Sunday, August 4, 2019

কাশ্মীর নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন ইমরান খান ও মোদি

ভারত সরকারের বিশেষ সতর্কাবস্থার মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডনের উর্দু সংস্করণে বলা হয়, রোববার বিকাল তিনটায় পাকিস্তানের জাতীয় সুরক্ষা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

ইমরান খানের তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ফেরদৌস আশেক আওয়ান এক টুইটবার্তায় বলেন, কাশ্মীর সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সুরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

তিনি জানান, জাতীয় সুরক্ষা কমিটির বৈঠকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে।

এদিকে কাশ্মীর বিষয়ে সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সোমবার সকাল ৯টায় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সঙ্গে কাশ্মীর বিষয়ে মতবিনিময় করবেন তিনি।

অন্যদিকে কাশ্মীরজুড়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে আরও অতিরিক্ত ৩৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। কাশ্মীরের কেরান সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সেনার গুলিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ারও দাবি করেছে ভারত।

অমরনাথমুখী হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ওপর জঙ্গি হামলা হতে পারে এমন গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতের সেনাবাহিনীর দাবি,কাশ্মীরের বিদ্রোহীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত এম-২৪ স্নাইপার রাইফেলের একটি বড় ভাণ্ডার জব্দ করেছে তারা।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তীর্থযাত্রায় সম্ভাব্য ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন তথ্য পাওয়ার পরদিন এই অস্ত্রভাণ্ডার জব্দ করা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

কী ঘটতে চলেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে? by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র জল্পনার মধ্যেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন।
গত দশদিনে কাশ্মীরে প্রায় বাড়তি পঞ্চাশ হাজার সেনা মোতায়েন এবং তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার পর কাশ্মীরে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রীনগর থেকে সাধারণ মানুষরাও বিবিসিকে জানাচ্ছেন, এমন 'মানসিক নির্যাতনে'র মুখে তারা কখনও পড়েননি।
দিল্লিতে সামরিক পর্যবেক্ষক বা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও কাশ্মীর নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু পূর্বাভাস করতে পারছেন না, তবে সাঙ্ঘাতিক বড় কিছু একটা ঘটতে চলেছে বলেই তাদেরও অনুমান।
গত বাহাত্তর ঘন্টা বা তারও বেশি সময় ধরে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শ্রীনগর উপত্যকা বা 'ভ্যালি' বলে পরিচিত অঞ্চলটিতে যে ধরনের থমথমে উত্তেজনা আর আতঙ্ক বিরাজ করছে, তা কাশ্মীরের স্ট্যান্ডার্ডেও রীতিমতো নজিরবিহীন।
ভ্যালিতে বাড়তি পঞ্চাশ হাজার সেনা ঠিক কী করতে আনা হল, কেন অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের বা গুলমার্গ-পহেলগাম থেকে পর্যটকদের হুড়োহুড়ি করে ফেরত পাঠানো হল - এইসব প্রশ্নকে ঘিরে উত্তাল হয়ে রয়েছে কাশ্মীরের জনমন।
কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির সিনিয়র প্রফেসর ও শিক্ষাবিদ ড: হামিদা বানো বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ভয়ে-আতঙ্কে আমরা তো হতবাক।"
"গত কদিন ধরে কাশ্মীরিদের ওপর যে ধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্ট্রেস ও ট্রমার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে তাতে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই ক্ষতি অপূরণীয়।"
"কেনই বা বাড়তি দুলক্ষ সৈন্য এল, কেনই বা তীর্থযাত্রী বা ট্যুরিস্টদের জোর করে বাসে তুলে সরিয়ে নেওয়া যাওয়া হল তার কোনও জবাবই পাচ্ছি না আমরা।"
"শোকবিহ্বল কাশ্মীর যেন একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রান্তরের চেহারা নিয়েছে, শ্রীনগর আজ খাঁ খাঁ করছে", বলছিলেন প্রোফেসর বানো।
এই অনিশ্চয়তার পটভূমিতেই দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ লম্বা আলোচনা সেরেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, র-এর প্রধান সামন্ত গোয়েল, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-র অধিকর্তা অরবিন্দ কুমার সহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের দিক থেকে বড় মাপের কোনও অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পুলওয়ামার ধাঁচে আর একটি বড় জঙ্গী হামলা চালানোর চেষ্টা চলছে বলেও তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে।
দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের কর্ণধার ও সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জিও বিশ্বাস করেন, "কাশ্মীরে অবশ্যই বড় কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে - যদিও সেটা ঠিক কী এখনও জানা নেই।"
"নইলে এত বাড়তি সেনা সেখানে নিয়ে যাওয়া বা উচ্চ-পর্যায়ে এমন জরুরি বৈঠকের দরকার পড়ত না।"
"হয়তো বড় কোনও হামলার খুব বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আছে, সেই জন্যই তীর্থযাত্রীদের এভাবে সরানো হল। কাশ্মীরে কোর কমান্ডারের কথাতেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে।"
"আবার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক যোগসূত্রও থাকতে পারে। কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন করাতে হবে, বিধানসভা নির্বাচনও সামনেই।"
"আর সেখানে বিজেপির কাশ্মীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাড়তি সেনা নিয়ে আনা হল, সেটাও একটা ব্যাখ্যা হতে পারে", মনে করছেন ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত ওই শীর্ষ কর্মকর্তা।
সরকার কাশ্মীরে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটো সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।
এক, বিজেপির বহু পুরনো নীতি অনুসারে সংবিধানের যে ৩৭০ ধারা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয় তা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাতারাতি বিলোপ করা।
আর দুই, রাজ্যটিকে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ - এই তিনভাগে ভাগ করে ফেলা, যাতে কাশ্মীরের স্বতন্ত্র স্বীকৃতি আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যায়।
দিল্লি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উজ্জ্বল কুমার সিং বিবিসিকে বলছিলেন, "সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণে পার্লামেন্টে সাধারণ গরিষ্ঠতা থাকলেই কিন্তু একটা রাজ্যকে ভেঙে দুই বা তিন টুকরো করা যায়, যদি কোনও সরকার তা চায়।"
"কিন্তু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে বিষয়টা তো আইনি সিদ্ধান্ত নয়, একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তারপরেও সেখানে যে পরিমাণ বিল্ড-আপ হয়েছে, তাতে এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।"
"আর একটা জিনিস হল, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার পর ভ্যালিতে শুধু কিন্তু এখন কাশ্মীরিরাই রয়েছেন।"
"ভারতের নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তার প্রতিও রাষ্ট্র সমান যত্নবান হবে এটাই আশা করা উচিত, কিন্তু সেই ছবিটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না", বলছেন অধ্যাপক সিং।
ফলে কাশ্মীর ভ্যালির প্রায় সত্তর লক্ষ মানুষ এখন দিন কাটাচ্ছেন চরম এক অনিশ্চয়তা আর অজানা আতঙ্কেই।

গাজাবাসীর হজের স্বপ্নপূরণ

দীর্ঘ দিন ধরে গাজা অবরুদ্ধ। হজ পালনের জন্য নানান ঝোক্কি তাদের পোহাতে হয়। সেই ঝোক্কি সামাল দিয়ে হজের স্বপ্নপূর্ণ করতে বহু সময় লেগে যায় তাদের। কিন্তু এবার তাদের দিকে তাকিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে ফিলিস্তিনি সরকার। বিমানে মাধ্যম হজ করিয়ে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে এই সরকার। তার জন্য মিসর ও সৌদি আরবেরও সহযোগিতা পেয়েছে তারা।
ওমর মুহাম্মদ রাবোউন, ১০ বছরের ধরে হজে যাওয়ার জন্য উগ্রিব হয়ে ছিলেন।কিন্তু এবছর ওমর ও তার স্ত্রী আমিরার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সম্প্রতি, ফিলিস্তিনি সরকারের আওতাধীন ইসলামিক ওয়াকাফ মন্ত্রণালয়ের লটারিতে তাদের নাম হজে যাওয়ার জন্য অনুমোদিত হয়েছে। খবরটি শোনা মাত্রই তাদের আনন্দের অন্ত নেই।
৬৯ বছরের ওমর, একজন জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ সংস্থা ইউআরডব্লিউএ-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তিনি জানিয়েছেন,কাবা ও মদিনায় যাওয়ার জন্য তিনি আর প্রতীক্ষা করতে পাচ্ছেন না।তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে যাওয়া সুযোগ পাওয়া জন্য অপেক্ষা করেছি, অবশেষে এক মুসলিম হিসেবে ইসলাম নির্দেশিত হজ করার সুযোগ পাচ্ছি।'
সম্প্রতি, ওমরের মতো বহু ফিলিস্তিনি হজযাত্রীদের নিরাপদে হজ পালন করানোর জন্য কায়রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সঙ্গে প্যালেসটাইন এয়ারওয়েজ-এর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, হজযাত্রীরা অতি সহজেই কায়রো বিমানবন্দর থেকে মদিনায় পৌঁছে যাবেন। কিন্তু, ওমর কোনো দিন বিমানে সফর করেননি। তবু, এই সফর নিয়ে তিনি একটুও চিন্তিত নন। তার কথায়, আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং আমি জানি আমাদের জীবন আল্লাহর হাতেই রয়েছে।' তবে, চার পুত্র ও পাঁচ কন্যার জননী আমিরা বলেছেন, আমি কোনো দিন বিমানে যাত্রা করিনি। তাই, সত্যি কথা বলে কী আমি একটু বিষয় নিয়ে ভয় পাচ্ছি।'
ইতিমধ্যে ওমর ও আমিরা তাদের টিকিট এবং ভাউচার পেয়ে গেছেন।হানিফ ট্র্যাভেল এজেন্সি তাদের হজযাত্রার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই পর্যটন সংস্থার মালিক মুহাম্মদ আবদেল বারি জানিয়েছেন, এ বছর থেকে হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনা পৌঁছাতে অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না। অতি সহজে কম সময়ের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছে যেতে পারবেন। আমরা মিসর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলছি। তার ফলে হজযাত্রীদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না। কেবল মাত্র প্রথম চেক পোস্টেই তাদের চেকিং-এর সামনে পড়তে হবে। তারপর তারা কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সিনাইয়ের অন্য চেকপয়েন্টগুলোকে সহজেই অতিক্রম করতে পারবেন।
ফিলিস্তিনি বিমান সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা রামাদান বারঘৌটি বলেন, ফিলিস্তিনি কোম্পানি হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য মিসরের বিমান সংস্থা ইজিপটএয়ার-এর কাছ থেকে আধুনিক বিমান ভাড়া করেছে। এই বিমানগুলো মাধ্যমে যাত্রীরা নিরাপদ ভাবে হজে যাওয়া-আসা করতে পারবেন। এছাড়া থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে প্রতি হজযাত্রীর ৩,৯৪২ ডলার খরচ হবে।
উল্লেখ্য ২৫ জুলাই থেকে গাজার নাগরিকদের হজ শুরু হয়েছে। তারা ১৮ আগস্ট ফিরবেন। ফিলিস্তিনি পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবছর গাজা থেকে প্রায় ৩০০০ গাজাবাসী হজযাত্রা করছেন। তাদের জন্য আরবে থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
>>>সূত্র : কলম

‘বেদনাহীন আত্মহত্যা’ উৎসাহিত করার অভিযোগ তসলিমার বিরুদ্ধে

শান্তিতে বা বেদনাহীন আত্মহত্যার উপায় বলে দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারতের ক্যাফে কফি ডে প্রতিষ্ঠাতা ভি সিদ্ধার্থ সম্প্রতি আত্মহত্যা করেন। এ নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা রকম কথা। তবে তসলিমা নাসরিনের একটি টুইটকে কেন্দ্র করে বেশ জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মুম্বই মিরর। এতে তসলিমার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাতে নেত্রবতী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন সিদ্ধার্থ (৬০)।
তিনি নিখোঁজ এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট করেন তার গাড়িচালক। এরপর থেকেই ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অবশেষে বুধবার সকালে উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। তার মৃত্যুতে সারা ভারতে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে তসলিমা নাসরিন একটি টুইট পোস্ট করেন। তাতে তিনি বেদনাহীন আত্মহত্যার উপায় বলে দেন। কেউ যদি আত্মহত্যা করতে চান কীভাবে এ উপায়ে বেদনাহীন আত্মহত্যা করতে পারেন সেই পথ বাতলে দেন তিনি। প্রথম টুইটে তিনি ভি জি সিদ্ধার্থের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে লিখেছেন ‘কেন আপনি ফাঁস দিয়ে ঝুলবেন, পানিতে ডুবে মারা যাবেন, কেন কব্জি কাটবেন, কেন সুউচ্চ ভবন বা সেতু থেকে লাফিয়ে পড়বেন, কেন কীটনাশক পান করবেন, কেন বিষ পান করবেন, কেন সামনে থেকে ধেয়ে আসা একটি ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়বেন? প্রাণঘাতী মরফিনের ডোজ ব্যবহার করুন এবং শান্তিতে মারা যান।’ এ নিয়ে চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। কেউ একজন তার নিজের জীবন বের করে দেয়ার জন্য যে অনেক পথের কথা বলা হয়েছে তা শেয়ার করা যায় না বা উৎসাহিত করা যায় না- এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো হয় রিটুইটে। এর জবাবে তসলিমা আরো একটি টুইট করেন। তিনি লিখেছেন ‘প্রতিদিন মানুষ আত্মহত্যা করছে। মাত্র দুই দিন আগে ক্যাফে কফি ডে’র মালিক একটি ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। কি বেদনাময় মৃত্যু!’
এরপরে তিনি আরো টুইট করেছেন। তাতে বলেছেন, তিনি লোকজনকে মরতে উৎসাহিত করছেন না। তিনি লিখেছেন ‘যেসব মানুষ আত্মহত্যা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অথবা যারা আত্মহত্যা করবেনই তাদেরকে আমি বলছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তা করতে। এটি একটি ইতিবাচক টুইট।’
তবে তার এসব টুইটের কড়া সমালোচনা করছেন টুইটার ব্যবহারকারীরা। তাদের একজন দীপিকা ভারদওয়াজ। তিনি লিখেছেন, আপনি আত্মহত্যার পথ বলে দিচ্ছেন। কীর্তি সিং লিখেছেন, যেকোনো উপায়েই হোক মৃত্যু বেদনাময়। যিনি মারা যাচ্ছেন তার শরীরে না হলেও, তাকে যারা ঘিরে থাকেন তাদের কাছে এটা বেদনার। এমন পরামর্শকে সমর্থন করা যায় না। অন্যদিকে জয়এনআর নামে একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই ধারা বন্ধ করুন। ‘স্টুপিড’ দ্বিতীয় টুইট দিয়ে প্রথম টুইটকে জাস্টিফাই করা যায় না। তসলিমা নাসরিনকে উদ্দেশ্য করে রিদ্ধি সিং নামে একজন লিখেছেন, যারা আত্মহত্যা করতে চান তিনি তাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছেন- কেন তারা উন্নততর উপায় অবলম্বন করেন না। ওকে!! এই নারী কে??? সিরিয়াসলি!!
বাংলাদেশি এই লেখিকাকে উদ্দেশ্য করে তেহসিন পুনাওয়ালা টুইট করেছেন, সততার সঙ্গে বলছি। আমার খুব খারাপ লাগছে। তার (তসলিমা) যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব সহায়তা প্রয়োজন। টুইটারে অপটিমিসটিক পেসিমিজম নামে একজন লিখেছেন, দয়া করে তার ওইসব পোস্টের বিষয়ে রিপোর্ট করুন। তিনি আত্মহত্যা করার বিষয়ে উৎসাহিত করছেন। অনেক আবেগপ্রবণ বাচ্চা ও মানুষ আছেন। তাদের কাছে এর মাধ্যমে ভুল বার্তা যাচ্ছে। দয়া করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। এমনতরো অসংখ্য টুইট-রিটুইটে সয়লাব হয়ে গেছে তসলিমা নাসরিনের টুইটার।

বর্ষায় বুড়িগঙ্গায় এসেছে নতুন রূপ by আশিকুজ্জামান

ঠাসবুনট এই শহরে নির্মল পরিবেশে প্রশান্তির নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা তেমনটা নেই। এমনি পরিবেশের খোঁজে মতিঝিল থেকে পরিবার নিয়ে বুড়িগঙ্গার পাড়ে বেড়াতে এসেছেন ব্যবসায়ী রাকিব উদ্দিন।

নদীর পাড়ে খানিকটা জিরিয়ে নেওয়ার পর নৌকায় চড়ার বায়না করে রাকিবের ছোট্ট দুই ছেলে। তাদের আবদার মেটাতে পরিবার নিয়ে নৌকায় উঠে পড়লেন তিনি। সন্ধ্যার খানিক আগে মৃদুমন্দ বাতাসে নৌকায় ঘুরে শিশু দুটির সে কী উচ্ছ্বাস। রাকিব বলেন, ঘন বসতির এই শহরে মুক্ত জায়গায় নিশ্বাস নেওয়ার মতো কোনো স্থান নেই বলে এখানে আসা। কর্মব্যস্ততা ভুলে নিজেদের মতো করে একটু সময় কাটানো যায়।

বর্ষায় বুড়িগঙ্গায় নতুন পানি এসেছে। পানিতে নোংরা এবং কালচে ভাব অনেকটা কেটে গেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় নদীপাড়ের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। এমন পরিবেশে বুড়িগঙ্গায় নৌকাভ্রমণে নগরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন অনেকে। কেউ আসছে পরিবার–স্বজন নিয়ে। কেউবা আবার বন্ধুদের সঙ্গে। নদীর মনোরম পরিবেশে অবসর সময় কাটানোর স্থান হয়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা।

গতকাল শনিবার ঘুরতে আসা কয়েকজন তরুণ বলেন, বুড়িগঙ্গার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ময়লা–কালো পানির দৃশ্য। দুর্গন্ধময় এক নদী, যার দুই পাড় দখলদারদের কবলে। কিন্তু সেই পরিচিত পরিবেশ পাল্টে বুড়িগঙ্গায় এসেছে নতুন রূপ।

বর্ষায় বেড়েছে নদীর পানি। এখন বুড়িগঙ্গার পাড়ে গেলে চোখে পড়বে নৌকায় বন্ধু বা পরিবার–পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি। নতুন রূপের এই বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে উঠেছে নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্থান।

গতকাল বিকেলে আকাশ ছিল মেঘলা, সঙ্গে মৃদু বাতাস। বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে শুনে উত্তরা থেকে বুড়িগঙ্গার পাড়ে এসেছেন ব্যবসায়ী তোফাজ্জল আলী। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগেও পুরান ঢাকায় থাকতাম। কিন্তু ঘিঞ্জি পরিবেশ পরিবারের সদস্যরা থাকতে চায় না। তাই মিরপুর চলে গেছি। বর্ষায় সুযোগ পেলে নদীতে ঘুরতে আসি।’ তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন অব্যবস্থাপনায় বুড়িগঙ্গা তার সৌন্দর্য হারিয়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে নদী কিছুটা সতেজ হয়ে ওঠে। সব সময় নদীর এমন রূপই চাই। নদীদূষণ আর দখল বন্ধ করে, প্রশাসন চেষ্টা করলেই নদীকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

গতকাল বিকেলে দেখা যায়, নতুন পানিতে বুড়িগঙ্গা টইটম্বুর। দর্শনার্থীরা সেই পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে দল বেঁধে গোসল করছে নদীতে নেমেছে। এপার থেকে ওপারে সাঁতরে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কয়েকজন লঞ্চ কর্মচারী। গত কয়েক মাসে নদীর অধিকাংশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় অনেকে দল বেঁধে পাড়ে বসে গল্প করছেন, অনেকে হাঁটছেন। নদীর এই রূপ দেখে খুশি স্থানীয়রা ও নদীপাড়ে ঘুরতে আসা মানুষেরা। তবে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেক নৌকাযাত্রীকেই। নৌকা মাঝির সঙ্গে থাকা পলিথিন মাথায় নিয়ে অথবা ব্যক্তিগত ছাতা মাথায় পারাপার হতে হয়। এ সময় নদী পাড়ে মানুষ কিছুটা কম থাকলেও বিকেল গড়াতে বাড়ে মানুষের ভিড়।

নদীর পাড়ে বসে ছিলেন স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী মামুন হোসেন। কিছুটা সময় নিয়ে স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘নদীতে গোসল করা, মাছ ধরা—এসব করেই ছেলেবেলা কেটেছিল। কিন্তু সেই অবস্থা এখন নেই। গোসল করা তো দূরের কথা মাঝেমধ্যে দূষণে নদীর পানিতে পা লাগলেও পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হয়। কয়েক যুবককে সাঁতার কাটতে দেখে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গেল।’

নদীর এই রূপ দেখতে দর্শনার্থীদের দেখে হাসি ফুটেছে মাঝিদের। কারণ দর্শনার্থীদের অধিকাংশই নৌকায় নদী ভ্রমণ করতে আগ্রহী। নৌকায় ওঠার জন্য মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সদরঘাট টার্মিনালের কাছাকাছি নৌকাঘাট থেকে দর্শনার্থীরা ঘণ্টা হিসেবে নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ান নদীর বুকে। ঘণ্টার ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে বিকেলে ভাড়া কিছুটা বেশি দাবি করেন মাঝিরা।

নদীর এই রূপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল হাসান গত শুক্রবার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ব্যস্ত রুটিন আর যানজটের শহরে গিয়েছিলাম বুড়িগঙ্গার পাড়ে। নতুন পানি আর খোলামেলা পরিবেশের কারণে যা আমাদের জন্য অমৃতের মতোই। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন।’

এদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সদরঘাট নৌপুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সদরঘাট নৌপথের নিরাপত্তায় সব সময় একটি টহল দল দায়িত্বে থাকে। আমরা দর্শনার্থীদের সচেতন করি, তাঁরা যেন নিরাপদ দূরত্বে থেকে ভ্রমণ করেন। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা প্রস্তুত থাকি।’
বর্ষায় বেড়েছে নদীর পানি। এখন বুড়িগঙ্গার পাড়ে গেলে চোখে পড়বে বন্ধু বা পরিবার–পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে এসেছেন অনেকে। নতুন রূপের এই বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে উঠেছে নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্থান। ছবি: দীপু মালাকার

আক্রান্তের চেয়ে আতঙ্কই বেশি মানুষের by সাঈদ শিপন

একটি ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কাজ করেন মো. মাসুম। পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হয় তাকে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মধ্যে তার দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যায়। রোগ আর রোগী দুটিই তার কাছে সাধারণ বিষয়। মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগী দেখেও কখনো ভয় পাননি পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কাজ করা এই যুবক।

সম্প্রতিক অনেকটা ‘মহামারি’ আকারে দেখা দেয়া ডেঙ্গু তাকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের আর্তনাদ ও রোগীর চাপ দেখে নিজেও সারাক্ষণ আতঙ্কে ভুগছেন। সন্তানের চিন্তায় কয়েক দিন ধরে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অজানা আতঙ্কে এক রাতেই ঘুম ভেঙে যাচ্ছে কয়েকবার।

শুধু মাসুম নয়, রাজধানীতে বসবাস করা অধিকাংশই এখন আতঙ্কের এমন গ্রাসের মুখে পড়েছেন। বাসাবাড়ি, অফিস, স্কুল, ফুটপাত, চায়ের দোকান- সবখানেই ডেঙ্গু নিয়ে অজানা আতঙ্ক। ফলে বন্ধুদের আড্ডাসহ যেকোনো আলোচনায়ই এখন স্থান করে নিচ্ছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গুর আতঙ্কে প্রতিদিন হাজার হাজার সুস্থ মানুষও ছুটছে হাসপাতালে।

আতঙ্কের বিষয়ে মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ডিউটি করছি। প্রতিদিন কত মারাত্মক রোগী দেখি, কখনো ভয় পাইনি। কিন্তু এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখে খুব ভয়ে আছি। বিশেষ করে শিশুদের কষ্ট দেখার মতো না। আমারও দুই বছরের একটি সন্তান আছে। ওকে নিয়েই সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি। ওর চিন্তায় রাতে আতঙ্কে কয়েকবার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের ঘোরে বারবার বাবুর গায়ে হাত দিয়ে দেখি।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমাকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। কিন্তু আমার কিছু হলে বাসার অন্যদের কে দেখবে? আল্লাহ না করুক, বাবুর যদি ডেঙ্গু হয়, এত কষ্ট ও কি করে সহ্য করবে! সারাক্ষণ আতঙ্কে এমন আরও কত চিন্তা মাথায় আসে। সব কথা বলে বোঝানো যাবে না। এ যে কি আতঙ্ক তা বলে বোঝানো মুশকিল। এমন আতঙ্কের মধ্যে আমি কখনো পড়িনি।’

ডেঙ্গু আতঙ্কে শুক্রবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় একসঙ্গে সাত বন্ধু ছুটে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু সেলে। বহির্বিভাগ থেকে টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করান।

হাসপাতালে আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে হৃদয় নামের এদের একজন বলেন, ‘ভাই, ডেঙ্গু এখন খুবই মারাত্মক। কখন কাকে ধরে কিছু বলা যায় না। হঠাৎ করেই শরীর গরম, জ্বর জ্বর বোধ করছি। তাই হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তার দেখিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও আতঙ্ক কমবে। পরীক্ষা না করালে সারাক্ষণ ডেঙ্গু আতঙ্কে থাকব। তাতে দেখা যাবে শরীরে অন্য অসুখ বাসা বেঁধেছে।’

বিএসএমএমইউতে টিকিট কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করা একজন বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে কি আতঙ্ক তা এখানে কিছুক্ষণ থাকলেই বুঝতে পারবেন। সুস্থ মানুষও ডেঙ্গুর ভয়ে দৌড়ে হাসপাতালে আসছে। প্রতিদিন যত মানুষ ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে আসছে এর ১ শতাংশও বাস্তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নয়।’

বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু সেলে দায়িত্বপালন করা এক চিকিৎসক বলেন, ‘এবার ডেঙ্গুর ধরন একদম আলাদা। জ্বর না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে। তবে এটাও সত্য ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক একটু বেশিই। অনেকে ডেঙ্গুর আতঙ্কে আমাদের কাছে ছুটে আসছে। দেখে আমরা ধারণা করছি ডেঙ্গু হয়নি, তারপরও আমরা ডেঙ্গুর পরীক্ষা দিচ্ছি। এতে যিনি আমাদের কাছে আসছেন তিনি যেমন আতঙ্কমুক্ত হচ্ছেন, তেমনি আমরাও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারছি।’

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুতে এবার আক্রান্তের সংখ্যাটা অনেক বেশি, এই কথাটা কিন্তু ঠিক। আমার কাছে মনে হচ্ছে যত না মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে তার থেকে আতঙ্কের মাত্রা অনেক বেশি। আতঙ্কিত না হয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু হলেও যে তা মারাত্মক হবে তা নয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে বাসাবাড়িতে থেকেই স্বাভাবিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানুষ একটা কারণে আতঙ্কিত হয় না। এর পেছনে নানা কারণ থাকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অন্য অসুখের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হওয়া যায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারাই যাচ্ছে। এ মারা যাওয়া তো আতঙ্কের কারণ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্যসেবাটা অতটা ভালো নয়। একজন রোগী হাসপাতালে গেলে রিল্যাক্সে থাকে, সব দায়-দায়িত্ব নার্স, চিকিৎসকরা নেন। কিন্তু আমাদের এখানে পদে পদে সমস্যা। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা ঠিকমতো হবে কি না, পরীক্ষা ঠিকমতো হবে কি না, ওষুধে ভেজাল আছে কি না, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারবে কি না সবই ভাবতে থাকে। দেখা যায়, অকারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল করে বসে আছে। এমন অনেকগুলো কারণে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’

মানুষ এ রকম আতঙ্কের মধ্যে থাকলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান এ মনোবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন একজন আতঙ্কের মধ্যে থাকলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আতঙ্কের কারণে আপনার বডি সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করবে না। ব্লাড প্রেশারের সমস্যা দেখা দেবে। আতঙ্কে থাকলে ঠিকমতো খেতে পারবে না। ঠিকমতো নিজের সেবা-শুশ্রূষা করতে পারবে না। যারা দুর্বলচিত্তের তাদের মধ্যে কোন রোগ তৈরি হয় তারও কোনো ঠিক নেই।’

কাশ্মীর নিয়ে তুমুল জল্পনা, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে তুমুল জল্পনার মধ্যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ রোববার সেই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেকেছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাপ্রধান অরবিন্দ কুমার, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল উইংয়ের (র) সামন্ত গোয়েল এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব গউবাকে। বৈঠক নিয়ে সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও এটা স্পষ্ট, কাশ্মীর পরিস্থিতিই ছিল আলোচনার মুখ্য বিষয়।

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, অমরনাথ যাত্রীদের কীভাবে নিরাপদে দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়, অন্য বিষয়ের মধ্যে তা আলোচিত হয়। শোনা যাচ্ছে, সংসদের অধিবেশন শেষ হলে অমিত শাহ দু-তিন দিনের জন্য কাশ্মীর যাবেন।

কাশ্মীর নিয়ে হঠাৎই শুরু হয়েছে দেশজোড়া জল্পনা। একই সঙ্গে সর্বস্তরে বেড়ে চলেছে উৎকণ্ঠা। কয়েক দিন ধরে সরকারি কিছু সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক কিছু ব্যবস্থা এই উৎকণ্ঠা ও জল্পনা বাড়িয়ে তুলেছে। উঠে গেছে নানাবিধ প্রশ্ন ও সংশয়।

গত সপ্তাহে একেবারে আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হয় আমরনাথ যাত্রা। প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে অমরনাথ যাত্রাকে কেন্দ্র করে গোটা উপত্যকা মেতে থাকে। লাখো হিন্দু পুণ্যার্থী জড়ো হন। উপত্যকার অর্থনীতির একটা বড় অংশ এই যাত্রার ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটা সত্ত্বেও প্রশাসনিক নির্দেশে গত সপ্তাহের শুক্রবার বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই যাত্রা। নির্দেশ দেওয়া হয় যাত্রীদের অবিলম্বে উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার। ১৯৯০ সাল থেকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী উৎপাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম অমরনাথ যাত্রা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সরকারি সূত্রে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে সন্ত্রাসবাদীদের নাশকতার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু অন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও কেন অবিলম্বে চলে যেতে বলা হয়েছে, কেনই বা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন রাজ্যের পড়ুয়াদের রাজ্য ছাড়তে বলা হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর সরকার বা প্রশাসন দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে আরও ১০ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানকে নিরাপত্তার কাজে উপত্যকায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মোট বাড়তি বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার। বাড়ানো হয়েছে টহল ও তল্লাশি। সংগত কারণেই সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, কেন এই সাবধানতা, কী কারণে এই তৎপরতা, এত সাজ সাজ রব?
উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষজনের আশঙ্কা, সংসদের উভয় কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিল পাস করাতে সরকারি সাফল্য শাসক দলকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে তুলেছে। কয়েকটা সম্ভাবনার বিষয় নিয়ে চর্চা চলছে। যেমন, সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫(ক) ধারার বিলোপ। এই দুই ধারা জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলো থেকে পৃথক করেছে। দুটি ধারাই বাতিল করা বিজেপির বহুদিনের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার। অন্য চর্চা জম্মু ও কাশ্মীরকে পৃথক রাজ্য ঘোষণাসংক্রান্ত। এই দাবিও বিজেপিতে দীর্ঘকালের। তৃতীয় চর্চা স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ছক বানচাল করে দেওয়া নিয়ে। এমন মনে করা হচ্ছে, ১৫ আগস্ট শ্রীনগরের লালচক থেকে হয়তো এমন কিছু ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগে সাবধানতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব সতর্কতা ও যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা।

সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রের খবর অবশ্য এই তৎপরতা সন্ত্রাসবাদী চক্রান্ত রুখতে। জুলাই মাসের শেষাশেষি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনা সেনাবাহিনী বানচাল করে দেয়। শনিবার পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিমের (ব্যাট) ৫ সদস্য কেরান সেক্টরে ঢুকে পড়লে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। মরদেহের শেষকৃত্যের জন্য ফেরত নিতে পাকিস্তানকে বলা হয়। পাকিস্তান অবশ্য তাতে সাড়া দেয়নি। বরং তারা ভারতের বিরুদ্ধে ‘ক্লাস্টার বম্বিংয়ের’ অভিযোগ এনে বলে, কাশ্মীর পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরানোর এটা একটা ছক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রোববার টুইট করে ওই ‘হামলার’ নিন্দা করেন। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও তিনি জানান। ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, কেরান সেক্টরে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চন্দনওয়ারী এলাকায় ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছেন হিন্দু পুণ্যার্থীরা। জায়গাটি শ্রীনগর থেকে ১১৬ কিলোমিটার দূরে। ২৭ জুলই, ২০১৯। ছবি: এএফপি

শিশুর লাশ নিয়ে... by সাজিদ হোসেন

আপডেট- ০১ আগস্ট ২০১৯: রাজধানীর মিরপুর এক নম্বর এলাকায় বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ছয় বছর বয়সী কন্যাশিশু জান্নাতুল আকতার। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশুটির স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি নিয়ে যেতে চান। এতে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ জোর করে লাশের ময়নাতদন্তের তাগিদ দিলে স্বজনেরা অস্বীকৃতি জানান। ময়নাতদন্ত ও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে একপর্যায়ে জরুরি বিভাগ থেকে শিশুটির লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনেরা। কিন্তু দফায় দফায় তাঁরা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শিশুটির লাশ নিয়ে চলে যেতে পেরেছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার ছবিগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশ এলাকায় তোলা।
মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে নিহত জান্নাতুল আকতারের বাবা মো. অলি ও ফুফু পারভীন কান্নায় ভেঙে পড়েন।মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে নিহত জান্নাতুল আকতারের বাবা মো. অলি ও ফুফু পারভীন কান্নায় ভেঙে পড়েন।হাসপাতাল থেকে শিশুটির লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধা।হাসপাতাল থেকে শিশুটির লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধা।লাশসহ স্বজনদের আটকানোর চেষ্টা করছেন পুলিশের এক সদস্য।লাশসহ স্বজনদের আটকানোর চেষ্টা করছেন পুলিশের এক সদস্য।পুলিশের সদস্যকে বাধা দিয়ে স্বজনদের লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।পুলিশের সদস্যকে বাধা দিয়ে স্বজনদের লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।শিশুটির লাশ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পুলিশের এক সদস্য।শিশুটির লাশ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পুলিশের এক সদস্য।
লাশ কেড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যের পায়ে ধরে অনুরোধ করেন নিহত জান্নাতুলের ফুফু পারভীন।
লাশ কেড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যের পায়ে ধরে অনুরোধ করেন নিহত জান্নাতুলের ফুফু পারভীন।
লাশটি রাখতে না পেরে অলি ও পারভীনের আর্তনাদ।লাশটি রাখতে না পেরে অলি ও পারভীনের আর্তনাদ।জরুরি বিভাগ থেকে দ্বিতীয় দফায় লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধা।জরুরি বিভাগ থেকে দ্বিতীয় দফায় লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধা।দ্বিতীয় দফায় লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্বজনদের ধস্তাধস্তি।দ্বিতীয় দফায় লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্বজনদের ধস্তাধস্তি।পুলিশ সদস্যের গতি রোধ করেছেন পারভীন, অন্যরা লাশ নিয়ে যাচ্ছেন।পুলিশ সদস্যের গতি রোধ করেছেন পারভীন, অন্যরা লাশ নিয়ে যাচ্ছেন।শেষ পর্যন্ত এভাবেই লাশ নিয়ে চলে যান স্বজনেরা।শেষ পর্যন্ত এভাবেই লাশ নিয়ে চলে যান স্বজনেরা।

যুক্তরাষ্ট্রে দু দফা হামলায় নিহত ২৯

যুক্তরাষ্ট্রে দু’দফা হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৯ জন। প্রথম হামলা হয় শনিবার টেক্সাসে ওয়ালমার্ট স্টোরে। সেখানে এক অস্ত্রধারী শ্বেতাঙ্গ যুবক গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ওহাইও রাজ্যে একটি বার-এর বাইরে  আরেক হামলাকারি গুলি করে হত্যা করে কমপক্ষে ৯ জনকে। এ দুটি হামলায় আহত হয়েছে অনেক মানুষ। টেক্সাসে এল পাসো শহরে ওয়ালমার্টে এলোপাতাড়ি গুলির পর ওই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ইতিহাসে একে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে আখ্যায়িত করেছেন ওই রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে দু’এক মাইল দূরে সিয়েলো ভিস্তা মলের কাছে ওয়ালমার্টের একটি স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ২১ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার মতে তার নাম প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস। তার বাড়ি ডালাসের অ্যালেন শহরে। এই শহরটি এল পাসো থেকে প্রায় ৬৫০ মাইল পূর্বে। হামলার সময়ে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায় একজন অস্ত্রধারীকে। তা যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির কানে সুরক্ষামূলক ‘ইয়ার প্রটেকটর’ পরে আছে। তার হাতে ধরা অ্যাসল্ট রাইফেল। ট্রাম্প এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, দেশের সবার সঙ্গে এই ঘৃণাযুক্ত হামলার নিন্দা জানাচ্ছি আমি। নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো কারণ বা অজুহাত থাকতে পারে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন, বিবিসি।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর টুইটে বলেছেন, নিহতের মধ্যে রয়েছেন তার দেশের তিন নাগরিক। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড টুইট করে জানিয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের ৬ নাগরিক। সিএনএনের রিপোর্টে হামলাকারীকে ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে তাকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারীদের দুটি সূত্র ও রাজ্য সরকারের একটি সূত্র। কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার আগে অনলাইনে পোস্ট করা কিছু পোস্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখছে। তাতে বোঝা যেতে পারে হামলার উদ্দেশ্য কি। এল পাসো পুলিশ প্রধান গ্রেগ অ্যালেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবারের এ ঘটনায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেগ অ্যালেন বলেছেন, হতাহতরা বিভিন্ন বয়সের। তিনি পরিস্থিতিতে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলা হয়েছে, ডালাসের ২১ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গী যুবক এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনাটিকে বড় রকমের ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পেছনে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ রয়েছে কিনা তা সুনিশ্চিত হওয়ার আগে আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এস পাসোতে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ এমারসন বুই। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একটি সূত্র বলেছেন, শনিবার দিনশেষে এফবিআই গণহত্যার বিষয়ে আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়াতে খাদ্য বিষয়ক এক উৎসবে গুলি করে এক টিনেজ হত্যা করে তিন জনকে। তার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে টেক্সাসের এই হামলাকে ৮ম সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  বিবিসি লিখেছে, হামলার কয়েক দিন আগে অনলাইনে একটি ফোরামে একটি শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি লিখেছে টেক্সাসে হামলাকারী। এ বিষয়টি এখন পুলিশ ও এফবিআই তদন্ত করছে। ওই ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় হিস্প্যানিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে গুলি করে কমপক্ষে ৯ জনকে হত্যা করেছে এক ঘাতক। হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ বিষয়ে প্রথম খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ওই রাজ্যের অরিগন এলাকায় ডেটনে একটি বারের বাইরে গুলি চালায় হামলাকারী। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬ জন। হতাহতদের নেয়া হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। ডেটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক টুইটে বলেছে, যেখানে গুলি হয়েছে তার একেবারে কাছেই ছিল আমাদের অফিসাররা। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পেরেছেন। পুলিশের সহকারী প্রধান ম্যাট কারপার সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের কর্মকর্তারা হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, আমাদের সদস্যরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুপ্রশিক্ষিত। সৌভাগ্য যে, ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। তা না হলে হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো। তবে হামলাকারী সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায় নি।

রাশিয়ার সাথে করা পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গেলো যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার সাথে করা একটি পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র যা আবারো অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
'দি ইন্টার মিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি' বা আইএনএফ ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগ্যান ও সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচভ।
এতে ৫০০ থেকে ৫৫০০ কিলোমিটার মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।
এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ধরনের ক্রুজ মিসাইল মোতায়েনের মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। যদিও সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া।
আমেরিকানরা বলছে রাশিয়া বেশ কিছু নাইন এম-৭২৯ মিসাইল (যেগুলো নেটোতে এসএসসি-৮ নামে পরিচিত) মোতায়েন করেছে এবং এর প্রমাণ তাদের কাছে আছে।
এরপর নেটোও একই অভিযোগ তোলে।
রাশিয়ার নাইনএম৭২৯ মিসাইল নিয়েই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে চুক্তিটির মৃত্যুর জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করেছেন।
তিনি বলেছেন, নেটোর পূর্ণ সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়েছে যে রাশিয়া চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বিবৃতিতে আইএনএফ চুক্তির আনুষ্ঠানিক মৃত্যু ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়াকে ২রা অগাস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন।
পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশের নিজস্ব বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার ঘোষণা করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু যুদ্ধের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধা সরে গেলো।
"এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিকে কমায়নি, বরং বাড়িয়েছে," মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একটি পথ খুঁজতে সমঝোতায় পৌঁছাতে সব পক্ষকে আহবান জানান।
যদিও রাশিয়ান সামরিক বিশ্লেষক পাভেল ফেলগেনহর বলেছেন, "চুক্তিটি শেষ হয়ে গেছে, এখন আমরা নতুন নতুন অস্ত্রের উন্নয়ন ও মোতায়েন দেখবো"।
১৯৮৭ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন মিখাইল গর্বাচেভ ও রোনাল্ড রিগ্যান
গত মাসে নেটোর মহাসচিব জেনারেল জেনস স্টোলটেনবার্গ বিবিসিকে বলেন, রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র, যেগুলো পরমাণু সক্ষম, মোবাইল ও চিহ্নিত করা কঠিন ও কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউরোপের যে কোনো শহরে যেতে পারে- ওই চুক্তির পরিষ্কার লঙ্ঘন ছিলো।
তিনি বলেন, "এটা মারাত্মক। আইএনএফ চুক্তি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কয়েক দশক করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের একটি ভিত্তি ছিলো এবং এখন আমরা তার মৃত্যু দেখলাম।"
তিনি বলেন, ভূমি-ভিত্তিক পরমাণু ক্ষেপনাস্ত্রের কোনো পরিকল্পনা ইউরোপের নেই।

কি ছিলো ওই চুক্তিতে?

•যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৮৭ সালে চুক্তিটি করেছিলো যাতে স্বল্প ও দূরপাল্লার সব পরমাণু ও অপারমানবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।
•১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের এসএস-২০ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলো যুক্তরাষ্ট্র এবং জবাবে ইউরোপে তারা ক্রুজ মিসাইল মোতায়েন করে।
•১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।
•দু'দেশ একে অন্যের স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করতে পারতো।

সমস্যা কোথায় ছিলো ?

দা'হাজার সাত সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দেন যে ওই চুক্তি আর রাশিয়ার স্বার্থ সংরক্ষণ করছেনা।
চুক্তি ভঙ্গ করে ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া
এর আগে ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অ্যান্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান।
দু'হাজার চৌদ্দতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন।
তবে ইউরোপিয়ান নেতারা চাপ দিলেও তিনি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষপাতী ছিলেননা।
সর্বশেষ গত বছর চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে সমর্থন করে।
রাশিয়া অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ও ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্র পটভূমি তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর বিরুদ্ধে সম্পর্কের অবনতির মধ্যেই তুরস্ক গত মাসে রাশিয়ার এস-৪০০ অ্যান্টি এয়ারক্রাফট ডিফেন্স সিস্টেমের প্রথম চালান গ্রহণ করে, যার তীব্র বিরোধিতা করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে সতর্ক করে বলেছিলো যে তুরস্ক একই সাথে এস-৪০০ অ্যান্টি এয়ারক্রাফট ডিফেন্স সিস্টেম ও যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ ফাইটার বিমান পেতে পারেনা।
তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো সহযোগী কিন্তু তুরস্ক রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে।
চুক্তির আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো ৫৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাত্রার ক্ষেপনাস্ত্র

দেশে ন্যূনতম আইনি সুরক্ষা নেই

দেশে ন্যূনতম আইনি সুরক্ষা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি  বলেছেন, একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য যা যা দরকার তার সবই হচ্ছে। আমরা সবাই সোচ্চার না হলে এটাকে অকার্যকর রাষ্ট্র থেকে ফিরাতে পারব না। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির উদ্যোগে ‘নির্যাতন বিরোধী জাতিসংঘ সনদের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা: আমাদের বক্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শাহদীন মালিক বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জবাবদিহি না থাকাই অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বড় লক্ষণ। একটি দেশ একদিনে তো অকার্যকর হয় না। এটার স্টেপ লাগে। বিচারহীনতা এর একটি।
দেশে জবাবদিহিতা না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে নির্যাতন করছে। দীর্ঘ সময় আটক করে রাখছে এটা কোন ধরনের আইনের মধ্যে পড়ে আমাদের জানা নেই।
তিনি বলেন, দেশে গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে, এসব বিচারের পরিপন্থী। এগুলো ন্যূনতম আইনি পর্যায়ে পড়ে না। যারা এসব করে মনে করে নির্যাতন করে, খুন করে আটকে রেখে দেশের জন্য ভালো করছি, তারা মোটেও ভালো চিন্তা করছে না। তারা দেশের জন্য ভালো কোনো চিন্তা করছে না। দেশটা আরো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় দেশের অবস্থা নিঃসন্দেহে ভয়ানক।
জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটিতে দেয়া সরকারের প্রতিবদেনকে তিনি একটি অবাস্তব প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, আইনমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, আমাদের দেশে আইনে সব লেখা আছে তবে আমরা সুরক্ষা পাচ্ছি না। দেশে কিছু হচ্ছে না, বিদেশে যদি কিছু হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, নির্যাতন বন্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, প্রতিকারেরও কোনো উপায় নেই। তাই পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। আইনে না থাকলেও বাস্তবে গুম হচ্ছে। আবার নির্যাতন বন্ধে অনেক আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন শূন্য। আলোকচিত্রি ড. শহীদুল আলমের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার উপর যে নির্যাতন হয়েছিল আদালতে তিনি নিজেই তা বলেছেন। আইনের আমরা কোনো সুরক্ষা পাচ্ছি না।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিবেদনে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে শুধু আইনের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা যে বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা বিশ্লেষণ করা হয়নি। তিনি বলেন, নির্যাতন বিরোধী কমিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের হেফাজতের নির্যাতন ও হত্যা, গুম, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, রিমান্ডে নির্যাতন, অঘোষিত আটক, বিচারকদের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চনা, নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে শতাধিক প্রশ্ন উপাস্থপন করলেও এসব প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর সরাসরি না দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সংবিধান, ফৌজদারি আইন ও প্রতিকারের বিধান এসব তুলে ধরেন। আর ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠির ওপর যে নির্যাতন হয় সে সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির ওপর কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না এবং এই জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার বিষয়ে সরকার অপরাধীদের বিচার করছে।
সারা হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিনিধিদল কমিটির বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আলোকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অমর্যাদাকর আচরণ প্রতিরোধে বিষয়ে উল্লেখ করলেও নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের ব্যাপারে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়ার এবং দু’একটা ঘটনা ছাড়া অপরাধীদের বিচারে সোপর্দ না করার বাস্তবতাকে আড়াল করতে সচেষ্ট ছিল। সুরক্ষা কমিটি মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরাট অংশ, ক্ষমতাসীনদের বহুলাংশ এবং স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে। অনেক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সমাপনী পর্যবেক্ষণেও উল্লেখ করা হয়েছে। জেনেভায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলে এত বেশি সদস্য কেনো গেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সারাহ হোসেন বলেন, জেনেভায় সরকারি প্রতিনিধি দলের ২৮ জন প্রতিনিধি ছিল। এরমধ্যে মন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন। তবে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণাল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো সদস্য ছিল না। কি কারণে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এত লম্বা ছিল তা আমরা জানি না। মানবাধিকার কর্মী শিরিন হকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন, মানবাধিকার কর্মী আইনজীবি রেজাউল করিম সিদ্দিকী, নুর খান লিটন প্রমুখ।

কাশ্মির ছাড়ছে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় রাজ্য সরকারের নির্দেশনা জারির পর কাশ্মির ছাড়তে শুরু করেছে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী। কাশ্মিরের রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাজার হাজার পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও শ্রমিক এ এলাকা ছেড়ে গেছে। তবে নির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, ২০ হাজারেরও বেশি হিন্দু তীর্থযাত্রী ও ভারতীয় পর্যটক এবং দুই লাখের বেশি শ্রমিক এ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশনার পর কাশ্মিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার ভারতের নিরাপত্তাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয় কাশ্মিরে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে বলে বিশ্বাস যোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরদের কাছে পবিত্র অমরনাথ গুহায় (যেখানে বরফের শিবলিঙ্গের পূজা দেওয়া হয়) যাত্রা করা তীর্থযাত্রীদের ওপর হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। এই সতর্কতার পর শনিবার তীর্থযাত্রীদের কাশ্মির ছাড়ার নির্দেশনা জারি করে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অমরনাথমুখী যাত্রীদের টার্গেট করে জঙ্গি হামলা হতে পারে এমন গোয়েন্দা ভিত্তিতে কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটক ও অমরনাথমুখী যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।

কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজেএস ডিলন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘অমরনাথ যাত্রাপথে পাকিস্তানে তৈরি একটি ল্যান্ডমাইন ও টেলিস্কোপসহ একটি এম-২৪ আমেরিকান স্নাইপার রাইফেল পাওয়া গেছে। মাইন ও অস্ত্রসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সংযোগের প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে।’

শনিবার কাশ্মির সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্দেশনার কারণে কাশ্মিরে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ভীতির কারণে হাজার হাজার পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও শ্রমিক এলাকা ছেড়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ১০ দিনের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগর আসেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা প্রভাকর আয়ার । কিন্তু রাজ্য সরকারের নির্দেশনা জারির পর বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যখন ওই নির্দেশনা জারি করা হয় তখন আমি ডাল লেকের হাউজবোটে ছিলাম। বুঝতে পারিনি কেন এ এলাকার ছাড়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এখানে তো সবই স্বাভাবিক’।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শ্রমিক মনজিৎ সিং গত ৯ বছর ধরে কাশ্মিরে কাজ করেন। রাজ্য সরকারের ঘোষণার পর তিনিও কাশ্মির ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভীত নই কিন্তু সরকারের নির্দেশনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আমার পরিবার আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমি ফিরে যাব’।

তবে এরই মধ্যে শনিবার কাশ্মিরে পৌঁছেছে প্রায় ৬০ বিদেশি পর্যটক। বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা করে কোনও নির্দেশনা জারি করা না হলেও কাশ্মিরে ভ্রমণের ব্যাপারে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করেছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাশ্মিরে অবস্থানরত জার্মানির নাগরিকদের জম্মু কাশ্মির ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মির উপত্যকা ও অমরনাথ তীর্থযাত্রার পথ এড়িয়ে চলার জন্য কথা বলা হয়েছে।

এবার খুলনায় দু’জনের প্রাণ নিল ডেঙ্গু

খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্কুলছাত্র ও এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। রোববার সকাল ও শনিবার রাতে তারা মারা যান। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনায় এটাই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) নামে ওই স্কুলছাত্র মারা যায়।

এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১২টার দিকে মর্জিনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর শেখ জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্কুলছাত্র মঞ্জুর খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবুর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুর কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু কোনো উন্নতি না হওয়ায় শনিবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিতে বলেন। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ফেরত দেয়া হয়। পরে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কয়েক ব্যাগ রক্তও দেয়া হয় তার শরীরে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্জিনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। মর্জিনা বেগম খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

খুমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মর্জিনার স্বজনরা জানান, মর্জিনা বেগম লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। লিভারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি। পরে খুলনায় এসে খুমেকে চিকিৎসা নেন। শনিবার বেশ অসুস্থ হয়ে রাতে মারা যান।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্কুলছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি-না সেটি তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

সংসার ভাঙ্গছে, বন্ধুত্ব থাকছে দিয়া মির্জার

তাকে বলা হয় বলিউডের নতুন ঐশ্বরিয়া। দেখতে অনেকটাই অ্যাশের মতো তিনি। হাসলে গালে টোল পড়ে। চোখগুলোও সাগরপাড়ের মেয়েদের মতো নীলাভ। রূপ আর গুণের রোশনাই ছড়িয়ে বি টাউনে যাত্রা শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।

কিন্তু খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি নিজের মেধার। ক্যারিয়ারে সাফল্যের ফুল তেমন করে না ফুটলেও বিয়ের ফুল বেশ ঘটা করেই ফুটিয়েছিলেন।

‘লাভ ব্রেক আপ জিন্দেগি’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরিচালক ও ব্যবসায়ী সাহিল সাঙ্গার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। সেই ঘনিষ্ঠতাকেই স্বীকৃতি দিতেই তারা বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা। হাঁটছেন বিচ্ছেদের পথে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দিয়া মির্জা তার ইনস্টাগ্রামে নিজেই সে কথা জানান। সেখানে একটি পোস্টে দিয়া মির্জা লিখেন, ‘১১ বছর ধরে আমাদের জীবন ভাগ করে নেয়ার পরে আমরা পারস্পরিকভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ডেঙ্গুতে মা না ফেরার দেশে, মেয়ে হাসপাতালে: রোগী বাড়ছেই

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছেই। জেলা-উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর বিস্তার লাভ করেছে। গ্রামে-গঞ্জেও ডেঙ্গুর ছোবল থেকে অনেকে রক্ষা পায়নি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৬৪৯ জন। এ হিসাবে ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৬৮ জনের উপরে। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি  হন ৯৬৯ জন। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা সদরে ভর্তি হয়েছেন ৬৮০ জন রোগী। রাজধানীর বাইরে ৬৪ জেলা থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৯০৫ জন।
আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৯০ জন। ১লা আগস্ট এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৬৪ জন। ঢাকার বাইর চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৩৮১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৫২৪ জন। সারা দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৯১৯জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এই তথ্য জানিয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৮ জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের কয়েকগুণ। মৃত্যুর সংখ্যাও অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে। রোগী বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল। রাজধানী থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়ালেও এখন ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। অন্তত ৩০টি জেলায় স্থানীয়ভাবে এডিশ মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বত্র এখন ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে আতঙ্ক শুধু ঢাকাতেই নয়, সব জায়গায় ছড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৪টি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি হিসাবে ১৮ জন মৃতের খবর দিলেও এই সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৪৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ৮৫৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, আগস্ট মাসে তিন দিনে ৫ হাজার ৮৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৬৪৮ জন। গড়ে প্রতিদিন ৫০৪ জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৮৬৩ জন। আর মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ১৯৩ জন। রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হিসাবে ঢাকা জেলা থেকে ৩৪৯ জন, গাজীপুর থেকে ১৮৩ জন, মুন্সীগঞ্জ ৩৮জন, কিশোরগঞ্জ ১৮৩ জন, নারায়ণগঞ্জ ৬৯ জন, গোপালগঞ্জ ৩৪ জন, মাদারীপুর ৫২ জন, মানিকগঞ্জ ১২১ জন, নরসিংদী ৬৩ জন, রাজবাড়ী থেকে ৬৩ জন, শরীয়তপুর ৩৭ জন, টাঙ্গাইল ১২০ জন, ফরিদপুর ১১ জন, ময়মনসিংহ ৩৩৯ জন, জামালপুর ৭৫ জন, শেরপুর ২৫ জন, নেত্রকোনায় ১৪ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৩১৭ জন, ফেনীতে ১৪২ জন, কুমিল্লা ৯৬ জন, চাঁদপুর থেকে ১৫৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ জন, নোয়াখালীতে ৯৯ জন, কক্সবাজার ৩৮ জন, লক্ষ্মীপুর ৬১ জন, খাগড়াছড়ি ২০ জন, রাঙ্গামাটিতে ৭ জন, বান্দরবন একজন, খুলনায় ২৩৪ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১১২ জন, মাগুরা ২৮ জন, নড়াইল ১৯ জন, যশোর ১৪৮ জন, ঝিনাইদহ থেকে ৫০ জন, বাগেরহাট ১০জন, সাতক্ষীরা ৩৯ জন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ২১ জন, মেহেরপুর ৮ জন, রাজশাহী থেকে ১২৪ জন, বগুড়া ২০১ জন, পাবনা ৬১ জন, সিরাজগঞ্জ ১১৪ জন, নওগাঁয় ২৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩২ জন, নাটোর ১০ জন, জয়পুরহাট ৯ জন, রংপুর ১৫০ জন, লালমনিরহাট ৮ জন, কুড়িগ্রাম ২৩ জন, গাইবান্ধায় ১৮ জন, নীলফামারী ১৯ জন, দিনাজপুরে ৬০ জন, পঞ্চগড় ৩ জন, ঠাকুরগাঁও ১৮ জন, বরিশাল থেকে ২৪১ জন, পটুয়াখালী ৪৫ জন, ভোলা ২৭ জন, পিরোজপুর ২০ জন, ঝালকাঠি ৯ জন, বরগুনা ৪৩ জন, সিলেট থেকে ১৫১ জন, সুনামগঞ্জ ১১ জন, হবিগঞ্জ ১৮ জন, মৌলভীবাজার ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৩রা আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে তিন ও জুলাই মাসে ১৩ জন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধশতাধিক।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৮জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৪২ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৬৯জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২২৬ জন, বারডেম হাসপাতালে ৭২ জন, বিএসএমএমইউতে ১৪৩ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ২০১ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৩১৯ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৩৩ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৩৪ জন, কুর্মিটোলায় ৩৫৮ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭৬ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৯৬ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৫৫ জন, কমফোর্ট নার্সিংয়ে ১৫ জন, শমরিতায় ৪৯ জন, ল্যাব এইডে ১৭ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১১৪ জন, হাই কেয়ার হাসপাতালে ৪৬ জন, হেলথ এন্ড হোপে ৩১ জন, গ্রীনলাইফে ৯৩ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ১০৬ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৮০ জন, খিদমা হাসপাতালে ৩২ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ৬৪ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১০৫ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৪২ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ১২৭ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৫২ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৮৮ জন, বিআরবি হাসপাতালে ২৮ জন, আজগর আলীতে ৬৮ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৪৩ জন, উত্তরা আধুনিকে ৮৬ জন, আনোয়ার খান মর্ডানে ২১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

মাদারীপুরে ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু, মেয়ে হাসপাতালে
একই সঙ্গে মা ও মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মা নাদিরা বেগম (৪০) শনিবার ভোরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এই নিয়ে মাদারীপুর জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৪ জন। এ ছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৮ রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে ২০ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন মাদারীপুর থেকে। বাকিরা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হন। এখনো সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। মাদারীপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার রুবেল হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তার (২২), বুধবার রাতে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে মারা যান শিবচরের সলু বেপারীকান্দি এলাকার বাবু খানের ছেলে ফারুক খান (২২) ও তার আগের দিন মঙ্গলবার কালকিনি পৌরসভার ঠেঙ্গামারা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে জুলহাস বেপারী (৪৫) ঢাকায় মারা গেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গৃহবধু নাদিরা বেগমকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ৩০শে জুলাই। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে মাদারীপুর নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যায়। তিনি কালকিনি উপজেলার উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের আলমগীর মোড়লের স্ত্রী।
এব্যাপারে মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এসএম খলিলুজ্জামান জানান, ২০ জন জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর ব্যাপারে আলাদা মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।

বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু
বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত তাওহীদ নামের ১৮ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলার ২ নং গৌড়িচন্না ইউনিয়নের মধ্য লাকুরতলা গ্রামের জোম্মাদ্দার বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. ইসহাক জোমাদ্দারের পুত্র তাওহীদ ৩ দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২ আগস্ট তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওই দিনই তার মৃত্যু হয়। শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আতংকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন। শিশুটির চাচা ইব্রাহিম জোম্মাদ্দার জানান, তার ভগ্নিপতিও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিশুটির মা রিতা আক্তার বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত আমার ভাই রাজিব হোসেনকে দেখতে তাওহীদকে নিয়ে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় যাই। সেখান থেকে ফেরার পরই তাওহীদের জ্বর আসে। এরপর তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা বলেন তার ডেঙ্গু হয়েছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমাদের এখানে শিশুটিকে আনা হয়েছিল। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল পাঠাই। এ ঘটনায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাওহীদের বাড়িতে যান সহকারী কমিশনার ভূমি রুবাইয়া তাসনিম।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান জানান, বরগুনায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাওহীদ নামের এক শিশু মারা গেছে। ২২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিদের মধ্যে ১৩ জন বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ও একজন আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

৩৩ ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারে আলাদা রাবেয়া-রুকাইয়া

৩৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর সফলভাবে আলাদা করা হলো মাথা জোড়া লাগানো জমজ শিশু রাবেয়া ও ‍রুকাইয়াকে। চূড়ান্তভাবে আলাদা করার পর দুই বোনের অবস্থা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই অস্ত্রোপচার শেষ হয়। এর আগে ১ আগস্ট জটিল এই অস্ত্রোপচারটি শুরু হয়। ৩৩ ঘণ্টা চলে অস্ত্রোপচার।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবনার চাটমোহরের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির তিন বছর ১৫ দিন বয়সের এই দুই বাচ্চা ২০১৭ সাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আসছিল। হাংগেরি সরকারের মাধ্যমে ‘একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল’ নামক সংগঠন সক্রিয় সহায়তা প্রদান করে।
অস্ত্রোপচারের সবচাইতে জটিল অংশটি ‘জমজ মস্তিষ্ক’ আলাদা করার কাজটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে করা হয়। এই অস্ত্রোপচারে হাংগেরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচের নিউরো এ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে, নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সাইন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের প্রায় শতাধিক সার্জন ও এ্যানেসথেসিওলজিস্ট অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বিষয়টির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে শিশু দুটির দুই স্তরে ‘এন্ডোভাস্কুলার সার্জারি’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৪৮টি ছোট বড় অপারেশন হাংগেরিতে সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বেই বিরল ঘটনা। উপমহাদেশে এরকম অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম। এই অস্ত্রোপচারটি দেশে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেল। এ ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হাংগেরির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার হবে।
ঢাকা সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল। আর সাফল্যের হার খুব বেশি নয়। এ ধরনের অস্ত্রোপচার পরবর্তী ঝুঁকি এবং জটিলতা অত্যন্ত বেশি।
দুই বোন রাবেয়া-রুকাইয়া
দুই বোন রাবেয়া-রুকাইয়া

ডেঙ্গু জ্বর: এডিস নয়, কিউলেক্স মশা দমন হয় ঢাকায় ব্যবহৃত কীটনাশকে -কীটতত্ত্ববিদ

ঢাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কোন কার্যক্রমই নেই, ফলে ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্বের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ''আসলে ঢাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য আসলে কোন কার্যক্রমই নেই, যে কারণে এই অবস্থার তৈরি হয়েছে।''
তিনি জানান, ঢাকা শহরে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কার্যক্রম নেয়া হয়, সেটা শুধুমাত্র কীটনাশক দিয়ে মশা দমন, যার মাধ্যমে আসলে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ করে। ড্রেন, ডোবা, নালা বা রাস্তার আশেপাশে যে কীটনাশক স্প্রে করা হয়, সেটা হচ্ছে কিউলেক্স মশা আবাসস্থল।
কিন্তু এডিস মশার আবাসস্থল হচ্ছে মানুষের বাড়ি, বাড়ির চারপাশে বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি।
অধ্যাপক বাশার বলছেন, ''এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী দরকার এবং বিশেষ জায়গায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, সেটা সিটি কর্পোরেশনগুলো আসলে করেনি।"
"এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের আসলে কোন প্রশিক্ষিত দলই নেই, যারা এডিস মশার লার্ভা বা পূর্ণাঙ্গ এডিস মশা চিনতে পারেন বা কোথায় এগুলো জন্মায়, সেটা চিনতে পারেন।''

বাংলাদেশে এডিস মশা দমনে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?

কীটতত্ত্বের অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, ২০০০ সালের দিকে যখন বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এডিস মশা সার্ভেইল্যান্স নামের একটি প্রজেক্ট নেয়া হয়েছিল। সেই প্রজেক্ট একবছর চলে। এরপরে সিটি কর্পোরেশনে কিছুটা এডিস মশা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।
তখন ১৪ জনের একটি টিম ছিল, যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করতো যে, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব কোন জায়গায় কেমন আছে এবং সেগুলো গবেষণাগারে নিয়ে এসে পরীক্ষা করে দেখা হতো। সে অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনকে একটি তথ্য দেয়া হতো। সেই তথ্য উপাত্তের ভিত্তি কর্পোরেশন তাদের কার্যক্রম চালাতো।
কিন্তু এক বছর পরেই সেই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি জানান।
ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশ যখন ডেঙ্গুর প্রকোপে ভুগছে, তখন কলকাতা শহরে ডেঙ্গু গত কয়েকবছর ধরেই নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।
কলকাতা কর্পোরেশন বলছে, তারা সারা বছর ধরে নিবিড় নজরদারি চালায় - যাতে কোথাও জল না জমে থাকে।

কলকাতার উদাহরণ অনুসরণ করে ঢাকার ডেঙ্গু দমন কি সম্ভব?

কবিরুল বাশার বলছেন, ''কলকাতার মতো পদ্ধতি এখন আমাদের অনুসরণ করতে হবে।"
"বিশেষ করে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সঙ্গে এডিস মশা দমনের পদ্ধতি এক করা যাবে না। এ দুইটা আলাদা ধরণের। সুতরাং আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেজন্য মশক নিয়ন্ত্রণ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।''
তিনি জানান, কলকাতা এক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে, কারণ তাদের সারা বছর ধরে নজরদারি রয়েছে। শুধুমাত্র ডেঙ্গুর মৌসুমে নয়, তারা সারা বছর ধরে প্রতি ওয়ার্ডে তদারকি করে। কলকাতায় প্রতি ওয়ার্ডে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পেশাল টিম রয়েছে। যেটা ঢাকার সিটি কর্পোরেশনগুলোয় নেই।

ঢাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য আর কী ঘাটতি রয়ে গেছে?

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, বর্তমানে যখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি এরকম সংকটজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, তখন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এখন কিছু ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
''আসলে কীটনাশক দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। এর বাইরে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, সরাসরি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে তাদের সম্পৃক্ত করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।''
''কলকাতায় এক ধরণের জরিমানা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটাও ঢাকায় করা যেতে পারে।''
আসলে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে বলে বলছেন মি. বাশার।

হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীতে ঠাসা

হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীতে পরিপূর্ণ। মেডিসিন অনুষদের চিকিৎসকদের চেম্বারে লম্বা লাইন। ডেঙ্গু সন্দেহে আসছেন জ্বর হলেই। সবাই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত নন। সন্দেহবশত আসছেন তারা। কারণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার আগেই চিকিৎসার আওতায় আসতে চান। এমন রোগীতে ভর্তি এখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৬৮৭ জন। এদের সবাইকে নিশ্চিত হয়েই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১ আগস্ট ছিল সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১২ জন। আগস্টের দুই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৯৯ জন। জুলাই মাসের ৩১ দিনে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল ১৭ হাজার ১৮৩ জন।

এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এর আগে এক মাসে তো নয়ই, সারা বছরও এত বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হননি। মূলত ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলার কারণেই সবার ধারণা এডিস মশা বেড়েছে ব্যাপক হারে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা: সানিয়া তাহমিনা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশের বৃষ্টির অবস্থা থেকে গত মার্চ মাসেই সিটি করপোরেশনকে সাবধান করে দেয়া হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল মার্চ মাসের মধ্যেই যেন ব্যাপক ভিত্তিতে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, বর্ষার শুরুতেই মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এতটা সমস্যা হতো না।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিক্যালে যারা আসছে ডেঙ্গু সন্দেহে তাদের ক্ষুদ্র একটি অংশ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বেশির ভাগই আসছে আতঙ্কে। তিনি জানান, এই আতঙ্কটা এক দিক থেকে খারাপ না। আগেভাগেই মানুষ চলে আসছেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু তারা এভাবে সরকারি হাসপাতালে ভিড় না করে একটু পরীক্ষা করে ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়ে এলে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সুবিধা হতো। তাহলে সরকারি হাসপাতালের চাপ কমে যেত। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সামর্থ্যরে বাইরে কয়েক গুণ বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়ে নয়, নিশ্চিত হয়ে এখানে আসা উচিত। এখানে কাউকেই ফেরানো হয় না। এ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দুই শতাধিক সিট ডেঙ্গু রোগীদের জন্য। এখানেও একই অবস্থা। ডেঙ্গু সন্দেহে যারা আসছেন এর বেশির ভাগই সাধারণ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ১৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। মিটফোর্ডে ৩৫ জন, শিশু হাসপাতালে ৩৩ জন, হলিফ্যামিলি হাসপাতালে ৩১ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ১১৮ জন, বারডেমে ১৭ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ জন, পুলিশ হাসপাতালে ১৯ জন, মুগদা হাসপাতালে ৬৪ জন, বিজিবি হাসপাতালে পাঁচজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৫৬ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৯২ জন অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭০ জন। অবশিষ্ট ৬৬১ জন রাজধানী ঢাকার বাইরের আট বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। উপরে উল্লিখিত সবাই ডেঙ্গু সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত। এর বাইরে তিনজন রয়েছে ডেঙ্গু হেমোরেজিকে আক্রান্ত। বেসরকারি হাসপাতালের ৩৮৭ জনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২১, ইবনে সিনা হাসপাতালে ১৯, স্কয়ার হাসপাতালে ১১, শমরিতায় ২১, ল্যাবএইডে ৪, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২৮, গ্রিন লাইফে ২৬, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছে।

আমানত উত্তোলনে হয়রানি, দুর্ভোগ by এম এম মাসুদ

গ্রাহকদের আমানত উত্তোলনে অলিখিত কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। অনেকেই নিজ ব্যাংকের শাখা থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলতে পারছেন না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। তাতেও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নিতে পারছেন গ্রাহকরা। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ঘুরে ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর বাইরের শাখারও একই চিত্র।
বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট চলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, বড় কোনো চেক এলে কোনো কোনো ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না। ক্ষেত্রবিশেষে এমনও শোনা যাচ্ছে, ৫ লাখ টাকার চেক রিলিজ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যাংকে রাখা তাদের বাল্ক ডিপোজিট সরিয়ে নিচ্ছে। কোনো ব্যাংক তা পরিশোধে গড়িমসি করলেও চাপ প্রয়োগ করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ আমানতকারীরা।

অন্যদিকে তারল্য সংকটের কারণে বেসরকা?রি খাতে ঋণ প্রবৃ?দ্ধি কমে গত ৬ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ফলে সময়মতো ঋণ না পাওয়ায় ভুগছেন দেশি উদ্যোক্তারা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে কমতে থাকা ঋণ প্রবৃদ্ধি জুন মাস শেষে ১১.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.২১ শতাংশ কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে ব্যাংক খাতে কোনো তারল্য সংকট নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে তিনি এ দাবি করেন। তার মতে, চল?তি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে ৮৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। সেই হিসাবে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্র্তারা বলছেন, গ্রাহকরা সর্বোচ্চ কত টাকা তুলতে পারবে বা পারবে না, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো সার্কুলার জারি করে নাই। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে এ বিষয়ে সুনিদৃষ্ট করে বলা আছে। একজন গ্রাহক সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকার উপরে উত্তোলন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজারের অনুমতি নিতে হয়। তিনি বলেন, ৫০ হাজারের উপরে গ্রাহক যদি সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা তুলতে চায়, সেটা নির্ভর করছে গ্রাহক ও ব্যাংকের সম্পর্কের ওপর।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলেন, বেশির ভাগ ব্যাংকে কমবেশি ২০-৩০ হাজার কোটি টাকা পুঁজি থাকার কথা। এগুলো সাধারণ মানুষের গচ্ছিত টাকা। ব্যাংক তার নিয়মানুযায়ী এসব টাকা ঋণ দিয়ে ব্যবসা করে থাকে। সুসাশন চালু থাকলে কখনও কোনো ব্যাংকের অর্থ সংকটে পড়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রথমে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাকে তাকে বাল্ক প্যাকেজে ঋণ দেয়া হয়। এসব ঋণগ্রহীতা এখন খেলাপি।
মতিঝিলে কথা হয় একটি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কাজী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল কিনতে আরেক প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেয়ার জন্য চেক দিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার লেনদেনকারী ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিতে পারেনি। ফেরত দিয়েছে। বলেছে, এত বড় অংকের টাকা দেয়া সম্ভব নয়।

সরজমিন দেখা গেছে, মতিঝিলের একটি ব্যাংকের শাখায় ৫০ লাখ টাকার চেক নিয়ে বসে আছেন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা বারবার তাকে অপেক্ষা করতে বলছেন। ফলে এ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেও চেক দিয়ে টাকা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। এটা শুধু ঘটছে বড় বড় গ্রাহকের ক্ষেত্রে। তবে ছোট আকারের এ্যাকাউন্টের গ্রাহকরা সহজেই টাকা তুলতে পারছেন।
আরেকটি বেসরকারী ব্যাংকে দেখা গেছে, একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী তার ব্যবসার কাজে ৩০ লাখ টাকা তুলতে এসেছেন। কিন্তু তাকে বলা হলো, এত টাকা দেয়া সম্ভব নয়। এর জন্য সিনিয়র অফিসারের অনুমতি লাগবে। ব্যবসায়ী আরও জানান, আগেও টাকা তুলতে এসেছিলাম। ওই সময় কোনো কথা ছাড়াই টাকা পেয়েছি। কোনো ঝামেলার মুখোমুখি হইনি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে টাকা দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মনে হয় যে পরিমাণ টাকা তুলতে এসেছি ব্যাংকে সেই পরিমাণ টাকাই নেই। তা ছাড়া টাকা না দেয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি।
আরেকটি ব্যাংকের শাখায় টাকা তোলার জন্য এসেছেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। টাকা উত্তোলনে জন্য তিনি তার এক কর্মীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। বেশ কিছুক্ষণ পর বড় অংকের টাকা না পেয়ে ওই কর্মী জানালেন ব্যাংক এত টাকা দিতে পারছে না। বড় স্যারের অনুমতি লাগবে। পরে ব্যবসায়ী সিনিয়র কর্তাকর্তার কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। হতাশ হয়ে কম টাকা তুলে ফিরতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, প্রাইভেট ব্যাংকের তারল্য সংকটের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম উপেক্ষা করে তারা বেপরোয়াভাবে ঋণ দিয়েছে।
এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে, তার খেসারত এখন ভালো ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে। ব্যাংকে গেলে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ঋণ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকাও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি বলেন, সাবেক ফারমার্স ব্যাংকে মালিকদের লুটপাটের কারণে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। তার মাসুল দিয়ে যাচ্ছে পুরো ব্যাংকিং খাত।

‘খাবারের ধর্ম হয় না' by শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়

ফুড-অ্যাপ সংস্থা জোম্যাটোর এখন বাহবা এবং বদনাম, দুইই জুটছে৷ কারণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে তারা৷ ‘ফুড ইজ রিলিজিয়ন'৷ খাবারই ধর্ম৷ সারা ভারতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে অনলাইনে খাবার আনানোর অ্যাপ ‘জোম্যাটো'–র এই টুইট৷ কেন এই ঘোষণা, তাও এখন সবার জানা৷ মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বাসিন্দা অমিত শুক্লা জোম্যাটো মারফৎ খাবার আনতে দিয়েছিলেন৷ জনৈক ফৈয়াজ তাঁর খাবার ডেলিভারি দেবেন দেখতে পেয়েই অর্ডার বাতিল করেন শুক্লা৷ টাকাও ফেরত চান৷ কিন্তু জোম্যাটো জানায়, টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না৷ যাঁরা বাড়িতে খাবার ডেলিভারি দেন, ফুড-অ্যাপের নিজস্ব পরিভাষায় যাঁদের ‘রাইডার'বলা হয়, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় কখনোই অর্ডার বাতিলের কারণ হতে পারে না৷ সাফ জানিয়ে দেয় জোম্যাটো৷
এই সাহসী এবং বলিষ্ঠ অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রশংসা এবং নিন্দা, দুইই এখন উঠছে জোম্যাটোর৷ একদল সমর্থন করছেন জোম্যাটো কর্তৃপক্ষের এই ধর্ম নিরপেক্ষ অবস্থান৷ আর অন্যদল সোজা কথাটা মুখের ওপর বলে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত৷ কার্যত লাখ লাখ লোক গুগল প্লেস্টোরে গিয়ে জোম্যাটো অ্যাপটিকে সবথেকে কম রেটিং দিয়ে আসছেন৷ বহু লোক অ্যাপটি নিজেদের মোবাইল থেকে আন-ইনস্টল করে তার ঘোষণা দিচ্ছেন৷ অনেকে #বয়কট_জোম্যাটো হ্যাশট্যাগ চালু করেছেন সোশাল মিডিয়ায়৷ আরেক ফুড অ্যাপ সংস্থা উবার ইট্স-ও জোম্যাটোকে সমর্থন করে একইভাবে এক শ্রেণির রোষের শিকার হচ্ছে৷
পাশাপাশি একটি সমালোচনাও উঠে আসছে, যে জোম্যাটো যখন হালাল মাংসের খাবার, জৈনদের খাওয়ার উপযুক্ত নিরামিষ খাবার, বা নবরাত্রি উৎসবের স্পেশাল থালির বিজ্ঞাপন নিজেদের অ্যাপে দেয়, তখন তাদের একথা বলা সাজে না যে খাবারের কোনও ধর্ম হয় না৷ কারণ এটা দ্বিচারিতা৷ যেমন বললেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী সুজিত দাস, যে এটা মুদ্রার অপর পিঠ৷ ‘জোম্যাটো যেমন বলে ফুড হ্যাজ নো রিলিজিয়ন, তেমনই বিপণনের সময় জোম্যাটোর মাথায় রাখা দরকার, যে রিলিজিয়ন শুড নট এন্টার ফুড!'
এই আপাত পরস্পরবিরোধিতার ব্যাখ্যা দিয়েও টুইট করেছে জোম্যাটো৷ লিখেছে, যে সব রেস্তোরাঁ হালাল মাংসের খাবার বিক্রি করে বলে নির্দিষ্ট চিহ্নিতকরণ দাবি করে, তাদের ক্ষেত্রেই সেটা উল্লেখ থাকে৷ যেমন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার, বা ‘ভেগান' খাবারের ক্ষেত্রে থাকে৷ নয়ত জোম্যাটো সত্যিই বিশ্বাস করে, খাবারের কোনও ধর্ম হয় না৷
আর কলকাতার যে বহুল জনপ্রিয় বিরিয়ানি–কাবাবের রেস্তোরাঁগুলো আছে, তারা এ ব্যাপারে কী ভাবছে?‘সান্ঝা চুল্হা'রেস্তোরাঁর মালিক মুসলিম৷ তাদের যে কর্মীটি খাবার হোম ডেলিভারির অর্ডার নেন, তিনি হিন্দু৷ গ্রাহকদের ধর্মীয় পছন্দ সম্বন্ধে তাদের সাফ কথা-আমাদের যারা রান্না করে, যারা ডেলিভারি দেয়, তারাই থাকবে৷ যদি সেটা কারও পছন্দ না হয়, তিনি স্বচ্ছন্দে অন্য রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনাতে পারেন৷

রোহিঙ্গা যৌনকর্মী বাড়ছে, বাড়ছে পাচার by হারুন উর রশীদ স্বপন

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার হার ক্রমশ বাড়ছে৷ আর এর নেপথ্যে রয়েছে দেশীয় দালাল চক্র৷ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারাদেশে সক্রিয় এ চক্রটি৷
গত জুন মাসে কক্সবাজার থেকে পাচারের সময় অন্তত ২১ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়৷ মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি দেয়ার কথা বলে পাচার করা হচ্ছিল তাদের৷ এর আগে ১৪মে উদ্ধার করা হয় ১৭ জন নারীকে৷ তাদের দলে ১৬ জন শিশু ও একজন পুরুষও ছিলেন৷ উদ্ধারের পর তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়৷ শুধু কক্সবাজার নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও রোহিঙ্গা নারীদের উদ্ধার করা হচ্ছে৷

গত ২০ জুলাই রাজধানী ঢাকা থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীকে  উদ্ধার করে র‌্যাব৷ এ সময় দালাল চক্রের সদস্যদেরও আটক করা হয়৷ জানা যায়, ওই দুই নারীকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল দালাররা৷

কক্সবাজারে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে ‘নোঙর' নামে একটি স্থানীয় এনজিও৷ তারা এইচআইভি নিয়ে কাজ করলেও রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে৷ প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্থানীয় দালাল চক্র ছাড়াও আগেই বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকে এ গোষ্ঠিটির নারীদের নানা উপায়ে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করছে৷ হতদরিদ্র অবস্থার সুযোগ নিয়ে এ কাজ করছে তারা৷''

তিনি বলেন, ‘‘চাকরির নামে বিদেশে যাদের পাচার করা হয় তাদের আসলে যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়৷ পাচারের সময় অনেক রোহিঙ্গা নারী উদ্ধার করা হয়েছে৷ আর এ থেকেই বোঝা যায় যে, কি পরিমান রোহিঙ্গ নারী পাচার হয়েছে৷ চাকরি ছাড়ায়ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়৷ অনেক রোহিঙ্গা নারী এখানে আসার পর ক্যাম্পের বাইরে থেকেই তাদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হয়৷ তাদের শুধু কক্সবাজার এলাকায় নয় দেশের অন্যান্য এলাকায় পরিচয় পাল্টে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে৷''

ঠিক কতজন রোহিঙ্গা নারী যৌন ব্যবসায় জড়িয়েছে তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও তাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানান তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘বাড়ার কারণ হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প সুরক্ষিত নয়৷ আর ক্যাম্পের মধ্যেই যৌন ব্যবসার দালালদের নেটওয়ার্ক৷''

কক্সবাজার এলাকার হোটেল ছাড়াও দালালরা যৌন ব্যবসার জন্য বাসা ও বিভিন্ন রেস্ট হাউজও ব্যববহার করে৷ তবে, রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে৷ কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন অবশ্য দাবি করেন, ‘‘রোহিঙ্গা নারীরা যে যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে সে তথ্য আমাদের কাছে নেই৷ তবে ক্যাম্পের ভিতরে তারা যৌন হয়রানির শিকার হন এমন অভিযোগ আমরা পাই৷''

যৌন ব্যবসার ব্যাপারে পুলিশের নজরদারি আছে বলে জানান তিনি৷

আর কক্সবাজার জেলা সমাজ সেবা দপ্তরের উপ পরিচালক প্রীতম চৌধুরী বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা নারীরা যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন এমন তথ্য এবং অভিযোগ আমরা শুনি৷ তবে আমরা ক্যাম্পের শিশুদের নিয়ে কাজ করি, নারীদের নিয়ে নয়৷

আবারো এক কোটি আফগানকে হত্যা করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সেনা (ফাইল ছবি)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো আফগানিস্তানের এক কোটি মানুষকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সেনারা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে আফগান যুদ্ধে জয়লাভ করার ক্ষমতা রাখে তবে সেজন্য তাদেরকে কয়েক মিলিয়ন মানুষ হত্যা করতে হবে।
উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হওয়ার খবর দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। গতকাল হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানের চোরাবালিতে আটকে পড়া মার্কিন সেনারা “দুই, তিন অথবা চারদিনের মধ্যে এ যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে, কিন্তু আমি এক কোটি মানুষকে হত্যা করতে চাই না।”
এর আগে গতমাসেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানের এক কোটি মানুষকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন যার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন সেনারা কয়েক দিনের মধ্যে এক কোটি আফগান নাগরিককে হত্যা করার সামর্থ্য রাখে। তিনি বলেন, “আমি প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার কথা বলছি।”
২০০১ সালের অক্টোবারে আমেরিকা ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার এক মাসের মধ্যে এ আগ্রাসন চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর হামলায় তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও গত দুই দশকে তালেবানকে আফগানিস্তান থেকে নির্মূল করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয় আমেরিকা। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে আরেক উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশের উত্থান ঘটেছে যদিও ধারনা করা হয় মার্কিন মদদেই দায়েশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে।