Wednesday, January 14, 2015

চাঁদপুরে কাভার্ড ভ্যানে, মাগুরায় বাসে আগুন

(চাঁদপুরে আজ রাতে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় দুবৃ‌র্ত্তরা। ছবি: প্রথম আলো) চাঁদপুরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানে ও মাগুরায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুবৃ‌র্ত্তরা। আজ বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের বলাখাল এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে আজ রাত নয়টার দিকে কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন কাভার্ডভ্যানের চালক শওকত হোসেন। তাঁকে হাজীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, চাঁদপুর থেকে বিভিন্ন ধরনের পার্সেল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে দুবৃ‌র্ত্তরা প্রথমে কাভার্ডভ্যানে ভাঙচুর চালায়। পরে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় তারা। আগুনে কাভার্ডভ্যানের মধ্যে থাকা বেশ কিছু মালামাল পুড়ে যায়।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহআলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুনছুর আহম্মেদ (২৬) নামে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শামছুল আলম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
মাগুরা: রাত সোয়া নয়টার দিকে মাগুরা-যশোর মহাসড়কের আড়পাড়া ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুবৃ‌র্ত্তরা। বাসটি বিকেলে নষ্ট হওয়ায় ব্রিজের ওপর ছিল। শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। আগুনে বাসটির ভেতরের আসনগুলো পুড়ে গেছে। এ দিকে আজ বিকেলে শহরের আদালত চত্বর থেকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ওয়াসিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিডনির ক্ষতি হয় যে ১০ কারণে

(প্রতিদিনের জীবনে আমরা এমন অনেক কিছুই করি যা কিডনির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ছবিটি প্রতীকী।) প্রতিবছর দুনিয়াজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যান কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে। শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কীভাবে এর সঠিক যত্ন নিতে হয়, কীভাবে কিডনির ক্ষতি এড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে হয়। প্রতিদিনের জীবনে আমরা এমন অনেক কিছুই করি যা কিডনির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অর্গানিক হেলথ ডটকম এক প্রতিবেদনে এমন ১০ কারণের কথা জানিয়েছে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করা
প্রতিদিন যেসব কারণে কিডনির ক্ষতি হয় তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হলো পর্যাপ্ত পানি পান না করা। কিডনির অন্যতম প্রধান কাজ শরীর থেকে পরিপাক প্রক্রিয়ার বর্জ্য অপসারণ করা এবং লোহিত রক্তকণিকার ভারসাম্য রক্ষা করা। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান না করলে বৃক্বের রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এর ফলে রক্তে দূষিত রাসায়নিক জমা হতে থাকে।
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করে থাকা
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করে থাকা প্রাত্যহিক সমস্যাগুলোর একটা। বিশেষত পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাবে শহরাঞ্চলের নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। দীর্ঘক্ষণ মূত্রাশয় পূর্ণ করে রাখা শরীরে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পেশির ওপর চাপ থেকে ডাইভারটিকিউলোসিসের মতো জটিল রোগ হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করা থেকে হাইড্রোনেফ্রোসিস বা কিডনিতে প্রস্রাবের চাপ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। এসব থেকেই কিডনি কর্মক্ষমতা হারায় এবং ডায়ালাইসিস প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
বেশি লবণ খাওয়া
বিভিন্ন খাবার-দাবারে মিশে থাকা লবণকে পরিপাক করা কিডনির আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রান্না করা বা প্যাকেটজাত খাবারে ব্যবহার করা লবণ আমাদের শরীরে সোডিয়ামের বড় উৎস। কিন্তু পরিপাকের মধ্য দিয়ে এই সোডিয়ামের বেশির ভাগটাই বর্জ্য হিসেবে শরীর থেকে বের করে দিতে হয়। আমরা যখন বেশি বেশি লবণ খাই, তখন এই সোডিয়াম প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে কিডনিকে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে কিডনির ওপর প্রবল চাপ পড়ে।
ক্যাফেইনে বেশি আসক্তি
তৃষ্ণা পেলে আমরা অনেক সময় পানি পান না করে নানা ধরনের কোমল পানীয় পান করি। কিন্তু এসব পানীয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন মেশানো থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত রক্তচাপ কিডনির ওপরও চাপ প্রয়োগ করে এবং এতে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্যথানাশকের প্রতি নির্ভরশীলতা
মাথাব্যথা, গলাব্যথা যা-ই হোক না কেন কথায় কথায় ব্যথার ওষুধ খাওয়ার বাজে অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু প্রায় সব ব্যথানাশক ওষুধেরই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। কিডনিসহ নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য এসব ওষুধ ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতা রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।
বেশি বেশি প্রোটিন খাওয়া
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে লাল মাংস বা গরু-ছাগলের মাংস বেশি খাওয়া ঠিক না। বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কিডনির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে, কিডনির সমস্যা না থাকলে বা চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে এমন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে।
অ্যালকোহলে আসক্তি
মদ্যপানের অভ্যাস আছে এমন অনেকেরই অনেক সময় মাত্রাজ্ঞান থাকে না। আর খুব বেশি পরিমাণে মদ পান করা কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। অ্যালকোহলে নানা ধরনের টক্সিন থাকে, যেগুলো শরীর থেকে দূর করতে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায়। ফলে কিডনি বাঁচাতে হলে অবশ্যই অ্যালকোহলে আসক্তি কমাতে হবে।
ধূমপানে আসক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের অভিমত অনুসারে ধূমপান কিডনিসহ শরীরে সব অঙ্গের জন্যই ক্ষতিকর। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণাতেই ধূমপানের সঙ্গে কিডনি রোগের সম্পর্ক আছে। সুস্থ কিডনি চাইলে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
সর্দি-কাশিকে পাত্তা না দেওয়া
সাধারণ সর্দি-কাশিকে পাত্তা না দেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এই সর্দি-কাশিই কিডনির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া নানা গবেষণায় দেখা গেছে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন অনেকেরই অসুস্থতার সময়ে ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়ার ইতিহাস আছে।
রাত জেগে থাকা
রাত জেগে থাকা, ঘুমাতে না পারা আমাদের অনেকেরই নিয়মিত সমস্যা। কিন্তু ঘুম শরীরের জন্য নানা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময়ই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর টিস্যুর নবায়ন ঘটে। ফলে ঘুমাতে না পারার সমস্যাটা নিয়মিত চলতে থাকলে কিডনিসহ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর এই কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে কিডনির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যায়।

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইইউ’র উদ্বেগ

দেশে সংঘাতময় ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ এবং ‘গণতন্ত্র চর্চার স্থান সঙ্কুচিত হওয়া’য় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাংলাদেশে থাকা মিশন প্রধানরা। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে তারা ওই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ইইউ দূতরা দেশব্যাপী চলমান সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা, সহায়-সম্পত্তি ধংস করা এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর দুবৃত্তদের হামলার নিন্দা জানান। দু:খ প্রকাশ করেন রংপুরের যাত্রীবাহী বাসে আক্রমণের ঘটনায়। ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের ওই জোটের বাংলাদেশস্থ ডেলিশন প্রধানের কার্যালয় থেকে সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ভুয়া বিবৃতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জেরার মুখে বিএনপি

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতি নিয়ে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের। ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসে গত সোমবার ৪৮ পৃষ্ঠার স্মারকলিপি দিতে যায় শরাফত হোসেন বাবু, বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীমউদ্দিন ভুঁইয়া ও গোলাম ফারুক শাহিনের নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতিনিধিদল। কয়েক দিন আগেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্যের একটি ভুয়া বিবৃতির কথা জানিয়েছিল বিএনপি। ওই বিবৃতি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক সহকারী সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বলে পরে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলে প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেন জসীমউদ্দিন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জালিয়াতির ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ক্যাপিটাল হিলের কর্মকর্তারা তাঁদের নানা প্রশ্ন করেন। এর জবাবে মার্কিন কর্মকর্তাদের তাঁরা ওই জালিয়াতি ঘটনার নিন্দা করেছেন জানিয়ে বলেছেন যে, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারের লোকজন এসব করছে। এই অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে সাচ্চা একটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, এই দলের কেউ এমন জঘন্য অপকর্ম করতে পারে না।’
পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান গিলবার্ট মর্টন বিএনপির স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। প্রতিনিধি পরিষদে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েসের কার্যালয়ে স্মারকলিপি নেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী। একইভাবে ইউএস সিনেটে ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর বব কোরকারের কনস্টিটুয়েন্সি সার্ভিস রিপ্রেজেনটেটিভ হেইলি হামফ্রির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বিএনপির স্মারকলিপিতে ‘গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তামাশার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বলা হয়, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ক্রসফায়ারে দিচ্ছে অথবা গুম করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হয়েছে।’
স্মারকলিপিতে অধিকারসহ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিবেদন ছাড়াও বেশ কটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতির বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। এ বিষয়ে বিএনপির নেতারা বলেন, ঢাকা থেকে তৈরি করে বিএনপির নেতা (বর্তমানে কারাবন্দী) শমশের মবিন চৌধুরী লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে এই স্মারকলিপির খসড়া পাঠান। এরপর লন্ডনে থাকা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এটি চূড়ান্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান বলে শরাফত হোসেন বাবু জানিয়েছেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্য নিউইয়র্ক বিএনপির একাংশের সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম বলেন, ‘কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপিরই শুধু বারোটা বাজানো হয়নি, প্রবাসের সব বাংলাদেশির ইমেজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাহিদ এফ সরকার সাদী এই অপকর্ম করেছে। তাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রবাসীদের রোষানলে পড়তে হবে।’
জাহিদ সাদী বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক দূত এবং খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে তাঁকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। জাহিদ সাদী ২০০৯ সাল পর্যন্ত নয় বছরে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ বার গ্রেপ্তার হয়ে প্রতিটি অপকর্মের দোষ স্বীকার করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ভোগ করেছেন।

সন্ধ্যার পরে রাজধানীতে ৩ গাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২

২০ দলের ডাকা হরতালের আগের দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর সাইনবোর্ড, নীলক্ষেত এবং ইডেন কলেজের সামনে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাইনবোর্ডে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নীলক্ষেত এবং ইডেন কলেজের সামনে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দমকল বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ আলী। তবে তাৎক্ষনিকভাবে এসব ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আন্দু মিয়া নামে একজন পথচারী আহত হয়েছেন। এ দিকে রাজধানীর বাড্ডা হোসেন মার্কেটের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এদিন সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। এতে অজ্ঞাত একজন আহত হয়েছেন।

মালাওয়িতে বন্যায় নিহত ৪৮, বাস্তুচ্যুত ২৩,০০০

মালাওয়িতে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকা এক ঘোষণায় বলেছেন, ২৮টির মধ্যে ১০টি জেলা দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে রয়েছে। এ জেলাগুলো বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বহু গবাদিপশু, বিপুল পরিমাণ শস্য ও বাড়িঘর। প্রেসিডেন্ট মুথারিকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দরিদ্র দেশটিকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। মানুষ স্কুল, গির্জা ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। স্থান সঙ্কুলানের অভাবে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। কোন কোন স্থানে বাড়িঘরের অস্তিত্বও চোখে পড়ছে না। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় কর্মকর্তারা বন্যা-আক্রান্ত অঞ্চলসমূহ পরিদর্শনে যেতে পারেননি। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা ও সহিংসতায় মৃত্যুতে গিবসনের উদ্বেগ

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর আক্রমণ ও বাসে অগ্নিসংযোগে যাত্রীর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডব্লিউ গিবসন। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর আক্রমনের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং রংপুরে বাসে আক্রমণের ফলে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংবাদে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসব অপরাধের যথাযথ তদন্তের এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহবান জানাচ্ছি। যুক্তরাজ্য সকল পক্ষকে সংযত থাকা, পরিমিতিবোধের চর্চা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহিংসতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টির এই পুনরাবৃত্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে সংলাপে বসার আহবান জানিয়ে আসছে।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের বিবৃতি জালিয়াতি- বিএনপির প্রবাসী দুই নেতাকে অব্যাহতি

অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যানের বিবৃতি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির দুই নেতাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বুধবার নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অব্যাহতির ঘোষণা দেন। অব্যাহতি প্রাপ্ত দুই নেতা হলেন ডা: মজিবুর রহমান মজুমদার ও জাহিদ এফ সরদার সাদী। তারা দু’জনই বিএনপির বিশেষ উপদেষ্টা ও বৈদেশিক দূত পদে নিযুক্ত ছিলেন। গতকাল বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দু’টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। জ্যাকসন হাইটস এর একটি রেস্তোঁরায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখার বিভিন্ন গ্রুপের নেতাদের মধ্যে আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতার নিয়োগ বাতিল সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তির কপি বিতরণ করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেছেন দলটির যুগ্মমহাসচিব রিজভী আহমেদ।
সাদেক হোসেন খোকা সংবাদ সম্মেলনে জানান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস ও সিনেট বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য অব্যাহতভাবে জোরালো তাগিদ দিয়ে চলেছে, সেখানে এই ইস্যুতে তাদের বিবৃতি জালিয়াতি করা কেবলমাত্র সরকারের কূট-কৌশলেরই অংশ হতে পারে, অন্যকিছু নয়। নিশ্চয়ই যথাসময়ে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে। এই ঘটনায় বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই ব্যক্তি সরকারের কোন ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়েছেন কিনা দলের পক্ষ থেকে তা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা বর্তমান সরকার দেশে এক নজিরবিহীন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চালানো হচ্ছে বর্বরোচিত অত্যাচার ও নির্যাতন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা গণমাধ্যমের সামনে নির্জলা মিথ্যাচার করছেন। নির্যাতন-নিপীড়নের পথ পরিহার করে অবিলম্বে পদত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির এই নেতা দেশে গণতন্ত্র পুনরূদ্ধারের চলমান সংগ্রামে সশরীরে সামিল হতে না পারায় নিজের আক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে এই দূর-দেশে অবস্থানের কারণে জাতির এই কঠিন দু:সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সশরীরে অংশ নিতে না পারার বেদনায় আমি প্রতি মুহুর্তে দগ্ধ হচ্ছি। তবে সরকারের পাশবিক দমন-পীড়নের বিরূদ্ধে দেশজুড়ে আজ জনগণের স্বতস্ফুর্ত সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। তাতে দিশেহারা সরকার অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্ত করতে নানা কূট-কৌশলেরও আশ্রয় নিচ্ছে। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিএনপির বিরূদ্ধে বিরামহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত শহীদের জীবন ও অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ এক কঠিন দু:সময় পার করছে। বর্তমান স্বৈরাচারী ও জুলুমবাজ সরকার যে কোন মূল্যে অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অসৎউদ্দেশ্যে গোটা দেশকে এক অনিবার্য সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে তারা অবলীলায় ধ্বংস করে চলেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে জনগণের মুখোমুখি। এসব বাহিনীর এক শ্রেণীর দলবাজ সদস্যরা প্রকাশ্যে নির্বিচারে গুলি করে নিরীহ জনসাধারণকে হত্যা করার এক পৈশাচিক উৎসবে মেতেছে। দেশের সীমান্ত প্রহরার দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যদেরকে তাদের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব থেকে তুলে এনে বিরোধী দল দমনের কাজে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীর পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অংগসংগঠনসমূহের সশস্ত্র ক্যাডারদেরকেও নিয়োজিত করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলের কাজে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের এই সাবেক কান্ডারি বলেন, সরকারের একগুঁয়ে ও আক্রমনাত্মক ভূমিকায় দেশ থেকে গণতন্ত্র আজ পুরোপুরি নির্বাসিত। বিরোধী দলসমূহের নূনতম রাজনৈতিক অধিকারও আজ আর অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতাসীনরা তথাকথিত ১৪৪ ধারার মধ্যেই খুশিমতো সভা-সমাবেশ এবং বিরোধী দল দমনের উৎসব করছে। অথচ বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের এমনকি রাস্তায় দাঁড়াতেও দেয়া হচ্ছে না। কথায় কথায় গুলি, বেধড়ক পিটুনি অথবা গণগ্রেপ্তার। এই হলো বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্রের চেহারা। নানা রকম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে মত প্রকাশের অধিকার তথা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও এখন সম্পূর্ণরূপে খাঁচায় বন্দী। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় চলছে নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার। সরকারের নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে অনুসরনে ব্যর্থ হওয়ায় একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন আতঙ্কে। সর্বত্র এক শ্বাসরূদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বিগত দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ। অবৈধ সরকারের নির্দেশে পুলিশ সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অফিসে বর্বরোচিত কায়দায় বন্দী করে রেখেছে।
এমনকি তাঁকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ বিষাক্ত পিপার ¯েপ্র নিক্ষেপ করতেও দ্বিধা করেনি সরকারের পেটোয়া বাহিনী। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের মতো অত্যন্ত নিরীহ ও সজ্জন ব্যক্তিকে গুলি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আরেক উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত সাবিহউদ্দিনের গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে সরকারি দলের ক্যাডাররা। বিএনপি নেতাদের বাড়িতে একের পর এক বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে দলে দলে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। এসব নির্যাতনের ফলে দেশের মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই দেশজুড়ে সর্বাত্মক সংগ্রাম শুরু হয়েছে। অবৈধ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

মিরপুর ১৩ নম্বরের ঝুটপট্টির আগুন নিয়ন্ত্রণে

(মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার ডেকসো অফিসের পাশে ঝুটপট্টিতে থাকা ৬০টি দোকোনের বেশির ভাগই পুড়ে গেছে আগুনে। ছবিটি বেলা তিনটায় তোলা। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) মিরপুর ১৩ নম্বরে ঝুটপট্টি ও বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে পুরোপুরি নেভেনি। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক আবদুস সালাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শট সার্কিট কিংবা গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লাগতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে মিরপুর ১৩-এর ডেসকো অফিসের পাশে আবদুল আওয়ালের কাটা কাপড় মার্কেটে আগুন লাগে। ওই মার্কেটের দোকানমালিকেরা জানান, মার্কেটটিতে ৬০টির মতো দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে গড়ে ১০-১৫ লাখ টাকার কাপড় ছিল। বিল্লাল হোসেন নামের একজন দোকানমালিক বলেন, বেশির ভাগ দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। তাঁর দোকানেরও প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ওই সময় মার্কেটের বেশির ভাগ কর্মচারী দুপুরের খাবার খেতে বাসায় গিয়েছিলেন। তা ছাড়া মার্কেটের পাশে প্রশস্ত রাস্তা থাকায় আগুন লাগার পর দোকানে থাকা লোকজন দ্রুত বের হতে পেরেছেন। বেশির ভাগ দোকানমালিক এ প্রতিবেদককে বলেন, কালাম নামে এক ব্যক্তির দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। খোলা জায়গা এবং বাতাসের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হিজাব পরিধান একজন নারীর সাংবিধানিক অধিকার - হাইকোর্ট : ২১ নারীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে ৫৪ ধারায় ২১ পর্দানশিন নারীকে গ্রেফতার ও হিজাব খুলে তাদের আদালতে হাজিরের ঘটনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে গতকাল আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি স্ট্যান্ড ওভার রেখে আবেদনটি সংশোধন করে নিয়ে আসতে বলেছে। আবেদনে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হওয়া মহিলাদের রিমান্ডে নেয়ার বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আর্জি জানানো হয়েছে। শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেছে, রিমান্ডের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা বলব না। আপনি আবেদনটি সংশোধন করে নিয়ে আসেন তারপর দেখা যাক। আগামী মঙ্গলবার আবেদনের ওপর আবার শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। আদালতে আবেদনের পক্ষে রিটাকারী আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন মুন্নি নিজেই শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাহমুদা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, চেমন আক্তার প্রমুখ। শুনানিতে অংশ নিয়ে ফাহিমা নাসরিন মুন্নি বলেন, নারীদের হিজাব পরিধান একটি ধর্মীয় রীতি। একজন মানুষকে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অধিকার সংবিধান দিয়েছে, কিন্তু পর্দানশিন ২০ নারীর হিজাব খুলে আদালতে হাজির করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের গ্রেফতারের সময় অশোভন আচরণ করেছে পুলিশ। এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। হিজাব খোলার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ সময় তিনি কানাডায় এক পর্দানশিন মহিলার হিজাব ধরে টান দেয়ার অপরাধে আরেক মহিলার সাজাভোগের উদাহরণ টানেন। পুলিশের এমন আচরণে ধর্মীয় স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, ২১ মহিলাকে যেভাবে পুরুষ পুলিশ গ্রেফতার করেছে ও তাদের আদালতে হাজির করেছে, এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর উচিত সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। তখন আদালত বলেছে, কেন আপনারা ওই কোর্টে এসব ব্যাপারে লিখিত আবেদন দিলেন না। আপনারা কোর্টকে ব্যাপারটা জানান। আদালত বলেছে, হিজাব পরাটা তাদের (২১ নারীর) ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপার। মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। এটা কেন কোর্টকে (রিমান্ড মঞ্জুরকারী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) জানাচ্ছেন না। কোর্ট তা রক্ষায় পদেক্ষপ না নিলে তারপর আমাদের কাছে আসেন। এটা তো তাদের সাংবিধানিক অধিকার। জবাবে আইনজীবী বলেন, বিষয়টি দেশের মিডিয়ায় এসেছে। আমরা কোর্টকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাদের একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে ধরা হচ্ছে। আর পুলিশের এভাবে গ্রেফতার চলতে থাকলে এক সময় সামাজিক বিপর্যয় শুরু হবে। একপর্যায়ে আদালত বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার আছে। তা কেউ ক্ষুণ্ন করতে পারে না। রাজনীতি হচ্ছে আরেকটা ব্যাপার। নিচে শুনানির অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো
আদালত : ধরেন আমরা একটা অর্ডার দিলাম। এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, কী করবেন।
আইনজীবী : মাইলর্ড এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য।
আদালত : আমরা কী গিয়ে বাস্তবায়ন করে দিয়ে আসব।
আপনি যদি সেখানে (রিমান্ড মঞ্জুরকারী নিম্ন আদালত) বলে আসতেন, তাহলে বলতাম।
আইনজীবী : মৌখিকভাবে এ সাবমিশন দেয়া হয়েছে। আর ব্যাপারটা সব মিডিয়ায় এসেছে। সবাই জানে।
আদালত : মিডিয়ায় আসা আর আদালতকে জানানো এক কথা নয়। ব্যাপারটাতে আদালতের কনসার্ন নাও থাকতে পারে।
আইনজীবী : ব্যাপারটাকে আসলে পলিটিক্যালি দেখা হচ্ছে মাইলর্ড।
আদালত : এখানে ব্যাপারটা পলিটিক্যাল নয়। এখানে একজন নারীকে ‘রিলেজিয়াস হ্যারাজমেন্ট’ করা হয়েছে। পলিটিক্স টেনে আনছেন কেন।
আদালত ওই আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেছে, এদেশে কি এমন নারী নেই, যারা পলিটিক্স করে না। কিন্তু হিজাব পরে, এমন পুরুষও তো আছে, যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, কিন্তু দাড়ি রাখে, টুপি পরে। তারা কী তাহলে এসব করতে পারবে না।
আইনজীবী : মাইলর্ড এমন মানুষ আছে, কিন্তু হয়রানি করা হচ্ছে।
আদালত : আপনারা সেখানে (বিচারাধীন সিএমএম আদালত) একটা লিখিত আবেদন করেন, যদি রেসপন্স না করে, তবে আমাদের কাছে আসেন, আমরা দেখব।
আইনজীবী : তারা রেসপন্স করবে না, মাইলর্ড।
আদালত : ওখানে আবেদন না করে কীভাবে আপনি বললেন রেসপন্স করবে না। আগে যান।
আইনজীবী : মাইলর্ড, এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন একটা ব্যাপার। কিন্তু একজন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। একজন মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার আছে, তাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান দিয়েছে।
আদালত : অফকোর্স, আছে। সে জন্যই তো বলছি আগে সেখানে যান।
আইনজীবী : আমরা লিখিত দিইনি, কিন্তু মুখে সাবমিশন দিয়েছি মাইলর্ড। তারা শুনেনি। মাইলর্ড আমরা আবেদনের সঙ্গে কতগুলো ছবি দিয়েছি। ছবিগুলো দেখেন কীভাবে টেনেহিঁচড়ে তাদের পুলিশের গড়িতে তোলা হয়েছে। মুখের নেকাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ সময় ফাহিমা নাসরিন মুন্নির পক্ষে অ্যাডভোকেট ওয়ালিউর রহমান খান শুনানির অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
ওই আইনজীবী বলেন, মাইলর্ড সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনা মিডিয়ায় আসার পর সে দেশের হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুল জারি করেছে। আপনারা তো অন্তত সুয়োমোটো (স্বপ্রণোদিত হয়ে) রুল জারি করতে পারেন।
আদালত : সুয়োমোটো জারি করলে আপনারা আবেদন নিয়ে এসেছেন কেন।
আদালত বলেছে, এখানে দুটি ব্যাপার। একটা হচ্ছে তাদের পুলিশ ‘রিলেজিয়াস হ্যারাজ’ করেছে। আরেকটা হচ্ছে সে হ্যারাজমেন্ট এখনও করা হচ্ছে কি-না। আপনারা এ ব্যাপারে আদালতে গিয়ে প্রতিকার কেন চাচ্ছেন না। ওখান থেকে একটা অর্ডার নেন।
আইনজীবী : মাইলর্ড এখানে একটা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্নের ঘটনা ঘটেছে। আপনারা তো চাইলে রুল দিতে পারেন।
আদালত : এটা বিচারাধীন বিষয়। আমরা কীভাবে আদেশ দেব।
আইনজীবী : আমরা তো নিম্ন আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আসিনি।
আদালত : আমরা তা বলছি না। তবে আপনারা কেন সেখানে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সুযোগ দেয়ার আবেদন করছেন না। কোর্ট তো আপনাদের আবেদন শুনেছে।
এ পর্যায়ে অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি আবার শুনানি করেন। তিনি বলেন, মাইলর্ড একদল পুরুষ পুলিশ তাদের যেভাবে টেনেহিঁচড়ে গ্রেফতার করেছে তা একজন নারীর জন্য চরম অবমাননাকর। আদালত : তাহলে পুলিশের অ্যাকটিভিটিজের ওপর কেন রুল চাচ্ছে না। পুলিশ তাদের কীভাবে অ্যারেস্ট করেছে, কীভাবে আদালতে এনেছে, কেমন আচরণ করেছে—এসবের প্রতিকার চান।
আইনজীবী : মাইলর্ড পুলিশের অ্যাকটিভিটিজের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিকার চাচ্ছি
আদালত : কই চাইলেন, আপনারা তো দেখি রিমান্ডের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আমরা রিমান্ডের ব্যাপারটা দেখব না। পুলিশের ব্যাপারটা নিয়ে আবেদন করেন।
আইনজীবী : মাইলর্ড পরের প্রেয়ারটা দেখেন আমরা পুলিশের এমন আচরণের প্রতিকার চেয়েছি।
আদালত : খালি আবেদন করলে তো হবে না। আমরা বিবেচনা করব কি-না চিন্তা করব।
আইনজীবী : মাইলর্ড ৫৪ ধারায় কীভাবে তাদের গ্রেফতার করা হলো। তারপর রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
শুনানির এ পর্যায়ে জুনিয়র বিচারপতি বলেন, রাস্তা থেকে ২১ পর্দানশিন নারীকে ধরে নিয়ে যাওয়া আর তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া কিন্তু এক নয়।
আইনজীবী : কেন, মাইলর্ড। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ৫৪ ধারায় অ্যারেস্ট করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
আদালত : তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা আছে তো।
আইনজীবী : কোনো মামলা নেই মাইলর্ড। তাদের ৫৪ ধারায় অ্যারেস্ট করে এতদিন আটক রাখা হয়েছে।
আদালত : পরে তাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে।
আইনজীবী : আপনি দেখেন মাইলর্ড কোনো মামলা নেই। শুধু একটি জিডির ভিত্তিতে এসব করা হচ্ছে। আদালত সেসব দেখেও তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
আইনজীবী বলেন, মাইলর্ড ২১ জন পর্দানশিন নারীকে পুরুষ পুলিশ টানাহিঁচড়া করে গ্রেফতার করল। এর প্রতিকার কী।
আদালত : তাদের তো নারী পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
আইনজীবী : মাইলর্ড, ২১ জন নারীকে গ্রেফতারের সময় দু’জন নারী পুলিশ উপস্থিত ছিল। ২১ জন নারীকে কখনও দু’জন নারী গ্রেফতার করতে পারে না। এমনটা করতে হলে ওই দু’নারীকে হয় বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে, নয় তো তাদের একেকজনের ২০টি করে হাত থাকতে হবে।
আইনজীবী বলেন, এ ঘটনা থেকেই বোঝা যায় মাইলর্ড আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান ভুলে গেছি। এমন অবস্থায়ও তাদের জামিন হয় না। কোনো কিছুতেই আমাদের আর বাধে না।
একপর্যায়ে আদালত বলেছে, আপনার আবেদনটি সংশোধন করে নিয়ে আসেন। আইনজীবী আবেদনটি তাত্ক্ষণিক সংশোধন করে (সাপ্লিমেন্টারি) আবার জমা দিতে চাইলে আদালত বলেছে, সাপ্লিমেন্টারি দিলে হবে না নতুন করে আবেদন করতে হবে। আমরা মেটারটাকে স্ট্যান্ডওভার রেখে দিলাম।
তখন দু’দিনের সময় চাইলে আদালত সময় মঞ্জুর করে। আগামী মঙ্গলবার বিষয়টির ওপর আবার শুনানি হতে পারে বলে জানান অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ ডিসেম্বর মগবাজারের একটি বাসা থেকে ২১ নারীকে ধরে নিয়ে আসে রমনা থানা পুলিশ। পরে তাদের ছাত্রী সংস্থার কর্মী সন্দেহে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের মুখের নেকাব খুলতে বাধ্য করে পুলিশ। আদালত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এসব কাজের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ৮ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি জমা দেন সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি। গতকাল আবেদনের ওপর তিনি নিজেই শুনানি করেন।

প্রচ্ছদে মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্রসহ শার্লি এবদো প্রকাশিত

ফ্রান্সের প্যারিসে ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর এ সপ্তাহের সংখ্যার প্রচ্ছদে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আঁকা ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। শার্লি এবদোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সংখ্যার প্রচ্ছদটি ম্যাগাজিনটির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যঙ্গচিত্রটির অর্থ, শার্লি এবদোর সাংবাদিকরা জঙ্গিদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। হামলার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় নতুন সংখ্যাটি প্রকাশিত হলো। মহানবী (সা.)-কে সাদা পাগড়ি পরিহিত ও কান্নারত অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই ব্যঙ্গচিত্রে ফরাসি ভাষায় লেখা ‘জে সুই শার্লি’ বা ‘আমি শার্লি’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে আছেন তিনি। ব্যঙ্গচিত্রের ওপরদিকে লেখা ‘সব ক্ষমা করা হয়েছে’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এদিকে শার্লি এবদোর নতুন সংখ্যার প্রচ্ছদ পক্ষে ও বিপক্ষে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মুসলমান নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্র ঘৃণা ও ক্ষোভকে উস্কে দেবে এবং আরও হামলার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এদিকে গত সপ্তাহের মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভলস গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার দেশের লড়াই চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে, মুসলমানদের সঙ্গে নয়। শার্লি এবদোর বুধবারের এ সংস্করণটি ৩০ লাখ কপি ছাপা হয়েছে। সাধারণভাবে, ম্যাগাজিনটি প্রতি সপ্তাহে ৬০ হাজার কপি ছাপা হয়। আজ প্রকাশিত সংখ্যাটি ‘সারভাইভার্স ইস্যু’ বা ‘হামলায় বেঁচে যাওয়াদের সংস্করণ’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দৈনিক সংবাদপত্র ‘লিবারেশন’-এর কার্যালয় থেকে কাজ করছেন ম্যাগাজিনটিতে হত্যাযজ্ঞে বেঁচে যাওয়া সাংবাদিক ও কার্টুনিস্টরা। ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমে শার্লি এবদোর এ সংখ্যার প্রচ্ছদের জন্য আঁকা ব্যঙ্গচিত্রটি আগেই ছাপা হয়েছে। শার্লি এবদোর আইনজীবী রিচার্ড ম্যালকা বলেছিলেন, আমরা নতি স্বীকার করবো না। তিনি বলেন, ‘আমি শার্লি’র মর্মার্থ হচ্ছে, ঈশ্বর বা ধর্মমতকে কটাক্ষের অধিকার। শার্লি এবদোর কর্মীরাই নতুন সংস্করণের জন্য কাজ করছেন। অন্য কার্টুনিস্টরা পরবর্তী সংখ্যায় অবদান রাখতে চাইলেও, তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। হামলায় ম্যাগাজিনটির সম্পাদক ও ৪ কার্টুনিস্টসহ ৮ সাংবাদিক প্রাণ হারান। ওই হামলায় আরও ২ দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট ১২ জন নিহত হন। গত সপ্তাহে ৩ দিনে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ জন নিহত হন। শার্লি এবদোর কার্যালয়ে হামলার পর একটি সুপারমার্কেটে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পর ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত রোববার ৩৭ লাখ মানুষ ফ্রান্সজুড়ে সংহতি মিছিলে অংশ নেন। বিশ্বের ৪৪টি রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ তাতে অংশ নেন। শুধু প্যারিসেই ১৬ লাখ মানুষ সংহতি মিছিলে অংশ নেন। এদিকে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রথমবারের মতো সংহতি সমাবেশে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

রিয়াজ রহমানের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা, শাস্তি দাবি

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্র্রী রিয়াজ রহমানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেছেন, এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র মর্মাহত এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশটি। দোষীদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। বিবৃতিতে ম্যারি হার্ফ বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এ ধরনের নীতিবিবর্জিত ও কাপুরুষোচিত হামলার কোন যৌক্তিকতা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ ঘটনা তদন্ত, দোষীদের খুঁজে বের করা এবং এ ধরনের কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতামূলক কর্মকান্ড থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই আমরা। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে ও এ ধরনের কর্মকাকান্ড এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জনগণের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার মুক্তভাবে চর্চার বিষয়টি নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।

শুধু ‘সুন্দরী রমনী’দের জন্য বিনামূল্যে খাবার by কাজী আরিফ আহমেদ

চীনের হেনান প্রদেশের রাজধানী ঝেংঝোউয়ের একটি রেস্টুরেন্টে সুন্দরীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। যারা সুন্দরী হিসেবে সর্বোচ্চ স্কোর করছেন, তারা বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করছেন। ‘সৌন্দর্যের বিনিময়ে মূল্য পরিশোধ করুন’ প্রস্তাবটি দেয়া হচ্ছে ওই রেস্টুরেন্টে। যারা সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হচ্ছেন, তাদের জন্য বিনামূল্যে পরিবেশন করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নানা পদের খাবার। মূলত, ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্যই রেস্টুরেন্টটি জনপ্রিয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। একদল প্লাস্টিক সার্জন সৌভাগ্যবতী রমনীদের নির্বাচন করছেন। প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য রেস্টুরেন্টে রাখা একটি মেশিনে সুন্দরী প্রতিযোগীদের মুখম-ল স্ক্যান করাতে হচ্ছে এবং ওই ছবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে একদল প্লাস্টিক সার্জন বিশেষজ্ঞের কাছে। তারাই নম্বর দিয়ে নির্বাচিত করছেন বিজয়ী প্রতিযোগীদের। তৃতীয় তলায় সব প্রতিযোগীরা তাদের স্কোর দেখতে পাচ্ছেন। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর যে ৫ জন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ স্কোর করছেন, তারা বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বেশি খদ্দের আকৃষ্ট করতে চীনের কোন রেস্টুরেন্ট প্রথমবারের মতো এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। চংকিংয়ের একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিযোগীদের ওজনের ভিত্তিতে বিনামূল্যে বা বিশেষ ছাড়ে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে যাদের ওজন যতো বেশি, তাদের ডিসকাউন্টটাও ততো বেশি। তবে যে খদ্দেরদের ওজন ১৪০ কেজির বেশি, তাদের খাবার বিনামূল্যে বাড়িতেই পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে যাদের ওজন সাড়ে ৩৪ কেজির কম, তাদের খাবারও বিনামূল্যে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওদিকে সাংহাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে সবচেয়ে লম্বা বা দীর্ঘকায় নারী-পুরুষের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

আবার ইসলামবিরোধী সমাবেশ জার্মানিতে

ড্রেসডেনে পেগিডা আন্দোলনের সোমবারের মিছিল। রয়টার্স
জার্মানির পূর্বাঞ্চলের শহর ড্রেসডেনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আবারও ‘পাশ্চাত্যের ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ইউরোপীয়রা’ বা পেগিডা আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করেছেন সোমবার। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, প্যারিসের সন্ত্রাসী ঘটনার পর ইসলামবিরোধী এ তুলনামূলক নতুন আন্দোলনের সমর্থকেরা বড় ধরনের জমায়েত করবে। যদিও এ সমাবেশের দুদিন আগে ড্রেসডেন শহরেই পেগিডা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইউরোপে ইসলামবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে জার্মানির আরও কিছু শহরে পেগিডার সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করেন। তবে সেগুলোতে ততটা লোকসমাগম হয়নি। কোথাও বা তা পুলিশ বা এই আন্দোলনকারীদের বিরোধিতার মুখে ভণ্ডুল হয়ে যায়। তবে ড্রেসডেন শহরের ইসলামবিরোধী আন্দোলন পেগিডার আয়োজকেরা আগে থেকেই প্যারিসের নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এখানে শোক মিছিলের ঘোষণা দেন। জার্মানির আরেক পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাইপজিগের কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মিছিলে প্যারিসের বিতর্কিত ব্যঙ্গধর্মী পত্রিকা শার্লি এবদোতে প্রকাশিত মহানবী (সা.)-এর কোনো ব্যঙ্গধর্মী ছবি বহন করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্যারিসের শার্লি এবদো পত্রিকার কার্টুনিস্টরাও তাঁদের নিহত সহকর্মীদের পুঁজি করে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোথাও যেকোনো বর্ণবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। জার্মানিতে কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া ইসলামবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে গত সোমবার সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে প্রায় এক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পেগিডাবিরোধী সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় লাইপজিগ শহরে। সেখানে প্রায় ৩০ হাজার ও হ্যানোভারে ১৯ হাজার লোক জমায়েত হন। হ্যানোভার শহরে পেগিডা আন্দোলনের পক্ষের মিছিলটি শুরুতেই অবরোধকারীদের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে যায়। অবশ্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকেই সরিয়ে দেয়। গতকাল জার্মানির কেন্দ্রীয় ইসলামিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্যারিসের সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ তোরণের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। এতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল জার্মানিতে ইসলামবিরোধী আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে দেশবাসীকে এ আন্দোলন থেকে দূরে থাকতে বলেন। তিনি গতকাল আবার সাবেক জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ভুল্ফের বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, ‘ইসলাম ধর্মও জার্মানির অন্তর্গত।’ পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রতি সোমবার সন্ধ্যায় পেগিডা আন্দোলনের সমর্থকেরা সমাবেশ করছেন। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় তাঁদের তৎপরতা চাঙা হয়েছে। জার্মানিতে উগ্রপন্থীদের চলমান মুসলিমবিরোধী সমাবেশের বিরুদ্ধে গত শনিবার ড্রেসডেনে প্রায় ৩৫ হাজার লোক মিছিল করেন। জার্মান মূলধারার রাজনীতিকেরা দেশটিতে শুরু হওয়া ক্রমবর্ধমান ইসলামবিরোধী আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন।

শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন হোসনি মোবারক!

হোসনি মোবারক
দুর্নীতির মামলায় মিসরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক (৮৬) ও তাঁর দুই ছেলের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন মিসরের আদালত। তবে মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের আলোকে মোবারক শিগগিরই ছাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী। তবে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। সরকারি বার্তা সংস্থা মেনা একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, বিচার বিভাগের তরফ থেকে মুক্তির নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট আটক থাকবেন। অভিযোক্তারা বা পুনর্বিচারকারী আদালত নির্দেশ দিলেই কেবল তিনি মুক্তি পাবেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নামে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের দায়ে মোবারককে গত বছরের মে মাসে দোষী সাব্যস্ত করেন কায়রোর একটি নিম্ন আদালত। তাঁকে এ জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় মোবারকের দুই ছেলে আলা ও গামালকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসরের শীর্ষ আপিল আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশন গতকাল দেওয়া আদেশে ঘোষণা দেন, মোবারক ও তাঁর দুই ছেলের দণ্ড বাতিল করা হলো।
কারণ, নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে মানা হয়নি। এরপর মামলাটি পুনর্বিচার করার নির্দেশ দেন আদালত। ৩০ বছর ধরে মিসর শাসন করার পর ২০১১ সালে গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন মোবারক। তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা হয়েছিল। তিনটি মামলা আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মামলা তিনটি হলো ২০১১ সালের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ষড়যন্ত্র করা, বাজারদরের চেয়ে কম দামে ইসরায়েলের কাছে গ্যাস বিক্রি ও অন্যান্য দুর্নীতি। এ তিনটি মামলাই গত নভেম্বরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ৪ নম্বর মামলাটিতে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ায় মোবারক মুক্তি পাচ্ছেন কি না, কোর্ট অব ক্যাসেশন তা উল্লেখ করেননি। তবে গতকালের আদেশের পর পর মোবারকের একজন আইনজীবী ফরিদ আল-দিব বলেন, তিনি শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন। আইনজীবীর যুক্তি, সাবেক প্রেসিডেন্টের যে তিন বছরের সাজা হয়েছিল, তা তিনি এরই মধ্যে খেটে ফেলেছেন। মিসরের গণমাধ্যমও বলছে, মোবারক ১৭ জানুয়ারি মুক্তি পাবেন বলে মনে হচ্ছে।

পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে: দলবীর সিং

দলবীর সিং
নিজেদের ক্ষতি স্বীকার করেও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে তারা এখন বেশি নজর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্তে। ভারতের সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগ গতকাল মঙ্গলবার এ অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে প্রতিপক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠায় দেশের সামনে নতুন বিপদ ও চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে মানেকশ কেন্দ্রে প্রথামাফিক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেনাপ্রধান দলবীর সিং। তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগই ছিল পাকিস্তানকেন্দ্রিক। সেনাপ্রধান বলেন, এত কিছুর পরও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই দশক আগে যে ছায়াযুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তা এখনো অব্যাহত। দলবীর সিং বলেন, গত বছর ভারতের সেনা ও সীমান্তরক্ষীরা ১১০ জন জঙ্গিকে ধরেছিল।
সম্প্রতি জম্মু সীমান্তে পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে তারা কতটা মরিয়া। জঙ্গিরা কেন নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজর দিয়েছে, সেনাপ্রধান এর ব্যাখ্যাও দেন। তিনি বলেন, সাধারণত যেসব অঞ্চল দিয়ে সন্ত্রাসীরা এ দেশে ঢোকে, সেই অঞ্চলগুলোর ওপর নজরদারি ইদানীং বাড়ানো হয়েছে। ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির আড়ালে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্তকে ব্যবহার করতে চাইছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন দলবীর। তিনি বলেন, বাহিনী নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। আধুনিকীকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। প্রতিটি অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব জঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই চালান

জন কেরি
আফগানিস্তান, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ জঙ্গি সংগঠনগুলোকে রুখতে পাকিস্তানকে অবশ্যই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার এই তাগিদ দিলেন পাকিস্তান সফরে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। খবর রয়টার্স, এএফপি ও ডনের। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, পাকিস্তান একদিকে কিছু জঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই করে আবার প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় বড় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগায়। এ প্রেক্ষাপটে ভারত সফর শেষে পাকিস্তানে গিয়ে আলোচনার পর কেরি ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানকে সব জঙ্গির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান, হাক্কানি নেটওয়ার্ক, লস্কর-ই-তাইয়েবা, অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তান, এর প্রতিবেশী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। জন কেরি বলেন, ‘এই জঙ্গিরা যাতে এখানে নিরাপদ আশ্রয় না পায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ এ সময় বলেন, পাকিস্তান জাতীয় কর্মপরিকল্পনাসহ অন্য যেসব সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচি নিয়েছে, জন কেরি তার প্রশংসা করেছেন। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে ভারতকে রাজি করানোয় ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। গত মাসে পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১৩৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ‘ভালো জঙ্গি’ আর ‘খারাপ জঙ্গি’র ভেতর পার্থক্য করার চেষ্টা থেকে বেরিয়ে এসেছে। আফগান সীমান্তে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সারতাজ আজিজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, কাউকে কোনো রকম ছাড় না দিয়েই জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলবে।
জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি থাকলেও অনেকেই মনে করেন, সব ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুরোমাত্রায় অভিযান চালানোর বিষয়ে পাকিস্তান এখনো খুব সচেষ্ট নয়। তবে সারতাজ আজিজ বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের পর হাক্কানি গ্রুপের ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখান থেকে আফগানিস্তানে অভিযানের ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে দেশটির অন্যতম প্রধান সহযোগী দেশ হয়ে ওঠে পাকিস্তান। ফজলুল্লাহকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি) প্রধান মোল্লাহ ফজলুল্লাহকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে। গতকাল দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাঁকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আরও সাতজনের ফাঁসি: পাকিস্তান গতকাল আরও সাতজন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করেছে। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে ফাঁসি কার্যকরের সংখ্যা ১৬-তে উঠল। এ ছাড়া মুলতানে ২০০৯ সালে আইএসআইয়ের এক অফিসে হামলার অপরাধে চার জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী আদালত।

‘আমি কীভাবে ফাঁকা ক্লাসে বসব’

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ভয়াবহ সেই
হামলার পর গতকাল ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলের
ফটকে সশস্ত্র পাহারায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। গত ১৬ ডিসেম্বর জঙ্গি হামলায় ওই স্কুলে প্রায় ১৫০ জন নিহত হওয়ার পর গতকাল সোমবার থেকে স্কুলটিতে আবার ক্লাস শুরু হয়েছে। খবর ডন ও এএফপির। গতকাল ওই স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা ফটক বসানো হয়েছে। প্রবেশের প্রধান ফটকে ২০ জন সেনা টহল দিচ্ছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান শরিফ তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল হঠাৎ স্কুলটিতে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে ধরে আদর করেন। ১৬ ডিসেম্বর হামলার সময় স্কুলটির মিলনায়তনে বেঞ্চের তলে লুকিয়ে মৃত হওয়ার ভান করে প্রাণে বেঁচে যায় ছাত্র শাহারুখ খান। তার দুই পায়ে গুলি করে জঙ্গিরা। সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে গতকাল স্কুলে যায় শাহারুখ। সে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলে, ‘আমি আমার ৩০ জন বন্ধুকে হারিয়েছি। আমি কীভাবে ফাঁকা ক্লাসে বসব? কীভাবে আমি ফাঁকা বেঞ্চগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকব?
আমার মন ভেঙে গেছে। আর স্কুলে যেতে আমার মন চায় না।’ ছেলে মুহাম্মদ জায়েদকে আর্মি পাবলিক স্কুলে পৌঁছে দিতে যান মুহাম্মদ জাহুর। তিনি বলেন, ‘সে (জায়েদ) ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা কথা বলে তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি। আমরা তাকে চার দেয়ালের ভেতর বন্দী করে রাখতে পারি না। আমাদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’ জায়েদ বলে, ‘আমার বন্ধুদের দেখতে আমি স্কুলে যেতে চাই। শিক্ষা গ্রহণ শেষে ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আমি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাই।’ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে গত ১৬ ডিসেম্বর ভয়াবহ হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গিরা। এতে ১৩৪ শিশুসহ অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকে শীতকালীন ছুটি বাড়িয়ে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গতকাল থেকে পেশোয়ারের ওই স্কুলটিসহ সরকারি-বেসরকারি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর স্কুলগুলো কার্যক্রম শুরু করল। স্কুলগুলোর নিরাপত্তায় সিসি টিভি স্থাপন, ক্যাম্পাসে উঁচু সীমানাদেয়াল নির্মাণ করাসহ সরকারের বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড যে প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করতে পেরেছে, শুধু তাদেরই এনওসি দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো ওই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তারা এনওসি পায়নি।

প্যারিসে কাছাকাছি তাঁরাও

প্যারিসের রাজপথে হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হেঁটে চলেছে লাখ লাখ মানুষ। একেবারে সামনের সারিতে বিশ্বনেতারা। তাঁদের মধ্যে আছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও। দুজনের মধ্যে ব্যবধান মাত্র হাত কয়েক। ফ্রান্সে গত রোববারের সন্ত্রাসবিরোধী ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার সময় এমনই দৃশ্য দেখা গেল। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা ছিল বিরল একটা দৃশ্য। আগের সপ্তাহটা দুঃস্বপ্নের মতো কাটার পর ফ্রান্সের কাছে রোববারের শোভাযাত্রায় নজিরবিহীন সাড়া মেলে। এদিন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃশ্যপটগুলোর একটি হয়ে ওঠে সংহতি শোভাযাত্রা নেতানিয়াহু ও আব্বাসের অনেকটা কাছাকাছি হয়ে হাঁটার ঘটনা। খবর এএফপির। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের নেতৃত্বে প্রায় ৫০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার- প্রধানেরা যখন শোভাযাত্রার সামনে হাতে হাত রেখে হাঁটতে শুরু করেন, তখনই দেখা যায় ওই বিরল দৃশ্য। নেতানিয়াহু ও আব্বাসকে গত চার বছর এতটা কাছাকাছি হতে দেখেনি বিশ্ব। শোভাযাত্রায় সামনের সারিতে দুজনের মাঝখানে ছিলেন মাত্র চারজন: মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোবাকার কেইতা, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, জামার্নির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। পশ্চিমাদের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর গত চার বছর নেতানিয়াহু ও আব্বাসের মধ্যে মুখোমুখি কোনো বৈঠকও হয়নি। এর মধ্যে গত বছর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বর আগ্রাসনের পর দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। আর সাম্প্রতিক সময়ে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তুললেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এর জবাবে আব্বাস আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ (আইসিসি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন করেন। এতে করে আব্বাসের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হন নেতানিয়াহু। অবশ্য প্যারিসে চিরশত্রু নেতানিয়াহু ও আব্বাসই কেবল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শোভাযাত্রা করেছেন, বিষয়টি তেমন নয়। একই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভও। ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই নিয়ে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেন দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে।

রক্তভেজা সেই স্কুলে আবার কচিকাঁচাদের মেলা!

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের রাজধানী পেশোয়ারে রক্তেভেজা সেই আর্মি পাবলিক স্কুলে আবার ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার খুলে দেয়া হয়েছে স্কুলটি। শোকে বিবর্ণ পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুল আবার প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে উঠেছে কচিকাঁচাদের মেলায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ এ দিন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভীতি দূর করতে তাদের সঙ্গে গল্প করেন তিনি। পাকিস্তানে ওই বিদ্যালয়ে জঙ্গি হামলার পর দেশের বিদ্যালয়গুলোর শীতকালীন ছুটি আরও বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ২৬ দিন বন্ধের পর এদিন পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পেশোয়ার নগরীর বিদ্যালয়গুলোতে সোমবার সকালে আবারও ক্লাস শুরু হয়েছে। আর্মি পাবলিক স্কুলের প্রধান ফটকে কমপক্ষে ২০ জন সৈন্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সেখানে বিমানবন্দর ধাঁচের নিরাপত্তা ফটক স্থাপন করা হয়েছে। তবে এক দিনেই তো আর সেই বীভৎস রক্তাক্ত স্মৃতি ভোলা যাবে না।
তালেবান জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের সামনে মর্মান্তিকভাবে খুন করেছে তাদেরই সহপাঠী-বন্ধুদের। স্কুলটির ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ ১৪২ জন আসবে না। তারা আর কোনো দিনই আসবে না। গত ১৬ ডিসেম্বর তালেবানের বর্বর বন্দুক-বোমা তাদের পাঠিয়ে দিয়েছে চিরতরে না ফেরার দেশে। আর্মি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাও আর কোনো দিনই তার প্রাণের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরবেন না। তিনিও তার শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে খুন হন তালেবান হামলায়। গত মাসের সেই হামলায় মোট ১৪৯ জন মারা যান। এদিকে আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলার পর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা নিশ্চিতের শর্তগুলো পূরণ করতে পারেনি। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের সেই সামর্থ্য নেই। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে বাড়িতে বাড়িতে প্রার্থনা করছেন অভিভাবকরা।

ফকল্যান্ডে থ্যাচারের ভাস্কর্য

ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের তিন দশক পর ওই দ্বীপে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। রোববার ওই ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয় বলে সোমবার ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মার্গারেট থ্যাচারের পুত্র স্যার মার্ক থ্যাচার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধে জয়লাভ করে ব্রিটেন। ফকল্যান্ডের রাজধানী স্টানলিতে ৮ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার পাউন্ড।
ফকল্যান্ডের স্থানীয় ভাস্কর স্টিভ ম্যাসন এটির নকশা করেছেন। ভাস্কর্যটির গায়ে ১৯৮২ সালের ৩ এপ্রিল প্রদত্ত মার্গারেট থ্যাচারের ভাষণের একটি অংশ খোদাই করা আছে। তা হল- ‘তারা (ফকল্যান্ডবাসী) সংখ্যায় অল্প হতে পারে, কিন্তু তাদের শান্তিতে বসবাসের অধিকার আছে। নিজেদের জীবন পদ্ধতি তারা নিজেরাই করবে।’ দুই মাসব্যাপী ফকল্যান্ড যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ২৫৫, আর্জেন্টিনার ৬৫০ ও ফকল্যান্ডের ৩ জন সৈন্য নিহত হয়। মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যু হয় ২০১৩ সালে।

আর স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছে না!

আনন্দ-আতংক, উচ্ছ্বাস-উৎকণ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ ২৬ দিন পর সোমবার সেই স্কুলের আঙিনায় পা-রাখল শিক্ষার্থীরা। কারও চোখে ছিল ভয়, কারও চোখে জয় আর চাহনিতে ভাসছিল পুরনো দিনের স্মৃতি। ১৬ বছর বয়েসী শাহরুখ খানের জন্য বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়া ছিল এক ধরনের আতংক। বিদ্যালয় মিলনায়তনে হত্যাযজ্ঞ চলার সময় তার দুই পায়ে গুলি লাগে। বিদ্যালয়ে পুনরায় ক্লাস শুরুর আগে সে এএফপিকে বলে, ‘আমি তালেবান জঙ্গিদের ওই হামলার ঘটনায় আমার ৩০ জন বন্ধুকে হারিয়েছি। আমি এখন কীভাবে বন্ধুবিহীন ক্লাসে বসব।
আমি কীভাবে তাদের খালি বেঞ্চ দেখব।’ সে আরও বলে, ‘এসব কথা মনে হলে আমার মন ভেঙে পড়ছে। আমি যাদের সঙ্গে ছিলাম তাদের সবাই মারা গেছে। এসব কারণে আমার আর স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছে না।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ওই বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ১৫০ জনের মধ্যে ১৩৪ জনই ছিল শিশু । ১৬ বছর বয়েসী জাহিদ আইয়ুব নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমি ভয় পাই না। কোনো ধরনের হুমকি আমাকে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

বাসেই পুড়ে কয়লা শিশুসহ চারজন

(রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন দগ্ধ এই বৃদ্ধা। মিঠাপুকুরে বাসে দুর্বৃত্তের ছোড়া পেট্রলবোমার আগুনে দগ্ধ হন তিনি। ছবিটি আজকের। ছবি: মঈনুল ইসলাম, রংপুর) রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পেট্রলবোমার আগুনে বাসের ভেতরেই পুড়ে অঙ্গার হয়েছে শিশুসহ চারজন। গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে ১০ জন।  দেশব্যাপী ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাতাসন এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ হামলা হয়। রংপুরের পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু, দুজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছে। আগুনে লাশগুলো পুড়ে কয়লা হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ হওয়া ১০ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে ঘটনার পর থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের আট কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, রাত সোয়া ১২টার দিকে রংপুর শহরের মডার্ন মোড় এলাকা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ৩০টি বাস পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ ও বিজিবি। ওই বাস বহরের সামনে ছিল পুলিশের গাড়ি, পেছনে বিজিবির গাড়ি। বহরের ২৩ নম্বরে ছিল পেট্রলবোমা হামলার শিকার হওয়া খলিল এন্টারপ্রাইজ নামের যাত্রীবাহী বাসটি। পুলিশ-বিজিবির প্রহরায় বাসের বহর মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন এলাকায় এলে মহাসড়কের পাশের বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে বাস লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। খলিল এন্টারপ্রাইজ নামের বাসটিতে পেট্রলবোমা এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। বাসের ভেতরে পুড়ে মারা যায় চারজন। গুরুতর দগ্ধ হয় ১০ জন।
নিহত চারজনের কয়লা হওয়া লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ হওয়া ১০ জনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম জানান, খলিল এন্টারপ্রাইজ নামের যাত্রীবাহী বাসটি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। রংপুরের পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কোন দেশে বাস করছি? এ কেমন বীভৎসতা! কোনো মানুষ কী করে এমনভাবে মানুষ হত্যা করতে পারে?’

‘গণমাধ্যম কঠিন সময় পার করছে’

নানা কারণে দেশের গণমাধ্যম কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনরা। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেই মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হবে। স্বাধীন গণমাধ্যম কোন কারণে বাধাগ্রস্ত হলে এতে দেশ এবং দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে চাইবে তাদেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সিনিয়র সাংবাদিক, নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ বজায় রাখা। সামনের দিনে এই চ্যালেঞ্জ আরো প্রকট হতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। এখন যেটি উদ্বেগের কারণ সেটি হলো সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা থেকে গণমাধ্যমে চাপ আসছে। দেশে এখন যে সংঘাত এবং সহিংসতা চলছে তা চলতে থাকলে রাষ্ট্রযন্ত্রের অসহিষ্ণুতার প্রকাশ আরো প্রকট হতে পারে। এতে মিডিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এই মুহূর্তে বড় সঙ্কট হলো সংঘাত। এর কোন সমাধান না হলে পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সঙ্গে গণমাধ্যমও। সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সব দিক থেকে দেশের গণমাধ্যম একটি কঠিন অবস্থায় আছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার এবং বিরোধী পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে ভিন্নধর্মী চাপ রয়েছে। এমন অবস্থায় গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা মেনে,  পেশাদারিত্ব বজায় রেখে গণমাধ্যম চললে চাপ অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশের গণমাধ্যমের অবস্থান পর্যালোচনা করে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার  মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব মত প্রকাশে বাধা দেয়া বা খর্ব করা নয়। সরকারের দায়িত্ব মত প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া। যে সব সরকার এসব কাজ করছে তারা জনগণের আস্থা অর্জন দূরে থাক কোনদিন লাভবান হয়নি। তিনি বলেন, সরকারের জন্য মঙ্গল হবে,  মতামত ও তথ্য প্রকাশের পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। আর তা না হলে সরকার সাময়িক লাভবান হলেও  দীর্ঘমেয়াদি বুমেরাং হতে পারে তাদের জন্য। পৃথিবীর অভিজ্ঞতা তাই বলে। দেশে  দেশে এমন চিত্র দেখা গেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম  কি ধরনের শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করবে তা গণমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। এটা  গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার শামিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমে ব্যবহার বা গণমাধ্যম নিজেই কারও হয়ে কাজ করার মধ্যে কোন লাভ নেই। এতে যারা এটি ব্যবহার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য মিডিয়াকে বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কোন পক্ষের হয়ে কাজ করলে ধীরে ধীরে তারা আস্থা হারিয়ে ফেলে। একবার সুনাম হারালে তা ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত। রাজনীতি বা ক্ষমতার কারণে গণমাধ্যম পেশাদারিত্ব হারালে এতে পুরো দেশ এবং দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, দেশে এখন শঙ্কা ও অবিশ্বাসের সংস্কৃতি চলছে। কখন কি হবে তা কেউ বলতে পারছে না। অস্পষ্ট চাপ ও শঙ্কার মধ্যে মানুষ সময় পার করছে। গণমাধ্যমও এই চাপের বাইরে নয়। এই অবস্থায় গণমাধ্যমকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির না হয়ে পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করা দরকার। সম্প্রতি সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব যে বিবৃতি দিয়েছে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। যে কোন সঙ্কটের মুহূর্তে সবাইকে এক হয়ে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও সহনশীলতা প্রদর্শন করা উচিত। সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকা উচিত। তা না করলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকলে এর প্রকাশ ভয়ঙ্কর হতে পারে।

দমন-পীড়ন বেড়েছে গণমাধ্যম ও বিরোধীদের ওপর -এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশ সরকার গণমাধ্যম ও বিরোধী দলগুলোর ওপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি করেছে। বিরোধী দলগুলোর সংবাদ ও দুর্দশা সেন্সর করতে দেশটির গণমাধ্যমকে বাধ্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে চলছে বিরোধী সমর্থকদের একচেটিয়া গ্রেপ্তার, আটক করার হিড়িক। হংকংভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। রাজনৈতিক সংঘাত ও সেন্সরশিপের ধারা ভেঙে দিতে তারা দেশী ও বিদেশীদের হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে, যদি তারা বাংলাদেশের এ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ না করে তাহলে দেশটি রক্তপাতের দিকে এগিয়ে যাবে। এর প্রেক্ষিতে তারা দেশে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার আশঙ্কা করছে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২৮শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এর কার্যালয়ে কোন কারণ ছাড়াই অভিযান চালায় পুলিশ। আর সাংবাদিকদের ‘করুণ পরিণতি’র হুমকি দেয় তারা। গত ৭ই জানুয়ারি বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক ‘পর্নোগ্রাফি’ মামলায় এখন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কোন অভিযোগকারী মি. সালামকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত করেন নি, এ পদক্ষেপের যথার্থতার পক্ষে পুলিশের কাছে কোন তথ্যপ্রমাণও নেই। একই দিনে হাই কোর্টের একটি রুলিং লক্ষ্যণীয়। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের কোন বিবৃতি প্রকাশ বা সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ২৭শে ডিসেম্বর থেকে গাজীপুর জেলায় বিরোধী নেতাদের সকল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিরোধীরা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনটি জন-প্রতিবাদের মাধ্যমে স্মরণ করতে চাইছিল। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, ৩রা জানুয়ারি রাত থেকে পুলিশ এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিরোধী নেতাকে বেষ্টনী দিয়ে ঘেরাও করতে বালি, ইট আর কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ করে ভবনের চারপাশে রেখে দেয়া হয়েছে। খালেদাকে জনসমাবেশে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য তার কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বাংলাদেশে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দল আর তাদের মিত্রদের জনসমাবেশ করার অনুমতি আছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ১২ই জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। পক্ষান্তরে সমাবেশ করতে বিরোধীদের অধিকার বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে পুলিশ। সভা-সমাবেশ আয়োজনের অধিকার বারবার প্রত্যাখ্যাত হবার পর বিরোধীরা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে। এ অবরোধ শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। এরপর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহিংস সংঘাতের খবর আসছে। বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বিচ্ছিন্ন লড়াইয়ের খবর এসেছে। কখনও পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা। গত সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে আর অগ্নিসংযোগে কমপক্ষে এক ডজন মানুষ জীবন হারিয়েছেন। শ’ শ’ বিরোধী নেতাকর্মী ও নিরপরাধ নাগরিককে ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধ মামলায় তাদের জড়িত বলে দেখানো হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট না থাকায় ক্ষমতাসীন সরকার দেশের অনেক নাগরিকের দৃষ্টিতে অবৈধ। ২০১৪ সালের জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনগণের দাবির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে সরকার। জনগণের দাবির জবাব দেয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে আসছে। এসব সংস্থা রাজপথে প্রতিবাদকারীদের গুলি করে ধরাশায়ী করছে। শেখ হাসিনার মন্ত্রিপরিষদের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ১১ই জানুয়ারি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭০ এর দশকে নকশালদের যেভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল, বিরোধীদের সেভাবেই মোকাবিলা করবে সরকার। মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘১৯৭১ এ দেশ স্বাধীন হবার পর নকশালদের পরিণতি যা হয়েছিল, বিএনপিরও একই পরিণতি হবে।’ তথাকথিত ওই নকশাল, যাদের দিকে মন্ত্রী ইঙ্গিত করেছেন, তাদেরকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দিয়ে। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতার এমন বক্তব্য আজকের বাংলাদেশে শীতল বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। আভাস দেয় সামনে কি হতে চলেছে। রাজনৈতিক সংঘাত আর সেন্সরশিপের ধারা ভেঙে দিতে দেশী ও বিদেশী স্বার্থসংশ্লিষ্টরা যদি হস্তক্ষেপ না করেন, তাহলে দেশটি রক্তপাতের দিকে এগুচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর হুমকির আলোকে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার আশঙ্কা করছে।

‘ভয়-ভীতি ও চাপ' নিয়ে সংবাদপত্র মালিক সংগঠনের উদ্বেগ

একুশে টেলিভিশন-এর (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে আরো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে৷ এর ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন৷ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলায় পুলিশ মঙ্গলবার আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন জানালেও আদালত তাকে রিমান্ডে না দিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে৷ অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক ও আইনগত দিক থেকে ‘প্রচার মাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিভিন্ন ঘটনায়' উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)৷
ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম এখন কারাগারে আছেন৷ গত ৫ই জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ইটিভির নিচ থেকে আটক করে পুলিশ৷ পরদিন তাকে গত বছরের নভেম্বরে ক্যান্টনমেন্ট থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানান হলে আদালত রিমান্ড না দিয়ে পাঁচ দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন৷
এরপর বিএনপি-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় ঢাকার তেজগাঁ থানায়৷ এই মামলায় সালামকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত৷ তবে এখনো এই মামলায় তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি৷ ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়৷
মঙ্গলবার আবদুস সালামকে ক্যান্টনমেন্ট থানার আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখান হয়েছে৷ তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানান হয়৷ সালামের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়৷ ঢাকা মহানগর হাকিম সাবরিনা আলী দু'টি আবেদনই নামঞ্জুর করে সালামকে জেল গেটে পাঁচদিন জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন৷
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই সাখাওয়াৎ হোসেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘২০১৪ সালের ১০ই নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলাটি দায়ের করেন কানিজ ফাতেমা নামে এক নারী৷ আর এই মামলায় একুশে টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ'সহ নারীর সাবেক স্বামী শাহজালাল এজাহারভুক্ত আসামি৷''
তিনি জানান, ‘‘গত বছরের ৬ নভেম্বর প্রচারিত ‘একুশের চোখ' অনুষ্ঠান নিয়ে তখন মোট ৩টি মামলা হয় ৷ তার মধ্যে পর্নোগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের দু'টি মামলায় আবদুস সালামকে গ্রেফতার দেখানো হল৷ তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, এর কোন মামলায়ই আবদুস সালাম এজাহারভুক্ত আসামি নন৷ তবে ইটিভির উপস্থাপক ইলিয়াস হোসোইন এজাহারভুক্ত আসামি৷ এসআই সাখাওয়াৎ হোসেন দাবি করেন, ‘‘উপস্থাপক ইলিয়াস হোসাইন পলাতক আছেন৷ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে৷ তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে ওই দু'টি মামলার অভিযোগে কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা আছে তা জানা যাবে৷'' তিনি আরও বলেন, ‘‘এই দু'টি মামলাই জামিন অযোগ্য ধারার৷''
এদিকে আবদুস সালামের আইনজীবী ইউনূস আলী বলেন, ‘‘ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ক্যান্টনমেন্ট থানার দু'টি মামলায় গ্রেফতার দেখান হয়েছে৷ মামলার এজাহার বা বর্ণনায় কোথাও তার নাম নেই৷ আর তিনি অভিযোগের সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন৷'' তবে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি তদন্তের পরই বোঝা যাবে সালাম কোন অপরাধ করেছেন কি না বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী ইউনূস আলী৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব৷''
গত ৫ জানুয়ারি রাত থেকে একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচারে যে বিঘ্ন ঘটে, তা এখনো অব্যাহত আছে৷ ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকার দর্শকই একুশে টেলিভিশন দেখতে পাচ্ছেন না৷
এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক ও আইনগত দিক থেকে ‘প্রচার মাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের' বিভিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ রবিবার সংগঠনের এক সভায় এ উদ্বেগ জানানো হয়৷ এর পাশাপাশি সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমকে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানানো হয়৷
নোয়াবের পাঠান বিজ্ঞপ্তিকে জানান হয়েছে যে সভায় বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশির অপচেষ্টা করে৷ আপত্তির মুখে কার্যালয়ে ঢুকতে না পেরে তারা সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় এবং পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে সমবেত সাংবাদিকদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে৷ নোয়াবের সদস্যরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা সংবাদপত্রের স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়৷
নোয়াবের সদস্যরা বলেন, টিভি চ্যানেলের টক শো, সরাসরি সম্প্রচারে বাধা ও নানা বিধিনিষেধ আরোপের মধ্য দিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে৷ একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে ৬ই জানুয়ারি ভোররাতে (৫ই জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা) গ্রেফতার করা হয়েছে৷ একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার এখনো অনেক এলাকায় বন্ধ রয়েছে৷ সভায় ইটিভির চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করায় এবং অনেক এলাকায় এর সম্প্রচার বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়৷ সভায় নোয়াবের সদস্যরা সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন৷
দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন৷ এ কে আজাদ, তাসমিমা হোসেন, মতিউর রহমান চৌধুরী, এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, মাহ্ফুজ আনাম, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, সাঈদ হোসেন চৌধুরী, আলতামাশ কবির, এম শামসুর রহমান ও কাজী আনিস আহমেদ৷- ডিডব্লিউ

জ্বালানি সঙ্কট, ভেঙে পড়েছে পরিবহনব্যবস্থা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধে ভেঙে পড়েছে পরিবহনব্যবস্থা। নিরাপত্তার অভাবে মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল করছে না। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেল সরবরাহে। পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডিপোগুলোতে তেলের মজুত থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে সেখান থেকে পাম্পে তেল যাচ্ছে না। দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিশ্রুতিতেও ভরসা পাচ্ছেন না ডিলাররা। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি বোর মওসুমে ব্যাহত হচ্ছে সেচকাজ। সঙ্কটের সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে সারা দেশে তেলের বিক্রি কমে গেছে ৯০ শতাংশ। অবরোধে কার্যত অচল শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর। ফলে সেখান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। হরতাল-অবরোধে উত্তরের ১৬ জেলায় ৪০০ তেল পাম্পে সঙ্কট চরমে পৌঁছায়। টানা অবরোধে রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। খুলনাসহ ১৫ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অবরোধ অব্যাহত থাকলে দু-একদিনের মধ্যে ময়মনসিংহে পেট্রল ও অকটেন সঙ্কট দেখা দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ডিলাররা। এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দাবি করেছে, ডিপোগুলোতে জ্বালানি তেলের কোন সঙ্কট নেই। ডিলারদের নিজ দায়িত্বে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে হবে। চাইলে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারেন।
পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, জ্বালানি তেলের বিক্রি দশ ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। একদিকে সরবরাহে নিরাপত্তা ঝুঁকি, অন্যদিকে গাড়ি বন্ধ থাকায় তেল বিক্রি কমে গেছে। সারা দেশে একই অবস্থা। চাহিদা না থাকায় তেল আসছে না। বিশেষ করে হাইওয়ে পাম্পগুলোতে অবস্থা আরও খারাপ। বিক্রি একদম তলানিতে ঠেকেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পাম্পমালিকরা আন্দোলনে যাবেন- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে আমরা প্রেস ব্রিফিংয়ে যাবো। সেখানে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কিছু আহ্বান থাকবে। সরকার ও বিরোধী জোটকে সমঝোতায় আসতে হবে। আমাদের কিছু প্রস্তাবনাও থাকবে। যদিও জানি আমাদের প্রস্তাবনা তারা গ্রহণ করবে না। না হলে আমরা ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামবো। ডিপোগুলোতে কোন সঙ্কট নেই দাবি করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান এম বদরুদ্দোজা। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের কোন সঙ্কট নেই। তবে পাম্পে তেল নিতে ডিলাররা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমাদের দায়িত্ব ফিলিং স্টেশনে পৌঁছে দেয়া। তার পরেও যেখানে প্রয়োজন আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে বলেছি তেল পরিবহনে নিরাপত্তা দিতে। পতেঙ্গা থেকে পুলিশ ও বিজিবি দিয়ে আমরা তেল পৌঁছে দিচ্ছি।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বিএনপির টানা অবরোধের কারণে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় পরিবহন সঙ্কটে সার ও জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছে পুলিশ ও বিজিবির পাহারায়। বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলায়ও তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের চাহিদার শতকরা ৮০ ভাগ জ্বালানি তেল ও সারের চাহিদা মেটানো হয় বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে। প্রতিদিন পেট্রলের চাহিদা ৩ লাখ লিটার এবং ডিজেলের চাহিদা ২২ লাখ লিটার থাকলেও গতকাল দুপুর ১টা পর্যন্ত বিপিসি’র বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল বিপণন কেন্দ্র থেকে পেট্রল ১৫ হাজার লিটার এবং ডিজেল ১-দেড় লাখ লিটার সরবরাহ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। লেবার হ্যান্ডেলিং এজেন্টের পরিচালক আবুল হোসেন জানান, বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন জেলায় তেল ও সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, হরতাল-অবরোধে উত্তর জনপদের ১৬ জেলার ৪০০ তেল পাম্প তেল সঙ্কটে পড়েছে। কেউ কেউ ভয়ে তেল পাম্পগুলো বন্ধও রেখেছে। পাম্পগুলোতে তেল সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের শ্যালোচালিত মেশিনে ইরি-বোরোচাষীরা। টানা ৮ দিনের হরতাল-অবরোধে রাস্তায় যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অনেকেই বাঘাবাড়ী তেলডিপো থেকে তেল উত্তোলন করছে না। এ কারণে পাম্পগুলো এখন তেল সঙ্কটে রয়েছে। আবার পাম্পগুলো খোলা রাখলে কেউ যদি পাম্পে আগুন লাগিয়ে দেয় সে ভয়েও মালিকরা খুলছেন না। এরই মধ্যেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে বাঘাবাড়ী থেকে তেল নিয়ে আসছেন। আবার অনেকেই ভাবছেন যদি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় তাহলে আর কিছুই থাকবে না। বাস ভাঙচুর করলে কিংবা আগুন লাগিয়ে দিলেও কিছু থাকে; কিন্তু তেলের গাড়িতে আগুন লাগালে কিছুই থাকবে না। গ্রামাঞ্চলের তেল দোকানদাররাও পড়েছেন বিপাকে। তারাও ভয়ে ডিপো থেকে তেল নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রতিবারই তেলের দাম বেড়ে যায়। তাই আগাম তেল নিতে পারলে ভাল হয়। কিন্তু এভাবে হরতাল-অবরোধ চললে হয়তোবা তারা তেল সংগ্রহ করতে পারবেন না। পরে হঠাৎ তেলের দাম বেড়ে গেলেও তাদেরও বাজারে বিক্রি করতে সঙ্কটে পড়তে হবে। কোন কোন পাম্পমালিক পাম্প খোলা রাখলেও বলছেন, কিছু তেল থাকলেও তেল বিক্রি নেই। কেননা, একদিকে যানবাহন বন্ধ, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা হরতাল-অবরোধে তেল নিয়ে যেতে পারছেন না। এ রকম অবস্থাই কর্মচারীদের বেতন দেয়াও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রল পাম্পমালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল মমিন দুলাল জানান, ডিপোগুলোতে তেলের কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু তেল পরিবহনে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরতাল-অবরোধের কারণে। ঝুঁকি নিয়ে কেউ তেল আনতে সাহস পাচ্ছেন না। বগুড়া পর্যন্ত কেউ কেউ কোনভাবে কিছু তেল নিয়ে এলেও নওগাঁ, জয়পুরহাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ উত্তরের অন্যান্য জেলায় তেল বহন করা হরতাল-অবরোধকারীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাজশাহী-রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার ৪০০ তেল পাম্প। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের খুচরা ব্যবসায়ীরাও তেল নিতে পারছেন না। ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে যারা ইরি-বোরো চাষ করেন তারাও পড়েছেন বিপাকে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এদিকে বোরো মওসুমের শুরুতে জ্বালানি তেলের এমন সঙ্কট দেখা দেয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের শ’ শ’ কৃষক পড়েছেন মহাবিপাকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের বোরো চাষ চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পাম্পে পেট্রল না থাকায় মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর ভদ্রা এলাকায় অবস্থিত বাবুল ফিলিং স্টেশন ও বাসস্টেশন এলাকায় শুভ ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পাশে অবস্থিত নয়েন ফিলিং স্টেশন, শাহ মখদুম কলেজের পার্শ্ববর্তী আফরিন ফিলিং স্টেশন নিয়মিত খোলা থাকায় মোটরসাইকেল আরোহী সেখানেই ভিড় করছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের পেছনে অবিস্থিত গুলগফুর ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সোহেল রানা জানান, অনেক আশঙ্কার ভেতরে গতকাল থেকে তেল বিক্রি শুরু করেছেন। এর আগে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল না থাকায় পেট্রল পাম্পটি বন্ধ রেখেছিলেন। এদিকে তানোর উপজেলার মণ্ডুমালা এলাকার চাষি মোজাম্মেল হক জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সেচকাজ শুরু করতে পারছেন না। এতে বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান, সিলেটে পুলিশি পাহারায় আনা হচ্ছে জ্বালানি, চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। অবরোধের কারণে সিলেটে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছেন। পেট্রল পাম্পগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন না আসার কারণে সিলেটে এই জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ওদিকে, সিলেটের জ্বালানি সঙ্কট দূর করতে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা জ্বালানির কয়েকটি ট্রাক গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেটে এসেছে। গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলার এনজিএলএফ-এ আটকা পড়েছিল জ্বালানিবাহী শ’ শ’ ট্রাক। সিলেটের প্রশাসনের সহায়তায় গতকাল সকাল ৮টা থেকে এসব ট্রাক পুলিশের পাহারায় সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশি পাহারায় গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা থেকে ৫ লাখ লিটার পেট্রল সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫০ হাজার লিটার ডিজেল সিলেটে নিয়ে আসা হয়। তবে, যে জ্বালানি সিলেটে এসে পৌঁছেছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুব নগণ্য বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ওয়াগন না আসা পর্যন্ত সিলেটের জ্বালানি সঙ্কট পূরণ হবে না।
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে জানান, অবরোধ অব্যাহত থাকলে ময়মনসিংহ পেট্রল ও অকটেন সঙ্কট দেখা দেবে। পাম্পগুলোতে মজুত শেষপর্যায়ে। কোন পাম্পে শেষ হয়ে গেছে, আবার কোনটিতে ২-১ দিনের মজুত আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রল ও অকটেন উত্তোলন এবং পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কেউ উত্তোলন করে ময়মনসিংহ নিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। সঙ্কটের কারণে পেট্রল ও অকটেনচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ময়মনসিংহ পেট্রল পাম্প মালিকদদের সঙ্গে অসব তথ্য মিলেছে।
পাম্পমালিকরা জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ৪০টিরও বেশি তেলের পাম্প রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ডিপো ছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহে কোন ডিপো না থাকায় পেট্রল ও অকেটন নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে পেট্রল ও অকটেন উত্তোলন করে নিরাপদে ময়মনসিংহ নিয়ে আসার সাহস পাচ্ছে না। অবরোধের শুরুতে কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এলেও এখন আর সাহস পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে পাম্পমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া তেল উত্তোলন ও পরিবহন করা সম্ভব নয়। তবে কেউ কেউ অবরোধ থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের কথা চিন্তা করে ডিজেল উত্তোলন করে নিয়ে আসছে। আন্দোলন অব্যাহত সঙ্কট বাড়বে।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলায় জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রল পাম্প ও কৃষকদের কাছে তেল পৌঁছাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে চলতি কৃষি মওসুমে কৃষকদের কাছে ও পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহে আতঙ্কে ভুগছে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী, ট্যাংকলরি মালিক ও চালকরা। বাংলাদেশ জ্বলানি তেল পরিবেশক ও ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ সঙ্কটের কথা বলেন। সারা দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা ও ফরিদপুরের ৫ জেলায় পেট্রল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েলসহ জ্বালানি তেলসামগ্রী সরবরাহ করতে পারছেন না জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘটসহ নানা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সড়কে ট্যাংকলরি চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এম মাহবুব আলম সাংবাদিকদের এ সঙ্কটের কথা জানান। একইভাবে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ হারুন আর রশিদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি হাবিবুর রহমান খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলায় জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে চাহিদানুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভাব হবে না। তখন কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।

অবরোধের অষ্টম দিনে ভাঙচুর, সংঘর্ষ, নিহত ১

২০ দলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের অষ্টম দিন গতকালও সারা দেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ অব্যাহত ছিল। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় একটি ট্রাকে আগুন ধরে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে মারা যান এনামুল নামে এক আরোহী। সোমবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। অবরোধের পাশাপাশি বিএনপির ডাকা হরতালে যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালী ও বগুড়ায়। এ দুই জেলায় অন্তত ৩০টি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৪, চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ২, চাঁপাই নবাবগঞ্জে এসপি’র গাড়িসহ ৪, কুলিয়ারচরে ৪, কেন্দুয়ায় ১, রংপুরের বদরগঞ্জে ৪, গোমস্তাপুরে ১ ও সেনবাগে ১টি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আটক করেছে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। মামলা হয়েছে বেশ কয়েকটি। এছাড়া অবরোধের সমর্থনে সারা দেশেই বিরোধী জোটের মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে দেশে অনেক এলাকায়। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওপর হামলা-মামলা এরং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে অবরোধের পাশাপাশি গতকাল ১১ জেলায় হরতাল পালিত হয়েছে। একই দাবিতে আজ ও কাল নোয়াখালী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, জয়পুরহাট, সিলেটের বিয়ানীবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আবারও হরতাল ডেকেছে বিএনপি। মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, অবরোধ চলাকালে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমার আঘাতে মীরসরাইয়ে এক ট্রাক আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চালক হেলপারসহ দুজন। উপজেলার সোনাপাহাড় বিএসআরএম গেট এলাকায় সোমবার রাত ১০টায় দুর্বৃত্তরা ওই পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। নিহত ট্রাক আরোহী এনামুল হক (৩৮)। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সমদরপাড়া গ্রাম। তিনি ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের অভিজাত বিপণি বিতান আল মদিনায় বিপণন কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম শিমুল (১৯) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। ওই দিন রাত ১০টায় ডায়মন্ড নামের সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রাক ফেনী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। মীরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড় বিএসআরএম এলাকা অতিক্রমকালে দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাক আরোহী এনামুল হক (৩৮), চালক মোরশেদ (২৪) ও হেলপার সুমন চন্দ্র শীলকে (৩২) টহল পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে মস্তাননগর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে তাদের চিকিৎসা শেষে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাদের চমেক হাসপাতাল পাঠান। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টায় ট্রাক আরোহী এনামুল হক মারা যান। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। গতকাল বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার লাগাতার পুলিশি নিরাপত্তার পর সোমবার সন্ধ্যা থেকে ২ প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহানকে আটকের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশাসহ ২০টি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে ২ অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। পিকেটার সন্দেহে পুলিশ এক যুবককে আটক করেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী সড়কের কেন্দুরবাগ এলাকায় ২টি ট্রাক, ১টি পিকআপভ্যান ও ৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে পিকেটাররা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে পিকেটাররা। রাত ৭টায় জেলা শহরের দত্তেরহাটে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ করে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে সোনাপুরের করমুল্লা এলাকার হানিফ রোডে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা। অপরদিকে, রাত সাড়ে ৭টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার কলেজ গেট এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করে সড়কের ওপর থাকা ৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, বগুড়ায় হরতালে গাড়ি ভাঙচুর, ট্রাকে অগ্নিসংযোগসহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে গোকুল ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মমিনসহ বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ১৮ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। হরতাল চলাকালে বগুড়া এরুলিয়ায় পিকেটাররা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এ ছাড়া শহরের বনানী এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। অন্যদিকে বগুড়ার ধুনটে সকালে হরতাল সমর্থকরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। হরতালের কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকে। দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস বন্ধ রয়েছে। এদিকে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে গোকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মোমিন, এরুলিয়া ইউনিয়নের শিবিরের সভাপতি আবু হুরাইয়া, ১৮ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীতে বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ৩২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মহানগরী থেকে ৩২টি ককটেল ও ১০টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে নগরীর কাটাখালী, বিনোদপুর, খড়খড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে মহানগর পুলিশ এবং ৯ উপজেলা থেকে ১০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। এদিকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবরোধ চলাকালে পিকেটিংসহ পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এদিকে অবরোধ চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর হাদির মোড়ে ঝটিকা মিছিল করেছের জামায়াত কর্মীরা। এদিকে রাজশাহী মহানগরীর খড়খড়ি বাইপাস এলাকা থেকে ৩২টি ককটেল ও ১০টি ধারালো অস্ত্র (হাঁসুয়া) উদ্ধার করেছে র‌্যাব ৫-এর সদস্যরা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় এগুলো উদ্ধার করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় র‌্যাব ৫-এর মিডিয়া সেলের সিনিয়র এএসপি মীর্জা গোলাম সারোয়ার জানান, সোমবার গভীররাতে অবরোধকারীরা মহানগরীর খড়খড়ি বাইপাস সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে র‌্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অবরোধকারী পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩২টি ককটেল ও ১০টি ধারালো অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের ইটেরপোল এলাকায় মঙ্গলবার ভোররাতে পিকআপে অগ্নিসংযোগ করেছে অবরোধকারীরা। সকালে মিয়ার রাস্তার মাথায় অবরোধের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। একই সময় দালালবাজার, বাসটার্মিনাল, আলিয়া মাদরাসা এলাকায় পিকেটিং করেছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবির। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাতে শহরের আলিয়া মাদরাসা এলাকায় মুড়িভর্তি পিকআপে আগুন ধরিয়ে। একই সময়ে মুক্তিগঞ্জ এলাকায় তিনটি ট্রাক, কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ও চরচামিতায় দুটি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা, রায়পুর, রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ থানাসহ জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, পুলিশি আতঙ্কে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় না থাকার সুযোগে গতকাল সকালে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে বালাবাড়িহাট এলাকার যুবদল অফিস ভাঙচুর করে লুটপাট চালিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হোসেন পাখি জানান, একদিকে পুলিশ বাহিনী নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করছে। অন্যদিকে গতকাল সকালে পুলিশের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অফিস ভাঙচুর এবং লুটপাট করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে মহাসড়কে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে, ইটপাটকেল ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। অবরোধের কারণে নাটোর থেকে দূরপাল্লার কোন ভারি যানবাহন চলাচল করছে না। বিজিবি র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০ দলের ৮ কর্মী সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনব্যাপী অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শায়েস্তাগঞ্জে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে পৌর যুবদলের সভাপতি হাজী আবদুল মজিদ কাউন্সিলর, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রিপনসহ ২০ দলীয় জোটের ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে যুবদলের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার সকাল ৮টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিরামচর নামক স্থানে মহাসড়কে পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অবরোধকারীরা একটি মাছবোঝাই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, কিশোরগঞ্জে ট্রাকে অগ্নিসংযোগ এবং সিএনজি ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন বিএনপি নেতা সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শিহাব (৪৩) ও শহরের পূর্ব তারাপাশা এলাকার সিদ্দিক ড্রাইভারের পুত্র বাদল মিয়া (৩৫) এবং ছাত্রদল কর্মী যশোদল মধ্যপাড়া এলাকার আবু হানিফের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (২৩), শহরের পূর্ব তারাপাশা এলাকার নূরু মিয়ার পুত্র কাজল (২৮) ও একই এলাকার আবদুল বারিকের পুত্র ফারুক (৩০)। সোমবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সদর থানার পুলিশ তাদের আটক করে।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুর পৌর শাখার বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মতিনকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুর ১টায় স্থানীয় বটেরতল নামকস্থান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বটেরতল এলাকায় গাড়ি আটকানোর ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, অবরোধের পক্ষে ও বিপক্ষে ঝিনাইদহে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বার ভবনের সামনে থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা কোর্ট চত্বর প্রদক্ষিণ করে বার ভবনের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। অপরদিকে অবরোধ সমর্থনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল ও সমাবেশ শেষ হওয়ার পর অবরোধ প্রতিহতের দাবিতে দুপুর ১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, কুড়িগ্রামে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে বিএনপির ২ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন পৌর এলাকার সাইদুর রহমান (২২) ও রাসেল (২০)। এ ছাড়া অবরোধের সমর্থনে মঙ্গলবার শহরে জামায়াত-বিএনপি মিছিল ও সমাবেশ করে।
সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে সংবাদপত্র বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পোট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে অবরোধকারীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইক্রোবাসের চালক ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও তার সুপারভাইজার আবুল কাশেমকে (২৬) মারধর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। এতে তারা দুজনই আহত হন। মাইক্রোবাসের চালক ইসমাইল হোসেন জানান, দৈনিক প্রথম আলো বহনকারী মাইক্রোবাসটি নোয়াখালী এলাকার পত্রিকা বিলি করে ফেরার পথে সকাল সাড়ে ৬টায় সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে পৌঁছলে একদল অবরোধকারী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মাইক্রোবাসটি থামায়। এ সময় তারা নয়া দিগন্ত পত্রিকা চায়। একপর্যায়ে তাকে (চালক) ও সুপার ভাইজারকে মারধর করে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয়। একই সময় কয়েকজন মিলে মাইক্রোবাসের কাচ ভেঙে ফেলে। এরপর তারা পেট্রল ঢেলে মাইক্রোবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মনিরামপুরে বিএনপি ও জামায়াতের আট নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে মনিরামপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি ও জামায়াতের আট নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ বিএনপি কর্মী জাহঙ্গীর আলম, ফিরোজ আহম্মেদ, আবদুল জলিল, আনিচুর রহমান, জিল্লুর রহমান, লাভলু হোসেন, জামায়াত কর্মী বাবর আলী।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলামসহ জেলা সদরে ২, কেন্দুয়ায় ৩, আটপাড়ায় ১ ও বারহাট্টায় একজন রয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াতের ৩৪ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতভর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে বিএনপির ২৪ জন ও জামায়াতের ১০ জন কর্মী রয়েছেন।
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বই ও কাগজ বোঝাই ২টি ট্রাকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের বানিয়া চৌ  এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে উপজেলার মেহের-পানিওয়ালা সড়কে উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক বাজার সংলগ্ন উত্তর পাড়া নূরানী মাদরাসা সড়কটি কেটে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ওই ঘটনায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ কে আসামি করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীসহ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ী, কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, পৌরসভা, বারৈয়াঢালাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সোমবার  রাতে অভিযান চালিয়ে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াতের ৬ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এদেরকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক ফিটুর শহরের সার্কিটহাউজ রোডের বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে সোমবার মধ্যরাতে পণ্যভর্তি ট্রাকে আগুন ও এসপি’র গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে অবরোধকারীরা। এতে গাড়িচালক আফজাল আহত হয়েছে। এ ছাড়া সোমবার রাত ১টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে টমেটো ভর্তি একটি ট্রাকে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। এতে ট্রাকটি ভস্মীভূত হয়। এর কিছুক্ষণ আগে রাত পৌনে একটার দিকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের উপ-রাজারামপুর এলাকায় একটি তেলবাহী লরিতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় অবরোধকারীরা।
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল (৪৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে মাথিউরাস্থ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সামপ্রতিক সময়ে দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও গত কয়েকদিনে বিয়ানীবাজার থেকে স্থানীয় বিএনপির ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
কুলিয়ারচর প্রতিনিধি জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চারাকান্দা নামক স্থানে অবরোধের সমর্থনে পিকেটাররা  রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা ২টি সিএনজি ও ২টি ট্রাক ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার এসআই সমরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে সংখ্যক অজ্ঞাত আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার দিনে ও রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি জামায়াতের ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন- শহীদ উল্যাহ, ইউসুফ, দিদারুল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন, আকবর হোসেন ও অজ্ঞাত আরও ৭ জনসহ ১২ জন।
কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের ২ কর্মীকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গতকাল দুপুরে সোমবার রাতে তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, বোদায় সোমবার রাতে ৪ বিএনপিকর্মী ও ২ জামায়াতকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার সৃষ্টির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাতে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের রামপুর বাজার এলাকা সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে আবদুল জব্বার নামে এক যাত্রী আহত হন।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ভালুকা উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ৫৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এ মামলায় ছাত্রদলের ৪ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভালুকা মডেল থানার এসআই জিন্নাহ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা  আসামি করে একটি মামলা করেন।
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল রংপুরের  বদরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবরোধকারীরা সড়ক অবোরোধ করে বদর বাবা এন্টারপ্রাইজ, গঞ্জে সাফাসহ তিনটি বাস ভাঙচুর করে। এ সময় অরোধকারীদের হাতে মোটর শ্রমিকরা লাঞ্ছিত হন। এতে বদরগঞ্জ-রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সোমবার গভীর রাতে অবরোধকারীরা ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি অফিসের সামনে রাখা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপরদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নাশকতা ঠেকাতে ও রেলওয়ের নিরাপত্তার জন্য সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা আনছার ভিডিপি অফিসার আবুল কালাম আজাদ উপজেলা ৮টি পয়েন্টে ৬৪ জন আনছার ভিডিপি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেন।
গোমস্তাপুর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গোমস্তাপুরে আবারও ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত ২টায় রহনপুর-চাঁপাই নবাবগঞ্জ সড়কের শিমুলতলা এলাকায় নাটোরগামী টমেটো বোঝাই একটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। পুড়ে যাওয়া ট্রাকের ড্রাইভার জানান, উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকা থেকে টমেটো বোঝাই করে নাটোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে রহনপুর ও গোমস্তাপুর এলাকার মাঝামাঝি স্থান শিমুলতলায় পৌঁছলে রাস্তার গাছ কেটে গতিরোধ করে তারা। এ সময় একদল মুখোশধারী তেড়ে আসলে ড্রাইভারসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।
ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ফুলাড়ীয়া উপজেলায় গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৭০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। সোমবার বিকালে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে সিএনজি অটোসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিএনপি ও ছাত্রদলের  নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই পুলিশের এসআই আসাদুজ্জামান টিটু বাদী হয়ে বিএনপি নেতা অ্যাডভোটে আজিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০/৭০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, সোমবার রাতে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা রুস্তম আলী, দৌলতপুর থানা পুলিশ বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, যুবদল নেতা জামাল ও রিপন, খানজাহান আলী থানা পুলিশ বিএনপি নেতা মোস্তাকিম ও খালিশপুর থানা পুলিশ বিএনপি নেতা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিতে সহিংসতা দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ গতকাল  সকালে  ও সন্ধ্যায় দু’টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ আহত না হলেও জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮টায় ষোলশহর এলাকায় ১০ নম্বর রুটে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এই সময় চালক ও হেলপার কোনমতে রক্ষা পান। একইরকম ঘটনা ঘটেছে বায়েজীদ এলাকায়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে একটি রাইডারে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। এদিকে এক বিবৃতিতে ২০ দলীয় জোট আহূত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের স্বার্থে জীবন দিয়ে হলেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। মহানগর ছাত্রদল নেতা বেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার ভোরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের ফতেহপুর বড় বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিকালে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। আগুনে তার চাচা শাহ আলম ও কামাল উদ্দিনের দু’টি খড়ের গাদা পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় চাচা শাহ আলম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় যুবদলের ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত অনেককে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। অপরদিকে বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
১১ জেলায় হরতাল পালিত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নেতাকর্মীরা। তবে পিকেটিং করনতে দেখা যায়নি নেতাকর্মীদের। ফলে জেলা শহরে স্বাভাবিক ছিল যানবাহন চলাচল। হরতাল আহ্বানকারী অনেক নেতাকেই মাঠে দেখা যায়নি। মূলত মিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিল ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে শহরে রিকশা, অটোরিকশাসহ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বিপণি বিতান, দোকানপাট, ব্যাংক বীমাসহ অফিস আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চলছে। সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। সকাল ৮টার দিকে শহরের বক পয়েন্টে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোমতাজুল হাসান আবেদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলাম জানান, হরতালের কারণে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে  অতিরিক্ত সাড়ে ৪শ’ এবং শহরের দুই শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০ দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির আহবায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিএনপি এবং যুবদল নেতাকর্মীরা  শহরের কোর্টমোড় থেকে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।  সেখান থেকে যুবদল কর্মী মাহাবুব এবং মুকুল নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ এবং মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতি কবির মুরাদসহ ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোটের আহ্বানে মঙ্গলবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল না করলেও অভ্যন্তরীণ যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী গ্রামের যুবদল নেতা করিমুল (৪০), ফিরোজ (৩৮), পলাশ (৪২), জুয়েল (৩৫), বিল্লাল (৩০), ইসলাম (৩০) এবং ছাত্রদলের পারলা বেলতলার বাপ্পী (২৫) ও তেঘরিয়ার কাজল (২৪) কে আটক করেছে।
শিবগঞ্জ (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা শাখা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক হায়দারীর কানসাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও ভাঙচুরের অভিযোগে জেলা যুবদলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের সমর্থনে শিবগঞ্জে সকালে একটি মিছিল বের করে যুবদল। পরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের ভাংগা ব্রিজ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় হরতালকারীরা। শিবগঞ্জ থেকে বন্ধ রয়েছে দূর পাল্লার যানচলাচল। সোনামসজিদ বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় উপজেলায় ৬ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে জানান, জেলা বিএনপির ডাকা হরতালে কোথাও পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার বিকালে বাসভবনে বসে মঙ্গলবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার হরতাল চলাকালে জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ  সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কোন নেতাকর্মীকে মাঠে পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে জেলা বিএনপির অফিস তালাবদ্ধ ছিল। অপরদিকে জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।