Showing posts with label ইসলাম ও সমাজ. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম ও সমাজ. Show all posts

Thursday, June 13, 2024

বদরের যুদ্ধকে কেন বিশ্বের ইতিহাস নির্ধারক যুদ্ধের একটি মনে করা হয়? by ড. আকিল আব্বাস জাফরি

সৌদি আরবের মদিনা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে বদর হুনাইন প্রান্তর অবস্থিত। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই প্রান্তরে এক যুদ্ধ হয়, যাকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের অন্যতম ‘ইতিহাস-নির্ণায়ক’ যুদ্ধ হিসেবে।

আশ্চর্যের বিষয়, সামরিক দিক থেকে এই যুদ্ধে অংশ নেয়া মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু এই যুদ্ধের গুরুত্ব এত বেশি ছিল যে, মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনেও এই দিনটিকে আল-ফুরকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যার মানে, সিদ্ধান্ত বা রায়ের দিন।

মদিনার নবজাতক মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই যুদ্ধের গুরুত্ব বুঝতে হলে, আগে জানতে হবে কেন বদরের ময়দানটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এর নামকরণ হয়েছিল কীভাবে?

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে পাহাড়ে ঘেরা এক প্রান্তর। ডিম্বাকৃতির সুবিশাল সেই প্রান্তরের প্রস্থ প্রায় সাড়ে চার মাইল।

আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা ছিল এর। ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বাণিজ্য পথ গেছে এই পাহাড় ঘেরা জায়গাটির ওপর দিয়েই।

বণিকদের কাফেলা যাওয়ার সেই স্থানেই আবার মিলেছে মক্কা ও মদিনা থেকে আসা দুটি পথ।

এখান থেকে লোহিত সাগরও নিকটবর্তী। মোটে মাইল দশেকের দূরত্ব।

স্থানটির নামকরণ ‘বদর’ করার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা জানা যায়।

তারমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্যটি হলো, বদর বিন ইয়াখলাদ নামে এক ব্যক্তি এখানে একটি কূয়া খনন করেছিলেন।

কূয়ার পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ।

কথিত আছে, সেখানকার পানিতে চাঁদের প্রতিফলন ঘটতো। যেহেতু চাঁদকে আরবিতে বদরও বলা হয়, তাই উভয় দিকের সূত্র মিলিয়ে এই স্থানের নাম বদর রাখা হয়েছিল।

মা’আরিফ ইসলাম নামক বই থেকে জানা যায়, প্রাক-ইসলামী ‘জাহিলিয়া’ যুগে প্রতি বছর পহেলা জ্বিলকদ থেকে আটই জ্বিলকদ পর্যন্ত এই স্থানে একটি বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।

বদর যুদ্ধের কারণ

মদিনায় হিজরতের আগে মক্কার নেতৃস্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল মুসলমানদের। তবে, পরবর্তীতে মক্কা ও মদিনার মধ্যে যুদ্ধের নেপথ্যে এটাই একমাত্র কারণ নয়।

দ্বিতীয় হিজরি বর্ষের রজব মাসের ১১ তারিখে মক্কার একজন গোত্র প্রধান আমর বিন আল-হাদরামি দুর্ঘটনাবশত মুসলমানদের হাতে নিহত হন। ইসলামের নবী স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে এই হত্যার জন্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেন।

কিন্তু মক্কায় কুরাইশদের প্রধানরা এই ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়।

ইবনে খালদুন লিখেছেন, আমর ইবনে আল-হাদরামির মৃত্যুতেই বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সূচিত হয়।

শা'বান মাসে ঘটে আরেকটি ঘটনা।

কুরাইশদের সম্পদ বোঝাই একটি কাফেলা সিরিয়া থেকে মক্কায় আসছিল। তখন গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মুসলমানরা সেই বহরকে আক্রমণ করতে চায়।

আবু সুফিয়ান ছিলেন কাফেলার নেতা। তিনি সহায়তার জন্য মক্কায় দূত মারফত খবর পাঠান।

বার্তা পেয়ে মক্কা থেকে কুরাইশদের একটি দল আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে সাহায্য করার জন্য মদিনার উদ্দেশে রওনা হয়।

মা’আরিফ ইসলামির অনুসারে, সিরিয়া থেকে আগত কাফেলা মক্কায় পৌঁছে গিয়েছিল ঠিকই। অর্থাৎ, কুরাইশদের উচিত ছিল মদিনার দিকে যাওয়া কাফেলাকে ফেরত আনা।

কিন্তু, আবু জাহলের পীড়াপীড়িতে তারা মদিনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

১৬ই রমজান তারা বদর নামক স্থানটিতে শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, এই পক্ষে লোক সংখ্যা ছিল নয়শো থেকে এক হাজার। তারা সবাই ছিল সশস্ত্র।

সংবাদ পেয়ে ১২ই রমজান ইসলামের নবীও বদরের উদ্দেশে অগ্রসর হন। ১৭ই রমজান ৩১৩ জন সঙ্গী নিয়ে তিনি ময়দানের কাছাকাছি পৌঁছান। খ্রিস্টাব্দে নিরিখে তারিখটা ৬২৪ সালের ১৩ই মার্চ।

তখন পর্যন্তও কুরাইশদের মধ্যে শান্তিপ্রিয় কিছু ব্যক্তি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, আবু জাহেলের একগুঁয়েমির কারণে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

ফলে, যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে।

যুদ্ধের শুরু ও শেষ

যুদ্ধকৌশল অনুযায়ী মুসলমানদের সেনাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল।

জুবায়ের বিন আল-আওয়ামকে একটি দলের অধিনায়ক মনোনীত করা হয়। কুদ বিন আমরকে নির্দেশ দেয়া হয় মাসরায় অবস্থান নিতে। মূল নেতৃত্বে ছিলেন নবী স্বয়ং।

বাহিনীর পেছনের অংশে থাকা কমান্ড অব সাকাহ’র দায়িত্ব কায়েস ইবনে সা’সা-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়।

যোদ্ধা দলটির সবচেয়ে বড় প্রতীক নিশানটি বহন করছিলেন মুসআব বিন উমাইর। মুসলমানদের পরিচয় ছিল ‘ইয়া মনসুর উম্মাহ’।

আরব ঐতিহ্য মেনে, একক লড়াইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের শুরু হয়। এতে তিনজন কুরাইশ যোদ্ধা নিহত হন। তারপরে শুরু হয় মল্লযুদ্ধ।

যুদ্ধে, দুই তরুণ আনসার(যোদ্ধাদের সহায়তাকারী) মু’য়াওজ এবং মু’য়াজ মক্কার আবু জাহলকেও হত্যা করে।

এতে, মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধের পাল্লা ভারী হতে শুরু করে।

কুরাইশরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল ঠিকই, তারপরও মল্লযুদ্ধের পর নবী মোহাম্মদের নির্দেশে মুসলমান যোদ্ধারা অতর্কিত কুরাইশদের উপর আক্রমণ করে।

এই অতর্কিত আক্রমণ যুদ্ধের চেহারা পাল্টে দেয়। আর কুরাইশ বাহিনী পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।

যুদ্ধে ৭০ জন গুরুত্বপূর্ণ কুরাইশ নেতা মারা পড়েন। ৭০ জনকে আটক করা হয়।

সিদ্ধান্ত হয়, চার হাজার চারশো দিরহাম মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেয়া হবে। আর, যারা লেখাপড়া জানতেন তারা দশ জন আনসারের সন্তানকে লিখতে ও পড়তে শেখাবেন।

বদর যুদ্ধের গুরুত্ব

এই যুদ্ধ ছিল নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভবত সে কারণেই এটিকে বিশ্বের কয়েকটি ‘নির্ধারক যুদ্ধের’ অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও সংখ্যাগত দিক থেকে এটি বড় কোন যুদ্ধ নয়।

কেমব্রিজ হিস্ট্রি অব ইসলামের অনুসারে, এই যুদ্ধের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় দুই ধরনের প্রভাবই ছিল। বইটি থেকে জানা যায়, মক্কার যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা মারা যান, তাদের ছিল দৃঢ় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক দক্ষতা।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মক্কার যোদ্ধাদের পরাজয়ের ফলে একদিকে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং মর্যাদাহানি হয়। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের পরে বদরের ওই বাণিজ্য পথ ব্যবহারের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

মক্কার অর্থনীতি এই পথে পরিচালিত ব্যবসার উপর নির্ভরশীল ছিল, কেমব্রিজ’র হিস্ট্রি অব ইসলাম থেকে এমন তথ্যই মিলছে।

অর্থাৎ, কুরাইশদের দিক থেকে দেখলে, সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সিরিয়ায় তাদের বাণিজ্যের পথও অনিরাপদ হয়ে পড়ে। ফলে, অন্যান্য গোত্রের কাছে তাদের গুরুত্ব কমে যায়।

এই যুদ্ধে মক্কাবাসীরাই সর্বক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠিকই। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায় সম্মান ও মর্যাদাহানি।

আরব অঞ্চলে কুরাইশদের মক্কার একটি বিশিষ্ট অবস্থান ছিল। একে অনেকটা আরবের রক্ষাকর্তার মতো বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু একটি ছোট দলের হাতে সেই মক্কাবাসীদের পরাজয় আরবদের একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়।

হাদিস অনুসারে, সমগ্র অঞ্চলে এই পরাজয়ে কথা রটে যায়। অসম্মানের গ্লানি এড়াতে মক্কার লোকেরা কোনোরকম উচ্চবাচ্য ছাড়া নীরবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বলে দেয়া হয়, কেউ যেন কোনো কবিতায়ও নিহতদের স্মরণ না করে।

এই নীরব শোকের পাশাপাশি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বদরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার তাড়নাও ছিল তাদের।

কেমব্রিজের তথ্যমতে, অন্যপক্ষে, বদরের যুদ্ধ মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। তাদের ধর্মবোধ প্রবল হয়। নিজেদের এবং ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারেও উপলব্ধি জাগে তাদের মনে।

এই যুদ্ধের পর মুসলিমরা ওই অঞ্চলে একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। যা রাষ্ট্র হিসেবে মদিনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

এমনকি এই বিজয় মদিনায় বসবাসকারী ইহুদিদেরও বিমোহিত করে।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বদরের যুদ্ধ। কারণ, এই প্রথমবার মুসলমানরা নবীর নেতৃত্বে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

মুসলমানরা পরাজিত হলে ইসলাম অস্তিত্ব সংকটে পড়তো। এমনকি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়াও অসম্ভব ছিল না।

তাই এ দিনটিকে কোরআনে বিচার দিবস বলা হয়েছে।

মা’আরিফ ইসলামির বিশ্লেষণ বলছে, মুসলমানরা যুদ্ধের ময়দানে প্রথমবারের মতো নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিল, সেই দিক থেকে এটি ছিল ‘নির্ণায়ক’ যুদ্ধ।

শত্রুপক্ষের প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও জনবল থাকা সত্ত্বেও বিজয় তাদের সাহস বাড়িয়ে দেয়।

এর প্রভাবে উপদ্বীপের অন্যান্য গোত্রের মানুষদের মধ্যেও মুসলমানদের সামর্থের প্রতি সমীহ জাগে। তাদের আস্থা তৈরি হয় মুসলমানদের ওপর।

ড. আকিল আব্বাস জাফরি
ইতিহাসবিদ ও গবেষক, করাচি
২৯ মার্চ ২০২৪



Friday, January 1, 2016

তিনি ছিলেন দুঃখী মানুষের নবী by সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন

মানবতার মুক্তির দিশারী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর অপূর্ব চরিত্র মাধুর্য নৈতিক অধঃপতনের অতল থেকে মানবতাকে দান করেছে এক নতুন জীবন, নতুন উদ্যম, নতুন শক্তি, নতুন সম্মান ও নতুন করে পথ চলার সামর্থ্য ও পাথেয়। তিনি মুক্তির দিশারীরূপে এমন এক অন্ধকার যুগে আবির্ভূত হন যখন মানুষের হাতে নির্মিত মূর্তি কিংবা জীব-জানোয়ার ও গাছপালার জন্য নিষ্পাপ মানুষকে বলি দেয়া হতো। মানুষের তাজা খুন ও গোশত পেশ করা হতো দেবতাদের সামনে।
সেই জাহেলী যুগে উম্মতের নবী রহমতের কাণ্ডারী হয়ে মানবতাকে উদ্ধার করলেন অপমান ও লাঞ্ছনার কবল থেকে, ফিরিয়ে দিলেন মানুষের গৌরব ও হারিয়ে যাওয়া মান-মর্যাদা, আত্মসম্মানবোধ ও গ্রহণযোগ্যতা। ঘোষণা করলেন, এ পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে বড় ও মহান আর কিছু নেই। মানুষই হল আশরাফুল মাখলুকাত।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন অসাধারণ বিনয়ী, পরোপকারী, সদালাপী, দয়ার্দ্যহৃদয়, ন্যায়পরায়ণ ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত অনুপম চরিত্রের অধিকারী। আশৈশব তিনি নির্মল চারিত্র্যিক মাধুর্যের পরিচয় দিয়েছেন। শৈশব ও বাল্যকালেই সর্বোত্তম মানবীয় গুণাবলীর জন্য তিনি আল-আমীন বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর সুন্দরতম আদর্শের কাছে কাফেররাও মাথানত করেছিল।
তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন মানবতা, সাম্য, সততা, ত্যাগ, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং সহমর্মিতার শিক্ষা। বিপদ-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। এই মানবসেবা এবং উদারতার নীতিকে অবলম্বন করেই প্রবল গতিতে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বিস্তার লাভ করেছে ইসলাম। তলোয়ারের শক্তিতে নয়, তিনি ভালোবাসা, উদারতা, ধৈর্য, সংযম ও আদর্শ দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন। শতধা বিভক্ত মানব জাতিকে ঐক্য ও সাম্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। যে বৃদ্ধা রাসূলের (সা.) ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনিই তাঁর সেবা ও ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন। এভাবে সারা জীবন তিনি মানুষের উপকার, মানবসেবা ও মানবকল্যাণকর কাজে শ্রম ও অর্থ বিলিয়েছেন প্রশস্ত হস্তে, নিরন্নকে অন্ন দান করেছেন, রোগীর সেবা করেছেন, দাসদের মুক্তি দিয়েছেন- সর্বোপরি যেখানেই কোনো মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়েছে; যেখানেই ক্ষুণ্ণ হয়েছে মানবতা; ক্ষুণ্ণ হয়েছে মানুষের অধিকার- সেখানেই তিনি সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানবসেবার এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে রাসূলের (সা.) ছোঁয়া লাগেনি। তাঁর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন তৎকালীন মক্কার সেরা ধনীদের একজন। বিয়ের পর তিনি সব সম্পত্তি নবীজিকে (সা.) দিয়ে দিয়েছেন। আর রাসূল (সা.) গরিবদের মধ্যে সে অর্থ বিলিয়ে দিয়েছেন।
তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানবতার কল্যাণে সাহাবিরাও এগিয়ে এসেছিলেন সমানভাবে। প্রত্যেক সাহাবি ছিলেন আত্মোৎসর্গ ও মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলাম গ্রহণ করার আগে মক্কার সেরা ধনী ছিলেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি তাঁর সব সম্পত্তি ইসলামের নামে অসহায় ও দুস্থদের দান করেছিলেন এবং অন্য সাহাবিরাও জান-মাল সর্বস্ব দিয়েই রাসূল (সা.) ও ইসলামকে ভালোবেসে ছিলেন।
অথচ বর্তমান সময়ের আলেম-উলামা বা মুসলিম জনগোষ্ঠী আর্তমানবতার সেবায় সবচেয়ে পিছিয়ে। মানবসেবার মাধ্যমে যাদের উত্থান, মানবসেবা যাদের ধর্ম- সেখানেই মুসলিম জাতি আজ সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে। সুন্দর পোশাক, বেশভূষা সবই ঠিক রয়েছে, রবং বেশিই রয়েছে। আশেকে রাসূল, আশেকে নবী, রাসূল প্রেমিক, বিশ্ব আশেকে রাসূল নানা উপাধি নিয়ে আয়োজন-উৎসবসহ বহাল তবিয়তে জীবনযাপন করছে। কিন্তু রাসূলের (সা.) আদর্শের শিক্ষা নেই। বাস্তব জীবন বা ব্যক্তিগত কার্যকলাপের মধ্যে মানবসেবার পরিচয় পাওয়া যায় না। রাসূলের (সা.) আদর্শের প্রতিফলন হয় না। কত মানুষ না খেয়ে থাকে, কত হতদরিদ্র শীতে কাতরায়, কত অনাথ সাহায্যের অভাবে শিক্ষার আলো পায় না, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনার অভাবে সমাজ ব্যবস্থা অধঃপতনের শেষ প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে তাতে কারো মাথাব্যথা নেই।
উত্তম সমাজব্যবস্থা কায়েম রাখতে রাসূল পাক (সা.) দান-খয়রাত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি হালাল উপার্জন থেকে দান করে, আল্লাহ মহান সে দান নিজে গ্রহণ করেন। সেটিকে উত্তমরূপে সংরক্ষণ করেন। এক সময় সে দানের সাওয়াব পাহাড়তুল্য হয়ে যায়।’
অনত্র তিনি বলেছেন, ‘একটি খেজুরের অর্ধাংশ দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। আর যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে গরির-অভাবী লোকদের সঙ্গে মিষ্টি ভাষায় কথা বল, ভালো ব্যবহার করো যাতে পরকালে তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’ এভাবে মানবতার সেবা এবং অন্যের দুঃখ-কষ্টের কথা মাথায় রেখে উম্মতকে জীবনযাপন করার উপদেশ প্রদান করেছেন। একদিন তিনি হজরত আবু দারদাকে (রা.) বললেন, ঘরে তরকারি রান্না করার সময় তাতে পানি কিছুটা বাড়িয়ে দিও। খাবার সময় যাতে প্রতিবেশীকে সামান্য ঝোল হলেও দান করতে পার। দয়ার নবী এভাবেই তাঁর উম্মতকে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং ভারসাম্য সমাজব্যবস্থা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তিনি এরশাদ করেছেন, ‘যারা রহম করে তাদের ওপরই রহমানের রহমত বর্ষিত হয়। পৃথিবীতে যারা আছে তোমরা তাদের প্রতি রহম কর, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনিও তোমাদের প্রতি রহমত নাজিল করবেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা আপন বান্দাদের উদ্দেশ করে বলবেন : হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম; তোমরা আমার সেবা-যত্ন করনি। বান্দা আরজ করবে, হে আল্লাহ! তা কেমন করে সম্ভব! আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন : তুমি কি জান না, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, কিন্তু তুমি তার সেবা-যত্ন করনি। তার পাশে দাঁড়ালে সেখানে তো আমাকেই পেতে। হে আদম সন্তান! আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে খাবার দাওনি। বান্দা বলবে : তা কিভাবে সম্ভব, আপনি তো রাব্বুল আলামিন। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা ক্ষুধার্ত ছিল। তুমি তাকে খেতে দাওনি। তোমার কি জানা ছিল না যে, তাকে খাওয়ালে তার কাছে আমাকে পেতে। হে আদম সন্তান! আমি পিপাসার্ত ছিলাম; তোমরা আমায় পানি দাওনি। বান্দা আরজ করবে : হে আল্লাহ! কিভাবে আপনাকে পানি পান করাব? আপনি তো তৃষ্ণা থেকে পবিত্র। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা পিপাসার্ত ছিল, তুমি তার পিপাসা নিবারণ করনি। তোমার কি জানা ছিল না যে, তার পিপাসা মেটালে তার কাছে আমাকে পেতে।
রাসূল পাকের (সা.) উম্মত হিসেবে, তাঁর ভালোবাসার দাবিদার হিসেবে আমাদের অবশ্যই তাঁর আদর্শের অনুসরণ করতে হবে। শুধু মুখে বলা বা বেশ-ভূষাতে মুসলমানিত্ব প্রকাশ না করে কাজ-কর্মের মাধ্যমে আদর্শের বাস্তবায়ন করে যথার্থ মুসলিম পরিচয় তুলে ধরতে পারলেই তবে তা হবে ইসলামের জন্য কল্যাণকর এবং আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয়।
লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক, ইসলামী চিন্তাবিদ
গদিনশীন পীর, দরবারে
আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরিফ
Email : ahmadinurisds@gmail.com

Tuesday, July 30, 2013

প্রয়োজন একটি সামাজিক উল্লম্ফন by ড. শেখ জিনাত আলী

প্রাচ্যের সমাজব্যবস্থায় বাঙালি সমাজ সেই কোন কালে গড়ে উঠেছে, তার হিসাব-নিকাশ কেউ করছে কি-না তা আমার জানা নেই। তবে এটা জানি, হাজার বছরে গড়ে ওঠা এ গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে বংশপরম্পরায় যে কৌলিক উপাদান বাঙালির জীবন কাঠামোতে প্রবহমান, তা-ই বাঙালিত্বের শারীরিক-মানসিক সৌষ্ঠব এনে দিয়েছে। এ সমাজ ইতিমধ্যে তিনটি যুগ অতিক্রম করে এসে চতুর্থ যুগে পদার্পণ করেছে। সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর যুগ শেষ হয়েছে অনেক আগে, যাকে আমরা আদিম সাম্য, ভূমিদাসত্ব ও পুঁজিতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আর কলি যুগ আধুনিক সমাজবাদী বা সমাজতন্ত্রের তুল্য হতে পারে। বাংলাদেশে শতাধিক বছর কিংবা তার অল্পকাল পর কলির যুগ শুরু হয়েছে, যদিও চতুর্দশ শতাব্দীতে কলকারখানার উপাদান থেকে ইউরোপে পূর্বোক্ত যুগের অবসান হয়। প্রতিটি যুগ কিছু নিয়ামক দ্বারা সূচিত হয়েছে। আবার নিয়ামকগুলোর পরিসমাপ্তিতে মানুষ পরবর্তী যুগে প্রবেশের মধ্য দিয়ে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। মানুষ অগ্রসর হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে, আবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। গভীর বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, অদম্য মানুষ কোনো সমাজে বা দেশে অগ্রসর হতে চায় এবং কোথাও হচ্ছে। তবে অল্পসংখ্যক তাতে বাধা সৃষ্টি করছে। অগ্রসর হতে হলে অল্প সংখ্যকের এ বাধা অতিক্রম করতেই হয়। নইলে মানুষ আর মানুষ থাকে না।
কলির যুগে আমরা ভারত উপমহাদেশের মানুষরা ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসন কবলে আটকা থেকেছি। ব্রিটিশ উপনিবেশে পলাশীর লব্ধ নিয়মনীতিতে আমরা শাসিত হয়েছি। ব্রিটিশরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ অটুট রাখার জন্য যা দরকার তার সবই করেছে। এই যা যা করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ইচ্ছানুযায়ী ভারতীয়দের মধ্য থেকে একটি শাসক শ্রেণী সৃষ্টি করা হয় এবং ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তার হতে থাকে। কিছু দেশপ্রেমিক শিক্ষিত লোকজনও এর মাধ্যমে তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলও প্রতিষ্ঠিত হয় এসব শিক্ষিতজনের মধ্য থেকে এবং ভারতের সব জাতির জাতিসত্তার মধ্যেই তা কমবেশি বিস্তার লাভ করে। শুরু হয় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম। এতে নেতৃত্ব আসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫ থেকে), কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২১ থেকে) ও কিছু আঞ্চলিক চরমপন্থী দল থেকে। মানুষকে ভালোবাসার, মানুষের জন্য কিছু মঙ্গলকর কর্ম সম্পাদনের এভাবেই শুরু হয়। অনুপ্রেরণা আসে ফরাসি বিপ্লব, বলশেভিক বিপ্লব এবং বিভিন্ন কৃষক বিদ্রোহ-শ্রমিক আন্দোলন থেকে। আমরা মে দিবসের কথা জানি। ইউরোপ, এশিয়ার বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশের কৃষক-প্রজাদের আন্দোলন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। উল্লেখ্য, সাম্প্রদায়িক দল মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে ঢাকায় গঠিত হলেও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে তার অবদান নেই বললেই চলে। বরং বলা চলে, তারা ব্রিটিশের ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর পৃথিবীতে উপনিবেশবাদ বিরোধী নবজাগরণ সৃষ্টি হলেও ভারতবর্ষ সাম্প্রদায়িক বিভাজনের শিকার হয় এবং ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট গভীর রাতে পাকিস্তান নামের একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র মুসলমানদের উপহার দেয় ব্রিটিশ শাসকরা। প্রখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত লতিফ ভাইয়ের কথায় একে ‘জল্লাদের কাছে সোপর্দ’ বলা যায়। এটা হল সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের রাষ্ট্র। এ রকম রাষ্ট্র পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এ রাষ্ট্রে ছিল একটি ভৌতিক কাণ্ড এবং ১৯৪৭-এর পর রাষ্ট্রটিতে অনুসৃত নীতিই ছিল বাঙালি জাতিসত্তার ওপর প্রথম আঘাত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলা অঞ্চলের বাঙালিকে জাতি হিসেবে বিকশিত হতে না দেয়া। তাই জাতিগত নিপীড়ন ও পূর্ববাংলার সম্পদ (পাট, চা, চামড়া ও মানুষ) লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো ঘটনা।
এভাবে নানা বৈষম্যের শিকার পূর্ব বাংলার মানুষকে পশ্চিমা শাসকদের বিরুদ্ধে প্রথম দাঁড়াতে হয়েছিল ১৯৫২-তে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল, তার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি, মুসলিম লীগের মোহভঙ্গ অংশ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ছাত্র-যুব গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। এভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে, তারাই পরবর্তীকালে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬-এর আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ১৯৬৯-এর ছাত্র সংগ্রামের ১১ দফা প্রণয়ন করে জনগণকে সংগঠিত করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা নেয় এবং জেল-জুলুম, হত্যা, নির্যাতন ভোগ করে। এর ফলে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় আসে। কমরেড মণি সিংহকে কমপক্ষে ৪০ বছর আÍগোপনে থেকে এবং জেল থেকে সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হয়। অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ন্যাপ গঠন করে প্রগতির পথে হাঁটতে থাকেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অন্যদের সঙ্গে বন্দি হন। ১৯৬৮-তে সেনাবাহিনীতে কমিশনড র‌্যাংকে চাকরির জন্য ঢাকা সেনানিবাসে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি তা হল, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় আমি ৬ দফা সমর্থন করি কি-না। আমার উত্তর ছিল হ্যাঁ সূচক। সে সময় আমরা যারা ওই সাক্ষাৎকার দিতে যাই, তাদের কারও চাকরি হয়নি। নতুন প্রজšে§র কাছে আমি কিছু কথা এখানে লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি, যাতে তারা পাকিস্তানি ২৩ বছরের ইতিহাস বোঝার চেষ্টা করে। কারণ এটা না বুঝলে বর্তমান দেশের সংকট-সমস্যা সম্পর্কে তারা অন্ধের হাতি দেখার মতো অবস্থায় থেকে যাবে। থেকে যাচ্ছে।
যে শিরোনামে লেখাটি শুরু করেছি, দেশের বর্তমান অবস্থা সঠিকভাবে বোঝার জন্য ওই প্রেক্ষাপট সবার কাছে খুবই গুরুত্ববহ হবে, আমি যা আগেই উল্লেখ করেছি। আজকের এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এক নদী রক্ত ঝরাতে হয় বাঙালিকে। পশ্চিমা শাসকদের সীমাহীন শোষণের পরিসমাপ্তি ঘটাতে লাখো প্রাণের রক্তের ঋণ শোধ হতে পারে শুধু শোষণহীন সোনার বাংলা (বঙ্গবন্ধুর ভাষায়) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর তা করতে হলে আমরা যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে যুদ্ধ করেছি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও মাওবাদী চীনের পাকিস্তান প্রীতি উপেক্ষা করে, তার বাস্তবায়ন ছাড়া এখানে সেখানে কিছু চুনকাম করে কিছুই করা যাবে না। আমাদের ১৯৭২-এর সংবিধান সে জন্য সর্বাগ্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি। এটা করতে যত কালক্ষেপণ হবে, তত দেশে বিশৃংখলা বাড়বে।
আজকের প্রজš§ ভীষণভাবে হতাশ দেশের বর্তমান সৃষ্ট সংকট-সমস্যায়। সময় এসেছে ২০০৮-এর নির্বাচনে মহাজোট সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর দিকে যথাসম্ভব দৃষ্টি দেয়ার, যেমন (ক) ১৯৭২-এর সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ পুনরুজ্জীবন, (খ) যুদ্বাপরাধীদের বিচারের যে রায় ইতিমধ্যে হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করা, (গ) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা, (ঘ) বিদ্যুৎ, গ্যাস, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, (ঙ) দুর্নীতি নির্মূলসহ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া এবং (চ) গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার তথা সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাজের পরিধি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংসদ সদস্যদের কর্মক্ষেত্র আলাদা করে সমন্বয় সাধন করা এবং সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে øাতক ডিগ্রি করা।
এ কাজগুলো করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দক্ষ কর্মশক্তি ও ব্যক্তি সৃষ্টি করার বিকল্প নেই এবং এরূপ লোকজনকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে হবে, যাতে দেশে একটি আর্থ-সামাজিক উল্লম্ফন ঘটানো যায়। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পারলে সমাজে ও প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। কৃষি-শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রাম সমবায় ও শ্রমিকের অংশীদারিত্বমূলক শিল্পায়ন গড়ে তুলতে হবে। এতে মানুষের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে হলে মানুষের সাংস্কৃতিক মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে দেশে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না, থাকতে দেয়া যায় না। কথাটি মনে রাখার জন্য গণমাধ্যমের আলোচনায় অংশ নেয়া বক্তাদের বিনীত অনুরোধ করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া সামাজিক উল্লম্ফন ঘটানো যাবে না এবং সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি দিন বদলের সনদ বাস্তবায়ন হবে না।
ড. শেখ জিনাত আলী : অধ্যাপক

Friday, July 26, 2013

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে রোজা by মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

ইসলাম সূচনাকাল থেকেই শান্তিপ্রিয় সমাজ প্রতিষ্ঠা করার প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে আগমনের পর থেকে তিনি এমনই এক সমাজ গড়তে সচেষ্ট হন।

হাদিসে আত্মীয়তা সম্পর্ক by শাহীন হাসনাত

কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা, কাউকে হত্যা করা যেমন বড় অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তেমনি আত্মীয়দের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার হকগুলো আদায় করে দেওয়া সওয়াবের কাজ

Friday, July 12, 2013

রমজান ও হালাল উপার্জন by মাওলানা শাহ আবদুস সাত্তার

রমজানুল মোবারকের পরিপূর্ণতা পেতে হলে রোজাদারদের হালাল অর্থ দ্বারা খাবার-দাবার হতে শুরু করে সব কিছুতে হালাল অর্থ হতে হবে নতুবা রোজার পরিপূর্ণতা আদায় হবে না।

রমজানে কোরআন তেলাওয়াত by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। তাই আমাদের উচিত হলো এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা। রোজা পালন ও নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া।

Friday, June 21, 2013

ঋণ পরিশোধে নবীর নির্দেশনা by মাওলানা শিব্বীর আহমদ

স্বাভাবিক জীবনে মানুষকে প্রায়ই ঋণ আদান-প্রদান করতে হয়। রাসূলুল্লাহও (সা.) কখনও কখনও ঋণ করতেন। মাঝে মধ্যে তো অমুসলিমদের থেকেও ঋণ গ্রহণ করতেন। মানবতার অহঙ্কার ছিলেন তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।

উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনে ইসলাম by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

মিরাস বা উত্তরাধিকারের অর্থ হলো, একের অনুপস্থিতিতে অন্যের অধিকার। সে হিসেবে কারও মৃত্যুর পর অন্যের যে অধিকার জন্মায় তাকে উত্তরাধিকার বলে। একজনের জীবদ্দশায় কারও সম্পদে কখনও অন্যজনের অধিকার জন্মায় না।

Friday, June 7, 2013

আমেরিকায় বাড়ছে মসজিদ by জহির উদ্দিন বাবর

নাইন-ইলেভেনের পর বিশ্বে মুসলমানদের সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা কম হয়নি। এত বাধা-বিপত্তি ও চাপ সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অগ্রগতি অব্যাহত আছে।

কন্যাশিশুর ভ্রূণ হত্যা করবেন না by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

দিন দুয়েক আগে ঘটনাটি রাজধানীর এক ক্লিনিকে দেখা। ক্লিনিকের রিসিপশনে বসে কাঁদছে এক নারী। তার স্বামী কাগজপত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন। কিছুক্ষণ পরপর স্বামী ওই নারীর কাছে এসে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Friday, February 8, 2013

আল্লাহর পথে আহ্বান by মোহাম্মদ সদরুল আমীন রাশেদ

মানুষের জীবনে ও আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের মাধ্যমেই দাওয়াত পরিচালিত হয়েছে। শেষ নবী (সা.) পর্যন্ত সব নবীর কাজের সূচনা হয়েছে দাওয়াতের মাধ্যমে। দাওয়াতের কাজ কোথাও সরাসরি নির্দেশ আকারে এসেছে।

সুফিবাদ শান্তির পথ by হাকীম সালেহ আহমদ মিঞা

যারা আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসা রেখে আধ্যাত্মিক সাধনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদের চরিত্রগুণে আল্লাহর নিকট প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেন, তারাই সুফি।

কৃতজ্ঞ বান্দাকে আল্লাহ ভালোবাসেন by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

আল্লাহতায়ালা কর্তৃক প্রদত্ত যাবতীয় নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় তথা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন হচ্ছে এমন একটি কাজ, যা আল্লাহতায়ালা ভালোবাসেন। যে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে না আল্লাহ তার মুখাপেক্ষী নন। বরং শোকরিয়া আদায়ে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। কৃতজ্ঞতা মানব চরিত্রের এক উত্তম গুণ।

Friday, February 1, 2013

মুহাম্মাদুর রাসূলের (সা.) প্রতি ভালোবাসা by মুফতি মাহফূযুল হক

ভালোবাসা কখনও হয় স্বভাবজাত আবার কখনও বিবেকপ্রসূত। কোলের অবুঝ শিশু মাকে কাছে পেয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে যে আবেগ প্রকাশ করে তা স্বভাবজাত অপরিকল্পিত ভালোবাসা থেকেই হয়। ছাত্র তার শিক্ষকের প্রতি যে বিনয়ী হয় তা বিবেকপ্রসূত পরিকল্পিত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

প্রিয় নবীজির (সা.) প্রিয় শহর by জহির উদ্দিন বাবর

একজন মুসলমানের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় শহর মক্কা ও মদিনা। কারণ এ দুটি শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় নবীর (সা.) অজস্র স্মৃতি। এ জন্য সারাবিশ্বের মুসলমানের কেন্দ্রবিন্দু মক্কা ও মদিনা। আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহর কারণে মক্কা নিঃসন্দেহে মর্যাদার দিক থেকে শীর্ষে।

ধর্ষণ রোধে দরকার নৈতিকতার জাগরণ by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

বেশ কিছুদিন ধরে সংবাদপত্রে ধর্ষণের সংবাদগুলো বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে। ধর্ষণের ভয়াবহতা বিশ্লেষণে সর্বত্র এটা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার একটাই চাওয়া_ ধর্ষককে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে। এ কথা সবাই স্বীকার করে, ধর্ষণের ফলে একজন নারীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়।

Friday, January 25, 2013

দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বশেষ ও সর্বোত্তম নবী ও রাসূল (সা.)। তার ওপর ইমান রাখা ও তাকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কর্তব্য।

রাসূলের আদর্শ সব যুগের অনুসরণীয় by সালমা সেতারা

মিরাজ সম্পন্ন হয় নবুওতের চতুর্থ বর্ষে রজব মাসের ২৭ তারিখে। মিরাজের অর্থই ঊর্ধ্বারোহণ বা ঊর্ধ্বগমন। আল্লাহ পাকের উদ্দেশ্য ছিল মিরাজকে উপলক্ষ করে ইসলামের জীবনবিধানকে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপদান করা। আদম (আ.) থেকেই ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে।

নবীর (সা.) আলোচনায় ইমান তাজা হয় by ওয়ালী উল্লাহ আরমান

মানব সৃষ্টির শুরু থেকে যেসব মহামানবের আবির্ভাব হয়েছে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। জীবনের প্রতি স্তরে, প্রতি পদক্ষেপে আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হই, তার সমাধান খুঁজে পাই এ মহামানবের জীবনে।