Sunday, August 29, 2010

জীবনের জয়গান, যৌবনের জয়গান by দীপংকর চন্দ

আগের রাতে প্রকৃতির আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। প্রবল বাতাসের প্রশ্রয়ে তা বেড়েছিল উত্তরোত্তর। বৃষ্টি-বাতাসের এই যূথবদ্ধ প্রয়াস সীমাহীন সমুদ্রের বিপুল জলরাশিকেও প্রলুব্ধ করেছিল আদিম উল্লাসে মেতে উঠতে। প্রকৃতির এই অস্বাভাবিক আচরণে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম এলজিইডি বাংলোর নিরাপদ আশ্রয়ে উঠে আসতে। তীব্র উত্কণ্ঠা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে অসময়োচিত নিদ্রার কোলে সমর্পিত করেছিলাম নিজেদের।
পরদিন সকাল হতেই প্রকৃতি অপাপবিদ্ধ শিশুর মতোই উজ্জ্বল, উচ্ছল, প্রাণবন্ত। বাতাসের আচরণ শান্ত, সমাহিত। সুতরাং আরও কিছুক্ষণ ঘুমানোর ইচ্ছে পরিত্যাগ করে বাংলো থেকে নেমে এলাম আমরা। সৈকতের স্নিগ্ধ বালুকাবেলায় পা রাখতে না রাখতেই দেখা হলো আব্বাস হাওলাদারের সঙ্গে। গঙ্গামতীর দ্বীপে বাস করা এই শীর্ণ মানুষটি মাছভর্তি হাঁড়ি কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেছেন কুয়াকাটা মত্স্য আড়তে। কী ধরনের মাছ আছে তাঁর হাঁড়িতে? আলস্য জড়ানো কণ্ঠে জানতে চাইলাম আমরা। ‘পোয়া, চান্দাগুঁড়া, ব্যোম মাইট্টা...’ বলতে বলতে আমাদের পাশ কাটিয়ে দূরে চলে গেলেন আব্বাস হাওলাদার। আমরা তাঁর গমনপথের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে সমুদ্রের দিকে চোখ ফেরালাম। সুবিশাল আকাশের সঙ্গে সমুদ্রের অন্তর্লীন সম্পর্কের যোগসূত্রটি অনুধাবনের চেষ্টা করলাম একাগ্র চিত্তে। সামান্য সময় অতিক্রান্ত হলো এভাবেই। তারপর বিরক্তিকর এক যান্ত্রিক শব্দের অনুপ্রবেশে বাধাগ্রস্ত হলো একাগ্রতার বুনন। জাকির হোসেন নামের একজন পঁচিশোর্ধ্ব যুবকের মোটরসাইকেল অনেকটা আকস্মিকভাবেই গা ঘেঁষে দাঁড়াল আমাদের। আমরা চমকে উঠলাম। কারণ নগরে এই বাহনটির অপব্যহারের হার অধিক। কর্মহীন যুবসমাজের একটি বিশেষ অংশ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে যান্ত্রিক এই বাহনটিকে। প্রজাতন্ত্রের নিরীহ নাগরিকেরা তাই এই বাহন এবং বাহনের চালক সম্পর্কে পোষণ করেন এক ধরনের আশঙ্কিত মনোভাব। কিন্তু বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলাগুলোয় প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাহন হিসেবে পরিচিত এই মোটরসাইকেল নিয়ে শঙ্কার সুযোগ তুলনামূলক কম। পটুয়াখালী, বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মহীন অসংখ্য যুবকের কাছে সত্ভাবে অর্থ উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন এই মোটরসাইকেল।
সে যা-ই হোক, মোটরসাইকেল থামিয়ে জাকির হোসেন বেশ বিনীতভাবেই কাছে এলেন আমাদের। স্বল্প ভাড়ায় সৈকত ঘুরিয়ে দেখার প্রস্তাব জানালেন। একটু ভেবে সম্মত হলাম আমরা, তবে সৈকতে নয়, সবিনয়ে জ্ঞাপন করলাম সাগরবিধৌত কুয়াকাটার লোকালয় পরিভ্রমণের ইচ্ছে। জাকির হোসেনের আপত্তি নেই তাতে। তিনি তাঁর যন্ত্রযানে বসালেন আমাদের। তারপর শুরু করলেন যাত্রা। কেরানীপাড়া, রসুলপুর, মিশ্রিপাড়া, লক্ষ্মীর বাজার, আলীপুর বাজার ঘুরে আবার আমরা ফিরে এলাম কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন বাজারে। বাজারে পৌঁছেই ভাড়া মিটিয়ে জাকির হোসেনের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যেত, কিন্তু ব্যতিক্রমী এই পেশায় জড়িত থাকা সুদর্শন যুবকটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছে হলো আমাদের। জাকির হোসেনের হাতে যেহেতু কাজ ছিল না তেমন, তাই তিনি আমাদের এই ইচ্ছেপূরণে রাজি হলেন সানন্দে। বেড়িবাঁধের ওপর মো. ইউসুফের চায়ের দোকানে বসলাম আমরা। গরুর খাঁটি দুধে তৈরি গরম চায়ে গলা ভেজাতে ভেজাতে শুরু করলাম কথোপকথন।
জাকির হোসেনের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা গ্রামেই। লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেই থাকেন তাঁরা। বাবা মো. ইউনুস মুন্সি কৃষিজীবী। যে জমিটুকু চাষ করেন তাঁর বাবা, নির্ভাবনায় সাংবাত্সরিক খোরাক চলে তাতে। কিন্তু সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য নগদ অর্থও যে চাই প্রতিদিনই! সেই অর্থের জোগান দেওয়ার জন্য কিছু জমি বিক্রি করে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমাংশের শুঁটকি বাজারে আড়ত নিয়েছিলেন জাকির হোসেন। বেশ ভালো অঙ্কের টাকাও বিনিয়োগ করেছিলেন ব্যবসায়। কিন্তু সিডর ও আইলার মতো দু-দুটো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সমস্ত পুঁজি বিনষ্ট হওয়ায় তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডের ক্ষয় চরমে পৌঁছায়। সেই ক্ষয় পূরণের লক্ষ্যে আরও কিছু ফসলি জমি বিক্রি করে মালয়েশিয়া পাঠানো হয় জাকির হোসেনের ছোট দুই ভাইকে। কিন্তু ফণা উঁচিয়ে থাকা ব্যর্থতা এবারও দংশন করে সেই উদ্যোগের ভিত্তিমূলে। স্বভাবতই ভীষণ দুর্দিন নেমে আসে জাকির হোসেনের পরিবারে। ঠিক সে সময় এক বন্ধুর পরামর্শে বরিশাল সদরে যান জাকির হোসেন। স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে এনে কুয়াকাটায় ভাড়ায় চালানো শুরু করেন। সেই মোটরসাইকেল চালিয়েই আজ তাঁর দৈনিক উপার্জন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। আর কিস্তির টাকা? চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিতে দিতে জানতে চাই আমরা। ‘হ্যাঁ, কিস্তির টাকাও প্রায় শোধের পথে। আর মাত্র কয়েকটা মাস, ব্যস!’ তারপর এই মোটরসাইকেলের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হবে তাঁর নিজের নামটি। নিকট ভবিষ্যতের সোনালি স্বপ্নজাল বুনতে বুনতে এবার উঠে দাঁড়ান জাকির হোসেন। উঠে দাঁড়ানোর কারণ আর কিছুই নয়, নতুন একজন যাত্রী তখন অপেক্ষমাণ তাঁর মোটরসাইকেলের সামনে!

সবার আগে এনবিআরকে ডিজিটাল করুন by জাকারিয়া স্বপন

দেড় বছরের বেশি সময় এই সরকার ক্ষমতায়। এই পুরো সময়টাজুড়ে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যানারের অধীনে যা করেছে, সবই বিক্ষিপ্ত। একটি লক্ষ্য নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা মোটেই মনে হয় না। তারা স্কুলে কম্পিউটার দিচ্ছে, ওয়েবসাইট বানাচ্ছে, টেন্ডার অটোমেট করছে, ভিডিও কনফারেন্স করছে, আবার অন্যদিকে ফেসবুক বা ইউটিউব বন্ধ করে দিচ্ছে, দেশীয় টেলিফোন কোম্পানি বন্ধ করে দিচ্ছে, ডিজিটাল বাজেটের মতো হাস্যকর জিনিসও জাতিকে উপহার দিচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই কৌতুকে পরিণত হয়েছে। সরকারে যাঁরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁরা আসলেই জানেন না, ঠিক কী করতে হবে। তাঁরা কোনোভাবে শব্দটা প্রচলন করে দিয়েছেন। কিন্তু তারপর ঠিক কী করতে হবে, সেই জায়গাটির পুরোটাই অস্পষ্টতায় ভরা। সেটা তাঁদের কার্যক্রম দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য সরকারের সমালোচনা করা নয়। তাদের উদ্দেশ্য যে ভালো, সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে আগামী দিনগুলোতে ঠিক কোন জিনিসগুলো করলে সেই উদ্দেশ্য সফল হতে পারে, তা বুঝে দেখাই উদ্দেশ্য।
বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার বিতরণ রুটিন কাজের আওতায়ই পড়ে। সেটা নিয়ে ঘটা করে বলার কিছু নেই। সরকার যেহেতু এই রুটিন কাজের বাইরে আরও কিছু করতে চাইছে, তাহলে তাকে আরেকটু ঠান্ডা মাথায় কিছু জিনিস ঠিক করে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। সবকিছুতে হাত দিয়ে কোনোটাই ঠিকভাবে করতে না পারলে অর্ধেক সেতু বানিয়ে কোনো লাভ নেই। ওটা দিয়ে গাড়ি বা মানুষ কোনোটাই যাতায়াত করতে পারে না। আগামী তিন বছরের জন্য তিনটি প্রধান কাজ করে যাওয়া দরকার। এগুলো হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি। এর মধ্যে প্রথম কাজ হলো এনবিআরসহ দেশের করব্যবস্থাকে পুরোপুরি কম্পিউটারাইজ করা।
এক লাইনে কথাটি খুব ছোট কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. বাংলাদেশের কতজন লোক ঠিকঠাক কর দেন তা এক বিরাট রহস্য। ১০ লাখের মতো লোকের টিন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) আছে। আবার একই লোকের একাধিক টিন আছে। ঘুষ দিয়ে একটা টিন বের করা যে কত সহজ, সেটা বোধ করি এনবিআরের চেয়ারম্যান সাহেব এবং স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও জানেন। এটা কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। যদি ১৬ কোটি দেশের মানুষের ভেতর ১০ লাখ লোক ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে সেটাই আমরা মেনে নেব। কিন্তু সংখ্যাটি যা-ই হোক, সেটা নির্ভুল করব। এখানে সমঝোতা করলে চলবে না।
২. সরকার কর দেওয়ার যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছে, তার আওতায় পড়ার পরও যাঁরা টিন নম্বর নেননি, তাঁদের একটি দিন-তারিখ বেঁধে দিন। এরপর যদি আবিষ্কার হয় যে তাঁরা তা দেননি, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁদের আবেদন করতে বলুন। ঘরে বসেই তাঁরা তাঁদের আবেদন করতে পারবেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা সেটা পরীক্ষা করে তাঁকে টিন নম্বরের চিঠি পাঠিয়ে দেবেন। এটা নিশ্চিত করতে পারলে একটা সঠিক সংখ্যায় উপনীত হওয়া যাবে। তবে প্রথম বছরেই সব হবে না। পদ্ধতিটি এ বছরই শুরু করতে হবে।
৩. প্রত্যেক ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও এর আওতায় আসতে হবে।
৪. যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং পরিচালনা করতে হলে তার একটি আইডি লাগবে। সেটা হতে পারে এই টিন নম্বর। আর যদি হয় সেটা ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’, তাহলে টিন নম্বর খোলার সময় এই জাতীয় পরিচয় নম্বরটিও রাখতে হবে। সোজা কথা হলো, টিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটাকে ফ্রিজ করা যেতে পারে। আর ব্যাংকগুলোকেও সেটা মেনে চলতে হবে।
৫. পাঁচ লাখ টাকার ওপর কোনো লেনদেন হলেই ব্যাংক সেটা এনবিআরকে জানাতে বাধ্য থাকবে। ব্যাংকগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটা এনবিআরে চলে যাবে। এনবিআরের কম্পিউটার সিস্টেম সেভাবেই উন্নত করতে হবে।
৬. ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্যাক্স ফাইল করা যাবে। যাঁরা কাগজের মাধ্যমে ট্যাক্স ফাইল করবেন, সেগুলো এনবিআর অফিসে ডেটা এন্ট্রির মাধ্যমে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। মোট কথা, পুরো সিস্টেমটাই হবে আগাগোড়া কম্পিউটার দ্বারা পরিচালিত।
৭. রাষ্ট্রের যতগুলো জায়গায় কাস্টমস অফিস আছে সেগুলো এবং ভ্যাটের কাঠামো এই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে। আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি তথ্য এখানে লিপিবদ্ধ থাকবে।
৮. দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন টেলিফোন সেবার আওতায় রয়েছে। দেশের সবচেয়ে সুন্দর ডিজিটাল সিস্টেম হলো এই টেলিকম কোম্পানিগুলো। তারা প্রতিটি পদে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। তারা সবকিছুই ভালো করে, কিন্তু একটি কাজ ঠিকমতো করে না। প্রত্যেক গ্রাহককে তাঁদের জাতীয় পরিচয় নম্বরটি এন্ট্রি করতে বলা হলেও তাঁরা সেটা করেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুয়া এন্ট্রি দিয়ে থাকেন। ছবির কথা আর না-ই বা বললাম। এনবিআরের এই ডেটাবেইসের সঙ্গে টেলিফোন কোম্পানির গ্রাহকদের একটা যোগ থাকতে হবে। টেলিফোন কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সবকিছু ডেটাবেইসে রাখে। ওটার সঙ্গে এনবিআরের সিস্টেমের যোগাযোগ তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়।
৯. এই পুরো সিস্টেম মনিটর করার জন্য সরকারের বিভিন্ন শাখাকে সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগ সেই তথ্যভান্ডার থেকে প্রয়োজনমতো নিজের মতোই রিপোর্ট বের করে নিতে পারবে। এর জন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। তবে সবার সব তথ্য জেনে ফেলার অধিকার দেওয়া ঠিক হবে না। আবার একজনের কাছে সব তথ্য থাকবে, সেটাও সঠিক নয়। এটা হলো চেক অ্যান্ড ব্যালান্স।
আগামী এক বছরে এই একটি কাজের অধীনে অনেক ছোট ছোট কাজ রয়েছে। এবং এই কাজগুলো মোটেও সহজ নয়। অন্তত স্কুলে কম্পিউটার বিতরণ কিংবা সভা-সমিতিতে গলা ফাটানোর চেয়ে অনেক কঠিন কাজ। এর জন্য সরকারের মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হতে হবে। হাজারো বাধা বিভিন্ন দিক থেকে আসতে শুরু করবে। কিন্তু আমাদের কাউকে না কাউকে এই কঠিন কাজ করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন এই জিনিস করতে গেছে, তারাও বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি পড়েছে; তবে কাজটি করেছে।
তবে সরকার যখনই এ ধরনের প্রকল্পের কথা ভাববে, তখনই তারা বিদেশি সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বসে থাকে। বিদেশি উপদেষ্টারা এসে সেই টাকা লুটেপুটে খেয়ে চলে যান। নিজের দেশের সম্পদ দিয়েই যে এ কাজগুলো করা যায়, সেটা সরকার ভেবে দেখে না কিংবা সাহস করে না। এ কাজটি দেশীয় সম্পদ দিয়েই করা সম্ভব। সরকারের নিজের লোকবলে না কুলালে প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় খুব সহজেই এটা করা সম্ভব। এই সিস্টেমের ফলে সরকারের যে বাড়তি টাকা উপার্জন হবে, সেটার খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে শেয়ার করলেই এটা হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই পার্টনারশিপ হতে পারে। একেকটি প্রতিষ্ঠানকে একেকটি বিভাগীয় এলাকা কিংবা জোনে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। ইচ্ছে থাকলে বাস্তবসম্মত কত উপায়ই না বের করা যায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে নানা স্লোগানমুখী সস্তা কার্যক্রম বাদ দিয়ে পুরো বছরটিতে দেখুন এই একটি কাজ করতে পারেন কি না।
জাকারিয়া স্বপন: তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।
zakariaswapan@hotmail.com

মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মাহে রমজান -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের নীতি-আদর্শ দ্বারা পরিচালিত জীবনব্যবস্থা নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এ মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালোমন্দ বিচার করা হয়। তাই সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সত্যবাদিতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, সদাচরণ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি। ইসলাম মানবজাতিকে এসব মহৎ গুণ অর্জনের জন্য আজীবন প্রয়াস চালাতে বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের ভিত্তি। সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ এবং কর্মকাণ্ড যেসব ইসলামি নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের সমষ্টিই সামাজিক মূল্যবোধ। জীবনে কোনো প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন থাকবে না, মানুষ স্বার্থপরতা-সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকবে—এটি ইসলামের শিক্ষা। যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবহারের সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে স্নেহ, মায়া-মমতা, সততা, সম্প্রীতি প্রভৃতি সৃষ্টি হয়। এমন হলে সেখানে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিদ্যমান আছে বলে মনে হয়। নৈতিক আদর্শসংবলিত সমাজে কোনো অনাচার থাকবে না। ঘুষ, দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষণ, স্বার্থপরতা এসব কুপ্রবৃত্তি থেকে সমাজ মুক্ত থাকলেই তাতে নৈতিকতার আদর্শ প্রতিফলিত হয়। সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত জীবনই আদর্শ জীবন। নীতি থেকে বিচ্যুত জীবন কখনোই আদর্শরূপে গণ্য হতে পারে না। নবী করিম (সা.) মানবজাতিকে অন্যায় প্রতিরোধের শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কাউকে অন্যায় কাজ করতে দেখে তাহলে সে যেন তার শক্তি দ্বারা তা প্রতিহত করে, যদি সে তাতে অক্ষম হয়, তবে মুখ দ্বারা নিষেধ করবে, যদি সে তাতেও অপারগ হয় তবে সে অন্তর দ্বারা ঘৃণা পোষণ করবে।’ (মুসলিম)
বর্তমান সমাজে নানা রকম দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটায় নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে দুর্নীতির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কোনো প্রকার অন্যায়ই যেন অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না। নীতিভ্রষ্ট মানুষ নিজেকে অপরাধী বা হীন বলে গণ্য করে না। দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়েও সংকোচবোধ করে না বরং অর্থের অহংবোধে গৌরবান্বিত হয়। সমাজে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও আত্মসাতের প্রতিযোগিতা চলছে। সীমাহীন দুর্নীতি সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে সমাজ জীবনকে কলুষিত করে ফেলছে। অথচ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের ধন-সম্পদ গ্রাস করো না।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-২৯)
বর্তমান সমাজে মানুষ দারুণভাবে নৈতিকতার অভাব অনুভব করছে। নৈতিক মূল্যবোধ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি খুন-খারাবি, অপরাধ, দুর্নীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সুদ, ঘুষ, কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, লোভ, লালসা, নারী নির্যাতন, অধিকার আদায়ের নামে নারী জাতিকে ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার প্রভৃতি অনৈতিক কার‌্যাবলি আজকের সমাজকে সম্পূর্ণরূপে কলুষিত করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় ইসলামে যে আদর্শ নৈতিকতা রয়েছে তা গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সুন্দর ও মধুময় হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। সামাজিক ঐক্য ও নিরাপত্তা বিধানে এবং একটি সংঘাতমুক্ত গঠনমূলক আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে মাহে রমজান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রমজান মাসে কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তিরা অপরের বদনাম ও কুটনামি থেকে বিরত থাকেন। তারা সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, ফিতনা-ফ্যাসাদ, অযথা বাগিবতণ্ডা ও যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন। তাদের মুখ থেকে কোনো প্রকার অশ্লীল কথা বের হয় না। যদি কোনো রোজাদার লোককে কেউ গালিগালাজ ও ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায়, তখন সেই রোজাদার যদি উত্তেজিত না হয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও গালিগালাজ থেকে দূরে সরে যান, তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় না এবং একটি আদর্শ নৈতিকতাপূর্ণ সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো দিন রোজা রাখে তখন তার মুখ থেকে যেন কোনো রকম খারাপ কথা ও শোরগোল বের না হয়। যদি কেউ তাকে গালিগালাজ করে বা ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায় তখন সে যেন বলে, ‘আমি রোজাদার ব্যক্তি।’ (বুখারি)
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের মধ্যে মানববন্ধন গভীর হয়, মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হয়। দেশের জন্য ভালোবাসা জন্মে। সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের প্রতি সদাচরণ করতে শেখায়, জীবনে শৃঙ্খলা আনে এবং মানুষকে পরিপূর্ণ হতে সাহায্য করে। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির অভাব, কর্তব্যে আন্তরিকতার বদলে দায়সারাভাব, স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যাপক তত্পরতা, জনকল্যাণের প্রতি অনীহা—এসব মূল্যবোধহীনতা মানুষের জীবনকে অশান্তিময় করে তোলে। সুশৃঙ্খল পরিবেশ সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা বা অসংগতি বৃদ্ধি পায়। পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার অভাবে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ প্রভৃতি অনাচারের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্রের অন্যতম ভূষণ ছিল ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘সহনশীলতা অপেক্ষা অধিক উত্তম ও অত্যধিক কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দান করা হয়নি।’ (বুখারি)
রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, উদারতা, সততা, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ মাসটি ধৈর্য অবলম্বনের মাস। ধৈর্যধারণের বিনিময়ে নির্ধারিত রয়েছে অতুলনীয় শান্তির আবাস বেহেশত। তাই এ মাসটির পরিচয় তুলে ধরে ধৈর্য ও সবরের গুরুত্ব প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এটা ধৈর্যের মাস, আর সবরের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।’ (মিশকাত) মাহে রমজানে কঠোরভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য ও সহনশীলতার যে মানবিক গুণটি অর্জিত হয়, তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের গুণই নয় বরং এ মহৎ গুণটি কারও মধ্যে সৃষ্টি হলে ঈমানদারের সমষ্টিগত জীবনে অপরের জন্য তা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, মানুষকে কঠিন ও দুর্গম পথ পরিক্রমায় চলতে শক্তি জোগায়। রোজা পালনের মাধ্যমে অর্জিত ধৈর্য ও সহনশীলতা ঈমান ও তার ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সাধনায় প্রচুর নিয়ামক শক্তি সঞ্চার করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত সহনশীলতা তাই শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই বয়ে আনে না বরং মুসলমান সমাজের জন্য একটি দলগত কল্যাণ বয়ে আনে। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘অবশ্যই ধৈর্যশীলদের তাদের (ধৈর্যের) প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা হবে।’ (সূরা আল-জুুমার, আয়াত-১০)
নবী করিম (সা.) নিজেকে ইসলামি নীতিবোধ অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন এবং সাহাবীগণ সে অনুযায়ী নিজেদের চরিত্রকে গঠন করতে উপদেশ দিয়েছেন। ইসলামি রীতিনীতি ও নৈতিকতাবোধ জীবনে বাস্তবায়ন করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল খুশি হন এবং ইহকাল ও পরকালে চরম সুখ ও পরম শান্তি লাভ করা যায়। দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য জাতীয় জীবন থেকে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সমাজের সর্বস্তর থেকে সর্বপ্রকার দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হবে। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষকে জান-মাল ও জীবিকার পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন সুদক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম-দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে হবে। সুতরাং আজকের সমাজও যদি ইসলামের সর্বজনীনতাকে মেনে নিয়ে ইসলামি বিধি-বিধান ও অনুশাসনকে রোজাদারদের জীবন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে, তবেই সমাজ থেকে যাবতীয় অনৈতিকতা দূর হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি -আদিবাসীদের শঙ্কা আমলে নিতে হবে



বেশ কিছুদিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হলেও কাজ শুরু করতে পারেনি নানা জটিলতার কারণে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বক্তব্য ছিল, ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির আগে জরিপ হলে দখল হয়ে যাওয়া জমির ওপর আদিবাসীরা চিরতরে অধিকার হারাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ভারত-প্রত্যাগত ও অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের পুনর্বাসনের কথা ছিল। কিন্তু অধিকাংশ আদিবাসী হারানো সম্পত্তি ফিরে পায়নি। তাদের জমিজমা এখনো বাঙালিদের দখলে রয়েছে।
অনেক দেনদরবারের পর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পুরোনো আইনে বন্দোবস্ত, বিরোধ নিষ্পত্তি, পুনর্বাসিত শরণার্থী, দখল-বেদখল ও আবেদনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে যেসব অসংগতি রয়েছে, তা দূর করা হয়েছে। এটি ইতিবাচক বলেই আমাদের ধারণা। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিবিরোধের অবসান ঘটাতে পারবে কি না, সেটি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সদিচ্ছার ওপর। এ ক্ষেত্রে ভূমি কমিশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মধ্যে আস্থার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। উভয় পক্ষ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে সমস্যার সমাধান কঠিন হবে না।
এর পাশাপাশি সরকার বিরোধহীন ভূমি জরিপের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতেও কোনো সমস্যা দেখি না। এর প্রতি আদিবাসীদের যেমন সমর্থন জানানো উচিত, তেমনি প্রশাসনেরও কর্তব্য হবে তাদের শঙ্কা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। মনে রাখা প্রয়োজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার মূল কারণ ভূমির ওপর আদিবাসীদের অধিকার হারানোর আশঙ্কা। এরই মধ্যে তাদের অনেক জমি দখল হয়ে গেছে। সেই সব সম্পত্তি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের শঙ্কা কাটবে না। নিজ দেশে তারা পরবাসী হয়ে থাকবে, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম-গোত্রনির্বিশেষে দেশটি সবার। পাহাড়ে আবার যাতে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নও জরুরি।

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় -গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে হবে

মাননীয় হাইকোর্ট সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন অবৈধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তত্কালীন সেনাবাহিনীর প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সাংবিধানিক সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা দখল এবং ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক বিধি, আদেশ ও ফরমানবলে দেশ শাসন করেন। সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাঁর এসব অসাংবিধানিক কার্যক্রমের সাংবিধানিক বৈধতাও দেওয়া হয়েছিল, যা আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনবিদেরা হাইকোর্টের রায়কে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমরাও এই রায়কে স্বাগত জানাই। অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল বন্ধে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা। সংবিধানের কোথাও সামরিক শাসনের কথা নেই। ফলে কোনো সংশোধনী দিয়ে তাকে জায়েজ করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে অবৈধ ক্ষমতা দখল রোধে সংসদ সংবিধান বা দণ্ডবিধিতে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর শাস্তি নির্ধারণ করতে পারবে বলে আদালত যে মন্তব্য করেছেন, তাও তাত্পর্যপূর্ণ। দেশে বন্দুকের নলের মুখে প্রথম অসাংবিধানিক শাসন চালু হয় ১৯৭৫ সালে, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি সায়েম ও জিয়াউর রহমানের ক্ষমতারোহণও ছিল অসাংবিধানিক। অপর একটি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত এই তিন ব্যক্তির শাসনামলকে বৈধতাদানকারী পঞ্চম সংশোধনীকেও অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সব সামরিক শাসকই সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী। কিন্তু মোশতাক ও জিয়া কেবল সংবিধান স্থগিত করে ক্ষান্ত হননি, তাঁরা সংবিধানের মৌলিক নীতিও পরিবর্তন করেছেন। ঘাতকদের দায়মুক্তি দিয়েছেন। আদালত এসব পদক্ষেপকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণার পর সবারই ধারণা হয়েছিল, সপ্তম সংশোধনীর পরিণামও ভিন্ন কিছু হবে না। কেননা দুটি মামলায়ই দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের ওপর অন্য কোনো আইন বা কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের জন্য এই রায় মহা সতর্কসংকেত এবং বিচারের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করতে সাহস পাবে না।
সভ্য দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা সামরিক আইন অচল। আমাদের সংবিধানে বাংলাদেশকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণই এর মালিক। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী খেয়ালখুশিমতো দেশ চালাতে পারে না। পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে উচ্চ আদালত সেই সত্যই দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। জনগণের প্রত্যাশা, সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা একযোগে কাজ করবেন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, সে ব্যাপারেও তাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

আব্বাসের সঙ্গে দুই সপ্তাহ পরপর বসতে চান নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এ ছাড়া দুই সপ্তাহ পর পর তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলেও ঠিক করেছেন। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার বিষয়টিকে নেতানিয়াহু খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
জেরুজালেম পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠককালে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি দুই সপ্তাহ পর পর মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসতে চান।

কেনিয়া সফরে গেলেন বশির

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও গতকাল শুক্রবার কেনিয়া সফরে গেলেন সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর প্রদেশে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এই আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করতে কেনিয়া আইনগতভাবে বাধ্য। এদিকে কেনিয়ার নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়েছে।
কেনিয়ার নতুন সংবিধান কার্যকর করা উপলক্ষে দেশটির রাজধানী নাইরোবির উহুরু পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট বশির। যদিও কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা জানান, বশির অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে গিয়ে অবস্থান নেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বশিরকে নিরুদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। হাসিমুখে অন্যান্য আফ্রিকান নেতার সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেছে তাঁকে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট বশিরকে গ্রেপ্তার করতে কিংবা তাঁকে কেনিয়ায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
কেনিয়ায়নতুন সংবিধান কার্যকর
এদিকে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াই কিবাকি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংবিধান চালু করার কথা ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মুয়াই কিবাকি.., ঘোষণা করছি যে, এটা হবে কেনিয়ার নতুন সংবিধান। ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট থেকে এই সংবিধান কার্যকর হবে।’
জাতীয় গণভোটে বিপুলভাবে অনুমোদনের তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কেনিয়ার নতুন সংবিধান কার্যকর করা হলো। নতুন সংবিধান অনুযায়ী কেনিয়ার রাজনৈতিক পদ্ধতির আরও বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে। এতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমবে।
নতুন সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের দ্বিতীয় কক্ষ সিনেটের আবির্ভাব হবে। ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও অতীত প্রবঞ্চনা পর্যালোচনার জন্য একটি ভূমি কমিশন গঠন করা হবে।
যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ২০০৯ সালের মার্চে বশিরের বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আইসিসি। পরে গণহত্যার অভিযোগে ২০১০ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয় বারের মতো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি যুবককে ছুরিকাঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মদ্যপ যুবকের হাতে বাংলাদেশি ক্যাবচালক আহমেদ শরীফ ছুরিকাহত হয়েছেন। গত বুধবার ছুরিকাহত হওয়া আহমেদ শরীফ (৪৪) সপরিবারে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের সঙ্গে সিটি হলে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। হামলাকারী যুবককে পুলিশ আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে।
আহমেদ শরীফ জানিয়েছেন, মাইকেল এনরাইট (২১) নামের ওই যুবক তাঁর ট্যাক্সিতে ওঠার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁকে বেপরোয়াভাবে কোপাতে থাকেন। শরীফের চিত্কার শুনে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার ও এনরাইটকে আটক করে। পুলিশ বলেছে, এনরাইট মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে বর্তমানে মানসিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। মাইকেলমুসলিমবিদ্বেষীহতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকাভুক্ত মুসলিম সম্প্রদায় ৫১টি

পশ্চিমবঙ্গে আরও আটটি মুসলিম সম্প্রদায়কে অনগ্রসর শ্রেণীভুক্ত (ওবিসি) করা হয়েছে। এতে ওবিসি তালিকাভুক্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১টি।
তালিকাভুক্ত মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ। নতুন করে তালিকাভুক্ত অনগ্রসর আটটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে দর্জি বা ওস্তাগার বা ইদ্রিসী, রাজমিস্ত্রি, ভাটিয়াড়া, ঢালি, তালপাখা বেনিয়া, মোল্লা, মুসলিম পেয়াদা ও বারুই। এর মধ্যে মোল্লাদের সংখ্যা বেশি। তাদের সংখ্যা ১৫ লাখ। নতুন তালিকাভুক্ত আট সম্প্রদায়ে মোট ২২ লাখ সদস্য রয়েছে।
ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত লোকজন চাকরি, শিক্ষা ও ব্যাংক ঋণের ব্যাপারে আর্থিক সুযোগসুবিধা পেয়ে থাকে। রাজ্যে এত দিন চাকরির ক্ষেত্রে সাত শতাংশ পদ ওবিসিভুক্তদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। রাজ্য সরকার সম্প্রতি এই সংরক্ষণের হার আরও ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে।

কঙ্গো হত্যাকাণ্ড গণহত্যার শামিল: জাতিসংঘ

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ১৯৯০ সালে রুয়ান্ডা সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী কঙ্গোর বিদ্রোহীরা হুতো শরণার্থীদের যেভাবে হত্যা করেছিল, সেটাকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা যাবে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।
রুয়ান্ডা সেনাবাহিনীতে আধিপত্য বিস্তারকারী তুতসিগোষ্ঠী হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ হুতো সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তার তদন্ত শেষে তৈরি করা এক খসড়া প্রতিবেদনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়।
১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তদন্ত করে তৈরি করা এই খসড়া প্রতিবেদন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। রুয়ান্ডা ইতিমধ্যে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও বিবিসি ইতিমধ্যে প্রতিবেদনটি হস্তগত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুয়ান্ডা সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী কঙ্গো বিদ্রোহীরা সে সময় প্রায় আট লাখ হুতোকে হত্যা করে। তখন কঙ্গো বিদ্রোহীদের নেতা ছিলেন কঙ্গোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লরা কাবিলার বাবা জোসেফ কাবিলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতোদের শনাক্ত করার জন্য তখন নানা জায়গায় তল্লাশি চৌকি বসানো হতো। এরপর হুতোদের ধরে ধরে হত্যা করা হতো।
এদিকে ফ্রান্সের লা মঁদ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা না হলে দারফুরে মোতায়েন রুয়ান্ডার শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পল কাগামি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনলাইন নেটওয়ার্ক এতই অরক্ষিত

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনলাইন নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়েছে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হ্যাকাররা। ২০০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ল্যাপটপে ত্রুটিপূর্ণ ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে এ তথ্য প্রকাশ করেন পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উইলিয়াম লিন। লিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি।
উইলিয়াম লিন জানান, ওই ফ্ল্যাশ ড্রাইভে ক্ষতিকর কোড লেখা ছিল। ওই কোড মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন-ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন-ব্যবস্থায় ঢুকে গোপন নথি চুরি করে। তবে কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বা এতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
লিন আরও জানান, শতাধিক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি সরকার ইতিমধ্যে মার্কিন তথ্যব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার সামর্থ্য অর্জন করেছে। প্রতিবছরই হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার প্রচুর তথ্য চুরি করে। এসব তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসকে কয়েকবার পূর্ণ করা যাবে।
ওই প্রতিবেদনে লিন সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিমান বা বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ তৈরি না করেই মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানের সেনা পদ থেকে ‘পদত্যাগ’

মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীর পদ থেকে ‘পদত্যাগ’ করেছেন বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। দুই দশকের মধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার তাঁরা পদত্যাগ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপিও একজন সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, আগামী ৭ নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিতে জেনারেল থান শয়ে ও তাঁর সহকারী জেনারেল মং আয়েসহ অন্তত ১৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁদের সামরিক বাহিনীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জেনারেল থান শয়ে স্বেচ্ছায় সম্পূর্ণ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চাইছেন না। তিনি নির্বাচনের পর বেসামরিক রাষ্ট্রপতি হতে আগ্রহী হতে পারেন।
সামরিক জান্তা জানিয়েছে, মিয়ানমারের ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বেসামরিক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের জন্য আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সমালোচকেরা একে প্রহসনের নিবাচন বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মিয়ানমারের নির্বাসিত ব্যক্তিদের ওয়েবসাইট দ্য ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল থান শয়ে তাঁর সামরিক বাহিনীর পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।
‘দ্য ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা’র ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জেনারেল থান শয়ে ও জেনারেল মং আয়ে জান্তা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) যথাক্রমে সভাপতি ও সহসভাপতি হতে পারেন।
গত এপ্রিল মাসে সামরিক নেতৃত্ব থেকে জ্যেষ্ঠ ২৭ কর্মকর্তার অবসরের পর জান্তা সরকার দ্বিতীয় দফা তাদের পদ পুনর্বিন্যাস করল বলে মনে করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তারাও নভেম্বরের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
৭৭ বছর বয়সী জেনারেল থান শয়ে ১৯৯২ সাল থেকে মিয়ানমার শাসন করছেন। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয়ী হয়। কিন্তু সামরিক বাহিনী তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।
সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া সু চির দল এনএলডি এর আগে জানিয়েছিল, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। মিয়ানমারের নতুন সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে এবং পার্লামেন্টে সামরিক বাহিনীর জন্য এক-চতুর্থাংশ আসন বরাদ্দ থাকবে।

স্বতন্ত্রদের গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি মেনে নিলেন অ্যাবট

অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীলেরা গতকাল শুক্রবার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় এই স্বতন্ত্র বিজয়ীরা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন। তাঁরাই নির্ধারণ করবেন পরবর্তীকালে কোন দল সরকার গঠন করবে।
লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের প্রধান টনি অ্যাবট চার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা ও গ্রিন পার্টির এমপি অ্যাডাম ব্যান্ডটের সমর্থনলাভের চেষ্টায় রাজস্ব বিভাগকে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিতে রাজি হয়েছেন।
নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের লেবার পার্টি ও টনি অ্যাবটের জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়।
টনি অ্যাবট প্রথমে তাঁর কর্মসূচি রাজস্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এতে স্বতন্ত্র এমপিরা প্রশ্ন তোলেন, তাঁর হয়তো লুকানোর মতো কিছু আছে। গ্রিন পার্টির অভিযোগ, অ্যাবট দেশকে আবারও নির্বাচনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন।
৮৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অ্যাবটের নেতৃত্বাধীন জোট ৭৩টি আসন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের লেবার পার্টি পেয়েছে ৭২টি আসন। গ্রিন পার্টির এমপি অ্যাডাম ব্যান্ডট প্রধানমন্ত্রী গিলার্ডকে সমর্থন করতে পারেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণ করা হচ্ছে।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী পিয়ংইয়ং

উত্তর কোরিয়ায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন মার্কিন নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে গতকাল শুক্রবার পিয়ংইয়ং থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। এ ছাড়া তিনি উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েও যাচ্ছেন যে দেশটি আবারও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী।
চীন থেকে অবৈধভাবে উত্তর কোরিয়ায় অনুপ্রবেশের দায়ে গত এপ্রিলে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক আইজালোন মাহলি গোমেজকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কার্টার সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কার্টারের অনুরোধ ও মানবিক কারণে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল গোমেজকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
গত জানুয়ারি মাসে গোমেজকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আট বছরে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া গোমেজকে প্রায় ছয় লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছিল।
কার্টার সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে গোমেজের বোস্টনে পৌঁছার কথা।
গোমেজের মুক্তির চেষ্টায় গত বুধবার ব্যক্তিগত মিশনে পিয়ংইয়ং গিয়ে পৌঁছান কার্টার।
এদিকে গতকাল উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমে বলা হয়, কার্টারের মাধ্যমে ছয় পক্ষীয় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা আবারও শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পিয়ংইয়ং। গত বছরের এপ্রিল থেকে আলোচনা থমকে আছে।
আগেও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আলোচনা শুরুর ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ধরনের আলোচনা শুরুর জন্য দেশটির পক্ষ থেকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়; যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যা নাকচ করে দেয়।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিনিময় কার্যক্রম বাতিল করল ভারত

চীন সরকার ভারতের একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নয়াদিল্লি বেইজিংয়ের সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা বিনিময় কার্যক্রম বাতিল করে দিয়েছে। চলতি মাসেই ভারতের সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় জেনারেল অফিসার কমান্ডার ইন চিফ (জিওসি ইন সি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস যশওয়ালের এক সরকারি সফরে চীন যাওয়ার কথা ছিল। তবে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যশওয়াল জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বে থাকার কারণে তারা তাঁকে ভিসা দিতে পারছে না। এর পরপরই ভারতের পক্ষ থেকে দুই দেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিনিময় কার্যক্রম বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরকে অমীমাংসিত ভূখণ্ড মনে করে এবং ওই অঞ্চলের একাংশকে নিজের বলেও দাবি করে। জেনারেল যশওয়ালের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ব্যাখ্যা দিয়ে চীন বলেছে, তিনি জম্মু-কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকার কারণে বেইজিং তাঁকে স্বাগত জানাতে অক্ষম।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার জেনারেল যশওয়ালের চীন সফর বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং একই সঙ্গে ভিসা না দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়াদিল্লি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী দুই চীনা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার ভিসার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে একদল ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার চীন সফরের যে পরিকল্পনা ছিল, তাও বাতিল করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো রকম কূটনৈতিক সাবধানী বক্তব্যের আশ্রয় না নিয়ে দিল্লি বেইজিংকে সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে জেনারেল যশওয়ালকে ভিসা না দেওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই চীনা কর্মকর্তাদের ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের চীন সফর বাতিল করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের এ আচরণকে ভারত উসকানিমূলক এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করছে। ভারত মনে করছে, চীনের বিবেচনায় কাশ্মীরের চেয়েও স্পর্শকাতর অঞ্চলের দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তার বেইজিং সফর করার নজির রয়েছে।
২০০৯ সালের আগস্টে তত্কালীন পূর্বাঞ্চলীয় জিওসি ইন সি এবং ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি কে সিং প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চীন সফর করেছিলেন। সে সময় তাঁর আওতাধীন এলাকার মধ্যে চীনের সীমান্তসংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশও ছিল। আর অরুণাচলের এক বড় অংশকে চীন নিজের বলে দাবি করে আসছে। ভারত মনে করছে, এখনো অরুণাচল প্রদেশের বর্তমান জিওসি ইন সি জগিন্দর যশোবন্ত সিং যদি চীন সফর করতে চান, তাহলে তাঁকেও বেইজিং বাধা দেবে না। কেবল কাশ্মীরের কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে।
ভারত মনে করে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চীন ভারতকে কোণঠাসা করতে চাইছে। ২০০৮ সালে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানকে বাঁধ নির্মাণে সহায়তা দেওয়ার সময় ভারত তার তীব্র সমালোচনা করেছিল।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করায় চীন এর সমালোচনা করে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় এ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।

বুকোলা আসলে কার

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে গত দুই মৌসুম মোহামেডানের জার্সি গায়ে খেলেছেন বুকোলা ওলালেকান। এই সময় বিদেশি স্ট্রাইকারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এই নাইজেরিয়ানকে দলে পেতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও পুনর্গঠিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র।
শেখ জামালের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিমের (হেলাল) দাবি, ‘আমাদের সঙ্গে বুকোলার চূড়ান্ত কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, সে ১৫ সেপ্টেম্বর আসবে।’ ওদিকে মুক্তিযোদ্ধার কোচ মারুফুল হক বলছেন, ‘বুকোলা মুক্তিযোদ্ধায় খেলবে। তার সঙ্গে আমাদের চূড়ান্ত আলোচনা হয়ে গেছে এবং সব প্রক্রিয়াও সম্পন্ন।’
দুই দলই যেভাবে জোর দিয়ে বলছে, তাতে ব্যাপারটা পুরোপুরি নির্ভর করছে বুকোলার ওপর। শেখ জামালের দাবি, তাদের প্রস্তাবটাই নাকি বেশি লোভনীয়। তা জেনেও মুক্তিযোদ্ধা বলছে, বুকোলা বাংলাদেশে খেললে মুক্তিযোদ্ধাতেই খেলবে। বুকোলাকে শেষ পর্যন্ত কোন দল পায়, তা বলা কঠিন।
দেশের প্রায় সব তারকা খেলোয়াড় নিয়ে বড় বাজেটের দল গড়ার পর শেখ জামালের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বিদেশি কোচ দূরের কথা বিদেশি খেলোয়াড়ও আনবে না তারা। দেশের সেরা দুই স্ট্রাইকার এমিলি ও এনামুলকে নেওয়ার পরও বিদেশির দিকে হাত বাড়াল শেখ জামাল। তবে একজনের বেশি বিদেশি আনার পরিকল্পনা দলটির নেই। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক সার্বিয়ান কোচ জোরান জর্জেভিচের দুই সহকারী কার্লোভিচ ও দাবরকে কোচ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা আনছে শেখ জামাল।
ইব্রাহিম-সামাদরা এসেছেন: ওমান লিগে খেলা স্ট্রাইকার তুরাম ও ঘানার স্থানীয় লিগে খেলা মিডফিল্ডার ইউসুফ আমিনুকে নিয়ে কাল রাতে ঢাকায় এসেছেন আবাহনীর পুরোনো দুই ঘানাইয়ান সামাদ ইউসুফ (ডিফেন্ডার) ও আউডু ইব্রাহিম (স্ট্রাইকার)। নতুন দুজনকে ট্রায়ালে দেখবে আবাহনী, পছন্দ হলে নিবন্ধন।

ডিএসই: গত এক সপ্তাহে কমেছে সাধারণ সূচক ও বাজার মূলধন দুই-ই

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) গত এক সপ্তাহে বেশ অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে। সপ্তাহজুড়েই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরে উত্থান-পতন লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া বাজার মূলধনও কমে যায় গত সপ্তাহে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক ৮৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে গেছে। সপ্তাহের শুরুতে সাধারণ মূল্যসূচক ছিল ৬৭৪৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট। যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৬৬৫৩ দশমিক ২৯ পয়েন্টে। যা শতকরা হিসেবে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে বাজার মূলধনেও পতন লক্ষ করা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে বাজার মূলধন তিন লাখ এক হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা হলেও, সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার সেই মূলধন ১ দশমিক ২২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় দুই লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকায়।
গত সপ্তাহে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে গেছে। এক সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ২৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এর পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
গত সপ্তাহে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, বিএসআরএম স্টিল, নাভানা সিএনজি ও আফতাব অটোমোবাইলস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেয়া কসমেটিকস, ফাইন ফুডস লিমিটেড, ঢাকা ডাইং, হাক্কানী পালপ অ্যান্ড পেপার ও বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রডস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো—এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনস্যুরেন্স, কনফিডেন্স সিমেন্ট, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি।

তাঁদের জন্য পেলে-ম্যারাডোনা

মাথার ওপর দুই হাজার ৩০০ ফুট মাটি; তার ওপর আলো-বাতাস। গত ৫ আগস্ট থেকে পাতালসম দূরত্বের এই খনিতে আটকে আছেন চিলির ৩৩ জন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক তত্পরতা শুরু হয়েছে, শুরু হয়েছে এই সংগ্রামী শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। কিন্তু সবকিছুর পরও তাঁদের উদ্ধার পেতে আরও মাস তিন-চারেক সময় লাগবে। তত দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার মনোবল থাকবে তো?
সেটা নিশ্চিত করতেই পেলে-ম্যারাডোনার শরণাপন্ন হয়েছেন এই শ্রমিকদের আত্মীয়স্বজন। না, এই দুই ফুটবল কিংবদন্তি সশরীরের খনিবন্দী শ্রমিকদের সামনে হাজির হচ্ছেন না। পাঠানো হচ্ছে তাঁদের কিছু বাছাই করা ভিডিও ফুটেজ। কারণ চিলির এই মানুষগুলোও লাতিন আমেরিকার আর সবার মতো ফুটবল-ভক্ত।
চিলিতে আটকে পড়া এই শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নাসার পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বের হয়ে আসার আগ পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে। এই পাইপলাইন দিয়েই শ্রমিকদের জন্য খাবার, ওষুধসহ কিছু বিনোদনের জিনিসপত্র পাঠানো হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে ছোট্ট একটা প্রজেক্টর। সেই প্রজেক্টরেই দেখার জন্য পাঠানো হচ্ছে পেলে, ম্যারাডোনা ও রোনালদিনহোর ভিডিও।
ফুটবলের ক্ষমতাটা আসলেই যেন অসীম!

মরিনহো-যুগ শুরুর অপেক্ষায় রিয়াল

হোসে মরিনহো আসায় বড় উপকার হলো বার্সেলোনার। বার্সেলোনা! মরিনহো তো কোচ হয়ে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদের। তাতে বার্সেলোনার ‘অপকার’ না হোক, অন্তত উপকার হওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন! আসছে, জাভি বলছেন, মরিনহো বড় উপকার করে দিয়েছেন তাঁর দলের। টানা দুবার লিগ শিরোপা জেতার পর একটু আয়েশি ভাব ভর করেছিল বার্সার ওপর। ‘শত্রু-শিবিরে’ মরিনহোর আগমন নতুন করে তাতিয়ে দিয়েছে কাতালানদের!
‘মরিনহোর আগমন লিগের জন্য তো বটেই, আমাদের জন্যও ভালো। কারণ এটি আমাদের বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে। শিরোপা জেতার জন্য মাদ্রিদ সব রকম চেষ্টাই করবে। অবশ্য গতবার ওরা অজস্র টাকা ঢালার পরও আমরা ওদের হারিয়েছিলাম। এবারও তা-ই হবে আশা করি’—এই মৌসুমের কথা বলতে গিয়ে জাভি হাতছাড়া করলেন না গত মৌসুম টেনে এনে খোঁটা দেওয়ার সুযোগ।
এই প্রেরণা আসলেই দরকার বার্সেলোনার। লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে পেপ গার্দিওলার দল। ১৯৯৩ সালের পর টানা তিনবার লিগ শিরোপা জিততে পারেনি কোনো দলই। সর্বশেষ এই কীর্তি ছিল বার্সেলোনারই। কোচ হিসেবে ইয়োহান ক্রুইফ টানা চারবার লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকের বার্সেলোনার সেই ‘ড্রিম টিম’-এর মাঝমাঠের হূিপণ্ড ছিলেন গার্দিওলা।
ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের পর অনেকটা নিভৃতেই যেন সেই গার্দিওলা ভার নিয়েছেন সিনিয়র দলের। কোচ হিসেবে প্রথম দুই বছরেই জিতেছেন আটটি শিরোপা! মরিনহো যেখানেই যান, সেখানেই একটা উদ্ধত অহংকার ঝরে পড়ে। ঠারেঠোরে নয়, প্রকাশেই বলেন, ‘আমার মতো এত শিরোপা আর কে জিতেছে বলুন।’ গার্দিওলার সঙ্গে অবশ্য এখনো কথার লড়াই জমে ওঠেনি। মরিনহো কি সমঝে চলছেন! কে জানে।
গার্দিওলার সঙ্গে সরাসরি কথার লড়াইয়ে না জড়ালেও পর্তুগিজ কোচ কিন্তু ঢাকঢোল পিটিয়ে চলেছেন। ইউরোপের তিনটি প্রধান লিগের শিরোপা জিতে, তাঁর ভাষায় ‘গ্র্যান্ড স্লাম’ পূর্ণ করতে চান বলেও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো খেলোয়াড় কিংবা কোচ তিনটি প্রধান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইংলিশ, ইতালিয়ান আর স্প্যানিশ লিগ) জেতেনি। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেই গ্র্যান্ড স্লামটি জিততে চাই।’
টানা দুই মৌসুম কোনো শিরোপাই না জেতা বুভুক্ষু রিয়াল তাঁর কাছে সাফল্য তো চাইছেই। কিন্তু রিয়ালের আক্রমণাত্মক ফুটবলের যে দর্শন, সেটিও রাখতে হবে অক্ষুণ্ন। সাফল্যের জন্য মরিনহো অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল সাজাতেও দ্বিধা করেন না—এমন একটা অপবাদ আছে। তবে এই ৪৭ বছর বয়সী জানালেন, তাঁর নেতৃত্বে রিয়াল ভয়ডরহীন ফুটবলই খেলবে, ‘আমার ফুটবলের অভিধানে ভয় বলে কোনো শব্দ নেই। আমি চাই না, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের অভিধানেও সেটা থাকুক।’
রিয়ালে মরিনহোর সঙ্গে জুটি হচ্ছে আরেক পর্তুগিজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। এই মৌসুমেই রোনালদোকে ৭ নম্বর জার্সিটা দিয়ে দিয়েছে রিয়াল। যেটি ছিল রাউলের সম্পত্তি। রাউল-উত্তর যুগও শুরু হচ্ছে রিয়ালের। অধিনায়কত্বেও পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসের বাহুতেই থাকবে রিয়ালের অধিনায়কের ‘আর্মব্যান্ড’। বার্সাতেও কিছু পরিবর্তন। অঁরি-মার্কেজ চলে গেছেন। দলে এসেছেন ডেভিড ভিয়া। মাত্রই যোগ দিলেন হাভিয়ের মাচেরানো।
স্প্যানিশ লিগেরই প্রিভিউ, কিন্তু পুরোটাই শুধু রিয়াল-বার্সায় ঠাসা দেখে কি অবাক হচ্ছেন? কী আর করা। ১৯২৯ সালে চালুর পর থেকে এই দুই দল মিলেই যে জিতেছে ৫১টি শিরোপা। গত ১০ বছরে ৮ বারই তো এই দুই দলের কোনো একটি চ্যাম্পিয়ন। আরও ভালো উদাহরণ হিসেবে গত লিগের পয়েন্ট টেবিলটা সামনে নিতে পারেন। যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের সঙ্গে তৃতীয় স্থানের ভ্যালেন্সিয়ার পয়েন্ট ব্যবধান ছিল ২৫!

রবিনহোর সঙ্গী আদেবায়োর

ডেভিড সিলভা, ইয়াইয়া তোরে, জেরোম বোয়াটেং, মিলনার, বালোতেল্লি— শক্তিবৃদ্ধিতে ম্যানচেস্টার সিটি নতুন চুক্তি কম করেনি। অনেক হলো কেনা। এবার হয়তো দলবদলের বাজারের শেষ দিকে এসে বিক্রেতার ভূমিকায় হাজির হবে ইংলিশ ক্লাবটি। অনেক দিন থেকেই খবর, সিটি ছাড়তে চান রবিনহো। এবার টোগো স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োরও বলছেন, ক্লাব ছাড়তে তিনি প্রস্তুত। কিন্তু কোথায় যাবেন তাঁরা? তাঁদের পেতে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। আদেবায়োরের দিকে হাত বাড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস। অন্যদিকে তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন রবিনহো। নতুন খবর, ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে পেতে চাইছে বার্সেলোনা ও এসি মিলান। ম্যান সিটি কোচ রবার্তো মানচিনিই নিশ্চিত করেছেন এই খবর। সাধে কি আর রবিনহো মুখ ফুটে বলেন, ‘আমি স্পেন কিংবা ইতালিতে যাব।’

লোর দলে নেই বালাক

প্রত্যাশা ছিল দলে ফিরবেন, ফিরে পাবেন অধিনায়কত্ব। কিন্তু অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া তো দূরের কথা, ইউরো বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত জার্মানি ২১ সদস্যের দলেই জায়গা হয়নি এই মিডফিল্ডারের। ফলে অধিনায়কের ‘আর্মব্যান্ড’টা থাকছে ফিলিপ লামের বাহুতে। গতকাল জার্মান কোচ জোয়াকিম লো ঘোষণা করেছেন এই দল। আগামী ৩ ও ৭ সেপ্টেম্বর বেলজিয়াম ও আজারবাইজানের বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ের দুটি ম্যাচ খেলবে জার্মানি রয়টার্স।

সাকিবের ৩ উইকেট

কাউন্টিতে বল হাতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন সাকিব আল হাসান। বৃষ্টির জন্য প্রথম দিন খেলা হয়েছিল মাত্র ৩৪.৫ ওভার, দ্বিতীয় দিন বল মাঠেই গড়ায়নি। কাল অবশ্য খেলা হলো পুরো দিন। ৩ উইকেটে ৯৬ রানে দিন শুরু করা নর্দাম্পটনশায়ার ইনিংস ঘোষণা করেছে ৯ উইকেটে ৩৮৫ রান তুলে। ৭৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব, আউট করেছেন ওপেনার সর্বোচ্চ ৭৫ রান করা স্টিফেন পিটার্স, ৬৫ রান করা সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু হল ও ৪০ রান করা অলরাউন্ডার জেমস মিডলব্রুককে।
নর্দাম্পটনশায়ার ইনিংস ঘোষণা করার পর কাল আর ব্যাটিংয়ে নামার সময় পায়নি সাকিবের দল ওস্টারশায়ার। তারা ব্যাট করবে আজ। চার দিনের ম্যাচের তিন দিনে শেষ হয়েছে কেবল একটি ইনিংস, ম্যাচ তাই নিশ্চিত ড্র।

ইন্টারের আধিপত্য ঘুচবে এবার

ইন্টার, ইন্টার, ইন্টার...। শুধু তিনবার কেন, এই নামটা কমপক্ষে আরও দুবার জপতে পারেন। সিরি ‘আ’র গত পাঁচ বছরের মুকুট ইন্টার মিলানের মাথায়। সিরি ‘আ’র এই ইন্টারময়তার অবসান ঘটাতে চায় এএস রোমা, এসি মিলান, জুভেন্টাস। রোমার সেই অভিযান শুরু হচ্ছে আজই। ইতালিয়ান লিগের প্রথম দিনেই মাঠে নামছে রোমা, প্রতিপক্ষ ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম সিরি ‘আ’তে উঠে আসা সেসেনা। আগামীকাল মাঠে নামবে জুভেন্টাস আর এসি মিলান। ইন্টারের প্রথম ম্যাচ সোমবার।
গত মৌসুমে শুরুটা বাজে হয়েছিল রোমার। প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছিল ক্লদিও রানিয়েরির দল। মৌসুমের শেষের দিকে ইন্টার মিলানের শিরোপা জয়ের পথে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পেরেছিল ঠিক, কিন্তু লিগের প্রথম-তৃতীয়াংশে ইন্টারের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ছিল ১৪। এবার এর ব্যতিক্রম চায় রোমা। ইন্টারের একক আধিপত্যে আঁকতে চায় যতি।
গত মৌসুমে এসি মিলানের অবস্থাও ছিল রোমার মতোই। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুর ৯ ম্যাচের মাত্র ৩টিতেই জিতেছিল সাতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এ মৌসুমে সিরি ‘আ’র প্রথম ম্যাচেই সিরি ‘আ’ ও সিরি ‘বি’র মধ্যে যাওয়া-আসা করা দল লেচ্চেকে পেয়ে মহা খুশি মিলান। এবার শুরুটা তো ভালো হতে চলেছে!
গত বছরটা খুবই বাজে গেছে জুভেন্টাসের। সপ্তম স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে তারা। গত মৌসুমের কথা ভুলে এবার ইন্টার মিলানের আধিপত্যে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে চায় জুভরাও। কার কী হলো, এই দেখে অবশ্য মাঠে নামতে পারছে ইন্টার। বোলোনিয়ার বিপক্ষে ইন্টারের খেলাটা রাখা হয়েছে সোমবার।
হোসে মরিনহো ইন্টারকে যেখানে রেখে গিয়েছিলেন, রাফায়েল বেনিতেজের ইন্টার ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে। মরিনহো ট্রেবল জেতানোর পর মৌসুম-সূচক ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছে তারা। কাল উয়েফা সুপার কাপ জিতে থাকলে এক বছরে ৫টি শিরোপা জেতা হয়ে যাবে ইন্টারের। বার্সেলোনার বছরে ৬ শিরোপা জয়ের রেকর্ড ছুঁতে থাকবে বাকি থাকবে একটা—ক্লাব বিশ্বকাপ। তার পর সিরি ‘আ’র আধিপত্য ধরে রাখা। বেনিতেজ কি পারবেন?
হয়তো পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, সিরি ‘আ’তে এ মৌসুমে সবচেয়ে বড় তারকা কোচ বেনিতেজই। এই মৌসুমে যে ২০ জন কোচ কাজ করবেন, তাদের কারোরই নেই সিরি ‘আ’র ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতা!

বার্সাই মাচেরানোর ঠিকানা

মাচেরানোর জেদের কাছে কোনো শর্তই খাটল না লিভারপুলের। ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ঠিকই পাড়ি জমাচ্ছেন লিওনেল মেসির বার্সেলোনায়। সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সা-লিভারপুল। এই সপ্তাহেই স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন সম্পর্কটা পাকাপাকি করবেন ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর চুক্তিটা হবে চার বছরের। মাচেরানোকে কিনতে বার্সার কাছ থেকে লিভারপুল পাচ্ছে ২ কোটি ২০ লাখ ইউরো, সঙ্গে একজন ফুটবলার। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে নাম লেখানোর জন্য একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে লিভারপুলের সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে দিলেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এমন মরিয়া হয়ে ওঠার পেছনের কারণটা জানেন? তাঁর স্ত্রী নাকি কিছুতেই ইংল্যান্ডে বসতি পাততে রাজি ছিলেন না!

সেই পিটারসেন, এই পিটারসেন

রাজ্যের চাপ মাথায় নিয়ে উইকেটে গিয়েছিলেন। মিনিট তিনেকের মধ্যে মুক্তি পেয়ে গেলেন কেভিন পিটারসেন। লর্ডসে কাল প্রথম বলেই আউট হয়ে ফিরে গেলেন ড্রেসিংরুমে, বেশ কিছুদিন ধরেই উইকেটের চেয়ে যেখানেই বেশি স্বচ্ছন্দ সাবেক অধিনায়ক। অথচ একটা সময় ব্যাট হাতে উইকেটে নামলে কী ভয়ংকরই না হয়ে উঠতেন! যতক্ষণ উইকেটে থাকতেন, মনে হতো ব্যাটিংয়ের চেয়ে আনন্দদায়ী কিছু আর নেই। উইকেটে থাকার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতেন, তাঁর ব্যাটিং প্রাণভরে উপভোগ করত দর্শক।
খারাপ সময় সব ক্রিকেটারেরই আসে। কিন্তু পিটারসেনের খারাপ সময়টা যেমন একটু বেশিই স্থায়ী হচ্ছে। রান যে একেবারেই পাচ্ছেন না, তা কিন্তু নয়। তবে সেই ধারাবাহিকতাটা নেই। বেশ কিছু ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারেননি। ক্যারিয়ারের প্রথম ৪৫ টেস্টে যাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৫টি সেঞ্চুরি, চলতি লর্ডস টেস্টসহ সর্বশেষ ২১ টেস্টে সেই ব্যাটসম্যানেরই সেঞ্চুরি কেবল একটি! সেটিও ১৮ মাস আগে, পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ১০২। রান পাচ্ছেন না, এর চেয়েও বেশি চোখে লাগছে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন। উইকেটে স্থায়িত্ব যতক্ষণই হোক, আগে যিনি কেবল বোলারদের শাসন করতেই জানতেন, সেই লোকটিকেই এখন উইকেটে মনে হচ্ছে বড্ড বেশি নড়বড়ে। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে এসেছে যে পিটারসেন নিজেই বলছেন, ‘আত্মবিশ্বাস রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।’
‘বিধ্বস্ত মানসিক অবস্থা’র সঙ্গে অনেকে যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন অধিনায়কত্ব হারানোর। বিতর্কিতভাবে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া আর তাঁর খারাপ সময়ের শুরু প্রায় কাছাকাছি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ফেব্রুয়ারি-মার্চের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটা মোটামুটি ভালো কেটেছে (৫ টেস্টে ৪০৬ রান), কিন্তু এর পরই শুরু রান আর সেঞ্চুরির খরা। পিটারসেন নিজেও বাজে ফর্মের জন্য ব্যাটিং টেকনিককে নয়, দায় দিচ্ছেন মানসিক অবস্থাকেই। স্কাইস্পোর্টসকে বলেছেন, নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগছে, ‘আমি সে ধরনের লোক নই যে বলবে, ‘‘নেটে খুব ভালো ব্যাটিং করছি।’’ সত্যি বলতে, আমি ১৮ মাসের সেঞ্চুরি-বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমাকে সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে, গত ১৮ মাসে যা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমি আসলে যেমন, এই মুহূর্তে তার ধারেকাছেও নেই।’
পিটারসেনের ব্যাটিংয়ে খুব বেশি সমস্যা দেখছেন না ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ ও সাবেক অধিনায়ক গ্রাহাম গুচও। ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৮ টেস্টে ৮৯০০ রান করা গুচেরও ধারণা সমস্যাটা মানসিক, ‘ও যতটা কষ্ট করছে, যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে খুব একটা ভুল খুঁজে পাবেন না। কিন্তু উইকেটে যাওয়ার পর সবকিছু নিজেকেই করতে হবে। একই পরিস্থিতিতে একেক জনের মন একেকভাবে সাড়া দেয়।’
বেশ কিছু ভালো শুরুকে তিন অঙ্কে নিতে না পারার আফসোসটাও অবশ্য পিটারসেনের আছে। তবে এই আফসোসের ঘেরাটোপে আর বন্দী না থেকে চান ঘুরে দাঁড়াতে, ‘বেশ কিছু শুরুকে আমি কাজে লাগাতে পারিনি, আশি-নব্বইকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারিনি। তবে সেরা অবস্থায় পোঁছাতে আমি চেষ্টা করছি। আমি জানি, আমি পারব।’
কথাগুলো বলেছিলেন লর্ডসের ‘গোল্ডেন ডাকের’ আগে। কালও ফিরে পেলেন না নিজেকে, তবে পেতে হবে খুব দ্রুতই। অ্যাশেজ যে কড়া নাড়ছে দুয়ারে!