Friday, May 8, 2026

লিভার সুস্থ রাখতে কী করা উচিত by ডা. আফলাতুন আকতার জাহান

বর্তমান সময়ে আলোচিত একটি বিষয় লিভার ডিটক্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে হাটবাজার—আজকাল লিভার ডিটক্স বা যকৃৎ পরিষ্কার করে এমন পণ্যের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। লিভার ডিটক্সিফিকেশনে এসব পণ্য কি আসলেই জরুরি?

লিভার যেভাবে কাজ করে

লিভারের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ (যেমন ওষুধ, অ্যালকোহল এবং পরিবেশগত দূষণকারী উপাদান) ছেঁকে বের করে দেওয়া।

লিভারের এই কাজের জন্য বাইরে থেকে কোনো বিশেষ ডিটক্স ডায়েট বা সাপ্লিমেন্ট খুব বেশি প্রয়োজন হয় না। কারণ, লিভার নিজেই একটি অসাধারণ ডিটক্সিফিকেশন সিস্টেম বা শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ অপসারণ করার প্রক্রিয়া।

ডিটক্স পণ্য কী করে

আদিকাল থেকেই লিভার ভালো রাখতে নানা রকম প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন খাবার ও মসলা ব্যবহার করা হয়। যেমন হলুদের রস বা নির্যাসে কারকিউমিন নামক একধরনের উপাদান থাকে যা লিভারের প্রদাহ ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

তবে তা সামান্য পরিমাণ প্রয়োজন হয়। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে অতিরিক্ত হলুদ গ্রহণ করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমন বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা এমনকি কিডনিতে পাথর এবং লিভারেরও ক্ষতি হতে পারে।

তাই ডিটক্স হিসেবে হলুদ গ্রহণ করলেও খুব অল্প পরিমাণ মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদ্ভিদ মিল্ক থিসল অনেক সময় লিভারের প্রদাহ কমায়। আদা, রসুন, গ্রিন টিতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকায় এগুলো লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। আবার বিটরুটে প্রচুর আয়রন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রক্তশূন্যতা কমায় এবং ত্বক ভালো রাখতে ভালো কাজ করে। বিটরুটের আঁশ হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। এর মধ্যে বিটালেইন নামক একধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে যা লিভারের ডিটক্সিফিকেশনের জন্য এনজাইমকে উদ্দীপিত করে, ফলে লিভার ভালো থাকে।

লিভার সুস্থ রাখতে কী করা উচিত?

লিভার ভালো রাখতে জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ফ্যাটি লিভার বা লিভারে চর্বি জমা, যা শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে হয়।
লিভার ডিটক্সের নামে বিভিন্ন জুস, সাপ্লিমেন্ট বা বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করার চেয়ে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর।

* স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল, সবজি, শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ওেবং যেসব খাবরে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ আছে, সেগুলো নিয়মিত খাওয়া দরকার। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

* অ্যালকোহল পরিহার: অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারের জন্য ক্ষতিকর। তাই অ্যালকোহল পরিহার করা ভালো।

* নিয়মিত ব্যায়াম: ব্যায়াম লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরকে ভালো রাখে।

* ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা লিভারের ক্ষতি করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লিভার সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। যদি লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিপাকতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ
পরিপাকতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। ছবি: পেক্সেলস

আহ্ ভালবাসা!

মায়ামির এক স্বামী-স্ত্রী সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত দম্পতির স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা জানালেন এই সাফল্যের রহস্য কেবল একটিই। তা হলো ভালোবাসা। এই দম্পতির একজন ১০৭ বছর বয়সী এলিনর গিটেন্স। তার স্বামী ১০৮ বছর বয়সী লাইল গিটেন্স। ৬৩ বছর তাদের বিবাহিত জীবন। এ সম্পর্কে এলিনর গিটেন্স বলেন, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। লংভিকোয়েস্ট নামের শতবর্ষীদের নিয়ে বিশেষায়িত এক ওয়েবসাইট তাদের ৮৩ বছরের বিবাহজীবনের রহস্য জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার স্বামী লাইল গিটেন্স হাসিমুখে উত্তর দিলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি।’ লংভিকোয়েস্টের গ্লোবাল ভ্যালিডেশন কমিশন তাদের ১৯৪২ সালের বিবাহ সনদ, মার্কিন আদমশুমারি এবং কয়েক দশকজুড়ে সংরক্ষিত নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করে যে তারা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে থাকা দম্পতি।

ওই ওয়েবসাইটের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের মানোয়েল অ্যানজেলিম ডিনো মারা যাওয়ার পর গিটেন্স দম্পতি এই খেতাব পান। ডিনো’র বয়স ছিল ১০৬ এবং তার স্ত্রী মারিয়া ডি সুজা ডিনো’র বয়স ১০২ বছর। ফেব্রুয়ারি থেকে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন তারা। গিটেন্স দম্পতি একই সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দম্পতিও। তাদের সম্মিলিত বয়স ২১৬ বছরের বেশি। প্রতিবেদনটি জানায়, তাদের প্রেমের গল্প অসাধারণ- যুদ্ধ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও টিকে আছে তাদের সম্পর্ক। লাইল ও এলিনরের প্রথম দেখা হয় ১৯৪১ সালে ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটির এক বাস্কেটবল খেলায়।

সেখানে লাইল খেলোয়াড় ছিলেন আর এলিনর দর্শক। এলিনর পরে বলেন, তিনি মনে করতে পারেন না কে খেলায় জিতেছিল। শুধু এটুকুই মনে আছে, সেদিনই প্রথম লাইলের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে লাইল ক্লার্ক আটলান্টার বাস্কেটবল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। দু’জনেই প্রেমে পড়েন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যদিও জানতেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে লাইলকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪২ সালের ৪ঠা জুন লাইল সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির থেকে তিন দিনের ছুটি পেয়ে বিয়ে করেন এলিনরকে। বিয়ের দিনই লাইল প্রথমবারের মতো এলিনরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত বিভাজনের কারণে তাকে কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ট্রেনের কামরায় যাত্রা করতে হয়েছিল- দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সেই ভ্রমণটিও তার কাছে সার্থক মনে হয়েছিল। কারণ শেষে পৌঁছে তিনি পেয়েছিলেন এলিনরকে। এরপর লাইল ইতালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৯২তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদস্য হিসেবে যুদ্ধে যান। সেই সময় এলিনর প্রথম সন্তানসম্ভবা ছিলেন এবং নিউ ইয়র্কে চলে যান।

সেখানে তিনি প্রথমবারের মতো স্বামীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এলিনর এক বিমানযন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বেতন ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তিনি ও লাইল একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন চিঠির মাধ্যমে। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর সেন্সরশিপে লাইলের চিঠির অনেক অংশই কালো দাগে ঢাকা থাকত। যুদ্ধশেষে তারা নিউ ইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

একসঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেন এবং সরকারি দপ্তরে কাজ শুরু করেন। তারা প্রায়ই ভ্রমণে যেতেন। এর মধ্যে এলিনরের সবচেয়ে প্রিয় স্থান ছিল ক্যারিবীয় দ্বীপ গুয়াডেলুপ। এলিনর ৬৯ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কের ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর শিক্ষাবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লার্ক আটলান্টার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তারা মিয়ামিতে চলে যান মেয়ে অ্যানজেলার কাছাকাছি থাকতে। লাইল বলেন, তিনি নিউ ইয়র্ককে মিস করেন।

তবে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে তাদের বিবাহজীবন এখন বিশ্বরেকর্ড। তবুও, তিনি খুশি। কারণ এখনো এলিনরের পাশে আছেন। লংঘিভিকোয়েস্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লাইল বনে, আমি এখানে থাকতে পেরে আনন্দিত। আমরা একসঙ্গে সময় কাটাই, একসঙ্গে অনেক কিছু করেছি এবং এখনো করছি।

mzamin