Sunday, February 1, 2026
অচল মানবাধিকার ও তথ্য কমিশন by মোশতাক আহমেদ
বাগেরহাটের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা স্ত্রী ও শিশুসন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পাননি। পরে কারাফটকে নিয়ে আসা হয় তাঁদের মরদেহ। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আরও অভিযোগ উঠলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। কারণ, কাগজে–কলমে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে প্রায় দেড় বছর ধরে কমিশনই নেই।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর কমিশন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে মানবাধিকারবিষয়ক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।
একই চিত্র তথ্য কমিশনেও। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তথ্য কমিশনও কার্যত অচল। কমিশনের প্রধান ও অন্য কমিশনারদের পদত্যাগ ও অপসারণের পর আর কমিশন গঠন করেনি সরকার। ফলে তথ্য পাওয়ার অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগের পাহাড় জমলেও সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। কমিশনে ছয় শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, এগুলোর কোনো শুনানি হচ্ছে না।
এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থাকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা’ হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সরকারের লুকানোর মতো কিছু আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার একেবারে শেষ সময়ে এসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগে তোড়জোড় শুরু করেছে। আর তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তথ্য কমিশন গঠনে নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
মানবাধিকার কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে কমিশন। মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি, ক্ষতিগ্রস্তকে আইনি সহায়তা দেওয়া, নারী ও শিশু অধিকারসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, কারাগার ও আটককেন্দ্র পরিদর্শন করে তা উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করাসহ মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংশোধিত অধ্যাদেশে কমিশনের কাজ ও ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু এসব কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে নেই। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে পাঁচজন সদস্যও পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে কমিশন অচল।
গত সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে আছেন। কর্মীরা জানান, এখন মূলত রুটিন কাজ চলছে। অভিযোগ জমা পড়লে তা সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কমিশন না থাকায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। ২৫ জানুয়ারি ছিল তথ্য জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগে একটি বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ৫০টির বেশি আবেদন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বাছাই কমিটির সভা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এই নিয়োগ হতে পারে।
তথ্য কমিশনেও শূন্যতা
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, তথ্য কমিশন গঠিত হয় জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে। তথ্য না পেলে নাগরিকেরা কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন এবং কমিশন শুনানি শেষে জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকে গত বছরের জানুয়ারিতে অপসারণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগ দিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে কমিশনের নিয়মিত সচিবও নেই। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধুলার স্তর জমে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, কমিশনার না থাকায় শুনানি বন্ধ।
তথ্য কমিশন সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সারা দেশে তথ্য চেয়ে ১২ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। আর শুরু থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আবেদন ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। কমিশন না থাকার সময় থেকে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
কবে নাগাদ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগ হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে কাজ শুরু করেছি।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা যে দুটি প্রতিষ্ঠানের, সেগুলো প্রায় দেড় বছরেও পুনর্গঠন করতে না পারার এমন নজির বাংলাদেশে নেই। এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশেও আছে বলে তাঁর জানা নেই।
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সরকার এ দুটি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করেনি। এতে প্রশ্ন উঠছে, সরকারের কি কোনো ভয় বা উৎকণ্ঠা ছিল যে এ দুটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হলে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অস্বচ্ছতা-অনিয়মের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতে পারে?
![]() |
| ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ছবি |
Tuesday, November 19, 2024
রাষ্ট্র সংস্কারে রূপরেখা প্রয়োজন
অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যা স্বাভাবিক। যেকোনো দেশে এমন বিশাল জঞ্জাল কাটিয়ে উঠে নতুন সংস্কারের পথে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দেশে সংস্কারের যে ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, তার সবই সমাধানযোগ্য।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৯ তারিখে (আগস্ট) দাবি ছিল, সরকারের উচিত হবে অর্পিত দায়িত্ব নিজেরা বিশ্লেষণ করে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার পর একটা কৌশলগত রোডম্যাপ (রূপরেখা) তৈরি করা। এটা এখনো করা হয়নি। তবে এটি অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য ছাত্র আন্দোলন হয়নি। আন্দোলনটা হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য, নতুন বাংলাদেশের জন্য। সেটা করতে কতোগুলো সংস্কার কমিশন হয়েছে। এই কমিশনগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তব রাষ্ট্র সংস্কার না করে অন্তত এগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টির মতো জায়গায় না গিয়ে চট করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনা অর্জনের ক্ষেত্রে অন্তরায় থেকে যাবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যক্রম নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ভারতের ভূমিকা নিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের পর ভারত প্রত্যাশিত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারছে না, কারণ ভারত ইতিহাসে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় পরাজয় মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কিছু ক্ষেত্রে ভারতের গণমাধ্যম অনুঘটকের ভূমিকা পালনের জন্য এটি বিশাল ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অনেকের ধারণা ছিল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন, জনগণ ও গণমাধ্যমে উদার চিন্তার প্রচার হয়। আমরা মনে করি, ভারত (সেই উদার চিন্তাভাবনা থেকে) বদলে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরছে তা অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরক্তির কারণ। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে আমরা এটাও মনে করি যে, এটি ভারতের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং লজ্জাজনক।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ঘাটতি দৃশ্যমান। দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নতুন করে চলছে। এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আলোচনার বাইরে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক দল। তাদের চর্চায় যদি গণতন্ত্র না থাকে, বৈষম্যবিরোধী চেতনা না থাকে, আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন না হয়, তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের যত কথাই বলা হচ্ছে, সংস্কার প্রতিবেদনগুলো শুধু কাগজে দলিল হয়ে থাকবে।
এর আগে সরকারের ১০০ দিন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণার প্রধান গবেষক শাহজাদা এম আকরাম প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়েছে। আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে। প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানে কোথাও কোথাও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। কিসের ভিত্তিতে চুক্তিতে নিয়োগ, তা পরিষ্কার নয়। নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ক্ষেত্রবিশেষে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও স্বচ্ছতার অনুপস্থিতি দেখা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া বা না-দেয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপি’র বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির ভেতর গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগের অনুপস্থিতি রয়েছে। দলের মধ্যে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংস্কৃতি বিদ্যমান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ পাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন, বাক?স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার বা কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি দলটি।

Monday, November 18, 2024
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে যুক্তরাজ্য
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় ব্রিটেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিতর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, সেসব অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য যুক্তরাজ্যের অনুদান সহায়তা হিসেবে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ড. ইউনূস মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি ‘জাতিসংঘ-তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দিতে পারে। বৈঠকে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস বলেন, জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। বৈঠকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছে।

Monday, September 16, 2024
স্বৈরাচারের পতনই সব শেষ নয়: ইফতেখারুজ্জামান
বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রোববার ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন: তরুণদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও আবু বাকের মজুমদার, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবসহ তরুণ পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। এটা আরেকবার প্রমাণ হয়েছে। যে কারণে পদদলিত হতে হয়েছে স্বৈরাচারকে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। কিন্তু অভিষ্টের বিবেচনায় মূল লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ। রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমাদের তরুণ প্রজন্ম বলছেন। বর্তমান ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে যে চেতনা নতুন করে প্রস্ফুটিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রভুত্ববাদ অবসান, সহনশীলতা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু এতেই সব শেষ নয়। স্বৈরাচারের পতন ছিল একটা মাধ্যম। নতুন নতুন জায়গায় যাওয়ার একটা মাধ্যম। সেই নতুন জায়গাটা হলো আমাদের নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে। সেগুলোকে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই চর্চায় ত্রিমুখী আঁতাত কাজ করেছে। রাজনৈতিক শক্তি একদিক থেকে আমলাতন্ত্র আরেকদিক দিক থেকে। অন্যদিক থেকে বিনিয়োগকারীরা কাজ করেছেন। দুর্নীতি সহায়ক ও দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়ার মতো রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয়েছে। যার ফলে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে। সেটাকে ধারণ করার জন্য আমাদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমন্বয়কদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সবার আন্দোলন ছিল। পরবর্তী সময়ে এটাকে সর্বজনীন করতে হলেও আমাকে সবার কাছে যেতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সমন্বয়ক বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাতে ঘুমানোর আগে যাই একটু সমন্বয়কদের গালাগালি করে আসি। কমেন্টসে গালাগালি করে আসি। কারণ এটা সবচেয়ে সেইফ জোন। আমরা ভলান্টিয়ার বেসিসে কাজ করছি। আমরা অথরিটি না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আমরা অথরিটি না, লিগ্যাল এনটিটি নই। মানুষ ডিভোর্সের সমস্যা থেকে শুরু করে সচিব পদবি চেঞ্জ করার জন্য (আমাদের কাছে) আসেন। কিন্তু আমাদের অথরিটি নাই। যদি আমাদের কোনো ভুল থাকে সেটা কীভাবে সংশোধন করবো। সেটা কীভাবে অ্যাড্রেস করবো- সে বিষয়ে প্রপার সমাধান করেন। এটা হলে আমাদের জন্য কাজ করা সহজ হয়।
তরুণরা সুশীল সমাজের পরামর্শ চায় জানিয়ে তিনি বলেন, একটি রিয়েলস্টিক এটিটিউড তৈরি হয়েছে। এটার দায়ভার সুশীল সমাজ এড়াতে পারেন না। বুদ্ধিজীবীরা ১৯৭১, ২০২৪ এ ফেইল মারছেন। আমাদের ক্ষমতা বিমুখতা বা আমরা কেন ভয় পাই- এ দায়ভার সুশীল সমাজকে নিতে হবে। ২০২৪ যদি ৯০ এর পুনরাবৃত্তি হয়, একাত্তরের পুনরাবৃত্তি হয়, ৫২’র পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে আমাদের যে শক্তি বা সামর্থের জায়গা তৈরি হয়েছে সেটা আর কখনোই পুনরায় মঞ্চায়ন সম্ভব হবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, জনগণের ভাষা যেটা লড়াই ও প্রতিরোধের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে সেটাকে আমরা ক্ষমতায় আসতে দেখিনি। আমাদের রাজনৈতিক দল থেকে পরিবারতন্ত্র সরাতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে। এই আকাঙ্খার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি রূপান্তর করতে হবে। এই রূপান্তর কোনো মাইনাস প্রক্রিয়া না। গণঅভ্যুত্থানে যে স্পিরিট তৈরি হয়েছে সেটি দেখে থাকলে অনুধাবন করতে পারলে দলগুলোতে রূপান্তর ঘটবে। আমরা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে রূপান্তর দেখতে চাই। আমরা এই বোঝাপড়া করতে চাই সবার সঙ্গে বসতে চাই। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা কী ছিল সেই আলাপ আমরা শুনতে চাই। এরপরে আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা আমরা সাজাতে চাই। কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। শুভ বোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে হবে। সাংবাদিক সিমু নাসের, ফারাবী হাফিজ আলোচনায় অংশ নেন।

Thursday, August 29, 2024
একই ব্যক্তি সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না -টিআইবি’র প্রস্তাব
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। এই রূপরেখায় দলীয় প্রধানের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও পরিবারতন্ত্র বিলোপ করতে হবে এবং দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে তরুণ, নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিচার বিভাগে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ ক্ষমতায়িত নিজস্ব সচিবালয় স্থাপন ও কার্যকর করতে হবে। উচ্চ ও অধস্তন আদালতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বাধীন সচিবালয়ের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে বিচারপতি অপসারণের এখতিয়ার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার জন্য ঢেলে সাজাতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ও নজরদারি বন্ধ করতে হবে।
‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন-২০১৬’-এর ধারা ১৪ এবং ‘আয়কর আইন ২০২৩’-এর ধারা ২ (৩১চ) বাতিলের সুপারিশ করে টিআইবি বলেছে, এই ধারাগুলো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বিশেষ করে মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস্ অ্যাক্ট-১৯২৩’ বাতিল করার প্রস্তাব করে সংস্থাটি বলেছে, সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চর্চা বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং প্রকৃত গণমাধ্যম হিসেবে পেশাগত সক্ষমতা ও সংস্কৃতি বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অর্থ পাচার রোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে সম্পৃক্ত করে স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
টিআইবি’র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে খসড়া ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন’-এ প্রস্তাবিত বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করতে হবে। বহুমুখী মানবাধিকার হরণের হাতিয়ার ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে ঋণ জালিয়াতি, প্রতারণা ও অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি সরকারকে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে এসব সুপারিশ তৈরি করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে নজিরবিহীন রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটে। একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের জায়গায় আরেকটি কর্তৃত্ববাদী শাসন যেন না আসে সেদিকে নজর দিতে হবে। তা না হলে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণ হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ছাত্র-জনতার মূল প্রত্যাশা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার উপযোগী রাষ্ট্রকাঠামো ও পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিগত সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি বলে অর্থ ফেরত আসেনি। অন্তর্বর্তকালীন সরকারের জন্য আজ যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা পূরণ করতে হলে তাদের কতোটুকু সময় লাগবে সেটা বলা সম্ভব নয়। সেটা তারা নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রত্যাশা পূরণের যে জনরায় নিয়ে এই সরকার এসেছে, তার জন্য যতটুকু সময় দরকার তা তাদের দেয়া উচিত।
হত্যা মামলায় হুকুমের আসামি করা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নজিরবিহীন যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এটা এড়িয়ে যেতে পারে না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করা দরকার। এ বিষয়ে জোরোলো নজর দেয়া উচিত। সরকার জাতিসংঘের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেছে। তাদের আলোচনায় মনে হয়েছে, এ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, কারা দায়ী, তা দ্রুত চিহ্নিত করে নিশ্চিত করা হোক।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থান থেকে যারা লাভবান হয়েছেন, তারা জমি দখলের মতো দখলদারির দিকে চলে গেছেন। বিভিন্ন ধরনের অসমতাতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারারও বিকাশ হচ্ছে, এটাও আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র ২০ দিন। এত দ্রুত মূল্যায়ন করা যায় না। ধ্বংসস্তূপের জায়গায় দাঁড়িয়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে চর্চা ছিল, তার পরিবর্তন এখনো হয়নি। চট করে পরিবর্তন আশাও করা যায় না। আদালতে অরাজকতা দেখা যাচ্ছে। যে প্রক্রিয়ায় মামলা করা হচ্ছে তা হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য করা হচ্ছে কিনা, দেখা দরকার।
Sunday, August 25, 2024
নজরদারি ও আড়িপাতা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি
আলোচনার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এনটিএমসি ও ডিওটি’র মতো সরকারি যে সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছর এই আড়িপাতার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সংস্কার করা বা নতুন লোক বসিয়ে কোনো সমাধান হবে না। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে বিলুপ্ত করতে হবে এখনই। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আড়িপাতার প্রয়োজনীয়তা থাকলে সেটির জন্য আলাদা কমিশন করে নতুন বিধিবিধান তৈরি করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক ব্যবহার করে গত কয়েক বছর অনেক মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও আগের মতো অপ্রাসঙ্গিক ও দুর্বল মামলা এবং রিমান্ডে বিভিন্ন আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের প্রতিবাদ জানান। তিনি গত কয়েক বছর মিডিয়াতে বিভিন্ন ব্যক্তির কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় মিডিয়ার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-প্রযুক্তি অধ্যাপক মইনুল হোসেন বলেন, দেশের কোনো আইন যদি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বা মানের সঙ্গে না হয়, তাহলে তার পরিবর্তন করতে হবে। সাংবাদিক গোলাম মুর্তজা বলেন, পেগাসাসসহ যে সব ইসরাইলি পণ্য কেনা হয়েছে এবং কেনার সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে যেসব বেআইনি কাজ করা হয়েছে, এই কাজগুলো কার নির্দেশে হয়েছে, কোন প্রক্রিয়াতে হয়েছে, টাকা কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে, এটা বর্তমান সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট হিসেবে জানতে চাই। এনটিএমসিতে বসে মানুষের ফোন কল যে রেকর্ড করা হচ্ছে, এটি দিয়ে কার নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়েছে? হাছান মাহমুদ মাঝে-মধ্যেই হুমকি দিতেন। বলতেন, আমাদের কাছে সব তথ্য আছে ফাঁস করে দেবো। আমার কথা রেকর্ড করার অধিকার তাকে কে দিয়েছিল। কোন সংবিধান দিয়েছিল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আল-জাজিরা খ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সামি জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কাছের মানুষের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য, কল রেকর্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা এনটিএমসি ও অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে জোগাড় ও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এগুলো দিয়ে তাদেরকে নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হতো বিশেষ প্রয়োজনে। তিনি বলেন, গোপনীয়তা ভঙ্গকারী রাষ্ট্রের এই এজেন্সিগুলো শুধুমাত্র সাধারণ নাগরিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নজরদারি করতেই ব্যবহার হতো না, নিজেদের লোকজনের কার্যক্রমও মনিটর করতে ব্যবহার হতো। অবিলম্বে সকল ব্যক্তিগত ও গোপনীয় রেকর্ড ধ্বংস করার দাবি জানান তিনি। মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিন্তু তা হতে হবে অবশ্যই আদালতের নির্দেশক্রমে। এনটিএমসি যা করেছে তার সম্পূর্ণভাবে সংবিধান এবং আইন-বহির্ভূত। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য সোর্স মানি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তাও তদন্ত করা দরকার। বিদেশে যেহেতু অধিদপ্তর এ রূপান্তর করা হয়েছে তাই ডট এর প্রয়োজন নেই। ডট কে বিটিআরসি’র সঙ্গে একীভূত করা প্রয়োজন। আমরা ১০-১১ বছর কেন ঘুমিয়ে থাকলাম? ইন্ডাস্ট্রি গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন কথা বলতে দেখলাম না আমরা এতদিন? বিভিন্ন টেলিভিশন এবং ডিজিটাল বিন্যাসে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হলো দিনের পর দিন কিন্তু কেউ প্রশ্ন করল না এই ভিডিও রেকর্ড বা কল রেকর্ড তারা কোথায় পেলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান, সাংবাদিক গোলাম মুর্তজা, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, রাজনীতিবিদ জুনায়েদ সাকি, এবি পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার ফুয়াদ, সাইবার বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির, মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞ সাবহানাজ রশিদ দিয়া, আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা, তথ্য-প্রযুক্তি সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা জাকারিয়া স্বপন, রাষ্ট্র চিন্তার দিদার ভূঁইয়া, উন্নয়ন গবেষক আহমেদ ওমর তৈয়ব প্রমুখ।
Tuesday, August 20, 2024
তাকসিম চক্রের পেটে ৫০০০ কোটি টাকা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা by মরিয়ম চম্পা
সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর ২৩শে মে ওয়াসায় অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে মামলার অনুমোদনের জন্য সুপারিশ চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় পরিচালক (উন্নয়ন) ও পরিচালক (কারিগর) এই দুটি পদ ওয়াসার অর্গানোগ্রামে না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির এমডি প্রভাব খাটিয়ে দুজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। আর চার বছরের বেশি সময় ধরে তাদের বেতন বাবদ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮০ টাকা দেয়া হয়েছে।
নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ হওয়ায় এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। দুদক সূত্র মতে, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর একাধিকবার সময় বাড়িয়ে ওই পদে আছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বারবার নিয়োগবিধি অমান্য করার অভিযোগ উঠে। এ ছাড়া ওয়াসার এমডিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সংস্থাটির পদ্মা-জশলদিয়া প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা, গুলশান-বারিধারা লেক দূষণ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই অনুসন্ধান করছেন।
এদিকে তাকসিমের বিদায় হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে তার দুর্নীতির সিন্ডিকেট র্যামস ও বাছুর গ্রুপ। তারা ইতিমধ্যে তাকসিমের দুর্নীতি সংক্রান্ত ফাইল গায়েব করা, তাকসিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াসার এমডি’র পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ঢাকা ওয়াসার সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা তাকসিমপন্থি কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাদের মারধর ও হেনস্তা করতে গেলে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা এসে তাদের বাঁচিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার আগের দিন অর্থাৎ সর্বশেষ গত ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত অফিস করেন তাকসিম এ খান। এরপর থেকে তাকে আর অফিসে দেখা যায়নি। জনরোষে পড়ার ভয়ে নিজ বাসায় না থেকে এ সময় তিনি রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ভিন্ন নামে রুম বুক করে ওয়াসার দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করতেন। বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতেন। সেখান থেকে অনলাইনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। পরবর্তীতে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার একটি ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকে তিনি তার অনুসারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে ওয়াসার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব করান। কিছু ফাইল তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যান। তাকসিমের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ওয়াসায় কর্মরত বদরুল আলমই মূলত এসব ফাইল সরানোর কাজ করছেন।
এদিকে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটিকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সেখানে দুর্নীতির সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। ওয়াসা সূত্র জানায়, তাকসিমের দুর্নীতিতে সক্রিয় ছিল তার স্টাফ অফিসার বদরুল আলম। তরুণ নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে তিনি ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পিডি বানিয়েছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী জয়নাল আবেদিন গত ৬ বছরে ওয়াসার যত টেন্ডারবাজি ও লুটপাটসহ সকল প্রকার দুর্নীতি করেছেন। এই তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছেন। এবং প্রত্যেকেই বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ওয়াসাতে তাদেরকে বাঁছুর গ্রুপ নামে ডাকা হয়। তাদের আগে গত ৮ থেকে ৯ বছর যারা তাকসিমের দুর্নীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকে বলা হতো র্যামস গ্রুপ। এই গ্রুপের সদস্য রফিকুল ইসলাম পদ্মা প্রকল্পের ডিজি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কয়েক শ’ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই গ্রুপের আরেক সদস্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান। তিনি বর্তমানে অবসরে গেছেন। তিনিও একটি প্রকল্পের পিডি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। রফিক এবং আক্তারকে দুদকে ডাকা হলেও তাকসিন তার ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাপা দিয়ে রেখেছেন। আরেকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মহসেন আলী মিয়া দাসেরকান্দি প্রকল্পের পিডি ছিলেন। তিনিও বর্তমানে অবসরে গেছেন। তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান এসি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর সাত্তার সবুজ। তার বিরুদ্ধে টানা ৯ বছর সংগ্রহ বিভাগে (কেনাকাটায়) কয়েকশ’ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান ড. গোলাম মোস্তফা মানবজমিনকে বলেন, ওয়াসা তো দুর্নীতির চারণভূমি। এটা সকলেই জানে। তাকসিমকে দুর্নীতির পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। এবং অনুতপ্ত। তাকে আমি নিজ দায়িত্বে চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেও পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়তার সুযোগের অপব্যবহার করেন। এ বিষয়ে আমি তখন মন্ত্রণালয়কে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার ৪ দিনের মাথায় আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. এ.কে.এম সহিদ উদ্দিন বলেন, ওয়াসার সাবেক এমডিসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এটার আমি প্রমাণ চাই। অনুমানভিত্তিক কথা বললে হবে না। যথাযথ প্রমাণ দিতে পারলে আমি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ তুলে ধরলে তৎকালীন সরকার এটার গুরুত্ব দেয়নি। তার ক্ষমতার বলয় এত বেশি উচ্চ পর্যায়ে ছিল যে, কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রেখে অবারিতভাবে দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা অবারিতভাবে করে গেছেন তিনি। এখন প্রথম কথা হচ্ছে সাবেক এমডি তাকসিম পদত্যাগ করলেই তো হবে না। তিনি পৃথিবীর যে প্রান্তে থাকুন না কেন আমাদের আইন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় বলে মনে করি। এর মাধ্যমে জনস্বার্থে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার। অনিয়ম-দুর্নীতি তিনি এককভাবে করেছেন এটার কোনো সুযোগ নেই। তার সঙ্গে একটি চক্র ছিল এই প্রতিষ্ঠানের। যারা বহাল তবিয়তে থাকলে নিজেদের এবং তাকসিমের দুর্নীতিকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এটা প্রতিরোধ করার সুযোগ আছে। এবং যারা এই দুর্নীতি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার মাধ্যমে বিচার সুনিশ্চিত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
Sunday, August 18, 2024
দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানো অপরিহার্য: টিআইবি
প্রাক্তন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামান চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে বিপুল অঘোষিত সম্পদের তথ্য প্রমাণ থাকা স্বত্বেও দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিষয়টি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে নেতৃত্বের পর্যায়ে দলীয়করণ ও অকার্যকরতার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই মর্মে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দেশের বাইরে অপ্রদর্শিত সম্পদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও ব্যাপক জনউদ্বেগ স্বত্বেও কোনো ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিষয়টিকে চরম হতাশাজনক। ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ শীর্ষক টিআইবির প্রতিবেদন ও ‘নো ইউর ক্যান্ডিডেট’ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ফলে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ও চলমান ব্যবসা সম্পর্কে দেশবাসীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত হয়েছে। পরবর্তীতে টিআই-ইউকে এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা এ সংক্রান্ত সকল সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ ও নথি টিআই-ইউকে ও টিআইবির উদ্যোগে বিএফআইইউ, দুদক, পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয় এ বছরের ৪ঠা মার্চ। তিনি বলেন, সকল তথ্য-প্রমাণ হাতে থাকা স্বত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সরকার পতনের পর ও বিএফআইইউ এর প্রধানের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক বলে বিবেচিত হতে পারে। সকল তথ্য-প্রমাণ হাতে থাকা স্বত্বেও এতো দিনেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?- এই প্রশ্ন করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এমন নিষ্ক্রিয়তা কি প্রমাণ করে না- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিলো এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতৃত্বস্থানীয়রা এ অকার্যকরতার অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন? বস্তুত অর্থ পাচার ও অপ্রদর্শিত সম্পদ অর্জনের বিষয়টিকে প্রকারান্তরে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়েছে।
আশঙ্কার বিষয়- দেশের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ, পদায়ন ও অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে করায়ত্ত করে দুর্নীতির করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে বিপুল অঘোষিত সম্পদ অর্জনের ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাদমস্তক ঢেলে সাজাতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসিত, গণতান্ত্রিক ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে।
Tuesday, August 13, 2024
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সুদূরপ্রসারী সংস্কার জরুরি: ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের ওয়েবিনারে বক্তারা
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার ফল এই গণ-অভ্যুত্থান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসেছে ক্রান্তিকালীন সরকার হিসেবে-এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য। তিনি আন্দোলন থেকে দুটি বার্তা পেয়েছেন। প্রথমত, যারা অন্যায় করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওই অবস্থার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সুদূরপ্রসারী সংস্কার করতে হবে। সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে। এগুলো সময়সাপেক্ষ ও জরুরি। তিনি বলেন, এই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন।
কিছু সংস্কার পরবর্তী সময়ে করতে হবে, যারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবেন, তারা সেটি করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে যেতে হবে, যাতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা যায়। সুজন সম্পাদক বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্রদের নেতৃত্বে যে গণবিস্ফোরণ হয়েছে, যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা নস্যাৎ করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এদিকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অনেক চেষ্টা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা থেকে দেশ যোজন যোজন দূরে। ১৯৯১ সালে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবার যেন ব্যর্থতা না আসে, সেজন্য ছাত্রসমাজ ও নাগরিক সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার গঠিত হয়েছে। দুটি আকাঙ্খা-একটি হলো এই সরকার দ্রুত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। অন্যটি হলো বড় রকমের পরিবর্তন আনতে হবে। সামগ্রিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। যারা সরকারে আছেন, তারা বলুক এই দুটি স্বপ্নের মধ্যে তারা কী করতে চান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে এই সরকারের মামলা করা জরুরি মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়া যেতে পারে। যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই সংবিধান রেখে জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। এই সংবিধানেই স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন করা আছে। এই সংবিধান রেখে চিরস্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্রের বিলোপ হবে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে জন-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে। ১৫ বছরে জঞ্জাল তৈরি হয়েছে। কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পুনর্গঠন করতে তাড়াহুড়া কেন, দেশ বদলাতে চান না?
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহুমুখী ঘটনা ঘটেছে। দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে জাতিসংঘের সহায়তা নেয়া দরকার। তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করে সংস্কার পরিকল্পনা করতে হবে। জনপ্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির ঘটনাগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের মধ্যে জবাবদিহি সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষা ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের দাবি রাজনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক তবে ডকট্রিন অব নেসেসিটি থেকে এখনই তা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে ভাবতে হবে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের রিসার্চ ফেলো মির্জা এম হাসান বলেন, এখন যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলোর দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ভিত্তি ২০০৭-০৮ সালে করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেক কিছু ধুয়েমুছে ফেলা হয়। এখন এমন কিছু করতে হবে, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্ক নতুন করে দাঁড়াতে পারে। গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম তামিম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে রাজনৈতিক দল থেকে। রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য যেসব ব্যবস্থা আছে, সেগুলো তারা সহজে পরিবর্তন করতে চান না। ১৯৯১ ও ২০০৭-০৮ সালেও এ ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল; কিন্তু পরিবর্তন আসেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিচারহীনতা। অপরাধীদের বিচার করা যায়নি।
সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ, এখন কী করতে হবে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। প্রবন্ধে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, পরিসংখ্যান জালিয়াতি থামানো, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিস্থিতি, ডিজিটাল অর্থনীতির নিরাপত্তা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন।
Monday, September 30, 2019
বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে ছিল ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি: -টিআইবি’র গবেষণা

গবেষণায় উঠে আসে, এবারের বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয় ২৮ জেলা। ১০৮ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি পানিবন্দি ছিল ৪০ লাখ মানুষ। পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়ে ৯৮৬৮৮ ও আংশিক ১৩৬০১০২টি পরিবার। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমি ৪৫৯৬৬ হেক্টর ও আংশিক ৯৪১৮৩ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ শতাংশ ফসলি জমিতে পড়েছে বালুর আস্তরণ।
ফলে প্রায় ৩ বছর তারা ফসলহানির মুখে পড়বেন।
গবেষণায় উঠে আসে, ত্রাণ বিতরণ হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। স্বজনপ্রীতি, কম দেয়া এবং পাশাপাশি একই পরিবারকে একাধিক বার ত্রাণ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি এসব অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করলে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ত্রাণ পাওয়াদের ৭৩ শতাংশ বলেছেন তারা পরিমাণে কম দিয়েছেন। আর সাহায্য পাওয়া খাবারের মাঝে ছিল না শিশুখাদ্য। ছিল না গো-খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এ ছাড়া গবাদি পশুকে ২ থেকে ৩ দিন পানিতে দাঁড় করিয়ে রেখে পরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
বন্যার ২৪ ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা দেবার দাবি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৯১ শতাংশ পাননি বলে জানান। গবেষণার আওতাও থাকা ১০ উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত ও ১২৭৭ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় বাজেট, লোকবল ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বন্যা আক্রান্ত অন্যান্য স্থানে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসা, পানি, স্যানিটেশন, নারী-শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা লক্ষ্য করা যায়নি।
টিআইবি’র তথ্য মতে, চলতি বছরের বন্যায় দেশের ২৮ উপজেলার মানুষের তারা দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে। এবারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮৮ সালের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর বন্যার্তরা সহযোগিতা পেয়েছেন খুবই নগণ্য। এক একটি পরিবার ৪ টাকা করেও সাহায্য পেয়েছে। গড়ে বাড়িপ্রতি মিলেছে ২০ টাকা থেকে ৭৭২ টাকা।
বন্যাপরবর্তী এই গবেষণায় আরো বলা হয়, রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল ত্রাণ বিতরণের প্রধা। এ ছাড়াও ছিল স্বজনপ্রীতি। এমনকি মন্ত্রীর বন্যা এলাকা পরিদর্শনের টাকা এসেছে ত্রাণের অর্থ থেকে। আর চেয়ারম্যানরা পরিবহন ব্যয় মেটানোর অজুহাতে বিক্রি করেছেন ত্রাণ।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্যায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীত। আর ছিল বরাদ্দ কম থাকা ও যা বরাদ্দ পেয়েছে তাও সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি।
এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি’র উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।
Tuesday, September 10, 2019
দলিল ও দুর্নীতি সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে: -টিআইবি’র গবেষণা

অনুষ্ঠানের শুরুতে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন, নিহার রঞ্জন রায় ও শাম্মী লায়লা ইসলাম। এতে বলা হয়, একটি দলিলের নকল তুলতে সেবা গ্রহীতাদের গুনতে হয় ১ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর দলিল নিবন্ধনের জন্য দলিল লেখক সমিতিকে চাঁদা দিতে হয় ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও ভূমির আকার ও এলাকাভেদে এই টাকার পরিমাণ অনেক সময় বেশিও হয়ে থাকে। আর দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়ম বর্হিভূতভাবে গুণতে হয় ১ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
টিআইবি জানায়, দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলার ৪১টি সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও জাতীয় পর্যায়ে নিবন্ধন অধিদপ্তর ও অংশীজনদের কাছ থেকে গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় উঠে আসে-২০১৭ সালের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ৪২.৫ শতাংশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সেবা গ্রহণের সময় দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮.৩ শতাংশ গড়ে ১১ হাজার ৮৫২ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এসব অবৈধ অর্থ ১০/১৫ শতাংশ সাবরেজিস্ট্রার ও বাকী অর্থ অফিসের সকলের মধ্যে পদ অনুযায়ী বাটোয়ারা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিবন্ধন অধিদপ্তরের অধীনে ৩৬ লাখ ৭২ হাজার ৬২৮টি দলিল নিবন্ধন হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
গবেষণায় একটি উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, একটি পৌঁনে ৬ শতক জমির প্রকৃত মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিনি ৫ লাখ টাকা কমানোর জন্য দেন ৫ লাখ টাকা ঘুষ। আর ফি জমা দেন ৫ লাখ টাকা।
গবেষণায় আরো উঠে আসে, এই ৪১ অফিসের প্রায় অর্ধেক অফিসের কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে আসেন না। নকলনবীশদের নিয়োগ এবং দলিল লেখকদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ ছাড়া কাজ হয় না। আবার এই সুপারিশ অনেকসময় করে থাকেন মেয়র, সংসদ সদস্য এমনকি মন্ত্রীও। নকলনবীশ হিসেবে নাম তালিকাভুক্তকরণ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এছাড়াও নকলনবীশ থেকে মোহরার পদে যোগদানে ২ থেকে ৮ লাখ টাকা, মোহরার থেকে সহকারী পদে যোগদানে ৩ থেকে ১০ লাখ, দলিল লেখকের লাইসেন্স প্রাপ্তি ১ থেকে ৩ লাখ টাকা, দলিল লেখক সমিতিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করণে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলিতে ৩ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।
গবেষণায় ব্যবহৃত অফিসের ৪১টির মাঝে ২৭টি জরাজীর্ণ ভবনে কাজ চলছে। নকলনবীশদের কাজ করতে হয় ২০/২৫ জনকে এক রুমে। এছাড়া বারান্দা, সিঁড়ির নিচেও কাজ করতে হয় তাদের। আর ৪১ টির মধ্যে ৩২ টি অফিসেই দেখা যায় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ঘাটতি। ৩১টি অফিসে সরকার নির্ধারিত ফি’র চার্ট নেই কিংবা দৃষ্টিগোচর নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই দুর্নীতি বন্ধ করতে সদিচ্ছা জরুরি। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর ভূমির ডিজিটালাইজেশন খুবই জরুরি। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন ব্যক্তি কমই খুঁজে পাওয়া যায় যিনি দলিল সংক্রান্ত দুর্নীতির শিকার হননি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি জটিলতার কারণেও কিছু অস্পষ্টতা ও বিরোধিতা হয়ে আসছে। হালনাগাদ খতিয়ান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে না। এছাড়াও জনবলের ঘাটতি, লজিস্টিকস ও আর্থিক বরাদ্দ এবং দুর্বল অবকাঠামো ও ডিজিটালাইজেশনের ঘাটতি। আর নিয়মবহির্ভুতভাবে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে বিভিন্ন অংশে বিভিন্নজনের পারস্পরিক যোগসাজশ থাকায় অভ্যন্তরীন জবাবদিহিতা কাঠামো যৌথভাবে কাজ করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।
Friday, August 30, 2019
বাংলাদেশে নামে মাত্র সংসদীয় গণতন্ত্র আছে -_টিআইবি by কাদির কল্লোল
![]() |
| বাংলাদেশ সর্বশেষ দুটো সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে |
![]() |
| টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান |
![]() |
| আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মতিয়া চৌধুরী |
Tuesday, August 20, 2019
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতিমুক্ত দেশের সূচকে ২৫তম স্থানে ভুটান

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রচেষ্টায় গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ২০১৯-২৩ মেয়াদের জন্য জাতীয় সততা ও দুর্নীতি দমন কৌশল (এনআইএসিএস) উদ্বোধন করেন।
২০০৯ সালের পর থেকে দুর্নীতি দমনের জন্য এটা তৃতীয় কৌশল। আগের দুটি কৌশলের উপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই কৌশল বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কমিটিতে সরকারি সংস্থা, বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক দফতর, সিভিল সার্ভিস সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি রয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারপার্সন কিনলে ইয়াংজুম বলেন যে, ২০০৫ সালে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য দিকনিদের্শক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কৌশল।
প্রথম দুটি কৌশল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমনর আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা ও ইনটিগ্রিটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
Thursday, August 1, 2019
ভিআইপি সংস্কৃতি অসাংবিধানিক, ক্ষমতার অপব্যবহার -টিআইবি
![]() |
| ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। |
Saturday, June 15, 2019
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অসাংবিধানিক- টিআইবি

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থি হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে একের পর এক সরকার। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন ও দুর্নীতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতার পরিপন্থি হলেও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অনিয়মকে বাদ না দিয়ে বরং এর পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনাকেও যোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে।
তদুপরি এবার প্রথমবারের মত এই অবৈধটাকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতার প্রস্তাব করা হল। অর্থাৎ দুর্নীতির মহোৎসব ও বিচারহীনতাকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেয়া হল।
বিবৃতিতে বলা হয়, চরম হতাশাজনক হলেও প্রশ্ন ওঠে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য সহনশীলতার ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার মত কি কেউ নেই সরকারি অঙ্গনে? কি হবে এই অঙ্গীকারের? এ উদ্যোগ যেমন অসাংবিধানিক তেমনি অনৈতিক, বৈষম্যমূলক এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের নামান্তর।
কেবলমাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অবৈধটাকে বৈধতা দেয়ার অর্থ সমাজে বৈধভাবে উপার্জন করাকে নিরুৎসাহিত করা, যা অন্যদিকে চরম বৈষম্যমূলক, কারণ সৎপথে উপার্জনকারীকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। দুর্নীতির কাছে রাষ্ট্রের এই আত্মসমর্পন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে তা সরকারকে অনুধাবন করতে আহ্বান জানাই। অন্যদিকে, রেকর্ড পরিমান খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের অপসংস্কৃতিতে ধুঁকতে থাকা সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন উদ্যোগ না থাকায় তা এ খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।
ড. জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট খাতে জনগণের করের টাকায় নতুন করে বাড়তি প্রণোদনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কি কোনো ভূমিকা রাখবে এবং তা কীভাবে, সে ব্যাপারে সরকার, বা যাদের চাপে এটা করা হলো তাদের কোনো বিবেচনা রয়েছে এমন ইঙ্গিত নেই।
ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় ঋণের বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশাল অঙ্ক ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন বৃহৎ প্রকল্পসমূহে অর্থের যথার্থ ব্যয় এবং কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও প্রস্তাবনা না থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা বাস্তবিক অর্থে দেশের সাধারণ নাগরিকদেরই বইতে হয়। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত দিক-নির্দেশনার দাবি জানাই। এছাড়া, প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল বরাদ্দের সমর্থনে যা-ই থাকুক, জনগণের এ অর্থ ব্যয়ের খাতওয়ারি কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণের সুযোগ প্রতিবারের মত এবারও জনগণকে দেয়া হয় নাই যা এ বিষয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) এর জন্য কোন বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষিতে বাজেটে কোন বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক এবং উল্টো পথে হাঁটার সামিল। সুতরাং বিসিসিটিএফে কমপক্ষে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু বাজেটে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও এলাকা চিহ্নিতকরণ ও অগ্রাধিকারসহ ব্যয়িত অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কৌশলগত দিক-নির্দেশনার দাবি জানাচ্ছি।
Monday, June 10, 2019
যে কারণে জোরালো নয় সংসদীয় কমিটির ভূমিকা by কাজী সোহাগ

এটাকে পরিহার করা উচিত। নাহলে সংসদীয় কমিটি এখন যেমন কাগুজে বাঘ হিসেবে আছে ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গত সরকারের মন্ত্রীদের। এগুলো হচ্ছে-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফছারুল আমিন, কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মেহের আফরোজ চুমকি। টিআইবি জানিয়েছে, এককেন্দ্রিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কারণে কমিটির কার্যক্রমও রাষ্ট্র-সংসদের সব কার্যক্রমের মতো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
এছাড়া কমিটির সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে বলেও মনে করে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান বা সাবেক কোনো মন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা সদস্য পদ না দেয়ার বিধান, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবেদনশীল বিষয় ছাড়া কমিটির সভা সংসদ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার এবং কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক বা অন্য স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টিআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কমিটিকে ব্যবহার করছেন। কমিটির সিদ্ধান্তের একটি বড় অংশ বাস্তবায়িত হয় না। কমিটিতে দুর্নীতি সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে কম।
তবে এ নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। মানবজমিনকে তিনি বলেন,এটা আসলে নির্ভর করে কমিটির সদস্যদের উপর। সভাপতি একা কোন বিষয় চেপে যেতে পারেন না। কমিটির সদস্যরা তো মুখ খুলতে পারেন। তারা প্রশ্ন করতে পারেন। উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন,আমার মন্ত্রণালয়ে বয়স্কভাতা ও নীতিমালা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করতে সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, অন্য কমিটিতে কেন হয় না তা বলতে পারবো না। সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকা- সমীক্ষার উদ্দেশ্যে সংসদ-সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় কমিটি। পৃথিবীর বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই এ ধরনের সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এ কমিটিগুলো জাতীয় সংসদ সদস্যদের কার্যত কর্মব্যস্ত রাখে।
নিজেদের তারা সংসদের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন এবং নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ব্যাপারেও তারা সজাগ থাকেন। কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজেদের সম্পাদিত কর্মকান্ডের ব্যাখ্যা দেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির সামনে প্রয়োজনীয় তথ্য পেশ করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকা-ের উপর নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিগণ রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে নিজেদের ওয়াকিবহাল রাখার সুযোগ পান। হিসাব ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে আর্থিক কমিটিগুলো সরকারের আর্থিক ক্ষমতা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা তা নিরূপণ করে। একইসঙ্গে অনুমোদিত রীতিনীতি অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে কিনা তাও যাচাই করে। সংসদ নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কাগজে-কলমে সংসদীয় কমিটির এসব কাজ করার কথা থাকলেও আসলে এসবের কিছুই হয় না। তারা জানান, সংসদীয় কমিটিগুলোতে মন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকেন। এতে শুরু হয় মন্ত্রী ও সভাপতির মধ্যে মনকষাকষি।
মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিরা চান কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিগুলোকে সুপারিশকারী সত্তার অতিরিক্ত কিছু হিসেবে দেখতে চান না। মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতির মনকষাকষি অনেক সময় প্রকাশ্য রূপ নেয়। এতে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া, এসব কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বিরত থাকে। ফলে দিন দিন সুপারিশের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুপারিশ হারিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কমিটির বৈঠকের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে না। প্রসঙ্গত জাতীয় সংসদ বরাবরই কমিটি কাঠামো বিন্যাস করে আসছে। প্রথম সংসদের অধীনে ১৪টি কমিটি গঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় সংসদে কমিটির সংখ্যা ছিল ৫১, স্বল্প মেয়াদী তৃতীয় সংসদে ৬ এবং চতুর্থ সংসদে ৪৮ টি। সময়ের পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় কার্যপরিধি বৃদ্ধির কারণে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা পঞ্চম সংসদের অধীনে ৫৩ এবং সপ্তম সংসদে ৪৮-এ দাঁড়ায়। একইসঙ্গে উপ-কমিটির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তম সংসদ গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর প্রধান ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগণ।
সপ্তম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনেই কার্যপ্রণালী বিধিতে একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। এ সংশোধনী অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সবগুলোতেই মন্ত্রীদের পরিবর্তে সংসদ-সদস্যদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে কার্যকরভাবে জবাবদিহিতা আদায়ে কমিটিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। অষ্টম সংসদে স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ছিল ৪৮ এবং ২০০৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এ সংসদে ১৩১ টি উপ-কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি ও উপ-কমিটি অক্টোবর ২০০১ থেকে জুলাই ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে যথাক্রমে ১১৫৭ এবং ৪২১ টি সভায় মিলিত হয়। এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত কমিটি ১২ টি প্রতিবেদন পেশ করে। ২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার পর সংসদে দলীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সংসদের সমন্বয়ে ৪৮ টি কমিটি গঠন করা হয়।
Thursday, April 25, 2019
একটি অভিনব প্রতিবাদ

তবে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেও এমডির দেখা পাননি তারা।
প্রতিবাদকারীদের অবস্থানের সময় নিজের কার্যালয়ে আসেননি তাকসিম এ খান। প্রতিবাদকারীদের দাবি অতীতে বহুবার ওয়াসার পানির মান নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ কর্ণপাত করেনি। উল্টো সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি দাবি করেছেন ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। যা একেবারেই হাস্যকর। আর যদি এ পানি সুপেয়ই হয়ে থাকে তাহলে তা পান করতেতো কোন সমস্যা নেই। এ কারণে পাইপের পানিই তারা নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর জন্য। কার্যালয়ে না আসলেও টেলিফোনে ওয়াসা এমডি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, অন্যের তৈরি শরবত তিনি খাবেন না। কার পানি খাবেন আর কারটা খাবেন না এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি ওয়াসার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে ওয়াসার পানির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মান খারাপ হওয়ায় পানি ফুটিয়ে পান উপযোগী করতে বছরে অন্তত ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয় বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ রিপোর্টের প্রতিক্রিয়া জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি দাবি করেন তাদের সরবরাহ করা পানি শতভাগ সুপেয়। যদিও একই সংবাদ সম্মেলনে তাকসিম এ খান জানান, তিনি নিজেই তিন ধরনের পানি পান করেন। তার বাসায়ই পানি বিশুদ্ধ করতে ফুটানো হয়। ২৮শে মার্চ নিজ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওয়াসা এমডি নিজেই গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন ১০ মিনিট ফুটিয়ে পানি পান করতে।
টিআইবির রিপোর্ট প্রকাশের পর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় এমন দাবির তীব্র সমালোচনা শুরু হয় চারপাশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ট্রল করেন অনেকে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের এ দাবির বিরুদ্ধেই অভিনব প্রতিবাদে প্রধান কার্যালয়ে এসেছিলেন জুরাইন ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন গ্রাহক।
সকাল ১১টা। ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে চার জন। তাতে লেখা ‘আর কতকাল কালা পানি খাওয়াবেন?’, ‘দূষিত পানির দায় নিতে হবে?’, ‘পানি দাও ময়লা না’। তাদের সঙ্গে জগ-বোতলে ওয়াসার পানি ও শরবত বানানোর সামগ্রী। প্রতিবাদকারীদের ওপর চোখ রাখতে ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে জনা বিশেক নিরাপত্তাকর্মী। ওয়াসা কর্মী ও সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি না থাকলেও প্রতিবাদকারীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা ভেতরে প্রবেশ করে এমডির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার কার্যালয়ে নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদকারীরা প্রবেশ পথে বসে পড়েন। তারা নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত গণমাধ্যমকে জানান এমডির সাক্ষাৎ না পেলে তারা এখান থেকে সরবেন না। এক পর্যায়ে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পরিচালক (টেকনিক্যাল) এ কে এম সহিদ উদ্দিন এর কক্ষে।
প্রতিবাদকারীরা ওয়াসা পরিচালককে জানালেন তাদের সরবরাহ করা পাইপ লাইনের পানি এবং শরবত তৈরির উপকরণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত তৈরি করে খাওয়ানোর জন্য। যেহেতু তিনি নেই তাই তাদের তৈরি শরবত পরিচালককে পরখ করতে হবে। যেহেতু ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় তাই তা পানে আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু পরিচালক আর রাজি হলেন না শরবত খেতে। উল্টো প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে বলেন, শরবত তিনি খাবেন। সঙ্গে ওয়াসার এমডি ও অন্য কর্মকর্তারাও সেই শরবত খাবেন। তবে এখনই না। ওয়াসার পাইপ লাইন পুরো সংস্কারের পর পানি শতভাগ নিরাপদ হলে।
ওয়াসার পানিতে সমস্যা আছে এটা মানতেও নারাজ সহিদ উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। সুপেয়। ওয়াসার পানি পানে কোন ব্যক্তি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর দায়ভার ওয়াসা বহন করতে প্রস্তুত। পরক্ষণেই তিনি বলেন, ওয়াসা’র পানি বিশুদ্ধ। তবে বিভিন্ন স্থানে অসাধু লোকজন যখন অবৈধভাবে লাইন নিয়ে থাকেন ফলে যুক্ত হয় দূষিত পানি। তার কথার পিঠেই প্রশ্ন-এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব কাদের? তখন তিনি বলেন, আমাদের। তবে আমরা সবসময় তা করে উঠতে পারি না।
জুরাইনের পানি সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, যথাযথভাবে আপনারা অভিযোগ দায়ের করেননি। তখন পাল্টা কাগজ উপস্থাপন করায় সৃষ্টি হয় হট্টগোল। বাকবিতন্ডা। গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে কিছুটা নীরব হয় পরিবেশ। সহিদ উদ্দিন সংগ্রহ করেন তাদের তাদের ঠিকানা এবং অতিদ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন। তখন ভিন্নধর্মী এই আন্দোলনকারীরা বলেন, যেহেতু সমস্যা সমাধানের বিষয় আছে। সেহেতু এমডি’র বক্তব্য ভুল ছিলো। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
শরবত খাওয়ানোর অভিনব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান ও গণমাধ্যমকর্মী মনিরুল ইসলাম।
মিজানুর রহমান এসেছিলেন স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। তার মেয়ে সন্তানটি মায়ের কোলে চড়ে আসে। মিজানুরের সঙ্গে তার এক পারিবারিক বন্ধুও ছিলেন। একটি পরিস্কার জগে করে তিনি নিয়ে এসেছিলেন ওয়াসার পানি। সঙ্গে এনেছিলেন লেবু ও চিনি। মিজানুর রহমান বলেন, জুরাইন এলাকায় ৩০/৪০ বছরের পুরনো পাইপে পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কাজে তারা ব্যবহার করেন। তবে তা পান করা যায় না। তিনি জগে করে যে পানি নিয়ে আসেন তা সবাইকে দেখিয়ে বলেন, এটি মাঝারি মানের পানি। এরচেয়েও খারাপ পানি আসে এলাকায়। আমরা ওয়াসাকে জানিয়েছি একাধিক বার। আবেদন করেছি। তারা কিছু করেনি। উল্টো তারা আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে তামাশা করেছে। তাই ওয়াসার এমডির সেই শতভাগ সুপেয় পানি নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, দুষিত পানির জন্য আমরা কেন বিল দেবো। যতোদিন পানি সুপেয় না হবে ততোদিন আমরা বিল দেব না।
রামপুরা এলাকা থেকে এসেছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি একটি বোতলে করে পানি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ওই বোতল দেখিয়ে বলেন, চকচক করলেই সোনা হয় না। এই বোতলের পানি দেখলে পরিস্কার সুপেয় পানিই মনে হবে। কিন্তু নাকে গন্ধ নিলে কেউ এ পানি মুখে নিতে যাবে না। এমন পানিই এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানির কারণে অনেকের মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। গায়ে সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় ওয়াসা এমডির বক্তব্য এক ধরনের তামাশা।
পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি প্রকৃতপক্ষে কমেছে -টিআইবি’র প্রতিবেদন

টিআইবি তাদের গবেষণা পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানায়, ২০১৩ সালের ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে মজুরি ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত প্রথম গ্রেডে নতুন মজুরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা।
কিন্তু প্রতিবছর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ ২০১৩ সালের বেতন কাঠামো অনুসারে ২০১৮ সালেই এ গ্রেডে মজুরি হওয়ার কথা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। সেই হিসেবে এ মজুরি ২৮ শতাংশ তথা ২ হাজার ৪০৫ টাকা কমেছে। একইভাবে প্রতিটি গ্রেডে নতুন কাঠামোতে ২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি কমেছে। যা গড়ে ২৬ শতাংশ মজুরি কমেছে।
এছাড়া জিডিপির হারে তুলনাযোগ্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশে মজুরি সব থেকে কম। বাংলাদেশে নূন্যতম মজুরি ১০১ ডলার। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ কম্বোডিয়ায় ১৯৭ ডলার, ভারতে ১৬০ ডলার, ভিয়েতনামে ১৩৬ ডলার, ফিলিপাইনে ১৭০ ডলার। কম্বোডিয়ার সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে নূন্যতম মজুরি হওয়ার কথা ২০২ ডলার। এছাড়া অসঙ্গত মজুরি বৃদ্ধির কারণে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ৫ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে ৩৫ টি মামলা করা হয়েছে। আরো নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তাদের। এছাড়া এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৬৮টি কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত, ৪০ বছরের ঊর্ধের শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত ও জোর করে ইস্তফাপত্রে সাক্ষর নেয়া হয়। এসব কারাখানায় আবার চাকুরিচ্যুতের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ করানো হচ্ছে।
অন্যদিকে টিআইবি তাদের গবেষণায় বলেছে, গবেষণার আওতাযুক্ত বেশির ভাগ কারখানায় মজুরি বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন টার্গেট ৩০ থেকে ৩৬ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব কারখানায় টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে শ্রমিকরা তাদের কাজ ও টয়লেটে পর্যন্ত যেতে পারছে না। অনেক কারখানায় আবার টার্গেট পূরণ করতে মজুরিবিহীন অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে নেয়। এছাড়া শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালমন্দ করার অভিযোগ তো রয়েছেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মার্তৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস কার্যকর হলেও শ্রম আইনে সেটি ১৬ সপ্তাহ রয়ে গেছে। যদিও প্রসবকালীন সময়ের ৮ সপ্তাহ আগে ছুটি সুবিধা কার্যকর হতে শুরু করেছে। এরপরেও অনেক কারখানার বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন সময়ে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়ে গেছে। এর বাইরে অধিকাংশ শ্রমিক তার প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কে জানে না। কারখানাগুলোও তাদের প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কে জানায় না এবং ছুটি প্রদান করে না। এদিকে পোশাক খাতের সব থেকে বড় ট্রাজেডি রানা প্লাজা ধ্বসের (২৪শে এপ্রিল) ঘটনার বার্ষিকী সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় করা এ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সব শ্রমিককে ন্যায্য পাওনা ও পুনর্বাসন করা হয়নি। এখনও রানা প্লাজার ৫১ শতাংশ শ্রমিক বেকার রয়েছে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণও যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। রানা প্লাজার মালিক ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে ফোজদারি ও শ্রমিক আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। রানা প্লাজার মামলা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের কথা বলা হয়। এছাড়া তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলার ২০১৫ সালে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলেও এ পর্যন্ত ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। একইভাবে স্পেকট্রাম ফ্যাশন মালিকের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান রাখা হয়। মামলার অগ্রগতি না হলে মালিকপক্ষ মনে করবে, আইন অমান্য করে পার পাওয়া যায়।
এছাড়া কারখানাগুলোয় অগ্নি নির্বাপন বিধিমালা, ২০১৪ মালিকপক্ষের চাপে বিধিমালা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকি অব্যাহত, মাসুল হালনাগাদ না হওয়াতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউকভুক্ত অঞ্চলে রাজউকের এখতিয়ারকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভবন নকশা অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজউক নিজেরা এ ধরনের নকশা তদারকি ও ভবন পরিদর্শন করছে না।
তিনি আরে বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। যার অধিকাংশ আবার মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত। নের্তৃত্বের কোন্দল ও রাজনৈতিক আশ্রয়ও রয়েছে। টিআইবি তাদের গবেষণায় পোশাক খাতের আরো নানা অসঙ্গতি ও অগ্রগতি উপস্থাপনের পাশাপাশি ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেন সংস্থার সহকারি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নাজমুল হুদা মিনা ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মো. মোস্তফা কামাল।
Thursday, April 18, 2019
ওয়াসার ৬২ ভাগ গ্রাহক দুর্নীতির শিকার

রিপোর্টে বলা হয়, পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় ওয়াসার গ্রাহকদের। এছাড়া পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গাড়িতে করে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার থেকে ১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে, তা ফুটিয়ে পানযোগ্য করতে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ হয় বলে জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনের মাধ্যমে এখনো সুপেয় পানি সরবরাহ করতে পারছে না। এ কারণে ওয়াসার ৯১ শতাংশ গ্রাহক খাবার পানি ফুটিয়ে পান করেন। আর ওয়াসার পানি ফোটাতে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তার দাম ৩৩২ কোটি টাকা।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মো. শাহানুর রহমান ও মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি পানের কারণে (জুলাই ২০১৭-জুন ২০১৮) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আবাসিক ও এলআইসি এলাকায় ২৪.৬ শতাংশ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে ৩৪.৫ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানির গুনগত মান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন। ঢাকা ওয়াসার পানির মান ৫১.৫ শতাংশ অপরিষ্কার। আর দুর্গন্ধযুক্ত পানির পরিমাণ হচ্ছে ৪১.৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন তৈরিতে টিআইবি ওয়াসার ১০টি জোনের ২ হাজার ৭ শত ৬৮ জন সংযোগ গ্রহণকারী থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে ২০.৬ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পানির সংকটপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে, সূত্রাপুর, জুরাইন, মতিঝিল, কদমতলি, চকবাজার, হাজারিবাগ, ইসলামবাগ, নওয়াবপুর, সিদ্দিকবাজার, ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড, বড়বাগ, আহমেদ নগর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, রসুলবাগ, মাদারটেক, নন্দীপাড়া, মোহাম্মদবাগ, পলাশপুর, মুরাদপুর, জগন্নাথপুর, উত্তরা-৬, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত, মানিকদি, মিরপুর-১১, নাখালপাড়া, ভাসানটেক ও বস্তি এলাকাসমূহ। টিআইবির প্রতিবেদনে চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি। বস্তি এলাকায় ৭১.৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এছাড়া আবাসিক এলাকায় ৪৫.৮ শতাংশ, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪.৯ শতাংশ ও শিল্প এলাকায় ১৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। সার্বিক সেবা গ্রহীতাদের ৪৪.৮ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এদিকে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লক্ষ ঘনমিটার পয়:বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু পয়:পরিশোধনের একটি মাত্র ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। যার সক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার হলেও প্রতিদিন মাত্র ৫০হাজার ঘনমিটার পরিশোধন হয়। বাকি প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন খাল হয়ে পার্শ্ববর্তী নদীগুলোতে চলে যায়।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে গিয়ে ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়ম অনুযাযী আবেদন প্রার্থীর সবোর্চচ বয়স ৫৯ বছর হলেও তা শিথিল করে ৬০ বছর করা হয়। ঠিক পরের বছর উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক পদে নিয়োগের বয়স বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চুক্তি ভিত্তিক পদে নিয়োগে মন্ত্রণালয় অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। ২০১৩ সালে ব্যবস্থপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াসায় রয়েছে জনবলের ঘাটতি। সবমিলিয়ে এখানে প্রায় ৩১ ভাগ পদ খালি রয়েছে। ৪ হাজার ৬৬৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজর ২৪৯ জন। ২০১৬ সাল থেকে চারটি উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক পদের মধ্যে তিনটি পদই শূন্য, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২১টি পদের মধ্যে ৬টি শূন্য। কমিউনিটি প্রোগ্রাম ও কনজ্যুমার রিলেশন বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত জনবল লক্ষ্য করার মতো। অন্যদিকে ৮০৬টি সচল পাম্প পরিচালনার জন্য ২৪শ পাম আপ অপারেটর প্রয়োজন। অপারেটর আছে মাত্র ৪৫২জন। পাম্প অপারেটরদের দৈনিক ২২ ঘন্টা কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব পরিদর্শকের ৩১০টি পদের বিপরীত ১৪০টি পদই খালি রয়েছে।
গবেষণার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। নিয়োগ, গ্রাহকসেবা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি আছে। এ থেকে উত্তরণে পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার মূল্য নির্ধারণে রেগুলেটরি কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে টিআইবি । এছাড়া ব্যবহার অনুযায়ী সেবার মূল্য নির্ধারণ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা একক কর্তৃপক্ষের অধীনে রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।
Wednesday, January 30, 2019
বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে, বিশ্বে অবস্থান ১৩তম -টিআই’র রিপোর্ট

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১০০ ভিত্তিতে এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবার ২ পয়েন্ট কমে ২৬ হয়েছে। এই স্কেলে শূন্য স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসনের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমেছে। তালিকার নিম্নক্রমানুযায়ী ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩তম, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৪ ধাপ নিম্নে এবং ঊর্ধ্ব ক্রমানুযায়ী ১৪৯তম, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬ ধাপ অবনতি। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে।
টিআই’র এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় এবারো সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া; স্কোর গতবারের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হলেও অবস্থানের নড়চড় হয়নি।
এরপরে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, সাউথ সুদান, ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, সুদান, গিনি-বিসাউ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আফগানিস্তান ও লিবিয়া। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৮৮ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে উঠে এসেছে ডেনমার্ক। স্কোর কমায় গতবারের তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড এবার নেমে গেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। এর পরে রয়েছে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও লুক্সেমবার্গ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবারের সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। ৬৮ স্কোর নিয়ে ভুটানের অবস্থান সূচকের ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী ২৫ নম্বরে। এরপর ভারত ৭৮ (স্কোর ৪১), শ্রীলঙ্কা ৮৯ (স্কোর ৩৮), পাকিস্তান ১১৭ (স্কোর ৩৩), মালদ্বীপ ১২৪ (স্কোর ৩১), নেপাল ১২৪ (স্কোর ৩১) এবং আফগানিস্তান ১৭২তম (স্কোর ১৬) অবস্থানে রয়েছে। ২৬ স্কোরে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও উগান্ডা।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে নিম্ন ও মধ্যম সারিতে ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশ আশানুরূপ উন্নতি করতে পারছে না। আমাদের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে এখন। দল ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ দেখানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সংবাদ সম্মেলনে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন ইফতেখারুজ্জামান। সেই সঙ্গে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এজন্য জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। এই ধরনের কৌশল প্রণয়ন করা উচিত এবং এটা করা সম্ভব। ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে না পারলে শূন্য সহিষ্ণুতার বিষয়টি বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে তারা সরকারের আজ্ঞাবহ নয়, সেই ম্যান্ডেট তাদের আছে। পরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে যেসব উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বা অভিযুক্ত অথবা দুর্নীতি করেছেন, খুব কম ক্ষেত্রেই তারা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিতে আমাদের অবস্থান বৈশ্বিক অবস্থানের চেয়ে অনেক নিচে। এখানে আত্মতুষ্টির কোনো অবস্থা নেই। আমাদের অপার সম্ভাবনার বিষয়টি দুর্নীতির কারণে আটকে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ এখানে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ঘোষণা থাকলেও এটার বাস্তবায়ন সেভাবে নেই। উচ্চ পর্যায়ের লোকদের বিচারের আওতায় আনার সেরকম উদাহরণ কম। ব্যাংকখাতে অবারিত দুর্নীতি, জালিয়াতি, ভূমি-নদী-জলাশয় দখল, সরকারি ক্রয়খাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্নীতি এক ধরনের ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি স্পষ্ট।
এখানে ব্যাংক জালিয়াতি, ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা, রাজনৈতিক প্রভাব, সারা দেশে বিভিন্নভাবে ভূমি সেক্টরে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় ক্রয়খাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্রমবর্ধমান হারে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের দৃষ্টান্ত খুবই খারাপ। আজকের (গতকাল) গণমাধ্যমেও অর্থপাচারের দৃষ্টান্তের খবর অত্যন্ত বিব্রতকর ও নেতিবাচক। দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা এবং স্বাধীনভাবে কাজ না করার বিষয়গুলোও ক্রমাগতভাবে দুর্বল হচ্ছে। দুদকের কাজের ক্ষেত্রে পদে পদে জবাবদিহিতার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হবে। এককভাবে দুর্নীতি দমনের এ প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি দমন বা কমিয়ে আনতে পারবে না। এজন্য অপরাপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সক্রিয় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন টিআইবি’র এই নির্বাহী পরিচালক। আইনের শাসনের যে পরিবেশ সেখানেও ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে যাদের ভয়েস খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেই নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমও শঙ্কিত। কারণ তাদের কণ্ঠস্বর রোধ করা হয়েছে জিডিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন দিয়ে। এক্ষেত্রে পরিবর্তন জরুরি। এটি প্রথম সংসদে সংশোধনের প্রস্তাব করেন তিনি।
এবারের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। তার ওই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি। এখন বাস্তবায়নের পালা। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, এনবিআর, অর্থনৈতিক দুর্নীতির তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আসামিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতি দমনের বিষয়টি হতে হবে জিরো টলারেন্স। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। আর নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণের স্বাধীন মত প্রকাশের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে টিআইবি’র ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতির ফ্যাক্ট ও ফিগার দেন: দুদক চেয়ারম্যান
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কীসের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দুর্নীতির হিসাব করেছে, সে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল প্রকাশিত টিআই’র প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল মাহমুদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টিআইকে আমরা আগেও বলেছি যে, আপনারা আপনাদের রিপোর্টের ম্যাথডোলজি আমাদের জানান এবং ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার দেন। তার মতে, দুর্নীতি কমা-বাড়ার সংখ্যা দিয়ে বোঝানো যথেষ্ট নয়। এই সংখ্যা, নাম্বার। এই নাম্বারই যথেষ্ট না। আপনাকে ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার দিয়ে বলতে হবে, দুর্নীতি এইভাবে হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তারা শুধু বলেছে দুর্নীতি কমেনি, বেড়েছে, আমরা আশা করবো রিপোর্টে থাকবে যে দুর্নীতি কেন কমেনি, বেড়েছে। দুর্নীতি বাড়ার কারণ কী? সেই কারণগুলো অ্যাড্রেস করার জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন? যদি টিআই রিপোর্টে সেটা না থাকে, তাহলে এই রিপোর্ট কোনোক্রমেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কোনো গবেষণা বিতর্কিত হলেও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনকে তিনি পক্ষপাতমূলক বলতে নারাজ। টিআই’র প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান না করলেও বাংলাদেশে দুর্নীতির পরিস্থিতি নিম্নগতির দিকে বলে দাবি করেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, টিআই বলুক যে অমুক জায়গায় অমুক সরকারি লোক, ওই সরকারি কর্মকর্তা-রাজনৈতিক ব্যক্তি ক্ষমতা দিয়ে ওই কাজ করেছে। সেটা তো আমাদের জন্য সুখকর হয়।
সংস্থাটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে (টিআইবি) নিজেদের সহযোগী উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লোকাল টিআইকে বলবো, আপনারা অন্ধভাবে টিআইয়ের যে ম্যাথডলজি ইন্টারন্যাশনালি ইউজ করে, সেটা যে সবচেয়ে ভালো, তা না। প্রত্যেক দেশের যে কনটেক্সট, সেই কনটেক্সট অনুসারে টিআই রিসার্চ করেছে কি-না, আমার ধারণা নেই। টিআইয়ের রিপোর্ট পেলে আমরা জানাবো। দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধ কাজে দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না-টিআইবি’র এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদেরকে দুর্বল বলাটা, উনারাই দুর্বল। আজ পর্যন্ত আমরা কখনো বলিনি যে, আমরা স্বাধীন নই। আমরা অ্যাবসলিউটলি স্বাধীন। সেই কারণে আইনি ম্যান্ডেট নিয়ে যাচ্ছি, কেউ তো আমাদের বাধা দিচ্ছে না। তবে বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে না পারার সমালোচনা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, এটা সত্য।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




