Thursday, December 4, 2014

ইসরাইলে আগাম নির্বাচন ১৭ মার্চ

আগামী ১৭ মার্চ ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ইসরাইলি সংসদ নেসেটের ২০তম নির্বাচন। বুধবার সংসদে এক বিতর্কের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়। এদিন সংসদে সর্বসম্মতভাবে সংসদ ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইসরাইলকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মধ্যে সৃষ্ট বিদ্রোহের জের ধরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল। মন্ত্রিসভায় ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির শরিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার পরদিনই সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা এল। মাত্র দুই বছরের মাথায় ইসরাইল আরেকটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। একে নেতানিয়াহুর অপচয় বলে সমালোচনা করছে বিরোধীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নেতানিয়াহু খুব অল্প সময় প্রচারণার সুযোগ রাখবেন। সম্প্রতি গাজা আগ্রাসনে ইসরাইলি বাহিনীর পরাজয়ের পর নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তবে শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কারণে চতুর্থ দফায় তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দৈনিক হারেৎজ।

মিসরে ১৮৮ ব্রাদারহুড কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

মিসরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের আরও ১৮৮ জনের বেশি সমর্থকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। ২০১৩ সালে কায়রো কাছে এক পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানোর দায়ে তাদের এই শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার কায়রোর এক আদালত ব্রাদারহুডের ওই ১৮৮ সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪০ জন কারাবন্দি রয়েছেন। বাকিরা এখনও ধরা পড়েনি। এসব সাজাপ্রাপ্তরা গত বছর ১৪ আগস্ট কায়রোর নিকটবর্তী কেরদাসা গ্রামের এক পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছিলেন। হামলায় নিহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ১১ পুলিশ কর্মকর্তা। ওই একই দিনে মিনিয়া এলাকায় অন্য এক পুলিশ স্টেশনেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই মামলায় পাঁচ শতাধিক কর্মী সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গত বছর জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে কায়রোতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই একই দিনে রাজধানীর তাহরির স্কয়ারে মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী সমর্থকদের অবস্থান ধর্মঘটে দমনাভিযান চালিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছিল।
এই বিক্ষোভের ধুয়া তুলে ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করেছে মিসরের সেনাসমর্থিত সরকার। এছাড়া দলটির শত শত কর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেয়া হয়েছে। তবে এখন অব্দি কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। দেশটির সংবিধান মতে, রায় কার্যকরের জন্য মিসরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্রান্ড মুফতির অনুমতি লাগে। সর্বশেষ রায়টি গ্রান্ড মুফতির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি আপিলের চূড়ান্ত রায় দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে শনিবার মিসরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে হত্যা অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন সে দেশের এক আদালত। ২০১১ সালে তথাকথিত আরব বসন্তের সময় এক বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালােেলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। মোবারককে খালাস দেয়ায় বর্তমান সরকারের সমালোচনায় ফেটে পড়েছে দেশটির গণতন্ত্রকামীরা।

পাক-ভারত-ইসরাইলকে পারমাণবিক অস্ত্র কমাতে হবে : জাতিসংঘ

পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে ভারত, পাকিস্তান ও ইসরাইলকে স্বেচ্ছায় পারমাণবিক অস্ত্র কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৬৫ ভোটে পাস হয়েছে। ২১টি দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিল। খবর ডনের।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ভারত, পাকিস্তান ও ইসরাইলকে অবশ্যই পরমাণু ক্ষমতাহীন দেশ হিসেবে পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) নিঃশর্তে স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে এই তিন দেশকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার অধীনে তাদের পরমাণু চুল্লির পর্যবেক্ষণ করাতে হবে। ভারতের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ প্রস্তাবের এই ধারার বিরোধিতা করে ভোট দিয়েছে। পাকিস্তান এবং ইসরাইলও এই ধারার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ভুটান ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে।
জাতিসংঘের এই সম্পূর্ণ প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া। অন্যদিকে পাকিস্তান, চীন, ভুটান, মাইক্রোনেশিয়া ও পালাউ ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এই প্রস্তাবটি কার্যকরে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার দিক দিয়ে বিশ্বের পাঁচ দেশের স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পৃথিবী দেখতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের একচেটিয়া রাজত্বের দিন শেষ। এর আগে গত অক্টোবরে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ডিবি ভেনকাতেশ ভার্মা বলেছিলেন, অ-পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে এনপিটিতে ভারতের যোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, আমাদের মতে এ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে হতে হবে। এদিকে, ইসরাইল মধ্য-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র দেশ যারা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো তথ্যও প্রকাশ করেনি।
প্রস্তাবটি কার্যকরে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সংস্থাটির ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সবার উপস্থিতিতে পাস হওয়ায় নৈতিক দিক থেকে তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সৃষ্টির ব্যাপারে এটা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোনালিসা চীনা! লিওনার্দোর মা!

মোনালিসা। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কালজয়ী এই চিত্রকর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অনুসন্ধিৎসা চলছে সেই পঞ্চদশ শতক থেকে। চিত্রকলার ইতিহাসে মোনালিসার মতো আলোচিত আর কোনো শিল্পকর্ম হয়নি। রহস্যময় এই সৃষ্টি আর তার স ষ্টা ভিঞ্চি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ইতালির ঐতিহাসিক ও ঔপন্যাসিক অ্যাঞ্জেলো প্যারাতিকোর নতুন তত্ত্বে। তিনি বলেছেন, মোনালিসা ছিলেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মা। আর তিনি ছিলেন মূলত একজন চীনা ক্রীতদাসী। তার এ নতুন তত্ত্বে অনলাইন দুনিয়া জুড়ে বিস্ময় আর অবিশ্বাসের ঝড় তুলেছে। প্যারাতিকো বলেন, ১৯১০ সালে অস্ট্রীয় মনোবিজ্ঞানী ও তাত্ত্বিক সিগমন্ড ফ্রয়েডও দাবি করেছিলেন, মোনালিসা সম্ভবত ভিঞ্চির মায়ের প্রতিকৃতি। বুধবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্যারাতিকো বলেছেন, মোনালিসার পেছনে যে ল্যান্ডস্কেপ রয়েছে তা চীনা। তাছাড়া মোনালিসার মুখ দেখতে চীনাদের মতো। বুধবার দুপুর পর্যন্ত সংবাদপত্রের ওই লেখাটি ৪০ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন এবং এ নিয়ে এক লাখ ৬০ হাজার পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
প্যারাতিকো ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চি : ইতালির রেনেসাঁর হারিয়ে যাওয়া চীনা মনীষা’ নামে একটি বই লিখছেন। ভিঞ্চির বহু অজানা কাহিনী সমৃদ্ধ বইটি আগামী বছর বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্যারাতিকো বলেন, আমি নিশ্চিত ভিঞ্চির মা প্রাচ্যেরই ছিলেন। গবেষণায় আমরা অবরোহী পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেছি তিনি চীনা ছিলেন।
তার মতে, লিওনার্দোর বাবার ক্যাটেরিনা নামে একজন দাসী ছিল। ১৪৫২ সালে লিওনার্দোর জন্মের পর ক্যাটেরিনা নথিপত্র থেকে হারিয়ে যান। তিনি তার দাবির সত্যতা নির্ণয়ের জন্য দ্য ভিঞ্চির পরিবার সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষা করারও অনুরোধ করেছেন।
উল্লেখ্য, প্যারাটিকো গত ২০ বছর ধরে হংকংয়ে বাস করছেন। তিনি তার মাতৃভূমি ও চীনের মধ্যে গত ৫০০০ বছরের সম্পর্ক নির্ণয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন।

শিশুদের শুরুতেই শেখানো হচ্ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড : এরশাদ

সাবেক প্রেসিডেন্ট জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সমাজের সর্বস্তরে এখন কালবৈশাখি ঝড় প্রবেশ করেছে। তা প্রতিরোধ করতে না পারলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। পিএসসিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসই তার প্রমাণ।  প্রাথমিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের মাধ্যমে শিশুদের শুরুতেই শেখানো হচ্ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসরাধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার , সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির, সদস্য খোরশেদ আলম প্রমুখ।
এরশাদ বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। আমি জীবনে কখনও শুনিনি প্রাথমিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়। আমাদের অবক্ষয় এতটাই হয়েছে যে, ফাঁস করা প্রশ্ন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আর অভিভাবকরা সেই প্রশ্ন কোমলমতি সন্তানদের প্রদাণ করছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে দিয়ে তা শিশুদের কাছে সরবরাহ করছে। এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সরকার সেটা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
পরে এরশাদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অডিটোরিয়ামে মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সেখানে আগের বৈঠকে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগ নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন। এসময় মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল কাদের খান, কমিটির সদস্য, পদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গুপ্ত হামলায় রক্তাক্ত শফিউল আলম প্রধান



জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা শফিউল আলম প্রধানের উপর হামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনে অংশ নেয়ার সময় কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করে। এতে তার ব্যাপক রক্তক্ষরণও হয়েছে। ধানমন্ডি ইবনে সিনা  হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি মহাম্মদপুরের বাসায় বিশ্রামে আছেন।
যুব জাগপার মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু জানান, শফিউল আলম প্রধান আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতির ‘গুম-খুন, হত্যার’ বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন। বক্তব্য দেয়ার সময় হঠাৎ শরীর ‘ভেজা’ লাগলে শফিউল আলম প্রধান তাকিয়ে দেখেন তার হাত থেকে রক্ত পড়ছে। তখন আমরা দেখি তার বাম হাতে গভীর ক্ষত। সেখান থেকে ব্যাপক রক্ত বের হচ্ছে। নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আজ প্রেসক্লাবের সামনে অনেকগুলো মানববন্ধন চলছিলো। ভিড়ের মধ্যে কে বা কারা প্রধানের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘পোচ (আঘাত)’ দেয়াতে এ ক্ষতের তৈরি হয়েছে। তবে, হামলাকারী কে তা আমরা বুঝতে পারিনি। শফিউল আলম প্রধানের বরাত দিয়ে নজরুল ইসলাম বাবু জানান, তিনি মনে করছেন এটি সরকারের কোনো কুচক্রি মহলের নগ্ন হামলা। বিভিন্ন সময়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে তিনি মনে করেন।

ভুল চিকিৎসায় পুড়ে গেলো কিশোরীর শরীর

১৮ বছর বয়সে মৃগী রোগ ধরা পড়ে অস্ট্রেলিয়ান কিশোরী ড্যানিকা হেরোনের। এর চিকিৎসাও চলছিলো ঠিকমতো। ১৯তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে নতুন দুইটি ওষুধ দেয়া হয় তাকে। এর পর থেকেই শুরু হলো শরীরের পরিবর্তন। ভুল ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় গত মে মাসে ১৯তম জন্মদিনেই মৃত্যু হয় তার। ওষুধ দুটির নাম ল্যামিকট্যাল এবং কেপর‌্যা। এ দুটো গ্রহণ করার পর শরীরে একটি ফুসকুড়ি দেখা যায়। এবং ঠোঁট দুটো ফুলে অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ডাক্তার তাকে চিকেন পক্সের ওষুধ দিতে থাকেন। এতে শরীরের সমস্যা আরো বেড়ে যায়। ফুসকুড়িগুলো আস্তে আস্তে সারা শরীরে ছড়াতে থাকে। অবশেষে তার মা কারমেন হেরোন (৪৩) তাকে নিউ সাউথ ওয়ালসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেও ডাক্তাররা চিকেন পক্স বলেই ধারণা করেন। এ হাসপাতালে চারদিন রেখে একই শহরের অন্য একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালে স্টিভেন জনসন সিন্ড্রমের (এস জে এস) চিকিৎসা চলতে থাকে।
এ রোগটি হলে বিষক্রিয়ার কারণে ভেতর থেকে শরীরের ত্বক পুড়তে পুড়তে বাইরে ছড়িয়ে যায়। এটি সাধারণত ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে হয়। এ ছাড়াও শরীরের ভেতর থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনও হয়।
দ্বিতীয় হাসপাতালে এস জে এস রোগের চিকিৎসা দেয়া হলেও হেরোনের অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফুসকুড়ি ছড়িয়ে তার শরীরের অর্ধেক অংশই পুড়ে যায়। ঠোঁট আরো বেশি ফুলে উঠতে থাকে। এখানে সেখানে ক্ষত তৈরি হতে থাকে। চোখ, মুখ, পিঠ, পেট, উরু এমনকি জনন অঙ্গ থেকেও চামড়া খসে পড়তে থাকে। এসে সে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যায়। এবং ফুসফুস বিকল হয়ে ১৯তম জন্মদিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।
কিশোরী হেরোনের মা ক্যারমেন হেরোন বলেন, ওকে দেখলেই কান্না উঠতো। মেয়েটা আমার রাতে ঘুমুতেও পারতো না। সারা শরীর ফুসকুড়ি ওঠে ভরে গিয়েছিলো। তার চোখ এবং ঠোঁট চটচটে হয়ে উঠেছিলো। ঘাড় বেঢপ আকারের হয়ে গিয়েছিলো। এ কারণে পানিও খেতে পারতো না সে।
পক্সের ওষুধ দিতে থাকেন।
এতে শরীরের সমস্যা আরো বেড়ে যায়। ফুসকুড়িগুলো আস্তে আস্তে সারা শরীরে ছড়াতে থাকে। অবশেষে তার মা কারমেন হেরোন (৪৩) তাকে নিউ সাউথ ওয়ালসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেও ডাক্তাররা চিকেন পক্স বলেই ধারণা করেন। এ হাসপাতালে চারদিন রেখে একই শহরের অন্য একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালে স্টিভেন জনসন সিন্ড্রমের (এস জে এস) চিকিৎসা চলতে থাকে।

এ রোগটি হলে বিষক্রিয়ার কারণে ভেতর থেকে শরীরের ত্বক পুড়তে পুড়তে বাইরে ছড়িয়ে যায়। এটি সাধারণত ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে হয়। এ ছাড়াও শরীরের ভেতর থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনও হয়।

দ্বিতীয় হাসপাতালে এস জে এস রোগের চিকিৎসা দেয়া হলেও হেরোনের অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফুসকুড়ি ছড়িয়ে তার শরীরের অর্ধেক অংশই পুড়ে যায়। ঠোঁট আরো বেশি ফুলে উঠতে থাকে। এখানে সেখানে ক্ষত তৈরি হতে থাকে। চোখ, মুখ, পিঠ, পেট, উরু এমনকি জনন অঙ্গ থেকেও চামড়া খসে পড়তে থাকে।

এসে সে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যায়। এবং ফুসফুস বিকল হয়ে ১৯তম জন্মদিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।

কিশোরী হেরোনের মা ক্যারমেন হেরোন বলেন, ওকে দেখলেই কান্না উঠতো। মেয়েটা আমার রাতে ঘুমুতেও পারতো না। সারা শরীর ফুসকুড়ি ওঠে ভরে গিয়েছিলো। তার চোখ এবং ঠোঁট চটচটে হয়ে উঠেছিলো। ঘাড় বেঢপ আকারের হয়ে গিয়েছিলো। এ কারণে পানিও খেতে পারতো না সে।
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=OTExNDM=&sec=MjM=&t=%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0#sthash.6fHaZynY.dpuf
পক্সের ওষুধ দিতে থাকেন।
এতে শরীরের সমস্যা আরো বেড়ে যায়। ফুসকুড়িগুলো আস্তে আস্তে সারা শরীরে ছড়াতে থাকে। অবশেষে তার মা কারমেন হেরোন (৪৩) তাকে নিউ সাউথ ওয়ালসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেও ডাক্তাররা চিকেন পক্স বলেই ধারণা করেন। এ হাসপাতালে চারদিন রেখে একই শহরের অন্য একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালে স্টিভেন জনসন সিন্ড্রমের (এস জে এস) চিকিৎসা চলতে থাকে।

এ রোগটি হলে বিষক্রিয়ার কারণে ভেতর থেকে শরীরের ত্বক পুড়তে পুড়তে বাইরে ছড়িয়ে যায়। এটি সাধারণত ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে হয়। এ ছাড়াও শরীরের ভেতর থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনও হয়।

দ্বিতীয় হাসপাতালে এস জে এস রোগের চিকিৎসা দেয়া হলেও হেরোনের অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফুসকুড়ি ছড়িয়ে তার শরীরের অর্ধেক অংশই পুড়ে যায়। ঠোঁট আরো বেশি ফুলে উঠতে থাকে। এখানে সেখানে ক্ষত তৈরি হতে থাকে। চোখ, মুখ, পিঠ, পেট, উরু এমনকি জনন অঙ্গ থেকেও চামড়া খসে পড়তে থাকে।

এসে সে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যায়। এবং ফুসফুস বিকল হয়ে ১৯তম জন্মদিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।

কিশোরী হেরোনের মা ক্যারমেন হেরোন বলেন, ওকে দেখলেই কান্না উঠতো। মেয়েটা আমার রাতে ঘুমুতেও পারতো না। সারা শরীর ফুসকুড়ি ওঠে ভরে গিয়েছিলো। তার চোখ এবং ঠোঁট চটচটে হয়ে উঠেছিলো। ঘাড় বেঢপ আকারের হয়ে গিয়েছিলো। এ কারণে পানিও খেতে পারতো না সে।
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=OTExNDM=&sec=MjM=&t=%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0#sthash.6fHaZynY.dpuf

যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনবে : হকিং

চিন্তার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটতে পারে এমন যন্ত্রের আধিপত্য একদিন মানুষের অস্তিত্বের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তার আশংকা, মানুষের সমকক্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরির চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুরো মানবজাতিকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলাতে পারে। বুধবার এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ এই পদার্থবিদ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পূর্ণ অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।’ বিবিসির ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা যান্ত্রিক বুদ্ধির যতই অগ্রগতি ঘটবে মানুষের অবসান ততই কাছে এগিয়ে আসবে।
হকিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি নিজে একটি যন্ত্র ব্যবহার করেন যা এআইয়ের একটি প্রাথমিক যন্ত্র।
অধ্যাপক হকিং বলছেন, এআইয়ের গোড়ার দিকের যেসব আবিষ্কার তা মানুষের বেশ উপকারে লাগছে।
কিন্তু মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমকক্ষ বা তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান যেসব যন্ত্র ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হবে সে সম্পর্কে তার মনে শংকা রয়েছে।
‘মানুষের অগ্রগতির বিবর্তন ধীর। ফলে এরা (যন্ত্রের সঙ্গে) প্রতিযোগিতায় আর টিকে থাকতে পারবে না এবং এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়বে।
তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্রগুলোর যে উন্নয়ন এ পর্যন্ত হয়েছে সেগুলোর উপযোগিতা প্রমাণিত। কিন্তু মানুষের সমান বা বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরি হলে তার ফল কতটা ভালো হবে তা নিয়েই আশংকা তার।

ইরাকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র তথ্যযুদ্ধ

আইএস’র ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান : যুক্তরাষ্ট্র যুগান্তর ডেস্ক ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে সম্প্রতি বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কারবি মঙ্গলবার বলেন, ইরাকে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে গত কয়েকদিন ধরে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইরান। তবে ইরানের বিমান হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমন্বয় নেই। যুক্তরাষ্ট্র গত আগস্টে ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে প্রথম বিমান অভিযান চালায়। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে সিরিয়াতেও আইএসবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো অংশ নেয়। সিরিয়ায় বিমান হামলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ড অংশ নিচ্ছে। ইরাকের দিয়ালা প্রদেশে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের বিমান বাহিনী হামলা করার পর পেন্টাগনের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কারবি এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন ইঙ্গিত আছে যে, ইরান সুনিশ্চিতভাবে গত কয়েক দিনে এফ-৪ ফ্যানটমস বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে।’
দুর্বল হয়ে পড়েছে আইএস : কেরি
ইরাক এবং সিরিয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার বিমান হামলায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দলটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের ক্ষমতাও কমেছে। সিরিয়ায় আইএসের কমান্ড কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বুধবার এ কথা বলেছেন। ব্রাসেলসের ন্যাটো সদর দফতরে জোট বাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠকে কেরি বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়টি হিসাব করতে গেলে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
হামলা চালানো হয়নি : ইরান
যুগান্তর ডেস্ক
ইরাকে আইএসের অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর খবর কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাসুদ জাজাইরি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে জানিয়েছেন, পশ্চিমা গণমাধ্যম এ সম্পর্কে যে খবর দিয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। কিছু কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম মঙ্গলবার খবর দিয়েছে, ইরানি জঙ্গি বিমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে আইএসের অবস্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে। অবশ্য বুধবার ওইসব গণমাধ্যম জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় না করেই ওই হামলা চালিয়েছে ইরান। জেনারেল মাসুদ জাজাইরি আরও বলেন, ইরান মনে করে- ইরাকের চলমান অস্থিতিশীলতা ও তাকফিরি সন্ত্রাসীদের মানবতাবিরোধী তৎপরতাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের মূলে রয়েছে আমেরিকা। আমেরিকাসহ আঞ্চলিক কিছু দেশের সমর্থন ও ষড়যন্ত্রের কারণেই আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে এবং মানুষ হত্যা করছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্জিয়ে আফখাম অন্য এক বিবৃতিতে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ইরাক ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকে সব রকম পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে তেহরান। তবে অন্য দেশের ভেতরে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ইরান।

জিয়া মদ-জুয়া উলঙ্গ নৃত্য চালু করেন: মতিয়া

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মদ, জুয়া, উলঙ্গ নৃত্য নিষিদ্ধ করেছিলেন আর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এগুলো চালু করেন। এ উলঙ্গ নৃত্যে জরিনা, লাকী খানরা নাচত। ইয়থ ক্যাম্পের নামে জুয়া জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল। আর পাকিস্তান আমল থেকে রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়ার রেস হতো। সেদিন বঙ্গবন্ধু রেস দৌড় বন্ধ করেছিলেন। কারণ রেসের নামে জুয়া এটা হতে পারে না।’’ কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে মসজিদের মোয়াজ্জিন ও মন্দিরের পুরোহিতদের মাঝে শীতের কাপড়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টিআরের চেক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, “ইসলামের সেবা বলেন আর ধর্ম বলেন শান্তি মতো যার যার ধর্ম পালন করার জন্য শেখ হাসিনা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছেন।” মতিয়া চৌধুরী বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে ৫-৬ টি হজ গেছে, কোনো ধরনের গ্যাঞ্জাম হয়নি। এশিয়ার ভেতর আমরা হজে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। এবারও আমরা হজে ভাল করবো বলে আশা করি।” মতিয়া বলেন, ‘কামারুজ্জামানের নামে অনেকগুলি মামলা ছিল। তার মধ্যে বিধবাপল্লীর নামে যে মামলা ছিল সেটি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিছে। এ বিধবাপল্লীর নাম এখন আন্তর্জাতিক ভাবে জানে। তাই একদিকে মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মকে সামনে রেখে এসবই আমরা তুলে ধরতে চেষ্টা করি। দেশটাতো এখনো বড় লোকের দেশ হয়নি। তাই কিছু করে উঠতে পারি না। তবুও দেশের উন্নয়নে চেষ্টা করছি।” এসময় উপস্থিত ছিলেন- শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রিপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নিবার্চন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মাস্টার, নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোল্লা, পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমত আরা আসমা প্রমুখ। এদিন দিনব্যাপী একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন মন্ত্রী।

ডিসিসির প্রশাসকের মেয়াদ এক বছর হচ্ছে

বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশোধন করা হচ্ছে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শিগগিরই তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একান্ত সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) অশোক মাধব রায় যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভায় তোলা হবে তা বলা মুশকিল।
বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু তাদের মেয়াদ হবে ১৮০ দিন বা ছয় মাস। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে সরকারি কর্মকর্তাদেরই প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান এবং ঢাকা উত্তরের দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল। মে মাসে তাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। চলতি মাসেই তাদের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার উভয় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সবুজ সংকেত নেই। কবে নাগাদ নির্বাচন হবে তাও সরকারের শীর্ষমহল ছাড়া কেউই বলতে পারছেন না। ছয় মাস অন্তর অন্তর প্রশাসক বদলের সময় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রশাসকের মেয়াদ এক বছর করা হলে গণমাধ্যমের সমালোচনা কমে যাবে। অন্যদিকে আমলাদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগেরও একটি বিষয় চাউর আছে। আগামীতে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। রাজনৈতিক বা আমলা যে ধরনের প্রশাসকই নিয়োগ হোক না কেন, মেয়াদ বাড়ানো হলে সরকারের জন্যই তা ভালো হবে।
সরকারের উচ্চ মহলের সবুজ সংকেত পেয়েই বিদ্যমান আইনের প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৩৬৫ দিন করে প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সংক্রান্ত নথি তৈরি না করে স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের কক্ষে বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়। সেখান থেকে সচিবের অনুমোদন নিয়ে রোববার রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য তদবিরও করা হয়। তবে এদিন মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হতে পারে।
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০০২ সালের এপ্রিলে। নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। এরপর টানা প্রায় ১০ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৭ সালের ১৫ মে ডিসিসিও মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
এ অবস্থায় ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ডিসিসি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয় ২৪ মে। কিন্তু ভোটার তালিকা আর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আটকে যায় নির্বাচন। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ মে উচ্চ আদালত ডিসিসি নির্বাচনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও রহস্যজনক কারণে আটকে আছে উভয় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।

ছিটমহল বিনিময়ে রাজি মমতা

অবশেষে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে সব আপত্তি তুলে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে এরকমই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার তা হয়তো বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বুধবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাটির সমাধানে সম্মতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে আজ কুচবিহারে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার কাছ থেকে ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার জন্য ছিটমহল লাগোয়া কোনো মাঠ বাছার নির্দেশ আসে। তখনই স্পষ্ট হয়, জনসভায় ছিটমহল নিয়ে বড় খবর ঘোষণা করতে চান মমতা। শেষ পর্যন্ত কুচবিহারের প্রত্যন্ত এলাকা ডাকুর হাটকে জনসভার জন্য বেছে নেয়া হয়। সেখানে তার মঞ্চের শদেড়েক মিটার পেছনেই বাংলাদেশী ছিটমহল করলা। তার বক্তৃতা শুনতে যে ওই ছিটমহলের বাসিন্দারাও আসবেন, মমতা তা বিলক্ষণ জানেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে পাঠানো মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্রের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতিগত কোনো আপত্তি নেই। তবে ছিটমহলের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হবে, সেখানে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রণয়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। রাজ্য চায় সে আর্থিক দায়িত্বের পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকার নিক।
মমতার মনোভাব বদলানোরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেপ্টেম্বরে, যখন কলকাতায় বাংলাদেশের সাবেক ডেপুটি হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করতে যান। মমতা তার কাছে ছিটমহলবাসীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের একটি দলের কাছেও মমতা বলেন, অসুখ হলে ডাক্তার-হাসপাতাল নেই, পড়াশোনার স্কুল-কলেজ নেই, থানা-পুলিশ নেই, নাগরিকত্বের পরিচয়টুকুও নেই, ৬৫ বছর ধরে এই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ- ভাবা যায়?
ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল সংসদে পাস হওয়াটা এখন সময়ের অপেক্ষা। আশার আলো দেখছেন দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫৬ হাজার অধিবাসী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিলের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিনিধি সুগত বসু ও মুমতাজ সংঘমিত্রা চুক্তির পক্ষে সায় দেন। ছিটমহল পুনর্বাসনের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ৩০৮ কোটি টাকার একটি তহবিলও গঠন করেছে।
১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আর ২০১১ সালে তৎকালীন ইউপিএ জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় একটি প্রটোকল সই হয়। প্রটোকলটি কার্যকরে ভারতের সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছিল কংগ্রেস সরকার। এজন্য পার্লামেন্টে একটি বিলও তোলা হলে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা সে সময়ের বিরোধী দল বিজেপিসহ মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় তা ঝুলে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির অবস্থান পরিবর্তন হয়।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আবারও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের নাম কামরুল হাসান মজুমদার। তিনি শুধু শিক্ষকই নন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতিও। গুরুতর এই অভিযোগ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও পড়েছে বিপাকে। বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর করা উত্ত্যক্ত বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে ভেতরে ভেতরে তোলপাড় হলেও প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সতর্কভাবে এগোচ্ছে। রাবি প্রশাসন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ ছাড়াও যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি নিরোধ কমিটি সূত্র গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৩০ নভেম্বর ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কামরুল হাসান মজুমদারকে বিভাগের সব পরীক্ষা ছাড়াও ছাত্রীদের গবেষণা কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শিক্ষক এখন শুধু পাঠদান কাজে অংশ নিতে পারবেন। বিভাগের সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ওইদিনই লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়। যুগান্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক কামরুল হাসান মজুমদার কোনো মন্তব্য করতে সম্মত হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, অক্টোবরের শেষদিকে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান মজুমদারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যরত যৌন নিপীড়ন ও নিরোধ কমিটির কাছে। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ফোনালাপের একটি কম্প্যাক্ট ডিস্ক (সিডি) এবং ছাত্রীর মোবাইল ফোনে দেয়া শিক্ষকের ক্ষুদে বার্তা বা এসএমএসের প্রিন্ট কপি।

স্বপ্ন থামাল বিমান!

মঙ্গলবার সকাল। রিয়াদ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে একটি সৌদি ফ্লাইট। যাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। শুধু আকাশে পাখা মেলার দেরি। এ সময় চিৎকার করে উঠলেন এক যাত্রী। তিনি জানান, এইমাত্র তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, এ বিমানটি বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে। অমনি শুরু হয় হুলস্থূল কাণ্ড! বিমানের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হুড়োহুড়ি করে নেমে পড়েন ভীতসন্ত্রস্ত যাত্রীরা। অদ্ভুত এ ঘটনার পর বিমানটি ছাড়তে কয়েক ঘণ্টা দেরি করে কর্তৃপক্ষ। তবে বিমানের ক্রুরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীকে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য পুরো বিমানে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালান। পরে যাত্রীরা শান্ত হলে বিমানটি ছাড়া হয়। ওয়েবসাইট।

প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (০৮) যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঝন্টু মিয়া (২৫) নামের এক শিক্ষককে আজ বৃহস্পতিবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই শিক্ষক দাবি করেন, তাঁকে হেয় করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। ঝন্টু মিয়া উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামের শহীদ স্মৃতি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক। পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ঘরে নিয়ে যান ঝন্টু। সেখানে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। আশপাশের লোকজন শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে এলে ওই শিক্ষক পালিয়ে যান।
গতকাল সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। রাতে অভিযান চালিয়ে ঝন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আশপাশের লোকজন ও শিশুটির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঝন্টু শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শিশুটি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.আব্দুল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। শিশুটি খুব ভয় পেয়েছে।
থানা হাজতে আটক ঝন্টু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি এর কিছুই জানি না। আমাকে হেয় করার জন্য এমনটি করা হয়েছে।’ শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কোনো বিরোধ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁরা আমাদের আত্মীয়। তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।’

লাশ বস্তায় ভরে নুরুজ্জামান

মাগুরা থেকে গ্রেফতার হওয়া সাবেক র‌্যাব সদস্য মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক সিদ্দিকীর আদালতে পৃৃথক দুই মামলায় এ জবানবন্দি দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, জবানবন্দিতে নুরুজ্জামান বলেন, মেজর আরিফের নির্দেশে অপহরণ ও হত্যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন। কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণের দিন ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে ছিলেন। নজরুল ইসলাম আদালতে আসা পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে সাদা পোশাকে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা আরও এক র‌্যাব সদস্যকে আদালতে আইনজীবীরা সন্দেহ করে আটক করার পর তাকে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। দুপুরে নজরুল আদালতে আসার পর তাকে অনুসরণ করেন এবং মেজর আরিফকে টেলিফোনে বিষয়টি জানান। আদালত থেকে নজরুল গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর তিনি র‌্যাবের মাইক্রোবাস নিয়ে অনুসরণ করতে থাকেন।
নুরুজ্জামান আরও বলেন, লিংক রোড থেকে সাতজনকে অপহরণ করে তাদের হত্যা করার পর মেজর আরিফের নির্দেশে সাতজনের লাশ বস্তায় ভরেন তিনি। পরে লাশভর্তি বস্তা ইট দিয়ে বেঁধে শীতলক্ষা নদীতে ফেলা হয়। সে সময় ট্রলারেও ছিলেন নুরুজ্জামান।
তিনি আদালতকে আরও বলেন, র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন ক্যাম্প ইনচার্জ তারেক সাঈদ ও উপঅধিনায়ক আরিফ হোসেনের নির্দেশ মানতে গিয়েই এ ঘৃণ্য কাজটি করেছেন। নির্দেশ না মানলে চাকরি হারানোর ভয় ছিল।
দুপুর একটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টা ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় এ জবানবন্দি নেয়া করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মাগুরা শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে কাজী টাওয়ার মার্কেটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে সাবেক র‌্যাব সদস্য (সেনাবাহিনীর সিপাহী) মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতেই তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে রওনা দেয় ডিবি।
সাত খুনের ঘটনার পর সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন নুরুজ্জামান।
তিনি মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে চার চুক্তি ও সমঝোতা

জনশক্তি রফতানি, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি, একটি প্রটোকল ও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাসস। স্বাক্ষরিত চুক্তির মধ্যে একটি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার ‘ভিসা প্রক্রিয়ার অসম্পূর্ণ শর্তগুলো দূরীকরণ’ চুক্তি। এ ছাড়া মানবসম্পদ রফতানির বিষয়ে ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক সংশোধনে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রটোকলের ফলে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক প্রদেশে ১২ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা পর্যায়ক্রমে ৬০ হাজারে উন্নীত হবে। এছাড়াও পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে সহযোগিতায় দু’টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে দুই দেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নজিব বিন তুন আবদুল রাজাক তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় একটি ছোট শিশু প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়। মালয়েশীয় সেনাবাহিনীর মালে রয়্যাল রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে পারদানা মিটিং রুমে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সেখানেই একটি চুক্তি, একটি প্রটোকল ও দু’টি সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় যান। আজ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ দেখার আমন্ত্রণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমি বাংলাদেশে যাওয়ার উষ্ণ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা গিয়ে প্রকৃত বাংলাদেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করুন। বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির বিকাশে নিজেদের অংশীদার করুন।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার কুয়ালালামপুরের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগবিষয়ক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ হিসেবে পুনরায় বিবেচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে আজকের আধুনিক মালয়েশিয়া গড়তে আপনাদের অনেকেই অবদান রেখেছেন। আমি বিশ্বাস করি একই সুযোগের হাতছানি বাংলাদেশেও রয়েছে। সীমাবদ্ধতা ও নিুপর্যায়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিনিয়োগের যে সুযোগ ও প্রণোদনা দিচ্ছে তা আপনাদের সদয় বিবেচনার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়া সাউথ সাউথ অ্যাসোসিয়েশনের (এমএএসএসএ) প্রেসিডেন্ট আজমান হাশিম এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার একেএম আতিকুর রহমান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া সরকারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এস সামি ভেল্লু, মালয়েশিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড এক্রিডিটেশন কাউন্সিল ডাটুকের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনসুর, এমরেইল এসডিএন বিএইচডির নির্বাহী পরিচালক ড. অরবিন্দ হরি নারায়ণ, এক্সিসজাভা গ্র“পের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বেন্নি হো এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগ প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক আরও প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করেছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে পূর্ণ প্রতিশ্র“তিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের এফডিআই (বিদেশী বিনিয়োগ) রয়েছে এবং দেশের বৃহত্তর চাহিদা মেটাতে মালয়েশিয়া থেকে মানসম্পন্ন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগসক্ষম পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে ১৮টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি সড়ক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পর্যটন ও সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি সরবরাহের মতো অবকাঠামো খাতগুলো আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। একইভাবে খাদ্য ও কৃষি খাতের পুরোটাই হবে উৎসাহব্যঞ্জক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বসহ (পিপিপি) যে কোনো ধরনের অংশীদারিত্বের বিষয় বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের বর্তমান অবস্থা, কর ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা আবাসন, নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বিনট্যাঙ্ক জেভি কনসোর্টিয়ামের চেয়ারম্যান ড. এম সুয়িব কাশমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারদিকে রেল সার্কুলার লাইন নির্মাণে তার (কাশমান) প্রস্তাবকে সরকার স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

কিবরিয়া হত্যা মামলায় ৪র্থ দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামির নাম সংশোধনপূর্বক চতুর্থ দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল  দুপুরে হবিগঞ্জ কগনিজেন্স কোর্ট ১-এর বিচারক রোকেয়া বেগম এ নির্দেশ দেন। গত ১৩ই নভেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল তৃতীয় দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছসহ নতুন ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
প্রতিবেদনে সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছের নাম ও ঠিকানা ভুল থাকায় বিচারক আগামী ২১শে ডিসেম্বর নাম-ঠিকানা সংশোধনপূর্বক চতুর্থ দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল বুধবার আদালতে নাম সংশোধন করার আবেদন করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পোৗরসভার মেয়র জি কে গউছ এর নাম ও ঠিকানায় ত্রুটি রয়েছে। এগুলোকে সংশোধন প্রয়োজন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক নাম সংশোধন করে আগামী ২১শে ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের আদেশ দেন।  মামলার বাদী এডভোকেট আবদুল মজিদ খান ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর ভূঁইয়া বাবুল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। হামলায় গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা যান। এই হামলায় আরও নিহত হন তার ভাইপো শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. আবু জাহির, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী ও রাজন চৌধুরীসহ ৭০ জন। এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ২৮শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা করেন।

সারদা কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশ যুক্ত নয় মমতাকে গ্রেপ্তার দাবি বামেদের

সারদা চিট ফান্ডের অর্থ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র নেই। এবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সারদা তহবিলের অর্থ বাংলাদেশে যাওয়ার কোন যোগসূত্র পাওয়া যায় নি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি, বামদলগুলো যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এ ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, এমনকি তার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করেছে- তখনই গতকাল লোকসভায় জনশক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়ে দিলেন, সারদা ফান্ডের কেলেঙ্কারির সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র পাওয়া যায় নি।  গত রোববারও এ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে ঘায়েল করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, ২রা অক্টোবর বর্ধমান বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছে এ তহবিলের অর্থ। ওই বিস্ফোরণে জড়িত বাংলাদেশের জামা’আতুল মুজাহিদীন। কিন্তু তার এমন বক্তব্যের তিন দিন পরই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী লোকসভায় লিখিত বক্তব্যে যা বললেন তা তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধী। এ নিয়ে ভারতে তোলপাড় চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, সারদা ইস্যুতে তাদেরকে অন্যায্যভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। দলের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আক্রমণাত্মক এমন মিথ্যা অভিযোগের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত অমিত শাহের। অন্তত তার উচিত এটা স্বীকার করা যে, তিনি যা বলেছেন তাতে সত্যের লেশমাত্র নেই। জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল- সারদা ফান্ডের অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকা- বে্যবহারের জন্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সরকার কি সবিস্তার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কিনা। জবাবে মন্ত্রী গতকাল লোকসভায় বলেন, না। সরকার এমন কোন নির্দেশ দেয় নি। অভিযোগ আছে, সারদা চিট ফান্ডের প্রধান প্রভাবশালী লোকজনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন যাতে তারা তার পক্ষে কথা বলেন। এমন অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে লিখিত জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যে তদন্ত হয়েছে তাতে সারদা চিট ফান্ডের অর্থ বাংলাদেশে যাওয়ার কোন যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায় নি। সেখানে কোন সন্ত্রাসী কর্মকা- এে অর্থ ব্যবহৃত হওয়ারও কোন প্রমাণ তারা পান নি।

আইনি কাঠামোতেই ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে: স্পিকার

জাতীয় সংসদকে বিশ্বমানে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সিপিএ’র চেয়ারপারসন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। তারা বলেছেন, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকতো না। আর এই দু’টি বিশ্ব সংস্থার প্রধান কেন, সাধারণ সদস্যপদও হারাতে হতো। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তারা একথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের পার্লামেন্টের মেম্বারস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ সভাপতি উত্তম চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিনন্দনের স্মারক হিসেবে নবনির্বাচিত কমনওয়েল্‌থ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ)  প্রেসিডেন্টকে ক্রেস্ট দেয়া হয় এবং উত্তরীয়  পরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া, বিপিজেএ’র সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজানুল হক রাজা, সাধারণ সম্পাদক কামরান রেজা চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক নিখিল ভদ্র প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আশিস্‌ সৈকত। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পাল্টা প্রশ্ন করেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে দেশের গণতন্ত্র কোথায় যেতো? তিনি বলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যেই ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। আমাদের গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান আছে। ফলে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। সিপিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই বিজয় দেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিজয়। অনুষ্ঠানে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের এই বিজয়ে আমাদের দায়িত্ব বহু গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের ১৮৫টি সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশের ৬৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি এই দু’টি সংস্থার ৪৫ হাজার সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে বাংলাদেশ। এখন জাতীয় সংসদকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। আর কাজটি করতে রাজনৈতিক দলের কমিটমেন্ট ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, তারাই সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সংসদের সক্ষমতা বাড়ানোই তার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

দুই রোগীর দেহ থেকে কিডনি চুরি!

রাজধানীর দুটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপারেশনের নামে কিডনি চুরির ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। যাত্রাবাড়ীর মেডিকম জেনারেল হাসপাতালে পায়ের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক নারী রোগীর কিডনি কেটে নেয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। আর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ- লেজার পদ্ধতিতে পাথর অপসারণের সময় এক রোগীর কিডনি কেটে নেয়া হয়। পৃথক দুই ঘটনায় কিডনি হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের ৬৫ বছর বয়সী ফুলমালা বেগম ও ৪৫ বছর বয়সী গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবুল সরকার।
ফুলমালা বেগমের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে আপস-রফার চেষ্টা করেছে মেডিকম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর বাবুল সরকারের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ দুই ঘটনায় হাসপাতাল দুটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
বাবুল সরকারের শ্যালক মোমেন সরকার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, গত মাসের শেষদিকে হঠাৎ করে কোমরের পেছনে ব্যথা অনুভব করেন তার ভগ্নিপতি বাবুল সরকার। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উত্তরার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. সাব্বির আহমেদের তত্ত্বাবধানে তার ভগ্নিপতিকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাদের জানান, ‘কিডনিতে পাথর হয়েছে। লেজার পদ্ধতিতে ওই পাথর অপসারণ করতে হবে।’
মোমেন সরকার আরও বলেন, অধ্যাপক সাব্বির চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার খরচ হবে বলে তাদের জানান। চিকিৎসকের চাহিদা অনুযায়ী তারা হাসপাতালে ২০ হাজার টাকা জমাও দেন। এরপর ২৬ নভেম্বর সকালে বাবুল সরকারকে কিডনি থেকে পাথর অপসারণের জন্য হাসপাতালের অস্ত্রোপচারকক্ষে নেয়া হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা পর একজন চিকিৎসক এসে তার বোনকে (বাবুল সরকারের স্ত্রী) জানান, ‘পাথরগুলো কিডনির সঙ্গে লেপ্টে থাকায় ডান কিডনিটি কেটে ফেলতে হতে পারে। তখন তার বোন চিকিৎসককে বলেন, তিনি তার ভাইদের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই চিকিৎসকরা বাবুল সরকারের একটি কিডনি কেটে ফেলেন বলে যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন মোমেন সরকার।
বাবুল সরকারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, কিডনি কেটে ফেলতে হতে পারে এমন কথা চিকিৎসকরা অপারেশনের আগে কখনও বলেননি। এছাড়া লেজার পদ্ধতিতে পাথর অপসারণের সময় কিডনি কাটার প্রয়োজনীয়তা কেন পড়ল তা তারা বুঝতে পারছেন না। বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় বাবুল সরকার ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুরাইয়া বেগম বলেন, কিডনি হারানোর কথা এখনও তার স্বামীকে জানানো হয়নি।
বাবুল সরকারের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। হাসপাতালেরই তিন অধ্যাপককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তবে প্রথমে কমিটিতে কোনো সময় বেঁধে দেয়া না হলেও মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অপারেশন করার আগেই কিডনি কেটে ফেলতে হতে পারে এমন কথা বাবুল সরকারের স্ত্রীকে জানানো হয়েছিল।’ এখন তারা কেন এ ধরনের অভিযোগ করছেন তা তারা বুঝতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালটির পরিচালক মো. শাহজাহান বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, ৩০ নভেম্বর এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ১ ডিসেম্বর কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে। তবে সহকর্মীদের দিয়ে চিকিৎসক সাব্বির আহমেদের বিষয়ে তদন্ত হলে তা সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছেন বাবুল সরকারের স্বজনরা। তারা অন্য হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে ঘটনার তদন্তও দাবি করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় ৩০ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাবুল সরকারের শ্যালক মোমেন সরকার। তবে এখনও অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি কিংবা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণের আগে সিভিল সার্জনের অনুমতির প্রয়োজন হয়। অভিযোগ দায়েরের সময় অভিযোগকারীকে মামলার জন্য ঢাকার সিভিল সার্জনের অনুমতি নেয়ার বিষয়টি জানানো হলেও বুধবার পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। অনুমতি পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
যাত্রাবাড়ীর মেডিকম জেনারেল হাসপাতাল
পায়ের ব্যথা নিয়ে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে যাত্রাবাড়ীর মেডিকম জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে ভর্তি হন ৬৫ বছর বয়সী ফুলমালা বেগম। ফুলমালা বেগমের ছোট ছেলে আহমেদ আলী জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর অপারেশন করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। ১৬ নভেম্বর টানা ৫ ঘণ্টা অপারেশনের পর দেখা যায় পায়ের পাশাপাশি অপারেশন করা হয়েছে পেটের নিচের অংশেও।
আহমেদ আলী বলেন, গত রমজান মাসে বাথরুমে পড়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান তার মা। ওই সময়ে চিকিৎসার জন্য তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতাল থেকে অপারেশন করার কথা বলা হয়। কিন্তু এ বয়সে অপারেশনের ঝামেলায় না গিয়ে এতদিন তারা মাকে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু ভালো না হওয়ায় তাকে নেয়া হয় যাত্রাবাড়ীর মেডিকম হাসপাতালে। সেখানে অপারেশনের কথা জানান চিকিৎসকরা।
তিনি আরও জানান, ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অপারেশন চলে। ডা. মধুসূদন পাল, ডা. আবদুল করিমসহ ৪ জন চিকিৎসক তার মায়ের অপারেশন করেন। অপারেশন শেষে তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী অপারেশন থিয়েটারের গিয়ে পায়ের পাশাপাশি মায়ের পেটের অপারেশনের বিষয়টি জানতে পারেন। এ সময় প্রশ্ন করা হলে চিকিৎসকরা জানান, পেট থেকে হাড়ের টুকরো নিয়ে পায়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
আহমেদ আলী বলেন, অপারেশন শেষে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার মাকে গ্রিন রোডের গ্রিন কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৪ দিন পর মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যাওয়ায় তার মা বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। আহমেদ আলী বলেন, নিজেদের ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করে ওই সময় থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ মেডিকম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার খরচ বাবদ এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা দিয়েছে। এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান আহমেদ আলী। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনি শংকর জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। চিকিৎসকদের মতামত পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেডিকম হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নেজামুল হক যুগান্তরকে বলেন, একটা আলট্রাসনোগ্রাম করলেই তো কিডনি কেটে নেয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। কোনো সমস্যা না থাকলে রোগীর স্বজনদের টাকা দিয়েছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে নেজামুল হক বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাদের টাকা দেয়া হয়েছে। এটাকে অন্যভাবে দেখা ঠিক হবে না।

মৌলভীবাজারে দেড় লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামের আলোচিত আনোয়ার বক্সকে হত্যা করা হয় মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে। কাজ শেষ হওয়ার পর ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। প্রথমে লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। গন্ধ বের হলে মানুষ টের পাবে ভেবে সিদ্ধান্ত বদল করে লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এই ঘটনায় জড়িত ৫ কিলারের প্রধান জাকির হোসেন (২৮) গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশকে জানিয়েছে। চুক্তির বিষয়ে কথোপকথনের একটি মেমোরি কার্ড পুলিশ উদ্ধার করেছে জাকিরের কাছে থেকে। তদন্ত  কর্মকর্তা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে গতকাল (বুধবার) জাকির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামের আবদুস সুবহানের বক্স পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আবদুল মালিকের বিরোধ বাধে এক বৎসর পূর্বে ভিটে দখল ও বাড়ির রাস্তা নিয়ে। এই ঘটনায় একটি পিটিশন মামলা হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। পরে আবদুস  সোবহান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি  মোশন মামলা করেন। এই ঘটনার পর থেকে দু’পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। সোবহান বক্সের পরিবারের অভিযোগ গত ১৩ই নভেম্বর সোবহান বক্সের ছেলে আনোয়ার বক্স (৩২) মামলার তথ্য সংগ্রহ করতে মৌলভীবাজার কোর্ট প্রাঙ্গণে যায় এবং অপহরণের শিকার হয়। এই ব্যাপারে ঘটনার পরপর তাদের মামলার প্রতিপক্ষকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে মৌলভীবাজার পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে এই ব্যাপারে জিডি হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু  করে। পুলিশের এক সূত্র জানায় তারা মোবাইল ট্রেকিং করে প্রথমে কালেঙ্গায় অবস্থানকারী আনোয়ার বক্সের এক বন্ধু জাকির হোসেনের ঘটনার সঙ্গে  সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পারে। গত ২২শে নভেম্বর বিকালে আনোয়ার বক্সের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ বর্ষিজোড়া ইকো পার্কের পূর্ব দিকে জনৈক বাচ্ছু মিয়ার ভূমি থেকে। পুলিশ এই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালেঙ্গা এলাকার মুকিত (২০) ও শফিকুল ইসলাম প্রকাশ আলম (২০)-কে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন এই দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং জানান আনোয়ার বক্সকে হত্যা করার জন্য জাকির হোসেনের পরিকল্পনামতে তারা মোট পাঁচজন অংশ নেন। জাকির চারজনকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা বলে। হত্যাকা-ের পর ৪ জনকে নগদ ৮ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা পরে পরিশোধের কথা বলে। পুলিশ খবর নিয়ে জানতে পারে জাকিরসহ ৫ জনকে আনোয়ার বক্সের পরিবারের প্রতিপক্ষরা ভাড়া করে অর্থের বিনিময়ে। জাকিরের সঙ্গে আনোয়ার বক্সের ঘনিষ্ঠতা থাকায় জাকিরই পরিকল্পনা করে ১৩ই নভেম্বর সন্ধ্যায় ইকোপার্ক এলাকায় মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় এবং উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে প্রথমে লাশ ফেলে আসে ঘটনাস্থলে। পরের দিন এই লাশ আবার ৫ জন মিলে মাটির গর্তে পুঁতে রাখে। এদিকে দুই হত্যাকারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  দেয়ার পর পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীসহ অন্য  আসামিরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল ভোরে সদর উপজেলার মাতার কাপন এলাকা থেকে হত্যাকারী জাকির হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির পুলিশকে জানায়, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় আনোয়ার বক্সের প্রতিপক্ষের সঙ্গে। আর এর মধ্যস্থতা করে শ’ আদ্যাক্ষর যুক্ত এক ব্যক্তি। তার বাড়ি শহরে। আনোয়ার বক্সকে হত্যার পর মোট ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। জাকির জানিয়েছে, ঘটনার পর সে চট্টগ্রাম পালিয়ে গিয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মডেল থানার এসআই আবুল হোসেন ও কোর্ট সূূত্রে জানা যায়, আসামি বিকাল ৩টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  জুলফিকার আলীর আদালতে ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা জানিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের ছাত্রনেতাদের কনভেনশন

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে নব্বইয়ের দশকের ছাত্রনেতাদের জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করছে বিএনপি। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতাদের নিয়ে এ কনভেনশনের আয়োজন করছে দলটি। আগামী ১৮ই ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সকালে দলের নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কনভেনশনের প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন নব্বইয়ের দশকের ছাত্রদল নেতারা। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্রদল সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, ডাকসু’র সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁঁইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, বর্তমান সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান অংশ নেন। ছাত্রদল নেতারা জানান, ৯০-এ ডাকসুর নেতৃত্বে ওই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেতাদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন হবে। ৯০-এ ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা, থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন। বর্তমানে ৯০-এর দশকের শত শত তুখোড় সাবেক ছাত্রনেতা অনেকেই বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ কনভেনশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের একত্রিত করা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করা হবে। নব্বইয়ের দশকের কয়েকজন ছাত্রদল নেতা জানান, আগামী দিনের সরকার পতন আন্দোলনে ছাত্রসমাজকে কাজে লাগাতে এ ছাত্র কনভেনশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সারা দেশের জাতীয়তাবাদী আদর্শের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে। ওদিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরব্যাপী সারা দেশে চলবে এ কার্যক্রম। দলীয় সূত্র জানায়, প্রতি তিন বছর পরপর দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেশের সার্বিক নিপীড়নমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগে বিলম্ব হয়েছে। এবার দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত ১০০ সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে এ বিষয়ে।

দুর্নীতি বৃদ্ধির পেছনে দায়ী সরকার

দুর্নীতি বৃদ্ধির পেছনে সরকারকে দায়ী করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, দুদককে কার্যকর না করা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, দুর্নীতি প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল, তা না নেয়াসহ নানা কারণে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির ধারণা সূচক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় তারা যুগান্তরের কাছে এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বুধবার জার্মানির বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে। এ সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। বিশ্বের ১৭৫টি দেশ ও অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভালো থেকে খারাপ) বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫ নম্বরে। ০-১০০ ভিত্তিতে স্কেলে এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবার ২৫। ২০১৩ সালের সূচকে ১৭৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ছিল ১৩৬তম অবস্থানে। সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআই’র প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, কিসের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে তা জানি না। এটা যদি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে, বাস্তব নিরীক্ষার, গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি দুর্বল হলে এটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি যদি বেড়েই থাকে তাহলে সরকারকে শক্ত অবস্থানে যাওয়া উচিত। তদন্ত-অনুসন্ধান করে সরকারকে সে রকম পদক্ষেপ নিতে হবে। দুদককে শক্তিশালী করে দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নইলে জনকল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হবে না।
ব্যারিস্টার শফিক আরও বলেন, দুর্নীতি করে যারা সম্পদ আহরণ করছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচারের আওতায় নিতে হবে। সাজা দিয়ে তাদের অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মন্ত্রী থাকাকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরে ৩২ জন সাব-রেজিস্ট্রার ট্রুথ কমিশনে তাদের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিল। তারা কিভাবে গুলশান-বনানীতে ফ্ল্যাট, জমি কিনেছিল তা স্বীকার করেছিল। আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের ফাইল দুদকে পাঠিয়েছি। এখন তাদের অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলেই বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তাহলে সাজাও হবে এবং সামাজিকভাবেও দুর্নীতিবাজরা হেয় হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, দুর্নীতি বেড়েছে। এর মূল কারণ হল দুদক কার্যকর হচ্ছে না। তার মতে, দুদক কার্যকর থাকলে দুর্নীতি বাড়ে না। কারণ দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম। তিনি আরও বলেন, দুদক কার্যকর না হওয়ার পেছনে সবার আগে সরকার দায়ী। এছাড়া জাতি দায় এড়াতে পারে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি বাড়লে মনে করতে হবে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর নিু পর্যায়ে বাড়লে মনে করতে হবে, নজরদারি এবং তদারকির অভাব রয়েছে। তিনি বলেন দুর্নীতি কমাতে সবার আগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দুর্নীতি নিজেরা করব না এবং সহ্য করব না। এরপর নজরদারির ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. বদিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতি বৃদ্ধির পেছনে সরকার দায়ী। এক্ষেত্রে টিআই’র সঙ্গে আমি একমত। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে যে ধরনের শক্ত অবস্থান নেয়ার কথা ছিল, সরকার সেটি নেয়নি। সবচেয়ে বড় কথা হল দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুদক। এই প্রতিষ্ঠানের যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তার কিছুই করেনি তারা।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে একটি পারসেপশন তৈরি করা জরুরি। মানুষ মনে করবে, দুদক থাকলে দুর্নীতি করা যাবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি করেছে তার উল্টো। কিছু লোককে চারিত্রিক সনদ দিয়েছে। ফলে দুদকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ড. বদিউর রহমান আরও বলেন, দেশে ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি হচ্ছে। এটা সবাই স্বীকার করবে। তবে সরকার এবং আওয়ামী লীগের লোক এর বিরোধিতা করতে পারে। কারণ তারাও এর সঙ্গে জড়িত।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নেই। ফলে জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই। ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় দুর্নীতির কারণে দেশ আজ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এ সরকার মুখে যত কথাই বলুক না কেন দেশ আজ দুর্নীতিতে ভরপুর হয়ে গেছে। এটা অত্যন্ত আশংকাজনক।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি এখন শুধু প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি বিচার বিভাগেও ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ হচ্ছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

সারদা ফান্ডের টাকা বাংলাদেশে যায়নি

ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বুধবার দেশটির আইনসভার নিুকক্ষ লোকসভায় বলেছেন, সারদা ফান্ডের টাকা বাংলাদেশে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিপ্রধান অমিত শাহ সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থ জোগানের জন্য কথিত সারদা কেলেংকারির টাকা বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন যে, বর্ধমান বিস্ফোরণের সন্ত্রাসী ঘটনায় সারদা ফান্ডের অর্থ ব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অফিস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বুধবার পার্লামেন্টে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তার ওই বক্তব্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন। বিজেপির এমপি হরি মাঝি ও প্রহাদ যোশির প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওই দুই এমপি প্রশ্ন করেছিলেন, সারদা চিট ফান্ডের তহবিল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য বাংলাদেশে পাচার হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের পূর্ণবিবরণ সরকার জানতে চেয়েছে কিনা। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এ ধরনের কোনো লেনদেনের তথ্য পেয়েছে কিনা তা ও তারা জানতে চান। এর জবাবে জিতেন্দ্র সিং বলেন, এখন পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতার অর্থ জোগান দিতে এ ধরনের কোনো লেনদেন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তৃণমূল শিবির। এদিন দুপুরেই তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ চত্বরে বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলে আসছেন এসব অভিযোগ অসত্য। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অযথা প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব কথা বলে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। সুদীপবাবু এদিন বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহর এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন।

সিলভিয়া গ্রুপের ৮৮৮ কোটি টাকা খেলাপি করার নির্দেশ

চট্টগ্রামের সিলভিয়া গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া প্রায় ৮৮৮ কোটি টাকার ঋণ অবিলম্বে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে ওইসব ঋণ নিয়েছিল গ্রুপটি। সিলভিয়া গ্রুপের ঋণ রয়েছে এমন ৭টি ব্যাংকের কাছে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ওইসব ঋণ খেলাপি করে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপের ১১৪ কোটি টাকার অবলোপন করা ঋণও আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, অগ্রণী ব্যাংক, ঢাকাব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। এই প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি শিল্প গ্রুপের বড় অংকের সব ঋণ একসঙ্গে খেলাপি করার নির্দেশ দিল। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের রিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি বড় গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করেছে। এর মধ্যে এইচআর গ্রুপের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির সন্ধান পেয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে ইমাম গ্রুপ, নূরজাহানগ্রুপ, এসএ গ্রুপ, এমইএবি গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করেছে। এখন পর্যন্ত ইমাম গ্রুপের ৮৫০ কোটি, নূরজাহান গ্রুপের আড়াই হাজার কোটি, মোস্তফা গ্রুপের দেড় হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে।  
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল চট্টগ্রামে গিয়ে সিলভিয়া গ্রুপের ঋণের বিষয়ে তদন্ত করেছে। তদন্তে গ্র“পটির ঋণের ভয়াবহ দুরবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশিরভাগ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো জামানত নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রায় অচল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায় হচ্ছে না। তারপরও ব্যাংকগুলো ওইসব ঋণ নিয়মিত হিসাবে রেখে দিয়েছে। এমনকি গ্রুপের দুরবস্থা সম্পর্কে প্রধান কার্যালয়কেও কিছু জানানো হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে সিলভিয়া গ্র“পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। ঋণ ছাড় করার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ঋণের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হওয়ায় এখন ওইসব টাকা আদায়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। ব্যাংকগুলো নিজ থেকে কোনো সতর্ক পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি গোপন করে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে ঘটনাটি তদন্ত করেছে।
গ্র“পের ঋণের সার্বিক পরিস্থিতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পর্যালোচনা সংক্রান্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের নিয়মিত সভায় অবহিত করা হয়। এ ঘটনায় টাস্কফোর্সের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ব্যাংক সূত্র জানায়, সিলভিয়া গ্রুপের প্রায় ৮৮৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৯৯ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ১৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ১২৪ কোটি, ঢাকা ব্যাংকের ১৪৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৮৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৪৮ কোটি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪৩ কোটি টাকা রয়েছে।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ আসার আগেই কিছু ঋণ খেলাপি করা হয়েছে। আরও কিছু ঋণ শতভাগ প্রভিশন রেখে অবলোপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ পাওয়ার পর বাকি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঋণ আদায়ের জোর তৎপরতাও চালানো হচ্ছে। কিছু ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে সিলভিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সানমার হোটেলস নির্মাণের জন্য দুই দফায় ঋণ দেয়া হয়। ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি ২০১০ সালের ২১ আগস্ট ১০ বছর মেয়াদে ৬৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। গ্রাহকের মেয়াদি ঋণের ৬ কোটি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফয়জুন শিপ ব্রেকিংয়ের ৪৮ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য দ্রুত ঋণ ছাড়ের আবেদন করে। তবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখাকে  জানিয়ে দেয়া হয়, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আগের ঋণ শোধ করা যাবে না। যে উদ্দেশ্যে ঋণ দেয়া হচ্ছে সে কাজেই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু প্রধান কার্যালয়ের এ নির্দেশ না মেনে ওই শাখা ঋণের ৫৫ কোটি টাকা অন্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। এ ব্যাপারে শাখা থেকে কোনো আপত্তি করা হয়নি। এমনকি প্রধান কার্যালয়কেও জানানো হয়নি। এর মাধ্যমে শাখা গ্রাহককে অনিয়ম করতে সহায়তা করেছে।
সূত্র জানায়, ওই শাখায় সিলভিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানমার হোটেল ও ফয়জুন শিপ ব্রেকিংয়ের ১০৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হওয়ার কথা থাকলেও এগুলোকে খেলাপি না করে নিয়মিত হিসাবে দেখানো হয়েছে। অথচ এ ঋণের বিপরীতে কোনো কিস্তি আদায় হচ্ছিল না।  একই শাখায় গ্র“পের অপর প্রতিষ্ঠান মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিংয়ের জন্য একই দিনে হিসাব খোলার আবেদনের পাশাপাশি ঋণ প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় ২০১১ সালের ২৯ মে গ্রাহকের নামে ঋণ মঞ্জুর করে। কিন্তু তার ১৯ দিন আগে ১০ মে গ্রাহককে ২৭ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে শাখা প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ঋণের টাকা ছাড় করেছে, যা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় বলে মন্তব্য করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই শাখায় মিসম্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের পাওনা ১৭১ কোটি টাকা। এসব ঋণখেলাপি করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক এশিয়ার চট্টগ্রামের সিডিএ এভিনিউ শাখায় মিসম্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের নামে জাহাজ আমদানির জন্য ঋণ সুবিধা নিলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে ১১ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। এছাড়া আহমাদ মুজতবা স্টিলের অবলোপন করা ২২ কোটি টাকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই ঋণের দায় এড়াতে ব্যাংক তা অবলোপন করেছে। এমআর শিপিং লাইনের বকেয়া ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের হাতে যথেষ্ট জামানত নেই।
অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি কর্পোরেট শাখা থেকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিংকে ভুয়া বিল তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ সরিয়ে ফেলতে সহায়তা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অবলোপন করা ঋণের ৯২ কোটি টাকা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মিসপ্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের বকেয়া ৩১ কোটি টাকা খেলাপি করতে বলা হয়েছে। 
প্রিমিয়ার ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ১০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ১০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদিত হলেও ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে ২০ কোটি টাকার। অনুমোদনের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। গুরুতর এ অনিয়মের জন্য শাখা ব্যবস্থাপক এককভাবে দায়ী বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ব্যাংকটিতে থাকা ৪৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
একইভাবে ঢাকা ব্যাংক থেকে ১৪৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ৮৯ কোটি ও ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ৪৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্রুপটি। এসব ঋণ খেলাপি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ঋণের বিপরীতে শাখার হাতে যেমন পর্যাপ্ত জামানত নেই, তেমনি এগুলো আদায় হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
সূত্র জানায়, ওইসব ঋণ খেলাপি করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাবে। যার ফলে সার্বিকভাবে বাড়বে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এই বিবেচনায় ব্যাংকগুলো ওইসব ঋণ এখন অবলোপন করা শুরু করেছে। অবলোপন করা হলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে যাবে।

সোনা অস্ত্র মাদকের চালান ট্রেনে

চোরাচালানিদের কাছে নিরাপদ বাহনে পরিণত হয়েছে ট্রেন। ফলে রেলপথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চোরাচালান। চোরাই পণ্যের তালিকায় নানা ধরনের মাদকের সঙ্গে যোগ হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সোনা। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে মাদক, অস্ত্র ও সোনাসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই পণ্যের ৬০ ভাগ চালানই ট্রেনে আনা-নেয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে এ পথে চোরাইপণ্য পরিবহন বন্ধ করা যাচ্ছে না। নারী, শিশু, কিশোর, প্রতিবন্ধীদের চোরাই পণ্য বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের সঙ্গে চোরাই পণ্য বেঁধে রাখায় ক্যান্সারসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। সীমান্ত ঘেঁষা রেলপথে দিনাজপুর, হিলি, ফুলবাড়ী, পাঁচবিবি, বিরামপুর, জয়পুরহাট, শান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তিন দিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকামুখী প্রতিটি আন্তঃনগর, লোকাল ও মেইল ট্রেনে প্রকাশ্যে চোরাচালান হচ্ছে। এসব রুটের আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনের যেমন বিভিন্ন নাম দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, তেমনি স্থানীয়ভাবেও নামকরণ করা হয়েছে ট্রেনগুলোর। যেমন বাংলা ট্রেন, মশলা ট্রেন, ফেন্সি ট্রেন, বিচি ও লাকড়ির ট্রেন। এসব নাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেয়নি, এ নামগুলো মুখে মুখে চালু করেছে চোরাকারবারি, প্রতিরোধকারী সংস্থার সদস্য, ট্রেনযাত্রী ও স্টেশন ঘেঁষা বসবাসরত সাধারণ লোকজন।
দিনাজপুর ও ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর একতা, দ্রুতযান ও নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোকে সাধারণ যাত্রীসহ চোরাকারবারিরা ফেন্সি, বিচি, লাকড়ি ট্রেন বলে ডাকে। স্থানীয় ভাষায় বিচিকে গুলি আর লাকড়িকে অস্ত্র বলে থাকে। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি এসব ট্রেনে গুলি ও অস্ত্রের চালান আসছে রাজধানীতে। একইভাবে ঢাকা থেকে সোনার চালান যাচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। সেখান থেকে নিরাপদে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এছাড়া কাঞ্চন কমিউটার, উত্তরবঙ্গ মেইল, দিনাজপুর কমিউটার কিংবা দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসে প্রায় প্রকাশ্যেই চোরাচালান হচ্ছে। ট্রেনগুলোর সময়সূচি এলোমেলো হলেও সমস্যা নেই চোরাকারবারিদের। তাদের মতে, ট্রেন এলেই হল, সে যখনই আসুক। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে ওঁৎ পেতে থাকা শত শত চোরাকারবারি চোরাই পণ্য নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়েন। ভারতীয় জিরা, চিনি, নানা ধরনের মশলা সামগ্রী, গাঁজা, ফেনসিডিল, কসমেটিক, বিস্কুট-চকলেটসহ খাদ্যসামগ্রী, বস্তায় বস্তায় ট্রেনে তোলা হয়। খুব সাধারণ চোরাই মালের বস্তায় দেয়া হয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং অনেক সময় সোনার চালানও যায় এভাবে।
দিনাজপুরের বিবিবন্দর, হিলি, পুলবাড়ী, পাঁচবিবি, বিরামপুর, শান্তাহার ও জয়পুরহাটসহ সীমান্তবর্তী রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ চোরাকারবারিদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-শিশু, হিজড়া, প্রতিবন্ধীদের অনেকেই ব্যাগ অথবা বস্তাভর্তি ভারতীয় চোরাই পণ্য নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন ট্রেনের অপেক্ষা করছে। হিলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘেঁষেই রয়েছে ভারতীয় সীমানা। স্টেশন চত্বরে চোরাকারবারিরা ভারতীয় পণ্য নিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে। বিজিবি, রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নামকাওয়াস্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের সামনেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শুধু ‘লাইনম্যান’রা। যাদের সংখ্যা ১০-১২ জন। প্রতিরোধকারী সংস্থার হয়ে তারা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা তুলছিল। অবৈধ পণ্যের পরিমাণভেদে ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ২শ’ টাকা, ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন লাইনম্যান জানান, দেখতে তাদের ক্ষমতাবান মনে হলেও সত্যিকার অর্থে তারাও দিনমজুরের কাজ করছেন। স্থানীয় চোরাচালান গডফাদারদের হয়ে শুধু টাকা তুলছেন। উচ্চস্বরে বললেন, ‘দুনিয়ার এমন কোনো শক্তি নেই, হিলি স্টেশনে চোরাচালান বন্ধ করতে পারে।’ প্রতিদিন প্রায় ৩শ’ নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা ভারতীয় অবৈধ মালামাল নিয়ে নানামুখী ট্রেনে ওঠে। চোরাকারবারিদের তুলনায় বিজিবি তথা প্রতিরোধকারী সংস্থার সদস্য খুবই কম। হিলিতে কর্তব্যরত দু’জন বিজিবি সদস্য নাম গোপন রেখে বলেন, তারা চোরাচালান বন্ধ করতে পারছেন না। ট্রেন আসতেই শত শত চোরাকারবারি মৌমাছির মতো ট্রেন ঘিরে ধরছে। তাদের মালামাল নিয়ে ট্রেন উঠছে। নারীদের আটকানোও সম্ভব হচ্ছে না। আটকাতে চাইলেই মহিলা, শিশু ও হিজড়া চোরাকারবারিরা তাদেও গায়ের জামা-কাপড় ছিঁড়তে থাকেন। কখনও কখনও ব্লেড দিয়ে শরীর কাটতে শুরু করে। হিজড়ারা একেবারেই নগ্ন হয়ে পড়ে। তারপরও যথাসম্ভব মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেন তারা।
স্টেশনে কর্তব্যরত রেলওয়ের দুই কর্মচারী জানান, চোরাকারবারিদের মধ্যে মেয়ে, মা, নানি কিংবা দাদি একসঙ্গে নেমেছে এ ব্যবসায়। সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় চোরাচালান চক্রের গডফাদাররা। এ অঞ্চলের চোরাকারবারিদের একমাত্র ভরসাই হচ্ছে ট্রেন। ট্রেনে করেই সব মালামাল রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়।
চোরাকারবারি কহিনূর আক্তার (৪২) জানালেন, প্রায় ৬ বছর ধরে এ (হিলি) সীমান্তে মাদক থেকে শুরু করে নানা অবৈধ পণ্য ট্রেনে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। সঙ্গে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে এ কাজে জড়িত। রয়েছে তার ননদ পারভীন আক্তারও। পারভীনের স্বামী ৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর থেকেই সে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। জিরা, চিনি কিংবা মশলা জাতীয় প্যাকেট-বস্তার ভেতর অস্ত্র কিংবা গুলি পাচার হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কহিনূর বললেন, সাধারণত একজন চোরাকারবারি জিরা, চিনি কিংবা মশলা সামগ্রীর বস্তা-প্যাকেট ট্রেনে করে ঢাকা বা রাজশাহীতে পৌঁছে দিলে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে কিছু কিছু বস্তা কিংবা প্যাকেট পৌঁছে দিলে তারা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে। আর ওইসব বস্তা কিংবা প্যাকেটের ভেতরই অস্ত্র, গুলি ও নানা বিস্ফোরকদ্রব্য পাচার হয়। এ কাজে শিশু ও উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের বেশি ব্যবহার করা হয়।
দিনাজপুর, শান্তাহার ও কমলাপুর রেলওয়ে থানা এবং জয়পুরহাট ৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত চিনি ও জিরার প্যাকেট কিংবা বস্তা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। শান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মো. সাঈদ ইকবাল জানান, ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস থেকে মার্চ মাসে ২টি অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলো জিরার প্যাকেটের ভেতর ছিল। দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. সামসুল আলম জানান, দিনাজপুর রেলওয়ে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় নারী-শিশুরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে বেশি। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মোশায়ের-উল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় নারী-শিশুরা শরীরে বেঁধে মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল বহন করায় নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারি বস্তু রশি দিয়ে কোমর, পেট কিংবা বুকে বাঁধা থাকায় তাদের কিডনি নষ্টসহ ক্যান্সারও হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিজিবি সদস্যরা আরও তৎপরতা হলেই এমন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহারুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, সীমান্তবর্তী রেলওয়ে স্টেশন তথা সীমান্তকে কেন্দ্র করে নারী-শিশু তথা হিজড়া ও প্রতিবন্ধীরা ট্রেনে চোরাই পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। ট্রেনে অস্ত্র ও গুলি পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরসহ ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। তারা জামিনে রয়েছে। জিরা, চিনি ও নানা মশলা সামগ্রী চোরাচালানের অন্তরালে অস্ত্র ও গুলির ব্যবসা হতেও পারে। তিনি বলেন, কিছু এলাকা রয়েছে, সীমানা পিলার না দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, কোনটা বাংলাদেশ আর কোনটা ভারত। ফলে চোরাকারবারিরা কোনো মতে ভারতীয় পণ্য নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখতে পারলেই বিভিন্ন ট্রেনে করে তা গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে টাকা আয় করছে।
জয়পুরহাট ৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক (অপারেশন অফিসার) মেজর নাসির উদ্দিন রুমি যুগান্তরকে জানান, হিলিসহ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মানবতা ও মানবাধিকার বিষয়টির কথা চিন্তা করে নারী-শিশু তথা হিজড়া ও প্রতিবন্ধী চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। মহিলা বিজিবি সদস্য না থাকায় তাদের পর্যাপ্ত আটক কিংবা তল্লাশিও করা যাচ্ছে না। চলতি বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ নানা অবৈধ পণ্য আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে ৩টি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো জিরা ও চিনির বস্তা তল্লাশি করে পাওয়া যায়।
এদিকে ঢাকার রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৮৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন রাজধানী হয়ে চলাচল করে। এ পথে চলাচলরত আন্তঃনগর, লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। টঙ্গী, বনানী, বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে বিনা তল্লাশিতেই যাত্রীরা রাজধানীতে প্রবেশ করছে। এদের মধ্যে অনেকেই বহন করছে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, না হয় সোনা। ঢাকা রেলওয়ে জিআরপি থানা সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে চোরাকারবারিরা যাত্রীবেশে ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ে ঢাকায় নামছে।
যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকদ্রব্য পরিবহনের কথা স্বীকার করেন কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, টঙ্গী থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৬টি স্টেশন হয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রী বিনা তল্লাশিতে রাজধানীতে প্রবেশ করছে। যাত্রীবেশে চোরাকারবারি অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক ও নানা মাদকদ্রব্য নিয়ে ট্রেনে ঢাকায় এসে নামছে। এদের সবাইকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, চলতি বছর ১৩টি অস্ত্র উদ্ধারসহ ৬ জন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো অভিনব কায়দায় ভারতীয় চিনি, জিরা ও নানা মশলা সামগ্রী প্যাকেটের ভেতর ট্রেনযোগে রাজধানীতে আনা হচ্ছিল। ট্রেন থেকে চলতি বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাদকদ্রব্যসহ নানা অবৈধপণ্য আটক করা হয়েছে। চোরাই ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত বলে জানান জিআরপির এই কর্মকর্তা।
রেলওয়ে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মল্লিক ফখরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, রেলপথে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা রোধে তার সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এলেও যথাযথ সফলতা আসছে না। প্রতিদিন কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী চলাচল করে। প্রায় ৯৫ শতাংশ যাত্রীই তল্লাশির বাইরে থেকে যায়। লোকবল স্বল্পতা তথা নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় যাত্রীদের তল্লাশি করা যাচ্ছে না। তবে যাত্রীসাধারণ সচেতন হলে রেলপথে চোরাচালান অনেকাংশই কমে আসবে। কারণ যাত্রীবেশেই চোরাকারবারিরা ট্রেনে ভ্রমণ করছেন।

বরিশালে আইএইচটি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা দেয়াসহ ১০ দফা দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধকারী আইএইচটি (ইন্সটিটিউট অ্যান্ড হেলথ টেকনোলজি) শিক্ষার্থীদের ওপর বুধবার লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের ৩ সদস্যসহ অর্ধশত আহত হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে নগরীর বান্দ রোডে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩৫ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার ২৯ জনই ছাত্রী। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১৪ শিক্ষার্র্থীকে আটক করে। এর মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী বলে জানা গেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া আইএইচটি শিক্ষার্থী মো. হোসেন জানান, প্যারামেডিকেল শিক্ষাবোর্ডের পরিবর্তে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাডুকেশন বোর্ড গঠন, দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়াসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে মেডিকেল কলেজের সামনে বান্দ রোডে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। এ সময় ছাত্রীদের ওপর পুরুষ পুলিশের হামলাকে নারী নির্যাতন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিচার দাবি করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিচার না হলে ইন্সটিটিউট বন্ধ করে দেয়াসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয় শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বরিশাল নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান পিপিএম জানান, বুধবার শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধকালে পুলিশ তাদের বোঝাতে গেলে শিক্ষার্থীরা অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করায় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে পুলিশ বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

দুর্নীতি বেড়েছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় দুর্নীতি বেড়েছে। বিশ্বের ১৭৫টি দেশের মধ্যে দুর্নীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হয় বুধবার। এ সূচক অনুসারে গত বছরের তুলনায়, বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান উভয় খাতেই অবনতি হয়েছে। পরপর পাঁচবার দুর্নীতির শীর্ষে থাকার পর ২০০৬ সাল থেকে তা কমতে থাকে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৬তম অবস্থানে নেমে এলেও এক বছরের ব্যবধানে আবারও দুই ধাপ বেড়েছে। জাতীয় সংসদসহ জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতা ও দায়গ্রস্তদের বিচারহীনতার (দায়মুক্তি) সংস্কৃতি দুর্নীতিতে উৎসাহিত করছে বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে রাষ্ট্র, যা উদ্বেগকজনক। রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যর্থতার এ দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বিশ্বব্যাপী একযোগে এ রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৪৫তম এবং নিুক্রম অনুসারে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬-তে। সে তুলনায় অবস্থানের নিুক্রমেও দুই ধাপ অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের স্কোর ২৭-এর চেয়ে এবার দুই স্কোর কম পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া উচ্চক্রমের দিক থেকেও বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় নয় ধাপ নিচে নেমে গেছে।
উল্লেখ্য, সূচক স্কেলের ০ স্কোরকে বেশি দুর্নীতি এবং ‘১০০’ স্কোরকে কম দুর্নীতির মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ বছর দুর্নীতির সূচক তৈরির ক্ষেত্রে ২০১১ সালের ফেব্র“য়ারি থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ড. জামান বলেন, বিভিন্ন কারণে সিপিআই সূচকে এ বছর বাংলাদেশের ক্রমের অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘাটতি, কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্তের অভাব, দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করার অপপ্রয়াস, পদ্মা সেতু প্রকল্প, রেলওয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, হলমার্ক ও ডেসটিনি এবং সোনালী ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, রানা প্লাজার ঘটনার ব্যাপারে শৈথিল্য, ক্ষমতাবানদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের দৌরাত্ম্য, সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, নিয়োগ-বাণিজ্যের রাজনীতিকীকরণ এবং ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় ভূমি ও নদী-জলাশয় দখলের মহোৎসব এবং ব্যবসার প্রসার। তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদককে অনেক সময়ই সরকারের এক ধরনের বি-টিমের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান। এর পরের অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট কম পেয়েছ। এতে দুর্নীতির বৈশ্বিক ধারণা সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে দুর্নীতিতে যে প্রকট আকার ধারণ করেছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৯২টি দেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৭টি দেশ আগের স্কোর ধরে রেখেছে। অন্যদিকে যে ৩৬টি দেশের স্কোরের অবনতি হয়েছে, দুঃখজনকভাবে সেই তালিকায় বাংলাদেশও আছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে একই স্কোর প্রাপ্ত অন্য চারটি দেশ হল- গিনি, লাওস, কেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি।
জাতীয় সংসদের অকার্যকারিতাসহ জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতাই দুর্নীতি বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুর্নীতি উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। দেশে আইনের শাসনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এই দুর্নীতি। বাংলাদেশে যে দুর্নীতি হয় তা বন্ধ করা গেলে প্রবৃদ্ধির হার আরও ৪ শতাংশ বাড়ত। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের দুর্নীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্রতম গোষ্ঠী।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিচারহীনতা একটি স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকারের মানসিকতা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতি বিষয়ে ‘রি-অ্যাক্ট করা হয়, রেসপন্স করা হয় না।’ তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা অবৈধভাবে বিভিন্ন সুযোগ নিচ্ছেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যার প্রভাব পড়ছে দুর্নীতি সূচকে। উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির সহায়ক শক্তির প্রভাব বাড়ছে ও দুর্নীতি বিরোধীদের কোনো প্রভাব থাকছে না। যারা দুর্নীতি ও অপরাধ করছে তাদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না।
২০১৪ সালে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক, যার স্কোর ৯২। ৯১ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড, যার স্কোর ৮৯। ৮ স্কোর পেয়ে ২০১৪ সালে তালিকার সর্বনিুে অবস্থান করছে যৌথভাবে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে সুদান ও আফগানিস্তান।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের দরিদ্র জনগণ। আমরা সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। সে কারণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সুরক্ষার সংস্কৃতিই লক্ষ্য করা গেছে। অথচ যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার বদলে উচ্চ পর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা যায়।
দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের গড় স্কোর অনেক কম। দুর্নীতির বিষয়ে গত বছরের অবস্থানও ধরে রাখা যায়নি বরং সেখান থেকে অবনতি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে মনে করা হয় বাংলাদেশ বা তার অধিবাসীরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এটা ঠিক নয় জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না।
সিপিআই ২০১৪-এর জন্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সূত্র হিসেবে ৭টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যথাক্রমে : বার্টেলসমান ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্র্তৃক পরিচালিত কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, গ্লোবাল ইনসাইটের কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস্, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিসেসের ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক্সিউকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে এবং ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট পরিচালিত রুল অব ল ইনডেক্সের রিপোর্টগুলোর জরিপ ব্যবহৃত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিপিআই নির্ণয়ে টিআইবি কোনো ভূমিকা পালন করে না। এমনকি টিআইবির গবেষণা থেকে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা বিশ্নেষণ সিপিআই-এ পাঠানো হয় না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের মতোই টিআইবি দুর্নীতির ধারণা সূচক স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ করে মাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান ও ড. এটিএম শামসুল হুদা এবং উপনির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।
আবারও বৃদ্ধির দিকে দুর্নীতি : ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী ৫ বছর বাংলাদেশ দুর্নীতির শীর্ষে ছিল। ২০০৬ সাল থেকে দুর্নীতির অবস্থার নিচে নামতে থাকে। ওই বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তিনে। এরপর ২০০৭ সালে ৭ম, ২০০৮ সালে ১০ম, পরের বছর আরও এক ধাপ উন্নতি করে। ২০১০ সালে ১২তম অবস্থানে আসে দুর্নীতির সূচক। ২০১১ ও ১২ সালে ১৩তম এবং ২০১৩ সালে ১৬তম অবস্থানে চলে আসে। কিন্তু এবার আবার ২ ধাপ অবনতি হয়ে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে।
দুর্নীতিতে শীর্ষে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া : দুর্নীতির ধারণা সূচকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। সূচকের নিম্নক্রম অনুসারে ১৭৫টি দেশের মধ্যে এই দুই দেশের অবস্থান ১৭৪। ওই দুই দেশের স্কোর ৮। এরপর রয়েছে সুদান ১৭৩তম (স্কোর ১১), আফগানিস্তান ১৭২তম (স্কোর ১২), দক্ষিণ সুদান ১৭১ (স্কোর ১৫), ইরাক ১৭০তম (স্কোর-১৬) তুর্কিমেনিস্তান ১৬৯তম (স্কোর ১৭) ও উজবেকিস্তান, লিবিয়া এবং ইরিত্রিয়া ১৬৬তম (স্কোর ১৮)।
কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক : ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। ১০০ স্কেলের মধ্যে দেশটির স্কোর ৯২। কম দুর্নীতিগ্রস্ত ১০টি দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৯১) ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড (স্কোর ৮৯)। এরপর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সুইডেন (স্কোর ৮৭), পঞ্চম নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড (স্কোর ৮৬), ষষ্ঠ সিঙ্গাপুর (স্কোর ৮৪), সপ্তম নেদারল্যান্ডস (স্কোর ৮৩), অষ্টম লুক্সেমবার্গ (স্কোর ৮২) এবং নবম অবস্থানে কানাডা (স্কোর ৮১)।

‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক দল বের করে দেয়া উচিত’ -আবুল মাল আবদুল মুহিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বের করে দেয়া উচিত। আজ সকালে সিলেটে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সেশনজট ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রবেশ করায় সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া উচিত। দুর্নীতিতে বাংলাদেশের দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হলে দুর্নীতি কমে। তাই আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হওয়া দরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রমুখ।

‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে বঞ্চিত মানুষ বসে থাকবে না’ -সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ নেতা সন্তু লারমা বলেছেন পাহাড়ে আন্দোলন চলছে সরকার যদি শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তবে আন্দোলন আরও গতি পাবে। শান্তি চুক্তি বিরোধীদের দোহাই দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে কালক্ষেপন করা হলে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বসে থাকবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে ডেইলী স্টার কার্যালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে বিশেষ শাসন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালীকরণ শীর্র্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সন্তু লারমা বলেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হলেই পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ শাসন ব্যবস্থার আওতায় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে। তবে তার আগে প্রয়োজন নির্বাচিত, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল উদার শাসন ব্যবস্থা। সম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদকে নিজেদের প্রতিপক্ষ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যারা সম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদের পক্ষে তারা পার্বত্য শান্তি চুক্তি সর্মথন করবে না । সন্তু লারমা বলেন সশস্ত্র এবং নিরস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল ১৭ বছর পরে আবারও আমাদের মনে হচ্ছে সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতান্ত্রিকতাকে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পর বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি সরকার প্রধান সাহসী ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে স্বাভাবিকভাবে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পূর্ব পাকিস্তানীরা একসময় বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে এখন বাংলাদেশ পাহাড়ীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। নিপীড়িত কিভাবে নিপীড়কের ভূমিকায় অর্বতীণ হয় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে পাবর্ত্য চট্রগ্রাম। তিনি বলেন আমরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে না তবে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন জনসংখ্যা তাত্ত্বিক রাজনীতি চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন এরকম চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে পাহাড়িরা সেখানে সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ অসাধারণ মডেল হতে পারত অভিমত প্রকাশ করে রোবায়েত বলেন শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

অনন্ত-বর্ষার ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছে পুত্রসন্তান আরিজ

ঢালিউডের তারকা দম্পতি অনন্ত-বর্ষার ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছে এক পুত্রসন্তান । গত ২৩শে নভেম্বর থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় সকাল ৮ টা ৮ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ টা ৮ মিনিটে থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ বামরুন গ্রাড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তার জন্ম হয়। নবজাত এবং মা দু’জনেই বর্তমানে  সুস্থ আছেন। থাইল্যান্ড থেকে মানবজমিনে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় এ সংবাদ জানিয়েছেন অনন্ত-বর্ষার চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনসুন ফিল্মসের মিডিয়া ম্যানেজার সজিব। তিনি আরও জানান, অনন্ত এবং বর্ষা তাদের পুত্র সন্তানের নাম রেখেছেন আরিজ। আরবী এই নামটির অর্থ বুদ্ধিমান এবং সম্মানিত। আরিজকে ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে থাইল্যান্ডে তাদের এপার্টমেন্টে নিয়ে আসা হয়েছে। ফুটফুটে আরিজকে নিয়েই এখন মহাব্যস্ত অনন্ত-বর্ষা দম্পতি। দু’জনের আনন্দ আর সুখের এই  মূহুর্র্ত এখন শুধু আরিজকে ঘিরেই। সজিব জানান, মা হওয়ার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বর্ষা বলেছেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার নয়। কি যে ভাল লাগা কাজ করছে বলে বোঝাতে পারবো না। আরিজকে নিয়েই যেন এখন আমার আর অনন্তের সব স্বপ্ন। আরিজ জন্ম নেয়ার পরপরই সবাইকে সংবাদটি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ডাক্তারের পরীক্ষাধীন থাকায় তা জানাতে কিছুদিন দেরি হলো। এখন আমি এবং আমার সন্তান আরিজ দু’জনই সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। বাবা হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অনন্ত বলেন, অসাধারণ এক অনুভূতি কাজ করছে নিজের ভেতর, যা আসলেই ভাষায় প্রকাশ করা পুরোপুরি অসম্ভব। এই অনুভূতি শুধুমাত্র অনুভবই করা যায়। অনন্ত-বর্ষা তাদের সব ভক্ত, দর্শক ও শুভাকাংখিদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই তারা আরিজকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন বলেও ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছেন সজিব।

যেভাবে এল ‘বাংলাওয়াশ’ by রানা আব্বাস

২০১০ সালের ১৭ অক্টোবর। মিরপুরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচ। এর আগে বৃষ্টির কারণে একটি ওয়ানডে পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর তা পরিণত হয়েছিল চার ম্যাচের সিরিজে। টানা তিন ম্যাচ জেতার পর শেষ ম্যাচে জয়-পরাজয়ের দোলাচলে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে শেষ ম্যাচের একেবারে অন্তিম পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের দরকার হয় ৪ বলে ৪ রান। বোলার ছিলেন রুবেল হোসেন। চরম শ্বাসরূদ্ধকর পরিস্থিতিতে কিউইদের শেষ ব্যাটসম্যান কাইল মিলসকে বোল্ড করে দিলেন রুবেল! নিশ্চিত হলো নিউজিল্যান্ডের ধবলধোলাই। সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান এর নাম দিলেন—‘বাংলাওয়াশ’!
পরদিন প্রথম আলো র প্রধান শিরোনাম করা হলো—‘নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ’! চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল শব্দটি। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করতে পারে কালেভদ্রে। এ কারণে শব্দটির ব্যবহারের উপলক্ষও তৈরি হয় মাঝেমধ্যে।
তিন দিন আগে বাংলাওয়াশের ‘শিকার’ হলো জিম্বাবুয়ে! বাংলাওয়াশের এ স্মৃতি সজীব থাকতেই আতাহারের কাছে শব্দটির ইতিহাস ও এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য জানতে চাইলে হাসলেন। বললেন, ‘আবারও বলতে হবে!’ আতাহারের কাছে পুরোনো হলেও শব্দটি বাংলাদেশের জন্য এতই মধুর, যতবার এর গল্প শোনা হয়, ততই যেন ভালো লাগে!
আতাহার স্মৃতি থেকে বললেন, ‘নিউজিল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান মিলসকে রুবেল বোল্ড করার পর পাশে থাকা ধারাভাষ্যকার ড্যানি মরিসন বললেন, ‘‘হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ’’। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, তোমার মতে হয়তো ‘‘হোয়াইটওয়াশ’’। কিন্তু আমার মতে এটা ‘‘বাংলাওয়াশ’’! ওই প্রথম চালু হলো শব্দটি। ক্রিকইনফোতে লেখা হলো, আতাহার আলী খান একে ‘‘বাংলাওয়াশ’’ বলেছেন!’
ওই সময় মাথায় কীভাবে এল শব্দটি? জনপ্রিয় এ ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘আসলে হঠাৎ করেই মাথায় এসেছিল। কোনো পরিকল্পনা করে এটা বলিনি। হোয়াইটওয়াশ-ব্লাকওয়াশ প্রভৃতি শব্দ আগে থেকেই প্রচলিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডকে ধবলধোলাই করার পর ‘‘ব্লাকওয়াশ’’ শব্দটার প্রচলন হয়েছিল। হঠাৎই কেন যেন মনে হলো, এটা তাহলে বাংলাওয়াশই হবে! প্রথম আলো দুবার শিরোনাম করল বাংলাওয়াশ শব্দ দিয়েই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কিন্তু এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।’
নিজের আবিষ্কৃত শব্দের এমন জনপ্রিয়তা কেমন লাগে? মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘খুব ভালো লাগে। আমার ব্যবহৃত শব্দটি সবার মুখে মুখে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!’
তবে এটিকে নিছক শব্দ মানতে রাজি নন আতাহার। এর তাৎপর্য কতটা বড়, ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘শব্দটি আমরা সব সময় ব্যবহার করতে পারি না। তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ কিংবা পাঁচ ম্যাচ সিরিজ ৪-১ করলেও এ শব্দ ব্যবহার করা যায় না। যখন সিরিজের প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারাতে পারি, তখনই এ শব্দটি ব্যবহার করতে পারি। ফলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। এ শব্দ ব্যবহারের জন্য অনেক ভালো খেলতে হয়। ভালো খেলার সঙ্গেই তো কেবল এ শব্দের যোগ।’