Wednesday, April 13, 2016

আমি যেখানে যাই যৌনতা ধাওয়া করে

নতুন চাকরি। তবু সাহসে ভর করে একদিন সটান গিয়ে হাজির হয়েছিলাম বস্-এর কাছে। আর্জি একটাই, ছুটি চাই। উনি (এখনও কর্মসূত্রে আমাকে স্নেহ করেন) তাজ্জব, ‘‘ইয়ং ম্যান, ইউ হ্যাভ আ নিউ জব ইন ইওর পকেট।’’ বলেছিলাম, ‘‘আই নো স্যর। বাট আই অ্যাম সাফারিং ফ্রম ডিফ্রেশন ডিনে। নিড আ ভেকেশন। উইল রিটার্ন ফ্রেশ অ্যান্ড ফিট টু হিট দ্য বুল।’’ উনি খুশি হয়েছিলেন। অবসাদের কারণ জানতে চাননি। এক কথায় দশ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন। আমিও পাড়ি দিয়েছিলাম দার্জিলিং।
বাবা-মা অবাক হয়েছিলেন। সারা জীবন বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড় করে বেড়ানো এই আমি আচমকা কেন একা একা ‘ঘুম’-এর দেশে চললাম, সেটা তাঁদের ভাবিয়েছিল। কিন্তু আমার ও সবে মাথা দেওয়ার সময় নেই। হোটেল বুক করে সটান চড়ে পড়েছিলাম ট্রেনে। ‘‘মেফেয়ার’’-এর ঘরটায় যখন ঢুকলাম, মনে হল, এটাই স্বর্গ। মৃত্যুর মতো সুন্দর বস্তু যদি কোথাও পূর্ণতা পেয়ে থাকে, তা হলে সেটা এখানেই। ঢুকেই একটা বসার ঘর, সেটা পেরিয়ে বেডরুম। বসার ঘর থেকে বাইরে এলেই একটা ছোট্ট উঠোন মতো জায়গা। ছোট ছোট ঘাস, কেয়ারি করা ফুলগাছ। আর সামনে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় পেরিয়ে মেঘেদের ছোঁওয়াছুঁয়ি খেলা।
ব্ল্যাকমেল-পর্বের পরে আমার এই বিশ্রামটা দরকার ছিল। দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। টিপটিপ বৃষ্টি, আকাশে মেঘ। হাঁটতে হাঁটতে ম্যালের পিছন দিকে একটা ফাঁকা জায়গায় চলে গেলাম। গাছে-মেঘে মিশে এখানে বেশ অন্ধকার। নৈঃশব্দের সঙ্গে দিব্য ঝগড়া চালিয়ে যাচ্ছে ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার হাতে চাকরি রয়েছে, সামনে ওই খাদ-পাহাড়ের সারির মতোই পড়ে রয়েছে কেরিয়ার, উন্নতি। অর্থভিত্তি মজবুত, যা আমার শিক্ষা আরও মজবুত করার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে দিয়েছে। ওই দূরে আলো, হাত বাড়িয়েছে আমার দিকে। আর এই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আমি। বেছে নিতে হবে। এই আলো, এই আঁধারিতে জীবন চলবে না। বাঁধ দিতে হবে। শরীরে বাঁধ দেওয়ার আগে আগল দিতে হবে মনে।
সিদ্ধান্ত নিলাম কলকাতায় ফিরে ট্রান্সফার নেব। ব্যাঙ্গালোর হলে ফরেন-টায় সুবিধে হবে। তাই দক্ষিণেই যাব ভেবে নিলাম। দক্ষিণে যাওয়া আমার হয়েছিল। সেখান থেকে পশ্চিমেও যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই দশটা দিনে যে ফের ঝড় বয়ে যাবে, সেটা আঁচ করা আমার পক্ষে কষ্টকর ছিল। এই যে একা দাঁড়িয়ে এত পরিকল্পনা করা, এ সবই আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আছড়ে পড়বে এই খাদে।
একটা সিগারেট ধরালাম। কিংগ সাইজ গোল্ড ফ্লেক। আমার বরাবরের প্রিয়। এক ইংরেজ কবির কবিতায় একটা শব্দ পড়েছলাম, ‘‘ভার্ডুরাস গ্লুম’’। অন্ধকার সবুজ। সেই অন্ধকার সবুজে আমার সিগারেটের ধূসর ধোঁওয়া ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। টিপটিপ করে বৃষ্টির ফোঁটা বিশাল ছাতাটায় পড়ছে। গায়ে লম্বা জ্যাকেটে শীত বাধ মানছে বেশ। স্যাঁতসেঁতে পাহাড় আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে এই ভেজা দার্জিলিং। আগামী দশ দিনে আমার জীবনে আরও একটা অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। এখন চলছে তার পরদা ওঠানোর পালা।
(ক্রমশ...)
সূত্র: এবেলা

তারকারা নেই রানও নেই

গতকালকের আগ পর্যন্ত জাতীয় লিগের ওয়ানডেতে যে ১৮টি ইনিংসের খেলা হয়েছে, ১১টিতেই দুই শ পার করেছে দলগুলো। এর মধ্যে জাতীয় লিগ তিন শতাধিক রানের ইনিংস দেখেছে, দেখেছে ২৭৩ রান ধাওয়া করে পাওয়া জয়ও।
সেই জাতীয় লিগের গতকাল কী হাল! তিন ভেন্যুর কোথাও একটিও দুই শ ছোঁয়া ইনিংসের দেখা মিলল না। দিনের সর্বোচ্চ ১৭০ রানের ইনিংস খেলল ঢাকা। আর তাতেই মিরপুরে ঢাকার ৩৪ রানের জয় বরিশালের বিপক্ষে। ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এই ম্যাচের নায়ক ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ শরীফ।
বাকি ম্যাচগুলোর হাল এর চেয়েও খারাপ। রাজশাহীতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১২২ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিততে হয়েছে খুলনাকে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে একমাত্র আয়েশি দিন কাটিয়েছে রাজশাহী। বগুড়ায় কোনো উইকেট না হারিয়ে সিলেটের করা ৯৪ রান টপকে গেছে খালেদ মাসুদের দল।
ঢাকা ও রাজশাহীর এই জয়ের ফলে দুই দলই এখন ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্টের মালিক। আর এবারের লিগে প্রথম ম্যাচ হারা বরিশালেরও ৪ ম্যাচে সমান পয়েন্ট। ফলে সেরা চারে পৌঁছানোর লড়াইটা বেশ জমে গেল। তবে এর চেয়ে বড় আলোচ্য এই রাউন্ডে রান-খরা।
এমন রান-খরার একটা সহজবোধ্য ব্যাখ্যা আছে—জাতীয় লিগ থেকে এই রাউন্ডে তুলে আনা হয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ২৫ খেলোয়াড়ই যে এখন দেশের সেরা খেলোয়াড়, এটা প্রমাণ করার দায়ই যেন কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বাইরে থাকা ব্যাটসম্যানরা!
অবশ্য এসব বললে বোলারদের কৃতিত্বটাকে খাটো করে দেখানো হয়। অন্তত মিরপুরে মোহাম্মদ শরীফ যে পারফরম্যান্স করলেন, তিনি তো আপত্তি করতেই পারেন। ওদিকে জাতীয় দল অনুশীলন করছে, আর এদিকে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ; গতকাল সকালে এই ছিল মিরপুরের দৃশ্য।
৫৯ রান করা মেহরাব হোসেন জুনিয়র ছাড়া বরিশালের বোলারদের বিপক্ষে কেউই সেভাবে রুখে দাঁড়াতে পারেননি। মিরপুরের উইকেটে ১৭০ রান মোটেও বড় কিছু নয়। কিন্তু সেই রানটাকেই জয়ের জন্য ‘যথেষ্ট’ করে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন খোদ ঢাকার অধিনায়ক শরীফ। নিজের পরপর তিন ওভারে বরিশালের প্রথম তিন উইকেট নিয়ে তাণ্ডব শুরু করলেন জাতীয় দলের আপাতত সাবেক এই পেসার।
ঢাকার লেগস্পিনার নূর হোসেন মাঝে ৩ উইকেট নিয়ে বরিশালকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছিলেন। বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরাফাত সালাউদ্দিন। ৩৪ রান করা সালাউদ্দিনকেও ফিরিয়েছেন শরীফ। শেষ পর্যন্ত কামরুল ইসলামকে আউট করে বরিশালের ইনিংস আক্ষরিক অর্থে শেষ করেছেন এবং নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেছেন তিনি।
বৃষ্টিতে বগুড়ায় সিলেট-রাজশাহী ম্যাচটা ৪৫ ওভারে নেমে এসেছিল। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে হয়নি। সানজামুল ও আলাউদ্দিন বাবু ৩টি করে উইকেট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেটকে ৩৪.৩ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট করে দেওয়ার মিশনে। ইনিংস শুরু করতে নামা ফরহাদ রেজার ৭৭ রানে বিনা ক্ষয়ক্ষতিতে সে রান পাড়ি দিয়ে ফেলেছে রাজশাহী।
আগের রাতের বৃষ্টিতে ছোট হয়ে গিয়েছিল রাজশাহীতে চট্টগ্রাম-খুলনা ম্যাচটিও। ২৩ ওভারের সে ম্যাচে ফয়সালের ৪৫ ও আফতাবের ৩১ বলে ৩১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পেরেছিল চট্টগ্রাম।
এই রান পাড়ি দিতে গিয়েই হারতে বসেছিল খুলনা। ২১তম ওভারে ১০৬ রান তুলতে তারা হারিয়ে ফেলেছিল ৮ উইকেট। বিশ্বনাথকে (৫) সঙ্গে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দিয়ে খুলনাকে জয় এনে দিয়েছেন ২৪ রান করা জিয়াউর রহমান।

মোসাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

পানামা সিটিতে মোসাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয়ের বাইরে
গতকাল মঙ্গলবার পাহারায় রয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা
পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রধান কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের ঘটনা ঘটল। সরকারি আইনজীবীরা বলছেন, পানামা সিটিতে মোসাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয়ে অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আসেনি বাধা-বিপত্তি। গতকালের ওই অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে অপরাধ ইউনিটের কর্মকর্তারাও ছিলেন। অভিযানের সময় কর্মকর্তারা মোসাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয়ের চারদিক ঘিরে রাখেন। আইনজীবীরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথির খোঁজে তল্লাশি চালান। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বলা হয়, যেসব খবর বেরিয়েছে, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথির খোঁজ পেতেই ওই অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। মোসাক ফনসেকা এক টুইটার বার্তায় লিখেছে, তারা তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। সম্প্রতি মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়। এতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ফাঁস হওয়া নথিতে বিশেষ কিছু কর রেয়াত অঞ্চলের সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র, সরকারপ্রধানসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা তাঁদের আত্মীয়-বন্ধুদের অর্থ পাচারের প্রমাণ উঠে এসেছে। মোসাক ফনসেকা অন্যায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা হ্যাকিংয়ের শিকার। আর তথ্যগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নথি ফাঁসের পরপরই পানামা সরকার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।তথাকথিত (অফশোর) আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হুয়ান কার্লোস ভারেলা।

স্পিকার রায়ান প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন না

পল রায়ান
সব জল্পনা-কল্পনায় নিজেই জল ঢেলে দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার পল রায়ান। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন না তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে রায়ান স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি তাঁর দলের মনোনয়ন চান না। সে রকম কোনো মনোনয়ন তিনি গ্রহণও করবেন না। রিপাবলিকান দলের বিলম্বিত মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রায়ানের নাম শোনা যাচ্ছিল। ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা ও চাঁদাদাতা রায়ানকে সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছিলেন। দলীয় মনোনয়ন গ্রহণের জন্য তাঁর ওপর তাঁরা চাপ সৃষ্টি করছিলেন। সম্প্রতি রায়ান নিজে দলীয় নীতিমালা ব্যাখ্যা করে একাধিক বিবৃতি দিয়েছেন। এক ভিডিও-বার্তায় দলীয় বিভক্তির বদলে ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি। এসব কারণে তাঁকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় জল্পনা-কল্পনার বিস্তার ঘটে। রায়ান জানান, দলীয় সদস্যদের অনুরোধে স্পিকারের পদ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। রায়ান জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এবং সে জন্য লড়াই করছেন—এমন একজনের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নিতে হবে।

রুসেফকে সরানোর পক্ষে অভিশংসন কমিটি

দিলমা রুসেফ
ব্রাজিলের কংগ্রেস কমিটি গতকাল সোমবার সে দেশের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসিত করার সুপারিশ করেছে। দেশটির নিম্নকক্ষে এ বিষয়ে ভোটাভুটি হবে। ভোটের ফলের ওপর নির্ভর করবে দিলমা রুসেফকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে কি না। কমিটিতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ৩৮ জনের মধ্যে ২৭ জন ভোট দেন। বিরোধী ডেপুটি হোভায়ের আরেন্টস বলেন, এটি ব্রাজিলের জনগণের বিজয়। তিনি বলেন, চেম্বার অব ডেপুটিতে অনুষ্ঠিত ভোটে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে দিলমা রুসেফকে শিগগিরই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অভিশংসনের বিপক্ষে যাতে যথেষ্ট ভোট পড়ে, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রুসেফ। গতকালের জরিপ বলছে, ৫১৩ ডেপুটিবিশিষ্ট নিম্নকক্ষে দিলমা রুসেফের পক্ষে ২৯৮ ভোট পড়ে। তবে রুসেফের অভিশংসনের জন্য ৩৪২ ভোট প্রয়োজন। দুর্নীতির সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির জন্য ক্ষমতাসীন রুসেফ সরকার সমালোচিত।

অক্ষয়ের ছাত্রীর সাহস!

শ্রেয়া নায়েক
ভারতের মুম্বাইয়ের অদূরে আন্ধেরি এলাকার তরুণী শ্রেয়া নায়েক (১৯)। গত সপ্তাহে কলেজের একটি প্রজেক্টের কাজ সেরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এমন সময় লক্ষ্য করেন, হোটেল পরিচারকের পোশাক পড়া এক ব্যক্তি নোংরা দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন। একটু পরেই ওই ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে তাঁর গায়ে হাত দেয়। এতে অন্য মেয়েদের মতো ভয়ে কুঁকড়ে যাননি তিনি। বরং শার্টের কলার ধরে ওই ব্যক্তিকে বেদম পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন শ্রেয়া। নিজের ছাত্রীর এই সাহসী কাণ্ডে যারপর নাই আনন্দিত বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার। লন্ডনে শুটিং শেষে দেশে ফিরেই এই বলিউড তারকা শ্রেয়াকে অভিনন্দন জানাতে যাবেন বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভি অনলাইনের। ভারতে নির্ভয়া কাণ্ডের পর নারীদের আত্মরক্ষার জন্য আদিত্য থ্যাকারের সঙ্গে যৌথভাবে ওমেনস সেলফ ডিফেন্স সেন্টার (ডব্লিউএসডিসি) নামে একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন অক্ষয় কুমার। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই বোনের সঙ্গে মার্শাল আর্ট শেখেন শ্রেয়া নায়েক। শ্রেয়া নায়েক বলেন, ‘বাসায় পৌঁছানোর ৩০ সেকেন্ড আগের দূরত্বে ছিলেন তিনি। এমন সময় ওই ব্যক্তি এগিয়ে এসে আমার গায়ে হাত দেয়। এক হাত দিয়ে তাঁকে পিটুনি দেওয়া শুরু করি, আরেক হাতে মোবাইলে মাকে এখানে ডাকার চেষ্টা করি। এ সময় ওই ব্যক্তি আমার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। আমি তাঁর চুল টেনে ধরে বিশেষ কৌশলে পেটানো শুরু করি। এটা আমি ডব্লিউএসডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিখেছিলাম। মার খেয়ে ওই ব্যক্তি অনুনয় করে বলছিল, ‘শুধু তো হাতই দিয়েছি, আর তো কিছু করিনি...’। এ কথা শোনার পর তাঁর শার্টের কলার চেপে ধরে রাস্তার ওপর তাঁকে আছাড় মারি। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে সাহায্য করে। একজন পুলিশকেও খবর দেয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়।’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডি এন নগর থানার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নালাওদে বলেন, ওই ব্যক্তি স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওই তরুণীকে হেনস্তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিগগির তাঁকে আদালতে নেওয়া হবে। শ্রেয়া নায়েক বলেন, ‘আমি বরাবরই একজন অপ্রতিবাদী মেয়ে ছিলাম। কেউ আমার গায়ে হাত দিলে অভিযোগ করার সাহসও আমার ছিল না। কিন্তু ডব্লিউএসডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আমাদের আত্মরক্ষার বেশ কিছু কৌশল শেখানো হয়েছে। এটাই মূলত আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে। অক্ষয় স্যারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমাদের এভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন। প্রথমে আমার বাবা-মা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার ব্যাপারে বারণ করেছিলেন। কিন্তু আমি করেছি। আমি চাই প্রত্যেকটি নারী আত্মরক্ষার কৌশল শিখে নিজেদের রক্ষা করুক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্ষয় কুমার শ্রেয়ার সাহসী ভূমিকায় যারপর নাই আনন্দিত। তিনি এখন লন্ডনে শুটিংয়ে আছেন। দেশে ফিরেই শ্রেয়াকে অভিনন্দন জানাতে যাবেন এই বলিউড তারকা।

রুসেফের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট!

দিলমা রুসেফ
লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল টেমেরের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। রুসেফ অভিযোগ করেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর সেই ষড়যন্ত্রকারীদের একজন হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল টেমের। প্রেসিডেন্ট রুসেফকে অভিশংসিত করার পক্ষে দেশটির কংগ্রেস কমিটি সোমবার সুপারিশ করে। দেশটির নিম্নকক্ষে এ বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেন রুসেফ। রুসেফ অভিযোগ করেন, সোমবার মিশেল টেমেরের একটি অডিও বার্তা প্রকাশ হয়েছে। ওই বার্তায় রুসেফের নাম উল্লেখ করা না হলেও সেটাকেই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন রুসেফ। ওই অডিও বার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট টেমের একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গড়ার আহ্বান জানান। ব্রাজিলের কংগ্রেস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নকক্ষে ভোটের ফলের ওপর নির্ভর করবে দিলমা রুসেফকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে কি না। দুর্নীতির সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির জন্য ক্ষমতাসীন রুসেফ সরকার সমালোচিত।

ভোটের পরে বিহুর ঢোলে নাচছে আসাম by তরুণ চক্রবর্তী

বিহুর নাচের মহড়া চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই
ভারতের আসাম রাজ্যের বিধানসভার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচনে সোমবার রেকর্ডসংখ্যক ৮৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটের কারণে আসামের প্রধান উৎসব বিহুর প্রস্তুতি কিছুটা ঝিমিয়ে ছিল। কিন্তু ভোটপর্ব মিটতেই দল-মতনির্বিশেষে অসমিয়ারা বিহুর প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সোমবার রাত থেকেই শুধু ঢোলের বোল আর ‘পেঁপারের’ (বিশেষ ধরনের বাঁশি) সুরে মাতোয়ারা রাজ্য। আজ বুধবার থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুরু। বাঙালিদের নববর্ষের মতোই অসমিয়াদের বিহু। তরুণ-তরুণীরা প্রস্তুত টানা এক মাস ধরে বিহুর ছন্দে মেতে উঠতে। পৌষ সংক্রান্তিতে ‘ভোগালী’, কার্তিক সংক্রান্তির ‘কাঙালী’ আর এই চৈত্র সংক্রান্তিতে ‘রঙালী’ বিহু উদ্যাপিত হয়। রঙালী শব্দ থেকেই স্পষ্ট, রঙ্গে মেতে ওঠার এ উৎসব। বিহু উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফে উৎসবকালীন বোনাস ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে বিহু মঞ্চ। নাচ-গানের পাশাপাশি এরই মধ্যে চলছে পিঠাসহ ঐতিহ্যবাহী খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। সেই সঙ্গে চলছে বিশেষ ধরনের গামছা, ‘গামোচা’ কেনার পালাও। সাদার ওপর লাল সুতার কাজ করা এই গামোচা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অসমিয়াদের কাছে। সম্মানীয়দের উপহার হিসেবে দেওয়া হয় এটি। রাজ্যের বিশিষ্ট বিহু বিশারদ নীল বরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিটি অসমিয়ার কাছেই বিহু প্রাণের উৎসব। তাই সেই উৎসবকে সফল করতে প্রস্তুত সকলেই।’ বিহুর আরেক বিশেষজ্ঞ জীনা রাজকুমারীর মতে, ‘অসমিয়াদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি লুকিয়ে আছে এর সুরে-ছন্দে।’ উইলিয়াম ও কেট আসামে: বিহুর এই আনন্দের মধ্যে গতকালই আসামে আসার কথা ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ডিউক ও ডাচেস অব কেমব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সকাল থেকেই উপস্থিত তেজপুরে। সেখানেই বিশেষ বিমানে নামবেন তাঁরা। একশৃঙ্গ গন্ডারদের বিচরণভূমি বিখ্যাত কাজিরাঙা অভয়ারণ্যে থাকবেন এই দম্পতি।

নিউইয়র্কের অভিবাসীদের ভোট চাইলেন হিলারি

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে সোমবার একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশিসহ
এশীয় অভিবাসীদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন হিলারি ক্লিনটন
এবার দেশের সবচেয়ে জনবহুল নগর নিউইয়র্ক সিটিতে ভোট চাইলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। গত সোমবার বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে এসেছিলেন হিলারি। ১৯ এপ্রিল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইপর্বের পরবর্তী নির্বাচন। তার আগে বিশ্বের সবচেয়ে বহুজাতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কুইন্স বরোর বাসিন্দাদের কাছে ভোট চাইলেন হিলারি। ডেমোক্রেটিক পার্টির ও অভিবাসী নাগরিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে হিলারি কুইন্সের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষস্থানীয় মনোনয়নপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। সাবেক ফার্স্ট লেডি বলেন, এই অঞ্চলে তাঁর (ট্রাম্পের) জন্ম হলে কী হবে, তিনি মোটেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন না। ‘জ্যাকসন ডাইনারস’ নামে এক রেস্তোরাঁয় হিলারি অল্প সময়ের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বেরিয়ে যাওয়ার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় হিলারির সঙ্গে ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের সহ-প্রধান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি। তিনি উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে হিলারিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় জানান, এখানে বসবাসকারী অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের মুখোমুখি হয়ে থাকেন। জবাবে হিলারি বলেন, ট্রাম্প যে রাজনীতির সমর্থক, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে সোমবার বার্তা সংস্থা এপির নেওয়া এক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই জরিপ অনুসারে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সুপ্রিম কোর্টে সঠিক বিচারক মনোনয়ন প্রশ্নে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারির নেতৃত্বের প্রতি বেশি আস্থা পোষণ করেন। তবে অর্থনীতির প্রশ্নে হিলারি ও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রায় সমান।

ব্রাজিলে রুসেফের অভিশংসন নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ

দিলমা রুসেফ
ব্রাজিলের সংকটে পড়া প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আরেক ধাপ এগিয়েছে। দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক চাপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট রুসেফকে অভিশংসনের পক্ষে গত সোমবার মত দিয়েছে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটি। সবার দৃষ্টি এখন ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ভোটাভুটির ওপর। ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সময় দেশটির আর্থিক দুরবস্থা ঢাকতে পরিসংখ্যানে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছেন—এ অভিযোগে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার রুসেফের সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর অভিশংসনের জন্য কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির ভোটাভুটি। মূলত প্রতীকী এ ভোটে ৬৫ সদস্যের কমিটির ৩৮ জন অভিশংসনের পক্ষে এবং ২৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন। এখন অভিশংসনের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৩৪২ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন লাগবে। তা না হলে ভেস্তে যাবে প্রস্তাবটি। আর তা অনুমোদিত হয়ে পরে উচ্চকক্ষ সিনেটেও দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে ১৮০ দিনের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে হবে দিলমা রুসেফকে। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলাসহ রুসেফের সমর্থকেরাও তাঁর পক্ষে মাঠে আছেন। তাঁরা রুসেফের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা হচ্ছে’—এ রকম মন্তব্য-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করছেন সভা-সমাবেশে। ব্রাজিলের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫১৩ আইনপ্রণেতার ওপর সোমবার দৈনিক পত্রিকা এসতাদাও-এ প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, ২৯২ জন ডেপুটি রুসেফের অভিশংসনের পক্ষে এবং ১১৫ জন বিপক্ষে। কিন্তু ১০৬ জন সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে নিম্নকক্ষের ওই ডেপুটিরা কী করবেন এর ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট রুসেফের ভাগ্য। এদিকে সোমবার প্রকাশিত একটি রেকর্ডিং নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এতে রুসেফের কাছ থেকে ক্ষমতা বুঝে নিলে কী ভাষণ দেবেন তার চর্চা করতে শোনা যায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরকে। রুসেফের ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, এই রেকর্ডিং নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা’র প্রমাণ।

ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। দুদক সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মামলার অন্য আসামি দুজন হলেন একুশে টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফতাবুল আলম ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ফজলুর রহমান শিকদার। আবদুস সালামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়, সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আবদুস সালাম একুশে টিভির চেয়ারম্যান থাকাকালে প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা তোলেন। পরে সে টাকা দিয়ে ৩০ হাজার ইউরো কিনে সংরক্ষণ ও পাচার করেন। ইটিভির সাবেক এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক।

শিশু চুরির চেষ্টার অভিযোগে আটক ১

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া ব্যক্তির নাম শাহাজুদ্দিন। তাঁকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরানুল ইসলাম বলেন, শিশু চুরির চেষ্টার সময় শাহাজুদ্দিনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল দিবাগত রাতে ১১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে খাদিজা আক্তার নামের আট মাস বয়সী একটি শিশুকে চুরির চেষ্টার অভিযোগে শাহাজুদ্দিনকে ধরা হয়। শিশুটির মা আকলিমা বেগম ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় শাহাজুদ্দিন শিশুটিকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আনসারের সদস্যদের সহায়তায় ওয়ার্ড বয় তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে শাহাজুদ্দিনকে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়। তারা তাঁকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। শিশুটির বাবার নাম আহসান উল্লাহ। বাড়ি কেরানীগঞ্জ।

১৬ দিন পর মায়ের কোলে তনুর ভাইয়ের বন্ধু

‘নিখোঁজের’ ১৬ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মায়ের কোলে ফিরেছেন সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ির কাছের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে পাওয়া যায় তাঁকে। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর ২৭ মার্চ রাত দেড়টায় একদল লোক মিজানুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ওই লোকেরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিলেন। গতকাল সকাল নয়টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নারায়ণসার গ্রামের নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মিজানুর। তাঁর কথাবার্তা ছিল এলোমেলো। তাঁকে কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত মনে হয়। বারবার বলছিলেন, কারা, কোথায় তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল বুঝতে পারেননি। মিজানুর বলেন, ‘বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর আমাকে মাইক্রোবাসে বসানো হয়। এরপর চোখ গামছাজাতীয় কিছু দিয়ে বেঁধে ফেলে। দুই হাতও পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেলে। হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ঘরে টানা ১৫ দিন রাখা হয়। ওই ঘরের মেঝেতেই খাওয়া ও ঘুমানো হতো। খাওয়ার সময় চোখ থেকে গামছা একটু ওপরে উঠিয়ে রাখা হতো। ডান হাত খুলে দেওয়া হতো। খাওয়া শেষে আবার বেঁধে ফেলত। আমার সঙ্গে আরও চারজন ছিল। তাদের পৃথক কক্ষেই রাখা হতো।’ মিজানুর আরও বলেন, ‘২৭ মার্চ গভীর রাতে তুলে নেওয়ার সময় আমার পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি ছিল। ওই পোশাকেই টানা ১৫ দিন ছিলাম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই চোখ বন্ধ থাকত। মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। তিন বেলাই খাবার দিত। সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন থাকত। কোনো মারধর করেনি। তবে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এখন আমার মনে নেই। আমার মাথা ঘোরে।’ তনু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে গিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, ‘সেনানিবাস-সংলগ্ন নাজিরাবাজার এলাকায় একটি মানববন্ধন হয়। ওই মানববন্ধনে গিয়ে বিচার চাইছি। আমার তো মা-বোন আছে, তাই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।’ কীভাবে ফিরে আসা হলো এবং এর পরের অনুভূতি প্রসঙ্গে মিজানুর বলেন, ‘পাপ তো আর করিনি, তাই ফিরে এসেছি। সবার দোয়ায় ফিরে এসেছি। আল্লাহ বাঁচায়ে এনেছে। ভোরে নিজেকে দেখলাম মহাসড়কের আইল্যান্ডে। এরপর দেখি, চাচা আমাকে ধরেছেন। তারপর আর বলতে পারব না। চাচা জানেন তিনি কীভাবে দেখেছেন।’ এ প্রসঙ্গে মিজানুরের চাচা মো. সেলিম বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বেরিয়েছি। ওই সময় দেখলাম, ফিলিং স্টেশনের কাছে আইল্যান্ডের মধ্যে মিজানুর ঘোরাঘুরি করছে। এ সময় তাঁর চোখ ও হাত বাঁধা ছিল না। পরে বাড়িতে নিয়ে এলাম।’ তবে ঘটনা সম্পর্কে মিজানুর তাঁর নিকট আত্মীয়দের আরও কিছু বলেছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করে আত্মীয়দের কয়েকজন বলেন, ২৭ মার্চ রাতেই মিজানুরকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরের মেঝেতে রাখা হয় তাঁকে। ওই ঘরে ছিলেন আরও চারজন। সেখানে মিজানুরকে তনু প্রসঙ্গে কয়েক দফা জিজ্ঞাসা করা হয়। গত রোববার রাতে তাঁকে বলা হয়, ‘দুই দিনের মধ্যেই তোকে ছেড়ে দেব।’ এরপর সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাঁকে চোখ বেঁধে ঢাকার সায়েদাবাদ এনে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাঁকে হুঁশিয়ার করা হয়। মিজানুরের বাবা নুরুল ইসলাম ও মা সাহিদা আক্তার বলেন, ছেলে ফিরে এসেছে, এতেই তাঁরা খুশি। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে আমরা পুরো বিষয়টি জানব। নিখোঁজের পর ৩০ মার্চ মিজানুরের পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।’ তনু গত ২০ মার্চ খুন হন। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন বাবা মো. ইয়ার হোসেন। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন-বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত আছে।
মানববন্ধন: তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বিকেল পাঁচটায় কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাজচেতনা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন করে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা শাখা।

ইলিশের ভিড়ে নকল ইলিশ!

আসল-নকল
নববর্ষ উপলক্ষে রুপালি ইলিশের চাহিদা বাড়ায় মাছটির দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগে ইলিশের মতো দেখতে সামুদ্রিক সার্ডিন ও চৌক্কা মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। মাছ দুটি স্বাদে-গন্ধে ইলিশের ধারে-কাছেও নয়। তবে পার্থক্য না বোঝায় ইলিশ ভেবে সার্ডিন ও চৌক্কা কিনে ঠকছেন অনেক ভোক্তা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর কাঁচাবাজারে সাধারণত সার্ডিন ও চৌক্কা মেলে না। তবে বিভিন্ন অলিগলিতে রাতে আলো-আঁধারিতে কিছু ব্যবসায়ী এসব মাছ ইলিশ বলে প্রায়ই বিক্রি করেন। বাংলা নববর্ষের আগে এটি বাড়ে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জাটকা ছাড়াও ইলিশের মতো বা কাছাকাছি দেখতে চাপিলা, সার্ডিন ও চৌক্কা পাওয়া যায়। সরকার ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত ছোট ইলিশকে জাটকা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় ভাষায় সার্ডিনকে টাকিয়া এবং চৌক্কাকে চৌক্কা ফ্যাঁইসা বা চটপটিও বলা হয়। ইনস্টিটিউটের নদীকেন্দ্র, চাঁদপুরের এক গবেষণায় বলা হয়, সার্ডিন মাছ অনেকটা আকারে জাটকার মতো হলেও চৌক্কা বেশ বড় হয়। লম্বায় অনেকটা ইলিশের কাছাকাছি। তবে ইলিশের চেয়ে চওড়ায় বেশ কম। সার্ডিন ও চৌক্কার চোখের আকার বড়। চৌক্কার মাথা লম্বাটে ও সুচালো। সার্ডিনের মাথা বড় ও সামনের অংশ ভোঁতা। তাজা জাটকার গন্ধ ইলিশের মতো। তবে চাপিলা, সার্ডিন ও চৌক্কার গন্ধ তেমন নয়। জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের নদীকেন্দ্র, চাঁদপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার্ডিন ও চৌক্কা সমুদ্রের মাছ হলেও অনেক সময় নদীর মোহনায় চলে আসে। জেলেদের জালে ইলিশের সঙ্গে এসব মাছও ধরা পড়ে। চেহারায় কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় অনেকেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ভালো করে খেয়াল করলে পার্থক্য বোঝা যায়।’ তিনি বলেন, ‘পরিপূর্ণ ইলিশ লম্বায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সার্ডিন ও চৌক্কা আকারে ইলিশের ধারে-কাছে যেতে পারে না।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাগরে সারা বছরই কম-বেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। বিদেশ থেকেও আমদানি হয় সার্ডিন। নববর্ষের আগে বেশি আমদানি হয়। তবে অনেক ধরনের মাছ একসঙ্গে আমদানি হয় বলে কী পরিমাণ সার্ডিন আসে সেই পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আশরাফ হোসেন মাসুদ বলেন, ‘ওমান থেকে সার্ডিন মাছ আমাদের দেশে আসে। দামে কম বলে গরিবের মাছ হিসেবেই আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা।’ পুরান ঢাকার টিকাটুলীর বলধা গার্ডেনের পাশের সড়ক দিয়ে গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলো-আঁধারিতে এক মাছ ব্যবসায়ীর হাঁকডাক শোনা যায়, এক জোড়া ইলিশ মাত্র ৪০০ টাকা। তা শুনে পথচারীদের অনেকে ফিরে তাকান। দরদাম করেন। থালায় ১০-১২টি মাছ। খুঁটিয়ে দেখে বোঝা গেল, মাছগুলো জাটকার মতো দেখতে, তবে একটু অন্য রকম। আসলে এগুলো সার্ডিন মাছ। এগুলো তো ইলিশ না। কী মাছ? জোর করতেই মাছবিক্রেতা বললেন, ‘সমুদ্রের ইলিশ তো, তাই একটু আলাদা।’

বৈশাখী ব্যবসা বাড়ছে by শুভংকর কর্মকার

রাজধানীর বাইরে রিকশাভ্যানে বৈশাখের কেনাকাটা। গতকাল দুপুরে
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকায় ছোটদের পোশাক কিনছেন এক নারী
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে কেনাকাটার উৎসব চলছে। সাধারণ মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে উৎসবটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানেও মিশেছে। ফলে কেবল পোশাক কেনাবেচা বর্ষবরণের ব্যবসা-বাণিজ্যে আটকে নেই, বরং পরিধি বেড়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পেয়েছেন। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ভাতা দিতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে বৈশাখকেন্দ্রিক ছোট অর্থনীতির আকারটি ধীরে ধীরে বাড়ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য–পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, পয়লা বৈশাখে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উৎসব ভাতা ইত্যাদি কারণে এবারের বৈশাখী ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালো হচ্ছে। অবশ্য টাকার অঙ্কের গণ্ডির মধ্যে বৈশাখের অর্থনীতিকে আবদ্ধ করতে চান না বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ। তিনি গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ ঘিরে দেশের ঐতিহ্যবাহী বহু পণ্যের চাহিদা ও জোগান বেড়ে যায়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উপকৃত হয়। চাঙা ভাব আসে। অন্যদিকে ঈদের সময় ভারতীয় পোশাক দেদার বিক্রি হয়। তবে নববর্ষের সময় বিক্রি হওয়া ৯৯ শতাংশ পোশাকই দেশি। তাই শুধু টাকার অঙ্কে বৈশাখের প্রভাব বিচার করা যুক্তিসংগত না।’ দুই বছর আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বলেছিল, রোজার ঈদে সারা দেশে ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। এমন তথ্য জানিয়ে নাজনীন আহমেদ বলেন, বর্ষবরণ উৎসবটি সর্বজনীন। সব ধর্মের মানুষই উৎসবটি উদ্যাপনে কেনাকাটা করে। এ ছাড়া গ্রামে-গঞ্জে ও শহরে অনেক জায়গায় বৈশাখী মেলা হয়। এতে দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পণ্যসামগ্রী বিক্রি হয়। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঠিক হিসাব পাওয়া মুশকিল। তবে অর্থের পরিমাণটি একেবারে কম হবে না। রাজধানীতে থাকা মানুষের মধ্যে বৈশাখী পোশাক কেনার আগ্রহ বেশি থাকায় বুটিক ও ফ্যাশন হাউসগুলো তিন-চার মাস আগ থেকেই প্রস্তুতি নেয়। মাস খানেক আগে থেকেই নিত্যনতুন নকশার পোশাক প্রদর্শন শুরু করে। কয়েক বছর আগেও বৈশাখের আগে সপ্তাহ খানেক ফ্যাশন হাউসের ব্যবসা হলেও বর্তমানে পুরো চৈত্র মাসই হয়। ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি বা ফ্যাশন উদ্যোগ)। সমিতি চার বছর আগে একটি জরিপ করে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ফ্যাশন হাউসে সারা বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। তার মধ্যে ৫০ শতাংশই হয় রোজার ঈদে। ২৫ শতাংশ হয় পয়লা বৈশাখে। বাকিটা সারা বছর। ফ্যাশন উদ্যোগের সভাপতি আজহারুল হক বলেন, ‘মানুষের মনে এবার স্বস্তি আছে। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীরা প্রথমবারের মতো উৎসব ভাতা পাওয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্যাশন হাউস থেকে পোশাকসহ নানা উপহার কিনছে। আমাদের আশা, গতবারের চেয়ে এবার ২০ শতাংশ বেশি ব্যবসা হবে।’ সারা দেশে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ফ্যাশন হাউস আছে। তার মধ্যে ঢাকাতেই ৬০ শতাংশ। ফ্যাশন হাউসগুলোতে এবার নববর্ষের বেচাকেনা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হবে বলে দাবি করলেন সভাপতি আজহারুল হক। এদিকে রাজধানীর পাশাপাশি বাইরের জেলাগুলোতে বৈশাখী পোশাকের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে বলে জানালেন রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস। তিনি ফ্যাশন উদ্যোগের অর্থ পরিচালক। বললেন, ‘ঢাকার পাশাপাশি অন্য জেলা শহরের ফ্যাশন হাউসে ভালো ব্যবসা হচ্ছে খবর পাচ্ছি। গতবার কিন্তু এতটা সাড়া পাইনি আমরা। ব্যবসা এখন পর্যন্ত ভালো।’ এদিকে ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ না থাকলেও বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে গেছে পান্তা-ইলিশ। এ জন্য চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে কাঁচাবাজারে ইলিশ কেনার ধুম পড়ে যায়। অসময়ে ইলিশের চাহিদাকে পুঁজি করে দাম বাড়ান মাছ ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা গত সোমবার ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের একেকটি ইলিশের দাম হাঁকেন সাড়ে তিন হাজার টাকা। ১ কেজি ৫০-১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা। আর ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা। তবে ইলিশের বিকিকিনি কাঁচাবাজার ছাড়িয়ে সুপারশপেও ঠাঁই নিয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তারা। অনলাইনভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানও বিক্রি করছে এই ‘বৈশাখী ইলিশ’। নববর্ষের দিন এই পান্তা-ইলিশের ব্যবসাও জমে ভালো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পান্তা-ইলিশের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয়। চড়া দামে পান্তা-ইলিশ খেয়ে তৃপ্ত হন অনেক নগরবাসী। হালখাতার চল অনেকটা ফিকে হলেও পুরান ঢাকার অনেক ব্যবসায়ী নতুন খাতা খুলে বছর শুরু করেন। সেই সঙ্গে মিষ্টি নিমকি দিয়ে ক্রেতা ও বন্ধুবান্ধবদের আপ্যায়ন করার ঐতিহ্যটি এখনো টিকে আছে। অন্যদিকে বছরের প্রথম দিনটি ছুটি থাকলে পরদিন মিষ্টি খাওয়ার চল তৈরি হয়েছে অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠানে। ফলে মিষ্টির ব্যবসা বেশ ভালোই চলে। সুইটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মাধব চন্দ্র ঘোষ বৈশাখে কত টাকার মিষ্টি বিক্রি হয় সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারলেন না। সমিতির কাছে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে তিনি বললেন, ‘সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ মিষ্টি বিক্রি হয় তার দ্বিগুণ হয় নববর্ষে।’ নতুন বছর। তাই শুভেচ্ছা জানাতে হবে। কার্ড ছাপিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর রেওয়াজটি ধরে রেখেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নেতারা। এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা মানুষজনকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও বিষয়টিতে এখনো মরচে পড়েনি। এ ছাড়া নকশা করা কাগজের হাতপাখা ও রোদটুপি ছাপা হচ্ছে। তবে ক্যালেন্ডার ছাপানো কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোর (প্রিন্টিং প্রেস) ব্যবসাও মন্দ না। শাহবাগের ডুয়েট অ্যাড নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কমল পাল বললেন, ‘বৈশাখী ব্যবসা ভালো হয়েছে। ১৫-১৬টি প্রতিষ্ঠানের ১০-১২ হাজার শুভেচ্ছা কার্ড ছাপিয়েছি। এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলমান থাকায় অনেক নেতার শুভেচ্ছা পোস্টার ছাপিয়ে দিয়েছি।’ বিআইডিএসের গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘বৈশাখী ভাতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসবকে সরকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ভাতা দিচ্ছে। ধীরে ধীরে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও দেবে। ফলে ভবিষ্যতে বৈশাখ ঘিরে মানুষের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

১৬ দিন পর মায়ের কোলে তনুর ভাইয়ের বন্ধু

‘নিখোঁজের’ ১৬ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মায়ের কোলে ফিরেছেন সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ির কাছের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে পাওয়া যায় তাঁকে। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর ২৭ মার্চ রাত দেড়টায় একদল লোক মিজানুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ওই লোকেরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিলেন। গতকাল সকাল নয়টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নারায়ণসার গ্রামের নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মিজানুর। তাঁর কথাবার্তা ছিল এলোমেলো। তাঁকে কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত মনে হয়। বারবার বলছিলেন, কারা, কোথায় তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল বুঝতে পারেননি। মিজানুর বলেন, ‘বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর আমাকে মাইক্রোবাসে বসানো হয়। এরপর চোখ গামছাজাতীয় কিছু দিয়ে বেঁধে ফেলে। দুই হাতও পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেলে। হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ঘরে টানা ১৫ দিন রাখা হয়। ওই ঘরের মেঝেতেই খাওয়া ও ঘুমানো হতো। খাওয়ার সময় চোখ থেকে গামছা একটু ওপরে উঠিয়ে রাখা হতো। ডান হাত খুলে দেওয়া হতো। খাওয়া শেষে আবার বেঁধে ফেলত। আমার সঙ্গে আরও চারজন ছিল। তাদের পৃথক কক্ষেই রাখা হতো।’ মিজানুর আরও বলেন, ‘২৭ মার্চ গভীর রাতে তুলে নেওয়ার সময় আমার পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি ছিল। ওই পোশাকেই টানা ১৫ দিন ছিলাম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই চোখ বন্ধ থাকত। মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। তিন বেলাই খাবার দিত। সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন থাকত। কোনো মারধর করেনি। তবে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এখন আমার মনে নেই। আমার মাথা ঘোরে।’ তনু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে গিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, ‘সেনানিবাস-সংলগ্ন নাজিরাবাজার এলাকায় একটি মানববন্ধন হয়। ওই মানববন্ধনে গিয়ে বিচার চাইছি। আমার তো মা-বোন আছে, তাই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।’ কীভাবে ফিরে আসা হলো এবং এর পরের অনুভূতি প্রসঙ্গে মিজানুর বলেন, ‘পাপ তো আর করিনি, তাই ফিরে এসেছি। সবার দোয়ায় ফিরে এসেছি। আল্লাহ বাঁচায়ে এনেছে। ভোরে নিজেকে দেখলাম মহাসড়কের আইল্যান্ডে। এরপর দেখি, চাচা আমাকে ধরেছেন। তারপর আর বলতে পারব না। চাচা জানেন তিনি কীভাবে দেখেছেন।’এ প্রসঙ্গে মিজানুরের চাচা মো. সেলিম বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বেরিয়েছি। ওই সময় দেখলাম, ফিলিং স্টেশনের কাছে আইল্যান্ডের মধ্যে মিজানুর ঘোরাঘুরি করছে। এ সময় তাঁর চোখ ও হাত বাঁধা ছিল না। পরে বাড়িতে নিয়ে এলাম।’ তবে ঘটনা সম্পর্কে মিজানুর তাঁর নিকট আত্মীয়দের আরও কিছু বলেছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করে আত্মীয়দের কয়েকজন বলেন, ২৭ মার্চ রাতেই মিজানুরকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরের মেঝেতে রাখা হয় তাঁকে। ওই ঘরে ছিলেন আরও চারজন। সেখানে মিজানুরকে তনু প্রসঙ্গে কয়েক দফা জিজ্ঞাসা করা হয়। গত রোববার রাতে তাঁকে বলা হয়, ‘দুই দিনের মধ্যেই তোকে ছেড়ে দেব।’ এরপর সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাঁকে চোখ বেঁধে ঢাকার সায়েদাবাদ এনে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাঁকে হুঁশিয়ার করা হয়। মিজানুরের বাবা নুরুল ইসলাম ও মা সাহিদা আক্তার বলেন, ছেলে ফিরে এসেছে, এতেই তাঁরা খুশি। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে আমরা পুরো বিষয়টি জানব। নিখোঁজের পর ৩০ মার্চ মিজানুরের পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।’তনু গত ২০ মার্চ খুন হন। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন বাবা মো. ইয়ার হোসেন। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন-বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত আছে।
মানববন্ধন: তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বিকেল পাঁচটায় কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাজচেতনা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন করে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা শাখা।‘নিখোঁজের’ ১৬ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মায়ের কোলে ফিরেছেন সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ির কাছের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে পাওয়া যায় তাঁকে। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর ২৭ মার্চ রাত দেড়টায় একদল লোক মিজানুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ওই লোকেরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিলেন। গতকাল সকাল নয়টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নারায়ণসার গ্রামের নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মিজানুর। তাঁর কথাবার্তা ছিল এলোমেলো। তাঁকে কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত মনে হয়। বারবার বলছিলেন, কারা, কোথায় তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল বুঝতে পারেননি। মিজানুর বলেন, ‘বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর আমাকে মাইক্রোবাসে বসানো হয়। এরপর চোখ গামছাজাতীয় কিছু দিয়ে বেঁধে ফেলে। দুই হাতও পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেলে। হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ঘরে টানা ১৫ দিন রাখা হয়। ওই ঘরের মেঝেতেই খাওয়া ও ঘুমানো হতো। খাওয়ার সময় চোখ থেকে গামছা একটু ওপরে উঠিয়ে রাখা হতো। ডান হাত খুলে দেওয়া হতো। খাওয়া শেষে আবার বেঁধে ফেলত। আমার সঙ্গে আরও চারজন ছিল। তাদের পৃথক কক্ষেই রাখা হতো।’ মিজানুর আরও বলেন, ‘২৭ মার্চ গভীর রাতে তুলে নেওয়ার সময় আমার পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি ছিল। ওই পোশাকেই টানা ১৫ দিন ছিলাম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই চোখ বন্ধ থাকত। মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। তিন বেলাই খাবার দিত। সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন থাকত। কোনো মারধর করেনি। তবে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এখন আমার মনে নেই। আমার মাথা ঘোরে।’ তনু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে গিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, ‘সেনানিবাস-সংলগ্ন নাজিরাবাজার এলাকায় একটি মানববন্ধন হয়। ওই মানববন্ধনে গিয়ে বিচার চাইছি। আমার তো মা-বোন আছে, তাই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।’ কীভাবে ফিরে আসা হলো এবং এর পরের অনুভূতি প্রসঙ্গে মিজানুর বলেন, ‘পাপ তো আর করিনি, তাই ফিরে এসেছি। সবার দোয়ায় ফিরে এসেছি। আল্লাহ বাঁচায়ে এনেছে। ভোরে নিজেকে দেখলাম মহাসড়কের আইল্যান্ডে। এরপর দেখি, চাচা আমাকে ধরেছেন। তারপর আর বলতে পারব না। চাচা জানেন তিনি কীভাবে দেখেছেন।’ এ প্রসঙ্গে মিজানুরের চাচা মো. সেলিম বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বেরিয়েছি। ওই সময় দেখলাম, ফিলিং স্টেশনের কাছে আইল্যান্ডের মধ্যে মিজানুর ঘোরাঘুরি করছে। এ সময় তাঁর চোখ ও হাত বাঁধা ছিল না। পরে বাড়িতে নিয়ে এলাম।’ তবে ঘটনা সম্পর্কে মিজানুর তাঁর নিকট আত্মীয়দের আরও কিছু বলেছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করে আত্মীয়দের কয়েকজন বলেন, ২৭ মার্চ রাতেই মিজানুরকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরের মেঝেতে রাখা হয় তাঁকে। ওই ঘরে ছিলেন আরও চারজন। সেখানে মিজানুরকে তনু প্রসঙ্গে কয়েক দফা জিজ্ঞাসা করা হয়। গত রোববার রাতে তাঁকে বলা হয়, ‘দুই দিনের মধ্যেই তোকে ছেড়ে দেব।’ এরপর সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাঁকে চোখ বেঁধে ঢাকার সায়েদাবাদ এনে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাঁকে হুঁশিয়ার করা হয়। মিজানুরের বাবা নুরুল ইসলাম ও মা সাহিদা আক্তার বলেন, ছেলে ফিরে এসেছে, এতেই তাঁরা খুশি। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে আমরা পুরো বিষয়টি জানব। নিখোঁজের পর ৩০ মার্চ মিজানুরের পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।’ তনু গত ২০ মার্চ খুন হন। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন বাবা মো. ইয়ার হোসেন। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন-বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত আছে। মানববন্ধন: তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বিকেল পাঁচটায় কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাজচেতনা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন করে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা শাখা।

ঢাকায় ৪৪ শিশু খুনের বিচার আটকে আছে by আসাদুজ্জামান

হাবিবুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম রাজধানীর পল্লবীতে নিজেদের জন্য একটি বাড়ি বানানোর চেষ্টা করছিলেন। এই বাড়ি বানাতে গিয়েই এক নৃশংস শিশু খুনের মামলায় জড়িয়ে গেছেন আনোয়ারা। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনোয়ারা বেগম এক ভাড়াটে খুনির সহায়তায় সুমন নামে প্রতিবেশী ছয় বছরের এক শিশুকে ধরে এনে নিজেদের নির্মাণাধীন বাড়িতে জবাই করে হত্যা করিয়েছেন। কারণ, কুসংস্কারে বিশ্বাসী আনোয়ারা স্বপ্নে দেখেছিলেন, বাড়িটি নির্মাণ নির্বিঘ্ন করতে কোনো মানুষের রক্ত লাগবে। অর্থাৎ কাউকে ‘বলি’ দিতে হবে। সেটা ২০০৬ সালের ১৯ এপ্রিলের ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর পুলিশ যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতে এ বিবরণই লেখা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আসামি আনোয়ারা বেগম, তাঁর দেবর ইউসুফ আলী এবং রতন নামে এক ভাড়াটে খুনি। ২০০৯ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। কিন্তু গত সাত বছরে ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সুমনের বাবাসহ মাত্র পাঁচজন। অন্যরা কেউ আদালতে আসেন না। এর মধ্যে পুলিশেরই আছেন ১৪ জন সাক্ষী। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. সালাহউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশের জন্যই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার থমকে আছে। সাক্ষীদের হাজির না পেয়ে আদালত এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলেও তা তামিল করা হয়নি। সাক্ষী হাজির করতে কারও গরজ নেই, ঠিকমতো জারি হয় না সমন। বছরের পর বছর এ অবস্থা শুধু ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতেই এ রকম আরও ১৫টি শিশু খুনের মামলা বিচারাধীন। সবগুলোরই বিচারের গতি নানা কারণে ঝিমিয়ে আছে। ঢাকা মহানগরে আরও ১২টি আদালতে এ রকম ৪৩টি শিশু হত্যার বিচার চলছে বছরের পর বছর। এর কোনো কোনোটি ১৬ বছরের পুরোনো। মামলাগুলোর বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, কখনো পুলিশ বাহিনীর সদস্য, কখনো সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি), আবার কখনো আদালতের কর্মচারীদের গাফিলতি আটকে দিয়েছে বিচারের গতি। অনেক মামলায় আদালত টানা অনুপস্থিত সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও পুলিশ তাঁদের ধরে এনে হাজির করছে না। আর সরকারি কৌঁসুলিরা বছরের পর বছর দায়সারা সময় চেয়ে আবেদন করে চলেছেন। অন্যদিকে, আদালত সাক্ষীদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আদেশ দিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছেন না আদালতের পেশকাররা, যাঁরা আদালতের দাপ্তরিক দিকটি সমাধা করেন। ছয় বছরের শিশু রুমী খুনের মামলা ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পাঁচ বছর আগে। রুমীর ভাই মো. শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় আজ পর্যন্ত আদালতের কোনো সমন কিংবা ওয়ারেন্ট কিছুই পাননি। তিনি নিজে সাক্ষ্য দেবেন কীভাবে? মামলাটি কোন আদালতে বিচারাধীন, তা-ও জানেন না তিনি। অথচ আদালত মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেন ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, শিশু খুনের মামলায় পুলিশের কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিশু খুনের মামলায় সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা জারির আদেশ কেন বাস্তবায়িত হয় না, তদন্ত করা হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব খুনের মামলার অধিকাংশ সাক্ষীর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। অথচ আদালতের ওই সব আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বিচারের নথিতে পরোয়ানা জারির কথা উল্লেখ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটা জারি করাই হয়নি। ফলে আদালতের সমন বা ওয়ারেন্ট না পেয়ে হাজির হননি সাক্ষীরা। আর সরকারি কৌঁসুলিরা সাক্ষী হাজির করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করে গেছেন। আদালত সাক্ষীদের হাজির করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে বারবার তাগিদ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। তারপরও সাক্ষীর দেখা মেলেনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, আদালতের সমন পেলে তা তামিল করে পুলিশ। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পিপি আবদুল্লাহ আবু প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার কোন কোন আদালতে শিশু খুনের মামলা আছে, তা তাঁর জানা নেই। আদালতের অতিরিক্ত পিপি, সহকারী পিপিরাও তাঁকে কিছুই জানাননি। তবে এখন থেকে তিনি খোঁজ রাখবেন। ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৯টি শিশু খুনের মামলা বিচারাধীন। আর ঢাকা মহানগরের অপর ছয়টি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন আরও নয়টি শিশু খুনের মামলা। এসব আদালতেও শিশু হত্যার বিচারের একই চিত্র। গরহাজির সাক্ষীদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সঠিকভাবে জারি না করার অভিযোগ রয়েছে আদালতের কর্মাচারীদের বিরুদ্ধে। ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মো. সালাহউদ্দিন মিয়া স্বীকার করেন, তাঁর আদালতেও সাক্ষীদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঠিকমতো জারি করেননি পেশকাররা। তবে ওই আদালতের পেশকার নূরে আলম ও ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের পেশকার তৈয়েবুল আলম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁরা আদালতগুলোতে নতুন যোগদান করেছেন। আদালতের আদেশ পালনে গড়িমসির ঘটনা ঘটে থাকলে সেগুলো ঘটেছে তাঁরা যোগ দেওয়ার আগে। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলছেন, পুলিশ নিজেই আদালতের কাছে সাক্ষীদের বিরুদ্ধে সমন জারির আবেদন করে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশসহ অন্য সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন না। পিপিরাও দায়সারা কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আদালতের আদেশ আদালতের কর্মচারীরা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? পুলিশ, পিপি, পেশকারসহ বিচার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

জেএমবি সন্দেহে আটক ৪

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় জেএমবির সদস্য সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার দাপুনিয়া বাজার থেকে ওই চারজনকে আটক করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী বলেন, আটক হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক–জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করার হয়েছে। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক চারজন হলেন জাহাঙ্গীর, স্বপন, আলমগীর ও হাসান। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ

ইরফানুল ইসলামের খুনিদের ধরতে এখন ছিনতাইকারীদের পেছনে ছুটছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর পুলিশ বলছে, মুঠোফোনের কললিস্ট ধরে বা ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে আসলে কিছুই পায়নি তারা। তাই তদন্তের ধরন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ২ এপ্রিল দৃকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলাম বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডি ৮ নম্বরের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হন। ওই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ি থেকে ইরফানুলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইরফানুলের ভাই ইমদাদুল কলাবাগান থানায় মামলা করেন। শুরুর দিকে পুলিশ দাবি করেছিল, ইরফানুলের মুঠোফোন নম্বর ও ভিডিও ফুটেজে কিছু ‘ইঙ্গিত’ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে, নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও আদতে তারা কিছুই পায়নি। কলাবাগান থানার সঙ্গে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও ফতুল্লা থানা। তবে কারও কাছে সুনিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কলাবাগান থানার পুলিশ। কলাবাগান থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মুঠোফোনের কললিস্ট ভালোভাবে মেলানো হয়েছে। এমন কিছুই তাতে পাওয়া যায়নি। এমনকি কী ধরনের গাড়িতে ধানমন্ডি থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও কিছু জানা যাচ্ছে না। আমরা মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে নারায়ণগঞ্জে যে গাড়িগুলো গেছে, সেগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। ফুটেজগুলো অতটা পরিষ্কার নয়।’ এখন পর্যন্ত তদন্ত যত দূর এগিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে না ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার জেরে ইরফানুল ইসলাম খুন হয়েছেন। ইরফানুল ও তাঁর গাড়িচালক যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাতে তেমন কিছু বেরিয়ে আসেনি। সে কারণেই পুলিশ মনে করেছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ইরফানুলকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। গত সোমবার রাতে বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ অভিযান চালানোরও দাবি করেছে। এ বিষয়ে জানতে ইরফানুলের ভাই ইমদাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারী কারা, সে কীভাবে খুন হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো পুলিশ আমাকে কিছু জানায়নি।’

জাদুকর রোনালদোয় বশ ‘বিদ্রোহী’ ভলফসবুর্গ

শেষ পর্যন্ত রোনালদোই হয়ে দাঁড়ালেন পার্থক্যটা
প্রথম লেগে ভলফসবুর্গের মাঠে হারের ব্যবধান ছিল ২-০। আগের ৩২ বারের ২৬ বারই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে খেলা রিয়াল মাদ্রিদের আগের কৃতিত্বের পুনরাবৃত্তি করতে ঘরের মাঠের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে জিততে হতো ৩-০ গোলে। কাজটা ছিল কঠিন, অনেকের চোখে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করাই তো তাঁর কাজ। রিয়ালের টিকে থাকার, বেঁচে থাকার, নিজেদের নামের মর্যাদা রক্ষার যে তিনটা গোল দরকার ছিল, গুণে গুণে তিনটাই এনে দিলেন রোনালদো। ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে ভলফসবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেল রিয়াল। রোনালদোর জ্বলে ওঠার দিনে কোনো কাজই ‘অসম্ভব’ কিংবা ‘কঠিন’ নয়, সেটা আবারও প্রমাণিত হলো। রোনালদো জ্বলে উঠলেন একেবারে ঠিক সময়ই। ম্যাচের শুরুতেই দুই মিনিটের মধ্যে দুই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রথম লেগে ২-০ গোলের অবিশ্বাস্য হারের, সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হওয়ার হারের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিলেন। ১৬ আর ১৭ মিনিটের দুই গোলেই রিয়াল ম্যাচের শুরুতেই প্রথম লেগ শেষে মনে হওয়া ‘বিশাল শূন্যতা’ একেবারেই মিটিয়ে ফেলল। ৭৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক নিশ্চিত করল, খেলা ৯০ ​মিনিটেই শেষ হচ্ছে। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ১৬ গোল, নিজের গড়া রেকর্ডটাই আবার ভেঙে দিতে চলেছেন মৌসুমের একেবারে ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠা এই পর্তুগিজ। আর তাতেই এ নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পৌঁছাল দশবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। নিজেদের মাঠে ভলফসবুর্গ রিয়ালের ওপর যেমন চড়াও ছিল, কাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু যেন ছিল ততখানিই নিষ্প্রভ। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই দানি কারভাহালের ক্রসে পা ছুঁইয়ে রিয়ালকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন রোনালদো। আনন্দের রেশ কাটতে দেননি রোনালদো, বরং দলের আনন্দ আর প্রত্যাশাকে দ্বিগুণ করেই পরের মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন ২-০ গোলে, জোরালো হেডে গোল করে। প্রথম থেকেই খোলসের মধ্যে ঢুকে থাকা ভলফসবুর্গ এরপর যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ম্যাচে পরের ৩০ মিনিট দাপট দেখায়। চারটি গোলের সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু শুরুতেই রোনালদো যে ধাক্কা দিয়েছেন, সেটি আর সামলে উঠতে পারেনি জার্মান ক্লাবটি। জয় নিশ্চিত করা ফ্রি কিকটাও হলো দুর্দান্ত। বক্সে দাঁড়ানো ওভালকে আক্ষরিক অর্থেই যেন ‘ভেদ’ করলেন রোনালদো, ডান পায়ের আগুনে শটে। প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয় দিয়ে ‘ছোট’ দল ভলফসবুর্গ যে বিদ্রোহের দুর্গ গড়েছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্লাবটির বিপক্ষে, সেটাই যেন রোনালদো-গোলায় দুমড়ে-মুচড়ে একেবারে ধুলো! ম্যাচ শেষে নিজের ক্যারিয়ারের ৩৫তম হ্যাটট্রিকের বন্দনাটা বেশ ভালোই উপভোগ করছিলেন রোনালদো। সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘এই মৌসুমটা আমার ভালো যাচ্ছে না বলছেন অনেকেই। যারা এভাবে বলছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলছি, মৌসুমটা আমার একেবারেই খারাপ কাটেনি।’ সমালোচনাকে পাত্তা দেন না—এ কথা বলেননি। বরং সমালোচনা যে তাঁকে তাতিয়ে দেয়, সেটা তাঁর পরিসংখ্যানই জানিয়ে দেয় বলে অভিমত রোনালদোর, ‘যে কেউই আমার সমালোচনা করতে পারে। আমার তো সমালোচকের অভাব নেই। কিন্তু এই সমালোচনা সত্ত্বেও আমি কেবল এগিয়ে যেতেই পছন্দ করি। দিন শেষে আমার নামের সঙ্গে যে পরিসংখ্যান দেখা যায়, আমার এগিয়ে যাওয়ার নমুনা ওটাই।’ ভলফসবুর্গের বিপক্ষে তাঁর এই হ্যাটট্রিক একেবারে খাদের কিনারা থেকে তুলে নিয়ে এল রিয়ালকে। এই রাতটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ‘রাত’ কি না, এমন প্রশ্নে রোনালদোর জবাব, ‘আজকের রাতটা সবচেয়ে সেরা যদিও নয়, কিন্তু অন্যতম সেরা বলাই যায়।’ গোল করার ব্যাপারটি যে তাঁর ডিএনএর মধ্যে আছে, সেটাও সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি গোল করতে পছন্দ করি। গোল করার ব্যাপারটা আমার ডিএনএতে। আমি কেবলই দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। একটার পর একটা।’ জিনেদিন জিদান নিজে কিংবদন্তি। মাঠে এমন অসংখ্য রূপকথার জন্ম দিয়েছেন। তিনিও যেন ভাষা খুঁজে পেলেন না, ‘রোনালদো সম্পর্কে কী-বা বলব? সে তো প্রমাণ করে দিয়েছে যে সে ভলফসবুর্গের সঙ্গে রিয়ালের পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়।’

ইতিহাস গড়ল সিটি

সিটির নতুন ইতিহাস গড়া সেই গোলের পর ডি ব্রুইন
কেভিন ডি ব্রুইনের ৭৬ মিনিটের গোলটিই গড়ে দিল ইতিহাস। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে শামিল হলো ম্যানচেস্টার সিটি। গত চার মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুটো শিরোপাজয়ী সিটি যেন নিজেদের নামটাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল বিশ্ব ফুটবলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) টপকে শেষ চারের টিকিট পেতে অবশ্য বেশি কিছুর দরকার ছিল না। প্যারিসে আগের লেগে ২-২ গোলে ড্র করেই ইতিহাসযাত্রা অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল ম্যানুয়াল পেলেগ্রিনির দল। ড্র হলেও চলত। কিন্তু একটি গোল হলে আরও নিশ্চিত হয়। সেই হিসেবি ফুটবলটাই সিটিকে ইতিহাস লেখাল। ফরাসি ক্লাবটির বিরুদ্ধে হোম-অ্যাওয়ে মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমবারের মতো বড় স্বপ্নের পথে ম্যানচেস্টার সিটি। ডি ব্রুইনের গোলটির আগে ম্যাচটি অবশ্য ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যথেষ্ট উত্তেজনাই ছড়িয়েছে। ৩০ মিনিটের মাথায় প্রাপ্ত পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি সিটির সার্জিও আগুয়েরো। পিএসজির জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েছিলেন সিটির রক্ষণে, কিন্তু কাজের কাজটি করতে পারেননি। অফ সাইডের খাঁড়ায় গোলও বাতিল হয়েছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ লম্বা সময় পিএসজির কাছে থাকলেও পেলেগ্রিনির অভিজ্ঞতা আর কৌশলের কাছে বারবারই হোঁচট খেতে হয়েছে লঁরা ব্লাঁর দলকে। ৭৬তম মিনিটে ফার্নান্দোর পাস থেকে বল পেয়ে করা ডি ব্রুইনের গোলটির পরেও সিটি সমর্থকদের কেটেছে উৎকণ্ঠিত কিছু সময়। এডিনসন কাভানির একটি শট একটু বাদেই বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল তাদের। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ইব্রাহিমোভিচও বল জালে জড়িয়ে ​গ্যালারি ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য রিপ্লেতে দেখা গেছে, ইব্রা অফসাইডেই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনেক স্নায়ু ক্ষরণের পরে প্রথমবারের মতো ফাইনাল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে পৌঁছে গে​ল সিটিজেনরা। এত দিন শুধু ম্যানচেস্টার শহরের ওপর প্রান্তের প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্ট নিয়ে হাসিকান্নায় মাততে দেখেছে। এবার তাদের পালা। ২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে নাম লেখালেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় হয়েছিল সিটির। পরের দুইবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনো হয়নি। এবার নতুন কিছু করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ইউরোপ-সেরা লড়াইয়ে অবতীর্ণ সিটি শেষ চারে উঠে রুপালি ট্রফিতে চোখ রাখার সাহস কিন্তু দেখাতেই পারে। গার্দিওলার হাতে কি আরেকটি ইউরোপ-চ্যাম্পিয়ন দলই উঠতে যাচ্ছে? সময়ই বলে দেবে।

এই বার্সাকেই চেয়েছিলেন সিমিওনে

হঠাৎ ফর্ম হারিয়ে ফেলা, তার ওপর আজকের বাঁচা-মরার ম্যাচের চাপ!
কিন্তু অনুশীলনে নেইমার ও দানি আলভেজের দুষ্টুমি দেখে কে বলবে,
ওসব তাঁদের ভাবনায় আছে?
বার্সেলোনাকে এই অবস্থায় পাবেন, গত সপ্তাহের আগেও নিশ্চয়ই ভাবেননি ডিয়েগো সিমিওনে। যে দলটা টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে উড়ছিল, তারাই কিনা লা লিগায় পরপর দুই ম্যাচে হেরে বসল! আজ যখন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচের জয় ছাড়া উপায় নেই, একটু বিপর্যস্ত এই বার্সেলোনাকেই মনে মনে চেয়েছিলেন সিমিওনে। লুইস এনরিকেকে এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হচ্ছে। ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বার্সা কোচের লিগে পরপর দুই ম্যাচে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা হলো। লিওনেল মেসিও ৩৬২ মিনিট ধরে গোলহীন, সেটাও একটু উদ্বেগের ব্যাপার। এনরিকে দলের সবাইকে যেন একটু তাতিয়েই দিতে চাইলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া বা অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ আর নেই, আমাদের এখন ফল চাই। আগে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমরা খারাপ সময়ে আছি—এটা ভুলে যেতে হবে।’ ‘খারাপ সময়ের’ কিছুটা দায় এনরিকের ওপরও বর্তায়। চ্যাম্পিয়নস লিগের কথা ভেবেই সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ইনিয়েস্তা, রাকিতিচদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা বুমেরাং হয়েই এসেছে। ওই দুজন তো আজ থাকবেনই, ওই ম্যাচে নিষিদ্ধ সুয়ারেজেরও আজ নামার কথা। এনরিকে তাই আশা খুঁজছেন, ‘ফল যে রকম হয়েছে, সেটা আমরা চাইনি। তবে আশাবাদী হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে আমাদের।’ এনরিকের আশার একটা কারণ তো অবশ্যই আগের লেগের ফল। গত সপ্তাহে ন্যু ক্যাম্পে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল বার্সা। তবে এনরিকের ভালোই জানা, নিজেদের মাঠে সেই ফল উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা অ্যাটলেটিকোর ভালোমতোই আছে। এই সপ্তাহেই বার্সা যেখানে সোসিয়েদাদের কাছে হেরেছে, অ্যাটলেটিকো এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও এসপানিওলকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। দুই বছর আগের ফলটাও অ্যাটলেটিকো কোচকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আট থেকেই বার্সাকে বিদায় করে দিয়েছিল অ্যাটলেটিকো। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে অ্যাটলেটিকোকে ওই ম্যাচে জয় এনে দিয়েছিলেন কোকে। আজকের ম্যাচের আগে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আবার জাগিয়ে তুলতে চাইছেন সমর্থকদের, ‘আশা করি, স্টেডিয়াম গমগম করবে। আমি নিশ্চিত, এটা হবে দুর্দান্ত একটা রাত। আগের ম্যাচে পরিস্থিতির কারণে আমরা জিততে পারিনি, তবে নিজেদের মাঠে আমরা ঠিকই অন্য কিছু করব।’ অ্যাটলেটিকোকে অবশ্য আজ মাঠে নামতে হচ্ছে ফার্নান্দো তোরেসকে ছাড়াই। আগের লেগে দলের একমাত্র গোলটি করার মিনিট দশেক পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। যে কারণে তোরেস আজ শুধুই দর্শক। এক মাস আগেও প্রথম একাদশে জায়গা নিশ্চিত ছিল না, তবে গত কয়েক ম্যাচে এমনই পারফরম্যান্স যে, সিমিওনে আজ তোরেসের অভাব বোধ না করে পারেনই না!

মোহামেডানকে হতাশায় ডোবালেন মুসা

জার্সি খুলেছেন আগেই। এরপর শুরু করলেন আনন্দ-নৃত্য।
ঢাকার মাঠে ব্যতিক্রমী গোল উদ্‌যাপন করলেন মুক্তিযোদ্ধার
নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবু মুসা
হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল মোহামেডান। পরের ম্যাচে জিতলেও তৃতীয় ম্যাচে এসে আবারও হারের বৃত্তে সাদাকালোরা। একসময়ের ঐতিহ্যবাহী দলটি এখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে হারটা গা সওয়াই হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম স্বাধীনতা কাপে কাল মোহামেডান ১-২ গোলে হেরেছে মুক্তিযোদ্ধার কাছে। তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়েও এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা। এবারও মোহামেডান তারুণ্যনির্ভর দল গড়েছে। কিন্তু সেই দলটিই মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যেতে পারবে কি না, তা নিয়েই এখন সংশয়। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট, ম্যাচ বাকি দুইটি। মোহামেডানের ফরোয়ার্ড ইসমাইল বাঙ্গুরা পুরো ম্যাচেই ছিলেন নিষ্প্রভ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ইউসুফ সিফাত বেশ কয়েকবার আক্রমণে গেছেন, গোলমুখে একাধিকবার ঢুকেছেন মাসুক মিয়া জনিও। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোল হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা জিতেছে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবু মুসার নৈপুণ্যে। ব্রাদার্সের সঙ্গে আগের ম্যাচেও তাঁর একমাত্র গোলে জিতেছিল মুক্তিযোদ্ধা। কালও আহমেদ মুসার দিকে তাকিয়ে ছিল দলটি। হতাশ করেননি মুসা। ৬৫ মিনিটে নিশ্চিত একটা সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক মামুন খানকে একা পেয়েও ইসমাইল বাঙ্গুরা বল মারলেন তাঁর গায়ে। ৭৩ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা আহমেদ মুসার দারুণ শটে এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। যদিও রেফারি এই গোলটি মুসার নামে দেননি, আত্মঘাতী হিসেবেই দেখিয়েছেন। ৮১ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে রংধনু শটে ২-০ করলেন সেই মুসাই। গোল করেই জার্সি খুলে নাচতে থাকেন। মুসাকে তাই দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। অতিরিক্ত সময়ে হেডে গোল করে ইসমাইল বাঙ্গুরা শুধু ব্যবধানই কমাতে পারলেন, ততক্ষণে পরাজয় লেখা হয়ে গেছে মোহামেডানের ভাগ্যে। আরামবাগ-বিজেএমসি ড্র: গোল দেওয়ার চেষ্টা ছিল দুই দলের ফুটবলারদেরই। কিন্তু সহজ কিছু সুযোগ নষ্ট করায় আরামবাগ-বিজেএমসির কেউই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি কাল। এই ড্রয়ে ৪ ম্যাচে ১ জয়, ১ ড্র ও ২ হারে ৪ পয়েন্ট বিজেএমসির। ৩ ম্যাচে ১ হার ও ২ ড্রয়ে ২ পয়েন্ট আরামবাগের। ৩২ মিনিটে আরামবাগের ফরোয়ার্ড আবু সুফিয়ান শাকিল বিজেএমসির গোলরক্ষক হিমেলকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। ৮২ মিনিটে বিজেএমসির সোহেল রানা একেবারে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বারের ওপর দিয়ে বল তুলে দিলেন। ৯০ মিনিটে আরামবাগের আবু সুফিয়ান গোলরক্ষক হিমেলকে কাটিয়েও হাস্যকরভাবে বাইরে মারলেন বল।

পয়েন্ট পেতে পেতেই হারল শেখ জামাল

মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক। খেলোয়াড়-সংকটে একাদশ গড়াই যে কঠিন হয়ে পড়েছিল তাঁর জন্য। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তবু কাল হাসি ফুটতে পারত শেখ জামাল কোচের মুখে। কিন্তু সেটি আর হতে দিল না মালয়েশিয়ার ক্লাব সেলাঙ্গর এফএ। কুয়ালালামপুরে এএফসি কাপে কাল প্রথম পয়েন্ট প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল শেখ জামাল। সেলাঙ্গরের সঙ্গে ১-১ গোলে ম্যাচ যখন শেষের পথে, তখনই ৮৯ মিনিটে প্যাট্রিকের গোলে ম্যাচ জিতে নিয়েছে সেলাঙ্গর (২-১)। ছয় ম্যাচের প্রথম চারটিতেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ২৬ এপ্রিল ঢাকায় সিঙ্গাপুরের টেম্পাইনস রোভার্স ও ১০ মে ফিলিপাইনে সে দেশের সেরেস লা সাল্লের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচ খেলবে শেখ জামাল। টেম্পাইনস রোভার্সের সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচে ০-৪, ঢাকায় সেরেস লা সাল্লের কাছে ০-২ ও মালয়েশিয়ার এই সেলাঙ্গর এফএর সঙ্গে ঢাকায় দুবার এগিয়েও শেখ জামাল হেরেছিল ৪-৩ গোলে। কাল অবশ্য পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসে শেখ জামাল। ৫৮ মিনিটে সেলাঙ্গর ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ৬৯ মিনিটে শেখ জামালও হয়ে গেল ১০ জনের দল। ডিফেন্ডার ইয়াসিন দ্বিতীয় কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী সেলাঙ্গর। ১৭ মিনিটে আহমেদ হাজওয়ান বাকরির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সেলাঙ্গর। ৩৬ মিনিটে সেই গোল শোধ করেছেন শেখ জামালের ল্যান্ডিং দারবোয়ে। জয়সূচক গোলটা আর করতে পারেনি ঢাকার চ্যাম্পিয়নরা, উল্টো গোল খেয়ে হেরে গেল এই ম্যাচেও। চার ম্যাচে ১২ গোল খেয়ে শেখ জামাল করেছে ৪ গোল। টুর্নামেন্টটা দুঃস্বপ্নের মতোই কাটছে তাদের। খেলোয়াড়-সংকট এবং প্রস্তুতির অভাবেই শেখ জামাল মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। এই গ্রুপ থেকে ৪ ম্যাচে ২ জয় ও ২ ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে সেরেস লা সাল্লে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেম্পাইনের পয়েন্ট ৭। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল গড়ে তৃতীয় সেলাঙ্গর। সবার নিচে থাকা শেখ জামালের পয়েন্টের খাতা শূন্য।

নেইমারের দেশে লাল-সবুজ রাইফেল নিয়ে বাকি

২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসে আলো ছড়িয়েছেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি
তাঁর হাতে থাকে রাইফেল। নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদই আবদুল্লাহ হেল বাকির আসল কাজ। তবে আজ রাতে ব্রাজিল রওনা হওয়ার আগে মাথায় মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলও। ফুটবলের দেশে গিয়ে ফুটবল দেখবেন না, তা কী করে হয়! এবারের বিশ্বকাপ শুটিংয়ের আসর ব্রাজিলে। তাতেই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে যাচ্ছেন বাকি। তবে ফুটবলের দেশে ফুটবলটা চেখে না দেখা কি সম্ভব? ১৮ এপ্রিল প্রতিযোগিতা শেষে রিও ডি জেনিরোতে কোনো ফুটবল ম্যাচ থাকলে অবশ্যই দেখবেন। বাকিই দিলেন সেই তথ্য, ‘কোচকে রাজি করিয়েছি ম্যাচ দেখার ব্যাপারটা। ১৮ তারিখের পর তিন দিন সময় পাব। অবশ্যই এই সময়ে ব্রাজিলের ফুটবল দেখতে চাই।’ ফুটবলের প্রতি বাকির আছে আলাদা একটা আকর্ষণ। বিকেএসপিতে মামুনুল ইসলামের সঙ্গে জিমন্যাস্টিকসে ছিলেন। মামুন পরে ফুটবলে নাম লেখালেন, বাকি শুটিংয়ে। ভুল করেনি। ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জিতে শুটিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এরই মধ্যে। তবে ফুটবলপ্রেম কমেনি। নিজেই বলেন, ‘শুটার না হলে আমি তো ফুটবলারই হতাম।’ ফুটবলারে আসা হয়নি, এ নিয়ে অবশ্য আফসোস নেই। শুটিংয়েই বেশ আছেন। তবে ফুটবল দেখেন। সময় পেলে বার্সা-রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখতে বসে পড়েন টিভির সামনে। মেসি-রোনালদো দুজনেরই ভুক্ত, এর আগে ভক্ত ছিলেন রোনালদিনহোর। সেই বাকি ব্রাজিল যাচ্ছেন, বাড়িতে তাঁর বাবাও বেশ রোমাঞ্চিত। ‘বাবা তো খুবই উত্তেজিত। ব্রাজিলের একটা বল নিয়ে আসতে বলেছেন আমাকে। বল তো বলই, আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। তারপরও বাবার ইচ্ছা ব্রাজিলের বল যেন অবশ্যই নিয়ে আসি,’ বলছিলেন বাকি। অন্য অনেকের কাছ থেকেও পাচ্ছেন নানা আবদার। সেসব পূরণ করার ইচ্ছে আছে। তবে সবকিছুর আগে নিজের খেলাটা ভুলে যাচ্ছেন না। আগস্টে অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাবেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। তার আগে অলিম্পিক রেঞ্জেই বিশ্বকাপ খেলার আনন্দটা ভালোই টের পাচ্ছেন। ফুটবলের দেশ ব্রাজিল বলে কথা!

মুসার জোড়া গোলে মুক্তিযোদ্ধার জয়

মুসার জোড়া গোলের বিস্তৃত হাসি
ব্রাদার্সের বিপক্ষে গত ম্যাচে তাঁর একমাত্র গোলে জিতেছিল মুক্তিযোদ্ধা। আজও আহমেদ কোলো মুসার দিকেই তাকিয়ে ছিল দলটি। হতাশ করেননি মুক্তিযোদ্ধার নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্বে মুসার জোড়া গোলে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। তিন ম্যাচে দুই জয়ে পাওয়া ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা। অন্য​দিকে তিন ম্যাচের দুটিতেই হেরে শেষ চারের লড়াই থেকে একরকম ছিটকেই পড়ল মোহামেডান। ৬৫ মিনিটে গোলের দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক মামুন খানকে একা পেয়েও ইসমাইল বাঙ্গুরা বল মারলেন তাঁর গায়ে। ৭৩ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা আহমেদ মুসা দারুণ এক শটে গোল করে এগিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধাকে। ৮১ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে রংধনু শটে মুসার দ্বিতীয় গোল। গোল করার আনন্দে জার্সি খুলে নাচতে শুরু করেন। যে কারণে হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাঁকে। অতিরিক্ত সময়ে হেডে গোল করে ইসমাইল বাঙ্গুরা শুধু ব্যবধানই কমাতে পারলেন, পরাজয় ততক্ষণে লেখা হয়ে গেছে মোহামেডানের ললাটে।