Monday, July 31, 2017
পুরুষের শুক্রাণু কমে যাচ্ছে, ‘বিলুপ্ত হতে পারে মানুষ’: গবেষণা

প্রায় দুইশোটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ৪০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট।
উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের ওপর করা হয়েছিল এসব গবেষণা।
মানব প্রজন্মের সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে অবশ্য কিছু গবেষক সন্দেহও প্রকাশ করেছেন।
তবে তথ্য সংগ্রহের এই গবেষণা দলের প্রধান ড: হ্যাগাই লেভিন জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা নিয়ে তিনি 'খুবই উদ্বিগ্ন'।
এই তুলনামূলক গবেষণাটি করা হয় ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত। এই সময়কালে করা ১৮৫টি গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা কাজটি করে ড: লেভিনের দল।
ডঃ লেভিন একজন 'এপিডেমিওলজিস্ট'। রোগবিস্তার সংক্রান্ত বিদ্যা ও এর সাথে সম্পর্কিত ওষুধের শাখা, রোগের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এসব বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ।
বিবিসিকে ডঃ লেভিন জানান, "এভাবে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকলে একসময় মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে"।
শুক্রাণু কমে যাবার সংখ্যা 'দিনে দিনে বাড়ছে'
"আমরা যদি নিজেদের জীবনযাপনের ধরন, পরিবেশ এবং রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবর্তন না আনি, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে তা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন" ।
"একটা সময়ে এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, আর তাতে মানব প্রজাতির বিলুপ্তিও দেখা যেতে পারে" -বিবিসিকে বলেন ড: লেভিন।
যেসব বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার সঙ্গে ছিলেন না তারাও এই গবেষণার মানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের কাজ খুবই ভালো, তাদের তথ্যও ঠিক আছে। কিন্তু এখনই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে 'মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে'।
জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির গবেষক ড: লেভিন তাঁর অনুসন্ধানে দেখেছেন, শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে এসেছে ৫২.৪ শতাংশ এবং স্পার্ম কাউন্ট কমে এসেছে ৫৯.৩ শতাংশ।
গবেষণায় আরো বলা হচ্ছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত পুরুষদের মধ্যে স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণুর হার কমে যাবার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং এটি দিনে দিনে আরো বাড়ছে।
পূ্র্ববর্তী গবেষণা নিয়ে 'দ্বন্দ্ব'
তবে দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার পুরুষদের মধ্যে স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণুর হার কমতে দেখা যায়নি।
তবে গবেষকেরা বলছেন, এসব দেশে যথেষ্ট গবেষণা হয়নি এবং একটা সময়ে এখানেও স্পার্ম কাউন্ট কমে আসতে পারে বলে ধারণা করেছেন ড: লেভিন।
এসব গবেষণার তথ্য নিয়ে বিতর্ক আছে অনেক কারণে।
এর আগে কয়েকটি গবেষণা কাজে বলা হয়েছিল উন্নত অর্থনীতির দেশে স্পার্ম কাউন্ট কমে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা এর মধ্যেও 'বিভ্রান্তিমূলক তথ্য' রয়েছে।এছাড়া আরো কিছু গবেষণা করা হয় কমসংখ্যক পুরুষ নিয়ে। আবার ফার্টিলিটি ক্লিনিক থেকে তথ্য নিয়ে যেসব গবেষণা করা হয় সেখানে স্পার্ম কাউন্ট কম আসা স্বাভাবিক, কারণ মানুষ সমস্যা নিয়েই সেখানে যায়।
আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হলো, স্পার্ম কাউন্ট কমে আসছে এমন ফলাফল দেখতে পেলে তা জার্নালে প্রকাশিত হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এই কারণে হয়তো স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণু হার কমে আসছে এমন একটা ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
কিন্তু এই গবেষকেরা দাবি করছেন এরকম সব ধরনের সমস্যার বিষয়েই তারা চিন্তা করেছেন এবং গবেষণা করে যে তারা যে ফলাফল পেয়েছেন তা সত্য বলে মানছেন অনেকে।
যেমন শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান পেসি বলছেন "এর আগে স্পার্ম কাউন্টের বিষয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে আমি খুব একটা আশ্বস্ত হয়নি। কিন্তু ড: লেভিন ও তার দল যে গবেষণা করেছেন এবং তারা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা পূর্ববর্তী অনেক গবেষণা নিয়ে ভ্রান্তি দূর করে দেয়"।
ধুমপান এবং স্থূলতা
তবে অধ্যাপক পেসি বলছেন, নতুন এই গবেষণাটি অনেক ভ্রান্তি দূর করলেও ফলাফলের বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সাথে এগুতে হবে।
"এ বিষয়টা নিয়ে তর্কের অবসান কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এ বিষয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে" -বলেন অধ্যাপক পেসি।
কেন স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণু হার কমে যাচ্ছে তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
তবে কীটনাশক এবং প্লাস্টিকে থাকা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, ওবেসিটি বা স্থূলতা, ধুমপান, মানসিক চাপ, খাদ্যভ্যাস, এমনকি অতিরিক্ত টিভি দেখা এক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।।
ড: লেভিন বলছেন, কেন শুক্রাণুর হার কমে যাচ্ছে সে বিষয়টি জানা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। একইসাথে এমনটা যেন না ঘটে সেই উপায়ও খুঁজে বের করতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যান্টিবায়েটিকের পুরো কোর্স শেষ করা উচিত নয়!

তারা বলছেন, পুরো কোর্স শেষ না করে মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করলে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না- এর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি তারা দেখছেন না।
তারা বলছেন, সুস্থ বোধ করলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যদি থামিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সেভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব কীনা এনিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
কিন্তু পারিবারিক ডাক্তাররা রোগীদের পরামর্শ দিয়েছেন শুধু একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে তারা যেন তাদের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কোনো পরিবর্তন না আনে।
ইংলন্ডে জিপি বা পারিবারিক ডাক্তারদের সদস্য সংস্থা রয়্যাল কলেজ অফ জেনারেল প্র্যাকটিশনারস্-এর প্রধান প্রফেসর হেলেন স্টোকস্-ল্যামপার্ড বলেছেন রোগের উপসর্গ কমে যাওয়া বা ভাল বোধ করার অর্থ এই নয় যে সংক্রমণ পুরোপুরি কেটে গেছে।
''রোগীদের জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা খুবই পরিস্কার- সবসময়ই যেটা আমরা বলেছি যে অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স নিতে হবে। এখন এটা বদলাতে গেলে সেটা মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।''
তাহলে কী আছে নতুন গবেষণায়?
ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অংশের একদল গবেষক যুক্তি দেখিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি মানুষের শরীরে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে সেই সমস্যার মোকাবেলা করতে হলে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানোটা জরুরি।
ব্রাইটন ও সাসেক্স মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক মার্টিন লোয়েলিন ও তার কয়েকজন সহকর্মী তাদের গবেষণার ভিত্তিতে বলছেন প্রয়োজনের বেশি সময় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়ে।
তারা বলছেন, পুরনো ধারণা ছিল দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করালে সংক্রমণ ভেতরে রয়ে যাবে এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হবে। তারা বলছেন, এই ধারণা এখন সাবেকি।
তারা বলছেন, এখন যেটা বেশি করে প্রমাণিত সেটা হল তিন থেকে পাঁচদিনের সংক্ষিপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা বহু ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে।
অধ্যাপক লোয়েলিন বলেছেন, এর ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যেমন- যক্ষ্মার চিকিৎসায় শুধু এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে দ্রুত ওই অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
ওই গবেষক দল বলছে, বর্তমানে সবাইকে গণভাবে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেয়ার যে প্রথা চালু আছে তা বদলানো উচিত। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে সংক্রমণের গুরুত্ব বিবেচনা করে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা ভিন্নভাবে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে এখন রোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং অল্পদিনের কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার দিকেও ডাক্তাররা ঝুঁকছেন।
তারা অবশ্য স্বীকার করেছেন, অল্পদিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেয়ার সুফল বা কুফল নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে।
ব্রিটেনের পারিবারিক চিকিৎসক মণ্ডলী বলেছেন, তারা কখনই সব রোগীকে এক কাতারে ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক দেন না। তারাও ব্যক্তিবিশেষের রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা পরামর্শ দেন।
এদিকে ব্রিটেনে রয়্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি বলছে গবেষকদলের নতুন তত্ত্ব অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের সুযোগ করে দিল।
'কোর্স শেষ করুন' অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার এই প্রচলিত মন্ত্র বদলে 'ভাল বোধ করলে ওষুধ বন্ধ করে দিন' এই পদ্ধতি চালু করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত- তারা বলছেন এর জন্য আরো গবেষণার পথও এর ফলে প্রশস্ত হবে বলে তারা মনে করছেন।
সূত্র : বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পানামা রায়- পাকিস্তানের গন্তব্য কোথায়? by সালমান রাফি

অযোগ্যতা!
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ২৫ পৃষ্ঠার এক সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রীর আসনে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এই রায়ের পর পাকিস্তানে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। এখন সংসদ ভেঙে দেয়া হবে, নাকি আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের পথে দেশ এগিয়ে যাবে তা নিয়ে জনগণের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়। তবে সময় মতো এই আশঙ্কার জবাব দেয়ার জন্য মুসলিম লীগ-নওয়াজকে ধন্যবাদ। দলটির নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে এবং সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদের একজন শক্তি প্রার্থী হলেন নওয়াজ শরীফের ছোটভাই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। এটা হলে সরকার ও দলের ওপর শরীফ পরিবারের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ। এই মামলায় প্রত্যক্ষ কোনো হস্তক্ষেপ না করে সুপ্রিম কোর্ট ও অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছে। ফলে আর কোনো সেনা অভ্যুত্থানের গুজব অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে, প্রধানমন্ত্রীকে তার পদে অযোগ্য ঘোষণা করা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। পাকিস্তানের ভবিষ্যতের উপর এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এরই প্রেক্ষাপটে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে তা হলো: এই অযোগ্যতার ঘোষণা পাকিস্তানকে কোথায় নিয়ে যাবে?
রায়ের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কি হবে?
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, পাকিস্তানে কোনো দায়িত্বপালনরত প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রথমবারের মতো অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি। ২০১২ সালের ১৯শে জুন আদালত অবমাননার অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানীকে সরে যেতে হয়েছিলো। পাকিস্তানের ছককাটা রাজনীতিতে সিটিং প্রধানমন্ত্রীদের অযোগ্য ঘোষণা করা একটি নতুন প্রবণতা। ১৯৯০’র দশকে (‘গণতন্ত্রের দশক’ ও পরোক্ষ সেনা হস্তক্ষেপের যুগ) দেখা গেছে মোটামুটি প্রতি দুই বছরে একবার করে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। । কিছু মানুষ পর্দার আড়ালে থেকে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণের সহজ ও নতুন উপায় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীদের অযোগ্য ঘোষণা করার এই ‘নতুন চর্চা’ শুরু করেছে।
পাকিস্তানে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, এই রায় যতটা না বিচার ব্যবস্থার উচ্চস্তরের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ, তারচেয়ে বেশি একটি ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’। এ রকম সংশয় থাকার পরও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আর কোনো প্রধানমন্ত্রী এমন কি কোনো এলিট রাজনীতিককে নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের মতো এমন উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও বিচারিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের সম্মুখিন হতে হয়নি।
নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে এই রায়ের প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হবে, সে কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। নওয়াজ শরীফই প্রথম অযোগ্য ঘোষিত কোনো প্রধানমন্ত্রী না হলেও এখন কেউ আর এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, ক্ষমতার কেন্দ্রে (কেন্দ্রীয় পাঞ্জাব) যার শেকড় সেই রাজনীতিককেও ক্ষমতা ছেড়ে ঘরে ফিরে যেতে হয়। গিলানিকে যখন ঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল তখন তার সিরাইকি (পশ্চিম পাঞ্জাবের ক্ষুদ্র একটি সমপ্রদায়) পরিচিতির কারণে এমন ধারণা হয়েছিল যে, ক্ষুদ্র প্রদেশ বা পাঞ্জাবের তুলনামূলক পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কাউকেই শুধু অযোগ্য ঘোষণা, পরিবর্তন বা সরসরি বরখাস্ত করা সম্ভব। এমন ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান রায়টি শুধু ঐতিহাসিকই নয়, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। আর সেই বার্তাটি হলো পাকিস্তানের রাজনীতিতে পাঞ্জাবের আধিপত্য নিয়ে। এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, পাঞ্জাবের প্রভাবের মধ্যে ফাটল ধরেছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি রাজনীতির গতানুগতিক প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন আসছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে তাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন, এই মামলা ও এ নিয়ে যে পরিমাণ প্রচারণা হয়েছে তাতে নির্ধারিত হয়ে গেছে যে, পাকিস্তানে যেসব রাজনীতিক নিজেদেরকে ‘সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা ওপরে’ বলে ভাবছেন এবং কোনো জ্ঞাত সম্পদ ও বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন তাদের আর আগের রাজনীতির ধারা বজায় রাখা চলবে না। অন্তত সেই নির্লজ্জ চালচলন পরিত্যাগ করতে হবে।
তবে, ১৯৯০ দশকের চেয়ে ২০১৭ সাল অনেক দিক দিয়ে আলাদা হলেও এই দুই যুগের মধ্যে এখনো অনেক কিছুর মিল রয়ে গেছে।
যেমন, এমন রাজনৈতিক সংকট বা অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যা তাকেও আক্রান্ত করবে সেই আশঙ্কা থাকার পরও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তার সক্ষমতা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করেছে। এরপরও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করার ভার এখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর রয়ে গেছে।
আর তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো: শরীফের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার মানে কি পাকিস্তানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে হলে ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। শুক্রবারের রায়ের পর থেকে মিডিয়ায় যে আলোচনা চলছে, যে গণ উৎসব চলছে, আগামী কয়েকদিন ধরে যা চলবে ঠিক একই পরিস্থিতি ১৯৯০’র দশকেও দেখা গিয়েছিলো। তখন বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরীফ দু’জনকেই দু’বার করে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়। পাকিস্তানের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক অসিম সাজ্জাদ আখতার বলেন, জনসাধারণের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও গণতন্ত্র সুসংহত হচ্ছে বলে আশাবাদ দেখা যাচ্ছে ১৯৭০’র দশকেও তা দেখা গিয়েছিলো যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে বরখাস্ত এবং পরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল। আখতার আরো বলেন, এ ধরনের বারবার বরখাস্তের ঘটনা ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে বলে অতিমাত্রায় আশাবাদ শুধু একটি সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র বিকাশে পাকিস্তানের অক্ষমতা নিয়ে হতাশাকেই জোরদার করছে। এই হতাশা এবং সত্যিকারের কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের অভাব থেকে বুঝা যায় গত ৭০ বছর ধরে বহু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এতসব উদাহরণ থাকার পরও পাকিস্তানে জবাবদিহিতা ও যাচাই প্রক্রিয়া কখনোই ‘অভিশপ্ত রাজনীতিকদের’ বাইরে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।
আবারো বলছি, এই অযোগ্যতার ঘোষণা যে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে তা হলো: এর ফলে পাকিস্তানের জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া টেকসই হবে কি না এবং অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে কিনা। সাংবিধানিকভাবে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেই সেগুলোর কাজের জন্য জবাবদিহি করা যায়। কিন্তু পাকিস্তানের ইতিহাস বলে এই প্রক্রিয়া এযাবৎকাল শুধু সরকারের নির্বাহী বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
একজন প্রধানমন্ত্রীকে অযোগ্য ঘোষণার কারণে গণতন্ত্র নিজেই হুমকির মুখে পড়ছে সে কথা বলা না গেলেও এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আবার দেখিয়ে দিলো যে, পাকিস্তানে জবাবদিহিতা ধারণার প্রয়োগ এখনো অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সীমিত পর্যায়ে।
ফলে, এখানে যে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠবে এবং যার উত্তর পেতে হবে তাহলো: এই জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া কি পাকিস্তানের অরাজনৈতিক ও অনির্বাচিত ক্ষেত্রগুলোতেও প্রয়োগ করা হবে? এই প্রক্রিয়া আগামীতেও সীমিত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে তা পাকিস্তানের ক্ষমতার মূলকেন্দ্রগুলোতে তেমন কোনো আঘাত হানা ও সেগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারবে না। এতে পাকিস্তানের গণতন্ত্র গুণগতভাবে অগণতান্ত্রিক হিসেবেই রয়ে যাবে।
সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরুষ সহকর্মীরা নগ্ন অবস্থায় রেবেকাকে জড়িয়ে ধরে- বৃটিশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীতে ভয়াবহ যৌন হয়রানির তথ্য

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ▼ 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...