Friday, February 12, 2010

রাজধানীতে ছিনতাই বৃদ্ধি

কিছুদিন ধরে ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। গত সোমবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্য একুশের বইমেলা, বাণিজ্য মেলা ও এসএ গেমসের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের পরিমাণ বেড়েছে। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী।
নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতার পেছনে যে কারণই দেখানো হোক না কেন, তা দিয়ে এর ন্যায্যতা প্রতিপাদন করা যায় না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়ার বা গাফিলতির সুযোগ নেই।
ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের মহানগর পুলিশি ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। বইমেলা, বাণিজ্য মেলা বা এসএ গেমসের কারণে ছিনতাই বেড়ে যাবে, এ ধরনের অজুহাত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের নানা অনুষ্ঠান রাজধানীতে বিভিন্ন সময়ে চলবে, এটাই স্বাভাবিক এবং এ ধরনের কাজে পুলিশকে অংশ নিতে হবে—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই মহানগরের পুলিশি ব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এমন নানা আয়োজনের সঙ্গে নিয়মিত কাজের সমন্বয় বিধান করে প্রতিনিয়ত চলতে হবে পুলিশি ব্যবস্থাকে। একদিক সামাল দিতে গিয়ে আরেক দিক ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ প্রশাসনকে সব সময় ও সব পরিস্থিতিতেই সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ না থাকলে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে।
ছিনতাই, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই প্রধান ভরসাস্থল। তা ছাড়া রাজধানীতে কারা নানা রকম দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে জড়িত, তা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অজানা নয়। ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত পুলিশকে সক্রিয় ও ত্বরিত ভূমিকায় থাকা প্রয়োজন। তারা কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা জারি রাখতে সমর্থ হলে এসব অপরাধ বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। মানুষজন যেন রাস্তাঘাটে, বিপণিবিতান, ব্যাংকে বা অন্যান্য স্থানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, তার ন্যূনতম নিশ্চয়তা বিধান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

বিচারপতিদের সম্পদের বিবরণী

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি মো. ফজলুল করিম স্বচ্ছতার স্বার্থে উচ্চ আদালতের বিচারকদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশে যে গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। অনেক বিলম্বে হলেও এ রকম সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি ধন্যবাদপ্রাপ্য। তবে এখন দেখার বিষয় হলো, বিচারপতিরা জনগণের সামনে ঠিক কবে নাগাদ তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেন।
জরুরি অবস্থার সময় অধস্তন আদালতের বিচারকদের কাছ থেকে সম্পদের বিবরণী নেওয়া হয়েছিল। এসব বিবরণী যাচাই ও মূল্যায়ন করার উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের পরও সংবিধান অনুযায়ী বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করার দায়িত্ব হাইকোর্ট বিভাগের। কিন্তু আমরা বেদনা ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ করি, এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগ নীরবতা পালন করে চলেছেন। প্রায় ৮০ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত ফুলকোর্টের সভার আলোচ্যসূচি হিসেবে এ বিষয়টি অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
প্রতিবেশী ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সম্প্রতি তাঁদের সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দিয়েছেন। লক্ষণীয় যে তা কেবল নিজেদেরই নয়, একই সঙ্গে তাঁরা তাঁদের পোষ্যদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করেছেন। সেখানে আদালতের তরফে একটা প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে উচ্চ আদালতের বিচারকেরা এ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন কি না। সেই তর্কের একটা অবসান ঘটেছে। বিচারপতিরা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পর বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টগুলোর বিচারকেরা তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করছেন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৬(৪) অনুচ্ছেদের আওতায় ২০০৩ সালে উচ্চ আদালতের বিচারকদের জন্য পালনীয় আচরণবিধিতে প্রথমবারের মতো সম্পদের বিবরণীর কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত হয়। এতে বলা আছে, প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে বিচারকদের তাঁদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে আহ্বান জানাবেন। আজ সাত বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু সম্পদের বিবরণী কোনো প্রধান বিচারপতিই চাইলেন না। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রধান বিচারপতি শপথ নিয়েই সাংবাদিকদের কাছে সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরলেন। সুতরাং আমরা একান্তভাবে আশা করতে পারি, অবিলম্বে প্রধান বিচারপতি সংবিধান ও আইনে তাঁর ওপর দেওয়া অর্পিত কর্তব্যের ডাকে সাড়া দিয়ে বিচারকদের কাছে সম্পদের বিবরণী চাইবেন এবং যথাসময়ে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করবেন।
বর্তমান জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এ ধরনের তথ্য জানার অধিকার নাগরিকেরা সংরক্ষণ করে। আমাদের জানামতে, কোনো কর্মরত প্রধান বিচারপতির তরফে সম্পদের বিবরণী প্রকাশসংক্রান্ত ঘোষণা এই প্রথম। আইন তাঁকেই তা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়ে রেখেছে। আমরা প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে যথা উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকলাম।

পদ্মা অয়েল নগদে ৫০% ও বোনাস শেয়ারে ২০০% লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ২০০৮-০৯ অর্থবছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ৫০ শতাংশ নগদ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়া হবে।
কোম্পানির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। কোম্পানির চট্টগ্রামের গুপ্তগ্রামের প্রধান স্থাপনায় সম্প্রতি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল করিম সভাপতিত্ব করেন। এতে কোম্পানির পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন, মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, কাজী শফিকুল আযম ও মো. শওকত হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল খায়ের এবং কোম্পানি সচিব এম মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় এবং পরিচালকের সংখ্যা আটজনে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ ছাড়া সভায় কোম্পানির গত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকীর বিক্রি কমেছে

গত বছরের শেষ ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাগাজিন বা সাময়িকীর বিক্রি অনেকখানি কমে গেছে। গত সোমবার অডিট ব্যুরো অব সার্কুলেশন (এবিসি) এ তথ্য জানায়। পত্রিকা-স্ট্যান্ড ও তালিকাভুক্ত গ্রাহক—দুই ক্ষেত্রেই এই বিক্রি হ্রাস পেয়েছে।
এবিসি জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭২টি সাময়িকীর প্রচারসংখ্যা ছিল ৩২ কোটি ৮৪ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দুই দশমিক ২৩ শতাংশ কম। এই সময়ে পত্রিকা-স্ট্যান্ডে বিক্রি কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। আর গ্রাহকভিত্তিক বিক্রি কমেছে এক দশমিক ১২ শতাংশ।
গত বছরের শেষ ছয় মাসে সেখানকার ২৫টি শীর্ষ সাময়িকীর অন্যতম রিডারস ডাইজেস্ট-এর প্রচারসংখ্যা ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ কমে ৭০ কোটি ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর প্রচারসংখ্যা কমেছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। টিভি গাইড-এর প্রচারসংখ্যাও ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। টাইম-এর বিক্রিও কমেছে প্রায় এক শতাংশ। আরেকটি সাময়িকী নিউজউইক-এর প্রচারসংখ্যাও কমেছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।

হত্যার অভিযোগে কানাডায় সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

কানাডার একটি সেনাঘাঁটির কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে পলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে দুজন নারীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই সেনা কর্মকর্তার নাম রাসেল উইলিয়াম (৪৬)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৭ বছরের এক নারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিন ওই নারী উইলিয়ামকে তাঁর বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বার্তা পাঠান। এর পর থেকে তাঁর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। গত সপ্তাহে ওই নারীর মৃতদেহ উইলিয়ামের গ্রামের বাড়ির কাছে একটি রাস্তার পাশে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে উইলিয়ামের বিরুদ্ধে আরও একজন নারীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ওই নারীও একজন সেনাসদস্য। গত বছরের নভেম্বরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

হাইতির ভূমিকম্পে আহত শিশুদের পাশে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গত সোমবার ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চিকিত্সাধীন ভূমিকম্পে আহত হাইতির শিশুদের দেখতে যান। অস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রী স্যান্টো ডোমিঙ্গোর একটি হাসপাতালের শিশু বিভাগে যান এবং চিকিত্সাধীন শিশুদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের শুভেচ্ছা দূত। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের হাইতিবিষয়ক প্রধান গঞ্জালো ভারগাস।
গত ১২ জানুয়ারি হাইতিতে সাত রিখটার স্কেলের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মানুষের সাহায্যের জন্য অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও তাঁর প্রেমিক ব্রাড পিট এর মধ্যে কয়েক লাখ ডলার দান করেছেন।

ইয়ানুকোভিচকে জয়ী হিসেবে মানতে নারাজ তাইমোশেঙ্কো

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কো বলেছেন, তাঁর দল কখনোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষের (ইয়ানুকোভিচ) বিজয়কে মেনে নেবে না। তারা নির্বাচনের ফল নিয়েও কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানাবে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় ইন্টারনেটভিত্তিক পত্রিকা ইউক্রেইনস্কায়া প্রাভদার খবরে এ কথা জানানো হয়। ইউক্রেনে বেশ মর্যাদাসম্পন্ন পত্রিকা এটি।
তাইমোশেঙ্কোর বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ‘এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে ইয়ানুকোভিচের বিজয়ের বৈধতা আমি কখনোই মেনে নেব না।’ তবে তাইমোশেঙ্কোর দলের সদস্য ও পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার মিকোলা তোমেনকোসহ দলের বড় একটি অংশ চাইছে পরাজয় মেনে নিয়ে বিরোধী দলে অবস্থান নিক তাদের নেতা।
ইউক্রেনে গত রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিন শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন রাশিয়াপন্থী নেতা ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ওই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে সোমবার রাতে দলীয় বৈঠকে নির্বাচন ফল মেনে নিতে অস্বীকার করেন তাইমোশেঙ্কো। বৈঠকে দলের অনেক সদস্যও ওই ফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পক্ষে মত জানান। ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি তাইমোশেঙ্কো। তাঁর সহযোগীরা গত সোমবার দুইবার সংবাদ সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করেও পরে তা বাতিল করে।

মুম্বাইকে ‘বোম্বে’ বলায় রাহুলের সমালোচনায় শিবসেনা

ভারতের মুম্বাইকে ‘বোম্বে’ বলায় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনা। খবর পিটিআইয়ের।
শিবসেনার মুখপত্র সামানায় এক সম্পাদকীয়তে দলটির প্রধান বাল ঠাকরে বলেন, সম্প্রতি মুম্বাই সফরের সময় রাহুল গান্ধী বারবার মুম্বাইকে বোম্বে বলে উল্লেখ করেছেন। যারা মুম্বাইকে মহারাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, তারাই বোম্বে বলে।
মুম্বাই সফরের সময় মহারাষ্ট্র রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ বাগ নিরাপত্তার জন্য রাহুলের জুতা বহন করেন। এ জন্য রমেশকে নিয়ে উপহাস করেন বাল ঠাকরে। তিনি বলেন, এত নিচে নামার জন্য ওই মন্ত্রীর লজ্জিত হওয়া উচিত।
বাল ঠাকরে বলেন, রাহুল গান্ধী মহাত্মা গান্ধী নন যে তাঁর জুতা বুকের কাছে ধরে রাখতে হবে।

কোরীয় উপদ্বীপ থেকে পরমাণু অস্ত্র অপসারণের প্রতিশ্রুতি কিমের

কোরীয় উপদ্বীপ থেকে পরমাণু অস্ত্র অপসারণ করার ব্যাপারে আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইল। গতকাল মঙ্গলবার কিমকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। এ ছাড়া কিম তাঁর শীর্ষ পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক দূতকে গতকাল বেইজিং পাঠিয়েছেন।
কিম আগেও এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ভেঙেছেন উল্লেখ করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত বছর পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালানোর পর জাতিসংঘ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া উত্তর কোরীয় মুদ্রার মান পুনর্নির্ধারণ করায় সেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে এবং জনসাধারণের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভবত সুর নরম করছে পিয়ংইয়ং।
সিনহুয়া বলেছে, গত সোমবার ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তা ওয়াং জিয়ারুইয়ের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরীয় নেতা কিম কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখার ব্যাপারে তাঁর দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের লেখা একটি চিঠি কিমকে পৌঁছে দেন জিয়ারুই। চিঠিতে হু জিনতাও বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন। কিমকে চীন সফরেরও আমন্ত্রণ জানান হু।
এদিকে গতকাল বেইজিং পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক শীর্ষ আলোচক কিম কায়ে গোয়ান। বিশ্লেষকদের ধারণা, পরমাণুসংকট নিয়ে ছয় জাতি আলোচনায় ফেরার একটি ইঙ্গিত হিসেবেই কিমের দূত চীনে গেছেন। গত বছরের এপ্রিলে আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে পিয়ংইয়ং। চীন, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ওই আলোচনা চলছিল উত্তর কোরিয়ার। এ ছাড়া ছয় জাতি আলোচনায় ফেরার বিষয়ে কথা বলতে গতকাল পিয়ংইয়ং যাওয়ার কথা জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা লিন প্যাসকোর।
দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা সেজং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চিওং সিওং চ্যাং বলেন, কিম কায়ে গোয়ানের বেইজিং সফর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এর আগেও কয়েকবার বলেছে, তারা পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ মনোভাব পরিবর্তন করে।

শিশুকন্যাকে পানিতে চোবানোর অভিযোগে মার্কিন সেনা গ্রেপ্তার

নিজের চার বছরের শিশুকন্যাকে পানিতে চুবিয়ে রাখার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ এক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই সেনাসদস্যের নাম জশুয়া তাবর (২৭)।
পুলিশ কর্মকর্তা টড স্টানসিল জানান, জশুয়া ও তাঁর বান্ধবী মদ্যপ অবস্থায় শিশুটিকে এ, বি, সি মুখস্থ বলতে বলেন। তা করতে না পারলে তারা রান্নাঘরের সিংকের পানির মধ্যে শিশুটির মাথা ডুবিয়ে রাখেন।
পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এটা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার শামিল। শিশুটি পানি ভয় পায়, এ জন্যই তাকে এভাবে পানিতে চোবানো হয়েছে। সেনাসদস্যরা শত্রুর কাছ থেকে তথ্য বের করতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ৩১ জানুয়ারি রাত দুইটায় তারা শিশুটিকে শৌচাগার থেকে উদ্ধার করে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে ইরান

ইরানের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে তেহরান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এ কথা জানায়। এদিকে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয় চীনের পক্ষ থেকে।
আলী আকবর সালেহি বলেন, ‘নাতাঞ্জের পরমাণু স্থাপনায় একটি পৃথক আধারে আজ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছি আমরা।’ তিনি বলেন, ‘এ উদ্দেশ্যে আমরা ১৬৪ সেন্ট্রিফিউজের একটি আধার তৈরি করেছি, যেখানে তেহরান পরমাণু চুল্লির জন্য প্রতি মাসে তিন থেকে পাঁচ কেজি ২০ শতাংশ ইউরেনিয়াম উত্পাদন করতে পারবে।’
সালেহি আরও বলেন, পরমাণু চুল্লির জন্য তাঁদের যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন, এটা তার দ্বিগুণ। তেহরান চুল্লির জন্য প্রয়োজন ১.৫ কেজি ইউরেনিয়াম।
ইরানের সরকারি টেলিভিশন আল-আলমে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের উপস্থিতিতে ওই সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এর আগে মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাতাঞ্জের পরমাণু স্থাপনায় স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে তেহরান।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ অবসানে একটি পরমাণু জ্বালানি চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মা জাওক্সু বলেন, তিনি আশা করছেন, তেহরানে গবেষণা চুল্লি-সংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তির ব্যাপারে মতবিনিময় করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে, যা ওই ইস্যুর সমাধানে সহায়তা করবে।
মা জাওক্সু আরও বলেন, তিনি আশা করছেন যে ওই প্রশ্নে সংলাপ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের চেষ্টা আরও জোরদার করবে।
অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী।
গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের উপপ্রধানমন্ত্রী সিলভান শালোম ইসরায়েলি বেতারকে বলেন, সামনের মাসগুলো হবে নিষ্পত্তিকারক। সময় এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ করার।
শালোম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কি ইরানের তথাকথিত সহযোগিতার বিভ্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখবে, নাকি ইরান ও তার পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রকৃত অবরোধ আরোপ করবে।

পরমাণুবিজ্ঞানী কাদির খানকে কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না

পাকিস্তানে সরকারের নির্দেশে দেশটির বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের বাসভবনে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বজন, বন্ধুবান্ধব, এমনকি কোনো চিকিত্সককেও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আবদুল কাদিরের আইনজীবী সাইদ আলী জাফর গতকাল মঙ্গলবার লাহোর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চকে এ কথা জানান। পিটিআই।
সাইদ আলী জাফর বলেন, আবদুল কাদির খানের ওপর বিধিনিষেধ কমাতে যেখানে আদালতে শুনানি চলছে, সেখানে আদালতের দোহাই দিয়ে সরকার বিধিনিষেধ আরও কঠোর করছে। সম্প্রতি তিনি (কাদির) তাঁর অসুস্থ ভাইকে দেখতে হাসপাতালে যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চিকিত্সকেরা বাসভবনে ঢুকতে চাইলে তাঁদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে আবদুল কাদিরের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনজীবী জাফর।

মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ডাক আল-কায়েদার

বিশ্বজুড়ে আরও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আহ্বান জানিয়েছে আল-কায়েদার ইয়েমেনভিত্তিক শাখা। গত সোমবার ইন্টারনেটে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় ওই আহ্বান জানানো হয়।
আল-কায়েদা ইয়েমেন শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ সদস্য আল-শিহরি ইন্টারনেটে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় বলেন, ‘সর্বত্রই আমেরিকান ও ক্রুসেডারদের স্বার্থ রয়েছে এবং তাদের এজেন্টরা সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়।’ তাঁর আহ্বান, তাদের ওপর হামলা চালান এবং যত বেশি সম্ভব শত্রু নিধন করুন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা গত ডিসেম্বরে বলেছে, গুয়ানতানামো বের মার্কিন বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দেওয়ার পর ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদার শীর্ষ পদে উঠে আসেন সৌদি নাগরিক শিহরি।
শিহরি বলেন, এ যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনি মুসলমানদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং মুজাহিদদের সমর্থন দিতে হবে। আরব উপদ্বীপের মুসলমানদের প্রতিও তিনি একই আহ্বান জানান।
শিহরি আরও বলেন, ‘আমাদের শেখ ওসামা বলেছেন, আমেরিকা নিরাপত্তার স্বপ্ন দেখতে পারে না, যত দিন না আমরা ফিলিস্তিনে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারব। আমি তাঁর ওই কথার পুনরাবৃত্তি করছি।

ভারতে এই প্রথম হতে যাচ্ছে সামরিক সংগীত উৎসব

ভারতে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সামরিক সংগীত উৎসব। ওই উৎসব হবে রাজধানী নয়াদিল্লির পুরোনো কেল্লার সেনা ছাউনি ও ইন্ডিয়া গেটে। সাত দিনব্যাপী আয়োজিত ওই সংগীত উৎসব শুরু হবে এ মাসের ২৫ তারিখে। শেষ হবে ৩ মার্চ।
উৎসবে ভারতসহ বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ—বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের সামরিক সংগীত দলের সদস্যরা যোগ দেবেন। প্রত্যেক দেশ থেকে আসবে ৫০ সদস্যের একটি বাদক দল। উৎসবে থাইল্যান্ড ও কাজাখস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আসছে না।
নয়াদিল্লির এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে কলকাতার একটি সংবাদপত্র জানায়, ওই উৎসবে ভারতের স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সামরিক সংগীত দল অংশ নেবে। উৎসবে কেরালার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট কালারিপায়াত্তু, উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকসংস্কৃতি নৃত্য, ভাঙরা নাচ, লাদাখের নাচ এবং মহারাষ্ট্রের লেজিম নৃত্যও প্রদর্শিত হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই উৎসব দেখতে আসবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও উৎসবে যোগ দেবেন। জনসাধারণ ওই উৎসব দেখতে পারবে ইন্ডিয়া গেটে।

তালেবানের ‘ওমর’ বোমা!

ওমর’ নামে নতুন একধরনের বোমা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। তাদের দাবি, পশ্চিমা বাহিনীর মাইন শনাক্তকরণ যন্ত্রের পক্ষে ওই বোমা শনাক্ত করা অসম্ভব। তালেবানের পলাতক নেতা মোল্লা ওমরের নামে ওই বোমার নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তালেবানের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।
আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমা সেনা নিহত হয়েছে বাড়িতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণে, যা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি নামে পরিচিত। দূরনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সাহায্যে এর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা নতুন ধরনের আইইডি তৈরি করেছে। ওই বোমা তৈরিতে এমন পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
আফগানিস্তানের পশ্চিমা-সমর্থিত সরকার ও বিদেশি সৈন্যদের বিতাড়িত করার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান জঙ্গিরা।
তালেবানের মুখপাত্র ইউসুফ আহমাদি বলেন, নতুন বোমার নামকরণ করা হয়েছে তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর মুজাহিদের নামে। অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘ওমর’ আমাদের সর্বশেষ অস্ত্র।’
তালেবান মুখপাত্র বলেন, এটা খুবই কার্যকর বোমা। মাইন শনাক্তরণ যন্ত্রের সাহায্যে এটা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তবে নতুন তৈরি ওই বোমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি ওই মুখপাত্র। ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘এটা আমাদের সামরিক গোপনীয়তা।’ তবে তিনি জানান, একটি ‘ওমর’ তৈরিতে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ ডলার।
ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘একটি ১০০ ডলারের মাইনের সাহায্যে আমরা শত্রুদের বহু কোটি ডলারের মানববিধ্বংসী মাইন ধ্বংস করতে সক্ষম হব।

ইরাক অভিযানের পেছনে ষড়যন্ত্র খোঁজার চেষ্টার সমালোচনা করেছেন ব্লেয়ার

ইরাক অভিযানে ব্রিটেনের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ‘দুরভিসন্ধি’ বা ‘ষড়যন্ত্র’ খোঁজার চেষ্টার সমালোচনা করেছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। গত সোমবার মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম ফক্স নিউজকে ব্লেয়ার বলেন, ‘ব্রিটেনবাসীর একধরনের ‘কৌতূহলী স্বভাব’ রয়েছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, অন্য কেউ ভিন্ন কোনো ধারণা পোষণ করলে তারা তা মেনে নিতে পারে না।’ ইরাক যুদ্ধবিষয়ক তদন্ত কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার ১০ দিন পর মুখ খুললেন টনি ব্লেয়ার।
ব্লেয়ার বলেন, ‘আপনি কেন নিজের ধারণায় দৃঢ় থাকলেন, তা নিয়ে সব সময়ই আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। অনেকে ধারণা করে ফেলে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। আর এতে মানুষকে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে, যেকোনো ঘটনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব এবং যে কেউ যৌক্তিকভাবে তার ওই দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে অবস্থান ধরে রাখতে পারে।’
গত ২৯ জানুয়ারি স্যার জন চিলকটের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ব্লেয়ার জানিয়েছিলেন, সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাতের জন্য ২০০৩ সালে ইরাক অভিযান নিয়ে তাঁর কোনো অনুতাপ নেই। এ মন্তব্যে ব্রিটেনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ব্লেয়ার ওই শুনানি থেকে বের হয়ে আসার সময় ইরাক যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্বজনেরা তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘খুনি’ সম্বোধন করে চিত্কার করতে থাকে। ইরাক অভিযানে ৪৬ হাজার সেনা পাঠায় ব্রিটেন। যুদ্ধে ১৭৯ জন ব্রিটিশ সেনার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলেন জ্যাকসনের চিকিৎসক

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের চিকিৎসক কনরাড মারে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
৫৬ বছর বয়সী কনরাড মারেকে ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে জামিন দেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই আদালত। অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিনের জন্য সাধারণত যে পরিমাণ অর্থ জামানত আদায় করা হয়, ওই অর্থ তার তিন গুণ। কিন্তু সরকারি কৌঁসুলিরা জামিন বাবদ যে অঙ্ক দাবি করেছিলেন, এটা তার চার ভাগের এক ভাগ। আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে মারেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
গত বছরের ২৫ জুন মাইকেল জ্যাকসন ৫০ বছর বয়সে মারা যান। মূলত চেতনানাশক ওষুধ প্রোপোফলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই তিনি মারা যান। আর এ ওষুধটা তাঁকে দিয়েছিলেন কনরাড মারে। এ জন্য মাইকেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিকিৎসক মারের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
গত সোমবার বিচারকের সামনে ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে কথা বলেন চিকিৎসক মারে। তিনি আদালতের কাছে তাঁর পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর আঙুলের ছাপও নেওয়া হয়। আদালত তাঁকে দেশ ছেড়ে কোথাও না যাওয়ার আদেশ দেন। এর পরই কনরাড মারেকে ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে জামিন দেওয়া হয়। চিকিৎসক মারেকে নিজস্ব চেম্বারে বসে রোগী দেখার অনুমতিও দিয়েছেন আদালত। তবে আর কোনো রোগীকে চেতনানাশক না দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
বিচারক কিথ শোওয়ার্টজ চিকিৎসক মারেকে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতেই আপনি কোনো ধরনের চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন না। বিশেষ করে প্রোপোফল।’ বিচারক আরও বলেন, ‘আপনি সেটা ব্যবহার করবেন না, কাউকে ব্যবহারের পরামর্শও দেবেন না। যাই হোক না কেন, কোনোভাবেই আপনার কাছে সেটা থাকতে পারবে না। মানসিক উত্তেজনা প্রশমন করে, এমন ধরনের উচ্চমাত্রার কোনো ওষুধ আপনি কাউকে দেবেন না।’
শুনানির সময় মাইকেল জ্যাকসনের বাবা জো, মা ক্যাথেরিন, ভাই জারমেইন, টিটো, জ্যাকি, র্যান্ডি ও বোন লা টয়া আদালতে হাজির ছিলেন।
আদালতে হাজির হওয়ার পর এক সাংবাদিক জারমেইনকে প্রশ্ন করেছিলেন, চিকিৎসক মারের বিরুদ্ধে আনা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কী ভাবছেন? জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘এটা যথেষ্ট নয়।’ একই প্রশ্নের জবাবে জো জ্যাকসন বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
জ্যাকসন পরিবারের আইনজীবী ব্রায়ান অক্সম্যান অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সম্পর্কে সিবিএস টেলিভিশনকে বলেন, বিশ্বজুড়ে মাইকেলের কোটি কোটি ভক্তসহ কাউকেই এটা সন্তুষ্ট করতে পারবে না।
চিকিৎসক মারে যখন আদালতে হাজির হন, তখন মাইকেল জ্যাকসনের বেশ কয়েকজন ভক্ত ‘জাস্টিস ফর মাইকেল’ বলে চিৎকার করেন।
জ্যাকসনের আইনজীবী এড শেফরন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন কারণে ওই ঘটনাটি তাঁর মক্কেলের জন্য দুঃস্বপ্নের। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাইকেলের মতো একজন বন্ধুকে হারিয়েছেন তিনি

গোল্ডেন লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সম্মেলন

গোল্ডেন লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের নির্বাহীদের এক সম্মেলন গত সোমবার ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম তৌহিদুল আলম।
এতে বক্তব্য দেন কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল এম এ নাছের, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন, কে এম রফিকুল আলম, সুমল কান্তি দাশ, মোয়াজ্জেম হোসেন ও আকতার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ আলম সিদ্দিকী, এ পি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সামছুল আলম ও জেইডি (গৃহকল্যাণ) কামাল উদ্দিন।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম, আবদুল মজিদ, শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সমীর কান্তি দেব, সেলিম উদ্দিন ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর আলম

ম্যাবকো ফুডসের বিক্রয় সম্মেলন

নওগাঁর সান্তাহারে সম্প্রতি ম্যাবকো ফুডস লিমিটেডের বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ও দশম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে কোম্পানির শ্রেষ্ঠ বিক্রয়কর্মীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও পুরস্কার এবং নওগাঁ জেলার ৪২ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অভিনন্দনপত্র ও বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) লতিফ। ম্যাবকো ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কোম্পানির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান মাইনূর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন

হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকেরা এফএওর সহায়তা চেয়েছেন

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে দেশের হিমায়িত খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ কাজে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি।
রাজধানীতে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএফইএ) কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এফএওর প্রধান কার্যালয়ের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও ভোক্তা সুরক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিন মিশেল। এ সময় বিএফএফইএর সহসভাপতি এম মাকসুদুর রহমান, পরিচালক মাহমুদুল হাসান ও খলিলউল্লাহ, সমিতির সদস্য সালাউদ্দিন, আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
সভায় বিএফএফইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, হিমায়িত খাদ্য দেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। তাই রপ্তানি বাড়ানোর স্বার্থে চিংড়িচাষি, হ্যাচারি ও খাদ্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রতি হেক্টরে বর্তমান ২০০ কেজি চিংড়ি উত্পাদন হয়, তা কীভাবে ৭৫০ কেজিতে উন্নীত করা যায়, এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা এবং চিংড়ি চাষে বহুমুখীকরণে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
বিএফএফইএর নিজস্ব মালিকানায় একটি বেসরকারি খাতে চিংড়ির গুণগত মান পরীক্ষার একটির পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার জন্যও সহায়তা চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিশ্ববাজারের চাহিদানুযায়ী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের পণ্য বহুমুখীকরণে প্রশিক্ষণে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি জানায়, চিংড়ির মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের মত্স্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আর তাদের সঙ্গে আলোচনার পর সহায়তা বিষয়টি ঠিক করা হবে।
অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে ছয় মাস গলদা চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর গত জানুয়ারি থেকে আবার রপ্তানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকার গলদা চিংড়ি রপ্তানি করা হয়েছে বলে রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন।
রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, ছয় মাস ধরে ইউরোপের বাজারে এবং প্রায় নয় মাস ধরে রাশিয়ায় বাজারে গলদা চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার দাম ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করা হয়।
চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত) ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে একই সময়ের রপ্তানি ২৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ কম।
বিএফএফইএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের রপ্তানীকৃত হিমায়িত খাদ্যের মধ্যে ৯০ শতাংশ চিংড়ি ও ১০ শতাংশ সাধারণ মাছ। আর রপ্তানীকৃত চিংড়ির মধ্যে ৭৫ শতাংশ বাগদা ও ২৫ শতাংশ গলদা।

গ্রামীণফোনের গ্রাহক এখন দুই কোটি ৩৩ লাখ

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) গ্রামীণফোনের গ্রাহক বেড়েছে ১৩ লাখ। ফলে ২০০৯ সালের শেষে গ্রাহকসংখ্যা হয়েছে দুই কোটি ৩৩ লাখ। এই সময়ে এসে বাজারে গ্রামীণফোনের অংশীদারি দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণফোন লিমিটেড এসব তথ্য জানায়।
এতে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে মোট রাজস্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এককালীন সমন্বয় বাদে এই প্রান্তিকে কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা হয়েছে ২৩৫ কোটি টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওডভার হেসজেডাল বলেন, ‘সিম ট্যাক্স এখনো এই শিল্পের জন্য ও দেশে টেলিফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা। কারণ যখনই কোম্পানি এই করের ওপর ভর্তুকি দিয়েছে, তখনই গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।’
২০০৮ সালের একই সময়ে অর্জিত রাজস্বের (এককালীন বকেয়া আন্তসংযোগ রাজস্ব বাদে) তুলনায় গত বছরের রাজস্ব ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা হয়েছে।
গত বছর ১৬ নভেম্বরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ৬০ টাকা প্রিমিয়াম রয়েছে।

ভারতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব নাকচ by হানিফ মাহমুদ

দুই বছর আগে ভারত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সে দেশে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপরও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
বেসরকারি কোম্পানি সাউদার্ন সিএনজি অটোমোবাইলস লিমিটেড এক বছর ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি সিএনজি রূপান্তর কারখানা এবং একটি এলপিজি স্টেশন করার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুমতি চেয়ে আসছে। কিন্তু সে দেশের ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড (এফআইপিবি) বারবার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সাউদার্ন অটোমোবাইলসের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পটি লাভজনক নয়। ফলে এই প্রকল্পের অনুমতি দেওয়া যাবে না। হিন্দু গ্রুপের বিজনেস লাইন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলকাতায় এ ধরনের প্রকল্পের বড় ধরনের বাজার আছে এবং বাংলাদেশের কোম্পানিটির ভালো করার সুযোগ আছে। গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের হাইকোর্টের এক রায়ে ১৫ বছরের বেশি বয়সের ডিজেল ও পেট্রলচালিত সব বাস ও ট্যাক্সি কলকাতার রাস্তা থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে এসব যানবাহনের ইঞ্জিনগুলোকে সিএনজিতে রূপান্তর করা হলে তা আবার চলাচলের উপযোগী বলে গণ্য হবে। সিএনজিতে রূপান্তরের এই বাজার ধরার জন্যই সাউদার্ন অটোমোবাইলস বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে গত এক বছরে। কিন্তু বারবারই তা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাউদার্ন অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোরঞ্জন ভক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো হাল ছাড়িনি। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মনোরঞ্জন ভক্ত আরও বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি কোম্পানির এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। এই খাতে ইতিমধ্যে আমাদের সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। ফলে একবার প্রবেশ করতে পারলে তা বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। পশ্চিমবঙ্গও তার দ্বারা উপকৃত হবে।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে সে দেশে আইনগত নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০০৭ সালে ভারত সরকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধন করে। এতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
২০০৭ সালের অক্টোবরে এফআইপিবি এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে শর্ত থাকে যে বিনিয়োগ প্রস্তাবের পূর্বানুমতি নিতে হবে। ভারতের এই পদক্ষেপের পর বাংলাদেশের বেশ কিছু উদ্যোক্তা সে দেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী হয়।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়সংক্রান্ত আইন অনুসারে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মূলধন স্থানান্তর করা যায় না। তবে ব্যতিক্রম দু-একটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের অনুমতি দিতে পারে। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

বিদেশি কোচের সন্ধানে পিসিবি

জিওফ লসনকে বরখাস্ত করার ১৪ মাস পর আবার বিদেশি কোচের সন্ধানে নেমেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সে ইঙ্গিত দিয়েছেন পিসিবির চেয়ারম্যান ইজাজ বাট, ‘আমরা বিদেশি কোচ আনার কথা ভাবছি, কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি।’ বিদেশি কোচ আনার পক্ষে বাটের যুক্তি, ‘একেকটা সিরিজ হারের পর একেক বার কোচ, অধিনায়ক কিংবা ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আনা ঠিক নয়। কিন্তু দলের ভালো ফলাফলের দিকটাও তো দেখতে হবে। আবার বিদেশি কোচ আনার চিন্তাভাবনার কারণ এটাই।

টিটিতে সোনা ভারতের

টেবিল টেনিসে পুরুষ ও মেয়েদের দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়েছে আগের দিনই। এককে বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে মাহবুবও পেয়েছেন ব্রোঞ্জ। গতকাল এককের সোনার লড়াইয়ে তাই বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় ছিল না। লড়াইটা হয়েছে ভারতীয়দের মধ্যেই। তাতে মেয়েদের এককে সামিনি কুমারাসেনকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন মাধুরিকা সুহাস। আর ছেলেদের এককে সময়দীপ রায় হারিয়েছেন অমলদীপ অ্যান্থনিকে।

গ্রেগের মুখেও আফ্রিদির কথা

নিজে ধরা খাওয়ার পর কথাটা মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলেন শহীদ আফ্রিদি, ‘বিশ্বের সব দলই বল টেম্পারিং করে।’ এবার সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার টনি গ্রেগও প্রকাশ্যেই বললেন, বল টেম্পারিংটা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশ্বের প্রায় সব বোলারই নাকি এর সঙ্গে জড়িত!
‘কেউ কেউ হয়তো নাও মানতে পারে, কিন্তু প্রায় সব বোলারই টেকনিক্যালি বল টেম্পারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। বল টেম্পারিংটা ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত রহস্যগুলোর একটি এবং সেটাও প্রায় ৫০ বছর ধরেই’—ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর নিয়মিত একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন সাবেক অলরাউন্ডার গ্রেগ। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে আফ্রিদির বল কামড়ের ঘটনায় ক্রিকেটের বহু পুরোনো বিতর্কটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পক্ষে-বিপক্ষে শোনা যাচ্ছে নানা মত। গ্রেগের মতে টেম্পারিংয়ের পদ্ধতিগুলো সবারই জানা, ‘বলের আকার নষ্ট করার জন্য বোতলের ছিপি বা বালির ব্যবহার খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। সাবেক নিউজিল্যান্ড উইকেটকিপার অ্যাডাম প্যারোরে ১৯৯০ সালের ফয়সালাবাদ টেস্টে বল টেম্পারিং করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তাঁদের ধারণা, পাকিস্তানি বোলাররা টেম্পারিং করত, তাই তাঁরাও করেছেন। টেম্পারিংয়ের কারণেই ওই টেস্টে ক্রিস প্রিঙ্গল ১১ উইকেট পেয়েছিলেন বলে প্যারোরে বলেছেন।’ ওয়েবসাইট।
এদিকে সরাসরি না বললেও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল একটু ঘুরিয়ে বল টেম্পারিংয়ের বৈধতা দেওয়ার দাবি করেছেন, ‘বল স্যুইং করানোর জন্য সম্ভব সবকিছুকেই উত্সাহিত করা উচিত।’

একুশে ফেব্রুয়ারি আসছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড দলের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু হঠাত্ করেই ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সূচি পড়ে যাওয়ায় অ্যালিস্টার কুকের দল এখন ঢাকা আসবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারিতে। সিরিজ শুরু হবে ২৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি।
তার আগে অবশ্য বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে ২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড দল। ১২ মার্চ টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে চট্টগ্রামে ৭ মার্চ থেকে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সফরের জন্য এর মধ্যেই ওয়ানডে আর টেস্ট দলও ঘোষণা করে দিয়েছে ইংল্যান্ড।
ওয়ানডে দল: অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), টিম ব্রেসনাস, স্টুয়ার্ট ব্রড, পল কলিংউড, জো ডেনলি, এউয়িন মরগ্যান, ম্যাট প্রিয়র, কেভিন পিটারসেন, লিয়াম প্লাঙ্কেট, রায়ান সাইডবটম, আজমল শাহজাদ, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস ট্রেডওয়েল, জোনাথন ট্রট এবং লুক রাইট।
টেস্ট দল: অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), ইয়ান বেল, স্টুয়ার্ট ব্রড, মাইকেল কারবেরি, পল কলিংউড, স্টিভেন ডেভিস, গ্রাহাম অনিয়নস, কেভিন পিটারসেন, লিয়াম প্লাঙ্কেট, ম্যাট প্রিয়র, আজমল শাহজাদ, রায়ান সাইডবটম, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস ট্রেডওয়েল, জোনাথন ট্রট এবং লুক রাইট।

ম্যারাথনে বিশ্ব রেকর্ড

ভোর সকালে এসএ গেমসে একটি বিশ্ব রেকর্ডের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ! ম্যারাথনের বিশ্ব রেকর্ড। টঙ্গী থেকে দৌড় শুরু করে শেষ হয় সেটি ক্যান্টনমেন্টের সেনাকুঞ্জে। সবার আগে দৌড় শেষ করে নেপালি ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখলেন রাজেন্দ্র বাহাদুর ভান্ডারি। সময় লাগল ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট। এই ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড ২ ঘণ্টা ৬ মিনিটের, এশীয় রেকর্ড ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের।
কিন্তু এ তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার! এটি ঘটল কী করে? পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল ৪২ কিলোমিটারের ম্যারাথন শেষ হয়েছে ৩৫ কিলোমিটারে, অর্থাত্ প্রায় ৭ কিলোমিটার কম!
এই ইভেন্টে দ্বিতীয় হয়েছেন শ্রীলঙ্কার অজিত বান্দারা, তৃতীয় ভারতের রাম সিং। বাংলাদেশের দুই প্রতিযোগী গোলাম মাওলা ও ফিরোজ খান সতীর্থদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে সবার শেষ দুটি স্থান পেয়েছেন। হয়েছেন সপ্তম ও অষ্টম।
ওই দ্বিতীয় স্থানে থাকা বান্দারার পক্ষ থেকেই ওঠে অনিয়মের অভিযোগ, ১০০ ডলার দিয়ে অভিযোগ দায়ের করে শ্রীলঙ্কা দল। টেকনিক্যাল কমিটি এই অভিযোগের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। জুরি কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানিয়েছেন, ‘ফেডারেশনের সদস্যদের দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।’
হা হতোস্মি! খেলা শেষ হওয়ার ১০ দিন পর রিপোর্ট। তবে শাহ আলম জানিয়েছেন, ‘ফলে কোনো হেরফের হবে না।’ আর বিশ্ব রেকর্ড? এখানেও হাস্যকর যুক্তি, ‘টাইমিং দেখানো হবে না।’ অফিসিয়াল ফলাফলে অবশ্য সময়টা দেখানোও হয়নি। রাস্তা ৭ কিলোমিটার কেন কম হলো, সেটা তদন্ত করে দেখা গেল এটা হয়েছে গেমসের অনুষ্ঠানবিষয়ক কমিটির একটা সিদ্ধান্তের কারণেই। দৌড় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গেমসের অনুষ্ঠানবিষয়ক কমিটি সমাপনী অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তা হতে দেয়নি। আর তাতেই কমে গেল ওই সাত কিলোমিটার।
ফল যেহেতু এটাই থাকবে, ম্যারাথনে হিমালয় দুহিতা নেপালের আধিপত্যই টিকে থাকছে। এই নিয়ে এটি ম্যারাথনে তাদের পঞ্চম সোনা। ১৯৮৪ সালে দেশের মাটিতে সোনা জিতেছিলেন নেপালি অ্যাথলেট। এরপর ১৯৮৫ ও ১৯৮৭ তে সেটা ধরে রাখেন বৈকুণ্ঠ মানান্ধার। তারপর তিনটি গেমসে ম্যারাথন থেকে শূন্য হাতে ফিরলেও ১৯৯৫তে টিকা ভোপালির হাত ধরে আসে সোনা। এবারের গেমসে আবার জিতলেন রাজেন্দ্র ভান্ডারি।