Tuesday, May 19, 2015

সিলেটে তাবলিগের আমীরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার, আদালতে স্ত্রী ফাতেহার স্বীকারোক্তি

সিলেটে খুন হয়েছেন তাবলিগ জামায়াতের স্থানীয় এক আমীর। সোমবার নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকার ১নং বাসা থেকে তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইব্রাহিম আবু খলিল ওই বাসার সাদ উদ্দিন আল হাবীবের ছেলে। নিহত খলিলের গলায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রোববার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার ও তার ছেলে সাদ খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কোতোয়ালি পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন টিমের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ জানান, নিহত খলিলের গলায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। দাম্পত্য কলহের জের ধরে নিহতের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নিহত ইব্রাহিম আবু খলিল দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের তিন ছেলে নিয়ে নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকায় বসবাস করেন। ছোট স্ত্রী এক ছেলে নিয়ে নগরীর খাদিমপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
ইব্রাহীম খলিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাবলিগ জামায়াতের শত শত কর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় ধোপাদিঘীরপাড় জামে মসজিদে তার মাগফিরাত কামনা করে তাৎক্ষণিক এক খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল হয়। নিহত ইব্রাহিম ধোপাদিঘীরপার এলাকার তাবলিগ জামায়াতের আমীর ছিলেন।
নিহতের ছেলে সাজিদ উদ্দিন জানান, রোববার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন ইব্রাহিম খলিল। সোমবার সকালে তার কক্ষের দরজা খোলা পাওয়া যায়। এ সময় ঘরের খাটের নিচে হাত বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখের ওপর একটি বালিশ চাপা দেয়া ছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সাজিদ মিয়া আরও জানান, নিহত ইব্রাহিম তাবলিগ করতেন। দুই দিন আগে তিনি তাবলিগ শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেন। ঘাতকরা ঘরে থাকা ল্যাপটপ ও স্বর্ণ নিয়ে গেছে বলে জানান সাজিদ।
আদালতে স্ত্রী ফাতেহার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
পাটের রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে বুকের উপর বসে স্বামী ইবরাহিম খলিলের গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করি। এর আগে ঘুমন্ত স্বামীর মাথায় রেলওয়ের পাত দিয়ে আঘাত করি। এভাবেই হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন নিহত ইবরাহিম খলিলের স্ত্রী ফাতেহা মাশরুকা।
মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদুল করিমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন নিহতের স্ত্রী ফাতেহা। দুপুর থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘন্টা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
সোমবার সিলেট নগরীর চারাদিঘিরপাড়ে তাবলীগ জামায়াতের আমীর ধনাঢ্য ইবরাহিম খলিল খুন হন। পরে পুলিশ তার নিজ বাসা থেকে ইবরাহিমের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। তিনি সওদারগরটুলার ১নং বাসার মৃত সাদ উদ্দিন আল হাবীবের পুত্র। তার গ্রামের বাড়ী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগরে। নিহত ইবরাহিম নগরীর ধোপাদিঘীরপার এলাকার তাবলীগ জামায়াতের আমীর ছিলেন।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ফাতেহা মাশরুকা বলেন, আমার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে এক স্ত্রী দিনাজপুরে ও আরেক স্ত্রী গ্রামের বাড়ী সুজানগরে থাকেন। মূলত এসব নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এছাড়া তাবলীগ জামায়াতে বেশী সময় কাটানো, একাধিক বিয়েসহ নানা কারণে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এ অবস্থায় আমি সম্পত্তির ভাগ ভাটোয়ারা করে সন্তানদের ভবিষ্যত ঝামেলা থেকে মুক্ত করার জন্যে বার বার বললেও এতে ইবরাহিম কর্ণপাত করেননি।
নির্যাতনের কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আদালতে বলেন, তার আরো তিন সতিন রয়েছেন। পরবর্তী বিয়ে করার সময় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিতেন। না দিলে শুরু হতো নির্যাতন। নির্যাতনের ভয়ে তিনি হার্টের রোগী হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে আমাকে দেখার জন্য আত্মীয় স্বজনকে আসতে দেয়া হতো না।
আদালতে তিনি আরো বলেন, রোববার বাসায় ফেরার পর স্বামীকে গ্রামের বাড়ির ঘরদোর ঠিক করার তাগিদ দেন তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ কারণে রাগ করে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমাতে চান তার স্বামী। রাত প্রায় ৩ টার দিকে রেলওয়ের পাত হাতে নিয়ে আমি স্বামীর কক্ষে যাই। তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন স্বামীর মাথায় আঘাত করি। এতে তিনি প্রাণরক্ষায় ধস্তাধস্তির করলে পেটে ছোরা দিয়ে ৩টি ঘাই মারি।

যৌন হয়রানিতে চার বছরে ৯৯ নারীর আত্মহত্যা

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, গত চার বছরে যৌন হয়রানির শিকার ৯৯ নারী আত্মহত্যা করেছে। যৌন হয়রানিতে বাধা দেওয়ায় লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই হাজারের অধিক নারী ও ৪৮৯ জন পুরুষ। আজ মঙ্গলবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য দেওয়া হয়।
‘সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড রাইটস অব উইমেন ইন পাবলিক প্লেসেস’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজক ছিল ব্র্যাক স্কুল অব ল। অনুষ্ঠানে অধিকারকর্মী সামিয়া ইসলাম শীর্ষ ১২টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য উপস্থাপন করেন। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি জানান, এই চার বছরে ১১ থেকে ১৫ বছরের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছে। যৌন নিপীড়কেরা মেয়েদের হাত বা ওড়না ধরে টানার মধ্যেই থেমে থাকেনি, ধর্ষণ ও অপহরণের হুমকিও দিয়েছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম বলেন, যৌন হয়রানির আশঙ্কায় ঘরে বসে না থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীরা যত বেশি বাইরে বেরিয়ে আসবে, যৌন হয়রানির আশঙ্কা তত কমবে। তিনি আগামী বছর নববর্ষের অনুষ্ঠানে আরও বেশি সংখ্যায় নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন পয়লা বৈশাখের ঘটনায় কোনো কোনো মানবাধিকার সংগঠনের ভূমিকায় ব্যথিত হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘খ্যাতনামা ব্যক্তি ও কোনো কোনো সংগঠন এমন ভাব করেছে, যেন তারা বোবা, কালা ও অন্ধ।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি হাইকোর্ট নির্দেশিত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা থাকত, তাহলে যৌন হয়রানির ঘটনা কমে আসত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচকেরা বলেন, নারী-পুরুষের সহজ-স্বাভাবিক সম্পর্কে বাধা না দিয়ে সেটিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এতে করে নারী ও পুরুষ দুই পক্ষই একে অন্যকে সম্মান দিতে শিখবে। তাঁরা আরও বলেন, যেকোনো নির্যাতনের ঘটনায় নারীদের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে কখনই সমস্যার সমাধান হবে না।
নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির শিকার একাধিক নারী
আপডেট: ১৫এপ্রিল, ২০১৫ > বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কয়েকজন নারী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
নিপীড়নকারীদের ঠেকাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি লিটন নন্দীর হাত ভেঙেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে এই ঘটনা জানানো হলেও তাঁরা যথাসময়ে ব্যবস্থা নেননি।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তারা অভিযোগ করেছে, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণেই যেকোনো উৎসবের দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তারা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা দেখে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দী প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ থেকে টিএসসি আসার পথে তাঁরা কয়েকজন দেখেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ৩০-৩৫ জনের একদল যুবক বেশ কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানি করছে। তারা কারও কারও শাড়ি ধরে টান দিচ্ছিল। কয়েকজনকে তারা বিবস্ত্রও করে ফেলে। এ সময় সেখানে বাধা দিতে গেলে ওই যুবকদের ধাক্কায় তিনি পড়ে যান এবং তাঁর হাত ভেঙে যায়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটন নন্দী বলেন, ‘এ দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না। আমি আমার পাঞ্জাবি খুলে এক নারীকে দিয়েছিলাম। আরেকটি মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। ওই যুবকেরা ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে এই ঘটনা ঘটাচ্ছিল। আমরা পুলিশ ও প্রক্টরকে ঘটনা জানালেও তারা কেউ যথাসময়ে আসেনি। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা পরে প্রক্টরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন, তিনি কম্পিউটারে গেমস খেলছেন।’
ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী গেটে যখন এই ঘটনা ঘটছিল, তখন সেখানে মাত্র দুজন পুলিশ ছিল। টিএসসির ডাচ-বাংলা বুথের দিকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ছিল। আমরা তাদের এগিয়ে আসতে বললে তারা তখন রাজি হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে আমরা দুজনকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানতে পারি।’
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় যেখানে খুন হন, তার পাশেই সোহরাওয়ার্দী গেটে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র অভিযোগ করেছেন, সোহরাওয়ার্দী গেট এবং এর ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়ও প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্র নিয়মিতই নারীদের লাঞ্ছিত করে। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরও এসব প্রতিরোধে এগিয়ে আসা উচিত।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, ঘটনাস্থলে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। কাজেই সেগুলো দেখে যেন দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা আমাকে খবর দেওয়ার পরপরই আমি পুলিশকে সোহরাওয়ার্দী গেট বন্ধ করতে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে বলে আমি জেনেছি। আমরা পুলিশকে বলেছি সিসি টিভির ফুটেজ দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে বিধিমতো ব্যবস্থা নেবে।
ক্যাম্পাসে মিছিল, সংবাদ সম্মেলন: যৌন নিপীড়নের এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্র জোট। পরে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম জিলানী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও মিলন চত্বরে পুলিশের অবস্থানের কাছাকাছি জায়গায় এই ঘটনা ঘটে; যেখানে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও সিসি ক্যামেরা ছিল। তারপরেও পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।’
জি এম জিলানী বলেন, বর্ষবরণের দিন মানুষজন যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে কারণে তাঁরা প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করে ক্যাম্পাসে পয়লা বৈশাখের দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং ফুটপাতে দোকান বসতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর থেকেই অবাধে গাড়ি চলতে ও ফুটপাতে দোকানপাট বসতে দেওয়া হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। ভবিষ্যতে যেকোনো উৎসবের দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আমার পায়ের কী হবে?

প্রিজন সেলে আপাতত থাকলেও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমার সঙ্গে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাতে আর কোন বাধা নেই। আমি এখন মুক্ত। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নয়ন বাছার যখন এ কথা বলছিলেন তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, মুক্তির স্বাদ কেমন? জবাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, হাতে হাত কড়া নেই। স্বজন-বন্ধুরা এখন অবাধে আমার কাছে আসতে পারবেন। সাংবাদিকরা কথা বলতে পারবেন। ছবি তুলতে পারবেন। এতে এক ধরনের স্বস্তি পাচ্ছি। কিন্তু মনেতো শান্তি নেই। আমার পায়ের কী হবে? গরীব ঘরের সন্তান-এই চিকিৎসা চালাবো কিভাবে? আমার পড়াশুনার যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা পূরণ হবে কবে? যে মামলা চলছে সেটা থেকে মুক্তি পাবো কবে? আবার কবে আমি পায়ে হেঁটে ক্যাম্পাসে যাবো। গ্রামের বাড়ী যাবো? এসব চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকা এলাকায় একটি বাসে আগুনের ঘটনার পর পুলিশ নয়নের বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি করে। অভিযোগ রয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়ন বাছারকে ‘নয়ন বাশার’ মনে করে পুলিশ শিবির কর্মী সন্দেহে গুলি করে। সেদিন নয়ন বলেছিলেন, আমি হিন্দু, শিবির নই। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত করেনি পুলিশ। উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে পুলিশ। এতদিন পুলিশের কড়া নজরদারি আর হাত কড়া নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় দুর্বিসহ সময় পার করেছেন নয়ন। রোববার তার জামিন আবেদন করা হয় আদালতে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কামরুল ইসলাম মোল¬্যা জামিনে নয়নের মুক্তির আদেশ দেন।

পদ্মা সেতুর সুফল মিলবে, তবে... by খাজা মাঈন উদ্দিন

মূল সেতুর পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজ চলছে।
মাওয়া চৌরাস্তার এই দিক দিয়েই হবে পদ্মা সেতু।
গত শুক্রবার ছবিটি তুলেছেন জাহিদুল করিম
পদ্মা সেতু নতুন কী সুযোগের সৃষ্টি করবে। অর্থনৈতিক অবস্থারই বা কী উন্নতি হবে—সে সম্পর্কে পদ্মাপারের অনেকেই নিশ্চিত নন। সেতুর ব্যবহার শুরু হলেই হয়তো এর প্রভাব দৃষ্টিগোচর হবে।
পদ্মা সেতুর প্রভাব নিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডুবা এলাকার কৃষক বান্দু শেখের (৮০)। বক্তব্য, ‘এ সেতুটি থেকে মানুষ অনেক কিছু আশা করছে। কিন্তু আমি জানি না, আমার গ্রাম সেতুটির মাধ্যমে কীভাবে লাভবান হবে।’ অনেকের আশা, জমির দাবি বাড়বে। আবার আবাসন কোম্পানি জমি নিয়ে যেতে পারে, সে শঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গাজন মাতুব্বরের সরল উক্তি, এই ব্রিজ এই পাড়ের মানুষের জন্য তেমন কাজে লাগবে না। কিন্তু দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ এ সেতুর মাধ্যমে আসা-যাওয়া করবে। এ জন্য কিছু ক্ষতি হলেও সমস্যা নেই।
পদ্মা সেতুর প্রভাব নিয়ে সরকারের করা সম্ভাব্যতা জরিপের তথ্য, শুধু যোগাযোগেই নয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে সেতুটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে করা এ মহাপ্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে ওই গবেষণায় দাবি করা হয়, সেতুটি নির্মিত হলে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ওই অঞ্চলের মানুষের আয় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে। আর ৭ লাখ ৪৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে।
পদ্মা সেতু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও জাতীয় অর্থনীতি কীভাবে লাভবান হবে, এ প্রশ্নের জবাবে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও স্থানীয় লোকজনের উন্নতির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ না নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেতুটি অর্থনৈতিক উন্নতিতে তেমন ভূমিকা রাখবে না। যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আগে থেকেই বগুড়া শিল্পাঞ্চল ছিল। উত্তরবঙ্গ কৃষিসমৃদ্ধ ছিল। এ কারণে সেতু হওয়ার পরপরই কিছু সুফল পাওয়া গিয়েছিল। এরপরও অবকাঠামোর অভাবে সেখানে শিল্পায়ন স্থবির হয়েছে। আর পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ঠিক উল্টো। দক্ষিণাঞ্চল শিল্প বা কৃষি—কোনোটিতেই সমৃদ্ধ নয়।
সেতু পারাপারে উচ্চ হারে টোল আদায় করা হলে স্থানীয় লোকজন তেমন সুফল পাবেন না বলেও মনে করেন জিল্লুর। তাঁর মতে, পদ্মা সেতু থেকে আরও সুফল পেতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে আরও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এর চেয়ে বরং উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুভিত্তিক মহাপ্রকল্প হলে মানুষ অনেকভাবে উপকৃত হতো। তবে আন্তসীমান্ত বাণিজ্যে ও জমির দাম বৃদ্ধিতে এ সেতুটি তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখবে।
হোসেন জিল্লুরের কথার সমর্থন মিলল মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাখরেরকান্দি পদ্মা সেতু পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা আবদুল আজিজ হাওলাদারের কথায়। তিনি বলেন, সেতুর জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ শুরু করার পরই জমির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
নাওডুবি এলাকায় পদ্মা সেতুর কাজের তত্ত্বাবধান করছেন মাসুদুল করিম। তিনি বলেন, এলাকায় শাকসবজি ও মাছ বিক্রি বেড়েছে। বিশাল এ নির্মাণকাজের জন্য এখানে নানা ধরনের কাজের সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্পদের হিসাব দিতে মুসাকে দুদকের নোটিশ

বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর সম্পদের হিসাব দিতে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশেষ বাহক মারফত বনানীতে মুসার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ড্যাটকোতে এই নোটিশ পাঠানো হয়। মুসার পক্ষ থেকে নোটিশটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। দুদক সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দিতে হবে। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে আরও সাত কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। দুদকের কাছে সম্পদের তথ্য গোপন করলে এবং যথাসময়ে সম্পদ বিবরণী জমা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে দুদকের।
এর আগে গত ৫ মে কমিশনের দৈনন্দিন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসা বিন শমসেরের নামে সম্পদের নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। অনুমোদনের পর আজ মঙ্গলবার তাঁর ঠিকানায় নোটিশ পাঠায় দুদক।
গত বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীর ঈদ সংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্রে একই বছরের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ওই সাময়িকীতে এই ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাঁর জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন তিনি।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে নামার সময় সুইস ব্যাংকে মুসার যে পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে দুদক জানত, প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ আরও বেশি। দুদকের দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে মুসা নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। মাস দুয়েক আগে দুদকের অনুসন্ধান টিম মুসার মালিকানাধীন বনানীর জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো এবং তাঁর গুলশানের বাসায় পরিদর্শনে যান। সেখানে মুসা বিন শমসেরকে দলটি জিজ্ঞাসাবাদও করেন বলে জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মুসা জানিয়েছেন, সুইস ব্যাংকে তার একটিমাত্র অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে এ অ্যাকাউন্টে সাত বিলিয়ন নয়, বর্তমানে জমা রয়েছে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে) সমান। এ অর্থ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। অথচ সুইস ব্যাংকে মুসার জব্দকৃত অর্থের পরিমাণ সাত বিলিয়ন ডলার রয়েছে তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদেও এ তথ্য জানিয়েছিলেন মুসা। মুসার দেওয়া নতুন এ তথ্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ও উৎস জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সহায়তা চেয়েছে দুদক।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে তাঁর কোনো অর্থই সুইস ব্যাংকে জমা হয়নি। ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন, যা সুইস ব্যাংকে তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওইসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
সুইস ব্যাংকে অতিরিক্ত পাঁচ বিলিয়ন ডলার সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি দুদককে মুসা আরও জানিয়েছেন, সাভারে তাঁর এক হাজার ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। সত্তরের দশকে নিজ নামে তিনি ঢাকা জেলার সাভার অঞ্চলে বিভিন্ন দাগে বিভিন্ন সময় দলিল ও সাফ-কবলার মাধ্যমে এসব জমি কিনেছেন। এসব জমির অধিকাংশই বর্তমানে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় তফসিলভুক্ত। তিনি জানান, দেশে না থাকায় এসব জমির খাজনা পরিশোধ করে নামজারি করা সম্ভব হয়নি। তবে গত কয়েক বছরে দেশের অবস্থানের কারণে জমিগুলো পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করছেন।
দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন।

বড়রা খুশি, ছোটরা বেজার by মোছাব্বের হোসেন ও আবদুর রশিদ

জাজিরার নাওডোবা পুনর্বাসন কেন্দ্রে এভাবেই গড়ে উঠেছে
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘরবাড়ি। ছবিটি তুলেছেন আবদুস সালাম
কোনোটি কাঠের বাড়ি, কোনোটি পাকা। বাড়িগুলোর সামনে রাস্তা। মূল রাস্তা থেকে সরু গলি গেছে বিভিন্ন বাড়ির পাশ দিয়ে। সবুজ ঘাসের আস্তরণ আর ছোট ছোট গাছ দিয়ে সাজানো-গোছানো এক ছিমছাম এলাকা। এ যেন পরিকল্পিত আধুনিক মডেল শহর। এ চিত্র পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর।
পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে মসজিদ, খেলার মাঠ, মার্কেটসহ নানা সুবিধা আছে। তবে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ, কবরের জন্য জায়গা না থাকা এবং বখাটের উৎপাতের কথা জানিয়েছেন সেখানকার অধিবাসীরা।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের সরকার প্লট দিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্র করেছে। ১৫ মে সরেজমিন পদ্মা বহুমুখী সেতু এলাকার মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্র, শরীয়তপুরের জাজিরার দিয়ারা নাওডোবা পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বাখরেরকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্র ঘুরে সেখানকার অধিবাসীদের জীবনযাপনের নানা চিত্র পাওয়া গেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে সাতটি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।
কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রবেশমুখে দুটি শিশু দাঁড়িয়ে ছিল। অচেনা মানুষ দেখে তাদের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। কথা বলে জানা গেল, একজনের নাম ফরহাদ ঢালী, আরেক জনের নাম সাব্বির। তারা দুজনেই মেদিনী মণ্ডল নামের একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আগে বাড়ি কোথায় ছিল—জিজ্ঞাসা করতেই পশ্চিম দিকে হাত উঁচিয়ে ছেলে দুটি বলল, ‘ওই দিকে।’ এই বাড়ি ভালো, না আগের বাড়ি ভালো—এমন প্রশ্নে ছেলে দুটির জবাব, আগের বাড়ি ভালো ছিল। কেন? তাদের জবাব, ‘আগের বাড়িতে আমগাছ, কাঁঠালগাছ, নারকেলগাছ আছিল। এখানে নাই।’
তাদের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল আরেকটি শিশু। নাম মো. রিসাদ। তার অভিমত, বর্তমান বাড়ির চেয়ে আগের বাড়িই ভালো ছিল। রিসাদ জানাল, আগের বাড়িতে ধুলাবালি ছিল না। গাছ ছিল। ছায়া ছিল। কিন্তু এখানে এগুলো নেই।
শিশু তিনটির সঙ্গে কথা বলে, সামনে এগোতেই এক ব্যক্তির দেখা পাওয়া গেল। তাঁর নাম জয়নাল আবেদিন। ওই বাড়ি ছেড়ে কেমন লাগছে—জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই, সবাই পাশাপাশি আছি। ভালোই লাগছে। আমাদের সবার ৫০ শতাংশ জমি ছিল। এখানে আমরা প্রত্যেকে ৪ শতাংশ করে পাইছি। সরকার টেকাও দিছে।’
এ তো গেল মুন্সিগঞ্জ এলাকার কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের কথা। কেমন আছেন শরীয়তপুরের জাজিরার দিয়ারা নাওডোবা পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দারা। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল শাহীন মাতবরের দরজির দোকান। এই পুনর্বাসন কেন্দ্রের অধিবাসী শাহীন বললেন, তাঁদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। আরেক বাসিন্দা হাসান মাতবর বললেন, ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে মানুষ। ডাস্টবিন নেই। সন্ধ্যা হলেই মশার উৎপাতে থাকতে পারেন না।
দিয়ারা নাওডোবা পুনর্বাসন কেন্দ্রের সঙ্গে বাখরেরকান্দির পার্থক্য বেশ চোখে লাগে। এই পুনর্বাসন কেন্দ্রের ভেতরটা বেশ গোছানো। বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে। ভেতরে পাকা রাস্তা, পাকা মসজিদ। বনায়ন কার্যক্রমও পরিকল্পিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বললেন, প্রতিদিন এখানে বিকেলে বেশ কিছু ছেলে আসে মোটরসাইকেল নিয়ে। যাঁরা নিজেদের সরকারি দলের লোক হিসেবে পরিচয় দেন। রাস্তা দিয়ে জোরে জোরে হর্ন দিয়ে মোটরসাইকেল চালান। যে বাড়িতে মেয়ে আছে, ওই বাড়ির সামনে আড্ডাও দিতে দেখা যায় তাঁদের।
এখানের বাসিন্দা হারুন হাওলাদার (৫৫) বললেন কবরস্থান না থাকার কথা। ‘আগে মরার পরে কবর কই হইব এই চিন্তা আসে নাই। অনেক জায়গাজমি আছে, কোথাও না কোথাও ঠাঁই পামু। অখন এইখানে দেখি কব্বরও নাই’।
পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুনর্বাসন প্রকল্পে দুই হাজার নয় শ প্লট আছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩০০ প্লট বিতরণ করা হয়েছে। আরও তিন শ বিতরণের অপেক্ষায়।

তারা মনে করল, আমি বোধ হয় মেন্টাল পেশেন্ট by রাহীদ এজাজ

শিলংয়ের হাসপাতালে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন সালাহ উদ্দিন আহমদ
‘আমার চোখ তো বাঁধা ছিল। হাত বাঁধা ছিল। একটা লং জার্নি। মনে হয়, ১২-১৪ ঘণ্টা হবে। দুই ঘণ্টার হয়তো স্টপেজ ছিল। তারপর শিলং গলফ কোর্সের পাশে ওরা আমাকে ফেলে রেখে যায়। আমি তখন চোখ খুলে দেখেছি। কিছু লোককে বললাম, আমাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাও অথবা পুলিশে খবর দাও। তারা পুলিশে কল করল। আমার হিস্ট্রি বলার পর তারা মনে করল, আমি বোধ হয় মেন্টাল পেশেন্ট।’
১১ মে ভোর থেকে শিলংয়ে আটক থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ গতকাল সোমবারই প্রথম এভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন।
সালাহ উদ্দিনকে গতকাল সকালে হাসপাতালের আসামিদের ওয়ার্ড থেকে সিটি স্ক্যানের জন্য হাসপাতালের মূল ভবনে নেওয়া হয়। ১৫ মিনিট পর তাঁকে আবার ওয়ার্ডে ফেরত নেওয়া হয়। দুই ভবনে যাওয়ার মাঝপথে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশি পাহারায় সিটি স্ক্যান করতে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল। পুলিশের সহায়তা নিয়েই হাঁটছিলেন তিনি। তবে তাঁর শরীরে বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে প্রথম আলোর আলাপচারিতা ছিল এ রকম:
—আপনার শরীর কেমন?
ভালো না।
—আপনার স্ত্রী তো এখানে আসছেন?
মনে হয়। আপনারা সবাই কেমন আছেন?
—আপনি কেমন আছেন?
এখনো জীবিত আছি।
—আপনি দেশে ফিরতে চান?
দেশে তো এখন ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। এটা সরকারের উচিত হয়নি। আমি তো কোনো সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি নই। তো কেন এটা করা হয়েছে, আমি তো জানি না।
—স্থানীয় লোকজনই কি আপনাকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল?
আমি লোকজনের হেলপ চাই। তারাই ফোন করে পুলিশকে নিয়ে আসে। টহল পুলিশ আসে। তখন আমি তাদের সাথে গিয়েছি।
—উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে কি কোনো মানবিক সহায়তা চাইবেন?
আমার স্ত্রী এলে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পর এটা বলতে পারব। তবে আমি চিকিৎসা নিতে চাই। আমার অবস্থা ভালো না। শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ। স্পাইনাল কর্ড ও ব্যাক পেইন হচ্ছে।
—আপনাকে যখন অপহরণকারীরা নিয়ে আসছিল, তাদের কথাবার্তা কি খেয়াল করেছিলেন?
আমার চোখ-কান বন্ধ ছিল। এগুলো এখন আমি কিছুই বলতে পারব না।
—দেশে ফিরতে চান?
বাংলাদেশ তো আমার দেশ। কেন ফিরব না বলেন।
এদিকে গতকাল রাতে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে অবস্থিত সিভিল হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তৃতীয় কোনো দেশে যেতে চান। প্রায় আড়াই মাস পর সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দেখা হলো। হাসিনা আহমদ স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত সিভিল হাসপাতালে স্বামীর ওয়ার্ডে ছিলেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভারত সরকারের কাছে খুব কৃতজ্ঞ। সাথে এখানকার স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও খুব বেশি কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা আমার স্বামীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাঁকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আমার স্বামী খুব বেশি অসুস্থ। আমরা চেষ্টা করব ওনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’
আইনগত বিষয় নিয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে হাসিনা আহমদ বলেন, ‘উনি যেহেতু অসুস্থ, তাই ওনার সঙ্গে আজ খুব বেশি কথা বলতে পারিনি। কাল সকালে আমি আবার আসব। ওনার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঠিক করব। কাল আসার সময় আইনজীবী নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’
হাসিনা আহমদ চলে যাওয়ার পর সালাহ উদ্দিনের চিকিৎসক হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ জি কে গোস্বামীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, আজ (গতকাল) সকালে তাঁর সিটি স্ক্যান করার পর বিকেলে আরও কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে।
তবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোয় দেরি হতে পারে বলে জানা গেছে। গতকাল মেঘালয়ের ইংরেজি দৈনিক শিলং টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মেঘালয় পুলিশ চাইছে সালাহ উদ্দিনকে ফেরত পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক। কিন্তু তাঁর শারীরিক পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। তা ছাড়া, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সালাহ উদ্দিনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবে বিএসএফ। তবে বিএসএফ গত রোববার জানায়, সালাহ উদ্দিনের ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। মেঘালয়ের পুলিশপ্রধান রাজীব মেহতাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরই ভারতীয় পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করতে পারে।
মেহতা বলেন, আদালতই ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার বিষয়ে বা তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সালাহ উদ্দিনকে আদালতের সামনে হাজির করা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো নির্দেশ আসে, সেটিও আমরা আদালতের সামনে তুলে ধরব।’
সালাহ উদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে নিতে চান স্ত্রী
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের শরীর খুবই খারাপ বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি স্বামীকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে চান। কারণ সেখানেই এর আগে তাঁর চিকিৎসা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিকেলে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের শিলংয়ে সিভিল হাসপাতালে বিচারাধীন মামলার আসামিদের ওয়ার্ডে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা জানান হাসিনা আহমদ।
সালাহ উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হাসিনা বলেন, ‘ওনার শরীর খুবই খারাপ। একটানা দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। হাত-পা কাঁপতে থাকে। খুব দ্রুত তাঁর উন্নত চিকিৎসা দরকার।’ তিনি বলেন, সালাহ উদ্দিনের হৃদরোগের সমস্যা আছে। কিডনির সমস্যাও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করেন, ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সেখানে চিকিৎসার জন্য যায়। তাহলে তিনি স্বামীকে কেন তৃতীয় একটি দেশে নিতে চাচ্ছেন? উত্তরে হাসিনা আহমদ বলেন, গত ২০ বছর ধরে সালাহ উদ্দিনের সব চিকিৎসা সিঙ্গাপুরে হয়েছে। হৃদরোগের জন্য তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রিং পরানো হয়েছে। কিডনির চিকিৎসাও সিঙ্গাপুরেই হচ্ছে। তাই সেখানেই স্বামীকে নিয়ে যেতে চান। তৃতীয় দেশ বলতে তাঁরা সিঙ্গাপুরকেই বোঝাচ্ছেন।
সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ব্যাপারে আইনি জটিলতার বিষয়টি বিবেচনা করছেন কি না—জানতে চাইলে হাসিনা বলেন, এ ব্যাপারে জটিলতা আছে কি না, বুঝতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব। অপরাধ-বিষয়ক আইনজীবী এসপি মাহান্ত ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। তাঁর কার্যালয়ে কনিষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার দিকে মাহান্তর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন। তখন এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
দ্বিতীয় দিনে স্বামীর সঙ্গে কী কথা হলো জানতে চাইলে হাসিনা বলেন, পারিবারিক বিষয় ও বাচ্চাদের নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
চিকিৎসকের বক্তব্য
শিলং সিভিল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের চিকিৎসক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জি কে গোস্বামী প্রথম আলোকে বলেছেন, সালাহ উদ্দিনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার ব্যাপারে আজ কোনো মেডিকেল বোর্ড বসছে না। তিনি বলেন, গতকাল করা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট তিনি পেয়েছেন। এতে সালাহ উদ্দিনের স্বাস্থ্যগত কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ ছাড়া তাঁর চর্মরোগের সমস্যা আছে। সেটি আরেকটু খতিয়ে দেখা হবে। সব পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।
সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করার আগে দুপুরে শিলংয়ের লাশুমের এলাকায় অপরাধ-বিষয়ক আইনজীবী এসপি মাহান্তর কার্যালয়ে যান হাসিনা। এসপি মাহান্ত এ সময় আদালতে থাকায় হাসিনা তাঁর কনিষ্ঠ সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
গতকাল রাতে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে অবস্থিত সিভিল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন হাসিনা। প্রায় আড়াই মাস পর সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দেখা হলো। হাসিনা আহমদ স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত সিভিল হাসপাতালে স্বামীর ওয়ার্ডে ছিলেন।
গতকাল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় সালাহ উদ্দিন বলেন, চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় তাঁকে শিলংয়ে নেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য শুনে শিলং পুলিশ তাঁকে মানসিক রোগী মনে করে। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোয় দেরি হতে পারে বলে জানা গেছে। গতকাল মেঘালয়ের ইংরেজি দৈনিক শিলং টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মেঘালয় পুলিশ চাইছে সালাহ উদ্দিনকে ফেরত পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক। কিন্তু তাঁর শারীরিক পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সালাহ উদ্দিনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবে বিএসএফ। তবে বিএসএফ গত রোববার জানায়, সালাহ উদ্দিনের ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। মেঘালয়ের পুলিশপ্রধান রাজীব মেহতার দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরই ভারতীয় পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করতে পারে।

ঘটনা দুটি—মূল কারণ একটাই by সৈয়দ আবুল মকসুদ

ঝিল থেকে ১২ লাশ উদ্ধার
রামপুরা ঝিলপাড়ে দাঁড়িয়ে ধারণা হলো আমাদের
একটি রাষ্ট্র আছে কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র নেই
রামপুরার ঝিলপাড় এলাকায় দোতলা বস্তিঘর
পানিতে দেবে মারা গেছে অন্তত ১৩ জন
তাজ্জব সব ঘটনা ঘটে বাংলার মাটিতে শুধু নয়, বাংলার পানিতেও। ঘটনা ও দুর্ঘটনা শুধু বাংলার নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, পাহাড়-বনভূমিতে ঘটে তা-ই নয়, বাংলার রাজধানীর সবচেয়ে বড় উদ্যানেও ঘটে, ঝিলের পানিতেও ঘটে। ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যানের কথা আমরা জানি, কিন্তু জলাশয়ের পানির ভেতর নড়বড়ে খাম্বার ওপর বহু কামরাবিশিষ্ট দোতলা বাড়ি বানানোর কথা কখনো শুনিনি। জমিদার পরিবারের মানুষ দেওয়ান হাসন রাজা দালানে থাকতেন। তা সত্ত্বেও বাউলা বলেছেন, ঘরবাড়ি ভালা না আমার। জোতজমি বিষয়সম্পত্তি যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেছেন, কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার। অবশ্য সবাই শূন্যের মাঝারে ভালা ভালা দোতলা বাড়ি বানাতে পারেন না। সরকারি দলের লোক হলে শূন্যের মাঝারেও বাড়ি বানাতে পারেন, ঝিলের পানির ওপরেও দোতলা তুলতে পারেন। সে রকম একটি দোতলা বাড়ি সেদিন ঝিলের পানির মধ্যে দেবে গেছে। তাতে অপমৃত্যু ঘটেছে পৌনে ১৩ জনের।
ঘটনাস্থলে আমি একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে কয়টি। তিনি জানালেন, ১২ জন মারা গেছে। আমি তাঁকে বললাম, সংখ্যাটি সঠিক নয়, অপমৃত্যু ঘটেছে বা হত্যা করা হয়েছে পৌনে ১৩ জনকে। পৌনে ১৩ সংখ্যাটি শুনে তিনি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন। আমি তাঁকে বোঝালাম: ১২+পৌনে ১ = পৌনে ১৩।
সবুজ মিয়ার স্ত্রী রোখসানা ছিলেন ছয় মাসের গর্ভবতী। অনাগত শিশুটি তার পেটে হাত-পা ছুড়ত।
ছেলে হোক মেয়ে হোক, সে তার সন্তানের একটি নামও ঠিক করে রেখেছিল। নাতনি বা নাতির জন্য পুরোনো কাপড় জোড়া দিয়ে সবুজের মা কিছু ছোট ছোট কাঁথাও সেলাই করে রেখে থাকবেন। কয়েক মাস পরেই শিশুটি পৃথিবীতে আসত। নিজের ভাড়া ঘরের ভেতরে বসে সবুজের বাবা-মা ও স্ত্রী ঝিলের পানিতে ডুবে মারা যান। তাঁদের সঙ্গে তাঁদের বংশধর জন্মের আগেই একটি নির্মম ভূখণ্ড থেকে বিদায় নিল।
রাতে মাথা গোঁজার জন্য সব মানুষেরই একটা ঘর চাই। সে ঘর হতে পারে কোনো বস্তির ঝুপড়ি অথবা অভিজাত এলাকায় কোনো বিলাসবহুল প্রাসাদ। প্রাসাদবাসীর যেমন প্রাসাদ, তেমনি বস্তিবাসীর কাছে তার ঝুপড়ি প্রিয়। বেকার হোক, নিষ্কর্মা হোক, কর্মজীবী হোক, দিনের একসময় তাকে ঘরে ফিরে আসতে হয়। ঝিলপাড়ের দোতলা বাড়ির বাসিন্দাদেরও অনেকে সেদিন দুপুরে ঘরে ফেরেন। কেউ ঘরেই আগে থেকে ছিলেন রান্নাবান্নার কাজে। প্রায় সবারই দুপুরের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। কেউ খেয়ে বিছানায় একটু লম্বা হয়ে চোখ বুজেছিলেন। ওই চোখ বোজাই যে তাঁর শেষ চোখ বোজা হবে, তা জানতেন না। বিকেল পৌনে চারটা। মটমট কড়কড় আওয়াজ। দুলে ওঠে ঘরের মেঝে, যেমন ঢেউয়ের মধ্যে নদীতে নৌকার পাটাতন। কেউ একজন পান মুখে দিয়ে বলতে চান, ‘কেরা রে খুঁটি ধইর্যা টানা মারে—!’ তাঁর কথা শেষ করার আগেই পুরো একতলা পানির নিচে দেবে যায়। দোতলার বাসিন্দারা ছিলেন ভাগ্যবান। তাঁরা মিনিট খানেক সময় পান দৌড়ে বা লাফিয়ে আত্মরক্ষা করার।
রাতের খবরে দেখেছিলাম ফায়ার সার্ভিসের ত্রাণকর্মীদের উদ্ধার তৎপরতা।
পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা পানির জলাশয়। হাজার হাজার মানুষের মলমূত্রমিশ্রিত পানির রং আলকাতরার চেয়ে সামান্য বেশি কালো। সেই পানিতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা লাশের সন্ধান করছেন। জলাশয়ের বিভিন্ন জায়গায় জলজ গুল্ম। গরিবের ঘরেও অনেক জিনিস থাকে। পানিতে ভাসছে প্লাস্টিকের বদনা, ফুটবল, শার্ট, লুঙ্গি, শাড়ি, স্যান্ডেল, টুপি, ব্লাউজ, হাতপাখা, বাসন, পেয়ালা, ভাঙা বালতি, হাতব্যাগ, ছেঁড়া মাদুর প্রভৃতি। প্রায় মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাওয়ায় পানির একদিকে ভাসছে পুরোনো এক ফ্রিজের ডালা, অন্যদিকে ফ্রিজের খোল।
ঝিলের পাড়ে বস্তিবাসীর ভিড়। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। কথা হলো ফায়ার সার্ভিসের ডিরেক্টর (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ ও উপপরিচালক এ বি এম নুরুল হকের সঙ্গে। নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের বাহিনী কাজ করছে। এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনাব হক ও মেজর শাকিলের মতো সজ্জন ও যোগ্য অফিসার রয়েছেন। তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে মানুষের উপকার হতো।
কেউ কোনো বাড়ি বানালে তা ধসে পড়বে না বা দেবে যাবে না, তা বলা যায় না। পৃথিবীতে গত হাজার বছরে বহু ভবন ধসে গেছে। তবে সেগুলো বৈধভাবে কেনা জমিতে বৈধভাবে নির্মিত, জনগণের খাস জমিতে নয়। কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, যে বাড়িটি দেবে গেছে, তার কোনো ফাউন্ডেশন ছিল না। রড ও কংক্রিটের পিলারের ওপর লোহার অ্যাঙ্গেল বসিয়ে তৈরি ঘরটির পাটাতন ছিল কাঠের। ওই কাঠের ওপর কংক্রিটের আস্তরণ দিয়ে ছাদ করা হয়। বাড়িটির একতলা পানিতে দেবে যাওয়ায় নিচতলার বাসিন্দারা কংক্রিটের ছাদের নিচে চাপা পড়েন।
বাড়িটিতে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সবকিছুরই সংযোগ ছিল। জলাশয়ের নরম মাটিতে পোঁতা বাঁশের খুঁটি ও কাঠের পাটাতনের ওপর সিমেন্ট ঢালাই দেওয়া বাড়ি রাজউকের রাজত্বে হাজার হাজার। দেবে যাওয়া বাড়িটির ‘মালিক’ ক্ষমতাসীন দলের একজন স্থানীয় নেতা। তাঁর পদের নাম তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। বাড়িটি ধসে যাওয়ার পর থেকে তিনি অতি নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে গভীর কোনো বিষয়ে গবেষণা করছেন। এবং মুচকি মুচকি হাসছেন। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে তিনি ‘গ্রেপ্তার’ হলেও হতে পারেন শুধু জামিন পাওয়ার জন্য।
রামপুরা ঝিলপাড়ে দাঁড়িয়ে আমার ধারণা হলো, আমাদের একটি রাষ্ট্র আছে কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র নেই। আমাদের রাষ্ট্র কর্মকর্তায় ভরপুর, কিন্তু প্রশাসন বলতে কিছু নেই। আমাদের সিটি করপোরেশন একটা নয় দুটো, কিন্তু তার বেতনভুক কর্মচারীদের চোখে দেখেনি নগরবাসী। আমাদের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বলে একটি প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু রাজধানীর কোথায় কী হচ্ছে, তা তাদের দেখাশোনার প্রয়োজন নেই। ওই এলাকায় ঝিল ভরাট করে নির্মিত ‘ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা’র অফিস কাম রেসিডেন্সের দরজায় দাঁড়িয়ে আমার মনে হলো, এই জায়গাটি ঢাকা জেলা প্রশাসন, রাজউক, সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে শুধু নয়, বাংলাদেশেরই বাইরে। তবে বস্তির বাসিন্দারা জানালেন, অন্য কোনো সময় নয়, দুই ঈদের আগে আগে জেলা প্রশাসন, রাজউক, ডিসিসি শুধু নয়, তাবৎ সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা এখানে চোখ লাল করে পদধূলি দেন।
এই নগরের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মাদানী নামের বেহেশতবাসী একজন ব্যক্তিকে। তাঁর উত্তরসূরিদের প্রতি মানুষের নেই কিছুমাত্র শ্রদ্ধা। চাকরি রক্ষা করাটাই তাঁদের জীবনের ধ্রুব লক্ষ্য। কবি বলেছেন, তাঁর চেতনার রঙে পান্না হয় সবুজ। বাংলার মাটিতে বিশেষ করে বাংলার প্রশাসনে কর্মকর্তাদের চেতনার কারণে ঘটে ঘন ঘন পদোন্নতি, বাড়ে চাকরির মেয়াদ। বন্ধ হয়ে যায় যোগ্যতর কারও পদোন্নতির দরজা। এই নগরের কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নেই, আছে অতি সক্রিয় ধ্বংসকারীরা। ঝিলপাড়ে দাঁড়িয়ে কানের তালা ফাটার জো হলো মাইকের ঘোষণায়: ভাইসব, অমুক মার্কায়...।
জলাশয়ে বাঁশের খুঁটির ওপর কংক্রিটের ছাদঅলা দ্বিতল বাড়ি তৈরি হয় এবং তা দেবে যায় রাজনীতির কারণে। নদীতে লঞ্চ ডুবে শত শত মানুষ মরে, শাস্তি হয় না কারও, মূল কারণ রাজনীতি। সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন নিহত হয়, কেউ গ্রেপ্তার হয় না রাজনীতির কারণে। পেট্রলবোমায় মানুষ পোড়ে, কেউ গ্রেপ্তার হয় না, মূল কারণ রাজনীতি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে নারকীয়তা, কারণ রাজনীতি। বাংলা নববর্ষে লাখ লাখ মানুষের সামনে পুলিশ প্রহরায় মেয়েদের বিবস্ত্র করা হয়, কারণ একটাই—রাজনীতি।
নববর্ষে নারীর বিবস্ত্র হওয়া এবং ঝিলপাড়ে বাড়ি দেবে যাওয়া—দুটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দুটোরই মূলে রাজনীতি। পয়লা বৈশাখের পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাদের কাছে যা শুনলাম, তাতে মাথাটা নত হলো। পয়লা বৈশাখ নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং তারপর তা নিয়ে যা হয়েছে, তাতে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিব্রত হয়েছেন কি না জানি না, তবে সামান্য আক্কেল আছে এমন সাধারণ মানুষ বিস্মিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম কয়েকজন তরুণের সঙ্গে। হাসপাতালে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন একজন মধ্যবয়সী নার্স। তিনি আমাকে দেখে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘স্যার, একটা কথা লেইখেন, সবকিছু নিয়া রাজনীতি করা ভালো না।’
যেকোনো অপকর্মের জন্য ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দিকে আঙুল উঁচালে ওই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিটি শক্তিশালী হয়। মধ্যপ্রাচ্যপন্থী ও মধ্যযুগপন্থীদের জনগণ চেনে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তাদের নীতি ও কর্মসূচির বিরুদ্ধে। ধর্মীয় মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা যত হুংকারই দিক, তা এ মাটিতে অচল। তাদের দমন করার সোজা পথই আছে, বাঁকা পথে যাওয়ার দরকার নেই।
নীতিনির্ধারকদের বোঝা উচিত শতকরা ১ ভাগ মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যায়, ৯৯ ভাগকে নয়। তাঁদের বুঝতে হবে, প্রগতিশীল বলে যাঁরা নিজেদের দাবি করেন, তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, মানুষের আর দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।
সাধারণ মানুষ যখন দেখে কোথাও ন্যায়বিচার নেই, সত্য বলে কিছু নেই, তখন মানুষ ক্রোধ থেকে নৈরাজ্যের পথ বেছে নেয়। তাতে ক্ষতি সবার; জনগণেরও, সরকারেরও। উপযুক্ত ফাউন্ডেশন না থাকায় ঝিলপাড়ের বাড়িটি দেবে গেছে। পয়লা বৈশাখের ঘটনা ঘটেছে নৈতিকতার অভাবে। ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড ও দার্শনিক ভিত্তি না থাকায় হয়তো একদিন বাংলাদেশও অজানা অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যাবে। বাস্তবে নয়, প্রতীকী অর্থে। অসত্যের নোংরা কাদা ও ভাবাবেগের চোরাবালির মধ্যে নয়, রক্তার্জিত বাংলাদেশকে শক্ত আদর্শিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার সাধনাই হওয়া উচিত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের। তা ছাড়া মুক্তি নেই।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলা যাবে না, তারা মানুষ: সু চি

মিয়ানমারের বিরোধী দলীয় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি এবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখ খুললেন। মিয়ানমার থেকে সহিংসতা এড়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সরকারের প্রতি জানানো আহ্বানে সু চি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অং সান সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক মুখপাত্র গতকাল বলেছেন, সাগরে ভাসমান ভয়াবহ দুর্দশায় পতিত এসব রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘মানবাধিকার’ প্রাপ্য। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সু চির মুখপাত্র নিয়ান উইন বলেন, নাগরিক হিসেবে তাদের যদি গ্রহণ করা না হয়, তাদের শুধু নদীতে বা ঠেলে সমুদ্রে পাঠিয়ে দেয়া যাবে না। তারা মানুষ। আমি তাদের মানুষ হিসেবে দেখি যাদের মানবাধিকার রয়েছে। সহিংসতা এড়াতে মিয়ানমারের হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা ও উন্নত জীবিকার আশায় বহু বাংলাদেশী সমুদ্র পথে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি দিতে গিয়ে চরম দুর্দশার শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে কখনোই শক্ত অবস্থান না নেয়ায় ও স্পষ্ট কোন বিবৃতি প্রদান না করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সু চি।

বৃটেনের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশের ইকবাল আহমদ

বৃটেনের শীর্র্ষ ধনীর তালিকায় আবারও স্থান পেয়েছেন সী মার্ক গ্রুপ ও এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ইকবাল আহমদ ওবিই। সানডে টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইকবাল আহমদ বৃটেনের এক হাজার ধনীর তালিকায় ৪৬৬তম স্থান পেয়েছেন। এক বছরে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে হয়েছে ২০৫ মিলিয়ন পাউন্ড। সিলেটের কৃতি সন্তান ইকবাল আহমদ ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৃটেনে এসেছিলেন। বৃটেনের ওয়েস্ট মিনিস্টারের সিটি কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে লেখাপড়া শেষ করে জড়িয়ে পড়েন পারিবারিক ব্যবসায়। গড়ে তুলেন সী মার্ক ও ইবকোর মতো সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন ম্যানচেস্টারে। ইকবাল আহমদ ওবিই ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম সানডে টাইমসের তালিকায় বৃটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে উঠে আসেন। বৃটেনের শীর্ষ ধনীর তালিকায় সে বছর ৫১১ নম্বর স্থান দখল করেন তিনি। তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড। এরপর ২০০৯ সালে এশিয়ার ২০ ধনীর তালিকায় উঠে আসেন সফল ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ। ইকবাল আহমদ ওবিই‘র জন্ম ১৯৫৬ সালে সিলেটে।

আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনবে জাতিসংঘ

নৌকা করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে কয়েকটি দেশে আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে রাজী হয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম।
ঢাকায় আইওএমের মুখপাত্র আসিফ মুনীর বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলকে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের একটি অনুরোধে তারা সম্মতি দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।
তিনি জানান, জরুরী ভিত্তিেত ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি তহবিল মঞ্জুর করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতে দুই থেকে তিন হাজারের মত বাংলাদেশি আটক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালিকা তৈরি হচ্ছে
আইওএম জানিয়েছে, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং স্থানীয় বাংলাদেশ দুতাবাসগুলোর সহযোগিতায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু হয়ে গেছে।
মি মুনীর জানান, প্রথমে মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে।
মালয়েশিয়ার লাংকাউয়ি দ্বীপে কয়েকটি নৌকায় পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সাতশ'র মত বাংলাদেশি রয়েছে।
এছাড়া অভিবাসী ভর্তি যে নৌকাটি গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা উদ্ধার করেছে, তাতে ছয় থেকে সাতশ'র বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের কাছে কয়েক ডজন নৌকায় ভাসছে কয়েক হাজার মানুষ ধারনা করা হচ্ছে, আটক বাংলাদেশিদের সংখ্যা থাইল্যান্ডে অনেক বেশি। গত দু'তিন বছর ধরে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে থাইল্যান্ডে তাদের অনেকে আটক হয়েছে।
পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন কারাগারে এবং বন্দী শিবিরে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাংলাদেশি আটক রয়েছে।
তবে দেশে ফিরিয়ে আনার আগে, আটককৃতদের নাগরিকত্ব সনাক্ত করবে বাংলাদেশ সরকার।
আইওএমের নীতি অনুযায়ী তারা শুধুমাত্র দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের সহযোগিতা করতে পারে। কেউ ফিরতে না চাইলে, জাতিসংঘের এই সংস্থার কিছু করার থাকেনা।

ডুবলেও না বাঁচাতে জেলেদের নির্দেশ দিল ইন্দোনেশিয়া!

বাংলাদেশি অভিবাসন-প্রত্যাশী মো. মুরাদ হোসেনের মাথা ও
শরীরে আঘাতের ক্ষত। নৌকায় খাবার নিয়ে কাড়াকাড়িতে
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে আহত হয়েছিলেন তিনি।
উদ্ধারের পর ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের একটি
আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে মুরাদের l ছবি: এএফপি
অথই সাগরে ডুবে মারা গেলেও ভাসমান আর কোনো বাংলাদেশি বা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা। তবে জেলেরা বলছেন, ‘তাঁরাও মানুষ, তাঁদের বাঁচাতে হবে।’
এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী একটি নৌকাকে উপকূলে ভিড়তে না দিয়ে সাগরে ঠেলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে সাগরে মোতায়েন করেছে যুদ্ধজাহাজ ও টহল বিমান। খবর বিবিসি, এএফপি, গার্ডিয়ান ও দ্য মালয় মেইল অনলাইনের।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের জেলেরা গতকাল সোমবার জানান, আন্দামান সাগরে নৌকায় ভাসতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ডুবে মরতে বসলেও তাঁদের যেন আর উদ্ধার না করা হয়, সেনা কর্মকর্তারা সেই নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে আচেহ উপকূলে অন্তত ৭০০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে সাগর থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
এই প্রদেশের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে এখন দেড় হাজারের মতো অভিবাসী অবস্থান করছেন। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৩০০০ অভিবাসী।
ওই নির্দেশের ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আর কোনো অভিবাসীকে উপকূলে আসতে দেওয়াটা হবে অবৈধ।’ আচেহর লাঙ্গসা বন্দর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা মার্টিন প্যাশেন্স জানান, সরকারের সাজার ভয়ে এ নির্দেশের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তবে একজন জেলে বলেছেন, কাউকে ডুবতে দেখলে এ হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও তাঁরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাবেন। ওই জেলে বলেন, ‘তাঁরাও মানুষ। তাঁদের বাঁচানো আমাদের দায়িত্ব।’
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ফুয়াদ বাসায়া বলেন, জেলেরা বিপদে পড়া নৌকার আরোহীদের খাবার, পানি ও জ্বালানি দিয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত নৌকা মেরামত করে সহায়তা দিতে পারবে। কিন্তু তাঁদের উপকূলে ভিড়িয়ে আনা হবে অবৈধ অনুপ্রবেশ।
আচেহর সুমাত্রা দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে জেলেরা গত শুক্রবার নৌবাহিনীর সহায়তায় দুটি নৌকা থেকে ৭৪৭ জনকে উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় ছিলেন ৭০০ জন। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে জেলেদের প্রতি ওই নির্দেশ জারি করা হলো।
ইতিমধ্যে আচেহর লাঙ্গসা শহরের মেয়র বলেছেন, এত অভিবাসীকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার মতো বাজেট তাঁর শহরের নেই। তা ছাড়া তাঁরা জাকার্তার কাছ থেকে কোনো সহায়তাও পাননি।
খবরে বলা হয়, সাগরে ভাসমান ছয়-সাত হাজার অসহায় আশ্রয়প্রত্যাশীর জন্য এই অঞ্চলের সব দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ইন্দোনেশিয়ার এ নির্দেশের ফলে তাঁদের অমানবিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় ভাসমান মানুষ গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছেন। তাঁদের অবিলম্বে সহায়তার প্রয়োজন। আচেহর কূলে ঠাঁই পাওয়া অভিবাসীদের অনেকে জানিয়েছেন, খাবারের জন্য নৌকায় তাঁদের কাড়াকাড়ি ও ভয়াবহ সংঘর্ষের মধ্যে পড়তে হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভাসমান মানুষদের নিজেদের উপকূলে ভিড়তে না দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এ রকম কঠোর অবস্থানের কথা ভাবাও কঠিন। দেশগুলো বর্তমান সংকটের জন্য রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের নির্যাতন-নিপীড়নকে দায়ী করছে। তবে দেশটির জান্তা সরকার তা মানতে নারাজ।
নৌযান ফেরত: গত রোববার কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী একটি নৌযানকে তীরে ভিড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী।
ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ফুয়াদ বাসায়া বলেন, মালয়েশিয়ার দিক থেকে মালাক্কা প্রণালি হয়ে ওই নৌযানটি আসছিল। এ সময় সেটিকে ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বেতারবার্তা পাঠিয়ে নৌযানটিকে ফেরত পাঠানো হয়। সেটি ধাক্কিয়ে পাঠানো হয়নি।
যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন: মুখপাত্র ফুয়াদ বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকার প্রবেশ বন্ধে আচেহ উপকূলে টহলকাজে নতুন আরও তিন যুদ্ধজাহাজ ও একটি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। টহল বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেই মোতায়েন করা হয় একটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি বিমান।
ঢুকতে দেবে না মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-বিষয়ক মন্ত্রী শহিদান কাসিম গতকাল বলেন, স্থানীয় অভিবাসন আইনের বিধিনিষেধের কারণে তাঁর দেশ বিদেশিদের অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাঁরা যা করতে পারবেন তা হলো আশ্রয়প্রার্থীদের খাবার ও জ্বালানির মতো সামগ্রী দিয়ে পাঠিয়ে দিতে।
থাইল্যান্ডের কড়াকড়ি: ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কঠোর অবস্থানের মধ্যে থাইল্যান্ডও তার উপকূলে টহলরত নৌযানগুলোকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌযানের ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনোভাবেই ওই সব নৌযান যাতে থাইল্যান্ড জলসীমায় ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও জল্লাদ লাগবে সৌদি আরবে

সৌদি আরবের এক জল্লাদ তাঁর তরবারি খুলে দেখাচ্ছেন।
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা কিংবা নানা ধরনের
অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাত-পা-আঙুল কেটে নেওয়ার
কাজ করতে হয় এই জল্লাদদের। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন আরও আটজন জল্লাদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সৌদি আরবের সরকার। দেশটিতে সাধারণত প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে।
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা কিংবা নানা ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাত-পা-আঙুল কেটে নেওয়ার কাজ করতে হয় এই জল্লাদদের। রয়টার্সের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
রাজতান্ত্রিক শাসনে থাকা মুসলিম দেশ সৌদি আরবে এ বছর এর মধ্যেই ৮৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রোববার এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এই সংখ্যা ৮৫ জনে পৌঁছাল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি। নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুসারে গত বছর দেশটিতে মোট ৮৮জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে সেই সংখ্যা অন্ততপক্ষে ৯০।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুসারে বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হিসাবে শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি সৌদি আরব। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে ২০১৪ সালে এ ব্যাপারে চীন ও ইরানের পর তৃতীয় অবস্থানে ছিল সৌদি আরব। আর যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, গত বছর কার্যকর করা মৃত্যুদণ্ডগুলোর বেশির ভাগই ছিল হত্যাকাণ্ডের শাস্তি। তবে, এর মধ্যে ৩৮টি ছিল মাদক সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রায় অর্ধেকই সৌদি নাগরিক। বাকিরা পাকিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, চাদ, ইরিত্রিয়া, ফিলিপাইনস ও সুদানের নাগরিক।
সৌদি আরবের সিভিল সার্ভিস জব পোর্টালে সম্প্রতি প্রচারিত চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে জল্লাদের এই পদটিকে বেসামরিক প্রশাসনের নিচের স্তরে ‘ধর্মীয় আদেশ কার্যকরকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সালাহউদ্দিন-হাসিনা আহমেদ যে কথা হলো-

ভারতের সময় সোমবার রাত আটটা ২০ মিনিটে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে আসেন সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি’র সহ- দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনিসহ কয়েক জন ছিলেন। হাসপাতালে এসেই তারা পুলিশের অনুমতি কক্ষে যান। এরপর ইউটিপি সেলে যান। হাসিনা আহমেদ সালাহউদ্দিনের প্রিজন সেলের সামনে গিয়েই তাকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কেমন আছেন? প্রতি উত্তরে সালাহউদ্দিন কিছু বলার আগেই তার চোখ ছল ছল করে উঠে। নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করেন। তবুও কষ্ট করে বলে উঠেন, আমি আছি মোটামুটি। বাচ্চারা ভাল আছে। এ সময় স্বামী- স্ত্রী হাত ধরাধরি করে কেদে উঠেন। প্রায় দুমিনিট ধরে তাদের কান্নাকাটি চলে। এ সময় কিছুটা দূরে দাড়িয়ে থাকা বিএনপি’র সহ- দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, ভাতিজা আ. করিম, জাপান প্রবাসী ক্যাপ্টেন রবিন কে জামান ও ভাগ্নের চোখও ছল ছল করে উঠে। পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হলে সালাহউদ্দিন বাচ্চারা কেমন আছে তা জানতে চান। হাসিনা আহমেদ এ সময় বাচ্চাদের পড়াশোনার বিষয়ে বলেন। মামলার পদক্ষেপ কিভাবে নেয়া যায় ওই বিষয়ে গাইড লাইন দেন । স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা শেষে ভায়রার হাত ধরে আবেগতাড়িত হন সালাহউদ্দিন। বলেন, বিপদের সময় আপনি আমার সন্তানদের আগলে রেখেছেন। এ ঋণ আমি কখনো ভূলবো না। এসব কথা বলার সময়েই পুলিশের কর্মকর্তারা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়া দিতে থাকেন। কারণ নির্ধারিত ১০ মিনিটের সময়সীমা তখন শেষ হয়ে যায়। হাসিনা আহমেদ সালাহউদ্দিনকে বলেন, কাল আবার আসবো ওই সময় আলাপ করা যাবে। এভাবেই হাসিনা আহমেদ বাইরে বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার শুভানুধ্যায়ীরা।

সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীন? by মশিউল আলম

প্রতিবছর ৩ মে বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও কোনো কোনো সংস্থা এ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, সংবাদপত্রে কিছু লেখা প্রকাশিত হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পেরিয়ে যায়। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, বিনা বাধায় তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চলমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটে না। তবে এই দিনটি উপলক্ষে দেশের সংবাদমাধ্যমের অবস্থা নিয়ে ভাবনাচিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়। কিছু প্রশ্ন নতুন করে উত্থাপনের অবকাশ মেলে।
চিরন্তন প্রশ্নটি হলো: বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কি স্বাধীন? এ প্রশ্নের উত্তরগুলো হয় মোটা দাগে দুই ধরনের। সরকারি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। সব সরকারের আমলেই এমন দাবি করা হয়। কখনো কখনো অতি উৎসাহী কোনো মন্ত্রী এমন কথাও বলেন যে তাঁর সরকারের আমলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার রেকর্ড আগের যেকোনো সময়ের থেকে ভালো। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য হয় ঠিক বিপরীত—স্বাধীনতার ঘাটতির অভিযোগ সব সময় উচ্চারিত হয় সাংবাদিকদের কণ্ঠে। সংবাদ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার ঘাটতি ছাড়াও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তি, বিশেষত নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ বারবার উচ্চারিত হয়। কিন্তু যেহেতু সরকার এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো অস্বীকার করতে চায়, তাই সংবাদক্ষেত্রের কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটে না।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ২০১৪ সালের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করে। ওই সূচকে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দেখা যায় ১৪৬। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভুটান, মালদ্বীপ, ভারত ও নেপালের অবস্থানও আমাদের ওপরে। আমাদের ২০১৪ সালের সূচকের ভিত্তিতে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা আগের দুই বছরের তুলনায় দৃশ্যত পরিবর্তিত হয়নি। কিন্তু তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এক বিবৃতিতে বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তা সম্পূর্ণ বাস্তবতা-বিবর্জিত, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কল্পনাপ্রসূত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত ও বিকশিত হয়েছে।
কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের এ বক্তব্য যে ঠিক নয়, তা যাঁরা সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন, তাঁরা উপলব্ধি করছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে নির্যাতন, হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন ১১ জন সাংবাদিক। সরকারি দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, সন্ত্রাসী ও পরিচয় গোপনকারীদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন নয়জন সাংবাদিক। সংবাদ প্রকাশের জন্য মামলা হয়েছে তিনটি। সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতন, আক্রমণ, হুমকি, হয়রানি ও বোমা নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ১৫ জন। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীদের দ্বারা হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৭ জন। বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীদের দ্বারাও একই ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন দুজন। ককটেল হামলার শিকার হয়েছেন সাতজন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়রদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন ৩০ জন সাংবাদিক। আর অধিকার-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৩ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৭৭২ জন, হামলার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮ জনকে, অপহরণের শিকার হয়েছেন তিনজন, হুমকি দেওয়া হয়েছে ২৯৩ জনকে, চারজনকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৫৫ জন সাংবাদিক।
স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন মহলের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে সদ্য সমাপ্ত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে। সেদিন সরকার-সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা অন্তত ছয়জন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছেন আরও ১৫ জনকে। সাংবাদিক পেটানোর দৃশ্যগুলো চেয়ে চেয়ে দেখেছেন পুলিশের সদস্যরা। আমার এক সহকর্মী যখন মার খাচ্ছিলেন, তখন তিনি পুলিশের সাহায্য চাইলে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বলেন, ‘আপনে ঝামেলা করছেন, এখন নিজেই সামলান।’ ভোটকেন্দ্রে একজন সাংবাদিক কী ঝামেলা করতে পারেন? তিনি জাল ভোট দেওয়ার ছবি তুলছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের বৈরিতা ও সহিংস আচরণের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি মিজানুর রহমান। সামান্য কথা-কাটাকাটির জের ধরে পুলিশ তাঁকে থানায় ধরে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে অকথ্য নির্যাতন করেছে যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন। গুরুতর জখমসহ তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়েছে, যখন তিনি দাঁড়াতেই পারছিলেন না, তবু তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে আছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সাংসদ।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ, পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলাসহ নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের অজস্র ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর কোনো আইনি প্রতিকার হয়নি। গত বছরের অক্টোবর মাসে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য সাংবাদিকেরা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হয় রাজনৈতিক দলের লোকজন, পুলিশ, অপরাধী চক্র এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনের তরফ থেকেও। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে সংবাদ, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন রাজনৈতিক কর্মীদের দ্বারা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেসক্লাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যক্ষ নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ছাড়াও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে আইনি হাতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমেও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনাও বিস্তর। ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এ নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের একটি পোস্টারের ছবি ছাপা হলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, হিযবুত তাহ্রীরের পোস্টার ছাপিয়ে যারা তাদের মদদ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে এ রকম হুমকি উচ্চারিত হলে পুরো সংবাদমাধ্যমের কাছে যে বার্তা পৌঁছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তুলে ধরে না।
যেকোনো অভিযোগেই হোক, একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের প্রকাশনা এই সরকারের আমলে বন্ধ করা হয়েছে এবং সেটির সম্পাদককে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দুটি টিভি চ্যানেলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে চ্যানেল দুটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি। এ দেশের সম্প্রচারমাধ্যমের পক্ষে কোনো আইনি সুরক্ষা নেই, টিভি চ্যানেলগুলো চলছে সরকারের মর্জিমাফিক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী আদেশের বলে। কিছুদিন আগে সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য একটি সম্প্রচার নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে, যেটি কার্যকর হলে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর যেটুকু স্বাধীনতা আছে, তা-ও বিলুপ্ত হবে। কিন্তু সম্প্রচারমাধ্যমের সাংবাদিকেরা এর যথেষ্ট প্রতিবাদ জানানোরও সাহস পাননি, প্রতিবাদ-সমালোচনা করে যেটুকু লেখালেখি হয়েছে, তার অধিকাংশই হয়েছে সংবাদপত্রগুলোতে। বলা বাহুল্য, সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ অপেক্ষাকৃত বেশি, যেহেতু সরকার ইচ্ছা করলেই যেকোনো টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে পারে। যাঁরা সরকারের সমালোচনা করেন, টিভি টক শোগুলোতে তাঁদের আমন্ত্রণ না জানানোর ব্যাপারে সরকারের দিকে থেকে চাপ দেওয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ও এ বিষয়টি লক্ষ করা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে যা-ই দাবি করা হোক না কেন, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের এক সাম্প্রতিক বিবৃতিতে। ওই বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর জেলা সংবাদদাতাদের ওপর পুলিশ, প্রভাবশালী রাজনীতিক ও স্থানীয় অপরাধীদের নির্যাতন-হয়রানির ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
কোন রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, তা নির্ণয়ের এক ভালো উপায় সেই দেশে সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা। গণতন্ত্র সংবাদমাধ্যমের সহায়। কোনো গণতান্ত্রিক সরকার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো রকমের চাপের মধ্যে রাখে না, ভয়ভীতি দেখায় না, পীড়ন করে না, তাঁদের কাজে বাধার সৃষ্টি করে না। বরং সরকারের বাইরের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দ্বারা সংবাদমাধ্যম বাধাপ্রাপ্ত হলে গণতান্ত্রিক সরকার সেসব বাধা দূর করার চেষ্টা করে। গণতান্ত্রিক সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখে। সাংবাদিকেরা নির্যাতনের শিকার হলে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে এবং শাস্তি প্রদানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বেশ পোক্ত।
সাংবাদিকেরা খুন হলে খুনিরা বিচারের ঊর্ধ্বে থেকে যায়, কিংবা দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নীরব দর্শকের মতো চেয়ে চেয়ে দেখেন, পুলিশের সদস্যরা মিথ্যা অভিযোগে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে রাতভর নির্মম নির্যাতন করেন, আর সেই সাংবাদিক আদালতে জামিন চাইলে বিচারকও তাঁকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানান—এই ধরনের ঘটনাবলি কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ঘটা অসম্ভব। সংবাদমাধ্যম সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে, অন্যভাবে বললে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন কর্মসম্পাদন এমন হয় যে তা আপনাআপনিই সুশাসনের পথ প্রশস্ত করে। সরকারের নেতৃবৃন্দের উপলব্ধি করা উচিত যে সংবাদমাধ্যম কোনোভাবেই সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; যদি সে কখনো সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়, ক্ষমতা অপব্যবহারের সমালোচনা করে, তবে তা সরকারের শুধরে নেওয়ার সুযোগই সৃষ্টি করে দেয়।
মশিউল আলম: লেখক ও সাংবাদিক৷
mashiul.alam@gmail.com

সালাহ উদ্দিনকে তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

শিলংয়ের হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে দেখা হল হাসিনা আহমেদের
(বাঁয়ে), সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সালাহ উদ্দিন
নিখোঁজ হওয়ার ৭০ দিন পর দেখা হল স্বামী-স্ত্রীর। শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় দেখা হয় দু’জনার। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সাক্ষাতের আবেগঘন মুহূর্তে দু’জন দু’জনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। সেখানে উপস্থিত সবার চোখেই পানি চলে আসে। স্ত্রীকে কাছে পেয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কখনও ভাবিনি তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে এনেছেন।’ এ সময় হাসিনা আহমেদ জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি তার স্বামীকে চিকিৎসার জন্য তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যেতে চান।
বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি জানান, হাসপাতালে দু’জনে কথা বলেছেন একান্তে। চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন সালাহ উদ্দিন। প্রায় আধা ঘণ্টা তাদের মধ্যে কথা হয়। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে হাসিনা আহমেদ তার স্বামীর দেখাশোনা ও চিকিৎসার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাকে তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সে চেষ্টাই করবেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।
এদিকে ১১ মে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে সন্ধান পাওয়ার পর এ প্রথম সালাহ উদ্দিন আহমদের মুখের কথা শোনা গেল। শিলং সিভিল হাসপাতালের আন্ডার ট্রায়াল (ইউটিপি) প্রিজন সেল থেকে সোমবার দুপুরে সিটি স্ক্যান করতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের মূল ভবনে। এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির এ নেতা। কেমন আছেন জানতে চাইলে তার ছোট্ট জবাব, ‘এখনও জীবিত আছি।’
কিভাবে শিলংয়ে এলেন, কিছু মনে করতে পারেন কিনা, জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন ধীরে ধীরে বলেন, ‘আমার তো চোখ বান্ধা ছিল, হাত বান্ধা ছিল। একটা লং জার্নি। মনে হয়, ১২-১৪ ঘণ্টার হবে। ২ ঘণ্টা হয় তো স্টপেজ ছিল, মনে হয়। এখানে শিলং গলফ কোর্সের পাশে আমাকে ফেলে রাখে। তারপর... কিছু লোককে বললাম, আমাকে একটু পুলিশ স্টেশনের দিকে নিয়ে যাও অথবা পুলিশে খবর দাও, আমার এই-এই অবস্থা।’ স্বেচ্ছায় নয়, চোখ ও হাত বেঁধে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাকে শিলংয়ে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বেচ্ছায় থানায় এসেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ... তখন তারা পুলিশকে কল করল। আমি গেলাম। তো তাদের আমার হিস্ট্রি বলার পর তারা হয় তো মনে করেছে, আমি মেন্টাল পেশেন্ট।’
দেশে ফিরতে চান, নাকি আরও চিকিৎসা করাতে চান- জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে তো এখন রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। এটা গভর্নমেন্টের উচিত হয়নি। আমি তো কোনো, মানে সাজাপ্রাপ্ত দাগী অ্যাবসকন্ডিং (ফেরারি) কোনো আসামি না। তো, কেন করছে, আমি তো জানি না।’ এ সময় তিনি দেশে ফিরতে চান বলে জানান। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় বা চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো দেশে আবেদন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্মৃতিভ্রম হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাননি চিকিৎসকরা। সোমবার তার শারীরিক পরীক্ষার পর ডা. ডিজে গোস্বামী বিবিসি বাংলাকে এ কথা বলেন। শিলংয়ে সালাহ উদ্দিনের সন্ধান মেলার পর তার স্মৃতিভ্রম হয়েছে- এমন খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে যখন সিটি স্ক্যান করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি। তিনি যুগান্তরকে জানান, সালাহ উদ্দিনকে এ সময় খুব দুর্বল মনে হচ্ছিল। ঠিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। একজন পুলিশ সদস্যের হাতে ভর দিয়ে তিনি পথ চলছিলেন। দীর্ঘ ২ মাসের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা থেকে পুলিশ সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আটক করে। অপ্রকৃতিস্থ অবস্থা দেখে পুলিশ পরেরদিন তাকে ‘মেঘালয় ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসাইন্স (মিমহান্স) হসপিটালে’ ভর্তি করায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টেলিফোনে সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর রোববার বিকালে ভিসা পেয়ে রাতেই কলকাতা হয়ে শিলংয়ে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তার স্ত্রী। রাতে কলকাতায় অবস্থান করার পর সোমবার দুপুরে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে আসামের গৌহাটি যান। সেখান থেকে সড়কপথে যান শিলংয়ে। হাসিনা আহমেদের সঙ্গে ছিলেন সালাহ উদ্দিনের বোন জামাই মাহবুবুল কবির মুনমুন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিলং পৌঁছে সরাসরি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান হাসিনা আহমেদ। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে চলে যান হাসপাতালে। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী শিলং পৌঁছার আগেই তার আগমনের কথা স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়ে রাখেন সেখানে অবস্থানরত বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি।
জনি যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিনা আহমেদ। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দু’জনে কিছুটা স্বাভাবিক হন। এ সময় ছেলেমেয়ের খোঁজখবর নেন সালাহ উদ্দিন। বিএনপি চেয়ারপারসনসহ আরও অনেকের কথাই জানতে চান। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আগের চেয়ে সালাহ উদ্দিনকে বেশ প্রফুল্ল মনে হয়েছে বলে জানান জনি।
এদিকে সালাহ উদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ভারতে পাওয়া গেছে। তিনি দেশে ফিরতে চাইছেন। তার পরিবার যদি সুচিকিৎসার জন্য অন্য কোনো দেশে নিয়ে যেতে চান তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা লাগবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ও বিদেশে চিকিৎসা দিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও সালাহ উদ্দিন আহমেদের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়নি। তাই এ মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না যে, সরকার সহযোগিতা করছে না।
শিলংয়ে অবস্থানরত বিএনপি নেতা ও সালাহ উদ্দিনের আÍীয়-স্বজন রোববার দাবি করেন, সালাহ উদ্দিন সব ভুলে যাচ্ছেন। কোনো কিছু মনে রাখতে পারছেন না। তার কোনো মানসিক সমস্যা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সিটি স্ক্যান করায়। মঙ্গলবার থেকে শিলং সিভিল হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডিজে গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে সালাহ উদ্দিন আহমেদের চিকিৎসা চলছে। গোস্বামী সোমবার বিবিসিকে বলেন, সালাহ উদ্দিনের বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছেন। তার স্মৃতিভ্রম হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 
আবদুল লতিফ জনি জানান, সিটি স্ক্যান করা হলেও রিপোর্টে কি এসেছে তা জানা যায়নি। সালাহ উদ্দিনের চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই অবহিত করছে না। তবে তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও হার্ট ও কিডনির ব্যথা রয়েছে। মেঘালয় পুলিশের মহাপরিচালক রাজীব মেহতা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সিটি স্ক্যানসহ অন্য কয়েকটি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই নির্ধারণ করা হবে তাকে ঠিক কখন বা কবে আদালতে হাজির করা হবে সে বিষয়টি।  এদিকে সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারে আইনি মোকাবেলায় স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলে জানান জনি। তিনি বলেন, ভাবী (সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী) এসেছেন। এখন চূড়ান্তভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।  বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করায় ফরেনার্স অ্যাক্টে সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে মেঘালয় পুলিশ। তবে শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে তোলা যায়নি।

চট্টগ্রামে ঘাতক বাবা গ্রেফতার দায় স্বীকার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিজের তিন শিশু মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যার ঘটনায় বাবা আবদুল গণিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর ৫টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। গণি নিজেই তিন মেয়েকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন। কক্সবাজার সদর সার্কেলের এসএসপি মাসুদ আলম জানান, ওই তিনি শিশু হত্যার ঘটনায় শনিবার ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে স্বামী আবদুল গণি, তার ছোট ভাই আবদুল হামিদ ও তার মা মনোয়ারা বেগমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, মোবাইল টেকনোলজি ও সোর্স ব্যবহার করে চট্টগ্রাম শহরে অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর ৫টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিয়ের পর থেকে কোনোদিন ভালোভাবে ঘুমাতে পারিনি। আমার পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো। পারিবারিক ঘটনা নিয়ে যেখানেই গিয়েছি শুধুই মার খেয়েছি। স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে জানান, এ অপমান সইতে না পেরে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছি।
গণি বলেছেন, তিন মেয়েকে হত্যার পর একদিনও ঘুমাতে পারিনি। খুবই খারাপ লেগেছে। ঘটনার দিন পুলিশ লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় দূর থেকে শুধু একবার মেয়েদের দেখার চেষ্টা করেছি। থানায় হাজির হয়ে ধরা দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু লোকজন আমাকে মেরে ফেলবে বলে ভয়ে সাহস করিনি। গণি জানান, ঘটনার দিন সারাদিন চকরিয়ায় ঘুরেছি। আমার কিছু নিকট আত্মীয়ের পরামর্শে এ দিন রাতে চট্টগ্রামে চলে যাই। সেখানে এক বোন থাকে। ওই বোনের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর নিদান তরানি চৌধুরী পাড়ায় শনিবার রাতে আবদুল গণি নিজ হাতেই ধারালো দা দিয়ে নিজের তিন শিশু মেয়ে আয়েশা ছিদ্দিকা চম্পা (১১), শিরো জান্নাত শিউলি (৮) ও সারাবান তহুরা বেলীকে (১৮ মাস) জবাই করে হত্যা করে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুরো দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল আওয়াল জানান, রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আবদুল গণি বদরখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আবদু করিমের ছেলে। বিয়ের পর তিনি একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নিদান তরানি চৌধুরী পাড়ায় শ্বশুর বাড়ির ভিটের এক পাশে আলাদা ঘর নির্মাণ করে থাকতেন।
ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার দিন তার বড় ছেলে নানার বাড়িতে ছিল। বাড়িতে থাকলে তাকেও হয়তো প্রাণ দিতে হতো।