হবে। এ ব্যাপারে এনআইডি মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অর্থপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমদকে প্রধান করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বরের আগেই কমিটিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হুমকি মোকাবেলা’ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে যাবে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ব্রিফ না করলেও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে বলেছি তারা যেন এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিস্তারিত স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কারো কাছে সিমকার্ড বিক্রি না করে। তারাও আমাদের এ বিষয়ে কথা দিয়েছে। আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হতে পারে।জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নুরুল কবীর যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে গ্রাহকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সিমকার্ড বিক্রি করব বলে আমরা সরকারকে কথা দিয়েছি। পাশাপাশি এনআইডির মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতাও চেয়েছি। সরকার এ বিষয়ে একটি সাব কমিটি গঠন করেছে।গতকালের বৈঠকে অংশ নেয়া মোবাইল ফোন কোম্পানির একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমাদের বলা হয়েছে যারা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড কিনতে আসবে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি নিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর যাচাই-বাছাই করার পর তাকে সিমকার্ড দিতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই সিমকার্ড বিক্রি করা যাবে না। এর জন্য অন্তত দুই ঘণ্টা, এমনকি পুরোদিনই লেগে যেতে পারে বলে আমাদের ধারণা দেয়া হয়েছে।নবগঠিত উপকমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমদ বৈঠক শেষে এ বিষয়ে নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়, তা ঠেকাতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২ অক্টোবর আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোবাইলের মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ কিভাবে ঠেকানো যায় তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই আলোকেই আমরা আজকের এ মিটিং করেছি।তিনি আরও জানান, নবগঠিত সাব কমিটির প্রথম বৈঠক হবে আগামী বৃহস্পতিবার। কমিটি এ সংক্রান্ত অগ্রগতি কার্যক্রম তৈরি করে আগামী ২ ডিসেম্বর আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করবে। আশা করছি এ কমিটির কার্যক্রমের ফলে আমরা মোবাইল সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারব।সাব কমিটির সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি প্রধান বলেন, এখনও সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবে এনআইডি, বিটিআরসি, সব মোবাইল ফোন অপারেটরসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত- নয় মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। ওই সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। ওই সময়ে মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ শতাংশ খেলাপি ছিল। ওই নয় মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও শতকরা হার দুই ভাবেই বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীক মন্দায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ কমে গেছে, জাল-জালিয়াতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ওইসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লে মুনাফা কমে যায়। এতে সামগ্রিকভাবে এ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। আর ব্যাংকগুলো আয় বাড়াতে গ্রাহকের ওপর সার্ভিস চার্জ আরোপ করে, ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। খেলাপি ঋণ কমলে গ্রাহকরা স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রাজনৈতিক বিবেচনায় পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়ায় ঢালাওভাবে সবাই সুবিধা নিচ্ছে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক কমেছে। তা না হলে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যেত।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কিছু ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধ করছে না। সার্বিকভাবে ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে সক্ষমতাও বাড়েনি। কারণ ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা এখন ভালো হয়নি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের মধ্যে অবলোপনের পরিমাণ ৩১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনের পরিমাণ মিলিয়ে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের স্থিতি ৪ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ৩ মাস আগে জুন শেষে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণ যে হারে বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে খেলাপি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছিল ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। আর জুন পর্যন্ত তা ১০ হাজার ৭৬২ টাকা এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা ১৬ হাজার ৭১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে একদিকে ব্যাংকগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে, অন্যদিকে আয় থেকে বাড়তি প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আটটি ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। মুনাফা থেকে এই প্রভিশন করায় ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ দেয়ার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। একই কারণে বেড়ে যাচ্ছে সুদের হার। অথচ ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দুর্বলতায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে, কিন্তু তাদের কিছুই হচ্ছে না। এর দায় পড়ছে ঋণ গ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর। বাড়ছে আমানতাকীদের ঝুঁকির মাত্রা।
সরকারি ব্যাংক : সরকারি চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায়। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকায়। গত ডিসেম্বর শেষে সরকারি চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। ওই সময়ে এদের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ হাজার ৯৫০ কোটি, জনতা ব্যাংকের ৩ হাজার ৯৩১ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ হাজার ১৮৫ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ বেশি মাত্রায় বেড়েছে। এটি উদ্বেগজনক। তার মতে, তিন কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এরমধ্যে রয়েছে- সরকারি ব্যাংকে সরকার এবং বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের চাপে ব্যাংকগুলো অসৎ ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে বাধ্য হচ্ছে। মালিক পক্ষের কথা না শুনলে এমডি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাকরি চলে যায়। তিনি বলেন, হলমার্ক কেলেংকারিতে জড়িতদের কীভাবে সরকার দায় মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আর ব্যাংকের মালিকরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করে না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকারদের মধ্যে পেশাদারিত্বের মান কমে গেছে। তৃতীয়ত, তাদের মধ্যে সততা এবং নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা- যা ওই সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর শেষে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা- যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ওই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৫৭ কোটি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৬৪৩ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ২৫৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ৮৯৫ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংকের ৮১২ কোটি, ঢাকা ব্যাংকের ৮২০ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৪৫২ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৬৫২ কোটি টাকা। বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের ৪৭১ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ৩২৮ কোটি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৭৪৪ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫২৯ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ৮৬৯ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ৫৩৮ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৬৩০ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩১৬ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯৬২ কোটি, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ৮২৪ কোটি, ওয়ান ব্যাংকের ৪৬২ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৮৩০ কোটি, প্রাইম ব্যাংকের ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে পূবালী ব্যাংকের ৯৬০ কোটি, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ৬৩৩ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৮ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৭৬৪ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৮১৫ কোটি, সিটি ব্যাংকের ৬৫৯ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংকের ২৯৬ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১ হাজার ৭৫ কোটি এবং উত্তরা ব্যাংকের ৭২০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণ সব সময় এক রকম থাকে না। কখনও বাড়ে, আবার কখনও কমে। তবে এখনও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। আমরা ঋণ আদায় বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি ভালো হচ্ছে, এটাই আমাদের জন্য সুখবর। ফলে খেলাপি ঋণের মাত্রাও কমে যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে এদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা- যা মোট ঋণের ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৮ শতাংশ।
এর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৪৯১ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪ হাজার ৫৬৮ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ৬ হাজার ১৪৮ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
বিদেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক আল ফালাহর ৬১ কোটি, সিটি ব্যাংক এনএর ২২ কোটি, কমার্স ব্যাংক অব সিলোনের ২২ কোটি, হাবিব ব্যাংকের ৬৩ কোটি, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশনের ১৩৭ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৬৪৬ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৫৮৩ কোটি, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৮৮ কোটি এবং উরি ব্যাংকের ১৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। দেশের ৮টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৮৬ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫১ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫৩ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১২০ কোটি টাকা। বিদেশী ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৩১৬ কোটি টাকা। বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৫৮১ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৩৫ কোটি টাকা।

নেপোলিয়নের হ্যাট নিলামে

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিখ্যাত দ্বিকোণবিশিষ্ট হ্যাটের একটি রোববার প্যারিসে নিলামে উঠেছে। বীরের পশমে তৈরি কালো এ হ্যাটের মূল্য তিন থেকে চার লাখ ইউরো। কিন্তু এটি ২০ লাখ ইউরেতে বিক্রি হতে পারে বলে তার স্মারক দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন। ফরাসি নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ওসেনেতের আয়োজনে এ নিলামে আরও আছে নেপোলিয়নের ব্যবহৃত মোজা, একটি স্কার্ফ ও একটি শার্ট। হ্যাটটি নেপোলিয়নের প্রাসাদের কর্মচারী জোশেফ গিরাদের পরিবারের জিম্মায় ১৯২৬ সাল পর্যন্ত ছিল। পরে এটি প্রিন্স লুইয়ের সংগ্রহে চলে যায়। নেপোলিয়ন ১৮০৪ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন। পরে ১৮১৫ সালে আবারও তিনি ক্ষমতাসীন হন। কথিত আছে এ সময় তিনি ১২০টি হ্যাট পরতেন। এসব হ্যাট তৈরি করত ফ্রান্সের হ্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পৌপার্ড। নেপোলিয়ন সামনে পেছনের বদলে এসব হ্যাট দুই কোণ দুদিকে দিয়ে পরতেন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে তাকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
তার পরিহিত এসব হ্যাটের ২০টি এখনও রয়েছে। দু-তিনজন ব্যক্তি বিশেষের কাছে থাকলেও বাদবাকিগুলো বিশ্বের নানা জাদুঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

অবিস্মরণীয় মওলানা ভাসানী by ফকির আলমগীর

উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় নাম মওলানা ভাসানী। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, সেই আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ লড়াইয়ে এ দেশের মজলুম জনমানুষের মুক্তির সংগ্রামে সব ক্ষেত্রেই মওলানা ভাসানী নিয়েছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। দাঁড়িয়েছিলেন সামনের কাতারে। সাধারণ মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষ থেকে ছুটে গেছেন আসামের নির্যাতিত মানুষের পাশে, সেখান থেকে ছুটে গেছেন সিন্ধুর কোনো শহরে। তাই উপমহাদেশের প্রান্তরে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন মওলানা ভাসানী। এ আপসহীন সংগ্রামীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবেন মহান জননায়ক মওলানা ভাসানীকে।
আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন প্রকৃতিক মানুষ ছিলেন মওলান ভাসানী। তার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্যাতিত-শোষিত সাধারণ মানুষের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটানো। সে কারণেই তিনি সারা জীবন অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করেছেন, নির্যাতন-শোষণ-বঞ্চনার অবসানের জন্য লড়াই করে গেছেন- সর্বক্ষণ জনতার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছেন এক বিশাল মহীরুহের মতো। ক্ষমতার কাড়াকাড়িতে যাননি কখনও। যে কোনো দুর্যোগে, যে কোনো বিপর্যয়ে এ অভিভাবককে জনসাধারণ সব সময়ই পাশে পেয়েছেন। তাই মওলানা ভাসানী ছিলেন তাদের ঘরের মানুষ। এখনও ঘরে ঘরে উচ্চারিত তার নাম।
এ মহান জননায়ক ছিলেন অনেক দূরের অভিযাত্রী, দুর্গম পথের পথিক। অথচ সাদাসিধা এক অনন্যসাধারণ মানুষ। এ জনপদের মানুষের ভিড়ের মধ্যে, তাদের রুচি আর আচার-আচরণের মধ্যে তিনি মিশে ছিলেন আজীবন। সাদা লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর মাথায় বেতের টুপি পরা এ মানুষটিকে এ দেশের মানুষ থেকে কখনও আলাদা করে দেখা যায়নি। কিন্তু যখন তিনি সব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল জলোচ্ছ্বাসের মতো গর্জন করে উঠেছেন, তখনই সবাই তাকে চিনেছে আলাদা করে। তবু তিনি ছিলেন আত্মীয়ের মতো, অভিভাবকের মতো, বিপদের বন্ধুর মতো।
আসামের লাইন প্রথাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফরাক্কা মার্চ- মওলানা ভাসানীর রাজনৈতির জীবনের এক ধারাবাহিক লড়াইয়ের ইতিহাস। এ সংগ্রামের ধারা অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত- মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সে সংগ্রাম।
মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন ভাবমূর্তি আছে আমাদের সামনে। কখনও তিনি রাজনৈতিক নেতা, কখনও সমাজ-সংস্কারক, কখনওবা ধর্মীয় নেতা। আবার অনেকের চোখেই তিনি ছিলেন লাল পতাকা বিপ্লবের অগ্রদূত। এসব কারণে কখনও কখনও তিনি যে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হননি তা নয়। কেউ সরে গেছে, কেউ কাছে এসেছে, কেউ ফিরে এসেছে মওলানার পাশে। কিন্তু তিনি ছিলেন তার আদর্শে অবিচল। এখানেই মওলানা ভাসানী স্বাতন্ত্র্যে উদ্ভাসিত। এটাই ভাসানীর রাজনীতি। আর সে আদর্শ ছিল দেশের দরিদ্র জনসাধারণের মুক্তি। এ আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যই তিনি লড়াই করেছেন, অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করেছেন আমৃত্যু।
আসামের লাইন প্রথা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু তার রাজনৈতিক জীবন। ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তার লড়াই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান এবং সর্বশেষে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, উপমহাদেশের মানুষও স্মরণ করবেন দীর্ঘদিন। যেখানেই শোষণ, যেখানেই বঞ্চনা, যেখানেই সাধারণ মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের প্রশ্ন- সেখানেই আছেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দরিদ্র জনসাধারণের মুক্তির লক্ষ্যে তিনিই প্রথম মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে গড়ে তুলেছিলেন বিরোধী দল। কারণ তিনি জানতেন, মুসলিম লীগ সরকার ক্ষমতার মোহে একসময় এক অন্ধশক্তিতে পরিণত হতে পারে। আর তার ফলে সাধারণ মানুষ পড়বে সংকটে। মুসলিম লীগ শাসনামলে সাধারণ মুনুষের কল্যাণ নিশ্চিত হয়নি। মওলানা ভাসানী জানতেন, এ দেশের রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি বিরোধী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন পথিকৃত। সেই ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের বিমাতাসুলভ শাসক গোষ্ঠীকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বিদায় জানিয়েছিলেন, বীজ বপন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের। মওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের পশ্চিম অংশের শাসকরা ধর্ম ও জাতীয় সংহতির নামে পূর্ব বাংলার মানুষকে শোষণ করছে। তাই তাদের সঙ্গে একই রাষ্ট্রের বাঁধনে অবস্থান করা আর সম্ভব নয়। সে কারণে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন স্বতন্ত্র জাতিসত্তা সম্পর্কেও মওলানা ভাসানী সম্যক অবহিত ছিলেন। এ কারণেই তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে পল্টন ময়দানে ভাষণদানকালে এ কথাটিই বারবার উচ্চারণ করে জাতিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি। তার স্বাধীনতার স্বপ্ন সফল হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
শহর তার রাজনীতির কেন্দ্র ছিল না, গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন তিনি। সব সময় তার সংযোগ ছিল গ্রামের কামার-কুমার-তাঁতি-জেলে, কৃষক-শ্রমিক-মজুরের সঙ্গে। কখনও তিনি ঘুরতেন নৌকায়, কখনও হেঁটে। সন্তোষই তার ঠিকানা ছিল। রাজধানীর প্রাসাদ রাজনীতিতে বিশ্বাস ছিল না তার। শহরের রাজনীতিকরা নিজেদের প্রয়োজনেই যেতেন মওলানা ভাসানীর কাছে। তারাই কখনও কখনও ভাসানীকে আমন্ত্রণ করে আনতেন শহরে। তিনি ছিলেন সংগ্রামে ও সংকটে বিশাল সহায়। কখনোই কোনো পদমর্যাদা, লোভ-লালসা-মোহ তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। তিনি সব সময় জনগণের পাশে থেকে বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি পালন করেন। সরল-সহজ জীবনযাপন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সরল প্রাণের কৃষক-মজুররা তার প্রিয় ছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্রের নামে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছিল একের পর এক, কেড়ে নেয়া হচ্ছিল বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, তখনও সিংহের মতো গর্জে উঠেছেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি কখনও। তিনি লড়াই করেছেন সব কালাকানুনেরও বিরুদ্ধে। আজ যখন সারা দেশে বিভেদ-বিভাজন-হানাহানি, তখন মওলানা ভাসানী হতে পারতেন সংহতির কণ্ঠস্বর। মিলিত প্রাণের সংগ্রাম। তিনি হতে পারতেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
মনে পড়ে, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য তিনি এক বিশাল জনতা নিয়ে ফারাক্কা বাঁধ পর্যন্ত মিছিল করেছেন। আন্তর্জাতিক নদীর পানির হিস্যা চাই আমরা- এ দাবিও এক বিশাল সাহসের সঞ্চার করেছে এ দেশের অধিকার সচেতন মানুষের মনে। কানসাট থেকে ফুলবাড়ীর আন্দোলন কিংবা তেল-গ্যাসের যে আন্দোলন- সবকিছুর মূলেই রয়েছে মওলানা ভাসানীর প্রেরণা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মজলুম জননেতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে সবাই। তাই আজ তাকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে গণমানুষের কল্যাণে তার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। আজ সেই মহান জননায়ক মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
ফকির আলমগীর : গণসঙ্গীত শিল্পী

মেয়র আরিফকে জড়ানোর প্রতিবাদে সিলেট উত্তাল

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জড়ানোর প্রতিবাদে সিলেট উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদে আজ পূর্ণদিবস হরতাল ডাকা হয়েছে সিলেটে। তবে জেএসসি পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। রোববার নগরীতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশপাশি আজ সোমবার ‘আমরা সিলেটবাসী’র উদ্যোগে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। এদিকে গত ৩ দিন ধরে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাকে গ্রেফতারে ঢাকা থেকে স্পেশাল টিম পাঠানো হয়েছে বলেও গুজব রটেছে। বিএনপির সমাবেশ থেকে আজকের হরতালে পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমাবেশে সিলেটের উন্নয়ন ব্যাহত ও বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে অপচেষ্টা চলছে মেয়র আরিফকে ফাঁসানোর। এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলররা ঘোষণা করেছেন পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি। রোববার দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে কাউন্সিলররা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ‘আমরা সিলেটবাসী’র ডাকা আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে নৈতিক সমর্থনও জানিয়েছেন কাউন্সিলররা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, গণসংযোগ, সিলেট নগরের সব শ্রেণী-পেশার সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণস্বাক্ষর, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সব কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতীকী কর্মবিরতি, সিলেটের সর্বস্থরের সচেতন জনগণের মানববন্ধন, অন্ধকারে আলোর মিছিল, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে স্মারকলিপি এবং নগরভবন প্রাঙ্গণে গণসমাবেশ ও সমাবেশ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা। ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে বলে জানানো হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারেন না। ঘটনার প্রায় এক যুগে লোকমুখে অনেকের নাম উচ্চারিত হলেও কখনও আরিফুল হকের নাম শোনা যায়নি। তিনি জড়িত থাকতে পারেন এমন কল্পনাও কেউ করেননি। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে যাদের গাত্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে, যারা সিলেট নগরীকে ভুতুড়ে দেখতে চায়, সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি করে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়, সেই বিদ্বেষী মহলই পরশ্রীকাতর হয়ে নোংরা খেলা খেলতে গিয়ে মেয়র আরিফকে হয়রানি করছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই শ্রদ্ধেয় কিবরিয়ার আসল খুনি ও দোষীদের আড়াল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ, জাতির গর্বিত সন্তান, সিলেটবাসীর অহংকার, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আজ জাতীয় দাবি। কিন্তু বিগত ১০ বছর ধরে এ হত্যার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা সন্দেহ, জটিলতা ও বিতর্ক। ইতিমধ্যে দু’দফা অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও মরহুম শাহ এএমএস কিবরিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে অনাস্থা জ্ঞাপন করা হয়েছে। তৃতীয় দফা দাখিলকৃত অভিযোগপত্র সম্পর্কেও কিবরিয়া পরিবারের কেউই অবগত নন। তৃতীয় দফা দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে জননন্দিত সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। বক্তব্যে বলা হয়, নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ২৭টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও ৯ জন মহিলা কাউন্সিলর সমন্বয়ে পরিচালিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিষদের প্রধান ব্যক্তিত্ব, নগরবাসীর লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত, সব উন্নয়ন কার্যক্রমের রূপকার এবং তা বাস্তবায়নে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সব ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনাকারী হচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটিকে বিশ্বমান উপযোগী একটি আধুনিক নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাকে হয়রানি করতে গ্রহণ করা হয়েছে বিনা মেঘে বজ পাতের মত হিংস্র উদ্যোগ। ঘটনার ১০ বছর পর হঠাৎ করে তাকে কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, দিনার খান হাসু, রেজওয়ান আহমদ, সিকান্দর আলী, আবদুল জলিল নজরুল, মো. রাজিক মিয়া, এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, আবদুল মুহিত জাবেদ, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মোহাম্মদ ছয়ফুল আমিন বাকের, মো. আবদুর রকিব তুহিন, সোহেল আহমদ রিপন, দেলোয়ার হোসেন সজীব, তাকবির ইসলাম পিন্টু, নজরুল ইসলাম মুনিম, অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, সালেহা কবীর শেপী, আমেনা বেগম রুমি, কুহিনুর ইয়াসমীন ঝর্ণা, রেবেকা বেগম রেনু ও দিবা রানী দে বাবলী। এদিকে, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ‘আমরা সিলেটবাসী’র ডাকা আজকের হরতালের আওতামুক্ত থাকবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন। ‘আমরা সিলেটবাসী’ সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে, আজকের হরতালে নাশকতা মোকাবিলায় খক্ষহস্ত স্থানীয় প্রশাসন। এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চার্জশিট আদালতের বিচার্য বিষয়। এ নিয়ে রাস্তাঘাটে কোনো প্রকার বিশৃংখলা, অরাজকতা, নাশকতা সহ্য করা হবে না।

আড়াইহাজারে দখলে লোপাটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এমপি বাবু

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংসদ সদস্য (এমপি) নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ লোপাট, স্থানীয় লোকজনের বাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এসব কাজে তিনি সামনে রাখছেন তার কাছের লোক হিসেবে পরিচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল এবং ইউপি চেয়ারম্যান লাট মিয়াকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজই এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও তার লোকজন। বাইরের কেউ এসব কাজের প্রতিবাদ তো করতে পারেনই না, আওয়ামী লীগের কারোরও করার সুযোগ নেই। এই সংসদ সদস্য নিজের পছন্দের লোকদের নিয়ে গড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে। সেই লোকদের মাধ্যমে নামে-বেনামে লোপাট করছেন কোটি কোটি টাকা।আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দি এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে পুষ্টিবিজ্ঞান গবেষণা ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করার জন্য এলাকাবাসীর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি ভরাটের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। জানা গেছে, জমি ২৯ ফুট গভীর দেখিয়ে ভরাটের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জমিটির গড়ে ৩ ফুট গভীরতা ভরাট করতে হয়েছে।প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করার সঙ্গে জড়িত সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ প্রকল্পে বালু দিয়ে গড়ে তিন ফুট উচ্চতায় জমি ভরাট করা হয়। যার প্রকৃত খরচ সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা। সংসদ সদস্য বাবু প্রভাব বিস্তার করে জমির গভীরতা ২৯ ফুট দেখিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার খরচ নির্ধারণ করানো হয়েছে। যে ঠিকাদারকে কাজ দেয়া হয়েছে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে। ইতিমধ্যে জমি ভরাটের প্রায় ৯০ ভাগ বিল উত্তোলন করা হয়েছে।স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য বাবুর নির্দেশে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও তারা অনেকটা জোর করে এলাকাবাসীর জমি অধিগ্রহণ ও ভরাটের কাজে সহযোগিতা করেছেন। কথা ছিল ঠিকাদারের লাভের একটি অংশ থেকে তাদের ভাগ দেয়া হবে। কিন্তু কাজ শেষ করার এক বছর পরও তারা লাভের কোনো টাকা পাননি। তবে ঠিকাদার ৬ কোটি টাকার কাজ করার পর তাকে এক কোটি টাকা লাভ দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা সংসদ সদস্য বাবুর কাছে জমা আছে।এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু যুগান্তরকে বলেন, ৩০ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরে দু’বার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এলজিইডি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল এ কাজের জন্য টেন্ডার দাখিল করলেও ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০ ভাগ কমে ২৭ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছেন। ভরাট কাজটি তদারকিতে ছিল কৃষি মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি। সেখানে কত টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে সেটি আমি জানি না। এখানে ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের নেতাদের কোনো লাভের অংশ দেয়ার সুযোগ নেই।আড়াইহাজারে চিরকুমার স্কুলশিক্ষক সুকুমার রায় মারা যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম বাবুর লোকজন ৮ বিঘা জমির ওপর তার (সুকুমার) বাড়িটি ভুয়া দলিল করে নিজেদের নামে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য বাবু নেপথ্যে থেকে এ কাজ করিয়েছেন। তবে সংসদ সদস্য বাবু যুগান্তরকে বলেন, এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্ব। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখব।আড়াইহাজারে দুটি পৌরসভার বাইরে ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কাবিখা এবং টিআরের মাধ্যমে গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দ কমিটির সমন্বয়ক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালালকে করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান জানান, এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ইচ্ছে অনুযায়ী শাহজালালকে কাবিখা ও টিআর বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান করার পর সেখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রতি টন গম বাইরে বিক্রি করলে ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অথচ তাদের কাছে ডিও ১২ হাজার টাকা টন হিসেবে বিক্রি করে দিতে হয়। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য বাবুর কাছে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।সংসদ সদস্য বাবু কাবিখা কিংবা টিআর বরাদ্দের বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেব।এসব ছাড়াও সংসদ সদস্য বাবুর বিষয়ে মুকুন্দি ব্রিকফিল্ডের ৬০ বিঘা জমি এবং সৎমান্দি গ্রামের রহম আলীর ৮০ কোটি টাকা মূল্যের ২৭ বিঘা জমি মাত্র ২৫ লাখ টাকায় রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আমার জনপ্রিয়তা এবং উন্নয়ন কমকাণ্ডে ভীত হয়ে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ২৪ ঘণ্টা এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমি অন্য কারোর মতো রাজনীতি করি না। যেহেতু আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই সেজন্য কোনো অপপ্রচার করে লাভ হবে না।

যোগ্য প্রচার পায়, না প্রচার যোগ্য বানায়? by মাহবুব কামাল

একটা ধাঁধা দিয়ে শুরু করি, এরপর কলম পিছলাতে পিছলাতে কোথায় যায় যাবে। ধাঁধাটা- যোগ্য প্রচার পায়, নাকি প্রচার যোগ্য বানায়? উদাহরণ দিয়ে বলি- মির্জা ফখরুল যোগ্য ছিলেন বলেই কি প্রচার পাওয়া শুরু করেছেন, নাকি ক্রমাগত প্রচারের ফলেই তাকে যোগ্য মনে হয়? হ্যাঁ, এই ধাঁধার মীমাংসা হতে হবে, কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জগৎ-সংসারের অনেক অর্থ-অনর্থের প্রশ্ন।
পাঠক লক্ষ্য করুন, যেসব পত্রিকায় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর মৃত্যু-সংবাদ প্রথম পাতায় গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে, সেগুলোর পাঠক ভাববেন যে, তিনি বড় মাপের মানুষ ছিলেন। আবার সংবাদটি ছোট করে ভেতরের পাতায় ছাপা হয়েছে যেগুলোয়, সেগুলোর পাঠক মনে করেছেন, তিনি অন্য দশজন শিক্ষকের মতোই একজন। মৃত্যু-সংবাদে মহাপ্রয়াণ শব্দটি ব্যবহার করলে পাঠক ধরে নিতেন তিনি একজন মহাপুরুষ ছিলেন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, সত্যটা আসলে কী, সেটা নির্ধারণ করে থাকে মিডিয়াই, সাধারণ মানুষ নয়। মিডিয়া ক্রপ-আপ করলে বস্তুটা ছোট, ব্লো-আপ করলে বড়।
গ্লোবাল পারসপেক্টিভটা একটু দেখি নিই আমরা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির নাম কি ওবামা? না। তাহলে কে? এর উত্তর বহুবচনে হবে- টেড টার্নার, রুপার্ট মারডকসহ মিডিয়া সম্রাটরাই বেশি শক্তিশালী। ওবামা আমাকে ধ্বংস করে দিতে পারেন (তিনি আফগানিস্তান-ইরাকে এমনটা করেছেনও), নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কিন্তু টেড টার্নাররা নিয়ন্ত্রণ করছেন (এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সবার থাকে না) আমাদের চিন্তা-পদ্ধতি, ব্যবহারিক জীবন, সংস্কৃতি, এমনকি জিহ্বার রুচিও। আগে খেতাম ম্যাগডোনাল্ডস, এখন কেএফসিও খেতে শিখেছি। এই নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি এত সূক্ষ্ম এবং কখনও কখনও এত দীর্ঘমেয়াদি যে, মনেই হবে না আমি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি।
মিডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরিও নিয়ন্ত্রণ অথবা প্রভাবিত করতে পারে মানুষের জীবন। অনেক আগে দূরদর্শনে কলকাতার জনপ্রিয় লেখক শংকরের একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। বললেন- দ্বারে দ্বারে ঘুরি, কেউ লেখা ছাপে না, কেউ কেউ জানোয়ার ভেবে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তো একদিন সাগরদা (দেশ-এর সাবেক সম্পাদক সাগরময় ঘোষ) দয়াপরবশ হয়ে একটা গল্প ছাপলেন। ব্যস মানুষ হয়ে গেলাম! এবার উল্টোটা দেখুন। এ দেশে প্রভা নামের একটি মেয়ে করে খাচ্ছিলো। সামান্য ঘটনা, বাইরে থেকে ছিটকিনি খোলা সম্ভব হলে রাজধানীর অন্তত ৫ শতাংশ ঘরে এমন ঘটনা দেখতে পাওয়া যাবে; অথচ সেই দোষে মিডিয়া তাকে মানুষ থেকে জন্তুতে (প্রকাশ্য যৌনতা অর্থে) নামিয়ে দিল! বেশ কিছুদিন পর আবার খেয়াল চাপলো মিডিয়ার- মেয়েটা অনেক ভুগেছে যখন, দিলাম মাফ করে। ভালো লাগছে যে, সে ক্রমশই আবার মানুষের আকার ধারণ করছে।
মিডিয়া যেহেতু সত্যি সত্যিই শক্তিমান, স্বৈরশাসকের মতো কাগুজে বাঘ নয়, তাই হুঙ্কার তার সঙ্গে যায় না। দুর্বলের মস্তক উদ্ধত থাকে থাকুক, সবলের মাথা অবনত থাকলেই তাকে আরও সুন্দর দেখায়। অথচ একটি শক্তিশালী দৈনিক বক্সিং রিংয়ের বাইরে থাকা, প্রতিদ্বন্দ্বী নয় এমন এক নির্দোষকে কীভাবে ঘুষি মারছে, দেখুন।
বছর পাঁচেক আগে স্পেশাল ট্রিটমেন্টে প্রথম পাতায় শিরোনাম করা হলো- রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের জঙ্গি কানেকশন। প্রয়াত জিল্লুর রহমানের সামরিক সচিব এই মেজর জেনারেল (এখন অবসরে) এহতেশাম উল হককে আমি চিনি। পাপ্পু (তার ডাক নাম) আমার এক অনুজপ্রতিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যা হোক, হেডিং পড়ে মনে হতে পারে, পাপ্পু কোনো জঙ্গি-অপারেশন কমান্ড করেছেন বা তার ক্যাপাসিটিতে জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহ করেছেন অথবা জঙ্গিদের প্রচারপত্র ছাপানোর টাকা দিয়েছেন কিংবা কোনো জঙ্গির সঙ্গে তার টেলিফোন-আলাপ ট্যাপ করে জানা গেছে অনেক তথ্য। না, এসব কিছুই নয়। হেডিং পড়ার পর পাপ্পুর আত্মীয়-স্বজনদের প্রেসার একসেলারেটেড হাইপার টেনশনে ২০০তে উঠে গেলে কী হবে, রিপোর্টের বডিতে ঢোকার পর তা নেমে এসেছে ১২০-এরও নিচে। তো, তিনি কীভাবে জঙ্গি? রিপোর্টটিতে যতই কায়দা করা হোক, আসলে তিনি যখন সিলেটে বিডিআরের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন, তখন এক অসহায় যুবকের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। সে পরে জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনটি ছাপা হওয়ার পর পাপ্পুকে রংপুরের জিওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। আমার নিয়মিত রংপুর সফরের একটিতে তার সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেছিলেন- আপনি তো সাংবাদিক, আপনি কি সব জঙ্গিকেই চেনেন? আপনিই যদি না চেনেন, আমি চিনবো কীভাবে? বলে রাখি, পরবর্তী সময়ে সামরিক অথবা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে পাপ্পুর জঙ্গি কানেকশন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, এই সংবাদের পেছনে কি ছিল কোনো বিশেষ এজেন্ডা, নাকি এটা স্রেফ সেনসেশনাল জার্নালিজম?
অবশ্য উপরের প্রতিবেদনটির নিচে সামান্য হলেও মাটি ছিল। কোনো কোনো পত্রিকা কখনও কখনও শূন্যের মাঝারে দরজা-জানালা-বারান্দাসহ ঘর তৈরি করে। আমার উদ্দিষ্ট পত্রিকাটি সমাজের অনেক উপকার করে থাকে। আমি নিজেও এটি বাসায় রাখি। পত্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে তাই দুটি নিবেদন। এক. অর্ধসত্য কখনও কখনও মিথ্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। দুই. উপকার করতে চাইলে ষোলো আনাই করবেন, না হলে দরকার নেই। বারো আনা করলে আমরা বলতেই থাকব- শালা বাকি চার আনা দেয়নি বলেই আমার এক টাকা হয়নি।
কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভালো লেখা ছাপা না হওয়া এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোর কর্তৃপক্ষ বলে থাকেন- এটা আমাদের সম্পাদকীয় নীতির পরিপন্থী। যুক্তিশাস্ত্রের এই ফ্যালাসি বেশ মজার। চর্ম রক্ষার বর্ম অথচ বলা হচ্ছে নীতি! বছর পনেরো আগে বিদেশ থেকে ফেরার সময় শাহ্জালালে যখন কাস্টমস করছিলাম, মাইকে শুনতে পেলাম- পাঁচ হাজার ডলারের বেশি থাকলে ডিক্লায়ার করতে হবে, নতুবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি প্যান্টের দুই পকেটের ভেতরের কাপড় বের করে উল্টিয়ে দেখাতে দেখাতে বললাম- পৃথিবীর কোন্ এয়ারপোর্টে এমন আপমানজনক ঘোষণা দেয়া হয়? কাস্টমস কর্মকর্তা বললেন- এটা আমাদের নিয়ম। বললাম- আমি তো নিয়মটাকেই চ্যালেঞ্জ করছি, কার নিয়ম জিজ্ঞেস করিনি। এবার বলি, আমরা বলছি নীতি বা পলিসির কথা। এটা সম্পাদকের কি-না, সেটা দ্বিতীয় প্রশ্ন। এডিটোরিয়াল পলিসি এডিটর কিংবা প্রকাশকের নয়, পাঠকের স্বার্থ দেখবে- এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি, এডিটোরিয়াল পলিসিটি এডিটোরিয়াল ইন্টারেস্টের ভিত্তিতেই সাজানো হয়। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও মুক্তবাজার চিন্তার এই দুনিয়ায় একটা পলিসি দিয়ে আরেকটা পলিসি কি আটকানো যায়? নাকি তা সম্ভব?
ক্লিনটন বলেছিলেন, অভিবাসনই (immigration) আমেরিকার শক্তি। তিনি ভুল বলেছেন; আমেরিকার শক্তি হচ্ছে, সমাজটা ফেসলেস- মুখাবয়বহীন। কেউ কারও চেহারার দিকে তাকায় না, পারফরমেন্সই সেখানে শেষ কথা। ম্যাডোনার চেহারার দিকে তাকালে ওকে আর পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হতো না, কারণ ও তো একটা স্ট্রিট গার্ল! চেহারায় না তাকিয়ে গলা শুনেছে বলেই তাকে শিরোনাম করতে পেরেছে মিডিয়া। সোফিয়া লরেন জন্মের পর ইতালির নেপল্সেই থেকে গেলে কী হতেন বলা মুশকিল। ইউরোপ এখনও পুরোপুরি কনজারভেটিজম থেকে মুক্ত হতে পারেনি। বাস্টার্ড হিসেবে হয়তো অনাদৃতই থেকে যেতেন তিনি, হলিউডে হয়েছেন বিপুল সমাদৃত। আবার তার বিরুদ্ধে যখন আয়কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হলো, মিডিয়া তার পক্ষে দাঁড়ালো না। কেন দাঁড়াবে? তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙেছেন ভালো কথা, শৃঙ্খলা তো ভাঙতে পারেন না।
উপরের পত্রিকাটি সাকিবের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তিনি দেশের গৌরব মানি, নিক্সন কি আমেরিকার গৌরব ছিলেন না? তিনিই একমাত্র আমেরিকান, যিনি দুই টার্মে ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও দুই টার্মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন; তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার ন্যাভাল ফোর্সকে সার্ভ করেছেন; ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ভিয়েতনামিজ তো বটেই, অনেক আমেরিকানের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তিনি শুধু আমেরিকানদের নয়, সমগ্র মানবজাতির গর্ব ছিলেন। তারই কল্যাণে (অ্যাপোলো ১১-এর উৎক্ষেপক হিসেবে) এই মর্ত্যরে মানুষ দূর স্বপ্নলোকে পৌঁছেছিল, তিনিই এই গ্রহের প্রথম মানুষ, যিনি চাঁদের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাহলে ব্রাডলি কেন লাগলেন তার পেছনে, যে কারণে তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে নেমে যেতে হলো? আমেরিকানদের জন্য কন্ট্রিবিউশনের বিপরীতে তার ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি কতটা বড় বা ছোট অপরাধ? উত্তর হলো, কোনো কোনো অপরাধ অখণ্ড, স্বয়ংসম্পূর্ণ; তাকে টুকরো করা যায় না। আর তাই, সাজাটা কী হওয়া উচিত, ভাবতে এক সেকেন্ডও লাগেনি আমেরিকানদের। আবার ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার আগেই পদত্যাগ করে নিক্সন অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিয়েছেন (নিক্সন যেদিন পদত্যাগ করেন, সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার শাস্তি দেখতে পেয়ে আমেরিকানদের সঙ্গে আমিও খুশি হয়েছিলাম)। সাকিবের শাস্তি নিয়ে গবেষণার হেতু কী?
বস্তুত, সমাজটাকে মুখাবয়বহীন করে তুলতে না পারলে কিছুই হওয়ার নেই। মামা-চাচা-খালু, ভাগ্নে-ভাগ্নি-ভাতিজা-ভাতিজি, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা, চেয়ারম্যান-এমডি, মন্ত্রী-সচিব, এমনকি প্রধানমন্ত্রী- সব পরিচয় মুছে ফেলে নাগরিক-এর স্টিকার লাগাতে হবে সবার কপালে। এবং নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কার কী করা চলে, কী করা চলে না; কার দায়িত্ব কী, অধিকার কী- এসব দিয়েই বিচার করতে হবে তাকে, অন্যকিছু দিয়ে নয়। সবচেয়ে বড় কথা, জার্নালিজম ফেভার-ডিসফেভারের কোনো মাধ্যম নয়, it is a gentleman's game- এই খেলায় ফাউল করার চেয়ে ওয়াক-আউট অনেক ভালো।
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক

এইচ টি ইমাম তিন দিন পর বললেন অমন কথা বলেননি- নীরবতা ভাঙলেও অনুশোচনা নেই

আওয়ামী লীগের প্রচার উপপরিষদের বৈঠক ডেকে গতকাল রোববার সে বৈঠকে উপস্থিত না হলেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘যে মন্তব্যের জন্য তাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে সে রকম কোনো কথা তিনি বলেননি।’ বুধবারের ওই মন্তব্যের পর তিন দিন নীরব থেকে গতকাল দিনভর প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎলাভের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে অস্বীকৃতি জানালেন।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে দল ও সরকারের ভেতরে-বাইরে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়। গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে দলের সব জ্যেষ্ঠ নেতা এইচ টি ইমামের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত বুধবার ছাত্রলীগের এক সভায় এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যাঁরা রিক্রুটেড, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বুক পেতে দিয়েছেন।’
গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই মনোভাব প্রকাশের পরদিন গত শনিবার হঠাৎ করেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রচার উপপরিষদের বৈঠক ডাকেন এইচ টি ইমাম। তিনি প্রচার উপপরিষদের চেয়ারম্যান। বৈঠকটি গতকাল বেলা ১১টায় হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। আজ বেলা ১১টায় আবার তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
প্রচার উপপরিষদের বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করেন প্রচার উপপরিষদের সদস্যসচিব হাছান মাহমুদ। এইচ টি ইমাম বৈঠক ডেকে কেন উপস্থিত হননি জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেছেন। তাই তিনি বৈঠকে আসতে পারেননি।’ হঠাৎ করে কেন প্রচার উপপরিষদের বৈঠক ডাকা হলো—এই প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটা আমাদের নিয়মিত বৈঠক।’ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সেমিনার করব’।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী গতকাল তাঁর কার্যালয়ে যাননি। এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর নিজ অফিসকক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি। তবে তিনি আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর অপর দুজন উপদেষ্টা যাঁরা সাবেক আমলা, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নানাভাবে যোগাযোগ করে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভেরও চেষ্টা চালান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষাতের সুযোগ না পেলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তবে কী ধরনের যোগাযোগ তা তিনি খোলাসা করেননি।
দল ও সরকারে বিরূপ অবস্থানের মধ্যে এইচ টি ইমাম হঠাৎ করে প্রচার উপপরিষদের বৈঠক ডাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলে নিজের অবস্থান সুসংহত বোঝাতেই তিনি বৈঠক ডেকেছেন। কারণ প্রচারবিষয়ক এমন কোনো কাজ ছিল না যে তাঁর তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকতে হবে।’
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এইচ টি ইমাম প্রচার উপপরিষদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় সভানেত্রীর অনুমতি ছাড়া বৈঠক করা ঠিক হবে না বলে তাঁর কয়েকজন অনুসারীর পরমর্শে শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব বোঝার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

কোন পথে রাজনীতি by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পালন করা রাজনৈতিক দল বা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা অনৈতিক, অবিবেচনাপ্রসূত ও নিন্দনীয়। কিন্তু দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি সরকার। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আহূত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এই সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। উল্লেখ্য, এর আগেও খালেদা জিয়ার দুটি ঘরোয়া সমাবেশ সরকার পণ্ড করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে কেন সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি- এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, দেশের গণতন্ত্র কি নির্বাসিত? দেশটি যদি গণপ্রজাতন্ত্রী হয়, তাহলে একটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ করতে পারবে না কেন?
বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে যথারীতি আবেদন করেছে। কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পত্রিকায় এসেছে, এ বিষয়ে উপকমিশনারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছেন, বিএনপি যদি ঘরোয়া সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করতে চায়, সে ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? বিএনপি রাজপথে বা মুক্ত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে পারবে না? দেশে তো সামরিক শাসন নেই, জরুরি অবস্থাও জারি নেই; তাহলে কোন অবস্থা জারি আছে? এ প্রশ্ন ওঠা তো স্বাভাবিক। এসব রাজনীতি ও দেশের জন্য কোনো ভালো খবর তো নয়ই বরং চরম মন্দ খবর। এর জের রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিককে একসময় বইতে হবে। কাজেই রাজনীতিকে তার সঠিক পথে চলতে দেয়া উচিত । রাজনীতির গতি রোধ করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। নদীর স্রোত, বাতাসের গতিবেগ ও মানুষের আবেগ যেমন আটকে রাখা যায় না, তেমনি রাজনীতির গতিও রোধ করা যায় না। এই নির্মোহ সত্য অনুধাবন করা সবার জন্য অপরিহার্য।
বিএনপিকে যদি নিরাপত্তার অজুহাতে সমাবেশ করতে না দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটা সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিগণিত হতে বাধ্য। কারণ বিএনপি অতীতে যত বড় বড় সমাবেশ করেছে, তার সব ক’টিই ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত। কোনো গোলযোগ জনসমাবেশগুলোয় হয়নি। তাছাড়া কয়েক দিন আগেও খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছেন এবং সেগুলো সবই ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত। সুতরাং নিরাপত্তার অজুহাত এখানে ধোপে টেকে না। বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেয়ার ইচ্ছাটাই এখানে কাজ করেছে প্রবলভাবে। এমন হয়ে থাকলে এটা অবশ্যই ভুল ও হঠকারী সিদ্ধান্ত।
একজন সাধারণ মানুষ ভুল করলে এর খেসারত তিনি নিজে অথবা তার পরিবার দিয়ে থাকে। কিন্তু সরকার যদি ভুল করে বা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, এর খেসারত দিতে হয় রাষ্ট্র তথা জনগণকে। তাই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় ভেবেচিন্তে ও ঠাণ্ডা মাথায়। শুধু সমাবেশের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের চলমান রাজনীতি এবং একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারেও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। কথায় আছে, একটি ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্ত হাজারও উত্তেজিত মাথার সিদ্ধান্তের চেয়ে উত্তম।
ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলে মধ্যবর্তী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। বাংলাদেশ বিশ্বে কোন
মর্যাদায় আসীন হবে তা নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ওপর। এ নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের অসীম সম্ভাবনা ধ্বংস করার শামিল। দেশের ভালো চাইলে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনা সম্মান মানুষের কাজে লাগবে।
আসলে বিএনপিকে কৌশলে নির্বাচনের বাইরে রাখার একটা খেলা চলছে। দলটিকে কোনোভাবে নির্বাচনের বাইরে রাখতে
পারলেই যেন সরকার বেঁচে যায়। বিএনপির উচিত সরকারের এই বিপজ্জনক কৌশলকে অত্যন্ত পরিপক্বতার সঙ্গে মোকাবেলা করা এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া। কারণ
সরকার মুখে যাই বলুক, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিতই দেয়।
ভোটের রাজনীতিতে শাসক দল এতটা অসহায় হয়ে পড়েছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শুনলেই তারা ভয় পায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পেতে চায়। বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আছে, জামায়াতের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের একটা গোপন সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে দেশের রাজনীতি একটি জটিল সমীকরণের মধ্যে দাঁড়িয়ে। এই সমীকরণকে পুঁজি করে সরকার পার পেতে চায়। এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাসীন দলের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
রাজনীতিতে কোন কাজটি এ মুহূর্তে করতে হবে এবং কোনটির জন্য করতে হবে অপেক্ষা- এটি নির্ধারণ করা অপরিহার্য। চাপ প্রয়োগ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায় হয়েছে- এমন নজির ইতিহাসে নেই। আওয়ামী লীগের মতো দলের কাছ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। এই ঐক্য গড়ার এখনই যথাযথ সময়। সময়ের কাজ সময়ে না করলে পরে পস্তাতে হয়।
একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পরিবেশ এখন আর নেই। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় দেশে অনেক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। মানুষ যার যার ভোট নিজে দিতে শিখেছে। প্রায় ৯ কোটি ভোটারের ছবিসহ পরিচয়পত্র তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক। এখন ইচ্ছা করলেও একজনের ভোট আরেকজনে দিতে পারেন না বা দেয়ার পরিবেশও নেই। তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম বহুদূর এগিয়েছে। বলা যায়, একটি বিশ্বমানের গণমাধ্যম বাংলাদেশে কাজ করছে, যা মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট। একে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নেই। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মুহূর্তের মধ্যেই যে কোনো খবর সম্প্রচার হয়ে যায় বিশ্বজুড়ে। তাই নির্বাচনে জালিয়াতি বা ভোট ডাকাতি করে কেউ পার পাবে না। ফুটেজ থেকে যাবে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে- এই ভয়ে নির্বাচনে জালিয়াতি বা ভোট ডাকাতি করতে কেউ উৎসাহী হবে না।
বাংলাদেশ ঐক্যের দিক থেকে বিশ্বে একটা নিদর্শন ছিল। কিন্তু এখন জাতি হিসেবে সব দিক থেকে আমরা বিভক্ত। বিভক্ত জাতি সাহসহীন, আশাহীন বিপন্ন এক জাতিতে পরিণত হয়। সবকিছু বিপন্ন হওয়ার আগে সরকারের উচিত বিরোধী দলকে আস্থায় নেয়া এবং সংকট দূর করে দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে ধাবিত করা। এর জন্য শাসক দলকে অবশ্যই সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করতে হবে, জাতীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করতে হবে।
হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈক্য-বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে বর্তমান ক্রান্তি সময় অতিক্রম করা অসম্ভব। এখন প্রয়োজন দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উদারনৈতিক রাজনীতি। সর্বোপরি নির্দলীয় সরকারের অধীনে পক্ষপাতহীন, সুষ্ঠু মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে সরকারের হারানো জনপ্রিয়তা যেমন পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে,
তেমনি শাসক দলকেও মানুষ নতুন চোখে দেখবে। সর্বোপরি দেশ এগিয়ে যাবে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতির পথে।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনীতি বিশ্লেষক

খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল শুনানি মঙ্গলবার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দায়ের করা লিভ টু আপিল শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন এবং তা আমলে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাই কোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ওই রিট খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে ৩টি লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

চায়ের কাপে তুফান by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

ইংরেজিতে একটা কথা আছে Storm in the tea cup. বাংলা করলে তার অর্থ দাঁড়ায় চায়ের কাপে তুফান। বাংলাদেশে এখন এই চায়ের কাপে তুফান প্রায়ই ওঠে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তোলে দু-একটি মুখচেনা মিডিয়া। বর্তমান সরকার যত বেশি বিতর্কমুক্ত হয়ে ক্ষমতায় স্থিতিশীল হচ্ছে, তত বেশি তাদের গাত্রদাহ বাড়ছে। সুযোগ পেলেই তারা তিলকে তাল করে এমন প্রচারণা চালায় যাতে সরকার বেকায়দায় পড়ে এবং দেশে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে তা নষ্ট হয়।
লতিফ সিদ্দিকীর কিছু বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি যে ঝড় উঠেছে, তা চায়ের পেয়ালায় তুফান নয়, সত্যিকার ঝড়। তিনি সত্য সত্যই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত লাগে এমন কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু নিউইয়র্কের বন্ধুদের কাছে খবর নিয়ে জেনেছি, লতিফ সিদ্দিকীও মিডিয়া চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। অন্তত জয় ওয়াজেদ সম্পর্কে তার বক্তব্য টুয়িস্ট করা হয়েছে। ঢাকাতেও এখন দেখছি, যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা এটা প্রমাণ করার জন্য একটি দুটি নিরপেক্ষতার মুখোশধারী ইংরেজি ও বাংলা দৈনিক উঠেপড়ে লেগেছে।
লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পেরে এবার টার্গেট করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামকে। গত বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি কিছু বক্তব্য রেখেছেন। কাগজে তার বক্তব্য পাঠের আগেই ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও বিরোধী দুই ধরনেরই কিছু লোকের টেলিফোন পেতে শুরু করি। তারা জানান, এইচটি ইমাম এমন কথা বলেছেন যাতে সরকারের ভাবমূর্তি দারুণভাবে নষ্ট হয়েছে। সরকার যে নির্বাচনে অনিয়ম করেছেন সেটাও তিনি খোলাসা করে দিয়েছেন। তাকে অবিলম্বে সরকারি গদি থেকে অপসারণ করা উচিত।
এইচটি ইমাম সত্যই কী বলেছেন তা জানতে উদগ্রীব হলাম। তাকে আমি জানি ছাত্রাবস্থা থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা আগরতলায় ছিলাম। এই যুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা দেখেছি। দোষেগুণে মানুষ। তাকে নিয়ে অনেক বিতর্ক। সরকারের ভেতরে-বাইরে অনেকে তাকে ঈর্ষা করেন। কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষ। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যারা থাকেন, তারা সব সময়ই ঈর্ষা ও অপবাদের শিকার হন। এসব অপবাদের কোনোটা সত্য, কোনোটা মিথ্যা।
এইচটি ইমামের সম্পর্কেও সত্য-মিথ্যা অনেক অপবাদ আছে। কিন্তু তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে জানি, তিনি একজন বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ মানুষ। কাঁচা রাজনীতিকদের মতো বেফাঁস কথা বলার লোক তিনি নন। ফলে তার বক্তব্য সম্পর্কিত খবর ও খবরভাষ্য দুদিন ধরে ছেপেছে যে নিরপেক্ষ দৈনিকটি, তার পাতা উল্টালাম। পত্রিকাটি প্রথম দিন (১৩ নভেম্বর) ছেপেছে এইচটি ইমামের বক্তব্য। তা কিছুটা টুয়িস্ট করা (আমি ঢাকায় ছাত্রলীগের এক নেতাকে টেলিফোন করে তার বক্তব্যের রেকর্ড করা পুরো ভাষণটি শুনেছি)। পরদিন নির্বাচনী অনিয়ম খোলাসা করলেন এইচটি ইমাম শীর্ষক প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের ভাষ্য নিজেদের মনমতো করে সাজানো হল এবং এই ভাষ্যের পক্ষে সুধীজন বলে যাদের প্রতিক্রিয়া ছাপানো হয়েছে তারা সবাই এই পত্রিকাগোষ্ঠীর নিজস্ব ঘরানার লোক। যেমন- সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এদের লেখা আমি পড়ি। এরাও নিরপেক্ষতার ভান করে সব সময় সরকারের খুঁত ধরেন এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে, নিরপেক্ষ দৈনিকটির এই প্রচারণার সহযোগী।
এইচটি ইমাম তো কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা নন। কিন্তু অসৎ সাংবাদিকতা দ্বারা বড় বড় রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যও যে টুয়িস্ট ও বিকৃত করে তাদের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তার ভূরি ভূরি প্রমাণ আমার জানা। একবার শেরেবাংলা ফজলুল হক ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানের এক জনসভায় মওলানা ভাসানীর মুক্তি দাবি করে (মওলানা ভাসানী তখন জেলে) বলেছিলেন, মওলানা ভাসানী একজন নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক নেতা। কখনও পদ বা ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেন না। আমারও রাজনীতি করার স্বার্থ ছিল। মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু মওলানা ভাসানী এ রকম কোনো আশা বা স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করেননি। পরদিন মুসলিম লীগ সমর্থক একটি কাগজ হক সাহেবের বক্তব্যের আগের ও পরের অংশ বাদ দিয়ে বিরাটভাবে ছেপেছিল, সারা জীবন স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেছি, ফজলুল হক সাহেবের স্বীকৃতি। কারও বক্তব্য টুয়িস্ট বা বিকৃত করে ছাপার সাংবাদিকতা সবচেয়ে অসৎ সাংবাদিকতা। ব্রিটেন স্বাধীন সাংবাদিকতার দেশ। কিন্তু এই দেশেও এই ধরনের অসৎ সাংবাদিকতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় দেয়া এইচটি ইমামের বক্তব্যকেও টুয়িস্ট করা হয়েছে। তার রেকর্ডকৃত যে বক্তৃতা শুনেছি, তাতে ছাত্রদের চাকরি-বাকরি পাওয়া প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় তোমাদের ভালো করতেই হবে। তোমরা পড়াশোনা করে ভালোভাবে পরীক্ষা দাও। ভাইভা পরীক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এই পরীক্ষাতেও তোমাদের ভালো করতে হবে। প্রয়োজনে আমি তোমাদের কোচিং ক্লাস নিতে পারি।
এখানে অন্যায় কী বলা হল? নিরপেক্ষ পত্রিকাটি তার বক্তব্য ছাঁটকাট করে ছেপেছে, তোমাদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হব। তারপরে আমরা দেখব। ছাত্রছাত্রীরা লিখিত পরীক্ষা দিলেই আমরা দেখব। অর্থাৎ তাদের চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে! বক্তব্য এমনভাবে টুয়িস্ট করা কি অসৎ সাংবাদিকতা নয়? লক্ষণীয় নিরপেক্ষ দৈনিকটির খবর ভাষ্যের শেষের দিকে আমি প্রয়োজনে কোচিং ক্লাস নিতে রাজি আছি কথাটি বলা আছে। কিন্তু কথাটি এমন অসংলগ্নভাবে বসানো হয়েছে, তার প্রকৃত অর্থ বোঝা সচেতন পাঠকের পক্ষেও কষ্টকর। যেমন খবর ভাষ্যে বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্য থেকে যারা প্রতিষ্ঠিত হতে চাও, আমি প্রয়োজনে কোচিং ক্লাস নিতে রাজি আছি। কোচিং ক্লাস করার কথা বলা হয়েছিল ভাইভা পরীক্ষা সম্পর্কে। নিরপেক্ষ পত্রিকাটি এই বক্তব্যেও অসংলগ্নতা সৃষ্টি করে পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে।
অসৎ সাংবাদিকতা কতটা নিুগামী হতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় এইচটি ইমামের নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্যের বিকৃত ভাষ্য প্রচারের মধ্যে। শুধু তার বক্তব্যকে বিকৃত করা নয়, তার মধ্যে অসংলগ্নতাও তৈরি করা হয়েছে। এইচটি ইমাম বলেছেন, বিএনপি শুধু যে আলোচনায় আসেনি বা নির্বাচন বয়কট করেছে তা নয়, তারা নির্বাচন প্রতিরোধ করার নামে যে ধ্বংসযজ্ঞ, যে নিষ্ঠুরতা ২০১৩ সালে পুরো বছর করেছে তার কোনো নজির নেই। তারা জামায়াতকে নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। নির্বাচনের সময়ের প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলছি। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা দেখেছি। আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের দ্বারা মোবাইল কোর্ট করিয়ে নির্বাচন করেছি। আমাদের যে ১৯ জন পুলিশ ভাই প্রাণ দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের আক্রমণে, তারা কারা? সব আমাদের মানুষ। এই বক্তব্য দ্বারা কি স্বীকার করা হল, সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন বা তাতে অনিয়ম করেছেন? এটা তো নিরপেক্ষ পত্রিকাটির এবং তাদের সুশীল সমাজের প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক স্পষ্টই বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন-শৃংখলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের আওতায় কাজ করেছে। তথাপি নিরক্ষেপ দৈনিকটির ভাষ্য, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন নিয়ে মানুষের ধারণা এতদিন অনুমাননির্ভর ছিল। এখন এইচটি ইমাম তা খোলাসা করে দিয়েছেন।
উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে দেয়া আর কাকে বলে? এইচটি ইমাম বলেছেন, নির্বাচন প্রতিহত করতে জামায়াত-শিবিরের যে সশস্ত্র গুণ্ডামি আরম্ভ হয়েছিল তা মোকাবেলা করার কথা। বলেছেন এই মোকাবেলায় যেসব পুলিশ প্রাণ দিয়েছেন তাদের কথা। পশ্চিমবঙ্গে একবার রাজ্য নির্বাচনের সময় মাওবাদীরা কয়েকটি নির্বাচন কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলা চালায়। সিপিএম সরকারের সমর্থক ক্যাডার বাহিনী একদল পুলিশের সহায়তায় এই হামলা প্রতিরোধ করে। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এই পুলিশদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাদের আমাদের লোক বলে উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন তো তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেনই, তাদের শান্তি রক্ষার কাজে সহায়তা দানের জন্য জ্যোতি বসু এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন। তাতে কেউ বলেনি বামফ্রন্ট সরকার নির্বাচনে অনিয়ম করেছে বা হস্তক্ষেপ করেছে।
এসব প্রচারণা উপলক্ষ মাত্র। আসল লক্ষ্য শেখ হাসিনা। ভালো হোক আর মন্দ হোক, যেসব সহযোগীর পরামর্শ ও বিচক্ষণতার ওপর নির্ভর করে হাসিনা সরকার টিকে আছে তাদের মধ্যে এইচটি ইমাম একজন। এদের বিতর্কিত করে সরানো গেলে প্রধানমন্ত্রী দুর্বল হবেন, তার পতন ঘটানো সহজ হবে এটাই এই চায়ের কাপে তুফান তোলার লক্ষ্য। এইচটি ইমামের বিরুদ্ধে বাজারে অনেক অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেলে তার ভিত্তিতে তাকে তার পদ থেকে অপসারণের দাবি তোলা যেতে পারে। তা না করে তার বক্তব্যকে বিকৃত করে যারা আপাতত তাকে আক্রমণের টার্গেট করেছে তাদের আসল টার্গেট শেখ হাসিনা।
এই খেলা আমরা ভারতেও দেখেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা ছিলেন পিএন হাকসার এবং ডিপি ধর। তারাও ছিলেন আমলা। তবে কংগ্রেসের অনেক রাজনৈতিক নেতার চেয়ে প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী তাদের পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কংগ্রেসের ভেতরে ও বাইরে যারা ইন্দিরাবিরোধী ছিলেন, তারা ইন্দিরাকে ঘায়েল করতে না পেরে পিএন হাকসার ও ডিপি ধরের বিরুদ্ধে প্রথমে প্রচারণায় নামেন। এ দুজনের সঙ্গেই ইন্দিরা গান্ধীর ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেন। ভুল বোঝাবুঝি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, হাকসারের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দেন। ডিপি ধরের মৃত্যু ঘটে আকস্মিক হৃদরোগে। পিএন হাকসার চাকরি ছেড়ে দেন। ইন্দিরা গান্ধী সম্পূর্ণ একা ও অসহায় হয়ে পড়েন। তাকে নির্বাচনে পরাজিত করে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের আর কোনো অসুবিধা হয়নি। বাংলাদেশেও এখন এই একই ধরনের হাসিনাবিরোধী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রান্ত শুধু আওয়ামী লীগের বাইরে নয়, ভেতরেও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক থাকা দরকার। এইচটি ইমামের বক্তব্যকে টুয়িস্ট করে চায়ের কাপে যে ঝড় তোলা হয়েছে, তার লক্ষ্য অদূর ভবিষ্যতে আসল ঝড় সৃষ্টি করা- তার টার্গেট হবেন শেখ হাসিনা। সময় থাকতে প্রধানমন্ত্রীর শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কারণ অনুসন্ধানে গোয়েন্দারা মাঠে

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. একেএম শফিউল ইসলাম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ। জঙ্গি সংগঠন নাকি রাজনৈতিক কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেসব বিষয়সহ সম্ভাব্য কারণগুলো মাথায় রেখে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে ফেসবুকে শফিউল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করেছে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠন। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এ হত্যার দায় স্বীকার করে তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। তবে এর আগে এ সংগঠনের কোনো নাম শোনা যায়নি এবং তাদের কোনো কর্মকাণ্ডও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শফিউল ইসলাম হত্যার তদন্তেও ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চালানো হচ্ছে। এজন্য শুধু জঙ্গি কিংবা রাজনৈতিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অন্যান্য বিষয়ও মাথায় রাখা হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে যৌথ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল ভারত থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। তারা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করবে। উভয় দেশের জঙ্গি প্রতিরোধসহ সব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে জঙ্গি নির্মূল করা হবে। তবে কতদিন ভারতীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কাজ করবে সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার কিছু বলতে পারেননি।

কম বয়সী স্বামীর জন্য ইসলাম গ্রহণ করতেও রাজি

সন্তান সাতজন তো আছেই, নাতি-নাতনির সংখ্যাও তার ১০। সেই তিনি সবাইকে অবাক করে তার চেয়ে ১৫ বছর কম বয়সীকে বিয়ে করে সবাইকে বিস্মিত করে দিয়েছিলেন। তার স্বামী আবার তিউনিসিয়ার নাগরিক এবং একটি কফি হাউজের কর্মচারী। অনেকেই সন্দেহ করছে, এই অসম বিয়েতে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাদের সন্দেহ অমূলক প্রমাণ করতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন।
ব্রিটেনের জেন ম্যাকলফি (৪৭) ও তিউনিসিয়ার মোহাম্মদের (৩২) মধ্যে অনলাইনে সাক্ষাত হয় ২০১১ সালে। ওই সময়ে জেনের প্রথম বিয়েটা ভেঙে গিয়েছিল। তিনি ছুটে যান তিউনিশিয়ায়। প্রায় এক বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কথা ছিল বিয়ের পর মোহাম্মদ ব্রিটেনে তার স্ত্রীর বাড়িতে চলে আসবেন। কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে। তাদের মতে, মোহাম্মদের ইংরেজি জ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল। স্বামীকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসতে জেন ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাহায্যও চেয়েছেন।
তিনি তার স্বামীর ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার সংকল্পও ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি হিজাবও পরা শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই মনে করছে, এই বিয়ের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। আমি জানি, তেমন কিছুই নেই।
তিনি বলেন, লোকজন মনে করে, তিউনিশিয়ার সব মানুষ লম্পট। কিন্তু তাদের বিষয়টি প্রমাণ করা দরকার। আর লম্পট লোক সারা দুনিয়াতেই আছে, এমনকি ইংল্যান্ডেও আছে।
তিনি বলেন, তিউনিশিয়ায় আমি যাদের দেখা পেয়েছি, সবাই ভালো মানুষ। একবারও যদি মনে হতো, এই বিয়ের তার কোনো খারাপ ইচ্ছা আছে, তবে বিয়েটা করতাম না।

বিশ্বের প্রবীণতম বৃদ্ধ ১৭৯ বছরেও সুস্থ

তার নাতি-নাতনিরাও কেউ এখন আর বেঁচে নেই। অথচ বেঁচে আছেন তিনি। তাই আক্ষেপ করে ১৭৯ বছরের মহাস্টা মুরেসির বলেন, ‘যমে বোধহয় আমাকে নিতে ভুলে গেছে।’
বিশ্বের প্রবীণতম এই বৃদ্ধের বাড়ি ভারতের বেঙ্গালুরুতে। তার  নাম রয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও।
মহাস্টা মুরেসির জন্ম ১৮৩৫ সালে। এমনটাই দাবি ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট ডট কমের। তবে এ খবরের সত্যতা কতটা, তা তর্কযোগ্য।
ওয়েবসাইটির আরো দাবি, মুরেসি নাকি এখন দুঃখ করে বলেন, ‘চোখের সামনে আমার নাতি-নাতনিরা মারা-গেছে। কিন্তু মৃত্যু আমাকে গ্রাস করেনি। আমি তাই মরার আশা ছেড়ে দিয়েছি।’

বাংলাদেশের অনেক প্রাপ্তির সিরিজ

তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম জয়। প্রথম কোনো দলকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের নয় নম্বরে ওঠে আসা। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৩২। ১০ নম্বরে নেমে যাওয়া জিম্বাবুয়ের রেটিং পয়েন্ট ১৮। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরি। শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের পাঁচশ ছাড়ানো (৫০৩) স্কোর। প্রথম বিশেষজ্ঞ লেগ-স্পিনার হিসেবে জুবায়ের হোসেনের অভিষেক ও সাফল্য (১১ উইকেট)। ভিন্ন তিন হোম ভেন্যুতে তিন টেস্ট ও তিন জয়। এক সিরিজে দুই ব্যাটসম্যানের তিনশর বেশি রান (মুমিনুল ও তামিম)। টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে সাকিব আল হাসানের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম ও পাকিস্তানের ইমরান খানের পাশে সাকিব। ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি (তামিম ও ইমরুল কায়েস, ২২৪ রান)। অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ চারটি টেস্ট জয়।

কলম্বিয়ায় জেনারেল রুবেন দারিও অপহৃত

কলম্বিয়ায় জেনারেল রুবেন দারিও আলজাতকে অপহরণ করেছে ফার্ক বিদ্রোহীরা। রোববার বিকেলে মোটরচালিত নৌকায় করে নদীতে বেড়ানোর সময় তাকে অপহরণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, জেনারেল রুবেনকে উদ্ধারের জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফার্ক বিদ্রোহীরা তাকে অপহরণ করেছে।
জেনারেল রোবেন ছাড়াও আরো দুজন বেসামরিক লোককেও গতকাল অপহরণ করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি এনার্জি প্রজেক্ট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রোবেন।
প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল কার্লোস তার টুইটার বার্তায় বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুবেন আলজেটকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জুয়ান কার্লোস পিনজনকে ঘটনা তদন্তে কুইবোর চোকো শহরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা অপহরণকারীদের (লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে ফার্ক বিদ্রোহীরা জড়িত) যত দ্রুত সম্ভব তাকে নিরাপদে ও সুস্থ অবস্থায় মুক্তি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।’
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুইদো এলাকায় থাকা স্থল বাহিনীর সঙ্গে ওই জেনারেলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই এলাকায় বামপন্থী ফার্ক বিদ্রোহীরা সক্রিয় রয়েছে।
কলম্বিয়ায় ১৯৬৪ সালে গেরিলা সংগঠনটি গঠিত হয়। সংগঠনটির এখন প্রায় আট হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

উত্তাল ক্যাম্পাস : কলেজ অধ্যক্ষসহ আটক ৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে শোকর‌্যালি, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, শিক্ষক সমিতি এবং প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উদ্যোগে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বানে কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। ক্যাম্পাস ছিল থমথমে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ দিন বেলা ২টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন আহমেদসহ তিন শিক্ষককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। অন্য দুই শিক্ষকের নাম জানা যায়নি। এর আগে শনিবার হত্যাকাণ্ডের দুই প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান ও দিপ হাসানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মতিহার থানা পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হল। তবে আটকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন রকম তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দারা বলছে, এ পর্যন্ত আটক হয়েছেন ১৫ জন। কিন্তু পুলিশ স্বীকার করেছে আটক অধ্যক্ষ হুমায়ুন আহমেদসহ তিনজন। আজ ও আগামীকাল মঙ্গলবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগে কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. ওয়ারদাতুল আকমাম। দুপুরে বিভাগের শিক্ষকদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় তিন দিনের শোক ঘোষণার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। সন্ধ্যায় শিক্ষক সমিতির সভায় বিভাগের পক্ষ থেকে পুরো ক্যাম্পাসেই কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। রাতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডে জানান, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (আজ) ও মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। এছাড়া ১৯ নভেম্বর একই দাবিতে নগরীর সাহেববাজারে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে মানববন্ধন করবেন তারা। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে শোকর‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দেশে সহিংসতা সৃষ্টিকারী কিছু জঙ্গি সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে নৃংশসতার পরিচয় দিয়েছে। জাতির বিবেক শিক্ষকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশের প্রগতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করতে চায়। বক্তারা সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রফেসর শফিউল ইসলামের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামরুল হাসান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ওয়ারদাতুল আকমাম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক প্রফেসর সফিকুন্নবী সামাদী, প্রফেসর আবুল কাশেম, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক প্রফেসর জাহিদুল হাসান প্রমুখ।
দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোট। মিছিলটি ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খাদিমুল বাশার, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি মিঠুন রায়, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সুজন। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শোক-পদযাত্রা বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। পদযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যজন মলয় কুমার ভৌমিক, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক এসএম আবু বকর, অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা, অধ্যাপক শাহ আযম শান্তুনু প্রমুখ। সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় প্রফেসর শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে পুলিশ এখনও কিছু বলতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন জানান, বিশ্ববিদালয়ের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে।
চিরনিদ্রায় শফিউল ইসলাম : গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, রোববার দুপুরে অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলামকে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের হিয়াতপুরে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সকালে তার মৃতদেহ পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মাসহ আত্মীয়স্বজন। তাকে এক নজর দেখার জন্য পরিচিত মহল ও এলাকাবাসী বাড়িতে ভিড় জমায়। বাদ জোহর হিয়াতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মানুষ ওই জানাজায় অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। নিহত শফিউল ইসলামের একমাত্র ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র জেভিন ইসলাম তার বাবার হত্যাকারী হিসেবে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছেন। তিনি হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিন্দা, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন : ড. শফিকুল ইসলাম হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খুনিদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মানববন্ধন হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

ঢাকায় ব্যস্ত ভারতীয় গোয়েন্দারা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। তারা ইতিমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে এনআইএর দুই সদস্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বাকি দুইজন রোববার রাতেই ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা (ওসি, ইমিগ্রেশন) আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনআইএর মহাপরিচালক শারদ কুমার। সংস্থার উপ মহাপরিদর্শক সজীব ফরিদও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের নিয়েও একটি দল গঠন করা হয়েছে। এই দুই দল মিলেই ‘কাজ করবে’। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে এনআইএর প্রতিনিধিরা দুই দেশের নিরাপত্তার বিষয়ে ‘চলমান সহযোগিতার অংশ হিসাবে’ বাংলাদেশের ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জঙ্গিদের এক গোপন আস্তানায় বোমা বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হয়। পরে এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পারেন ভারতে বসে বাংলাদেশের ভেতরে জঙ্গি তৎপরতার পরিকল্পনা আঁটছে জেএমবির সদস্যরা এবং কিছু ভারতীয় জঙ্গি তাদের এ কাজে সহায়তা করছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনীতিকদেরও হত্যার পরিকল্পনা ছিল এ জঙ্গিদের। সেই সঙ্গে আন্তঃদেশীয় একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়ার কথাও জানায় সংস্থাটি। তারা দাবি করে, বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে হত্যার একটি ছকও কষছে জঙ্গিরা। এরপরে বাংলাদেশেও তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। বর্ধমান বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে সংস্থাটি। যার মধ্যে শেখ রহতুল্লাহ সাজিদসহ কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছে বলে তাদের দাবি। গত ৮ নভেম্বর জেএমবির কমান্ডার শেখ রহতুমুল্লাহ সাজিদকে কলকাতায় গ্রেফতার করে পুলিশ । তার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দায়।

কী ছিল সেই ডকুমেন্টসে?

কী ছিল সেই ডকুমেন্টসে? যা পুরো ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েছিলেন যশোর-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান। কী এমন দুর্নীতির নথিপত্র হাতে পেয়েছিলেন পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবীন, যা তার কাছ থেকে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন টিপু সুলতান। এসব প্রশ্ন ডা. শামারুখের পরিবারের সদস্যদের। ডকুমেন্টস পাওয়ার পর স্যুটকেসে লুকিয়ে রেখেছিলেন ডা. শামারুখ। এ খবর শামারুখ তার বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে ফোনে জানিয়েছিলেন। নুরুল ইসলাম বলেন, ১১ নভেম্বর ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে শামারুখ শ্বশুর টিপু সুলতানের ঘরে সেগুলো পেয়েছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে যান টিপু। এর দুদিন পরই ওই বাসায় লাশ হতে হয়েছে ডা. শামারুখকে।ডা. শামারুখ মাহজাবীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সু®ু¤ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শামারুখের শাশুড়ি প্রফেসর ডা. জেসমিন আরাকে কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়। মাহজাবীন হত্যার ঘটনায় স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাবের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই মামলায় হুমায়ুনের বাবা খান টিপু সুলতান ও মা ডা. জেসমিন আরা রোববার উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।ডা. শামারুখ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এই কলেজের শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তার অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। শামারুখ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার তারা। এ দাবিতে রোববার দুপুর ১২টায় হলি ফ্যামিলি কলেজের সামনে তারা মানববন্ধন করেন। এতে তার স্বজনরাও অংশ নেন।শামারুখের মামা কাজী ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘খান টিপু সুলতান ও তার স্ত্রী ডা. জেসমিন প্রভাবশালী। শামারুখকে হত্যার পরপরই তারা নানা নাটক শুরু করে। হাসপাতালে লাশের পাশে তাদের কেউ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘তাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাল্টানোর চেষ্টা করে টিপু সুলতান। আমরা সঠিক রিপোর্ট চাই। কোনো ছলচাতুরি যেন না করা হয়। তার শরীরে হত্যার অনেক প্রমাণ রয়েছে।’কলেজের শিক্ষক নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শোয়েব আলম বলেন, ‘শামারুখের মতো মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার মতো আর কোনো মেয়ে যেন হত্যার শিকার না হয়। তার মৃত্যুর সঠিক বিচার প্রত্যাশা করি।’ ডা. শামারুখের সহপাঠী ডা. আবিদা সুলতানা বলেন, ‘হাসপাতালে শামারুখের শরীরে হত্যার অনেক আলামত আমরা দেখেছি। এই হত্যা যেন সুইসাইড বলে চালানো না হয়।সহকর্মী ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘ওর (শামারুখ) শাশুড়ি ওকে নাইট ডিউটি করতে দিত না। ডা. সেঁজুতি জানান, একটু রাউন্ড দেয়ার পরই শাশুড়ি ডা. জেসমিন তাকে বাসায় নিয়ে চলে যেত। ডা. সাব্বির বলেন, শামারুখ ছিল পরোপকারী মানুষ। তার মাধ্যমে বহু দরিদ্র রোগী রক্ত পেয়েছে। প্রতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে টোকাই ছেলেমেয়েদের পড়াতেন শামারুখ। শামারুখের শাশুড়ি ডা. জেসমিনকে কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে। প্রায় এক ঘণ্টা চলা এই মানববন্ধনে কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া ছিলেন না। তিনি বলেন, কলেজের কাজে আমি ব্যস্ত ছিলাম। তবে মানববন্ধনে আমার সমর্থন রয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কলেজে দুপুরে মিলাদ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান তিনি।কাজী ফিরোজুর রহমান জানান, টিপু সুলতান খুবই লোভী প্রকৃতির। পুত্রবধূর (শামারুখ) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে সে খবরও সে নিত। ১০ লাখ টাকা আছে সংবাদ পেয়ে ওই টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর জন্যও বলেছিল টিপু সুলতান। ছেলের বিয়ের সময় ও পরে অনেক যৌতুক নিয়েছে সে। শামারুখের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শামারুখ আমাকে ফোনে বলেছিল, আব্বু আমার শ্বশুরের দুর্নীতির অনেক ডকুমেন্টস পেয়েছি। সেগুলো আমার স্যুটকেসে রেখেছি। সবকিছু ফোনে বলা যাবে না।’বৃহস্পতিবার দুপুরে ডা. শামারুখ মাহজাবীনকে ধানমণ্ডি টিপু সুলতানের বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে টিপু সুলতান, ডা. জেসমিন ও হুমায়ুন সুলতানের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিনই স্বামী হুমায়ুন সুলতানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন তার আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।ধানমণ্ডি থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, হুমায়ুনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। কাল (আজ সোমবার) তাকে থানায় নেয়া হবে।আগাম জামিন : পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবীন হত্যা মামলায় আগাম জামিন পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা। রোববার হাইকোর্টে আÍসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন করেন তারা। বিচারপতি সৈয়দ এবি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আবেদনের শুনানি শেষে চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতে এই দম্পতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও ফজলুল হক খান ফরিদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরউল্লাহ।আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক খান ফরিদ আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগাম জামিন পেয়েছি। আদালত আমাদের আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।’ এই দম্পতির আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘এটা একটা আত্মহত্যার মামলা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এজাহারে নেই।’ টিপু সুলতান আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য এবং ডা. জেসমিন একজন অধ্যাপক জানিয়ে ফজলুল হক আদালতকে বলেন, এ মামলায় তারা আগাম জামিন পেতে পারেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।জানতে চাওয়া হলে ড. বশিরউল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। পাশাপাশি যখন আত্মসমর্পণ করবেন তখন তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য বলেছেন।