Showing posts with label হারুন আল রশীদ. Show all posts
Showing posts with label হারুন আল রশীদ. Show all posts

Thursday, June 13, 2019

সাত ফাঁসির আসামির ‘আত্মসমর্পণ’- নেপথ্যে বাণিজ্য by হারুন আল রশীদ

পাবনায় গত এপ্রিলে চরমপন্থীদের জমা দেওয়া অস্ত্র
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী গত এপ্রিলে জয়পুরহাট জেলার ৮০ জন ‘চরমপন্থী’ আত্মসমর্পণ করেছেন। তালিকাভুক্ত সাতজন ফাঁসির আসামি, যাঁরা কারাবন্দী অথবা পলাতক। আছেন সন্ত্রাসী আর মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের নেতা আবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাও।
স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, আদতে এঁদের কেউ চরমপন্থী নন। তালিকাভুক্ত কয়েকজন বলেছেন, চরমপন্থী সেজে আত্মসমর্পণ করলে ঝুটঝামেলা থাকবে না, টাকা পাওয়া যাবে—এই লোভ তাঁদের দেখিয়েছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের দুই নেতা। প্রথমজনই চরমপন্থী নেতা পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই নেতারা ‘আর্থিক প্রণোদনা’র বখরা নিতে তাঁদের চরমপন্থী সাজিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তালিকাটি ধরে প্রথম আলো সরেজমিন অনুসন্ধান করেছে। এই প্রতিবেদক কথা বলেছেন জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নানা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।
যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তালিকার অন্তত ২২ জন ছাত্রদল, যুবদল বা বিএনপির নেতা-কর্মী। বাদবাকি প্রায় সবাই যুবলীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেন, যাঁদের বেশ কয়েকজন অতীতে বিএনপি-জামায়াতের ঘরে ছিলেন।
আত্মসমর্পণের ইতিবৃত্ত
চরমপন্থী আন্দোলনে দীর্ঘকাল যুক্ত একজন রাজনৈতিক নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, ১৯৬৯ সালে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল লাল পতাকা) এ দেশে সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য চরমপন্থার সূচনা করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরে নওগাঁ পর্যন্ত তাদের তৎপরতা ছিল। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কাছে তাদের একটি বড় অংশ আত্মসমর্পণ করেছিল।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সর্বশেষ গত ৯ এপ্রিল ১৬ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থী পাবনার শহীদ আমিন উদ্দীন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের মধ্যেই জয়পুরহাটের ৮০ জনের নাম ছিল। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে সরকার প্রত্যেক আত্মসমর্পণকারীকে ১ লাখ এবং দলনেতাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় কারাবন্দীদের সম্পর্কে কিছু বলা নেই। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কথা। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, আত্মসমর্পণের পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কারাবন্দী ছিলেন, তাঁদের আত্মসমর্পণস্থলে হাজির করা হয়নি।
আত্মসমর্পণ পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছিল এপ্রিলের গোড়ায়। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, আইনগতভাবে চরমপন্থীদের তালিকা তৈরি পুলিশের কাজ। কিন্তু তাঁরা শুধু কাগজপত্রে সই করেছেন। পুলিশ সুপার (এসপি) রশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জানামতে, জয়পুরহাটে কোনো চরমপন্থী বা চরমপন্থীদের সংগঠন নেই। তা সত্ত্বেও আমরা ৭১ জনের একটি তালিকা পেয়েছি। সেটাই পাবনায় পাঠানো হয়েছে।’
তবে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পাবনায় গোয়েন্দা সংস্থাটি ৮০ জনের তালিকা জমা দেয়। তখনই ফাঁসির আসামিসহ কয়েকজনের নাম ঢোকানো হয়।
জয়পুরহাটের তালিকায় সমস্যার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানেন। তবে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘চরমপন্থীদের এই তালিকা পুলিশ করেনি। এটি করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই তালিকা অনুযায়ী চরমপন্থীরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।’
মন্ত্রী বলেন, এ আত্মসমর্পণের নীতি বা প্রক্রিয়ার কিছুই তাঁর জানা নেই। তবে কারও নামে মামলা থাকলে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এপ্রিলের গোড়ায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বলেছিলেন, আত্মসমর্পণের পর মামলা-মোকদ্দমা খতিয়ে দেখে পুনর্বাসন করানো হবে।
ফাঁসির দণ্ড, খুনের আসামি
জয়পুরহাট পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম তালিকায় সাত ফাঁসির আসামির নাম ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ওয়াজেদ আলী, আবু হাসান (ওয়াজেদের ছেলে), মহির উদ্দিন, চৈতন্য, সাফাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান ও মন্টু মিয়া।
যুবলীগ নেতা আবদুল মতিন হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সদর থানা বলেছে, উচ্চ আদালতে তাঁদের আপিল মামলা চলছে। মন্টু মিয়া আগাগোড়া পলাতক, বাকিরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন। তাঁরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছিলেন।
আসামি ওয়াজেদ আলীর ছেলে জুয়েল রানা বলেন, ‘বাবা কখনো চরমপন্থী ছিলেন কি না, তা জানি না। এলাকার বড় ভাই মাহবুব আলম পুরো বিষয়টি দেখাশোনা করেছেন।’
একই হত্যা মামলায় মাহবুব আলম যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। তিনি এখন জামিনে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নামে অনেক মামলা আছে। সরকারি দলের লোকজন বলেছেন, চরমপন্থী সেজে আত্মসমর্পণ করলে মামলা থেকে খালাস পাওয়া যাবে। সে জন্য আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।’
আত্মসমর্পণকারীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।
এ জেলায় কখনো চরমপন্থী ছিল না।
তালিকায় অন্তত নয়জন হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি আছেন। তাঁদের মধ্যে আসলাম হোসেন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে সুপরিচিত। রাজীব হোসেনের নামে হত্যাসহ ডজনখানেক মামলা আছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত সেবা কুমার দাসের নামে একটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা আছে।
পুলিশের নথি বলছে, তালিকাভুক্ত অন্তত ছয়জন চরমপন্থী আদতে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল হোসেনের নামে ১৭টি মামলা আছে।
সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চরমপন্থী হোক বা না হোক, ফাঁসির আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড মওকুফ বা স্থগিত অথবা বাতিল করার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলে সেখানেই এর ফয়সালা হবে। সব শেষে থাকবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ।
তালিকার নেপথ্যে
পাবনায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ১৬ জেলার ১৬ চরমপন্থী নেতা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জয়পুরহাটে নেতৃত্ব দেন রমজান আলী, নেতা হিসেবে যিনি প্রণোদনার টাকা পান ১০ লাখ। কিন্তু এই রমজান আবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও বহাল আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে।
এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, রমজান একসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলীর মোটরসাইকেলচালক ছিলেন। তিনি শহরের মাস্টারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতিও বটে।
জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র নন্দলাল পার্শি আওয়ামী লীগ জেলা কমিটির সদস্য। আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন বলেন, তিনিও লোকজন গোছানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তাঁরা বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাটির লোকজনেরও সম্পৃক্ততা ছিল।
নন্দলাল পার্শি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় চরমপন্থী নেই। কিন্তু রমজান তাঁকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারদলীয় লোকজনকে ছোটখাটো মামলা থেকে অব্যাহতি দেবে, আর্থিক সহায়তা দেবে। নন্দলাল তাই তালিকায় কিছু ছেলের নাম দিয়েছেন। রমজান আলী অবশ্য এ বিষয়ে ‘ভালো-মন্দ’ কোনো কথাই বলতে রাজি হননি।
রমজানের ভাই সেলিম বাবুর নামে একাধিক অস্ত্র মামলা আছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা থেকে রেহাই পেতে আরও তো অনেক ছেলে চরমপন্থী সেজেছে। সুতরাং তালিকায় আমার নাম থাকলে সমস্যা কী?’
রোমানুর রহমান জেলা যুবলীগের সদস্য। তাঁর নামে একটি হত্যা মামলা আছে। এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রোমানুর বলেন, রমজান ও নন্দলাল পার্শির পরামর্শে তিনি তালিকায় নাম দেন। কিন্তু পাবনায় যাওয়ার পর জানতে পারেন তিনি ‘চরমপন্থী’। রোমান বলেন, পুরো তালিকাই ভুয়া।
তালিকাভুক্ত অন্তত দুই ব্যক্তির নামে থানায় কোনো মামলা নেই। তাঁদের একজন হচ্ছেন মুক্তা বিশ্বাস, যিনি নন্দলাল পার্শির ভাগনে। অন্যজন নুরুজ্জামান বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী।
ভাগনের ব্যাপারে নন্দলাল বলেন, মুক্তা রমজানের বন্ধু হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আর নুরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমার নেতা রমজান তালিকায় নাম দিয়েছেন। বলেছেন এক লাখ টাকা পাওয়া যাবে। তাই রাজি হয়েছি।’
টাকার জন্য চরমপন্থী সেজেছেন? নুরুজ্জামান বলেন, ‘কী করব! কষ্টে আছি, টাকার যে খুব দরকার।’
কাদামাটির মানুষ
জেলা নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়ার এই অভিনব প্রক্রিয়া সভাপতি ও সাংসদ সামছুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলীর সমর্থনপুষ্ট। সাংসদ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোলায়মান আলীও বলেছেন, তিনি বিশেষ কিছু জানেন না।
জয়পুরহাটের কথিত চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ করেন কাদামাটি সংগঠনের নেতা-সদস্য হিসেবে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, এটি একটি নামসর্বস্ব রাতারাতি ভুঁইফোড় ভুয়া সংগঠন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম হাক্কানীও বলেন, ‘এই জেলায় এলেমাটি, বেলেমাটি, কাদামাটি, দোআঁশ মাটি—সবই আছে। কিন্তু কাদামাটি নামের কোনো চরমপন্থী সংগঠনের নাম কোনোকালে শুনিনি।’
ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক কয়েক যুগ ধরে বাম রাজনীতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনিও একই কথা বলেন। আর বলেন, তাঁর জানামতে জয়পুরহাটে কখনো চরমপন্থীদের তৎপরতা ছিল না।

Wednesday, May 15, 2019

‘বাকিতে’ ইভিএম কিনে টাকার জন্য ঘুরছে ইসি by হারুন আল রশীদ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৮২ হাজার ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কেনার জন্য দরকার ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সরকার এই টাকা দেবে কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়েই তারা ৮২ হাজার ইভিএম কেনার জন্য কার্যাদেশ দিয়ে দিয়েছে বিএমটিএফকে (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি)। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় ইসিকে দিয়েছে মাত্র ৭৯৭ কোটি টাকা। বলেছে, এই অর্থবছরে আর কোনো টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, বিএমটিএফ কার্যাদেশ পেয়ে ৮২ হাজার ইভিএম বানিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় খানিকটা চাপে ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ইসি। বাকি ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কোত্থেকে আসবে? উদ্ধার পেতে তারা এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছে।
শেষমেশ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের কমবেশি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। সেই সব ব্যর্থ প্রকল্পের টাকা ফেরত এলে তা সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে দেওয়া হবে। তারপর যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে, তা ইসিকে দেওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসির এই প্রকল্পের অবস্থা এখন লেজেগোবরে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যে জন্য ইভিএম
২০১৮ সালের জুলাইতে ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটির প্রকল্প গ্রহণ করে। এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, প্রকল্প শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, অধিকতর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের উন্নয়ন করা। প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক চলে আসছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই নির্বাচনে এর ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকেও এর ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা শুরুতে ইভিএমের পক্ষে না থাকলেও এখন তিনি দেশব্যাপী এর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিশনার মাহবুব তালুকদার প্রকল্পের ঘোর বিরোধী মনোভাব দেখালেও ইভিএমসংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলোয় তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন বলে কমিশন সূত্র জানায়।
এমন সব তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফল ইতিবাচক ছিল না। তবে সর্বশেষ কয়েকটি উপজেলায় কোনো ধরনের বিপত্তি ছাড়াই ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প
প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ সালে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি, ২০১৯-২০ সালে ৮৫০ কোটি, ২০২০-২১ সালে ৮৫৪ কোটি, ২০২১-২২ সালে ৭৭ কোটি এবং ২০২২-২৩ সালে ৪৫ কোটি ব্যয় করা হবে। প্রকল্পে তিন ধাপে ইভিএম কেনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮২ হাজার ইভিএম কেনা হবে, যার ব্যয় ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কেনা হবে ৩৪ হাজার করে ইভিএম। আর তাতে ব্যয় ৭৯৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা করে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য মেশিন ও যন্ত্রপাতির দাম ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ব্যবহারের উপযোগী প্রতিটি ইভিএমের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।
অপরিকল্পিত প্রকল্প
প্রথম ধাপে ৮২ হাজার ইভিএম কেনার জন্য দরকার ছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই টাকা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই ইসি বিএমটিএফকে ৮২ হাজার ইভিএম কেনার কার্যাদেশ দিয়ে দেয়। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, কার্যাদেশ পেয়ে বিএমটিএফ সমপরিমাণ ইভিএম তৈরি করে ফেলেছে। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করেছে মাত্র ৭৯৭ কোটি টাকা। দুই মাস আগে এই টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর থেকে বিএমটিএফকে পরিশোধ করা হয়েছে। এই টাকা থেকেই বিএমটিএফ থেকে ইসিকে ইতিমধ্যে ২১ হাজার ইভিএম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ইসির সঙ্গে বিএমটিএফের চুক্তি অনুযায়ী বাকি ১ হাজার ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আগামী জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা কয়েক দফায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু সেখানে ইতিবাচক কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এরপর গত মাসে ইসি থেকে সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়। এই মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এডিপির অব্যয়িত টাকা ফেরত এলে সেখান থেকে ইসিকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসি যেহেতু ইভিএম কিনে ফেলেছে, সেহেতু টাকা তো দিতেই হবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি যাতে টাকাটা দেওয়া যায়।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত এডিপির অব্যয়িত টাকা ফেরত আসার পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এই টাকা ব্যয়ের জন্য যে সুপারিশ করে, তাতে অর্থ মন্ত্রণালয় আপত্তি করে না। আর অর্থ মন্ত্রণালয় যাতে আপত্তি না করে, সে জন্য ইসি থেকেও জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিএমটিএফ মেশিন বানিয়ে ফেলেছে। এর পেছনে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ হয়ে গেছে। সে জন্যই আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যেসব টাকা অব্যয়িত থাকবে, সেগুলো আমাদের দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’
তড়িঘড়ির কারণ
বর্তমানে যেসব নির্বাচন হচ্ছে বা সামনে যেসব নির্বাচন হবে, তা সামলানোর মতো ইভিএম ইসির কাছে রয়েছে। ২০২১ সালের শুরুতে দেশজুড়ে পৌরসভা নির্বাচন হবে। তার আগে দেশে বড় পরিসরে কোনো নির্বাচন নেই। যে কারণে এই অর্থবছরেই ৮২ হাজার ইভিএম কেনা এবং টাকার জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে ছোটার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কারও মতে, ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ নির্বাচন শেষ। তাই তাঁরা যেকোনো সময়ে বদলি হয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ফেরত যেতে পারেন। মূলত, তাঁদের ইচ্ছাতেই এই অর্থবছরে ৮২ হাজার কেনার কাজ শেষ করার তোড়জোড় চলছে। তাঁরা থাকা অবস্থাতেই ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কেনাকাটার কাজ শেষ করে যেতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক এম হাফিজ উদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্পে ইসি সরকারি নিয়ম-নীতির কিছুই মানেনি। পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাস হওয়ার আগেই তারা প্রকল্পের মালামাল কিনে ফেলেছে। টাকা বরাদ্দ হওয়ার আগেই মালামাল কেনার কার্যাদেশ তারই ধারাবাহিকতা। এটা পিপিআরের (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল) পরিপন্থী।
প্রকল্পে অনিয়ম
নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী এই প্রকল্পে ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু ইসি একজন প্রকল্প পরিচালক, একজন উপপ্রকল্প পরিচালক ও একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের কারিগরি দিক বাস্তবায়নের জন্য একজন প্রোগ্রামার, একজন মেন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার, দুজন পারসোনালাইজেশন অফিসার ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। চলমান আইডিয়া প্রকল্পের জনবল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে ইভিএম পরিচালনার জন্য ৩ হাজার ১১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা আছে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সংসদ নির্বাচনে আগেই থেকে ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে ব্যয় হওয়া টাকা প্রকল্প থেকে না দিয়ে ইসির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

Tuesday, December 22, 2015

প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ ইসি- পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫: আচরণবিধি লঙ্ঘন by হারুন আল রশীদ

আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্বাচনী অনাচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি দলের মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অব্যাহত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
নির্বাচনী বিধিবিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বেশির ভাগ সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে যাচ্ছে। সর্বশেষ মেয়র ও কাউন্সিলর পদের শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই প্রার্থীদের বেশির ভাগ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’।
কমিশন মাঠপর্যায়ে যেসব তদন্ত চালাচ্ছে, তার ফলও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে যাচ্ছে। কমিশন এ পর্যন্ত ১৯টি ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চিঠির জবাব এসেছে। তাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোগ অসার বলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দিয়েছেন। কেবল সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার ক্ষেত্রে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়ায় এই কর্মকর্তাকে শাস্তি দিলেও অনিয়মের সুবিধাভোগী সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বন্দুক প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে: নির্বাচন পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতা থাকলেও কমিশন তা প্রয়োগ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মন্ত্রী-সাংসদসহ সরকারি সুবিধাভোগীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সহজাত ক্ষমতাকে কাজে লাগাচ্ছে না। এ অবস্থায় গতকাল রোববার কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে কমিশনার শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন, এটা আমাদের প্রত্যাশা। যাঁরা সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, তাঁরা যেন কমিশনকে সহযোগিতা করেন। কারণ, এই নির্বাচনের সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত। তাঁদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না, যাতে কমিশনকে অপ্রস্তুত হয়ে পড়তে হয়। তাঁরা যেন কমিশনকে এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে বাধ্য না করেন, যাতে তাঁরাও অপ্রস্তুত হন। সরকারপ্রধানের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তিনি যেন দেখেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। একজন কমিশনার এ ধরনের কথা বললে ধরে নিতে হয়, সরকারের মন্ত্রী-সাংসদেরা আচরণবিধি মানছেন না। কমিশনও তাঁদের সামাল দিতে পারছে না। কিন্তু সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট আইন আছে। সেটা তারা প্রয়োগ করছে না কেন?
আপিলের সিদ্ধান্ত: কমিশন সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২৩৪টি পৌরসভায় বাছাইয়ে মেয়র পদে ১৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তাঁদের মধ্যে বিএনপির ১৬ জন প্রার্থী আছেন। তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকিরা অন্যান্য দলের।
অভিযোগ আছে, সরকারি দলের প্রার্থীদের চাপে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে ৫৮১ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
কমিশন সচিবালয় থেকে জানা যায়, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া দেড় শতাধিক প্রার্থী হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে সাত-আটজন মেয়র প্রার্থী আছেন। ভোটের আট দিন আগে এখন কমিশন এ বিষয়ে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, কমিশন মনে করে, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা আপিল কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কারণেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে দুজন কমিশনার হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল না করার পক্ষে মত দেন। তিনজন কমিশনার আপিলের পক্ষে মত দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
হাইকোর্টের রায়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চাঁদপুরের ছেংগারচরে বিএনপির সারোয়ারুল আবেদীন, বগুড়ার সারিয়াকন্দিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হামিদ সরদার ও আবদুর রশিদ ফরাজী, শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির গোলাম মো. রাব্বানী, লাকসামে জাতীয় পার্টির মোখলেসুর রহমান, হোমনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল হক, সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী প্রমুখ।
কমিশনের পদক্ষেপে সুবিধা সরকারি দলের: সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা (জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) আবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। আমিনুল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। আইন অনুযায়ী পৌরসভায় নির্বাচন করতে হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে উপজেলা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তিনি তা না করেই পৌর মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
কমিশন এই অপরাধে আবুল হোসেনকে বরখাস্ত করলেও আমিনুলের প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ না করায় কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আদালতে যেতে পারেন।
কিন্তু কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনে কেউ অবৈধ সুযোগ গ্রহণ করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা কমিশনের আছে। নির্বাচন পরিচালনাবিধির ৯০ ধারায় বলা আছে, লিখিত অভিযোগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন বিষয়টি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একই ঘটনায় দুই রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে না। রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া মানে এখানে অনিয়ম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা কমিশনের আছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান, সাংসদ এনামুল হক, হাসিবুর রহমানসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও শেষ পর্যন্ত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহের ফুলপুরে হাসানুল হক ইনু ও মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কমিশনে পাঠানো প্রতিবেদনে বলেছেন, দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাঁরা সমাবেশে বক্তব্য দিলেও ভোট চাননি। তবে তিনি সরকারদলীয় প্রার্থী শশধর সেনকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
চাঁদপুরের ছেংগারচর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিএনপির প্রার্থী সারোয়ারুল আবেদীনের মনোনয়নপত্র থেকে শিক্ষাসনদ ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে তা অবৈধ ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে কমিশনের চিঠির জবাবে গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সর্বোচ্চ শিক্ষার সনদ ও আয়কর-সম্পর্কিত দলিলাদি সংযুক্ত করেননি। সার্বিক মন্তব্যে তিনি বলেছেন, সারোয়ারুল আবেদীনের বক্তব্য শুধু মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং মানহানিকর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ইতিমধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে সারোয়ারুল আবেদীন তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছেন না।
সারোয়ারুল আবেদীনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল আলম।

Friday, October 30, 2015

স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ থাকছে না by শরিফুজ্জামান ও হারুন আল রশীদ

মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলেও পৌরসভা আইনের খসড়া থেকে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বাদ দিতে বলেছে আইন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও তা সমর্থন করেছে। এর ফলে জেলা পরিষদ ছাড়া স্থানীয় সরকারের সব স্তরে প্রশাসক নিয়োগের আর সুযোগ থাকছে না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় প্রশাসক নিয়োগের বিধান বাদ দিতে হচ্ছে। এ কারণেই অধ্যাদেশ জারি করতে দেরি হচ্ছে। ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদন করার কয়েক দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির কথা ছিল। ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে। তবে নির্বাচন কমিশন মনে করে, অধ্যাদেশ জারির সময় পেছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং একজন জনপ্রতিনিধি আরেকজন জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। পৌরসভার মেয়রদের সংগঠনও এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিল। তারা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়টি তুলে ধরে। শেষমেশ সংগঠনের একাধিক নেতা প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি হলে মামলার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সংবিধান ও আইনের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক না হয়, সে জন্য আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি বাদ দেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ার কথা। সে জন্য সরকারের লক্ষ্য তৃণমূলে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা। আর প্রশাসক নিয়োগ করলে তা সম্ভব হবে না।
১২ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে করার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। হাতে সময় কম থাকায় পৌরসভা আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারির সিদ্ধান্ত হয়। ওই অধ্যাদেশে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হলে পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, প্রশাসক নিয়োগের বিধান বাদ দিয়ে অধ্যাদেশ বা আইন করা হলে বলতে হবে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এখন সরকারের উচিত হবে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের যে বিধান আছে, সেটিও বাতিল করা এবং নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে জেলা পরিষদ ছেড়ে দেওয়া।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংশোধন আইন অনুমোদন হওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে দল-মতনির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে পরিস্থিতি এমন হয়ে উঠছিল যে, বিষয়টি মামলা-মোকদ্দমার দিকে গড়াচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে উচ্চ আদালতের এক রুলে বলা হয়েছিল, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আরেকজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
ঢাকা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি তাহলে অবৈধ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার ফলে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। কারণ, নতুন দুটি সিটি করপোরেশন সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে প্রথমে প্রশাসক দিয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছে। স্থানীয় সরকারের যেকোনো নতুন প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে শুরু করতে হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র শামীম আল রাজি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অধ্যাদেশ বা আইনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলে আমরা মামলা করব। কারণ, এই বিধান হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সংবিধানের পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, ম্যাব নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। পিছিয়ে দেওয়া হলে এবারের হালনাগাদে যাঁরা নতুন ভোটার হচ্ছেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আগামী জানুয়ারির মধ্যে ২৪৫টি পৌরসভায় নির্বাচন করতে হবে। তবে কমিশন ডিসেম্বরে নির্বাচন শেষ করতে চায়। কারণ, ১ জানুয়ারি হালনাগাদ করা ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হবে এবং ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইনগতভাবে জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নতুনদের ভোট দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন করাটা নৈতিকভাবে সমর্থন করা কঠিন। সে জন্যই কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে চায়।
এদিকে মন্ত্রিসভায় দলীয় মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি অনুমোদন হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে সরকার-সমর্থক প্রার্থীরা আইন বা অধ্যাদেশ হওয়ার আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম প্রথম আলোকে বলেন, মাঠপর্যায়ে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে। তারপরও এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।

Sunday, August 2, 2015

স্বামীদের ছেড়ে যাচ্ছেন দুই বোন দয়া ও ছবি by হারুন আল রশীদ ও শহীদুল ইসলাম

বাস্তবতা মাঝে মাঝে বড় নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। যখন আসন্ন মুক্তির আনন্দে ভাসছে পঞ্চগড়ের কোটভাজনী ছিটমহলের বাসিন্দারা, তখন নাটকীয়তায় ভরা বাস্তবতা কাঁদাচ্ছে দুই বোন দয়া রানী ও ছবি রানীকে। দুজনই তাঁদের স্বামীদের বাংলাদেশে রেখে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কোটভাজনী ছিটমহলের নতুন বাজারে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা ভারতে যেতে আগ্রহীদের শুনানি গ্রহণ করছিলেন, তখনো দয়া ও ছবি ছিলেন সিদ্ধান্তহীন। কর্তৃপক্ষকে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় পার হয়ে গেছে।
এর আগেই দুপুরে দয়া ও ছবির ভাই কমলেশ্বর কুমার প্রথম আলোকে জানান, তাঁর দুই বোন দয়া ও ছবি ভারতে চলে যাবেন। ছবির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে দিগন্ত কুমার রায় ও দয়ার চার বছর বয়সী ছেলে বাঁধন চন্দ্র রায় তাঁদের সঙ্গে যাবে। দয়ার স্বামী হৃদয় কুমার রায় ও ছবির স্বামী ভূপেশ কুমার রায় বাংলাদেশে থেকে যাবেন। কমলেশ্বর আরও জানান, তাঁর বাবা-মা, চার ভাই ও তাঁদের স্ত্রী-সন্তানেরাও ভারতে চলে যাচ্ছেন।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ছিটমহলে ২০১১ সালের জনগণনায় যাঁদের নাম ছিল কেবল তাঁরা ভারতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। এ ছাড়া ২০১১ সালের পর তাঁদের পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং বৈবাহিক সূত্রে পরিবারের সদস্য হওয়া ব্যক্তিরা ভারতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। কিন্তু ২০১১ সালের জনগণনার তালিকায় দয়া ও ছবির নাম থাকলেও তাঁদের স্বামীদের নাম নেই।
হৃদয় ও ভূপেশ শুনানি গ্রহণকারী পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আজম ও কোচবিহারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন দত্তকে জানান, তাঁরা ঢাকায় কাজ করেন। যে কারণে ২০১১ সালের গণনার সময় তাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেননি। দয়া ও ছবি বলেন, তাঁরা পারিবারিকভাবে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু স্বামীদের রেখে কীভাবে যাবেন?
তাঁদের প্রশ্নের জবাবে সৌমেন দত্ত বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে আপনাদের সমস্যার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তা ছাড়া আপনারা চাইলে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’
বৃহস্পতিবার বিকেলেও দয়া ও ছবি ছিলেন সিদ্ধান্তহীন। তবে গতকাল দুই বোন প্রথম আলোকে তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। দয়া বলেন, ‘না গিয়ে কোনো উপায় নেই। কারণ আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সবাই চলে যাচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ব।’
ছবি বলেন, ‘ভাইদের সঙ্গে আমরা ভারতে থাকব। সেখানে কোনো সমস্যা হবে না। ভারতে গিয়ে সরকারকে আমার স্বামীকে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করব।’

Friday, April 17, 2015

আ.লীগের ১৬ প্রার্থীকে মামলা থেকে রেহাই by হারুন আল রশীদ ও মোশতাক আহমেদ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ১৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ২২টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা থেকে বিভিন্ন উপায়ে রেহাই দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নয়জনের পাঁচটি হত্যা ও সাতটি হত্যাচেষ্টার মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়।
২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৯৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য ১০টি মামলা কবে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা হলফনামায় উল্লেখ নেই। তাঁরা এসব মামলাকে মিথ্যা হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শত্রুতা করে এসব মামলা করেছিল।
স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে দলীয়ভাবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই দলের পক্ষ থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সমর্থন দিয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপি-সমর্থিত ৫৪ জন প্রার্থীর নামে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে। এঁদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন হত্যা মামলা এবং ২২ জন হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি। এসব মামলার বেশির ভাগই ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে করা মামলাও রয়েছে।
উত্তর সিটি: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলা হলেও চারজনই হয় অব্যাহতি অথবা খালাস পেয়েছেন। বাকি দুজনের মামলা বিচারাধীন।
এ ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে অন্য ধারায় মামলা থাকলেও সেগুলো প্রত্যাহার, খালাস বা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বর্তমান ও অতীতে কোনো মামলা ছিল না।
হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সলিম উল্লাহ সলুর বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধিতে চারটি মামলা ছিল। এর মধ্যে সব কটি থেকেই অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন তিনি।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জামাল মোস্তফার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা ছিল। কাফরুল থানায় ৩০৭ ধারায় করা একটি মামলা (২৮ নম্বর মামলা) তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন। বাকি চারটি মামলার তিনটি প্রত্যাহার ও একটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে জামাল মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব মামলা করেছিল, যা মিথ্যা। তাঁর ভাষায় প্রতিপক্ষ ‘শয়তানি’ করে এসব মামলা করেছিল।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রউফও দুটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সফিউল্লার বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধিতে ২০০২ সালে তেজগাঁও থানায় মামলা হলেও তাঁকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য ধারায় আরও দুই মামলায় অব্যাহতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে একজন ফোন ধরে জানান, সফিউল্লা জনসংযোগে ব্যস্ত।
২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ঢাকা উত্তরের আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় একটি মামলা সাক্ষী পর্যায়ে আছে। তবে মোহাম্মদপুর থানায় করা ৩০২/৩৪ ধারায় করা আরেকটি মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ফরিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের মহল্লায় একজন ছিনতাইকারীকে পিটিয়েছিল মহল্লাবাসী। তখন বিরোধী দলে থাকায় রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ওই মামলায় জড়ানো হয়।
ঢাকা উত্তর সিটির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী কাজী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় পল্লবী থানায় একটি মামলা আছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এর বাইরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মোবাশ্বের চৌধুরীর নামে অতীতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং অন্যান্য ধারায় আরেকটি মামলায় প্রত্যাহার করা হয়।
দক্ষিণ সিটি: আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ৫৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নয়জন প্রার্থীর পাঁচটি হত্যা ও সাতটি হত্যাচেষ্টার মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
মামলা প্রত্যাহার, অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি ও আদালত থেকে খালাস পাওয়ায় ১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এখনো মামলা আছে। ৪০ জনের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মামলা ছিল না, বর্তমানেও নেই।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর প্রার্থী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা হয়। এ ছাড়া ২০০৭ সালে বিস্ফোরক আইনে ও অন্য ধারায় দুটি মামলা হয়। তিনটি মামলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করেছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোহাম্মদ আসরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে একটি হত্যা মামলাসহ দুটি মামলা হলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইভাবে প্রত্যাহার করা হয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সুলতান মিয়ার মামলা। এই হত্যা মামলা হয়েছিল ২০০৬ সালে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম আশরাফের প্রত্যাহার করা মামলাটি ছিল হত্যাচেষ্টার (৩০৭ ধারা)। ৫২ ওয়ার্ডের নাছিম মিয়ার প্রত্যাহার করা মামলাটি হয়েছিল ২০০৩ সালে অস্ত্র আইনে।
জানতে চাইলে সুলতান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বইঠার মিছিলের ওপর হামলায় কয়েকজন মারা যান। তখন রাজনৈতিক উদ্দেশে খুনের মামলা হয়। তাঁকেও সেই মামলার আসামি করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশে মামলাটি হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি প্রত্যাহার করেছে।
১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হোসেন হায়দার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৯ সালে তাঁর নামে হত্যা মামলা হয়েছিল। মামলাটি ২০১০ সালে প্রত্যাহার করা হয়। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মোট চারটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে একটি হত্যাচেষ্টার। বাকিগুলো বিস্ফোরক আইনসহ দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারায়।
দুটি মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোহাম্মদ সাহিদকে। ৫০ ওয়ার্ডের সায়েম খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা ছিল। সবকটি থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা ও তিনটি হত্যাচেষ্টার মামলা।
৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইলিয়াস রশীদের নামে ২৩টি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টার। এগুলোর মধ্যে আটটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকিগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি অথবা খালাস পেয়েছেন। তবে তাঁর নামে ২০০৭ সালের একটি হত্যা মামলা এখনো বিচারাধীন।
জানতে চাইলে ইলিয়াস রশীদ বলেন, ২০০১ সালের আগে তাঁর নামে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) ছিল না। বিএনপির নেতারা খুন করে তাঁর নামে মামলা করেছেন।
৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা আছে। অতীতে দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তাঁকে ফোন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ কেটে দেন।
৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান আসকারীর নামে বর্তমানে একটি হত্যা মামলা আছে। একটি হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম। তবে তাঁর নামে এখনো দুটি মামলা আছে। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয় ২০১৪ সালে। মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।

Sunday, April 5, 2015

একাই সব করছেন সিইসি by হারুন আল রশীদ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ একাই চালাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন। অন্য চার নির্বাচন কমিশনার কমিশনে থেকেও নেই। তাঁদের না জানিয়েই কমিশনের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সিইসি একাই নিচ্ছেন এবং তা কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।
সিইসির একক কর্মকাণ্ডে তাঁকে দাপ্তরিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম। হাতে গোনা দু-চারটি নথি ছাড়া বাকি সব নথিই নিচ থেকে সচিবের দপ্তর হয়ে সিইসির দপ্তরে যায়। সেখান থেকে একই পথে নিচের দপ্তরে নেমে যায়। এসব নথি কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয় না। কমিশনার এবং কমিশন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, এসব নিয়ে কয়েক মাস থেকে সিইসির সঙ্গে অন্য চার কমিশনারের মনোমালিন্য চলছে। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ না ডাকলেও চার কমিশনার নিয়ম করে প্রায় প্রতিদিনই সিইসির দপ্তরে চা খেতে যান। সেখানে খোশগল্প হয়। কিন্তু কমিশনের নীতিগত কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হয় না। মাঝেমধ্যে কমিশনারদের কেউ কেউ একক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এর কোনো ব্যাখ্যা দেন না সিইসি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিশনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিইসি একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নিবন্ধন বিভাগে হাজার কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। এসব কাজ কে করছে, কীভাবে করছে তার কিছুই আমরা জানি না। এ-সংক্রান্ত কোনো নথি আজ পর্যন্ত কমিশনারদের দৃষ্টিগোচরে আনা হয়নি।’
কমিশন সচিবালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর অ্যানহেন্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিস (আইডিয়া) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সিইসির সঙ্গে অন্য চার কমিশনারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে সিইসি আইডিয়া প্রকল্পটি আঁকড়ে ধরে আছেন। অন্য কমিশনারদের ভাষ্য, এই প্রকল্প কী হচ্ছে, না হচ্ছে, ভালো হচ্ছে কি মন্দ হচ্ছে, তার কিছুই তাঁরা জানেন না। এর জের ধরে অন্যান্য অনেক বিষয়েও এখন আর কমিশনারদের মতামত নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে সিইসির বক্তব্য জানার জন্য এ প্রতিবেদক কয়েক দিন ধরে নানাভাবে চেষ্টা করলেও সশরীরে গিয়ে সাক্ষাৎ মেলেনি, ফোনেও পাওয়া যায়নি। এমনকি লিখিতভাবেও সিইসির বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল।
কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সিইসির একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সংবিধান ও নিবন্ধন আইনের পরিপন্থী। কারণ, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের ২ ধারায় ‘কমিশন’ বলতে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন।
নিবন্ধন আইনের ৬ ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, পরিচয়পত্র প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক সব দায়িত্ব পালন করবে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু চার কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়নি। কমিশনাররা নিজেদের তাগিদে বৈঠকে যোগ দেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে দুই কমিশনার নিজেদের কক্ষে গিয়ে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২৫ মার্চ অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বিএনপিপন্থী শত নাগরিক কমিটির একটি প্রতিনিধিদল কমিশনে গেলে সিইসি একাই তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিশনারদের তিনি ডাকেননি, শুধু সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দু-এক দিন বাড়ানোর দাবি জানায়। বৈঠক শেষে কাজী রকিবউদ্দীন অন্য কমিশনারদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই জানিয়ে দেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হবে না।
১ এপ্রিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচনে ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’ তৈরির দাবি নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। এ দিনও অন্য চার কমিশনারকে ডাকা হয়নি।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালের জুলাই থেকে আইডিয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। তবে কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগ কেনাকাটার জন্য যথাসময়ে দরপত্র আহ্বান না করা এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমানে যে অগ্রগতি, তাতে ২০১৮ সালের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। সে জন্য কমিশন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে চিঠি লিখবে।
আইডিয়া প্রকল্পের আওতায় গত বছরের নভেম্বরে উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) ছাপা-সম্পর্কিত প্রস্তাব সরকারের কেনাকাটা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। নথিতে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান ওবারথুর টেকনোলজিস ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড ছাপিয়ে দেবে। সারসংক্ষেপটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করেছেন।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, নথিতে প্রথমে লেখা হয়েছিল, ‘সারসংক্ষেপটি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে’। এ বাক্যটির বিষয়ে অন্য কমিশনাররা আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ‘কমিশন’ না লিখে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার’ লিখতে হবে। পরে কমিশন সচিবালয় সেভাবেই তা সংশোধন করে।
এরও আগে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে টাইগার আইটিকে এএফআইএস (অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) সফটওয়্যার কেনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১০ সালে একই সফটওয়্যার টাইগার আইটির কাছ থেকে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছিল।
নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকের অভিযোগ, বিদ্যমান এএফআইএস সফটওয়্যারটি অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। ভোটার তথ্যভান্ডারের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য (ডিজাস্টার রিকভারি সাইট—ডিআরএস) একই সফটওয়্যার কেনা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আগের কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহার না করে ভিন্ন কোনো কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহার করা হলে সেটি অনেক বেশি কার্যকর হতো।
টাইগার আইটি ও ওবারথুরকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে সিইসি একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকে সাচিবিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছেন সচিব সিরাজুল ইসলাম ও নিবন্ধন বিভাগের মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন।
কমিশনের কাজে সিইসির একক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সিইসির এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উচ্চতর আদালতের একাধিক রায় আছে।

Tuesday, March 10, 2015

সংসদে সক্রিয়, বাইরে ক্ষমতাহীন by হারুন আল রশীদ

সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদেরা সংসদীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। কিন্তু বাইরে তাঁদের কোনো ক্ষমতা নেই। কারণ, তাঁদের আসনের জন্য ভৌগোলিক এলাকা সুনির্দিষ্ট নেই। দলীয়ভাবে এলাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে তাঁদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। নিজ উদ্যোগে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের বেশির ভাগই সরাসরি নির্বাচিত সাংসদদের অসহযোগিতার মুখোমুখি হন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের অন্তত ২৫ জন সাংসদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, নারী সাংসদের নেতৃত্বগুণ থাকলেই তা নির্বাচিত সাংসদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় অনেক নির্বাচিত সাংসদই নারী সাংসদদের এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেন না। কয়েকটি স্থানে পুরুষ সাংসদের মদদে নারী সাংসদকে অপমান-অপদস্থ করার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০টিতে নারীরা সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন। সংরক্ষিত ৫০টি আসন মিলিয়ে বর্তমানে সংসদে নারী সাংসদের সংখ্যা ৭০ জন। যা মোট আসনসংখ্যার ২০ শতাংশ। সরাসরি নির্বাচিতদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১৮ জন, জাতীয় পার্টির তিনজন ও জাসদের একজন।
জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ নির্বাচিত সাংসদ সংরক্ষিত আসনের সাংসদদের বহিরাগত মনে করেন। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্যই তাঁরা নারী সাংসদদের কাজে বাধা দিয়ে থাকেন। তৃণমূলের নারীদের অনেকের সরাসরি নির্বাচন করে সংসদে আসার যোগ্যতা থাকলেও নারী বলে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয় না। টাকা এবং পেশিশক্তি না থাকাটাও অন্যতম কারণ।
স্পিকার আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সেটা কার্যকর হলে সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন হবে না। বরং মূল আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে দলগুলো ৩৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিলে তা নারীর ক্ষমতায়নে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে ভবিষ্যতে দলীয়ভাবে তহবিল তৈরি করা যেতে পারে বলে মনে করেন স্পিকার। সেই তহবিল থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের নির্বাচনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাঁরা সংসদে আসতে পারবেন।
নারী সাংসদদের অসন্তোষ: নারী সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা যাতে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে না পরেন, সে জন্য সরাসরি নির্বাচিত সাংসদেরা নানাভাবে বাধা দিয়ে থাকেন। সাংসদদের পরামর্শে অনেক জেলায় মাসিক সমন্বয় সভা এবং আইনশৃঙ্খলা সভাতে নারী সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না।
বরগুনা ও ঝালকাঠির সাংসদ নাসিমা ফেরদৌসী জানান, নারী সাংসদদের অনেককেই পুরুষ সাংসদেরা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। হিতে বিপরীত হওয়ার ভয়ে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেন না। তিনি বলেন, ‘সব সময় বেশি কাজ করার চেষ্টা করি বলে আমার এলাকার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমানের (বরগুনা-২) মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করে।’
প্রথম আলোর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীকে হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি হবিগঞ্জ সদরের বাসিন্দা (হবিগঞ্জ-৩)। অভিযোগ আছে, তাঁর উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নানাভাবে বাধা দিয়ে থাকেন একই দলের আবু জাহির।
গত ৩০ নভেম্বর স্থানীয় আলী সোবহান চৌধুরী কলেজের সাময়িক পরীক্ষা চলার সময় একদল বহিরাগত এসে হামলা চালিয়ে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এই কলেজের সভাপতি কেয়া চৌধুরী। এ হামলায় আবু জাহিরের ইন্ধন রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
কেয়া চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হলেও কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়নি। নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। এমন কি ওই দিন তাঁকে এলাকায়ও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে আবু জাহিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংসদ সফুরা বেগম বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের সাংসদদের সমাজ ও প্রশাসন মূল্যায়ন করে না। যত ভালো কাজই করি না কেন, মূল্যায়ন করা হয় নারী হিসেবে। এখনো কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গেলে আগে পুরুষ সদস্যদের চেয়ার দেওয়া হয়।’
নবম সংসদে সরকারি দলের সানজিদা খানম সরাসরি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের সংসদে তিনি সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সহকর্মীরা আগের সংসদে আমাকে সমীহ করতেন। এখন সহকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পরিবর্তন এসে গেছে।’
তবে জাতীয় পার্টির নারী সাংসদদের ছয় সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা নেই বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
তবুও এগোচ্ছে নারী: সম্প্রতি সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম আহমেদ তাঁর উমেন ইন বাংলাদেশ পার্লামেন্ট বইয়ে উল্লেখ করেছেন, পঞ্চম সংসদে ২২টি, সপ্তমে ১৭ এবং নবমে ৪টি কমিটিতে কোনো নারী সদস্য ছিলেন না। অষ্টম সংসদে নারীরা ২ দশমিক ৫ শতাংশ মৌখিক, ৮ শতাংশ সম্পূরক এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন। নবম সংসদে এসে তা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৯ এবং ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।
জানতে চাইলে নিজাম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাধা সত্ত্বেও সংসদীয় রাজনীতিতে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তাঁদের কোনো আসন না থাকায় তাঁরা সংসদে স্থানীয় সমস্যার চেয়ে জাতীয় সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তা ছাড়া সরাসরি নির্বাচিত হওয়া নারী সাংসদের সংখ্যা প্রতিবারই বাড়ছে। এটি নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক লক্ষণ।
বর্তমান সংসদের হিসাব নিয়ে দেখা গেছে, এক অধিবেশন পরে যোগদান করলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে সরাসরি নির্বাচিতদের চেয়ে সংরক্ষিত আসনের নারীদের অংশগ্রহণের হার বেশি।
বর্তমান ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ৮টির সভাপতি পদে নারী সাংসদ রয়েছেন। এর মধ্যে কার্য-উপদেষ্টা, কার্যপ্রণালিবিধি, পিটিশন ও বিশেষ অধিকার-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন দীপু মনি, শ্রম ও কর্মসংস্থানে মন্নুজান সুফিয়ান, মহিলা ও শিশুতে রেবেকা মোমিন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদে আছেন সিমিন হোসেন। সব মিলিয়ে ১২টি কমিটিতে একাধিক নারী সদস্য আছেন। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুতে সর্বাধিক ৮ জন, কার্য-উপদেষ্টা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে আছেন ৪ জন করে। একমাত্র সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে কোনো নারী সদস্য নেই। হিসাব করে দেখা গেছে, কমিটিতে সরাসরি নির্বাচিতদের চেয়ে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের উপস্থিতির হার বেশি।
নারী সদস্য বাড়ছে: সংসদের সংরক্ষিত আসনে নারীদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে ১৫টি আসন নিয়ে। এরপর চার দশকে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব প্রতিবারই বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম সংসদে কোনো নারী সরাসরি জিততে পারেননি। সেবার সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ছিল ৪ দশমকি ৮ শতাংশ। নবম সংসদে নারী আসন ছিল ৫০টি। সরাসরি নির্বাচিত হন ১৯ জন। নারীর মোট প্রতিনিধিত্ব ছিল ১৮ দশমকি ৬ শতাংশ। বর্তমান সংসদে যা ২০ শতাংশ।

Thursday, January 29, 2015

বিরোধী দলের প্রশংসা, বাধাহীন বিল পাস by হারুন আল রশীদ

‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম জাতীয় সংসদের এক বছর কেটে গেছে। এ সংসদে বিরোধী দল সরকারের যতটা না সমালোচনা করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে প্রশংসা। বরং সরকারের বেশি সমালোচনা করেছেন কয়েকজন স্বতন্ত্র সাংসদ। বিল পাসের ক্ষেত্রেও কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। এক বছরে সরকারি ও বিরোধী দলকে বড় ধরনের কোনো বিতর্কে জড়াতে দেখা যায়নি। দুটি দলই বরং সংসদের বাইরে থাকা দল বিএনপির সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। ৩৫০ সাংসদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব-সম্পর্কিত বিষয়ে নোটিশ দিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত রেখেছেন দেড় শ জনের মতো সাংসদ। মন্ত্রী ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংসদ ছাড়া অন্যরা সংসদীয় কর্মকাণ্ডে ছিলেন নিষ্ক্রিয়। এক বছরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এবারের সংসদ গত কয়েকটি সংসদের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। কারণ, বিরোধী দল নিয়মিত অংশ নিচ্ছে এবং সংসদীয় কাজে ভূমিকাও রাখছে। বিল পাসের ক্ষেত্রে তাঁরা নিয়মিত নোটিশ দিচ্ছেন। ফলে এবারের সংসদে যথেষ্ট সময় নিয়ে বিল পাস হচ্ছে।
প্রশ্নবিদ্ধ বিরোধী দল: জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। মন্ত্রিসভায় আছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মসিউর রহমান ও মুজিবুল হক। বিরোধী দল সরকারে কেন? এ প্রশ্ন একাধিকবার তুলেছেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী, হাজি সেলিমসহ আরও কয়েকজন। তাঁরা জাপাকে কাগুজে বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ধরনের বিতর্কে বিরোধী দলের পক্ষে কথা বলেছেন সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদেরা।
এই সংসদে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে বিরোধী দল কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। চলতি অধিবেশনে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি দেশজুড়ে বিএনপির কর্মসূচিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যায়িত করে তা শক্ত হাতে দমনের আহ্বান জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের একাধিক নেতা একই সুরে কথা বলেছেন।
বাধাহীন আইন পাস: বর্তমান সংসদে এখন পর্যন্ত ২২টি বিল পাস হয়েছে। বিল পাস নিয়ে সরকারি দলকে প্রধান বিরোধী দলের চেয়ে বেশি বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে স্বতন্ত্র সাংসদদের। এমনকি বিলের ওপর সংশোধনী নোটিশও বেশি দিয়েছেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী ও হাজি সেলিম।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস হয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিয়ে আসা হয়। বাতিল হয়ে যায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সংসদের বাইরের বিরোধী দল ও আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই সংশোধনীর সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দল তাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত সমর্থনই জানিয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নীতি সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা এবং মন্দ কাজের নিন্দা করা। অযথা সংসদ বর্জন করে সংসদকে আমরা অকার্যকর করতে চাই না।’
তবে সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। কারণ, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় থেকে বিরোধী দল সাজা যায় না; বরং আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতা হওয়া সত্ত্বেও স্বতন্ত্র সাংসদেরা সত্যিকার বিরোধী দলের মতো কাজ করছেন।
কমিটিতে মন্ত্রীদের দাপট: সংসদ সচিবালয় কমিটি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এবারের সংসদীয় কমিটিগুলোর বেশির ভাগ সভাপতি মন্ত্রীদের ব্যক্তিত্বের সামনে জোরালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০টি সংসদীয় কমিটির ২৯৭টি বৈঠক হয়েছে। সর্বাধিক ১৬টি বৈঠক করেছে সরকারি হিসাব কমিটি। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি ১১টি বৈঠক করেছে। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ১০টি বৈঠক করেছে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এবং নয়টি করে বৈঠক করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি। একটি বৈঠকও করেনি পিটিশন কমিটি, বিশেষ অধিকার, কার্যপ্রণালিবিধি ও বেসরকারি সদস্যদের বিল-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
এবারের সংসদের অন্যতম আলোচিত বিষয় কয়েকটি কমিটির বৈঠকে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি। এ নিয়ে কমিটির বৈঠকে সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির আটটি বৈঠকের মধ্যে মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন চার দিন। শিল্প মন্ত্রণালয় কমিটির ছয়টি বৈঠকের মধ্যে মন্ত্রী আমির হোসেন আমু উপস্থিত ছিলেন তিন দিন। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ছয়টি বৈঠকের মধ্যে ছিলেন তিনটিতে।
বর্তমান মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া বিগত সরকারের নয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে একই মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাবেক মন্ত্রীরা তাঁদের বিরুদ্ধে কমিটিতে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে সভাপতি হিসেবে তাঁরা সে-সম্পর্কিত তদন্তকাজকে প্রভাবিত করতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত এই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশি বন্ধুদের দেওয়া ক্রেস্ট নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করে সংসদীয় কমিটি অভিযুক্ত সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি কমিটির সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে কীভাবে অভিযোগ আনা যায়।

Monday, January 19, 2015

সংরক্ষিত এলাকা অরক্ষিত- জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা– :নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙা : অনায়াসে চলছে অনুপ্রবেশ by হারুন আল রশীদ

(নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে যাওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা। সম্প্রতি তোলা ছবি l সাবিনা ইয়াসমিন) জাতীয় সংসদ ভবন সংরক্ষিত এলাকা। সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু সংরক্ষিত ওই এলাকায় এখন যে কেউ যেকোনো সময় ঢুকতে পারেন বিনা বাধায়। সেখানে গেলেই ওই এলাকা অরক্ষিত থাকার এ দৃশ্য দেখা যায়। কারণ সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সীমানাবেষ্টনীর অনেক অংশই ভাঙা বা উপড়ে পড়ে রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে এ অবস্থা। বেষ্টনী না থাকা এসব অংশ দিয়ে অনাহুত লোকজন হরহামেশা ভেতরে ঢুকছে, বের হচ্ছে। ফটক থেকে দূরে হওয়ায় ফটকে থাকা প্রহরীদের পক্ষেও এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে এই এলাকা নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তিরা। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ভাঙা বেষ্টনী ঠিক করার জন্য গত এক বছরে সংসদ ভবন এবং ওই এলাকার তত্ত্বাবধানকারী গণপূর্ত বিভাগকে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তা মেরামত করা হয়নি।
রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকা সংসদ ভবনে ঢোকার জন্য তিন দিকে তিনটি প্রবেশপথ (ফটক) রয়েছে। এগুলোতে নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। তিনটি ফটক ছাড়া বাকি অংশ ছিল লোহার বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ওই বেষ্টনীর বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গেছে। সীমানাপ্রাচীর করার জন্য কিছু অংশ উপড়ে রাখা হয়েছে। এক বছর ধরে বেষ্টনী রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বেষ্টনী না থাকা অরক্ষিত এসব অংশ রয়েছে পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে।
গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি কলস ও বালতি নিয়ে মাটিতে নুয়ে থাকা বেষ্টনী পার হয়ে বাইরে আসছেন। কিছুক্ষণ পর পর ওই পথ দিয়ে জারিকেনসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে কয়েকজনকে আসতে দেখা গেল। কথা বলে জানা গেল, তাঁরা ওই এলাকায় ফুটপাতে চটপটি, ফুচকাসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন। প্রয়োজনীয় পানি আনেন সংসদ ভবনের আসাদগেটসংলগ্ন ফটকের দক্ষিণ দিকের পানির পাম্প থেকে। প্রতিদিনই তাঁরা এভাবে পানি আনেন। এ ছাড়া ভেতরে সবুজ চত্বরে কম বয়সী কয়েকজনকে বসে থাকতে বা আড্ডা দিতে দেখা গেল।
পূর্ব দিকের বেশির ভাগ জায়গায় ২০১৩ সালে প্রাচীর করার জন্য বেষ্টনী উপড়ে ফেলা হয়। সেখানে প্রতি পাঁচ ফুট অন্তর একটি করে পিলার করার জন্য গর্ত করা হয়েছে। একই জায়গায় ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেলের পথ তৈরির জন্য বেষ্টনীর পাঁচ ফুট ভেতরে মাটি পরীক্ষার কাজ করছে। এ জন্যও বেশ কিছু গর্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে যখন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তখন অনেকে বেষ্টনীর ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকে পড়েন। এঁদের বেশির ভাগই মন্ত্রী-সাংসদদের সাক্ষাৎপ্রার্থী।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সংসদ ভবন এলাকার লোহার বেষ্টনী সরিয়ে প্রাচীর করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের শেষ দিকে কাজ শুরুও হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের আপত্তির মুখে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবেশবাদীরা দাবি করেন, প্রাচীর দিয়ে বিশ্বের অন্যতম এই স্থাপত্য নিদর্শনকে চোখের আড়াল করা যাবে না। এতে এর স্থাপত্যমান নষ্ট হবে।
সংসদ সচিবালয় এরপর ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের আইন সভা ভবনের নকশা যাচাই করে বেষ্টনী তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আড়াই ফুট উঁচু প্রাচীরের ওপর থাকবে ছয় ফুট উঁচু ইস্পাতের গ্রিল। গত সপ্তাহ থেকে আসাদগেটসংলগ্ন পশ্চিম পাশে এই বেষ্টনী তৈরি শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নতুন বেষ্টনী তৈরি করতে সময় লাগবে। কিন্তু তা হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকবে না, তা হতে পারে না। যেসব গর্ত করা হয়েছে, তার কারণে পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন। সে জন্যই সাময়িকভাবে হলেও আগের বেষ্টনী মেরামত করা উচিত।
সংসদ ভবনে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোমেন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সংসদ ভবন এলাকার পরিধি ১৪ হাজার ৩৩৫ ফুট। এতে বেষ্টনী তৈরি করতে কম-বেশি এক বছর লাগতে পারে। মেট্রোরেলের মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে বলে পূর্ব পাশে বেষ্টনী মেরামত করা যাচ্ছে না।

Tuesday, June 17, 2014

ভোটার তথ্যভান্ডারের চাবি ইসির হাতে নেই- জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে by হারুন আল রশীদ

দেশের নয় কোটির বেশি ভোটারের তথ্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় ভোটার তথ্যভান্ডার থেকে ভোটারের নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত গায়েব হয়ে যেতে পারে। কারণ, তথ্যভান্ডারের চাবি নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। ভোটার তথ্যভান্ডার (ডেটাসেন্টার) নিয়ন্ত্রণ করছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি ও কমিশনের নিবন্ধন অনু বিভাগের আইডিয়া প্রকল্পে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা। নিবন্ধন বিভাগ এর নিরাপত্তা চাবিও (পাসওয়ার্ড) তাঁদের কাছে দিয়ে রেখেছে। ২০১২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তথ্যভান্ডার ইসির কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও টাইগার আইটি এখনো তা করেনি। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন হুমকির মুখে। এ বিষয়ে নিবন্ধন বিভাগের ওপর ইসির কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। অথচ জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনকাজ পরিচালনা, পরিচয়পত্র প্রস্তুত, বিতরণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক সব দায়িত্ব পালন করবে।

ইসি সচিবালয়ের কর্ম-কর্তাদের মতে, আইডিয়া (আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমস ফর অ্যানহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিসেস) প্রকল্পের কর্মকর্তা ইসির স্থায়ী কর্মকর্তা নন। টাইগার আইটি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এদের কাছে ভোটার তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা নিরাপদ নয়। কারণ, এদের যে কেউ চাইলেই কম্পিউটারের একটি বাটনে চাপ দিয়ে তথ্যভান্ডার থেকে নয় কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ভোটারের যাবতীয় তথ্য মুছে ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসিকে নতুন করে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে।
বর্তমান ভোটার তথ্যভান্ডারের সঙ্গে অন্যান্য জাতীয় স্বার্থও সংশ্লিষ্ট আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই তথ্যভান্ডারের সহযোগিতায় করদাতাদের পরিচয় শনাক্ত করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে।ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় এবং মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোরও এই তথ্যভান্ডার ব্যবহারের কথা রয়েছে।
জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা শাহেদুল আনাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ভোটার তথ্যভান্ডারের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয় যুক্ত। এটি সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব ইসির। তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি পুরো তথ্যভান্ডারটি দেশের প্রতিপক্ষ কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও পাচার হয়ে যেতে পারে, যা পরে দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, মূলত আইডিয়া প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে নিবন্ধন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কয়েকজন স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের সহযোগিতায় টাইগার আইটি নিবন্ধন বিভাগে গত পাঁচ বছরে অনেকটা একতরফাভাবে কয়েক শ কোটি টাকার কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। বিনিময়ে নিবন্ধন বিভাগ ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা টাইগার আইটি থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন আবদুল মোবারক প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী নিবন্ধন-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিবন্ধন বিভাগ করবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহযোগিতা করা ছাড়া ভিন্ন কোনো দায়িত্ব তাঁদের নেই। নিবন্ধনকাজ বা এই বিভাগের তথ্যভান্ডারে খবরদারি করার এখতিয়ার তাঁদের নেই। কারণ, এতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি ইসির নজরে আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ইসির অনুমোদন না নেওয়া এবং নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা সম্পর্কে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইসির কাছে তথ্য চেয়ে পায়নি। বিষয়টি দুদক আইনের লঙ্ঘন। দুদক আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, দুদক তদন্তের স্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইতে পারবে। তথ্য না পেলে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ছবিসহ ভোটার তালিকা: ২০০৭ সালে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বে এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজ শুরু হয়। প্রিপারেশন অব অ্যান ইলেকটোরাল রোল উইথ ফটোগ্রাফস (পার্প) প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) অনুদানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৮ সালের জুনের মধ্যে আট কোটি ১০ লাখ ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই সময়ে ভোটার নিবন্ধনের জন্য সফটওয়্যার সরবরাহ করেছিল টাইগার আইটি। অক্টোবরে সেনাবাহিনী ছবিসহ ভোটার তালিকা ও ভোটার তথ্যভান্ডার ইসিতে হস্তান্তর করে।
টাইগার আইটির উত্থান: ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ভোটার তথ্যকে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০১০ পাস করা হয়। এরপর জাতীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ইসি ২০১০ সালের ১৫ জুন টাইগার আইটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। অভিযোগ আছে, সেই সময়ে অনেকটা কমিশনের বদান্যতায় টাইগার আইটি কাজ করার সুযোগ পায়।
টাইগার আইটির সঙ্গে সম্পদিত চুক্তি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তারা ভোটার তথ্যভান্ডারের জন্য সফটওয়্যার, বিভিআরএস (বাংলাদেশ ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমস) সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার এবং অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং সিস্টেম (আফিস) সরবরাহ করবে। সরবরাহ করা ডেটাসেন্টার ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। একই সময়ের মধ্যে টাইগার আইটি নিবন্ধন বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কাছে তথ্যভান্ডার ও বিভিআরএস সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করবে। চুক্তিতে আরও বলা হয়, টাইগার আইটি ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধন বিভাগকে কারিগরি বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেবে। একতরফা এ ব্যবসায় তারা কমিশনের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি তুলে নেয়।
চুক্তি মানেনি টাইগার আইটি: ২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত পার্প প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। এরপর নিবন্ধন বিভাগের আইনি কাঠামো দাঁড়ানোর পর ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এর মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারোজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময়ে ভোটারদের উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এক হাজার ৩৭৯ কোটি টাকার আইডিয়া প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
২০১৩ সালের ১ মার্চ নিবন্ধন বিভাগের মহাপরিচালক ও প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালিম আহমেদ খান। তিনি দায়িত্ব নিয়েই আবিষ্কার করেন, মূলত প্রকল্পে কেনাকাটার নামে লুটপাট হয়েছে, যার অংশীদার টাইগার আইটি ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা। টাকা নিয়ে গেলেও চুক্তি অনুযায়ী টাইগার আইটি বেশির ভাগ কাজই ইসিকে বুঝিয়ে দেয়নি।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, সালিম আহমেদ এ বিষয়ে আলোচনার জন্য টাইগার আইটিকে একাধিকবার তাগিদ দিয়ে চিঠি দেন। কিন্তু টাইগার আইটি তাতে সাড়া দেয়নি। বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই সালিম আহমেদ স্বয়ং টাইগার আইটির অফিসে গিয়ে সভা করেন।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, টাইগার আইটির সরবরাহ করা আফিস সঠিকভাবে কাজ করে না। সরবরাহ করা সার্ভার ও হার্ডওয়্যার দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিষ্ক্রিয় থাকে। চুক্তি অনুযায়ী টাইগার আইটি নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেয়নি এবং ইসির কাছে ভোটার তথ্যভান্ডার ও বিভিআরএস সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করেনি। নিবন্ধন বিভাগে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে টাইগার আইটি সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, টাইগার আইটি নিবন্ধন বিভাগের সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগস্টে এবং হার্ডওয়্যার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেবে। ৩১ আগস্টের মধ্যে ভোটার তথ্যভান্ডার ও বিভিআরএস সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা ইসির কাছে হস্তান্তর করবে। ৫ আগস্টের মধ্যে টাইগার আইটি আফিসের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, টাইগার আইটির চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সভায় সালিম আহমেদের কাছে জানতে চান, ভবিষ্যতের কেনাকাটার তাঁরা ইসির আনুকূল্য পাবেন কি না। জবাবে সালিম আহমেদ জানান, দরপত্র সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
টাইগার আইটির বক্তব্য: অভিযোগের জবাবে টাইগার আইটি লিখিতভাবে প্রথম আলোকে জানিয়েছে, তাদের সরবরাহ করা সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করছে। চুক্তি অনুযায়ী তারা নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং অব্যাহতভাবে নিবন্ধন বিভাগকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নিবন্ধন বিভাগ চাইলে টাইগার আইটি ভোটার তথ্যভান্ডার ও বিভিআরএস সফটওয়্যার হস্তান্তর করতে প্রস্তুত আছে। বর্তমানে টাইগার আইটিতে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। এঁদের কেউ আইডিয়া প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন কি না, সে বিষয়ে টাইগার আইটির কাছে কোনো তথ্য নেই।

Monday, July 8, 2013

নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বললেন খালেদা জিয়া by হারুন আল রশীদ

নির্বাচনের ফল ঘোষণা নিয়ে উৎকণ্ঠা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। শনিবার রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণা চলাকালে তিনি কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।

Sunday, June 23, 2013

উত্তর ফটক বন্ধ করে টেলিভিশন কেন্দ্র হচ্ছে সংসদ ভবনের নকশায় আবার আঘাত! by হারুন আল রশীদ

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশায় আবারও আঘাত করল সরকার। আবার সরকারই একে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থায় (ইউনেসকো) আবেদন করতে যাচ্ছে।

Monday, June 3, 2013

১৭ অধিবেশনে মাত্র পাঁচটিতে যোগ দিয়েছে বিএনপি by হারুন আল রশীদ

বর্তমান নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হতে চলছে। ইতিমধ্যে ১৭টি অধিবেশন শেষ হয়ে গেছে। বিরোধীদলীয় জোট যোগ দিয়েছে মাত্র পাঁচটি অধিবেশনে।

Thursday, January 10, 2013

আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের- নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি by হারুন আল রশীদ



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ যেকোনো ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিশন।

আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের- নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি by হারুন আল রশীদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ যেকোনো ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিশন।

Thursday, January 3, 2013

ভোটার তালিকা হালনাগাদ- নারী ভোটার অস্বাভাবিক কমে গেছে by হারুন আল রশীদ

হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। নতুন নিবন্ধিতদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ বেশি। খসড়া আকারে প্রকাশিত এই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

Monday, December 3, 2012

উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব- মধুরেণ সমাপয়েৎ by আশীষ-উর রহমান ও হারুন আল রশীদ

সবার মনের মণিকোঠায় এমন একটি গভীর প্রত্যাশা থাকে যে শেষটি হবে সুন্দর। তা যেমন ব্যক্তিগতভাবে নিজের জীবনের বেলায়, তেমনি নিজের সব কাজ, সব আয়োজনের ক্ষেত্রেও। সে কারণেই বোধ হয় এমন কথা প্রচলিত—সব ভালো, যার শেষ ভালো।

Sunday, December 2, 2012

সুরমন্দ্রিত রাত্রি! by আশীষ-উর রহমান ও হারুন আল রশীদ

দিন হলে তবু না-হয় বলা যেত, এ শুধু গানের দিন। কিন্তু গানের শুরুই হয়েছে দিনের শেষে। আগের দুই রাত চলল সন্ধ্যা থেকে ভোর অব্দি। গতকাল শনিবার উচ্চাঙ্গসংগীতের সুরের মূর্ছনা পেরিয়ে গেল মধ্যরাতের সীমান্ত।

Saturday, December 1, 2012

উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব- আসর মাতালেন রশিদ খাঁ by আশীষ-উর রহমান ও হারুন আল রশীদ

‘ইয়াদ পিয়া কি আয়ে, ইয়ে দুখ সেহেনে না যায়ে’—জনপ্রিয় এই ঠুমরি গেয়ে আসর মাত করলেন ওস্তাদ রশিদ হোসেন খাঁ। গতকাল শুক্রবার বেঙ্গল-আইটিসি এসআরএ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনের প্রথম প্রহরটি নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি অসাধারণ পরিবেশনা দিয়ে।