Friday, April 25, 2025
মুক্তি পেলেন খাগড়াছড়িতে অপহৃত চবি’র ৫ শিক্ষার্থী
এর আগে অপহৃত শিক্ষার্থীরা বিঝু উপলক্ষ্যে বন্ধুদের সাথে খাগড়াছড়ি বেড়াতে আসলে বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় জেলা সদরের গিরিফুল নামক এলাকা থেকে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অপহরণের পর থেকে তাদের উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানে নামে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী। এ অভিযানের মধ্যেই গত সোমবার জেলা সদরের ভাইবোনছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের গোপন আস্তানার সন্ধান পায় যৌথবাহিনী। এসময় তল্লাশি চালিয়ে আস্তানা থেকে চাঁদা আদায়ের রশিদ, সামরিক ইউনিফর্ম, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিপুল প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অপহৃত শিক্ষার্থীরা মুক্ত হওয়ায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।
শিক্ষার্থীদের এ অপহরণের জন্য ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপকে দায়ী করেছে সন্তু লারমার জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, ৫ শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার পর তাদের উদ্ধারে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গোপন আস্তানা থেকে নানান প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত অভিযানের চাপে পরে সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব সময় আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Tuesday, November 5, 2024
প্রাণিসম্পদের প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প by মো. আল-আমিন
সূত্র জানায়, দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্টাডিটির আয় ও ব্যয় বিশ্লেষণ অধ্যায়ের টেবিলে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে দেখা যায়, প্রকল্প শেষে অর্থাৎ ৪ বছর পর পঞ্চম বছর আরও অতিরিক্ত ৩৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রকল্প থেকে আয় হবে ৬৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। একইভাবে পরবর্তী বছরগুলোতে অতিরিক্ত ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রতি বছর ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় হবে। কিন্তু এই আয় প্রকল্পের কোন কোন খাত থেকে কীভাবে হবে তার কোনো হিসাব প্রতিবেদনে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এই আয়ের জন্য প্রতি বছর অতিরিক্ত যে ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে তার সংস্থান কীভাবে হবে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সমীক্ষা প্রতিবেদনে নেই।
কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর তথ্যে থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরেও ঘাটতি থাকবে ৬২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এমন প্রেক্ষাপটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সিলিংয়ের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে কিছু উল্লেখ নেই।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের ৩টি কম্পোনেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম কম্পোনেন্টটি হলো- পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৭২ হাজার ২৭টি পরিবারকে অনুদান হিসাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী (গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ভেড়া ইত্যাদি) বিতরণ করা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্যবিমোচনের মূল ম্যান্ডেট হলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মডেলের আওতায় এই ধরনের কাজ করে থাকে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে উপকরণ সহায়তা দিয়ে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কতোখানি ফলপ্রসূ তার জন্য ক্ষুদ্রঋণ মডেলের সঙ্গে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ সমীক্ষায় উল্লেখ নেই।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পার্বত্য জেলার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে পার্বত্য জেলাগুলোর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা বা ঘাটতি এবং সরবরাহের তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্টাডি রিপোর্টে সারা দেশের দুধ, মাংস এবং ডিমের চাহিদা, উৎপাদন ও প্রাপ্যতার একটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় মাংস ও ডিমের উৎপাদন বেশি রয়েছে এবং দুধের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য এলাকার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, কবুতর ইত্যাদি বিতরণের যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয় না বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পের দ্বিতীয় কম্পোনেন্টটি হলো রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্ম আধুনিকীকরণ। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রতিষ্ঠান এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। তাই রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে করতে হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের তৃতীয় কম্পোনেন্টটি হলো বান্দরবান জেলায় একটি ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন করা। এই আইএলএসটি স্থাপনের বিষয়ে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে প্রস্তাব করা হলেও ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টের ডিমান্ড অ্যানালাইসিস অংশে বাংলাদেশ লাইভ স্টক ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে সেটি নেই। এসব ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটের চাহিদা রয়েছে, বর্তমানে প্রতি বছর কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। ফলে অসম্পূর্ণ ফিজিবিলিটি স্টাডির ভিত্তিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপিপিতে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কমিশন থেকে বেশ কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছে। ডিপিপি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে।
Monday, September 23, 2024
ধর্মঘটে অচল রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি
রাঙ্গামাটিতে সংঘর্ষে মামলা: তদন্তে কোর কমিটি
রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষে হতাহত, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কোর কমিটির মাধ্যমে তদন্ত চালানো হবে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খান। এই কোর কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এবং প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। অপরদিকে রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির নবাগত পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। এই দুইটি মামলার আলোকেই রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, যারাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদেরকে কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সকলকেই ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে খাগড়াছড়ি শহরের বেশকিছু স্থানে অটোরিকশা চলাচল করলেও রাঙ্গামাটি শহরের অভ্যন্তরেও কোনো যানবাহন চলছে না। এতে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক সড়কের যান চলাচল। খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে কাঁচামাল বহনকারী গাড়ি। আসতে পারছে না ফুয়েল চালিত গাড়িও। খাগড়াছড়ি বাজারে দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতাশূন্য দিন কাটছে অনেকের।
খাগড়াছড়ি বাজারে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবজি, মাছসহ বিভিন্ন দোকানপাট খালি পড়ে আছে। অবরোধে গাড়ি চলছে না তাই তারা কোনো মালামাল আনতে পারছেন না। খাগড়াছড়ির মাছ ব্যবসায়ী রিয়াদ বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাগড়াছড়িতে মাছ আনা হতো। অবরোধে কোনো গাড়ি চলছে না বিধায় কোনো মাছ আনা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী ভোক্তাসহ সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, খাগড়াছড়িতে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি ভরে সবজি আনা হতো। এখন সবজি আনা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অনেক কাঁচামাল পচে যাচ্ছে।
মামুন হত্যার ঘটনায় মামলা
এদিকে খাগড়াছড়িতে আলোচিত মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ১৯শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের স্ত্রী মুক্তা আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামি হলো- গাড়িচালক মো. শাকিল (২৭), মো. রফিকুল আলম (৫৬) ও মো. দিদারুল আলম (৪৮)। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ১৯শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের স্ত্রী মুক্তা আক্তার মামলাটি করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, বর্তমানে খাগড়াছড়ি অনেক শান্ত রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি মিলে শান্তি কমিটি করে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি পাহাড়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে আমরা আর সেটার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা সবাই মিলেমিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে চলতে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
পাহাড়ের ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে ৭২ ঘণ্টার এ অবরোধের ডাক দেয়া হয়। কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন নামের সংগঠন। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টও (ইউপিডিএফ) অবরোধে সমর্থন দেয়। শনিবার সকাল ৬টা থেকে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মো. আবদুল মোমিন বলেন, পরিবহন শ্রমিক, সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, তাদের কোনো গাড়ি চলাচল করছে না। এতে গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত অনেক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, অবরোধের কারণে জেলায় কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। শহরে দোকানপাট এবং গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহলে রয়েছে।

Saturday, September 21, 2024
অশান্ত পাহাড়, নিহত ৪
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানিয়েছেন- খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালির সংঘর্ষের রেশ রাঙ্গামাটি শহরেও ছড়িয়েছে। এর জেরে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল সকালে আগাম ঘোষণা ছাড়াই কয়েক হাজার পাহাড়ি যুবক বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের জিমনেসিয়াম হয়ে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপা বাজারে এসে মসজিদ, পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে থাকে। এতে শহর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাঙালিরা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে পাহাড়িরা পিছু হটে। রাস্তায় চলাচলকারী বাস, ট্রাক ও ট্যাক্সিতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। শহরের হ্যাপির মোড়কে কেন্দ্র করে এর দু’দিকে অবস্থান নেয় পাহাড়ি ও বাঙালিরা। পরে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়পক্ষ শহরের বনরূপা, হ্যাপির মোড়, কালিন্দিপুর, রাজবাড়ী, স্টেডিয়াম এলাকা, কল্যাণপুর, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অন্তত ৩০টি যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তার নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। আহতদের মধ্যে বাঙ্গালিদের বেশ কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়িরা মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০-১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সাদিয়া আক্তার। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল উদ্দিন জানান, সকালে পাহাড়িদের একটি মিছিল বনরূপায় এসে ফিরে যাওয়ার সময় বাঙালিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপরই বাঙালি ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের পাল্টা ধাওয়া দেয়।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্ত কর্র্তৃক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লারমা স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি’র সদস্যরা টহলে রয়েছে। বর্তমানে দীঘিনালায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে: বুধবার খাগড়াছড়িতে চোর সন্দেহে বাঙালি যুবক মোহাম্মদ মামুন (৩০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মামুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। পূর্বনির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আসা সাধারণ বাঙালি শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। এতে আন্দোলনকারী সাধারণ বাঙালি শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন বাঙালি শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে বোয়ালখালী বাজার এলাকা ও আশপাশ এলাকা থেকে বাঙালি লোকজন জড়ো হয় বাসটার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্তে। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি লোকজনও জড়ো হতে থাকে লারমা স্কয়ারে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন লারমা স্কয়ার থেকে বাঙালিদের দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম আতঙ্ক এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আর তা ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা জুড়ে। কিছুক্ষণ পরেই দুর্বৃত্তরা লারমা স্কয়ারে সড়ক ও জনপদের জায়গায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দোকানপাটে আগুন দেয়। পরে পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় যখন বেসামাল অবস্থা, তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামেন। ততক্ষণে মার্কেটের প্রায় সকল দোকানপাট পুড়ে যায়। মার্কেটটিতে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়পক্ষের দোকানপাট ছিল। তাদের মধ্যে সখ্যতাও ছিল বেশ।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতভর জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সদরসহ পুরো জেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০)। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের নারানখখাইয়া, স্বনির্ভর এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরমধ্যে ধনঞ্জয় চাকমা দীঘিনালায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে মারা যান। অপর ২ জনকে আহত অবস্থায় রাতে খাগড়াছড়ি সদর থেকে হাসপাতালে আনা হয়। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ১৬ জনকে আনা হয়। তারা বেশির ভাগই সদর উপজেলা থেকে এসেছেন। এরমধ্যে ৩ জন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। বর্তমানে হাসপাতালে আরও ৯ জন চিকিৎসাধীন। রাতেই ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন। আহত বাকি ৯ পাহাড়িকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে আগুন লাগার ঘটনাস্থল লারমা স্কয়ার থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব ছিল মাত্র ৫০০ মিটারের কাছাকাছি। খুব কাছে থেকেও ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে না পৌঁছায় আগুনে আরও কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঙালি ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বেশ কিছু ফেসবুক আইডি থেকে দীঘিনালায় সংঘাত ঘটানোর উগ্রতা ছড়ানো হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এ ছাড়া যদি সমন্বিত কোনো সভা বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হতো তাহলে অবশ্যই এই সংঘাত ও ক্ষতি এড়ানো যেতো। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় পরস্পর পরস্পরকে দুষছেন। দীঘিনালা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. নুরুল হক বলেন, ‘দীঘিনালায় একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। যা কখনো কাম্য নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষ মতবিনিময় সভা: গতকাল বিকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে এতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার, মারমা প্রতিনিধি ম্রাসাথোয়াই মারমা, চাকমা প্রতিনিধি অনিমেষ চাকমা এবং ত্রিপুরা প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময়ে বক্তারা ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হতাহতের ঘটনায় খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের উপর জোর দেন। সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, আপনারা কেউ আতঙ্কিত হবেন না, গুজবে কান দিবেন না। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে দীঘিনালায় আমরা উভয় পক্ষের ৪০ জন সদস্যকে নিয়ে একটি শান্তি কমিটি গঠন করেছি। আশা করি পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা সরকারি সহায়তার আওতায় আনবো।
রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, প্রশাসন যৌথবাহিনী কাজ করছে। এ ছাড়া স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা করা হয়েছে। সকলে মিলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। সেনাবাহিনী সবসময় জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে আমরা কাজ করছি। ফেসবুক গুজব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আপনারা গুজবে পা দেবেন না। গুজব থেকে দূরে থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
Tuesday, October 15, 2019
অপরূপা খাগড়াছড়িতে হাজারো পর্যটক by জসিম মজুমদার
![]() |
| রিছাং ঝরনা |
Sunday, August 18, 2019
অপরূপা খাগড়াছড়িতে হাজারো পর্যটক by জসিম মজুমদার
![]() |
| রিছাং ঝরনা |
Sunday, April 14, 2019
গড়াইয়া নাচে বাহারি বৈসুর by জয়ন্তী দেওয়ান

বৈসুর অপরিহার্য অনুষঙ্গ গড়াইয়া নাচের দুটি দলের দেখা মিলল খাগড়াছড়ি শহরের ভাইবোনছড়া ও খাগড়াপুর এলাকায়।
যে গৃহস্থের বাড়ির উঠান বড় অথবা যেখানে লোকসমাগম বেশি, সেখানে থামছিল তারা। সুসজ্জিত এই দল গোল হয়ে কিছুক্ষণ নাচ পরিবেশন করে আবার ঢোল আর বাঁশি বাজাতে বাজাতে পাহাড়ি পথ ধরে নাচের ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের গায়ে কোনো গৃহস্থের উঠানে। দলের সদস্যদের পরনে সাদা ধুতি এবং একই রঙের জামা। কোমর, মাথা ও হাতে রিসা নামে একটি লম্বা ঝুলের কাপড়।
নববর্ষ অর্থাৎ ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসবের সপ্তাহখানেক আগে থেকে পুরোনো বছরের বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ত্রিপুরা গ্রামগুলোয় শুরু হয় গড়াইয়া নাচ। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, নাচের মধ্য দিয়ে তুষ্ট হন গড়াইয়া দেব। এতে পরিবার, এলাকাবাসীর ও সমাজের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট থাকে।
গড়াইয়া নাচে অংশগ্রহণকারীদের ‘খেয়েবাই’ বলা হয়ে থাকে। একজন আচাই বা ওঝা ও একজন দেওয়াই (দলনেতা) এই নাচ পরিচালনা করেন। গড়াইয়া নাচে রয়েছে ২২টি তাল ও মুদ্রা। এই ২২টি মুদ্রায় মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এই নাচে কেউ একবার অংশ নিলে তাকে পরপর তিনবার অংশ নিতে হয়। কেউ যদি কোনো কারণে অংশ নিতে না পারে, তবে ক্ষমা চাইতে হয় গড়াইয়া দেবের কাছ থেকে।
ভাইবোনছড়া এলাকার গড়াইয়া নাচের দলের আচাই রবিধন ত্রিপুরা (৬৯)। তিনি বললেন, গড়াইয়ার দলের সদস্যরা গৃহস্থের উঠানে ২২টি মুদ্রা প্রদর্শন শেষে শুরু হয় বাড়ির কর্তা ও নারীদের নানা বায়না। নাচের মুদ্রায় কেউ দেখতে চান যুবক-যুবতীর প্রেম-বিরহ, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া।
রবিধন ত্রিপুরাদের দলটি নাচ শেষে পানীয়, টাকা, চালসহ নানা ফলমূল পেল গৃহস্থের কাছে থেকে। তারপর এ দল চলল আরেক বাড়িতে।
যেকোনো মাঙ্গলিক উৎসবেই গড়াইয়া নাচের প্রচলন আছে ত্রিপুরা সমাজে। একসময় যুদ্ধযাত্রার আগেও এ নাচ হতো।
ঠিক বর্ষবিদায় ও বরণের এই সময়ে গড়াইয়া নাচের উদ্দেশ্য ওই মঙ্গল কামনা—এমনটাই মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির গবেষক অরুনেন্দু ত্রিপুরা। তাঁর মতে, পাহাড়ে এই সময় গড়াইয়া নাচের মধ্যে একটি আর্থসামাজিক তাৎপর্য আছে। জুমনির্ভর গ্রামীণ পাহাড়ি সমাজের সঙ্গে আছে সাযুজ্য। চৈত্র শেষের এই সময়ে জুমের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে। বর্ষার জল পাওয়া মাত্রই জুমে বীজ বপন হবে। গড়াইয়ায় গৃহস্থের মঙ্গল কামনা করা হয়। তাঁর ধনসম্পদ বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়। ফসল ভালো না হলে গৃহস্থের মঙ্গল হবে কীভাবে। তাই তো ইষ্ট দেবতার কাছে প্রার্থনা হয় নাচের মাধ্যমে।
সমাজের সহজাত পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। পাহাড়ের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক নানা দিকের নানা পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে। গ্রামনির্ভর পুরো বাংলাদেশে নগরায়ণ হচ্ছে দ্রুত। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি গ্রামীণ সমাজেও এসেছে পরিবর্তন।
স্থানীয় উন্নয়কর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা মনে করেন, এসব পরিবর্তনের অনিবার্য অভিঘাত পড়ছে পাহাড়ের সংস্কৃতিতে। মথুরা ত্রিপুরা বলছিলেন, ‘আগে সাত দিন সাত রাত গড়াইয়া নাচ নাচা হতো। এখন শুধু নিয়ম পালনের জন্যই এর চর্চা। সেই জমজমাট পরিবেশটা এখন নেই।’

Tuesday, March 5, 2019
হুমকির মুখে খাগড়াছড়ির মহামুনি বিহার

স্থানীয় লোকজন ও মং রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮৮৩ সালে তৎকালীন মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুর (পঞ্চম) বিশ্বশান্তি রাজ মহামুনি বৌদ্ধ চৈত্য নামে রাজবাড়ির অদূরে মানিকছড়ি ছড়ার পাড়ে এই বিহারটি নির্মাণ করেন। বিহারের নাম অনুসারে ওই এলাকাটির নাম হয় মহামুনি। বিহারটি নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে বিহারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৌদ্ধমেলা বসে। সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় হাজার প্রদীপ। মেলায় জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম হয়। তা ছাড়া এই বিহারের চারপাশে রয়েছে মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুর, রানি নিহার দেবীসহ রাজপরিবারের মৃতদের উদ্দেশে তৈরি মিনার।
সম্প্রতি মানিকছড়ি উপজেলা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে মহামুনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত বছর বয়সের বট, পাকুড়গাছ, কাঠগোলাপ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছ-গাছালির ঘেরা শতবর্ষী এই বিহার। বিহারের চারপাশে বাগানের ভেতরেই রয়েছে রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের তৈরি মিনার। মিনারগুলোর বেশির ভাগেই দেখা দিয়েছে ভাঙন। কয়েকটি ভাঙা মিনারে মাঝে বটের চারাও গজিয়েছে। দেয়ালঘেরা একতলা তিন কক্ষবিশিষ্ট বিহারের প্রবেশদ্বারে রয়েছে দুটি সিংহের মূর্তি। বিহারের ভেতরে প্রথম কক্ষে রয়েছে শত বছরের ছোট–বড় বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি। আর বাকি দুটি কক্ষে বসবাস করেন কয়েকজন শ্রমণ।
বসবাসরত শ্রমণেরা বলেন, সংস্কার না করায় বৃষ্টি হলে বিহারে দেয়াল বেয়ে পানি পড়ে। দেয়ালে ফাটলও দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর পর হয়তো দেয়াল ধসে পড়বে।
মনিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা বলেন, কালের সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী এই বিহারটি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের মাঝে কোনো ঐক্য না থাকায় এটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সাংবাদিক মিন্টু মারমা বলেন, পুরাকীর্তি ও স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিহার ও মিনার রক্ষা জরুরি। রাজপরিবারের মিনারগুলো আজ ধ্বংসের পথে। এটি মংরাজার ইতিহাস বহন করেছে।
মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুরের বংশধর পার্সিয়েল সাইন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী বিহারটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জেলা পরিষদ কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যদি এগিয়ে আসে তাহলে বিহারটি রক্ষা পাবে।’
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, কেউ যদি এই ব্যাপারে জেলা পরিষদে আবেদন করে তাহলে জেলা পরিষদ থেকে বিহার ও মিনারগুলো রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tuesday, July 31, 2018
সড়ক যখন মৃত্যুকূপ by জসিম মজুমদার

ঢাকার পল্লবী থেকে সাজেকগামী পর্যটক সামছুল আরেফিন বলেন, ‘অনেক রাস্তারই বেহাল অবস্থা। অনেক জায়গায় পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে যায়। অনেক স্থানে পাহাড় ধসে গেছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলোর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। যাতায়াতে আগের তুলনায় সময় বেশি লাগছে। এ বছর বর্ষায় রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে মনে হচ্ছে। ’
Saturday, June 16, 2018
খাগড়াছড়িতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আম্রপালি by জসিম মজুমদার
![]() |
| খাগড়াছড়িতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আম্রপালি |
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশিরভাগ কৃষকের আম্রপালি আম গুটিতেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে কৃষকেরা মাত্র ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন আম পায়। যেখানে ২০১৬ সালে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২৭ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২০ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন।
চলতি বছর আমের ফলন আরও বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, চলতি বছর আবাদি জমির পরিমাণ ৩০০০ হেক্টর। তারা আশা করছে এই পরিমাণ জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম্রপালি উৎপাদন হবে শুধু খাগড়াছড়ি জেলাতে। কেজি প্রতি গড়ে ১০০ টাকা করে ধরলেও যার আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে।
জেলা শহরের তেতুলতলা এলাকার আম্রপালি চাষি অনিমেষ চাকমা রিংকু জানান, তিনি প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আম্রপালি চাষ করেছেন। এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় ও রোগ-বালাইয়ের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে তারা সব সময় নির্দেশনা মেনে কাজ করায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন আম পাবেন তিনি। যা গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তিনি আগামী ১০ জুন থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু করবেন বলে জানান।
গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার কৃষক মো. শাহাজ উদ্দিন জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হেক্টরের আম্রপালি বাগান আছে তার। তিনি চলতি বছর ৭ থেকে ১০ মেট্রিক টন আম পাবার আশা করছেন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তিনি আরও জানান, আম্রপালি আম সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি থেকে আম জেলার বাইরে যেতে তাদেরকে বিভিন্ন গ্রুপকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
দিঘীনালা উপজেলার মধ্য আশ্রম এলাকার কৃষক তুষার বসু জানান, তার ১০-১২ হেক্টর জমিতে বাগান আছে। এখানে বিভিন্ন ফলদ গাছের পাশাপাশি আম্রপালিও আছে। আম্রপালি এবার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তার বাগানের আম্রপালি কিনতে ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পার্টি এসেছে।
পুরো বাগানের আম ঠিক কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আম সাধারণত তিন ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয়। ভালো মানের আমগুলো কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, এর থেকে একটু নিম্নমানের আম ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং তৃতীয় ধাপের আমগুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যায়। সারা বছরের খরচ বাদ দিলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা থাকবে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সফর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু হবে। এবার প্রথম থেকেই ধারণা ছিল ফলন ভালো হবে। পাহাড়ের মাটি এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করেই এই প্রজাতির আম প্রচলন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। চলতি বছর আগাম বৃষ্টি পাওয়ায় ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে কৃষকদের।
Monday, June 4, 2018
'কীভাবে আছি কেউ খবরও রাখে নাই' by জিয়াউল হক

স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সেদিন (গত বছর ১ জুন) সকালে অল্প অল্প বৃষ্টি হচ্ছিল। আমার স্বামী নয়ন তখন বাসায়, মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে। বাচ্চাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল সে। তখন বাইরে থেকে কে যেন ডাক দেয়- ও নয়ন দা, নয়ন দা, হুদু তুই? (নয়ন ভাই, কোথায় তুমি?)। তখন তিনি (নয়ন) বাসা থেকে একটা শার্ট ও জিন্স পরে বের হয়ে যান।’ এরপর সেদিন বিকালেই খাগড়াছড়ির চারমাইল এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও সদর যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন গত ১ জুন লংগদু সদর থেকে মোটরসাইকেল ভাড়ায় খাগড়াছড়ি যান। দুর্বৃত্তের হাতে তিনি প্রাণ হারান বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
নুরুল ইসলাম নয়নের স্ত্রী জাহেরা খাতুন সেই স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘চার বছরের ছোট মেয়েটা প্রায়ই বলে- মা, বাবা কেন আসে না। বাবা কই? বাবাকে কল দাও। তখন কোনও জবাব দিতে পারি না ওরে। ছেলেটার পড়ালেখা করানো এখন কঠিন হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় মেয়ের বিয়ে হওয়ার কারণে সে এখন শ্বশুরবাড়িতে থাকে। স্বামী ছাড়া আমার আর আয় করার মতো লোক নাই। একবেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। দলীয়ভাবে যা কিছু পেয়েছি তা দিয়ে বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ছিল, বাজারের দোকানেও টাকা বাকি ছিল, সেগুলো দিয়ে এখন একেবারে হাত খালি। সরকার যদি আমার কোনও সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমিসহ আমার বাচ্চা দুইটার জীবনটা বেঁচে যেত। না হলে এই ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কয়েকদিন পর না খেয়ে মরে যেতে হবে।’
পাহাড়িদের সঙ্গে তার স্বামী নয়নের সুসম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এই এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি সবার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি অনেক দিন রাতে বাড়ি ফিরতেন না। তখন ফোন দিলে বলতো অমুক পাহাড়ি বন্ধুর বাসায় থাকবে। আমি নিশ্চিন্ত থাকতাম। কিন্তু তাকে কেন মারলো এখনও জানি না। আমার স্বামীর কোনও শত্রু ছিল কিনা আমার জানা নাই। ওনার সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক ছিল জানতাম।’
স্বামীর মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যতটুকু জানতাম, জেএসএস-এর কালেক্টরের সঙ্গে তার একটু কথাকাটাকাটি হয়েছিল। সেটাও ওনার মৃত্যুর কয়েক মাস আগে। কারণ, তিনি লাইনের প্রধান ছিলেন। কী কারণে তাদের সঙ্গে ঝামেলা হয় তা এখনও জানি না।’
নয়নের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এভাবে পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কীভাবে দেখেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম নয়নের স্ত্রী জাহেরা খাতুন বলেন, ‘এটা কেন হলো, কীভাবে হলো, আমি কিছুই জানি না। হতে পারে অনেকে তার মৃত্যুকে মেনে নিতে পারে নাই।’ পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে জাহেরা খাতুন জানান, ‘২ জুন সকালে আমার স্বামীর মরদেহের গোসল দিয়ে বিদায় দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শুনি ‘আগুন, আগুন’। আমরা তখনও বাসায় ছিলাম। কী করবো, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুন লংগদু সদর ইউনিয়নের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন ভাড়া নিয়ে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পর বিকালে সেখানকার চার মাইল এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়। ২ জুন নয়নের লাশ নিয়ে জানাজার জন্য বাইট্টাপাড়া থেকে লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠে রওনা দিলে তিনটিলা পাড়ায় মিছিল আসার পর মিছিল থেকে হঠাৎ করে পাহাড়িদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ৩টি গ্রামের ২১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সরকার মোট ১৭৬টি বসতঘর নির্মাণ করার জন্য মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এসব বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয় ৩০ মে।
Thursday, May 17, 2018
ছদ্মবেশে ১৮ বছর

পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান, রফিকুল ১৯৯৭ সালে খাগড়াছড়ি সদর থানার অস্ত্র আইনের ১৯ (চ) ধারার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী। দীর্ঘ ১৮ বছর রফিকুল ইসলাম আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে দরবেশ, সাধুবাবা সেজে দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াত। কিছুদিন ধরে সে উল্টাছড়ি গায়েবি মাজারে আশ্রয় নেয়।
Wednesday, April 19, 2017
ভাংচুর ও পুলিশের লাঠিচার্জে চলছে খাগড়াছড়িতে হরতাল

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2002)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


