Tuesday, September 6, 2016

রোহিঙ্গা নিয়ে সু চির তত্ত্বাবধানে বৈঠক

ইয়াঙ্গুনে কফি আনান এবং অং সান সু চি। এএফপি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার পর সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত একটি উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্যরা গতকাল সোমবার ইয়াঙ্গুনে প্রথম বৈঠক করেছেন। দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি এ বৈঠকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে আজ মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে যাবেন আনান। কিন্তু তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করছেন সেখানকার কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা। তাঁরা এ নিয়ে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন। রাখাইনে বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতার ইতি টেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করাই কফি আনানের ওই উপদেষ্টা প্যানেল বা কমিশনের লক্ষ্য। রোহিঙ্গা সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকারের প্রতি সু চির অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিও (এনএলডি) রোহিঙ্গা সমস্যাকে সংবেদনশীল মনে করে। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে গতকালের বৈঠকে সু চি রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজে পাইনি। আশা করি, এই কমিশন এ বিষয়ে সহায়ক হবে।’
মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে ২০১২ সালে সহিংসতায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়। বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে চলে যেতে বাধ্য হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। সেখানে তাদের চলাফেরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কর্তৃপক্ষ। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে পালিয়ে গেছে। সু চি চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে তিনি নিজ দেশের ওপর থেকে আরও কিছু অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালাবেন। সে ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তিনি কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। কমিশনের সদস্যরা আনানের নেতৃত্বে রাখাইনের রাজধানী সিতোয়ে সফরে যাবেন। সেখানে আনান আজ মঙ্গলবার ভাষণ দিতে পারেন। স্থানীয় রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎও করবে কমিশন। আনান বলেন, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে করণীয় নিয়ে তাঁরা আগামী কয়েক মাসে কিছু প্রস্তাব দেবেন। তিনি রাখাইনবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কমিশন অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সহযোগে কাজ করবে।

কোনো সমঝোতা হলো না

চীনের হাংচৌয়ে জি-২০ সম্মেলন চলাকালে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়া নিয়ে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা করেন। বৈঠক চলে দেড় ঘণ্টা ধরে। নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় ধরে এ বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। তবে বৈঠকে সিরীয় সংকট নিয়ে দুই নেতা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাননি। বৈঠক শেষে ওবামা বলেন, সিরিয়ায় সহিংসতা কমানোর বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে তাঁর ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিরিয়ায় মানবিক সহায়তা দেওয়া, সহিংসতা কমানো এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে গতকালই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিরিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়নি। তবে ওবামা-পুতিন বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ সপ্তাহে আবারও এ বিষয়ে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান কর্মকর্তারা। রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে আসাদবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করতে হবে। কেননা, অনেক ক্ষেত্রেই দুই গোষ্ঠী একে অপরের সঙ্গে মিলে থাকে।
এদিকে, গতকাল সিরিয়ায় সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে তারতুস, হোমস ও দামেস্কে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে এক ঘণ্টার মধ্যে। আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে হাসাকা শহরে। শরণার্থী সংকট প্রশ্নে ঐকমত্য জি-২০ সম্মেলনে শরণার্থী সমস্যাকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছেন এ জোটভুক্ত নেতারা। তাঁরা বলেছেন, এই সমস্যার ভার সবাইকে সমানভাবে নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক কূটনীতিক এ কথা জানান গতকাল। ওই কূটনীতিক বলেন, সম্মেলনে সুনির্দিষ্টভাবে এ সমস্যার সমাধানে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়। শরণার্থী সমস্যা বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল প্রথম দিকে আপত্তি তুলেছিল। পরে তারাও সম্মত হয়। তবে এ সমস্যা নিরসনে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ওই কূটনীতিক বলেন, সব ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়নের মধ্যে একটি তফাত রয়েছে। সম্মেলনে গতকাল বৈশ্বিক অতি উৎপাদনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি ফোরাম গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইইউয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভর্তুকির মতো বিষয়গুলোর কারণে বাজারে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেই এই ফোরামটি কাজ করবে। বিশ্বের মোট ইস্পাত উৎপাদনের অর্ধেকটাই করে এবারের জি-২০ সম্মেলন আয়োজক দেশ চীন। চীন ইস্পাতশিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর বাজার নষ্ট করে দিয়েছে। দাম কমে যাওয়ায় ইস্পাতশিল্প মার খাচ্ছে। চীন নিজেও এই কম দামের জন্য সমস্যায় পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অতি উৎপাদন রোধে আহ্বানও জানাচ্ছে চীন। বৈশ্বিক অতি উৎপাদন রোধে সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হচ্ছে তাতে অবশ্য চীনের নাম থাকছে না। ওই কূটনীতিক বলেন, এই ফোরাম গঠনের বিষয়টি এবং এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ নিয়ে অর্ধেক সদস্যরাষ্ট্রই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। গতকালের সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সরবরাহের ক্ষেত্রে সংস্কারেরও প্রস্তাব দেন। শি জিনপিং বলেন, জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলো সংরক্ষণবাদের বিরোধিতা এবং বিশ্ববাণিজ্যের ক্রমাবনতি রোধের বিষয়ে মত দিয়েছেন।

ওবামা-পুতিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক ব্যর্থ

গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ার সংকট সমাধানে কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক। জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সোমবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন এই দুই প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জানান, কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই ওবামা ও পুতিনের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে ওই মুখপাত্র জানান। এদিকে বৈঠকের ব্যাপারে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, পরিকল্পনার চেয়ে অনেক লম্বা সময় ধরে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিরিয়া নিয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে বলে তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। জি-২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওবামা-পুতিন বৈঠক নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেন সংকট দুই প্রেসিডেন্টের আলোচ্য সূচিতে থাকার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ওবামা-পুতিন বৈঠকে সিরিয়া বিষয়ে চুক্তির ব্যাপারটি সামনে আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আলোচনার পর। জি-২০ সম্মেলনের আগে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ও আলোচনায় সিরিয়া ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছার আভাস দেয়া হয়েছিল। দুই মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উভয় দেশই সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ হোক, এটাই চায়। রোববার দুপুরে ওবামাও বলেছিলেন, সিরিয়া ইস্যুতে মতৈক্যের লক্ষ্যে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পররষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ চুক্তির বিষয়ে রোববারই যৌথ ঘোষণা দিতে পারেন।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি এখনই হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যে বিষয়গুলোকে মীমাংসিত হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম, সেগুলো থেকে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া সরে গেছে।’ বৈঠক শেষ হওয়ার পর কেরি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না যা ফের ভেঙে পড়বে’। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিতে পৌঁছান যাচ্ছে না তার বিস্তারিত জানাতে সম্মত হননি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এর আগে ফেব্র“য়ারিতে লাভরভ ও কেরির মধ্যস্থতায় সিরিয়া বিষয়ে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি করা হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। ওই চুক্তি লংঘন করার জন্য ওয়াশিংটন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীগুলোকে দায়ী করেছিল। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বৈঠকের সময় কেরি ও লাভরভ নিউইয়র্কে ফের মিলিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সোমবার দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়াতে আশংকা করা হচ্ছে সিরিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন সমঝোতা ভেস্তে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ‘অনেক বিষয় মীমাংসার বাকি আছে’। সিরিয়া নিয়ে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুরও কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। সিএনএন

হংকংয়ে তরুণ গণতন্ত্রপন্থী নেতাদের জয়

হংকংয়ে ২০১৪ সালে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ ‘ছাতা বিপ্লবে’র পর প্রথমবারের মতো আইন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তরুণ স্বাধীনতাকামী নেতারা। এদের মধ্যে স্বাধীনতাপন্থী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডেমোসিস্টো পার্টির নাথান ল, আইন পরিষদে তার আসন নিশ্চিত করেছেন। এটাই বিদ্রোহী ছাত্রনেতাদের জন্য প্রথম রাজনীতির স্বাদ পাওয়ার আনন্দ। স্বাধীনতাকামী এসব তরুণরা চীনের শাসন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চান। খবর বিবিসির। চীনা অধ্যুষিত বাণিজ্যিক অঞ্চল হংকংয়ের আইন ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে আইন পরিষদ। কমিউনিস্টশাসিত চীন হংকংকে নিয়ন্ত্রণ করলেও সেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বলবৎ। এমনকি হংকংয়ের কারণেই চীনে ‘এক দেশ দুই নীতি’ পদ্ধতি চালু আছে। ২০১০ সালে পাস হওয়া সংবিধান অনুযায়ী ৭০ আসনের হংকংয়ের আইন পরিষদের ৩৫ আসনে ভোটারদের সরাসরি ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বশীল পদ্ধতিতে ভোট হয়। রোববারের নির্বাচনে ৩৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম,
যেখানে ২০০৮ সালে ভোট পড়ে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষেও কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভোটে স্বাধীনতাপন্থী ইয়ংস্পাইরেশন দলের আরও দুই সদস্য জয়ের কাছাকাছি আছেন। এরাও ২০১৪ সালের ‘আমব্রেলা আন্দোলনে’ সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে কিছু গণতন্ত্রপন্থী নেতা তাদের আসন হারিয়েছেন। এদিকে, আইন পরিষদের এ ভোটে নাথানের জয় হংকংয়ের চীনপন্থী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাথান ও তার মিত্ররা এ নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ আসন দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে, যাতে করে আইন প্রণয়নে ভেটো দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন হয় তাদের দল। যদিও হংকংয়ের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা চীনের মনোনীত হয়ে থাকেন। আইন পরিষদের ভোটে মনোনয়নে তেমন প্রভাব ফেলে না। তবে ভোটে স্বাধীনতাপন্থীদের ভোট বাড়ায় তা হংকংয়ে চীনপন্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লংয়ের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তাঁর আলো, তাঁর ছায়া

তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন না। কিন্তু তার শিক্ষকতার আলো আমার কাছে এসে পৌঁছেছিল। একজনের মুখ থেকে আরেকজনের মুখে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে। এভাবেই তিনি বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষিতজনের মাঝে। আর আমরা যারা তার কাছাকাছি হতে পারিনি তারা দূর থেকেই জেনে গিয়েছিলাম তিনি একজন অসাধারণ শিক্ষক। এমন নয় যে, কেউ নিয়ম করে এটি তৈরি করেছিল; এমন নয় যে, কেউ উদ্যোগ নিয়ে বলেছিল, চলো আমরা তাকে মহৎ বানাই। ব্যাপারটি ঘটেছিল আপনাআপনি, স্বাভাবিক নিয়মে। যেভাবে বেড়ে ওঠে বৃক্ষ কিংবা বয়ে যায় নদী, সেভাবে। যেন এটাই হওয়া উচিত ছিল, তাই সেটাই হয়েছে। শিক্ষকতার সাফল্য তাকে বয়ে নিয়ে গেছে সর্বত্র নদীর মতো, যে নদীর তীরে গড়ে ওঠে সভ্যতা। তাকে আমাদের নদীর মতোই মনে হতো। তার দু’পাশে গড়ে উঠেছিল শিক্ষার সভ্যতা। এমন অহংকার একজন মানুষের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন। গ্রিক পুরাণে একটি নদী আছে। সে নদীর নাম স্টিক্স। এ নদীতে খেয়া পারাপার করতেন যে বৃদ্ধ মাঝি তার নাম ক্যারন। তিনি ছিলেন অন্ধকারের দেবতা এরিবাসের পুত্র, ক্যারনের কাজ ছিল মৃতের আত্মাকে মৃত্যুপুরীতে নিয়ে যাওয়া। প্রাচীন গ্রিসে প্রচলিত নিয়ম ছিল, মৃতদেহের মুখে পয়সা গুঁজে রেখে দিতে হতো।
বিশ্বাস ছিল এমন যে, মৃতদেহের আত্মা যে প্রয়োজনমতো ক্যারনকে ঘুষ দিতে পারে। জীবিত কাউকে স্টিক্স নদী পার করে দেয়ার অনুমতি ছিল না ক্যারনের। কিন্তু কেউ কেউ গায়ের জোরে তাকে দিয়ে পারাপার নিত। যেমন বীর হারকিউলিস গায়ের জোরে ক্যারনকে বেঁধে রেখে স্টিক্স নদী পার হন। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন শিক্ষক মোহাম্মদ নোমানের সুতিচারণ করতে গিয়ে আমার গ্রিক মিথের ক্যারন মাঝির কথা মনে হল। ক্যারন মাঝি ছিল শান্তির প্রতীক। মৃতের আত্মাকে পৌঁছে দিত আরেক জগতে। কিন্তু তার সঙ্গেও সন্ত্রাস করতে দ্বিধা করেনি বীর হারকিউলিস। প্রশ্নের উত্তর এখানে যে, ক্যারনরূপী শান্তির দূত মোহাম্মদ নোমানকে হারকিউলিসের মতো সন্ত্রাসীদের দেখতে হয়েছে তার শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গনে। তিনি তো মাঝিই ছিলেন। নিরক্ষতার জগৎ থেকে শিক্ষার আলোর জগতে নিয়ে যেতেন শিক্ষার্থীদের। তাকে কেন সন্ত্রাসী দেখতে হবে? কেন তিনি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের সামনে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন? দেখলেন কী বীভৎসভাবে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে জ্ঞানের জগৎ। শিক্ষক মোহাম্মদ নোমানের এ তাণ্ডব দেখা আমার কাছে প্রচণ্ড দুঃখ ও বিষাদের। ১৯৭০ সালে সারা পাকিস্তানে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পদক পেয়েছিলেন তিনি। শিক্ষা ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রাখার জন্য তিনি একুশে পদকও পেয়েছিলেন। কিন্তু এটাই একজন শিক্ষকের বড় পুরস্কার নয়। এটা কর্মজীবনের সফলতার এক ধরনের স্বীকৃতি,
তা শিক্ষকের হৃদয়কে পরিপূর্ণভাবে তৃপ্ত করে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। তবু ভাবি, শিক্ষকতার যে মান তিনি নির্ধারণ করেছিলেন সেটাই তার নিজের কাছে নিজের বিচার। এ আনন্দটুকু নিয়ে তিনি দু’চোখ বুজেছেন। আমার আনন্দ অন্যত্র। অল্প সময়ের জন্য হলেও আমি তাকে পেয়েছি আমার প্রতিষ্ঠানে। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমিতে সচিব হিসেবে এসেছিলেন। বাংলা একাডেমির সচিব পদে বাইরে থেকে একজন শিক্ষাবিদকে নিয়োগ দেয়ার নিয়ম প্রচলিত ছিল। কিন্তু সবচেয়ে অবাক ব্যাপার, প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি তথাকথিত আমলা হননি। তিনি শিক্ষকতার মূল্যবোধের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে আচরণ করেছেন। স্নেহপ্রবণ দৃষ্টিতে দেখেছেন কর্মচারী-কর্মকর্তাদের। আর শিক্ষকের মানসিকতায় দেখেছেন প্রশাসনকে। অন্য সচিবদের সঙ্গে এখানেই তার পার্থক্য। প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গে তার মানবিক বোধের কোনো বিরোধ ছিল না। প্রশাসনের জটিলতা-কুটিলতার ঊর্ধ্বে, ক্ষুদ্রতা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন একজন পূর্ণ মানুষ। বাংলা একাডেমিতে তার সময়ে আমি নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত শান্ত, সৌম্য, স্নিগ্ধ কোনো মানুষের মুখের কথা মনে করতে হলে আমার মনে পড়ে মোহাম্মদ নোমানের কথা। কেউ কেউ এমনই হন। যারা পর্যাপ্ত আলো বিকীরণ করেন এবং তাদের ছায়ায় দাঁড়াতে পারলে ধন্য হয় অন্যরা।
সেলিনা হোসেন : কথাসাহিত্যিক

জেলা পরিষদ নির্বাচন পদ্ধতি বনাম সংবিধান

সরকার খুব দ্রুতই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মনস্থির করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করবেন এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রকাশ্যে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রশাসনিক সংস্কারের দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার একজন এমপিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকারের এ ইউনিটটিকে কিছুদিন অল্প বিস্তর সচলও রাখা হয়েছিল। এরশাদ-পরবর্তী খালেদা জিয়ার সরকার সেদিকে একবারও তাকায়নি। ১৯৯৬-এর আওয়ামী লীগ সরকার ২০০০ সালে শরিক বন্ধু এরশাদের জেলা পরিষদ আইন বাতিল করে একই বছর নতুন আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সেটি কার্যকর করেনি। মহাজোট সরকার ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পার্বত্য তিন জেলা বাদে সমগ্র দেশের ৬১টি জেলায় নিজেদের লোকদের জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেই অনির্বাচিত দলীয় প্রতিনিধি দিয়ে এখনও চলছে জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ হচ্ছে আমাদের স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তর (Top layer)। আমাদের সাংবিধানিক চেতনা গণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক চেতনায় ছেদ পড়ুক এমন কিছু আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে না।
বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের যে পদ্ধতি নিহিত রয়েছে, তেমন পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা কী সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, না সাংঘর্ষিক এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মূলত আমার আজকের এ লেখার অবতারণা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে, 'The republic shall be a democracy in which fundamental human rights and freedom and respect for the dignity and worth of the human person shall be guaranteed and in which effective participation by the people through their elected representatives in administration at all levels be ensured.' ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ এ অনুচ্ছেদটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে সন্নিবেশিত আছে। এ অনুচ্ছেদটির বিশ্লেষণ করলে আমাদের যে উপলব্ধি হয়, তাতে আমরা মনে করি জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের অর্থ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে।
স্থানীয় সরকারের অন্য দুটি স্তরেও জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে। এ স্তরে অর্থাৎ জেলা পরিষদে জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধির বিকল্প হিসেবে অন্য স্থানীয় সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের নির্বাচকমণ্ডলী মনোনীত করে স্থানীয় সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি মনোনীত করলে তা একদিকে সংবিধানে লিখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি থেকে বিচ্যুতি ঘটবে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য থেকে রাষ্ট্র দূরে সরে যাওয়ার একটি পথও প্রশস্ত হবে, যা সংবিধান পরিপন্থী এবং জনআকাক্সক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনের ১৭ ধারায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমণ্ডলীর যে সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা এমন : ‘প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশন যদি থাকে এর মেয়র ও কমিশনাররা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানদেরও অধ্যাদেশের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে), পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য সমন্বয়ে উক্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হইবে।’ এ ধারার বক্তব্য থেকে সন্দেহ জাগে যে, জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার খর্ব করে অন্যের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে আইন, তা সংবিধানসম্মত কিনা। স্থানীয় সরকারবিষয়ক সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ করে সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের সরাসরি ভোটাধিকার বিলোপ করতে পারে কিনা। ৫৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে। আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্ব^য়ে গঠিত স্থানীয় সরকার বলতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার সংকুচিত করে তাদের শাসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন বোঝায় না।
জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার স্থানীয় সরকারের এ ইউনিটটি পরিচালনা করে আসছে, সরকার সেটা করতেই পারে, সরকারের সে রকম ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে; কিন্তু যখন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসনের কোনো স্তর বা ইউনিট পরিচালনার প্রশ্ন আসবে তখন সরকার সংবিধানে লিখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতির বাইরে যেতে পারে না। তবুও আমরা দেখছি সরকার সেদিকেই হাঁটছে। সরকারের এ সংবিধানপরিপন্থী হাঁটার উত্তর পেতে খুব বেশি দূর যেতে হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ে এর উত্তর লেখা আছে খুব সুন্দর ও সাবলীলভাবে। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা আনীত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সর্বোচ্চ আদালত ৪৪ দফায় যেসব নির্দেশনা প্রদান করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে দুটি নির্দেশনা এখানে উল্লেখ করতে চাই। ৪৪ দফার ৫নং নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা সব সময়ের জন্য সব মহলের জন্য রয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো ধরনের ছেদ (Interruption) বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন করে না।’ এ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বলতে শুধু জনগণের সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচন বোঝায় না। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকারসহ সব সরকারের প্রতিনিধি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করার ইচ্ছাটাই ব্যক্ত করছে। ৪৪ দফার ৩নং দফার নির্দেশনা হচ্ছে, ‘সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। ইহা বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ও পদ সৃষ্টি করিয়াছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করিয়াছে’। ১১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি। এটা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে, তবে পরোক্ষভাবে নয়।
জয়নাল আবদিন : আইনজীবী

লাল-সবুজ সাফল্য

ম্যাচের শেষ বাঁশি বেজে গেছে তখন। উল্লাস আর উচ্ছ্বাসে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরছে কৃষ্ণা, মার্জিয়া, তহুরা, অনুচিংরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের পর অনূর্ধ্ব-১৬তেও সাফল্য। সবাই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ঘাসে চুমু খেল। লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ল্যাপ অব অনার দিল। ডিজে ব্রাভোর। ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ গানটি বেজে উঠল। গানের তালে তালে নেচে ওঠে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। অপরাজিত বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য প্রজন্মের সোনালি মেয়েরা। এ সাফল্য একদিনে আসেনি। পরিবার ও সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা সামলে এমন সাফল্য অর্জন করতে হয়েছে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলারদের। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কথায়, ‘একটা সময় আমি বাক্সপেটরা নিয়ে নওগাঁসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে গিয়েছিলাম। ফুটবলের প্রতি মেয়েদের আগ্রহ তৈরি করতে হয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে তাদের ঘর থেকে বের করে আনতে হয়েছে। এজন্য তারাও কৃতিত্বের দাবিদার।’ এখন ফুটবলই তাদের ধ্যান-জ্ঞান। অধিনায়ক কৃষ্ণার কথা, ‘দলের সবাই ফুটবল নিয়ে ভাবে।
পরিবারে টানাপোড়েন থাকলেও ফুটবল নিয়েই আমরা চিন্তা করি। খেলাটা উপভোগ করি।’ তাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ যখন সারা দেশ, তখন মেয়েদের অধিনায়ক নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না যে, এমন সাফল্য। তাদের সহযাত্রী হয়েছে। আমিরাত ম্যাচের পর তার কথা, ‘আমরা নিজেদের এভাবে উঁচুতে নিয়ে যেতে পারব, ভাবতে পারিনি।’ কৃষ্ণা যোগ করে, ‘আমাদের মধ্যে তাগিদ ছিল নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের। আমরা অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে নেপাল ও তাজিকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলার পর যেভাবে অনুশীলন করেছি তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সাফল্য।’ দেশের ফুটবলে ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের মেয়েদের অবদান কম নয়। এ বিষয়ে ছোটনের মন্তব্য, ‘আমার দুঃখ লাগে, যখন শুধু কলসিন্দুরের মেয়েদেরকেই বাহবা দেয়া হয়। মাঠে খেলে ১৮ জন। তারা সবাই কিন্তু কলসিন্দুরের নয়। বাহবা দিলে দলের সবাইকে দিতে হবে। শুধু একটি গ্রামের মেয়েদের নয়। টিম বাংলাদেশ মানে দলের সবাইকে বোঝায়। তাই কৃতিত্বটা পাওয়ার যোগ্য সবাই।’ দেশের একটি ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় কৃষ্ণাদের পাঁচ লাখ টাকা বোনাস দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গুগল, ফেসবুক ও আমাজন কী করে হবে?

কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চালান আইটি উদ্যোক্তা আহমেদুল (ছদ্মনাম)। অফিস ছিল উত্তরায়। গত জুলাই মাসের ১৫ তারিখে বাড়িওয়ালা জানালেন, তাঁর বাসায় অফিস করা যাবে না এবং তিন দিনের মধ্যে অফিস ছাড়তে হবে। বেচারা আহমেদুল সবকিছু গুটিয়ে নিজে যে বাসায় থাকেন, সেখানে নিয়ে এলেন ১৭ তারিখে। সেখানে একটা রুমে একটা অস্থায়ী অফিস বানানোর চেষ্টা করলেন। ১০ দিনের মাথায় এই বাসার বাড়িওয়ালা পারলে তাঁকে বাসা থেকেই উৎখাত করেন। অপরাধ, আবাসিক এলাকায় অফিস। আহমেদুল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আর একটা অফিস ভাড়া নিয়ে অগ্রিম দিয়ে সেখানে গিয়েছেন। দুর্ভোগ পোহানো ছাড়াও তাঁর পকেট থেকে খরচ হয়ে গেছে অনেক টাকা। যদিও নতুন জায়গায় কয় দিন থাকতে পারবেন তা বলা মুশকিল। গত ১ জুলাই গুলশান হামলার পর থেকে ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশন হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্যোক্তারা নানা কিছু করছেন। এমনকি গুলশান-বারিধারার আবাসিক এলাকাতেও রেস্তোরাঁ, ব্যায়ামাগার ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। দুই সিটি করপোরেশন আবাসিক এলাকা থেকে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানকে খেদানোর চিন্তা শেষ করে এখন ভাঙচুর শুরু করে দিয়েছে। ভাবছে না, ১৯৫০ সালে ধানমন্ডি এলাকা ডিজাইন করার সময় কোনো পাগলও ভাবেনি মাত্র ৬০ বছর পরে ঢাকায় দেড় কোটি মানুষ থাকবে। তাদের অনেক চাহিদা থাকবে, যেগুলো ট্র্যাডিশনাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেটাতে পারবে না। তারা পারবে না বলেই অনেকে নেবেন নতুন নতুন উদ্যোগ। কারণ, প্রয়োজনই উদ্ভাবনের শর্ত। সংবাদমাধ্যমের হিসাবে এই উচ্ছেদের জেরে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ তাঁদের কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে যাবেন। প্রশ্ন হচ্ছে এসব উদ্যোক্তা যাবেন কোথায়?
এসব উদ্যোক্তার বেশির ভাগই তরুণ। বেকারত্ব একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। বিশ্বে এই মুহূর্তে বেকারের সংখ্যা ২০ কোটির বেশি। তরুণেরাই সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এর সঙ্গে ১৫-২৪ বছর বয়সী যারা পড়ালেখাও করে না, আবার কাজও করে না, সে সংখ্যা যোগ করলে সেটা ২৯ কোটি ছাড়াবে। রক্ষণশীল হিসেবে বাংলাদেশে ৯ শতাংশ লোক বেকার। তাতে সংখ্যাটা হয় প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে শিক্ষিতের সংখ্যা বেশি, ৪৭ শতাংশ। প্রতিবছর ২২ লাখ তরুণ এই দেশে কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। তঁাদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাত লাখ বৈধ-অবৈধ পথে দেশ ছেড়ে সোনার হরিণের আশায় বিদেশে পাড়ি দেন। এক-দুই লাখ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান। দুই লাখের মতো লোক নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতার ইনফরমাল সেক্টরে ঢুকে পড়েন। তারপরও মেরেকেটে ১০ লাখ লোকের প্রতিবছর কর্মসংস্থান হয় না। এই ২২ লাখের মধ্যে ২ লাখ হচ্ছেন গ্র্যাজুয়েট, যাঁদের অর্ধেকও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পান না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসাবে, বেকারমুক্ত বিশ্ব গড়তে হলে প্রতিবছর ৪ কোটি ২০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি করা প্রয়োজন আর বাংলাদেশে দরকার কমপক্ষে নতুন ১০ লাখ কর্মসৃজনের। প্রশ্ন হচ্ছে এই কাজটা কেমন করে হবে? সব হিসাবনিকাশ বলছে, সনাতনী পদ্ধতিতে সরকারি ও করপোরেট হাউসের চাকরি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। দরকার নতুন নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের, উদ্ভাবনী ও ডিজিটাল প্রযুক্তির। কর্মসংস্থানের সমীকরণে তাই সামনে এসেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। বলা হচ্ছে কর্মসৃজন বেশি করবেন উদ্যোক্তারাই। সে জন্য তাঁদের কাজটা যেন সহজে হয় তার জন্য সমাজে, সরকারে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার। মানে হলো ব্যবসা শুরু করা,
কাগজপত্র তৈরি করা—এসব যেন সহজে করা যায়। সামগ্রিক বিষয়টা যেন ভালো হয়, উদ্যোক্তা যেন সহজে অনুমোদনগুলো পায়, ব্যাংক যেন তার পাশে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ দেশই সেটা করার চেষ্টা করে। আমেরিকার মতো দেশের প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্ষিক ভাষণের একটা অংশ নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দেন। তিনি কী করবেন সেটা বলেন। শুধু যে উদ্যোগ নেন তা নয়। সফল উদ্যোক্তাদের দাওয়াত দিয়ে হোয়াইট হাউসে এনে চা খাওয়ান। শুধু সরকার নয়, সেখানে রয়েছেন বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা, যাঁরা তরুণ ও উদ্ভাবনী ধারণার পেছনে বিনিয়োগ করতে পিছপা হন না। ১০টি ধারণার পেছনে অবলীলায় টাকা ঢালেন এবং একটি উদ্যোগ সফল হলে আত্মতৃপ্তি পেতে কসুর করেন না। নতুন প্রযুক্তি আর নতুন ধারণাকে লালন-পালন করেন বলে সেখানে গুগল, ফেসবুক কিংবা আমাজনের মতো আপাত উদ্ভট ধারণা বিরাট হয়ে সবকিছুকে গ্রাস করার পর্যায়ে যেতে পারে। তো বলছিলাম এই যে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেটা কিন্তু বিশ্বব্যাপী এক বিরাট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এটা এমনই একটা অবস্থা তৈরি করেছে যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিডিয়া কোম্পানি নিজে কোনো কনটেন্ট তৈরি করে না (ফেসবুক), সবচেয়ে বড় ট্যাক্সি সার্ভিসের নিজেদের কোনো ট্যাক্সি নেই (উবার), পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দোকানের নিজের কোনো ইনভেন্টরি নেই (আলিবাবা), সবচেয়ে বড় হোটেল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হোটেলই নেই (এয়ারবিএনবি)। এই তালিকা আরও বড় করা যায়। ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে আজকে বিশ্বের অন্যতম ধনীদের প্রোডাক্ট হয়েছে মেধাসম্পদ, সেগুলো হাতে ধরা যায় না। এ উদাহরণগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এটা জানানো যে এখন একটা ইন্টারনেট সংযোগ আর ল্যাপটপ থাকলেই নিজের দক্ষতায় এমন প্রতিষ্ঠান গড়া যায়, যার মোট মূল্য কোনো কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের চেয়ে কম নয়।
মাত্র ৫৫ জনের একটি মেসেজিং কোম্পানি হোয়াটসঅ্যাপকে ফেসবুক কিনে নিয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে! বিশ্ব এখন একটা ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরাও সেদিকে ঝুঁকবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের কাজ হওয়ার কথা তাদের জন্য একটা প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। তা না করে আমরা প্রতিনিয়ত তাদের জন্য রাস্তাটাকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলছি। ওয়েবসাইট বানানোর একটা কোম্পানিতে কাজ করে হয়তো দুই বা তিনজন এবং তাদের অফিসে নিজেরা ছাড়া অন্য কোনো লোক আসেও না। আমাদের সিটি করপোরেশনগুলো যে কাঠামোকে ‘অফিস’ ভাবে, এগুলো সে রকমও না। তারপরও আমরা জোর করছি তারা যেন হাজার টাকার স্পেস ছেড়ে লাখ টাকার স্পেসে যায়। কোনো কোনো মেয়র ভাবছেন তিনি একসঙ্গে সাত বছরের ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে নেবেন। অথচ এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত তথ্য যে ৬০-৭০ শতাংশ নতুন ডিজিটাল কোম্পানি প্রথম বছরেই বন্ধ হয়ে যায়, তাদের উদ্যোক্তারা নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করে। ফেসবুকে পেজ খুলে বা একটি ই-কমার্স সাইট খুলেই একটা বড় ব্যবসা চালু করা যায়, যার কর্মীরা নিজ নিজ বাসা থেকেই সেটা চালাতে পারে। এ রকম একটা ভার্চ্যুয়াল শপের কেন ‘তথাকথিত বাণিজ্যিক এলাকায়’ অফিস থাকা লাগবে? কেনই-বা তাকে একটা ‘দোকান’ নিতে আমরা জোর করব? বিশ্বব্যাপী এখন বাসায় থেকে কাজ করাকে উৎসাহ দেওয়া হয়, যাতে পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারে। এতে যাতায়াত খরচ ও অফিস ভাড়াটাও বাঁচে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানে এখন আর কারও জন্য নির্দিষ্ট চেয়ার-টেবিল থাকে না। দরকারও পড়ে না। তাহলে? আপনি তরুণদের কাজ দেবেন না, চাকরির সুযোগ তৈরি করবেন না আর সে নিজে নিজে কিছু করতে চাইলে তাকে পদে পদে হয়রানি করবেন আর ভাববেন সে আপনাকে গুগল, ফেসবুক আর আমাজন বানিয়ে দেবে। এত সোজা?

লবণের আকাশচুম্বী দাম

সাম্প্রতিক কালের মধ্যে লবণের দাম এখন সর্বোচ্চ। পরপর দুই মৌসুম দেশীয় লবণের উৎপাদন চাহিদার থেকে কম থাকায় বাজারে লবণের অভাব দেখা দিয়েছে। সরকার লবণ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দুই মাসের জন্য স্থগিত করে দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাহলেও সীমিত মাত্রায় আমদানির অনুমতি দেওয়ায় তা ভোজ্য ও শিল্পে ব্যবহৃত লবণের মোট চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, উৎপাদক ও আমদানিকারকেরা। ভারী বৃষ্টির কারণে গতবারের মতো এবারও লবণ চাষে ঘাটতি পড়েছে। এই সুযোগে মজুতদারেরা চাষিদের থেকে সস্তায় কেনা লবণ বেশি দামে বাজারে ছাড়ছেন। এরই জেরে বাজারে লবণের দাম বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ৪২ টাকা! ৥দীর্ঘকাল লবণের দাম এত বাড়তে পারেনি। লবণ কেবল মানুষের খাদ্যতালিকার অপরিহার্য দ্রব্যই নয়, তা শিল্পেরও কাঁচামাল। লবণসংকটে সার উৎপাদনে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া লবণের অভাবে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণেও সমস্যা দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে চামড়াশিল্পে, চামড়া সংরক্ষণের খরচও অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।
আগামী তিন মাসের আগে লবণচাষিরা বাজারে লবণ সরবরাহ করতে পারবেন না। এমনিতে লবণচাষিদের স্বার্থে দেশে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ অবস্থায় সম্প্রতি সরকার মাত্র দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এ বিষয়ে সোমবারেরপ্রথমআলোর সংবাদে লবণ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন লাখ টন লবণ আমদানি করা হলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতে প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনের খরচ যেখানে ৬০ থেকে ৭০ পয়সা, সেখানে বাংলাদেশের চাষিদের খরচ হয় প্রায় চার টাকা। কারণ, নিজস্ব জমি না থাকায় আমাদের চাষিদের প্রভাবশালীদের কাছ থেকে সরকারি জমি ভাড়া নিয়ে লবণ চাষ করতে হয়। সরকারের উচিত চাষিদের এই দুর্দশার প্রতিকারের পথ বের করা। আর আশু সমাধান হিসেবে মজুত লবণ বাজারে ছাড়তে মজুতদারদের বাধ্য করা এবং বাকিটা আমদানির মাধ্যমে মেটানোর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন করণীয়।

সালমান শাহের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আজ এফডিসি মসজিদে বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। আরও উপস্থিত থাকবেন সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি কণ্ঠশিল্পী এসএম শফি, চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী, কলাকুশলীসহ সালমান ভক্তরা। ১৯৯৬ সালের এই দিনে তিনি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতিপক্ষ ও নিন্দুকেরা তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার ও ভক্তদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। সালমান শাহের জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নানার বাড়ি সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায়। বিটিভিতে শিশু শিল্পী হিসেবে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর বাকিটা কেবলই ইতিহাস। প্রথম ছবিতেই সারা দেশের মানুষের মন জয় করে নিলেন তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর সুদর্শন চেহারা দিয়ে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন সালমান শাহ। তার প্রায় প্রতিটি ছবিই ছিল ব্যবসাসফল। এসব ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী, শাবনূর, লিমা, শাবনাজ, বৃষ্টি, শাহনাজ, শ্যামা প্রমুখ।