Friday, July 4, 2014

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- শিক্ষামন্ত্রী-টিআইবি পাল্টাপাল্টি

বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ করছে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ৩০শে জুন রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট উপস্থাপন করে টিআইবি। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয় কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকায় মিলছে সার্টিফিকেট। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কিছু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। টিআইবির প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে ওইদিনই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি টিআইবির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। বুধবার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন উদ্দেশ্যমূলক। টিআইবির কাছে কোন তথ্যপ্রমাণ নেই বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল নওগাঁ-৩ আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিনের এক সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে টিআইবিকে অবিলম্বে তাদের প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। বলেন, প্রমাণ করতে না পারলে টিআইবিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ও তথ্য নেই। এ কারণে অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তাদের হাতে প্রমাণ নেই। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এ প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবুও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবারই তদন্ত শুরু হয়েছে। নাহিদ বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অধিকার টিআইবির নেই। কি প্রমাণ আছে, তা অবিলম্বে হাজির করুন। তা না হলে প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে দেশে ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এসব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে যেটুকু আইন ছিল তা ছিল প্রায় অচল। কঠোর আইন না থাকায় তখন এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজই ছিল সার্টিফিকেট বিক্রি করা ও মুনাফা অর্জন করা। তাছাড়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজ ছিল না। তিনি বলেন, এখন দেশে ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই আমরা আইন সংশোধন করেছি। আইনটি সংশোধনের ফলে এখন আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ কার্যকলাপ করার কোন সুযোগ নেই। আর যখনই কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অভিযোগ পেয়েছি তাৎক্ষণিক তদন্ত করে তা বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে স্থিতাবস্থা নিয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং অবৈধ ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঘুষ নিয়ে এসব অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছি বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সবৈব মিথ্যা। আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে কোন হস্তক্ষেপ করি না। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের কৃতিত্ব ও অর্জনকে ম্লান করতেই ওই সংস্থা চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, টিআইবি যে অভিযোগ করেছে তার পক্ষে তাদের কাছে কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্যই মনগড়া এসব রিপোর্ট প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংস্থাটি অভিযোগ করলেও এর পক্ষে কোন তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। টিআইবি যদি অবিলম্বে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ জাতির সামনে হাজির করতে না পারে তাহলে বুঝা যাবে শুধুমাত্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই সংস্থাটি এসব অজুহাত সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রতিবেদনটি গবেষণা প্রতিবেদন। এটা প্রত্যাহারের কোন সুযোগ নেই। আমরা যা করেছি সেটা সঠিক। তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি ক্ষমা চাইতে হয় সেটা অন্য কোন কারণে ভুল হলে চাইতে পারি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, আমরা কোন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। এটা নতুন কিছু নয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের যে শক্তি-সামর্থ্য আছে তা দুর্নীতিবাজদের শনাক্ত করার কাজে লাগানো উচিত। শিক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায় তারা বিষয়টা অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বিরাট একটা খাত হুমকির মুখে পড়বে। কেননা, এখানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ভাল করছে আমরা তো তাদের কথাও বলেছি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে এটা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদেরকে ক্ষমা চাইতে বলছেন, যদি আমাদের প্রতিবেদন সঠিক হয় তখন তিনি কার কাছে ক্ষমা চাইবেন।

দাঙ্গা আতঙ্কে ব্রাজিলে লক্ষাধিক সেনা, পুলিশ মোতায়েন

কি ঘটবে আজ ক্যাস্তেলাও স্টেডিয়ামে! আজ রাতে ব্রাজিল কি এ স্টেডিয়ামের ফুটবল যুদ্ধে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে! নাকি কান্নায় ভাসবে ব্রাজিল! কলম্বিয়ার সঙ্গে এ যুদ্ধের এখনও অনেকটা সময় বাকি। কিন্তু হাসি-কান্না যা-ই হোক, ব্রাজিল কিন্তু অন্য এক আতঙ্কে আছে। সে আতঙ্ক অনাকাক্সিক্ষত পরাজয় নিয়ে। ফুটবল তো খেলা। গায়ের জোরে এখানে জেতা যায় না। তাই জয় বা পরাজয় হতেই পারে। যদি ব্রাজিল আজকের ম্যাচে জেতে তাহলে তো কথাই নেই। ব্রাজিল পরিণত হবে এক মহোৎসবের দেশে। কিন্তু যদি হেরে যায় তাহলে শুরু হতে পারে দাঙ্গা। নিজেদের দেশে ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের অনাকাক্ষিত পরাজয় মেনে নিতে পারবেন না ব্রাজিলের কোটি নাগরিক। ফলে তারা দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। এমন আশঙ্কা মাথায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে মোতায়েন করেছে লক্ষাধিক সেনা ও পুলিশ। তারা ক্যাস্তেলাও স্টেডিয়ামের চারদিকে অবস্থান নিয়েছে। বিমান বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মোতায়েন থাকছে আর কিছু সময় পরে। এমন দৃশ্য সত্যিকার একটি ‘বিশ্বযুদ্ধের’ পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলে। ফলে ব্রাজিল, বিশেষত ওই স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে অন্য এক চেহারা নিয়েছে। এর আগে মারাকানা স্টেডিয়ামে ‘ব্রাজিলেইরাও সেরি-এ ২০১৪’ ম্যাচের সময়ও এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল মিলিটারি পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছিল। সেই ম্যাচটি হয়েছিল ফ্লেমেঙ্গো ও পালমেইরাসের মধ্যে। তখন আর এখনকার অবস্থা ভিন্ন। এখন হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এখানে সারাবিশ্বের কাছে ব্রাজিলের যে অতুলনীয় ইতিহাস আছে তা যেন অক্ষুণœ থাকে সে আশায় বুক বেঁধে আছেন দেশটির নাগরিকরা। সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত। কিন্তু যদি সেই স্বপ্ন আজ ভঙ্গ হয়, তাহলে তারা শোক সইতে পারবেন না। আর তারই ফলে দেখা দিতে পারে দাঙ্গা। ব্যাপক আকারে ভাঙচুর হতে পারে। তাই প্রশাসন আগেভাগেই সচেতন হয়েছে। ফরতালেজায় অবস্থিত ৬৪ হাজার ৮৪৬ আসনের স্টেডিয়াম ক্যাস্তেলাও আজ কানায় কানায় পূর্ণ হবে, হলুদ রঙে নাচবে চারদিক- এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। সেখানে ও এর আশপাশে মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় লাখখানেক সেনা, পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। যদি কোন দর্শক, পর্যটকের হাতে পাওয়া যায় বোমা তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করতে এমন ব্যবস্থা। এর কারণ, খেলায় হেরে গেলে সহিংসতার হুমকি আগেভাগেই দিয়েছে কিছু গোষ্ঠী। সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ রয়েছেন এর মধ্যে। এর বাইরে রয়েছেন বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী একটি অংশ। বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে ব্যাপক অঙ্কের অর্থ খরচ হয়েছে। এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০০০ কোটি পাউন্ড। এতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তারা এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ করেছেন। তাতে কাঁদানে গ্যাস, গুলি ছুড়েছে পুলিশ। তারাও আজ রাতে সুযোগ নিতে পারেন। এ জন্য বড় বড় সব শহরেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। আজ রাতে ক্যাসাব্লাঙ্কা সমুদ্র সৈকতে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখতে হাজির হবেন লাখ লাখ মানুষ। সেখানেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ব্রাজিলের ১২টি ভেন্যুতে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ম্যাচ। এসব শহরে, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখেরও বেশি পুলিশ। তাদেরকে সমুদ্র ও আকাশ পথে সহায়তা করবে বাড়তে নিরাপত্তা দল।

ব্রাজিল জিতলে এক বাংলাদেশ, হারলে দু-টুকরো by কাজল ঘোষ

আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে আলোচনা সবখানে। শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি ও ব্রাজিল। নতুন ইতিহাস গড়ার ঘোষণা এসেছে সব শিবির থেকেই। এ যেন অন্যরকম বিশ্বযুদ্ধ। হিটলার আর নেপোলিয়নের এই যুদ্ধে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই। দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে ব্রাজিল আর অন্যদিকে আর্জেন্টিনা। স্কলারির মুন্সিয়ানায় আজকের ব্রাজিলের পারফরমেন্স দেখতে পর্দার সামনে বসবে দেশের কোটি কোটি মানুষ। ম্যাচ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কলম্বিয়ার সঙ্গে এ পর্যন্ত খেলায় বেশিরভাগ সময়ই জিতেছে ব্রাজিল। যদিও এতে কলম্বিয়ার কোচ পেকারম্যানের মাথাব্যথা নেই। স্কলারি আত্মবিশ্বাসী তার টিম নিয়ে। বলছেন, এটা কোন ঘরোয়া ম্যাচ নয়। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলগতভাবে পারঙ্গমতা প্রদর্শনে ততটা সফল না হলেও তাদের সঙ্গী হয়েছে ভাগ্য। একইভাবে আর্জেন্টিনাকেও ফেবার করেছে অদৃশ্য শক্তি। না হলে শেষ দু’ খেলায় ব্রাজিলের নেইমার যদি পেনাল্টিতে নাটকীয়তা না করতেন তাহলে গোলবঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা যেমন উড়িয়ে দেয়া যায় না, তেমনি আর্জেন্টিনার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের খেলায় শেষ সময়ে যদি গোলবারে বল লেগে ছিটকে না পড়বে তাহলে হিসাব হতো অন্যরকম। যাই হোক, এই নাটকীয়তায় বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শকও দোলায়িত। একদিকে হলুদ আর অন্যদিকে আকাশি। যদি হলুদ হেরে যায় তবে অর্ধেক বাংলাদেশ চুপ থাকবে। ব্রাজিলের হারে অর্ধেক বাংলাদেশের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে। বিশ্বকাপ আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় বিভক্ত এই দেশ তখন দু-টুকরো হয়ে যাবে। বাকি অর্ধেক আর্জেন্টিনার ভ্যাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকবে। কি হবে? শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

আধুনিক কবিতা হচ্ছে কালোপযোগী নতুন কবিতা by আবুল হোসেন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : বিমল গুহ ও নিতাই সেন
সাতচল্লিশের ভারত বিভক্তির পরে এই অঞ্চলের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবন ও সাহিত্য শিল্পে শুরু হয় নতুন উদ্দীপনা। সেই সময়ে তৎকালীন পূর্ববাংলার কবিতায় দ্বিমুখী ধারার আর্বিভাব ঘটে। একটি ধারা পাকিস্তানি আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনা প্রবর্তনের জন্য উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন। আর একটি ধারার কবিতায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও তিরিশোত্তর নতুন কবিতার লক্ষণ প্রত্যক্ষযোগ্য হয়ে ওঠে। এই ধারার অগ্রগণ্য কবি ছিলেন আবুল হোসেন। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ নববসন্ত। এই গ্রন্থটি প্রকাশের মধ্যে দিয়ে নতুন ধারার কাব্যযাত্রা শুরু হয়। এই প্রগতিশীল ধারাটি দিন দিন বিকশিত হতে থাকে। আবুল হোসেনের গ্রন্থসংখ্যা ২৫। তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- বিরস সংলাপ (১৯৬৯), হাওয়া, তোমার কি দুঃসাহস (১৯৮২), দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে (১৯৮৫), এখনো সময় আছে (১৯৯৬), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯৭), আর কিসের অপেক্ষা (২০০০), কবিতা সংগ্রহ (২০০০), ছোটদের কাব্য-রাজ রাজরা (১৯৯৭) ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে- অনুবাদ কবিতা, গদ্য ও আÍজীবনীগ্রন্থ। এসব গ্রন্থে তিনি তার বলিষ্ঠতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদধন্য এই কবি ১৯৪৭-পরবর্তী তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের কবিতাকে প্রগতিশীল চিন্তার বাহন করে এগিয়ে গেছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৩ সালে লাভ করেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮০ সালে পেয়েছেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। এছাড়াও তিনি পদাবলী পুরস্কার, মাযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদকসহ আরও সম্মাননা লাভ করেছেন। কবিতার শুদ্ধতায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তার কাব্য বিশ্বাসে কবিতার পরিমাণ মুখ্য ছিল না, কবিতার মানই ছিল আসল নিক্তি। ২৯ জুন ৯২ বছর বয়সে কবি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট বৃহত্তর খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম-ইসমাইল হোসেন, মাতা মেহেরুন্নেসা। স্ত্রী সাহানা হোসেন, ১৯৯৪ সালে প্রয়াত হয়েছেন। তাদের দুই ছেলে-সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন ও সোহেল রেজা খালেদ হোসেন। দুজনই বাংলাদেশের দুই আর্থিক সংস্থার প্রধান নির্বাহী। দুই মেয়ে-ফারাহ্ হোসেন (প্রবাসী), নাজ হোসেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
দীর্ঘদিন আগে, ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আমরা গিয়েছিলাম কবির ধানমণ্ডির বাড়ি-সাহানায়। তখন তিনি বেশ সচল, ধারাবাহিক আত্মজীবনী লেখায় ব্যস্ত ছিলেন। ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তার প্রথম আত্মজীবনী আমার এই ছোট্ট ভুবন, ২০০৫ সালেই প্রকাশিত হয় আরেক ভুবন, এরপর ২০০৭ সালে দুঃস্বপ্নের কাল, ২০০৯ সালে স্বপ্নভঙ্গের পালা ও ২০১৩ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত হয় অপরাহ্নের স্মৃতি। আমাদের দীর্ঘ সময় দিয়েছিলেন। সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়েছে। তবে আমাদের আলাপ সীমাবদ্ধ ছিল কবিতায়। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সাহিত্যে পত্রিকা কবি সম্মেলন-এ প্রকাশ করা হয়েছিল। কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হল।
কবি বেশ প্রত্যয়ী কণ্ঠে শুরু করলেন তার জীবনকথা, কবিতার কথা। বললেন-আমি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি। কয়েকটা ছোট ঘটনার মধ্যে দিয়ে আমার কবিতার পথে আসা। আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কিছু বই উপহার পাই। বইগুলো পেয়ে কী-যে খুশি হয়েছিলাম- তা স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে। একটার পর একটা বইগুলো পড়ে ফেলি। এর মধ্যে একটা বইয়ের নাম সোনার তরী, নিচে লেখকের নাম শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বইটা নেড়েচেড়ে দেখলাম। তখন ছবির বই হলে পছন্দ হতো খুব। তবুও বইটা পড়তে শুরু করি। দুটো লাইন পড়েই কিসের যেন শিহরণ জাগল মনে। ছন্দের দোলায় দুলে উঠলাম আমি- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা/কুলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা...কবিতাটি পড়ে যে কিছু বুঝেছিলাম তা নয়, তবুও ভালো লাগল পড়তে। কবিতাটি পড়ে আমার মনে হল- কী করে মানুষ এমনভাবে লিখতে পারে? আমি কি কখনও এ রকম লিখতে পারব!
আমি পড়তাম খুব। পড়ার অভ্যাসটা কোত্থেকে পেয়েছিলাম জানি না। স্কুলপাঠ্য বইয়ের বাইরের বই স্কুল-লাইব্রেরি থেকে নিয়ে, বন্ধুদের থেকে ধার নিয়ে পড়তাম। গল্পের বা অ্যাডভেঞ্চারের বই নয়, কবিতার আবেদনটা সম্পূর্ণই আলাদা। সেই সময় আমার প্রিয় কাগজ ছিল-মৌচাক, মাস পয়লা, শিশুসাথী প্রভৃতি। এ থেকে আমি প্রথম সাহিত্যের প্রেরণা পাই। সেই সময় বিয়ের আসরে, বর-কনের উদ্দেশ্যে উপহার নামে কিছু একটা লিখে বিয়ের আসরে বিলি করা হতো। আমিও আমার বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে উপহার-এ একটি কবিতা লিখে ফেললাম। সেটি বিয়ের আসরে বিলিও করা হল। এটি লিখে আমার স্কুল-শিক্ষকসহ অনেকের প্রশংসা পেয়েছি। সেই উৎসাহে লেখা হতে লাগল, কবিতার পর কবিতা। তবে আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয় স্কুল ম্যাগাজিনে-চৌদ্দ অক্ষরের পয়ারে লেখা একটি কবিতা।
ষ বাংলা কবিতায় তিরিশের পালাবদলের পরে আপনার আগমন ঘটলেও এই অঞ্চলের কবিতায় তখনও রবীন্দ্রবলয় এবং ইসলামী পুনর্জাগরণের ভাবনাপুষ্ট আবহ বিরাজমান ছিল, আপনি এ থেকে বেরিয়ে এলেন কী করে?
আবুল হোসেন : আমি যখন ছেলেবেলায় প্রথম কবিতা লিখি, সেটা রবীন্দ্রনুসারী হয়ে যেত। তারপর যখন অন্যদের কবিতাও বেশি করে পড়া শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে আমাকে ভিন্নরকম কবিতা লেখার চেষ্টা করতে হবে-যা রবীন্দ্র অনুসারী হবে না। করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, কালিদাস রায় কিংবা যতীন্দ্রমোহন বাগচী- কেউ রবীন্দ্রনাথ থেকে সরে যেতে পারেননি; পেরেছিলেন-যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, আর পেরেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বিদ্রোহীতে তিনি মাত্রাবৃত্তকে ভেঙে আলাদা সুর সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন।
আমার মনে হল যে, আমি রবীন্দ্র-নজরুলের দিকে যেতে পারি না। সে সময় জসীমউদ্দীনও আলাদা ধারায় লেখা শুরু করলেন। তিনি লোকগীতির ধারায় লোকগাথা রচনায় মনোযোগী হলেন। এভাবে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করেছেন কেউ কেউ, আমার মধ্যেও সে প্রচেষ্টা ছিল। আমি নিজের মতো লিখতে চেয়েছি।
আপনি শুরুতেই কি সচেতনভাবে আলাদা হতে চেয়েছিলেন?
আবুল হোসেন : আমার সবসময় মনে হতো কবিতার প্রচলিত যে ধারা-তা থেকে কিছু বর্জন করে এবং কিছু গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। একজন কবিকে যদি সত্যিকার কবি হতে হয়, তাহলে তার নিজের ভাষা খুঁজে বের করতে হবে। কবিকে নিজের কথা নিজের মতো করে বলতে হবে। নিজের একটা কাব্যভাষা তৈরি করতে হবে। যে কাজ সবাই করেছেন, সে কাজ করলে কোনো জায়গা হবে না কাব্যের ভুবনে।
আমি সমর সেনকে খুব পছন্দ করতাম। সমর সেনের কবিতা থেকেই আমি আমার পথ খুঁজে পেয়েছিলাম। তিনি প্রকৃত গদ্য কবিতার পথিকৃৎ। রবীন্দ্রনাথও গদ্য কবিতা লিখেছেন, কিন্তু তা কাহিনীনির্ভর। সমর সেন সাম্যবাদী হলেও প্রকৃত রোমান্টিক গদ্য কবিতা লিখেছিলেন। আমি সমর সেনের কাছ থেকে এটুকু নিলাম যে-কবিতাকে গদ্যের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে। আমিও চেয়েছিলাম কবিতার ভাষা মুখের ভাষার দিকে যাবে। আর একটি জিনিস মনে রাখতাম-কবিতাকে গদ্যের কাছাকাছি নিলেও কবিতায় ছন্দ রক্ষিত হবে। আমার প্রথম বই নববসন্ত-এ তা পুরোপুরি আমি করতে পারিনি। তা করতে আমার আরও ৩-৪ বছর সময় লেগে গিয়েছিল।
ষ চল্লিশের কবিদের মধ্যে একমাত্র বয়োজ্যেষ্ঠ কবি হিসেবে আপনার
প্রতিক্রিয়া কী?
আবুল হোসেন : আমি এই বিষয়টাকে খুব গুরুত্ব দিই না। কেউ যদি বলেন যে-উনি আমাদের জ্যেষ্ঠ কবি, তাতে কবিতার কিছু আসে যায় না। আমার মনে হয় যে, বিধাতা আমার প্রতি সদয়, আমি এখনও কর্মক্ষম আছি। আমি চাই-আমি যেন শেষদিন পর্যন্ত কর্মক্ষম থেকে যেতে পারি। আমি জীবনযাপন করি নিয়মমাফিক, খাওয়া-দাওয়াও স্বনিয়ন্ত্রিত। সারাজীবন নিয়ম মেনেই চলেছি, এখনও চলি।
[আগামী সংখ্যায় সমাপ্য]

আজকেই ব্রাজিলের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ: পিটার শিল্টন

আমি এখনও ব্রাজিলের অপেক্ষায় আছি! আসলে উদ্যোক্তা দেশ এ বার বিশ্বকাপে যতটা ঝকঝক করবে বলে ভাবা হচ্ছিল, এখনও সেই ফর্মে পৌঁছয়নি। যত দিন না সেটা হচ্ছে, আমরা আসল ব্রাজিলকে দেখার অপেক্ষায় থাকব।

হতে পারে ঘরের মাঠে কোটি কোটি দেশবাসীর প্রত্যাশা মেটানোর চাপ নেইমারদের সাধারণ মানের পারফরম্যান্সের অন্যতম ফ্যাক্টর। যদিও এ বার ওদের বোঝা উচিত যে, ওরা কোয়ার্টার ফাইনাল উঠে পড়েছে। শুরুতেই ছিটকে পড়ার যে অসহ্য চাপ ছিল সেটা একটু হালকা হয়েছে। যার মানে, ওদের এখন ঝকঝকে টিমগেম খেলা উচিত।
কলম্বিয়ার সঙ্গে ব্রাজিল এর আগে চোদ্দো বার মুখোমুখি হয়ে মাত্র এক বার হেরেছে। সেটাও সম্ভবত বছর তেইশ আগে। সুতরাং ব্রাজিল আজ ফেভারিট। কিন্তু তার জন্য ব্রাজিলকে নিজেদের খেলার উন্নতি করতে হবে। দু’দলের মধ্যে শেষ চারটে ম্যাচই ড্র হয়েছে। যার মধ্যে তিনটেই গোলশূন্য ভাবে। তাই সাম্প্রতিককালের নিরিখে এই টুর্নামেন্টে আজই ব্রাজিল সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে। হামেস রদ্রিগেজকে কী ভাবে নেইমাররা সামলায় তার উপর ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করছে।
এই বিশ্বকাপে বারবার সিস্টেমকে ছাপিয়ে ব্যক্তিগত দক্ষতার জয়গান হচ্ছে। লোকে আর্জেন্তিনা বা ব্রাজিল দলের চেয়ে বেশি করে আচ্ছন্ন মেসি বা নেইমার নিয়ে। সম্ভবত সাংবাদিক সম্মেলনে এদের বেশি করে দেখা যাওয়াটাও হাইপের কারণ। নিজেদের ক্যারিশমাতেই এরা সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। গোলকিপারদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটা নিয়ে আমার অবশ্য কোনও অভিযোগ নেই। দেখে ভাল লাগছে যে, এ বার গোলকিপাররা মঞ্চের কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে অন্য সব বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি। সম্ভবত এ বারের অ্যাটাকিং খেলা কিপারদের বেশি নজরে এনে দিচ্ছে। ওচোয়া, এনিয়েমা কিংবা টিম হাওয়ার্ডের মতো গোলকিপাররা যতটা বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে, ফুটবলে ততটা সচরাচর তোলা থাকে স্ট্রাইকারদের জন্য। নিজে গোলকিপার ছিলাম বলে যেটা দেখে আরও ভাল লাগছে।

তুমি সাংবাদিক হইছ? আগে তো দেশপ্রেমিক ছিলা! by তুষার আবদুল্লাহ

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র অর্ণব মেনে নিতে পারছে না যে, সাংবাদিকরাও দেশপ্রেমিক। তার কাছে সাংবাদিক স্রেফ সাংবাদিক। সাংবাদিকের কোনো মানবিক গুণাবলি নেই। অনুজ রিপোর্টার পারমিতা’র ছাত্র সে। পারমিতার হাতেই অ, আ জ্ঞান তার।  অর্নব পারমিতার হাতে মাইক্রোফন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, তার গুরু এখন আর দেশপ্রেমিক নেই। যুক্তি হলো, আগে পারমিতা মানুষকে বাঁচাতো। এখন সে আর মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে না। শুধু ছবি’ই তুলে যেতে থাকে। অর্ণবের ভাবনায় মানুষকে হাসপাতালে না নিয়ে যে শুধু ছবিই তুলে যায়, সে কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক হতে পারে না। অর্ণবকে পারমিতা হয়তো সাংবাদিকতার অ, আ শেখায়নি, শেখাতে মানবিক বিষয়গুলোতে ওর দৃষ্টি ফেরাতে চেয়েছিল।কিন্তু অর্ণব যে প্রশ্নটি তুলেছে, সেটি সাংবাদিকতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়।যা নৈতিকতা এবং অনৈতিকতা’র দাঁড়িপাল্লাতে ঝুলছে অনেক দিন ধরেই।একেকবার একেক দিকে হেলে পড়ে মতামত। যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্বজিৎকে হত্যা করলো ছাত্রলীগ, তখন সেখানে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও এই প্রশ্নটি উঠেছিল। বলা হয়েছিল সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা যদি ছাত্রলীগকে ফেরাতেন,তাহলে হয়তো  নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হতো না বিশ্বজিৎকে।কিন্তু সাংবাদিকরা সেই কাজটি না করে বিশ্বজিতের মৃত্যু পর্যন্ত ছবি তুলেই গেছেন।বিশ্বজিতের মৃত্যুর পর সাংবাদিকদেরই একটি পক্ষ বলেছেন- সাংবাদিক হিসেবে যে দায়িত্বটি পালন করার সেটিই তারা করেছেন। এবং করেছেন বলেই বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের ছবি দেখে গ্রেপ্তার করা গেছে। তাদেরকে থামানোর দায়িত্ব সাংবাদিকের নয়। অন্যপক্ষ বলছে, সাংবাদিকরা যখন দেখতে পেলো যে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে মেরে ফেলতেই উদ্যত হয়েছে। তখন তাদেরকে থামানো উচিত ছিলো। যদি বিষয়টা কেবল মারধোরের মধ্যে থাকতো তাহলে, সাংবাদিকরা ছবি তোলাতেই দায়িত্ব সীমিত রাখতে পারতেন।

সেখানেই শেষ নয়। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার সময়েও ঐ একই প্রশ্ন উঠছে। সাংবাদিকদের সামনে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে ঝলসে দেয়া, বার্ন ইউনিটে যখন মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তখন সেখানে দাঁড়িয়ে লাইভ করা বা পিটিসি(পিস টু ক্যামেরা) দেয়া, এগুলো অনৈতিক বলেই প্রশ্ন উঠছে নিরন্তর।

একটি বাসে পেট্রোলবোমা ছোড়া হবে সেই খবর পেয়ে গিয়ে বসে থাকা, পেট্রোলবোমা ছোড়ার দৃশ্য ধারণ করা। রিকশায় ককটেল মারা খবর আগে থেকে পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি’টির জন্য। এগুলো সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। যদিও সাংবাদিকদেরই একটি অংশ বলছে সোর্সের কাছে খবর পেয়ে গিয়ে সাংবাদিক আগে থেকে অপেক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু কেবল টিভি বা পত্রিকার ক্যামেরায় ছবি দেয়ার জন্য যদি কারো শরীর ঝলসে যায়, তাহলে তো নৈতিকতার প্রশ্ন উঠবেই। যার শরীরের ৬০ ভাগেরেও বেশি পুড়ে গেছে, জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যে, তার অনুভূতি জানা, তার সামনে দাঁড়িয়ে পিটিসি দেয়া কতোটা সমর্থনযোগ্য?

এখানে আবারো সাংবাদিকতাকে নৈতিকতার দাঁড়িপাল্লায় তোলা হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ‘বোকা বাক্সে’র মতোই কাজটি করে যাচ্ছে মহা উৎসাহে। বোকামি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।এই কাজটি করার জন্য রিপোর্টারদের দায়ী করতে পারছি খুব কমই।কারণ এক-দুইবার তারা ভুল করে বা ইচ্ছে করে এই এধরনের কাজ করে ফেলতেই পারে। কিন্তু যাদের হাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ বা প্রচার হলো, তাদের দায় বেশি।তারা কেন প্রশ্রয় দিচ্ছেন? এটাতো সম্পাদকীয় নীতি’র অংশ। যদিও এখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মূল সম্পাদকীয় নীতি হচ্ছে অনুকরণ। এই অনুকরণ নীতি নিয়ে চলছে যেসব টেলিভিশন চ্যানেল সেখানে অগোছালোপনা, বোকামি অপ্রতাশিত হতে পারে না।

অর্ণব খুদে দর্শক। কিন্তু তার পর্যবেক্ষণকে অশ্রদ্ধা করার সুযোগ নেই। রিপোর্টাররা যে টেলিভিশন নামক বাক্সটিতে যেমন খুশি তেমন করে যাচ্ছে, টেলিভিশনকর্তারা প্রতিযোগিতা,টিআরপি ধরে রাখার দোহাই তুলে বাক্সটিকে যেভাবে ব্যবহার করছেন, তার অসংগতিটা অর্নবের চোখেও পড়েছে।এই কাজগুলো করতে গিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নৈতিকতা, ঠিক-বেঠিকের কাণ্ডজ্ঞান ভুলে বসে আছে, তা মনে করিয়ে দিতেই হয়তো অর্ণবের কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়েছে: ‘তুমি তো সাংবাদিক হয়ে গেছো!’ অর্থাৎ, দেশপ্রেমিকের বা মানবিক গুণাবলীশূন্য হয়ে পড়ছেন সংবাদকর্মী বা রিপোর্টাররা।খুদে দর্শক অর্ণব আমাদের সেই ভাবনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
>>তুষার আবদুল্লাহ, পরিচালক (বার্তা) সময় টেলিভিশন

তাঁর আলো ও আগুন by মুহম্মদ নূরুল হুদা

একজন কবি সুদীর্ঘকাল বেঁচে থেকে হাজার কয়েক কবিতা লিখলেই যে বিরাট কবি হয়ে যাবেন, এমন নাও হতে পারে। বছর বিশ-একুশ মাত্র বেঁচে গোটা কয়েক অবিস্মরণীয় ও প্রাকদৃষ্টান্তরহিত কবিতা লিখেই কোনো কোনো কিশোর বা কৈশোরোত্তীর্ণ কবি অনন্তের সমানবয়সী হয়ে গেছেন। সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে প্রকৃত নতুন সৃষ্টি শনাক্ত করাটাই মূল কাজ। এই শনাক্তিকরণের প্রধান হাতিয়ার কবির স্বাতন্ত্র্যসূচক কাব্যভঙ্গি ও ভাষিক কাঠামো। কেবল সচেতন, শ্রমশীল ও মৌলিক কবিরাই এই কাজ করে থাকেন। তারা হয়তো খুব বেশি লেখেন না, কিন্তু যা লেখেন তাতে তারা নিজেদের অননুকরণীয় কৌশলে ফুটিয়ে তুলেন নিজেদের ‘ভেতরের আগুন’। এই ‘আগুন’ শিখা হয়ে জ্বলে, তবে অন্য কারো শিখা নয়, একান্তই নিজের শিখা। এই শিখা সহজে অন্য কারো শিখার সঙ্গে মেলেও না। সমালোচকের বিরূপ মন্তব্যের জবাব দিতে এমন একজন স্বশিখাধারী কবি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ‘ভাষার খই/ তো ফুটয়েছেন অনেকেই,/ ও যদি ধরতে চায় ভেতরের আগুন/ মশাল না জ্বেলেই,/ ব্যাপারটা অতো সহজে বাতিল না-ই করলেন।’ (‘এক সমালোচককে’ : এখনো সময় আছে; ১৯৯৭)। এই কবি আর কেউ নন; তিনি বাংলাদেশের বদলপ্রবণ কাব্যভুবনের প্রবীণতম কারুকৃৎ কবি আবুল হেসেন।
নব্বুই পার হয়েছেন বছর দুই আগেই। পরিমিত, প্রায়-নিশ্চিত পদক্ষেপে এগোচ্ছিলেন শতবর্ষের পথে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম তার সৃষ্টিশীলতার শতবর্ষ উদ্যাপন করব তাকে সামনে রেখেই।
কিন্তু তিনি আমাদের নিশব্দ প্রতীক্ষাকে অগ্রাহ্য করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার ‘কবিতাসমগ্র’-র ফ্ল্যাপে সম্পাদক কবি মনজুরে মওলা যথার্থই লিখেছিলেন, ‘আমাদের প্রবীণতম তিনি। হয়তো নবীনতমও, কে বলতে পারে।’ প্রবীণতম বলার পরপরই তাকে ‘হয়তো নবীনতম’ বলার কারণটাও মূলত কাব্যিক। কেননা তিনি সময় ও প্রবণতার দিকে চোখ রেখে সত্তর বছরেরও অধিককাল ধরে সৃষ্টিশীল পঙ্ক্তিচয়নে বারবার পরিমিত পরিবর্তনের স্বাক্ষর রেখেছেন; অনেকটা সদ্য-প্রকাশিত নতুন কবির মতোই। ফলে সচেতন কাব্যচর্চার শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কবিতা লিখেছেন কিশোর কবির প্রতিশ্র“তি ও পরিণত কবির পরিশীলনকে সম্পৃক্ত করে। বয়সকে সৃষ্টিশীল কৌশলে পরাজিত করার এই দক্ষতা খুব কম কবিই আয়ত্ত করতে পারেন। এই দক্ষতাকেই আমরা বলতে চাই কবির সৃষ্টিশীলতার অন্যরকম ভেতর-আগুন। খুব কম কেউ তেমন দক্ষতার অধিকারী। আবুল হোসেন সেই বিরলপ্রজদেরই একজন।
সেই তিনিই, সেই বিরলপ্রজ বার্ধক্যজয়ীই, হঠাৎ করে শারীরিকভাবে তিরোহিত হলেন। পরিণত বয়সেই চলে গেলেন তিনি, তবু বলব, হঠাৎ করেই গেলেন। সুদীর্ঘ জীবনে কোনো কিছুতেই খুব তাড়াহুড়ো করেননি। বৈষয়িক জীবনটা যেমন যাপন করেছেন ছক কেটে কেটে, তেমনি সৃষ্টিশীলতার পথেও হেঁটেছেন ধীর পদবিন্যাসে, পরিকল্পিত কাঠামো ও পরিমিত চরণ-সজ্জায়। সৃষ্টিশীলতার কাছে পূর্ণ-সমর্পিত এই কবি তাই প্রার্থনা করেছেন (সম্ভবত স ষ্টার কাছে) : ‘কাকে কি দিচ্ছ আমি তা জানি না,/ জানতেও চাইব না।/ যাকে খুশি দিও সারা দুনিয়ার/ সোনাদানা বালাখানা/ আমার জন্যে রেখে দিও শুধু/ তোমার কলমখানা।’ এত সহজ এত স্বতঃস্ফূর্ত এত অকপট এত নিরাবেগ এত যুক্তিশীল কাব্যপ্রার্থনা দ্বিতীয়টি পড়েছি বলে মনে পড়ে না। এই অনায়াস নির্মিতি দীর্ঘ নিরীক্ষার ফল। তাঁর সেই সুনিরীক্ষিত পথ-চলা পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের জন্যে পরোক্ষ প্রেরণা হয়ে এসেছে। স্বীকার করি, আমার ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।
আমি তাকে দেখেছি বিশ শতকের ষাট দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে।
কিন্তু হৃদ্যতা বলতে যা বোঝায়, তা হয়েছে তারও প্রায় তিনদশক পরে। তখন আমি উপ-পরিচালক হিসেবে কাজ করছি বাংলা একাডেমির ভাষা ও সাহিত্য উপবিভাগে। একটা নিরাপদ ও সশ্রদ্ধ দূরত্বে থেকেছি বরাবর। কিন্তু যখনি কাছে গেছি তখনি শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়েছি এই পিতৃপ্রতিম কবি-অভিভাবকের প্রতি। বাংলাদেশের কবিতায় এই অভিভাবকত্ব তিনি বজায় রেখেছিলেন অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। তবে সরবে নয়, নীরবে; বলা যেতে পারে তর্করহিত সঙ্গোপনে। এর কারণও অবশ্য মানুষ ও কবি আবুল হোসেনের নান্দনিক নিসঙ্গতা, যা যে কোনো শুদ্ধাচারী স ষ্টার সচেতন অন্বেষণ। সেই সৃজনসম্মত অন্বেষণের একপর্যায়ে তিনি অনুবাদ করেছিলেন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন কালের কবিদের কিছু প্রিয় পঙ্ক্তি। সেগুলো একত্রিত করে বানিয়েছিলেন এক অত্যাশ্চর্য পাণ্ডুলিপি : ‘অন্যখেতের ফসল’। বাংলা একাডেমিতে ‘ভাষা ও সাহিত্য’ উপবিভাগে এসেছিল সেই পাণ্ডুলিপি। ফলে মানুষ আবুল হেসেনের সঙ্গে সঙ্গে তার লেখার সঙ্গেও ব্যক্তিক পরিচিত লাভের সুযোগ পাই। এই পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে জুন ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে (শ্রাবণ ১৩৯৭)। এটি অনূদিত গ্রন্থ হলেও মৌলিক কবিতার মতো সুপাঠ্য ও উত্তীর্ণ। ইয়েটসের ‘কাঠবিড়ালি’ শীর্ষক ছোট্ট কবিতার পুনর্সৃষ্টি, এক কথায়, অনবদ্য : ‘আমার সঙ্গে খেলবি আয়/ দৌড়ে অমন পালাস কেন/ গাছ থেকে গাছে ডালপালায়?/ বন্দুক আছে আমার যেন,/ গুলি করে মেরে ফেলব তোরে,/ চেয়েছি যখন এইটুকুই/ মাথাটা চুলকে দেবো শুধুই।/তারপরে যাস দৌড়ে জোরে।’
এতেই অনুমিত হয় কত গভীর কত নৈর্ব্যক্তিক কাব্যবোধ ও পুনর্সৃষ্টির শক্তি নিয়ে এসেছিলেন এই কবি। প্রথম কাব্য ‘নব বসন্ত’ (১৯৪০, উৎসর্গ : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘কালের খাতায়’ (২০০৮) শীর্ষক মাত্র আটটি (অগ্রন্থিত কবিতা বাদে) মৌলিক কাব্যে শব্দবিন্যাসে, পঙ্ক্তির বৈচিত্র্যায়নে, উচ্চারণের মৌলিকতায়, ভুয়োদর্শনে, ব্যঙ্গে, সরস সহজতায় তিনি যে কাব্যভুবন নির্মাণ করেছেন, তা তার সৃষ্টিসত্তার অনন্যতারই স্বাক্ষরবহ। একই সঙ্গে তা উত্তরকালের কবিতাসাধকের জন্য পাঠযোগ্য কাব্যভাষ্য। এ দেশের মাটি, মানুষ, সমাজ, ভাষা, সংস্কৃতি, জাতি থেকে শুরু করে বিগত একশ’ শতাব্দীর বাঙালির ইতিহাসের প্রায় সব বিষয়কেই তিনি কোনো-না-কোনোভাবে ধারণ করেছেন তার কবিতায়। কিন্তু কখনও বক্তব্যকে তুলে ধরতে গিয়ে যেমন উচ্চকণ্ঠ হননি, তেমনি প্রতিপাদ্যকে গৌণ করে মেতে ওঠেননি অতিনান্দনিকতায়। তার বেশকিছু কবিতা আমার কাছে মনপ্রিয়তায় ঘুরে ঘুরে কথা কয়। যেমন ‘মেহেদীর জন্য’, ‘ডিএইচ রেলওয়ে’, কিংবা ‘তোমাকে নিয়েই যত খেলা’। এগুলো কাঠামোগতভাবেই একটার সঙ্গে অন্যটা মেরুর অবস্থানে, কিন্তু উচ্চারণের হার্দ্যতায় অনির্বচনীয় ও সমতলীয়।
তিরিশোত্তর বাংলা কবিতার ধারার সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন তার পাঠসমৃদ্ধ বিশ্বকবিতার নানাকৌণিক প্রবণতাও। ফলে বাঙালি কবি হয়েও তিনি বিশ্বকবিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্ট্রুগা কবিতা সম্মেলনে গিয়ে তিনি সমকালীন বিশ্বকবিদের একাংশের সঙ্গে মিশতে মিশতে তাদেরকে নিয়ে কবিতা লিখে বসেন; কিংবা দূরদেশে ভ্রমণে গিয়ে এক কালো কাঠবিড়ালিকে পিকাসোর মূর্তির উপর বসে পড়তে দেখে স্মরণ করেন ইয়েট্সকে। এই নিয়ে তিনি লেখেন অ্যাবসার্ড ভাবনার এক অন্যরকম এক কবিতা (‘প্রিন্সটনে কালো এক কাঠবিড়ালি’)। নব্বুই-অতিক্রমী তরুণ কবি আবুল হেসেনের এই হচ্ছে মৃত্যু-অতিক্রমী বদল প্রবণতা। আর মৃত্যু বরাবরই তার চেতনায় সত্তার এক স্বাভাবিক বিবর্তন। আলো থেকে আঁধার নয়, বরং এক আলো থেকে অন্য এক আলোতে প্রত্যাবর্তন। ‘মানুষের আলো নিভে গেলে/ কী থাকে? আঁধার?/ নাকি আরও এক আলো?’ কবির পক্ষপাত সেই অন্য এক আলোর দিকে। তবে আরেক সহজাত সত্য হচ্ছে সত্তাবদলের মুহূর্তে উদ্গত দুর্জ্ঞেয় এক অশ্র“বিন্দু। ‘তবু কী আশ্চর্য এই / দুর্জ্ঞেয় পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময়/ যার চোখে পানি টলমল/ করেনি এমন মানুষ কি কেউ/ কোনদিন দেখেছে কোথাও?’ না, দেখিনি আমরাও। তাই আমাদের কালের এই প্রায়-নীরব প্রায়-নিঃসঙ্গ কবি-বিটপীর প্রতি উত্তর প্রজন্মের বিনম্র শ্রদ্ধাশ্রু।

মানবাধিকার পরিস্থিতি

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদনে গত ছয় মাসের মানবাধিকার লংঘনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। এতে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে দেশে ১০৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের স্বজনদের গুলি করে হত্যা করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ১০৮ ব্যক্তির মধ্যে পুলিশের হাতে ৩৯, র‌্যাবের হাতে ১৪, যৌথবাহিনীর হাতে ৮, র‌্যাব-বিজিবির হাতে ২ ও কোস্টগার্ডের হাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কথিত অপরাধীর সংখ্যা ৪৬। অধিকারের আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৭০ ব্যক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের হার কমছে তো নাই-ই, বরং বাড়ছে। শুধু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডই নয়, দেশে নানাভাবে মানবাধিকার লংঘিত হয়ে চলেছে। অপহরণ-গুম-খুন, সংখ্যালঘু হত্যা ও নির্যাতন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন হত্যা, কোনো বিশেষ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত হত্যা ইত্যাদি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে দেশে।
বস্তুত কোনো অপরাধের ঘটনার পর তার কূলকিনারা করতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একদিকে, অন্যদিকে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গোপন থাকছে না। খোদ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও এমন অভিযোগ তুলেছিলেন। আইন-শৃংখলা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তারাই যদি অপরাধীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাহলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে বাধ্য। প্রকৃতপক্ষে আইন-শৃংখলা ব্যবস্থার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া এবং আইন-শৃংখলা রক্ষার নামে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অপতৎপরতা বন্ধে সুনিশ্চিত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। র‌্যাব-পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করার কারণে একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ কমিশনের চেয়ারম্যানকে আমরা মাঝে-মধ্যেই অপরাধ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখি। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তার সব অনুযোগ, উৎকণ্ঠা অরণ্য রোদনে পর্যবসিত হয়। দেশী-বিদেশী বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ইতিপূর্বে দেশের মানবাধিকার ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সরকার বিষয়টির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।

বর্তমান বাস্তবতায় অধিকারের প্রতিবেদনটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। মানবাধিকার পরিস্থিতির বর্তমান চিত্রের জন্য সরকার বহুলাংশে দায়ী। সুতরাং পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর দায় সরকারেরই এবং তা করতেই হবে। এটা এমন কোনো কঠিন কাজও নয়। সরকারের তৎপরতায় জঙ্গি-উৎপাত সহনীয় পর্যায়ে নেমেছে। অপহরণ-গুম-হত্যার ব্যাপারেও সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে এ সংকটও কাটানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে সরকারকে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‌্যাবের তিন সদস্যকে যেভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই একই ধরনের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক মাসের বিরতির পর রমজানে র‌্যাব আবারও নিয়মিত টহলে নেমেছে। নারায়ণঞ্জের ঘটনার পর টহল কার্যক্রম থেকে র‌্যাবকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। র‌্যাবের টহল কার্যক্রমের বিরোধিতা করার কিছু নেই। তবে র‌্যাবের হাইকমান্ড ও প্রত্যেক সদস্যকেই খেয়াল রাখতে হবে, অতীতে তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, এখন থেকে তেমনটা যেন আর না ওঠে। র‌্যাবের হৃত ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে হবে র‌্যাবকেই। জনগণেরও উচিত হবে আইন-শৃংখলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা।

ম্যারাডোনা পেরেছেন, মেসি পারবেন?

১৯৮৬ বিশ্বকাপের সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন এক মহানায়ক—ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এরপর পার হয়ে গেছে ২৮টি বছর। ওই ম্যারাডোনাই শেষ। এরপর আর কোনো মহানায়কের আবির্ভাব হয়নি, যিনি শিরোপার আনন্দে ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। তবে এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একজন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ছিয়াশির বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে—তিনি লিওনেল মেসি। যদিও এটি তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপ। তবে পেছনোর দুটোর তুলনায় এবার বিশ্বকাপে মেসি দ্যুতি ছড়াচ্ছেন অনেকটা ম্যারাডোনার মতোই।
কিন্তু ম্যারাডোনার মতো কীর্তি গড়তে মেসিকে পাড়ি দিতে হবে তিনটি বিরাট বাধা। আপাত বাধার নাম বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের নামটি অবশ্য আর্জেন্টিনার কাছে নতুন নয়। ছিয়াশির বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে এই বেলজিয়াম-বাধা একাই জয় করেছিলেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনা কিংবদন্তির জোড়া গোলেই সেবার ফাইনালে পা রেখেছিল নীল-সাদারা। ২৫ জুন, ১৯৮৬ থেকে ৫ জুলাই ২০১৪—সময়ের দুটো প্রান্তে কত মিল! বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে আবারও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-বেলজিয়াম। এবার মেসি কি পারবেন ম্যারাডোনার মতো বেলজিয়াম-বাধা উতরে যেতে? এ উত্তর জানতে আরও এক দিনের অপেক্ষা। তবে বেলজিয়ামের ম্যাচের আগে ছিয়াশির ম্যারাডোনা এবং ২০১৪-এর মেসির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য খুঁজে দেখা যেতে পারে।
* মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা করেছিলেন পাঁচ গোল, করিয়েছিলেন পাঁচটি। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার ১৪ গোলের ১০টিতেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল ম্যারাডোনার। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত মেসি করেছেন চার গোল। আর্জেন্টিনার সাত গোলের ছয়টিতেই মেসির প্রত্যক্ষ অবদান।
* দুজনের উচ্চতা কাছাকাছি। ম্যারাডোনা—৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। মেসি—৫ ফুট ৭ ইঞ্চি।
* দুজনই বাঁ-পায়ে জাদু দেখাতে সিদ্ধহস্ত। অবশ্যই দুজনের জার্সি নম্বর ১০।
* ম্যারাডোনা-মেসি—দুজনের প্রথম বড় শিরোপা অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ।
* কাকতালীয় হলে সত্য, দুজনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হাঙ্গেরির বিপক্ষে।
* ছিয়াশির বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলেন ম্যারাডোনা, ২০১৪ বিশ্বকাপে মেসি।
* মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কোচ কার্লোস বিলার্দোর রণ-পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন ম্যারাডোনাকে ঘিরে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলেসান্দ্রো সাবেলার রণ-পরিকল্পনা মেসিকে ঘিরে।
* ১৯৮২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা-বেলজিয়াম। সে ম্যাচে বেলজিয়ামের কিংবদন্তি গোলরক্ষক জাঁ মারি ফাফকে পরাস্ত করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে ওই ম্যাচের একটি স্মরণীয় ছবি আজও দেখা মেলে—ম্যারাডোনাকে ঘিরে ধরেছেন ছয় বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক চার বছর পর, মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কী নির্মম প্রতিশোধ! ফাফকে দুই-দুইবার পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে বল জড়িয়ে দিলেন ম্যারাডোনা। আর এ ম্যাচটি হয়েছিল আয়োজক দেশের রাজধানীতে অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়ামে। সর্বশেষ দুটি মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ তথা এ সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে একবারও পরাস্ত করতে পারেননি মেসি। ছিয়াশি বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা যেভাবে ফাফকে হারিয়েছিলেন, আগামীকাল ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে (আয়োজক দেশের রাজধানীতে অবস্থিত) মেসি পারবেন কোর্তোয়াকে হারাতে?
২৮ বছরের এ দীর্ঘ সময়ের এক প্রান্তে সাফল্যের গল্প। আরেক প্রান্ত এখনো অপূর্ণ। সব অপূর্ণতা এবার পূরণ করতে পারবেন মেসি?

রকস্টার গেমসের বিরুদ্ধে লিন্ডসে লোহানের মামলা

নিউইয়র্কভিত্তিক ভিডিও গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমসের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন ‘মিন গার্লস’ তারকা লিন্ডসে লোহান। প্রতিষ্ঠানটির গ্র্যান্ড থেপট অটো ফাইভ ভার্সনে লেসি জোনাস চরিত্রটি লিন্ডসের চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত বলেই দাবি করেছেন ২৮ বছর বয়সী এ তারকা অভিনেত্রী। অনুমতি না নিয়ে লেসি জোনাস চরিত্রটি ভিডিও গেমসে ব্যবহার করায় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন লিন্ডসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন আদালতে টেক-টু ইন্টারেকটিভ সফটওয়্যার ও রকস্টার গেমসের বিরুদ্ধে ২ জুলাই এই মামলা হয়েছে। কাকতালীয় বিষয় হলো, লিন্ডসের ২৮তম জন্মদিন ছিল ২ জুলাই।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লিন্ডসের সঙ্গে গ্র্যান্ড থেপট অটো ফাইভ ভার্সনে লেসি জোনাস চরিত্রটির বাহ্যিক অবয়ব, কণ্ঠ ও পোশাকের অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভিডিও গেমটিতে হলিউডের একটি হোটেল দেখানো হয়েছে, যেখানে একটা সময় থাকতেন লিন্ডসে। ভিডিও গেমটির একটি অংশে দেখা যায়, পাপারাজ্জিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাহায্য চাচ্ছে লেসি জোনাস। এসব থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, লিন্ডসের চরিত্র অবলম্বনেই লেসি জোনাস চরিত্রটি সৃষ্টি করা হয়েছে।
গ্র্যান্ড থেপট অটো ফাইভ ভিডিও গেমটি মুক্তি পায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। মুক্তির প্রথম দিনেই ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে হইচই ফেলে দেয় গ্র্যান্ড থেপট অটো ফাইভ। সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে মাদকাসক্তি, মামলা, সাজা, হলিউডে ডুবন্ত ক্যারিয়ার—সবকিছু মিলিয়ে চরম দুঃসময় পার করার পর মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে আবার নতুন করে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন লিন্ডসে। গত জুন মাসে লন্ডনের ওয়েস্ট অ্যান্ড থিয়েটারের ‘স্পিড-দ্য-প্লো’ মঞ্চ নাটকে ক্যারেন চরিত্রে নিজের অন্তর্ভুক্তির খবর নিশ্চিত করেন লিন্ডসে। মার্কিন নাট্যকার ও চলচ্চিত্রনির্মাতা ডেভিড ম্যামেট রচিত ‘স্পিড-দ্য-প্লো’ (১৯৮৮) নাটকটিতে এর আগে ক্যারেন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী ম্যাডোনা।
মার্কিন চলচ্চিত্র ব্যবসার খুঁটিনাটি নানা বিষয় নিয়ে রচিত হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক নাটক ‘স্পিড-দ্য-প্লো’। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে এক টুইটার বার্তায় লিন্ডসে লেখেন, ‘মঞ্চ নাটকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি সত্যিই অনেক উচ্ছ্বসিত।’ তিনি আরও লেখেন, ‘স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে হবে। কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

>>লিন্ডসে লোহানের দাবি, তাঁর সঙ্গে লেসি জোনাস চরিত্রটির বাহ্যিক অবয়ব, কণ্ঠ ও পোশাকের অদ্ভুত সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে ২০০৭ সালে মামলা হয় লিন্ডসের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময় মাদকাসক্তি, বুনো জীবনযাপনসহ আরও নানা সমস্যায় জড়িয়ে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে লিন্ডসের জীবন। তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে ধস নামে। মারাত্মক আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও পড়তে হয় তাঁকে।
লিন্ডসে অভিনীত ‘লিজ অ্যান্ড ডিক’ (২০১২), ‘দ্য ব্লিং রিং’ (২০১৩), ‘দ্য ক্যানিওনস’ (২০১৩) ছবিগুলো সাফল্যের মুখ না দেখায় হতাশ হয়ে পড়েন লিন্ডসে। আদালতের নির্দেশে মাদকাসক্তি পুনর্বাসনকেন্দ্রে গত বছর চিকিত্সার প্রক্রিয়া শেষ করেন তিনি।
লিন্ডসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। কিন্তু অভিমানে এখন তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিটিশ সংস্কৃতি লিন্ডসের দারুণ পছন্দ। এরই মধ্যে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।

দল নয়, বাণিজ্যে বিভোর আ.লীগের নেতা-কর্মীরা by আনোয়ার হোসেন

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের এখন আর দলীয় কাজে খুব একটা মন নেই। তাঁদের বেশির ভাগের মূল মনোযোগ ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে। ক্ষমতাসীন দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা এখন অনেকটা দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর বাইরে সাংগঠনিক অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটির নেতা-কর্মীদেরও এখন আর দলীয় কর্মকাণ্ডে আগ্রহ নেই। যার বড় উদাহরণ দলের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা।
৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য আওয়ামী লীগ পাঁচটি উপকমিটি করে। প্রায় দুই মাস ধরে একাধিক বৈঠক করেন এসব কমিটির নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগও একাধিকবার প্রস্তুতি সভা করেছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সফল করতে। এত আয়োজনের পরও ২৫ জুন প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীর সমাগম খুবই কম হওয়ায় প্রধান অতিথি সজীব ওয়াজেদ জয় অনুষ্ঠানে আসেননি। লতিফ সিদ্দিকী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ কয়েকজন নেতা অনুষ্ঠান চালালেও মঞ্চের সামনে কর্মী সমাগম ছিল বড়জোর এক শ। ২৬ জুন দ্বিতীয় দিন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আবদুল মান্নান, হাছান মাহমুদ, আবদুস সোবহানসহ সাতজন নেতা এলেও কোনো কর্মীর উপস্থিতি ছিল না। এমনকি প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরীও আসেননি। বিব্রত সাত নেতা কর্মীর অপেক্ষায় কিছুক্ষণ মঞ্চে বসে থাকেন। পরে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করে মলিন মুখে চলে যান, আলোচনা অনুষ্ঠান আর হয়নি। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার থেকে আসা শিল্পীরা দর্শক ছাড়াই দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন।
এরপর একই স্থানে তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাতেও জমায়েত আশানুরূপ ছিল না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন প্রথম আলোকে বলেন, এসব কর্মসূচি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগই সফল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচির ক্ষেত্রে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব ছিল। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অন্য কর্মসূচিগুলো সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন, এখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে খুব কম লোকই নিজ উদ্যোগে আসে। সাংসদ বা নেতারা টাকা খরচ করে বড় জমায়েত নিশ্চিত করেন। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব অনুষ্ঠানে থাকেন, তাতে লোক জমায়েতের একটি প্রতিযোগিতা থাকে নেতাদের মধ্যে।
তবে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা থাকা সত্ত্বেও জমায়েত ভালো হয়নি। অথচ এর কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফর শেষে ফিরলে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ রাস্তায় ব্যাপক জনসমাগম করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাগুলোতে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে আসা একজন নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই সহ-সম্পাদক নিয়োগের হিড়িক পড়ে যায়। তিন দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ শ সহ-সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন এসব সহ-সম্পাদককে আর দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায় না। তাঁদের অনেকে সচিবালয়, নগর ভবন, রাজউক, খাদ্য ভবন, শিক্ষা ভবন, বিদ্যুৎ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তদবিরে ব্যস্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেবল ঢাকায়ই নয়, সারা দেশেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশই অর্থ উপার্জনের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। ফলে সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হয়ে ‘সময় নষ্ট’ করতে আগ্রহী নন কেউ।
তার ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মাঠপর্যায়ে নিষ্ক্রিয় থাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চাপও বোধ করছেন না বলে একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন।
গত দুই দিনে আওয়ামী লীগের পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ের বাইরে বাকি কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকা খুবই কম। এ জন্যই সবাই সরকার ও দলে নিজের অবস্থান তৈরি কিংবা ধরে রাখাকেই বড় কাজ বলে মনে করেন।
আর মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তদবির কিংবা টেন্ডারবাজিকেই বেশি লাভজনক মনে করেন। আর, এসব ‘বাণিজ্যের’ নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় হানাহানির ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যা এবং কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত এর বড় উদাহরণ।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক নেতা বলেন, অধিকাংশ মন্ত্রী-সাংসদ হয়েছেন বিনা ভোটে। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী কিংবা ভোটারের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই। বিরোধী দলের দুর্বল অবস্থানের কারণে সরকার, সংসদ ও দল—যে যেখানে আছেন, সবাই মনে করছেন, আগামী পাঁচ বছর নিরাপদ। তাই সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, টানা ক্ষমতায় থাকলে একটি দলের যেসব সমস্যা হয়, এর সব কটি উপসর্গই আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, সরকারের বাজেট, গুম-খুনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয় না। একক সিদ্ধান্ত দেন দলীয় ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি বিষয়ভেদে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করলেও ওই সব নেতা মতামত দিয়ে থাকেন নেত্রীর মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে।
দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, সভাপতিমণ্ডলী, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক কিংবা বর্ধিত সভাগুলোতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর বেশির ভাগই ছিল দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলের সম্মেলন করা। সময়-তারিখ ঠিক করে দেওয়ার পরও দেশের অধিকাংশ জেলা-উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, বর্তমান কমিটি হওয়ার পর গত দেড় বছরে সভাপতিমণ্ডলীর একটি সভা হয়েছে, সেটিও পরিচিতিমূলক। এরপর আর কোনো সভা হয়নি। ২০০৮ সালের পর কার্যনির্বাহী সংসদের যত বৈঠক হয়েছে, সেগুলোতে গালগপ্পই হয়েছে বেশি। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে কোনো কিছু হয়নি। দলের প্রধান আগে থেকে যা ভেবে রেখেছেন, সেই অনুযায়ী একটা সূচনা বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর সেই বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ কিংবা বিতর্ক করার সাহসও দেখাননি কোনো নেতা।
সাত জেলা-মহানগর কমিটি সময়মতো হচ্ছে না: যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে পাঁচটি জেলা ও দুটি মহানগর কমিটির সম্মেলনের দিন-তারিখ ঠিক করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ জুনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনা ও মুিন্সগঞ্জ জেলা কমিটির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু মুিন্সগঞ্জের সম্মেলন হয়েছে এবং সেখানে পুরোনো নেতারাই ফিরে এসেছেন।
সৈয়দ আশরাফের নিজের জেলা কিশোরগঞ্জে ১৯৯৭ সালের পর সম্মেলন হয়নি। ১২ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে রমজান মাসের কারণ দেখিয়ে। বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা কমিটির সম্মেলন পেছানো হয়েছে। রাজশাহী ও খুলনা মহানগরে সম্মেলন হওয়ার কথা চলতি মাসের মাঝামাঝি। খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক ও সাংসদ মিজানুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে কয়েকবার মারামারি হয়েছে। সেখানে সম্মেলন নিরবচ্ছিন্ন করার বিষয়ে শঙ্কা আছে দলের হাই কমান্ডে।
নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুরসহ নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত জেলাগুলোতে সম্মেলনের দিন-তারিখ ঠিক করারই সাহস পাচ্ছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকেরা।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে দেড় বছর আগে। কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে। এখনো এই কমিটি হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে সাংগঠনিক বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার বেশির ভাগেরই বাস্তবায়ন হয়নি। বিভাগীয় মহাসমাবেশ, জেলা-উপজেলার কাউন্সিল, তৃণমূলে সাংগঠনিক সফর ও বর্ধিত সভা, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান, দলীয় কার্যালয় স্থাপনসহ এমন অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি।
অবশ্য দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন প্রথম আলোকে বলেন, রমজান আর সংসদ অধিবেশনের কারণে তৃণমূলের সম্মেলন একটু দেরি হচ্ছে। আর, যে সাতটা জেলা-মহানগরের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো ঈদের পর হয়ে যাবে।

ঝিমিয়ে আছে বিএনপি! -বড় কর্মসূচি নেই, সংগঠনও গোছানো হয়নি by রিয়াদুল করিম

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক ছোটখাটো সভা-সমাবেশ আর সেমিনারে আটকে ছিল বিএনপির কার্যক্রম। রমজান উপলক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়ে ইফতার পার্টি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর বাইরে টেলিভিশনের সামনে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বক্তৃতা-বিবৃতি ছাড়া দলটির দৃশ্যমান আর কোনো তৎপরতা নেই।
আবার সাংগঠনিকভাবেও বিএনপি গোছানো আছে বলা যাবে না। মূল দল ও অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের ঘোষণা দিলেও কাজ এগোয়নি। এতে আটকে গেছে দল গোছানোর প্রক্রিয়াও।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে দল পুনর্গঠন এবং শুরুতে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে না গিয়ে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়। কিন্তু গত ছয় মাসে তেমন কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি দলটি। গত মে মাসে গুম-খুনের প্রতিবাদে কিছু কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।
তবে কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা এসেছে, এ কথা মানতে রাজি নন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপিতে স্থবিরতা এসেছে, তা কিছুতেই বলা যাবে না। কিছুদিন আগে জয়পুরহাটে বিএনপি চেয়ারপারসন সমাবেশে করেছেন। এরপর ফেনীতে কর্মসূচি হয়েছে। রমজান মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ইফতারের মাধ্যমে সামাজিক কর্মসূচিতে থাকবে বিএনপি। এর মাধ্যমে সারা দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও চলবে।
গত জুন মাসে মাঠে বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না বললেই চলে। তবে এ সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে অন্তত ১৭টি আলোচনা বা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ আরও কিছু ‘নামসর্বস্ব’ সংগঠন। এসব অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বা দলের স্থায়ী কমিটির কোনো না কোনো সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে গত মাসে কর্মসূচির মধ্যে ছিল ঢাকার বাইরে জয়পুরহাটে বিএনপির চেয়ারপারসনের সমাবেশ, ফেনীতে মহাসচিবের গণসংযোগ, ঢাকা বিভাগে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সরকারের বক্তব্যের জবাব দিতে কয়েকটি সংবাদ ব্রিফিং।
এর আগে গত মে মাসে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর গুম-খুনের প্রতিবাদে মাঠে নামার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। গুম-খুনের প্রতিবাদে গণ-অনশন এবং কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটি। এর মধ্যে ঢাকায় তিনটি কর্মসূচিতে বাধার মুখে পড়ে। এর প্রতিবাদে কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। সেসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।
দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া বলেছিলেন, উপজেলা নির্বাচনের পর তাঁরা দল গুছিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন। উপজেলা নির্বাচন শেষ হলেও বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেয়নি। সর্বশেষ তিনি বলেছেন, ঈদের পর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এবং ১৯-দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আন্দোলনের কোনো রূপরেখা ঠিক করা হয়নি। এ নিয়ে দল বা জোটে বিস্তারিত আলোচনাও হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনে যাওয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। এ কারণে সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় নিচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর কিছু কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তবে এ জন্য মাঠপর্যায়ে দলকে প্রস্তুত করতে হবে। অক্টোবরে গিয়ে হয়তো বড় ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে।
আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলে বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল যেহেতু করি, ম্যাডামের নির্দেশ যেভাবে হোক পালন করব।’
থেমে গেছে দল পুনর্গঠন: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এক মাসের মাথায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দল গুছিয়ে আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর এক দিন পর দলের স্থায়ী কমিটির সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি এবং ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং বিএনপির সব জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। দল গুছিয়ে উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপি আবার আন্দোলনে নামবে।
গত চার মাসে শুধু শ্রমিক দলের নতুন কমিটি করা হয়েছে। কয়েকটি জেলায় বিএনপির কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। আর কোনো তৎপরতা এখন আর নেই।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে খালেদা জিয়া এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটি করতে বলেছিলেন। কিন্তু চার মাসেও সে কাজ হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ চাঙা হয়ে উঠলে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারির স্থায়ী কমিটির সভায় ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; তাও বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি করার ঘোষণা দেওয়ায় ছাত্র ও অছাত্র নেতাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরপর সবকিছু থেমে যায়।
গত এপ্রিলে এসে জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন খালেদা জিয়া। ওই মাসে পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম উত্তর, নওগাঁ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ উত্তর, সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়। তবে রংপুরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর সেখানে এক পক্ষ বিক্ষোভ করে। এরপর আর আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কার্যক্রমও থেমে যায়।
দল গোছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়নি। ১০-১২টি জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়া, কিছু সময় লাগে।’
হতাশা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২৯ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি সফল না হওয়ায়, বিশেষ করে ঢাকার নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকায় তৃণমূলের কর্মীরা হতাশ হন। এরপর আবার ঘোষণা দিয়ে ঢাকা মহানগর কমিটি করতে না পারা বা অন্য সংগঠনগুলো পুনর্গঠন না করা তাঁদের সে হতাশাকে আরও বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দল তাঁদের সামনে কোনো সম্ভাবনা দেখাতে পারছে না।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যেও অনেক সময় হতাশার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। গত ২১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘কত বলব, বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। শুনতে শুনতে আপনারা ক্লান্ত।’ তবে হতাশ না হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুন্দর এক প্রাচীন শহর

সমুদ্রের গভীরে কয়েক হাজার ফুট নিচে সে এক অদ্ভুত জগত! সাজানো-গোছানো সুন্দর এক শহর। সমুদ্র নিয়ে গবেষণা করতে করতে একদল অভিযাত্রী একদিন পৌঁছে গেলেন সেই শহরে। সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে নাম না জানা অদ্ভুত সব প্রাণী, মাছ, জলজ উদ্ভিদ, আর তাদেরই পাশাপাশি বহাল তবিয়তে বসবাস করছে মানুষ। তাদের বাড়িঘর রয়েছে। আছে খেলাধুলোর ব্যবস্থাও। ডাঙার মানুষ কিন্তু এতদিন টেরই পায়নি যে, জলের নিচে রয়েছে আশ্চর্য এক সভ্যতা! এ পর্যন্ত পড়ে আশ্চর্য হয়ে যাওয়ার আগেই জানিয়ে দেয়া ভালো, কল্পনার ডানায় ভর করে লেখা বিখ্যাত এক কল্পবিজ্ঞানের গল্পের অংশ এটি। ১৯২৯ সালে শার্লক হোমসের স্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল লিখেছিলেন, ‘ম্যারাকট ডিপ’ নামে এ সায়েন্স ফ্যানটাসি। তার গল্পে ছিল হারিয়ে যাওয়া এক শহর ‘আটলান্টিস’-এর কথা।
কোথায় ছিল আটলান্টিস
পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত সমাধান না হওয়া যত রহস্য আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল এ আটলান্টিস। যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৩৫৫ বছর আগে আটলান্টিসের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো। আজ থেকে প্রায় দশ-বারো হাজার বছর আগে অতলান্তিক মহাসাগরের কাছে অবস্থিত এই দেশটিতে নাকি ছিল অত্যন্ত উন্নত এক সভ্যতা। অনেকের বিশ্বাস, গ্রিক দ্বীপ ক্রিটের কাছাকাছি ছিল আটলান্টিস।
এক ভয়ংকর ভূমিকম্প আর প্রবল জলোচ্ছ্বাসের ফলে এক রাতের মধ্যে অতলান্তিক মহাসাগরের নিচে তলিয়ে যায় এ শহর। এ নিয়ে যে কত বই, গল্প, প্রবন্ধ লেখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তৈরি হয়েছে ‘আটলান্টিস : দ্য লস্ট কন্টিনেন্ট’, ‘আটলান্টিস : দ্য লস্ট এম্পায়ার’-এর মতো বেশ কয়েকটি সিনেমাও।
আশ্চর্য শহর
সে ছিল এক সব পেয়েছির দেশ। প্লেটোর কথা অনুযায়ী আটলান্টিস ছিল এক স্বর্গোদ্যান। অত্যন্ত উর্বর এখানকার মাটিতে ফলমূল, শাকসবজির কোনো অভাব ছিল না। মনমাতানো গন্ধে ভরা রঙ বেরঙের সুন্দর ফুলে ভরে থাকত সবুজ এ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়, সমুদ্র আর অরণ্যে ঘেরা অসাধারণ প্রাকৃতিক শোভায় সমৃদ্ধ এ রাজ্যে সোনা, রুপো, তামা ইত্যাদি খনিজ সম্পদেরও কোনো অভাব ছিল না। সেচ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত। শিল্প ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষের একেবারে চরম সীমায় পৌঁছেছিল সেই শহর। নানা ধরনের জীবজন্তু ছিল। ঘোড়া আর হাতিকে পোষ মানাত মানুষ। বিজ্ঞানে প্রচণ্ড উন্নত ছিল আটলান্টিস। ইঞ্জিনিয়াররা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। তাদের তৈরি বন্দর, প্রাসাদ, মন্দির, খাল এবং জাহাজ তৈরি বা মেরামতির ব্যবস্থা ইত্যাদিতে ছিল অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঠাণ্ডা ও গরম জলের ঝরনার ব্যবস্থা ছিল। সুখে-শান্তিতে বসবাস করত মানুষজন।
আটলান্টিস রহস্য ভেদ করার জন্য বহু বছর আগে থেকেই পণ্ডিত ও গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে আটলান্টিস বলে কোনো দেশের আদৌ কোনো অস্তিত্ব ছিল না কোনোদিন। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন সত্যিই পৃথিবীর বুকে একসময় ছিল অত্যন্ত উন্নত এই সভ্যতা। তবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর খবর দিয়েছেন আমেরিকার একটি রিসার্চ টিমের মুখ্য গবেষক, কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রিচার্ড ফ্রিয়ান্ড। তারা নাকি জানতে পেরেছেন হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিসের সুলুকসন্ধান। তিনটি দেশের গবেষকদের একটি দল মাটি ভেদ করতে পারে এরকম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে স্পেনের ‘দোনানিয়া ন্যাশনাল পার্ক’-এর মাটির নিচে খুঁজে পেয়েছেন ক্যানাল সিস্টেমের প্রমাণ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি দেখে তাদের ধারণা হয়েছে, এই ন্যাশনাল পার্কের বিস্তীর্ণ জলাভূমির নিচে চাপা পড়ে আছে একটা আস্ত শহর, আর সেটা যে রহস্যে ঘেরা আটলান্টিসই, তাতে কোনো সন্দেহ নেই তাদের। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে জার্মান পদার্থবিদ রাইনার কুন বলেছেন, যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৮০০ থেকে ৫০০ বছর আগে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আটলান্টিস। ফ্রিয়ান্ড বলেছেন, গবেষণা চলছে এবং খুব শিগগিরই হারিয়ে যাওয়া এ শহরের অস্তিত্বের যাবতীয় প্রমাণ পেশ করবেন তারা।
সত্যিই কি সমাধান হতে চলেছে আটলান্টিস রহস্য? হারিয়ে যাওয়া গার্ডেন অফ ইডেনের ধ্বংসাবশেষ কি শেষ পর্যন্ত খছুজে পাওয়া যাবে? যদি সত্যিই প্রাচীন এ সভ্যতার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হবে মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, মিশর, ব্যাবিলন ইত্যাদির সভ্যতার চেয়ে অনেক পুরনো। আর তখন যে পৃথিবীর ইতিহাস আবার নতুন করে লিখতে হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তাঁর আলো ও আগুন by মুহম্মদ নূরুল হুদা

একজন কবি সুদীর্ঘকাল বেঁচে থেকে হাজার কয়েক কবিতা লিখলেই যে বিরাট কবি হয়ে যাবেন, এমন নাও হতে পারে। বছর বিশ-একুশ মাত্র বেঁচে গোটা কয়েক অবিস্মরণীয় ও প্রাকদৃষ্টান্তরহিত কবিতা লিখেই কোনো কোনো কিশোর বা কৈশোরোত্তীর্ণ কবি অনন্তের সমানবয়সী হয়ে গেছেন। সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে প্রকৃত নতুন সৃষ্টি শনাক্ত করাটাই মূল কাজ। এই শনাক্তিকরণের প্রধান হাতিয়ার কবির স্বাতন্ত্র্যসূচক কাব্যভঙ্গি ও ভাষিক কাঠামো। কেবল সচেতন, শ্রমশীল ও মৌলিক কবিরাই এই কাজ করে থাকেন। তারা হয়তো খুব বেশি লেখেন না, কিন্তু যা লেখেন তাতে তারা নিজেদের অননুকরণীয় কৌশলে ফুটিয়ে তুলেন নিজেদের ‘ভেতরের আগুন’। এই ‘আগুন’ শিখা হয়ে জ্বলে, তবে অন্য কারো শিখা নয়, একান্তই নিজের শিখা। এই শিখা সহজে অন্য কারো শিখার সঙ্গে মেলেও না। সমালোচকের বিরূপ মন্তব্যের জবাব দিতে এমন একজন স্বশিখাধারী কবি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ‘ভাষার খই/ তো ফুটয়েছেন অনেকেই,/ ও যদি ধরতে চায় ভেতরের আগুন/ মশাল না জ্বেলেই,/ ব্যাপারটা অতো সহজে বাতিল না-ই করলেন।’ (‘এক সমালোচককে’ : এখনো সময় আছে; ১৯৯৭)। এই কবি আর কেউ নন; তিনি বাংলাদেশের বদলপ্রবণ কাব্যভুবনের প্রবীণতম কারুকৃৎ কবি আবুল হেসেন। নব্বুই পার হয়েছেন বছর দুই আগেই। পরিমিত, প্রায়-নিশ্চিত পদক্ষেপে এগোচ্ছিলেন শতবর্ষের পথে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম তার সৃষ্টিশীলতার শতবর্ষ উদ্যাপন করব তাকে সামনে রেখেই।

কিন্তু তিনি আমাদের নিশব্দ প্রতীক্ষাকে অগ্রাহ্য করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার ‘কবিতাসমগ্র’-র ফ্ল্যাপে সম্পাদক কবি মনজুরে মওলা যথার্থই লিখেছিলেন, ‘আমাদের প্রবীণতম তিনি। হয়তো নবীনতমও, কে বলতে পারে।’ প্রবীণতম বলার পরপরই তাকে ‘হয়তো নবীনতম’ বলার কারণটাও মূলত কাব্যিক। কেননা তিনি সময় ও প্রবণতার দিকে চোখ রেখে সত্তর বছরেরও অধিককাল ধরে সৃষ্টিশীল পঙ্ক্তিচয়নে বারবার পরিমিত পরিবর্তনের স্বাক্ষর রেখেছেন; অনেকটা সদ্য-প্রকাশিত নতুন কবির মতোই। ফলে সচেতন কাব্যচর্চার শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কবিতা লিখেছেন কিশোর কবির প্রতিশ্র“তি ও পরিণত কবির পরিশীলনকে সম্পৃক্ত করে। বয়সকে সৃষ্টিশীল কৌশলে পরাজিত করার এই দক্ষতা খুব কম কবিই আয়ত্ত করতে পারেন। এই দক্ষতাকেই আমরা বলতে চাই কবির সৃষ্টিশীলতার অন্যরকম ভেতর-আগুন। খুব কম কেউ তেমন দক্ষতার অধিকারী। আবুল হোসেন সেই বিরলপ্রজদেরই একজন।
সেই তিনিই, সেই বিরলপ্রজ বার্ধক্যজয়ীই, হঠাৎ করে শারীরিকভাবে তিরোহিত হলেন। পরিণত বয়সেই চলে গেলেন তিনি, তবু বলব, হঠাৎ করেই গেলেন। সুদীর্ঘ জীবনে কোনো কিছুতেই খুব তাড়াহুড়ো করেননি। বৈষয়িক জীবনটা যেমন যাপন করেছেন ছক কেটে কেটে, তেমনি সৃষ্টিশীলতার পথেও হেঁটেছেন ধীর পদবিন্যাসে, পরিকল্পিত কাঠামো ও পরিমিত চরণ-সজ্জায়। সৃষ্টিশীলতার কাছে পূর্ণ-সমর্পিত এই কবি তাই প্রার্থনা করেছেন (সম্ভবত স ষ্টার কাছে) : ‘কাকে কি দিচ্ছ আমি তা জানি না,/ জানতেও চাইব না।/ যাকে খুশি দিও সারা দুনিয়ার/ সোনাদানা বালাখানা/ আমার জন্যে রেখে দিও শুধু/ তোমার কলমখানা।’ এত সহজ এত স্বতঃস্ফূর্ত এত অকপট এত নিরাবেগ এত যুক্তিশীল কাব্যপ্রার্থনা দ্বিতীয়টি পড়েছি বলে মনে পড়ে না। এই অনায়াস নির্মিতি দীর্ঘ নিরীক্ষার ফল। তাঁর সেই সুনিরীক্ষিত পথ-চলা পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের জন্যে পরোক্ষ প্রেরণা হয়ে এসেছে। স্বীকার করি, আমার ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।
আমি তাকে দেখেছি বিশ শতকের ষাট দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে।
কিন্তু হৃদ্যতা বলতে যা বোঝায়, তা হয়েছে তারও প্রায় তিনদশক পরে। তখন আমি উপ-পরিচালক হিসেবে কাজ করছি বাংলা একাডেমির ভাষা ও সাহিত্য উপবিভাগে। একটা নিরাপদ ও সশ্রদ্ধ দূরত্বে থেকেছি বরাবর। কিন্তু যখনি কাছে গেছি তখনি শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়েছি এই পিতৃপ্রতিম কবি-অভিভাবকের প্রতি। বাংলাদেশের কবিতায় এই অভিভাবকত্ব তিনি বজায় রেখেছিলেন অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। তবে সরবে নয়, নীরবে; বলা যেতে পারে তর্করহিত সঙ্গোপনে। এর কারণও অবশ্য মানুষ ও কবি আবুল হোসেনের নান্দনিক নিসঙ্গতা, যা যে কোনো শুদ্ধাচারী স ষ্টার সচেতন অন্বেষণ। সেই সৃজনসম্মত অন্বেষণের একপর্যায়ে তিনি অনুবাদ করেছিলেন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন কালের কবিদের কিছু প্রিয় পঙ্ক্তি। সেগুলো একত্রিত করে বানিয়েছিলেন এক অত্যাশ্চর্য পাণ্ডুলিপি : ‘অন্যখেতের ফসল’। বাংলা একাডেমিতে ‘ভাষা ও সাহিত্য’ উপবিভাগে এসেছিল সেই পাণ্ডুলিপি। ফলে মানুষ আবুল হেসেনের সঙ্গে সঙ্গে তার লেখার সঙ্গেও ব্যক্তিক পরিচিত লাভের সুযোগ পাই। এই পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে জুন ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে (শ্রাবণ ১৩৯৭)। এটি অনূদিত গ্রন্থ হলেও মৌলিক কবিতার মতো সুপাঠ্য ও উত্তীর্ণ। ইয়েটসের ‘কাঠবিড়ালি’ শীর্ষক ছোট্ট কবিতার পুনর্সৃষ্টি, এক কথায়, অনবদ্য : ‘আমার সঙ্গে খেলবি আয়/ দৌড়ে অমন পালাস কেন/ গাছ থেকে গাছে ডালপালায়?/ বন্দুক আছে আমার যেন,/ গুলি করে মেরে ফেলব তোরে,/ চেয়েছি যখন এইটুকুই/ মাথাটা চুলকে দেবো শুধুই।/তারপরে যাস দৌড়ে জোরে।’
এতেই অনুমিত হয় কত গভীর কত নৈর্ব্যক্তিক কাব্যবোধ ও পুনর্সৃষ্টির শক্তি নিয়ে এসেছিলেন এই কবি। প্রথম কাব্য ‘নব বসন্ত’ (১৯৪০, উৎসর্গ : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘কালের খাতায়’ (২০০৮) শীর্ষক মাত্র আটটি (অগ্রন্থিত কবিতা বাদে) মৌলিক কাব্যে শব্দবিন্যাসে, পঙ্ক্তির বৈচিত্র্যায়নে, উচ্চারণের মৌলিকতায়, ভুয়োদর্শনে, ব্যঙ্গে, সরস সহজতায় তিনি যে কাব্যভুবন নির্মাণ করেছেন, তা তার সৃষ্টিসত্তার অনন্যতারই স্বাক্ষরবহ। একই সঙ্গে তা উত্তরকালের কবিতাসাধকের জন্য পাঠযোগ্য কাব্যভাষ্য। এ দেশের মাটি, মানুষ, সমাজ, ভাষা, সংস্কৃতি, জাতি থেকে শুরু করে বিগত একশ’ শতাব্দীর বাঙালির ইতিহাসের প্রায় সব বিষয়কেই তিনি কোনো-না-কোনোভাবে ধারণ করেছেন তার কবিতায়। কিন্তু কখনও বক্তব্যকে তুলে ধরতে গিয়ে যেমন উচ্চকণ্ঠ হননি, তেমনি প্রতিপাদ্যকে গৌণ করে মেতে ওঠেননি অতিনান্দনিকতায়। তার বেশকিছু কবিতা আমার কাছে মনপ্রিয়তায় ঘুরে ঘুরে কথা কয়। যেমন ‘মেহেদীর জন্য’, ‘ডিএইচ রেলওয়ে’, কিংবা ‘তোমাকে নিয়েই যত খেলা’। এগুলো কাঠামোগতভাবেই একটার সঙ্গে অন্যটা মেরুর অবস্থানে, কিন্তু উচ্চারণের হার্দ্যতায় অনির্বচনীয় ও সমতলীয়।
তিরিশোত্তর বাংলা কবিতার ধারার সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন তার পাঠসমৃদ্ধ বিশ্বকবিতার নানাকৌণিক প্রবণতাও। ফলে বাঙালি কবি হয়েও তিনি বিশ্বকবিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্ট্রুগা কবিতা সম্মেলনে গিয়ে তিনি সমকালীন বিশ্বকবিদের একাংশের সঙ্গে মিশতে মিশতে তাদেরকে নিয়ে কবিতা লিখে বসেন; কিংবা দূরদেশে ভ্রমণে গিয়ে এক কালো কাঠবিড়ালিকে পিকাসোর মূর্তির উপর বসে পড়তে দেখে স্মরণ করেন ইয়েট্সকে। এই নিয়ে তিনি লেখেন অ্যাবসার্ড ভাবনার এক অন্যরকম এক কবিতা (‘প্রিন্সটনে কালো এক কাঠবিড়ালি’)। নব্বুই-অতিক্রমী তরুণ কবি আবুল হেসেনের এই হচ্ছে মৃত্যু-অতিক্রমী বদল প্রবণতা। আর মৃত্যু বরাবরই তার চেতনায় সত্তার এক স্বাভাবিক বিবর্তন। আলো থেকে আঁধার নয়, বরং এক আলো থেকে অন্য এক আলোতে প্রত্যাবর্তন। ‘মানুষের আলো নিভে গেলে/ কী থাকে? আঁধার?/ নাকি আরও এক আলো?’ কবির পক্ষপাত সেই অন্য এক আলোর দিকে। তবে আরেক সহজাত সত্য হচ্ছে সত্তাবদলের মুহূর্তে উদ্গত দুর্জ্ঞেয় এক অশ্র“বিন্দু। ‘তবু কী আশ্চর্য এই / দুর্জ্ঞেয় পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময়/ যার চোখে পানি টলমল/ করেনি এমন মানুষ কি কেউ/ কোনদিন দেখেছে কোথাও?’ না, দেখিনি আমরাও। তাই আমাদের কালের এই প্রায়-নীরব প্রায়-নিঃসঙ্গ কবি-বিটপীর প্রতি উত্তর প্রজন্মের বিনম্র শ্রদ্ধাশ্রু।

ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যা করে বদলা?

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শুয়াফাত এলাকায়
ইসরায়েলি পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ছুড়ছেন এক
ফিলিস্তিনি যুবক। ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে অপহরণ
ও হত্যার পর গতকাল ইসরায়েলি পুলিশের
সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ বাধে। এএফপি
ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে গতকাল বুধবার অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিন ইসরায়েলি কিশোরকে অপহরণ ও হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এএফপির। গত ১২ জুন দখলকৃত পশ্চিম তীরে ঘোরাঘুরির সময় নিখোঁজ হয় তিন ইসরায়েলি কিশোর। গত সোমবার তিন ইসরায়েলি কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার তাদের সমাহিত করা হয়েছে। হামাসকে এই তিন কিশোরকে হত্যার চড়া মূল্য দিতে হবে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হুমকি দেওয়ার এক দিন পর ফিলিস্তিনি কিশোর খুন হলো।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বেতারকেন্দ্র জানায়, পূর্ব জেরুজালেমের বেইত হানিয়া এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় গতকাল সকালে ওই ফিলিস্তিনি কিশোর অপহৃত হয়। তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত কিছু লোক। খবর পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এক ঘণ্টার মধ্যেই শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় গিভাত শাউল এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা গতকাল ওই কিশোরের বাড়ির বাইরে জড়ো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আমার বিরুদ্ধে মামলা: সারকোজি

নিকোলা সারকোজি
সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির (৫৯) বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সারকোজি বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। খবর বিবিসির। নিজের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে গত মঙ্গলবার আটক হন সারকোজি। রাতেই তাঁকে প্যারিসের একজন বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এরপর তিনি মুক্তি পান। একটি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সারকোজি। ওই সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্তসার গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সারকোজি বলেছেন, ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের মানুষের সঙ্গে তিনি কোনো প্রতারণা করেননি এবং রাষ্ট্রের নিয়মনীতির বাইরে তিনি কোনো কিছু করেননি। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা সারকোজিকে যে অভিযোগে আটক করা হয়, একই অভিযোগে তাঁর আইনজীবী থিয়েরি অর্জগ ও রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গিলবে আজিবের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী পাত্রিক সসুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তিনি বিচারকের সামনে হাজির হননি। সন্দেহভাজন কাউকে ফ্রান্সে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় নিয়ে আসার অর্থ হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন বিচারকের সামনে হাজির হবেন। সারকোজি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলের নান্তেহ্ থানায় যান। সেখানে দুর্নীতিবিরোধী পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। মধ্যরাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারকোজিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগের তদন্ত শুরু হলো, সেটি মূলত অবৈধ তহবিল গ্রহণসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করার সময় বেরিয়ে আসে। অভিযোগে জানা যায়, সারকোজি ২০০৭ সালে নিজের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য অবৈধভাবে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সারকোজি ওই অভিযোগের তদন্তসংক্রান্ত তথ্য জানানোর বিনিময়ে রাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজিবেকে মোনাকো আদালতে সম্মানজনক পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসেও বৈষম্য!

হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নারী ও পুরুষ কর্মচারীদের বেতনে বৈষম্য রয়েই গেছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছর থেকেই সেখানে পুরুষেরা নারী কর্মচারীদের তুলনায় বেশি বেতন পাচ্ছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের নতুন বেতনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে পুরুষ কর্মচারীরা গড়ে ৮৮ হাজার ৬০০ ডলার আয় করেন। আর তাঁদের নারী সহকর্মীরা পান গড়ে ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার, যা পুরুষের বেতনের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।
২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসের পুরুষ কর্মচারীদের গড় বেতন ছিল প্রায় ৮২ হাজার ডলার। তখন সেখানে নারী কর্মচারীদের গড় বেতন ছিল ৭২ হাজার ৭০০ ডলার। তখনো নারী-পুরুষের বেতনের গড় পার্থক্য ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো, হোয়াইট হাউসে পুরুষ কর্মচারীরা নারীদের তুলনায় জ্যেষ্ঠ পদে চাকরি করেন। হোয়াইট হাউসে বর্তমানে ৮৭ জন পুরুষ কর্মী রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের ৫৩ জন নারী কর্মচারীর তুলনায় এক লাখ ডলারের বেশি বেতন পান। সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পদে নারীদের তুলনায় পুরুষ কর্মী দুজন বেশি। এই বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে নারীরা লাভবান হবেন। এ ছাড়া নারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক আইন পাসেরও চেষ্টা করছেন ওবামা। এ প্রসঙ্গে গত মাসে পিটার্সবার্গে ওবামা বলেছিলেন, এটি শুধু নারীর নয়, বরং এটি একটি পারিবারিক ইস্যু। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেসিকা সানতিলো বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে সমপর্যাদার পদে নারী ও পুরুষ কর্মচারীদের বেতনে কোনো বৈষম্য নেই। একই পদে নারী ও পুরুষ সমপরিমাণ বেতন পান। আর অর্ধেকেরও বেশি বিভাগ পরিচালনা করেন নারীরা।’

তাপস পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাই নেয়নি তৃণমূল

তাপস পালের
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য চলচ্চিত্র অভিনেতা তাপস পালের আপত্তিকর মন্তব্যের আরেকটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, সিপিএমের নেতা-কর্মীদের হত্যা করতে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এর আগে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি সিপিএমের নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তবে এত কিছুর পরও তাপস পালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল তৃণমূলের বৈঠকে তাঁর বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। বৈঠকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তাপস পাল নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এটা তাপস পালের বিরুদ্ধে মিডিয়ার ষড়যন্ত্র।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতাসহ গোটা দলই তাপস পালের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন মমতা বলেছিলেন, তিনি চান, তাপস পাল তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেছিলেন, ‘তাঁর ব্যাপারে আমার কী করা উচিত বলে আপনারা মনে করেন? আমি তাঁকে খুন করব?’ নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একই দিন তাপস পাল নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার গোপীনাথপুরে প্রায় একই ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করেন। কলকাতার এই অভিনেতা বলেন, ‘যত দিন তাপস পাল আছে, তত দিন সিপিএমের বাচ্চাদের ছাড়বেন না। আর মেয়েদেরও বলছি, বঁটি চেনেন? বঁটি দিয়ে গলা কাটতে হয়। কেলিয়ে দাওনি কেন? ভোজালি চালাতে পারো না? সিপিএম কতজনকে মেরেছে, তা দেখাবেন না? সিপিএমের বাচ্চাদের মেরে দেখান তো। হাতে টাঙি, ভোজালি দিয়ে স্টার্ট দিন। আমার নাম তাপস পাল। টাঙি চালিয়ে মাথা ভাগ করে দেব। আমি রংবাজি করি। যদি কেউ আমাদের ছেলেদের মারে, আমি ছেড়ে কথা বলব না। ছয়টা গুলি চালাব। মার্ডার করে যাব। আমি আবার আসব। আমি বারবার বলে গেলাম, কুড়ুল দিয়ে মাথা নামিয়ে দিন।’ তাপস আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যে অপরাধ করেছেন, তাতে লোকসভা চাইলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হয়ে যেতে পারে। লোকসভার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল সুভাস কাশ্যপ গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাংসদ যা বলেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
লোকসভা চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে।’ কাশ্যপ আরও বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন চলাকালে কোনো দল বা সদস্য তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তাপস পালের বক্তব্য জানতে চাইবেন। সাংসদের বক্তব্য পেলে তা বিচারের জন্য স্পিকার প্রিভিলেজ কমিটি অথবা এথিকস কমিটির কাছে পাঠাবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটি যদি সাংসদের সদস্যপদ খারিজের মতো চরম সুপারিশ করে, স্পিকার তখন তা অনুমোদনের জন্য সভার মতামত জানতে চাইবেন। লোকসভার অধিকাংশ সদস্য মত দিলে তাপসের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।’ তাপস পালের এসব মন্তব্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলছে বিক্ষোভ-সমাবেশ। তাঁর হুগলির চন্দননগরের বাড়ির সামনে গতকাল বুধবার পোড়ানো হয়েছে কুশপুত্তলিকা। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শমিত সান্যাল। এর আগে মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাপস পালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজেপি, বামফ্রন্টসহ বিভিন্ন মহিলা সংগঠন। গতকাল রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপস পালের গ্রেপ্তার ও লোকসভার সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁর কদর্য মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন কবি শঙ্খ ঘোষ, চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার, সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন, বাণী বসু, চলচ্চিত্রতারকা অপর্ণা সেন, নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, কৌশিক সেন, সংগীতশিল্পী কবীর সুমন, শিল্পী ও লোকসভার সদস্য বাবুল সুপ্রিয় প্রমুখ। নবনীতা দেবসেন বলেন, তাপস পালকে হয় কারাগারে, নয়তো পাগলাগারদে রাখা উচিত।

প্লেবয় যুদ্ধে নেইমার- আবারও মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়ালেন নেইমার

আবারও মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়ালেন নেইমার। নেইমারের সাবেক বান্ধবী প্যাট্রিসিয়া জর্দানের একটি সেক্সি পোজ সংবলিত প্লেবয় পত্রিকার কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সাও পাওলোর একটি আদালত। অন্যথায় পত্রিকাটিকে প্রতিবেদনের জন্য ৪৫০০ ডলারের জরিমানা গুনতে হবে। রয়টার্স ও এপির মতো সংবাদ সংস্থা নেইমারের প্লেবয়-যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিচারক অ্যান্দ্রিয়া গালগার্দো পালমা আদেশে বলেছেন, প্লেবয়ের আর কোন কপি বিক্রি করা যাবে না। বরং সমস্ত নিউজ স্ট্যান্ড থেকে প্লেবয় তুলে নিতে হবে। প্লেবয় প্রকাশনা সংস্থা গ্রুপের অ্যাবরিল এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোন ঘোষণা দেননি।

ব্রাজিলের প্লেবয়ের সম্পাদক সের্গিও হাভিয়ার এক ই-মেইল প্রতিক্রিয়ায় এপিকে বলেন, কোন আইনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত তারা কোন ফরমান পাননি। তাই জুন সংখ্যা সারা দেশের বাজারে আগের মতোই সহজলভ্য থাকবে। জুনের গোড়ায় প্লেবয় নিউজস্ট্যান্ডে হিট করার পর প্যাট্রিসিয়া বলেন, নেইমারের সঙ্গে তিনি একদা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তারা দুজনে একসঙ্গে তিন মাস ডেটিং করেছেন। এর অবসান ঘটেছিল যখন নেইমার তার বর্তমান বান্ধবী ব্রাজিলীয় টিভি তারকা ব্রুনা মার্কেজিনের প্রেমে পড়েন। অবশ্য ব্রুনোর সঙ্গে গত জানুয়ারিতে তার সম্পর্ক ভেঙে পড়ার খবর বেরিয়েছিল।

গত ১২ই জুন ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের আগে নেইমার দুজনের একটি ছবি অনলাইনে পোস্ট করলে অনুমান করা হয় যে, তারা আবারও জুটি বেঁধেছেন। অষ্টাদশী ব্রুনোকে অবশ্য প্যাট্রিসিয়া ঈর্ষা করেন। কারণ ড্যান্সিং উইথ দ্যা টিয়ার্স তারকা ব্রুনোর ৩০ লাখ ফ্যান রয়েছে তার ইন্সট্রাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।

প্লেবয়কে ২১ বছর বয়সী জর্দান বলেন, নেইমার মানুষ হিসেবে চমৎকার। তার হাস্যরসবোধ অসামান্য। ওঁর সঙ্গে রিও তে আমার প্রথম চোখাচোখি হয়। সেটা ২০১২ সালের ডিসেম্বরের কথা। তখন কিছুই ঘটেনি। এরপর ওঁর সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ হয় একটি সমুদ্র সৈকতে। কাকতালীয়ভাবে সেটা ছিল বর্ষবরণের উপলক্ষ। প্লোরিয়ানপলিসের বীচে দেখা হলো। কথা হলো। এরপর থেকে আমরা নিয়মিতভাবে মিলিত হতে থাকি। ব্রুনো ওর জীবনে প্রবেশের আগ পর্যন্ত আমরা ভালই ছিলাম।

জর্দান আরও বলেন, খেলার মাঠে একটি বাধা-ধরা নিয়ম মেনে খেলতে হয়। কিন্তু শয্যায় কোন বাধা-ধরা নিয়ম নেই। যাকে তুমি পছন্দ করো তার সঙ্গে কোন রাখঢাক নেই। কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। সমালোচকরা বলছেন, ব্রাজিলীয় মিডিয়ার অনেকেই বলছেন, নেইমারের সঙ্গে ওর ঘনিষ্ঠতা বানানো, অতিরঞ্জিত।

তারা বলছেন, নেইমার কেবল মাঠের লড়াইয়ে জয় পাচ্ছেন তাই নয়, তিনি অব্যর্থ গোল করতে পেরেছেন আইনি লড়াইয়েও। ফুটবল প্লেবয় নেইমার ব্রাজিলের সাময়িকী প্লেবয়ের সঙ্গে যুদ্ধে আছেন। তবে এতে তিনি যে জয় পাবেনই সেটা বলা কঠিন।

আদালতে নেইমার আর্জি দিয়েছিলেন ব্রাজিল থেকে প্রকাশিত প্লেবয়ের চলতি সংখ্যা বাজার থেকে তুলে নিতে হবে। কারণ এতে তার সাবেক বান্ধবী, না ঠিক হলো না, কারণ নেইমার ভুলেও স্বীকার করেননি যে, মেয়েটি তার সাবেক বান্ধবী, বরং নেইমারের ফুটবল কেরিয়ারের আইনি অভিভাবক এন আর স্পোর্টস প্যাট্রিসিয়া জর্দানকে নেইমারের ইমপোস্টার গার্লফ্রেন্ড বা স্বঘোষিত বান্ধবী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু স্বঘোষিত বলে দিলেই তো হলো না। নেইমারের অসংখ্য রোমান্টিক ছবি রয়েছে প্যাট্রিসিয়ার সঙ্গে।

প্লেবয়ের কভারে তাকে দেখা যাচ্ছে সেক্সি ভঙ্গিতে। শরীরের বিশেষ ভাঁজে লেখা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, প্যাট্রিসিয়া জর্দান, দি ব্রান্টি দ্যাট এনচ্যান্টেড নেইমার। এই আলোকচিত্র প্রকাশ করে প্লেবয় কোন অন্যায় করেনি। কারণ এটা মিথ্যা নয়। আর আদালত প্লেবয়ের এই সংখ্যাটি তুলে নিতে বললেও এই সংখ্যাটি যেভাবে ঝড় তুলেছে সে তুলনায় প্রতিদিন ৪৫০০ ডলারের জরিমানা তুচ্ছ মনে করা হচ্ছে। এমনকি মনে করা হচ্ছে প্লেবয় বাজার থেকে একটি কপিও না সরিয়ে তার পক্ষে পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি লাভজনক মনে হতে পারে। ৪৫০০ ডলার করে জরিমানা অন্তত বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যন্ত ধরে রাখা হতে পারে। গত বুধবার আদালত ওই আদেশ দিলেও প্লেবয় এখনও পর্যন্ত তা তামিল করার কোন মনোভাব দেখাচ্ছে না।

নেইমারের পক্ষে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেইমার জুনিয়রের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে প্লেবয় মিথ্যা ছড়িয়েছে। এটা করতে গিয়ে তারা নেইমারের আইনি অভিভাবক এন আর স্পোর্টের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়নি। এতে আইনের লঙ্ঘন ঘটেছে। কারণ নেইমারের সুনাম, যশ, প্রভাব, প্রেস্টিজ সব কিছুই এন আর স্পোর্টের সঙ্গে বাঁধা। তারা অবশ্য বিস্তারিত আর কিছুই বলেনি।

আওয়াজ সর্বস্ব অমৃতা by মাহমুদ মানজুর

আওয়াজ সর্বস্ব নায়িকা হিসেবে এরই মধ্যে ভাল নাম-ডাক হাঁকিয়েছেন অমৃতা খান। গেল দু’বছরে তিনি পত্রিকা-টেলিভিশন আর ফেসবুকেই ঘুরপাক খাচ্ছেন কথিত চিত্রনায়িকা হিসেবে। সঙ্গে জুটিয়েছেন সহনায়কের সঙ্গে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়ার নানামাত্রিক গুঞ্জনও! অথচ চিত্রনায়িকা হিসেবে তার মূল কাজটি ক্রমেই মলিন হচ্ছে। দু’দিন বাদেই নতুন নতুন ছবির সাইনিং এবং শুটিংয়ের ঘোষণা আসছে। অথচ একটি ছবিও মুক্তির খবর মিলছে না। প্রায় দুই বছর হতে চললো অমৃতার অভিষেক চলচ্চিত্র ‘গেম’-এর। রয়েল অনিকেরে পরিচালনায় এ ছবিতে অমৃতার নায়ক নিরব। লম্বা সময় নিলেও মাস ছয়েক আগে এ ছবির শুটিং-ডাবিং চূড়ান্ত হয়। অথচ অজানা এক কারণে এটি মুক্তির কোন আলামত এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রযোজক এবং পরিচালককেন্দ্রিক আন্তঃজটিলতার কারণেই ‘গেম’-এর রফাদফা শেষ হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ‘গেম’ মুক্তি পেতে পেতে অমৃতা’র বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে চিত্রাঙ্গন থেকে। কারণ চলচ্চিত্রে পা দিতে না দিতে, ছবি মুক্তি পেতে না পেতেই অমৃতা যেভাবে শো-ডাউন করে চলেছেন ফেসবুক এবং সংবাদমাধ্যমে- তাতে ছবি মুক্তির পর অনেক বড় ধাক্কা খাবেন দর্শকদের কাছ থেকে। ছিটকে পড়বেন চিত্রাঙ্গন থেকে। চিত্র সমালোচকদের ভাষায়, অমৃতা হলো খালি কলসি। তাই সব সময় বাজে বেশি। সে যাই হোক প্রথম ছবি ‘গেম’-এর শুটিং-ডাবিং শেষ হয়ে মুক্তির অপেক্ষায় থমকে থাকলেও এরই মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের মহরত করেছেন অমৃতা। এর মধ্যে শূন্য দশকের মেগাহিট ছবি ‘অন্তরে অন্তরে’র রিমেক ভার্সনের নায়িকা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। তরুণ নির্মাতা আতিক রহমান এ ছবিটি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আর অমৃতার বিপরীতে যথারীতি নায়ক হিসেবে নিয়েছেন নিরবকে। না নিয়েই বা উপায় কি? কারণ অমৃতাকে একরকম হাত ধরেই চলচ্চিত্রে নামিয়েছেন নিরব। সে যাই হোক, এরই মধ্যে ‘অন্তরে অন্তরে’র শুটিং শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর হলো। তবে শুটিং এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। জানিয়েছেন পরিচালক। অমৃতা সংশ্লিষ্টদের অভিমত এমন, ‘গেম’ শুটিং শেষ করে আটকে আছে। আর ‘অন্তরে অন্তরে’ শুটিংয়ের শুরুতেই আটকে পড়ে আছে। এই আটকে থাকা জাল থেকে অমৃতা না বেরুলে অনেক বড় জরিমানা দিতে হবে নবাগতা নায়িকা হিসেবে। তবে স্বস্তির বিষয়, এর বাইরে অমৃতা এরই মধ্যে আরেকটি ছবির শুটিং প্রায় শেষ করেছেন। ছবিটি হচ্ছে ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘আমার মন জুড়ে তুই’। না, এ ছবিতে অমৃতার বিপরীতে আর নিরব থাকছেন না। নিরবের বদলে অমৃতা পেলেন শাহরিয়াজ নামের এক নবাগত নায়ককে। জানা গেছে, এ ছবিটি রোজার ঈদের পরে কোরবানির ঈদের আগেই মুক্তি পাচ্ছে। এটুকু নিশ্চিত। তার মানে নিরবের বাইরে এসে অমৃতার চোখে এখন মুক্তির আলো। অমৃতার ভাষায়, সত্যি বলতে এর মধ্যে আমার অন্তত মুক্তি পাওয়া একটি ছবি দরকার ছিল। কারণ অনেক তো হলো। বড় পর্দায় নিজেকে দেখার অভিজ্ঞতা ছাড়াই এখনও অন্ধকার হাতড়ে কাজ করছি। ছবি মুক্তির বিষয় কিংবা শুটিং ঢিলেমি নিয়ে আমি নিজেও খানিক ক্লান্ত। তবে এতে আমার কোন হাত নেই! এদিকে অতিসম্প্রতি আওয়াজ সর্বস্ব নবাগতা অমৃতা ভালই চমক দেখালেন নিরব-শাহরিয়াজদের পেছনে ফেলে শাকিব খানের সঙ্গে ছবি স্বাক্ষর করে। নতুন নির্মাতা শামিম আহমেদ রনির ‘মেন্টাল’ ছবিতে জুটি হয়ে আসছেন শাকিব-অমৃতা। অবশ্য এ ছবির শুটিং শুরুর আগেই সমালোচকরা মুচকি হাসছেন। বলছেন, নাম্বার ওয়ান শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নবাগতা অমৃতা আর নতুন নির্মাতা রনি ভালই নাস্তানাবুদ হবেন। এমনও হতে পারে, নানা মারপ্যাঁচে এ ছবির শুটিং শুরুর আগেই প্যাকআপ হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে অমৃতার অতি-উড়ন্ত ক্যারিয়ারও।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ- ফুটবলের সঙ্গে কি সেক্সের কোন যোগসূত্র আছে

তবে কি ফুটবলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের যোগসূত্র আছে! এমন জিজ্ঞাসা এখন অসংখ্য মানুষের। এর কারণ, যেসব দেশ তাদের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন যৌন সমপর্ক স্থাপন করতে দেয়নি, তারা সকলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বাদ পড়ে গেছে! পক্ষান্তরে যে সব দেশের খেলোয়াড়দের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি ছিল, তাদেরকে দেখা গেছে মাঠে বেশ উজ্জ্বল, উচ্ছল। মাঠের পারফরমেন্সও তাদের তুলনামূলকভাবে ভালো। এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। জার্মানি ও হল্যান্ডের কোচ খেলোয়াড়দের অনুমতি দিয়েছেন তারা হোটেলে বান্ধবী বা স্ত্রীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন। তবে কোন কোন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের কড়া প্রহরায় রেখেছে যাতে তাদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে না পারেন বান্ধবী বা স্ত্রীরা। এসব দেশের কোচদের যুক্তি হোটেলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে ফুটবল যুদ্ধের মাঠে তারা দুর্বল হয়ে পড়বেন। ফলে সহজেই হেরে যাবে তাদের দল। কিন্তু উল্টোটি যারা ভেবেছেন তারা বলেছেন, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে দেহ সচল হয়। ফলে খেলার মাঠে তারা আরও ভাল পারফরমেন্স করতে পারবেন। আসলে হয়েছেও তাই। খেলোয়াড়দের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে জার্মানি ও হল্যান্ড। ফলে খুব সহজেই তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ব্রাজিল, ফ্রান্স ও কোস্টা রিকার কোচও খেলোয়াড়দের শারীরিক সমপর্ক স্থাপনে অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু কিছু নিয়মের বেড়াজালে। সেই তিনটি দলও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে আছে। তবে জানা যায়নি, টুর্নামেন্টে এখনও লড়াইয়ে থাকা আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম ও কলম্বিয়া এই ব্যাপারে কি নীতি অনুসরণ করছে। এছাড়াও খেলোয়াড়দের নিজের প্রেয়সীর সঙ্গে সময় কাটানোর অনুমতি আছে, এমন চারটি দল- যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, উরুগুয়ে ও নাইজেরিয়া- প্রত্যেকে প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত এসেছিল। দুর্ভাগ্য ইংল্যান্ডের। ইংল্যান্ড কোচ রয় হসজন তার খেলোয়াড়দেরও অনুমতি দিয়েছিলেন প্রেয়সীদের সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু সেটা তাদের বেলায় কাজ করেনি। অপরদিকে খেলোয়াড়দের শারীরিক সমপর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ, এমন ৫টি দলের কেউই দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা টপকাতে পারেনি। অনেকেই বিদায় নিয়েছে প্রথম রাউন্ড থেকেই। এদের মধ্যে আছে- সেপন, রাশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, চিলি ও মেক্সিকো। কোন কোন কোচ এই বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন ব্রাজিলের কোচ লুই ফিলিপ স্কলারি শারীরিক সমপর্ক নিষিদ্ধ করেননি, কিন্তু ব্যাপারটি নিজের পর্যবেক্ষণে রাখবেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের সময় স্বাভাবিক ভাবে শারীরিক সমপর্ক স্থাপন করবেন। স্বাভাবিক উপায়ে শারীরিক সমপর্ক স্থাপন করা ভারসাম্যপূর্ণও। কিন্তু অনেকে কসরতি সেক্স করেন। আমরা একটা সীমা বেঁধে দেব এবং খেলোয়াড়দের উপর জরিপ চালাবো। অন্য কোচদের মধ্যে কোস্টা রিকার লুই পিন্টো ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক সমপর্ক স্থাপনে অনুমতি দিতে পেরে খুশি। তিনি বলেন, আমি সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চয়তা দিতে পারি, ম্যাচ জিতার সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়রা (শারীরিক সমপর্ক) উপভোগের অনুমতি পাবে। ধারণা করা হয়, বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা শারীরিক সমপর্ক স্থাপন করলে, তারা ক্লান্ত হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধারণা সঠিক নয়। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই ধরনের ধারণার পক্ষে কোন প্রমাণ পাননি তারা।

সীমান্ত চুক্তি ও ভিসামুক্ত প্রবেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি- বিজেপি নেতাদের সুষমা

সীমান্ত চুক্তি ও ভিসা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কোন আলোচনাই করেননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বুধবার দিল্লিতে আসামের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত ‘ল্যান্ড ডিল, ভিসাস নট পার্ট অব বাংলা টক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সব কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারকে এ দু’টি ইস্যুতে ক্রমাগত চাপ দিয়ে চলেছেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লি চলে যান আসাম বিজেপির এমপি, এমএলএরা। তারা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন বুধবার। এ সময় তারা জানতে চান সুষমা স্বরাজ ঢাকা সফরের সময় সীমান্ত চুক্তি ও বাংলাদেশীদের ভিসামুক্ত ভারতে প্রবেশের বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা করেছেন কিনা। বিজেপির প্রতিনিধি দল এ সময় সুষমাকে জানান, আসামের জন্য অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা। এছাড়া বৈধ ভিসায় ভারতে গিয়েও অনেক বাংলাদেশী সেখানে অবস্থান করেন। ওই বৈঠকের পর বিজেপির ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গুয়াহাটির এমপি বিজয়া চক্রবর্তী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা তাদেরকে বলেছেন- ঢাকা সফরের সময় সীমান্ত চুক্তি নিয়ে কোন আলোচনা হয় নি। এ সময় তিনি আসাম বিজেপি নেতাদের নিশ্চয়তা দেন যে, বাংলাদেশীদের জন্য ভারতে বিনা ভিসায় প্রবেশের বিষয়েও কোন আলোচনা হয়নি। আসামের তেজপুর থেকে নির্বাচিত বিজেপির এমপি রামপ্রসাদ শর্মা বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি ও ভিসা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু এর কোনটিই আলোচনা হয়নি ঢাকার সঙ্গে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বর্তমান এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযোগ আনছেন। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের প্রস্তাব নিয়ে তার আক্রমণে জর্জরিত আসাম বিজেপি। গত মাসে নয়া দিল্লিতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বাংলাদেশের ওই বয়সসীমার নাগরিকদের বিনা ভিসায় ভারতে প্রবেশের প্রস্তাব করা হয়। এর জবাবে তরুণ গগৈ পরিষ্কার করেন তার রাজ্য সরকারের অবস্থান। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আসামে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ একটি জটিল ও স্পর্শকাতর সমস্যা। ঢাকা সফরের সময় সুষমা স্বরাজ অনুপ্রবেশ ইস্যুটি উত্থাপন করেন নি বলে তরুণ গগৈ তার তীব্র সমালোচনা করেন। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আসাম বিজেপি প্রতিনিধিরা তরুণ গগৈয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তারা বলেন, তিনি সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরকে রাজনীতিকরণ করে জনগণকে দ্বিধান্বিত করছেন। বিজয় চক্রবর্তী বলেন, রাজনৈতিক খেলার মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয় মুখ্যমন্ত্রীর। নয়া দিল্লিতে আমাদের সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বার্থ পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিজেপি নেতারা বলেন, সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফর ছিল একটি শুভেচ্ছা সফর। একে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয় কংগ্রেসের।

ব্রাজিল বিশ্বকাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই by পিন্টু আনোয়ার

ব্রাজিলে এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোর ভোগান্তি দেখা গেছে স্পষ্ট। তবে চলতি আসরে অন্তত একটি ইউরোপের দল সেমিফাইনাল খেলছে নিশ্চিত। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে পরীক্ষায় নামছে সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, জার্মানি ও ফ্রান্স। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মোকাবিলায় নামছে সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও জার্মানি। রিও ডি জেনিরোয় ঐতিহাসিক মারাকানা মাঠে দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্টের লড়াই শুরু হবে রাত ১০টায়। একই দিন সেমিফাইনাল নিশ্চিত হচ্ছে একটি লাতিন দলেরও। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে লড়ছে স্বাগতিক ব্রাজিল ও কলম্বিয়া। ফোর্তালেজার মাঠে ব্রাজিল-কলম্বিয়া লড়াই শুরু রাত ২টায়। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলছে টানা ৬ষ্ঠ কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে এতে আলাদা রেকর্ড জার্মানির। জার্মানরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে এ নিয়ে নবম বার।  চলতি আসরের চমকের দল কলম্বিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে এবারই প্রথম। আর এ যোগ্যতা অর্জনে তারা দেখিয়েছে সেরা নৈপুণ্য। গ্রুপ পর্বে তিন জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট  নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে কলম্বিয়ানরা। আর দ্বিতীয় রাউন্ডে  আট ম্যাচে একমাত্র স্বচ্ছন্দ জয়টিও দেখান কলম্বিয়ানরাই। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স জয় পায় লড়াই শেষে। টপ ফেভারিট ব্রাজিল এ বাধা টপকায় টাইব্রেকারে। তবে এখানে কলম্বিয়া ২-০ গোলের পরিষ্কার জয় কুড়ায় দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে ব্রাজিল-কলম্বিয়ার এটি প্রথম সাক্ষাৎ। মহাদেশীয় দুই প্রতিপক্ষ এর আগে পরস্পরকে মোকাবিলা করেছে ২৫ বার। এতে একচেটিয়া সাফল্যটা ব্রাজিলিয়ানদের। ১৫ জয়ের বিপরীতে ব্রাজিল মহাদেশীয় সতীর্থ কলম্বিয়ার কাছে হার দেখেছে মাত্র দু’বার। ফ্রান্স-জার্মান লড়াইয়ের আগে স্মৃতিতে তাজা ১৯৮২’র বিশ্বকাপে উভয়ের সাক্ষাৎটি। স্পেনে সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ইউরোপের এ দুই জায়ান্ট। এতে জার্মান ডিফেন্ডার হ্যারল্ড শুমাখারের রাফ ট্যাকলিংয়ে  চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন সেরা ফর্মের ফরাসি ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক বাতিস্তোঁ। আর ৩-৩ গোলের সমতা শেষে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগার জার্মানি ফাইনালে পৌঁছে মিশেল প্লাতিনির ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। পরের বিশ্বকাপেও  জার্মানদের কাছে ফরাসিদের স্বপ্ন ভাঙে ওই সেমিফাইনালেই। মেক্সিকোয় ১৯৮৬’র সেমিফাইনালে জার্মানি জয় পায় ২-০ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে। পরস্পর সাক্ষাতে সাফল্যে এগিয়ে ফরাসিরা। জার্মানদের বিপক্ষে  ৯ হারের  বিপরীতে ফ্রান্স দেখেছে ১১ জয়। এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ তিন তারকা মাঠে নামছেন আজ। এতে সর্বাচ্চ ৫ গোল কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড হামেস রদ্রিগেসের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ গোলের দুই তারকা ব্রাজিলের নেইমার ও জার্মান ফরোয়ার্ড টমাস মুলারের সামনেও আজ সুযোগ। এতে সুযোগ খোলা ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমারও। আসরে বেনজেমার তিন গোল । আর চলতি আসরে প্রতিপক্ষ গোলপোস্টে এ পর্যন্ত  সর্বাধিক ১৯ শটের রেকর্ডটাও বেনজেমার। তবে প্রতিপক্ষ গোলবারে তুলনামূলক নিখুঁত নিশানাবাজি দেখিয়েছেন হামেস রদ্রিগেসই। প্রতিপক্ষ গোলবারে হামেসের ৮ শটের সাতটি ছিল অন টার্গেটে। এতে হামেসের সাফল্যের হার সর্বাধিক ৬২.৫%। দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪০.১% নির্ভুল শট দেখিয়েছেন কোস্টারিকা অধিনায়ক ব্রায়ান রুইস।  আসরে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪ গোল আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিরও। আর বল পায়ে কারিকুরিতে বাকিদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে এ আর্জেন্টাইন জিনিয়াস। চার ম্যাচে মেসি পায়ের কারিকুরি (ড্রিবল) দেখিয়েছেন ৪১ বার। এতে তালিকায় পরের স্থানটি নেইমারের। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ড্রিবলিং দেখিয়েছেন ৩৬ বার। চিলিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিস সানচেস ও আর্জেন্টিনার অ্যাঞ্জেল ডি. মারিয়া বল পায়ে ড্রিবল দেখান যথাক্রমে ৩৫ ও ৩৪ বার। দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় আজ ব্রাজিল কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি দলে পাচ্ছেন না ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লু্‌ইস গুস্তাভোকে। তার জায়গায় ব্রাজিলের শুরুর একাদশে দেখা যাবে পাউলিনহোকে। উরু ও কনুইয়ে চোট নিয়ে কিছুটা সন্দেহ দেখা দিয়েছিল নেইমারের। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ব্রাজিল ফিজিওরা জানিয়েছেন, সুস্থ আছেন নেইমার। অধিনায়ক মারিও ইয়েপেসকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ হোসে পেকারম্যানও।  তবে আজ যথারীতি দলে থাকছেন এ তারকা ডিফেন্ডার। ফরাসি দলে দেখা যেতে পারে ইনজুরিফেরত ডিফেন্ডার মামাদো সাকোকে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আঘাত নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শেষ  জার্মানির রাইট-ব্যাক শকোদরান মুস্তাফির। আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে গরম ম্যাচে জার্মানি কোচ জোয়াকিম লো অধিনায়ক ফিলিপ লামকে তার নিয়মিত পজিশনে রাইট-ব্যাকের দায়িত্ব দেন নাকি মাঝমাঠেই রাখেন- দেখার বিষয়।

‘আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবো’ -সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিগত সাড়ে ৫ বছর আওয়ামী লীগ সফলভাবে দেশ চালিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছরও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থাকবে। গতকাল দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী-তনয় জয় এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী টার্গেট সরকারের পাশাপাশি দলকে শক্তিশালী করা। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে চাই।  তরুণ এ তথ্য প্রযুক্তিবিদ আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ আগামী ২০২১ সালের  মধ্যে  মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত  দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সকল সদস্যের জন্য ডাটাবেজ তৈরি করবো। যেখানে সদস্যদের নাম-ঠিকানা থাকবে। সদস্যদের নাম-পরিচয় বিচ্ছিন্ন ভাবে না রেখে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এক সঙ্গে রাখা হবে। যাতে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। মঙ্গলবার গণভবনে তরুণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জয় বলেন, আমি তরুণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সকলেই আমার বয়সী। শুধু দলের প্রচারণা নয়, তারা কিভাবে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়েও তাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫০ জনের  ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে, অন্যদের নেই কেন- গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা প্রগতিশীল তাদের সকলের অ্যাকাউন্ট আছে। এছাড়া, নির্বাচন হলো মাত্র ৫ মাস। খুব শিগগিরই সকলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আমরা সকলকে সহযোগিতা করবো। দলকে শক্তিশালী করতে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে  বৈঠক করবেন বলে জানান জয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বীর বাহাদুর, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান  গোলাপ প্রমুখ।

ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি by ড. মাহফুজ পারভেজ

ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি অবিচ্ছেদ্য। একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল এবং সম্পর্কযুক্ত। মানুষ ধর্মের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে নিজের প্রাত্যহিক জীবনে। অতএব, মানুষের জীবনে ধর্মের, সমাজের, সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। রোজার সময় বাঙালি মুসলমান সমাজ ও সংস্কৃতিতে যে বিশিষ্টতা ফুটে ওঠে, সেটা খুবই স্পষ্ট। আবার পূজার সময় বাঙালি হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতিতে যে বিশিষ্টতা ফুটে ওঠে, সেটাও কম স্পষ্ট নয়। অতএব, মানুষের জীবন-যাপন প্রণালিতে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক বিধি আর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অনস্বীকার্য একটি বিষয়। এ বাস্তব সত্য কথাটি স্বীকার করেই বরং আমরা ধর্মের নৈতিক, মানবিক বোধ, পরহিত, কল্যাণময়তার দিকগুলোকে আমাদের জীবনে সার্থক করার চেষ্টা করতে পারি। অতীতে পীর, দরবেশ, অলি, বুজুর্গ, সুফিরা ইসলামের মানবিক দিকগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন এবং বাংলার নির্যাতিত মানব-সমাজকে আলো-কল্যাণ-মুক্তির দিশা দিয়ে ছিলেন। ধর্মের এসব মানবিক, কল্যাণধর্মী দিকগুলোকে ব্যবহার করে মানবিক-সামাজিক সমপ্রীতি ও ঐক্য বিস্তারের প্রচেষ্টায় বর্তমান রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। আমরা জানি অন্যায়, জুলুম, অবিচার ও লোভ-লালসাসহ সব পাপকাজ থেকে বিরত থাকার এক মহান শিক্ষা দেয় মাহে রমজান। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমান রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধির প্রশিক্ষণে নিয়োজিত হয়। সারা দিন সব ধরনের পানাহার থেকে মুক্ত হয়ে মোমিন মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। অন্যায়, জুলুম, অবিচার এবং লোভ-লালসাসহ সব ধরনের পাপকাজ থেকে বিরত থাকার এক মহান শিক্ষা দেয় মাহে রমজান। এ শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে নিজেদের পবিত্র মানুষ গড়ে তুলতে হবে। অনাচার, হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি পরিহার করে সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু রমজানের এ চিরায়ত আহ্বান বাংলাদেশে কতটুকু প্রতিপালিত হচ্ছে, বুকে হাত দিয়ে সবাইকে সে আত্ম-জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হওয়া দরকার। অন্যায়, জুলুম, অবিচার ও লোভ-লালসা এখানে সাপের মতো লকলকে জিহ্বা দিয়ে সব কিছু চেটে খাচ্ছে। সুইস ব্যাঙ্কে টাকা পাচারের কথা আলোচিত হচ্ছে। গুম-খুন-হামলা-মামলার মতো নির্মম জুলুম-নির্যাতনের কথা উচ্চারিত হচ্ছে। মানুষের ছিনিয়ে নেয়া মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন আর ভোটের রাজনৈতিক অধিকারের প্রসঙ্গ বারবার ফিরে আসছে আলোচনার টেবিলে। অতীতের মতো এ রমজানেও এসব কথা আলোচিত হচ্ছে। অন্যায়, জুলুম, অবিচার ও লোভ-লালসা-লুটপাটের বিরুদ্ধে রমজানের মহান আহ্বান সবাই শুনতে পায় কি-না, সেটাই এক বড় প্রশ্ন। বিশেষত, যারা কর্তা ব্যক্তি তারা কিসব করছেন, সে তথ্য-প্রমাণ তো চোখের সামনেই রয়েছে। পরিস্থিতি কেমন নিয়ন্ত্রণহীন, সেটা বিলক্ষণ অনুধাবন করা যায় বাজার-দরের দিকে লক্ষ্য করলে। অর্থাৎ খুন করে বা গুম করে সাত-খুন-মাফের মতো দাম বাড়িয়ে বা ভেজাল দিয়েও বেশ বহাল তবিয়তে থাকা সম্ভব হচ্ছে। মানে হলো, ওপর থেকে নিচে সুবিধা মতো যেমন পারো করতে থাকো। জনগণ আর নীতি-নৈতিকতার দিকে তাকানোর দরকার নেই। সাংবাৎসরিক এহেন অবক্ষয় আদর্শিক রমজানের সময়েও দেখতে পাওয়া যাবে, সেটা ভাবতেও কষ্ট হয়। সরকার যে সারা বছরের মতো পবিত্র মাহে রমজানের উদাসীন থাকবে, সেটা কে জানতো! উদাসীন না হলে ঠিক রমজানের আগে আগে দামের এতো লাভ কেন? বন্যা নেই, খরা নেই, কোন  উপযুক্ত কারণও নেই, তবুও দাম বাড়ছে কেন, তার উত্তরও অজানা। এসব উদাসীনতা ছাড়া আর কি! সরকারকে এ কারণে উদাসীন বলা হয়েছে জনগণের পক্ষ থেকে এবং যারা মজুতদারি, মুনাফাখোরি করে কৃত্রিম দাম বাড়িয়ে অগাত কালো টাকার মালিক হয়েছে, সেসব সরকারি-বেসরকারি দুর্নীতিবাজদের নিন্দাও করছে মানুষ। প্রকাশ্যে না পারলেও, গোপনে তো করছেই। বিশেষত কালো টাকার মালিক মজুতদার ও মুনাফাখোররা এক ঘৃণিত শ্রেণী। কিন্তু সরকারের বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী কি বলছেন? তার সব কথা নিয়ে আলোচনা করলে ভিরমি খেতে হবে। তার সম্পর্কে প্রায়- সকলেই জানেন। শুধু এটুকুই উল্লেখ করা যথেষ্ট যে, তার উত্থাপিত ও প্রস্তাবিত আর্থিক বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। তাহলে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে কালো টাকা বানানো আর সেগুলোকে সাদা করার ব্যবস্থা থাকলে কালো টাকার চক্কর কি আদৌ বন্ধ হবে? অথচ পবিত্র মাহে রমজান সব ধরনের অন্যায়, অপকর্ম, পাপাচার বন্ধ করার মাধ্যমে মানুষকে আত্মশুদ্ধির ডাক দেয়। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রমজানের প্রথম রাত্রি আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর এর কোন দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অতঃপর এর কোন  দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো।” বাংলাদেশে কালো টাকার মালিক, মজুতদার, মুনাফাখোর আর নানা রকমের মন্দের অন্বেষণকারীদেরকে যে থামানো যাচ্ছে না, তার প্রমাণ বাজারে, রাজনীতিতে, আইনশৃঙ্খলায় বিদ্যমান। অতএব ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতির আন্তঃসম্পর্ক মেনে নিয়ে এ সম্পর্ককে ইতিবাচক ও ভালর দিকে নেয়ার জরুরি কাজ এখনো বাকি। রমজানের চেতনায় সে কাজটি করার দিকেও মনোযোগী হতে হবে সবাইকে।