Saturday, September 19, 2015

শুদ্ধি না চালালে রাজনীতিরই ক্ষতি হয়

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ফেসবুকে লিখেছেন, গুলশান থেকে শুদ্ধি শুরু মানে বিএনপির পরিবর্তনের সূচনা চেয়ারপারসনের গুলশান অফিস থেকে হতে পারে বলে বুঝানো হয়েছে। এরকম একটা দাবি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে, এটা সত্য। রাজনৈতিক দলে সময়ের চাহিদা মাফিক পরিবর্তন বা শুদ্ধি অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দেয়। গুলশান অফিসে শুদ্ধি মানে ইট-সিমেন্টের বিল্ডিংয়ের পরিবর্তন নয়। সেখানে নানান দায়িত্ব পালনের সংগে জড়িত লোকদের পরিবর্তন। রাজনৈতিক ধাঁচের কাজে সততা, দক্ষতা, সক্ষমতা, যোগ্যতা, শৃংখলাবোধ,আনুগত্য এগুলো সব সময় একরকম থাকে না। এসবের পরিবর্তন হলে ব্যক্তির পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আমাকে দিয়েই উদাহরণ দিই। আমি চেয়ারপারসনের মিডিয়া সংক্রান্ত বিষয় দেখাশুনা করি। যদি দেখা যায় আমি এখন আর দক্ষতা,  যোগ্যতা,  সততা, শৃংখলা, আনুগত্য বজায় রেখে সে দায়িত্বটা পালন করতে পারছি না বা করছি না তাহলে আমাকে সরিয়ে দেয়াটা অপরিহার্য। এটাই শুদ্ধি। প্রয়োজনীয় এই শুদ্ধি না চালালে রাজনীতিরই ক্ষতি হয়। কাজেই বিষয়টা যদি দল বিবেচনা করে গুলশান থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে চায় তাতে ক্ষতি নেই, বরং দল শক্তিশালী হয়। মানবজমিনে প্রকাশিত গুলশান থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু- শীর্ষক সংবাদের দিকে ইংগিত করে এক ব্যক্তির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মারুফ কামাল খান সোহেল এসেব কথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, অপসাংবাদিকতা বা ভুল সংবাদের উদাহরণ হিসেবে ঐ রেফারেন্সটা পুরোপুরি ঠিক হয়নি। মূল স্ট্যাটাসে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, গুজব, বিভ্রান্তি বা অর্ধসত্য বিষয় প্রচার করা মিডিয়ার কাজ নয়। এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দলমন্যতার কারণে এখন এটা হচ্ছে। সাংবাদিকতার কাজ হচ্ছে গুজব ও বিভ্রান্তির নিরসন এবং প্রকৃত সত্য খুঁজে বের করে তা পাঠককে জানানো। সূত্র কি সব সময় সঠিক তথ্য দেয়? সূত্রেরও স্বার্থ এবং পছন্দ-অপছন্দ থাকে। কাজেই সূত্রের দেয়া তথ্যকে সংবাদ আকারে পরিবেশনের আগে তা চেক, রিচেক ও ক্রসচেক করে তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সৎ সাংবাদিকতার দাবি। আমরা সাংবাদিকতা শুরুর সময়েই শিখেছি ভুল সংবাদ প্রচারের চেয়ে কোনো সংবাদ প্রচার না করা ভালো।

সুভাষ বসুর গোপন নথি প্রকাশ করলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা সুভাষ চন্দ্র বসু ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ সংক্রান্ত ৬৪টি গোপন ফাইল আজ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
১২ হাজার পাতারও বেশী ওই ফাইলগুলিতে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দাদের সংগ্রহ করা তথ্য রয়েছে।
বসু পরিবারের এক সদস্য অভিজিত রায় বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “এই ফাইলগুলির মধ্যে একটি নথিতে জানা যাচ্ছে যে সুভাষচন্দ্র তাইহোকুতে কথিত বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন নি এবং তিনি যে ১৯৬৪ সালেও জীবিত ছিলেন, সেটারও একটা প্রামাণ্য নথি রয়েছে।“
মি. রায়ের অভিযোগ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জওহরলাল নেহরু, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় এবং আরেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় নষ্ট করে ফেলেছেন রাজনৈতিক কারণে। এর ফলে সুভাষচন্দ্র সম্পর্কিত অনেক তথ্যই হারিয়ে গেছে।
এছাড়াও আজাদ হিন্দ ফৌজের সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈন্য – সকলের বিষয়ে গোয়েন্দাদের রিপোর্ট রয়েছে।
তথ্যগুলি যেমন ব্রিটিশ আমলে সংগ্রহ করা, তেমনই স্বাধীন ভারতের পুলিশও যে বসু পরিবারের ওপরে নিয়মিত নজরদারী চালিয়েছে, তার প্রমানও পাওয়া গেছে।
বসু পরিবার ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সদস্যদের মধ্যে আদান প্রদান হওয়া চিঠিপত্র – যেগুলি সেন্সর অফিসে গোপনে খুলে পড়া হতো – সেসবও রয়েছে।
বসু পরিবারের আরেক সদস্য, চন্দ্র বসু বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ফাইলগুলি প্রকাশ করার পরে এখন কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত তাদের কাছে থাকা ১০০-রও বেশী ফাইল প্রকাশ করে দেওয়া।“
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে থাকা ওই অতি গোপণীয় নথি প্রকাশের দাবী বারে বারে উঠলেও সব সময়েই সরকার বলে থাকে যে ওই ফাইলগুলি প্রকাশ করা হলে কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে, তাই সেগুলি প্রকাশ করা যাবে না।
ওই ফাইলগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিত করপুরকায়স্থ তুলে দেন বসুপরিবারের সদস্যদের হাতে। আজ প্রকাশ করা ফাইলগুলি কলকাতা পুলিশ মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে আর সেগুলি স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষ আগামী সোমবার থেকে দেখতে পারবেন।
সূত্রঃ বিবিসি

শিক্ষকদের ‘আত্ম-মর্যাদার’ লড়াই by মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

আষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সাথে সাথে দেশের শিক্ষাঙ্গণে নেমে এসেছে কালো ছায়া। দেশের সব কটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নিস্তব্দ হয়ে গেছে শিক্ষকদের আন্দোলনে। শিক্ষকরা আত্ম-মর্যাদার সংগ্রামে লিপ্ত। তাদের এ আন্দোলনে নৈতিক জোর আছে কিনা সেটি ভাববার সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসাবে আমার বিবেকে প্রশ্নজাগে সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা কেন নষ্ট হলো? অথবা শিক্ষকদের নিয়ে আজ এমন ছেলে খেলার সাহস আমলা ও স্বঘোষিত স্বশিক্ষিত রাজনীতিবিদরা কোথায় পেল? শিক্ষকরা এমনভাবে আর কতদিন লাঞ্ছিত হবেন?
সোজা উত্তর শিক্ষাকরা ততদিনই লাঞ্ছিত হবেন যতদিন বুঝতে অক্ষম থাকবেন তিনি একজন শিক্ষক, তার কাজ অমানুষকে মানুষ করা। তার কাজ বই খাতার আড়ালে ব্যক্তিস্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে একজন ছাত্রকে তোয়াজ করা নয় অথবা একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে দমন পীড়নের জন্য ব্রত হওয়া নয়।  তিনি ততদিন লাঞ্ছিত হবেন যতদিন নিজে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির উর্ধ্বে উঠে সমাজে সাম্যের পথে শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন না। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাবের কথা বলে নেহাত ভুল করেছেন বলে আমি বিশ্বাস করিনা, কেননা জ্ঞানের পরিভাষ্য বুঝার ক্ষমতাই আমরা হারিয়ে ‘শিক্ষাআমলা ও শিক্ষাবাজে’ পরিণত হয়েছি। আমরা শিক্ষকরা যখন অশিক্ষিত রাজনৈতিক আমলাদের কথার সাথে সুর মিলিয়ে ধর্মকে কেবল সাম্প্রদায়িক বলে সমাজে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি করি তখন আমাদের জ্ঞানের দৈন দশা ছাড়া আর কীভাবে একে মূল্যায়ন করতে পারি?
শিক্ষকদের মাঝে মানবতাবোধ ও নৈতিকতাবোধ বা মূল্যবোধ কি জাগ্রত? শিক্ষকরা প্রায় ভুলে গেছেন সমাজ বিনির্মাণে তার দায়িত্ব কী? ড. কাজী দ্বীন মুহাম্মদ মারা যাবার পর তার আত্ম-জীবনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ পত্রিকায় পড়ে হতভাগ হয়ে যাই। তিনি তার গুরু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ইচ্ছাতেই সরকারী আমলা না হয়ে শিক্ষক হয়েছেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানতেন ড. কাজী দ্বীন মুহাম্মদের মত নিবেদিত প্রাণরা শিক্ষকতায় না আসলে জাতির আলো দিনে দিনে অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।
বর্তমান সময়ে এমন কোন শিক্ষক কি রয়েছেন যিনি একজন গরীব মেধাবীকে তার শ্রম অর্থের বিনিময়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করছেন। বরং স্কুল ও কলেজ শিক্ষদের কাছে টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট পড়তে না পারলে তাকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে লেগে যাবার পরামর্শ দেন। একজন শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে বাসায় টাকার বিনিময়ে ছাত্রদের পড়তে বাধ্য করেন, তখন আমরা সমাজের বিবেকবান হয়ে ওঠতে পারিনা কেন? সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার যোগ্যতা হিসাবে ছাত্রাবস্থাতেই খেয়াল করেন শিক্ষাজীবন শেষ হবার হবার সময় কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকতে পারেন অথবা কোন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অনুষদের ডীন থাকতে পারে, তার তোয়াজ করা এবং অন্যদের দমিয়ে রাখার কাজে লিপ্ত হওয়া। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া বর্তমানে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কেউ দেখে কিনা প্রশ্ন জাগে। আর কেউ শিক্ষক হলেও তাকে একঘরে করে রাখা হয়। কিন্তু এর প্রতিবাদে অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন না। কেন? একজন শিক্ষকের লাঞ্ছনা মানেই তো সবার হবার কথা ছিল।
আজ বাংলাদেশে নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে ছাত্ররা শিক্ষদের গায়ে হাত তুলে। এতে যে শিক্ষকদের একটি অংশের সমর্থন আছে অথবা তাদের সরাসরি মদদ রয়েছে তাতে বোধ করি কারো সন্দেহ থাকতে পারে না। আর লাঞ্ছিত শিক্ষকও এক সময় আত্মসমর্পন করেন। হায়রে শিক্ষক ও তার আত্ম মর্যাদা!
শিক্ষকের হাতে শত শত ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়। হারায় নিজের জীবনের সব কিছু। যৌন প্ররোচিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি পেতে সহযোগীতা করে। অথবা সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকের বইয়ের সেলফে ছাত্রীর সন্ধানের যাবার ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। অথবা ছাত্রের কাছে শিক্ষক যখন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন এবং তা গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রমান দেয়া হয়, তখনতো শিক্ষকরা আত্ম-মর্যাদার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করিনি এসব শিক্ষকরূপী নরপশুদের বিরুদ্ধে। তবে কেন আজ মর্যাদার কথা বলছেন?
শিক্ষক কি সত্যি জানে মর্যাদা কী? যদি জানতো, প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্মান প্রদানের নামের শিক্ষকদের যে অপমান করে তা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা ছিল না। এমনকি এদেশের অন্তত নিরানব্বইভাগ শিক্ষকই জানেনা কবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত এবং কেন? অথবা বাষট্রির শিক্ষা আন্দোলন এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কি পরিবর্তন  এনেছিল।
আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তব সত্য হলো যিনি অন্যকোন চাকুরি পেতে ব্যর্থ হন তিনি শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে স্থানীয় রাজনৈতিক আমলাদের মাধ্যমে ও অর্থকড়ির বিনিময়ে স্থানীয় বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকতার চাকুরীটি নিয়ে থাকেন। নিজের পারেন বা না পারেন, নানা কৌশলে তিনি প্রাইভেট পড়ানোর যে মহোৎসব চালু করেছেন, তাতে শিক্ষকতা এখন কেবল অর্থ উৎপাদনের সহজলভ্য পথ হিসাবে পরিণত হয়েছে, মানবিকতা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার কোন কাজে সে শিক্ষা কাজে লাগে না। যে ছাত্র একদিন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হয়েছেন, তিনি আমলা হয়ে কেন শিক্ষকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নজর দিবেন?
আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের দিনে দিনে অনেকটাই সাম্প্রদায়িক করে তুলেছেন। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাবনায় তারাই কেবল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষক। অন্যদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ফলে সমাজের উচু আসন কেবল তাদের প্রাপ্য। আবার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তাদের ভাবনায় আসে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ছাত্র নিয়োগ দিয়ে শিক্ষক বানালে তাকে বা তাদেরকে নিজেদের প্রয়োজনে পাবে কিনা প্রশ্ন থেকেই যায়। অতএব, যোগ্য বা অযোগ্য, মেধা বা অমেধা বিবেচনা না করে কেবল দলীয় ও ব্যক্তিগোষ্ঠীর স্বার্থ দেখে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে যে বার্তা আমাদের দিচ্ছেন তা সত্যি লজ্জ¦ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক আমলা, মুন্সী ও অস্ত্রবাজ ছাত্রদের গুণগানকেই মূখ্য করে তোলেন, তখন মর্যাদার দাবীতে লড়াই করা কতটুকু মানয়? শিক্ষায় ভ্যাট আরোপে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন মাঠে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে একবারো কি এসব অসহায় ছাত্রদের মর্মকথা অনুভব করে তাদের সান্তনা দিয়েছে? না, দেয়নি। কারণ, এসব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবাই গায়ত্রী স্পিভাকের মতে ‘সাবঅলর্টান’। অতএব, এদের পক্ষে কথা বলার মানেই হলো শ্রেণিবিভাজনকে দূর করে সমমর্যদার কথা বলা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন বিভিন্ন সরকারী অথবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পদমর্যাদার চেয়ে ছোট কোন পদে যোগদান করেন কেবল নগদ কিছু অর্থের জন্য এবং কেউ কেউ গর্ববোধ করেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন লিখে তখন কোথায় থাকে আমাদের বিবেক?
সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একারের জন্যও মুখ ফুটে বলেননি শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুন্দর ও যুগোপযোগী করার জন্য কমিউনিটি বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব স্তরের শিক্ষকদের পদমর্যাদা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমন্বয় করে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে।তারা কেবল নিজেদর কথাই চিন্তা করেছেন এবং যেসব শিক্ষতদের হাতে খড়ি নিয়েছেন তাদের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষক হবার পরও এ নেতিবাচক কথাগুলো বলতে বাধ্য হয়েছি, কেননা যখন দেখি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রয়েছেন নিজে কোন মৌলক কাজ না করে কেবল অন্যের কাজের সাথে নিজের নাম যুক্ত করে পদায়িত হন এবং একজন অধ্যাপক হবার পরও তার বাসায় অথবা টেবিলে কোন বইয়ের অস্থিত্ব থাকেনা, তখন সত্যি নিজেকে বেশ অসহায় মনে হয়। আবার কখনো যখন দেখি যে সব শিক্ষক পড়াশোনার সাথে সম্পর্ক না রেখে কেবল বাজারের বিভিন্ন ধরণের তেলের সাথে সম্পর্ক রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং মেধাবীদের ফুটবল বানিয়ে খেলার আয়োজন করেন তখন প্রশ্ন জাগে শিক্ষক কি সত্যি (আত্ম)-মর্যাদা বুঝেন না ক্ষমতা ও টাকা বোঝেন?
লেখক: প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

পাবলিক মরার জন্য দেশ স্বাধীন করি নাই : কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, পাবলিকের রক্ত ঘাম করা পয়সায় বেতন নেয়, সেই পুলিশই পাবলিকের বুকে গুলি করে আবার পাবলিকের নামেই মামলা দেয়, এটা হতে পারে না। নারী নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের গুলি খেয়ে পাবলিক মরার জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করি নাই।
ঘাটাইলের সাবেক পৌর মেয়র আব্দুর রশিদের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে কালিহাতী উপজেলা সংলগ্ন হামিদপুরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন বঙ্গবীর।
গত শুক্রবার নারী নির্যাতনের বিচারের দাবিতে সমবেত জনতার উপর কালিহাতী পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বঙ্গবীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং আজকের মধ্যে দায়ী পুলিশদের কালিহাতী থেকে সরিয়ে নেয়া না হলে এবং এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ঈদের আগেই মুক্তি না দিলে পরিণাম ভালো হবে না। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি শুক্রবার নিহত তিনজনের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
সরকারের উদ্দেশে বঙ্গবীর আরো বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ না করলে এই আওয়ামী লীগ কবরে থাকতো। সরকার গঠন করতে পারতো না। তাই নারী নির্যাতনকারীদের এবং মানুষকে খুন করার বিচার করতে হবে।
অ্যাভোকেট মিয়া মোহাম্মদ হাসান আলী রেজার সভাপতিত্বে এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী, আব্দুর রশিদ, শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আবদুল হালিম সরকার লাল, অধ্যাপক জুলফিকার শামীম, হাবিবুননবী সোহেল প্রমুখ।
জনসভা শেষে মিছিল নিয়ে কিছুক্ষণ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে অবস্থান করেন কাদের সিদ্দিকী।

‘ভারতকে খুশি করতে ট্রানজিট ফি কমিয়ে দিয়েছে সরকার’ -বিএনপি

সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় ভারতকে খুশি করতে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের ফি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ বিকালে নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির  মুখাপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, গত বুধবার ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের ফি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রতি টনে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে কমিয়ে ৫৮০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। বিএনপি ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের বিরোধী নয়। তবে এর বিনিময়ে বাংলাদেশ কি পেল তা ভেবে  দেখতে হবে। রিপন বলেন, ভারত কেন্দ্র থেকেই তার বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যে যে পণ্য পরিবহন করে তা কোন রিলিফ কর্মসূচি নয়। ওই সব যদি রিলিফ কর্মসূচি হতো তাহলে তা বাংলাদেশ বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম কোনভাবেই রিলিফ কর্মসূচি ভাবার কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, সরকারে, প্রশাসনে কিছু অতি বিদেশ বান্ধব কর্মকর্তা থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের মানুষ কোনভাবেই তা মেনে নেবে না। তারা চায় ভারত আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের স্বার্থে আমাদের ভূমি ব্যবহার করে তারা যে লাভবান হচ্ছে তার উপযুক্ত মাশুল আমাদেরকে দিক। রিপন বলেন, স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কখনও বন্ধুত্ব হয় না। সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল থাকার কারণে তারা ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য মাশুল আদায় করতে নতজানুতার পরিচয় দিচ্ছে। তবে ভারতের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ন্যায্য মাশুল আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের মাধ্যমে বছরে মাত্র ৫০ কোটি টাকা আদায়ের জন্য সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তারা কেন দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে ট্রানজিটের ন্যায্য মাশুল আদায়ে এতটা আপসকামী তা জাতি জানতে চায়। জয়পুরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহতের প্রতিবাদ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০ গজ অভ্যন্তরে ঢুকে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ জানানো হয়নি।  বাংলাদেশের জনগণ সরকারের এই নতজানু পদক্ষেপ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ২৪ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তানোরের মুন্ডুমালা থেকে র‌্যাব-৫ বিএনপির ৪ কর্মীকে অপহরণ করেছিল। দীর্ঘ ২৪ দিন পর শুক্রবার তাদেরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকালও বাংলাদেশের যারা গুমের স্বীকার হয়েছেন তাদের খুঁজে  বের করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আমরাও সরকারের প্রতি শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন তাদের খুঁজে বের করতে সরকারকে নতুন করে উদ্যোগের আহ্বান জানাই। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক আফজাল এইচ খান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘অবিলম্বে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন জরুরি’ -খালেদা জিয়া by তানজির আহমেদ রাসেল

লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে, ৫% জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন নৈতিক ভিত্তি নেই। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন জরুরি। শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র  নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডন পৌঁছার তিন দিনের মাথায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাক্ষাত দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় কিংস্টোনের বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক  ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ  মানবজমিনকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রায় দেড়ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বেগম জিয়া বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নেই। বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। দেশে কোনো সুবিচার আশা করা যায় না। প্রতিবাদ করলে  জেল জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিএনপি এবং ২০ দলীয়  জোটের নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, গুম অব্যাহত রয়েছে। বেগম জিয়া খুন, গুমসহ বর্তমান সরকারের সকল অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। দেশে গুম দিবস পালন করতে সরকার বাধা দিয়েছে উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, সরকার বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে কিন্তু তাদের দলের মধ্যেই অনেক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে।
বৃটিশ ভিসা সেন্টার ভারতে স্থানান্তরে বাংলাদেশীদের ভিসা পেতে নানা সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে বেগম জিয়া ভিসা সেন্টার পুনরায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালাতে নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্যে বিএনপির কার্যক্রম ও তৎপরতা  বেগম জিয়াকে অবহিত করলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এম লুৎফুর রহমান, আক্তার হোসেন, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী মামুন, আনোয়ার হোসেন খোকন, শেখ শামসুদ্দীন শামীম, প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে ১৩০ বিমানবালাকে ছাঁটাই করলো এয়ার ইন্ডিয়া

বহু বছর ধরে এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত মালামাল বহনের জন্য বিমান যাত্রীদের জরিমানা করে আসছে। কিন্তু, অতিরিক্ত ওজনের জন্য বিমানবালা গণছাঁটাই করার নজির বোধ হয় খুব বেশি নেই। ভারতের নামকরা এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠান এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ১৩০ জন বিমানবালাকে অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছে। ছাঁটাইয়ের শিকার হওয়াদের অধিকাংশই নারী। গত সপ্তাহের শেষদিকে এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানটি এ ঘোষণা দেয়। এ খবর দিয়েছে বৃটেনভিত্তিক অনলাইন দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ বলছিল, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ও ভারত সরকারের সম্প্রতি বেঁধে দেয়া নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কিন্তু, সমালোচকরা একে উদ্ভট ও আপত্তিকরভাবে যৌন বৈষম্যবাদী ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ ও স্থূলকায় বিমানবালাদের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছিল গত ১০ বছর ধরেই। তারই সর্বশেষ সংযোজন এ ঘটনা। বিমানবালা পেশায় ২৭ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৫১ বছর বয়সী নারী শেইলা জোশি বলেছেন, এটা অবিশ্বাস্যভাবে অপ্রত্যাশিত যে কর্মজীবী নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা মডেলিংয়ের চাকরি নয়। আমরা এখানে কোন ক্যাটওয়াকে অংশ নিচ্ছি না। ওজনের এ বাধ্যবাধকতা নিষিদ্ধের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শেইলা। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টও তার সে আবেদন আমলে না নিয়ে খারিজ করে দেয়। জোশি বলছিলেন, এখন আপনার ওজন মাত্র ১০ গ্রাম বেশি হলেই, বিদায়। অনেক কসরত করে তার উচ্চতার সর্বোচ্চ ওজনসীমা ১৪০ পাউন্ডের নিচে নিজের ওজনটাকে নামিয়ে এনে চাকরিটা বাঁচাতে পেরেছেন তিনি। জোশির উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। এ উচ্চতায় এটাই আদর্শ ওজন। ২০০৬ সালে অতিরিক্ত ওজনের কারণে ৯ নারী বিমানবালাকে বরখাস্ত করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। ওই ৯ বিমানবালা আদালতের শরণাপন্ন হলেও, ২০০৮ সালে দিল্লির একটি আদালত এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেই রায় প্রদান করেছিল।

শরণার্থী না নিলে বিপদে পড়বে পশ্চিমারা : জর্ডানের রানী

যুদ্ধের করাল ছোবল থেকে বাঁচতে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের আশ্রয় না দিলে চরমপন্থীদের শিকারে পরিণত হতে পারে পশ্চিমারা। শুক্রবার বার্লিনে ফেডারেল ফরেন অফিসে এক ভাষণে ইউরোপের উদ্দেশে এ সতর্কবাণী দিয়েছেন জর্ডানের রানী রানিয়া (৪৫)। খবর ডেইলি মেইলের। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখায় ‘ওয়ালথার বাথেনাউ প্রাইজ’-এ ভূষিত করা হয়েছে রানিয়াকে। পুরস্কার গ্রহণের আগে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলসহ প্রায় ৪০০ রাজনীতিকের সামনে তিনি বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত সবাইকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অসহায় সম্বলহীন মানুষকে আপনারা আশ্রয় দিন। তাদের অবহেলা করে বিবেকের দরজা বন্ধ করে দেবেন না। এতে আপনাদেরই বিপদ।
কেননা নিঃস্ব দিশেহারা শরণার্থীদের আশ্রয় না দিলে সন্ত্রাসীরা সহজেই তাদের বাগে নিয়ে নেবেন। উসকে দেবেন চরমপন্থী অপকর্মে। যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে পশ্চিমারা। একবার ভাবুন, একজন মা দূর-দুরান্ত থেকে তার সন্তানকে কোলে করে এখানে এসেছেন। হাতের শেষ সম্বলটুকু বিকিয়ে মাঠ-ঘাট পেরিয়ে উপস্থিত হয়েছেন ইউরোপে। তাদের আশ্রয়ের স্বপ্ন নিভিয়ে দিলে বিপদের কালো মেঘ ঘনীভূত হবে চারপাশে। উপায়ন্ত না পেয়ে সামান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের শর্তে সন্ত্রাসীদের দলে ভিরবে। যার ভবিষ্যৎ হতে পারে ভয়ংকর। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৪ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে জর্ডান। তাদের উপযুক্ত খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এ মুহূর্তে আপনাদের এ অসহায় বাস্তুহারাদের পাশে দাঁড়ানো অতিজরুরি।

ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে হাঙ্গেরির বেড়া

এবার ক্রোয়েশিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের পথ আটকাতে সীমান্তে ধারালো কাঁটা তারের বেড়া বসাচ্ছে দেশটির সরকার। শরণার্থীদের কোনোভাবেই আশ্রয় দেয়া হবে না যেন এ মূলমন্ত্র নিয়ে আঁটঘাট বেঁধেছে দেশটি। তাই সার্বিয়ার সঙ্গে ১০০ মাইল দীর্ঘ সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ শেষে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ২৬ মাইলের উন্মুক্ত সীমান্ত সিলগালা করতে উদ্যত তারা। খবর ডেইলি মেইলের। ইতিমধ্যে শত শত হাঙ্গেরীয় সৈন্য প্রেরণ করা হয়েছে সেখানে। সেনারা সেখানে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ফের সীমান্ত খুলে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তবে খোলার সময়ই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনো সময় আবার এটি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। এর আগে সার্বিয়া সংলগ্ন আটটি বর্ডারক্রসিংয়ের সাতটিই বন্ধ করে দেয় ক্রোয়েশিয়া।
দেশটির সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিয়ার সঙ্গে হাঙ্গেরির সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এক দিনেই ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী অনুপ্রবেশ করেছেন ক্রোয়েশিয়ায়। আর এ পরিস্থিতিতে সার্বিয়ার সঙ্গে বর্ডারক্রসিংগুলো বন্ধ করে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। সীমান্ত খুলে দেয়ার ঘোষণার সময় ক্রোয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিচ বলেছেন, এখন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ঢুকতে পারবেন। তবে আমি চাই না, আমার দেশ এই সংকটে ‘হটস্পটে’ পরিণত হোক। এ সময় তিনি জানান, তার দেশ পুরোপুরি সীমান্ত বন্ধ করবে না ঠিকই, তবে সবার মনে রাখতে হবে, ক্রোয়েশিয়া এরই মধ্যে তার ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে গেছে। সার্বিয়া হয়ে ক্রোয়েশিয়া দিয়ে জার্মানি যেতে চায় শরণার্থীরা। মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্যহত এসব শরণার্থী পথে পথে, পদে পদে জীবনমরণের লড়াই করছে। জল-জঙ্গল, মরুপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপের কোনো দেশের সীমান্তে পৌঁছালে সেখানেই থমকে দেয়া হচ্ছে তাদের যাত্রাপথ। মেসিডোনিয়া ও হাঙ্গেরি সীমান্তে কাঁটাতার তোলায় এবং বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করায় শরণার্থী জার্মানির পৌঁছানোর নতুন পথ হিসেবে ক্রোয়েশিয়াকে বেছে নেয়। ক্রোয়েশিয়া প্রবেশ করে। তবে ক্রোয়েশিয়া থেকে তারা স্লোভেনিয়া ঢুকছে এবং তাদের গন্তব্য জার্মানি। ক্রোয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী র‌্যাংকো অস্টোজিক বলেছেন, শরণার্থীদের নিরাপদে ক্রোয়েশিয়া প্রবেশ করতে দেয়া হলে, তারা আশ্রয় চাইতে পারে। রাজধানী জাগরেবে তাদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে। সার্বিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়ার তোভারনিক শহরে আসছে শরণার্থীরা। অস্টোজিক আরও জানিয়েছেন,
সার্বিয়া থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে ক্রোয়েশিয়ায়। বৃহস্পতিবার অস্টোজিক বলেন, যদি দেখা যায় একদিনে ৮ হাজার শরণার্থী ক্রোয়েশিয়া ঢুকছে, তবে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে। শরণার্থীরা অন্য দেশে যেসব সুবিধা পাচ্ছে, তা দিতে আগ্রহী নয় ক্রোয়েশিয়া। ২ লাখ ১৩ হাজার শরণার্থীর আবেদন ইউরোপে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১৩ হাজার শরণার্থীর আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ সংখ্যা ২০১৪ সালের একই সময়ে আবেদনের তুলনায় ৮৫ ভাগ বেশি। ইউরোপগামী অসহায় বাস্তুহারা এসব শরণার্থীর এক তৃতীয়াংশ আসছে সিরিয়া অথবা আফগানিস্তান থেকে। শুক্রবার ইইউর জরিপ সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর এএফপির। ইউরোপে যাওয়া ভিটেমাটি হারা মানুষের অধিকাংশকে আশ্রয় দিয়েছে জার্মানি, যা মোট শরণার্থীর তিন ভাগের এক ভাগ। অন্যদিকে জাতীয় জনসংখ্যার তুলনায় সবচেয়ে বেশি শরণার্থী নিয়েছে হাঙ্গেরি। ইউরোস্ট্যাট জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল-জুনের মধ্যে ৮০ হাজার ৯০০ শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করেছে জার্মানি, যা ইউরোপে আশ্রয় নেয়া শরণার্থ্যর মোট সংখ্যার ৩৮ ভাগ। এর পরই আছে হাঙ্গেরি। যেখানে আবেদনের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭০০ জন, যা মোট সংখ্যার ১৫ ভাগ। এছাড়া জাতীয় জনসংখ্যার তুলনায় সর্বাধিক অসহায় এ আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে হাঙ্গেরি। প্রতি ১০ লাখ নাগরিকের বিপরীতে ৩ হাজার ৩১৭ জনকে আশ্রয় দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে ইউরোপের অর্থনৈতিক দানব জার্মানি নিয়েছে প্রতি ১০ লাখের বিপরীতে ৯৯৭ জন। সংস্থাটি আরও জানায়, জুনের শেষ নাগাদ ঝুলেছিল প্রায় ৬ লাখ আবেদনপত্র। যাদের ৫২ ভাগ শরণার্থীদের আশ্রয়ের বন্দোবস্ত চলছে জার্মানিতে। তুর্কি উপকূলে আরেক ‘আয়লানের’ লাশ! পশ্চিম তুরস্কের সমুদ্র উপকূলে আবারও ভেসে উঠল এক সিরিয় শরণার্থীর শিশুর লাশ। শুক্রবার চার বছর বয়সী ওই শিশু মেয়েটির লাশ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি। আয়লান কুর্দির লাশ ভেসে ওঠার প্রায় দুই সপ্তাহ পরেই আবারও এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। এনাটোলিয়া সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ১৫ জন শরণার্থী বহনকারী এক নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ইজমির প্রদেশের চেশমি এলাকার উপকূলে তার লাশ পাওয়া যায়। কোস্টগার্ড সদস্যরা ডুবে যাওয়া নৌকার ১৪ শরণার্থীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও দুর্ঘটনার বলি হন ওই বাচ্চাটি। দুই সপ্তাহ আগে আয়লান কুর্দি নামের তিন বছরের এক সিরীয় শরণার্থীর সমুদ্র উপকূলে ভেসে ওঠার পর তা সারা বিশ্বের নজর কাড়ে। এরপর থেকেই ইউরোপের নেতাদের ওপর সারা বিশ্ব থেকে চাপ দেয়া হয় শরণার্থীদের গ্রহণ করার জন্য।

ছেলের সামনে মাকে লাঞ্ছনা: প্রতিবাদের বিক্ষোভে গুলিতে নিহত ৩

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছে। ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে আরও ২৫ জন। ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশের গুলিতে নিহতরা হলেন, কালিহাতী পৌর এলাকার কুষ্টিয়া গ্রামের ফারুক হোসেন (৩৫), ঘাটাইল উপজেলার কালিয়া গ্রামের আলহাজ মিয়ার ছেলে কবির (৩৫) ও ঘাটাইল উপজেলার সলেঙ্গা গ্রামের রবি দাশের ছেলে শ্যামল দাস (২৮)। আহতদের টাঙ্গাইল  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ২ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার সাতুটিয়ায় এলাকায় ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় আটক হাফিজ ও রুমার ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবার বিকালে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করতে থাকে এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন কালিহাতী থানার দিকে রওনা দিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় জনতা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে থানা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল এবং কমপক্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় কমপক্ষে ২৫ জন। আহতদের মধ্যে কবির ও ফারুক ও শ্যামল দাস সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়।

আত্মঘাতী by মাহবুব তালুকদার

মনটা খারাপ হয়ে আছে। অনেক সময়ে কারণে বা অকারণে মন খারাপ হয়। আজ মন খারাপের একটা কারণ আছে। ক’দিন আগে একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখেছি বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকা মহানগরীর স্থান দ্বিতীয়। এক্ষেত্রে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক আমাদের ঢাকার চেয়ে একধাপ এগিয়ে। ঢাকা প্রথম হতে পারেনি বলে আমার মন খারাপ নয়। মন খারাপ হয়েছে ঢাকা দ্বিতীয় হয়েছে বলে। এই জরিপে ঢাকার স্থান যদি শীর্ষে না থেকে তালিকার তলে স্থান পেতো, তাহলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু বাস্তব অবস্থার নিরিখেই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। আর বাস্তব অবস্থার বিষয়টি ভেবে ভেবে আমার মন খারাপ।
আমার কথা শুনে চাচা হেসে বললেন, জরিপে যা-ই বলা হোক না কেন, পৃথিবীর অনেক শহরের চেয়ে আমরা ভালো আছি। ঢাকা একটা ঐতিহাসিক শহর। এককালে বায়ান্ন বাজার আর তেপ্পান্ন গলির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। মসজিদের শহর হিসেবে এর খ্যাতিও ছিল এক সময়ে।
আর এখন?
এখন এটাকে বিলবোর্ডের শহর বলতে পারো। সারা শহর ছোট-বড় হাজার হাজার বিলবোর্ডে ছেয়ে আছে।
ভেবেছিলাম, এ বিষয়ে কথা বলবো না। কিন্তু কথাটা আপনি যখন তুলেছেন, তখন কি নির্ভয়ে বলতে পারি?
অবশ্যই নির্ভয়ে বলবে। দেশে এখন বাকস্বাধীনতা বিদ্যমান।
চাচা! ১৫ই আগস্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। এ দিনটি পালিত হয় পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এই মহান দিনটিতে সারা শহর জুড়ে অসংখ্য বিলবোর্ড ও প্ল্যাকার্ডে যে ধরনের আত্মপ্রচারের উৎসব লক্ষ্য করা গেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিলবোর্ডগুলোতে জাতির পিতার ক্ষুদ্রাকৃতির ছবি এক কোণায় রেখে অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছোট আকারের ছবি দিয়ে নিজেদের ছবি বিশাল আকারে ছেপে যেভাবে আত্মপ্রচার চালানো হয়েছে, তা যুগপৎ দুঃখ ও বেদনার উদ্রেক করে।
কিন্তু এসব বিলবোর্ডের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার প্রতি ভালোবাসাই প্রকাশিত হয়েছে।
ভালোবাসার প্রকাশ বুঝতাম, যদি তাতে নিজেদের ছবি আর আত্মপরিচয় তুলে না ধরা হতো। আরও একটি কথা আছে।
কী কথা, বলো।
জাতীয় শোক দিবস হিসেবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে তোরণ বানানো হয়েছে। তোরণের সঙ্গে শোকের সম্পর্ক কি, আমি বুঝতে পারি না। আমার মতে তোরণ হচ্ছে উৎসবের প্রতীক। কিন্তু জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে উৎসবের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।
তোরণ উৎসবের প্রতীক?
আমি তা-ই মনে করি। আগের দিনে সৈন্যরা যুদ্ধ জয় করে ফিরলে তোরণ তৈরি করে তাদের স্বাগত জানাতে হতো। এখনও কোন অতিথিকে স্বাগত জানাতে বা সংবর্ধনা জানাতে তোরণ তৈরি করা হয়ে থাকে। আমি মনে করি, জাতীয় শোক দিবসের শোকাবহ অনুভূতির সঙ্গে তোরণ নির্মাণ খাপ খায় না।
তোমার কথাটা একেবারে ফেলে দিতে পারছি না। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখি তারা কি বলেন? চাচা আরও বললেন, এব্যাপারে আমাদের মেয়র দুজন ব্যবস্থা নিতে পারেন।
মেয়ররা নিজেরাই এখন বিলবোর্ডের মাঝখানে ঠাঁই পেয়েছেন। তারা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নগরীর অবৈধ বিলবোর্ড তারা সরিয়ে দেবেন। কিন্তু তাদের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়।
কেন সম্ভব নয়?
অবৈধ বিলবোর্ড সরানো একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তাছাড়া, রাজনৈতিক বিলবোর্ড অবৈধ বলার ধৃষ্টতা দেখানোও ঠিক হবে না। আমি কেবল বলতে চাই, যে কোন উপলক্ষ করে আত্মপ্রচারের বিলবোর্ড জাতির পিতা বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্রাকৃতির ছবি সংবলিত হওয়া উচিত নয়।
সবাই তো আত্মপ্রচার করতে চায়। এটা বাস্তব সত্য।
আমার মনে হয়, নগরীর জনসভার স্থানে মাঠের একপাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আত্মপ্রচারের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তবে সেখানে জাতির পিতার ছবি ব্যবহার করা যাবে না। জাতির পিতার ছবি সংবলিত কোন বিলবোর্ডে আর কারও ছবি থাকা সমীচীন হবে না।
হুঁ। এ কথা থাক। অন্য কথা বলো। ঢাকা মহানগরীর এখনকার পরিচয় কী হিসেবে? বায়ান্ন বাজার, তেপ্পান্ন গলি, মসজিদের শহর, না অন্য কিছু?
ঢাকা হচ্ছে যানজটের শহর।
দেড় কোটির ওপর লোক এই শহরে বসবাস করে। যানজট তো হবেই।
এটা মেনে নিয়েই আমি বলতে চাই অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে যানজট এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনে চলাচলকারীদের এখন দুর্গতি ও দুর্ভোগের শেষ নেই। যাতায়াত ব্যবস্থাও একরকম ভেঙে পড়েছে বলা যায়।
এর জন্য কে দায়ী? পুলিশ, যাতায়াতকারী, যানবাহনের চালক, না অন্য কেউ? চাচার জিজ্ঞাসা।
দায়ী আমরা সবাই। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এখন আর কোন শৃঙ্খলা নেই। রাজপথে উল্টো দিক দিয়ে প্রভাবশালীরা গাড়ি চালাচ্ছেন। রিকশাচালকরা একমুখী রাস্তায় উল্টোদিক দিয়ে গাড়ি চালাতে বেশি পছন্দ করেন, মোটরসাইকেল আরোহীরা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ফুটপাথ ধরে গাড়ি চালালেও তাদের রোখার কেউ নেই। অন্যদিকে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অবস্থা খুবই শোচনীয়।
পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যাপারে অবশ্য অনেক অভিযোগ।
হ্যাঁ। বেসরকারি বাসগুলোর অধিকাংশের কোন ফিটনেস নেই। অনেক চালকের লাইসেন্স নেই। এসব যাচাই করতে গেলে পরিবহন মালিকরা গাড়ি বন্ধ করে রাখেন। সরকার সর্বদাই পরিবহন মালিকদের সমঝে চলে। তার কারণ পরিবহন মালিকদের গোড়া ভারি শক্ত। ভাড়া বৃদ্ধিসহ তাদের অনেক অন্যায় আবদারকে সরকারের মেনে নিতে হয়। এবার একটা মজার ঘটনা ঘটছে।
কী মজার ঘটনা?
সরকারিভাবে অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এটাকে মজার ঘটনা বলছো কেন? চাচা জানতে চাইলেন।
মজার ঘটনা বলছি এ কারণে যে, অটোরিকশার ভাড়া কি নির্দিষ্ট আছে?
কেন থাকবে না? ভাড়ার একটা চার্ট তো অবশ্যই আছে।
সেই ভাড়ার চার্ট মেনে নিয়ে কি অটোরিকশা চালানো হয়?
তা অবশ্য হয় না।
ওই চার্ট হওয়ার আগে পরে কি যাত্রীরা মিটার অনুযায়ী চলাচল করতে পেরেছে?
তা হয়তো পারেনি।
আমি বললাম, গত কয়েক বছরে কেউ মিটারের ভাড়ায় অটোরিকশায় চেপেছে, এমন খবর জানা যায়নি। তা যদি হতো, তাহলে সেটা পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হতো। পত্রিকায় নিশ্চয়ই অটোরিকশার চালকের ছবিও ছাপা হতো। তেমন ঘটনা অবশ্য এ দেশে ঘটেনি।
তাহলে? কী বলতে চাও তুমি?
এখন বিআরটিএ যদি অটোরিকশার ভাড়া বাড়াতে চায়, তার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? অটোরিকশা কি মিটার মেনে রাস্তায় চলবে?
তারা তো সে রকমই বলছে।
আগের বারও তারা সে কথাই বলেছিল। কিন্তু ভাড়া নির্ধারণের পর থেকে কেউ মিটারের নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করেছে, এমন কোন সৌভাগ্যবানের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তাহলে বিআরটিএ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে কেন?
অটোরিকশার মালিক ও চালকদের মনস্তাত্ত্বিক সুখ দেয়ার জন্য তারা এমনটা করছে বলে ধারণা করি। এতে চালক ও মালিকরা আরেক দফা ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ পাবে। আসলে অটোরিকশার ভাড়া ডবল করলেও কেউ মিটার অনুযায়ী চলতে পারবে- এমন দুরাশা কোন আহাম্মকেও করবে না। আমি অটোরিকশা সম্পর্কে কোন অবাস্তব বিভ্রান্তিতে থাকতে চাই না। অটোরিকশাকে মুক্ত করে দেয়া উচিত।
মুক্ত করে দেয়া উচিত মানে?
মানে অটোরিকশা থেকে মিটার তুলে দেয়া উচিত।
তাহলে ভাড়া নির্ধারিত হবে কিভাবে?
চালকরা যে ভাড়া চাইবে, যাত্রী তাই দিতে বাধ্য থাকবে।
সেটা কী কথা!
সেটাই বাস্তব কথা। এখনও তো তাই হচ্ছে। আমি বললাম, আজকাল চালকরা যাত্রীকে বলে দেয়, পুলিশ জিজ্ঞাসা করলে যাত্রী যে মিটারে চলছে, তা পুলিশকে জানায়।
হ্যাঁ। আমি নিজেও এমন অবস্থায় পড়েছি। মিটার ঠিক আছে, কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা মিটারে চলছে না। পুলিশ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে দেখলো মিটার ঠিক আছে। পুলিশও খুশি, চালকও খুশি।
আপনিও কি খুশি হননি?
না হয়ে উপায় কী? অসংখ্য অটোরিকশাকে আমার গন্তব্য জানালে তারা প্রত্যেকেই প্রত্যাখ্যান করলো। একজনকে অনুনয় বিনয় করে রাজি করানো হলো প্রায় ডবল টাকার বিনিময়ে।
ওরা গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না কেন?
ওদের এক কথা। ওদিকে খুব জ্যাম। চাচা বিরক্তির ভঙ্গি করে বললেন, ঢাকা শহরে তো যানজট আছেই। অটোরিকশার চালকদের কথা শুনে মনে হয় ওরা আমেরিকা থেকে এসেছে।
আমি বললাম, শুধু যানজটের ব্যাপার নয়। এ শহরকে ক্ষমতাসীনরা যার যার মতো ভোগদখলের উপকরণ বানিয়ে ফেলেছে।
নতুন আবার কিছু হলো নাকি? চাচার কণ্ঠে উদ্বিগ্নতার আভাস।
পত্রিকায় দেখলাম, ওয়ারীর একটা রাস্তা দখল করে ‘ওয়ারী সিটি কাঁচাবাজার’ নাম দিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে ইজারা দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে দোকানপাট সাজিয়ে বসেছেন।
সিটি করপোরেশনের লোকেরা তাহলে কী করে?
সিটি করপোরেশনের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা এতে সহযোগিতা করেছে। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, রাস্তা ইজারা দেয়ার অধিকার কারো নেই।
তাহলে আর চিন্তা কি?
চিন্তা তো আছেই। তিনি ওই ইজারা বাতিল করা সম্পর্কে উচ্চবাচ্য করেননি। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দোকান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর হয়েছে। সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে কীভাবে?
চাচা বেজার মুখে বললেন, ঢাকা শহরে রাস্তাঘাট এমনিতে খুব কম। এভাবে যদি রাস্তাগুলো দখল হতে থাকে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে।
সে কথাটা কেউ ভাবছে না। অন্তত মেয়রদের তা ভাবা উচিত বলে মনে করি।
একটু চুপ থেকে চাচা বললেন, আমারও তো মনটা খারাপ হয়ে গেল।
কেন? আপনার মন খারাপের কারণ কি?
ওই যে তুমি বললে পৃথিবীর সবচাইতে অ-বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার স্থান দ্বিতীয়। প্রথম হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক? আচ্ছা, দামেস্ক কি ঢাকার চেয়েও খারাপ শহর? সেটা কিভাবে সম্ভব হলো?
চাচা! দামেস্ক হচ্ছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহর। সেখানে জীবন ও জীবনযাপন, সবকিছুই অনিশ্চিত। নিতান্ত বাধ্য না হলে সেখানে কেউ থাকতে চায় না। ঢাকার পক্ষে দামেস্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।
আমি প্রতিযোগিতার কথা বলছি না। চাচা বিষণ্নমুখে বললেন, আমি বলছি ওই তালিকায় ঢাকাকে নিচের দিকে নামিয়ে আনা যাবে কি? যাই কিছু বলি না কেন, ঢাকা যে আমাদের প্রাণের শহর।
আমি নিজেও আপনার সঙ্গে একমত। আমি বললাম, ঢাকা মহানগরীকে অবাসযোগ্য করার জন্য যা কিছু করা হচ্ছে, তা সবই আত্মঘাতী। এই প্রাণের শহরকে যারা প্রতিনিয়ত খুন করছে, তাদের প্রতিরোধ করতে না পারলে এ শহর প্রাণে বাঁচবে না।

গুলশান থেকেই শুদ্ধি অভিযানের শুরু?

দৃশ্যত সফরটি ব্যক্তিগত। তবুও তৃণমূল থেকে কেন্দ্র- বিএনপির দৃষ্টি এখন লন্ডনে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও এ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কী আলোচনা করছেন বিএনপির প্রধান দুনেতা। তৃণমূল নেতারা এরই মধ্যে এ সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন। তারা দাবি তুলেছেন, এ সফরেই যেন দল পুনর্গঠনের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরটি যে কিছুটা আলাদা তা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায় মঙ্গলবারই। যখন দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর তার সফরসঙ্গীর তালিকায় গুলশান কার্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ঠাঁই মেলেনি। হিথ্রো বিমানবন্দরে নামার পর মাকে পাশে বসিয়ে তারেক রহমানের গাড়ি চালানোর ছবিটিও বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বাসার কাছাকাছি একটি বাসায় এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া। লন্ডন সফরের আগে দীর্ঘ হোমওয়ার্ক করেছেন বেগম জিয়া। এ সফর নিয়ে তিনি তার পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বৈঠক করেছেন দল এবং জোটের নেতাদের সঙ্গে। একটি সূত্রে জানা গেছে, ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আলোচনার প্রধান ইস্যু হবে দল এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান। কারণ বিএনপির প্রধান দু’নেতাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় দলের একটি অংশ ভেতরে ভেতরে দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। দলের আন্দোলন-কৌশল আগেভাগেই পাচার করে দিয়েছেন তারা। যে কারণে আন্দোলন গড়ে ওঠতে পারেনি, সফলও হয়নি। খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের অনেক কর্মকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। তাই এবার শুদ্ধি অভিযানের শুরুটা হচ্ছে গুলশান কার্যালয় থেকে। গুলশান কার্যালয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশই বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত লোক নিয়োগ দেয়া হবে। দল সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। গুলশান কার্যালয়ে রদ-বদলের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা মহানগর কমিটি, তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েও সিদ্ধান্ত হবে। তৃণমূল কমিটি পুনর্গঠনের জন্য এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এজন্য ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিটি পুনর্গঠনের কোন সম্ভাবনা নেই। পকেট কমিটি গঠন নিয়ে এরই মধ্যে খোদ বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেই উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একটি বড় অংশ এখন আর কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। অসুস্থতাসহ নানা কারণে তারা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদও বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবীণ এবং তরুণের সমন্বয়ের কথা বলেছিলেন তিনি। মহাসচিব পদ নিয়েও বিএনপির ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি অনেকটা হারিয়েই গেছে। মির্জা আব্বাসকে নিয়ে রহস্যের কোন কিনারা হচ্ছে না। নয় মাস ধরে কথিত আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার কোন অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় বিএনপির পুনর্গঠন এবং সংস্কারের বিষয়টি শিগগিরই দৃশ্যমান হতে পারে বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ গতকাল বলেছেন, দেশের সমস্যা, দেশের ভবিষ্যৎ এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে লন্ডন গেছেন খালেদা জিয়া। সেখানে দল পুনর্গঠন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগের দিনও বিএনপির দুই জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা লন্ডন সফরে দলে সংস্কার ও পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্তের দাবি জানান। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার বলেছেন, লন্ডনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে আলোচনায় দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত আসবে, সেদিকেই এখন তারা দৃষ্টি রাখছেন। তিনি বলেন, বৈঠকের দিকেই আসলে আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চেয়ে আছেন। বিএনপির বর্তমান যে সংকট, এ মুুহূর্তে দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন- মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে স্ট্যান্ডিং কমিটি পর্যন্ত এ পরিবর্তন খুবই জরুরি এবং আমাদের নেত্রী বিভিন্ন সময় আলোচনায় তা প্রকাশ করেছেন। এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য তারেক রহমানের সঙ্গে একটি পরামর্শ দরকার তার। এবং সেটি এবারের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে। আন্দোলন কেন ব্যর্থ হয়েছে সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই দল পুনর্গঠন করা উচিত বলে মনে করেন বিএনপির নাটোর জেলার নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ব্যক্তিগত সফর বা চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন এটা ঠিক। সেখানে আমরা আশা করি আমাদের পার্টি চিফ অবশ্যই উপলব্ধি করেছেন যে গত আন্দোলনের সময় ত্যাগী নেতাদের কি ভূমিকা ছিল। আর যারা ম্যাডামকে মিসগাইড করেছেন যে আন্দোলনের ডাক দেন খুব শিগগিরই সরকার বিদায় নিবে। কিন্তু তারা ও তাদেরকে আমাদের পার্টির প্রধান আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কোনভাবেই পান নাই।

খোঁজ নেই মেরিনার by রোকনুজ্জামান পিয়াস

আফরোজা বেগমের নেতৃত্বে লেবাননে গড়ে উঠেছে মানব পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নিকটাত্মীয় নিয়ে গড়ে তোলা এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করে যাচ্ছে চক্রটি। মেরিনা মেমি এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসতে আকুতি জানিয়েছিলেন স্বজনের কাছে। কিন্তু গত একমাস ধরে তার আর কোন খোঁজ মিলছে না। আফরোজা বেগম ও স্বজনের কাছে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা জানালে তারা উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় শঙ্কায় দিন কাটছে মেরিনার ১৫ বছরের ছেলে আবদুল কাদেরের। তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই মেরিনা গিয়েছিলেন লেবানন। এদিকে তার সন্ধান চেয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে আবেদন করেছেন মেরিনার স্বজনরা।
বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলার চরচিংড়ি গ্রামের আলতাফ হোসেনের মেয়ে মেরিনা মেমি। জন্মের পর বাবাকে হারিয়েছেন। পরে বিয়ে হয় একই এলাকার শাহজাহানের সঙ্গে। ৭-৮ বছর আগে এক ছেলের জননী মেরিনার স্বামী শাহজাহানও মারা যান। এরপর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একমাত্র ছেলে আবদুল কাদের তার নিকটাত্মীয়ের কাছে থেকে বড় হতে থাকে। নিজের আশ্রয় হয় ভাইদের সংসারে। কিন্তু সেখানেও বেশি দিন থাকতে পারেন নি। ভাইয়েরা গত দু’বছর আগে তার বিয়ে দেন একই গ্রামের ওমর আলীর সঙ্গে। যদিও ওমর আলীর স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি রয়েছে। দ্বিতীয় স্বামী ওমরই লেবানন থাকা তার ভাইপোর বউ আফরোজার সঙ্গে যোগসাজশে লেবানন পাঠায়। তার কথামতো ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তা করে মেরিনা বিদেশ যেতে রাজি হন। এজন্য মানুষের বাসায় কাজ করে জমানো ৫০ হাজার টাকাও তাকে খরচ করতে হয়। মেরিনাকে বলা হয়েছিল লেবাননে গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হবে। সেখানে তাকে মাসিক ১৬ হাজার টাকা বেতন দেয়া হবে। সেই আশ্বাসে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের মাধ্যমে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ৪ঠা জুলাই লেবাননের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। দেশটিতে পৌঁছানোর পরদিন তিনি তার বোনের মেয়ে লাবনীর সঙ্গে কথা বলেন। এর ১৫ দিন পর আবারও তাকে ফোন করে কান্নাকাটি করেন। এ সময় মেরিনা তাকে জানিয়েছিলেন, গৃহকর্তা তাকে ঠিকমতো খাবার দিচ্ছে না। প্রতিদিনই মারধর করছে। গত একমাস আগেও একই কথা বলে কান্নাকাটি করেন। এখনও পর্যন্ত কোন বেতন তাকে দেয়া হয়নি। তিনি কান্নাকাটি করে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান। এসব ঘটনা লেবাননে থাকা আফরোজাকে জানানোর পর উল্টো তিনি লাবনীকে হুমকি দেন। বলেন, ৩ বছরের আগে দেশে পাঠানো যাবে না। হুমকি দিয়ে বলেন, পারলে যেন লেবানন এসে তাকে দেশে নিয়ে যান। তার বর্তমান স্বামী ওমর আলীও এসব অভিযোগের পাত্তা দেন না। বরং তাকে জানালে উল্টো আফরোজার পক্ষ নেন। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মেরিনার বোনের মেয়ে চিলড্রেন উইমেন অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান লাবনী মজুমদার বলেন, লেবানন যাওয়ার পর তার খালা মেরিনা কয়েকবার ফোন করে কান্নাকাটি করেছে। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হচ্ছে জানিয়ে তিনি দেশে ফেরত আসার জন্য কাকুতি-মিনতি করেন। একমাস আগে সর্বশেষ তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন তাকে অন্যত্র কাজের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার একমাত্র ছেলে একটি প্লাস্টিক কোম্পানিতে কাজ করে। সেও তার মায়ের জন্য দুশ্চিন্তায় রয়েছে। লাবনী মজুমদার বলেন, আফরোজা এবং তার স্বামীকে ফোন করলে তারা খারাপ ব্যবহার করে। হুমকি দেয়। ৩ বছরের আগে তাকে কোনভাবেই ফেরত পাঠাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ওমর আলী তাকে বলেছেন, আফরোজা তাকে জানিয়েছে ৬ মাসের আগে কোন বেতন দেয়া হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফরোজা, তার স্বামী আবদুল বাকী এবং দুই ভাগ্নি বর্তমানে লেবাননে রয়েছেন। তারাই গড়ে তুলেছেন মানব পাচারের সিন্ডিকেট। আফরোজা ১০-১২ বছর আগে লেবাননে যান। এরপর একেএকে সবাইকে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে মেরিনার বর্তমান স্বামী ওমর আলী বলেন, তার স্ত্রী ভাল আছে। তার সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেরিনার সঙ্গে কথা হয়নি, তবে ভাইয়ের ছেলের বউ আফরোজার সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হয়। সে বলেছে মেরিনা ভাল আছে। তিনি আরও বলেন, আফরোজা তাকে এও বলেছে ৩ মাস পরে তাকে বেতন দিবে। তিনি আরও জানান, তার ভাইপো বাকি একবছর পরপরই দেশে আসেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন এজেন্সির কর্মকর্তা জয়নাল জানান, তাদের এক আত্মীয় তার ভিসা পাঠিয়েছিল। আমরা শুধু প্রসেসিং করে দিয়েছি। তারপরও তিনি আফরোজার সঙ্গে কথা বলে ৩-৪ দিনের ভেতরে তার অবস্থা জানাবেন। জয়নাল জানান, তাকে লেবানন পাঠাতে প্রসেসিং করতে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গরিব বলে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে আমরা নিজেরা আরও ২ হাজার টাকা দিয়ে তার কাজ করে দিয়েছি। এদিকে মেরিনার সন্ধান চেয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার কমিশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন মেরিনার ভাগ্নি লাবনী মজুমদার। আবেদনে তিনি সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জরুরিভাবে তাকে ফেরত আনতে আর্জি জানিয়েছেন।

সংবাদপত্র ও সাংবাদিক কেউই নিরাপদ নয় -ডিইউজের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা

সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, দেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক কেউই নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এ এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক শাহিন হাসনাতের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আব্দাল আহমদ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সভাপতি আব্দুস শহিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, সাবেক সহসভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ, প্রবীণ সাংবাদিক রকিব উদ্দিন, খন্দকার গোলাম আজাদ, দৈনিক সংগ্রামের ইউনিট চিফ সাদাত হোসাইন, বাসসের ইউনিট চিফ আবুল কালাম মানিক, ইনকিলাবের ইউনিট চিফ ওমর ফারুক আল হাদি, নয়া দিগন্তের ইউনিট চিফ ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, দিনকালের ইউনিট চিফ সৈয়দ আকরাম, মুক্ত খবরের ডেপুটি ইউনিট চিফ জসিম মেহেদি প্রমুখ।
সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান শোক প্রস্তাব পাঠ ও বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন। কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন নির্বাহী পরিষদ সদস্য এরফানুল হক নাহিদ। নিহত সাংবাদিকদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন সংগ্রামের ইউনিট চিফ ও সহকারী বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসাইন।
ইউনিয়নের সাধারণ সভা করার জন্য রুম বরাদ্দ না দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এম আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের রুম দেয়া হয়নি অথচ দখলদারদের রুম দেয়া হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো হয়নি। তিনি বলেন, এখানে আজ শওকত মাহমুদের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। অথচ দিনের পর দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। শওকত মাহমুদ গুরুতর অসুস্থ। তাকে বিনা কারণে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। তিনি আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ গ্রেফতারকৃত সব সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেন।
এমএ আজিজ বলেন, আজ সাংবাদিকেরা তাদের বসার জায়গা পাচ্ছে না। এতে বুঝা যায়, আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে কী নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এ দিনটি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের ভয় পেলে চলবে না। সাহস সঞ্চয় করতে হবে এবং অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সৈয়দ আব্দাল আহমদ বলেন, ৬০ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। অবৈধভাবে কমিটি করে যা ইচ্ছে তা করা হচ্ছে। এমন নজির কোথাও নেই। প্রেস ক্লাবের রুম বরাদ্দ না দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য সুবিধাভোগীরাই দায়ী। এরা পরগাছা তাই তাদের হাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।
আব্দুল হাই শিকদার বলেন, আজ যারা গণতন্ত্রের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য এখানে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পাস করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সাধারণ সভা না করার জন্য আমাদের এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি ধমকি দেয়া হয়। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আমরা সভা করতে পেরেছি।
আব্দুস শহিদ বলেন, ১৯৮২ সালে ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পর কত উত্থান পতন দেখেছি। ইউনিয়নকে কখনো দুর্বল করবেন না। সাংবাদিক ইউনিয়ন হচ্ছে শক্তি। সেই শক্তিকে কখনোই দুর্বল করবেন না। তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও মিডিয়াকর্মী আজ কেউই নিরাপদে নেই। এই মুহূর্তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় বিএফউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত সব সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ সব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার, আমার দেশ ও দিগন্ত টেলিভিশনসহ বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন ও নবম ওয়েজবোর্ড গঠনসহ সাংবাদিক-কর্মচারীদের রুজি রুটির নিশ্চয়তা প্রদান এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সভায় অভিযোগ ওঠে ডিইউজের গঠনতন্ত্র ও সংগঠনবিরোধী কাজে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই মহলটি অপতৎপরতা থেকে বিরত না হলে তাদের বিরুদ্ধে ডিইউজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ সভায় ডিইউজের নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা দেয়া হয়।
এ দিকে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ডিইউজের অপর একটি অংশের উদ্যোগে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাহী নেয়াজ খান সাজুকে সভাপতি ও খায়রুল আলম বকুলকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ভারতীয় গরু নিয়ে দোলাচলে ব্যবসায়ী-খামারি by খালিদ সাইফুল্লাহ

ভারতীয় গরু আসা নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। বর্তমানে সীমিত পরিসরে ভারতীয় গরু আসছে জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আরো গরু না এলে সঙ্কট দেখা দেবে। দাম বেড়ে যাবে কোরবানির পশুর। তবে খামারিরা বলছেন, দেশে প্রচুর গরু রয়েছে। ভারতীয় গরুর কোনো প্রয়োজন নেই। ভারত যদি হঠাৎ করে গরু আসার সুযোগ করে দেয় তাহলে গত তিন বছরের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। এ দিকে আগামীকাল শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে রাজধানীর ২২টি কোরবানির পশুহাট। তবে দুই দিন আগে থেকেই অনেক হাটে গরু-ছাগল আসা শুরু হয়ে গেছে।
রাজধানীতে এবার ২২টি পশুহাট বসছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ১০টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ছয়টি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে থাকছে আরো ছয়টি হাট। হাটগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। নানা রঙের তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে হাটের প্রবেশপথ। পোস্টার ছাপিয়ে ও মাইকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা জানানো হচ্ছে। অন্যান্য বছর ঈদের দিন ও এর আগের তিন দিন হাট বসানোর নিয়ম থাকে। তবে এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনুরোধে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন সাত দিন ধরে হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে অস্থায়ী হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে দুই দিন আগেই গত বৃহস্পতিবার থেকে অনেক হাটে গরু এসেছে। তবে বিক্রি এখনো তেমন শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী ও দেশের সবচেয়ে বড় পশুহাট গাবতলীতে গতকাল গিয়ে দেখা যায়, ট্রাক-পিকআপে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-মহিষ ও ছাগল আসছে। তবে হাট এখানো জমে ওঠেনি। ক্রেতার উপস্থিতিও খুবই কম। গোশত ব্যবসায়ীরাই কেবল গরু-ছাগল কিনছেন। এ ছাড়া কুমিল্লা, সিলেটসহ বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরাও এ হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কোরবানি উপলক্ষে ইজারাদার মূল হাটের পাশে আরো বিস্তৃত এলাকা নিয়ে বাঁশ বেঁধেছেন। তবে এগুলো এখনো খালি পড়ে রয়েছে। হাটটির ইজারাদার লুৎফর রহমানের ছেলে রাকিব ইমরান জানান, হাট এখনো জমেনি। তবে দুই- এক দিনের মধ্যেই জমবে বলে আমরা আশা করছি। হাট ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাটে দেশী গরুর আধিপাত্য। ভারতীয় গরুর পরিমাণ খুবই কম। তবে এর বেশির ভাগই গত পাঁচ-ছয় মাস আগে দেশে এনে বড় করা। গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার ভারতীয় গরু আসছে। এ ছাড়া আর কোনো সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে না। ভারত থেকে আসা গরুর বেশির ভাগই বিভিন্ন জেলা ও রাজধানীর অন্য হাটে চলে যাচ্ছে। গাবতলী হাটে আসছে খুবই কম। তিনি জানান, ভারত থেকে গরু না এলে সঙ্কট দেখা দেবে। দেশী গরু বেশি দামে কিনতে হবে। এর বাস্তবতাও দেখা গেল হাটটি ঘুরে। ক্রেতা তেমন না থাকলেও খামারিরা দেশী গরুর দাম চাচ্ছেন বেশি। মাঝারি সাইজের গরু ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা, বড় গরু দুই লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তবে ছোট সাইজের গরুও হাটে আসছে। এর দাম ত্রিশ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
মেহেরপুরের খামারি সিরাজ উদ্দিন ও আলম হোসেন জানান, দেশী গরুর কোনো সঙ্কট নেই। দেশে যে গরু আছে তা দিয়েই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশী গরুর দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তারা বলেন, এখন গরু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ঢাকায় আনতে গরু প্রতি ট্রাক ভাড়া দিতে হয় দুই-তিন হাজার টাকা। তা ছাড়া তিন বছর ধরে খামারিরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে এবার পুষিয়ে নিতে দাম একটু বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে ভারতীয় গরু আসা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তারা। বর্তমানে ভারতীয় গরু কম আসছে জানিয়ে তারা বলেন, গত কয়েক বছর দেখা যায় আগে গরু আসে না, কিন্তু ঈদের দুই-এক দিন আগে হঠাৎ করেই ভারত সীমান্ত খুলে দেয়। তখন দেশী গরুর দাম পড়ে যায়। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন খামারিরা।
কুষ্টিয়ার খামারি মোক্তার হোসেন হাটের সবচেয়ে বড় গরুটি এনেছেন। এটি পাবনার দেশী জাতের গরু বলে তিনি জানান। তিনি এ গরুটির দাম চাচ্ছেন ৯ লাখ টাকা। গরুটিতে ১৬ মণ গোশত হবে দাবি করে তিনি জানান, ক্রেতারা এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাম বলেছেন। তবে সাড়ে পাঁচ লাখ হলেই তিনি গরুটি বিক্রি করে দেবেন। মোক্তার হোসেন জানান, ৯ মাস আগে তিনি গরুটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কেনেন। এ কয় মাসে গরুর খাবার ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার আরো ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
হাটে ভারতীয় যেসব গরু রয়েছে সেগুলোর দামও যথেষ্ট। তবে এর আকারও বেশ বড়। কুষ্টিয়া থেকে আটটি গরু গাবতলী হাটে এনেছেন খামারি খায়রুল ইসলাম। এর মধ্যে পাঁচটি ভারতীয় এবং তিনটি দেশী। গত ছয় মাস আগে ভারতীয় গরুগুলো দেশে আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। ৯ মণ গোশত হবে এমন একটি গরুর দাম তিনি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চাচ্ছেন।
হাটে মহিষ ও ছাগলের সরবরাহও আছে। দাম দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তবে বিক্রি তেমন হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ী খবির হোসেন, যা দুই-একটি বিক্রি হচ্ছে তার অধিকাংশই কিনছেন গোশত ব্যবসায়ীরা বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম জানান, দেশে প্রতি বছর এক কোটি ২৫ লাখের মতো গরু জবাই হয়। এর মধ্যে ৬৫ লাখ কোরবানির সময়। আর বাকি ৬০ লাখ জবাই হয় সারা বছরে। এ ছাড়া কোরবানির সময় ৫০ লাখের মতো ছাগল জবাই হয়ে থাকে। তিনি বলেন, দেশে ভারতীয় গরুর কোনো প্রয়োজন নেই। বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান থেকে গরু আসছে। তা ছাড়া দেশেই গরু উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এ দিকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পশুহাট ও আশপাশ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হবে আগামীকাল সোমবার থেকে। হাটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দেখবেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত ২২টি পশুহাটে শনিবার ভোর থেকে পশু ওঠানোর কথা। সোমবার থেকে সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট এসব হাটে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মনিটরিং সেল কাজ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ক্ষমতা পাগল নারী: সাবেক প্রধান বিচারপতি

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ক্ষমতা পাগল নারী বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি মার্কেন্ডেয় কাটজু। ইন্দিরা এবং রাজীব গান্ধীর প্রতিকৃতিযুক্ত ডাকটিকেট ছাপানো বন্ধ করার বিজেপি সরকারের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অবশ্য এরই মধ্যে গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কে মন্তব্য করে কঠোর বিতর্কে পড়েছেন কাটজু।
নিজেকে বিজেপি সরকারের সমর্থক নন বলে দাবি করে কাটজু নিজ টুইটারে বলেন, ইন্দিরা এবং রাজীব গান্ধীর প্রতিকৃতিযুক্ত ডাকটিকেট ছাপানো বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার মধ্যে দোষের কিছু নেই।
তিনি আরো লিখেছেন, ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ক্ষমতা পাগল নারী এবং ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজনে যা কিছু করা দরকার তা করতে ইচ্ছুক ছিলেন তিনি। এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্বাচনের জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৫ সালে ভারতে ভুয়া জরুরি অবস্থা জারি করেন বলে উল্লেখ করেছেন কাটজু।
এ ছাড়া, শ্রীলংকায় বিনা কারণে ভারতীয় সেনা পাঠানোর রাজীব গান্ধীর সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। এতে কয়েক হাজার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন সাবেক বিচারপতি কাটজু।
গত মার্চে ভারতের জাতিরজনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, ‘গান্ধীজি এদেশে ইংরেজদের প্রতিনিধি ছিলেন। দেশের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করেছিলেন। রাজনীতি এবং ধর্মকে এক করে দীর্ঘ দশক ধরে দেশের মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করেছেন গান্ধীজি।’ একই সঙ্গে সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রিটিশদের হাতের কাঠের পুতুল আর সুভাষ চন্দ্র বসু ছিলেন জাপানিদের এজেন্ট।’
সূত্র : রেডিও তেহরান

তোলপাড়

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানা হাজতে মায়ের সঙ্গে ১১ মাস বয়সের শিশু রয়েলের হাজতবাসের খবরটি এখন টক অব দ্য ঝিনাইদহে পরিণত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ গতকাল দুপুরে মহেশপুরের নাটিমা ও ভালাইপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি মহেশপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, পত্র-পত্রিকায় শিশু রয়েলের যে ছবিটি ছাপা হয়েছে সেটা গারদের নয়, থানার বারান্দার। বারান্দায় হেফাজতে রাখা অবস্থায় ওই ছবি তোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মা লিপি খাতুন ও শিশু রয়েলকে ছাড়ানোর জন্য টাকা লেদদেনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের কোন কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, তদন্তকালে দেখা গেছে মহেশপুরের ভালাইপুরের রাজু আহম্মেদ একাধিক বিয়ে করেছেন। লিপি খাতুন তার ৯ নং স্ত্রী। তিনি হত্যা ও মাদক মামলার আসামি, তবে সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে নাটিমা গ্রামে যায়নি। গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তারাই পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ রাজু আহম্মদকে আটক করতে যান। রাজুকে না পেয়ে গ্রামবাসী মা ও শিশুটিকে পুলিশের কাছে দেয়। মায়ের সঙ্গে শিশুটিকে ১৯ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় থানা হাজতে। বুধবার রাত ৮টায় আটক করে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় মুক্তি দেয়া হয়। রাজুর দাবি পুলিশকে ৪২ হাজার টাকা দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে মুক্তি পেতে হয়েছে। অবশ্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানিয়েছেন টাকা লেদদেনের কোন প্রমাণ মেলেনি। রাজু নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেনি। ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভালাইপুর গ্রামের আজব আলীর ছেলে রাজু আহম্মদ জানান, তার নামে হত্যা ও ছিনতাই মামলা ছিল। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ মাস ও ছিনতাই মামলায় ২ মাস জেল খেটে ১৬ দিন আগে বাড়িতে আসে। জেলহাজতে থাকার সুবাদে মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামের আবদুল আজিজের সাথে জেল খানায় রাজুর পরিচয় হয়। জেল থেকে বের হয়ে রাজু প্রায়ই নিজ স্ত্রীকে নিয়ে নাটিমা গ্রামে যেত। ঘটনার দিন তিনি তার স্ত্রী লিপি ও শিশুসন্তান রয়েলকে নিয়ে আবদুুল আজিজের বাড়িতে যান। রাত ৮ টার দিকে ওই বাড়িতে পুলিশ আসে। পুলিশ তার নাম ধরে খোঁজ করতে থাকলে তিনি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। রাজু জানান, মহেশপুর থানার এটিএসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ১১ মাসের শিশুকে থানায় নিয়ে যান। আটকের সময় তার স্ত্রীকে মারপিট করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে বুধবার রাতে হাজতে আটকে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় টাকার দাবি। পুলিশের ওই কর্মকর্তা মা-ছেলেকে ছাড়তে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এই টাকা না দিতে পারায় ১৯ ঘণ্টা থানা হাজতে কাটাতে হয় স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে। পরে অবশ্য মসিয়ার নামে এক ব্যক্তির জিম্মায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়। ঘটনার দিন সংবাদ মাধ্যমকে এটিএসআই আমির হোসেন জানান, রাজু আহম্মদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। যে কারণে তাকে আটক করতে যান। পুলিশ দেখে রাজু পালিয়ে যান। এরপর তার স্ত্রীকে একা অন্যের বাড়িতে রেখে আসলে ক্যামন হয়, তাই নিরাপত্তার জন্য থানায় নিয়ে আসি। ৪২ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানিয়েছেন তারা স্বামী-স্ত্রী ওই বাড়িতে অবস্থানকালে এলাকার লোকজন খারাপ ধারণা করেন। এরপর জনগণ তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।

রাতে জেগে দিনে ঘুমোচ্ছেন? সাবধান, ডায়াবেটিস হতে পারে!

রাতে বিছানায় শুয়ে শুধু এ পাশ আর ও পাশ। ঘুমের ওষুধ খেয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই। রাতে ঘুম নেই অথচ দিনের বেলায় ঘুমে ঢুলছেন।
ভাবছেন এ সব মামুলি সমস্যা! রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পড়ছেন। এতটা ছাড় কিন্তু দেবেন না। সময় থাকতে সাবধান হন। অজান্তেই ডায়াবেটিসের কবলে পড়ছেন না তো?
কারণ, দিনের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুম বাড়াচ্ছে টাইপ ২-ডায়াবেটিসের আশঙ্কা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল জাপানি গবেষকের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তোমোহিদ ইয়ামাদা-র নেতৃত্বে এক দল জাপানি বিজ্ঞানী এই গবেষণা করেন।
দিনের বেলায় ঘুমের সঙ্গে কী সম্পর্ক ডায়াবেটিসের?
গবেষকরা জানিয়েছেন, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপোনিয়া বা ওএসএ এমন একটি রোগ যার কারণে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তি রাতে ঘুমোতে পারেন না। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে দিনের বেলায় ঝিমোতে থাকেন রোগী। ওএসএ বাড়ায় ইস্কিমিয়া হার্ট ডিজিজ বা হৃত্‌পিণ্ডের ধমনীতে ব্লকেজের সম্ভাবনা। এ ছাড়াও স্ট্রোক বা বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। মারণ রোগ তিলে তিলে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। সেই সঙ্গে, দিনের বেলায় ঘুমের পুরো চক্র সম্পূর্ণ নাও হতে পারে। রোগটি পরিচিত স্লিপ ইনারসিয়া নামে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমে আচ্ছন্ন ভাব, অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
তবে হতাশ হবেন না। ভরসার কথাও শুনিয়েছেন টোকিওর গবেষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, দিনের বেলায় আধ ঘণ্টার ছোট্ট ঘুম বাড়ায় শরীরে চনমনে ভাব। তাই ক্ষতিকারক নয় ছোট্ট ঘুম। কিন্তু কোনও ভাবে যদি মিনিট তিরিশের বেশি ঘুমোন কেউ, তবে তা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার পক্ষে যথেষ্ট। দিনের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমের জন্য ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় অন্তত ৫৬ শতাংশ। ঘণ্টাখানেকের কাছাকাছি ঘুমোলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অন্তত ৪৬ শতাংশ। আড়াই লাখের বেশি মানুষের উপর ৬৮৩টি সমীক্ষা চালানো হয়। সুইডেন, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আমেরিকা, চিন এবং জার্মানিতে চালানো হয় সমীক্ষাগুলি।
প্রধানত তিনটি প্রশ্নের উপর জোর দেওয়া হয়। ১) দিনের বেলায় ঘুমে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না? ২) দিনের বেলায় ঘুমোন কি? ৩) কত ঘণ্টা ঘুমোন দিনের বেলায়? সমীক্ষাটি সুইডেনের ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অফ ডায়াবেটিস (ইএএসডি)-র বার্ষিক সন্মেলনে পাঠ করা হয়।
- আনন্দবাজার