Thursday, January 7, 2010

‘দ্যাহা তো যায় ঘুঘুর মতো’ by আমীন আল রশী

তুফানি বেগম অথবা শুধুই তুফানি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকের পাড়ে পাতা কুড়াচ্ছিলেন। শুকনো পাতা। চুলোয় দেবেন। লেকের ওপর তখন অতিথি পাখিরা উড়ছিল। রঙিন শাপলার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছিল পানিতে ভেসে বেড়ানো পাখিরা। তাদের কিচিরমিচির তুফানির বস্তায় পাতা ভরার শব্দের সঙ্গে মিশে যায়।
তখন দুপুর। লেকের পাড়ের অজস্র ইউক্যালিপটাসের লম্বা শুকনো পাতার বাইরে আর কোনো নজর নেই এই বৃদ্ধার।
বয়স কত হলো?
‘আইডেন্টি কাটে ৬৫ লিখছি।’
ছেলে-মেয়ে?
‘দুই পোলা এক মাইয়া। মাইয়াডা দ্যাশে বিয়া দিয়া আইছি।’
তার স্বামী কী করে?
‘স্বামী যে কী করে...! কামলা-জামলা দ্যায়...।’
আর ছেলেরা?
‘অরা রাইস মিলে কাম করে। অগো লগেই থাহি। দুইজন এক বাড়িতেই থাহে। তয় ঘর আলাদা।’
আপনি কার সঙ্গে থাকেন?
‘মিল্যামিশ্যা থাহি। যেহেনে পাই হেইনেই দুইডা খাই।’
তুফানির স্বামী তোরাব আলীও সাভারে একটি চালকলে কাজ করতেন। তাঁর ছোট ছেলের বয়স যখন চার মাস, তখন তিনি মারা যান। সেই ছোট ছেলে এখন দুই ছেলের বাবা। তুফানি আর বিয়ে করেননি। ছেলেমেয়েদের বড় করেছেন। কিন্তু পয়সার অভাবে তাদের পড়ালেখা করাতে পারেননি। এখন দিন যায় কোনো মতে। শুকনোর দিনে ক্যাম্পাসে এসে পাতা কুড়ান। প্রতিদিন এক বস্তা করে নিয়ে যান। এতে দিনের জ্বালানিটা হয়।
কেউ কিছু বলে?
‘নাহ্, কী কইবো। দুনিয়ার মানুষ নিতাছে। পাতা নিতাছি, এতে তো জঙ্গল সাফ হইতাছে। এইডা বালা কাম না?’
ক্যাম্পাসের অদূরেই আমবাগান এলাকায় এই বৃদ্ধার ছেলেদের ঘর, যেখানে তিনি থাকেন। এ রকম পাতা কুড়ান অনেক বছর ধরে। লেকের পাড়ে, কখনো লেক ছাড়িয়ে রাস্তার ধারে। শীতের দিনে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে যে পাখিরা অতিথি হয়ে ক্যাম্পাসের লেকে এসে আস্তানা গাড়ে, তাদের দেখতে আসে অনেক মানুষ। গাড়ি নিয়েও আসে অনেকে। এই বৃদ্ধার সঙ্গে কি তাদের কথা হয়?
‘অনেকে মনে চাইলে জিগায়...কী আর জিগাইবো...।’
এই পাখিগুলো কোত্থেকে আসে, জানেন?
‘কোথা দিয়া আসে কেমনে কই। সব সময়ই তো দেহি, এইরম উইড়া আইসা পড়ে। এই পুকুরে বহে, ওইটায় বহে। ম্যালা দিন ধইরাই দেহি। দুনিয়ার মানুষ আহে এগুলানরে দেখতে। আর কোনোহানে এইরম পাখি তো দেখি না। কাউয়া শালিখের মতো না। অইন্য রহম।’
অন্য রকম কেমন?
‘দ্যাহা তো যায় ঘুঘুর মতো।’
তুফানির ‘ঘুঘু’রা উড়ে বেড়ায় লেকের ওপর, তাদের ছায়া পড়ে জলে। এই ঘুঘুরা কোন শীতের দেশ থেকে আসে, কেন আসে, কত দিন থাকে, তা নিয়ে তুফানির মাথাব্যথা নেই। থাকার কোনো কারণও নেই। শুকনো পাতা কুড়ানোই যাঁর জীবন, তাঁর মনে প্রশ্নরা ভিড় করতে পারে না। এই পাখিগুলোকে ধরার জন্য ওত পেতে আছে শিকারি। মওকা পেলেই বন্দী হবে ওরা। তারপর চলে আসবে ঢাকার রাজপথে, বিক্রেতার হাতে হাতে ঘুরবে ওরা। পরিবেশবাদীরা বলতেই থাকবে, অতিথি পাখি নিধন করা চলবে না। কেউ শুনবে না সেই কথা। চড়া দামে শীতের পাখিরা উঠবে গ্যাসের চুলোয়।
আসলেই কি তা? তুফানির মনে আলোড়ন তোলে না এ প্রশ্ন। কিন্তু যারা এই পাখিগুলোকে রসনার উপাদানে পরিণত করে, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে, একটু বাঁচার আশা নিয়েই পাখিগুলো উড়তে উড়তে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে! শীতের দেশে শীতটা একটু সহনীয় হলেই ওরা ফিরে যাবে ঘরে? পাখি নিধনের বিরুদ্ধে জনমত হয়তো গড়ে উঠছে একটু একটু করে, কিন্তু তাতে কতটা কাজ হচ্ছে? কিংবা অন্য প্রশ্নও তো তোলা যায়। আমাদের এই তুফানি বেগমের জীবনটা এভাবে কাটবে কেন? এ প্রশ্নেরই বা উত্তর দিতে পারবেন কজন? পাখি আর তুফানিতে মিলে যে শৈল্পিক আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে কারও কিছু যায়-আসে না। তাই তুফানি শুকনো পাতার বস্তা নিয়ে হেঁটে যান। মাটির পথ ধরেন। দুপুরের রোদ থাকে মাথার ওপর। পাখিদের কিচিরমিচির তার পাতার খসখস শব্দের সঙ্গে মিশে যায়। রঙিন শাপলার ভিড়ে হারিয়ে যায় এই সব ঘুঘুর শরীর।

বাজারসুবিধা ও আমেরিকার দ্বৈতনীতি by আসজাদুল কিবরিয়া

কোনো তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার বা অস্বীকার করার একটি ভালো উপায় হলো সেই তথ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। গত বছরের শেষ ভাগে (৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর) জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ রকম একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রন কার্ক। সম্মেলনের শেষ দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অবাধ বাজারসুবিধা দেওয়ার বিষয়ে যখন বিভিন্ন প্রশ্ন করা হচ্ছিল, তখন একপর্যায়ে তিনি এ রকম অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গরিব দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি পণ্য আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয় আর কম্বোডিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে দিতে হয় ১৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ১ শতাংশের কম হারে শুল্ক প্রদান করে। রন কার্ককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন এ ধরনের শুল্কবৈষম্য। তাকে এও বলা হয়েছিল, আমেরিকা ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৫৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। এ জন্য অবশ্য আমদানি শুল্ক বাবদ আমেরিকার আয় হয়েছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। একইভাবে কম্বোডিয়া ১২৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও মার্কিন কোষাগারে এর বিপরীতে আদায় করা হয়েছে ২১ কোটি ডলার। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার ও তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে মাত্র ১৮ কোটি ডলার করে শুল্ক প্রদান করেছে। এ ধরনের শুল্কবৈষম্যের পেছনে যুক্তি কী?
জবাবে রন কার্ক এসব তথ্য-পরিসংখ্যানে সত্য-মিথ্যা নিয়ে কিছুই বলেননি। তিনি বেশ সাবলীলভাবে শুধু এটাই বলেছেন, এই প্রথমবার এ ধরনের কোনো তথ্য-পরিসংখ্যান শুনতে পেলেন তিনি। এ কথার পর আর কিছু বলার থাকে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি এভাবেই গরিব দেশের বাজারসুবিধা ও শুল্কবৈষম্যের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর ফলে আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য সুদূরপরাহত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র তো স্বীকারই করতে চাইছে না, এ ধরনের কোনো শুল্কবৈষম্য আছে। আর তাই বৈষম্য দূর করার বিষয়টিও আসতে পারছে না।
রন ক্লার্ক বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার সচেতনভাবে শুল্কবৈষম্যের বিষয়টি নাও জানতে পারে। না জানাটাই তাদের জন্য ভালো কৌশল। তবে আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিল (ডিএলসি) প্রতি সপ্তাহে ওয়েবসাইটে (www.dlc.org) যে ‘ট্রেড ফ্যাক্ট অব দ্য উইক’ প্রকাশ করে থাকে, তাতে গরিব দেশগুলোর শুল্কবৈষম্যের এ বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে গত ১৪ অক্টোবর, ২০০৯-এ। এতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র মোটরগাড়ির ওপর শুল্কের তুলনায় জুতার ওপর শুল্ক থেকে বেশি আয় করে।’ প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলো যারা উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন, ভারী শিল্পপণ্য ও তেল রপ্তানি করে এবং গরিব দেশ যারা প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত পায়। কিন্তু এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের নিম্নআয়ের এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও অগ্রাধিকার কর্মসূচিবহির্ভূত দেশগুলো পায় নির্দয় আচরণ। বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান বছরে সামান্য পরিমাণ তৈরি পোশাক ও তোয়ালে রপ্তানি করে, যার মূল্য মাত্র ৯০০ কোটি ডলার। এ জন্য দেশগুলোকে জরিমানা হিসাবে শুল্ক গুনতে হয় ১৩০ কোটি ডলার। অথচ পরিমাণগতভাবে অনেক বেশি উড়োজাহাজ, মদ, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তিপণ্য আসে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার। এ জন্য শুল্ক গুনতে হয় মাত্র ৭৫ কোটি ডলারের মতো।
প্রতিবেদনে আমদানিমূল্য ও আরোপিত শুল্কের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, গরিব দেশগুলোর প্রতি বিরূপ আচরণ আসলে নিজ দেশে গরিব মানুষের প্রতি বিরূপ আচরণেরই শামিল। কারণ, এসব দেশ থেকে পোশাকসহ যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, তার বেশির ভাগই আমেরিকার নিম্নআয়ের মানুষের প্রয়োজনে।
মজার বিষয় হলো, আমদানি শুল্ক আমেরিকার রাজস্ব-আয়ের সবচেয়ে ছোট উত্স। ২০০৮ সালে আমেরিকার মোট কর রাজস্বের মধ্যে শীর্ষে ছিল আয়কর, যার পরিমাণ এক লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার। এরপর যথাক্রমে বেতন কর ৯০ হাজার কোটি ডলার; প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর ৩০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার; মদ, সিগারেট ও গ্যাসোলিনের ওপর আবগারি কর ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার; উপহার কর দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলার এবং আমদানি শুল্ক দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলার। আমদানি শুল্ক আমেরিকার সবচেয়ে পুরোনো রাজস্ব উত্স, যা একসময়ে দেশটির মোট রাজস্বের প্রায় অর্ধেক জোগান দিত। এখন তা মোট রাজস্বের ১ শতাংশও নয়। তার পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্কনীতি বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করে চলেছে, যা নিয়ে সে দেশের ভেতরেই সমালোচনা ও আপত্তি রয়েছে।
আমেরিকার এই বৈষম্যমূলক শুল্কারোপের নীতিটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কর্মকাঠামোর আওতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উন্নত বিশ্বে বাজারসুবিধা দেওয়ার যে কথা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রধান বাধাও এখন কার্যত আমেরিকা। কারণ, আমেরিকা বাদে প্রায় সব উন্নত দেশই গরিব দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়ে ফেলেছে। হংকং ঘোষণা অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ৯৭ শতাংশ পণ্যে বাজারসুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্তটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না মূলত আমেরিকার অনাগ্রহে। অবশ্য এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি আছে। কারণ, যে ৩ শতাংশ পণ্য এই সুবিধার বাইরে থাকবে, তার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্যসহ রপ্তানিযোগ্য প্রায় সব পণ্যই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে।
তার চেয়েও বড় কথা, আমেরিকার বাজারে আফ্রিকার দেশগুলো প্রবেশাধিকার পেয়ে গেছে অনেক আগেই। একই রকম সুবিধা পেয়ে আসছে ক্যারিবীয় দেশগুলো। ফলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, নেপালসহ এশিয়ার কয়েকটি স্বল্পোন্নত দেশ এখন এই সুবিধা পেতে বাকি রয়েছে। আর এটা দিতে যত আপত্তি।
এদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম গত বছরের নভেম্বর মাসেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি অন ওয়েজ অ্যান্ড মিনসের এক শুনানিতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল ও ব্রায়ান এই শুনানিতে বলেন, ‘এটার কোনো মানেই হয় না যে আমরা কম্বোডিয়াকে যে সহায়তা প্রদান করি, তার সাত গুণ বেশি শুল্ক হিসেবে আদায় করি। অথবা গত বছর আমেরিকা থেকে পাওয়া প্রতি এক ডলার সহায়তা দেওয়ার বিপরীতে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির জন্য চার ডলার করে শুল্ক দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জিম ম্যাকডরমুটের ‘নিউ পার্টনারশিপ ফর ট্রেড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে যে বিল উপস্থাপন করেছেন, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে অক্সফাম আমেরিকা। বলেছে যে এই বিল অনুমোদন করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ও বাণিজ্যনীতির বৈপরীত্যগুলো দূর করা সম্ভব হবে। সব স্বল্পোন্নত দেশকে কোটামুক্ত ও শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন ও ডব্লিউটিরও আওতায় আমেরিকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে।
সমস্যা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকেরা এত সহজে এসব যুক্তি মানতে রাজি নন। তা ছাড়া বাংলাদেশকে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ আদায় নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে। সাম্প্রতিক কালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রূপরেখা চুক্তি (টিফা) স্বাক্ষর করার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি করা হয়েছে, তাতে এই স্বার্থের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। সর্বোপরি বাজারসুবিধা না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে অনেকটা খোলামেলা বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকা সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল জে ডিলেনি স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে বাংলাদেশের বরং শুল্কহ্রাস ও অগ্রাধিকার কর্মসূচির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। এর কয়েক দিন পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি মেট্রো চেম্বারের এক আলোচনা সভায় বলেছেন, বাজারসুবিধা পেতে হলে টিফা সম্পাদন করা জরুরি।
বস্তুত, জেনেভায় ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের অল্প কিছুদিন আগে মার্কিন সরকারের এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, জেনেভায় আমেরিকার কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক কিছু পাওয়া যাবে না। বাস্তবেও হয়েছে তাই। জেনেভায় রন কার্ক আমেরিকার বাণিজ্যের দ্বিমুখী নীতিকেই আরেকবার স্পষ্ট করেছেন। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর হতাশাও দীর্ঘায়িত হয়েছে।
আসজাদুল কিবরিয়া: সাংবাদিক।
asjadullk@gmail.com

সফলতার দাবি গতানুগতিক by মওদুদ আহমদ

একটা অস্বাভাবিক ও চরম প্রতিকূল অবস্থান থেকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয় এই বিশ্বাসে যে একটি অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক, বেআইনি ও স্বৈরাচারী সরকারের চেয়ে নির্বাচিত একটি সরকার দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। যদিও বিএনপি আশা করেছিল নির্বাচনে জয়লাভ করবে, কিন্তু সেই নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির জন্য একটি বিপর্যয় নিয়ে আসে। এর ফলে সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসাটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের ও জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য সংসদে একটি ক্ষুদ্র দল হলেও বিএনপি একটি ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যায়। গত তিনটি সংসদের অতীত চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেয় এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়।
বিএনপির প্রত্যাশা ছিল, অতীতের কথা ভুলে গিয়ে সরকার বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করার জন্য সরকার বিরোধী দলকে সম্মান ও সহনশীলতার সঙ্গে দেখবে। সংসদে বিরোধী দলকে একটি কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জন করে একটি উদার মনোভাব নিয়ে সংসদ এবং সরকার পরিচালনা করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন এবং জাতীয় স্বার্থসম্পর্কিত বিষয়গুলো যেমন—টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা, ট্রানজিট এবং সমুদ্রসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার দ্বিদলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার নতুন রাজনৈতিক চর্চা শুরু করবে। এটা জাতিরও প্রত্যাশা ছিল। এসব কথা বিবেচনা করে বছরজুড়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি-সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে এবং কোনো হরতালের কর্মসূচি দেয়নি।
কিন্তু এই প্রত্যাশার কোনোটাই বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং দেখা গেছে, বিরোধী দলের প্রতি সরকারের মনোভাব ও আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়েছে। ২৮ বছর ধরে যে বাড়িতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বসবাস করছেন, সেখানে থেকে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা, সংসদে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ওপর দেওয়া খালেদা জিয়ার বক্তৃতা টেলিভিশনে প্রচার না করা, সংসদের প্রথম সারিতে বিএনপির জন্য আসন বরাদ্দ নিয়ে সংকট সৃষ্টি করা এবং মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে দেশের সব স্থাপনা থেকে জিয়াউর রহমানের নাম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিরোধী দলের প্রতি সরকারের অসহনীয় আচরণ ও মনোভাবের পরিচয় দেয়। এর মাধ্যমে সমঝোতার পথে না এগিয়ে সরকার রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে মনে হয়।
এ ছাড়া একই বৈরী আচরণ আমরা আরও তিনটি বিষয়ে দেখতে পাই, যেখানে চরম অগণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যমূলক ব্যবহার প্রতিফলিত হয়েছে—
১. রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে দেখা গেল, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৪টি মামলা প্রত্যাহারসহ আওয়ামী লীগের সব নেতার মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার সুপারিশ করেছে। কিন্তু বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যদের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়নি। বরং আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধী দলের মামলা প্রত্যাহারের জন্য তিনি মন্ত্রীর আসনে বসেননি।
২. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক নেতার ব্যাংক হিসাব রাজনৈতিক কারণে জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকার আওয়ামী লীগের নেতাদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবগুলো মুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির নেতাদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধই আছে। সরকারের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো মুক্ত করা হবে না।
৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিদেশে যাওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। নির্বাচনের পর দেখা গেল, সরকার আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কিন্তু বিএনপির নেতাদের ওপর তা বহাল আছে। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।’ অথচ এই মৌলিক অধিকারটুকু বিরোধী দলের নেতাদের নেই।
৪. বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজ প্রায় এক বছর বাংলাদেশের তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতে কোনো নেতা-কর্মী, এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফদেরও সাক্ষাত্ করতে দেওয়া হয় না। আর সংসদের দৈনিক কার্যাবলির কপি সেখানে গ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। সরকারের এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় অকল্পনীয় ও অমার্জনীয়।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির প্রতি যে আচরণ করা হয়েছিল, আজকে আওয়ামী লীগ সরকারও একই ধরনের অসাংবিধানিক ও বেআইনি আচরণ অব্যাহত রেখেছে। তাই একটি অগণতান্ত্রিক, অনির্বাচিত ও স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো পার্থক্য বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি দেখতে পায় না। অর্থাত্ দেশে নির্বাচিত সরকার থাকতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলের জন্য গণতন্ত্র নেই। দেশে সংবিধান আছে, কিন্তু বিরোধী দলের জন্য আইনের শাসন বা সম-অধিকার নেই।
বর্তমান সরকারের এত বড় একটি বিজয়ের পর দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশার মধ্যে চারটি প্রত্যাশা ছিল প্রবল। যথা—
১. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যেন দেশের মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে।
২. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে একটি সহনশীল অবস্থায় আনা হবে।
৩. দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক আকারে বিনিয়োগ ও উত্পাদন বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে লাখ লাখ বেকার যুবকের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
৪. সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হবে।
কিন্তু এই চারটি প্রত্যাশার প্রতিটির ব্যাপারে সরকার চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং দেশের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে। গত এক বছরে সরকার যেসব সফলতার কথা বলছে, তা গতানুগতিক অর্জন। এতে কোনো নতুনত্ব বা অভাবনীয় কিছু নেই।
এখন যা প্রয়োজন তা হলো, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক শক্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে জন্য খোলা মনে আন্তরিকতার সঙ্গে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলো, একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, তারা যেহেতু ক্ষমতায় আছে, তাই তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে দেশ চালাবে এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি অব্যাহত রাখবে, তাহলে তারা ভুল করবে। তাদের বুঝতে হবে, কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়। তাদের বর্তমান অবস্থানও নিরাপদ নয়। বিরোধী দল বিএনপি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বটে, কিন্তু তাদের শত্রু নয়। শত্রু আছে অন্যত্র। তাই দেশে একটি সামগ্রিক সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য দুটি বৃহত্ দলের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এখনো সময় আছে সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার।
মওদুদ আহমদ: সদস্য, স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

দিনবদলের সংগ্রামে সাফল্য by নূহ-উল আলম লেনিন

বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রথম বছর পূর্ণ হলো। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ’-এর মূল বিষয়টি হচ্ছে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার। দিনবদলের তাগিদ উত্সারিত হয়েছে দেশের বাস্তবতা থেকে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত সুস্থ-সচ্ছল-মানবিক জীবন গড়ে তোলার জন্য এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা এবং হেরে গেলে সংসদ বর্জন ও সংসদকে অকার্যকর করা একটা ক্রনিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশবাসী এ সমস্যা-সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
মানুষ কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তথা চাল, ডাল চেয়েছে; চেয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা, আয়-রোজগারের ব্যবস্থা, জীবন-জীবিকা, চলাফেরার নিরাপত্তা, ঘুষ, দুর্নীতির অবসান। মানুষ চেয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো সাংঘর্ষিক রাজনীতির বদভ্যাস ত্যাগ করুক, সংসদ কার্যকর হোক—সর্বোপরি নেতা-নেত্রীরা নিজেদের পুরোনো অভ্যাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ-পরিবর্তন করুক। মানুষ বদলালে, নেতা-নেত্রীরা বদলালে রাজনীতি বদলাবে। রাজনীতি বদলালে দেশ বদলাবে, দিন বদলাবে।
আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচনে দিনবদলের এ অঙ্গীকারই করেছে। সরকারের আপেক্ষিকভাবে বড় কিছু সাফল্যের কথা বলার আগে আমি আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নিজেদের বদলানোর যে সচেতন চেষ্টা করছেন, সেদিকে একটু আলোকপাত করতে চাই।
উদাহরণটা আজ একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব। তিনি শেখ হাসিনা। নিজের উপলব্ধি থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে বদলের দুঃসাধ্য সাধন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা ছিল, তিনি অসতর্ক মন্তব্য ও অসহিষ্ণু আচরণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অতিকথন দোষ ও প্রগলভতার। গত এক বছরে শেখ হাসিনা নিজেকে এ অভিযোগ থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ছাত্রলীগ বা যুবলীগের একাংশের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র অবাস্তব অবস্থানটি ত্যাগ করেছেন। নতুন প্রজন্ম গত নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশায় শেখ হাসিনাকে যে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের কাছে নিজেকে পরিবর্তিত নেতা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন তিনি। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বিপরীতে রাজনীতি থেকে নিজের সন্তান ও রক্তসম্পর্কের পরিবারকে দূরে রেখেছেন। ‘পরিবারতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস থেকে বিরত রয়েছেন। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভা এবং দলের নেতৃত্ব থেকে বাদ দিয়েছেন। ঝুঁকি নিয়ে হলেও তিনি পুরোনোদের বাদ দিয়ে একটা নতুন নেতৃত্বের দল গড়ে তোলার সাহস করেছেন। নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন।
সর্বোপরি, গত এক বছরে শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার বাংলাদেশে একটা সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের কারচুপির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর যে রক্তাক্ত প্রতিশোধ গ্রহণ করে দেশব্যাপী সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কর্মীদের তা থেকে বিরত রেখেছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এখন কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও হানাহানি নেই।
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সব স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে। বিরোধী দলও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, স্থানীয় সরকার আইন প্রণয়ন, মানবাধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন ও মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে চাকরির বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি প্রভৃতি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল সংসদে যোগদান করলে সংসদ কার্যকর হওয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংহত হওয়ার সুযোগ পেত।
শেখ হাসিনা অত্যন্ত সাহস, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহ মোকাবিলা করে রাষ্ট্রনায়কোচিত নজির স্থাপন করেছেন। বিডিআর বিদ্রোহ ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট শক্তি ক্ষয় হয়েছে এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজ ব্যাহত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের পাঁচটি অগ্রাধিকারের বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ পাঁচটি ক্ষেত্রেই সরকারের কমবেশি সাফল্য রয়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করে চাল-আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিশ্বমন্দার অভিঘাত সত্ত্বেও আমাদের রপ্তানি-আয় ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের হার বেড়েছে ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত হবে।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা গেছে। এ ক্ষেত্রে কৃষি, বিশেষত খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি বড় রকমের অবদান রেখেছে। বিশ্বব্যাংক ও দাতা দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে সার, ডিজেল, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, দুই দফায় সারের দাম কমানো, পাঁচ লাখ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আনা প্রভৃতির ফলে বোরো ও আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার অনেক সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত করেছে। ফলে এ বছর মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষের কথা শোনা যায়নি। প্রণীত হয়েছে সংশোধিত পিআরএসপি।
একটি প্রগতিশীল শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। বইয়ের গুদামে আগুন লাগানো এবং নানা অন্তর্ঘাত সত্ত্বেও সরকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বছরের শুরুতেই বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। এবারই প্রথম প্রায় ২০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। দেশে নতুন ১৩ হাজারের ওপর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হচ্ছে।
বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ এবং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। সরকার এক বছরের বিদ্যুত্ উত্পাদন ৫০০ মেগাওয়াট এবং নতুন কূপ খননের মাধ্যমে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্পাদন বাড়িয়েছে; যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। তবে বিদ্যুত্, গ্যাস ও কয়লা উত্পাদন বাড়ানোর বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে সরকারি দপ্তরে কম্পিউটারায়ন, অটোমেশন যেমন শুরু করেছে, তেমনি ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-হেলথ, ই-ব্যাংকিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কোপেনহেগেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অত্যন্ত জোরের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ তার হূত গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন করায় একদিকে জাতি যেমন কলঙ্কমুক্ত হবে, অন্যদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হবে। সর্বশেষ কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ টিআইয়ের বিচারে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কলঙ্ক থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
বস্তুত সরকারের সাফল্যের পাল্লাই ভারী। আর পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত একটি সরকারের মাত্র এক বছরের কর্মকাণ্ড দিয়ে তার সাফল্য-ব্যর্থতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের মধুচন্দ্রিমা শেষ। আগামী বছরটি হবে আরও চ্যালেঞ্জিং। মানুষ এবার প্রকৃত উন্নয়ন ও তাদের জীবনে দিনবদলের ছোঁয়া দেখতে চাইবে।
নূহ-উল আলম লেনিন: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সেচসুবিধা -আরইবির ব্যর্থতার দায় কৃষকের ওপর চাপানো যাবে না

কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উত্পাদন-খরচ এমনিতেই বেশি। তদুপরি, যদি তাদের গাঁটের পয়সা দিয়ে ট্রান্সফরমার ও তার কিনতে হয়, তাহলে উত্পাদন-খরচ যে আরও বেড়ে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই। একটি ট্রান্সফরমারের দাম ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সব কৃষকের পক্ষে এত টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কেনা সম্ভব নয়।
সোমবার প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোর ভান্ডারে প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার না থাকায় আরইবির (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) নতুন নীতিমালায় কৃষকদের নিজস্ব অর্থায়নে ট্রান্সফরমার ও ১০০ মিটারের বেশি দূরত্বের তারও কিনতে হবে বলে জানানো Wহয়েছে।
আরইবি ট্রান্সফরমারের জন্য অর্থ দাবি করলেও পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ট্রান্সফরমারের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নিচ্ছে না। কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ বিতরণে এ বৈষম্যমূলক নীতি কাম্য নয়। আরইবি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন। কৃষকদের উন্নতি ছাড়া যে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন অসম্ভব, সে কথাটি আরইবির কর্তাব্যক্তিদের বুঝতে হবে।
প্রশ্ন হলো, আরইবি হঠাত্ ট্রান্সফরমারের সংকটে পড়ল কেন? অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কয়েক বছর ধরে আরইবির উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ ছিল। এ জন্য নিশ্চয়ই কৃষকেরা দায়ী নন। জোট সরকারের আমলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নাকি উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। যাঁরা এসব দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কৃষকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে আরইবি। বর্তমান সরকার কৃষি উত্পাদন বাড়াতে সার ও সেচে ব্যাপক ভর্তুকি দিচ্ছে। যথাসময়ে অন্যান্য কৃষি উপকরণও পৌঁছানো হচ্ছে, যার সুফল ইতিমধ্যে কৃষকেরা পেতে শুরু করেছেন। কিন্তু ট্রান্সফরমারের অভাবে কৃষক যদি সেচসুবিধা থেকেই বঞ্চিত হন, তাহলে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। আরইবির ট্রান্সফরমার সংকটের অন্যতম কারণ, চুরি। পেশাদার চোরদের সঙ্গে আরইবির অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগও অসত্য নয়।
এই চুরি বন্ধ করতে পারলে ট্রান্সফরমারের সমস্যা অনেকটাই কেটে যেত। আরইবির চুরি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বোঝা কৃষকের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। বোরো মৌসুমের শুরুতেই কৃষক যাতে সেচসুবিধা পান, সে জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার ও তার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে আরইবিকে।

সরকারের এক বছর -অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সামনে এগোতে হবে

পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত একটি সরকারের প্রথম বছরের কাজ বিবেচনায় নিয়ে সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল্যায়ন হয়তো করা যায় না, তবে শুরুটা কেমন হয়েছে, তার একটি হিসাব-নিকাশ নিশ্চয়ই করা যেতে পারে। মহাজোট সরকারের এক বছর পূর্তির দিনে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির তুলনামূলক বিবেচনা প্রাসঙ্গিকও।
মহাজোট সরকারের এক বছর কেমন গেল—এমন প্রশ্নের উত্তরে সাধারণভাবে আমরা বলতে পারি, প্রত্যাশার অনেক কিছু পূরণ করতে না পারলেও শুরু অনেকটা ভালো হয়েছে। সরকার বড় ধরনের কোনো ভুল করেছে, এমনটি বলা যাবে না। সরকারের শুরুটা হয়েছিল প্রায় সব নতুন মুখ নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে। দুর্নীতি বা সন্ত্রাসের বড় ধরনের অভিযোগ আছে, এমন কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। তবে নতুনদের নিয়ে গড়া এই মন্ত্রিসভা গত এক বছর কেমন কাজ করল, সে প্রশ্ন তোলা যায়। সব মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছে, এমন বলা যাবে না। কোনো কোনো মন্ত্রীর অদক্ষতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উপদেষ্টার ভূমিকা ও তত্পরতার কারণে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে গতিশীল করার প্রত্যাশা গত এক বছরে যথাযথভাবে পূরণ হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারে মহাজোটের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ অগ্রাধিকারের কিছু বিষয় ঠিক করেছিল। দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি ছিল এর মধ্যে অন্যতম। আগের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমেছে, তবে সব ক্ষেত্রে তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বাজার গত এক বছরে পুরোপুরি স্থিতিশীল ছিল, এমন বলার সুযোগ নেই। যৌক্তিক কারণ ছাড়া চিনির মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা আমরা দেখেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার ছিল, তবে এখন পর্যন্ত সরকারের এ ব্যাপারে কোনো শক্ত অবস্থান নজরে আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় দুর্নীতিবাজের ছাড় দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সাংসদ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উত্স প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি রাখতে সরকার প্রথম বছরেই ব্যর্থ হয়েছে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি শুরুতে হোঁচট খেলেও সরকারের কিছু পদক্ষেপ পরিস্থিতির কিছু উন্নতি ঘটিয়েছে।
কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ কিছু ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ নজর ও উদ্যোগের বিষয়টি গত এক বছরের সরকারের কাজে লক্ষণীয় ছিল, যার সুফল অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়ন ও উত্পাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ কর্মপরিকল্পনা দেখা গেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে; বিশেষ করে, উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে এক বছরে সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তাকে ইতিবাচক বলা যাবে না। শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ মাসেও উপজেলা পরিষদকে সরকার কার্যকর করতে পারেনি। প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘ক্রসফায়ার’ থেমে থাকেনি সরকারের এক বছরে। তবে জঙ্গিবাদ ও বাইরের দেশের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সরকার তার অবস্থান অনেকটা পরিষ্কার করতে পেরেছে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
সংসদ নিয়মিত বসছে, কিন্তু বিরোধী দল সংসদে নেই, এটা সরকার ও সরকারি দলের জন্য ভালো কিছু হতে পারে না। প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন ইতিবাচক দিক লক্ষণীয় হলেও সংসদে বিরোধী দলের লাগাতার অনুপস্থিতি এসবকে ম্লান করে দিয়েছে।
নবম সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বলেছেন, দিনবদলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারকে ‘দিনবদলের সনদ’ হিসেবে উল্লেখ করে জনগণের সামনে ভোট প্রার্থনা করেছিল। জনগণ সেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখে তাদের নির্বাচন করেছে। জনগণের সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। গত এক বছরের পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে সরকার সামনে এগিয়ে যাক, এ সময়ের ভুলভ্রান্তি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্বিতীয় বছর শুরু করুক—সেটাই প্রত্যাশা।

চীনে পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে তেল পীতসাগরে পড়ছে

চীনের উত্তরাঞ্চলে তেলের পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে সেখানকার নদী দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেলমিশ্রিত দূষিত পানি দেশটির অন্যতম প্রধান পানির উত্স পীতসাগরে গিয়েও মিশেছে। সে দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়েছে। খবর বিবিসির।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর শিল্পাঞ্চল লানঝু এবং হেনান প্রদেশের ঝেংঝুর সংযোগস্থলের পাইপলাইনে গত বুধবার এক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পাইপলাইনে বড় ধরনের ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। ওই দুর্ঘটনার পর শানঝি প্রদেশের ওয়েই নদীতে প্রায় দেড় লাখ লিটার ডিজেল পড়ে। এই পাইপলাইনের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএনপিসির।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, নদী দূষণ বন্ধে প্রায় ৭০০ জরুরি কর্মী দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

ভারতে শীতে ১২৫ জনের মৃত্যু

ইরান বিবিসি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৬০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সে দেশের নাগরিকদের সব ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে বিরোধীদের বিক্ষোভে এসব সংস্থা ও গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সোমবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে এ কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দাবিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক এই ৬০টি প্রতিষ্ঠান ইরানে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছে। দেশটির ইসলামি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর অপচেষ্টার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কালো তালিকাভুক্ত এই সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর দেশের নাগরিকদের যেকোনো যোগাযোগ অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। খবর এএফপি ও প্রেস টিভি ডটকমের।
ওই কালো তালিকায় আরও রয়েছে মার্কিন রেডিও ভয়েস অব আমেরিকা, ইসরায়েলি বেতার এবং নিষিদ্ধঘোষিত পিপলস মুজাহেদিন, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, মার্কিন জনহিতৈষী জর্জ সরোসের ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ন্যাশনাল এনডোওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি।

ইরান বিবিসিসহ ৬০টি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে

ইরান বিবিসি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৬০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সে দেশের নাগরিকদের সব ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে বিরোধীদের বিক্ষোভে এসব সংস্থা ও গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সোমবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে এ কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দাবিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক এই ৬০টি প্রতিষ্ঠান ইরানে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছে। দেশটির ইসলামি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর অপচেষ্টার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কালো তালিকাভুক্ত এই সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর দেশের নাগরিকদের যেকোনো যোগাযোগ অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। খবর এএফপি ও প্রেস টিভি ডটকমের।
ওই কালো তালিকায় আরও রয়েছে মার্কিন রেডিও ভয়েস অব আমেরিকা, ইসরায়েলি বেতার এবং নিষিদ্ধঘোষিত পিপলস মুজাহেদিন, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, মার্কিন জনহিতৈষী জর্জ সরোসের ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ন্যাশনাল এনডোওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি।

আকাশ ছুঁয়েছে ‘বুর্জ খলিফা’

মধ্যপ্রাচ্যে শান-শওকতের নগর নামে সবার কাছে পরিচিত দুবাইয়ের আর্থিক মন্দা নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছিল। সারা বিশ্বে চলমান মন্দা থেকে দুবাইও রেহাই পায়নি। তবে গত সোমবার ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সব গণমাধ্যমে দুবাইকে অন্য এক নামে চিনিয়ে দিল। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি এখন দুবাই নগরে। এ ভবনটিতেই এখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ, সুইমিংপুল, বাসস্থান—আরও কত কী যে রেকর্ড করার মতো বিষয় রয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল বুর্জ আল দুবাইয়ের পর ‘বুর্জ খলিফা’ আরেক শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে আবির্ভূত হলো। এই একুশ শতকে সবচেয়ে উঁচু ভবনটি দেখতে এখন দুবাইতেই যেতে হবে।
রকেটের মতো দেখতে এ ভবনটি দুই হাজার ৭১৭ ফুট উঁচু। ৬০ মাইল দূর থেকেও ভবনটি দেখা যায়। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাকতুম জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করেছেন বুর্জ খলিফা।
সেরা ও সবচেয়ে উঁচু ভবনের উদ্বোধন হলেও দুবাইয়ের আবাসন ব্যবসায় মন্দা চলছে এখনো। গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ফ্ল্যাট বা বাড়ির ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছে না। তারা দামও ৫০ শতাংশ কমিয়েছে। তার পরও ক্রেতা নেই। ব্যবসার এই নাজুক অবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোরেশোরে এখন নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বুর্জ খলিফা। ভবনের ৭৬ তলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত সুইমিংপুল ও ১৫৮ তলায় সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ। নির্মাণের সময় নাম ছিল বুর্জ দুবাই। তবে আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে ভবনের নাম বুর্জ দুবাইয়ের পরিবর্তে বুর্জ খলিফা রাখা হয়েছে। ভবন উদ্বোধনের সময় সাধারণ জনগণের মধ্যে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। আতশবাজি ও লেজার রশ্মি দিয়ে ভবনের উদ্বোধনের দিন সাজ সাজ রব পড়ে যায়।
১৬৯ তলাবিশিষ্ট ‘বুর্জ খলিফা’র আগে তাইওয়ানের তাইপে ১০১ ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। ছয় লাখ বর্গফুটবিশিষ্ট এই ভবনে একসঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশ হতে পারে। বুর্জ ভবনে ৫৪টি এলিভেটর বা লিফট আছে। এগুলোর গতি ঘণ্টায় ৪০ মাইল। ভবনটির নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ইমার প্রপার্টিস জানায়, এরই মধ্যে ভবনের ৯০ শতাংশ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হয়ে গেছে। দুবাইয়ে এখন শত শত ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির অপেক্ষায় থাকলেও ক্রেতারা এই ভবনের দিকে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে।
তবে শুধু আনন্দ আর বিস্ময় নয়, বুর্জ ভবনকে ঘিরে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে দুবাইবাসীর মনে। অনেকে এত উঁচু ভবনের প্রযোজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভবনটির নির্মাণকাজ চলার সময় তিনজনেরও বেশি বিদেশি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। সারা বিশ্বে যখন বেশির ভাগ ভবন ও স্থাপনা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, তখন বুর্জ ভবনও যেকোনো সময় হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে। তবে সরকারের জোরালো সমর্থন ও ঐতিহ্যের কারণে দুবাইয়ের এই ভবনটি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করছে অনেকে।
ভবনটিকে ঘিরে বিভিন্ন চিন্তাভাবনা ও প্রশ্ন থাকলেও একে অনন্য ও সাফল্যের প্রতীক বলেই মনে করছেন ভবনের নকশা প্রণয়নকারীরা।
নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে
শুভা জিনিয়া চৌধুরী

জাকারিয়া মৌসাবির সাজা বহাল রেখেছেন মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় একমাত্র দোষী সাব্যস্ত আসামি জাকারিয়া মৌসাবির শাস্তি বহাল রেখেছেন মার্কিন আপিল আদালত। এই হামলার পরিকল্পনার জন্য ২০০৬ সালে মৌসাবিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে মৌসাবি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিন হাজারের বেশি লোক নিহত হয়। আহত হয় আরও কয়েক হাজার।
মৌসাবি তাঁর সাজার বিরুদ্ধে ভার্জিনিয়ার আপিল আদালতে আবেদন করেছিলেন। তিনি তাঁর সাজাকে অবৈধ বলে আদালতকে জানান। মৌসাবি দাবি করেন, এ মামলার বিচারকালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিছু বিশেষ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। এতে করে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পাননি।
আপিল আদালতের তিনজন বিচারকের প্যানেল গত সোমবার তাঁদের দেওয়া রায়ে বলেন, ‘শাস্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিলেন মৌসাবি। কিন্তু আমরা তাঁর আগের সাজাই বহাল রাখলাম।’

গ্রামবাসী নিজেরাই অর্থ দিয়ে রেলস্টেশন নির্মাণ করল

রেললাইনটি গেছে তাদের গ্রামের একেবারে মাঝখান দিয়ে। কয়েক দশক ধরে তারা দেখছে ট্রেনের আসা-যাওয়া। কিন্তু তাদের অসহায়ভাবে চেয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কারণ তাদের গ্রামে কোনো রেলস্টেশন ছিল না। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে নিজেদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এল নিজেরাই। নিজেদের অর্থে নির্মাণ করল রেলস্টেশন। তাদের গ্রামে ট্রেন থামাতে বাধ্য করল কর্তৃপক্ষকে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের তাজনগর গ্রামে। খবর এএফপির।
ভারতীয় রেল কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার জানান, তাজনগর গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের অর্থে রেলস্টেশন নির্মাণ করে ওই স্টেশনে ট্রেন থামাতে কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছে। এতে গ্রামবাসী কাজের জন্য নিকটবর্তী শহরে এবং গ্রামের শিক্ষার্থীরা কলেজে যেতে পারবে।
রেলস্টেশন নির্মাণের জন্য ১৯৮২ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করে তাজনগর গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু তাদের ওই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাদের কাছে তহবিল নেই। তাই দুই বছর আগে সমস্যাটি সমাধানের জন্য গ্রামবাসী নিজেরাই এগিয়ে আসে। রেলস্টেশন নির্মাণের জন্য সংগ্রহ করে ৪৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। এরপর নিজেদের চেষ্টায় রেলস্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ করে। দুই প্লাটফর্মের ওই রেলস্টেশনে রয়েছে টিকিটঘর। ব্যবস্থা করা হয়েছে বিদ্যুতেরও।
রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অনন্ত স্বরূপ বলেন, ওই স্টেশনে দিনে সাতটি যাত্রীবাহী ট্রেন থামবে। স্টেশনটি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হবে বলে মনে করছে রেল মন্ত্রণালয়। । গতকাল সেখানে প্রথম ট্রেন থামে। স্থানীয় পার্লামেন্ট সদস্যসহ শত শত উত্ফুল্ল জনতা হর্ষধ্বনি দিয়ে ট্রেনটিকে স্বাগত জানায়।
তাজনগর গ্রামের বাসিন্দা রণজিত্ সিং বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃষক। সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্টেশন নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

হামলাকারী ছিল আল-কায়েদা, জর্ডান ও সিআইএর গুপ্তচর -আফগানিস্তানে সিআইএর ৭ কর্মী হত্যা

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সদস্যদের ওপর আত্মঘাতী হামলাকারী একই সঙ্গে আল-কায়েদা, সিআইএ ও জর্ডানের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। জর্ডানের নাগরিক ওই আত্মঘাতীর নাম হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবি বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম ও বিবিসি।
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে গত বুধবার সিআইএর ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় সিআইএর চার কর্মকর্তা ও তিন নিরাপত্তারক্ষী এবং জর্ডানের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নিহত হন।
সাবেক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী হুমাম আল-বালাবির বাড়ি জর্ডানের জারকা এলাকায়। তিনি পেশায় একজন চিকিত্সক ছিলেন। ইরাকে নিহত আল-কায়েদার নেতা আবু মুসাব আল-জারকাবির বাড়িও ছিল জারকা এলাকায়।
এনবিসি নিউজ আরও জানিয়েছে, আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হুমাম আল-বালাবি এক বছর আগে জর্ডানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর গোয়েন্দারা মনে করেছিলেন, তাঁকে পথে আনা গেছে। এই ভেবে জর্ডানের গোয়েন্দা সংস্থা ও সিআইএ তাঁকে নিয়োগ করেছিল আল-কায়েদার তথ্য সংগ্রহের জন্য।
বিবিসির খবরে বলা হয়, আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষনেতা আইমান আল জাওয়াহিরিকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হুমাম আল-বালাবিকে। তিনি পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে একটি ঘাঁটিতে কাজ করতেন। গত বুধবারের হামলার কয়েক সপ্তাহ আগ থেকে তিনি সেখানে কাজ করছিলেন।
মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট সাবেক দুই মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হুমাম আল-বিলাবি তাঁর এক সহযোগীকে সিআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে বলেন। সেখানে জাওয়াহিরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। আল-কায়েদার শীর্ষনেতাদের সম্পর্কে নতুন তথ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েই তিনি সিআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের ফরওয়ার্ড অপারের্টি বেজ চ্যাপম্যানে বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন।
প্রশ্ন উঠেছে, নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই হুমাম আল-বিলাবির পক্ষে শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে কীভাবে সিআইএর ঘাঁটিতে ঢোকা সম্ভব হয়েছিল। তবে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ওই দিন তাঁকে ঘাঁটির বাইরে থেকে সিআইএর নিজেদের একটি গাড়িতে তুলেই ঘাঁটির ভেতের নিয়ে আসা হয়েছিল। এ জন্যই প্রয়োজনীয় তল্লাশি করা হয়নি। এরপর ঘাঁটির মধ্যে ঢুকে সিআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি বিস্ফোরণ ঘটান। এতে সিআইএর চার কর্মকর্তা ও তিন নিরাপত্তারক্ষী এবং জর্ডানের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও ছয়জন আহত হন। তবে সিআইএ বা জর্ডান কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

হোয়াইট হাউসে আরও এক অনাহূত অতিথি -মনমোহনের সম্মানে নৈশভোজ

গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে তৃতীয় এক অনাহূত অতিথি ঢুকে পড়েছিলেন। গত সোমবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ কথা জানায়। ইতিমধ্যে ওই নৈশভোজে এক দম্পতির অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, হোয়াইট হাউসের পার্শ্ববর্তী একটি হোটেল থেকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে ওই ব্যক্তির নামসহ বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। এএফপি ও এপির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেসের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা জানায়, ওই অনাহূত প্রবেশকারী ছিলেন ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক কার্লোস এলেন। পত্রিকাটি জানায়, সূত্রটি দাপ্তরিক ই-মেইল এবং গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিপত্রে ওই নামটি দেখেছে।
অপর একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত মধ্য-ডিসেম্বর থেকেই ওই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে তৃতীয় একজন অনাহূত অতিথির প্রবেশ সম্পর্কে জানত হোয়াইট হাউস।
গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার জন্য আবশ্যকীয় নিরাপত্তা তল্লাশির ভেতর দিয়ে ওই ব্যক্তি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হোটেল থেকে বাস অথবা ভ্যানে উঠে পড়েন। উল্লেখ্য, ভারতীয় প্রতিনিধিদল ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র রাহুল চাবরা বলেন, ওই ব্যক্তি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন না। ভারতীয় দূতাবাস ওই ব্যক্তির হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ব্যবস্থা করেনি।
পত্রিকাটি জানায়, ভ্যানে চড়ার পর ওই প্রতিনিধিদলকে হোয়াইট হাউসের একটি অজ্ঞাত প্রবেশপথে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই পথ দিয়ে তাঁরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁদের অতিরিক্ত কোনো তল্লাশি কিংবা কোনো তল্লাশি চৌকির ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি।

সিরাজগঞ্জে বেসিক ব্যাংকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি বেসিক ব্যাংক সিরাজগঞ্জ শাখার আয়োজনে সিরাজগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার ১৫টি ব্যাংকের ২৬ জন প্রতিনিধি ওই কর্মশালায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মন্জুর মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসিক ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মহিউদ্দিন ও এ কে এম গোলাম মাহমুদ এবং সহকারী পরিচালক এ বি এম আনিসুজ্জামান এবং বেসিক ব্যাংকের ট্রেনিং সেল ইনচার্জ অশোক বন্ধু দাস কর্মশালায় বক্তব্য দেন।

সানোফি-এভেন্টিসের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গত শনিবার ঢাকায় সানোফি-এভেন্টিস বাংলাদেশের বার্ষিক বিক্রয় ও বিপণন সম্মেলন ২০১০ অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও পরিচালকেরা। বিভিন্ন বিভাগের কর্মশালা সম্পন্ন হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। কোম্পানির পক্ষে ইফতেখারুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ পারফরমার ও তারকা পারফরমারদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতার জন্য পুরস্কৃত করেন!

ম্যারিকোর দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর গোলাম মোস্তফা এবং রূপালী চৌধুরীকে স্বতন্ত্র (ইনডিপেন্ডেন্ট) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
গোলাম মোস্তফা কল্লোল গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কল্লোল গ্রুপ ক্যাডবেরি এবং কেলোগের মতো প্রখ্যাত এফএমসিজি ব্র্যান্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত ঘড়ি এবং কলম বাজারজাত করে।
রূপালী চৌধুরী বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী সদস্য এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের হলিডে সাব-কমিটি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের লেবার ল সাব-কমিটির সদস্য।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ নিয়োগী তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ম্যারিকোর বর্তমান ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে তাঁদের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এ উপলক্ষে ম্যারিকো গ্রুপের ফাইন্যান্স, এইচআর ও স্ট্র্যাটেজি-প্রধান ম্যারিকো বাংলাদেশের পরিচালক মিলিন্দ সারওয়াকে বলেন, তাঁদের আগমন এই কোম্পানির উত্তরোত্তর প্রসারে সাহায্য করবে এবং এতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাও উপকৃত হবেন।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড একটি প্রখ্যাত বহুজাতিক কোম্পানি। প্যারাসুট নারিকেল তেল ম্যারিকোর অন্যতম একটি পণ্য। এ ছাড়া ম্যারিকো, ক্যামেলিয়া ও অ্যারোমেটিক গোল্ড, প্যারাসুট অ্যাডভান্সড, প্যারাসুট বেলিফুল এবং হেয়ারকোড প্রস্তুত ও বাজারজাত করে।

শেয়ারবাজারের সূচক নির্ণয় পদ্ধতি সংশোধনে এসইসির নির্দেশ

শেয়ারবাজারে বিদ্যমান সূচক নির্ণয় পদ্ধতি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গতকাল মঙ্গলবার এসইসির সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কর্মকর্তাদের সূচক নির্ণয় পদ্ধতিসংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জেরই সূচক নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এসইসি।
এসইসি সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) শেয়ারবাজারের সূচক নির্ণয়ের যে সূত্র প্রয়োগ করতে বলে, ডিএসই ও সিএসই কেউই তা পালন করে না।
প্রসঙ্গত, গত রোববার ‘ভুল সূচকের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কলকাতায় বাংলাদেশ উত্সবে পণ্যের চমক

কলকাতায় শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ উত্সব’। এবার এ উত্সব দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় এই উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলকাতার মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল দেবানন্দ কুঁয়ার এই উত্সবের উদ্বোধনের কথা থাকলেও তিনি জরুরি কাজে পাটনা চলে যাওয়ায় উত্সবের উদ্বোধন করেন মেয়র। উত্সবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শাসক জোট বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। সভাপতিত্ব করেন উপহাইকমিশনার সৈয়দ মাসুদ মাহামুদ খোন্দকার।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস চত্বরে আয়োজিত এই উত্সব চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এই উত্সবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। উত্সবে মিলছে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, রাজশাহী সিল্ক, বিভিন্ন হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্রশাধনী, মেলামাইন সামগ্রী, বাংলাদেশের বই এবং বিভিন্ন রপ্তানিমুখী পণ্য। আরও মিলছে বাংলাদেশি ইলিশের রকমারি রান্না, ভুনা খিচুড়ি, কাচ্চি বিরিয়ানি, যশোরের সন্দেশ, বাংলাদেশের পিঠাসহ অন্যান্য খাবার।
উত্সব শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উত্সব প্রাঙ্গণে জমে যায় ভিড়। ১০ রুপি দিয়ে টিকিট কেটে উত্সবে ঢোকে মানুষ। কেনেও তারা বাংলাদেশি পণ্য। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় বাংলাদেশি খাবার ও জামদানি শাড়ির স্টলে।
ছয় দিনব্যাপী আয়োজিত এ উত্সবে প্রতিদিনই থাকছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নামী-দামি শিল্পীদের লোকগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক গান ও নৃত্যানুষ্ঠান।

উদ্বোধনী দিনেই আবাসন মেলায় ভিড়

দর্শক ও ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী আবাসন মেলা ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০০৯’ গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। মেলার উদ্বোধনী দিনেই প্রচুরসংখ্যক দর্শক-ক্রেতা ভিড় জমিয়েছে। সব বয়সের নারী-পুরুষ সপরিবারে মেলা ঘুরে দেখেছে।
রাজধানীর শেরাটন হোটেলে গতকাল বিকেলে মেলার বিভিন্ন স্টলে আসা দর্শকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। তবে প্রথম দিনেই কেনার চেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই বেশি দেখা গেছে তাদের। অনেককেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রসপেক্টাস ও মূল্য তালিকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
নাভানা রিয়েল এস্টেট: মেলার অন্যতম সহ-আয়োজক নাভানা রিয়েল এস্টেট ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ ছাড়া ছয়টি বাণিজ্যিক প্রকল্প মেলায় প্রদর্শন করছে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা মেলায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের উপযোগী অ্যাপার্টমেন্ট প্রদর্শন করছেন। এর মধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, উত্তরার প্রকল্পগুলো উচ্চবিত্তদের উপযোগী এবং মগবাজার, শান্তিনগর, বাসাবো প্রভৃতি এলাকায় মধ্যবিত্তদের উপযোগী প্রকল্প রয়েছে।
শরিফুল আরও জানান, মেলায় প্রদর্শন করার প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রতি বর্গফুট সর্বনিম্ন তিন হাজার ৮০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নাভানা অচিরেই স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মিরপুরে একটি স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণের কাজ শুরু করবে।
মেলার আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার মেলায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু জায়গা ছোট হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আগামী আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
নাভানার স্টল থেকে জানানো হয়, মেলায় বুকিং দিলে গ্রাহকদের জন্য এলসিডি টেলিভিশন, বিভিন্ন ধরনের এয়ারকন্ডিশনার প্রভৃতি উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট: মেলায় অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, মহাখালী, ইস্কাটন, গ্রিনরোড, ইন্দিরা রোড, ওয়ারী, মগবাজার, দিলু রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকার ১২০টি চলতি প্রকল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করছে।
প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক (গ্রাহক সম্পর্ক) এস এম শাকিল সারওয়ার বলেন, মেলায় বেচাবিক্রির চেয়ে প্রদর্শন করা ও গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা প্রধান উদ্দেশ্য। এ ছাড়া মেলায় গ্রাহকদের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
শেলটেক: মেলায় শেলটেকের স্টলে রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বনানী, উত্তরা, নিকেতন, মিরপুর, রাজারবাগ, শান্তিনগর, গেন্ডারিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, দিলু রোড প্রভৃতি এলাকার ফ্ল্যাট প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া এখনই বাড়ি করার উপযোগী রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় জমির প্রকল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। মেলায় পান্থপথের বাণিজ্যিক প্রকল্পও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান খান বলেন, মেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে পুরো মূল্য পরিশোধ করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জমি কেনার ক্ষেত্রেও পুরো মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন: মেলায় আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্টলে দেড় শতাধিক ফ্ল্যাটের প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আশুলিয়া, মুগদার গ্রিন মডেল টাউন ও সিলেটের জমির প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন ও বিক্রয়) মো. পারভেজ আনোয়ার বলেন, মেলায় ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জমি কেনায় প্রতি কাঠায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

এই শ্রদ্ধাঞ্জলি বরং প্রতিবাদ বলেই গণ্য হোক by ফারুক ওয়াসিফ

বড় রাজনীতিবিদ না হলে এ দেশে অনেক কৃতী মানুষের জন্ম বা মৃত্যুতিথি অনেক সময় অগোচরে আসে, আর অগোচরেই চলে যায়। কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীও তাই নীরবে এল, নীরবেই চলে গেল। গতকাল, অর্থাত্ ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি তারিখে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
তাঁর মৃত্যুর কথা মনে হলে যমুনার কালো ঘোলা জলের কথা মনে আসে। সেবারও জানুয়ারির শুরুতে বেজায় শীত পড়েছিল দেশে। সেই শীতের মধ্যে কফিনে শায়িত লেখকের সঙ্গে আমিও উঠে পড়ি গাড়িতে। গাড়ি মানে অ্যাম্বুলেন্সে। সেটি যাবে বগুড়ায়, লেখকের জন্মস্থানে। তখনো যমুনা সেতু হয়নি, আরিচা দিয়েই ফেরি পারাপার হতো। সন্ধ্যার মুখে ফেরি ছাড়ে। নদীপথে দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে ওপারের নগরবাড়ী ঘাটে পৌঁছাতে।
অন্ধকার হয়ে এলে একসময় উঠি ফেরির একদম ওপরের বসার জায়গাটায়। সেখানে তখন এক প্রান্তে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোট ভাই অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস একা বসে চরাচরের দিকে তাকিয়ে আছেন। এক পাশে ফেরির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াই। নদীর ওপরের আবছা দৃশ্যপটে শোক, স্মৃতি আর অচেনা নানান অনুভূতি যেন কুয়াশার মধ্যে রূপ পাওয়ার চেষ্টা করছে। অন্ধকারের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না বলে, কিংবা শোকে মানুষের মাথা সর্বদা নিচু হয়ে আসে বলে আমিও নিচে নদীর বয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ফেরির আলোর কিছুটা আভা নদীর পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে আলোড়ন তুলে বাংলা ভাষার এক প্রতিভাধর লেখকের লাশ বহন করে ফেরিটি চলেছে। অন্ধকারে কালো দেখানো সেই পানির দিকে তাকিয়ে হঠাত্ একটি কথা ঝিলিক দিয়ে উঠল মনে: উত্তরের সন্তান ইলিয়াস সেই খানে ফিরে যাচ্ছেন, যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা-বাঙ্গালী আর করতোয়া নামের তিনটি নদী। যমুনা দিয়ে গেলে বাঙ্গালী নদীতে মেশা যায়, বাঙ্গালী দিয়ে গিয়ে পড়া যায় সেই কাত্লাহারের বিলে—খোয়াবনামা-র জগতে। সেই কাত্লাহারের বিল, যার পাশে বসে পোড়াদহের মেলা, যেখানে একদা আখড়া গেড়েছিল ফকির মজনু শাহ আর ভবানী পাঠকের ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের বেশুমার ঘোড়সওয়ারেরা। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত স্লোক আর গাথায় ভরপুর যমুনা তীরের জেলে-মাঝি-চাষাভুষা মানুষের জীবনকে আশ্রয় করেই বেড়ে উঠেছে ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস খোয়াবনামা। এই সেই যমুনা, তাঁর চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসের গ্রামীণ চরিত্ররা যার বুক থেকে ঘোড়ার খুরধ্বনি শুনতে পায়। কী অদ্ভুত কাকতাল, সেই যমুনা বেয়ে বেয়েই কবর পেতে ফিরে চলেছেন জন্মের আশ্রয়ে।
সেদিন তাঁর লাশের পাশে বসে মনে হয়েছিল, তাঁর এই ফেরার সঙ্গে সাহিত্যিক হিসেবে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সৃষ্টির লক্ষ্যের একটা সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুখ-স্বপ্ন-দুঃখ-হতাশা-সংগ্রাম আর আপসে গড়া আটপৌরে জীবনের সম্পর্কটি ধরতে চেয়েছেন তিনি তাঁর উপন্যাস দুটিতে। ক্ষুদ্র, তুচ্ছ মানুষের জীবনের শক্তি ও সৌন্দর্য যে অপার সম্ভাবনা ধরে, তাকে তিনি সাহিত্যের মধ্যে নির্মোহভাবে ফলিয়ে দেখান। তাঁর চিলেকোঠার সেপাই তাই একদিকে ঢাকা শহর, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের যমুনাপারের সমাজে একাত্তরের পূর্বপ্রস্তুতির আভাসগুলো চিনিয়ে দেয়। তাঁর খোয়াবনামা একদিকে তেভাগা আন্দোলন, আর আরেক দিকে পাকিস্তান আন্দোলনের মাঝখানে পড়া গ্রামীণ জীবনস্পন্দনের দাগগুলো কাহিনির আদলে এঁকে দেখায়।
নিম্নবর্গীয় অবহেলিত মানুষের জীবনে প্রেম, আশা, উত্পাদন ও সংগ্রামের লীলা চলে। সেই লীলায় লীলায়িত মানুষ মিথ, বিশ্বাস, উপকথা আর গালগল্পের মধ্য দিয়ে যেকোনো বীরের নয়, নায়কের নয়; আসলে নিজেদেরই কথা বলে। বিদেশি সাহিত্য পড়া চোখে, বহুকাল ইংরেজের শাসনে থাকা আধুনিকতার বোধে, খামাখা বাঙালি বনাম মুসলমানিত্বের বিতর্কের ঘোরে এই সত্য ভুলে যাওয়া হয়েছিল। বাজারি সাহিত্যের উত্পাত এড়িয়ে, নিজেকে নিয়ে মেতে থাকার মধ্যবিত্তসুলভ ভাবালুতার দোষ কাটিয়ে সেই ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রবাহিত ইতিহাসে বাংলাদেশের মূল জীবনধারাটি শনাক্ত করেন। সেই জীবন নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবন। খোয়াবনামার তমিজ-ফুলজান আর চিলেকোঠার সেপাই-এর হাড্ডি খিজির-চেংটুরা সেই জীবনধারারই প্রতিনিধি। হীনম্মন্যতায় ভোগার রোগ না থাকলে মানতে হবে, এ দুটি উপন্যাস নিবিড়ভাবে দেশীয়, কিন্তু একই সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আরেকভাবে দেখলে, স্বপ্নের পাকিস্তান যে অচিরেই মাটির সানকির মতো বাঙালি মুসলিম কৃষকের মাটিতেই গুঁড়িয়ে গেল, তার আখ্যান খোয়াবনামা। আবার চিলেকোঠার সেপাই-এর পুরান ঢাকার হাড্ডি খিজির কিংবা যমুনা পারের লড়াকু চেংটুরা জানিয়ে দেয়, সামনে যে লড়াই আসছে সেখানে নিম্নবর্গের মানুষের মুক্তির আশা ভদ্রলোক মধ্যবিত্তদের জাতীয়তাবাদে পূরণ হওয়ার নয়। দ্বিতীয় স্বপ্নভঙ্গের সেই আখ্যান হয়তো আমরা পেতে পারতাম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর লিখতে চাওয়া উপন্যাসটিতে। দুর্ভাগ্য যে, তার আগেই ক্যানসার এসে তাঁকে থামিয়ে দিল।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগুলো কাঁদায় না, চটিয়ে দেয়। মনকে অবশ না করে জাগিয়ে দেয় এবং বিষণ্ন করে। সত্তর ও আশির দশকের বিক্ষুব্ধ সময়জুড়ে তিনি উপন্যাসের দেশে ফেরার নকশা আঁকছেন, প্রবন্ধে খুঁজে দেখছেন সংস্কৃতির সেতুটা যে ভেঙে গেল, তাকে জোড়া লাগাবার কী উপায়? প্রবন্ধগুলো শেখায়, নিছক আর্ট করায় বাহাদুরির কিছু নেই। জনগণের জীবনধারার নিজস্ব গতি-দুর্গতির হিসাব বাদ রেখে যত কেতাবই ঘাঁটা হোক, তা অসার। ডায়রিতে লেখেন, ‘এ রকম ইতর মধ্যবিত্ত বোধহয় দুনিয়ার আর কোনো দেশে নেই, এখানে রাজনীতি মানে প্রতারণা আর হারামিপনা, ন্যূনতম মর্যাদাবোধ থাকলে এখানে রাজনীতি করা অসম্ভব। দেশের মানুষ সম্বন্ধে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে ঘেউ ঘেউ করা হলো এখানকার বুদ্ধিজীবীদের সার্বক্ষণিক তত্পরতা। বিজ্ঞানে ডিগ্রি পাওয়া মানুষ এখানে ব্যবসা করে ধর্ম নিয়ে। টাকার লোভে, সামাজিক প্রতিষ্ঠার লোভে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পারে না হেন কম্ম নেই। ভালো লাগে না...। দিনে দিনে অসহ্য হয়ে উঠছে এখানকার পরিবেশ...।’ এমন যার মনোভাব, দলে-বলে ভারী হয়ে উপেক্ষা করা যায়। আমাদের বিধ্বস্ত সমাজের ওপর সরের মতো ভাসতে থাকা কর্তাব্যক্তিরা সেই কাজটি করতে মোটেই শরমিন্দা হননি। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকের মৃত্যুদিবসে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি বরং প্রতিবাদ হিসেবেই গণ্য হোক।

খুলনা বিভাগীয় ফুটবল

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবলের কালকের খেলায় কুষ্টিয়া জেলা দল ১-০ গোলে হারিয়েছে ঝিনাইদহকে। গোল করেছেন ফরিদ। আগামী কাল ভেন্যু ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চুয়াডাঙ্গা।

চালের দাম ও খাদ্যসমস্যার ইতিবৃত্ত by এ এম এম শওকত আলী

খোলাবাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকার বিচলিত। বিচলিত হওয়ারই কথা। পত্রিকান্তরে দেখা যায়, তিন দিনের ব্যবধানে চালের মূল্য কেজিতে দুই টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের দাম বাড়লে সরকারের একমাত্র উপায় হচ্ছে, খোলাবাজারে চাল সহজলভ্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া। এখন অবশ্য আরেকটি উপায়ও রয়েছে; তা হলো, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়, তার মেয়াদ ও পরিমাণ বাড়ানো। অবশ্য এ উপায়টির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কারণ, এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারের মজুদের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। খোলাবাজারে চাল বিক্রির জন্যও একই যুক্তি প্রযোজ্য। অন্য একটি উপায় হচ্ছে, টেস্ট রিলিফ ও কাবিখার আওতায় কাজের গতি বাড়ানো। অবস্থাভেদে সরকার তিনটি উপায়ই যুগপত্ ব্যবহার করে থাকে। ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের প্রাপ্তি হ্রাস ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল আরও একটি উপায় বা কৌশল; তা হলো, নগদ টাকার বিনিময়ে গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা। এ ধরনের কৌশল খাদ্য মন্ত্রণালয় শুরু করে ২০০৮ সালের মে মাসে। তখন এর পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি টাকা। কিছু সুফলও পাওয়া গিয়েছিল। সুফল পাওয়ার কারণে পরবর্তী পর্যায়ে সরকার খাদ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার এক কর্মসূচি নেয়। প্রথম দফা বাস্তবায়িত হয় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। এরপর নির্বাচিত সরকার এ কর্মসূচিকে আরও নিখুঁত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা বাস্তবায়ন করে স্থগিত করে দেয়। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহায়তা দিতে আগ্রহী হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হলেও নিখুঁত ব্যবস্থার রূপরেখা আজও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় নগদ অর্থের বিনিময়ে ছোট ছোট পূর্তকাজ করানোর ব্যবস্থা স্বীকৃত। এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশেই এ প্রথা প্রচলিত। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতও পাঁচ-ছয় বছর আগে একটি আইনের মাধ্যমে এ প্রথার প্রচলন করে। এ কর্মসূচির নামকরণ করা হয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি। ওই রাষ্ট্রের মহা হিসাব নিরীক্ষক সংসদে যে প্রতিবেদন প্রথমে দাখিল করেছিলেন, তাতে বহু অর্থ অপচয়ের অভিযোগ বা আপত্তি ছিল। কিন্তু সে কারণে এ প্রথা স্থগিত বা বাতিল করা হয়নি, যা বাংলাদেশে হয়েছে। বরং গবেষকদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে ভারতের তুলনায় অপচয় হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম।
চালের মূল্যবৃদ্ধি রোধের উপায় হিসেবে সরকার চাল আমদানি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে একমাত্র উত্স মিয়ানমার। এ উত্স থেকে চাল আমদানির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ১. ভারতের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কম। দুই. মূলত এ উত্স থেকে আতপ চাল আমদানি করা হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রহণে ইচ্ছুক নয়। এর সঙ্গে যোগ করা যায় সরকারি গুদামের খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা। বর্তমানে এ ক্ষমতা বাস্তবে ১৪ বা ১৫ লাখ টন। অথচ সরকারের উদ্যোগে খাদ্যশস্যজনিত সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩২ লাখ টন। বাস্তব ধারণক্ষমতার সঙ্গে পরিকল্পনার এ বিরাট ব্যবধান বিগত বিভিন্ন সরকারের ক্রমপুঞ্জীভূত নিদারুণ অবহেলার ফল। উল্লেখ্য, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই মোট চার লাখ টন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে ২০০৯-১০ সালে এক লাখ টন খাদ্য ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনাপত্র প্রণীত হয়। ওই সময় খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১ শতাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিদ্যমান গুদামের এলাকায় পরিকল্পিত ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের নির্দেশের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা। অধিগ্রহণ-প্রক্রিয়া একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়।
কিন্তু পরবর্তীকালে জানা যায়, আজ পর্যন্ত ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বাদ সাধল পরিকল্পনা কমিশন। একজন পৃথক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে হবে। পরিকল্পিত এক লাখ টন খাদ্যশস্য ধারণ করার ক্ষমতা প্রকল্প এখন ঝুলে আছে। সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকারি খাদ্য ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এর আগে খাদ্যশস্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিকারে মূলত যে কৌশলের কথা বলা হয়েছে, তার জন্য এ উপায় অপরিহার্য।
প্রকাশিত সংবাদে চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল। এক. আমনের ফলন কম হওয়া। দুই. সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে চালসংকট প্রসঙ্গে নানা ধরনের বক্তব্য। এ দুটি কারণে কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে। আমনের মোট উত্পাদন হয়েছে এক কোটি ৩১ লাখ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ২৭ লাখ টন। এ হিসাব কৃষি মন্ত্রণালয়ের। জানা গেছে, এ হিসাব রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উত্পাদন নির্ণয় করা হয়েছে দুই থেকে চার টন। যে হিসাব ১০ বছর আগের। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের এক হিসাব অনুযায়ী, আমনের জমির পরিমাণ এ বছর মোট শতকরা ৬ ভাগ বেড়েছে। ইউএসএইডের তথ্যও ইতিবাচক বলে জানা গেছে। এডিবির হিসাব ভিন্নধর্মী। সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণে তারা বলেছে, এ বছর প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৬ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে না। কারণ হিসাবে তারা কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।
তবে এ ধরনের হ্রাস শস্য খাতে না অন্যান্য খাতে, সে বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়ছে। বিষয়টি স্পষ্টীকরণের দাবি রাখে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের চাল উত্পাদনে সংকটের বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই। এর মূল কারণ, অন্য দেশের তুলনায় ভারতের বিদ্যমান সংকট, ভারতকেই চালের মূল্য বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ, এ দেশ থেকেই সরকারি ও বেসরকারি খাতে সর্বাধিক চাল আমদানি করা হয়। সুতরাং ভারতের বিদ্যমান সংকটের সুযোগ ব্যবসায়ীরা কখনো উপেক্ষা করবেন না। এর সুযোগ তাঁরা গ্রহণ অবশ্যই করবেন। সরকার খাদ্যশস্য আমদানির জন্য যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তা সময়মতো বাস্তবায়নের মূল প্রতিবন্ধকতা ছিল খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে মোট ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ করেছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বর্তমান মজুদ ১০ লাখ টন। বর্তমান মৌসুমে আমন চাল সংগ্রহে মূল প্রতিবন্ধকতা হলো খোলাবাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধি। সরকারি সংগ্রহমূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২২ টাকা। বাজারে বর্তমান মূল্য মানভেদে ২৭-২৮ টাকা। অর্থাত্ ছয় টাকা বেশি। এ পরিস্থিতিতে আমন চাল সরকারের কাছে বিক্রি করতে চালকল-মালিকেরা আগ্রহী হবেন না। কারণ তাঁরা ব্যবসায়ী। মুনাফা বৃদ্ধিই তাঁদের লক্ষ্য। এ কারণে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, কিছু বিশেষজ্ঞ এ মুহূর্তে খোলাবাজারে চাল বিক্রি সমর্থন করছেন না। তাঁদের মতে, এতে মজুদ শেষ হবে। সরকারি মজুদ পর্যাপ্ত না হলে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করবে ব্যবসায়ী মিল-মালিকেরা। এ যুক্তি একেবারে অগ্রাহ্য করা যায় না। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু হলে দাম কিছুটা কমবে। এর সঙ্গে যোগ করা যায় আরেকটি যুক্তি; তা হলো, এ কার্যক্রমের ফলে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠী স্বস্তি লাভ করবে।
তবে এ প্রসঙ্গে সঠিক পরিস্থিতি কিছুটা অস্পষ্ট। সঠিক পরিস্থিতিতে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিষয়টিই মুখ্য। এ বছর কোনো মঙ্গা ছিল না। এ কথা সবাই স্বীকার করেন। এ ছাড়া পত্রিকান্তরে দেখা যায়, খোরাকি অর্থনীতি থেকে উত্তরণের পথে উত্তরবঙ্গ। এ শিরোনামের প্রতিবেদন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা ভ্রমণ করেই লিখেছেন প্রতিবেদক। প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টিতে গুরুত্ব পেয়েছে শিল্প-উত্পাদনসহ কৃষিকর্মে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর যথেষ্ট উদ্যোগী হওয়ার প্রবণতা। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে এ ছাড়া খাদ্য আর কর্মসংস্থানের জন্য অবদান রেখেছে ওই অঞ্চলের উপযোগী একটি নবজাত ধানের বীজ। ফলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ধান উত্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। এতে মরা কার্তিকের কর্মহীনতার কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি বর্তমান বছরে।
চালের দাম হঠাত্ কেজিপ্রতি দুই-তিন টাকা বাড়ার কারণ হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন নীতিনির্ধারক দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীদের। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ সত্যি নয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম বাড়াসহ আন্তর্জাতিক উত্স থেকে চাল আমদানির সংকটের কথা। অন্যদিকে দেশের সব বাজারেই খুচরা হোক, পাইকারি হোক, চাল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এ যেন অনেকটা গোলকধাঁধার মতো। এ কথা সত্যি, ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্স থেকে চাল আমদানির সংকট থাকলে এ দেশের বাজারেও এর প্রভাব অনুভূত হবে। এটাই মুক্তবাজারের প্রতিষ্ঠিত রীতি। সরকারের উচিত হবে, সব বিষয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া। একে অপরকে দোষারোপ করে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
খোলাবাজারে যথেষ্ট পরিমাণ চাল মজুদ থাকলেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এ বিষয়টি প্রয়োজনীয় হলেও যথেষ্ট নয়। যথেষ্ট তখনই হবে, যখন কেজিপ্রতি চালের মূল্য জনপ্রতি আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া রয়েছে অন্য একটি প্রশ্ন; তা হলো, কৃষকের উত্পাদন-খরচের সঙ্গে যেকোনো কৃষিজাত পণ্যের একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। খাদ্যনীতিতে দুটি কিছুটা পরস্পরবিরোধী উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়ে থাকে—কৃষককে ন্যায্যমূল্য দেওয়া, একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদেরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি। এ দুইয়ের সমতা বজায় রাখা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। একই সঙ্গে জনপ্রতি খাদ্যশস্য নিশ্চিত করার হিসাবও যত দূর সম্ভব নির্ভুল হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ওই বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ওই সময় জনপ্রতি খাদ্যশস্য ৫৮৮ গ্রাম থেকে ৫৯৮ গ্রামে উন্নীত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্যশস্যের জনপ্রতি পরিমাণ নির্ধারণ করা।
এ এম এম শওকত আলী: সাবেক সচিব। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।

রাসেলকে টানছেন ওমারি, প্রথম হার ব্রাদার্সের

চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে বাংলাদেশ লিগের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন আরামবাগের নিকোডিমাস আনোন্দা। কমলাপুর স্টেডিয়ামে কাল সেই চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষেই হলো এবারের লিগের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। করলেন শেখ রাসেলের মরোক্কান স্ট্রাইকার সামির ওমারি। তাঁর হ্যাটট্রিকে চট্টগ্রাম মোহামেডানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে শেখ রাসেল।
ওদিকে দিনটা ভালো কাটেনি ব্রাদার্সের। সিলেটে গিয়ে সিলেট বিয়ানীবাজারের কাছে ১-২ গোলে হার—এই লিগে সপ্তম ম্যাচে এসে এটাই প্রথম হার ব্রাদার্সের।
লিগে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচের সব কটিতে জিতে আবাহনী-মোহামেডানের পয়েন্ট ২১। সমান ম্যাচে ৬ জয় আর ১ ড্রয়ে ১৯ পয়েন্ট শেখ রাসেলের। ৭ ম্যাচে ২ জয়, ৪ ড্র, ১ পরাজয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাদার্স আছে চতুর্থ স্থানে। ১ জয়, ৩ ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে চট্টগ্রাম মোহামেডান। ১ জয়, ৩ ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে ষষ্ঠ স্থানে বিয়ানীবাজার।
লিবিয়া, সিরিয়া, তিউনিশিয়ায় খেলা সামির ওমারি গত বছর প্রথম এসেছিলেন বাংলাদেশে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে ৭ গোল করেছিলেন। এবার শুরু থেকেই খেলছেন। এরই মধ্যে ৭ গোল করে আবাহনীর এনামুল ও মোহামেডানের এমিলিকে (দুজনেরই ছয় গোল) ফেললেন পেছনে। এবং সবার ওপরে থেকেই শেষ করতে চান লিগ, ‘মাঝমাঠে মোবারক, ইউসুফ, রনি আমাকে দারুণ সাহায্য করছে। আমি এবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে চাই।’
কাল শেখ রাসেলের গোল উত্সবের সূচনা করেছিলেন ইউসুফ। ৫৪ মিনিটে মোবারকের মাইনাস থেকে তাঁর প্লেসিং। দুই মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি এক দুর্দান্ত শটে ১-১ করেন রিদন। এর পরই দৃশ্যপটে আগের ম্যাচে দুই গোল করে দলকে জেতানো সামির। ৬৬ মিনিটে ইউসুফের থ্রু থেকে আগুয়ান গোলকিপার উত্তম বড়ুয়ার মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান। ৭৫ মিনিটে গড়ানো শটে করলেন ৩-১। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা গোলটি ৮১ মিনিটে। বক্সের ভেতরে গোলকিপারকে একা পেয়ে ভুল করেননি।
ওমারির প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ মাহমুদুল হক লিটন, ‘ও এখন দুর্দান্ত খেলছে।’
বিদেশিদের ছাড়া তিনটা ম্যাচে দুই জয় আর এক ড্র করা ব্রাদার্স কাল হেরে গেল পুরোশক্তির দল নিয়েই। ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার এনক বেনটিল ২-০ স্কোরটাকে ২-১ করলেও হার এড়াতে পারেননি। তাঁর স্বদেশি স্টিভেন ৮২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
১২ মিনিটে বিয়ানীবাজারকে এগিয়ে নেন পাপ্পু। ৪৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন গিনির কন্টে। লিগে প্রথম জয় পেতে এই দুই গোলই যথেষ্ট হয়ে গেল বিয়ানীবাজারের। ঘরের মাঠে এটি তাদের প্রথম জয়।

কবে ফিরবেন উডস

জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ জোরান জর্জেভিচ কাল রাতে ঢাকা এসেছেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফোনে এই সার্বিয়ান বললেন, ‘বাংলাদেশে আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের ফুটবলকে সাহায্য করতে।’
আপাতত তাঁর নিয়োগ এসএ গেমস ও এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য। যার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আগামী মাসেই। এরপর পছন্দ হলে নিয়োগ বাড়াবে বাফুফে। তবে দুই মাসে বাংলাদেশের ফুটবলকে কতটা ‘সাহায্য’ করতে পারবেন তিনি? ৫৭ বছর বয়সী কোচের উত্তর, ‘সময় কোনো ব্যাপার নয়। একটা দিন সময় পেলেও কিছু না কিছু করার থাকে।’ ডিডোর বিদায়ের প্রসঙ্গটা মনে করিয়ে দিলে তাঁর জবাব, ‘আমি কারও সমালোচনা করব না। আমি এখানে এসে শুধুই সামনের কথা ভাবছি।’
সাফ ফুটবলের সময় বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার জন্য সাক্ষাত্কার দিয়ে যান মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচ। সর্বশেষ গত মৌসুমে ভারতের চার্চিল ব্রাদাসকে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন করেছেন সে দেশের পেশাদার লিগে। বাংলাদেশ সফরে ওই সময় বাংলাদেশ দলের ভরাডুবি মাঠে বসে দেখেছেন। কেন বাংলাদেশ দলের অমন ভরাডুবি? জানতে চাইলে বললেন, ‘অনেক কারণ আছে। আমি এখন এসব কিছু বলব না।’ তবে কথা দিলেন ‘ভারতের যুবদলের কাছে হারের বেদনা নিয়ে যেভাবে মাঠ ছেড়েছে স্টেডিয়ামভর্তি সমর্থক, মাঠে পানির বোতল ছুড়েছে, তা দেখে সমর্থকদের জন্যও খুবই কষ্ট হয়েছে আমার। আমি ওই সমর্থকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাদের মুখে হাসি ফোটাব। বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি মাথা উঁচু করে যেতে চাই। এটাই আমার একমাত্র ব্রত।’
তাঁর কোচিং দর্শন কী? এসএ গেমসের জন্য কেমন দল গড়তে চান? এ প্রশ্নে বললেন, ‘ফুটবল ১১ জনের খেলা। প্রতিপক্ষ দলেও ১১ জন খেলোয়াড়। হ্যাঁ, সব ম্যাচ জেতা যায় না মানি। কিন্তু আমি সবসময়ই চাই জয়। জয়-জয়-জয়—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।’ বাংলাদেশে তো দল গড়তে নানা জনের পছন্দের ব্যাপার চলে আসে। জর্জেভিচ নিজে কতটা সুযোগ পাবেন দল তৈরির? কেমন দলই বা তিনি চান? ‘সব কোচের চিন্তাভাবনা এক নয়। আমি আমার মতো করে এগোব। এখন খেলোয়াড়দের ভালো করে দেখতে চাই। তবে দিনশেষে তরুণ্যদীপ্ত একটা দলই গড়ে তুলতে চাইব।’
জর্জেভিচের সঙ্গে তাঁর স্বদেশি দুই সহকারী কাল আসেননি। দু-এক দিনের মধ্যে আসবেন। এসএ গেমসের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অনুশীলন শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি। এদিকে বাফুফে জানিয়েছে, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্রিটেন প্রবাসী ফুটবলার সারওয়ার আহমেদ ও শিবলু মিয়া এসএ গেমসে খেলতে আগ্রহী।

প্রযুক্তিনির্ভর আদালত-ব্যবস্থাপনা সময়ের দাবি -প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম গত রোববার তাঁকে দেওয়া সংবর্ধনার জবাবে সুপ্রিম কোর্টের মামলা-ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম রোধে কিছু সংস্কারধর্মী কাজ করার জন্য সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। আমরা জানতে পেরেছি, এ লক্ষ্যে তিনি এরই মধ্যে একটি বড় ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানেরও উদ্যোগ নিয়েছেন। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে তাঁর কথাও হয়েছে। আমরা তাঁর এ কর্মপ্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই।
বার ও বেঞ্চ হলো এক ইগলের দুই ডানা। উভয়ের কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার ধারাবাহিক অনুশীলন সুষ্ঠু বিচার ও বিচার-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও একই অনুষ্ঠানে যৌক্তিক বক্তব্য দিয়েছেন। আইনানুগ পন্থায় কর্মসম্পাদনই যে আইনজীবীদের মুখ্য কাজ, যেকোনো পন্থায় মক্কেল জেতানো তাঁর কাজ নয়, এই উচ্চারণ বহুকাল পরে একটি উপযুক্ত ফোরামে ধ্বনিত হলো। বেঞ্চ কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার জন্যও তিনি যথার্থই বিচারকদের অদক্ষতা বা উদাসীনতাকে দায়ী করেন। এ ধরনের বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রধান বিচারপতির তরফে সে বিষয়ে প্রতিকারে সচেষ্ট হওয়ার যে দৃঢ়সংকল্প, তা একটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক অগ্রগতি। অতীতে অনেক প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করতেই অনাগ্রহী ছিলেন। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আদালতের বাইরে জনগণ আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে বিচারপতিরা সমালোচনার বাইরে থাকবেন না।’
প্রধান বিচারপতি তাঁর ৪৭ দিনের মেয়াদে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার দেবেন, তার মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর একটি কেন্দ্রীয় মামলা দায়ের-ব্যবস্থার সূচনা ঘটানো অন্যতম। সব ধরনের মামলা একটি স্থানে দায়ের হবে এবং এরপর সব বিভাগ তা সমানভাবে জানতে পারবেন। মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কখনো কখনো মামলার হদিস পেতেই গলদঘর্ম হচ্ছেন। একই আইনের প্রশ্নে দায়ের করা শত শত মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকছে। অথচ সেই আইনের মীমাংসা আপিল বিভাগ হয়তো আগেই করে রেখেছেন। এ ধরনের জটিলতা নিরসনে প্রধান বিচারপতি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদালত-ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ, তিনি যেন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের সম্মেলন ডেকে নিম্ন আদালতের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি খোলামেলা সংলাপের আয়োজন করেন। বিচার বিভাগের আংশিক পৃথক্করণের পর বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসহ এমনকি তাঁদের বিচারের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায় সুপ্রিম কোর্টের ওপর আরও উত্তমরূপে বর্তেছে। তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের আলাপ-আলোচনা করাটাই স্বাভাবিক।
বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় এর আগে পাঁচটি জেলায় কেন্দ্রীয় ফাইলিং ব্যবস্থা চালু করে সুফল মিলেছে। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কুমিল্লায় ১০০ মামলার ওপর ওই ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যক্ষ করেন। সমন জারির জন্য ৭৬ দিনের পরিবর্তে গড়ে ৪৬ দিন এবং জবাব দাখিলের জন্য ৬৫ দিনের পরিবর্তে প্রায় ৩৬ দিন লাগে। আমরা বিশ্বাস করি, সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশে কেন্দ্রীয় ফাইলিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে তা হবে একটি বিরাট সংস্কার। মামলা তালিকার (কজ লিস্ট) ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মতো কিছু বিষয়ের আশু প্রবর্তন শুধু প্রধান বিচারপতির সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আমরা প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন জানাই এবং তাঁর সামনের কার্যদিবসগুলোর সাফল্য কামনা করি।

জর্জেভিচ এসে বললেন ‘সাহায্য করতে এসেছি’

জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ জোরান জর্জেভিচ কাল রাতে ঢাকা এসেছেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফোনে এই সার্বিয়ান বললেন, ‘বাংলাদেশে আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের ফুটবলকে সাহায্য করতে।’
আপাতত তাঁর নিয়োগ এসএ গেমস ও এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য। যার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আগামী মাসেই। এরপর পছন্দ হলে নিয়োগ বাড়াবে বাফুফে। তবে দুই মাসে বাংলাদেশের ফুটবলকে কতটা ‘সাহায্য’ করতে পারবেন তিনি? ৫৭ বছর বয়সী কোচের উত্তর, ‘সময় কোনো ব্যাপার নয়। একটা দিন সময় পেলেও কিছু না কিছু করার থাকে।’ ডিডোর বিদায়ের প্রসঙ্গটা মনে করিয়ে দিলে তাঁর জবাব, ‘আমি কারও সমালোচনা করব না। আমি এখানে এসে শুধুই সামনের কথা ভাবছি।’
সাফ ফুটবলের সময় বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার জন্য সাক্ষাত্কার দিয়ে যান মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচ। সর্বশেষ গত মৌসুমে ভারতের চার্চিল ব্রাদাসকে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন করেছেন সে দেশের পেশাদার লিগে। বাংলাদেশ সফরে ওই সময় বাংলাদেশ দলের ভরাডুবি মাঠে বসে দেখেছেন। কেন বাংলাদেশ দলের অমন ভরাডুবি? জানতে চাইলে বললেন, ‘অনেক কারণ আছে। আমি এখন এসব কিছু বলব না।’ তবে কথা দিলেন ‘ভারতের যুবদলের কাছে হারের বেদনা নিয়ে যেভাবে মাঠ ছেড়েছে স্টেডিয়ামভর্তি সমর্থক, মাঠে পানির বোতল ছুড়েছে, তা দেখে সমর্থকদের জন্যও খুবই কষ্ট হয়েছে আমার। আমি ওই সমর্থকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাদের মুখে হাসি ফোটাব। বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি মাথা উঁচু করে যেতে চাই। এটাই আমার একমাত্র ব্রত।’
তাঁর কোচিং দর্শন কী? এসএ গেমসের জন্য কেমন দল গড়তে চান? এ প্রশ্নে বললেন, ‘ফুটবল ১১ জনের খেলা। প্রতিপক্ষ দলেও ১১ জন খেলোয়াড়। হ্যাঁ, সব ম্যাচ জেতা যায় না মানি। কিন্তু আমি সবসময়ই চাই জয়। জয়-জয়-জয়—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।’ বাংলাদেশে তো দল গড়তে নানা জনের পছন্দের ব্যাপার চলে আসে। জর্জেভিচ নিজে কতটা সুযোগ পাবেন দল তৈরির? কেমন দলই বা তিনি চান? ‘সব কোচের চিন্তাভাবনা এক নয়। আমি আমার মতো করে এগোব। এখন খেলোয়াড়দের ভালো করে দেখতে চাই। তবে দিনশেষে তরুণ্যদীপ্ত একটা দলই গড়ে তুলতে চাইব।’
জর্জেভিচের সঙ্গে তাঁর স্বদেশি দুই সহকারী কাল আসেননি। দু-এক দিনের মধ্যে আসবেন। এসএ গেমসের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অনুশীলন শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি। এদিকে বাফুফে জানিয়েছে, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্রিটেন প্রবাসী ফুটবলার সারওয়ার আহমেদ ও শিবলু মিয়া এসএ গেমসে খেলতে আগ্রহী।

স্মিথের ব্যাটে কোণঠাসা ইংল্যান্ড

এক ‘দক্ষিণ আফ্রিকান’ করেছেন ২, একজন ২০, আরেকজন শূন্য। চারজনের মধ্যে ব্যতিক্রম একজনই। তাঁর ব্যাট থেকেই এসেছে ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৬। বলা হচ্ছিল, ইংল্যান্ড দলে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন আর ম্যাট প্রিয়রের কথা। ব্যর্থতার মিছিলে প্রিয়র যোগ দেননি বলেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ২৭৩ রান করতে পেরেছে ইংল্যান্ড।
তবে আসল দক্ষিণ আফ্রিকানরাই দিচ্ছেন আসল জবাব। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৮ রানের লিড পেলেও কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনেই ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে। কাল দিনশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩১২/২। লিড ৩৩০ রানের। হাতে আট উইকেট। ক্যারিয়ারে ১৯তম সেঞ্চুরি করে ১৬২ রানে অপরাজিত গ্রায়েম স্মিথ। সঙ্গী জ্যাক ক্যালিস অপরাজিত ২০ রানে।
বৃথাই যাচ্ছে ব্যাট হাতে প্রিয়রের লড়াই। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে সপ্তম উইকেটে স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে ৫১ আর শেষ জুটিতে গ্রাহাম অনিয়নসের সঙ্গে মূল্যবান ৩২ রান যোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা নাগালেই রেখেছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে মূল হন্তারক দুজন। মরনে মরকেল আর ডেল স্টেইন। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন মরকেল। আর ইনজুরি থেকে এই সিরিজেই ফেরা স্টেইন ৪ উইকেট নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, ছন্দটা ফিরে এসেছে তাঁর মুঠোয়।
অ্যাশওয়েল প্রিন্সের আরও একটি ব্যর্থতায় বল হাতে ইংল্যান্ডের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। গ্রায়েম সোয়ানের ফর্মের কথা মাথায় রেখে দশম ওভারেই তাঁকে আক্রমণে এনেছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য। কিন্তু পরের ৫৪টি ওভার কেবল হতাশায় কেটেছে ইংল্যান্ডের। আমলার সঙ্গে এ সময় ২৩০ রানের জুটিও গড়েছেন স্মিথ। অধিনায়কের পথ ধরে আমলাও এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু মাত্র ৫ রান দূরে শর্ট লেগে অ্যালিস্টার কুকের দারুণ ক্যাচের শিকার। এবারও উইকেটশিকারি সোয়ান।
ইংল্যান্ড তাকিয়ে আছে এই স্পিনারের হাতের দিকেই। আর দক্ষিণ আফ্রিকা তাকিয়ে অধিনায়কের ব্যাটে।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ দুবাইয়ের উদ্বোধন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ দুবাই গতকাল সোমবার উদ্বোধন করা হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মকতুম ভবনটি উদ্বোধন করেন।
১৬৯ তলা ভবনটির উচ্চতা ৮১৮ মিটার। ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে এবং এতে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার। অডরিন স্মিথ নামে একজন মার্কিন স্থপতি ভবনটির নকশা করেন।
এতে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এক হাজার ৪৪টি। আর অফিসের জায়গা আছে ২৮ হাজার স্কয়ার মিটার। ভবনের ৭৬ নম্বর তলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত সুইমিং পুল। ভবনটিকে ৫৯ মাইল দূর থেকেও দেখা সম্ভব হবে।
এত দিন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল তাইওয়ানের তাইপে ১০১। তাইপে টাওয়ার থেকে ৩০০ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচু বুর্জ দুবাই।

আরেকটি বিশ্বকাপে টট্টি

বিশ্বকাপে যাচ্ছেন? প্রশ্নটায় ফ্রান্সেসকো টট্টির সাবলীল উত্তর, ‘বিশ্বকাপ? এপ্রিলে সিদ্ধান্ত নেব। লিপ্পি এবং তাঁর দল যদি চায় তাহলেই যাব।’
ইতালি কোচ মার্সেলো লিপ্পির সঙ্গে টট্টির সম্পর্কটা ভালো। ইতালির সংবাদমাধ্যমের তাই ধারণা, টট্টি ঠিকই যাচ্ছেন বিশ্বকাপে। লিপ্পি আর টট্টির মধ্যে এ রকম একটা বোঝাপড়া হয়তো হয়েই আছে!
ধরা যাক ধারণাটা ঠিক হলো। কিন্তু হঠাত্ করে টট্টিকে দলে নেওয়াটা কি ঠিক হবে? খেটেখুটে ইতালিকে বাছাইপর্বের বৈতরণী পার করিয়ে দিলেন যাঁরা তাঁদের একজনকে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হবে টট্টিকে!
আসলে টট্টিকে বিশ্বকাপের ইতালি দলে ঢোকার পথ করে দিচ্ছে ওই বাছাইপর্বই। জিউসেপ্পে রসি, ফ্যাবিও কোয়াগলিয়ারেল্লা, আন্তোনিও কাসানো, সেবাস্তিয়ান জিওভিঙ্কো—ইতালির এই স্ট্রাইকাররা বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচে সব মিলিয়ে গোল পেয়েছেন ৯টি। বাছাইপর্বের মতো কনফেডারেশনস কাপ এবং প্রীতি ম্যাচগুলোয়ও গোল-খরা ছিল ইতালির আক্রমণভাগের। নাপোলি স্ট্রাইকার কোয়াগলিয়ারেল্লা তো আড়াই বছর ধরেই ইতালির জার্সি গায়ে গোল পাচ্ছেন না।
ওদিকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইতালি দলে না খেলা টট্টি এএস রোমার জার্সি গায়ে করে যাচ্ছেন একের পর এক গোল। এ মৌসুমে রোমা অধিনায়ক ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ২০টি।
অনেকেই বলছেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে ইতালি বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে দুর্বল দলটি নিয়ে যাচ্ছে, যাদের পক্ষে জার্মানিতে পাওয়া বিশ্বকাপ শিরোপাটা ধরে রাখার কোনোই সম্ভাবনা নেই। টট্টিকে দলে নিলে যদি সামান্য সম্ভাবনা তৈরি হয়!

আফ্রিদির ইচ্ছা

পাকিস্তান দলের মতো শহীদ আফ্রিদিও আছেন অস্ট্রেলিয়াতেই। সতীর্থরা যখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট খেলছেন, তিনি তখন খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ‘বিগ ব্যাশ’। এর আগে এই অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ২০০১ বিশ্বকাপের আগে টেস্ট খেলার ইচ্ছা নেই তাঁর। এবার বললেন নির্বাচকেরা চাইলে টেস্ট খেলতেও প্রস্তুত তিনি, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করছে, আমি কেন টেস্ট খেলছি না। ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দিকেই আমার মনোযোগ। কিন্তু নির্বাচকেরা আমাকে দলে চাইলে অবশ্যই তাঁদের না বলতে পারব না।’ ইউনুস খানকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাতে মোহাম্মদ ইউসুফের দাবিকেও সমর্থন করেছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

টানা দুই দিন ইয়েমেনে মার্কিন ও ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো ইয়েমেনে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বন্ধ রাখে। বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমান বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার পর সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশ দুটি ওই ব্যবস্থা নেয়। সোমবার কূটনীতিকেরা এ কথা জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একজন সহযোগী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত আছে, আল-কায়েদা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলার পরিকল্পনা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘সোমবার আবারও দূতাবাস বন্ধ রাখা হয়। আমরা নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছি।’ দূতাবাস বন্ধ রাখার জন্য ব্রিটেনও নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা উল্লেখ করেছে। তবে এর বাইরে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটি।
দেশের উত্তরাঞ্চলে শিয়া মুসলিমদের বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে ইয়েমেন সরকার। দক্ষিণাঞ্চলে মোকাবিলা করছে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিক্ষোভ। সোমালিয়া থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে উপকূলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সানা।
বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী যাত্রীবাহী বিমান উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত নাইজেরীয় ব্যক্তি ইয়েমেনে আল-কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ম্যানইউর সামনে ম্যান সিটি

লিগ কাপ জিতে এফএ কাপের হতাশা ভুলতে চান অ্যালেক্স ফার্গুসন। ভুলতে পারবেন কি না, কে জানে। কারণ, লিগ কাপ জেতা তো আর সহজ কাজ নয়। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে আজ তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচটা আবার ম্যান সিটির মাঠে।
গত রোববার তৃতীয় বিভাগের দল লিডস ইউনাইটেডের কাছে হেরে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে ম্যানইউ। এই জ্বালা জুড়াতে আজ ম্যান সিটিকে উড়িয়েই দিতে চাইবে ম্যানইউ। তবে প্রতিপক্ষ শিবির ছেড়ে কথা বলবে না। ম্যান সিটি তো মুখিয়ে আছে ম্যানইউকে যোগ্য জবাব দিতে।
একই শহরের ক্লাব—এ ছাড়া ম্যানইউ আর ম্যান সিটিতে বিস্তর ফারাক। ইতিহাস-ঐতিহ্য বা সাফল্যে ম্যান সিটি থেকে যোজন যোজন এগিয়ে ম্যানইউ। ম্যানইউর কত সাফল্য! আর সিটির ট্রফি কেসে সর্বশেষ জমা পড়া ট্রফিটা কি না ৩৪ বছর আগের (১৯৭৬ লিগ কাপ)।
গত সেপ্টেম্বরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানইউর কাছে ৩-৪ গোলে হারলেও ভালো খেলেছিল সিটি। সর্বশেষ তিন ম্যাচে নতুন কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে দারুণ খেলছে দলটি। গোল খায়নি একটিও। এটা ম্যানইউর বিপক্ষে আজ ভালো খেলার প্রেরণা জোগাচ্ছে ম্যান সিটিকে’

হারিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের হাউসবোট

স্বচ্ছ পানিতে ভাসমান ঘর। শ্বেতশুভ্র বরফে ঢাকা কাশ্মীরে ভাসতে ভাসতে এমন ‘নৌকার’ ঘরেই কেটে যায় প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা কোনো নবদম্পতির মধুর মুহূর্তগুলো। ভারতশাসিত কাশ্মীরের হাউসবোটগুলো একরকম স্বপ্নের মতোই সুন্দর মনে হতো। কাশ্মীরে পর্যটকদের কাছে এখনো হাউসবোটগুলো সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয়। সেগুলোয় থাকার সময়টাও তারা আগেই ঠিক করে রাখে। কিন্তু হাউসবোট শিল্প সেই পুরোনো ঐতিহ্য আর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে।
সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই পর্যটকদের আনন্দ দিচ্ছিল কাশ্মীরের ডাল লেকের (হ্রদ) হাউসবোট। তবে ২০ বছর ধরে কাশ্মীরে চলা সহিংসতায় হাউসবোট শিল্প এখন হুমকির মুখে। সহিংসতার কারণে কাশ্মীরে পর্যটকের সংখ্যা কমছে। ফলে হাউসবোট শিল্প অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শিল্পের প্রয়োজনীয় সংস্কার আর উন্নয়নও সম্ভব হচ্ছে না।
তবে আশার কথা, কাশ্মীরের নতুন সরকার হাউসবোট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘বোট’ শিল্পের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। হাউসবোটের পয়োনিষ্কাশনের বন্দোবস্ত করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে ডাল লেকের অন্যতম শোভা ছিল হাউসবোট, পরিবেশদূষণের ফলে সেই ডাল লেকের অবস্থাও শোচনীয়। পরিবেশদূষণের কারণে ভূস্বর্গ হিসেবে খ্যাত ও মধুচন্দ্রিমার অন্যতম স্থান হিসেবে বিবেচিত সেই বরফে ঢাকা কাশ্মীরকে এখন আর চেনাই যায় না। কাশ্মীরের বেশির ভাগ এলাকাই এখন দুর্গন্ধ আর আবর্জনায় ভরা থাকে। সময়মতো পানি নিষ্কাশনের অভাবে ডাল লেক এখন আবর্জনায় ভরে গেছে। পলিব্যাগে করে মৃত পশুপাখি ফেলে রাখা হয় এখানে-সেখানে।
হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কর্মকর্তা মঞ্জুর ওয়াগনু ডাল লেককে দূষণমুক্ত করতে চান। তাঁর মতে, হাউসবোট ছাড়া ডাল লেকের সৌন্দর্য যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি এই হ্রদবিহীন হাউসবোটের সৌন্দর্যও অর্থহীন। তাই ভূস্বর্গ কাশ্মীরের প্রধান দুই আকর্ষণকেই বাঁচিয়ে রাখতে চান মঞ্জুর।
তবে দূষণে যে ডাল লেক ছোট হয়ে আসছে, তা স্বীকার করেননি লেকস অ্যান্ড ওয়াটারওয়েস ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির প্রধান ইরফান ইয়াসিন। তিনি আশ্বাস দেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই হ্রদটিতে সব ধরনের সংস্কার করা হবে। লেকে বর্জ্য না ফেলার জন্যও তিনি মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তবে হাউসবোট শিল্প রক্ষায় অনেক দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছে কাশ্মীর সরকার। তবে এখন বেশির ভাগ হাউসবোটেরই জীর্ণ দশা। ৩০টিরও বেশি হাউসবোটের মালিক এখন তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করতে চান। দারিদ্র্য ও অর্থাভাবের কারণেই তারা বোটগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাই অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে একসময় হয়তো পুরোপুরি হারিয়ে যাবে কাশ্মীরের হাউসবোট শিল্প।

সবচেয়ে খারাপ পোশাকের ব্যক্তি গর্ডন ব্রাউন

সামনে দেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই বেশ বেকায়দায় রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। এরই মধ্যে তাঁর জন্য আরেকটি মন খারাপ করা খবর দিয়েছে প্রভাবশালী জিকিউ সাময়িকী। তাদের করা একটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, সবচেয়ে জঘন্য পোশাকের দশ ব্যক্তির মধ্যে গর্ডন ব্রাউন প্রথম হয়েছেন। গত বছর তিনি ওই তালিকার তিন নম্বরে ছিলেন। তালিকায় ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা রাসেল ব্রান্ড (দুই নম্বরে), ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি (তিন নম্বরে) এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইলকে হারিয়ে তিনি ওই ‘মুকুট’ ছিনিয়ে নেন।
ব্রাউনের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। কারণ সুন্দর পোশাকের ব্যক্তির তালিকায় এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডেভিড ক্যামেরনের নাম উঠে এসেছে। তিনি অবশ্য ওই তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছেন। এবার নির্বাচনে ক্যামেরনের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিপাটি পোশাকের ব্যক্তির তালিকায় সেরা দশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী আলোচিত টোয়াইলাইট সিনেমার সুদর্শন অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন। এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পপ ব্যান্ড টেইক দেট, তৃতীয় হয়েছেন গায়ক অ্যালেক্স টারনার। ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম অবশ্য এবার এ তালিকায় জায়গা পাননি।

মাঠের মুখ

মোহাম্মদ কবির হাসানের মন খুবই খারাপ। মাঠের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে। নাহ্, এত ঝক্কি-ঝামেলার পর এই দেখতে মাঠে আসা!
ঢাকা কলেজ থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কবির হাসান। বাসা মিরপুর এক নম্বরে। এত কাছে স্টেডিয়াম, তবু বাবা-মা খেলা দেখতে আসতে দেবেন না। সামনে পরীক্ষা, এটা খেলা দেখার সময় নাকি? কবির হাসান তবু এসেছেন। সন্তানের দাবির কাছে হার মেনেছেন বাবা-মা। নিজেরাই টিকিট কেটে কবির হাসানকে পাঠিয়েছেন স্টেডিয়ামে। গ্যালারিতে বসে সেই কবির হাসান মাঠের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে! কেন?
কারণটা কবির হাসানের মুখেই শুনুন, ‘শেবাগ আমার প্রিয় ক্রিকেটার। কী ব্যাটিংটাই না করছে এখন! অথচ এত কম রানে আউট হয়ে গেল। ভেবেছিলাম ওর দুর্দান্ত একটা ইনিংস দেখব। হলো না।’ কিন্তু শুধু কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই, ঘরোয়া ক্রিকেট দেখতে মাঠে আসেন না? কবির হাসান শুধরে দেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলেও আসি না। শুধু ভারতের খেলা হলে আসি। ওদের চেহারা দেখলেই ভালো লাগে। সবাই খেলেও ভালো।’ এবার অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই একটা অতৃপ্তি ছুঁয়ে গেছে কবিরকে। শচীন টেন্ডুলকারই যে নেই!
কবির হাসানের চোখে ক্রিকেটটা যেন ধুন্ধুমার এক ব্যাটিংয়েরই খেলা। বীরেন্দর শেবাগের অন্ধ ভক্ত হলেও তাঁর প্রিয় ক্রিকেটারদের তালিকায় তাই ঠাঁই হয়েছে তামিম ইকবালের। একটা ক্ষোভ অবশ্য আছে তামিমের ওপরও, ‘বড় দলের বিপক্ষে তামিমের ভালো ইনিংস দেখলাম না। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যে কবে শেবাগের মতো...।’ কথা শেষ হওয়ার আগেই মোবাইল বেজে ওঠে। মায়ের ফোন, ‘হ্যাঁ...আমি তো মাঠেই, খেলা দেখছি। না না, সমস্যা হচ্ছে না। শীতের কাপড় সঙ্গেই আছে।’

আসছেন টেন্ডুলকার-ইশান্ত

ত্রিদেশীয় সিরিজের পরপরই দুই টেস্টের সিরিজ। তারই দল ঘোষণা করতে কাল বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় নির্বাচকেরা। মাত্র ১৫ মিনিটেই দল চূড়ান্ত! বোঝাই যাচ্ছে ১৬ জনের দল ঘোষণা করতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি তাঁদের।
বিশ্রাম শেষে টেস্ট দলে যোগ দিচ্ছেন শচীন টেন্ডুলকার। ওয়ানডে সিরিজে বাদ পড়া ইশান্ত শর্মাকেও নেওয়া হয়েছে দলে। শ্রীলঙ্কার গত ভারত সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলা সুদীপ তিয়াগিও ডাক পেয়েছেন। তিয়াগিসহ দলে পেসার চারজন। বাংলাদেশের কন্ডিশনের কথা ভেবে দলে রাখা হয়েছে তিন স্পেশালিস্ট স্পিনার হরভজন সিং, অমিত মিশ্র ও প্রজ্ঞান ওঝাকে। ব্যাটিং লাইনআপে ফিরেছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণও। শ্রীলঙ্কা সিরিজের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথ। তবে তাঁর তামিলনাড়ু সতীর্থ মুরালি বিজয় টিকে গেছেন তৃতীয় ওপেনার হিসেবে। আর বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে আছেন দিনেশ কার্তিক।
ভারতীয় টেস্ট দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), বীরেন্দর শেবাগ, রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, জহির খান, শ্রীশান্ত, অমিত মিশ্র, প্রজ্ঞান ওঝা, ইশান্ত শর্মা, মুরালি বিজয়, দিনেশ কার্তিক ও সুদীপ তিয়াগি।

আদালতে পাঁচ মার্কিন জঙ্গি -আফগানিস্তানে মুসলমানদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন

পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজন মার্কিন জঙ্গি আদালতে বলেছেন, তাঁরা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মুসলমানদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের একটি আদালতে তাঁরা এ কথা বলেন।
আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টার সন্দেহে গত বছর ডিসেম্বরে ওই পাঁচ মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
গতকাল সোমবার ওই পাঁচ মার্কিনিকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সারাগোদার একটি আদালতে তোলা হয়। বিচারক আনোয়ার নাজিরের প্রশ্নের জবাবে আল-কায়েদার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ থাকার কথা অস্বীকার করেন দুই সন্দেহভাজন। তবে তাঁরা বলেন, তাঁরা আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলি নাদিম আকরাম চিমা বলেন, একজন সন্দেহভাজন বলেছেন, মুসলমানদের সহায়তা করার জন্য তাঁরা আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি আরও বলেন, আদালত যখন জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে কি আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে আপনি আফগানিস্তানে যাচ্ছিলেন?’ তখন অপর এক সন্দেহভাজন বলেন, ‘হ্যাঁ, মুসলমানদের সহায়তা করার জন্য আমরা আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম।’ তবে কোন সন্দেহভাজন এ কথা বলেছেন, সেটা উল্লেখ করেননি নাদিম আকরাম চিমা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আমির আবদুল্লাহ রোকরি বলেন, আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট সাইফুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে ই-মেইল পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন তাঁর মক্কেলরা। তিনি আরও বলেন, তাঁরা বিচারককে বলেছেন, তাঁরা পাকিস্তানে কোনো অপরাধ করেননি, কিংবা কোনো ধরনের অপরাধ করার অভিপ্রায়ও তাঁদের ছিল না। আহত ও গৃহহীন মানুষকে সহায়তার জন্য তাঁরা আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
চিমা বলেন, সন্দেহভাজন পাঁচ মার্কিনিকে রিমান্ডে নেওয়ার এবং খালিদ ফারুকির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত দুটি আবেদনই গ্রহণ করেন।
রোকরি বলেন, আদালত খালিদ ফারুকিকে মুক্তি ও বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারসংক্রান্ত রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। তিনি জানান, ১৮ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই পাঁচ ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত শেষ হয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা তাহির গুজ্জর বলেন, এখন এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ওই পাঁচ ব্যক্তি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য পাকিস্তানে এসেছিলেন।

দিলশান-চামারাকেও হারাল শ্রীলঙ্কা

দুপুর সোয়া ১২টা। শ্রীলঙ্কা দল মাঠের উদ্দেশে হোটেল ছাড়ছে। কিন্তু লবিতে কুমার সাঙ্গাকারাকে এগিয়ে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লিফটের দিকে ফিরে গেলেন তিলকরত্নে দিলশান।
 আজ (গতকাল) তাহলে খেলছেন না!
—না। আমি তো দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলাম।
দলের সঙ্গে না গেলেও ঘণ্টাখানেক পর ম্যানেজারের সঙ্গে মাঠের উদ্দেশে হোটেল ছাড়লেন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান। যাওয়ার আগে বলে গেলেন হতাশার কথা, ‘ভালো একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। এই সময়ে ইনজুরিতে পড়া খুবই হতাশাজনক। কিন্তু কী আর করা...।’
দিলশানের হতাশা ছুঁয়ে যাচ্ছে পুরো শ্রীলঙ্কা দলকেই। গত এক বছর টেস্ট-ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি সবখানেই দলের নির্ভরতা হয়ে উঠেছিলেন। খর্বশক্তির বোলিং নিয়ে এই আইডিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বড় ভরসাও ছিলেন এই ওপেনার। দিলশানেই শেষ নয়। কুঁচকির ইনজুরিতে দিলশান তো দুই সপ্তাহের জন্য বাইরে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলের ওপরে চোট চামারা সিলভাকে ছিটকে ফেলেছে চার সপ্তাহের জন্য। পরশুর ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন হাতে। এক্স-রেতে চিড় ধরা পড়েছে হাড়ে, হাতে পড়েছে ব্যান্ডেজ। ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকিটা তাই এই দুই ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই খেলতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে।
দিলশান-চামারার সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া শ্রীলঙ্কা দলের ইনজুরির তালিকাটাকে লম্বা করে দিল আরও। এ কারণেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি মুত্তিয়া মুরালিধরন, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও দিলহারা ফার্নান্ডো। গত কিছুদিনের পারফরম্যান্স বিবেচনায় দিলশানকে হারানো বোধ হয় এদের যে কাউকে হারানোর চেয়ে বড় ধাক্কা।
তবে বাংলাদেশ সফরে ইনজুরিই একমাত্র দুশ্চিন্তা নয় শ্রীলঙ্কার। অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা পরশু ম্যাচ শেষে যতই বলুন ক্রিকেটীয় চিন্তাটাই সবার আগে, নিরাপত্তার শঙ্কা সর্বদাই ঘিরে থাকছে তাঁদের। লাহোরে টিম বাসে হামলার পর থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থাটাই নড়ে গেছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের। টিম ম্যানেজমেন্ট তাই দলের প্রতিটি পদক্ষেপ গোপন রাখতে চাইছে। হোটেল থেকে টিম বাস কখন ছাড়বে, কখন অনুশীলন বা খেলায় যাবে দল, সেসব তথ্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকাদেরও জানানো হচ্ছে শেষ সময়ে।

কুমিল্লার ময়নামতিতে পূবালী ব্যাংকের ৩৮২তম শাখা উদ্বোধন

কুমিল্লার ময়নামতিতে সম্প্রতি পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ৩৮২তম শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।
ব্যাংকের পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের সাধারণ সেবা ও উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শফিউল আলম খান চৌধুরী, কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান দিলীপ কুমার রায় এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন বলেন, আধুনিক সেবা সর্বস্তরের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কুমিল্লার ময়নামতিতে পূবালী ব্যাংকের ৩৮২তম শাখাটি যাত্রা শুরু করল। তিনি এলাকার ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষকে ব্যাংকের আধুনিক সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রকৌশল পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা বৃহস্পতিবার থেকে

আন্তর্জাতিক প্রকৌশল পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা বসছে ঢাকায়। ৭ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এ মেলায় নির্মাণ, প্রকৌশল, শক্তি ও বিদ্যুত্ খাতের সামগ্রী প্রদর্শন করা হবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় মেলার যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বিইআইওএ), এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন এবং জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল। মেলার উদ্বোধন করবেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার নানা দিক তুলে ধরেন বিইআইওএর সভাপতি আবদুর রাজ্জাক। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হক আনসারী, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনের পরিচালক নন্দ গোপাল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, পাট, তুলা, চিনি, কাগজ, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, সার, চা, রেলপথ, ফেরি, বিদ্যুত্ উত্পাদন, নির্মাণক্ষেত্র ও ওষুধশিল্পের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে দেশের প্রকৌশল-শিল্প। সরকার ইতিমধ্যেই এ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি প্রভৃতি দেশের ২৫টি কোম্পানি মেলায় অংশ নেবে। এতে স্টল থাকবে ১৪৮টি।
সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দুর্বলতা হচ্ছে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা। এ কারণে বিশ্বমানের পণ্য উত্পাদন করতে পারি না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও এ খাতে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে।’

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনী শুক্রবার শুরু হচ্ছে

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি পণ্যের একক প্রদর্শনী।
‘শোকেস বাংলাদেশ ২০১০’ শীর্ষক এ মেলায় বাংলাদেশের ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
কুয়ালালামপুরের পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (পিডব্লিউটিসি) মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি)।
মেলার বিস্তারিত জানাতে বিএমসিসিআই গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহজাহান ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মেলায় ৬০টি স্টলে বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠান নিট ও ওভেন পোশাক, সিরামিকস, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য, জ্বালানি, পর্যটন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও হস্তশিল্প পণ্য এবং সেবা প্রদর্শন করবে।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম আরও বলেন, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতো শ্রী মুস্তাফা মোহামেদ প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেওয়ার জন্য ১৫০ জন মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণের সম্মতি দিয়েছেন। মোট ৩০ হাজার দর্শক মেলায় আসবে বলে তিনি জানান।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ তিন কোটি ১৩ লাখ ডলারের পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি বিপরীতে ৬৯ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে হালাল পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, হালাল পণ্যের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ সুযোগ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মালয়েশিয়ার অবস্থান ষষ্ঠ। এ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন খাতে ১৩৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে আরও মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ আসবে।

মন্দার মধ্যেও প্রবাসী-আয়প্রবাহ এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে

বিশ্বমন্দার মধ্যেও ২০০৯ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী-আয়প্রবাহ বেশ ভালো ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে গত পঞ্জিকা-বছরে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা এক হাজার ৭১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক-ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন।
এর আগের বছর মানে ২০০৮ সালে দেশে প্রবাসী-আয়ের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ কোটি ডলার। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী-আয়প্রবাহ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কোনো একক মাসে এটাই সর্বোচ্চ প্রবাসী-আয়প্রবাহ।
আর একই বছরে সবচেয়ে কম প্রবাসী-আয় এসেছে ফেব্রুয়ারি মাসে, যার পরিমাণ ৭৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।
প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও নিরাপদ পর্যায়ে ধরে রাখতে সহায়তা দিয়েছে। ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।
উচ্চহারে প্রবাসী-আয়ের কারণেই পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি থাকার পরও দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের উদ্বৃত্তাবস্থা তৈরি হয়েছে।
তবে উচ্চহারে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাও তৈরি করেছে, যা খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর স্বীকার করেছেন।
গত বছরের অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি সে সময় বলেন, প্রবাসী-আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণসঞ্চারিণী হলেও উত্পাদনশীল খাতে এর সীমিত ব্যবহার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গভর্নর আরও বলেন যে এর ফলে আর্থিক বাজারে বাড়তি তারল্য তৈরি হয়েছে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাড়তি তারল্য থেকে রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ফাটকা বিনিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আতিউর রহমান বলেন, উচ্চহারে প্রবাসী-আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি করেছে এবং স্থানীয় মুদ্রার মানকে ক্রমশ শক্তিশালী করছে, যা আবার আয় গ্রহীতা ও রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক হচ্ছে না।
বিশ্বমন্দার প্রভাবে বিদেশে কাজ হারিয়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী দেশে ফিরে আসবেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু এই আশঙ্কা সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কাজ হারিয়ে অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন ঠিকই, তবে তা পুরোপুরি মন্দার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অতীতের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আইনি জটিলতায় পড়ে অনেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। মালয়েশিয়া থেকে মূলত অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে কাজ হারাতে হয়েছে অনেক বাংলাদেশিকে।
এ ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মচ্যুতির কারণেও অনেক বাংলাদেশি শ্রমজীবী বিভিন্ন দেশে কাজ হারিয়েছেন।
পাশাপাশি এটাও দেখা গেছে যে নতুন করে কাজের জন্য অনেকেই দেশ ত্যাগ করেছেন। যদিও ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে এর পরিমাণ কিছুটা কম ছিল।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিদেশে গমনকারীদের সংখ্যা কমতে শুরু করে। জানুয়ারি মাসে ৫০ হাজার ৬৩২ জন বাংলাদেশি বিদেশে গিয়েছে। কিন্তু মে মাসে তা নেমে আসে ৩৫ হাজার ৮৫০ জনে। আর সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৮১২।
তবে অক্টোবর মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই মাসে ৪৩ হাজার ৩৩৪ জন বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছেন।
অবশ্য ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে দেশে ৭৪ হাজার ২৯ জন শ্রমজীবী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন।

রুপাই বড় চ্যালেঞ্জ কাবাডি দলের

ভারত বরাবরের মতো সোনা জিতবে। এবারের দক্ষিণ এশীয় গেমস কাবাডিতেও বাংলাদেশের লড়াইটা তাই রুপার।
পাকিস্তান থাকায় রুপাটাও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ এশীয় গেমস তো বটেই, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ যতবার রুপা জিতছে প্রতিবারই পাকিস্তান ছিল শেষ বাধা। সাম্প্রতিক সময়ে বাধাটা টপকানো যাচ্ছে না। শেষ দুটি দক্ষিণ এশীয় গেমসে তো পাকিস্তানের কাছে হেরেই ব্রোঞ্জ পেতে হয়েছে।
এবার দেশের মাটিতে গেমস। পাকিস্তানকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ? কাবাডি দলের কোচ আবদুল জলিল বলছেন, ‘পাকিস্তান আগের পাকিস্তান নেই। শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো ওদের হারানোর ক্ষমতা রাখি। গতবার কলম্বোতে ওরা জোচ্চুরি করে আমাদের হারিয়েছে এক পয়েন্টে। আরও অনেক ম্যাচেই জোর করে জিতেছে। এবার আশা করি পারবে না।’
বাংলাদেশ সোনার স্বপ্ন দেখে না? ‘ভারতকে হারিয়ে সোনা জেতার স্বপ্ন দেখা বাড়াবাড়ি। আমরা কখনো ভারতকে হারাতে পারিনি’—বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
এসএ গেমসে ৫ দলের পুরুষ কাবাডিতে এবারও ফেবারিট ভারত। বাকি চার দল—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। খেলা হবে রবিন লিগ পদ্ধতিতে। প্রতি দল একে অন্যের সঙ্গে একবার খেলার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দুটি দল লড়বে সোনার জন্য। বাংলাদেশকে ফাইনালে খেলতে হলে অবশ্যই হারাতে হবে পাকিস্তানকে।
সেই লক্ষ্যে এবার বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি তুলনামূলক ভালো হয়েছে। বিকেএসপির দিনাজপুর শাখায় ৯-১০ মাস অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দল মাসখানেক আগে ঢাকায় ফিরেছে। যদিও অনুশীলনের জন্য পুরো ম্যাট পাওয়া যায়নি। একমাত্র ম্যাটকে ভাগ করে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হয় অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে ঢাকায় মহিলা দল অনুশীলন করেছে। তারপরও লম্বা সময়ের এই প্রস্তুতিতে বড় প্রাপ্তি, কিছু নতুন খেলোয়াড়ের উঠে আসা। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধাও আগের চেয়ে ভালো ছিল ক্যাম্পে।
কিন্তু বড় ঘাটতি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারা। নিজেদের পরখ করতে দেশের বাইরে কোথাও পাঠানো হলো না দল, যেটা খুবই দরকার ছিল। বড় দুঃসংবাদও আছে একটা—ইনজুরি থেকে সেরে উঠলেও পুরোপুরি ফিট নন বিশ্বসেরা রেইডার জিয়াউর রহমান। জিয়া না থাকা মানে দলের অর্ধেক শক্তিই খর্ব। জিয়াবিহীন দল কতটা কী করতে পারবে, সেই সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই। ইনজুরি আছে আরও দুই-একজনের। তবে জিয়া সাহস জোগাচ্ছেন দলকে, ‘আমি থাকলে ভালো হতো। কিছু করার নেই। আশা করি দল ভালো করবে।’
সেই ‘ভালো’টা হলো ফাইনালে খেলা। দলের অন্যতম খেলোয়াড় মামুন শিকদার বললেন, ‘জিয়া নেই, এটা বড় ঘাটতি। তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে খেলা।’ এনামুল হকের কণ্ঠেও একই প্রতিজ্ঞা, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হলো না। তারপরও ফাইনালে খেলতে চাইব আমরা।’ ‘ফাইনালে উঠলে অঘটন ঘটিয়ে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়’—আবু সালেহ্ মুসার মনোবল আরও তুঙ্গে।
খেলোয়াড়দের চেষ্টা তো আছেই, এর সঙ্গে চাই কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা। কখনো কখনো সেটা না থাকায় খারাপ করেছে বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতির অভাবসহ নানা কারণে ’৮৯ ও ’৯৩ সাফে ছিল ব্রোঞ্জের সান্ত্বনা। ’৯৮ আর ২০০৬ এশিয়াডেও তাই। ১৯৯৯ সাফে তো পদকই আসেনি (’৯১ সাফে কাবাডি ছিল না)! আবার এই বাংলাদেশই ১৯৯০, ১৯৯৪, ২০০২ এশিয়াডে জিতেছে রুপা। ১৯৮৫, ’৮৭, ’৯৫ সাফে ছিল রুপা। এখন অবস্থা এমন যে রুপা জয়ই কঠিন!
মহিলা কাবাডিতেও বাংলাদেশের লড়াইটা রুপার। গত এসএ গেমসে অভিষেক হয় মহিলা কাবাডির। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ জিতেছে। ভারত চ্যাম্পিয়ন, নেপাল চতুর্থ। এবারও এই চার দলই খেলছে এবং রুপার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাই বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রুপা জেতা সম্ভব? দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও সাবেক অধিনায়ক মালেকা পারভীনের বিশ্বাস, ‘এটা অসম্ভব নয়। আমরা রুপার জন্যই খেলব।’ তবে শর্ত দিয়েছেন তিনি, ‘দল নির্বাচন ভালো হতে হবে।’
কাবাডি ফেডারেশনের ক্ষমতার কুরসি বদল হয়েছে সম্প্রতি, তাতে অনেক কিছু বদলে যাওয়াতেই সঠিক দল নির্বাচনের শর্তটা আসছে। এই দলের কোচ বদল হয়েছে, খেলোয়াড়ও যে বদল হতে চলেছে!

জয়েই ফেরা হেনিনের

তিনি বলেছিলেন, নতুন করে ফেরা জাস্টিন হেনিনের মধ্যে আগের চেয়েও শক্তিশালী এক খেলোয়াড়কে দেখবে টেনিস কোর্ট। সুতরাং এমনই হওয়ার কথা ছিল।
কাল ব্রিসবেন আন্তর্জাতিক টেনিসে তাঁর প্রতিযোগিতামূলক প্রত্যাবর্তন ম্যাচে দ্বিতীয় বাছাই রাশিয়ার নাদিয়া পেত্রোভা হেরে গেলেন ৭-৫, ৭-৫ গেমে। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটা সহজেই জিতে সাবেক বেলজিয়ান তারকা দেখিয়ে দিলেন নিজের খেলায় মরচে পড়তে তিনি দেননি। তাহলে আবার কোট কাঁপাতে আসছেন সাবেক র্যাঙ্কিং-শ্রেষ্ঠা!
ব্যাকহান্ডই তাঁর খেলার মূল শক্তির জায়গা, এতে কিছুটা আড়ষ্টতা অবশ্য ছিল। তবে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ঠিকই ব্রেক পয়েন্ট পেয়েছেন, উতরে গেছেন বাধা। তাঁর জয়ের দিনে জিতেছেন বেলজিয়ামের আরেক তারকা কিম ক্লাইস্টার্স, ৬-২, ৬-১ গেমে ইতালির তাতিয়ানা গারবিনের বিপক্ষে। দুজনের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে দেখা যেতে পারে অল বেলজিয়ান ফাইনাল। আপাতত কোর্টে ফিরে জয় পেয়েছেন এতেই আবেগাপ্লুত হেনিন, ‘অনেক দিন অপেক্ষা করেছি এই মুহূর্তটার জন্য। শেষ পর্যন্ত কোর্টে নামলাম আমি। দর্শক... দর্শকের আচরণ সত্যিই আমার হূদয় ছুঁয়ে গেছে।’
পরশু তৃতীয় বাছাই সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচও জিতেছেন। লড়াই করে ৭-৫, ১-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ইয়েলেনা ডকিচকে।

খুলনা বিভাগীয় ফুটবল

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে যশোর। সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে কাল টাইব্রেকারে তারা ৮-৯ গোলে হারিয়েছে খুলনা জেলাকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ছিল গোলশূন্য। আগামীকাল একই ভেন্যুতে সেমিফাইনালে যশোরের প্রতিপক্ষ বাগেরহাট। কুষ্টিয়ার ভেন্যুতে চুয়াডাঙ্গা ৩-০ গোলে মাগুরাকে হারিয়েছে। জয়ী দলের সজীব ২টি ও সোহেল ১টি গোল করেন। আজ কুষ্টিয়ায় ঝিনাইদহ খেলবে কুষ্টিয়ার বিপক্ষে।