Monday, November 29, 2010

দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকার শেয়ারবাজারের গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৫৩৪ পয়েন্ট। তার মানে এ সময় প্রতিদিন গড়ে সূচক বেড়েছে ১০৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট হারে। আর এর প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার-মূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মোট বাজার-মূলধন তিন লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২টির দাম। এই সপ্তাহে ডিএসইতে ১৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩১১ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেশি। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়ে আট হাজার ৭২১ পয়েন্ট হয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে নতুন শেয়ারের ভূমিকা খুবই সামান্য। তালিকাভুক্ত বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিই এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৬ ভাগেরই দাম বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের লাগাম ধরে রাখতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সপ্তাহের শুরুতে ঋণসুবিধা আরও এক দফা কমানো হয়। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংস্থাটি। গত সোমবার থেকেই নিয়মটি কার্যকর হয়।
কিন্তু এতেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; বরং ঋণসুবিধা-বহির্ভূত শেয়ারের দাম উল্টো বাড়তে শুরু করে। অবস্থা এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে যে লেনদেনের একপর্যায়ে এ ধরনের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। আরও দাম বাড়তে পারে—এ আশায় বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার হাতছাড়া করতে চাননি।
শেষ পর্যন্ত পর পর দুই দফায় মোট ১৫টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সিদ্ধান্তে বাজার আবারও অপেক্ষাকৃত ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তবে সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে বাজারের অবস্থা ছিল কিছুটা মিশ্র। সপ্তাহের প্রথম ও শেষ ভাগে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বেড়েছে। মাঝখানে দুই দিন বাজারে ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দাপট।
গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেয়ার বিক্রিতে তাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে। এ বৈঠকে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম।

দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকার শেয়ারবাজারের গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৫৩৪ পয়েন্ট। তার মানে এ সময় প্রতিদিন গড়ে সূচক বেড়েছে ১০৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট হারে। আর এর প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার-মূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মোট বাজার-মূলধন তিন লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২টির দাম। এই সপ্তাহে ডিএসইতে ১৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩১১ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেশি। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়ে আট হাজার ৭২১ পয়েন্ট হয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে নতুন শেয়ারের ভূমিকা খুবই সামান্য। তালিকাভুক্ত বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিই এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৬ ভাগেরই দাম বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের লাগাম ধরে রাখতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সপ্তাহের শুরুতে ঋণসুবিধা আরও এক দফা কমানো হয়। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংস্থাটি। গত সোমবার থেকেই নিয়মটি কার্যকর হয়।
কিন্তু এতেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; বরং ঋণসুবিধা-বহির্ভূত শেয়ারের দাম উল্টো বাড়তে শুরু করে। অবস্থা এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে যে লেনদেনের একপর্যায়ে এ ধরনের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। আরও দাম বাড়তে পারে—এ আশায় বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার হাতছাড়া করতে চাননি।
শেষ পর্যন্ত পর পর দুই দফায় মোট ১৫টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সিদ্ধান্তে বাজার আবারও অপেক্ষাকৃত ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তবে সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে বাজারের অবস্থা ছিল কিছুটা মিশ্র। সপ্তাহের প্রথম ও শেষ ভাগে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বেড়েছে। মাঝখানে দুই দিন বাজারে ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দাপট।
গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেয়ার বিক্রিতে তাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে। এ বৈঠকে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বৃদ্ধি

আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে সদস্য মার্জিন (মেম্বারস মার্জিন) আইন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার এসইসি সদস্য মার্জিন আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনে, যা আজ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে এর কার্যকারিতা ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বরেন্দ্রভূমির কৃষকের বীজবিদ্রোহ by পাভেল পার্থ

আবারও বাংলাদেশে করপোরেট বীজ-প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। করপোরেট সিনজেন্টা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো বীজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রাজশাহীর কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে সংগঠিত করছেন জন-আন্দোলন। বরেন্দ্রভূমির কৃষকদের অভিনন্দন, যাঁরা সিনজেন্টার মতো এক ডাকসাইটে করপোরেটের বিরুদ্ধে বীজের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন।
২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর নোভার্টিস ও এসট্রা জেনেকা মিলে তৈরি করে সিনজেন্টা। এর আগে ১৯৯৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি এসট্রা এবি ও ব্রিটিশ কোম্পানি জেনেকা মিলে তৈরি হয়েছিল এসট্রা জেনেকা। যে নভেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেল শহরের রাইন নদীর তীরে সিনজেন্টার জন্ম, মাত্র ১০ বছর পরে সেই মাসেই বাংলাদেশের পদ্মাপাড়ের প্রতারিত কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাজারো কৃষক সিনজেন্টার হাইব্রিড টমেটো বীজ কিনে নিঃস্ব, প্রতারিত ও রক্তাক্ত হয়েছেন।
চলতি শীত মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য স্থানীয় কৃষকেরা সিনজেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেডের স্থানীয় ডিলার থেকে সবল এফ-১ হাইব্রিড টমেটো বীজ কিনে জমিতে লাগানোর পর গাছে কোনো ফল ধরেনি এখন পর্যন্ত। একেই বলে, কৃষকের মাথায় হাত। কৃষকেরা ‘গোদাগাড়ী কৃষি উন্নয়ন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ২৩ নভেম্বর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী পশুর হাটে বিক্ষোভ সমাবেশে সিনজেন্টার এই টমেটো বীজে প্রতারণার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সিনজেন্টার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনগণ এলাকায় সিনজেন্টাকে বয়কটের ঘোষণা করেছে। কৃষকদের এই ন্যায্য দাবির সঙ্গে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজ একাত্ম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন, যার অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিসচিব ও কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদেরও দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে কৃষকেরা জানিয়েছেন, ২০ গ্রাম টমেটো বীজ লাগে এক বিঘা জমির জন্য। সিনজেন্টার সবল এফ-১ হাইব্রিড টমেটো বীজ ২০ গ্রামের দাম ৮৫০ টাকা থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্তও দাম নেওয়া হয়েছে। এক বিঘা জমি চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এখনো জমিতে কোনো টমেটোগাছেই ফল হয়নি। সিনজেন্টার টমেটো বীজ ব্যবহার করে গোদাগাড়ীর কৃষকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা, দেশের সব প্রান্তের মানুষ এই করপোরেট বীজে প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
সিনজেন্টাই দুনিয়ার প্রথম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যারা কেবল কৃষি বাণিজ্যকেই সরাসরি বাণিজ্যের কেন্দ্র করে আটঘাট বেঁধে জুম-জমিনে নেমেছিল। গ্রিক শব্দ ‘Syn’ মানে সংশ্লেষণ ও সমন্বয় এবং ল্যাটিন শব্দ ‘Gens’ মানে জনগণ থেকেই নাকি ‘Syngenta’ শব্দটি তৈরি হয়েছে। সিনজেন্টার ভাষ্যমতে, সিনজেন্টার মানে হলো ‘Bringing people together’। কিন্তু রাজশাহীতে সিনজেন্টার এই বীজ-প্রতারণা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাসহ গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে অভিঘাত তৈরি করার ভেতর দিয়ে জনগণের সঙ্গে তাদের মতো করপোরেট কোম্পানিগুলোর সাংঘর্ষিক সম্পর্ককেই আবারও সত্যে পরিণত করেছে। মনসান্টো, ডুপন্ট, সিনজেন্টা, গ্রুপই লিমাগ্রেইন, ল্যান্ড ও লেকস, বায়ার, কেডব্লিউএস এজি, সাকাটা, ডিএলএফ-ট্রাইফলিয়াম ও টাকিল—এই শীর্ষ ১০ করপোরেট কোম্পানিই সারা দুনিয়ার কৃষি বীজ বাজারের প্রায় ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০০৭ সালে সিনজেন্টার বীজ-বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২,০১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর পর এখন পর্যন্ত বছরভিত্তিক সিনজেন্টা কী ফসলের কত বীজ, কতটুকু বিক্রি করে কতটুকু লাভ বা লোকসান করেছে এর কোনো খতিয়ান বারবার সিনজেন্টার কাছে চেয়েও পাওয়া যায়নি। আশা করি, করপোরেট বীজ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিম্নবর্গের এই আন্দোলন কৃষকের বীজে কৃষকের আপন অধিকার নিশ্চিতকরণের লড়াইকে আরও মজবুত করবে। বাতিল করবে বীজ ও প্রাণসম্পদে সিনজেন্টার মতো প্রতারক সব করপোরেট কোম্পানির একতরফা নিয়ন্ত্রণ ও দখল।
প্রথম আলো সিনজেন্টার এই সাম্প্র্রতিক বীজ-প্রতারণার খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত চার কৃষক সিনজেন্টা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পরিবেশক রবিউল ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৮ নভেম্বর রাজশাহীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে যে মামলা করেছিলেন তার তদন্তভার কৃষি কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে (২৪/১১/২০১০)। কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৩ সালে বিজ্ঞপ্তি আকারে জাতীয় বীজনীতি ঘোষণা করে। এর আগে বাংলাদেশে জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ-১৯৭৭, বীজ (সংশোধন) আইন-১৯৯৭, জাতীয় বীজ বিধিমালা-১৯৯৮ গৃহীত হয়। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে ‘উদ্ভিদজাত ও কৃষক অধিকার সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০০৭’ নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশে কৃষকদের পক্ষে বীজসম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা না থাকায় বারবার সিনজেন্টার মতো করপোরেট কোম্পানিগুলো দেশের কৃষকদের সঙ্গে একটির পর একটি বীজ-প্রতারণা করে চলেছে। যদিও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী বীজ কিনে কৃষক প্রতারিত হলে কোম্পানিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে নানা সময়ে উত্থাপন করেছেন। কিন্তু এর জন্য একটি সুস্পষ্ট আইন ও নীতিমালা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘ বন্যার পর বাংলাদেশ বীজ বোর্ড এসিআই, গ্যাঞ্জেস, ম্যাকডোনাল্ড, মল্লিকা সিড কোম্পানিকে কিছু শর্তসাপেক্ষে হাইব্রিড বীজ আমদানির অনুমোদন দেয়। যেহেতু সেসব হাইব্রিড বীজের নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও সুস্পষ্ট কোনো কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ছিল না, তাই আজ বাংলাদেশের ধান বাদে সবজি বীজের বাজার প্রায়ই দখল করে নিয়েছে নানা করপোরেট কোম্পানি। জাতীয় বীজনীতিতে বীজ আমদানি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া বীজ আমদানির ক্ষেত্রে অন্য সব নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হবে (অনুচ্ছেদ-৮.১)। তার মানে কি সিনজেন্টার মতো করপোরেট সব কোম্পানির হাইব্রিড বীজ আমদানির ক্ষেত্রে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ তুলে ফেলা হয়েছে? এর ফলেই কি যা-তা বীজ কৃষকের হাতে গছিয়ে দেওয়ার সাহস করছে এসব কোম্পানি?
আশা করি, সাম্প্র্রতিক রাজশাহীর বীজ-আন্দোলন আমাদের সঠিক কৃষি ও কৃষকবান্ধব নয়া বীজনীতি গ্রহণে বাধ্য করবে। রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁর দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, সিনজেন্টার সাম্প্রতিক বীজ-প্রতারণার ঘটনাটি আসন্ন সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করবেন বলে আশা করি। দেশের প্রাণভোমরা কৃষি আর কৃষিবীজ। টমেটোকে অনেক বাঙালি অঞ্চলের কৃষকেরা বিলাতি বাইগনও বলেন। আমাদেরও আছে কতগুলো দেশীয় বিলাতি বাইগনের জাত। বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর রয়েছে পুরোনো কাপড় কি গামছায়, ঘরের বেড়ায় কি মাটির দেয়ালে বা ছাই দিয়ে লেপটে টমেটো বীজ সংরক্ষণের এক প্রতিরোধী ইতিহাস। সিনজেন্টা কেন, কোনো করপোরেট কোম্পানিরই সাধ্য নেই নিম্নবর্গের সেই প্রতিরোধ দমিয়ে রাখে। সিনজেন্টার বীজ-প্রতারণার বিরুদ্ধে বরেন্দ্রর সাম্প্রতিক দ্রোহ বীজ ইতিহাসের সেই সত্যকেই জানান দিচ্ছে।
গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
animistbangla@yahoo.com

যুক্তরাজ্যে ব্যাপক তুষারপাত জীবনযাত্রা ব্যাহত

তুষারে ঢেকে গেছে বাকিংহামশায়ার
ব্যাপক তুষারপাতে যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৭ বছরের মধ্যে দেশটিতে মৌসুমের অনেক আগেই এত বেশি তুষার পড়েনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে আরও বেশি তুষার পড়তে পারে।
তুষারপাতের কারণে গত শুক্রবার অনেক স্থানে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানের ফ্লাইটগুলোও ঠিকমতো চলাচল করতে পারেনি। আজ রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্যের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পশ্চিম ওয়েলসের ট্রাসকোয়েডে (মাইনাস ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এ ছাড়া হাইল্যান্ডেসের ডানহুইনিতে মাইনাস ৮ দশমিক ২ ও বাকিংহামশায়ারের চেশ্যামে মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছিল।আবহাওয়ার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের অংশবিশেষ এবং উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং মিডল্যান্ড এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২ থেকে ৮ সেন্টিমিটার তুষার পড়তে পারে। এ ছাড়া উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসেও ব্যাপক তুষারপাত হতে পারে।

সৌদি আরবে আট মাসে গ্রেপ্তার ১৪৯

আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে গত আট মাসে ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৪ জন সৌদি আরবের এবং বাকি ২৫ জন আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যানসোর তুর্কি গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তুর্কি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওই সব সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের আল-কায়েদার সঙ্গে সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে থাকা ২২ লাখ ৪০ হাজার রিয়্যাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।তুর্কি আরও জানান, জঙ্গিরা সৌদি আরবে হজ পালনের সময় হাজিদের কাছে তাদের ভাবাদর্শ প্রচার করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করত। তারা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে তেল স্থাপনাগুলো এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না সে সম্পর্কে তিনি কিছুই বলেননি। গত শুক্রবার একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার জঙ্গিদের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ফের সুড়ঙ্গের সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তে আধা মাইল দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই সুড়ঙ্গ থেকে ২০ টনেরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে আটজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের তিনজন মার্কিন নাগরিক।মার্কিন সীমান্ত বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সান ডিয়েগোর ওটে মেসা বাণিজ্যিক এলাকায় একটি গুদামের সামনে তারা একটি ট্রাক্টর দেখতে পান। পরে ট্রাক্টরের গতিবিধি অনুসরণ করে ওই সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় সুড়ঙ্গ থেকে ২৬ হাজার ৬০০ পাউন্ড গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ওটে মেসায় সুড়ঙ্গের দুটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ওই সুড়ঙ্গের আরেকটি প্রবেশ পথের সন্ধান পাওয়া যায়। মেক্সিকোর নিরাপত্তাবাহিনী সুড়ঙ্গের কাছে একটি খামার থেকে চার টন গাঁজা উদ্ধার করে। এ ছাড়া সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও ছয় হাজার পাউন্ড গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে মাদক চোরাচালানের জন্য ব্যবহূত একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ পায় নিরাপত্তাবাহিনী। এই সুড়ঙ্গের ৬৫০ ফুট দক্ষিণে নতুন সুড়ঙ্গটির সন্ধান পাওয়া যায়।

নিহতদের শেষবিদায় জানালেন স্বজনেরা

নিউজিল্যান্ডের পাইক রিভার খনিতে বিস্ফোরণে নিহত ২৯ শ্রমিককে শেষবিদায় জানিয়েছেন তাঁদের স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার খনি এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট খনি কোম্পানি এর আয়োজন করে।সাউথ আইল্যান্ডের গ্রেমাউথ এলাকার পাইক রিভার কয়লাখনিতে ১৯ নভেম্বর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্য শ্রমিকেরা বেরিয়ে আসতে পারলেও ওই ২৯ শ্রমিক নিখোঁজ হন। তাঁদের অবস্থানও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার খনির ভেতরে দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকেরা নিহত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ২৪ জন নিউজিল্যান্ডের, দুজন অস্ট্রেলিয়ার, দুজন যুক্তরাজ্যের ও একজন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।খনি বিস্ফোরণের আট দিন পর গতকাল গ্রেমাউথ শহর থেকে কয়েকটি বাসে করে নিহত শ্রমিকদের অন্তত ৫০০ স্বজন ও বন্ধুকে খনি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিয়জনকে শেষবিদায় জানাতে স্বজনেরা অনেকেই ছবি ও ফুল নিয়ে যান। স্বজনদের খনির মূল ফটকের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে সেখানে একটি দেয়ালের মধ্যে নিহত শ্রমিকদের নাম লিখে রাখা হয়েছে। তা সবাইকে দেখানো হয়। পরে সবাইকে গ্রেমাউথের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।নিহত শ্রমিক জেনের বাবা লরি ড্রেউ গিয়েছিলেন ছেলেকে শেষবিদায় জানাতে। তিনি বলেন, ‘জেনের মা ও ভাইয়েরাও এসেছেন। এখানে ভাইয়েরা জেনের প্রতি তাদের টান বুঝতে পারবে।’ জেনের মা লিজা ভেরোভেন বলেন, ‘ছেলেকে শেষবিদায় জানাতে পারছি। এখন এটাই সান্ত্বনা।’

আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ভুয়া তালেবান নেতা!

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের চিফ অব স্টাফ অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় একজন ভুয়া তালেবান কমান্ডারকে আনা হয়েছে। আর এ প্রতারণার কাজটি করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। তবে কাবুলে ব্রিটিশ দূতাবাস এ অভিযোগের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ উমর দাউদজাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় মোল্লা মনসুর নামের একজন ছদ্মবেশী তালেবান নেতাকে হাজির করা হয়েছিল। ন্যাটো জোটের একটি বিমানে করে তাঁকে কাবুলে উড়িয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে ওই ব্যক্তি কোনো তালেবান নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন আফগান দোকানি, যিনি পাকিস্তানে বসবাস করতেন।এদিকে ব্রিটিশ সরকারের একাধিক সূত্র বলেছে, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাই ওই ব্যক্তিকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আফগানদের সঙ্গে আফগানদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল সামান্যই।বিভিন্ন গণমাধ্যম বলেছে, তালেবান নেতার ভূমিকার জন্য ওই ব্যক্তিকে হাজার হাজার ডলার দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার পর থেকে তিনি উধাও। ওই ব্যক্তি অন্তত তিনবার আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এ অভিযোগের ব্যাপারে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্রিটিশ করদাতাদের কোনো অর্থই ভুয়া আলোচকের পেছনে ব্যয় করা হয়নি। তাঁরা বলেন, ওই ব্যক্তির পেছনে যত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা ছিল আফগান সরকারেরই। তবে তাঁরা ওই ব্যক্তির অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য, মোল্লা মনসুরকে চেনেন এমন এক ব্যক্তি বৈঠকে অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয়ের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সত্যিকারের মোল্লা মনসুর তালেবান শাসনামলে বেসামরিক বিমানচলাচলমন্ত্রী ছিলেন।মোহাম্মদ উমর দাউদজাই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ব্রিটিশ কূটনীতিকেরা গত জুলাই অথবা আগস্টে ওই ব্যক্তিকে আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নিয়ে এসেছিলেন।দ্য টাইমস পত্রিকা বলেছে, আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্স এ বছরের মে মাস থেকে ওই ব্যক্তিকে অর্থসহায়তা দিয়ে আসছে।

ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু

ইরান বলেছে, তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার আগে এই কার্যক্রম শুরু হলো। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগর বুশেহরে অবস্থিত।ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্স গতকাল শনিবার জানায়, কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী এক অথবা দুই মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। তবে কখন কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।১৯৭০-এর দশকে বুশেহর কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সেই থেকে তেহরান বলে আসছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে তারা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে। তবে পশ্চিমাদের ধারণা, বিদ্যুতের কথা বলে তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ইরান এমন একটা সময় তাদের পরমাণুকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ঘোষণা দিল, যখন দেশটির বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থগিত আন্তর্জাতিক আলোচনা ফের শুরু হওয়ার পথে। আগামী ৫ ডিসেম্বর জেনেভায় এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন বলেছেন, এই আলোচনার তারিখ ও স্থানের ব্যাপারে ইরানের কাছ থেকে তিনি ‘অনানুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ আলোচনার ব্যাপারে আমি আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা চাই।’ ২০০৯ সালের পর এই প্রথম ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি ফের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসছে। বিশ্ব নেতারা বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে হবে। তবে তেহরান বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ না করায় ইরানের বিরুদ্ধে চার দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের আশঙ্কা, সংবেদনশীল ইউরেনিয়াম কর্মসূচির মাধ্যমে পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন করে আণবিক বোমা তৈরি করতে পারে ইরান।ইরান গত মাসে বলেছিল, বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের চুল্লিতে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। রাশিয়া থেকে আনা এই জ্বালানি ২১ আগস্ট বুশেহর কেন্দ্রে স্থানান্তর শুরু হয়। মূলত তখনই ওই কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রমের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ৪ অক্টোবর সালেহি বলেছিলেন, জানুয়ারির মধ্যে বুশেহর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

সিয়াওবোর জন্য চেয়ার খালি রাখা হবে

২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিউ সিয়াওবো বা তাঁর স্ত্রী লিউ সিয়াকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া না হলে সেখানে একটি চেয়ার খালি রাখা হবে। সিয়াওবোর বন্ধু ও ভিন্নমতাবলম্বী নেতা ইয়াং জিয়ানলি গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। জিয়ানলি চীনের ভিন্নমতাবলম্বী ও নোবেল কমিটির মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।আগামী ১০ ডিসেম্বর নওয়ের রাজধানী অসলোয় নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে। লিউকে গত বছরের ডিসেম্বরে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন চীনের একটি আদালত। ২০০৮ সালের ‘চার্টার ২০০৮’ শিরোনামে একটি মেনিফেস্টো প্রকাশ করার দায়ে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি সেই কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রী লিউ সিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াং জিয়ানলি জানান, গৃহবন্দী লিউ সিয়াকে অসলোয় যাওয়ার অনুমতি দিতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে নোবেল কমিটি অনুষ্ঠানস্থলে খালি চেয়ার রাখবে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চীন অভিযোগ করে আসছে, সিয়াওবো একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। তাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘অপরাধীদের’ সম্মান জানোনো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাইকেল স্টিফেন বাউডেন (৭৮)।
সম্প্রতি সাউথ ক্যারোলাইনার ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকের এক নার্সকে বাউডেন বলেন, ‘আমি ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে গুলি করার চিন্তাভাবনা করছি। কারণ, আফ্রো-আমেরিকানদের সহায়তা করার জন্য তিনি তেমন কোনো কাজ করছেন না।’ এ ছাড়া আত্মঘাতী হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন কি না, নার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে বাউডেন ‘হ্যাঁ’ বলেন। পরে ১৬ নভেম্বর মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবেও বাউডেন বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে ওবামাকে আমি নিজ হাতে গুলি করব।’ এরপর বাউডেনের বাড়ি তল্লাশি করে গুলিভর্তি তিনটি আধা স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান, একটি আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও একটি গুলিভর্তি শটগান উদ্ধার করা হয়।
বাউডেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে চার বছর চাকরি করেন। এরপর তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বাউডেন নিউইয়র্কের দমকল বাহিনীতে ১৮ বছর ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েছে এক তরুণ।সে দেশের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার অভিযোগে সোমালি বংশোদ্ভূত ওই মার্কিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।এফবিআইয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা ওই তরুণের নাম মোহাম্মদ ওসমান মোহামুদ (১৯)। বড়দিন সামনে রেখে অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডের উপশহরে ‘ক্রিসমাস ট্রি’তে আলোকসজ্জার এক অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের সরবরাহ করা নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকভর্তি একটি ভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টার সময় মোহামুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার করা মোহামুদ করভ্যালিস শহরের বাসিন্দা। তিনি গত বছরের আগস্টে দেশের বাইরের কোনো একজনের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে এএফবিআই নিশ্চিত হয়, তিনি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।ছদ্মপরিচয়ে এফবিআই মোহামুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই বছরের ডিসেম্বরে জিহাদে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।একাধিকবার যোগাযোগ করলে মোহামুদ এফবিআইকে জানান, তিনি ১৫ বছর বয়স থেকে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদি হামলার স্বপ্ন দেখে আসছেন। তাঁর ওই হামলার হুমকির সত্যতা যাচাই করতে এফবিআই গত শুক্রবার নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকভর্তি ওই ভ্যান সরবরাহ করে। এফবিআই তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, এ ধরনের হামলায় নারী ও শিশুরা নিহত হবে। কিন্তু এতেও মোহামুদ তাঁর পরিকল্পনা থেকে সরে না আসার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
এফবিআইয়ের অরেগন অঙ্গরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা আর্তুর বালিজান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, মোহামুদ বড় ধরনের নাশকতার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাই তাঁকে ফাঁদ পেতে গ্রেপ্তার করা হয়।

জোকোভিচকে পেলেন ফেদেরার

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে সেমিফাইনালের টিকিট আগের দিনই জোগাড় করে রেখেছিলেন রজার ফেদেরার। অপেক্ষা ছিল শুধু প্রতিপক্ষের নাম জানার। অপেক্ষার পালা শেষ। রাফায়েল নাদাল কিংবা টমাস বার্ডিচ নন, এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের সেমিফাইনালে ফেদেরারের প্রতিপক্ষ নোভাক জোকোভিচ। ওয়েবসাইট।
অন্য সেমিফাইনালে অ্যান্ডি মারের সামনে বিশ্বের এক নম্বর রাফায়েল নাদাল। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় অ্যান্ডি রডিকের কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। বিপরীতে শেষ চারে নাম লেখাতে জোকোভিচের জয়ই প্রয়োজন ছিল। রডিককে ৬-২, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়ে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন এই সার্বিয়ান। অন্য ম্যাচে ৭-৬ (৭-৩), ৬-১ গেমে জিতে টমাস বার্ডিচের সেমিফাইনাল স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন নাদাল। ফেদেরারের মতো নাদালও সেমিফাইনালে পা রাখলেন গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জিতেই।
এটিপি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের শিরোপা চারবার ঘরে তুলেছেন ফেদেরার। বছরটি যতই খারাপ যাক, নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করা ফেদেরার এই টুর্নামেন্টে ধরা দিয়েছেন সেরা রূপে। মারে-ফেরারের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও রবিন সোদারলিংকে সরাসরি সেটে (৭-৬, ৬-৩) হারিয়ে ফেদেরার সেমিফাইনালে পা রেখেছেন ফেবারিটের মতোই। কোর্টের পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেছেন সমালোচকদেরও। তবে ফেদেরার নিজে বলছেন, টুর্নামেন্টের কঠিন লড়াই কেবল শুরু, ‘এখনো আমি দুই ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে (শিরোপা থেকে)। দুটি ম্যাচই কঠিন।’

‘উ. কোরিয়ার হামলার পাল্টা জবাব দিতে হবে’

উত্তর কোরিয়ার হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্যকরেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল কিম কোয়ান জিন। দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ করা হয়। দেশটির সরকার আগামী দিনগুলোয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ে নিহত দক্ষিণ কোরিয়ার দুই মেরিন সেনার শেষকৃত্য গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিশিষ্টজনেরা দুই সেনার মরদেহ রাখা বেদিতে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা না চালাতে পিয়ং ইয়ংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। দেশটি উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন, সিউল ও পিয়ং ইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীন অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নিজেদের উপকূলে তারা যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করবে।
আজ রোববার থেকে পীতসাগরে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ওই মহড়ায় পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের অংশ নেওয়ার কথা। ওই জাহাজে ৭৫টি যুদ্ধবিমান ও ছয় হাজারেরও বেশি ক্রু রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পীতসাগরে যৌথ মহড়ার পরিণতি কী হবে—তা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল কিম বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার হামলার জবাব দিতে আমাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উত্তরের অনেক আঘাত আমরা সহ্য করেছি। এবার এসবের পাল্টা জবাব দেওয়া প্রয়োজন।’ চসুন ইলবো পত্রিকায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
দ্য কোরিয়া ইকোনমিক ডেইলির প্রতিবেদনে আগামী বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্বয়ংক্রিয় কামান ও জঙ্গি বিমান কেনার জন্য গতবারের চেয়ে দুই হাজার ৭০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজন হলে পার্লামেন্ট এর চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে।
গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। এর বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং বাক শক্ত অবস্থান নেননি—এই অভিযোগে দেশটির আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ঘটনায় দায় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়ং পদত্যাগ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কাছে সিয়ংনাম সামরিক হাসপাতালে দুই সেনা সিও জেওং উ ও মুন কং উকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কিম হং সিক, বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ শত শত মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ নৌ-মহড়ার কঠোর সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া বলেছে, যৌথ মহড়া এই অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ের আগে থেকেই এই মহড়ার সময় নির্ধারিত ছিল। আর এটা উত্তর কোরিয়ার জন্য জবাব।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি দেশটিতে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি।

ম্যারাডোনা তাহলে রিয়ালের দিকে?

প্রিয় শিষ্যকে ছেড়ে বন্ধুর দিকেই ঝুঁকে পড়লেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা! না হলে এল ক্লাসিকোর আগে মেসির বার্সেলোনা বাদ দিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা কেন প্রশংসা করবেন মরিনহোর রিয়ালকে নিয়ে। বরাবরই হোসে মরিনহোর গুণমুগ্ধ ম্যারাডোনা জানালেন, এই পর্তুগিজ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সুতোয় গেঁথে বদলে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে।
‘আমি মাদ্রিদের সব খেলাই দেখি। মরিনহো যে উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাচ্ছেন, সেটা আমার খুবই পছন্দের। ও যেভাবে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করে, পুরো দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সত্যিই অসাধারণ’—কালকের এল ক্লাসিকোর আগে মরিনহো সম্পর্কে ম্যারাডোনার মুগ্ধতা।
তবে সবাই মরিনহোয় মুগ্ধ নন। বার্সেলোনা শিবিরের কেউ তো নয়ই। সার্জিও বুসকেটস তো বলেই বসলেন, মরিনহো বড্ড বেশি কথা বলেন। এ কদিন বার্সা শিবিরের দিকে যেসব কথার তোপ মরিনহো দেগেছেন, এর সব জবাবই বুসকেটসরা দিতে চান মাঠে।
বার্সা মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘মরিনহো সব সময়ই কথা বলেন। তবে মাদ্রিদ থেকে কী বলা হলো না-হলো এটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। ওঁর অধীনে থেকে মাদ্রিদ উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছে, ওরা জিতছেও। এর আগেও ওরা ভালো দল ছিল, কিন্তু এই উচ্চাভিলাষী ছিল না।’
কালকের ম্যাচে বুসকেটসের নিজেরও একটা লক্ষ্য আছে, ‘আমি মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করার স্বপ্ন দেখি। করতে পারলে সেটি হবে অবিস্মরণীয় একটি গোল।’
বুসকেটসরাও বাইরে থেকে সমর্থন পাচ্ছেন। একেবারে বাইরেও বলা চলে না। সেস ফ্যাব্রিগাস তো আর্সেনালে গিয়েও একরকম বার্সার হয়েই আছেন। কালকের ম্যাচে আর্সেনাল অধিনায়ক কাকে সমর্থন দেবেন সেটা না বলে দিলেও চলত, ‘আমি অবশ্যই চাই বার্সেলোনা জিতুক। গত কয়েকটি এল ক্লাসিকোতে বার্সা জিতেছে। যদিও এবার ম্যাচটি কঠিন হবে। আর বার্সার প্রতি আমার এই আবেগ তো গোপন কিছু নয়। আমার পরিবারের সবাই বার্সার অন্ধ সমর্থক। আমি নিজেও বেড়ে উঠেছি লা ম্যাসিয়ায় (বার্সার যুব প্রকল্প)। তাই এটাই বলতে চাই, বার্সা জিতুক।’
ফ্যাব্রিগাসের চাওয়া পূরণ করতে হলে আবারও ম্যাজিক দেখাতে হবে তাঁরই বন্ধু মেসিকে। টানা ১০ ম্যাচে গোল করা, সর্বশেষ ৬৭ ম্যাচে ৬৭ গোল—এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে মেসি কেমন ফর্মে আছেন। মরিনহো কাল তাঁর পায়ে শেকল পরাতে ব্যবহার করবে অভিজ্ঞ সেনানী রিকার্ডো কারভালহোকে। বয়সে দুজনের মধ্যে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধান। দেখা যাক, মেসি-কারভালহো লড়াইয়ে কে জেতেন।
স্প্যানিশ লিগে কালও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়েছিল এসপানিওলের। আজ ম্যাচ আছে আরও ছয়টি। কিন্তু স্পেনও যে উন্মুখ হয়ে আছে সোমবারের দিকে। তাকিয়ে আছে আসলে ফুটবল-বিশ্বই।
মরিনহো তাই বলছেন, ‘দুই দলের কোচ, খেলোয়াড়, রেফারি—আমাদের সবার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দেওয়া। বিশ্বকেই আমাদের একটা সুপার ম্যাচ উপহার দিতে হবে।’

বিশ্বকাপের ‘অডিশন’

টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় আলোচনাটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাদা পোশাক ছেড়ে নিউজিল্যান্ড আবার যে-ই তাদের কালো পোশাক চড়াতে যাচ্ছে গায়ে, অমনি ফিরে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। আসারই কথা, সর্বশেষ ছয় ওয়ানডেতেই হেরেছে নিউজিল্যান্ড, চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি আজ গুয়াহাটিতে। এর আগে নাথান ম্যাককালামকে দিতে হলো এমন উত্তর, ‘বাংলাদেশ সিরিজটি আমাদের জন্য আসলেই বিরাট হতাশার ছিল। তবে আমরা সামনে তাকাচ্ছি। আশা করছি, এই সিরিজে আমরা দারুণ কিছু করব।’
দারুণ কিছু করাটা নিউজিল্যান্ডের জন্য আসলে জরুরিও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের পারফরম্যান্স মোটেও সুবিধার নয়। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে হার তো আছেই, ফল হওয়া সর্বশেষ ১১ ওয়ানডের নয়টিতেই নিউজিল্যান্ড।
নতুন করে যাত্রা শুরু করার প্রত্যয় নিয়ে নিউজিল্যান্ড আজ মুখোমুখি হচ্ছে ‘নতুন’ ভারতের। নতুনই। এই ভারতের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। বোলিং আক্রমণে আশিস নেহরা সবচেয়ে অভিজ্ঞ। নেহরার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন দুটো করে ম্যাচ খেলা পেসার বিনয় কুমার ও অফ স্পিনার রবীচন্দ্রণ অশ্বিন। দলে আছেন মাত্র এক ম্যাচ খেলা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌরভ তিওয়ারি। উইকেটের পেছনে থাকবেন ঋদ্ধিমান সাহা।
শচীন টেন্ডুলকার তো বিশ্বকাপের জন্য শক্তি সঞ্চয় করছেন বলে ভারতের সর্বশেষ ১৭টি ওয়ানডের দলেই ছিলেন না। বিশ্রাম নিয়েছেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। হরভজন সিং, জহির খান, ইশান্ত শর্মারা দলে নেই। বলা যায়, ভারত বিশ্বকাপ-পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তরুণদের জন্য এটা একটা সুযোগ।

হাসি-হাডিনে পিষ্ট ইংল্যান্ড

বল ডাইভ দেওয়া মিডঅফ ফিল্ডারকে ছাড়িয়ে যেতেই মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুড়লেন বাতাসে। গ্যালারি-ভর্তি দর্শকের হর্ষধ্বনির মধ্যেও শোনা যাচ্ছিল তাঁর চিৎকার। সঙ্গী ব্র্যাড হাডিনকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে ঝিঁঝি ধরা চিৎকার করলেন।
আনন্দ, আবেগ, স্বস্তি—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল মাইক হাসির সেঞ্চুরি উদ্যাপনে। গ্যালারি থেকে হাসিকে অভিনন্দন জানালেন স্ত্রী অ্যামি, মায়ের কোলে হাসছে তিন বছরের মেয়ে মলিও! পাশে সমানে লাফিয়ে যাচ্ছে সাড়ে চার বছরের ছেলে উইলিয়াম। মাঠের ভেতরে-বাইরের এই উদ্যাপনই বলে দিচ্ছিল, হাসি পরিবারের কাছে এই সেঞ্চুরি কতটা মূল্যবান।
হাসির মতো দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। তবে চাপ ছিল হাডিনের ওপরও। কনুইয়ের চোটের কারণে গত মার্চ থেকে দলের বাইরে। সুযোগ পেয়ে দলে জায়গা পাকা করার মতোই খেলেছেন টিম পেইন। তবু চোট কাটানোর পর হাডিনকে সরাসরি দলে নিতে দ্বিধা করেননি নির্বাচকেরা। এই আস্থার প্রতিদান দেওয়াটাও তো একটা বড় চাপ! ১৩৬ রানের এই ইনিংসটার চেয়েও বড় ইনিংস আছে হাডিনের। কিন্তু কালকের ইনিংসটার মাহাত্ম্য এমনই যে, সাবেক অধিনায়ক ও বর্ষীয়ান ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে হাডিনের সেরা অবদান!’
দুজনের এই অবিস্মরণীয় ব্যাটিং গড়েছে ইতিহাস গড়া জুটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৫ উইকেট পড়েছে ১৪৩ রানে, শেষ পাঁচটি ৩১ রানে। কিন্তু মাঝে এই দুজনের ৩০৭ রানের জুটিটা এমন ব্যবধান গড়ে দিয়েছে যে, ম্যাচ বাঁচাতে ইংল্যান্ডকে করতে হবে দারুণ কিছু। ব্র্যাডম্যান-হ্যাসেটের ২৭৬ রানের জুটিকে পেছনে ফেলে গ্যাবায় এটাই এখন যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি, ষষ্ঠ উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ। দাঁতে দাঁত চেপে ১৫টি ওভার কাটিয়ে দিয়েছেন ইংলিশ ওপেনাররা। প্রথম বলেই অবশ্য জোরালো এলবিডব্লুর আবেদন থেকে বেঁচে যান স্ট্রাউস। ইংলিশদের জন্য দুঃসহ দিনেও স্টিভেন ফিনের আছে দারুণ প্রাপ্তি। অ্যাশেজ অভিষেকে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
উইকেট ফিন বেশি পেলেও ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে জেমস অ্যান্ডারসন। দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে নতুন বলটা হাতে পেলেও বোলিং করতে পারেননি আলোকস্বল্পতায়। কাল সকালে সেই বল হাতে তাঁর প্রথম স্পেল ৮-২-১৪-০, ভাগ্য সামান্য সহায়তা করলেও ২ বা ৩ উইকেট পেতে পারতেন। এ সময়ই একবার ভাগ্য আর একবার প্রযুক্তি বাঁচিয়েছে হাসিকে। ৮২ রানে তাঁকে এলবিডব্লু দিয়েছিলেন আলিম দার, বেঁচে যান রেফারেল নিয়ে। ৮৫ রানে নিশ্চিত এলবিডব্লু দেননি দার, দুটি রেফারেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু করার ছিল না ইংলিশদের।
হাসি-হাডিনের কৃতিত্ব, এই সময়টায় মুখ গুঁজে পড়ে ছিলেন উইকেটে। দিনের প্রথম ১০ ওভারে রান এসেছে ১৪, প্রথম বাউন্ডারি এসেছে ৫০ মিনিট পর! সময়মতো অবশ্য হাত খুলেছেন দুজনেই। ব্রডকে চার মেরে হাসির ১২তম সেঞ্চুরি এসেছে ১৯৭ বলে। হাডিনের প্রথম ফিফটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারে শ্লথতম, ১৩৪ বলে। ৯৪ থেকে সোয়ানকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে তৃতীয় সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ২২২ বলে। ৬৩ ও ১১৩ রানে বেঁচে যান কঠিন দুটি ক্যাচ দিয়ে। সোয়ানের বলে স্লিপে কলিংউডের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয়েছে হাডিনের ইনিংস। পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত সব পুল খেলা হাসি আউট হয়েছেন পুল করতে গিয়েই, টেস্টে আগের সর্বোচ্চ ১৮২ ছাড়িয়ে গেলেও ৫ রানের জন্য হয়নি দ্বিশতক। ৯.৪ ওভারের টানা স্পেলে হাসিরটিসহ শেষ চার উইকেট নিয়েছেন ফিন।

বিফলে সাঙ্গাকারার শেষ চেষ্টাও

ওপেনার থারাঙ্গা পারানাভিতানাকে নিয়ে যখন মাঠ ছেড়ে আসছেন কুমার সাঙ্গাকারা, ধন্দে পড়ে গেলেন ধারাভাষ্যকারেরাও। প্রথমে মনে হয়েছিল আলোকস্বল্পতায় বুঝি বন্ধ হলো খেলা। একটু পর পরিষ্কার হলো সবকিছু, প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১৪৪ রানের লিডের সঙ্গে আর ৫৭ যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। উদ্দেশ্য, মরা ম্যাচে যদি কিছুটা প্রাণ ফেরানো যায়!
সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের চেষ্টা। জয়ের জন্য ২২ ওভারে ২০২ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ভীষণ কঠিন, কিন্তু গেইল-বারাথা-ব্রাভো ভাইদের মতো স্ট্রোক প্লেয়ারসমৃদ্ধ দলের জন্য অসম্ভবও ছিল না। কিন্তু টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চ টানেনি ক্যারিবিয়ানদের, টানলেও খুব একটা লাভ হতো কিনা সন্দেহ। ওই ২২ ওভারের অর্ধেক হতেই আবারও আলোকস্বল্পতায় শেষ হয়েছে খেলা। প্রথমটির মতো দ্বিতীয় টেস্টও নিষ্প্রাণ ড্র। পাল্লেকেলের নতুন স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টেস্ট শুরু ১ ডিসেম্বর।
বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিন মাঠে গড়ায়নি একটি বলও। কাল বৃষ্টি না হলেও আগের দিনের বৃষ্টিতেই মাঠ অনুপযুক্ত থাকায় খেলা শুরু হলো লাঞ্চের পর। ৫ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা ক্যারিবিয়ানদের শুরুটা মন্দ হয়নি। রঙ্গনা হেরাথের বলে ডোয়াইন ব্রাভোর স্টাম্পিংয়ে শুরু হয় মড়ক। পরের দুই ওভারে ‘বড়’ ব্রাভোকে অনুসরণ করেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ও সুলিমান বেন। প্রথম টেস্ট ফিফটির ৬ বছর পর উইকেটকিপার কার্লটন বাফের দ্বিতীয় ফিফটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে যায় ২৪৩ পর্যন্ত।

ড্রয়ের পথে ব্রিসবেন টেস্ট

আগের দিন মাইক হাসি ও ব্রাড হাডিনের ব্যাট বিপাকে ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে হাসি-হাডিনের চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়ে ইংল্যান্ডকে খেলায় ফিরিয়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক। এ দুজনের সেঞ্চুরিতে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ এক উইকেটে ৩০৯ রান। প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হওয়া ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ৮৮ রানে এগিয়ে ৮৮ রানে। হাতে রয়েছে আরও নয়টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৪৮১ রান করা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস বাকি রয়েছে বলে কাল শেষ দিনে ড্র দিয়েই সমাপ্তি হতে যাচ্ছে অ্যাশেজের প্রথম লড়াই।
উদ্বোধনী জুটিতে স্ট্রাউস ও কুক ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ১৮৮ রান। ব্যক্তিগত ১১০ রানে মার্কাস নর্থের শিকার স্ট্রাউস। শুধু নর্থের নয়, চতুর্থ দিনে পুরো অস্ট্রেলিয়া দলের প্রাপ্তি বলতে এই একটি উইকেট। দীর্ঘক্ষণের সঙ্গী স্ট্রাউস চলে গেলেও আগের মতোই ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যালিস্টার কুক। আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের একটু আগে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত ছিলেন ১৩২ রানে। সঙ্গে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন জোনাথন ট্রট।

খবর কালের কণ্ঠের- বিএনপির মিছিলে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের পিটুনি

রতালের সমর্থনে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে মারমুখী হয়ে উঠেছে পুলিশ। বিএনপিকে মাঠে নামতে বাধা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও। গতকাল রবিবার বরিশালে বিএনপির দুটি পক্ষ আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের লাঠিপেটা ও ছাত্রলীগের হামলায় দুই পক্ষের কর্মসূচিই পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের হাতে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার লাঞ্ছিত এবং বিএনপির অন্তত ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। খুলনায় মহানগর বিএনপি হরতালের পক্ষে এবং স্থানীয় যুবলীগ হরতালের বিপক্ষে মিছিল বের করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

খবর কালের কন্ঠের- হরতালের ধরপাকড় চলছেইঃ অহেতুক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না -স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির ডাকা ৩০ নভেম্বরের হরতালকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে ধরপাকড় চলছেই। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া পুলিশি অভিযান শনিবার রাতেও অব্যাহত থাকে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেল ও বস্তিতে 'ব্লক রেইড' চালানো হয়। বিএনপি নেতা-কর্মী ছাড়াও টাকার বিনিময়ে হরতালে পিকেটিং করে এ রকম সন্দেহজনক ব্যক্তিদেরও পুলিশ টার্গেট করেছে। হরতালের আগের রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

খবর- খুনের মামলা প্রত্যাহার, শীর্ষ সন্ত্রাসীর অব্যাহতি by নজরুল ইসলাম

কটি আলোচিত খুনের মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন, খোরশেদ আলমসহ ১৯ সন্ত্রাসী এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। মিরপুরের ব্যবসায়ী আফতাব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৫ সালে এ মামলা হয়েছিল। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছিল র‌্যাব। ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের গঠিত কমিটি মামলাটি প্রত্যাহারে আদালতে সুপারিশ পাঠায়। পরে আদালত তা প্রত্যাহারের আদেশ দেন। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই কমিটির সভাপতি।

প্রকৃতি- চট্টগ্রামে ঐতিহ্যের পাহাড় কেটে বহুতল ভবনঃ সুরক্ষার পরিকল্পনা ধ্বংসের অনুমোদন by ভূঁইয়া নজরুল

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে অবস্থিত প্রবর্তক সংঘের মালিকানাধীন পাহাড়কে 'সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই পাহাড়েই ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভবন নির্মিত হলে ধ্বংস হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী প্রবর্তকের বিশাল পাহাড়ের একাংশ। সিডিএর তৈরি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে বলা হয়েছে, সরকার প্রবর্তক পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এই পাহাড় ও তদসংলগ্ন মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত পরিসর ও প্রাকৃতিক পরিবেশের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে সিডিএ। বিপণিবিতান বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হবে না এতে।

প্রকৃতি খবর- জলবায়ু সম্মেলন আজ শুরু সুত্র কালের কন্ঠ

লবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই বিশ্বে ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে মেঙ্েিকার কানকুনে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক সম্মেলন-২০১০ (এইএনএফসিসিসি)। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত, নায্য ও আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পেঁৗছানোর লক্ষ্যে বিশ্বের ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন এ সম্মেলনে। বাংলাদেশ থেকেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ১০ দিনের এ সম্মেলনকে সংক্ষেপে উল্লেখ কারা হচ্ছে কোপ-১৬ নামে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'পুলিশই কি হরতাল সফল করে দেয়' by আবেদ খান

কোনো হরতাল সফল করতে পুলিশের ভূমিকার বিকল্প নেই। এই কাজটি পুলিশ সব আমলেই খুব নিপুণভাবে করে এসেছে এবং এখনো আসছে। কী দরকার ছিল এই বেপরোয়া ধরপাকড়ের? কী দরকার ছিল অহেতুক সন্দেহবাতিকে ভোগার? এমনিতেই তো হরতালের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কোনো সায় নেই। সায় নেই গরিব রিকশাওয়ালা-ফেরিওয়ালাদের, সায় নেই ব্যবসায়ীদের। এর পরও হরতাল ডাকা হয় এবং হরতাল আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলো চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও অনায়াসে হরতাল হয়ে যায়।

আইন কানুন- 'বাহাত্তরের সংবিধান ফিরছে না' by আহমেদ দীপু

চ্চ আদালতের নির্দেশে সংবিধান পুনর্মুদ্রণের পরও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফেরা হচ্ছে না। বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় ও পাঁচটি সামরিক ফরমান বহাল থাকায় এবং পঞ্চম সংশোধনী ছাড়া অন্য সংশোধনীগুলো অবিকৃত থাকায় পুনর্মুদ্রণের পর সংবিধান নতুন রূপ লাভ করবে। আগামী সপ্তাহেই সংবিধান পুনর্মুদ্রণের জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠানো হবে। সংবিধান পুনর্মুদ্রণের পর প্রস্তাবনার কিছু অংশসহ ১৯ অনুচ্ছেদ, এসব অনুচ্ছেদের দফা এবং উপদফা পুনর্বহাল হচ্ছে।

আইরিন খান বললেন,'নারীর মানবাধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় হতে হবে' সুত্র প্রথম আলো

ন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী আইরিন খান বলেছেন, ‘নারীর মানবাধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।’ গতকাল শনিবার বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত মুস্তাফিজুর রহমান খান অ্যান্ড সালেহা খানম ট্রাস্ট ফান্ড বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। (ছবিঃ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে গতকাল মুস্তাফিজুর রহমান খান অ্যান্ড সালেহা খানম ট্রাস্ট ফান্ড বক্তৃতায় অংশ নেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান)

আইন কানুন- চাই বিরোধের বিকল্প নিষ্পত্তি by রোমেল রহমান

প্রাজ্ঞ বিচারক যখন বিচারকর্মে আসন গ্রহণ করেন, তখন বিরোধ যত জটিলই হোক না কেন, তার খুব সহজ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো হয় প্রাণবন্ত, জীবনস্পর্শী ও গতিশীল। একটি সিদ্ধান্ত আলোকবর্তিকা হিসেবে অন্যান্য বিচারপ্রার্থীকে দিকনির্দেশনা দেয়। সে ক্ষেত্রে বিবদমান মানুষকে আর আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষ যখন আপসহীনভাবে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন আদালতে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। জেদের কারণে যেসব মামলা হয়, সহজে তার শেষ হতে চায় না। একটা শেষ হয় তো আরও দশটা দায়ের হয়।

আইন কানুন- ভরণপোষণ একটি আইনি অধিকার by মাসূমা তাসনীম

বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে একজন নারী ও পুরুষের পারস্পরিক আস্থা, নির্ভরতা, ভালোবাসা ও জীবনসঙ্গী হিসেবে উভয়ে উভয়ের প্রতি মানবিক, নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের যে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তা আমৃত্যু বহাল থাকুক এটাই সবার কাম্য। এ কারণে হিন্দু বিবাহকে পবিত্র স্বর্গীয় (Sacrament) বন্ধন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ‘যদিদং হূদয়ং তব, তদিদং হূদং মম’ এটাই হিন্দু বিবাহের অন্যতম মূলমন্ত্র। দুটি হূদয় এক হূদয়ে রূপান্তরিত হয়ে অভিন্ন হূদয়ে অভিন্ন সত্তায় বিলীন হয়ে অপূর্ব ও প্রেমময়ী আবেগে একজন আরেকজনের সঙ্গে সারা জীবনের জন্য এক অটুট বন্ধন গড়ে তোলে।

আইন কানুন- অর্থঋণ আদালত আইনে অনেক গলদ by এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম

র্থিক প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য ১৯৯০ সালে প্রথম অর্থঋণ আদালত আইন নামে একটি বিশেষ আইন প্রবর্তিত হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় এ-সংক্রান্ত বিশেষ আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের মতো আর্থিক তথা অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আইনের প্রয়োগ, কার্যকারিতা, উপকারিতা, অপকারিতা, সুবিধা, অসুবিধার ওপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আইন যত সতর্কতার সঙ্গে প্রণীত হোক না কেন, বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সময় এর ফাঁকফোকর বের হতে শুরু করে। অর্থঋণ আদালত আইনের ক্ষেত্রেও এই ধারাবাহিকতার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।

আইন কানুন- গাড়ি আটক হলে মালিকের করণীয় by মো. রাশেদ খান

কালাম সাহেবের সাত বছরের ছেলে সাদনান ও পাঁচ বছরের মেয়ে হিয়ার আনন্দে পুরো পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। এবার তারা নিজেদের গাড়িতে করে নোয়াখালীর সেনবাগে বেড়াতে যাবে । আর বাসের লাইনে দাঁড়াতে হবে না, ভিড় সইতে হবে না। আনন্দে দাদাবাড়ি যাওয়া যাবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কালাম সাহেব ছেলেমেয়ে ও শিক্ষিকা স্ত্রীকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য অফিসের লোন ও সঞ্চিত টাকায় একটি টয়োটা গাড়ি কিনেছেন মাস ছয়েক আগে। গাড়ি কেনার পরপরই এক বন্ধুর ড্রাইভারের সুপারিশে নিয়োগ দিয়েছেন হানিফকে।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'আমাদের রাজনীতিতে বখাটেপনা' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

বরের কাগজে এখন প্রায় প্রতিদিন দেশের নানা জায়গায় ঘটা ‘ইভ টিজিং’-এর খবর বেরোয়। অথচ এ কাজটি যৌন হয়রানি এবং মেয়েদের অধিকার হরণের মতো গুরুতর অপরাধ। যারা এসব অপরাধ করে, পত্রপত্রিকা তাদের ‘বখাটে’ বলে উল্লেখ করে, যদিও তারা বড় ধরনের অপরাধী। কিন্তু একবার বাজারে কোনো নামে কিছু চালু হয়ে গেলে সেই নাম বদলে ফেলাটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাই ইভ টিজিং এবং বখাটে শব্দ দুটি আমাদের ব্যবহার করতে হয়। কী আর করা। আজকাল অবশ্য বখাটেদের কাজটা কিছুটা কঠিন হয়েছে, কোনো কোনো জায়গায়। মানুষ প্রতিরোধ গড়ছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসছেন, তাদের সাত দিন থেকে এক বছর মেয়াদি কারাবাসের সাজা হচ্ছে। সেদিন এক মফস্বল শহরে দুই বখাটেকে গণপিটুনি দেওয়ার খবর বেরোল।

স্মরণ- 'আমরা তো কাঁদছিই' by নেয়ামতউল্যাহ

কোকো-৪ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছিল গত বছর ২৭ নভেম্বর। ২৭ ও ২৮ নভেম্বর লালমোহনবাসী শোক পালন করছে। করছে মানববন্ধন। লালমোহন উপজেলার চর ছকিনা গ্রামে নাজিরপুর খালের তীরে জয়চড়িয়াবাড়ী। চারদিকে সোনালি খেত। জলে পাতিহাঁস দল বেঁধে ডুবসাঁতারে খোঁজে খাবার। এ খালের তীরে শুয়ে আছেন নবদম্পতি নুরে আলম সোহাগ ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন।

চিত্রকলা- এক পরিবারের বৃক্ষ ও শেকড় সুত্র প্রথম আলো

নেক মাধ্যমের কাজ। তাতে যেমন আছে ক্যানভাসে-কাগজে আঁকা চিত্রকর্ম, তেমনই আছে আলোকচিত্র, স্থাপনা, চলচ্চিত্র ইত্যাদি। মাধ্যম ও বিষয়-বৈচিত্র্য যেমন বহুমাত্রিক, তেমনই প্রদর্শনীর অন্য বৈশিষ্ট্য হলো—যৌথ এই প্রদর্শনীর সব শিল্পীই এক পরিবারের। বাবা-মা আর তাদের দুই ছেলে-মেয়ে। প্রদর্শনীর নামটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে, ‘বৃক্ষ ও শেকড়’। (ছবিঃ ঢাকা আর্ট সেন্টারে আয়োজিত শিল্পী ও অন্যান্য অতিথি নিয়ে ‘বৃক্ষ ও শিকড়’ শিরোনামের প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস)

গল্পসল্প- 'ঢাকা নয়, অন্য কোথা অন্য কোনোখানে' by উম্মে মুসলিমা

পৃথিবীর সব দেশের রাজধানী বা মেগাসিটির চরিত্র কমবেশি এক রকম। খুশবন্ত সিংয়ের ‘দিল্লি’ এর অন্যতম উদাহরণ। রাজধানী কারও নিজস্ব নয়। রাজধানীতে প্রায় সবাই উদ্বাস্তু। নিজের শেকড় গ্রামগঞ্জে, মফস্বলে। ঈদ-পার্বণের ছুটিছাটায় ঢাকার চেহারা দেখলেই ঢাকায় বসবাসরত মানুষের আসল রূপ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। একবার যুব মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ভারত থেকে একটি যুবদল এসেছিল কোরবানি ঈদের মধ্যে। ঢাকা তখন ফাঁকা। ঢাকার পরিচ্ছন্ন জনবাহুল্যহীন স্বল্প যানবাহনের শব্দহীন পরিবেশ ওদের মুগ্ধ করেছিল।