Saturday, March 10, 2018
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ চাপের মুখে by কুলদীপ নায়ার

আমি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে সাফাই বক্তব্য দিচ্ছি না। কিন্তু ওই রায়ের পেছনে শেখ হাসিনার হাত রয়েছে বলে অনুভূতি এতটাই জোরালো যে, রায়টি তার ‘ফেস ভেলু’তে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না। বিশেষ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শাস্তিদান কালে বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য’ ও সামাজিক মর্যাদা’ বিবেচনায় তাকে তিনি কম মেয়াদি সাজা দিয়েছেন। এর অর্থ হলো তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো বিদেশি অনুদান থেকে পাওয়া তার পরিবারের দ্বারা পরিচালিত জিয়া এতিমখানা পরিচালনার তহবিল থেকে ২১ মিলিয়ন টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। তার সঙ্গে তার ছেলেসহ আরো পাঁচ জন ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন, জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কেবল কাগজে কলমে টিকে আছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার তিন সহযোগী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট থেকে আরো সাড়ে ৩১ মিলয়ন টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। রায়ের প্রাক্কালে বেগম খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাকে একটি মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, সব অভিযোগ থেকে আমাকে রেহাই দেয়া হবে। এটা একটি মিথ্যা মামলা। আমি ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য এসব মামলা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই রায় যদি ক্ষমতাসীন সরকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা একটি কলঙ্কিত ইতিহাস সৃষ্টি করবে। খালেদা জিয়া আরো বলেছিলেন, তাকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে আদালতকে ব্যবহার করা একটি নজির। তিনি আরো বলেছিলেন, আমি সব ধরনের ফলাফল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছি। আমি জেল বা শাস্তিকে ভয় পাই না। অমি আমার মাথা নত করব না। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি ভিন্নতর কোনো রায় না দেন, তাহলে এই রায় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিচারিক আদালতের রায় পাওয়ার একদিন পরে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল করেছেন। ১২২৩ পৃষ্ঠার আপিল আবেদনে তার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান খালেদা জিয়া কেন মুক্তি পাবেন তার সপক্ষে ২৫টি যুক্তি দেখিয়েছেন। এর সারকথা হচ্ছে রাজনীতি থেকে তাকে বিদায় দিতেই মামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ শেখ হাসিনার সরকার নাকচ করেছেন। আদালতের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি চলতি সপ্তাহের শেষে শুরু হতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলাটি হলো তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক ডজন দুর্নীতি মামলার অন্যতম। বেগম জিয়া গত এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে তিনি ইতিমধ্যে একটি সাধারণ নির্বাচন বয়কট করেছেন, আর সেটা তখন বিরাট প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়া এবারে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেছেন, বেগম জিয়াকে ছাড়া তাদের দল নির্বাচনে যাবে না। তার কথায়, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া কোনো জাতীয় সাধারণ নির্বাচন হবে না।’ এদিকে শেখ হাসিনার সরকার বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে তাদের কিছু করার নেই। বিএনপি আসুক আর না আসুক, যথারীতি ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মিডিয়া সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই দুর্নীতি মামলা বেগম জিয়ার সমর্থকরাই ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করেছিল। ওই সময়ে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন ওই অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিল। তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিএনপি যদি রায়ের কারণে নির্বাচন বর্জন করে তাহলে আমরা তো নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারি না। ১৯৯১ সাল থেকে বেগম জিয়া তিন বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি এখন ৩০টির বেশি অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছেন। এর মধ্যে দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আছে। বিএনপি ওই কারাদণ্ড ঘোষণার পরে দ্রুততার সঙ্গে তার ছেলেকে তার পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা এমনকি মন্তব্য করেছেন, এই সিদ্ধান্তে বিএনপির ‘নৈতিক দারিদ্র’ প্রকাশ পেয়েছে। এটা প্রশংসনীয় যে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা বজায় রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ সুপ্রিম কোর্টে তাকে দণ্ডিত করার পাশাপাশি বলেছিলেন তিনি আদালত ও সংসদের ভেতরের ও বাইরের জনগণকে বোকা বানোনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কখনই সমগ্র সত্য নিয়ে আদালতের সামনে উপস্থিত হননি।
নওয়াজ শরীফ রায় গ্রহণ করে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি আবার জনগণের কাছে ফিরে যাবেন। ফোডার স্কামে রাচি হাইকোর্টে দণ্ডিত রাষ্ট্রীয় জনতা দল প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। এ রকম আরো উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রাজনীতিকদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। এরকম ভুরি ভুরি নজির আছে যেখানে রাজনীতিকরা এমন পরিস্থিতি থেকে পুনরায় ফিরে এসেছেন। রাজনীতিতে নিজদের প্রাসঙ্গিক রাখতে তারা উচ্চ আদালতে নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় একটা সংস্কার আনা দরকার, যাতে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকরা চিরজীবনের জন্য রাজনীতিতে অযোগ্য থাকেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘সরকারে ‘অপরাধী রাজনীতিকদের’ কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। কিন্তু এই বিষয়ে পরিবর্তন আনার দায়িত্ব আদালত নির্বাহী বিভাগের হাতে ন্যস্ত করেছেন। কিন্তু এটা এখনো পর্যন্ত কাজ করেনি। সুপ্রিম কোর্ট কিভাবে আশা করতে পারেন যে, নির্বাহী বিভাগ এটা ভবিষ্যতে করবে?’
(কুলদীপ নায়ার, ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামনিস্ট। লেখাটি ডেকান হেরাল্ডে সমপ্রতি প্রকাশিত তার নিবন্ধের অনুবাদ)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রীলঙ্কায় সহিংসতার মূলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি by গ্যারি আনন্দসাঙ্গারে

শ্রীলঙ্কায় এই ধরনের সহিংসতা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজরা ১৯৫৮, ১৯৭৭ ও ১৯৮৩ সালে তামিলবিরোধী কর্মসুচি হাতে নিয়েছিল। দেশটির অস্থির ইতিহাসে তামিল, মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর মাঝে মাঝেই সহিংসতা হয়েছে থেমে থেমে। এখানে ১৯৮৩ সালের ২৩ শে জুলাই রাতে তামিল বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এর নাম দেয়া হয় ‘ব্লাক জুলাই’। ওই সময় শ্রীলঙ্কার সরকার তামিল ভোটারদের তালিকা সরবরাহ করে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের কাছে। এর ফলে তারা হত্যা করে কমপক্ষে ৩০০০ তামিলকে। রাজধানী কলম্বোতে তামিলদের মালিকানাধীন বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার ফলে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা থেকে দলে দলে তামিলরা দেশ ছেড়ে আশ্রয় নিতে থাকেন কানাডার মতো দেশে। ওই ঘটনার ফলে শ্রীলঙ্কায় সৃষ্টি হয় ২৬ বছর স্থায়ী গৃহযুদ্ধের। তা শেষ হয় ২০০৯ সালের মে মাসে। এই যুদ্ধ শেষ হয় গুরুত্বর সব অভিযোগের মধ্য দিয়ে। অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আইন ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করেছে সরকার। ২০১৫ সালে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনারের অফিস প্রমাণ পায় যে, ওই যুদ্ধের শেষের দিকে মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যৌন সহিংসতা, সংক্ষিপ্ত বিচারে ফাঁসি ও জোরপূর্বক গুমের সঙ্গে জড়িত শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী।
এসব সহিংসতার সবটাই একই সুতোয় গাঁথ। তাহলো দায়মুক্তির সংস্কৃতি। প্রায় ৭০ বছর আগে স্বাধীনতা অর্জন করে শ্রীলঙ্কা। তারপর থেকেই এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সেখানে বিদ্যমান। এসব দাঙ্গার জন্য যারা দায়ী অথবা ২০০৯ সালে শেষ হওয়া যুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে সক্ষমতা নেই শ্রীলঙ্কার। তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা দিয়ে যাচ্ছে। বলছে, এই বিচারে বিদেশী ও কমনওয়েলথের বিচারক, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী থাকবেন। কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথে কোনোই অগ্রগতি হয় নি।
সরকার তার সেনাবাহিনীকে যেকোনো রকম জবাবদিহিতা থেকে সুরক্ষিত রেখেছে। প্রকৃত সত্য হলো, ২০০৯ সালে শেষ হওয়া যুদ্ধে জড়িত ছিলেন এমন সেনাবাহিনীর সিনিয়র অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে। কিন্তু সরকার কি করেছে! সরকার তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিয়েছে। তাদেরকে নিয়োগ করেছে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে। সেখানে তারা বিচারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি সুবিধা ভোগ করছেন।
কঠোরভাবে বলতে হয়, সর্বশেষ মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে দাঙ্গা বা হামলা হচ্ছে তা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিল শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার রেকর্ড, জবাবদিহিতা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও পুনরেকত্রীকরণের রেকর্ড নিয়ে আলোচনা করছে। এ সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার প্রিন্স জায়েদ বিন রাদ জায়েদ আল হোসেন শ্রীলঙ্কার বিষয় তুলে ধরেছেন। এতে শ্রীলঙ্কায় দায়মুক্তির সুবিধা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির অগ্রগতিতে অভাব তুলে ধরেন তিনি। তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শ্রীলঙ্কার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সার্বজনীন বিচারের মূলনীতি প্রয়োগ করতে।
গণতান্ত্রিক একটি অভ্যুত্থান এরই মধ্যে ঘটে গেছে দেশটিতে। সেটা ঘটেছে ২০১৫ সালে। তখন কর্তৃত্ববাদী শাসক মাহিন্দ রাজাপাকসেকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ওই অভ্যুত্থান। এর মধ্য দিয়ে একটি আশার আলো দেখা দেয় যে, শান্তির পথে অগ্রসর হবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতায় আসেন নতুন প্রেসিডেন্ট। তিনি সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমর্থন প্রকাশ করেন ‘ওয়্যার হিরো’ বা তাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের নায়কদের প্রতি। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যারা তাদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি দেন। এর ফলে নির্যাতিতরা বা ভিকটিমদের সত্য ও ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে নতুন করে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।
শ্রীলঙ্কা তার নিজের ছায়ার ভিতরেই রয়েছে। দায়মুক্তি দেয়ায় এই দ্বীপরাষ্ট্রটির এবং এর জনগণের যে ক্ষতি করা হয়েছে তা তাদের উল্টো দেয়া উচিত। আমরা যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে চাই, যদি অতীতের ভুল এড়িয়ে চলতে চাই, তাহলে যারা নিয়মিতভাবে অন্যরে অধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের কর্মকা-, তাদের নির্লিপ্ততায় যে ক্ষতি হয়েছে, যা হারিয়ে গেছে তার জন্য যদি এই বিচার করতে ব্যর্থ হলে পুরো মানবতা ব্যর্থ হবে।
আমাদের প্রার্থনা করা উচিত। প্রার্থনা করা উচিত সেখানে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তার উত্তেজনা যেন আরো ছড়িয়ে না পড়ে, যার জন্য দেশটি শত্রুতায় ভরা পরিবেশে ফিরে যায়। এই দ্বীপরাষ্ট্রে এমন ঝুঁকি কমাতে আমাদেরকে নিশ্চিত হরতে হবে যে, সাম্প্রতিক অপরাধীরা যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে বিচার প্রক্রিয়ায় আনতে হবে। অতীতের আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিকে প্রকৃতঅর্থে মাথায় রাখতে হবে।
(গ্যারি আনন্দসাঙ্গারে, কানাডা পার্লামেন্টের স্কারবরো-রৌগ পার্ক আসনের এমপি। তিনি বর্তমানে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিলের ৩৭তম অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। অনলাইন টরোন্টো স্টার থেকে তার এ লেখাটি অনুবাদ প্রকাশ হলো)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিআইপি বন্দি থাকায় কারাগারে বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ আপাতত বন্ধ by দীন ইসলাম

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পত্রিকা পড়ে নিভৃতে সময় কাটছে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

তিনি কখনও রাজনীতি করেননি। রাজনীতিক না হয়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য হয়ে আছে তার নাম। ছিলেন বিচারপতি, পরে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতির এক সন্ধিক্ষণে নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও। শুধু একবার নয়, দু’বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বহুদিন ধরে নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে গেছেন এই মানুষটি। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীনের খোঁজ-খবর জানতে তার গুলশানের বাড়িতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। আবাসন কোম্পানি কনকর্ডের সঙ্গে অংশীদারে বানানো ছয়তলা বাড়িটিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। নিজের পরিচয় দিয়ে বাড়ির প্রধান ফটক পেরিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে গিয়ে জানা গেল, অনেক দিন থেকেই সাহাবুদ্দীন মিডিয়ায় কথা বলেন না। তার শরীরও ভালো নেই। কথা বলতে কষ্ট হয় তার। কানে শুনেন না। বেশির ভাগ সময় ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলেন তিনি।
গত ৮ই মার্চ দুপুরের দিকে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার আবদুর রাজ্জাক মানবজমিনকে জানালেন, স্যার একান্ত আপনজন ছাড়া কারও সঙ্গেই দেখা করেন না। রাজ্জাক আরো জানান, স্যার-এর ছোট ছেলে সোহেল আহমেদ বলেছেন উনি (সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ) কানে শোনেন না। সুতরাং আপনার সঙ্গে কথা বলবেন না। বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ছোট ছেলে সোহেল আহমদের সঙ্গে থাকেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। একই তলার অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তার বড় মেয়ের জামাই ও নাতনি। সাহাবুদ্দীনের তিন মেয়ে আর দুই ছেলের মধ্যে বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সিতারা পারভীন। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। বছর তিনেক আগে সাহাবুদ্দীন আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমও মারা যান। বড় ছেলে পরিবেশ প্রকৌশলী শিবলী আহমদ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মেজো মেয়ে স্থপতি সামিনা পারভীন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছোট মেয়ে চারুশিল্পী সামিয়া পারভীন থাকেন দুবাই।
সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন চিকিৎসক বলেন, মূলত পত্রিকা পড়া তিনি বেশি পছন্দ করেন। বেশির ভাগ সময়ই তিনি ঘরে থাকেন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না, এমনকি কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান না তিনি। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে আসার পর থেকেই তিনি কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে যান না। নিভৃতে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। নিজেকে নিয়ে আলোচনা হোক সেটি চান না তিনি।
চলতি বছরের ১২ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসভবনে ফিরেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন আহমদ গত বছরের ৩০শে ডিসেম্বর পেট ব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে কেবিন ব্লকের ৬১১নং কেবিনে ভর্তি হয়েছিলেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কানের সমস্যা, পারকিনসন্সসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মানবজমিনকে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন আহমদ পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কানের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। কানে শুনেন না। ইশারা-ঈঙ্গিতে কথা বলেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার সিভিল সার্জন অফিস সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন আহমদের চিকিৎসার দায়িত্ব দেয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ওপর। এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার সিভিল সার্জন অফিস সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন আহমদের চিকিৎসার দায়িত্ব তাদের ওপর দিয়েছে। তাঁর প্রয়োজন হলেই আমাদের চিকিৎসক দল সাহাবুদ্দীন আহমদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
কারও সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহী এই মানুষটি একদা যেমন বিচক্ষণতার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনটিও উপহার দিয়েছিলেন জাতিকে। সাহাবুদ্দীন আহমদ কোনোবারই নিজের ইচ্ছায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেননি। ১৯৯০ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন হয়। তখন প্রশ্ন দেখা দেয়, কে দেশের দায়িত্ব নেবেন? রাজনৈতিক দলগুলো মিলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি বিচারিক পদ ছাড়তে চাননি বলেই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আবার আগের পদে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে। একাদশ সংশোধনী ছিল সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন। নব্বইয়ের অভ্যুত্থানের পর সেদিন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন দায়িত্ব না নিলে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাহাবুদ্দীন আহমদের দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রেক্ষাপটও ভুলে যাওয়ার নয়। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নিয়ে অন্তরালে চলে যান সাহাবুদ্দীন আহমদ। আগেও যে খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন এমন নয়। বরাবরই প্রচারবিমুখ মানুষ তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষে একেবারেই নিভৃতে চলে আসেন।
উইকিপিডয়ার মতে, ১৯৩০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্ম নেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ছিলেন ফজলুল হক হলের ছাত্র। ১৯৫৪ সালে তদানিন্তন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রশাসনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। তার বাবা তালুকদার রিসাত আহমেদ একজন সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অবশ্য বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের কর্মজীবনের সূচনা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। পরবর্তী সময়ে সহকারী জেলা প্রশাসক হওয়ার পর ১৯৬০ সালে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগে বদলি হন। আসীন হন বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে। তারপরের ইতিহাস তো জানা। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ৬ই ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯১ সালে তার অধীনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। পরে শর্তানুযায়ী তাকে প্রধান বিচারপতির পদে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২৩শে জুলাই তাকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট করা হয়। তখন তিনি অবসরকালীন সময় কাটাচ্ছিলেন। ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তফসিলের আগের ও পরের বৈধতার প্রশ্ন by মিজানুর রহমান খান

মিজানুর রহমান খান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক
mrkhanbd@gmail.com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি লবি: কী আছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে? by মাহমুদ ফেরদৌস

ওই সূত্র জানিয়েছে, তথ্যচিত্রে একজন ক্ষমতাধর ইসরাইলি কর্মকর্তার বক্তব্য সম্বলিত ফুটেজও রয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তাকে বলতে দেখা যায়, ‘আমাদের আছে এফডিডি। এছাড়া এ নিয়ে অন্যরাও কাজ করছে।’ এই কর্মকর্তার নাম সিমা ভাকনিন-জিল। তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তথ্যচিত্রে তাকে বলতে দেখা যায়, এফডিডি ইসরাইলের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘উপাত্ত সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ, অ্যাকটিভিস্ট সংগঠন নিয়ে কাজ করা, অর্থের উৎস অনুসন্ধান করা। কোনো একটি দেশের পক্ষে এটিই সবচেয়ে ভালোভাবে করা সম্ভব।’
আমেরিকার ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায়, যেসব মার্কিন সংগঠন ও নাগরিক বিদেশী সরকারের পক্ষ হয়ে কাজ করেন, তাদেরকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স বিভাগে নিবন্ধিত হতে হয়। কিন্তু এফডিডি থিংকট্যাংক ইসরাইল সরকারের এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত নয়। আল জাজিরার প্রচারিতব্য তথ্যচিত্রে এই বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, বিদেশী সরকারের এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত হলে একটি সংগঠনের অনেক কার্যক্রমই সীমিত হয়ে পড়ে। আবার বিদেশী সরকারের এজেন্টের মতো কার্যক্রম করা সত্ত্বেও নিবন্ধিত না হলে বড় ধরণের আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
প্রতিবেদনে দেখা যাবে যে, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এমন বেশ কয়েকটি লবি গ্রুপ মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারি করছে। এছাড়া ইসরাইলের সমালোচক মার্কিন নাগরিকদের হেয় করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে ইসরাইল-পন্থী কয়েকটি সংগঠনের গোপন তৎপরতাও এই তথ্যচিত্রে দেখানো হবে।
এর আগে বৃটেনে ইসরাইলি লবির প্রভাব ও তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন নির্মান করেছিল আল জাজিরা। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃটিশ রাজনীতিতে হুলস্থুল পড়ে যায়। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৃটেনে ইসরাইলি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বৃটিশ একজন মন্ত্রীকে অপসারণ করার ছক কষছেন, কারণ ওই মন্ত্রী ইসরাইলের সরকারী নীতির বিরোধী। এ নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে ব্যপক হইচই পড়ে যায়। ওই কর্মকর্তাকে অপসারণেও বাধ্য হয় ইসরাইল।
ওই প্রতিবেদন নিয়ে সাড়া পাওয়ার পর আল জাজিরা এক পর্যায়ে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন লবি গ্রুপের তৎপরতা নিয়েও কাজ করেছেন চ্যানেলটির একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ফলে প্রতিবেদন প্রচারের আগেই এ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, এই তথ্যচিত্র প্রকাশ না করতে আল জাজিরার মালিক কাতার সরকারের ওপর ভীষণ চাপ সৃষ্টি করে বেশ কয়েকটি ইসরাইল-পন্থী লবি গ্রুপ। এমনকি এদের কেউ কেউ পরে দাবি করেন, কাতার সরকার তাদেরকে ওই তথ্যচিত্র প্রচার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কিন্তু, হারেৎস পত্রিকা জানায়, সম্প্রতি আল জাজিরা থেকে আমেরিকার বেশ কয়েকটি ইসরাইলপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষের কাছে বার্তা গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাদের সংগঠন কিংবা ব্যক্তিবিশেষকে আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্রে দেখা যাবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের উত্তর দিতে বলা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়নি, ইলেক্ট্রনিক ইন্তিফাদা একটি সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে কী আছে, তা প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে সিমা ভাকনিক-জিল নামে যেই ইসরাইলি সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে দেখা যায়, তিনি এখনও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদায় কর্মরত রয়েছেন। এর চেয়েও বড় কথা তার বর্তমান কর্মস্থল হলো ইসরাইলের স্ট্রাটেজিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ে। এই মন্ত্রণালয়ে তিনিই সবচেয়ে উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা। স্ট্রাটেজিক অ্যাফেয়ার্স নামে এই মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশিদিন হয়নি। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যেই বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ প্রত্যাহার) ও স্যাঙ্কশন্স (অবরোধ) অর্থাৎ বিডিএস আন্দোলনে চলছে, তার বিরুদ্ধে গোপন প্রচারণা ও নাশকতা চালানো। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন গিলাদ এরদান, যিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ। ফলে, এই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ভাকনিন-জিলের মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
২০১৬ সালে এই মন্ত্রণালয় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে, ভাকনিন-জিল অনলাইনে যোদ্ধাবাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এই যোদ্ধাবাহিনী ইসরাইলি প্রোপাগান্ডা দিয়ে ইন্টারনেট ভর্তি করে ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে ফিলিস্তিন-বিরোধী ইহুদী বিলিয়নিয়ার ও ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সবচেয়ে বড় দাতা শেলডন আডেলসন হলেন ফাউন্ডেশন অব ডেমোক্রেসিস (এফডিডি) থিংকট্যাংকের অন্যতম অর্থদাতা। এফডিডি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। গত বছর ফাঁস হওয়া ইমেইল থেকে দেখা গেছে, ওয়াশিংটনে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত কাতার থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে এই এফডিডির সাহায্য কামনা করেন।
এই প্রতিবেদনে আরও দেখা যাবে, ইসরাইল-পন্থী একজন তরুণ লবিস্ট গর্ব করে বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক কত ঘনিষ্ঠ! ম্যাক্স আডেলস্টেইন নামে ওই লবিস্ট কাজ করতেন হার্বর গ্রুপে। তাকে গর্ব করে বলতে দেখা যাবে, হার্বর গ্রুপ কীভাবে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গোপনে নিরাপত্তা সম্পর্ক স্থাপনে ভ’মিকা রেখেছে। হার্বর গ্রুপের গ্রাহকদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি সৌদি আরবও রয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে ২২ লাখ ও সৌদি আরবের কাছ থেকে ছয়মাসে ৩ লাখ ডলার পেয়েছে হার্বর গ্রুপ।
আল জাজিরার তথ্যচিত্রে দেখা যাবে, এফডিডি’র জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান জোনাথন স্ক্যাঞ্জার ব্যাখ্যা করে বলছেন কীভাবে তার সংগঠন আমেরিকায় কাজ করা ফিলিস্তিনি সংহতি গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে। তাকে বলতে দেখা যাবে যে, বিডিএস আন্দোলনের সাফল্য সকলকে বিস্মিত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিডিএস আন্দোলনের সাফল্যের বিপরীতে ইসরাইলপন্থী লবি গ্রুপের প্রতিক্রিয়া ছিল হতচ্ছাড়া ও বিশৃঙ্খল। স্ক্যাঞ্জার সেখানে হতাশামিশ্রিত কন্ঠে বলেন, স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন ও আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন্স নামে দুইটি আমেরিকা-ভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এফডিডি। তিনি আরও স্বীকার করে নেন যে, ফিলিস্তিনের পক্ষে যেসব অ্যাক্টিভিস্ট কাজ করেন তারা ইহুদীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই তা করছেন, এমন প্রচারণা এখন অত কাজ করছে না। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রচারণার কৌশল হিসেবে ইহুদী-বিদ্বেষী লেবেল সেঁটে দেওয়াটা আগে যেমন কাজ করতো, এখন আর তেমন কাজ করছে না।’
এর আগে ইসরাইল সরকারের একটি গোপন প্রতিবেদন, যা যুক্তরাষ্ট্রে তৎপর ইসরাইলপন্থী সংগঠনে বিলি করা হয়েছিল, সেখান থেকেও এই পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি সংহতি আন্দোলনের অগ্রগতি নস্যাতে ইসরাইল যেসব প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে তা মোটাদাগে ব্যর্থ হয়েছে।
আল জাজিরার এই তথ্যচিত্রের সম্প্রচার ঠেকাতে ইসরাইল-পন্থী লবি গ্রুপ কাতার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা ছাড়াও অন্যান্য কৌশল হাতে নিয়েছে। যেমন, কমিটি ফর ইসরাইল নামে আরেকটি নব্য রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নোয়াহ পোলাক বলেন, আল জাজিরার এই তৎপরতা কী ছিল, তা নিয়ে মিনমিন করে বলার কিছু নেই। এটি ছিল আমেরিকার মাটিতে কাতারের চালানো পেশাদার গুপ্ত অভিযান। শুধু তা-ই নয়, আল জাজিরা যেখানে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে আমেরিকায় যেসব সংগঠন ইসরাইল সরকারের পক্ষে কাজ করে, তারা বিদেশী এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত নয়, সেখানে ইসরাইল-পন্থী মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা এখন দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন যাতে উলটো আল জাজিরাকে কাতারের বিদেশী এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করা হয়! কয়েকদিন আগে, রাশিয়ার সরকারী অর্থায়নে চালিত রাশিয়া টুডে চ্যানেলকেও বিদেশী এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত হতে বাধ্য করেছে বিচার মন্ত্রণালয়। ঠিক সেভাবেই আল জাজিরাকে নিবন্ধিত করার কথা বলছেন ওই কংগ্রেস সদস্যরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন by আজিজুর রহমান খান

দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, কম-বেশি সবখানেই আয় বণ্টনের বৈষম্য বেড়ে যাওয়া। আমি এ বিষয়ে প্রায়ই দুটি গতানুগতিক বিরোধিতার মুখোমুখি হই: ১. যেহেতু বেশির ভাগ আয় বৃদ্ধি হয়েছে দরিদ্রতর দেশগুলোতে, সেহেতু মনে হয় বিশ্বের সব ব্যক্তির মধ্যে আয় বণ্টনের অসমতা হয় কমেনি, নয়তো কমলেও তা খুবই কম। ২. চরম দারিদ্র্য যেখানে কমতির দিকে, তখন বৈষম্য বাড়ায় কারও উদ্বেগ থাকবে কেন?
এ দুই যুক্তির কোনোটিই মানতে আমি রাজি নই। আমাদের কাছে এমন কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ নেই, যা দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে একেকটি দেশের ভেতরের বৈষম্যকে বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বৈষম্যের মাধ্যমে পুষিয়ে আনা যায়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বৈষম্য সমাজকাঠামো কেমন হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়: যেমন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান এই বৈষম্যই ঠিক করে দেয়। চরম দারিদ্র্য কমতে থাকার পরও বৈষম্য বাড়ায় কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ এই যে সামগ্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে দারিদ্র্য হ্রাসের চেয়ে বৈষম্য বড় বাধা সৃষ্টি করে। এরপর আরও একটি উদ্বেগের কারণ হলো, বিদ্যমান আয় নিরূপণের হিসাব পদ্ধতি বহু খরচের খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবেশ বিপর্যয়ের যে বিশাল ক্ষতি, সেটি এই হিসাবের মধ্যে ধরা হচ্ছে না। আয় বণ্টনের হেরফের সমন্বয় করতে অর্থনীতিবিদেরা একটি পন্থা অবলম্বন করেন। সমষ্টিগত আয়কে ‘সুষমভাবে বণ্টিত সমমূল্যের আয়ে’ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁরা এই সমন্বয় করেন। যদিও ভিন্ন ভিন্ন স্তরের জীবনমানে থাকা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আয়ের একক তাদের সমাজ কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা বিবেচনায় আনা খুবই জরুরি। পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করতে হয়, তা-ও অর্থনীতিবিদেরা জানেন। যেমন বনজ সম্পদ ও পানির উৎসের ক্ষতির মতো কিছু বিষয়ে কী করতে হবে, তা স্পষ্ট। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের মতো কিছু বিষয়ের ক্ষতি নিরূপণের জন্য আরও বেশি তথ্য এবং কোনো সমাজব্যবস্থা প্রত্যাশিত গড় আয়ু ও রুগ্ণতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা আমলে নিতে হয়। আমি মনে করি, প্রাথমিকভাবে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা অতি দুরূহ হিসেবে প্রতীয়মান হলেও এটিকে অপেক্ষাকৃত কম ভীতির বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা উচিত। মূল ব্যাপার হচ্ছে, পরিবেশ বিপর্যয়ের বিপরীতে সমন্বয়কৃত সুষম বণ্টনলব্ধ আয় আমাদের সময়ের, বিশেষ করে আমাদের দেশ, চীন ও ভারতের মতো দেশে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির শতকরা হার কমিয়ে ফেলবে। এমনকি এই সমন্বয়ের পরও আমাদের আমলে অর্জিত হতে থাকা সমৃদ্ধির বিকাশ অনেক বেশি চিত্তাকর্ষক হবে; তবে দাপ্তরিক আনুমানিক মূল্য বিচারে সম্ভাব্য অর্জনকে যতটা জমকালো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তার থেকে সেই অর্জন কিছুটা কম হবে।এখন দেখা যাক সমৃদ্ধির ক্রমবৃদ্ধি নিরূপণের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া কী অবস্থায় আছে। কর্মজীবনের শুরুতে আমাদের প্রজন্মের অনেকেই সমাজতান্ত্রিক আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যে আদর্শের প্রভাবশালী ধরন ছিল সোভিয়েত কেন্দ্র-নির্দেশিত পরিকল্পনার ধরন। তাঁদের সামনে আশার বিষয় ছিল, এটি অত্যন্ত দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও সাম্যের মিশ্রণ ঘটায়। যেমনটা ঘটেছিল সোভিয়েতে। গভীর হতাশায় পুঁজিবাদী বিশ্ব যখন পঙ্কিল হয়ে উঠেছিল, সেই মুহূর্তে সোভিয়েত অর্থনীতির ক্ষিপ্র অগ্রগতি এবং শ্রমের শোষণ বন্ধ ও সাম্য নিশ্চিতে পুঁজির বেসরকারি মালিকানা বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার তাঁদের সামনে আশাজাগানিয়া ভূমিকা রেখেছিল।আমাদের কর্মজীবন শেষের বহু আগেই কেন্দ্র-নির্দেশিত পরিকল্পনাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। জনগণের বস্তুগত আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতার জন্য অনিবার্যভাবে দায়ী হয়ে উঠেছিল যে বিষয়টি, সেটি হলো সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য প্রচলিত যুক্তিগ্রাহ্য অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের পদ্ধতি থেকে বিচ্যুতি।নিজেকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ অর্থনীতিবিদ মনে করতেন, এমন ব্যক্তিসহ বহু অর্থনীতিবিদ এর কারণ বিশদভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে তা নিয়ে আলোচনা করার অবকাশ নেই। আমি যা বলতে চাই, তা হলো সোভিয়েতের কেন্দ্র-নির্দেশিত পরিকল্পনাব্যবস্থাও সন্তোষজনক সাম্যবাদী সমাজ গড়তে পারেনি। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জন্য তৈরি করা অসংখ্য হিসাবে দেখা যায়, তাদের বৈষম্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর চেয়ে কম ছিল বটে; কিন্তু পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চেয়ে ছিল বেশি।এর কারণ হিসেবে নানা ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে আমি যেটির ওপর জোর দিতে চাই সেটি হলো ব্যক্তিমালিকানা বিলুপ্ত করে সরকারের অধীনে উৎপাদন হলে বৈষম্য দূর হবে-জনগণের মধ্যে এই আশা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। মার্ক্সীয় সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিমালিকানায় কলকারখানা থাকাটাকে পুঁজিবাদী শোষণের উৎস বলে বিবেচনা করা হয় এবং উনিশ শতকের বাস্তবতায় হয়তো মার্ক্সের কথা ঠিকই ছিল।কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদে পুঁজির মালিকানা আর এক জায়গায় পুঞ্জীভূত থাকার সুযোগ নেই। এখনকার পুঁজি ছড়ানো-ছিটানো থাকে। পাল্টে যাওয়া আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরনের কারণেই শীর্ষ ব্যবস্থাপকেরা সম্পূর্ণ আয় কুক্ষিগত করতে পারে না। যোগ্যতামাফিক কর্মীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হয়। সোভিয়েত ঘরানার সমাজতন্ত্র উৎপাদন কারখানার ব্যক্তিমালিকানা বিলুপ্ত করেছিল। সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে সেগুলোর ওপর আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তখন দেখা গেল, সেগুলো কার্যত সরকারের অনুগত ব্যক্তি অথবা সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো গ্রুপ চালাচ্ছে। ব্যবস্থাপনাভিত্তিক পুঁজিবাদের চেয়ে এই ব্যবস্থা ভালো ছিল, এ কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
কেন্দ্র-নির্দেশিত পরিকল্পনার বিকল্প হচ্ছে এমন এক বাজারের ওপর নির্ভর করা, যেটি পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটি অন্যতম অঙ্গ। কিন্তু গণতন্ত্রে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠান বলতে যা বোঝানো হয়, আধুনিক বাজার আর সেই জায়গায় নেই। এমনকি চরম বিশুদ্ধতাবাদী অর্থনৈতিক তত্ত্ব পর্যন্ত আধুনিক বাজারের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছে। আধুনিক বাজারকেও যেসব সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয় সেগুলো হলো সবার জন্য তথ্য পাওয়ার সমান সুযোগের অভাব, সরাসরি বিনিয়োগকৃত পুঁজির বাইরে আরও যেসব পুঁজি ও সম্পদমূল্য আছে, সেগুলোকে হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং সর্বোপরি বাজারে সক্রিয় বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে সম্পদের বৃত্তির বণ্টনবৈষম্য। আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্যের মধ্যেই পুঁজিবাদের অধীনে বাজারের এই অসাম্যের কারণ নিহিত রয়েছে। যখন বৈষম্য সীমিত পর্যায়ে নেমে আসে এবং অন্য ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে ক্ষতিপূরণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বাজার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আসলে এটিই সম্পদের লাগসই ব্যবহার নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি। বাজারকে বাতিল বা পরিত্যাগ করা মানুষের কথোপকথনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরই নামান্তর। কিছু লোক আছে, যারা এত উচ্চ স্বরে কথা বলে যে তাদের কণ্ঠের নিচে কম শব্দ করে অন্যদের বলা কথা চাপা পড়ে যায়। সেই কথাগুলো ঠিকমতো শোনা যায় না। এখানে ন্যায্য সমাধান হবে উচ্চ স্বরে কথা বলা লোকদের আওয়াজ একটু কমিয়ে দেওয়া, যাতে অন্যদের কথাও বোঝা যায়। বাজারের বিষয়টি অনেকটা তেমনই। বেশির ভাগ অর্থনীতিতে উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে উৎসারিত আয়ের প্রাথমিক বণ্টনকে সুনির্দিষ্ট পুনর্বণ্টন নীতি আবার হিসাব-নিকাশ করে আরও সীমিত করে আনে। অক্সফোর্ডের গবেষণায় কয়েকটি দেশের প্রাক্পুনর্বণ্টন ও পুনর্বণ্টনোত্তর আয়বৈষম্যের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আজিজুর রহমান খান, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের অর্থনীতি বিভাগের ইমেরিটাস প্রফেসর
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ত্রিপুরার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কী? by আলতাফ পারভেজ

দুই. অনেকেই জানেন, ভারতে সাধারণভাবে পাঁচ বছর পরপর রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন হয়। ত্রিপুরায় ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৩৭ শতাংশ (৮ লাখ ৪ হাজার)। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পায় প্রদত্ত ভোটের ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ (৬ লাখ ৮৪ হাজার)। এ দুই নির্বাচনী ফল থেকে এটা স্পষ্ট, ত্রিপুরায় কংগ্রেসের মোটামুটিভাবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ১ দশমিক ৮ শতাংশ মাত্র (৪১ হাজার ভোট)। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ রাতারাতি এই রাজ্যে কংগ্রেসের ভোটব্যাংক কোথায় উধাও হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের যেতে হবে বিজেপির ভোটের পরিসংখ্যানে।
তিন. যদিও ত্রিপুরায় ২০১৮-এর আগে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির কোনো প্রার্থী কখনো জেতেননি, কিন্তু বহুকাল ধরেই তারা সেখানে নির্বাচন করে যাচ্ছে। ২০০৮-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা পান প্রদত্ত ভোটের ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ (২৮ হাজার ভোট)। ২০১৩ সালের নির্বাচনে একই দল পায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট (৩৩ হাজার ৮০৮)। অর্থাৎ, রাজ্যে দলটির ভোটব্যাংক ১ লাখের নিচে ছিল বরাবর। কিন্তু ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তারা পেল প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট (১০ লাখ) ! অর্থাৎ বিজেপির ভোট যখন ত্রিপুরায় ১ লাখ থেকে ১০ লাখে উঠছে (এর মধ্যে কিছু ভোট রয়েছে আদিবাসীদের), ঠিক তখনই কংগ্রেসের ভোট ৭-৮ লাখ থেকে ৪১ হাজারে নেমে আসছে। এ দুই দলের ভোটের এই অবিশ্বাস্য উত্থান-পতনের রহস্যটি অনুমান করা কঠিন নয়। তবে পাঠককে সেই অনুমানে সাহায্য করার জন্য আমরা পরিসংখ্যানের আরও নিবিড় চিত্র বিশ্লেষণে যাব, যাতে উল্লিখিত রহস্যটি একেবারেই রহস্যমুক্ত হয়ে যাবে।
চার. ত্রিপুরায় এবার যে ৫৯টি বিধানসভা আসনে ভোট হয়েছে, তার একটি হলো পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুতিয়া আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন হরিচরণ সরকার। তিনি ভোট পান ১৭ হাজার ৩২৪। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের প্রকাশ চরণ দাস ভোট পান ১৪ হাজার ৯৪৪। সিপিএম প্রার্থী জেতেন ২ হাজার ৪০০ ভোটে। একই আসনে ২০১৩ সালের ভোটে সিপিএম প্রার্থী ছিলেন যথারীতি হরিচরণ আর কংগ্রেসেরও প্রার্থী ছিলেন যথারীতি প্রকাশ চরণ। এবারও হরিচরণ জেতেন। তিনি ভোট পান ১৯ হাজার ৭৪৪। আর কংগ্রেসের প্রকাশ চরণ পান ১৬ হাজার ৯৯৪। লক্ষণীয় হচ্ছে কংগ্রেসের যে নির্দিষ্ট দৃঢ় ভোটব্যাংক রয়েছে তা স্পষ্ট। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেখা যায়, সিপিএমের হরিচরণ দাসের ১৯ হাজার ৪২ ভোটের বিপরীতে কংগ্রেসের স্বপনানন্দ দাস পেয়েছেন মাত্র ৪০২ ভোট। কিন্তু বিজেপির কৃষ্ণচন্দ্র দাস পেয়েছেন ২০ হাজার ১৪ ভোট। অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। অর্থাৎ সিপিএমের ভোটব্যাংক এই আসনে অক্ষুণ্নই ছিল। কেবল কংগ্রেসের ভোটগুলো প্রায় পুরোটাই গিয়ে বিজেপির মার্কায় পড়েছে। বামুতিয়ার কেস স্টাডিটি আমরা দৈবচয়ন আকারেই নিয়েছিলাম এবং বামুতিয়ার এই চিত্র ত্রিপুরার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না এবার। আগরতলার খয়েরপুর আসনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিচ্ছি। সেখানে এবার বিজেপির রতন চক্রবর্তী পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৯৬ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ৫৭ শতাংশ)। কংগ্রেসের সুখময় সাহা পেয়েছেন ৪৮২ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশ!)। আর সিপিএম পেয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ৪১ শতাংশ)। এই একই আসনে গত নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল ১৯ হাজার ৬৭৫ এবং বিজেপি পেয়েছিল ৬৯৮ ভোট। লক্ষণীয়, সিপিএমের ভোট প্রায় অপরিবর্তিতই আছে (২০ হাজার ৯৭২)। কিন্তু কংগ্রেসের পুরো ভোট বিজেপির দিকে গেছে।
পাঁচ.ত্রিপুরার নির্বাচনী এসব পরিসংখ্যানের পুরোটাই নেওয়া হয়েছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ডেটা ব্যাংক থেকে। এসব পরিসংখ্যান স্পষ্ট সাক্ষী দিচ্ছে, ত্রিপুরায় বিজেপির বিজয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। অথচ জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস নিজেকে যেকোনো মূল্যে হিন্দুত্ববাদ ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের চ্যাম্পিয়ন শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। আর কংগ্রেসের এই চেষ্টার পরিণতিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার রয়েছে ভিন্ন এক ভাবমূর্তি। কিন্তু ত্রিপুরার নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের কংগ্রেস সমর্থকদের মৌলবাদ ও হিন্দুত্ববাদবিরোধী অঙ্গীকারের আদর্শিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। পাশাপাশি উপরিউক্ত পরিসংখ্যান এ-ও বলছে, ভারতীয় প্রভাবশালী মিডিয়াগুলো যেভাবে প্রচার করছে যে কর্মসংস্থান সংকটের কারণে দলে দলে সিপিএম-সমর্থক তরুণেরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, তা-ও মূল সত্যকে আড়াল করছে। সিপিএম এবারের এই ভূমিধসেও যে আসনগুলো রক্ষা করতে পেরেছে, সবগুলো প্রান্তিক গরিব এলাকা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন। এ ছাড়া প্রদত্ত ভোটে সিপিএমের গড় হিস্যা মাত্র ৪ শতাংশ কমেছে এবং ওপরে বামুতিয়া ও খয়েরপুরের যে কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে, তাতে সিপিএমের ভোট পূর্বের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেই দেখা গেছে।
পুনশ্চ
ত্রিপুরায় কংগ্রেসের এই আত্মসমর্পণ বা রহস্যময় ভূমিকা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস-সিপিএম জোট গঠনের সম্ভাবনা এ কারণেও দুরূহ করে তুলবে যে ত্রিপুরা-সিপিএম নেতা মানিক সরকার হলেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতের এই অবস্থানের একজন দৃঢ় সমর্থক যে বিজেপির মতোই কংগ্রেসকেও একইভাবে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। স্বভাবত কংগ্রেস সিপিএমকে যেভাবে হারিয়েছে, তা মানিক সরকার-প্রকাশ কারাত জোটকে ক্রুদ্ধ করেছে।
আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বুদ্ধিজীবীরা কখন অবান্তর হয়ে যান? by সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
sohrabhassan 55 @gmail. com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতি নেবে গো, দুর্নীতি! by মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
২.রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট-ফ্লাইওভারসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দুর্নীতি নিয়ে দেশের মানুষকে অধিকতর সোচ্চার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় প্রতিটি বড় প্রকল্পেই নির্মাণ সময়ের মধ্যে থেমে থেমে নির্মাণ ব্যয় দুই-তিন গুণ বাড়িয়ে নেয়ার প্রবণতাকে জনগণ খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখছেন। কোনো কোনো রাস্তাঘাট নির্মাণের ছয় মাস-বছরের মধ্যেই তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, সেসব নিয়েও প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে। দেড়-দুই বছর আগে সাভার-আশুলিয়া ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত নির্মিত চার লেনের রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিটুমিন উঠে অনেক স্থানেই গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সেসব স্থান যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওই রাস্তাটি নির্মাণের সময় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মাঝে-মধ্যে তদারক করেছেন। কিন্তু সেখানেও নির্মাণকাজে ফাঁকি দেয়া হয়েছে। নিুমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, স্বয়ং মন্ত্রী সাহেবও সে দুর্নীতি রুখতে পারেননি। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন দুর্নীতি সারা দেশেই হয়েছে এবং হচ্ছে। ব্যয় বরাদ্দের অর্ধেক টাকারও কাজ হচ্ছে না! সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, এলজিইডি ইত্যাদি বিভাগে দুর্নীতির পরিমাণ আরও বেশি। অতি সম্প্রতি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, ‘২১টি প্রকল্পে ৪৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখন পর্যন্ত কাজ কিছুই হয়নি।’ দাবিটি অবশ্য পত্রিকার নয়। এ দাবি করেছেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এ অবস্থায় দুর্নীতির ব্যারোমিটার কোথায় ঠেকেছে সে বিষয়টি সরকার ভেবে দেখতে পার ে।
৩. ব্যাংক জালিয়াতি এবং ব্যাংক ডাকাতির বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের লোক দেখলেই মানুষ তাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। সেদিন হাঁটার সময় একজন বড় ব্যবসায়ী একটি ব্যাংকের এমডিকে দেখিয়ে বললেন, গত বছর এই এমডি সাহেব তার কাছ থেকে একটি গাড়ি ঘুষ নিয়েছেন! হাঁটার দলে আমরা যে ক’জন ছিলাম, তাদেরই একজন বলে বসলেন, ‘আস্ত একটা গাড়ি গিলে ফেলল, বাপরে, কত্তো বড় পেট!’ অথচ এসব ব্যাংকেই সাধারণ মধ্যবিত্ত-নিুবিত্তের মানুষকে সামান্য কারণে নাজেহাল করা হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার মাসিক সম্মানীবাবদ ১০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা হলে সেখান থেকে তিনি ১০ হাজার তো দূরে থাক, সাড়ে ৯ হাজার টাকাও তুলতে পারেন না। তাকে সেখানে ১ হাজার টাকা ফেলে রেখে ৯ হাজার টাকা তুলতে হয়। কারণ সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্দেশ জারি করেছে, কমপক্ষে ১ হাজার টাকা লিয়েনে রাখতে হবে। সোনালী ব্যাংকের এই তামাশা বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয় জানে কিনা, তা আমরা বলতে পারব না। ৫ টাকা বা ৫০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতি দিয়ে ১ হাজার টাকা লিয়েনে রাখার তামাশা করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু দুঃখের কথা হল, হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে একজন গরিব মানুষকে ১ হাজার টাকা লিয়েনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার একজন গৃহিণী একটি ব্যাংকে ৬৫ হাজার টাকার চেক পাঠালে ব্যাংকে তার স্থিতি থাকা সত্ত্বেও, স্বাক্ষর মেলা সত্ত্বেও টেলিফোন করা হচ্ছে এবং সেই টেলিফোন তার স্বামী রিসিভ করে, যিনি হিসাবটির নমিনিও বটে, তিনি সবকিছু বলা সত্ত্বেও ওই গৃহিণীকে ডেকে তার হাতে টেলিফোন দিয়ে বলানোর পর সেই টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রশ্ন হল, তাহলে ব্যাংকে এত বেশি জাল-জোচ্চুরি-লুটপাট কেন? একজন ম্যানেজার নগদ টাকা ঘুষ পেলে, একজন এমডি গাড়ি পেলে যেখানে ব্যাংকের ভল্ট খুলে দেয়া হচ্ছে, পক্ষান্তরে একজন মুক্তিযোদ্ধার ১০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে, একজন গৃহিণীর ৬৫ হাজার টাকার ক্ষেত্রে নিত্যনতুন ফরমান দেখানোর কারণ কী? ব্যাংকের দুর্নীতি কত প্রকার ও কী কী তা কি আরও উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে? স্থানাভাবে আর বেশি কিছু না বলে উপসংহারে যা বলতে চাই তা হল- বর্তমান সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দুই আমলের দুর্নীতি নিয়েই সাধারণ মানুষ চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। আগেই বলেছি, দুর্নীতির বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। সবার মুখে এখন একই আলোচনা- দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি! তাই দেশের বড় দুটি দলের জন্য এসব আলোচনা-সমালোচনা একটি অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ জনগণ দুটি দলকেই দুর্নীতিবাজ বলছেন। কথাটি হয়তো সরকারি দলের কানে ঢুকছে না, এই যা! কারণ এ দেশে সরকার বলতে হচ্ছেন সরকারপ্রধান এবং দল বলতে হচ্ছেন দলীয়প্রধান! আর সরকারপ্রধান ও দলীয়প্রধানগণ সব সময়ই একশ্রেণীর খাস তোষামোদকারী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন। তারা তাদের চারদিকে এমন বলয় তৈরি করে রাখেন যে আসল কথা যেন সরকারপ্রধান বা দলীয়প্রধান জানতে, শুনতে বা বুঝতে না পারেন। কারণ এতে করে ওইসব তোষামোদকারীর ক্রেডিবিলিটি নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা অনেকটাই নিশ্চিত যে কোনো সমালোচনাই সরকারপ্রধানের কাছে পৌঁছায় না। এমনকি এ লেখার বিষয়টিও পৌঁছাবে না। পৌঁছাবে শুধু স্তুতি। সামনে দেশে জাতীয় নির্বাচন। আর এ মুহূর্তে যা লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে করে আবারও সেই রাজনীতি করে খাওয়া লোকজনকেই বড় দুটি দল জনগণের সামনে উপস্থাপিত করতে যাচ্ছে। দলীয় আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল নিষ্ঠার নামাবলি গায়ে দেয়া ওইসব নেতাই আবার ভোট চাইতে মাঠে নামছেন। সারা দেশের দুর্নীতি যাদের দ্বারা বিন্দুমাত্র কমেনি, নতুন করে তারাই জনগণের সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন। দারুণভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত, দারুণভাবে দলীয় নেতা-নেত্রীর ভক্ত, আবার একই সঙ্গে আরও দারুণভাবে ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি-চামারির সঙ্গে সম্পৃক্ত- রাজনীতি করে খাওয়া ওইসব ব্যক্তিই আবার জনগণের সামনে ভোট চাইতে যাবেন, এটাই বাস্তব সত্য। কারণ রাজনীতির মাঠ থেকে কামানো অর্থ তারা একা খান না। দলবাজি করে কামানো টাকার কিছুটা দলের উপরের দিকেও তারা বিলিবণ্টন করেন। তাই বড় দুটি দল আবারও ওইসব নেতাকে ঝাঁকায় তুলে জনগণের সামনে তাদের উপস্থিত করে বলবেন, ‘দুর্নীতি নেবেন গো, দুর্নীতি’। এ মুহূর্তে আপাতত সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। কারণ দেশের ভালো মানুষ, জ্ঞানী-গুণী-পরোপকারী মানুষ রাজনীতি থেকে নির্বাসিত। এ শ্রেণীর মানুষ ওই পথে পা বাড়ালে তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়, ঠেঙিয়ে পা ভেঙে দেয়া হয়।
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুধু কথার কথা নয় by ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাট নিয়ে পরস্পরবিরোধিতা

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওরা জানে না নারী দিবসের তাৎপর্য

মোহন রবিদাস : এমএসএস (লোক প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারীর কিডনি রোগ

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত মার্চ উদযাপন

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পেঁয়াজের দাম কমেছে, লেবুর হালি ৪০-৬০ টাকা

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফারমার্স ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রিতে বাধ্য করা হবে

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হৃৎস্পন্দন মাপবে ড্রোন!

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অর্থ পাচার তদন্ত করবে এনবিআরের সব সংস্থা

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
March
(1701)
-
▼
Mar 10
(69)
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ চাপের মুখে by কুলদীপ নায়ার
- শ্রীলঙ্কায় সহিংসতার মূলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি by গ্...
- ভিআইপি বন্দি থাকায় কারাগারে বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ ...
- পত্রিকা পড়ে নিভৃতে সময় কাটছে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনে...
- তফসিলের আগের ও পরের বৈধতার প্রশ্ন by মিজানুর রহমান...
- যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি লবি: কী আছে আল জাজিরার প্রতি...
- বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন by আজিজুর রহমান খান
- ত্রিপুরার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কী? by ...
- বুদ্ধিজীবীরা কখন অবান্তর হয়ে যান? by সোহরাব হাসান
- দুর্নীতি নেবে গো, দুর্নীতি! by মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
- অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুধু কথার কথা নয় by ইক...
- পাট নিয়ে পরস্পরবিরোধিতা
- ওরা জানে না নারী দিবসের তাৎপর্য
- নারীর কিডনি রোগ
- সাত মার্চ উদযাপন
- পেঁয়াজের দাম কমেছে, লেবুর হালি ৪০-৬০ টাকা
- ফারমার্স ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রিতে বাধ্য কর...
- হৃৎস্পন্দন মাপবে ড্রোন!
- অর্থ পাচার তদন্ত করবে এনবিআরের সব সংস্থা
- এই অসম্ভব কীভাবে সম্ভব হলো!
- ব্রাজিলে পীত জ্বরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬
- আফরিন ঘেরাও করেছে তুর্কি সেনারা! ভিত্তিহীন বলল ওয়া...
- প্রথমবারের মতো ল্যাটিন আমেরিকা সফরে ট্রাম্প
- শ্রীলঙ্কায় আতঙ্কিত মুসলিমরা, সেনাপ্রহরায় জুমার নাম...
- গরমের শুরুতেই সবজির মূল্যবৃদ্ধি
- বিদ্রোহের অবসান: বার নির্বাচনে জয়নুল ও খোকনের পক্ষ...
- স্বপ্নের উড়ন্ত গাড়ি এখন বাস্তবে
- গণধর্ষণের সাক্ষ্য দিলেন ৫৩ রোহিঙ্গা নারী by মহিউদ্...
- ভোটের হার সঙ্কটের কারণ by মাসুদ মজুমদার
- ১১ বছর শিকলে বাঁধা জীবন
- ব্যবস্থাপনা দক্ষতার জাদুকাঠি by ড. গাজী মো: আহসান...
- স্মরণ : আতিকুজ্জামান খান
- নাজি যুদ্ধাপরাধীদের যেভাবে নিয়োগ দিয়েছিল সিআইএ
- উভয় সংকটে সাদ হারিরি: (পর্ব-১) by অরিয়ের দাহেল
- অভিমত : আপনার ঘরে ছিনতাইকারী! by এম এম নাসির উদ্দিন
- মুসলিমবিদ্বেষী এক সেনাপ্রধান by আসাদ পারভেজ
- রিকশা বাণিজ্য: রাজধানীতে অবৈধ ১০ লাখ, বৈধ ৮৭ হাজার...
- আফগান যুদ্ধে রাশিয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র by এম সাখাওয়...
- স্মরণ: আবদুস সাত্তার চৌধুরী
- হায়রে উন্নয়নের জোয়ার! by সৈয়দ আবদাল আহমদ
- রাগ থাকুক নিয়ন্ত্রণে
- প্রসঙ্গ ভাবনা : কাজী নজরুল ইসলাম by শাহ্ আব্দুল হা...
- ফয়জুরের বন্ধু সুমনকে খুঁজছে পুলিশ by ওয়েছ খছরু
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন by মো:...
- আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা সময়ের দাবি by হারুন-আর-রশিদ
- সুখী হতে চান? by নাজমুস সাদাত পারভেজ
- নাজি যুদ্ধাপরাধীদের যেভাবে নিয়োগ দিয়েছিল সিআইএ by ...
- বিজেপিতেই আস্থা ভারতীয়দের by আহমেদ বায়েজীদ
- আরো কাছাকাছি রাশিয়া-পাকিস্তান, সমস্যায় ভারত
- মোবাইলে প্রেমের ফাঁদ : অভিনব কায়দায় ৮ লাখ টাকা হাত...
- ট্রাম্প-কিম সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন
- সাহায্য করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে
- ভারতের আদালত স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে
- ভারতে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৩
- ‘তারা এমন সব প্রশ্ন জানতে চায়, যা জানার জন্য আমার ...
- মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে ‘পার্টি অফিসে’ মানিক সরকার
- ‘হে আল্লাহ ওকে তুমি নিয়ে যাও, জান্নাতে অন্তত সে খা...
- বিশ্বের শীর্ষ তরুণ ধনী
- মেয়েদের জিনস-স্কার্ট নিষিদ্ধ, হিজাব খোলায় কারাদণ্ড
- কার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে বিএনপি?
- ট্রাম্প ও কিমের পরস্পরের প্রতি বিদ্রুপবাণের ইতিহাস
- সুদান-মিসর উত্তেজনা by মো: বজলুর রশীদ
- হপ স্টেপ অ্যান্ড জাম্প by ড. আবদুল লতিফ মাসুম
- দেড় মাসে বিএনপির ৫০০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার মুক্তি ম...
- জলবায়ু পরিবর্তনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা
- সেই কালীগঙ্গা এখন ধুধু বালুচর ও ফসলের মাঠ
- কিরাত রাজনীতির আবির্ভাব by এবনে গোলাম সামাদ
- ৭ই মার্চের ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল
- ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতেই নির্বাচন
-
▼
Mar 10
(69)
-
▼
March
(1701)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...