Tuesday, July 6, 2010

আরেকটা ‘দায়মুক্তি’ আইন দরকার by শাহদীন মালিক

যে অভ্যাসটা জানি খারাপ কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিত্যাগ করা যায় না, সেটাকেই তো বলে ‘বদভ্যাস’।
জানি না, কত আইনজীবীর এই বদভ্যাস আছে। আশঙ্কা অনেকেরই, তবে আমার নিঃসন্দেহে আছে। বদভ্যাসটি হলো অযাচিতভাবে ‘আইনি উপদেশ’ দেওয়া। পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রায়শই তাদের সমস্যা নিয়ে বাতচিত করেন। বাতচিত, আলাপ-আলোচনায় অনেক আইনি উপদেশ দেওয়া হয়ে যায়। ছয় মাস, নয় মাস পরে ভীষণভাবে উপদেশ পাওয়া ব্যক্তি তার আসল আইনি সমস্যা নিয়ে হাজির হন। প্রায়ই দেখা যায় যেভাবে বলা হয়েছিল, সেভাবে ব্যক্তিটি কাজ করেননি। যেমন জমিজমা কেনা। পইপই করে বলে দিয়েছিলাম, কী কী করতে হবে, কী কী বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে হবে, কোন কোন কাগজ পরীক্ষা করতে হবে, বায়নাপত্র কীভাবে করতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। এসবের বেশির ভাগ পদক্ষেপ ঠিকমতো না নিয়েই টাকা দিয়ে দিয়েছেন। টাকা গেছে, জমি আসেনি অথবা ঠিকঠাকমতো আসেনি।
বদভ্যাসটা হলো, প্রাথমিক ‘আইনি উপদেশ’টা বিলি করা হিয়েছিল বিনা পয়সায়। বিনা পয়সার উপদেশ নিয়ে কেউ বেশি মাথা ঘামায় না। যে কথাগুলো বলেছিলাম, তার জন্য নিদেনপক্ষে হাজার দুই টাকা চেয়ে আদায় করলে উপদেশগুলো মনে থাকত, সে অনুযায়ী কাজও হতো আর উপদেশ গ্রহীতার আম-ছালা দুটোই চলে যেত না।
বদভ্যাসটা আগেই বলেছি, সহজে পরিত্যাগ করা যায় না। তাই আবারও বিনা পয়সায় গায়ে পড়ে উপদেশ দিচ্ছি। আর উপদেশটা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারকে জানান দিয়ে পত্রিকার মাধ্যমেই দিচ্ছি। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আর বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন না যে সোজা চেম্বারে এসে হাজির হবে। তাই বদভ্যাসটা ফলাও করে ‘জাহির’ করছি।
বিনা পয়সার আইনি উপদেশটা হলো, আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আরেকটা দায়মুক্তি আইন পাস করেন। যত তাড়াতাড়ি করবেন, ততই মঙ্গল।

হোরহে ভিদেল নামে মধ্য সত্তরের সময় আর্জেন্টিনার এক সামরিক শাসক ছিলেন। দেশের লাখ লাখ ফুটবলপ্রিয় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিদেলের ব্যাপারে মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। ভদ্রলোকের বয়স আশি পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে তার স্থায়ী ঠিকানা সে দেশের জেল। যাবজ্জীবন। তার বেশ কিছু অপকর্ম থেকে রেহাই দিয়েছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট, ১৯৯০ সালে। ভিদেল সাহেবের আদেশে খুন হওয়া ব্যক্তিবর্গের নাছোড়বান্দা কিছু আত্মীয়স্বজন ও তাদের আইনজীবীরা লেগে রইলেন প্রায় দুই দশক ধরে। শেষতক বিবিসির কল্যাণে জানলাম, আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতির ‘মাফ’ করাতে মাফ হয় না। ভিদেল সাহেবকে আরও গোটা ত্রিশেক খুনের দায়ে আবার বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, আশি-ঊর্ধ্ব বয়সে যাবজ্জীবন জেলে থাকা অবস্থায়ও।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পরপরই তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘হস্তান্তর’ করে, চট্টগ্রামে। ওই দিনই মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন। সেই হত্যার জন্য প্রায় পনেরো বছর পর ১৯৯৫ সালে মামলা দায়ের হয়। বিচার শুরু হয়েছে, চলছে, তবে খুব ধীরগতিতে।
সেই হত্যা মামলার একজন আসামি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভালো হতো এরশাদ সাহেব যদি মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যার ব্যাপারে একটা দায়মুক্তি আইন পাস করিয়ে রাখতেন তাঁর সংসদকে দিয়ে। কিসে কী হয়, বলা তো যায় না। তাই দায়মুক্তি আইনটা পাস করিয়ে রাখাই ভালো।
বিদগ্ধজন বলবেন, দায়মুক্তি আইনে তো লাভ নেই। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তো তাঁদের দায়মুক্তিতে পার পাননি। কথাটা ঠিক। কিন্তু বছর বিশেক তো বহালতবিয়তে ছিলেন সেই আইনের বদৌলতে। ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ কথাটা কে না জানে।
এই সরকার তো মওদুদ সাহেবের পরামর্শ নেবেন না। নিলে ভালো হতো। কারণ অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ আমার মতো বিনা পয়সার উপদেশ বিতরণকারী থেকে অনেক বেশি ফলদায়ক।
গালগপ্প মারি না, অর্থাৎ একটু-আধটু এদিক-সেদিক কস্মিনকালেও করি না, এমন কথা হলফ করে বলতে পারব না। তবে আইন উদ্ধৃত করতে এদিক-সেদিক করা যায় না। অতএব, আইনসংক্রান্ত নিচের অংশটি টু-হান্ড্রেড পারসেন্ট পাক্কা। সূত্র: বাংলাদেশ কোড, ভলিউম ৩৫, পৃষ্ঠা ৩১০-৩১২ থেকে। ২০০৩ সালে ১ নং আইন, এর ধারা (৩)-এর উপধারা (খ)তে আছে—
‘.....১৬ই অক্টোবর ২০০২ তারিখে প্রদত্ত আদেশ বা তৎপরবর্তী সময়ে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা কার্যের দ্বারা কাহারও প্রাণহানি ঘটিলে কাহারও জান বা মালের কোনো ক্ষতি হইলে...বা কেহ আর্থিক, শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত...সরকার বা সরকারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বা সরকারের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোকাদ্দমা বা কার্যধারা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা চলিবে না...।’
২০০৩-এর এই দায়মুক্তি আইনটি মাস তিনেক—১৬ই অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত কৃত সব কার্যকলাপের জন্য। এখন ওই আইনের ভাষা ঠিক রেখে সময়টা র‌্যাবের ক্রসফায়ার শুরুর দিন থেকে কার্যকর করতে হবে। একটা কাজ করার পর দায়মুক্তি দেওয়া থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে এখন একবারে নতুন আইনের কার্যকারিতা ৪ জানুয়ারি ২০১৪ অর্থাৎ বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত করে ফেললেই একবারে লেঠা চুকে যায়। এই নতুন দায়মুক্তি আইনটার কার্যকারিতা গত বিএনপি সরকারের সময় থেকেই অর্থাৎ র‌্যাব সৃষ্টির সময় থেকে হতে হবে। তাহলে সর্বদলীয় সমর্থন পাওয়া যাবে। ১৯৭৫-এর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো এর অপমৃত্যু হবে না। দুই দল মিলে এই দায়মুক্তি আইনটাকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ঢুকিয়ে দিলে ব্যবস্থাটা আরও পাকাপোক্ত হবে।

২০০২-এর শেষে তৎকালীন নতুন বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রথম ভাগে যৌথ বাহিনীর হাতে ধৃত বহু ব্যক্তির অকাতরে ‘হার্ট-অ্যাটাক’ হয়। তারপর র‌্যাব ও ক্রসফায়ার।
প্রথম প্রথম যখন লিখলাম, তখন অনেক পরিচিতজনই মহাক্ষাপ্পা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীরা যখন ক্রসফায়ারে নিহত হওয়া শুরু হলো, তখন কোনো কোনো জায়গায় মিষ্টি বিতরণও হয়েছিল। ভালো।
চরমপন্থী থেকে সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী থেকে এখন ঠেকেছে ‘গাড়ি চুরির সংঘবদ্ধ’ দলের সদস্যতে।
বাড়ির মা-নারী-বোনেরা সবে লাঠিপেটা খেতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অথবা পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া তিন ব্যক্তির অন্তত একজনের বিরুদ্ধে কোনো থানায় নাকি জিডিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী থেকে জিডি-মামলাবিহীন বন্দুকযুদ্ধকারী—এটা অবধারিত পথপরিক্রমা। আগে ছিল যৌথ বাহিনী, তারপর র‌্যাব, আর এখন পুলিশও সমভাবে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। আনসার-ভিডিপি আর কত দিন বসে থাকবে।
গ্রেপ্তার করে ‘ক্রসফায়ার’-এ না দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা আজকাল প্রায়ই সংবাদপত্রে আসছে। সম্প্রতি নিহত মিজানের স্ত্রী বলছেন, তিনি দুই হাজার টাকা নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। চাহিদা ছিল এক লাখ টাকা। ফলাফল, মিজান গভীর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ, পরে হাসপাতালে মৃত্যু। লাশটা তো নদীতে ভেসে ওঠেনি বা কোনো গর্তে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে সরকারি হাসপাতালে।
পাঠককুল! বেয়াদবি মাফ করবেন, সেই আশা-ভরসায় আপনাদেরও একটু উপদেশ দিই। অবশ্য এটা ‘আইনি উপদেশ’ না, বাস্তবতাপ্রসূত। সাধ্যমতো ঘরে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ রাখবেন। সঙ্গে স্ত্রীর একজোড়া পুরু সোনার বালা থাকলে আরও ভালো। কুল্লে দুই হাজার টাকা দিয়ে যে কোনো ফায়দা হবে না, অন্তত সেটা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য সরকার মাসখানেক আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করেছে। এখনো সম্পূর্ণভাবে না হলেও অচিরেই এই আদালতের আমরা এখতিয়ারভুক্ত হব।
সাদামাটা কথায়, কোনো দেশে যখন কিছু লোক সেই দেশের আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায় অর্থাৎ হয় সেই দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা ওই সব লোককে আইনের আওতায় আনতে বা বিচার করতে পারে না অথবা বিচার করতে চায় না, তখনই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার কার্যকর হয়।
৩ জুলাই প্রথম আলো খবর ছেপেছে যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও অধিকারের হিসাব অনুায়ী গত ছয় মাসে ৬২টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্পষ্টতই আমাদের আইন ও বিচারব্যবস্থা এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অক্ষম অথবা অনিচ্ছুক।
বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত হিসাব জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপেই রাখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত জাতিসংঘের হিসাবরক্ষক (রেপোর্টিয়ার) বেশ কিছুকাল ধরে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করছেন। হাজার হলেও জাহিসংঘের কর্তাগোছের ব্যক্তি, তাই সরকারি নেমন্তন্ন ছাড়া আসতে পারেন না। সেই উট পাখির মতো বালুতে মাথা ঢুকিয়ে রেখে কেউ আমাকে দেখছে না ভাবা যেমন ভুল, তেমনি ভুল করছেন এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আদেশ-নির্দেশ দেওয়া এবং তাঁদের হুকুম তামিল করা ব্যক্তিবর্গ এবং ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা’।

লিখছি আর ভাবছি, আমার অবস্থানটি সেই গ্রামের প্রান্তে জঙ্গলের পাশে গরু চড়ানো রাখাল বালকটির মতো কি না। ‘বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে’ বলে অতিরঞ্জিত ভয় বা মিথ্যাচার করছি না। কিন্তু সেই গল্পেও তো বাঘটা একদিন ঠিকই এসেছিল।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকারী বাঘ শুধু রাখাল বালকটিকে খেয়ে ক্ষান্ত হয় না; আস্তে আস্তে প্রথমে ডজন, তারপর শত শত (আমরা যে পর্যায়ে পৌঁছে গেছি), তারপর হাজার হাজার এবং শেষতক, ব্যর্থ রাষ্ট্র।
পাকিস্তান, ইয়েমেন, সুদান, কসোভো, সার্বিয়া, কিরগিজস্তান, জর্জিয়া—সব রাষ্ট্রেই বর্তমান অবস্থার শুরু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, সিয়েরা লিওন—সব দেশের কেচ্ছা শুরু একটা বাক্য থেকেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু থেকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে গড়পড়তা—আমার মুদ্রাদোষের ‘বড়দাগে’ সময় লেগেছে এক দশক বা তারও কম।
শাহদীন মালিক: আইনজীবী-সুপ্রিম কোর্ট, ডাইরেক্টর-স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫ হাজার গাছের প্রাণভিক্ষা চাই by পাভেল পার্থ

বনবিভাগ, গণমাধ্যম ও পরিবেশকর্মীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন টেকনাফ উপজেলার জাহাজপুরা সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৬টি প্রবীণ গর্জন বৃক্ষের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই বৃক্ষ-প্রাণ হত্যা থামানোই যাচ্ছে না। সম্প্র্রতি আবারও ভোলার চর কুকরি-মুকরি নয়া ম্যানগ্রোভ বনকে খুন করে পাকা সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর।
৩ জুলাই প্রথম আলো জানিয়েছে, কুকরি-মুকরি বনের উত্তরাংশ বাবুগঞ্জ থেকে পাতিলার বুড়াগৌরাঙ্গ নদ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২০ ফুট প্রশস্ত পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন পরিষদ বন বিভাগে আবেদন করে। কিন্তু পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রথমে বন কেটে সড়ক বানানো যাবে না বলে চিঠি দিলে পরবর্তী সময় গত ১৬ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ন্যূনতম গাছ কাটার শর্তে সড়ক নির্মাণের অনুমতি দেয়। মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন এই সমুদ্র উপকূলীয় দ্বীপ চরে যাতায়াতের জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে প্রশ্নহীন প্রাণদণ্ডের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে ১৫ হাজার কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, পশুরের মতো সব ম্যানগ্রোভ বৃক্ষপ্রজাতি। মাত্র ১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কীভাবে ১৫ হাজার নিরপরাধ জানের বুকে করাত চালাতে বলে? এসব সমুদ্র উপকূলীয় জোয়ারভাটার বৃক্ষপ্রজাতি ও বনভূমি বাঁচিয়ে রাখছে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল। এমনকি সমকালের সিডর ও আইলার মতো আঘাত ও জখম সবচেয়ে প্রথম আগলে দাঁড়িয়েছে এই উপকূলীয় বনাঞ্চল। আর আজ মাত্র ১৫ মিনিট বাঁচাতে একটামাত্র পাকা সড়কের জন্য এই বীরবৃক্ষদের ওপর হামলে পড়ব?
এটি হচ্ছে আমাদের তথাকথিত উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিবেশীয় দর্শনের সমস্যা। যেখানে গাছকে কেবল ‘কাঠ’ হিসেবে এর ঘনফুট মাপা হয়। যেখানে একটি গাছ কেটে দুটি গাছ লাগানোর কথা বলে শিশু বয়সের প্রাকৃতিক বনভূমিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অথচ আমরা জলবায়ু বিপর্যস্ত এ সময়ে দেশ-বিদেশে প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার মায়াকান্নায় কার্পেট ও গদি ভাসিয়ে দিই। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উত্তরের ধনী দেশের সঙ্গে জলবায়ু-ফয়সালা করার আগে নিজের দেশটার কথাটি তো ভাবতে হবে। জলবায়ুবিপন্ন দক্ষিণের এক গরিব দেশ হিসেবে প্রাণপরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রতিবেশের প্রতি আমরা নিজেরা কতটা ন্যায়পরায়ণ তা যাচাই করেই না বুক ফুলিয়ে দায়ী ও অপরাধী ধনী দেশের সামনে দাঁড়ানো সম্ভব।
কোনোভাবেই চর কুকরি-মুকরি বনের ১৫ হাজার কি ১৫টি গাছ কেটেও সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে দেশের বিদ্যমান পরিবেশ আইন ও আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদ (সিবিডি ১৯৯২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বন কেটে সড়ক নির্মাণ না করে বিকল্প পথগুলো যাচাই করে দেখতে হবে। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যান ও গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের ফলে এসব বনের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান অনেকটাই উল্টেপাল্টে গেছে। প্রাকৃতিক বনভূমির ভেতর দিয়ে কোনো রকম টানেলপথ না রেখে প্রচলিত পদ্ধতির পাকা সড়ক সরীসৃপ ও উভয়চর প্রাণীদের চলাচলে বিঘ্ন তৈরি করে। এতে একটি প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের খাদ্যশৃঙ্খল ক্রমান্বয়ে বদলে যেতে থাকে, যা আর পরে বন হিসেবে বিকশিত হতে পারে না। পর্যায়ক্রমে তা বনভূমির কঙ্কাল ও পরিদর্শন বাগানে পরিণত হতে বাধ্য হয়।
আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশ ভূগোলে গর্ব করার মতো প্রাণের বৈচিত্র্য এখনো টিকে আছে। এখানে এখনো কাঁঠাল ও আখের মতো বড় ফলের পাশাপাশি মুড়মুড়ি ও করমচার মতো এই এত্তটুকুন খাওয়ার ফলও আছে। এখনো পৃথিবীর গভীর পানির ধানের আঁতুড়ঘর বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল। আমাদের দেশের মতো বাঁশ ও কচুর প্রজাতিবৈচিত্র্য পৃথিবীর আর কোথায় আছে? তালিপাম আর বোস্তামি কাছিম দুনিয়ার আর কোথাও নেই। একক আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন আমাদের সুন্দরবন। এসব প্রজাতির বৈচিত্র্য ও বিকাশের সঙ্গে দেশের ১৫ কোটি মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। মানুষসহ দেশের অগণিত প্রাণবৈচিত্র্য মিলেই বাংলাদেশ ভূগোলের ঐতিহাসিক সংসার। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত বুঝে না বুঝে বা বুঝতে না চেয়ে এই সংসার ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছি।
ভাঙা সংসারের কী দুঃখ, যাতনা আর আহাজারি তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না। চকরিয়ার ম্যানগ্রোভ প্যারাবন বাণিজ্যিক চিংড়ি ঘের করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন বাদে ভোলা, নোয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও বাগেরহাটের কিছু এলাকায় পর্যায়ক্রমিকভাবেও গড়ে উঠছে শিশু ম্যানগ্রোভ বনভূমি। উপকূলীয় বেষ্টনী ও বৃক্ষায়ন কিছু প্রকল্পও এখানে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত বাংলাদেশ রক্ষার জন্য দরকার শক্ত-সামর্থ্য জোয়ান ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় বনাঞ্চল। ভোলার চর কুকরি-মুকরির শিশু ম্যানগ্রোভ বনসহ উপকূলের সকল শিশু বনভূমি রক্ষা ও এর নিজস্ব বিকাশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কুকরি-মুকরি চরে এখন বনভূমির পরিমাণ আট হাজার ৫৬৫ হেক্টরের ভেতর ২১৭ হেক্টর বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম। হরিণ, বানর, বনবিড়াল, নানা জাতের পাখি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, সাপ, শেয়াল, বনমোরগ, উদবিড়াল, মহিষ এরা টিকে আছে এই বনভূমির ওপর।
সরকারি হিসাবে ১৫ হাজার হলেও পাকা সড়ক নির্মাণে মারা পড়বে আরও শত-সহস্র শিশু চারা ও অঙ্কুরিত বৃক্ষপ্রাণ। সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে বনের নিজস্ব প্রতিবেশীয় ব্যবস্থায়। পাকা সড়ক নির্মাণ একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আমাদের বিশ্বাসের জন্য প্রাথমিক পরিবেশগত প্রভাব যাচাই ও সমীক্ষা করা হয়েছে নিরপেক্ষভাবেই। পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন কি ১৫ হাজার গাছ কেটে পাকা সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা রেখেছে? যদি না হয় তবে এই পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা প্রতিবেদনই ১৫ হাজার গাছকে আইনগতভাবে বাঁচাতে নিজের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে আশা করি।
ভারতে গাছ বাঁচানোর জন্য রাজার তলোয়ারের তলে জান দিয়েছিল মানুষ। সেই থেকে গাছ ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন চিপকো আন্দোলন হিসেবে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায়। নেত্রকোনার মেনকিফান্দা পাহাড়ের শাল বৃক্ষ বাঁচাতে অজিত রিছিল গড়ে তুলেছিলেন এক দুর্বার আন্দোলন। বন বিভাগ শালগাছ কেটে সেখানে আগ্রাসী একাশিয়া ও ম্যাঞ্জিয়াম গাছ লাগাতে চেয়েছিল। মধুপুর শালবনের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান বিপন্ন করে ‘ইকোপার্ক’-এর নামে বাণিজ্যিক বিনোদনকেন্দ্র গড়তে চেয়েছিল রাষ্ট্র। মধুপুর শালবন বাঁচাতে শহীদ হয়েছেন পীরেন স্নাল। ঢাকার নাগরিক সমাজ ওসমানী উদ্যানের ৩৩ হাজার গাছ কাটার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। মৌলভীবাজারের নাহার চা-বাগানের চার হাজার গাছ হত্যার বিরুদ্ধে খাসিয়া আদিবাসীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অনেকেই। আমরা রাষ্ট্রের কাছে চর কুকরি-মুকরি বনের ১৫ হাজার বৃক্ষের প্রাণভিক্ষা চাইছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের মানুষ বৃক্ষ ও বনের মৃত্যুদণ্ডের ঘোরবিরোধী। রাষ্ট্রকে জনগণের মন ও জনদর্শন বুঝতে হবে। চর কুকরি-মুকরি বনের ১৫ হাজার ম্যানগ্রোভ বৃক্ষের নির্দয় প্রাণদণ্ড আজকেই বাতিল করা হোক। আমরা রাষ্ট্রের কাছে প্রতিবেশীয় ন্যায়পরায়ণতাই আশা করি বারবার।
পাভেল পার্থ: প্রাণ ও প্রতিবেশবিষয়ক গবেষক।
animistbangla@yahoo.com

কিউবায় অনশনরত ভিন্নমতাবলম্বী মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে

কিউবায় অনশনরত এক ভিন্নমতাবলম্বী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
২৬ জন অসুস্থ রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দাবিতে গুইলার্মো ফারিনাস (৪৮) নামের ওই ভিন্ন মতাবলম্বী গত ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন করছেন। তাঁকে হাসপাতালে শিরাপথে খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শিরায় এমন একটি রক্তপিণ্ড তৈরি হয়েছে, যার কারণে তিনি মারা যেতে পারেন।
কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত গ্রানমা পত্রিকা ফারিনাসের চিকিৎসক আর্মান্দো কাবাল্লেরোর এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে কাবাল্লেরো জানান, ফারিনাস সান্তা ক্লারায় তাঁর বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ার পর গত ১১ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিরাপথে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। কিন্তু গত সপ্তাহে তাঁর ঘাড়ের শিরায় একটি রক্তপিণ্ড তৈরি হয়, যা তাঁর হূদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

ইরানে মানবাকৃতির নতুন রোবট উদ্বোধন

বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে একটি মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছেন ইরানের বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন আমলের একজন পারসিক যোদ্ধার নামানুসারে এটির নাম রাখা হয়েছে সুরেনা-২। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এটির উদ্বোধন করেন।
খবরে জানানো হয়, প্রায় দেড় মিটার উচ্চতার এ রোবটটির ওজন ৪৫ কিলোগ্রাম। মানুষের মতো হাত ও পায়ের ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরগতিতে নড়াচড়া করতে পারে এটি। কোনো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষের পরিবর্তে ব্যবহার করার জন্য এ ধরনের রোবট তৈরি করা হয়েছে।

যশবন্ত সিংয়ের লেখা নিয়ে বিতর্ক ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া এক অধ্যায়’

ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির সভাপতি নীতিন গড়কারি বলেছেন, যশবন্ত সিং ফিরে আসায় দল আরও শক্তিশালী হবে। আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা করে যশবন্ত সিংয়ের লেখা বই নিয়ে বিতর্ক এখন ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া এক অধ্যায়’।
যশবন্ত সিং নিজের লেখা বইয়ে পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা করেন। দশ মাস আগে প্রকাশিত জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেনডেন্স নামের বইটি বিজেপিতে সমালোচনার ঝড় তোলে। একপর্যায়ে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এখন তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বইয়ে যা লিখেছেন তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেননি যশবন্ত সিং।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং ও রাম জেঠমালানির দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির প্রধান বলেন, কেউ যোগ দিলে দল শক্তিশালী হয়। এটি দলের জন্য ইতিবাচক।
যশবন্ত সিং প্রসঙ্গে নীতিন গড়কারি বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে যশবন্ত সিং চমৎকার। তিনি জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ একজন নেতা। দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন তিনি। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। বইটির প্রসঙ্গ ছাড়া তিনি দলের প্রতি দারুণ শ্রদ্ধাশীল।’
সম্প্রতি রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ীপ্রখ্যাত আইনজীবীজেঠমালানি প্রসঙ্গে গড়কারি বলেন, তিনি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেই দলে ফিরেছেন। নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, জেঠমালানি বিজেপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণ করলেন পেট্রাউস

মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস আফগানিস্তানে ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) কমান্ডার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গতকাল রোববার রাজধানী কাবুলে ন্যাটো সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর ফলে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীসহ এক লাখ ৪০ হাজার বিদেশি সেনার কর্তৃত্ব সরাসরি তাঁর ওপর বর্তাল।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেনারেল পেট্রাউস বলেন, আফগানিস্তানে ন্যাটোর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। বেসামরিক আফগান প্রশাসনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে তাদের অবশ্যই আফগান নেতাদের সাহায্য করতে হবে। আফগান নেতারা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে এবং তাঁদের প্রয়োজন মেটাতে পারলে অবশ্যই সুফল আসবে। তাঁরা যদি জঙ্গিদের সব সময় চাপের মুখে রাখতে পারেন, তাহলেই আফগান সরকার এসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন জেনারেল পেট্রাউস

ইসরায়েলি তদন্ত কমিটির ক্ষমতা বাড়ানো হলো

গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’য় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের গঠিত তদন্ত কমিটির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল রোববার দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েলের সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার সর্বসম্মতভাবে তিরকেল কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনে দুজন বিশেষজ্ঞ যোগ দেবেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলবেন।’ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ইয়াকভ তিরকেল কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো না হলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো।
এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান ইয়াকভ তদন্তের স্বার্থে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক ও সেনাপ্রধান গাবি অ্যাশকেনাজিকে তলব করার কথা বলেছিলেন। এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, বারাক ও অ্যাশকেনাজি কমিশনের ডাকে সাড়া দিতে পারেন। তবে অন্য কোনো সামরিক কর্মকর্তা ওই কমিশনে হাজির হবেন না। তাঁরা সামরিক বাহিনীর তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হবেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে দুটি তদন্ত কমিশন গঠন করে ইসরায়েল। তবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ওই কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করে তুরস্ক, ফিলিস্তিনসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলা-সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ‘এইল্যান্ড কমিটি’ নামের ওই তদন্ত কমিটির ১১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
গত ৩১ মে ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। ওই হামলায় নয়জন নিহত হন। তাঁরা সবাই তুরস্কের নাগরিক। এর কয়েক দিন পর গাজা অভিমুখী আরেকটি ত্রাণবাহী জাহাজও আটকে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

সন্ত্রাস দমনে জাতীয় সম্মেলন করবে পাকিস্তান সরকার

সন্ত্রাস দমনে জাতীয় সম্মেলন করবে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এ সম্মেলন করতে রাজি হয়েছেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে তালেবান নেতাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসা উচিত—প্রধান বিরোধী দলের এমন পরামর্শের পর তিনি এ মত দিয়েছেন।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাহোরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার দুই দিন পর গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী গিলানি সন্ত্রাস দমনে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের প্রধান দুই দলের মধ্যে বিরল মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গিলানি ও বিরোধী নেতা নওয়াজ শরিফ সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। তবে এ আলোচনায় তালেবান নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
লাহোরে আত্মঘাতী হামলার পর ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একসময় এ জঙ্গিদের সমর্থন করত। পরে এসব জঙ্গি তালেবানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্র-বিরোধী তৎপরতা চালানো শুরু করে।
বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এন পার্টি পাঞ্জাব নিয়ন্ত্রণ করছে। দলটির প্রধান নওয়াজ শরিফ শনিবার তালেবান নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য তালেবান নেতারা প্রস্তুত।
তবে কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি নওয়াজ। পাকিস্তানে এ মুহূর্তে প্রচুর সংখ্যক জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে। তারা প্রায়ই একজোট হয়ে কাজ করে। আবার মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে তৎপরতা চালায়।
পাকিস্তান সরকার অতীতে আফগান সীমান্তবর্তী তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। কিন্তু এ চুক্তি বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তী সময়ে জঙ্গিরা আবার সংগঠিত হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
এদিকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার দারা আদম খেল এলাকায় রাস্তার পাশে পেঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়। ওই গাড়িতে তালেবান-বিরোধী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য ছিল।
এ হামলার দায়দায়িত্ব তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর তালেবানের দিকেই ছুড়েছেন কর্মকর্তারা

লেবাননের শিয়া ধর্মীয় নেতা ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন

লেবাননের অন্যতম শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ হুসেইন ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে গতকাল রোববার বৈরুতের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। একসময় তাঁকে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
ফাদলাল্লাহর মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএফপিকে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, সৈয়দ ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন।’ কয়েক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিভিশন ‘মানার’ ফাদলাল্লাহার মৃত্যুর খবর তাদের প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রচার করেছে। ফাদলাল্লাহর শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে মানার গতকাল স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ঘোষণা দেওয়ার কথা।
লেবাননে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ চলাকালে আলোচনায় আসেন ফাদলাল্লাহ। গৃহযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করার সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তিনি সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন।
ওয়াশিংটন সম্প্রতি হিজবুল্লাহ-প্রধান হাসান নাসারুল্লাহ ও ফাদলাল্লাহকে কালো তালিকাভুক্ত করে।

২০১৫ সালে চীনের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিতে পৌঁছাবে

২০১৫ সাল নাগাদ চীনের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। আর এদের অর্ধেকই থাকবে নগরবাসী। অর্থাৎ সেখানে ৭০ কোটি লোককে যাবতীয় নাগরিক সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। চীনের জনসংখ্যা পরিকল্পনা সংস্থা লি বিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে।
লি বিন বলেছে, আগামী পাঁচ বছর গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ শিল্পভিত্তিক নগরায়িত এলাকায় উঠে আসবে। এ সময়ের মধ্যে চীনে বয়স্ক লোকের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আগামীতে প্রতি বছর চীনে গড়ে প্রায় ৮০ লাখ লোক ৬০ বছরে পা দেবে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চীনে প্রতি বছর গড়ে ৪৮ লাখ লোক ৬০ বছর বয়সে পা দিয়েছিল।
লি বিন বলেছে, তাদের পরিসংখ্যান বলছে ২০১৫ সালে চীনে ৬০ বছর বয়সী লোকের সংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছবে।
১৯৭৯ সালের এক আইনের মাধ্যমে চীনে কঠোরভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করা হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এবং গোষ্ঠী ছাড়া একাধিক সন্তান জন্মদানের অনুমতি নেই।

কঙ্গোয় ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহতদের গণকবর

গণতান্ত্রিক-প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কিভু প্রদেশে তেলবাহী ট্যাংকারের বিস্ফোরণে নিহতদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দেশটির কিভু প্রদেশে ট্যাংকারটি বিস্ফোরণের পর আগুন সেইঞ্জ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে কমপক্ষে ২৩০ ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক আহত হন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ও সাহায্যকর্মীরা আহতদের চিকিৎসার কাজে সহায়তা করছেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রেডক্রসের কর্মীরা গতকাল মৃতদেহগুলো প্লাস্টিকের কাগজে মুড়ে সেইঞ্জ গ্রামের বাইরে দুটি গণকবরে সমাহিত করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কিভু প্রদেশের ভাইস গভর্নর জ্যাঁ ক্লদে কিবালা দুর্ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের এক মুখপাত্র মান্দোজি মনৌবাই জানান, দুর্ঘটনায় ২৩০ জন নিহত ও ১৯৬ জন আহত হন। রেডক্রস জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন শিশু ও ৩৬ জন নারী রয়েছেন। শান্তিরক্ষীরা আহতদের উদ্ধার করে উভিরা ও কিভুর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কঙ্গোতে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি লেইলা জেরুগি জানান, জাতিসংঘ দুর্গতদের সহায়তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে তাঞ্জানিয়া থেকে আসা দ্রুতগামী ট্যাংকারটি উল্টে গেলে চারদিকে তেল ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হলে আগুনের লেলিহান শিখা সেইঞ্জ গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধে পরমাণু বোমা?

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনাকবলিত মার্কিন তেলক্ষেত্রটি থেকে দুই মাসের বেশি সময় ধরে তেল বেরিয়ে আসছে। তেল বেরিয়ে আসা বন্ধে তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তবে এখনো হাল ছাড়েনি তারা। আর তাদের জন্য নতুন বিকল্প হিসেবে বিজ্ঞানীরা এবার পরমাণু বোমা ব্যবহার করার কথা বলছেন।
রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্রাটেজিক স্ট্যাবিলিটির একজন পরিচালক ভিক্তর মিখাইলোভ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, বিপি কী জন্য অপেক্ষা করছে? একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ তেলক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। মাত্র ১০ কিলোটন ক্ষমতার একটি বোমার বিস্ফোরণই যথেষ্ট।’
কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে তেলক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করার জন্য পরমাণু বোমা ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। তবে ওয়াশিংটন বরাবরই এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং বিপিও বলছে, তারা কোনো বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা বিবেচনায় আনছে না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রটি থেকে দিনে ৬০ হাজার ব্যারেল তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আশঙ্কা বেড়েই চলছে।
অনেকেই মনে করছেন, পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে তেলক্ষেত্রটির ছিদ্র ও তেল নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব। ভিক্তর মিখাইলোভ রাশিয়ায় এ ধরনের একটি কর্মসূচিতে জড়িতও ছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ একটি গ্যাসক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করতে পরমাণু বিস্ফোরণ ব্যবহার করেছিল।
মিখাইলোভ জানান, মেক্সিকো উপসাগরের গভীরে একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো তেমন কোনো ক্ষতির কারণ হবে না। আর এতে খরচ হবে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি। সাগর থেকে তেল অপসারণ ও ক্ষতিপূরণে বিপির এ পর্যন্ত খরচ হওয়া ২৩৫ কোটি ডলারের তুলনায় এই ব্যয় অনেক কম।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী মিলো নরদিকেও বলেছেন, তেল নিঃসরণ বন্ধে বিপি ও সরকারের জন্য পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোই সর্বশেষ যৌক্তিক উপায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ম্যাথিউ সিমন্সও এই পদ্ধতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। পরমাণু বোমার ব্যবহারকে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও।
কিন্তু খুব শিগগির মেক্সিকো উপসাগরে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা নেই। এমনকি প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করার কথাও ভাবছে না বিপি বা মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা অ্যান্ডি র‌্যাডফোর্ড আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এ ছাড়া সময়ের প্রশ্নও রয়েছে। একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিপি আগস্টের মধ্যে বিকল্প কূপ খননের মাধ্যমে যে পদ্ধতিতে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধের পরিকল্পনা করেছে, সেটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা ভারত বন্ধ্

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সোমবার ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে চারটি বামদলসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। একই দিনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পৃথকভাবে ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতজুড়ে বন্ধ্ চলবে। চারটি বামপন্থী দল—সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি প্রথমে বনেধর ডাক দেয়। পরে এতে সমর্থন জানায় তেলেগু দেশম, এডিএমকে, বিজেডি, সমাজবাদী পার্টি, জনতা দল (এস), আইএনএলডিসহ বেশ কয়েকটি দল।
গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলের দাম ৩ দশমিক ৬৫, ডিজেল ১ দশমিক ৯৫, কেরোসিন ২ দশমিক ৯৭ এবং গ্যাস সিলিন্ডারপ্রতি ৩৬ দশমিক ৪০ বাড়িয়ে দেয়। এর আগে বামপন্থীদের ডাকে ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টা ও কেরালায় ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয়। ২৮ জুন ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় ত্রিপুরায়।
ভারতের চারটি বামদলসহ ধর্মনিরপেক্ষ ১৩টি রাজনৈতিক দল একই কারণে গত ২৭ এপ্রিল ভারতজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্ধ্ পালন করে।
মাওবাদীদের ৪৮ ঘণ্টার বনেধর ডাক: অন্ধ্র প্রদেশের শীর্ষ মাওবাদী নেতা চেরিপুরি রাজকুমার ওরফে আজাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মাওবাদীরা ৭ ও ৮ জুলাই ৪৮ ঘণ্টার ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে। গতকাল বনেধর ডাক দিয়ে মাওবাদী নেতা কিষেণজি বলেন, আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজাদের হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ পালন করবেন।
আজাদের বাড়ি অন্ধ্র প্রদেশের কৃষ্ণা জেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে রয়েছে ৩২০টি মামলা। অন্ধ্র প্রদেশ সরকার তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১২ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

কনকর্ডে বোতলের পানিকে ‘না’

প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিকের বর্জ্য দেখে চিন্তিত হয়ে পড়লেন জিয়ান হিলের নাতি। বিষয়টি তিনি ভীষণ উদ্বেগের সঙ্গে দাদিকে জানালেন। নাতির কথা শুনে দাদি জিয়ান হিল আর চুপ থাকতে পারলেন না। মহাগুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তিনি নগর কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করলেন। আলোচনার টেবিলে বসলেন নগর কর্তারা। চলল তীব্র বাদানুবাদ। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, আর যাই হোক, কনকর্ডে বোতলের পানি চলবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরের নাম কনকর্ড। সেখানে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে কনকর্ড নগরের বাসিন্দাদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে কনকর্ড নগর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চটেছেন পানি ব্যবসায়ীরা। বোতলের পানি নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলীয় শহর বুন্ডানুনে আনুষ্ঠানিকভাবে বোতলের পানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সিডনি থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত ছোট্ট শহর বুন্ডানুন। পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয় এ শহরের লোকসংখ্যা মাত্র দুই হাজার। বিশাল একটি ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত বলে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে সেখানে।
বুন্ডানুন শহরের কর্তারা গত বছরের জুলাইয়ে এক বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করার পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হয়। এতে ৩৫৫-১ ভোটে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অনুমোদিত হয়।
বুন্ডানুন শহরের কর্মকর্তা হু কিংস্টন বলেছেন, ‘সুপেয় পানিকে আরও সহজলভ্য করাই হলো আমাদের উদ্দেশ্য। এ জন্য আমরা শহরজুড়ে চারটি পানির কেন্দ্র ও ফোয়ারা স্থাপন করেছি। এর একটি আবার স্থাপন করা হয়েছে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গণে।’ তিনি জানান, বুন্ডানুনের অনেক ব্যবসায়ীও তাঁদের দোকান ও ক্যাফেতে পানি শোধনের যন্ত্র স্থাপন করেছেন।
কিংস্টন বলেন, সর্বসাধারণের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা গেলে বোতলের পানির চাহিদা এমনিতেই কমে যাবে। তিনি বলেন, বুন্ডানুনে আইনগভাবে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করা হয়নি। শহরের সবাই স্বেচ্ছায় বোতলের পানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্লাস্টিকের বর্জ্য এড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কনকর্ড ও বুন্ডানুন নগরের বাসিন্দারা বোতলের পানিকে ‘না’ বলেছেন।

নিখোঁজ বিজ্ঞানীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চাপ

নিখোঁজ এক ইরানি বিজ্ঞানীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কিছু তথ্য হস্তান্তর করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে মার্কিন তদন্তের ফল ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল রোববার সে দেশের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এ খবর জানায়। তেহরানে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসে এ তথ্য হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সুইস দূতাবাস সেখানে মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করে।
গত বছরের জুনে শাহরাম আমিরি নামের ওই ইরানি বিজ্ঞানী নিখোঁজ হন। ইরানের দাবি, সৌদি আরবে হজের সময় তাঁকে অপহরণ করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সদস্যরা আমিরিকে অপহরণ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, ‘বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে সিআইয়ের মাধ্যমে অপহরণসংক্রান্ত তথ্যাদি তেহরানের সুইস দূতাবাস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, মার্কিন প্রশাসন ইরানি ওই ব্যক্তির অপহরণের তদন্তের ফল ঘোষণা করবে।’
গত মার্চে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আমিরিকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে এবং তিনি সিআইএকে সাহায্য করছেন। অবশ্য মার্কিন প্রশাসন ওই খবরের সত্যতা অস্বীকার করে। গত কয়েক মাসে আমিরিকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র ইরানের সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
গত ২৯ জুন প্রচারিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি নিজেকে আমিরি দাবি করে বলছেন, তিনি সিআইয়ের হাত থেকে পালাতে পেরেছেন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি যেকোনো সময় আবার আটক হতে পারেন। তিনি দেশে জীবিত ফিরতে না পারলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। অবশ্য গত মঙ্গলবার ইরানের প্রচারমাধ্যমের এ দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

বেক্সটেক্স লিমিটেডের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন

বেক্সটেক্স লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবোতে বেক্সিমকো শিল্পপার্কে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই বোনাস শেয়ার অনুমোদন করা হয়। এতে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পরিচালক এম এ কাশেম ও এ বি সিদ্দিকুর রহমান, আইনি উপদেষ্টা রফিক-উল হক এবং নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. আসাদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০০৯ সালে বেক্সটেক্স লিমিটেডের মোট মুনাফা ও নিট মুনাফা হয় যথাক্রমে ২৯২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস- লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সদ্য সমাপ্ত ২০০৯-১০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৮ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে এক হাজার ৮৪১ কোটি টাকা বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে এ নিয়ে ছয়বার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানিপণ্যের সঠিক শুল্ক মূল্যায়ন, গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যকর টিমওয়ার্কের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ উদ্যোগ নিয়েও পুরোনো রাজস্ব আদায় হয়েছে গত অর্থবছরে।

কাজের জন্য বিদেশে যেতে সহজে ঋণদেওয়া হবে

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামে নতুন একটি ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
কাজ বা চাকরির উদ্দেশ্যে যাঁরা বিদেশ যেতে চান, তাঁদের এ ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণ তাঁরা পরে শোধ করে দেবেন। ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে নামমাত্র। তবে ঋণের বিপরীতে তেমন কোনো জামানত নেওয়া হবে না।
মন্ত্রিসভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে খানিকটা সংশোধনী আনা হয়েছে। আগের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার কথা ছিল। এই ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে সরকার।
গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন-২০১০’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ব্যাংকটি সীমিত আকারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে ভবিষ্যতে তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তরিত হতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গঠনের ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় সামান্য সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়। এই অর্থ জমা হয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল নামক একটি তহবিলে। তহবিলে বর্তমানে ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে। ব্যাংক গঠনের মূল অর্থ আসবে এ তহবিল থেকে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এতে সরকার পাঁচ কোটি টাকা জোগান দেবে। বাকি ৯৫ কোটি টাকা আসবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে। অর্থাৎ সরকার ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল এ ব্যাংকের উদ্যোক্তা।
তবে ব্যাংকটি প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো কোনো ব্যাংক হবে না। বরং কর্মসংস্থান ব্যাংক বা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো বিশেষায়িত ব্যাংক হবে। ব্যাংকটি কখনো মূলধন বা আর্থিক সংকটে পড়লে সরকারের কাছ থেকে অনুদান বা ঋণ নিতে পারবে।
সূত্র জানায়, বিদেশে যেতে শুধু ঋণের সুযোগ দেওয়াই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বরং বিদেশ থেকে দেশে পরিজনের কাছে পাঠানো অর্থ পরিবারের সদস্যরা শুধু ভোগে ব্যয় না করে যেন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, তাতে উৎসাহিত করাও এ ব্যাংক গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটি গঠিত হলে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো সম্পর্কিত সব ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে।
শুরু থেকেই তফসিলি ব্যাংক গঠনের দাবি ছিল প্রবাসীদের। কিন্তু আর কোনো তফসিলি ব্যাংকের নিবন্ধন দিতে সরকার নারাজ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে তফসিলি ব্যাংকের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকও নেতিবাচক জবাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, অনুমোদিত আইনের খসড়াটি শিগগির ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে এর খুঁটিনাটি যাচাই করে দেখবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তারপর এটি উপস্থাপন করা হবে জাতীয় সংসদে। সংসদে পাস হওয়ার পর ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনে নেমে এলেন ফেদেরার

সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে নেমে এলেন রজার ফেদেরার। উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে টমাস বার্ডিচের কাছে হেরে ছিটকে পড়ায় র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই থেকে তিনে নেমে গেছেন তিনি। নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ফেদেরারের জায়গায় উঠে এসেছেন নোভাক জোকোভিচ। রাফায়েল নাদালই ধরে রেখেছেন শীর্ষস্থান। চার নম্বরে অ্যান্ডি মারে। নতুন র‌্যাঙ্কিং প্রকাশিত হচ্ছে আজ।
মোট ২৮৫ সপ্তাহ এবং টানা ২৩৭ সপ্তাহ যিনি টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন, তার জন্য তিন নম্বরে নেমে যাওয়া তো হতাশারই। ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ডেইলি এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, ‘এত দিন ধরে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক-দুয়ে থাকাটা বিস্ময়কর। কিন্তু গত সাত বছরে আমি সব সময়ই কোনো না কোনো গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। আমার এখন এটা ধরে রাখতে হবে এবং আরও এগিয়ে যেতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয়

টানা তিন ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল তারা। তবে শেষ দুই ম্যাচ জিতে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল অস্ট্রেলিয়ার। পরশু লর্ডসে শেষ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে হারাল ৪২ রানে। প্রথমে ব্যাট করে টিম পাইন (৫৪), শন মার্শ (৫৯) ও মাইক হাসির (৭৯) হাফ সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২৭৭ রান। স্টুয়ার্ট ব্রড ৪টি ও গ্রায়েম সোয়ান ৩টি উইকেট পেয়েছেন। জবাবে শন টেইটের বোলিং তোপে ৪৬.৩ ওভারেই ২৩৫ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেছেন পল কলিংউড। তাঁকে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন টেইট। কলিংউড ছাড়া আর কেউই বলার মতো রান পাননি। ৪৮ রানে ৪ উইকেট পাওয়া টেইটই হয়েছেন ম্যাচ-সেরা

বাংলাদেশ সিরিজে নেই পিটারসেন

দীর্ঘ অ্যাকিলিস ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর নিজেকে ফিরে পেতে বেশ ধুঁকতে হয়েছে। যখনই নিজের সেরা ফর্মে ফিরছেন, তখনই আবার মাঠের বাইরে চলে যেতে হলো কেভিন পিটারসেনকে। গত পরশু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চম ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় ঊরুর ইনজুরিতে পড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা তাই খেলতে পারবেন না পিটারসেন। শঙ্কা আছে ২৯ জুলাই শুরু পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়েও।
পিটারসেনের বদলে ইংল্যান্ড দলে ডাক পেয়েছেন জোনাথন ট্রট। গত নভেম্বরে শেষ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটসম্যান আবার ওয়ানডেতে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দলের মূল স্পিনার গ্রায়েম সোয়ানকে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে অভিষিক্ত জেমস ট্রেডওয়েল।
ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে ৮ জুলাই নটিংহামে। ১০ জুলাই দ্বিতীয় ওয়ানডে ব্রিস্টলে, ১২ জুলাই তৃতীয় ওয়ানডে বার্মিংহামে।
ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে সাসেক্সের কাছে ১৪৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আজ আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন সাকিব-তামিমরা, প্রতিপক্ষ মিডলসেক্স। ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ সিরিজের ইংল্যান্ড দল: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (অধিনায়ক), ক্রেইগ কিসওয়েটার, ইয়ান বেল, পল কলিংউড, এউইন মরগ্যান, মাইকেল ইয়ার্ডি, লুক রাইট, টিম ব্রেসনান, জেমস ট্রেডওয়েল, স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসন, আজমল শেহজাদ, জোনাথন ট্রট।

মিডলসেক্সের বিপক্ষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০১/৭

ইংল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় একদিনের প্রস্তুতিম্যাচে রানে ফিরেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। আজ সোমবার লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ করেছে ৭ উইকেটে ৩০১ রান। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেছেন জহুরুল ইসলাম। ইমরুল কায়েসের সংগ্রহ ৭৭ রান। এছাড়া সাকিব আল হাসান ফর্মে ফেরার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়ে করেছেন ৩৮ রান।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পক্ষে ঝড়ো সূচনা করেন তামিম ইকবাল। তিনি ২০ বলে ২৮ রান করে দলীয় ৩৩ রানের মাথায় আউট হন। এরপর জুনায়েদ সিদ্দিকী ১০ রান করে আউট হন দলীয় ৫০ রানের মাথায়। এর পরপরই জহুরুল ও ইমরুল কায়েসের মধ্যে গড়ে ওঠে ১৪৩ রানের জুটি। এই জুটি মাত্র ৩৩ দশমিক দুই ওভারেই দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করান ১৯৩ রান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিমের ২৭ বলে ২৫ ও অধিনায়ক মাশরাফির ১১ বলে ১৬ রানের কল্যাণে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিনশ ছাড়িয়ে যায়।
মিডলসেক্সের পক্ষে ৫১ রানে ৩ উইকেট নেন ইভানস। উইলিয়ামস নেন ২টি উইকেট। এছাড়া রোলান্ড জোনস ও স্মিথ দুজনেই ১টি করে উইকেট দখল করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিডলসেক্স বাংলাদেশের ৩০১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমেছে।

সাগরপাড়ের খুদে গানওয়ালা by বিপাশা চক্রবর্তী

কক্সবাজারে পা দিতেই উত্তাপ কামড় বসাল গায়ে। তখন মধ্যদুপুর। ঘোরাঘুরির জন্য বিকেল তো আছেই। সুদূর ঢাকা থেকে সমুদ্র টেনে এনেছে এত দূর। এখন হাতের কাছেই সাগর, নিরন্তর ঢেউয়ের গর্জন, সৈকতের পবন (বিলাতি ঝাউ) ঝাউয়ের বাগান আর ধু ধু বালিয়াড়ি। দেখতে দেখতে বিকেল নেমে এল। কিন্তু রোদের তেজ কমল না। আমরা, মানে আমি আর আমার সহকর্মী সৈকতের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। বিচে যাওয়ার জন্য কাঠের পাটাতন বিছানো রাস্তাটার মুখে আসতেই দেখি, ১০-১২ বছরের দুটো ছেলে কেমন অস্থির মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখতে পাইনি, এমন ভান করে আমরা হাঁটতে লাগলাম। ওরাও আমাদের পিছু নিল। কিন্তু কেন?
ওদের হাতে ক্যামেরা নেই যে ছবি তুলবে বা বিক্রি করার মতো কোনো জিনিসপত্রও দেখছি না। তাহলে কি সাহায্য চাইবে? ভাব দেখে তো সে রকমও মনে হচ্ছে না। তাহলে? হঠাৎ একজন বলে উঠল, ‘গান শুনবেন আপা?’
আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘গান? কী গান? এখানে কোথায় গান?’
একসঙ্গে অনেক প্রশ্ন করে ফেললাম, দুজনের একজন বলল, ‘আপা, আমরা গান শুনাব, আমরা গান গাইতে পারি তো!’
ওদের ভাবটা এমনই যে আমাদের গান শুনিয়েই ছাড়বে। আমার সহকর্মী খানিকটা নিরস্ত করার জন্য বলল, ‘দেখ, আমরা কিন্তু সঙ্গে টাকাপয়সা আনিনি, হোটেলে রেখে এসেছি।’ কিন্তু ওরা দমার পাত্র নয়।
বলল, ‘স্যার, টাকা লাগব না। আপা আমগো বইনের মতো। আপার জন্য একটা গান ফ্রি—এই বলে ওরা দুজন একসঙ্গে গান শুরু করে দিল, ‘কতো রঙ্গ জানো রে মানুষ...’।
গানটা কি দ্বৈত সংগীত, কোরাস, না রিমিক্স? কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু শুনতে ভালো লাগছে। আমরা হেঁটে যাচ্ছি আর আমাদের পিছু পিছু খুদে দুই শিল্পী গান গাইতে গাইতে আসছে। একজন গাইছে আর একজন একই কলি একটু পরে ধরছে, তাও আবার চিকন মিনমিনে গলায়। অদ্ভুত কম্বিনেশন। সেদিন সৈকতে আমরা খুব ঘুরলাম, ছবি তুলাম, বিচ-বাইক চালালাম। আশ্চর্যের বিষয়, এদের একজন এসএলআর ক্যামেরাও চালাতে জানে। নাম কাইয়ুম। আমাদের কয়েকটা ছবি তুলে দিল। এই সুযোগে আমিও কাইয়ুমের সঙ্গে একটি ছবি তুললাম। ওরা টাকার বদলে আমাদের সঙ্গে বিচ-বাইকে চড়ে ঘুরল। আমরা হোটেলের সামনের বিচ থেকে একেবারে কলাতলি বিচের শেষ মাথা পর্যন্ত বাইক চালিয়ে গেলাম। এ সময়টা সৈকতে পর্যটকদের চাপ কম থাকে। বাতাস আর ঢেউয়ের গর্জনটা একটু বেশিই।
দেখতে দেখতে কাইয়ুমদের সঙ্গে আরও কয়েকজন গানওয়ালা এসে জুটল। ওরা ওদের কাজ ফেলে আমাদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াটাকেই বেশি পছন্দ করল। কাইয়ুম, রফিক, শহীদ হোসেন—ওরা সৈকতে বেড়াতে আসা লোকজনকে গান শোনায়। এ থেকে ওদের ভালোই আয় হয়। কথা বলে জানলাম, প্রথম শুরুটা করেছিল জসীম নামের এক গানওয়ালা। তারও বয়স বেশি নয়। সে-ই এখন কাইয়ুমদের ট্রেনিং দিচ্ছে। তার দেওয়া ট্রেনিং যে বৃথা যায়নি, তা ওদের গান শুনলেই বোঝা যায়। কাইয়ুম জানাল, এমনও হয়েছে, মাত্র তিন-চার দিন গান গেয়ে তেরো-চৌদ্দ শ টাকা আয় করেছে। আবার এমনও হয়েছে, দিনে ৫০ টাকাও পায়নি। এখন সে রকমই অবস্থা। কারণ গরমে সৈকতে দেশি-বিদেশি পর্যটক খুব বেশি আসে না। বেশি আয় হয় বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘বিদেশিদের কী বলে গান শোনাও।’
গানওয়ালা শহীদ হোসেন বলল, ‘বিদেশিদের কাছে গিয়ে বলি, হ্যালো স্যার, সিং এ সং!’
আমি তো হেসেই খুন! মনে মনে ভাবলাম, তবুও তো ইংরেজি বলার চেষ্টা করছে। আমার সহকর্মী তখন বেশ সময় নিয়ে খুব ধৈর্য ধরে শেখালেন, বিদেশি পর্যটক এলে কী বলে গান শোনার জন্য অনুরোধ জানাতে হবে। জীবিকার প্রয়োজনেই কিনা জানি না, ওরাও বেশ আগ্রহের সঙ্গে শিখল। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে রপ্ত করার চেষ্টা করল, ‘হ্যালো স্যার, ডু ইউ ওয়ান্ট টু লিসেন আ সং? আই ক্যান সিং আ সং ফর ইউ!’
জিজ্ঞেস করলাম ‘স্কুলে যাও?’
কাইয়ুম জানাল, সে নিয়মিত স্কুলে যায়, কক্সবাজারের মধ্যপাড়ায় তার বাসা। স্থানীয় একটি এনজিও পরিচালিত ‘লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন’ স্কুলে সে ক্লাস টুতে পড়ে। বাকিরা তেমন কেউ স্কুলে যায় না। গান গেয়ে যে টাকা পাও, সে টাকা কী করো? ওরা বলল, ‘মার কাছে নিয়া দিই।’ আমাদের জটলা দেখে একফাঁকে বেশ কয়েকজন ফেরিওয়ালা ঢুঁ মেরে গেল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটি ঝিনুকের মালা পছন্দ হলো, কিন্তু ফেরিওয়ালা দাম হাঁকল ৪০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে কাইয়ুম সাহায্য করল, সে আমাদের কানে কানে বলে দিল, কিছুতেই ৮০ টাকার বেশি হবে না। শেষ পর্যন্ত ১২০ টাকায় রফা হলো। এবার ফেরার পালা। যাওয়ার আগে খুদে গানওয়ালাদের বললাম, কাল ঠিক সন্ধ্যা ছয়টায় একই স্থানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে। আমার সহকর্মী ওদের কথা দিলেন, কাল একটা দুর্দান্ত গান শিখিয়ে দেবেন। পরের দিন আমরা কাজ করলাম উখিয়ায়। সারা দিন কাজে এতই মগ্ন ছিলাম যে গানওয়ালাদের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। হোটেলে ফিরে আবার যখন বিচে নামলাম, তখন ঘড়িতে প্রায় সাতটা। অন্ধকারে সাগরের সৌন্দর্য আরেক রকম। ভাবলাম, এত দেরিতে মনে হয় ওদের সঙ্গে আর দেখা হবে না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করি, খুদে গানওয়ালা কাইয়ুম তার দলবল নিয়ে ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে বলল, ‘স্যার, আমরা সাড়ে পাঁচটা থেকে দাঁড়ায়া আছি।’ তারপর যথারীতি গান শুরু হলো। সেদিন ওরা আমাদের অনেক গান শোনাল। আমার সহকর্মী ওদের বেশ কয়েকটা গান শেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা নিলেন। তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ওরা কিন্তু ঠিকই আমাদের কক্সবাজারের একটি আঞ্চলিক গান শিখিয়ে ছাড়ল। ‘ককস্বাজার দইজ্জার চর, দারুণ নদীর পাড়’—গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে আমরা ফিরে চললাম হোটেলে। কিন্তু এ কথাটি বলা হলো না, কাল আর ওদের সঙ্গে আমাদের দেখা হবে না।

২২০০ ক্যালরি ও বাঁচার মতো মজুরি by তানভীর মোকাম্মেল

সকালে কী খেয়ে এসেছ?—‘ভাত আর খেসারির ডাল।’ দুপুরে যেয়ে কী খাবে?—‘ভাত আর আলু-তরকারি।’ রাতেও কি ভাত খাবে?—‘না’। বলল খুরশীদা, ‘ফ্যাক্টরি থেকে এত রাতে বাসায় ফিরে আর রাঁধতে ইচ্ছে করে না। রাতে তাই পাউরুটি খাব।’ শুধু পাউরুটি? —‘না, চিনি দিয়ে।’ এ ছিল খুরশীদা নামের ঢাকার এক গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে আমার কথোপকথন।
সবচেয়ে মোটা চাল এখন ২৮ টাকা, মসুরের ডাল কেজি ৯০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৪২ টাকা। আর চাষের পাঙাশ ছাড়া মাছ তো দশ-হাজারি মধ্যবিত্তরাও তেমন খেতে পারছে না। গার্মেন্টসের দুই-হাজারি মেয়েরা তা খাবে কেমন করে! ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন এসব মেয়ের কোথা থেকে আসবে, আমার জানা নেই। গার্মেন্টসের মেয়েদের নিয়ে বস্ত্রবালিকারা নামে একটা ছবি তৈরি করার সময় এসব নারীশ্রমিকের অনেকেরই দুঃসহ জীবন আমি কাছ থেকে দেখেছি।
২৮ জুলাইয়ের মধ্যে পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ বোর্ডের সুপারিশ চূড়ান্ত করার কথা। শ্রমিক প্রতিনিধিরা নিম্নতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছেন আর মালিকেরা দিতে চান এক হাজার ৯৮৯ টাকা। বর্তমান বাজারদরে এক হাজার ৯৮৯ টাকা, অর্থাৎ দিনে মাত্র ৬৬ টাকায় কোনো পরিবারকে জীবনযাপন করতে বলা এক নিষ্ঠুর কৌতুক মাত্র! আমি একটা সাদা কাগজ ও কলম নিয়ে যেকোনো কারখানা-মালিকের সঙ্গে বসতে রাজি। তিনি যদি আমাকে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাতে পারেন যে মাসে এক হাজার ৯০০ টাকার নিম্নতম মজুরির যে অঙ্কটা তাঁরা বলছেন, তা দিয়ে বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ না হয় বাদই দিলাম, কেবল বেঁচে থাকার জন্যই যে ২২০০ ক্যালরি একজন মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজন, চারজনের একটি শ্রমিক পরিবার তা কীভাবে পেতে সক্ষম? এটা আশ্চর্যজনক যে গার্মেন্টস শিল্প সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলেও বাংলাদেশে এই খাতেই নিম্নতম মজুরি সবচেয়ে কম, মায় দিনমজুরদের মজুরির থেকেও! কাটিং ও সেলাইয়ের কাজে কারখানাগুলো কম করে হলেও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মুনাফা করে। তা থেকে ২-৩ শতাংশ ছাড় দিয়ে মালিকেরা সহজেই শ্রমিকদের বাস্তবসম্মত একটা নিম্নতম মজুরি দিতে পারেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছার।
অতিরিক্ত শ্রম আর পুষ্টিহীন যৎসামান্য খাদ্য গার্মেন্টসের মেয়েদের অল্পবয়সেই অসুস্থ করে তোলে। ১৬ বছরের ফুটফুটে মেয়ে নুরহাজানকে তিন বছর পরে দেখলে আজ আর চেনাই যায় না! স্রেফ অমানুষিক পরিশ্রম আর কম খেতে খেতে ওর শরীর আর চেহারা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। ৩০ বছরের বেশি বয়সের গার্মেন্টস নারীশ্রমিক খুব একটা চোখেই পড়বে না। ফ্যাক্টরিগুলো এসব মেয়ের যৌবনের শ্রমক্ষমতা, উৎসাহ ও উদ্যমকে নিংড়ে ছিবড়ে করে দিচ্ছে। আমাদের গার্মেন্টসের মালিকদের ভাগ্য ভালো যে বাঙালি মেয়েরা নীরব ও লক্ষ্মী। প্রতিবাদে সহসা সোচ্চার হয় না! তবে গার্মেন্টস শিল্পে অনেক পুরুষ ও যুবক শ্রমিকও রয়েছে। তারা এই বঞ্চনা মানবে কেন? ফলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ এই শিল্পের এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর, কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো নানা উচ্ছৃঙ্খল প্রবণতাও, যা ২০০৬ সালে চরম আকার ধারণ করেছিল।
সাধারণভাবে এ দেশের গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের আমি প্রশংসা করি। কারণ সমস্যা-সংকুল এই বাংলাদেশে কোনো কিছুই সৃষ্টি করা সহজ নয়। বিদ্যুতের অভাব, অপদার্থ আমলাতন্ত্র, দুর্নীতিবাজ কাস্টমস—এসব বাধা পেরিয়ে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করা ও চালানোর ক্ষেত্রে তাঁদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা খুঁজে তাঁরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন এবং বহু মানুষের, বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তবে কেবল কর্মসংস্থান করাটাই কি যথেষ্ট? সেই কর্মে নিযুক্ত মানুষ যদি মানবিক একটা জীবন যাপন করতে না পারে, তবে সে কর্মসংস্থান তো বুমেরাং হয়ে পড়তে বাধ্য।
এশিয়ার অন্যান্য অনেক দেশেরই গার্মেন্টস শিল্পে মেয়েদের থাকার হোস্টেল আছে। ফ্যাক্টরিতে আনা-নেওয়ার জন্য কোম্পানির বাস আছে। নিয়মিত স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহের রেশনিং ব্যবস্থা আছে। এ দেশের ফ্যাক্টরি-মালিকেরা কবে তা শুরু করবেন? ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাস ব্যয়বহুল। গার্মেন্টসের অধিকাংশ মেয়ে তাই ৫-১০ কিলোমিটার হেঁটেও কারখানায় যাতায়াত করে। ভোরে ও রাতে। রোদে ও বৃষ্টিতে। অনেকেরই ছাতা কেনার সামর্থ্য নেই।
অন্যদিকে অনেক মালিক পরিবারের বিলাসী জীবনযাত্রা, যাঁদের পাঁচ-সাত বছর আগেও তেমন কিছু ছিল না, আজ সমাজে আলোচনার বিষয়। আমি একাধিক গার্মেন্টস কারখানার মালিক-পরিবারকে চিনি, যাঁরা প্রতিবছর সপরিবারে বিমানের প্রথম শ্রেণীতে বিশ্বভ্রমণে বের হন। অথচ কারখানার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর প্রশ্নেই কেবল শোনা যায়, ব্যবসা খারাপ!
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুরবস্থার বিষয়টি বিদেশেও সমালোচিত। এতে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ছে না। বিদেশিদের কাছ থেকে চাপ আসছে কমপ্লায়েন্সের, অর্থাৎ শিল্প ও কারখানার আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কারখানাগুলো চালানোর চাপ। আমাদের দেশের শিল্প আইন ও কারখানা আইনেও শ্রমিকদের স্বার্থ দেখার কথা রয়েছে। আইনের সেসব ধারা কি মালিকেরা মানছেন? একটা সহজ উদাহরণ দিই। যেকোনো শিল্পে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার আমাদের সংবিধানেই স্বীকৃত। কিন্তু গার্মেন্টস শিল্পে সুস্থ ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার সুযোগ মালিকেরা দিতেই চান না।
ট্রেড ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সুযোগ থাকে মালিকের সঙ্গে শ্রমিকের সরাসরি সংলাপের। সে সুযোগ না থাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভটা তাই প্রকাশ পাচ্ছে কেবল সংঘাতের মাধ্যমে। ঘটছে ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা। পুরো শিল্পই ধাক্কা খাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবাই। ওই যে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘যারে তুমি রেখেছ পিছে/ সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে!’
আর এসব ক্ষেত্রে ‘বিদেশি শক্তি’, ‘তৃতীয় পক্ষ’ এসব বলে লাভ নেই। কারণ দ্বন্দ্বটা সহজ। মুনাফা আর শ্রমের দ্বন্দ্ব। সমাধানটাও সহজ। একজন মানুষকে খাটাতে হলে তাকে তার বেঁচে থাকার মতো মজুরি দিতেই হবে। পশ্চিমা দেশের কারখানা-মালিকেরা সেটা জানেন। বোঝা যাচ্ছে আমাদের দেশের প্রথম প্রজন্মের শিল্প মালিকদের এখনো ইতিহাসের প্রাথমিক পাঠটা নেওয়া হয়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে সরকারও তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। একদিকে মুনাফাআসক্ত মালিকপক্ষ, আরেক দিকে দিনরাত পরিশ্রম করা স্বল্প বেতনের শ্রমিকেরা। সরকারকে ঠিক করতে হবে সে কোন পক্ষে থাকবে।
তবে বিদেশি পক্ষ একটা আছে, তা হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলো—‘এইচ এম’ থেকে ‘ওয়ালমাট’ পোশাকশিল্পের সব বড় কোম্পানিই রয়েছে বাংলাদেশে। বিদেশে চটকদার সব বিজ্ঞাপন লাগিয়ে চলছে সুবিশাল এক ব্যবসা! এসব বহুজাতিক কোম্পানি যাতে এ দেশের ফ্যাক্টরি-মালিকদের হাত ধরে আমাদের সহজ-সরল শিক্ষাবঞ্চিত মেয়েদের শ্রমকে অমানবিকভাবে শোষণ করতে না পারে, সেটা দেখাও সরকারের কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, সস্তা কাপড় বলে কিছু নেই। কারও-না কারও শ্রমের ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত করেই সেটা সস্তা হয়েছে।
তবে আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কম হওয়ার দোষটা কেবল বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দিয়েও লাভ নেই। কারণ তারা জানে যে এ দেশের মালিকেরা শ্রমিকদের কত কম বেতন দেন। তাই এ দেশে তৈরি পোশাকের জন্য তাঁরা বেশি মূল্য দিতে চান না। শ্রমিকের বেতন বাড়লে পণ্যের মূল্য বাড়াতেও তাঁরা তখন বাধ্য হবেন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানেন যে কমপ্লায়েন্সের নিয়ম-কানুন মেনে চললে আমাদের পোশাকশিল্পের বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা কমবে না, বরং বাড়বে। আমাদের মালিকেরা যেমনটি মনে করেন যে, শ্রমিকদের স্বল্প মজুরি দিয়ে পণ্যের দাম কম রাখলেই কেবল ব্যবসাটা বজায় রাখা যাবে, এই মফস্বলী ধারণাটা আজকের পৃথিবীতে একেবারেই সঠিক নয়।
এটা সবাই বোঝেন যে শ্রমিকদের মাত্র দুই-আড়াই হাজার টাকা বেতন দিয়ে, অভুক্ত-অর্ধভুক্ত রেখে, ভালো উৎপাদন সম্ভব নয়। বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবন ধারণ-উপযোগী মজুরি তাদের দিতেই হবে। অন্যথায় শ্রম-অসন্তোষের কারণে এই শিল্পে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের বয়স বর্তমানে প্রায় দুই যুগ পার হতে চলল। চরম বেকারত্বের এই দেশে এই শিল্প বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেছে বলে গার্মেন্টস মালিকদের নানা নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপ এ দেশের সরকারগুলো ও বিবেকমান মানুষ এত দিন সহ্য করে এসেছে। কিন্তু দুই যুগে হানিমুন-পিরিয়ডটা পার হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে অনেক অশ্রু ও রক্ত ঝরেছে। এখন সময় এসেছে গার্মেন্টস মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার, নিজেদের লাভ ও লোভের পরিমাণ কমিয়ে রাষ্ট্র ও ঈশ্বরের বিধানগুলো মেনে চলার। অন্যথায় ঘটে যেতে পারে রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই সামান্য ক্ষতি (!), যা পুষিয়ে নিতে ফ্যাক্টরি-মালিকদের হয়তো সারা জীবনও লেগে যেতে পারে। আরেকটি ২০০৬ সাল কারোরই কাম্য নয়!
এ দেশের নারীদের কর্মসংস্থানের সর্ববৃহৎ খাত হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প খাতটির রয়েছে একটি ব্যাপক আর্থসামাজিক তাৎপর্য এবং সম্ভাবনা। এই সোনার হাঁসটিকে রুগ্ণ করে ফেললে কেউ কি লাভবান হবেন?
তানভীর মোকাম্মেল: চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রাবন্ধিক।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, আদিবাসীরা আত্মপরিচয়ে মানুষ by সঞ্জীব দ্রং

বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী (অব.) মহোদয়কে তাঁর আদিবাসী নাম-বিতর্ক লেখাটির জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। লেখাটি প্রথম আলোয় ২৫ জুন ছাপা হয়েছে। বলতে গেলে, জোরালো ভাষা ও শব্দ ব্যবহার করে তিনি আদিবাসী বিতর্ক যাঁরা নতুন করে তুলেছেন, তাঁদের জবাব দিয়েছেন। আমরা আশা করব, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বলে নতুন শব্দ যাঁরা আমদানি করেছেন, তাঁরা চুপ না থেকে রাব্বানী সাহেবের লেখার জবাব দেবেন।
সরকার ‘বাহাদুর’ নতুন একটি আইন বানিয়েছে আদিবাসীদের জন্য, তাদের উপকারের জন্য। কিন্তু আদিবাসীদের ‘প্রকৃত’ মতামত নেওয়া হয়নি। তারা আমাদের কাউকে ডাকেনি। আমরা বিনম্রচিত্তে বিনা পারিশ্রমিকে সরকারকে একটু সহযোগিতা করতে পারতাম। সরকার ডেকেছে কয়েকজন অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবীকে। তাঁদের চারজনের মধ্যে তিনজনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাঁরা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটি সমর্থন করেননি; বরং বলেছিলেন আদিবাসী শব্দটি রাখতে। এগুলো মৌখিক কথাবার্তা, আমি তো রেকর্ড করে রাখিনি। এ যুগে মানুষের মুখের কথার দাম নেই, কী অদ্ভুত ব্যাপার। অথচ মুখের কথাকে বিশ্বাস ও সম্মান করে হাজার বছর টিকে ছিল আদিবাসী জগৎ। মানুষ মানুষকে সম্মান করত, চালাকি আর পোশাকি কারবার ছিল না। অথচ আমরা দেখছি, কাগুজে সভ্যতা ও উন্নয়নের কী ভয়াবহ ও করুণ পরিণতি এখন।
বিলটি আসলে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল। এতে আদিবাসীদের বঞ্চনা, ভূমি হারানো, প্রান্তিকতা, অপমান, দুঃখ-কষ্ট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে কোনো উন্নতি হবে না। তবে এই আইনের ফলে আদিবাসী কর্মচারীরা উপকৃত হবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোও একটি ধারার মধ্যে আসবে। সব মিলিয়ে যে কয়টি ‘উপজাতীয়’ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আছে—যেমন, রাঙামাটি, বিরিশিরি, বান্দরবান ইত্যাদি—এগুলোর জন্য বিলটি ভালো হবে। আমি শুনেছি, আদিবাসী কর্মকর্তারাও বেশ খুশি। কিন্তু আরও তো ভালো করা যেত এবং এত আদিবাসী বাদ পড়ত না। এখন সরকার ‘ভালো’ করতে গিয়ে বাদ পড়া আদিবাসীদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই আইনটি এখন ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনসহ সরকারের কিছু কাগজপত্র এবং আদমশুমারির তালিকার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। এতে প্রায় ২০টি আদিবাসী যা সরকারি ভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সরাসরি বঞ্চিত হয়েছে। বিলটি পাস হওয়া এবং আইনে পরিণত হওয়ার খবর আমরা কেউ জানতাম না।
আমাকে ফোন করেছেন সিরাজগঞ্জের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। তিনি সরকারদলীয়। তাঁর কাছে মাহাতো ও অন্যান্য আদিবাসীরা দল বেঁধে গিয়েছে। তাঁর ফোন পেয়ে আমি খুশি হয়েছি। তিনি কিছু পরামর্শ চাইলেন। মাহাতোরা তাঁকে বলেছে, আপনি থাকতে এ রকম কেন হলো? এ বিলে কেন মাহাতোসহ অনেক আদিবাসী বাদ পড়ল? পরে এই সংসদ সদস্য তাঁর প্যাডে চিঠি লিখেছেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রীকে, যেখানে তিনি তাঁর অঞ্চলের আরও ১৪টি আদিবাসীকে যুক্ত করেছেন। এর আগে উত্তরবঙ্গের নওগাঁর আরেকজন সংসদ সদস্য কোল ও মুন্ডা সম্প্রদায়কে যুক্ত করেছেন এবং এটি গৃহীত হয়েছে। কাজটি তিনি ভালো করেছেন।
অনেকে বলছেন, আইন তো সংশোধন করা যায়। ঠিক আছে, তবে সংশোধন করেন। কিন্তু কবে হবে সেটা? বিলটির নামকরণ ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এটিকে কেন আদিবাসী বলা হবে এবং আদিবাসী বললে যে রাষ্ট্র বা সরকারের বা বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো সমস্যা হবে না, এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই। সহজভাবে বলতে হবে যে এই মুন্ডা-সাঁওতাল-গারো-হাজং-চাকমা-মারমা মানুষেরা বহুকাল ধরে নিজেদের আদিবাসী পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে আসছে এবং নিজেরা এ শব্দ ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বাঙালি সমাজও বহুকাল ধরে তাদের আদিবাসীই বলে আসছে। এ বিষয়ে আপনারা বইপত্র দেখতে পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীও (আগে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন) তাদের আদিবাসীই বলেছেন, বাণী দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুবার—২০০০ ও ২০০৯ সালে এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে কয়েকবার ‘আদিবাসী’ হিসেবেই বাণী দিয়েছেন। অনেক মন্ত্রী এখনো এবং আগেও আদিবাসী হিসেবে বহুবার বহু জায়গায়, এমনকি টিভিতে বক্তব্য দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী বলা হয়েছে। গত বছরের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনেও ‘আদিবাসী’ বলা হয়েছে; এবারও তিনি ‘আদিবাসী’ শব্দ বাজেট উপস্থাপনের সময় ব্যবহার করেছেন। তবে লিখিত আকারে আছে, সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায় শব্দগুলো। তা ছাড়া পুরোনো বেশ কয়েকটি আইনে আদিবাসী শব্দ আছে। আইএলও কনভেনশনের ১০৭ সনদে আদিবাসীরা আছে, যা সরকার র‌্যাটিফাই করেছে। এমনটি ব্রিটিশ আমল থেকে তাদের আদিবাসী বলা হয়েছে। ‘উপজাতি’ শব্দটিও ব্যবহূত হয়েছে বহুবার বহু বছর। কিন্তু এখন তো আমরা এই শব্দ কেউ ব্যবহার করছি না, কেননা আদিবাসীরা এটি পছন্দ করে না। আদিবাসীরা যদি না চায়, অন্যরা কেন এটি ব্যবহার করবে?
‘আদিবাসী’ মানে কে পৃথিবীতে প্রথম এসেছে, তা নয়। এই প্রশ্নের উত্তর কি মিলেছে, সবার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য? আদিবাসী কথাটার মূল বক্তব্য হলো, প্রান্তিকতা এবং ঔপনিবেশিক কাল ও আধুনিক বা জাতিরাষ্ট্র গঠনের সময় থেকে তাদের প্রতি শোষণ ও বঞ্চনা এবং রাষ্ট্র গঠন-প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃত্ত না করা; বরং উল্টো তাদের ওপর সীমাহীন শোষণ ও নিপীড়ন চালানো এবং তাদের অধীনস্থ করা। আদিবাসীরা মূলত শাসিত। তাই বিশ্বব্যাপী আদিবাসী সমাজ মানেই চরম শোষিত এক অসহায় দরিদ্র মানুষ, যারা তাদের নিজ বাসভূমি শুধু নয়, পুরো অঞ্চল ও জগৎ হারিয়েছে। সুতরাং আদিবাসী শব্দটি বুঝতে গেলে রাষ্ট্রকে এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত জানতে হবে, মানতে হবে। না মেনে নিশ্চয় থাকা যায়, কিন্তু সেটি কি সম্মানীয় কাজ হবে? পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্র যারা জাতিসংঘের সদস্য, আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রকে সমর্থন করেছে। আমরা শুনেছি, কেউ বলছেন, আদিবাসী বললে ক্ষতি বা ঝামেলা হবে? আমি এর উত্তর জানি না। সেই ব্রিটিশ সময় থেকে আদিবাসী শব্দটি চলে আসছে, ওপরে অনেক উদাহরণ দিলাম; অন্যদের ক্ষতি ও ঝামেলা তো দূরে থাক, আদিবাসীরাই দিনে দিনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আর এই শব্দের কারণে কী ক্ষতি হয়েছে, কেউ বলবেন কি? এ নিয়ে আরও দীর্ঘ আলোচনা করতে পারতাম।
এই মুহূর্তে শুধু সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, বিলের নাম পরিবর্তন না হলেও যেহেতু তফসিলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা আছে, সেটি বাড়িয়ে মাহাতো, সিং, মাহালী, বানাই, হদি, বড়াইক, মালোসহ কমপক্ষে ৪৫টি করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই আদিবাসী দিবসের বাণীতে দেশের ৪৫টি আদিবাসীর কথা বলেছিলেন। এখন কেন অন্যদের বঞ্চিত করে আদিবাসীর সংখ্যা কমানো হলো?
সবচেয়ে ভালো হতো যদি বলতে পারতাম, আমরা সবাই মানুষ, সবার অধিকার ও মর্যাদা মানুষ হিসেবে, নাগরিক হিসেবে সমান? কিন্তু সমাজে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে, এমনকি নারী-পুরুষভেদে প্রবল বৈষম্য বিদ্যমান। যেদিন এসব মানবসৃষ্ট বৈষম্য দূর হবে, সেদিন আদিবাসী পরিচয়ের এই বিতর্ক নিশ্চয় আর থাকবে না?
সঞ্জীব দ্রং: কলাম লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী।
sanjeebdrong@gmail.com

আরেকটা ‘দায়মুক্তি’ আইন দরকার by শাহদীন মালিক

যে অভ্যাসটা জানি খারাপ কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিত্যাগ করা যায় না, সেটাকেই তো বলে ‘বদভ্যাস’।
জানি না, কত আইনজীবীর এই বদভ্যাস আছে। আশঙ্কা অনেকেরই, তবে আমার নিঃসন্দেহে আছে। বদভ্যাসটি হলো অযাচিতভাবে ‘আইনি উপদেশ’ দেওয়া। পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রায়শই তাদের সমস্যা নিয়ে বাতচিত করেন। বাতচিত, আলাপ-আলোচনায় অনেক আইনি উপদেশ দেওয়া হয়ে যায়। ছয় মাস, নয় মাস পরে ভীষণভাবে উপদেশ পাওয়া ব্যক্তি তার আসল আইনি সমস্যা নিয়ে হাজির হন। প্রায়ই দেখা যায় যেভাবে বলা হয়েছিল, সেভাবে ব্যক্তিটি কাজ করেননি। যেমন জমিজমা কেনা। পইপই করে বলে দিয়েছিলাম, কী কী করতে হবে, কী কী বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে হবে, কোন কোন কাগজ পরীক্ষা করতে হবে, বায়নাপত্র কীভাবে করতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। এসবের বেশির ভাগ পদক্ষেপ ঠিকমতো না নিয়েই টাকা দিয়ে দিয়েছেন। টাকা গেছে, জমি আসেনি অথবা ঠিকঠাকমতো আসেনি।
বদভ্যাসটা হলো, প্রাথমিক ‘আইনি উপদেশ’টা বিলি করা হিয়েছিল বিনা পয়সায়। বিনা পয়সার উপদেশ নিয়ে কেউ বেশি মাথা ঘামায় না। যে কথাগুলো বলেছিলাম, তার জন্য নিদেনপক্ষে হাজার দুই টাকা চেয়ে আদায় করলে উপদেশগুলো মনে থাকত, সে অনুযায়ী কাজও হতো আর উপদেশ গ্রহীতার আম-ছালা দুটোই চলে যেত না।
বদভ্যাসটা আগেই বলেছি, সহজে পরিত্যাগ করা যায় না। তাই আবারও বিনা পয়সায় গায়ে পড়ে উপদেশ দিচ্ছি। আর উপদেশটা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারকে জানান দিয়ে পত্রিকার মাধ্যমেই দিচ্ছি। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আর বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন না যে সোজা চেম্বারে এসে হাজির হবে। তাই বদভ্যাসটা ফলাও করে ‘জাহির’ করছি।
বিনা পয়সার আইনি উপদেশটা হলো, আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আরেকটা দায়মুক্তি আইন পাস করেন। যত তাড়াতাড়ি করবেন, ততই মঙ্গল।


হোরহে ভিদেল নামে মধ্য সত্তরের সময় আর্জেন্টিনার এক সামরিক শাসক ছিলেন। দেশের লাখ লাখ ফুটবলপ্রিয় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিদেলের ব্যাপারে মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। ভদ্রলোকের বয়স আশি পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে তার স্থায়ী ঠিকানা সে দেশের জেল। যাবজ্জীবন। তার বেশ কিছু অপকর্ম থেকে রেহাই দিয়েছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট, ১৯৯০ সালে। ভিদেল সাহেবের আদেশে খুন হওয়া ব্যক্তিবর্গের নাছোড়বান্দা কিছু আত্মীয়স্বজন ও তাদের আইনজীবীরা লেগে রইলেন প্রায় দুই দশক ধরে। শেষতক বিবিসির কল্যাণে জানলাম, আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতির ‘মাফ’ করাতে মাফ হয় না। ভিদেল সাহেবকে আরও গোটা ত্রিশেক খুনের দায়ে আবার বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, আশি-ঊর্ধ্ব বয়সে যাবজ্জীবন জেলে থাকা অবস্থায়ও।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পরপরই তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘হস্তান্তর’ করে, চট্টগ্রামে। ওই দিনই মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন। সেই হত্যার জন্য প্রায় পনেরো বছর পর ১৯৯৫ সালে মামলা দায়ের হয়। বিচার শুরু হয়েছে, চলছে, তবে খুব ধীরগতিতে।
সেই হত্যা মামলার একজন আসামি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভালো হতো এরশাদ সাহেব যদি মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যার ব্যাপারে একটা দায়মুক্তি আইন পাস করিয়ে রাখতেন তাঁর সংসদকে দিয়ে। কিসে কী হয়, বলা তো যায় না। তাই দায়মুক্তি আইনটা পাস করিয়ে রাখাই ভালো।
বিদগ্ধজন বলবেন, দায়মুক্তি আইনে তো লাভ নেই। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তো তাঁদের দায়মুক্তিতে পার পাননি। কথাটা ঠিক। কিন্তু বছর বিশেক তো বহালতবিয়তে ছিলেন সেই আইনের বদৌলতে। ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ কথাটা কে না জানে।
এই সরকার তো মওদুদ সাহেবের পরামর্শ নেবেন না। নিলে ভালো হতো। কারণ অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ আমার মতো বিনা পয়সার উপদেশ বিতরণকারী থেকে অনেক বেশি ফলদায়ক।
গালগপ্প মারি না, অর্থাৎ একটু-আধটু এদিক-সেদিক কস্মিনকালেও করি না, এমন কথা হলফ করে বলতে পারব না। তবে আইন উদ্ধৃত করতে এদিক-সেদিক করা যায় না। অতএব, আইনসংক্রান্ত নিচের অংশটি টু-হান্ড্রেড পারসেন্ট পাক্কা। সূত্র: বাংলাদেশ কোড, ভলিউম ৩৫, পৃষ্ঠা ৩১০-৩১২ থেকে। ২০০৩ সালে ১ নং আইন, এর ধারা (৩)-এর উপধারা (খ)তে আছে—
‘.....১৬ই অক্টোবর ২০০২ তারিখে প্রদত্ত আদেশ বা তৎপরবর্তী সময়ে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা কার্যের দ্বারা কাহারও প্রাণহানি ঘটিলে কাহারও জান বা মালের কোনো ক্ষতি হইলে...বা কেহ আর্থিক, শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত...সরকার বা সরকারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বা সরকারের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোকাদ্দমা বা কার্যধারা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা চলিবে না...।’
২০০৩-এর এই দায়মুক্তি আইনটি মাস তিনেক—১৬ই অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত কৃত সব কার্যকলাপের জন্য। এখন ওই আইনের ভাষা ঠিক রেখে সময়টা র‌্যাবের ক্রসফায়ার শুরুর দিন থেকে কার্যকর করতে হবে। একটা কাজ করার পর দায়মুক্তি দেওয়া থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে এখন একবারে নতুন আইনের কার্যকারিতা ৪ জানুয়ারি ২০১৪ অর্থাৎ বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত করে ফেললেই একবারে লেঠা চুকে যায়। এই নতুন দায়মুক্তি আইনটার কার্যকারিতা গত বিএনপি সরকারের সময় থেকেই অর্থাৎ র‌্যাব সৃষ্টির সময় থেকে হতে হবে। তাহলে সর্বদলীয় সমর্থন পাওয়া যাবে। ১৯৭৫-এর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো এর অপমৃত্যু হবে না। দুই দল মিলে এই দায়মুক্তি আইনটাকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ঢুকিয়ে দিলে ব্যবস্থাটা আরও পাকাপোক্ত হবে।


২০০২-এর শেষে তৎকালীন নতুন বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রথম ভাগে যৌথ বাহিনীর হাতে ধৃত বহু ব্যক্তির অকাতরে ‘হার্ট-অ্যাটাক’ হয়। তারপর র‌্যাব ও ক্রসফায়ার।
প্রথম প্রথম যখন লিখলাম, তখন অনেক পরিচিতজনই মহাক্ষাপ্পা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীরা যখন ক্রসফায়ারে নিহত হওয়া শুরু হলো, তখন কোনো কোনো জায়গায় মিষ্টি বিতরণও হয়েছিল। ভালো।
চরমপন্থী থেকে সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী থেকে এখন ঠেকেছে ‘গাড়ি চুরির সংঘবদ্ধ’ দলের সদস্যতে।
বাড়ির মা-নারী-বোনেরা সবে লাঠিপেটা খেতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অথবা পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া তিন ব্যক্তির অন্তত একজনের বিরুদ্ধে কোনো থানায় নাকি জিডিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী থেকে জিডি-মামলাবিহীন বন্দুকযুদ্ধকারী—এটা অবধারিত পথপরিক্রমা। আগে ছিল যৌথ বাহিনী, তারপর র‌্যাব, আর এখন পুলিশও সমভাবে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। আনসার-ভিডিপি আর কত দিন বসে থাকবে।
গ্রেপ্তার করে ‘ক্রসফায়ার’-এ না দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা আজকাল প্রায়ই সংবাদপত্রে আসছে। সম্প্রতি নিহত মিজানের স্ত্রী বলছেন, তিনি দুই হাজার টাকা নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। চাহিদা ছিল এক লাখ টাকা। ফলাফল, মিজান গভীর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ, পরে হাসপাতালে মৃত্যু। লাশটা তো নদীতে ভেসে ওঠেনি বা কোনো গর্তে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে সরকারি হাসপাতালে।
পাঠককুল! বেয়াদবি মাফ করবেন, সেই আশা-ভরসায় আপনাদেরও একটু উপদেশ দিই। অবশ্য এটা ‘আইনি উপদেশ’ না, বাস্তবতাপ্রসূত। সাধ্যমতো ঘরে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ রাখবেন। সঙ্গে স্ত্রীর একজোড়া পুরু সোনার বালা থাকলে আরও ভালো। কুল্লে দুই হাজার টাকা দিয়ে যে কোনো ফায়দা হবে না, অন্তত সেটা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার।


আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য সরকার মাসখানেক আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করেছে। এখনো সম্পূর্ণভাবে না হলেও অচিরেই এই আদালতের আমরা এখতিয়ারভুক্ত হব।
সাদামাটা কথায়, কোনো দেশে যখন কিছু লোক সেই দেশের আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায় অর্থাৎ হয় সেই দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা ওই সব লোককে আইনের আওতায় আনতে বা বিচার করতে পারে না অথবা বিচার করতে চায় না, তখনই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার কার্যকর হয়।
৩ জুলাই প্রথম আলো খবর ছেপেছে যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও অধিকারের হিসাব অনুায়ী গত ছয় মাসে ৬২টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্পষ্টতই আমাদের আইন ও বিচারব্যবস্থা এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অক্ষম অথবা অনিচ্ছুক।
বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত হিসাব জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপেই রাখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত জাতিসংঘের হিসাবরক্ষক (রেপোর্টিয়ার) বেশ কিছুকাল ধরে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করছেন। হাজার হলেও জাহিসংঘের কর্তাগোছের ব্যক্তি, তাই সরকারি নেমন্তন্ন ছাড়া আসতে পারেন না। সেই উট পাখির মতো বালুতে মাথা ঢুকিয়ে রেখে কেউ আমাকে দেখছে না ভাবা যেমন ভুল, তেমনি ভুল করছেন এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আদেশ-নির্দেশ দেওয়া এবং তাঁদের হুকুম তামিল করা ব্যক্তিবর্গ এবং ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা’।


লিখছি আর ভাবছি, আমার অবস্থানটি সেই গ্রামের প্রান্তে জঙ্গলের পাশে গরু চড়ানো রাখাল বালকটির মতো কি না। ‘বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে’ বলে অতিরঞ্জিত ভয় বা মিথ্যাচার করছি না। কিন্তু সেই গল্পেও তো বাঘটা একদিন ঠিকই এসেছিল।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকারী বাঘ শুধু রাখাল বালকটিকে খেয়ে ক্ষান্ত হয় না; আস্তে আস্তে প্রথমে ডজন, তারপর শত শত (আমরা যে পর্যায়ে পৌঁছে গেছি), তারপর হাজার হাজার এবং শেষতক, ব্যর্থ রাষ্ট্র।
পাকিস্তান, ইয়েমেন, সুদান, কসোভো, সার্বিয়া, কিরগিজস্তান, জর্জিয়া—সব রাষ্ট্রেই বর্তমান অবস্থার শুরু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, সিয়েরা লিওন—সব দেশের কেচ্ছা শুরু একটা বাক্য থেকেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু থেকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে গড়পড়তা—আমার মুদ্রাদোষের ‘বড়দাগে’ সময় লেগেছে এক দশক বা তারও কম।
শাহদীন মালিক: আইনজীবী-সুপ্রিম কোর্ট, ডাইরেক্টর-স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ধর্ষণের বিচার - জরিমানাতেই নিষ্পত্তি!

মাদারীপুরের কালকিনিতে ১২ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের বিচার করা হয়েছে এক সালিস বৈঠকে। স্থানীয় মাতবরেরা ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত যুবককে জরিমানা করেছেন ৩০ হাজার টাকা। কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে ঠিক করে দিলেন এক কিশোরীর শরীর ও তার লাঞ্ছনার মূল্য! রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে এমন বিচার নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও কেমন করে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটে চলে?
ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন-আদালতের কোনো প্রয়োজন মনে করেননি, তাই তাঁদের বাধায় মামলা করতে পারেনি কিশোরীর পরিবার। সালিসের নামে অপরাধীকে লঘু দণ্ড দিয়ে রেহাই দেওয়ার জন্য এমন ব্যবস্থা আমরা আগেও দেখেছি। এ ক্ষেত্রে অপরাধীকে রক্ষা করার জন্য ভূমিকা নেওয়ায় সালিস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অপরাধী।
সাধারণত সামাজিক বিরোধ-মীমাংসায় সালিসের ভূমিকা স্বীকৃত হলেও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বেলায় সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা ন্যায্য হয় না। ধর্ষণ এমন এক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনানুযায়ী যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ রকম গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে অবশ্যই মামলা হওয়া উচিত। অপরাধের তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া হতে হয় দেশের প্রচলিত আইনের অধীনে। বিচারের একমাত্র আইনসিদ্ধ স্থান হচ্ছে আদালত। গ্রামের কিছু লোক একত্র হয়ে সালিস বসিয়ে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের প্রতিকার করতে পারেন না, এ রকম করার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ষণ সালিসের এখতিয়ার-বহির্ভূত একটি অতি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
২০০৯ সালের আগস্টে হাইকোর্ট সালিসের এখতিয়ার-বহির্ভূত অপরাধের ক্ষেত্রে সালিস বসানোর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও দেশের আনাচকানাচে সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের মতো অপরাধের নিষ্পত্তির ধারা বন্ধ হয়নি। কালকিনির এই ঘটনা তার একটি সর্বসাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত। সেখানে কিশোরী ধর্ষণের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ক্ষেত্রে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী সালিসের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে অবশেষে মামলা করেছে। আমরা আশা করি, পুলিশ অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করবে। সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের বিচারের নামে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের পৌনঃপুনিক অবমাননা অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার।

গুজব ও বিশৃঙ্খলা -রতিবাদ জানানোর শান্তিপূর্ণ পন্থা আছে

গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় উত্তেজিত কিছু মানুষ ঢাকা বাইপাস সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে যেভাবে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা এককথায় চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। বিভিন্ন সময় সড়ক অবরোধ বা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা যে এ দেশে ঘটে না, তা নয়; কিন্তু সেসবের পেছনে কিছু না কিছু কারণ, নিদেনপক্ষে অজুহাত থাকে। কিন্তু শনিবারের ঘটনার পেছনে ছিল বিশুদ্ধ গুজব। দৃশ্যত প্রতীয়মান, এ গুজব কোনো স্বার্থান্বেষী মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
গুজব ছড়ানো হয়েছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘গাজীপুর উপশহর প্রকল্প’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ শুরু করেছে। এতে স্থানীয় জনগণের একাংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে যানবাহন ভাঙচুর করেছে, তাদের সৃষ্ট অবরোধের ফলে উত্তরবঙ্গ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্তত ৪০টি রুটের যানবাহন আটকা পড়ে যায়। অথচ রাজউকের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে বলা হয়েছে, গাজীপুর উপশহর প্রকল্প নামে কোনো প্রকল্পের অস্তিত্বই নেই।
গাজীপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাও শনিবার সেখানকার জনসমাবেশে বলেছেন, রাজউকের কথিত উপশহর প্রকল্প বাতিল হয়ে গেছে। সরকারদলীয় দুজন সাংসদ ছাড়াও ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আরও কিছু নেতা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররাও। এমন একটি সমাবেশের লোকজন শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে পুরো এলাকায় ত্রাস সঞ্চার করল—এর দায় কি দুজন সাংসদের ওপরে একটুও বর্তায় না?
সমাবেশের বিক্ষুব্ধ লোকজন একপর্যায়ে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, এমনকি তারা কারখানাটিতে আগুনও ধরিয়ে দেয়। মহাসড়ক অবরোধ, নির্বিচারে যানবাহন ভাঙচুর, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া এবং কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া—এগুলোর প্রতিটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। গত ২৭ জুন বিএনপির হরতালের আগের রাত ও হরতালের সময় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি ঘটনার বিষয়ে সরকার যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, শনিবারের গাজীপুরের ঘটনায়ও একই রকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
কথিত ‘উপশহর প্রকল্প’ ছাড়াও রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শনিবারের ওই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল বলে খবরে প্রকাশ। সরকারের যেকোনো পরিকল্পনার প্রতিবাদ অবশ্যই করা যায়, কিন্তু তা করতে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে নির্বিচারে যানবাহন ভাঙচুর করা, জনজীবনে ত্রাস সৃষ্টি করার মতো হঠকারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রাজউক কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে ড্যাপ প্রকাশ করেছে এবং সে পরিকল্পনার কোনো অংশ নিয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকলে রাজউক তা শুনতে এবং বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাই ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি দুর্বৃত্তপনায় লিপ্ত হওয়া বা নিরীহ জনসাধারণকে উসকে দেওয়া পুরোপুরি দুরভিসন্ধিমূলক। এ ধরনের তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা সরকারের দায়িত্ব। জানা গেল, শনিবারের ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে, তিনজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। আমরা আশা করব, এ মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইরানে মানবাকৃতির নতুন রোবট উদ্বোধন

বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে একটি মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছেন ইরানের বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন আমলের একজন পারসিক যোদ্ধার নামানুসারে এটির নাম রাখা হয়েছে সুরেনা-২। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এটির উদ্বোধন করেন।
খবরে জানানো হয়, প্রায় দেড় মিটার উচ্চতার এ রোবটটির ওজন ৪৫ কিলোগ্রাম। মানুষের মতো হাত ও পায়ের ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরগতিতে নড়াচড়া করতে পারে এটি। কোনো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষের পরিবর্তে ব্যবহার করার জন্য এ ধরনের রোবট তৈরি করা হয়েছে।

যশবন্ত সিংয়ের লেখা নিয়ে বিতর্ক ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া এক অধ্যায়’

ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির সভাপতি নীতিন গড়কারি বলেছেন, যশবন্ত সিং ফিরে আসায় দল আরও শক্তিশালী হবে। আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা করে যশবন্ত সিংয়ের লেখা বই নিয়ে বিতর্ক এখন ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া এক অধ্যায়’।
যশবন্ত সিং নিজের লেখা বইয়ে পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা করেন। দশ মাস আগে প্রকাশিত জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেনডেন্স নামের বইটি বিজেপিতে সমালোচনার ঝড় তোলে। একপর্যায়ে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এখন তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বইয়ে যা লিখেছেন তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেননি যশবন্ত সিং।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং ও রাম জেঠমালানির দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির প্রধান বলেন, কেউ যোগ দিলে দল শক্তিশালী হয়। এটি দলের জন্য ইতিবাচক।
যশবন্ত সিং প্রসঙ্গে নীতিন গড়কারি বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে যশবন্ত সিং চমৎকার। তিনি জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ একজন নেতা। দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন তিনি। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। বইটির প্রসঙ্গ ছাড়া তিনি দলের প্রতি দারুণ শ্রদ্ধাশীল।’
সম্প্রতি রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ীপ্রখ্যাত আইনজীবীজেঠমালানি প্রসঙ্গে গড়কারি বলেন, তিনি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেই দলে ফিরেছেন। নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, জেঠমালানি বিজেপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।

ইসরায়েলি তদন্ত কমিটির ক্ষমতা বাড়ানো হলো

গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’য় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের গঠিত তদন্ত কমিটির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল রোববার দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েলের সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার সর্বসম্মতভাবে তিরকেল কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনে দুজন বিশেষজ্ঞ যোগ দেবেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলবেন।’ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ইয়াকভ তিরকেল কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো না হলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো।
এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান ইয়াকভ তদন্তের স্বার্থে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক ও সেনাপ্রধান গাবি অ্যাশকেনাজিকে তলব করার কথা বলেছিলেন। এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, বারাক ও অ্যাশকেনাজি কমিশনের ডাকে সাড়া দিতে পারেন। তবে অন্য কোনো সামরিক কর্মকর্তা ওই কমিশনে হাজির হবেন না। তাঁরা সামরিক বাহিনীর তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হবেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে দুটি তদন্ত কমিশন গঠন করে ইসরায়েল। তবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ওই কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করে তুরস্ক, ফিলিস্তিনসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলা-সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ‘এইল্যান্ড কমিটি’ নামের ওই তদন্ত কমিটির ১১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
গত ৩১ মে ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। ওই হামলায় নয়জন নিহত হন। তাঁরা সবাই তুরস্কের নাগরিক। এর কয়েক দিন পর গাজা অভিমুখী আরেকটি ত্রাণবাহী জাহাজও আটকে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

সন্ত্রাস দমনে জাতীয় সম্মেলন করবে পাকিস্তান সরকার

সন্ত্রাস দমনে জাতীয় সম্মেলন করবে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এ সম্মেলন করতে রাজি হয়েছেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে তালেবান নেতাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসা উচিত—প্রধান বিরোধী দলের এমন পরামর্শের পর তিনি এ মত দিয়েছেন।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাহোরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার দুই দিন পর গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী গিলানি সন্ত্রাস দমনে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের প্রধান দুই দলের মধ্যে বিরল মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গিলানি ও বিরোধী নেতা নওয়াজ শরিফ সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। তবে এ আলোচনায় তালেবান নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
লাহোরে আত্মঘাতী হামলার পর ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একসময় এ জঙ্গিদের সমর্থন করত। পরে এসব জঙ্গি তালেবানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্র-বিরোধী তৎপরতা চালানো শুরু করে।
বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এন পার্টি পাঞ্জাব নিয়ন্ত্রণ করছে। দলটির প্রধান নওয়াজ শরিফ শনিবার তালেবান নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য তালেবান নেতারা প্রস্তুত।
তবে কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি নওয়াজ। পাকিস্তানে এ মুহূর্তে প্রচুর সংখ্যক জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে। তারা প্রায়ই একজোট হয়ে কাজ করে। আবার মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে তৎপরতা চালায়।
পাকিস্তান সরকার অতীতে আফগান সীমান্তবর্তী তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। কিন্তু এ চুক্তি বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তী সময়ে জঙ্গিরা আবার সংগঠিত হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
এদিকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার দারা আদম খেল এলাকায় রাস্তার পাশে পেঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়। ওই গাড়িতে তালেবান-বিরোধী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য ছিল।
এ হামলার দায়দায়িত্ব তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর তালেবানের দিকেই ছুড়েছেন কর্মকর্তারা।

লেবাননের শিয়া ধর্মীয় নেতা ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন

লেবাননের অন্যতম শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ হুসেইন ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে গতকাল রোববার বৈরুতের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। একসময় তাঁকে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
ফাদলাল্লাহর মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএফপিকে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, সৈয়দ ফাদলাল্লাহ মারা গেছেন।’ কয়েক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিভিশন ‘মানার’ ফাদলাল্লাহার মৃত্যুর খবর তাদের প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রচার করেছে। ফাদলাল্লাহর শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে মানার গতকাল স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ঘোষণা দেওয়ার কথা।
লেবাননে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ চলাকালে আলোচনায় আসেন ফাদলাল্লাহ। গৃহযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করার সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তিনি সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন।
ওয়াশিংটন সম্প্রতি হিজবুল্লাহ-প্রধান হাসান নাসারুল্লাহ ও ফাদলাল্লাহকে কালো তালিকাভুক্ত করে।

২০১৫ সালে চীনের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিতে পৌঁছাবে

২০১৫ সাল নাগাদ চীনের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। আর এদের অর্ধেকই থাকবে নগরবাসী। অর্থাৎ সেখানে ৭০ কোটি লোককে যাবতীয় নাগরিক সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। চীনের জনসংখ্যা পরিকল্পনা সংস্থা লি বিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে।
লি বিন বলেছে, আগামী পাঁচ বছর গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ শিল্পভিত্তিক নগরায়িত এলাকায় উঠে আসবে। এ সময়ের মধ্যে চীনে বয়স্ক লোকের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আগামীতে প্রতি বছর চীনে গড়ে প্রায় ৮০ লাখ লোক ৬০ বছরে পা দেবে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চীনে প্রতি বছর গড়ে ৪৮ লাখ লোক ৬০ বছর বয়সে পা দিয়েছিল।
লি বিন বলেছে, তাদের পরিসংখ্যান বলছে ২০১৫ সালে চীনে ৬০ বছর বয়সী লোকের সংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছবে।
১৯৭৯ সালের এক আইনের মাধ্যমে চীনে কঠোরভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করা হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এবং গোষ্ঠী ছাড়া একাধিক সন্তান জন্মদানের অনুমতি নেই।

কঙ্গোয় ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহতদের গণকবর

গণতান্ত্রিক-প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কিভু প্রদেশে তেলবাহী ট্যাংকারের বিস্ফোরণে নিহতদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দেশটির কিভু প্রদেশে ট্যাংকারটি বিস্ফোরণের পর আগুন সেইঞ্জ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে কমপক্ষে ২৩০ ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক আহত হন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ও সাহায্যকর্মীরা আহতদের চিকিৎসার কাজে সহায়তা করছেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রেডক্রসের কর্মীরা গতকাল মৃতদেহগুলো প্লাস্টিকের কাগজে মুড়ে সেইঞ্জ গ্রামের বাইরে দুটি গণকবরে সমাহিত করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কিভু প্রদেশের ভাইস গভর্নর জ্যাঁ ক্লদে কিবালা দুর্ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের এক মুখপাত্র মান্দোজি মনৌবাই জানান, দুর্ঘটনায় ২৩০ জন নিহত ও ১৯৬ জন আহত হন। রেডক্রস জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন শিশু ও ৩৬ জন নারী রয়েছেন। শান্তিরক্ষীরা আহতদের উদ্ধার করে উভিরা ও কিভুর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কঙ্গোতে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি লেইলা জেরুগি জানান, জাতিসংঘ দুর্গতদের সহায়তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে তাঞ্জানিয়া থেকে আসা দ্রুতগামী ট্যাংকারটি উল্টে গেলে চারদিকে তেল ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হলে আগুনের লেলিহান শিখা সেইঞ্জ গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধে পরমাণু বোমা

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনাকবলিত মার্কিন তেলক্ষেত্রটি থেকে দুই মাসের বেশি সময় ধরে তেল বেরিয়ে আসছে। তেল বেরিয়ে আসা বন্ধে তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তবে এখনো হাল ছাড়েনি তারা। আর তাদের জন্য নতুন বিকল্প হিসেবে বিজ্ঞানীরা এবার পরমাণু বোমা ব্যবহার করার কথা বলছেন।
রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্রাটেজিক স্ট্যাবিলিটির একজন পরিচালক ভিক্তর মিখাইলোভ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, বিপি কী জন্য অপেক্ষা করছে? একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ তেলক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। মাত্র ১০ কিলোটন ক্ষমতার একটি বোমার বিস্ফোরণই যথেষ্ট।’
কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে তেলক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করার জন্য পরমাণু বোমা ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। তবে ওয়াশিংটন বরাবরই এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং বিপিও বলছে, তারা কোনো বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা বিবেচনায় আনছে না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রটি থেকে দিনে ৬০ হাজার ব্যারেল তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আশঙ্কা বেড়েই চলছে।
অনেকেই মনে করছেন, পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে তেলক্ষেত্রটির ছিদ্র ও তেল নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব। ভিক্তর মিখাইলোভ রাশিয়ায় এ ধরনের একটি কর্মসূচিতে জড়িতও ছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ একটি গ্যাসক্ষেত্রের ছিদ্র বন্ধ করতে পরমাণু বিস্ফোরণ ব্যবহার করেছিল।
মিখাইলোভ জানান, মেক্সিকো উপসাগরের গভীরে একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো তেমন কোনো ক্ষতির কারণ হবে না। আর এতে খরচ হবে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি। সাগর থেকে তেল অপসারণ ও ক্ষতিপূরণে বিপির এ পর্যন্ত খরচ হওয়া ২৩৫ কোটি ডলারের তুলনায় এই ব্যয় অনেক কম।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী মিলো নরদিকেও বলেছেন, তেল নিঃসরণ বন্ধে বিপি ও সরকারের জন্য পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোই সর্বশেষ যৌক্তিক উপায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ম্যাথিউ সিমন্সও এই পদ্ধতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। পরমাণু বোমার ব্যবহারকে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও।
কিন্তু খুব শিগগির মেক্সিকো উপসাগরে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা নেই। এমনকি প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করার কথাও ভাবছে না বিপি বা মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা অ্যান্ডি র‌্যাডফোর্ড আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এ ছাড়া সময়ের প্রশ্নও রয়েছে। একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিপি আগস্টের মধ্যে বিকল্প কূপ খননের মাধ্যমে যে পদ্ধতিতে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধের পরিকল্পনা করেছে, সেটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা ভারত বন্ধ্

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সোমবার ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে চারটি বামদলসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। একই দিনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পৃথকভাবে ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতজুড়ে বন্ধ্ চলবে। চারটি বামপন্থী দল—সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি প্রথমে বনেধর ডাক দেয়। পরে এতে সমর্থন জানায় তেলেগু দেশম, এডিএমকে, বিজেডি, সমাজবাদী পার্টি, জনতা দল (এস), আইএনএলডিসহ বেশ কয়েকটি দল।
গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলের দাম ৩ দশমিক ৬৫, ডিজেল ১ দশমিক ৯৫, কেরোসিন ২ দশমিক ৯৭ এবং গ্যাস সিলিন্ডারপ্রতি ৩৬ দশমিক ৪০ বাড়িয়ে দেয়। এর আগে বামপন্থীদের ডাকে ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টা ও কেরালায় ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয়। ২৮ জুন ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ পালিত হয় ত্রিপুরায়।
ভারতের চারটি বামদলসহ ধর্মনিরপেক্ষ ১৩টি রাজনৈতিক দল একই কারণে গত ২৭ এপ্রিল ভারতজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্ধ্ পালন করে।
মাওবাদীদের ৪৮ ঘণ্টার বনেধর ডাক: অন্ধ্র প্রদেশের শীর্ষ মাওবাদী নেতা চেরিপুরি রাজকুমার ওরফে আজাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মাওবাদীরা ৭ ও ৮ জুলাই ৪৮ ঘণ্টার ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে। গতকাল বনেধর ডাক দিয়ে মাওবাদী নেতা কিষেণজি বলেন, আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজাদের হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ পালন করবেন।
আজাদের বাড়ি অন্ধ্র প্রদেশের কৃষ্ণা জেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে রয়েছে ৩২০টি মামলা। অন্ধ্র প্রদেশ সরকার তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১২ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

নিখোঁজ বিজ্ঞানীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চাপ

নিখোঁজ এক ইরানি বিজ্ঞানীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কিছু তথ্য হস্তান্তর করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে মার্কিন তদন্তের ফল ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল রোববার সে দেশের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এ খবর জানায়। তেহরানে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসে এ তথ্য হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সুইস দূতাবাস সেখানে মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করে।
গত বছরের জুনে শাহরাম আমিরি নামের ওই ইরানি বিজ্ঞানী নিখোঁজ হন। ইরানের দাবি, সৌদি আরবে হজের সময় তাঁকে অপহরণ করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সদস্যরা আমিরিকে অপহরণ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, ‘বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে সিআইয়ের মাধ্যমে অপহরণসংক্রান্ত তথ্যাদি তেহরানের সুইস দূতাবাস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, মার্কিন প্রশাসন ইরানি ওই ব্যক্তির অপহরণের তদন্তের ফল ঘোষণা করবে।’
গত মার্চে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আমিরিকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে এবং তিনি সিআইএকে সাহায্য করছেন। অবশ্য মার্কিন প্রশাসন ওই খবরের সত্যতা অস্বীকার করে। গত কয়েক মাসে আমিরিকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র ইরানের সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
গত ২৯ জুন প্রচারিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি নিজেকে আমিরি দাবি করে বলছেন, তিনি সিআইয়ের হাত থেকে পালাতে পেরেছেন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি যেকোনো সময় আবার আটক হতে পারেন। তিনি দেশে জীবিত ফিরতে না পারলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। অবশ্য গত মঙ্গলবার ইরানের প্রচারমাধ্যমের এ দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

কনকর্ডে বোতলের পানিকে ‘না’

প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিকের বর্জ্য দেখে চিন্তিত হয়ে পড়লেন জিয়ান হিলের নাতি। বিষয়টি তিনি ভীষণ উদ্বেগের সঙ্গে দাদিকে জানালেন। নাতির কথা শুনে দাদি জিয়ান হিল আর চুপ থাকতে পারলেন না। মহাগুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তিনি নগর কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করলেন। আলোচনার টেবিলে বসলেন নগর কর্তারা। চলল তীব্র বাদানুবাদ। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, আর যাই হোক, কনকর্ডে বোতলের পানি চলবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরের নাম কনকর্ড। সেখানে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে কনকর্ড নগরের বাসিন্দাদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে কনকর্ড নগর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চটেছেন পানি ব্যবসায়ীরা। বোতলের পানি নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলীয় শহর বুন্ডানুনে আনুষ্ঠানিকভাবে বোতলের পানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সিডনি থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত ছোট্ট শহর বুন্ডানুন। পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয় এ শহরের লোকসংখ্যা মাত্র দুই হাজার। বিশাল একটি ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত বলে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে সেখানে।
বুন্ডানুন শহরের কর্তারা গত বছরের জুলাইয়ে এক বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করার পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হয়। এতে ৩৫৫-১ ভোটে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অনুমোদিত হয়।
বুন্ডানুন শহরের কর্মকর্তা হু কিংস্টন বলেছেন, ‘সুপেয় পানিকে আরও সহজলভ্য করাই হলো আমাদের উদ্দেশ্য। এ জন্য আমরা শহরজুড়ে চারটি পানির কেন্দ্র ও ফোয়ারা স্থাপন করেছি। এর একটি আবার স্থাপন করা হয়েছে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গণে।’ তিনি জানান, বুন্ডানুনের অনেক ব্যবসায়ীও তাঁদের দোকান ও ক্যাফেতে পানি শোধনের যন্ত্র স্থাপন করেছেন।
কিংস্টন বলেন, সর্বসাধারণের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা গেলে বোতলের পানির চাহিদা এমনিতেই কমে যাবে। তিনি বলেন, বুন্ডানুনে আইনগভাবে বোতলের পানি নিষিদ্ধ করা হয়নি। শহরের সবাই স্বেচ্ছায় বোতলের পানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্লাস্টিকের বর্জ্য এড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কনকর্ড ও বুন্ডানুন নগরের বাসিন্দারা বোতলের পানিকে ‘না’ বলেছেন।

বেক্সটেক্স লিমিটেডের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন

বেক্সটেক্স লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবোতে বেক্সিমকো শিল্পপার্কে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই বোনাস শেয়ার অনুমোদন করা হয়। এতে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পরিচালক এম এ কাশেম ও এ বি সিদ্দিকুর রহমান, আইনি উপদেষ্টা রফিক-উল হক এবং নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. আসাদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০০৯ সালে বেক্সটেক্স লিমিটেডের মোট মুনাফা ও নিট মুনাফা হয় যথাক্রমে ২৯২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ বিধি সংস্কার জরুরি

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলি খান বলেছেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও আইনকানুনে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ডিজিটাল মানে কেবল কম্পিউটার নয়।
সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে ব্যবসায়ী এম এস সিদ্দিকী রচিত রেগুলেটরি রিফর্ম: বাংলাদেশ পারসপেকটিভ শিরোনামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আকবর আলি খান গতকাল রোববার এসব কথা বলেন।
কোনো আইন বা বিধিবিধান প্রণয়নের সময় তার সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে জনসমুক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানান আকবর আলি খান। তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো আইন প্রণয়নের সময় তা থেকে কী লাভ-লোকসান হবে, তা হিসাব করা হয়নি। কেউ কখনো চেষ্টা করেছেন বলেও আমার জানা নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সোমাইয়া খায়েরের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বেসরকারি লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য কবির হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক রিদওয়ানুল হক।
বইটি সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, রেগুলেটরি সংস্কারের জন্য রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশন করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটির নিজের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ সংস্কারের জন্য যে দক্ষ জনবল দরকার, তা প্রতিষ্ঠানটির নেই।

মূসক প্রত্যাহার করে ৪ শতাংশ টার্নওভার কর বসানোর দাবি

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে দেশীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে দেশের পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বলে এ খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারক সমিতি জানিয়েছে।
সমিতি দেশীয় কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত এসব পিভিসি পাইপ কারখানাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহার করে আগের মতো ৪ শতাংশ টার্নওভার কর বসানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ দাবিতে সমিতির পক্ষ থেকে আজ সোমবার পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে দোকান বন্ধ রাখাসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে সমিতি।
সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের প্রথম আলোকে বলেন, কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহূত পিভিসি পাইপ কারখানাগুলো কুটির শিল্পের আওতায় আনায় দেশে এ শিল্পের বিকাশ ঘটে। মাত্র ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত যন্ত্র দিয়ে এসব কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি কারখানার বার্ষিক বেচাবিক্রির পরিমাণ ১০ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আবুল খায়ের বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসারে কোনো কারখানায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে অথবা বার্ষিক বেচাবিক্রির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তা কুটির শিল্প। আর কুটির শিল্পে মূসক দিতে হয় না।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কুটির শিল্পের আওতাভুক্ত হলেও এ শিল্পে ৪ শতাংশ টার্নওভার কর বসানো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি বড় কারখানার স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বাজেটে ছোট ছোট এই পিভিসি পাইপ কারখানার ওপর অযৌক্তিকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
মো. আবুল খায়ের আরও বলেন, বেশির ভাগ কারখানা পারিবারিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উৎপাদিত পিভিসি পাইপের ৯৫ শতাংশ কৃষিতে সেচের পানি উত্তোলনে ও বিশুদ্ধ খাবার পানি উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত হয়, যা দেশের ৯০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পানি উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত হয়।
সমিতি জানায়, এই ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রদান করা হলে একদিকে কারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যদিকে সেচের পাইপের দাম বাড়বে, যা সরাসরি দেশের কৃষকদের ক্ষতি করবে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ মূসক কর্মকর্তারা খাতাপত্র দেখার অজুহাতে বিভিন্ন রকম হয়রানি করবেন। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।
এই অবস্থায় দেশীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ মূসকের বদলে আগের মতো ৪ শতাংশ টার্নওভার (মোট বেচাবিক্রির ওপর) কর বসানোর দাবি জানিয়েছে সমিতি।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সদ্য সমাপ্ত ২০০৯-১০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৮ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে এক হাজার ৮৪১ কোটি টাকা বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে এ নিয়ে ছয়বার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানিপণ্যের সঠিক শুল্ক মূল্যায়ন, গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যকর টিমওয়ার্কের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ উদ্যোগ নিয়েও পুরোনো রাজস্ব আদায় হয়েছে গত অর্থবছরে।

কাজের জন্য বিদেশে যেতে সহজে ঋণদেওয়া হবে

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামে নতুন একটি ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
কাজ বা চাকরির উদ্দেশ্যে যাঁরা বিদেশ যেতে চান, তাঁদের এ ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণ তাঁরা পরে শোধ করে দেবেন। ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে নামমাত্র। তবে ঋণের বিপরীতে তেমন কোনো জামানত নেওয়া হবে না।
মন্ত্রিসভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে খানিকটা সংশোধনী আনা হয়েছে। আগের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার কথা ছিল। এই ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে সরকার।
গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন-২০১০’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ব্যাংকটি সীমিত আকারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে ভবিষ্যতে তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তরিত হতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গঠনের ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় সামান্য সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়। এই অর্থ জমা হয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল নামক একটি তহবিলে। তহবিলে বর্তমানে ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে। ব্যাংক গঠনের মূল অর্থ আসবে এ তহবিল থেকে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এতে সরকার পাঁচ কোটি টাকা জোগান দেবে। বাকি ৯৫ কোটি টাকা আসবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে। অর্থাৎ সরকার ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল এ ব্যাংকের উদ্যোক্তা।
তবে ব্যাংকটি প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো কোনো ব্যাংক হবে না। বরং কর্মসংস্থান ব্যাংক বা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো বিশেষায়িত ব্যাংক হবে। ব্যাংকটি কখনো মূলধন বা আর্থিক সংকটে পড়লে সরকারের কাছ থেকে অনুদান বা ঋণ নিতে পারবে।
সূত্র জানায়, বিদেশে যেতে শুধু ঋণের সুযোগ দেওয়াই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বরং বিদেশ থেকে দেশে পরিজনের কাছে পাঠানো অর্থ পরিবারের সদস্যরা শুধু ভোগে ব্যয় না করে যেন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, তাতে উৎসাহিত করাও এ ব্যাংক গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটি গঠিত হলে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো সম্পর্কিত সব ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে।
শুরু থেকেই তফসিলি ব্যাংক গঠনের দাবি ছিল প্রবাসীদের। কিন্তু আর কোনো তফসিলি ব্যাংকের নিবন্ধন দিতে সরকার নারাজ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে তফসিলি ব্যাংকের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকও নেতিবাচক জবাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, অনুমোদিত আইনের খসড়াটি শিগগির ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে এর খুঁটিনাটি যাচাই করে দেখবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তারপর এটি উপস্থাপন করা হবে জাতীয় সংসদে। সংসদে পাস হওয়ার পর ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশ্বকাপ উৎসব ২০১০ উদযাপিত

মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি ও চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদের যৌথ উদ্যোগে ৩ জুলাই ‘বিশ্বকাপ উৎসব ২০১০’ উদযাপন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল উভয় প্রতিষ্ঠানের করপোরেট গ্রাহকদের একত্রিত করা। রবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যাত্রা শুরুর পর থেকেই রবি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে হোটেল আগ্রাবাদ ৪০ বছর ধরে সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও জার্মানির মধ্যবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যুত্ কুমার বসু বলেন, এই করপোরেট সন্ধ্যার মাধ্যমে করপোরেট ও সেবা—দুটি সেক্টরকে একত্রিত করতে পেরে রবি সত্যিকার অর্থেই আনন্দিত।
হোটেল আগ্রাবাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাকিম আলী ব্যতিক্রম এই উদ্যোগে হাত মেলানোর জন্য রবির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক বাজারে এখন চালের দাম তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বাড়ায় চালের দাম কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের যখন এই পরিস্থিতি, সে সময় দেশের মধ্যে বাড়ছে চালের দাম। বোরোর নতুন চাল বাজারে আসা শুরু হলেও চালের দাম কমেনি। তিন টাকা উৎসাহ মূল্য দেওয়ার ঘোষণায় বাজার আরেকটু অস্থির হয়েছে। বলা যায়, নতুন অর্থবছর শুরু হলো অস্থির চালের বাজার নিয়ে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই এখন দেখা হচ্ছে ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর এ জন্য বাড়াতে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ দুই চ্যালেঞ্জের কথা বারবারই বলেছেন।
খরচের অর্থবছর: ১ জুলাই শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে সরকারকে খরচ করতে হবে এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। হিসাবটা এ রকম: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, রাজস্ব বাজেট থেকে অর্থায়নকৃত উন্নয়ন কর্মসূচি এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা এবং এডিপি-বহির্ভূত প্রকল্প এক হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থের পুরোটাই অনুন্নয়ন ব্যয়, যার বড় অংশ যাবে বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ এবং ভর্তুকি ও চলতি স্থানান্তর ব্যয় খাতে।
অনুন্নয়ন বা রাজস্ব বাজেট সরকার অনায়াসেই খরচ করতে পারবে। কিন্তু বড় সমস্যা উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে। অর্থমন্ত্রী এবার আগের অর্থবছরের তুলনায় অনুন্নয়ন বাজেট বাড়িয়েছেন ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং উন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। যেকোনো অর্থবছরের হিসাবেই এটি একটি রেকর্ড। সুতরাং অর্থমন্ত্রীর জন্য নতুন অর্থবছরে বড় চ্যালেঞ্জ এই এডিপি বাস্তবায়ন।
গত অর্থবছরের মূল এডিপি ছিল সাড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার। এটি সংশোধন করে করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত এটিও খরচ হবে না। ফলে প্রকৃত পক্ষে এডিপি বাড়ানো হয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি।
জ্বালানিসংকটের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অতি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। আবার কয়েক বছর ধরেই মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় (জিডিপি) সরকারি বিনিয়োগের হার ক্রমাগতভাবে কমে আসছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরেও যেটি ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ, তা এখন ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
২০০২-০৩ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় মোট বিনিয়োগের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। পরের অর্থবছর বেড়ে হয় ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। সেই যে বিনিয়োগের হার ২৪ শতাংশ হলো, এখনো তা ২৪ শতাংশের মধ্যেই রয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছর নাগাদ তাঁর লক্ষ্য এই বিনিয়োগ ৩২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। আর তা করতে হলে কাজ শুরু করতে হবে এই অর্থবছর থেকেই। এটাই এখন অর্থমন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
গত অর্থবছর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপি। সেটি করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী আবার নতুন করে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। এই পিপিপিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করছে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে নানা শঙ্কা: নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারের প্রথমটিই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দুঃসহ চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সময়মতো আমদানির সুবন্দোবস্ত, বাজার পর্যবেক্ষণসহ বহুমুখী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মজুদদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। ভোক্তাদের স্বার্থে ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য কমানো হবে ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বিদায়ী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ছয় শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে। মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। জুন শেষে কত হয়েছে, তা জানা যাবে আরও পরে। তবে সাত শতাংশের ওপরে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ওপর চলতি অর্থবছরে অর্থমন্ত্রীর প্রাক্কলন মূল্যস্ফীতি হবে আরও সাড়ে ছয় শতাংশ। সুতরাং নতুন অর্থবছরেও এ নিয়ে ভালো কোনো সংবাদ নেই বলা যায়। তার ওপর আবার অর্থমন্ত্রী ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা সেই আগের স্তরেই রেখে দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিই হয়তো ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষকে খানিকটা খুশি করবে।
কর আদায়ের অর্থবছর: কয়েক অর্থবছরের মধ্যে এবারের বাজেটেই করসংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ অর্থমন্ত্রী নিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতির বড় ধরনের হেরফের হয়নি। এবার মানুষকে কর দিতে হবে ৯২ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় অংশই মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট।
এবার অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আবার বাড়িয়েছেন উৎসে আয়করের হার। ফলে এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়বে। তবে এতে বাজারের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, নতুন বাজেটের কর প্রস্তাবের কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং একদিকে কর আদায় আবার অন্যদিকে এর বিরূপ প্রভাব থেকে সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষকে রক্ষা করাই হবে অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

‘ডোন্ট ক্রাই ফর মি আর্জেন্টিনা’ by মোহীত উল আলম

ওপরের শিরোনামের বিখ্যাত গানটি প্রথমে গীত হয় ১৯৭৮ সালে এভিটা নামের একটি মিউজিক্যালে (সংগীতপ্রধান চলচ্চিত্র)। পরে ১৯৯৬ সালে সুবিখ্যাত পপগায়িকা ম্যাডোনা এভিটার আরেকটি সংস্করণে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে এবং গানটি গেয়ে তা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলেন।
এভিটা চলচ্চিত্রটি ছিল আর্জেন্টিনার সাবেক ফার্স্ট লেডি প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরনের স্ত্রী ইভা পেরনের (১৯১৯-১৯৫২) ওপর। ক্ষণজন্মা এই মহিলা আর্জেন্টাইনদের খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু মাত্র ৩৩ বছরে তিনি ক্যানসারে মারা যান। যা হোক, নতুন সংস্করণে ম্যাডোনার গাওয়া গানটির কথা (টিম রাইস) ও সুর (অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবার) খুবই মর্মস্পর্শী। গানটির মূল কথা হলো: আর্জেন্টিনার লোকেরা যেন তাঁর (ইভা) জন্য না কাঁদে। নিজের উৎক্ষিপ্ত জীবনযাপন সত্ত্বেও তিনি কখনো আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর দায়িত্ব ভোলেননি। আর্জেন্টিনা যেন তাঁকে দূরে সরিয়ে না রাখে।
ম্যারাডোনার জন্য এই গানই যেন গাওয়া যায়। হ্যাঁ, জার্মানি-আর্জেন্টিনা খেলার এই পরিণতি সবচেয়ে আশাবাদী জার্মান খেলোয়াড় বালাকের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেছিলেন, জার্মানি জিতবে ৩-১ গোলে। সেখানে হয়ে গেল ৪-০।
একটা প্রতিক্রিয়া হয় অতিশোকে পাথর হয়ে যাওয়া। আরেকটা প্রতিক্রিয়া হয় শোক ভুলে হাসার চেষ্টা করা। মনটা তো হালকা করতে হবে। যেমন জাপান করেছে। প্যারাগুয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডে টাইব্রেকারে তাদের খেলোয়াড় কোমানো গোল মিস করেন। ওই কারণে জাপানও বেরিয়ে যায় বিশ্বকাপ থেকে। কিন্তু কোমানোর জেলা (প্রিফেকচার) কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছে, তারা একটি সম্মাননা মেডেল দেবে জাপানের ফুটবলে তাঁর অবদানের জন্য। এ ধরনের সিদ্ধান্তের অসুবিধা হলো যে, কোথায় যেন একটা মশকরা হচ্ছে—এই ভাবটা থেকেই যায়। অথচ এদিকে ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তাঁর দেশের খেলোয়াড় ফিলিপ ডি মেলোকে, তিনি যেন বাড়ি ফেরার চিন্তা না করেন। কারণ জার্মানির বিরুদ্ধে মেলো শুধু আত্মঘাতী প্রথম গোলটিই করেননি, লাল কার্ডও খেয়েছিলেন।
কোচ ম্যারাডোনার ব্যর্থতা সেই পুরোনো প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এল। ভালো খেলোয়াড়েরা কি ভালো কোচ হতে পারেন না? আমাদের শিক্ষকতার পেশায় দেখেছি প্রশ্নটি অমীমাংসিত। বহু ভালো ছাত্র যেমন ভালো শিক্ষক হতে পারেননি, তেমনি বহু ভালো ছাত্র ভালো শিক্ষক হতেও পেরেছেন। তবে খেলাধুলায় মনে হয় উত্তরটা মূলত ‘না’। ক্রিকেটে তো দেখিই না যে একজন ভালো ক্রিকেটার ভালো কোচ হয়েছেন, যদিও ফুটবলে কেউ কেউ ভালো কোচ হয়েছেন, যেমন—জার্মানির বেকেনবাওয়ার। জার্মানির বর্তমান কোচ জোয়াকিম লো ছিলেন নামকরা ফুটবলার-কাম-কোচ জুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী গত বিশ্বকাপে। খেলোয়াড় হিসেবে লো-র কোনো নাম ছিল না। অথচ তিনি একদল তরুণকে মাঠে ছেড়ে দিয়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে চার চারটি করে গোল আদায় করে নিয়েছেন। না, ক্লোসা, পোডোলস্কি, মুলারের জার্মানি মোটেও লোথার ম্যাথাউসের ‘জার্মান ট্যাংক’ কায়দায় খেলেনি; খেলেছে ইউরোপের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনের ধারা মিশ্রিত করে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্লোসা-মুলার-পোডোলস্কি মিলে যে দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন, সেই শূন্য-সম্ভাবনা থেকে সৃষ্টি করা গোলটির দৃশ্য এখনো চোখের সামনে ভাসে। দক্ষতা ও সৃজনশীলতার এমন সম্মিলন কীভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন জোয়াকিম লো! টিভি ভাষ্যকার একবার বলেছিলেন, জার্মানি নাকি ১৯৯০ সালের শুরুতে নতুন প্রজন্ম থেকে খেলোয়াড় তৈরি করার একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেটিই এখন ফল দিতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে মেসিদের বল ধরে রাখা এবং অগুনতি পাসের বাহুল্য দেখে যেমন এক যুগ আগের আর্জেন্টিনার ওর্তেগা-আইমারের নিষ্ফলা পাসের ধাঁধা সৃষ্টির কথা মনে হচ্ছিল, তেমনি মনে হচ্ছিল যেন মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা সে খেলাটাই খেলল, যখন গাছের জন্য বন দেখা যায় না। সাহিত্যতত্ত্বের ভাষায় বলতে হয়, আর্জেন্টিনার হিজিবিজি পাসের আধিক্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন ফরাসি মার্ক্সবাদী দার্শনিক ও তাত্ত্বিক লুই আলথুসারের গদ্য পড়ছি—এমন কঠিন, এগোনো যাচ্ছে না। একবার মাঠের মাঝখানে মেসি, মারিয়া ও ওতামেন্দি মিলে ২০টি পাস খেললেন। খামাখা। বলা হয়ে থাকে, মোট চার পাস থেকে গোল হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। আর চার থেকে পাঁচ পাসে গেলে গোল হওয়ার সম্ভাবনা নেমে আসে ১৯ শতাংশে।
কী দেখলাম! ‘মেসিডোনা’ যৌগিক শব্দটা শেষ পর্যন্ত টিকল না। লিওনেল মেসি ওয়েন রুনির মতো একজন ব্যর্থ ফুটবলার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইলেন, আর ম্যারাডোনা রয়ে গেলেন সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে। আবারও প্রমাণিত হলো, কেউ-ই আসলে ম্যারাডোনার মতো খেলতে পারেন না।