Sunday, January 2, 2011

কেপটাউন টেস্টে বৃষ্টির হানা

দুই দলেরই স্বপ্ন কেপটাউন টেস্ট জিতে সিরিজ ঘরে তোলা। কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। বৃষ্টি হানা দেওয়ায় উদ্বোধনী দিনে মাত্র ৯ ওভার যেতে না-যেতেই প্রাথমিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এরপর খেলা শুরু হয় দেড় ঘন্টা পর।ভাগ্যদেবতা আজ সহায় হয়েছিল ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির। টস জিতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ব্যাটিংয়ে নামার। ধোনির সিদ্ধান্তের যথার্থ মর্যাদা দিয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। দলীয় মাত্র ১৭ রানেই গ্রায়েম স্মিথের উইকেট তুলে নেন জহির খান। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ২১ রান।

সেই সব দিনরাত্রি by রুমানা নাহীদ সোবহান

ভোর হয় ঢাকা শহরে। কাজী হাউসেও ভোর হয়। কাজী হাউস নামের গাছগাছালিতে ভরা হলুদ বাড়িতেও রোদ এসে পড়ে। পাখি কিচিরমিচির করে। সারা রাত জাগা ‘হুতু’ নামের কুকুরটা ক্লান্ত হয়ে গাড়িবারান্দায় কুণ্ডলী পাকায়। সাদা বিড়ালটা জানালা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিশে পায়চারি শুরু করে। স্বর্ণচাঁপা গাছে বুলবুলি পাখি এসে বসতে না-বসতেই কাজী হাউসের পুরোনো খড়খড়িঅলা কাঠের জানালাগুলো খুলে দেন একজন ৫০ বছরের একই নিয়ম ধরে। তাঁর পদশব্দ কাজী হাউসের ঘুম ভাঙানি গান হিসেবে কাজ করে। তাই অ্যালার্ম ক্লকের কোনো দরকার নেই কাজী হাউসের বাসিন্দাদের। সবাই তাঁর পদশব্দে বুঝে যায়, কয়টা বাজে।দরজা-জানালা খুলে ৫০ বছরের নিয়মে তিনি তাঁর নিজ ঘরে আসেন। এসে বিছানার পাশে রাখা করলার রস খেলেন। চিবোলেন রসুনের কোয়া, বহু পুরোনো অভ্যাস। সেই অভ্যাস তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। সকাল থেকেই আসতে থাকে ফোন। জজ সাহেব আছেন? সোবহান সাহেব আছেন? বিচারপতি সোবহানের সঙ্গে কথা বলতে পারি? এতক্ষণ বিচারপতি কে এম সোবহানের দিনের সূচনা বর্ণিত হচ্ছিল—ফোন আসতে থাকে বিচারপতি সোবহানের কাছে, বিভিন্ন দরকারি ফোন। কারোর কোনো আবেদন-অনুরোধই তিনি ফেলতে পারেন না। ৮৩ বছর বয়সেও ব্যস্ত তিনি এবং সকাল-সন্ধ্যা সদাই তাঁর ব্যস্ততা।পড়ার টেবিলে বসার সঙ্গে সঙ্গে আনাগোনা শুরু হতো বিভিন্ন ধরনের মানুষের। পেশাজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ ফেরিওয়ালা। সবার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন। শুধু তা-ই নয়, সারা দিনই অনেক পরিচিত-অপরিচিত লোকের আনাগোনা। নিজের হাতে দরজা খুলে দিতেন। পেশাজীবী-সুশীল-সুধী সমাজের সঙ্গে চলত নানা রকম আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।সকাল থেকে কাজের ফাঁকে ঘড়ির কাঁটা যখন ১১টা পার হয়, তখন তাঁর সাময়িক বিরতি। চলে যান খাওয়ার ঘরে। তাঁর জন্য প্রস্তুত ‘১১টার চা’ চলত এই দুই কাপ ধূমায়িত র-চা, শুকনো টোস্ট বিস্কুট, ঢাকাই পনির। মাঝেমধ্যে পাড়ার ছোট্ট চা-ছাপড়ার শিঙাড়া। চা-বিরতির পর লেখালেখি বা কোনো সভা-সমাবেশে বা জরুরি কোনো কাজে বাইরে যাওয়া। বেলা দুইটার মধ্যে মধ্যাহ্নভোজন। মধ্যাহ্নভোজনের পর ছিল মিনিট ১৫-২০-এর ঘুম।অপরাহ্ন ছিল বিচারপতি সোবহানের একটি প্রিয় সময়। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যেই তিনি তৈরি বৈকালিক ভ্রমণের জন্য। এটিও তাঁর অতি পুরোনো অভ্যাসের একটি। মালিবাগের কাজী হাউস থেকে রমনা পার্ক, তারপর রমনা পার্কের ভেতর সবুজ-শ্যামলে দ্রুত হাঁটাহাঁটি। বয়স তাঁকে পরাজিত করতে পারেনি হাঁটাহাঁটিতে। নিয়মিত হাঁটতেন, যেন কোনো গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল তাঁর লক্ষ্য। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আবার সন্ধ্যাকালীন স্নান। স্নানের পর পরেন কড়কড়ে ইস্ত্রি করা পায়জামা-পাঞ্জাবি। সারা বছরের সন্ধ্যাকালীন পোশাক। শীতে কেবল এরপর একটি শাল। স্নানের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা-পান। চা-পানও নির্দিষ্ট। দুই কাপ চা। মুড়ি বা চিঁড়ার সঙ্গে মটরশুঁটি ও বাদাম। চা-পানের পর সাড়ে সাতটায় বিবিসির বাংলা সংবাদ শুনে আবার পড়ার টেবিল।রাতের খাবারের পর চলত লেখালেখি ও পড়াশোনার কাজ। শেষ হয়ে আসত তাঁর দিবানিশির কাব্য। পরিবারের সব সদস্য ঘুমিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো কাঠের ঢাউস দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যেতেন। এ তো ছিল তাঁর এই সব দিনরাত্রির কাহিনি। এই সব দিনরাত্রির মধ্যেও তিনি নিয়ম করে মনে রাখতেন বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের জন্মদিন, বিয়ের দিন।
নিজের জন্মদিন সযতনে এড়িয়ে চলতেন, কিন্তু বন্ধু ব্যারিস্টার শওকত আলী খানের ৯ ফেব্রুয়ারি জন্মদিনের কথা ভুলতেন না। ভুলতেন না ৬ সেপ্টেম্বর নিজের বিবাহবার্ষিকীর কথা। ৪৮ বছর ধরে নিজের স্ত্রীকে এই দিনে চমৎকার সব শাড়ি উপহার দিতেন। একটি বারের জন্যও ভুল হয়নি তাঁর। ঈদে-উৎসবে-আনন্দে এই সামাজিকতায় তিনি নিয়মিত শরিক হতেন। ঈদে পরিবার-আত্মীয়স্বজনকে কাপড় দিতেন। সম্ভাষণে, সম্বোধনে তিনি ছিলেন অগ্রণী। প্রথমেই তিনি সালাম দিতেন, হোক সে বয়সে ছোট বা বড়। জীবনের শেষ দিনও সালামের উত্তরে কুশল বিনিময়ে বলেছেন, ‘খুব ভালো আছি।’ ফুল আর সংগীতের প্রতি তাঁর ছিল এক ধরনের প্রচণ্ড আগ্রহ। যেখানেই যেতেন ফুল, ফল আর সবজির চারা নিয়ে আসতেন। বরিশাল থেকে নিয়ে এলেন ঝুমকোলতা। রাজশাহী গেলেন, নিয়ে এলেন আমের চারা। ফুল ফুটত তাঁর কাজী হাউসে নিয়ম করেই।ঘড়ির কাঁটা আর জীবন ছিল যুগলবন্দী সময়ের। কোনো দিন হেরফের হয়নি তাঁর। কোথাও কোনো দিন তাঁকে নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছাতে দেখিনি। কথিত আছে, যে রাস্তা ধরে তিনি প্রতি বিকেলে হাঁটতে যেতেন, সেই রাস্তার ধারের দোকান ও বাড়ির লোকজন নিজেদের ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে নিতেন।জীবনের অক্ষরেখা ঘুরে যাচ্ছিল নিয়ম করেই। প্রতিদিনের মতো ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরও তাঁর দিন শুরু হয়েছিল একই নিয়মে, একই ছকে। একই সময়ে দিনান্তে হাঁটতে যাওয়ার আগে পড়ার টেবিলে বর্ষশেষের সব সংবাদপত্র গুছিয়ে রেখেছিলেন। বাড়িতেও সেদিন বর্ষশেষ উপলক্ষে অতিথি সমাগমের কথা ছিল, কিন্তু সেই দিনের সন্ধ্যাটা আর প্রতিদিনের মতো হলো না। সেদিন হাঁটতে যাওয়ার পর তাঁর ৮৩ বছরের জীবনের শেষটা হিসাবের খাতার বাইরে চলে গেল। ছক গেল পাল্টে, সময় গেল থমকে, নিয়ম হলো অনিয়ম। তাঁর আর ঘরে ফেরা হলো না। বাংলাদেশের গোধূলিলগ্ন তাঁকে নিয়ে গেল সন্ধ্যাকাশে হাজার তারার পাশে আরেকটি তারা হয়ে জ্বলতে। জানি না, সেতু পারাপারের সময় তিনি আলোকরেখাকে বলেছিলেন কি না, ‘আমার যাবার বেলায় পিছু ডাকে’ কিংবা দেখেছিলেন কি না, ‘সম্মুখে শান্তি পারাবার।’

২০২৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত

২০২৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যার দিক দিয়ে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। আদমশুমারির কাজে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরো তাদের প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চলে আসবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রথম ১০টি জনবহুল দেশের মধ্যে থাকবে দেশ দুটি।
সংস্থাটির বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের জনসংখ্যা এখন ১৩৩ কোটি। ভারতের জনসংখ্যা ১১৭ কোটি ৩০ লাখ। ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের সম্ভাব্য জনসংখ্যা হবে ১৩৯ কোটি ৬০ লাখ। চীনের হবে ১৩৯ কোটি ৪০ লাখ। ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হবে ভারত। তখন দেশটির জনসংখ্যা ১৬৫ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাবে। বর্তমান হার অনুযায়ী চীনের জনসংখ্যা তখন ১৩০ কোটি ৩০ লাখে নেমে আসবে।

তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন নিয়ে প্রতিবেদন পেশ

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য ভেঙে নতুন তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করা হবে কি না, এ ব্যাপারে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানান, ৬ জানুয়ারি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সরকার। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভারতীয় পার্লামেন্টে।
এর আগে গত বছর অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় এর পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। নতুন রাজ্য গঠনের বিষয়টি অবশ্যই আগে রাজ্যের বিধান সভায় পাস করাতে হবে।
তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করার দাবি পর্যালোচনা করতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি বি এন শ্রীকৃষ্ণকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে ভারত সরকার। শ্রীকৃষ্ণ গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমের কাছে কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
চিদাম্বরম জানান, ৬ জানুয়ারি তিনি বিষয়টি নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশের আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর পর ওই প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নতুন রাজ্য গঠন করা হবে। কিন্তু বিক্ষোভের মুখে পড়ে তারা বলতে বাধ্য হয়েছে, আরও আলোচনা দরকার। অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যেও ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস।

যেসব পুরুষকে বিয়ে করা উচিত নয়

স্বপ্নের পুরুষ খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে বানরের গলায় মুক্তোর মালা দিলাম’—বিয়ের পর অনেক নারী হয়তো এমন আক্ষেপ করতে পারেন। হয়তো মনের মিল হয় না, বোঝাপড়ায় ঘাটতি থাকে। নারীদের এই আক্ষেপ যাতে করতে না হয়, এ জন্য একটি তালিকা তৈরি করেছেন পাদরি প্যাট কনর। নারীর জন্য তৈরি তালিকায় ওই পাদরি আট ধরনের পুরুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের বিয়ে করা উচিত নয়। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তালিকাটি তৈরি করেছেন তিনি।
মার্কিন সাময়িকী গ্ল্যামার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বসবাসকারী প্যাট কনর ৪০ বছর ধরে দম্পতিদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি এ পর্যন্ত ২০০টি বিয়ে পড়িয়েছেন এবং বিবাহপূর্ব পরামর্শদানের সঙ্গেও জড়িত। ক্যাথলিক মতাবলম্বী ওই পাদরি ভুল লোককে বিয়ে করার কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে স্থানীয় বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মধ্যে বক্তৃতাও করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘প্রাণের বন্ধু’ বলে কেউ নেই, শুধু প্রেমিকদের সঙ্গেই অঙ্গীকার করা যায়।কনরের তালিকায় আট ধরনের পুরুষকে বিয়ে করা উচিত নয়। এদের মধ্যে রয়েছে, মায়ের আঁচল ধরে থাকা ছেলে; যেসব পুরুষ ঠিকভাবে অর্থকড়ির ব্যবস্থা করতে পারে না; যাদের কোনো বন্ধু নেই; যেসব পুরুষ লোকজনের মাঝে প্রেমিকাকে একা ছেড়ে যায়; রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে ওয়েটারদের সঙ্গে যারা খারাপ আচরণ করে, যেসব পুরুষ নিজেদের উপহাস করতে পারে না, যারা কর্তৃত্ব ভাগাভাগি করতে পারে না এবং যেসব পুরুষ প্রেমিকার চাহিদার বিপরীতে কখনো নিজের চাহিদার কথা জানায় না

নেপালের শান্তিপ্রক্রিয়া জটিল আকার ধারণ করেছে: মুন

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, নেপালের শান্তিপ্রক্রিয়া বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে তিনি এ মত ব্যক্ত করেছেন। নেপাল থেকে জাতিসংঘের মিশন গুটিয়ে নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি এ মত ব্যক্ত করলেন।চার বছর আগে দেশটির রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শুরু হওয়া শান্তিপ্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে শান্তিপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নেপালি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।মুন বলেন, গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ২০০৬ সালে সমন্বিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। তারপর বেশ কিছু অগ্রগতি সাধিত হয়। তবে এখনো মূল কাজটিই বাকি রয়ে গেছে। যেমন নতুন জাতীয় সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন এবং কয়েক হাজার সাবেক মাওবাদী যোদ্ধাকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার কাজটি আজও সম্পন্ন হয়নি।১৫ জানুয়ারি নেপালে অবস্থিত জাতিসংঘের শান্তি মিশন গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে মুন এসব মত ব্যক্ত করলেন। তিনি আরও বলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ছয় মাস ধরে দেশটিতে সরকারপদ্ধতি অকার্যকর রয়েছে। এ অচলাবস্থার কারণে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

খদোরকোভস্কির আরও ছয় বছরের কারাদণ্ড

তেল কোম্পানিকে দেওয়া সরকারি ভর্তুকি থেকে কৌশলে কয়েক হাজার ডলার অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের দায়ে রাশিয়ার সাবেক ধনকুবের মিখাইল খদোরকোভস্কিকে গত বৃহস্পতিবার আরও ছয় বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন মস্কোর একটি আদালত।খদোরকোভস্কিকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়ার জন্য সরকারি কৌঁসুলিদের অনুরোধ মেনে মস্কোর বিচারক ভিকতর দানিলকিন এ রায় দেন। তিনি বলেন, খদোরকোভস্কিকে মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রাশিয়ার সাবেক এই ধনকুবের সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এ রায়ে রাশিয়ার বিচারব্যবস্থা কলুষিত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি সমালোচনা করেছে।রাশিয়ার একসময়ের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও ইয়ুকোস তেল কোম্পানির প্রধান খদোরকোভস্কি ও তাঁর সহযোগী প্লাতোন লেবেদেভের মধ্যে প্রতারণা ও কর ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে আট বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁদের এই কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নতুন মামলার রায়ে খদোরকোভস্কিকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কারাভোগের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর এক বিবৃতিতে খদোরকোভস্কি ও লেবেদেভ বলেন, এ রায়ে পুতিনের নেতৃত্বে থাকা সরকারের নির্বাহী কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ রয়েছে।খদোরকোভস্কির আইনজীবী ইউরি স্মিৎস সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এ দেশে পুতিন যা চাইবেন, তা-ই হবে। আইনজীবী কারিনা মসকালেনকো বলেছেন, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবার আপিল আবেদন করা হয়েছে।খদোরকোভস্কির বিরুদ্ধে নতুন করে কারাদণ্ডের এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, রাশিয়ার বিচারব্যবস্থায় এ ধরনের হস্তক্ষেপে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, খদোরকোভস্কির কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়ানোর এ রায়ের ফলে ২০১১ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় ঢোকার ব্যাপারে রাশিয়ার আশাবাদ শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না। বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম অলিভার ও অলিভিয়া

ব্রিটেনে শিশুদের নাম রাখার বেলায় ২০১০ সালে যে দুটি নাম সবচেয়ে দাপট দেখিয়েছে, তা হচ্ছে অলিভার ও অলিভিয়া। ছেলেশিশুদের নাম রাখার ক্ষেত্রে ১৬ বছর পর জ্যাককে টপকে গেছে অলিভার। অর্থাৎ, এ বছর ছেলেশিশুর জন্য এই নামটি সবচেয়ে বেশি রাখা হয়েছে। মেয়েশিশুদের বেলায় এক নম্বরে আছে অলিভিয়া। ছেলেশিশুদের নামের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জ্যাক।সদ্যসমাপ্ত একটি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১০ সালে ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া চার লাখ ২৩ হাজার শিশুর নামের ওপর জরিপ চালিয়ে এ ফল পাওয়া যায়। অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাউন্টি এ জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপে দেখা গেছে, সেকেলে নামগুলোই বাবা-মায়ের বেশি পছন্দ।
জরিপে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য মা-বাবার দেওয়া নাম নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল, খ্যাতিমান ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের আগ্রহ অনেক বেশি ছিল। অলিভার ও জ্যাকের পাশাপাশি ফ্লোরেন্স নামটিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জ্যাক নামটি জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাক এফরনের কারণে। একাধারে অভিনেতা ও গায়ক জ্যাক এফরনের কারণে এ নামটির প্রতি মা-বাবার ঝোঁক বেড়েই চলেছে।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গত আগস্টে একটি মেয়ের বাবা হয়েছেন। শিশুটির নাম দেওয়া হয়েছে ফ্লোরেন্স। সেই থেকে মেয়েসন্তানের নামের ক্ষেত্রে অনেক ব্রিটিশ এই নামটিই পছন্দ করছেন।
গত বছর চমক হিসেবে ‘ওলি’ নামটি উঠে এসেছিল। অলিভার থেকে সংকুচিত হয়ে রাখা এ নামটি তালিকার ৫৩তম স্থানে রয়েছে। জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান এক্স ফ্যাক্টর-এর তারকা ওলি মুরসের কারণে এ নামটি সাড়া ফেলেছে

ওয়েতাহা ও শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা হলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে

আইভরি কোস্টে নির্বাচনে বিজয়ী আলাসেন ওয়েতাহার ওপর হামলা না করার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো ও তাঁর সমর্থকদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেন, ওয়েতাহার ওপর হামলা হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ওয়েতাহা দেশের আবিদজান শহরের গলফ হোটেলে অবস্থান করছেন। তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী।
গত বুধবার বাগবো সরকারের যুবমন্ত্রী চার্লস ব্লি গাউদে আগামী শনিবার ওই হোটেলে হামলা চালানোর জন্য সরকারের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘১ জানুয়ারি আমি এবং আমার দেশের যুবকেরা খালি হাতেই ওই হোটেল মুক্ত করতে যাচ্ছি।’
ব্লি গাউদের এই হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বান কি মুন বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী এবং একই সঙ্গে ওই হোটেলে অবস্থানকারী সরকারি কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা হলে তা প্রতিহত করতে এবং ওয়েতাহাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে শান্তিরক্ষীরা।’জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘হোটেলে কোনো হামলা হলে তা থেকে বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। এতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।’হামলার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বান কি মুন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এ ক্ষেত্রে উসকানিদাতাদের দায়ী করা হবে।ওই হোটেলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে ‘নিউ ফোর্স’ হিসেবে পরিচিত সামান্য অস্ত্রসজ্জিত সাবেক গেরিলাদের একটি ছোট দল এবং ৮০০ শান্তিরক্ষী বাহিনী। শান্তিরক্ষীদের কাছে কিছু সুসজ্জিত যান আছে এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেখানে রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ওই এলাকা ঘিরে আছে বাগবো-সমর্থিত আইভরি কোস্টের সুসজ্জিত সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় সরকার-সমর্থিত যুবকেরা সেখানে হামলার জন্য গেলে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।জাতিসংঘ কর্মকর্তা ফ্রান্সিস ডেং বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে বাগবোর বিরোধীদের বাড়িঘর চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।বাগবোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আইভরি কোস্টে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইসিওডব্লিউএএস। তবে তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন বাগবোর মন্ত্রী গ্লি গাউদে।’ গত ২৯ নভেম্বর আইভরি কোস্টে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী নেতা ওয়েতাহাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

সংশোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালিত

পাকিস্তানে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার আইন সংশোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সারা দেশে ধর্মঘট পালিত হয়েছে। দেশটির বিদ্যমান আইনে এ জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে ইসলামি চরমপন্থীরা উৎসাহিত হচ্ছে।
গত নভেম্বরে আসিয়া বিবি নামের এক খ্রিষ্টান নারীর মৃত্যুদণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে এই আইন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। রক্ষণশীল দলগুলো আইনের সংশোধনী ঠেকাতে দেশব্যাপী এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। গত সপ্তাহে দেশের বড় বড় শহরে হাজার হাজার লোকের সমাবেশের প্রেক্ষাপটে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। গতকাল ধর্মঘট চলাকালে করাচি, লাহোর, পেশোয়ার, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে বাজার ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় যানবাহন দেখা যায়নি।
পাকিস্তানের উপতথ্যমন্ত্রী সামসাম বোখারি বলেন, বিতর্কিত আইনটি সংশোধনের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই; তা সত্ত্বেও ধর্মঘট করা হয়।
সাংবাদিকেরা জানান, প্রভাবশালী মুসলিম গোষ্ঠী সুন্নি ইত্তেহাদ পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবজাদা ফজল করিম বলেন, ‘সরকার যদি আইনের কোনো সংশোধন করে, তবে আমরা অসহযোগ আন্দোলন শুরু করব।

আইপিএলে দাম বাড়ল সৌরভের

৪১৬ জনের তালিকাটা কমে এল ৩৬০-এ। আইপিএলের চতুর্থ আসরের নিলামের প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়লেন ৫৬ ক্রিকেটার। নিলামের তালিকায় পরিবর্তন এসেছে আরেকটি। ৪ লাখ ডলারের তালিকায় খেলোয়াড় ছিলেন ২১ জন। এখন সেটি হয়ে গেল ২৩। কারণ সৌরভ গাঙ্গুলী ও ভিসিএস লক্ষ্মণ তাঁদের বেজ প্রাইস (সর্বনিম্ন দর) ২ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ডলার করেছেন। ৮ ও ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নিলামে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নামও থাকার কথা। সাকিব আল হাসান (বেজ প্রাইস ২ লাখ ডলার), তামিম ইকবাল (১ লাখ ডলার) এবং মোহাম্মদ আশরাফুল (৫০ হাজার ডলার)। বাদ পড়া ৫৬ জন ক্রিকেটারের মধ্যে এঁদের কেউ আছেন কি না, সেটি জানা যায়নি।

নতুন বছরে ফ্যাব্রিগাসকে নিয়ে লড়াই

সেস ফ্যাব্রিগাসকে নিয়ে হোসে মরিনহো আর সান্দ্রো রোসেলের মধ্যে দারুণ একটা দ্বৈরথই শুরু হয়ে গেল। হোসে মরিনহো, সান্দ্রো রোসেল আগামী মৌসুমে ফ্যাব্রিগাসকে দলে আনতে চেষ্টা চালাবেন ব্যক্তিগতভাবে।
গত গ্রীষ্মের দলবদলের বড় একটা অংশজুড়েই ছিলেন ফ্যাব্রিগাস। বার্সেলোনার যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়কে দলে নিতে মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। আর্সেনালকে একের পর এক প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তারা। ফ্যাব্রিগাস নিজেও আপন ঘর বার্সেলোনায় ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্সেনাল কোচ পিতৃতুল্য আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘বিশেষ’ অনুরোধে ইংল্যান্ডেই থেকে যান ফ্যাব্রিগাস।
তবে আগামী মৌসুমে আর নিরাশ হতে চায় না বার্সেলোনা। যেকোনো মূল্যেই ফ্যাব্রিগাসকে পেতে চায় তারা। কদিন আগের খবর, ফ্যাব্রিগাসের সঙ্গে ফার্নান্দো তোরেসকে পেতে দরকার হলে ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করবে বার্সা।
এই যখন অবস্থা, তখন বার্সার আশায় হতাশার বালু ছিটাতে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদও। আর্সেনাল অধিনায়ক ফ্যাব্রিগাসকে আগামী মৌসুমে দলে চায় তারাও। রিয়ালে আসার প্রস্তাবটি আবার ফ্যাব্রিগাসকে ব্যক্তিগতভাবে স্বয়ং মরিনহোই দেবেন! প্রস্তাবটিও হবে লোভনীয়। ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অথবা ডিফেন্ডার ইজেকুয়েল গ্যারে, মিডফিল্ডার লাসানা ও মাহামাদু দিয়ারা কিংবা গ্যাগোকে আংশিক বিনিময়ের প্রস্তাবও দিতে পারে রিয়াল। আরও টোপ হিসেবে ফ্যাব্রিগাসকে রিয়াল মাদ্রিদের আগামী অধিনায়ক করার কথা বলবেন মরিনহো। এদিকে বার্সেলোনার সভাপতি সান্দ্রো রোসেল তাঁর বন্ধুদের বলেছেন, ‘বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর্সেনালের সঙ্গে আলোচনা করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত।’ দেখা যাক, ফ্যাব্রিগাসকে পাওয়ার এই লড়াইয়ে কে জেতে?

যেখানে এখনো সেরা উডস

গত বছর শিরোপাশূন্য থাকতে পারেন টাইগার উডস, হারাতে পারেন গলফ র্যাঙ্কিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ উপার্জনকারী গলফার হিসেবে তাঁর এক নম্বর জায়গাটি রয়েছে অটুট। সেরা উপার্জনকারী গলফার হিসেবে আরেকটি বছর পার করলেন টাইগার উডস। শুধু তা-ই নয়, গত বছর দ্বিতীয় শীর্ষ উপার্জনকারী গলফারের চেয়ে উডসের আয় প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।গলফ ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনের হিসাবে গত বছর উডস আয় করেছেন ৭৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৪০.১৮ মিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আরেক আমেরিকান ফিল মিকেলসন। পরের তিনটি স্থানে থাকা গলফাররা হলেন আর্নল্ড পালমার (৩৬ মিলিয়ন ডলার), গ্রেগ নরম্যান (৩০) ও জ্যাক নিকলাস (২৫.১৭)।
টাইগার উডসের আয়ের সিংহভাগই এসেছে বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে। গলফ থেকে এসেছে মাত্র ২.২৯ মিলিয়ন ডলার। সেরা উপার্জনকারী গলফার হিসেবে বছর শেষ করতে পারলেও উডসের উপার্জন কতটা কমেছে সেটা দেখতে পারেন এই তথ্যে—২০০৯ সালে তাঁর আয় ছিল ১২১.৯ মিলিয়ন ডলার।

ম্যারাডোনা নন মেসিই সেরা!

মোক্ষম জায়গায় এবার আঘাত হানলেন হুলিও গ্রন্দোনা। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা ১০ নম্বর খেলোয়াড়ের তালিকায় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ঠেলে দিলেন পেছনে। বললেন, লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার সেরা ১০। মানে পরিষ্কার, আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় গ্রন্দোনার চোখে ম্যারাডোনার চেয়েও এগিয়ে আছেন মেসি!
বিশ্বকাপের পর থেকেই আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধানের সঙ্গে গোলমাল লেগেই আছে ম্যারাডোনার। সর্বশেষ গ্রন্দোনার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন সাবেক কোচ। সেটারই পাল্টা জবাব হয়তো দিলেন ১৯৭৯ সাল থেকে এএফএর প্রধানের পদ ধরে রাখা ৭৯ বছর বয়সী গ্রন্দোনা। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘মেসি, ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এরা সবাই অন্য গ্রহের ফুটবলার। এবং মেসি এদের মধ্যে সেরা।’
ম্যারাডোনা এখন কী বলেন, সেটাই দেখার!

বিশ্বকাপে সাকিব-তামিম জুটি

মাশরাফি বিন মুর্তজার চোট একটা শঙ্কা যেমন বয়ে এনেছিল, তেমনই নিভিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকাপ অধিনায়ক নিয়ে আগ্রহের শিখাটাও। চোটে যাঁর বিশ্বকাপই অনিশ্চিত, তিনি তো আর অধিনায়কের দৌড়ে থাকতে পারেন না! সাকিব আল হাসানের অধিনায়ক হওয়াটা তাই একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল, বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সেই ঘোষণা এসেছে কাল, চতুর্থ বিশ্বকাপ অভিযানে সাকিবের কাঁধেই থাকছে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব। ডেপুটি হিসেবে সাকিব পাচ্ছেন নতুন একজনকে—তামিম ইকবাল।
তামিমের সহ-অধিনায়ক হওয়াকেও ঠিক চমক বলা যাবে না, কিছুদিন ধরে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল তাঁর নাম। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক ঘোষণায় চমক তাই একটিই, শুধু বিশ্বকাপ নয় দুজনকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরো বছরের জন্য!
অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কদের দীর্ঘ সময়ের জন্যই দায়িত্ব পাওয়া উচিত। তবে এই সাধারণ ঘটনাটা বাংলাদেশে বিরল বলেই এত বিস্ময়। সাকিবই যেমন দেড় বছর ধরেই দায়িত্ব পাচ্ছিলেন শুধু প্রতি সিরিজের জন্য। এ নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টি কখনো কখনো প্রকাশ্যেও চলে এসেছে। মাশরাফির চোটে বিকল্পহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কি তবে বাধ্য হয়েই পিছু হটল? বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কথা অন্য রকম, ‘সাকিব বেশ কিছুদিন ধরেই নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের মনে হয়েছে, ও এখন অনেক পরিণত এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক হতে প্রস্তুত। সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করেই বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ জানা গেছে, গত বোর্ড সভার পর বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক ঠিক করার। তিনি সাকিব-তামিমের সঙ্গে আলোচনা করার পরই দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলো।
বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন প্রায় সবারই থাকে। এর সঙ্গে আবার পূরণ হয়েছে দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক হওয়ার প্রত্যাশা। সাকিব তাই উচ্ছ্বসিতই, তবে চরিত্র অনুযায়ী পরিমিতিবোধ থাকল তাঁর প্রতিক্রিয়ায়ও, ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক হওয়ায় আশা করি এখন আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব।’
তামিম সহ-অধিনায়ক হয়ে গেলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের তিন বছরেরও কম সময়ে। সহ-অধিনায়ক হওয়ার বোর্ডের প্রস্তাবটা তাই বিস্ময় হয়েই এসেছিল তামিমের জন্য। দায়িত্ব পেয়ে রোমাঞ্চিত তামিম; তবে জানালেন, এই দায়িত্ব ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে আরও সমৃদ্ধই করবে, ‘বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য। ব্যাটিংয়ে আমি সব সময়ই দায়িত্ব নিয়ে খেলার চেষ্টা করি। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ায় এখন আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি, এই দায়িত্ব আমাকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’
তবে সহ-অধিনায়কের দৌড়ে ছিলেন দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব পালন করা মুশফিকুর রহিম, সর্বশেষ সিরিজের সহ-অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক, মাহমুদউল্লাহও। তামিমকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন জালাল ইউনুস, ‘তামিমের মাঝে ভবিষ্যৎ অধিনায়কের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি আমরা। ওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গড়ে তোলার জন্যই।’
অধিনায়কের গুণাবলি দেখতে পেয়েই ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছিল মুশফিকুরকেও। তবে গত ইংল্যান্ড সফরে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের কিছু আচরণে ঠিক সন্তুষ্ট ছিলেন না ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ। সফর শেষে ম্যানেজারের প্রতিবেদনে সেটি উল্লেখও করেছিলেন। ওই ব্যাপারটাই বিপক্ষে যেতে পারে মুশফিকুরের।
অধিনায়ক হিসেবে সামর্থ্য ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন সাকিব, তামিম তাঁকে কতটা সাহায্য করতে পারবেন, এটা বলবে সময়। তবে এই দুজনের জুটিটা জমে ওঠারই কথা। দুজনই দলের সেরা পারফর্মার ও বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন দিনের প্রতীক, এটা একটা কারণ। এর চেয়েও বড় কারণ, মাঠের বাইরে দুজনের সম্পর্ক। দুজনই খুব কাছের বন্ধু এবং একে অপরকে খুব ভালো বোঝেন। এই বোঝাপড়া, সম্পর্কের রসায়নেই হয়তো লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল আগামী।

মুক্তিযোদ্ধার জয়, ব্রাদার্সের তাণ্ডব

৩৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন তরুণ স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর আলতো চিপ জালে!
মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে উল্লাস। খেলার ধারার বিপক্ষে গোল খেয়ে ব্রাদার্স হতবাক। ফুটবল ম্যাচে এমন নাটকীয়তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু কাল কমলাপুর স্টেডিয়াম যা দেখল, তাকে তাণ্ডব না বলে উপায় নেই।
গোলের তিন-চার মিনিট পর হঠাৎ ব্রাদার্স শিবির থেকে তাদের কর্মকর্তা এবং সহকারীরা ছুটলেন নিজেদের গোলপোস্টের দিকে! ম্যানেজার আমের খান এবং আরও দুজন ছিলেন এই দলে। পরে একে একে সবাই যান। এমনকি কোচ ওয়াসিম ইকবালও গেছেন। কী ব্যাপার? পেশাদার লিগের ম্যাচ চলছে, অথচ নিয়ম ভেঙে ম্যাচ চলাকালে এক দলের গোলপোস্টে সবাই উপস্থিত!
ব্রাদার্স পোস্টে গিয়ে সাইড নেট দেখাচ্ছে, ওটা ছেঁড়া! অর্থাৎ মিঠুন চৌধুরীর শটটা গোল হয়নি, বল পাশের ছেঁড়া জাল দিয়ে ঢুকেছে। গোল যখন হলো, তখন এটা আবিষ্কৃত হয়নি! তিন-চার মিনিট পর গ্যালারি থেকে কয়েকজন ব্রাদার্স সমর্থক ‘জাল ছেঁড়া’ ‘জাল ছেঁড়া’ চিৎকার দেওয়ার পর ওই কাণ্ড। ‘চিলে কান নিল’ গল্পটাই যেন মঞ্চস্থ!
কিন্তু গোটা ব্যাপারটাই ভুল। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেছে, বৈধ গোল। ব্রাদার্স গোলরক্ষক রঘু ঝাঁপিয়ে পড়েও বল ধরতে পারেনি। একটা বৈধ গোলকে অবৈধ দাবি করে ব্রাদার্স কর্মকর্তাদের মাঠে ঢুকে পড়া বিস্ময়কর। স্টেডিয়ামের চতুর্থ তলা থেকে যেভাবে চেয়ার ছুড়ে ফেলেছে ব্রাদার্স সমর্থকেরা, সেটি তো রীতিমতো মস্তানি! রেফারি আজাদ রহমানের দিকেও তেড়ে গেল কেউ কেউ। ব্রাদার্স তাদের পুরোনো বদ অভ্যাস আজও ছাড়তে পারেনি!
ওই ঘটনায় মিনিট দশেক খেলা বন্ধ ছিল। এরপর ম্যাচে ফেরা দূরে থাক, ৬০ মিনিটে ব্রাদার্স খেয়ে গেল আরেকটি গোল। গোলদাতা সেই মিঠুন। বুকোলার ঠেলে দেওয়া বল ফাঁকা পোস্টে পাঠানোর কাজটা খুব ঠান্ডা মাথায় করেছেন এই তরুণ। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান রইল ২-০-ই। ব্রাদার্সের তুলনায় খারাপ খেলেও বাংলাদেশ লিগে শুভসূচনা হলো নতুন উদ্যেমে শুরু করা মুক্তিযোদ্ধার।
ব্রাদার্সের জন্য এই পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন। মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে বলের দখল থেকে শুরু করে সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল গোপীবাগের দলটি। মুক্তিযোদ্ধা গোলরক্ষক বিপ্লব প্রথমার্ধে দুবার ব্রাদার্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান, কিন্তু ব্রাদার্স যেসব মিস করেছে, এই পর্যায়ের ফুটবলে তেমন মিস হলে জয়ের আশা অবশ্য না করাই ভালো।
চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি ফেডারেশন কাপে ঝলক দেখানো ব্রাদার্সের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এভারটন। এনক বেনটিল বরাবরের মতোই ছিলেন ভীতিকর। ভালো খেলেছেন তরুণ ফয়সাল মাহমুদও। কিন্তু হলে কী হবে, ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার রিচার্ড একাই মিস করেছেন গোটা চারেক সুযোগ। ব্রাদার্স জিতবে কী করে?
জয়-পরাজয় এক পাশে থাক। ম্যাচটা কিন্তু উপভোগ্যই ছিল। আবাহনী-শেখ জামাল ম্যাড়মেড়ে ম্যাচ দেখে হতাশ দর্শকদের কাছে এই ম্যাচ আবার মাঠে আসার বিজ্ঞাপনও। কিন্তু হাতেগোনা তিন-চার শ লোক ছাড়া আর কেউ মাঠে এলে তো!
মুক্তিযোদ্ধা কোচ মারুফুল হক জিতলেও খুশি নন। ব্রাদার্সের লোকজনের মাঠে ঢুকে পড়া প্রসঙ্গে তাঁর ক্ষোভ, ‘একে কি পেশাদার লিগ বলে? চেয়ার ছুড়ে মারা হলো এটাই বা কী ধরনের আচরণ।’
মুক্তিযোদ্ধা: বিপ্লব, রাজন, রজনী, মতিউর মুন্না, আরমান আজিজ, বুকোলো, মারুফ (মিঠুন), আলমগীর (নাসির), জাহেদ পারভেজ, লুসিয়ানো আরিয়েল, ড্যামি।
ব্রাদার্স: রঘু, নাহিদুল, ফয়সাল মাহমুদ, আশরাফুল, ইউসুফ, কবির (তরু), অপু (তারা), এভারটন, ড্যানিলো, এনক বেনটিল, রিচার্ডস (তপু)।

নতুন বছরের শুরুতে জয় চান সোয়ান

২০১০ সালটা স্বপ্নের মতোই কেটেছে ইংলিশ অফ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ানের। বছরের শুরুতেই বান্ধবী সারাহর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মে মাসে দেশের হয়ে জিতেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওই মাসেই জিম লেকারের পর প্রথম ইংলিশ অফ স্পিনার হিসেবে নিয়েছেন এক টেস্টে ১০ উইকেট। নির্বাচিত হয়েছিলেন ইসিবির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। বছরের শেষটাও করলেন ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্ট জিতে। সেই সঙ্গে শামিল হলেন ২৪ বছর পর ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ধরে রাখার উত্সবেও। ৬৪টি উইকেট নিয়ে তিনিই টেস্ট ক্রিকেটে এ বছরের সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারি। এত এত অর্জনের বছরকে যে তিনি ‘স্বপ্নের বছর’ আখ্যায়িত করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। তবে সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টটা জিতে নতুন বছরটাও ভালোভাবে শুরু করতে চান সোয়ান।
আজ শনিবার বছরের প্রথম দিনে সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘২০১০ সালে আমি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা সময়টা কাটিয়েছি। সারা বছরই আমরা চমত্কার খেলেছি। আর আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের এ রকম ক্রিকেটার খুব কমই পাওয়া যাবে, যারা বলতে পারবেন যে তাঁরা দুটা অ্যাশেজ খেলে একটা জিতেছেন, একটা ধরে রেখেছেন। সেই সঙ্গে জিতেছেন একটা বিশ্বকাপও।’
অথচ কয়েক বছর আগেও দুর্বল পারফরমেন্স আর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোয়ান ইংল্যান্ড দলে জায়গাই খুঁজে পেতেন না। আর এখন তিনি দলে এমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছেন, সেসব দিনের কথা হয়তো আর কারও মনেই নেই। আর এ জন্য বল হাতে ভালো পারফরমেন্স তো দেখাতে হয়েছেই, সেই সঙ্গে ভাগ্যদেবীকেও অনেক ধন্যবাদ দিয়েছেন এই ইংলিশ অফ স্পিনার।
এবারের অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর আগে সওয়ান নিজেও ভাবতে পারেননি যে তাঁরা এতটা সাফল্য পাবেন। কয়েক দিন আগেও সিরিজটা ২-২-এ ড্র করার চিন্তা করলেও এখন শেষ টেস্টটা জিতে ৩-১ এ শেষ করতে চান সওয়ান ।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চায় দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছে ভারত। প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে শোচনীয় হার দিয়ে শুরু হলেও দ্বিতীয় টেস্টে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ধোনিরা। ৮৭ রানের অসাধারণ জয় দিয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফিরিয়েছে। এখন আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টটা জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অজেয় দূর্গ জয়ের স্বাদ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলটি। অন্যদিকে আরো একবার দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এক্ষেত্রে তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে কেপটাউনের নিউল্যান্ড স্টেডিয়ামের ইতিহাস। এখানে ১৯৯৩ সালের পর থেকে ২১ টি ম্যাচে ১৩টিতেই জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। হেরেছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। তিনটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
চার বছর আগেও একবার দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ভারত। সেবারও সিরিজে ১-১ এ সমতার পর সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় টেস্টটা ছিল নিউল্যান্ডে। প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৬৯ রানে। ২১১ রানের টার্গেট নিয়ে ৫ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারও স্বভাবতই ইতিহাসের সেই পুনরাবৃত্তিই প্রত্যাশা করছে প্রোটিয়াসরা।
তবে এবার নিশ্চয়ই আগের থেকে অনেক সতর্ক অবস্থায় থাকবে ধোনি, টেন্ডুলকার, শেবাগ, লক্ষণরা। আর সেটা বেশ ভালোমতোই জানেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। তিনি বলেছেন, ‘ভারত খুবই অভিজ্ঞ একটা দল। দ্বিতীয় টেস্টে আমরা জানতাম যে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। হয়েছেও তাই। তারা খুবই ভালো খেলেছে। আর এই ঘুরে দাঁড়ানোটা নিউল্যান্ডে তাঁদের আবার শক্তি যোগাবে।’
এদিকে ভারতীয় শিবিরে আরো আশার আলো জাগিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টটি মিস করার পর এবার তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামতে পারবেন ভারতের নির্ভরযোগ্য এই ওপেনার। আগের টেস্টের দলটা অপরিবর্তিত রেখেই মাঠে নামতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দলে পাকিস্তানি!

দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন একজন পাকিস্তানি! ব্যাপারটি একটু অবাক করার মতো হলেও ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার চলমান টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্টেই প্রোটিয়া দলে দেখা যেতে পারে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইমরান তাহির নামের এক লেগ স্পিনারকে। গতকাল শুক্রবার ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী ইমরান তাহির সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
ইমরান তাহির একসময় পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন বেশ সুনামের সঙ্গেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একবার পাকিস্তান ‘এ’ দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন। এর পরে কিছুদিন তিনি ইংলিশ কাউন্টি লিগে ওয়ারউইকশায়ার ও পরে মিডলসেক্স, ইয়র্কশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের হয়েও খেলেছেন। ২০০৯ সালের এপ্রিলে একজন দক্ষিণ আফ্রিকান নারীকে বিয়ে করে দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন তিনি। ২০১০ সালের শুরুতেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে যেতেন, তবে সরকারিভাবে নাগরিকত্বের আবেদনের আনুষ্ঠানিকতা সারতে দেরি হওয়ায় সে সময় তাঁর আর দক্ষিণ আফ্রিকা দলের হয়ে খেলার সুযোগ হয়নি।
ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী গেরাল্ড মাজোলা শুক্রবার জানান, তাহিরের নাগরিকত্বের সব আনুষ্ঠানিকতাই সম্পন্ন হয়েছে। কেপটাউনে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টেই তাহিরের খেলার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মাস থেকে উপমহাদেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখেই ইমরান তাহিরকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার জোর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড।
ইমরান তাহির পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গেই খেলেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ১২৭টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে অংশ নিয়ে ৫৩৫ উইকেট সংগ্রহ করেন। আইসিসির নিয়মানুযায়ী পাকিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে খেলা ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকত্ব গ্রহণের মাঝখানে পাঁচ বছরের বিরতিও রয়েছে তাঁর। অতএব, ইমরান তাহির এখন দক্ষিণ আফ্রিকারই। এখন দেখা যাক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাহির দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেন কি না।

সংবিধানের অনেক বক্তব্য পারস্পরিক সংঘাতমূলক

রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হলেও সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকছে। পাশাপাশি দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু থাকলেও পুনর্বহাল হচ্ছে সমাজতন্ত্র। বাংলাদেশের নাগরিকেরা বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত হবেন বলে সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও পুনর্বহাল হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশ কলাবরেটরস (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশসংক্রান্ত সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদের ৪(ঙ) পুনর্বহাল হচ্ছে।